বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৫৮ / ১৭৪ · ১৫,৭০১১৫,৮০০ / ১৭,৪৩৭

১৫,৭০১.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ধূমকেতু
  2. বিজলী 
  3. লাঙল
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
বিজলী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বিজলী

'বিদ্রোহী' কবিতা:
 - ‘বিদ্রোহী’ কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
 - ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 - নজরুল বিদ্রোহ-ভাবাপন্ন আরও কবিতা লিখলেও শুধু এক ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
 - এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

 অগ্নিবীণা:
 - কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’।
 - এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
 - এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের কবিতাগুলো হলো:

- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মোহররম।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭০২.
শওকত ওসমানের আর্তনাদ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী ছিল?
  1. ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
  2. ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন
  3. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
  4. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস- ' আর্তনাদ'।
--------------------------------------
'আর্তনাদ' উপন্যাস বিষয়ক কিছু তথ্য: 
- শওকত ওসমানের ভাষা আন্দোলননির্ভর উপন্যাস আর্তনাদ। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। 
- উপন্যাসটি নির্মিত হয়েছে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে। 

- উপন্যাসটিতে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার দমননীতি, ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে নামা ছাত্র–জনতার প্রতিবাদ, এবং রফিক–সালামের মতো তরুণদের রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার করুণ বাস্তবতা জীবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামষ্টিক বেদনার সংমিশ্রণে লেখক আন্দোলনের অন্তর্গত যন্ত্রণা ও প্রতিবাদের তীব্রতা প্রকাশ করেছেন। বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগ, সাধারণ মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষা এবং আন্দোলনের আবেগঘন পরিবেশ—সব মিলিয়ে আর্তনাদ ভাষা আন্দোলনের এক শক্তিশালী সাহিত্যিক দলিল।
------------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস: আর্তনাদ।
------------------------------------------------- 

উৎস:
'আর্তনাদ' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭০৩.
'কেনারাম' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. সধবার একাদশী
  2. নীলদর্পন
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৭০৪.
নিচের কোনটি আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয়?
  1. ক) ভাওয়ালগড়ের উপখ্যান
  2. খ) সংকর সংকীর্তন
  3. গ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  4. ঘ) দেয়াল
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেয়াল
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয়- 'দেয়াল' 

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস- 
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন, 

আবু জাফর শামসুদ্দীন
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা 
- সংকর সংকীর্তন 
- দেয়াল 
- পরিত্যক্ত স্বামী,

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা 
- ল্যাংড়ী 

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য
- Sociology of Bengal Politics 
- সোচ্চার উচ্চারণ
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।
তাঁর অনুবাদগ্রন্থ
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭০৫.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি? 
  1. অনিল বাগচী
  2. জহির 
  3. সুদীপ্ত শাহীন
  4. ওসমান
সঠিক উত্তর:
ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওসমান
ব্যাখ্যা

'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
-'চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা। এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান। কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
-চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছোটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭০৬.
সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন কোন মহাকবি?
  1. কায়কোবাদ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যয়
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।
- তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭০৭.
‘স্বর্গ ও নরক’ কবিতাটি কার রচনা?
  1. শেখ ফজলল করিম
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
- বাঙালি মুসলমানের ভাষা নিয়ে সঙ্কটের সময় 'বাসনা' পত্রিকা বাংলা ভাষার স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছিল।
- হিন্দু-মুসলমান মিলনাকাঙ্ক্ষা ছিল এ পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য।
- হিন্দু-মুসলমান সঙ্কটের সময় শেখ ফজলল করিম রচনা করেন ‘স্বর্গ ও নরক’ শীর্ষক কবিতাটি।

কবিতাটি সংক্ষেপে নিম্নরূপে দেয়া হলো:
স্বর্গ ও নরক
শেখ ফজলল করিম
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? 
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর! 
রিপুর তাড়নে যখনই মোদের বিবেক পায় গো লয়, 
আত্মগ্লানির নরক-অনলে তখনি পুড়িতে হয়। 
প্রীতি ও প্রেমের পূণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরষ্পরে, 
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরি কুঁড়ে ঘরে।

--------------
• শেখ ফজলল করিম:
- তিনি ১৮৮২ সালে রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক।
- তিনি হযরত মুহম্মদ (স) এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন অবলম্বনে রচনা করেন 'পরিত্রাণ' নামক কাব্য।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- ভগ্নবীণা,
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি,
- গাঁথা,
- প্রেমের স্মৃতি,
- পথ ও পাথেয়,
- উচ্ছ্বাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লায়লী মজনু,
- হারুন-অর-রশিদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'স্বর্গ ও নরক' কবিতা, শেখ ফজলল করিম।
১৫,৭০৮.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অনেক আকাশ
  2. খ) একাত্তরের ঢাকা
  3. গ) অভিযাত্রিক
  4. ঘ) অনল প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী 
- প্রেমাঞ্জলি 

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ 
- স্বজাতি প্রেম 
- তুর্কি নারী জীবন 
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ  

অন্যদিকে, 
 সৈয়দ আলী হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ - অনেক আকাশ
 সেলিনা হোসেন রচিত কাব্যগ্রন্থ -একাত্তরের ঢাকা 
 বেগম সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ -অভিযাত্রিক

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,৭০৯.
ঐতিহাসিক চারটি উপন্যাসের সংকলন ‘শতবর্ষ’ এর রচয়িতা-
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. সানাউল হক
  3. রমেশচন্দ্র দত্ত
  4. পঞ্চানন কর্মকার
সঠিক উত্তর:
রমেশচন্দ্র দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রমেশচন্দ্র দত্ত
ব্যাখ্যা
⇒ শতবর্ষ:
• রমেশচন্দ্র দত্ত চারটি ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনা করেন: বঙ্গ বিজেতা, মাধবী কঙ্কণ, রাজপুত জীবন সন্ধ্যা ও মহারাষ্ট্র জীবন প্রভাত।
• প্রথম দুটি উপন্যাসে তিনি সম্রাট আকবর কর্তৃক বাংলা বিজয়, তৃতীয়টিতে আকবরের বিরুদ্ধে রানা প্রতাপ সিংহের সংগ্রাম এবং চতুর্থটিতে শিবাজীর নেতৃত্বে মারাঠা শক্তির অভ্যুদয়ের কাহিনি বর্ণনা করেন। 
• সব কটি উপন্যাসই ১৮৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুঘল সাম্রাজ্যের শতবর্ষের ইতিহাসের ঘটনা নিয়ে এই উপন্যাসগুলি রচিত হয়েছিল বলে এগুলি একসাথে “শতবর্ষ” (১৮৭৯) নামে সঙ্কলিত হয়েছিল।

⇒ রমেশচন্দ্র দত্ত:
- রমেশচন্দ্র দত্ত ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চিন্তাবিদ এবং সুপণ্ডিত ব্যক্তি।
- তিনি লেখার কাজকে তাঁর ’প্রথম প্রেম’ হিসেবে অভিহিত করেন।
- তাঁর প্রথম লেখা Three Years in Europe ১৮৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর দ্বিতীয় লেখা Bengal Peasantry গ্রন্থ ১৮৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- দুবছর পর প্রকাশিত হয় Bengali Literature শীর্ষক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

• তিনি দুটি সামাজিক উপন্যাস সমাজ ও সংসার রচনা করেন। প্রথমটিতে হিন্দুসমাজে বিধবা বিবাহ এবং দ্বিতীয়টিতে বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।
• বাংলা সাহিত্যে তাঁর অপর একটি অবদান হচ্ছে বাংলায় ঋগ্বেদ-এর অনুবাদ (১৮৮৫)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ।
১৫,৭১০.
ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থ 'বাক্যতত্ত্ব' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন কবির
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থ 'বাক্যতত্ত্ব' এর রচয়িতা হুমায়ুন আজাদ। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে। 

তাঁর রচিত অপর একটি ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থ- 
তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান (১৯৮৮)। 
-------------
হুমায়ুন আজাদ ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস গুলো হলো:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
- সবকিছু ভেঙে পড়ে
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার
- রাজনীতিবিদগণ
- কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি
- আব্বুকে মনে পড়ে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭১১.
সত্যজিৎ রায় কোন বিখ্যাত চরিত্রের স্রষ্টা?
  1. ক) ফেলুদা
  2. খ) ফটিক চাঁদ
  3. গ) প্রফেসর শঙ্কু
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা', ফটিক চাঁদ, প্রফেসর শঙ্কু প্রভৃতি চরিত্র এর স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়। 

- ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসের সন্দেশ পত্রিকায় ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্প ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির প্রথমভাগ প্রকাশিত হয় যা পরের আরো দুইটি সংখ্যার মাধ্যমে শেষ হয়।
- ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।
- ফেলুদার প্রধান সহকারী তার খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে ও লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি (ছদ্মনাম জটায়ু)।
- ফেলুদার চরিত্র নির্মাণে সত্যজিৎ রায় তার ছোটবেলায় পড়া শার্লক হোমস এর গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- তাই ফেলুদার চরিত্রের সাথে অনেক জায়গায় আমরা হোমসের আর ফেলুদার ভাই ও সহকারী তোপসের সাথে হোমসের সহকারী ওয়াটসনের মিল পাওয়া যায়। - নিজের লেখা অধিকাংশ গল্পের বইয়ের মতই ফেলুদার বইতেও সত্যজিৎ রায় নিজেই প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করতেন।

উৎস: দৈনিক পত্রিকা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।  
১৫,৭১২.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা
  3. তিলোত্তমা কাব্য
  4. বত্রিশ সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
বত্রিশ সিংহাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বত্রিশ সিংহাসন
ব্যাখ্যা
• বত্রিশ সিংহাসন:
- এটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য।

---------------------
অন্যদিকে, 
• 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য: 
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি বিখ্যাত কাব্য। 
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত কাব্য ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’।
- ১৮৬০ সালের এই কাব্যটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত মাইকেল মধূসূদন দত্তের প্রথম কাব্য। 

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

• 'বীরাঙ্গনা কাব্য':
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদ্স’ কাব্যের অনুসরণে ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭১৩.
'মেহের-নেগার' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্প
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প
ব্যাখ্যা
• 'মেহের-নেগার'
- 'মেহের-নেগার' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প। 
- গল্পটি তাঁর 'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ-
গায়ক হওয়ার বাসনায় ওয়াজিরিস্তানের বিখ্যাত ওস্তাদের কাছে তালিম নিতে আসা এক তরুণের সাথে দেখা হয় প্রসিদ্ধ বাঈজি খুরশীদ জানের কন্যা গুলশানের, ভিন্ন গোত্রের হৃদয় দুটির পবিত্র ভালোবাসায় জন্ম হয় অমর এক প্রেমগাথার।

----------------
১৯১৭ সালের শেষদিক থেকে ১৯২০ সালের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় আড়াই বছর নজরুলের সামরিক জীবনের পরিধি। এ সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গলি রেজিমেন্টের একজন সাধারণ সৈনিক থেকে ব্যাটেলিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন। রেজিমেন্টের পাঞ্জাবি মৌলবির নিকট তিনি ফারসি ভাষা শেখেন, সঙ্গীতানুরাগী সহসৈনিকদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সঙ্গীতচর্চা করেন এবং একই সঙ্গে সমভাবে গদ্যে-পদ্যে সাহিত্যচর্চা করেন।

করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা, প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯) এবং অন্যান্য রচনা: গল্প-  ‘হেনা’, ‘ব্যথার দান’, ‘মেহের নেগার’, ‘ঘুমের ঘোরে’; কবিতা-  ‘আশায়’, ‘কবিতা সমাধি’ প্রভৃতি।

উৎস: 'মেহের-নেগার' গল্প এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭১৪.
কত সালে বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয়?
  1. ১৮৫২ সালে
  2. ১৮৫৫ সালে
  3. ১৮৫৬ সালে
  4. ১৮৫৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫২ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।
- যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের 'কীর্তিবিলাস', তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' এই বৎসরে প্রকাশিত নাটক।
- কীর্তিবিলাস বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা। কীর্তিবিলাসের সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশিত ভদ্রার্জুন ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে। কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম। ভদ্রার্জুন নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫,৭১৫.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর কোন গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল?
  1. অনল প্রবাহ
  2. রায়নন্দিনী
  3. স্পেন বিজয় কাব্য
  4. তারাবাঈ
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্যগ্রন্থ 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা,  আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭১৬.
"বহুদিন ধরে সাবান ছিল না বলে আবদুর রহমানের পাগড়ি ময়লা। কিন্তু আমার মনে হল চতুর্দিকের বরফের চেয়ে শুভ্রতর আবদুর রহমানের পাগড়ি, আর শুভ্রতম আবদুর রহমানের হৃদয়।" - কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. দেশে বিদেশে
  3. ভ্রমি দেশে দেশে
  4. মস্কোতে কয়েকদিন
সঠিক উত্তর:
দেশে বিদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা

• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি অংশবিশেষ: 
তাকিয়ে দেখি দিকদিগন্ত বিস্তৃত শুভ্র বরফ। আর অ্যারফিল্ডের মাঝখানে, আবদুর রহমানই হবে, তার পাগড়ির ন্যাজ মাথার উপর তুলে দুলিয়ে দুলিয়ে আমাকে বিদায় জানাচ্ছে।

বহুদিন ধরে সাবান ছিল না বলে আবদুর রহমানের পাগড়ি ময়লা। কিন্তু আমার মনে হল চতুর্দিকের বরফের চেয়ে শুভ্রতর আবদুর রহমানের পাগড়ি, আর শুভ্রতম আবদুর রহমানের হৃদয়।

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উল্লেখ্য,
• ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনি।
• 'মস্কোতে কয়েকদিন' নামক ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৭১৭.
'কবর' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) জসীম উদ্দীন
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) আনিসুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
ক) মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'কবর' নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- দণ্ডকারণ্য, চিঠি, রাজার জন্মদিনে, পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,৭১৮.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প নয় কোনটি?
  1. মেঘমল্লার
  2. ইছামতী
  3. মৌরীফুল
  4. রূপহলুদ
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
ব্যাখ্যা
• 'ইছামতী' উপন্যাস:
- ‘ইছামতী’ ১৯৫০ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত শেষ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি 'রবীন্দ্র পুরস্কার' লাভ করেন।
- ইছামতি নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।

• উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- ভবানী বাঁড়ুয্যে,
- তিলু,
- বিলু,
- নীলু।

---------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

• তাঁর রচিত গল্পের বই:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- জন্ম ও মৃত্যু,
- কিন্নর দল,
- বিধু মাস্টার,
- রূপহলুদ,
- কুশল পাহাড়ী
- নবাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭১৯.
নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম কী?
  1. মোহাম্মদ আলী সেলিম
  2. হায়াৎ মামুদ
  3. কাজী আবদুল আলীম
  4. মইনুদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
মইনুদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মইনুদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম - মইনুদ্দিন আহমেদ।

অন্যদিকে,
- ‘হায়াৎ মামুদ’ ছদ্মনামে মনিরুজ্জামান লিখতেন।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭২০.
বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
  1. অনুরাগ
  2. মৃগপুরি
  3. মধুমতীর চর
  4. পদ্মানদীর চর
সঠিক উত্তর:
মৃগপুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃগপুরি
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া: 
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।

•  কাব্যগ্রন্থ:
- কাব্য ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর ইত্যাদি। 

•  শিশুতোষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কুচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭২১.
কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস নয়?
  1. ক) হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  2. খ) গণদেবতা
  3. গ) ডাকহরকরা
  4. ঘ) আরোগ্য নিকেতন
সঠিক উত্তর:
গ) ডাকহরকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডাকহরকরা
ব্যাখ্যা
'ডাকহরকরা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসিদ্ধ ছোটগল্প।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২),
- ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯),
- কালিন্দী (১৯৪০),
- গণদেবতা (১৯৪৩),
- পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪),
- কবি (১৯৪৪),
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৪৭),
- আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য

তাঁর অন্যান্য ছোটগল্প:
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭২২.
"ব্যাধি এ পীড়িত মোর বিকল শরীর।
ঔষধ দর্শনে প্রাণ শান্ত নহে স্থির।।" পঙ্কতির রচয়িতা-
  1. ভারতচন্দ্র রায়
  2. ফকির গরিবুল্লাহ
  3. দৌলত উজির
  4. শাহ্ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
শাহ্ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ্ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

• শাহ্ মুহম্মদ সগীর রচিত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য 'ইউসুফ-জুলেখা'।
• এ কারণে তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি বলা হয়।
• এই কাব্যের কিছু পঙক্তি-
''ব্যাধি এ পীড়িত মোর বিকল শরীর।
ঔষধ দর্শনে প্রাণ শান্ত নহে স্থির।।
এহেন নির্জন পুরী বিরল সম্ভোগ।
পরিহরি লজ্জা ভীতি কর উপভোগ।।
না জানি কেমন আছে নিষেধ কারণ।
বুঝিলু তোমার ইচ্ছা আমার মরণ।।''
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,৭২৩.
শওকত ওসমানের রচনা কোনটি?
  1. আমলার মামলা
  2. উত্তরাধিকার
  3. তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
  4. পিঙ্গল আকাশ
সঠিক উত্তর:
আমলার মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলার মামলা
ব্যাখ্যা
• 'আমলার মামলা' নাটকের রচয়িতা শওকত ওসমান।

অন্যদিকে,
- শওকত আলী রচিত ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ'।
- শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থ - উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

শওকত ওসমান রচিত নাটক:
- কাঁকর মণি, 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭২৪.
কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. দেশে বিদেশে
  2. পশ্চিমের যাত্রী
  3. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
  4. ইউরোপের চিঠি
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চিঠি
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
• তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন
• পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনি।

এছাড়াও তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- অসমাপিকা প্রথম উপন্যাস,
-  কঙ্কাবতী,
-  দুঃখমোচন,
- অপসরণ,
- অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী।
• ‘পশ্চিমের যাত্রী’ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭২৫.
ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলনের সম্পাদকের নাম—
  1. ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- এটি সম্পাদনা করেছেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালে 'পুথিপত্র' প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭২৬.
”বঙ্গদর্শন” মাসিক সাহিত্যপত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বঙ্গদর্শন:
- বঙ্গদর্শন মাসিক সাহিত্যপত্রিকা।
- ১৮৭২ সালে  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

- এতে সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও  দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।

- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন। বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।

অন্যদিকে,
”সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর” সম্পাদিত পত্রিকা- সাধনা।
”ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত” সম্পাদিত পত্রিকা- সংবাদ প্রভাকর।
”মীর মশাররফ হোসেন” সম্পাদিত পত্রিকা- হিতকারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭২৭.
জসীম উদ্‌দীনের 'কবর' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. রাখালী
  2. ধানক্ষেত
  3. নক্সী কাঁথার মাঠ
  4. বালুচর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীনের 'কবর' কবিতা রাখালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

- 'কবর' কবিতার মোট লাইন সংখ্যা- ১১৮ টি।
- ১৯২৫ সালে কবি জসীমউদ্দীন রচিত ‘কবর’ কাবিতাটি প্রথম কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

জসীম উদ্‌দীন:
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- সূচয়নী,
- নিমন্ত্রণ,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭২৮.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. রুদ্রমঙ্গল
  2. মানুষের শিক্ষা
  3. পঞ্চভূত
  4. শিক্ষা ও সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
পঞ্চভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চভূত
ব্যাখ্যা

• 'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ১৮৯৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনি, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ।
- রঙ্গ-ব্যঙ্গ সাহিত্যের মধ্যেও কেউ কেউ ফেলেন ।
- আসলে রবীন্দ্রনাথের পরিবারের ৫ জন ব্যক্তির অভিজ্ঞতার আলোকে লিখিত হয়েছে।
- এটি ‘লেখক ভূতনাথ বাবু’ লেখক নামে সাধনা পত্রিকায় ‘পঞ্চভূতের ডায়েরি' নামে ছাপা হতো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

অন্যদিকে,
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৭২৯.
'আঠারো শতকের বাংলা চিঠি' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. আনিসুজ্জামান
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• 'আঠারো শতকের বাংলা চিঠি' গ্রন্থটির রচয়িতা - আনিসুজ্জামান

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৩০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. অনিলা দেবী
  2. অপরাজিতা দেবী
  3. নীহারিকা দেবী
  4. অনুরূপা দেবী
সঠিক উত্তর:
নীহারিকা দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীহারিকা দেবী
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় ‘নীহারিকা দেবী'। ‘নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে লিখতেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।

------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৩১.
সংবাদ প্রভাকর সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন? 
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭৩২.
কোন প্রতিষ্ঠান শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘জগত্তারিণী’ পদক প্রদান করেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. সংস্কৃত কলেজ
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. প্রেসিডেন্সি কলেজ
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বাংলা কথা-সাহিত্যে দুর্লভ জনপ্রিয়তার অধিকারী।
- ১৯০৩ সালে ভাগ্যের সন্ধানে তিনি বার্মা যান এবং রেঙ্গুনে অ্যাকাউন্ট্যাট অফিসে কেরানি পদে চাকরি করেন ।
- প্রবাস জীবনেই তার সাহিত্য সাধনা শুরু হয় এবং তিনি খ্যাতি লাভ করেন।
- ১৯১৬ সালে তিনি কলকাতা ফিরে আসেন এবং নিয়মিতভাবে সাহিত্য সাধনা শুরু করেন।
- তিনি ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী’ পদক এবং ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট উপাধি লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র ১৬ই জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ:
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- গৃহদাহ,
- পল্লিসমাজ,
- চরিত্রহীন,
- পথের দাবী,
- দেনা পাওনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৩৩.
"তুরস্ক ভ্রমণ" ভ্রমণ কাহিনি বিষয়ক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সানাউল হক
  2. এস ওয়াজেদ আলী
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• "তুরস্ক ভ্রমণ" এই ভ্রমণ বিষয়ক বইটি লিখেছেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। তিনি ১৯১০ সালে ইসমাইল হোসেন সিরাজী মিশনের বঙ্গীয় প্রতিনিধি হিসেবে তুরস্ক ভ্রমণ করেন এবং এই সফরের বিস্তারিত বিবরণ তিনি "তুরস্ক ভ্রমণ" গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন।

অন্যদিকে, 
• সানাউল হক রচিত ভ্রমণকাহিনি 'বন্দর থেকে বন্দরে'। 
• 'মোটরযোগে রাঁচী সফর' এস ওয়াজেদ আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
• সৈয়দ মুজতবা আলীর ভ্রমণকাহিনিগুলো হল- 'দেশে বিদেশে' ও 'জলে ডাঙায়'।

------------------
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে 'সিরাজী' উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
-নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "তুরস্ক ভ্রমণ" ভ্রমণকাহিনি এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭৩৪.
‘আলেয়া’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা

• ‘আলেয়া’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি নাটক।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ-
- ব্যাথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৭৩৫.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ইয়াকুব আলী চৌধুরী
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- রূপের নেশা,
- ভাঙাবুক ও
- এক মন এক প্রাণ।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থঃ
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম।
- আমার চিন্তাধারা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৭৩৬.
"এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়"- উক্তটি কার?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শামসুর রাহমান
  3. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. হেলাল হাফিজ
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা

"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।" কবিতাংশটুকুর রচয়িতা হেলাল হাফিজ

হেলাল হাফিজ:
১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।
'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্ক্তি-
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।

তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- যে জলে আগুন জ্বলে,
- কবিতা ৭১,
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, যে জলে আগুন জ্বলে- হেলাল হাফিজ।

১৫,৭৩৭.
নিচের কোনটি আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা?
  1. সমকাল
  2. দৈনিক আজাদ
  3. নয়া সড়ক
  4. দৈনিক নবযুগ
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন।
- ১৯২৩ সালে দৈনিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
- তিনি দৈনিক 'আজাদ' পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৯৭৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশু সাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (তুর্গেনিঙের তিনটি গল্পের অনুবাদ),
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস),
- অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৩৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর জন্ম -
  1. ১৮৪৪ সালের ২৫ জানুয়ারি
  2. ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি
  3. ১৮০৪ সালের ২৫ জানুয়ারি
  4. ১৮১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:
 নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৩৯.
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী দ্বীন মোহাম্মদ
  2. খ) নীহাররঞ্জন রায়
  3. গ) আশরাফ সিদ্দিকী
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
  5. ঙ) আব্দুল করিম
সঠিক উত্তর:
ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য গ্রন্থটির রচয়িতা দীনেশচন্দ্র সেন। তার অন্যান্য রচনা সমূহ হল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, সাহিত্য সম্ভার ও সাহিত্য-শিল্প। নীহাররঞ্জন রায়ের বই বাঙালির ইতিহাস। আশরাফ সিদ্দিকীর গ্রন্থ হল লোকসাহিত্য। আব্দুল করিমের গ্রন্থ হলো সাহিত্যের কালক্রম। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১৫,৭৪০.
'অমিত ও লাবণ্য' চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্গত?
  1. মালঞ্চ
  2. শেষের কবিতা
  3. রাজর্ষি
  4. চার অধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫,৭৪১.
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকার স্থপতি কে?
  1. ক) কাজী আবুদল ওদুদ
  2. খ) কাঙাল হরিনাথ
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা' বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির ত্রৈমাসিক মুখপত্র।
- এর স্থপতি ছিলেন কাজী ইমদাদুল হক। 
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায়  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর সাত বছর পর ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি সমিতির কার্যকরী সভায় এর মুখপত্ররূপে একটি পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয় এবং পত্রিকা পরিচালনার জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়।
- উক্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন কাজী ইমদাদুল হক এবং সম্পাদক দুজন  মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৪২.
নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণ কাহিনি নয় কোনটি?
  1. ভ্রমি দেশে দেশে
  2. আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি
  3. ভলগার তীরে
  4. জলে ডাঙ্গায়
সঠিক উত্তর:
জলে ডাঙ্গায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলে ডাঙ্গায়
ব্যাখ্যা
• 'জলে ডাঙ্গায়' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণ কাহিনি।

• নির্মলেন্দু গুণ:

- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম 'নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'। নির্মলেন্দু গুণের ডাকনাম ছিলো রতন। প্রিয়জনেরা 'রতু' বলে ডাকতেন।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো-
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৪৩.
আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ছুটির দিন দুপুরে
  2. খ) রাত্রিশেষ
  3. গ) ছায়া হরিণ
  4. ঘ) সারা দুপুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সারা দুপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সারা দুপুর
ব্যাখ্যা
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- ছায়া হরিণ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৪৪.
'এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান'। - এই পঙ্‌ক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ছাড়পত্র
  2. হরতাল 
  3. অভিযান
  4. ঘুম নেই
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা

ছাড়পত্র
সুকান্ত ভট্টাচার্য

'এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান

জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব - তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।'

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'ছাড়পত্র'।

১৫,৭৪৫.
নিচের কোনটি আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস নয়?
  1. ক) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. খ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. গ) সংকর সংকীর্তন
  4. ঘ) প্রপঞ্চ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রপঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রপঞ্চ
ব্যাখ্যা

আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক ছিলেন।
‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), প্রপঞ্চ (১৯৮০), দেয়াল (১৯৮৫)।
এর মধ্যে ত্রয়ী উপন্যাস হল - ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৭৪৬.
জোশুয়া মার্শম্যান কোন পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  3. সম্বাদ কৌমুদী
  4. বাঙ্গাল গেজেট
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা

• জোশুয়া মার্শম্যান: 
- জোশুয়া মার্শম্যান ছিলেন পণ্ডিত, প্রাচ্যবিদ্যাবিশারদ, ধর্মতাত্ত্বিক, শ্রীরামপুর মিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

- জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে সংবাদপত্রের সূচনাকারীদের অন্যতম। তিনি ১৮১৮ সালে প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ ছাড়া তিনি Friends of India নামে একটি মাসিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান এটির প্রকাশনা ও সম্পাদনার কাজ চালিয়ে যান।

- ১৮২১ সালে তিনি শিশুদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষামূলক গ্রন্থ School Dialogues; or Lessons on the commandments and the way of Salvation প্রকাশ করেন। মার্শম্যান প্রথম চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন। এটি ১৮২১ সালে শ্রীরামপর প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। তিনি কিছু খ্রিস্টীয় প্রার্থনা সঙ্গীতও রচনা করেন।

তিনি যেসকল পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সেগুল হচ্ছে-
- সমাচার দর্পণ,
- দিগদর্শন,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া।

অন্যদিকে,
--------------------
• মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সংবাদপত্র 'সমাচার সভারাজেন্দ্র'। এর সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ, প্রকাশিত হতো কলকাতার কলিঙ্গা নামক স্থান থেকে। এটি পুরোপুরি বাংলা ভাষার পত্রিকা ছিল না। এটি ছিল বাংলা-পারসি দ্বিভাষিক পত্রিকা।

ব্রাহ্মণসেবধিসম্বাদ কৌমুদী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।

 • রাজা রামমোহন রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। গঙ্গাকিশোর ভাট্টাচার্য ছিলেন এর সম্পাদক। এটি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭৪৭.
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত বিখ্যাত পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সবুজপত্র
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত বিখ্যাত পত্রিকা 'সবুজপত্র'।

সবুজপত্র পত্রিকা:
- ১৯১৪ সালে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং তের বছর চলে।
- এই পত্রিকার সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গভীর ভাবে জড়িত ছিলেন।
- এই পত্রিকা রবীন্দ্রনাথের চিন্তা এবং ভাষারীতির আধুনিকতা বিকাশে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল।
- সবুজপত্র মাসিক পত্রিকা ছিল এবং এই পত্রিকার সম্পাদনার মাধ্যমে প্রমথ চৌধুরী প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

অন্যদিকে,
- সংবাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন: অক্ষয়কুমার দত্ত।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন:বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭৪৮.
বাংলা নাট্যের ইতিহাসে ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ কে স্থাপন করেন?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. হেরাসিম লেবেডফ
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. প্রসন্নকুমার ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
হেরাসিম লেবেডফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেরাসিম লেবেডফ
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫,৭৪৯.
‘পল্লিকবি’ বলা হয় কাকে?
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) জসীমউদ্দীন
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
খ) জসীমউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
- জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬) ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবীদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীমউদ্দীনকে পল্লিকবি বলা হয় । অনেকে মনে করেন, তিনি ‘আধুনিক কবি’।
- জসীমউদ্দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। তখন থেকেই তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন। পল্লির মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।

তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী,
- পদ্মা নদীর দেশে,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া,
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়,
-জার্মানীর শহরে বন্দরে,
- স্মরণের সরণী বাহি,
- বাঙালীর হাসির গল্প,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৫০.
'হাঙর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সেলিনা হোসেন
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4.  সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড:
- সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• সেলিনা হোসেন:

- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৭৫১.
'হাবেদা মরুর কাহিনী' গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কাজী মোতাহার হোসেন 
  4. আবুল ফজল 
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• "হাবেদা মরুর কাহিনী" বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি ফররুখ আহমদ-এর একটি কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- ফররুখ আহমদের কবিতায় মুসলিম রেনেসাঁর অনুপ্রেরণা, আরব-ইরানের ঐতিহ্য এবং ইসলামের আদর্শের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। "হাবেদা মরুর কাহিনী" কাব্যগ্রন্থেও এই ধারা পরিলক্ষিত হয়। 

-------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যের জন্যে তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "হাবেদা মরুর কাহিনী" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৫,৭৫২.
আবুল মনসুর আহমেদ এর স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ-
  1. আবে-হায়াৎ
  2. গালিভারের সফরনামা
  3. আত্মকথা
  4. আমার জীবনী
সঠিক উত্তর:
আত্মকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মকথা
ব্যাখ্যা
• 'আত্মকথা' আবুল মনসুর আহমেদ রচিত স্মৃতিকথামূলক রচনা।

• আবুল মনসুর আহমেদ:
- আবুল মনসুর আহমেদ (৩ সেপ্টেম্বর ১৮৯৮ – ১৮ মার্চ ১৯৭৯) একজন বাংলাদেশী সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক।
- তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রূপাত্মক রচয়িতা।
- ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ আবুল মনসুর আহমদের মৃত্যু হয়।

• ব্যঙ্গরচনা:
- আয়না
- ফুড কনফারেন্স
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী)
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা
- জীবন ক্ষুধা
- আবে-হায়াৎ

• অন্যান্য রচনা:
- বাংলাদেশের কালচার
- আসমানী পর্দা

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৫৩.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস?
  1. ক) শ্রাবণ মেঘের দিন
  2. খ) জোছনা ও জননীর গল্প
  3. গ) বাদশাহ নামদার
  4. ঘ) মেঘের ওপর বাড়ি 
সঠিক উত্তর:
খ) জোছনা ও জননীর গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ুন আহমেদের  জনপ্রিয় উপন্যাস 'জোছনা ও জননীর গল্প'।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে রচিত উপন্যাসটি ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।

হুমায়ূন আহমেদ
- জন্ম: ১৯৪৮ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলায়। 
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে।'
- তাঁর উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি: 'আগুনের পরশমণি','শ্রাবণ মেঘের দিন', 'দুই দুয়ারী'
- লজিক ও এন্টি লজিক নিয়ে কাজ করা তাঁর দুটি চরিত্র: মিসির আলী ও হিমু। 
- তাঁর অন্যতম সায়েন্স ফিকশন 'তোমাদের জন্য ভালোবাসা'।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: মধ্যাহ্ন এবং বাদশাহ নামদার।

 হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
শ্যামল ছায়া 
আগুনের পরশমণি
অনিল বাগচীর একদিন,
জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা পিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৫৪.
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল' কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• 'সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল' ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।

- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে 'সমকালে'র ভূমিকা অনস্বীকার্য।

- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযোগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।

- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতো বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে 'সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৫৫.
"আমরা সবাই রাজা" গানটি সংকলন করা হয়েছে কোথা থেকে?
  1. রাজা নাটক
  2. নটিরপূজা নাটক
  3. রক্তকরবী নাটক
  4. সবাই রাজা নাটক
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রাজা নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা নাটক
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথের অতি পরিচিত একটি গান ‘আমরা সবাই রাজা’।
- ১৩১৭ সালে রচিত ‘রাজা’ নাটকে গানটি ব্যবহৃত হয়। পরবর্তী কালে ‘রাজা’র সংক্ষিপ্ত সংস্করণ ‘অরূপরতন’ নাটকেও গানটি রেখে দেন রবীন্দ্রনাথ।
- এই গানটিতে যেন রবীন্দ্রনাথ রাজত্ব বা ‘রুল’ নিয়ে তাঁর আদর্শগুলি সূত্রাকারে লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন। 

"আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে-
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে?
আমরা যা খুশি তাই করি, তবু তাঁর খুশিতেই চরি,
আমরা নই বাঁধা নই দাসের রাজার ত্রাসের দাসত্বে-
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে?"

অর্থাৎ, রাজ্যে বৈষম্য নেই, রয়েছে সমানাধিকার ও স্বাধীনতা। এই রাজার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটি ত্রাসেরও নয়, দাসত্বেরও নয়। পশ্চিমি চিন্তায় ‘দাসত্ব’ ও ‘স্বাধীনতা’র আইডিয়া দুটি বৈপরীত্যের সূত্রে পরস্পরের সঙ্গে বাঁধা। তাদের দুই মেরুতে রেখে পশ্চিমি রাজনৈতিক চিন্তা এগিয়েছে। এই গানেও তা-ই। আমরা রাজার দাস নই, তাঁর শাসন ভিত্তি ত্রাস নয়, এই কথাটা বলে স্বাধীনতার একটি পরিচিত তত্ত্বেরই আভাস দিলেন রবীন্দ্রনাথ।

সূত্র:
১. রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’ নাটকের রাজনৈতিক দর্শন, (অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) [সাপ্তাহিক একতা'য় প্রকাশিত]
২. কেন আমরা সবাই রাজা (দীপেশ চক্রবর্তী), [আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত]
১৫,৭৫৬.
'চিলেকোঠার সেপাই' - উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) আখতারুজ্জামান আজাদ
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• চিলেকোঠার সেপাই
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭):

- কথাসাহিত্যিক।
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা,
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৫৭.
'মন্দির' ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- তিনি ১৬ই জানুয়ারি, ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

• তাঁর বিখ্যাত গল্পসমূহ:
- মন্দির(প্রথম)
- মহেশ, 
- মেজদিদি,
- অনুপমার প্রেম,
- কাশীনাথ,
- হরিলক্ষ্মী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৫৮.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ক) চরিত্রহীন
  2. খ) গৃহদাহ
  3. গ) পরিণীতা
  4. ঘ) দেবদাস
সঠিক উত্তর:
খ) গৃহদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত 'গৃহদাহ' (১৯২০) উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- মহিমা ও সুরেশ এই দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ-বিকর্ষণ এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় উপকরণ।
- তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ চরিত্রহীন, শ্রীকান্ত, পরিণীতা, বিরাজবৌ, পণ্ডিতমশাই, পল্লীসমাজ, দেবদাস, দত্তা, বড়দিদি, চরিত্রহীন, গৃহদাহ, বামুনের মেয়ে, শেষ প্রশ্ন, দেনাপাওনা, পথের দাবী, বিপ্রদাস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,৭৫৯.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত "তিতাস একটি নদীর নাম" কী ধরনের উপন্যাস?
  1. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  2. আঞ্চলিক উপন্যাস
  3. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  4. মহাকাব্যিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• আঞ্চলিক উপন্যাস:
কোনো বিশেষ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতি, তাদের হাসি-কান্না এমনকি তাদের আচরণ ও উচ্চারণ অবিকৃত ভঙ্গিতে যে-সকল উপন্যাসে স্থান পায় সেগুলোকে আঞ্চলিক উপন্যাস বলা যায়।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আরণ্যক'; তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'হাঁসুলি বাঁকের উপকথা'; সতীনাথ ভাদুড়ির 'ঢোঁড়াই চরিত মানস'; দেবেশ রায়ের 'তিস্তাপারের বৃত্তান্ত'; আলাউদ্দীন আল আজাদের 'কর্ণফুলী'; অদ্বৈত মল্লবর্মণের 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রভৃতি আঞ্চলিক উপন্যা হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।

---------------------
• "তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাস:

- 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- ৪ খণ্ডে বিন্যাস্ত এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।

উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
• 'মনের মত মানুস পাইলাম না।' উক্তিটি জনৈক মালো যুবক।
• 'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- করমালীর উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,৭৬০.
সতীদাহ প্রথা প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের রচিত গদ্য গ্রন্থ -
  1. ক) দোলনচাঁপা
  2. খ) পথে হলো দেখা
  3. গ) বেদান্ত গ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায় হিন্দুধর্মের মহান সংস্কারক।
পশ্চিম বাংলার রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
তিনি আঠারো শতকের ভারতের গতানুগতিক সনাতনী শিক্ষা লাভ করেন।
উনিশ শতকের যুক্তিবাদী মননশীলতায় রামমোহন সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন।
হিন্দু সমাজের গোঁড়া সংস্কারের জন্য দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
- প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
- গোস্বামীর সহিত বিচার।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৭৬১.
জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ
  1. বালুচর
  2. রাখালী
  3. নক্সী কাঁথার মাঠ
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
সঠিক উত্তর:
রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
ব্যাখ্যা
• ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৬২.
'সুরবালা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ছোটগল্পের?
  1. জীবিত ও মৃত
  2. একরাত্রি
  3. নষ্টনীড়
  4. পোস্টমাস্টার
সঠিক উত্তর:
একরাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একরাত্রি
ব্যাখ্যা
• 'একরাত্রি' ছোট গল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ গল্পসমূহের মধ্যে ‘একরাত্রি' বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায়।
- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ছোটগল্প' শীর্ষক রবীন্দ্র গল্পগ্রন্থে এটি প্রথম গ্রন্থিত হয়।
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'সুরবালা'।

অন্যদিকে,
- 'জীবিত ও মৃত' গল্পটির প্রধান চরিত্র - কাদম্বিনী।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের চরিত্র 'রতন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৬৩.
শওকত ওসমান কোন গ্রন্থের জন্য ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. পিঁজরাপোল
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
ব্যাখ্যা
'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' গল্পগ্রন্থ:
- এটি শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের জন্য তিনি ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১) লাভ করেন।

শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান ।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

তাঁর রচিত গল্প:
- পিঁজরাপোল,
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক,
- উভশৃঙ্গ,
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৬৪.
'বাংলাদেশ কথা কয়' বইটির লেখক কে?
  1. ক) শামসুল হুদা চৌধুরী
  2. খ) অ্যান্থনী মাসকারেনহাস
  3. গ) আব্দুল মোমেন
  4. ঘ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাসঃ চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম), নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা ও শেষ রাত্রির চাঁদ। গল্পগ্রন্থঃ কৃষ্ণপক্ষ, সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর। বাংলাদেশ কথা কয়- তার সম্পাদনা গ্রন্থ। তিনি “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” গানের রচয়িতা। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৬৫.
শরৎচন্দ্রের মৃত্যুর পর প্রকাশিত গ্রন্থ-
  1. পথের দাবী
  2. চরিত্রহীন
  3. গৃহদাহ
  4. শেষের পরিচয়
সঠিক উত্তর:
শেষের পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের পরিচয়
ব্যাখ্যা

শেষের পরিচয়:
- শেষের পরিচয় - হচ্ছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি অসমাপ্ত উপন্যাস।

- শরৎচন্দ্র জীবিত অবস্থায় উপন্যাসটি সম্পূর্ণ করতে পারেননি।
- তার মৃত্যুর পর শ্রীমতী রাধারাণী দেবী এই উপন্যাসের বাকি অংশ লিখে ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- উপন্যাসটি মূলত মানবধর্মীয় সম্পর্ক, সামাজিক নীতি, পারস্পরিক পরিচয় ও ব্যক্তিত্ব অনুসন্ধান- এগুলোকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায়।
- উপন্যাসের মাধ্যমে সমাজের প্রথাগত নিয়ম, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তার প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ।
- তার প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পথের দাবী' হলো রাজনৈতিক উপন্যাস যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- নারীর মূল্য (১৯২৩), স্বদেশ ও সাহিত্য (১৯৩২)।

• শরৎচন্দ্রের মৃত্যুর পর প্রকাশিত আরও কিছু লেখা-
- শরৎচন্দ্র ও ছাত্রসমাজ,
- ছেলেবেলার গল্প, শুভদা (১৯৩৮),
- শরৎচন্দ্রের গ্রন্থাবলী (১৯৪৮) এবং 
- শরৎচন্দ্রের অপ্রকাশিত রচনাবলী (১৯৫১)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭৬৬.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতা- 
  1. স্মৃতির মিনার
  2. বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
  3. কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  4. সভ্যতার মনিমধ্যে
সঠিক উত্তর:
কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতা:
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম ও ঐতিহাসিক কবিতা হলো "কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি"।
- কবিতাটির রচয়িতা মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালের রাতে এই কবিতাটি রচনা করেন ভাষা শহীদদের প্রতি স্মরণ আর তাদের হত্যার প্রতিবাদ হিসেবে।
- পরে ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে এটি ছাপানো হয়।
- কবিতাটি একুশের প্রথম প্রতীকী কবিতা হিসেবে পরিচিত।
- এবং এতে আন্দোলনের প্রতিবাদ, সাহস ও তীব্র জাতীয় চেতনা ফুটে উঠেছে।
-------------------- 
অন্যদিকে, 
- স্মৃতির মিনার – কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মহান ভাষা আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে লেখা একটি বিখ্যাত প্রতিবাদী কবিতা।
- বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা – শামসুর রাহমান রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক কবিতা।
- সভ্যতার মনিমধ্যে হলো কবি ও সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি বিখ্যাত কবিতা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া, 

১৫,৭৬৭.
রামনারায়ণ তর্করত্ন কোন নাটক রচনা করে 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিল?
  1. কুলীনকুলসর্বস্ব
  2. শকুন্তলা
  3. মালতীমাধব
  4. রত্নাবলী
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
• 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভকরে।
- তাঁর 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন। এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা,
- মালতীমাধব,
- রত্নাবলী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৬৮.
‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা -
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. প্রতুল মুখোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা - দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
-  ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্যগাথা' (১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ-সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৬৯.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা কোনটি?
  1. দেবদাস
  2. শ্রীকান্ত
  3. চরিত্রহীন
  4. গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা এবং একটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৭০.
রাজবন্দি থাকাকালীন কবি নজরুলের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ভাঙার গান
  2. দোলন চাঁপা
  3. বিষের বাঁশী
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
দোলন চাঁপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোলন চাঁপা
ব্যাখ্যা
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন চাঁপা'। 
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’।   
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। কবি তখন রাজবন্দি ছিলেন।
- দোলন চাঁপা কাব্যগ্রন্থটি মূলত প্রেম প্রধান কবিতার বই।  
- কবির স্ত্রী আশালতা বা দোলনের (ডাক নাম দুলি, আদার করে ডাকা হতো দোলন) নামেই কাব্যটির নামকরণ করা হয়।

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক, 
- পূজারিণী, 
- কবি-রানী, 
- অবেলার ডাক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৭১.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. নন্দিত নরকে - মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  2. সংশপ্তক - জহির রায়হান
  3. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড - নীলিমা ইব্রাহিম
  4. যদ্যপি আমার গুরু - আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
যদ্যপি আমার গুরু - আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদ্যপি আমার গুরু - আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

- আহমদ ছফা রচিত একটি প্রবন্ধ যদ্যপি আমার গুরু ।
- নন্দিত নরকে রচয়িতা হুমায়ুন আহমেদ ।
- সংশপ্তক উপন্যাসটি রচনা করেন শহীদুল্লাহ কায়সার ।
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড রচয়িতা সেলিনা হোসেন ।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস :
- গাভী বিত্তান্ত
- ওঙ্কার
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)।

১৫,৭৭২.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত প্রথম নাটক কোনটি? 
  1. বিবাহ
  2. কবর 
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. স্মৃতিস্তম্ভ
সঠিক উত্তর:
কবর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবর 
ব্যাখ্যা

» 'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭৭৩.
পঞ্চাশের মন্বন্তর উপলক্ষ্য করে সুকান্ত ভট্টাচার্য কোন সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন?
  1. সুচয়নী
  2. অভিযান
  3. আকাল
  4. চয়নিকা
সঠিক উত্তর:
আকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাল
ব্যাখ্যা
• আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৭৪.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস কোনগুলো?
  1. ক) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং সংকর সংকীর্তন
  2. খ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পরিত্যক্ত স্বামী এবং সংকর সংকীর্তন।
  3. গ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং প্রপঞ্চ
  4. ঘ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং দেয়াল
সঠিক উত্তর:
ক) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং সংকর সংকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং সংকর সংকীর্তন। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- দেয়াল, পরিত্যক্ত স্বামী, প্রপঞ্চ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,৭৭৫.
মুসলমান নারী কর্তৃক লিখিত বাংলা সাহিত্যকর্ম ‘রূপজালাল’–এর লেখক–
  1. বেগম রোকেয়া
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
  3. রহিমুন্নিসা
  4. শামসুর নাহার 
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'রূপজালাল' এর পরিচিতি:
- গদ্যে-পদ্যে নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে। 
- এটি ১৮৭৬ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সম্ভবত বাংলার একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক প্রথম রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যকর্ম।
- ফয়জুন্নেসার নিজের একটি লাইব্রেরি ছিল। সেখানে তিনি বিভিন্ন সাহিত্য ও ধর্মবিষয়ক গ্রন্থাদি পাঠ করতেন। তাঁর স্বোপার্জিত জ্ঞানের প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উক্ত প্রতীকাশ্রয়ী গ্রন্থটিতে।
- পুথি ও জারিগানের মিশ্র ধারায় লিখিত এ গ্রন্থটি শুরু হয়েছে আল্লাহর প্রশংসা এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।
- সমকালীন বাংলায় মুসলমানদের সাহিত্যচর্চার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ফয়জুন্নেসা তাঁর লেখায় অনেক আরবি, ফার্সি ও উর্দু শব্দ ব্যবহার করেছেন।

------------------
নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী:
- নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন। মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।

- নবাব ফয়জুন্নেসা আলোচিত আত্মজীবনীমূলক রচনা রূপজালাল।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়। উল্লেখ্য যে, নবাব ফয়জুন্নেসা এমন এক সময়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা করেন যখন অভিজাত মুসলমানদের মধ্যে এই ভাষা সাধারণত ব্যবহৃত হতো না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭৭৬.
"রোগকে ঘৃণা করা যায়, রোগীকে কেন?" - এই উক্তিটি হুমায়ুন আহমেদের কোন গল্প থেকে নেওয়া?
  1. চোখ
  2. অয়োময়
  3. অপরাহ্ণের গল্প
  4. একটি নীল বোতাম
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণের গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণের গল্প
ব্যাখ্যা
• "রোগকে ঘৃণা করা যায়, রোগীকে কেন?" এই উক্তিটি হুমায়ুন আহমেদের অপরাহ্ণের গল্প থেকে নেওয়া।

• অপরাহ্ণের গল্পের অংশবিশেষ:
পশু-পাখিদের মধ্যে কেউ যদি রোগগ্রস্ত হয় তখন অন্যরা তাদের ত্যাগ করে। রোগীকে মরতে হয় সঙ্গীবিহীন অবস্থায় একা একা। মানুষ তো পশুপাখি না। মানুষ রোগীকে দেখবে পরম আদরে এবং মমতায়। রোগকে ঘৃণা করা যায় রোগীকে কেন?

উৎস: অপরাহ্ণের গল্প - হুমায়ুন আহমেদ।
১৫,৭৭৭.
কবি বন্দে আলী মিয়া কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) পাবনা
  2. খ) কুষ্টিয়া
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) রংপুর
সঠিক উত্তর:
ক) পাবনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাবনা
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া (১৯০৬-১৯৭৯)  
সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য
- চোর জামাই (১৯২৭),
- মেঘকুমারী (১৯৩২),
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা (১৯৩২),
- সোনার হরিণ (১৯৩৯),
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৫৬),
- কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬০),
- সাত রাজ্যের গল্প (১৯৭৭) 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৭৮.
বিজ্ঞান শিক্ষাকে মাতৃভাষার মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য ‘কলিঙ্গ' পুরষ্কার লাভ করেন-
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. হুমায়ুন আহমেদ
  3. আবদুল্লাহ আল মুতি
  4. জাফর ইকবাল
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মুতি
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম “এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।'
- বিজ্ঞান জনপ্রিয়করার জন্য ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরস্কার (১৯৮৩) লাভ করেন। 

 • তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে’
- তারার দেশের হাতছানি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৭৯.
কোন কবিকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধিকাল:
১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়। উনিশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত।
- এই যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্য ও আধুনিক যুগের সন্ধিস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি সব্যসাচীর মত দু হাতে দু দিকের নির্দেশ দিয়েছেন।
- মধ্যযুগের অবসানের পর এবং আধুনিক যুগের যথার্থ সূত্রপাতের পূর্বে কবি ঈশ্বর গুপ্ত কাব্য সাধনায় খ্যাতিলাভ করেন।
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ঘটে ১৭৬০ সালে, আবার আধুনিক যুগ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সহকারে প্রকাশ পায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যসৃষ্টির মাধ্যমে মোটামুটি ১৮৬০ সাল থেকে।
- এই দুই যুগের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে তেমন কোন উৎকর্ষপূর্ণ সৃষ্টি বা সৃষ্টিসম্ভারের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয় না।
- তখন বাংলা গদ্যরীতির উদ্ভবের কাল; সাহিত্যের যথার্থ বাহনের উপযোগিতা বাংলা গদ্য তখনও অর্জন করতে পারে নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৮০.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) আ ন ম গাজীউল হক
  2. খ) আলাউদ্দিন আজাদ
  3. গ) মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
গ) মাহবুব উল আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাহবুব উল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা - কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।
- কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকায় ছাপা হয় কবিতাটি। 

- প্রথম নির্মিত শহীদ মিনার ধ্বংসের প্রতিবাদে আলাউদ্দিন আজাদ লিখেন 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি। 
- একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা - 'কোন এক মাকে'
- একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ ন ম গাজীউল হক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৮১.
'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত একটি -
  1. নাটক
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. কাবতগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত - নাটক

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৮২.
নির্মলেন্দু গুণ কত সালে একুশে পদক লাভ করে?
  1. ১৯৮২ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ  গুণ চৌধুরী।
- নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী কে কবিদের কবি বলা হয়। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার,
- ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১৫,৭৮৩.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনামে লেখেন-
  1. আবু জাফর শামসুদ্দিন
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'ভ্রমণকারী বন্ধু' - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ছদ্মনাম।
তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে,
• 'আবু জাফর শামসুদ্দিন' অল্পদর্শী ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।
• 'সৈয়দ মুজতবা আলী'র ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।
• 'বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৮৪.
সত্যেন সেন রচিত ইতিহাসগ্রন্থ কোনটি?
  1. বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম
  2. মহাবিদ্রোহের কাহিনী
  3. প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• অপশনে উল্লেখিত  সবগুলোই  সত্যেন সেন রচিত ইতিহাসগ্রন্থ।

• সত্যেন সেন:

- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৮৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাথে নিম্নোক্ত কোন মনীষীর নাম জড়িত?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) রামমোহন রায়
  3. গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার
ব্যাখ্যা

- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের মে মাসের ৪ তারিখ।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে যার লেখা সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয় তিনি - মৃত্যঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
তার রচিত গ্রন্থগুলো হলো -
- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধচন্দ্রিকা, বেদান্তচন্দ্রিকা।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি।

১৫,৭৮৬.
“তার চেয়ে আজ আমার যুক্তি মানো
সিকতাসাগরে সাধের তরনী হও;
মরুদ্বীপের খবর তুমিই জানো
তুমি তো কখনও বিপদপ্রাজ্ঞ নও।”
- কোন কবির রচনা?
  1. ক) সুকুমার সেন
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

কবিতাংশটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তেরউটপাখী’ কবিতার অন্তর্গত।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (৩০ অক্টোবর ১৯০১ - ২৫ জুন ১৯৬০) বাংলা ভাষার একজন প্রধান আধুনিক কবি।
- বিংশ শতকের ত্রিশ দশকের যে পাঁচ জন কবি বাংলা কবিতায় রবীন্দ্র প্রভাব কাটিয়ে আধুনিকতার সূচনা ঘটান তাদের মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ অন্যতম।
- তাকে বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয়
সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ছয়টি -
- তন্বী (১৯৩০),
- অর্কেষ্ট্রা (১৯৩৫),
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫৩),
- দশমী (১৯৫৬)।

এছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধ গ্রন্থ আছে -
- স্বগত (১৯৩৮),
- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি( ১৯৫৪)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৭৮৭.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিরূপ সমাজের ছবি অঙ্কিত হয়েছে ফররুখ আহমদ রচিত কোন কবিতায়?
  1. আউলাদ
  2. সিন্দাবাদ
  3. পাঞ্জেরি
  4. দরিয়ার শেষরাত্রি
সঠিক উত্তর:
আউলাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আউলাদ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ইসলামি স্বাতন্ত্র‌্যবাদী কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিরূপ সমাজের ছবি ‘লাশ’ ও ‘আউলাদ’ কবিতায় পাওয়া যায়।
- তবে মূলত মুসলমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।

⇒ ফররুখ আহমদ: 
-  ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে  জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৮৮.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'।
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা |
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে
সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা, 
- কাঁদো নদী কাঁদো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭৮৯.
কোন উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের রচনা নয়?
  1. ক) দেবদাস
  2. খ) মৃত্যুক্ষুধা
  3. গ) শ্রীকান্ত
  4. ঘ) মেজদিদি
সঠিক উত্তর:
খ) মৃত্যুক্ষুধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা
মৃত্যুক্ষুধা, বাধনহারা ও কুহেলিকা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৭৯০.
জসীম উদ্‌দীনের ”নকশী কাঁথার মাঠ” কাব্যগ্রন্থটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. গদ্য ছন্দ
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• নক্সী কাঁথার মাঠ গ্রন্থের ছন্দের বিশ্লেষণ:
গ্রন্থের চরিত্র ও কথোপকথন গ্রামীণ স্বভাবের এবং কথোপকথনে পল্লীগান ব্যবহৃত হয়েছে। পল্লীগানগুলো বাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। লেখক গ্রন্থের ভূমিকায় নিজে বলেছেন যে, গ্রামীণ ভাব ও ছন্দ বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। বাংলার পল্লীগান সাধারণত মুক্ত স্বরবৃত্ত এবং মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত হয়।

যেহেতু জসীম উদ্‌দীন গ্রামীণ কথোপকথন ও পল্লীগান ব্যবহার করেছেন, এটি মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দের সংমিশ্রণ নির্দেশ করে।
 
কাব্যটির পঙ্‌ক্তির ছন্দের বিশ্লেষণ:
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দে সাধারণত আদর্শ মাত্রা: ৬/৬/৬/২ (কিছু ক্ষেত্রে ৪/৫/৭ও হতে পারে)। 

নিয়ম:
মুক্তাক্ষর: ১ মাত্রা। 
বদ্ধাক্ষর: ২ মাত্রা।

• বিশ্লেষণ অনুযায়ী, “নকশী কাঁথার মাঠ” কাব্যে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বেশি, তবে কিছু লাইনে স্বরবৃত্তও আছে। তাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর- মাত্রাবৃত্ত ছন্দ।
-------------------
• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কবি জসীমউদ্দীনের এক অনবদ্য সৃষ্টি।
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যটি মূলত বাংলাদেশের পল্লীজীবনের কাহিনিকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এর মূল চরিত্র সাজু এবং রূপাই-এর প্রেম কাহিনি।

- তাদের জীবনসংগ্রাম এবং সামাজিক বাধা-বিপত্তির প্রতিফলন অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহীভাবে ফুটে উঠেছে এ কাব্যে। সাজুর মৃত্যু এবং রূপবান তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে নকশী কাঁথার সেলাইয়ে মগ্ন থাকে- এ ব্যথাতুর কাহিনিই আখ্যানকাব্যের কেন্দ্রবিন্দু। পুরো কাহিনিতে গ্রামীণ সমাজের সরল জীবনযাপন, প্রেমের ব্যর্থতা ও করুণ দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ভাষায়।

- "নক্সী কাথার মাঠ"- কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ "The Field of The Embroidered Quilt" অনুবাদটি করেছেন-E.M. Milford.

উৎস: ভাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'নক্সী কাঁথার মাঠ' গ্রন্থের ভূমিক; বাংলাপিডিয়া এবং প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।

১৫,৭৯১.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা-
  1. স্মৃতির মিনার
  2. কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  3. মাগো ওরা বলে
  4. স্মৃতিস্তম্ভ
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিস্তম্ভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিস্তম্ভ
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:
স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার ? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার। 

অন্যদিকে, 
• মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহর কবিতা ‘স্মৃতির মিনার’। 

• ভাষা আন্দোলন চলাকালে ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বসে ভাষা শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে মাহবুবুল আলম চৌধুরী রচনা করেন ১২০ লাইনের- ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ শিরোনামের কবিতা।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘মাগো ওরা বলে’ কবিতায় কবি এক দুঃখিনী মায়ের চিত্রকল্প এঁকেছেন।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৯২.
'আনন্দের মৃত্যু' সৈয়দ শামসুল হক রচিত-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কাব্যনাট্য
সঠিক উত্তর:
খ) ছোটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
আনন্দের মৃত্যু' সৈয়দ শামসুল হক রচিত-‌ ছোটগল্প। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য ছোটগল্প- উদয়াস্ত, তাস, শীত বিকেল, রক্ত গোলাপ ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,৭৯৩.
শিশুসাহিত্য 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ' রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. শামসুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
• শিশুসাহিত্য 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ' রচনা করেন - শামসুজ্জামান খান

শামসুজ্জামান খান:

- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক হন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ,
- গণসঙ্গতি,
- মাটি থেকে মহীরুহ,
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ প্রাসঙ্গিক কথকতা,
- ফোকলোরচর্চা।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৯৪.
'রঙিলা নায়ের মাঝি' জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. গানের সংকলন
সঠিক উত্তর:
গানের সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
• 'রঙিলা নায়ের মাঝি'
- 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলনটির রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন।
- এটি তাঁর রচিত একটি গানের সংকলন।
- সংকলনটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

• 'রঙিলা নায়ের মাঝি' গানের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত সংগীতগুলো হলো:
- আজ আমার মনে ত না মানেরে, 
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে, 
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি, 
- উজান গাঙের নাইয়া, 
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া, 
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে,
- ও মোহন বাঁশী,
- নদীর নাই-কিনার নাইরে,
- নিশিতে যাইও ফুলবনে,
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে,
- সিন্দুরের বেসাতি।

--------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলন হলো:
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর; 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলন এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭৯৫.
'বঙ্গদূত' পত্রিকাটি  সম্পাদনা করেছেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. নীলমণি হালদার
  4. রণেশ দাশগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
ব্যাখ্যা
• নীলমণি হালদার — 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• বঙ্গদূত:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমনি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৯৬.
কাজী নজরুল ইসলামের গান ও স্বরলিপির বই কোনটি?
  1. বলাকা
  2. গীতবিতান
  3. বুলবুল
  4. ছায়ানট
সঠিক উত্তর:
বুলবুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুলবুল
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের গান ও স্বরলিপির বই- বুলবুল। 

• 'বুলবুল' গীতিগ্রন্থ:

‘বুলবুল’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গীতিগ্রন্থ, এটিই তাঁর প্রথম গ্রন্থ যাতে শুধু গান প্রকাশিত হয়েছিল। 'বুলবুল' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মুতাবিক নভেম্বর ১৯২৮, প্রকাশক গোপালদাস মজুমদার, ডি. এম. লাইব্রেরি, ৬১ কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা। পৃষ্ঠা সংখ্যাক ৮ + ৭০; মূল্য এক টাকা; রাজসংস্করণ পাঁচ সিকা। তাতে মোট ৪২টি গান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই বঙ্গাব্দের চৈত্রে গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হলে তাতে ‘নূতন গান’ বিভাগে সাতটি গান সংযোজিত হয়েছিল। 

১৩৩৫ বঙ্গাব্দের পৌষের ‘সওগাতে’ ‘অমলেন্দু দাশগুপ্ত’ ‘বুলবুলের কবি’ শিরোনামে ‘বুলবুল’ গ্রন্থের একটি আলোচনা প্রকাশ করেন, এটি গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণের গোড়ায় সন্নিবেশিত হয়। ‘বুলবুলে’র তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের ভাদ্রে; প্রকাশক গোপালদাস মজুমদার, ডি. এম. লাইব্রেরি, ৬১ কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা। পৃষ্ঠা সংখ্যাক ৮+১৬+৮০; মূল্য এক টাকা চার আনা; রাজসংস্করণ দেড় সিকা। বাংলা একাডেমির নজরুল রচনাবলীতে এই সংস্করণের পাঠ অনুসৃত হয়েছে।

• কাজী নজরুল ইসলামের গানের বই:
'বুলবুল', 'চোখের চাতক', 'চন্দ্রবিন্দু', 'সুরসাকী', 'জুলফিকার', 'বনগীতি', 'গুলবাগিচা', 'গানের মালা', 'গীতি শতদল'।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থ:
'বলাকা' ১৯১৬ সালে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য। কাব্যটি রবীন্দ্র কবি মানসের বিবর্তন ধারাপথে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রাক্বলাকা কাব্যে কবির অনুভূতি আবেগের মধ্যে দিয়ে ব্যক্ত ছিল, কিন্তু বলাকা কাব্যে সেই অনুভূতির প্রকাশ হয়েছে বোধি ও বুদ্ধি, জ্ঞান ও অনুভবে এবং দ্রুতি ও দীপ্তির মাধ্যমে- বিষয়ের সঙ্গে একাত্মতায় ও নতুন চেতনায়। কাব্যটি রচনার পশ্চাতে তিনটি বিষয় কবিকে অনুপ্রাণিত করেছে; ক. কবির ইউরোপ ভ্রমণ, খ. কবির নোবেল পুরস্কার লাভ, গ. সমকালীন বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রথম মহাযুদ্ধ। 

• 'গীতবিতান' গানের সংকলন:
গীতবিতান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমুদয় গানের সংকলন গ্রন্থ। ১৯৩১ সালে (আশ্বিন, ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ) এই গ্রন্থের প্রথম সংস্করণটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়। গীতবিতান প্রকাশের পূর্বে রবীন্দ্রনাথের ‘সমুদয়’ গান মোট তেরোটি গীতিসংকলনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। প্রথম সংস্করণে গীতবিতান গ্রন্থের বর্তমান পর্যায়বিন্যাস করা হয়নি। পরবর্তীকালে এই সংস্করণের সকল গান কবি ‘পূজা’, ‘স্বদেশ’, ‘প্রেম’, ‘প্রকৃতি’, ‘বিচিত্র’ ও ‘আনুষ্ঠানিক’, 'গীতিনাট্য ও নৃত্যনাট্য', 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী, 'জাতীয় সংগীত' ও 'পরিশিষ্ট' পর্যায়ে বিন্যস্ত করেন। এই বিষয়ানুক্রমে সজ্জিত হয়ে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর ১৯৪২ সালে (মাঘ, ১৩৪৮) গীতবিতান গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়। বর্তমানে এই সংস্করণটিই প্রচলিত। 

• 'ছায়ানট' কাব্যগ্রন্থ:
ছায়ানট কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থটি বর্মণ পাবলিশিং হাউস, ১৯৩ কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট, কলকাতা হতে ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রকাশক ছিলেন ব্রজবিহারী বর্মণরায়। এতে রয়েছে নজরুলের ৫০টি কবিতা।

উৎস: 'বুলবুল' গীতিগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৭৯৭.
‘মুজিব লেনিন ইন্দিরা’ কার লেখা?
  1. রফিক আজাদ
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• 'মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - নির্মলেন্দু গুণ।

নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৭৯৮.
'ইন্দিরা' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 • 'ইন্দিরা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ইন্দিরা।
- ইন্দিরা ছোট উপন্যাস, অনেকে বলেন বড়ো গল্প।
- ১৮৭২ সালে 'বঙ্গদর্শনে' প্রথম প্রকাশিত হয়।
 - এই কাহিনিটি উত্তমপুরুষের বয়ানে রচিত।
- এটি কৌতুক-পরিহাসপূর্ণ উপভোগ্য কাহিনি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৭৯৯.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত "হরতাল" গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৩২ সালে
  3. ১৯৪২ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা

 • ‘হরতাল’ কবি সুকান্তের একটি গদ্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- কবি সুকান্ত ব্যক্তি জীবনে যেমন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন তেমন চিন্তার ছাপ রয়েছে তার রচনায়।
- তার প্রায় সব লেখাতেই সাধারণ মানুষের কথা, দুঃখ-কষ্টের চিত্র উঠে এসেছে।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৮০০.
'রোহিণী' - কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. রাধারানী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

"কৃষ্ণকান্তের উইল" উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। 
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।