বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

মোট প্রশ্ন১,৩১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৬০১৭০০ / ১,৩১৩

৬০১.
‘ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন’—এ বাক্যে ‘ধিক্‌, শত ধিক্’ কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বাক্যের বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষণীয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়ের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়ের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

অব্যয়ের বিশেষণঃ
যে ভাব - বিশেষণ অব্যয় পদ বা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষায়িত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন, ধিক্‌ তারে, শত ধিক্‌ নির্লজ্জ যে জন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

৬০২.
কোন বস্তুর সংখ্যা বা পরিমাণ বোঝাতে কোন পদ ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সংখ্যাবাচক বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়া পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৬০৩.
'বেলে মাটি' - কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. উপাদানবাচক
  3. বর্ণবাচক
  4. অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক
ব্যাখ্যা

বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

• উপাদানবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- বেলে মাটি
- পাথুরে মূর্তি।
- মেটে কলসি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

৬০৪.
‘ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘নইলে’ শব্দটি কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ
  2. আবেগ
  3. ক্রিয়া
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?

- যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, অতএব, যদি, যত-তত ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬০৫.
'গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত' – এখানে ‘নিশীথে’ কোন পদ?
  1. নাম বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ভাব বিশেষণ 
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন:
বিশেষণ রূপে: নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।
বিশেষ্য রূপে: গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে: ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।
বিশেষ্য রূপে: আপন ভালো সবাই চায়।

বিশেষণ রূপে: মন্দ কথা বলতে নেই।
বিশেষ্য রূপে: এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে: তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।
বিশেষ্য রূপে: পুণ্যে মতি হোক।

বিশেষণ রূপে: শীতকালে কুয়াশা পড়ে। 
বিশেষ্য রূপে: শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার।

বিশেষণ রূপে: সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে: এ এক বিরাট সত্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬০৬.
নিচের কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. তুমি কবে লন্ডন যাচ্ছ?
  2. মেয়ে দুটি ছাদের ওপরে হাঁটছে।
  3. সব বস্তিতেই এখন টিউবওয়েল বসেছে।
  4. ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।
সঠিক উত্তর:
ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 
- সব বস্তিতেই এখন টিউবওয়েল বসেছে।
- মেয়ে দুটি ছাদের ওপরে হাঁটছে।
- তুমি কবে লন্ডন যাচ্ছ?

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
৬০৭.
কোন বাক্যটিতে নাম-বিশেষণের বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামান্য একটু দুধ দাও।
  2. বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
  3. ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-

নাম-বিশেষণের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
- আজ আবহাওয়া অনেক ভালো।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
- ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬০৮.
"এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।" - এই বাক্যে 'অতিশয়' কোন পদ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষণীয় বিশেষণ
  3. সর্বনামের বিশেষণ
  4. অব্যয়ের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণীয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:
• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
- ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬০৯.
‘করা’ কী ধরনের শব্দ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
ক্রিয়া থেকে যে বিশেষ্য পাওয়া যায় তাকে ক্রিয়া বিশেষ্য বলে।
অর্থাৎ ক্রিয়ার নামও এক ধরনের বিশেষ্য।
যেমন : পঠন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন)
৬১০.
নিচের কোনগুলো বিরোধমূলক যোজক?
  1. কিন্তু, তবু
  2. না-হয়, অথচ
  3. এবং, ও
  4. কারণ, যেহেতু
সঠিক উত্তর:
কিন্তু, তবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিন্তু, তবু
ব্যাখ্যা

• যোজক শব্দের কাজ একাধিক পদ, খণ্ডবাক্য কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। অর্থ ও সংযোজনের ধরন অনুযায়ী যোজক বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে।
যেমন:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের শব্দশ্রেণি দুটি শব্দ কিংবা বাক্যকল্পকে জুড়ে দেয়। সাধারণ যোজক শব্দ হলো- এবং, ও, আর। যেমন : মিমিয়া আর আলিয়া দু বোন। সুখ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে না। স্কুলে যাও এবং পঠ মন দাও।

• বৈকল্পিক যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক পদ, বা বাক্যকল্প বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। বৈকল্পিক যোজক হলো- বা, না-হয়, অথচ। যেমন- সাদা বা কালো। তিনি হয় রিকশায় না হয় হেঁটে যাবেন। সারাদিন খুঁজলাম, অথচ বইটা পেলাম না।

• বিরোধমূলক যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বিরোধ নির্দেশ করে। বিরোধমূলক যোজক হলো- কিন্তু, তবু। যেমন: তোমাকে চিঠি লিখেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি। এই বৃষ্টি হলো, তবু গরম গেল না।

• কারণবাচক যোজক: এ ধরনের যোজক এমন দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। কারণবাচক যোজক হলো– কারণ, যেহেতু, তাই, অতএব। যেমন: জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ পরিবহন ধর্মঘট। যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। তুমি অপরাধী, অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের সংযোজক একে অন্যের পরিপুরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সাপেক্ষ যোজক হলে যথা... তথা, যত .... তত, যখন ... তখন, যেমন তেমন, যেরূপ সেরূপ। যেমন: যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬১১.
নিচের কোনটি বিস্ময় আবেগের ভাব প্রকাশ করে?
  1. আরে
  2. আহা
  3. উহ্‌
  4. বাহ্‌
সঠিক উত্তর:
আরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরে
ব্যাখ্যা
আবেগ:
- মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!

অন্যদিকে,
• আহা - করুণা আবেগ।
• উহ্‌ - আতঙ্ক আবেগ।
• বাহ্‌ - প্রশংসা আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬১২.
'নিশ্চয়ই পারব।' - বাক্যে 'নিশ্চয়ই' কোন অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. অনুসর্গ অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

কয়েকটি অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৬১৩.
‘সকলে ঘটনাটা জেনেছে।’- বাক্য ব্যবহৃত ‘সকলে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষ্য
  3. যোজক
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘সকলে ঘটনাটা জেনেছে।’- বাক্য ব্যবহৃত ‘সকলে’ সকলবাচক সর্বনাম পদের দৃষ্টান্ত

⇒ সর্বনাম:

 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬১৪.
আমি ঢাকায় চাকরি করি। কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক) নামবাচক বিশেষ্য
  2. খ) স্থানবাচক বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া বিশেষণ স্থান নির্দেশ করে তাকে স্থানবাচক ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যেমন :
চাকরি করি ক্রিয়াকে ঢাকা শব্দটি বিশেষিত করছে বলে ঢাকা ক্রিয়া বিশেষণ।
৬১৫.
‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’ – বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনন্বয়ী অব্যয়:
- অনন্বয়ী অব্যয় হলো এমন একটি অব্যয়, যা বাক্যের অন্য কোনো পদের সঙ্গে ব্যাকরণগতভাবে যুক্ত নয়। এই ধরনের অব্যয় মূলত মনের আবেগ, সম্বোধন বা বিস্ময় প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। বাক্যের অন্যান্য পদের সঙ্গে এরা কোনো সংযোগ স্থাপন করে না।

- 'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!'- বাক্যটিতে 'তো' অব্যয়টি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাক্যের অন্য পদের সাথে সরাসরি সম্বন্ধ না রেখে একটি বিশেষ ভাব (এখানে প্রশংসা বা জোর) প্রকাশ করে।

উদাহরণ:
• আবেগ বা বিস্ময় প্রকাশ:
- "বাঃ!" কী সুন্দর দৃশ্য!
- "আহা!" বেচারি খুব কষ্ট পেয়েছে।

• আফসোস প্রকাশ:
- "হায়," আমার কপালে কি এই ছিল?

• সম্বোধন প্রকাশ:
- "ওহে," এদিকে এসো।
- "মা," আমাকে আশীর্বাদ করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬১৬.
'উদাস' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) উদাসীন
  2. খ) ঔদার্য
  3. গ) ঔদাস্য
  4. ঘ) উদ্ধৃত
সঠিক উত্তর:
গ) ঔদাস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঔদাস্য
ব্যাখ্যা
'উদাস' এর বিশেষ্য রূপ 'ঔদাস্য'

• উদাস (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উদ্‌+√আস্‌+অ
অর্থ: 
উদাসীন, আসক্তিহীন।
- অনুরাগশূণ্য, নির্লিপ্ত।
- বিষণ্ণ; উন্মনা।
- আকুল, ব্যাকুল। 
- উদ্দেশ্যহীন

• ঔদাস্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উদাস+য
অর্থ: উদাসীনতা। 

• ঔদার্য (বিশেষ্য) 
অর্থ: উদারতা, মহানুভবতা, 

• উদ্ধৃত (বিশেষণ) 
অর্থ: কোনো রচনা বা উক্তি থেকে হুবহু গৃহীত। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬১৭.
‘মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।’- বাক্যে ‘সামনে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।


ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬১৮.
"প্রচুর শ্রম এবং অভূতপূর্ব একাগ্রতা দিয়ে সে তার দীর্ঘ সময়ের কাজটি শেষ করেছে।" - বাক্যে কয়টি বিশেষণ শব্দ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি হচ্ছে: "প্রচুর শ্রম এবং অভূতপূর্ব একাগ্রতা দিয়ে সে তার দীর্ঘ সময়ের কাজটি শেষ করেছে।"

এই বাক্যে ৩টি বিশেষণ শব্দ রয়েছে:

• প্রচুর - (শ্রমের পরিমাণ বর্ণনা করছে);
• অভূতপূর্ব - (একাগ্রতার বিশেষতা বর্ণনা করছে);
• দীর্ঘ - (সময় বর্ণনা করছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬১৯.
নিচের কোনটি ভাব বিশেষ্য এর উদাহরণ?
  1. হাত 
  2. জবা
  3. সাইকেল
  4. রাগ
সঠিক উত্তর:
রাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাগ
ব্যাখ্যা

• ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার দিক থেকে সাধারণ বিশেষ্যকে দুটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায় : 
 
মূর্ত বিশেষ্য:
- এমন ব্যাক্তি বা বস্তুর নাম বোঝায় যা দেখা যায়, স্পর্শ করা, ঘ্রান নেওয়া কিংবা পরিমাপ করা যায় । যেমন -  গোলাপ, বাক্স, হাত ইত্যাদি।

ভাব বিশেষ্য:
- নির্বস্তুক অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুনগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির নাম বোঝায়। যেমন -
আনন্দ, ইচ্ছা, শান্তি, ক্ষমা, পাপ, যুক্তি, রাগ ইত্যাদি।

এ শ্রেণীর বিশেষ্যের সঙ্গে বহুবচন প্রয়োগ খুব স্বাভাবিক নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।

৬২০.
কোনটি অব্যয়জাত বিশেষণের উদাহরণ? 
  1. হঠাৎ বড়লোক
  2. অনাগত দিন
  3. কাঁদকাঁদ চেহারা
  4. চৌচালা ঘর
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ বড়লোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ বড়লোক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) হঠাৎ বড়লোক

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
ক. ক্রিয়াজাত - হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন
খ. অব্যয়জাত - আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক
গ. সর্বনামজাত - কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি।
ঘ. সমাসসিদ্ধ - বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর
ঙ. বীপ্সামূলক - হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত - কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

৬২১.
কোন বাক্যে নিম্নরেখ শব্দ বিশেষ্যরূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন
  2. মন্দ কথা বলতে নেই
  3. শীতকালে কুয়াশা পড়ে
  4. গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত
সঠিক উত্তর:
গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত
ব্যাখ্যা
• যে পদে সাধারণত কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, সমষ্টি, বিষয়, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় বা কোনো কিছুর নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য পদ বলে। 
যেমন:
- বিশেষণ রূপে: নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
- বিশেষ্য রূপে: গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

• বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন:
বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে।
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬২২.
‘তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে’ - বাক্যটি তে ‘পাঠানো’ কোন পদবাচক শব্দ?
  1. ক) বিশেষ্য বাচক
  2. খ) ক্রিয়া বাচক
  3. গ) অনুসর্গ বাচক
  4. ঘ) যোজক বাচক
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য বাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য বাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য সাধারণত ৬ প্রকার।
যথা -
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যাক্তি, কাল, দেশ, স্থান, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নাম কে নাম-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
- স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী অপ্রাণীর সাধারণ নাম কে বোঝায়।
যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্যকে দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি কে বোঝায়।
যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা বা ধারনার নাম কে গুণ বিশেষ্য বলে।
যেমন- সরলতা, আনন্দ, দয়া, গুরুত্ব, দীনতা, ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায় তাকে ক্রিয়া বিশেষ্য বলে।
যেমন- পঠন, ভোজন, শয়ন, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি বই।
৬২৩.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. চাতুর্য
  2. নিপুণ
  3. প্রচুর
  4. প্রণীত
সঠিক উত্তর:
চাতুর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাতুর্য
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - চাতুর্য
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটির বিশেষণ পদ - চতুর।

শব্দের অর্থ:
-  চতুরতা।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - নিপুণ, প্রচুর, প্রণীত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬২৪.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ক) শিল্পদ্যোক্তা
  2. খ) মূর্চ্ছনা
  3. গ) সংস্রব
  4. ঘ) মনকষ্ট
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্রব
ব্যাখ্যা

'সংস্রব' বানানটি শুদ্ধ।
অর্থঃ সম্পর্ক; সম্বন্ধ; ছোঁয়াচ (নেতাদের সংস্রব)।

প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
শিল্পোদ্যোক্তা
মূর্ছনা
মনঃকষ্ট

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬২৫.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. কলম
  2. ভোজন
  3. সমিতি
  4. তারুণ্য
সঠিক উত্তর:
সমিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমিতি
ব্যাখ্যা

- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল।
- যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- গমন, দর্শন, ভোজন, শয়ন, দেখা, শোনা।
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায় তাই গুণবাচক বিশেষ্য। যেমন- মধুরতা, তারল্য, তিক্ততা, তারুণ্য, সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।
- যে পদে কোন উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যেমন- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬২৬.
কোনটি উত্তম পুরুষের উদাহরণ?
  1. তুমি
  2. আমি
  3. সে
  4. তিনি 
সঠিক উত্তর:
আমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি
ব্যাখ্যা

• 'আমি'- উত্তম পুরুষের উদাহরণ। 

উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি।

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই। 

প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

৬২৭.
‘ধীরে ধীরে বায়ু বয়’ বাক্যটিতে কিসের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষণের বিশেষণ
  3. অব্যয়ের বিশেষণ
  4. বাক্যের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা-
ক্রিয়া সংঘঠনের ভাব : ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল : পরে একবার এসো।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
৬২৮.
"তিনি সৎ, তাই সকলে তাকে শ্রদ্ধা করে।" - এখানে 'তাই' শব্দটি কোন প্রকারের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
সংযোজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোজক অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে' - এখানে 'তাই' সংযোজক অব্যয়। 

সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা:
সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক। 

সংযোজক অব্যয়:
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

বিয়োজক অব্যয়:
- হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়।

সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬২৯.
‘এই পুকুরের পানি ঘােলা।’- বাক্যে ‘ঘোলা’ কোন বিশেষণ পদের উদাহরণ?
  1. বিধেয় বিশেষণ
  2. ভাববাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. বর্ণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিধেয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধেয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
⇒ বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন:
- লােকটা পাগল। 
- এই পুকুরের পানি ঘােলা
[বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘােলা’ বিধেয় বিশেষণ।]

------------------
⇒ বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

শব্দটি কীভাবে গঠিত, কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে এবং বাক্যের মধ্যে বিশেষণের অবস্থান কোথায় এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন:
- বর্ণবাচক বিশেষণ,
- গুণবাচক বিশেষণ,
- অবস্থানবাচক বিশেষণ,
- ক্রমবাচক বিশেষণ,
- পূরণবাচক বিশেষণ,
- পরিমাণবাচক বিশেষণ,
- উপাদানবাচক বিশেষণ,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ,
- নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ,
- ভাববাচক বিশেষণ,
- বিধেয় বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৬৩০.
নিচের কোন বাক্যে পদাণু ক্রিয়াবিশেষণের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
  2. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  3. তাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  4. কখনাে বা দেখা হবে।
সঠিক উত্তর:
কখনাে বা দেখা হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কখনাে বা দেখা হবে।
ব্যাখ্যা
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

অন্যদিকে,
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

⇒ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: 
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 
- তাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৩১.
'যাহারা ভালো, তাহারা পুরস্কৃত হইবে' – এখানে 'যাহারা, তাহারা' কী?
  1. অব্যয়
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. যোজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• 'যাহারা ভালো, তাহারা পুরস্কৃত হইবে' – এখানে 'যাহারা, তাহারা' - সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।

সর্বনাম পদ:
- বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
১১. সাপেক্ষ সর্বনাম: যেমন - যারা তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৬৩২.
কোনটিতে বস্তুবাচক বিশেষ্য রয়েছে?
  1. সুন্দর পাখি
  2. জনতার মিছিল
  3. বেলে মাটি
  4. তাজা মাছ
সঠিক উত্তর:
বেলে মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেলে মাটি
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
বেলে মাটি: এখানে "মাটি" একটি বস্তুবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি প্রাকৃতিক পদার্থ (মাটি) কে নির্দেশ করছে। "বেলে" হলো বিশেষণ, যা মাটির ধরন বর্ণনা করছে।
---------------
অন্যদিকে,
অন্যান্য অপশন:
ক) সুন্দর পাখি → "পাখি" জাতিবাচক বিশেষ্য।
খ) জনতার মিছিল → "মিছিল" সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
ঘ) তাজা মাছ → "মাছ" জাতিবাচক বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৩৩.
‘ধৈর্য একটি মহৎ গুণ।’- এখানে ‘ধৈর্য’ কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘ধৈর্য একটি মহৎ গুণ।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ধৈর্য’ শব্দটি বিশেষ্য পদের উদাহরণ।

⇒ বিশেষ্য:

কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন: স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমম: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৩৪.
'মেটে কলসি' - এখানে 'মাটি' কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. উপাদানবাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. বর্ণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'মেটে কলসি' - এখানে 'মাটি' উপাদানবাচক বিশেষণ

বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

উপাদানবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- বেলে মাটি।
- পাথুরে মূর্তি।
- মেটে কলসি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৬৩৫.
'হাসেম কিংবা কাশেম এর জন্য দায়ী।'- বাক্যে 'কিংবা' কোন শ্রেণির অব্যয়?
  1. অনন্বয়ী
  2. সমুচ্চয়ী
  3. অনুকার
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
সমুচ্চয়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুচ্চয়ী
ব্যাখ্যা
• 'হাসেম কিংবা কাসেম এই কাজের জন্য দায়ী।' বাক্যে 'কিংবা' সমুচ্চায়ী অব্যয়

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যেমন- 
• সংযোজক অব্যয়:
- উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে 'ও' সংযোজক অব্যয়।
- তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে 'তাই' সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• বিয়োজক অব্যয়:
- হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।
- আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। 'কিন্তু' অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক। তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়:
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে 'অথচ' সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ।

• অনুসর্গ অব্যয়:
যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না।

• অনুকার অব্যয়:
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
যথা- বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়; মেঘের গর্জন গুড় গুড়; বৃষ্টির তুমুল শব্দ ঝম ঝম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৬৩৬.
"সে এসেছে অথচ আমন্ত্রণ পায়নি।" — এখানে 'অথচ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক
  2. বিয়োজক
  3. সংকোচক
  4. অনুগামী
সঠিক উত্তর:
সংকোচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচক
ব্যাখ্যা
"সে এসেছে অথচ আমন্ত্রণ পায়নি।" — এখানে 'অথচ'সংকোচক অব্যয়।

-----------------
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
- সে এসেছে অথচ আমন্ত্রণ পায়নি।
এখানে, 'অথচ' শব্দটি দুটি বিপরীত বা পরস্পর বিরোধী বক্তব্যকে যুক্ত করে। যেমন: "সে এসেছে" — এটি একটি তথ্য, কিন্তু পরের অংশ "অথচ আমন্ত্রণ পায়নি" — এতে এক ধরনের বৈপরীত্য প্রকাশ পায়। এজন্য 'অথচ' এখানে সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৩৭.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. চিরদুঃখ
  2. চিরজীবী
  3. চিরদৈন্য
  4. চিরনিদ্রা
সঠিক উত্তর:
চিরজীবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরজীবী
ব্যাখ্যা

• 'চিরজীবী' বিশেষণ পদ। 

 • বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- চিরন্তন, চিরজীবী, চিরতরুণ, চিরদীন, চিরবাঞ্চিত, চিরপূজ্য।

-------------------
• বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- চিরনিদ্রা, চিরদৈন্য, চিরতুষার, চিরদারিদ্র্য, চিরদুঃখ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬৩৮.
কোনটি অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়?
  1. অথচ
  2. অধিকন্তু
  3. যদিও
  4. নয়তো
সঠিক উত্তর:
যদিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদিও
ব্যাখ্যা

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

অন্যদিকে,
সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
- ‘অথচ’ কিন্তু, বরং শব্দগুলো সংকোচক অব্যয়।

সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 

বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৬৩৯.
সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. ঝাঁক
  2. পর্বত
  3. মানুষ
  4. মাটি
সঠিক উত্তর:
ঝাঁক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝাঁক
ব্যাখ্যা

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
বস্তুবাচক বিশেষ্য: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৪০.
কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না'- বাক্যে 'কী আপদ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. ক) সমুচ্চয়ী
  2. খ) অনুকার
  3. গ) অনন্বয়ী
  4. ঘ) পদান্বয়ী
সঠিক উত্তর:
গ) অনন্বয়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনন্বয়ী
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না' - বিরক্তি প্রকাশে।
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
হ্যাঁ, আমি যাব না। না, আমি যাব না।- স্বীকৃতি জ্ঞাপনে।
আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব - সম্মতি প্রকাশে।
উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে- যন্ত্রণা প্রকাশে।
'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে - সম্বোধনে।
ছি ছি, তুমি এত নীচ! - ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯)।
৬৪১.
ব্যতিহারিক সর্বনাম কোনটি?
  1. ইহারা
  2. যিনি
  3. নিজে নিজে
  4. কেহ
সঠিক উত্তর:
নিজে নিজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজে নিজে
ব্যাখ্যা

• নিজে নিজে - ব্যতিহারিক সর্বনাম এর উদাহরণ।

--------------
সর্বনাম পদ:
- বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
১১. সাপেক্ষ সর্বনাম: যেমন - যারা তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬৪২.
নিচের কোন বাক্যে স্থানবাচক ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ রয়েছে?
  1. আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
  2. খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
  3. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
  4. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
সঠিক উত্তর:
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যাখ্যা
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে,
------------
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তো প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৪৩.
নিচের কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্য?
  1. ক) হিমালয়
  2. খ) ইট
  3. গ) আনন্দ
  4. ঘ) ফুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুল
ব্যাখ্যা
'ফুল'- জাতিবাচক বিশেষ্য। 

জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি। 

তাছাড়া,
হিমালয়- নাম-বিশেষ্যের উদাহরণ।
ইট- বস্তুবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
আনন্দ- গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৪৪.
কোনটি আত্মবাচক সর্বনাম?
  1. আপনি
  2. একজন
  3. পরস্পর
  4. সমুদয়
সঠিক উত্তর:
আপনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপনি
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম :
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

- সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: 
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
৩. নির্দেশক সর্বনাম:
নিকট নির্দেশক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক - ও, ওই, ওরা, উনি।
৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
৭. পারস্পারিক সর্বনাম: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
৮. সকল/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।
৯. অন্যবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো - ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী) (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৬৪৫.
‘পরস্পর না মিলতে পারলে বন্ধুত্ব গড়বে কী করে?’- বাক্যে ‘পরস্পর’ কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. সর্বনাম
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘পরস্পর না মিলতে পারলে বন্ধুত্ব গড়বে কী করে?’- বাক্যে ‘পরস্পর’ পারস্পারিক সর্বনাম পদ

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৪৬.
কোনটি বিশেষণ পদ নয়?
  1. গণন
  2. ক্ষমার্হ
  3. কৈশিক
  4. খোদিত
সঠিক উত্তর:
গণন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণন
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ নয় - গণন
- এটি বিশেষ্য পদ। 
শব্দের অর্থ: - গণনা।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - ক্ষমার্হ, কৈশিক এবং খোদিত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৬৪৭.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  2. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  3. তিনি বেড়াতে যাননি
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।

যেমন
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

অন্যদিকে,
নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - তিনি বেড়াতে যাননি
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।, মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৪৮.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. দর্শন
  2. গমন
  3. শয়ন
  4. দুঃখ 
সঠিক উত্তর:
দুঃখ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃখ 
ব্যাখ্যা

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা,  তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য,  তিক্ত দ্রব্যের গুণ-তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দর্শন, গমন ও শয়ন- ভাববাচক/ক্রিয়া বিশেষ্যর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৬৪৯.
কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) মুসলিম
  2. খ) সমিতি
  3. গ) গীতাঞ্জলি
  4. ঘ) মাটি
সঠিক উত্তর:
ক) মুসলিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুসলিম
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য সাধারণত ৬ প্রকার।
নাম-বিশেষ্য: নজরুল, ঢাকা, গীতাঞ্জলি, ইন্দোচীন, ইত্যাদি।
জাতি-বিশেষ্য: গরু, পাখি, ইংরেজ, হিন্দু, মুসলিম ইত্যাদি।
বস্তু-বিশেষ্য: ইট, লবন, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
সমষ্টি-বিশেষ্য: জনতা, পরিবার, সমিতি, মিছিল ইত্যাদি।
গুণ-বিশেষ্য: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, ধৈর্য্য ইত্যাদি।
ক্রিয়া-বিশেষ্য: পঠন, ভোজন, শয়ন, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি বই।

৬৫০.
'ঐচ্ছিক' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ঐচ্ছিক (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,
- ইচ্ছানুযায়ী,
- ইচ্ছাধীন।

উল্লেখ্য, 
• 'ঐচ্ছিক' শব্দের বিপরীত শব্দ 'আবশ্যিক'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৫১.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. দিনান্ত
  2. দীন
  3. দিন
  4. দিনাতিপাত
সঠিক উত্তর:
দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীন
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ - দীন
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- দরিদ্র (দীন দুঃখী,
- অনুদার (দীনাত্মা),
- দরিদ্র বা দুঃখী ব্যক্তি।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - দিন, দিনান্ত, দিনাতিপাত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৫২.
‘প্রচুর’ শব্দের বিশেষ্য কোনটি?
  1. প্রাচুর্য
  2. প্রচুরক
  3. প্রবল
  4. প্রচুর শব্দটি নিজেই বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
প্রাচুর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচুর্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ‘প্রচুর’ বিশেষণ শব্দ।
- এর বিশেষ্য শব্দ: 'প্রাচুর্য'।
- যার অর্থ: আধিক্য, বাহুল্য, প্রচরতা। 

উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৫৩.
‘সাদা বাড়ি’- এখানে 'সাদা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. আবেগ
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘সাদা বাড়ি’- এখানে 'সাদা' বিশেষণ পদ। 

• বিশেষণ পদ:

যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে। 
যেমন:
সাদা বাড়ি।
সুন্দর বাগান।
চটপটে ছেলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৬৫৪.
'চুপি চুপি' কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• চুপিচাপি। 
- ক্রিয়া বিশেষণ পদ।
- এটি বাংলা শব্দ। 
অর্থ:
- অন্যের অগোচরে।

------------------
• ক্রিয়াবিশেষণ:

যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
• বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৫৫.
'খুব ভালো খবর।' - এখানে 'খুব' কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. ভাববাচক
  2. অবস্থাবাচক
  3. গুণবাচক
  4. নির্দিষ্টতাবাচক
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক
ব্যাখ্যা

ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।

যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
 
গুণবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।
 
নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬৫৬.
’সুষ্ঠু’ এ শব্দের বিশেষ্য রূপটি হলো -
  1. ক) সৌষ্ঠব
  2. খ) সুষ্ঠতা
  3. গ) সুষ্ঠ
  4. ঘ) সুষ্ঠব
সঠিক উত্তর:
ক) সৌষ্ঠব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৌষ্ঠব
ব্যাখ্যা
সুষ্ঠু একটি বিশেষণ পদ। এর বিশেষ্য হচ্ছে - সৌষ্ঠব
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
৬৫৭.
'আপনি' কোন সর্বনামের উদাহরণ?
  1. দূরত্ববাচক
  2. আত্মবাচক
  3. প্রশ্নবাচক
  4. ব্যক্তিবাচক
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিবাচক
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে),
মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

৬৫৮.
‘ততক্ষণ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘ততক্ষণ’ ক্রিয়াবিশেষণ পদ।
অর্থ:
- সেই সময় পর্যন্ত,
- সেই সময়ের মধ্যে।

------------------------
• ক্রিয়া বিশেষণ:

 যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না
- তিনি বেড়াতে যাননি
- এমন কথা আমার জানা নেই।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
- কখনো বা দেখা হবে।
- একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
- মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৫৯.
নিম্নে কোনটি তৎসম অব্যয়?
  1. খুব
  2. বহুত
  3. আপাতত
  4. আবার
সঠিক উত্তর:
আপাতত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপাতত
ব্যাখ্যা
তৎসম অব্যয় শব্দ:
- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য। কিন্তু এবং ও (বাংলা), সুতরাং = অতএব (বাংলা)।

অন্যদিকে,
বিদেশি অব্যয় শব্দ:
- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

বাংলা অব্যয় শব্দ:
- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৬০.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. সাহসী
  2. অজ্ঞাত
  3. বুদ্ধিমান
  4. জনতা
সঠিক উত্তর:
জনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনতা
ব্যাখ্যা

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সাহসী, বুদ্ধিমান ও অজ্ঞাত- বিশেষণ পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬৬১.
‘এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।’ এ বাক্যে “অতিশয়” হল -
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণীয় বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) বাক্যের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণীয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা

‘এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।’ এখানে অতিশয় বিশেষণীয় বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা- সামান্য একটু দুধ দাও। রকেট অতি দ্রুত চলে। ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী।
(বাংলা শব্দে দুটি বস্তুর মধ্যে অতিশায়নে জোর দিতে হলে মূল বিশেষণের আগে অনেক, অধিক, অতিশয়, বেশি, অল্প, কম, অধিকতর প্রভৃতি বিশেষণীয় বিশেষণ যোগ করতে হয়।)

[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]

৬৬২.
'বিষণ্ণ' শব্দটির সঠিক বিশেষ্য রূপ কোনটি? 
  1. বিষাদ
  2. বিষণ্ণ
  3. বিষাক্ত
  4. বিষয়
সঠিক উত্তর:
বিষাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষাদ
ব্যাখ্যা

[বিষণ্ন এর শুদ্ধ বিশেষ্য-রূপ- বিষণ্নতা; তবে এটি অপশনে না থাকায় অর্থঘনিষ্ঠ বিশেষ্য হিসেবে বিষাদ গ্রহণযোগ্য।]

• বিষণ্ন শব্দের বিশেষ্য পদ- বিষাদ। 

•বিষণ্ন (বিশেষণ পদ), 
অর্থ:
- বিষাদ- যুক্ত; দুঃখিত; ক্ষুণ্ণ। 
- স্নান, মলিন। 

• বিষাদ (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: 
- দুঃখ; বিষণ্ণতা। 
- আশাভঙ্গজনিত খেদ বা ক্ষোভ।






অন্যদিকে, 
----------------
• বিষাক্ত (বিশেষণ পদ), 
অর্থ:
- বিষযুক্ত,
- বিষমিশ্রিত। 

• বিষয় (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- যা ইন্দরিয়-সমূহকে আকষ্ট করে,
- ভোগ্য বস্তু। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৬৬৩.
'যেন, যদি' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন।
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

অন্যদিকে,
সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
- ‘অথচ’ কিন্তু, বরং শব্দগুলো সংকোচক অব্যয়।

সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং।
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে।

বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৬৪.
বিশেষণ থেকে বিশেষ্যসাধিত শব্দ হলো -
  1. ক) অগ্রিম
  2. খ) জটিল
  3. গ) গ্রাম্য
  4. ঘ) ঘনত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘনত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘনত্ব
ব্যাখ্যা
'ঘন' শব্দটি বিশেষণ।
- এই শব্দটির প্রত্যয় সাধিত হয়ে 'ঘনত্ব' শব্দটি গঠিত যা একটি বিশেষ্য।
ঘনত্ব (বিশেষ্য): ঘনতা, নিবিড়তা, গাঢ়তা
{ঘন + ত্ব}

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৬৫.
নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ কোনটি?
  1. সেই
  2. চালাক
  3. ভালো
  4. কেমন
সঠিক উত্তর:
সেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেই
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

প্রশ্নবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – কেমন গান? কতক্ষণ সময়? – এখানে ‘কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৬৬.
'উচ্ছৃঙ্খল' শব্দটি কোন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়েছে?
  1. অতিক্রান্ত অর্থে
  2. সামীপ্য অর্থে
  3. চিন্তিত অর্থে
  4. সাদৃশ্য অর্থে
সঠিক উত্তর:
অতিক্রান্ত অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিক্রান্ত অর্থে
ব্যাখ্যা

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: 
- বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত =  উচ্ছৃঙ্খল।

অন্যদিকে,
অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:  
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস: 
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস: 
- উপনদী,
- উপগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৬৬৭.
"আমি কোথাও যাচ্ছি না।" - এ বাক্যে কোন ধরনের সর্বনাম রয়েছে?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. পারস্পরিক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

• অর্থ্যাৎ, "আমি কোথাও যাচ্ছি না।" - এ বাক্যে অনির্দিষ্ট সর্বনাম রয়েছে।
-----------------
নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬৬৮.
কোনটি বিশেষণবাচক শব্দ?
  1. দহন
  2. জীবনী
  3. জীবাণু 
  4. জীবাশ্ম
সঠিক উত্তর:
জীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনী
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমির অভিধান অনুসারে,
 'জীবনী' — বিশেষণবাচক শব্দ।



অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) দহন - বিশেষ্য (জ্বালানোর কাজ/প্রক্রিয়া)।
গ) জীবাণু - বিশেষ্য (ক্ষুদ্র জীব)।
ঘ) জীবাশ্ম - বিশেষ্য (প্রাচীন জীবের দেহাবশেষ)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা বানান প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ - ড. মোহাম্মদ আমীন।

৬৬৯.
নিচের কোনটি ভাব বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) বাক্স
  2. খ) হাত
  3. গ) গোলাপ
  4. ঘ) ক্ষমা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্ষমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্ষমা
ব্যাখ্যা
• ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার দিক থেকে সাধারণ বিশেষ্যকে দুটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায় : 
 
মূর্ত বিশেষ্য :
এমন ব্যাক্তি বা বস্তুর নাম বোঝায় যা দেখা যায়, স্পর্শ করা, ঘ্রান নেওয়া কিংবা পরিমাপ করা যায়।
যেমন: গোলাপ, বাক্স, হাত ইত্যাদি।

ভাব বিশেষ্য:
নির্বস্তুক অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুনগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির নাম বোঝায়।
যেমন:
আনন্দ, ইচ্ছা, শান্তি, ক্ষমা, পাপ, যুক্তি, রাগ ইত্যাদি।

এ শ্রেণির বিশেষ্যের সঙ্গে বহুবচন প্রয়োগ খুব স্বাভাবিক নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খন্ড)।
৬৭০.
কোনটি ক্রমবাচক বিশেষণ?
  1. অর্ধেক সম্পত্তি
  2. সত্তর পৃষ্ঠা
  3. হাজার লোক
  4. এক কেজি চাল
সঠিক উত্তর:
সত্তর পৃষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্তর পৃষ্ঠা
ব্যাখ্যা

ক্রমবাচক বিশেষণ: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।

বিশেষণের প্রকারভেদ:

• রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
• গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
• অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
• সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
• পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
• অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
• উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
• প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
• নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৭১.
বিদেশি উৎস থেকে আগত অব্যয় শব্দ হলো-
  1. ক) খুব
  2. খ) আবার
  3. গ) আর
  4. ঘ) যদি
সঠিক উত্তর:
ক) খুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খুব
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে-
- বাংলা অব্যয়- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
- তৎসম অব্যয়- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, বৈদাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
- বিদেশি অব্যয়- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭২.
"ডাকাতরা নিশীথ রাতেই গ্রামের ঘরে হানা দিয়েছিল।" - এখানে 'নিশীথ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি - "ডাকাতরা নিশীথ রাতেই গ্রামের ঘরে হানা দিয়েছিল।" - 

- 'নিশীথ' শব্দটি এখানে 'রাত' শব্দটির বিশেষণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
অর্থাৎ কেমন রাত? — নিশীথ রাত (রাত্রির গভীর সময়)।
তাই,
'নিশীথ' এখানে বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৬৭৩.
'অপারাজেয় বাংলা’ কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ব্যক্তিনাম
  2. স্থাননাম
  3. কালনাম
  4. সৃষ্টিনাম
সঠিক উত্তর:
সৃষ্টিনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃষ্টিনাম
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন -
- নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন -
ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা।
স্থাননাম: বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৭৪.
'স্বাস্থ্য অমূল্য সম্পদ।' এ বাক্যে 'স্বাস্থ্য' কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• স্বাস্থ্য (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- সুস্থতা। 
- স্বস্তি।
- শারীরিক অবস্থা।

• গুণবাচক বিশেষ্য:

যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন-
মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা,
তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য,
তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।

তদ্রুপ-
সৌরভ, সৌন্দর্য, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি বিশেষ্য পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৭৫.
“তাজা মাছ” – এখানে “তাজা” কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. গুণবাচক
  3. বর্ণবাচক
  4. অংশবাচক
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
“তাজা মাছ” - এখানে “তাজা” অবস্থাবাচক বিশেষণ।
বিশেষিত পদের অবস্থা প্রকাশ করে। যেমন: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।

• নাম-বিশেষণ:
- যে বিশেষণ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দকে বিশেষিত করে, তাকে নাম-বিশেষণ বলে।
- নাম-বিশেষণ নিম্নলিখিত কয়েক প্রকারের হতে পারে। যেমন-
- বর্ণবাচক: বিশেষিত পদের বর্ণ বা রং নির্দেশ করে। যেমন-সবুজ মাঠ, নীল আকাশ, কালো মেঘ ইত্যাদি।
- গুণবাচক: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন-চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
- অংশবাচক: বিশেষিত পদের অংশ প্রকাশ করে। যেমন অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।

আরও কিছু নাম-বিশেষণের প্রকারভেদ দেওয়া হলো- 
- সংখ্যাবাচক: বিশেষিত পদের সংখ্যা নির্দেশ করে। যেমন। হাজার লোক, দশ টাকা, শ টাকা, সাত দিন।
- ক্রমবাচক: বিশেষিত পদের সংখ্যা ক্রমিক অবস্থা নির্দেশ করে। যেমন: দশম শ্রেণি, দ্বিতীয় পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
- পরিমাণবাচক: বিশেষিত পদের পরিমাণ বা মাত্রা নির্দেশ করে। যেমন: বিষাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনি জাহাজ, এক কেজি চাল ইত্যাদি।
- উপাদানবাচক:বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি।
- প্রশ্নবাচক: প্রশ্নবাচক পদের জবাব বিশেষণ হয়। যেমন: কত দূর পথ? কেমন অবস্থা। কতক্ষণ সময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৭৬.
'রোগা ছেলে' - এখানে 'রোগা' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষণ
  3. বিধেয় বিশেষণ
  4. ভাববাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'রোগা ছেলে' - এখানে 'রোগা' কোন অবস্থাবাচক বিশেষণ

বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- চলন্ত ট্রেন,
- তরল পদার্থ,
- রোগা ছেলে
এখানে 'চলন্ত', 'তরল' ও 'রোগা' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৭৭.
‘একজন এসে পত্রটা দেয়।’ বাক্যে ‘একজন’ কোন ধরনের সর্বনাম পদ?
  1. পারস্পরিক সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি।
- বাক্য: একজন এসে খবরটা দেয়।
- বাক্য: একজন এসে পত্রটা দেয়।
============== 
অন্যদিকে,
• আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।
বাক্য: সে নিজে অঙ্কটা করছে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।
বাক্য: যেমন কর্ম তেমন ফল।

• পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
বাক্য: যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৬৭৮.
কোনটি নাম-বিশেষ্য?
  1. মানুষ
  2. ছাগল
  3. নদী
  4. সঞ্চিতা
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে,
জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৭৯.
কোনটি নাম বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. মানুষ
  2.  ফুল
  3. হিমালয়
  4. পর্বত
সঠিক উত্তর:
হিমালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমালয়
ব্যাখ্যা

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে,
• জাতি-বিশেষ্য: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬৮০.
'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে।' বাক্যটিতে যে অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে -
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. অনুসর্গ অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে।' বাক্যটিতে যে অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে - অনন্বয়ী অব্যয়

অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন -
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
- স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে: হ্যাঁ, আমি যাব।
- সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।
- অনুমোদনবাচকতায়: আপনি যখন বলছেন, বেশ তো আমি যাব।
- সমর্থনসূচক জবাবে: আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।
- যন্ত্রণা প্রকাশে: উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে। নাঃ! এ কষ্ট অসহ্য।
- ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে: ছি ছি, তুমি এত নীচ! কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।
- সম্বোধনে: 'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।'
- সম্ভাবনায়: 'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮১.
"সে তার বাবার অর্ধেক সম্পত্তি পাবে" বাক্যে 'অর্ধেক সম্পত্তি' কোন পদ?
  1. ক) পরিমাণবাচক বিশেষণ
  2. খ) অংশবাচক বিশেষণ
  3. গ) নির্দিষ্টতা বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষণের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) অংশবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অংশবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণের প্রকারভেদ
- বিশেষণ পদকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- নাম বিশেষণ এবং ভাব বিশেষণ।
- নাম বিশেষণকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- বিশেষ্যের বিশেষণ এবং সর্বনামের বিশেষণ।
- ভাব বিশেষণকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায়
যথা- ক্রিয়া বিশেষণ, বিশেষণের বিশেষণ, অব্যয়ের বিশেষণ এবং বাক্যের বিশেষণ।।

নাম বিশেষণ : যে বিশেষণ পদ কোনাে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।
যথা
- বিশেষ্যের বিশেষণ : সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালবাসে?
- সর্বনামের বিশেষণ : সে রূপবান ও গুণবান।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ: নাম বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা
⇒ রূপবাচক : কালাে মেঘ, নীল আকাশ, সবুজ মাঠ।
⇒ গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া, চৌকস লােক।
⇒ অবস্থাবাচক : মােটা মেয়ে, রােগা ছেলে, তাজা মাছ, খোঁড়া পা।
 ⇒ সংখ্যাবাচক : শ টাকা, হাজার লােক, দশ দশা। |
⇒ ক্রমবাচক : পঞ্চাশ পৃষ্ঠা, অষ্টম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা।
⇒ পরিমাণবাচক : এক কেজি চিনি, তিন কিলােমিটার রাস্তা, বিঘাটেক জমি, দশ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ।
⇒ অংশবাচক : ষােল আনা দখল, সিকি পথ, অর্ধেক সম্পত্তি।
⇒ উপাদানবাচক : কাঠের জানালা, পাথরের মূর্তি, বেলে মাটি, মেটে কলসি।
⇒ প্রশ্নবাচক : কেমন অবস্থা? কতদূর পথ? |
⇒ নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক : এই মেয়ে, ষােলই ডিসেম্বর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮২.
নিচের কোনটিতে 'বিশেষণের বিশেষণ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
  2. পরে একবার এসো।
  3. বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।
  4. এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
সঠিক উত্তর:
এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
ব্যাখ্যা

বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-
নাম-বিশেষনের বিশেষণ:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

অন্যদিকে,
ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব,কাল বা রূপ নির্দেশ করে,তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন -
- ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন ।

বাক্যের বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে।
যেমন:
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৮৩.
কোনটি আত্মবাচক সর্বনামের উদাহরণ?
  1. আপনা আপনি
  2. স্বয়ং
  3. সমুদয়
  4. পরস্পর
সঠিক উত্তর:
স্বয়ং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বয়ং
ব্যাখ্যা

• সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৮৪.
বিশেষ্য পদ নয় কোনটি?
  1. হিমালয়
  2. গীতাঞ্জলি
  3. স্বয়ং
  4. পর্বত
সঠিক উত্তর:
স্বয়ং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বয়ং
ব্যাখ্যা
• 'স্বয়ং'
- এটি একটি অব্যয় পদ।
এর অর্থ:
- নিজে, আপনি।

অন্যদিকে,
- পর্বত, গীতাঞ্জলি এবং হিমালয় - শব্দগুলো বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৮৫.
কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্য?
  1. কলম
  2. পর্বত
  3. পানি
  4. মাটি
সঠিক উত্তর:
পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্বত
ব্যাখ্যা
• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিক, 
------------------
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি, আকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
৬৮৬.
বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে ____ বলে।
  1. ক) শব্দ
  2. খ) পদ
  3. গ) উপসর্গ
  4. ঘ) প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ
ব্যাখ্যা
বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮৭.
'তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।'- এখানে 'পুণ্য' কোন পদের উদাহরণ? 
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়া 
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা-

বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান।

একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ: বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন:
বিশেষণ রূপে: নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।
বিশেষ্য রূপে: গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে: ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।
বিশেষ্য রূপে: আপন ভালো সবাই চায়।

বিশেষণ রূপে: মন্দ কথা বলতে নেই।
বিশেষ্য রূপে: এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে: তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।
বিশেষ্য রূপে: পুণ্যে মতি হোক।

বিশেষণ রূপে: শীতকালে কুয়াশা পড়ে। 
বিশেষ্য রূপে: শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার।

বিশেষণ রূপে: সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে: এ এক বিরাট সত্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬৮৮.
“শনশন বায়ু বয়”- এ বাক্যে ‘শনশন’ কোন ধরনের অব্যয়?
  1. ক) অনন্বয়ী অব্যয়
  2. খ) অনুসর্গ অব্যয়
  3. গ) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুকার অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনুকার অব্যয় : যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।
যেমন :
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়
বাতাসের ধ্বনি - শনশন
নূপুরের আওয়াজ - রুম ঝুম
সিংহের গর্জন - গর গর
রাতের ধ্বনি - কল কল
মেঘের গর্জন - গুড় গুড়
কোকিলের ডাক - কুহু কুহু
চুড়ির শব্দ - টুং টাং

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮৯.
নিচের কোনটি কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. একটু ঘুরে আসুন না
  2. তিনি এখানে এসেছিলেন।
  3. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
  4. ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
গতকাল তিনি এসেছেন। 

অন্যদিকে,
একটু ঘুরে আসুন না।  - পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ।
তিনি এখানে এসেছিলেন। - স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়। - ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৬৯০.
"পুণ্যে মতি হোক।" বাক্যে 'পুণ্যে' কোন পদরূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষণের বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• "পুণ্যে মতি হোক।"  বাক্যে 'পুণ্যে' বিশেষ্য পদরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

- সাধারণত 'পুণ্য' শব্দটি বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এই বাক্যে 'পুণ্যে' গুণবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
- যেমন- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৯১.
'সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।' -বাক্যে 'সত্য' কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষণ 
  2. বিশেষণের বিশেষ্য  
  3. ক্রিয়া বিশেষ্য 
  4. বিশেষ্য 
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।
যথা -
বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান।

একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -
বিশেষণ রূপে- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।
বিশেষ্য রূপে- গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে- ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।
বিশেষ্য রূপে- আপন ভালো সবাই চায়।

বিশেষণ রূপে- মন্দ কথা বলতে নেই।
বিশেষ্য রূপে- এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে- তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।
বিশেষ্য রূপে- পুণ্যে মতি হোক।

বিশেষণ রূপে- শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে- শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার।

বিশেষণ রূপে- সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে- এ এক বিরাট সত্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৯২.
সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ কোনটি?
  1. যেমন-তেমন
  2. স্বয়ং
  3. কারা
  4. একজন
সঠিক উত্তর:
যেমন-তেমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেমন-তেমন
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে 'যেমন-তেমন' হচ্ছে সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- আত্মবাচক সর্বনাম: যেমন - নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
- অনির্দিষ্ট সর্বনাম: যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।
- প্রশ্নবাচক সর্বনাম: যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৬৯৩.
কোনটি নাম বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ঢাকা
  2. ফুল
  3. নদী
  4. গরু
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।

যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে,
জাতি-বিশেষ্য - মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৯৪.
জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. পর্বত
  2. ঝাঁক
  3. ফুল
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
ঝাঁক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝাঁক
ব্যাখ্যা
- জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয় ‘ঝাঁক’।
- এটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ ।

• বিশেষ্য পদ:

বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্যপদ ছয় প্রকার:
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য,
২. জাতিবাচক বিশেষ্য,
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য,
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য,
৫. ভাববাচক বিশেষ্য/ক্রিয়া-বিশেষ্য,
৬. গুণবাচক বিশেষ্য।

• জাতি বিশেষ্য: জাতি বিশেষ্য সাধারণ বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণাীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ভাববাচক বিশেষ্য (২০২৩ সংস্করণ) অনুসারে ক্রিয়া-বিশেষ্য নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৯৫.
নিম্নের কোনটি অলংকার আবেগের উদাহরণ?
  1. ক) উহ! কি বিপদে পরা গেল।
  2. খ) যাকগে, ওসব কথা থাক।
  3. গ) আরে! তুমি আবার কখন এলে?
  4. ঘ) ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
সঠিক উত্তর:
খ) যাকগে, ওসব কথা থাক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যাকগে, ওসব কথা থাক।
ব্যাখ্যা

মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
১. সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

২. প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।

৩. বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

৪. আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

৫. বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

৬. করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

৭. সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

৮. অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯৬.
কোনটি নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়?
  1. এবং 
  2. অধিকন্তু
  3. অথবা
  4. যেমন-তেমন
সঠিক উত্তর:
যেমন-তেমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেমন-তেমন
ব্যাখ্যা

• নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন:
- যথা-তথা,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন,
- যে রূপ- সে রূপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬৯৭.
কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি কোন প্রকার সর্বনামের উদাহরণ?
  1. ক) নির্দেশক সর্বনাম
  2. খ) অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. গ) প্রশ্নবাচক সর্বনাম
  4. ঘ) সাপেক্ষ সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
খ) অনির্দিষ্ট সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা
- বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
৩. নির্দেশক সর্বনাম:
   নিকট নির্দেশক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
   দূর নির্দেশক - ও, ওই, ওরা, উনি।
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
৭. পারস্পারিক সর্বনাম: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
৮. সকল/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।
৯. অন্যবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো: ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি  (২০২১ সংস্করণ)।
৬৯৮.
কোনটি ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ?
  1. নীল আকাশ
  2. কালো মেঘ
  3. দ্রুত দৌড়ায়
  4. চলন্ত ট্রেন
সঠিক উত্তর:
দ্রুত দৌড়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রুত দৌড়ায়
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়
- লোকটি ধীরে হাঁটে
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?

অন্যদিকে,
রূপবাচক বিশেষণ: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
অবস্থাবাচক বিশেষণ: চলন্ত ট্রেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯৯.
'আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।' বাক্যে 'তো' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
- আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে। - সমর্থনসূচক জবাবে।
- কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না' - বিরক্তি প্রকাশে।
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ - উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- হ্যাঁ, আমি যাব না। না, আমি যাব না। - স্বীকৃতি জ্ঞাপনে।
- আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব। - সম্মতি প্রকাশে।
- 'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে; পাছে লোকে কিছু বলে। - সম্ভাবনা প্রকাশে।
- উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে- যন্ত্রণা প্রকাশে।
- 'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে - সম্বোধনে।
- ছি ছি, তুমি এত নীচ! - ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯)।
৭০০.
যেকোনো বিশেষ্য পদ কোন পুরুষ হিসাবে বিবেচিত হয়?
  1. ক) উত্তম পুরুষ
  2. খ) মধ্যম ও নাম পুরুষ
  3. গ) মধ্যম পুরুষ
  4. ঘ) নাম পুরুষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা

ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার।
যথা- উত্তম, মধ্যম ও নাম পুরুষ।

উত্তম পুরুষ: স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
মধ্যম পুরুষ: প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
নাম পুরুষ: অনুপস্থিত বা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণীই নাম পুরুষ। সে, তারা, তাদের, তিনি, তাহাদের প্রভৃতি নাম পুরুষ। (সমস্ত বিশেষ্য শব্দই নাম পুরুষ)।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।