বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ৩০১৪০০ / ৩,৮২৯

৩০১.
'শ্বেতপত্র' কী?
  1. সাদা চিঠি
  2. সংবাদপত্র
  3. আইন
  4. সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ব্যাখ্যা বিবরণী
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ব্যাখ্যা বিবরণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ব্যাখ্যা বিবরণী
ব্যাখ্যা
'শ্বেতপত্র' হলো সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ব্যাখ্যা বিবরণী।

শ্বেতপত্র:
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উদাহরণ স্বরূপ:
- চার্চিল হোয়াইট পেপার (১৯২২) এবং একীভূত প্যালেস্টাইনীয় রাজ্য গঠন সংক্রা্ন্ত শ্বেতপত্র (১৯৩৯) উল্লেখ করা যায়।
- অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেতপত্রের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছে পূর্ণ কর্মসংস্থান (১৯৪৫) এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শ্বেতপত্র (১৯৬৪)।

উল্লেখ্য,
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩০২.
রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ কোনটি?
  1. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  2. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
  3. আইনের শাসন
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
• আইনের শাসন:
- সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন।
- এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ।
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন।
- আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়।
- রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কোনটি?
  1. ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা 
  2. জাতীয় সম্পদ রক্ষা
  3. রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ
  4. আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা 
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
- দক্ষ জনশক্তি।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ।
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা, রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করণীয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩০৪.
নিম্নের কোনটি বিশ্বব্যাংকের দেওয়া সুশাসনের চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. দুর্নীতি
  2. অংশগ্রহণ
  3. আইনি কাঠামো
  4. দায়িত্বশীলতা
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

- দুর্নীতি বিশ্বব্যাংকের দেওয়া সুশাসনের চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়।

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:

- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

• চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩০৫.
জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে যে ধরনের মূল্যবোধ চর্চা করা জরুরি - 
  1. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো: 
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
- পরমত সহিষ্ণুতা,
- স্বচ্ছতা, 
- দায়বদ্ধতা।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৬.
মানুষের স্বাভাবিক জীবনের জন্য কোনটি অপরিহার্য?
  1. সম্পদ
  2. ক্ষমতা
  3. স্বাধীনতা
  4. প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা:
- স্বাধীনতা মানুষের জীবনকে নিরাপদ এবং মর্যাদাসম্পন্ন করে।
- ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং নতুন কিছু সৃষ্টির সুযোগ করে দেয়।
- স্বাধীনতা মানুষের মধ্যে অধিকার বোধ জাগ্রত করে।
- স্বাধীনতা থাকলেই মানুষ তার প্রাপ্য আদায় করতে পারে।
- পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত থেকে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়।
- স্বাধীনতা ব্যক্তির জীবনে শান্তি, উন্নতি ও কল্যাণ বয়ে আনে।
- তাই মানুষের স্বাভাবিক জীবনের জন্য স্বাধীনতা অপরিহার্য। 
- সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্ম, কর্ম সকল ক্ষেত্রেই স্বাধীনতার প্রয়োজন।
- স্বাধীনতা জীবনকে নিরাপদ, মহীয়ান, গৌরবময় করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি  প্রোগ্রাম,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৭.
নৈতিকতা বিকাশে কোনটি সবচেয়ে বেশি সহায়ক?
  1. কঠোরতা
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. আত্মবিশ্বাস
  4. ঔচিত্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ঔচিত্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উপাদান:
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যে উপাদানগুলো মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত, সেগুলো হলো:

১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ:

- সামাজিক জীবনে ভালো-মন্দ, সঠিক-ভুল বিচার করার ভিত্তি হলো নীতি ও ঔচিত্যবোধ।
- সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কটুক্তি না করা এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এই নীতি ও ঔচিত্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি মানুষের মধ্যে নৈতিকতার বিকাশ ঘটায় এবং তাকে ন্যায়, অন্যায়, ভালো, মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থক্য করতে সাহায্য করে।

২. সামাজিক ন্যায়বিচার:

- ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সমান বিচার।
- সামাজিক ন্যায়বিচার মানে হলো সমাজে সকলের প্রতি আইনের চোখে সমান আচরণ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।

৩. শৃঙ্খলাবোধ:

- সমাজের নিয়ম-নীতি ও আচরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল্যবোধ।
- এটি সমাজের অগ্রগতির প্রধান সোপান এবং সমাজের কাঠামো ঠিক রাখে।

৪. সহনশীলতা:

- সহনশীলতা হচ্ছে সুনাগরিকের অন্যতম গুণ এবং গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- এটি মানুষকে একে অপরের মতামত ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে সাহায্য করে।

৫. সহমর্মিতা:

- অন্যের দুঃখ-কষ্টের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং সাহায্য করার ইচ্ছা। এটি সমাজে সহানুভূতির পরিবেশ সৃষ্টি করে।

৬. সৌজন্যবোধ:

- পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভদ্রতার প্রদর্শন।
- এটি সামাজিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটায় এবং একে অপরের প্রতি সদাচরণের মানদণ্ড তৈরি করে।

৭. মানবিকতা:

- মানবিকতা হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার, সম্মান ও মঙ্গলার্থে সহানুভূতির মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের প্রতি সহানুভূতির অনুভূতি তৈরি করে।

৮. শ্রমের মর্যাদা:

- কাজের প্রতি সম্মান এবং শ্রমের উপযুক্ত মূল্যায়ন।
- এটি সমাজে শ্রমিক শ্রেণির মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং সমাজের উন্নয়ন ঘটায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৮.
সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. নারীর ক্ষমতায়ন
  2. গণতান্ত্রিক সরকার
  3. দক্ষ আমলাতন্ত্র
  4. গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব
সঠিক উত্তর:
গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব
ব্যাখ্যা
- গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ামক নয়। 

সুশাসন:

- এর অর্থ যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- জনগণের অংশগ্রহণমূলক আইনের শাসন ও অবাধ তথ্য প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের উন্নত সেবা পাওয়ার অধিকার সুশাসন নিশ্চিত করে।
- 'গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব' সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ামক নয়।
- এই পক্ষপাতিত্বে কোন একটি বিশেষ ব্যক্তি, দল বা মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে এবং জনমত বিভ্রান্ত হয়।
- গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব প্রতিরোধে সঠিক ভাবে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

- সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ামক: 
→ আইনের শাসন,
→ গণতান্ত্রিক সরকার,
→ ই-গভর্ন্যান্স,
→ দক্ষ আমলাতন্ত্র,
→ স্বাধীন বিচার বিভাগ,
→ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,
→ নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ- ১৪
  2. অনুচ্ছেদ- ১৫
  3. অনুচ্ছেদ- ১৬
  4. অনুচ্ছেদ- ১৭
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ১৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ১৫
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়,
- “রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:
- (ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;
- (খ) কর্মের অধিকার, অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার;
- (গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং
- (ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার৷”

অন্যদিকে,
- ১৪ নং অনুচ্ছেদ : কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি
- ১৬ নং অনুচ্ছেদ : গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ : সুযোগের সমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৩১০.
নিচের কোনটি সুশাসনকে বাঁধাগ্রস্ত করে?
  1. জবাবদিহিতা
  2. সৃজনশীলতা
  3. কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা যথার্থ শাসন। অংশগ্রহণ, দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রভৃতি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

-অন্যদিকে,
নৈতিকতা কিংবা সৃজনশীলতা সুশাসনের ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়।
কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা জনগণের মৌলিক অধিকারকে সংকোচিত করে যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩১১.
কোন পদ্ধতি অনুসারে রাজা বা রানি নামমাত্র শাসক হয়ে থাকেন?
  1. নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রে
  2. অভিজাততন্ত্রে 
  3. নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে
  4. একনায়কতন্ত্রে 
সঠিক উত্তর:
নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে
ব্যাখ্যা
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা লাভের পদ্ধতি অনুসারে সরকারকে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র (Constitutional Monarchy) এবং প্রজাতন্ত্র (Republic) এই দুভাগে বিভক্ত করা হয়। 
- নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে রাজা বা রানি ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন উত্তরাধিকারসূত্রে। রাজা বা রানি নামমাত্র শাসক।
- প্রকৃত শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের হাতে।
- গ্রেট ব্রিটেন, জাপান প্রভৃতি রাষ্ট্রে এরূপ সরকার প্রচলিত রয়েছে।
- কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যখন রাষ্ট্রপ্রধান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত বা নির্বাচিত হন তখন তাকে প্রজাতন্ত্র বলে।
- আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, বাংলাদেশ প্রভৃতি রাষ্ট্রে প্রজাতান্ত্রিক সরকার প্রচলিত রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩১২.
মানুষের মানবিক গুণাবলির সূক্ষ্ম বিকাশে নিচের কোনটি প্রভাব বিস্তার করে?
  1. মূল্যবোধ
  2. আইন
  3. সুশাসন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে নিচের কোনটি নিশ্চিত করতে হবে?
  1. একদলীয় শাসন ব্যবস্থা
  2. একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি
  3. মত প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা
  4. জনসম্মতির অভাব
সঠিক উত্তর:
একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

সুশাসন:

- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয় ।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়। এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের সরকারের করণীয়:
• সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
• মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
• শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
• দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
• জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
• দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
• জনসম্মতি।
• সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ৷
• স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
• একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩১৪.
সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয় কোনটিকে?
  1. সততাকে
  2. মূল্যবোধকে
  3. সুশাসনকে
  4. নৈতিকতাকে
সঠিক উত্তর:
সুশাসনকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনকে
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।

⇒ 'সুশাসন' হলো একটি কাঙিক্ষত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও  সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ।

৩১৫.
সাম্য ও স্বাধীনতা সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা আরও শক্তিশালী হয়
  2. স্বাধীনতা সাম্যের অন্তরায়
  3. সাম্য স্বাধীনতার বিনাশ ঘটায়
  4. সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পূরক
সঠিক উত্তর:
সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পূরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পূরক
ব্যাখ্যা

⇒ একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক।

সাম্য ও স্বাধীনতা:

- সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
- সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা হয়ে পড়ে অর্থহীন।
- প্রকৃতপক্ষে জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও সাম্য পাশাপাশি অবস্থান গ্রহণ করে।
- সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়।
- স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা ।
- কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না ৷
- অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৬.
গণিকাবৃত্তি ও জুয়া খেলা নিষিদ্ধ সম্পর্কিত বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. ১৭নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৯নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৮নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৫নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
১৮নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য এবং নৈতিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
১৮ (২) নং দফায় বলা হয়েছে,
“গনিকাবৃত্তি এবং জুয়াখেলা নিরোধের জন্যে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।”

অন্যদিকে,
১৫ নং অনুচ্ছেদ: মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা
১৭ নং অনুচ্ছেদ: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
১৯ নং অনুচ্ছেদ: সুযোগের সমতা।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
৩১৭.
রাষ্ট্রের উপাদানসমূহের মধ্যে সরকার কততম স্থানে রয়েছে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
৩য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য়
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রের উপাদান:
- রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান রয়েছে।

⇒ উপাদান সমূহ:
১) জনসমষ্টি।
২) নির্দিষ্ট নির্দিষ্ট ভূখন্ড।
৩) সরকার।
৪) সার্বভৌমত্ব।

- সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও
সর্বোচ্চ ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বোর্ড বই ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৮.
কোন গ্রন্থটি John Stuart Mill কর্তৃক রচিত?
  1. On Liberty
  2. Leviathan
  3. The Republic
  4. The Spirit of Laws
সঠিক উত্তর:
On Liberty
উত্তর
সঠিক উত্তর:
On Liberty
ব্যাখ্যা
⇒ John Stuart Mill:
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

⇒ তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- “On Liberty”.
- “A System of Logic”.
- “Autobiography”.
- “Considerations on Representative Government”.
- “Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy”.
- “Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy”.

অন্যদিকে -
- টমাস হবসের গ্রন্থের নাম Leviathan.
- The Republic গ্রন্থটির লেখক প্লেটো। 
- 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৩১৯.
নিচের কোনটি ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) আমলাতন্ত্র
  2. খ) বিচার বিভাগ
  3. গ) সংসদীয় ব্যবস্থা
  4. ঘ) গণমাধ্যম
সঠিক উত্তর:
খ) বিচার বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
- বিচার বিভাগ একটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
- এটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা, আইনের শাসন বজায় রাখা, সংবিধানকে সমুন্নত রাখা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৩২০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করনীয়-
  1. মত প্রকাশ করা
  2. নিয়মিত কর প্রদান
  3. জাতীয় সম্পদ রক্ষা না করা 
  4. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
ব্যাখ্যা

 • সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করনীয়: 
- সন্তানদের শিক্ষাদান,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করনীয়: 
- জনগনের সম্মতি নেওয়া।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল  হক।

৩২১.
মূল্যবোধ কোনটির পরীক্ষা করে?
  1. ক) ভাল-মন্দ
  2. খ) ন্যায়-অন্যায়
  3. গ) নৈতিকতা-অনৈতিকতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের সমষ্টি, যা সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরুপ।
- মূল্যবোধ সমাজে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনশীলতা।
- মূল্যবোধ থেকে ব্যক্তি নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন পেয়ে থাকে।
- ফলে সে ন্যায়, অন্যায়, ভালো, মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থক্য করে তার নিজের ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩২২.
উপযোগবাদ (Utilitarianism) তত্ত্বের প্রথম এবং প্রধান ব্যাখ্যাকারী-
  1. ক) জোনাথান হেইট
  2. খ) ফ্রেডরিক নিৎশে
  3. গ) জেরেমি বেন্থাম
  4. ঘ) আইভান তুর্গেনিক
সঠিক উত্তর:
গ) জেরেমি বেন্থাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
বুর্জোয়া ন্যায়তত্ত্ব উপযোগবাদ (Utilitarianism) তত্ত্বের প্রথম এবং প্রধান ব্যাখ্যাকারী যুক্তরাজ্যের অধিবাসী জেরেমি বেন্থাম।তিনি ছিলেন একাধারে দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, তাত্ত্বিক আইনবিদ এবং সমাজ সংস্কারক।
[সূত্রঃ ব্রিটানিকা]
৩২৩.
Deontological Ethics-এর মূল কথা কী?
  1. সর্বাধিক সুখই মূল
  2. নৈতিকতা ফলাফলের উপর নির্ভর
  3. সামাজিক সম্মতি
  4. কর্তব্য পালন এবং নৈতিক নিয়ম
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য পালন এবং নৈতিক নিয়ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য পালন এবং নৈতিক নিয়ম
ব্যাখ্যা

Deontological Ethics (কর্তব্যমুখী নৈতিকতা):
- Deontological Ethics বা কর্তব্যজ্ঞানীয় নীতিশাস্ত্র হলো এমন একটি আদর্শিক নৈতিক দর্শন, যা কর্মের ফলাফলের পরিবর্তে নৈতিক নিয়ম, কর্তব্য এবং বাধ্যবাধকতার ওপর ভিত্তি করে কোনো কাজের সঠিক বা ভুল নির্ধারণ করে।
- Deontological ethics (কর্তব্যজ্ঞানীয় নীতিশাস্ত্র) বা কর্তব্য-ভিত্তিক নৈতিকতার মূল কথা হলো—কাজের ফলাফল (consequences) যেমনই হোক না কেন, নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম, নীতি বা কর্তব্য মেনে চলাই হলো নৈতিক আচরণ।
- এটি ফলাফলের পরিবর্তে কাজের অভিপ্রায় এবং 'কর্তব্য' পালনের ওপর জোর দেয়।

উল্লেখ্য,
- জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ডিওন্টোলজিকাল নীতিশাস্ত্র (Deontological Ethics) এবং কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবক্তা।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান দার্শনিক, যিনি নৈতিকতা ও কর্তব্যবাদের উপর গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- তাঁর নীতি কর্তব্যবাদ (Deontological Ethics) মূলত নৈতিকতা নির্ধারণ করে কাজের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর ভিত্তি করে, ফলাফলের উপর নয়।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

উৎস: Britannica.

৩২৪.
নীতি বিদ্যার আলোচ্য বিষয় কি?
  1. সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ আলোচনা ও মূল্যায়ন
  2. মানুষের আচরণের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান
  3. সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ ব্যাখ্যা
  4. মানুষের জীবনের সফলতার দিকগুলো আলোচনা
সঠিক উত্তর:
সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ আলোচনা ও মূল্যায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ আলোচনা ও মূল্যায়ন
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যা বা Ethics শব্দটি গ্রিক ভাষার Ethica থেকে উদ্ভূত, যা আবার Ethos থেকে এসেছে।
- Ethos-এর অর্থ হলো চরিত্র, রীতিনীতি বা অভ্যাস।
- নীতিবিদ্যাকে Moral Philosophy বা নীতি দর্শনও বলা হয়।
- নীতি বিদ্যার আলোচ্য বিষয়- সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ আলোচনা ও মূল্যায়ন। 

• উইলিয়াম লিলি (William Lillie) নীতিবিদ্যাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এমনভাবে যে- 
- এটি সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান, যা মানুষের আচরণকে যথাযথ বা অনুচিত, ভালো বা মন্দ হিসেবে বিচার করে।

• অধ্যাপক ম্যাকেঞ্জি (Mackenzie) নীতিবিদ্যাকে সংক্ষেপে “আচরণের মঙ্গল বা ঔচিত্যের আলোচনা” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

• সোফিস্টরা নীতি বিদ্যাকে প্রথমবার জনসম্মুখে তুলে ধরেন।
- তাদের প্রধান দার্শনিক মূলমন্ত্র ছিল- “মানুষ সব কিছুর পরিমাপক”, যা মানুষের বিচার-বিশ্লেষণ ও নৈতিকতা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

• নীতিবিদ্যার মূল চারটি ধারা হলো:
- পরানীতিবিদ্যা (Normative Ethics),
- আদর্শনিষ্ঠ নীতিবিদ্যা (Deontological Ethics),
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা (Descriptive Ethics),
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা (Applied Ethics).

• নীতিবিদ্যার আদর্শ বা মূল প্রবণতাগুলো হলো:
- সুখবাদ (Hedonism),
- বিচারবাদ (Justice-centered Ethics),
- সম্পূর্ণবাদ (Perfectionism),
- স্বজ্ঞাবাদ (Intuitionism).

উৎস:
নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ব্রিটানিকা।

৩২৫.
Ethics যে গ্রিক শব্দ থেকে উদ্ভূত তার অর্থ হলো-
  1. ক) উত্তম আচরণ
  2. খ) আবশ্যিক আচরণ
  3. গ) ঐচ্ছিক আচরণ
  4. ঘ) সামষ্টিক আচরণ
সঠিক উত্তর:
গ) ঐচ্ছিক আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঐচ্ছিক আচরণ
ব্যাখ্যা
ইংরেজি Ethics. শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত। Ethos শব্দটির অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ। অর্থাৎ Ethics বা নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্চিক আচরন নিযে আলোচনা করে। (সূত্রঃ নীতিবিদ্যা : মুহম্মদ আবদুল বারী)
৩২৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কোন প্রতিষ্ঠানটি সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি সেক্টরের উপস্থিতির উপর গুরুত্বারোপ করেছে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. UNDP
  4. IMF
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
UNDP সুশাসনের বিষয়ে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি সেক্টর এবং সুশীল সমাজের উপস্থিতির উপর গুরুত্ব আরোপ করে।
- সংস্থাটির মতে টেকসই মানব উন্নয়নের জন্যে বেসরকারি সেক্টর এবং সুশীল সমাজ গুরুত্বপূর্ণ।
(সূত্রঃ UNDP)
৩২৭.
একজন আমলার মৌলিক মূল্যবোধ হচ্ছে -
  1. ক) ক্ষমতা প্রদর্শন
  2. খ) জনকল্যান
  3. গ) দক্ষতা অর্জন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) জনকল্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জনকল্যান
ব্যাখ্যা
একজন জনপ্রশাসক বা আমলার মৌলিক মূল্যবোধ হলো জনগণের কল্যাণ সাধন করা।
এই মূল্যবোধের আলোকেই একজন জনপ্রশাসক বা আমলা তার কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করে।

সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক
৩২৮.
সুশাসনকে সরকারের কোন দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. রাজনৈতিক শক্তি
  2. অর্থনৈতিক নীতি
  3. উচ্চতর দক্ষতা
  4. সামাজিক প্রভাব
সঠিক উত্তর:
উচ্চতর দক্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চতর দক্ষতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩২৯.
উৎপত্তিগত অর্থে governance শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ফারসি
  2. গ্রিক
  3. স্প্যানিশ
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
ব্যাখ্যা
Governance:
- Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এর অর্থ শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।
- মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।

উল্লেখ্য,
- উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল। ল্যাটিন ভাষায় গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে।

⇒ Good Governance:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Good Governance শব্দটির অর্থ কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: i) ICSI.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৩০.
এনথনি জি ক্যাটান্স-এর মতে, বিশ্বাসের অন্তর্নিহিত মূল্য হলো -
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

⇒ বিশ্বাসের অন্তর্নিহিত মূল্য হলো মূল্যবোধ- এনথনি জি ক্যাটান্স।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩১.
মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে বিকাশ ঘটে -
  1. ক) মূল্যবোধের
  2. খ) নীতিবোধের
  3. গ) আইনের শাসনের
  4. ঘ) স্বাধীতার
সঠিক উত্তর:
খ) নীতিবোধের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নীতিবোধের
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি ।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত ।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৩২.
কোন ধরনের অনুভূতি সমাজের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে?
  1. সুশীলতা 
  2. শ্রমের মর্যাদা
  3. সহমর্মিতা
  4. সচেতনতা
সঠিক উত্তর:
সহমর্মিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা

সহমর্মিতা: 
- সহমর্মিতা একটি অন্যতম মানবীয় গুন।
- সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যকে আমরা পরের তরে, এটা সহমর্মিতার মূল কথা।
- সহমর্মিতার অনুভূতি সমাজের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।

অপরদিকে, 
- সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ  নাগরিকের অন্যতম গুন।
- সব ধরনের শ্রমের মর্যাদার প্রতি  শ্রদ্ধা করাকে শ্রমের মর্যাদা  বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৩৩.
'On the Genealogy of Morals' - গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. ক) জাঁ পল সার্ত্রে
  2. খ) ফ্রেডেরিক নিটশে
  3. গ) ভলতেয়ার
  4. ঘ) জন লক
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রেডেরিক নিটশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রেডেরিক নিটশে
ব্যাখ্যা
ফ্রেডেরিক নিটশে 
জন্ম ১৫ অক্টোবর ১৮৪৪, রকেন, স্যাক্সনি, প্রুশিয়া , জার্মানি - মৃত্যু ২৫ আগস্ট ১৯০০, ওয়েইমার, থুরিংজিয়ান স্টেটস।
জার্মান শাস্ত্রীয় পণ্ডিত, দার্শনিক এবং সংস্কৃতির সমালোচক, যিনি সমস্ত আধুনিক চিন্তাবিদদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।

তার রচিত বই
- Beyond Good and Evil
- Human, All-Too-Human
- On the Genealogy of Morals
- The Birth of Tragedy
- The Gay Science
- The Will to Power
- Untimely Meditations
 
উৎস: ব্রিটানিকা 
৩৩৪.
নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হলো-
  1. রাষ্ট্রের সেবা করা
  2. রাষ্ট্রের আইন মেনে চলা
  3. নিয়মিত কর প্রদান করা
  4. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা
- কর্তব্য হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের পালনীয় কতগুলো দায়িত্ব।
অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি এর মতে,
- “কর্তব্য বলতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গণ কল্যাণের জন্যে কোন কিছু করা বা না করার অধিকারকে বুঝায়।”
- রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হলো আনুগত্য প্রদর্শন
অন্যান্য কর্তব্যের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মান্য করা
- নিয়মিত কর প্রদান করা
- সততার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা
- রাষ্ট্রের সেবা করা
- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় না করা
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)। 
৩৩৫.
সুশাসনের পূর্বশর্ত কোনটি?
  1. প্রশাসনের নিরপেক্ষতা 
  2. শক্তিশালী সরকার
  3. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4.  অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সরকার ও জনগণকে আস্থার সম্পর্কের ভিত্তিতে বাঁধার নাম সুশাসন।
- সুশাসন জনপ্রশাসনের একটি- নব্য সংস্কৃতি।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- সুশাসনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য-টেকসই মানবাধিকার উন্নয়ন।
- সুশাসনের ধারণাটি- আপেক্ষিক।
- সুশাসনের প্রাণ হচ্ছে- সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি, ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৬.
ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি কী?
  1. নৈতিকতা
  2. আইন
  3. সংস্কৃতি
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে। মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে। সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ। এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৭.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. আইনসভার প্রাধান্য বৃদ্ধি
  3. কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থার সৃষ্টি
  4. নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা
সঠিক উত্তর:
নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি হলো সরকারের তিনটি বিভাগ যথা: শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতা ও কাজকে পৃথক বা স্বতন্ত্র করে দেওয়া।
- সরকারের যেকোন একটি বিভাগের স্বেচ্ছাচারি হওয়ার প্রবণতা রোধ করে নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করাই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল উদ্দেশ্য
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।
- তিনি ১৭৪৮ সালে সর্বপ্রথম তার The Spirit of Laws বইয়ে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৩৩৮.
সততা হলো মানুষের -
  1. স্বভাবজাত প্রবণতা
  2. স্বভাবজাত প্রবৃত্তি
  3. অর্জিত প্রবণতা
  4. সার্বিক বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
অর্জিত প্রবণতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্জিত প্রবণতা
ব্যাখ্যা
 সততা (Honesty):
- নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের স্থায়ী প্রবণতা।
- সততা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা নয়, অর্জিত প্রবণতা।
- কর্তব্য করার অভ্যাসের ফলেই সততা জন্মে।
- সততার স্বরূপ সম্পর্কে এরিষ্টটল বলেন, সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত এবং যার ভিত্তি বাস্তব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ-যে আদর্শটি বিচারবুদ্ধি স্থির করে দিয়েছে।
- তাই দেখা যায় নৈতিক আদর্শ অনুসারে ভাল কাজ নির্বাচন ও সম্পাদনের মাধ্যমেই যে অভ্যাস গড়ে উঠে তাই সততা।
- কোন মানুষ জন্মগতভাবে সৎ হতে পারে না, মানুষ ভাল কাজ করতে যখন সৎ অভ্যাস গঠন করে, তখন তাকে সৎলোক বলা হয়।
- মানুষ যখন তার প্রবৃত্তি, কামনা ও বাসনাকে বিচার-বুদ্ধির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে জীবনযাপন করে তখন সে চরিত্রবান বলে বিবেচিত হয়।
- তাই ম্যাকেনজী বলেন, সততা বলতে বুঝায় চরিত্রের সৎ অভ্যাস এবং তা কর্তব্য থেকে পৃথক।
- কর্তব্য বলতে বুঝায় এক বিশেষ ধরনের কাজ যা আমাদের করা উচিত।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৯.
আধুনিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি কী?
  1. স্থির সমাজব্যবস্থা
  2. ধর্মীয় অনুশাসন
  3. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
  4. সমাজের পরিবর্তনশীলতা
সঠিক উত্তর:
সমাজের পরিবর্তনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজের পরিবর্তনশীলতা
ব্যাখ্যা

আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে। এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে। রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই। মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৪০.
সুশাসনের ধারণাটি কোন সংস্থা থেকে উদ্ভাবিত হয়?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউএনডিপি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. সার্ক
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৪১.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোনটির কার্যক্রমকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে?
  1. ক) আইন বিভাগ
  2. খ) বিচার বিভাগ
  3. গ) শাসন বিভাগ
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) শাসন বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শাসন বিভাগ
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্দলীয়, অরাজনৈতিক ও বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী শাসন বিভাগের কার্যক্রমকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে।
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক]
৩৪২.
কীসের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে?
  1. ক) উচ্চশিক্ষা
  2. খ) অধিকার ভোগ
  3. গ) ধর্মীয় শিক্ষা
  4. ঘ) রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
খ) অধিকার ভোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধিকার ভোগ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যে অধিকার অপরিহার্য।
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা। এগুলো ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৪৩.
নিচের কোনটি মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত করে?
  1. ক) পারিবারিক শিক্ষা
  2. খ) সামাজিক শিক্ষা
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) উচ্চশিক্ষা
সঠিক উত্তর:
গ) মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
▪ মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত করে মূল্যবোধ
▪ এছাড়াও মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ এর উন্মেষ ঘটায়।
▪ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।   

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৪৪.
বিকল্প নীতি উত্থাপন কে করতে পারে?
  1. সরকারি দল
  2. বিরোধী দল
  3. সামরিক বাহিনী
  4. সচিবালয়
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

বিরোধী দল:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারা সরকার গঠন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- বাকি দলগুলো বিরোধী দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অপরিহার্য।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার সমূহ আশঙ্কা থাকে।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।

⇒ বিরোধী দলের বৈশিষ্ট্য:
১। গঠনমূলক সমালোচনা,
২। অধিকার বাস্তবায়ন,
৩। গণতন্ত্র রক্ষা,
৪। বিকল্প নীতি উত্থাপন,
৫। সমস্যা চিহ্নিত করা,
৬। জনমত গঠন,
৭। প্রার্থী মনোনয়ন,
৮। পারস্পরিক সম্পর্ক,
৯। রাজনৈতিক সংযোগ সাধন,
১০। রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ,
১১। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য,
বিকল্প নীতি উত্থাপন:
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৫.
রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ ধরা হয় কোনটিকে?
  1. আইন বিভাগ
  2. সংবাদপত্র
  3. সুশীল সমাজকে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজকে
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ (Civil Society):
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে। বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- সুশীল সমাজের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ প্রেস, রেডিও, টিভি মাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে বা মুখপাত্র হিসেবে যে বক্তব্য প্রকাশ করে থাকেন তা সুষ্ঠু জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

⇒ রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ ধরা হয় সুশীল সমাজকে (Civil Society)।
- রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভ হল আইনসভা, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং সংবাদমাধ্যম।
- সুশীল সমাজ এই চারটি স্তম্ভের বাইরে থেকে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে, সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয় এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
- তাই একে রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
৩৪৬.
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কিসের অন্তরায়?
  1. সুশাসন
  2. সামাজিক অবক্ষয়
  3. মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. শিক্ষার অবক্ষয়
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

গণমাধ্যম:
- যেসব মাধ্যমে জনগণের কাছে সংবাদ, মতামত ও বিনোদন পৌঁছানো বা পরিবেশন করা হয় তাকে গণমাধ্যম বলে। এটি সাধারণ মানুষের সিংহভাগে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম।
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ধরা হয়।
- নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় ধরা হয়।
- গণমাধ্যম জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসন সুসংহত করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৪৭.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন কোনটি?
  1. জেনেভা কনভেনশন
  2. মেরিডা কনভেনশন
  3. আইএলও কনভেনশন
  4. ভিয়েনা কনভেনশন
সঠিক উত্তর:
মেরিডা কনভেনশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরিডা কনভেনশন
ব্যাখ্যা
মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention): 
- মেরিডা কনভেনশন জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- স্বাক্ষর: ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল : মেক্সিকোর মেরিডা।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী : জাতিসংঘভূক্ত ১৮৯টি দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
- ২০২৩ সালে মেক্সিকো ২০তম বর্ষপূর্তি পালন করে।
- এটি পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র কভার করে। 

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Mexico সরকারি ওয়েবসাইট
৩৪৮.
‘নিয়মিত কর প্রদান করা‘ কোন ধরণের কর্তব্য?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) রাজনৈতিক
  3. গ) অর্থনৈতিক
  4. ঘ) নৈতিক
সঠিক উত্তর:
গ) অর্থনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক কর্তব্য (Economic Duties):
- নাগরিকের বেশকিছু অর্থনৈতিক দায়িত্বও রয়েছে।
যেমন:
 → কর্মক্ষম সকল নাগরিকের রাষ্ট্রীয় উৎপাদন ও উন্নয়নে অংশগ্রহণ করা,
 → নিয়মিত খাজনা ও কর প্রদান করা প্রভৃতি হলো একজন মানুষের অর্থনৈতিক কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৪৯.
সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো __________।"
  1. আচরণধারা
  2. মানদণ্ড
  3. গোষ্ঠীগত কল্যাণ
  4. পারস্পরিক প্রত্যাশা
সঠিক উত্তর:
মানদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানদণ্ড
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ (Social Values):
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদণ্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজে বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে গড়ে ওঠা এমন কিছু আচরণ, বিশ্বাস ও নীতি, যা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য এবং সমাজে শৃঙ্খলা ও সহাবস্থানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

• বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীর সংজ্ঞানুযায়ী-

• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে,
"সামাজিক মূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড।"

• ক্লাইড ক্লুখোন বলেন-
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।''

• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন-
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।''

•  স্টুয়ার্ট সি. ডড -এর মতে,
''সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেই সকল রীতি-নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।''

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৫০.
গণতন্ত্রের অর্থ হল -
  1. জনগণের শাসন
  2. জনপ্রতিনিধির শাসন
  3. মানুষের শাসন
  4. শোষিতের শাসন
সঠিক উত্তর:
জনগণের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের শাসন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের অর্থ হল জনগণের শাসন।
- গ্রীক Demos ও Kratia শব্দদ্বয় হতে Democracy শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে।
- Demos শব্দের অর্থ জনসাধারণ এবং Kratia শব্দের অর্থ শাসন বা ক্ষমতা।
- সুতরাং শব্দগত বা উৎপত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণ পরিচালিত শাসনব্যবস্থা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৫১.
উপযোগবাদ তত্ত্বের জনক -
  1. ক) আইভরি জেনিংস
  2. খ) জেরেমি বেন্থাম
  3. গ) আরজ আলী মাতব্বর
  4. ঘ) অধ্যাপক লাস্কি
সঠিক উত্তর:
খ) জেরেমি বেন্থাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
- উপযোগবাদ তত্ত্বের জনক বা প্রতিষ্ঠাতা ইংরেজ দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম।
- তিনি ছিলেন একজন আইনতত্ত্ববিদ ও সমাজ সংস্কারক।
- তিনি যুক্তরাজ্যের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'.
- এই গ্রন্থে তিনি উপযোগবাদ তত্ত্বটি প্রথম ব্যাখ্যা করেন।
- এই মতবাদ অনুযায়ী, 'যা কিছু আনন্দদায়ক তাই ভালো।'
৩৫২.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) পরমতসহিষ্ণুতা
  2. খ) দায়িত্বশীলতা
  3. গ) জবাবদিহিতা
  4. ঘ) স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
খ) দায়িত্বশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
⇨ দায়িত্বশীলতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ। 
⇨ গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্বশীল বলেই সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৩৫৩.
অধ্যাপক ডাইসি - এর মতে, আইনের শাসনের কয়টি মৌলিক শর্ত রয়েছে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক ডাইসি - এর মতে, আইনের শাসনের তিনটি মৌলিক শর্ত রয়েছে।
যথা -
১. আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান,
২. আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকা ও
৩.শুনানী ব্যতীত কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন না করা।

উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
৩৫৪.
কোনটি দ্বারা 'Education' শব্দটি প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) Educatum
  2. খ) Educere
  3. গ) Educare
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ‘শিক্ষা' শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হিসেবে 'Education' শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
- 'Education' শব্দটি ইংরেজি ভাষায় এসেছে ল্যাটিন ভাষা থেকে। 
- ল্যাটিন ভাষায় তিনটি মৌলিক শব্দের সন্ধান পাওয়া যায়, যথা 'Educatum' 'Educere' এবং 'Educare'। 
- প্রথমটি অর্থাৎ 'Educatum' শব্দটির অর্থ শিক্ষা কর্ম (Act of teaching) বা শিক্ষকতা।
-  দ্বিতীয়টি অর্থাৎ Educere শব্দের অর্থ লালন-পালন করা (To bring up) বা প্রয়োজন অনুসারে প্রশিক্ষণ দেওয়া (To train)।
-  তৃতীয়টি অর্থাৎ Educare শব্দটির সমার্থ হল প্রকাশ করা (To Lead out) বা বিকাশ ঘটানো (To draw)। 
- উপরের তিনটি ল্যাটিন শব্দের ভাবগত অর্থ ইংরেজি Education শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
 
উৎস: সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৫.
কোনটি একটি সামাজিক কুপ্রথা?
  1. ক) দারিদ্র্য
  2. খ) অপুষ্টি
  3. গ) অশিক্ষা
  4. ঘ) যৌতুক
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌতুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌতুক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা বা অনাচার হলো যৌতুক প্রথা। বিয়ের সময় বর বা কনে পক্ষ কর্তৃক বিপরীত পক্ষের নিকট অর্থ বা সম্পদ দাবী ও গ্রহণ করা যৌতুক নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের সর্বত্রই এই প্রথা বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশর আইনে যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া দুটোই নিষিদ্ধ।
(সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
৩৫৬.
Existentialism হচ্ছে -
  1. একটি উগ্রবাদী সংগঠন
  2. একটি দার্শনিক মতবাদ
  3. একটি ব্যবসায় সংগঠন
  4. একটি নৈতিকতার মতবাদ
সঠিক উত্তর:
একটি দার্শনিক মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি দার্শনিক মতবাদ
ব্যাখ্যা
Existentialism:
- Existentialism এর বাংলা অস্তিত্ববাদ।
- এটি বিংশ শতাব্দীর একটি দার্শনিক মতবাদ। 
- অস্তিত্ববাদ একটি দার্শনিক প্রবণতা, এটা মূলত মানুষের অস্তিত্ব এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পছন্দ, এবং অর্থহীনতা নিয়ে আলোচনা করে।
- জ্যাঁ পল সার্ত্রে অস্তিত্ববাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। 
- অস্তিত্ববাদীদের মতে, মানুষের জীবন প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন এবং মানুষকে তার নিজের জীবনের উদ্দেশ্য এবং মূল্য খুঁজে নিতে হবে।

উল্লেখ্য, 
- জ্যাঁ পল সার্ত্রে ১৯৪৯ সালে ‘Existentialism Is a Humanism' নামে ছোট্ট একটি পুস্তিকা লেখেন।

সূত্র: Britannica.
৩৫৭.
আইন নিষ্প্রয়োজন হয় কখন?
  1. শাসক ন্যায়বান হলে
  2. শাসক দুর্নীতিপরায়ণ হলে
  3. শাসক চরিত্রহীন হলে
  4. শাসক স্বৈরাচারী হলে
সঠিক উত্তর:
শাসক ন্যায়বান হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসক ন্যায়বান হলে
ব্যাখ্যা
আইন ও নীতিশাস্ত্র:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভাল-মন্দের আলোচনাই হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- দেশের প্রচলিত আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে তা অকেজো হয়ে যায়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।

⇒ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৮.
‘Meta-ethics’ শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. পরানীতিবিদ্যা
  2. ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা
  3. সামাজিক নীতিবিদ্যা
  4. আদর্শ নীতিবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
পরানীতিবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরানীতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা

পরানীতিবিদ্যা (Meta-ethics):
- ‘Meta Ethics’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে পরানীতিবিদ্যা।
- পরানীতিবিদ্যা হলো নীতিশাস্ত্রের একটি শাখা, যা নৈতিক বিচার, নৈতিক ভাষা, নৈতিক সত্য এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রকৃতি নিয়ে দর্শনচিন্তা করে।
- এটি আমাদের শেখায়, কোনো কাজ সঠিক না ভুল- সেটা নির্ধারণ করার আগে, আমাদের জানা দরকার "সঠিক" বা "ভুল" শব্দগুলোর মানে কী এবং সেগুলো কীভাবে কাজ করে।
- পরানীতিবিদ্যা আমাদের নৈতিক ধারণাগুলোর গভীর ব্যাখ্যা দেয় - এগুলোর ভাষাগত, যুক্তিভিত্তিক ও অস্তিত্বগত বিশ্লেষণ করে।
- এটি সঠিক ও ভুলের বিচার না করে, বরং এই বিচারগুলোর ভিত্তি কী, সেটি বুঝতে সাহায্য করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৯.
সুশাসনের পূর্বশর্ত কী?
  1. ক) আইনের শাসন
  2. খ) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. গ) জবাবদিহিতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসনের পূর্বশর্ত:
- যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হলো:
• আইনের শাসন,
• স্বচ্ছতা,
• জবাবদিহিতা,
• গ্রহণযোগ্যতা,
• দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্ৰশাসন,
• অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা,
• স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
• দায়বদ্ধতা,
• ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
• রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা,
• অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,
• বাকস্বাধীনতা,
• বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
• বৈধতা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৬০.
নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) স্বাধীন বিচার বিভাগ
  2. খ) অস্বচ্ছতা
  3. গ) জবাবদিহিতা
  4. ঘ) অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
খ) অস্বচ্ছতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অস্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সমঅংশীদারিত্ব, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা ইত্যাদি সুশাসনের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

পক্ষান্তরে,

দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অস্বচ্ছতা, ক্ষমতার অপব্যবহার প্রভৃতি সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩৬১.
২০২৫ সালের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ১২৯তম
  2. ১৩০তম
  3. ১৩১তম
  4. ১৩৩তম
সঠিক উত্তর:
১৩০তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩০তম
ব্যাখ্যা

মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- মানব উন্নয়ন সূচক হলো বিশ্বের সকল দেশ-সমূহের জীবন মান, শিক্ষা, নিরক্ষরতা প্রভৃতির একটি তুলনামূলক সূচক।
- একে সংক্ষেপে HDI (Human Development Index) বলা হয়।
- মানব উন্নয়ন মাপকাঠি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সাজানো হয়।
- প্রতি বছর UNDP মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।

⇒ মানব উন্নয়ন রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৩৬২.
একটি সমাজ ও রাষ্ট্র কতটা উন্নত ও প্রগতিশীল তা কোন ধরনের মূল্যবোধ দেখে ধারণা করা যায়?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) রাজনৈতিক
  3. গ) সাংস্কৃতিক
  4. ঘ) গণতান্ত্রিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) গণতান্ত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গণতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
• যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল। 
• সুশাসনের সাথে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পর্ক খুবি নিবিড়। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৬৩.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস- 
  1. সমাজ
  2. রাষ্ট্র 
  3. পরিবার
  4. আদালত
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।

- পরিবার থেকেই শিশুর মূল্যবোধ শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
- মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় বা শিক্ষালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম - উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৬৪.
সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রয়োজন -
  1. আইনের শাসন 
  2. সুশিক্ষা 
  3. পারিবারিক শিক্ষা
  4. সামরিক শাসন 
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন 
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
 ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬৫.
মূল্যবোধের ___________হলো সংস্কৃতি। 
  1. প্রাণ
  2. ভিত্তি
  3. সোপান
  4. চালিকাশক্তি
সঠিক উত্তর:
চালিকাশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালিকাশক্তি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি:
-মূল্যবোধের চালিকাশক্তি হলো সংস্কৃতি।
- মূল্যবোধ (Values) হলো সমাজে ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায়ের ভিত্তিতে গৃহীত কিছু আদর্শ ও নীতিমালা।
- মূল্যবোধ গড়ে ওঠে একটি সমাজের বিশ্বাস, আচরণ, নীতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে।
- এসব উপাদান সবচেয়ে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতিতে।

অন্যদিকে,
- সংস্কৃতি বলতে বোঝায় একটি সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, ধর্ম, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি।
- সংস্কৃতি এমন একটি শক্তি, যা নিরবিচারে ব্যক্তি ও সমাজের মনন, চিন্তা ও আচরণের ভিত গড়ে তোলে।
- এই সংস্কৃতিই সমাজের মানুষের মানসিকতা, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- তাই, সংস্কৃতিকেই বলা হয় মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৬৬.
নীতিবিদ্যার মূল ধারা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার মূল ধারা:
- নীতিবিদ্যার মূল ধারা চারটি। যথা:
১. বিশ্লেষণী নীতিবিদ্যা বা পরানীতিবিদ্যা: নীতিবিদ্যা যদি নৈতিকতাকে বুঝার দার্শনিক প্রচেষ্টা হয় তাহলে পরানীতিবিদ্যাকে আমরা নৈতিকতার ভাষা বিশ্লেষণের মাধ্যমে একে বুঝার প্রচেষ্টা বলতে পারি।
২. আদর্শনিষ্ঠ (মানমূলক) নীতিবিদ্যা: এতে কোন একটা বিশেষ মান বা আদর্শের (Norm) আলোকে মানুষের আচরণের ভালমন্দ বিচার করা হয়।
৩. বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা: এই নীতিবিদ্যার আওতায় নৈতিকতা সম্পর্কে যেসব আলোচনা করা হয় তা প্রকৃতিগত দিক থেকে অভিজ্ঞতানির্ভর।
৪. ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা: বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা।

তথ্যসূত্র - দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৭.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৬টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা

আইন ও আইনের উৎস:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

♦ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
• প্রথা,
• ধৰ্ম,
• বিচারকের রায়,
• ন্যায়বিচার,
• বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, 
• আইনসভা।

♦ ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
• প্রথা
• ধর্ম,
•  বিচারকের রায়,
• ন্যায়বিচার,
• বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
• আইনসভা,
• জনমত।

♦  জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
• সার্বভৌমের আদেশ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৬৮.
Considerations on Representative Government' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জন লক 
  2. জ্যা জ্যাক রুশো
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. প্লেটো 
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা

জন স্টুয়ার্ট মিল:
- জন স্টুয়ার্ট মিল একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের বিখ্যাত গ্রন্থ ’On Liberty’.
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'On Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- Considerations on Representative Government,
- Examination of Sir William Hamilton's Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

অন্যদিকে, 
- প্লেটোর বিখ্যাত বই: The Republic.
• জন লক বিখ্যাত বই: An Essay Concerning Human Understanding.
- কার্ল মার্কস এর বিখ্যাত রচনা Das Capital.

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৬৯.
মেরিডা কনভেনশন কী সম্পর্কিত?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. দুর্নীতি প্রতিরোধ
  3. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ
  4. শিশুশ্রম প্রতিরোধ
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি প্রতিরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা

দূর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক এজেন্ডা:
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)
- পরিচয়: জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- স্বাক্ষর: ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল : মেক্সিকোর মেরিডা।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী : জাতিসংঘভূক্ত ১৮৯টি দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
- ২০২৩ সালে মেক্সিকো ২০তম বর্ষপূর্তি পালন করে।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Mexico সরকারি ওয়েবসাইট।

৩৭০.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) সরকার গঠন
  2. খ) রাজনৈতিক চেতনা ও শিক্ষার প্রসার
  3. গ) নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা আরোহণ
  4. ঘ) সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পেশাগত স্বার্থ আদায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পেশাগত স্বার্থ আদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পেশাগত স্বার্থ আদায়
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ :

১.বেসরকারি সংগঠন:

- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি স্বীকৃতিও সাধারণত থাকে না।

২. সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা স্বার্থ:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী গঠিত হয় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য।
- স্বার্থ আদায় বা স্বার্থরক্ষার জন্য বহুমুখী, ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী গঠিত হয় না। এমনকি জাতীয় কল্যাণের জন্য কোনো মহান উদ্দেশ্যও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর থাকে না।

৩. নির্দলীয় বা অরাজনৈতিক সংগঠন:
- স্বার্থকামী গোষ্ঠী নিজেকে নির্দল বা অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে মনে করে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী অরাজনৈতিক চরিত্র নিয়েই বেঁচে থাকতে চায়।

৪. সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী:
- স্বার্থকামী গোষ্ঠী সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী। তাঁরা সুসংগঠিত। তাঁদের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট।

৫. সরকারকে নিয়ন্ত্রণ:
- স্বার্থকামী গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠন বা সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না।
- এর লক্ষ্য হলো সরকারের নীতি ও আচরণকে প্রভাবিত করা।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আইনসভার সদস্যগণকে প্রভাবিত করে নিজেদের অনুকূলে আইন প্রণয়ন করিয়ে নেয়, শাসন বিভাগকে প্রভাবিত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায়, পছন্দের দল-ব্যক্তিকে নির্বাচনে সহযোগিতা প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৭১.
মত প্রকাশের অধিকার কোন ধরনের অধিকার?
  1. সাংস্কৃতিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. নৈতিক অধিকার
  4. সামাজিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- সামাজিক অধিকার হলো সেসব অধিকার যেগুলো আমরা সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে ভোগ করে থাকি।
সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- মত প্রকাশের অধিকার
- চলাফেরার অধিকার
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- সম্পত্তি লাভের অধিকার
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৭২.
জাতীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ শিক্ষার মধ্যে সম্পর্ক কী?
  1. জাতীয় আদর্শ কেবল আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়
  2. মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শের ভিত্তি তৈরি করে
  3. জাতীয় আদর্শ গঠনে মূল্যবোধ শিক্ষার কোনো ভূমিকা নেই
  4. জাতীয় আদর্শ শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতাদের জন্য প্রযোজ্য
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শের ভিত্তি তৈরি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শের ভিত্তি তৈরি করে
ব্যাখ্যা
জাতীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ শিক্ষা:
- জাতীয় আদর্শ হলো একটি জাতির নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি, যা দেশ, সমাজ ও জনগণের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শের ভিত্তি তৈরি করে।
- কারণ এটি মানুষের চিন্তাধারা, আচরণ ও সমাজ পরিচালনার নীতিগুলোকে গড়ে তোলে এবং একটি উন্নত, সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষকে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ শেখায়। 
- মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিকদের সুশাসন সম্পর্কে সচেতন করে এবং দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গি ও ন্যায়বিচারের চেতনা তৈরি করে, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।
৩৭৩.
মূল্যবোধের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ নির্ধারিত হয়-
  1. ক) বংশগতভাবে
  2. খ) সামাজিকভাবে
  3. গ) রাজনৈতিকভাবে
  4. ঘ) দলীয়ভাবে
সঠিক উত্তর:
ক) বংশগতভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বংশগতভাবে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উৎস
▪ মূল্যবোধের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ জেনেটিক্যালি নির্ধারিত হয়।
▪ আপনার মূল্যবোধ কী হবে তার ব্যাখ্যা প্রদানে আপনার পিতা-মাতার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
▪ তথাপি মূল্যবোধের বৈচিত্রতার ক্ষেত্রে পরিবেশগত উপাদান ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
▪ মূল্যবোধকে একটি প্রত্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রত্যয়ের উপাদান হচ্ছে: নীতি, মান ও বিশ্বাস।
▪ এসব উপাদান স্পষ্ট করে দেয় ব্যক্তি, সমাজ বা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান; ভাল-মন্দ, দোষ-গুন, ন্যায়পরায়নতা, নৈতিকতা বচার করে এবং নৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে কাজের দিক নির্দেশনা।
▪ এ উপাদানগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ বংশগতি থেকে পেয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৪.
টি. এইচ. গ্রিনের মতে, রাষ্ট্রের ভিত্তি কী?
  1. শক্তি
  2. ইচ্ছা
  3. কর্তব্য
  4. অধিকার
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের ভিত্তি:
- টিএইচ গ্রিন ছিলেন উনিশ শতকের একজন প্রভাবশালী ব্রিটিশ দার্শনিক ও উদারপন্থী চিন্তাবিদ।
- তিনি নৈতিক দর্শন ও রাজনৈতিক চিন্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাঁর মতে, রাষ্ট্র কেবল শক্তি বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে গঠিত হয় না, বরং জনগণের নৈতিক সম্মতি ও ইচ্ছার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
- গ্রিন বোঝাতে চেয়েছেন যে, একটি স্থায়ী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কেবল অস্ত্র বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখা যায় না।
- জনগণের সচেতন স্বীকৃতি, নৈতিক দায়িত্ববোধ, এবং সম্মিলিত ইচ্ছাই রাষ্ট্র গঠনের প্রকৃত ভিত্তি।
- জনগণ যদি স্বেচ্ছায় আইন মেনে চলে, তবেই রাষ্ট্র কার্যকর হয় এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান , এস এস এইচ এল , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৫.
'গ্লাসনস্ত' কথাটির অর্থ কী?
  1. ক) সমাজতন্ত্রের সংগঠন
  2. খ) গনতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন
  3. গ) মুক্ত আলোচনা
  4. ঘ) গনতান্ত্রিক সংগঠন
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্ত আলোচনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্ত আলোচনা
ব্যাখ্যা

সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ গ্লাস্তনস্ত নীতির প্রবর্তক। 
- সোভিয়েত নাগরিকদের ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তিনি খোলামেলা আলোচনার যে মুক্ত ব্যবস্থা চালু করেছিলেন তাই গ্লাসনস্ত নীতি হিসেবে অভিহিত।

উৎসঃ ব্রিটানিকা

৩৭৬.
সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে কে?
  1. রাষ্ট্রপ্রধান
  2. পরিকল্পনামন্ত্রী
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. আমলাগণ 
সঠিক উত্তর:
আমলাগণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলাগণ 
ব্যাখ্যা
• সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়ন:
- সরকার যে সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে থাকে আমলাতন্ত্র।
- আমলারা সরকারের আদেশ-নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করে।
- আমলাদের দ্বারা সরকারি নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়নের উপর সরকারের সাফল্য ব্যর্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৭.
অবস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ কোনটি?
  1. তৈজসপত্র
  2. শিল্পকলা
  3. আসবাবপত্র
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শিল্পকলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিল্পকলা
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতির ধরন:
সমাজে সাধারণত দুই ধরনের সংস্কৃতি বিদ্যামান।যথা-
১. বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
২. অবস্তুগত সংস্কৃতি।

১. বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম আর এগুলোই বস্তুগত সংস্কৃতি।

২. অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৮.
'জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন' সুশাসনের কয়টি উপাদান উল্লেখ করেছে?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫টি
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন (UNHRC) সুশাসনের উপাদানের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
এগুলো হলো:
- স্বচ্ছতা
- দায়বদ্ধতা
- জবাবদিহিতা
- অংশগ্রহণ এবং
- সংবেদনশীলতা।

(তথ্যসূত্র: UNHRC ওয়েবসাইট)
৩৭৯.
Greatest Happiness Principle নীতির প্রবক্তা কে?
  1. ক) ইমানুয়েল কান্ট
  2. খ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. গ) জেরেমি বেন্থাম
  4. ঘ) সক্রেটিস
সঠিক উত্তর:
গ) জেরেমি বেন্থাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম Greatest Happines Principle নীতির (১৭৮৯) প্রবক্তা। এই নীতির অর্থ হলো কোন কিছু বা কোন কাজকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ফলাফল দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে। অর্থাৎ কোন কিছু ভালো কি মন্দ তা ফলাফলের উপর নির্ভরশীল। (সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৩৮০.
“মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. স্টুয়ার্ড সি. ডড
  2. এইচ এম জনসন
  3. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  4. এফ ই মেরিল
সঠিক উত্তর:
এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন -

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”

• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।

• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”

• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮১.
কোনটি ‘সর্বোচ্চ ও সার্বভৌম’ ক্ষমতার অধিকারী?
  1. রাষ্ট্র
  2. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. আমলাতন্ত্র
  4. রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান।
- এটি সর্বোচ্চ ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
- সরকার রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান।

এছাড়াও,
- ইংরেজ দার্শনিক টি, এইচ, গ্রিন (T.H. Green), তাই যথার্থই বলেছেন, 'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' ("Will, not force is the basis of state").
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বলপ্রয়োগ মতবাদ সমর্থন যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এ মতবাদের যে কোনরূপ গুরুত্ব ও প্রভাব যে নেই তা নয়।
- একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বল বা শক্তির সমর্থন ব্যতীত রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।
- রাষ্ট্রাভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্যও শক্তির প্রয়োজন।
- একারণেই বলা হয় যে, 'রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান” ('The state is a coercive institution)'.

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮২.
নিচের কোনটি 'রাজনৈতিক' মূল্যবোধের অংশ নয়?
  1. দেশপ্রেম
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. বিরোধী মত প্রচার 
  4. শিষ্টাচার
সঠিক উত্তর:
দেশপ্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশপ্রেম
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৮৩.
নিচের কোনটি সংস্কৃতির উপাদান?
  1. নৈতিকতা
  2. মূল্যবোধ
  3. আচরণবিধি
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- সংস্কৃতি দুই প্রকার।
- যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই।
- তবে সাধারন কিছু উপাদান আছে যা সকল দেশে একই রকম।
- এগুলো হলো: ভাষা, প্রতীক, আচরণবিধি, হস্তশিল্প, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি

অন্যদিকে, 
- আইন সংস্কৃতির উপাদান নয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৪.
"নিকোমেকীয়ান এথিক্স" গ্রন্থটি লিখেছেন কে? 
  1. প্লেটো
  2. সক্রেটিস
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

- "নিকোম্যাকিয়ান এথিক্স" গ্রন্থটি এরিস্টটল এর লেখা একটি বিখ্যাত গ্রন্থ।
- এরিস্টটল আত্মহত্যাকে সমর্থন করেননি।
- তিনি এটিকে কাপুরুষোচিত কাজ, রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী এবং অপরাধমূলক কাজ বলে অভিহিত করেছেন।
- তিনি নিকেমেকিয়ান এথিক্স গ্রন্থের নবম পুস্তকে আত্মহত্যার বিরোধিতা করেন।
- তিনি আত্মহত্যাকে অন্যায্য বলে উল্লেখ করেছেন, কারণ তাঁর মতে আত্মহত্যা নিজের দেহের ক্ষতিসাধন কল্পে করা হয়, কেবলমাত্র প্রায়শ্চিত্তের জন্য নয়।

• প্লেটো (Plato)
- বিখ্যাত বই: 'দ্য রিপাবলিক' (The Republic)
-  এটি প্লেটোর সবচেয়ে প্রভাবশালী কাজ। এতে তিনি একটি আদর্শ রাষ্ট্র বা 'ইউটোপিয়া'র কল্পনা করেছেন। ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং 'দার্শনিক রাজা'র ধারণা এই বইয়ের মূল উপজীব্য।

• সক্রেটিস (Socrates)
- বিখ্যাত বই: সক্রেটিস নিজে কোনো বই লিখে যাননি।
- সক্রেটিস মনে করতেন জ্ঞান লিখিত রূপের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে বেশি বিকশিত হয়।
- তবে তার দর্শন ও কথোপকথন আমরা জানতে পারি তার ছাত্র প্লেটোর লেখা 'অ্যাপোলজি' (Apology) এবং অন্যান্য সংলাপ (Dialogues) থেকে। তাই তাকে বুঝতে হলে প্লেটোর বইগুলোই প্রধান উৎস।


• ইমানুয়েল কান্ট (Immanuel Kant):
- বিখ্যাত বই: 'ক্রিটিক অব পিউর রিজন' (Critique of Pure Reason)
- আধুনিক দর্শনের অন্যতম কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই বইটিতে কান্ট মানুষের জ্ঞানতত্ত্ব বা আমরা কীভাবে কোনো কিছু জানি, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি অধিবিদ্যা (Metaphysics) ও যুক্তিশাস্ত্রের ভিতে পরিবর্তন এনে দিয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং নীতিবিদ্যা এমএমএল।

৩৮৫.
আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড'- এটি কোন মতবাদ নির্দেশ করে?
  1. উদারতাবাদ
  2. অস্তিত্ববাদ
  3. পূর্ণতাবাদ
  4. উপযোগবাদ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণতাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণতাবাদ
ব্যাখ্যা
পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

⇒ সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন:
- পূর্ণতাবাদের মতে, পূর্ণতালাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৬.
নাগরিক অধিকারের সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ -
  1. স্বচ্ছতা
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. জনগণের সজাগ দৃষ্টি
  4. দক্ষতা
সঠিক উত্তর:
জনগণের সজাগ দৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের সজাগ দৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• জনসচেতনতার অভাব:
 → জনগণের সচেতনতাই গণতন্ত্রের সফলতার মূল শক্তি।
 → জনগণের সজাগ দৃষ্টি নাগরিক অধিকারের সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ।
 → জনসচেতনতা সুশাসনেরও চাবিকাঠি।
 → জনগণ সচেতনতা না হলে সরকার, প্রশাসনযনন্ত্র স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
৩৮৭.
নিচের কোনটি ব্যক্তির 'জাতীয় সম্পদ'?
  1. পার্ক
  2. খনিজ সম্পদ
  3. চিড়িয়াখানা
  4. হাসপাতাল
সঠিক উত্তর:
খনিজ সম্পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খনিজ সম্পদ
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ ব্যক্তির 'জাতীয় সম্পদ'। অন্যদিকে, হাসপাতাল, পার্ক, চিড়িয়াখানা ব্যক্তির সমষ্টিগত সম্পদ।

সম্পদ:

- মালিকানার দিক হতে সম্পদকে চারভাগে ভাগ করা যায়।

ব্যক্তিগত সম্পদ:
- ব্যক্তির মালিকানায় যেসব সম্পদ রয়েছে তাই হচ্ছে ব্যক্তিগত সম্পদ।
- যেমন- গাড়ি-বাড়ি, আসবাবপত্র ইত্যাদি।

সমষ্টিগত সম্পদ:
- যেসব সম্পদের মালিকানা সমাজ বা রাষ্ট্রের হাতে থাকে সেসব সম্পদকে সমষ্টিগত সম্পদ বলে।
- অর্থাৎ জনগণের ব্যবহৃত সম্পদ ও সরকারি সম্পদ একত্রে মিলে সমষ্টিগত সম্পদ সৃষ্টি হয়।
- যেমন- রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, পার্ক, চিড়িয়াখানা ইত্যাদি।

জাতীয় সম্পদ:
- জাতীয় সম্পদ মূলত: ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সম্পদের সংমিশ্রণে সৃষ্ট।
- যেমন- জনগণের সুনাম, কারিগরি সম্পদ, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি জাতীয় সম্পদের অন্তর্গত।

আন্তর্জাতিক সম্পদ:
- আন্তর্জাতিক সম্পদ হচ্ছে সেই সম্পদ যার মালিকানা ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রের নয় বরং পৃথিবীর সব দেশ তা ভোগ করতে পারে।
- যেমন- সাগর, মহাসাগর, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ইত্যাদি।

উৎস: অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৮.
কোনটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার?
  1. ভোটাধিকার
  2. মানবাধিকার
  3. মৌলিক অধিকার
  4. নৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
মানবাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানবাধিকার
ব্যাখ্যা
মানুষের অধিকার:
- মানবাধিকার হলো ব্যক্তির বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা।
- মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত অধিকার, যা তাকে পূর্ণভাবে বিকশিত হতে সাহায্য করে।
- মানবাধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, অর্থাৎ স্থান বা আইনের পার্থক্য অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হয় না।
- যদিও মানবাধিকার আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত, এগুলোর অস্তিত্ব রাষ্ট্রব্যবস্থা শুরু হওয়ার আগেও ছিল।

অন্যদিকে,
- মৌলিক অধিকার হলো মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য অধিকার, যা সাধারণত সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্র নির্ধারিত করে থাকেন।
- আইনগত অধিকার হলো আইনের দ্বারা নির্ধারিত অধিকার।
- ভোটাধিকার হলো একটি মৌলিক অধিকার, যার মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দ অনুযায়ী সরকার গঠন বা পরিবর্তন করার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
- ভোটাধিকার স্বীকৃতি সাধারণত রাষ্ট্র বা সরকার দেয়।
- নৈতিক অধিকার হলো মানুষের বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত অধিকার, যার আইনি ভিত্তি নেই।

তথ্যসূত্র:- সিভিক এডুকেশন, বিএসএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৮৯.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল কত প্রকার স্বার্থকামী গোষ্ঠীর কথা বলেছেন?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:

১. স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী:
- স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী গোষ্ঠী কোন একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাবাবেগ দ্বারা চালিত হয়ে হঠাৎ করে হিংসাত্মক কার্যকলাপের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে থাকে। আবেগ এদেরকে সংঘবদ্ধ করে। দাঙ্গা হাঙ্গামা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন এ ধরণের চাপগোষ্ঠীর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

২. সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
- যে চাপগোষ্ঠী নিজস্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে তাকে সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে। এই গোষ্ঠী গোষ্ঠীস্বার্থ সংরক্ষণের এক বিশেষ উপায় হিসেবে স্বীকৃত। এ গোষ্ঠী কোন হঠকারী আচরণ করেনা। বরং সুপরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হয়ে থাকে। এরা বিভিন্ন চ্যানেলে নিজেদের স্বার্থের কথা, আইনসভা, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমে পেশ করে। শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, শিল্পপতিদের সমিতি এবং অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন এ ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠীর উদাহরণ।

৩. অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী তেমন কোন সুসংহত বা সুসংগঠিত গোষ্ঠী নয়। এদের সাংগঠনিক দুর্বলতা সুস্পষ্ঠ। গোষ্ঠী বিশেষ ব্যক্তি, পরিবার, ধর্মনেতা, অঞ্চল প্রধান প্রভৃতির মাধ্যমে দাবি পেশ ও আদায়ের চেষ্টা করে। বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠী, ধর্মগুরুর অনুসারী গোষ্ঠী এরূপ স্বার্থকামী গোষ্ঠী প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সরকারী ব্যবস্থায় এদের চাপ প্রয়োগ তেমন জোরদার হয় না। ফলে দাবী আদায়ের ব্যর্থতা ফুটে উঠে। বংশ, বর্ণ, অঞ্চল প্রভৃতি শ্রেণীর ক্ষুদ্রতর বিন্যাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলা হয়।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
- উন্নয়নশীল দেশ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং সরকারের বাইরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত গোষ্ঠী যখন তাদের পেশা সংশ্লিষ্ট স্বার্থ আদায়ের জন্য সংঘবদ্ধ হয় তখন প্রতিষ্ঠানিক স্বার্থগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে। এদের সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই মজবুত হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এদের উদ্ভব ঘটে। আইন পরিষদ, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী, প্রভৃতি এধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সম্মিলিত সংস্থা হিসাবে এ গোষ্ঠী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজ সম্পাদন করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯০.
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) মতে স্বাধীনতা হচ্ছে-
  1. মুল্যবোধের ফল
  2. অধিকারের ফল
  3. কর্তব্যের ফল
  4. জবাবদিহিতার ফল
সঠিক উত্তর:
অধিকারের ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকারের ফল
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 
- রাষ্ট্রে একজন নাগরিকের অস্তিত্ব বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতা থেকেই প্রকাশ পায়।
- স্বাধীনতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Liberty'।
- স্বাধীনতাকে শাব্দিক অর্থে বলা যায় নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করা।
-  স্বাধীনতা মানে যৌক্তিক ও আইনসিদ্ধভাবে কোন কিছু করাকেই বুঝায়।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকগণ নানা ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে।
• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন "স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল"।
• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন
করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯১.
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা বলা হয় কাকে?
  1. ক) কার্ল মার্ক্স
  2. খ) ম্যাকিয়াভেলি
  3. গ) জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. ঘ) মন্টেস্কু
সঠিক উত্তর:
গ) জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
• মূলত জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill (1806-1878)]-এর হাতে ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলিষ্ঠ রূপ ধারণ করে।
• জে. এস. মিল ছিলেন ধ্রুপদী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের এক একনিষ্ঠ প্রবক্তা। আবার অনেকের মতে তিনিই হলেন আলোচ্য মতবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।
• মিলের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী বক্তব্য ব্যক্ত হয়েছে তাঁর দু'টি কালজয়ী গ্রন্থের মাধ্যমে। এই দু'টি গ্রন্থ হল On Liberty এবং Representative Government।
• ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলতে রাষ্ট্রের কার্যসংক্রান্ত সেই মতবাদকে বুঝায় যা রাষ্ট্রের কার্যক্ষেত্রকে সংকুচিত করে এবং ব্যক্তিকে অধিক মাত্রায় স্বাধীনতা দান করে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদীরা রাষ্ট্রকে ক্ষতিকর অথচ প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান মনে করে। 

অন্যদিকে, 
• ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা বলা হয় ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কুকে।
• জাতি রাষ্ট্রের প্রবক্তা ম্যাকিয়াভেলি।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯২.
Utilitarianism নীতির প্রবর্তক কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. থমাস হবস
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা

Greatest Happiness Principle:
- জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির প্রবক্তা।
- পরবর্তীতে John Stuart Mill এই ধারণাকে বিকশিত করেন।
- মূল কথা: মানুষের নৈতিকতা ও আইন এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বাধিক সুখ (Happiness) নিশ্চিত হয়।
- এই নীতিকে Utilitarianism (উপযোগবাদ) নামেও পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- জন স্টুয়ার্ট মিল তার পিতা জেমস মিল ও জেরেমি বেন্থামের "greatest-happiness principle" বা পরম সুখবোধের নীতি সংক্রান্ত ধারণাকে তিনি নিজের মতো বর্ণনা করেন। জেরেমি বেন্থামরা সুখ বা আনন্দকে পরিমাপ করার প্রচেষ্টা করতেন। কিন্তুু তিনি এর বিপরীতে বলেন, মুর্খের সুখবোধের চেয়ে তিনি বরং সক্রেটিসের মতো জ্ঞানীর সুখবোধ অপ্রাপ্তির আকাঙ্খা করেন। অর্থাৎ তিনি বৌদ্ধিকতা বা জ্ঞানার্জন ও নৈতিকতাবোধ বা মরালিটির উপর এবং তার মাধ্যমে সমাজের মঙ্গলের সাধনকে গুরুত্ব প্রদান করেছেন। 

উৎস: i) Britannica.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৩.
বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় কোনটি?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. অস্বচ্ছতা
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় রয়েছে দুর্নীতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৯৪.
নিম্নের কোনটি সংস্কৃতির উপাদান নয়?
  1. নৈতিকতা
  2. পরিবার
  3. মূল্যবোধ
  4. হস্তশিল্প
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

পরিবার সংস্কৃতির উপাদান নয়।

সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই।

⇒ সংস্কৃতির উপাদান হলো:
- ভাষা, প্রতীক, আচরণবিধি, হস্তশিল্প, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৫.
AFDB - এর মতে সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) আইন ও বিচার বিভাগীয় সংস্করণ
  2. খ) অংশগ্রহণ
  3. গ) দুর্নীতি দমন
  4. ঘ) সহানুভূতিশীলতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সহানুভূতিশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সহানুভূতিশীলতা
ব্যাখ্যা
- AFDB সুশাসন এর ৫টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। যথা:-
১.জবাবদিহিতা
২.স্বচ্ছতা
৩.দুর্নীতি দমন
৪.অংশগ্রহণ
৫. আইন ও বিচার বিভাগীয় সংস্করণ।

তথ্যসূত্র:- AFDB এর ওয়েবসাইট।
৩৯৬.
বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী সুশাসনের স্তম্ভ কোনটি?
  1. ক) সুযোগের সমতা
  2. খ) মানবাধিকার
  3. গ) জবাবদিহিতা
  4. ঘ) আইনী কাঠামো
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইনী কাঠামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইনী কাঠামো
ব্যাখ্যা
সুশাসনের স্তম্ভ
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে। এ চারটি স্তম্ভ হল - 
(১) দায়িত্বশীলতা 
(২) স্বচ্ছতা 
(৩) আইনী কাঠামো ও 
(৪) অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট। 
৩৯৭.
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে আধুনিক, যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য মতবাদ কোনটি?
  1. ক) ঐশ্বরিক মতবাদ
  2. খ) বিবর্তনমূলক মতবাদ
  3. গ) সামাজিক চুক্তি মতবাদ
  4. ঘ) বল প্রয়োগ মতবাদ
সঠিক উত্তর:
খ) বিবর্তনমূলক মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিবর্তনমূলক মতবাদ
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত কয়েকটি মতবাদঃ
১. ঐশ্বরিক মতবাদ (সবচেয়ে পুরোনো) -- প্রবক্তা -- সেন্ট অগাস্টিন
২. বল প্রয়োগ মতবাদ -- তাত্ত্বিক -- ডেভিড হিউম, জেংকস, জেলীনক
৩. সামাজিক চুক্তি মতবাদ -- তাত্ত্বিক -- থমাস হবস, জন লক, জ্যাঁ জ্যাক রুশো
৪. ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ -- (আধুনিক, যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য)

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পৌরনীতি বই (উন্মুক্ত)

৩৯৮.
'মূল্যবোধ হলো আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ'- উক্তিটি কার?
  1. ফ্রাঙ্কেল
  2. ক্লাইভ ক্লুখোন
  3. এইচ ডি স্টেইন
  4. স্টুয়ার্ট সি ডড
সঠিক উত্তর:
ফ্রাঙ্কেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রাঙ্কেল
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মুল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।
ফ্রাঙ্কেল এর মতে,
- 'মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৯.
‘Government of the people, by the people, for the people’ কার উক্তি?
  1. ম্যাকাইভার
  2. স্যার জন সীলি
  3. মার্টিন লুথার কিং
  4. আব্রাহাম লিংকন
সঠিক উত্তর:
আব্রাহাম লিংকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্রাহাম লিংকন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল democracy।
- গণতন্ত্র বলতে জনগণের হাতে ক্ষমতা রয়েছে এমন সরকারকে বোঝায়।
- গণতন্ত্রের নিখুঁত সংজ্ঞা দিয়েছেন লিংকন।
- আব্রাহাম লিংকন-এর ভাষ্য মতে, ‘Government of the people, by the people, for the people’.
- অর্থাৎ ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার।’

উল্লেখ্য,
- আব্রাহাম লিংকন ছিলেন একজন মার্কিন রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী।
- ১৮৬১ সালে আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দায়িত্ব নেন।
- তিনি আমেরিকার অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট।

তথ্যসূত্র:  i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
              ii) ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৪০০.
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ ও মর্যাদা ইত্যাদি নির্বিশেষে মানুষে মানুষে কোনো ব্যবধান না করাকে _______ বলে।
  1. আইনগত সাম্য
  2. রাজনৈতিক সাম্য
  3. সামাজিক সাম্য
  4. ব্যক্তিগত সাম্য
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত সাম্য
ব্যাখ্যা
⇒জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ ও মর্যাদা ইত্যাদি নির্বিশেষে মানুষে মানুষে কোনো ব্যবধান না করাকে ব্যক্তিগত সাম্য বলে।

• সাম্যের প্রকারভেদ:
মানুষের বিভিন্নমুখী বিকাশ সাধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন।
-নাগরিক জীবনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য সাম্যকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১) সামাজিক সাম্য
২) রাজনৈতিক সাম্য
৩) অর্থনৈতিক সাম্য
৪) আইনগত সাম্য
৫) স্বাভাবিক সাম্য
৬) ব্যক্তিগত সাম্য

১. সামাজিক সাম্য: জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সমাজের সকল সদস্যের সমানভাবে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকে সামাজিক সাম্য বলে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না।
২. রাজনৈতিক সাম্য: রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে। নাগরিকরা রাজনৈতিক সাম্যের কারণে মতামত প্রকাশ, নির্বাচিত হওয়া এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করে।
৩. অর্থনৈতিক সাম্য: যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে । বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।
৪. আইনগত সাম্য: জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আইনের দৃষ্টিতে সমান মনে করা এবং বিনা অপরাধে গ্রেফতার ও বিনা বিচারে আটক না করার ব্যবস্থাকে আইনগত সাম্য বলে।
৫. স্বাভাবিক সাম্য: এর অর্থ জন্মগতভাবে প্রত্যেক মানুষ স্বাধীন এবং সমান। কিন্তু বাস্তবে জন্মগতভাবে প্রত্যেক মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে সমান হতে পারে না। এ জন্য বর্তমানে স্বাভাবিক সাম্যের ধারণা প্রায় অচল।
৬. ব্যক্তিগত সাম্য: জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ ও মর্যাদা ইত্যাদি নির্বিশেষে মানুষে মানুষে কোনো ব্যবধান না করাকে ব্যক্তিগত সাম্য বলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।