• রোবটের চলাচলের প্রধান উপাদান হলো মোটর (Motor)। মোটর রোবটকে সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে। এটি রোবটের চাকা, লিফট বা অন্য কোনো চলমান অংশকে ঘোরানোর মাধ্যমে রোবটকে এগিয়ে নিয়ে যায় বা পেছনে নিয়ে আসে। যদিও সেন্সর (Sensor) পরিবেশ বোঝাতে, মাইক্রোকন্ট্রোলার (Microcontroller) সিদ্ধান্ত নিতে এবং LED আলো প্রদর্শন করতে সাহায্য করে, তবে সরাসরি গতিশীলতা অর্জনের ক্ষমতা মোটরের কাছে থাকে। মোটরই রোবটের বাস্তবিক চলাচলের মূল চালক, যা অন্যান্য উপাদান দ্বারা প্রাপ্ত সংকেত অনুযায়ী কাজ করে এবং রোবটকে কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে সক্ষম করে। সুতরাং, রোবটের লোকমোশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মোটর।
- সঠিক উত্তর: ঘ) Motor.
- মাইক্রোকন্ট্রোলার হলো রোবটের “মস্তিষ্ক।” এটি সেন্সর থেকে তথ্য নেয়, প্রোগ্রাম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়, এবং মোটরকে নির্দেশ দেয় কীভাবে চলতে হবে।
- কিন্তু মোটরই বাস্তবে রোবটকে ঘোরায় বা সরায়। মাইক্রোকন্ট্রোলার শুধু সিগন্যাল পাঠায়, শারীরিক কাজ মোটরই করে।
• রোবট:
- কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যে মেশিন মানুষের মতো কাজ করে তাকে বলা হয় রোবট।
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন ও কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গারকে রোবোটিক্সের জনক বলা হয়।
- রোবটের মুভমেন্টের জন্য রোবোটিক্সে অ্যাকচুয়েটর ব্যবহার করা হয়।
- জাপানের মুরাতা কোম্পানির রোবট 'মুরাতা বয়'।
- স্যামসাং কোম্পানির রোবট 'রোবোরো'।
- হংকং ভিত্তিক হ্যানসন রোবটিক্স কোম্পানির রোবট 'সোফিয়া'।
- সনি কর্পোরেশন কোম্পানির রোবট 'আইবো'।
- প্রথম রোবট তৈরি করেন আমেরিকান উদ্ভাবক জর্জ চার্লস ডেভল।
- ১৯৫০ সালে তার তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম ছিল ইউনিমেট।
• বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোবটকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন-
- শিল্পের বিপজ্জনক ও কঠিন কাজ করা।
- বৃহৎ মেশিনের কষ্টদায়ক যন্ত্রপাতির সংযোজন।
- খনি হতে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ উত্তোলন।
- মহাকাশ গবেষণায় রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
- মহাশূন্যের ছবি সংগ্রহ।
- ক্ষতিকর বিস্ফোরক সনাক্তকরণে।
- গৃহস্থালীর কাজে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
- গভীর অরণ্য কিংবা বহুদূরত্বে শত্রুর উপস্থিতির প্রমাণে।
- শিল্প কারখানায় দ্রুত উৎপাদন কার্য হাসিলে রোবটের ব্যবহার হচ্ছে; ইত্যাদি।
উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।