বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২৯ / ৬৪ · ২,৮০১২,৯০০ / ৬,৪০৯

২,৮০১.
একজন মানুষ কী অবস্থায় পৃথিবীকে সবচেয়ে কম চাপ দেয়?
  1. ক) দৌড়ানো অবস্থায়
  2. খ) দাঁড়ানো অবস্থায়
  3. গ) বসা অবস্থায়
  4. ঘ) শোয়া অবস্থায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) শোয়া অবস্থায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শোয়া অবস্থায়
ব্যাখ্যা
• চাপ বলতে একক ক্ষেত্রফলের কোনো বস্তুর উপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলকেই বোঝায়।
- মানুষ দাঁড়িয়ে অথবা, বসা অবস্থায় ক্ষেত্রফলের পরিমাণ এর থেকে শোয়া অবস্থায় ক্ষেত্রফলের পরিমাণ অনেক বেশি হয়। 
- শোয়া অবস্থায় মানুষের দৈহিক ওজন ক্ষেত্রফলের পুরোটা ছড়িয়ে পড়ে বলে চাপের পরিমাণ কমে যায়। 
- এই কারণে, একজন মানুষ শোয়া অবস্থায় পৃথিবীকে কম চাপ দেয়।
২,৮০২.
যে পদার্থগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়া শেষে তৈরি হয়, সেগুলোকে কী বলা হয়? 
  1. বিক্রিয়ক
  2. উৎপাদ
  3. প্রতিক্রিয়া
  4. সমীকরণ
সঠিক উত্তর:
উৎপাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎপাদ
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক বিক্রিয়া: 
- যদি কোনো পরিবর্তনের ফলে কোনো পদার্থ তার নিজের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য হারিয়ে নতুন ধর্ম লাভ করে সেই পরিবর্তনকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
- যে প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে সেই প্রক্রিয়াকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করার জন্য যে সমীকরণ ব্যবহার করা হয় সেই সমীকরণকে রাসায়নিক সমীকরণ বলা হয়। 
- রাসায়নিক সমীকরণকে প্রকাশ করার জন্য প্রতীক, সংকেত এবং নানা রকম চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। 
- যে সকল পদার্থ নিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করা হয় সেই সকল পদার্থকে বলা হয় বিক্রিয়ক। 
- বিক্রিয়ার ফলে নতুন ধর্মবিশিষ্ট যে সকল পদার্থ উৎপন্ন হয় সেই সকল পদার্থকে উৎপাদ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮০৩.
কোন গ্যাসের অণুতে দুটি পরমাণু বিদ্যমান নেই?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) ক্রিপ্টন
  4. ঘ) হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিপ্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিপ্টন
ব্যাখ্যা

পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা।
আমাদের চারপাশের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু। মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু।
যেমনঃ N2 , O2 , H2 , F2 , Clইত্যাদি।
তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে।
নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলি হচ্ছে হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন(Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)
সূত্র: রসায়ন ১ম পত্র, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,৮০৪.
নিচের কোনটি উদ্বায়ী পদার্থ?
  1. ক) মোম
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ) বরফ
  4. ঘ) মার্কারি
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

উর্ধ্বপাতন (Sublimation):
কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়।
- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন, কার্বন, কার্বন ডাই অক্সাইড প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়। 

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,৮০৫.
উঁচু পর্বতের চূড়ায় উঠলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ উঁচু পর্বত চূড়ায় -
  1. ক) বায়ুর চাপ বেশি
  2. খ) বায়ুর চাপ কম
  3. গ) অক্সিজেন কম
  4. ঘ) ঠাণ্ডা বেশি
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুর চাপ কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুর চাপ কম
ব্যাখ্যা
উঁচু পর্বতের চূড়ায় উঠলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ-
- বায়ুর চাপ কম
- শুষ্ক বায়ু 
- অক্সিজেন স্বল্পতা 

ইত্যাদি কারণে রক্তনালিতে চাপ পড়ে। ফলে রক্তপাত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
২,৮০৬.
ভর ও বেগ উভয়ই বেড়ে দ্বিগুণ হলে, গতিশক্তি কতগুণ হবে? 
  1. দ্বিগুণ
  2. তিনগুণ
  3. চারগুণ
  4. আটগুণ
সঠিক উত্তর:
আটগুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটগুণ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ভর ও বেগ উভয়ই বেড়ে দ্বিগুণ হলে, গতিশক্তি কতগুণ হবে? 

সমাধান: 
গতিশক্তি = (1/2)mv2

নতুন বেগ = 2v 
নতুন ভর = 2m 

গতিশক্তি = (1/2) × (2m) × (2v)2
= (1/2) × 4 × 2 × mv2
= 8 × (1/2)mv2

গতিশক্তি ৮ গুণ হবে। 
২,৮০৭.
কম্পাঙ্কের একক কী?
  1. হার্জ
  2. সেকেন্ড
  3. নিউটন 
  4. মিটার 
সঠিক উত্তর:
হার্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হার্জ
ব্যাখ্যা

- কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি (Frequency) পরিমাপের আন্তর্জাতিক (SI) একক হলো হার্জ (Hertz), যাকে সংক্ষেপে Hz লিখে প্রকাশ করা হয়। জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী হাইনরিখ হার্জের নামানুসারে এই এককের নামকরণ করা হয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে একটি তরঙ্গ যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে, তাকেই হার্জ বলা হয়। 

বিস্তার: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

দশা: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে। 

পর্যায়কাল: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোন কণার একটি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। 
- পর্যায়কালকে T অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)। 

কম্পাঙ্ক: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। 
- কম্পাঙ্ককে সাধারণত ƒ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮০৮.
নিচের কোনটি মৌলিক অণু?
  1. ক) NH3
  2. খ) HCl
  3. গ) S8
  4. ঘ) CH4
সঠিক উত্তর:
গ) S8
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) S8
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস যেমন হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr) প্রভৃতি এক পরমাণুক অণু হিসেবে প্রকৃতিতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করে। নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যাতীত অন্যান্য মৌলের পরমাণুগুলো প্রকৃতিতে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে না। অন্যান্য মৌলের পরমাণুগুলো অণু হিসেবে অবস্থান করে ।
• একই মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে মৌলের অণু গঠন করে। যেমন H2, O2, N2, Cl2, O2, P4, S8 ইত্যাদি।
• আবার ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু সংযুক্ত হয়ে যৌগের অণু গঠন করে। যেমন, H2O, NH3, CH4, NaCl, HCl, CO, প্রভৃতি যৌগের অণু। অণুর মধ্যে পরমাণুসমূহ এক বিশেষ আকর্ষন শক্তি দ্বারা যুক্ত থাকে। এ শক্তিই বন্ধন শক্তি।


উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৮০৯.
গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় সাধারণত লোহার উপর কোন ধাতুর প্রলেপ দেয়া হয়?
  1. দস্তা
  2. তামা
  3. ক্রোমিয়াম
  4. নিকেল
সঠিক উত্তর:
দস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্তা
ব্যাখ্যা
• গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় সাধারণত লোহার উপর দস্তার  প্রলেপ দেয়া হয়

• গ্যালভানাইজিং:

- যে কোন ধাতুর উপর জিংকের (দস্তা) প্রলেপ দেয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
- এ ক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
- গ্যালভানাইজিং এর উদ্দেশ্য হলো লোহার জিনিসকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করা।
- লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দেয়া হয়।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৮১০.
কোনটি নিয়ে n-টাইপ অর্ধপরিবাহী গঠিত হয় -
  1. সিলিকন ও ফসফরাস
  2. সিলিকন ও বোরন
  3. সিলিকন ও জার্মেনিয়াম
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
সিলিকন ও ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন ও ফসফরাস
ব্যাখ্যা

সিলিকনের সর্বশেষ কক্ষপথে ৪টি ইলেকট্রন বিদ্যমান। সিলিকন ক্রিস্টালের সাথে এমন একটা পরমাণু (যেমন ফসফরাস) মিশিয়ে দেওয়া হয় যার শেষ কক্ষপথে থাকে ৫টি ইলেকট্রন। ফসফরাসের এই ৫ম ইলেকট্রনটি বাড়তি একটা ইলেকট্রন, কোনো পরমানুরই তার প্রয়োজন নেই, তাই সেসব পরমাণুর মাঝেই প্রায় মুক্তভাবে ঘোরাঘুরি করতে পারে।
ফসফরাস মেশানো এ রকম সেমিকন্ডাক্টর অনেকটাই পরিবাহী, কারণ চার্জ পরিবহনের জন্য এখানে কিছু মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। ফসফরাসের মতো শেষ কক্ষপথে ৫ম ইলেকট্রনসহ পরমাণু যোগ করে সেমিকন্ডাক্টরকে মোটামুটি পরিবাহক তৈরি করে ফেলা এই সেমিকন্ডাক্টরকে বলে n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর।
জার্মেনিয়ামের সর্বশেষ কক্ষপথেও ৪টি ইলেকট্রন বিদ্যমান। তাই জার্মেনিয়াম ও ফসফরাস যুক্ত হয়েও n-টাইপ অর্ধপরিবাহী গঠন সম্ভব।

২,৮১১.
রোডিয়ামের রাসায়নিক প্রতীক কোনটি?
  1. Ra
  2. Rn
  3. Re
  4. Rh
সঠিক উত্তর:
Rh
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Rh
ব্যাখ্যা
রোডিয়াম:
- রোডিয়াম (Rhodium) পর্যায় সারণীর ৪৫তম মৌলিক পদার্থ।
- রোডিয়াম এর  রাসায়নিক প্রতীক Rh.
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৪৫।
- রোডিয়াম পর্যায় সারণির ৫ম পর্যায়ের গ্রুপ ৯ - এ অবস্থিত।


figure: periodic table (image source: ptable.com)

অপশন আলোচনা:
- রেডিয়ামের (Radium) প্রতীক Ra.
- রেডনের (Radon) প্রতীক হচ্ছে Rn.
- রেনিয়ামের (Rhenium) প্রতীক হচ্ছে Re.

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
২,৮১২.
পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) বোর
  2. খ) ডাল্টন
  3. গ) রাদারফোর্ড
  4. ঘ) নিউটন
সঠিক উত্তর:
গ) রাদারফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে, এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮১৩.
এক্স-রে কোন সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) ১৮৯৫ সালে
  2. খ) ১৮৯৮ সালে
  3. গ) ১৮৮৫ সালে
  4. ঘ) ১৯০০ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
এক্স-রে:
- ১৮৯৫ সালে উইলহেম রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- এক্স-রে এর একক হলো রন্টজেন যা আবিষ্কারকের নামাণুসারে করা হয়। 
- এক্স-রে -এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-8m থেকে 10-13m এর কাছাকাছি। 
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 

এক্স-রের ব্যবহার
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায়।
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়।
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়। 
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। 
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮১৪.
কোনটি 'আপেক্ষিক গুরুত্ব' এর একক ?
  1. gm/cm3
  2. gm/m3
  3. kg/m3
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'আপেক্ষিক গুরুত্ব':
- আপেক্ষিক গুরুত্ব বলতে কোন বস্তুর ঘনত্ব এবং অন্য একটি প্রসঙ্গ বস্তুর ঘনত্বের অনুপাত অথবা কোন বস্তুর ভর এবং একই আয়তনের অন্য একটি বস্তুর ভরের অনুপাতকে বোঝায়।
- আপেক্ষিক গুরুত্ব যেহেতু সমরাশির অনুপাত তাই এর কোনো একক নেই।

• ব্যবহার:
• ভাসা ও ডোবা নির্ধারণ:
- আপেক্ষিক গুরুত্বের মাধ্যমে বোঝা যায় কোনো বস্তু পানিতে ভাসবে নাকি ডুবে যাবে।
- যেমন, কাঠের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১-এর কম হওয়ায় এটি পানিতে ভাসে, কিন্তু লোহার আপেক্ষিক গুরুত্ব বেশি হওয়ায় এটি ডুবে যায়।

• গহনার বিশুদ্ধতা পরীক্ষা:
- স্বর্ণের মতো মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ধারণে আপেক্ষিক গুরুত্ব ব্যবহার করা হয়।

• ইঞ্জিনিয়ারিং ও নির্মাণ:
- বিভিন্ন পদার্থের ঘনত্বের তুলনা করে উপযুক্ত নির্মাণসামগ্রী নির্বাচন করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৮১৫.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি হিসেবে গণ্য নয়?
  1. বিটুমিনাস কয়লা
  2. শেল গ্যাস
  3. এনথ্রাসাইট
  4. বায়োগ্যাস
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা

বায়োগ্যাস হলো জৈব পদার্থের পচনের মাধ্যমে উৎপন্ন একটি নবায়নযোগ্য শক্তি, যা জীবাশ্ম থেকে আসে না।

জীবাশ্ম জ্বালানি:
- মৃত গাছপালা, মৃত প্রাণীদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে যে জ্বালানি তৈরি হয় তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে।
- এগুলো অ-নবায়নযোগ্য এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ করে।

জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ:
- কয়লা,
- প্রাকৃতিক গ্যাস,
- পেট্রোলিয়াম।

• বায়োগ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি নয়। কারণ এটি জৈব বর্জ্য থেকে উৎপন্ন হয়।

বায়োগ্যাসের বৈশিষ্ট্য:
- বায়োগ্যাস হলো একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
- এটি এটি জৈব বর্জ্য (গোবর, উদ্ভিজ্জ বর্জ্য ইত্যাদি) থেকে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়।
- এতে প্রধানত মিথেন গ্যাস (CH4) থাকে।
- এটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, কারণ এটি দীর্ঘকাল ধরে গঠিত নয় এবং পুনরায় উৎপাদনযোগ্য।

উল্লেখ্য-
- শেল গ্যাস: এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক গ্যাস যা শিলা বা Shale-এর মধ্যে আটকা থাকে। এটি জীবাশ্ম জ্বালানির একটি রূপ।
- বিটুমিনাস কয়লা: এটি এক ধরনের কয়লা, যা জীবাশ্ম জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎস।
- এনথ্রাসাইট: এটি কয়লার একটি বিশেষ প্রকার, যা সর্বোচ্চ কার্বন সমৃদ্ধ এবং উচ্চ তাপশক্তি সম্পন্ন। এটিও জীবাশ্ম জ্বালানি।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২,৮১৬.
একই পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের কারণ -
  1. অণুর বিন্যাস
  2. তাপের প্রভাব
  3. পরমাণুর বিন্যাস
  4. রায়ায়নিক পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
তাপের প্রভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপের প্রভাব
ব্যাখ্যা
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন: বই, খাতা, কলম, চেয়ার টেবিল, বাতাস, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সবই পদার্থ। 
- এদের ভর ও আয়তন আছে। 
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন: কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- কক্ষ তাপমাতায় বেশির ভাগ পদার্থ কঠিন হলেও তরল ও বায়বীয় অবস্থাতেও পদার্থ অবস্থান করে। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন অর্থাৎ তাপের প্রভাব পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮১৭.
'গ্রাভিটন' কোন বলের বাহক কণা? 
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

অন্যদিকে, 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
২,৮১৮.
কোনটি তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. অবলোহিত রশ্মি
সঠিক উত্তর:
অবলোহিত রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবলোহিত রশ্মি
ব্যাখ্যা
তেজষ্ক্রিয় রশ্মি:
- তেজষ্ক্রিয় নিউক্লিয়াস এর ভাঙ্গনের ফলে যে রশ্মিগুলো নির্গত হয় তাদেরকে তেজষ্ক্রিয় রশ্মি বলে।

তিন ধরনের তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। যথা -
- আলফা
- বিটা
- গামা

উৎস: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই।
২,৮১৯.
নিউক্লিয়ন সংখ্যা A, প্রোটন সংখ্যা P, নিউট্রন সংখ্যা N হলে, পারমাণবিক ভর সংখ্যা-
  1. ক) A = P + N
  2. খ) Z = A + P
  3. গ) M = P + N
  4. ঘ) N = A + P
সঠিক উত্তর:
ক) A = P + N
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) A = P + N
ব্যাখ্যা
কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়। প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যাকে z দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ঐ মৌলের বা পরমাণুর ভরসংখ্যা বলে।

অর্থাৎ, ভর সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।
ভর সংখ্যাকে 'A' অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
২,৮২০.
ভূপৃষ্ঠে কোন ধাতু সবচেয়ে বেশি আছে?
  1. ক) কপার
  2. খ) অ্যালুমিনিয়াম
  3. গ) জিংক
  4. ঘ) লৌহ
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীতে যে ধাতুটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় তা হলো অ্যালুমিনিয়াম
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় শতকরা ৮ ভাগ অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায়। 
- কিন্ত প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায় না।
- অ্যালুমিনিয়াম অন্যান্য মৌলিক পদার্থের সাথে যৌগ গঠন করে অবস্থান করে। এগুলো হলো অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক। 
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বক্সাইট, ক্রায়োলাইট, কোরানডাম ইত্যাদি।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮২১.
কোন বাদ্য যন্ত্রে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয় না?
  1. গীটার
  2. একতারা
  3. সেতার
  4. বাঁশি
সঠিক উত্তর:
বাঁশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁশি
ব্যাখ্যা
স্থির তরঙ্গ: 
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে। 
- একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। 
- এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে। 
- এই তরঙ্গ তার বা দড়ি বেয়ে অগ্রসর না হয়ে বরং তার বা দড়ির ঐ অংশের মধ্যে উৎপন্ন ও লুপ্ত হবে। 
- তরঙ্গের উদ্ভবের সময় দেখা যাবে তারের কোনো কোনো বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই। 
- আবার কোনো কোনো বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হতে থাকবে। 
- যে বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই সে বিন্দুগুলোকে নিস্পন্দ বিন্দু (Node) এবং যে বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হয় সে বিন্দুগুলোকে সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) বলে। 
- নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুগুলোর অবস্থানগুলো সব সময় স্থির। 
- পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অর্ধেক হয়। 
- গীটার, একতারা, সেতার ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 

অন্যদিকে, 
- বাঁশি বাদ্যযন্ত্রে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয় না। কারণ, বাঁশি এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র যেখানে বাঁশের ভিতর বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের হোল থাকে। ফলে এর থেকে একই আবৃত্তির তরঙ্গ সৃষ্টি হয় না। বরং ভিন্ন ভিন্ন আবৃত্তির অস্থির তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮২২.
কোন বর্তনী পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী প্রবাহে (D.C) পরিবর্তন করে? 
  1. সমন্বিত বর্তনী
  2. রেকটিফায়ার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা
একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী প্রবাহে (D.C) পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে। 
- যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দু'প্রকারের। 
যথা- 
১। অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
২। পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮২৩.
পানি একটি- 
  1. প্যারাচৌম্বক পদার্থ
  2. ফেরোচৌম্বক পদার্থ
  3. ডায়াচৌম্বক পদার্থ
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
ডায়াচৌম্বক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াচৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা
• প্যারাচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ।

• ডায়াচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়।
অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ।

• ফেরোচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮২৪.
একটি মৌল যত বেশি ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তার জারণ সংখ্যা কেমন হয়? 
  1. শূন্য
  2. ঋণাত্মক
  3. ধনাত্মক
  4. অপরিবর্তিত
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা (Oxidation Number): 
- মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ বা দানের মাধ্যমে আয়নে পরিণত হয়। 
- পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- কোনো পরমাণু যত সংখ্যক ইলেকট্রন দান করে তত ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয় এবং যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহন করে তত ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয়। 
- যৌগের মধ্যে কোন মৌলের জারণ সংখ্যা মৌলটির পরমাণুকে মুক্ত অবস্থা থেকে যৌগের অণুর মধ্যে যে অবস্থায় বর্তমান সে অবস্থায় পরিণত করতে কী পরিমাণ জারণ বা বিজারণ প্রয়োজন তা নির্দেশ করে। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যদি জারণের প্রয়োজন হয় তবে জারণ সংখ্যা হবে ধনাত্মক। 
- বিজারণের প্রয়োজন হলে জারণ সংখ্যা হবে ঋণাত্মক। 
- মুক্ত অবস্থায় থাকা মৌলের অণু বা পরমাণুর জারণ সংখ্যাকে শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- Na, K, Fe, O2, H2, N2, P4, S8, ইত্যাদি অণুতে স্ব স্ব পরমাণুর জারণ সংখ্যার মান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮২৫.
সুষম খাদ্যের মুখ্য উপাদান কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) স্নেহ
  3. গ) খনিজ লবণ
  4. ঘ) পানি
সঠিক উত্তর:
খ) স্নেহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্নেহ
ব্যাখ্যা

সুষম খাদ্যের উপাদান ছয়টি। যেমন ০- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি।
- এদের মধ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ হলো খাদ্যের মুখ্য উপাদান।
- আর ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি হলো সহায়ক উপাদান।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,৮২৬.
কোনটি মৌলের স্থায়ী কণিকা নয়?
  1. ক) নিউট্রিনো
  2. খ) অ্যান্টিনিউট্রিনাে
  3. গ) পজিট্রন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্থায়ী মূল কণিকা:
কত গুলাে মূল কণিকা আছে যা সব মৌলের পরমাণুতেই থাকে, তাদের কে স্থায়ী মূল কণিকা বলে।
স্থায়ী মূল কণিকা ৩ টি যথা- ১) প্রােটন, ২) নিউট্রন ৩) ইলেকট্রন।

• অস্থায়ী মূল কণিকা:
কত গুলাে মূল কনিকা আছে যা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে। এদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। এ ধরনের কণিকার সংখ্যা প্রায় একশ, এদের মধ্যে কিছু হলাে-
১) নিউট্রিনাে, ২) অ্যান্টিনিউট্রিনাে, ৩) পজিট্রন, ৪) মেসন ইত্যাদি।
২,৮২৭.
‘রেডিও আইসোটোপ পরীক্ষা’ দ্বারা নিরূপণ করা হয়?
  1. তেজষ্ক্রিয়তা
  2. ঘন বস্তুর বয়স
  3. ঘনত্ব
  4. গতি
সঠিক উত্তর:
ঘন বস্তুর বয়স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘন বস্তুর বয়স
ব্যাখ্যা
- কোন কোন আইসোটোপ অস্থিতিশীল হয়ে থাকে। অর্থাৎ এদের নিউক্লিয়াসের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে থাকে। ফলস্বরূপ, এই আইসোটোপ থেকে কিছু কণা বিচ্ছুরিত হয়, কখনো কখনো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে থাকে। এই প্রকার আইসােটোপকে রেডিও আইসোটোপ (radio isotope) বলা হয়।

- রেডিওআইসোটোপ পরীক্ষা (Radioisotope Testing): তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করে বস্তু বা পদার্থের বয়স নির্ধারণের একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মূল ধারণা হলো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের হ্রাসের হার, যাকে হাফ-লাইফ (অর্ধ-জীবনকাল) বলা হয়, যা একটি নির্দিষ্ট হার অনুযায়ী কমে। এর মাধ্যমে ভূতাত্ত্বিক স্তর, জীবাশ্ম এবং প্রাচীন জৈব পদার্থের বয়স নির্ধারণ করা হয়।

এতে প্রধানত ব্যবহার করা হয়:
কার্বন-১৪ ডেটিং:
যা জীবাশ্ম বা জৈব পদার্থের বয়স নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়। কার্বন-১৪ হল এক ধরনের রেডিওআইসোটোপ, যা জীবন্ত প্রাণীর শরীরে থাকে। প্রাণী মারা গেলে কার্বন-১৪-এর পরিমাণ ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং এর ভিত্তিতে বয়স নির্ধারণ করা হয়।

ইউরেনিয়াম-সিসি পদ্ধতি:
যা বিশেষভাবে ভূতাত্ত্বিক স্তর বা শিলার বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। ইউরেনিয়াম একসময় সিসি তে পরিণত হয়, এবং এই রূপান্তরের হারের উপর ভিত্তি করে শিলার বয়স নির্ধারণ করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। লিঙ্ক
২,৮২৮.
অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যম দিয়ে আলো কোন প্রক্রিয়ায় চলে? 
  1. প্রতিসরণ
  2. ব্যতিচার
  3. অপবর্তন
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

• অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু, এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে, এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে বিকিরণআলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- এই সংকেত অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 

২,৮২৯.
এক্সরে রশ্মি ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) ক্যান্সার চিকিৎসায়
  2. খ) চোরাচালান রোধে
  3. গ) পাকস্থলীতে পাথর শনাক্তকরণে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

এক্সরের ব্যবহার

চিকিৎসা ক্ষেত্রে ঃ রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়।
কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। এজন্য শল্য চিকিৎসায় যুগান্তকারী উন্নতি সাধনের জন্য এক্সরের অবদান অকল্পনীয়।
এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে।
বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়।

গোয়েন্দা বিভাগে ঃ চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,৮৩০.
জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য কোন সার ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) টিএসপি
  2. খ) পটাশ
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) সুপার ফসফেট
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
ব্যাখ্যা
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে রসায়ন:

- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়।
• চুনাপাথর,
- এর রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3)।
- এটি মৃদু এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে এসিডকে প্রশমিত করে। এজন্য মাটিতে চুনাপাথর মিশিয়ে মাটির pH মান বৃদ্ধি করা যায়।
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট মাটির pH মান বৃদ্ধির সাথে সাথে মাটিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও বৃদ্ধি করে।
• কলি চুন বা কুইক লাইম,
- মাটিতে কলিচুন বা কুইক লাইম মিশিয়ে মাটির pH বৃদ্ধি করা যায়।
- চুনাপাথরকে উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে কুইক লাইম বা ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) উৎপন্ন হয়।
• ইউরিয়া,
- উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- মাটিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়।
-  ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত করে। উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
• অ্যামোনিয়াম সালফেট,
- মাটির ক্ষারকত্ব যদি বেশি হয় তবে অ্যামোনিয়াম সালফেট প্রয়োগ করে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
- অ্যামোনিয়াম সালফেটের জলীয় দ্রবণ এসিড ধর্মী। ফলে জমিতে এই সার প্রয়োগ করলে জমির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৩১.
লেন্সের ক্ষমতার প্রচলিত একক কি?
  1. ক) মিটার
  2. খ) রেডিয়াম
  3. গ) ডায়াপ্টার
  4. ঘ) লুমেন
সঠিক উত্তর:
গ) ডায়াপ্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডায়াপ্টার
ব্যাখ্যা
দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দিয়ে সীমাবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলে।

লেন্স দু-প্রকার। যথা-
১. উত্তল বা অভিসারী লেন্স এবং
২.অবতল বা অপসারী লেন্স।

লেন্সের ক্ষমতা বলতে আলোকরশ্মিগুচ্ছকে অভিসারী বা অপসারী করার প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
লেন্সের ক্ষমতার প্রচলিত একক হলো ডায়াপ্টার। এসআই একক হলো রেডিয়ান/মিটার।
লেন্সের ক্ষমতার মান ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক উভয় প্রকার হতে পারে।

(সূত্রঃ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
২,৮৩২.
কোন পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সহজেই প্রবাহিত হতে পারে?
  1. কাঁচ
  2. লোহা
  3. সিলিকন
  4. জার্মেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা
অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না, সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন - কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে, সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন - রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি অর্থাৎ যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৩৩.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা 
  2. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি 
  3.  বস্তুর ভরের পরিমাণ 
  4. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি  
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি  
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,৮৩৪.
Normal Saline এ কী আছে?
  1. ক) 0.9% NaCl
  2. খ) 0.5% NaCl
  3. গ) 0.75% NaCl
  4. ঘ) 0.3% NaCl
সঠিক উত্তর:
ক) 0.9% NaCl
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 0.9% NaCl
ব্যাখ্যা
• Normal Saline এ 0.9% NaCl আছে। 

খাওয়ার স্যালাইন:
- খাওয়ার স্যালাইন (Oral Rehydration Saline/Orsaline)  শরীরের পানি ও লবণের (Electrolytes) ঘাটতিপূরণ করার জন্য মুখে গ্রহনযোগ্য লবণ ও গ্লুকোজ মিশ্রিত পানি।
- ডায়রিয়া/কলেরায় ঘন ঘন পাতলা পায়খানার কারণে অতি অল্প সময়ে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। বিশেষ করে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের ঘাটতি জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়। তখন খাওয়ার স্যালাইন ব্যবহার করা হয়। 
- নরমাল স্যালাইনে পানি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও গ্লুকোজ বা শর্করা থাকে।
- প্রতি লিটার নরমাল স্যালাইনে ০.৯% সোডিয়াম ক্লোরাইড, গ্লুকোজের পরিমাণ ২০ গ্রামের বেশি নয় এবং এর প্রায় পুরোটাই অন্ত্রে লবণ শোষণে ব্যবহৃত হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,৮৩৫.
কোনো দ্রবণের pH মান 7-এর বেশি হলে দ্রবণটি কী ধরনের হবে? 
  1. ক্ষারীয়
  2. এসিডীয় 
  3. নিরপেক্ষ
  4. অম্লীয়
সঠিক উত্তর:
ক্ষারীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষারীয়
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর নির্ভর করে। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্মক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়, pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- pH স্কেলে দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- কোনো দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং 7 এর সমান হলে দ্রবণটি হবে প্রশমন বা নিরপেক্ষ। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৩৬.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রথম প্রস্তাব করেন কে এবং কখন? 
  1. ম্যাক্স প্লাঙ্ক, ১৯০০
  2. বোর, ১৯১৩
  3. নিউটন, ১৬৮৭
  4. আইনস্টাইন, ১৯০৫
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স প্লাঙ্ক, ১৯০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স প্লাঙ্ক, ১৯০০
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৩৭.
শুষ্ক কোষে কে ইলেকট্রন দান করে?
  1. ক) দস্তার খোল
  2. খ) কার্বন দন্ড
  3. গ) ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) কয়লার গুড়া
সঠিক উত্তর:
ক) দস্তার খোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দস্তার খোল
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ কোষ প্রধাণত দুই প্রকার। যথা- সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ ও শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষ।

শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে দস্তার তৈরি চোঙ এবং একটি কার্বন দন্ড ব্যবহৃত হয়। দস্তার চোঙে নিশাদল, কয়লার গুড়া এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের মিশ্রণের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে লেই বা কাদার মত অবস্থায় দস্তার চোঙের মধ্যে ভর্তি করা হয়। চোঙের মধ্যে একটি কার্বনের দন্ড এমনভাবে বসানো হয় যাতে তা চোঙটিকে স্পর্শ না করে।
কার্বন দন্ডটির মাথায় পিতলের টুপি লাগানো থাকে। কার্বন দন্ডের চারপাশে গালা বা পিচের স্তর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

অ্যানোডে বিক্রিয়া:  Ζn(s) → Zn2+(aq) + 2e
ক্যাথোডে বিক্রিয়া:  2NH4+(aq) + 2MnO2(s) + 2e → Mn2O3(s) + H2O(l) + 2NH3(aq) 

অর্থাৎ, জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে।

এ কোষের দস্তার চোঙটি ঋণ-মেরু এবং কার্বন দন্ড ধন-মেরু হিসেবে কাজ করে। এ কোষে ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড পোলারন নিবারনের কাজ করে।
এতে সাধারণত ১.৫ ভোল্ট চাপের বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

উৎসঃ নবম দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
২,৮৩৮.
পরমাণুর আধান -
  1. ক) ধনাত্মক
  2. খ) ঋণাত্মক
  3. গ) নিরপেক্ষ
  4. ঘ) ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক
সঠিক উত্তর:
গ) নিরপেক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিরপেক্ষ
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে যার নাম নিউক্লিয়াস।
- এই নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।
- সুতরাং পরমাণুর সকল ধনাত্মক আধান এবং প্রায় সম্পূর্ণ ভরই নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ভ্রমণ করে।‌
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট প্রোটন আছে ততটি ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনও আছে।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৩৯.
নিচের কোনটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন?
  1. ইথিন
  2. বিউটিন
  3. ইথাইন
  4. ইথেন
সঠিক উত্তর:
ইথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথেন
ব্যাখ্যা
• ইথেন হলো একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। 

• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো CnH2n+2 যেখানে n=1,2,3 ইত্যাদি।

• ইথেন:
- ইথেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। ইথেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C2H
- এটি হলো ২ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এতে ২ টি কার্বনের সাথে ৬ টি হাইড্রোজেন পরমাণু একক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৪০.
g-এর মান সর্বোচ্চ -
  1. পৃথিবীর কেন্দ্রে
  2. বিষুব অঞ্চলে
  3. ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে
  4. মেরু অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। একে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্বনিম্ন প্রায় 9.78 ms-2.
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2.
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 ms-2
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2.

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৪১.
লেবুর রসে লালবর্ণের লিটমাস কাগজ ডুবালে, লিটমাস কাগজের রঙ পরিবর্তিত হবে-
  1. ক) নীল রঙে
  2. খ) গোলাপি রঙে
  3. গ) হলুদ রঙে
  4. ঘ) রঙের পরিবর্তন হবে না
সঠিক উত্তর:
ঘ) রঙের পরিবর্তন হবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রঙের পরিবর্তন হবে না
ব্যাখ্যা
লিটমাস কাগজ তৈরি করা হয় সাধারণ কাগজে লাইকেন (Lichens) নামক এক ধরনের গাছ থেকে প্রাপ্ত রঙের সাহায্যে। এভাবে প্রাপ্ত লিটমাস কাগজ দেখতে লালবর্ণের হয়। লেবুর রসে থাকে সাইট্রিক এসিড। এতে যখন লাল লিটমাস ডুবানো হয়, তখন কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় না, ফলে লিটমাস কাগজের রঙের কোনোই পরিবর্তন হয় না। পক্ষান্তরে নীল লিটমাস কাগজ ডুবালে, রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, ফলে লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তিত হয়ে যায়। লালবর্ণের লিটমাস কাগজকে ক্ষারীয় দ্রবণে ডুবালে তা নীলবর্ণ ধারণ করে। অন্যদিকে নীলবর্ণের লিটমাস কাগজে কোনো এসিড যোগ করলে তা লাল বর্ণের লিটমাস কাগজে পরিণত হয়। এসিডের একটি ধর্ম হলো এরা নীল লিটমাসকে লাল করে।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি]
২,৮৪২.
যে কোষে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয় তাকে কী বলে?
  1. তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ
  2. গ্যালভানিক কোষ
  3. ইলেক্ট্রোলাইটিক কোষ
  4. ক+গ
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানিক কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানিক কোষ
ব্যাখ্যা
• গ্যালভানিক কোষ:
- যে কোষে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয় তাকে গ্যালভানিক কোষ বলে।

অন্যদিকে,
- যে কোষে তড়িৎ শক্তি ব্যবহার করে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো হয় তাকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ বা ইলেক্ট্রোলাইটিক কোষ  বলে।



উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৪৩.
পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ভরের অনুপাত -
  1. ক) ২ঃ১
  2. খ) ১ঃ২
  3. গ) ১ঃ১৬
  4. ঘ) ১ঃ৮
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১ঃ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১ঃ৮
ব্যাখ্যা

পানির আনবিক সংকেত H2O.
পানির একটি অণুতে রয়েছে ২টি হাইড্রোজেন ও ১টি অক্সিজেন পরমানু।
সুতরাং পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ভরের অনুপাত
= (হাইড্রোজেনের পারমাণবিক ভর × 2) : (অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর × 1)
= (1 × 2) : (16 × 1)
= 2 : 16
= 1 : 8

২,৮৪৪.
যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে বলে পরস্পরের-
  1. আইসোটোন
  2. আইসোটোপ
  3. আইসোমার
  4. আইসোবার
সঠিক উত্তর:
আইসোটোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোটোন
ব্যাখ্যা

আইসোবার: 
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়। 

আইসোটোন: 
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে। 

আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 

আইসোমার: 
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮৪৫.
খুব অল্প পরিমাণ জিনিসের ভর সূক্ষ্মভাবে মাপতে কোন যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) স্ক্রু গজ
  2. খ) তুলা যন্ত্র
  3. গ) ডিজিটাল স্কেল
  4. ঘ) স্লাইড ক্যালিপার্স
সঠিক উত্তর:
খ) তুলা যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তুলা যন্ত্র
ব্যাখ্যা
তুলা যন্ত্র :

- পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নে খুব অল্প পরিমাণ জিনিসের ভর সূক্ষ্মভাবে মাপার জন্য তুলা যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।
- তখন সাধারণ নিক্তির সাহায্যে তা পরিমাপ করা সম্ভব হয় না।
- বস্তু বা পদার্থের ভর যত কম হবে, তার ভর পরিমাপের জন্য তত সুক্ষ্ম নিক্তির প্রয়োজন হবে।
- এই রকম একটি নিক্তি হল তুলা যন্ত্র।
- পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নের ল্যাবরেটরীতে খুব অল্প পরিমাণ নমুনার ভর পরিমাপ করতে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৪৬.
কাঁচ কাটা এবং পাথর ছিদ্র ও পালিশের কাজে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. গ্রাফাইট
  2. হীরক
  3. লেড
  4. কয়লা
সঠিক উত্তর:
হীরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হীরক
ব্যাখ্যা
কার্বন: 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক। 
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক। 
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক। 

হীরকের ব্যবহার: 
- উজ্জ্বলতার জন্য হীরক মূল্যবান রত্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- বস্তুত এটি সবচেয়ে মূল্যবান রত্ন। 
- এ কারণে বিভিন্ন হীরক খণ্ডের বিশেষ বিশেষ নাম আছে। 
যেমন কোহিনুর, দি হোবা, কুলিনান প্রভৃতি হীরক খণ্ড পৃথিবী বিখ্যাত। 
- অত্যন্ত কঠিন পদার্থ বলে হীরক কাঁচ কাটা, পাথর ছিদ্র ও খোদাইয়ের কাজে ও পালিশের কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- অতি সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি তৈরি করতে হীরক ব্যবহৃত হয়। 

গ্রাফাইটের ব্যবহার: 
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান। 
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। 
- এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২,৮৪৭.
রোধ কিসের উপর নির্ভর করে?
  1. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলে
  2. উপাদান
  3. তাপমাত্রা
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• রোধ:
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।
- রোধের এস আই একক হলো ও'ম।
- কোনো পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য ১ ভোল্ট এবং এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ ১ অ্যাম্পিয়ার হলে, ঐ পরিবাহীর রোধ হবে ১ ও'ম।
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে।
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৪৮.
সরাসরি হৃৎপিণ্ড দিয়ে সর্বনিম্ন কী পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে মানুষ মারা যেতে পারে?
  1. ক) 1000 A
  2. খ) 100 A
  3. গ) 10 mA
  4. ঘ) 0.05 mA
সঠিক উত্তর:
গ) 10 mA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 10 mA
ব্যাখ্যা
- সরাসরি হৃৎপিণ্ডের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে মাত্র 10mA বিদ্যুতেই মানুষ মারা যেতে পারে।
- ব্যবহার করার জন্য আমরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি সেটি AC এবং AC বিদ্যুৎ DC বিদ্যুৎ থেকে প্রায় 5 গুণ বেশি ক্ষতিকর।
- শুকনো অবস্থায় মানুষের চামড়ার রোধ প্রায় 30,000 Ω থেকে 50,000 Ω হলেও ভেজা অবস্থায় সেটি হাজার গুণ কমে আসে। কাজেই ও'মের সূত্র ব্যবহার করে আমরা দেখাতে পারি আমাদের দেশের 220 V শরীরের ভেতর দিয়ে মানুষকে মেরে ফেলার মতো বিদ্যুৎ প্রবাহ করতে পারে। যখন কেউ ভেজা মাটিতে ভেজা পা নিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সেটি হয় সবচেয়ে বিপজ্জনক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
২,৮৪৯.
পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে তৈরি হয় -
  1. ক্রিপ্টন
  2. বেরিয়াম
  3. হিলিয়াম
  4. ক + খ
সঠিক উত্তর:
ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক শক্তি
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস। 
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়, যথা- 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর হতে শক্তির রূপান্তর আইনস্টাইনের E = mc2 শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে  E=উৎপন্ন শক্তি, m=শক্তি উৎপন্নকারী পদার্থের ভর এবং c=আলোর গতিবেগ (শূণ্য মাধ্যমে)। 
- নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজন মত সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে যা বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া। 
- তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ধাতু পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
- এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে বিশেষ উড়োজাহাজে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

তথ্যসূত্র - ১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।
২,৮৫০.
নিচের কোনটি তীব্র ক্ষারধর্মী যৌগ নয়?
  1. Ca(OH)2
  2. NH4OH
  3. NaOH
  4. KOH
সঠিক উত্তর:
NH4OH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NH4OH
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সকল হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকেই ক্ষার বলা হয়। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 
যেমন- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড প্রত্যেকেই জলীয় দ্রবণে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 


ক্ষারক: 
- ক্ষারক হলো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
যেমন- কপার অক্সাইড, আয়রন (II) অক্সাইড, আয়রন (III) অক্সাইড এর প্রত্যেকেই ক্ষারক। 
- পানিতে দ্রবীভূত হয় না বলে এরা ক্ষার নয়, ক্ষারক। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
-  যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (II) অক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (III) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (III) হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3 ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য যে, 
- অ্যামোনিয়া (NH3) ক্ষার বা ক্ষারক নয় বরং এটি একটি ক্ষার ধর্মী যৌগ। 
- অ্যামোনিয়া পানিতে দ্রবীভূত হয়ে অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) উৎপন্ন করে। 
- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার। 
   NH3 (g) + H2O (l) → NH4OH (aq) । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৫১.
অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনীতে কতটির অধিক উপাদান থাকে?
  1. প্রায় ১০ টি
  2. প্রায় ১০০ টি
  3. প্রায় ১,০০০ টি
  4. প্রায় ১০,০০০ টি
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১০,০০০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১০,০০০ টি
ব্যাখ্যা
সমন্বিত বর্তনী বা আইসি: 
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়। 
- এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। 
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০ টি উপাদান থাকে। 

২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০ টি উপাদান থাকে। 

৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০ টির অধিক উপাদান থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৫২.
একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 104°F । সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?
  1. - 40° C
  2. 38° C
  3. 40° C
  4. 48° C
সঠিক উত্তর:
40° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
40° C
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 104°F । সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
ফারেনহাইট স্কেলে তাপমাত্রা, F = 104°F
সেলসিয়াস তাপমাত্রা, C = ?

আমরা জানি,
C/5 = (F - 32)/9
বা, C/5 = (104 - 32)/9
বা, C/5= 72/9
বা, C = 8 × 5
∴ C = 40
উত্তর: 40° C
২,৮৫৩.
রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে-
  1. প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে
  2. অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
  3. নাইট্রোজেন সরবরাহ করে
  4. হাইড্রোজেন সরবরাহ করে
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা
- একটি নিরাপদ অগ্নিনির্বাপণ উপাদান হচ্ছে ড্রাই কার্বন- ডাই-অক্সাইড। 
- যখন নির্বাপণ যন্ত্রের ভালব খোলা হয় তখন কার্বন-ডাই- অক্সাইড সম্প্রসারিত হয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়। 
- যেহেতু কার্বন-ডাই-অক্সাইড অক্সিজেনের চেয়ে ভারী তাই এটি জ্বালানীর চারপাশ থেকে অক্সিজেনকে সরিয়ে দেয়। 
- অক্সিজেনের অভাবে আগুন আর জ্বলতে পারে না। 
- রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 

উৎস: National Emergency Service, 999.gov.bd
২,৮৫৪.
নিচের কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?
  1. রূপা
  2. তামা
  3. নিকেল
  4. সোনা
সঠিক উত্তর:
নিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকেল
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশির ভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থও বলা হয়। 
- ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ: লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৫৫.
কোন বস্তুর স্থিতিস্থাপকতা সর্বাপেক্ষা বেশি? 
  1. সোনা
  2. ইস্পাত
  3. রবার
  4. তামা
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা
স্থিতিস্থাপকতা: 
- বল প্রয়োগ যদি কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বস্তু বিকৃত হয় তাহলে প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে যে ধর্মের ফলে বিকৃত বস্তু আগের আকার ও আয়তন ফিরে পায় তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে। 
- যে বস্তুর বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি তার স্থিতিস্থাপকতাও বেশি হবে। 
- লোহা ও রাবারের মধ্যে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা লোহার বেশি তাই লোহা রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক। 

স্থিতিস্থাপক সীমা: 
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক। 
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়। 
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন। 
যেমন- ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রবারের খুব কম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)। 
২,৮৫৬.
নিচের কোন উপাদানটি ফিটকিরিতে অনুপস্থিত?
  1. K
  2. H2O
  3. Na
  4. Al
সঠিক উত্তর:
Na
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Na
ব্যাখ্যা
ফিটকিরি বা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরি এর রাসায়নিক সংকেত হলো [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O]
- ফিটকিরি সাধারণ মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৫৭.
সংকর ধাতু কী?
  1. খনিজমল মিশ্রিত ধাতু
  2. শতভাগ বিশুদ্ধ ধাতু
  3. একাধিক ধাতুর মিশ্রণ
  4. একাধিক ধাতুর যৌগ
সঠিক উত্তর:
একাধিক ধাতুর মিশ্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাধিক ধাতুর মিশ্রণ
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের টেবিলে কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যাবহার উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৫৮.
রাদারফোর্ড আলফা কণার পরীক্ষা দ্বারা কোনটির অস্তিত্ব পেয়েছিল?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
• রাদারফোর্ড কর্তৃক আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা ও নিউক্লিয়াস আবিষ্কার:
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে রাদারফোর্ড আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষাটি করেন।
- বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড প্রচণ্ড শক্তিসম্পন্ন' আলফা কণাসমূহকে একটি পাতলা সোনার পাতের (0.0004 cm) উপর নিক্ষেপ করেন।
- সোনার পাতের পেছনে জিংক সালফাইড (ZnS) আবরণযুক্ত একটি গোলাকার পর্দা রাখেন।
- ZnS আবরণীর উপর পতিত ∝-কণা আলোকচ্ছটা সৃষ্টি করে।

• পরীক্ষালব্ধ সিদ্ধান্ত:
- পরমাণুর কেন্দ্রে পরমাণুর সমগ্র ভর অতি ক্ষুদ্র স্থান দখল করে আছে।
- যেহেতু আলফা কণাসমূহ ধনাত্মক চার্জযুক্ত এবং এক্ষেত্রে বিকর্ষিত হয়, সেহেতু পরমাণুর কেন্দ্রও ধনাত্মক চার্জযুক্ত হবে।
- তিনি ভারী ও ধনাত্মক চার্জযুক্ত পরমাণুর এ কেন্দ্রকে নিউক্লিয়াস (nucleus) নামকরণ করেন।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৮৫৯.
‘ব্ল্যাকবক্স’ যন্ত্রটি কিসে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) জাহাজে
  2. খ) বিমানে
  3. গ) রকেটে
  4. ঘ) সাবমেরিনে
সঠিক উত্তর:
খ) বিমানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিমানে
ব্যাখ্যা

সব প্লেনেই ব্ল্যাকবক্স থাকে। এসব বক্স প্লেন চলার সময় বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে রাখে।
ব্ল্যাকবক্সের সংখ্যা এক বা ক্ষেত্রবিশেষে দুটি হয়।
একটি ককপিটে পাইলটদের কথোপকথন ধারণ করে, যা ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামে পরিচিত।
অপরটি প্লেন চলাচলের বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে, যা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর) নামে অভিহিত।
সূত্রঃ প্রথম আলো

২,৮৬০.
কোনো সিলিকন চিপে লক্ষ লক্ষ বর্তনী সংযোজিত হলে তাকে কী বলে?
  1. ক) সমান্তরাল বর্তনী
  2. খ) অর্ধপরিবাহী ট্রানজিস্টর
  3. গ) সমন্বিত বর্তনী
  4. ঘ) অর্ধপরিবাহী ডায়োড
সঠিক উত্তর:
গ) সমন্বিত বর্তনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমন্বিত বর্তনী
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর, ডায়ােড ইত্যাদি ব্যবহার করে অনেক প্রয়ােজনীয় সার্কিট তৈরি করা হয়। ধীরে ধীরে প্রযুক্তির উন্নতি হতে থাকে এবং এই ধরনের নানা কিছু ব্যবহার করে তৈরি করা আস্ত একটি সার্কিট ছােট একটা জায়গার মাঝে ঢুকিয়ে দেওয়া শুরু হলাে এবং তার নাম দেওয়া হলাে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।

একটা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট হয়তাে একটা নখের সমান। তার ভেতরে প্রথমে হাজার হাজার ট্রানজিস্টর দিয়ে তৈরি সার্কিট ঢােকানাে শুরু হয় এবং দেখতে দেখতে একটা আইসির ভেতর বিলিয়ন ট্রানজিস্টর পর্যন্ত বসানাে সম্ভব হয়ে উঠতে থাকে।

একটি ছােট চিপের ভেতর বিলিয়ন ট্রানজিস্টর ঢােকানাের এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় VLSI বা Very Large Scale Integration. এই প্রক্রিয়াটি এখনাে থেমে নেই এবং চিপের ভেতর আরাে ট্রানজিস্টর ঢুকিয়ে আরাে জটিল সার্কিট তৈরি করার প্রক্রিয়া এখনাে চলছে।
উৎসঃ নবন-দশম শ্রেণী, পদার্থবিজ্ঞান।
২,৮৬১.
কঠিন পদার্থে তাপ প্রধানত কোন প্রক্রিয়ায় সঞ্চালিত হয়?
  1. পরিচলন
  2. পরিবহন
  3. বাষ্পীভবন
  4. বিকিরণ
সঠিক উত্তর:
পরিবহন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবহন
ব্যাখ্যা

• কঠিন পদার্থে তাপ প্রধানত পরিবহন পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়।

• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে গমন করে।
- তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়, পরিবহন, পরিচলন, বিকিরণ।

• পরিবহন পদ্ধতি:
- এ পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না।
- অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে।
- উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে তাপ সঞ্চালিত হয়।
- কঠিন পদার্থে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

• পরিচলন পদ্ধতি:
- অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে স্থান পরিবর্তন করে।
- তরল ও বাষ্পীয় পদার্থে তাপ পরিচলনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• বিকিরণ পদ্ধতি:
- কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই তাপ সঞ্চালিত হয়।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে আসে।
- এ পদ্ধতিতে সঞ্চালিত তাপকে বিকীর্ণ তাপ বলে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
2) পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৬২.
বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে কী বলে? 
  1. মধ্যবেগ
  2. সমবেগ
  3. অসমবেগ
  4. তাৎক্ষণিক বেগ
সঠিক উত্তর:
সমবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমবেগ
ব্যাখ্যা
বেগ (Velocity): 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

সমবেগ (Uniform velocity): 
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমবেগ বলে। 
- অর্থাৎ কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সমবেগ বলে। 
যেমন শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

অসমবেগ (Non-uniform Velocity): 
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসম বেগ বলে।

গড় বেগ (Average Velocily): 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ (Instantaneous Velocity): 
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে। 

মধ্যবেগ (Mean Velocity): 
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৬৩.
অ্যামিটার দিয়ে মূলত কী পরিমাপ করা হয়?
  1. শক্তি 
  2. বিভব পার্থক্য
  3. রোধ 
  4. তড়িৎ প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ প্রবাহ
ব্যাখ্যা

অ্যামিটার: 
- অ্যামিটার একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- অ্যামিটারের সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়। 
- অ্যামিটার বর্তনীর সাথে শ্রেণি সংযোগে যুক্ত থাকে। 
- এই যন্ত্রে মূলত একটি গ্যালভানোমিটার থাকে। গ্যালভানোমিটার হচ্ছে সেই যন্ত্র যার সাহায্যে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। 
- এই গ্যালভানোমিটারে বিক্ষেপ নির্ণয়ের জন্য একটি সূচক বা কাঁটা লাগানো থাকে। সূচকটি অ্যাম্পিয়ার, মিলিঅ্যাম্পিয়ার বা মাইক্রোঅ্যাম্পিয়ার এককে দাগকাটা একটি স্কেলের উপর ঘুরতে পারে। 
- বিদ্যুৎ কোষের মতো অ্যামিটারেও দুটি সংযোগ প্রান্ত থাকে, একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক প্রান্ত। 
- সাধারণত ধনাত্মক প্রান্ত লাল এবং ঋণাত্মক প্রান্ত কালো রঙের হয়। 

অন্যদিকে,
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,৮৬৪.
ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ নয় - 
  1. ইথানল 
  2. আয়োডিন
  3. ন্যাপথলিন
  4. নিশাদল
সঠিক উত্তর:
ইথানল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানল 
ব্যাখ্যা

• ইথানল ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ নয়। 

ঊর্ধ্বপাতন:
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
- নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়।

অন্যদিকে, ইথানল তরল পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২,৮৬৫.
পাকা কলায় কোন ধরনের এস্টার বিদ্যমান থাকে?
  1. ক) ইথাইল বিউটারেট
  2. খ) অকটাইল অ্যাসিটেড
  3. গ) মিথাইল বিউটারেট
  4. ঘ) অ্যামাইল অ্যাসিটেড
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যামাইল অ্যাসিটেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যামাইল অ্যাসিটেড
ব্যাখ্যা
এস্টার হলো জৈব কার্বক্সিলিক এসিডের একটি জাতক।
এস্টার বিভিন্ন ফুল ও ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।
পাকা কলায় অ্যামাইল অ্যাসিটেড,
পাকা কমলায় অকটাইল অ্যাসিটেড,
পাকা আনারসে ইথাইল বিউটারেট,
নাশপাতিতে ৩-মিথাইল বিউটাইল ইথানোয়েট এস্টার বিদ্যমান থাকে।
২,৮৬৬.
বেকিং সোডায় তাপ দিলে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়? 
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড 
  2. অক্সিজেন 
  3. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড 
  4. হাইড্রোজেন ডাই-অক্সাইড 
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড 
ব্যাখ্যা

হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্প মাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদি নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮৬৭.
পর্যায় সারণীর কোন মৌলসমূহ রঙিন যৌগ গঠন করে?
  1. চ্যালকোজেনস
  2. হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল
  3. অবস্থান্তর মৌল
  4. নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ
সঠিক উত্তর:
অবস্থান্তর মৌল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থান্তর মৌল
ব্যাখ্যা

• পর্যায় সারণীর অবস্থান্তর মৌলসমূহ (গ্রুপ ৩ থেকে ১২) রঙিন যৌগ গঠন করে।

• অবস্থান্তর মৌল:

- পর্যায় সারণির ৩নং গ্রুপ থেকে ১২নং গ্রুপের মৌলসমূহকে অবস্থান্তর মৌল বলে।

• অবস্থান্তর মৌলসমূহের বৈশিষ্ট্য :
- পরিবর্তনশীল যোজ্যতা প্রদর্শন করে।
- রঙিন যৌগ গঠন করে।
- জটিল যৌগ গঠন করে।
- প্রভাবকরূপে ক্রিয়া করে।
- প্যারাচুম্বকীয় ধর্ম প্রদর্শন করে।

• হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে।
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ 18 এর মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
- যথা: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)।।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

• চ্যালকোজেনস:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়।

উৎস:
১. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২. রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৬৮.
সোডিয়ামের প্রোটন সংখ্যা কত?
  1. ক) ১০
  2. খ) ১১
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ২৩
সঠিক উত্তর:
খ) ১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১
ব্যাখ্যা
কোনো মৌলের একটি পরমাণুতে প্রোটনের সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়।

- হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১
- অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬
- সোডিয়ামের প্রোটন সংখ্যা ১১

সূত্র- ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
২,৮৬৯.
P-N জংশন ডায়োডে কারেন্ট কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. P থেকে N এ
  2. N থেকে P এ
  3. উভয় দিকে
  4. কারেন্ট প্রবাহ হয় না 
সঠিক উত্তর:
P থেকে N এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
P থেকে N এ
ব্যাখ্যা

◉ P-N জংশন ডায়োড একটি সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস। এটি শুধু একদিক দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত করতে পারে, যাকে বলে Forward Bias condition. যখন ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্ত P-টাইপ এর সাথে এবং ঋণাত্মক প্রান্ত N-টাইপ এর সাথে যুক্ত করা হয়। তখন কারেন্ট P থেকে N দিকে প্রবাহিত হয়।

​ডায়োড:
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮৭০.
ফোটন কণা সম্পর্কে যে তথ্যটি ভুল-
  1. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।
  2. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
  3. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ নয়।
  4. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
সঠিক উত্তর:
ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ নয়।
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon) I

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
- পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
-  ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
- ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
- প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
- ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
- ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৭১.
১০ মিটার পানির গভীরতায় চাপ আনুমানিক কত atm বেড়ে যায়?
  1. ০.৫ 
  2. ১ 
  3. ৫ 
  4. ১০
সঠিক উত্তর:
১ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ 
ব্যাখ্যা

- পানির গভীরতায় নামলে চাপ বৃদ্ধি পায়।
- এই চাপ বৃদ্ধি হয় মূলত হাইড্রোস্ট্যাটিক প্রেসার কারণে, যা তরলের ঘনত্ব, গভীরতা ও মহাকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে।
চাপের সূত্র, P = ρgh. 
যেখানে,
ρ = ১০০০ কেজি/মি
g = ৯.৮ মি/সে
h = ১০ মিটার।
P = ১০০০ × ৯.৮ × ১০ = ৯৮০০০ প্যাস্কেল।
আর ১ atm = ১০১৩২৫ প্যাস্কেল।
∴ P = ৯৮০০০ ÷ ১০১৩২৫ = ০.৯৭ atm ≈ ১ atm (আনুমানিক)।

∴ ১০ মিটার পানির গভীরতায় চাপ আনুমানিক ১ atm বেড়ে যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮৭২.
ফ্যাদোমিটার কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) উচ্চতা নির্ণয়ে
  2. খ) উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে
  3. গ) বায়ুর গতিবেগ নির্ণয়ে
  4. ঘ) সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে
ব্যাখ্যা
- বায়ুর গতিবেগ পরিমাপক যন্ত্রের নাম এনোমোমিটার ।
- সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র অলটিমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র টেকোমিটার।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র অডিওমিটার।
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র ওডোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা পরিমাপক যন্ত্র ল্যাকটোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৮৭৩.
আলোর তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব কে প্রস্তাব করেছিলেন?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  2. ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
  3. ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড
  4. হেন্রিখ হার্জ
সঠিক উত্তর:
ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

• আলোর তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব (Electromagnetic Theory of Light) প্রস্তাব করেছিলেন ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল। তিনি  Maxwell’s Equations এর মাধ্যমে দেখান, আলো একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ যা স্থান জুড়ে প্রলেপিত হয়। তাঁর তত্ত্ব অনুসারে, বৈদ্যুতিক ও চুম্বকীয় ক্ষেত্র একে অপরকে উত্পন্ন করে এবং তরঙ্গের আকারে স্থান মাধ্যমে ছড়ায়। এটি আলোর প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এক বিপ্লবাত্মক ধারণা।

তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব:
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভ‚তপূর্ব উন্নতি ঘটে।
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (১৮৩১-১৮৭৯) আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্তে¡র ধারণা দেন।
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেন্রিখ হার্জের (১৮৫৭-১৮৯৪) পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী (১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে
সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন।
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও (১৮৫৮-১৯৩৭) একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৭৪.
কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে বের হয়ে যায়? 
  1. শ্বসন
  2. অভিস্রবণ 
  3. নিঃসরণ
  4. প্রস্বেদন
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়।
যথা- 
(ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, 
(খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং 
(গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৭৫.
চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপিত কোনো চৌম্বক পদার্থের চৌম্বক আবেশ ও চৌম্বক তীব্রতার অনুপাতকে কী বলে?
  1. চৌম্বক প্রবেশ্যতা
  2. চৌম্বক প্রাবল্য
  3. চৌম্বক প্রবণতা
  4. চৌম্বক গ্রাহিতা
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক প্রবেশ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক প্রবেশ্যতা
ব্যাখ্যা
• চৌম্বক প্রবেশ্যতা:
- চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপিত কোনো চৌম্বক পদার্থের চৌম্বক আবেশ (B) ও চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুাতকে ঐ পদার্থের চৌম্বক প্রবশ্যেতা বলে।
- একে μ (মিউ) দ্বারা প্রকাশ করা হয়
- এর একক TmA-1.

• চৌম্বক প্রাবল্য:
- চৌম্বকক্ষেত্রের কোনো চৌম্বক আবেশ এবং চৌম্বক প্রবেশ্যতার অনুপাতকে চৌম্বক প্রাবল্য বা তীব্রতা বলে ।
- একে H দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
এর একক Am-1

• চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা:
- কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকায়ন তীব্রতা (I) এবং চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুপাতকে চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা বলে ।
- এটি একটি এককবিহীন রাশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৭৬.
কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে প্রধানত কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়?
  1. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. সালফার ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

-  কার্বনকে বাতাসের অক্সিজেনে পোড়ালে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস উৎপন্ন হয়। এটি একটি দহন বিক্রিয়া যেখানে কার্বন (C) এবং অক্সিজেন (O2) মিলে একটি নতুন যৌগ তৈরি করে। অন্যদিকে, বাতাসে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকলে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়; তবে অক্সিজেনের সরবরাহ সীমিত বা অপর্যাপ্ত হলে তখন কার্বন মনোক্সাইড (CO) উৎপন্ন হতে পারে। সাধারণ দহনে প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইডই উৎপন্ন হয়।

প্রশমন বিক্রিয়া: 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
যেমন- HCl(aq) + NaOH(aq) → NaCl(aq) + H2O(l)

দহন বিক্রিয়া: 
- এই প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়। 
যেমন- কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

পানিযোজন বিক্রিয়া: 
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যক পানির অণু সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে। 
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে। 

বিয়োজন বিক্রিয়া: 
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়। 
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়। 
যেমন- মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৭৭.
কোনটি শুষ্ক বরফের উপাদান?
  1. H2O
  2. PH3
  3. CO2
  4. NH3
সঠিক উত্তর:
CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CO2
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এর কঠিন রূপ। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাই, যা ঠাণ্ডা -78.5 °C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২,৮৭৮.
কোনটি নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে মডারেটরের কাজ করে? 
  1. ভারী জল 
  2. ক্যাডমিয়াম দণ্ড
  3. তরল সোডিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম-২৩৫
সঠিক উত্তর:
ভারী জল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারী জল 
ব্যাখ্যা

• নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে ফিশন বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিসম্পন্ন নিউট্রনের গতি কমানোর জন্য যে পদার্থ ব্যবহার করা হয় তাকে মডারেটর বলে। ভারী জল (D2O) বা গ্রাফাইট মডারেটর হিসেবে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। নিউট্রনের গতি কমলে তা পরবর্তী ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে একটি নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া (Chain Reaction) বজায় রাখতে সাহায্য করে।

• নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 
- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। 

• মডারেটর: 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- ১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং ২। গ্রাফাইট। 

অন্যান্য অপশন:
- ক্যাডমিয়াম দণ্ড: এটি অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করে চেইন রিঅ্যাকশন নিয়ন্ত্রণের জন্য 'কন্ট্রোল রড' হিসেবে কাজ করে।
- তরল সোডিয়াম: এটি রিঅ্যাকটরে উৎপন্ন প্রচণ্ড তাপ সরিয়ে নেওয়ার জন্য 'শীতলকারক' বা কুল্যান্ট হিসেবে কাজ করে।
- ইউরেনিয়াম-২৩৫: এটি রিঅ্যাকটরের মূল জ্বালানি (Fuel) যা ফিশন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৭৯.
এক ঘনমিটার পানির ভর ১০০০ কিলোগ্রাম হয় কোন তাপমাত্রায়? 
  1. ০° C
  2. ৪° C
  3. ২৫° C
  4. ১০০° C
সঠিক উত্তর:
৪° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪° C
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4°C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000kg m-3 অথবা 1gm/cc. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৮৮০.
নিচের কোনটি থার্মোসেটিং পলিমার? 
  1. স্টার্চ
  2. পলিথিন
  3. সেলুলোজ
  4. ফাইবার গ্লাস
সঠিক উত্তর:
ফাইবার গ্লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইবার গ্লাস
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। 
- এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃত অর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার ও 
খ) কৃত্রিম পলিমার। 

ক) প্রাকৃতিক পলিমার:  
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। থার্মোপ্লাস্টিক ও 
২। থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক। 

থার্মোসেটিং প্লাস্টিক: 
- এরা অপেক্ষাকৃত শক্ত ও কম নমনীয় হয়। 
- তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়। 
- এ জাতীয় পলিমার অণুতে পরমাণুগুলোর শিকলের মধ্যে সমযোজী এবং পার্শ্ববর্তী শিকলের গঠনের সাথে দৃঢ়ভাবে হাইড্রোজেন বন্ধন বর্তমান থাকে। 
যেমন- ব্যাকেলাইট প্লাস্টিক, ফাইবার গ্লাস, কৃত্রিম রেজিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৮১.
বায়োগ্যাস প্লান্টে গোবর ও পানির অনুপাত কত?
  1. ১ : ২
  2. ১ : ৩
  3. ২ : ৩
  4. ২ : ৫
সঠিক উত্তর:
১ : ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ : ২
ব্যাখ্যা
বায়োমাস শক্তি:
- সৌর শক্তি সবুজ গাছপালার সাহায্যে সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়োমাসরূপে গাছপালার বিভিন্ন অংশে মজুদ থাকে। 
- এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মানুষসহ অনেক প্রাণী খাদ্য হিসেবে বায়োমাস গ্রহণ করে। 
- এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবনের কর্মকান্ড সচল রাখে। 
- বায়োমাস হচ্ছে শক্তির একটি বহুমুখী উৎস। 

- গাছ-গাছালী, জ্বালানি কাঠ, কাঠের বর্জ্য, শস্য ধানের তুষ ও কুড়া, লতা-পাতা, পশু পাখির মল, বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ হচ্ছে বায়োমাস শক্তির উৎস। 
- বায়োমাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও হাইড্রোজন। 
- বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। 
- আবদ্ধ পাত্রের মধ্যে গোবর ও পানির মিশ্রণ ১ : ২ অনুপাতে রেখে পচানো হলে বায়োগ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- ২/৩ টি গরুর গোবর ব্যবহার করে ৪/৫ জনের একটি পরিবারের রান্না ও বাতি জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের উৎপাদন করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৮২.
কাপড় কাচার সোডা হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  2. খ) সোডিয়াম কার্বনেট
  3. গ) কপার সালফেট
  4. ঘ) পটাসিয়াম নাইট্রেট
সঠিক উত্তর:
খ) সোডিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সোডিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
লবণের ব্যবহার:
- কৃষি জমিতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে তুঁতে বা কপার সালফেটকে (CuSO4, 5H2O) ব্যাপক ব্যবহার করা হয়।
- তবে শৈবালের উৎপাদন বন্ধে এটি খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
- মাটির অ্যাসিডিটি নিষ্ক্রিয় করতে যে চুনাপাথর বা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে যে সকল সার যেমন, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4],, পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।

- লবন ছাড়া তরি-তরকারি, মাছ-মাংস রান্না করে খাওয়ার কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। খাবার লবণ হল সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) যা সাধারণ লবণ নামেও পরিচিত।
- খাবার লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাদ্যকে খাবার উপযোগী করে তোলে। তরি-তরকারি, পাউরুটি, বিস্কুট, আচার ছাড়াও আরও অনেক খাবারে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়।
- খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধির জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট বা টেস্টিং সল্টের ব্যবহারও আমাদের খুবই পরিচিত। জামা-কাপড় কাঁচার জন্য আমরা যে সাবান ব্যবহার করি তা আসলে সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) নামক লবণ।
- সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) যা কাপড় কাচার সোডা হিসেবে পরিচিত তাও একটি লবণ। তুঁতে বা ফিটকিরি যা জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেটিও লবণ।
- সেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাসিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) নামক লবণ।

উৎস: মাধ্যমিক বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৮৩.
H-O-H কোন ধরনের সংকেতকে নির্দেশ করে? 
  1. স্থূল সংকেত
  2. গাঠনিক সংকেত
  3. আণবিক সংকেত
  4. রাসায়নিক সংকেত
সঠিক উত্তর:
গাঠনিক সংকেত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাঠনিক সংকেত
ব্যাখ্যা
সংকেত (Formula):  
- দুই বা ততোধিক মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু রাসায়নিকভাবে সংযুক্ত হয়ে যৌগিক অণু গঠন করে। 
- যৌগের অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের প্রতীক ও তাদের পরমাণু সংখ্যার সাহায্যে যৌগের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকেই যৌগের সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানির একটি অণুর ক্ষেত্রে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু মিলিত হয়ে একটি পানির অণু গঠন করে। সুতরাং পানির সংকেত H2O. 
- রসায়নে অনেক ধরনের সংকেতের ব্যবহার আছে। 
যেমন- 
(১) রাসায়নিক সংকেত (Chemical Formula): 
- যৌগিক অণুর ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই বা ততোধিক মৌল বা মূলক ওদের যোজ্যতার বিপরীত অণুপাতে যুক্ত হয়ে অণুগঠন করে। 
যেমন- Al মৌলটির যোজ্যতা 3 এবং O মৌলটির যোজ্যতা 2, সুতরাং Al এর 2 টি পরমাণু O এর 3 তিনটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড উৎপন্ন করবে। অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত Al2O3
- যৌগের অণুতে মৌল ও যৌগমূলকের যোজ্যতাভিত্তিক সংকেতকে রাসায়নিক সংকেত বলা হয়। 

(২) আণবিক সংকেত (Molecular Formula): 
- কোনো অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে যে সংকেত প্রকাশ করা হয় তাকে আণবিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- অক্সিজেনের আনিবক সংকেত O2, পানির আণবিক সংকেত H2O, গ্লুকোজের আণবিক সংকেত C6H12O6

(৩) স্থূল সংকেত (Empirical Formula): 
- কোনো যৌগের অণুতে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যাকে প্রকাশ না করে কেবল ওদের ক্ষুদ্রতম অণুপাতকে প্রকাশ করা হয়, তখন ওই সংকেতকে ওই যৌগের স্থূল সংকেত বলা হয়। 
যেমন- গ্লুকোজ এর আণবিক সংকেত C6H12O6
- C, H ও O পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যার অণুপাত 6 : 12 : 6 হলেও ক্ষুদ্রতম অণুপাত 1 : 2 : 1. সুতরাং গ্লুকোজের স্থূল সংকেত CH2O. 

(৪) গাঠনিক সংকেত (Structural Formula): 
- মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের অণুর মধ্যে বিভিন্ন পরমাণু পরস্পরের সাথে যেভাবে সংযুক্ত থাকে তা যে সংকেত এর মাধ্যমে দেখানো হয় তাকে ওই অণুর গাঠনিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O) অণুর গাঠনিক সংকেত H-O-H, হাইড্রোজেন (H2) অণুর গাঠনিক সংকেত H-H ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৮৪.
কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মিটি ঋণাত্মক চার্জ বহন করে?
  1. আলফা (α) রশ্মি
  2. বিটা (β) রশ্মি
  3. গামা (γ) রশ্মি
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বিটা (β) রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিটা (β) রশ্মি
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা (α), বিটা কণিকা (β) ও গামা রশ্মি (γ) নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

অপশন আলোচনা:
• আলফা রশ্মি:
 ১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর  6.6 × 10-27 কেজি।
২। ইহা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2 × 10-19 কুলম্ব।
৩। এর শক্তি 1MeV হতে 9MeV পর্যন্ত হয়। 
৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশী।
৬। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম।

• বিটা রশ্মি:
১। বিটা কণিকা খুব হালকা। এরা ইলেকট্রন প্রবাহ। এর ভর 9.1 × 10-31 কেজি।
২। এরা ঋণাত্মক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান 1.6 × 10-19 কুলম্ব।
৩। তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়। এর বেগ প্রায় 0.9 × 108 ms-1 পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
৪। এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম।
৬। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশী।

• গামা রশ্মি:
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল।
৩। বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৪। ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
৫। শক্তি ও ফ্রিকোয়েন্সি সর্বাধিক।
৬। চার্জ ও ভর নেই।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান (এসএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৮৫.
1 হর্সপাওয়ার (H.P) কত ওয়াটের সমান? 
  1. 464 W 
  2. 746 W 
  3. 764 W 
  4. 1000 W 
সঠিক উত্তর:
746 W 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
746 W 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
সুতরাং, ক্ষমতা, P = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। 
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
1 H.P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা হলো ML2T-3 । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৮৬.
কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না?
  1. বায়োগ্যাস
  2. সৌরশক্তি
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. জলবিদ্যুৎ
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না কারণ শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়। 
- শিল্পায়নের ক্রমবিকাশ এবং জীবনে যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। 
- তাই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন শক্তির উৎসের সন্ধানে কাজ করছে। 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- তাই শক্তির চাহিদা মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে খনিজ তেল, কয়লা আমদানি করতে হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি জনপ্রিয় করা এবং এদের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। 
যেমন- জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, সৌরশক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৮৭.
নিচের কোনটি নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরে মডারেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়? 
  1. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
  3. হাইড্রোজেন পার অক্সাইড
  4. ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরে মডারেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়- ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড। 

নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 

- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। 

মডারেটর (Moderator): 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো - 
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং 
২। গ্রাফাইট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৮৮.
কোনটির সাহায্যে ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়? 
  1. টেলিস্কোপ 
  2. পেরিস্কোপ 
  3. নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র 
  4. অণুবীক্ষণ যন্ত্র 
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ 
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই। 
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে। 
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য। 
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

২,৮৮৯.
প্রোটিনের গঠন পূর্বানুমানের জন্য তৈরীকৃত আলোড়ন সৃষ্টিকারী এআই মডেলটির নাম কী?
  1. AlphaFold2
  2. BetaFold
  3. GammaFold
  4. DeltaFold
সঠিক উত্তর:
AlphaFold2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
AlphaFold2
ব্যাখ্যা
প্রোটিন গঠনের পূর্বানুমানের জন্য তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল- 

মডেল নাম: AlphaFold2.
উদ্ভাবক: DeepMind (Alphabet-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান)।
প্রযুক্তির উদ্দেশ্য: প্রোটিন গঠনের ভবিষ্যদ্বাণী করা।
উদ্ভাবন: এ বছর রসায়নে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী জন এম. জাম্পার এবং ডেমিস হ্যাসাবিস  ২০২০ সালে AlphaFold2 নামে  এআই মডেলটি উদ্ভাবন করেন।
ব্যবহারকারী: ১৯০টি দেশের ২০ লাখের বেশি মানুষ ইতিমধ্যেই এই এআই মডেলটি ব্যবহার করেছেন।

সূত্র: প্রথম আলো।
২,৮৯০.
শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী-
  1. শক্তি নষ্ট হয়ে যায়
  2. শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না
  3. শক্তি সৃষ্টি করা যায়
  4. শক্তি চিরকাল ধ্রুবক থাকে, কিন্তু এটি ব্যবহার করা যায় না
সঠিক উত্তর:
শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না
ব্যাখ্যা
• শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী, শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না।

• শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র:
- শক্তির নিত্যতার বিধি অনুসারে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংশ করা যায় না।
- শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র।
- পৃথিবীর মোট শক্তির পরিমানগত কোন পরিবর্তন হয় না।
- প্রকৃতপক্ষে আমরা নতুন কোনো শক্তি সৃষ্টি করতে পারি না বা শক্তি ধ্বংসও করতে পারি না।
- বিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল মহাবিশ্বে আজও সেই পরিমাণ শক্তি রয়েছে।
- এটাই শক্তির অবিনশ্বরতা বা নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা।

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৯১.
কোন ধাতুটি সাধারণত ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ ব্যবহার করা হয় না?
  1. ক্রোমিয়াম
  2. নিকেল 
  3. সোনা 
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

- 'অ্যালুমিনিয়াম' ধাতুটি সাধারণত ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ ব্যবহার করা হয় না। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 

- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

২,৮৯২.
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ভরের একক কী?
  1. সেন্টিগ্রাম
  2. কেজি
  3. কুইন্টাল
  4. গ্রাম
সঠিক উত্তর:
কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেজি
ব্যাখ্যা
সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে- 
• দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার (cm),
• ভরের একক গ্রাম (g) এবং
• সময়ের একক (s). 

এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI) এম.কে.এস. পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। তাই
• দৈর্ঘ্যের একক মিটার (m), 
ভরের একক কিলোগ্রাম (kg) এবং
• সময়ের একক (s). 

এফ.পি.এস পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে-
• দৈর্ঘ্যের একক ফুট (ft),
• ভরের একক পাউন্ড (lb)এবং
• সময়ের একক (s). 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং britannica.com।
২,৮৯৩.
ফটোকপি যন্ত্রের কার্যপ্রণালী কোন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে?
  1. আলোক প্রভাব 
  2. চৌম্বক প্রভাব 
  3. স্থির তড়িৎ প্রভাব 
  4. চল তড়িৎ প্রভাব
সঠিক উত্তর:
স্থির তড়িৎ প্রভাব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থির তড়িৎ প্রভাব 
ব্যাখ্যা

ফটোকপি যন্ত্র: 
- কোনো কাগজের লেখার অনুরূপ কপি তৈরি করার জন্য ফটোকপি যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। 
- এই ফটোকপি যন্ত্রের কর্ম প্রক্রিয়ায় প্রায় সর্বত্র স্থির তড়িৎ ব্যবহার করা হয়
- একটি চোঙাকৃতি ধাতব ড্রামের উপর আলোক সংবেদনশীল (যেমন-সেলুলয়েড ফিল্ম থাকে) পদার্থের প্রলেপ দেয়া থাকে। ড্রামটি সমদ্রুতিতে এর অক্ষের সাপেক্ষে ঘুরতে থাকে এবং এই প্রলেপকে প্রায় 1.5kV বিভবে ধনাত্মক আধানে সমভাবে আহিত করা হয়। 
- অন্যদিকে যে কাগজের কপি করতে হবে তার উপর আলো ফেলা হয় এবং লেন্সের সাহায্যে এর প্রতিবিম্ব ড্রামের আলোক সংবেদনশীল পদার্থের প্রলেপের উপর ফেলা হয়, এর ফলে ড্রামের যে স্থানে আলো পড়ে সে স্থানের আধানগুলি নিস্তড়িৎ হয়ে যায় আর যেখানে আলো পড়েনা (লেখা অংশ) সেখানে আধান থেকে যায়। 
- এই অবস্থায় ড্রামটি ঘুরে পাউডারের মতো সূক্ষ্ম কালির সংস্পর্শে আসে এবং আগের থেকেই কালিকে ঋণাত্মক আধানে আহিত করা থাকে, ফলে ড্রামটি যে স্থানগুলোতে আধান আছে সেস্থানে কালি লেগে যায়। 
- এই ড্রামটি পরবর্তীতে কাগজের (অনেক ক্ষেত্রে কাগজকে ঋণাত্মক আধানে আহিত করা হয়) উপর চাপ দিয়ে কালি লাগিয়ে দেয়া হয় এবং এই কাগজটিকে চাপ ও তাপ দিয়ে কালিকে ভালোভাবে কাগজের সাথে লাগিয়ে দেয়া হয়। 
- এইভাবেই স্থির তড়িৎ ব্যবহার করে ফটোকপি যন্ত্রের সাহায্যে কোনো কাগজের লেখার অনুরূপ কপি তৈরি করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৯৪.
ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ১ - ১২.৫%
  2. ২ - ২.৫%
  3. ০.২৫ - ১.৫%
  4. ৫.৫ - ৬.২৫%
সঠিক উত্তর:
০.২৫ - ১.৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.২৫ - ১.৫%
ব্যাখ্যা
ইস্পাত বা স্টিল এর গুণাগুণ: 
- কার্বনের পরিমাণ: ০.২৫-১.৫%।
- পান দেয়া: পান দেয়া যায়।
- গঠনাকৃতি : স্ফটিকাকার।
- নমনীয়তা ও ঘাতসহতা উভয় ধর্ম বিদ্যমান তবে পেটা লোহার থেকে কম।
- চুম্বক ধর্ম: চুম্বককে পরিণত করা যায়।
- গলনাংক: ১৩০০-১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস.।
- কাঠিন্য: কঠিন, ভঙ্গুরও নয় আবার নরমও নয়।

ব্যবহার: 
কোনো দেশ কতটা উন্নত তা সে দেশের ইস্পাতের ব্যবহার দেখে আন্দাজ করা যায়। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হলো-
- গৃহস্থালী সামগ্রী তৈরি করতে।
- শিল্পক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি নির্মাণে।
- যানবাহন, যেমন- গাড়ি, প্লেন, জাহাজ, রেললাইন, ইত্যাদি নির্মাণে।
- ডাক্তারী ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি তৈরিতে।

উল্লেখ্য, ঢালাই লোহায় কার্বনের পরিমাণ ২.৫% ও পেটা লোহায় কার্বনের পরিমাণ ০.১২-০.২৫%। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৮৯৫.
যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজেই নষ্ট হয় না, তাকে কী বলে?
  1. ক) স্থায়ী চুম্বক
  2. খ) অস্থায়ী চুম্বক
  3. গ) দণ্ড চুম্বক
  4. ঘ) তড়িৎ চুম্বক
সঠিক উত্তর:
ক) স্থায়ী চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্থায়ী চুম্বক
ব্যাখ্যা
যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজেই নষ্ট হয় না, তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 

স্থায়ী চুম্বকের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
- প্রকৃতিতে চুম্বক স্থায়ী হলেও তা অনেক দুর্বল প্রকৃতির। 
- স্থায়ী চুম্বক অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুম্বকীয় গুণাবলি ধরে রাখতে পারে।
- স্থায়ী চুম্বক বিভিন্ন আকারের হতে পারে।
- চুম্বকত্ব প্রদানকারী শক্তি অপসারণ করার পর এর চুম্বকত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- চৌম্বক সহনশীলতা বেশি।
- ফেরাইট একটি বহুল ব্যবহৃত স্থায়ী চুম্বক। এর চুম্বকত্ব তাপমাত্রার উপর খুব বেশি নির্ভরশীল।

সূত্র- ১৭২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৯৬.
নিচের কোনটি ধাতব খনিজ নয়?
  1. ক) ম্যাঙ্গানিজ
  2. খ) টিন
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) জিপসাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) জিপসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জিপসাম
ব্যাখ্যা
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদের ধাতব খনিজ বলে।
বিভিন্ন প্রকার ধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- লোহা
- ম্যাঙ্গানিজ
- নিকেল
- তামা
- টিন
- সোনা
- রূপা প্রভৃতি।


অন্যদিকে,
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে।
অধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- গ্রাফাইট
- জিপসাম
- কয়লা
- সালফার
- অভ্র প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল : দ্বিতীয়পত্র
২,৮৯৭.
A Chronometer in used to measure-
  1. ক) Time
  2. খ) Velocity
  3. গ) Current
  4. ঘ) Temperature
সঠিক উত্তর:
ক) Time
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Time
ব্যাখ্যা
- সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে ক্রনোমিটার।
- বিশেষ করে সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
 
সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
২,৮৯৮.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মে শক্তির কোন রূপান্তরটি ঘটে?
  1. তাপশক্তি আলোকশক্তিতে
  2. বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে
  3. আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  4. রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
♦ শক্তির রূপান্তর
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।
নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

সূত্র: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান।
২,৮৯৯.
তামার সাথে কোন ধরনের ধাতুর সংকরায়নে ব্রোঞ্জ উৎপন্ন হয়?
  1. ক) দস্তা
  2. খ) টিন
  3. গ) আয়রন
  4. ঘ) এ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টিন
ব্যাখ্যা
দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে।
যেমন- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯০০.
টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ নয় কোনটি?
  1. ক) লাল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) নীল
  4. ঘ) বেগুনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেগুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেগুনি
ব্যাখ্যা
টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ তিনটি। যথা- লাল, সবুজ এবং নীল।

- অপরদিকে, বেগুনি রঙ টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ নয়। 
- টেলিভিশন শব্দের বাংলা অর্থ দূরদর্শন। অর্থাৎ দূর থেকে দেখা। 
- টেলিভিশনে দেখা ও শোনা দুটোই ঘটে। শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক স্টেশন। 
- শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য টেলিভিশন প্রেরক স্টেশনে পৃথক পৃথক প্রেরক যন্ত্র থাকে। 
- একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয়। 
- অন্য একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়। 
- যে দৃশ্য প্রেরণ বা সম্প্রচার করতে হবে তার প্রতিবিম্ব বা ছবি লেন্সের মধ্য দিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার পর্দায় ফেলা হয়। 
- এ ছবিকে টেলিভিশন ক্যামেরা তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে। 
- এ তরঙ্গ বা সংকেতকে মডুলেশন প্রক্রিয়ায় উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গের সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়।
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন লোগি বেয়ার্ড ১৯২৬ সালে প্রথম টেলিভিশন আবিষ্কার করেন।
- ডিসপ্লে বা প্রদর্শনীর প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে টেলিভিশনকে সিআরটি, প্লাজমা, এলসিডি, এলইডিসহ বিভিন্ন ভাবে ভাগ করা যায়। 

সূত্র- ৩৭৬ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।