বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৪৬ / ৬৪ · ৪,৫০১৪,৬০০ / ৬,৪০৯

৪,৫০১.
১০০ ওয়াটের একটি বৈদ্যুতিক বাতি প্রতিদিন ৭ ঘণ্টা জ্বালালে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কত তড়িৎ শক্তি খরচ হবে?
  1. ক) 20.3 kwh
  2. খ) 203 kwh
  3. গ) 21.3 kwh
  4. ঘ) 290 kwh
সঠিক উত্তর:
ক) 20.3 kwh
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 20.3 kwh
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ১০০ ওয়াটের একটি বৈদ্যুতিক বাতি প্রতিদিন ৭ ঘণ্টা জ্বালালে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কত তড়িৎ শক্তি খরচ হবে?

সমাধান:
২০২০ সাল অধিবর্ষ। ফলে  ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিন আছে ২৯ দিন। 
মোট ঘণ্টা = 29 × 7 h
= 203 h

ক্ষমতা, P = 100 W 
= 100/1000 KW
= 1/10 KW 

∴ শক্তি, W = Pt 
= 203/10 KWh
= 20.3 KWh
৪,৫০২.
কোন অ্যালকোহল পানযোগ্য হিসেবে স্বীকৃত? 
  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. প্রোপানল
সঠিক উত্তর:
ইথানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহলের শিল্পোৎপাদন: 
মিথানল: 
- মিথানল সম্পৃক্ত মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল গোত্রের প্রথম অ্যালকোহল। 
- প্রকৃতিতে মিথানল এস্টার হিসাবে পাওয়া যায়। 
- এক সময়ে কাঠের বিধ্বংসী পাতনের মাধ্যমে এ অ্যালকোহল উৎপাদিত হতো বলে এর আরেক নাম উড স্পিরিট (Wood Spirit) । 

ইথানল: 
- সম্পৃক্ত অ্যালকোহল গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য হচ্ছে ইথানল যা অ্যালকোহল হিসাবে সমাধিক পরিচিত। 
- প্রাপ্ত কাচাঁমালের আমদানীর উপর ভিত্তি করে নানা পদ্ধতিতে ইথানল উৎপন্ন করা হয়। 
- ফারমেন্টেশন বা গাঁজন পদ্ধতিতে শ্বেতসার বা চিটাগুড় হতে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 

ফারমেন্টেশন: 
- জটিল অণুবিশিষ্ট জৈব পদার্থকে এনজাইমের প্রভাবে বিয়োজিত বা আর্দ্র বিশ্লেষিত করে সরল অণুবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ফারমেন্টেশন বা চোলাইকরণ বা গাঁজন বলা হয়। 
যেমন: শ্বেতসার হতে ইথানল উৎপাদন। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানল একমাত্র অ্যালকোহল যা পানীয় হিসেবে পান করা যায়। 
- অধিক পরিমাণ ইথানল পান বিষ ক্রিয়া প্রদর্শন করে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে বা শিল্পে ব্যবহৃত ইথানলকে মানুষের পানের অযোগ্য করার জন্য এতে বিষাক্ত মিথানল (৪%) মিশিয়ে দেয়া হয়। 
- মিথানল মিশ্রিত এ ধরনের রেকটিফাইড স্পিরিটকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। একে ডিনেচারড অ্যালকোহলও (Denatured alcohol) বলা হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫০৩.
ড্রাগ শনাক্তকরণে তড়িৎচুম্বকীয় কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. অবলোহিত রশ্মি
  2. অতিবেগুনি রশ্মি
  3. রঞ্জন রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনি রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা

তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
যথা- 
১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল: 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m).  

৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস:
১. রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।

২. রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫০৪.
পাহাড়ে রান্না করার সময় অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশি কেন লাগে?
  1. পাহাড়ের উপর তাপমাত্রা বেশি থাকায়
  2. পাহাড়ের উপর বাতাস কম থাকায়
  3. বায়ুর চাপ বেশি থাকার কারণে
  4. বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
সঠিক উত্তর:
বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
ব্যাখ্যা

- চাপের কারণে স্ফুটনাঙ্কের পরিবর্তন হয়। 
- চাপ কম হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়। 
- এজন্য যারা পর্বতারোহণ করে অনেক উচ্চতায় যায় তাদের রান্না করতে সময় বেশি নেয়৷ 
- বাতাসের চাপ কম বলে সেখানে পানি তুলনামূলকভাবে কম তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে, তাই তাপমাত্রা বাড়ানো যায় না, সেজন্য রান্না করতে সময় বেশি লাগে। 
- একই কারণে প্রেশার কুকার তৈরি হয়েছে, এটি আসলে একটি নিশ্ছিদ্র পাত্র, তাই রান্না করার সময় বাষ্প আবদ্ধ হয়ে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং সে কারণে পানির স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায় বলে বেশি তাপমাত্রায় পানি ফুটতে থাকে। 
- তাপমাত্রা বেশি বলে রান্নাও করা যায় তাড়াতাড়ি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৫০৫.
মেঘলা রাতে -
  1. শিশির উৎপন্ন হয়
  2. শিশির উৎপন্ন হয় না
  3. উভয়টিই ঠিক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শিশির উৎপন্ন হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশির উৎপন্ন হয় না
ব্যাখ্যা
- আকাশ মেঘলা থাকলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- এই মেঘলা থাকার কারণে দিনের যে তাপ থাকে তা উপরে যেতে মেঘ বাধা দেয়। 
- তাই এ তাপ ভূ - পৃষ্ঠে ফিরে আসে। 
- এ তাপের জন্য মেঘলা রাতে শিশির জমে না এবং ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫০৬.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে কোনটি?
  1. ডায়োড
  2. ভোল্টমিটার
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ট্রানজিস্টর
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফরমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

• তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে 'ট্রান্সফরমার'।

• তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- একটি তারের কুণ্ডলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুণ্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি।

• ট্রান্সফরমার:
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমারের গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার হয়।

২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার হয়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ডায়োড: এটি সেমিকন্ডাক্টরের p-n জাংশন নীতির ওপর ভিত্তি করে তড়িৎ প্রবাহকে একমুখী করতে ব্যবহৃত হয়।
- ভোল্টমিটার: এটি গ্যালভানোমিটারের নীতির ওপর ভিত্তি করে বর্তনীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য পরিমাপ করে।
- ট্রানজিস্টর: এটি অর্ধপরিবাহী স্তরের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুইচ বা অ্যামপ্লিফায়ার হিসেবে কাজ করে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৫০৭.
কোনটি জৈব যৌগের উদাহরণ?
  1. ক) Na2CO3
  2. খ) NaOH
  3. গ) CH3OH
  4. ঘ) CO2
সঠিক উত্তর:
গ) CH3OH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) CH3OH
ব্যাখ্যা

উৎস বা প্রস্তুত পদ্ধতি যাই হোক না কেন সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। তাই বলা যায় জৈব যৌগ মূলত কার্বন যৌগ।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যুক্ত থাকে।
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি।
বর্তমানে জৈব যৌগকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় ‘কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।’
যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

সূত্রঃ রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫০৮.
বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ -
  1. ক) কম হয়
  2. খ) বেশি হয়
  3. গ) একই হয়
  4. ঘ) খুব কম হয়
সঠিক উত্তর:
গ) একই হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একই হয়
ব্যাখ্যা
এই প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার জন্য প্রথমেই আমরা বৈদ্যুতিক পাখার কার্যপ্রণালী সম্পর্কে কিছুটা জেনে নিবো।

প্রথমেই দেখা যাক বৈদ্যুতিক পাখা কীভাবে ঘোরে:

একটি পাখায় একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং কয়েকটি ধাতব ব্লেড (সাধারণত ৩টি), সংযুক্ত থাকে। যখন আমরা একটি পাখার সুইচ অন করি, তখন ভোল্টেজের পার্থক্যের জন্য মোটরটির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায় এবং তার ফলাফল হিসাবেই পাখাটি ঘুরতে থাকে। নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটর মোটরের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মোটরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণ কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেয়।

সুতরাং, একটি পাখার ভোল্টেজর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে তার নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটরের ওপর নির্ভরশীল। আর একটি পাখার ভোল্টেজের পরিমাণ তার ঘূর্ণন গতির সমানুপাতী, অর্থাৎ ভোল্টেজ যত বাড়বে, পাখার গতিও ততটাই বাড়বে।

এখন, বিভিন্ন রেগুলেটর ও তাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা যাক:

এই মুহূর্তে, বাজারে মোটামুটি দুই ধরনের রেগুলেটর পাওয়া যায়—

১) ইলেক্ট্রিক রেগুলেটর (Electric Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য রোধ বসানো থাকে। যখন পাখার ভোল্টেজ কমানো হয় তখন রোধটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আর বিদ্যুৎ সরবরাহ কমার কারণে পাখার গতিও কমে যায়। কিন্তু এর ফলে পাখার ভোল্টেজ তথা গতি কমিয়ে যে বিদ্যুৎ বাঁঁচানো হয়, সেই বিদ্যুৎ এই রোধ-মধ্যস্থ তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত, এই রেগুলেটরের মাধ্যমে পাখার গতি কমিয়ে বিদ্যুৎ খরচ বিশেষ কমে না বললেই চলে।ফলে ইলেকট্রিক্যাল রেগুলেটর ব্যবহার করলে ফ্যানের গতি কম-বেশির সাথে রেগুলেটর লস যথাক্রমে বেশি ও কম হয় ফলে বৈদ্যুতিক পাখার গতি যাই হোক, বিদ্যুৎ খরচ প্রায় একই হয়।
২) ইলেকট্রনিক রেগুলেটর (Electronic Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য মূলতঃ ট্রায়াক থাকে যার গেটে ট্রিগার নিয়ন্ত্রণ করে ফ্যানের ভোল্টেজের সাইন ওয়েভকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং ভোল্টেজের আরএমএস ভ্যালুকে পরিবর্তণ করে ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এইগুলি কখনই গরম হয়ে ওঠে না, ফলে পাখা যখন কম গতিতে চলে তখন যথেষ্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। সাধারণত ইলেকট্রনিক রেগুলেটরগুলি ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরগুলির থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশী বিদ্যুতসাশ্রয়ী।

তাই সবশেষে বলা যেতে পারে, বৈদ্যুতিক পাখা কম গতিতে চালালে বিদ্যুৎ খরচ তখনই কম হবে যখন ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহৃত হবে।
৪,৫০৯.
ফোটন কণায় কোন ধরনের বল বিদ্যমান?
  1. সবল নিউক্লিয় বল
  2. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  3. তাড়িতচৌম্বক বল
  4. মহাকর্ষ বল
সঠিক উত্তর:
তাড়িতচৌম্বক বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়িতচৌম্বক বল
ব্যাখ্যা
ফোটন:
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না।
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৫১০.
ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি?
  1. সিসমোগ্রাফ
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. হাইগ্রোমিটার
  4. পাইরোমিটার 
সঠিক উত্তর:
সিসমোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিসমোগ্রাফ
ব্যাখ্যা

- সিসমোগ্রাফ (Seismograph) হলো সেই যন্ত্র যা ভূমিকম্প ও ভূমিকম্পের কম্পনের মাত্রা ও প্রকৃতি পরিমাপ করে। 

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 

• ব্যারােমিটার- বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
• ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৪,৫১১.
নিচের কোন গ্যাসটি ওজোন স্তর ধংসের জন্য দায়ী?
  1. ক) ইথেন
  2. খ) মিথেন
  3. গ) রেয়ন
  4. ঘ) ফ্রেয়ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফ্রেয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফ্রেয়ন
ব্যাখ্যা
১৯২৭ সালে প্রথম আধুনিক ব্যক্তিগত রেফ্রিজারেটর বাজারে আনে মার্কিন প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক। আধুনিক রেফ্রিজারেটরগুলোতে ফ্রেয়ন এর বদলে টেট্রাফ্লুরোইথেন নামে একটি গ্যাস ব্যবহার করা হয় যেটা পরিবেশ বান্ধব। ফ্রেয়ন ওজোন স্তর ধংসের জন্য দায়ী।
৪,৫১২.
কোন প্রোটিন দিয়ে 'রেশম তন্তু' তৈরি হয়? 
  1. ফাইব্রেয়ন
  2. প্রোলামিন
  3. প্রোটামিন
  4. অ্যালবিউমিন
সঠিক উত্তর:
ফাইব্রেয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইব্রেয়ন
ব্যাখ্যা
রেশম: 
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়। 
- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে। 
- রেশম তন্তু 'ফাইব্রেয়ন' নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি। 
- প্রাকৃতিক প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে রেশমই সবচেয়ে হালকা, শক্ত ও দীর্ঘ। 
- সিল্কের শক্তিমাত্রা, দৃড়তা, মসৃণতা এবং কোমল অনুভবতা বৈশিষ্ট্য দীর্ঘকাল ধরে সুপরিচিত। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫১৩.
থার্মোকাপলে শক্তির কী ধরণের রূপান্তর ঘটে?
  1. ক) তাপশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি
  2. খ) বিদ্যুৎশক্তি থেকে তাপশক্তি
  3. গ) তাপশক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি
  4. ঘ) যান্ত্রিক শক্তি থেকে তাপশক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) তাপশক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাপশক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি
ব্যাখ্যা
থার্মোকাপলে দুটি ভিন্ন ধাতব পদার্থের সংযোগস্থলে তাপ প্রদান করে সরাসরি তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
যদিও অধিকাংশক্ষেত্রে তাপশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি তৈরি করা হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫১৪.
নিচের কোনটি ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ?
  1. লোহা 
  2. পানি 
  3. প্লাটিনাম
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
লোহা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা 
ব্যাখ্যা

প্যারাচৌম্বকীয় পদার্থ (Paramagnetic elements): 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, এদেরকে প্যারা চৌম্বক বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোলগুলো এলোমেলোভাবে থাকে। ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ (magnedisation) থাকে না। 
- এ সকল পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে দ্বিপোলসমূহ ক্ষেত্রের অভিমুখ বরাবর সজ্জিত হওয়ার চেষ্ঠা করে। কিন্তু তাপীয় উত্তেজনা এ সজ্জিতকরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করে। 
- ফলে কিছু দ্বিপোল সজ্জিত হয় এবং ক্ষেত্রের দিকে কিছু চুম্বকায়ন ঘটায় অর্থাৎ নীট ফল হিসেবে পদার্থটি একটি চৌম্বক মোমেন্ট অর্জণ করে এবং এ চৌম্বক মোমেন্টের অভিমুখ প্রযুক্ত চৌম্বকক্ষেত্রের দিকে হয়। 

ফেরোচৌম্বকীয় পদার্থ (Ferromagnetism elements): 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয় এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না। 
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন-এ বিভক্ত থাকে। ফলে, সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 

ডায়াচৌম্বকীয় পদার্থ (Diamagnetism elements): 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায় অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয় এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি। 
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- একজোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। 
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫১৫.
আলট্রাসনোগ্রাফি কী?
  1. নতুন ধরনের এক্সরে
  2. ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দের দ্বারা ইমেজিং
  3. শরীরের অভ্যন্তরের শব্দ বিশ্লেষণ
  4. শক্তিশালী শব্দ দিয়ে পিত্তপাথর বিচূর্ণীকরণ
সঠিক উত্তর:
ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দের দ্বারা ইমেজিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দের দ্বারা ইমেজিং
ব্যাখ্যা

আলট্রাসনোগ্রাফি হলো উচ্চ কম্পাঙ্কের এবং ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ছবি বা ইমেজ তৈরির একটি পদ্ধতি।

• আল্ট্রাসনোগ্রাফি:
- শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম পেশী বা টিস্যুর সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বলে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়।
- উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাংক ১–১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
- বিশেষত ভ্রুণের বৃদ্ধি, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের টিউমার সনাক্তকরণে।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয়ের কৌশল।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,৫১৬.
চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে কী কারণে?
  1. জড়তা
  2. বেগ
  3. ত্বরণ
  4. গতি
সঠিক উত্তর:
জড়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তা
ব্যাখ্যা
• চলন্ত বাস বা গাড়ি হঠাৎ ব্রেক কষলে "জড়তার" জন্য যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়।

• জড়তা:

- স্থির বস্তুর স্থির এবং গতিশীল বস্তু গতিশীল থাকার প্রবণতা কে জড়তা বলে।
- গাড়ি চলন্ত অবস্থায় থাকলে গাড়ির সাথে সাথে যাত্রীর সমগ্র দেহই গতিশীল থাকে।
- ব্রেক কষলে গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর দেহের নিচের অংশ স্থির অবস্থায় আসে কিন্তু গতি জড়তার জন্য দেহের উপরের অংশ এগিয়ে যেতে চায়।
- ফলে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫১৭.
বায়ুর আর্দ্রতা এবং বাষ্পায়নের হারের মধ্যে সম্পর্ক কী?
  1. আর্দ্রতা কমলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়
  2. আর্দ্রতা বাড়লে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়
  3. আর্দ্রতা কমলে বাষ্পায়ন কমে যায়
  4. এদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই
সঠিক উত্তর:
আর্দ্রতা কমলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্দ্রতা কমলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ক) আর্দ্রতা কমলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়

• বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব (Effects of various factors on evaporation):

- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন।
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না। এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা। এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়।

- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। সেগুলো হলো:
১) তরলের প্রকৃতি: বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি।

২) বায়ু প্রবাহ: তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়।

৩) তরলের উপর চাপ: তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক।

৪) তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে।

৫) তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়।

৬) তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫১৮.
উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম কোনটি?
  1. লিমুলাস
  2. স্ফোনোডন
  3. প্লাটিপাস
  4. নিটাম
সঠিক উত্তর:
নিটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিটাম
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে, এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫১৯.
এসিটিক এসিডের কত শতাংশ জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে?
  1. ৫%
  2. ১০%
  3. ৪-১০%
  4. ২০%
সঠিক উত্তর:
৪-১০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪-১০%
ব্যাখ্যা
অ্যাসিটিক এসিড এর (CH3-COOH) 4- 10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। আচার সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহৃত হয়। মনে রাখা প্রয়োজন যে, এসিটিক এসিডকে ইথানয়িক এসিড ও বলা হয়ে থাকে।
৪,৫২০.
বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তু সংক্রান্ত কয়টি সূত্র প্রদান করেন?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩টি
ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তু সংক্রান্ত ৩ টি সূত্র প্রদান করেন-

• প্রথম সূত্র: স্থির অবস্থান থেকে এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে।
• দ্বিতীয় সুত্র:  স্থির অবস্থান থেকে  বিনা বাধায় পড়ন্ত নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক
• তৃতীয় সূত্র: স্থির অবস্থান থেকে  বিনা বাধায় পড়ন্ত নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৪,৫২১.
কোন তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমে চলতে সক্ষম?
  1. শব্দ তরঙ্গ
  2. পানির তরঙ্গ
  3. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  4. তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের প্রসারণের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, তাই এটি শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে।

• তরঙ্গের শ্রেণিবিভাগ:
- তরঙ্গকে প্রধানত দুই ভাগে শ্রেণিবিভাগ করা যায়। যথা—
- যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave),
- তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic Wave)।
 
• যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave):
- যে তরঙ্গের প্রসারণের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, তাকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলা হয়।
- যান্ত্রিক তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে না।
- এই তরঙ্গের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চালিত হয়, কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোর স্থায়ী স্থানান্তর ঘটে না।
- মাধ্যমের কণাগুলো নিজ নিজ সাম্য অবস্থার চারপাশে কম্পন করে।
- উদাহরণ—
- শব্দ তরঙ্গ,
- পানির তরঙ্গ।
 
• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic Wave):
- যে তরঙ্গের প্রসারণের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, তাকে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ বলা হয়।
- তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমেও চলতে সক্ষম।
- এই তরঙ্গের মাধ্যমেও শক্তি পরিবাহিত হয়।
- উদাহরণ—
- আলো,
- রেডিও তরঙ্গ।
 
• তরঙ্গ সঞ্চালনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- তরঙ্গের মাধ্যমে শক্তি পরিবাহিত হয়, বস্তু পরিবাহিত হয় না।
- মাধ্যমের কণাগুলো কেবল কম্পনের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চালনে অংশগ্রহণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৫২২.
বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতির কেমন পরিবর্তন হয়?
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. সামান্য কমে
  4. অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়ে
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট। 
- কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 
যেমন - 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220 ms-1
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫২৩.
পানির লবণাক্ততা কোনটির মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়?
  1. গ্লুকোমিটার
  2. হ্যালোমিটার
  3. স্যালিনোমিটার
  4. এডাফিমিটার
সঠিক উত্তর:
স্যালিনোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যালিনোমিটার
ব্যাখ্যা
• লবণাক্ততা:
- পানিতে উপস্থিত দ্রবীভূত লবণের পরিমাণ ।
- জলের প্রাকৃতিক সংস্থাগুলিতে, লবণাক্ততা সাধারণত সোডিয়াম ক্লোরাইডের একটি পরিমাপ (NaCl; সাধারণ লবণ)।
- ম্যাগনেসিয়াম , সালফেট , ক্যালসিয়াম, এবং অন্যান্য আয়ন অল্প ঘনত্বে লবণাক্ততায় অবদান রাখে।
- লবণাক্ততা সাধারণত একটি স্যালিনোমিটার দিয়ে পরিমাপ করা হয় ।
- যা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে উপস্থিত লবণের পরিমাণ বা ওজন গণনা করে।
- একে এককে প্রকাশ করা যেতে পারে যেমন পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম) এবং প্রতি কিলোগ্রাম পানিতে গ্রাম লবণ (যাকে ব্যবহারিক লবণাক্ততা একক [psu] বলা হয়) বা সাধারণ শতাংশ হিসাবে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪,৫২৪.
নিচের কোনটি ভেক্টর রাশির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. মান অথবা দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তন হলে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়। 
  2. ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
  3. ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয় না।
  4. দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি ভেক্টর রাশি অথবা একটি স্কেলার রাশি হতে পারে। 
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
ব্যাখ্যা
ভেক্টর রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাদের ভেক্টর রাশি বলে। 
যেমন- সরণ, বেগ, ত্বরণ, ওজন ইত্যাদি। 
- শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তন হলে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়। 
- ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয় না। 
- দুটি ভেক্টর রাশির কোনো একটির মান শূন্য না হলেও এদের ভেক্টর গুণফল শূন্য হতে পারে। 
- দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি ভেক্টর রাশি অথবা একটি স্কেলার রাশি হতে পারে। 

স্কেলার রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর, কাজ ইত্যাদি। 
- শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়। 
- স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়। 
- দুটি স্কেলার রাশির কোনোটির মান শূন্য না হলে এদের গুণফল শূন্য হয় না। 
- দুটি স্কেলার রাশির গুণফলে সর্বদা একটি স্কেলার রাশি পাওয়া যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫২৫.
What type of process occurs during the rust formation in iron?
  1. Physical Change
  2. Combustion Reaction
  3. Reduction Reaction
  4. Oxidation Reaction
  5. Decomposition Reaction
সঠিক উত্তর:
Oxidation Reaction
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Oxidation Reaction
ব্যাখ্যা

• লোহায় মরিচা পড়ার সময় লোহাতে জারণ বিক্রিয়া (Oxidation Reaction) ঘটে। 

• মরিচা:
- বিশুদ্ধ লোহা, জলীয় বাষ্প ও বায়ুর অক্সিজেন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে লোহার যে অক্সাইড গঠন করে তাকে মরিচা বলে।

• লোহাকে বাতাসে দীর্ঘসময় রেখে দিলে বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে লোহা বিক্রিয়া করে মরিচা তৈরি করে।
- লোহার উপর মরিচা পড়া অনেক ধীর গতিতে সংঘটিত হয়।
- লোহায় মরিচা পড়ার এই প্রক্রিয়া টি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। 
- এখানে এক ধাপে জারণ এবং অন্যধাপে বিজারণ ঘটে থাকে। 

• মরিচা পড়ার প্রক্রিয়া:
- লোহা (Fe) অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- এই বিক্রিয়ায় লোহা অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয় এবং ইলেকট্রন ত্যাগ করে।
- এর ফলে লোহাতে জারণ ঘটে।
- ত্যাগকৃত ইলেকট্রনটি অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন আয়ন গ্রহণ করে পানি তৈরি করে, যা বিজারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে।
- ফলে, লোহার অক্সাইড (Fe2O3) গঠিত হয়, যা মরিচা নামে পরিচিত।
- এই পুরো প্রক্রিয়াটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 

৪,৫২৬.
অভিস্রবনের সময় কোনটির পরিবর্তিন ঘটে না?
  1. ঘনত্ব
  2. ভর
  3. আয়তন
  4. চাপ
সঠিক উত্তর:
ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ (Osmosis): অভিস্রবণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে দ্রাবক (সাধারণত পানি) স্বল্প ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে অর্ধ-ভেদ্য পর্দা  (semi-permeable membrane) দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ভর অপরিবর্তিত থাকার কারন
- রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভর তৈরি বা ধ্বংস হয় না, শুধু স্থানান্তরিত হয়। 
- অভিস্রবণে শুধু পানি অণু এক দ্রবণ থেকে অন্য দ্রবণে যায়, কিন্তু মোট ভর অপরিবর্তিত থাকে।

অন্যদিকে,
ঘনত্ব:  দ্রাবকের চলাচলে দ্রবণের ঘনত্ব পরিবর্তিত হয়।
আয়তন:  দ্রবণের আয়তন দ্রাবকের বৃদ্ধি/হ্রাসের সাথে পরিবর্তিত হয়।
চাপ:  অভিস্রবণ চাপ সৃষ্টি হয় (উচ্চতর ঘনত্বের দ্রবণে বেশি চাপ সৃষ্টি হয়)।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণী।
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৪,৫২৭.
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) 270-400 nm
  2. খ) 400-700 nm
  3. গ) 300- 600 nm
  4. ঘ) 250-450 nm
সঠিক উত্তর:
খ) 400-700 nm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 400-700 nm
ব্যাখ্যা
আলোক
- আলো এক প্রকার বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ।
- এ বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ সৃষ্টি করে স্পন্দন সহকারে উৎস থেকে সর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- আলোর গতিবেগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল।
- শূন্যে আলোর বেগ সেকেন্ডে প্রায় 2.9979 × 108 m (সংক্ষেপে 3 × 108 m বা, 3 x 1010 cm)।
- বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (Maxwell) প্রমাণ করেন যে, সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয়।
- এজন্য সব ধরনের আলোককে একত্রে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়।
- দৃশ্যমান আলো হল বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র।
- সমগ্র বিকিরণ শক্তির অধিকাংশই অদৃশ্য।
- বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য (একক ন্যানোমিটারে nm = 10-9m) নিচে দেয়া হলো- 
• মহাজাগতিক রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: <0.00005nm  
• গামা রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: 0.0005 - 0.15 nm
• রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 0.01 – 10 nm
• অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: <380 nm
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: 400 - 700nm 
• অবলোহিত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: >700nm 
• রেডিও ও টেলিভিশন তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: >2.2 x 105 nm

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৪,৫২৮.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহীর প্রধান চার্জ বাহক কোনটি?
  1. হোল
  2. ধনাত্মক আয়ন
  3. মুক্ত ইলেকট্রন 
  4. নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
মুক্ত ইলেকট্রন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্ত ইলেকট্রন 
ব্যাখ্যা

অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা জাংশন ডায়োড: 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে।
- দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দুটি অর্ধপরিবাহীকে জোড়া লাগিয়ে ডায়োড তৈরি করা হয় না। 
- বাস্তবে একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অর্ধাংশে ত্রিযোজী অপদ্রব্য এবং অপর অর্ধাংশে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীর অভ্যন্তরে বহুসংখ্যক হোল ও অতি অল্প সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। 
- একইভাবে একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে বহুসংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন এবং অতি অল্পসংখ্যক হোল বর্তমান থাকে। 

- p-n জাংশন তৈরির সাথে সাথে p-অঞ্চলের হোলের সংখ্যা n-অঞ্চলের হোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে ব্যাপনের নিয়ম অনুযায়ী p-অঞ্চলের হোলগুলো n-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে যাতে p ও n অঞ্চলের সর্বত্র হোলের ঘনত্ব সমান হয়। 
- অনুরূপভাবে n-অঞ্চল থেকে কিছু ইলেকট্রন p-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে। 
- যখন p-অঞ্চল হতে কিছুসংখ্যক হোল n-অঞ্চলে প্রবেশ করে মুক্ত ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয়, তখন n-অঞ্চলে সমসংখ্যক ধনাত্মক দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়। আবার n-অঞ্চল হতে একই প্রক্রিয়ায় মুক্ত ইলেকট্রনগুলো যখন p-অঞ্চলে প্রবেশ করে হোলের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয় তখন p-অঞ্চলে সমসংখ্যক ঋণাত্মক গ্রাহক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- ফলে জাংশনের সন্নিকটে p-অঞ্চলে কিছু ঋণাত্মক আয়ন এবং n-অঞ্চলে কিছু ধনাত্মক আয়নের উদ্ভব ঘটে। এভাবে যখন যথেষ্ট সংখ্যক গ্রাহক ও দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়, তখন ব্যাপন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে। 
- p-n জাংশনের বিভব বাঁধা অংশে n-অঞ্চলে ধনাত্মক আয়ন এবং p-অঞ্চলে ঋণাত্মক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- এ অঞ্চলে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, এ অংশকে নিঃশেষিত স্তর বা ডিপ্লেশন স্তর (Depletion layer) বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫২৯.
বক্সাইট কোন ধাতুর আকরিক? 
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. আয়রন
  4. ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
আকরিক: 
- অধিকাংশ ধাতু প্রকৃতিতে ধাতব অক্সাইড ও ধাতব সালফাইড আকরিকরূপে থাকে। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৩০.
প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ নয় কোনটি? 
  1. Na2CO3
  2. K2Cr2O7
  3. AgNO3
  4. HNO3
সঠিক উত্তর:
HNO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HNO3
ব্যাখ্যা

প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড (Primary Standard): এমন একটি পদার্থ যার উচ্চ বিশুদ্ধতা, স্থায়িত্ব এবং সঠিক রূপে মাপা যায় এমন আণবিক ভর থাকে।
- এটি ব্যবহার করে দ্রবণের সঠিক মান নির্ধারণ করা যায়।

বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- উচ্চ বিশুদ্ধতা
- আর্দ্রতা শোষণ কম
- রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল
- সঠিক মোলার ভর জানা
- উদাহরণ: Na2CO3, K2Cr2O7, AgNO3

•HNO₃ একটি তরল ও অস্থির অ্যাসিড, যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে, তাই এটি প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড নয়।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই

৪,৫৩১.
বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তর করে?
  1. আলোক
  2. যান্ত্রিক
  3. তাপ 
  4. শব্দ
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৩২.
১ ক্যালরি তাপের মান প্রায় কত জুল?
  1. ২.১ জুল
  2. ৩.২ জুল
  3. ৪.২ জুল
  4. ৫.২ জুল
সঠিক উত্তর:
৪.২ জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪.২ জুল
ব্যাখ্যা

• ১ ক্যালরি তাপের মান প্রায় ৪.২ জুল।

• তাপ ও তাপমাত্রা (Heat and Temperature):

• তাপ (Heat):
- তাপ এক প্রকার শক্তি।
- তাপের আদান–প্রদানের ফলে বস্তুর তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
- তাপ সর্বদা উচ্চ তাপমাত্রার বস্তু থেকে নিম্ন তাপমাত্রার বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়।
- তাপের একক ক্যালরি (calorie) এবং জুল (joule)।
- ১ ক্যালরি ≈ ৪.২ জুল।
 
• তাপমাত্রা (Temperature):
- তাপমাত্রা দ্বারা কোনো বস্তুর গরম বা ঠান্ডা হওয়ার মাত্রা বোঝায়।
- তাপমাত্রা কোনো শক্তি নয়; এটি বস্তুর তাপীয় অবস্থার পরিমাপক।
- তাপমাত্রা পরিমাপের একক হলো—
- ডিগ্রি সেলসিয়াস (°C),
- কেলভিন (K)।
 
• তাপ ও তাপমাত্রার পার্থক্য:
- তাপ হলো শক্তি, কিন্তু তাপমাত্রা শক্তি নয়।
- তাপের প্রবাহ ঘটে, কিন্তু তাপমাত্রা প্রবাহিত হয় না।
- তাপ বস্তুর ভরের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু তাপমাত্রা ভরের উপর নির্ভরশীল নয়।

 উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৪,৫৩৩.
গিনি-পালক পরীক্ষার জন্য কোন বিজ্ঞানী পরিচিত?
  1. টাইকো ব্রে
  2. কেপলার
  3. নিউটন
  4. গ্যালিলিও
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

• গিনি-পালক পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পরিচিত। এই পরীক্ষায় তিনি দেখান যে বায়ুর বাধা না থাকলে ভারী ও হালকা বস্তু একই হারে নিচে পড়ে। তৎকালীন ধারণা ছিল ভারী বস্তু দ্রুত পড়ে, কিন্তু গ্যালিলিও এই ভুল ধারণার বিরোধিতা করেন। তিনি পালক ও ভারী বস্তু একসঙ্গে ফেলেন এবং প্রমাণ করেন যে পতনের গতি ভরের ওপর নির্ভর করে না, বরং মাধ্যাকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল। এই পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

গিনি-পালক পরীক্ষা (Guinea–Feather Experiment):
- গিনি-পালক পরীক্ষা মূলত বস্তু পতনের সাথে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা।
- এই পরীক্ষায় একটি ভারী বস্তু (গিনি) এবং একটি হালকা বস্তু (পালক) একসাথে ফেলা হয়।
- সাধারণভাবে মনে করা হতো, ভারী বস্তু হালকা বস্তুর তুলনায় দ্রুত নিচে পড়ে।
- এই ভুল ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়।
- পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা হয় যে বায়ুর প্রতিরোধ না থাকলে ভারী ও হালকা বস্তু একই সময়ে ভূমিতে পৌঁছায়।
- অর্থাৎ, বস্তুর ভর নয়, বরং বায়ুর বাধাই পতনের গতিতে পার্থক্য সৃষ্টি করে।
- এই ধারণা অ্যারিস্টটলের তত্ত্বের বিরোধিতা করে নতুন বৈজ্ঞানিক চিন্তার সূচনা করে।

পরীক্ষার সাথে সম্পর্কিত বিজ্ঞানী:
- গিনি-পালক পরীক্ষা পরিচালনা ও ব্যাখ্যার জন্য বিখ্যাত বিজ্ঞানী হলেন গ্যালিলিও গ্যালিলেই।
- তিনি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর গবেষণা গতি, মাধ্যাকর্ষণ এবং পরীক্ষাভিত্তিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে।
- সুতরাং, গিনি-পালক পরীক্ষার জন্য পরিচিত বিজ্ঞানী হলেন গ্যালিলিও।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

৪,৫৩৪.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু কোনটি?
  1. টাংস্টেন
  2. হীরা
  3. তামা
  4. লোহা
সঠিক উত্তর:
টাংস্টেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাংস্টেন
ব্যাখ্যা
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক। (হীরক ধাতু নয়। এটি কার্বনের একটি রূপভেদ)
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু - টাংস্টেন।
- সবচেয়ে ভারি ধাতু - রন্টজেনিয়াম (Roentgenium)। আনবিক ভর - ২৭২.০।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম (Uranium)। আনবিক ভর - ২৩৮.০৩।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম (Platinum)। এর আনবিক ভর - ১৯৫.০৭৮
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম (Lithium)। এর আনবিক ভর - ৬.৯৪

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
৪,৫৩৫.
Which metal is commonly used for making electric bulb filaments?
  1. Silver
  2. Gold
  3. Tungsten
  4. Aluminum
  5. Copper
সঠিক উত্তর:
Tungsten
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tungsten
ব্যাখ্যা
• বৈদ্যুতিক বাল্ব:
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট টাংস্টেন ধাতু দিয়ে তৈরি। 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ভেতরে দুই প্রান্তর সাথে সরু টাংস্টেনের তারের তৈরি কুণ্ডলী সংযুক্ত থাকে, একে ফিলামেন্ট বলে।
- এ বাল্বকে বিদ্যুৎ উৎসের সাথে সংযোগ করলে প্রচুর তাপ উৎপাদন করে এবং বাল্বের এই ফিলামেন্ট প্রজ্বলিত হয়ে আলো বিকিরণ করে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪,৫৩৬.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে শব্দ শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. জেনারেটর
  2. উইন্ডমিল
  3. মাইক্রোফোন
  4. লাউড স্পিকার
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোফোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোফোন
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা-  বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৩৭.
ভেজা কাপড় বর্ষাকালের তুলনায় শীতকালে তাড়াতাড়ি শুকায় কেন?
  1. ক) শীতকালে আকাশে মেঘ থাকেনা বলে।
  2. খ) শীতকালে বর্ষাকালের চেয়ে বেশি রোদ থাকে।
  3. গ) শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে।
  4. ঘ) শীতকালে বায়ুপ্রবাহ বেশি থাকে।
সঠিক উত্তর:
গ) শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে।
ব্যাখ্যা

ভেজা কাপড় শুকানাে অর্থ কাপড়ের জলকণা বাষ্পায়নের মাধ্যমে উবে যাওয়া।
বর্ষাকালে বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে। ফলে বাষ্পায়নের হার কমে যায়।
অন্য দিকে শীতকালে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে অর্থাৎ বাতাস শুকনাে থাকে ফলে জলকণার দ্রুত বাষ্পায়ন হয় এবং ভেজা কাপড় দ্রুত শুকায়।
সূত্রঃ পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রােগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪,৫৩৮.
একটি ওজোন অণুতে কয়টি অক্সিজেন পরমাণু বিদ্যমান?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

একটি অক্সিজেন অণুতে থাকে ২টি অক্সিজেন পরমাণু।
আর একটি ওজোন অণুতে থাকে ৩টি অক্সিজেন পরমাণু।
ওজোন হলো অক্সিজেন এর একটি রূপভেদ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪,৫৩৯.
কোন তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেল সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে?
  1. 0 ডিগ্রী
  2. 4 ডিগ্রী
  3. 40 ডিগ্রী
  4. - 40 ডিগ্রী
সঠিক উত্তর:
- 40 ডিগ্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
- 40 ডিগ্রী
ব্যাখ্যা

- সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো-
• C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা]।
এখন,
সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে,
x/5 = (x - 32)/9
⇒ 9x = 5x - 160
⇒ 9x - 5x = - 160
⇒ 4x = - 160
⇒ x = - 40 
অতএব, - 40 ডিগ্রী তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলে সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৫৪০.
গ্রেইনিং বলতে বুঝায় -
  1. ক) ফুটন্ত সাবানে লবণের পানি ঢালা
  2. খ) সাবানকে ছাঁচে ফেলে আকৃতি দেয়া
  3. গ) সাবানকে ব্যাবহারের উপযোগী করা
  4. ঘ) সাবানে রঞ্জক ও সুগন্ধি মেশানো
সঠিক উত্তর:
ক) ফুটন্ত সাবানে লবণের পানি ঢালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফুটন্ত সাবানে লবণের পানি ঢালা
ব্যাখ্যা

সাবান তৈরির বেশ কয়েকটি পদ্ধতি আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে কেটলি পদ্ধতি।

কেটলি পদ্ধতি:
এই পদ্ধতিতে সাবান তৈরির জন্য প্রায় ১৫০ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বিশাল আকৃতির লোহার কেটলি ব্যবহার করা হয়। প্রথমত নির্দিষ্ট পরিমাণের চর্বি কেটলিতে তাপের সাহায্যে গলানো হয়। তারপর এই উত্তপ্ত চর্বিতে অল্প অল্প কস্টিক সোডার দ্রবণ যোগ করতে হয়। এইভাবে সাবানায়ন প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং ৩/৪ ঘণ্টা পরে মাখনের মত মসৃণ সাবানের লাই বা পেস্ট তৈরি হয়। সাবানের এই লাইয়ের সাথে মিশ্রিত থাকে গ্লিসারিন এবং অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্যাদি ।

মিশ্রিত দ্রব্যাদি থেকে সাবানকে পৃথক করার জন্য এই ফুটন্ত সাবানে আস্তে আস্তে লবণের দ্রবণ মিশাতে হয়। এতে সাবানের লাই আলাদা হয়ে যায়। লবণ মিশ্রিত পানির দ্বারা সাবানের লাই আলাদা করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় গ্রেইনিং

সাবানের লাই আলাদা হতে থাকলে তাপ প্রয়োগ বন্ধ রাখা হয় এবং থিতান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেটলির তলায় গ্লিসারিন লবণের দ্রবণ এবং লাই জমা হয় ও কেটলি হতে বের করা হয়। কেটলিতে অবস্থিত সাবানকে বিশুদ্ধ করার জন্য সাবানকে আবার তাপ দিয়ে ফুটানো হয় এবং আস্তে আস্তে পানি যোগ করতে হয়। এই পানি সাবানে লেগে থাকা লবণ ও গ্লিসারিন দ্রবীভূত করে।

এভাবে কয়েকবার স্ফুটন ও ধৌত করণের পর কেটলিতে সাবানের তিনটি স্তর আলাদা হয়ে যায়। উপরের স্তরে পরিষ্কার সাবান, মধ্য ভাগে তীব্র ক্ষারীয় সাবান এবং সর্ব নিচে থাকে সাবান লাই এবং অন্যান্য দ্রব্যের মিশ্রণ। উপরের সাবানকে পাম্প করে আলাদা করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৪১.
পরিবাহিতার একক কোনটি? 
  1. সিমেন্স 
  2. ভোল্ট 
  3. ও’ম 
  4. কুলম্ব 
সঠিক উত্তর:
সিমেন্স 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিমেন্স 
ব্যাখ্যা

পরিবাহিতা (Conductance): 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়েপরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে,
I ∝ V
বা, I = GV; এখানে G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। 
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে। 
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens), একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশি। আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশি। 
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা। 
- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে। 
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়। 
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়। 
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি, অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম। 

অন্যদিকে, 
- ও’ম → এটি রোধের (Resistance) একক। 
- ভোল্ট → এটি ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য এর একক। 
- কুলম্ব → এটি আধানের (Charge) একক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৪২.
নিচের কোন হ্যালোজেন এসিডটি বেশি শক্তিশালী?
  1. HI
  2. HBr
  3. HF
  4. HCl
সঠিক উত্তর:
HI
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HI
ব্যাখ্যা
• হ্যালোজেন এসিড:
- হ্যালোজেন গ্রুপের এসিডগুলোর শক্তি তাদের H—X বন্ধনের (Bond Strength) দুর্বলতা এবং হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) মুক্ত করার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।
- এসিডের শক্তি: HI > HBr > HCl > HF।
- HI হ্যালোজেন এসিডটি বেশি শক্তিশালী।
- হাইড্রোজেন এবং আয়োডিন পরমাণুর মধ্যে বন্ধন দীর্ঘ এবং দুর্বল, তাই এটি সহজেই H⁺ আয়ন মুক্ত করে।
- আয়োডিনের বড় পরমাণু ব্যাসার্ধ (Atomic Radius) থাকার কারণে এটি H⁺ আয়নকে সহজে আলাদা করতে পারে, যা এসিডের শক্তি বাড়ায়।
- হ্যালোজেন গ্রুপের নিচের দিকে নামার সাথে সাথে এসিডের শক্তি বাড়ে। কারণ বন্ধনের শক্তি দুর্বল হয় এবং H⁺ আয়ন সহজে মুক্ত হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,৫৪৩.
তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়া কয়টি?
  1. দুটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন: 
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে। তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে। 
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়। 
যথা - 
১। পরিবহন, 
২। পরিচলন ও 
৩। বিকিরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৪৪.
শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব কোনটি?
  1. ক) আলসার
  2. খ) শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া
  3. গ) নিদ্রাহীনতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

শব্দ দূষণ : অতি উচ্চ শব্দ আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, মেজাজ খারাপ করে ফেলে এধরণের অতি শব্দ দ্বারা পরিবেশ নষ্ট হয়। এ অবস্থাকে বলা হয় শব্দ দূষণ।
উচ্চ শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ স্নায়ুর স্বাভাবিক সংযোগ ব্যহত করে, কাজে মনোযোগ কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে, কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়, পরিপাক ক্রিয়া ব্যহত করে।
পাকস্থলী ও পরিপাক তন্ত্রের পীড়া বা ব্যাধি সৃষ্টি করে। আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয়।
সারাক্ষণ কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে উচ্চ স্বরে গান শুনলে পেটের পীড়া ও কানের অসুখ দেখা দেয়, বিশেষ করে শ্রবণ শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। ফলে অল্প বয়সেই বধিরতা আসতে পারে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪,৫৪৫.
পান করা পানির সাথে ক্লোরিন মিশানো হয় -
  1. ক) পানির পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির জন্য।
  2. খ) পানিকে সুস্বাদু করার জন্য,
  3. গ) পানিতে মিশ্রিত অদ্রবণীয় কণাসমূহকে দ্রবীভূত করার জন্য।
  4. ঘ) ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করার জন্য।
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করার জন্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করার জন্য।
ব্যাখ্যা
পান করা পানির সাথে ক্লোরিন মিশানো হয় ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করার জন্য।

- পানিতে ব্লিচিং পাউডার যোগ করলে উৎপন্ন ক্লোরিন বিভিন্ন জীবাণুকে জারিত করে মেরে ফেলে।
- পানিতে জীবাণু থাকলে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে তা মেরে ফেলতে হবে, এ ক্ষেত্রে জীবাণুনাশক হিসেবে ক্লোরিন গ্যাস ও ব্লিচিং পাউডার অন্যতম।
- এ ছাড়া কিছু পদার্থ আছে, যেগুলো পানির জীবাণু মারার কাজে ব্যবহার করা হয়।

- বন্যার সময় বিশুদ্ধ পানির খুবই অভাব থাকে। আর বাড়ির চারপাশের পানিতে নানা ধরনের জীবাণু থাকে। ওই অবস্থায় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য ট্যাবলেট বা কিট দেওয়া হয়্এ‌ তে থাকে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড। এর মধ্যে থাকা ক্লোরিন পানিতে থাকা জীবাণুগুলো জারিত করে মেরে ফেলে। বোতলজাত পানির কারখানায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: Centers of Disease Control and Prevention Website [লিঙ্ক]  
৪,৫৪৬.
নিচের কোন পদার্থের ব্যাপনহার সর্বোচ্চ?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. অক্সিজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. নাইটোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেনের(H2) ব্যাপনহার সর্বোচ্চ।

• ব্যাপন:

- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম।
- H2. He, N2, O2 এবং CO₂ গ্যাসগুলোর আণবিক ভর যথাক্রমে 2, 4, 28, 32 এবং 44।
- এই গ্যাসগুলোর মধ্যে H₂ এর আণবিক ভর কম, তাই H₂ এর ব্যাপন হার বেশি হবে।
এবং CO₂ এর আণবিক ভর বেশি, কাজেই CO₂ এর ব্যাপন হার কম হবে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৪৭.
রান্নার সিলিন্ডারে সাধারণত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. মিথেন
  2. বিউটেন
  3. হেক্সেন
  4. অকটেন
সঠিক উত্তর:
বিউটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিউটেন
ব্যাখ্যা
• রান্নার সিলিন্ডারে প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়।

• LPG:

- রান্নার চুলার সিলিন্ডারে যে গ্যাস ব্যবহৃত হয়, তাকে বলা হয় এলপিজি (LPG – Liquefied Petroleum Gas)।

• এলপিজি মূলত দুটি গ্যাসের মিশ্রণ:
- ৩০% প্রোপেন, 
- ৭০% বিউটেন। 

বিউটেন হলো একটি হাইড্রোকার্বন, যার রাসায়নিক সংকেত C4H10
- এটি একটি স্যাচুরেটেড অ্যালকেন গ্যাস, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় গ্যাস কিন্তু চাপ প্রয়োগ করলে সহজেই তরলে রূপান্তরিত হয়।

• বিউটেন ব্যবহারের কারণ- 

- এটি তরল অবস্থায় সহজে সংরক্ষণযোগ্য, 
- দ্রুত জ্বলে, 
- প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে, 
- কম বিষাক্ত। 

তথ্যসূত্র:
- Bangladesh Petroleum Corporation (BPC). 
- ব্রিটানিকা। 
৪,৫৪৮.
মৌমাছির হুলে কোনটি থাকে?
  1. ফরমিক অ্যাসিড
  2. মেলিটিন
  3. অ্যাপামিন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- মৌমাছির হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড়ের জ্বালা কমানোর জন্য আমরা যে ক্যালামিন লোশন ব্যবহার করি তা হলো জিংক কার্বোনেট।
- অনেকে বেকিং সোডাও ব্যবহার করে থাকেন।
- পিঁপড়ার কামড়ে মূলত ফরমিক অ্যাসিড থাকে।
- মৌমাছির হুলে ফরমিক অ্যাসিড, মেলিটিন, ও অ্যাপামিন নামক অ্যাসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়।
- যেকারনে  ঐ স্থান জ্বালা-পোড়া করে ও ফুলে যায়।
- এই অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করতে বিভিন্ন ক্ষারীয় বস্তু ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- মাটির অ্যাসিডিটি বাড়লে এর উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়।
- তাই মাটির উর্বরতাশক্তি ফেরাতে চুন (CaO), চুনা পাথর জাতীয় ক্ষারক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
- মিল্ক অফ লাইম নামক ক্ষারীয় বস্তু পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়।

উৎস; সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৪৯.
ফোটনের বেগ কত?
  1. 0 m/s
  2. 3×106 m/s
  3. 3×108 m/s
  4. 3×1010 m/s
সঠিক উত্তর:
3×108 m/s
উত্তর
সঠিক উত্তর:
3×108 m/s
ব্যাখ্যা

ফোটন: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 
 
ফোটন কণার ধর্মসমূহ:   
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C= 3×108 ms-1) চলাচল করে, কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। 
- ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৫০.
এসির রিমোট কন্ট্রোল থেকে কোন আলো বের হয়?
  1. ক) রেডিও ওয়েভ
  2. খ) মাইক্রোওয়েভ
  3. গ) ইনফ্রারেড আলো
  4. ঘ) আল্ট্রা ভায়োলেট আলো
সঠিক উত্তর:
গ) ইনফ্রারেড আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইনফ্রারেড আলো
ব্যাখ্যা
ইনফ্রারেড আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না।
- টেলিভিশন বা এসির রিমোট কন্ট্রোল করার ইউনিট থেকে ইনফ্রারেড আলো বের হয় বলে আমরা সেখান থেকে আলো বের হতে দেখি না।
- মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তোলার জন্য সিসিডি নামক যে সংবেদনশীল আইসি ব্যবহার করা হয় সেগুলোর সাহায্যে দৃশ্যমান আলোর সাথে সাথে খানিকটা ইনফ্রারেড আলোও দেখা যায়।

ইনফ্রারেড
- এটি এক ধরনের ওয়েভ যার ফ্রিকুয়েন্সী সীমা 300GHz থেকে 400THz হয়ে থাকে।
- খুব কাছাকাছি অবস্থিত দুইটিডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইনফ্রারেড ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের যোগাযোগে দুই প্রান্তে ট্রান্সমিটার ওরিসিভার থাকে।
- টেলিভিশন, ভিসিআর এ ব্যবহৃত রিমোট কন্ট্রোলে, বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- কী-বোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ইত্যাদির ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণীর পদার্থজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪,৫৫১.
আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) এখন পর্যন্ত কয়টি মৌল স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. 120
  2. 118
  3. 108
  4. 112
সঠিক উত্তর:
118
উত্তর
সঠিক উত্তর:
118
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) 118 টি মৌল শনাক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC):
 - আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (International Union of Pure and Applied Chemistry বা সংক্ষেপে IUPAC) এখন পর্যন্ত 118টি মৌলিক পদার্থকে শনাক্ত করেছে।
 - IUPAC সংস্থাটি আন্তর্জাতিকভাবে রসায়ন ও ফলিত রসায়নের বিভিন্ন নিয়মকানুন দেখাশোনা করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন কোন নিয়ম গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি বর্জনযোগ্য।
 - 118টি মৌলের মধ্যে বেশির ভাগ মৌলই প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং বাকি কিছু মৌল ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে।
 - ল্যাভয়সিয়ে মাত্র 33টি মৌল নিয়ে ছক তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন।
 - মেন্ডেলিফ 63টি আবিষ্কৃত মৌল এবং 4টি অনাবিষ্কৃত মৌল নিয়ে পর্যায় সারণি নামে যে ছকটি তৈরি করেছিলেন, তা বর্তমানে 118টি মৌলের আধুনিক পর্যায় সারণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৪,৫৫২.
নিচের কোনটি যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়।
  2. খ) স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে।
  3. গ) কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়।
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য:

- তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়।
- মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়।
- মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না।
- তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে।
- স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে
- তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়।
- কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৫৩.
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N ও ৫ N হলে তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত?
  1. ১ N
  2. ৩০ N
  3. √১১ N
  4. √৬১ N
সঠিক উত্তর:
√৬১ N
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√৬১ N
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N ও ৫ N হলে তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N এবং ৫ N 
∴ তাদের লব্ধি পরিমাণ = √(৬ + ৫)
= √(৩৬ + ২৫)
= √৬১ N  ।

৪,৫৫৪.
"পরমাণু অবিভাজ্য, তাদের সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই" - মতবাদটি কে দিয়েছিলেন?
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) রাদারফোর্ড
  3. গ) মেন্ডেলিফ
  4. ঘ) বোর
সঠিক উত্তর:
ক) জন ডাল্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জন ডাল্টন
ব্যাখ্যা
ডাল্টনের পরমাণুবাদ:
১৮০৩ সালে ইংরেজ পদার্থ ও রসায়ন বিজ্ঞানী জন ডাল্টন পরমাণু সম্পর্কে একটি তত্ত্ব প্রকাশ করেন যা ডাল্টনের পরমাণুবাদ নামে পরিচিত। তার প্রদত্ত পরমাণুবাদে মোট পাঁচটি স্বীকার্য আছে । এই স্বীকার্য পাঁচটি হলো–

১. পদার্থ অতি ক্ষুদ্র কণাসমূহ দ্বারা গঠিত, এই কণাগুলোর নাম পরমাণু।
২. একই পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য একই রকম হয়, ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ভিন্নরকমের হয়।
৩. পরমাণুসমূহ অবিভাজ্য, তাদের সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই।
৪. সরল পূর্ণসংখ্যক অনুপাতে বিভিন্ন পদর্থের পরমাণু সংযুক্ত হয়ে রাসায়নিক যৌগের সৃষ্টি করে।
৫. রাসায়নিক বিক্রয়াসমূহে পরমাণু সংযোজিত, বিভক্ত বা পুনর্বিন্যাসিত হয়।
৪,৫৫৫.
নিচের কোন দ্রবণের pH এর মান ৭ এর কম?
  1. পানি
  2. ভিনেগার
  3. কস্টিক সোডা
  4. চুনের পানি
সঠিক উত্তর:
ভিনেগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিনেগার
ব্যাখ্যা

- অম্লীয় দ্রবণের pH এর মান ৭ এর কম। ভিনেগার হলো এসিটিক এসিডের ৫% জলীয় দ্রবণ। তাই ভিনেগারের pH এর মান ৭ এর কম।
- নিরপেক্ষ দ্রবণের pH এর মান হলো ৭। পানি একটি নিরপেক্ষ দ্রবণ।
- ক্ষারীয় দ্রবণের pH এর মান ৭ এর বেশি৷ কস্টিক সোডা এবং চুনের পানি হলো ক্ষারীয় দ্রবণ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪,৫৫৬.
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিধ্বনির মধ্যে সময় ব্যবধান ন্যূনতম কত হতে হবে? 
  1. ০.১ সেকেন্ড 
  2. ০.৫ সেকেন্ড 
  3. ১.০ সেকেন্ড 
  4. ১.১ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড 
ব্যাখ্যা

শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- ০°C বা ২৭৩K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি ৩৩২ms-1
- ০°C বা ২৭৩ K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব ০.৩ m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m (০°C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৫৭.
সার কারখানায় ব্যবহৃত হয় না কোন এসিড?
  1. ক) সালফিউরিক এসিড
  2. খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. গ) নাইট্রিক এসিড
  4. ঘ) ফসফরিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

সার কারখানায় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক অ্যাসিড (H3PO4) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলাে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) এর মত শক্তিশালী অ্যাসিড।
বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলাে সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৫৮.
ডেটলের মূল উপাদান কোনটি?
  1. ক্লোরাল
  2. ক্লোরোবেনজিন
  3. ক্লোরোজাইলিনল
  4. বেনজিনহেক্সাক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোজাইলিনল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোজাইলিনল
ব্যাখ্যা
ডেটল (Dettol): 
- 'Dettol' হলো জীবাণুনাশক ও পচনরোধক; স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রক্ষাকারী একটি বাণিজ্যিক প্রোডাক্ট। 
- বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান Reckitt Benckister 'অ্যান্টিসেপটিক ক্লিনিং প্রোডাক্ট' রূপে- এ 'Dettol' প্রথম বাজারজাত করে। 
- ডেটলের রাসায়নিক সক্রিয় উপাদানটি হলো 4-ক্লোরো-3, 5- ডাইমিথাইল ফেনল। 
- ডেটলের অপর নাম ক্লোরোজাইলিনল (Chloro-xylenol) যা ডেটলের মূল উপাদান, এটি একটি জীবাণুনাশক। 
- এছাড়া আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল, পাইন অয়েল, কাস্টর-অয়েল সোপ, সুগন্ধ বস্তু ও পানি ডেটলে থাকে।

ডেটল-মিশ্রণের সংযুক্তি: 
(১) ক্লোরোজাইলিনল (C8H9CIO) বা 4-ক্লোরো-3,5-ডাইমিথাইল ফেনল 4.8% (w/v), 
(২) আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল 13.1% (v/v), 
(৩) পাইন তেল বা টারপিনিওল (9.9% v/v, 
(৪) অবশিষ্ট সাবান পানি ও সুগন্ধ মিলে 72.2% v/v. 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. হাজারী ও নাগ)।
৪,৫৫৯.
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিধ্বনির মধ্যে সময় ব্যবধান ন্যূনতম কত হতে হবে? 
  1. ০.৩ সেকেন্ড
  2. ০.১ সেকেন্ড
  3. ১.১ সেকেন্ড
  4. ১.০ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

• শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- ০°C বা ২৭৩K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি ৩৩২ms-1
- ০°C বা ২৭৩ K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব ০.৩ m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m (০°C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৬০.
কোন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না?
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন গ্যাসটি নিজে জ্বলে অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না
- অক্সিজেন গ্যাসটি নিজে জ্বলে না কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসটি নিজে জ্বলে না, অন্যকে জ্বলতেও সাহায্য করে না। 

উৎস: ব্রিটানিক। 
৪,৫৬১.
গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি > গতি শক্তি
  2. খ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি < গতি শক্তি
  3. গ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি = গতি শক্তি
  4. ঘ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি ≅ গতি শক্তি
সঠিক উত্তর:
খ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি < গতি শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি < গতি শক্তি
ব্যাখ্যা
• আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি ও গতি শক্তি-এ দু প্রকারের শক্তির উপর পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্ভর করে।  এ দুটি শক্তি পরস্পর বিপরীতমুখী। তাপমাত্রা বাড়ালে গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি হ্রাস পায়।

• কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে: আন্তঃআণবিক শক্তি > গতি শক্তি। 
• তরল পদার্থের ক্ষেত্রে: আন্তঃআণবিক শক্তি ≅ গতি শক্তি।
• গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে: আন্তঃআণবিক শক্তি < গতি শক্তি। 

আন্ত:কণা আকর্ষণ শক্তি:
পরমাণু সামগ্রিকভাবে তড়িৎ নিরপেক্ষ হলেও এতে কতকগুলো চার্জ বাহী মৌলিক কণা যেমন- ইলেকট্রন ও প্রোটন থাকে। এ দুটি কণা পরস্পর বিপরীত চার্জ বহন করে। এ কারনে পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণাগুলোর অবস্থান, আবেশ ও বিন্যাসের উপর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট অণুর দুপ্রান্তে ধনাত্নক ও ঋণাত্নক আধান বা চার্জের উদ্ভব ঘটে। ফলে কখনো ডাইপোল-ডালপোল জাতীয় শক্তিশালী আকর্ষণ এবং কখনো ভ্যান ডার ওয়ালস জাতীয় দুর্বল আকর্ষণ বলের সৃষ্টি হয়। এ ধরনের অন্তর্নিহিত বলকে পদার্থের আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি বা আন্তআণবিক বল বলা হয়। সাধারণভাবে ক্ষুদ্রতম কণাগুলোর দূরত্ব ও বিন্যাসের উপর এই বলের মান নির্ভর করে। এ বলের কারনে বস্তুর ক্ষুদ্রতম কণাগুলো পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে। এ বলের মান যথেষ্ট বেশি হলে বস্তুর ভৌত অবস্থা কঠিন হয়, অপেক্ষাকৃত কম হলে ভৌত অবস্থা তরল এবং যথেষ্ট কম হলে বস্তুর ভৌত অবস্থা গ্যাসীয় হয় ।

গতিশক্তি:
পরমশূন্য তাপমাত্রা ব্যতীত যে কোন তাপমাত্রায় সকল পদার্থের অণুসমূহে তিন ধরণের গতি বিরাজ করে। যথা:
(১) চলমান গতি (translational motion),
(২) ঘূর্ণায়মান গতি (rotational motion) এবং
(৩) কম্পন গতি (vibrational motion).

অণুসমূহ এ সকল গতিবেগের কারনে যে শক্তি লাভ করে তাকে গতিশক্তি বলে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গতি শক্তির মান বেড়ে যায়। উল্লেখ্য যে শূন্য কেলভিন তাপমাত্রায় পদার্থের অণুগুলোর গতি শক্তির মান শূন্য হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৬২.
সময়ের ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে বস্তুর সরণের হারকে কী বলা হয়?
  1. গড় বেগ
  2. সুষম বেগ
  3. অসম বেগ
  4. তাৎক্ষণিক বেগ
সঠিক উত্তর:
তাৎক্ষণিক বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাৎক্ষণিক বেগ
ব্যাখ্যা
বেগ (Velocity): 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

গড় বেগ (Average Velocily): 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ (Instantaneous Velocity): 
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে।

মধ্যবেগ (Mean Velocity): 
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

সুষমবেগ (Uniform velocity): 
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সুষমবেগ বলে। 
- অর্থাৎ কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সুষমবেগ বলে। 
যেমন: শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

অসম বেগ (Non-uniform Velocity): 
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসম বেগ বলে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৬৩.
আধুনিক পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি কী? 
  1. পরমাণু ভর 
  2. পরমাণু সংখ্যা 
  3. নিউট্রনের সংখ্যা 
  4. ইলেকট্রনের ভর 
সঠিক উত্তর:
পরমাণু সংখ্যা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণু সংখ্যা 
ব্যাখ্যা

আধুনিক সারণিতে পদার্থগুলোকে তাদের পরমাণু সংখ্যার (Atomic Number, Z) ক্রমে সাজানো হয়।
- আধুনিক পর্যায় সারণি (Periodic Table) ডেমিত্রি মেন্ডেলিভের সারণির উন্নত রূপ।
- এর ফলে একই গ্রুপে থাকা উপাদানগুলোর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য একই ধরনের হয়।
- সমান পর্যায়ে থাকা উপাদানগুলোর পরমাণুর আকার ও বৈশিষ্ট্য ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হয়।

অতীতে মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে পরমাণু ভরের ভিত্তিতে সাজানো হতো, কিন্তু এতে কিছু অমিল দেখা গিয়েছিল। আধুনিক সারণিতে পরমাণু সংখ্যা ব্যবহৃত হওয়ায় সব অমিল দূর হয়েছে।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]

৪,৫৬৪.
আলোক রশ্মি যখন অভিলম্ব বরাবর আপতিত হয়, তখন কী ঘটে?
  1. প্রতিসরণ কোণ শূন্য হয়
  2. প্রতিসরণ কোণ সর্বোচ্চ হয়
  3. আলোক রশ্মি ঘূর্ণিত হয়
  4. আলোক রশ্মি প্রতিফলিত হয়
সঠিক উত্তর:
প্রতিসরণ কোণ শূন্য হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিসরণ কোণ শূন্য হয়
ব্যাখ্যা

- আলোক রশ্মি যখন বিভেদ তলের ওপর অভিলম্ব বরাবর (লম্বভাবে) আপতিত হয়, তখন আপতন কোণের মান হয় 0° । স্নেলের সূত্রানুসারে, আপতন কোণ শূন্য হলে প্রতিসরণ কোণও শূন্য (0°) হয়। এই বিশেষ ক্ষেত্রে আলোক রশ্মি তার গতির অভিমুখ পরিবর্তন না করে সোজা দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশ করে। 

আলোর প্রতিসরণ: 
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি তার গতিপথের দিক পরিবর্তন করে, আলোক রশ্মির এই দিক পরিবর্তনকে আলোর প্রতিসরণ বলে। একটি নির্দিষ্ট স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সরল রেখায় চলে, কিন্তু অন্য মাধ্যমে প্রবেশের সাথে সাথেই এটি মাধ্যমের অলোকীয় বৈশিষ্ট্য অনুসারে দিক পরিবর্তন করে। 
উল্লেখ্য যে, লম্বভাবে আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় এর গতিপথের কোনো দিক পরিবর্তন হয় না। 

আলোর প্রতিসরণের নিয়ম: 
- আলোক রশ্মি যখন হালকা মাধ্যমে থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্বের দিকে সরে আসে। এই ক্ষেত্রে আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণ আপেক্ষা বড় হয়। 
- আলোকরশ্মি প্রথমে একটি মাধ্যম থেকে (যেমন বায়ু) অন্য মাধ্যমে (কাঁচ) প্রতিসরিত হওয়ার পর পুনরায় একই মাধ্যমে (বায়ু) নির্গত হলে আপতন কোণ ও নির্গমন কোণ সমান হয়। 
- আপতিত রশ্মি, প্রতিসরিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে। এছাড়াও আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। এই ক্ষেত্রে আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণ অপেক্ষা ছোট হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন অভিলম্ব বরাবর আপতিত হয় তখন আপতন কোণ, প্রতিসরণ কোণ ও নির্গত কোণের মান শূন্য হয়। এক্ষেত্রে আপতিত রশ্মির দিক পরিবর্তন হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৪,৫৬৫.
তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে নির্ণয় করা হয়-
  1. তড়িৎ তীব্রতা
  2. রোধের পরিমাণ
  3. বিভব পার্থক্য
  4. আধানের অস্তিত্ব
সঠিক উত্তর:
আধানের অস্তিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধানের অস্তিত্ব
ব্যাখ্যা
- কোনো বস্তুতে উপস্থিত আধানের অস্তিত্ব নির্ণয় করা হয় তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে।
- অ্যামিটার ব্যবহৃত হয় তড়িৎপ্রবাহ পরিমাপের জন্য।
- বিভব পার্থক্য নির্ণয় করা হয় ভোল্টমিটারের সাহায্যে।
- আর নিকটবর্তী ক্ষুদ্র বস্তুকে বড় করে দেখার যন্ত্র হলো অণূবীক্ষণ যন্ত্র।

সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৬৬.
বোসন কী ধরনের কণা?
  1. মৌলিক কণা
  2. জটিল কণা
  3. দুর্বল কণা
  4. যৌগিক কণা
সঠিক উত্তর:
মৌলিক কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক কণা
ব্যাখ্যা
কণা: 
- কণাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- মৌলিক কণা এবং যৌগিক কণা। 
- মৌলিক কণা হলো এমন কণা যার ভিতরে আর কোনও কণা নেই। 
- যৌগিক কণা হলো এমন কণা যা দুটি বা ততোধিক মৌলিক কণার সমন্বয়ে গঠিত। 

বোসন: 
- বোসন হল মৌলিক কণা যেগুলো পূর্ণসংখ্যার মান (0, 1, 2, ইত্যাদি) স্পিন করে ।

- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
-  স্পিন হল কণার চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্যের একটি পরিমাপ। 
- স্পিন পূর্ণসংখ্যা থাকার কারণে, বোসনরা পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে না। 
- পাউলির বর্জন নীতি অনুসারে, একই শক্তিস্তরে একই কোয়ান্টাম সংখ্যা বিশিষ্ট দুটি কণা একই স্থান দখল করতে পারে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। 
যথা: 
১। গেজ বোসন ও 
২। হিগস বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৬৭.
আর্গনের ইলেকট্রন আসক্তির মান কত?
  1. ক) ০
  2. খ) ১
  3. গ) - ১
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
ক) ০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ০
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন আসক্তি :
He ব্যতীত নিষ্ক্রিয় প্রতিটি মৌলের যোজ্যতা স্তরে অষ্টক পূর্ণতা থাকায় এদের ইলেকট্রন আসক্তির মান শূন্য । ফলে, আর্গনের ইলেকট্রন আসক্তির মান শূন্য। 
- He এর যোজ্যতা স্তর ১ম শক্তিস্তরে s অরবিটাল ভিন্ন অন্যকোনো অরবিটাল না থাকায় এটিও ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ। এ কারণে He- এর ক্ষেত্রে ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা দেখা যায় না।
- He এর ইলেকট্রন আসক্তির মান 48 kJ. /mol' অর্থাৎ খুবই কম।

উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৫৬৮.
নিচের কোনটি পটাশিয়াম এর প্রতীক ?
  1. ক) Pb
  2. খ) Fe
  3. গ) K
  4. ঘ) Au
সঠিক উত্তর:
গ) K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) K
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম এর প্রতীক = Na
কপার এর প্রতীক = Cu
পটাশিয়াম এর প্রতীক = K
সিলভার এর প্রতীক =Ag
টিন  এর প্রতীক = Sn
এন্টিমনি এর প্রতীক = Sb
গোল্ড এর প্রতীক = Au
লেড  এর প্রতীক =Pb
টাংস্টেন এর প্রতীক = W
আয়রন এর প্রতীক =Fe
মারকারি এর প্রতীক = Hg

 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪,৫৬৯.
কোন কারণে আলোর প্রতিফলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়? 
  1. আলো খুব দুর্বল হলে
  2. প্রতিফলক তল খসখসে হলে
  3. প্রতিফলক তল মসৃণ হলে
  4. আলো লম্বাভাবে আপতিত হলে
সঠিক উত্তর:
প্রতিফলক তল মসৃণ হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিফলক তল মসৃণ হলে
ব্যাখ্যা
প্রতিফলন: 
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে, আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। 
- পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তা হলো- 
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতি এবং 
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণ। 

- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়, আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়। 
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয় এবং কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। 
- কাচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম, এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়। 
- রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়। 
- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- ১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং ২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৭০.
সৌরশক্তির ব্যবহার কি ধরনের শক্তির উৎসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে?
  1. বায়ুশক্তি
  2. জলবিদ্যুৎ শক্তি
  3. পারমাণবিক শক্তি
  4. জীবাশ্ম জ্বালানি
সঠিক উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানি
ব্যাখ্যা
সৌরশক্তি: 
- সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলে সৌরশক্তি। 
- সূর্য হচ্ছে সকল শক্তির উৎস। 
- পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার প্রায় সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকে আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে। 
- জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) প্রকৃত পক্ষে বহু দিনের সঞ্চিত সৌরশক্তি। 
- প্রাচীনকাল থেকে মানুষ সূর্য কিরণকে সরাসরি ব্যবহার করছে কোনো কিছু শুকানোর কাজে। 

- বর্তমানে সূর্যের শক্তিকে সবসময় ব্যবহারের জন্য মানুষ নানান রকম উপায় অবলম্বন করছে। 
- লেন্স বা দর্পণের সাহায্যে সূর্য রশ্মিকে অভিসারী করে আগুন জ্বালানো যায়। 
- সৌরচুল্লির সাহায্যে সূর্য কিরণকে প্রতিফলিত করে গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহার করা যায়। 
- শীত প্রধান দেশে ঘরবাড়ি গরম করার কাজে সৌরশক্তিকে ব্যবহার করা হয়। 
- সৌর শক্তি ব্যবহার করে হিটার ও কুকার ব্যবহার করা যায়। 
- আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে সৌরকোষ। 
- সৌরকোষের বৈশিষ্ট্য হলো এর উপর সূর্যের আলো পড়লে এ থেকে সরাসরি তড়িৎ পাওয়া যায়। সৌরকোষের নানা রকম ব্যবহার রয়েছে। 
- সৌরশক্তি পরিবেশ বান্ধব, এটির ব্যবহারে পরিবেশ দূষিত হয়না। 
- সৌরশক্তির শেষ হবার কোন সম্ভাবনা নেই, এ শক্তির তাই প্রচলিত শক্তির উৎস জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা খুব বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৭১.
এক ওয়াট-ঘণ্টা সমান কত জুল? 
  1. ৩৬ জুল
  2. ৩৬০ জুল
  3. ৩৬০০ জুল
  4. ৩৬০০০ জুল
সঠিক উত্তর:
৩৬০০ জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৬০০ জুল
ব্যাখ্যা
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ঘণ্টা 
= ১ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩৬০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩৬০০ জুল
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ৩৬০০ জুল

- অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট-ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট Χ ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল 
অর্থাৎ, শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 
- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়। 
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে। 
- আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি তা এই এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৭২.
মানবদেহের ভেতরের অঙ্গ দেখার জন্য ব্যবহৃত এন্ডোস্কোপে মূলত কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়?
  1. রেডিও তরঙ্গ
  2. এক্স-রে
  3. অপটিক্যাল ফাইবার
  4. আল্ট্রাসাউন্ড
সঠিক উত্তর:
অপটিক্যাল ফাইবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপটিক্যাল ফাইবার
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের ভেতরের অঙ্গ দেখার জন্য ব্যবহৃত এন্ডোস্কোপে অপটিক্যাল ফাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন নীতিতে কাজ করে, যার মাধ্যমে আলো এবং ছবি শরীরের অভ্যন্তর থেকে বাইরে পরিবাহিত হয়, কারণ এতে আলো এবং ক্যামেরাযুক্ত একটি নমনীয় টিউব ব্যবহৃত হয়। 

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু, এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে আলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- এই সংকেত অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে না। 

অন্যদিকে, 
- রেডিও তরঙ্গ (রেডিওলজি), এক্স-রে এবং আল্ট্রাসাউন্ড (আল্ট্রাসোনোগ্রাফি) ভিন্ন ভিন্ন ইমেজিং কৌশল, যা এন্ডোস্কোপির মূল নীতির অংশ নয়, যদিও আল্ট্রাসাউন্ড এন্ডোস্কোপির সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৪,৫৭৩.
কোনটি নবায়ন যোগ্য সম্পদ?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. বায়ু
  3. চুনাপাথর
  4. কয়লা
সঠিক উত্তর:
বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৭৪.
ক্রেসকোগ্রাফের সাহায্যে কী নির্ণয় করা হয়?
  1. ট্রান্সপিরেশনের হার
  2. রেসপিরেশনের হার
  3. উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার
  4. ফটোসিন্থেসিসের হার
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার
ব্যাখ্যা

• ক্রেসকোগ্রাফ (Crescograph) একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক যন্ত্র, যার সাহায্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার নির্ণয় করা হয়। এই যন্ত্রটি উদ্ভিদের কাণ্ড বা মূলের দৈর্ঘ্যের অতি সূক্ষ্ম পরিবর্তনও বহুগুণ বাড়িয়ে দেখাতে সক্ষম। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধি কতটা হচ্ছে তা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যায়। বিখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু ক্রেসকোগ্রাফ উদ্ভাবন করেন উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবেশগত প্রভাব অধ্যয়নের জন্য। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর হলো গ) উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার।
 
• ক্রেসকোগ্রাফ:
- ক্রেসকোগ্রাফ ( Crescograph) একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বৈজ্ঞানিক যন্ত্র, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি বা অতি সূক্ষ্ম নড়াচড়া পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। 

• এই যুগান্তকারী যন্ত্রটি বিংশ শতকের গোড়ার দিকে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়।
- জগদীশচন্দ্র বসুর এই আবিষ্কার উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। 
- তিনি প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদও সজীব প্রাণীর মতোই সংবেদনশীল এবং বাহ্যিক উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে।
- আজও কলকাতার বসু বিজ্ঞান মন্দিরে (Bose Institute) ক্রেসকোগ্রাফের একটি মডেল সংরক্ষিত আছে, যা বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। 
- এটি শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং জগদীশচন্দ্র বসুর বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি, কৌতূহল এবং উদ্ভাবনী শক্তির সাক্ষ্য বহন করে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
- ব্রিটানিকা। 

৪,৫৭৫.
নিচের কোনটি পরম শূন্য তাপমাত্রা?
  1. ক) - ২৭৩°C
  2. খ) ০.১°K
  3. গ) - ৪°K
  4. ঘ) ৪°C
সঠিক উত্তর:
ক) - ২৭৩°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) - ২৭৩°C
ব্যাখ্যা
পরম শূন্য তাপমাত্রা:
যে তাপমাত্রায় চার্লস বা গে-লুসাকের সূত্রানুসারে কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। 
এ পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -২৭৩°C ।
অর্থাৎ -২৭৩°C তাপমাত্রায় যে কোনো গ্যাসের আয়তন তত্বীয়ভাবে শূন্য হয়।
 
তাপমাত্রাকে শুরু বা শূন্য ধরে প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রার ব্যবধানকে এক ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান ধরে যে তাপমাত্রার স্কেল উদ্ভাবন করা হয়েছে তাকে তাপমাত্রার পরম স্কেল বা কেলভিন স্কেল বলে।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৭৬.
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোনটি ঘটেছে?
  1. রিক্সার চাকার ছিদ্র হওয়া
  2. গ্যাস ভর্তি বেলুনের ফেটে যাওয়া
  3. চাকার বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা
  4. এয়ার ফ্রেসনারের গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া
সঠিক উত্তর:
এয়ার ফ্রেসনারের গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এয়ার ফ্রেসনারের গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া
ব্যাখ্যা
ব্যাপন (Diffusion): 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
কোনো কক্ষের মধ্যে অথবা এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত বাসের মধ্যে চলার সময় বায়ুর গুমোট ভাব ও দুর্গন্ধ তাড়ানোর জন্য এয়ার ফ্রেসনার ছড়িয়ে দেয়া হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
• রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
• ছাতিম গাছের ফুলের গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে মন উদাস হয়ে যায়। 
• ঘরের মসা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

নিঃসরণ (Effusion): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন- 
• রিক্সার চাকা ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় টিউব থেকে বাতাস বেরিয়ে পড়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 
• পাকা রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে বাস বা ট্রাক চলছে, হঠাৎ করে চাকা ফেটে গিয়ে ভিতরের বায়ু বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই নিঃসরণ। 
• শহর এলাকায় যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয় শ্বে পাইপের কোথাও ছিদ্র হয়ে গেলে তীব্র বেগে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৭৭.
বৈদ্যুতিক পাখা বা মোটরে তড়িৎ শক্তিকে কোন শক্তিতে রূপান্তর করা যায়?
  1. নিউক্লিয় শক্তিতে
  2. যান্ত্রিক শক্তিতে
  3. আলোক শক্তিতে
  4. রাসায়নিক শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি: 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। 
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়।) - বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৭৮.
একটি কাচদন্ডকে তুলা দিয়ে ঘষলে তাদের মধ্যে কোন ধরনের আধান সঞ্চার হবে?
  1. ক) কাচদন্ডে ঋণাত্নক এবং তুলায় ধণাত্নক আধান সঞ্চার হবে
  2. খ) কাচদন্ডে এবং তুলায় ধণাত্নক আধান সঞ্চার হবে
  3. গ) কাচদন্ডে এবং তুলায় ঋণাত্নক আধান সঞ্চার হবে
  4. ঘ) কাচদন্ডে ধণাত্নক এবং তুলায় ঋণাত্নক আধান সঞ্চার হবে
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাচদন্ডে ধণাত্নক এবং তুলায় ঋণাত্নক আধান সঞ্চার হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাচদন্ডে ধণাত্নক এবং তুলায় ঋণাত্নক আধান সঞ্চার হবে
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪,৫৭৯.
নিম্নের কোন পদার্থটি সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. বোরন
  2. সিলিকন
  3. জার্মেনিয়াম
  4. কার্বন
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
ব্যাখ্যা

• অর্ধ-পরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor): 
- আধুনিক জগৎ এবং আধুনিক সভ্যতা পুরোটাই ইলেকট্রনিকসের উপরে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এই ইলেকট্রনিকসের জন্য যদি কোনো এক ধরনের পদার্থের বলা হয় তাহলে সেইই পদার্থটি হবে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর। 
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- সিলিকন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর পদার্থ। 
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৮০.
যদি 1KΩ রেজিস্ট্রার এর আড়াআড়িতে ভোল্টেজ ফ্লপ 10v হয়, তাহলে ঐ রেজিস্ট্রারের আড়াআড়িতে Power dissipation কর হবে-
  1. 1000w
  2. 100 w
  3. 1 w
  4. 0.1 w
সঠিক উত্তর:
0.1 w
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.1 w
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: যদি 1KΩ রেজিস্ট্রার এর আড়াআড়িতে ভোল্টেজ ফ্লপ 10v হয়, তাহলে ঐ রেজিস্ট্রারের আড়াআড়িতে Power dissipation কর হবে-

সমাধান: 
Power dissipation = v2/R
= 102/1000
= 1/10
= 0.1 w
৪,৫৮১.
গাছ থেকে আমটি মাটিতে পরল- এটি কোন ধরনের বলের উদাহরণ?
  1. চৌম্বক বল
  2. তড়িৎ চৌম্বক বল
  3. নিউক্লীয় বল
  4. মহাকর্ষ বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ বল(Gravitation): 
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে আমরা সেটাকে বলি মাধ্যাকর্ষণ। 
- এই মাধ্যাকর্ষণ বল আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
যেমন -গাছ থেকে আমটি পড়ার কারণ পৃথিবীর আকর্ষণই। তাই এটি মহাকর্ষণ বলের একটি উদাহরণ। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৮২.
জারণ (Oxidation) প্রক্রিয়ায় কী ঘটে?
  1. হাইড্রোজেন গ্রহণ
  2. নিউট্রন গ্রহণ
  3. ইলেকট্রন দান
  4. ইলেকট্রন গ্রহণ
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন দান
ব্যাখ্যা

- ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুযায়ী, জারণ হলো এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো পরমাণু, আয়ন বা অণু এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ বা দান করে। ইলেকট্রন দান করার ফলে সংশ্লিষ্ট মৌল বা আয়নের ধনাত্মক চার্জ বৃদ্ধি পায় অথবা ঋণাত্মক চার্জ হ্রাস পায়। 

রেডক্স বিক্রিয়া: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান বা বর্জন ঘটে।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৮৩.
‘থিওরি অফ রিলেটিভিটি’- এর জনক কে?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আর্কিমিডিস
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) কোপার্নিকাস
সঠিক উত্তর:
গ) আইনস্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

Albert Einstein’s theory of relativity is famous for predicting some really weird but true phenomena, like astronauts aging slower than people on Earth and solid objects changing their shapes at high speeds.

Source: nationalgeographic.com

৪,৫৮৪.
কোন খনিজ পদার্থটি কাচ, সিরিশ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?
  1. Ag
  2. Cu
  3. Mica
  4. Quartz
সঠিক উত্তর:
Quartz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Quartz
ব্যাখ্যা
• ধাতব-অধাতব খনিজ:
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়।
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে।
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে।

১. ধাতব খনিজ পদার্থ:
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। যেমন:
• লোহা (Fe),
• তামা (Cu),
• সোনা (Au),
• রূপা (Ag)।

২. অধাতব খনিজ পদার্থ:
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। যেমন:
• কোয়ার্টজ (Quartz),
• মাইকা (Mica),
• গ্রাফাইট,
• জিপসাম,
• কয়লা,
• খনিজ লবণ।

- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে।
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিশ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘর-বাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,৫৮৫.
ও নিম্নের কোনটি উদাহরণ-
  1. ক) আইসোটোপ
  2. খ) আইসোটোন
  3. গ) আইসোমার
  4. ঘ) আইসোবার
সঠিক উত্তর:
ক) আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
• আইসোটোপ:
যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
প্রশ্নে প্রদত্ত চিত্রে, উভয়ের প্রোটন সংখ্যা একই (১৭), কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন; প্রথমটির ৩৫ ও দ্বিতীয়টির ৩৭। 

• আইসোটোন:

যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

• আইসোবার:
যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে।

• আইসোমার:
যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৮৬.
সরল দোলন গতিতে কণার ত্বরণের দিক কোনটির দিকে হয়? 
  1. গতিবেগের দিকে 
  2. সরণের দিকে 
  3. সাম্যাবস্থানের বিপরীত দিকে 
  4. সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী 
সঠিক উত্তর:
সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী 
ব্যাখ্যা

সরল দোলন গতি: 
- কম্পনশীল কোনো বস্তুকণার ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে কণাটির সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদাই সাম্যাবস্থান অভিমুখী হলে, ঐ কণার গতিকে সরল দোলন গতি বলা হয়। 
অর্থাৎ, যদি কোনো পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তুর ত্বরণ তার সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী অর্থাৎ সর্বদা সাম্য বিন্দু অভিমুখী হয় তবে ঐ বস্তুর গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্য: 
- সরল দোলন গতির কতগুলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। 
- এই বৈশিষ্ট্যসমূহ দিয়ে কোনো কণার গতি সরল দোলন গতি কিনা তা নির্ধারণ করা হয়। 
- নিচে সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্যসমূহ দেয়া হলো- 
১। সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। অর্থাৎ, কোনো বস্তুকণা একই সময়ে বারবার একটি নির্দিষ্ট সরলরেখাংশ বরাবর এদিক-ওদিক যাওয়া-আসা করে। 
২। সরল দোলন গতি বিশিষ্ট কণার ত্বরণ সর্বদা তার সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয়। 
৩। কণাটির ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক। 
৪। কণাটি যে মুহূর্তে সাম্যাবস্থান অতিক্রম করে সেই মুহূর্তে গতিবেগ সর্বোচ্চ হয়। সরণের শেষ সীমায় গতিবেগ মুহূর্তের জন্য শূন্য হয় এবং তারপরেই কণাটি বিপরীত দিকে যাত্রা শুরু করে। 
৫। সরল দোলন গতির পর্যায়কাল তার বিস্তারের উপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে বিস্তার হ্রাস পেতে থাকলেও পর্যায়কাল অপরিবর্তিত থাকে। 
৬। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার স্পন্দন সীমা সাম্যাবস্থান থেকে উভয় দিকে সমান দূরে অবস্থান করে। 
৭। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার সরণ সাইন বা কোসাইন অপেক্ষক দ্বারা প্রকাশ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৮৭.
একটি বস্তু টান টান অবস্থায় থাকলে তার মধ্যে কোন শক্তি জমা থাকে?
  1. ক) গতি শক্তি
  2. খ) বিভব শক্তি
  3. গ) রাসায়নিক শক্তি
  4. ঘ) তাপ শক্তি
সঠিক উত্তর:
খ) বিভব শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিভব শক্তি
ব্যাখ্যা
বিভবশক্তি (Potential energy):
- বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়। 
- বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি। 
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক। 
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি। 
যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি। 
- একইভাবে একটি বস্তুকে টান টান করলে এর মধ্যে বিভব শক্তি জমা থাকে। 

- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ। 
- গতি শক্তিও যান্ত্রিকশক্তির একটি রূপ। 
- অর্থাৎ যান্ত্রিক শক্তি দু'প্রকার। যথা- একটি হচ্ছে গতি শক্তি এবং অপরটি হচ্ছে বিভবশক্তি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৮৮.
মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয়ে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়? 
  1. আলফা রশ্মি
  2. গামা রশ্মি 
  3. বিটা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা

• মূল্যবান ধাতুর (যেমন: সোনা, রূপা, প্ল্যাটিনাম) বিশুদ্ধতা এবং ভেতরের উপাদানের অনুপাত নির্ণয় করার জন্য রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে (X-ray) ব্যবহার করা হয়।
- বিশেষ করে XRF (X-ray Fluorescence) নামক পদ্ধতিতে ধাতুর কোনো ক্ষতি না করেই তার রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
- আলফা, বিটা বা গামা রশ্মি এই কাজে ব্যবহৃত হয় না কারণ এদের ভেদন ক্ষমতা এবং আয়নন ক্ষমতা হয় খুব বেশি নতুবা খুব কম, যা নিখুঁত ও নিরাপদ বিশ্লেষণের জন্য উপযোগী নয়।

এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার: 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়। 
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। 
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। 
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে। 
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

২। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে ব্যবহৃত হয়। 
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

৩. গোয়েন্দা বিভাগে: 
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 
- এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

৪। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে: 
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৮৯.
ফারেনহাইট স্কেলে পানির স্ফুটনাঙ্ক কত?
  1. ক) ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট
  2. খ) ১৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট
  3. গ) ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট
  4. ঘ) ২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° C।
∴ ১০০/৫ = (x-৩২)/৯
(x-৩২)/৯ = ২০
x = ১৮০ + ৩২ = ২১২° F
৪,৫৯০.
কোনো বস্তু তরলে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে তরল বস্তুটির উপর উপরের দিকে যে বল প্রয়োগ করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. অভিকর্ষ বল
  2. প্রতিক্রিয়া বল
  3. প্লবতা বল
  4. ঘর্ষণ বল
সঠিক উত্তর:
প্লবতা বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লবতা বল
ব্যাখ্যা

• প্লবতা বল — কোনো বস্তু তরলে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে তরল বস্তুটির উপর উপরের দিকে যে বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বল বলা হয়।

• প্লবতা:
- কোনো বস্তু তরলে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে তরল তার উপর একটি ঊর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে।
- এই ঊর্ধ্বমুখী বলকে প্লবতা বা প্লবতা বল বলা হয়।
- প্লবতা বলের কারণে অনেক বস্তু পানিতে ভাসে।
- প্লবতা বলের মান নির্ভর করে অপসারিত তরলের ওজনের উপর।

• আর্কিমিডিসের নীতি:
- কোনো বস্তু তরলে নিমজ্জিত হলে বস্তুটি যতটুকু তরল অপসারণ করে, সেই অপসারিত তরলের ওজনের সমান ঊর্ধ্বমুখী বল বস্তুটির উপর ক্রিয়া করে।
- এই ঊর্ধ্বমুখী বলই প্লবতা বল।
- যদি প্লবতা বল বস্তুর ওজনের সমান হয়, তবে বস্তু ভাসবে।
- যদি প্লবতা বল বস্তুর ওজনের কম হয়, তবে বস্তু ডুবে যাবে।
- যদি প্লবতা বল বস্তুর ওজনের বেশি হয়, তবে বস্তু উপরের দিকে উঠবে।

• প্লবতার প্রয়োগ:
- জাহাজ পানিতে ভাসে প্লবতা বলের কারণে।
- সাবমেরিন প্লবতা নিয়ন্ত্রণ করে ডুবে ও ভাসে।
- হাইড্রোমিটার তরলের ঘনত্ব নির্ণয়ে প্লবতার নীতি ব্যবহার করে।

• সম্পর্কিত ধারণা:
- অভিকর্ষ বল বস্তুকে নিচের দিকে টানে।
- প্লবতা বল বস্তুকে উপরের দিকে ঠেলে দেয়।
- বস্তু ভাসবে কি ডুববে তা নির্ভর করে ঘনত্বের উপর।
- বস্তুর ঘনত্ব তরলের ঘনত্বের কম হলে বস্তু ভাসে।
- বস্তুর ঘনত্ব তরলের ঘনত্বের বেশি হলে বস্তু ডুবে যায়।

• অন্যান্য অপশন:
- অভিকর্ষ বল → পৃথিবীর আকর্ষণজনিত নিম্নমুখী বল।
- প্রতিক্রিয়া বল → স্পর্শের ফলে সৃষ্ট বিপরীতমুখী বল।
- ঘর্ষণ বল → সংস্পর্শে গতির প্রতিবন্ধক বল।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৪,৫৯১.
অপটিক্যাল ফাইবার হলো-
  1. ক) কাঁচের গুড়া যা দিয়ে চশমা বানানো হয়।
  2. খ) প্লাস্টিকের সূতা যা দিয়ে লেন্স বানানো হয়।
  3. গ) সরু কাঁচতন্তু যা আলোক রশ্মি বহনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
  4. ঘ) প্লাস্টিকের সূতা যা দিয়ে কম্পিউটার বানানো হয়।
সঠিক উত্তর:
গ) সরু কাঁচতন্তু যা আলোক রশ্মি বহনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সরু কাঁচতন্তু যা আলোক রশ্মি বহনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাচতন্তু।
আলোক রশ্মি বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
আলোক রশ্মি যখন এই কাচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে।
এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৪,৫৯২.
কোনটি বাস্তব গ্যাসের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. বাস্তব গ্যাসসমূহ আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT মেনে চলে না।
  2. বাস্তব গ্যাসের অণুসমূহের মধ্যে আকর্ষণ বল বা বিকর্ষণ বল বিদ্যমান।
  3. বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে সংকোচনশীল গুনকের মান কখনো 1 হয় না।
  4. বাস্তব গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়।
সঠিক উত্তর:
বাস্তব গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তব গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়।
ব্যাখ্যা

বাস্তব গ্যাস (Real Gas): 
- যে গ্যাসসমূহ সকল তাপমাত্রা ও চাপে বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, অ্যাভোগাড্রোর সূত্র তথা আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT কে মেনে চলে না তাদেরকে বাস্তব গ্যাস বলে।
- সংক্ষেপে বলা যায়, বাস্তবে যে গ্যাসগুলো পাওয়া যায় তাদেরকে বাস্তব গ্যাস বলে। H2, N2, O2, CO₂ প্রভৃতি গ্যাস বাস্তব গ্যাসের উদাহরণ।
- উচ্চতাপমাত্রা ও নিম্ন চাপে বাস্তব গ্যাস আদর্শ গ্যাসের ন্যায় আচরণ করে। কিন্তু বিপরীত শর্তে বিচ্যুতি বেশ দেখায়।

বাস্তব গ্যাসের নিচের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্তমান থাকে-
১. বাস্তব গ্যাসসমূহ যথাযথভাবে আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT মেনে চলে না।
২. বাস্তব গ্যাসের অণুসমূহের মধ্যে আকর্ষণ বল বা বিকর্ষণ বল বিদ্যমান।
৩. বাস্তব গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভরশীল
৪. নিম্নচাপ যেমন 1 atm বা তার নিচের চাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রায় বাস্তব গ্যাসসমূহ মোটামুটিভাবে প্রায় আদর্শ গ্যাসের ন্যায় আচরণ করে থাকে।
৫. বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে গ্যাস অণুগুলোর মধ্যকার সংঘর্ষ স্থিতিস্থাপক হয় না। এ কারণে আন্ত সংঘর্ষজনিত কারণে তাপের পরিবর্তন ঘটে।
৬. বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে সংকোচনশীল গুনক, Z= PV/RT ≠1. 
৭. গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল কার্যকরী হলেও অতি উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন চাপে এরা আদর্শ গ্যাসের মতো আচরণ করে।

তথ্যসূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,৫৯৩.
বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না কোন রশ্মি?
  1. আলফা
  2. বিটা
  3. গামা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামা
ব্যাখ্যা
• গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি:
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
- এই রশ্মি আলোর ন্যায় বেগে গতিশীল ।
- এর কোনো চার্জ ও ভর নাই ।
- গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
- এটি ফটোগ্রাফিক পেণ্টটের উপর বিক্রিয়া করে।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম ।
- জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে।
 - গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৯৪.
নিচের কোনটি একটি অ্যান্টিসেপটিক পদার্থ? 
  1. ইথার 
  2. পেনিসিলিন 
  3. টিংচার আয়োডিন 
  4. পটাশিয়াম ক্লোরাইড 
সঠিক উত্তর:
টিংচার আয়োডিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিংচার আয়োডিন 
ব্যাখ্যা

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষ্মায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে। 
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

কৃষিকাজে রসায়ন: 
- কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), অ্যামোনিয়াম সালফেট ও জৈব সার ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিল্প কারখানায় প্রস্তুত করা হয়। 
- তাছাড়া জীবাণুনাশক ও কীটনাশক যেমন এনড্রিন, ডায়াজিনন, ফুরাডন প্রভৃতিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়। 
- কাঁচা ফল পাকাতে এবং শস্যকে সংরক্ষণ করার জন্যও রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। 

শিল্পক্ষেত্রে রসায়ন: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য সাবান, ডিটারজেন্ট, টুথপেস্ট, ম্যালামাইনের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক সামগ্রী, কৃত্রিম নাইলন, সিল্ক, রাবার, প্রসাধনী ইত্যাদি সকল কিছুই নানা প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়। 
- ইস্পাত, কাগজ, চিনি, বস্ত্র, কাচ ও চামড়া ইত্যাদি সকল শিল্পেই রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। 
- তাছাড়া ব্যাটারি, পেট্রোল, কেরোসিন ও ডিজেল ইত্যাদি শক্তির উৎসগুলোও রসায়নের অবদান রয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৯৫.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভব কখন ঘটে?
  1. ক) অষ্টাদশ শতাব্দীতে
  2. খ) ঊনবিংশ শতাব্দীতে
  3. গ) বিংশ শতাব্দীতে
  4. ঘ) একবিংশ শতাব্দীতে
সঠিক উত্তর:
খ) ঊনবিংশ শতাব্দীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঊনবিংশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

উৎস
: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৯৬.
নিচের কোনটি জৈব অম্ল?
  1. HCl
  2. H2SO4
  3. CH3COOH
  4. HNO3
সঠিক উত্তর:
CH3COOH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CH3COOH
ব্যাখ্যা
• অ্যাসিটিক অ্যাসিড(CH3COOH) হলো অন্যতম একটি জৈব অম্ল। 

• জৈব এসিড:

- যে জৈব যৌগে কার্বক্সিল গ্রুপ (-COOH) বিদ্যমান থাকে তাকে জৈব এসিড (অম্ল) বা ফ্যাটি এসিড বলে। 

• বৈশিষ্ট্য:
- জলীয় দ্রবণে H+ আয়ন দান করে, যা তাদের অম্লীয় করে তোলে।
- সাধারণত অজৈব অ্যাসিডের তুলনায় দুর্বল প্রকৃতির হয়।
- জৈব এসিড টক স্বাদ সম্পন্ন হয়। 
- পানি ও জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়।

• উদাহরণ: সাইট্রিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড(CH3COOH) ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৯৭.
সক্রিয়তা সিরিজে কোন ধাতুটি সবচেয়ে কম সক্রিয়?
  1. ক) লিথিয়াম
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) কপার
  4. ঘ) স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্ণ
ব্যাখ্যা
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়।
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়।
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়।
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়।
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়।
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে।
- অর্থাৎ হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৯৮.
কোনটি Active element?
  1. Resistor
  2. Inductor
  3. Capacitor
  4. Transistor
সঠিক উত্তর:
Transistor
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Transistor
ব্যাখ্যা

Active elements
একটি সার্কিটে শক্তি প্রবর্তন করতে পারে বা সার্কিটের মধ্যে শক্তি স্তর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তারা শক্তি বর্ধিত, উৎপন্ন বা সরবরাহ করতে পারে। উদাহরণ :
Voltage Sources:  batteries, generators, or operational amplifiers (op-amps) 
Current Sources:  current generator.
Active Components: Semiconductor devices- transistors (in their active region), operational amplifiers, এবং integrated circuits (ICs) ইত্যাদি। 

Passive elements
- শক্তি উৎপন্ন করে না বা এর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে না বরং শক্তি গ্রহণ করে, সঞ্চয় করে বা নষ্ট করে।
- উদাহরণ 
Resistors
Capacitors
Inductors

৪,৫৯৯.
শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোনটির প্রয়োজন হয়? 
  1. আলো
  2. তড়িৎ শক্তি
  3. স্থিতিস্থাপক মাধ্যম
  4. শূন্য মাধ্যম
সঠিক উত্তর:
স্থিতিস্থাপক মাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতিস্থাপক মাধ্যম
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 
যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। 
যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৬০০.
ফ্রেয়ন কী? 
  1. ডাইক্লোরােট্রাইফ্লোরাে মিথেন 
  2. ডাইক্লোরােট্রাইফ্লোরাে ইথেন
  3. ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে ইথেন
  4. ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে মিথেন
সঠিক উত্তর:
ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে মিথেন
ব্যাখ্যা
ফ্রেয়ন: 
- রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাঁপা নলের কুণ্ডলী, একে বাষ্পীভবন কুণ্ডলী বলে। 
- এই কুণ্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়। 
- ফ্রেয়ন হচ্ছে ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে মিথেন। 
- এই নলের সাথে একটি সংকোচন পাম্প সংযুক্ত থাকে।
- পাম্প চালু করা হলে নলের ভিতরের চাপ কমে যাওয়ায় ফ্রেয়ন দ্রুত বাষ্পীভূত হয়।
- এজন্য যে সুপ্ততাপ প্রয়ােজন তার খানিকটা ফ্রেয়ন নিজে সরবরাহ করে আর বাকীটা আসে শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠ থেকে ফলে শীতলীকরণ ঘটে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।