উত্তর
ব্যাখ্যা
সমাধান:
২০২০ সাল অধিবর্ষ। ফলে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিন আছে ২৯ দিন।
মোট ঘণ্টা = 29 × 7 h
= 203 h
ক্ষমতা, P = 100 W
= 100/1000 KW
= 1/10 KW
∴ শক্তি, W = Pt
= 203/10 KWh
= 20.3 KWh
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৪৬ / ৬৪ · ৪,৫০১–৪,৬০০ / ৬,৪০৯
তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ:
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়।
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র।
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়।
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ:
- তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
যথা-
১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল:
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন।
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।
২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল:
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক।
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল:
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়।
৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল:
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত।
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে।
৫. অবলোহিত অঞ্চল:
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত।
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ:
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm,
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm,
• Far-IR অঞ্চল: 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m).
৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল:
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল:
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়।
উৎস:
১. রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।
২. রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- চাপের কারণে স্ফুটনাঙ্কের পরিবর্তন হয়।
- চাপ কম হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়।
- এজন্য যারা পর্বতারোহণ করে অনেক উচ্চতায় যায় তাদের রান্না করতে সময় বেশি নেয়৷
- বাতাসের চাপ কম বলে সেখানে পানি তুলনামূলকভাবে কম তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে, তাই তাপমাত্রা বাড়ানো যায় না, সেজন্য রান্না করতে সময় বেশি লাগে।
- একই কারণে প্রেশার কুকার তৈরি হয়েছে, এটি আসলে একটি নিশ্ছিদ্র পাত্র, তাই রান্না করার সময় বাষ্প আবদ্ধ হয়ে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং সে কারণে পানির স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায় বলে বেশি তাপমাত্রায় পানি ফুটতে থাকে।
- তাপমাত্রা বেশি বলে রান্নাও করা যায় তাড়াতাড়ি।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে 'ট্রান্সফরমার'।
• তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- একটি তারের কুণ্ডলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুণ্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি।
• ট্রান্সফরমার:
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমারের গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার হয়।
২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার হয়।
• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ডায়োড: এটি সেমিকন্ডাক্টরের p-n জাংশন নীতির ওপর ভিত্তি করে তড়িৎ প্রবাহকে একমুখী করতে ব্যবহৃত হয়।
- ভোল্টমিটার: এটি গ্যালভানোমিটারের নীতির ওপর ভিত্তি করে বর্তনীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য পরিমাপ করে।
- ট্রানজিস্টর: এটি অর্ধপরিবাহী স্তরের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুইচ বা অ্যামপ্লিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উৎস বা প্রস্তুত পদ্ধতি যাই হোক না কেন সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। তাই বলা যায় জৈব যৌগ মূলত কার্বন যৌগ।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যুক্ত থাকে।
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি।
বর্তমানে জৈব যৌগকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় ‘কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।’
যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।
সূত্রঃ রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- সিসমোগ্রাফ (Seismograph) হলো সেই যন্ত্র যা ভূমিকম্প ও ভূমিকম্পের কম্পনের মাত্রা ও প্রকৃতি পরিমাপ করে।
বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র:
• ব্যারােমিটার- বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
• ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র।
• অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র।
• অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র।
উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
প্যারাচৌম্বকীয় পদার্থ (Paramagnetic elements):
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, এদেরকে প্যারা চৌম্বক বলে।
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি।
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে।
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোলগুলো এলোমেলোভাবে থাকে। ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ (magnedisation) থাকে না।
- এ সকল পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে দ্বিপোলসমূহ ক্ষেত্রের অভিমুখ বরাবর সজ্জিত হওয়ার চেষ্ঠা করে। কিন্তু তাপীয় উত্তেজনা এ সজ্জিতকরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করে।
- ফলে কিছু দ্বিপোল সজ্জিত হয় এবং ক্ষেত্রের দিকে কিছু চুম্বকায়ন ঘটায় অর্থাৎ নীট ফল হিসেবে পদার্থটি একটি চৌম্বক মোমেন্ট অর্জণ করে এবং এ চৌম্বক মোমেন্টের অভিমুখ প্রযুক্ত চৌম্বকক্ষেত্রের দিকে হয়।
ফেরোচৌম্বকীয় পদার্থ (Ferromagnetism elements):
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয় এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না।
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন-এ বিভক্ত থাকে। ফলে, সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়।
ডায়াচৌম্বকীয় পদার্থ (Diamagnetism elements):
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায় অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয় এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি।
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়।
- একজোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে।
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• আলট্রাসনোগ্রাফি হলো উচ্চ কম্পাঙ্কের এবং ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ছবি বা ইমেজ তৈরির একটি পদ্ধতি।
• আল্ট্রাসনোগ্রাফি:
- শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম পেশী বা টিস্যুর সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বলে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়।
- উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাংক ১–১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
- বিশেষত ভ্রুণের বৃদ্ধি, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের টিউমার সনাক্তকরণে।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয়ের কৌশল।
উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সঠিক উত্তর- ক) আর্দ্রতা কমলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়
• বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব (Effects of various factors on evaporation):
- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন।
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না। এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা। এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়।
- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। সেগুলো হলো:
১) তরলের প্রকৃতি: বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি।
২) বায়ু প্রবাহ: তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়।
৩) তরলের উপর চাপ: তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক।
৪) তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে।
৫) তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়।
৬) তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের প্রসারণের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, তাই এটি শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে।
• তরঙ্গের শ্রেণিবিভাগ:
- তরঙ্গকে প্রধানত দুই ভাগে শ্রেণিবিভাগ করা যায়। যথা—
- যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave),
- তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic Wave)।
• যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave):
- যে তরঙ্গের প্রসারণের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, তাকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলা হয়।
- যান্ত্রিক তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে না।
- এই তরঙ্গের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চালিত হয়, কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোর স্থায়ী স্থানান্তর ঘটে না।
- মাধ্যমের কণাগুলো নিজ নিজ সাম্য অবস্থার চারপাশে কম্পন করে।
- উদাহরণ—
- শব্দ তরঙ্গ,
- পানির তরঙ্গ।
• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic Wave):
- যে তরঙ্গের প্রসারণের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, তাকে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ বলা হয়।
- তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমেও চলতে সক্ষম।
- এই তরঙ্গের মাধ্যমেও শক্তি পরিবাহিত হয়।
- উদাহরণ—
- আলো,
- রেডিও তরঙ্গ।
• তরঙ্গ সঞ্চালনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- তরঙ্গের মাধ্যমে শক্তি পরিবাহিত হয়, বস্তু পরিবাহিত হয় না।
- মাধ্যমের কণাগুলো কেবল কম্পনের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চালনে অংশগ্রহণ করে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• লোহায় মরিচা পড়ার সময় লোহাতে জারণ বিক্রিয়া (Oxidation Reaction) ঘটে।
• মরিচা:
- বিশুদ্ধ লোহা, জলীয় বাষ্প ও বায়ুর অক্সিজেন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে লোহার যে অক্সাইড গঠন করে তাকে মরিচা বলে।
• লোহাকে বাতাসে দীর্ঘসময় রেখে দিলে বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে লোহা বিক্রিয়া করে মরিচা তৈরি করে।
- লোহার উপর মরিচা পড়া অনেক ধীর গতিতে সংঘটিত হয়।
- লোহায় মরিচা পড়ার এই প্রক্রিয়া টি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া।
- এখানে এক ধাপে জারণ এবং অন্যধাপে বিজারণ ঘটে থাকে।
• মরিচা পড়ার প্রক্রিয়া:
- লোহা (Fe) অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- এই বিক্রিয়ায় লোহা অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয় এবং ইলেকট্রন ত্যাগ করে।
- এর ফলে লোহাতে জারণ ঘটে।
- ত্যাগকৃত ইলেকট্রনটি অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন আয়ন গ্রহণ করে পানি তৈরি করে, যা বিজারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে।
- ফলে, লোহার অক্সাইড (Fe2O3) গঠিত হয়, যা মরিচা নামে পরিচিত।
- এই পুরো প্রক্রিয়াটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে থাকে।
তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা।
অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা জাংশন ডায়োড:
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে।
- দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে।
- প্রকৃতপক্ষে দুটি অর্ধপরিবাহীকে জোড়া লাগিয়ে ডায়োড তৈরি করা হয় না।
- বাস্তবে একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অর্ধাংশে ত্রিযোজী অপদ্রব্য এবং অপর অর্ধাংশে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়।
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীর অভ্যন্তরে বহুসংখ্যক হোল ও অতি অল্প সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে।
- একইভাবে একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে বহুসংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন এবং অতি অল্পসংখ্যক হোল বর্তমান থাকে।
- p-n জাংশন তৈরির সাথে সাথে p-অঞ্চলের হোলের সংখ্যা n-অঞ্চলের হোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে ব্যাপনের নিয়ম অনুযায়ী p-অঞ্চলের হোলগুলো n-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে যাতে p ও n অঞ্চলের সর্বত্র হোলের ঘনত্ব সমান হয়।
- অনুরূপভাবে n-অঞ্চল থেকে কিছু ইলেকট্রন p-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে।
- যখন p-অঞ্চল হতে কিছুসংখ্যক হোল n-অঞ্চলে প্রবেশ করে মুক্ত ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয়, তখন n-অঞ্চলে সমসংখ্যক ধনাত্মক দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়। আবার n-অঞ্চল হতে একই প্রক্রিয়ায় মুক্ত ইলেকট্রনগুলো যখন p-অঞ্চলে প্রবেশ করে হোলের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয় তখন p-অঞ্চলে সমসংখ্যক ঋণাত্মক গ্রাহক আয়ন উন্মুক্ত হয়।
- ফলে জাংশনের সন্নিকটে p-অঞ্চলে কিছু ঋণাত্মক আয়ন এবং n-অঞ্চলে কিছু ধনাত্মক আয়নের উদ্ভব ঘটে। এভাবে যখন যথেষ্ট সংখ্যক গ্রাহক ও দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়, তখন ব্যাপন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে।
- p-n জাংশনের বিভব বাঁধা অংশে n-অঞ্চলে ধনাত্মক আয়ন এবং p-অঞ্চলে ঋণাত্মক আয়ন উন্মুক্ত হয়।
- এ অঞ্চলে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, এ অংশকে নিঃশেষিত স্তর বা ডিপ্লেশন স্তর (Depletion layer) বলে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড (Primary Standard): এমন একটি পদার্থ যার উচ্চ বিশুদ্ধতা, স্থায়িত্ব এবং সঠিক রূপে মাপা যায় এমন আণবিক ভর থাকে।
- এটি ব্যবহার করে দ্রবণের সঠিক মান নির্ধারণ করা যায়।
বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- উচ্চ বিশুদ্ধতা
- আর্দ্রতা শোষণ কম
- রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল
- সঠিক মোলার ভর জানা
- উদাহরণ: Na2CO3, K2Cr2O7, AgNO3।
•HNO₃ একটি তরল ও অস্থির অ্যাসিড, যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে, তাই এটি প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড নয়।
তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই
শক্তির রূপান্তর:
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• ১ ক্যালরি তাপের মান প্রায় ৪.২ জুল।
• তাপ ও তাপমাত্রা (Heat and Temperature):
• তাপ (Heat):
- তাপ এক প্রকার শক্তি।
- তাপের আদান–প্রদানের ফলে বস্তুর তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
- তাপ সর্বদা উচ্চ তাপমাত্রার বস্তু থেকে নিম্ন তাপমাত্রার বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়।
- তাপের একক ক্যালরি (calorie) এবং জুল (joule)।
- ১ ক্যালরি ≈ ৪.২ জুল।
• তাপমাত্রা (Temperature):
- তাপমাত্রা দ্বারা কোনো বস্তুর গরম বা ঠান্ডা হওয়ার মাত্রা বোঝায়।
- তাপমাত্রা কোনো শক্তি নয়; এটি বস্তুর তাপীয় অবস্থার পরিমাপক।
- তাপমাত্রা পরিমাপের একক হলো—
- ডিগ্রি সেলসিয়াস (°C),
- কেলভিন (K)।
• তাপ ও তাপমাত্রার পার্থক্য:
- তাপ হলো শক্তি, কিন্তু তাপমাত্রা শক্তি নয়।
- তাপের প্রবাহ ঘটে, কিন্তু তাপমাত্রা প্রবাহিত হয় না।
- তাপ বস্তুর ভরের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু তাপমাত্রা ভরের উপর নির্ভরশীল নয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
• গিনি-পালক পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পরিচিত। এই পরীক্ষায় তিনি দেখান যে বায়ুর বাধা না থাকলে ভারী ও হালকা বস্তু একই হারে নিচে পড়ে। তৎকালীন ধারণা ছিল ভারী বস্তু দ্রুত পড়ে, কিন্তু গ্যালিলিও এই ভুল ধারণার বিরোধিতা করেন। তিনি পালক ও ভারী বস্তু একসঙ্গে ফেলেন এবং প্রমাণ করেন যে পতনের গতি ভরের ওপর নির্ভর করে না, বরং মাধ্যাকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল। এই পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
• গিনি-পালক পরীক্ষা (Guinea–Feather Experiment):
- গিনি-পালক পরীক্ষা মূলত বস্তু পতনের সাথে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা।
- এই পরীক্ষায় একটি ভারী বস্তু (গিনি) এবং একটি হালকা বস্তু (পালক) একসাথে ফেলা হয়।
- সাধারণভাবে মনে করা হতো, ভারী বস্তু হালকা বস্তুর তুলনায় দ্রুত নিচে পড়ে।
- এই ভুল ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়।
- পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা হয় যে বায়ুর প্রতিরোধ না থাকলে ভারী ও হালকা বস্তু একই সময়ে ভূমিতে পৌঁছায়।
- অর্থাৎ, বস্তুর ভর নয়, বরং বায়ুর বাধাই পতনের গতিতে পার্থক্য সৃষ্টি করে।
- এই ধারণা অ্যারিস্টটলের তত্ত্বের বিরোধিতা করে নতুন বৈজ্ঞানিক চিন্তার সূচনা করে।
• পরীক্ষার সাথে সম্পর্কিত বিজ্ঞানী:
- গিনি-পালক পরীক্ষা পরিচালনা ও ব্যাখ্যার জন্য বিখ্যাত বিজ্ঞানী হলেন গ্যালিলিও গ্যালিলেই।
- তিনি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর গবেষণা গতি, মাধ্যাকর্ষণ এবং পরীক্ষাভিত্তিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে।
- সুতরাং, গিনি-পালক পরীক্ষার জন্য পরিচিত বিজ্ঞানী হলেন গ্যালিলিও।
সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
ভেজা কাপড় শুকানাে অর্থ কাপড়ের জলকণা বাষ্পায়নের মাধ্যমে উবে যাওয়া।
বর্ষাকালে বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে। ফলে বাষ্পায়নের হার কমে যায়।
অন্য দিকে শীতকালে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে অর্থাৎ বাতাস শুকনাে থাকে ফলে জলকণার দ্রুত বাষ্পায়ন হয় এবং ভেজা কাপড় দ্রুত শুকায়।
সূত্রঃ পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রােগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
একটি অক্সিজেন অণুতে থাকে ২টি অক্সিজেন পরমাণু।
আর একটি ওজোন অণুতে থাকে ৩টি অক্সিজেন পরমাণু।
ওজোন হলো অক্সিজেন এর একটি রূপভেদ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো-
• C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা]।
এখন,
সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে,
x/5 = (x - 32)/9
⇒ 9x = 5x - 160
⇒ 9x - 5x = - 160
⇒ 4x = - 160
⇒ x = - 40
অতএব, - 40 ডিগ্রী তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলে সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
সাবান তৈরির বেশ কয়েকটি পদ্ধতি আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে কেটলি পদ্ধতি।
কেটলি পদ্ধতি:
এই পদ্ধতিতে সাবান তৈরির জন্য প্রায় ১৫০ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বিশাল আকৃতির লোহার কেটলি ব্যবহার করা হয়। প্রথমত নির্দিষ্ট পরিমাণের চর্বি কেটলিতে তাপের সাহায্যে গলানো হয়। তারপর এই উত্তপ্ত চর্বিতে অল্প অল্প কস্টিক সোডার দ্রবণ যোগ করতে হয়। এইভাবে সাবানায়ন প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং ৩/৪ ঘণ্টা পরে মাখনের মত মসৃণ সাবানের লাই বা পেস্ট তৈরি হয়। সাবানের এই লাইয়ের সাথে মিশ্রিত থাকে গ্লিসারিন এবং অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্যাদি ।
মিশ্রিত দ্রব্যাদি থেকে সাবানকে পৃথক করার জন্য এই ফুটন্ত সাবানে আস্তে আস্তে লবণের দ্রবণ মিশাতে হয়। এতে সাবানের লাই আলাদা হয়ে যায়। লবণ মিশ্রিত পানির দ্বারা সাবানের লাই আলাদা করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় গ্রেইনিং।
সাবানের লাই আলাদা হতে থাকলে তাপ প্রয়োগ বন্ধ রাখা হয় এবং থিতান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেটলির তলায় গ্লিসারিন লবণের দ্রবণ এবং লাই জমা হয় ও কেটলি হতে বের করা হয়। কেটলিতে অবস্থিত সাবানকে বিশুদ্ধ করার জন্য সাবানকে আবার তাপ দিয়ে ফুটানো হয় এবং আস্তে আস্তে পানি যোগ করতে হয়। এই পানি সাবানে লেগে থাকা লবণ ও গ্লিসারিন দ্রবীভূত করে।
এভাবে কয়েকবার স্ফুটন ও ধৌত করণের পর কেটলিতে সাবানের তিনটি স্তর আলাদা হয়ে যায়। উপরের স্তরে পরিষ্কার সাবান, মধ্য ভাগে তীব্র ক্ষারীয় সাবান এবং সর্ব নিচে থাকে সাবান লাই এবং অন্যান্য দ্রব্যের মিশ্রণ। উপরের সাবানকে পাম্প করে আলাদা করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পরিবাহিতা (Conductance):
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়ে I পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে,
I ∝ V
বা, I = GV; এখানে G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক।
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে।
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens), একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশি। আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশি।
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা।
- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়।
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়।
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি, অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম।
অন্যদিকে,
- ও’ম → এটি রোধের (Resistance) একক।
- ভোল্ট → এটি ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য এর একক।
- কুলম্ব → এটি আধানের (Charge) একক।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
শব্দ দূষণ : অতি উচ্চ শব্দ আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, মেজাজ খারাপ করে ফেলে এধরণের অতি শব্দ দ্বারা পরিবেশ নষ্ট হয়। এ অবস্থাকে বলা হয় শব্দ দূষণ।
উচ্চ শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ স্নায়ুর স্বাভাবিক সংযোগ ব্যহত করে, কাজে মনোযোগ কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে, কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়, পরিপাক ক্রিয়া ব্যহত করে।
পাকস্থলী ও পরিপাক তন্ত্রের পীড়া বা ব্যাধি সৃষ্টি করে। আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয়।
সারাক্ষণ কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে উচ্চ স্বরে গান শুনলে পেটের পীড়া ও কানের অসুখ দেখা দেয়, বিশেষ করে শ্রবণ শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। ফলে অল্প বয়সেই বধিরতা আসতে পারে।
সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
ফোটন:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।
ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C= 3×108 ms-1) চলাচল করে, কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না।
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক।
- ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) 118 টি মৌল শনাক্ত করেছে।
আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC):
- আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (International Union of Pure and Applied Chemistry বা সংক্ষেপে IUPAC) এখন পর্যন্ত 118টি মৌলিক পদার্থকে শনাক্ত করেছে।
- IUPAC সংস্থাটি আন্তর্জাতিকভাবে রসায়ন ও ফলিত রসায়নের বিভিন্ন নিয়মকানুন দেখাশোনা করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন কোন নিয়ম গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি বর্জনযোগ্য।
- 118টি মৌলের মধ্যে বেশির ভাগ মৌলই প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং বাকি কিছু মৌল ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে।
- ল্যাভয়সিয়ে মাত্র 33টি মৌল নিয়ে ছক তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন।
- মেন্ডেলিফ 63টি আবিষ্কৃত মৌল এবং 4টি অনাবিষ্কৃত মৌল নিয়ে পর্যায় সারণি নামে যে ছকটি তৈরি করেছিলেন, তা বর্তমানে 118টি মৌলের আধুনিক পর্যায় সারণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি।
প্রশ্ন: দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N ও ৫ N হলে তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত?
সমাধান:
দেওয়া আছে,
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N এবং ৫ N
∴ তাদের লব্ধি পরিমাণ = √(৬২ + ৫২)
= √(৩৬ + ২৫)
= √৬১ N ।
- অম্লীয় দ্রবণের pH এর মান ৭ এর কম। ভিনেগার হলো এসিটিক এসিডের ৫% জলীয় দ্রবণ। তাই ভিনেগারের pH এর মান ৭ এর কম।
- নিরপেক্ষ দ্রবণের pH এর মান হলো ৭। পানি একটি নিরপেক্ষ দ্রবণ।
- ক্ষারীয় দ্রবণের pH এর মান ৭ এর বেশি৷ কস্টিক সোডা এবং চুনের পানি হলো ক্ষারীয় দ্রবণ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
শব্দ:
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে।
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে।
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়।
- ০°C বা ২৭৩K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি ৩৩২ms-1।
- ০°C বা ২৭৩ K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m হতে হবে।
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব ০.৩ m বেশি হতে হবে।
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m (০°C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সার কারখানায় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক অ্যাসিড (H3PO4) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলাে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) এর মত শক্তিশালী অ্যাসিড।
বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলাে সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• শব্দ:
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে।
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে।
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়।
- ০°C বা ২৭৩K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি ৩৩২ms-1।
- ০°C বা ২৭৩ K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m হতে হবে।
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব ০.৩ m বেশি হতে হবে।
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m (০°C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
আধুনিক সারণিতে পদার্থগুলোকে তাদের পরমাণু সংখ্যার (Atomic Number, Z) ক্রমে সাজানো হয়।
- আধুনিক পর্যায় সারণি (Periodic Table) ডেমিত্রি মেন্ডেলিভের সারণির উন্নত রূপ।
- এর ফলে একই গ্রুপে থাকা উপাদানগুলোর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য একই ধরনের হয়।
- সমান পর্যায়ে থাকা উপাদানগুলোর পরমাণুর আকার ও বৈশিষ্ট্য ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হয়।
• অতীতে মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে পরমাণু ভরের ভিত্তিতে সাজানো হতো, কিন্তু এতে কিছু অমিল দেখা গিয়েছিল। আধুনিক সারণিতে পরমাণু সংখ্যা ব্যবহৃত হওয়ায় সব অমিল দূর হয়েছে।
তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]
- আলোক রশ্মি যখন বিভেদ তলের ওপর অভিলম্ব বরাবর (লম্বভাবে) আপতিত হয়, তখন আপতন কোণের মান হয় 0° । স্নেলের সূত্রানুসারে, আপতন কোণ শূন্য হলে প্রতিসরণ কোণও শূন্য (0°) হয়। এই বিশেষ ক্ষেত্রে আলোক রশ্মি তার গতির অভিমুখ পরিবর্তন না করে সোজা দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশ করে।
আলোর প্রতিসরণ:
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি তার গতিপথের দিক পরিবর্তন করে, আলোক রশ্মির এই দিক পরিবর্তনকে আলোর প্রতিসরণ বলে। একটি নির্দিষ্ট স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সরল রেখায় চলে, কিন্তু অন্য মাধ্যমে প্রবেশের সাথে সাথেই এটি মাধ্যমের অলোকীয় বৈশিষ্ট্য অনুসারে দিক পরিবর্তন করে।
উল্লেখ্য যে, লম্বভাবে আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় এর গতিপথের কোনো দিক পরিবর্তন হয় না।
আলোর প্রতিসরণের নিয়ম:
- আলোক রশ্মি যখন হালকা মাধ্যমে থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্বের দিকে সরে আসে। এই ক্ষেত্রে আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণ আপেক্ষা বড় হয়।
- আলোকরশ্মি প্রথমে একটি মাধ্যম থেকে (যেমন বায়ু) অন্য মাধ্যমে (কাঁচ) প্রতিসরিত হওয়ার পর পুনরায় একই মাধ্যমে (বায়ু) নির্গত হলে আপতন কোণ ও নির্গমন কোণ সমান হয়।
- আপতিত রশ্মি, প্রতিসরিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে। এছাড়াও আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। এই ক্ষেত্রে আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণ অপেক্ষা ছোট হয়।
- আলোক রশ্মি যখন অভিলম্ব বরাবর আপতিত হয় তখন আপতন কোণ, প্রতিসরণ কোণ ও নির্গত কোণের মান শূন্য হয়। এক্ষেত্রে আপতিত রশ্মির দিক পরিবর্তন হয় না।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
- মানবদেহের ভেতরের অঙ্গ দেখার জন্য ব্যবহৃত এন্ডোস্কোপে অপটিক্যাল ফাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন নীতিতে কাজ করে, যার মাধ্যমে আলো এবং ছবি শরীরের অভ্যন্তর থেকে বাইরে পরিবাহিত হয়, কারণ এতে আলো এবং ক্যামেরাযুক্ত একটি নমনীয় টিউব ব্যবহৃত হয়।
অপটিক্যাল ফাইবার:
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু, এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়।
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত।
- সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে আলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত।
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়।
- এই সংকেত অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে না।
অন্যদিকে,
- রেডিও তরঙ্গ (রেডিওলজি), এক্স-রে এবং আল্ট্রাসাউন্ড (আল্ট্রাসোনোগ্রাফি) ভিন্ন ভিন্ন ইমেজিং কৌশল, যা এন্ডোস্কোপির মূল নীতির অংশ নয়, যদিও আল্ট্রাসাউন্ড এন্ডোস্কোপির সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
• ক্রেসকোগ্রাফ (Crescograph) একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক যন্ত্র, যার সাহায্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার নির্ণয় করা হয়। এই যন্ত্রটি উদ্ভিদের কাণ্ড বা মূলের দৈর্ঘ্যের অতি সূক্ষ্ম পরিবর্তনও বহুগুণ বাড়িয়ে দেখাতে সক্ষম। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধি কতটা হচ্ছে তা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যায়। বিখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু ক্রেসকোগ্রাফ উদ্ভাবন করেন উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবেশগত প্রভাব অধ্যয়নের জন্য। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর হলো গ) উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার।
• ক্রেসকোগ্রাফ:
- ক্রেসকোগ্রাফ ( Crescograph) একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বৈজ্ঞানিক যন্ত্র, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি বা অতি সূক্ষ্ম নড়াচড়া পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
• এই যুগান্তকারী যন্ত্রটি বিংশ শতকের গোড়ার দিকে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়।
- জগদীশচন্দ্র বসুর এই আবিষ্কার উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
- তিনি প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদও সজীব প্রাণীর মতোই সংবেদনশীল এবং বাহ্যিক উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে।
- আজও কলকাতার বসু বিজ্ঞান মন্দিরে (Bose Institute) ক্রেসকোগ্রাফের একটি মডেল সংরক্ষিত আছে, যা বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
- এটি শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং জগদীশচন্দ্র বসুর বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি, কৌতূহল এবং উদ্ভাবনী শক্তির সাক্ষ্য বহন করে।
তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা।
• অর্ধ-পরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor):
- আধুনিক জগৎ এবং আধুনিক সভ্যতা পুরোটাই ইলেকট্রনিকসের উপরে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এই ইলেকট্রনিকসের জন্য যদি কোনো এক ধরনের পদার্থের বলা হয় তাহলে সেইই পদার্থটি হবে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর।
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি।
- সিলিকন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর পদার্থ।
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুযায়ী, জারণ হলো এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো পরমাণু, আয়ন বা অণু এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ বা দান করে। ইলেকট্রন দান করার ফলে সংশ্লিষ্ট মৌল বা আয়নের ধনাত্মক চার্জ বৃদ্ধি পায় অথবা ঋণাত্মক চার্জ হ্রাস পায়।
রেডক্স বিক্রিয়া:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত।
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ।
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান বা বর্জন ঘটে।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে।
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
Albert Einstein’s theory of relativity is famous for predicting some really weird but true phenomena, like astronauts aging slower than people on Earth and solid objects changing their shapes at high speeds.
Source: nationalgeographic.com
সরল দোলন গতি:
- কম্পনশীল কোনো বস্তুকণার ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে কণাটির সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদাই সাম্যাবস্থান অভিমুখী হলে, ঐ কণার গতিকে সরল দোলন গতি বলা হয়।
অর্থাৎ, যদি কোনো পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তুর ত্বরণ তার সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী অর্থাৎ সর্বদা সাম্য বিন্দু অভিমুখী হয় তবে ঐ বস্তুর গতিকে সরল দোলন গতি বলে।
সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্য:
- সরল দোলন গতির কতগুলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে।
- এই বৈশিষ্ট্যসমূহ দিয়ে কোনো কণার গতি সরল দোলন গতি কিনা তা নির্ধারণ করা হয়।
- নিচে সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্যসমূহ দেয়া হলো-
১। সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। অর্থাৎ, কোনো বস্তুকণা একই সময়ে বারবার একটি নির্দিষ্ট সরলরেখাংশ বরাবর এদিক-ওদিক যাওয়া-আসা করে।
২। সরল দোলন গতি বিশিষ্ট কণার ত্বরণ সর্বদা তার সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয়।
৩। কণাটির ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক।
৪। কণাটি যে মুহূর্তে সাম্যাবস্থান অতিক্রম করে সেই মুহূর্তে গতিবেগ সর্বোচ্চ হয়। সরণের শেষ সীমায় গতিবেগ মুহূর্তের জন্য শূন্য হয় এবং তারপরেই কণাটি বিপরীত দিকে যাত্রা শুরু করে।
৫। সরল দোলন গতির পর্যায়কাল তার বিস্তারের উপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে বিস্তার হ্রাস পেতে থাকলেও পর্যায়কাল অপরিবর্তিত থাকে।
৬। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার স্পন্দন সীমা সাম্যাবস্থান থেকে উভয় দিকে সমান দূরে অবস্থান করে।
৭। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার সরণ সাইন বা কোসাইন অপেক্ষক দ্বারা প্রকাশ করা যায়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• মূল্যবান ধাতুর (যেমন: সোনা, রূপা, প্ল্যাটিনাম) বিশুদ্ধতা এবং ভেতরের উপাদানের অনুপাত নির্ণয় করার জন্য রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে (X-ray) ব্যবহার করা হয়।
- বিশেষ করে XRF (X-ray Fluorescence) নামক পদ্ধতিতে ধাতুর কোনো ক্ষতি না করেই তার রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
- আলফা, বিটা বা গামা রশ্মি এই কাজে ব্যবহৃত হয় না কারণ এদের ভেদন ক্ষমতা এবং আয়নন ক্ষমতা হয় খুব বেশি নতুবা খুব কম, যা নিখুঁত ও নিরাপদ বিশ্লেষণের জন্য উপযোগী নয়।
• এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার:
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো-
১। চিকিৎসা ক্ষেত্রে:
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত।
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়।
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না।
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়।
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে।
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়।
২। শিল্প ক্ষেত্রে:
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে ব্যবহৃত হয়।
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়।
৩. গোয়েন্দা বিভাগে:
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়।
- এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়।
৪। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে:
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• প্লবতা বল — কোনো বস্তু তরলে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে তরল বস্তুটির উপর উপরের দিকে যে বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বল বলা হয়।
• প্লবতা:
- কোনো বস্তু তরলে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে তরল তার উপর একটি ঊর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে।
- এই ঊর্ধ্বমুখী বলকে প্লবতা বা প্লবতা বল বলা হয়।
- প্লবতা বলের কারণে অনেক বস্তু পানিতে ভাসে।
- প্লবতা বলের মান নির্ভর করে অপসারিত তরলের ওজনের উপর।
• আর্কিমিডিসের নীতি:
- কোনো বস্তু তরলে নিমজ্জিত হলে বস্তুটি যতটুকু তরল অপসারণ করে, সেই অপসারিত তরলের ওজনের সমান ঊর্ধ্বমুখী বল বস্তুটির উপর ক্রিয়া করে।
- এই ঊর্ধ্বমুখী বলই প্লবতা বল।
- যদি প্লবতা বল বস্তুর ওজনের সমান হয়, তবে বস্তু ভাসবে।
- যদি প্লবতা বল বস্তুর ওজনের কম হয়, তবে বস্তু ডুবে যাবে।
- যদি প্লবতা বল বস্তুর ওজনের বেশি হয়, তবে বস্তু উপরের দিকে উঠবে।
• প্লবতার প্রয়োগ:
- জাহাজ পানিতে ভাসে প্লবতা বলের কারণে।
- সাবমেরিন প্লবতা নিয়ন্ত্রণ করে ডুবে ও ভাসে।
- হাইড্রোমিটার তরলের ঘনত্ব নির্ণয়ে প্লবতার নীতি ব্যবহার করে।
• সম্পর্কিত ধারণা:
- অভিকর্ষ বল বস্তুকে নিচের দিকে টানে।
- প্লবতা বল বস্তুকে উপরের দিকে ঠেলে দেয়।
- বস্তু ভাসবে কি ডুববে তা নির্ভর করে ঘনত্বের উপর।
- বস্তুর ঘনত্ব তরলের ঘনত্বের কম হলে বস্তু ভাসে।
- বস্তুর ঘনত্ব তরলের ঘনত্বের বেশি হলে বস্তু ডুবে যায়।
• অন্যান্য অপশন:
- অভিকর্ষ বল → পৃথিবীর আকর্ষণজনিত নিম্নমুখী বল।
- প্রতিক্রিয়া বল → স্পর্শের ফলে সৃষ্ট বিপরীতমুখী বল।
- ঘর্ষণ বল → সংস্পর্শে গতির প্রতিবন্ধক বল।
উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.
অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাচতন্তু।
আলোক রশ্মি বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
আলোক রশ্মি যখন এই কাচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে।
এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
বাস্তব গ্যাস (Real Gas):
- যে গ্যাসসমূহ সকল তাপমাত্রা ও চাপে বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, অ্যাভোগাড্রোর সূত্র তথা আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT কে মেনে চলে না তাদেরকে বাস্তব গ্যাস বলে।
- সংক্ষেপে বলা যায়, বাস্তবে যে গ্যাসগুলো পাওয়া যায় তাদেরকে বাস্তব গ্যাস বলে। H2, N2, O2, CO₂ প্রভৃতি গ্যাস বাস্তব গ্যাসের উদাহরণ।
- উচ্চতাপমাত্রা ও নিম্ন চাপে বাস্তব গ্যাস আদর্শ গ্যাসের ন্যায় আচরণ করে। কিন্তু বিপরীত শর্তে বিচ্যুতি বেশ দেখায়।
বাস্তব গ্যাসের নিচের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্তমান থাকে-
১. বাস্তব গ্যাসসমূহ যথাযথভাবে আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT মেনে চলে না।
২. বাস্তব গ্যাসের অণুসমূহের মধ্যে আকর্ষণ বল বা বিকর্ষণ বল বিদ্যমান।
৩. বাস্তব গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভরশীল।
৪. নিম্নচাপ যেমন 1 atm বা তার নিচের চাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রায় বাস্তব গ্যাসসমূহ মোটামুটিভাবে প্রায় আদর্শ গ্যাসের ন্যায় আচরণ করে থাকে।
৫. বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে গ্যাস অণুগুলোর মধ্যকার সংঘর্ষ স্থিতিস্থাপক হয় না। এ কারণে আন্ত সংঘর্ষজনিত কারণে তাপের পরিবর্তন ঘটে।
৬. বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে সংকোচনশীল গুনক, Z= PV/RT ≠1.
৭. গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল কার্যকরী হলেও অতি উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন চাপে এরা আদর্শ গ্যাসের মতো আচরণ করে।
তথ্যসূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন:
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান।
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষ্মায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে।
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।
কৃষিকাজে রসায়ন:
- কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), অ্যামোনিয়াম সালফেট ও জৈব সার ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিল্প কারখানায় প্রস্তুত করা হয়।
- তাছাড়া জীবাণুনাশক ও কীটনাশক যেমন এনড্রিন, ডায়াজিনন, ফুরাডন প্রভৃতিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়।
- কাঁচা ফল পাকাতে এবং শস্যকে সংরক্ষণ করার জন্যও রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।
শিল্পক্ষেত্রে রসায়ন:
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য সাবান, ডিটারজেন্ট, টুথপেস্ট, ম্যালামাইনের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক সামগ্রী, কৃত্রিম নাইলন, সিল্ক, রাবার, প্রসাধনী ইত্যাদি সকল কিছুই নানা প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়।
- ইস্পাত, কাগজ, চিনি, বস্ত্র, কাচ ও চামড়া ইত্যাদি সকল শিল্পেই রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে।
- তাছাড়া ব্যাটারি, পেট্রোল, কেরোসিন ও ডিজেল ইত্যাদি শক্তির উৎসগুলোও রসায়নের অবদান রয়েছে।
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
Active elements
একটি সার্কিটে শক্তি প্রবর্তন করতে পারে বা সার্কিটের মধ্যে শক্তি স্তর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তারা শক্তি বর্ধিত, উৎপন্ন বা সরবরাহ করতে পারে। উদাহরণ :
Voltage Sources: batteries, generators, or operational amplifiers (op-amps)
Current Sources: current generator.
Active Components: Semiconductor devices- transistors (in their active region), operational amplifiers, এবং integrated circuits (ICs) ইত্যাদি।
Passive elements
- শক্তি উৎপন্ন করে না বা এর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে না বরং শক্তি গ্রহণ করে, সঞ্চয় করে বা নষ্ট করে।
- উদাহরণ
Resistors
Capacitors
Inductors