বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মঙ্গলকাব্য

মোট প্রশ্ন৩৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মঙ্গলকাব্য

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৩৭০

২০১.
মঙ্গলকাব্যের কবি নন কে? 
  1. বলরাম দাস
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. নারায়ণ দেব
সঠিক উত্তর:
বলরাম দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলরাম দাস
ব্যাখ্যা

• মঙ্গলকাব্যের কবি নন- বলরাম দাস। 

• 'বলরাম দাস' বৈষ্ণব সাহিত্য-রচয়িতা। বলরাম দাস ব্রজবুলি ও বাংলা উভয় ভাষাতে পদ রচনা করলেও তার বাংলা পদগুলিই সর্বোৎকৃষ্ট। 

• বৈষ্ণব পদাবলির উল্যেখযোগ্য কবি হলেন- বিদ্যাপতি, চণ্ডিদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস, বলরাম দাস। পদাবলি সাহিত্যের বিস্তৃত অঙ্গনে পরবর্তী কালে দীর্ঘদিন ধরে অগণিত পদকর্তা কবিতা রচনা করে গেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- বাসুঘোষ, জগদানন্দ, শশিশেখর, রায় শেখর, রায় বসন্ত, কবিরঞ্জন বা ছোট বিদ্যাপতি প্রমুখ।

---------------------
• মঙ্গলকাব্য:

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত। এগুলো খ্রিস্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তিকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।

- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল/অন্নদামঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।

- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নারায়ণ দেব, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

- মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২০২.
মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদিকবি কবি কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. মানিক দত্ত
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
কানাহরি দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গলের আদি কবি- কানা হরিদত্ত।

• কানাহরি দত্ত:

- কানাহরি দত্ত মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি ।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
- তাতে একটি পঙক্তি আছে: 'হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।' কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রান্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল: আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০৩.
কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব 'কাহিনীকাব্য'?
  1. বৈষ্ণব পদাবলি
  2. খনার বচন
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। 
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা,  চণ্ডী ও  ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে  মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।  
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২০৪.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।' - উক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) চণ্ডীমঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য।
• এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত কিছু পঙক্তি হলো:
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০৫.
মঙ্গলকাব্যে কয়জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ৬১ জন
  2. ১৩ জন
  3. ২৫ জন
  4. ৬২ জন
সঠিক উত্তর:
৬২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬২ জন
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত,মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
- মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২০৬.
“পিপীলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে
কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।।”- উদ্ধৃতাংশটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
“পিপীলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে
কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।।” - মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ‘কালকেতু ও ফুল্লরা উপাখ্যান’ থেকে উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে।

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০৭.
‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আদিকবি ছিলেন-
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) মুক্তারাম সেন
  3. গ) মানিক দত্ত
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
গ) মানিক দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা
‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আদিকবি বলা হয় মানিক দত্ত কে।

মানিক দত্ত ছিলেন  চৈতন্যপূর্বযুগের কবি এবং মালদহের লোক ছিলেন বলে মনে করা হয় ।

- চন্ডীমঙ্গলের দুজন শ্রেষ্ঠ কবি হলেন দ্বিজ মাধব ও  মুকুন্দরাম।
- দুজনের কাব্যই বৈষ্ণব ভাবাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত।

এছাড়া,
- মুকুন্দরাম সমগ্র মঙ্গলকাব্যধারার শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে বিবেচিত।
- মুক্তারাম সেন চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার কবি ছিলেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২০৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য কোনটি?
  1. রামায়ণ
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. চর্যাপদ
  4. প্রাকৃত পৈঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৯.
ধনপতি ও মুরারি শীল - এ চরিত্র দুটি কোথায় পাওয়া যায়?
  1. ক) অন্নদামঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ তিনি ষোল শতকের কবি।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
২১০.
‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য কয়টি খণ্ডে বিভক্ত?
  1. দুই খণ্ডে
  2. তিন খণ্ডে
  3. চার খণ্ডে
  4. ছয় খণ্ডে
সঠিক উত্তর:
তিন খণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন খণ্ডে
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি ছিলেন- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২১১.
ধর্মমঙ্গলের দুজন প্রধান কবি কে?
  1. ঘনরাম চক্রবর্তী
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. রূপরাম চক্রবর্তী
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্ম ঠাকুরের নামে এই মঙ্গলকাব্য সৃষ্ট হয়েছে।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত - রাজা হরিশ্চন্দ্রের গল্প এবং লাউসেনের গল্প।
- ধর্মমঙ্গল ধারার প্রথম কবি - ময়ূরভট্ট। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'হাকন্দপুরাণ'।
- ধর্মমঙ্গলের দুজন প্রধান কবি রূপরাম চক্রবর্তীঘনরাম চক্রবর্তী
- ধর্মমঙ্গল ধারার আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'শ্রীধর্মমঙ্গল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১২.
’নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?’ কোন কাব্যের পঙ্‌ক্তি?
  1. পদ্মাবতী কাব্যের
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের
  3. চর্যাপদের
  4. মঙ্গল কাব্যের
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল কাব্যের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল কাব্যের
ব্যাখ্যা
• ’নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?’ মঙ্গলকাব্যের পঙ্‌ক্তি।
- এটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের পঙ্‌ক্তি।

অন্নদামঙ্গল:
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- তাঁকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, হীরা মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের) কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি, যা সুপ্রচলিত প্রবচন বা সুভাষিতের মর্যাদা লাভ করেছে। যেমন -
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২১৩.
'ভাঁড়ুদত্ত' - এটি কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ এবং এই কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
২১৪.
লৌকিক শ্রেণির মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. কমলামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ভবানীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের নানা শ্রেণির কাব্যে মঙ্গল কথাটির প্রয়োগ থাকলেও কেবল বাংলা লৌকিক দেবতাদের নিয়ে রচিত কাব্যই 'মঙ্গলকাব্য' নামে অভিহিত হয়। বৈষ্ণব সাহিত্যের চৈতন্যমঙ্গল, গোবিন্দমঙ্গল প্রভৃতি মঙ্গল নামধেয় কাব্যের সঙ্গে মঙ্গলকাব্যের কোন যোগসূত্র নেই।
প্রকৃতপক্ষে মঙ্গলকাব্যগুলোকে শ্রেণিগত দিক থেকে পৌরাণিক ও লৌকিক এই দু ভাগে ভাগ করা যায়।

• পৌরাণিক শ্রেণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, অন্নদামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।
লৌকিক শ্রেণি হলো: শিবায়ন বা শিবমঙ্গল, মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বা বিদ্যাসুন্দর), শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সারদামঙ্গল, সূর্যমঙ্গল প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাদেশের ইতিহাস ২য় খণ্ড (মধ্যযুগ) রমেশচন্দ্র মজুমদার।

২১৫.
চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম -
  1. মানিক দত্ত
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. কানা হরিদত্ত
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি। কাব্যের দুটি কাহিনি রয়েছে।

কাহিনি সংক্ষেপ:
- কাব্যে চণ্ডীর ইচ্ছে হয়েছিলো পৃথিবীতে তাঁর পুজো প্রচারের। সেজন্য তাঁর স্বামী শিবকে সে অনুরোধ করে শিবের একনিষ্ট উপাসক "নীলাম্বর"কে পৃথিবীতে পাঠাতে। কিন্তু বিনা অপরাধে তাকে পাঠাতে শিব রাজি হয় নি।
- ষড়যন্ত্র করে 'চণ্ডী' নীলাম্বরকে পৃথিবীতে পাঠায় এবং পরবর্তীতে সে কালকেতু নামে 'ধর্মকেতু' নামর এক ব্যাধের ঘরে জন্ম নেয়। স্বর্গে তাঁর স্ত্রী 'ছায়া' পৃথিবীতে জন্ম নেয় 'ফুল্লুরা' নামে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২১৬.
মঙ্গলকাব্যের ছন্দের ধরন কোনটি?
  1. ত্রিপদী
  2. ছন্দপয়ার 
  3. মাত্রাবৃত্ত 
  4. ক+খ 
সঠিক উত্তর:
ক+খ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+খ 
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি আখ্যানধর্মী কাব্য। 
- এই কাব্যের মূল সাধারণত দেব-দেবী ও তাদের আখ্যানভাগ।
- এই যুগের কবিরা স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে কাব্য রচনা শুরু করতেন এবং প্রায়শই সর্বসিদ্ধিদাতা গণেশ, পিতা-মাতা বা রাজাদের স্তুতি দিয়ে কাহিনি শুরু হত।
- মঙ্গলকাব্যের কাহিনিতে নায়করা সাধারণত স্বর্গভ্রষ্ট বা শাপভ্রষ্ট দেবতা, যারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে মর্ত্যে মানুষ রূপে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাদের স্ত্রীও একইভাবে জন্ম নেন।
- মর্ত্যে তারা মানুষের মতো আচরণ করেন এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে দেবীর পূজা প্রচারের পরে শাপমুক্ত হয়ে আবার স্বর্গে ফিরে যান।

- মঙ্গলকাব্য সমাজ ও ধর্মের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
- এতে দেখা যায় দুঃখের কাহিনি, বারমাসী গান, চৌতিশা, নারীর পতি নিন্দা, রন্ধনশিল্প ইত্যাদির বর্ণনা।
- কাব্যটি ছন্দপয়ার ও ত্রিপদী আকারের হয়, যা মূলত পাঁচালি ধরনের এবং মঞ্চে উপস্থাপন করা হত।

- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা তিনটি:
- মনসামঙ্গল – তুলনামূলকভাবে প্রাচীনতম।
- চণ্ডীমঙ্গল। 
- অন্নদামঙ্গল – তুলনামূলকভাবে আধুনিক।

- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের পাঁচটি অংশ থাকে:
- বন্দনা – দেবতাদের বন্দনা ও প্রার্থনা।
- আত্মপরিচয় – নায়কের পরিচয়।
- দেবখণ্ড – দেবতার কাহিনি ও মহিমা।
- মর্ত্যখণ্ড – নায়ক-নায়িকার মর্ত্যজীবন।
- শ্রুতিফল – নৈতিক শিক্ষা ও কাহিনীর ফলাফল।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১৭.
মঙ্গলকাব্যের লেখক নন কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. মানিক দত্ত
  4. কাশীরাম দাস
সঠিক উত্তর:
কাশীরাম দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
• কাশীরাম দাস মঙ্গলকাব্যের লেখক নন।

• কাশীরাম দাস:
- কাশীরাম দাস মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি।
- তিনি মহাভারত এর বাংলা অনুবাদক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি সংস্কৃত ‘মহাভারত’-এর শ্রেষ্ঠ বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর রচিত বাংলা ‘মহাভারত’ বাংলা সাহিত্যে একটি মাইলফলক।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ- 
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা। তাঁর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ বাংলা সাহিত্যে একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্য, যা চণ্ডী দেবীর মাহাত্ম্য ও সমাজের চিত্র তুলে ধরে।

• বিজয় গুপ্ত মনসামঙ্গল কাব্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি। তাঁর রচিত ‘মনসামঙ্গল’ মনসা দেবীর পূজা ও মাহাত্ম্য প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এটি মঙ্গলকাব্যের অন্যতম ধারা।

• মানিক দত্ত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি। তিনি চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রাথমিক রচয়িতাদের একজন। 

---------------
মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধ্যান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৮.
মঙ্গলকাব্যে কবি নন কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. জয়দেব
  3. দ্বিজমাধম
  4. ঘনরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যে কবি নন- জয়দেব। 
- 'জয়দেব' ছিলেন বৈষ্ণব পদাবলী কবি। 

---------------
• মঙ্গলকাব্য:

- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য। ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।

- মঙ্গলকাব্য কাব্যের প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে এই কাব্যগুলো রচনা করেছেন। এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি। মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।

- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।
                                                                                                                    
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২১৯.
কার আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন?
  1. রাজা শিবসিংহ
  2. লক্ষণ সেন
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. রাজা রাজবল্লভ
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা

‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২২০.
জীবনী সাহিত্যের ধারা কার জীবনকাহিনীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে?
  1. শ্রীচৈতন্যদেব
  2. শ্রীকৃষ্ণ
  3. বিদ্যাপতি
  4. ধর্মঠাকুর
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
• শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।

-------------------
• চৈতন্য জীবনী:
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

চৈতন্যদেবের বাংলা জীবনী:
• বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
• বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।
• বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২১.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’- পঙক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
⇒ অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২২.
'বেহুলা-লক্ষিন্দরের কাহিনী' পাওয়া যায় কোন মঙ্গলকাব্যে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২২৩.
'লাউসেনের কাহিনি' কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত। প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।
- ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য ধর্মমঙ্গল কাব্যের ধাররি সূত্রপাত হয়েছে।
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি-১ রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি এবং ২. লাউসেনের কাহিনি। এর মধ্যে লাউসেনের কাহিনিই কাব্যে অধিকতর প্রাধান্য পেয়েছে।

- ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক। তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসের কাহিনি অবলম্বনে 'শ্রীধর্মমঙ্গল'।

এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন সহদেব, নরসিংহ, হৃদয়রাম, গোবিন্দরাম প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২২৪.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান ধারা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল কাব্য:
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয় - বাইশা।
- ‘বাইশা’ বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন কবির রচিত কাব্য থেকে বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে যে পদ সংকলন করা হয়েছিল তা ‘বাইশ কবির মনসামঙ্গল’ বলে।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- মনসামঙ্গলের এই কাহিনি মূলত নিগৃহীত মানবতার জীবনকথা।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২২৫.
মঙ্গলকাব্যের মধ্যে কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. কালিকামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
 - 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
 - চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গর ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।
- অপরাপর মঙ্গলকাব্যে যেখানে একটি কাহিনি বর্তমান, 'চণ্ডীমঙ্গল' এর ব্যতিক্রম, এতে আছে দুটি কাহিনি।
- কাব্যের কাহিনি দুই খণ্ডে বিভক্ত।
- প্রথম-আক্ষেটিক খণ্ড এবং দ্বিতীয়- বণিক খণ্ড।
- প্রথম খণ্ডে আক্ষেটিক বা ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি এবং দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ধর্মমঙ্গল কাব্যেরও দুটি কাহিনি রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২২৬.
"জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী" কোন কবির উক্তি?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. মোজাম্মেল হক
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ’জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।’ - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের পঙ্‌ক্তি।

• অন্নদামঙ্গল:
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- তাঁকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, হীরা মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের) কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি, যা সুপ্রচলিত প্রবচন বা সুভাষিতের মর্যাদা লাভ করেছে।
যেমন -
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২২৭.
‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি?
  1. কেতকামঙ্গল
  2. শিবনারায়ণ
  3. কালিকামঙ্গল
  4. মানসিংহ-ভবানন্দ
সঠিক উত্তর:
কেতকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেতকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের খণ্ড নয়- কেতকামঙ্গল।

---------------------
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:

- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে।
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২২৮.
ড. সুকুমার সেন ‘উপকথা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন নিচের কোনটিকে?
  1. ক) চন্ডীমঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ড. সুকুমার সেন 'ধর্মমঙ্গল' কাব্যকে ‘উপকথা’ বা ‘কেরামতি কাহিনি’ বলে উল্লেখ্য করেছেন।
• এছাড়া তিনি বলেন-
- বাংলা সাহিত্যে যদি মহাকাব্য বলিয়া যদি কিছু থাকে তবে তাহা ধর্মমঙ্গল।
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। 
- এই কাব্যে প্রায় বিশ জন কবি ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্মমঙ্গলের প্রচলিত কাহিনী লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
২২৯.
দেবতার পূজা প্রচারের জন্য কোনটি সৃষ্টি হয়েছে? 
  1. ক) চণ্ডীমঙ্গল
  2. খ) সারদামঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
ধর্মঠাকুর পুরুষ। ধর্মঠাকুরকে পূজার উদ্দেশ্যে এ কাব্য লেখা হয়। 
এ কাব্যের দুটি কাহিনি :
- রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি
- লাউসেনের কাহিনি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি কবি ময়ূরভট্ট। 
- ধর্মমঙ্গরের শ্রেষ্ট ঘনরাম চক্রবর্তী। 

উৎস : চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
২৩০.
শীতলামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. অকিঞ্চন চক্রবর্তী
  2. নিত্যানন্দ চক্রবর্তী
  3. মাণিকরাম গাঙ্গুলী
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
নিত্যানন্দ চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যানন্দ চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
নিত্যানন্দ চক্রবর্তী:
- কবি আঠার শতকের শেষ পাদে বর্তমান ছিলেন।
- তিনি মেদিনীপুরের অন্তর্গত কাশীযোড়ার রাজা রাজনারায়ণের সভাসদ ছিলেন।
- শীতলামঙ্গল কাব্যের আদি কবি নিত্যানন্দ চক্রবর্তী।
- তিনি ১৭৭৭-৮৩ সালের মধ্যে শীতলামঙ্গল রচনা করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়।
- কবির ভাষা সুমার্জিত এবং কিছুটা আধুনিকতার পরিচায়ক।
- তাঁর রচনা সরল।

অন্যদিকে,
• চণ্ডীমঙ্গলের সর্বশেষ কবি - অকিঞ্চন চক্রবর্তী।
• ধর্মমঙ্গল ও শীতলামঙ্গল কাব্য রচনা করেন - মাণিকরাম গাঙ্গুলী।
• ধর্মমঙ্গল ধারার কবি - রূপরাম চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৩১.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কোন কবিকে'স্বভাব কবি' বলা হয়?
  1. কবি দ্বিজ রামদেব
  2. কবি মানিক দত্ত
  3. কবি ভবানীশঙ্কর দাস
  4. কবি দ্বিজ মাধব
সঠিক উত্তর:
কবি দ্বিজ মাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি দ্বিজ মাধব
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩২.
মঙ্গলকাব্যে কয় জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ৬০ জন
  2. ৬২ জন
  3. ৫২ জন
  4. ৫৩ জন
সঠিক উত্তর:
৬২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬২ জন
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য। ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।

- মঙ্গলকাব্য কাব্যের প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে এই কাব্যগুলো রচনা করেছেন। এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি। মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।

- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৩৩.
মঙ্গলকাব্যের তুলনামূলকভাবে প্রাচীনতম শাখা কোনটি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।

মঙ্গলকাব্যের প্রধান ৩টি শাখা।
১.মনসামঙ্গল (তুলনামূলকভাবে প্রাচীনতম),
২. চণ্ডীমঙ্গল,
৩. অন্নদামঙ্গল (তুলনামূলকভাবে আধুনিক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২৩৪.
মঙ্গলকাব্যের প্রথম অংশের নাম কী ?
  1. শ্রুতিফল
  2. বন্দনা
  3. মর্ত্যখন্ড
  4. দেবখণ্ড
সঠিক উত্তর:
বন্দনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দনা
ব্যাখ্যা
• মঙ্গকাব্য:
মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
পনেরো থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
•মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি, ঘনরাম চক্রবর্তী।
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

• একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখন্ড,
- শ্রুতিফল ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৩৫.
বিদ্যাসুন্দর কাহিনি নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• কালিকামঙ্গল কাব্য:
- কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে
'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বলে।

- কালিকামঙ্গল নামে পরিচিত কাব্যধারা মঙ্গলকাব্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যথার্থ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কালিকামঙ্গলের নামে এ কাব্যে বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি পরিবেশিত হয়েছে। এটা বিদ্যাসুন্দর কাহিনি নামে পরিচিত।

- তন্ত্রশাস্ত্রে কালী শক্তিদেবতা চণ্ডীরই রূপভেদ মাত্র। কিন্তু পরবর্তী কালে নিম্নস্তরের অনার্য সমাজ থেকে কালিকাদেবীর আবির্ভাব ঘটেছে। চণ্ডীর সঙ্গে কালিকার মিল থাকলেও কাব্যরচনায় কোন সামঞ্জস্য নেই। কালিকামঙ্গলের কালিকার মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা করা মুখ্য উদ্দেশ্য নয়, বরং বিদ্যা ও সুন্দরের গোপন প্রণয়কাহিনি এ কাব্যের প্রধান উপজীব্য।

কালিকামঙ্গলের কবিগণ:
বিদ্যাসুন্দরের এই প্রেমকাহিনি অবলম্বনেই কালিকামঙ্গল কাব্য রচিত হয়েছে। মূল কাহিনি কাশ্মিরের বিখ্যাত কবি বিলহন কর্তৃক তাঁর 'চৌরপঞ্চাশিকা' কাব্যে বার শতকে সংস্কৃতে বিধৃত হয়েছিল। ক্রমে চৌরপঞ্চাশিকার কাহিনি বাংলায় এসে প্রণয়কাহিনিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে কালিকামঙ্গলে স্থান পেয়েছে।
কালিকামঙ্গল বা বিদ্যাসুন্দর কাব্যের আদি কবি হিসেবে কবি কঙ্ককে মনে করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলার রাজ্যেশ্বরী নদীর তীরে বিপ্রগ্রামে কবির জন্ম। তাঁর জীবনের করুণ ও বিচিত্র কাহিনি অবলম্বনে রচিত লোকগাঁথা 'কঙ্ক ও লীলা' নামে ময়মনসিংহ গীতিকায় স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৩৬.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২৩৭.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়' বিখ্যাত এই ভাবদ্যোতক প্রবচন এর কবি কে?
  1. বিজয় গুপ্ত
  2. ভারত চন্দ্র
  3. বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
ভারত চন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত চন্দ্র
ব্যাখ্যা
• 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' বিখ্যাত এই ভাবদ্যোতক প্রবচন এর কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর

অন্নদামঙ্গল:
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- তাঁকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, হীরা মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের) কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি, যা সুপ্রচলিত প্রবচন বা সুভাষিতের মর্যাদা লাভ করেছে।
যেমন -
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৩৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য কোনটি?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। 
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য
- এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও  ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে  মনসা ও চণ্ডীএই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।  
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৩৯.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতার মধ্যে কাদের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি?
  1. ধর্মঠাকুর ও শিব
  2. সূর্য ও গণেশ
  3. লক্ষ্মী ও সরস্বতী
  4. মনসা ও চণ্ডী
সঠিক উত্তর:
মনসা ও চণ্ডী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসা ও চণ্ডী
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। 
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা,  চণ্ডী ও  ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে  মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।  
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৪০.
চাঁদ সওদাগর বাংলা কোন কাব্যধারার প্রতিবাদী চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

চাঁদ সওদাগর বাংলা মনসামঙ্গল কাব্যধারার চরিত্র।

• মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল বাংলা মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যধারার সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় ধারা।
- ‘মনসামঙ্গল কাব্য’-এর আদি কবি কানহরিদত্ত হলেও শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে স্বীকৃত বিজয়গুপ্ত।
- তিনি ‘পদ্মপুরাণ’ নামে এই কাব্য রচনা করেন, যেখানে দেবী মনসার জন্ম ও চাঁদ সওদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এছাড়া এটি সর্পদেবী মনসার পূজা প্রতিষ্ঠা, তাঁর মাহাত্ম্য, শক্তি ও মানবজীবনে তাঁর প্রভাবকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।
- কাহিনীর মূল চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
- তিনি প্রথমে মনসাকে তুচ্ছ করলেও পরে দেবীর অলৌকিক শক্তি স্বীকার করে নেন।
- এই বিরোধ, সংকট ও গ্রহণের মধ্য দিয়েই কাব্যের গল্প এগোতে থাকে।
- মনসামঙ্গলে কেবল পৌরাণিক আখ্যানই নয়, সমাজবাস্তবতার দিকও প্রকাশ পেয়েছে।
- চাঁদ ও মনসার দ্বন্দ্বে আর্য–অনার্য সংঘাত, দেব–মানব বিরোধ, এবং সমাজের শ্রেণী-বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছিল।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র :
• দেবী মনসা,
• চাঁদ সওদাগর,
• বেহুলা,
• লক্ষিন্দর,
• সনকা ও
• নেতাইধোপানি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যে চাঁদ সওদাগর সর্বাধিক প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হিসেবে বিবেচিত;
- আর বেহুলা সেই যুগের সর্বাধিক প্রতিপ্রাণা নারী চরিত্র— যিনি স্বামীর প্রাণ রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত ছিলেন

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম।
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

২৪১.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ধারার কোন কাব্যে 'রাজা হরিশচন্দ্রের কাহিনী' আছে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ধর্মমঙ্গল

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

২৪২.
'খুল্লনা' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
চন্ডীমঙ্গল  মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- চন্ডীদেবীর কাহিনী এর উপজীব্য।
- এই চন্ডীদেবীও মূলত অনার্যসম্ভূতা, পরে বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রের দেবকল্পনার প্রভাবে পর্যায়ক্রমে পৌরাণিক দেবতায় পরিণত হন।
- এর বিষয়বস্ত্ত দুটি সামাজিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে।
- প্রথমটি কালকেতু-ফুল্লরার জীবনকথা এবং
- দ্বিতীয়টি ধনপতি-লহনা-খুল্লনার কাহিনী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪৩.
'চণ্ডীমঙ্গল’ ধারার প্রথম কবি কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. কানাহরি দত্ত
  3. ঘনরাম চক্রবর্তী
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• মনসামঙ্গলকাব্যের আদি কবি কানাহরি দত্ত।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪৪.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম কী?
  1. পদ্মপুরাণ
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. পদ্মাবতী
  4. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
পদ্মপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মপুরাণ
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- 'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মপুরাণ'।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই
- মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।

এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র হলো বেহুলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪৫.
মঙ্গলকাব্যে কতজন কবির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ৪২ জন
  2. ৬৭ জন
  3. ৪৬ জন
  4. ৬২ জন
সঠিক উত্তর:
৬২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬২ জন
ব্যাখ্যা
• মঙ্গকাব্য:
মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
•মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি, ঘনরাম চক্রবর্তী।
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

• একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখন্ড,
- শ্রুতিফল ।

- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৬.
নিচের কোন কাব্যটি খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. গঙ্গামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. গৌরীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়।
যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।

• খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা।
ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
২৪৭.
মঙ্গলকাব্যের লেখক ছিলেন না কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. দ্বিজমাধম
  4. মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য: 
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।

• মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধ্যান পাওয়া যায়।
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

তাদের মধ্যে,  
- কানাহরি দত্ত মনসামঙ্গল ধারার কবি ছিলেন।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।

অন্যদিকে,
মঙ্গলকাব্যের কবি নন- 'মালাধর বসু'।
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৮.
মনসামঙ্গল কাব্যগুলোকে অন্য কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) কেতকামঙ্গল
  2. খ) পদ্মাপুরাণ
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) পদ্মাদেবী
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মাপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মাপুরাণ
ব্যাখ্যা
• ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’

• মনসামঙ্গল
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য।
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালী পালা।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- মঙ্গলকাব্যের প্রাচীন্তম ধারা।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
২৪৯.
'ফুল্লরা এবং ধনপতি" কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫০.
নিম্নলিখিত কবিদের মধ্যে ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের কবি নন কে?
  1. আদি রূপরাম
  2. মানিকরাম
  3. বিদ্যাপতি
  4. খেলারাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) বিদ্যাপতি
- বৈষ্ণব পদাবলির অবাঙালি কবি হচ্ছে বিদ্যাপতি।
- তিনি মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন ।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।
- ধর্মমঙ্গলের অন্যান্য কবিরা হচ্ছেন- আদি রূপরাম, খেলারাম চক্রবর্তী, মানিকরাম, রূপরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

২৫১.
“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” উক্তিটি কোন কাব্যে পাওয়া যায়?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ মধ্যযুগের শেষ এবং শ্রেষ্ঠ মঙ্গলকাব্য।
- এই কাব্যটি মূলত দেবী অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্য প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত।
- কাহিনীটি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:
• প্রথম ভাগে শিব ও পার্বতীর পৌরাণিক কাহিনী এবং অন্নপূর্ণা দেবীর মাধ্যমে ভবানন্দ মজুমদারের গৃহে পূজা গ্রহণ বর্ণিত হয়েছে; 
• দ্বিতীয় ভাগে বর্ধমানের রাজকন্যা বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেমলীলা বর্ণিত হয়েছে;
• এবং তৃতীয় ভাগে মানসিংহের মাধ্যমে প্রতাপাদিত্যর পরাজয় এবং ভবানন্দের রাজ্য ও সম্মান অর্জনের ঐতিহাসিক আখ্যান  বর্ণিত হয়েছে।
-------------------------------------
ঈশ্বরী পাটনী:
- “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” — এই প্রসিদ্ধ পঙক্তি মধ্যযুগের শেষবর্তী বাংলা কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্য থেকে নেওয়া।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি এবং অন্নদামঙ্গল কাব্যর রচয়িতা।
- কাব্যের প্রথম খণ্ড ‘অন্নদা-মাহাত্ম্য’ বা ‘পাটুনী খণ্ড’-এ এই প্রার্থনা প্রকাশ করেছেন ঈশ্বরী পাটনী।
- এতে তিনি দেবী অন্নপূর্ণার কাছে তার সন্তানের জন্য পুষ্টি, সচ্ছল জীবন এবং অভাবমুক্ত জীবন কামনা করেছেন।

- ঈশ্বরী পাটনী ছিলেন সাধারণ পারঘাটার মাঝি।
- তিনি গঙ্গা নদী পারাপারে মানুষের সহায়তা করতেন।
- ঈশ্বরী পাটনীকে নিয়ে ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল কাব্যে একটি উপাখ্যান লিখেছেন।
- কাব্য অনুসারে, দেবী অন্নপূর্ণা ছদ্মবেশে নদী পার হতে চাইলে, তিনি প্রথমে দেবীর পরিচয় জানতেন না এবং পার করাতে দ্বিধা বোধ করেন।
- পরে তিনি ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দেবীকে পারাপার করান।
- তাঁর অকৃত্রিম ভক্তি দেখে দেবী অন্নপূর্ণা ঈশ্বরীকে আশীর্বাদ দেন, যাতে তার সন্তান “দুধে-ভাতে” থাকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২৫২.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কত শতকের কবি?
  1. আঠারো
  2. ষোলো
  3. সতেরো
  4. পনেরো
সঠিক উত্তর:
আঠারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঠারো
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'সত্যনারায়ণের পাঁচালী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫৩.
মঙ্গলকাব্যের শাখা কোনটি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা

- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।

মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
১. মনসামঙ্গল,
২. চণ্ডীমঙ্গল,
৩. অন্নদামঙ্গল।

- এছাড়াও কালিকামঙ্গল, ধর্মমঙ্গল ইত্যাদি কিছু অপ্রধান মঙ্গলকাব্য রয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৫৪.
'ভাড়ুদত্ত' কোন মঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'ভাঁড়ুদত্ত' 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের বিখ্যাত চরিত্র।

• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
-এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
• ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: হরিশ্চন্দ্র ও লাউসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৫৫.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র কোনটি? 
  1. চাঁদ সওদাগর
  2. ভবানন্দ
  3. মালিনী
  4. কালকেতু
সঠিক উত্তর:
কালকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালকেতু
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র হচ্ছে কালকেতু। 

চণ্ডীমঙ্গল:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পুজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়দত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

২৫৬.
মহাভারতের মূল রচিয়তা কে?
  1. ক) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. খ) কাশীরাম দাস
  3. গ) কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  4. ঘ) কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
ব্যাখ্যা
- ‘মহাভারত’ পৃথিবীর চারটি জাত মহাকাব্যের একটি। 
- ‘মহাভারত’এর মূল রচয়িতা এর রচয়িতা কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- বাংলা ভাষায় মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হলেন 'কাশীরাম দাস'। বাংলা ভাষায় মহাভারত প্রথম অনুবাদ করেন 'কবীন্দ্র পরমেশ্বর'।
- 'কৃত্তিবাস ওঝা' রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
২৫৭.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রথম খণ্ড কোনটি?
  1. হরিশ্চন্দ্রের গল্প
  2. ধনপতি সওদাগরের কাহিনি
  3. লাউ সেনের গল্প
  4. কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. প্রথম খণ্ড একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যান ধনপতি সওদাগরের কাহিনি। কাহিনির চরিত্র- নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫৮.
'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের ভাগ ৩টি।
যথা -
১. অন্নদামঙ্গল, 
২. বিদ্যাসুন্দর, 
৩. মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান। 
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো - 
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫৯.
দ্বিজ বংশীদাস কোন কাব্যের অন্যতম কবি?
  1. অভয়ামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৬০.
‘মানসিংহ’ কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  2. মনসামঙ্গল কাব্য
  3. রামায়ণ
  4. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের শেষ কবি, ভারতচন্দ্র কতৃক রচিত মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম কাব্য অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র মানসিংহ।
এই কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো,
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যা,
- সুন্দর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।

২৬১.
সবচেয়ে প্রাচীন মঙ্গলকাব্য ধারা কোনটি?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. শিবমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মনসামঙ্গল

মনসামঙ্গল:
- বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে মনসামঙ্গল সম্বন্ধেই প্রাচীনতম অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়।
- এ কাব্যের কাহিনি বাংলার আদিম লোকসমাজে প্রচলিত সর্পপূজার ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- সাপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসা-লৌকিক ভয়ভীতি থেকেই এ দেবীর উদ্ভব।
- এই দেবীর কাহিনি নিয়ে রচিত কাব্য মনসামঙ্গল নামে পরিচিত।
- কোথাও তা পদ্মাপুরাণ নামেও অভিহিত হয়েছে।
- চাঁদ সদাগরের বিদ্রোহ ও বেহুলার সতীত্বকাহিনির জন্য মনসামঙ্গল সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালি পালা।
- এর কবির সংখ্যা যেমন শতাধিক, মুদ্রিত ও অমুদ্রিত পুথির সংখ্যাও বহু।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি। এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
- মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬২.
নিম্নলিখিত কোনটি লৌকিক ধারার মঙ্গলকাব্য নয়?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. সূর্যমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

লৌকিক ধারার মঙ্গলকাব্য নয়- অন্নদামঙ্গল। 
----------------------------------------------- 
• মঙ্গলকাব্য:
- মধ্যযুগে (খ্রিস্টীয় ১৩শ থেকে ১৮শ শতাব্দী) বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধরণের আখ্যানকাব্য হলো মঙ্গলকাব্য।
- এ ধরনের কাব্য মূলত হিন্দু দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার এবং বিশ্বাস অনুযায়ী শ্রবণকারীর জীবন থেকে অকল্যাণ দূর করে মঙ্গল আনার উদ্দেশ্যে রচিত হতো।

- মঙ্গলকাব্যকে প্রধানত দুটি শ্রেণি বা ধারাতে ভাগ করা হয়:
• লৌকিক ধারা:
- এই ধারা হলো লোকায়ত বা খাঁটি মঙ্গলকাব্য, যা গ্রামীণ সমাজের বিশ্বাস, লোকাচার ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে উদ্ভূত।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলো হলো:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর),
- সারদামঙ্গল,
- শিবমঙ্গল,
- শীতলামঙ্গল,
- রায়মঙ্গল,
- ষষ্ঠীমঙ্গল,
- সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক ধারা:
- এই ধারা হলো বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক, যেখানে কাহিনী প্রধানত পুরাণকথা ও দেবতার আখ্যানের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলো হলো:
- অন্নদামঙ্গল,
- গৌরীমঙ্গল,
- ভবানীমঙ্গল,
- দুর্গামঙ্গল,
- কমলামঙ্গল,
- গঙ্গামঙ্গল,
- চণ্ডিকামঙ্গল।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬৩.
আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মানিক দত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি। মধ্যযুগের 'শেষ বড়' কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'সত্যনারায়ণের পাঁচালী'।

অন্যদিকে, 
• 'মনসামঙ্গল' কাব্যের আদি কবি-কানাহরি দত্ত।
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬৪.
ইতিহাসে কোন মঙ্গলকাব্যের সম্বন্ধে প্রাচীনতম অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়?
  1. মনসামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল 
  3. চণ্ডীমঙ্গল 
  4. সারদামঙ্গল 
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল:
- বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে মনসামঙ্গল সম্বন্ধেই প্রাচীনতম অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়।

- এ কাব্যের কাহিনি বাংলার আদিম লোকসমাজে প্রচলিত সর্পপূজার ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

-  সাপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসা-লৌকিক ভয়ভীতি থেকেই এ দেবীর উদ্ভব। এই দেবীর কাহিনি নিয়ে রচিত কাব্য মনসামঙ্গল নামে পরিচিত।
কোথাও তা পদ্মাপুরাণ নামেও অভিহিত হয়েছে।

- চাঁদ সদাগরের বিদ্রোহ ও বেহুলার সতীত্বকাহিনির জন্য মনসামঙ্গল সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালি পালা। এর কবির সংখ্যা যেমন শতাধিক, মুদ্রিত ও অমুদ্রিত পুথির সংখ্যাও বহু।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি। এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মনসা, চাঁদ
- সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬৫.
অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি কে?
  1. লালা জয়নারায়ণ সেন
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুক্তারাম সেন
  4. ঘনরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য মোট তিন খণ্ডে বিভক্ত।
যেমন:
- শিবনারায়ণ।
- কালিকামঙ্গল।
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬৬.
দ্বিজ বংশীদাস কোন কাব্যের অন্যতম কবি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অভয়ামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬৭.
‘সনকা ও বেহুলা’ কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস, পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৬৮.
লাউসেন ও হরিশ্চন্দ্র কোন মঙ্গল কাব্য ধারার চরিত্র?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
- প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এঁর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল। 

ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি- 
- রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি 
- লাউসেনের কাহিনি 

- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬৯.
'লহনা' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) শিবমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) চন্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চন্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
চন্ডীমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- চন্ডীদেবীর কাহিনী এর উপজীব্য।
- এই চন্ডীদেবীও মূলত অনার্যসম্ভূতা, পরে বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রের দেবকল্পনার প্রভাবে পর্যায়ক্রমে পৌরাণিক দেবতায় পরিণত হন।
- এর বিষয়বস্ত্ত দুটি সামাজিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে।
- প্রথমটি কালকেতুর কাহিনি, এতে রয়েছে কালকেতু-ফুল্লরার জীবনকথা এবং
- দ্বিতীয়টি বণিক ধনপতির কাহিনি, এতে রয়েছে ধনপতি-লহনা-খুল্লনার কাহিনী। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭০.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।' - উক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সারদামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।'

- আলোচ্য পঙক্তি টি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত।
- এখানে লেখক 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - কথাটি ঈশ্বরী পাটনীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পাণ্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭১.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা নন কে?
  1. অকিঞ্চন চক্রবর্তী
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. মুক্তারাম সেন
  4. সহদেব চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
সহদেব চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহদেব চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা নন - সহদেব চক্রবর্তী
- তিনি ধর্মমঙ্গল ধারার কবি।  

চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী
- অপরাপর মঙ্গলকাব্যে যেখানে একটি কাহিনি বর্তমান, 'চণ্ডীমঙ্গল' এর ব্যতিক্রম, এতে আছে দুটি কাহিনি।
- কাব্যের কাহিনি দুই খণ্ডে বিভক্ত।
- প্রথম-আক্ষেটিক খণ্ড এবং দ্বিতীয়- বণিক খণ্ড।
- প্রথম খণ্ডে আক্ষেটিক বা ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি এবং দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৭২.
কালিকামঙ্গল কাব্যে কার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. দেবী সরস্বতী
  2. দেবী লক্ষ্মী
  3. দেবী কালি
  4. দেবী দুর্গা
সঠিক উত্তর:
দেবী কালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবী কালি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) দেবী কালি

কালিকামঙ্গল:
- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালির মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে।
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক।
- এছাড়া সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন কালিকা মঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

২৭৩.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা নন কে?
  1. কানা হরিদত্ত
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. নারায়ণ দেব
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন  'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

'মনসামঙ্গল' কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।
-------------
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো:
- দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭৪.
'সনকা' কোন কাব্যধারার চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গলের কাব্য
  2. মনসামঙ্গল কাব্য 
  3. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  4. ধর্মমঙ্গল কাব্য
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল কাব্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল কাব্য 
ব্যাখ্যা

'সনকা'- মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যধারার চরিত্র।

• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য। 
কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
- মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- চাঁদ সওদাগর, সনকা, বেহুলা, লখিন্দর।

তাছাড়া,
• চণ্ডীমঙ্গলের কাব্যের চরিত্র- কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারিশীল।
• ধর্মমঙ্গল কাব্যের চরিত্র- কর্পূর সেন, মহামদ পাত্র।
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- ঈশ্বরী পাটনী, হীরা মালিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৭৫.
মঙ্গলকাব্যের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? 
  1. লোকায়াত দেব-দেবীর পূজা প্রচার
  2. দেবতার কাহিনি বর্ণনা
  3. প্রেমকাহিনি বর্ণনা
  4. ধর্মীয় শিক্ষার প্রচার
সঠিক উত্তর:
লোকায়াত দেব-দেবীর পূজা প্রচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকায়াত দেব-দেবীর পূজা প্রচার
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্যকে মধ্যযুগের উপন্যাস বলা হয়।
- এটি মূলত কাহিনিকেন্দ্রিক ও আখ্যানপ্রধান সাহিত্য।
- প্রায় পাঁচশো বছর ধরে এই ধারার কাব্য রচিত হয়েছে—বিশেষত পনেরো শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠারো শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত সময়কালজুড়ে।

- মঙ্গলকাব্যের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল লোকায়াত দেব-দেবী, বিশেষ করে দেবীর পূজা প্রচার ও গুণগান করা।
- এই কাব্যের দেব-দেবীরা মূলত অনার্য (অস্ট্রিক) জনগোষ্ঠীর দেবতা, যাদের পূজাপদ্ধতি আর্যদের আগমন সত্ত্বেও লোকসমাজে প্রচলিত ছিল।
- মঙ্গলকাব্যে মোট ৬২ জন কবির নাম পাওয়া যায়। 
- এই কাব্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

- মঙ্গলকাব্যের উদ্ভবের পেছনে ছিল একটি সুস্পষ্ট সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। আর্যদের আগমনের পর আর্য ও অনার্যদের সংস্পর্শ ঘটলেও অনার্যরা নিজেদের লৌকিক দেবতার পূজা চালু রাখে। পরবর্তীতে তুর্কি আক্রমণের ফলে ব্রাহ্মণ্য ধর্ম ও সমাজ সংকটে পড়ে, আর মুসলিম ধর্মের উদারতায় অনেকেই আকৃষ্ট হয়। এই পরিস্থিতিতে হিন্দু সমাজ ও মুসলিম সমাজের সংঘর্ষ ও প্রতিক্রিয়ার ফল হিসেবেই মঙ্গলকাব্যের উদ্ভব ঘটে—লোকদেবতার মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াসে।

- কাব্যরীতির দিক থেকে দেখা যায়, কবিরা সাধারণত স্বপ্নে দেবতার আদেশপ্রাপ্ত হয়ে কাব্য রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। কাহিনির শুরু হয় গণেশ, পিতা-মাতা বা রাজাদের স্তুতি দিয়ে। কাব্যের নায়ক সাধারণত কোনো স্বর্গভ্রষ্ট বা শাপভ্রষ্ট দেবতা, যিনি স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে মর্ত্যে মানুষরূপে জন্মগ্রহণ করেন; তার স্ত্রীও সঙ্গে জন্ম নেন। মর্ত্যে তারা মানুষের মতো জীবনযাপন করেন এবং দেবীর পূজা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করেন। শেষে পূজা প্রতিষ্ঠিত হলে নায়ক-নায়িকা শাপমুক্ত হয়ে পুনরায় স্বর্গে প্রত্যাবর্তন করেন।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

২৭৬.
'ফুল্লরা' মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারার চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. কালিকামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'ফুল্লরা' মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল ধারার চরিত্র।

চণ্ডীমঙ্গল: 
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়

অন্যদিকে,
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৭.
মঙ্গলকাব্যের কবি নন কে?
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কানাহরি দত্ত
  4. দাশরথি রায়
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
অপশনগুলোর মধ্যে, 
- 'বিজয়গুপ্ত' হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি ।
- 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর' - অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা।
- 'কানাহরি দত্ত' হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি।

অন্যদিকে, 
• পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন: দাশরথি রায়। তিনি মঙ্গলকাব্যের কবি নন।

• দাশরথি রায়:
১৮০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, 
- ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পণ্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা ‘দাশুরায়ের পাঁচালি’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৮.
মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয় কাকে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. দ্বিজ মাধব
  3. মাণিক দত্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য পারিপার্শ্বিক ঘটনা বিবেচনা করে দ্বিজ বংশীদাস সতের শতকের মধ্যভাগে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে মনে করেছেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতানুসারে বংশীদাসের পদ্মাপুরাণের রচনাকালজ্ঞাপক শ্লোক থেকে ১৫৭৫ সাল পাওয়া যায়।

বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা। কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে:

বসতি যাদবানন্দ করেন তথায় ।
ভট্টাচার্য বংশে জন্ম অঞ্জনা ঘরণী।
বাঁশের পালার ঘর ছনের ছাউনী।
ধারা স্রোতে ফুলেশ্বরী নদী বহে যায়।
ঘট বসাইয়া সদা পূজে মনসায়।
কোপ করি সেই হেতু লক্ষ্মী ছাড়ি যায়।
দ্বিজ বংশী পুত্র হৈলা মনসার বরে।
ভাসান গাহিয়া যিনি বিখ্যাত সংসারে।

অন্যদিকে, 
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজ মাধব ও মাণিক দত্ত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
২৭৯.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) সনকা
  2. খ) বেহুলা
  3. গ) চাঁদ সওদাগর
  4. ঘ) ধনপতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধনপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধনপতি
ব্যাখ্যা
'বনিক ধনপতি' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- তিনি ১৩শ শতকে জীবিত ছিলেন বলে অনুমান করা হয়।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
 
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

- আরও যাঁরা মনসামঙ্গল রচনা করেন তাঁরা হলেন পুরুষোত্তম, নারায়ণদেব (আনু. ১৫শ শতক), বিজয়গুপ্ত এবং বিপ্রদাস পিপিলাই বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলই (১৪৯৪) সর্বাপেক্ষা পরিচিত এবং সাহিত্যিক গুণসম্পন্ন।
- বিপ্রদাসের গ্রন্থ মনসাবিজয় পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে রচিত বলে গবেষকদের অনুমান। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮০.
ধর্মমঙ্গল কাব্য কয়টি পালায় বিভক্ত?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
সঠিক উত্তর:
ক) ২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ টি
ব্যাখ্যা
ধর্ম ঠাকুরের নামে এই মঙ্গলকাব্য সৃষ্ট হয়েছে বলে এর নাম ধর্মমঙ্গল। ধর্মমঙ্গল কাব্যের পালা ২ টি।
১. রাজা হরিশচন্দ্রের গল্প
২. লাউসেনের গল্প
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
২৮১.
পৌরাণিক শ্রেণির মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল 
  2. শীতলামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল 
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
- মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

প্রকৃতপক্ষে মঙ্গলকাব্যগুলোকে শ্রেণিগত দিক থেকে পৌরাণিক ও লৌকিক এই দু ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- পৌরাণিক শ্রেণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, অন্নদামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।
- লৌকিক শ্রেণির মধ্যে হলো: শিবায়ন বা শিবমঙ্গল, মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বা বিদ্যাসুন্দর), শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সারদামঙ্গল, সূর্যমঙ্গল প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮২.
“মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।” - কার রচনা?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. গ) খনার বচন
  4. ঘ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
এটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত - অন্নদামঙ্গল কাব্যে ব্যবহৃত একটি প্রবচন।

এই কাব্যের আরো কয়েকটি প্রবচন হল -
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। 
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ, ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ।
- যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী। ইত্যাদি।

এসব গভীরতম ভাবদ্যোতক প্রবচনের মত পদে ভাষার উপর কবির যে অধিকার তা তুলনারহিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৮৩.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'- বিখ্যাত উক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল 
  3. চণ্ডীমঙ্গল 
  4. ধর্মমঙ্গল 
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

'প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।'

- আলোচ্য পঙক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত।
- এখানে লেখক 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- কথাটি ঈশ্বরী পাটনীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।

-----------------------
"অন্নদামঙ্গল" কাব্য:

- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
-সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২৮৪.
মঙ্গলকাব্যের কবি নন কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. মানিক দত্ত
  4. কানাহরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• বড়ু চণ্ডীদাস মঙ্গলকাব্যের কবি নন।
- বড়ু চণ্ডীদাসের বিখ্যাত সৃষ্টি, মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ  'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।

অন্যদিকে,
- বিজয়গুপ্ত হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি ।
- মানিক দত্ত হলেন চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি।
- কানাহরি দত্ত হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২৮৫.
'কালিকামঙ্গল' কাব্যটি কোন মঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত।
যথা :
- শিবনারায়ণ,
- কালিকামঙ্গল,
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরকাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালীর মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে।
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি - কবি কঙ্ক। এছাড়া, সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন - কালিকা মঙ্গল রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৬.
মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) কালকেতু
  2. খ) ফুল্লরা
  3. গ) ধনপতি
  4. ঘ) লখিন্দর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লখিন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লখিন্দর
ব্যাখ্যা
দেবী মনসার পূজা, তুষ্টি ও গুণকীর্তনের জন্য মনসামঙ্গল কাব্য লিখিত।  
- মনসামঙ্গল কাব্য মঙ্গলকাব্যের প্রাচীনতম ধারা।
- একে 'পদ্মপুরান' বলেও অভিহিত করা হয়।  
- মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্রগুলো হলো:
  চাঁদ সওদাগর 
  বেহুলাস
   লখিন্দর 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
২৮৭.
‘বিদ্যাসুন্দর' নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য-
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

অন্যদিকে,
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।মনসামঙ্গল কাব্য পদ্মপুরাণ নামেও পরিচিত।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- ধর্মমঙ্গল ধারার আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮৮.
'মালিনী' চরিত্রটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২৮৯.
"অন্নদামঙ্গল" কাব্যের কাহিনি কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
  5. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
• ভারতচন্দ্র রায় ছিলেন আঠারো শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং তাঁর অন্নদামঙ্গল এ সময়ের শ্রেষ্ঠ কাব্য। কাব্যটি তিন খণ্ডে তিনটি স্বতন্ত্র কাহিনিতে পূর্ণতা লাভ করেছে।

- প্রথম খণ্ডে শিবায়ন-অন্নদামঙ্গল,
- দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দর-কালিকামঙ্গল এবং
- তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহ-অন্নপূর্ণামঙ্গল কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

----------------------
• প্রথম উপাখ্যানের মূল ঘটনা পৌরাণিক। এতে সতীর দেহত্যাগ, পার্বতীর বিবাহ, শিবের সংসার ও কাশীতে দেবীর অন্নপূর্ণামূর্তি ধারণের বর্ণনা আছে। সেসঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরিহোড়কে ছেড়ে দেবী কিভাবে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ভবানন্দের পিতৃগৃহে উপস্থিত হন সেই লৌকিক কাহিনি।

• দ্বিতীয়টি বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি। কালিকার কৃপায় কিভাবে সুন্দর বিদ্যার পাণিগ্রহণ করেছিলেন এবং মশান থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন সে কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এখানে।

• তৃতীয় অংশটি অনেকটা ঐতিহাসিক। মানসিংহ কর্তৃক প্রতাপাদিত্যকে পরাজিত ও বন্দিকরণ এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে ভবানন্দের ‘রাজা-ই-ফরমান’ লাভের ঘটনা এখানে বর্ণিত হয়েছে।

• অন্নদামঙ্গল থেকে তৎকালীন বাঙালি সমাজের অনেক তথ্যই পাওয়া যায়। দেবী ও ঈশ্বরী পাটনীর ঘটনা থেকে দেব-মানুষের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানা যায়।

• ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ দেবীর নিকট ঈশ্বরী পাটনীর এই বর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুমান করা যায় যে, তখন ন্যূনপক্ষে দুধভাত খাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল বাঙালি জীবন-যাত্রার নিম্নতম স্ট্যান্ডার্ড।

• অন্নদামঙ্গলে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, অন্যান্য মঙ্গলকাব্যের মতো এতে দৈবপ্রাধান্য কম, সে স্থান দখল করেছে মানুষ। এখানে দেবীর সন্তুষ্টিকামনা অপেক্ষা রাজার সন্তুষ্টিকামনা তীব্রতর। মূলত নদীয়ার রাজবংশের গৌরবময় ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে কবি সমকালীন ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে দৈব ঘটনা মিশিয়ে নগরসংস্কৃতিসুলভ একটি আদিরসাত্মক প্রণয়োপাখ্যান রচনা করেছেন। এর সাহিত্যিক মূল্যও অসাধারণ। উপমাদি অলঙ্কার এবং ছন্দপ্রয়োগে তিনি যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তাতে তাঁর মৌলিকত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৯০.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি বা প্রথম কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মানিক দত্ত
  3. কানাহরি দত্ত
  4. দ্বিজমাধব
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। এবং এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৯১.
মঙ্গলকাব্যে মোট কতজন কবির নাম পাওয়া গেছে?
  1. ৫০ জন 
  2. ৬২ জন 
  3. ৭৫ জন 
  4. ৮০ জন 
সঠিক উত্তর:
৬২ জন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬২ জন 
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য হলো এমন একটি মধ্যযুগীয় কাব্যধারা। 
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের, প্রতিবেশীর এবং সমাজের কল্যাণ বা মঙ্গল সাধন। শব্দ ‘মঙ্গল’ মানে কল্যাণ।
- প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যে কাব্য রচনা, পাঠ বা শ্রবণ করলে মানুষের জীবন ও সমাজের মঙ্গল হয়, তা মঙ্গলকাব্য।
- কেউ কেউ বলেন, এই কাব্যগুলো দেবতাদের কাছে মঙ্গল কামনা করে রচিত।
- আবার কেউ মনে করেন মঙ্গলকাব্য বিশেষ মঙ্গল নামের সুরে গাওয়া হতো।

- মঙ্গলকাব্যকে কখনও কখনও মধ্যযুগীয় উপন্যাস হিসেবেও ধরা হয়।
- এটি কাহিনিকেন্দ্রিক; মূলত লোকায়াত দেব-দেবী, বিশেষ করে দেবীর পূজা প্রচার ও গুণগান করাই এর লক্ষ্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেব-দেবীর মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- এই ধারা পনেরো শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠারো শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত প্রায় পাঁচশো বছর ধরে লেখা হয়েছে।
- মঙ্গলকাব্যে মোট ৬২ জন কবির নাম পাওয়া গেছে।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

২৯২.
'কালিকামঙ্গল' কাব্যটি কোন মঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) চন্ডীমঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত।
যথা :
- শিবনারায়ণ
- কালিকামঙ্গল
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড

- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরকাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালীর মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে।
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি - কবি কঙ্ক। এছাড়া, সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন - কালিকা মঙ্গল রচনা করেছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৩.
মঙ্গলকাব্যকে কী বলা হয়?
  1. ক) মধ্যযুগের মহাকাব্য
  2. খ) মধ্যযুগের উপন্যাস
  3. গ) মধ্যযুগের কাহিনিগদ্য
  4. ঘ) মধ্যযুগের রূপকথা
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যযুগের উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যযুগের উপন্যাস
ব্যাখ্যা
- মঙ্গলকাব্যকে মধ্যযুগের উপন্যাস বলা হয়।
- প্রায় পাঁচশো বছর ধরে মঙ্গলকাব্য লিখিত হয়েছে। 
- পনেরো শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠারো শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত রচিত হয়েছে। 
- মঙ্গলকাব্য কাহিনি কেন্দ্রিক।

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
২৯৪.
'লাউসেনের কাহিনি' কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল 
  3. অন্নদামঙ্গল 
  4. কালিকামঙ্গল 
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
- প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।

ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি -
১. রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
২. লাউসেনের কাহিনি।
- এর মধ্যে লাউসেনের কাহিনিই কাব্যে অধিকতর প্রাধান্য পেয়েছে।

• ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক। তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসেনের কাহিনি অবলম্বনে 'শ্রীধর্মমঙ্গল'।
• এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন সহদেব, নরসিংহ বসু, হৃদয়রাম সাউ, রূপরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯৫.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখাগুলো কী কী?
  1. মনসা, চণ্ডী ও অন্নদামঙ্গল
  2. সারদা, চণ্ডী ও কালিকা
  3. মনসা, চণ্ডী ও ধর্মমঙ্গল
  4. কালিকা, চণ্ডী ও মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসা, চণ্ডী ও ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসা, চণ্ডী ও ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখন্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত,মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
- মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২৯৬.
‘বাইশা’ বলা হয় কোন মঙ্গলকাব্যের কবিদের?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. কালিকামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে-
১. মনসামঙ্গল,
২. চণ্ডীমঙ্গল ও
৩. ধর্মমঙ্গল।

• মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয় - বাইশা।
- ‘বাইশা’ বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন কবির রচিত কাব্য থেকে বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে যে পদ সংকলন করা হয়েছিল তা ‘বাইশ কবির মনসামঙ্গল’ বলে।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম, এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৭.
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কোন মঙ্গলকাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য কবি?
  1. ধর্ম মঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

 • মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্য ধারার কবি ছিলেন। 
​​- চণ্ডীমঙ্গল ধারার কবি: মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেনও। 

​অন্যদিকে,
- ​মনসা মঙ্গল কাব্য ধারার কবি: কানাহরি দত্ত, নারায়ণদেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ।
- ‘ধর্মমঙ্গল’ ধারার কবি: ময়ূর ভট্ট, আদিরূপরাম, খেলারাম চক্রবর্তী, শ্যাম পণ্ডিত, ঘনরাম চক্রবর্তী, নরসিংহ বসু। 
​- 'অন্নদা মঙ্গল’ ধারার কবি: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৯৮.
অন্নদামঙ্গল কাব্য প্রথম কে মুদ্রিত করেন?
  1. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  2. রামকৃষ্ণ রায়
  3. রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
  4. রামেশ্বর ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্য প্রথম মুদ্রিত করেন - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
- এটি ১৮১৬ সালে মুদ্রিত হয়।

অন্যদিকে,
• 'শিবায়ন' বা 'শিবের মঙ্গল' রচনা করেন - রামকৃষ্ণ রায়।
• দুর্গামঙ্গল কাব্য রচনা করেন - রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
• 'শিবায়ন' বা 'শিব-সংকীর্তন' কাব্য রচনা করেন - রামেশ্বর ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৯৯.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতা হচ্ছেন-
  1. শ্রীরাম
  2. ধর্মঠাকুর
  3. শ্রীকৃষ্ণ
  4. শ্রীচৈতন্য
সঠিক উত্তর:
ধর্মঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মঠাকুর
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত। এগুলো খ্রিস্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তিকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।

- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল/অন্নদামঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।

- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

- মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী। চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০০.
'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. দ্বিজ বংশীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. কবি কঙ্ক
সঠিক উত্তর:
কবি কঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি কঙ্ক
ব্যাখ্যা
কবি কঙ্ক:
- 'কালিকামঙ্গল' বা 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি।
- কিশোরগঞ্জের রাজ্যেশ্বর নদীর তীরবর্তী বিপ্র গ্রামে ব্রাহ্মণ ঘরে তাঁর জন্ম।
- পিতা গুণরাজ, মাতা গুণবতী।
- তিনি কোন সময় বর্তমান ছিলেন, এব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যায় না। গবেষকগণ মনে করেন, তিনি চৈতন্যদেবের সমসামায়িক। সুকুমার সেনের মতে কবি কঙ্ক আরও পরের কবি।
- শৈশবে পিতৃমাতৃহীন নিরাশ্রয় কঙ্ক, মুরারি ও কৌশল্যা নামধেয় এক চণ্ডাল দম্পতির ঘরে পালিত হন। তারাই কঙ্ক নাম রাখেন।

তাছাড়া,
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- 'অন্নদামঙ্গল’ ধারার কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।