বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মঙ্গলকাব্য

মোট প্রশ্ন৩৭০এই পাতা৬৬প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মঙ্গলকাব্য

PrepBank · পাতা / · ৩০১৩৬৬ / ৩৭০

৩০১.
‘পদ্মাপুরাণ’ নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য-
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
 
• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।
 
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস, পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩০২.
অন্নদামঙ্গল কাব্য কত খণ্ডে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি ছিলেন- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা:
• শিবনারায়ণ,
• কালিকামঙ্গল এবং
• মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৩.
“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে” — এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্য থেকে?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্য সম্পর্কে বিস্তারিত: ১. রচয়িতা ও সময়কাল:
  • ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ১৭৫২-৫৩ সালে অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
  • এই কাব্যের দ্বিতীয়াংশ বিদ্যাসুন্দর, যা প্রেম-কাহিনিভিত্তিক।
২. বৈশিষ্ট্য:
  • ছন্দ ও অলঙ্কারের নিপুণ ব্যবহার: ভারতচন্দ্র সংস্কৃত ও চলিত ভাষার মিশ্রণে কাব্যশৈলী তৈরি করেন।
  • ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক সংমিশ্রণ: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, ঈশ্বরী পাটনী প্রভৃতি চরিত্রের মাধ্যমে সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে।
  • বিখ্যাত পংক্তি:
    • "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে"।
    • "মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন"
    • "হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়" (অতিরঞ্জিত ভাবোক্তি)।
৩. মূল্যায়ন
  • অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি ১৮শ শতকের সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য এবং বাংলা সাহিত্যের মাইলফলক।
  • সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনচিত্র, রসবোধ ও নীতিকথা এতে সুসংহত।
৪. অন্যান্য মঙ্গলকাব্যের সাথে তুলনা:
  • মনসামঙ্গল: আদি কবি কানা হরিদত্ত; পদ্মপুরাণ নামেও পরিচিত।
  • চণ্ডীমঙ্গল: অপর নাম অভয়ামঙ্গল; চণ্ডীদেবীর মাহাত্ম্য কাহিনি।
  • ধর্মমঙ্গল: ধর্মঠাকুরের উপাসনা নিয়ে রচিত।
উৎসসূত্র:
  • লাল নীল দীপাবলি- হুমায়ুন আজাদ;
  • বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
  • বাংলাপিডিয়ার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ।
৩০৪.
‘মঙ্গলকাব্য’ সমূহের বিষয়বস্তু মূলত-
  1. মধ্যযুগের সমাজব্যবস্থার বর্ণনা
  2. লোকসংগীত
  3. ধর্মবিষয়ক আখ্যান
  4. পীর পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
ধর্মবিষয়ক আখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মবিষয়ক আখ্যান
ব্যাখ্যা

⇒ মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত।
- এগুলো খ্রিষ্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।
- বলা হয়ে থাকে, যে কাব্যে দেবতার আরাধনা, মাহাত্ম্য-কীর্তন করা হয়, যে কাব্য শ্রবণেও মঙ্গল হয় এবং বিপরীতটিতে হয় অমঙ্গল; যে কাব্য মঙ্গলাধার, এমন কি, যে কাব্য যার ঘরে রাখলেও মঙ্গল হয় তাকেই বলা হয় মঙ্গলকাব্য।
- 'মঙ্গল' শব্দটির আভিধানিক অর্থ 'কল্যাণ'। যে কাব্যের কাহিনি শ্রবণ করলে সর্ববিধ অকল্যাণ নাশ হয় এবং পূর্ণাঙ্গ মঙ্গল লাভ ঘটে, তাকেই মঙ্গলকাব্য বলা যায়।
- মঙ্গলকাব্যের 'মঙ্গল' শব্দটির সঙ্গে শুভ ও কল্যাণের অর্থসাদৃশ্য থাকা ছাড়াও এসব কাব্যের অনেকগুলো এক মঙ্গলবারে পাঠ আরম্ভ হয়ে পরের মঙ্গলবারে সমাপ্ত হত। বলে এ নামে অভিহিত হয়েছে।
- মঙ্গলকাব্য প্রধানত কাহিনিকেন্দ্রিক। মূল কাহিনির সঙ্গে দেবলীলা, ধর্মতত্ত্ব ও নানা ধরনের বর্ণনায় এসব কাব্য বিপুলায়তন লাভ করেছে। 
- বিভিন্ন দেবদেবীর গুণগান মঙ্গলকাব্যগুলোর উপজীব্য। তন্মধ্যে স্ত্রীদেবতাদের প্রাধান্যই বেশি এবং মনসা ও চণ্ডীই এদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- লৌকিক দেবদেবীর কাহিনি অবলম্বনে রচিত মঙ্গলকাব্যগুলোকে
ক. বন্দনা,
খ. গ্রন্থ রচনার কারণবর্ণনা,
গ. দেবখণ্ড ও
ঘ. নরখণ্ড বা মূলকাহিনি বর্ণনা।

• মোটামুটি এই চারটি অংশ থাকত।
- 'বারমাসী' ও 'চৌতিশা' জাতীয় কাব্যাংশ মঙ্গলকাব্যে স্থান লাভ করত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩০৫.
’ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত’ কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩০৬.
খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা নয় কোনটি?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. গৌরীমঙ্গল
  3. শীতলামঙ্গল
  4. ষষ্ঠীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
গৌরীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌরীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। যথা:
• মনসামঙ্গল,
• চণ্ডীমঙ্গল,
• অন্নদামঙ্গল।
- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে। যথা:
• বন্দনা,
• আতত্মপরিচয়,
• দেবখণ্ড,
• মর্ত্যখণ্ড,
• শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।

• বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত যায়।
- একটি খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা, অপরটি পুরাণাশ্রয়ী ধারা।
- চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল মনসামঙ্গল, ও কালিকামঙ্গল প্রথম ধারায় অন্তর্ভুক্ত।
- অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে শীতলামঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, রায়মঙ্গল, বাশুলীমঙ্গল প্রভৃতি।
- দ্বিতীয় ধারাটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক; যেমন-দেবীমাহাত্ম্য, চত্তিকাবিজয়, দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী, গৌরীমঙ্গল ও গঙ্গামঙ্গল প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৭.
‘কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি’ কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল:
- চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য 'চণ্ডীমঙ্গল’।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি ছিলেন চতুর্দশ শতকের কবি।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী।
- এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে। একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৮.
“হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়” উক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের কোন চরিত্রের বক্তব্য?
  1. লক্ষ্মী
  2. শিব
  3. সীতা
  4. উমা 
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মী
ব্যাখ্যা

- “হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়” উক্তিটি মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্য থেকে নেওয়া।
- এটি মূলত একটি প্রবাদ বাক্য,লক্ষ্মী শিবকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি করেছে। 
- এখানে দেবী লক্ষ্মী শিবকে জানান যে তাদের ঘরে কোনো অন্ন নেই এবং তিনি নিজেই ‘লক্ষ্মীছাড়া’ হয়ে গেছেন।
- এই আক্ষেপের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, যার ভাগ্যে অন্ন বা সমৃদ্ধি নেই, সে যেদিকে হাত দেয়, সব কিছুতেই অসফলতা বা ধ্বংস আসে। 
-------------------
অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল মধ্যযুগের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্য, যা আনুমানিক ১৭৫২-৫৩ সালে রচিত হয়।
- এর রচয়িতা হলেন মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- প্রথম মুদ্রণ করা হয় ১৮১৬ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের মাধ্যমে।
- কাব্যটি মূলত দেবী অন্নদার পূজা, মহিমা এবং আখ্যান প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যটি ছন্দ ও অলঙ্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদক্ষভাবে রচিত।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য এবং সমগ্র বাংলা সাহিত্যের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত:
• প্রথম খণ্ড শিবায়ন অন্নদামঙ্গল,
• দ্বিতীয় খণ্ড বিদ্যাসুন্দর কালিকা মঙ্গল এবং
• তৃতীয় খণ্ড মানসিংহ অন্নদামঙ্গল।

• প্রথম খণ্ডে সীতার দেহত্যাগ, উমারূপে জন্মগ্রহণ, শিবের সঙ্গে বিবাহ, অন্নপূর্ণার মূর্তিধারণ এবং কাশীপ্রতিষ্ঠার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি প্রকাশিত হয়েছে।

• তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহের যশোর অভিযান, রাজা প্রতাপাদিত্যের পরাজয় এবং ভবানন্দের দিল্লি যাত্রার বর্ণনা রয়েছে।

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত পঙক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।”
•“মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।”
• “হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।”
• “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”
• “বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।”

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
বাংলাপিডিয়া।

৩০৯.
'ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি' কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে: প্রথম খণ্ডে- ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি এবং দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

১. প্রথম উপাখ্যান: একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।

২. দ্বিতীয় উপাখ্যান: এই উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর এবং তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১০.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।'- বক্তব্যটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
• চণ্ডীর বহু নামের মধ্যে একটি হলো ‘অন্নদা’। মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্র এ নামেই তাঁর বিখ্যাত কাব্য 'অন্নদামঙ্গল' রচনা করেছেন।

• ভারতচন্দ্র ছিলেন আঠারো শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং তাঁর অন্নদামঙ্গল এ সময়ের শ্রেষ্ঠ কাব্য। কাব্যটি তিন তিনটি স্বতন্ত্র কাহিনিতে পূর্ণতা লাভ করেছে।

• প্রথম খণ্ডে শিবায়ন-অন্নদামঙ্গল, দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দর-কালিকামঙ্গল এবং তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহ-অন্নপূর্ণামঙ্গল কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• প্রথম উপাখ্যানের মূল ঘটনা পৌরাণিক। এতে সতীর দেহত্যাগ, পার্বতীর বিবাহ, শিবের সংসার ও কাশীতে দেবীর অন্নপূর্ণামূর্তি ধারণের বর্ণনা আছে। সেসঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরিহোড়কে ছেড়ে দেবী কিভাবে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ভবানন্দের পিতৃগৃহে উপস্থিত হন সেই লৌকিক কাহিনি।

• দ্বিতীয়টি বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি। কালিকার কৃপায় কিভাবে সুন্দর বিদ্যার পাণিগ্রহণ করেছিলেন এবং মশান থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন সে কাহিনি বর্ণিত হয়েছে এখানে।

• তৃতীয় অংশটি অনেকটা তিহাসিক। মানসিংহ কর্তৃক প্রতাপাদিত্যকে পরাজিত ও বন্দিকরণ এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে ভবানন্দের ‘রাজা-ই-ফরমান’ লাভের ঘটনা এখানে বর্ণিত হয়েছে।

• অন্নদামঙ্গল থেকে তৎকালীন বাঙালি সমাজের অনেক তথ্যই পাওয়া যায়। দেবী ও ঈশ্বরী পাটনীর ঘটনা থেকে দেব-মানুষের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানা যায়। ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ দেবীর নিকট পাটনীর এই বর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুমান করা যায় যে, তখন ন্যূনপক্ষে দুধভাত খাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল বাঙালি জীবন-যাত্রার নিম্নতম মান

কবির বাগ্বিদগ্ধতায় সমৃদ্ধ অনেক বক্তব্য সুপ্রচলিত প্রবচন বা সুভাষিতের মর্যাদা লাভ করেছে। যেমন:
• মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।
• যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
• নীচ যদি উচ্চ ভাষে সুবুদ্ধি উড়ায় হেসে।
• বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সন্তাষে যদি দেখে লক্ষ্মীছাড়া।
• হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়
• কড়িতে বাঘের দুধ মিলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩১১.
'অভয়ামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. দ্বিজ রামদেব
  2. দ্বিজ মাধব
  3. দ্বিজ বংশীদাস
  4. দ্বিজ চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ রামদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ রামদেব
ব্যাখ্যা
অভয়ামঙ্গল: 
- চট্টগ্রামের কবি দ্বিজ রামদেব চণ্ডী আখ্যায়িকা অবলম্বনে রচনা করেন 'অভয়ামঙ্গল'।
- গ্রন্থটির রচনাকাল ১৬৫৩, মতান্তরে ১৬৫৭-৫৯ সাল।
- অভয়ামঙ্গলে দ্বিজ মাধবের সারদা চরিত্রের প্রভাব পরিলক্ষিত হলেও কাব্যটির স্বাতন্ত্র্য আছে।
- বিশেষ করে কবি বহু কৃষ্ণলীলা  বিষয়ক পদ ও ধুয়া সংযোজন করে কাব্যখানিকে অধিকতর গীতিময় রূপদান করেছেন।

উল্লেখ্য, কবি কঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর 'চণ্ডীমঙ্গলের' অপর নামও অভয়ামঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১২.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের একমাত্র পশ্চিমবঙ্গীয় কবি -
  1. কানা হরিদত্ত
  2. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
  3. নারায়ণ দেব
  4. বিপ্রদাস পিপিলাই
সঠিক উত্তর:
কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
ব্যাখ্যা
কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ:
- পশ্চিমবঙ্গের কবি কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ সতের শতকের মধ্যভাগে জীবিত ছিলেন বলে অনুমিত হয়।
- কবির নাম ক্ষেমানন্দ, কেতকাদাস তাঁর উপাধি।
- তিনি 'মনসামঙ্গল' কাব্যের একমাত্র পশ্চিমবঙ্গীয় কবি। 
- তাঁর মতে 'কিআ পাতে জন্ম হৈল কেতকা সুন্দরী।'
- তাই মনসার অপর নাম কেতকা।
- মনসামঙ্গলের অন্যান্য কবির মতে পদ্মপাতায় জন্ম বলে মনসার অপর নাম পদ্মা; কিন্তু ক্ষেমানন্দের মতে কেয়াপাতায় মনসার জন্মের যে বৃত্তান্ত তা অন্যত্র নেই।
- কবি কেতকা বা মনসার দাস হিসেবে নিজেকে মনে করে কেতকাদাস ভণিতা ব্যবহার করেছেন।
- তার কাব্যের নাম কেতকাপুরাণ। 
- ক্ষেমানন্দের মনসামঙ্গল সর্বপ্রথম মুদ্রণ সৌভাগ্য লাভ করে ১৮৪৪ সালে। 
- এজন্য উনিশ শতকের বাঙালি শিক্ষিত সমাজে কবি সবচয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩১৩.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' এই উক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
•'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' বিখ্যাত উক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৪.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা নয় কোনটি?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা নয় - কালিকামঙ্গল। 

• একটি মঙ্গলকাব্যে সাধারণত - ৫ টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।

• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩ টি।
যথা:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

মঙ্গলকাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য / উপ্যনাস মঙ্গলকাব্য হচ্ছে দেবদেবীর মাহাত্ন্য নির্ভর কাব্য।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন - মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৫.
'কালকেতু ও ফুল্লরা' চরিত্র দুটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। এই ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
কালকেতু,
ফুল্লরা,
ধনপতি,
ভাঁড়ুদত্ত,
মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৬.
সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের অংশ নয় কোনটি?
  1. শ্রুতিফল
  2. দেবখণ্ড
  3. দান খণ্ড
  4. আত্মপরিচয়
সঠিক উত্তর:
দান খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দান খণ্ড
ব্যাখ্যা
- সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের অংশ নয় - দান খণ্ড। 
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের ১৩টি খণ্ডের ১টি খণ্ড - দান খণ্ড।

মঙ্গলকাব্য:

- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
যথা:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৭.
মঙ্গলকাব্যের মূল বৈশিষ্ট্য কী?
  1. প্রেম ও বিরহ
  2. পৌরাণিক ও লৌকিক ধর্মমিশ্রণ
  3. দার্শনিক উপস্থাপনা
  4. রাজনীতি ও বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
পৌরাণিক ও লৌকিক ধর্মমিশ্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌরাণিক ও লৌকিক ধর্মমিশ্রণ
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্যের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পৌরাণিক ও লৌকিক ধর্মমিশ্রণ।

• মঙ্গলকাব্য
- মঙ্গলকাব্য মূলত কাহিনিকেন্দ্রিক – অর্থাৎ গল্প বা আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য।
- মূল কাহিনির সঙ্গে দেব-দেবীর লীলা, ধর্মতত্ত্ব, বর্ণনা ইত্যাদি যুক্ত হয়ে কাব্যগুলো বিপুল আয়তনে পরিণত হয়েছে।
- লৌকিক ও পৌরাণিক আদর্শের মিশ্রণ মঙ্গলকাব্যের বড় বৈশিষ্ট্য।
- এই কাব্যে লৌকিক দেবতা, ধর্মবিশ্বাস, ও ব্রাহ্মণ্য ধর্মচিন্তার একধরনের সমন্বয় রয়েছে।
- মঙ্গলকাব্য হলো আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য, যা বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি, লোকবিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন ঘটায়।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৮.
কে মনসামঙ্গলের কবি নন?
  1. ক) হরি দত্ত
  2. খ) বিপ্রদাস
  3. গ) মুকুন্দরাম
  4. ঘ) নারায়ণ দেব
সঠিক উত্তর:
গ) মুকুন্দরাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুকুন্দরাম
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল কাব্য লিখেছেন হরি দত্ত, নারায়ণ দেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস এবং আরো অনেকে।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন মাণিক দত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ভারতচন্দ্র রায় প্রমুখ।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ
৩১৯.
কানা হরিদত্ত কোন মঙ্গল কাব্যের আদি কবি ছিলেন?
  1. ধর্মমঙ্গল 
  2. কালিকামঙ্গল 
  3. চণ্ডীমঙ্গল 
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল কাব্যের আদিকবি:
মনসামঙ্গল তথা মঙ্গলকাব্যের আদি কবি হলেন কানা হরিদত্ত তাঁর কোনো কাব্যের সন্ধান পাওয়া যায় না। তবে কবি বিজয়গুপ্তের 'পদ্মপুরাণ' কাব্যে কানাহরি দত্তের উল্লেখ আছে সে অনুসারে তাঁকে মঙ্গলকাব্যের আদি কবি আদি বলে বিবেচনা করা হয়। 

বিজয়গুপ্তের পদ:
মূর্খে রচিত গীত না জানে মাহাত্ম্য।
প্রথমে রচিত গীত কানা হরিদত্ত।

উল্লেখ্য, 
• নারায়ণ দেব: মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
• বিপ্রদাস পিপিলাই: মনসাবিজয় নামে কাব্য রচনা করেছেন।
• দ্বিজ বংশীদাস: মনসামঙ্গল কাব্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস। তিনি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের জেলায় পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে মনসার গান গাইতেন। মধ্যযুগের প্রাচীনতম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর পিতা তিনি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,।

৩২০.
কালিকামঙ্গল ধারার আদি কবি কে? 
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. কৃষ্ণরাম দাস
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. কবি কঙ্ক
সঠিক উত্তর:
কবি কঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি কঙ্ক
ব্যাখ্যা

কালিকামঙ্গল:
- কালিকামঙ্গল বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ আখ্যানকাব্য।
- এটি প্রধানত দেবী কালীর মাহাত্ম্য এবং বিদ্যাসুন্দর কাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এ ধারাকে বিদ্যাসুন্দর বলা হয়।

- এই ধারার আদি কবি হিসেবে পরিচিত কবি কঙ্ক (জন্ম কিশোরগঞ্জ)। 
- এই ধারার শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- সপ্তদশ শতাব্দীতে কৃষ্ণরাম দাস প্রথম বাংলা ভাষায় কালিকামঙ্গল রচনা করেন।
- এই কাব্য ধারার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন- রামপ্রসাদ সেন, গোবিন্দ দাস এবং সাবিরিদ খান।

- এই কাব্যের মূল বিষয়বস্তু দুই ভাগে বিভক্ত: 
- প্রথমে দেবী কালীর পূজা ও অলৌকিক ক্ষমতার মহিমা প্রচার এবং দ্বিতীয়ত বর্ধমানের রাজকন্যা বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেম, গুপ্ত মিলন, সুন্দরের মৃত্যুদণ্ড এবং পরবর্তীতে দেবীর কৃপায় তাদের মিলন।
- কালিকামঙ্গল কাব্যটি লৌকিক ঐতিহ্য ও রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের সংমিশ্রণ, যা মধ্যযুগীয় বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩২১.
মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র কোনটি?
  1. বীণা দাশ
  2. রাধা
  3. মালিনী
  4. বেহুলা
সঠিক উত্তর:
বেহুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহুলা
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের সংগ্রামী, ব্যক্তিত্ববান চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র - বেহুলা।

মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
-‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
- চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো:
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩২২.
চাঁদ সওদাগর বাংলা কোন কাব্যধারার চরিত্র? 
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদা মঙ্গল
  3. চন্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদ সওদাগর'- মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যধারার চরিত্র।

• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- মনসামঙ্গল  মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
- মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- চাঁদ সওদাগর, সনকা, বেহুলা, লখিন্দর। 

তাছাড়া, 
• চণ্ডীমঙ্গলের কাব্যের চরিত্র- কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারিশীল।
• ধর্মমঙ্গল কাব্যের চরিত্র- কর্পূর সেন, মহামদ পাত্র।
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- ঈশ্বরী পাটনী, হীরা মালিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩২৩.
“মঙ্গলকাব্য” কোন যুগের বাংলা সাহিত্যের নির্দশন?
  1. উত্তর-আধুনিক
  2. আধুনিক
  3. মধ্যযুগ
  4. প্রাচীনযুগ
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগ
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত।
- এগুলো খ্রিষ্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।
- বলা হয়ে থাকে, যে কাব্যে দেবতার আরাধনা, মাহাত্ম্য-কীর্তন করা হয়, যে কাব্য শ্রবণেও মঙ্গল হয় এবং বিপরীতটিতে হয় অমঙ্গল; যে কাব্য মঙ্গলাধার, এমন কি, যে কাব্য যার ঘরে রাখলেও মঙ্গল হয় তাকেই বলা হয় মঙ্গলকাব্য।
- 'মঙ্গল' শব্দটির আভিধানিক অর্থ 'কল্যাণ'। যে কাব্যের কাহিনি শ্রবণ করলে সর্ববিধ অকল্যাণ নাশ হয় এবং পূর্ণাঙ্গ মঙ্গল লাভ ঘটে, তাকেই মঙ্গলকাব্য বলা যায়।
- মঙ্গলকাব্যের 'মঙ্গল' শব্দটির সঙ্গে শুভ ও কল্যাণের অর্থসাদৃশ্য থাকা ছাড়াও এসব কাব্যের অনেকগুলো এক মঙ্গলবারে পাঠ আরম্ভ হয়ে পরের মঙ্গলবারে সমাপ্ত হত। বলে এ নামে অভিহিত হয়েছে।
- মঙ্গলকাব্য প্রধানত কাহিনিকেন্দ্রিক। মূল কাহিনির সঙ্গে দেবলীলা, ধর্মতত্ত্ব ও নানা ধরনের বর্ণনায় এসব কাব্য বিপুলায়তন লাভ করেছে।
- বিভিন্ন দেবদেবীর গুণগান মঙ্গলকাব্যগুলোর উপজীব্য। তন্মধ্যে স্ত্রীদেবতাদের প্রাধান্যই বেশি এবং মনসা ও চণ্ডীই এদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- লৌকিক দেবদেবীর কাহিনি অবলম্বনে রচিত মঙ্গলকাব্যগুলোকে
ক. বন্দনা,
খ. গ্রন্থ রচনার কারণবর্ণনা,
গ. দেবখণ্ড ও
ঘ. নরখণ্ড বা মূলকাহিনি বর্ণনা।

• মোটামুটি এই চারটি অংশ থাকত।
- 'বারমাসী' ও 'চৌতিশা' জাতীয় কাব্যাংশ মঙ্গলকাব্যে স্থান লাভ করত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩২৪.
কোনটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত কাব্য নয়? 
  1. শিবমঙ্গল
  2. গৌরীমঙ্গল
  3. চৈতন্যমঙ্গল
  4. রায়মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যমঙ্গল
ব্যাখ্যা

চৈতন্যমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত কাব্য নয়। 

- বাংলা সাহিত্যের নানা শ্রেণির কাব্যে মঙ্গল কথাটির প্রয়োগ থাকলেও কেবল বাংলা লৌকিক দেবতাদের নিয়ে রচিত কাব্যই 'মঙ্গলকাব্য' নামে অভিহিত হয়।
- বৈষ্ণব সাহিত্যের চৈতন্যমঙ্গল, গোবিন্দমঙ্গল প্রভৃতি মঙ্গল নামধেয় কাব্যের সঙ্গে মঙ্গলকাব্যের কোনো যোগসূত্র নেই।
- প্রকৃতপক্ষে মঙ্গলকাব্যগুলোকে শ্রেণিগত দিক থেকে পৌরাণিক ও লৌকিক এই দু ভাগে ভাগ করা যায়।

• পৌরাণিক শ্রেণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- গৌরীমঙ্গল,
- ভবানীমঙ্গল,
- দুর্গামঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল,
- কমলামঙ্গল,
- গঙ্গামঙ্গল,
- চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

• লৌকিক শ্রেণি মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- শিবায়ন বা শিবমঙ্গল,
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- কালিকামঙ্গল (বা বিদ্যাসুন্দর),
- শীতলামঙ্গল,
- রায়মঙ্গল,
- ষষ্ঠীমঙ্গল,
- সারদামঙ্গল,
- সূর্যমঙ্গল, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।

৩২৫.
''চন্ডীমঙ্গল'' কাব্যের চরিত্র-
  1. ক) সনকা
  2. খ) মুরারি শীল
  3. গ) লখিন্দর
  4. ঘ) মনসা
সঠিক উত্তর:
খ) মুরারি শীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুরারি শীল
ব্যাখ্যা

-সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
-মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
-মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
-মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলোঃ
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

চন্ডীমঙ্গলও মধ্যযুগের মঙ্গল কাব্যের সাহিত্য ধারা।
চন্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহঃ
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ভাড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩২৬.
মঙ্গলকাব্যের তুলনামূলক আধুনিক শাখা কোনটি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।

মঙ্গলকাব্যের প্রধান ৩টি শাখা।
১. মনসামঙ্গল (তুলনামূলকভাবে প্রাচীনতম),
২. চণ্ডীমঙ্গল,
৩. অন্নদামঙ্গল (তুলনামূলকভাবে আধুনিক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩২৭.
’চাঁদ সওদাগর’ কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. শীতলামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ষষ্ঠীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- এক পদ্মপুরাণ বলে অভিহিত করা হয়।
- বাংলার প্রাকৃত জীবন, এবং লৌকিক জীবনাচার থেকে উদ্ভব ঘটেছে, মনসামঙ্গল কাব্যের ।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।

• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৮.
বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত মঙ্গল কাব্যের নাম কী?
  1. পদ্মপুরাণ
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. মনসাবিজয়
  4. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসাবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসাবিজয়
ব্যাখ্যা
মনসাবিজয়':
- মধ্যযুগের 'মনসাবিজয়' কাব্যটি রচনা করেছেন- 'বিপ্রদাস পিপিলাই'।
- বিজয়গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই।
- তিনি বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল(পদ্মপুরাণ) রচনার প্রায় এক বৎসর পরে তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্য রচনা করেন।
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি 'দ্বিজ বংশীদাস'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২৯.
মঙ্গলকাব্য রচনার মূলে উল্লিখিত কারণ কি?
  1. ক) রাজাদেশ প্রাপ্তি
  2. খ) স্বপ্নে দেবী কর্তৃক আদেশ লাভ
  3. গ) রাজা ও সভাসদের মনোরঞ্জন করা
  4. ঘ) রাজকবির দায়িত্ব পালন
সঠিক উত্তর:
খ) স্বপ্নে দেবী কর্তৃক আদেশ লাভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বপ্নে দেবী কর্তৃক আদেশ লাভ
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্যের সাধারণ লক্ষণঃ
১) প্রায় সব কবি স্বপ্নে দেবতার নির্দেশ পেয়ে কাব্য রচনা করেছেন।
২) মঙ্গল কাব্যের নায়ক নায়িকারা সবাই শ্বাপভ্রষ্ট দেবতা
৩) মর্ত্যে পূজা প্রচারের সময় দেবতাদের আচরণ মানুষের মত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৩৩০.
‘ভবানন্দ-মানসিংহ কাহিনী’ কোন মঙ্গলকাব্যের অংশ?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল কাব্যের ভাগ ৩টি।
যথা -
১. অন্নদামঙ্গল
২. বিদ্যাসুন্দর
৩. ভবানন্দ-মানসিংহ কাহিনী

উল্লেখ্য,
অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তিনি আঠারো শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৩৩১.
'ময়ূরভট্ট' কোন মঙ্গলকাব্যের আদি কবি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত। প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।
- ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য ধর্মমঙ্গল কাব্যের ধাররি সূত্রপাত হয়েছে।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি- ১ রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি এবং ২. লাউসেনের কাহিনি। এর মধ্যে লাউসেনের কাহিনিই কাব্যে অধিকতর প্রাধান্য পেয়েছে।

- ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক। তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসের কাহিনি অবলম্বনে 'শ্রীধর্মমঙ্গল'।
- এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন সহদেব, নরসিংহ, হৃদয়রাম, গোবিন্দরাম প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩২.
মঙ্গলকাব্যের বিদ্রোহী নারী চরিত্র কোনটি?
  1. সনকা
  2. ফুল্লরা
  3. বেহুলা
  4. মনসা
সঠিক উত্তর:
বেহুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহুলা
ব্যাখ্যা

• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে যে কাব্যগুলো রচিত হয়েছে তাই মনসামঙ্গল। মনসার অপর নাম কেতকা বা পদ্মা। তাই মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণ। মনসামঙ্গলকাব্য মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম ধারা। এখানের মানুষের সংগ্রামের কাহিনি দেখানো হয়েছে।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি। এছাড়াও বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

'মনসামঙ্গল' কাব্যের চরিত্রগুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- সনকা,
- বেহুলা,
- লখিন্দর।

'মনসামঙ্গল' কাব্যের চরিত্রের বিশ্লেষণ:
• মনসামঙ্গলের কাহিনির মাধ্যমে চাঁদ সদাগরের চরিত্রটি গতানুগতিক ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে বিশিষ্ট হয়ে উঠেছে। নিগৃহীত মানবতার জীবনবাণী রূপে মঙ্গলকাব্যের যে বৈশিষ্ট্য তা এই চরিত্রে রথার্থই প্রতিফলিত হয়েছে। মানবিকতার পরাভব ও আত্মগ্লানিতে পূর্ণ সে যুগে চাঁদ সুজার্গর শক্তিমান বিদ্রোহী হিসেবে অনন্য পরিচয় দান করেছেন। নিগৃহীত জাতির মর্মগত বঞ্চনা, আর্তনাদ ও বিক্ষোভ চাঁদ সদাগরের বিদ্রোহী স্বভাবের মাধ্যমে রূপ লাভ করেছে।

• বেহুলা চরিত্রের মধ্যে বাঙালি নারীত্বের যে প্রতিচ্ছবি আঁকা হয়েছে, তা কেবল ত্যাগ-তিতিক্ষায় সমুজ্জ্বলই নয়, অতন্ত্র আত্মবিশ্বাস ও অমিত বীর্যে ভাস্বর। বেহুলার নারীশক্তি চাঁদ সদাগরের পৌরুষের সমগোত্রীয় বিদ্রোহী। যে আত্মশক্তির প্রাচুর্যে চাঁদ সদাগর বারবার ব্যর্থতার পরেও ভেঙে পড়েন নি, ক্ষুব্ধ আক্রোশে কেবল উন্মত্ত হয়ে উঠেছেন, সেই মানবী শক্তির সার্থক পরিণামরূপে দেবপুরী-প্রত্যাগতা বেহুলার আবির্ভাব।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩৩.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য / উপ্যনাস মঙ্গলকাব্য হচ্ছে দেবদেবীর মাহাত্ন্য নির্ভর কাব্য।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন - মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এর প্রধান শাখা ৩টি— মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে — বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখন্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৪.
কোন মঙ্গলকাব্যে ঐতিহাসিক চরিত্র আছে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: গ) অন্নদামঙ্গল।
-------------------

 • ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে মানসিংহ এবং ভবানন্দ প্রধান চরিত্র হিসেবে উল্লিখিত। এই দুটি চরিত্র ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত।
যেমন- 
মানসিংহ: ঐতিহাসিকভাবে, মানসিংহ ছিলেন মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি, যিনি বাংলায় বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ডে তাঁর কাহিনি ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে মিশে বর্ণিত হয়েছে।
ভবানন্দ: ভবানন্দ মজুমদার বর্ধমানের ঐতিহাসিক জমিদার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত একটি চরিত্র, যা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে কিছুটা কাল্পনিকভাবে
উপস্থাপিত হলেও ঐতিহাসিক ভিত্তি রাখে।

আবার
অন্নদামঙ্গল কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ডে মানসিংহের বাংলায় আগমন এবং রাজা প্রতাপাদিত্যকে দমন করার প্রেক্ষাপটে ভবানন্দের কাছে বর্ধমানের রাজা বীরসিংহের কাহিনি বর্ণিত হয়, যা ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই কারণে, অন্নদামঙ্গল কাব্যে ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি সুস্পষ্ট।
-------------------
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য:

- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

------------------

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

(ক) মনসামঙ্গল: এই কাব্যে দেবী মনসার পূজা এবং চাঁদ সদাগরের কাহিনি বর্ণিত, যা মূলত পৌরাণিক ও কাল্পনিক। এতে স্পষ্ট ঐতিহাসিক চরিত্রের উল্লেখ নেই।

(খ) চণ্ডীমঙ্গল: এই কাব্যে দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি বর্ণিত, যা পৌরাণিক ও লোককথা-নির্ভর। ঐতিহাসিক চরিত্র এতে উল্লেখযোগ্য নয়।

(ঘ) ধর্মমঙ্গল: ধর্ম ঠাকুরের নামে এই মঙ্গলকাব্য সৃষ্ট হয়েছে। ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত - রাজা হরিশ্চন্দ্রের গল্প এবং লাউসেনের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৩৫.
'ভাঁড়ুদত্ত' চরিত্রটি মধ্যযুগের কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ধর্মমঙ্গল কাব্য
  2. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
  3. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  4. মনসামঙ্গল কাব্য
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল' চন্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের লিখিত কাব্য। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 

• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,  
- ফুল্লরা, 
- ধনপতি, 
- ভাঁড়ুদত্ত, 
- মুরারি শীল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৬.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের 'আদি কবি' কবি কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. মুকুন্দরাম
  4. কবিকঙ্কণ
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনী অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী। তিনি ষোল শতকের কবি।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনী রয়েছে।
যথা -
- কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী
- ধনপতি - লহনা - খুলনার কাহিনী।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩৭.
মনসামঙ্গল কাব্যের চাঁদ সদাগর কার ভক্ত ছিলেন?
  1. ক) মনসা দেবীর
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণের
  3. গ) চণ্ডী দেবির
  4. ঘ) শিবের
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিবের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিবের
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল  মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- সর্পদেবী মনসার কাহিনী এর উপজীব্য।
- মনসামঙ্গলের প্রচলিত কাহিনীটি হচ্ছে বণিক চন্দ্রধর বা চাঁদ সওদাগরের সঙ্গে মনসার দ্বন্দ্ব এবং শেষপর্যন্ত চন্দ্রধর কর্তৃক মনসার পূজা প্রদানের মধ্য দিয়ে তার সমাপ্তি।
- চাঁদ সওদাগর চম্পাই নগরের বণিক। 
- বীরপুরুষ, আত্মশক্তিতে অবিচল বিশ্বাসী চাঁদ সওদাগর মহাজ্ঞানী দেবতা শিবের ভক্ত। 
- স্ত্রী সনকা গোপনে মনসা দেবীর পূজা করতেন। 
- এ কাব্যের অন্যান্য চরিত্র বেগুলা, লক্ষীন্দর। 
- মনসামঙ্গলের  আদি কবি  কানা হরিদত্ত,।
- এরপর আর যাঁরা মনসামঙ্গল রচনা করেন তাঁরা হলেন পুরুষোত্তম, নারায়ণদেব (আনু. ১৫শ শতক),  বিজয়গুপ্ত এবং  বিপ্রদাস  পিপিলাই বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলই (১৪৯৪) সর্বাপেক্ষা পরিচিত এবং সাহিত্যিক গুণসম্পন্ন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩৮.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ছিলেন -
  1. চণ্ডীদাস
  2. কৃত্তিবাস
  3. দ্বিজ বংশীদাস
  4. মুকুন্দরাম
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিজ বংশীদাস:
দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।

- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসের পরিচয় তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে,
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি ‘কৃত্তিবাস ওঝা’।
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (কবিকঙ্কন) চণ্ডীমঙ্গল এর রচয়িতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৯.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে বলা হয় -
  1. মুকুন্দচন্দ্র
  2. স্বভাব কবি
  3. কবি কঙ্কণ
  4. কবিরত্ন
সঠিক উত্তর:
স্বভাব কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বভাব কবি
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪০.
মঙ্গলকাব্যসমূহের মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. লোকসংগীত
  2. ধর্মবিষয়ক আখ্যান
  3. সমাজব্যবস্থার বর্ণনা
  4. পীর পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
ধর্মবিষয়ক আখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মবিষয়ক আখ্যান
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত।
- এগুলো খ্রিষ্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।
- বলা হয়ে থাকে, যে কাব্যে দেবতার আরাধনা, মাহাত্ম্য-কীর্তন করা হয়, যে কাব্য শ্রবণেও মঙ্গল হয় এবং বিপরীতটিতে হয় অমঙ্গল; যে কাব্য মঙ্গলাধার, এমন কি, যে কাব্য যার ঘরে রাখলেও মঙ্গল হয় তাকেই বলা হয় মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্য প্রধানত কাহিনিকেন্দ্রিক। মূল কাহিনির সঙ্গে দেবলীলা, ধর্মতত্ত্ব ও নানা ধরনের বর্ণনায় এসব কাব্য বিপুলায়তন লাভ করেছে। 
- বিভিন্ন দেবদেবীর গুণগান মঙ্গলকাব্যগুলোর উপজীব্য।
- তন্মধ্যে স্ত্রীদেবতাদের প্রাধান্যই বেশি এবং মনসা ও চণ্ডীই এদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
যথা:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম অনুসারে,
- লৌকিক দেবদেবীর কাহিনি অবলম্বনে রচিত মঙ্গলকাব্যগুলোতে.
- বন্দনা,
- গ্রন্থ রচনার কারণবর্ণনা,
- দেবখণ্ড ও
- নরখণ্ড বা মূলকাহিনি বর্ণনা। মোটামুটি এই চারটি অংশ থাকত।

কিন্তু,
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে,
একটি মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫ টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।

- 'বারমাসী' ও 'চৌতিশা' জাতীয় কাব্যাংশ মঙ্গলকাব্যে স্থান লাভ করত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৪১.
রাজা রঘুনাথ রায় কাকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. মানিক দত্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. ভারতচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি।
- রাজা রঘুনাথ রায় তাঁকে গুরুরূপে গ্রহণ করেন এবং তাঁর অনুরোধে বিখ্যাত পাঁচালি চন্ডীমঙ্গল রচনা করেন।
- যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতা ও আনুকূল্যে জনৈক প্রসাদ দেব এ কাব্য সঙ্গীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
- তিনি কবি এবং সঙ্গীতশিল্পী উভয়কেই প্রচুর অলংকার সামগ্রী, বিলাসবহুল পোষাক-পরিচ্ছদ এবং ভ্রমণের জন্য ঘোড়া দিয়ে পুরস্কৃত করেন।
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সুকুমার সেন মুকুন্দরামের পাঁচালিকে একটি দুর্লভ শ্রেষ্ঠ পাঁচালি হিসেবে বর্ণনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪২.
চণ্ডীমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. দ্বিজমাধব
  3. কানাহরি দত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪৩.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কোন কবিকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়?
  1. দ্বিজ রামদেব
  2. মানিক দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. দ্বিজমাধব
সঠিক উত্তর:
দ্বিজমাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজমাধব
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পুজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- দ্বিজ রামদেবের অভয়ামঙ্গল কাব্যটিও চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা। 

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়দত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৪৪.
'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ। - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. সারদামঙ্গল
  2. কালিকামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:

- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:

- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪৫.
"আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে"— অন্নদামঙ্গল কাব্যের এই উক্তিটি কার?
  1. মানসিংহ
  2. অন্নদা দেবী
  3. ঈশ্বরী পাটনী
  4. ভবানন্দ
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরী পাটনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরী পাটনী
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী।
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।
- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪৬.
ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. ময়ূরভট্ট
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ময়ূরভট্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়ূরভট্ট
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূরভট্ট।

• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
- প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।
- ধর্মমঙ্গলের প্রচলিত কাহিনী লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

অন্যদিকে,
- অন্নধামঙ্গল কাব্যের কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- রূপরাম চক্রবর্তী ধর্মমঙ্গল কাব্যের কবি।
- কানাহরি দত্ত মনসামঙ্গল কাব্যের আদিকবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪৭.
'ময়ূরভট্ট' কোন ধারার কবি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'ময়ূরভট্ট' — ধর্মমঙ্গল কাব্য ধারার কবি ছিলেন।

• 'ধর্মমঙ্গল' কাব্য:
- ধর্ম ঠাকুরের নামে এই মঙ্গলকাব্য সৃষ্ট হয়েছে।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত - রাজা হরিশ্চন্দ্রের গল্প এবং লাউসেনের গল্প।
- ধর্মমঙ্গল ধারার প্রথম কবি - ময়ূরভট্ট। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'হাকন্দপুরাণ'।
- ধর্মমঙ্গলের দুজন প্রধান কবি রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তী।
- ধর্মমঙ্গল ধারার আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'শ্রীধর্মমঙ্গল'।
ধর্মমঙ্গল ধারার অন্যান্য কবি: রূপরাম চক্রবর্তী, খেলারাম চক্রবর্তী, মানিক রাম, শ্যাম পণ্ডিত, নরসিংহ বসু প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেনও এ ধারার কবি।
• মনসা মঙ্গল কাব্যধারার কবি– কানাহরি দত্ত, নারায়ণদেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ।
• 'অন্নদামঙ্গল’ ধারার কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৩৪৮.
‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’ উক্তিটি কোন চরিত্রের?
  1. লাউসেন
  2. লখিন্দর
  3. ঈশ্বরী পাটনী
  4. বিদ্যাসুন্দর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরী পাটনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরী পাটনী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ঈশ্বরী পাটনী

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী।
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।
- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী, ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র হচ্ছে লাউসেন।
- মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র লখিন্দর। 

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪৯.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) ধনপতি
  2. খ) সনকা
  3. গ) বেহুলা
  4. ঘ) চাঁদ সওদাগর
সঠিক উত্তর:
ক) ধনপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধনপতি
ব্যাখ্যা
• 'বনিক ধনপতি' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

⇒ মনসামঙ্গল কাব্য:
সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- তিনি ১৩শ শতকে জীবিত ছিলেন বলে অনুমান করা হয়।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
 
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

- আরও যাঁরা মনসামঙ্গল রচনা করেন তাঁরা হলেন পুরুষোত্তম, নারায়ণদেব (আনু. ১৫শ শতক), বিজয়গুপ্ত এবং বিপ্রদাস পিপিলাই বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলই (১৪৯৪) সর্বাপেক্ষা পরিচিত এবং সাহিত্যিক গুণসম্পন্ন।
- বিপ্রদাসের গ্রন্থ মনসাবিজয় পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে রচিত বলে গবেষকদের অনুমান। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫০.
'কালকেতু' ও 'ফুল্লরা' কোন মঙ্গলকাব্যের প্রধান চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
 • 'কালকেতু ও ফুল্লরা' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনী অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনী রয়েছে। 
যথা -
- কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী
- ধনপতি সওদাগর, লহনা ও খুল্লনার কাহিনী।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী। তিনি ষোল শতকের কবি।

• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: 
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫১.
মঙ্গলকাব্য মূলত কীসের উপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. ঐতিহাসিক ঘটনা
  2. যুদ্ধবিগ্রহ
  3. দেবমাহাত্ম্য ও সমাজচিত্র
  4. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
সঠিক উত্তর:
দেবমাহাত্ম্য ও সমাজচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবমাহাত্ম্য ও সমাজচিত্র
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
• মঙ্গলকাব্য  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। 
• দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
• এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা,  চন্ডী ও  ধর্মঠাকুর। 
• এঁদের মধ্যে  মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।  
• এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫২.
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রথম বা আদি কবির নাম কী?
  1. ভারতচন্দ্র রায়
  2. দ্বিজমাধব
  3. মানিক দত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। এবং এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫৩.
মনসামঙ্গল কাব্যে ‘বাইশা’ শব্দটি বলতে কী বোঝায়?
  1. মনসামঙ্গলের বাইশটি গানের সংকলন
  2. মনসামঙ্গলের বাইশটি চরিত্র
  3. মনসামঙ্গলের বাইশজন কবির সংকলন
  4. মনসামঙ্গলের বাইশটি অধ্যায়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গলের বাইশজন কবির সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গলের বাইশজন কবির সংকলন
ব্যাখ্যা
বাইশা:
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয় - বাইশা।
- ‘বাইশা’ বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন কবির রচিত কাব্য থেকে বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে যে পদ সংকলন করা হয়েছিল তা ‘বাইশ কবির মনসামঙ্গল’ বলে।
- এই কাব্যে প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- মনসামঙ্গলের এই কাহিনী মূলত নিগৃহীত মানবতার জীবনকথা। মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫৪.
বাংলায় চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনী গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) চৈতন্য-ভাগবত
  2. খ) গৌরচন্দ্রিকা
  3. গ) চৈতন্য-মঙ্গল
  4. ঘ) চৈতন্য-চরিতামৃত
সঠিক উত্তর:
গ) চৈতন্য-মঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চৈতন্য-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই 

শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৩৫৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. নাথ সাহিত্য
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। 
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা,  চণ্ডী ও  ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে  মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।  
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫৬.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।'—এই মনােবাঞ্ছাটি কার?
  1. ভবানন্দের
  2. ভাঁড়ুদত্তের
  3. ঈশ্বরী পাটনীর
  4. ফুল্লরার
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরী পাটনীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরী পাটনীর
ব্যাখ্যা
“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে”- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের অমর এই উক্তি তথা প্রার্থনাটি করেছে ঈশ্বরী পাটনী।
- যখন দেবী অন্নদা তার খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে বর চাইতে বলে ঈশ্বরী পাটনীকে, তখন ঈশ্বরী পাটনী এই প্রার্থনাটি করে।

---------------------
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে।
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫৭.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের কবি নন কে?
  1. মাণিক দত্ত
  2. বিপ্রদাস পিপিলাই
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
সঠিক উত্তর:
মাণিক দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাণিক দত্ত
ব্যাখ্যা
'মনসামঙ্গল' কাব্যের কবি নন- মাণিক দত্ত। 
• 'মাণিক দত্ত' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ষোল শতকের কবি। 

--------------------
• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:

- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত। এছাড়ায়ও বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩৫৮.
নিচের কোনটি মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র নয়?
  1. ক) সায়বেন
  2. খ) চাঁদ সদাগর
  3. গ) সনকা
  4. ঘ) মুরারি শীল
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুরারি শীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুরারি শীল
ব্যাখ্যা
• মুরারি শীল চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র।
- কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ হলো চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো।

• মনসামঙ্গল কাব্য:
- বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে মনসামঙ্গল সম্বন্ধেই প্রাচীনতম অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়।
- এ কাব্যের কাহিনি বাংলার আদিম লোকসমাজে প্রচলিত সর্পপূজার ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- সাপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসা লৌকিক ভয়ভীতি থেকেই এ দেবীর উদ্ভব।
- তাঁর অপর নাম কেতকা ও পদ্মাবতী।
- এই দেবীর কাহিনি নিয়ে রচিত কাব্য মনসামঙ্গল নামে পরিচিত।
- কোথাও তা পদ্মাপুরাণ নামেও অভিহিত হয়েছে।
- চাঁদ সদাগরের প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান। 
- মঙ্গলকাব্য ধারায় মনসামঙ্গল বিশিষ্টতা অর্জন করেছে নিয়তির বিরুদ্ধে মানুষের বিদ্রোহের কাহিনির জন্য। 
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালি পালা।
- এর কবির সংখ্যা যেমন শতাধিক, মুদ্রিত ও অমুদ্রিত পুথির সংখ্যাও বহু।
চাঁদ সদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা, সায়বেন (বেহুলার পিতা) মনসামঙ্গল কাব্যের গুরত্বপূর্ণ চরিত্র। 
 - কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩৫৯.
'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত।
যথা :
- শিবনারায়ণ,
- কালিকামঙ্গল,
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• কালিকামঙ্গল:
কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' বলা হয়। দেবী কালীর মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে।
কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক। এছাড়া, সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন- কালিকামঙ্গল রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬০.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে ষড়যন্ত্রকারী চরিত্র কোনটি?
  1. মুরারী শীল
  2. ভাড়ুদত্ত
  3. ফুল্লরা
  4. কালকেতু
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
ভাড়ুদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাড়ুদত্ত
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে ষড়যন্ত্রকারী চরিত্র- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ভাড়ুদত্ত। 
--------------------
ভাড়ুদত্ত:
- ভাড়ুদত্ত হলো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের সবচেয়ে খল চরিত্র এবং প্রধান ষড়যন্ত্রকারী। 
- সে কালকেতুর রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নানা অঘটন ঘটাতো। 
- এবং ফুল্লরা-কালকেতুর কাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিল।
- ভাড়ুদত্ত এমন একজন চরিত্র, যে নিজের স্বার্থে যে কোনো ধরনের হীন ষড়যন্ত্র করতে দ্বিধা করতো না। 
- তার ধূর্ততা ও কুমন্ত্রণার কারণে তাকে চণ্ডীমঙ্গলের সবচেয়ে কুখ্যাত খলচরিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। 
--------------------------- 
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান শাখা।
- এখানে লৌকিক দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং পৃথিবীতে তাঁর পূজা প্রতিষ্ঠার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- এই ধারার আদি কবি হিসেবে খ্যাত- মানিক দত্ত। 
- এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বিশেষভাবে খ্যাত।
- তাঁর রচনায় চণ্ডীমঙ্গল সর্বাধিক সাহিত্যিক উৎকর্ষ লাভ করে।
- মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলে দেবীমাহাত্ম্যের পাশাপাশি সমসাময়িক বাঙালি সমাজের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন -
- মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেন।

- এ কাব্যের প্রধান চরিত্র হলো -
- খুল্লনা, ফুল্লরা, কালকেতু, ধনপতি, ভাড়ুদত্ত, মুরারী শীল৷ 

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দুটি প্রধান কাহিনির সমন্বয়ে গঠিত—
• ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, যা ‘আখেটিক খণ্ড’ নামে পরিচিত,
• এবং বণিক ধনপতি সদাগর ও খুল্লনার কাহিনি, যা ‘বণিক খণ্ড’ নামে অভিহিত।
-------------------- 
অন্যদিকে,
• মুরারী শীল ধূর্ত বা ঠগ চরিত্র।
• ফুল্লরা মধ্যযুগের সবচেয়ে প্রতিবাদী নারী।
• কালকেতু চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের নায়ক চরিত্র।
• ধনপতি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩৬১.
চৈতন্যদেবের সর্বাপেক্ষা তথ্যসমৃদ্ধ জীবনীগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. খ) চৈতন্য মঙ্গল
  3. গ) চৈতন্য ভাগবত
  4. ঘ) কোনোটিই না
সঠিক উত্তর:
ক) চৈতন্য-চরিতামৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চৈতন্য-চরিতামৃত
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্য-চরিতামৃত চৈতন্যদেবের সর্বাপেক্ষা তথ্যসমৃদ্ধ জীবনীগ্রন্থ। চৈতন্যভাগবত হলো প্রথম জীবনীগ্রন্থ যা রচনা করেন বৃন্দাবন দাস৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩৬২.
'সত্য পীরের পাঁচালি' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কানাহরি দত্ত
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তার রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬৩.
'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের কবি নন কে?
  1. দ্বিজ রামদেব
  2. মুক্তারাম সেন
  3. দাশরথি রায়
  4. ভবানীশঙ্কর দাস
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের কবি নন- দাশরথি রায়।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন। 

----------------------------
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:

- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬৪.
'পদ্মাপুরাণ' কাব্যের রচয়িতা-
  1. সহদেব চক্রবর্তী
  2. নারায়ণ দেব
  3. নিত্যানন্দ চক্রবর্তী
  4. নরসিংহ বসু
সঠিক উত্তর:
নারায়ণ দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণ দেব
ব্যাখ্যা
• নারায়ণ দেব:
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠকবি নারায়ণ দেব কিশোরগঞ্জ জেলার বোরগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ড. আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে, নারায়ণ দেব পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
- কবি নারায়ণ দেবের উপাধি ছিল 'সুকবি বল্লভ'।
- তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মাপুরাণ'।

- কাব্যটি তিন খণ্ডে বিভক্ত।
- প্রথম খণ্ড কবির আত্মপরিচয় ও দেববন্দনা, দ্বিতীয় খণ্ডে পৌরাণিক কাহিনি এবং তৃতীয় খণ্ডে চাঁদ সদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ধর্মমঙ্গল কাব্য রচনা করেন - নরসিংহ বসু।
- শীতলামঙ্গল কাব্যের আদি কবি - নিত্যানন্দ চক্রবর্তী।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য রচনা করেন - সহদেব চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৬৫.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' - পঙক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
⇒ অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ- ভবানন্দ খণ্ড। 
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৬.
'কালকেতু' কোন মঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রথম/ আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।