উত্তর
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যের কবি নন- বলরাম দাস।
• 'বলরাম দাস' বৈষ্ণব সাহিত্য-রচয়িতা। বলরাম দাস ব্রজবুলি ও বাংলা উভয় ভাষাতে পদ রচনা করলেও তার বাংলা পদগুলিই সর্বোৎকৃষ্ট।
• বৈষ্ণব পদাবলির উল্যেখযোগ্য কবি হলেন- বিদ্যাপতি, চণ্ডিদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস, বলরাম দাস। পদাবলি সাহিত্যের বিস্তৃত অঙ্গনে পরবর্তী কালে দীর্ঘদিন ধরে অগণিত পদকর্তা কবিতা রচনা করে গেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- বাসুঘোষ, জগদানন্দ, শশিশেখর, রায় শেখর, রায় বসন্ত, কবিরঞ্জন বা ছোট বিদ্যাপতি প্রমুখ।
---------------------
• মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত। এগুলো খ্রিস্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তিকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল/অন্নদামঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নারায়ণ দেব, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
- মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।