বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা৭০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৬৪ / ৬৪ · ৬,৩০১৬,৩৭০ / ৬,৪০৯

৬,৩০১.
প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ কোনটি?
  1. ড্যানিয়েল কোষ
  2. লেকল্যান্স কোষ
  3. এসিড স্টোরেজ কোষ
  4. ক এবং খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:
যে তড়িৎ কোষে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিকে রূপান্তরিত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে।

তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৬,৩০২.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) পানি
  2. খ) ইথানল
  3. গ) বেনজিন
  4. ঘ) ইথার
সঠিক উত্তর:
ক) পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পানি
ব্যাখ্যা

যে পদার্থ অন্যান্য পদার্থকে দ্রবণে দ্রবীভূত করতে পারে তাকে দ্রাবক বলে।
আর যে পদার্থটি দ্রাবক দ্বারা দ্রবণে দ্রবীভূত হয়, তাকে বলা হয় দ্রব।
- পানি, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি হলো অজৈব দ্রাবক পদার্থ।
- ইথানল, বেনজিন, ইথার, ক্লোরোফর্ম ইত্যাদি হলো জৈব দ্রাবক পদার্থ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬,৩০৩.
নিচের কোনটি নোবেল গ্যাস?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) জেনন
  4. ঘ) ভাইব্রেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) জেনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেনন
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাসঃ হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।

- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে। হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।



উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩০৪.
টেলিভিশনে যে তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় - 
  1. রেডিও ওয়েভ
  2. অবলোহিত রশ্মি
  3. আলট্রা ভায়োলেট
  4. দৃশ্যমান রশ্মি
সঠিক উত্তর:
রেডিও ওয়েভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিও ওয়েভ
ব্যাখ্যা
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক ষ্টেশনের। 
- আর এ প্রেরক ষ্টেশনে থাকে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য দুটো পৃথক প্রেরক যন্ত্র। 
- একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয় এবং অন্য প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ-সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়। 

শব্দ প্রেরণ: 
- এক্ষেত্রে শব্দ প্রেরণকারী যন্ত্র মাইক্রোফোনের সাহায্যে বক্তার শব্দ সংগ্রহ করে। 
- মাইক্রোফোনে একটি পাতলা ধাতব পদার্থ থাকে, একে ডায়াফ্রাম বলে। 
- মাইক্রোফোনে আগত শব্দ এই ডায়াফ্রামটিকে কম্পিত করে, এ যান্ত্রিক কম্পন তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত হয়। 
- এভাবে মাইক্রোফোন শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ সংকেতে রুপান্তরিত করে। 
- এরপর এ সংকেতকে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরক এন্টেনার মাধ্যমে আকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। 

ছবি প্রেরণ: 
- যে ছবি বা দৃশ্য প্রেরণ বা সম্প্রচার করতে হবে তার প্রতিবিম্ব বা ছবি লেন্সের মধ্যদিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার পর্দায় ফেলা হয়। 
- এ ছবিকে টেলিভিশন ক্যামেরা তড়িৎ সংকেতে রুপান্তরিত করে। 
- এরপর তড়িৎ সংকেতকে তাড়িত চৌম্বক বেতার তরঙ্গে (রেডিও তরঙ্গ) রূপান্তরিত করে প্রেরক এন্টেনার মাধ্যমে আকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। 

অর্থাৎ, অপশন অনুসারে সঠিক উত্তর হবে - ক) রেডিও ওয়েভ । 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩০৫.
কুকুরের শ্রাব্যতার সর্বোচ্চ সীমা কত?
  1. 20,000 Hz
  2. 45,000 Hz
  3. 60,000 Hz
  4. 90,000 Hz
সঠিক উত্তর:
45,000 Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
45,000 Hz
ব্যাখ্যা
• শব্দ তরঙ্গ:
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা সত্য নয়।
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে।
- উৎসের কম্পন প্রতি সেকেন্ডে 20 টির নিচে হলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তা আমরা শুনতে পাই না। আবার উৎসের কম্পন যদি প্রতি সেকেন্ডে 20,000 টির বেশি হয় তাহলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তাও আমরা শুনতে পাই না।
- মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে।
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় (শব্দ থেকে কম) শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় (শব্দ থেকে বেশি) শব্দোত্তর তরঙ্গ।
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো-

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩০৬.
অনুনাদের সময় শব্দ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তি
  2. আলোক শক্তি
  3. চুম্বক শক্তি
  4. যান্ত্রিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা
শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
- এ ক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- অনুনাদের সময় শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- আবার টেলিফোন ও রেডিওর প্রেরক যন্ত্রে শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩০৭.
পড়ন্ত বস্তুর দ্বিতীয় সূত্রানুসারে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. h2 ∝ t
  2. v ∝ t
  3. h ∝ t
  4. h ∝ 1/t2
সঠিক উত্তর:
v ∝ t
উত্তর
সঠিক উত্তর:
v ∝ t
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্রসমূহ: 
- কোন বস্তুকে উপর থেকে ছেড়ে দিলে অভিকর্ষের প্রভাবে মাটিতে পড়ে। 
- বাতাসের বা অন্য কোন বাধা দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে কেবল অভিকর্ষের প্রভাবে পড়ন্ত বস্তুকে বলা হয় মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তু। 
- ষোড়শ শতাব্দীতে ইটালীর বিখ্যাত গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী গ্যালেলিও গ্যালিলাই পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে তিনটি সূত্র দেন যেগুলোকে পড়ন্ত বস্তুর সূত্র বলা হয়। 
- এগুলো এখন সর্বজন গৃহীত সূত্র। 
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় বা মুক্তভাবে পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, বস্তু t সময়ে v বেগ প্রাপ্ত হলে, v ∝ t  । 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, t সময়ে বস্তু h দূরত্ব অতিক্রম করলে, h ∝ t2

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩০৮.
ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোক ক্রিয়ার ফলে শক্তির কী ধরনের রূপান্তর ঘটে?
  1. আলোক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে
  2. আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  3. রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে
  4. তাপ শক্তি তড়িৎ শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা

ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোর ক্রিয়ার ফলে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সূর্যের আলোকে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তিতে পরিণত করা হয়।
এছাড়া ক্যালকুলেটর, রেডিওবো ইলেকট্রনিক ঘড়িতে সৌর শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হয়।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

৬,৩০৯.
একটি সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল কত হবে?
  1. ক) ৩ গুণ কমবে
  2. খ) ৩ গুণ বাড়বে
  3. গ) ৯ গুণ কমবে
  4. ঘ) ৯ গুণ বাড়বে
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ গুণ বাড়বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ গুণ বাড়বে
ব্যাখ্যা

একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, t= দোলনকাল, L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

উপরের সূত্রমতে আমরা পাই,
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না।
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারন, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে।
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে।
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে।
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে।
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে।

৬,৩১০.
ক্যালসিয়াম কার্বনেটের বাণিজ্যিক নাম-
  1. ক) চুনাপাথর
  2. খ) ব্লিচিং
  3. গ) খাবার লবণ
  4. ঘ) চক
সঠিক উত্তর:
ঘ) চক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চক
ব্যাখ্যা

- চক এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম কার্বনেট।
- চুনের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম অক্সাইড।
- খাবার লবণের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড।
- ব্লিচিং পাউডারের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইড।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩১১.
কোন বলের কারণে মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে?
  1. সবল নিউক্লিয় বল
  2. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  3. তাড়িতচৌম্বক বল
  4. মহাকর্ষ বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- মৌলিক বল চারটি। 
যথা- 
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force), 
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force), 
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force) । 

মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। 
- বস্তুর ভরের কারণে এ আকর্ষণ ঘটে। 
- এ বলের কারণে গ্রহসমূহ নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরে, পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণী ও বস্তু ভূ-পৃষ্ঠের সংলগ্ন থাকে, বস্তুর ওজন অনুভূত হয় ইত্যাদি। 
- দুটি বস্তুর মধ্যে গ্রাভিটন নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে এ বল কার্যকর হয়। 
- অবশ্য গ্রাভিটনের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। 
- মহাকর্ষ বলের পাল্লা অসীম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩১২.
মোবাইলের ব্যাটারিকে চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎ শক্তি প্রধানত কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. যান্ত্রিক শক্তি 
  2. তাপ শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি 
  4. আলোক শক্তি
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি 
ব্যাখ্যা

বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি (Electrical Energy): 
- শক্তির রূপান্তরের উদাহরণ দিতে হলে সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তির উদাহরণ দেওয়া হয়, তার কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। শুধু তা-ই নয়, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎ শক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। 
- তাই চারপাশে নানা ধরনের শক্তি থাকার পরও আমাদের বাসায় অন্য কোনো শক্তি সরবরাহ না করে সবার প্রথমে তড়িৎশক্তি বা ইলেকট্রিসিটি সরবরাহ করা হয়। 
- বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। (যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে দেখা যায়)। 

- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয়, সেটি এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। তারপরও স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে আসলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩১৩.
কয়লার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. সালফার
  3. কার্বন
  4. সিলিকন
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা

• কয়লার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কার্বন (গ)। কয়লা মূলত জীবাশ্ম উদ্ভিদ থেকে তৈরি হয়, যা বহু কোটি বছর ধরে চাপ ও তাপের প্রভাবে রূপান্তরিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় জীবাশ্ম উদ্ভিদের অর্গানিক যৌগগুলি নষ্ট হয়ে প্রায় সম্পূর্ণ কার্বনে পরিণত হয়। কার্বনই কয়লাকে শক্তি সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করে। যখন কয়লা দহিত হয়, তখন কার্বনের জ্বালানি শক্তি তাপ ও বিদ্যুতের উৎপাদনে রূপান্তরিত হয়। অন্য উপাদান যেমন হাইড্রোজেন, সালফার বা সিলিকনও উপস্থিত থাকে, কিন্তু এদের পরিমাণ কম এবং মূলত কার্বনের সাথে রাসায়নিক ক্রিয়ায় ছোটখাটো প্রভাব ফেলে। তাই কয়লার মূল কার্যকারিতা নির্ভর করে কার্বনের উপর।

কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা - ১। অ্যানথ্রাসাইট, ২। বিটুমিনাস এবং ৩। লিগনাইট। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩১৪.
আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে নিচের কোনটি করা যায়?
  1. বরফ পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়
  2. ধাতুর ভেজাল নির্ণয় করা যায়
  3. লোহা পানিতে ডুবে গেলেও লোহার জাহাজ পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের নীতি: 
- বস্তুকে কোন তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ডুবালে বস্তুটির ওজন কম মনে হয়। 
- বস্তুটির উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্ব চাপজনিত বল বস্তুর ওজনের বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে, একে প্লবতা বলে। 
- তাই কোন কঠিন পদার্থকে তরল বা বায়বীয় পদার্থে ডুবালে ওজন কম মনে হয় যার মূল কারণ প্লবতা। এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। আর্কিমিডিসের নীতি তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে- 
ধাতুর ভেজাল নির্ণয় করা সম্ভব
বরফ পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায় এবং 
লোহা পানিতে ডুবে গেলেও লোহার জাহাজ পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৬,৩১৫.
লর্ড কেলভিন কোন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন?
  1. আলোর প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা 
  2. তাপগতিবিজ্ঞানের দুটি সূত্র প্রদান করা
  3. বৈদ্যুতিক চার্জের সূত্র আবিষ্কার করা 
  4. ব্যাটারি আবিষ্কার করা
সঠিক উত্তর:
তাপগতিবিজ্ঞানের দুটি সূত্র প্রদান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপগতিবিজ্ঞানের দুটি সূত্র প্রদান করা
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানীদের অবদান: 
- অষ্টাদশ শতাব্দীর আগে তাপকে ভরহীন এক ধরনের তরল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। 1798 সালে কাউন্ট রামফোর্ড দেখান, তাপ এক ধরনের শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- আরও অনেক বিজ্ঞানীর গবেষণার ওপর ভিত্তি করে লর্ড কেলভিন 1850 সালে তাপ গতিবিজ্ঞানের (থার্মোডিনামিক্সের) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন। 

- বিদ্যুৎ ও চুম্বকের ওপরেও এই সময় ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। 1778 সালে কুলম্ব বৈদ্যুতিক চার্জের ভেতরকার বলের জন্য সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- 1800 সালে ভোল্টা বৈদ্যুতিক ব্যাটারি আবিষ্কার করার পর বিদ্যুৎ নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা শুরু হয়। 
- 1820 সালে অরস্টেড দেখান বিদ্যুৎপ্রবাহ দিয়ে চুম্বক তৈরি করা যায়। 
- 1831 সালে ফ্যারাডে এবং হেনরি ঠিক তার বিপরীত প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন। 
- তারা দেখান চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়। 
- 1864 সালে ম্যাক্সওয়েল তার বিখ্যাত ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ দিয়ে পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রকে একই সূত্রের মাঝে নিয়ে এসে দেখান যে আলো আসলে একটি বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। বিদ্যুৎ ও চুম্বক আলাদা কিছু নয়, আসলে এ দুটি একই শক্তির দুটি ভিন্ন রূপ। এটি সময়োপযোগী একটি আবিষ্কার ছিল। কারণ, 1801 সালে ইয়ং পরীক্ষার মাধ্যমে আলোর তরঙ্গ ধর্মের প্রমাণ করে রেখেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩১৬.
কোনটির সাহায্যে পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়?
  1. কন্ট্রোল অ্যান্টেনা
  2. রি-অ্যাক্টর অ্যান্টেনা
  3. কন্ট্রোল রড
  4. রি-অ্যাক্টর রড
সঠিক উত্তর:
কন্ট্রোল রড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কন্ট্রোল রড
ব্যাখ্যা

• নিউক্লিয়ার (পারমানবিক) বিক্রিয়া:
- নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে যেসব জ্বালানি ব্যবহার করা হয়, তার একটি হচ্ছে ইউরেনিয়াম (235)। এখানে 92টি প্রোটন এবং 143টি নিউট্রন রয়েছে। প্রকৃতিতে এর পরিমাণ খুব কম।
- প্রাকৃতিক ইউরোনিয়ামের মাত্র 0.7% এর অর্ধায়ু 704 মিলিয়ন বছর। এই ইউরেনিয়াম (235) নিউক্লিয়াস খুব সহজেই আরেকটা নিউট্রনকে গ্রহণ করতে পারে (যদি সে নিউট্রনের গতি কম হয়) তখন ইউরেনিয়াম (235) পুরোপুরি অস্থিতিশীল হয়ে যায়, এটা তখন 92Kr এবং 141Ba এই দুটো ছোট নিউক্লিয়াসে ভাগ হয়ে যায়। তার সাথে সাথে আরো তিনটা নিউট্রন বের হয়ে আসে যেটা নিচের সমীকরণে দেখানো হয়েছে।



- এই বিক্রিয়ায় যে তিনটি নিউট্রন বের হয়ে এসেছে, তারা আসলে প্রচণ্ড গতিতে বের হয়ে আসে, তাই খুব সহজে অন্য ইউরেনিয়াম (235) সেগুলো ধরে রাখতে পারে না। কোনোভাবে যদি এগুলোর গতিশক্তি কমানো যায়, তাহলে সেগুলো অন্য ইউরেনিয়াম (235) নিউক্লিয়াসে আটকা পড়ে সেটাকেও ভেঙে দিয়ে আরো কিছু শক্তি এবং আরো তিনটি নতুন নিউট্রন বের করবে।
- নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে এই কাজটি করা হয়, তাই বের হয়ে আসা নিউট্রনগুলোর গতি কমে আসার পর সেগুলো আবার অন্য নিউক্লিয়াসকে ভেঙে দেয় এবং এভাবে চলতেই থাকে। এই প্রক্রিয়াকে বলে চেইন রি-অ্যাকশন (Chain Reaction)।

• নিউক্লিয়ার (পারমানবিক) বিদ্যুৎকেন্দ্র:
- নিউক্লিয়ার চেইন রি-অ্যাকশন পদ্ধতিতে প্রচণ্ড তাপশক্তি বের হয়ে আসে, সেই তাপশক্তি ব্যবহার করে পানিকে বাষ্পীভূত করে সেই বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয় এবং এ রকম বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র।    
- নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে খুব সহজেই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। 
- এই নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার পর যে বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয় সেগুলো ভয়ংকর রকম তেজস্ক্রিয়, তাই সেগুলো প্রক্রিয়া করার সময় অনেক রকম সাবধানতা নিতে হয়।
- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার পর যে বাড়তি নিউট্রন বের হয় কোনোভাবে সেগুলোকে অন্য কোথাও শোষণ করিয়ে নিতে পারলেই নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। নিউট্রনকে শোষণ করার জন্য বিশেষ ধরনের রড নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরে থাকে যেগুলোকে বলে কন্ট্রোল রড। সেগুলো দিয়ে নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

• কন্ট্রোল রড:
- এগুলো বোরন, ক্যাডমিয়াম বা হাফনিয়ামের মতো পদার্থ দিয়ে তৈরি, যা নিউট্রন শোষণ করতে পারে।
- এই রডগুলোকে নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরের কোরের ভেতরে প্রবেশ করানো বা বের করে আনা হয়। নিউট্রন শোষণ করে এগুলো ফিশন বিক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থিতিশীল রাখে।
- জরুরি পরিস্থিতিতে কন্ট্রোল রডগুলো দ্রুত চুল্লির ভেতরে ঢুকিয়ে চেইন বিক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া যায়, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৬,৩১৭.
আইসোটোনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে
  2. নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
  3. প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
  4. ভরসংখ্যা সমান থাকে
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
ব্যাখ্যা
• আইসোটোন: 
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোবার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩১৮.
নিচের কোনটির ওপর পরিবাহীর রোধ নির্ভর করে?
  1. পরিবাহীর দৈর্ঘ্য
  2. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
  3. পরিবাহীর উপাদান
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
পরিবাহীর রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহকালে বাধার সৃষ্টি হয় তাকে পরিবাহীর রোধ বলে।
- পরিবাহীর বিভিন্ন ধর্মের উপর রোধ নির্ভর করে। যেমন- পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, উপাদান ইত্যাদি।
- তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর রোধ বাড়ে। 
- তাপমাত্রা কমে গেলে পরিবাহীর রোধ কমে যায়।
- তবে পরিবাহীতে রোধ তাপমাত্রার সমানুপাতিক নয়।
- রোধের উষ্ণতা সহগ দ্বারা তাপমাত্রার সাথে রোধের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৩১৯.
যে বিক্রিয়ায় ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে হালকা নিউক্লিয়াস তৈরি হয় তাকে কী বলে? 
  1. ফিশন বিক্রিয়া 
  2. ফিউশন বিক্রিয়া
  3. রাসায়নিক বিক্রিয়া 
  4. আয়োনাইজেশন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ফিশন বিক্রিয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিশন বিক্রিয়া 
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া: 
- যে বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে তাকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর বা আয়নের সর্ববহিস্থ শক্তিস্তর থেকে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে, নিউক্লিয়াসের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- কিন্তু নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে, এখানে ইলেকট্রনের কোনো ভূমিকা নেই। 
- এ বিক্রিয়ার ফলে নতুন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়। 
- যে বিক্রিয়ার ফলে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে বড় মৌলের নিউক্লিয়াস অথবা কোনো বড় মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে একাধিক ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস তৈরি হয় সেই বিক্রিয়াকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- বিভিন্ন রকমের নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া আছে; তবে এদের মধ্যে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ও নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া অন্যতম। 

নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো বড় এবং ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়ার সাথে নিউট্রন আর প্রচুর (Fission) পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- নিচে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়ার উদাহরণ দেওয়া হলো- 


নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় ছোট ছোট নিউক্লিয়াসসমূহ একত্রিত হয়ে বড় নিউক্লিয়াস গঠন করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন (Fusion) বিক্রিয়া বলে।
- নিচে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার উদাহরণ দেওয়া হলো- 


উৎস:
রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩২০.
কোন বিক্রিয়াকে নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়া বলা হয়?
  1. ফিশন
  2. ফিউশন
  3. কমবিউশন
  4. এণ্ডোথারমিক
সঠিক উত্তর:
ফিউশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিউশন
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ফিশন বলা হয়।

• পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে শক্তি উৎপন্নের প্রক্রিয়া: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। যথা:
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন।
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন। 

১. নিউক্লিয়ার ফিশন:
যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খণ্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন:
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 

অপশন আলোচনা:
→ কমবিউশন: এটি হচ্ছে দহন বিক্রিয়া। কোনো মৌল বা যৌগকে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার উপাদান মৌলের অক্সাইডে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে দহন বিক্রিয়া বলে। 

→ এণ্ডোথারমিক: এটি হচ্ছে তাপহারী বিক্রিয়া। যে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার জন্য তাপের শোষণ ঘটে, তাকে তাপহারী বিক্রিয়া বলে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩২১.
ফ্রেয়ন হচ্ছে - 
  1. ডাইক্লোরাে-ট্রাইফ্লোরাে মিথেন
  2. ডাইক্লোরাে-ডাইফ্লোরাে ইথেন 
  3. ডাইক্লোরাে-ডাইফ্লোরাে মিথেন
  4. ডাইক্লোরাে-ট্রাইফ্লোরাে ইথেন
সঠিক উত্তর:
ডাইক্লোরাে-ডাইফ্লোরাে মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাইক্লোরাে-ডাইফ্লোরাে মিথেন
ব্যাখ্যা
- রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাপা নলের কুন্ডলী যা বাষ্পীভবন কুন্ডলী নামে পরিচিত। 
- এই কুন্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়। 
- ফ্রেয়ন হচ্ছে ডাইক্লোরাে-ডাইফ্লোরাে মিথেন। 
- এই নলের সাথে একটি সংকোচন পাম্প সংযুক্ত থাকে। 
- পাম্প চালু করা হলে নলের ভিতরের চাপ কমে যাওয়ায় ফ্রেয়ন দ্রুত বাষ্পীভূত হয়। এজন্য যে সুপ্ততাপ প্রয়ােজন তার খানিকটা ফ্রেয়ন নিজে সরবরাহ করে আর বাকিটা আসে শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠ থেকে, ফলে শীতলীকরণ ঘটে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩২২.
তেজস্ক্রিয়তা সনাক্ত করতে কোন যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) গ্রাডিমিটার
  2. খ) থিউডুলাইট
  3. গ) প্রণী ব্রেইক
  4. ঘ) গাইগার কাউন্টার
সঠিক উত্তর:
ঘ) গাইগার কাউন্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গাইগার কাউন্টার
ব্যাখ্যা
Geiger counters are commonly used to measure the amount of radioactivity, but there are other types of detectors that may be used.
source: www.cdc.gov
৬,৩২৩.
মোলার দ্রবণ কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়? 
  1.  প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক কেজি দ্রবীভূত থাকে 
  2. প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক মোল লিটার দ্রবীভূত থাকে 
  3. প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক গ্রাম দ্রবীভূত থাকে 
  4. প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক মোল দ্রবীভূত থাকে 
সঠিক উত্তর:
প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক মোল দ্রবীভূত থাকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক মোল দ্রবীভূত থাকে 
ব্যাখ্যা

মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে মোলার দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার হবে। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- মোলার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩২৪.
পলিথিন কোন বিক্রিয়ার মধ্যমে তৈরি হয়?
  1. সংযোজন
  2. ঘনীভবন
  3. প্রতিস্থাপন
  4. বিয়োজন
সঠিক উত্তর:
সংযোজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোজন
ব্যাখ্যা

• পলিথিন হলো একটি পলিমার, যা ইথিলিন বা ইথিন (CH2=CH2) নামক মনোমার থেকে তৈরি হয়।
- যে প্রক্রিয়ায় অসংখ্য ইথিলিন অণু উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রায় পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃহৎ চেইন পলিমার (পলিথিন) তৈরি করে, তাকে পলিমারাইজেশন বিক্রিয়া বলে।
- এই পলিমারাইজেশন বিক্রিয়াটি একটি সংযোজন বিক্রিয়ার (Addition Reaction) উদাহরণ।

 • সংযোজন বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক যৌগ বা মৌল যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ উৎপন্ন করে সে বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়া বলা হয়। 

• সংযোজন পলিমার:
- যে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় কোন ক্ষুদ্র অণুর অপসারণ ব্যাতিত মনোমার অণুসমূহ পরস্পর যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকল পলিমার গঠন করে এবং গঠিত পলিমারের আণবিক ভর মনোমারের আণবিক ভরের পূর্ণ গুণিতক হয় তাকে সংযোজন পলিমার বলে।
- সাধারণত দ্বিবন্ধন যুক্ত যৌগসমূহ যেমন অ্যালকিন, প্রতিস্থাপিত অ্যালকিন ও ভিনাইল যৌগসমূহে সংযোগ পলিমারকরণ (addition polymerization) ঘটে।

• পলিথিন:
- ১০০০ - ১২০০ বায়ু চাপে ইথিন গ্যাসকে তরলীকৃত করে সমান্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ২০০০০ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে ইথিনের অসংখ্য অণু পরপর যুক্ত হয়ে যুত পলিমার পলিথিন গঠন করে।
- পলিথিন তৈরির এই প্রক্রিয়া টি সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। 
- পলিথিন একটি সাদা অসচ্ছ ও শক্ত প্লাস্টিক পদার্থ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী। 
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩২৫.
সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত কোনটি?
  1. C17H35CONa
  2. C17H35COONa
  3. C17H35COOK
  4. C15H33COONa
সঠিক উত্তর:
C17H35COONa
উত্তর
সঠিক উত্তর:
C17H35COONa
ব্যাখ্যা
সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । 
এখানে R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 এবং n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK । 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। 
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সাবান এবং গ্লিসারিনের মিশ্রণের মধ্যে NaCl যোগ করলে গ্লিসারিন পাত্রের নিচে অবস্থান করে এবং সাবানের অণুগুলো NaCl কে ঘিরে একত্র হয়ে পাত্রের উপরের দিকে কেকের আকারে ভেসে উঠে, একে সোপ কেক বলে। 
- সোপ কেককে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে পৃথক করে বিভিন্ন আকৃতির ছাঁচে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির সাবান তৈরি করা হয়। 
- সাবান একটি পরিষ্কারক দ্রব্য যা তেল বা চর্বি এবং ক্ষার থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে সাবানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। প্রসাধনী সাবান (Cosmetic soap): 
- ত্বককে পরিষ্কার করার জন্য যেসব সাবান ব্যবহার করা হয় তাদেরকে প্রসাধনী সাবান বলে। 

২। লন্ড্রি সাবান (Laundry soap): 
- কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করার জন্য যেসব সাবান ব্যবহার করা হয় তাদেরকে কাপড় কাচা সাবান বা লন্ড্রি সাবান বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩২৬.
নাইট্রিক এসিডে নিচের কোন মৌলিক পদার্থটি উপস্থিত?
  1. ক) গন্ধক
  2. খ) দস্তা
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

নাইট্রিক এসিডের সংকেত হলো HNO3। অর্থাৎ নাইট্রিক এসিডের একটি অণুতে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু, একটি নাইট্রোজেন পরমাণু এবং তিনটি অক্সিজেন পরমাণু বিদ্যমান।

সুতরাং নাইট্রিক এসিডে নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন এই তিনটি মৌলিক পদার্থ উপস্থিত।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৬,৩২৭.
কোনটি তেজষ্ক্রিয় মৌল?
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) আর্গন
  3. গ) র‍্যাডন
  4. ঘ) ক্রিপটন
সঠিক উত্তর:
গ) র‍্যাডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) র‍্যাডন
ব্যাখ্যা
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের প্রধান উৎস হলো বাতাস। বাতাসে এ গ্যাসসমূহের পরিমাণ বাতাসের সর্বমোট আয়তনের প্রায় 1.0% এবং এর বেশির ভাগই আর্গন। -বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত আর্গন, নিয়ন, ক্রিপটন এবং জেননের প্রধান উৎস বাতাস।
- বাতাসকে তরল করে আংশিক পাতনের মাধ্যমে এর উপাদানগুলিকে পৃথক করার সময় নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলি পাওয়া যায়। 
- হিলিয়ামের প্রধান উৎস হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। কোন কোন প্রাকৃতিক গ্যাসের কূপে প্রাকৃতিক গ্যাসের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় প্রচুর পরিমাণ (আনুমানিক 5% পর্যন্ত ) হিলিয়াম পাওয়া যায়। 
- কিছু তেজষ্ক্রিয় আকরিক - যেমন পিচব্লেন্ড, মোনাজাইট, থোরিয়ানাইট এবং ক্লিভাইট-এর মধ্যে হিলিয়াম এবং আর্গন আবদ্ধ থাকে।
-  এ আকরিকগুলিকে উত্তপ্ত করলে হিলিয়াম এবং আর্গন বের হয়ে আসে। 
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে উষ্ণ প্রস্রবনের পানিতে হিলিয়াম এবং নিয়ন দ্রবীভূত থাকে।
-  কয়েকটি তেজষ্ক্রিয় মৌল, যেমন- রেডিয়াম, ইউরেনিয়াম এবং থোরিয়ামের বিভাজন কালে হিলিয়াম গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- র‍্যাডন একটি তেজষ্ক্রিয় মৌল; রেডিয়ামের তেজষ্ক্রিয় বিভাজনের সময় এটি উৎপন্ন হয়। 
 
উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৩২৮.
নিচের কোনটি ম্যাঙ্গানিজ এর প্রতীক?
  1. Mg
  2. Mo
  3. Mt
  4. Mn
সঠিক উত্তর:
Mn
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mn
ব্যাখ্যা
- ম্যাঙ্গানিজ এর রাসায়নিক প্রতীক Mn.
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ২৫।
- এটি পর্যায় সারণীর চতুর্থ পর্যায়ে, সপ্তম গ্রুপে অবস্থিত।
- এটি একট ডি-ব্লক মৌল।

figure: periodic table (image source: ptable.com)

অপশন আলোচনা:
- Mg - ম্যাগনেসিয়ামের প্রতীক।
- Mo - মলিবডেনামের প্রতীক।
- Mt - মাইটনেরিয়ামের প্রতীক।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
৬,৩২৯.
নিউটনের প্রথম সূত্র কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. জড়তা
  2. ত্বরণ
  3. বল
  4. শক্তি
সঠিক উত্তর:
জড়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তা
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র:
-"বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে।"

জড়তা:
-  বল প্রয়োগ না করা পর্যন্ত স্থির বস্তু বা গতিশীল বস্তুর  অবস্থান পরিবর্তন করতে না চাওয়ার যে প্রবণতা তাকে বলা হয় জড়তা। 
• উদাহারন: চলন্ত বাস হঠাৎ থেমে গেলে যাত্রীরা সামনে হেলে পড়ে এবং স্থির বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পেছনে হেলে পড়ে।  

অর্থাৎ বলা যায় যে জড়তার মূল আলোচ্য বিষয় হলো বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন হয় না, যা নিউটনের প্রথম সূত্রের সাথে সম্পর্কিত। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী। 
৬,৩৩০.
নিচের কোনটি সবচেয়ে শক্ত ধাতু?
  1. Gold
  2. Iron
  3. Platinum
  4. Tungsten
সঠিক উত্তর:
Tungsten
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tungsten
ব্যাখ্যা
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু - টাংস্টেন।
- টাংস্টেন নামটি সুইডিশ নাম টাংস্টেন থেকে এসেছে যার অর্থ ভারী পাথর।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক। (হীরক ধাতু নয়। এটি কার্বনের একটি রূপভেদ)
- সবচেয়ে ভারি ধাতু - রন্টজেনিয়াম (Roentgenium)। আনবিক ভর - ২৭২.০।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম (Uranium)। আনবিক ভর - ২৩৮.০৩।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম (Platinum)। এর আনবিক ভর - ১৯৫.০৭৮
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম (Lithium)। এর আনবিক ভর - ৬.৯৪
৬,৩৩১.
কোনো মাধ্যমের তাপমাত্রা বাড়ালে ঐ মাধ্যমে শব্দের গতি-
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. অনিয়মিত হয়
সঠিক উত্তর:
বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়ে
ব্যাখ্যা
- শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।
- কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পাবে।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি। ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি। 
অর্থাৎ, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৩২.
পারমাণবিক সংখ্যা সর্বনিম্ন কত হলে কোন মৌল তেজস্ক্রিয়তা ধর্ম প্রদর্শন করে?
  1. ৮২
  2. ৮৩
  3. ৮৪
  4. ৮৫
সঠিক উত্তর:
৮৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩
ব্যাখ্যা

তেজষ্ক্রিয়তা:
- ভারি মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে।
- সাধারণত যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি সেই সকল পরমাণু তেজষ্ক্রিয়তার ধর্ম প্রদর্শন করে।
- তবে ৮২ থেকে কম পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট কিছু মৌলের আইসোটোপের ক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়-
১. তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২. তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩. তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪. এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩৩৩.
কোনটি অর্গানিক যৌগ হিসেবে পরিচিত?
  1. কস্টিক সোডা
  2. মরিচা
  3. চুন
  4. ইউরিয়া
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

• অপশন গুলোর মধ্যে ইউরিয়া অর্গানিক যৌগ হিসেবে পরিচিত। অর্গানিক যৌগ হলো সেই যৌগ যেটিতে প্রধানত কার্বন এবং হাইড্রোজেন থাকে, এবং প্রায়ই নাইট্রোজেন, অক্সিজেন বা সালফারও থাকতে পারে। ইউরিয়া হলো একটি নাইট্রোজেনযুক্ত অর্গানিক যৌগ। 

জৈব যৌগ: 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 
যেমন- 
• মিথেন, 
• ইথেন, 
• বেনজিন, 
• ইউরিয়া, 
• প্রোপিন, 
• পেন্টাইন ইত্যাদি। 
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে। 
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 

অজৈব যৌগ: 
- যেকোনো দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়। 
যেমন- 
• পানি, 
• খাবার লবণ, 
• খাবার সোডা, 
• কাপড় কাচার সোডা, 
• কস্টিক সোডা, 
• চুন, 
• মরিচা ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩৩৪.
মৌলিক রাশি নয় কোনটি?
  1. সময়
  2. বেগ
  3. দীপন তীব্রতা
  4. তড়িৎপ্রবাহ
সঠিক উত্তর:
বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগ
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- 
• দৈর্ঘ্য, 
• ভর, 
সময়
• তাপমাত্রা, 
তড়িৎপ্রবাহ
দীপন তীব্রতা এবং 
• পদার্থের পরিমাণ। 

যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- 
বেগ
• ত্বরণ, 
• কাজ, 
• বল, 
• তাপ, 
• বিভব ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৩৫.
ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. চাকচিক্য বেশি
  2. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা
  3. নমনীয়তা
  4. ঘনত্ব কম
সঠিক উত্তর:
ঘনত্ব কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনত্ব কম
ব্যাখ্যা
• "ঘনত্ব কম" ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়। কারণ ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ ধাতুর ঘনত্ব বেশি হয়। 

• ধাতু:
- যে সকল পদার্থের বিশেষ দ্যুতি আছে, আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা বিদ্যমান, পিটিয়ে পাতলা পাত বানানো যায়, টেনে সরু ও লম্বা করা যায়, আঘাত করলে বিশেষ ধাতব শব্দ হয় এবং তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলে। 

• ধাতুর বৈশিষ্ট্য:  
→ চকচকে: ধাতু সাধারণত উজ্জ্বল এবং চকচকে হয়।  
→ নমনীয়: এগুলো সহজে বাঁকানো বা পিটিয়ে পাতলা করা যায়।  
→ তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী: ধাতু বিদ্যুৎ এবং তাপের ভাল পরিবাহী।  
ধাতব বন্ধন: ইলেক্ট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়নে পরিণত হতে পারে এবং ধাতব বন্ধন গঠন করে। 
ঘাতসহিষ্ণু: ধাতু আঘাত পেলে সহজে ভাঙ্গে না।  
→ ঘনত্ব: অধিকাংশ ধাতুর ঘনত্ব বেশি। 

উদাহরণ - লোহা, তামা, সোনা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৬,৩৩৬.
নিচের কোন ধরণের বন্ধনে অণুগুলির আকর্ষণশক্তি সবচেয়ে কম?
  1. ধাতব
  2. হাইড্রোজেন
  3. সমযোজী
  4. আয়নিক
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

• বন্ধনগুলির মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধনে অণুগুলির আকর্ষণ সবচেয়ে কম। হাইড্রোজেন বন্ধন অন্যান্য বন্ধনের তুলনায় খুব দুর্বল এবং কম স্থায়ী। আয়নিক, সমযোজী বা ধাতব বন্ধনের তুলনায় হাইড্রোজেন বন্ধনের শক্তি কম হওয়ায় অণুগুলির মধ্যে আকর্ষণও সর্বনিম্ন থাকে। উদাহরণস্বরূপ, জল অণুর মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধন থাকলেও, এটি কেবল অপেক্ষাকৃত সামান্য শক্তি প্রদান করে এবং সহজে ভেঙে যায়। তাই বন্ধনের শক্তির ক্রম হয়: আয়নিক > সমযোজী > ধাতব > হাইড্রোজেন। এই কারণে হাইড্রোজেন বন্ধন অণুগুলিকে একে অপরের সাথে সবচেয়ে কম টান ধরে রাখে।

 • বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক বন্ধন:
- রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে পরমাণু বা অণু একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে।
- বন্ধনের শক্তি নির্ভর করে পরমাণু বা আয়নের মধ্যে আকর্ষণ বলের উপর।
- বিভিন্ন বন্ধনের ক্ষেত্রে এই আকর্ষণ শক্তি ভিন্ন ভিন্ন হয়।

• আয়নিক বন্ধন (Ionic Bond):
- আয়নিক বন্ধনে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মধ্যে শক্তিশালী তড়িৎস্থিতিক আকর্ষণ থাকে।
- এই আকর্ষণ বল খুব শক্তিশালী হওয়ায় আয়নিক বন্ধন অত্যন্ত স্থিতিশীল।
- তাই আয়নিক বন্ধনে আকর্ষণশক্তি সবচেয়ে বেশি।

• সমযোজী বন্ধন (Covalent Bond):
- সমযোজী বন্ধনে পরমাণুগুলি ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে।
- ইলেকট্রন ভাগাভাগির কারণে পরমাণুগুলির মধ্যে যথেষ্ট শক্তিশালী আকর্ষণ সৃষ্টি হয়।
- আয়নিক বন্ধনের তুলনায় এটি কিছুটা দুর্বল হলেও যথেষ্ট স্থিতিশীল।

• ধাতব বন্ধন (Metallic Bond):
- ধাতব বন্ধনে ধাতব আয়ন ও মুক্ত ইলেকট্রনের মধ্যে আকর্ষণ থাকে।
- এই আকর্ষণ সমযোজী ও আয়নিক বন্ধনের তুলনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
- তবুও এটি হাইড্রোজেন বন্ধনের চেয়ে শক্তিশালী।

• হাইড্রোজেন বন্ধন (Hydrogen Bond):
- হাইড্রোজেন বন্ধন একটি দুর্বল আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল।
- এটি মূলত অণুর মধ্যে সৃষ্টি হয়, পরমাণুর মধ্যে নয়।
- এই বন্ধনের স্থায়িত্ব কম এবং বন্ধন শক্তি তুলনামূলকভাবে খুব দুর্বল।
- তাই সকল বন্ধনের মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধনে আকর্ষণশক্তি সবচেয়ে কম।

• বন্ধনের আকর্ষণ শক্তির ক্রম:
- আয়নিক বন্ধন > সমযোজী বন্ধন > ধাতব বন্ধন > হাইড্রোজেন বন্ধন। 

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

৬,৩৩৭.
কোন ক্ষেত্রে মহাকর্ষ বলকে অভিকর্ষ বলা হয়? 
  1. যখন কোনো বস্তুর উপর সূর্যের আকর্ষণ কাজ করে
  2. যখন কোনো বস্তুর উপর চন্দ্রের আকর্ষণ কাজ করে
  3. যখন কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণ কাজ করে
  4. যখন কোনো বস্তুর উপর কোনো গ্রহাণুর আকর্ষণ কাজ করে
সঠিক উত্তর:
যখন কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণ কাজ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণ কাজ করে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ: 
- এ মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণাই একে অপরকে নিজেদের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাই মহাকর্ষ। 
- দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয়, তাহলে পৃথিবী বস্তুটিকে যে আকর্ষণ করে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলে। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণই অভিকর্ষ। 
যেমন- গাছের ফল মাটিতে পড়ে আবার ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলেও বলটি মাটিতে এসে পড়ে। এখানে পৃথিবী যেমন ফল বা ক্রিকেট বলকে আকর্ষণ করে, তেমনি এরাও পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। পৃথিবী অনেক বড় এবং এর আকর্ষণ বল অনেক বেশি হওয়ায় ফল ও ক্রিকেট বল মাটিতে পড়ে। 
- পৃথিবী এবং অন্য যেকোনো বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাই অভিকর্ষ। 
- সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবী এবং বই-এর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬,৩৩৮.
বাতাসের আদ্রতা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. ব্যারোমিটার
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. হাইগ্রোমিটার
সঠিক উত্তর:
হাইগ্রোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র:
- বাতাসের আদ্রতা পরিমাপের যন্ত্র - হাইগ্রোমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র হলো - ট্যাকোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় এর যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- বায়ুর চাপ নির্ণয় এর যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
- বায়ুর গতিবেগ নির্ণয় এর যন্ত্র - এনিমোমিটার।
- তরলের ঘনত্ব নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়- ল্যাক্টোমিটার।
- বৃষ্টির পরিমাণ হিসেব করতে ব্যবহৃত হয় - রেইনগেজ।
- মোটর গাড়ির গতি পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয় -ওডোমিটার।

তথ্যসূত্র:
১. ভূগোল প্রথম পত্র, এইস.এস.সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

৬,৩৩৯.
পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান কত?
  1. ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড
  2. শূন্য
  3. অসীম
  4. ১০ মিটার/সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : খ) শূন্য 

• অভিকর্ষ:

- এ মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাই মহাকর্ষ।
- দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয়, তাহলে পৃথিবী বস্তুটিকে যে বলে আকর্ষণ করে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলে। অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণই অভিকর্ষ। 
- সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবী এবং বিজ্ঞান বই-এর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ।

• অভিকর্ষজ ত্বরণ: 
- বল প্রয়োগ করলে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তন হয়। সময়ের সাথে যে হারে বেগ বৃদ্ধি পায় তাকে ত্বরণ বলে। অভিকর্ষ বলের প্রভাবেও বস্তুর ত্বরণ হয়। এ ত্বরণকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বা মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ বলা হয়।
- যেহেতু বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে, সুতরাং অভিকর্ষ বলের প্রভাবে কোনো স্থানে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
- অভিকর্ষজ ত্বরণকে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়। যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণ এক প্রকার ত্বরণ, সুতরাং এর একক হবে ত্বরণের একক অর্থাৎ মিটার/সেকেন্ড
- কোনো বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয় তাকে তার ওজন বলে। 
আমরা জানি, 
W = mg 
এখানে, 
m = বস্তুর ভর।
g = অভিকর্ষজ ত্বরণ যার মান 9.8 m/s2 । 
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় এর মান তত কমতে থাকে। 
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম। 
- মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান শূন্য

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৬,৩৪০.
কোন ধাতু পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়?
  1. সোডিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. রেডিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম ধাতুকে পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়। 

সোডিয়াম: 
- সোডিয়াম একটি সক্রিয় ধাতু। 
- সোডিয়াম পানির সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত করে। 
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই দ্রুত হয় যে নির্গত হাইড্রোজেন গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে। 
- সোডিয়াম স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে এটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- সাধারণ বাতাসে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এর একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে সোডিয়াম বাইকার্বোনেটে (NaHCO3) পরিণত হয়। 
- সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন বা ন্যাপথার মতো inert তরলে ডুবিয়ে রাখা হয়, কারণ এটি নাইট্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। 
- তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫ °C (২৫৭ °F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- ম্যাগনেসিয়াম সাধারণত +2 জারণ অবস্থায় থাকে। এটি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ডিএনএ, আরএনএ এবং এটিপি-এর সঙ্গে জড়িত। 
- ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক উপাদান, যা পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- রেডিয়াম অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এর যৌগগুলি অন্ধকারে হালকা নীল রঙের আলো ছড়ায়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

৬,৩৪১.
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রটি কে আবিষ্কার করেন? 
  1. ফ্যারাডে
  2. জুল
  3. এডিসন
  4. নিউটন
সঠিক উত্তর:
জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুল
ব্যাখ্যা
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র: 
- কাজ তথা যান্ত্রিক শক্তিকে তাপে বা তাপশক্তিকে কাজে তথা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হলে যান্ত্রিক শক্তি এবং তাপ পরস্পরের সমানুপাতিক হবে। 
সুতরাং, W ∝ H
বা, W = JH 
এখানে, 
W হলো কাজের পরিমাণ, H হলো তাপের পরিমাণ এবং J হচ্ছে জুলের ধ্রুবক। 
- J কে তাপের যান্ত্রিক সমতা বা জুল তুল্যাঙ্কও বলা হয়। 
- বিজ্ঞানী জুল সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এ সম্পর্কটি একটি সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করেন যা জুলের সূত্র বা তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৪২.
যদি কোনো গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রা ৪ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শব্দের বেগ কত গুণ বৃদ্ধি পাবে?
  1. ৪ গুণ
  2. ২ গুণ
  3. ১৬ গুণ
  4. একই থাকবে
সঠিক উত্তর:
২ গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ গুণ
ব্যাখ্যা

যদি কোনো গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রা ৪ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শব্দের বেগ ২ গুণ বৃদ্ধি পাবে। 

যদি কোনো গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রা ৪ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শব্দের বেগ ২ গুণ বৃদ্ধি পাবে, কারণ শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক 
v ∝ √T। তাই, তাপমাত্রা ৪ গুণ হলে, বেগ √4 বা ২ গুণ হবে। 

শব্দের বেগ (Speed of Sound):
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, v ∝ √T। এখানে তাপমাত্রা কেলভিন স্কেলে।
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না।
- বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের বিপরীত আনুপাতিকভাবে নির্ভর করে। তাই বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায় এবং শব্দের বেগ বেড়ে যায়।
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। এটি মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে।
- তরল এবং কঠিন পদার্থের ধাতব ও অ-ধাতব প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন হওয়ায়, শব্দের বেগও সেখানে ভিন্ন হয়।
- তরলে শব্দের বেগ বাতাস থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তরল থেকেও বেশি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩৪৩.
কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে নির্গত ধোঁয়ায় কী উপাদান থাকে যা এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে? 
  1. সালফার
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে কয়লা সকলের নিকট পরিচিত। 
- কয়লা একটি জৈব পদার্থ। 
- প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও স্বাভাবিকভাবে গাছের পাতা বা কান্ড মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং জমতে থাকে। মাটির নিচে পাতা ও কান্ড রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। 
- কয়লা পোড়ালে তাপ পাওয়া যায়। 
-  জ্বালানি ছাড়াও কয়লা থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পদার্থ উৎপাদিত হয়। 
যেমন- কোল গ্যাস, আলকাতরা, বেঞ্জিন, অ্যামোনিয়া, টলুয়িন প্রভৃতি। 
- রান্না করতে ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালাতে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে নির্গত ধোঁয়ায় সালফারের থাকে। এই সালফার পানির সাথে বিক্রিয়া করে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এই এসিড বৃষ্টি পুকুর, নদী ও খালে বিলে মাছ মেরে ফেলে, বন ধ্বংস করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৪৪.
কোয়ার্ক কণিকা দ্বারা গঠিত হয় নিচের কোনটি??
  1. ইলেক্ট্রন
  2. নিউট্রন
  3. প্রোটন
  4. খ + গ
সঠিক উত্তর:
খ + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ + গ
ব্যাখ্যা

কোয়ার্ক (Quark) : কোয়ার্ক পদার্থ গঠনের অন্যতম মৌলিক কণিকা। সকল বস্তু প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। আর এই প্রোটন ও নিউট্রন গঠিত হলো কোয়ার্ক দিয়ে।
দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে প্রোটন এবং দুটি ডাউন এবং একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে নিউট্রন গঠিত।
কোয়ার্ক মূলত ৬ টি। এগুলো হলো আপ (u), ডাউন (d), চার্ম (c) ও স্ট্রেঞ্জ (s) এবং টপ (t) ও বটম (b)।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩৪৫.
যদি রৈখিক বিবর্ধন m < 1 হয়, তাহলে প্রতিবিম্ব কীরূপ হবে?
  1. খর্বিত হবে
  2. বিবর্ধিত হবে
  3. সমান হবে
  4. অপরিবর্তিত থাকবে
সঠিক উত্তর:
খর্বিত হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খর্বিত হবে
ব্যাখ্যা
রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়। 
- কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়। 
- প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L° এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য L
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/L° । 
• m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
• m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৪৬.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে প্রধানত কোন ধরনের চার্জ বাহক বিদ্যমান থাকে?
  1. হোল
  2. নিউট্রন
  3. ধনাত্মক আয়ন
  4. মুক্ত ইলেকট্রন 
সঠিক উত্তর:
মুক্ত ইলেকট্রন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্ত ইলেকট্রন 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) মুক্ত ইলেকট্রন
- n-টাইপ (Negative-type) অর্ধপরিবাহী তৈরি করতে বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টরের সাথে পঞ্চযোজী মৌল (যেমন- আর্সেনিক বা ফসফরাস) মেশানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ অতিরিক্ত ইলেকট্রন তৈরি হয়, যা প্রধান চার্জ বাহক (Majority Carrier) হিসেবে বিদ্যুৎ বহন করে।

• অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা জাংশন ডায়োড:  
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে।
- দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দুটি অর্ধপরিবাহীকে জোড়া লাগিয়ে ডায়োড তৈরি করা হয় না। 
- বাস্তবে একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অর্ধাংশে ত্রিযোজী অপদ্রব্য এবং অপর অর্ধাংশে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীর অভ্যন্তরে বহুসংখ্যক হোল ও অতি অল্প সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। 
- একইভাবে একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে বহুসংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন এবং অতি অল্পসংখ্যক হোল বর্তমান থাকে। 

- p-n জাংশন তৈরির সাথে সাথে p-অঞ্চলের হোলের সংখ্যা n-অঞ্চলের হোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে ব্যাপনের নিয়ম অনুযায়ী p-অঞ্চলের হোলগুলো n-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে যাতে p ও n অঞ্চলের সর্বত্র হোলের ঘনত্ব সমান হয়। 
- অনুরূপভাবে n-অঞ্চল থেকে কিছু ইলেকট্রন p-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে। 
- যখন p-অঞ্চল হতে কিছুসংখ্যক হোল n-অঞ্চলে প্রবেশ করে মুক্ত ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয়, তখন n-অঞ্চলে সমসংখ্যক ধনাত্মক দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়। আবার n-অঞ্চল হতে একই প্রক্রিয়ায় মুক্ত ইলেকট্রনগুলো যখন p-অঞ্চলে প্রবেশ করে হোলের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয় তখন p-অঞ্চলে সমসংখ্যক ঋণাত্মক গ্রাহক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- ফলে জাংশনের সন্নিকটে p-অঞ্চলে কিছু ঋণাত্মক আয়ন এবং n-অঞ্চলে কিছু ধনাত্মক আয়নের উদ্ভব ঘটে। এভাবে যখন যথেষ্ট সংখ্যক গ্রাহক ও দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়, তখন ব্যাপন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে। 
- p-n জাংশনের বিভব বাঁধা অংশে n-অঞ্চলে ধনাত্মক আয়ন এবং p-অঞ্চলে ঋণাত্মক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- এ অঞ্চলে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, এ অংশকে নিঃশেষিত স্তর বা ডিপ্লেশন স্তর (Depletion layer) বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩৪৭.
কোন উপ-স্তরে সর্বাধিক 10 ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. s
  2. p
  3. d
  4. f
সঠিক উত্তর:
d
উত্তর
সঠিক উত্তর:
d
ব্যাখ্যা

• s, p, d, f উপ-স্তরের মধ্যে d-উপ-স্তর সর্বাধিক 10 ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে।

- কোনো অণুতে ইলেকট্রনগুলো নির্দিষ্ট শক্তি স্তর বা শেল (n) অনুযায়ী বিভক্ত থাকে।
- d-উপ-স্তরের 10 ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা transition metals এবং তাদের রাসায়নিক ও চৌম্বক বৈশিষ্ট্য বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- d-উপ-স্তরের ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে, মৌলের রং, প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং চৌম্বকীয়তা প্রভাবিত হয়।
- প্রতিটি শেলের ভিতরে থাকে বিভিন্ন উপ-স্তর (s, p, d, f)।
- প্রতিটি উপ-স্তরের ইলেকট্রনের ধারণক্ষমতা নির্ধারিত হয় 2(2l + 1) সূত্র অনুযায়ী, যেখানে ( l )হলো উপ-স্তরের কোয়ান্টাম সংখ্যা।

প্রত্যেক উপ-স্তরের সর্বাধিক ইলেকট্রন সংখ্যা:
⇒ s-উপ-স্তর: l = 0 → 2(2×0 + 1) = 2 ইলেকট্রন,
⇒ p-উপ-স্তর: l = 1 → 2(2×1 + 1) = 6 ইলেকট্রন,
⇒ d-উপ-স্তর: l = 2 → 2(2×2 + 1) = 10 ইলেকট্রন,
⇒ f-উপ-স্তর: l = 3 → 2(2×3 + 1) = 14 ইলেকট্রন।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩৪৮.
কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থ অল্পমাত্রায় মানবদেহের জন্য নিরাপদ?
  1. রেডিয়াম-২২৬
  2. ইউরেনিয়াম-২৩৮
  3. টেকনিশিয়াম-৯৯ 
  4. প্লুটোনিয়াম-২৩৯ 
সঠিক উত্তর:
টেকনিশিয়াম-৯৯ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকনিশিয়াম-৯৯ 
ব্যাখ্যা

  তেজস্ক্রিয় মৌলগুলোর মধ্যে টেকনিশিয়াম-৯৯ (Tc-99) তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
- এটি কম শক্তির বিকিরণ উৎপন্ন করে, গবেষণা এবং চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এর লাইফটাইম ৬ ঘণ্টা।

• তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity):
- তেজস্ক্রিয় মৌল বা ইসোটোপ তার নিউক্লিয়াস থেকে কণা বা বিকিরণ (অ্যালফা, বেটা, গামা) নির্গত করে।
- এতে শক্তি মুক্ত হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
- তেজস্ক্রিয়তা হালকা বা শক্তিশালী হলে বিপদজনক, তাই নিরাপদ ব্যবহার নির্ভর করে বিকিরণের ধরণ ও শক্তির ওপর।

• টেকনিশিয়াম-৯৯ (Tc-99):
- তেজস্ক্রিয়, তবে কম শক্তির বেটা বিকিরণ করে।
- চিকিৎসা ও গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
- নিরাপদ মাত্রায় ব্যবহৃত হলে মানবদেহে ক্ষতি করে না।

অপশন আলোচনা:
• রেডিয়াম-২২৬ (Ra-226):
- অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়।
- শক্তিশালী অ্যালফা বিকিরণ করে।
- সরাসরি মানবদেহে বিপজ্জনক; নিরাপদ নয়।

• ইউরেনিয়াম-২৩৮ (U-238):
- ভারী তেজস্ক্রিয় ধাতু, দীর্ঘ জীবনকাল থাকা সত্ত্বেও বিপজ্জনক।
- পারমাণবিক শক্তি ও অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত।

• প্লুটোনিয়াম-২৩৯ (Pu-239):
- অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় ও ভারী।
- পারমাণবিক অস্ত্রে ব্যবহৃত।
- মানবদেহে খুবই বিপজ্জনক।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

৬,৩৪৯.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) সকল ক্ষারকই ক্ষার কিন্তু সকল ক্ষার ক্ষারক নয়।
  2. খ) সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়।
  3. গ) সকল ক্ষারকই পানিতে দ্রবীভূত হয়।
  4. ঘ) ক ও গ
সঠিক উত্তর:
খ) সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়।
ব্যাখ্যা
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীতূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 এগুলো ক্ষার। এদেরকে কিন্তু ক্ষারকও বলা যায়।
- পক্ষান্তরে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)2] কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি একটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
- অতএব একথা বলা যায় যে, সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।

সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি।
৬,৩৫০.
তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে- 
  1. ডায়নামো
  2. মাইক্রোফোন
  3. বৈদ্যুতিক মোটর
  4. ব্যাটারি
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক মোটর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক মোটর
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩৫১.
সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
  2. এটি সরল রৈখিক গতি
  3. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচের গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
৩. এটি সরল রৈখিক গতি
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক, 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৫২.
আয়রনের আকরিক নয় কোনটি
  1. ক) ম্যাগনেটাইট
  2. খ) লিমোনাইট
  3. গ) হেমাটাইট
  4. ঘ) চালকোসাইট
সঠিক উত্তর:
ঘ) চালকোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চালকোসাইট
ব্যাখ্যা
আয়রনের আকরিকঃ ম্যাগনেটাইট (Fe3O4), লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O), হেমাটাইট (Fe2O3)। কপারের আকরিকঃ কপার পাইরোইট (CuFeS2), চালকোসাইট(Cu2S)।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
৬,৩৫৩.
পারদের আপেক্ষিক গুরুত্ব কত?
  1. ক) ১৩.৬
  2. খ) ০.৮
  3. গ) ১
  4. ঘ) ৬৫
সঠিক উত্তর:
ক) ১৩.৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৩.৬
ব্যাখ্যা

আপেক্ষিক গুরুত্ব বলতে কোন বস্তুর ঘনত্ব এবং অন্য একটি প্রসঙ্গ বস্তুর ঘনত্বের অনুপাত অথবা কোন বস্তুর ভর এবং একই আয়তনের অন্য একটি বস্তুর ভরের অনুপাতকে বোঝায়।
পারদের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১৩.৬  এর অর্থ হচ্ছে একই পরিমাণ আয়তনের পানির চেয়ে পারদ ১৩.৬ গুণ বেশি ভারী।

৬,৩৫৪.
কোন বস্তুকে পানিতে ফেলে দেয়ার পর বস্তু কর্তৃক অপসারিত পানির ওজন যদি বস্তুর ওজনের সমান হয় তবে নিচের কোনটি ঘটবে?
  1. ক) বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে।
  2. খ) বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে।
  3. গ) বস্তুটি পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকবে।
  4. ঘ) কখনো ডুববে আবার কখনো ভাসবে।
সঠিক উত্তর:
গ) বস্তুটি পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বস্তুটি পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকবে।
ব্যাখ্যা
 
বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত (Conditions of floatation and Immersion of a body)
ধরা যাক একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন। ঐ বস্তুটিকে পানিতে ডোবানো হল।
বস্তুটির উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্বচাপ জনিত বল) W1 নিউটন। এখন -
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে।
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ডুববে না, ভেসে থাকবে।
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬,৩৫৫.
বাতাসের নাইট্রোজেন কিভাবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে?
  1. ক) সরাসরি মাটিতে মিশ্রিত হয়ে জৈব বস্তু প্রস্তুত করে
  2. খ) ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে উদ্ভিদের গ্রহণ উপযোগী বস্তু প্রস্তুত করে
  3. গ) পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার ফলে
  4. ঘ) মাটির অজৈব লবণকে পরিবর্তিত করে
সঠিক উত্তর:
গ) পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার ফলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার ফলে
ব্যাখ্যা
বিদুৎ উৎপাদনে প্রকল্পে ও মোটর কারে নাইট্রোজেন গ্যাস ও অক্সিজেন গ্যাসের বিক্রিয়ায় NO গ্যাস উৎপন্ন হয়। পরে বায়ুর অক্সিজেনসহ NO বিক্রিয়া করে NO2 এবং ওজোন ও পানির সাথে যুক্ত হয়ে নাইট্রিক এসিডরুপে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়।উদ্ভিদ নাইট্রেট লবণ গ্রহণ করে। এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬,৩৫৬.
চিরুনি দিয়ে মাথার চুল আঁচড়ালে চিরুনিতে সঞ্চিত চার্জ -
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. শূন্য
  4. ধনাত্মক ও ঋণাত্মক উভয় ধরনের চার্জ
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক
৬,৩৫৭.
অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করণে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. এক্সরে রশ্মি
সঠিক উত্তর:
এক্সরে রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সরে রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে বা এক্স-রশ্মি:
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়। এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে এক্স-রশ্মি দুইটি শ্রেণীতে বিভক্ত-
• কঠিন এক্স-রশ্মি।
• কোমল এক্স-রশ্মি।

এক্স-রে এর ব্যবহার:
• স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল ও ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি সনাক্তকরণে এক্কারে ব্যবহার করা হয়।
• মুখমণ্ডলীর অভ্যন্তরের যেমন দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক।
পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়
• পিত্তথলি ও কিডনির পাথর সনাক্তকরার জন্য এক্সরে ব্যবহৃত হয়।
• বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়। ক্যান্সারের চিকিৎসা করা।

তথ্যসূত্র- বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৫৮.
যে মূল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে কি বলে?
  1. জারক
  2. বিজারক
  3. ক্ষারক
  4. ক্ষারিত
সঠিক উত্তর:
বিজারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজারক
ব্যাখ্যা
বিজারক:
• যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান/ত্যাগ করে সেগুলোকে বিজারক বলে। আর ইলেক্ট্রন দান/বর্জনের প্রক্রিয়াটিকে জারণ বলে।
• বিজারক - সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।

জারক:
• আবার যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে। আর ইলেক্ট্রন গ্রহণের প্রক্রিয়াটিকে বিজারণ বলে।
• জারক - অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

ক্ষারক:
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩৫৯.
কোন উপাদানটি এন্টাসিডে থাকে?
  1. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

আমাদের পাকস্থলীতে এসিডিটি হলে যে এন্টাসিড ঔষধ খাই তা আসলে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] যা সাসপেনশন ও ট্যাবলেট দুইভাবেই পাওয়া যায়।
ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] এর সাসপেনশন মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া নামেই অধিক পরিচিত।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

৬,৩৬০.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি
  2. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা
  3. বস্তুর ভরের পরিমাণ 
  4. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি 
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি 
ব্যাখ্যা

- মহাকর্ষ হলো মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বল। তবে যখন এই আকর্ষণ বল পৃথিবী এবং অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে কাজ করে, তখন তাকে বিশেষভাবে 'অভিকর্ষ' বা মাধ্যাকর্ষণ বলা হয়। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে পৃথিবী ও বস্তুর মধ্যকার এই আকর্ষণ বলই মহাকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের সঠিক প্রতিফলন। 

মহাকর্ষ: 

- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৬,৩৬১.
ডায়োডের মূল কাজ কোনটি?
  1. সিগনাল বাড়ানো
  2. বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপ
  3. বিদ্যুৎ সংরক্ষণ
  4. একমুখী কারেন্ট প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
একমুখী কারেন্ট প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একমুখী কারেন্ট প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• P-N junction এ Forward Bias দেওয়া হয়, তখন ডায়োড দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ ঘটে।কিন্তু Reverse Bias দিলে কারেন্ট প্রবাহ হয় না। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে ডায়োডকে বলা হয় Unidirectional Device বা অর্থাৎ একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রক।

- ডায়োড হলো একটি সেমিকন্ডাক্টর উপাদান যা কারেন্টকে শুধুমাত্র একদিকে প্রবাহিত হতে দেয়, বিপরীত দিকে বাধা দেয়।
- এটি গঠিত হয় দুটি সেমিকন্ডাক্টর স্তর; P-type ও N-type সংযুক্ত করে। এই সংযোগকে বলা হয় P-N junction।

ডায়োডের প্রধান কাজ:
- কারেন্ট একদিকে প্রবাহিত করা (Rectification) এটিই মূল কাজ।
- Alternating Current (AC) কে Direct Current (DC)-তে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ সরবরাহে (Power supply circuits) AC থেকে DC তৈরির জন্য Rectifier Diode ব্যবহৃত হয়।

ডায়োডের অন্যান্য প্রয়োগ:
- Rectifier circuit: AC থেকে DC তৈরিতে।
- Clipping ও Clamping circuit: সিগনালের সীমা নির্ধারণে।
- Voltage protection: অতিরিক্ত ভোল্টেজ থেকে সার্কিট রক্ষা করতে।
- Switching circuit: দ্রুত চালু-বন্ধ ক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

৬,৩৬২.
'সোডিয়াম' কোন ধরনের পদার্থ?
  1. প্যারা চৌম্বক
  2. ডায়া চৌম্বক
  3. ফেরো চৌম্বক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্যারা চৌম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারা চৌম্বক
ব্যাখ্যা
প্যারা চৌম্বক: 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। 
- কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে। 
- ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না। 

ডায়া চৌম্বক: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি। 
- অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। 
- এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- এক জোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। 
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

ফেরো চৌম্বক: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না। 
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন- এ বিভক্ত থাকার ফলে সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে বা চুম্বকের কাছে আনলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে কিছু কিছু ডোমেইনের আকার এক সময় বৃহৎ ডোমেইন গঠন করে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে পদার্থটির চুম্বকায়ন ঘটে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৬৩.
সবচেয়ে ভাল তাপ পরিবাহক কোনটি?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. সীসা
  4. ব্রোঞ্জ
সঠিক উত্তর:
তামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা
ব্যাখ্যা

- উল্লিখিত অপশনের মধ্যে সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক হচ্ছে তামা।

পরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
- সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়।
যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের। 
- রূপা হলো সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক।
- পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
- ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩৬৪.
বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ব্যারােমিটার 
  2. হাইগ্রোমিটার 
  3. ফ্যাদোমিটার 
  4. ম্যানােমিটার 
সঠিক উত্তর:
ব্যারােমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারােমিটার 
ব্যাখ্যা

ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 

অন্যদিকে, 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৬,৩৬৫.
নিম্নের কোন দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও দ্রবণের pH মানের কোন পরিবর্তন হয় না?
  1. ক) অ্যাসিড দ্রবণে
  2. খ) বাফার দ্রবণে
  3. গ) ক্ষারীয় দ্রবণে
  4. ঘ) সবগুলোতেই
সঠিক উত্তর:
খ) বাফার দ্রবণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাফার দ্রবণে
ব্যাখ্যা

যে দ্রবণে সামান্য দুর্বল অম্ল বা ক্ষার যােগ করার পরও দ্রবণের pH- মান অপরিবর্তিত থাকে তাকে বাফার দ্রবণ বলে।
অর্থ্যাৎ বাফার দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও দ্রবণের pH মানের কোন পরিবর্তন হয় না।

৬,৩৬৬.
নিচের কোনটি চেতনানাশক হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ইথার
  2. ফেনল
  3. অ্যালকোহল ও ইথারের মিশ্রন
  4. অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
ইথার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথার
ব্যাখ্যা
ইথার:
- একটি দ্বি-যোজী অক্সিজেন পরমাণু দু'টি একক বন্ধনের মাধ্যমে তার উভয় দিকে দুটি কার্বনকে সংযুক্ত করে যে জৈব যৌগ তৈরী করে তাকে ইথার বলে।
- ইথার বলতে ডাই ইথাইল ইথার (ইথোক্সিইথেন) CH3CH2-O-CH2CH3 বুঝায় ।
- অ্যালকোহল থেকে পানি অপসারণ (dehydration) করে ইথার প্রস্তুত করা যায়।
- ইথার ও অ্যালকোহল উভয় প্রকার যৌগের অক্সিজেনে দুই জোড়া করে মুক্ত ইলেকট্রন আছে।
- অপেক্ষাকৃত কম কার্বন যুক্ত ইথার সাধারণ চেতনানাশক (general anaesthetics) হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- ইথার ও অ্যালকোহলের মিশ্রণ পেট্রোলের বিকল্প জ্বালানীরূপে ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৬৭.
সবচেয়ে হালকা ধাতু কোনটি?
  1. লিথিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. পারদ
  4. হিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম
ব্যাখ্যা
• লিথিয়াম (Li):
- লিথিয়াম (Li) হলো বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ধাতু।
- এটি পারমাণবিক সংখ্যা ৩ এবং ঘনত্ব পানির ঘনত্ব এর চেয়েও কম।
- ফলে লিথিয়াম পানিতে ভাসতে পারে।

• লিথিয়ামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
- এটি পর্যায় সারণির ক্ষারীয় ধাতু (Alkali Metal) গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত।
- এটি খুবই হালকা এবং নরম, ছুরি দিয়ে কাটা যায়।
- এটি খুব বেশি বিক্রিয়াশীল (reactive), বিশেষ করে পানির সাথে তীব্র বিক্রিয়া করে।
- লিথিয়াম ব্যাটারি, ওষুধ (বাইপোলার ডিসঅর্ডার), মহাকাশ প্রযুক্তি, এবং হালকা সংকর ধাতু (alloy) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

- পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
- সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
- উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
- লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
- লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
- সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
- সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, রসায়ন এবং ব্রিটানিকা।
৬,৩৬৮.
উচ্চ ভোল্টেজের লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে কোন উপাদান ব্যবহৃত হয়?
  1. কোয়ার্টজ
  2. সোনা 
  3. পর্সেলিন
  4. কাঠ
সঠিক উত্তর:
পর্সেলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্সেলিন
ব্যাখ্যা

উচ্চ ভোল্টেজের লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে পর্সেলিন উপাদান ব্যবহৃত হয়। 
- উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক সঞ্চালন এবং বিতরণ লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে পর্সেলিন বা চীনামাটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদান।
- এটি অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট, কোয়ার্টজ এবং ফেল্ডস্পারের মিশ্রণে তৈরি একটি শক্ত এবং টেকসই সিরামিক উপাদান।
- পর্সেলিন চমৎকার বৈদ্যুতিক অন্তরক বৈশিষ্ট্য এবং যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে, যা উচ্চ ভোল্টেজের তারগুলিকে খুঁটি বা টাওয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে সাহায্য করে এবং বিদ্যুতের ফুটো রোধ করে। 

অন্যদিকে, 
ক) কোয়ার্টজ: কোয়ার্টজ নিজে একটি ইনসুলেটিং উপাদান হলেও, উচ্চ ভোল্টেজের লাইনের জন্য প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক শক্তি এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য অর্জনে এটি সাধারণত পর্সেলিন তৈরির একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সরাসরি ইনসুলেটর হিসেবে নয়।

খ) সোনা: সোনা একটি চমৎকার পরিবাহী (Conductor), ইনসুলেটর (অন্তরক) নয়। এটি বিদ্যুৎ প্রবাহকে সহজেই যেতে দেয়।

ঘ) কাঠ: কাঠ একটি প্রাকৃতিক ইনসুলেটর, কিন্তু এর ইনসুলেশন ক্ষমতা পরিবর্তনশীল এবং এটি আবহাওয়ার পরিস্থিতি (যেমন আর্দ্রতা) দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হয়।
আধুনিক উচ্চ ভোল্টেজের লাইনগুলিতে নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থায়িত্বের জন্য কাঠের পরিবর্তে উন্নত উপাদান যেমন পর্সেলিন বা পলিমার ইনসুলেটর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩৬৯.
নিচের কোন কয়লাতে কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি? 
  1. লিগনাইট 
  2. পিট 
  3. অ্যানথ্রাসাইট 
  4. বিটুমিনাস 
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট 
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের একধরনের পাললিক শিলা। 
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন। তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H2), সালফার (S), অক্সিজেন (O2) কিংবা নাইট্রোজেন (N2) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস আর খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা।
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে।
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে চাপা পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- এরকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরও ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)।
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ।
- পরবর্তীসময়ে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়।

- কয়লা তিন রকমের হয়। 
যেমন- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস এবং লিগনাইট। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো আর এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩৭০.
কোন যন্ত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য আর্গন ব্যবহার করা হয়? 
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. গাইগার মূলার কাউন্টার 
  3. সিসমোগ্রাফ
  4. স্পেকট্রোফোটোমিটার 
সঠিক উত্তর:
গাইগার মূলার কাউন্টার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাইগার মূলার কাউন্টার 
ব্যাখ্যা

• গাইগার মূলার কাউন্টার টিউবের ভেতরে অত্যন্ত কম চাপে আর্গন গ্যাস ভর্তি থাকে। যখন তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এই গ্যাসের মধ্য দিয়ে যায়, তখন গ্যাসটি আয়নিত হয় এবং একটি ইলেকট্রন প্রবাহ তৈরি করে, যা পালস হিসেবে রেকর্ড করার মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তার তীব্রতা মাপা হয়।

• আর্গন: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

অন্যান্য অপশন:
- হাইগ্রোমিটার: বাতাসের আর্দ্রতা পরিমাপ করে এবং এতে আর্গন গ্যাসের কোনো প্রয়োগ নেই।
- সিসমোগ্রাফ: ভূমিকম্পের কম্পন ও তীব্রতা রেকর্ড করতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের যন্ত্র নয়।
- স্পেকট্রোফোটোমিটার: আলোর তীব্রতা বা শোষণ ক্ষমতার মাধ্যমে নমুনার ঘনমাত্রা নির্ণয় করে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।