বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ৩২ / ৩৮ · ৩,১০১৩,২০০ / ৩,৭৪৭

৩,১০১.
p-টাইপ জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য নিচের কোনটি দিয়ে ডোপিং করতে হয়?
  1. ক) আর্সেনিক
  2. খ) এন্টিমনি
  3. গ) অ্যালুমিনিয়াম
  4. ঘ) ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
p- টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্যকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় উচ্চতাপে মেশানো হয়।
- অপদ্রব্যের পরিমাণ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যেন এর পরমাণুগুলো মূল অর্ধপরিবাহী কেলাসের গঠন কাঠামোর কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেলাস ল্যাটিসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।
- বিশুদ্ধ জার্মেনিয়ামের সাথে যদি উপযুক্ত মাত্রায় (দশ লক্ষে একটি) অ্যালুমিনিয়ামের মতো ত্রিযোজী মৌল মেশানো হয়, তা হলো ঐ কেলাসের গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু পার্শ্ববর্তী চতুর্যোজী অর্ধপরিবাহীর সাথে সমযোজী বন্ধন গঠন করতে এর একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে
- এই ইলেকট্রন ঘাটতি মানেই 'হোল' সৃষ্টি হয়। প্রতিটি AI পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে। এ হোলগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে।
- এ জন্য অ্যালুমিনিয়াম পরমানুকে 'গ্রাহক' পরমাণু বলে।
- এভাবে প্রতিটি অ্যালুমিনিয়াম পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে।
- এখানে গরিষ্ঠ আধান বাহক হলো হোল এবং লঘিষ্ঠ আধান বাহক হলো ইলেকট্রন।
- এ কারণে এ ধরনের অর্ধপরিবাহীকে টাইপ p- অর্ধপরিবাহী বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,১০২.
চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে কী বলে?
  1. চৌম্বক ধারকত্ব
  2. কুরি বিন্দু
  3. রিমেনেন্স
  4. চৌম্বক সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
রিমেনেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিমেনেন্স
ব্যাখ্যা
• রিমেনেন্স:
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে।

• কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে ।

• চৌম্বক ধারকত্ব:
- উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম ।

• চৌম্বক সহনশীলতা:
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১০৩.
পেরিস্কোপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) উত্তল লেন্স
  2. খ) সমতল দর্পণ
  3. গ) উত্তল দর্পণ
  4. ঘ) অবতল দর্পণ
সঠিক উত্তর:
খ) সমতল দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমতল দর্পণ
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ তৈরিতে সমতল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
দুটি সমতল দর্পনের ক্রমিক প্রতিফলন ব্যবহার পেরিস্কোপ তৈরী করা হয়। এখানে শুধুমাত্র প্রতিফলন ঘটে।

পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। আলো প্রথম দর্পণে এসে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায়, সেইটা আমরা দেখতে পাই।


উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর ওয়েবসাইট।
৩,১০৪.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি? 
  1. তরল মাধ্যমে 
  2. কঠিন মাধ্যমে 
  3. শূন্য মাধ্যমে 
  4. বায়বীয় মাধ্যমে 
সঠিক উত্তর:
কঠিন মাধ্যমে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
- অর্থাৎ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১০৫.
GPS এর পূর্ণরূপ কোনটি? 
  1. Global Positioning System
  2. Global Pointing System
  3. Global Publication System
  4. Great Positioning System
সঠিক উত্তর:
Global Positioning System
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Global Positioning System
ব্যাখ্যা
GPS: 
- GPS এর পূর্ণরূপ Global Positioning System
- GPS হলো এমন একটি স্যাটেলাইটনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের অবস্থান নিঁখুতভাবে নির্ণয় করা যায়। 
- সময়ের সাথ সাথে জিপিএস প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি সাধনের কারণে এখন মোবাইলের মাধ্যমেই যেকোনো বস্তু বা ব্যক্তির অবস্থান যথাযথভাবে নির্ণয়, ট্র্যাকিং সহ আরও অনেক সুবিধা ভোগ করা যায়। 
- জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং হলো একটি নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম। 
- এটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে। 
- এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে আমাদের বর্তমান লোকেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। 

উৎস: Britannica.com
৩,১০৬.
কত তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) ২৭৩ কেলভিন
  2. খ) ২৭৫ কেলভিন
  3. গ) ২৭৬ কেলভিন
  4. ঘ) ২৭৭ কেলভিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৭৭ কেলভিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৭৭ কেলভিন
ব্যাখ্যা
-  পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
- পানির ঘনত্ব ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩৯.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ২৭৭.১৫ কেলভিন তাপমাত্রায় সব থেকে বেশী।
- এই তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব ১গ্রাম/সি.সি. বা ১০০০ কেজি/মিটার৩
- অর্থাৎ ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।


উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
৩,১০৭.
পৃথিবীর মুক্তি বেগ V হলে, যে গ্রহের ব্যাসার্ধ ও ভর পৃথিবীর ব্যাসার্থ ও ভরের দ্বিগুণ সে গ্রহের মুক্তি বেগ কত হবে?
  1. ক) 4V
  2. খ) 2V
  3. গ) V
  4. ঘ) 1/2V
সঠিক উত্তর:
গ) V
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) V
ব্যাখ্যা
• মুক্তি বেগের সূত্র: V = √(2GM/R)
যেখানে, G = মহাকর্ষীয় ধ্রুবক,
M = গ্রহের ভর,
R = গ্রহের ব্যাসার্ধ।

নতুন গ্রহের জন্য:ভর (M2) = 2M (পৃথিবীর ভরের দ্বিগুণ)
ব্যাসার্ধ (R2) = 2R (পৃথিবীর ব্যাসার্ধের দ্বিগুণ)

নতুন গ্রহের মুক্তি বেগ: V2 = √(2G(2M)/(2R)) = √(2GM/R) = V
তাই, নতুন গ্রহের মুক্তি বেগ হবে V

উত্তর: গ) V

- যদিও নতুন গ্রহের ভর ও ব্যাসার্ধ উভয়ই দ্বিগুণ, কিন্তু মুক্তি বেগের সূত্রে এই দুটি পরিবর্তন একে অপরকে প্রভাবিত করে।
- ভর দ্বিগুণ হওয়ায় মুক্তি বেগ বাড়ার প্রবণতা দেখায়, কিন্তু ব্যাসার্ধ দ্বিগুণ হওয়ায় তা কমে যায়, ফলে শেষ পর্যন্ত মুক্তি বেগ অপরিবর্তিত থাকে।
৩,১০৮.
তরল পদার্থের প্রসারণ দ্বারা কী বুঝানো হয়? 
  1. ক্ষেত্র প্রসারণ
  2. দৈর্ঘ্য প্রসারণ
  3. তলীয় প্রসারণ
  4. আয়তন প্রসারণ
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রসারণ
ব্যাখ্যা
তরল পদার্থের প্রসারণ: 
- তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের মতো তরল পদার্থেরও প্রসারণ ঘটে। 
- কঠিন পদার্থের সুনির্দিষ্ট আকার থাকায় এর বিভিন্ন প্রসারণ স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। এর দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল এবং আয়তনের প্রসারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা সহজ হয়। 
- কিন্তু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার বা দৈর্ঘ্য নেই। 
- যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তাপের প্রভাবে তরল পদার্থের আয়তনের পরিবর্তনই কেবল প্রতীয়মান হয়। 
- তাই তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে এর আয়তনের প্রসারণকেই বুঝায়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, একই পরিমাণ তাপ প্রয়োগে সম আয়তনের কঠিন পদার্থের তুলনায় তরল পদার্থের আয়তনের প্রসারণ বেশি হয়। 
- আবার একই পরিমাণ তাপে বিভিন্ন প্রকার তরলের প্রসারণের পরিমাণও সমান হয় না। 
- তাপে পদার্থের প্রসারণ পর্যবেক্ষণের জন্য ঐ পদার্থকে তাপ দিতে হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১০৯.
রোধ বলতে কী বোঝায়?
  1. পরিবাহীর তাপ উৎপাদন 
  2. পরিবাহীর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি 
  3. পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের বৃদ্ধি
  4. পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হওয়া
সঠিক উত্তর:
পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হওয়া
ব্যাখ্যা

রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।  
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১১০.
আয়না তৈরির জন্য কাচের পেছনে কোন ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়? 
  1. রূপা
  2. তামা 
  3. সিলিকন 
  4. পারদ 
সঠিক উত্তর:
রূপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপা
ব্যাখ্যা

আয়না বা দর্পণ (Mirror): 
- আয়নায় নিয়মিত প্রতিফলনের কারণে স্পষ্ট প্রতিবিম্বের তৈরি হয়। 
- আয়না তৈরি করার জন্য কাচের পেছনে প্রতিফলনের উপযোগী ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়। 
- কাচের সামনের পৃষ্ঠ থেকে ৪% আলো প্রতিফলিত হলেও পেছনের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় পুরো আলোই প্রতিফলিত হয় বলে সেটি মূল প্রতিবিম্বটি তৈরি করে।  - টেলিস্কোপ বা অন্য অপটিক্যাল (Optical) যন্ত্রে যখন মূল প্রতিবিম্বটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয় তখন কাচের উপরেই রূপা বা অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দেওয়া হয় যেন একটি ৪% হালকা আরেকটি ৯৬% স্পষ্ট, এ রকম দুটি প্রতিবিম্ব তৈরি না হয়ে একটা ১০০% স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১১১.
একটি PN Junction- এ লিকেজ কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার কারণ-
  1. Minority Carrier
  2. Majority Carrier
  3. Junction Capacitance
  4. None of the above
সঠিক উত্তর:
Minority Carrier
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Minority Carrier
ব্যাখ্যা
- PN Junction-এ লিকেজ কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার পেছনে মূলত কার্যকারী হল মাইনরিটি ক্যারিয়ার (Minority Carrier)।

- লিকেজ কারেন্ট হল  যা PN জাংশনে ডায়োডের মাঝে প্রবাহিত হয় যা ডায়োড অফ স্টেটে ঘটে।
- এই মাইনরিটি ক্যারিয়ার লিকেজ কারেন্ট সাধারণত খুব কম কিন্তু তবুও অল্প পরিমাণে কারেন্ট প্রবাহে অবদান রাখতে পারে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা অন্যান্য কারণগুলি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে মাইনরিটি ক্যারিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে কারেন্টে সামান্য বৃদ্ধি হতে পারে।

অতএব, সঠিক উত্তরটি হল: ক) Minority Carrier 
৩,১১২.
চৌম্বক দৈর্ঘ্য ও জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের অনুপাত প্রায় কত?
  1. 0.55
  2. 0.70
  3. 0.85
  4. 1.00
সঠিক উত্তর:
0.85
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.85
ব্যাখ্যা

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য ও জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের অনুপাত প্রায় 0.85, অর্থাৎ চৌম্বক দৈর্ঘ্য জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় কিছুটা কম।

• চুম্বক ও চুম্বকত্ব:
- যে বস্তু অন্য বিশেষ ধর্মবিশিষ্ট বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে এবং মুক্তভাবে ঝুলালে উত্তর-দক্ষিণ দিকে অবস্থান করে, তাকে চুম্বক বলে।
- চুম্বক পদার্থের ভৌত ধর্মই হলো চুম্বকত্ব।
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভর, ঘনত্ব, আয়তন, তাপমাত্রা পরিবর্তন করে না।
- তবে তাপমাত্রা চুম্বকত্বের উপর প্রভাব ফেলে।

• চৌম্বক মেরু:
- চুম্বকের যে দুই প্রান্তে আকর্ষণ বল সর্বাধিক, সেগুলোকে চৌম্বক মেরু বলে।
- উত্তর মেরু (North Pole) এবং দক্ষিণ মেরু (South Pole) থাকে।

• চৌম্বক অক্ষ:
- চুম্বকের দুই মেরুকে সংযোগকারী সরলরেখাকে চৌম্বক অক্ষ বলে।

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য:
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর দুই মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বই চৌম্বক দৈর্ঘ্য।

• জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য:
- দণ্ডচুম্বকের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্বকে জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য বলে।

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য ও জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের সম্পর্ক:
- চৌম্বক দৈর্ঘ্য / জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য ≈ 0.85 অর্থাৎ চৌম্বক দৈর্ঘ্য জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় কিছুটা কম।

• চৌম্বক মধ্যতল:
- মুক্তভাবে ঝুলন্ত চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে।

• ভৌগোলিক মধ্যতল:
- কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর-দক্ষিণ বরাবর কল্পিত উল্লম্ব তলকে ভৌগোলিক মধ্যতল বলে।
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যে কৌণিক ব্যবধানকে বিচ্যুতি বলে।

• চৌম্বক দ্বিমেরু:
- প্রতিটি অণুচুম্বক দুই মেরুবিশিষ্ট, তাই চুম্বককে চৌম্বক দ্বিমেরু বলা যায়।
- একটি দণ্ডচুম্বকও চৌম্বক দ্বিমেরু।

• চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক:
- কোনো একটি মেরুশক্তি (m) ও চৌম্বক দৈর্ঘ্য (2l)-এর গুণফলই দ্বিমেরু ভ্রামক।
- M = m(2l).
- একক = অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2)।

• চৌম্বক ফ্লাক্স বা আবেশ:
- একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত বলরেখার সংখ্যাই চৌম্বক আবেশ।
- একক = ওয়েবার/মিটার2 বা টেসলা।

• চৌম্বক ক্ষেত্র:
- চুম্বক বা বিদ্যুৎবাহী তারের চারপাশের সেই অঞ্চল, যেখানে চৌম্বক প্রভাব অনুভূত হয়, তাকে চৌম্বক ক্ষেত্র বলে।

• চুম্বকায়ন:
- প্রতি একক আয়তনে চৌম্বক ভ্রামককে চুম্বকায়ন বলে।
- I = M / V.
- একক = অ্যাম্পিয়ার/মিটার।

• চৌম্বক প্রাবল্য:
- চৌম্বক আবেশ ও চৌম্বক প্রবেশ্যতার অনুপাতই চৌম্বক প্রাবল্য।
- একক = অ্যাম্পিয়ার/মিটার।

• চৌম্বক প্রবেশ্যতা:
- μ = B / H.
- শূন্যস্থানে μ₀ = B₀ / H.
- একক = টেসলা-মিটার/অ্যাম্পিয়ার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১১৩.
কাচের বা গোলীয় পৃষ্ঠের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপার জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. স্ফেরোমিটার
  2. স্ক্রু গজ
  3. স্লাইড ক্যালিপার্স
  4. ভার্নিয়ার স্কেল
সঠিক উত্তর:
স্ফেরোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ফেরোমিটার
ব্যাখ্যা

• কাচ বা গোলাকার পৃষ্ঠের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপার জন্য স্ফেরোমিটার ব্যবহার করা হয়। এটি একটি বিশেষ যন্ত্র যা সাধারণত তিনটি পা এবং একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু দিয়ে তৈরি। কাচের লেন্স বা গোলাকার পৃষ্ঠের বক্রতার ব্যাসার্ধ নির্ধারণে এর ব্যবহার সবচেয়ে সুবিধাজনক। যন্ত্রটি পৃষ্ঠের ওপর স্থাপন করে কেন্দ্রীয় স্ক্রুতে সামান্য চাপ দিলে পায়ের উচ্চতা পরিবর্তনের মাধ্যমে বক্রতার মান বের করা যায়। এরপর স্ক্রুতে থাকা স্কেল থেকে পৃষ্ঠের ব্যাসার্ধ গণনা করা হয়। স্ফেরোমিটার লেন্স, আয়না বা অন্যান্য বক্র পৃষ্ঠের সঠিক ব্যাসার্ধ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় এবং প্রায়শই অপটিক্যাল এবং যান্ত্রিক পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়। অন্যান্য যন্ত্র যেমন স্ক্রু গজ, স্লাইড ক্যালিপার্স বা ভার্নিয়ার স্কেল সাধারণ মাত্রা মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বক্রতার ব্যাসার্ধের জন্য নয়।

- সঠিক উত্তর: ক) স্ফেরোমিটার।
 
স্ফেরোমিটার (Spherometer): 
- স্ফেরোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা অন্যান্য পাতলা পাতের পুরুত্ব এবং গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা হয়। 
- এ যন্ত্রের সাহায্যে গোলীয় তলের (spherical surface) বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা যায় বলে এর নাম হয়েছে স্ফেরোমিটার। 
- স্ফেরোমিটার একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু এবং তিনটি সমান দৈর্ঘ্যের পা থাকে।
- এটি তলের উচ্চতা (h) পরিমাপ করে এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ (R) নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়। 
- বক্রতার ব্যাসার্ধ R হলে, 
R = {(d2/6h) + (h/2)}
​যেখানে, d হলো স্ফেরোমিটারের যেকোনো দুই পায়ের মধ্যবর্তী গড় দূরত্ব এবং h হলো কেন্দ্রীয় পিনের উচ্চতা।

অন্যদিকে, 
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়।  
- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 
- যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু-প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে। এই যন্ত্রের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৩,১১৪.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. বস্তুর ভরের পরিমাণ
  2. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি
  3. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা
  4. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,১১৫.
যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয়, তাকে ______ বলে৷
  1. ক) হিমাংক
  2. খ) গলনাংক
  3. গ) স্ফুটনাংক
  4. ঘ) তরলাংক
সঠিক উত্তর:
খ) গলনাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গলনাংক
ব্যাখ্যা
যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয়, সে তাপমাত্রাকে বলে গলনাংক। গলনাংক এবং হিমাংক পরিমাণগত ভাবে একই, তবে দুটো বিপরীত প্রক্রিয়ার ফসল।
যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয় তাকে ঐ পদার্থের স্ফুটনাংক বলে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
৩,১১৬.
কোন রাশি পরিমাপের জন্য অন্য রাশির উপর নির্ভর করতে হয়?
  1. বেগ
  2. ভর
  3. দৈর্ঘ্য
  4. সময়
সঠিক উত্তর:
বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগ
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি: 
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়, ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেসব রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

লব্ধ বা যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ, যেগুলো মৌলিক রাশি থেকে গঠিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১১৭.
What is the total resistance when three resistors of 7Ω, 8Ω, and 9Ω are connected in series?
  1. 14Ω
  2. 23Ω
  3. 24Ω
  4. None of the above
সঠিক উত্তর:
24Ω
উত্তর
সঠিক উত্তর:
24Ω
ব্যাখ্যা
Question: What is the total resistance when three resistors of 7Ω, 8Ω, and 9Ω are connected in series?

Solution:
দেওয়া আছে,
রোধ, R1 = 7Ω,
রোধ, R2 = 8Ω এবং
রোধ, R3 = 9Ω

যেহেতু রোধ তিনটি শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত সুতরাং তুল্য রোধ, R = R1 + R2 + R3 
= 7Ω + 8Ω + 9Ω 
= 24Ω 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১১৮.
ইলেকট্রিক ঘণ্টার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর কোন শক্তিতে ঘটে?
  1. শব্দশক্তি
  2. আলোক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. তাপ শক্তি
সঠিক উত্তর:
শব্দশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দশক্তি
ব্যাখ্যা

• ইলেকট্রিক ঘণ্টার ক্ষেত্রে মূলত বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে যন্ত্রটি কাজ করে। বৈদ্যুতিক শক্তি সরাসরি ঘণ্টার মেকানিজমকে ঘূর্ণন করায়, যা শব্দ উৎপাদনের মাধ্যমে আমাদের সময় জানানোর কাজ করে। অর্থাৎ, ঘণ্টা বাজানোর সময় যে “টিক-টক” শব্দ শোনা যায়, তা বৈদ্যুতিক শক্তির পরিবর্তন হয়ে তৈরি হয় শব্দশক্তিতে। এখানে কোন আলোক শক্তি বা রাসায়নিক শক্তি সরাসরি যুক্ত থাকে না, কারণ এটি আলো বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে না। তাপ শক্তি কিছুটা নিঃসৃত হতে পারে যন্ত্রের চলার সময়, কিন্তু ঘণ্টার মূল কাজের জন্য তা প্রাথমিক শক্তি নয়। সুতরাং ইলেকট্রিক ঘণ্টায় বিদ্যুৎ শক্তি রূপান্তরিত হয় শব্দশক্তিতে।

• বৈদ্যুতিক ঘণ্টা: 
- বৈদ্যুতিক ঘণ্টা (Electric Bell) হচ্ছে এমন একটি যন্ত্র, যা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

• বৈদ্যুতিক ঘণ্টার কার্যপ্রণালী:
- বৈদ্যুতিক সংকেত প্রবাহিত হলে ইলেক্ট্রোম্যাগনেট সক্রিয় হয়। 
- ইলেক্ট্রোম্যাগনেট একটি হাতুড়িকে আকর্ষণ করে। 
- হাতুড়ি ঘণ্টার উপর আঘাত করে শব্দ সৃষ্টি করে। 
- স্প্রিংয়ের সাহায্যে হাতুড়ি ফিরে আসে এবং প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্ত হয়। 

• শক্তি রূপান্তরের ধারা:
বিদ্যুৎ শক্তি → চৌম্বক শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি → শব্দ শক্তি

তথ্যসূত্র:
- University of Cambridge. (2020). GCSE Physics: Electromagnetic Devices.

৩,১১৯.
E = mc2 সূত্রে c দ্বারা কি বুঝায়?
  1. ইলেক্ট্রন বেগ
  2. আলোর বেগ
  3. আপেক্ষিক বেগ
  4. চার্জের গতি
সঠিক উত্তর:
আলোর বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর বেগ
ব্যাখ্যা
E = mc2
এখানে,
E (energy) = শক্তি
M (mass) = ভর
C (Light-velocity) = আলোর বেগ = 3×108 (মি./সে.)
আইনস্টাইনের বিখ্যাত E = mc2 সূত্র দ্বারা, শক্তি ও ভর যে অভিন্নতা নির্দেশ করে।
এই সূত্র অনুসারে m ভরের কোন বস্তুতে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ ঐ ভরের সাথে আলোর বেগ (c) এর বর্গের গুনফল এর সমান।
৩,১২০.
মহাকর্ষ বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্রাভিটন
  2. Z বোসন
  3. ফোটন
  4. গ্লুঅন
সঠিক উত্তর:
গ্রাভিটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাভিটন
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ বলের বাহক কণা হলো গ্রাভিটন। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বলের জন্য আলাদা আলাদা বাহক কণা রয়েছে, যেমন আলো বা তড়িৎচুম্বকীয় বলের বাহক কণা হলো ফোটন। তবে মহাকর্ষ বলের ক্ষেত্রেও একটি কণা কল্পনা করা হয়েছে, যাকে গ্রাভিটন বলা হয়। এটি একটি কাল্পনিক, বিমাত্রিক কণা, যা মহাকর্ষীয় শক্তি পরিবহনের কাজ করে। যদিও গ্রাভিটন এখনও সরাসরি আবিষ্কার হয়নি, তবুও এটি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে মহাকর্ষের বাহক কণা হিসেবে বিবেচিত হয়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (ক) গ্রাভিটন।


মৌলিক বল:

- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।

- এই মৌলিক বলগুলো হলো-
১। মহাকর্ষ বল,
২। তাড়িতচৌম্বক বল,
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল।
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন।

অন্যদিকে,
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন।
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন।
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
৩,১২১.
পারমাণবিক চুল্লিতে 'মডারেটরের' প্রাথমিক কাজ হলো:
  1. অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ এবং চেইন বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
  2. চুল্লির কেন্দ্রে উৎপন্ন তাপ স্থানান্তর করে শীতল করা
  3. দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলোকে ধীরগতি করে ফিশনের সম্ভাবনা বাড়ানো
  4. ক্ষতিকারক গামা বিকিরণ থেকে সুরক্ষা প্রদান
সঠিক উত্তর:
দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলোকে ধীরগতি করে ফিশনের সম্ভাবনা বাড়ানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলোকে ধীরগতি করে ফিশনের সম্ভাবনা বাড়ানো
ব্যাখ্যা

- পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন প্রক্রিয়ার সময় অত্যন্ত উচ্চ গতিসম্পন্ন বা উচ্চ শক্তির নিউট্রন উৎপন্ন হয়। কিন্তু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে নতুন ফিশন শুরু করার জন্য ধীরগতি সম্পন্ন বা তাপীয় নিউট্রন অনেক বেশি কার্যকর। মডারেটরের প্রধান কাজ হলো ইলাস্টিক কলিশন বা স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষের মাধ্যমে নিউট্রনের গতি কমিয়ে সেগুলোকে ফিশন উপযোগী করা, যাতে চেইন রিঅ্যাকশন বজায় থাকে। 

নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 
- শৃঙ্খল বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইউরেনিয়ামকে তাপীয় নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে এই ভারী নিউক্লিয়াসটি প্রায় সমান ভাবে দুটি নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে যায় এবং এর সাথে প্রচুর শক্তি নির্গত করে।  

- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।
- নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরের মডারেটর (Moderator) সম্বন্ধে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো- 
মডারেটর (Moderator): 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181 MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং গ্রাফাইট। মডারেটর হিসেবে সাধারণত ভারী পানি ব্যবহার করা হয়।
- নিউক্লীয় বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিশক্তিসম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে মন্দীভূত করে মডারেটর এবং মন্দীভূত নিউট্রনগুলি আবার নিউক্লীয় বিক্রিয়া ঘটায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১২২.
লিফট যদি মুক্তভাবে নিচে পড়ে তবে লিফটের সাপেক্ষে আমাদের ত্বরণ হবে-
  1. ক) 0
  2. খ) অসীম
  3. গ) ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড ২
  4. ঘ) ৮.৯ মিটার/সেকেন্ড ২
সঠিক উত্তর:
ক) 0
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 0
ব্যাখ্যা
লিফট যদি মুক্তভাবে নিচে পড়ে অর্থাৎ, লিফটেরও যদি g ত্বরণ হয়, তবে লিফটের সাপেক্ষে আমাদের ত্বরণ হবে (g- g) অর্থাৎ শূন্য। ফলে আমরা লিফটের উপর কোনাে বল প্রয়ােগ করব না।
উৎস: অষ্টম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
৩,১২৩.
According to Einstein’s theory of relativity, which phenomenon cannot be explained?
  1. Gravitation
  2. Stellar motion
  3. Concept of an expanding universe
  4. Magnetic property
  5. None of them
সঠিক উত্তর:
Magnetic property
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Magnetic property
ব্যাখ্যা
• আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার নীতি অনুসারে চৌম্বক ধর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না। 

• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- আইনস্টাইনের মতে স্থান, কাল ও ভর পরম নয়,সবই আপেক্ষিক। আইনস্টাইনের এই তত্ত্বই আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of relativity) নামে পরিচিত।

• আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of Relativity) মূলত দুভাগে বিভক্ত, যথা-
- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব (The general theory of relativity) এবং
- আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (The special theory of relativity)।

• আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (১৯০৫) ও সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (১৯১৫) নিম্নলিখিত বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করে:
- মহাকর্ষ।
- নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি।
- সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব ধারণা।

অন্যদিকে,
- চৌম্বকত্ব বা পদার্থের চৌম্বক ধর্ম ব্যাখ্যার জন্য কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডাইনামিক্স (QED) বা ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১২৪.
সার্কিট তৈরির জন্য প্রয়োজন -
  1. ট্রানজিস্টর
  2. ক্যাপাসিটর
  3. রেজিস্টর
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
৩,১২৫.
রংধনুতে 'কমলা' রঙের পাশের দুটি রঙ কি কি?
  1. লাল ও নীল
  2. আসমানী ও হলুদ
  3. সবুজ ও কমলা
  4. হলুদ ও লাল
সঠিক উত্তর:
হলুদ ও লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলুদ ও লাল
ব্যাখ্যা
রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করার মাধ্যমে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের সৃষ্টি করে বলে আমরা রংধনু দেখতে পাই।
রংধনুতে ৭টি রং থাকে।
এগুলো হলো বেনীআসহকলা- বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল।
অর্থাৎ হলুদ রঙের দুই পাশের দুইটি রং হলো- সবুজ এবং কমলা।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১২৬.
পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ভাঙ্গনের সময় কোনটি নির্গত হয় না?
  1. আলফা
  2. বিটা
  3. গামা
  4. ডেল্টা
সঠিক উত্তর:
ডেল্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেল্টা
ব্যাখ্যা
• পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ভাঙ্গনের সময় ডেল্টা কণিকা নির্গত হয় না। 

• তেজস্ক্রিয় ভাঙন (Radioactive Decay):
- তেজস্ক্রিয় ভাঙন বা তেজস্ক্রিয় ক্ষয় হল একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি অস্থির পারমাণবিক নিউক্লিয়াস শক্তি হারায় এবং তেজস্ক্রিয় রশ্মি বা কণা নির্গত করে।

• পরমাণুর নিউক্লিয়াস ভেঙে গেলে সাধারণত তিন ধরনের বিকিরণ নির্গত হয়:
- আলফা কণা (α),
- বিটা কণা (β),
- গামা রশ্মি (γ)।

• ডেল্টা (Δ) কণা তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ে কোনো সাধারণ বিকিরণ নয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৩,১২৭.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
ক) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২টি
ব্যাখ্যা
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- আলােকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাওয়ার সময় আপতন কোণের মান সংকট কোনের চেয়ে বড় হলে আলােক রশ্মি প্রতিসরিত না হয়ে বিভেদতল থেকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত হয়ে ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে। 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত দুইটি। 
যথা- 
১) আলােক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে ঘন ও হালকা মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হবে। 
২) আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হবে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১২৮.
আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ-
  1. ধুলিকণা
  2. বায়ুস্তর
  3. বৃষ্টির কণা
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টির কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টির কণা
ব্যাখ্যা
- সূর্য থেকে যে আলোর রশ্মি পৃথিবীতে আসে তার রঙ মূলত সাদা। 
- এই সাদা রঙের ভেতরে বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি রং বিদ্যমান থাকে। 
- সাদা আলোর একটি বিশেষ ধর্ম আছে যা প্রিজমের মধ্য দিয়ে গমন করলে সাদা আলো সাতটি ভিন্ন রঙে বিশ্লেষিত হয়ে যায়। 
- আকাশে যখন বৃষ্টি পড়ে তখন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ভাসমান প্রিজমের মতো কাজ করে। 
- সূর্য হতে আলো বৃষ্টির ফোঁটার একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে বের হবার সময় সাত রঙের বর্ণালী সৃষ্টি করে। 
- বৃষ্টির ফোঁটা বা কণার প্রিজমসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণেই সৃষ্টি হয় রংধনু।  
- বৃষ্টির ফোঁটা হতে বের হওয়া সাত রঙের আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় বলেই আমরা রংধনুকে দেখতে পাই। 
- ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যাওয়ার সময় আলোকরশ্মি যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে মাধ্যম দুটির সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে আপতিত হয়, তবে ওই আপতিত রশ্মি, দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হওয়ার পর ওর সবটুকুই প্রতিফলিত হয়ে আবার ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে, এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ  প্রতিফলন বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১২৯.
What type of signal can be transmitted through fiber optic cables?
  1. Electrical signal
  2. Radio signal
  3. Optical signal
  4. Sound wave
  5. Thermoelectric
সঠিক উত্তর:
Optical signal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Optical signal
ব্যাখ্যা
• ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে আলোক সংকেত (Optical signal) প্রেরণ করা হয়। 

• ফাইবার অপটিক্স:
- ফাইবার অপটিক্স একটি অত্যাধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি যার ফলে আলোক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো যায়।
- এতে প্লাস্টিক বা কাঁচের তৈরি পাতলা তন্তুর (fiber) মাধ্যমে আলো পাঠানো হয়।
- এটি আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্ম ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য বহন করে। 

• ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী:
- তথ্য প্রথমে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- এরপর সেই সংকেতকে আলোক সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- আলোক সংকেতকে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়।
- গন্তব্যে পৌঁছে আলোক সংকেত আবার ডিজিটাল তথ্য হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ০ ১০ম শ্রেণি।
৩,১৩০.
নিচের কোনটির কারণে তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না? 
  1. চাপ
  2. তাপ
  3. চৌম্বকক্ষেত্র
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। 
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৩১.
ক্ষমতার মাত্রা কোনটি?
  1. MLT -3
  2. ML2T -2
  3. ML2T -3
  4. ML-2T -3
সঠিক উত্তর:
ML2T -3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ML2T -3
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
• 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা [ML2T -3]

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৩২.
তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. ম্যাক্সপ্লাঙ্ক
  2. হাইগেন
  3. নিউটন
  4. ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্সওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন তত্ত্বের প্রবক্তা:

- আলোর কণা তত্ত্বের প্রবক্তা স্যার আইজ্যাক নিউটন।
- তরঙ্গ তত্ত্বের প্রবক্তা হাইগেন।
- তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সওয়েল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সপ্লাঙ্ক।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৩৩.
ঢেঁকি দিয়ে ধান ভানার সময় যান্ত্রিক শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?  
  1. চুম্বক শক্তি
  2. শব্দ শক্তি
  3. তাপ শক্তি
  4. শব্দ ও তাপ শক্তি
সঠিক উত্তর:
শব্দ ও তাপ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ ও তাপ শক্তি
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাত দিয়ে শরীরের অন্য কোনো অংশ ঘষলে গরম অনুভূত হয় ফলে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাঁশি বাজালে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- এক খন্ড পাথরের উপর একটি ধাতব দন্ড দ্বারা জোরে আঘাত করলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা যায় এবং এক ধরনের শব্দেরও সৃষ্টি হয়। ধাতব দণ্ড ও পাথর খন্ডটি খানিকটা উত্তপ্ত হয়ে যান্ত্রিক শক্তি তাপ, শব্দ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- ঢেঁকি দিয়ে ধান ভানার সময় এতে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- একই ভাবে দোলনার ক্ষেত্রে স্থিতি ও গতিশক্তির রূপান্তর ঘটে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,১৩৪.
ট্রানজিস্টর তৈরিতে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) সিলিকন
  4. ঘ) এলুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিলিকন
ব্যাখ্যা

দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়ােডকে পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড তৈরি করা হলে তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর প্রথম তৈরি করেন উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্ৰাটেইন।
ট্রানজিস্টর তৈরি করতে প্রয়ােজন সেমিকন্ডাক্টর (সিলিকন, জার্মেনিয়াম)।
ট্রানজিস্টরের অপর নাম অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড। ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয় বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে।
ইলেকট্রনিক্সে বিপ্লব শুরু হয় ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের সময় থেকে।
ট্রানজিস্টর প্রধানত ব্যবহার করা হয় এমপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হিসেবে।

৩,১৩৫.
আলফা রশ্মি বা আলফা কণা আসলে কী?
  1. ইলেকট্রন
  2. পজিট্রন
  3. হিলিয়াম পরমাণু
  4. তড়িত-চুম্বকীয় তরঙ্গ
  5. হিলিয়াম নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম নিউক্লিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মি (Alpha Ray)
- আলফা রশ্মি বা আলফা কণা আসলে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াসে থাকে দুটো প্রোটন এবং দুটো নিউট্রন, কাজেই এটি একটি চার্জযুক্ত কণা।
- সে কারণে বিদ্যুৎ এবং চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে এর গতিপথকে প্রভাবিত করা যায়।
- একটা নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যখন একটা আলফা কণা বের হয়ে আসে তখন তার শক্তি থাকে কয়েক MeV. কাজেই সেটি যখন বাতাসের ভেতর দিয়ে যায় তখন বাতাসের অণু-পরমাণুর সাথে সংঘর্ষ করে সেগুলোকে তীব্রভাবে আয়নিত করতে পারে।
- বাতাসে আলফা কণার গতিপথ হয় সরলরেখার মতো, এটা সোজা এগিয়ে যায়।
- তবে আলফা কণা যেহেতু হিলিয়ামের নিউক্লিয়াস তাই এটা পদার্থের ভেতর দিয়ে বেশি দূর যেতে পারে না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,১৩৬.
তাপমাত্রা, উপাদান ও দৈর্ঘ্য স্থির থাকলে কোন পরিবাহীর রোধ পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ……
  1. ক) ব্যস্তানুপাতিক
  2. খ) সমানুপাতিক
  3. গ) উভয়টি প্রযোজ্য
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যস্তানুপাতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
কোন পরিবাহীর রোধ পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, উপাদান ও তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। রোধের এ নির্ভরশীলতার উপর ভিত্তি করে রোধের তিনটি সূত্র আছে। সূত্রগুলো নিচে বর্ণনা করা হল :

প্রস্থচ্ছেদের সূত্রঃ তাপমাত্রা, উপাদান ও দৈর্ঘ্য স্থির  থাকলে কোন পরিবাহীর রোধ পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, কোন পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল A এবং রোধ R হলে সূত্রানুসারে, R ∝  (1 / A)  যখন L ধ্রুবক।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
৩,১৩৭.
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপি কী ঘটে? 
  1. বৃদ্ধি পায় 
  2. হ্রাস পায় 
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
অপরিবর্তিত থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এনট্রপি (Entropy) বলে।
- কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সংকুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। 
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৩,১৩৮.
ভর এবং ওজনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
  1. ভর স্থানভেদে পরিবর্তিত হয়, ওজন অপরিবর্তিত
  2. ভর অপরিবর্তিত, ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত
  3. উভয়ই স্থানভেদে পরিবর্তিত
  4. উভয়ই অপরিবর্তিত
সঠিক উত্তর:
ভর অপরিবর্তিত, ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর অপরিবর্তিত, ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত
ব্যাখ্যা

• কোনো বস্তুর ভর বস্তুর অবস্থানভেদে পরিবর্তন হয় না কিন্তু স্থানভেদে বস্তুর ওজনের তারতম্য হয়।

• ভর:
- একে m দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- SI পদ্ধতিতে এর একক কিলোগ্রাম(kg)।
- কোনো বস্তুর ভর বস্তুর অবস্থানভেদে পরিবর্তন হয় না।

• ওজন:
- ওজন এক প্রকার বল।
- ওজনের একক নিউটন। এটি একটি ভেক্টর রাশি।
- বলের মাত্রাই ওজনের মাত্রা (MLT- 2)।
- বস্তুর ওজন যে বিন্দুতে খাড়া নিচের দিকে ক্রিয়া করে, তাকে ভরকেন্দ্র বলে।
- স্থানভেদে বস্তুর ওজনের তারতম্য হয়।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর বস্তুর ওজন নির্ভরশীল।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৩৯.
চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা কোথায় বেশি? 
  1. চুম্বকের উত্তর মেরু অঞ্চলে
  2. চুম্বকের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে
  3. চুম্বকের মাঝামাঝি অঞ্চলে
  4. চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে। 
- যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদেরকে চুম্বক বলে। 
- প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক। 
- চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ। 
- যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,১৪০.
ফারেনহাইট স্কেলে পানির স্ফুটনাঙ্ক কত ডিগ্রি?
  1. ক) ১০০
  2. খ) ১৮০
  3. গ) ২১২
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ২১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২১২
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° C।
∴ ১০০/৫ = (x-৩২)/৯
(x-৩২)/৯ = ২০
x = ১৮০ + ৩২ = ২১২° F
৩,১৪১.
পৃথিবীতে কোন বস্তুর ভর ৬ কেজি হলে চন্দ্রপৃষ্ঠে এর ভর কত হবে?
  1. ক) ৩ কেজি
  2. খ) ২ কেজি
  3. গ) ১ কেজি
  4. ঘ) ৬ কেজি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬ কেজি
ব্যাখ্যা
পদার্থের ভর সবসময়ই অপরিবর্তিত থাকে। তাই পৃথিবীতে যে বস্তুর ভর ৬ কেজি, চাঁদেও তার ভর ৬ কেজিই থাকবে।

কিন্তু, চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীপৃষ্ঠে ঐ বস্তুর ওজনের ১/৬ অংশ হয়।
অর্থাৎ, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ওজন ৬ নিউটন হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ১ নিউটন।
৩,১৪২.
প্রতিফলিত শব্দকে বলা হয় -
  1. কোলাহল
  2. তীক্ষ্ণতা
  3. প্রতিধ্বনি
  4. বিস্তার
সঠিক উত্তর:
প্রতিধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিধ্বনি
ব্যাখ্যা
- কোন শব্দ উৎস থেকে শব্দ করা হলে তা কোন কঠিন তলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আবার যদি শব্দের উৎসের নিকট ফিরে আসে, তখন সেই শব্দের পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, শব্দের এই পুনরাবৃত্তিকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে।
- - প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূলধ্বনি ও প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড হওয়া প্রয়োজন।
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা, কূপের গভীরতা ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৪৩.
মহাজাগতিক রশ্মির গবেষণায় নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে পাওয়া যায়—
  1. ক) নিউট্রিনো
  2. খ) বোসন
  3. গ) প্রোটন
  4. ঘ) মেসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) মেসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মেসন
ব্যাখ্যা
• ইউকাওয়া হিদেকি একজন জাপানি পদার্থবিদ । প্রাথমিক কণার তত্ত্বের উপর গবেষণার জন্য তিনি ১৯৪৯ সালের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার পান।
• ১৯৩৫ সালে, ওসাকা ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটির একজন প্রভাষক থাকাকালীন,  শক্তিশালী এবং দুর্বল পারমাণবিক শক্তির একটি নতুন তত্ত্ব প্রস্তাব করেছিলেন যেখানে তিনি  একটি নতুন ধরণের কণার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
• তিনি এটিকে ইউ-কোয়ান্টাম নামে অভিহিত করেন এবং এটি পরবর্তীতে মেসন নামে পরিচিত হয়।
• মেসন এর ভর ইলেক্ট্রন এবং প্রোটনের মধ্যে ছিল।
• মেসন, কোয়ার্ক এবং অ্যান্টিকোয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত সাবএটমিক কণার সদস্য।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,১৪৪.
আলোর __________ ফলে পানিতে আংশিক ডুবানো লাঠি বাঁকা দেখা যায়।
  1. প্রতিফলনের
  2. বিক্ষেপণের
  3. প্রতিসরণের
  4. বিচ্ছুরণের
সঠিক উত্তর:
প্রতিসরণের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিসরণের
ব্যাখ্যা
আলোর প্রতিসরণ:
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয়, তখন ২য় মাধ্যমে আলোর গতিপথের দিক পাল্টে যাওয়াকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত আলোকরশ্মি অভিলম্ব হতে সরে যায় বা অভিলম্বের দিকে আসে।
- বিষয়টি দুইটি মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে।
- আলোর প্রতিসরণের জন্য বস্তুর প্রকৃত অবস্থান দেখা যায় না। 

• আলোর প্রতিসরণের ফলে:
- পুকুরের পানির ভেতর মাছকে কিছুটা ওপরে দেখা যায়।
- একটি সরল দণ্ডকে তির্যকভাবে পানিতে ডোবালে বাঁকা দেখা যায়।
- পানিতে ডােবানাে পয়সা উপর থেকে তাকালে কিছুটা উপরে দেখা যায়।
- খাঁড়াভাবে তাকালে পুকুরের গভীরতা প্রকৃত গভীরতা থেকে কম মনে হয়।
- পানিতে আংশিক ডুবানো লাঠি বাঁকা দেখা যায়।

তথ্যসূত্র:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৪৫.
ব্যাটারিতে সঞ্চিত শক্তি হলো-
  1. তাপশক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. আলোক শক্তি
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: 
- খাদ্য এবং জ্বালানি (যেমন- তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ) হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি আমাদের দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় আমরা দরকারী কাজ করতে পারি। 
বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৪৬.
যৌগিক রাশি কোনটি? 
  1. বল 
  2. ভর 
  3. দৈর্ঘ্য 
  4. সময় 
সঠিক উত্তর:
বল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল 
ব্যাখ্যা

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৪৭.
ফ্যাদোমিটার দিয়ে কি নির্ণয় করা হয়?
  1. বায়ুর চাপ
  2. গ্যাসের চাপ
  3. সমুদ্রের গভীরতা
  4. বায়ুর আর্দ্রতা
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের গভীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের গভীরতা
ব্যাখ্যা
ফ্যাদোমিটার:
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের যন্ত্র।
- সাগর বা মহাসাগরের চলাচলকারি জাহাজের নিরাপত্তার জন্য সাগর বা মহাসাগরের গভীরতা জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস গভীর সমুদ্রের তলদেশে প্রতিফলিত শব্দের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয় এই কাজের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে ফ্যাদোমিটার বা ইকোগ্রাফ বলে।
- সমুদ্রের তলদেশ থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসার জন্য এ ধরনের একটি ইউনিট এর শব্দ উৎপাদনের জন্য একটি শব্দ প্রতিশব্দ উৎপাদক রয়েছে এ যন্ত্রে একটি অংশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষণিক শব্দের সম্পূর্ণ ভ্রমণ কাল লিপিবদ্ধ করা হয় পানিতে শব্দের বেগ এবং একে দ্বারা চিহ্নিত করা হয়, এসময় জাহাজটি কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্ব হলে পরবর্তী সমীকরণ থেকে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা যায়।

অন্যদিকে -
- হাইগ্রোমিটার বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র।
- বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্র: ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ মাপার যন্ত্র: ম্যানোমিটার।

উৎস: Britannica.
৩,১৪৮.
Fahrenheit and Celsius scales show the same reading at -
  1. ক) - 30 Degree
  2. খ) - 40 Degree
  3. গ) - 80 Degree
  4. ঘ) -45 Degree
সঠিক উত্তর:
খ) - 40 Degree
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) - 40 Degree
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো -
C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা]

এখন, সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে,
x/5 = (x - 32)/ 9
Or, 9x = 5x - 160
Or, 4x = -160
Or, x = - 40

অর্থাৎ, (- 40) ডিগ্রিতে সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ফারেনহাইট তাপমাত্রা সমান।
৩,১৪৯.
নিচের কোন ভেক্টরটির মান শূন্য?
  1. সরণ ভেক্টর
  2. নাল ভেক্টর
  3. একক ভেক্টর
  4. অবস্থান ভেক্টর
সঠিক উত্তর:
নাল ভেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাল ভেক্টর
ব্যাখ্যা
একক ভেক্টর (Unit vector): 
- যে ভেক্টর রাশির মান এক একক তাকে একক ভেক্টর বলে। 
- মান শূন্য নয় এরূপ একটি সঠিক ভেক্টরকে তার মান দ্বারা ভাগ করলে ঐ ভেক্টরের দিকে একটি একক ভেক্টর পাওয়া যায়। 
- একক ভেক্টরকে টুপি (^) চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- û দ্বারা একক ভেক্টরকে প্রকাশ করা হয়। 

নাল বা শূন্য ভেক্টর (Null or Zero vector): 
- যে ভেক্টর রাশির মান শূন্য, তাকে নাল বা শূন্য ভেক্টর বলা হয়। 
- শূন্য ভেক্টরের পাদবিন্দু এবং শীর্ষবিন্দু একই। 
- পরস্পর বিপরীত দিকে ক্রিয়াশীল দুটি সমান ভেক্টরের লব্দিই হল নাল ভেক্টর। 

অবস্থান ভেক্টর (Position vector): 
- প্রসংগ কাঠামোর মূল বিন্দুর সাপেক্ষে কোনো বিন্দুর অবস্থান যে ভেক্টরের সাহায্যে নির্ণয় করা হয়, তাকে অবস্থান ভেক্টর বলা হয়। 

সরণ ভেক্টর (Displacement vector): 
- যে কোনো দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী পথের দৈর্ঘ্যকে যে কোনো ভাবেই অতিক্রম করা যায়। কিন্তু সরল বা রৈখিক পথে দুই বিন্দুর মধ্যবর্তী অতিক্রান্ত দূরত্বকে সরণ ভেক্টর বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৫০.
ইউরেনিয়াম কে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে শক্তির কিরূপ পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) রাসায়নিক শক্তি থেকে শব্দ শক্তি
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি
  3. গ) তাপশক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি
  4. ঘ) পারমাণবিক শক্তি থেকে শব্দ শক্তি
সঠিক উত্তর:
খ) যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি
ব্যাখ্যা
ইউরেনিয়াম কে নিউট্রন দিয়ে  আঘাত করলে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে যায় , ছোটো ছোটো মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় । এতে প্রচুর শক্তি ও নিউট্রন উৎপন্ন হয় ।

উৎস: নবম- দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই
৩,১৫১.
জুটিন আবিষ্কার করেন-
  1. ক) ড. মাকসুদুল আলম
  2. খ) ড. আব্দুল খালেক
  3. গ) ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ
  4. ঘ) ড. মোবারক আহমেদ খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) ড. মোবারক আহমেদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ড. মোবারক আহমেদ খান
ব্যাখ্যা
পাট থেকে ঢেউটিনের আবিষ্কার করেন ড. মোবারক আহমেদ খান। পাট (Jute) দিয়ে তৈরী বলে এ টিনের নাম জুটিন (Jutin)
তাঁর অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সোনালি ব্যাগ, হেলমেট ও টাইলস। তাঁর তৈরি সোনালি ব্যাগ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে।

জুটন (পাট ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র) এর আবিষ্কারক- ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ।
পাটের জিন বিন্যাস আবিষ্কার করেন- ড. মাকসুদুল আলম।
স্বর্ণা সার আবিষ্কার করেন- ড. আব্দুল খালেক।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং প্রথম আলো পত্রিকা।
৩,১৫২.
বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালালে আমরা কোন ধরনের শক্তি পাই? 
  1. ক) যান্ত্রিক শক্তি
  2. খ) রাসায়নিক শক্তি
  3. গ) চুম্বক শক্তি
  4. ঘ) আলোক শক্তি
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলোক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা

আগুন ও বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালালে আমরা আলোক শক্তি ও তাপ শক্তি পাওয়া যায়। তাপ শক্তির সাথে সূর্য থেকে সরাসরি আর যে শক্তিটি আসে তা হচ্ছে আলোক শক্তি। আলোক শক্তি ছাড়া আমরা কিছুই দেখতে পারি না। সূর্য আলোক শক্তির প্রধান উৎস।
অপরদিকে, তাপ শক্তি সরাসরি সূর্য থেকে সরাসরি আসে। এই তাপ শক্তি পৃথিবীকে উষ্ণ রাখে। তাপ শক্তি ছাড়া কোন প্রাণী বা, উদ্ভিদ বেঁচে থাকতে পারে না।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি

৩,১৫৩.
সেকেন্ড দোলক হচ্ছে যে সরল দোলকের দোলনকাল- 
  1. এক সেকেন্ড
  2. দুই সেকেন্ড
  3. তিন সেকেন্ড
  4. চার সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
দুই সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: 
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে একটি ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উল্লম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে। 

সেকেন্ড দোলক: 
- যে দোলকের দোলনকাল দুই সেকেন্ড অর্থাৎ, দোলকের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এক সেকেন্ড সময় লাগে তাকে সেকেন্ড দোলক বলে। 

কার্যকরী দৈর্ঘ্য: 
- ঝুলন বিন্দু থেকে ববের ভারকেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বকে সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বলে। 

সরল দোলন গতি: 
- যদি কোনো বস্তুর ত্বরণ একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে এর সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদা ঐ বিন্দু অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তুর ঐ গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
৩,১৫৪.
আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা প্রদান করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) হেন্রিখ হার্জ
  2. খ) ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
  3. গ) ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাংক
সঠিক উত্তর:
খ) ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভ‚তপূর্ব উন্নতি ঘটে।
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (১৮৩১-১৮৭৯) আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্তে¡র ধারণা দেন।
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেন্রিখ হার্জের (১৮৫৭-১৮৯৪) পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী (১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে
সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন।
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও (১৮৫৮-১৯৩৭) একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়।

উৎস: এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৫৫.
p-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি করতে কোন পরমাণু দ্বারা ডোপিং করা হয়?
  1. ইন্ডিয়াম
  2. অ্যান্টিমনি
  3. ফসফরাস
  4. জার্মেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ইন্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

• p-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি করতে বিশুদ্ধ সিলিকন বা জার্মেনিয়ামের সাথে ত্রিমূলক (trivalent) পরমাণু ডোপিং করা হয়, যাদের ভ্যালেন্স ইলেকট্রন সংখ্যা ৩টি। এই ধরনের পরমাণু যুক্ত হলে একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়, যাকে হোল বলা হয়, এবং হোলই এখানে প্রধান চার্জ বাহক হিসেবে কাজ করে। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে ইন্ডিয়াম একটি ত্রিমূলক পরমাণু, তাই এটি দ্বারা ডোপিং করলে p-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি হয়। অন্যদিকে অ্যান্টিমনি ও ফসফরাস পঞ্চমূলক এবং জার্মেনিয়াম নিজেই একটি অর্ধপরিবাহী। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ক) ইন্ডিয়াম।

• p-টাইপ অর্ধপরিবাহী (P-type Semiconductor):
- p-টাইপ অর্ধপরিবাহী হলো এমন এক ধরনের অর্ধপরিবাহী যেখানে হোল (hole) সংখ্যাগরিষ্ঠ বাহক (majority carrier) হিসেবে কাজ করে।
- এটি তৈরির জন্য বিশুদ্ধ সিলিকন বা জার্মেনিয়ামে ত্রিমান (trivalent) অমিশ্র পরমাণু যোগ করা হয়।
- ত্রিমান পরমাণুর ভ্যালেন্স ইলেকট্রন সংখ্যা ৩টি হওয়ায় একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়।
- এই ইলেকট্রনের ঘাটতিকে হোল বলা হয়।
- হোলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহন হয় বলে একে p-টাইপ অর্ধপরিবাহী বলা হয়।

• ডোপিং (Doping):
- ডোপিং হলো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীতে অল্প পরিমাণ অমিশ্র পদার্থ যোগ করার প্রক্রিয়া।
- p-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য ত্রিমান মৌল ব্যবহার করা হয়।
- ত্রিমান মৌলগুলোর মধ্যে ইন্ডিয়াম, বোরন, গ্যালিয়াম উল্লেখযোগ্য।
- এসব মৌল ইলেকট্রনের ঘাটতি তৈরি করে, ফলে হোলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

• অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
- ইন্ডিয়াম → ত্রিমান মৌল, p-টাইপ তৈরিতে ব্যবহৃত। 
- অ্যান্টিমনি → পেন্টাভ্যালেন্ট, n-টাইপ তৈরিতে ব্যবহৃত। 
- ফসফরাস → পেন্টাভ্যালেন্ট, n-টাইপ তৈরিতে ব্যবহৃত। 
- জার্মেনিয়াম → বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী, ডোপিং উপাদান নয়। 

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

৩,১৫৬.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি?
  1. অ্যালটিমিটার
  2. ওডোমিটার
  3. ক্রনোমিটার
  4. অডিওমিটার
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩,১৫৭.
1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপের পরিমাণ কত? 
  1. 1 ক্যালরি
  2. 2.4 জুল 
  3. 1 জুল 
  4. 4.2 ক্যালরি 
সঠিক উত্তর:
1 ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1 ক্যালরি
ব্যাখ্যা

তাপ: 
- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের S.I একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক যা পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
-  তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৫৮.
কোন পদার্থটি কঠিন অবস্থা থেকে তরলে রূপান্তরিত হলে আয়তন হ্রাস পায়?
  1. ক) মোম
  2. খ) তামা
  3. গ) বরফ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) বরফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বরফ
ব্যাখ্যা
(ক) কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন বৃদ্ধি পায়। যেমন: মোম, তামা ইত্যাদি।
চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক বেড়ে যায়। অর্থাৎ বেশি তাপমাত্রায় গলে।

(খ) কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন হ্রাস পায়। যেমন: লোহা, বরফ, বিসমাথ ইত্যাদি।
চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক কমে যায়। অর্থাৎ এরা কম তাপমাত্রায় গলে। 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৫৯.
একটি ব্যাটারি সেলে কোন ধরণের শক্তির রুপান্তর ঘটে?
  1. ক) তড়িৎ শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি
  2. খ) তাপ শক্তি থেকে তড়িৎ শক্তি
  3. গ) রাসায়নিক শক্তি থেকে তড়িৎ শক্তি
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপ শক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) রাসায়নিক শক্তি থেকে তড়িৎ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাসায়নিক শক্তি থেকে তড়িৎ শক্তি
ব্যাখ্যা
ব্যাটারি সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অ্যানোড থেকে ইলেকট্রন সরিয়ে ক্যাথোড  এ জমা হয় । এতে অ্যানোড ও ক্যাথোড এ বিভব পার্থক্য তৈরি হয়। এ অবস্থায়  অ্যানোড ও ক্যাথোড পরিবাহী তার দিয়ে সংযুক্ত করলে ক্যাথোডের ইলেকট্রন গুলো  অ্যানোড এ প্রবাহিত হয় । 

উৎস: নবম- দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই
৩,১৬০.
মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য কোন নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয়?
  1. নিউটনের প্রথম সূত্র
  2. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র
  3. নিউটনের তৃতীয় সূত্র
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নিউটনের তৃতীয় সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটনের তৃতীয় সূত্র
ব্যাখ্যা
মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।

• নিউটনের প্রথম সূত্র:

- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।
- উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

• নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমানও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে।

• উদাহরণ:
১. বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
২. একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
৩. মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৬১.
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় টেলিকনফারেন্সিং ব্যবস্থা কোনটি? 
  1. ক্লোজড কনফারেন্স
  2. অনলি কনফারেন্স
  3. পাবলিক কনফারেন্স
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা: 
- ভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বে কিছু ব্যক্তি অবস্থান করে টেলিযোগাযোগ সিস্টেমের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে কোন সভা অথবা সেমিনার অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়াকে বলা হয় টেলিকনফারেন্সিং। 
- বিভিন্ন ধরনের টেলিকনফারেন্সিং ব্যবস্থা রয়েছে। 
যেমন- পাবলিক কনফারেন্স, ক্লোজড কনফারেন্স এবং অনলি কনফারেন্স। 
- টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই বা ততোধিক ভৌগোলিক অবস্থানে অডিও এবং ভিডিও এর যুগপৎ উভমুখী স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াকে ভিডিও কনফারেন্সিং বলে। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।
৩,১৬২.
তড়িৎ বলরেখার ধারণা প্রথম দেন কে? 
  1. কুলম্ব
  2. নিউটন
  3. গাউস
  4. ফ্যারাডে
সঠিক উত্তর:
ফ্যারাডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বলরেখা: 
- দুটি আধান পরস্পরকে বল প্রয়োগ করে, এই বল কিভাবে ক্রিয়া করে তা ব্যাখ্যা করার জন্য ফ্যারাডে সর্বপ্রথম বলরেখার ধারণা দেন। এই বলরেখাগুলো ফ্যারাডের কাল্পনিক রেখা, বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। 
- কোনো তড়িৎ ক্ষেত্রে একটি অতি ক্ষুদ্র ধনাত্মক আধান রাখলে আধানটি এক প্রকার বল অনুভব করে এবং ঐ বলের প্রভাবে ক্ষুদ্র ধনাত্মক আধানটি গতিশীল হয়। 
- তড়িৎ ক্ষেত্রে একটি মুক্ত ধনাত্মক আধান রাখলে আধানটি যে পথে গতিশীল হয় সেই পথকে তড়িৎ বলরেখা বলে। 
- তড়িৎগ্রস্থ বস্তুর চারিপার্শ্বে এবং তড়িৎ ক্ষেত্রের মধ্যে এমন অসংখ্য বল রেখা টানা যেতে পারে। 
- বলরেখাগুলো দিয়ে ফ্যারাডে দুটি আধানের মধ্যে আকর্ষণ ও বিকর্ষণ সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেন। 
- পরবর্তিতে বলরেখাগুলো তড়িৎ ক্ষেত্র ব্যাখ্যা করার জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে। 
সুতরাং, তড়িৎ ক্ষেত্রকে বুঝানোর জন্য তড়িৎ বলরেখা কল্পনা করা হয়। 

- এই কাল্পনিক তড়িৎ বলরেখাগুলির নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। 
যেমন- 
১। তড়িৎ বলরেখাগুলো বক্ররেখা এবং ধনাত্মক আধানের পৃষ্ঠ থেকে লম্বভাবে নির্গত হয়ে ঋণাত্মক আধানের পৃষ্ঠে লম্বভাবে আপতিত হয়। 
২। এরা কখনো পরস্পরকে ছেদ করেনা। 
৩। এই বলরেখাগুলো স্থিতিস্থাপক সূতার ন্যায় আচরণ করে এবং দৈর্ঘ্য বরাবর সংকুচিত হতে চায়। 
৪। এই বলরেখাগুলো পরস্পরের উপর পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে। 
৫। শূন্য বা বায়ু মাধ্যমে 1 C আধান থেকে 1/∈0 সংখ্যক বলরেখা নির্গত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬৩.
লেন্সের ক্ষমতার একক কোনটি?
  1. জুল
  2. ডায়াপ্টার
  3. ওয়াট
  4. মিটার
সঠিক উত্তর:
ডায়াপ্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াপ্টার
ব্যাখ্যা

লেন্স:
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলা হয়।
- লেন্স সাধারণত কাচের তৈরি হয়। এছাড়া কোয়ার্টজ, স্বচ্ছ প্লাস্টিক দ্বারাও লেন্স তেরি করা হয়।
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
উত্তল বা অভিসারী লেন্স (Convex Lens)।
অবতল বা অপসারী লেন্স (Concave Lens)।

লেন্সের ক্ষমতা:
- লেন্সের ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এর একক হচ্ছে ডায়াপ্টার।
- দূরত্বকে মিটারে প্রকাশ করে এর বিপরীত রাশি নিলে লেন্সটির ক্ষমতা ডায়াপ্টার পাওয়া যায়।
- ডায়াপ্টারকে সংক্ষেপে D দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- লেন্সের ক্ষমতা ধণাত্মক বা ঋণাত্মক যে কোনোটিই হতে পারে।
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক হয়, তাহলে বুঝতে হবে লেন্সটি উত্তল।
- লেন্সের ক্ষমতা ঋণাত্মক হয়, তাহলে লেন্সটি হবে অবতল।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৬৪.
কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রেক্ষিতে আলোর কণিকার নাম কী?
  1. Proton
  2. Photon
  3. Quark
  4. Neutron
সঠিক উত্তর:
Photon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Photon
ব্যাখ্যা
• কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রেক্ষিতে আলোর কণিকাকে ফোটন (Photon) বলা হয়। ফোটন হল আলোর শক্তি কণিকা, যা আলোর তরঙ্গের সঙ্গে একত্রে বিদ্যমান। এটি কোনো বিশ্রাম ভরহীন কণা এবং আলোর বেগে (প্রায় ৩ লাখ কিমি/সেকেন্ড) চলাচল করে। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে, আলোর শক্তি নির্দিষ্ট পরিমাণে ছোট ছোট কণিকায় ভাগ হয়, যেগুলিকে ফোটন বলা হয়। ফোটন বিদ্যুতচুম্বকীয় বিকিরণ যেমন আলোক, রেডিও তরঙ্গ, এক্স-রে ইত্যাদির মৌলিক কণা। তাই আলোর কণিকার নাম হলো ফোটন।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: খ) Photon.

কোয়ান্টাম তত্ত্ব:

- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়।
- প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬৫.
একটি পেরিস্কোপ তৈরিতে কয়টি সমতল দর্পণ প্রয়োজন? 
  1. ১ টি 
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৪ টি
সঠিক উত্তর:
২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ টি
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা দেখতে পাওয়া যায়।
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩,১৬৬.
সিরামিক চুম্বক ব্যবহৃত হয় কোনটিতে?
  1. ক) জেনারেটরে
  2. খ) মোটরে
  3. গ) টেপরেকর্ডারে
  4. ঘ) বৈদ্যুতিক পাখায়
সঠিক উত্তর:
গ) টেপরেকর্ডারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টেপরেকর্ডারে
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম চুম্বকঃ কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক
অস্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

স্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৬৭.
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের ক্ষেত্রে স্পন্দন দিকের সাথে তরঙ্গ প্রবাহের দিকের মধ্যবর্তী কোণ কত ডিগ্রি হয়?
  1. ক) 90
  2. খ) 45
  3. গ) 0
  4. ঘ) 30
সঠিক উত্তর:
গ) 0
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 0
ব্যাখ্যা
একটি নমনীয় স্প্রিং এর এক প্রান্ত দেয়ালে বেঁধে অন্য প্রান্ত টান করে ধরে যে কোন প্রান্তে মৃদু আঘাত করলে দেখতে পাবেন স্প্রিংটির কিছু কুন্ডলীকৃত অংশ সংকুচিত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তি অংশ প্রসারিত রয়েছে। এবং অতি দ্রুত এ সংকুচিত অংশ সামনে সরে গিয়ে পেছনের কুন্ডলীতে প্রসারিত অংশ সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে সংকোচন-প্রসারণ পর্যায়ক্রমে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই আন্দোলন জড় মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে, কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না, এটি এক প্রকার তরঙ্গ। এর নাম অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের ক্ষেত্রে স্পন্দন দিকের সাথে তরঙ্গ প্রবাহের দিকের মধ্যবর্তী কোণ 0 ডিগ্রি হয়।
৩,১৬৮.
ডুবোজাহাজ হতে পানির উপর কোনো বস্তু দেখার জন্য কোন আলোক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. পেরিস্কোপ 
  2. মাইক্রোস্কোপ
  3. প্রিজম
  4. টেলিস্কোপ
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ 
ব্যাখ্যা
• পেরিস্কোপ:
- পেরিস্কোপ হলো এমন একটি আলোক যন্ত্র, যা মূলত আয়না বা প্রিজম দিয়ে তৈরি হয়।
- এটি এমনভাবে তৈরি হয় যেন পানির নিচে থাকা ডুবোজাহাজের ভেতর থেকে মানুষ পানির উপরিভাগে থাকা বস্তু দেখতে পারে।

অন্যদিকে,
- টেলিস্কোপ: দূরবর্তী মহাকাশ পর্যবেক্ষণ। 
- প্রিজম: আলো বিচ্ছুরণ ও প্রতিফলন। 
- মাইক্রোস্কোপ: ক্ষুদ্র জিনিস বড় করে দেখা। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,১৬৯.
প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করতে কোন যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ফ্যাদম
  2. খ) ইকোগ্রাফ
  3. গ) ওডোমিটার
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ইকোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইকোগ্রাফ
ব্যাখ্যা

• গভীর সমুদ্রের তলদেশে প্রতিফলিত শব্দের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা  নির্ণয় করা হয়। এই কাজের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে ফ্যাদোমিটার বা ইকোগ্রাফ বলে।

• ফ্যাদম: এক ফ্যাদম (Fathom) সমান ৬ ফুট (১.৮৩ মিটার)। যা দীর্ঘকাল পানির গভীরতার নটিক্যাল একক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।  
• ওডোমিটার - মোটর গাড়ির গতি নির্নায়ক যন্ত্র।

উৎস: জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর ওয়েবসাইট ও ব্রিটানিকা।

৩,১৭০.
চেহারা দেখার জন্য যে দর্পনটি ব্যবহৃত হয় সেটি হলো একটি-
  1. ক) উত্তল দর্পন
  2. খ) অবতল দর্পন
  3. গ) সমতল দর্পন
  4. ঘ) উভোত্তল দর্পন
সঠিক উত্তর:
গ) সমতল দর্পন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমতল দর্পন
ব্যাখ্যা
সমতল দর্পণ (Plane mirror):
- দর্পণ পৃষ্ঠ যদি সমতল হয় অর্থাৎ কোনো সমতল পৃষ্ঠ যদি প্রতিফলক হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং তাতে আলোক রশ্মির নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তবে তাকে সমতল দর্পণ বলে।
- আমরা চেহারা দেখার জন্য প্রতিদিন যে আয়না ব্যবহার করি, চুল ছাটার সেলুনে, টয়লেটে, ড্রেসিং টেবিলে যে আয়না ব্যবহৃত হয় তা সমতল দর্পণ।

সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. দর্পণ থেকে বস্তু দূরত্ব যত, দর্পণ থেকে বিম্বের 'দূরত্ব' তত।
২. বস্তু ও বিম্ব সংযোগকারী রেখা দর্পণ তলকে লম্বভাবে ছেদ করে।
৩. সমতল দর্পণে গঠিত বিম্ব অসদ ও সোজা।
৪. বিম্বের আকার বস্তুর আকারের সমান হয়।
৫. বিম্বের পার্শ্ব পরিবর্তন ঘটে।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭১.
তাপ সঞ্চালনের পদ্ধতি নয় কোনটি?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. প্রতিফলন
সঠিক উত্তর:
প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
• প্রতিফলন তাপ সঞ্চালনের পদ্ধতি নয়, বরং এটি আলো বা তরঙ্গের একটি ধর্ম।

• তাপ সঞ্চালন:
- উচ্চ তাপমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন তাপমাত্রার স্থানে তাপের প্রবাহই হলো তাপ সঞ্চালন।

• তাপ সঞ্চালনের (Heat Transfer) তিনটি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে:
→ পরিবহন (Conduction):
- কঠিন পদার্থে তাপের সঞ্চালন ঘটে এই পদ্ধতিতে।
- অণুগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের মাধ্যমে তাপ স্থানান্তরিত হয়।
- উদাহরণ: লোহার রডের এক প্রান্ত গরম করলে অন্য প্রান্তে তাপ পৌঁছায়।

→ পরিচলন (Convection):
- তরল বা গ্যাসীয় মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটে এই পদ্ধতিতে।
- পদার্থের অণুগুলোর চলাচলের মাধ্যমে তাপ স্থানান্তরিত হয়।
- উদাহরণ: পানির তাপমাত্রা বাড়লে তা উপরের দিকে উঠে যায়।

→ বিকিরণ (Radiation):
- তাপ শক্তি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ (যেমন: ইনফ্রারেড) আকারে স্থানান্তরিত হয়।
- মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না (শূন্যস্থানেও কাজ করে)।
- উদাহরণ: সূর্যের তাপ পৃথিবীতে পৌঁছায়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭২.
নিচের কোনটি আলাদা?
  1. ক) শব্দ
  2. খ) মাটি
  3. গ) পানি
  4. ঘ) বাতাস
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দ
ব্যাখ্যা

- যা ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য, যা কিছু স্থান দখল করে, যার ওজন আছে এবং বল প্রয়োগের সাহায্যে যার স্থির বা গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন করা যায়, তাকেই পদার্থ বলে। 
মাটি, পানি, বাতাস এরা সবাই পদার্থ। 
- যা কোনো স্থান দখল করে না, ওজন নেই, বল প্রয়োগের সাহায্যে অবস্থান পরিবর্তন করা যায় না, শুধু উপস্থিতি অনুভব করা যায় তাকে বলা হয় শক্তি। 
শব্দ, আলো, বিদ্যুৎ, তাপ ইত্যাদি হলো শক্তি। 

সূত্র: প্রাথমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, পঞ্চম শ্রেণি

৩,১৭৩.
কোবাল্ট-৬০ আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী কোন রশ্মি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়? 
  1. বিটা রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. রঞ্জন রশ্মি
  4. আলফা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার: 
- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ। 
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে। 
- কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রোনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়। 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্ৰধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 
- রোগীর শরীরে কোনো স্থানে বা অঙ্গে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমারের উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সাহায্যে শনাক্ত করা যায়। 
- কোবাল্ট-60 (60Co) আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী 'গামা রশ্মি' ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। 
- কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭৪.
পাহাড়ের উপর রান্না করতে বেশি সময় লাগে কেন?
  1. বায়ুর চাপ বেশি থাকার কারণে
  2. বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
  3. পাহাড়ের উপর বাতাস কম থাকায়
  4. পাহাড়ের উপর তাপমাত্রা বেশি থাকায়
সঠিক উত্তর:
বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
ব্যাখ্যা
- চাপের কারণে স্ফুটনাঙ্কের পরিবর্তন হয়। 
- চাপ কম হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়। 
- এজন্য যারা পর্বতারোহণ করে অনেক উচ্চতায় যায় তাদের রান্না করতে সময় বেশি নেয়৷ 
- বাতাসের চাপ কম বলে সেখানে পানি তুলনামূলকভাবে কম তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে, তাই তাপমাত্রা বাড়ানো যায় না, সেজন্য রান্না করতে সময় বেশি লাগে। 
- একই কারণে প্রেশার কুকার তৈরি হয়েছে, এটি আসলে একটি নিশ্ছিদ্র পাত্র, তাই রান্না করার সময় বাষ্প আবদ্ধ হয়ে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং সে কারণে পানির স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায় বলে বেশি তাপমাত্রায় পানি ফুটতে থাকে। 
- তাপমাত্রা বেশি বলে রান্নাও করা যায় তাড়াতাড়ি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৭৫.
কোনটি সুপরিবাহী পদার্থ?
  1. ক) কাঠ
  2. খ) প্লাস্টিক
  3. গ) রাবার
  4. ঘ) সোনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সোনা
ব্যাখ্যা

যে বস্তুর মধ্য দিয়ে বিদ্যুত সহজেই প্রবাহিত হতে পারে বা চলাচল করতে পারে, তাকে সুপরিবাহী বলে। যেমন: লোহা, তামা, রূপা, সোনা ইত্যাদি।
যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ বলে। যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ ইত্যাদি।
সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান

৩,১৭৬.
তাপহারী বিক্রিয়ায় তাপ-
  1. ক) বেড়ে যায়
  2. খ) দ্বিগুণ হয়
  3. গ) উৎপন্ন হয়
  4. ঘ) শোষণ হয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) শোষণ হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শোষণ হয়
ব্যাখ্যা
তাপহারী বিক্রিয়ায় তাপের শোষণ এবং তাপ উৎপাদী বিক্রিয়ায় তাপের উৎপাদন ঘটে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৩,১৭৭.
জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয়-
  1. বেতার তরঙ্গ
  2. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  3. গামা রশ্মির তরঙ্গ
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- তরঙ্গ সৃষ্টির জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয়। 
- আর জড় মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে সৃষ্ট যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়াও তরঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। 
- কিন্তু জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
২. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 
৩. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৪. তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৫. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে। 

তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। 
- আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়, এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
যেমন- বেতার তরঙ্গ, এক্স রশ্মি, গামা রশ্মি, তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭৮.
সূর্যের পদার্থ সমূহ কোন অবস্থায় থাকে?
  1. ক) তরল
  2. খ) কঠিন
  3. গ) বায়বীয়
  4. ঘ) প্লাজমা
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্লাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্লাজমা
ব্যাখ্যা
প্লাজমা:

- পদার্থের চতুর্থ অবস্থার নাম প্লাজমা।
- এই প্লাজমা হলো অতি উচ্চ তাপমাত্রায় আয়নিত গ্যাস।
- প্লাজমার বড় উৎস হচ্ছে সূর্য। তাছাড়াও অন্যান্য নক্ষত্রগুলোও প্লাজমার উৎস।
- প্রায় কয়েক হাজার ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্লাজমা অবস্থার উৎপত্তি হয়।
- গ্যাসের ন্যায় প্লাজমার কোন নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই।
- প্লাজমা কণাগুেলো তড়িৎ আধান বহন করে বলে প্লাজমা তড়িৎ পরিবাহী হিসেবে কাজ করে।

বৈশিষ্ট্যসমূহ,
- অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থের এই অবস্থাটি আয়নিত রূপে থাকে।
- অত্যাধিক তাপমাত্রায় (প্রায় ১-২ হাজার ডিগ্রী ) প্লাজমা অবস্থার উদ্ভব ঘটে।
- গবেষণাগারে নিম্নচাপে গ্যাসীয় পদার্থকে উত্তপ্ত করে প্লাজমা তৈরি করা যায়।
- গ্যাসীয় পদার্থের মতো প্লাজমার নির্দিষ্ট কোন আকার বা আয়তন নেই।
- অতি উচ্চ তাপমাত্রায়ও প্লাজমা সহজেই বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে পারে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৭৯.
বিড়ালের শ্রাব্যতার উর্ধ্বসীমা কত?
  1. ক) 45000 Hz
  2. খ) 20000 Hz
  3. গ) 35000 Hz
  4. ঘ) 64000 Hz
সঠিক উত্তর:
ঘ) 64000 Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 64000 Hz
ব্যাখ্যা
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz
কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz
বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz
ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz
বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz ∼ ১১০,০০০ Hz

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,১৮০.
আধুনিক ট্রানজিস্টর তৈরিতে ব্যবহৃত পদার্থ কোনটি?
  1. সিলিকন
  2. তামা
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. কার্বন
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
ব্যাখ্যা

• আধুনিক ট্রানজিস্টর তৈরিতে প্রধানত সিলিকন (Silicon) ব্যবহার করা হয়। এটি একটি অর্ধপরিবাহী (semiconductor) পদার্থ, যা নির্দিষ্ট অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করতে সক্ষম।

সিলিকনের বৈশিষ্ট্য:
- এটি সহজলভ্য এবং সস্তা।
- এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিয়ন্ত্রণ করা যায় ডোপিং (doping) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- উচ্চ তাপমাত্রায় স্থিতিশীল থাকে, যা ইলেকট্রনিক সার্কিটে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।

অন্য বিকল্পগুলোর কারণ:
- তামা (Copper) বিদ্যুৎ পরিবাহী, কিন্তু অর্ধপরিবাহী নয়।
- অ্যালুমিনিয়াম (Aluminium) পরিবাহী ধাতু, ট্রানজিস্টরের সংযোগে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু মূল পদার্থ নয়।
- কার্বন (Carbon) ট্রানজিস্টরে সাধারণত ব্যবহৃত হয় না, যদিও কার্বন ন্যানোটিউব নিয়ে গবেষণা চলছে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 

৩,১৮১.
রাস্তায় ব্যাংকিং করা হয় কেন?
  1. ক) কেন্দ্ৰ মুখি বল দেয়ার জন্য
  2. খ) কেন্দ্র বিমুখি বল দেয়ার জন্য
  3. গ) গাড়িতে জ্বালানির অপচয় রোধের জন্য
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) কেন্দ্ৰ মুখি বল দেয়ার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কেন্দ্ৰ মুখি বল দেয়ার জন্য
ব্যাখ্যা
রাস্তার বাঁকে গাড়ি চালনার জন্য কেন্দ্রমুখী বলের প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় কেন্দ্রমুখী বল না পেলে গাড়ি গতিজড়তার দরুণ বাকাঁ পথের স্পর্শক বরাবর ছিটকে চলে যেতে পারে।
কেন্দ্রমুখী বল পাবার জন্য গাড়িকে কেন্দ্রের দিকে কাত করানো প্রয়োজন। সাইকেল আরোহীর ক্ষেত্রে যেটি করা সম্ভব। কিন্তু গাড়ি বা ট্রেনের চালকের ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব। যার ফলে কেন্দ্রের দিকে কাত করার জন্য গাড়ির গতি পথকেই কেন্দ্রের দিকে হেলানো রেখে তৈরী করা হয়।

কেন্দ্রের দিকে ঢালু করে তৈরী করাকে বলা হয় রাস্তার ব্যাংকিং।
৩,১৮২.
জেনারেটর ও ট্রান্সফরমার তৈরিতে কোন ধরনের চুম্বক ব্যবহার করা হয়? 
  1. স্থায়ী চুম্বক
  2. অস্থায়ী চুম্বক
  3. সংকর চুম্বক
  4. সিরামিক চুম্বক
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম চুম্বক: 
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। যথা- 
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক এবং 
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক। 

অস্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়। 

স্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক আবার দুই ধরনের হয়। যথা- 
১। সংকর চুম্বক ও 
২। সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৮৩.
কোন আলাের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
  1. লাল
  2. বেগুনি
  3. নীল
  4. কমলা
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা

আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য:
- দৃশ্যমান আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল।
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়।
- লাল রঙের আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- লাল রঙের আলাের বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম।
- বেগুনি আলোর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,১৮৪.
অপটিক্যাল ফাইবারে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়- 
  1. শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে
  2. চৌম্বক সংকেতের মাধ্যমে
  3. আলোক সংকেতের মাধ্যমে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
আলোক সংকেতের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোক সংকেতের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমানে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তন্তু। এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৮৫.
তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাপ নির্ণয়কারী যন্ত্রটির নাম কী?
  1. ক) ভোল্টমিটার 
  2. খ) গ্যালভানোমিটার
  3. গ) ম্যাগনেটোমিটার
  4. ঘ) স্পেট্রমিটার
সঠিক উত্তর:
খ) গ্যালভানোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্যালভানোমিটার
ব্যাখ্যা

তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাপ নির্ণয়কারী যন্ত্রটির নাম গ্যালভানোমিটার
গ্যালভানোমিটার ব্যবহৃত হয় বৈদ্যুতিক প্রবাহ সনাক্তকরণ এবং পরিমাপের জন্য। 

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,১৮৬.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো পড়লে আলোকশক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. বিদ্যুৎ শক্তিতে 
  2. যান্ত্রিক শক্তিতে
  3. তাপ শক্তিতে
  4. রাসায়নিক শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
আলোক শক্তির রূপান্তর: 
• হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়। 
এখানে, আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে। 

• ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়। 
এখানে, আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৮৭.
সমুদ্র সমতলে g -এর আদর্শ মান কোনটি?
  1. ক) 40° অক্ষাংশে 0.980656 ms-2
  2. খ) 45° অক্ষাংশে 98.0656 ms-2
  3. গ) 45° অক্ষাংশে 9.80656 ms-2
  4. ঘ) 45° অক্ষাংশে 9.18 ms-2
সঠিক উত্তর:
গ) 45° অক্ষাংশে 9.80656 ms-2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 45° অক্ষাংশে 9.80656 ms-2
ব্যাখ্যা
মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ, (g): 
- উপর থেকে একটি ধাতব মুদ্রা এবং একটি পাখির পালক এক সঙ্গে ছেড়ে দেয়া হলে অভিকর্ষের প্রভাবে অর্থাৎ পৃথিবীর আকর্ষণে দুটি বস্তুই মাটিতে পড়বে। 
- হয়তো দেখা যাবে ধাতব মুদ্রাটি আগে পড়বে, আর হালকা পাখির পালকটি আঁকাবাঁকা পথে ভাসতে ভাসতে একটু দেরিতে মাটিতে পৌঁছাবে। 

- কিন্তু উপরের চিত্রে দেখানে হয়েছে একটি বায়ু শূন্য নলের মধ্যে এক সাথে ছেড়ে দেয়া মুদ্রা এবং পালক এক সাথেই মাটিতে বা নলের তল দেশে পড়ছে। 
- এদের উপর বাতাসের কোন বাঁধা বা প্রভাব নেই; কাজ করছে কেবল পৃথিবীর আকর্ষণ বল। 
- এই বলের প্রভাবে বস্তু দুটির নিম্নমুখী ত্বরণ হচ্ছে। 
- বস্তু দুটি যখন ছেড়ে দেয়া হয় এদের ওপর কোন বল প্রয়োগ করা হয় নাই, তখন এদের বেগ ছিল শূন্য। 
- যতই নিচে পড়ছে এদের বেগ বাড়ছে। এর কারণ পৃথিবীর আকর্ষণ জনিত ত্বরণ। 
- একে বলা হয় মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা অভিকর্ষজ ত্বরণ। 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের কাছাকাছি সব বস্তুর উপর এই ত্বরণের মান সমান। 
- g দিয়ে এই ত্বরণকে প্রকাশ করা হয়। 
- এর মান পৃথিবী পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে সামান্য তারতম্য হয়, কারণ পৃথিবীর সর্বত্র আকর্ষণ বল সমান নয়। 
- এই মানের পরিবতর্ন 1% থেকেও কম। 
- মোটামুটিভাবে পৃথিবী পৃষ্ঠে তথা ভূ-পৃষ্ঠে g-এর মান প্রায় 10 ms-2
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যতই উপরে ওঠা যায় g-এর মান ততই কমতে থাকে। 
- ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর আদর্শ মান হচ্ছে 9.80656 ms-2. 
- হিসেবের সুবিধার জন্য আদর্শ মান ধরা হয় 9.81 ms -2

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৮৮.
এক্স রে মূলত-
  1. ধনাত্মক আধান যুক্ত
  2. ঋণাত্মক আধান যুক্ত
  3. আধান নিরপেক্ষ
  4. বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের দিকে বিচ্যুত হয়
সঠিক উত্তর:
আধান নিরপেক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধান নিরপেক্ষ
ব্যাখ্যা

এক্স-রে:
- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন।
- এই আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার পান।
- এক্স-রে আদান নিরপেক্ষ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এটি সরলপথে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3 × 108 ms-1 বেগে গমন করে।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10- 8 m থেকে 10- 13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে।
- এক্স-রে বিকিরণ পরিমাপ করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে রন্টজেন বলা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,১৮৯.
একটি মহাকাশযান পৃথিবীর সাপেক্ষে 0.8c বেগে চলছে। একটি আলোকরশ্মি একই দিকে c বেগে চললে, মহাকাশযানের সাপেক্ষে আলোর বেগ কত হবে?
  1.  0.2c
  2. 0.8c
  3.  c
  4. 1.8c
সঠিক উত্তর:
 c
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 c
ব্যাখ্যা

• আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Special Theory of Relativity):
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Special Theory of Relativity) অনুসারে,আলোর বেগ (c) সকল পর্যবেক্ষকের জন্য ধ্রুবক।
- যে কোনো রেফারেন্স ফ্রেম থেকেই সেটি পরিমাপ করা হোক না কেন, এর মান সর্বদা c = 3 × 108 m/s
- নিউটনীয়ভাবে মনে হতে পারে, চলমান মহাকাশযান থেকে আলোর বেগ 1.8c বা বেশি হবে। কিন্তু আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুযায়ী, আলোর বেগ কখনো c-এর বেশি হয় না।

- অতএব, মহাকাশযানের সাপেক্ষেও আলোর বেগ থাকবে c.

উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]

৩,১৯০.
নিচের কোন পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই? 
  1. রূপা 
  2. তামা 
  3. কাচ 
  4. সিলিকন 
সঠিক উত্তর:
কাচ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাচ 
ব্যাখ্যা

পরিবাহী পদার্থ: 
-  ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে। সেজন্য সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম এগুলো সুপরিবাহী পদার্থ। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ এগুলো হচ্ছে অপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়, এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৯১.
রিমোট কন্ট্রোলের সংকেত পরিবহনে কোন রশ্মি ব্যবহার হয়?
  1. ইনফ্রারেড
  2. এক্স-রে
  3. গামা রশ্মি
  4. অতিবেগুনি
সঠিক উত্তর:
ইনফ্রারেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনফ্রারেড
ব্যাখ্যা

◉ রিমোট কন্ট্রোল (যেমন: টিভি, এসি, ডিভিডি প্লেয়ার) সংকেত পাঠানোর জন্য ইনফ্রারেড রশ্মি ব্যবহার করে।

​অবলোহিত রশ্মি:
- উইলিয়াম হার্শেল ১৮০০ সালে Infrared Ray আবিষ্কার করেন।
- দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গের চেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ অবলোহিত বিকিরণ বা অবলোহিত রশ্মি।
- বর্ণালির 10-6m থেকে 10-3m তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর অবলোহিত বিকিরণের।
- সূর্যের আলো থেকে আমারা যে তাপ পাই তা অবলোহিত বিকিরণ।
- এছাড়া কাঠের আগুন, বৈদ্যুতিক চুলা, গ্যাস বা যে কোন জ্বালানি থেকে উৎপন্ন তাপ মাত্রই অবলোহিত রশ্মি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৯২.
পানিতে ঢিল ফেললে নিচের কোন তরঙ্গের সৃষ্টি হয়?
  1. অগ্রগামী তরঙ্গ
  2. স্থির তরঙ্গ
  3. দীঘল তরঙ্গ
  4. অনুদৈর্ঘ তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
অগ্রগামী তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্রগামী তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
অগ্রগামী তরঙ্গ 
যখন কোনো মাধ্যমের  ভিতর আন্দোলন এক স্তর থেকে অন্য স্তরে তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হতে হতে নির্দিষ্ট বেগে কেবল সামনের দিকে অগ্রসর হয় তখন তাকে অগ্রগামী তরঙ্গ বলে।
 
- পুকুরের পানিতে ঢিল ছোঁড়া হলে ঢেউ পানির মধ্য দিয়ে ক্রমাগত অগ্রসর হতে থাকে। এটি অগ্রগামী তরঙ্গের উদাহরণ।

স্থির তরঙ্গ 
একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব  হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে । 

অনুদৈর্ঘ তরঙ্গ 
যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয় সেটাই দীঘল তরঙ্গ/অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
- বায়ু মাধ্যমে প্রবাহিত শব্দ তরঙ্গ দীঘল তরঙ্গ/অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের একটি উদাহরণ।


উৎস: পদার্থ  বিজ্ঞান, এইচ এস সি পোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৯৩.
রঙিন টেলিভিশনে কোন মৌলিক রংগুলো থাকে? 
  1. বেগুনী, নীল ও সবুজ
  2. লাল, নীল ও সবুজ
  3. লাল, নীল ও হলুদ
  4. সবুজ, হলুদ ও লাল
সঠিক উত্তর:
লাল, নীল ও সবুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল, নীল ও সবুজ
ব্যাখ্যা
- রঙিন টেলিভিশনে লাল, নীল ও সবুজ এই তিনটি মৌলিক রং থাকে। 

টেলিভিশন: 
- ১৯২৬ সালে জন লজি বেয়ার্ড প্রথম টেলিভিশনের মাধ্যমে ভিডিও বা চলমান ছবি পাঠিয়েছিলেন। 
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি আলাদা সিগন্যাল হিসেবে পাঠানো হয়। 
- চলমান ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয় এবং আমাদের চোখে তখন সেগুলোকে আলাদা আলাদা স্থিরচিত্র মনে না হয়ে একটি চলমান ছবি বলে মনে হয়। 
- টেলভিশনে রঙিন ছবি পাঠানোর জন্য টেলিভিশন ক্যামেরা প্রতিটি ছবিকে লাল, সবুজ ও নীল (RGB) এই তিনটি মৌলিক রং-এ ভাগ করে তিনটি আলাদা ছবি তুলে দেয়। 
- টেলিভিশন ক্যামেরার ভেতরে আলো CCD ( Charge Coupled Device) ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তরিত করা হয়। 
- এই বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গ ব্যবহার করে এন্টেনার ভেতর দিয়ে পাঠানো হয়। 
- বর্তমানে ইলেকট্রন গান দিয়ে স্ক্রিনে ছবি তৈরি না করে লাল, সবুজ ও নীল রংয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলইডি ( Light Emitting Diode) -তে বিদ্যুৎ প্রবাহ করে ছবি তৈরি করা হয়। 
- এলইডি টেলিভিশনের ছবির ঔজ্জ্বল্য অনেক বেশি এবং গুণগত মানও অনেক ভালো। 
- এন্টেনার সাহায্যে টেলিভিশনের সিগন্যাল পাঠানো ছাড়াও কো-এক্সিয়াল ক্যাবল দিয়েও সিগন্যাল পাঠানো যায়। 
- এই ধরনের সম্প্রচার ক্যাবল টিভি নামে পরিচিত। 
- এছাড়াও স্যাটেলাইট টিভি নামে এক ধরনের টিভি অনুষ্ঠানের সম্প্রচার করা হয়, এটি মহাকাশে পাঠানো উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি পৃথিবীতে পাঠানো হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৯৪.
শরীরের বিভিন্ন অংশের ইমেজিং করার জন্য কোন যন্ত্র শক্তিশালী রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির চৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে?
  1. ইসিজি
  2. এমআরআই
  3. আলট্রাসনোগ্রাফি
  4. সিটিস্ক্যান
সঠিক উত্তর:
এমআরআই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমআরআই
ব্যাখ্যা
এমআরআই: 
- মানুষের শরীরের প্রায় সত্তরভাগ পানি, যার অর্থ মানুষের শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পানি থাকে। 
- পানির প্রতিটি অণুতে থাকে হাইড্রোজেন এবং হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস হচ্ছে প্রোটন। 
- শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে প্রোটনগুলো চৌম্বকক্ষেত্রের দিক সারিবদ্ধ হয়ে যায়, তখন নির্দিষ্ট একটি কম্পনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ পাঠানো হলে এই প্রোটনগুলো সেই তরঙ্গ থেকে শক্তি গ্রহণ করে তাদের দিক পরিবর্তন করে এবং এই প্রক্রিয়াকে বলে নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স। 
- তার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং বা এমআরআই (MRI: Magnetic Resonance Imaging)। এই যন্ত্রটি দেখতে সিটিস্ক্যান যন্ত্রের মতো কিন্তু এর কার্যপ্রণালী সম্পূর্ণ ভিন্ন। 
- সিটিস্ক্যান যন্ত্রে এক্স-রে পাঠিয়ে প্রতিচ্ছবি নেওয়া হয় কিন্তু এমআরআই যন্ত্রে একজন রোগীকে অনেক শক্তিশালী চৌম্বকক্ষত্রের মাধ্যমে তার শরীরে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ দেওয়া হয়। 

- শরীরের পানির অণুর ভেতরকার হাইড্রোজেনের প্রোটন থেকে ফিরে আসা সংকেতকে কম্পিউটার দিয়ে বিশ্লেষণ করে শরীরের ভেতরকার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়। 
- সিটিস্ক্যান দিয়ে যা কিছু করা সম্ভব, এমআরআই দিয়েও সেগুলো করা সম্ভব। তবে এমআরআই দিয়ে শরীরের ভেতরকার কোমল টিস্যুর ভেতরকার পার্থক্যগুলো ভালো করে বুঝা সম্ভব। 
- সিটিস্ক্যান করতে যে সময়ের দরকার হয় তার তুলনায় একটু বেশি সময় লাগে এমআরআই করতে। 
- সিটিস্ক্যানে এক্স-রে ব্যবহার করা হয় বলে যত কমই হোক তেজস্ক্রিয়তার একটু ঝুঁকি থাকে, যা এমআরআইয়ে সেই ঝুঁকি নেই। 
- শরীরের ভেতর কোনো ধাতব কিছু থাকলে (যেমন: পেস মেকার) এমআরআই করা যায় না, কারণ আরএফ (RF) তরঙ্গ ধাতুকে উত্তপ্ত করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৯৫.
শব্দের গতি কোন মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি?
  1. শূন্য
  2. তরল
  3. কঠিন
  4. বায়বীয়
সঠিক উত্তর:
কঠিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ: 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়।
- তরল পদার্থে শব্দের বেগ কঠিন পদার্থের চেয়ে কম হয়। 
- বায়বীয় পদার্থে সবচেয়ে কম। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উল্লেখ্য,
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৯৬.
ঘর্ষণ বলের দিক কেমন হয়?
  1. গতির দিকে
  2. গতির বিপরীতে
  3. লম্বভাবে
  4. কোন দিক থাকে না
সঠিক উত্তর:
গতির বিপরীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গতির বিপরীতে
ব্যাখ্যা
• ঘর্ষণ বল: 
- যখন কোনো বস্তু অন্য বস্তুর উপর দিয়ে চলতে চেষ্টা করে বা চলতে থাকে তখন বস্তুদ্বয়ের স্পর্শতলে এ গতির বিরুদ্ধে যে বাধাদানকারী বল সৃষ্টি হয়, তাই ঘর্ষণ বল।

• ঘর্ষণ বল সব সময়ই প্রয়োগ করা বলের বিপরীত দিকে কাজ করে অর্থাৎ গতির বিপরীতে কাজ করে।
- সেজন্য স্বাভাবিকভাবেই ঘর্ষণ বল গতিকে কমিয়ে দেয়। 

• ঘর্ষণের সময় তাপ উৎপন্ন হয়। ঘর্ষণ যেমন উপকারী তেমনি অপকারী ও ।
- এই কারনে ঘর্ষণকে বলা হয় প্রয়োজনীয় উপদ্রব।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৩,১৯৭.
কোন পদার্থের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই? 
  1. পরিবাহী পদার্থ 
  2. অপরিবাহী পদার্থ
  3. অর্ধপরিবাহী পদার্থ 
  4. সুপরিবাহী পদার্থ 
সঠিক উত্তর:
অপরিবাহী পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরিবাহী পদার্থ
ব্যাখ্যা

পরিবাহী পদার্থ: 
- ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে, সেজন্য সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম এগুলো সুপরিবাহী পদার্থ। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ এগুলো হচ্ছে অপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৯৮.
বরফের আপেক্ষিক তাপ কোনটি?
  1. 2100 Jkg-1K-1
  2. 1400 Jkg-1K-1
  3. 2000 Jkg-1K-1
  4. 4200 Jkg-1K-1
সঠিক উত্তর:
2100 Jkg-1K-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2100 Jkg-1K-1
ব্যাখ্যা
- বরফের আপেক্ষিক তাপ হচ্ছে- 2100 Jkg-1K-1  । 

আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat): 

- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়। 
যেমন- 0.5 kg পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে 5 kg পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি। 
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়। তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1 kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। 
- তাই 1 kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1 K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে। 
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg-1K-1
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg-1K-1 বলতে বুঝায় 1 kg সীসার তাপমাত্রা 1 K বাড়াতে 130 J তাপের প্রয়োজন। 
- নিচে কয়েকটি পদার্থের আপেক্ষিক তাপ উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৯৯.
শক্তির কোন উৎসটি পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর?
  1. ক) ফসিল ফুয়েল
  2. খ) জিওথার্মাল
  3. গ) বায়োগ্যাস
  4. ঘ) জলবিদ্যুৎ
সঠিক উত্তর:
ক) ফসিল ফুয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফসিল ফুয়েল
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তরে পরিবেশের উপর প্রভাবের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ফসিল জ্বালানি বা তেল, গ্যাস এবং কয়লা। এই তিনটিতেই কার্বনের পরিমাণ অনেক বেশি এবং এগুলাে পুড়িয়ে যখন তাপশক্তি তৈরি হয় তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়, যেটি একটি গ্রিনহাউস গ্যাস।
অর্থাৎ এই গ্যাস পৃথিবীতে তাপকে ধরে রাখতে পারে এবং এ কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে, যেটি বৈশ্বিক উষ্ণতা নামে পরিচিত।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৩,২০০.
গোধূলির কারণ কি?
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ
  3. বিক্ষেপণ
  4. এর কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিক্ষেপণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিক্ষেপণ
ব্যাখ্যা
আলোর বিক্ষেপণ:
- গোধূলির প্রধান কারণ হলো আলোর বিক্ষেপণ।
- আলো কোন মাধ্যমে যাওয়ার পথে মাধ্যমের কণাগুলোর সাথে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দিক পরিবর্তন করে তাকে আলোর বিক্ষেপণ বলে। 
- সূর্যাস্তের সময় সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণা, পানিকণা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কম তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট বেগুনী, নীল, আসমানি প্রভৃতি বর্ণের বিক্ষেপণ বেশি ঘটে।
- আলোর বিক্ষেপণ এর ফলেই আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশের খানিকটা অংশ গাড় লাল দেখায়।

অন্যদিকে -
• আলোর প্রতিফলন:
- আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশকালে দুই মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয়ে যদি পূর্বের মাধ্যমেই ফিরে আসে তবে তাকে আলোর প্রতিফলন বলে।

• আলোর প্রতিসরণ:
- আলোক রশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করে, তখন মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদতলে দিক পরিবর্তন করে। এ ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।