বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৪১ / ৬৪ · ৪,০০১৪,১০০ / ৬,৪০৯

৪,০০১.
সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বে কী গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) হিলিয়াম
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
পূর্বে সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বে নাইট্রোজেন এবং টিউবলাইটে আর্গন গ্যাস ব্যবহৃত হতো।
তবে বর্তমানে উভয়ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসাবে আর্গন ব্যবহৃত হয়।

আর্গনের ব্যবহার:
১. বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
২. রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৩. ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪. তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।।

উল্লেখ্য, প্রশ্নের অপশনে আর্গন না থাকলে নাইট্রোজেন উত্তর হবে।

উৎস: রসায়ন বই, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০০২.
শুষ্ককোষের তড়িচ্চালক বল -
  1. ক) ১ ভোল্ট
  2. খ) ১.৫ ভোল্ট
  3. গ) ২ ভোল্ট
  4. ঘ) ২.৫ ভোল্ট
সঠিক উত্তর:
খ) ১.৫ ভোল্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১.৫ ভোল্ট
ব্যাখ্যা
• শুষ্ক কোষ (Dry Cell) কোষ মূলত লেকল্যান্স কোষের ভিন্ন সংস্করণ।
• লেকল্যান্স কোষের উপাদান দিয়ে এ কোষ গঠিত হয়।
• এ কোষে তরল NH4Cl এর পরিবর্তে NH4Cl এর পেষ্ট এবং পোলারক হিসাবে কঠিন MnO2 ব্যবহার করা হয়। 
• এ কোষের তড়িচ্চালক বল ১.৫ ভোল্ট ।

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০০৩.
ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করতে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. কার্বন-১৪ 
  2. ফসফরাস-৩২
  3. কোবাল্ট-৬০ 
  4. আয়োডিন-১৩১ 
সঠিক উত্তর:
কোবাল্ট-৬০ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোবাল্ট-৬০ 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন-
চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-৬০ (60Co) থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

খাদ্য দ্রব্য সংরক্ষণে: 
- বিভিন্ন কৃষিজাত ও অন্যান্য পচনশীল খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- খাদ্যদ্রব্য বেশি দিন ঘরে বা গুদামে রাখলে তা বিভিন্ন পোকামাকড় বা জীবাণুর আক্রমণে নষ্ট হতে পারে। 
- তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রয়োগ করলে এ সকল আক্রমণ থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা যায়। 
- কোবাল্ট-৬০ (60Co) থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা হয়।

অন্যদিকে,
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে ফসফরাস-৩২ (32P) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড এর গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০০৪.
একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে কী বলে? 
  1. ট্রানজিস্টর 
  2. ট্রান্সফরমার 
  3. রেকটিফায়ার 
  4. অ্যামপ্লিফায়ার 
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার 
ব্যাখ্যা

রেকটিফিকেশন: 
- যে প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে। 
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেকটিফায়ার বলে। 
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না। 
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়।

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০০৫.
রংধনুতে হলুদ রঙের দুই পাশের সংলগ্ন রঙ দুইটি কি কি?
  1. নীল, কমলা
  2. সবুজ, লাল
  3. বেগুনি, নীল
  4. সবুজ, কমলা
সঠিক উত্তর:
সবুজ, কমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ, কমলা
ব্যাখ্যা

রংধনু: 
- রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে। 
- শুধু তা-ই নয়, যারা প্রিজমের অভাবে সাদা আলোকে তার রংগুলোতে ভাগ করে দেখতে পারেনি তারাও এই ব্যাপারটি রংধনুতেই ঘটতে দেখেছে। 
- বৃষ্টি হওয়ার পরপর যদি রোদ ওঠে, তাহলে রংধনু দেখা যায়, কারণ তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়। 
- এই আলোর রশ্মিগুলো দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (Band) তৈরি হয়। 

- সঠিক উত্তর: ঘ) সবুজ, কমলা। 

রংধনুর ৭টি রঙের ক্রম (বাইরে থেকে ভিতরে):
লাল (Red) - R
কমলা (Orange) - O
হলুদ (Yellow) - Y ← এটি আমাদের প্রশ্নের রঙ
সবুজ (Green) - G
নীল (Blue) - B
আসমানি (Indigo) - I
বেগুনি (Violet) - V
মনে রাখার কৌশল: VIBGYOR বা "বেনীআসহকলা" (বেগুনি-লাল-কমলা-হলুদ-নীল-আসমানি-বেগুনি)

হলুদ রঙের দুই পাশে:
উপরে (বাইরের দিকে): কমলা,
নিচে (ভিতরের দিকে): সবুজ,
সুতরাং, হলুদ রঙের দুই পাশের সংলগ্ন রঙ হলো সবুজ এবং কমলা।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০০৬.
নিচের তত্ত্বগুলো বিবেচনা করুন-
i. আলোর প্রতিফলন
ii. আলোর বিচ্ছুরণ
উপরের কোনটি রংধনু তৈরীর সাথে সম্পর্কযুক্ত?
  1. শুধু i
  2. শুধু ii
  3. i ও ii উভয়
  4. i ও ii কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
শুধু ii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধু ii
ব্যাখ্যা
- রংধনু তৈরির সাথে আলোর বিচ্ছুরণ সম্পর্কিত। 
- সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাঁচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাত রঙ বিশিষ্ট হয়। 
- প্রিজম থেকে নির্গত আলোকরশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি দেখা যায়। 
- আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী বলে। 
- কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। 
- বর্ণালীতে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০০৭.
কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো-
  1. শাজিমাটি
  2. চুনাপাথর
  3. জিপশাম
  4. বালি
সঠিক উত্তর:
বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালি
ব্যাখ্যা
কাঁচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হল বালি। 
- কাঁচ স্বচ্ছ পদার্থ এবং এটি স্বচ্ছ বলেই এর মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি ভেদ করে চলে যেতে পারে। 
- কাঁচ তৈরির প্রধান উপাদান হচ্ছে বালু এবং বালুর প্রধান উপাদান হলো সিলিকা অর্থাৎ সিলিকন-ডাই-অক্সাইড। 
- কাঁচ হচ্ছে মূলত সোডিয়াম সিলিকেট এবং ক্যালসিয়াম সিলিকেট এর মিশ্রণ। 
- রাসয়নিকভাবে কাঁচ একটি ক্ষারীয় দ্বি-লবণ। 
- সোডিয়াম সিলিকেট এবং ক্যালসিয়াম সিলিকেট এর মিশ্রণকে উত্তপ্ত করে সম্পূর্ণরূপে গলিয়ে শীতল করলে যে শক্ত, অনিয়তাকার স্বচ্ছ ও ভঙ্গুর কঠিন পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে কাঁচ বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০০৮.
pH স্কেলে pH মানের সীমা কোনটি?
  1. 7 থেকে 14
  2. 0 থেকে 14
  3. 1 থেকে 7
  4. 1 থেকে 14
সঠিক উত্তর:
0 থেকে 14
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0 থেকে 14
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্বক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০০৯.
লেন্সের ক্ষমতার একক কোনটি? 
  1. কিলোওয়াট-ঘণ্টা
  2. ওয়াট
  3. ডায়াপ্টার
  4. অশ্বক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
ডায়াপ্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াপ্টার
ব্যাখ্যা
লেন্স: 
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলা হয়। 
- লেন্স সাধারণত কাঁচের তৈরি হয়, এছাড়াও কোয়ার্টজ, স্বচ্ছ প্লাস্টিক দ্বারা লেন্স তেরি করা হয়। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। উত্তল লেন্স: 
- এই ধরনের লেন্সের মধ্য ভাগ মোটা ও প্রান্তদ্বয় সরু। 
- আলোক রশ্মি উত্তল লেন্সে আপতিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয়। 

২। অবতল লেন্স: 
- এই ধরনের লেন্সের মধ্যভাগ সরু ও প্রান্তদ্বয় মোটা। 
- আলোক রশ্মি অবতল লেন্সে আপতিত হলে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 

- লেন্সের ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- লেন্সের একক হচ্ছে ডায়াপ্টার (Diopter)। 
- একগুচ্ছ আলোক রশ্মিকে কোনো লেন্সের অভিসারী বা অপসারী গুচ্ছে পরিণত করার প্রবণতাকে লেন্সের ক্ষমতা বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০১০.
পেট্রোলিয়াম অর্থ হলো -
  1. ক) সৌর শক্তি
  2. খ) তেল
  3. গ) পেট্রোলের তেল
  4. ঘ) পাথরের তেল
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাথরের তেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাথরের তেল
ব্যাখ্যা
- খনিজ তেল হিসাবে আমরা পেট্রোল,ডিজেল,অকটেন নামসমূহের সাথে পরিচিত।
- না পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায় নানা রকম কৃত্রিম বস্তু ।
- ল্যাটিন ভাষায় পেট্রো শব্দের অর্থ পাথর এবং অলিয়াম শব্দের অর্থ তেল। সুতরাং পেট্রোলিয়াম হলো পাথরের তেল অর্থাৎ পাথরের মধ্যে সঞ্চিত তেল।

উৎসঃ ৯ম- দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪,০১১.
তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত যে রশ্মি ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে যায় তা মূলত কোন ধরনের রশ্মি?
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. আলফা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
আলফা রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলফা রশ্মি
ব্যাখ্যা

• তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত যে রশ্মি ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে যায়, তা মূলত আলফা রশ্মি (Alpha rays)। কারণ আলফা রশ্মি ধনাত্মক আধানযুক্ত কণা (He2+) দ্বারা গঠিত, তাই এটি ঋণাত্মক পাতের দিকে আকৃষ্ট হয়ে সেদিকেই বেঁকে যায়। অপরদিকে বিটা রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত (ইলেকট্রন) হওয়ায় ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে যায় এবং গামা রশ্মি আধান নিরপেক্ষ হওয়ায় ক্ষেত্রে বেঁকে যায় না।

তেজস্ক্রিয়তা: 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে কয়েক ধরণের রশ্মি নির্গত হয়। 
- যে রশ্মিটি ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ধনাত্মক আধান গ্রন্থ, তাকে আলফা কণিকা (α) বলে। 
- যে রশ্মিটি ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ, তাকে বিটা কণিকা (β) বলে। 
- যে রশ্মিটি কোনো দিকেই বিচ্যুত হয়নি সেটি তড়িৎ নিরপেক্ষ, তাকে গামা রশ্মি (γ) বলে। 

আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6×10-27 কেজি। 
২। আলফা কণিকা ধনাত্মক চার্জ বহন করে, এর পরিমাণ 3.2×10-19 কুলম্ব। 
৩। আলফা কণিকার শক্তি 1 MeV বা 1.6×10-13 J হতে 9 MeV বা 1.44×10-12 J পর্যন্ত হয়। 
৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। আলফা কণিকার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 
৬। আলফা কণিকা ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। আলফা কণিকা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
৮। জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০১২.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত? 
  1. 11
  2. 23
  3. 34
  4. 12
সঠিক উত্তর:
12
উত্তর
সঠিক উত্তর:
12
ব্যাখ্যা

ভরসংখ্যা (Mass Number): 
- কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ঐ পরমাণুর ভরসংখ্যা বলে। 
- ভরসংখ্যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- যেহেতু ভরসংখ্যা হলো প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বিয়োগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়।  যেমন- সোডিয়ামের (Na) ভরসংখ্যা হলো 23, এর প্রোটন সংখ্যা 11, ফলে এর নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে 23 - 11 = 12 । 
- কোনো পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা পরমাণুর প্রতীকের নিচে বাম পাশে লেখা হয়, পরমাণুর ভরসংখ্যা প্রতীকের বাম পাশে উপরের দিকে লেখা হয়।  যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর প্রতীক Na, এর পারমাণবিক সংখ্যা 11 এবং ভরসংখ্যা 23 । 
- এটাকে নিম্নোক্তভাবে প্রকাশ করা যায়- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০১৩.
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের অবস্থান পর্যায় সারণির কোন গ্রুপে?
  1. ১৮ তম গ্রুপে
  2. ১৭ তম গ্রুপে
  3. ১৬ তম গ্রুপে
  4. ১৫ তম গ্রুপে
সঠিক উত্তর:
১৮ তম গ্রুপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ তম গ্রুপে
ব্যাখ্যা
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির ১৮ নম্বর গ্রুপে বা শূন্য গ্রুপে নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের অবস্থান।
যেমন - হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)। 
- এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।
- আবার বায়ুতে এদের পরিমাণ খুবই কম (<1%); এ কারণে এদেরকে বিরল বা দুর্লভ গ্যাসও বলা হয়।
- এই গ্যাসগুলো খুব একটা ক্ষতিকরও নয়; তাই এদেরকে ‍উত্তম গ্যাসও বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
৪,০১৪.
কোন মৌলটির উপস্থিতি কয়লার মান নষ্ট করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. ফসফরাস
  3. সালফার
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা

• কয়লার মান নষ্টকারী মৌল (সালফার):
- কয়লায় সালফারের উপস্থিতি কয়লার গুণগত মান কমিয়ে দেয়।
- সালফারযুক্ত কয়লা জ্বালালে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস (SO2) উৎপন্ন হয়, যা পরিবেশ দূষণ ঘটায়।
- এই গ্যাস বায়ু দূষণ ও অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী।
- শিল্পকারখানায় সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার করলে যন্ত্রপাতিতে ক্ষয় (corrosion) দেখা যায়।
- তাই উচ্চ সালফারযুক্ত কয়লাকে নিম্নমানের কয়লা হিসেবে ধরা হয়।

• অন্যান্য মৌলগুলোর প্রভাব:
- নাইট্রোজেন সাধারণত কয়লার মান নষ্ট করার প্রধান কারণ নয়।
- ফসফরাস ধাতব শিল্পে ক্ষতিকর হলেও কয়লার প্রধান মাননষ্টকারী মৌল নয়।
- অক্সিজেন কয়লার দহন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, কিন্তু সরাসরি কয়লার মান নষ্ট করে না।

সুতরাং, কয়লার মান নষ্ট করার জন্য প্রধানত দায়ী মৌল হলো সালফার।  
সঠিক উত্তর: গ) সালফার। 

সূত্র - sciencedirect journal.

৪,০১৫.
ইলেকট্রনসমূহ নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে কতকগুলো অনুমোদিত কক্ষপথে আবর্তন করে- কে এই তত্ত্ব প্রদান করেন?
  1. ক) বোর
  2. খ) সক্রেটিস
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) ডাল্টন
সঠিক উত্তর:
ক) বোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বোর
ব্যাখ্যা
বোরের পরমাণু তত্ত্ব অনুসারে আমরা জানি যে, ইলেকট্রনসমূহ নিউক্লিয়াসকে কেন্দু করে কতকগুলো অনুমোদিত কক্ষপথে আবর্তন করে। এই কক্ষপথগুলোর ব্যাসার্ধ সুনির্দিষ্ট। এই কক্ষপথগুলোর সাথে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি জড়িত থাকে। পরমাণুর ইলেকট্রন যে কক্ষপথে আবর্তন করে সেই কক্ষপথের শক্তি ধারণ করে। ইলেকট্রনের কক্ষপথগুলোর শক্তিকে কতকগুলো সুনির্দিষ্ট শক্তিস্তর হিসেবে প্রকাশ করা হয়। এই গুলোকে ইলেকট্রনের শক্তিস্তর বলে।

সূত্র: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৪,০১৬.
BOD-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Basic Oxygen Demand
  2. Biological Oxygen Demand
  3. Biological Oxidation Demand
  4. Biochemical Oxygen Determination
সঠিক উত্তর:
Biological Oxygen Demand
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Biological Oxygen Demand
ব্যাখ্যা

BOD: 
- BOD এর পূর্ণরূপ হলো Biological Oxygen Demand
অর্থাৎ, BOD এর বাংলা অর্থ হলো জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। 
- এক লিটার পানিতে উপস্থিত পচনযোগ্য জৈব দূষককে ব্যাকটেরিয়ার মতো অণুজীব দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির BOD বলে। 
- কোনো পানির BOD এর মান যত বেশি হয় সে পানি তত বেশি দূষিত হয়। 

COD: 
- COD এর পূর্ণরূপ হলো Chemical Oxygen Demand. 
অর্থাৎ, COD এর বাংলা অর্থ হলো রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। 
- এক লিটার পানিতে উপস্থিত জৈব ও অজৈব দূষককে রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD বলে। 
- কোনো পানির COD এর মান যত বেশি হয় সে পানি তত বেশি দূষিত হয়। 

- BOD ও COD উভয়ই পানির দূষণ মাত্রা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো পানির COD এর মান BOD অপেক্ষা বেশি হয়। কেননা, পানিতে উপস্থিত শুধু জৈব বস্তুকে ভাঙতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ হলো BOD। অপরদিকে, সকল জৈব ও অজৈব দূষক তা অণুজীব দ্বারা পচনযোগ্য হোক বা না হোক তাদের রাসায়নিকভাবে সম্পূর্ণরূপে জারিত করতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD বলে। সুতরাং, একই পানির COD এর মান BOD অপেক্ষা বেশি হবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০১৭.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত হাইড্রোজেনের আইসোটোপ কয়টি?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. ছয়টি
  4. সাতটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
আইসোেটাপ (Isotopes): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি H পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০১৮.
২৫.২ জুল কত ক্যালরির সমতুল্য?
  1. ৪ ক্যালরি
  2. ৫ ক্যালরি
  3. ৬ ক্যালরি
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
৬ ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ক্যালরি
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 
তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
∴ ২৫.২ জুল = ২৫.২/৪.২ = ৬ ক্যালরির সমতুল্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০১৯.
কে পরমাণুর নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন?
  1. ক) থমসন
  2. খ) রাদারফোর্ড
  3. গ) চ্যাডউইক
  4. ঘ) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
খ) রাদারফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
- পরমাণু আবিষ্কার করেন ডেমোক্রিটাস
- পরমাণুর প্রোটন, নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন লর্ড রাদারফোর্ড।
- পরমাণুর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন জে. জে. থমস।।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান নিউট্রন আবিষ্কার করেন চ্যাডউইক।

-১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, এই তত্ত্ব ব্যবহার করে পরবর্তীতে পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছিলো।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০২০.
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল কোন বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে? 
  1. ইলেকট্রনের অস্তিত্ব
  2. প্রোটনের উপস্থিতি
  3. নিউক্লিয়াসের অস্তিত্ব প্রমাণ
  4. পরমাণুর বর্ণালী ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর বর্ণালী ব্যাখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর বর্ণালী ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- প্রস্তাবগুলো হলো- 
১। পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র থাকে এবং এটি পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর বহন করে যার নাম নিউক্লিয়াস কিন্তু আয়তন খুবই নগণ্য। 
২। নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে। পরমাণু মোট আধান নিরপেক্ষ, অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। 
৩। ইলেকট্রনের ঘূর্ণনকে সূর্যের চারপাশে গ্রহের ঘূর্ণনের সাথে তুলনা করা হয়। ইলেকট্রন ও নিউক্লিয়াসের মধ্যে কেন্দ্রমুখী ও কেন্দ্রবিমুখী বল সমান ও বিপরীতমুখী, যা ইলেকট্রনকে স্থিতিশীলভাবে আবর্তন করতে সাহায্য করে। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ- 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২। তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব অনুযায়ী, ঘূর্ণায়মান চার্জযুক্ত ইলেকট্রন অবিচ্ছিন্ন শক্তি বিকিরণ করবে। এভাবে শক্তি হারালে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে না। 
৩। ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্পর্কে কোনো ধারণা মডেলে নেই। 
৪। একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুর ক্ষেত্রে ইলেকট্রন কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ নেই। 
৫। পরমাণুর বর্ণালী সম্পর্কেও কোনো সঠিক ব্যাখ্যা এই মডেলটি দিতে পারেনি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০২১.
’ডলোরাইট' কোন ধরনের শিলা?
  1. রূপান্তরিত শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. পাললিক শিলা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয় শিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয় শিলা
ব্যাখ্যা

• আগ্নেয় শিলা:
-  
গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ব্যাসল্ট, পিউমিস, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিখ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:

- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০২২.
ডিসি মোটর এ Back emf সবোর্চ্চ হয় যখন-
  1. No load
  2. Full load
  3. Half full load
  4. None of the above
সঠিক উত্তর:
No load
উত্তর
সঠিক উত্তর:
No load
ব্যাখ্যা
- একটি ডিসি মোটরে ব্যাক ইলেক্ট্রোমোটিভ ফোর্স (EMF) সবচেয়ে বেশি হয় যখন মোটর কোন লোড ছাড়াই চলে।

- যখন একটি DC মোটর কোনো লোড ছাড়াই কাজ করে, মানে এটি কোনো বাহ্যিক লোড চালায় না, তখন আরমেচার ঘূর্ণনের কম বিরোধিতা অনুভব করে।
- অতএব, এটি তার সর্বোচ্চ গতিতে ঘোরাতে পারে, এই অবস্থার অধীনে সর্বোচ্চ ব্যাক EMF তৈরি করে।
৪,০২৩.
কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ হচ্ছে- 
  1. কপার সালফেট
  2. পটাশিয়াম নাইট্রেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. অ্যামোনিয়াম ফসফেট
সঠিক উত্তর:
কপার সালফেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপার সালফেট
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এই তুঁতে বা কপার সালফেট শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০২৪.
কোন দুইটি ধাতুর সংকরায়ণের মাধ্যমে ব্রোঞ্জ তৈরি করা হয়?
  1. ক) তামা ও দস্তা
  2. খ) দস্তা ও টিন
  3. গ) কপার ও টিন
  4. ঘ) কপার ও নিকেল
সঠিক উত্তর:
গ) কপার ও টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কপার ও টিন
ব্যাখ্যা
দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। যেমন:
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।

উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০২৫.
বিশুদ্ধ পানির pH মান কত? 
  1. 0
  2. 7
  3. 10
  4. 14
সঠিক উত্তর:
7
উত্তর
সঠিক উত্তর:
7
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো জলীয় দ্রবণের প্রকৃতি অম্লীয় নাকি ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ প্রকৃতির ইত্যাদি জানার জন্য pH একক ব্যবহার করা হয়। 
- কোনো দ্রবণের pH হলো ঐ দ্রবণে উপস্থিত হাইড্রোজেন আয়নের (H+) ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম। 
অর্থাৎ, pH = -log[H+
- বিশুদ্ধ পানির pH মান = 7 । 
- যদি বিশুদ্ধ পানিতে এসিড যোগ করা হয় এবং এসিড যোগের কারণে যদি H+ এর সংখ্যা 10 গুণ বেড়ে গিয়ে প্রতি লিটারে 10-6 মোল হয়, তাহলে দ্রবণের pH কমে যাবে।
• pH = -log[10-6] = 6
- H+ আয়নের ঘনমাত্রা যত বেশি হবে pH এর মান তত কমতে থাকবে। 

- যদি বিশুদ্ধ পানির মধ্যে ক্ষার যোগ করা হয় তবে ক্ষারের OH- বিশুদ্ধ পানির H+ এর সাথে বিক্রিয়া করে ঐ দ্রবণে বিশুদ্ধ পানির তুলনায় H+ এর সংখ্যা কমে যাবে।
যেমন: পানির মধ্যে ক্ষার যোগ করার কারণে যদি H+ এর সংখ্যা কমে গিয়ে প্রতি লিটারে 10-10 মোল হয় তাহলে তার pH হবে- 
• pH = -log[10-10] = 10 
- pH এর মান 7 থেকে বেড়ে যাবে, অর্থাৎ ক্ষারীয় দ্রবণের pH এর মান 7 থেকে বেশি। 
- pH এর মান 7 হওয়ার অর্থ এটি ক্ষারও নয় আবার এসিডও নয়, এটি নিরপেক্ষ দ্রবণ। 
- যদি কোনো দ্রবণের pH এর মান 7 থেকে কম হয় তাহলে সেই দ্রবণটি এসিডিক দ্রবণ এবং যদি কোনো দ্রবণের pH মান 7 থেকে বেশি হয় তবে সেই দ্রবণটি ক্ষারীয় দ্রবণ। 
- বাস্তব জীবনে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে pH এর মান 0 থেকে 14 পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০২৬.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ম্যানোমিটার 
  2. ক্রনোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অডিওমিটার 
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার 
ব্যাখ্যা

শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৪,০২৭.
লোহায় মরিচা ধরার জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. পানি
  2. অক্সিজেন
  3. কেরোসিন
  4. পানি ও অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
পানি ও অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের জন্য এক বা একাধিক বস্তু প্রত্যেকে তার নিজস্ব সত্তা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্ম বিশিষ্ট এক বা একাধিক নতুন বস্তুতে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
উদাহরণ: পানি এবং অক্সিজেনের সংযোগে লোহায় মরিচা ধরা, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে পানি তৈরি হওয়া, দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানো এগুলো রাসায়নিক পরিবর্তন। 

মরিচা: 
- আদ্র বাতাসের সংস্পর্শে বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে লোহার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় আয়রন অক্সাইডের একধরনের যৌগ। এই যৌগই মরিচা। 
- মরিচা সৃস্টিকে নিম্নরূপ সমীকরণের আকারে দেখানো সম্ভব - 
লোহার সামগ্রী + আর্দ্র বাতাস = আয়রন অক্সাইড বা মরিচা। 
- মরিচার সংকেত Fe2O3.nH2
- মরিচায় পানির অণুর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। 
এখানে, n এর মান 1, 2, 3 ইত্যাদি যে কোন পূর্ণ সংখ্যা হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ও রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০২৮.
প্রাকৃতিকভাবে গঠিত কার্বনের তিনটি আইসোটোপের ভর সংখ্যা-
  1. ১০, ১১, ১২
  2. ১১, ১২, ১৩
  3. ১২, ১৩, ১৪
  4. ১১, ১২, ১৪
সঠিক উত্তর:
১২, ১৩, ১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২, ১৩, ১৪
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার:

- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ।
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে।
- অর্থাৎ, কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়।
- কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যা মৌলটিকে অনন্য রূপে শনাক্ত করে।
- কিন্তু নীতিগতভাবে একটি মৌলের যে কোনো সংখ্যক নিউট্রন থাকতে পারে।
- মৌলের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের সংখ্যার সমষ্টি হলো এর ভরসংখ্যা।
- এ কারণেই কোনো মৌলের প্রত্যেকটি আইসোটোপের ভরসংখ্যা বিভিন্ন হয়।

• কার্বনের আইসোটোপ:

- কার্বনের তিনটি আইসোটোপ রয়েছে। 
- যাদের ভরসংখ্যা যথাক্রমে 12,13,14.
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6, অর্থাৎ প্রত্যেকটি কার্বন পরমাণুতে ছয়টি প্রোটন আছে, যার ফলে কার্বনের আইসোটোপগুলোতে যথাক্রমে 6, 7 এবং ৪ টি নিউট্রন রয়েছে।
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে 'পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্রধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০২৯.
কয়টি মৌলক উপাদান নিয়ে পরমাণু গঠিত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা

পরমাণু তিনটি মৌলিক উপাদান নিয়ে গঠিত।
যথা: ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন।

- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর একটি মূল কণিকা যার আধান ঋণাত্মক। ইলেক্ট্রনকে সর্ব প্রথম নাম করণ করেন স্টোনি। ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে স্যার জে. জে. থমসন সর্বপ্রথম ইলেকট্রনের অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন।

- প্রোটন ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট কণিকা যা নিউক্লিয়াসের মধ্যে থাকে। ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড প্রোটনের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন।

- ইলেকট্রন ও প্রোটনের ন্যায় নিউট্রনও একটি মৌলিক কণিকা তবে এটি আধানবিহীন। আধানবিহীন (neutral) হওয়ায় এর এই নাম দেয়া হয়েছে।


উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন পাঠ্যবই।

৪,০৩০.
অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে কী উৎপন্ন করে? 
  1. লবণ ও পানি
  2. পানি ও ক্ষার
  3. লবণ ও ক্ষারক
  4. অক্সিজেন ও লবণ
সঠিক উত্তর:
লবণ ও পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লবণ ও পানি
ব্যাখ্যা
লবণ (Salt): 
- অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে
- কোনো অ্যাসিডের হাইড্রোজেন কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের সাহায্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ উৎপন্ন করে।
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি লবণ।
- HCI অ্যাসিডের H পরমাণুকে সোডিয়াম (Na) ধাতুর প্রতিস্থাপনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক লবণ উৎপন্ন হয়েছে।

- এ ছাড়াও K2SO4, KNO3, CaCO3, NaHCO3, Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লবণ। 
- এই লবণগুলোর মধ্যে কোনটি অম্লীয়, আবার কোনো কোনটি ক্ষারীয়ও হতে পারে। 
i) পূর্ণ সরল লবণ: NaCl, KNO3, CaCO3
(ii) অম্লীয় বা আংশিক লবণ: Mg(HSO4)2, NaHCO3
(iii) ক্ষারকীয় লবণ: Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,০৩১.
লোহার কুরি তাপমাত্রা কত?
  1. ক) 7700℃
  2. খ) 770℃
  3. গ) 650℃
  4. ঘ) 6500℃
সঠিক উত্তর:
খ) 770℃
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 770℃
ব্যাখ্যা

- যে তাপমাত্রায় কোন একটি চুম্বকের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়, তাকে উক্ত চুম্বকের উপাদানের কুরি বিন্দু বলে।
- লোহার কুরি বিন্দু বা কুরি তাপমাত্রা ৭৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সূত্র: ১১-১২শ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান 

৪,০৩২.
সরল ছন্দিত গতিতে ত্বরণের মান কিসের সমানুপাতিক? 
  1. গতির
  2. সরণের
  3. বস্তুর ভরের
  4. সময়ের
সঠিক উত্তর:
সরণের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরণের
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৩৩.
হীরা অন্ধকারে চকচক করে কেন?
  1. ক) হীরায় তেজস্ক্রিয়তা বিদ্যমান তাই আলো বিচ্ছুরিত হয়
  2. খ) উচ্চ প্রতিসরাঙ্কের কারণে অভ্যন্তরীণভাবে আলোর প্রতিফলন ঘটে
  3. গ) হীরাতে রেডিয়াম থাকে বিধায় আলো বিচ্ছুরিত হয়
  4. ঘ) হীরার ধর্ম হলো আধারে আলো বিচ্ছুরিত করা
সঠিক উত্তর:
খ) উচ্চ প্রতিসরাঙ্কের কারণে অভ্যন্তরীণভাবে আলোর প্রতিফলন ঘটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উচ্চ প্রতিসরাঙ্কের কারণে অভ্যন্তরীণভাবে আলোর প্রতিফলন ঘটে
ব্যাখ্যা
• আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে আপতিত হয়, তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোকরশ্মি সম্পূর্ণভাবে ঘন মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এ ঘটনাকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।

আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দায়ী -
- হীরার ঔজ্জ্বল্যের জন্য,
- মরুভূমির মরিচীকার জন্য,
- পদ্ম পাত্র ওপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে তা চকচক করার জন্য

সূত্র: মাধমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৩৪.
ফায়ার এক্সটিংগুইশারে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) কার্বনডাই অক্সাইড
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) আর্গন
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বনডাই অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বনডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা
অগ্নি নির্বাপনের জন্য মূলত চার ধরনের এক্সটিংগুইসার ব্যবহার হয়ে থাকে।
১. ওয়াটার টাইপ এক্সটিংগুইসার
2. ফোম টাইপ এক্সটিংগুইসার
3. গ্যাস টাইপ এক্সটিংগুইসার
4. পাউডার টাইপ এক্সটিংগুইসার

তার মধ্যে গ্যাস টাইপ এক্সটিংগুইসারে কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
৪,০৩৫.
ট্রানজিস্টর কয় ধরনের?
  1. তিন ধরনের
  2. দুই ধরনের
  3. পাঁচ ধরনের
  4. চার ধরনের
সঠিক উত্তর:
দুই ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই ধরনের
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যে দিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
- মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয় যা অ্যামপ্লিফায়ার নামে পরিচিত। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৩৬.
নিচের কোনটি মৌলিক বল নয়?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  3. সান্দ্র বল
  4. তাড়িৎ চৌম্বক বল
সঠিক উত্তর:
সান্দ্র বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সান্দ্র বল
ব্যাখ্যা

মৌলিক বল হলো ৪ ধরনের, যেমন- মহাকর্ষ বল, দুর্বল নিউক্লিয় বল, সবল নিইক্লিয় বল, তাড়িৎ চৌম্বক বল।
মহাবিশ্বে আমরা যত ধরনের বলই দেখি না কেনো- সবই বিভিন্ন মৌলিক বলের প্রকারভেদ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪,০৩৭.
'ডুরালুমিন' সংকর ধাতুতে কোন উপাদান সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে?
  1. ম্যাঙ্গানিজ
  2. ক্রোমিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
- 'ডুরালুমিন' সংকর ধাতুতে "অ্যালুমিনিয়াম" উপাদান সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে, যা শতকরা ৯৫ ভাগ। 

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৩৮.
কোন খনিজটি কেবল একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত? 
  1. ডলোমাইট
  2. জিপসাম
  3. সোনা
  4. বক্সাইট
সঠিক উত্তর:
সোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনা
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ: 
- মানুষ ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠ হতে যেসব বস্তু সংগ্রহ করে নিজের চাহিদা পূরণ করে তাকে খনিজ সম্পদ বলে। 
- ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, 'প্রকৃতিপ্রদ ও অজৈব কঠিন পদার্থ, যাদের মধ্যে কতিপয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং নির্দিষ্ট রাসায়নিক সংযুক্তি থাকে তাদেরকেই খনিজ পদার্থ বলে'। 
- কোনো কোনো খনিজ কেবল একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত। 
যেমন- সোনা, রূপা, হীরা ইত্যাদি। 
- কিন্তু বেশিরভাগ খনিজ দুই বা তার বেশি মৌলিক উপাদানের রাসায়নিক যৌগের ফলে বা সংমিশ্রণে গঠিত হয়।
- সাধারণত দু'ভাবে খনিজের শ্রেণিবিভাগ করা যায়।
যেমন- 
১। উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- কোন বস্তু থেকে খনিজের উদ্ভব ঘটেছে তার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর যাবতীয় খনিজ দ্রব্যকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) জৈব খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি। 
(খ) অজৈব খনিজ: লোহা, নিকেল, সীসা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, জিপসাম প্রভৃতি। 

২। প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে খনিজ দ্রব্যগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) ধাতব খনিজ: 
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- লৌহ আকরিক। 
- অলৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- তামা, টিন, বক্সাইট, সোনা, রূপা, দস্তা ইত্যাদি। 
- লৌহ সঙ্কর ধাতব খনিজ, যথা- ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল। 

(খ) অধাতব খনিজ: 
- রাসায়নিক অধাতব খনিজ, যথা- গন্ধক, লবণ, পটাস, ডলোমাইট। 
- সড়ক ও গৃহনির্মাণের অধাতব খনিজ, যথা- চুন, চুনাপাথর, মার্বেল। 
- অন্যান্য অধাতব খনিজ, যথা- অভ্র, চীনামাটি, গ্রাফাইট। 

(গ) জ্বালানি খনিজ: 
- কঠিন জ্বালানি খনিজ, যথা- কয়লা। 
- তরল জ্বালানি খনিজ, যথা- খনিজ তেল। 
- গ্যাসীয় জ্বালানি খনিজ, যথা- প্রাকৃতিক গ্যাস। 
- পারমাণবিক জ্বালানি খনিজ, যথা- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৪,০৩৯.
কঠিন বস্তুতে কোন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
পরিবহন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবহন
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে। তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়। যথা-
১. পরিবহন:
- যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না, শুধুমাত্র অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে।
- এভাবেই পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশের দিকে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলা হয়।
- কঠিন বস্তুতে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

২. পরিচলন:
- কোনো পদার্থের অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশের দিকে অণুগুলি চলাচলের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটায় এই পদ্ধতিকেই পরিচলন পদ্ধতি বলা হয়।
- তরল এবং বাষ্পীয় পদার্থের মধ্যে তাপ পরিচলন পদ্ধতির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

৩. বিকিরণ:
- সূর্য থেকে আমরা তাপ পাই।
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5×108 কি.মি। এর প্রায় পুরোটাই শূন্য, কোনো জড় মাধ্যম নেই।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে।
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গাকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৪০.
ক্ষতিকারক গ্যাস 'সিএফসি' এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) ডাই ক্লোরো ডাই ফ্লোরো কার্বন
  2. খ) ক্লোরোফ্লোরো ইথেন
  3. গ) ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  4. ঘ) ক্লোরোফ্লোরো মিথেন
সঠিক উত্তর:
গ) ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
ব্যাখ্যা
সিএফসি 
- সিএফসি এর পূর্ণরূপ হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।
- সিএফসি হলো ওজনস্তররের ক্ষতি সাধনকারী কতগুলো গ্যাস।
- এগুলোর মধ্যে রয়েছে- কার্বন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, মিথেন, ফ্রেয়ন ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে ক্লোরিন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।
- গন্ধহীন, অদাহ্য, অবিষাক্ত এবং নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট এসব যৌগের বাণিজ্যিক নাম ফ্রেয়ন।

সিএফসি'র ক্ষতিকর দিকসমূহ-
১. প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। 
২. ত্বকের ক্যান্সার, চোখের ছানি এবং বিভিন্ন মারাত্মক রোগ সৃষ্টি। 
৩. খাদ্যশস্যের ক্ষতি করে এবং উৎপাদন কমিয়ে দেয়। 
৪. কৃষিক্ষেত্রে পোকামাকড়ের আক্রমণ বৃদ্ধি করে। 
৫. খাদ্য উৎপাদনকারী শৈবাল ও প্লাঙ্ককটন ধ্বংস করে।

সিএফসি এর ব্যবহারের দিকসমূহ
১। কীটনাশক ও পােকামাকড় দমনের জন্য বিষাক্ত দ্রবণ তৈরিতে দ্রাবক হিসাবে CFC ব্যবহার করা হয়।
২। শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ইনহেলার, মেডিক্যাল স্প্রে-প্রভূতি ক্ষেত্রে CFC ব্যবহার করা হয়।
৪। সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে CFC ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: American Chemical Society এবং দ্য ওজনহোল ওয়েবসাইট
৪,০৪১.
ইলেকট্রোস্কোপ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়? 
  1. তাপমাত্রা মাপার জন্য
  2. চুম্বকত্ব যাচাইয়ের জন্য
  3. স্থির বিদ্যুৎ পরীক্ষার জন্য
  4. চলমান তড়িৎ পরিমাপের জন্য
সঠিক উত্তর:
স্থির বিদ্যুৎ পরীক্ষার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থির বিদ্যুৎ পরীক্ষার জন্য
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রোস্কোপ: 
- ইলেকট্রোস্কোপ স্থির বিদ্যুৎ পরীক্ষার জন্য খুব চমৎকার একটা যন্ত্র। 
- যন্ত্রটা খুবই সহজ, এখানে চার্জের অস্তিত্ব বোঝার জন্য রয়েছে খুবই হালকা সোনা, অ্যালুমিনিয়াম বা অন্য কোনো ধাতুর দুটি পাত। 
- এই পাত দুটো একটা সুপরিবাহী দণ্ড দিয়ে একটা ধাতব চাকতির সাথে লাগানো থাকে, পুরোটা একটা অপরিবাহী ছিপি দিয়ে কাচের বোতলের ভেতর রাখা হয়, যেন বাইরে থেকে দেখা যায় কিন্তু বাতাস বা অন্য কিছু যেন পাতলা ধাতব পাত দুটোকে নাড়াচাড়া করতে না পারে। 

চার্জ আহিতকরণ: 
- একটা কাচের টুকরোকে সিল্ক দিয়ে ঘষা হলে কাচ দণ্ডটাতে পজিটিভ চার্জ জমা হবে। 
- এখন কাচ দণ্ডটা যদি ইলেকট্রোস্কোপের ধাতব চাকতিতে ছোঁয়ানো যায় তাহলে সাথে সাথে খানিকটা চার্জ চাকতিতে চলে যাবে। 
- চাকতি যেহেতু ধাতব দণ্ড আর সোনার পাতের সাথে লাগানো আছে, তাই চার্জটুকু সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। 
- সোনার পাতে যখন একই পজিটিভ চার্জ এসে হাজির হবে আর তখন দেখা যাবে পাত দুটো বিকর্ষণ করে তাদের মাঝে একটা ফাঁক তৈরি হয়েছে। 
- ঠিক একইভাবে একটা চিরুনিকে যদি ফ্লানেল দিয়ে ঘষা হয় তাহলে চিরুনিটাতে নেগেটিভ চার্জ জমা হবে, এখন সেটা যদি চাকতিতে স্পর্শ করা হয় তাহলে নেগেটিভ চার্জ সোনার পাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে এবং দুটো পাত একটা আরেকটাকে বিকর্ষণ করে ফাঁক হয়ে যাবে। 

চার্জের প্রকৃতি বের করা: 
- কোনো একটা বস্তুতে যদি চার্জ জমা হয় তাহলে সেটা কি পজিটিভ নাকি নেগেটিভ চার্জ সেটা ইলেকট্রোস্কোপ দিয়ে বের করা যায়। প্রথমে ইলেকট্রোস্কোপের চাকতিতে পরিচিত কোনো চার্জ দিতে হবে। 

চার্জের আবেশ: 
- কোনো একটা বস্তুতে চার্জ আছে কি না সেটা চাকতিকে স্পর্শ না করেই বোঝা সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৪২.
তড়িৎ প্রলেপন প্রক্রিয়ায় ধাতুর প্রলেপ কোথায় পড়ে? 
  1. অ্যানোডে 
  2. ক্যাথোডে 
  3. ব্যাটারিতে 
  4. ইলেকট্রোলাইটে 
সঠিক উত্তর:
ক্যাথোডে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাথোডে 
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রলেপন (Electroplating): 
- তড়িৎ বিশ্লেষণ করে একটি ধাতুর ওপর অন্য কোনো ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে তড়িৎ প্রলেপন বা ইলেকট্রোপ্লেটিং বলে। 
- সাধারণত কোনো কম দামি ধাতু (যেমন- তামা, লোহা, ব্রোঞ্জ ইত্যাদি) দিয়ে তৈরি জিনিসকে জলবায়ু থেকে রক্ষা করার জন্য কিংবা সুন্দর দেখানোর জন্য সেগুলোর ওপর সোনা, রুপা, নিকেল এরকম মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
- যে ধাতব বস্তুটিকে প্রলেপ দিতে হবে, সেটি খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে একটি পাত্রে রাখতে হবে। এটি হবে ক্যাথোড ইলেকট্রোড।
- যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে অ্যানোড করা হয়।
- তড়িৎ দ্রব হিসেবে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে, তার কোনো একটি লবণের দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।
- ব্যাটারি বা পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করে অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে ধাতুর তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে রাখা ধাতব বস্তুর ওপর ধাতুর প্রলেপ পড়ে


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৪৩.
STP পদ্ধতিতে তাপমাত্রা কত ধরা হয়?
  1. 0° C
  2. 25° C
  3. 298 K
  4. - 298° C
সঠিক উত্তর:
0° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0° C
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে গ্যাসের মোলার আয়তন প্রকাশের দুটি পদ্ধতি আছে।
যেমন-

(১) STP পদ্ধতি:
- STP এর পুরো নাম Standard Temperature and Pressure.
- STP পদ্ধতিতে তাপমাত্রা 0°C বা 273 K ও চাপ 1 atm বা 101.325 kPa ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন হয়, Vm = 22.414 Lmol-1

(২) SATP পদ্ধতি: 
- SATP এর পুরো নাম Standard Ambient Temperature and Pressure.
- এ পদ্ধতিতে তাপমাত্রা 25°C বা 298K ও চাপ 100 kPa (কিলো প্যাসকেল) ধরা হয়।
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন, V = 24.789 Lmol-1

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।
৪,০৪৪.
ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যার জন্য নোবেল পুরষ্কার পান কে?
  1. ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
  4. রজার পেনরোজ
সঠিক উত্তর:
আলবার্ট আইনস্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
• কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয় একে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া বলে।
১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। এই জন্য তিনি ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

• কার্ল আর্নস্ট লুডভিগ ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক জার্মান তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন, কোয়ান্টাম তত্ত্বের কারণে ১৯১৮ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।

• ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী রজার পেনরোজ আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে প্রমাণ করেছিলেন যে, মুমুর্ষ তারা থেকে ব্ল্যাক হোল গঠন সম্ভব। তার স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি ২০২০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান।

• ডাচ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ এবং পদার্থবিদ - ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস, যিনি আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, শনি গ্রহের রিংগুলির প্রকৃত আকৃতি আবিষ্কার করেছিলেন এবং গতিবিদ্যা বিজ্ঞানে মূল অবদান রেখেছিলেন।

উৎস: nobelprize.org, ব্রিটানিকা ও উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,০৪৫.
অপটিক্যাল ফাইবার হলো -
  1. সরু ধাতব তার
  2. খুব সরু কাঁচতন্তু
  3. সূক্ষ্ম প্লাস্টিক নল
  4. খুব সরু ফাইবার নল
সঠিক উত্তর:
খুব সরু কাঁচতন্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুব সরু কাঁচতন্তু
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু, এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে আলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- এই সংকেত অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪,০৪৬.
একটি 3-phase সিস্টেমে সংযুক্ত লোডগুলো ব্যালেন্স হবে যদি ___ একই হয়।
  1. Impedance
  2. Power factor
  3. Inpedance and Power factor
  4. Current
সঠিক উত্তর:
Inpedance and Power factor
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Inpedance and Power factor
ব্যাখ্যা
একটি 3-ফেজ সিস্টেম ব্যালেন্সড হিসাবে বিবেচিত হয় যখন নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ করা হয়:

- ফেজ ভোল্টেজ: প্রতিটি ফেজে ভোল্টেজের মাত্রা সমান।
- Phase Angles 120 ডিগ্রি আলাদা। 
- সমান লোড প্রতিটি ফেজ জুড়ে সংযুক্ত করা হয়। 
৪,০৪৭.
কোন প্রক্রিয়ার প্রতি স্তরে তাপ ও কাজের ফলাফল সমান ও বিপরীত হয়?
  1. ক) রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
  2. খ) প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
  3. গ) শীতলীকরণ প্রক্রিয়া
  4. ঘ) অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া : যে প্রক্রিয়া বিপরীতমুখী হয়ে প্রত্যাবর্তন করে এবং সম্মুখবর্তী ও বিপরীতমুখী প্রক্রিয়ার প্রতি স্তরে তাপ
ও কাজের ফলাফল সমান ও বিপরীত হয়, সে প্রক্রিয়াকে প্রত্যাবর্তী বা প্রত্যাগামী প্রক্রিয়া বলে।

ধরি, কোনো একটি সিস্টেম এক পরিবেশে এক অবস্থা থেকে পরিবর্তিত হয়ে অন্য অবস্থায় যাওয়ার সময় সিস্টেমটি কিছু
তাপ শোষণ করে এবং কিছু কাজ সম্পাদন করে। ধরি, এ প্রক্রিয়াটি সম্মুখবর্তী প্রক্রিয়া। সিস্টেমটি এখন যদি একই
পরিবেশে বিপরীতমুখী প্রক্রিয়ার প্রাথমিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সময় একই পরিমাণ তাপ হারায় এবং সিস্টেমটির ওপর
বাহির হতে যদি একই পরিমাণ কাজ করা হয়, তাহলে এ সমগ্র প্রক্রিয়াটিকে প্রত্যাগামী প্রক্রিয়া হিসেবে ধরা যায়।

উদাহরণ: আমরা জানি, বরফ তাপ শোষণ করে পানিতে পরিণত হয়। এখন যদি সেই পানি থেকে সমপরিমাণ তাপ
অপসারণ করে সমআয়তনের বরফ পাওয়া যায়, তবে এটি প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।

উৎস: এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৪৮.
কোন পদার্থটি বায়োলজি ল্যাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়?
  1. টলুইন
  2. ফরমালিন
  3. গ্লুটারাল্ডিহাইড
  4. গ্লিসারিন
সঠিক উত্তর:
ফরমালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরমালিন
ব্যাখ্যা

• বায়োলজি ল্যাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণের জন্য সাধারণত ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। ফরমালিন মূলত পানিতে দ্রবীভূত ফরমালডিহাইড, যা জীবন্ত কোষ ও টিস্যুর প্রোটিনকে কঠিন করে দেয় এবং জীবাণু নিধন করে। এর ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণীর নমুনাগুলি দীর্ঘ সময় ধরে পচনরোধী অবস্থায় রাখা যায়। ফরমালিন নমুনার আকার, রঙ এবং কাঠামো বেশি পরিবর্তন না করে সংরক্ষণ করে, যা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্য বিকল্প যেমন টলুইন, গ্লুটারাল্ডিহাইড বা গ্লিসারিনও ব্যবহৃত হয়, তবে প্রধান ও প্রচলিত সংরক্ষক হিসেবে ফরমালিনই সর্বাধিক কার্যকর এবং জনপ্রিয়। এটি বায়োলজি ল্যাবে নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে।
 
• উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত পদার্থ (Preservative in Biology Lab):
- বায়োলজি ল্যাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণ করার জন্য একটি রসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় যা পচন রোধ করে।
- এটি কোষ এবং টিস্যুর কাঠামো দীর্ঘ সময় ধরে অপরিবর্তিত রাখে।
- সাধারণত ব্যবহৃত কিছু সংরক্ষণকারী পদার্থ হলো: টলুইন, ফরমালিন, গ্লুটারাল্ডিহাইড, এবং গ্লিসারিন। 
- তবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণের জন্য সবচেয়ে সাধারণ এবং কার্যকরী পদার্থ হলো ফরমালিন।  
- ফরমালিন হলো ৩-৪% ফর্মালডিহাইড সমাধান যা জীবদেহের প্রোটিনকে স্থিতিশীল করে এবং পচন প্রক্রিয়া রোধ করে।  
- টলুইন মূলত রঙিন পদার্থের জন্য, গ্লুটারাল্ডিহাইড মাইক্রোবায়োলজি বা টিস্যু ফিক্সেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং গ্লিসারিন শোষণীয় বা আর্দ্রতা রোধে ব্যবহৃত হয়, সরাসরি সংরক্ষণের জন্য নয়।  

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

৪,০৪৯.
"স্থির তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক।" - সূত্রটি কার?
  1. রবার্ট বয়েল
  2. জ্যাকুইস চার্লস
  3. গে লুসাক
  4. চার্লস বয়েল
সঠিক উত্তর:
রবার্ট বয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট বয়েল
ব্যাখ্যা
• গ্যাস সূত্রাবলি (Gas laws):
- একই পরিমাণ গ্যাস একটি ছোট পাত্র থেকে বড় পাত্রে রাখলে গ্যাসের আয়তন বেড়ে যায়।
- তবে এক্ষেত্রে পাত্রের গায়ে গ্যাসের চাপ কমে যায়।
- এ থেকে বুঝা যায় গ্যাসের আয়তন বৃদ্ধির সাথে চাপ এবং তাপ দুটিরই সম্পর্ক আছে।
- অথবা বলা যায় যে আয়তন, চাপ ও তাপমাত্রা তিনটি রাশি বা চলক এক সাথে গ্যাসের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- এই তিনটি চলকের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে তিনটি সূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এগুলো গ্যাস সূত্রাবলি নামে পরিচিত।

• সূত্রগুলো নিচে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করা হলো।

• প্রথম সূত্র (বয়েলের সূত্র):
- ১৬৬২ সালে রবার্ট বয়েল এই সূত্রটি উপস্থাপন করেন। তাই এটি বয়েলের সূত্র বলে পরিচিত।
- সূত্রটি হলো, তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোনো নিদিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার চাপের ব্যস্তানুপাতিক।

• দ্বিতীয় সূত্র (চার্লসের সূত্র):
- ১৭৮৭ সালে জ্যাকুইস চার্লস এই সূত্রটি উপস্থাপন করেন। তাই এটি চার্লসের সূত্র নামে পরিচিত।
- সূত্রটি হলো, চাপ স্থির থাকলে কোনো নিদিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বৃদ্ধির বা হ্রাসের জন্য শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0° C) তাপমাত্রায় ঐ গ্যাসের আয়তনের 1/273 অংশ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।

• তৃতীয় সূত্র (গ্যাসের চাপীয় সূত্র বা গে লুসাকের সূত্র):
- ১৮০২ সালে জোসেফ গে লুসাক স্থির আয়তনের গ্যাসের তাপমাত্রার সাথে চাপের সম্পর্কটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এটি গ্যাসীয় পদার্থের চাপীয় সূত্র নামে পরিচিত। এই সূত্রটি উপস্থাপন করেন গে লুসাক। তাই এটি গে লুসাকের সূত্র নামেও পরিচিত।
- সূত্রটি হলো, স্থির আয়তনের কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের চাপ প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসের জন্য জন্য শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0° C) তাপমাত্রায় ঐ গ্যাসের চাপের 1/273 অংশ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৫০.
নিচের কোনটি ধাতু?
  1. ফসফরাস
  2. টিন
  3. আয়োডিন
  4. কার্বনেট
সঠিক উত্তর:
টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিন
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, কপার/তামা, রূপা, সোনা, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, লৌহ, দস্তা, টিন, সীসা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি হলো ধাতু।
- হাইড্রোজেন, ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, অক্সিজেন, সালফার, কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস ইত্যাদি হলো অধাতু।
- অ্যামোনিয়াম, হাইড্রোক্সিল, নাইট্রাইট, নাইট্রেট, কার্বনেট, সালফেট, ফসফেট ইত্যাদি হলো যৌগমূলক।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৪,০৫১.
শব্দের তীব্রতা কত ডেসিবেল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়?
  1. ক) ৮৫ ডিবি
  2. খ) ১২০ ডিবি
  3. গ) ৪৫ ডিবি
  4. ঘ) ৬০ ডিবি
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০ ডিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০ ডিবি
ব্যাখ্যা
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপের একক ডেসিবেল (ডিবি)।
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডিবি হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৮৫ ডিবিতে শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং
- মাত্রা ১২০ ডিবি হলে কানে ব্যথা শুরু হয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,০৫২.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে বলের মান কিসের উপর নির্ভর করে? 
  1. কণাদ্বয়ের আকার ও রঙ
  2. কণাদ্বয়ের আয়তন ও তাপমাত্রা
  3. কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
  4. মাধ্যমের ধরন ও তড়িৎ প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪,০৫৩.
কার আবিষ্কার বল ও গতিবিদ্যার ভিত্তি তৈরি করে দেয়?
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) কোপার্নিকাস
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) অটোহান
সঠিক উত্তর:
গ) নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিউটন
ব্যাখ্যা
1687 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী নিউটন বলবিদ্যার তিনটি এবং মহাকর্ষ বলের সূত্র প্রকাশ করেন, যেটি বল ও গতিবিদ্যার ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
আলােকবিজ্ঞান এবং অন্য আরাে কাজের সাথে সাথে বিজ্ঞানী নিউটন লিবনিজের সাথে গণিতের নতুন একটি শাখা ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছিলেন।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪,০৫৪.
তরল পদার্থ মাপার যন্ত্রের নাম কি?
  1. ক) হাইড্রোমিটার
  2. খ) ব্যারোমিটার
  3. গ) থার্মোমিটার
  4. ঘ) ফেরোমিটার
সঠিক উত্তর:
ক) হাইড্রোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাইড্রোমিটার
ব্যাখ্যা

হাইড্রোমিটার(hydrometer) - তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব বা ঘনত্ব
অ্যাটমোমিটার(atmometer) - বাষ্পীভবনের হার 
অডিওমিটার(audiometer) - শ্রাব্যতা
ব্যারোমিটার(barometer) - বায়ুচাপ 
বলোমিটার(bolometer) - তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ
ক্যালোরিমিটার(calorimeter) - রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিক্রিয়া তাপ
ক্রোনোমিটার(chronometer) - সময়
গ্যালভানোমিটার(galvanometer) - বিদ্যুৎ
হাইগ্রোমিটার(hygrometer) - আর্দ্রতা
ল্যাক্টোমিটার(lactometer) - দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব বা ঘনত্ব
পাইরোমিটার(pyrometer) - উচ্চ তাপমাত্রা
স্পিডোমিটার(speedometer) - ধাবমান বস্তুর গতি, বেগ
স্ফিগোমোম্যানোমিটার(sphygmomanometer) - রক্ত চাপ

৪,০৫৫.
নিচের কোনটি মৌলিক বল নয়?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. স্থিতিস্থাপক বল
  3. সবল নিউক্লিয় বল
  4. তড়িৎ চৌম্বকীয় বল
সঠিক উত্তর:
স্থিতিস্থাপক বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতিস্থাপক বল
ব্যাখ্যা

• স্থিতিস্থাপক বল কোনো মৌলিক বল নয়। এটি মূলত পদার্থের অভ্যন্তরে অণু-পরমাণুর মধ্যকার তড়িৎ চৌম্বকীয় বলের একটি সামষ্টিক রূপ যা বস্তুর বিকৃতিকে বাধা দেয়।

• মৌলিক বল:
- যা কোন স্থির বস্তুতে প্রয়োগ করলে তা গতিশীল হয় বা কোন গতিশীল বস্তুর উপর প্রয়োগ করলে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে।
- প্রকৃতিতে ৪টি বল আছে যাদের অন্য কোন বলে বিশ্লেষণ করা যায় না তাদেরকে মৌলিক বল বলে। যথা-

১. মহাকর্ষ বল,
২. তড়িৎ চৌম্বকীয় বল,
৩. সবল নিউক্লিয় বল এবং
৪. দূর্বল নিউক্লিয় বল।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।

৪,০৫৬.
ফিটকিরি কত অণু কেলাস পানি ধারণ করে?
  1. 10
  2. 12
  3. 24
  4. 18
সঠিক উত্তর:
24
উত্তর
সঠিক উত্তর:
24
ব্যাখ্যা
ফিটকিরি অথবা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৫৭.
অম্লের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সত্য নয়?
  1. ক) লিটমাসকে নীল করে
  2. খ) টক স্বাদ যুক্ত
  3. গ) ক্ষয়কারী পদার্থ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) লিটমাসকে নীল করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লিটমাসকে নীল করে
ব্যাখ্যা
সকল লঘু এসিড টক স্বাদযুক্ত, এসিডগুলো ক্ষয়কারী পদার্থ হিসাবে পরিচিত, এসিড নীল বর্ণের লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে, এসিড সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে সংশ্লিষ্ট ধাতুটির লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে, লঘু এসিড ধাতব কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৪,০৫৮.
দৈর্ঘ্যের আপেক্ষিকতা সম্পর্কে সঠিক বিবৃতি কী?
  1. দৈর্ঘ্যের পরিমাপ আপেক্ষিক কাঠামোর গতির উপর নির্ভরশীল
  2. দৈর্ঘ্য পরম রাশি
  3. দৈর্ঘ্য সকল কাঠামোতে সমান থাকে
  4. উপরের সবগুলোই সঠিক বিবৃতি 
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্যের পরিমাপ আপেক্ষিক কাঠামোর গতির উপর নির্ভরশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্যের পরিমাপ আপেক্ষিক কাঠামোর গতির উপর নির্ভরশীল
ব্যাখ্যা

- লরেঞ্জ রূপান্তর বিধি অনুসারে, স্থানাঙ্ক এবং সময়াঙ্ক জড় কাঠামোর আপেক্ষিক বেগের উপর নির্ভরশীল। 
- সুতরাং দৈর্ঘ্য এবং সময় পরম হতে পারে না। 
- দৈর্ঘ্য ও সময়ের আপেক্ষিকতার বিষয়গুলো আইনস্টইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায়। 

দৈর্ঘ্যের আপেক্ষিকতা: 
- কোনো বস্তুর দৈর্ঘ্যের পরিমাপ সকল কাঠামোতে সমান নয় অর্থাৎ দৈর্ঘ্যের পরিমাপ পরম নয়। 
- এর দৈর্ঘ্য পর্যবেক্ষক ও বস্তুর মধ্যে আপেক্ষিক গতির উপর নির্ভরশীল। 
- সুতরাং কোনো বস্তুর দৈর্ঘ্যের পরিমাপ আপেক্ষিক। 

সময়ের আপেক্ষিকতা: 
- সময়ের পরিমাপ সকল কাঠামোতে সমান নয় অর্থাৎ সময়ের পরিমাপ পরম নয়।
- দুটি জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর মধ্যে যদি আপেক্ষিক গতি থাকে তবে এই দুই কাঠামোতে অবস্থিত দুইজন পর্যবেক্ষকের নিকট সংঘটিত দুটি ঘটনার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান সমান হবে না। 

ভরের আপেক্ষিকতা: 
- ভরের পরিমাপ সকল কাঠামোতে সমান নয় অর্থাৎ ভর পরম নয়। 
- দুটি জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর মধ্যে যদি আপেক্ষিক গতি থাকে তবে একই ভরের কোনো বস্তু দুই কাঠামোতে অবস্থিত দুইজন পর্যবেক্ষকের নিকট বস্তুটির পরিমাপকৃত বস্তুর ভর সমান হবে না। 
- স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের নিকট বস্তুর ভর গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের পরিমাপকৃত বস্তুর ভর অপেক্ষা বেশি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৫৯.
স্থিতিশীল নিউক্লিয়াসের অর্ধায়ু কেমন হয়? 
  1. অসীম 
  2. শূন্য 
  3. অর্ধেক সেকেন্ড
  4. এক সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
অসীম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসীম 
ব্যাখ্যা

- স্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় ক্ষয় হয় না, অর্থাৎ তারা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয় না। অর্ধায়ু হলো সেই সময় যে সময়ে একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থের অর্ধেক ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। যেহেতু একটি স্থিতিশীল নিউক্লিয়াস কখনও ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, তাই এর ক্ষয় হওয়ার সময়কাল অসীম। 

অর্ধায়ু (Half Life): 

- একটি নির্দিষ্ট তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস ঠিক কোন মুহূর্তে বিকিরণ করবে সেটি বলা সম্ভব নয়, পদার্থবিজ্ঞান শুধু তার বিকিরণ করার সম্ভাবনাটি বলতে পারে। সে কারণে তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ বের করার জন্য 'অর্ধায়ু' (Half Life)-এর ধারণাটি ব্যবহার করা হয়। 
- যে পরিমাণ সময়ের ভেতর অর্ধেক সংখ্যক নিউক্লিয়াসের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটে সেটি হচ্ছে অর্ধায়ু। 
- যে নিউক্লিয়াসের তেজস্ক্রিতা যত বেশি তার অর্ধায়ু তত কম। 
- স্থিতিশীল নিউক্লিয়াস, যার কোনো তেজস্ক্রিয়তা নেই তার অর্ধায়ুকে 'অসীম' বলে বিবেচনা করতে পারি। 
- তেজস্ক্রিয়তা নিউক্লিয়াসের ঘটনা, তাই তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণ করে একটি নিউক্লিয়াস অন্য নিউক্লিয়াসে পরিবর্তিত হয়। 
- ভিন্ন নিউক্লিয়াস চার্জহীন পরমাণু হওয়ার জন্য খুব সহজেই এক দুইটি বাড়তি ইলেকট্রন তার কাছাকাছি পরিবেশ থেকে নিতে পারে কিংবা ছেড়ে দিতে পারে। তার কারণ নিউক্লিয়াসের ভেতরকার নিউক্লিয়ার শক্তি অনেক বেশি হলেও পরমাণুর ইলেকট্রনের শক্তি সে তুলনায় খুবই কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০৬০.
অধাতুর তুলনায় ধাতুর ঘনত্ব সাধারণত- 
  1. বেশি 
  2. কম
  3. সমান 
  4. অপরিবর্তনশীল
সঠিক উত্তর:
বেশি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি 
ব্যাখ্যা

ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৬১.
‘রুন্টজেন’ কিসের একক?
  1. এক্সরে
  2. লেন্সের ক্ষমতা
  3. তেজস্ত্রিয়তা
  4. দীপন ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
এক্সরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সরে
ব্যাখ্যা
এক্সরে: 
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন। তাই এক্সরে রঞ্জন রশ্মি নামেও পরিচিত। 
- ‘রুন্টজেন’ এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মির একটি একক। 

- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিচে বর্ণনা করা হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমন্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়।
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৬২.
কোনটি আলোর তরঙ্গ ধর্ম প্রকাশ করে?
  1. আলোক তড়িৎ ক্রিয়া
  2. কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ
  3. ব্যতিচার
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ব্যতিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যতিচার
ব্যাখ্যা
আলোর ব্যতিচার, সমবর্তন, বিচ্ছুরণ ইত্যদি ঘটনা আলোর তরঙ্গ ধর্ম প্রকাশ করে। আবার আলোকতড়িৎ ক্রিয়া, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণের মতো ঘটনা ব্যাখ্যায় আলোর কণিকা ধর্ম প্রকাশ পায়। ফলে আলো কণা না তরঙ্গ এই বিতর্কের অবসান ঘটে নাই।
আধুনিক তত্ত্ব অনুসারে, আলোর তরঙ্গ এবং কণিকা উভয় ধর্মই বিদ্যমান। আরও ব্যাপকভাবে বলা যায় সব বস্তুরই কণা এবং তরঙ্গ ধর্ম বিদ্যমান। বিভিন্ন পরীক্ষণ থেকে দেখা যায় আলো ও বস্তু এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত করা যায়।
বস্তুর ভর বেশি হলে সহজেই তার কণা ধর্ম প্রকাশ পায়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৬৩.
পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন হয় কেন? 
  1. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য 
  2. পরিবাহীর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করার জন্য 
  3. বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ ও বিভব পরিবর্তনের জন্য 
  4. রোধের মান পরিবর্তন না করার জন্য 
সঠিক উত্তর:
বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ ও বিভব পরিবর্তনের জন্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ ও বিভব পরিবর্তনের জন্য 
ব্যাখ্যা

রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায়ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৬৪.
কুরি তাপমাত্রা চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব কতটুকু নষ্ট হয়?
  1. আংশিক নষ্ট হয়
  2. দুই ভাগের এক ভাগ
  3. সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
  4. চার ভাগের এক ভাগ
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

চুম্বকত্ব: 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম, কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 


চৌম্বক মেরু: 
- যেকোনো চুম্বকের যে দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি সে প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে। চিত্রে একটি দন্ডচুম্বকের দুটি মের N ও S দেখানো হয়েছে। N = North Pole (উত্তরমেরু), S = South Pole (দক্ষিণমেরু)। 

চৌম্বক অক্ষ: 
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে। চিত্রে AB দন্ডচুম্বকের অক্ষ। 

কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক বা চৌম্বক ভ্রামক: 
- কোনো একটি চুম্বকের যে কোনো একটি মেরু শক্তি এবং চৌম্বক দৈর্ঘ্যের গুণফলকে ঐ চুম্বকের দ্বিমেরু ভ্রামক বা চৌম্বক ভ্রামক বলে। 
- কোনো চুম্বকের মেরু শক্তি m এবং চৌম্বক দৈর্ঘ্য 2l হলে চৌম্বক ভ্রামক M = m (2l)। 
- চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামকের একক অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2)। 

চৌম্বক ফ্লাক্স বা চৌম্বক আবেশ: 
- কোনো চৌম্বকক্ষেত্রের একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত বলরেখার সংখ্যাকে চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্ব বা চৌম্বকক্ষেত্র ভেক্টর বলে। 
- চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্বের একক ওয়েবার/মি2 (Wbm-2) বা টেসলা। 

চৌম্বক দৈর্ঘ্য: 
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে। চিত্রে NS = চৌম্বক দৈর্ঘ্য। 

চৌম্বক মধ্যতল: 
- চুম্বকের ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলন্ত কোনো একটি স্থির চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে। 

ভৌগলিক মধ্যতল: 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণমেরু বরাবর কল্পিত উলম্ব তলকে ঐ স্থানের ভৌগোলিক বা জ্যামিতিক মধ্যতল বলে। 
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কিছুটা কৌণিক ব্যবধান থাকে, যাকে বিচ্যুতি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৬৫.
ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে উঠলে কোনো বস্তুর ওজন কেন কমে যায়?
  1. ঘনত্ব কমে যায়
  2. ভর কমে যায়
  3. অভিকর্ষজ ত্বরণ কমে যায়
  4. আয়তন কমে যায় 
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষজ ত্বরণ কমে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষজ ত্বরণ কমে যায়
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে উঠলে বস্তুর ওজন কমে যাওয়ার মূল কারণ হলো অভিকর্ষজ ত্বরণ কমে যায়, কারণ উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে পৃথিবী ও বস্তুর মধ্যকার দূরত্ব বাড়ে এবং মহাকর্ষ বল দুর্বল হওয়ায় অভিকর্ষজ ত্বরণের মান (g) হ্রাস পায়, ফলে ওজন (W = mg) কমে যায়, ভর অপরিবর্তিত থাকে। 

ভর ও ওজনের সম্পর্ক: 
- বস্তুর মধ্যে পদার্থের পরিমাণই হচ্ছে এর ভর। 
- ভর হচ্ছে একটি ধ্রুব রাশি যা ভূপৃষ্ঠে বা ভূপৃষ্ঠের উপরে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না। 
- ৭৫ কেজি ভরের একজন মহাশূন্যচারীর ভর চাঁদে কিংবা পৃথিবীর কক্ষপথেও ৭৫ কেজিই থাকবে। 
- মহাশূন্যচারী বা কোনো বস্তু যতটুকু পদার্থ দিয়ে তৈরি, বস্তু বা মহাশূন্যচারীর স্থান পরিবর্তনের ফলে তাতে কোনো পরিবর্তন হয় না বলে তার ভর সর্বত্র অপরিবর্তিত থাকে।

- যেহেতু বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি, সুতরাং বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভর করে।
- যেসব কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটে সেসব কারণে বস্তুর ওজনও পরিবর্তিত হয়।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন তত কমতে থাকে।
- বস্তুর ওজন বস্তুর মৌলিক ধর্ম নয়, কোনো বস্তুর ওজন থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য, তাই সেখানে বস্তুর ওজনও শূন্য।
- মহাশূন্যে কোনো বস্তুর ওজন শূন্য হলে তখন বস্তুর উপর কোনো মহাকর্ষ বল কাজ করে না।
- চাঁদের অভিকর্ষজনিত ত্বরণের মান পৃথিবীতে অভিকর্ষজ ত্বরণের প্রায় ৬ ভাগ।
সুতরাং, চাঁদে ১ কেজি ভরের বস্তুর ওজন হবে প্রায় ৯.৮/৬ নিউটন ≈ ১.৬৩ নিউটন (N)। 
- কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে তার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- যদি দূরত্ব বাড়ানো হয় তাহলে তার উপর পৃথিবীর আকর্ষণ কমে যায়, ফলে বস্তুর ওজন হ্রাস পায়। 
- ভূপৃষ্ঠে ১ কেজি ভরের কোনো বস্তুতুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলেও পৃথিবী থেকে দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে বস্তুর ওজন কমতে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৪,০৬৬.
তরল পদার্থের কোন বৈশিষ্ট্যটি সত্য? 
  1. আকার ও আয়তন উভয়ই নেই
  2. নির্দিষ্ট ওজন থাকে, কিন্তু কোনো পাত্র ধারণ করতে পারে না
  3. নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে
  4. নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৬৭.
পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসাবে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. হাইড্রোজেন
  3. সোডিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ইউরেনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক চুল্লি:
- নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র।
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়।
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।
- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

উৎস:
১. রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. IAEA ওয়েবসাইট।
৪,০৬৮.
তাপের বিকিরণ বলতে কী বোঝায়? 
  1. তাপ কঠিন মাধ্যমে পরিবাহিত হওয়া 
  2. তাপ তরল মাধ্যমে প্রবাহিত হওয়া 
  3. তাপ শব্দ তরঙ্গ আকারে সঞ্চালিত হওয়া 
  4. তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই সঞ্চালিত হওয়া 
সঠিক উত্তর:
তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই সঞ্চালিত হওয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই সঞ্চালিত হওয়া 
ব্যাখ্যা

তাপ: 
- সূর্য থেকে তাপ পাওয়া যায়।
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5×108 কি.মি.।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে।
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গ আকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৬৯.
ট্রান্সফরমার কোন নীতির উপর কাজ করে?
  1. চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন
  2. রাসায়নিক বিক্রিয়া
  3. তড়িৎ বিভবের পরিবর্তন
  4. তাপ বিকিরণ
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার(Transformer): 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- তড়িচ্চালক শক্তি বা EMF পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়। 
- যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- ট্রান্সফরমারের দুই পাশে কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা যদি সমান হয়, তাহলে বাম দিকে যে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হবে ডান দিকে ঠিক সেই এসি ভোল্টেজ ফেরত পাওয়া যাবে। 
- ডান দিকে প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ বেশি হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ বেশি হবে। প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ কম হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ কম হবে। 
- বাম দিকের কয়েল যেখানে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তার নাম প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী এবং ডান দিকে যেখানে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় তার নাম সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী। 

স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার: 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। 
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 

স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার: 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৭০.
কোনটি WHO কর্তৃক অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ নয়?
  1. লবণের দ্রবণ
  2. ভিনেগার
  3. সোডিয়াম বেনজোয়েট
  4. ফরমালডিহাইড
সঠিক উত্তর:
ফরমালডিহাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরমালডিহাইড
ব্যাখ্যা
ফুড প্রিজারভেটিভ (Food preservative):
- খাদ্যদ্রব্যে অনেক সময় কিছু রাসায়নিক পদার্থ মিশানো হয় যাতে খাবারে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে না পারে, খাবার দুর্গন্ধযুক্ত না হয় এবং পচন না ধরে।
- এই রাসায়নিক দ্রব্যকে ফুড প্রিজারভেটিভ বলে।
- কিছু ফুড প্রিজারভেটিভ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) কর্তৃক অনুমোদিত।
- যে সব ফুড প্রিজারভেটিভ আমাদের শরীরে গেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না এবং যেগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে, তাদেরকে অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলে।
- যেমন- সোডিয়াম বেনজোয়েট, ভিনেগার, লবণের দ্রবণ, ইত্যাদি অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ।

অন্যদিকে,
- যেগুলো আমাদের শরীরে গেলে আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়, সেগুলোকে অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলা হয়।
যেমন- ফরমালডিহাইড বা ফরমালিন।

উৎস: ৮ম শ্রেণি, বিজ্ঞান ও WHO ওয়েবসাইট।
৪,০৭১.
অনবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার পরিবেশে কী প্রভাব ফেলে? 
  1. পরিবেশকে দূষণমুক্ত করে
  2. পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখে
  3. গ্লোবাল ওয়ার্মিং সৃষ্টি করে
  4. নতুন শক্তির উৎস সৃষ্টি করে
সঠিক উত্তর:
গ্লোবাল ওয়ার্মিং সৃষ্টি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লোবাল ওয়ার্মিং সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা
অনবায়নযোগ্য শক্তি: 
- অনবায়নযোগ্য মানেই হলো যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তার উৎস থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। 
- এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে এদের তৈরি করতে যত সময় লাগে, তার চেয়ে কম সময়ে ব্যায়িত হয়। 
যেমন- কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম ইত্যাদি। 

অনবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা মূলত দুটি দিক থেকে বিবেচনা করা হয়- দাম ও প্রাচুর্য। 
- বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি বা যানবাহন অনবায়নযোগ্য শক্তির সাহায্যে চলে, এদের নবায়নযোগ্য শক্তির সাহায্যে চালাতে অনেক বেশি খরচ লাগে। 
যেমন: সাধারণ বা প্রাকৃতিক গ্যাস বা তেলে কম খরচে যানবাহন বা যন্ত্রপাতি চলে। অপরপক্ষে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস যেমন- সৌরশক্তি দ্বারা কোনো যানবাহন চালানো কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। 
- অনবায়নযোগ্য জ্বালানি সস্তা, এদের অল্প পরিমাণ থেকে বেশি শক্তি পাওয়া যায় যেমন- পারমানবিক চুল্লিতে অল্প ইউরেনিয়াম থেকে অনেক বিদ্যুৎশক্তি পাওয়া যায়। 

অনবায়নযোগ্য শক্তির সীমাবদ্ধতা: 
- অনবায়নযোগ্য জ্বালানির অসুবিধাগুলো হলো- 
• এটি অনবায়নযোগ্য ও দ্রুত ফুরিয়ে যায়, এরা মূলত নিঃশেষ হয়ে যায়। 
• পরিবেশকে বেশ উচ্চমাত্রায় দূষিত করে। 
• এদের দহনে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়ায়, ফলে গ্লোবাল ওয়ার্মিং তৈরি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪,০৭২.
তরল ও বায়বীয় পদার্থে কোন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়?
  1. তাপ পরিচলন
  2. তাপ বিকিরণ
  3. তাপ পরিবহন
  4. তাপ শোষণ
সঠিক উত্তর:
তাপ পরিচলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ পরিচলন
ব্যাখ্যা
• তরল ও বায়বীয় পদার্থে পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয়।

• তাপ সঞ্চালন:

- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে। তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়। যথা-

১. পরিচলন পদ্ধতি:
- কোনো পদার্থের অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশের দিকে অণুগুলি চলাচলের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটায় এই পদ্ধতিকেই পরিচলন পদ্ধতি বলা হয়।
- তরল ও বায়বীয় পদার্থে পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয়।
- একটি পাত্রে পানি নিয়ে চুলার উপরে বসিয়ে তাপ দিলে পুরো পাত্রের পানিই গরম হতে থাকে।
- এক্ষেত্রে পানির কণাগুলো তাপ গ্রহণ করে শক্তি অর্জন করে।
- শক্তি অর্জন করে গরম পানিকণা হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়।
- উপরের ঠাণ্ডা পানির কণাগুলো নিচে নেমে এসে তাপ গ্রহণ করে।
- এভাবে পর্যায়ক্রমে সকল কণা তাপ গ্রহণ করে উত্তপ্ত হয়, তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়।
- এভাবে কণাদের স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়ার নাম পরিচলন।
- তরল পদার্থের কণার মতো বায়বীয় পদার্থের কণারাও উত্তপ্ত হয়ে সহজেই স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালন করে।

২. বিকিরণ পদ্ধতি:
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- সূর্য থেকে আমরা তাপ পাই।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে।

৩. পরিবহন পদ্ধতি:
- যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না, শুধুমাত্র অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে। এভাবেই পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশের দিকে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলা হয়।
- কঠিন বস্তুতে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৭৩.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক পলিমার নয়?
  1. পলিস্টারিন
  2. স্টার্চ
  3. উল
  4. সিল্ক
সঠিক উত্তর:
পলিস্টারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলিস্টারিন
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভর বিশিষ্ট বৃহদাকার যে অণু তৈরি হয় তাকে বোঝায়। 
- যে প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মনোমার যুক্ত হয়ে উচ্চ আণবিক ভরবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয়, তাকে পলিমারকরণ বলে।
- পিভিসি (PVC) পাইপ ভিনাইল ক্লোরাইড মনোমার থেকে তৈরি করা হয়। 
- পলিমার দুই ধরনের। 
যথা - 

প্রাকৃতিক পলিমার: 
- প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে প্রাপ্ত পলিমারকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে।
যেমন - প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল, পাট ইত্যাদি প্রাকৃতিক পলিমার। 

কৃত্রিম পলিমার:
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায় তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে।
যেমন - পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্টারিন, টেফলন, টেরিলিন,নাইলন ইত্যাদি কৃত্রিম পলিমার। 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৭৪.
পঁচা ডিমের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী কোন গ্যাস?
  1. ইথেন
  2. অ্যাসিটিলিন
  3. হাইড্রোজেন সালফাইড
  4. হিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন সালফাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন সালফাইড
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন সালফাইড পঁচা ডিমের গন্ধের জন্য দায়ী। 

হাইড্রোজেন সালফাইড: 
- হাইড্রোজেন সালফাইড গন্ধ পঁচা ডিম প্রতিম, সমস্ত পরিচিত। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় অধীনে, পদার্থ বায়বীয় অবস্থায় রয়েছে। 
- এটা কোন রঙ আছে, জলে দুর্বল দ্রবণীয়, বিষাক্ত হয়। 
- গড়ে, 20 ডিগ্রীর সেলসিয়াস 2.4 হাইড্রোজেন সালফাইড জল আয়তনের অবসান ঘটাবে। 
- হাইড্রোজেন সালফাইড ব্যবহার করে মিথেন থাইয়ল, ইথেন থাইয়ল ও থায়োগ্লাইকোলিক এসিডসহ বেশ কিছু জৈব যৌগ প্রস্তুত করা হয়। 
- হাইড্রোজেন সালফাইড দ্বারা গ্যাস অথবা পানি দূষিত হলে ধাতব সালফাইডে রূপান্তরিত করে দূষণমুক্ত করা হয়। 
- ডিউটেরিয়াম অক্সাইড বা সাধারণ পানি থেকে ভারী পানি পৃথকীকরণে গার্ডলার সালফাইড পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন সালফাইড ব্যবহার করা হয়। 
- হাইড্রোজেন সালফাইড সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস, বায়োগ্যাস এবং তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসে (এলপিজি) পাওয়া যায়। একে কয়েকটি উপায়ে সরিয়ে ফেলা যায়। 

উৎস: শিক্ষক বাতায়ন ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।
৪,০৭৫.
আধানের একক -
  1. ক) ওহম
  2. খ) হার্জ
  3. গ) কুলম্ব
  4. ঘ) সিমেন্স
সঠিক উত্তর:
গ) কুলম্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুলম্ব
ব্যাখ্যা
চার্জ বা আধানের একক হচ্ছে - কুলম্ব (C).

তাছাড়া,
- পরিবাহিতার একক সিমেন্স (S);
- তড়িৎ প্রবাহের একক এম্পিয়ার (A);
- বিভব পার্থক্যের একক ভোল্ট (V);
- রোধের একক ওহম (Ω);
- কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz).

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৪,০৭৬.
'চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া' নিউটনের গতির কোন সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়? 
  1. তৃতীয় সূত্র
  2. দ্বিতীয় সূত্র
  3. চতুর্থ সূত্র
  4. প্রথম সূত্র
সঠিক উত্তর:
প্রথম সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম সূত্র
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র: 
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে। 
উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। 

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: 
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে। 

নিউটনের তৃতীয় সূত্র: 
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে। 
উদাহরণ- 
- বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে। 
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৭৭.
নিচের কোনটি একটি ধাতু? 
  1. ক্লোরিন
  2. সালফার
  3. কার্বন
  4. সিলভার
সঠিক উত্তর:
সিলভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলভার
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতু: 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি।

অধাতু: 
- অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৭৮.
অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) টিংচার আয়োডিন
  2. খ) ক্লোরোফরম
  3. গ) নাইট্রোগ্লিসারিন
  4. ঘ) ইথার
সঠিক উত্তর:
ক) টিংচার আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) টিংচার আয়োডিন
ব্যাখ্যা
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন MRI, CT-Scan, X-Ray এবং বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম যেমন - সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদিতে রয়েছে রসায়নের অবদান।
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে।
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সূত্র: রসায়ন, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪,০৭৯.
সবুজ আলোতে গোলাপ ফুলকে কেমন দেখাবে?
  1. ক) কালো
  2. খ) লাল
  3. গ) সবুজ
  4. ঘ) গোলাপী
সঠিক উত্তর:
ক) কালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কালো
ব্যাখ্যা
সবুজ আলোতে গোলাপ ফুল থেকে কোনো রঙই প্রতিফলিত হয় না বলে গোলাপ ফুলকে কালো দেখায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪,০৮০.
ট্রান্সফরমারে বিভব বৃদ্ধি করলে কী হয়? 
  1. তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় 
  2. তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায় 
  3. তড়িৎ শক্তি বৃদ্ধি পায় 
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় 
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- 
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও 
২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৮১.
বাহ্যিক চাপের প্রভাবে সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে একমুখী বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. ক) শ্বসন
  2. খ) ব্যাপন
  3. গ) অভিস্রবন
  4. ঘ) নিঃসরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিঃসরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
নিঃসরণ:
- নিঃসরণ শব্দের অর্থ হচ্ছে নির্গমন বা বাইরে বেরিয়ে আসা। 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়।
- রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ প্রক্রিয়ার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৮২.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত হাইড্রোজেনের আইসোটোপ নয় কোনটি?
  1. কুইন্টিয়াম
  2. প্রোটিয়াম
  3. ডিউটেরিয়াম
  4. ট্রাইটিয়াম
সঠিক উত্তর:
কুইন্টিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুইন্টিয়াম
ব্যাখ্যা
• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (¹H, ²H, ³H, ⁴H, ⁵H, ⁶H এবং ⁷H) আছে।
- প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ।
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৮৩.
রেডক্স বিক্রিয়ায় বিজারণ কীভাবে ঘটে?
  1. নিউট্রন দান করে
  2. প্রোটন দান করে
  3. ইলেকট্রন গ্রহণ করে
  4. ইলেকট্রন দান করে
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন গ্রহণ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন গ্রহণ করে
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনের স্থানান্তর: 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তর এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া। 
- এটি মূলত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া এমন একটি শ্রেণি যেখানে জারণ (Oxidation) ও বিজারণ (Reduction) একই সাথে সংঘটিত হয়। প্রচুর সংখ্যক রাসায়নিক বিক্রিয়া ও জৈবিক বিক্রিয়া এ শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত। 
- জ্বালানিকে দহন করে শক্তি উৎপাদন, তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে কস্টিক সোডা ও ক্লোরিন উৎপাদন, ব্যাটারীতে তড়িৎ উৎপাদন, লোহায় মরিচা পড়া, ধাতুর ক্ষয়, তড়িৎ প্রলেপন এ সবই জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার উদাহরণ। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে, এটি রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৮৪.
স্থির তাপমাত্রায়, একই উপাদানের তৈরি এবং একই দৈর্ঘ্যের একটি চিকন ও একটি মোটা তারের রোধ-
  1. ক) সমান হবে
  2. খ) মোটা তারের রোধ অপেক্ষা চিকন তারের রোধ বেশি হবে
  3. গ) চিকন তারের রোধ অপেক্ষা মোটা তারের রোধ বেশি হবে
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) মোটা তারের রোধ অপেক্ষা চিকন তারের রোধ বেশি হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মোটা তারের রোধ অপেক্ষা চিকন তারের রোধ বেশি হবে
ব্যাখ্যা

প্রস্থচ্ছেদের সূত্র:- অন্যান্য ভৌত অবস্থা, তাপমাত্রা এবং দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ-এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক।
পরিবাহীর রোধ R এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল A হলে সূত্রানুসারে R ∝ 1/A, যখন এর দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকে।
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যরে পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল যত বড় হবে রোধ তত হ্রাস পাবে।
যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যরে 1m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ ১০Ω হয় তবে 2m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ ৫Ω হবে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪,০৮৫.
নিউক্লিয়ার ফিশনে কী ধরনের শক্তি উৎপন্ন হয়?
  1. রাসায়নিক শক্তি 
  2. তড়িৎ শক্তি 
  3. পারমাণবিক শক্তি 
  4. যান্ত্রিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক শক্তি 
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয় ফিশন (Nuclear Fission): 
- কোনো ভারী নিউক্লিয়াসকে (A>230) সঠিক গতির নিউট্রন বা ফোটন দিয়ে আঘাত করে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে প্রায় সমান অংশে বিভক্ত করে প্রচণ্ড পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে নিউক্লীয় বিভাজন বা নিউক্লিয় ফিশান বলে। 
- ইউরেনিয়ামকে তাপীয় নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে এই ভারী নিউক্লিয়াসটি প্রায় সমান ভাবে দুটি নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে যায়। এর সাথে প্রচুর শক্তি নির্গত করে। 

নিউক্লীয় ফিউশন বা সংযোজন (Nuclear Fusion): 
- একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস একসঙ্গে জুড়ে অপেক্ষাকৃত বড়ো এবং ভারী একটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে নিউক্লীয় সংযোজন বলা হয়। 
- নিউক্লীয় সংযোজনকে নিউক্লীয় বিভাজনের বিপরীত ঘটনা বলা যায়। 
- দুটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস, অর্থাৎ দুটি প্রোটনের মধ্যে সংযোজনের সম্ভাবনা খুবই কম। 
- নিউক্লীয় সংযোজনের সহজতম উদাহরণ হলো দুটি ডিউটেরন (deuteron)-এর সংযোজন। 
- এছাড়া হাইড্রোজেনের আর একটি আইসোটোপ ট্রিটিয়াম এর নিউক্লিয়াস, অর্থাৎ ট্রাইটন (triton) এর সঙ্গে ডিউটেরনের সংযোজনের সম্ভাবনাও খুব বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৮৬.
মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করতে ব্যবহৃত লবণ কোনটি?
  1. ক) অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  2. খ) ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
  3. গ) সিলভার ক্লোরাইড
  4. ঘ) অ্যামোনিয়াম ফসফেট
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন - 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন - 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
চুনাপাথর বা ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3) । 

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। 
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন - 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪,০৮৭.
পৃথিবী পৃষ্ঠের অক্ষাংশ মানের সাথে অভিকর্ষজ ত্বরণের সম্পর্ক কী?
  1. অক্ষাংশ মান বাড়লে g-এর মান বাড়ে
  2. অক্ষাংশ মান বাড়লে g-এর মান কমে
  3. অক্ষাংশ মান কমলে g-এর মান বাড়ে
  4. অক্ষাংশ মান ও অভিকর্ষজ ত্বরণ সম্পর্কিত নয়
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ মান বাড়লে g-এর মান বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ মান বাড়লে g-এর মান বাড়ে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনাে বতুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
- অভিকর্ষজ ত্বরণকে 'g' দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের একক - মিটার/সেকেন্ড-২
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য বিষুব রেখা অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম এবং মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি।
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে যত মেরু অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়া যায় g -এর মান তত বাড়তে থাকে।
--------
পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে g-এর মান:
- বিষুব রেখা বরাবর সবচেয়ে কম = 9.78 ms-2
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ = 9.83 ms-2
- এভারেস্ট শৃঙ্গে = 9.81 ms-2
- সমুদ্রতলে = 9.75 ms-2

ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়।
- এই আদর্শ মান হলো = 9.80665 ms-2 বা 9.81 ms-2

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৮৮.
নিচের কোনটি অধাতু?
  1. ক) লোহা
  2. খ) এলুমিনিয়াম
  3. গ) পটাশিয়াম
  4. ঘ) হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

- এলুমিনিয়াম, লোহা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি হলো ধাতু। ধাতুসমূহ দেখতে চকচকে, তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 
- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি হলো অধাতু। সাধারণত এরা তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী এবং ধাতুর মতো চকচকে হয় না। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

৪,০৮৯.
তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের উদ্ভাবক কে?
  1. ক) ভ্যান মুসচেন ব্রোয়েক
  2. খ) বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
  3. গ) সি. এফ. ডুফে
  4. ঘ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

- লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যান মুসচেন ব্রোয়েক ১৭৪৬ সালে তড়িৎ ধারক অবিষ্কার করেন.।
- বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ১৭৪৭ সালে আবিষ্কার করেন যে চার্জ দুই প্রকারঃ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক।
- সি. এফ. ডুফে ১৭৩৩ সালে আবিষ্কার করেন যে ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন চার্জ বিপরীতধর্মী।
- জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের উদ্ভাবন করেন এবং এর সাহয্যে তিনি তড়িৎ বল এবং চৌম্বক বলকে একীভূত করেন।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪,০৯০.
০° C তাপমাত্রায় প্রতিধ্বনি শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের ন্যূনতম দূরত্ব কত? 
  1. ১২.৬ মিটার
  2. ১৬.৬ মিটার 
  3. ২০.০ মিটার
  4. ২৫.০ মিটার
সঠিক উত্তর:
১৬.৬ মিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬.৬ মিটার 
ব্যাখ্যা

শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- ০°C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1। 
- ০°C বা ২৭৩ K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব ০.৩ m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m (০° C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৯১.
পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. গ্রাফাইট
  2. ইউরেনিয়াম
  3. কয়লা
  4. গ্রাফিন
সঠিক উত্তর:
গ্রাফাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
• মডারেটর:
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন ।
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন।
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়।

- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর।
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো: 
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং 
২। গ্রাফাইট।
- পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসাবে ব্যবহৃত হয় গ্রাফাইট। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৪,০৯২.
পরমাণুর কেন্দ্রকে কী বলা হয়?
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. ইলেকট্রন
  4. নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- 
১। ইলেকট্রন, 
২। প্রোটন ও 
৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রকে নিউক্লিয়াস বলা হয়।
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৯৩.
রঞ্জক পদার্থ সাধারণত কোন উৎস থেকে তৈরি করা হয়? 
  1. লৌহ থেকে
  2. তামা থেকে
  3. মাইকা থেকে
  4. জিংক থেকে
সঠিক উত্তর:
মাইকা থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকা থেকে
ব্যাখ্যা
রঞ্জক পদার্থ: 
- রঞ্জক পদার্থ বিশেষ এক ধরনের জৈব যৌগ। 
- এদের বৈশিষ্ট্য হলো এরা না পানিতে দ্রবণীয় না তেলে দ্রবণীয়। এ বিশেষ গুণের কারণে রঞ্জকসমূহ ব্যবহার করা হয়। 
- রঞ্জকের আরও একটি বিশেষ গুণ হলো এরা শরীরের মিউকাস পর্দার উপর কোনো প্রকার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না। 
- বিভিন্ন উপাদানের বর্ণ নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থকে ব্যবহার করা হয়। 
- রঞ্জকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য এর সাথে TiO2 ব্যবহার করা হয়। 
- সাধারণত মাইকা থেকে রঞ্জক তৈরি করা হয় এবং এর উপর TiO2 এর প্রলেপ দেওয়া হয়। 
- ইয়োসিন (Eosin) একটি বহুল পরিচিত রঞ্জক পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৯৪.
কোনটির উপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি (Camotherapy) গঠিত?
  1. ক) পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  2. খ) কোষ বিভাজন
  3. গ) চৌম্বকক্ষেত্র
  4. ঘ) আলোর প্রতিসরণ
সঠিক উত্তর:
খ) কোষ বিভাজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কোষ বিভাজন
ব্যাখ্যা
কেমোথেরাপি (Camotherapy) :
কেমোথেরাপি এমন এক ধরনের চিকিৎসা যেখানে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বিভাজনের কোষ ধ্বংস করা হয়। ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর শরীরের কিছু কোষ বিভাজনের গতি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়।
জীবদেহের কোষ বিভাজনের উপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি গঠিত।

কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ঔষধ কোষ বিভাজনের নির্দিষ্ট ধাপে প্রয়োগ করা হয়। কোষ বিভাজনের কোন ধাপে প্রয়োগ করা হবে তার উপর নির্ভর করে রাসায়নিক ঔষধ ঠিক করা হয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে থাকে।
যেমন প্রতিদিনে একবার, সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার প্রভৃতি । সাধারণত এভাবে প্রায় ছয়বার ঔষধ প্রয়োগ করা হয়।

উৎস : বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৯৫.
সিলিন্ডার কোন গ্যাস দ্বারা পূর্ণ থাকে?
  1. ক) অকটেন 
  2. খ) প্রোপেন
  3. গ) পেন্টেন
  4. ঘ) ইথেন
সঠিক উত্তর:
খ) প্রোপেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রোপেন
ব্যাখ্যা

বাসাবাড়ীতে আমরা যে সিলিন্ডার ব্যবহার করে থাকি সেইটা মূলত প্রোপেন এবং বিউটেন গ্যাসকে উচ্চচাপে সংকোচিত করে তরল অবস্থায় সিলিন্ডারে ভর্তি করা হয়।
আমাদের দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ রান্নার কাজে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে থাকেন, যা এলপিজি বা এলপি গ্যাস নামে পরিচিত।
এটি মূলত দাহ্য হাইড্রোকার্বন গ্যাসের মিশ্রণ এবং জ্বালানি হিসাবে রন্ধন কার্যে, গাড়িতে ও ভবনের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হয়।
১৯১০ সালে আবিষ্কৃত হওয়ার পর ১৯১২ সালে এ গ্যাস বাণিজ্যিকরূপে উৎপাদন শুরু হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির রসায়নবিজ্ঞান, যুগান্তর পত্রিকা ১০ই অগাস্ট, ২০২২ (ব্যাখ্যা)

৪,০৯৬.
কোনটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের কার্যনীতিকে সর্বোত্তমভাবে বর্ণনা করতে পারে?
  1. উচ্চ তাপ বিকিরণ এবং খাদ্য কণাগুলিতে পরিবহন
  2. খাদ্য কণাগুলিতে ইনফ্রা-রেড বিকিরণ এবং শোষণ
  3. পানির অণুগুলির ইন্ডাকশন হিটিং
  4. ঘূর্ণনের কারণে ডাই-ইলেকট্রিক হিটিং
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণনের কারণে ডাই-ইলেকট্রিক হিটিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণনের কারণে ডাই-ইলেকট্রিক হিটিং
ব্যাখ্যা

- মাইক্রোওয়েভ ওভেনের কার্যনীতিকে সর্বোত্তমভাবে ঘ) ঘূর্ণনের কারণে ডাই-ইলেকট্রিক হিটিং - অপশনটি বর্ণনা করে। মাইক্রোওয়েভ ওভেন খাদ্যের উপর উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ প্রয়োগ করে। এই বিকিরণের প্রভাবে খাদ্যের ভেতরে থাকা পানির অণুগুলো দ্রুত ঘূর্ণন শুরু করে, কারণ পানির অণু ডাইপোল প্রকৃতির। এই ঘূর্ণনের ফলে অণুগুলোর মধ্যে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং সেই ঘর্ষণ থেকেই তাপ উৎপন্ন হয়। ফলে খাদ্য ভেতর থেকে সমানভাবে গরম হয়। এটি ইনফ্রা-রেড বা সাধারণ তাপ পরিবহণের মাধ্যমে নয়, বরং ডাই-ইলেকট্রিক হিটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন: 
- মাইক্রোওয়েভ ওভেন হলো এমন একটি যন্ত্র যা ম্যাগনেট্রন নামক একটি ইলেকট্রনিক ভ্যাকুয়াম টিউব দ্বারা উৎপাদিত মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে খাবার রান্না করে বা গরম করে। 
- মাইক্রোওয়েভ ওভেন ধাতব আবরণ, কাচ/সিরামিক রান্নার পৃষ্ঠ, ম্যাগনেট্রন, ওয়েভগাইড ও নিয়ন্ত্রণ সার্কিট সমন্বয়ে গঠিত একটি ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল যন্ত্র। 
- ম্যাগনেট্রন বিদ্যুৎ শক্তিকে তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ (মাইক্রোওয়েভ) এ রূপান্তর করে। উৎপন্ন মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ ধাতব ওয়েভগাইডের মাধ্যমে রান্নার গহ্বরে প্রবেশ করে। স্টিরার ফ্যান (wave stirrer) মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গকে সমানভাবে ছড়িয়ে দেয়। খাবার মাইক্রোওয়েভ শোষণ করে এবং অল্প সময়ে দ্রুত উত্তপ্ত বা রান্না হয়। 
- ম্যাগনেট্রন বিদ্যুৎকে তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণে (মাইক্রোওয়েভ) রূপান্তরিত করে, যা বৈদ্যুতিক এবং চৌম্বকীয় শক্তির তরঙ্গ দিয়ে তৈরি। 
- ম্যাগনেট্রন দ্বারা উৎপন্ন হওয়ার পরে মাইক্রোওয়েভগুলো একটি ওয়েভগাইড নামক ধাতব ঘেরের মধ্য দিয়ে একটি স্টিরার ফ্যানে ভ্রমণ করে, যা মাইক্রোওয়েভগুলোকে রান্নার গহ্বরে বিতরণ করে। রান্নার এলাকার ভিতরে মাইক্রোওয়েভগুলো খাবার দ্বারা শোষিত হয়, যা কয়েক মিনিট বা সেকেন্ডের মধ্যে রান্না বা উত্তপ্ত হয়।  
- মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ কাচ, প্লাস্টিক, সিরামিক ও কাগজের মধ্য দিয়ে যেতে পারে, কিন্তু ধাতু দ্বারা প্রতিফলিত হয় এবং খাবার দ্বারা শোষিত হয়। খাবারের ভেতরের পানির অণুগুলোকে কম্পিত করে মাইক্রোওয়েভ তাপ উৎপন্ন করে; এই তাপেই খাবার রান্না হয়। কম্পনের ফলে অণুগুলোর মধ্যে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়, যা তাপ উৎপাদনের প্রধান কারণ। 
- মাইক্রোওয়েভ রান্না প্রচলিত ওভেনের তুলনায় বেশি কার্যকর, কারণ এটি সরাসরি খাবারকে উত্তপ্ত করে, ওভেনের দেয়াল বা বাতাসকে নয়। মাইক্রোওয়েভ শোষিত হয়ে তাপে রূপান্তরিত হয়, তাই খাবার তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণে দূষিত হয় না। 

উৎস: encyclopedia.com ওয়েবসাইট [লিঙ্ক] এবং দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা [লিঙ্ক]।

৪,০৯৭.
পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. ক) প্লুটনিয়াম
  2. খ) রেডিয়াম
  3. গ) ক্যাডমিয়াম
  4. ঘ) ক্রোমিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) প্লুটনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্লুটনিয়াম
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক বােমা তৈরি হয় ইউরেনিয়াম-235 বা প্লুটোনিয়াম-239 ধাতু দিয়ে।
বােমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙ্গে বেরিয়াম এবং ক্রিপ্টনে পরিণত হয়।
Verified From: Britannica Encyclopaedia.

৪,০৯৮.
শব্দ তরঙ্গের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি ঘটবে না?
  1. ক) প্রতিফলন
  2. খ) প্রতিসরণ
  3. গ) উর্ধ্বপাতন
  4. ঘ) উপরিপাতন
সঠিক উত্তর:
গ) উর্ধ্বপাতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা
শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ৷ যেকোনো তরঙ্গের মতই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
৪,০৯৯.
নিচের কোনটি উপধাতু?
  1. ক) আর্সেনিক
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) বেরেলিয়াম
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) আর্সেনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আর্সেনিক
ব্যাখ্যা

যে মৌলের মধ্যে ধাতু ও অধাতু উভয়েরই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তাকে উপধাতু বা অপধাতু বলে।
যেমন-বােরন (B), সিলিকন (Si), আর্সেনিক (As), টেলুরিয়াম (Te) ইত্যাদি।
সূত্রঃ রসায়ন বিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৪,১০০.
ইথানল জীবাশ্ম জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কী ধরনের ইঞ্জিনে প্রয়োগ করা হয়? 
  1. বাষ্প ইঞ্জিন
  2. বিদ্যুৎচালিত ইঞ্জিন
  3. তাপ ইঞ্জিন
  4. হাইড্রোলিক ইঞ্জিন
সঠিক উত্তর:
তাপ ইঞ্জিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা
জ্বালানি হিসেবে ইথানলের ব্যবহার: 
- ইথানল-এর অপর নাম ইথাইল অ্যালকোহল। 
- ইথানলের রাসায়নিক সংকেত CH3-CH2-OH. 
- জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন- কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রল প্রভৃতির মতো ইথানলকে পোড়ালেও তাপ উৎপন্ন হয়। 
- তাই জীবাশ্ম জ্বালানির মতো ইথানলকেও তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করে কলকারখানা, গাড়ি, বিমান, জাহাজ প্রভৃতি চালানো যেতে পারে। 
- উত্তর আমেরিকাসহ অনেক দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির সাথে ইথানলকে মিশিয়ে তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হয়। 
- যুক্তরাষ্ট্রের সব গাড়িতে পেট্রলের সাথে শতকরা ১০ ভাগ ইথানল মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই যত ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে ততই জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।