বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

মোট প্রশ্ন১,৩১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৭০১৮০০ / ১,৩১৩

৭০১.
নিচের কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্য?
  1. বাহিনী
  2. পরিবার
  3. আকাশ
  4. পর্বত 
সঠিক উত্তর:
পর্বত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্বত 
ব্যাখ্যা

• ‘পর্বত’ জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

---------------------
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৭০২.
কোনটি ভাববিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) চালাক ছেলে।
  2. খ) দুষ্ট ছেলেটা দৌড়ে পালালো।
  3. গ) তিনি অভিজ্ঞ মিস্ত্রি।
  4. ঘ) খুব সাবধানে থেকো।
সঠিক উত্তর:
ঘ) খুব সাবধানে থেকো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খুব সাবধানে থেকো।
ব্যাখ্যা
খুব সাবধানে থেকো - ভাব বিশেষ্যের উদাহরণ 

ভাববিশেষণ পদকে বিশেষিত করে।
যেমন - খুব ভালো ছাত্র।

• ভাববিশেষণ দুরকম: 

১. বিশেষণের বিশেষণ:
⇒ দারুণ সুন্দর দেখতে!

২. ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ:
⇒ খুব সাবধানে থেকো।                    
⇒ গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি)
৭০৩.
'নিজেরা নিজেরা' কোন ধরনের সর্বনামের উদাহরণ?
  1. আত্মবাচক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. পারস্পরিক সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
পারস্পরিক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারস্পরিক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

• আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

• নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি। 
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৭০৪.
'এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।' - এখানে 'যেন' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংকোচক অব্যয়
  2. সংযোজক অব্যয়
  3. বিয়োজক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

অন্যদিকে,
সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
- ‘অথচ’ কিন্তু, বরং শব্দগুলো সংকোচক অব্যয়।

সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 

বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৭০৫.
কোনটি অব্যয় পদ?
  1. চাতুর্য
  2. অজ্ঞাত
  3. আপাতত
  4. পড়া
সঠিক উত্তর:
আপাতত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপাতত
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যথা-
১. বাংলা, 
২. তৎসম, 
৩. বিদেশি।

বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।

সংযোজক অব্যয়:
- সংযোজক অব্যয়গুলো হলো- ও, এবং, তাই, আর, অধিকন্তু, সুতরাং ইত্যাদি। যেমন- সে রূপবান ও গুণবান।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ - অজ্ঞাত।
• পড়া - ক্রিয়া পদ।
• বিশেষ্য পদ  - চাতুর্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০৬.
'বেলে মাটি' শব্দবন্ধে 'বেলে' কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. বর্ণবাচক
  2. গুণবাচক
  3. উপাদানবাচক
  4. অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

উপাদানবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
বেলে মাটি।
পাথুরে মূর্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭০৭.
রং নির্দেশ করতে কোন বিশেষণ ব্যবহৃত হয়?
  1. উপাদানবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষণ
  3. বর্ণবাচক বিশেষণ
  4. রংবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বর্ণবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বর্ণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে ‘নীল’, ‘সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে, 
উপাদানবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে' ও ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ।

গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৭০৮.
কোন সর্বনাম পদটি সামীপ্যবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ঐ
  2. খ) তাবৎ
  3. গ) ইনি
  4. ঘ) স্বয়ং
সঠিক উত্তর:
গ) ইনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইনি
ব্যাখ্যা
সামীপ্যবাচক অর্থে ব্যবহৃত সর্বনাম পদঃ এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৭০৯.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. মাধুর্য
  2. পার্থিব
  3. স্বাতন্ত্র্য
  4. সৌন্দর্য
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পার্থিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্থিব
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - পার্থিব
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- থিবী-সংক্রান্ত, ঐহিক, জাগতিক।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - মাধুর্য, স্বাতন্ত্র্য এবং সৌন্দর্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭১০.
অব্যয় পদ প্রধানত কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
• অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

• অব্যয় পদ প্রধানত — চার প্রকার।
যথা: 
- সমুচ্চয়ী,
- অনন্বয়ী,
- অনুসর্গ এবং
- অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭১১.
নিচের কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের দৃষ্টান্ত রয়েছে?
  1. আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
  2. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  3. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  4. কখনো বা দেখা হবে।
সঠিক উত্তর:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

অন্যদিকে,
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ - কখনো বা দেখা হবে। 
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭১২.
'ছি ছি, তুমি এত নীচ!' - বাক্যে 'ছি ছি' কোন অব্যয়?
  1. অনুকার অব্যয়
  2. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. বিয়োজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-
ক. উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
খ. স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে: হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।
গ. সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।
ঘ. অনুমোদনবাচকতায়: আপনি যখন বলছেন, বেশ তো আমি যাব।
ঙ. সমর্থনসূচক জবাবে: আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।
চ. যন্ত্রণা প্রকাশে: উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে। নাঃ! এ কষ্ট অসহ্য।
ছ. ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে: ছি ছি, তুমি এত নীচ! কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।
জ. সম্বোধনে : 'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।'
ঝ. সম্ভাবনায়: 'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে পাছে লোকে কিছু বলে।'

অন্যদিকে,
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। যথা- বজ্রের ধ্বনি- কড় কড় মেঘের গর্জন – গুড় গুড়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭১৩.
‘মন‘ শব্দের বিশেষণ-
  1. ক) মানস
  2. খ) মানসিক
  3. গ) মনন
  4. ঘ) মানুষ
সঠিক উত্তর:
খ) মানসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মানসিক
ব্যাখ্যা
‘মন‘ শব্দের বিশেষণ - মানসিকতা। 

• মন (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ মনস্‌ শব্দ থেকে উদ্ভূত শব্দ 
অর্থ: যে বৃত্তির সাহায্যে মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী তার চারপাশের জগৎ ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অবহিত হয় এবং কোনো বিষয়ে চিন্তা বা কোনো কিছু অনুভব করতে পারে, চিত্ত, হৃদয়, অন্তঃকরণ, অন্তরিন্দ্রিয়। 
- স্মরণ,
- বোধ, ধারণা
- ইচ্ছা, প্রবৃত্তি। 
- নিষ্ঠা
- মনোযোগ
- পছন্দ

• মানসিক (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মানস+ইক 
অর্থ: মনোগত, কল্পনাপ্রসূত

• মানস, মনন এবং মানুষ = বিশেষ্য

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭১৪.
নিচের কোন শব্দদ্বয় সমষ্টি-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. গরু ও মিছিল
  2. সঞ্চিতা ও ইত্তেফাক
  3. জনতা ও পরিবার
  4. মিছিল ও আকাশ
সঠিক উত্তর:
জনতা ও পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনতা ও পরিবার
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, কল্প, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলােকে বিশেষ্য বলে।
যেমন – নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভােজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
- নাম-বিশেষ্য
- জাতি-বিশেষ্য
- বস্তু-বিশেষ্য
- সমষ্টি-বিশেষ্য
- গুণ-বিশেষ্য
- ক্রিয়া-বিশেষ্য

সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বােঝায়।
যেমন – জনতা, পরিবার, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।


উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৭১৫.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. ক) ক্ষমার্হ
  2. খ) গণন
  3. গ) কৈশিক
  4. ঘ) খোদিত
সঠিক উত্তর:
খ) গণন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গণন
ব্যাখ্যা
গণন হলো বিশেষ্য পদ। 
ক্ষমার্হ, কৈশিক, খোদিত হলো বিশেষণ পদ। 
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
৭১৬.
'একটানা আট দিন কোন বৃষ্টির দেখা নাই'- এখানে ' আট দিন ' কোনবাচক বিশেষণ?
  1. ক) ক্রমবাচক বিশেষণ
  2. খ) নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  3. গ) পরিমাণবাচক বিশেষণ
  4. ঘ) পূরণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রমবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রমবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত বাক্যে ' আট দিন ' হলো 'ক্রমবাচক বিশেষণ' ।

•ক্রমবাচক বিশেষণ- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়,তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। 
যেমন-
• এক টাকা
• আট দিন
• নয় মাস
•এছাড়া-
পূরণবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে ‘তৃতীয়’ ও ‘৩৪তম পূরণবাচক বিশেষণ ।

নির্দিষ্টতাবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ ।

পরিমাণবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন আধা কেজি চাল, অনেক লোক – এখানে “আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭১৭.
"বাগানে অনেক লাল গোলাপ ফুটেছে।" - বাক্যে 'লাল' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. অব্যয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ সাধারণত কোনো বিশেষ্যের গুণ, রঙ, সংখ্যা, অবস্থা ইত্যাদি প্রকাশ করে।

• "বাগানে অনেক লাল গোলাপ ফুটেছে।" - 
এ বাক্যে,
"লাল" শব্দটি "গোলাপ" এর বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করছে, যা বিশেষণের কাজ। 

এখানে,  "লাল" শব্দটি বিশেষণ পদ।

আবার, 
• ‘লাল থেকে নীল ভালো।
- এখানে 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৭১৮.
আমটা মিষ্টি নয়। এখানে ‘নয়’ একটি-
  1. ক) ক্রিয়া
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষণের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- যে ক্রিয়া বিশেষণ না-বাচক অর্থ দেয় তাকে না-বাচক ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
- উপরের বাক্যে ক্রিয়া (হয়) উহ্য আছে। নয় শব্দটি হয় ক্রিয়াকে বিশেষিত করছে।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৭১৯.
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' এর মধ্যে 'টাপুর টুপুর' কি অব্যয়?
  1. ক) অনন্বয়ী অব্যয়
  2. খ) পদান্বয়ী অব্যয়
  3. গ) অনুকার অব্যয়
  4. ঘ) সংযোজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) অনুকার অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।

যথা:
- বজ্রের ধ্বনি : কড় কড়,
- বৃষ্টির তুমুল শব্দ : ঝম ঝম,
- শুষ্ক পাতার শব্দ : মর মর,
- বাতাসের গতি : শন শন,
- কোকিলের রব: কুহু কুহু,
- বৃষ্টি পড়ার শব্দ : টাপুর টুপুর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।

৭২০.
‘নতুবা, অথবা, বা, নয়তো’ এগুলো কোন ধরণের অব্যয়?
  1. ক) অনুকার অব্যয়
  2. খ) বিয়োজক অব্যয়
  3. গ) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. ঘ) সংযোজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিয়োজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিয়োজক অব্যয়
ব্যাখ্যা
'কিংবা', নতুবা, অথবা, বা, নয়তো এগুলো বিয়োজক অব্যয়। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৭২১.
ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে— বাক্যে 'ঝম ঝম' কী ধরনের অব্যয়?
  1. ক) অনুকার
  2. খ) সমুচ্চয়ী
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) অনন্বয়ী
সঠিক উত্তর:
ক) অনুকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনুকার
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের উদাহরণঃ
বাতাসের গতি - শনশন,
বৃষ্টির তুমুল শব্দ - ঝম ঝম,
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়,
স্রোতের ধ্বনি - কলকল,
শুষ্ক পাতার শব্দ - মর মর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৭২২.
কোনটি অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. তাই
  2. অধিকন্তু
  3. কিংবা
  4. আলবত
সঠিক উত্তর:
আলবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবত
ব্যাখ্যা

অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

​অন্যদিকে,
সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - কিংবা, অধিকন্তু, তাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

৭২৩.
'পরে একবার এসো।' বাক্যে 'পরে' কোন ধরনের বিশেষণের উদাহারণ? 
  1. সর্বনামের বিশেষণ
  2. বিশেষণীয় বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়ের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। 
যথা-
ক. ক্রিয়া সংগঠনের ভাব- ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
খ. ক্রিয়া সংগঠনের কাল- পরে একবার এসো।

অন্যদিকে, 
--------------
• বিশেষণীয় বিশেষণ: যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা-
ক. নাম বিশেষণের বিশেষণ : সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
খ. ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ: রকেট অতি দ্রুত চলে।

• অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যথা- ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭২৪.
কোন শব্দের সাথে 'খানা' নির্দেশক শব্দটি বসে?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
- যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন-টা, টি, খানা, -খানি, -জন, -টুকু।

কিছু নির্দেশকের ব্যবহার:
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে-টা, -টি নির্দেশক বসে।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, -খানি নির্দেশক বসে।
-  বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -টুকু নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়।

যেহেতু প্রশ্নের অপশনে 'বিশেষণ' - রয়েছে তাই উত্তর হিসেবে এটিই গ্রহণ করা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২২ সংস্করণ)।
৭২৫.
‘সমুদয়’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘সমুদয়’ সর্বনাম পদের উদাহরণ।

------------------------
• সর্বনাম:

বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৭২৬.
"সে নিজে কাজটা করছে।" - এখানে 'নিজে' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে কাজটা করছে।),
- স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৭২৭.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. বিস্ময়
  2. বুদ্ধিমত্তা
  3. সৌহার্দ
  4. স্বতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
স্বতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - স্বতন্ত্র
- 'স্বতন্ত্র' শব্দের বিশেষ্য পদ - স্বাতন্ত্র্য।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- স্বাধীন,
- ভিন্ন, পৃথক।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - বিস্ময়, বুদ্ধিমত্তা, সৌহার্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭২৮.
নিচের কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ধৈর্য 
  2. আনন্দ
  3. দয়া
  4. ভোজন
সঠিক উত্তর:
ভোজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোজন
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৭২৯.
'পাথুরে মূর্তি'- এখানে 'পাথুরে' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. পরিমাণবাচক
  2. উপাদানবাচক
  3. ভাববাচক
  4. নির্দিষ্টতাবাচক
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক
ব্যাখ্যা
উপাদানবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে' ও ‘পাথুরেউপাদানবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
পরিমাণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- আধা কেজি চাল, অনেক লোক – এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন –
- 'খুব ভালো খবর' ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে'- এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৩০.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. আরণ্যক
  2. অভ্যাস
  3. গাম্ভীর্য
  4. মাধুর্য
সঠিক উত্তর:
আরণ্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরণ্যক
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - আরণ্যক
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- বনসম্বন্ধীয়।
- বনস্থিত।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - অভ্যাস, গাম্ভীর্য, মাধুর্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৩১.
'শয়ন' শব্দটি কোন পদ?
  1. অব্যয়
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন: 
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: ১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-
বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

৭৩২.
'আপন ভালো সবাই চায়' - এখানে 'ভালো' শব্দটি -
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণের বিশেষণ
  4. বিশেষ্যের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• 'আপন ভালো সবাই চায়' - এখানে 'ভালো' শব্দটি বিশেষ্য। 

================= 
• বিশেষ্য:
বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন:
- আপন ভালো সবাই চায়। 
বাক্যে ‘ভালো’ বিশেষ্যরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

এরূপ বিশেষ্য পদদ্বারা গঠিত বাক্য:

• বিশেষণরূপে - রহিম ভাল ছেলে।
• বিশেষ্যরূপে - আপন ভাল সবাই চায়।
• বিশেষণরূপে - মন্দ কথা বলতে নেই।
• বিশেষ্যরূপে - এখানে তুমি মন্দ কী দেখলে?
• বিশেষণরূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
• বিশেষ্যরূপে - এ এক বিরাট সত্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৩৩.
'শ টাকা' কোন প্রকার বিশেষণের উদাহরণ?
  1. সংখ্যাবাচক
  2. ক্রমবাচক
  3. পরিমাণবাচক
  4. অংশবাচক
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষণের প্রকারভেদ:
বিশেষণ পদকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- নাম বিশেষণ এবং ভাব বিশেষণ।
নাম বিশেষণকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- বিশেষ্যের বিশেষণ এবং সর্বনামের বিশেষণ।
ভাব বিশেষণকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায় যথা- ক্রিয়া বিশেষণ, বিশেষণের বিশেষণ, অব্যয়ের বিশেষণ এবং বাক্যের বিশেষণ।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ: নাম বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা
• রূপবাচক : কালাে মেঘ, নীল আকাশ, সবুজ মাঠ।
• গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া, চৌকস লোক।
• অবস্থাবাচক : মােটা মেয়ে, রােগা ছেলে, তাজা মাছ, খোঁড়া পা।
• সংখ্যাবাচক : শ টাকা, হাজার লােক, দশ দশা।
• ক্রমবাচক : পঞ্চাশ পৃষ্ঠা, অষ্টম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা। 
• পরিমাণবাচক : এক কেজি চিনি, তিন কিলােমিটার রাস্তা, বিঘাটেক জমি, দশ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ।
• অংশবাচক : ষােল আনা দখল, সিকি পথ, অর্ধেক সম্পত্তি।
• উপাদানবাচক : কাঠের জানালা, পাথরের মূর্তি, বেলে মাটি, মেটে কলসি।
• প্রশ্নবাচক : কেমন অবস্থা? কতদূর পথ? • নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক : এই মেয়ে, ষােলই ডিসেম্বর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৪.
কোনটি বিশেষণ পদ নয়?
  1. অবজ্ঞা
  2. অজ্ঞাত
  3. অবজ্ঞাত
  4. অবজ্ঞেয়
সঠিক উত্তর:
অবজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবজ্ঞা
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ নয় - অবজ্ঞা। 
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- উপেক্ষা, তাচ্ছিল্য, ঘৃণা, অপমান।

অন্যদিকে, 
বিশেষণ পদ - অজ্ঞাত, অবজ্ঞাত এবং অবজ্ঞেয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৩৫.
"ঝাঁক, বহর" কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. জাতিবাচক
  2. গুণ বিশেষ্য
  3. ভাববাচক
  4. সমষ্টিবাচক
সঠিক উত্তর:
সমষ্টিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমষ্টিবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।
----------------------
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন – 
জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বহর, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৩৬.
'বন্য' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- "বন্য" শব্দটি একটি — বিশেষণ পদ।

• 'বন্য' (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- বনে জাত বা উৎপন্ন, বুনো।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৩৭.
'উৎকর্ষ' শব্দটি -
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• 'উৎকর্ষ' শব্দটি 'বিশেষ্য' পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ: 
- উৎকৃষ্টতা, শ্রেষ্ঠত্ব,
- উন্নতি, বৃদ্ধি; আধিক্য।

উল্লেখ্য,
উৎকর্ণ - বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৩৮.
'উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে।'- বাক্যে 'উঃ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে- যন্ত্রণা প্রকাশে 'উঃ' অনন্বয়ী অব্যয়। 

-----------------
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনোভাব প্রকাশে সহায়তা করে।

যেমন:
- মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

এরূপ শব্দ ব্যবহারে বাক্য-
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
-আমি আজ আলবত যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭৩৯.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য?
  1. পর্বত
  2. পাখি
  3. মানুষ
  4. জনতা
  5. মাটি
সঠিক উত্তর:
জনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনতা
ব্যাখ্যা
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭৪০.
'অভিজাত' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি??
  1. অভিজাত্ব
  2. আভিজাত্য
  3. অভিজাততা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আভিজাত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আভিজাত্য
ব্যাখ্যা

'অভিজাত' এর বিশেষ্য রূপ - আভিজাত্য।

অভিজাত (বিশেষণ):
১) সম্ভ্রান্ত, মর্যাদাসম্পন্ন।
২) ভদ্রোচিত, শিষ্ট।
৩) জ্ঞানী।
৪) বিত্তবান।
৫) কল্পিত উচ্চবংশীয়, কুলীন।

আভিজাত্য(বিশেষ্য):
১) পাণ্ডিত্য। 
২) শীলতা।
৩) কৌলিন্য, বংশমর্যাদা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৪১.
'লোকটি দরিদ্র কিন্তু সৎ' এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো -
  1. ক) অনুকার অব্যয়
  2. খ) সংকোচক অব্যয়
  3. গ) সংযোজক অব্যয়
  4. ঘ) অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) সংকোচক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংকোচক অব্যয়
ব্যাখ্যা

সংকোচক অব্যয় - কিন্তু, বরং, অথচ। সুতরাং, 'লোকটি দরিদ্র কিন্তু সৎ' এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো সংকোচক অব্যয়।
সংযোজক অব্যয় - আর, অধিকন্তু, সুতরাং।
বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

৭৪২.
কোনটিতে বস্তুবাচক বিশেষ্য রয়েছে?
  1. ক) সবুজ মাঠ
  2. খ) তাজা মাছ
  3. গ) অর্ধেক পথ
  4. ঘ) বেলে মাটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেলে মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেলে মাটি
ব্যাখ্যা
যে পদে কোন উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে৷
এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়৷
যথা- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চনি, লবণ, পানি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪৩.
কোনটি বিশেষণ বাচক শব্দ? 
  1. জীবন
  2. জীবনী
  3. জীবিকা
  4. জীবাণু
সঠিক উত্তর:
জীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনী
ব্যাখ্যা
• জীবনী শব্দটি অর্থভেদে বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় শব্দ হিসেবি ব্যবহৃত হয়।

• জীবনী একটি সংস্কৃত শব্দ।
• জীবনী (বিশেষণ পদ),
- প্রাণশক্তি দান করে এমন অর্থে জীবনী বিশেষণ বাচক।

• জীবনী (বিশেষ্য পদ)
অর্থ:জীবনবৃত্তান্ত বা জীবন কাহিনি অর্থে 'জীবনী' বিশেষ্য পদ।

-----------------
অন্যদিকে,
• জীবন (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: প্রাণ, আয়ু।

• জীবিকা (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: বৃত্তি, পেশা।

• জীবাণু (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: খালি চোখে দেখা যায় না এমন অতি ক্ষুদ্রপ্রাণী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৪৪.
'দেশসেবার মহত্তম ব্রতই সৈনিকের দীক্ষা।' - বাক্যে 'মহত্তম' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্রমবাচক বিশেষণ
  2. বিধেয় বিশেষণ
  3. বিশেষণের অতিশায়ন
  4. ভাববাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণের অতিশায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণের অতিশায়ন
ব্যাখ্যা
বিশেষণের অতিশায়ন:
বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ে তুলনায় একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে, তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে।
যেমন -
- যমুনা একটি দীর্ঘ নদী, পদ্মা দীর্ঘতর, কিন্তু মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী।
- সূর্য, পৃথিবী ও চন্দ্রের মধ্যে তুলনায় সূর্য বৃহত্তম, পৃথিবী চন্দ্রের চেয়ে বৃহত্তর এবং চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর

তৎসম শব্দের অতিশায়ন:
১. তৎসম শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে 'তর' এবং বহুর মধ্যে 'তম' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে থাকে।
যেমন -
→ গুরু-গুরুতর-গুরুতম।
→ দীর্ঘ-দীর্ঘতর-দীর্ঘতম।
কিন্তু 'তর' প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণটি শ্রুতিকটু হলে 'তর' প্রত্যয় যোগ না করে বিশেষণের পূর্বে 'অধিকতর' শব্দটি যোগ করতে হয়।
যেমন - অশ্ব হস্তী অপেক্ষা অধিকতর সুশ্রী।

২. বহুর মধ্যে অতিশায়নে তুলনীয় বস্তুর উল্লেখ না করেও 'তম' প্রত্যয় যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
- মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী।
- দেশসেবার মহত্তম ব্রতই সৈনিকের দীক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
৭৪৫.
"যথা কর্ম তথা ফল।"- এ বাক্যে কোন ধরনের অব্যয়ের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অনন্বয়ী অব্যয়
  2. প্রত্যয়ান্ত অব্যয়
  3. নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়
  4. অব্যয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়
ব্যাখ্যা

• নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন:
- যথা-তথা,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন,
- যে রূপ- সে রূপ ইত্যাদি।

বাক্যে উদাহরণ:
- যথা ধর্ম তথা জয়।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
- যথা কর্ম তথা ফল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭৪৬.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য?
  1. সৌরভ
  2. দর্শন
  3. তারুণ্য
  4. উৎকর্ষ
সঠিক উত্তর:
দর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দর্শন
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। যথা-
১. বিশেষ্য,
২. নামবাচক,
৩. জাতিবাচক,
৪. বস্তুবাচক,
৫. সমষ্টিবাচক,
৬. ভাববাচক,
৭. গুণবাচক।

• ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ গমন।
তদ্রুপ: ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।

আবার, ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর 'আই' প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। চড়ু + আই = চড়াই, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।

• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা।

তদ্রুপ-
সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৭.
'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'- বাক্যের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'- বাক্যের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি বিশেষণ পদ নির্দেশ করছে।
 
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। 
 
• বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
- বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
- বিশেষণ: 'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'
- ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
- ক্রিয়া বিশেষণ: 'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৪৮.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. চাটুকারী
  2. চাটুকার
  3. চাটুকারিতা
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
চাটুকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাটুকার
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - চাটুকার
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- তোষা-মোদ করে এমন, তোষামোদকারী।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - চাটুকারিতা। 

উল্লেখ্য, 
- 'চাটুকারী' শব্দ অভিধানে নেই।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৪৯.
গুণবাচক বিশেষ্যটি শনাক্ত করুন।
  1. ক) তিক্ততা
  2. খ) চৌকস
  3. গ) দক্ষ
  4. ঘ) তাজা
সঠিক উত্তর:
ক) তিক্ততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তিক্ততা
ব্যাখ্যা
তিক্ততা, মধুরতা, তারুণ্য, তারল্য, সুখ, স্বাস্থ্য, দুঃখ, সৌরভ, যৌবন গুণবাচক বিশেষ্য। গুণবাচক বিশেষণ - চৌকস, দক্ষ। তাজা, রোগা, খোঁড়া - অবস্থাবাচক বিশেষণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭৫০.
'এ যে আমাদের পরিচিত জায়গা।' এখানে 'পরিচিত' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. অব্যয় 
  4. সর্বনাম 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ: 
​যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

​বাক্যে ‘পরিচিত’ শব্দটি একটি বিশেষণ পদ। এটি ‘জায়গা’ শব্দের বিশেষণ হিসেবে কাজ করছে, কারণ এটি ‘জায়গা’ নাম পদটির গুণ বা বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করছে। ‘পরিচিত’ শব্দটি নির্দেশ করছে যে জায়গাটি আমাদের জানা বা চেনা।

​এরূপ কিছু বাক্য হলো- 
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
[বাক্যে দুষ্টু ও অভিজ্ঞ বিশেষণ পদ]

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৫১.
'কিছু' পদটি কোন জাতীয় সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ
  2. প্রশ্নবাচক
  3. অনির্দিষ্ট
  4. নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট
ব্যাখ্যা
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।
 
প্রশ্নবাচক সর্বনাম: 
- প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়ােগ করা হয়।
যেমন – কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৫২.
নাম পুরুষের উদাহরণ কোনগুলো?
  1. আমি, আমরা
  2. তুমি, তোমরা
  3. সে, তারা, করিম
  4. আপনি, আপনারা
সঠিক উত্তর:
সে, তারা, করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে, তারা, করিম
ব্যাখ্যা

• পুরুষ তিন প্রকার।
যেমন:
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ,
- নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ:
ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে।
যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ:
বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে।
যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ:
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে।
যেমন:
সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৫৩.
‘পাথুরে মূর্তি’- বাক্যে ‘পাথুরে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষ্য
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘পাথুরে মূর্তি’- বাক্যে ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ পদের উদাহরণ।

------------------------
• বিশেষণ পদ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ
কোন কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে, সেই অনুযায়ী বিশেষণকে আলাদা করা যায়। বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, সেই বিবেচনায়ও বিশেষণকে ভাগ করা সম্ভব। এছাড়া বাক্যের মধ্যে বিশেষণটির অবস্থান কোথায় তা দিয়েও বিশেষণকে চিহ্নিত করা যায়। এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যথা:

• বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি- এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি (এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ)।

• প্রশ্নবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: কেমন গান? কতক্ষণ সময়? এখানে 'কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

• নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে। যেমন: 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

• বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন: ‘লোকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘোলা’- বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘোলা’ বিধেয় বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩-সংস্করণ)।
৭৫৪.
'বীরত্ব' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ- 
  1. নামবাচক-বিশেষ্য
  2. বস্তুবাচক-বিশেষ্য
  3. গুণবাচক-বিশেষ্য
  4. জাতিবাচক-বিশেষ্য
  5. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

'বীরত্ব' গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 
--------------------------
বিশেষ্য পদ:
- যে শব্দ বা পদ দিয়ে ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, জাতি, গুণ কিংবা কোনো কাজের নাম প্রকাশ করা হয়, তাকে বিশেষ্য পদ (Noun) বলা হয়।
- বিশেষ্য মূলত কোনো কিছুর নাম নির্দেশ করে এবং বাক্যের গঠন ও অর্থ প্রকাশে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণ:
- সালাম, বরকত, ওয়াজেদ আলী, লক্ষ্মীপুর, শ্রীলঙ্কা, এভারেস্ট, বই, কলম, পাখি, নদী, সততা, দয়া, ভোজন।
------------------------- 
•  বিশেষ্য পদ ৬ প্রকার:
• নামবাচক-বিশেষ্য: 
- কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান, সময় বা সৃষ্টির নাম বোঝায়।
- ব্যক্তিনাম: ললিতা, খুশি। 
- স্থাননাম: যশোর, নারায়ণগঞ্জ, কর্ণফুলী, দার্জিলিং। 
- কালনাম: শনিবার, আষাঢ়, মার্চ, রমজান। 
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চয়িতা, প্রথম আলো, সাবাস বাংলাদেশ। 

• জাতিবাচক-বিশেষ্য: 
- যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট প্রাণী, বস্তু বা স্থানের নাম না বলে, বরং একই জাতিভুক্ত প্রাণী, বস্তু বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝানো হয়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
- উদাহরণ: 
- মানুষ, বাঘ, গরু, ভাল্লুক, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি। 

• বস্তুবাচক-বিশেষ্য:
- কোনো বস্তু বা দ্রব্যের নাম বোঝায়।
- উদাহরণ:
- বই, খাতা, কলম, টেবিল, চেয়ার, মাটি, পানি, সোনা, চিনি, লবণ ইত্যাদি। 

• সমষ্টিবাচক-বিশেষ্য:
- কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর দল বা সমষ্টি বোঝায়।
- উদাহরণ:
- মানুষের ক্ষেত্রে: জনতা, কমিটি, জুরি, জনসমাগম ইত্যাদি।
- প্রাণীর ক্ষেত্রে: হাতির পাল, মেষের ঝাঁক ইত্যাদি। 
- বস্তুর ক্ষেত্রে: লাইব্রেরি, নৌবহর, তোড়া ইত্যাদি। 

• গুণবাচক-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদ দিয়ে কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীর গুণ, দোষ, অবস্থা, ধর্ম কিংবা মানসিক ভাবের নাম প্রকাশ করা হয়, তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
- উদাহরণ:
- উদারতা, বীরত্ব, ভদ্রতা, তারুণ্য, বার্ধক্য, অসুস্থতা, দারিদ্র্য, প্রেম, ক্রোধ, ভক্তি, করুণা, সততা, অসুস্থতা, দারিদ্র্য, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, ধৈর্য, সাহস, 

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- কোনো কাজ বা ক্রিয়ার নাম বোঝায়।
- উদাহরণ:
- পঠন, ভোজন, শয়ন, গমন, দর্শন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 

৭৫৫.
কোনটি পারস্পরিক সর্বনাম?
  1. নিজেরা নিজেরা
  2. স্বয়ং
  3. অমুক
  4. সকলকে
সঠিক উত্তর:
নিজেরা নিজেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজেরা নিজেরা
ব্যাখ্যা

• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনামকে ৯টি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়।
যথা:

১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যাক্তির নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন: আমি, তুমি, সে ইত্যাদি।

২. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৩. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে এই সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কেউ, কোথাও, একজন, কিছু ইত্যাদি।

৪. নির্দেশবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব প্রকাশ করে তাকে নির্দেশবাচক সর্বনাম বলে।
যেমন: এ, এই, এরা, ইনি ইত্যাদি।

৫. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এই সর্বনামটি ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরষ্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগীতা বা নির্ভরশীলতা বোঝাতে পারষ্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: সবাই, সকলে, সকলকে ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোন অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৭৫৬.
'চন্দ্র' এর বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. চান্দ্র
  2. চাঁদ
  3. চন্দ্রা
  4. চান্দ্রা
সঠিক উত্তর:
চান্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চান্দ্র
ব্যাখ্যা
• 'চন্দ্র' এর বিশেষণ রূপ - 'চান্দ্র'। 

• 'চান্দ্র'(বিশেষণ) চন্দ্র সম্পর্কিত।
------------------
• 'চন্দ্র' (বিশেষ্য) বলতে বোঝায়: পৃথিবীর উপগ্রহ-যা পৃথিবীকে মাসে একবার প্রদক্ষিণ করে। 

• 'চন্দ্র' এর সমার্থক শব্দ: 
- চাঁদ; চন্দ্রমা; নিশাকর; নিশাকান্ত; শশধর; হিমাংশু; সুধাংশু; সুধাকর; ইন্দু; বিধু; শশী; সোম; মৃগাঙ্ক।

উৎস: অভিগম্য অভিধান- বাংলা একাডেমি। 
৭৫৭.
'আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি।'- কাব্যে 'কিন্তু' কোন শ্রেণির অব্যয়?
  1. অনন্বয়ী অব্যয়
  2. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. অনুসর্গ অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সমুচ্চয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।যেমন:
• সংযোজক অব্যয়:
- উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে 'ও' সংযোজক অব্যয়।
- তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে 'তাই' সংযোজক অব্যয়।
- তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• বিয়োজক অব্যয়:
- হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।
- আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। 'কিন্তু' অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক।

- তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক ন অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে 'অথচ' সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৭৫৮.
"কাজ” শব্দটি কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

কাজ (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
-  কর্ম, কার্য (কাজ করা)। 
- দরকার (রোজ গিয়ে কাজ নেই)। 
- কৃত বিষয় (এটা নিশ্চয় ওর কাজ)।
- কর্তব্য (তোমার কাজ পড়াশোনা করা)।
-  উদ্দেশ্য সিদ্ধি (ওষুধে কাজ হয়েছে)। 
- কারুকার্য (রঙের কাজ)।
- সাধ্য (এ কাজ ওর আয়ত্তের বাইরে)।
- ব্যবহারযোগ্যতা (এটা কোনো কাজের নয়)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৭৫৯.
'অধ্যয়ন' শব্দের বিশেষণ কী?
  1. অধ্যয়নকৃত
  2. অধীত
  3. অধ্যয়নরত
  4. পঠিত
সঠিক উত্তর:
অধীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধীত
ব্যাখ্যা

'অধ্যয়ন' শব্দের বিশেষণ হচ্ছে - অধীত।

উল্লেখ্য,
- 'অধ্যয়ন’ শব্দটি - বিশেষ্য পদ।
- ‘'অধ্যয়ন’ শব্দের অর্থ - পঠন; অভিনিবেশ সহকারে পাঠ।
- “অধীত” শব্দটি বিশেষণ পদ।
- ‘অধীত’ শব্দের অর্থ - পাঠ করা হয়েছে এমন, পঠিত।

অন্যদিকে,
‘অধ্যয়নরত’ শব্দটি - বিশেষণ পদ।
‘অধ্যয়নরত’ শব্দের অর্থ - গভীর মনোযোগ সহকারে পাঠ করছে এমন।

‘পঠিত’ শব্দটি - বিশেষণ পদ।
‘পঠিত’ শব্দের অর্থ - পাঠ করা হয়েছে এমন, অধীত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৬০.
কোনটি নির্দেশক সর্বনামের উদাহরণ?
  1. একজন
  2. কেউ
  3. স্বয়ং
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।

যেমন:
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অন্যদিকে,
আত্মবাচক সর্বনাম - স্বয়ং।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - একজন, কেউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৬১.
রকেট অতি দ্রুত চলে। কীসের উদাহরণ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণের অতিশায়ন
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনামের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- উপরের বাক্যে 'চলে' ক্রিয়াকে 'দ্রুত' শব্দটি বিশেষিত করছে।
- সুতরাং 'দ্রুত' একটি ক্রিয়া বিশেষণ।
- আবার 'দ্রুত' শব্দটিকে 'অতি' শব্দটি বিশেষিত করছে।
- তাই 'অতি' ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ।



উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
৭৬২.
সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য কোন পদে বেশি বেশি দেখা যায়-
  1. ক) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া ও সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষ্য ও ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা
সাধুভাষায় সর্বনাম পদ পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন- তাহার, তাহারা ইত্যাদি। চলিত রীতিতে সর্বনামগুলাে সংকুচিত রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন- তার, তারা ইত্যাদি। সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন- করিয়া, পড়িয়া, খেলিয়া ইত্যাদি। চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্তভাবে ব্যবহৃত হয়। যেমন- করে, পড়ে, খেলে ইত্যাদি। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৭৬৩.
সংযোগজ্ঞাপন সর্বনাম কোনটি?
  1. ক) কিছু
  2. খ) স্বয়ং
  3. গ) যে
  4. ঘ) তাবৎ
সঠিক উত্তর:
গ) যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যে
ব্যাখ্যা
সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম পদ: 
- যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা।

আত্মবাচক সর্বনাম পদ
- স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।

অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম পদ
- কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি।

ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ
- আমি, তুমি, আমরা, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।

সাকুল্যবাচক সর্বনাম:
- সব, সকল, তাবৎ।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী
৭৬৪.
আত্মবাচক সর্বনাম পদ কোনটি?
  1. কেউ
  2. স্বয়ং
  3. যাহারা
  4. আমি
সঠিক উত্তর:
স্বয়ং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বয়ং
ব্যাখ্যা
• আত্মবাচক সর্বনাম পদ- স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।

অন্যদিকে,
"কেউ" - অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম পদ।
"যাহারা" - সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম পদ।
"আমি" - ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী) (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৭৬৫.
"তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।" বাক্যে 'অথচ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংকোচক অব্যয়
  2. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. বিয়োজক অব্যয়
  4. সংযোজক অব্যয়
  5. কোনোটিই
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
ব্যাখ্যা

• সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
যেমন- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে। 
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়। 

বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।
 
সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 
 
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)

৭৬৬.
'দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে' পঙক্তির 'যেন' কোন পদ?
  1. ক) ভাব বিশেষণ
  2. খ) পদান্বয়ী অব্যয়
  3. গ) সংযোজক অব্যয়
  4. ঘ) অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) সংযোজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংযোজক অব্যয়
ব্যাখ্যা

যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে,কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায় তাকে অব্যয় পদ বলে।যে যদি ,যদিও , যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে।
যেমন:
- দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
- এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।
- আজ যদি পারি, একবার সেখানে যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৬৭.
'ওকে দিয়ে ক্রিকেট হবে না' বাক্যে 'দিয়ে' কোন অব্যয়?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
পদান্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদান্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ/পদান্বয়ী' অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, এদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
যেমন: ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
অনুসর্গ অব্যয়কে 'পদান্বয়ী' অব্যয় ও বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭৬৮.
বিশেষণ পদের উদাহরণ কোনটি?
  1. ধৈর্য 
  2. দীনতা
  3. আনন্দ
  4. চালাক
সঠিক উত্তর:
চালাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালাক
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন-
- চালাক ছেলে,
- ঠান্ডা পানি
উপরের উদাহরণগুলোতে ‘চালাক’ ও ‘ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ

অন্যদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতাধৈর্য ইত্যাদি।


------------------
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

শব্দটি কীভাবে গঠিত, কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে এবং বাক্যের মধ্যে বিশেষণের অবস্থান কোথায় এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন:
- বর্ণবাচক বিশেষণ,
- গুণবাচক বিশেষণ,
- অবস্থানবাচক বিশেষণ,
- ক্রমবাচক বিশেষণ,
- পূরণবাচক বিশেষণ,
- পরিমাণবাচক বিশেষণ,
- উপাদানবাচক বিশেষণ,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ,
- নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ,
- ভাববাচক বিশেষণ,
- বিধেয় বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৬৯.
কোন শব্দটি বিশেষ্য পদ?
  1. চালাক
  2. চাতুর্য
  3. চঞ্চল
  4. চতুর
সঠিক উত্তর:
চাতুর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাতুর্য
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - চাতুর্য
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

​শব্দের অর্থ:
​- চতুরতা।

​অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - চতুর, চঞ্চল এবং চালাক।

​​উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৭০.
রূপবাচক বিশেষণ কোনটি?
  1. সবুজ মাঠ
  2. মেটে কলসি
  3. ঠাণ্ডা হাওয়া
  4. সিকি পথ
সঠিক উত্তর:
সবুজ মাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ মাঠ
ব্যাখ্যা
• রূপবাচক নাম বিশেষণ - সবুজ মাঠ।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৭৭১.
‘দেখা’ কী পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

- ‘দেখা’ একটি কৃদন্ত পদ। দেখ্ + আ = দেখা।
- এটি বিশেষ্য পদ। ক্রিয়া থেকে এসেছে বলে এটাকে ক্রিয়া বিশেষ্যও বলা হয়।
ক্রিয়া বিশেষ্যের আরও উদাহরণ :
- দেখা
- শোনা
- বলা
- চলা
- লেখা
- ভোজন
- দর্শন

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।

৭৭২.
কোনটি জাতি বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. আনন্দ
  2. সাগর
  3. বঙ্গোপসাগর
  4. হাবিব
সঠিক উত্তর:
সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগর
ব্যাখ্যা
জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - বঙ্গোপসাগর, হাবিব।
গুণ-বিশেষ্য - আনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৭৭৩.
কোন শব্দটি বিশেষ্য পদ নয়?
  1. ন্যায়
  2. লাজ
  3. মধুর
  4. সন্ধ্যা
সঠিক উত্তর:
মধুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুর
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ নয় - মধুর
- এটি বিশেষণ পদ।
- 'মধুর' এর বিশেষ্য পদ - মাধুর্য।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত মিষ্ট।
- প্রীতিকর।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - ন্যায়, লাজ, সন্ধ্যা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৭৪.
নিচের কোনটি সকলবাচক সর্বনাম পদের দৃষ্টান্ত?
  1. স্বয়ং
  2. তাবৎ
  3. অমুক
  4. তাহারা
সঠিক উত্তর:
তাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাবৎ
ব্যাখ্যা
⇒ সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

⇒ আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

⇒ অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৭৭৫.
অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।- বাক্যে ‘অভিজ্ঞ’ কোন পদ?
  1. অনুসর্গ
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:
বিশেষণ হলো সেই শব্দশ্রেণি যা অন্য শব্দের অর্থকে বিশাদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশাদ হয়। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর পরিমাণ, সংখ্যা, সম্বন্ধ ইত্যাদি প্রকাশ করে তখন শব্দের অর্থ সীমিত হয়ে যায়।
যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৭৬.
কোনটি গুণবাচক বিশেষণ?
  1. পাথুরে মূর্তি
  2. ঠাণ্ডা হাওয়া
  3. তাজা মাছ
  4. নীল আকাশ
সঠিক উত্তর:
ঠাণ্ডা হাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠাণ্ডা হাওয়া
ব্যাখ্যা

বিশেষণের প্রকারভেদ:
রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৭৭.
নিচের কোনটি উত্তম পুরুষ?
  1. আমরা
  2. তোমরা
  3. তিনি
  4. সে
সঠিক উত্তর:
আমরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা
ব্যাখ্যা
• 'আমরা'- উত্তম পুরুষের উদাহরণ। 

• উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।

• মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই, তোমরা। 
 
• প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাহারা, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎমামুদ। 
৭৭৮.
কোন শব্দটি বিশেষ্য পদ নয়?
  1. স্বতন্ত্র
  2. বুদ্ধিমত্তা
  3. বিস্ময়
  4. সৌহার্দ
সঠিক উত্তর:
স্বতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ নয় - স্বতন্ত্র
- বিশেষণ পদ - স্বতন্ত্র।
- 'স্বতন্ত্র' শব্দের বিশেষ্য পদ - স্বাতন্ত্র্য।

শব্দের অর্থ:
- স্বাধীন,
- ভিন্ন, পৃথক।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - বিস্ময়, বুদ্ধিমত্তা, সৌহার্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৭৯.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. অভিমুখিতা
  2. গাঁথুনি
  3. প্রস্তুত
  4. খোঁয়ারি
সঠিক উত্তর:
প্রস্তুত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্তুত
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- দুঃসাহসী, চিরন্তন, প্রস্তুত।

-------------------
• বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- খোঁয়ারি, গতিবিদ্যা, গতকল্য, অভিমুখিতা, গাঁথুনি, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৮০.
নিচের কোনটি বস্তু বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. পর্বত
  2. ফুল
  3. কাগজ
  4. ফল
সঠিক উত্তর:
কাগজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাগজ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
 
• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।
 
• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
 
• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই, কাগজ ইত্যাদি।
 
• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
 
• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
 
• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৮১.
নিচের কোনটি উত্তম পুরুষের উদাহরণ?
  1. তুমি
  2. আমি
  3. আপনি
  4. তাহাকে
সঠিক উত্তর:
আমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি
ব্যাখ্যা
• 'আমি'- উত্তম পুরুষের উদাহরণ। 
---------------------
উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি।

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই। 

প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎমামুদ।
৭৮২.
'ঠান্ডা হাওয়া' - এখানে 'ঠান্ডা' কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. উপাদানবাচক
  3. গুণবাচক
  4. ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন - চালাক ছেলে, ঠান্ডা হাওয়া - এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৮৩.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. চালাক
  2. চালাকি
  3. চাতুরী
  4. চাতুর্য
সঠিক উত্তর:
চালাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালাক
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ - চালাক
- এটি একটি ফরাসি শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- বুদ্ধিমান,
- চতুর।

অন্যদিকে, 
- চাতুরী, চাতুর্য, চালাকি - শব্দগুলো বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৮৪.
'সুন্দর মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।'- এই বাক্যে সুন্দর শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘সুন্দর মাত্রেরই একটি আকর্ষণ শক্তি আছে’ - এই বাক্যে ‘সুন্দর’ শব্দটি হলো 'বিশেষ্য' পদ।
- এখানে 'সুন্দর' হলো গুণবাচক বিশেষ্য।

• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
• মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা
• তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য
• তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা
• তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।

তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

• সন্দর বিশেষ্য পদ যোগে গঠিত কিছু বাক্য হলো:
- সুন্দর (বিশেষ্য) মানুষকে নিজের দিকে টানে।
- সুন্দর (বিশেষ্য) মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।
- সুন্দরের (বিশেষ্য) একটি নিজস্ব আকর্ষণ শক্তি আছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮৫.
‘ছাব্বিশে মার্চ’ কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
  2. ভাববাচক
  3. উপাদানবাচক
  4. অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
ব্যাখ্যা
• ছাব্বিশে মার্চ - নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক বিশেষণ।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮৬.
'খুব ভালো খবর।'  বাক্যে 'খুব' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. অবস্থাবাচক
  4. ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
ব্যাখ্যা

• ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

৭৮৭.
কোনটি গুণবাচক বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ঠান্ডা পানি
  2. নীল আকাশ
  3. তরল পদার্থ
  4. চলন্ত ট্রেন
সঠিক উত্তর:
ঠান্ডা পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠান্ডা পানি
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি।- এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ

অন্যদিকে, 
• বর্ণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা।- এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ।- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৭৮৮.
ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি যোগে গঠিত বিশেষণের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. কাঁদো কাঁদো
  2. ভনভনে
  3. খুকখুক
  4. ঠকঠক
সঠিক উত্তর:
কাঁদো কাঁদো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁদো কাঁদো
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াজাত বিশেষণ:
এ ধরণের বিশেষণ ধাতুর বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় বা ধাতু প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয়। একে কৃদন্ত বিশেষণও বলা হয়।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন। 
- পঠিত গ্রন্থ। 

ক্রিয়াপদের দ্বিত্ব ঘটিয়েও বিশেষণ করা যায়।
যেমন: যায় যায় অবস্থা, খাই খাই স্বভাব, কাঁদো কাঁদো চেহারা। 

অন্যদিকে, 
ধ্বন্যাত্মক শব্দজাত বিশেষণ:
ধ্বন্যাত্মক শব্দ সরাসরি কিংবা অন্ত্যপ্রত্যয়যুক্ত হয়ে এ ধরনের বিশেষণ গঠন করে।
যেমন: খুকখুক কাশি, ভনভনে মাছি, ঠকঠক শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮৯.
কোনটি সৃষ্টিনাম বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. পদ্মা
  2. ইত্তেফাক
  3. বৈশাখ
  4. বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
ইত্তেফাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইত্তেফাক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৯০.
"আপন ভালো সবাই চায়।"- এই বাক্যে 'ভালো' কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• "আপন ভালো সবাই চায়।"- এই বাক্যে 'ভালো' বিশেষ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
• এখানে 'ভালো' গুণবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

• গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা-
- মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা,
- তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য,
- তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা,
- তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।
- তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭৯১.
নিচের কোনটি বিশেষণ?
  1. দারিদ্র্য
  2. বৈচিত্র্য
  3. সমগ্র
  4. দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
সমগ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমগ্র
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ হলো — যে পদ দ্বারা কোনো বিশেষ্যের গুণ, অবস্থা, পরিমাণ, সংখ্যা ইত্যাদি প্রকাশ পায়।

এখানে, 
• 'সমগ্র' শব্দটি বিশেষণ।
- বিশেষ্যের পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন: "সমগ্র পৃথিবী।"

অন্য শব্দগুলো বিশেষ্য- 
• দারিদ্র্য: বিশেষ্য (অবস্থা), 
• বৈচিত্র্য: বিশেষ্য (অবস্থা), 
• দৈর্ঘ্য: বিশেষ্য (পরিমাণ)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৯২.
কোনটি নির্দেশক নয়?
  1. -টা
  2. -তম
  3. -খানা
  4. -জন
সঠিক উত্তর:
-তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-তম
ব্যাখ্যা

' যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। যেমন, -টা, -টি, -খানা, -খানি,-জন, -টুকু।

বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা ,-টি নির্দেশক যুক্ত হয়।
বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয় -খানা, -খানি নির্দেশক।
শুধু মানুষের ক্ষেত্রে -জন নির্দেশক ব্যবহৃত হয়।
কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমান বোঝায় সেক্ষেত্রে -টুকু নির্দেশক যুক্ত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেনি।

৭৯৩.
'বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।' - বাক্যে 'বাস্তবিকই' কী রূপে ব্যবহার হয়েছে?
  1. বাক্যের বিশেষণ
  2. অব্যয়ের বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষণীয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বাক্যের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে।
যেমন:
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।
 
অন্যদিকে,
অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন:
- ধিক্‌ তারে, শত ধিক্‌ নির্লজ্জ যে জন।
 
ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যেমন: 
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।
 
বিশেষণীয় বিশেষণ: 
- যে পদ নাম বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। 
যথা:
ক. নাম বিশেষণের বিশেষণ: এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত। সামান্য একটু দুধ দাও।
খ. ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ: রকেট অতি দ্রুত চলে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৭৯৪.
'তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।' -এখানে 'অথচ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
ব্যাখ্যা

সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

ক. সংযোজক অব্যয়:
(i) উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। এখানে 'ও' অব্যয়টি বাক্যস্থিত দুটি পদের সংযোজন করছে।
(ii) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে।
আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।

খ. বিয়োজক অব্যয়:
(i) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।
এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।
(ii)'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'। এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি বাক্যাংশের বিয়োজক।
আমরা চেষ্টা করেছি বটে, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। এখানে 'কিন্তু' অব্যয় দুটি বাক্যের বিয়োজক।
বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয়।

গ. সংকোচক অব্যয়: তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

ঘ. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়: যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে। যেমন-
১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭৯৫.
‘কতক্ষণ সময়?’ বাক্যে ‘কতক্ষণ’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- কেমন গান?
- কতক্ষণ সময়?
[ এখানে ‘কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ। কারণ ‘কেমন' ও 'কতক্ষণ' শব্দদুটি ‘গান ও সময়’ শব্দকে বিশেষিত করেছে।]

------------------
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

শব্দটি কীভাবে গঠিত, কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে এবং বাক্যের মধ্যে বিশেষণের অবস্থান কোথায় এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন:
- বর্ণবাচক বিশেষণ,
- গুণবাচক বিশেষণ,
- অবস্থানবাচক বিশেষণ,
- ক্রমবাচক বিশেষণ,
- পূরণবাচক বিশেষণ,
- পরিমাণবাচক বিশেষণ,
- উপাদানবাচক বিশেষণ,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ,
- নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ,
- ভাববাচক বিশেষণ,
- বিধেয় বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৯৬.
কোনটি সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম?
  1. আমরা
  2. তারা
  3. যারা
  4. এরা
সঠিক উত্তর:
যারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যারা
ব্যাখ্যা
• সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম - যারা।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৭৯৭.
“সন্ধ্যা” শব্দের বিশেষণটি নির্দেশ করুন?
  1. ক) সাঁঝ
  2. খ) সন্ধ্যা
  3. গ) সন্দা
  4. ঘ) সান্ধ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সান্ধ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সান্ধ্য
ব্যাখ্যা
সান্ধ্য (বিশেষণ) - ১) সন্ধ্যাকালীন; সন্ধ্যাবেলার।
২) সন্ধ্যাসম্পর্কিত।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) সন্ধ্যা+অ(অণ্‌)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৭৯৮.
"আমি এখানে টানা পাঁচটি বছর কাজ করেছি।" - এখানে 'পাঁচটি' কোন পদ?
  1. গুণবাচক বিশেষণ
  2. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  3. সংখ্যাবাচক বিশেষণ
  4. অংশবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• "আমি এখানে টানা পাঁচটি বছর কাজ করেছি।" - এখানে 'পাঁচটি' সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম  বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭৯৯.
নিচের কোনটি গুণ-বিশেষ্য?
  1. দীনতা
  2. সমিতি
  3. পরিবার
  4. শয়ন
সঠিক উত্তর:
দীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনতা
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
- নাম-বিশেষ্য,
- জাতি-বিশেষ্য
- বস্তু-বিশেষ্য,
- সমষ্টি-বিশেষ্য,
- গুণ-বিশেষ্য,
- ক্রিয়া-বিশেষ্য।

নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন:
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮০০.
ভাববাচ্যে নিচের কোনটি বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. কর্ম
  2. বিভক্তি
  3. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  4. কর্তা
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্রণ করে, তাকে ভাব বাচ্য  বলে।
যেমন:
- আমার যাওয়া হলো না। 
- কোথা থেকে আসা হলো। 
- এখানে আসা, যাওয়া হলো ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: নবম-দশম শ্রেনি, বাংলা ব্যাকরণ ( ২০২১ সংস্করণ )।