বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৩০ / ১৭৪ · ১২,৯০১১৩,০০০ / ১৭,৪৩৭

১২,৯০১.
কোনটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক?
  1. ক) কবর
  2. খ) দন্ডকারণ্য
  3. গ) কেউ কিছু বলতে পারে না
  4. ঘ) পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য
সঠিক উত্তর:
ক) কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কবর
ব্যাখ্যা
'কবর' ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
- নাটকটি রচনা করেন মুনীর চৌধুরী।

• মুনীর চৌধুরী:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। পিতা খানবাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
- জেলে বন্দী অবস্থায়ই তিনি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকায় রচনা করেন তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক কবর।
- ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা নিহত হন। 

• তাঁর রচিত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর (ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক),
- দন্ডকারণ্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,৯০২.
কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. সাঁওতাল পরগনা, বিহার
  2. শায়েস্তাবাদ, বরিশাল
  3. নোয়াখালী জেলায়
  4. হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ
সঠিক উত্তর:
সাঁওতাল পরগনা, বিহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁওতাল পরগনা, বিহার
ব্যাখ্যা
• কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য, 
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা,  
- শহরতলী, 
 - চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯০৩.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস-
  1. দিবারাত্রির কাব্য
  2. জননী
  3. পুতুলনাচের ইতিকথা
  4. শহরতলী
সঠিক উত্তর:
জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জননী
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী'।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
 - জননী ,
- দিবারাত্রির কাব্য ,
- পদ্মানদীর মাঝি ;
- পুতুলনাচের ইতিকথা ,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯০৪.
'আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও'- পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির লেখা?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• "আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন।
--------------------- 
আসমানী - কবিতা,
– জসীম উদ্‌দীন।

আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
--------------------- 
জসীম উদ্‌দীন: 
- কবি জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) আসমানী - কবিতা।
১২,৯০৫.
কবি শামসুর রাহমান কর্তৃক রচিত 'আসাদের শার্ট' অমর কবিতার প্রেক্ষাপট কী?
  1. ৬ দফা আন্দোলন
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন
  4. ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
আসাদের শার্ট:
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি কবি শামসুর রাহমান রচনা করেন ‘আসাদের শার্ট' কবিতাটি।
- “আসাদের শার্ট” কবিতাটি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।

- কবিতাটি লেখা হয় শহীদ আসাদুজ্জামান আসাদকে স্মরণ করে, যিনি গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।

উল্লেখ্য,
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯০৬.
"মেঘনা নদী দেব পাড়ি
কল-অলা এক নায়ে।
আবার আমি যাব আমার
পাড়াতলী গাঁয়ে।"- উল্লেখিত এই 'পাড়াতলী গাঁয়ে' জন্মগ্রহণ করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) ইমদাদুল হক মিলন
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙক্তিটি কবি শামসুর রাহমান রচিত 'প্রিয় স্বাধীনতা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
উল্লেখিত এই 'পাড়াতলী গাঁয়ে' জন্মগ্রহণ করেন - শামসুর রাহমান। 
- কবিতাটি নিম্নরূপ-

প্রিয় স্বাধীনতা
শামসুর রাহমান

মেঘনা নদী দেব পাড়ি
কল-অলা এক নায়ে।
আবার আমি যাব আমার
পাড়াতলী গাঁয়ে।

গাছ-ঘেরা ঐ পুকুরপাড়ে
বসব বিকাল বেলা।
দু-চোখ ভরে দেখব কত
আলো-ছায়ার খেলা।(সংক্ষিপ্ত) 
----------
শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬)  কবি, সাংবাদিক:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- কবির পিতা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা খাতুন।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত শামসুর রাহমান ৬৫টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।
- তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ - প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯০৭.
জহির রায়হান রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. হাজার বছর ধরে
  2. শেষ বিকেলের মেয়ে
  3. বরফ গলা নদী
  4. কয়েকটি মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
শেষ বিকেলের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষ বিকেলের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• 'শেষ বিকেলের মেয়ে' উপন্যাস:
- 'শেষ বিকেলের মেয়ে' জহির রায়হান রচিত প্রথম উপন্যাস।
- প্রেমের উপাখ্যান হিসেবে উপন্যাসটির জুড়ি মেলা ভার।
- বাংলা সাহিত্যে যতগুলো প্রেমের উপাখ্যান রয়েছে তার মধ্যে 'শেষ বিকেলের মেয়ে' গ্রন্থটি সম্ভবত পাঠক প্রিয়তার শীর্ষের দিকেই অবস্থান করছে।

---------------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ১৯৫৬ সালে জহির রায়হান চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনও আসেনি' মুক্তি পায়।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম'।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি 'বাহানা'।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

তাঁর অন্যান্য পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনো আসেনি (প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র),
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- জীবন থেকে নেয়া,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৯০৮.
কোনটি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস?
  1. ক) নিশীথিনি
  2. খ) আগুনপাখি
  3. গ) শামুক
  4. ঘ) বৃত্তায়ন
সঠিক উত্তর:
ক) নিশীথিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিশীথিনি
ব্যাখ্যা
'নিশীথিনি' হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস।
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস,
-নন্দিত নরকে,
-শঙ্খনীল কারাগার,
-অরণ্য,
-দ্বৈরথ,
-ইরিনা,
-সাজঘর,
-আমাদের শাদা বাড়ি
-নীল অপরাজিতা
-জলপদ্ম,
-কুহুরানী ইত্যাদি।।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
১২,৯০৯.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. সম্বাদ প্রভাকর
  2. বঙ্গদর্শন
  3. তত্ত্ববোধনী
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• বঙ্গদর্শন পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

অন্যদিকে,
- সম্বাদ প্রভাকর সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তত্ত্ববোধনী সম্পাদনা করেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- ভারতী সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯১০.
"করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।" কোন কবির রচনা?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. কামিনী রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতাটি লিখেছেন: 'কামিনী রায়'।
 - কবিতাটি কোন কাজ করতে গেলে অন্য মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে রাখে - সেই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।

কামিনী রায়:
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালে বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

পাছে লোকে কিছু বলে,
- কামিনী রায়।

করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।

উৎস: সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯১১.
'একটি কাফি' কবিতার রচয়িতা -
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
ক) বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী  বিষ্ণু দে ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন। তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- কাব্যভাবনা ও প্রকাশরীতিতে বুদ্ধিবৃত্তি ও মননশীলতাকে অঙ্গীকার করেই তিনি কবিতা লেখেন। তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- দেশের অতীত ও বর্তমানের নানা বিষয় এবং বিদেশের বিশেষত ইউরোপের শিল্প-সাহিত্যের বিচিত্র প্রসঙ্গ তাঁর কাব্যের শরীর ও চিত্রকল্প নির্মাণ করেছে। এসব কারণে তাঁর কাব্য দুর্বোধ্যতার অভিযোগ থেকে মুক্ত নয়।

- "একটি কাফি" কবিতাটি  কবির 'তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস (১৯৩৩),
- চোরাবালি (১৯৩৭),
- সাত ভাই চম্পা (১৯৪৪),
- রুচি ও প্রগতি (১৯৪৬),
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ (১৯৫২),
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার (১৯৫৩),
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ (১৯৫৮),
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত (১৯৬৩),
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা (১৯৬৬),
- মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা (১৯৬৭),
- In the Sun and the Rain (১৯৭২),
- উত্তরে থাকো মৌন (১৯৭৭),
- সেকাল থেকে একাল (১৯৮০),
- আমার হূদয়ে বাঁচো (১৯৮১) ইত্যাদি। 

- তাঁর রয়েছে ১০টি কাব্য সংকলন, ৭টি অনুবাদগ্রন্থ এবং ২টি সম্পাদিত গ্রন্থ। তাঁর একটি সম্পাদিত গ্রন্থ হচ্ছে এ কালের কবিতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলাপিডিয়া।
১২,৯১২.
‘কাঙাল হরিনাথ’ কোন লেখকের সাহিত্যগুরু ছিলেন?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায়  সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১২,৯১৩.
পদ্মা নদীর সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন গ্রন্থে?
  1. বলাকা
  2. সভ্যতার সংকট
  3. নৌকাডুবি
  4. ছিন্নপত্র
সঠিক উত্তর:
ছিন্নপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছিন্নপত্র
ব্যাখ্যা

• 'ছিন্নপত্র' চিঠির সংকলন:
- ছিন্নপত্র (১৯১২) রবীন্দ্রনাথের একটি পত্রসাহিত্য, যা তিনি পূর্ববঙ্গের জমিদারি পরিচালনার সময় শিলাইদহ, পতিসর, এবং কালিগ্রামে থাকাকালীন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে লিখিত চিঠির সংকলন।
- এই চিঠিগুলোতে পূর্ববঙ্গের গ্রামীণ জীবন, নদী, প্রকৃতি, মানুষের জীবনযাত্রা, এবং সামাজিক অবস্থার প্রত্যক্ষ বর্ণনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি শিলাইদহ ও পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কৃষকদের জীবন, এবং স্থানীয় সংস্কৃতির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
তাই এটি বাংলাদেশ প্রসঙ্গের প্রত্যক্ষ উদাহরণ।

ছিন্নপত্র-এর একটি চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন পদ্মা নদীর সৌন্দর্য ও গ্রামীণ জীবনের বিষয়ে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

শিলাইদহ থেকে ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে তিনি লিখেছিলেন- 
'পৃথিবী যে কী আশ্চর্য সুন্দরী এবং কী প্রশস্ত প্রাণ এবং গভীরভাবে পরিপূর্ণ তা এইখানে না এলে মনে পড়ে না।' শিলাইদহ থেকে যখন-তখন পদ্মা নদীতে বোট ভাসিয়ে দেন কবি। বোটের নাম দিয়েছেন পদ্মা। আপন মনে বুঝি গেয়ে ওঠেন, "এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে, 'জয় মা' বলে ভাসা তরী।" পদ্মা নদী থেকে বোটে করে চলে যান ইছামতীতে, ইছামতী থেকে বড়লে, হুড়োসাগরে, চল বিলে, কখনওবা আত্রাইয়ে, নাগর নদীতে, যমুনা পার হয়ে খাল বেয়ে চলে যান শাহজাদপুরে। এই চলাচলের পথ জুড়ে থাকা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও দারিদ্র্যক্লিষ্ট জনজীবন তাঁকে আলোড়িত করে। পদ্মা নদীর বিপুল বিস্তার, প্রকৃতির নিবিড় সৌন্দর্য ও জনমানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয় কবির হৃদয়। তাঁর 'হৃদয়ের একুল ওকুল দুকুল ভেসে যায়'।

--------------------- 
অন্যদিকে, 
• 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থ:
বলাকা ১৯১৬ সালে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য। কাব্যটি রবীন্দ্র কবি মানসের বিবর্তন ধারাপথে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রাক্বলাকা কাব্যে কবির অনুভূতি আবেগের মধ্যে দিয়ে ব্যক্ত ছিল, কিন্তু বলাকা কাব্যে সেই অনুভূতির প্রকাশ হয়েছে বোধি ও বুদ্ধি, জ্ঞান ও অনুভবে এবং দ্রুতি ও দীপ্তির মাধ্যমে- বিষয়ের সঙ্গে একাত্মতায় ও নতুন চেতনায়। কাব্যটি রচনার পশ্চাতে তিনটি বিষয় কবিকে অনুপ্রাণিত করেছে; ক. কবির ইউরোপ ভ্রমণ, খ. কবির নোবেল পুরস্কার লাভ, গ. সমকালীন বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রথম মহাযুদ্ধ। 

• ‘সভ্যতার সংকট’:
'সভ্যতার সংকট' মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ/ভাষণ। ‘সভ্যতার সংকট’ রবীন্দ্রনাথের শেষ ভাষণ যা তার আশি বৎসরের জন্মোৎসবের অনুষ্ঠানে ১৯৪১ সালের ১৪ই এপ্রিল (১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ) বই আকারে শান্তিনিকেতনে বিতরিত হয় । এই ভাষণ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় মুদ্রিত হবার পর , রবীন্দ্রনাথ এর ঈষৎ সংশোধন করেন । পরে এর সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয় ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় । পরে ৮ই মে , ১৯৪১ সালে এটি বই আকারে প্রকাশিত হয় ।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রকাশিত ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’-র ত্রয়োদশ খণ্ড (প্রকাশ নভেম্বর , ১৯৯০) থেকে এই বইটি মুদ্রিত করা হয়েছে।

• 'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নৌকাডুবি' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা ও ভাগ্যের পরিহাসে সম্পর্কের জটিলতা, প্রেম, ভুল বোঝাবুঝি, ত্যাগ এবং মানবিক আবেগের গভীর বিশ্লেষণ, যেখানে রমেশ ও কমলার নৌকাডুবি তাদের জীবনকে নতুন পথে চালিত করে, যা নিয়তির এক অদ্ভুত খেলায় আবর্তিত হয়, যেখানে ভালোবাসা, কর্তব্যবোধ ও সামাজিক বাধ্যবাধকতা একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। 
নদী ও নৌকাডুবির ঘটনা কাহিনির সূচনা হিসেবে আছে, কিন্তু সেখানে পদ্মা নদীর প্রকৃতি বা সৌন্দর্য নিয়ে আলাদা সাহিত্যিক বর্ণনা করা হয়নি।

উৎস: 'ছিন্নপত্র' চিঠির সংকলন; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১২,৯১৪.
'আয়না' গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. শহীদুল জহির
  2. আতাউর রহমান
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. মুহম্মদ আব্দুল হাই
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।

---------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌।

• তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'আয়না' গল্পগ্রন্থ।
১২,৯১৫.
'বোবা কাহিনী' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'বোবা কাহিনী' জসীম উদ্‌দীন রচিত উপন্যাস।

• জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক।
- তিনি ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী।
- ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

• বোবা কাহিনী:
- এটি জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম ও একমাত্র উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত রয়েছে।
- শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছিরের নিগৃহের কথা বর্ণিত রয়েছে।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।
- নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক: 
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী।
- হাসু।
- ডালিম কুমার।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯১৬.
'সমুদ্রের স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ঘ) উপন্যাসগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
খ) গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
‘সমুদ্রের স্বাদ’ (১৯৪৩) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, এর জন্ম ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ১৯ বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫),
- প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭),
- মিহি ও মোটা কাহিনী (১৯৩৮)
- সরীসৃপ (১৯৩৯),
- সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯১৭.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন গল্পসংকলনের গল্পগুলোতে গ্রামবাংলার জমিদারের প্রতাপ ও তার অবক্ষ্যয়ের শোচনীয় রূপ বর্ণিত হয়েছে?
  1. চৈতালী ঘূর্ণি
  2. নিকেতন
  3. জলসাঘর
  4. ডাকহরকরা
সঠিক উত্তর:
জলসাঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলসাঘর
ব্যাখ্যা
• 'জলসাঘর' গল্পসংকলন:
- 'জলসাঘর' ১১টি গল্পের সংকলন।
- প্রত্যেকটি গল্পের পটভূমি গ্রামবাংলার জমিদারের প্রতাপ ও তার অবক্ষ্যয়ের শোচনীয় রূপ।
- জমিদারতন্ত্রের সমৃদ্ধি ও অবসানের রূপ এই গল্পগুলিতে লক্ষ্য করা যায়। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
১২,৯১৮.
শওকত আলীর ‘যাত্রা’ উপন্যাসে কোন সময়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে? 
  1. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতের কাহিনি 
  2. ১৯৭১ সালের ০১ মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত
  3. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত
  4. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
ব্যাখ্যা

• শওকত আলীর ‘যাত্রা’ উপন্যাসে — ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

---------------------------------
• শওকত আলী:
- শওকত আলী (১৯৩৬-২০১৮) একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
- তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট নিয়ে লিখেছেন।
- শওকত আলী বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
• যাত্রা;
• ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’;
• ‘অপেক্ষা’।

• 'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলীর ‘যাত্রা’ উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট।
- গল্পে ঢাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আকস্মিক আক্রমণের কারণে সাধারণ নগরবাসী প্রাণভয়ে পলায়ন করে। 
- পাকিস্তানি সেনাদের হঠাৎ আক্রমণে শহরের সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ আশ্রয় পাবেন তা না জেনেই প্রাণভয়ে ছুটতে থাকে। 
- উপন্যাসটি ডায়রির আকারে লেখা হয়েছে।
- এখানে মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে।
- গল্পে নগরীর ধ্বংসলীলা, মানুষের দুঃখ-কষ্ট এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকার সংগ্রাম ফুটে উঠেছে।
- একই সঙ্গে দেখানো হয়েছে যে সাধারণ মানুষ কিভাবে প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে।

- শওকত আলীর বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস হলো:
• দক্ষিণায়নের দিন (১৯৮৫): ত্রয়ীর প্রথম কাহিনী, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেখা।
• কুলায় কালস্রোত (১৯৮৬): দ্বিতীয় কাহিনী, ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
• পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৮৬): শেষ কাহিনী, গল্পের সমাপ্তি।

উৎস: যাত্রা উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া।

১২,৯১৯.
নবাব ফয়জুন্নেসার দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে নিচের কোন গ্রন্থে?
  1. রূপজালাল
  2. সঙ্গীতসার
  3. সঙ্গীতলহরী
  4. প্রেম প্রবাহিণী
সঠিক উত্তর:
রূপজালাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপজালাল
ব্যাখ্যা
• নবাব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি 'নবাব' উপাধি লাভ করেন।

- বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি রয়েছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

অন্যদিকে,
• ‘প্রেম প্রবাহিণী’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯২০.
”সুরবালা” ‍রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. দেনাপাওনা
  3. একরাত্রি
  4. পোস্টমাস্টার
সঠিক উত্তর:
একরাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একরাত্রি
ব্যাখ্যা

• 'একরাত্রি' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ গল্পসমূহের মধ্যে 'একরাত্রি' বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। 
- গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায়।
- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ছোটগল্প' শীর্ষক রবীন্দ্র গল্পগ্রন্থে এটি প্রথম গ্রন্থিত হয়।
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- 'সুরবালা'।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমার।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৯২১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পটিতে মুসলমান চরিত্রকে ঘিরে কাহিনী গড়ে উঠেছে?
  1. সমাপ্তি
  2. একরাত্রি
  3. হৈমন্তী
  4. কাবুলিওয়ালা
সঠিক উত্তর:
কাবুলিওয়ালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুলিওয়ালা
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে মুসলমান চরিত্র রয়েছে।
• এ গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- রহমত ও খুকী।
• 'সমাপ্তি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'মৃণ্ময়ী'।
• 'হৈমন্তী' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'হৈমন্তী'।
• 'একরাত্রি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'সুরবালা'।
উৎসঃ রবীন্দ্রনাথ রচনাবলী।

১২,৯২২.
'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তার প্রকৃত নাম কী?
  1. মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ
  2. মীর আবদুস শুকুর
  3. আবদুস শুকুর আল মাহমুদ
  4. কাজী আবদুস শুকুর আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধকালে কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা বিভাগের জুনিয়র স্টাফ অফিসার পদে যোগ দেন। ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। 
- তিনি ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। 
- এটি আল মাহমুদ রচিত সনেট, যা ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থ
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস ,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে, 
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য পুরস্কার
- একুশে পদক (১৯৮৬),
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৮)।

উৎস - ১.ডেইলি স্টার বাংলা,
২.বাংলাপিডিয়া।
১২,৯২৩.
’কবিকন্ঠহার’ কোন কবির উপাধি ছিলো?  
  1. চন্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ভারতচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

 • মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি। তাঁর উপাধি হলো 'কবিকণ্ঠহার'। 

• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১২,৯২৪.
'লালসালু' উপন্যাসের প্রকাশকাল-
  1. ক) ১৯৪৮
  2. খ) ১৯৫৪
  3. গ) ১৯৬৪
  4. ঘ) ১৯৪৪
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়। চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাস দুটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত মনোসমীক্ষণমূলক উপন্যাস। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২,৯২৫.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।’ - রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি কে করছেন?
  1. নবাব সুজাউদ্দৌলা
  2. বশির
  3. সিরাজউদ্দৌলা
  4. জরিনা বেগম
সঠিক উত্তর:
নবাব সুজাউদ্দৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব সুজাউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯২৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম কী?
  1. কাবুলিওয়ালা
  2. হৈমন্তী
  3. পোস্টমাস্টার
  4. ভিখারিণী
সঠিক উত্তর:
ভিখারিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিখারিণী
ব্যাখ্যা
'ভিখারিণী' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘ভিখারিণী’ ১৮৭৪ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ,
- রবিবার,
- সমাপ্তি,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরী ও
- পোস্ট মাস্টার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯২৭.
"শুকিয়ে মরলেও কেউ শুধোয় না এসে। ঝ্যাঁটা মার নিজের জাতের মুখে, গেঁয়াতকুটুমের মুখে। সাধে সব খেরেস্তান হয়ে যায়।"- উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ঝিলিমিলি
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুক্ষুধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা
'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসে: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে। 
- নারী জীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা এবং সমাজের বাস্তবচিত্র এই উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।
- দারিদ্য, ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে সপরিবারে মেজ-বৌয়ের মুসলিম থেকে খ্রিষ্ট ধর্মান্তর গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে ওঠে গল্পে।
- অন্যদিকে গল্পের নায়কা রুবি আনসারকে ভালোবাসালেও রুবির পিতা তাকে বিয়ে দেয় আইসিএস পরীক্ষার্থী মোয়াজ্জেমের সঙ্গে।
- মোয়াজ্জেমের মৃত্যুর পর বিধবা রুবির জীবনে নেমে আসে সমাজের বিধিনিষেধ।
-  'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটির বিখ্যাত উক্তি- "শুকিয়ে মরলেও কেউ শুধোয় না এসে। ঝ্যাঁটা মার নিজের জাতের মুখে, গেঁয়াতকুটুমের মুখে। সাধে সব খেরেস্তান হয়ে যায়।"

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস হলো: 
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

অন্যদিকে:
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক।
- 'সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৬।
১২,৯২৮.
‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’ গানটি কোন নাটকে আছে?
  1. সিরাজদৌল্লাহ
  2. নূরজাহান
  3. সাজাহান
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
ব্যাখ্যা

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ঐতিহাসিক নাটক ‘সাজাহান’ -এ এই গানটি ছিল।
- মোগল সম্রাট সাজাহানের করুণ পরিণতি ও ছেলে আরঙ্গজেবের ক্ষমতাগ্রহণকে কেন্দ্র করে এই নাটকটি রচিত হয়েছে।
তাঁর অন্যান্য ঐতিহাসিক নাটক হলো :
- প্রতাপসিংহ
- দুর্গাদাস
- মেবার পতন
- নূরজাহান
- চন্দ্রগুপ্ত
- সিংহল বিজয়
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৯২৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট ছোট কবিতার সংকলন -
  1. স্ফুলিঙ্গ
  2. পারস্যে
  3. ছিন্নপত্র
  4. উৎসর্গ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
স্ফুলিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ফুলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
'স্ফুলিঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট ছোট কবিতার সংকলন। এর অনেক কবিতাই রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর সংগ্রহের খাতা বা ডায়েরি থেকে সংগৃহীত। সংক্ষিপ্ত ও ভাবঘন এই কবিতা‌ কনিকাগুলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশাল কাব্যজগতে এক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। ছিন্নপত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্র সংকলন। পারস্যে তাঁর ভ্রমণকাহিনী এবং উৎসর্গ কাব্যগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯৩০.
আবু ইসহাকের রচিত গোয়েন্দাভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. যাত্রা 
  2. জাল
  3. দূরবীন
  4. ওয়ারিশ
সঠিক উত্তর:
জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাল
ব্যাখ্যা

• 'জাল' উপন্যাস:
​- 'জাল' বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবু ইসহাকের একটি গোয়েন্দা উপন্যাস। 
- ​এই উপন্যাসটি ১৯৫০ সালে জাল নোটের কয়েকটি মামলার তদন্তের অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত। 
- ​'জাল' একটি ভিন্ন স্বাদের উপন্যাস, গতানুগতিক ডিটেকটিভ উপন্যাস নয় । তা'ছাড়া এর ভেতর আছে অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে আবু ইসহাকের উদ্ভাবিত কিছু মৌলিক পদ্ধতি।
- উপন্যাসটি ১৯৮৮ সালে 'আনন্দপত্র' ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয় । কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনার পর এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নসাস থেকে।

​অন্যদিকে, 
• '​যাত্রা' শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• ​শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা তিন প্রজন্মের কাহিনির সংমিশ্রণে রচিত উপন্যাস হচ্ছে "দূরবীন"।
• ​শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' উপন্যাসে চারটি প্রজন্মের চিন্তাভাবনা ও জীবন যাপনের ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে আত্ম আবিষ্কারের কাহিনি গভীর বিশ্বস্ততার সঙ্গে নির্মিত হয়েছে।
​​
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৯৩১.
’আহুতি’ গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. কামিনী রায়
  4. কামাল চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
’আহুতি’ গল্পেগ্রন্থের লেখক- প্রমথ চৌধুরী।

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি চলিত গদ্য রীতির প্রবর্তক।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম ছিল বীরবলী।
- ১৯৪৬ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারি কথা ,
- আহুতি,
- ঘোষালের ত্রিকথা,
- নীল লোহিত ,
- অনুকথা সপ্তক,
- সেকালের গল্প,
- ট্র্যাজেডির সূত্রপাত,
- গল্পসংগ্রহ .

অন্যদিকে,
•রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থ-
- গল্পগুচ্ছ;
- গল্পসল্প;
- তিনসঙ্গী;
- লিপিকা;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো।
১২,৯৩২.
'উত্তরের খেপ' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. মাহমুদুল হক
  2. শওকত ওসমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
ব্যাখ্যা
শওকত আলী রচিত উপন্যাস - উত্তরের খেপ। 

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ। 
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯৩৩.
মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. ক) চিলেকোঠার সেপাই
  2. খ) নিষিদ্ধ লোবান
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) রেইনকোট
সঠিক উত্তর:
ঘ) রেইনকোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রেইনকোট
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

অন্যদিকে,
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস ।
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ শৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধি বিষয়ক কাব্যনাট্য।
- ‘নিষিদ্ধ লোবান‘ মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৩৪.
'রোহিণী’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. চন্দ্রশেখর
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. রজনী
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। 
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৯৩৫.
কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. আব্বুকে মনে পড়ে
  2. কী চাহ শঙ্খচিল
  3. যাত্রা
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
সঠিক উত্তর:
কী চাহ শঙ্খচিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কী চাহ শঙ্খচিল
ব্যাখ্যা
• 'কী চাহ শঙ্খচিল' মমতাজউদ্দীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। 

অন্যদিকে,
বাকিগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'আব্বুকে মনে পড়ে' হুমায়ুন আজাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।
- 'যাত্রা' শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- 'রাইফেল রোটি আওরাত' আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. ভোরের কাগজ
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১৬ মে, ২০২৩।
১২,৯৩৬.
‘আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে’ হুমায়ুন আজাদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. সমালোচনা গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ 'আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে' কাব্যগ্রন্থ:
• ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয় হুমায়ুন আজাদের 'আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে'।
• এটি তাঁর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ।
• এই কাব্যগ্রন্থে হুমায়ুন আজাদ মানুষের অমরত্বের সন্ধান করেছেন। আপাতত বিঘ্ন এলেও মানুষ যে শেষ অবধি অপরাজেয় থেকে যায়, এটাই এ কাব্যগ্রন্থের মূল সুর।
• কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কবিতা হলো: 
- কথা দিয়েছিলাম তোমাকে, 
- তরুণী সন্তু,
- যে তুমি ফোটাও ফুল, 
- যদি একবার তাকাও, 
- পর্বত, 
- শিশু ও যুবতী ইত্যাদি।

=============
⇒ হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না,
- বুকপকেটে জোনাকি পোকা,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৩৭.
‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’- উক্তিটি কার?
  1. মহাদেব সাহা
  2. সমর সেন
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’- বিখ্যাত উক্তিটি কবি সমর সেন এর। 

• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৩৮.
‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক এর রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক:
• ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ চার অঙ্কে বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি নাটক।
• “তপস্বী ও তরঙ্গিণী” 'দেশ' পত্রিকার এপ্রিল, ১৯৬৬-র পাঁচটি সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো।
• 'দেশ'-এ প্রকাশের পরে একাধিক পাঠক একটি আপত্তি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। তাঁদের মতে ঋষ্যশৃঙ্গের উপাখ্যান ত্রেতা যুগের, আর সত্যবতী, কুন্তী ও দ্রৌপদীর কাল পরবর্তী দ্বাপর যুগ; অতএব অংশুমান ও রাজপুরোহিতের মুখে সত্যবতী ইত্যাদির উল্লেখ বসিয়ে আমি বুদ্ধদেব বসু ভুল করেছেন।

এ বিষয়ে বুদ্ধদেব বসু বলেন-
'ত্রেতা' ও 'দ্বাপর' যুগের ঐতিহাসিক যাথার্থ্য কতখানি, সে-বিষয়ে আলোচনা বাহুল্য; তবে পণ্ডিতমহলে এ-কথা স্বীকৃত যে ঋষ্যশৃঙ্গ-উপাখ্যান ইন্দো-য়োরোপীয় জাতিসমূহের একটি প্রাচীনতম পুরাণ; তাই আমার মানতে বাধে না যে তথ্যের দিক থেকে পূর্বোক্ত পত্রলেখকেরা ভ্রান্ত নন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক।
১২,৯৩৯.
প্রথম মুসলিম নাট্যকার কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও গদ্যরচয়িতা৷
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।

• ‘বসন্তকুমারী' (১৮৭৩) নাট্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন- 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার রচিত নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৯৪০.
'শিবমন্দির' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) অক্ষয় কুমার সরকার
  4. ঘ) নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
খ) কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'শিবমন্দির' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কায়কোবাদ। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে। 

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৪১.
'অনুপম দিন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।  
তিনি  সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৯৬) , আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৯), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩) এবং একুশে পদক (১৯৮৪)  লাভ করেন । 


তাঁর রচিত কবিতা: 
- একদা এক রাজ্যে 
- বৈশাখের রচিত পংক্তিমালা 
- পরানের গহীন ভিতর 
- বেজান শহরের জন্য কোরাস 
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে 
- আমি জন্ম গ্রহণ করিনি 

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য: 
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
- নুরুলদীনের সারা জীবন 
- এখানে এখন 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- হৃৎকমলের টানে 

তাঁর রচিত গল্প: 
- তাস 
- শীত বিকেল 
- আনন্দের মৃত্যু 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান 
- জলেশ্বরী গল্পগুলো

তাঁর রচিত উপন্যাস : 
- এক মহিলার ছবি 
- অনুপম দিন 
- সীমানা ছাড়িয়ে 
- খেলারাম খেলে যা 
- নীল দংশন 
- স্তব্ধতার অনুবাদ 
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ  
- তুমি সেই তরবারী 
- অন্য এক আলিখান 
- এক মুঠো জন্মভূমি 
- আলোর জন্য 
- রাজার সুন্দরী 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ]
১২,৯৪২.
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. তেল-নুন-লকড়ী
  2. চার-ইয়ারী কথা
  3. বীরবলের হালখাতা
  4. নানাকথা
সঠিক উত্তর:
চার-ইয়ারী কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার-ইয়ারী কথা
ব্যাখ্যা

• 'চার-ইয়ারী কথা' গল্প:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'চার-ইয়ারী কথা' গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'সবুজপত্র' পত্রিকায়। ১৩২২ বঙ্গাব্দের চৈত্র, ১৩২৩-এর বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য সংখ্যায় তিন কিস্তিতে গল্পটি প্রকাশিত হয়। বহু প্রশংসিত হবার পর, এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সাধারণাব্দে।

- প্রমথ চৌধুরী বইটি উৎসর্গ করেন স্ত্রী ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণীকে। ১৯৪৪-এ এই বইটির ইন্দিরা দেবীকৃত ইংরেজি তর্জমা 'Tale of Four Friends' প্রকাশ করে বিশ্বভারতী। এই কাহিনি সম্পর্কে অভিযোগ উঠেছিল, এটি আনাতোল ফ্রাঁসের গল্পের অনুকরণে গড়া।

- গল্প প্রকাশের সময় অনেকেই প্রমথ চৌধুরীকে মুখে বলেছেন: তাঁর নায়িকাগুলির বর্ণনা, কথোপকথন ও চরিত্রাঙ্কন এত নিখুঁত যে মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে 'চার ইয়ারি কথা'-র চারটি নায়িকার সঙ্গে বিলেতে তাঁর নিশ্চয়ই পরিচয় ছিল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন লেখা সম্ভব নয়।
প্রত্যুত্তরে প্রমথ চৌধুরী বলেন: "প্রথম নায়িকা হচ্ছে পাগল, দ্বিতীয়টি চোর, তৃতীয়টি জুয়াচ্চোর, আর চতুর্থটি ভূত। বলা বাহুল্য, একরকম চারটি সম্পূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রের নায়িকার একটির পর একটির সঙ্গে পরিচয় হওয়া অসম্ভব। এই চারটিই আমার মনগড়া। তবে এর ভিতর তৃতীয় গল্পের নায়িকার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, যাকে আমি রিণী নামে গড়ে তুলেছি।"

- সেকালে পাঠক সমাজের বিশেষ উৎসাহ ছিল তৃতীয় গল্পের রহস্যময়ী নায়িকা রিণীকে নিয়ে। বিশেষত রিণীর সঙ্গে লেখকের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তা-ই নিয়ে। আত্ম-কথা-য় এ বিষয়ে প্রমথ চৌধুরী যা লিখেছিলেন তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। আর যে-কিছুটা অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তা বৈশাখী-তে (১৩৫২) প্রকাশিত হয়েছে।

-----------------
প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ছিলেন সাহিত্যিক ও বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লকড়ী,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- ভাষার কথ,
- আমাদের শিক্ষা,
- নানাচর্চা। 

প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্প গন্থ:
- চার-ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত,
- ঘোষালে ত্রিকথা।

উৎস: 'চার-ইয়ারী কথা' গল্প গ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৯৪৩.
'বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বিনয় ভট্টাচার্য
  2. বিনয় ঘোষ
  3. বিনয় বর্মণ 
  4. সুবিনয় ঘোষ
সঠিক উত্তর:
বিনয় ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনয় ঘোষ
ব্যাখ্যা
• 'বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা - বিনয় ঘোষ।
-----------
বিনয় ঘোষ:
- বিনয় ঘোষ ছিলেন - সাংবাদিক, সমাজতাত্ত্বিক, লেখক, সাহিত্যসমালোচক, বাংলা ভাষা ও লোকসংস্কৃতির গবেষক।
- বিনয় ঘোষ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিদ্যাসাগর বক্তৃতা’র প্রথম বক্তা (১৯৫৭) ছিলেন।
- ১৯৫৮-৬০ সাল পর্যন্ত তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রকফেলার রিসার্চ স্কলার হিসেবে গবেষণারত ছিলেন।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘কালপেঁচা’। ১৯১৭ সালের ১৪ জুন কলকাতায় তাঁর জন্ম, পৈতৃক নিবাস ছিল যশোরে।
- বিনয় ঘোষ ইতিহাস ও রাজনীতিবিষয়ক পর্যালোচনায় বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদে বিশ্বাসী ছিলেন; তাই তাঁর রচনায় মার্কসীয় জীবনদর্শনের অনুশীলন লক্ষ করা যায়। 
- ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের (১৯৪৩) সঙ্গে বিনয় ঘোষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এখানে তাঁর ল্যাবরেটরী নাটকটি অভিনীত হয়।
- পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল পরিভ্রমণ ও ক্ষেত্রসমীক্ষা-ভিত্তিক আলোচনাগ্রন্থ পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি (১৯৫৭) তাঁর বিশিষ্ট রচনা।
- মার্কসবাদের আলোকে সমাজতাত্ত্বিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ এসব গ্রন্থের প্রধান আকর্ষণ।

তাঁর রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ: 
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি, 
- সোভিয়েট সভ্যতা (২ খন্ড), 
- ফ্যাসিজম ও জনযুদ্ধ, 
- সোভিয়েট সমাজ ও সংস্কৃতি প্রভৃতি।

• তাঁর রচিত গবেষণাগ্রন্থ:
- শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ, 
- মেট্রোপলিটন মন, 
- বাংলার নবজাগৃতি, 
- বিদ্যাসাগর ও বাঙালীসমাজ, 
- বিদ্রোহী ডিরোজিও, 
- সুতানুটি সমাচার, 
- বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা, 
- মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ, 
- বাংলার বিদ্বৎ সমাজ, 
- কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত, 
- বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্ব প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৪৪.
কোনটি শিশুতোষ গ্রন্থ নয়?
  1. ক) কুচবরণ কন্যা
  2. খ) হলদে পরীর দেশে
  3. গ) ডালিম কুমার
  4. ঘ) হাসু
সঠিক উত্তর:
খ) হলদে পরীর দেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হলদে পরীর দেশে
ব্যাখ্যা
'হলদে পরীর দেশে' পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
'কুচবরণ কন্যা' বন্দে আলী মিয়াঁ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ। 

 জসীমউদ্দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু
- এক পয়সার বাঁশী
- ডালিমকুমার


 জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি
- চলে মুসাফির
- হলদে পরীর দেশে
- যে দেশে মানুষ বড়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯৪৫.
জীবনানন্দ দাশের জন্মস্থান কোথায়?
  1. বরিশাল
  2. যশোর
  3. কলকাতা
  4. বর্ধমান
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। পাশ্চাত্যের মডার্নিজম ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গীয় সমাজের বিদগ্ধ মধ্যবিত্তের মনন ও চৈতন্যের সমন্বয় ঘটে ওই কাব্যান্দোলনে।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
-কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- কল্যাণী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৪৬.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' নামে কে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু ছিলেন।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন।
- এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৯৪৭.
'কলমগীর' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. আবদুল হক
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

অন্যদিকে, 
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
• প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।
• নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৪৮.
জীবনানন্দ দাশের ‘বর্ষ-আবাহন’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সন্দেশ 
  2. ব্রহ্মবাদী
  3. বিচিত্রা 
  4. প্রবাসী
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মবাদী
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই। স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে জীবনানন্দের কবিতার ভূমিকা ঐতিহাসিক। ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর রূপসী বাংলা তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হিসেবে জীবনানন্দের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও নিভৃত সাধনার উন্মোচন ঘটে মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত অসংখ্য পাণ্ডুলিপিতে।
- উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে মাল্যবান, সুতীর্থ, জলপাইহাটি, জীবনপ্রণালী, বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।
- কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
- সম্প্রতি কলকাতা থেকে তাঁর গদ্যরচনা ও অপ্রকাশিত কবিতার সংকলনরূপে জীবনানন্দ সমগ্র (১৯৮৫-৯৬) নামে বারো খণ্ড রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছে।

‘বর্ষ-আবাহন’ কবিতা,
-জীবনানন্দ দাশ। 

ওই যে পূর্ব তোরণ-আগে
দীপ্ত নীলে, শুভ্র রাগে
প্রভাত রবি উঠলো জেগে
দিব্য পরশ পেয়ে,
নাই গগণে মেঘের ছায়া
যেন স্বচ্ছ স্বর্গকায়া
ভুবন ভরা মুক্ত মায়া
মুগ্ধ-হৃদয় চেয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ‘বর্ষ-আবাহন’ কবিতা- জীবনানন্দ দাশ। 

১২,৯৪৯.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রহসন?
  1. প্রায়শ্চিত্ত
  2. মুক্তধারা
  3. বৈকুণ্ঠের খাতা
  4. তাসের দেশ
সঠিক উত্তর:
বৈকুণ্ঠের খাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈকুণ্ঠের খাতা
ব্যাখ্যা
• 'বৈকুণ্ঠের খাতা' প্রহসন:
- 'বৈকুণ্ঠের খাতা' (১৮৮৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় কৌতুক নাটক/ প্রহসন। বৈকুণ্ঠের খাতা ১৩০৩ বঙ্গাব্দে পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়।
- এক আত্মভোলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্র। তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা।
- সংলাপের দ্যুতি এবং আচরণের নাটকীয়তা নাটকটির জনপ্রিয়তার মূলে। নাটকটির কোনো কোনো চরিত্রে লেখকের আত্মীয়বন্ধুর চরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে।

প্রহসনের কাহিনি সংক্ষেপ-
বৈকুণ্ঠ একজন শখের লেখক, অবিবাহিত ছোট ভাই অবিনাশ, বিধবা কন্যা নিরুপমা ও দীর্ঘদিনের চাকর ঈশানকে নিয়ে বাস করেন। বৈকুণ্ঠের লেখার বিষয়বস্তু মূলত সঙ্গীত এবং প্রাচ্য-প্রাশ্চাত্যের সঙ্গীত শাস্ত্রের উৎপত্তি ও ইতিহাস। তবে সংসারের নানা টানাপোড়েনে সহজ সরল ও উদার প্রকৃতির মানুষ বৈকুণ্ঠের লেখা শোনার ব্যাপারে পরিবারের সদস্যদের উদাসীনতা রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধূর্ত ও সুযোগসন্ধানী কেদারের আবির্ভাব ঘটে, যে তোষামোদ করে বৈকুণ্ঠের লেখা শোনার ভান করে। তার মন জয় করার চেষ্টা করে। উদ্দেশ্য তার অবিবাহিত শ্যালিকার সঙ্গে বৈকুণ্ঠের ছোট ভাই অবিনাশের বিয়ে দিয়ে বৈকুণ্ঠের বাড়িতেই আত্মীয়-পরিজন বেষ্টিত হয়ে বসবাস করা এবং শেষ পর্যন্ত তাই ঘটে।

অন্যদিকে, 
• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রাযশ্চিত্ত'। 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।

• 'মুক্তধারা' নাটক:
'মুক্তধারা' (১৯২২) প্রথমে নাম ছিল 'পথ'। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য দেশ ও জাতিপ্রেমের নামে মন্ত্রশক্তির সাহায্যে মানবগোষ্ঠীকে পীড়ন এবং এই অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে অপরাজিত মানুষের বিদ্রোহ এই নাটকের কেন্দ্রীয় কথাবস্তু।

• 'তাসের দেশ' নাটক:
রবীন্দ্রনাথের নিজেরই 'এক আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি। এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।

উৎস: 'বৈকুণ্ঠের খাতা' প্রহসন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১২,৯৫০.
'যে জন দিবসে মনের হরষে
জ্বালায় মোমের বাতি,
আশু গৃহে তার দেখিবে না আর
নিশীথে প্রদীপ ভাতি।' - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'যে জন দিবসে মনের হরষে
জ্বালায় মোমের বাতি,
আশু গৃহে তার দেখিবে না আর
নিশীথে প্রদীপ ভাতি।' - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

- তাঁর 'অপব্যয়ের ফল' নামক কবিতার অংশ এটি।
- এটি তাঁর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালে বৃহত্তর খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৬১ সালে ঢাকা প্রকাশ প্রকাশিত হলে তিনি তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯০৭ সালে খুলনাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- রাসের ইতিবৃত্ত,
- মোহভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং 'সদ্ভাবশতক' কাব্য।
১২,৯৫১.
তেভাগা আন্দোলনকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. অক্টোপাস
  2. কালো বরফ
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. নাঢ়াই
সঠিক উত্তর:
নাঢ়াই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাঢ়াই
ব্যাখ্যা
• ‘নাঢ়াই’ শওকত আলী রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসে তেভাগা আন্দোলনের পেক্ষাপট আলোচিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• 'ক্রীতদাসের হাসি':
'ক্রীতদাসের হাসি' গ্রন্থের রচয়িতা শওকত ওসমান।
- কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান এর প্রকৃত নাম প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। 
- শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।

• মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস হচ্ছে - 'কালো বরফ'। কালো বরফ উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনি ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে।
• 'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা- 'শামসুর রহমান'।

---------------------
• শওকত আলী: 

- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ। 
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছােটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে। 

শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উওরের খেপ, 
- বসত, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৫২.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ইউরোপের চিঠি
  2. দেশে বিদেশে
  3. জাভা যাত্রীর পত্র
  4. রাশিয়ার চিঠি
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চিঠি
ব্যাখ্যা

• 'পথে প্রবাসে' ও 'ইউরোপের চিঠি' অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
• অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি,
• লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
• তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন

• এছাড়াও তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- অসমাপিকা প্রথম উপন্যাস (১৯৩০),
-  কঙ্কাবতী
-  দুঃখমোচন
- অপসরণ
- অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দেশে বিদেশে  ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী।
- জাভা যাত্রীর পত্র ও রাশিয়ার চিঠি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৯৫৩.
‘ইঁদুর’ গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সমর সেন
  3. ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  4. সরদার জয়েনউদ্দীন 
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা

‘ইঁদুর’ গল্পের রচয়িতা- সোমেন চন্দ। 
------------------------------------------ 
• সোমেন চন্দ:
- সোমেন চন্দ ছিলেন একজন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্রকুমার চন্দ।
- ১৯২০ সালের ২৪ মে নরসিংদিতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ঢাকায় প্রগতি লেখক সংঘের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মার্কসবাদী রাজনীতি ও সাহিত্যচর্চায় সক্রিয় হন।
- বাংলা সাহিত্যে গণসাহিত্য ধারার সূচনায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
- মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি ‘বন্যা’ নামে একটি উপন্যাস রচনা করেন।
- তাঁর ‘ইঁদুর’ গল্পটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। 
- উপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর ইঁদুর গল্প পড়েই কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন। 
- ১৯৪২ সালের ৮ মার্চ তিনি আততায়ীর হাতে নিহত হন।
- মৃত্যুর পর তাঁর রচনাগুলো বিভিন্ন সংকলনে প্রকাশিত হয়। 

- তাঁর  উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ-
'ইঁদুর',   
• ‘সংকেত ও অন্যান্য গল্প’,
• 'বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প’।
• ১৯৭৩ সালে রণেশ দাশগুপ্ত সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ নামে তাঁর গল্পসমূহের একটি সংকলন সম্পাদনা করেন।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১২,৯৫৪.
'বদিউল আলম' হুমায়ূন আহমেদের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শ্যামল ছায়া
  2. জোছনা ও জননীর গল্প
  3. ১৯৭১
  4. আগুনের পরশমণি
সঠিক উত্তর:
আগুনের পরশমণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা
• 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস আগুনের পরশমণি।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চিত্র অংকিত হয়েছে। উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ- 
১৯৭১ সালের মে মাস। অবরুদ্ধ ঢাকায় ভীষণ নিস্তব্ধ রাতের বুক চিরে ছুটছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ির বহর। তীব্র হতাশা, তীব্র ভয়ে কাঁপছে বাংলাদেশের মানুষ। অবরুদ্ধ ঢাকার একটি পরিবারের কর্তা মতিন সাহেব ট্রানজিস্টার শোনার চেষ্টা করছেন মৃদু ভলিউমে। ভয়েস অব আমেরিকা, বিবিসি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র শোনার চেষ্টা করছেন। নব ঘোরাচ্ছেন ট্রানজিস্টারের। হঠাৎ শুনতে পেলেন বজ্রকণ্ঠের অংশ বিশেষ : ‘মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি / রক্ত আরও দিবঃ / এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম / এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।মতিন সাহেবের পরিবারে কয়েকদিন পর হাজির হন উনার বন্ধুর ছেলে বদি।

বদি এবং তার সাথের মুক্তিযোদ্ধারা একের পর এক অভিযান করে সফলতা লাভ করে। কিন্তু এক এক করে তারা পাক বাহিনী র হাতে বন্ধী হয়। ধরা পড়েও গেরিলাযোদ্ধা রাশেদুল করিম। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় থু থু ছিটিয়েছেন পাকিস্তানী মেজরের মুখে। হাতের আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে তাঁর। মাথা নোয়াননি। অবশেষে বদি গুলি খান। তাকে সারানোর মত ডাক্তার ঔষধের এর জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু তিনি কি পারবেন সকাল পর্যন্ত বাচতে? তিনি কি আরেকটি সূর্যালোক দেখতে পাবেন? এভাবেই শেস হয় কাহিনি।


উৎস: 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯৫৫.
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসনের রচয়িতা -
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
বিয়ে পাগলা বুড়ো:
- এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।  
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো 'জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পণ” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পণ” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে। 

অন্যদিকে: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা। 
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন 'এর উপায় কি?'।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৯৫৬.
’উজান মৃত্যু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-এর রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
- ’উজান মৃত্যু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-এর রচিত একটি- নাটক।
- জীবন চলার পথে খেটেখাওয়া মানুষগুলো কত ধরনের অত্যাচার, নির্যাতন, শোষণ ও অন্যায়ের শিকার হন- সে বিষয়গুলোই 'উজানে মৃত্যু' নাটকে উঠে এসেছে।
-----------------------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প 'হঠাৎ আলোর ঝলকানি'। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তার রচিত প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৫৭.
'মানচিত্র' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) তুলসী লাহিড়ী
  2. খ) আনিস চৌধুরী
  3. গ) মামুনুর রশীদ
  4. ঘ) দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) আনিস চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আনিস চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আনিস চৌধুরী(১৯২৯-১৯৯০)
- সমাজসচেতন নাট্যকার।
- সমাজের নিখুঁত চিত্রাঙ্কনে তাঁর বিশিষ্টতা।
- তাঁর 'মানচিত্র', 'এলবাম', 'চেহারা', 'তবুও অনন্যা' বাংলাদেশের নাট্যসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
- তাঁর নাটকে  মধ্যবিত্ত মানুষের দ্বন্দ্ব-সংঘাত, দুঃখ-দারিদ্র ও সংগ্রামী চেতনা সার্থ ভাবে ফুটে উঠেছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১২,৯৫৮.
“যাপিত জীবন” কার রচনা?
  1. ক) রিজিয়া রহমান
  2. খ) দিলারা হাশেম
  3. গ) আকিমুন রহমান
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

''গায়ত্রী সন্ধ্যা'' - সেলিনা হোসেন রচিত - ত্রয়ী উপন্যাস। এর তিনটি খন্ড যথাক্রমে - ১৯৯৪, ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আটাশ বছরের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত এ উপন্যাস।
তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস -
- জলোচ্ছ্বাস
- হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- যুদ্ধ (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- যাপিত জীবন (ভাষা আন্দোলন বিষয়ক)
- কাঁটাতারে প্রজাপতি (নাচোলের তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত)
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি (নাফনদীর তীরে শাহ পরীর দ্বীপের মানুষের জীবন সংগ্রাম)
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি (দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ৪৩ এর দুর্ভিক্ষ প্রভৃতি বিষয় উঠে এসেছে) ইত্যাদি
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।

১২,৯৫৯.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে “ছন্দের জাদুকর” উপাধি দেন কে?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) সতীনাথ ভাদুড়ী
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে “ছন্দের জাদুকর” উপাধি দেন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
১২,৯৬০.
'আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
কৌতূহলভরে।' - কবিতাংশটুকু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. আজি হতে শতবর্ষ পরে  
  2. চিত্রা
  3. চৈতালী
  4. মানসী
সঠিক উত্তর:
চিত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্রা
ব্যাখ্যা

• "আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।" - কবিতাংশটুকু 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' রচিত ১৪০০ সাল কবিতার অন্তর্গত।
- কবিতাটি 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৩০২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা রয়েছে।

• গুরুত্বপূর্ণ কবিতা:
- এবার ফিরাও মোরে,
- পুরাতন ভৃত্য,
- দুই বিঘা জমি,
- উর্বশী,
- স্বর্গ হইতে বিদায়,
- বিজয়িনী,
- জীবনদেবতা,
- ১৪০০ সাল,
- সিন্ধুপারে।

১৪০০ সাল
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।
আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের
লেশমাত্র ভাগ--
আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,
আজিকার কোনো রক্তরাগ
অনুরাগে সিক্ত করি পারিব না পাঠাইতে
তোমাদের করে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১২,৯৬১.
মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ রয়েছে সেলিনা হোসেন রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  3. যাপিত জীবন
  4. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
ব্যাখ্যা
• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

সেলিনা হোসেন রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের আগের ও পরের সাহিত্য চর্চা, রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দিয়ে কাহিনি শুরু। সাথে আছে দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু পরিবারের চিত্র (১৯৪৩ যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত)।

• 'যাপিত জীবন'  উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন। নায়ক জাফর বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। কাহিনীর পরতে পরতে বাঙালির শেকড়চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯৬২.
'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়' চরণটির রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. শামসুর রহমান
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা সুকান্ত ভট্টাচার্য
আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত।  কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯৬৩.
ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন-
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধ চন্দ্রিকা ও বেদান্ত চন্দ্রিকা। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ছিল ৫ টি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

১২,৯৬৪.
'শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়' জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন কবিতার পঙ্‌ক্তি?
  1. অন্ধকার
  2. শঙ্খমালা
  3. সুচেতনা
  4. হাওয়ার রাত
সঠিক উত্তর:
সুচেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুচেতনা
ব্যাখ্যা
• 'শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়' জীবনানন্দ দাশ রচিত 'সুচেতনা' কবিতার পঙ্‌ক্তি।
- কবিতাটি তাঁর 'বনলতা সেন' (১৯৪২) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- জীবনানন্দ দাশ সুচেতনা বলতে শুভ চেতনার কথা বুঝিয়েছেন।

সুচেতনা,
- জীবনানন্দ দাশ

সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ
বিকেলের নক্ষত্রের কাছে;
সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে
নির্জনতা আছে।
এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা
সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।
কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে;
তবুও তোমার কাছে আমার হৃদয়।

আজকে অনেক রূঢ় রৌদ্রে ঘুরে প্রাণ
পৃথিবীর মানুষকে মানুষের মতো
ভালোবাসা দিতে গিয়ে তবু
দেখেছি আমারি হাতে হয়তো নিহত
ভাই বোন বন্ধু পরিজন প’ড়ে আছে;
পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।

কেবলি জাহাজ এসে আমাদের বন্দরের রোদে
দেখেছি ফসল নিয়ে উপনীত হয়;

সেই শস্য অগণন মানুষের শব;
শব থেকে উৎসারিত স্বর্ণের বিস্ময়
আমাদের পিতা বুদ্ধ কনফুশিয়সের মতো আমাদেরো প্রাণ
মূক ক’রে রাখে; তবু চারিদিকে রক্তক্লান্ত কাজের আহ্বান।

সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে— এ-পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে;
সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ;
এ-বাতাস কি পরম সূর্যকরোজ্জ্বল;
প্রায় তত দূর ভালো মানব-সমাজ
আমাদের মতো ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিকের হাতে
গ’ড়ে দেবো, আজ নয়, ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে।

মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি,
না এলেই ভালো হ’তো অনুভব ক’রে;
এসে যে গভীরতর লাভ হ’লো সে-সব বুঝেছি
শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে;
দেখেছি যা হ’লো হবে মানুষের যা হবার নয়—
শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়

জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৬৫.
কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস-
  1. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  2. কাশবনের কন্যা
  3. আগুনের মেয়ে
  4. কাঞ্চনমালা
সঠিক উত্তর:
আগুনের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুনের মেয়ে
ব্যাখ্যা
• কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস 'আগুনের মেয়ে'। 
- উপন্যাসটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক),
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন।

অন্যদিকে, 
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’; কাঞ্চনমালা।
• 'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৬৬.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. লীলাবতী
  2. কমলে কামিনী
  3. সধবার একাদশী
  4. নবীন তপস্বিনী
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

• 'সধবার একাদশী' প্রহসন:
-'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিমচাঁদ,
- কেনারাম,
- সৌদামিনী,
- গিন্নী,
- কাঞ্চন ইত্যাদি।

---------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন। ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

• দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

• নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৯৬৭.
'হুতোম প্যাঁচা' কোন লেখকের সাহিত্য ছদ্মনাম?
  1. বিনয় মুখোপাধ্যায়ের
  2. প্যারিচাঁদ মিত্রের
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহের
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহের
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম- হুতোম প্যাঁচা। 

• কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম 'হুতোম প্যাঁচা'। কালীপ্রসন্ন সিংহ ছিলেন একজন  সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক ও সমাজকর্মী। প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' (১৮৬২) এবং 'পুরাণসংগ্রহ' (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

অন্যদিকে, 
• বিনয় মুখোপাধ্যায়ের  ছদ্মনাম- যাযাবর। 
• প্যারিচাঁদ মিত্রের টেকচাঁদ ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর। 
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- বনফুল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১২,৯৬৮.
কত খ্রিষ্টাব্দে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট উপাধি লাভ করেন?
  1. ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী। তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত 'মহাশ্বেতা' অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নারীর মূল্য,
- তরুণের বিদ্রোহ,
- স্বদেশ ও সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৯৬৯.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত দীর্ঘ বারো বছর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. ক) সাম্যবাদী
  2. খ) চিত্রদর্শন
  3. গ) ভারতী
  4. ঘ) পরিচয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরিচয়
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি ‘পরিচয়’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৫-৪৯ সময়কালে তিনি স্টেটসম্যান পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্য:
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী;

গদ্যগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।
এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৭০.
"চার-ইয়ারী কথা" গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. লাঙ্গল
  2. ভারতী
  3. সবুজপত্র
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• 'চার-ইয়ারী কথা’ গল্প:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'চার-ইয়ারী কথা’ প্রথম প্রকাশিত হয় ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায়। ১৩২২ বঙ্গাব্দের চৈত্র, ১৩২৩-এর বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য সংখ্যায় তিন কিস্তিতে গল্পটি প্রকাশিত হয়। বহু প্রশংসিত হবার পর, এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সাধারণাব্দে।

- প্রমথ চৌধুরী বইটি উৎসর্গ করেন স্ত্রী ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণীকে। ১৯৪৪-এ এই বইটির ইন্দিরা দেবীকৃত ইংরেজি তর্জমা ‘Tale of Four Friends’ প্রকাশ করে বিশ্বভারতী। এই কাহিনি সম্পর্কে অভিযোগ উঠেছিল, এটি আনাতোল ফ্রাঁসের গল্পের অনুকরণে গড়া।

- সেসময় অনেকেই প্রমথ চৌধুরীকে মুখে বলেছেন: তাঁর নায়িকাগুলির বর্ণনা, কথোপকথন ও চরিত্রাঙ্কন এত নিখুঁত যে মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে 'চার ইয়ারি কথা'-র চারটি নায়িকার সঙ্গে বিলেতে তাঁর নিশ্চয়ই পরিচয় ছিল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন লেখা সম্ভব নয়।

- প্রত্যুত্তরে প্রমথ চৌধুরী বলেন: “প্রথম নায়িকা হচ্ছে পাগল, দ্বিতীয়টি চোর, তৃতীয়টি জুয়াচ্চোর, আর চতুর্থটি ভূত। বলা বাহুল্য, একরকম চারটি সম্পূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রের নায়িকার একটির পর একটির সঙ্গে পরিচয় হওয়া অসম্ভব। এই চারটিই আমার মনগড়া। তবে এর ভিতর তৃতীয় গল্পের নায়িকার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, যাকে আমি রিণী নামে গড়ে তুলেছি।”

সেকালে পাঠক সমাজের বিশেষ উৎসাহ ছিল তৃতীয় গল্পের রহস্যময়ী নায়িকা রিণীকে নিয়ে। বিশেষত রিণীর সঙ্গে লেখকের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তা-ই নিয়ে। আত্ম-কথা-য় এ বিষয়ে প্রমথ চৌধুরী যা লিখেছিলেন তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। আর যে-কিছুটা অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তা বৈশাখী-তে (১৩৫২) প্রকাশিত হয়েছে। 

উৎস: চার-ইয়ারী কথা’ গল্পগ্রন্থ।
১২,৯৭১.
'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
ও সে সকল দেশের রানি; সে যে – আমার জন্মভূমি।'
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অমর এই পংক্তিটি তাঁর কোন সাহিত্যকর্মে রয়েছে?
  1. সাজাহান
  2. আর্যগাথা
  3. প্রতাপসিংহ
  4. বঙ্গনারী
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় 
- কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

♦♦ সাহিত্যকর্ম 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত প্রথম কাব্য 'আর্যগাথা'।
- তাঁর রচিত ইংরেজি কাব্যগ্রন্থের নাম Lyrics of Ind. 

♦ সাজাহান
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে সর্বপ্রথম নাটক লেখেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক “সাজাহান”।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে রচিত।
- এই নাটকের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, কারা রুদ্ধ সম্রাট শাহজাহান তার পুরোনো দিনগুলোর স্মৃতি চারণ করছেন। কারাগারের এক টুকরো জানলা দিয়ে তিনি চারপাশের প্রাকৃতিক শোভা দেখে আপনা মনেইে গেয়ে উঠলেন,

'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
ও সে সকল দেশের রানি সে যে – আমার জন্মভূমি।'

- দেশ মাতৃকার প্রতি অটুট ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়েছে এই গানে। 

♦ কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

♦ ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

♦ নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

♦ পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।
- চন্দ্রগুপ্ত। 

♦ সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৯৭২.
'নটগুরু' কোন লেখকের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল?
  1. গিরিশচন্দ্র সেন
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু' হিসেবে। রঙ্গমঞ্চের অভিনয় ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তিনি নাট্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। অভিনয়- সাফল্য তাঁর নাট্যরচনা প্রতিভাকে উদ্দীপ্ত করে তুলেছিল । গিরিশচন্দ্র তাঁর নাটক রচনায় সাহিত্যের প্রয়োজনের চেয়ে মঞ্চের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- তিনি নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা ছিলেন।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি প্রথমে হেয়ার স্কুল এবং পরে ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে অধ্যয়ন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৭৩.
'শনিবারের চিঠি' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. সজনীকান্ত দাস
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
সজনীকান্ত দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সজনীকান্ত দাস
ব্যাখ্যা

'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৯২৪ সালে।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১২,৯৭৪.
রাবিয়া আমাকে বলল, “ভাই, তুমি কবে এখানে আসবে?”– পরোক্ষ উক্তিতে হবে-
  1. রাবিয়া আমাকে ভাই সম্বোধন করে বলল যে আমি কবে এখানে আসব।
  2. রাবিয়া আমাকে বলল, তুমি কবে সেখানে আসবে।
  3. রাবিয়া আমাকে ভাই সম্বোধন করে জানতে চাইল যে আমি কবে সেখানে যাব।
  4. রাবিয়া আমাকে ভাই সম্বোধন করে বলল যে আমি কবে ওখানে যাব।
সঠিক উত্তর:
রাবিয়া আমাকে ভাই সম্বোধন করে জানতে চাইল যে আমি কবে সেখানে যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাবিয়া আমাকে ভাই সম্বোধন করে জানতে চাইল যে আমি কবে সেখানে যাব।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ থেকে পরোক্ষ উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
প্রশ্নবোধক বাক্য-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "তোমরা কি ছুটি চাও?”
• পরোক্ষ উক্তি: আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: বাবা বললেন, "কবে নাগাদ তোমাদের ফল বের হবে?"
• পরোক্ষ উক্তি: আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে, বাবা তা জানতে চাইলেন।

এরূপ-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাবিয়া আমাকে বলল, “ভাই, তুমি কবে এখানে আসবে?”
• পরোক্ষ উক্তি: রাবিয়া আমাকে ভাই সম্বোধন করে জানতে চাইল যে আমি কবে সেখানে যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১২,৯৭৫.
'বিন্দু-বিসর্গ' আত্মজীবনী গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

• 'বিন্দু-বিসর্গ' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত - আত্মজীবনী
- গ্রন্থটি ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয়।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- ২০০২ সালের ১৮ জুন মৃত্যু বরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৯৭৬.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত “রেইনকোট” গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  2. দোজখের ওম
  3. খোঁয়ারি
  4. জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল
সঠিক উত্তর:
জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল
ব্যাখ্যা
⇒ “রেইনকোট” ছোটগল্প:
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• “রেইনকোট” গল্পটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;  'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।
১২,৯৭৭.
"একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"- উক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য-
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
- "মানুষ্য বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"
- "যে হারে, সেই রাগে। "

---------------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯৭৮.
'গজকচ্ছপ' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) বেগম রোকেয়া
  4. ঘ) জসীমউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
'গজকচ্ছপ' রচনাটির রচয়িতা - জাহানারা ইমাম।

জাহানারা ইমাম
শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।

• স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জাহানারা ইমাম লেখালেখিতে ব্যস্ত সময় কাটান এবং তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি এ সময়ে প্রকাশ পায়। গল্প, উপন্যাস ও দিনপঞ্জি জাতীয় রচনা মিলিয়ে তাঁর আরও কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে।
সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- অন্য জীবন,
- বীরশ্রেষ্ঠ,
- জীবন মৃত্যু,
- চিরায়ত সাহিত্য,
- বুকের ভিতরে আগুন,
- নাটকের অবসান,
- দুই মেরু,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- নয় এ মধুর খেলা,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনলিপি।

• তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ সমূহ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৯৭৯.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অরণ্যবহ্নি
  2. আরোগ্য নিকেতন
  3. ধাত্রী দেবতা
  4. কালিন্দী
সঠিক উত্তর:
অরণ্যবহ্নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্যবহ্নি
ব্যাখ্যা
• 'অরণ্যবহ্নি’ উপন্যাস:
- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।

অন্যদিকে,
- ‘আরোগ্য নিকেতন’ উপন্যাসে এক কবিরাজের জীবনদর্শনের সঙ্গে নব্যশিক্ষিত ডাক্তারের সংঘাত উল্লেখখ করা হয়েছে। 
- ‘ধাত্রী দেবতা’ এক সহিষ্ণু জমিদার বংশকে কেন্দ্র করে দেশের সমাজ ও রাজনৈতিক জীবনের নানা আন্দোলন ও পরিবর্তন এই উপন্যাসের উপজীব্য।
- 'কালিন্দী’ নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস।

--------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৮০.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পরিচয়
  2. পূর্বাশা
  3. নয়া সড়ক
  4. মাসিক পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
ব্যাখ্যা

'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
'পূর্বাশা' পত্রিকা: 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
'নয়া সড়ক' পত্রিকা: 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
মাসিক পত্রিকা: তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'। ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৯৮১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের কোন গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন?
  1. দাদা মশায়ের থলে
  2. ঠাকুরদাদার ঝুলি
  3. ঠানদিদির থলে
  4. ঠাকুরমার ঝুলি
সঠিক উত্তর:
ঠাকুরমার ঝুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠাকুরমার ঝুলি
ব্যাখ্যা

• 'ঠাকুরমার ঝুলি': 
- 'ঠাকুরমার ঝুলি' দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রচিত একটি রূপকথার গ্রন্থ। 
- ঠাকুরমার ঝুলির ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন। জনপ্রিয় এ গ্রন্থখানি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।
- গ্রন্থটি ছিল বালকদের উপযোগী একটি রূপকথা। 

----------------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

দক্ষিণারঞ্জনের উল্লেখযোগ্য কয়েটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি (১৯০৭, এটি বালকদের উপযোগী একটি রূপকথা), 
- ঠাকুরদাদার ঝুলি (১৯০৯, এটি নারীদের ব্রতকথা),
- ঠানদিদির থলে (১৯০৯, এটি মালঞ্চমালা, পুষ্পমালা প্রভৃতি গীতিকথা),
- দাদামশায়ের থলে (১৯১৩, এই গ্রন্থেবৈঠকি গল্পের সংকলন প্রকাশিত হয়) ইত্যাদি।  

শিশুসাহিত্যিক হিসেবেও দক্ষিণারঞ্জনের খ্যাতি আছে। তাঁর শিশুবিষয়ক গ্রন্থগুলো হলো-
- খোকাবাবুর খেলা,
- আমাল বই,
- কিশোরদের মন,
- চারু ও হারু,
- ফার্স্ট বয়,
- লাস্ট বয়,
- উৎপল ও রবি,
- বাংলার সোনার ছেলে,
- সবুজ লেখা,
- পৃথিবীর রূপকথা (অনুবাদ),
- চিরদিনের রূপকথা,
- আমার দেশ,
- আশীর্বাদ ও আশীর্বাণী প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৯৮২.
“নদী ও নারী” উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হুমায়ুন কবির 
  4. রফিক আজাদ 
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন কবির 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন কবির 
ব্যাখ্যা

• “নদী ও নারী” হুমায়ুন কবির' রচিত উপন্যাস।

• হুমায়ুন কবির:
- হুমায়ুন কবির ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি দার্শনিক, লেখক, কবি, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ।
- হুমায়ুন কবির ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির। ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তিনি মারা যান।

- হুমায়ুন কবিরের একমাত্র বাংলা উপন্যাস “নদী ও নারী”।
- এটি মূলত পদ্মা নদীর বিশালতা, চরভূমি এবং চরবাসীর জীবন, সম্পর্ক ও টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে লেখা।
- উপন্যাসটি প্রথমে ১৯৪৫ সালে ইংরেজিতে ‘Men and Rivers’ নামে প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৫২ সালে “নদী ও নারী” নামে বাংলায় অনূদিত হয়।
- উপন্যাসে নতুন জেগে ওঠা চরভূমিতে মানুষের জীবন-সংগ্রাম, প্রেম, সম্পর্ক এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়ার চিত্রণ করা হয়েছে।

• তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলী:
- নদী ও নারী (উপন্যাস);
- ইমানুয়েল কান্ট;
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব;
- বাংলার কাব্য (সমালোচনা গ্রন্থ)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১২,৯৮৩.
নিচের কোনটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. হিতোপদেশ
  2. বেদান্তগ্রন্থ
  3. প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. বেদান্তচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
বেদান্তগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদান্তগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

বেদান্তগ্রন্থ:
- 'বেদান্তগ্রন্থ' (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৯৮৪.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. অর্কেস্ট্রা
  2. উত্তরফাল্গুনী
  3. কুলায় ও কালপুরুষ
  4. সংবর্ত
সঠিক উত্তর:
কুলায় ও কালপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলায় ও কালপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কুলায় ও কালপুরুষ’ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
⇒ কাব্যগ্রন্থ:  
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

⇒ প্রবন্ধগ্রন্থ:
• স্বগত,
• কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
১২,৯৮৫.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসটি তাঁর ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. আনন্দমঠ
  2. দেবী চৌধুরানী
  3. রাজসিংহ
  4. সীতারাম
সঠিক উত্তর:
রাজসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২৬ জুন ১৮৩৮ – ৮ এপ্রিল ১৮৯৪) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক।

- তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- বঙ্কিম একসময় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন। 

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৫২ সালে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন।
- ১৮৫৬ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা পুরাকালিক গল্প তথা মানস’ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র প্রকাশ করেন বঙ্গদর্শন নামের সাময়িক পত্রিকা।
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তাঁকে বাংলা উপন‍্যাসের জনক বলা হয়।
 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'।
- উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
--------------------------- 
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মোট ১৫টি উপন্যাস লিখেছিলেন।
- বঙ্কিমের শেষ উপন্যাস ‘সীতারাম’।

‘রাজসিংহ':
- বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। 

আনন্দমঠ:
- বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো - ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্নাসী বিদ্রোহের ভূমিকা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী ,
- বিষবৃক্ষ ,
- ইন্দিরা ,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী,
- সীতারাম,

প্রবন্ধ গ্রন্থ: 
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- লোকরহস্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিজ্ঞানরহস্য,
- বিবিধ সমালোচনা,
- প্রবন্ধ-পুস্তক,
- সাম্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিবিধ প্রবন্ধ,
- মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত (ব্যাঙ্গ)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৮৬.
সেলিনা হোসেন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয় কোনটিকে?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. গায়ত্রী সন্ধ্যা
  3. পোকা মাকড়ের ঘরবসতি
  4. টানাপোড়েন
সঠিক উত্তর:
গায়ত্রী সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ত্রী সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
• 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস:
- গায়ত্রী সন্ধ্যা' সেলিনা হোসেন রচিত একটি ত্রয়ী উপন্যাস।  গ্রন্থটি একই শিরোনামে ৩টি পটভূমিতে ৩টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।

- প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ সালে, এবং পরবর্তী তিন বছরে প্রকাশিত হয় তিনটি খণ্ড। ২০০১ সালের মধ্যে প্রথম দুটি খণ্ডের তৃতীয় মুদ্রণ এবং তৃতীয় খণ্ডের দুটি মুদ্রণ প্রকাশিত হয়। এই দ্রুত পুনর্মুদ্রণ পাঠকের কাছে উপন্যাসটির গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। সময় প্রকাশন থেকে ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি এই ত্রয়ী উপন্যাসের অখণ্ড রূপ প্রকাশিত হয়। 

- সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসের পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়। দীর্ঘ আটাশ বছরের অর্থ- সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস।

উপন্যাসের পটভূমি ও সময়কাল:
উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ ২৮ বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। এই সময়ে পূর্ববঙ্গের বাঙালি জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নানা ঘটনা প্রভাব ফেলেছে। ১৯৪৭ সালে বৃটিশ ভারতের দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে স্বাধীনতা লাভ, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন, এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ইতিহাসের পট-পরিবর্তন এই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু। এই সময়কাল একটি সূচনা থেকে আরেকটি সূচনার ক্রান্তিকাল হিসেবে বিবেচিত।

-----------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুভিত্তিক), 
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- অপেক্ষা,
- টানাপোড়েন,
- কালকেতু ও ফুল্লরা,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা। 

তাঁর রচিত গল্প :
- মতিজানের মেয়েরা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,
- মানুষটি,
- অনুড়া পূর্ণিমা,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস।
১২,৯৮৭.
‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাসটি কোন বিষয়ের উপর রচিত?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. দেশ ভাগ 
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. তেভাগা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি:
- ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন।

উপন্যাসটি ১৯৩৮ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামের পটভূমিতে রচিত। ১৯৪৭-এ দেশভাগ, রাজনৈতিক বিভাজন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, সঙ্গে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের (যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত) ভয়াবহতায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু পরিবারের চিত্র নিয়ে লেখেন ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’। উপন্যাসে শ্রমিক শোষণ, সাম্রাজ্যবাদ, এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চিত্র আছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের লড়াই গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। অধিক প্রচলিত এবং গ্রহণযোগ্য উত্তর 'ভাষা আন্দোলন' নেওয়া হলো।
------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাস।
১২,৯৮৮.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. পঞ্চতন্ত্র
  3. বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. প্রবোধচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
রাজাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজাবলি
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ।

• 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না।

• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর। গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত। এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম।
১২,৯৮৯.
"বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সাম্যবাদী
  2. সর্বহারা
  3. অগ্নি-বীণা
  4. বিষের বাঁশি
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নারী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'সাম্যবাদী'।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

নারী
কাজী নজরুল ইসলাম

সাম্যের গান গাই -
আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই।
বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ।
১২,৯৯০.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -
  1. মৌরীফুল
  2. অপরাজিত
  3. নবান্ন
  4. পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
অপরাজিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাজিত
ব্যাখ্যা
• 'অপরাজিত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোক সারথী'।

অন্যদিকে,
- মৌরীফুল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প।
- ‘নবান্ন’ হলো বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বাংলা নাটক।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো - পথের দাবী।
--------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৯১.
"কত গ্রাম, কত পথ যায় স’রে স’রে–
শহরে রানার যাবেই পৌঁছে ভোরে" - কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রজনীকান্ত সেন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. কালী প্রশন্ন ঘোষ
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
"কত গ্রাম, কত পথ যায় স’রে স’রে–
শহরে রানার যাবেই পৌঁছে ভোরে;" - পঙক্তিদ্বয় সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'রানার' কবিতার অংশ।

সুকান্ত ভট্টাচার্যে (১৯২৬-১৯৪৭)
- বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট। 
- তাকে বলা হয় বাংলা ভাষায় মার্কসীয় ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর পৈতৃক বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার অন্তর্গত ঊনশিয়া গ্রামে।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 
- ছাড়পত্র (১৯৪৭),
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- মিঠেকড়া (১৯৫১),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

- মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ) এবং লাল নীল দীপাবলি হুমায়ুন আজাদ।
১২,৯৯২.
' শোকার্ত তরবারী  ' হাসান হাফিজুরের লেখা-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- আর্ত শব্দাবলী 
- অন্তিম শরের মতো 
- যখন উদ্যত সঙ্গীন 
- শোকার্ত তরবারী 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: 
- আধুনিক কবি ও কবিতা
- মূল্যবোধের জন্য
- সাহিত্য প্রসঙ্গ
- আলোকিত গহবর

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১২,৯৯৩.
“বাঙ্গাল গেজেট” পত্রিকাটি কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৮০
  2. ১৮১৮
  3. ১৮২১
  4. ১৮২৯
সঠিক উত্তর:
১৮১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮১৮
ব্যাখ্যা

উপমহাদেশের কারো বা কোন বাঙ্গালী কর্তৃক সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা - বাঙ্গাল গেজেট।
এর সম্পাদক - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ও প্রকাশকাল - ১৮১৮।
উল্লেখ্য, ১৮১৮ সালেই বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িকী - 'দিকদর্শন' প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৯৯৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত মৌলিক গ্রন্থ কোনটি? 
  1. সীতার বনবাস
  2. অল্প হইল
  3. শকুন্তলা
  4. ব্রজবিলাস 
সঠিক উত্তর:
ব্রজবিলাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজবিলাস 
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

​• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১২,৯৯৫.
‘যৈবতী কন্যার মন’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বৃন্দাবন দাস
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) নাসিরুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন বাংলা সাহিত্যের প্রতিথযশা নাট্যব্যক্তিত্ব।
সেলিম আল দীন রচিত নাটকগুলো হলোঃ সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য, বাসন, কেরামতমঙ্গল, কীর্তন খোলা, হাতহদাই, শকুন্তলা, মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, চাকা, যৈবতী কন্যার মন, হরগজ, নিমজ্জন, একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১২,৯৯৬.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. নৌকাডুবি
  2. বলাকা
  3. চিত্রা
  4. পূরবী
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ নয় - নৌকাডুবি

অন্যদিকে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ - পূরবী, চিত্রা, বলাকা।

'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- 'নৌকাডুবি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত- 'উপন্যাস'। 
- এটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে। 
- উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 

তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস: 
- বউ ঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি, 
- চোখের বালি, 
- নৌকাডুবি, 
- ঘরে-বাইরে, 
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

উৎস: 'নৌকাডুবি' উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৯৯৭.
জনপ্রিয় হাস্যরসাত্নক 'বাঙালির হাসির গল্প' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সত্যজিৎ রায়
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. শিবরাম চক্রবর্তী
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• জনপ্রিয় হাস্যরসাত্নক 'বাঙালির হাসির গল্প' গ্রন্থের রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন

জসীম উদ্‌দীন:
- কবি জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৯৯৮.
বাংলার গীতিকবিতার জনক কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে ভোরের পাখি উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- সারদামঙ্গল, বঙ্গসুন্দরী ইত্যাদি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্য।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

১২,৯৯৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন-
  1. কৃষ্ণকুমারী নাটকে
  2. চতুর্দশপদী কবিতাবলী কাব্যগ্রন্থে
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে
  4. পদ্মাবতী নাটকে
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী নাটকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী নাটকে
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'পদ্মাবতী' নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কে, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে  প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

• তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,০০০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা' উপন্যাস কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. প্রবাসী
  3. জ্ঞানাঙ্কুর
  4. বালক
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
ব্যাখ্যা
• শেষের কবিতা: 
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ ভক্তদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।