বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৬৪ · ৮০১৯০০ / ৬,৪০৯

৮০১.
স্বাভাবিক অবস্থায় একজন মানুষের উপর প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে বায়ুর চাপ পড়ে প্রায়-
  1. ১৩ পাউন্ড
  2. ১০ পাউন্ড
  3. ১৫ পাউন্ড
  4. ১৬ পাউন্ড
সঠিক উত্তর:
১৫ পাউন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ পাউন্ড
ব্যাখ্যা
- গড় সমুদ্রপৃষ্ঠীয় চাপ হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বায়ুমণ্ডলীয় চাপ। 
- গড়ে পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলের শীর্ষ পর্যন্ত, ১ বর্গ সেন্টিমিটার প্রস্থছেদের একটি বায়ুর কলামের ভর ১.০৩ কিলোগ্রাম, এবং এটি ১০.১ নিউটন বল বা ওজন প্রয়োগ করে। 
- যার ফলে ১০.১নিউটন/সেমি বা ১০১ কিলোনিউটন/মিটার চাপের সৃষ্টি হয়। 
- ১ বর্গ ইঞ্চি প্রস্থচ্ছেদের একটি বায়ু একটি কলামের ওজন হবে প্রায় ১৪.৭ পাউন্ড, ফলে চাপের পরিমাণ হবে ১৪.৭ পাউন্ড বা প্রায় ১৫ পাউন্ড। 

উৎস: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট। 
৮০২.
pH স্কেলে সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH এর মান -
  1. 0
  2. 1
  3. 7
  4. 14
সঠিক উত্তর:
0
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0
ব্যাখ্যা
- pH এর মান ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়।
- নিরপেক্ষ কোনো দ্রবণের pH এর মান ৭।
- এসিড দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে কম হয় এবং ক্ষারের দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে বেশি হয়।
- pH স্কেলে সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH এর মান ০ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষারের pH এর মান ১৪।

[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৮০৩.
শীতে শরীর কাঁপে কেন?
  1. ক) শরীরের তাপ ও বাহিরের তাপ সমান থাকায়
  2. খ) শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ কম বলে
  3. গ) শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ বেশি বলে
  4. ঘ) বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি বলে
সঠিক উত্তর:
খ) শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ কম বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ কম বলে
ব্যাখ্যা
Shivering is one such tactic, in which your muscles contract and expand in speedy bursts. In addition to quaky limbs, your jaw muscles might begin to shiver, making your teeth chatter. This twitching exercise produces heat, which helps to raise body temperature. It's also your signal to find a toasty haven and a warm drink. সূত্রঃ Live Science.com
৮০৪.
Which of the following occurs as a direct result of raising the temperature of a metallic conductor?
  1. Increase in resistance
  2. Decrease in resistance
  3. It turns into an insulator
  4. The flow of electric current increases
  5. No change in resistance
সঠিক উত্তর:
Increase in resistance
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Increase in resistance
ব্যাখ্যা

• তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়। 

• পরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্যদিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
• উদাহরণ- তামা, রুপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি

• পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। পরিবাহীতে যোজনব্যান্ড এবং পরিবহণব্যান্ডের মাঝে শক্তি ব্যবধান থাকে না।
- এজন্য পরিবাহীর দু প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ কম হয়। প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের।

• তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহী পদার্থের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা সাধারণত হ্রাস পায়।  
- সাধারণ পরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর মধ্যস্থ পরমাণু এবং আয়নগুলির কম্পন বাড়ে।
- উক্ত কম্পনের ফলে পরিবাহীর মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে কম্পনরত পরমাণু সমূহের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়, যা মুক্ত ইলেকট্রনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। 
- এর ফলে রোধ বাড়ে এবং পরিবাহিতা কমে যায়।

অন্যদিকে,
অর্ধপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে কিছু ইলেক্ট্রন শক্তি অর্জন করে এবং মুক্ত হয়ে পরিবহনে অংশ নেয়, ফলে পরিবাহিতা বাড়ে এবং রোধ কমে যায়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০৫.
'চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া' নিউটনের গতির কোন সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়? 
  1. প্রথম সূত্র 
  2. দ্বিতীয় সূত্র 
  3. তৃতীয় সূত্র 
  4. চতুর্থ সূত্র 
সঠিক উত্তর:
প্রথম সূত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম সূত্র 
ব্যাখ্যা

নিউটনের প্রথম সূত্র: 
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে। 
উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। 

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: 
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে। 

নিউটনের তৃতীয় সূত্র: 
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে। 
উদাহরণ- 
- বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে। 
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০৬.
পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মৌলগুলোকে কী বলা হয়?
  1. অধাতু
  2. মুদ্রা ধাতু
  3. ক্ষার ধাতু
  4. মৃৎক্ষার ধাতু
সঠিক উত্তর:
মুদ্রা ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুদ্রা ধাতু
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা এক কথায় অসাধারণ। 
- বর্তমানেও বাজারে ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে, তবে এগুলো সংকর ধাতুর তৈরি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৭.
ইনটিগ্রেটেড সার্কিট (IC) প্রথম তৈরি করেছিলেন কে? 
  1. জ্যাক কেলবি 
  2. এডউইন হাবল 
  3. জন হুইলার 
  4. জর্জ লেমাইটার 
সঠিক উত্তর:
জ্যাক কেলবি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যাক কেলবি 
ব্যাখ্যা

সমন্বিত বর্তনী বা আইসি: 
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। 
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে। 
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়। 
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়।এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন-
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০ টি উপাদান থাকে। 

২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০ টি উপাদান থাকে। 

৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০ টির অধিক উপাদান থাকে। 
- ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে। 
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

৮০৮.
পানিতে COD এর মান বৃদ্ধির অর্থ হলো -
  1. ক) দূষণের হার বৃদ্ধি
  2. খ) বিশুদ্ধতার হার বৃদ্ধি
  3. গ) দূষণের হার হ্রাস
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) দূষণের হার বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দূষণের হার বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Chemical Oxygen Demand, COD) :
- পানির মধ্যে কিছু অপচনশীল বা জৈব বিয়োজনের অযোগ্য (nonbiodegradable) বস্তু থাকে যাদের বিয়োজন ব্যাকটেরিয়া বা জীবণু দ্বারা সম্পন্ন হয় না ।
- এগুলিকে বিয়োজনের জন্য শক্তিশালী জারক পদার্থ যেমন K2Cr2O7 (যা অক্সিজেন সরবরাহ করে) প্রয়োজন হয়।
এরা দূষক পদার্থকে জারিত করে।
- পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য ও বিয়োজন অযোগ্য দূষক পদার্থসমূহকে জারণের জন্যে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের চাহিদাকে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বলে।
- উল্লেখ্য যে, কোন নমুনার COD এর মান BOD এর মান অপেক্ষা বেশি হয়।
কেননা COD নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জৈব ভাঙ্গনযোগ্য বা বিয়োজন যোগ্য এবং বিয়োজন অযোগ্য এই উভয় প্রকার জৈব বস্তুই জারিত হয়।
- পানিতে COD এর মান বৃদ্ধির অর্থ হলো দূষণের হার বৃদ্ধি


উৎসঃ পরিবেশ রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৯.
সাধারণত অ্যালকোহল বলতে কোন পদার্থকে বোঝায়?
  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. রেকটিফাইড স্পিরিট 
সঠিক উত্তর:
ইথানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানল
ব্যাখ্যা

- সাধারণত অ্যালকোহল বলতে মূলত ইথানল (C2H5OH) বোঝানো হয়, যা পানীয়, ওষুধ ও শিল্পে ব্যবহৃত হয়

অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 

- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্যে শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১০.
চাঁদে কোন বস্তুর ওজন ৩০ কেজি হলে, পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজন কত কেজি হবে?
  1. ৫ কেজি
  2. ৯০ কেজি 
  3.  ১৮০ কেজি 
  4. ২১০ কেজি
সঠিক উত্তর:
 ১৮০ কেজি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ১৮০ কেজি 
ব্যাখ্যা

• চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ হয়, কারণ চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম। যদি চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন ৩০ কেজি হয়, তবে পৃথিবীতে সেই একই বস্তুর ওজন হবে প্রায় ৬ গুণ বেশি। অর্থাৎ, পৃথিবীতে বস্তুর ওজন = ৩০ × ৬ = ১৮০ কেজি। তাই সঠিক উত্তর হলো (গ) ১৮০ কেজি। এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো, অভিকর্ষ বল বস্তুর ভর এবং গ্রহের অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভর করে, যা চাঁদে তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
- তবে এখানে, ওজনের একক হিসেবে নিউটন দেয়া উচিত ছিল, ভরের একক হচ্ছে - কেজি। 

- স্থানভেদে কোনো বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ভর ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ভর হবে ১২০ কেজি। 
- কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে। 

আমরা জানি, 
- ওজন= ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ 
- পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড। 
- তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি। 
- সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি। 

- কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ। 
- অর্থাৎ, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ওজন ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ২০ কেজি।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।

৮১১.
নিচের কোন প্রক্রিয়ায় তাপ তরঙ্গ আকারে সঞ্চালিত হয়?
  1. বিকিরণ পদ্ধতি
  2. পরিচলন পদ্ধতি
  3. পরিবহন পদ্ধতি
  4. সংবহন পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে। তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়। যথা:
১. পরিবহন,
২. পরিচলন ও
৩. বিকিরণ।

• বিকিরণ পদ্ধতি:
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- সূর্য থেকে আমরা তাপ পাই।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে।
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গাকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়।
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5 × 108 কি.মি।
- এর প্রায় পুরোটাই শূন্য, কোনো জড় মাধ্যম নেই।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।

• পরিচলন পদ্ধতি:
- কোনো পদার্থের অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশের দিকে অণুগুলি চলাচলের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটায় এই পদ্ধতিকেই পরিচলন পদ্ধতি বলা হয়।
- তরল এবং বাষ্পীয় পদার্থের মধ্যে তাপ পরিচলন পদ্ধতির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• পরিবহন পদ্ধতি:
- যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না, শুধুমাত্র অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে। এভাবেই পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশের দিকে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলা হয়।
- কঠিন বস্তুতে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১২.
কোন সংকর ধাতুটিতে কপার (তামা) অনুপস্থিত?
  1. পিতল
  2. ব্রোঞ্জ
  3. ডুরালুমিন
  4. মরিচাবিহীন ইস্পাত
সঠিক উত্তর:
মরিচাবিহীন ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরিচাবিহীন ইস্পাত
ব্যাখ্যা
• সংকর ধাতু:
- কতকগুলো ধাতুকে একত্রে গলানোর পর গলিত মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করলে যে ধাতু মিশ্রণ পাওয়া যায় তাকে সংকর ধাতু বলা হয়। 

• সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্রধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করাহয়। যেমন- স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু।
- স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
- কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু।
- পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু।
- সংকর ধাতু ডুরালুমিনে কপারের পরিমাণ 4% ।
- 21 ক্যারেট ও 22 ক্যারেট স্বর্ণে খাদ হিসেবে কপার ও অন্যান্য ধাতুর পরিমাণ যথাক্রমে 8.33% ও 12.5% । 
- 24 ক্যারেট স্বর্ণে স্বর্ণের পরিমাণ 100% ।

সংকর ধাতু মরিচাবিহীন ইস্পাতে কপার অনুপস্থিত।
- এর উপাদান গুলো হলো লোহা, ক্রোমিয়াম এবং নিকেল। অর্থাৎ এতে কপার বা অন্য কোনো খাদ থাকে না। 


তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৮১৩.
আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) কতটি মৌল শনাক্ত করেছে?
  1. 112
  2. 108
  3. 118
  4. 120
সঠিক উত্তর:
118
উত্তর
সঠিক উত্তর:
118
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) 118 টি মৌল শনাক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC)
 - আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (International Union of Pure and Applied Chemistry বা সংক্ষেপে IUPAC) এখন পর্যন্ত 118টি মৌলিক পদার্থকে শনাক্ত করেছে।
 - IUPAC সংস্থাটি আন্তর্জাতিকভাবে রসায়ন ও ফলিত রসায়নের বিভিন্ন নিয়মকানুন দেখাশোনা করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন কোন নিয়ম গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি বর্জনযোগ্য।
 - 118টি মৌলের মধ্যে বেশির ভাগ মৌলই প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং বাকি কিছু মৌল ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে।
 - ল্যাভয়সিয়ে মাত্র 33টি মৌল নিয়ে ছক তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন।
 - মেন্ডেলিফ 63টি আবিষ্কৃত মৌল এবং 4টি অনাবিষ্কৃত মৌল নিয়ে পর্যায় সারণি নামে যে ছকটি তৈরি করেছিলেন, তা বর্তমানে 118টি মৌলের আধুনিক পর্যায় সারণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৮১৪.
রেকটিফায়ারকে কী বলা হয়? 
  1. রেজিস্টর 
  2. কন্ডেন্সার 
  3. একমুখীকারক
  4. ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
একমুখীকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একমুখীকারক
ব্যাখ্যা

রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)।
- ​রেকটিফায়ারকে একমুখীকারক বলা হয়।  
- একমুখীকারক দুই প্রকার।
যথা- (ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং (খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১৫.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ট্যাকোমিটার 
  2. অডিওমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অ্যালটিমিটার 
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৮১৬.
ট্রান্সফরমার কোন শক্তি রূপান্তর করে? 
  1. যান্ত্রিক শক্তি
  2. বিভব পার্থক্য
  3. তাপ শক্তি
  4. রাসায়নিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
বিভব পার্থক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভব পার্থক্য
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফরমার হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তির ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য পরিবর্তন করতে ব্যবহৃত হয়।

- এটি AC (Alternating Current) সার্কিটে কাজ করে এবং শক্তির ক্ষতি ছাড়াই ভোল্টেজ বৃদ্ধি (Step-up) বা হ্রাস (Step-down) করতে সক্ষম।
- ট্রান্সফরমারের মূল কাঠামোতে থাকে দুটি কয়েল প্রাইমারি কয়েল এবং সেকেন্ডারি কয়েল, যা একটি লৌহ কোরের মাধ্যমে একে অপরের সাথে চৌম্বকীয়ভাবে সংযুক্ত থাকে।
- যখন প্রাইমারি কয়েলে বৈদ্যুতিক প্রবাহ আসে, তখন এটি একটি চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে।
- এই চৌম্বক ক্ষেত্র সেকেন্ডারি কয়েলে ইনডাকশন ঘটায়, ফলে সেকেন্ডারি কয়েলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
- এই পদ্ধতিতে ভোল্টেজ পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু শক্তির ধরণ পরিবর্তিত হয় না

সারসংক্ষেপে, ট্রান্সফরমার যান্ত্রিক শক্তি, তাপ শক্তি বা রাসায়নিক শক্তি নয়, বরং বিদ্যুতের বিভব পার্থক্য রূপান্তর করে, যাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় দূরত্ব অনুযায়ী ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
- Britannica [লিংক]।

৮১৭.
স্টেইনলেস স্টিলে ব্যবহৃত হয়-
  1. লোহা + নিকেল + ক্রোমিয়াম
  2. লোহা + দস্তা + ক্রোমিয়াম
  3. লোহা + সিসা +অ্যালুমিনায়াম
  4. লোহা + সিসা + ক্রোমিয়াম
সঠিক উত্তর:
লোহা + নিকেল + ক্রোমিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা + নিকেল + ক্রোমিয়াম
ব্যাখ্যা
• স্টেইনলেস স্টিলে ব্যবহৃত হয় লোহা(৭৪%) + নিকেল(৮%) + ক্রোমিয়াম(১৮%)

• সংকর ধাতু:

- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্রধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১৮.
টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
সঠিক উত্তর:
শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা
• শক্তির রূপান্তর:
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে।

• কতিপয় শক্তির রূপান্তর বণনা করা হল:
১. রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর:
- খাদ্য এবং জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় দরকারী কাজ করা যায়।
- বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।

২. তাপ শক্তির রূপান্তর:
- স্টীম ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে স্টীম উৎপন্ন করে রেলগাড়ি ইত্যাদি চালানো হয়, এখানে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের কারণে বাল্বের ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বাল্বে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়।

৩. আলোক শক্তির রূপান্তর:
- হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়, এখানে আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে।
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, এখানে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।

৪. যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর:
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

৫. বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর:
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।

৬. শব্দ শক্তির রূপান্তর:
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

৭. নিউক্লিয় শক্তির রূপান্তর:
- নিউক্লিয় সাবমেরিনে নিউক্লিয় শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়।
- নিউক্লিয় বোমার ধ্বংস লীলা নিউক্লীয় শক্তির রূপান্তর ভিন্ন আর কিছুই নয়।
- নিউক্লিয় চুল্লীতে নিউক্লীয় শক্তি অন্যান্য শক্তি বিশেষ করে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হলে শক্তির চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৯.
কোনটি কৃত্রিম তন্তু?
  1. রেয়ন
  2. লিনেন
  3. রেশম
  4. অ্যাসবেস্টস
সঠিক উত্তর:
রেয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেয়ন
ব্যাখ্যা
আমাদের অতিপ্রয়োজনীয় তন্তু উৎস অনুযায়ী দুই রকম হয়।

প্রাকৃতিক তন্তু
সুতি কাপড় তৈরির জন্য তুলা (Cotton), পাট, লিনেন, রেশম, পশম, উল, সিল্ক, অ্যাসবেস্টস, ধাতব তন্তু ইত্যাদি যেগুলো প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, সেগুলোকে আমরা প্রাকৃতিক তন্তু বলি।

কৃত্রিম তন্তু
অন্যদিকে, পলিস্টার, রেয়ন, ডেক্রন, নাইলন ইত্যাদি যেগুলো বিভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়, সেগুলো হলো কৃত্রিম তন্তু।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি। 
৮২০.
ইলেকট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয় কোনটির আবিষ্কারের মাধ্যমে?
  1. রোবট
  2. কম্পিউটার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. টেলিভিশন
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয়। 
 
• ট্রানজিস্টর:
- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলা হয়।
- এটি ভ্যাকুয়াম টিউবের বিকল্প হিসেবে তৈরি হয়। 

• ১৯৪৭ সালে আমেরিকার Bell Laboratories–এ John Bardeen, Walter Brattain এবং William Shockley প্রথম ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন।
- ট্রানজিস্টর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে।
- এটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এবং মাইক্রোপ্রসেসর-এর বিকাশের পথ তৈরি করে, যা আধুনিক কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের মূল ভিত্তি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 
৮২১.
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার মান কোনটি? 
  1. 6.023×10 - 23
  2. 602.3×1023
  3. 6.023×1023
  4. 60.23×10 - 23
সঠিক উত্তর:
6.023×1023
উত্তর
সঠিক উত্তর:
6.023×1023
ব্যাখ্যা
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা: 
- অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার মান 6.023×1023
- রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল। 
- কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
- পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। 
- অ্যাভোগেড্রোর এ সংখ্যার মান 6.023×1023। 
- কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023। 
- কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023 টি অণুকে বুঝায়। 
- আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023 টি পরমাণু বুঝায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২২.
সালফারের যোজনী কত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৪
  3. গ) ৬
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহ একে অপরের সাথে সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন বর্জন, গ্রহণ অথবা ভাগাভাগির মাধ্যমে অণু গঠন করে। অণু গঠনকালে কোনো মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের পরমাণু যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজনী বা যোজ্যতা বলা হয়।

সাধারণত সব সময় হাইড্রোজেনের যোজনী এক (1) ধরা হয়। কোনো মৌলের একটি পরমাণু যতগুলো ঐ পরমাণু বা H পরমাণু বা Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে সেই সংখ্যাই হলো ঐ মৌলের যোজনী বা যোজ্যতা।

হাইড্রোজেনের একটি পরমাণু ক্লোরিনের একটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে HCl অণু গঠিত হয়, তাই ক্লোরিনের যোজনীও 1 (এক)। আবার অক্সিজেনের একটি পরমাণু হাইড্রোজেনের দুটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে H2O তৈরি করে, এজন্য অক্সিজেনের যোজনী 2 (দুই)। একটি Na পরমাণু একটি Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে NaCl গঠিত হয়। সুতরাং Na এর যোজনী 1 (এক)।
একটি পরমাণুর সাথে যতটি অক্সিজেন পরমাণু যুক্ত হয় তার সেই সংখ্যার দ্বিগুণ করলে ঐ পরমাণুর যোজনী বা যোজ্যতা হয়। যেমন : ক্যালসিয়াম (Ca) এর একটি পরমাণু একটি অক্সিজেন (O) পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) তৈরি করে। এখানে অক্সিজেন পরমাণুর সংখ্যা 1 এই সংখ্যাকে 2 দ্বারা গুণ করলে হয় 2। কাজেই ক্যালসিয়ামের যোজনী 2 ।
কিছু কিছু মৌলের একাধিক যোজনী থাকে। কোনো মৌলের একাধিক যোজনী থাকলে সেই মৌলের যোজনীকে পরিবর্তনশীল যোজনী বলা হয়। যেমন: Fe এর পরিবর্তনশীল যোজনী 2 এবং 3। সালফারের পরিবর্তনশীল যোজনী ২, ৪, ৬। 

কোনো মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী এবং সক্রিয় যোজনীর পার্থক্যকে ঐ মৌলের সুপ্ত যোজনী বলা হয়। যেমন: FeCl2 যৌগে Fe এর সক্রিয় যোজনী 2 কিন্তু Fe এর সর্বোচ্চ যোজনী 3 অতএব FeCl2 যৌগে Fe এর সুপ্ত যোজনী 3 – 2 = 1। আবার FeCl, যৌগে Fe এর সক্রিয় যোজনী ও কিন্তু Fe এর সর্বোচ্চ যোজনী 3. অতএব FeCl, যৌগে Fe এর সপ্ত যোজনী 3 - 3=0 |

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি
৮২৩.
যদি ঘরের তাপমাত্রা ৩০৩.১৫ কেলভিন হয় তবে সেটা সেলসিয়াস স্কেলে কত হবে?
  1. ক) ৩৩°
  2. খ) ৩০°
  3. গ) ৩২°
  4. ঘ) ৩০.১৫°
সঠিক উত্তর:
খ) ৩০°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩০°
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস স্কেলের সাথে ২৭৩.১৫ যোগ করলেই কেলভিন স্কেল পাওয়া যায়৷ কাউকে ঘরের তাপমাত্রা জিজ্ঞেস করলে সে যদি ৩০° সেলসিয়াস না বলে ৩০৩.১৫ কেলভিন (৩০ + ২৭৩.১৫) বলে তাহলে সেটাও সঠিক হবে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮২৪.
বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে গেলে বস্তুর ওজনের কী পরিবর্তন হয়? 
  1. ওজন শূন্য হয়
  2. ওজন কমে
  3. ওজন বাড়ে
  4. ওজন অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
ওজন বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওজন বাড়ে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আকৃতির কারণে বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজনের পার্থক্য: 
- পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোলক না হওয়ায়, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব সমান নয়। 
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের ওপর নির্ভরশীল, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g-এর মান ভিন্ন হয়। 
- পৃথিবীর বিষুবীয় অঞ্চলে কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এখানে g-এর মান সর্বনিম্ন (প্রায় ৯.৭৮ মি/সেকেন্ড), তাই বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত এগিয়ে যাওয়া হয়, ততই কেন্দ্র থেকে দূরত্ব কমে এবং g-এর মান বৃদ্ধি পায় (প্রায় ৯.৮৩ মি/সেকেন্ড), ফলে বস্তুর ওজনও বাড়ে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব সর্বনিম্ন হওয়ায় g-এর মান সর্বোচ্চ এবং তাই বস্তুর ওজনও সর্বোচ্চ হয়। 
- এছাড়াও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যভাগে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য হওয়ায় সেখানে বস্তুর ওজন শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮২৫.
কোমল পানীয়তে কোনটি দ্রবীভূত থাকে?
  1. অক্সালিক এসিড
  2. এসিটিক এসিড
  3. কার্বনিক এসিড
  4. ফলিক এসিড
সঠিক উত্তর:
কার্বনিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বনিক এসিড
ব্যাখ্যা
কোমল পানীয়:
- কোমল পানীয় হলো অ্যালকোহল মুক্ত মিষ্টি, ঠান্ডা এবং কার্বনেটেড পানীয়।
- কোমল পানীয়তে কার্বনিক এসিড দ্রবীভূত থাকে।
- কোমল পানীয় পান করার সময় এ থেকে একটি গ্যাস বুদ বুদ আকারে বের হয়।
- এ গ্যাস হচ্ছে CO2 যা উচ্চ চাপে ও ঠান্ডা অবস্থায় দ্রবীভূত করা হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- CO2 পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক এসিড উৎপন্ন করে।
- কার্বনিক এসিড একটি মৃদু এসিড, যা পানিতে খুবই অল্প পরিমাণে বিয়োজিত হয়।
- এটি আমাদের পরিপাকতন্ত্রের এনজাইমের ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে পরিপাকে সহায়তা করে।

CO2(g) + H2O → [H2CO3]

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৬.
এক আলোকবর্ষ কত মাইল?
  1. ক) ৫.৬৬ ট্রিলিয়ন মাইল
  2. খ) ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল
  3. গ) ৬. ৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল
  4. ঘ) ৬.৬৬ ট্রিলিয়ন মাইল
সঠিক উত্তর:
খ) ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল
ব্যাখ্যা

আলোকবর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে মহাকাশ সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
এক আলোক বর্ষ সমান ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

সূত্র: স্পেস.কম ওয়েবসাইট

৮২৭.
Stainless steel-এর কম্পোজিশনে steel ছাড়া আর কী উপাদান মিশ্রিত আছে?
  1. তামা
  2. নিকেল
  3. সোডিয়াম
  4. ভ্যানাডিয়াম
সঠিক উত্তর:
নিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকেল
ব্যাখ্যা

• Stainless steel মূলত লোহা (iron) এবং কার্বনের মিশ্রণ, তবে এটিকে ক্ষয়রোধী এবং শক্তিশালী করতে অন্যান্য উপাদানও মিশ্রিত করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিকেল। নিকেল stainless steel-এর ক্রমবর্ধমান জং প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নরম লৌহের তুলনায় দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে। এছাড়া কিছু stainless steel-এ ক্রোমিয়ামও মিশ্রিত থাকে, যা পৃষ্ঠকে অক্সিডেশন থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে, তামা, সোডিয়াম বা ভ্যানাডিয়াম সাধারণত stainless steel-এর প্রধান কম্পোজিশনে থাকে না। তাই প্রশ্নের চার অপশনের মধ্যে সঠিক উত্তর হলো খ) নিকেল, যা steel-এর সঙ্গে মিশে এটি আরও টেকসই এবং জং-প্রতিরোধী করে।

• সংকর ধাতু:
- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।
যেমন - পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং জিংক 35% থাকে।
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়।

যেমন-
• স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু।
• আবার, পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু।
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)।
 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮২৮.
তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. হিলিয়াম
  2. ক্রিপ্টন
  3. আর্গন
  4. জেনন
সঠিক উত্তর:
আর্গন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্গন
ব্যাখ্যা

গাইগার-মূলার (GM) কাউন্টার হলো একটি তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকারী যন্ত্র। এর ভেতরে নিম্ন চাপে মূলত আর্গন (Argon) গ্যাস ব্যবহার করা হয়। যখন তেজস্ক্রিয় বিকিরণ (যেমন: আলফা বা বিটা কণা) টিউবের ভেতর প্রবেশ করে, তখন এটি আর্গন পরমাণুকে আয়নিত করে। এই আয়ননের ফলে একটি ক্ষণস্থায়ী বিদ্যুৎ প্রবাহ বা পালস তৈরি হয়, যা যন্ত্রের সাহায্যে গণনা করা যায়।

• আর্গন গ্যাস: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২৯.
আধান বা চার্জের একককে কী দিয়ে প্রকাশ করে?
  1. ক) C
  2. খ) A
  3. গ) V
  4. ঘ) Hz
সঠিক উত্তর:
ক) C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) C
ব্যাখ্যা
আধানের একককে কুলম্ব C এবং বিদ্যুৎ প্রবাহের একককে এম্পিয়ার A দ্বারা প্রকাশ করা হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮৩০.
সোডিয়াম ধাতুর নিষ্কাশনে কিসের অ্যানোড ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) গ্রাফাইট
  2. খ) কপার
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) গ্রাফাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ধাতুর নিষ্কাশনে গ্রাফাইট দন্ড অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। এবং লোহার বলয় ক্যাথোড রূপে কাজ করে।
৮৩১.
ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী
  2. নমনীয়
  3. ভঙ্গুর
  4. অনুজ্জ্বল
সঠিক উত্তর:
নমনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নমনীয়
ব্যাখ্যা
• ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য বলতে এমন কিছু গুণ বোঝানো হয় যা বেশিরভাগ ধাতব পদার্থে দেখা যায়। 

• ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- নমনীয়তা (Malleability) – চাপ প্রয়োগ করলে ধাতুকে পাত বা বিভিন্ন আকারে গড়া যায়।
- তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী (Conductivity) – ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন করে। (উদাহরণ: তামা, রূপা)
- উজ্জ্বলতা (Luster) – অধিকাংশ ধাতু চকচকে বা উজ্জ্বল হয়।
-  প্রসারণযোগ্যতা (Ductility) – ধাতুকে প্রসারিত করে তারে পরিণত করা যায়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।  
৮৩২.
চিত্রের OR রশ্মিকে কী বলা হয়?
  1. অভিলম্ব
  2. বিভেদ তল
  3. প্রতিসরিত রশ্মি
  4. আপতিত রশ্মি
সঠিক উত্তর:
প্রতিসরিত রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিসরিত রশ্মি
ব্যাখ্যা
আলোর প্রতিসরণ (Refraction of Light): 
- আমরা জানি আলোক রশ্মি স্বচ্ছ ও সমসত্ত্ব মাধ্যমে সবসময় সরল রেখায় চলে। 
- কিন্তু আলোকরশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন তার গতিপথ বেঁকে যায়। 
- আলোক রশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে লম্বভাবে আপতিত না হয়ে যদি তির্যকভাবে আপতিত হয় তাহলে মাধ্যম দুটির বিভেদতলে আলোক রশ্মির গতিপথ পরিবর্তনের এ ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলা হয়। 
- এ রশ্মি চিত্রের সাহায্যে আলোর প্রতিসরণ দেখানো হয়েছে। 


- চিত্রে, XY বিভেদ তল। 
- PO একটি আলোক রশ্মি বিভেদ তলের O বিন্দুতে আপতিত হয়ে OR পথে কাচের মধ্যে গমন করে। 
- MN হলো অভিলম্ব, PO আপতিত রশ্মি এবং O হলো আপতন বিন্দু। 

আমরা জানি,
- বায়ু অপেক্ষা কাঁচের ঘনত্ব বেশি।
- রশ্মিটি বায়ু মাধ্যম হতে কাঁচ মাধ্যমে প্রবেশ করার সময় OQ পথে না গিয়ে একটু বেঁকে ON এর দিকে সরে গিয়ে OR পথে গমন করে।
এখানে, OR হচ্ছে প্রতিসরিত রশ্মি। 
তাহলে চিত্র হতে পাওয়া যায়,
∠POM = আপাতন কোণ = ∠i এবং ∠RON = প্রতিসরণ কোণ = ∠r  ।
আপতন কোণ ∠i, প্রতিসরণ কোণ ∠r থেকে বৃহত্তর হয়।
অর্থাৎ, ∠i > ∠r  । 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৩.
'ড্রাই আইস' (dry ice) হলো -
  1. কঠিন অবস্থায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. কঠিন অবস্থায় সালফার ডাইঅক্সাইড
  3. শূন্য ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে বরফ
  4. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের কঠিন অবস্থা
সঠিক উত্তর:
কঠিন অবস্থায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন অবস্থায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাই, যা ঠাণ্ডা -78.5° C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৮৩৪.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুযায়ী কোনটি ধ্রুব রাশি নয়?
  1. ভর
  2. স্থান
  3. সময়
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়।
- এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়।
- কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ।
- উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়।
- আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৫.
নিউক্লিক এসিড কয় ধরনের?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

নিউক্লিক এসিড ২ ধরনের। যথা - DNA এবং RNA।
ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA। বংশগতির ধারা পরিবহনে ক্রোমোজোমের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA এবং RNA এর গুরুত্ব অপরিসীম।
DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

৮৩৬.
ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গকে বলা হয়-
  1. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. গামারশ্মির তরঙ্গ
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
২. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 
৩. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৪. তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৫. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে। 

তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়া যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, সে তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। 
- আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
যেমন- বেতার তরঙ্গ, এক্সরশ্মির তরঙ্গ, গামারশ্মির তরঙ্গ ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৭.
আধুনিক কম্পিউটারের প্রসেসরে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ___। 
  1. মাইক্রোবায়োলজি
  2. ন্যানোটেকনোলজি
  3. থার্মোডাইনামিক্স
  4. বায়োটেকনোলজি
সঠিক উত্তর:
ন্যানোটেকনোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যানোটেকনোলজি
ব্যাখ্যা

• আধুনিক কম্পিউটারের প্রসেসরে ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো ন্যানোটেকনোলজি, যা চিপের দ্রুততা, ক্ষমতা এবং শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

- প্রসেসর বা CPU (Central Processing Unit) হলো কম্পিউটারের মস্তিষ্ক, যা ডাটা প্রক্রিয়াকরণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। আধুনিক প্রসেসরের কার্যকারিতা মাইক্রোচিপের আকার ও প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে।

ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology):
- ন্যানোটেকনোলজি হলো অণু ও পরমাণুর মাত্রার প্রযুক্তি (1-100 ন্যানোমিটার)।
- এর মাধ্যমে অত্যন্ত ছোট, দ্রুত ও কম শক্তির চিপ তৈরি করা যায়।
- আধুনিক প্রসেসর, মেমোরি চিপ, সেন্সর ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে এটি ব্যবহৃত হয়।

ব্যবহার ও সুবিধা:
- মাইক্রোচিপে ক্ষুদ্র ট্রানজিস্টর তৈরি করা।
- কম শক্তি খরচে বেশি গতি।
- কম স্থান দখল, তাই স্মার্টফোন ও ল্যাপটপকে ছোট ও দ্রুত করা যায়।
- উন্নত কোডিং, ডেটা প্রসেসিং ও AI অ্যাপ্লিকেশনে সহায়তা।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

৮৩৮.
লেন্সের ক্ষমতার একক কোনটি?
  1. মিটার
  2. ক্যান্ডেলা
  3. লুমেন
  4. ডায়াপ্টার
সঠিক উত্তর:
ডায়াপ্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াপ্টার
ব্যাখ্যা
লেন্স:
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলা হয়।
- লেন্স সাধারণত কাচের তৈরি হয়। এছাড়া কোয়ার্টজ, স্বচ্ছ প্লাস্টিক দ্বারাও লেন্স তেরি করা হয়।
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• উত্তল বা অভিসারী লেন্স (Convex Lens)।
• অবতল বা অপসারী লেন্স (Concave Lens)।

লেন্সের ক্ষমতা:
- লেন্সের ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এর একক হচ্ছে ডায়াপ্টার।
- দূরত্বকে মিটারে প্রকাশ করে এর বিপরীত রাশি নিলে লেন্সটির ক্ষমতা ডায়াপ্টার পাওয়া যায়।
- ডায়াপ্টারকে সংক্ষেপে D দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- লেন্সের ক্ষমতা ধণাত্মক বা ঋণাত্মক যে কোনোটিই হতে পারে।
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক হয়, তাহলে বুঝতে হবে লেন্সটি উত্তল।
- লেন্সের ক্ষমতা ঋণাত্মক হয়, তাহলে লেন্সটি হবে অবতল।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৯.
ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকে-
  1. ক) ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম সালফেট
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
ঝিনুক বা শামুকের খোলসে প্রায় ৯৮% ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে। তাপ দিয়ে ঝিনুক বা শামুকের খোলস থেকে চুন তৈরি করা হয়। তাপে ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকা ক্যালসিয়াম কার্বনেট ভেঙ্গে গিয়ে ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা চুন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
৮৪০.
এয়ার কন্ডিশনারে শীতক হিসেবে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ক্লোরফ্লোর কার্বন
  2. খ) ফ্রেয়ন
  3. গ) নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) ক্লোরিন
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রেয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রেয়ন
ব্যাখ্যা

এসিতে ব্যবহার হওয়া গ্যাস রেফ্রিজারেন্ট নামে পরিচিত।
রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে ফ্রেয়ন ব্যবহৃত হয়।

ফ্রেয়ন হচ্ছে - ডাইক্লোরাে-ডাইফ্লোরাে মিথেন।

এসি ছাড়াও রেফ্রিজারেটরেও শীতক হিসেবে ফ্রেয়ন ব্যবহৃত হয়।
রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাপা নলের কুন্ডলী। একে বাষ্পীভবন কুন্ডলী বলে। এই কুন্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪১.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করা হয়?
  1. ইনভার্টার
  2. ট্রান্সফর্মার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. রেক্টিফায়ার
সঠিক উত্তর:
রেক্টিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেক্টিফায়ার
ব্যাখ্যা

যে যন্ত্রের মাধ্যমে AC (Alternating Current) প্রবাহকে DC (Direct Current) প্রবাহে রূপান্তর করা হয়, তাকে রেক্টিফায়ার (Rectifier) বলে।

• রেক্টিফায়ার:
- এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করার পদ্ধতিকে বলা হয় রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণ।
- যে যান্ত্রিক ব্যবস্থা রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণ করে তাকে বলা হয় রেক্টিফায়ার।
- এটি সাধারণত ডায়োড ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।
- রেক্টিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
- রেক্টিফায়ার ছাড়া ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরাসরি এসি প্রবাহ গ্রহণ করতে পারে না।

• ডায়োড:

- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি ব্যবহার করে রেক্টিফায়ার তৈরি করা হয়।

অন্যান্য অপশন:
- ইনভার্টার (Inverter): এটি রেক্টিফায়ারের বিপরীত কাজ করে, অর্থাৎ ডিসি প্রবাহকে এসি প্রবাহে রূপান্তর করে। এটি সাধারণত সোলার প্যানেল বা গাড়ির ব্যাটারি থেকে পাওয়ার নিয়ে গৃহস্থালী সরঞ্জাম চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ট্রান্সফর্মার (Transformer): এটি এসি ভোল্টেজকে কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ফ্রিকোয়েন্সি বা প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে না।
- ট্রানজিস্টর (Transistor): এটি একটি সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস যা সাধারণত বৈদ্যুতিক সংকেতকে অ্যামপ্লিফাই (Amplifier) করতে বা সুইচ (Switch) হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি সরাসরি এসি থেকে ডিসি রূপান্তর করে না। 

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৮৪২.
উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম লবণকে কী বলা হয়?
  1. কাপড় কাঁচার সোডা
  2. সাবান
  3. টেস্টিং সল্ট
  4. সৈন্ধব লবণ
সঠিক উত্তর:
সাবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবান
ব্যাখ্যা
• উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম লবণকে বলা হয় সাবান। 

• সাবান:
- উচ্চতর তৈল এসিডের (যেমন: স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড) সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণকে সাবান বলা হয়। 

• সাবানের ব্যবহার:
- সাবান সাধারণত কঠিন পদার্থ, তবে পানিতে দ্রবীভূত হতে পারে এবং জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির হয়।  
- সাবান পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি ময়লা এবং গ্রিজ অপসারণে সহায়ক।

• এটি এক ধরনের জৈব অ্যাসিডের লবণ। সাবান তৈরির জন্য চর্বি বা তেলকে ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করানো হয়, যা Saponification নামে পরিচিত।
- এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারিন তৈরি হয় এবং ফ্যাটি অ্যাসিড ক্ষারের সাথে মিশে সাবান তৈরি করে।  

• বিক্রিয়াটি হলো:
 স্টিয়ারিক এসিড (C17H35COOH) + NaOH → C17H35COONa (সোডিয়াম স্টিয়ারেট) + H2O

- এখানে সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো সাবানের রাসায়নিক নাম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৮৪৩.
কোন পদার্থ নিম্ন তাপমাত্রায় অপরিবাহীর এবং তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবাহীর মতো আচরণ করে?
  1. তামা
  2. রৌপ্য
  3. প্লাস্টিক
  4. জার্মেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
জার্মেনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- পরিবাহী পদার্থের ইলেকট্রনসমূহ এক পরমাণু থেকে অন্য পরমাণুতে সহজেই চলাচল করতে পারে। 
যেমন- ধাতু, বিশেষ করে রৌপ্য, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। 
- কার্বন অধাতু হলেও এর একটি রূপ গ্রাফাইট বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- অপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে এর পরমাণুর ইলেকট্রন সহজে চলাচল করতে পারে না। 
- তবে অপরিবাহী পদার্থকে ঘষে আহিত করা যায়। 
- এছাড়া যদি ইলেকট্রন গৃহীত বা বর্জিত হয়, তাহলেও অপরিবাহী পদার্থ আধানযুক্ত হয়। 
যেমন: প্লাস্টিক, গ্লাস ও রাবার ইত্যাদি। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- নিম্ন তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহী পদার্থ অপরিবাহীর মতো আচরণ করে। 
- তাপমাত্রা বাড়ালে এটি পরিবাহীর মতো আচরণ করে। 
যেমন- সিলিকন, জার্মেনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৮৪৪.
দুটি ভিন্ন তাপমাত্রার বস্তুকে পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হলে কি ঘটবে?
  1. ক) বেশি তাপমাত্রার বস্তু থেকে কম তাপমাত্রার বস্তুতে তাপমাত্রা প্রবাহিত হবে
  2. খ) কম তাপমাত্রায় বস্তু তাপ বর্জন করবে
  3. গ) বেশি তাপমাত্রার বস্তু তাপ গ্রহণ করবে
  4. ঘ) বস্তু দুটির তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের আদান-প্রদান চলবে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বস্তু দুটির তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের আদান-প্রদান চলবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বস্তু দুটির তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের আদান-প্রদান চলবে
ব্যাখ্যা

ভিন্ন তাপমাত্রার দুটি বস্তুকে পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হলে তাদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। যে বস্তুটির তাপমাত্রা বেশি সেটি তাপ ছেড়ে দেয় বা বর্জন করে, আর যে বস্তুটির তাপমাত্রা কম সেটি তাপ নেয় বা গ্রহণ করে। দুটি বস্তুর তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের এই আদান প্রদান বা গ্রহণ- বর্জন চলতে থাকে।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮৪৫.
বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্রের নাম কি?
  1. ক) রেইনগ্রেট
  2. খ) সিসমোগ্রাফ
  3. গ) রেইনগেজ
  4. ঘ) ক্রনোমিটার
সঠিক উত্তর:
গ) রেইনগেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রেইনগেজ
ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্রের সিসমোগ্রাফ।
- রেইন গেজ হলো- কোন এলাকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় তা পরিমাপ করার যন্ত্র।
- সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ক্রনোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮৪৬.
কার্বনের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কোনটি?
  1. C12
  2. C13
  3. C14
  4. C24
সঠিক উত্তর:
C14
উত্তর
সঠিক উত্তর:
C14
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: 
- ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যায় নিউট্রনযুক্ত  নিউক্লিয়াসের  পরমাণুকে বলা হয় সেই মৌলের আইসোটোপ।

কার্বন এর নিউক্লিয়াসে ৬ টি প্রোটন এবং ৩ টি আইসোটোপ:
C12: 6 টি প্রোটন এবং 6 টি নিউট্রন
C13: 6 টি প্রোটন এবং 7 টি নিউট্রন
C14: 6 টি প্রোটন এবং 8 টি নিউট্রন
- কার্বনের এই তিনটি আইসোটোপের মাঝে C14 হচ্ছে অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৮৪৭.
কোনটি বিশুদ্ধ পানিতে দ্রবীভূত হয় না?
  1. ক) চুনাপাথর
  2. খ) অ্যালকোহল
  3. গ) গ্লিসারিন
  4. ঘ) খাবার লবণ
সঠিক উত্তর:
ক) চুনাপাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চুনাপাথর
ব্যাখ্যা
- সোডিয়ামের যৌগ সোডিয়াম ক্লোরাইড (খাবার লবণ) স্বচ্ছ, বর্ণহীন কঠিন পদার্থ এবং পানিতে দ্রবণীয়।
- গ্লিসারিন পানি এবং অ্যালকোহলে দ্রবীভূত হয়।
- অ্যালকোহল পানিতে দ্রবীভূত হয়।
- অন্যদিকে, ক্যালসিয়াম কার্বনেট প্রকৃতিতে চুনাপাথর, মার্বেল পাথর, চক ও অন্যান্য রূপে বিদ্যমান; যা বিশুদ্ধ পানিতে সম্পূর্ণভাবে অদ্রবণীয়

উৎস: chem.ncbi.nlm.nih.gov & Britannica Encyclopedia
৮৪৮.
রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য কতটি মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. দুইটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা

• রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়।

• টেলিভিশন:
- টেলিভিশন শব্দের অর্থ দূরদর্শন।
- ১৯২৬ সালে স্কটিশ বিজ্ঞানী লজি বেয়ার্ড টেলিভিশন আবিষ্কার করেন।
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক ষ্টেশনের।
- এ প্রেরক ষ্টেশনে থাকে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য দুটো পৃথক প্রেরক যন্ত্র।
- একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয় এবং অন্য প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ-সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।

• রঙিন টেলিভিশন:
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এই তিনটি মৌলিক রঙ ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৯.
সাইকেডেলিক পদার্থের পরিপ্রেক্ষিতে "LSD" এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Linear System Dynamics
  2. Light Sensitive Dye
  3. Lithium Sodium Dichloride
  4. Lysergic Acid Diethylamide
সঠিক উত্তর:
Lysergic Acid Diethylamide
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lysergic Acid Diethylamide
ব্যাখ্যা
• LSD:
- LSD এর পূর্ণ রূপ Lysergic Acid Diethylamide.
- টি একটি শক্তিশালী সাইকেডেলিক পদার্থ, যা ১৯৩৮ সালে সুইস বিজ্ঞানী আলবার্ট হফম্যান আবিষ্কার করেন।
- এটি মানসিক অবস্থায় গভীর পরিবর্তন আনতে সক্ষম এবং সচরাচর হ্যালুসিনেশন তৈরি করে।
- LSD মূলত মানসিক অভিজ্ঞতাকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করে এবং ইন্দ্রিয়জনিত বিকৃতি ঘটায়।
- LSD কে "এসিড" নামেও ডাকা হয়।
- এটি একসময় চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হত।

সূত্র: National Institutes of Health
৮৫০.
নিচের কোন গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা
ইস্ট:
- পাউরুটি তৈরীতে পাউরুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট ব্যবহার করা হয়।
- ইস্ট এক প্রকার ছত্রাক যা কার্বহাইড্রেড ও অক্সিজেনের উপর ক্রিয়া করে CO₂ গ্যাস উৎপন্ন করে।
- উৎপন্ন CO₂ বা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে।
- পাউরুটি প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফোলার পর ওভেনে বেকিং করা হয়।
- উত্তাপে ইস্ট মরে যায় এবং CO₂ উৎপন্ন হওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রুটি ফোলাও বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫১.
বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদনের উদাহরণ কোনটি?
  1. এল.ই.ডি বাল্ব
  2. বৈদ্যুতিক পাখা
  3. বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি
  4. ব্যাটারি চার্জ করা
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক পাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক পাখা
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক পাখা বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে (গতিশক্তি) রূপান্তরিত করে। পাখার মোটরে বৈদ্যুতিক প্রবাহের ফলে ব্লেডগুলো ঘোরে, যা বায়ুপ্রবাহ তৈরি করে এবং এটিই যান্ত্রিক শক্তির উদাহরণ। 

বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি: 
- শক্তির রূপান্তরের উদাহরণ হিসেবে সাধারণত প্রথমে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি সহজে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায় এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। এজন্য সবার বাসায় অন্য শক্তি সরবরাহ না করে প্রথমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। 
- বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে দেখা যায়)। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দ শক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয়, সেটি এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। তারপরও স্পিকারে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে আসলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫২.
কোন লবণটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না? 
  1. সিলভার ক্লোরাইড
  2. পটাসিয়াম নাইট্রেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. অ্যামোনিয়াম ফসফেট
সঠিক উত্তর:
সিলভার ক্লোরাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলভার ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• চুনাপাথর (CaCO3) ।

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। 
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ((NH4)NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫৩.
ঋণাত্নক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে কী বলা হয়? 
  1. ক্যাটায়ন
  2. অ্যানায়ন
  3. একক বন্ধন
  4. সমযোজী বন্ধন
সঠিক উত্তর:
অ্যানায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানায়ন
ব্যাখ্যা
আয়নিক বন্ধন: 
- নিকটতম নিস্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের উদ্দেশ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী পরমাণুগুলোর মধ্যে ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণের ফলে উৎপন্ন বিপরীতধর্মী আয়নের মধ্যে স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বলের মাধ্যমে যে বন্ধন গঠিত হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 
- আয়নিক বন্ধন গঠনের ক্ষেত্রে তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অন্যদিকে তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে গ্রহন করে ঋণাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- ধনাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে ক্যাটায়ন এবং ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে অ্যানায়ন বলে। 
- NaCl যৌগের মধ্যে Na+ ক্যাটায়ন ও Cl- অ্যানায়ন। 
- ক্যাটায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় কম এবং অ্যানায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় বেশি থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৪.
ত্বরণের একক কোনটি?
  1. ক) ms-1
  2. খ) ms-2
  3. গ) Ns
  4. ঘ) Kgs-2
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ms-2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ms-2
ব্যাখ্যা
ত্বরণের একক ms-2 .
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫৫.
কোন চুম্বকত্ব অপসারণের সাথে বিলুপ্ত হয়?
  1. স্থায়ী চুম্বক
  2. সিরামিক চুম্বক
  3. সংকর চুম্বক 
  4. অস্থায়ী চুম্বক 
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক 
ব্যাখ্যা

কৃত্রিম চুম্বক: 
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- ১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক এবং ২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক।

অস্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 

স্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক আবার দুই ধরনের হয়। 
যথা- ১। সংকর চুম্বক ও ২। সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫৬.
সাদা ভিট্রিওল এর সংকেত কোনটি?
  1. CuSO4.5H2O
  2. ZnSO4.7H2O
  3. Na2CO3.10H2O
  4. CaSO42.H2O
সঠিক উত্তর:
ZnSO4.7H2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ZnSO4.7H2O
ব্যাখ্যা
•সাদা ভিট্রিওলের সংকেত ZnSO4.7H2O।
- সাদা ভিট্রিওল একটি রাসায়নিক যৌগ।
- এটি একটি স্ফটিকাকৃত পদার্থ,
- যা প্রধানত কৃষি, ঔষধ, এবং শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
• CuSO4.5H2O - ব্লু ভিট্রিওল।
• Na2CO3.10H2O - কাপড় কাঁচা সোডা।
• (CaSO4)2.H2O - জিপসাম (প্ল্যাস্টার অব প্যারিস)।

সূত্র: রসায়ন বিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮৫৭.
কোন মৌলিক পদার্থের পারমাণবিক সংখ্যা ১৯?
  1. সোডিয়াম
  2. আয়রন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা 17
পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 19
ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 20
আয়রনের পারমাণবিক সংখ্যা 26
সোডিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ১১

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন
৮৫৮.
সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় তেল বা চর্বির সাথে কোন পদার্থ বিক্রিয়া করে সাবান ও গ্লিসারিন তৈরি করে? 
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  2. নাইট্রিক অ্যাসিড 
  3. সালফিউরিক অ্যাসিড 
  4. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
ব্যাখ্যা

সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । এখানে, R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 যেখানে, n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK । 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়, সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সাবান এবং গ্লিসারিনের মিশ্রণের মধ্যে NaCl যোগ করলে গ্লিসারিন পাত্রের নিচে অবস্থান করে এবং সাবানের অণুগুলো NaCl কে ঘিরে একত্র হয়ে পাত্রের উপরের দিকে কেকের আকারে ভেসে উঠে, একে সোপ কেক বলে। 
- সোপ কেককে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে পৃথক করে বিভিন্ন আকৃতির ছাঁচে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির সাবান তৈরি করা হয়। 
- সাবান একটি পরিষ্কারক দ্রব্য যা তেল বা চর্বি এবং ক্ষার থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে সাবানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- ১। প্রসাধনী সাবান এবং ২। লন্ড্রি সাবান। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫৯.
ডিজিটাল সংকেতের দুটি স্তর কী দ্বারা প্রকাশ করা হয়? 
  1. + এবং −
  2. S এবং P
  3. ০ এবং ১
  4. L এবং M
সঠিক উত্তর:
০ এবং ১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০ এবং ১
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়। 
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. এনালগ পদ্ধতি (analogue system), 
২. ডিজিটাল পদ্ধতি (digital system) এবং 
৩. মিশ্র পদ্ধতি (hybrid system)। 

ডিজিটাল পদ্ধতি: 
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত। 
- এই সংকেতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মান আছে। এই দুই মানের মাঝে অন্য কোনো স্তর নাই। সময়ের সাথে এর মান হয় সর্বোচ্চ না হয় সর্বনিম্ন মানে পরিবর্তিত হয়, এই সংকেত চৌকো তরঙ্গের (square waves)। 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের বদলে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
- ইলেকট্রনিকসের ডিজিটাল পদ্ধতির এই সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারী (binary) সংকেত বলা হয়। 
- দুটি পৃথক অবস্থায় কাজ করে এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই সংকেত পাওয়া যায়। 
যেমন- ট্রানজিস্টারের সচল বা অন (on) এবং অচল বা অফ (off) অবস্থা দ্বারা দুটি পৃথক অবস্থা বোঝানো সম্ভব। প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা বা অচৌম্বকায়িত অবস্থা দিয়ে ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব। 
- ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে 0 এবং ১ (0 and 1), সত্য এবং মিথ্যা (true and false), কিংবা উচ্চ এবং নিম্ন (high and low) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির জনপ্রিয় উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬০.
কোন দুই রঙের মিশ্রনে বেগুনি রঙ তৈরি হয়?
  1. লাল ও আকাশী
  2. নীল ও সাদা
  3. সবুজ ও নীল
  4. সাদা ও আকাশী
সঠিক উত্তর:
লাল ও আকাশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল ও আকাশী
ব্যাখ্যা
রং সম্পর্কিত জ্ঞান: 
- লাল, নীল, সবুজ এ তিনটি মূল বর্ণ। 
- মূল তিনটি বর্ণ থেকে যেকোন দুটি মিশালে যে রং হয় তাকে বলা হয় গৌণ বর্ণ। 
যেমন- 
লাল ও নীল (আকাশী) রং মিশালে বেগুনী
• হলুদ রং মিশালে সবুজ এবং 
• হলুদ ও লাল রং মিশালে কমলা রং হয়। 
- তাহলে বেগুনী, সবুজ, ও কমলা এ তিনটি গৌণ বর্ণ। 
- মূল ও গৌন বর্ণের নিজ নিজ প্রখরতা কমিয়ে হয় আকাশী, গোলাপী, সবুজ কলা পাতার রং, হালকা বেগুনী ও হাল্কা কমলা রং। 
- কিন্তু একটি মূল বর্ণ ও একটি গৌণ মিশালে সে বর্ণে দুটি বর্ণের সংমিশ্রণের আভা থাকবে। 
যেমন- 
•  লাল ও কমলা মিশালে লালচে কমলা, 
• লাল ও বেগুনী মিশালে লালচে-বেগুনী ও 
• নীল মিশালে নীল-বেগুনী রং হয়। 
- এগুলোকে বলা হয় প্রান্তিক রং। 
- যে রং দৃষ্টিতে প্রখর লাগে এবং গরম অনুভূতি দেয় তাকে বলা হয় উষ্ণ বর্ণ বা গরম রং। 
যেমন- গাঢ় হলুদ ইত্যাদি। 
- আবার যে রং দেখে ঠান্ডা বোধ হয় তাকে শীতল রং বলা হয়। 
যেমন - আকাশী, হালকা বেগুনী ইত্যাদি ঠান্ডা রং। 

উৎস: গার্হস্থ্য অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬১.
সর্বপ্রথম 'কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole)' শব্দটি ব্যবহার করেন কে?
  1. গ্যালিলিও
  2. স্টিফেন হকিং
  3. জোহানেস কেপলার
  4. জন হুইলার
সঠিক উত্তর:
জন হুইলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন হুইলার
ব্যাখ্যা

• বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম 'কৃষ্ণগহ্বর' শব্দটি ব্যবহার করেন।

• কৃষ্ণগহ্বর:
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম। ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
- একটি মিল্কীওয়েতে ১০০ মিলিয়নের বেশি ব্ল্যাকহোল থাকতে পারে।
- মহাকাশে কৃষ্ণগহব্বর থাকার কথা প্রথম ধারণা করেন - আলবার্ট আইনস্টাইন। ১৯১৬ সালে তিনি তাঁর general theory of relativity তে এই ধারণা তুলে ধরেন।
- আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ১৯৬৭ সালে "black hole" শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনিই মূলত কৃষ্ণগহবরের আবিষ্কারক।
- ২০১৯ সালে প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয় Event Horizon Telescope (EHT).

উৎস: নাসা এবং ব্রিটানিকা।

৮৬২.
কোন তত্ত্বটি আলোক তড়িৎ ক্রিয়া (photoelectric effect) ব্যাখ্যা করে?
  1. তরঙ্গ তত্ত্ব
  2. কোয়ান্টাম তত্ত্ব 
  3. আইনস্টাইনের তত্ত্ব
  4. তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম তত্ত্ব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম তত্ত্ব 
ব্যাখ্যা

কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্ব অনুসারে গতিশীল তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত পর্যাবৃত্ত পরিবর্তনের ফলে দৃশ্য অদৃশ্য শক্তির বিকিরণ হয় এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গাকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- এর দৃশ্য তরঙ্গই আলো। 
- এর জন্য কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। 
- এই তত্ত্ব ফটো তড়িৎ প্রতিক্রিয়া, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ বা ব্ল্যাক বডি রেডিয়েশনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

কণা তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

তরঙ্গ তত্ত্ব: 
- আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নাই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৩.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য কোন বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? 
  1. নিউটন, জন বারডিন ও গ্যালিলিও
  2. ওয়াল্টার ব্রাটেইন, আইনস্টাইন ও ফ্রেমিং
  3. উইলিয়াম শকলি, ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি
  4. জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
সঠিক উত্তর:
জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- 1947 সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র এবং ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিতে শুরু করল এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পেতে শুরু করল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬৪.
C13 এ নিউট্রন সংখ্যা কতটি? 
  1. 6 টি
  2. 7 টি
  3. 8 টি
  4. 12 টি
সঠিক উত্তর:
7 টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
7 টি
ব্যাখ্যা
কার্বনের ৩ টি আইসোটোপ: 
• C12 : 6টি প্রোটন এবং 6 টি নিউট্রন, 
• C13 : 6টি প্রোটন এবং 7টি নিউট্রন, 
• C14 : 6টি প্রোটন এবং ৪টি নিউট্রন। 

কার্বনের এই তিনটি আইসোটোপের মাঝে C14 অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
৮৬৫.
একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের গায়ে 40W - 200V লেখা আছে বাল্বটির রোধ কত?
  1. 1000 Ohm
  2. 5 Ohm
  3. 1/5 Ohm
  4. 8000 Ohm
সঠিক উত্তর:
1000 Ohm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1000 Ohm
ব্যাখ্যা
দেওয়া আছে,
- বিদ্যুৎ শক্তি (Power, P) = 40 W
- ভোল্টেজ (Voltage, V) = 200 V
- রোধ (Resistance, R) = ?

 আমরা জানি, 
P=V​2/R
⇒  R=V2/P
⇒ R=2002/40​=40000​/40=1000 Ω​

∴ রোধ (Resistance, R) =1000 Ω​

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৬৬.
কোন কণার মাধ্যমে কণার ভর ব্যাখ্যা করা হয়?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. হিগস বোসন
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন
ব্যাখ্যা

• Standard Model অনুযায়ী কণাগুলোর ভর ব্যাখ্যা করার জন্য হিগস বোসন নামক বিশেষ কণার ধারণা দেওয়া হয়, যা ভরের উৎস হিসেবে কাজ করে।

• স্ট্যান্ডার্ড মডেল ও হিগস বোসন:
- আধুনিক প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের অগ্রগতির ফলে শক্তিশালী এক্সিলারেটর (Accelerator) তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যার মাধ্যমে কণাকে অত্যন্ত উচ্চ শক্তিতে ত্বরিত করা যায়।
- ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার গঠন ও আচরণ ব্যাখ্যার জন্য Standard Model ব্যবহৃত হয়।
- Standard Model অনুযায়ী মৌলিক কণার মাধ্যমে সকল পদার্থের গঠন ব্যাখ্যা করা হয়।
- এই মডেলে কণাগুলোর ভর ব্যাখ্যা করার জন্য হিগস বোসন (Higgs boson) নামক বিশেষ কণার ধারণা দেওয়া হয়।
- ২০১৩ সালে পরীক্ষামূলকভাবে হিগস বোসনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে কণা পদার্থবিজ্ঞান (Particle Physics) একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
- কঠিন পদার্থবিজ্ঞান (Solid State Physics) অর্ধপরিবাহী পদার্থের ওপর গবেষণার ভিত্তি গড়ে তোলে, যা আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৮৬৭.
টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল থেকে কোন আলো বের হয়?
  1. ক) মাইক্রোওয়েভ
  2. খ) রেডিও ওয়েভ
  3. গ) ইনফ্রারেড আলো
  4. ঘ) আল্ট্রা ভায়োলেট আলো
সঠিক উত্তর:
গ) ইনফ্রারেড আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইনফ্রারেড আলো
ব্যাখ্যা
ইনফ্রারেড আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না।
- টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল করার ইউনিট থেকে ইনফ্রারেড আলো বের হয় বলে আমরা সেখান থেকে আলো বের হতে দেখি না।
- মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তোলার জন্য সিসিডি নামক যে সংবেদনশীল আইসি ব্যবহার করা হয় সেগুলোর সাহায্যে দৃশ্যমান আলোর সাথে সাথে খানিকটা ইনফ্রারেড আলোও দেখা যায়।

ইনফ্রারেড
এটি এক ধরনের ওয়েভ যার ফ্রিকুয়েন্সী সীমা ৩০০ 300 GHz থেকে ৪০০ THz হয়ে থাকে। খুব কাছাকাছি অবস্থিত দুইটিডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইনফ্রারেড ব্যবহার করা হয়।
এ ধরনের যোগাযোগে দুই প্রান্তে ট্রান্সমিটার ওরিসিভার থাকে।
- টেলিভিশন, ভিসিআর এ ব্যবহৃত রিমোট কন্ট্রোলে, বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- কী-বোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ইত্যাদির ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণীর পদার্থজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮৬৮.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর কণিকার নাম কী? 
  1. কোয়ার্ক
  2. নিউট্রন
  3. প্রোটন
  4. ফোটন
সঠিক উত্তর:
ফোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়। 
- প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৯.
নিচের কোনটি সবচেয়ে শক্তিশালী বিজারক?
  1. Al
  2. Zn
  3. Fe
  4. Li
সঠিক উত্তর:
Li
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Li
ব্যাখ্যা

লিথিয়াম (Li) একটি অত্যন্ত সক্রিয় ধাতু, যা খুব সহজেই 1 ইলেকট্রন হারিয়ে Li⁺ আয়ন হয়ে যায়।

বিজারকঃ
বিজারক (Reducing agent) হলো এমন পদার্থ যা অন্যকে প্রতি‌-ধারক (oxidize) করতে সাহায্য করে, অর্থাৎ নিজে প্রতি‌-প্রাপ্ত (oxidized) হয়।
- শক্তিশালী বিজারকের ক্ষেত্রে ইলেকট্রন দানের ক্ষমতা বেশি থাকে।
- অন্য পদার্থের তুলনায়, Li এর প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং ইলেকট্রন দানের ক্ষমতা সর্বোচ্চ, তাই এটি সবচেয়ে শক্তিশালী বিজারক।

- Aluminum (Al): মাঝারি শক্তির বিজারক, Li এর চেয়ে কম শক্তিশালী।
- Zinc (Zn): মাঝারি শক্তির বিজারক।
- Iron (Fe): কম শক্তিশালী বিজারক।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]

৮৭০.
মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে কী বলে? 
  1. ফরমালিন
  2. ক্লোরোফরম 
  3. রেকটিফাইড স্পিরিট 
  4. ভিনেগার 
সঠিক উত্তর:
ফরমালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরমালিন
ব্যাখ্যা

• রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

ভিনেগার: 
- 6 -10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে 40% মিথান্যাল, 52% পানি ও 8% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে 30% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

ক্লোরোফরম: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭১.
কোন ধরণের পদার্থে তাপমাত্রা বাড়ালে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়? 
  1. অর্ধপরিবাহী
  2. সুপরিবাহী
  3. অপরিবাহী
  4. পরিবাহী
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে, সেজন্য সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম এগুলো সুপরিবাহী পদার্থ। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ এগুলো হচ্ছে অপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭২.
DDT এক ধরনের-
  1. কীটনাশক
  2. বিস্ফোরক
  3. ঔষধ
  4. টিকা
সঠিক উত্তর:
কীটনাশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কীটনাশক
ব্যাখ্যা
• DDT:
- DDT এর পূর্ণরূপ হলো: DichloroDiphenylTrichloroethane
- এটি একটি প্রচলিত রাসায়নিক কীটনাশক, যা মূলত মশা, মাছি, পোকামাকড় ধ্বংসের জন্য ব্যবহার করা হতো
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ১৯৪০ সালে DDT আবিষ্কৃত হলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ কীটনাশক হিসেবে অজৈব ও উদ্ভিদজাত পদার্থ থেকে গুণগত মানের দিক থেকে উন্নত।

উৎস: ব্রিটানিকা ও U.S. Environmental Protection Agency।
৮৭৩.
নিউটনের প্রথম গতিসূত্র কী নির্দেশ করে?
  1. জড়তার ধারণা
  2. বল ও ভরের সম্পর্ক
  3. ভরবেগের সংরক্ষণ
  4. ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
জড়তার ধারণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তার ধারণা
ব্যাখ্যা

• জড়তার ধারণা — নিউটনের প্রথম গতিসূত্র মূলত বস্তুর জড়তার ধারণা প্রদান করে।

• নিউটনের প্রথম গতিসূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে।
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে গতিশীল বস্তু সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে।
- কোনো বস্তু তার বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন করতে চায় না। বস্তুর এই স্বাভাবিক প্রবণতাকে জড়তা বলা হয়।

• জড়তা:
- জড়তা বস্তুর একটি ধর্ম।
- জড়তার কারণে স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায়।
- জড়তার কারণে গতিশীল বস্তু সমবেগে চলতে চায়।
- জড়তার পরিমাণ বস্তুর ভরের উপর নির্ভর করে।
- ভর যত বেশি, জড়তা তত বেশি।

• নিউটনের প্রথম সূত্র ও জড়তার সম্পর্ক:
- প্রথম গতিসূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়।
- বাহ্যিক বল না থাকলে বস্তুর অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে।
- এই সূত্র থেকেই জড়তার ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- বল ও ভরের সম্পর্ক → নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্রে বল, ভর ও ত্বরণের সম্পর্ক নির্ধারিত হয়।
- ভরবেগের সংরক্ষণ → ভরবেগ সংরক্ষণ নীতি আলাদা নীতি, যা সংঘর্ষ ইত্যাদিতে প্রযোজ্য।
- ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া → নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৮৭৪.
উচ্চ ক্ষমতার এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা হয় কোন পদ্ধতির মাধ্যমে-
  1. ক) রেডিওথেরাপি
  2. খ) কেমোথেরাপি
  3. গ) এনজিওগ্রাম
  4. ঘ) এন্ডোসকপি
সঠিক উত্তর:
ক) রেডিওথেরাপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রেডিওথেরাপি
ব্যাখ্যা

রেডিও থেরাপি (Radio Therapy)
রেডিও থেরাপি একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়। রেডিওথেরাপি শব্দটি ইংরেজি জধফরধঃরড়হ ঞযবৎধঢ়ু এর সংক্ষিপ্ত রূপ। রেডিওথেরাপি হলো ক্যানসার আরোগ্য বা নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল। এটি ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যধির চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। শরীরের যে অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে সে অঙ্গের আক্রান্ত স্থানে রশ্মি প্রয়োগ করা হয় এর ফলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় কিছু সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবুও আমাদের উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে বহু সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজ থেকেই এই ক্ষয়পূরণ করতে পারে। দুই ধরনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের DNA ধ্বংস করা হয় একটি হলে ফোটন কণাকে কাজে লাগিয়ে অন্যটি তেজস্ক্রিয় কণার মাধ্যমে।
DNA একটি কোষের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং এটি সকল কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে DNA ধ্বংস করলে কোষটি সাথে সাথেই ধ্বংস হয়। এক্ষেত্রে তেমন সময়ের প্রয়োজন হয় না। এজন্য যে সকল রোগীর ক্যান্সার নিরাময়ে বা সামান্য সময় পাওয়া যায় তাদের ক্ষেত্রে রেডিও থেরাপিই একমাত্র ভরসা। অন্যথায় রোগীর মৃত্যু অনিবার্য।
রেডিও থেরাপিকালে রোগীর কিছু ঝুঁকি দেখা দেয়। যেমন রোগীর চুল পড়ে যায়, চামড়া ঝুলে যায়, মুখের ভিতরের অংশ ও গলা শুকিয়ে যায়, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া বা বদ হজমে দেখা দেয়। রোগী ক্লান্তি ও অবসাদে ভোগে। তাই রেডিও থেরাপি দেয়ার সময় রোগীকে প্রতিবার একই জায়গায় একই অবস্থানে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। থেরাপি চলাকালে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চলা উচিৎ।
সুত্রঃ এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৫.
‘প্রতিটি পদার্থ অজস্র ক্ষুদ্র এবং অবিভাজ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত’- মতবাদটির প্রবক্তা?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) অ্যারিস্টটল
  3. গ) জন ডাল্টন
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
সঠিক উত্তর:
গ) জন ডাল্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জন ডাল্টন
ব্যাখ্যা
১৮০৩ সালে বিজ্ঞানী জন ডাল্টন বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে পরমাণু সম্পর্কে এই মতবাদটি দেন-’ প্রতিটি পদার্থ অজস্র ক্ষুদ্র এবং অবিভাজ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত’।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৮৭৬.
১ সি.সি. পানির ভর কত?
  1. ক) ১ গ্রাম
  2. খ) ১০ গ্রাম
  3. গ) ১০০ গ্রাম
  4. ঘ) ১০০০ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
ক) ১ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১ গ্রাম
ব্যাখ্যা
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
- ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ আর তা হলো১গ্রাম/সি.সি. বা ১০০০ কেজি/মিটার
- ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা
- ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭৭.
আদর্শ তড়িৎ কোষের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) গ্যালভানিক কোষ
  2. খ) ভোল্টার কোষ
  3. গ) ল্যাটিমার ক্লার্ক
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ল্যাটিমার ক্লার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ল্যাটিমার ক্লার্ক
ব্যাখ্যা
প্রমাণ বা আদর্শ কোষ: সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ থেকে বেশ কিছু সময় ধরে তড়িৎ প্রবাহ গ্রহণ করলে এদের তড়িচ্চালক বল ক্রমশ কমতে থাকে। 
সুতরাং প্রমিত করার (Standardisation) কাজে অথবা সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে যেখানে প্রায় অপরিবর্তনীয় তড়িচ্চালক বলের প্রয়োজন হয় সে সব ক্ষেত্রে সাধারণ কোষ ব্যবহার করা যায় না। 
যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে প্রমিতকরণ কাজ সম্পন্ন করা যায় তাকে প্রমাণ বা আদর্শ কোষ বলে। 
ওয়েস্টান-ক্যাডমিয়াম ও ল্যাটিমার ক্লার্ক কোষ এ ধরণের কোষ। এগুলোকে পরাবর্ত কোষ (Reversible) বলে।
 
অর্থাৎ, যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বলের মান সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে অন্য তড়িৎ
কোষের বিদ্যুচ্চালক বলের তুলনা করা হয়, তাকে প্রমাণ বা আদর্শ তড়িৎ কোষ বলে। 
 
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৮.
পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত-
  1. ক) 2:1
  2. খ) 1:1
  3. গ) 1:2
  4. ঘ) 2:2
সঠিক উত্তর:
ক) 2:1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 2:1
ব্যাখ্যা
যেখান থেকেই পানির নমুনা সংগ্রহ করা হোক না কেন রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে অর্থাৎ পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণু সংখ্যা 2:1।
৮৭৯.
pH স্কেলের উদ্ভাবক কে?
  1. ডাল্টন
  2. রাদারফোর্ড
  3. আরহেনিয়াস
  4. সোরেনসেন
সঠিক উত্তর:
সোরেনসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোরেনসেন
ব্যাখ্যা

• pH :
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের [H+] মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pH বলে।
- 1909 সালে ড্যানিশ প্রাণ-রসায়নবিদ সোরেনসেন কোনো দ্রবণের H+ ও OH- আয়নের ঘনমাত্রা প্রকাশের জন্য pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH হলো Puissance d' Hydrogen অর্থাৎ হাইড্রোজেন আয়নের প্রাবল্য। 

• pH pOH এর মধ্যে সম্পর্ক-
pH + pOH = 14

• বিশুদ্ধ পানির pH এবং pOH একই অর্থাৎ pH = pOH = 7 I অর্থাৎ বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ।
- বিশুদ্ধ পানিতে এসিড যোগ করা হলে pH এর মান কমতে থাকে এবং ক্ষার যোগ করলে pH এর মান বাড়তে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮০.
স্যাটেলাইট কোন বলের কারণে ঘুরতে থাকে?
  1. অভিকর্ষজ ত্বরণ
  2. মাধ্যাকর্ষণ বল
  3. আপেক্ষিক বল
  4. সমান্তরাল বল
সঠিক উত্তর:
মাধ্যাকর্ষণ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধ্যাকর্ষণ বল
ব্যাখ্যা

• স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহগুলো ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরালে একটি নির্দিষ্ট গতিতে চালনা করা হয়।
• কিন্তু পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে ঐ গতি নিয়েই সে বৃত্তাকার পথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
• কারণ ঐ বলের প্রভাবে পৃথিবী তাকে কেন্দ্রের দিকে টানে তাই সে ঐ সমান্তরাল অবস্থায় থাকতে পারে না।

৮৮১.
অক্সিজেনের আবিষ্কারক কে?
  1. জর্জেস
  2. ভ্যানহেলমন্ট
  3. যোসেফ প্রিন্টলি
  4. ক্যাভেন্ডিস
সঠিক উত্তর:
যোসেফ প্রিন্টলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোসেফ প্রিন্টলি
ব্যাখ্যা
- ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ রসায়নবিদ জোসেফ প্রিস্টলে অক্সিজেন (অম্লজান) আবিষ্কার করেন।
- অক্সিজেন কথাটির অর্থ অম্ল উৎপাদক।

অন্যদিকে, 
- হেনরি ক্যাভেন্ডিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার পৃথিবীর ভর নির্ধারণ এবং মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের গণনা।
- জ্যান ব্যাপটিস্ট ভ্যান হেলমন্ট উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে তার অগ্রণী পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত, সাধারণত "willow tree experiment" হিসাবে পরিচিত। এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছে যে উদ্ভিদ প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র মাটির চেয়ে মূলত পানি থেকে তাদের ভর অর্জন করে, উদ্ভিদের দেহতত্ত্ব এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে পানির ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে অবদান রাখে।
- জর্জেস কুভিয়ার জীবাশ্মবিদ্যার বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার জন্য এবং জীবাশ্ম অধ্যয়নের মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রজাতির বোঝার জন্য তার অবদানের জন্য বিখ্যাত।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৮৮২.
আধুনিক রসায়ন অনুসারে প্রকৃতিতে কতটি মৌলিক পদার্থ রয়েছে?
  1. ৮৮
  2. ৯০
  3. ৯২
  4. ৯৮
সঠিক উত্তর:
৯৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৮
ব্যাখ্যা
• মৌলিক পদার্থ: 
- এ পর্যন্ত ১১৮টি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- এই মৌলিক পদার্থগুলোর মধ্যে ৯৮টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 
- আর বাকী ২০টি কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থ। 
- প্রতিটি মৌলিক পদার্থেরই একটি নাম আছে। 
- আর এদেরকে সংক্ষিপ্ত ও সুবিধাজনকভাবে প্রকাশের জন্যই আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। 
- প্রতীক সাধারণত মৌলের ল্যাটিন, গ্রিক বা ইংরেজি নামের একটি বা দুটি আদ্যক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৮৮৩.
দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে?
  1. ক) কার্বন মনোক্সাইড
  2. খ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
  3. গ) সালফার ডাইঅক্সাইড
  4. ঘ) নাইট্রিক অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে। 

- কার্বন মনোক্সাইড, এছাড়াও কার্বন মনোক্সাইড হিসাবে পরিচিত, একটি খুব শক্তিশালী আণবিক কাঠামো রয়েছে, রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য জড় হয় এবং পানিতে দুর্বল দ্রবণীয়।
- এই কার্বন মনোক্সাইড একটি বিষাক্ত গ্যাস, বর্ণহীন এবং বিস্বাদ, গন্ধহীন হয়। তার রাসায়নিক ফর্মুলা - সিও, এবং একটি একক অণুর ভর 28,01 গ্রাম / Mol হয়।
- কার্বন মনোক্সাইড যেমন অভ্যন্তরীণ জ্বলন ইঞ্জিন যেমন কার্বন, ধারণকারী পদার্থ আংশিক জ্বলন দ্বারা উত্পাদিত হয়।

কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে- 
দুর্বলতা একটি অনুভূতি;
বমি বমি ভাব
মাথা ঘোরা
ক্লান্তি
বিরক্ত
দরিদ্র ক্ষুধা
মাথা ব্যাথা
disorientation
ঝাপসা দৃষ্টি
বমি
অজ্ঞান
খিঁচুনি

সূত্র: Centers of Disease Control and Prevention Website [লিঙ্ক]
৮৮৪.
লোহাতে শব্দের বেগ কত?
  1. ক) 5220 m/s 
  2. খ) 332 m/s
  3. গ) 1450 m/s
  4. ঘ) 5220 m/s2
সঠিক উত্তর:
ক) 5220 m/s 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 5220 m/s 
ব্যাখ্যা
মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয় । যেমন বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 m/s, পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং লোহার মধ্যে 5220 m/s
৮৮৫.
ইলেকট্রন এর কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্পর্কে কে ধারনা দিতে পারেন নি?
  1. ম্যাক্সওয়েল
  2. মেন্ডেলিভ 
  3. বোর
  4. রাদারফোর্ড
সঠিক উত্তর:
রাদারফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা

• ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতির ধারণা রাদারফোর্ড দিতে পারেননি।
- পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যার ইতিহাসে বিভিন্ন বিজ্ঞানী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তবে ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার, আকৃতি ও অবস্থান ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে রাদারফোর্ডের মডেলে গুরুতর সীমাবদ্ধতা ছিল।
- তার অবদান থাকলেও এই দিকটি তার মডেলে অনুপস্থিত।

• রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল:
রাদারফোর্ড 1911 সালে স্বর্ণপাত (Gold Foil) পরীক্ষা পরিচালনা করে প্রমাণ করেন:
- পরমাণুর অধিকাংশ স্থান ফাঁপা এবং শূন্য।
- কেন্দ্রে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও ঘন নিউক্লিয়াস।
- নিউক্লিয়াস ধনাত্মক চার্জযুক্ত।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারদিকে গ্রহের মতো প্রদক্ষিণ করে।

• রাদারফোর্ডের বড় সীমাবদ্ধতা:
- তিনি ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকৃতি, আকার, শক্তিস্তর, ইলেকট্রনের স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
- চলন্ত ইলেকট্রন ক্রমাগত শক্তি হারিয়ে নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়ার কথা, যা বাস্তবে ঘটে না।
- কক্ষপথের বিশেষ আকার (s, p, d, f), শক্তিস্তর, সম্ভাব্য অবস্থান ব্যাখ্যা ছিল অনুপস্থিত।
- ইলেকট্রন কেন ও কীভাবে স্থির থাকে তা ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

৮৮৬.
কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?
  1. গ্লিসারিন
  2. ফিটকিরি
  3. সােডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
ব্যাখ্যা
• লবণ:
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট পানিতে দ্রবীভূত হয় না।
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ।
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ।
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন: অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NHNO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি।
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ, যা প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না।
যেমন: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), সিলভার সালফেট (Ag2SO4), সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮৭.
শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?
  1. কম
  2. শূন্য
  3. অসীম
  4. সর্বাধিক
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা

- শব্দ হলো একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, যার চলাচলের জন্য অবশ্যই একটি জড় মাধ্যমের (যেমন: কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) প্রয়োজন হয়। যেহেতু শূন্য মাধ্যমে (Vacuum) কোনো অণু বা পরমাণু থাকে না যা তরঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে, তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না। এই কারণেই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ ০ মিটার/সেকেন্ড বা শূন্য হয়। 

শব্দ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক একই। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি) শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: পানি) শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম এবং শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৮৮.
সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির প্রধান উৎস কোনটি?
  1. নিউক্লিয় ফিউশন
  2. ফটোইলেকট্রিক প্রক্রিয়া
  3. নিউক্লিয় ফিশন
  4. রাসায়নিক বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয় ফিউশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয় ফিউশন
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৮৯.
কোন ধরনের ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি থাকে? 
  1. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার
  2. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
  3. সমান প্যাঁচসংখ্যার ট্রান্সফরমার
  4. ভোল্টেজ পরিবর্ধক ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার: 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- যে পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়, সেই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সফরমার। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯০.
নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য - প্রমাণ করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
  2. খ) হেনরী ও লেঞ্জ
  3. গ) চন্দ্রশেখর ভেংকটারমন ও আব্দুস সালাম
  4. ঘ) জন এরিংটোন ও এনরিকো ফার্মি
সঠিক উত্তর:
ক) ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
ব্যাখ্যা
- ১৯৩৮ সালে ওটো হান (১৮৭৯-১৯৬৮) ও স্ট্রেসম্যান (১৯০২-১৯৮০) প্রমাণ করেন যে, নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য ।
- অর্থাৎ ফিশনের ফলে একটি বড় ভর সংখ্যা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে প্রায় সমান ভর বিশিষ্ট দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং
প্রচুর শক্তি উৎপাদিত হয়।
- এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে নিউক্লিয় বোমা ও নিউক্লিয় চুল্লীর উদ্ভাবন হয়। নিউক্লিয়াস বিভাজন থেকে যে শক্তি উৎপাদন হয়, সেই শক্তির পরিমাণ বিপুল ।
- এজন্য বর্তমান আধুনিক বিশ্ব নিউক্লিয় শক্তিকে শক্তির একটি প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে।
- ম্যাক্স প্ল্যাংক (১৮৫৮-১৯৪৭) বিকিরণ সম্পর্কীত কোয়ান্টাম তত্ত্ব  আবিষ্কার করেন। 

উৎস: এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯১.
MRI যন্ত্রে প্রধানত কোন দুটি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়? 
  1. গামা রশ্মি ও এক্স-রে
  2. রেডিও তরঙ্গ ও আলোক তরঙ্গ
  3. এক্স-রে ও আল্ট্রাসাউন্ড
  4. শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

- এমআরআই (Magnetic Resonance Imaging) স্ক্যানার মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির বিস্তারিত চিত্র তৈরি করতে দুটি প্রধান শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র শরীরের হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটনগুলোকে একটি নির্দিষ্ট বিন্যাসে সারিবদ্ধ করতে বাধ্য করে। আবার রেডিও তরঙ্গ যখন সারিবদ্ধ প্রোটনগুলোতে প্রয়োগ করা হয়, তখন তারা শক্তি শোষণ করে এবং পরবর্তীতে সেই শক্তি সংকেত হিসাবে নির্গত করে, এই সংকেতগুলো একটি কম্পিউটার দ্বারা প্রক্রিয়া করে বিস্তারিত ছবি তৈরি করা হয়। 

এমআরআই(MRI): 

- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)।
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। 
- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। 
- ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৮৯২.
কিডনির পাথর শনাক্তকরণে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. রঞ্জনরশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
রঞ্জনরশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঞ্জনরশ্মি
ব্যাখ্যা
• X-ray / রঞ্জনরশ্মি:
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ।
- এক্সরে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10- 10 m এর কাছাকাছি।
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবষ্কার করেন।
- হাড়ের ফাটল, দাতের ক্ষয় নির্ণয়, কিডনির পাথর শনাক্তকরণ, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে/রঞ্জনরশ্মি ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৩.
রুপার আপেক্ষিক রোধ কত?
  1. ক) 1.59 × 10-8 Ωm
  2. খ) 1.68 × 10-8 Ωm
  3. গ) 2.44 × 10-8 Ωm
  4. ঘ) 2.50 × 10-8 Ωm
সঠিক উত্তর:
ক) 1.59 × 10-8 Ωm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 1.59 × 10-8 Ωm
ব্যাখ্যা

একক দৈর্ঘ্য এবং একক প্রস্থচ্ছেদ ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট কোনো একটি পরিবাহী তার প্রস্থচ্ছেদের অভিলম্বভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহে যে পরিমাণ বাধা প্রদান করে তাকে তার আপেক্ষিক রোধ বলে।
আপেক্ষিক রোধের একক ও'ম মিটার ( Ω-m)।

রুপার আপেক্ষিক রোধ 1.59 × 10-8 Ωm

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান। 

৮৯৪.
What does Newton’s second law of motion state?
  1. Gravitational force effect
  2. Action-reaction principle
  3. Inertia of matter
  4. The principle of conservation of energy
  5. Relationship between force, mass, and acceleration
সঠিক উত্তর:
Relationship between force, mass, and acceleration
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Relationship between force, mass, and acceleration
ব্যাখ্যা

• নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্রটি মূলত বল, ভর এবং ত্বরণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।

• নিউটনের প্রথম সূত্র:
- "বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু চিরকাল সমবেগে চলতে থাকবে।"
- এই সূত্রটি স্যার আইজ্যাক নিউটন তার "ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা" (1687) গ্রন্থে প্রস্তাব করেছিলেন।
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি "জড়তার সূত্র" (Law of Inertia) নামে পরিচিত।

• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- এই সূত্র অনুযায়ী, কোনো বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার ওপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে প্রযুক্ত হয়, বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।" 
- এটি থেকে আমরা বিখ্যাত গাণিতিক সমীকরণ F = ma পাই, যেখানে F হলো বল, m হলো ভর এবং a হলো ত্বরণ।

• নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- এই সূত্র অনুযায়ী, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন দ্বিতীয় বস্তুটিও প্রথম বস্তুর ওপর সমান ও বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে।
- একে সংক্ষেপে 'ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া' সূত্র বলা হয়। গাণিতিকভাবে একে F1 = - F2 দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যেখানে একটি বল ক্রিয়া এবং অন্যটি প্রতিক্রিয়া।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৮৯৫.
কোন রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়?
  1. সাদা
  2. কালো
  3. হলুদ
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা
- দূর থেকে আমরা লাল রং আগে দেখতে পাই। 
- লাল রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম। তাই লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়। 
- আলোর বিক্ষেপণ নির্ভর করে এর রং ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপর। 
- আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে তাঁর বিক্ষেপণ তত কম হয়। 
- লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায় তাই উঁচু টাওয়ারে লাল রং এর লাইট ব্যবহৃত হয় যাতে বিমান নিচ দিয়ে যাবার সময় অনেক দূর থেকে দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৬.
রোধের ক্ষেত্রে কয়টি সূত্র প্রযোজ্য?
  1. ক) সাতটি
  2. খ) দুইটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
খ) দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুইটি
ব্যাখ্যা

কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। সুতরাং তাপমাত্রা ও উপাদান অপরিবর্তিত থাকলে কোনো পরিবাহীর রোধের দুটি সূত্র প্রযোজ্য।

১) দৈর্ঘ্যের সূত্র:- তাপমাত্রা এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক। পরিবাহীর রোধ R এবং দৈর্ঘ্য। হলে সূত্রানুসারে Rxl, যখন এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকে।
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর দৈর্ঘ্য যত বড় হবে রোধ তত বৃদ্ধি পাবে। যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের 1m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 10 Ω হয় তবে 10 m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 100 Ω হবে।

২) প্রস্থচ্ছেদের সূত্র:- অন্যান্য ভৌত অবস্থা, তাপমাত্রা এবং দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ-এর প্রস্থচ্ছেদের
ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮৯৭.
অধাতুর বৈশিষ্ট্য নিচের কোনটি?
  1. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি
  2. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়
  3. উচ্চ ঘনত্ব ও উজ্জ্বলতা বিশিষ্ট
  4. আঘাত করলে টুনটুন শব্দ করে
সঠিক উত্তর:
তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়
ব্যাখ্যা

 • অধাতুগুলোর মধ্যে মুক্ত ইলেকট্রন না থাকায় এরা সাধারণত তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে না (তবে কার্বনের রূপভেদ গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবহন করে)।
- অন্যদিকে, উচ্চ গলনাঙ্ক-স্ফুটনাঙ্ক, উচ্চ ঘনত্ব, উজ্জ্বলতা এবং আঘাত করলে শব্দ হওয়া ধাতুর বৈশিষ্ট্য।

 • খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

অধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
- তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়। 
- আঘাত করলে শব্দ হয় না। 
- অধাতু ঘাত সহনশীল ও নমনীয় নয়। 
- ঘষলে চকচক করে না। 
- অধাতু সমূহের দ্যুতি নেই। 
- ওজনে হালকা হয়। 
- সহজে জোড়া লাগানো যায় না। 
- পিটিয়ে পাত করা যায় না। 
- কার্বন ব্যতীত অন্যান্য অধাতুগুলো জারক পদার্থ। 
- অপেক্ষাকৃত নিম্ন গলনাংক ও স্ফুটনাংক বিশিষ্ট। 
- অধাতুসমূহ এসিডের হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করে লবণ উৎপন্ন করে না। 
- চুম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয় অর্থাৎ ডায়াম্যাগনেটিক প্রকৃতির। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮৯৮.
দিনের বেলা চাঁদ কেন সাদা দেখায়?
  1. চাঁদের নিজস্ব রঙ সবুজ হওয়ার কারণে
  2. দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদ রঙের সঙ্গে মিশে চাঁদ সাদা মনে হওয়ায়
  3. সূর্যোদয়ের কারণে চাঁদ লাল দেখায়
  4. রাতের অন্ধকারে চাঁদ সাদা দেখায়
সঠিক উত্তর:
দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদ রঙের সঙ্গে মিশে চাঁদ সাদা মনে হওয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদ রঙের সঙ্গে মিশে চাঁদ সাদা মনে হওয়ায়
ব্যাখ্যা

• দিনের বেলা চাঁদকে সাদা ও সন্ধ্যার পর হলুদ দেখায় কারণ দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদের সাথে মিশে যায় তাই সাদা মনে হয়।

• আলোর বিক্ষেপণ:
- যখন কোনো আলোক তরঙ্গ কোন ক্ষুদ্র কণিকার উপর পড়ে, তখন কণিকাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়। একে বলা হয় আলোর বিক্ষেপণ।

- তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে বিক্ষেপণ বেশি আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে/বিক্ষেপণ কম
- নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি বলে আকাশ ও সমুদ্র নীল দেখায়।
- লাল আলোর বিক্ষেপণ কম বলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখায়।
- নভোচারীরা আকাশের রং কালো দেখতে পায় কারণ আকাশে বায়ুমন্ডল নেই।
- বিপদ সংকেতে সবসময় লাল আলো ব্যবহার করা হয়।
- দিনের বেলা চাঁদকে সাদা ও সন্ধ্যার পর হলুদ দেখায় কারণ দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদের সাথে মিশে যায় তাই সাদা মনে হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯৯.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপার জন্য জগদীশচন্দ্র বসু কোন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন? 
  1. ক্রেস্কোগ্রাফ
  2. স্পেকট্রোমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. টেলিস্কোপ
সঠিক উত্তর:
ক্রেস্কোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রেস্কোগ্রাফ
ব্যাখ্যা

• জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদবিদ্যা এবং পদার্থবিজ্ঞানের একজন প্রতিভাবান বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ এবং মাপার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ নামক একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন। এই যন্ত্রটির সাহায্যে উদ্ভিদের অতি সূক্ষ্ম বৃদ্ধি নিরীক্ষণ করা সম্ভব ছিল, যা সাধারণ চোখ দিয়ে দেখা যেত না। ক্রেস্কোগ্রাফ উদ্ভিদের পাতার বৃদ্ধি, লতাপাতা বা শিকড়ের দৈর্ঘ্য ইত্যাদি সময়ের সাথে কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তা নির্ভুলভাবে রেকর্ড করতে সাহায্য করত। বসুর এই উদ্ভাবন উদ্ভিদবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সৃষ্টি করে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও জীবনচক্রের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে নতুন দিশা দেখায়। ফলে এটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের গবেষণাকে অনেক উন্নত ও সূক্ষ্ম পর্যায়ে নিয়ে যায়।

- উত্তর: ক) ক্রেস্কোগ্রাফ। 

জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান: 
- আচার্য স্যার জগদীশচন্দ্র বসু একদিকে ছিলেন একজন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী; অন্যদিকে একজন সফল জীববিজ্ঞানী। 
- এই উপমহাদেশে তিনি ছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া একজন বিজ্ঞানী। জগদীশচন্দ্র বসুর পূর্বপুরুষেরা থাকতেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে।
- তার জন্ম হয় 1858 সালের 30 নভেম্বর, ময়মনসিংহে।
- তার বাবা ভগবানচন্দ্র বসু ফরিদপুর জেলার একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার লেখাপড়া শুরু হয় ফরিদপুরের গ্রামীণ বিদ্যালয়ে, পরে কলকাতায় হেয়ার স্কুল এবং সেন্ট জেভিয়ার স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন। 1880 সালে বিএ পাস করার পর তিনি ইংল্যান্ড যান এবং 1880-1884 সালের ভেতরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সসহ বিএ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। 
- 1885 সালে মাতৃভূমিতে ফিরে এসে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। সেই যুগে তার কলেজে গবেষণার তেমন কোনো সুযোগ ছিল না, তার পরও তিনি গবেষণার কাজ চালিয়ে যান। দিনের বেলায় তার নানারকম ব্যস্ততা ছিল। তাই গবেষণার কাজ করতেন রাতের বেলায়। 

- বৈদ্যুতিক তার ছাড়া কীভাবে দূরে রেডিও সংকেত পাঠানো যায় এ বিষয়ে তিনি অনেক গবেষণা করেন। 1895 সালে তিনি প্রথমবারের মতো বেতারে দূরবর্তী স্থানে রেডিও সংকেত পাঠিয়ে দেখান। 
- মাইক্রোওয়েভ গবেষণার ক্ষেত্রেও তার বড় অবদান আছে, তিনিই প্রথম বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার পর্যায়ে (প্রায় 5 মিলিমিটার) নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। 
- আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেতকে শনাক্ত করার জন্য অর্ধপরিবাহী জংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কার পেটেন্ট করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারিগরি, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান "ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (IEEE)" তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে অভিহিত করেছে। 

- পরবর্তী সময়ে জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ শারীরতত্ত্বের ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। এর মাঝে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ আবিষ্কার, খুব সূক্ষ্ম নড়াচড়া শনাক্ত এবং বিভিন্ন উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। আগে ধারণা করা হতো উদ্দীপকের সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি হচ্ছে রাসায়নিক, কিন্তু তিনি দেখিয়েছিলেন এটি আসলে বৈদ্যুতিক। 
- 1917 সালে উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করার জন্য তিনি কলকাতায় বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু বাংলায় লেখা রচনাবলি 'অব্যক্ত' নামক গ্রন্থে সংকলিত করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ হচ্ছে "Response in the living and nonliving". 
- 1937 সালের 23 নভেম্বর জ্ঞানতাপস আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯০০.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়? 
  1. সৌর শক্তি 
  2. কয়লা 
  3. পেট্রোল 
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস 
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি 
ব্যাখ্যা

- 'সৌর শক্তি' একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, এই শক্তির উৎস স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল (পেট্রোল), নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।