উত্তর
ব্যাখ্যা
- যমক শব্দের অর্থ 'যুগ্ম'।
- একই শব্দ বা প্রায় একই রকম উচ্চার্য শব্দ যদি নির্দিষ্টক্রমে দুই বা তার বেশিবার আলাদা, আলাদা অর্থে বসে, তবে সে অলঙ্কার হবে যমক।
যথা -
'গুরু কাছে লব গুরু দুখ।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
→ ১ম গুরু = পুরোহিত।
→ ২য় গুরু = কঠিন / বড়।
অন্যদিকে,
• শ্লেষ:
চরণে একটিমাত্র শব্দ একাধিক অর্থ প্রকাশ করলে এবং পাঠকও যদি একাধিক অর্থেই তাকে গ্রহণ করে তবে তাকে শ্লেষ বলে।
যথা -
'মধুহীন করোনা মা তব মনঃ কোকনদে।'
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
(এখানে 'মধুহীন' বলতে মিষ্টিহীন ও মধুসূদনহীন-এ দুই অর্থ প্রকাশিত)
• ধ্বন্যুক্তি:
- ধ্বনির উচ্চারণে যদি বিষয়বস্তুকে দৃশ্যমান করা যায়, এমন অলঙ্কার।
- অর্থাৎ কবিতার চরণে ধ্বনিরূপ দিয়ে যদি অর্থের অবতারণা করা যায় তবে তাকে ধ্বন্যুক্তি বলে।
যেমন -
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
বাজছে বাদল গামুর-গুমুর।
টাপুর-টুপুর গামুর-গুমুর
গামুর-গুমুর টাপুর-টুপুর।
ঝাপুর-ঝুপুর ছাপুর-ছুপুর
ছাপুর-ছুপুর ছাপুর-ঝুপুর।'
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(এখানে শব্দ দিয়ে এমন ধ্বনিসৃজন হয়েছে, যেন দেখা যাচ্ছে বৃষ্টি হচ্ছে।)
• পুনরুক্তবদাভাস:
- একই চরণে একার্থক একাধিক শব্দ যদি বিভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয় কিন্তু বিশ্লেষণে যদি সেই পুনরাবৃত্তির বিভিন্ন অর্থ প্রতীয়মান হয় তাহলে তাকে পুনরুক্তবদাভাস বলা হয়।
- বাংলা সাহিত্যে এর দৃষ্টান্ত অল্প।
যেমন -
'নিশীথ রাতে একা বসে গান গাই।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(এখানে নিশীথ ও রাত একার্থ হলেও নিশীথ 'গভীর' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।) 'তনু দেহটি সাজাব তব আমার আভরণে।' -রবীন্দ্রনাথ (এখানে তনু ও দেহ একার্থ হলেও তনু 'ছিপছিপে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।)
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।