বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৪ / ৬৪ · ৩,৩০১৩,৪০০ / ৬,৪০৯

৩,৩০১.
কোনটির ক্ষেত্রে ফ্যারাডের প্রথম সূত্রের প্রয়োগ দেখা যায়?
  1. পেইন্টিং
  2. গ্যালভানাইজিং
  3. ভলকানাইজিং
  4. ইলেকট্রোপ্লেটিং
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রোপ্লেটিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রোপ্লেটিং
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে তড়িৎ বিশ্লেষ্য জমা হয় অপরদিকে অ্যানোড ক্ষয় প্রাপ্ত হয়ে দ্রবণে আয়ন হিসাবে দ্রবীভুত হয়। 
- বিজ্ঞানী ফ্যারাডে, ব্রিটিশ রসায়ন ও পদার্থবিদ বিভিন্ন তড়িৎবিশ্লেষ্যের মধ্যদিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে, তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে জমাকৃত বা অ্যানোড হতে ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থের পরিমাণের সাথে দ্রবণের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের সম্পর্ক স্থাপন করেন। 
- তার এই সূত্র (১৮৩৪) ফ্যারাডের সূত্র নামে পরিচিত। 

ফ্যারাডের ১ম সূত্র: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণ এর সময় ক্যাথোডে জমাকৃত অথবা অ্যানোডে ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থের পরিমাণ তড়িৎবিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ এর সমানুপাতিক। 

ফ্যরাডের প্রথম সূত্রের প্রয়োগ: 
- ফ্যারাডের প্রথম সূত্রের সহায্যে আমরা কোন নির্দিষ্ট পরিমান পদার্থ ক্যাথডে জমা হতে কত সময় লাগবে তা গণনা করা যায়। 
- একই ভাবে একটি নির্দিষ্ট সময়ে কতটুকু পদার্থ ক্যাথডে জমা হবে তা হিসাব করতে পারি। 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং এর ক্ষেত্রে ফ্যারাডের সূত্রের প্রয়োগ দেখা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৩০২.
আমলকিতে কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ক) এ
  2. খ) বি
  3. গ) সি
  4. ঘ) ডি
সঠিক উত্তর:
গ) সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সি
ব্যাখ্যা

- ভিটামিন-সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক এসিড।
- সাইট্রাস জাতীয় ফল যেমন- লেবু, কমলালেবু, মাল্টা, জাম্বুরায় প্রচুর ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
- টক জাতীয় ফল যেমন- আমলকি, আনারস, আমড়া।
- সবুজ শাক-সবজি ও ফল যেমন- বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালং শাক ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
- সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল আমলকি।
- ডিম ও দুধে ভিটামিন-সি নেই।

৩,৩০৩.
গামা রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কেমন?
  1. মাঝারি
  2. খুব কম
  3. খুব দীর্ঘ
  4. অনির্ধারিত
সঠিক উত্তর:
খুব কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুব কম
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- কাজেই গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩০৪.
যে তরঙ্গের কণার স্পন্দনের দিক তরঙ্গের সঞ্চারণের দিকের সমান্তরাল, তাকে কী বলে? 
  1. আলোক তরঙ্গ 
  2. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ 
  3. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ 
সঠিক উত্তর:
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

তরঙ্গ: 
- যে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয়, সে তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ এবং যে তরঙ্গের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না, সে তরঙ্গকে তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ বলে। 
- মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে যে যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্ট হয় তা দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ ও 
(২) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: 
- যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। 
যেমন- শব্দ তরঙ্গ ও স্প্রিং এর তরঙ্গ ইত্যাদি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ: 
- পানির মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে পানির কণাগুলো সাম্য অবস্থান পানির তল থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে। কিন্তু তরঙ্গ পানি পৃষ্ঠ বা পানির তলের উপর দিয়ে সামনে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরণের তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 
অর্থাৎ, যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। 
- এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে বা আড়াআড়ি অগ্রসর হয় বলে একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ বলে। 
যেমন- আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ ইত্যাদি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩০৫.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক 
  2. বিষুবীয় অঞ্চলে ওজন সর্বাধিক 
  3. পৃথিবীর কেন্দ্রে g সর্বাধিক 
  4. সব স্থানে g সমান 
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক 
ব্যাখ্যা

- সঠিক তথ্যটি হচ্ছে- মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক। 
- পৃথিবীর আকৃতি এবং ঘূর্ণনের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান বিভিন্ন হয়। 
যেমন-
মেরু অঞ্চল: পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয়, এটি মেরু অঞ্চলে কিছুটা চ্যাপ্টা। এর ফলে মেরু অঞ্চল পৃথিবীর কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত। অভিকর্ষজ বল দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক হওয়ায়, দূরত্ব কম হলে g-এর মান সর্বাধিক হয়।
বিষুবীয় অঞ্চল: বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবী স্ফীত, তাই এটি কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থিত। এই কারণে এখানে g-এর মান সবচেয়ে কম হয়।

পৃথিবীর আকৃতির কারণে বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজনের পার্থক্য: 
- পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোলক না হওয়ায়, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব সমান নয়। 
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের ওপর নির্ভরশীল, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g-এর মান ভিন্ন হয়। 
- পৃথিবীর বিষুবীয় অঞ্চলে কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এখানে g-এর মান সর্বনিম্ন (প্রায় ৯.৭৮ মি/সেকেন্ড), তাই বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত এগিয়ে যাওয়া হয়, ততই কেন্দ্র থেকে দূরত্ব কমে এবং g-এর মান বৃদ্ধি পায় (প্রায় ৯.৮৩ মি/সেকেন্ড), ফলে বস্তুর ওজনও বাড়ে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব সর্বনিম্ন হওয়ায় g-এর মান সর্বোচ্চ এবং তাই বস্তুর ওজনও সর্বোচ্চ হয়। 
- এছাড়াও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যভাগে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য হওয়ায় সেখানে বস্তুর ওজন শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৩০৬.
সার্কিট ব্রেকারের প্রধান কাজ কী?
  1. ব্যাটারির চার্জ সংরক্ষণ করা
  2. বিদ্যুৎ প্রবাহ কমিয়ে দেওয়া
  3. বিদ্যুতের গতি বাড়ানো
  4. অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ হলে সার্কিট বিচ্ছিন্ন করা
সঠিক উত্তর:
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ হলে সার্কিট বিচ্ছিন্ন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ হলে সার্কিট বিচ্ছিন্ন করা
ব্যাখ্যা
সার্কিট ব্রেকার এবং ফিউজ: 
- বিদ্যুতের বড় বড় দুর্ঘটনা হয় যখন হঠাৎ কোনো একটা ত্রুটির কারণে অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
- হঠাৎ করে বিপজ্জনক বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করার জন্য সার্কিট ব্রেকার কিংবা ফিউজ ব্যবহার করা হয়।
- সার্কিট ব্রেকার এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এর ভেতর থেকে নিরাপদ সীমার বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলেই সার্কিট ব্রেক (বিচ্ছিন্ন) করে দেয়
- ফিউজ সে তুলনায় খুবই সরল একটা পদ্ধতি, একটি যন্ত্রে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় সেটি যন্ত্রে ঢোকানোর আগে সরু একটা তারের ভেতর দিয়ে নেওয়া হয়।
- যদি কোনো কারণে বেশি বিদ্যুৎ যাওয়ার চেষ্টা করে ফিউজের সরু তার সেই (রোধ বেশি, কাজেই I2R বেশি অর্থাৎ তাপ বেশি) বিদ্যুতের কারণে উত্তপ্ত হয়ে পুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে ফেলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩০৭.
কোনটিতে মরিচা পড়ে না?
  1. ক) ঢালাই লোহা
  2. খ) টুল স্টিল
  3. গ) স্টেইনলেস স্টিল
  4. ঘ) মাইল্ড স্টিল
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) স্টেইনলেস স্টিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্টেইনলেস স্টিল
ব্যাখ্যা
স্টেইনলেস স্টিলের প্রধান উপাদান ক্রোমিয়াম ও নিকেল হওয়ায় এটিতে মরিচা পড়ে না।
৩,৩০৮.
বৈদ্যুতিক শক্তি ও চৌম্বকত্বকে একত্রিত করে বিজ্ঞানীরা যে বল আবিষ্কার করেন, তার নাম কী?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. নিউক্লিয়ার বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল 
  4. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
ব্যাখ্যা

প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন:
- প্রাচীনকালে চীন দেশে একটুকরো লোড স্টোনকে সমজাতীয় অন্য একটি লোড স্টোনের টুকরোকে অদৃশ্য একটা শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করতে দেখা গিয়েছিল, বিশেষ ধরনের এই পদার্থের বিশেষ এই ধর্মটির নাম দেওয়া হয়েছিল চৌম্বকত্ব (Magnetism) । 
- একইভাবে প্রাচীন গ্রিসে আম্বর নামের পদার্থকে পশম দিয়ে ঘষা হলে সেটি এই দুটি পদার্থকে একটি অদৃশ্য শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করত, এই বিশেষ ধর্মের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রিসিটি বা বৈদ্যুতিক শক্তি (Electricity)। 
- অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয় এবং বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন এটি একই বলের দুটি ভিন্ন রূপ এবং এই বলটির নাম দেওয়া হয় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetism)। 
- পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিটা রশ্মি নামে একটা বিশেষ বিকিরণ ব্যাখ্যা করার সময় 'দুর্বল নিউক্লিয় বল' নামে নতুন এক ধরনের বল আবিষ্কৃত হয়। 
- পদার্থবিজ্ঞানীরা পরে দেখালেন বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লিয় বল একই বলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ, তাদেরকে একত্র করে সেই বলের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রো উইক ফোর্স। পদার্থবিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রকৃতিতে মহাকর্ষ বল এবং নিউক্লিয়ার বল নামে আরও যে দুটি বল রয়েছে ভবিষ্যতে সেগুলোও একই সূত্রের আওতায় আনা যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩০৯.
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় ভারতে খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল। সেখানকার ডাক্তার তার গায়ের তাপমাত্রা মেপে বলল তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা কত? 
  1. ৯০.৪ ডিগ্রি
  2. ৯৮.৪ ডিগ্রি
  3. ১০০.৪ ডিগ্রি
  4. ১০২.৪ ডিগ্রি
সঠিক উত্তর:
১০০.৪ ডিগ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০.৪ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় ভারতে খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল। সেখানকার ডাক্তার তার গায়ের তাপমাত্রা মেপে বলল তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা কত? 

সমাধান: 
আমরা জানি
C/5 = (F - 32)/9   [এখানে C = 38]
∴ 38/5 = (F - 32)/9
বা, 5(F - 32) = 9 × 38
বা, F - 32 = 342/5
বা, F = 68.4 + 32
∴ F = 100.4
অর্থাৎ, ফারেহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৩১০.
সমুদ্রে পানির গভীরতা মাপার একক -
  1. ক) মিটার
  2. খ) ফুট
  3. গ) কিলোমিটার
  4. ঘ) ফ্যাদম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফ্যাদম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফ্যাদম
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রে পানির গভীরতা মাপার একক ফ্যাদম।
- এক ফ্যাদম সমান ৬ ফিট (১.৮৩ মিটার)।

==============
- বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র : হাইগ্রোমিটার
- গ্যাসের চাপ মাপার যন্ত্র : ম্যানোমিটার
- বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্র : ব্যারোমিটার
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে যন্ত্র : ফ্যাদোমিটার।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা
৩,৩১১.
কোন বর্তনী পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে? 
  1. ট্রানজিস্টর
  2. ট্রান্সফরমার
  3. রেকটিফায়ার
  4. সমন্বিত বর্তনী
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা
একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে। 
- যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দু'প্রকারের। 
যথা- 
১। অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
২। পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩১২.
বায়ুশূন্য একটি উঁচু মিনারের ছাদ থেকে একই সাথে একটি ভারী ও একটি হালকা বস্তুকে নিচে ফেলে দিলে কোনটি আগে মাটিতে পড়বে?
  1. হালকা বস্তুটি আগে মাটিতে পড়বে
  2. ভারী বস্তুটি আগে মাটিতে পড়বে
  3. বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়বে
  4. বস্তুদ্বয় কিছু সময়ের ব্যবধানে মাটিতে পড়বে
সঠিক উত্তর:
বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়বে
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে গ্যালিলিওর সূত্র: 
- কোনো বস্তু উপর থেকে নিচে খাড়াভাবে পতনের কারণ অভিকর্ষ বা পৃথিবীর আকর্ষণ বল। 
- ইটালীর বিজ্ঞানী গ্যালিলিও ১৫৮৯ খ্রিষ্টাব্দে পিসা শহরে বায়ুশূন্য ১৮০ ফুট উঁচু মিনারের ছাদ থেকে একই সাথে একটি ভারী ও একটি হালকা বস্তুকে নিচে ফেলে দিয়ে প্রমাণ করেন যে, বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়ে। 
- অভিকর্ষজ ত্বরণ ভরের উপর নির্ভরশীল নয়। তাই নিচে পড়ার সময়, ভারী ও হালকা বস্তুর ত্বরণ একই হবে এবং বস্তুদ্বয় একই সময়ে মাটিতে পড়বে। 
- পড়ন্ত বস্তুর সূত্রগুলো স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধার পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে তিনটি সূত্র দেন। 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: 
- বাধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময় পর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t  । 

৩। ততৃীয় সূত্র: 
- বাধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব সময়ের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩১৩.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে শক্তি রূপান্তরের মূল কারণ কোনটি?
  1. তাপীয় বিক্রিয়া
  2. আলোক বিক্রিয়া
  3. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
  4. নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া বা রেডক্স (Redox) বিক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের স্থানান্তর ঘটে, যা বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি করে। 

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৩১৪.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হলো -
  1. এমোনিয়া
  2. ক্রিংকার
  3. মিথেন
  4. অপরিশোধিত তেল
সঠিক উত্তর:
মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথেন
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেন ব্যবহার করা হয় শতকরা ২১ ভাগ।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই ।
৩,৩১৫.
কয়লা একটি -
  1. খনিজ
  2. জ্বালানি
  3. উৎকৃষ্ট জ্বালানি
  4. জীবাশ্ম জ্বালানি
সঠিক উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানি
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- ভূ-আন্দোলনের ফলে ভূপ্রকৃতির ও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে।
- এ পরিবর্তনের ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহ জলাভূমি ও কঠিন শিলাস্তর ও বায়ুস্তরের নিচে ছিদ্রবিহীন শিলাখন্ডের দুটি স্তরের মাঝে আটকা পড়ে যায়।
- বায়ুর অনুপস্থিতিতে উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহ হাজার হাজার বছর ধরে উচ্চচাপ ও তাপে পরিবর্তিত ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানিতে পরিণত হয়।
- উদ্ভিদের দেহ পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় এবং জলাভূমির প্রাণিসত্ত্বা পরিবর্তিত হয়ে পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানে পরিণত হয়। 

♣ সাধারণ তাপমাত্রায় জ্বালানির ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে তাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
ক) কঠিন জ্বালানী: কাঠ কয়লা, পিট কয়লা;
খ) তরল জ্বালানী: কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, গ্যাসোলিন; 
গ) গ্যাসীয় জ্বালানি: কোল গ্যাস, প্রোডিউসার গ্যাস, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG), তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG), সংনমিত প্রাকৃতিক গ্যাস (CNG), বায়োগ্যাস ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩১৬.
পারমানবিক বোমা তৈরী হয় নিচের কোন ধাতু দিয়ে?
  1. ক) রেডিয়াম
  2. খ) ইউরেনিয়াম
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) পটাসিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) ইউরেনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক বোমা:
- পারমাণবিক বোমা তৈরি হয় ইউরেনিয়াম-235 বা প্লুটোনিয়াম-239 ধাতু দিয়ে। 
- বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙ্গে বেরিয়াম এবং ক্রিপ্টনে পরিণত হয়।
- ইউরেনিয়াম রুপালি-ধূসর বর্ণের তেজস্ক্রিয় একটি ধাতু।
- ইউ (U) প্রতীকের এই ধাতুটি পর্যায় সারণির সপ্তম পর্যায়ের তৃতীয় শ্রেণির B উপশ্রেণিতে অবস্থিত এবং এটি সারণির ৯২তম মৌল।
- উচ্চ ঘনত্বের ইউরেনিয়াম মৌলটি লেড থেকে ৭০ শতাংশ বেশি ঘনত্বের। 
- পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর ক্ষেত্রে এই ধাতু একটি অপরিহার্য উপাদান।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান নামের যে দুটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল, ওই দুটি বোমা তৈরিতেই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং কালের কন্ঠ পত্রিকা (রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১৮ মার্চ, ২০২১)। 
৩,৩১৭.
হিলিয়াম মৌলের অণুর সংকেত হল —
  1. ক) He
  2. খ) He+2
  3. গ) He2
  4. ঘ) He+
সঠিক উত্তর:
ক) He
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) He
ব্যাখ্যা
• হিলিয়াম মৌলের অণুর সংকেত হল He.

হিলিয়াম:
- হিলিয়াম মৌলের অণুর সংকেত হল He.
 -হিলিয়াম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা 2.
- হিলিয়াম হলো নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের প্রধান উৎস হলো বাতাস। 
- হিলিয়ামের প্রধান উৎস হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।
- কোন কোন প্রাকৃতিক গ্যাসের কূপে প্রাকৃতিক গ্যাসের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় প্রচুর পরিমাণ (আনুমানিক 5% পর্যন্ত) হিলিয়াম পাওয়া যায়।
- কিছু তেজষ্ক্রিয় আকরিক যেমন, পিচব্লেন্ড, মোনাজাইট, থোরিয়ানাইট এবং ক্লিভাইট-এর মধ্যে হিলিয়াম এবং আর্গন আবদ্ধ থাকে।
- এ আকরিকগুলিকে উত্তপ্ত করলে হিলিয়াম এবং আর্গন বের হয়ে আসে। 

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৩১৮.
অপটিক্যাল ফাইবার কী? 
  1. এসবেস্টোস ফাইবার নল 
  2. সুপরিবাহী তামার তন্তু নল 
  3. খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৩১৯.
পর্যায় সারণিতে ধাতব মৌলের ক্ষেত্রে একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গলনাঙ্কের মানের কী ধরণের পরিবর্তন ঘটে?
  1. হ্রাস পায়
  2. অল্প বৃদ্ধি পায়
  3. একই থাকে
  4. অনেক বেশী বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণির সাধারণ পর্যায়ভিত্তিক ধর্ম থেকে দেখা যায় যে একই গ্রুপে যত উপর থেকে যত নিচের দিকে যাওয়া যায় মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ ততই বৃদ্ধি পায়।
- এর কারণ হলো একই গ্রুপে যত উপর থেকে নিচে যাওয়া যায় মৌলের একটি করে স্তর বৃদ্ধি পায় কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা একই থাকে।
- ফলে পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় বহিঃস্থ স্তরের সাথে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায়। 

• ক্ষার ধাতুগুলোর ক্ষেত্রে গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কের মানের হ্রাসের কারণ হলো ধাতুগুলোর কেলাস ল্যাটিসের বন্ধন দুর্বল হওয়ায় এরা নরম প্রকৃতির হয়।
- এ ধাতুগুলোর প্রতিটি পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ কক্ষে একটি মাত্র ইলেকট্রন থাকে। 
- এর ফলে একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে গ্রুপের উপরের ক্ষার ধাতুর থেকে নিচের ক্ষার ধাতুর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ যথেষ্ট বড় হয় এবং পরমাণুর আকারও বড় হয়। এর ফলে পরমাণুর মধ্যে বন্ধন শক্তি দুর্বল প্রকৃতির হয়। 
- বন্ধন শক্তি দুর্বল হওয়ার কারণে গলনাংকের মানও কম হয়। অর্থাৎ ক্ষার ধাতুর ক্ষেত্রে একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে গলনাংকের মান হ্রাস পায়। 


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩২০.
ফসফরাসের প্রোটন সংখ্যা 15 এবং পারমাণবিক ভর 31 হলে নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 13
  2. 14
  3. 15
  4. 16
সঠিক উত্তর:
16
উত্তর
সঠিক উত্তর:
16
ব্যাখ্যা
ভর সংখ্যা (Mass Number): 
 - কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়।
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়।
- ভর সংখ্যাকে A দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 

ফসফরাসের প্রোটন সংখ্যা 15 এবং নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর 31। অতএব, নিউট্রন সংখ্যা হবে 31 - 15 = 16

সূত্র: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩২১.
আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য কয়টি? 
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা

• ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন তার 'বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব' (Special Theory of Relativity) প্রদানের সময় দুটি মূল প্রস্তাবনা বা স্বীকার্যের ওপর ভিত্তি করে এটি প্রতিষ্ঠিত করেন।

• বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা। 
- ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের এই দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা - 
১। প্রথম স্বীকার্য: 
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 

২। দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩২২.
শীতকালে কাপড় দ্রুত শুকায়, এর প্রধান কারণ কী? 
  1. আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে
  2. বায়ুর তাপমাত্রা কম থাকে
  3. বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে
  4. সূর্যের আলো তীব্র থাকে
সঠিক উত্তর:
আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে
ব্যাখ্যা

শীতকালে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকায় বাতাস দ্রুত পানি শোষণ করতে পারে, ফলে কাপড় দ্রুত শুকায়।

বাষ্পীভবন ও আর্দ্রতা:
- কাপড় শুকানো একটি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়া।
- বাষ্পীভবনের হার নির্ভর করে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতার উপর।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকলে বাতাসে জলীয়বাষ্প ধারণের ক্ষমতা বেশি থাকে।

• শীতকাল:
- শীতকালে ঠান্ডা ও শুষ্ক প্রকৃতির কারণে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে।
-  এই কারণে শীতকালে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে।
- ফলে বাতাস দ্রুত কাপড় থেকে পানি শোষণ করতে পারে।
- এজন্য কাপড় দ্রুত শুকিয়ে যায়।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩২৩.
টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. আয়োডিন-131
  2. টেকনিশিয়াম-99 
  3. ফসফরাস-32
  4. কোবাল্ট-60
সঠিক উত্তর:
কোবাল্ট-60
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন প্রয়োজনে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
যেমন- 
• রোগ নির্ণয়ে: 
- আইসোটোপ ব্যবহার করে একজন রোগীর রোগাক্রান্ত স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 (99Tc) কে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
- এই আইসোটোপ যখন শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে জমা হয় তখন ঐ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ গামা রশ্মি বিকিরণ করে, তখন বাইরে থেকে গামা রশ্মি শনাক্তকরণ ক্যামেরা দিয়ে সেই স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 এর লাইফটাইম 6 ঘণ্টা। তাই সামান্য সময়েই এর তেজস্ক্রিয়তা শেষ হয়ে যায় বলে এটি অনেক নিরাপদ। 

• রোগ নিরাময়ে: 
- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ (131I) সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়। এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছায় এবং এই আইসোটোপ থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় এবং থাইরয়েডের ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।
- ইরিডিয়াম-১৯২ (192Ir) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কোবাল্ট-৬০ (60Co) ব্যবহার করা হয়। কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষ কলাকে ধ্বংস করে। 
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ফসফরাস-৩২ (32p) এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩২৪.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন কে?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. জন ডাল্টন
  4. ডিমিত্রি ম্যান্ডেলিফ
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা
• কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয় ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের মাধ্যমে।
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।
- কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের ফলে ফটোইলেকট্রিক ক্রিয়া, দ্য ব্রগলি তরঙ্গ, কম্পটন প্রভাব ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
- ১৯০৫ সালে আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রবর্তিত হয়।
- আইনষ্টাইন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সাহায্যে ভর ও শক্তির, E = mc2 বিখ্যাত সম্পর্কটি বের করেন।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা হলো - কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা, আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৩,৩২৫.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করা হয়?
  1. ট্রান্সফর্মার 
  2. ক্যাপাসিটর 
  3. ট্রানজিস্টর
  4. রেক্টিফায়ার 
সঠিক উত্তর:
রেক্টিফায়ার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেক্টিফায়ার 
ব্যাখ্যা
• রেক্টিফায়ার:
- এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করার পদ্ধতিকে বলা হয় রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণ।
- যে যান্ত্রিক ব্যবস্থা রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণ করে তাকে বলা হয় রেক্টিফায়ার । 

- এটি সাধারণত ডায়োড ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।
- রেক্টিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
- রেক্টিফায়ার ছাড়া ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরাসরি এসি প্রবাহ গ্রহণ করতে পারে না।

• ডায়োড:
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি ব্যবহার করে রেক্টিফায়ার  তৈরি করা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩,৩২৬.
কোনো বিন্দু উৎস বা ক্ষুদ্র ছিদ্র থেকে আলোক তরঙ্গ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে যে তরঙ্গমুখ অগ্রসর হয় তাকে কী বলে?
  1. গোলীয় তরঙ্গমুখ
  2. চোঙাকৃতি তরঙ্গমুখ
  3. সমতল তরঙ্গমুখ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গোলীয় তরঙ্গমুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলীয় তরঙ্গমুখ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গমুখ সাধারণত তিন প্রকারের হয়। 
যথা - 

(ক) গোলীয় তরঙ্গমুখ: 
- কোনো বিন্দু উৎস বা ক্ষুদ্র ছিদ্র থেকে আলোক তরঙ্গ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে যে তরঙ্গমুখ অগ্রসর হয় সেটি গোলাকার তরঙ্গমুখ। 

(খ) চোঙাকৃতি তরঙ্গমুখ: 
- কোনো রেখা থেকে বা চিড় থেকে আলোক তরঙ্গ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে যে তরঙ্গমুখ অগ্রসর হয় সেটি চোঙাকৃতি তরঙ্গমুখ। 
কারণ কোনো রেখা উৎস থেকে সমদূরত্বে অবস্থিত বিন্দুগুলো একটি চোঙের তলে অবস্থান করে। 

(গ) সমতল তরঙ্গমুখ: 
- অসীমে অবস্থিত উৎস থেকে যে রশ্মিগুলো আসে সেগুলো সমান্তরাল হওয়ায় এর তরঙ্গমুখ সমতল হয়। 
- ফলে সমতল তরঙ্গমুখ সৃষ্টি হয়। 

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩২৭.
কোনটির কারণে তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না?
  1. তড়িৎক্ষেত্র
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. চাপ
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু।
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা।
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস।
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়।
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩২৮.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ক) শব্দ একটি আড় তরঙ্গ।
  2. খ) শব্দ একটি দীঘল তরঙ্গ।
  3. গ) শব্দ একটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
  4. ঘ) শব্দ কোন তরঙ্গ নয়।
সঠিক উত্তর:
খ) শব্দ একটি দীঘল তরঙ্গ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শব্দ একটি দীঘল তরঙ্গ।
ব্যাখ্যা
শব্দ একটি দীঘল  তরঙ্গ।  

- যে তরঙ্গের ক্ষেত্রে মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের দিক তরঙ্গ প্রবাহের অভিমুখের সমান্তরাল হয় তাকে দীঘল তরঙ্গ বলে।
- যেকোনো মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ একটি দীঘল তরঙ্গের উদাহরণ।
- দীঘল তরঙ্গের অপর নাম অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
- সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে এ ধরণের তরঙ্গ সঞ্চালিত হয়। 
- একটি সংকোচন ও একটি প্রসারণ নিয়ে এ তরঙ্গদৈর্ঘ্য গঠিত।

সূত্র: ২৮৮ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৩,৩২৯.
এসিকে ডিসি করার যন্ত্র-
  1. এমপ্লিফায়ার
  2. রেকটিফায়ার
  3. ডায়েড
  4. ট্রানজিস্টর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৩০.
ড্রাগ শনাক্তকরণে অতিবেগুনি রশ্মির কোন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মিটি ব্যবহৃত হয়?
  1. 100-380 nm
  2. 170–260 nm
  3. 200-400 nm
  4. 120-320 nm
সঠিক উত্তর:
200-400 nm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
200-400 nm
ব্যাখ্যা
তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
যথা- 
১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল : 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m). 

৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৩১.
রোধ কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে না?
  1. উপাদান
  2. তড়িৎ প্রবাহ
  3. দৈর্ঘ্য
  4. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ প্রবাহ
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বিঘ্নিত হয় তাকে রোধ বলে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ চারটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।  
যথা- 
১.পরিবাহীর দৈর্ঘ্য,
২.পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
৩.পরিবাহীর উপাদান এবং 
৪.পরিবাহীর তাপমাত্রা। 

- রোধের এস.আই. বা আন্তর্জাতিক একক হচ্ছে ও'ম। 
- কোনো পরিবাহীর রোধ 50 Ω বলতে বোঝায় এর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য 50 V হলে এর মধ্যদিয়ে 1 A তড়িৎ প্রবাহ চলবে। 
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার (A)। 
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে বিভব পার্থক্যের একক হলো ভোল্ট (V)।  

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৩,৩৩২.
চোখের হ্রস্বদৃষ্টি বা মাইওপিয়া দূর করার জন্য কোন ধরনের লেন্স ব্যবহার করা হয়?
  1. অভিসারী লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. উত্তল লেন্স
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
অবতল লেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবতল লেন্স
ব্যাখ্যা
হ্রস্ব দৃষ্টি বা নিকট বদ্ধ দৃষ্টি বা মাইওপিয়া (Short sight or Myopia)
এই ত্রুটিগ্রস্থ মানুষ দূরের বস্তু ভালভাবে দেখতে পারে না, তবে কাছের বস্তু ভালভাবে দেখতে পায়। চোখের স্পষ্ট দর্শনের ন্যুনতম দূরত্ব বা নিকট দূরত্ব কমে যায়। নিকট বিন্দু চোখের সামনে চলে আসে। চক্ষুগোলকের ব্যাসার্ধ বেড়ে গেলে বা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব কমে গেলে এই ত্রুটি দেখা দেয়।

এই ত্রুটি দূর করার জন্য চোখে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ত্রুটির পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ফোকাস দৈর্ঘ্যরে বা পাওয়ারের অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়। অবতল লেন্স লক্ষ্যবস্তু থেকে আগত রশ্মিকে পরিমাণ মতো ছড়িয়ে দেয়, ফলে ফোকাস রেটিনাতে পড়ে এবং বস্তুর সুস্পষ্ট বিম্ব তৈরি হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৩৩৩.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন গ্রুপ মৌল?
  1. গোল্ড
  2. রেডন
  3. ক্রিপ্টন
  4. ফ্লোরিন
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিন
ব্যাখ্যা

• হ্যালোজেন গ্রুপ: 
- গ্রুপ-17 এর 6টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলা হয়। এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- হ্যালোজেন মৌলকে 'X' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। যেমন, F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) বা খাদ্যলবণ গঠিত হয়।
- এরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু তৈরি করে, যেমন- Cl2, I2 ইত্যাদি।

• মুদ্রা ধাতু: 
- গোল্ড হচ্ছে গ্রুপ-11 মৌল। গ্রুপ-11 এর 4টি মৌল হচ্ছে কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম। 
- এই চারটি মৌলের মধ্যে প্রথম তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু (Coin Metals) বলা হয়, কারণ এই গ্রুপের সবচেয়ে নিচের মৌল রন্টজেনিয়াম ছাড়া অন্য যে তিনটি মৌল আছে তা দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়। মৌলগুলো হলো: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনো যৌগ গঠন করতে চায় না।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

উৎস: রসায়ন- নবম ও দশম শ্রেণি।

৩,৩৩৪.
ডায়োডে কোন অংশকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল বলা হয়?
  1. ক্যাথোড
  2. অ্যানোড
  3. ট্রান্সফরমার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যানোড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানোড
ব্যাখ্যা
• ডায়োড:
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড।
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত।
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড।
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড।
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
৩,৩৩৫.
নিচের কোনটি ডায়াচুম্বকত্ব প্রদর্শন করে?
  1. ক) লৌহ
  2. খ) নিকেল
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) কোবাল্ট
সঠিক উত্তর:
গ) সোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোনা
ব্যাখ্যা
সোনা ডায়াচুম্বকত্ব প্রদর্শন করে। 

ডায়া চৌম্বক (Diamagnetism):
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়, অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়, এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি।
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৩৩৬.
তামা ও দস্তার সংমিশ্রণে কোন সংকর ধাতু তৈরি করা হয়?
  1. ইস্পাত
  2. ডুরালুমিন
  3. পিতল
  4. কাঁসা
সঠিক উত্তর:
পিতল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতল
ব্যাখ্যা
• সংকর ধাতু:
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে।


- যেমন- পিতল হলো তামা (কপার) ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৩৭.
নিউটনের গতির প্রথম সূত্র কোন রাশির ধারণা দেয়?
  1. ভরবেগ
  2. কাজ
  3. শক্তি
  4. জড়তা
সঠিক উত্তর:
জড়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তা
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি বস্তুর জড়তা ও বলের গুণগত ধারণা দেয়।

জড়তা:
- জড়তা বস্তুর একটি ধর্ম, যে ধর্মের কারণে স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে গতিশীল থাকতে চায়।
- জড়তা দু'প্রকার। যথা-
• স্থিতি জড়তা।
• গতি জড়তা।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৩৮.
তাপ সঞ্চালনের কোন প্রক্রিয়ার জন্য কোনো মাধ্যমের দরকার হয় না?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. শোষণ
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন: 
- বিভিন্ন কাজে তাপশক্তিকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিতে হয় কিংবা সঞ্চালন করতে হয়।
- তিনটি উপায়ে তাপ সঞ্চালন করা হয়। 
যেমন- পরিবহণ, পরিচলন এবং বিকিরণ। 
১। পরিবহণ (conduction): 
- কঠিন পদার্থের বেলায় তাপ হচ্ছে অণুগুলোর কম্পন তাই যখন কঠিন পদার্থের এক প্রান্ত উত্তপ্ত করা হয়, তখন সেই প্রান্তের অণুগুলো নিজের জায়গা থেকেই কাঁপতে থাকে।
- একটা অণু কাঁপতে থাকলে সেটি তার পাশের অন্য অণুকেও কাঁপাতে শুরু করে।
- সেই অণুটি তখন তার পাশের অণুকে কাঁপায়, এভাবে কম্পনটি কঠিন পদার্থের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পরিবাহিত হয় যা তাপ পরিবহণ নামে পরিচিত। 

২। পরিচলন (Convection): 
- তরল কিংবা গ্যাসকে উত্তপ্ত করা হলে তার ঘনত্ব কমে সেটি হালকা হয়ে যায়, কারণ তখন তাদের অণুগুলোকে বেশি বেগে ছোটাছুটি করতে হয় বলে বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। 
- একই পরিমাণ তরল বা গ্যাস একটু বেশি জায়গায় নিয়ে থাকলে তার ঘনত্ব কমে যায় বা সেটি হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়, তখন পাশের শীতল তরল বা গ্যাস সেখানে উপস্থিত হয়, এভাবে তরল বা গ্যাসের ভেতর একটা অভ্যন্তরীণ পরিচলন শুরু হয়। 

৩। বিকিরণ (Radiation): 
- আমরা যখন রোদে দাঁড়াই, তখন যে তাপ অনুভব করি, সেই তাপ যে পদ্ধতিতে আমাদের কাছে পৌঁছায় তার নাম বিকিরণ। 
- বিকিরণ প্রক্রিয়ার জন্য কোনো মাধ্যমের দরকার হয় না, সেজন্য সূর্য আর পৃথিবীর ভেতরে মহাশূন্য থাকার পরেও দৃশ্যমান আলোর সঙ্গে অদৃশ্য অবলোহিত রশ্মি এবং অতিবেগুনি রশ্মি বিকিরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে চলে আসতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান (অনুসন্ধানী পাঠ), নবম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩,৩৩৯.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়?
  1. ক) পেট্রোল
  2. খ) কয়লা
  3. গ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. ঘ) বায়োগ্যাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) বায়োগ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা
• জীবাশ্ম জ্বালানি হল এক প্রকার জ্বালানি যা বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এ জ্বালানি তৈরি হয়।

• বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে রয়েছে:
- খনিজ তেল
- কয়লা
- প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি।

• জীবাশ্ম জ্বালানিসমূহ অনবায়নযোগ্য। অর্থাৎ এসব জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না এবং এদের মজুদ সীমিত।
অন্যদিকে,
- পারমাণবিক শক্তি,
- বায়োগ্যাস
- জিও থার্মাল বা ভূ-তাপ শক্তি,
- জলবিদ্যুৎ হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
৩,৩৪০.
একটি বল ঢাল বরাবর নিচে গড়িয়ে পড়ে। নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. বিভবশক্তি অপরিবর্তিত থাকে, গতিশক্তি বাড়ে
  2. বিভবশক্তি ও গতিশক্তি উভয়ই বাড়ে
  3. বিভবশক্তি কমে, গতিশক্তি বাড়ে
  4. উভয় শক্তিই কমে
সঠিক উত্তর:
বিভবশক্তি কমে, গতিশক্তি বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভবশক্তি কমে, গতিশক্তি বাড়ে
ব্যাখ্যা

• বিভবশক্তি (Potential Energy):
- বিভবশক্তি হলো কোনো বস্তুর অবস্থানজনিত শক্তি।
- এটি নির্ভর করে বস্তুটির উচ্চতা এবং ভর-এর ওপর।
- সূত্র: Ep = mgh
- যখন বল ঢাল বরাবর নিচে নামে, তার উচ্চতা কমে যায়, ফলে বিভবশক্তি কমে।

• গতিশক্তি (Kinetic Energy):
- গতিশক্তি হলো বস্তুর চলার কারণে সৃষ্ট শক্তি।
- এটি বস্তুটির ভর ও বেগ উভয়ের ওপর নির্ভর করে।
- যখন বল নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে, তার বেগ বাড়ে, ফলে গতিশক্তি বাড়ে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩৪১.
কোন বস্তুটির স্থিতিস্থাপকতা বেশি? 
  1. কাচ
  2. তামা
  3. ইস্পাত
  4. রাবার
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা
স্থিতিস্থাপকতা: 
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ করে কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তনের চেষ্টা করলে, যে ধর্মের ফলে বস্তুটি এই পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে বাধা দেয় এবং বাহ্যিক বল অপসারিত হলে বস্তু তার পূর্বের আকার ও আয়তন ফিরে পায়, সেই ধর্মকে স্থিতিস্থাপকতা বলা হয়। 

স্থিতিস্থাপক সীমা: 
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক। 
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়। 
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন। 
যেমন, ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রবারের খুব কম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৪২.
কোন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও নির্দিষ্ট আয়তন দুটোই থাকে? 
  1. পানি
  2. কাঠ
  3. অক্সিজেন
  4. অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
কাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঠ
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৪৩.
কোনো মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা কোন নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয়?
  1. পরমাণুর আকার
  2. পরমাণুর উপস্তর
  3. পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ ঋণাত্মকতার উপর বিভিন্ন নিয়ামকের প্রভাব: 
- সমযোজী বন্ধনে অংশগ্রহণকারী পরমাণুদ্বয়ের শেয়ারকৃত ইলেকট্রন একটি পরমাণু কর্তৃক নিজের দিকে টেনে নেওয়ার তুলনামূলক ক্ষমতাকে ঐ পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলে। 
- মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা যেসব নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয় তা হলো - 
পরমাণুর আকার
উপস্তর এবং 
ইলেকট্রন বিন্যাস। 

- পরমাণুর আকার বৃদ্ধিতে পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে সর্বশেষ শক্তিস্তর দূরে সরে যায় তাই বন্ধনে অংশগ্রহণকারী শেয়ারকৃত ইলেকট্রন জোড়ের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায় এবং পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা হ্রাস পায়। 
- গ্রুপ-17 এর মৌলসমূহের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান নিম্নে দেওয়া হলো: F = 4.0, Cl = 3.0, Br = 2.8, I = 2.5, At = 2.2  । 
- পরমাণুর নিউক্লিয়ার চার্জ বৃদ্ধির সাথে মৌলের ইলেকট্রোনেগেটিভিটি সম্পর্কিত। 
- নিউক্লিয়ার চার্জ যত বেশি হবে ঐ নিউক্লিয়ার কর্তৃক সর্বশেষ স্তরের ইলেকট্রনের প্রতি আকর্ষণ তত বেশি প্রবল হয়। 
- দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌলসমূহের Li(3) হতে F(7) পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে নিউক্লিয়াসে একটি করে প্রোটন যুক্ত হয় এবং শেষ শক্তিস্তরে একটি করে ইলেকট্রন যুক্ত হয়। 
অর্থাৎ, ক্রমান্বয়ে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধিতে নিউক্লিয়ার চার্জ বৃদ্ধি পায় এবং মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মানও বৃদ্ধি পেতে থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৪৪.
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে কোনটি নিসৃত হয় না?
  1. ক) আলফা
  2. খ) বিটা
  3. গ) গামা
  4. ঘ) এক্স রে
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক্স রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক্স রে
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে আলফা, বিটা, গামা রশ্মি নির্গত হয়। গলগন্ড রোগ নির্ণয়ে, টিউমার, ক্যান্সার ইত্যাদির চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৩,৩৪৫.
উপসর্গ “মেগা (Mega)” দ্বারা কী বোঝানো হয়? 
  1. 10- 3
  2. 106
  3. 109
  4. 10- 6
সঠিক উত্তর:
106
উত্তর
সঠিক উত্তর:
106
ব্যাখ্যা

- উপসর্গ “মেগা (Mega)” দ্বারা বোঝানো হয়- 106 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 

- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানান কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়ই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
- দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এগুলো সব সময় ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- দূরত্ব বোঝানোর জন্য এক হাজার মিটার না বলে এক কিলোমিটার বলা হয়, আবার পানির আয়তন বোঝানোর জন্য এক লিটারের এক শতাংশ না বলে 10 মিলিমিটার বলা হয়। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩৪৬.
নিম্নের কোনটিকে তন্তুর রাণি বলা হয়?
  1. ক) তুলা
  2. খ) পশম
  3. গ) রেশম
  4. ঘ) রেয়ন
সঠিক উত্তর:
গ) রেশম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রেশম
ব্যাখ্যা
রেশম:
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- বিলাসবহুল বস্ত্র তৈরিতে রেশম তন্তুর বিকল্প মেলা ভার। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়।
- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে।
- রেশম তন্তু ফাইব্রেয়ন নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি। 
- প্রাকৃতিক প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে রেশমই সবচেয়ে হালকা, শক্ত ও দীর্ঘ। 
- সিল্কের শক্তিমাত্রা, দৃড়তা, মসৃণতা এবং কোমল অনুভবতা বৈশিষ্ট্য দীর্ঘকাল ধরে সুপরিচিত।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৪৭.
কোনটি ভেক্টর রাশি?
  1. ক) দৈর্ঘ্য
  2. খ) ভর
  3. গ) ভরবেগ
  4. ঘ) তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
গ) ভরবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভরবেগ
ব্যাখ্যা
যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পুর্ণরুপে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাদেরকে ভেক্টর রাশি বলে।  

যেমন: বেগ, ভরবেগ,সরণ, ত্বরণ, মন্দন, বল, বলের ঘাত, বলের ভ্রামক, চৌম্বক ভ্রামক, চৌম্বক দৈর্ঘ্য, চৌম্বক প্রাবাল্য, বৈদ্যূতিক প্রাবাল্য, ওজন, পৃস্টটান, সান্দ্রতা, গুনাঙ্ক, অভিকর্ষজ ত্বরণ ইত্যাদি।

উৎসঃ ৯ম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই   
৩,৩৪৮.
এক খাদ্য ক্যালরি =?
  1. এক ক্যালরি
  2. একশ ক্যালরি
  3. এক হাজার ক্যালরি
  4. দশ হাজার ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
এক হাজার ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক হাজার ক্যালরি
ব্যাখ্যা
কিলোক্যালরি:
- খাদ্যের মধ্যে নিহিত শক্তিকে খাদ্য ক্যালরি বা কিলোক্যালরি হিসেবে মাপা হয়।
- ক্যালরি হচ্ছে শক্তির একক।
- এক গ্রাম খাদ্য জারণের ফলে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে খাদ্যের ক্যালরি বলে।
- এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° (ডিগ্রি) সেলসিয়াস বৃদ্ধি করার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, সে পরিমাণ তাপশক্তি হচ্ছে এক ক্যালরি।
- এক হাজার ক্যালরি সমান এক কিলোক্যালরি বা এক খাদ্য ক্যালরি (One Food Calorie)।
- একটা খাদ্যের খাদ্য ক্যালরি বলতে বোঝায় খাদ্যটি সম্পূর্ণভাবে জারণ হলে কতখানি শক্তি বের হবে। (একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক ২৫০০ kcal এবং একজন নারীর ২০০০ kcal এর সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি। 
৩,৩৪৯.
জীবন্ত তারে কত ভোল্ট বিদ্যুৎ থাকে?
  1. ক) ১.৫ ভোল্ট
  2. খ) ৫০ ভোল্ট
  3. গ) ২২০ ভোল্ট
  4. ঘ) কোনাে তড়িৎ ভােল্টেজ থাকে না
সঠিক উত্তর:
গ) ২২০ ভোল্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২২০ ভোল্ট
ব্যাখ্যা
বাসায় বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রধান তার দুটির একটি হলাে জীবন্ত (সাধারণত লাল রঙের) তার এবং অন্যটি নিরপেক্ষ তার (সাধারণতকালাে রঙের) জীবন্ত তারে বিদ্যুৎ ভােল্টেজ (২২০Volt) থাকে। নিরপেক্ষ তারে কোনাে তড়িৎ ভােল্টেজ থাকে না যেহেতু এটিকে মাটির সাথে সংযােগ করে দেওয়া হয় এটি সার্কিট পূর্ণ করে বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করে থাকে। উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান
৩,৩৫০.
নিচের কোনটি জৈবযৌগের প্রধান উপকরণ?
  1. ক) Na
  2. খ) Cl
  3. গ) C
  4. ঘ) N
সঠিক উত্তর:
গ) C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) C
ব্যাখ্যা
- সাধারনত যে সব যৌগ জীবদেহে পাওয়া যায় তাদেরকে জৈবযৌগ বলে।
- এই যৌগগুলো প্রধানত কার্বন ঘটিত যৌগ। 
- তাই তাদের প্রধান উপকরন হলো কার্বন( C)।

উৎস: নবম দশম শ্রেনীর বিজ্ঞান বই।
৩,৩৫১.
নিচের কোনটিতে রেডিও আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে
  2. খ) পিত্ত পাথর গলাতে
  3. গ) কিডনির পাথর গলাতে
  4. ঘ) পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে
সঠিক উত্তর:
ক) গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে
ব্যাখ্যা

কোন কোন আইসোটোপ অস্থিতিশীল হয়ে থাকে। অর্থাৎ এদের নিউক্লিয়াসের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে থাকে। ফলস্বরূপ, এই আইসোটোপ থেকে কিছু কণা বিচ্ছুরিত হয়, কখনো কখনো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে থাকে। এই প্রকার আইসােটোপকে রেডিও আইসোটোপ (radio isotope) বলা হয়।

An exceptionally useful radioactive isotope is iodine-131, which has a half-life of eight days. It is employed in medicine to monitor thyroid gland functioning, to treat goitre and thyroid cancer, and to locate tumours of the brain and of the liver.

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান ও Britannica

৩,৩৫২.
নিচের কোনটি পদার্থ? 
  1. আলো
  2. বাতাস
  3. বিদ্যুৎ
  4. তাপ
সঠিক উত্তর:
বাতাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাস
ব্যাখ্যা

পদার্থ: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন: বই, খাতা, কলম, চেয়ার টেবিল, বাতাস, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সবই পদার্থ। 
- পদার্থের ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং জড়তা আছে। 
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন: কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- বাতাস হচ্ছে একটি মিশ্র পদার্থ যা পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তর ঘটে। 

১। কঠিন পদার্থ: 
- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 

২। তরল পদার্থ: 
- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 

৩। বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ: 
- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- তাপ, বিদ্যুৎ ও আলো হচ্ছে এক ধরনের শক্তি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৫৩.
শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে কী বলে?
  1. ক) শব্দ সঞ্চালন
  2. খ) শব্দ পরিবহণ
  3. গ) শব্দত্তর তরঙ্গ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দ সঞ্চালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দ সঞ্চালন
ব্যাখ্যা

শব্দের একস্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করাকে শব্দ সঞ্চালন বলে।

কোনো মাধ্যম ছাড়া শব্দ এক অবস্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হতে পারে না।

যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক 20,000 Hz বা তার বেশি তাকে শব্দোত্তর তরঙ্গ / শ্রবণোত্তর তরঙ্গ বলে।

শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ মানুষ শুনতে না পেলেও বাদুর, কুকুর, মৌমাছি প্রভৃতি কিছু প্রাণী এই শব্দ শুনতে পায়।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান।

৩,৩৫৪.
জলীয় দ্রবণে প্রোটন দান করে -
  1. ক) ক্ষারক
  2. খ) অম্ল
  3. গ) অম্ল এবং ক্ষারক উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অম্ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অম্ল
ব্যাখ্যা
জলীয় দ্রবণে অম্ল প্রোটন দান করে। 

- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য জলীয় দ্রবণে প্রোটন বা ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, তাদের এসিড বলে।
যেমন—এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অক্সালিক এসিড।
- এসিড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এসিডাস থেকে এসেছে। বাংলায় একে অম্ল বলা হয়।

এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
- এসিড স্বাদে টক।
- এটি নীল লিটমাসকে লাল করে।
- এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে।
- এটি ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।
- প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে।
- যে এসিড যত বেশি হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, সে তত বেশি শক্তিশালী।
- দ্রবণ ছাড়া ঘন এসিড অত্যন্ত বিপজ্জনক, এটি মানুষের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

সূত্র: ২৩৩ পৃষ্ঠা, রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
৩,৩৫৫.
এক গ্রাম তৈল বা চর্বিতে কত ক্যালরি শক্তি থাকে? 
  1. 9.0 cal
  2. 9.3 cal
  3. 9.5 cal
  4. 9.9 cal
সঠিক উত্তর:
9.0 cal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
9.0 cal
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
- সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
- তৈলের গলনাঙ্ক 20° C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20° C এর অধিক হয়। 
- তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 × 4.184 J খাদ্যমান। 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং, বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন, সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।
৩,৩৫৬.
নিচের কোনটি ক্ষারকের উদাহরণ?
  1. HCl
  2. NaOH
  3. CO2
  4. NaCl
সঠিক উত্তর:
NaOH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NaOH
ব্যাখ্যা
• NaOH ক্ষারকের একটি উদাহরণ। 

• ক্ষারক:
- ক্ষারক (Base) হল এমন একটি রাসায়নিক যৌগ যা জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়ন (OH-) দান করে বা প্রোটন (H+) গ্রহণ করে। 

• ক্ষারকের বৈশিষ্ট্য:
- তিক্ত স্বাদ. 
- ক্ষারক লিটমাস পেপার নীল করে। 
- ক্ষারকের pH মান ৭-এর বেশি, অর্থাৎ pH > 7।  

• সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) একটি শক্তিশালী ক্ষারক, যা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে Na+ ও OH- আয়ন তৈরি করে।
• NaOH-এর রাসায়নিক বিক্রিয়া:
NaOH → Na++ OH 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩,৩৫৭.
নিম্নোক্ত কোন ধাতু পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়?
  1. সিলিকন
  2. পারদ
  3. তামা
  4. লোহা
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা
- ধাতু দেখতে চকচকে। একে আঘাত করলে টুনটুন শব্দ হয়। ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
- ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%)। লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬%।
-------------------
যেহেতু অ্যালুমিয়াম অপশনে নেই, তাই সঠিক উত্তর লোহা।

উৎসঃ ব্রিটানিকা
৩,৩৫৮.
জাইলিন কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ 
  2. তেজস্ক্রিয় 
  3. বিস্ফোরক 
  4. উত্তেজক 
সঠিক উত্তর:
স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ 
ব্যাখ্যা
বিস্ফোরক পদার্থ: 
- টিএনটি, পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এ ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ। এসব পদার্থে আগুন লাগলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে, যার জন্য শরীরের এবং গবেষণাগারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই এ দ্রব্যগুলো খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়। 

স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ: 
- বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি এ ধরনের পদার্থ। এ ধরনের পদার্থ ত্বকে লাগলে বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভেতরে গেলে তা শরীরের স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিসাধন করে। এগুলো শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসারের মতো কঠিন রোগ কিংবা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। 

দাহ্য পদার্থ: 
- অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। এসব পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে। 

তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। এসব পদার্থ থেকে ক্ষতিকারক রশ্মি বের হয় যা ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে কিংবা একজনকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। 

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ: 
- লেড, মার্কারি ইত্যাদি পদার্থগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এগুলোকে ব্যবহার করার সময় যথেষ্ট সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ব্যবহারের পরে এগুলো যেখানে-সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। 

বিষাক্ত পদার্থ: 
- বেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। তাই শরীরে লাগলে বা শ্বাস-প্রশ্বাস অথবা ক্ষতের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। 

উত্তেজক পদার্থ: 
- ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ। এগুলো ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৫৯.
পটাসিয়ামের প্রতীক কোনটি?
  1. ক) P
  2. খ) K
  3. গ) Pa
  4. ঘ) Ka
সঠিক উত্তর:
খ) K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) K
ব্যাখ্যা
প্রতীক লেখার নিয়ম:
১। মৌলিক পদার্থের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর টিকে বড় হরফে লিখে মৌলটির চিহ্ন প্রকাশ করা হয়।
যেমন হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O)
২। একই প্রথম অক্ষর বিশিষ্ট একাধিক মৌল থাকলে ওই গুলোর চিহ্ন প্রকাশ করা হয়। প্রথম অক্ষরের সঙ্গে পরের অক্ষর যোগ করে কিংবা প্রথম অক্ষরের সঙ্গে উচ্চারিত অক্ষর যোগ করে। যেমন:
ক্যালসিয়াম (Ca), বেরিয়াম (Ba)
৩। কতক গুলো মৌলের চিহ্ন মৌলের ল্যাটিন নামের প্রথম বা প্রথম দুই অক্ষর অথবা উচ্চারণ ধ্বনিতে প্রাধান্য পাওয়া অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেমন: 
সোডিয়াম (Sodium) (ল্যাটিন- natirum)- প্রতীক-Na
পটাশিয়াম Potassium (ল্যাটিন Kalium)- প্রতীক-K
৩,৩৬০.
ব্যাটারিতে সঞ্চিত শক্তি কোন ধরনের শক্তি?
  1. রাসায়নিক শক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. তাপশক্তি
  4. বিদ্যুৎ শক্তি
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা
•  ব্যাটারির রাসায়নিক শক্তি:
- ব্যাটারির মধ্যে থাকে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ (যেমন – লিথিয়াম, জিঙ্ক, বা অ্যাসিড)।

- যখন ব্যাটারিটি ব্যবহার করা হয়, তখন এই রাসায়নিক পদার্থগুলো একে অপরের সঙ্গে বিক্রিয়া (chemical reaction) করে ইলেকট্রন তৈরি করে।
- এই ইলেকট্রনগুলো বাইরে দিয়ে প্রবাহিত হলে সেটা আমরা তড়িৎ শক্তি (electric energy) হিসেবে পাই।
- ব্যাটারির ভিতরে শক্তি সঞ্চিত থাকে রাসায়নিক আকারে ব্যবহারের সময় সেটা তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়

উৎস: ব্রিটানিকা; পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৬১.
কোনটি পানির স্ফুটনাঙ্ক তাপমাত্রা?
  1. ক) 80°F
  2. খ) 100°F
  3. গ) 180°F
  4. ঘ) 212°F
সঠিক উত্তর:
ঘ) 212°F
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 212°F
ব্যাখ্যা
স্বভাবিক তাপমাত্রা ও চাপে পানির স্ফুটনাংক তাপমাত্রা 100°C, যেটা ফারেনহাইট স্কেলে 212°F।
Source: britannica.com
৩,৩৬২.
শূন্য কেলভিন তাপমাত্রায় পদার্থের অণুগুলোর গতি শক্তির মান -
  1. ক) অসীম
  2. খ) শূন্য
  3. গ) অতি ক্ষুদ্র
  4. ঘ) অনেক বড়
সঠিক উত্তর:
খ) শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শূন্য
ব্যাখ্যা
- পরমশূন্য তাপমাত্রা ব্যতীত যে কোন তাপমাত্রায় সকল পদার্থের অণুসমূহে তিন ধরণের গতি বিরাজ করে।

যথা: (i) চলমান গতি (translational motion),
(ii) ঘূর্ণায়মান গতি (rotational motion) এবং
(iii) কম্পন গতি (vibrational motion)।
- অণুসমূহ এ সকল গতিবেগের কারনে যে শক্তি লাভ করে তাকে গতিশক্তি বলে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গতি শক্তির মান বেড়ে যায়
- শূন্য কেলভিন তাপমাত্রায় পদার্থের অণুগুলোর গতি শক্তির মান শূন্য হয়।

সূত্র: ৩ পৃষ্ঠা, রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৬৩.
ভূপৃষ্ঠ থেকে উপড়ে উঠলে বস্তুর ভর-
  1. ক) বাড়ে
  2. খ) একই থাকে
  3. গ) কমে
  4. ঘ) শুন্য হয়ে যায়
সঠিক উত্তর:
খ) একই থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) একই থাকে
ব্যাখ্যা
বস্তুর ওজন বস্তুটির ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণের গুণফলের সমান। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যতই উপড়ে ওঠা হয় ততই g এর মান কমে। কিন্তু বস্তুর ভর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। এটি বাড়ে না বা কমে না। সুতরাং একই বস্তুর ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর গুণফল তথা ওজন ভূপৃষ্ঠের উপরের দিকে কমে।
সূত্রঃ অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৩,৩৬৪.
আলো যখন এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গমন করে তখন আলোর কোনটি পরিবর্তিত হয় না?
  1. ক) ফ্রিকুয়েন্সি
  2. খ) বেগ
  3. গ) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  4. ঘ) দ্রুতি
সঠিক উত্তর:
ক) ফ্রিকুয়েন্সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফ্রিকুয়েন্সি
ব্যাখ্যা
 কোন মাধ্যমে প্রতি থেকে ও আলোর কি পরিমান সরন ঘটে বা কোন নির্দিষ্ট দিকে আলোর কি পরিমান দূরত্ব অতিক্রম করে
তাকে বলা হয় আলোর বেগ। কোন মাধ্যমে আলোর বেগ ঐ মাধ্যমে আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ও কম্পাঙ্গ বা ফ্রিকুয়েন্সির গুন
ফলের সমান।
আমরা জানি, যে, আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে ভ্রমন করলে এর কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকুয়েন্সি পরিবর্তিত হয় না। 

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৩৬৫.
কোনটি দিয়ে উচ্চতা মাপা হয়?
  1. ক) ন্যানোমিটার
  2. খ) ল্যাকটোমিটার
  3. গ) ফ্যাদোমিটার
  4. ঘ) অলটিমিটার
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলটিমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলটিমিটার
৩,৩৬৬.
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে এক্স-রে কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
এক্স-রে 
- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন। 
- এই আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- এক্স-রে এক ধরনের চার্জহীন বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এটি সরলপথে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রে তৈরীর প্রক্রিয়া হলো কুলীজ নল পদ্ধতি।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 
- এক্স-রে বিকিরণ পরিমাপ করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে রন্টজেন বলা হয়। 

- তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে এক্স-রে সাধারনত ২ ধরনের হয়: 
১) কোমল এক্স-রে,
২) কঠিন এক্স-রে। 
-  এক্স-রে যন্ত্রে প্রযুক্ত বিভব পার্থক্য বেশি হলে যে এক্স-রে উৎপাদিত হয় তাকে কঠিন এক্স-রে বলে। 
- কম বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করে যে এক্স-রে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্স-রে বলে। 

তথ্যসূত্র - ১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।
৩,৩৬৭.
পানির অণুর মধ্যবর্তী বন্ধনকে কি বলে?
  1. আয়নিক বন্ধন
  2. দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন
  3. ধাতব বন্ধন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন
ব্যাখ্যা

দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন: পানির এক অণুর হাইড্রোজেন ও অন্য অণুর অক্সিজেন এর মধ্যে আকর্ষণ কাজ করে। এই মধ্যবর্তী বন্ধনকে দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন বলা হয়।

সমযোজী বন্ধন: এটি একই অণুর ভেতরে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগির মাধ্যমে গঠিত। এই বন্ধন পানির অণুর ভেতরের বন্ধন, কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে মধ্যবর্তী (intermolecular) বন্ধন।

আয়নিক বন্ধন: এটি ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মধ্যে ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে হয়।

ধাতব বন্ধন: এটি ধাতুগুলোর মধ্যে ইলেকট্রনের সমবন্টনের মাধ্যমে গঠিত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা [লিংক ]

৩,৩৬৮.
পরমাণুকে ভাঙলে কী ঘটে?
  1. নতুন যৌগ তৈরি হয়
  2. নতুন মৌল তৈরি হয়
  3. মৌলের অস্তিত্ব নষ্ট হয়
  4. কোনো পরিবর্তন ঘটে না
সঠিক উত্তর:
মৌলের অস্তিত্ব নষ্ট হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলের অস্তিত্ব নষ্ট হয়
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
- পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
- সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। 
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
- পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৬৯.
নিম্নের কোনটির মান সর্বদা ঋণাত্মক?
  1. ক) দহন তাপ
  2. খ) বিক্রিয়া তাপ
  3. গ) সংঘটন তাপ
  4. ঘ) দ্রবণ তাপ
সঠিক উত্তর:
ক) দহন তাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দহন তাপ
ব্যাখ্যা
• যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয় তাদের তাপােৎপাদী বিক্রিয়া বলে। 
• এখানে দহন তাপ হচ্ছে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া
• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়কসমূহের মোট অভ্যন্তরীণ শক্তি E1 উৎপাদসমূহের মোট অভ্যন্তরীণ শক্তি E2 থেকে বেশি।
• কাজেই এ বিক্রিয়াতে বিক্রিয়ায় তাপ শক্তির পরিবর্তন AH = E2 - E1 এর মান ঋণাত্মক হয়।
তাই সঠিক উত্তর (ক) হবে।
৩,৩৭০.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত কোনটি?
  1. ক) আলোকরশ্মি হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমের দিকে যাবে
  2. খ) আপতন কোণ ও প্রতিসরণ কোণ সমান হবে
  3. গ) আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হবে
  4. ঘ) সবগুলো সঠিক
সঠিক উত্তর:
গ) আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হবে
ব্যাখ্যা

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection):
এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচছ সমসত্ব মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাবার সময় যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয় তবে আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যমে বিন্দুমাত্র প্রতিসৃত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে বিভেদ তল দ্বারা ঘন মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। একে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্তঃ
১) আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে।
২) আপতন কোণ সংকট কোণের থেকে বড় হতে হবে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৩৭১.
বরফ সাদা দেখায় কেন ?
  1. ক) আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলিত করে বলে।
  2. খ) বরফ কঠিন পদার্থ বলে ।
  3. গ) আলোর সব রশ্মিই প্রতিসরণ করে বলে।
  4. ঘ) বরফের বিক্ষেপণ বেশি বলে।
সঠিক উত্তর:
ক) আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলিত করে বলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলিত করে বলে।
ব্যাখ্যা
আলো এলোমেলোভাবে নানাদিকে প্রতিফলিত ও প্রতিসরিত হয়ে থাকে। 
যে দিক থেকেই ওই বরফ-কেলাসের দিকে দেখা হোক না কেন, প্রত্যেকটিকে সে বিক্ষিপ্তভাবে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। 
আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলিত করে ফলে, তা কোনো নির্দিষ্ট বর্ণালী তরঙ্গদৈর্ঘ্যে উত্থাপিত হয় না। যার ফলে সাদা দেখায়।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
৩,৩৭২.
কোন এসিডটি পানিতে সম্পূর্ণভাবে বিযোজিত হয়?
  1. এসিটিক এসিড
  2. সাইট্রিক এসিড
  3. অক্সালিক এসিড 
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোক্লোরিক এসিডটি পানিতে সম্পূর্ণভাবে বিযোজিত হয়। 

শক্তিশালী এসিড: 
- বেশ কিছু জৈব এসিড পানিতে বিযোজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত করে। আবার খনিজ এসিডগুলো পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত করে। অর্থাৎ, যতগুলো এসিডের অণু থাকে, তার সবগুলোই বিয়োজিত হয়। 
যেমন- 
• সালফিউরিক এসিড (H2SO4), 
• নাইট্রিক এসিড (HNO3) এবং 
• হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) । 

দুর্বল এসিড: 
- তবে কিছু কিছু এসিড বিশেষ করে জৈব এসিডগুলো পানিতে পুরোপুরিভাবে বিয়োজিত না হয়ে আংশিকভাবে বিয়োজিত হয়। অর্থাৎ, যতগুলো এসিডের অণু থাকে তার সবগুলো থেকে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত হয় না। সেজন্য এই এসিডগুলোকে দুর্বল এসিড বলে। 
- তবে কিছু এসিড আছে যেমন- কার্বোনিক এসিড (H2CO3) যেটি জৈব এসিড না হলেও দুর্বল এসিড। 
যেমন- 
• সাইট্রিক এসিড (C6H8O7), 
• এসিটিক এসিড (CH3COOH) এবং 
• অক্সালিক এসিড (HOOC-COOH) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩৭৩.
নিচের কোনটিকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়?
  1. আলোর প্রতিফলন
  2. আলোর অপবর্তন
  3. আলোর বিচ্ছুরণ
  4. আলোর প্রতিসরণ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ:
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়।
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়।
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে।
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই।
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে।
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য।
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৩,৩৭৪.
স্থির তরঙ্গে পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কতগুণ হয়? 
  1. অর্ধেক
  2. সমান
  3. এক-চতুর্থাংশ
  4. দ্বিগুণ
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক
ব্যাখ্যা

• স্থির তরঙ্গে পরপর দুটি সুস্পন্দ বিন্দু (Antinodes) বা পরপর দুটি নিস্পন্দ বিন্দুর (Nodes) মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অর্ধেক অর্থাৎ λ/২। একে একটি পূর্ণ লুপের দৈর্ঘ্যও বলা হয়।
- অন্যদিকে, একটি সুস্পন্দ বিন্দু এবং তার ঠিক পরবর্তী নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের এক-চতুর্থাংশ বা  λ/৪।

• স্থির তরঙ্গ: 
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে। 
- একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। 
- এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে। 
- এই তরঙ্গ তার বা দড়ি বেয়ে অগ্রসর না হয়ে বরং তার বা দড়ির ঐ অংশের মধ্যে উৎপন্ন ও লুপ্ত হবে। 
- তরঙ্গের উদ্ভবের সময় দেখা যাবে তারের কোনো কোনো বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই। 
- আবার কোনো কোনো বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হতে থাকবে। 
- যে বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই সে বিন্দুগুলোকে নিস্পন্দ বিন্দু (Node) এবং যে বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হয় সে বিন্দুগুলোকে সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) বলে। 
- নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুগুলোর অবস্থানগুলো সব সময় স্থির। 
- পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অর্ধেক হয়। 
- গীটার, একতারা, সেতার ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৭৫.
কোন অধাতুটি প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়?
  1. ফসফরাস
  2. সিলিকন
  3. সালফার
  4. টিন
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
- আমরা প্রাকৃতিক উৎস থেকে যে সকল সম্পদ আহরণ করি তার মধ্যে খনিজ অধাতু অন্যতম।
- অধাতুসমূহের মধ্যে সালফার, কয়লা, ফসফরাস, সিলিকন ইত্যাদি খনি থেকে উত্তোলন করা হয়।
- প্রকৃতিতে সালফার মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ফ্লাস পদ্ধতিতে খনি থেকে উত্তোলন করা হয়
- সালফারের গলনাঙ্ক মাত্র ১১৯° সেন্টিগ্রেড হওয়ায় উচ্চ তাপমাত্রার উত্তপ্ত জলীয় বাস্পের সংস্পর্শে তা গলে যায়।
- রাসায়ন শিল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান সালফিউরিক এসিডসহ বারুদ, দেয়াশলাই, রাবার ভলকানাইজিং, সালফাড্রাগ ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক যৌগ উৎপাদনে সালফার ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৭৬.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে - 
  1. ভেসে থাকবে
  2. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  3. ডুবে যাবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
সঠিক উত্তর:
ভেসে থাকবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেসে থাকবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন। এক্ষেত্রে- 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৭৭.
ইলেকট্রনিক্সে স্থির বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কেন প্রয়োজন?
  1. যন্ত্রের ওজন কমাতে
  2. যন্ত্রের গতি বাড়াতে
  3. যন্ত্রের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে
  4. বিদ্যুৎ খরচ কমাতে
সঠিক উত্তর:
যন্ত্রের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যন্ত্রের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে
ব্যাখ্যা

• স্থির বিদ্যুৎ ইলেকট্রনিক উপাদান, বিশেষ করে IC, ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে; তাই ক্ষতি এড়ানোর জন্য স্থির বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

• স্থির বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক্স:
- শীতপ্রধান দেশে বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় সেখানে স্থির বিদ্যুতের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
- ইলেকট্রনিক্স এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে স্থির বিদ্যুতের প্রভাব ও আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য স্থির বিদ্যুতেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রে কাজ করার সময় মানবদেহে সঞ্চিত স্থির বিদ্যুৎ হঠাৎ যন্ত্রের সাথে স্পর্শের মাধ্যমে নির্গত হলে ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়।
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (Integrated Circuit) ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক উপাদান স্থির বিদ্যুতের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
- এজন্য ইলেকট্রনিক্সে কাজ করার সময় স্থির বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৩,৩৭৮.
ডায়নামোতে যান্ত্রিক শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তি
  2. বৈদ্যুতিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. চৌম্বকীয় শক্তি
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক শক্তি
ব্যাখ্যা
• ডায়নামোতে যান্ত্রিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- একটি গতিশীল চুম্বক বা তড়িৎবাহী বর্তনীর সাহায্যে অন্য একটি বদ্ধ বর্তনীতে ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বলে।

• ডায়নামো:
- ডায়নামো হলো একটি যন্ত্র যা যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এটি তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) এর নীতিতে কাজ করে।

• ডায়নামোর কার্যপ্রণালী:
→ যান্ত্রিক শক্তির প্রয়োগ:
- ডায়নামোর একটি কয়েল (তামার তারের পেঁচানো অংশ) চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে ঘুরানো হয়।
- এই ঘূর্ণন সাধারণত বাইরে থেকে যান্ত্রিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে করা হয় (যেমন: সাইকেলের প্যাডেল, হাইড্রো টারবাইন বা বায়ু টারবাইন, ডিজেল বা পেট্রোল ইঞ্জিন)।
→ তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- ফ্যারাডের সূত্র অনুসারে, চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে কয়েল ঘুরালে তাতে বিদ্যুৎপ্রবাহ (তড়িৎ শক্তি) উৎপন্ন হয়।
- এই প্রক্রিয়ায় যান্ত্রিক শক্তি → বৈদ্যুতিক শক্তি রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
- Faraday's Law of Electromagnetic Induction – Britannica. 
৩,৩৭৯.
তেজস্ক্রিয়তার ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. ক) তাপ প্রয়োগে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
  2. খ) চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তেজস্ক্রিয়তা হ্রাস পায়।
  3. গ) বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিয়ন্ত্রন করা যায়।
  4. ঘ) তেজস্ক্রিয়তার উপর চাপের কোন প্রভাব নেই।
সঠিক উত্তর:
ঘ) তেজস্ক্রিয়তার উপর চাপের কোন প্রভাব নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তেজস্ক্রিয়তার উপর চাপের কোন প্রভাব নেই।
ব্যাখ্যা
তেজষ্ক্রিয়তা: ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায় -
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া ।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৩৮০.
বরফ গলতে শুরু করে কত ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়?
  1. ক) ০° সেন্টিগ্রেড
  2. খ) ৪° সেন্টিগ্রেড
  3. গ) ১০° সেন্টিগ্রেড
  4. ঘ) ১০০° সেন্টিগ্রেড
সঠিক উত্তর:
ক) ০° সেন্টিগ্রেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ০° সেন্টিগ্রেড
ব্যাখ্যা
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন।
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়।  আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব।
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক।
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে।
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৮১.
ক্ষমতার এস. আই একক কোনটি?
  1. ওয়াট
  2. জুল
  3. নিউটন
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ওয়াট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াট
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা:
-
ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
- নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়।
- ক্ষমতাকে p দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট।
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়।
- 1 HP = 746 ওয়াট
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T- 3

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৩৮২.
কোনটি প্রাইমারি সেল নয়?
  1. ডেনিয়েল কোষ
  2. লেড সঞ্চয়ী কোষ
  3. লেকল্যান্স কোষ
  4. ভোল্টার কোষ
সঠিক উত্তর:
লেড সঞ্চয়ী কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেড সঞ্চয়ী কোষ
ব্যাখ্যা
প্রাইমারি সেল বা প্রাথমিক কোষ: 
- যে বিদ্যুৎ কোষ নিজেই নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করে বিদ্যুৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বা মৌলিক কোষ বলে।   যেমন - ভোল্টার কোষ, লেকল্যান্স কোষ, ডেনিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ ইত্যাদি। 
- শুষ্ক কোষে কোন তরল ব্যবহৃত হয় না। 

গৌণ কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ বা সেকেন্ডারি কোষ:
- যে বিদ্যুৎ কোষে বাইর থেকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে বিদ্যুৎ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিরূপে সঞ্চিত রাখা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে গৌণ কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ বা সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
- সাধারণত লেড সঞ্চয়ী কোষ ও নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ নামক দুটি সঞ্চয়ী কোষ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।
৩,৩৮৩.
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জৈব যৌগের নামকরণের ক্ষেত্রে সর্ব প্রথম সম্মেলন হয়েছিল কোন শহরে?
  1. ক) প্যারিস
  2. খ) জেনেভা
  3. গ) হেগ
  4. ঘ) লন্ডন
সঠিক উত্তর:
খ) জেনেভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জেনেভা
ব্যাখ্যা
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। যেমন: মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।
- সাধারণ বা উদ্ভূত পদ্ধতিতে জৈব যৌগের নামকরণে যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা থাকায় এবং দিন দিন জৈব যৌগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এদের নামকরণের সার্বজনীন পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
- ১৮৯২ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রসায়নবিদদের এক সম্মেলনে সর্ব প্রথম জৈব যৌগের নামকরণের একটি সহজ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। 
-  জৈব যৌগের নামকরণের এই নীতিমালা আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা জেনেভা পদ্ধতি বা IUPAC (International Union of Pure and Applied Chemistry) পদ্ধতি নামে পরিচিত। এ পদ্ধতিটি আধুনিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও শ্রেষ্ঠ।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৮৪.
সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের–
  1. অর্ধবৃত্তাকার গতি
  2. উপবৃত্তাকার গতি
  3. সরল রৈখিক গতি
  4. রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি
সঠিক উত্তর:
রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি
ব্যাখ্যা

- সরল দোলন গতি হলো এক বিশেষ ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। 

সরল দোলন গতি: 
- কম্পনশীল কোনো বস্তুকণার ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে কণাটির সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদাই সাম্যাবস্থান অভিমুখী হলে, ঐ কণার গতিকে সরল দোলন গতি বলা হয়। অথবা, যদি কোনো পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তুর ত্বরণ তার সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী অর্থাৎ সর্বদা সাম্য বিন্দু অভিমুখী হয় তবে ঐ বস্তুর গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্য: 
- সরল দোলন গতির কতগুলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। 
- এই বৈশিষ্ট্যসমূহ দিয়ে কোনো কণার গতি সরল দোলন গতি কিনা তা নির্ধারণ করা হয়। 
- নিচে সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্যসমূহ দেয়া হলো- 
১। সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। অর্থাৎ, কোনো বস্তুকণা একই সময়ে বারবার একটি নির্দিষ্ট সরলরেখাংশ বরাবর এদিক-ওদিক যাওয়া-আসা করে। 
২। সরল দোলন গতি বিশিষ্ট কণার ত্বরণ সর্বদা তার সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয়। 
৩। কণাটির ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক। 
৪। কণাটি যে মুহূর্তে সাম্যাবস্থান অতিক্রম করে সেই মুহূর্তে গতিবেগ সর্বোচ্চ হয়। সরণের শেষ সীমায় গতিবেগ মুহূর্তের জন্য শূন্য হয় এবং তারপরেই কণাটি বিপরীত দিকে যাত্রা শুরু করে। 
৫। সরল দোলন গতির পর্যায়কাল তার বিস্তারের উপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে বিস্তার হ্রাস পেতে থাকলেও পর্যায়কাল অপরিবর্তিত থাকে। 
৬। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার স্পন্দন সীমা সাম্যাবস্থান থেকে উভয় দিকে সমান দূরে অবস্থান করে। 
৭। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার সরণ সাইন বা কোসাইন অপেক্ষক দ্বারা প্রকাশ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৮৫.
রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে শিহাব মোমবাতি জ্বালালো পড়ার জন্য। সে লক্ষ করলো মোমবাতি জ্বলার সাথে সাথে কিছু অংশ গলে গা বেয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পর জমে শক্ত হয়ে যায়৷ শিহাব আসলে কোন প্রক্রিয়াটি লক্ষ করলো?
  1. ক) কঠিনীভবন
  2. খ) ঘনীভবন
  3. গ) শীতলীকরণ
  4. ঘ) ওয়াক্সিফিকেশন
সঠিক উত্তর:
গ) শীতলীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শীতলীকরণ
ব্যাখ্যা
মোমবাতির একটি অংশ পুড়ে আলো দেয়, অন্য অংশ গলে মোমের গা বেয়ে পড়তে থাকে যা কিছুক্ষণ পর আবার জমে কঠিন মোমে পরিণত হয়৷ তরল মোম কঠিন হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে শীতলীকরণ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
৩,৩৮৬.
নিচের কোনটি অপধাতু?
  1. হিলিয়াম
  2. সিলিকন
  3. ব্রোমিন
  4. জেনন
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
ব্যাখ্যা
অপধাতু বা উপধাতু:

- যে সকল মৌল ধাতু ও অধাতু উভয়ের বৈশিষ্ট্য বহন করে তাদেরকে অপধাতু বলে।
- উদাহরণ: সিলিকন, আর্সেনিক, বোরন, জার্মেনিয়াম, অ্যান্টিমনি এবং টেলুরিয়াম ইত্যাদি।

• ট্রানজিস্টর ও মাইক্রোচিপস তৈরিতে সিলিকন ব্যবহৃত হয়।
• ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশলাইটে জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
• ডুবুরিদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন গ্যাসের সাথে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
• ব্রোমিন (Br) একমাত্র মৌলিক অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
৩,৩৮৭.
পা কিংবা জুতাের তলা মাটিতে কোন ঘর্ষণের কারণে আটকে থাকে এবং পিছলে পড়ে যায় না?
  1. প্রবাহী ঘর্ষণ
  2. গতি ঘর্ষণ
  3. আবর্ত ঘর্ষণ
  4. স্থিতি ঘর্ষণ
সঠিক উত্তর:
স্থিতি ঘর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতি ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
• ঘর্ষণ:
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়, এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে।
- ঘর্ষণকে চারভাবে ভাগ করা যায়। যথা:

১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static Friction):
- দুটো বস্তু একে অন্যের সাপেক্ষে স্থির থাকা অবস্থায় যে ঘর্ষণ বল থাকে সেটা হচ্ছে স্থিতি ঘর্ষণ।
- স্থিতি ঘর্ষণের জন্য আমরা হাঁটতে পারি, আমাদের পা কিংবা জুতাের তলা মাটিতে স্থিতি ঘর্ষণের কারণে আটকে থাকে এবং পিছলে পড়ে যাই না।

২. গতি ঘর্ষণ (Sliding Friction):
- একটি বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তু যখন চলমান হয় তখন যে ঘর্ষণ বল তৈরি হয় সেটি হচ্ছে গতি ঘর্ষণ।
- সাইকেলের ব্রেক চেপে ধরলে সেটি সাইকেলের চাকাকে চেপে ধরে এবং ঘুরন্ত চাকাকে গতি ঘর্ষণের কারণে থামিয়ে দেয়।
- গতি ঘর্ষণ ওজনের উপর নির্ভর করে, ওজন যত বেশি হবে গতি ঘর্ষণ তত বেশি হবে।

৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling Friction):
- একটি তলের উপর যখন অন্য একটি বস্তু গড়িয়ে বা ঘুরতে ঘুরতে চলে তখন সেটাকে বলে আবর্ত ঘর্ষণ।
- সবগুলাে ঘর্ষণ বলের মধ্যে এটা সবচেয়ে ছােট তাই আমরা সব সময়ই সকল রকম যানবাহনের মাঝে চাকা লাগিয়ে নিই। চাকা লাগানাে সুটকেস খুব সহজে টেনে নেওয়া যায়, যদি এর চাকা না থাকত তাহলে মেঝের উপর টেনে নিতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হতাে।

৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid Friction):
- যখন কোনাে বস্তু তরল বা বায়বীয় পদার্থ (Fluid) এর ভেতর দিয়ে যায় তখন সেটি যে ঘর্ষণ বল অনুভব করে সেটি হচ্ছে প্রবাহী ঘর্ষণ।
- প্যারাস্যুট নিয়ে যখন কেউ প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন বাতাসের প্রবাহী ঘর্ষণের কারণে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসতে পারে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৮৮.
চিপ তৈরিতে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. হিলিয়াম
  3. নিয়ন
  4. ক্লোরিন
সঠিক উত্তর:
নিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়ন
ব্যাখ্যা
চিপ তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিয়ন গ্যাস।
লেজারের মাধ্যমে চিপের সেমিকন্ডাক্টরে সিলিকনের ক্ষুদ্র অংশগুলোকে জোড়া দেওয়া হয়। আর এই লেজার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় নিয়ন গ্যাস।
সূত্রঃ প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট
৩,৩৮৯.
সৌর কোষে শক্তি রূপান্তর প্রক্রিয়া কী নামে পরিচিত?
  1. তাপীয় প্রভাব
  2. ফটোভোলটাইক প্রভাব
  3. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় আবেশ
  4. রাসায়নিক বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ফটোভোলটাইক প্রভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটোভোলটাইক প্রভাব
ব্যাখ্যা
• সৌর কোষে শক্তি রূপান্তর প্রক্রিয়া ফটোভোলটাইক প্রভাব নামে পরিচিত। 

• সৌর কোষ: 
- সৌর কোষ (Solar cell) হলো এক ধরনের ডিভাইস যা আলোক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এটি সাধারণত ফটোভোলটাইক প্রভাবের মাধ্যমে কাজ করে, যেখানে আলোকরশ্মি সৌর কোষের উপর পড়লে এটি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। 

• গঠন:
- সৌর কোষ সাধারণত অর্ধপরিবাহী পদার্থ (যেমন সিলিকন) দিয়ে তৈরি হয়।
- এর মধ্যে দুটি স্তর থাকে, একটি p-টাইপ এবং অন্যটি n-টাইপ। এই দুটি স্তরের সংযোগস্থলে আলো পড়লে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

• ব্যবহার:
- সৌর কোষ বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যবহার করা হয়, যেমন সৌর প্যানেল তৈরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পকেট ক্যালকুলেটরে শক্তি সরবরাহ করা, ইত্যাদি।

• ফটোভোলটাইক প্রভাব:
- সৌর কোষে আলো পড়লে, ইলেকট্রনগুলো তাদের স্বাভাবিক অবস্থা থেকে সরে গিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়াটিকেই আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া বা ফটোভোলটাইক প্রভাব বলা হয়।

• সৌর কোষে ফটোভোলটাইক প্রভাব (Photovoltaic Effect) হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সূর্যের আলো (ফোটন) সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়।
- এটি ১৮৩৯ সালে এডমন্ড বেকেরেল প্রথম আবিষ্কার করেন।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৩,৩৯০.
সৌরকোষের বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব যদি এর সঙ্গে থাকে-
  1. ট্রান্সফরমার
  2. জেনারেটর
  3. স্টোরেজ ব্যাটারি
  4. ক্যাপাসিটার
সঠিক উত্তর:
স্টোরেজ ব্যাটারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টোরেজ ব্যাটারি
ব্যাখ্যা
- সৌরকোষের বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব যদি এর সঙ্গে থাকে স্টোরেজ ব্যাটারি। 
অর্থাৎ, স্টোরেজ ব্যাটারি সংযুক্ত থাকলে সৌরকোষের বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব। 
- Solar panels work hard all day producing electricity from the sun, You can continue benefiting from their energy production after sunset through net metering and solar battery storage.
৩,৩৯১.
বোর মডেল অনুসারে ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করলে শক্তি- 
  1. বিকিরণ করে
  2. শোষণ করে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ করে
ব্যাখ্যা
- বোর মডেল অনুসারে ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করলে শক্তি- বিকিরণ করে। 

বোর মডেলের স্বীকার্যসমূহ: 
(১) নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত বৃত্তাকার কক্ষপথে ইলেকট্রন আবর্তন করে। 
(২) নিউক্লিয়াসের চারিদিকে বৃত্তাকার এসব কক্ষপথে আবর্তনকালে ইলেকট্রনসমূহ কোন শক্তি শোষণ বা বিকিরণ করে না। এসব কক্ষপথকে শক্তিস্তর (energy level) বা অরবিট বলা হয়। 
(৩) ইলেকট্রন নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি শোষণ করে লাফ দিয়ে নিম্নতর শক্তিস্তর যেমন n = ১ থেকে উচ্চ শক্তিস্তর যেমন n = ২ তে গমন করতে পারে। 
- অনুরূপভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করে উচ্চতর শক্তিস্তর যেমন n = ২ থেকে নিম্ন শক্তিস্তর যেমন n = ১ এ গমন করতে পারে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৯২.
শুষ্ক বরফ বলা হয়-
  1. হিমায়িত অক্সিজেনকে
  2. হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইডকে
  3. হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে
সঠিক উত্তর:
হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে
ব্যাখ্যা
শুষ্ক বরফ: 
- শুষ্ক বরফ হলো কার্বন ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপের সাধারণ নাম। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৯৩.
পদার্থের কোন অবস্থায় আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল ও গতি শক্তি প্রায় সমান হয়?
  1. গ্যাসীয় অবস্থায়
  2. প্লাজমা অবস্থায়
  3. কঠিন অবস্থায়
  4. তরল অবস্থায়
সঠিক উত্তর:
তরল অবস্থায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরল অবস্থায়
ব্যাখ্যা
তরল অবস্থা:

- এ অবস্থায় পদার্থের ভর ও আয়তন নির্দিষ্ট থাকে কিন্তু আকার নির্দিষ্ট থাকে না।
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয়, তার ভর ও আয়তনের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে সে পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- এ অবস্থায় অণুগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কঠিন অবস্থার তুলনায় কম বলে অণুগুলো দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে না।
- অণুগুলোর গতিশক্তি কঠিন অবস্থার তুলনায় যথেষ্ট বেশি বলে অতি সহজে চলাচল করতে পারে। এ কারণে তরল অবস্থায় পদার্থের প্রবাহ গুণ থাকে এবং আকৃতি সহজে পরিবর্তনশীল হয়।
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল ও গতিশক্তি প্রায় সমান হয়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৯৪.
টানা তারের আড় কম্পনের ক্ষেত্রে তারের দুই প্রান্ত বাঁধা থাকলে প্রান্ত বিন্দুতে কী সৃষ্টি হয়?
  1. সুস্পন্দ বিন্দু
  2. নিস্পন্দ বিন্দু
  3. অনুনাদ বিন্দু
  4. সংকোচন বিন্দু 
সঠিক উত্তর:
নিস্পন্দ বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিস্পন্দ বিন্দু
ব্যাখ্যা

• টানা তারের আড় কম্পনের ক্ষেত্রে তারের দুই প্রান্ত বাঁধা থাকায় প্রান্ত বিন্দুতে নিস্পন্দ বিন্দু সৃষ্টি হয়।

• টানা তারের আড় কম্পন:
- একটি তারকে দুই প্রান্তে দৃঢ় অবলম্বনে টান টান করে বাঁধা হলে তা কম্পনের উপযোগী হয়।
- তারটিকে দৈর্ঘ্যের সাথে লম্বভাবে টেনে ছেড়ে দিলে আড় তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
- উৎপন্ন তরঙ্গ তারের আবদ্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে।
- আগত ও প্রতিফলিত তরঙ্গের সমন্বয়ে স্থির তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
- স্থির তরঙ্গের ফলে তারটি অবিরত কাঁপতে থাকে।

• নিস্পন্দ বিন্দু:
- তারের যে বিন্দুতে কোনো সরণ হয় না তাকে নিস্পন্দ বিন্দু বলে।
- দুই প্রান্ত বাঁধা থাকায় প্রান্ত বিন্দুতে সরণ শূন্য থাকে।
- তাই প্রান্তদ্বয় নিস্পন্দ বিন্দু হিসেবে কাজ করে।
- মধ্যবর্তী অংশে এক বা একাধিক নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দু সৃষ্টি হতে পারে।

• সুস্পন্দ বিন্দু:
- যে বিন্দুতে সরণ সর্বাধিক হয় তাকে সুস্পন্দ বিন্দু বলে।
- একটি মাত্র সুস্পন্দ বিন্দু থাকলে যে সুর উৎপন্ন হয় তাকে মূল সুর বলা হয়।
- একাধিক সুস্পন্দ বিন্দু থাকলে উৎপন্ন সুরকে উপসুর বলা হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- সুস্পন্দ বিন্দু: যেখানে কম্পনের বিস্তার সর্বাধিক।
- অনুনাদ বিন্দু: অনুনাদের ক্ষেত্রে সৃষ্ট বিশেষ অবস্থা নির্দেশ করে।
- সংকোচন বিন্দু: অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গে ঘন অংশ নির্দেশ করে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

৩,৩৯৫.
চৌম্বক অক্ষ বরাবর দুই মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বকে কী বলে?
  1. চৌম্বক মেরু
  2. চৌম্বক দৈর্ঘ্য
  3. চৌম্বক মধ্যতল
  4. চৌম্বক বিভব
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক দৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

চৌম্বক মেরু: 
- যেকোনো চুম্বকের যে দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি সে প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে। 
- চিত্রে একটি দন্ডচুম্বকের দুটি মেরু N ও S দেখানো হয়েছে।

N = North Pole (উত্তরমেরু), 
S = South Pole (দক্ষিণমেরু)। 

চৌম্বক অক্ষ: 
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে। 
চিত্রে, AB দন্ড চুম্বকের অক্ষ। 

চৌম্বক দৈর্ঘ্য: 
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে। 
চিত্রে, NS = চৌম্বক দৈর্ঘ্য। 

চৌম্বক মধ্যতল: 
- চুম্বকের ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলড্ কোনো একটি স্থির চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে। 

ভৌগোলিক মধ্যতল: 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণমের বরাবর কল্পিত উলম্ব তলকে ঐ স্থানের ভৌগোলিক বা জ্যামিতিক মধ্যতল বলে। 
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কিছুটা কৌণিক ব্যবধান থাকে, যাকে বিচ্যুতি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৯৬.
ক্রাফট প্রসেস (Kraft Process) কোন শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সিমেন্ট
  2. খ) সাবান
  3. গ) কাগজ
  4. ঘ) বস্ত্ৰ
সঠিক উত্তর:
গ) কাগজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাগজ
ব্যাখ্যা
• ক্রাফ্ট প্রক্রিয়া, যা সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এবং সোডিয়াম সালফাইড (Na2S) সজ্জা কাঠের জন্য ব্যবহার করে, এটি সজ্জা এবং কাগজ শিল্পে প্রভাবশালী pulping প্রক্রিয়া।
• বিশ্বব্যাপী প্রায় 130 মিলিয়ন টন/বছর ক্রাফ্ট পাল্প উত্পাদিত হয়।
• ক্রাফ্ট পাল্পের উচ্চ শক্তি শক্ত কাঠকে পরিচালনা করার প্রক্রিয়ার ক্ষমতা এবং উচ্চ রাসায়নিক পুনরুদ্ধারের দক্ষতার (প্রায় 97%) জন্য অনুকূল ।
• এটি ক্রাফ্ট প্রক্রিয়াটিকে অন্যান্য পাল্পিং প্রক্রিয়াগুলির তুলনায় একটি সুবিধা দেয়। ক্রাফ্ট প্রক্রিয়ায়, কাঠের প্রায় অর্ধেক দ্রবীভূত হয় এবং ব্যয়িত পাপিং রাসায়নিকের সাথে একত্রে দুর্বল কালো  একটি তরল ধারা তৈরি করে ।
• দুর্বল কালো তরল ধোয়ার মাধ্যমে সজ্জা থেকে আলাদা করা হয় এবং ক্রাফ্ট রিকভারি সিস্টেমে পাঠানো হয়, যেখানে অজৈব পাল্পিং রাসায়নিকগুলি পুনঃব্যবহারের জন্য উদ্ধার করা হয়।

উৎস: রিসার্চগেট
৩,৩৯৭.
জারণ বিক্রিয়ায় কী ঘটে? 
  1. ইলেকট্রনের দান
  2. ইলেকট্রনের গ্রহণ 
  3. প্রোটন গ্রহণ 
  4. নিউট্রন দান
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনের দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনের দান
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনের স্থানান্তর: 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তর এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া, এটি মূলত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া এমন একটি শ্রেণি যেখানে জারণ (Oxidation) ও বিজারণ (Reduction) একই সাথে সংঘটিত হয়। 
- প্রচুর সংখ্যক রাসায়নিক বিক্রিয়া ও জৈবিক বিক্রিয়া এ শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত। 
- জ্বালানিকে দহন করে শক্তি উৎপাদন, তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে কস্টিক সোডা ও ক্লোরিন উৎপাদন, ব্যাটারীতে তড়িৎ উৎপাদন, লোহায় মরিচা পড়া, ধাতুর ক্ষয়, তড়িৎ প্রলেপন-এ সবই জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার উদাহরণ। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে, এটি রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৯৮.
অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজঅম্লতে নাইট্রিক এসিড ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সংযুক্তি পরিমান -
  1. ক) ১ মোল নাইট্রিক এসিড ও ৩ মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  2. খ) ২ মোল নাইট্রিক এসিড ও ৩ মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. গ) ৩ মোল নাইট্রিক এসিড ও ১ মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  4. ঘ) ২ মোল নাইট্রিক এসিড ও ৫ মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ক) ১ মোল নাইট্রিক এসিড ও ৩ মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১ মোল নাইট্রিক এসিড ও ৩ মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- ১ মোল HNO3 ও ৩ মোল HCL এর মিশ্রণকে রাজঅম্ল বা অ্যাকোয়া রেজিয়া বলে।
- স্বর্ণের খাঁদ বের করতে এই অম্ল ব্যবহৃত হয়। 
- অভিজাত ধাতুসমূহ (যেমন- স্বর্ণ, প্লাটিনাম) যে কোনো গাঢ়তার হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু এরা অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্লে দ্রবীভূত হয়।

Source: MIT
৩,৩৯৯.
ক্যামেরার ফটোগ্রাফিক প্লেটে কোন পদার্থটি রয়েছে?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. খ) সিলভার হ্যালাইড
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) পটাশিয়াম ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
খ) সিলভার হ্যালাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিলভার হ্যালাইড
ব্যাখ্যা
ক্যামেরার ফটোগ্রাফিক প্লেট:

- ক্যামেরা বা আলোকচিত্রগ্রাহী যন্ত্র হল আলোকচিত্র গ্রহণ ও ধারণের যন্ত্র।
- দৃশ্যমান স্থির বা গতিশীল ঘটনা ধরে রাখার জন্য এটি ব্যবহার হয়।
- ক্যামেরা চিত্র রেকর্ড করতে ব্যবহৃত একটি অপটিক্যাল যন্ত্র।
- ক্যামেরার ফটোগ্রাফিক প্লেটে সিলভার হ্যালাইড এর প্রলেপের উপস্থিতি রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৪০০.
গ্যালভানাজিং কী?
  1. লোহার উপর তামার প্রলেপ
  2. লোহার উপর সীসার প্রলেপ
  3. লোহার উপর দস্তার প্রলেপ
  4. দস্তার উপর সীসার প্রলেপ
সঠিক উত্তর:
লোহার উপর দস্তার প্রলেপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহার উপর দস্তার প্রলেপ
ব্যাখ্যা
• গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় সাধারণত লোহার উপর দস্তার প্রলেপ দেয়া হয়।

• গ্যালভানাইজিং:
- যে কোন ধাতুর উপর জিংকের (দস্তা) প্রলেপ দেয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
- এ ক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
- এটি ধাতুকে ক্ষয় ও জারক বিক্রিয়া থেকে রক্ষা করে, বিশেষ করে জলীয় বাষ্প, অক্সিজেন এবং অ্যাসিডিক পরিবেশে।
- লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দেয়া হয়।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।