বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ২০১৩০০ / ৩,৮২৯

২০১.
মূল্যবোধের কোন উপাদান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) স্বচ্ছতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২০২.
‘Existentialism Is a Humanism' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সিমোন দ্য বোভোয়ার
  2. জ্যাঁ পল সার্ত্রে
  3. এমানুয়েল কান্ট
  4. মার্টিন হাইডেগার
সঠিক উত্তর:
জ্যাঁ পল সার্ত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যাঁ পল সার্ত্রে
ব্যাখ্যা

- জ্যাঁ পল সার্ত্রে ১৯৪৯ সালে ‘Existentialism Is a Humanism' নামে ছোট্ট একটি পুস্তিকা লেখেন।
- তিনি অস্তিত্ববাদ সম্পর্কে এই বইয়ে আলোচনা করেন। 

Existentialism:
- Existentialism এর বাংলা অস্তিত্ববাদ।
- এটি বিংশ শতাব্দীর একটি দার্শনিক মতবাদ। 
- অস্তিত্ববাদ একটি দার্শনিক প্রবণতা, এটা মূলত মানুষের অস্তিত্ব এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পছন্দ, এবং অর্থহীনতা নিয়ে আলোচনা করে।
- জ্যাঁ পল সার্ত্রে অস্তিত্ববাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। 
- অস্তিত্ববাদীদের মতে, মানুষের জীবন প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন এবং মানুষকে তার নিজের জীবনের উদ্দেশ্য এবং মূল্য খুঁজে নিতে হবে।

সূত্র: Britannica.

২০৩.
কার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা”?
  1. ফ্রাংকেনার
  2. টেইলার
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. ডাইসি
সঠিক উত্তর:
ফ্রাংকেনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রাংকেনার
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা:
- নীতিবিদ্যাকে নীতি-দর্শনও বলা হয়।
- উইলিয়াম কে. ফ্রাংকেনার এর মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা” ।
- পি. ডব্লিউ. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, “ নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।”
- উইলিয়াম লিলি এর মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “ সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে”।

উৎস: নীতিবিদ্যা,বিএ /বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৪.
'ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ' কোন ধরনের সাম্য?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. আইনগত
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।
=======================
- লাস্কির মতে, “ধন বৈষম্যের সাথে অর্থনৈতিক সাম্য অসঙ্গতিপূর্ণ হবে না, যদি এই বৈষম্য দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত সামাজিক বা রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৫.
জাতীয় স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য কী?
  1. রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অর্জন
  2. সমাজে চলাফেরা নিশ্চিত করা
  3. ব্যক্তির মানবাধিকার রক্ষা
  4. সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়া
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অর্জন
ব্যাখ্যা

জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

অন্যদিকে,
⇒ সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।

⇒ রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।” রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

⇒ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি। লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।” অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২০৬.
জাতীয় সত্তার দর্পণ হিসেবে বিবেচিত নিচের কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. অর্থনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. ব্যক্তিগত 
  4. রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় সত্তার দর্পণ হিসেবে সামাজিক মূল্যবোধকে বিবেচনা করা হয় কারণ সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতা ও মমত্ববোধের মতো গুণাবলির বিকাশ সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই ঘটে যা একটি জাতির সামগ্রিক পরিচিতি ও উন্নয়নে সহায়তা করে। 
- সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে বিভিন্ন উপাদান যেমন- ভৌগোলিক পরিবেশ, জলবায়ু, স্থানীয় কৃষ্টি, ধর্মীয় বিশ্বাস, যুদ্ধ, সমস্যা, চাহিদা ও সম্পদ প্রভাব বিস্তার করে।
- আমাদের সমাজের মূলবোধের সাথে যেমন সৌদি আরবের মূল্যবোধের মিল পাওয়া যাবে না, তেমনি করে প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের সমাজের সামাজিক মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৭.
"সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত জনগণের, শাসকের সঙ্গে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়"- উক্তিটি কার?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. ম্যাককরনী
  3. ম্যাকিয়াভেলি
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনী
ব্যাখ্যা

সুশাসন (GOOD GOVERNANCE):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে ‘সুশাসন' (Good Governance) বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২০৮.
অস্ট্রেলীয় দার্শনিক পিটার সিঙ্গারের বিখ্যাত বই কোনটি?
  1. দি সামিট
  2. অ্যানিমেল লিবারেশন
  3. দি প্রিন্স
  4. মোরাল এন্ড জাস্টিস
সঠিক উত্তর:
অ্যানিমেল লিবারেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানিমেল লিবারেশন
ব্যাখ্যা
পিটার সিঙ্গার:
- পিটার সিঙ্গার একজন অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক দার্শনিক।
- তিনি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির বায়োএথিক্সের ইমেরিটাস ইরা ডব্লিউ. ডিক্যাম্প অধ্যাপক।
- পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার বৈশিষ্ট্য হলো তথ্যগত উপাদানের ব্যবহার।
- তথ্য যেখানে থেমে যায়, দর্শন সেখান থেকে শুরু হয়। এজন্য তিনি বলেন "দার্শনিকরা তাদের স্বীয় কাজে ফিরে এসেছে"।

উল্লেখ্য,
- পিটার সিঙ্গারের বিখ্যাত বই Animal Liberation ।
- উপযোগবাদকে গ্রহণ না করেও এ গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দার্শনিক গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
- গোটা গ্রন্থের দুই-তৃতীয়াংশ অ-মানব প্রাণীর প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত এ সম্পর্কে ব্যবহারিক কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।
২০৯.
‘পরমতসহিষ্ণুতা’ কোন ধরনের মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. আধুনিক মূল্যবোধ
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• পরমতসহিষ্ণুতা:
- 'পরমতসহিষ্ণুতা' গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে নির্দেশ করে থাকে।
- যেসব মূল্যবোধ মানুষের গণতান্ত্রিক আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করে তাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মধ্যে অন্যতম উপাদান হলো পরমতসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২১০.
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. নিরপেক্ষতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. যথার্থতা
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রণয়নে জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক বা গুরুত্বপূর্ণ ।
- এগুলো সুশাসনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক।
- তবে এক্ষেত্রে সৃজনশীলতা আবশ্যিক নয়। এটি ঐচ্ছিক বিষয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

২১১.
বেকারত্ব থেকে মুক্তি লাভ কোন ধরনের সাম্য?
  1. আইনগত সাম্য
  2. সামাজিক সাম্য
  3. অর্থনৈতিক সাম্য
  4. রাজনৈতিক সাম্য
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা
সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে।
- যথা :
(ক) সামাজিক সাম্য
(খ) রাজনৈতিক সাম্য
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
(ঘ) আইনগত সাম্য

অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়।
- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি লাভ অর্থনৈতিক সাম্য।

অন্যদিকে, 
• সামাজিক সাম্য:
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

• রাজনৈতিক সাম্য:
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।

• আইনগত সাম্য:
- ইতোপূর্বে আলোচিত সাম্যের কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত।
- যেমন, চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার।
- বাংলাদেশের মত দেশে আইনগত সাম্য সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২১২.
'শাসক হবে সিংহের মতো সাহসী, শৃগালের মতো ধূর্ত' - উক্তিটি কার?
  1. ডাইসি
  2. এফ. আই. গাউড
  3. রিচার্ড ক্রসম্যান
  4. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলির মতে, 'শাসক হবে সিংহের মতো সাহসী, শৃগালের মতো ধূর্ত'।

অন্যদিকে -
- প্লেটো তাঁর 'রিপাবলিক' গ্রন্থে বলেছেন, 'শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দূর্নীতি পরায়ণ হয় তাহলে আইন নিরর্থক'।
- 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ' ("An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy") - রিচার্ড ক্রসম্যান।
- 'আইনের চোখে সকলে সমান'- অধ্যাপক ডাইসি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) Britannica.
২১৩.
'ঐচ্ছিক আচরণ' বলতে কী বোঝায়?
  1. যে আচরণ সামাজিক চাপের কারণে হয়
  2. যে আচরণ স্বপ্রণোদিত হয়ে করা হয়
  3. যে আচরণ আইন দ্বারা পরিচালিত
  4. যে আচরণ বাধ্যতামূলক
সঠিক উত্তর:
যে আচরণ স্বপ্রণোদিত হয়ে করা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে আচরণ স্বপ্রণোদিত হয়ে করা হয়
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভুত, যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।

উল্লেখ্য,
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ, যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।
- এটি সঠিক ও ভুল, ন্যায় ও অন্যায়, এবং ভালো ও খারাপ আচরণের পার্থক্য নির্ধারণে সহায়ক।
- নীতিবিদ্যার মাধ্যমে মানুষ কীভাবে নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং কীভাবে নৈতিক জীবনযাপন করবে, সেই বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৪.
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র নয় কোনটি?
  1. সাম্য
  2. আইন
  3. স্বাধীনতা
  4. ভ্রাতৃত্ব
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা

⇒ আইন গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র নয়।

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৫.
'মূল্যবোধ চর্চা ও অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে ওঠে'-এটি কোন বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত?
  1. পরিবর্তনশীলতা
  2. সামাজিক মানদণ্ড
  3. সম্পর্কের সেতু
  4. নির্দিষ্টতা
সঠিক উত্তর:
পরিবর্তনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবর্তনশীলতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- পরিবর্তনশীলতা: মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন, একজন বাঙালি দীর্ঘ দিন পশ্চিমা কোন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে তার আচারণ-আচরণে চিন্তায় নানান পরিবর্তন ঘটতে পারে।
- নির্দিষ্টতা: যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।
- সামাজিক মানদন্ড: বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়। যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম, আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।
- নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
- বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।
- আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।
- সম্পর্কের সেতু: অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্নিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। যেমন কোন বাংলাদেশি নাগরিক লন্ডনে আরেকজন অপরিচিত বাংলাদেশী নাগরিককের সাথে দেখা হলে সহজেই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২১৬.
সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে— উক্তিটি কার?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী
  3. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
  4. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক 
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ও সুশাসন:
- "সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে" -এই উক্তিটি মূলত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP)।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'।

উল্লেখ্য,
- সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকার জনগণের সেবা করে, আইন সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় এবং দুর্নীতির কোনো স্থান থাকে না।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

২১৭.
গণতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. প্রফেসর সিলী
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. কার্ল জি ফ্রেডরিখ 
  4. ম্যাকাইভার
সঠিক উত্তর:
প্রফেসর সিলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রফেসর সিলী
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

⇒ প্রফেসর সিলী বলেন, "গণতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে।”

অন্যদিকে,
- লর্ড ব্রাইস, 'Modern Democracy' নামক গ্রন্থে বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে সেই ধরনের শাসন ব্যবস্থা যাতে রাষ্ট্রশাসন আইনত কোন বিশেষ শ্রেণী বা শ্রেণীগুলোর হাতে না থেকে সমাজের নাগরিকদের হাতে থাকে।
- কার্ল জি ফ্রেডরিখ বলেন, “গণতন্ত্র হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন সংঘটনের জন্য স্বীকৃত একটি প্রধান উপায়।”
- ম্যাকাইভারের মতে, "গণতান্ত্রিক শাসনে সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র এবং তারা সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।"

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৮.
পশ্চিমা মতে সুশাসন প্রক্রিয়া কোনটির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে?
  1. আইনের
  2. ধর্মীয় বিধানের
  3. রাজনৈতিক দলের
  4. অর্থনৈতিক নীতির
সঠিক উত্তর:
আইনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ পশ্চিমা দেশগুলোর মতে সুশাসন: 
- পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের চারটি দিকের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মতে,
১। সুশাসন হলো জনগণের নিবার্চিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা।
২। সুশাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আইনের মাধ্যম রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।
৩। সুশাসন হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণ।
৪। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর শক্তিশালীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৯.
বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্বশীল সুশীল সমাজের সংগঠনগুলাের অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. ক) সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)
  2. খ) সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ(সিপিডি)
  3. গ) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
  4. ঘ) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্বশীল সুশীল সমাজের সংগঠনগুলাের মধ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), Centre for Policy Dialogue (CPD), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), বেলা, পবা অন্যতম। Anti-Corruption Commission বা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।
[সূত্রঃ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ]
২২০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো বর্ণিত হয়েছে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
৩য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য়
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।
- যেমন: পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ মৌলিক অধিকার:
- মৌলিক অধিকার বলতে বুঝায় নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যক্তির জন্য সে সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি, যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে প্রাপ্ত এবং অলঙ্ঘনীয়।
- নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্রের সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকলে তা সাংবিধানিক আইনের মর্যাদা লাভ করে।
- এর ফলে সরকার এ সমস্ত অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
- নাগরিকগণ তাদের অধিকার ভোগ করতে কোনো প্রকার সরকারি বাধার সম্মুখীন হয় না।

⇒ মৌলিক অধিকারের উৎস রাষ্ট্রের সংবিধান।
- মৌলিক অধিকারের রক্ষক রাষ্ট্র ও সংবিধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো বর্ণিত হয়েছে।

⇒ তথ্য পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২২১.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের কয়টি স্তম্ভ ঘোষণা করে?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. ছয়টি
  4. তিনটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
• সুশাসন (Good Governance.):
 - সুশাসন  অর্থ নির্ভুল, দক্ষ, কার্যকারী শাসন।
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় বিশ্বব্যাংক।
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হল-
(i) দায়িত্বশীলতা
(ii) স্বচ্ছতা
(iii) আইনী কাঠামো ও
(iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২২২.
আমাদের দেশে তথ্য অধিকার আইন পাস হয় কবে?
  1. ২০০৬ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০০৫ সালে
  4. ২০০১ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
• তথ্য অধিকার আইন:
- বাংলাদেশে ২০০৯ সালে প্রণীত তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 
- ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে তথ্য অধিকার আইন পাশ করে।
- এ আইনে অধ্যায় আছে - আটটি।
- তফসিল আছে - ১ টি ও
- ধারা আছে - ৩৭টি।
- এর মূল কথা হল কয়েকটি দপ্তর ব্যতীত যেকোন কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রত্যেকন নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা প্রদান করতে বাধ্য থাকবে। 

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৩.
অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল-
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. ব্যাক্তিগত মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: 
- সমাজে বসবাসের জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- একে অপরের সাথে আন্ত:সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হল এই মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধহীন ব্যক্তি সমাজের জন্য বিপদস্বরূপ।
- অন্যদিকে গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিতকরা।
- একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল,
- যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২২৪.
নিচের কোনটি সামাজিক মূল্যবোধ?
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) সুখ
  3. গ) সাম্যতা
  4. ঘ) মেধা
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্যতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ (Values) :মানুষের মধ্যে কিছু স্থায়ী প্রত্যাশা থাকে যা ভাল বলে প্রতীয়মান হয়, তা-ই মূল্যবোধ। এগুলো মানুষের নৈতিক মান গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। মূল্যবোধকে “অন্তর্নিহিত বিশ্বাস” বলে আখ্যায়িত করা যায় যা মানুষের মনোভাব ও কার্যকে প্রভাবিত করে। 

নিচে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো:
১। শেষপ্রান্ত মূল্যবোধ (Terminal Values) : শেষপ্রান্ত মূল্যবোধ বলতে এমন কতগুলো প্রত্যাশাকে বুঝায় যা মানুষ সারাজীবনে অর্জন করতে চায়। অর্থাৎ জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও মানুষ সে-ই সকল প্রত্যাশা পূরণ করতে চায়। যা জীবনের শুরুতেই প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
২। ব্যক্তিক মূল্যবোধ (Personal Values) : প্রতিটি মানুষের কিছু একান্ত প্রত্যাশা থাকে যা নিজের জীবনের জন্য অর্জন করতে চায়, তা-ই ব্যক্তিক মূল্যবোধ। যেমন- আরাম-আয়েশপূর্ণ জীবন, স্বাধীনতা, সুখ প্রভৃতি।
৩। যান্ত্রিক মূল্যবোধ (Instrumental Values) : এটি এমন মূল্যবোধ যা ব্যবহার করে মানুষ তার জীবনের শেষ প্রান্তের মূল্যবোধকে অর্জন করতে চায়। যেমন- আচরণের ধরন, কাজের ধরন প্রভৃতি ।
৪। নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values) : নৈতিক মূল্যবোধ হলো মানুষের আন্তঃব্যক্তিক গুণাবলি, যা তাদের আচরণকে প্রভাবিত করে। যেমন- সততা, উৎফুল্লতা, সাহসিকতা, অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা প্রভৃতি। এ সকল নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ কোনো খারাপ কাজে ব্যথিত হয় ।
৫। উপযুক্ততা মূল্যবোধ (Competence Values) : এটি এমন কতগুলো উপাদানের সমাহারকে বুঝায় যা মানুষকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলে। যেমন- উচ্চাভিলাষী, সক্ষমতা, মেধা, দায়-দায়িত্ব প্রভৃতি। এ সকল গুণ যাদের মধ্যে বিদ্যমান তারা খারাপ কাজে লজ্জিত হয়।
৬। সামাজিক মূল্যবোধ (Social Values) : মানুষ সামাজিক জীব। তাই তারা সমাজে বসবাস করে। তাই সমাজকে বসবাসযোগ্য রাখতে হবে। এ জন্য কতিপয় মূল্যবোধ জাগিয়ে রাখতে হবে। যেমন- সাম্যতা, জাতীয় নিরাপত্তা, বিশ্ব শান্তি প্রভৃতি।
 
উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, এমবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৫.
সুষ্ঠু জনমত গঠনে কীসের গুরুত্ব অপরিসীম?
  1. শিক্ষার প্রসার
  2. মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা
  3. সামাজিক স্বার্থ
  4. ঐক্য ও সংহতির মনোভাব
সঠিক উত্তর:
মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
জনমত হলো যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামত। জনমতকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়। সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের উপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।

জনমত গঠনের মাধ্যমসমূহের মধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অন্যতম। সুষ্ঠু জনমত গঠনের ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা অপিহার্য।

জনমত গঠনের মাধ্যমসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সংবাদপত্র
- সভা সমিতি
- রাজনৈতিক দল
- চলচ্চিত্র, রেডিও-টেলিভিশন
- শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান
- আইনসভা
- পরিবার
- ধর্মীয় সংঘ প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২২৬.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের আবশ্যিক কাজ নয়?
  1. আইন প্রণয়ন করা
  2. রাজস্ব আদায় করা
  3. চিকিৎসার ব্যবস্থা করা
  4. নিরাপত্তা বিধান করা
সঠিক উত্তর:
চিকিৎসার ব্যবস্থা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিকিৎসার ব্যবস্থা করা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্যে রাষ্ট্র যেসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে থাকে সেগুলো হলো রাষ্ট্রের অপরিহার্য বা আবশ্যিক কার্যাবলি।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- আইন প্রণয়ন করা
- দেশ রক্ষা করা বা নিরাপত্তা বিধান করা
- রাজস্ব আদায় করা প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রের যাবতীয় জনকল্যাণমূলক কাজ হলো ঐচ্ছিক কাজ। যেমনঃ নিরক্ষরতা দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
২২৭.
'রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা' হলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের -
  1. ক) রূপকল্প
  2. খ) প্রতিপাদ্য
  3. গ) স্লোগান
  4. ঘ) অভিলক্ষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিলক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিলক্ষ
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল গ্রহণ করা হয় ২০১২ সালে।
- এটি গ্রহণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। 

এর রূপকল্প হলো: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
এর স্লোগান হলো: 'সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়'। 
এর অভিলক্ষ হলো:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২২৮.
সুশাসনের ধারণাটি -
  1. একমাত্রিক
  2. দ্বিমাত্রিক
  3. ত্রিমাত্রিক
  4. বহুমাত্রিক
সঠিক উত্তর:
বহুমাত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুমাত্রিক
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক- সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৯.
‘Know Thyself’ উক্তিটি কোন দার্শনিকের?
  1. প্লেটো
  2. সক্রেটিস
  3. এরিস্টটল 
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

• সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।

• গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত
করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।

তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৩০.
‘ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ - তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।’-এটি কার উক্তি?
  1. জন লক
  2. জোনাথন সুইফট
  3. টি এইচ গ্রিন
  4. জোনাথান হেইট
সঠিক উত্তর:
জোনাথান হেইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোনাথান হেইট
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- জোনাথান হেইট এর মতে, ‘ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।’
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন, "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"
- Cambridge Dictionary-তে বলা হয়েছে, "নৈতিকতা হলো ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ যা প্রত্যক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোন বিষয় থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।"   

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৩১.
বিশ্বব্যাংক ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ নয় কোনটি?
  1. রাজনৈতিক ক্ষমতা
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল- (i) দায়িত্বশীলতা (ii) স্বচ্ছতা (iii) আইনী কাঠামো ও (iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩২.
কোনটি প্রতিষ্ঠিত হলে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়?
  1. ক) গণতন্ত্র
  2. খ) আইন
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) সুশাসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে। তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
২৩৩.
সংবিধানের ৪১ নং অনুচ্ছেদে কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ক) আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার
  2. খ) ধর্মীয় স্বাধীনতা
  3. গ) চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা
  4. ঘ) সমাবেশের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মীয় স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• ৩১ নং অনুচ্ছেদ - আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।
• ৩৭ নং অনুচ্ছেদ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
• ৩৯ নং অনুচ্ছেদ - চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা।
৪১ নং অনুচ্ছেদ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।   

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
২৩৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যে বিশেষ বিধান গ্রহণের বিষয়ে বলা হয়েছে?
  1. ক) ৩২ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ২৮(২) নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ২৮(৪) নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ২৯(১) নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
গ) ২৮(৪) নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৮(৪) নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ২৮(৪) নং অনুচ্ছেদে পিছিয়ে পড়া বা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্যে বিশেষ বিধান গ্রহণের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে,
“নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্যে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।”
অন্যদিকে,
- ২৮(২) নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভের কথা বলা হয়েছে।
- ২৯(১) নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভে সকলের সমতার কথা বলা হয়েছে।
- ৩২ নং অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
২৩৫.
কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
  2. শাসন প্রক্রিয়া ও মানব উন্নয়ন
  3. শাসন প্রক্রিয়া ও নৈতিক শাসন প্রক্রিয়া
  4. শাসন প্রক্রিয়া ও সুশাসন
সঠিক উত্তর:
শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

এছাড়াও,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৩৬.
কোনটিকে সমাজের ভালো ও মন্দের মানদন্ড বলা হয়?
  1. সুশাসন
  2. নৈতিকতা
  3. মূল্যবোধ
  4. গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধকে সমাজের ভালো ও মন্দের মানদন্ড বলা হয়।

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।

⇒ বিভিন্ন সংজ্ঞা হতে মূল্যবোধের যে বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায় তা হলো:
১. মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
২. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
৩. মূল্যবোধ একটি অলিখিত সামাজিক বিধান;
৪. মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
৫. মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত, অলিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়;
৬. মূল্যবোধের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই- সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল।

উল্লেখ্য,
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৭.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী হয়?
  1. বেকারত্ব হ্রাস
  2. বিনিয়োগ বৃদ্ধি
  3. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

২৩৮.
“The Moral Landscape” - কার লেখা বই?
  1. ক) Sam Harris
  2. খ) Friedrich Nietzsche
  3. গ) Immanuel Kant
  4. ঘ) David Brooks
সঠিক উত্তর:
ক) Sam Harris
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Sam Harris
ব্যাখ্যা
Sam Harris - এর লেখা আরো কয়েকটি বই -
Waking Up, Lying,
Free Will,
The End of Faith ইত্যাদি।
২৩৯.
"সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স" - কে সংজ্ঞাটি প্রদান করে?
  1. সেরাজেন্ডিন
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. অক্সফোর্ড ডিকশনারি
  4. ল্যান্ডেল মিলস
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা ও সংজ্ঞা:
- গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শাসনের ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।
- ল্যান্ডেল মিলস এবং সেরাজেন্ডিন (Landell Mills and seragedino মতে, জনগণ কীভাবে শাসিত হয়, কীভাবে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি পরিচালিত হয়, কীভাবে দেশের রাজনীতি আবর্তিত হয় এবং একই সাথে এ সকল প্রক্রিয়া কীভাবে লোকপ্রশাসন ও আইনের সাথে সম্পর্কিত সে বিষয়কেই গভর্নেন্স বলে।
- The Oxford English Dictionary-Go to of FI, শাসনের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব, ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা হিসেবে গভর্নেসকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৪০.
‘নেতৃত্ব’ হচ্ছে নেতার−
  1. সামাজিক ও রাজনৈতিক গুণ
  2. অর্থনৈতিক গুণ
  3. নৈতিক গুণ
  4. ধৈর্য গুণ 
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ও রাজনৈতিক গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ও রাজনৈতিক গুণ
ব্যাখ্যা
নেতৃত্বের ধারণা:
→ যিনি নির্দেশ প্রদান করেন, পথ দেখান এবং সামনে থেকে পরিচালনা করেন তাকে নেতা (Leader) বলে। আর নেতার গুণাবলিকে বা যোগ্যতাকে বলা হয় নেতৃত্ব।
→ ‘নেতৃত্ব’ বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘নেতৃত্ব’ শব্দটি এত সঙ্কীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয় না।
→ কোন ব্যক্তি বা কোন দলের নেতা কতখানি গুণের অধিকারী এবং তা অন্যদেরকে কতখানি প্রভাবিত করতে পারে, তার নিরীখেই নেতৃত্বের পরিমাপ হয়।
 → নেতৃত্ব হচ্ছে একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক গুণ। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৪১.
নিম্নলিখিত কোনটি অধ্যাপক লাস্কির প্রদত্ত সাম্যের বিশেষ দিকগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত?
  1. সম্পদের অসম বণ্টন
  2. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
  3. বৈষম্যমূলক সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
  4. বিশেষ সুযোগ সুবিধার উপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য বলতে বোঝায় সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সমানাধিকারের নীতিকে বোঝায়।
- সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে একটি সমাজে বৈষম্য, শোষণ ও অন্যায়ের আধিপত্য বিস্তার করে।

অধ্যাপক লাস্কির মতে, সাম্যের ০৩ টি বিশেষ দিক রয়েছে-
১. বিশেষ সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতি;
২. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি;
৩. বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়, সম্পদ ও দ্রব্যাদি জাতি, ধর্ম বর্ণ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সমভাবে বন্টন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪২.
নৈতিক আচরণবিধি দেশভেদে ভিন্ন কেন হয়?
  1. অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে
  2. প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে
  3. ব্যক্তিগত চাহিদার কারণে
  4. রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে
ব্যাখ্যা

নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics):
- নৈতিক আচরণবিধি বলতে বুঝায় মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন যা সংগঠনের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে।

উল্লেখ্য,
- প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা-কর্মীদের জন্য নৈতিকতার কিছু নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করেও নৈতিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
- এটি হলো এমন কতগুলো আচরণের সমষ্টি যা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সকলে অনুসরণ করতে বাধ্য থাকে। প্রতিষ্ঠানে এধরনের নীতিমালা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারি তা মেনে চলতে বাধ্য হবে। ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানে একটি সুন্দর কার্যপরিবেশ বিরাজ করবে। এ সকল নিয়মনীতি এক দেশ থেকে অন্য দেশে রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে ভিন্নতর হয়ে থাকে।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৩.
সুশাসন সম্পর্কিত 'Framework for Enhanced Engagement on Governance' শীর্ষক কর্মপন্থা গ্রহণ করে কোন সংস্থা?
  1. ADB
  2. World Bank
  3. IMF
  4. UNDP
সঠিক উত্তর:
IMF
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IMF
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বোর্ড অব ডিরেক্টরস ১৯৯৭ সালে The Role of the IMF in Governance Issues নামে সুশাসন সম্পর্কিত পলিসি গ্রহণ করে।
- পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পলিসিটির সহায়ক হিসেবে Framework for Enhanced Engagement on Governance নামে আারেকটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ করে।
- সংস্থাটি আইনের শাসন, সরকারি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের সকল স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ওয়েবসাইট)
২৪৪.
বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক চাহিদা কয়টি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫টি
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ১৫(ক) অনুযায়ী, মৌলিক চাহিদা পাঁচটি। যথা-
১. অন্ন,
২. বস্ত্র,
৩. বাসস্থান,
৪. শিক্ষা ও
৫. চিকিৎসা।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
২৪৫.
শাসক ও শাসিতের মাঝে সুসম্পর্ক করে কোনটি?
  1. নৈতিকতা
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে।
- সুশাসন নিশ্চিত করে যে শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি দৃঢ় আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক।
- এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৪৬.
এম. ডব্লিউ. পামফ্রে মূল্যবোধ সম্পর্কে কোন উক্তিটি প্রদান করেন?
  1. মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড
  2. মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ
  3. মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”

অন্যদিকে,
⇒ সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে, "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"
⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৪৭.
’An Essay Concerning Human Understanding’ গ্রন্থের লেখক-
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. জন লক
  3. সক্রেটিস
  4. প্লেটো
সঠিক উত্তর:
জন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লক
ব্যাখ্যা

• জন লক বিখ্যাত বই: 
- An Essay Concerning Human Understanding.
- Two Treatises of Government.
- আধুনিক গনতন্ত্রের জনক জন লক।

অন্যদিকে,

জন স্টুয়ার্ট মিল:

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- Considerations on Representative Government,
- Examination of Sir William Hamilton's Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

• প্লেটোর বিখ্যাত বই: The Republic.

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৪৮.
'The Most Good You Can Do' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. হাইডেগার
  2. হেগেল
  3. পিটার সিঙ্গার
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
পিটার সিঙ্গার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটার সিঙ্গার
ব্যাখ্যা

পিটার সিঙ্গার:
- Peter Singer এর পুরো নাম - Peter Albert David Singer এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।

⇒ তাঁর লেখা আরো কয়েকটি বই:
- The Life You Can Save,
- The Most Good You Can Do,
- Animal Liberation,
- Ethics in the Real World.

সূত্র: Britannica ও পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।

২৪৯.
ভালো-মন্দ কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. নৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. রাজনৈতিক
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারনা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করার মাপকাঠি স্বরূপ।
- মূল্যবোধের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- মূল্যবোধ একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।

নির্দিষ্টতা:
- যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।

বিভিন্নতা:
- সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।

আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

সামাজিক মানদন্ড:
- বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়। যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম, আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।

পরিবর্তনশীলতা:
- মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন, একজন বাঙালি দীর্ঘ দিন পশ্চিমা কোন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে তার আচারণ-আচরণে চিন্তায় নানান পরিবর্তন ঘটতে পারে।

সম্পর্কের সেতু:
- অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্নিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। যেমন কোন বাংলাদেশি নাগরিক লন্ডনে আরেকজন অপরিচিত বাংলাদেশী নাগরিককের সাথে দেখা হলে সহজেই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে।

⇒ মূল্যবোধ হচ্ছে ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি, যা মূলত নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল।
- সুতরাং ভালো-মন্দ এক ধরনের নৈতিক মূল্যবোধ।]

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২৫০.
নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৮
  2. অনুচ্ছেদ ১৯
  3. অনুচ্ছেদ ২০
  4. অনুচ্ছেদ ২১
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ২১
ব্যাখ্যা

নাগরিক ও সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ২১(১) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, "সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।"
- ২১(২) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, "সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।"

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা। 
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ: সুযোগের সমতা
- অনুচ্ছেদ ২০: অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

২৫১.
“শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা” - উক্তিটি কার?
  1. জনাথান হেইট
  2. ম্যাকেঞ্জি
  3. জি. ম্যুর
  4. ম্যাকিয়াভেলি
সঠিক উত্তর:
জি. ম্যুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. ম্যুর
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ Morality। ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন - "সৎ গুণই জ্ঞান" (Virtue is knowledge) তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী -গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না  এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে জ্ঞান এবং অন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা'।
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন, "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়। এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয় মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫২.
রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. আইনের শাসন
  3. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
  4. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

⇒ রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ আইনের শাসন।

আইনের শাসন:
- সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন।
- এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ।
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন।
- আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়।
- রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৩.
কোন প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিতে 'দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স'?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. এডিবি
  4. আইএমএফ
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।
- বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
- বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।

⇒ বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিকাশের জন্যও প্রয়োজন সুশাসন।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৫৪.
বিচার বিভাগ শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা কেন প্রয়োজন?
  1. আইন প্রয়োগ করতে
  2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য
  3. প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে
  4. উল্লিখিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা:
- বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করার মূল উদ্দেশ্য হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
- এটি নির্বাহী বিভাগের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করে।
- বাংলাদেশে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ আইনি কাঠামোতে বিদ্যমান।

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলতে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার কার্যক্রম পৃথক ব্যক্তিবর্গ বা প্রতিষ্ঠানসমূহের হাতে ন্যস্ত করাকে বোঝায়।
- এর উদ্দেশ্য হলো এক বিভাগের ক্ষমতায় অন্য বিভাগের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা।
- আধুনিক যুগে হবস, লক প্রভৃতি দার্শনিক স্বতন্ত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মন্টেস্কু সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের নীতি উপস্থাপন করেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৫.
রাষ্ট্র তার সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে কিসের মাধ্যমে?
  1. ক) সেনাবাহিনী
  2. খ) রাজনৈতিক দল
  3. গ) সরকার
  4. ঘ) চাপসৃষ্টিকারী দল
সঠিক উত্তর:
গ) সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সরকার
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র একটি বিমূর্ত ধারণা। রাষ্ট্রকে বাস্তবে দেখা যায় না। রাষ্ট্রকে উপলব্ধি করা যায় এর অন্যতম উপাদান সরকারের মাধ্যমে। রাষ্ট্রের অন্য তিনটি উপাদান হচ্ছে নাগরিক, ভূখন্ড ও সার্বভৌমত্ব। রাষ্ট্র তার সার্বভৌম ক্ষমতা সরকারের মাধ্যমে প্রয়োগ করে। আর সরকার গঠিত হয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে। সরকার ব্যতীত কোন রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। সরকার সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি বা কৌশল তৈরি করে।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
২৫৬.
লর্ড ব্রাইস-এর মতে, নিম্নের কোনটি আইন মান্য করার একটি কারণ?
  1. ধর্মীয় অনুশাসন
  2. প্রথাগত বাধ্যবাধকতা
  3. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
  4. রাজনৈতিক প্রভাব
সঠিক উত্তর:
অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
ব্যাখ্যা
আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি;
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা;
৩. নির্লিপ্ততা;
৪. সহানুভূতি;
৫. শাস্তির ভয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৭.
প্লেটোর মতে কোনটি ‘সদগুণ’?
  1. প্রজ্ঞা
  2. ন্যায়
  3. মিতাচার
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

⇒ প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য,
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৮.
নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কোন ধরনের সাম্যের অন্তর্গত?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. আইনগত
  4. ব্যক্তিগত
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক সাম্য (Political Equality):
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগের বেলায় সমান সুযোগ থাকাকেই রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্ক নাগরিক যখন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বা সাধারণ ভোটদাতা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে তখনই কোনো দেশে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৫৯.
নীতিবিদ্যাকে "নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান" বলেছেন কে?
  1. জে.এস. ম্যাকেনজি
  2. পি. ডব্লিও. টেইলার
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার
সঠিক উত্তর:
পি. ডব্লিও. টেইলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পি. ডব্লিও. টেইলার
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা:
- উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা”।
- পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন,নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।
- ডি.ডি. রাফায়েলের মতে, "আদর্শ বা মূল্য সম্পর্কে, যথোচিত-অযথোচিত এবং শুভ-অশুভের ধারণা সম্পর্কে অথবা কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয় সে সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান হচ্ছে নীতিদর্শন"।
- জে.এস. ম্যাকেনজি নীতিবিদ্যাকে এমন একটি বিদ্যা হিসেবে গণ্য করেছেন যা মানুষের আচরণের যথোচিত্য বা ভালত্ব নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬০.
উপযোগবাদের মতে নৈতিকতার ভিত্তি হলো—
  1. কর্তব্য
  2. সুখ
  3. ধর্ম
  4. আইন
সঠিক উত্তর:
সুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুখ
ব্যাখ্যা

• উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে। 
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২৬১.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী কোনটি?
  1. অসৎ নেতৃত্ব
  2. দুর্বল পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা
  3. আইনের প্রয়ােগের অভাব
  4. নৈতিকতা ও মূল্যবােধের অভাব
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা ও মূল্যবােধের অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা ও মূল্যবােধের অভাব
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি:
- দুর্নীতি হলো 'নীতি' বহির্ভূত কাজ।
- যেসব কাজ মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয় বহন এবং সামাজিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে সমাজের সংহতি ও সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে তাকে দুর্নীতি বলে।
- দুর্নীতি রাষ্টীয় তথা জাতীয় জীবনের জন্য অভিশাপ।

⇒ দুর্নীতির সংজ্ঞা নির্ধারণ করা বেশ জটিল।
- কারণ সমাজভেদে এবং একই সমাজে যুগভেদে নীতি, আদেশ ও মূল্যবোধের পার্থক্য দেখা দেয়।
- দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থীমূলক কাজ, সেহেতু দুর্নীতিমূলক কাজের উদাহরণ দিতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র-আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুেযাগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
- সুতরাং, "নৈতিকতা ও মূল্যবােধের অভাব" রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬২.
মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন মিলিতভাবে কোন ধরনের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক?
  1. দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজ
  2. অস্থির ও বিশৃঙ্খল সমাজ
  3. সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ
  4. স্বৈরতান্ত্রিক ও সংঘাতময় সমাজ
সঠিক উত্তর:
সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসনের সমন্বয় একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে সহায়ক।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, ও দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটায়, যা সমাজে সুশাসনের ভিত্তি রচনা করে।
- সুশাসনের কার্যকারিতা তখনই নিশ্চিত হয়, যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতার নীতিগুলো মেনে চলে।
- ফলস্বরূপ, মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের সমন্বয় একটি ন্যায়সঙ্গত, সুশৃঙ্খল এবং স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সহায়ক হয়, যেখানে প্রত্যেকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৩.
সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থায়?
  1. একনায়কতন্ত্রে
  2. গণতন্ত্রে
  3. রাজতন্ত্রে
  4. প্রজাতন্ত্রে 
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্রে
ব্যাখ্যা
সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠিত:
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে তারাই গণতন্ত্রে সরকার গঠন করে।
→  নির্বাচকমন্ডলী ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৪.
সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের সম্পর্ককে বুঝিয়েছেন কে?
  1. ম্যাক করণী
  2. মারটিন মিনোগ
  3. ল্যান্ডেল মিল
  4. প্লেটো
সঠিক উত্তর:
ম্যাক করণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক করণী
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

এছাড়াও,
- ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।"
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৫.
'স্বচ্ছতা' শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. ক) Responsibility
  2. খ) Accountability
  3. গ) Transparency
  4. ঘ) Consensus
সঠিক উত্তর:
গ) Transparency
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Transparency
ব্যাখ্যা
'স্বচ্ছতা' শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ Transparency.
স্বচ্ছতা অর্থ পরিষ্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। 

(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
২৬৬.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সরকার পরিবর্তনের কোন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে?
  1. ব্যক্তিগত ক্ষমতার প্রয়োগ
  2. সামরিক অভ্যুত্থান
  3. নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়
  4. সহিংস বিপ্লব
সঠিক উত্তর:
নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
- গুরুত্ব:
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে: সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৬৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের দায়িত্ব কোনটি?
  1. আইন অমান্য করা
  2. সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ
  3. নিয়মিত কর প্রদান করা
  4. স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান করা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
- জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করা যায়।
- নাগরিক কর্তব্য যেমন-নির্বাচনে অংশগ্রহণ, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন, তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে আইনের দারস্থ হওয়া, সরকারকে জবাবদিহি করা, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সরকারকে সহযোগিতা করা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা ও নিয়মিত কর প্রদান করে সরকারি সেবা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখে সুশাসন নিশ্চিত করা যেতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৮.
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সুশাসনের কোন উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি?
  1. আইনের শাসন 
  2. স্বচ্ছতা 
  3. জবাবদিহিতা 
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন 
ব্যাখ্যা

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সুশাসনের যে উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি তা হলো আইনের শাসন।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও সুশাসন:

- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেন। এগুলো হলো:
• স্বচ্ছতা (Transparency),
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• ভবিষ্যৎবাণী (Predictability)

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ওয়েবসাইট।

২৬৯.
নিচের কোনটি 'মানব উন্নয়ন সূচক'-এর মৌলিক নির্দেশক?
  1. জনসংখ্যা হ্রাসের হার
  2. প্রতিরক্ষা উন্নয়ন বাজেট
  3. দেশের মানুষের মাথপিছু আয়
  4. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার
সঠিক উত্তর:
দেশের মানুষের মাথপিছু আয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশের মানুষের মাথপিছু আয়
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক:
- মানব উন্নয়ন সূচক (Human development index) হলো এমন একটি সূচক, যার দ্বারা কোনো একটি দেশের নাগরিক কতটা ভালো জীবনযাপন করে এবং সেই দেশ কতটা উন্নত তা বোঝা যায়।
- কোনো একটি দেশ মানব উন্নয়ন সূচকে কতটা ভালো স্কোর করবে তা নির্ভর করে কয়েকটি নির্দেশকের উপর।
- এগুলো হলো:
i) মানুষের গড় আয়ু,
ii) মানুষের শিক্ষার মান,
iii) দেশের মানুষের মাথপিছু আয়।

উল্লেখ্য,
- যে দেশের মানুষের গড় আয়ু, শিক্ষার হার ও মাথাপিছু আয় বেশি হয়, সেই দেশের মানব উন্নয়ন সূচক স্কোর বেশি হয়।

⇒ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) human Development Report 2021-2022 প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান: ১২৯তম।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
২৭০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা নয় কোনটি?
  1. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা
  2. জনঅংশগ্রহণের অভাব
  3. দারিদ্র্য
  4. স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালীকরণ
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালীকরণ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
→ বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
→ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সহিংসতা, 
→ সরকারের জবাবদিহিতার অভাব,
→ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব,
→ আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা, 
→ আইনের শাসনের অভাব,
→ দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা,
→ রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব,
→ রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
→ স্বজনপ্রীতি,
→ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা,
→ জনঅংশগ্রহণের অভাব,
→ দারিদ্র্য,
→ জনসচেতনতার অভাব,
→ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাব।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৭১.
‘একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন’ উক্তিটি করেছেন-
  1. ক) কফি আনান
  2. খ) বিশ্ব ব্যাংক
  3. গ) UNDP
  4. ঘ) হালফ্যানি
সঠিক উত্তর:
গ) UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) UNDP
ব্যাখ্যা
[সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
২৭২.
সুনীতি গ্রহণে সরকারকে বাধ্য করার দায়িত্ব কার?
  1. বিদেশীদের
  2. নাগরিকের
  3. আমলাদের
  4. সামরিকবাহিনীর
সঠিক উত্তর:
নাগরিকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগরিকের
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক ও সরকারের ভূমিকা:
- সুশাসন একটি জটিল ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের সকল নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে।
- নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
- শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করতে গিয়ে সরকার বিভিন্ন সময় নানা ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে।
- এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতন অভিমত সরকারের কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় ও অর্থবহ করে তোলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের প্রধান করণীয় হচ্ছে ব্যক্তিগত অথবা সংগঠিতভাবে সরকারকে জনকল্যাণে সুনীতি গ্রহণে বাধ্য করা।
- এক্ষেত্রে তারা আলোকিত মতামত দিয়ে সরকারকে সাহায্য করতে পারে বা সরকারের অন্যায় বা ভুল নীতির সমালোচনা বা প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৭৩.
যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে কী বলে?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ (social values):
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- স্টুয়ার্ট সি. ডডএর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড কুখোন-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।
- নিকোলাস রেসার-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব গুণাবলি যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি বা গুণাবলির সমষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৭৪.
উৎপত্তিগত অর্থে 'Governance' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. হিব্রু
  2. ফারসি
  3. ল্যাটিন
  4. গ্রিক
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
ব্যাখ্যা
Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
এর অর্থ - শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।

According to Oxford Dictionary:
Middle English: from Old French, from governer, from Latin gubernare ‘to steer, rule’, from Greek kubernan ‘to steer’.

মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।
------------------------------------------------
- উল্লেখ্য, উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল।
- ল্যাটিন ভাষায় গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে। 

Good Governance শব্দটির অর্থ - কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন। সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন। সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৭৫.
'Das Kapital' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) জ্যা জ্যাক রুশো
  2. খ) কার্ল মার্ক্স
  3. গ) ম্যাক্স ওয়েবার
  4. ঘ) ম্যাকিয়াভেলি
সঠিক উত্তর:
খ) কার্ল মার্ক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্ল মার্ক্স
ব্যাখ্যা
কার্ল মার্ক্স
▪ কার্ল মার্ক্স একজন জার্মান দার্শনিক।
▪ কার্ল মার্ক্স ১৮১৮ সালের ৫ মে জার্মানির রাইন প্রদেশের ট্রায়ারে জন্মগ্রহণ করেন।
▪ সমাজতন্ত্র ও আধুনিক কমিউনিজমের জনক।

তার লেখা উল্লেখযোগ্য বই:-
- The Communist Manifesto (১৮৪৮ সালে প্রকাশিত হয়)
- ‘কম্যুনিষ্ট মেনিফেষ্টো’ রচনা করেছেন কার্লমার্কস ও এঙ্গেলস। 
- Das Kapital (১৮৬৭ সালে প্রকাশিত হয়,৩ খন্ডে বিভক্ত)
- Economic and Philosophic Manuscripts of 1844
- The Poverty of Philosophy
- ‘দি ক্রিটিক অব পলিটিক্যাল ইকনমি’
- ‘দি সিভিল ওয়ার ইন ফ্রান্স’
- কার্ল মার্ক্স এবং ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস-এর বিখ্যাত একটি বই ‘The German Ideology’

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 
২৭৬.
আমলাতন্ত্রের সংস্কার - বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সুশাসনের কোন স্তম্ভের অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) আইনি কাঠামো
  3. গ) দায়িত্বশীলতা
  4. ঘ) অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
গ) দায়িত্বশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে,
'Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.'

UNDP এর মতে, সুশাসন হল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিধিবদ্ধ চর্চা যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়ন কার্যাবলি পরিচালনা করা হয়।

বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল।
আর এ চারটি স্তম্ভ হল-
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো এবং
- অংশগ্রহণ।
================

১. দায়িত্বশীলতা:
দায়িত্বশীলতার অন্তর্ভূক্ত বিষয়গুলো হলো:
- দক্ষতা নির্মাণ
- সরকারি খাত ব্যবস্থাপনায়
- দক্ষতা আনায়ন
- অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা
- আমলাতন্ত্রের সংস্কার

২. স্বচ্ছতা:
স্বচ্ছতার অন্তর্ভূক্ত বিষয়গুলো হলো:
- তথ্য প্রবাহ
- তথ্য উন্মুক্তকরণ
- ই-তথ্য সেবা প্রতিষ্ঠা
- দুর্নীতি প্রতিরোধ
- কার্যকর পদক্ষেপ

৩. আইনি কাঠামো:
আইনি কাঠামোর অন্তর্ভূক্ত বিষয়গুলো হলো:
- আইন প্রয়োগ
- আইন ও কাঠামো
- বেসরকারি খাতের উন্নয়ন
- আইনি কাঠামো
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ

৪. অংশগ্রহণ:
অংশগ্রহণের অন্তর্ভূক্ত বিষয়গুলো হলো:
- অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন
- প্রভাবিত গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ
- রাষ্ট্রীয় ও সেবামূলক কর্মকান্ডের বিকেন্দ্রীকরণ
- বেসরকারি সংগঠনের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা


উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৭.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের কোন স্তম্ভটি ঘোষণা করেনি?
  1. দারিদ্র্য বিমোচন
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. আইনী কাঠামো
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র্য বিমোচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র্য বিমোচন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টি পৌরনীতির সাম্প্রতিক সংযোজন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'

- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, 'সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।'

- পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন’ নামের রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
- সংস্থাটির মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে সুশাসনের অনুপস্থিতি মুখ্যত দায়ী অভাব।

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
চারটি স্তম্ভ হল- 
(i) দায়িত্বশীলতা 
(ii) স্বচ্ছতা 
(iii) আইনী কাঠামো ও 
(iv) অংশগ্রহণ।  

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।

২৭৮.
বিখ্যাত রাজনৈতিক গ্রন্থ 'The Prince'-এর রচয়িতা কে?
  1. কার্ল মার্কস
  2. পিটার সিঙ্গার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য,
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু।
- তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

⇒ ১৫১৩ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন তার বিশ্বখ্যাত 'The Prince'। দ্য প্রিন্স-এর মূল বিষয় হলো কীভাবে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা যায় তার চিন্তাপূর্ণ বিশ্লেষণ। পুস্তকটি ছোট-বড় ২৬টি অধ্যায় নিয়ে রচিত। তা ছাড়া শুরুতে রয়েছে একটি উৎসর্গপত্র। ইতালির বিখ্যাত মেডিসি পরিবারের অন্যতম শাসক লরেঞ্জো ডে মেডিসির নামে গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৭৯.
নিম্নের কোনটি অর্থনৈতিক অধিকার?
  1. জীবন রক্ষার অধিকার
  2. মত প্রকাশের অধিকার
  3. শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার
  4.  পরিবার গঠনের অধিকার
সঠিক উত্তর:
শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক অধিকার: 
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। 
- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার,
- ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার,
- অবকাশ লাভের অধিকার,
- শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

• সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

• রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২৮০.
আইনের শাসন বলতে বোঝায় -
  1. ক্ষমতাশালীর শাসন
  2. দলীয় শাসন
  3. আইনের চোখে সবাই সমান
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
আইনের চোখে সবাই সমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের চোখে সবাই সমান
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
- আইনের শাসন বলতে বোঝায় আইনের চোখে সবাই সমান।

• অধ্যাপক ডাইসির মতে, আইনের শাসনের মৌলিক তিনটি শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো: 
​ক. আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, 
​খ. আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকা, 
​গ. শুনানী গ্রহণ ব্যতীত কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।
​​- এই শর্ত তিনটি মেনে চললেই তবে বলা যাবে যে, আইনের শাসন কার্যকর হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, নিপীড়ন মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৮১.
চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন - কোন ধরনের আইনের অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) সরকারি আইন
  2. খ) বেসরকারি আইন
  3. গ) আন্তর্জাতিক আইন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) বেসরকারি আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেসরকারি আইন
ব্যাখ্যা

আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়ঃ
(১) সরকারি আইন
(২) বেসরকারি আইন
(৩) আন্তর্জাতিক আইন
বেসরকারি আইনঃ এ আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণীত নয় তবে সামাজিকভাবে স্বীকৃত হয়। এ আইন দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়। যেমন, কোন সংঘের আইন, চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র বই (উন্মুক্ত)।

২৮২.
সুশাসনের কোন উপাদানটি শাসনব্যবস্থার আইন-কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্তকে স্পষ্ট ও বোধগম্য করে তোলে?
  1. গণতন্ত্র
  2. আইনের শাসন
  3. স্বচ্ছতা
  4. দায়িত্বশীলতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল।
- দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা।
- শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়।
- নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৮৩.
ধর্ম চর্চার অধিকার কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক অধিকার
  2. খ) নৈতিক অধিকার
  3. গ) অর্থনৈতিক অধিকার
  4. ঘ) সামাজিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
ঘ) সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
- সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা যেসব অধিকার ভোগ করে থাকি সেগুলো হলো সামাজিক অধিকার।
বিভিন্ন সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- সম্পত্তি লাভের অধিকার
- চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
২৮৪.
উইলিয়াম লিলির মতে নীতিবিদ্যা একটি -
  1. ক) বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান
  2. খ) আদর্শনিষ্ঠ কলা
  3. গ) আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
• বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে উইলিয়াম লিলি মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে”।

• উইলিয়াম লিলি নীতিবিদ্যাকে “আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান” বলে এর পরিসরকে সুনির্দিষ্ট করতে চেয়েছেন।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৫.
কত সালের রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছে?
  1. ১৯৮৯ সাল
  2. ১৯৯১ সাল
  3. ১৯৯২ সাল
  4. ১৯৯৪ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৯৪ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৪ সাল
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান: 
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছে।
- এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।
- ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।
- ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৬.
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ কোনটি?
  1. ক) নরওয়ে
  2. খ) ডেনমার্ক
  3. গ) সুইডেন
  4. ঘ) পোল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
খ) ডেনমার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা
বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি তাদের বার্ষিক দুর্নীতির ধারণাসূচক (সিপিআই)–২০২১ প্রকাশ করেছে। 
সূচক অনুযায়ী ১৮০টি দেশের মধ্যে- 
কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ - ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড; স্কোর ৮৮।
শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ - দক্ষিণ সুদান; স্কোর ১১।
নিম্নক্রম অনুসারে বাংলাদেশের অবস্থান - ১৩; স্কোর ২৬।
উর্ধ্বক্রম অনুসারে বাংলাদেশের অবস্থান - ১৪৭তম।

উৎসঃ পত্রিকা রিপোর্ট। 
২৮৭.
একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধের কোন উপাদানটি অপরিহার্য?
  1. ব্যক্তিগত সাফল্য
  2. শৃঙ্খলা এবং নীতিবোধ
  3. রাজনৈতিক প্রভাব
  4. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলা এবং নীতিবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলা এবং নীতিবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- এটি সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও পরিমন্ডলে বসবাসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- একটি সুন্দর এবং সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নীতিবোধ, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা অপরিহার্য।
- এই উপাদানগুলো সমাজের মৌলিক মূল্যবোধ এবং আচরণগত নীতিগুলোর প্রতিফলন করে।
- যা সমাজের সদস্যদের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি স্থাপন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৮.
বৈষম্যযুক্ত সমাজে কি বিরাজ করে?
  1. ক) স্থিতিশীলতা
  2. খ) শান্তি
  3. গ) অস্থিতিশীলতা
  4. ঘ) সমৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
গ) অস্থিতিশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অস্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা
- পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনায় সাম্য ও স্বাধীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- সমাজে বসবাস করতে হলে সাম্য ও স্বাধীনতা দুটিই প্রয়োজন।
- বৈষম্যযুক্ত সমাজে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে।

- পক্ষান্তরে, স্বাধীনতাহীন ব্যক্তি বা জাতির বিকাশের সম্ভাবনা নস্যাৎ হয়।
- সাম্য ও স্বাধীনতার মাঝে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ দু'ধরনের সম্পর্ক চিহ্নিত করেন।
- একটি ধারা সাম্য ও স্বাধীনতার মধ্যে সমধর্মীতার কথা বলে অন্য ধারাটি এই দুইয়ের মাঝে কিছু বৈপরীত্য দেখতে পায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৯.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কী হিসেবে অভিহিত করেন?
  1. স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  2. লবি গোষ্ঠী
  3. স্বার্থকারী গোষ্ঠী
  4. সমদৃষ্টিসম্পন্ন গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
স্বার্থকামী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বার্থকামী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন। অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন। অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

- অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন। তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করেছেন যেমন স্বার্থকারী (Interest Group) গোষ্ঠী এবং সমদৃষ্টিসম্পন্ন (Attitude Group) গোষ্ঠী।

- অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন।

যেমন:- 
→ স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী, 
→ সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী, 
→ অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী, 
→ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী। 

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯০.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হিসেবে কোনটিকে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. আইনসভা
  2. নির্বাচন
  3. জনমত
  4. রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র:
- আধুনিক গণতন্ত্র হলো পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- বর্তমান সময়ের বিশালায়তন রাষ্ট্রগুলোর বিপুল জনগোষ্ঠীর পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে তাই জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- এই নির্বাচনকার্য সম্পন্ন হয় দলীয় ভিত্তিতে।
- বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকারকে তাই দলীয় সরকার বলা হয়।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দল হলো আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৯১.
ই-গভর্নেন্স প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে?
  1. সরকার থেকে নাগরিক
  2. নাগরিক থেকে সরকার
  3. সরকার থেকে সরকারি কর্মচারী
  4. ক, খ ও গ
সঠিক উত্তর:
ক, খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক, খ ও গ
ব্যাখ্যা
ই-গভর্ন্যান্স:
- সকল প্রকার সরকারি ও বেসরকারি সেবা-প্রদান, 'ব্যাক-অফিস' কার্যক্রম, তথ্য আদান-প্রদান, লেনদেন এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইলেক্ট্রনিক, কম্পিউটিং এবং আইসিটির মাধ্যমে স্বল্প সময়ে, কম খরচে, সঠিকভাবে এবং সহজে সকল ধরনের কর্মকাণ্ড বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াকে ই-গভর্নেন্স বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায় যে, শাসন ব্যবস্থা ও সরকারি-বেসরকারি কার্য-প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনিক্স বা ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগই হচ্ছে ই-গভর্নেন্স।
- আর সে কারণেই ই-গভর্নেন্সকে অনেক সময় ডিজিটাল গভর্নেন্সও বলা হয়ে থাকে।
- কোনো একটি দেশে সুপ্রশাসনের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য।
- আর ডিজিটাল গভর্নেন্স প্রচলনের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব।
- ফলে নাগরিক-হয়রানি এবং সেবা-গ্রহণ প্রক্রিয়ায় হয়রানির অবসান ঘটে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। 

⇒ ই-গভর্নেন্সে সরকারি- বেসরকারি সেবা ও তথ্যাদি আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াটি সরকার থেকে সরকারি সংস্থা (Government to Government Agencies i.e. G2G), সরকার থেকে নাগরিক (Government to Citizen i.e. G2C), নাগরিক থেকে সরকার (Citizen to Government i.e. C2G), সরকার থেকে সরকারি কর্মচারী (Government to Employee i.e. G2E) এবং/অথবা সরকার থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে (Government to Business i.e. G2B) সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯২.
কোনটিকে সমাজের ভালো-মন্দের মানদণ্ড বলা হয়?
  1. সাম্য
  2. আইন
  3. স্বাধীনতা
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ (Values):
- মূল্যবোধ হলো সমাজের ভালো-মন্দের মানদণ্ড যা মানুষের আচরণ, নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করে।
- এটি মানুষের নৈতিকতা, আচরণ ও সামাজিক রীতিনীতি নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নৈতিক জীবনযাপনে সহায়তা করে।
- সমাজের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করে।
- সমাজ কোন কাজ ভালো বা মন্দ তা মূল্যবোধের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।

অন্যদিকে,
- সাম্য (Equality) হলো সমাজে সকল মানুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা।
- স্বাধীনতা (Freedom) হলো ব্যক্তির মত প্রকাশ, চলাফেরা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার।
- আইন (Law) সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রণীত নিয়মকানুন। আইনের প্রয়োগ মূল্যবোধকে রক্ষা করার জন্য করা হয়, তবে এটি সমাজের ভালো-মন্দ নির্ধারণের প্রধান মানদণ্ড নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২৯৩.
নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মানুষের -
  1. ধর্ম
  2. সংস্কৃতি
  3. জীবন যাপন
  4. আচরণ
সঠিক উত্তর:
আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণ
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মানুষের - আচরণ৷
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে৷
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

২৯৪.
“Compassion is the basis of morality.” - কার উক্তি?
  1. ক) Georg Wilhelm Friedrich Hegel
  2. খ) Arthur Schopenhauer
  3. গ) Immanuel Kant
  4. ঘ) Karl Marx
সঠিক উত্তর:
খ) Arthur Schopenhauer
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Arthur Schopenhauer
ব্যাখ্যা
Arthur Schopenhauer - একজন জার্মান দার্শনিক।
২৯৫.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় কোনটিকে?
  1. সংবাদমাধ্যম
  2. শাসন বিভাগ
  3. বিচার বিভাগ
  4. আইন বিভাগ
সঠিক উত্তর:
সংবাদমাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদমাধ্যম
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।
- গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

⇒ রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে সর্বপ্রথম নির্দেশ করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক। তিনি ১৭৮৭ সালে হাইজ অব কমন্সের সংসদীয় বিতর্ক পর্বে প্রত্যয়টি প্রথম ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য,
- থমাস জেফারসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমাকে যদি এই বিকল্পটি দেওয়া হয় যে তুমি কি সংবাদপত্রবিহীন সরকার চাও, না সরকারবিহীন সংবাদপত্র চাও? তখন আমি পরেরটা বেছে নেব।’
- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট সংবাদপত্র সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, চারটি আক্রমণাত্মক সংবাদপত্র হাজারটা বেয়নেটের চেয়েও ক্ষতিকর।’
- অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, কোনো দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম থাকলে সে দেশে দুর্ভিক্ষ হানা দিতে পারে না।

অন্যদিকে -
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তম্ভ বা ভিত্তির উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়।
- এই মূল ভিত্তিগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়, ক্ষমতার সুষম বন্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে শাসনকার্যকে পরিচালনা করতে সার্বিক সহায়তা করে।
- স্তম্ভগুলো হলো:
১. আইন বিভাগ,
২. শাসন বিভাগ,
৩. বিচার বিভাগ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
২৯৬.
‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’-কথাটি কে বলেছেন?
  1. অধ্যাপক স্পেন্সার
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. অধ্যাপক গার্নার
  4. অধ্যাপক লাস্কি
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা
আইন
- অর্থাৎ মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তি বিরাজ করে।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে। 

উল্লেখ্য,
- ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’-উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ডাইসি।
- আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, আইনের শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি হচ্ছে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আইনের চোখে সবার সমতা।
- রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে লিখিত বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রন্থও আইনের উৎস হিসেবে অধ্যাপক ডাইসির "Law of the Constitution" এর উল্লেখ করা যায়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
২৯৭.
UNCAC কোন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ক) মানবপাচার বোধ
  2. খ) যুদ্ধবন্দিদের অধিকার
  3. গ) দুর্নীতি রোধ
  4. ঘ) সংখ্যালঘু অধিকার
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্নীতি রোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্নীতি রোধ
ব্যাখ্যা
UNCAC (United Nations Convention Against Corruption) হলো জাতিসংঘ গৃহীত দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক কনভেনশন।

- এটি ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয় এবং ২০০৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। বাংলাদেশসহ ১৮৭টি দেশ এটির অংশীদার।

(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
২৯৮.
ব্যবসা-বানিজ্য ও শিল্প কারখানায় উৎপাদন ও বিপণনের সাথে কোন ধরনের মূল্যবোধ জড়িত?
  1. ক) ব্যাবসায়ীক মূল্যবোধ
  2. খ) অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গ) সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) ব্যাক্তিগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
খ) অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
আর্থিক লেনদেন, ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসা-বানিজ্য ও শিল্প কারখানায় উৎপাদন ও বিপণনের সাথে অর্থনৈতিক মূল্যবোধ জড়িত।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বই
২৯৯.
UNDP (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি) সুশাসনের কোন উপাদানের উল্লেখ করেনি?
  1. ক) সহানুভূতিশীলতা
  2. খ) সকলের অংশগ্রহণ
  3. গ) কৌশলগত লক্ষ্য
  4. ঘ) সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
সঠিক উত্তর:
ক) সহানুভূতিশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সহানুভূতিশীলতা
ব্যাখ্যা
UNDP (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে এবং সুশাসনের ৯ টি উপাদানের উল্লেখ করে। এগুলো হলোঃ স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা এবং কৌশলগত লক্ষ্য। সূত্র- ইউএনডিপি ওয়েবসাইট।
৩০০.
'Logic and knowledge' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. টমাস হবস
  2. জ্যাক রুঁশো
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. মন্টেস্কু
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- তিনি একজন ব্রিটিশ দার্শনিক।
- Logic and knowledge-গ্রন্থটির রচয়িতা বার্ট্রান্ড রাসেল।

তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- The Problem of Philosophy
- The Conquest of Happiness
- Religion and Science
- The Principles of Mathematics
- The Analysis of Mind
- Marriage and Morals
- Philosophical Essays

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।