বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৫ / ৬৪ · ৩,৪০১৩,৫০০ / ৬,৪০৯

৩,৪০১.
ধাতব পদার্থের ক্ষেত্রে উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর রোধ-
  1. কমে যায়
  2. বেড়ে যায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথমে কমে পরে বাড়ে
সঠিক উত্তর:
বেড়ে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
 ধাতব পদার্থের উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে এর- বৈদ্যুতিক রোধ বেড়ে যায়।

• বৈদ্যুতিক রোধ:
- বৈদ্যুতিক রোধ (Electrical Resistance) হলো একটি বৈদ্যুতিক সার্কিটে বৈদ্যুতিক প্রবাহের (Electric current) বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা।
- এটি এমন একটি উপাদান বা বৈশিষ্ট্য যা একটি পরিবাহকের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক প্রবাহ প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
- বৈদ্যুতিক রোধকে সাধারণত (R) দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
- এর একক হলো ওহম (Ω)।
 - কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা ( পরিবাহকত্ব) বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
ওহমের সূত্র (Ohm's Law):
V = IR;
এখানে,
V = ভোল্টেজ (Voltage) বা বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য।
R = রোধ (Resistance)। 
I = প্রবাহ (Current) বা তড়িৎ প্রবাহ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪০২.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর শক্তি কিভাবে প্রকাশ পায়?
  1. শক্তি অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের মতো ছড়ায়
  2. শক্তি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট (কোয়ান্টাম) আকারে নির্দিষ্ট মান সহ ছড়ায়
  3. শক্তি শুধুমাত্র স্থির কণার মাধ্যমে ছড়ায়
  4. শক্তি যেকোনো অনিয়মিত আকারে ছড়ায়
সঠিক উত্তর:
শক্তি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট (কোয়ান্টাম) আকারে নির্দিষ্ট মান সহ ছড়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট (কোয়ান্টাম) আকারে নির্দিষ্ট মান সহ ছড়ায়
ব্যাখ্যা

• কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।

• আলোর প্রকৃতি সম্পর্কীয় বিভিন্ন তত্ত্ব (Different theories of Light):
-ষোড়শ শতাব্দী থেকে মূলত আলোর প্রকৃতি সম্পর্কীয় বিজ্ঞান ভিত্তিক তত্ত্বসমূহের বিকাশ ঘটে।
- কিভাবে আলো উৎপত্তি হয়, কিভাবে আলো সঞ্চালিত হয় এবং দীপ্তমান বস্তু থেকে কিভাবে আমাদের চোখে আসে সে সম্পর্কে এ পর্যন্ত মোট চারটি তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে। এগুলো হলো:
• কণা তত্ত্ব, 
• তরঙ্গ তত্ত্ব, 
• তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব এবং
• কোয়ান্টাম তত্ত্ব। 

• কোয়ান্টাম তত্ত্ব :
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। - প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে।
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪০৩.
পানির গলনাংক কত সেলসিয়াসে হয়?
  1. - ৫° সেলসিয়াস
  2. ০° সেলসিয়াস
  3. ১০° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
গলনাংক: 
- আমরা জানি শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে। 
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
পানির গলনাংক কত সেলসিয়াসে হয়? 
অর্থাৎ, পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪০৪.
সমতল দর্পণে কোন ধরনের প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?
  1. ক) বাস্তব ও সোজা
  2. খ) সদ ও বিবর্ধিত
  3. গ) অসদ ও সোজা
  4. ঘ) অবাস্তব ও খর্বিত
সঠিক উত্তর:
গ) অসদ ও সোজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অসদ ও সোজা
ব্যাখ্যা
সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্যসমূহ ঃ
১. দর্পণ থেকে বস্তু দূরত্ব যত, দর্পণ থেকে বিম্বের দূরত্ব তত।
২. বস্তু ও বিম্ব সংযোগকারী রেখা দর্পণ তলকে লম্বভাবে ছেদ করে।
৩. সমতল দর্পণে গঠিত বিম্ব অসদ (অবাস্তব) ও সোজা।
৪. বিম্বের আকার বস্তুর আকারের সমান হয়।
৫. বিম্বের পার্শ্ব পরিবর্তন ঘটে।


সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৪০৫.
রংধনুতে হলুদ রঙের পাশের দুটি রঙ কি কি?
  1. ক) সবুজ ও লাল
  2. খ) সবুজ ও কমলা
  3. গ) নীল ও কমলা
  4. ঘ) বেগুনী ও লাল
সঠিক উত্তর:
খ) সবুজ ও কমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সবুজ ও কমলা
ব্যাখ্যা

রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করার মাধ্যমে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের সৃষ্টি করে বলে আমরা রংধনু দেখতে পাই।
রংধনুতে ৭টি রং থাকে।
এগুলো হলো বেনীআসহকলা- বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল।
অর্থাৎ হলুদ রঙের দুই পাশের দুইটি রং হলো- সবুজ এবং কমলা।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪০৬.
প্রকৃতির মৌলিক বলগুলোর মধ্যে কোন বলটি সবচেয়ে দুর্বল হিসেবে পরিচিত?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তড়িৎচুম্বকীয় বল
  3. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  4. সবল নিউক্লীয় বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা

• প্রকৃতির মৌলিক চারটি বলের মধ্যে মহাকর্ষ বল সবচেয়ে দুর্বল হিসেবে পরিচিত। এই বলটি যেকোনো দুই ভরের মধ্যে কাজ করে এবং ভরের উপর নির্ভরশীল। যদিও মহাকর্ষ বল অসীম দূরত্বেও প্রভাব ফেলে, তবে এর শক্তি অন্যান্য মৌলিক বল যেমন তড়িৎচুম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল বা সবল নিউক্লীয় বলের তুলনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র। উদাহরণস্বরূপ, একটি ছোট চুম্বকের তাড়নাও একটি ছোট কণার মহাকর্ষীয় প্রভাবকে লাঘব করতে পারে। মহাকর্ষ বল বৃহৎ স্কেলে যেমন গ্রহ, নক্ষত্র ও গ্যালাক্সি ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও কণিকাগত বা দৈনন্দিন জীবনের ছোট পরিসরে এটি প্রায় অপ্রভাবশালী। তাই প্রকৃতির মৌলিক বলের মধ্যে এটি সবচেয়ে দুর্বল বল হিসেবে বিবেচিত হয়।

• প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪০৭.
H2 দ্বারা বুঝায়-
  1. ক) হাইড্রোজেনের অণু
  2. খ) হাইড্রোজেনের পরমাণু
  3. গ) হাইড্রোজেন এর যৌগ
  4. ঘ) হাইড্রোজেনের প্রতীক
সঠিক উত্তর:
ক) হাইড্রোজেনের অণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাইড্রোজেনের অণু
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেনের একটি অণুকে প্রকাশ করতে H2 ব্যবহার করা হয়। যার অর্থ হলাে একটি হাইড্রোজেনের অণুতে দুটি হাইড্রোজেনের পরমাণু (H) আছে।
৩,৪০৮.
স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে লোহার মধ্যে কার্বনের ন্যুনতম সংযুক্তি কত শতাংশ?
  1. ক) ০.০৮%
  2. খ) ০.৮০%
  3. গ) ৮.০%
  4. ঘ) ০.০৮৮%
সঠিক উত্তর:
খ) ০.৮০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ০.৮০%
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম চুম্বক: কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক

অস্থায়ী চুম্বক:
চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

স্থায়ী চুম্বক:
চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

লোহার মধ্যে ০.৮% এর বেশি কার্বন থাকলে তা স্থায়ী চুম্বক তৈরি করে। 

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪০৯.
A device which converts chemical energy into electrical energy is called?
  1. Generator
  2. Motor
  3. Transformer
  4. Battery
  5. Capacitor
সঠিক উত্তর:
Battery
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Battery
ব্যাখ্যা

• রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াটি মূলত ব্যাটারি বা তড়িৎকোষের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এতে থাকা ইলেকট্রোলাইট এবং ইলেকট্রোডগুলোর মধ্যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে ইলেকট্রন প্রবাহ তৈরি করে।
- ব্যাটারি ছাড়াও ফুয়েল সেল একই নীতিতে কাজ করে যেখানে রাসায়নিক উপাদানের বিক্রিয়ায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

• ব্যাটারি:
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়। 
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। 
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে। 
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যেমন- একটি অ্যানোড, একটি ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট। 
- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়। 
- আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋনাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়। 
- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫V।
- সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০V। 
- আবার ২২০V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।

৩,৪১০.
Na + Cl  → NaCl এই বিক্রিয়ায় জারক কে?
  1. Na
  2. Cl
  3. Na+
  4. Cl-
সঠিক উত্তর:
Cl
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cl
ব্যাখ্যা
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
- জারণ - বিজারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।

Na + Cl  → NaCl
জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)।
বিজারণ অর্ধবিক্রিয়াCl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)।

জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ, অর্থাৎ সোডিয়ামের ইলেক্ট্রন ছাড়া হলো জারণ বিক্রিয়া।
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে যে, এখানে ক্লোরিন ইলেক্ট্রন গ্রহণ অরেছে।
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ, এখানে ক্লোরিনের ইলেক্ট্রন গ্রহন করা বিজারন বিক্রিয়া।
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ, এখানে সোডিয়াম ইলেক্ট্রন ত্যাগ করেছে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
৩,৪১১.
অর্ধপরিবাহী পদার্থ অন্তরকের ন্যায় কাজ করে কোন তাপমাত্রায়?
  1. ক) 100°C
  2. খ) 273K
  3. গ) - 273K
  4. ঘ) 0K
সঠিক উত্তর:
ঘ) 0K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 0K
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য:
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm  এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪১২.
জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি কোনটি?
  1. অতিবেগুনি রশ্মি
  2. আলফা রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মি:
- গামা রশ্মি প্রায় কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত সীসা ভেদ করতে পারে।
- আলট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি সূর্য থেকে আসে যা তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে কম ক্ষতিকর।
- জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলো গামা রশ্মি।
- গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অন্যান্য তেজস্ক্রিয় রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি।
- পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- বিটা ও আলফা রশ্মি গামা রশ্মির তুলনায় কম ক্ষতিকর।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।

৩,৪১৩.
ক্ষমতার ক্ষেত্রে কোন সম্পর্কটি সঠিক?
  1. ক্ষমতা = বল × সরণ
  2. ক্ষমতা = ভর × বেগ 
  3. ক্ষমতা = বল × বেগ
  4. ক্ষমতা = ত্বরণ × বেগ
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতা = বল × বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতা = বল × বেগ
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 

- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪১৪.
শব্দ তরঙ্গের বেগ কোন কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে? 
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও ব্যাস
  2. তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা
  3. চাপ ও ঘনত্ব
  4. সময় ও তরঙ্গের রঙ
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ (Sound Wave): 
- শব্দ তরঙ্গ তৈরি করতে তার একটা উৎসের দরকার, সেটাকে প্রবাহিত করার জন্য একটা মাধ্যমের দরকার এবং সেই শব্দ গ্রহণ করার জন্য কোনো এক ধরনের রিসিভার দরকার। 
- চারপাশে অসংখ্য শব্দের উৎস রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত উৎস মানুষের কণ্ঠ; সেখানে যে ভোকাল কর্ড আছে তার ভেতর দিয়ে বাতাস বের হওয়ার সময় সেখানে যে কম্পন হয় সেটা দিয়ে শব্দ তৈরি হয়। কথা বলার সময় যদি গলায় স্পর্শ করা হয়, তাহলে সেই কম্পন অনুভব করতে পারা যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়। 
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪১৫.
পানির অপেক্ষা সোনা কতগুণ ভারি?
  1. ১৭ গুণ
  2. ১৮ গুণ
  3. ১৯ গুণ
  4. ২০ গুণ
সঠিক উত্তর:
১৯ গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯ গুণ
ব্যাখ্যা
- এটি খুব ঘন।
- যদি পানির ঘনত্ব 1 g/cc হয় তাহলে সোনার ঘনত্ব পানির চেয়ে 19.3 গুণ বেশি।
- প্রতি গ্যালনে পানির ওজন প্রায় ৮.৩ পাউন্ড।
- তাই সোনার ওজন 19.3 গুণ বেশি বা (19.3 x 8.3 পাউন্ড) প্রতি গ্যালনে প্রায় 160 পাউন্ড। 
- পানি অপেক্ষা সোনা 19 গুণ ভারী। 
- তামা পানি অপেক্ষা 9 গুণ ভারী। 
৩,৪১৬.
পারমাণবিক চুল্লিতে গ্রাফাইটের ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী?
  1. তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  2. বিক্রিয়াশীলতা বাড়ানোর জন্য
  3. ইলেকট্রোলাইট হিসেবে
  4. নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে
সঠিক উত্তর:
নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে
ব্যাখ্যা

কার্বন:
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক।
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক।
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক।

গ্রাফাইটের ব্যবহার:
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান।
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

৩,৪১৭.
কোন বস্তুর বেগ দ্বিগুণ হলে এর ভরবেগ কত গুণ বৃদ্ধি পাবে?
  1. ক) দ্বিগুণ
  2. খ) চারগুণ
  3. গ) আটগুণ
  4. ঘ) নয়গুণ
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিগুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা

ভরবেগ হলো কোনো গতিশীল বস্তুর ভর ও বেগের গুণফল।
তাই বস্তুর বেগ দ্বিগুণ হলে এর ভরবেগও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে।

৩,৪১৮.
কঠিন পদার্থের অণুগুলোর আন্তঃআণবিক দূরত্ব কম তাই তাদের আন্তঃআণবিক শক্তি ____।
  1. ক) কম
  2. খ) বেশি
  3. গ) নেই
  4. ঘ) গ্যাসীয় পদার্থের আন্তঃআণবিক শক্তির সমান।
সঠিক উত্তর:
খ) বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেশি
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে কম এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সর্বাধিক থাকে।
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন থাকে।
- যেহেতু তাপমাত্রা বাড়লে আন্তঃআণবিক দূরত্ব কিছুটা বাড়ে ও অণুর কম্পন বাড়ে; সেহেতু তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে কঠিন পদার্থের আয়তন কিছুটা বাড়ে, তবে এ বৃদ্ধি খুবই কম।

 তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ ও অণুর স্থানান্তর গতি প্রায় সমান থাকে।
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি নেই।
- যেহেতু তাপমাত্রা বাড়ালে অণুসমূহের স্থানান্তর, আবর্তন ও কম্পন গতি বৃদ্ধি পায়, তাই তরল পদার্থের আয়তনও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ে।
- কিন্তু এক্ষেত্রেও আয়তন বৃদ্ধি খুব বেশি নয়; কেননা, তিন প্রকার গতি বৃদ্ধি পেলেও কণাসমূহ পরস্পরের যথাসম্ভব সন্নিকটে অবস্থান করে।

 গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের বেলায় আস্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি ও আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম থাকে।
- তখন অণুসমূহ অধিকতর কম্পন, আবর্তন ও স্থানাস্তর গতি সহকারে আন্তঃআণবিক আকর্ষণকে উপেক্ষা করে মুক্তভাবে চলাচল করে।
- তাই গ্যাসের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই।
- যেহেতু অণুসমূহ আর পরস্পরের নিকটে থাকে না, সেহেতু গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের আয়তন কঠিন বা তরল অবস্থা থেকে অনেক বেশি হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৩,৪১৯.
১০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘন্টা চললে কত শক্তি ব্যয় হয়?
  1. ১০০ জুল
  2. ৬০ জুল
  3. ৬০০০ জুল
  4. ৩৬০০০০ জুল
সঠিক উত্তর:
৩৬০০০০ জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৬০০০০ জুল
ব্যাখ্যা
এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনাে তড়িৎ যন্ত্রে মধ্যে দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (যেমন বাতি জ্বললে আলােক শক্তি বা পাখা ঘুরালে যান্ত্রিক শক্তি পাওয়া যায়) সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা।
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট x ১ ঘণ্টা
অনেক সময় ওয়াট ঘণ্টার পরিবর্তে কিলােওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়।

এক কিলােওয়াট ঘণ্টা কতটুকু শক্তি সেটাও বের করা যায়।
১ কিলােওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট x ৩৬০০ সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ জুল
অর্থাৎ শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল।

অর্থাৎ,
১০০o ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘন্টা চললে শক্তি ব্যয় হয় = ৩,৬০,০০০০ জুল
তাহলে, ১০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘন্টা চললে শক্তি ব্যয় হয় = ৩,৬০,০০০ জুল

আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলােওয়াট-ঘণ্টা এককে পরিমাপ করা হয়। এই একককে বাের্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট বা সংক্ষেপে ইউনিট বলে। আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশােধ করি তা এই এককেই হিসাব করা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, এনসিটিবি।
৩,৪২০.
বায়ুমণ্ডলের চাপের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি লিফট পাম্পের সাহায্যে সর্বোচ্চ যে গভীরতা থেকে উঠানো যায়-
  1. ক) ১ মিটার
  2. খ) ১০ মিটার
  3. গ) ১৫ মিটার
  4. ঘ) ৩০ মিটার
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ মিটার
ব্যাখ্যা
Under ideal conditions the pressure of the air at sea level is enough to raise a column of water 10.3 m (34 ft) in a vertical pipe in which a perfect vacuum has been made.
Source: World Health Organization (WHO) Document on Pumps
৩,৪২১.
সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন থাকে নিচের কোনটিতে?
  1. পিতল
  2. কাঁসা
  3. ইস্পাত
  4. লোহা
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা
লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন/স্টেইনলেস স্টিল (ইস্পাত) প্রস্তুত করা হয়।
- মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে।
- ইস্পাত লোহা ও কার্বনের একটি সংকর ধাতু যাতে মান ভেদে মোট ওজনের ০.২% থেকে ২.১% কার্বন থাকে।
- এর অন্যান্য উপাদানের পরিমাণ - লােহা74%, ক্রোমিয়াম 18%, নিকেল ৪%
- রসায়ন শিল্পের বিক্রিয়ার পাত্র, ছুরি, কাঁচি, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি ইত্যাদি তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়।

আরো কয়েকটি সংকর ধাতুর উপাদান:
- পিতল (ব্রাস): কপার 65%, জিংক 35%
- কাঁসা (ব্রোঞ্জ): কপার 90%, টিন 10%

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির রসায়ন বিজ্ঞান বই।
৩,৪২২.
বিগ ব্যাং এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে -
  1. ক) সময়
  2. খ) শক্তি
  3. গ) স্থান
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• অভ্যন্তরীণ বিপুল তাপ ও চাপের কারণে প্রচন্ড শব্দে ডিম্বাকার বস্তুর মহাবিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ফলেই সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের এই মহাবিশ্ব আর এটাই বিগ ব্যাং তত্ত্ব‌।
এর ফলে সৃষ্টি হয় সময়, স্থান, শক্তি ও পদার্থ।
• এর কারণে সৃষ্ট খণ্ডগুলো হলো- গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, উল্কা, ধূমকেতু ইত্যাদির যা প্রতিনিয়ত পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
• ১৯২৭ সালে এই তত্ত্ব প্রকাশ করে বিজ্ঞানী জি ল্যামেটার।
• এইজন্য তাকে বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বলা হয়।
• বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ও ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। তিনি একজন ব্রিটিশ পদার্থ বিজ্ঞানী।
৩,৪২৩.
পেরিস্কোপ কোন নীতির কারণে কাজ করে?
  1. আলোর ব্যতিচার
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. আলোর বিচ্ছুরণ
  4. আলোর প্রতিফলন
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩,৪২৪.
রেডিও ও ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. মাইকা 
  2. ম্যাগনেটাইট
  3. কোয়ার্টজ
  4. চুনাপাথর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা

- রেডিও এবং ঘড়ি তৈরিতে কোয়ার্টজ (Quartz) ব্যবহৃত হয়। কারণ, এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাকে পাইজোইলেকট্রিক এফেক্ট বলা হয়। যখন কোয়ার্টজ স্ফটিকের ওপর যান্ত্রিক চাপ বা বিদ্যুৎ প্রয়োগ করা হয়, তখন এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কম্পিত হয়। ঘড়িতে এই কম্পন ব্যবহার করে নির্ভুল সময় নির্ধারণ করা হয় এবং রেডিওতে নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি বা তরঙ্গ বজায় রাখতে এটি ব্যবহৃত হয়। 

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব ও অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট লোহা বা আয়রন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও মাটি এসিডিক হলে এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৩,৪২৫.
কোন নীতির উপর ভিত্তি করে মিটার ব্রিজ তৈরি করা হয়?
  1. শক্তির সংরক্ষণ নীতি
  2. আধানের সংরক্ষণ নীতি
  3. হুইটস্টোন ব্রিজ নীতি
  4. ভরবেগের সংরক্ষণ নীতি
সঠিক উত্তর:
হুইটস্টোন ব্রিজ নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুইটস্টোন ব্রিজ নীতি
ব্যাখ্যা
মিটার ব্রিজ: 
- যে যন্ত্রে এক মিটার লম্বা সুষম প্রস্থচ্ছেদের একটি তারকে কাজে লাগিয়ে হুইটস্টোন ব্রিজের নীতি ব্যবহার করে কোনো অজানা রোধ নির্ণয় করা হয় তাকে মিটার ব্রিজ বলে। 
- মিটার ব্রিজ হুইটস্টোন ব্রিজের একটি ব্যবহারিক রূপ। 
- মিটার ব্রিজের সাহায্যে কোনো পরিবাহীর রোধ নির্ণয় করা হয় এবং তা থেকে পরিবাহীর উপাদানের আপেক্ষিক রোধ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৩,৪২৬.
ফলের সুগন্ধি মূলত কোন যৌগের কারণে হয়? 
  1. কার্বনেট 
  2. এস্টার 
  3. অ্যামাইনো এসিড 
  4. অ্যালকোহল 
সঠিক উত্তর:
এস্টার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস্টার 
ব্যাখ্যা

এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R । 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৪২৭.
গলনাঙ্কের মাধ্যমে কোনটি নির্ণয় করা যায়?
  1. পদার্থের চাপ
  2. পদার্থের ঘনত্ব
  3. পদার্থের বিশুদ্ধতা
  4. পদার্থের আয়তন
সঠিক উত্তর:
পদার্থের বিশুদ্ধতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদার্থের বিশুদ্ধতা
ব্যাখ্যা

- গলনাঙ্ক হলো যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে। একটি পদার্থ বিশুদ্ধ কিনা তা গলনাঙ্কের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। বিশুদ্ধ পদার্থ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলে, কিন্তু অবিশুদ্ধ পদার্থের গলনাঙ্ক কমে যায় বা বিস্তৃত হয়

গলনাঙ্ক: 
- কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাঙ্কের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
- যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না। 

অপরদিকে, 
- তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪২৮.
ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা-  
  1. 0
  2. + 2
  3. - 1
  4. + 1
সঠিক উত্তর:
+ 1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
+ 1
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা নির্ণয়: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। 
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 1
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা + 1. 
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 2. 
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 2. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪২৯.
পর্যায় সারণিতে রয়েছে -
  1. ক) ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ
  2. খ) ১৮টি পর্যায় ও ৭টি গ্রুপ
  3. গ) ৭টি পর্যায় ও ১৭টি গ্রুপ
  4. ঘ) ১৮টি পর্যায় ও ৬টি গ্রুপ
সঠিক উত্তর:
ক) ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ
ব্যাখ্যা
আধুনিক পর্যায় সারণী সাতটি পর্যায় নিয়ে গঠিত। 

পর্যায় সারণী হচ্ছে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থকে একত্রে উপস্থাপনের একটি আন্তর্জাতিক গৃহীত ছক।
এই ছকের মাধ্যমে বিভিন্ন মৌলের মধ্যে ভৌত ও রাসয়নিক ধর্মের মিল এবং এসব ধর্মের ক্রমপরিবর্তন দেখানো হয়।
ল্যাভয়সিয়ে (Antoine Lavoisier) সর্বপ্রথম ১৭৮৯ সালে ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে মৌলসমূহকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করেন।

 আধুনিক পর্যায় সারণির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ-
- পর্যায় সারণিতে 7 টি পর্যায় বা আনুভূমিক সারি (row) ও 18 টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ (column) রয়েছে।
- প্রতিটি পর্যায় বাম দিক থেকে গ্রুপ–1 হিসেবে শুরু করে গ্রুপ–18 পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মূল পর্যায় সারণির নিচে 2 টি আনুভূমিক সারি এবং 14 টি খাড়া স্তম্ভবিশিষ্ট একটি ছোট ছক প্রদর্শিত হয়েছে। এটিও মূল পর্যায় সারণির পর্যায়–6 ও পর্যায়–7 এর অংশবিশেষ।
- পর্যায়-1 এ শুধু দুটি মৌল রয়েছে, যারা গ্রুপ-1 ও গ্রুপ–18 তে অবস্থিত। একইভাবে পর্যায়–2 ও পর্যায়-3 এ আটটি করে মৌল আছে যারা গ্রুপ–1 থেকে গ্রুপ–2 এবং গ্রুপ–13 থেকে গ্রুপ–18 এর মধ্যে অবস্থিত।
- পর্যায়–4 থেকে পর্যায়–7 পর্যন্ত সবগুলো পর্যায়ের প্রতিটি গ্রুপই মৌল দ্বারা পূর্ণ।
- পর্যায়–4 ও পর্যায়–5 এই পর্যায় দুটির ক্ষেত্রে 18টি গ্রুপে 18টি মৌল রয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক গ্রুপে একটি করে মৌল জায়গা দখল করে নিয়েছে।
- সাধারণভাবে মৌলের ধর্ম তার গ্রুপের উপর নির্ভরশীল। একই গ্রুপের সকল মৌলের ভৌত ও রাসয়নিক ধর্ম প্রায় একই রকমের হয়। 
- পর্যায় তালিকায় কোন মৌলের পর্যায় নির্ধারণ করা হয় ঐ মৌলের পরমাণু তার ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সর্বমোট কতটি কক্ষপথ ব্যবহার করেছে তার সংখ্যার উপর।  

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৩০.
শয়তানের নিশ্বাস (ডেভিলস ব্রেথ) কোন উদ্ভিদের ফুল থেকে উৎপন্ন হয়?
  1. পাতা শ্যাওলা
  2. কাকডুমুর 
  3. আফিম 
  4. ধুতুরা
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
ব্যাখ্যা

শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- শয়তানের নিশ্বাস বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতুরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়। 
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে। 
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়। 
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। 
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি। 
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।

৩,৪৩১.
সমান আয়তনের লোহা ও কাঠের মধ্যে লোহার ভর বেশি হওয়ার কারণ কী?
  1. লোহার ঘনত্ব কম
  2. লোহার ঘনত্ব বেশি
  3. লোহার আয়তন বেশি
  4. লোহার বেগ বেশি
সঠিক উত্তর:
লোহার ঘনত্ব বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহার ঘনত্ব বেশি
ব্যাখ্যা

• লোহার ঘনত্ব বেশি — লোহার কণাগুলো কাঠের তুলনায় অধিক সন্নিবিষ্ট থাকায় সমান আয়তনে লোহার ভর বেশি হয়।

• ঘনত্ব:
- কোনো বস্তুর একক আয়তনের ভরকে ঘনত্ব বলা হয়।
- গাণিতিকভাবে, ρ = m/V.
- এখানে ρ → ঘনত্ব, m → ভর, V → আয়তন।
- SI একক → kg·m-3

• ঘনত্বের ধারণা:
- সমান আয়তনের ভিন্ন বস্তুর ভর ভিন্ন হতে পারে।
- যে বস্তুর কণাগুলো অধিক সন্নিবিষ্ট থাকে তার ঘনত্ব বেশি।
- লোহার কণাগুলো কাঠের তুলনায় অধিক সন্নিবিষ্ট।
- তাই সমান আয়তনে লোহার ভর বেশি হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৩,৪৩২.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম?
  1. ম্যানিস
  2. ভেড়া
  3. তেলাপোকা
  4. লিমুলাস
সঠিক উত্তর:
লিমুলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিমুলাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৩৩.
তাপ প্রয়োগ করলে চুম্বকের চুম্বকত্ব-
  1. ক) হ্রাস পায়
  2. খ) বৃদ্ধি পায়
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকে
  4. ঘ) কখনো বৃদ্ধি পায় কখনো হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
ক) হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
Heat

Heat will reduce the magnetic force of a magnet. Heat speeds up the rate at which the particles within the magnet move. When they move faster, they move more sporadically and misalign. In order for a magnetic to be a magnetic most of the magnetic molecules must be facing the same direction, so that each end of the magnet has opposite charges. When the particles begin moving faster the polar molecules move around as well and not as many of them will end up facing the same direction. This results in a decrease in the magnetism of the magnet
source:usmagnetix.com

৩,৪৩৪.
নিচের কোনটি বল পরিমাপের একক নয়?
  1. ডাইন
  2. পাউন্ডাল
  3. পাউন্ড-ওজন
  4. মোল
সঠিক উত্তর:
মোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোল
ব্যাখ্যা

- বল পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক হলো নিউটন
এছাড়া আরো কিছু অপ্রচলিত একক রয়েছে, যেমন- ডাইন, পাউন্ডাল, পাউন্ড-ওজন, গ্রাম-ওজন, কিলোগ্রাম-ওজন।
- পদার্থের পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক হলো মোল।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৪৩৫.
কম্পটন ক্রিয়ায় আলোর কোন ধর্ম প্রকাশ পায়?
  1. ক) তরঙ্গ ধর্ম
  2. খ) কণা ধর্ম
  3. গ) তরঙ্গ ও কণা ধর্ম
  4. ঘ) উপরের কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) তরঙ্গ ও কণা ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তরঙ্গ ও কণা ধর্ম
ব্যাখ্যা
ষোড়শ শতাব্দী থেকে মূলত আলোর প্রকৃতি সম্পৰ্কীয় বিজ্ঞান ভিত্তিক তত্ত্বসমূহের বিকাশ ঘটে। কিভাবে আলো উৎপত্তি হয়, কিভাবে আলো সঞ্চালিত হয় এবং দীপ্তমান বস্তু থেকে কিভাবে আমাদের চোখে আসে সে সম্পর্কে এ পর্যন্ত মোট চারটি তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে। এগুলো হলো :
১) কণা তত্ত্ব (Corpuscular Theory)
২) তরঙ্গ তত্ত্ব (Wave Theory)
৩) তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব (Electromagnatic Theory)
৪) কোয়ান্টাম তত্ত্ব (Quantum Theory)

আলোর দ্বৈত প্রকৃতি:
আধুনিক তত্ত্ব অনুসারে, আলোর তরঙ্গ এবং কণিকা উভয় ধর্মই বিদ্যমান। আরও ব্যাপকভাবে বলা যায় সব বস্তুরই কণা এবং তরঙ্গ ধর্ম বিদ্যমান। বিভিন্ন পরীক্ষণ থেকে দেখা যায় আলো ও বস্তু এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত করা যায়। বস্তুর ভর বেশি হলে সহজেই তার কণা ধর্ম প্রকাশ পায়।

-কম্পটন প্রভাব কে যাকে কম্পটন স্ক্যাটারিংও বলা হয়।
-এক্স-রে এবং অন্যান্য শক্তিশালী ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বৃদ্ধি যা ইলেক্ট্রন দ্বারা স্থিতিস্থাপকভাবে বিক্ষিপ্ত হয়েছে; এ উপায়ে দীপ্তিময় শক্তি পদার্থে শোষিত হয়।
-প্রভাবটি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অন্যতম ভিত্তি হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে।
- যা বিকিরণের পাশাপাশি পদার্থের তরঙ্গ এবং কণা উভয় বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৩,৪৩৬.
কোনটি মৌলিক পদার্থ?
  1. ক) চিনি
  2. খ) নিয়ন
  3. গ) পানি
  4. ঘ) লবণ
সঠিক উত্তর:
খ) নিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিয়ন
ব্যাখ্যা
যে সব পদার্থকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করলে ওই পদার্থ ছাড়া অন্য কোন পদার্থ পাওয়া যায়না তাদেরকে মৌল বা মৌলিক পদার্থ বলা হয়। এ পর্যন্ত মোট ১১৮টি মৌল চিহ্নিত হয়েছে যার মধ্যে ৯৪টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, বাকী ২৪টি কৃত্রিম উপায়ে তৈরী করা হয়। যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন। উৎসঃ বিজ্ঞান, বোর্ড বই।
৩,৪৩৭.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়?
  1. সমুদ্রস্রোত
  2. কয়লা
  3. খনিজ তেল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রস্রোত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
- 'সমুদ্রস্রোত' একটি নবায়নযোগ্য শক্তি যা পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়। 
- এই 'সমুদ্রস্রোত' নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৩৮.
নিচের কোনটি অপধাতু-
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) বোরন
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) লিথিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) বোরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বোরন
ব্যাখ্যা
যে মৌলের মধ্যে ধাতু ও অধাতু উভয়েরই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তাকে উপধাতু বা অপধাতু বলে। যেমন-বোরন (B), সিলিকন (Si), আর্সেনিক(As), টেলুরিয়াম(Te) ইত্যাদি। সূত্রঃ রসায়ন বিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,৪৩৯.
নিচের কোন রাশিটি শুধু মান দ্বারাই সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায়?
  1. ক) মন্দন
  2. খ) দ্রুতি
  3. গ) সরণ
  4. ঘ) বেগ
সঠিক উত্তর:
খ) দ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্রুতি
ব্যাখ্যা
- যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পূর্ন রুপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাকে ভেক্টর রাশি বলে।
যেমন : সরণ, বেগ, ওজন, ত্বরণ, মন্দন ইত্যাদি।
শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তনে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়। 

- যে সকল ভৌত রাশিকে শুধু মান দিয়ে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে।
যেমন : দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর ইত্যাদি।
শুধু মানের পরিবর্তনে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩,৪৪০.
বলবৃদ্ধিকরণ নীতি কোন সূত্রের সাহায্যে প্রতিপাদন করা হয়েছে?
  1. প্যাসকেলের সূত্র
  2. নিউটনের সূত্র
  3. ওহমের সূত্র
  4. কুলম্বের সূত্র
সঠিক উত্তর:
প্যাসকেলের সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যাসকেলের সূত্র
ব্যাখ্যা

- বলবৃদ্ধিকরণ নীতি প্যাসকেলের সূত্র থেকে এসেছে।

• প্যাসকেলের সূত্র:
- একটা আবদ্ধ পাত্রে তরল বা বায়বীয় পদার্থে বাইরে থেকে চাপ দেওয়া হলে সেই চাপ চারদিকে সমানভাবে সঞ্চালিত হয়ে পাত্রের সংলগ্ন গায়ে লম্বভাবে কাজ করবে।

- তরলে সৃষ্ট চাপ সবদিকে সমানভাবে বিস্তার লাভ করে।
এই নীতি ব্যবহার করে:
- হাইড্রোলিক প্রেস,
- হাইড্রোলিক ব্রেক,
- লিফট,
- কার জ্যাক,
ইত্যাদিতে কম বল প্রয়োগ করে বড় বল উৎপন্ন করা সম্ভব হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৪১.
PH এর মান দ্বারা পানিতে কিসের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) লিথিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
PH স্কেল:
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন PH স্কেল ব্যবহার করেন।
- PH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়।
- PH এর মান দ্বারা পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) -এর পরিমাণ পরিমাপ করা হয়।  
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) -এর ঘনমাত্রার ঋনাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের PH বলে। অর্থাৎ PH= -log[H+
- PH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের PH মাপা হয়।
- PH মিটারে PH স্কেল থাকে।
- দ্রবণের PH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- দ্রবণের PH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি নিরপেক্ষ হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৪২.
ডায়নামোতে বৈদ্যুতিক শক্তি কোন শক্তি থেকে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. চৌম্বকীয় শক্তি
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা
• ডায়নামোতে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তি থেকে রূপান্তরিত হয়। 

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- একটি গতিশীল চুম্বক বা তড়িৎবাহী বর্তনীর সাহায্যে অন্য একটি বদ্ধ বর্তনীতে ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বলে।

• ডায়নামো:
- ডায়নামো হলো একটি যন্ত্র যা যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এটি তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) এর নীতিতে কাজ করে।

• কার্যপ্রণালী:
→ যান্ত্রিক শক্তির প্রয়োগ:
- ডায়নামোর একটি কয়েল (তামার তারের পেঁচানো অংশ) চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে ঘুরানো হয়।
- এই ঘূর্ণন সাধারণত বাইরে থেকে যান্ত্রিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে করা হয় (যেমন: সাইকেলের প্যাডেল, হাইড্রো টারবাইন বা বায়ু টারবাইন, ডিজেল বা পেট্রোল ইঞ্জিন)।
→ তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- ফ্যারাডের সূত্র অনুসারে, চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে কয়েল ঘুরালে তাতে বিদ্যুৎপ্রবাহ (তড়িৎ শক্তি) উৎপন্ন হয়।
- এই প্রক্রিয়ায় যান্ত্রিক শক্তি → বৈদ্যুতিক শক্তি রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
- Faraday's Law of Electromagnetic Induction – Britannica. 
৩,৪৪৩.
টলেন বিকারক কোন শ্রেণির জৈব যৌগকে শনাক্ত করে?
  1. অ্যালকোহল
  2. অ্যালডিহাইড
  3. কিটোন
  4. কার্বোক্সিলিক এসিড
সঠিক উত্তর:
অ্যালডিহাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালডিহাইড
ব্যাখ্যা

◉ টলেন বিকারক (Tollens' reagent) মূলত অ্যালডিহাইড শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

টলেন বিকারক:
- অতিরিক্ত NH4OH দ্রবণে AgNO3 যোগ করলে যে বর্ণহীন দ্রবণ উৎপন্ন হয় তাকে টলেন বিকারক বলা হয়। এতে [Ag(NH3)2]+ আয়ন থাকে। এটি একটি মৃদু জারক।
AgNO3 + NH4OH→ [Ag(NH3)2]OH + NH4NO3 + H2O

টলেন বিকারকসহ অ্যালডিহাইডকে একটি কাঁচের টেস্টটিউবে উত্তপ্ত করলে টেস্টটিউবের গায়ে কাঁচের মত ধাতব সিলভারের প্রলেপ পড়ে দর্পণের মত দেখায়। ইহাকে সিলভার দর্পন বলে। কিটোন এ বিক্রিয়া প্রদর্শন করে না। এ বিক্রিয়াটি তাই অ্যালডিহাইড শনাক্তকরণের বিক্রিয়া।
CH3CHO (অ্যালডিহাইড) + 2[Ag(NH3)2] OH→ H3C-COONH4 + 2Ag↓ + 3NH3↑ + H2O

এছাড়াও, অ্যালডিহাইড শনাক্তকরণে ফেহলিং দ্রবণ ব্যাবহার করা হয়। 

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) অ্যালকোহল - অ্যাসিটাইল ক্লোরাইড পরীক্ষা অথবা লুকাস বিকারক দ্বারা অ্যালকোহল শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়। 
গ) কিটোন - আইডোফর্ম টেস্ট অথবা 2,4-ডাইনাইট্রোফিনাইলহাইড্রাজিন (2,4-DNPH) টেস্ট দ্বারা কিটোন শনাক্ত করা হয়। 
ঘ) কার্বোক্সিলিক এসিড - সোডিয়াম বাইকার্বোনেট টেস্ট দ্বারা শনাক্ত করা হয়। 

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৪৪৪.
কোন বিক্রিয়াটি ইলেকট্রন স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়?
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সকল জারন বিজারন বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।
ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে-
১। সংযোজন বিক্রিয়া 
২। বিয়োজন বিক্রিয়া 
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
৪। দহন বিক্রিয়া 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৪৫.
নিচের কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন চক্রের শুরু হয়?
  1. নাইট্রিফিকেশন
  2. ডিনাইট্রিফিকেশন
  3. ফিক্সেশান
  4. এসিমিলেশন
সঠিক উত্তর:
ফিক্সেশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিক্সেশান
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন চক্র: 
- নাইট্রোজেন চক্র পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 
- নাইট্রোজেন জীবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি কিন্তু বায়ুমণ্ডলে এটি বিপুল পরিমাণে থাকলেও কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ এটি সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। 
- নাইট্রোজেন চক্র এমন একটি জৈবভূরাসায়নিক প্রক্রিয়া যেটি প্রায় নিষ্ক্রিয় নাইট্রোজেন গ্যাসকে জীবের ব্যবহারের উপযোগী করে রূপান্তরিত করে তুলে। 
- এই চক্রের মাধ্যমে নাইট্রোজেন গ্যাস বায়ুমণ্ডল থেকে মাটিতে আসে এবং চক্র শেষে আবার বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়। 
- নাইট্রোজেন চক্রের কয়েকটি সক্রিয় প্রক্রিয়া নিচে আলোচনা করা হলো- 

নাইট্রোজেন ফিক্সেশান (Fixation): 
- নাইট্রোজেন চক্র শুরু হয় নাইট্রোজেন ফিক্সেশান দিয়ে যেখানে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া দিয়ে বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন অ্যামোনিয়াতে রূপান্তরিত হয়। 
- এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মাটিতেই থাকে এবং এটি হচ্ছে উদ্ভিদের সঙ্গে এই ব্যাকটেরিয়াগুলোর একধরনের সিম্বিওটিক সম্পর্ক। 

নাইট্রিফিকেশন (Nitrification): 
- এই প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়া প্রথমে নাইট্রাইট পরে নাইট্রেট আয়নে রূপান্তরিত হয়। 
- একবার নাইট্রেটে পরিণত হলে উদ্ভিদ খুব সহজে সেটি পুষ্টির অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

এসিমিলেশন (Assimilation): 
- এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রেট গ্রহণ করে সেগুলো ব্যবহার করে নাইট্রোজেন গঠিত অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য অণু গঠন করে যেগুলো হচ্ছে ডিএনএ এবং প্রোটিন তৈরি করার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- প্রাণী তাদের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন উদ্ভিদ থেকে পেয়ে থাকে। 

এমোনিফিকেশন (Armonification): 
- যখন উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর মৃত্যু ঘটে তখন ব্যাকটেরিয়া এবং ফানজাই তাদের দেহাবশেষ পচিয়ে আবার অ্যামোনিয়াতে রূপান্তরিত করে দেয়। 
- নাইট্রোজেন ফিক্সেশানে প্রস্তুত অ্যামোনিয়া যেভাবে নাইট্রেটে পরিণত হয়, ঠিক একইভাবে অ্যামোনোফিকেশানে প্রস্তুত অ্যামোনিয়াও নাইট্রেটে পরিণত হয়। 

ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification): 
- অক্সিজেনের ঘাটতি আছে এরকম এলাকায় এই প্রক্রিয়ায় ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া নাইট্রেটকে ভেঙে আবার নাইট্রোজেনে পরিণত করে বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেয়। 

উল্লেখ্য যে, 
- অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করার কারণে মাটিতে নাইট্রেটের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে সেটি একধরনের পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি করেছে। 
- কাজেই নাইট্রোজেন চক্রটির সঠিক নিয়ন্ত্রণ মানুষের জন্য একটি জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান (অনুসন্ধানী পাঠ), নবম শ্রেণি।
৩,৪৪৬.
'সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে'- সূত্রটি কে প্রদান করেন?
  1. কোপারনিকাস
  2. গ্যালিলিও
  3. কেপলার
  4. নিউটন
সঠিক উত্তর:
কেপলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেপলার
ব্যাখ্যা
• কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- তিনি সৌর জগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত

• প্রথম সূত্র - সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র - প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র - সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৪৭.
রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রতীকি প্রকাশকে কী বলা হয়?
  1. ক) আণবিক সংকেত
  2. খ) প্রতীক
  3. গ) রাসায়নিক সমীকরণ
  4. ঘ) এখানে সঠিক উত্তর দেয়া নেই
সঠিক উত্তর:
গ) রাসায়নিক সমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাসায়নিক সমীকরণ
ব্যাখ্যা
- প্রতীক, সংকেত বা চিহ্নের সাহায্যে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে প্রকাশ করার পদ্ধতিকে রাসায়নিক সমীকরণ বলা হয়।
- অন্যভাবে, রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রতীকি প্রকাশকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে। 
- অর্থাৎ একটি বিক্রিয়ার বিক্রিয়ক ও উৎপাদের মধ্যে সম্পর্ক প্রকাশের সহজতম উপায় হলো রাসায়নিক সমীকরণ।
- সঠিক রাসায়নিক সমীকরণ লিখে বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থের সাথে বিক্রিয়ক পদার্থের মাত্রিক সম্পর্ক বের করা যায়।
 
উৎস: রসায়ন , এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৪৪৮.
নিম্নের কোনটি অজৈব এসিড?
  1. ল্যাকটিক এসিড
  2. সাইট্রিক এসিড
  3. অ্যাসিটিক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা

- অজৈব এসিড বা খনিজ এসিড হলো সেই সকল এসিড যা সাধারণত খনিজ পদার্থ থেকে তৈরি হয় এবং এদের অণুতে কার্বন পরমাণুর উপস্থিতি থাকে না (ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে)। সালফিউরিক এসিড (H2SO4) একটি শক্তিশালী অজৈব এসিড যা শিল্পকারখানায় বহুল ব্যবহৃত হয়। 

জৈব এসিড: 
- জলপাই, করমচা, আমলকি ও কাঁচা আমড়া ও লেবুতে সাইট্রিক এসিড থাকে। 
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে। 
- টকদই এর মধ্যে থাকে ল্যাকটিক এসিড। 
- বাজারে কাঁচের বোতলে যে ভিনেগার পাওয়া যায় তা মূলত ইথানোয়িক এসিড (CH3-COOH)-এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণ। 
- বাজারে বিভিন্ন রকমের সফট ড্রিংকস পাওয়া যায় যেগুলো প্রকৃত অর্থে কার্বনিক এসিডের দ্রবন। 
- পাকস্থলির দেয়াল হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) উৎপন্ন করে। এ হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাবারের সাথে বিভিন্ন ক্ষতিকারক অণুজীবকে মেরে ফেলে এবং খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। আবার পাকস্থলি থেকে অতিরিক্ত এসিড উৎপন্ন হলে বুক জ্বালা ও গলায় জ্বালাপোড়া অনুভব করে থাকি। তখন আবার অতিরিক্ত এসিডকে প্রশমিত করতে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3) অথবা এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ সেবন করে থাকি। 

অজৈব এসিড: 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), নাইট্রিক এসিড (HNO3) ও সালফিউরিক এসিড (H2SO4) হলো অজৈব এসিড।
- পানিতে বিভিন্ন অনুপাতে যোগ করে তাদের দ্রবণ প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- জলীয় দ্রবণে থেকেই এরা তাদের এসিড ধর্ম প্রদর্শন করে। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাসের কোনো এসিড ধর্ম থাকে না। হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন করে থাকে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৪৯.
অ্যাসিটিক এসিড কি কাজে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে
  2. খ) চামড়া সংরক্ষণে
  3. গ) আইপিএস এর ব্যাটারিতে
  4. ঘ) ফল পাকানোতে
সঠিক উত্তর:
ক) খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে
ব্যাখ্যা
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয় । - ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) এর 6 -10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 
- এর আরেক নাম সিরকা। 
- এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
- এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতিসহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
তা ছাড়াও এর তেমন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
 
এটি যেভাবে কাজ করে তা হলো খাদ্যদ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়।  এ মান 5 থেকে 4 এর মধ্যে নেমে আসে। 
তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন, অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6-5-7-5 এর মধ্যে। তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না এবং এটি বহুল প্রচলিত।
 
উৎস : রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৪৫০.
চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যে আকর্ষণ বিকর্ষণ বল সম্পর্কে সূত্র আবিস্কার করেন-
  1. মাইকেল ফ্যারাডে
  2. উইলিয়াম গিলবার্ট
  3. চার্লস অগাস্টিন কুলম্ব
  4. উইলহেলম এডুয়ার্ড ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
চার্লস অগাস্টিন কুলম্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস অগাস্টিন কুলম্ব
ব্যাখ্যা
• কূলম্বের সূত্র:
১৭৮৫ খৃষ্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী কুলম্ব চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যে আকর্ষণ বিকর্ষণ বল সম্পর্কে একটি সূত্র আবিস্কার করেন।
তাঁর নামানুসারে এই সূত্রটিকে কূলম্বের সূত্র বলে।
সূত্র: নির্দিষ্ট মাধ্যমে দুটি পৃথক চুম্বকের মেরুর মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বা বলের মান মেরুদ্বয়ের শক্তির গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যকার দূরত্বের বর্গের ব্যাস্তানুপাতিক এবং এই বল মেরুদ্বয়ের সংযোগ সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।
ধরা যাক, মেরুদ্বয়ের শক্তি যথাক্রমে m1 ও m2 এবং এদের মধ্যবর্তী দূরত্ব d । মেরুদ্বয়ের মধ্যকার ক্রিয়াশীল বল F হলে,



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৫১.
কৃত্রিম উপায়ে তৈরি মৌলিক পদার্থের সংখ্যা কত?
  1. 15
  2. 18
  3. 20
  4. 22
সঠিক উত্তর:
20
উত্তর
সঠিক উত্তর:
20
ব্যাখ্যা

• মৌলিক পদার্থ (Elements):
- মৌলিক পদার্থ হলো সেই পদার্থ যা একধরনের পরমাণু দ্বারা গঠিত, এবং সাধারণ রাসায়নিকভাবে ভাঙা যায় না।
- যেমন: হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), কার্বন (C) ইত্যাদি।

• প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম মৌলিক পদার্থ:
- পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া মৌলিক পদার্থের সংখ্যা প্রায় ৯৮টি।
- যেসব মৌলিক পদার্থ প্রাকৃতিকভাবে নেই, সেগুলো বিজ্ঞানীরা ল্যাবে কৃত্রিমভাবে তৈরি করেছেন।
- উদাহরণ: টেকনেশিয়াম (Tc), প্লুটোনিয়াম (Pu), অস্টেটিন (At) ইত্যাদি।

• কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থের সংখ্যা:
- বর্তমান পর্যন্ত ২০টি মৌলিক পদার্থ কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে।
- এই মৌলিক পদার্থগুলো সাধারণত পরমাণু সংখ্যার দিক থেকে 93 বা তার বেশি (যেমন: Neptunium, Californium, Fermium, Oganesson)।
- এদের অধিকাংশ সংক্ষিপ্ত জীবনকালযুক্ত এবং দ্রুত বিঘ্নিত হয়।

উৎস: NCTB, সাধারণ বিজ্ঞান।

৩,৪৫২.
পর্যায় সারণির কোন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে? 
  1. ক্ষারধাতু
  2. মৃৎক্ষার
  3. হ্যালোজেন
  4. নিষ্ক্রিয় ধাতু
সঠিক উত্তর:
হ্যালোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যালোজেন
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে- 
• ফ্লোরিন (F), 
• ক্লোরিন (Cl), 
• ব্রোমিন (Br), 
• আয়োডিন (I), 
• অ্যাস্টাটিন (At) এবং 
• টেনেসিন (Ts)। 

- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবন উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে। 
যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৫৩.
পর্যায়বৃত্ত গতির গতিপথ কোন ধরনের হতে পারে?
  1. বৃত্তাকার
  2. উপবৃত্তাকার
  3. সরলরৈখিক
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পর্যায়বৃত্ত গতি (Periodic Motion): 
- একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর যদি গতির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলা হয়। 
- যে সময়কাল পরপর এই পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাকে বলে এই গতির পর্যায়কাল। 
- পর্যায়বৃত্ত গতিতে চলনশীল একটি বস্তুকণা তার গতিপথের প্রতিটি বিন্দুকে এক পর্যায়কাল পরপর একই বেগে অতিক্রম করে। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন পর্যায়বৃত্ত কারণ হৃৎপিণ্ডটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একইভাবে স্পন্দিত হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত গতি বৃত্তাকার (ফ্যানের পাখা) উপবৃত্তাকার (সূর্যকে ঘিরে হ্যালির ধূমকেতুর কক্ষপথ), সরলরৈখিক (স্প্রিংয়ে ঝুলিয়ে রাখা দুলতে থাকা বস্তু) কিংবা অন্য যেকোনো আকৃতির পথে হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৫৪.
প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত কোনটি?
  1. অ্যালকিন
  2. অ্যালকেন
  3. অ্যালকাইন
  4. প্রোপাইন
সঠিক উত্তর:
অ্যালকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালকেন
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150° - 180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অ্যালকেনের রাসায়নিক ধর্ম: 
- অ্যালকেন সাধারণভাবে প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত। 
- Param অর্থ কম বা স্বল্প এবং affinis অর্থ আসক্তি। 
- তাই Paraffin অর্থ স্বল্প আসক্তির যৌগ। 
- অ্যালকেন যৌগের অণুতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন শক্তিশালী একক বন্ধনের মাধ্যমে সংযুক্ত। 
- এ কারণে এরা অনেকটাই রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। 
- এমনকি এসিড, ক্ষার, ধাতু ও ক্ষারকের সাথেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৫৫.
বর্তমানে কোন অ্যালকোহলকে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়? 
  1. প্রোপান 
  2. গ্যাসোলিন 
  3. মিথানল 
  4. ইথানল 
সঠিক উত্তর:
ইথানল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানল 
ব্যাখ্যা

অ্যালকোহল: 
- মিথানল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। 
- মিথানল মূলত অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- রাসায়নিক শিল্পে ইথানয়িক এসিড, বিভিন্ন জৈব এসিডের এস্টার প্রস্তুত করা হয়। 
- ইথানলকে প্রধানত পারফিউম, কসমেটিকস ও ওষুধ শিল্পে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

- ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেডের ইথানলকে ওষুধ শিল্পে এবং রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলের 96% জলীয় দ্রবণকে রেকটিফাইড স্পিরিট (rectified spirit) বলে। 
- পারফিউম শিল্পেও ইথানলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পারফিউমে ইথানল ব্যবহারের পূর্বে তাকে গন্ধমুক্ত করা হয়। 
- ওষুধ ও খাদ্য শিল্প ব্যতীত অন্য শিল্পে রেকটিফাইড স্পিরিট সামান্য মিথানল যোগে বিষাক্ত করে ব্যবহার করা হয়। একে মেথিলেটেড স্পিরিট (methylated spirit) বলে। কাঠ এবং ধাতুর তৈরি আসবাবপত্র বার্নিশ করার জন্য মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়। 

- বর্তমানে ব্রাজিলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- স্টার্চ (চাল, গম, আলু ও ভুট্টা) থেকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া চিনি শিল্পের উপজাত উৎপাদ (by-product) চিটাগুড় থেকে একই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল (ইথানল) পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশের দর্শনায় কেরু এন্ড কেরু কোম্পানিতে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমে, অপরদিকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৫৬.
আল-কিমিয়া কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) স্প্যানিশ
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) ইংরেজি
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি
ব্যাখ্যা
আল-কেমি শব্দটি আরবি 'আল-কেমিয়া' থেকে উদ্ভুত, যা দিয়ে মিশরীয় সভ্যতাকে বুঝানো হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৩,৪৫৭.
তাপমাত্রা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক কোনটি?
  1. কেলভিন
  2. ফারেনহাইট
  3. সেলসিয়াস
  4. ডিগ্রী সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
কেলভিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেলভিন
ব্যাখ্যা
তাপ (Heat): 
- তাপ এক প্রকার শক্তি যার অভাবে ঠান্ডা এবং যার প্রভাবে বস্তু গরম হয়। 
- এক সময় বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল তাপ ক্যালরিক নামে এক প্রকার সূক্ষ্ম তরল বা বায়বীয় পদার্থ, কোনো বস্তুতে ক্যালরিক কম হলে বস্তু ঠান্ডা এবং বেশি হলে বস্তু গরম হয়। 
- ১৭৭৮ খ্রি: বিজ্ঞানী কাউন্ট রামফোর্ড আবিষ্কার করেন, পদার্থের মধ্যে অণুসমূহের গতির ফলই তাপ। 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তি দ্বারা কাজ সম্পাদন হয়, এই শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায় আবার অন্য শক্তিও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
যেমন- বৈদ্যুতিক বাতিতে বিদ্যুৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে এবং তাপ শক্তিকে আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- তাপের S.I একক জুল (J), এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো, 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

তাপমাত্রা (Temparature): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিতে থাকলে, যত তাপ দেয়া হয় তত বেশি গরম হয়। গরমের মাত্রা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি। 
- দু'টি বস্তুকে পরস্পরের তাপীয় সংস্পর্শে আনলে এদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। 
- এই আদান প্রদান বস্তুর মধ্যে তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর। 
- বস্তু দুটির তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ একটি থেকে অন্যটিতে (গরমটি থেকে ঠান্ডাটিতে) প্রবাহিত হয়, বস্তুর এই তাপীয় অবস্থার নাম উষ্ণতা বা তাপমাত্রা। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের S.I বা আন্তর্জাতিক একক কেলভিন, তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক আছে। যেমন- সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট । 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৫৮.
আইভরি ব্ল্যাক কি?
  1. ক) রক্ত কয়লা
  2. খ) সক্রিয় কয়লা
  3. গ) কালো রঙ
  4. ঘ) অস্থিজ কয়লা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্থিজ কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্থিজ কয়লা
ব্যাখ্যা

'আইভরি ব্ল্যাক' হলো অস্থিজ কয়লা।

প্রাণিদেহের চর্বিমুক্ত হাড়ের বিধ্বংসী পাতনের ফলে উৎপন্ন হয় প্রাণীজ বা অস্থিজ কয়লা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কয়লার কার্বনের অনুপাত বাড়তে থাকে এবং কয়লার গুণগত মানও বৃদ্ধি পায়। এজন্য খনিজ কয়লার মধ্যেও শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে।
যেমন: পীট কয়লা, লিগনাইট, বিটুমিনাস এবং অ্যানথ্রাসাইট।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন পাঠ্যবই।

৩,৪৫৯.
The study of light and vision is known as-
  1. ক) Astronomy
  2. খ) Acoustics
  3. গ) Neurology
  4. ঘ) Optics
সঠিক উত্তর:
ঘ) Optics
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Optics
ব্যাখ্যা
Optics - the scientific study of sight and the behaviour of light, or the properties of transmission and deflection of other forms of radiation.

source: oxford dictionary
৩,৪৬০.
কোন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না?
  1. পরিবহন
  2. বিকিরণ
  3. পরিচলন
  4. বাষ্পীভবন
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
ব্যাখ্যা

• বিকিরণ প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য কোনো জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, যেমন সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসা।

• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে, তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
তাপ সঞ্চালন তিনভাবে হয়।
- যথা—পরিবহন, পরিচলন, বিকিরণ।

• তাপ বিকিরণ:
- পৃথিবীতে সূর্যই তাপের মূল উৎস।
- সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে প্রায় সবটুকুই ফাঁকা, কোনো বায়বীয় পদার্থও নেই।
- সূর্য থেকে তাপ আসে বিকিরণের মাধ্যমে, যেখানে কোনো জড় মাধ্যম নেই, সেখানে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।
- আলো এক রকমের তরঙ্গ, যা কোনো মাধ্যম ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে।
- বিকিরণের সময় তাপ আলো বা বিদ্যুৎচুম্বকীয় তরঙ্গাকারে সঞ্চালিত হয়।
- মাধ্যম থাকুক বা না থাকুক, উত্তপ্ত বস্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ নির্গত করে।

• বিকিরক ও শোষক:
- কোনো পদার্থ তাপ বিকিরণ করলে তাকে বিকিরক বলে।
- কোনো পদার্থ তাপ শোষণ করলে তাকে শোষক বলে।
- কোনো পদার্থ তার তাপমাত্রার জন্য তাপ বিকিরণ বা শোষণ করলে তাকে তাপীয় বিকিরণ (Thermal radiation) বা তাপীয় শোষণ বলে।
- বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কোনো পদার্থ ভালো তাপ বিকিরক হলে সেটি ভালো তাপ শোষকও হয়।
- তা না হলে একটি বিকিরক ক্রমাগত বেশি পরিমাণ তাপ বিকিরণ করে ক্রমশ শীতল হবে এবং একটি শোষক ক্রমাগত বেশি তাপ শোষণ করে ক্রমশ উত্তপ্ত হবে।

• অন্যান্য অপশন:
- পরিবহন → কঠিন পদার্থে অণুর কম্পনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালন হয়।
- পরিচলন → তরল বা বায়বীয় মাধ্যমে কণার সঞ্চালনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালিত হয়।
- বাষ্পীভবন → তরল থেকে গ্যাসে রূপান্তরের প্রক্রিয়া, এটি তাপ সঞ্চালনের পদ্ধতি নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৩,৪৬১.
ডেনিয়েল সেলে রাসায়নিক শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. শব্দ শক্তিতে
  2. তাপ শক্তিতে
  3. আলোক শক্তিতে
  4. বিদ্যুৎ শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
ডেনিয়েল সেল: 
- বাস ও ট্রাকে যে ব্যাটারি দেখা যায় তা মূলত ডেনিয়েল সেল। 
- জিংক সালফেট লবণের দ্রবণের মধ্যে জিংক ধাতুর দণ্ড এবং কপার সালফেট লবণের দ্রবণের মধ্যে কপার ধাতুর দণ্ড ব্যবহার করে ডেনিয়েল সেল তৈরি করা হয়। 
- ডেনিয়েল সেলে নিচের বিক্রিয়া ঘটে- 
• Zn(s) + CuSO4(aq) → ZnSO4 (aq) + Cu(s) 
- এ বিক্রিয়ার মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৬২.
‘অলিয়াম’ বলতে বুঝায়-
  1. ক) লঘু সালফিউরিক এসিড
  2. খ) কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক এসিড
  3. গ) ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) গাঢ় সালফিউরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
গ) ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
১০০% সালফিউরিক এসিড (SO3) গ্যাস শোষণ করে ধূমায়িত সালফিউরিক এসিড বা অলিয়াম [H2S2O7] উৎপন্ন করে। উৎপন্ন অলিয়ামকে প্রয়োজনমত পানির সাথে মিশ্রিত করে লঘু এসিডে পরিণত করা হয়।
[সূত্রঃ রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রম, উন্মুক্ত]
৩,৪৬৩.
RFID-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Radio Frequency Identification
  2. Radio Frequency Interconnection
  3. Radio Frequency Information
  4. Radio Frequency Indication
সঠিক উত্তর:
Radio Frequency Identification
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Radio Frequency Identification
ব্যাখ্যা
Radio Frequency Identification (RFID):
- RFID-এর পূর্ণরূপ: Radio Frequency Identification.

⇒ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (RFID) হল একটি বেতার প্রযুক্তি যা রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে বস্তু বা ব্যক্তিকে সনাক্ত করে।
- এটি একটি ট্যাগ বা লেবেল এবং একটি রিডার/স্ক্যানার নিয়ে গঠিত।
- ট্যাগটিতে একটি ছোট চিপ এবং অ্যান্টেনা থাকে, যা ডেটা ধারণ করে।
- রিডার/স্ক্যানার রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে ট্যাগের ডেটা পড়ে।
- RFID ‘র কাজ অনেকটা বারকোডের মতই। শপিংমল কিংবা যেখানে কোনও জিনিস কে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কম্পিউটার দ্বারা সনাক্ত করা লাগে, সেখানে অনেক সময় আরএফআইডি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

উৎস: Britannica.
৩,৪৬৪.
স্টেইনলেস স্টীলে সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে -
  1. কার্বন
  2. লোহা
  3. নিকেল
  4. ক্রোমিয়াম
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা
- স্টেইনলেস স্টীলে সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে - লোহা (৭৪%)। 

সংকর ধাতু: 

- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না। 
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু। 
যেমন - পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং জিংক 35% থাকে। 
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়। 
যেমন- 
• স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
• আবার, পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৬৫.
  1. ১৭
  2. ২৫
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• আইসোটোপ:
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- তবে ভারী আইসোটোপের স্ফুটনাংক ও গলনাঙ্ক একটু বেশি হবে, যা অনেকক্ষেত্রে উপেক্ষা করা যায়।
- বর্তমানে সর্বমোট আইসোটোপের সংখ্যা প্রায় ১৩০০।

• কোন পরমাণুতে ভরসংখ্যা = প্রোটন (Z) + নিউট্রন (n) সংখ্যা, যা A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেহেতু, ভরসংখ্যা হলো, প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভর সংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বাদ দিলে পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যাবে।

এখানে,
O এর ভরসংখ্যা ১৭ এবং প্রোটন সংখ্যা ৮
∴ নিউট্রন সংখ্যা= ১৭ - ৮ = ৯

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৬৬.
নিচের কোন পদার্থটি একটি লবণ?
  1. সালফিউরাস এসিড
  2. পটাশিয়াম অক্সাইড
  3. অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. সোডিয়াম টারটারেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম টারটারেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম টারটারেট
ব্যাখ্যা

- সালফিউরাস এসিড, সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, নাইট্রাস এসিড, ফসফরিক এসিড ইত্যাদি হলো অম্ল।
- সোডিয়াম অক্সাইড, পটাশিয়াম অক্সাইড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড, অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ইত্যাদি হলো ক্ষারক।
- সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম কার্বনেট, সোডিয়াম টারটারেট ইত্যাদি সবই হলো লবণ।
টারটারিক এসিড এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর প্রশমন বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হয় সোডিয়াম টারটারেট লবণ।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৪৬৭.
সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো—
  1. R3NH+
  2. SO3-Na+
  3. R2NH2+
  4. COO-Na+
সঠিক উত্তর:
COO-Na+
উত্তর
সঠিক উত্তর:
COO-Na+
ব্যাখ্যা
সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলাে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সােডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK). 
- সাবানের রাসায়নিক নাম হলাে সােডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa). 
- সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো COO-Na+
- সাবান তৈরি করা হয় চর্বি এবং ক্ষার থেকে। 
- সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৪৬৮.
চৌম্বক ক্ষেত্রের এস.আই একক কোনটি? 
  1. লুমেন
  2. ওয়াট
  3. টেসলা
  4. ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
টেসলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেসলা
ব্যাখ্যা

চৌম্বক ক্ষেত্র: 
- কোনো তড়িৎবাহী তারের চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চৌম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ তড়িৎবাহী তারের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- লম্বা সোজা পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করা হলে এর চারদিকে যে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, তা চুম্বক শলাকার সাহায্যে চৌম্বক ক্ষেত্র রেখা (বা চৌম্বক আবেশ রেখা) অঙ্কিত করে দেখানো যায়। রেখাগুলিকে চৌম্বক বলরেখাও বলা হয়ে থাকে। 
- লম্বা সোজা পরিবাহীর জন্য কোনো বিন্দুতে চৌম্বক ক্ষেত্রের মান (ক) পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহের সমানুপাতিক এবং (খ) বিন্দু থেকে পরিবাহীর দূরত্বের ব্যস্তানুপাতিক। 
- ক্রোয়েশিয়ার বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা এর নামানুসারে একে টেসলা (T) বলে। 
- টেসলা হচ্ছে চৌম্বক ক্ষেত্রের এস.আই একক। 
- এক চৌম্বকক্ষেত্র 1 কুলম্ব (C) আধান ক্ষেত্রের দিকের সাথে সমকোণে 1 ms-1 গতিশীল হলে 1 N বল অনুভব করে সেই চৌম্বকক্ষেত্রের মানকে 1 টেসলা বলে। 
- কোনো চুম্বক অথবা একটি গতিশীল চার্জের, চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চুম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ চুম্বক বা গতিশীল চার্জের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- একটি একক চার্জ একক বেগে চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে সমকোণে গতিশীল হলে যে বল লাভ করে তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের মান। 
- একটি চুম্বক শলাকাকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করলে তার উত্তর মেরু যে দিক নির্দেশ করে, তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক। তড়িৎবাহী তারের জন্য চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক ফ্লেমিঙের দক্ষিণ হস্ত নিয়ম দ্বারা নির্ণয় করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৬৯.
কিসের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়? 
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিধ্বনি
  3. প্রতিসরণ
  4. প্রতিসরাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
প্রতিধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিধ্বনি
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়: 
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 
- কোন শব্দ উৎস থেকে শব্দ করা হলে তা কোন কঠিন তলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আবার যদি শব্দের উৎসের নিকট ফিরে আসে, তখন সেই শব্দের পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, শব্দের এই পুনরাবৃত্তিকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে। 
- ফ্যাদোমিটার যন্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয়। 
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা, কূপের গভীরতা ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭০.
'স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক।' এটি-
  1. চার্লসের সূত্র
  2. বয়েলের সূত্র
  3. গে-লুস্যাকের সূত্র
  4. নিউটনের সূত্র
সঠিক উত্তর:
চার্লসের সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লসের সূত্র
ব্যাখ্যা
• চার্লসের সূত্র:
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273 ;
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”।
গাণিতিকভাবে, V ∝ T.

• বয়েলের সূত্র:
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, PV = K.

• গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র:
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, P ∝ T.

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
৩,৪৭১.
পর্যায় সারণির কত নম্বর গ্রুপে নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোর অবস্থান?
  1. ক) ১৮
  2. খ) ১৬
  3. গ) ১৫
  4. ঘ) ১৪
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
মৌলগুলাে হলাে:
হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)এবং ওগানেসন (og)।
এই মৌলগুলাের সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়ােজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনাে যৌগ গঠন করতে চায় না।
রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।

৩,৪৭২.
কোন গ্যাসটি “ড্রাই আইস” তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) কার্ব ডাই-অক্সাইড
  3. গ) সালফার ডাই-অক্সাই
  4. ঘ) নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
খ) কার্ব ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্ব ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শুষ্ক বরফ বা ‘ড্রাই আইস’ জমাট কার্বন-ডাই-অক্সাইড।
এ কঠিনীকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড -78.5℃ উষ্ণতায় কঠিন অবস্থা থেকে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়।
তাই এর নাম শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৭৩.
অ্যালকেন প্রস্তুত করার সময় কোন ধাতু প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. কোবাল্ট
  2. নিকেল
  3. পলাডিয়াম
  4. প্লাটিনাম
সঠিক উত্তর:
নিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকেল
ব্যাখ্যা

অ্যালকেন:
- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়।
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম:
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর।
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়।
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল।
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন।

অ্যালকেনের রাসায়নিক ধর্ম:
- অ্যালকেন সাধারণভাবে প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত।
- Param অর্থ কম বা স্বল্প এবং affinis অর্থ আসক্তি, তাই Paraffin অর্থ স্বল্প আসক্তির যৌগ।
- অ্যালকেন যৌগের অণুতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন শক্তিশালী একক বন্ধনের মাধ্যমে সংযুক্ত।
- এই কারণে এরা অনেকটাই রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। আবার এসিড, ক্ষার, ধাতু ও ক্ষারকের সাথেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে না।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৭৪.
কোন পদার্থটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে অন্য পদার্থকে জারিত করে?
  1. সোডিয়াম
  2. হাইড্রোজেন
  3. সালফার ডাই অক্সাইড
  4. ক্লোরিন
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

জারক পদার্থ (Oxidizing Agent) হলো এমন একটি রাসায়নিক সত্তা যা কোনো জারণ-বিজারণ (Redox) বিক্রিয়ায় অন্য পদার্থ থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে। ক্লোরিন একটি শক্তিশালী জারক পদার্থ কারণ এর ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি।

জারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়।
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়।
- যেমন: O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4, H2O2 প্রভৃতি জারক পদার্থ।

বিজারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়।
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়।
- পর্যায় তালিকার গ্রুপ এ অবস্থিত মৌলসমূহ যেমন: H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S প্রভৃতি বিজারক পদার্থ।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

 

৩,৪৭৫.
প্রাকৃতিক কোন উৎস হতে সবচেয়ে বেশি মৃদু পানি পাওয়া যায়?
  1. ক) নদী
  2. খ) সাগর
  3. গ) হ্রদ
  4. ঘ) বৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর:
ঘ) বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
The principal Source of fresh water comes from evaporation. Once that evaporated water returns to earth as rain, snow or fog it ultimately flows into streams, rivers, lakes and seas where it can be evaporated (distilled) again.
৩,৪৭৬.
ক্যাসেটের ফিতার শব্দ রক্ষিত থাকে কি হিসেবে?
  1. বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র হিসেবে
  2. মেমোরি চিপ হিসেবে
  3. চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
  4. কার্বন ক্ষেত্র হিসেবে
সঠিক উত্তর:
চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
ব্যাখ্যা
- কম্পিউটার ও টেপ-রেকর্ডার বা ক্যাসেটের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক থাকে। 
- এক্ষেত্রে স্মৃতির ফিতা বা টেপে ব্যবহৃত ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড (CrO2) পদার্থের বহি:চৌম্বক ক্ষেত্র সরিয়ে নিলেও আবিষ্ট চৌম্বকত্বের বেশিরভাগই অটুট থাকে অর্থাৎ, এর আবিষ্ট চুম্বকত্ব স্থায়ী হয়। 
 - ১৯৩০ সালের দিকে জার্মানিতে আবিষ্কৃত হয় শব্দ সংরক্ষণের এই পদ্ধতি। 
- চৌম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়েই এই ফিতাতে শব্দ সংরক্ষণ করা হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 

 উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩,৪৭৭.
বায়োগ্যাসে মিথেনের অনুপাত কত?
  1. ক) ৫০-৫৫%
  2. খ) ৪০-৫৫%
  3. গ) ৬০-৭০%
  4. ঘ) ৭০-৮০%
সঠিক উত্তর:
গ) ৬০-৭০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬০-৭০%
ব্যাখ্যা
বায়োগ্যাস:
প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুরূপ গ্যাস নানা রকম প্রাণী ও উদ্ভিদের বর্জ্য থেকে তৈরি করার ব্যবস্থা করা যায়। এ ধরনের গ্যাসকে বলে বায়োগ্যাস।

- বায়ো অর্থ জীবন। প্রাণী বা উদ্ভিদ জীবনের অধিকারী বিধায় এদের দেহ এবং দেহ নিঃসৃত পদার্থ পচনশীল।
- গোবর, মলমূত্র, পাতা, খড়কুটো প্রভৃতি পদার্থ পানিতে মিশিয়ে বাতাসের অনুপস্থিতি রাখলে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গাজন প্রক্রিয়া ঘটে। ফলে এক ধরনের বর্ণহীন দাহ্য গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- এর শতকরা ৬০-৭০ ভাগই মিথেন গ্যাস। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
৩,৪৭৮.
অদিক রাশির উদাহরণ কোনটি?
  1. বল
  2. ভর
  3. বেগ
  4. ত্বরণ
সঠিক উত্তর:
ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭৯.
শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী-
  1. শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়
  2. শক্তি চিরকাল ধ্রুবক থাকে, কিন্তু এটি ব্যবহার করা যায় না
  3. শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না
  4. শক্তিকে প্রয়োজন অনুসারে শূন্য থেকে সৃষ্টি করা যায়
সঠিক উত্তর:
শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না
ব্যাখ্যা

শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী, শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না।

• শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র:
- শক্তির নিত্যতার বিধি অনুসারে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংশ করা যায় না।
- শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র।
- পৃথিবীর মোট শক্তির পরিমানগত কোন পরিবর্তন হয় না।
- প্রকৃতপক্ষে আমরা নতুন কোনো শক্তি সৃষ্টি করতে পারি না বা শক্তি ধ্বংসও করতে পারি না।
- বিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল মহাবিশ্বে আজও সেই পরিমাণ শক্তি রয়েছে।
- এটাই শক্তির অবিনশ্বরতা বা নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা।

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৮০.
জিংকের (Zn) খনিজ উৎস হচ্ছে - 
  1. সিন্নাবার
  2. বক্সাইট
  3. গ্যালেনা
  4. ক্যালামাইন
সঠিক উত্তর:
ক্যালামাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালামাইন
ব্যাখ্যা

• জিংক এর খনিজ উৎস ক্যালামাইন।
- জিংকের (Zn) প্রধান খনিজ উৎস হলো ক্যালামাইন। জিংক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়া, ইমিউন সিস্টেম, কোষের বৃদ্ধিসহ নানা শারীরিক কাজের জন্য অপরিহার্য। প্রাকৃতিকভাবে জিংক বিভিন্ন খনিজের মধ্যে পাওয়া যায়। সিন্নাবার সাধারণত পারদ (Hg) সমৃদ্ধ, বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের উৎস, আর গ্যালেনা সীসার (Pb) প্রধান খনিজ। ক্যালামাইন হলো একটি জিংক-অক্সাইড সমৃদ্ধ খনিজ, যা ধাতব জিংক উৎপাদনের মূল উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই জিংকের জন্য কেবল ক্যালামাইনকে প্রধান খনিজ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি শিল্প ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়।

• খনিজ সম্পদ:
- খনিজ সম্পদ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গঠিত হয়।
- এক বা একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে।
- খনিজে সাধারণত বিভিন্ন শিলার উপাদানগুলো ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ পদার্থে পরিণত হয়। যেমন-লৌহ আকরিক, চুনাপাথর, গ্রাভেল, কঠিন শিলা, গ্লাস স্যাণ্ড, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ট্যাংস্টেন, সোনা, হীরা, রূপা, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ।
- খনিজ সম্পদ অজৈব পদার্থ।
- খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

১. ধাতব খনিজ:
- ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে।
- ধাতব খনিজ লৌহ বর্গীয় এবং অলৌহ বর্গীয় হয়ে থাকে।
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল।
- অলৌহবর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি।

২. অধাতব খনিজ:
- যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে।
যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি।

৩. শক্তিসম্পদ:
- যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- গ্যালেনা সীসার খনিজ উৎস।
- বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ উৎস।
- সিন্নাবার মার্কারির খনিজ উৎস।

উৎস:
১. ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৮১.
সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে কী ধরনের প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়? 
  1. সিম্পল প্রতিবিম্ব
  2. দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব
  3. ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব
  4. সিমুলেশন প্রতিবিম্ব
সঠিক উত্তর:
ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব
ব্যাখ্যা
সিটি স্ক্যান: 
- সিটিস্ক্যান এর সম্প্রসারিত অর্থ হচ্ছে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান (Computed Tomography Scan)। 
- সিটিস্ক্যান এর সাহায্যে প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়। 
- চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি প্রতিবিম্ব তৈরির একটি প্রক্রিয়া। 
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোনো ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় সে প্রক্রিয়াকে টমোগ্রাফি বলে। 
- সিটিস্ক্যান একটি বৃহৎ যন্ত্র, এ যন্ত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
- এক্সরে যেখানে শরীরের অভ্যন্তরের কোনো ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে, সেখানে সিটি স্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক। 

- সিটিস্ক্যানের সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনী, ফুসফুস, ব্রেণ ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায়। 
- যকৃত, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সার সনাক্ত করার কাজে সিটিস্ক্যান ব্যবহৃত হয়। 
- সিটিস্ক্যানের প্রতিবিম্ব চিকিৎসককে টিউমার সনাক্তকরণ, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং টিউমারটি পাশ্ববর্তী অন্য টিস্যুকে কী পরিমাণ আক্রান্ত করেছে তা নির্ধারণেও সাহায্য করে। 
- মাথার সিটিস্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ধরনের রক্তপাত, ধমনীর ফুলা এবং টিউমারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়। 
- সিটিস্ক্যানের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা আছে কীনা তাও জানা যায়। 
- সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয় না। 
- সিটিস্ক্যান পরীক্ষায় 'ডাই' ব্যবহৃত হয়ে এলার্জি জনিত বিক্রিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৮২.
নিউক্লিয়াসে নিউট্রনবিহীন একমাত্র মৌল কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. ফ্লোরিন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 

নিউট্রন (Neutron): 
- নিউট্রন আধানহীন (Neutral) বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n । 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g । 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান ০(শূন্য)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৮৩.
শব্দের তীক্ষ্ণতা কত ডেসিবল এর কম হলে মানুষ তা শুনতে পায় না?
  1. ক) ৫
  2. খ) ১০
  3. গ) ১০৫
  4. ঘ) ২১০
সঠিক উত্তর:
খ) ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০
ব্যাখ্যা
শব্দের একক বা শব্দের তীক্ষ্ণতা পরিমাপের একক ‘ডেসিবল’। শব্দের তীক্ষ্ণতা পরিমাপের একক এর উদ্ভাবক স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল এর নামানুসারে ‘ডেসিবল’ নামকরণ হয়েছে।
১. শব্দের তীক্ষ্ণতা ১০ ডেসিবল এর কম হলে মানুষ তা শুনতে পায় না।
২. শব্দের তীক্ষ্ণতা ১০৫ ডেসিবল এর বেশি হলে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে।
৩. পারমানবিক বোমা সবচেয়ে বেশি তীব্রতর শব্দ উৎপন্ন করে, ২১০ ডেসিবল।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৮৪.
প্রথম সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দেন কে?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) টলেমি
  3. গ) আরিস্তারাকস
  4. ঘ) ঈশপ
  5. ঙ) এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
গ) আরিস্তারাকস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আরিস্তারাকস
ব্যাখ্যা
প্রথম সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দেন আরিস্তারাকাস।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৩,৪৮৫.
সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রং হলে, কালো রং কিসে হয়?
  1. ক) লাল ও সবুজের সমন্বয়ে
  2. খ) নীল ও লাল রঙের সমন্বয়ে
  3. গ) বেগুনি ও নীল রঙের সমন্বয়ে
  4. ঘ) সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য
ব্যাখ্যা
কোনো বস্তু তার নিজস্ব রঙে দেখা যায়, কারণ নির্দিষ্ট রঙের বস্তুটি নিজের রঙ ছাড়া সকল রঙ শোষণ করে এবং নিজের রঙ প্রতিফলিত করে।
তাই বস্তু তার নিজের রঙে দেখা যায়। সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রঙ হয়, সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য কালো রঙ হয়।

যে বস্তু আলোর সব রঙ প্রতিফলিত করে তা সাদা দেখায়। কোনো বস্তু যখন সমস্ত আলো শোষণ করে তখন তাকে কালো দেখায়।
যেমন - আলোর সকল বর্ণ প্রতিফলিত করে বলে বরফ সাদা দেখায়।

আবার, দিনের বেলা সূর্যালোকে গাছের পাতা সবুজ দেখায় কিন্তু লাল আলোতে গাছের পাতা কালো বলে মনে হয়। দিনে গাছের সবুজ পাতা সূর্যালোকের সবুজ বাদে সাতটি বর্ণের সবকটিই শোষণ করে ফলে সবুজ দেখায়। কিন্তু সবুজ পাতা লাল আলোকে শোষণ করে নেয় বলে কোনো আলোই প্রতিফলিত হয় না তাই লাল আলোতে সবুজ পাতা কালো দেখায়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
৩,৪৮৬.
একটি স্থানের তাপমাত্রা 77°F হলে, সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?
  1. 27.5° C
  2. 20° C
  3. 29.5° C
  4. 25° C
সঠিক উত্তর:
25° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
25° C
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি স্থানের তাপমাত্রা 77°F হলে, সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?

সমাধান:
ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের সম্পর্ক হলো:
C/5 = (F - 32)/9

F = 77° হলে,
C/5 = (77 - 32)/9
⇒ C/5 = 45/9
⇒ C = (45 × 5)/9
⇒ C = 225/9
∴ C = 25°

৩,৪৮৭.
নিচের কোন মৌলটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ?
  1. লোহা
  2. হিলিয়াম
  3. অক্সিজেন
  4. রেডিয়াম
সঠিক উত্তর:
রেডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিয়াম
ব্যাখ্যা

রেডিয়াম একটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় মৌল, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত করে।

তেজস্ক্রিয়তা:
- তেজস্ক্রিয় মৌল (Radioactive element) হলো সেইসব মৌল, যাদের নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের তেজস্ক্রিয় রশ্মি (যেমন: আলফা, বিটা, গামা) নির্গত করে। 
- এই প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলা হয়।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে।
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th),
ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়।
- এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য,
- লোহা: একটি স্থিতিশীল এবং অ-তেজস্ক্রিয় ধাতু।
- হিলিয়াম: একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং স্থায়ী মৌল।
- অক্সিজেন: একটি স্থায়ী মৌল। এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৩,৪৮৮.
কোনটি না থাকলে কাঠে পেরেক ঢুকানো যেত না?
  1. ক) অভিকর্ষজ ত্বরণ
  2. খ) আন্তঃআণবিক ফাঁক
  3. গ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ
  4. ঘ) স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল
সঠিক উত্তর:
খ) আন্তঃআণবিক ফাঁক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আন্তঃআণবিক ফাঁক
ব্যাখ্যা
আন্তঃআণবিক ফাঁক বা আন্তঃআণবিক দূরত্ব বলতে পদার্থের অণুর মধ্যবর্তী স্থানকে বোঝায়।

- কঠিন পদার্থে, আন্তঃআণবিক স্থান খুব কম, কারণ অণুগুলি একত্রে ঘনিষ্ঠভাবে লেগে থাকে এবং জায়গায় কম্পন করে।
- তরল পদার্থে অণুগুলি তাদের মধ্যে আরও বেশি জায়গা রাখে এবং আরও অবাধে ঘুরে বেড়ায়, তবে এখনও একে অপরের তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি থাকে।
- গ্যাসীয় পদার্থে অণুগুলি অনেক দূরে থাকে এবং একে অপরের থেকে স্বাধীনভাবে চলে।

• এই আন্তঃআণবিক ফাঁক থাকার কারণেই কাঠে পেরেক ঢুকানো যায়। কাঠে পেরেক ঢুকানোর ক্ষেত্রে পেরেকের চারপাশের আন্তঃআণবিক ফাঁক স্থায়ীভাবে সংকুচিত হয় এবং পেরেক এবং কাঠের মধ্যে একটি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করবে।
আবার ঘর্ষণ বলের কারণে কাঠের মধ্যে এই পেরেক আটকে থাকে, বের হয়ে আসে না।
৩,৪৮৯.
লেকল্যান্স কোষে কোনটি ক্যাথোড হিসাবে ব্যাবহৃত হয়?
  1. MnO2
  2. Zn
  3. H2SO4
  4. ZnSO4
সঠিক উত্তর:
MnO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
MnO2
ব্যাখ্যা
লেকল্যান্স কোষ  
- লেকল্যান্স কোষ হলো একটি একপ্রবাহী কোষ।
- জরজেস লেকল্যান্স ১৮৬৫ সালে এই কোষ উদ্ভাবন করেন।
- Leclanche cell এর অপর নাম দস্তা-কার্বন ব্যাটারি। 

- লেকল্যান্স কোষে Zn ইলেক্ট্রোড অ্যানোড এবং MnO2 ইলেক্ট্রোড ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
- ক্যাথোডে বিক্রিয়া : 2NH4+ + 2MnO2  + 2e- → 2MnO(OH) + 2NH3
- আ্যনোডে বিক্রিয়া : Zn → Zn2+ + 2e- 

উল্লেখ্য, 
 - প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ - যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।
৩,৪৯০.
গামা রশ্মির প্রকৃতি কেমন?
  1. চার্জ পরিবর্তনশীল 
  2. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  3. ধনাত্মক চার্জযুক্ত 
  4. আধানহীন
সঠিক উত্তর:
আধানহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধানহীন
ব্যাখ্যা

• গামা রশ্মি একটি ধরনের বৈদ্যুতিক চুম্বকীয় তড়িৎ তরঙ্গ, যা পারমাণবিক বিকিরণ থেকে উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে কোন প্রকার চার্জ বা আধান থাকে না, অর্থাৎ এটি নিরপেক্ষ। গামা রশ্মি শক্তিশালী এবং খুব ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো হিসাবে কাজ করে। এটি পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজেই প্রবেশ করতে পারে এবং ধাতব বা ঘন পদার্থের দ্বারা আংশিকভাবে শোষিত হয়। তাই গামা রশ্মি আধানহীন এবং চার্জবিহীন, যা এটিকে অন্যান্য কণা বিকিরণের তুলনায় আলাদা করে।

- সঠিক উত্তর: ঘ) আধানহীন।

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৯১.
নিচের কোনটি ধাতব খনিজ?
  1. ক) জিপসাম
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) ম্যাঙ্গানিজ
  4. ঘ) অভ্র
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাঙ্গানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদের ধাতব খনিজ বলে।
বিভিন্ন প্রকার ধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- লোহা
- ম্যাঙ্গানিজ
- নিকেল
- তামা
- টিন
- সোনা
- রূপা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে।
অধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- গ্রাফাইট
- জিপসাম
- কয়লা
- সালফার
- অভ্র প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল : দ্বিতীয়পত্র
৩,৪৯২.
নিচের কোনটি মৌলিক রাশি নয়?
  1. দৈর্ঘ্য
  2. ভর
  3. বল
  4. সময়
সঠিক উত্তর:
বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল
ব্যাখ্যা

• মৌলিক রাশি (Fundamental Quantity):
- যে রাশিগুলো অন্য কোনো রাশি থেকে নির্ণয় করা যায় না এবং পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি গঠন করে, সেগুলোই মৌলিক রাশি নামে পরিচিত।
- এদের মান অন্য কোনো ভৌত রাশির ওপর নির্ভর করে না।

• SI পদ্ধতিতে মোট সাতটি মৌলিক রাশি রয়েছে:
i) দৈর্ঘ্য (মিটার, m),
ii) ভর (কিলোগ্রাম, kg),
iii) সময় (সেকেন্ড, s),
iv) তড়িৎ প্রবাহ (অ্যাম্পিয়ার, A),
v) তাপমাত্রা (কেলভিন, K),
vi) পদার্থের পরিমাণ (মোল, mol) এবং
vii) আলোক তীব্রতা (ক্যান্ডেলা, cd)।
এই সাতটি রাশি থেকেই পদার্থবিজ্ঞানের সমস্ত অন্যান্য রাশি নির্ণীত হয়।

• লব্ধ রাশি (Derived Quantity):
- যে সকল ভৌত রাশি এক বা একাধিক মৌলিক রাশির সমন্বয়ে গঠিত, তাদের লব্ধ রাশি বলা হয়।
- এদের মান নির্ভর করে মৌলিক রাশিগুলোর ওপর।
উদাহরণস্বরূপ, 
বল (Force) = ভর × ত্বরণ = kg.m/s2,
বেগ (Velocity) = m/s এবং
চাপ (Pressure) = N/m2 = kg/(m.s2)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ- শ্রেণি।

৩,৪৯৩.
স্টিফেন হকিন্স বিশ্বের একজন অতিশয় বিখ্যাত-
  1. দার্শনিক
  2. পদার্থবিদ
  3. কবি
  4. রসায়নবিদ
সঠিক উত্তর:
পদার্থবিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদার্থবিদ
ব্যাখ্যা
• স্টিফেন হকিং:
- স্টিফেন হকিং ছিলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time.
- তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত Centre for Theoretical Cosmology এর পরিচালক ছিলেন।
- সম্মান: রয়্যাল সোসাইটির ফেলো, প্রেসিডেন্টিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম, কপলি মেডেল
- ১৪ মার্চ ২০১৮ স্টিফেন হকিং মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design,
- A Brief History of Time.

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৪৯৪.
প্রোটনের প্রকৃত চার্জ কত?
  1. ক) 1.602 × 10- 19
  2. খ) - 1.602 × 10- 19
  3. গ) 1.672 × 10- 27
  4. ঘ) 9.11 × 10- 21
সঠিক উত্তর:
ক) 1.602 × 10- 19
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 1.602 × 10- 19
ব্যাখ্যা
স্থায়ী মূল কণিকা:
ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা হাইড্রোজেন পরামাণু ছাড়া সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূলকণিকা বলা হয়।


উৎস: রসায়ন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৯৫.
SI (International System of Units) পদ্ধতিতে পরিবাহিতার একক-
  1. ক) সিমেন্স
  2. খ) বেকেরেল
  3. গ) ডায়প্টার
  4. ঘ) কুলম্ব
সঠিক উত্তর:
ক) সিমেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিমেন্স
ব্যাখ্যা
SI(International System of Units) পদ্ধতিতে পরিবাহিতার একক সিমেন্স(S); আধানের একক কুলম্ব(C); তেজস্ক্রিয়তার একক বেকেরেল(Bq) এবং লেন্সের ক্ষমতার একক ডায়াপ্টার(D)।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৩,৪৯৬.
কোনো তরঙ্গের কম্পাংক f এবং পর্যায়কাল T হলে এদের মধ্যে সম্পর্ক-
  1. ক) T = 1/f
  2. খ) T = f
  3. গ) T = 1/f2
  4. ঘ) f = 1/T2
সঠিক উত্তর:
ক) T = 1/f
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) T = 1/f
ব্যাখ্যা

পর্যায়কাল বা দোলনকাল : তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনাে কম্পনশীল কণার একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল T বলে।
কম্পাঙ্ক : তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনাে কম্পনশীল কণা একক সময়ে যতগুলা পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করে তাকে ঐ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক f বলে।
কোনাে কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক, f= N/t
কম্পাঙ্কের একক s-1। একে হার্জ (hertz) বলে। একে Hz দিয়ে প্রকাশ করা হয়। কোনাে কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে।
আবার, পর্যায়কাল T হলে, T সময়ে সম্পন্ন হয় 1টি কম্পন
একক সময়ে সম্পন্ন হয় 1/T টি কম্পন
সুতরাং f = 1/T
(উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)

৩,৪৯৭.
কোন উপাদানটি সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম সিলিকেট
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  3. পটাশিয়াম ক্লোরাইড
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম সিলিকেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম সিলিকেট
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা পটাশিয়াম লবণ (R- COOK) I
- এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) I
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
- 'সোডিয়াম সিলিকেট (Na2SiO3)' সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহার করা হয়।
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি।
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়।
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৯৮.
দ্রবণে সাধারণত কতটি অংশ থাকে?
  1. ক) একটি
  2. খ) দুইটি
  3. গ) তিনটি
  4. ঘ) চারটি
সঠিক উত্তর:
খ) দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুইটি
ব্যাখ্যা
দ্রবণ
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় দুই বা ততোধিক কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যার প্রতিটি উপাদানের আপেক্ষিক পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পরিবর্তিত করা যায়, তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের সাধারণত দুইটি অংশ থাকে। একটি হলো দ্রাবক আর অপরটি হলো দ্রব।
         দ্রবণ= দ্রাবক + দ্রব।
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়।
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয়, তাকে দ্রাবক বলা হয়।
- দ্রব ও দ্রাবকের ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রকারের দ্রবণ হয়। যথা: 
দ্রাবক        দ্রব          উদাহরণ
গ্যাস           গ্যাস        বায়ু: সাধারণভাবে 78% N2 ও 21% O2। অধিক পরিমাণে N2 এর মধ্যে কম পরিমাণে O2                                        এর মিশ্রণ।
তরল           গ্যাস        সোডা ওয়াটার: পানিতে উচ্চ চাপে CO2 কেন্দ্রীভূত করা হয়।
তরল           তরল        পানি-অ্যালকোহলের দ্রবণ: পানিতে কিছু পরিমাণ অ্যালকোহল দ্রবীভূত করা হয়।
কঠিন          কঠিন       ধাতু সংকর: কপার ও জিংকের সমসত্ত্ব মিশ্রণ।
কঠিন          তরল        পারদ সংকর বা জিংক অ্যামালগাম
কঠিন          গ্যাস        কঠিন প্যালাডিয়াম ধাতু দ্বারা H2 গ্যাস শোষিত হয়।
গ্যাস            তরল        মেঘ: বায়ুতে জলীয় বাষ্প।

উৎস
: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৯৯.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না? 
  1. সৌর শক্তি 
  2. বায়ুপ্রবাহ 
  3. বায়োগ্যাস 
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস 
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস 
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়োগ্যাস,  বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫০০.
একটি পূর্ণতরঙ্গ রেকটিফায়ার কয়টি ডায়োড দ্বারা তৈরি হয়?
  1. ৪ টি
  2. ৫ টি
  3. ৬ টি
  4. ৮ টি
সঠিক উত্তর:
৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ টি
ব্যাখ্যা
• একটি পূর্ণতরঙ্গ রেকটিফায়ার ৪ টি ডায়োড দ্বারা তৈরি হয়। 

• ডায়োড:
- ডায়োড হলো একটি দুই প্রান্ত বিশিষ্ট ইলেকট্রনিক উপাদান যা একদিকে বিদ্যুৎ প্রবাহ হতে দেয়, কিন্তু বিপরীত দিকে বিদ্যুৎ প্রবাহকে বাধা দেয়।

• ডায়োডের বৈশিষ্ট্য:
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

• পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার:
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার হলো একটি ইলেকট্রনিক সার্কিট যা অল্টারনেটিং কারেন্ট (এসি) কে সরাসরি কারেন্ট (ডিসি) তে রূপান্তর করে।

• পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার চারটি ডায়োড দ্বারা তৈরি করা হয়। 
- এই ৪টি ডায়োড এমনভাবে সংযুক্ত থাকে যাতে AC ইনপুটের উভয় অংশকে DC আউটপুটে রূপান্তর করা যায়।

• নিম্নের চিত্রে চারটি ডায়োড D1, D2, D3, D4 পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করে। 


তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।