বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১২৯ / ১৭৪ · ১২,৮০১১২,৯০০ / ১৭,৪৩৭

১২,৮০১.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তারঁ কোন রচনায়?
  1. কৃষ্ণকুমারী নাটকে
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. পদ্মাবতী নাটকে
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী নাটকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী নাটকে
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- তবে, অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম গ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে,
• কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮০২.
আবুল হুসেন রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে কোন প্রবন্ধটি রচনা করেন?
  1. সত্যের সন্ধানে
  2. কালের কলস
  3. কৃষকের দুর্দশা
  4. মাটির পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
কৃষকের দুর্দশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষকের দুর্দশা
ব্যাখ্যা
• আবুল হুসেন রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে 'কৃষকের দুর্দশা' প্রবন্ধটি রচনা করেন।

• আবুল হুসেন:
- আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা' নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয়, তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন ।
- তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘ কালের কলস’ আল মাহমুদ এর কাব্যগ্রন্থ।
- ‘সত্যের সন্ধানে’ এর লেখক আরজ আলী মাতুব্বর।
- 'মাটির পৃথিবী' আবুল ফজল রচিত গল্পগ্রন্থ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১২,৮০৩.
‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - উক্তিটি কোন কবির?
  1. সমর সেন
  2. সুকুমার রায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন  তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
-  ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের  প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা, 
- খোলাচিঠি, 
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮০৪.
কবি কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' কব্যগ্রন্থের মূল সুর কি?
  1. ক) বিরহ
  2. খ) বিদ্রোহ
  3. গ) বিচ্ছেদ
  4. ঘ) প্রেম
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রেম
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ দুটি- 
গীতিকাব্য - অশ্রুমালা
মহাকাব্য - মহাশ্মশান। 

কায়কোবাদের খণ্ড কবিতাগ্রন্থ 'অশ্রুমালা'। 
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়। 

- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮০৫.
কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) আগুনের মেয়ে
  2. খ) শেষ বিকেলের মেয়ে
  3. গ) ধান কন্যা
  4. ঘ) কাশবণের কণ্যা
সঠিক উত্তর:
ক) আগুনের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আগুনের মেয়ে
ব্যাখ্যা
কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস 'আগুনের মেয়ে'। 
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস
- ডাহুকী
- উপমহাদেশ( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- আগুনের মেয়ে
- চেহারার চতুরঙ্গ
- কাবিলের বোন

অন্যদিকে, 
'কাশবনের কন্যা' বা 'The Girl in the Reeds' শামসুদ্দীন আবুল কালামের উপন্যাস।
'ধান কন্যা' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস। 
'শেষ বিকেলের মেয়ে' জহির রায়হান রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮০৬.
বাংলাপিডিয়া কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ক) শিল্পকলা একাডেমী
  2. খ) বাংলা একাডেমমী
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা

- বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় জ্ঞানকোষ।
- এটি প্রধানত বাংলাদেশ বিষয়ক বিশ্বকোষ।
- এই বিশ্বকোষের প্রধান সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। বাংলাদেশ ও বিদেশের ১৪৫০ জন লেখকের লেখা বাংলাপিডিয়ায় স্থান পেয়েছে।

সোর্সঃ বাংলা বিশ্বকোষ।

১২,৮০৭.
'জীবন বিনিময়' কবিতাটির লেখক-
  1. ফররুখ আহমদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• 'জীবন বিনিময়' কবিতাটির লেখক- 'গোলাম মোস্তফা'।
- কবিতাটি 'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
------------------------ 
• গোলাম মোস্তফা: 

 - ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮০৮.
'বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন' বিখ্যাত ভ্রমণ গ্রন্থের লেখক-
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবুল মনসুর আহমেদ
  3. গ) আব্দুল হাই
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
গ) আব্দুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ আব্দুল হাই রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ গ্রন্থের নাম- বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন। 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' রচনার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮০৯.
কবি নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে কোন পত্রিকার মাধ্যমে?
  1. ধূমকেতু
  2. সওগাত
  3. নবযুগ
  4. মোহাম্মদী
সঠিক উত্তর:
নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবযুগ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ও নবযুগ পত্রিকা:
• এ.কে ফজলুল হকের (শেরে-বাংলা) সম্পাদনায় অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২০ সালের ১২ জুলাই সান্ধ্য দৈনিক 'নবযুগ' প্রকাশিত হলে তার মাধ্যমেই নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে।

•  নজরুলের লেখা ‘মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে?’ প্রবন্ধের জন্য ওই বছরেরই আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত হয় এবং নজরুলের ওপর পুলিশের দৃষ্টি পড়ে।

• নবযুগ পত্রিকার সাংবাদিকরূপে নজরুল যেমন একদিকে স্বদেশ ও আন্তর্জাতিক জগতের রাজনৈতিক-সামাজিক অবস্থা নিয়ে লিখছিলেন, তেমনি মুজফ্ফর আহমদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমিতিতে উপস্থিত থেকে সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল হচ্ছিলেন।

• পাশাপাশি বিভিন্ন ঘরোয়া আসর ও অনুষ্ঠানে যোগদান এবং সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তরুণ কবির সংস্কৃতিচর্চাও অগ্রসর হচ্ছিল। নজরুল তখনও নিজে গান লিখে সুর করতে শুরু করেন নি, তবে তাঁর কয়েকটি কবিতায় সুর দিয়ে তার স্বরলিপিসহ পত্রপত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গীতজ্ঞ মোহিনী সেনগুপ্তা, যেমন: ‘হয়ত তোমার পাব দেখা’, ‘ওরে এ কোন্ স্নেহ-সুরধুনী’। নজরুলের গান ‘বাজাও প্রভু বাজাও ঘন’ প্রথম প্রকাশিত হয় সওগাত পত্রিকার ১৩২৭ সালের বৈশাখ সংখ্যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৮১০.
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. রফিক আজাদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. সবাই
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।

- তিনি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮১১.
'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ভাঙার গান
  2. দোলনচাঁপা
  3. সাম্যবাদী
  4. অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ারা,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
১২,৮১২.
সাপ্তাহিক 'সুধাকর' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. শেখ আবদুর রহিম
  2. মীর মশাররফ হোসেনের
  3. মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
শেখ আবদুর রহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ আবদুর রহিম
ব্যাখ্যা

• 'সুধাকর' পত্রিকা:
- সুধাকর কলকাতা থেকে ১৮৮৯ সালের ৮ নভেম্বর (১২৯৬ বঙ্গাব্দের ২৩ কার্তিক) প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা।
রেয়াজুদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ ও শেখ আবদুর রহিমের প্রচেষ্টায় এটি প্রকাশিত হয় এবং এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম (মতান্তরে মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ)।

- পত্রিকা প্রকাশের লক্ষ ও উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের অতীত গৌরব ও ইসলামের মাহাত্ম্য প্রচার করা। এক পর্যায়ে এটি মিহির ও সুধাকর নামে প্রকাশিত হয়।

- খ্রিস্টান মিশনারিদের পরিচালিত খ্রিস্টীয় বান্ধব পত্রিকার সঙ্গে সুধাকরের ধর্মবিষয়ে বহু বিতর্ক হয়; এমনকি গো-হত্যার ব্যাপারে টাঙ্গাইলের মৌলবি নইমুদ্দীনের পক্ষে এবং মীর মশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে এটি প্রচারাভিযান চালায়। ধর্ম, সমাজ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদি ছাড়াও সাহিত্যবিষয়ক মৌলিক রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।

- ১৯১০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,৮১৩.
‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আহমদ ছফা
  3. আবু ইসহাক
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'।
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

-------------------------- 
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো ,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- দিনযাপন,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,
- একটি পাখি লেজ ঝোলা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮১৪.
কোনটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য?
  1. হৃৎকলমের টানে
  2. নিষিদ্ধ লোবান
  3. নীল দংশন
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্য:
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যনাট্য।
- এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মাতব্বর,
- পির সাহেব,
- মাতব্বরের মেয়ে,
- পাইক,
- গ্রামবাসী,
- তরুণদল ও
- মুক্তিযোদ্ধারা।

-----------------
• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- নিষিদ্ধ লোবান (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮১৫.
বিশ্ব-গণহত্যার ঘটমান কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) নিমজ্জন
  2. খ) ধাবমান
  3. গ) হরগজ
  4. ঘ) মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
সঠিক উত্তর:
ক) নিমজ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিমজ্জন
ব্যাখ্যা
• 'নিমজ্জন' সেলিম আল দীন রচিত নাটক।
বিশ্ব-গণহত্যার ঘটমান কাহিনি ও দৃশ্যচিত্রের সমন্বয়ে- এর কাহিনি গড়ে উঠেছে। 

• সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
- তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।
- তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

• সেলিম আল দীন রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা, যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮১৬.
সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে  মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের অনুদিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. হিতোপদেশ
  3. রাজাবলি
  4. বেদান্তচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)-এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী। প্রয়োজনানুসারী ভাষারীতির প্রবর্তনে তিনি যুগোপযোগী সার্থকতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাক্যগঠনে ত্রুটি থাকলেও বাক্যের প্রাঞ্জলতা ও গাল্পিক কৌতূহল অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

- সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ।

- কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ১৮৩৩ সালে। গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত। এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে।

- 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৮১৭.
'ফুল্লরা' মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারার চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. কালিকামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'ফুল্লরা' মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল ধারার চরিত্র।

চণ্ডীমঙ্গল: 
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়

অন্যদিকে,
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮১৮.
গোবিন্দচন্দ্র দাস রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. রক্তরাগ
  2. প্রসূন
  3. সাহারা
  4. হাসনাহেনা
সঠিক উত্তর:
প্রসূন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রসূন
ব্যাখ্যা
গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ছিল একজন স্বভাবকবি।
- ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৮৭-৮৮ সালে কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি মাসিক পত্রিকা 'বিভা' প্রকাশ করেন। এবং শেরপুরে 'চারুবার্তা' কাগজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- অ্যালেন হিউম রচিত 'অ্যায়োএক' কবিতা অনুবাদের জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম গোবিন্দচন্দ্রের কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু:
- তবে স্বদেশপ্রেম, পল্লিপ্রকৃতি ও মানবজীবনের কথাও তাঁর কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুকুম,
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য),
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ- রক্তরাগ, সাহারা, হাসনাহেনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৮১৯.
‘কালান্তর’ প্রবন্ধের লেখক কে?
  1. ক) ড.আনিসুজ্জামান
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
কালান্তর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে রচিত একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ সংকলন। এছাড়াও সভ্যতার সংকট, পঞ্চভূত ইত্যাদি তার প্রবন্ধ গ্রন্থ। তার প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - বিবিধ প্রসঙ্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮২০.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি'-এর রচয়িতা কে? 
  1. সিকান্‌দার আবু জাফর 
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।

- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা হচ্ছে ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’:

‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি
তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল-'।

-------------------------------
• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ছিলেন একজন কবি ও সরকারি কর্মকর্তা।
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সাত নরীর হার,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮২১.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. শওকত আলী
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের লেখক হাসান আজিজুল হক।

• হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮২২.
আবুল মনসুর আহমদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার কোন মন্ত্রী ছিলেন?
  1. ক) সংস্কৃতি মন্ত্রী
  2. খ) স্বাস্থ্য মন্ত্রী
  3. গ) শিক্ষা মন্ত্রী
  4. ঘ) কৃষি মন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
খ) স্বাস্থ্য মন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বাস্থ্য মন্ত্রী
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। 
- তিনি খেলাফত, অসহযোগ স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। 
- তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠানা নেতা ছিলেন। 
- তিনি ২১ দফা কর্মসূচির অন্যতম প্রণেতা।
- তিনি যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন। 

তাঁর রচিত রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯),
- শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮২৩.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি? 
  1. দীপনির্বাণ 
  2. নির্বাণদীপ 
  3. বিচিত্রা 
  4. বিদ্রোহ 
সঠিক উত্তর:
দীপনির্বাণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীপনির্বাণ 
ব্যাখ্যা
 স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
 
১২,৮২৪.
'রমজান এবং রাবেয়া খাতুন' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. সারেং বৌ
  2. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  3. সংশপ্তক
  4. দিগন্তে ফুলের আগুন
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- সংশপ্তক' উপন্যাস বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বাস্তবতার এক প্রামাণ্য দলিল।
- হিন্দু-মুসলিমের সহঅবস্থানে অসাম্প্রদায়িক জীবনবােধ উপন্যাসের অন্যতম অসাধারণ বিষয়।
- এই উপন্যাস দেশ, জাতি, মানুষ বাঁচানোর সংগ্রাম শুধু নয়, মানবিক চেতনাবোধ, আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজে গঠনের আবেদন ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে জানান দিয়েছেন লেখক ।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জাহেদ, হুরমতি, লেকু, রমজান, রাবেয়া খাতুন (রাবু), সেকেন্দার, মালু, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- দিগন্তে ফুলের আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮২৫.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. বকুলপুরের স্বাধীনতা
  3. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  4. জোছনা ও জননীর গল্প
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা

• আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
- যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।

অন্যদিকে, 
• 'নিষিদ্ধ লোবান' মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ুন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস 'জোছনা ও জননীর গল্প'।
• মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক- বকুলপুরের স্বাধীনতা। 

--------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
-  নীলিমা ইব্রাহি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।

তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

তাঁর নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৮২৬.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. এস ওয়াজেদ আলী
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আনোয়ার পাশা
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮২৭.
নিচের কোন গল্পটি রবীন্দ্রনাথের লেখা?
  1. দেয়াল
  2. ক্ষুধিত পাষাণ
  3. পদ্মগোখরা
  4. একটি তুলসী গাছের কাহিনী
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধিত পাষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এর বইয়ের তথ্যমতে, 
গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।

• প্রেমের গল্প হিসেবে: 
একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।

• প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে: শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

• সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

 • অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে।

অন্যদিকে,
• 'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প।
• প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী সৃষ্টি একটি তুলসী গাছের কাহিনী গল্প।
• 'দেয়াল' হুমায়ূন আহমেদের রাজনৈতিক উপন্যাস। এবং দেয়াল নামে আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত একটি উপন্যাসও রয়েছে। 

১২,৮২৮.
হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' প্রকাশিত হয় -
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৩ সালে
  3. গ) ১৯৫৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৫ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- এটি সম্পাদনা করেছেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে 'পুথিপত্র' প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নক্‌শা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২জন লেখক লিখেছেন। 
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮২৯.
'জমিলা' চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. পল্লীসমাজ
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. লালসালু
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
সঠিক উত্তর:
লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালসালু
ব্যাখ্যা

‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা প্রমুখ।
 
------------------------- 
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লা‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।
---------------
অন্যদিকে, 
• পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের চরিত্র:
- কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসের চরিত্র:
- জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।

• ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র:
- রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৮৩০.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) শিল্পীর সাধনা
  2. খ) ল্যাংড়ী
  3. গ) দেয়াল
  4. ঘ) সংকর সংকীর্তন
সঠিক উত্তর:
ক) শিল্পীর সাধনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শিল্পীর সাধনা
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন
- একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল

গল্পগ্রন্থ:

- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

প্রবন্ধ:

- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প
সমাজ ও সাহিত্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবু জাফর বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার ১৯৬৮ সালে এবং  একুশে পদক ১৯৮৩ সালে লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৩১.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. সোনার তরী
  2. শেষের কবিতা
  3. বলাকা
  4. চিত্রা
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• শেষের কবিতা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র:
- অমিত,
- কেতকী ও
- লাবণ্য।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজও জনপ্রিয়। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সোনার তরী, বলাকা ও চিত্রা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৮৩২.
শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসটি বাজেয়াপ্ত হয়েছিল?
  1. পথের দাবি
  2. নিষ্কৃতি
  3. চরিত্রহীন
  4. দত্তা
সঠিক উত্তর:
পথের দাবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবি
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।

১২,৮৩৩.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র'।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

------------------

• আলাউদ্দিন আল আজাদ তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৩৪.
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রথম গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. বীরবলের হালখাতা
  2. তেল নুন লকড়ি
  3. নীললোহিত
  4. চার ইয়ারী কথা
সঠিক উত্তর:
চার ইয়ারী কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার ইয়ারী কথা
ব্যাখ্যা
• চার ইয়ারী কথা:
- ‘চার ইয়ারী কথা' (১৯১৬) প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ।
- চারবন্ধুর প্রেমের কাহিনি প্রত্যেকটি প্রেমই অভিশপ্ত, নায়িকা চারজন ইউরোপীয়।
- প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় চোর, তৃতীয় প্রতারক, চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর তার ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।
- ভাষার চাতুর্য, পরিহাসপ্রিয়তা এবং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ উদ্ভাসিত এই কাহিনি বাংলা ভাবালু প্রেমকাহিনির প্রতিবাদী।

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৩৫.
'The Rule of the Giant' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের-
  1. প্রবন্ধ
  2. বক্তৃতার শিরোনাম
  3. কবিতা
  4. চিত্রকর্ম
সঠিক উত্তর:
বক্তৃতার শিরোনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্তৃতার শিরোনাম
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২ বার ঢাকায় আসেন।  
- ১৮৮৯ সালে প্রথমবার এবং ১৯২৬ সালে দ্বিতীয়বার  
- ১৯২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়রের  কার্জন হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর  প্রথম বক্তৃতা দেন।  
- ১৯২৬ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি তিনি দ্বিতীয় বক্তৃতা প্রদান করেন। 
- ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি. লিট. উপাধি প্রদান করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্রদের অনুরোধে বাসন্তিকা গীতিকবিতা রচনা করেন। 

• ১৯২৬ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে প্রথমবার বক্তৃতা প্রদান করেন। 
- সেই বক্তৃতার শিরোনাম ছিল- 'The Meaning of Art'। 
 
• ১৯২৬ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি তিনি দ্বিতীয় বক্তৃতা প্রদান করেন। 
- সেই বক্তৃতার শিরোনাম ছিল- 'The Rule of the Giant'। 
 
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
১২,৮৩৬.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' এ উক্তিটির প্রকৃত তাৎপর্য হচ্ছে-
  1. আদিবাসী মানুষ অরণ্য জনপদে বাস করে
  2. বনের পশু বনে থাকতেই ভালোবাসে
  3. জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর
  4. প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্য আদি ও অকৃত্রিম
সঠিক উত্তর:
জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর
ব্যাখ্যা
• 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' প্রবাদটির অর্থ- 'জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর।'

• ''বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'' - চমৎকার এ কথাটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন 'পালামৌ' নামের ভ্রমণকাহিনীতে।
- এর মূলভাব হলো সৌন্দর্য্য সর্বত্র বিকশিত হয় না । প্রাকৃতিক নিয়মে যার যথা স্থান সেখানেই তার সৌন্দর্য ফুটে উঠে।

---------------------
• পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য-
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
- "মানুষ্য বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"
- "যে হারে, সেই রাগে। "

---------------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৩৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কোন ছন্দে রচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. স্বরবৃত্ত
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভাষা' কবিতা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি চতুৰ্দ্দশপদী কবিতাবলী গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত
- 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট।
- মাতৃভাষার প্রতি কবির সুগভীর হৃদয়াবেগ এই কবিতায় মার্জিত ও পরিশীলিত ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এখানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অজস্র ঐশ্বর্য ও সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত হয়েছে কবির নিপুণ বর্ণনায়।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৩৮.
'আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও' পংক্তিটি কোন কবির লেখা?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) জসীমউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

আসমানী

- জসীম উদ্‌দীন---এক পয়সার বাঁশী

আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমন্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।

১২,৮৩৯.
সুফিয়া কামাল রচিত 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. পূর্বমেঘ
  2. মাসিক মোহাম্মদী
  3. ভারতী
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
মাসিক মোহাম্মদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা
বেগম সুফিয়া কামাল কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 

- কবি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কবিতা ‘তাহারেই পড়ে মনে’ প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 
- এটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া (১৯৩৮)
- মায়া কাজল (১৯৫১),
- মন ও জীবন (১৯৫৭),
- উদাত্ত পৃথিবী (১৯৬৪),
- অভিযাত্রিক (১৯৬৯) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৪০.
মহাকাব্যোচিত উপন্যাস 'খোয়াবনামা' - কে লিখেছেন?
  1. শওকত ওসমান 
  2. শওকত আলী 
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবুল মনসুর আহমদ 
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ (১৯৮২), 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।

'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
- উপন্যাসটির বিষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্যসহ ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৮৪১.
'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হুমায়ুন কবির
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তিনি 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৮৪২.
‘দুই সৈনিক’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. মাহমুদুল হক
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

‘দুই সৈনিক’ উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। 
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী কোনো দিনের অনুর্ধ্ব পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীস্বরূপ 'দুই সৈনিক' উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি, ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১২,৮৪৩.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়-
  1. ১৮৭২ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৮৭৫ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৭২ সালে
ব্যাখ্যা
• বঙ্গদর্শন:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও  দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই  সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৪৪.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -
  1. চৈতালী ঘূর্ণি
  2. অরণ্যবহ্নি
  3. একটি কালো মেয়ের কথা
  4. জলসাঘর
সঠিক উত্তর:
অরণ্যবহ্নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্যবহ্নি
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৭১ সালেরই ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় লেখকের।

সাহিত্যকর্ম
- তার সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পগ্রন্থ, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধের বই, ৪টি আত্মজীবনী এবং ২টি ভ্রমণ কাহিনী।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস চৈতালী ঘূর্ণি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।

- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে এই উপন্যাসের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস
- আরোগ্য নিকেতন,
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৪৫.
‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ।
- লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
- 'বিষবৃক্ষ' আজও শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর একটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৪৬.
'আমার পূর্ববাংলা' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাস
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
‘আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা। এটা বাংলা সাহিত্যেরও একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। কবিতাটি ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
১২,৮৪৭.
বাংলা সাহিত্যে ‘নটগুরু’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. গিরিশচন্দ্র সেন
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. মনোমোহন বসু
  4. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- বাংলা নাটকের সমৃদ্ধসাধনে গিরিশচন্দ্র ঘোষের (১৮৪৪-১৯১২) অবদান অপরিসীম।
- যশস্বী অভিনেতা এবং প্রতিভাশালী নাট্যকারের যুগ্নবৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে তিনি পচাঁত্তরখানি সমাপ্ত ও চারখানি অসমাপ্ত নাটক প্রহসন রচনা করেন। এতে বাংলা নাটকের ইতিহাস যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে এবং তিনি সে সময়কার সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ও খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যকার হিসেবে গৌরবময় আসন অলংকৃত করতে সক্ষম হন।

• গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু’ হিসেবে।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের নাটকে তাঁর নিজের প্রবর্তিত ‘গৈরিশ ছন্দের’ ব্যবহার হয়েছে। এতে তিনি যথেষ্ট সার্থকতা অর্জন করেন। অভিনয়ে উপযোগী ভাষাসৃষ্টির উদ্দেশ্য এর পশ্চাতে কার্যকরী ছিল।

তাঁর গৈরিশ ছন্দের নমুনা:
যবে ধনু ধরি করে,
ঘোর সিংহনাদে প্রবেশ করেছি রণে-
যক্ষ রক্ষ গন্ধর্ব কিন্নর আদি চরাচর
কে কবে হয়েছে স্থির?
যদি যায় প্রাণ মাতঃ করগো কল্যাণ
সেই দর্পে সেই শরাসন করে
সেই রণক্ষেত্রে আনন্দ যথায় মম
হইব ধরণীশায়ী অনন্ত শয্যায়।

গিরিশচন্দ্র ঘোষের অনুবর্তী নাট্যকারগণের ওপর এই ছন্দের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীকালের ভক্তিমূলক পৌরাণিক নাটকের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৮৪৮.
কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য?
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. বিলাতের পত্র 
  3. বীরাঙ্গনা
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তার জম্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উল্লেখ্য,
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৮৪৯.
সিকান্দায় আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকাটির নাম কি?
  1. সওগাত
  2. কল্লোল
  3. সমকাল
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
সমকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমকাল
ব্যাখ্যা

• ‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।
- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে, 
• ঐতিহাসিক 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। 
• বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা 'কল্লোল'-এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
• কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৮৫০.
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কী?
  1. নীল লোহিত
  2. হাবু শর্মা
  3. শ্রীমতী রাধামণি দেবী
  4. দৃষ্টিহীন
সঠিক উত্তর:
শ্রীমতী রাধামণি দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীমতী রাধামণি দেবী
ব্যাখ্যা
• প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - শ্রীমতী রাধামণি দেবী

অন্যদিকে,
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - নীল লোহিত।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
- 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৫১.
' ঝুমকো জবা' ছড়াটি কে রচনা করেছেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. ফররুখ আহমেদ
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা

'ঝুমকো জবা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি বিখ্যাত ছড়া।

ঝুমকো জবা
ফররুখ আহমদ

ঝুমকো জবা বনের দুল
উঠল ফুটে বনের ফুল।
সবুজ পাতা ঘোমটা খোলে,
ঝুমকো জবা হাওয়ায় দোলে।
সেই দুলুনির তালে তালে,
মন উড়ে যায় ডালে ডালে।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।

• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা,
- হরেফের ছড়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বিডিনিউজ২৪ ।

১২,৮৫২.
নদীর পারের চরকে কেন্দ্র করে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -
  1. হাঁসুলীবাঁকের উপকথা
  2. অরণ্য বহ্নি
  3. কালিন্দী
  4. কবি
সঠিক উত্তর:
কালিন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিন্দী
ব্যাখ্যা
• 'কালিন্দী' উপন্যাস: 
- রচয়িতা: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- প্রথম প্রকাশ – ১৯৪০।
- নদীর পারের চরকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস।

• উপন্যাসের প্রথম পর্ব- 
- নদীর ও-পারে একটা চর দেখা দিয়াছে।
- রায়হাট গ্রামের প্রান্তেই ব্রাহ্মণী নদী–ব্রাহ্মণীর স্থানীয় নাম কালিন্দী, লোকে বলে কালী নদী; এই কালী নদীর ও-পারের চর জাগিয়াছে। এখন যেখানে চর উঠিয়াছে, পূর্বে ওইখানেই ছিল কালী নদীর গর্ভভূমি। এখন কালী রায়হাটের একাংশ গ্রাস করিয়া গ্রামের কোলে কোলে বহিয়া চলিয়াছে। গ্রামের লোককে এখন বিশ হাত উঁচু ভাঙন ভাঙ্গিয়া নদীগর্ভে নামিতে হয়।

অন্যদিকে,
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনাগুলো-  
• বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে রচিত উপন্যাস - হাঁসুলীবাঁকের উপকথা।
• 'কবি' উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের এক ছেলের কবি হয়ে যাওয়া চিত্রিত করা হয়েছে।
• আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন 'অরণ্য বহ্নি' উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, 'কালিন্দী' উপন্যাস।
১২,৮৫৩.
"এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. কাজী আব্দুল ওদুদ
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. আবদুল্লাহ আল-মুতী
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল-মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা
• "এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে":
- "এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে" আবদুল্লাহ আল-মুতী রচিত গ্রন্থ।
- গ্রন্থের প্রকাশক ছিল- নওরোজ কিতাবিস্তান।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে আগামী দিনের বিজ্ঞানী আর কারিগর বাংলাদেশের কিশোর কিশোরীদের।

- নুন, চিনি, প্লাস্টিক, আগুন, বাতাস, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, তাপমাত্রা, বিবর্তন, বজ্রপাত, বৃষ্টি, ভূমিকম্প - এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগ্রহ-উদ্দীপক গল্প বলেছেন এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে বইটিতে। শুধুমাত্র বিজ্ঞানের কথা কিন্তু না, আছে ইতিহাসের টুকরো টুকরো মজার গল্প, বিজ্ঞান না জানা মানুষদের হাজার বছরের পুরাতন বিশ্বাস ও সংস্কারের কথা।

এই গ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- রহস্যের ঝাঁপি, 
- নুনের মতন ভালবাসা, 
- চিনি শুধু মিষ্টি নয়, 
- আগুন! আগুন!, 
- ফেলনা থেকে খেলনা, 
- আটকে গেল দম!, 
- ঘড়ি চলে টিক টিক, 
- সময় মাপার কাহিনী, 
- দুধ-ভাত খাওয়া ঘড়ি, 
- হাড় কাঁপানো শীতে, 
- ঠাণ্ডা লেগে কাবু, 
- মেঘে মেঘে টক্কর, 
- আয় বৃষ্টি ঝেঁপে, 
- টলমল পদভরে, 
- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে। 

উৎস: "এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে" গ্রন্থ আবদুল্লাহ আল-মুতী।
১২,৮৫৪.
কোনটি হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস?
  1. বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন
  2. আব্বুকে মনে পড়ে
  3. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না
  4. বুকপকেটে জোনাকি পোকা
সঠিক উত্তর:
আব্বুকে মনে পড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্বুকে মনে পড়ে
ব্যাখ্যা
⇒ 'আব্বুকে মনে পড়ে’ উপন্যাস:
• হুমায়ুন আজাদের 'আব্বুকে মনে পড়ে’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।
• উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে।
• উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক শিশু।
• ১৯৭১ সালে যার বয়স ছিল চার বছর। যার মনে বার বার ভেসে উঠে যুদ্ধ করতে যাওয়া তার বাবার স্মৃতি। 

⇒ হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না,
- বুকপকেটে জোনাকি পোকা,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন’ কিশোর উপন্যাসের রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৫৫.
'গৌড়তটবাসী মশা' কার ছদ্মনাম?
  1. শওকত ওসমান
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
মীর মোশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মোশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

'গৌড়তটবাসী মশা' ছদ্মনাম- মীর মশাররফ হোসেনের।  
------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) ছিলেন একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও মুসলিম সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেনের প্রচলিত ছদ্মনাম ছিল ‘গাজী মিয়া’।
- তিনি আরও যেসব ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন: গৌড়তটবাসী মশা, উদাসীন পথিক।
- তিনি গো-জীবন নামক প্রবন্ধ রচনা করে মামলায় জড়িয়ে পড়েন।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ (১৮৪৩), পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন - যার সম্পাদক ছিলেন কাঙ্গাল হরিনাথ।

- তাঁর নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• 'বসন্তকুমারী' ও
• 'জমিদার দর্পণ'।

• মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা হচ্ছে গাজী মিয়াঁর বস্তানী। 

- তার রচিত প্রহসন হচ্ছে:
• ফাঁস কাগজ', 
•'ভাই ভাই এইতো চাই', 
• 'এর উপায় কি'।

- তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম হলো কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে লেখা উপন্যাস 'বিষাদ সিন্ধু' - যার তিনটি খণ্ড হলো:
• মহররম পর্ব,
• উদ্ধার পর্ব ও
• ইয়াজিদ বধ পর্ব।
-----------------------------------
অন্যদিকে, 
•  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের  ছদ্মনাম- ‘ভ্রমণকারী বন্ধু’।
• সৈয়দ মুজতবা আলীর সবচেয়ে প্রচলিত ছদ্মনাম হলো-
- প্রিয়দর্শী, মুসাফির, সত্যপীর।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।    

১২,৮৫৬.
"যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা, যুদ্ধ
মানেই আমার প্রতি তোমার অবহেলা" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. জসীম উদ্দীন
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
"যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা, যুদ্ধ
মানেই আমার প্রতি তোমার অবহেলা" - কবিতাংশটুকু নির্মলেন্দু গুণ এর 'প্রেমাংশুর রক্ত চাই' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'যুদ্ধ' কবিতার অন্তর্গত।

নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’। বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৫৭.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৪২ সালে
  2. ১৮৪৩ সালে
  3. ১৮৭২ সালে
  4. ১৮৭৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৪৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৪৩ সালে
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৮৫৮.
'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' ভ্রমণকাহিনিটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা
• 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।

------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৫৯.
'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত ছিলেন-
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।

- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত কবি। 
- তাঁর বহুল প্রচলিত কবিতা 'মেথর'।
- দেশাত্মবোধ, শক্তির সাধনা, মানবতাবোধ তাঁর কবিতার ভাববস্তু। 

 তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্যঃ
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৬০.
‘কিত্তনখােলা’ নাটকটির বিষয়-
  1. যন্ত্রণাদগ্ধ শহরজীবন
  2. স্নিগ্ধ-শ্যামল প্রকৃতির রূপ
  3. লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
  4. দেশবিভাগজনিত জীবন যন্ত্রণা
সঠিক উত্তর:
লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন নাট্য সাহিত্যে নিয়ে এলেন ভিন্ন ও নিজস্ব এক ধারা। বাংলার জনপদের প্রান্তিক জনমানসে মিশে থাকা জীবনাচরণ ছিল তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রধান অনুষঙ্গ। তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মে লোকজ ভাবধারাকে অক্ষত রাখতে পরম শান্তির আশ্রয় লাভ করেছেন মধ্যযুগের আখ্যানসমূহের ছায়াতলে।

সেলিম আল দীন নাট্য সাহিত্যে নিয়ে এলেন ভিন্ন ও নিজস্ব এক ধারা। বাংলার জনপদের প্রান্তিক জনমানসে মিশে থাকা জীবনাচরণ ছিল তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রধান অনুষঙ্গ। তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মে লোকজ ভাবধারাকে অক্ষত রাখতে পরম শান্তির আশ্রয় লাভ করেছেন মধ্যযুগের আখ্যানসমূহের ছায়াতলে।

তার জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়। ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত

লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই। 

উৎসঃ গ্রাম থিয়েটার পত্রিকা, সেলিম আল দীন রচনা সমগ্র 

১২,৮৬১.
বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কাকে? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজশেখর বসু
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেমপ্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৬২.
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসে কোন গ্রামের একজন নারীর জীবন চিত্রায়িত হয়েছে?
  1. মধুবনী গ্রাম
  2. হলদী গ্রাম
  3. বিজয়পুর গ্রাম
  4. সবুজ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
হলদী গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলদী গ্রাম
ব্যাখ্যা
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড':
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

• সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছাস,

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।
১২,৮৬৩.
'মগের মুলুক' ব্যঙ্গকাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
খ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
গোবিন্দচন্দ্র দাস (১৮৫৫-১৯১৮)

গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি বর্তমান গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরের এক দরিদ্র কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন স্বভাব কবি৷ ভাওয়াল রাজ কালীনারায়ণ রায়ের অনুগ্রহে লালিত পালিত হন।

কলকাতার সাপ্তাহিক নবযুগ পত্রিকায় ভাওয়ালের রাজা রাজেন্দ্রনারায়ণ রায় ও রাজমন্ত্রী সুপ্রসিদ্ধ সাহিত্যিক কালীপ্রসন্ন ঘোষের অনেক অপ্রীতিকর প্রসঙ্গের অবতারণা করে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। রাজা বিভ্রান্ত হয়ে এ প্রবন্ধের লেখক গোবিন্দচন্দ্র দাসকে মনে করে তাকে জয়দেবপুর থেকে নির্বাসন দেন। তিনি শেরপুরে চলে যান এবং ‘মগের মুলুক' (১৮৯২) ব্যঙ্গকাব্য রচনা করে তাকে অন্যায়ভাবে নির্বাসন দেওয়ার প্রতিবাদ জানান ৷ তিনি সেপ্টেম্বর ১৯১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কাব্যগ্রন্থ
- প্রসূন (১৮৭০)
- প্রেম ও ফুল (১৮৮৮)
- কুঙ্কুম (১৮৯১)
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য, ১৮৯২)
- কস্তুরী (১৮৯৫)
- চন্দন (১৮৯৬)
- ফুলরেণু (সনেট, ১৮৯৬)
- বৈজয়ন্তী (১৯০৫)
- শোক ও সান্ত্বনা (১৯০৯)


তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৬৪.
'বনশ্রী' উপনাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) মামুনুর রশিদ
সঠিক উত্তর:
খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক ছিলেন। প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল (১৯২৩) পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। পরে মুরলীধর বসুর সহযোগিতায় কালিকলম (১৯২৬) পত্রিকা সম্পাদনা করেন। প্রেমেন্দ্র মিত্র সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে যৌথভাবে রচনা করেন বিসর্পিল ও বনশ্রী নামে দুটি উপন্যাস। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত ও বুদ্ধদেব বসু তাঁর এ সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উপন্যাস- পাঁক, কুয়াশা, মিছিল, উপনয়ন, আগামীকাল, প্রতিশোধ, প্রতিধ্বনি ফেরে, অন্য এক নাম, পা বাড়ালেই রাস্তা, পতাকা যারে দাও, স্তব্ধ প্রহর, মনুদ্বাদশ, যিনি বিধাতা, সেই যে শহর রাজোলি। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৬৫.
মুনির চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) জোহরা
  2. খ) ইব্রাহীম কার্দি
  3. গ) মারওয়ান
  4. ঘ) সুজাউদ্দৌলা
সঠিক উত্তর:
গ) মারওয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মারওয়ান
ব্যাখ্যা
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় মুনীর চৌধুরীর লেখা মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর-এর চরিত্রগুলোর মধ্যে বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা, সুজাউদ্দৌলা, নজীবউদ্দৌলা, আবদালি প্রমুখ।
উৎসঃ রক্তাক্ত প্রান্তর - মুনীর চৌধুরী
১২,৮৬৬.
'এই শাওনে এই পরবাসে' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) তালিম হোসেন
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) দিলারা হোসেন
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
সঠিক উত্তর:
ঘ) দাউদ হায়দার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা
- 'এই শাওনে এই পরবাসে' গ্রন্থটি লিখেছেন দাউদ হায়দার

• দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে পাবনা জেলার দোহার নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন একজন কবি।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- পাথরের পুঁথি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৬৭.
'ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সত্যেন সেন
  3. রফিক আজাদ
  4. সমর সেন
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

জাহানারা ইমাম: 
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,৮৬৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক কোনটি?
  1. ক) চন্দ্রগুপ্ত
  2. খ) সিংহল বিজয়
  3. গ) সাজাহান
  4. ঘ) প্রায়শ্চিত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) সাজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাজাহান
ব্যাখ্যা

'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় । নাটকটির রচয়িতা, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। ১৯০৯ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক নাটক। বাংলা নাট্যজগতের  অন্যতম মঞ্চসফল নাটক 'সাজাহান'। সংলাপের আড়ম্বর, বাকশৈলীর বর্ণাঢ্যতা, আবেগের প্রচণ্ডতা ও ঘটনার অতি-নাটকীয়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই প্রথম নাটক রচনা করেন। 
'চন্দ্রগুপ্ত' ১৯১১ সালে প্রকাশিত, দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত ঐতিহাসিক নাটক ।
'সিংহল বিজয়' ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত ঐতিহাসিক নাটক ।
'প্রায়শ্চিত্ত' ১৯০২ সালে প্রকাশিত, দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত সামাজিক নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১২,৮৬৯.
'রসরাজ' কোন সাহিত্যিকের উপাধি?
  1. মুকুন্দদাস
  2. সুভাষ মুখপাধ্যায়
  3. পঞ্চনান কর্মকার
  4. অমৃতলাল বসু
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অমৃতলাল বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমৃতলাল বসু
ব্যাখ্যা
• 'রসরাজ' অমৃতলাল বসুর উপাধি।

• অমৃতলাল বসু:
- বাংলা নাট্যসাহিত্যে নাট্যকার হিসেবেও অমৃতলালের নাম সগৌরবে উচ্চারিত হয়।
- তিনি রঙ্গ-ব্যঙ্গমূলক নাটক রচনা ও তাতে অভিনয় করে সুধীসমাজ কর্তৃক ‘রসরাজ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- নাটক, প্রহসন ও নকশা জাতীয় তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশ।
- তিনি  প্রহসন ও ব্যঙ্গ রচনাতেই অধিক সফল হয়েছেন।
- সমকালের নাগরিক ও গ্রামীণ সমাজের নানা দিক নিয়ে এসব ব্যঙ্গাত্মক নাটক রচিত হয়।

উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
- তিলতর্পণ (১৮৮১),
- বিবাহ বিভ্রাট (১৮৮৪),
- তরুবালা (১৮৯১),
- কালাপানি (১৮৯২),
- বাবু (১৮৯৩),
- বিমাতা (১৮৯৩),
- আদর্শ বন্ধু (১৯০০),
- অবতার (১৯০২),
- চোরের উপর বাটপাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৭০.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর" - কোন কবিতার চরণ?
  1. আজি সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  2. সোনার তরী
  3. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. প্রিয়তমাসু
সঠিক উত্তর:
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
ব্যাখ্যা
'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
- এতে একুশটি কবিতা আছে। এ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।

নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল  গুহার আঁধারে
প্রভাত-পাখির গান।
না জানি কেন রে  এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

উৎস: রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৭১.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত ’হাসুলীবাঁকের উপকথা’ উপন্যাসটি একটি-
  1. রাজনৈতিক উপন্যাস
  2. আঞ্চলিক উপন্যাস
  3. ধর্মীয় উপন্যাস
  4. রোমান্সধর্মী উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• হাসুলীবাঁকের উপকথা:
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা হলো তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৪৭ সালে প্রকশিত হয়।
- রাঢ় অঞ্চলের বিশেষ মানুষজনদের ইতিবৃত্ত রচনার প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ।
- আর তাই অনিবার্যভাবে 'উপকথা' শব্দটি গ্রন্থনামে লক্ষ করা যায়। 
- কাহিনি বিন্যাসের ক্ষেত্রে নদী প্রবাহের ধারাটিই এখানে লক্ষণীয়।
- 'কোপাই' নদীর তীরবর্তী মানুষজন এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। 
-------------------------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি হাবু শর্মা ছদ্মনামে লিখতেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, হাসুলীবাঁকের উপকথা’গ্রন্থ ।
১২,৮৭২.
”সিন্দাবাদ” কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. হাতেমতায়ী
  3. সিরাজাম মুনীরা
  4.  সাত সাগরের মাঝি
সঠিক উত্তর:
 সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা

• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'সিন্দাবাদ' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- এ কাব্যের ‘সিন্দাবাদ’ ‘বা’র দরিয়ায়’ ‘দরিয়ার শেষ রাত্রি’, ‘শাহরিয়ার ‘আকাশ নাবিক’ ‘বন্দরে সন্ধ্যা’, ‘ডাহুক’, ‘এই রাত্রি’, ‘পাঞ্জেরী’, ‘স্বর্ণমঙ্গল’ ‘লাশ’, ‘তুফান’, ‘হে নিশান বাহী’, ‘নিশান’, ‘আউলাদ’ ও ‘সাত সাগরের মাঝি’ প্রভৃতি কবিতায় মুসলিম ঐতিহ্যকে লালন করা হয়েছে।

• ফররুখ আহমদ:

- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৮৭৩.
মুনীর চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ কোন শ্রেণীর রচনা?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
  3. গ) রূপক
  4. ঘ) ঐতিহাসিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঐতিহাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঐতিহাসিক
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’- ঐতিহাসিক রচনা।

 ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর— নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৭৪.
চলিত ভাষাকে জনপ্রিয় করেন কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) শামসুর রহমান
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ।
- এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৭৫.
বাংলা সাহিত্যে ‘ছন্দের যাদুকর’ বলে খ্যাত কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮২-১৯২২): 
- কবি ও ছান্দসিক।
- তাঁর পিতামহ  অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি।
- এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন;
- যেমন: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো:

• সবিতা;
• সন্ধিক্ষণ;
• বেণু ও বীণা;
• কুহু ও কেকা;
• হোম শিখা;
• ফুলের ফসল; 
• অভ্র-আবীর; 
• বেলা শেষের গান;
• বিদায়-আরতি; 
• কাব্যসঞ্চয়ন;
• শিশু-কবিতা ইত্যাদি। 

তাঁর অনুবাদ কাব্যগুলি হলো:

• তীর্থরেণু;
• তীর্থ-সলিল ও  
• মণিমঞ্জুষা। 
- গদ্যেপদ্যে তাঁর বিচিত্র রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী'।  

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৭৬.
'ডাকহরকরা' গল্পের রচয়িতা কে? 
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2.  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'ডাকহরকরা' গল্পটির রচয়িতা- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর জন্ম ১৮৯৮ সালের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা'।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কবি,
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাগর,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- পঞ্চগ্রাম,
- গণদেবতা, ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৭৭.
'পুত্র' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. সেলিনা হোসেন
  3. সুফিয়া কামাল
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
- সেলিম আল দীন 'পুত্র' হারানাে এক দম্পতির অবিশ্রান্ত বিলাপ ও স্মৃতি মন্থরতা এ নাটকে রূপায়িত করেছেন।
- মাইটাল সিরাজ ও তার স্ত্রী যমুনা পারের আবছা । তাদের পুত্র মানিক আমগাছে গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। নিয়মানুসারে ধর্মীয় কৃত্যহীন লাশ মাটিতে পুঁতে আমগাছটি কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনার দুবছর পর এক শীতের রাতে উষ্ণতা পেতে এক দম্পতি আমগাছটির শিকড় দিয়ে আগুন জ্বালায়। এক দিকে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে আসতে থাকে আম গাছটির শিকড়, অন্য দিকে মা-বাবার অন্তরে পুত্র হারানাের যন্ত্রণা যেন দ্বিগুণ যন্ত্রণায় জ্বলতে থাকে। মৃতপুত্রের অপূরণীয় সব উচ্ছাস আকাঙ্ক্ষাকে স্মরণ করতে করতে এক সময় গাছের শিকড়কেও পুত্র ভাবতে থাকে তারা। নাটকের শেষাংশে দেখা যায়, নতুন সন্তানের তীব্র কামনায় স্ত্রী আবছা স্বামীকে তালাক দিয়ে ফিরে যায় ফেলে আসা যমুনার তীরে।

উৎস:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৭৮.
বিজন ভট্টাচার্যের নাটকে কোন মতবাদ প্রাধান্য পায়?
  1. মার্কসবাদ
  2. পুজিঁবাদ
  3. বস্তুবাদ
  4. নিরপেক্ষতাবাদ
সঠিক উত্তর:
মার্কসবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কসবাদ
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্য:
- ১৯০৬ সালে ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য।
- তাঁর অন্যতম সার্থক নাটক হলো নবান্ন (১৯৪৪) নাটক।
- তিনি নাটক রচনায় মার্কসবাদ মতবাদ কে প্রাধান্য দেন।

• তার রচিত নাটক :
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৭৯.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে?
  1. ঋষি
  2. কমলাকান্ত
  3. রায়বাহাদুর
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন।

• উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'কমলাকান্ত' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন। তাঁর 'কমলাকান্তের দপ্তর' নামে একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৮০.
‘সুদীপ্ত শাহীন’ চরিত্রটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. জীবন আমার বোন
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. নিষিদ্ধ লোবান
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
রাইফেল রােটি আওরাত:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩), আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে:
- ড. খালেক,
- ড. মালেক,
- ছাবেদ আলী,
- হাসমত,
- জামাল সাহেব প্রমুখ।

অন্য অপশনের রচনাগুলোর চরিত্র:
• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় -মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা।
• জীবন আমার বোন -  জাহিদুল কবির খোকা, মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।
• নিষিদ্ধ লোবান - বিলকিস, সিরাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৮১.
'সব কটা জানালা খুলে দাও না'- এর গীতিকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. নজরুল ইসলাম বাবু
  3. ড. মনিরুজ্জামান
  4. ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল
সঠিক উত্তর:
নজরুল ইসলাম বাবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
গীতিকার:
- 'সব কটা জানালা খুলে দাও না' - গানটির গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু। এটি একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গান।
- আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় এই গানে কণ্ঠ দেন সাবিনা ইয়াসমিন।

তার রচিত অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে:
-‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’
- ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা’
- ‘ও আমার আট কোটি ফুল দেইখো গো মালি’ প্রভৃতি।

তাছাড়া,
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি,
আমি কি ভুলিতে পারি'--গানটির বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রণোদনা : গান, দৈনিক ভোরের কাগজ।
১২,৮৮২.
‘নারীর মূল্য’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ সংকলন
  4. নিবন্ধ গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নিবন্ধ গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিবন্ধ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘নারীর মূল্য’:
- 'নারীর মূল্য' (১৯২৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত নারীর সামাজিক অধিকার ও সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান নিবন্ধ গ্রন্থ।
- 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে 'যমুনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- অনিলা দেবী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বড় বোনের নাম।

-------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও নারীর মূল্য- নিবন্ধ গ্রন্থ।
১২,৮৮৩.
'দ্বার খোলো বাবা খাইনি তো সাত দিন'— উক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. রক্তাম্বর-ধারিণী মা
  2. আগমণী
  3. ধূমকেতু
  4. মানুষ  
সঠিক উত্তর:
মানুষ  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ  
ব্যাখ্যা

'দ্বার খোলো বাবা খাইনি তো সাত দিন'— এ উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত মানুষ কবিতার অংশ। 
----------------------
• মানুষ- 
     – কাজী নজরুল ইসলাম। 

“গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান,
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে, সল কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
‘পূজারী, দুয়ার খোল,
ক্ষুদার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!’
স্বপ্ন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুদায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোল বাবা, খাইনি তো সাত দিন!’
সহসা বন্ধ হ’ল মন্দির, ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুদার মানিক জ্বলে!" 
--------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
-------------------------------- 
'মানুষ' কবিতা নিয়ে কিছু তথ্য-
- “দ্বার খোল বাবা, খাইনি সাত দিন”— উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘মানুষ’ কবিতার অংশ।
- 'মানুষ' কবিতাটি তাঁর ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানে ক্ষুধিত ভিখারি মন্দিরের পুজারীকে সম্বোধন করে উক্তিটি করেছে। 
- উক্তিটির মধ্য দিয়ে লেখক- মানুষের জীবন ও অধিকারকে ধর্ম বা স্থাপনার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করার বিরুদ্ধ  তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১২,৮৮৪.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ 
  2. গল্প 
  3. উপন্যাস 
  4. কাব্যনাট্য
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়':
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য।
- এটি রচিত হয়েছে ১লা মে থেকে ১৩ই জুন, ১৯৭৫; লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড শহরে, আর প্রকাশ পেয়েছে ১৯৭৬ সালে। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবনমূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্যগুলো হলো:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৮৫.
'মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা!' - গানটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!' - গানটির রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন।  
- গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের  ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। 

অতুলপ্রসাদ সেন: 
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার, গায়ক ছিলেন।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন। 
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ গান ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

তাঁর গানের সংকলন:
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৮৬.
‘বিষাদসিন্ধু’ একটি-
  1. গবেষণা গ্রন্থ
  2. ধর্মবিষয়ক গ্রন্থ
  3. ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস
  4. আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• বিষাদ সিন্ধু:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার  হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায়  সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 

নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু। 

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৮৭.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের যুবক-শিক্ষকের নাম-
  1. আবদুল কাদের
  2. খতিব মিয়া
  3. আক্কাস আলী
  4. আরেফ আলী
সঠিক উত্তর:
আরেফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরেফ আলী
ব্যাখ্যা
• ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচনা করেন।
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য
বিষয়।

--------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৮৮.
কোনটি বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক মহাকাব্য?
  1. মহাশ্মশান
  2. মহাভারত
  3. হেক্টরবধ
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- তিনি এই মহাকাব্যের রচয়িতা। এর কাহিনী 'রামায়ণ' থেকে সংগৃহীত। কাব্যটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- 'রামায়ণ' এর রাবণের সীতা হরণ, রাম রাবণের লঙ্কাযুদ্ধ এবং যুদ্ধে রাবণের পরাজয়ের কাহিনী নিয়ে এ মহাকাব্য রচিত হয়েছে।
- সর্গ সংখ্যা: ৯টি। চরিত্র: মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, বিভীষণ, রাবণ, রাম প্রভৃতি।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গণা কাব্য,
- হেক্টরবধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৮৯.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত “নুরুলদীনের সারাজীবন” কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু কি?
  1. মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা
  2. ইংরেজদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন
  3. স্বদেশী আন্দোলন
  4. অসহযোগ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ইংরেজদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন
ব্যাখ্যা

রাজস্ব আদায়ে কৃষক প্রজাদের উপর অত্যাচার চরমে পৌছালে রংপুরের কৃষকরা ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।
এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ - নুরুলদীন। ১৭৮৩ সালে নুরুলদীনের নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা ইংরেজ সৈন্যদের ঘাটি আক্রমন করে। প্রাণপণ যুদ্ধের পর নুরুলদীন আহত ও বন্দী হয়। পরে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
এই কাহিনী নিয়েই সৈয়দ শামসুল হক রচনা করেন নাটক - নুরুলদীনের সারাজীবন।
তার অন্যান্য নাটক -
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- গণনায়ক
- ঈর্ষা ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৮৯০.
দেখিনু সেদিন রেলে
কুলি ব‘লে এক বাবু সা’ব তারে
ঠেলে দিল নীচে ফেলে!
—পঙক্তিটির রচয়িতা কে ?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. আহসান হাবিব
  4. কবি জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি ব'লে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিল নীচে ফেলে!'
- পংক্তিটির রচয়িতা: কাজী নজরুল ইসলাম

সাম্যবাদী:
- ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে কাজী নজরুল ইসলামের অসাধারণ ও মানবতাবাদী কাব্যগ্রন্থ ‘সাম্যবাদী’ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে মোট ১১টি কবিতা রয়েছে।

• এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলিমজুর। 

কুলিমজুর
- কাজী নজরুল ইসলাম

দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি বলে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিল নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?
যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,
বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।
বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্‌?

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
১২,৮৯১.
কাজী ইমদাদুল হক কোন প্রতিষ্ঠানের অন্যতম স্থপতি ছিলেন?
  1. বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি
  2. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  3. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  4. মুসলমান সাহিত্য সমিতি
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক:
- তিনি ১৮৮২ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।
- তিনি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র অন্যতম স্থপতি ছিলেন।
- তিনি ১৯২৬ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আঁখিজল,
- লতিকা।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- প্রবন্ধমালা।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- নবীকাহিনী।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ‘আবদুল্লাহ' (১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৯২.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটির প্রধান পুরুষ চরিত্র কোনটি?
  1. কিশোর
  2. গণেষ
  3. রসু
  4. হোসেন মিঞা
সঠিক উত্তর:
কিশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিশোর
ব্যাখ্যা
⇒ ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস:
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সুবিখ্যাত উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে রচিত।
• উপন্যাসটি প্রথম মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে।
• উপন্যাসটি জেলে ও মৎসজীবীদের অন্ত্যজ জীবন নিয়ে রচিত। 
• এই উপন্যাসের মধ্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির বলে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীরতীরের ধীবর সমাজের কাহিনিকে তুলে ধরেছন।
• এই উপ্যনাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
- নয়াবসত,
- রামধনু,,
- সাদা হাওয়া,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৯৩.
'সংশপ্তক' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুর রাহমান
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা

- শহীদুল্লা কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল 'আবু নঈম মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ'।
- তিনি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সংশপ্তক' তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- তাঁর 'সারেং বৌ' উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।
- তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- রাজবন্দীর রোজনামচা।
- ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার

১২,৮৯৪.
কোনটি বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক্রন্দসী
  2. উত্তর ফাল্গুনী
  3. তন্বী
  4. উর্বশী ও আর্টেমিস
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উর্বশী ও আর্টেমিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্বশী ও আর্টেমিস
ব্যাখ্যা

'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থ:
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোম্যান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ - তন্বী, উত্তর ফাল্গুনী, ক্রন্দসী।

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৮৯৫.
নীল অত্যাচারের কাহিনি রয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. জমীদার দর্পণ
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  4. গাজী মিয়ার বস্তানী
সঠিক উত্তর:
উদাসীন পথিকের মনের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদাসীন পথিকের মনের কথা
ব্যাখ্যা
• 'উদাসীন পথিকের মনের কথা':
- 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' মীর মশাররফ হোসেনের গ্রন্থের বিজ্ঞাপনে 'অতি আশ্চর্য্য উপন্যাস' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।'

- 'ভারতী ও বালক' (বৈশাখ ১২৯৮) পত্রিকায় মন্তব্য করা হয়, 'সমালোচ্য পুস্তকখানি ঠিক উপন্যাস নহে, ইহা উপন্যাসাকারে নীল অত্যাচারের কাহিনীপূর্ণ' রচনা।

- ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একে 'উপন্যাস' হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। মুনীর চৌধুরীর বিবেচনায় এটি মশাররফের 'আত্মজীবনীমূলক রচনা'।

- অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমতও অভিন্ন। গ্রন্থটি যে উপন্যাসই সে-সম্পর্কে বক্তব্য পেশ করেছেন ক্ষেত্র গুপ্তও। তবে 'উদাসীন পথিকের মনের কথা'কে যথার্থ উপন্যাস বা নিছক আত্মকথা না বলে একে উপন্যাসের আদলে মশাররফের শ্রুতি ও স্মৃতিনির্ভর বাস্তব ঘটনার আলেখ্য হিসেবে চিহ্নিত করা চলে।

- 'উদাসীন পথিকের মনের কথা'র কাহিনি দুইটি স্বতন্ত্র ধারায় প্রবাহিত। এই কাহিনির একদিকে রয়েছে কুষ্টিয়ার নীলকর টি. আই. কেনীর সঙ্গে সুন্দরপুরের মহিলা জমিদার প্যারীসুন্দরীর দ্বন্দ্ব, নীলচাষের কারণে রায়ত-প্রজার উপর কেনীর অত্যাচার-নিপীড়ন, নীলবিদ্রোহ ও কেনীর পরিণতি।

- কাহিনির দ্বিতীয় ধারাটি গড়ে উঠেছে মশাররফ-জনক মীর মোয়াজ্জম হোসেনের সঙ্গে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী-পতি সা গোলামের তিক্ত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এবং এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোয়াজ্জম হোসেনের দাম্পত্যজীবনের ঘটনা।

-----------------
অন্যদিকে,
• 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা - প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।

• 'জমিদার দর্পণ' নাটকটির রচয়িতা মীর মোশাররফ হোসেন। নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।

• 'গাজী মিয়ার বস্তানী' (১৯০০) মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা। লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলোর নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে। লেখক নিজেকে 'ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।


উৎস: 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' গ্রন্থ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৯৬.
নিচের কোনটি মেঘনাদবধ কাব্যের চরিত্র নয়?
  1. ক) মেঘনাদ
  2. খ) প্রমীলা
  3. গ) ভবানন্দ
  4. ঘ) সরমা
সঠিক উত্তর:
গ) ভবানন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভবানন্দ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য' প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।
- উল্লেখিত অপশনগুলোতে ভবানন্দ হচ্ছে অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার প্রতিষ্ঠিত উকিল এবং তাঁর মাতা জাহ্নবী দেবী।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' (michael) শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' (mikha'el) শব্দ থেকে এসেছে।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অমর মহাকাব্যের নাম মেঘনাদবধ কাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।
- মেঘনাদবধ কাব্য নয়টি সর্গে কাহিনীবিস্তার করেছে।
- এই মহাকাব্যে মোট তিনদিন ও দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যের বিভিন্ন সর্গে বীরত্ব, অভিমান, আক্ষেপ ইত্যাদি প্রকাশিত।
- কাব্যের ট্রাজেডি সৃজণ হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন করে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮৯৭.
আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার স্রষ্টা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত
- শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ
- সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস:

১. বাংলাপিডিয়া।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।
১২,৮৯৮.
রামরাম বসু রচিত গদ্যপুস্তক কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. হিতোপদেশ
  3. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  4. বত্রিশ সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু ও 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থ :
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)।
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন।

রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ:
- রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র।
- লিপিমালা।

অন্যদিকে,
- রাজাবলি, হিতোপদেশ ও বত্রিশ সিংহাসন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গদ্যপুস্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৮৯৯.
'সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা' রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যের কবিতা?
  1. বলাকা
  2. সোনারতরী
  3. চিত্রা
  4. পুনশ্চ
সঠিক উত্তর:
বলাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলাকা
ব্যাখ্যা
• 'সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতা।

• 'বলাকা' কাবগ্রন্থ:
- বলাকা ১৯১৬ সালে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য।
- কাব্যটি রবীন্দ্র কবি মানসের বিবর্তন ধারাপথে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- এ কাব্যের ভাষা তীক্ষ্ণ, দীপ্ত, শাণিত ও উজ্জ্বল।
- এ কাব্যের ছন্দের গতিময়তা ও ভাষার সংহতি এবং নবতর বক্তব্যকে রূপ দেওয়ার কারণে এর আঙ্গিক একটি বিশিষ্টরূপ লাভ করেছে।
- কাব্যটি রচনার পশ্চাতে তিনটি বিষয় কবিকে অনুপ্রাণিত করেছে;
ক. কবির ইউরোপ ভ্রমণ, খ. কবির নোবেল পুরস্কার লাভ, গ. সমকালীন বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রথম মহাযুদ্ধ।


----------------------
সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা
আঁধারে মলিন হল--যেন খাপে-ঢাকা
বাঁকা তলোয়ার;
দিনের ভাঁটার শেষে রাত্রির জোয়ার
এল তার ভেসে-আসা তারাফুল নিয়ে কালো জলে;
অন্ধকার গিরিতটতলে
দেওদার তরু সারে সারে;
মনে হল সৃষ্টি যেন স্বপ্নে চায় কথা কহিবারে,
বলিতে না পারে স্পষ্ট করি,
অব্যক্ত ধ্বনির পুঞ্জ অন্ধকারে উঠিছে গুমরি।

উৎস: সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা, বলাকা- কাব্য; বাংলাপিডিয়া।
১২,৯০০.
‘পলাশির যুদ্ধ’ কাব্যটি কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. সামাজিক উপন্যাস
  2. ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য
  3. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  4. সনেট
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য
ব্যাখ্যা
পলাশির যুদ্ধ:
- এটি নবীনচন্দ্র সেনের ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য।
- পলাশি যুদ্ধ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে। ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে নবীনচন্দ্র সেন ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

নবীনচন্দ্র সেন:
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তার কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য:
- অবকাশরঞ্জিনী,
- পলাশীর যুদ্ধ,
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র,
- প্রভাস,
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।