বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ৩৩ / ৩৯ · ৩,২০১৩,৩০০ / ৩,৮২৯

৩,২০১.
'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্ট প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. ক) World Bank
  2. খ) IMF
  3. গ) UNDP
  4. ঘ) ADB
সঠিক উত্তর:
ঘ) ADB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ADB
ব্যাখ্যা
• ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে।
• ১৯৯৭ সালে UNDP  'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।
• বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ''Governance : The World Bank Experience'' বা ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।  
• ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপাের্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৩,২০২.
কোনটিকে সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ক) নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি
  2. খ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
সঠিক উত্তর:
ক) নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি
ব্যাখ্যা
⇨ সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ ইত্যাদি সুশাসনের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
পক্ষান্তরে,
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি, অস্বচ্ছতা, জবাবাদিহিতার অভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি প্রভৃতি সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে।  

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২০৩.
আইনের শাসন বলতে কী বুঝায়?
  1. নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা
  2. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  3. ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা
  4. সামাজিক নিরাপত্তা বিধান
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের অন্যতম প্রধান করণীয় হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
-  আইনের শাসন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।
- আইনের শাসন হলো আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান।
- কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়, সকলেই আইনের অধীন।
- ব্যক্তির স্বাধীনতা, সাম্য ও অধিকার রক্ষার জন্য আইনের শাসন অপরিহার্য।
- আইনের শাসন বলতে ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করাকে বুঝায়।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২০৪.
কোন ঘোষণায় সুশাসনের সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে?
  1. ক) কেপটাউন ঘোষণা
  2. খ) ভিয়েনা ঘোষণা
  3. গ) জোহান্সবার্গ ঘোষণা
  4. ঘ) জেনেভা ঘোষণা
সঠিক উত্তর:
গ) জোহান্সবার্গ ঘোষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জোহান্সবার্গ ঘোষণা
ব্যাখ্যা
Johannesburg Plan of Implementation যা জোহান্সবার্গ ঘোষণা নামে পরিচিত। 
১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গ  শহরে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে Johannesburg Plan of Implementationগৃহীত হয়। 
ইহা সুশাসনের সঙ্গে Sustainable development (টেকসই উন্নয়ন) এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।

উৎসঃ জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচীর ওয়েবসাইট।
৩,২০৫.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. পরিবার
  2. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
  3. প্রাথমিক বিদ্যালয়
  4. গণমাধ্যম
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের নৈতিকতা, আদর্শ ও সামাজিক মানদণ্ড বিকাশ করে।
- এর প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবারের কাছ থেকে একজন মানুষ প্রথম মূল্যবোধ শিখে।
- মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় বা শিক্ষালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,২০৬.
পরিবর্তনশীলতা নিচের কোনটির প্রধান বৈশিষ্ট্য?
  1. মূল্যবোধ
  2. কর্তব্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
সামজিক মূল্যবোধের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
১. সামাজিক মাপকাঠি,
২. যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন,
৩. নৈতিক প্রাধান্য,
৪. বিভিন্নতা,
৫. বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা,
৬. পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।

পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে মূল্যহীন।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২০৭.
ব্যাক্তি সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়-
  1. আইন থেকে
  2. রাষ্ট্র থেকে
  3. পরিবার থেকে 
  4. ধর্ম থেকে
সঠিক উত্তর:
পরিবার থেকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার থেকে 
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা: 
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- সুতরাং ব্যাক্তি তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,২০৮.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের -
  1. বিপরীত
  2. সাংঘর্ষিক
  3. পরিপূরক
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
পরিপূরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপূরক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২০৯.
“Good Governance and Development” - বইয়ের লেখক কে?
  1. ক) G. H. Addink
  2. খ) M. A. Muqtedar Khan
  3. গ) Robert Kuttner
  4. ঘ) Brian C. Smith
সঠিক উত্তর:
ঘ) Brian C. Smith
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Brian C. Smith
ব্যাখ্যা
উক্ত বইটি Brian C Smith ও Brian Smith যৌথভাবে লিখেন এবং ২০০৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
Brian C Smith - এর লেখা অন্যান্য বই - Understanding Third World politics, Decentralization: The Territorial Dimension of the State, Quantitative Spectroscopy ইত্যাদি।
৩,২১০.
বাংলাদেশে যৌতুক নিষিদ্ধ করার আইন পাস হয়-
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৬ সালে
  3. গ) ১৯৮০ সালে
  4. ঘ) ১৯৯২ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে যৌতুক নিষিদ্ধ আইন পাস হয় ১৯৮০ সালে (অনধিক ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে)।
- যৌতুক নিরোধ আইন পাস হয় ২০১৮ সালে।
- এই আইনের ধারা ১১টি।
- যৌতুকের সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন শাস্তি ১ বছরের কারাদণ্ড।

৩,২১১.
"জন্মগতভাবে সব মানুষ সমান" এটি কোন ধরনের সাম্য?
  1. স্বাভাবিক সাম্য
  2. আইনগত সাম্য
  3. নাগরিক সাম্য
  4. রাজনৈতিক সাম্য
সঠিক উত্তর:
স্বাভাবিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাভাবিক সাম্য
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য হচ্ছে এমন একটি ধারণা, যার মাধ্যমে সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়।
- এটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করে, যেখানে কেউ তার জন্ম, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, সামাজিক অবস্থান বা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বৈষম্যের সম্মুখীন হয় না।
- সাম্য সমাজে ন্যায়বিচার, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
- আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সমতার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হলে সমাজে সাম্য আনয়ন সম্ভব হয়।

সাম্যের বিভিন্ন দিক:
স্বাভাবিক সাম্য: জন্মগতভাবে সব মানুষ সমান। অর্থাৎ, সকল মানুষের মূল্য ও অধিকার জন্মগতভাবে সমান।
সামাজিক সাম্য: সমাজে ব্যক্তির যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হয়। এখানে সামাজিক বৈষম্য থেকে মুক্তি এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।
অর্থনৈতিক সাম্য: যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পদ ও সুযোগের সঠিক বণ্টন। অর্থাৎ, সমাজের সব সদস্য যাতে সমানভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা।
নাগরিক সাম্য: ব্যক্তিগত নাগরিক অধিকার ও সুযোগে সমান অধিকার প্রদান। এর মাধ্যমে সব নাগরিককে সমান মর্যাদা ও সুযোগ দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক সাম্য: রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে সমান অধিকার। এখানে ব্যক্তির রাজনৈতিক অধিকার যেমন ভোটাধিকার, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইত্যাদি সমান থাকে।
আইনগত সাম্য: আইনের কাছে সকল মানুষ সমান। আইন সকলের জন্য একেবারে সমান এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২১২.
কোনটি সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান?
  1. সাম্য
  2. স্বাধীনতা
  3. মূল্যবোধ
  4. কর্তব্যবোধ
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- সমাজ কাঠামো মূলত কিছু মৌলিক উপাদানের ওপর গড়ে ওঠে, যা সামাজিক সম্পর্ক ও সংগঠনের ভিত্তি স্থাপন করে।
- এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো "মূল্যবোধ"।
- এটি সমাজের নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও সামাজিক নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে।
- ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর আচরণ পরিচালিত হয় সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমে।
- এটি সমাজের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি গড়ে তোলে, যা অন্য উপাদানগুলোর বিকাশে সহায়ক হয়।
- ন্যায়বিচার, সততা, সম্মান, সহযোগিতা, ও দায়িত্ববোধের মতো বিষয় সমাজ কাঠামোর ভিত্তি গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
সাম্য (ক):
সাম্য একটি আদর্শ সমাজব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, তবে এটি সমাজ কাঠামোর একমাত্র ভিত্তি নয়। সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলেও সমাজ টিকে থাকতে পারে, যদিও তা ন্যায়ের ভিত্তিতে নাও গড়ে উঠতে পারে।

স্বাধীনতা (খ):
স্বাধীনতা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে সমাজ কাঠামোর জন্য এটি একমাত্র অপরিহার্য উপাদান নয়। কিছু সমাজে ব্যক্তিস্বাধীনতা সীমিত থাকলেও সমাজ কাঠামো টিকে থাকে।

কর্তব্যবোধ (ঘ):
কর্তব্যবোধ সমাজের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি মূল্যবোধের একটি অংশ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২১৩.
কোনটি অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ?
  1. আইন
  2. প্রথা
  3. সংবাদপত্র
  4. গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা
• অধিকারের রক্ষাকবচ:
- বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং সুসভ্য সমাজ জীবনের জন্য অধিকার অত্যাবশ্যক।
- রাষ্ট্রই নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রবর্তন ও তা সংরক্ষণ করে থাকে।
- গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণের শর্তগুলোকে “অধিকারের রক্ষাকবচ" বলে।

এগুলো নিম্নরূপ:
- আইন (Law):
আইন হচ্ছে অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ।
→ আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগের ফলে অধিকার নিশ্চিত হয়।
→ আইন হচ্ছে অধিকার ভোগের আবশ্যকীয় শর্ত বা রক্ষাকবচ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,২১৪.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে 'Interest group' বলে আখ্যায়িত করেছেন -
  1. এইচ জিগলার
  2. এলান আর বল
  3. অধ্যাপক মাইরন উহনার
  4. অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
সঠিক উত্তর:
এইচ জিগলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ জিগলার
ব্যাখ্যা
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার উপরে প্রভাব বিস্তার করে।
- ক্ষমতা দখল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য নয় বরং নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করাই এর উদ্দেশ্য।
- সরকারি নীতি নির্ধারণে চাপ প্রয়োগ করে গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করাই চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

⇒ অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এইচ জিগলার 'Interest group' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

⇒ অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

• অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে ৪টি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। যথা-
(১) স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থগোষ্ঠী,
(২) সংগঠনভিত্তিক স্বার্থগোষ্ঠী,
(৩) সংগঠনহীন স্বার্থগোষ্ঠী,
(৪) প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থগোষ্ঠী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২১৫.
'Constitution is the way of life the state has chosen for itself- কার উক্তি?
  1. ম্যাকিয়াভেলি
  2. সক্রেটিস
  3. এরিস্টটল
  4. প্লেটো
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

⇒ 'Constitution is the way of life the state has chosen for itself- এরিস্টটল এর উক্তি।

এরিস্টটল:
- এরিস্টটল সংবিধানকে "রাষ্ট্র যেভাবে তার নিজের জন্য জীবনযাপনের ধরণ নির্ধারণ করে" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
- তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের মূল কাঠামো এবং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নিয়ম-কানুন ও নীতিমালা নির্ধারণ করে।
- সংবিধান শুধু আইনের সংকলন নয়।
- এটি একটি রাষ্ট্রের আদর্শ, মূল্যবোধ এবং লক্ষ্য প্রতিফলিত করে।
- এটি বলে দেয় যে, একটি রাষ্ট্র কীভাবে তার জনগণ, শাসক এবং আইন পরিচালিত করবে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,২১৬.
বিকেন্দ্রীকরণ হলো-
  1. ক) ক্ষমতা কুক্ষিগত করা
  2. খ) ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া
  3. গ) ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া
ব্যাখ্যা
প্রশাসন ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণ হলো ক্ষমতা কেন্দ্রে বা এক জায়গায় কুক্ষিগত না করে স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া।
এর ফলে প্রশাসন ব্যবস্থায় গতিশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং দৌরাত্ম্য হ্রাস পায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি)
৩,২১৭.
জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, গণতন্ত্রের সাফল্যের প্রথম শর্ত কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. স্বাধীন বিচার বিভাগ
  3. শক্তিশালী সরকার
  4. জনগণের গণতান্ত্রিক শাসন গ্রহণের ইচ্ছা
সঠিক উত্তর:
জনগণের গণতান্ত্রিক শাসন গ্রহণের ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের গণতান্ত্রিক শাসন গ্রহণের ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র (Democracy):
- গনতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত। 
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।

• জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন। শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,২১৮.
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায়-
  1. সকলকে সমপরিমাণ সম্পদ প্রদান
  2. সম্পদের উত্তরাধিকার নিষিদ্ধ করা
  3. সম্পদ ও সুযোগ যোগ্যতা অনুযায়ী বণ্টন
  4. সকল নাগরিকের সমান উপার্জিত আয়
সঠিক উত্তর:
সম্পদ ও সুযোগ যোগ্যতা অনুযায়ী বণ্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পদ ও সুযোগ যোগ্যতা অনুযায়ী বণ্টন
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য বলতে বোঝায় সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।
- সাম্য একটি সমাজকে ন্যায়বিচার, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেয়।
- আইনের সুশাসন, ন্যায়বিচার ও সমতার সুযোগ সৃষ্টি করে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

• সাম্যের বিভিন্ন দিক:
স্বাভাবিক সাম্য- জন্মগতভাবে সবাই সমান।
সামাজিক সাম্য- সমাজে যোগ্যতা অনুযায়ী সকলে একই সুযোগ ভোগ করবে।
অর্থনৈতিক সাম্য- যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বন্টন।
নাগরিক সাম্য- ব্যক্তিগত সকল নাগরিকের সমান অধিকার।
রাজনৈতিক সাম্য- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণে সমান অধিকার ও মতামত প্রকাশ।
আইনগত সাম্য- আইনের চোখে সকলে সমান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২১৯.
ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. সরকার পরিচালনায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ
  2. বিভিন্ন ধরনের লেনদেন পরিচালনা
  3. বিভিন্ন তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো
  4. সবগুলোই ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রম:
- ই-সরকার বা ই-গভর্নেন্স-এর পারস্পরিক লেনদেন সরকার ও জনগণ বা সেবাগ্রহণকারী, সরকার ও ব্যবসায়ী, এক সরকারের সাথে অন্য সরকারের কিংবা সরকার ও তার কর্মকর্তাদের মধ্যে হতে পারে।
- এরূপ লেনদেনের ক্ষেত্রে চার ধরনের কার্যক্রম লক্ষ করা যায়:
১. বিভিন্ন তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো: যেমন নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম, সাধারণ ছুটি, জনগণের জন্য বিভিন্ন ঘটনার দিন তারিখ, বিভিন্ন ইস্যুর ব্যাখ্যা, নোটিশ ইত্যাদি।
২. সরকার ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ: এই প্রক্রিয়ায় যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে ইন্টারনেট সংলাপে বসতে পারে এবং তাদের সমস্যা, মন্তব্য ও অনুরোধ প্রতিষ্ঠানকে জানাতে পারে।
৩. বিভিন্ন ধরনের লেনদেন পরিচালনা: যেমন আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া, চাকরির জন্য আবেদন চাওয়া ও তা জমা দেয়া এবং অনুদান চাওয়া ও তা প্রদান করা।
৪. সরকার পরিচালনায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ: জনগণ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার সাহায্য গ্রহণ করে, তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,২২০.
সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ কোন ধরনের সাম্য রক্ষা করে?
  1. স্বাভাবিক
  2. আইনগত
  3. সামাজিক
  4. ব্যক্তিগত
সঠিক উত্তর:
আইনগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনগত
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ আইনগত সাম্য রক্ষা করে।

• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা। সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২২১.
'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক' মতবাদে কে বিশ্বাসী?
  1. জি. ডি. এইচ. কোল
  2. লর্ড এ্যাকটন
  3. হেনরী মেইন
  4. কেউই নয়
সঠিক উত্তর:
জি. ডি. এইচ. কোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. ডি. এইচ. কোল
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক:
- অর্থাৎ সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়।
- একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক।
- স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা।
- কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না।
- অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে নাগরিক স্বাধীনতা বিনষ্ট হতে বাধ্য।
- জি, ডি, এইচ, কোল (G. D. H. Cole) এবং আর, এইচ টনী (R. H. Tawny) উভয়ে এ মতবাদে বিশ্বাসী।
- তাঁরা সাম্যের উপস্থিতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রকান্ত অপরিহার্য বলে মনে করেন।
- হার্বার্ট এ, ডীন (Herbert A. Deane) যথার্থই বলেন, "স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের বিরোধী নয়, এমনকি এ দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্নও নয় বরং একই আদর্শের ভিন্ন বিষয় মাত্র।"
- আধুনিক গণতান্ত্রিক যুগে এটি এক অনন্য সত্য।

অন্যদিকে,
- স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী এবং আপোসহীন। একটির উপস্থিতি অপরটির মৃত্যু ঘটায়। লর্ড এ্যাকটন (Lord Acton) এ মতবাদে বিশ্বাসী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সাম্য ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২২২.
'বিকল্প নীতি উত্থাপন' করে কে?
  1. বিরোধী দল
  2. আমলা
  3. সুশীল সমাজ
  4. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারা সরকার গঠন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- বাকি দলগুলো বিরোধী দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অপরিহার্য।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার সমূহ আশঙ্কা থাকে।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।

বিরোধী দলের বৈশিষ্ট্য:
১। গঠনমূলক সমালোচনা,
২। অধিকার বাস্তবায়ন,
৩। গণতন্ত্র রক্ষা,
৪। বিকল্প নীতি উত্থাপন,
৫। সমস্যা চিহ্নিত করা,
৬। জনমত গঠন,
৭। প্রার্থী মনোনয়ন,
৮। পারস্পরিক সম্পর্ক,
৯। রাজনৈতিক সংযোগ সাধন,
১০। রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ,
১১। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য,
বিকল্প নীতি উত্থাপন:
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২২৩.
বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. গণতন্ত্র 
  4. আইনি কাঠামো
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র 
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:

১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,২২৪.
স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ - 
  1. ক) সমাজতন্ত্র
  2. খ) রাজতন্ত্র
  3. গ) গণতন্ত্র
  4. ঘ) অভিজাততন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গ) গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ বলা হয় গণতন্ত্রকে।

গণতন্ত্র:

- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।
- গণতন্ত্রকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 
-  প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
-  পরোক্ষ গণতন্ত্র
- পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকেই বোঝায়।
- পরোক্ষ গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আইন প্রণয়নসহ শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রই প্রচলিত রয়েছে।
- প্রাচীন আমলে গ্রিসে এবং বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে।

উৎস: একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র)।
৩,২২৫.
সামাজিক চুক্তি মতবাদের মূল বক্তব্য কী?
  1. ধর্মীয় বিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে
  2. সামরিক শক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে
  3. জনগণের পারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে
  4. রাষ্ট্র শাসকের ইচ্ছায় সৃষ্টি হয়েছে
সঠিক উত্তর:
জনগণের পারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের পারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে
ব্যাখ্যা

• সামাজিক চুক্তি মতবাদ
- এ মতবাদের মূলকথা হলো- সমাজে বসবাসকারী জনগণেরপারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।
- ব্রিটিশ রাষ্ট্র দার্শনিক টমাস হবস্ ও জন লক এবং ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন।
- এ মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বসবাস করত।
​- তারা প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলত এবং প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। 
​- কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যে আইন অমান্য করলে শাস্তি দেওয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না। 
- ​​ফলে সামাজিক জীবনে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
-​ মানুষ হয়ে উঠে স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক। দুর্বলের উপর চলে সবলের অত্যাচার।
-​ এ কারণে মানুষের জীবন কষ্টকর ও দুর্বিষহ হয়ে উঠে। 
- ​এ ছাড়া প্রকৃতির রাজ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তিগত সম্পত্তির আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
-​ প্রকৃতির রাজ্যের এ অরাজকতাপূর্ণ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ নিজেদের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র সৃষ্টি করে এবং নিরাপত্তার বিনিময়ে নিজেদের উপর শাসন করার জন্য স্থায়ীভাবে শাসকের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে।

​উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩,২২৬.
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল' এটি কোন সংস্থার মতামত?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক 
  3. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  4. এশিয়ান উন্নয়ন 
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ‘সুশাসন চারটি স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল' বিশ্বব্যাংক এই অভিমত প্রকাশ করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।

• এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনী কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২২৭.
নৈতিকতা প্রধানত কী ধরনের ব্যাপার?
  1. ব্যক্তিগত
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

⇒ পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- উভয় শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য নৈতিকতা ও সুনাগরিকতার জ্ঞানের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ সাধন।
- এ প্রসঙ্গে আইভর ব্রাউন (Ivor Brown) বলেন, “নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন।

⇒ নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২২৮.
জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো- 
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. কর্তব্যবোধ
  4. সুশাসন
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২২৯.
নিম্নের কোনটি টমাস হবস রচিত গ্রন্থ?
  1. Misbehaving
  2. Leviathan
  3. Political Man
  4. Political order and political decay
সঠিক উত্তর:
Leviathan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Leviathan
ব্যাখ্যা
টমাস হবস:
- টমাস হবস একজন ইংরেজ দার্শনিক।
- তিনি তার রাজনৈতিক দর্শনের কারণে বিশ্বব্যাপী খ্যাত।
- ১৬৫১ সালে প্রকাশিত Leviathan গ্রন্থে তিনি সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক দর্শনের গোড়াপত্তন করে।

• হবসের মতে, মানুষ জড় পদার্থের বেশি কিছু নয়। স্বার্থপরতা দ্বারা সে পরিচালিত হয়। আকাঙ্ক্ষা ও বিতৃষ্ণা মানুষের সমস্ত কর্মকাণ্ডের মূল। মানুষ মাত্রই লোভী এবং আত্মকেন্দ্রিক।
• প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে তার অভিমত, প্রকৃতির রাজ্যে সর্বক্ষণ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করত। প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের জীবন ছিল- নিঃসঙ্গ, হতভাগ্য, জঘন্য, পাশবিক ও সংক্ষিপ্ত। আদিম নৃশংসতা ছাড়া প্রকৃতির রাজ্যে কোন আইন ও ন্যায়বিচার ছিল না। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রকৃতি রাজ্যের মানুষেরা নিজেদের অধিকার পরিত্যাগ করে শাসক কর্তৃপক্ষের কাছে (রাজার কাছে) তা হস্তান্তর করে। চুক্তি হয় জনগণের মধ্যে। রাজা বা শাসক চুক্তির অংশ নয়। যে কারণে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ রাজার বিরুদ্ধে করা যাবে না।

উল্লেখ্য, তার প্রকাশিত গ্রন্থাবলী হলো:
- The Media of Europides,
- Decorpore,
- Hoprinc,
- Decive,
- The elements of Laws,
- Leviathan.

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৩,২৩০.
”মূল্যবোধ হলো আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ”- উক্তিটি কে বলেছেন?
  1. জন লক
  2. আব্রাহাম লিংকন
  3. ফ্রাঙ্কেল
  4. উইলিয়াম জেমস
সঠিক উত্তর:
ফ্রাঙ্কেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রাঙ্কেল
ব্যাখ্যা

- ফ্রাঙ্কেল এর মতে,"মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের ধারণ"।

• ভিক্টর ফ্রাঙ্কেল (Viktor Frankl)
- অস্ট্রিয়ান স্নায়ুবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী এবং হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা মনীষী।
- "যার বেঁচে থাকার জন্য একটি 'কেন' (উদ্দেশ্য) আছে, সে প্রায় যেকোনো 'কিভাবে' (পরিস্থিতি) সহ্য করতে পারে।"

অন্যদিকে,
- জন লক (John Locke)
- ব্রিটিশ দার্শনিক এবং 'উদারনীতিবাদের জনক' হিসেবে পরিচিত।
- "শিক্ষা মনের বিকাশ ঘটায়, কিন্তু চিন্তা ও গবেষণা যা শেখা হয়েছে তাকে নিজের করে নেয়।"
- "আইন যেখানে শেষ হয়, স্বৈরাচার সেখান থেকে শুরু হয়।"

• আব্রাহাম লিংকন (Abraham Lincoln)
-যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট এবং গণতন্ত্রের অন্যতম প্রবক্তা।
- "জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার এবং জনগণের জন্য সরকার—পৃথিবী থেকে কখনো মুছে যাবে না।"
- "ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তা নিজে তৈরি করা।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৩,২৩১.
মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণায় বর্ণিত অধিকারসমূহ হচ্ছে -
  1. ক) সার্বজনীন
  2. খ) বিশেষ মর্যাদা নির্ভর নয়
  3. গ) আদায়যোগ্য
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
যে অধিকার একান্তভাবেই মানুষের, প্রথমত, তাকেই মানবাধিকার বলে।
পশুপাখির প্রাণ আছে তাই তারা প্রাণী, মানুষের প্রাণ আছে, তাই মানুষও প্রাণী। প্রাণীর এই দুই শ্রেণীর মধ্যে নিশ্চয়ই তফাৎ আছে। পশুপাখি যা’ পারে না মানুষ তা' পারে। মানুষের এই বিশেষ ক্ষমতাই তার বিশেষ অধিকার । মানুষ চিন্তা করতে পারে, উদ্ভাবন করতে পারে। চিন্তা ও উদ্ভাবনের এই ক্ষমতা মানুষকে পশুপাখি থেকে পৃথক করেছে। এই শক্তি বা ক্ষমতা নিয়েই মানুষ জন্মেছে।
এ শক্তির ব্যবহারের অধিকারই মানবাধিকার। 
 
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা গৃহীত হয়। 
এতে সর্বমোট ৩০টি ধারা আছে। 
এই চুক্তি স্বাক্ষরের পরেই ১০ ডিসেম্বরকে মানবাধিকার দিবস ঘোষণা করা হয়।
চুক্তিটি প্রস্তুত করেন নোবেল বিজয়ী ওরেন ক্যাসিন।
 
- মানবাধিকার হচ্ছে সকল মানুষের অধিকার। 
- মানবাধিকারের ধারণার মধ্যে আছে সকল মানুষের সমানঅংশ। 
- বিশেষ মর্যাদার কারণে মানবাধিকারের ঘোষণা মানুষের মধ্যে পার্থক্য করে না। 
- মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণায় বর্ণিত অধিকারসমূহ হচ্ছে এমন যেগুলো আদায়যোগ্য। 
- মানবাধিকার হচ্ছে সার্বজনীন, চিরন্তন। 
 
উৎস: সিভিক এডুকেশন- ১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; জাতিসংঘ ওয়েবসাইট। 
৩,২৩২.
সুনাগরিকের অন্যতম গুণ হচ্ছে -
  1. সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড 
  2. সহনশীলতা
  3. বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি
  4. উসকানি দেওয়া
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও কিাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মত সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২৩৩.
নিম্নের কোনটি দার্শনিক গোবিন্দ চন্দ্র দেব-এর রচিত গ্রন্থ?
  1. Mortal and Others
  2. Law of the Constitution
  3. Idealism and Progress
  4. Social Contract
সঠিক উত্তর:
Idealism and Progress
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Idealism and Progress
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দ চন্দ্র দেব:
- গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।
- চিন্তাচেতনায় দেব ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য।
- তাঁর চিন্তাধারায় একদিকে যেমন স্থান পেয়েছে গভীর ও সূক্ষ্ম দার্শনিক তত্ত্বালোচনা, অন্যদিকে সমাজ, জীবন, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক ভাবনা।
- তাই তাঁর দর্শন সমন্বয়ী ভাববাদ বা সিনথেটিক আইডিয়ালিজম নামে সমধিক পরিচিত।

• গোবিন্দ চন্দ্র দেবের প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Idealism and Progress (1952)
- Idealism: A New Defence and A New Application (1958), 
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- Aspiration of the Common Man (1963),
- The Philosophy of Vivekananda and the Future of Man (1963),
- তত্ত্ববিদ্যাসার (১৯৬৬),
- Buddha: the Humanist (1969), 
- Parables of the East (1984), 
- My American Experience (1993)।

অন্যদিকে,
- Mortal and others বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত,
-"Law of the Constitution" অধ্যাপক ডাইসি রচিত।
- 'The Social Contract' ফরাসি দার্শনিক জ্যা জ্যাক রুশোর একটি বিখ্যাত বই।

৩,২৩৪.
“জনমত আইনের অন্যতম উৎস”-উক্তিটি কার?
  1. জন অস্টিন
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. এটিস্টটল
  4. ওপেন হাইম
সঠিক উত্তর:
ওপেন হাইম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওপেন হাইম
ব্যাখ্যা
•    “আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি করে → এটিস্টটল।
•    আইনের অনুশাসন কথাটি প্রথম ব্যবহার করে → অধ্যাপক ডাইসি।
•    “আইন হলো আবেগ বিবর্জিত যুক্তি”- উক্তিটি করে → এটিস্টটল।
•    “আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ” - উক্তিটি করে → জন অস্টিন।
•    “জনমত আইনের অন্যতম উৎস”-উক্তিটি করে → ওপেন হাইম।
•    “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান” - বলেছেন → অধ্যাপক ডাইসি।
•    “যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা”- উক্তিটি করে → জন লক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,২৩৫.
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস হলো-
  1. ক) মন্ত্রিসভা
  2. খ) জনগণ
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) আইনসভা
সঠিক উত্তর:
খ) জনগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জনগণ
ব্যাখ্যা
- গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার ব্যবস্থা। গণতন্ত্রে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র উৎস হলো জনগণ। জনগণের সম্মতির ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয় এবং পরিচালিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,২৩৬.
"মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক” কে বলেছেন?
  1. ইমানুয়েল কাণ্ট
  2. লর্ড এটকন
  3. টমাস হবস
  4. প্লেটো
সঠিক উত্তর:
টমাস হবস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টমাস হবস
ব্যাখ্যা
"মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক” বলেছেন টমাস হবস। 

টমাস হবস:

- টমাস হবস একজন ইংরেজ দার্শনিক।
- যিনি তার রাজনৈতিক দর্শনের কারণে বিশ্বব্যাপী খ্যাত।
- ১৬৫১ সালে প্রকাশিত লেভিয়েথন গ্রন্থে তিনি সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক দর্শনের গোড়াপত্তন করে।

⇒ হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ: লেভীয়াথান গ্রন্থে ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী টমাস হবস সামাজিক চুক্তি মতবাদের ব্যাখ্যা দেন। হবস তাঁর ব্যাখ্যায় মানব চরিত্রের হতাশাবাদী ও স্বার্থপর চিত্র অঙ্কন করেন।

• হবসের মতে, মানুষ জড় পদার্থের বেশি কিছু নয়। স্বার্থপরতা দ্বারা সে পরিচালিত হয়। আকাঙ্ক্ষা ও বিতৃষ্ণা মানুষের সমস্ত কর্মকাণ্ডের মূল। মানুষ মাত্রই লোভী এবং আত্মকেন্দ্রিক
• প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে তার অভিমত, প্রকৃতির রাজ্যে সর্বক্ষণ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করত। প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের জীবন ছিল- নিঃসঙ্গ, হতভাগ্য, জঘন্য, পাশবিক ও সংক্ষিপ্ত। আদিম নৃশংসতা ছাড়া প্রকৃতির রাজ্যে কোন আইন ও ন্যায়বিচার ছিল না। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রকৃতি রাজ্যের মানুষেরা নিজেদের অধিকার পরিত্যাগ করে শাসক কর্তৃপক্ষের কাছে (রাজার কাছে) তা হস্তান্তর করে। চুক্তি হয় জনগণের মধ্যে। রাজা বা শাসক চুক্তির অংশ নয়। যে কারণে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ রাজার বিরুদ্ধে করা যাবে না।

⇒ এভাবে হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। যেখানে রাজা বা শাসকের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। কেননা চুক্তির ফলে জনগণের কোন অধিকার থাকে না রাজাকে নিয়ন্ত্রণ বা জবাবদিহি করার। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনৈতিহাসিক, অযৌক্তিক এবং সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের নীল নকশা।

উল্লেখ্য,
তার প্রকাশিত গ্রন্থাবলী হলো:
- The Media of Europides,
- Decorpore,
- Hoprinc,
- Decive,
- The elements of Laws,
- Leviathan.

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৩,২৩৭.
'জেরেমি বেন্থাম' নিম্নের কোন মতবাদের প্রবক্তা?
  1. সাম্যবাদ নীতি
  2. উপযোগবাদ
  3. সামাজিক চুক্তি
  4. ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ
সঠিক উত্তর:
উপযোগবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা
জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন।
- বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'।
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন।
- যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

⇒ জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির (১৭৮৯) প্রবক্তা।
- এই নীতির অর্থ হলো কোন কিছু বা কোন কাজকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ফলাফল দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে।

⇒ তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Principles of Morals and Legislation.

অন্যদিকে,
- ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা জন মিল।
- সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা রুশো।
- সাম্যবাদ নীতি তত্ত্বের প্রবক্তা কার্ল মার্কস।

উৎস: i) Britannica.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৩৮.
উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি দলের ন্যায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে কে?
  1. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. বিরোধী দল
  4. সুশীল সমাজ 
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,২৩৯.
জিরোসাম গেম আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কোন তত্ত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট?
  1. উদারতাবাদ
  2. বাস্তববাদ
  3. মার্ক্সবাদ
  4. গঠনবাদ
সঠিক উত্তর:
বাস্তববাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তববাদ
ব্যাখ্যা
জিরোসাম গেম:
- জিরো সাম গেম (Zero Sum Game) হচ্ছে বিখ্যাত ‘গেম থিওরি’র একটা অংশ।
- এটা দিয়ে বোঝায় যেকোনো ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক পক্ষ কোনো নির্দিষ্ট জিনিস পেতে চাইলে, এক পক্ষ যে পরিমাণ সম্পদ অর্জন করবে, অন্য পক্ষ ঠিক সে পরিমাণ সম্পদ হারাবে।
- এতে নিট ফলাফল শূন্য হবে।

⇒ জিরো সাম গেমের বৈশিষ্ট্য:
১। এ ক্ষেত্রে চাহিদার তুলনায় যোগান সব সময়ই কম থাকবে।
২। সম্পদের পরিমাণ একই থাকবে। কোনো কিছুর সংযোজন বা বিয়োজন ঘটবে না।
৩। সব পক্ষের জন্যই সম্পদের নেট পরিবর্তন হবে শূন্য।

উল্লেখ্য, 
⇒ বাস্তববাদ (Realism):
- বাস্তববাদ অনুযায়ী মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল।
- মানুষ যেহেতু বিশৃঙ্খল, তাই মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যেকোন কিছুই বিশৃঙ্খল অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রও বিশৃঙ্খল।
- রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় কোন না কোন ভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে।
- বাস্তববাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা, অর্থ্যাৎ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস্তববাদের ব্যাপক চর্চা হচ্ছে।
- বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসন বাস্তববাদ কেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
- -অর্থাৎ, বাস্তববাদ (Realism) আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে এক পক্ষ জিতবে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হারবে।

অন্যদিকে,
⇒ উদারতাবাদ (Liberalism):
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।
- উদারতাবাদ মানুষের রাজনৈতিক জীবনেই সীমিত নয় বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত।

উৎস: Investopedia.
৩,২৪০.
রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ কোনটি?
  1. ক) অংশগ্রহণ
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
  4. ঘ) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
খ) আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ হচ্ছে আইনের শাসন।

• আইনের শাসন:
- সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন।
- এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ।
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন।
- আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়।
- রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৪১.
'টেকসই উন্নয়ন' জাতিসংঘ অভীষ্টের কত নং লক্ষ্যমাত্রায় সুশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে?
  1. ক) ১৩ নং লক্ষ্যমাত্রা
  2. খ) ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রা
  3. গ) ১৪ নং লক্ষ্যমাত্রা
  4. ঘ) ১০ নং লক্ষ্যমাত্রা
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রা
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘ ২০১৫ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সমাপ্তিতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (২০১৬-২০৩০) গ্রহণ করে।
- টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রায় সুশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
- এই লক্ষ্যমাত্রায় টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার প্রচলন, সকলের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করা এবং সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিতাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণের লক্ষ্যস্থির করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
• ১০ নং লক্ষ্যমাত্রা- বৈষম্য হ্রাস করা
•  ১৩ নং লক্ষ্যমাত্রা- ক্লাইমেট অ্যাকশন
•  ১৪ নং লক্ষ্যমাত্রা- স্থলজ বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ।

(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৩,২৪২.
‘Human Society in Ethics and Politics’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. প্লেটো
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. রুশো
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- নোবেল বিজয়ী বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ১৯৩১ সালে পারিবারিকভাবে আর্ল উপাধি; ১৯৪৯ সালে অর্ডার অব মেরিট এবং ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।

উল্লেখ্য,
- Human Society in Ethics and Politics গ্রন্থটির রচয়িতা ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।

⇒ বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics” (1910),
- Roads to Freedom (1918),
- Human Society in Ethics and Politics,
- Mortal and others,
- Principles of Social Reconstruction (1916),
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- The Analysis of mind,
- The Prospects of Industrial Civilization (1923),
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৩,২৪৩.
সুশাসনের সবচেয়ে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন-
  1. ক) ক্যামডেসাস
  2. খ) বিশ্বব্যাংক
  3. গ) কফি আনান
  4. ঘ) ম্যাককরনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাককরনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাককরনি
ব্যাখ্যা

- ম্যাককরনি সুশাসনের সবচেয়ে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, 'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'

বিশ্বব্যাংকের মতে, ''সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।''

- মিশেল ক্যামডেসাস বলেছেন, 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'

- কফি আনান বলেছেন, 'সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।'

৩,২৪৪.
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ কী লালন করে?
  1. গোষ্ঠীগত আধিপত্য
  2. রাষ্ট্রীয় নীতি
  3. সমাজের নিয়ন্ত্রণ
  4. ব্যক্তি স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৪৫.
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থাকে কয়টি বিভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
সরকার কাঠামো:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারের ৩টি বিভাগ রয়েছে। যথা:
১. আইন বিভাগ,
২. বিচার বিভাগ,
৩. শাসন বিভাগ।
- একটি বিভাগ কখনও অন্য বিভাগের কার্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে না ।

শাসন বিভাগ:
- শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
- রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে; কিন্তু সকল ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদেরও প্রধান।
- মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করেন।

আইন বিভাগ:
- বাংলাদেশ সরকারের আইন বিভাগ আইন প্ৰণয়ন, পরিবর্তন ও সংশোধন করার অধিকার রাখে, যা সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।
- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় সংসদীয় পদ্ধতি গৃহীত হওয়ার দরুণ আইনসভাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের হাতেই নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।

বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের সরকার কাঠামোতে বিচার বিভাগ সরকারের সকল প্রকার বিচারিক কার্য সম্পাদন করে থাকে।
- বিচারিক কার্যের অংশ হিসেবে এই বিভাগটি মূলত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করে থাকে ও জনগণের অধিকার রক্ষা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৪৬.
‘The Value Base of Social Work’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. Robert L Barker
  2. Charles S Levy
  3. W A Friedlander
  4. Wilbert E Moore
সঠিক উত্তর:
Charles S Levy
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Charles S Levy
ব্যাখ্যা
সমাজকর্ম মূল্যবোধ:
- সমাজকর্ম অনুশীলনে পেশাগত মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সমাজকর্ম অনুশীলনে সমাজকর্মীর জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থান-কাল-পাত্র নিরপেক্ষ কিছু মূল্যবোধ গড়ে উঠেছে, যা পেশাগত আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সাধারণত যেসব আদর্শ, বিশ্বাস, ধারণা, মৌলিক নীতিমালা ও স্বীকার্য সত্যের উপর পেশাদার সমাজকর্মের সামগ্রিক সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয় সেগুলোর সমষ্টিই হলো সমাজকর্ম মূল্যবোধ।

⇒ সমাজকর্ম মূল্যবোধ সম্পর্কে জুডিথ সেভেন ও অন্যান্যরা তাঁদের "Social Work Skill: Demonstrated Begining Direct Practice" গ্রন্থে বলেন, "সমাজকর্ম একটি অনুশীলনধর্মী পেশা, যা কিছু মৌলিক মূল্যবোধ যেমন- আত্মনিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতায়ন, গোপণীয়তা এবং সকল মানুষের মূল্য ও মর্যাদার বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত।"

⇒ সমাজবিজ্ঞানী চালর্স এস লেভী (Charles S. Levy) তাঁর "The Value Base of Social Work" গ্রন্থে বলেন, "জনগণের পছন্দ, ফলাফল, তাদের অধিকতর পছন্দের ধারণা ও জনগণের সাথে কাজ করার রীতিগত সমষ্টি হলো সমাজকর্ম মূল্যবোধ।"

⇒ সমাজকর্ম একটি মানবকল্যাণমুখী পেশাগত কর্মকাণ্ড।
- সমাজকর্ম অনুশীলন ও সমাজকর্মীর কাজের পরিধি নিয়ন্ত্রণ, নির্দেশনা প্রদান ও পেশাগত কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সমাজকর্ম মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ।
- যেমন- ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি, ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্ত্রণ অধিকার, সকলের সমান সুযোগ দান, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ইত্যাদি।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৪৭.
নিচের কোনগুলো মূল্যবোধের উপাদান?
  1. নীতি, সম্পদ ও শিক্ষা
  2. শিক্ষা, নৈতিকতা ও সম্পদ
  3. নৈতিকতা, মর্যাদা ও শিক্ষা
  4. নীতি, মান ও বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
নীতি, মান ও বিশ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি, মান ও বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উৎস:
- মূল্যবোধের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ জেনেটিক্যালি নিধার্রিত হয়। আপনার মূল্যবোধ কী হবে তার ব্যাখ্যা প্রদানে
আপনার পিতা-মাতার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তথাপি মূল্যবোধের বৈচিত্রতার ক্ষেত্রে পরিবেশগত উপাদান ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
- মূল্যবোধকে একটি প্রত্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রত্যয়ের উপাদান হচ্ছে: নীতি, মান ও বিশ্বাস।

- সামাজিক বিভিন্ন আচরণের উপর ভিত্তি করে নানা স্তরের মূল্যবোধ তৈরি হয়। সমাজতত্ত্ব ও শিক্ষাতত্ত্বের মধ্য দিয়েও ব্যক্তির মূল্যবোধ প্রভাবিত হয়ে থাকে। পরিবারের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সমাজ অনুমোদিত মূল্যবোধ আহরণ ও আয়ত্ত করতে সহায়তা করে।

- পরিশেষে আমরা বলতে পারি, মূল্যবোধ গড়ে ওঠার পেছনে যেসব সহায়ক কাজ করে তা হলো- পরিবার, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনকানুন, সংবিধান, সংস্কৃতি, নীতিবোধের চচার্, সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সভাসমিতি, সামাজিক ন্যায়-বিচার, আইনের শাসন, সামাজিক অনুষ্ঠান, নাগরিক চেতনা, সামাজিক শিক্ষা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,২৪৮.
নিচের কোনটি অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়?
  1. অসততা
  2. অসংযম
  3. শৃঙ্খলা
  4. অবাধ্যতা
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
• শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
• এছাড়াও মূল্যবোধের কিছু উপাদান -
- সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।
- সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার - সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
- মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো
প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।
- শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।

উৎস:  পৌরনীতি ও নাগরিকতা এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৪৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কোনটি?
  1. শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. বিচারকদের তদারকি করা
  3. জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
  4. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
→ সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
→ মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
→ দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
→ জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
→ দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
→ দক্ষ জনশক্তি।
→ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
→ দারিদ্র্য দূরীকরণ।
→ ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), HSC Programme, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,২৫০.
সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স এর সুবিধা কোনটি?
  1. ক) স্বচ্ছতা আনয়ন
  2. খ) দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থা
  3. গ) তথ্যের সহজলভ্যতা
  4. ঘ) উপরের সব কয়টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সব কয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সব কয়টি
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও ই-গভার্নেসের অন্যান্য সুবিধা হলোঃ জনগণের ব্যপক অংশগ্রহণ, প্রকৃত গনতন্ত্রের দিকে অগ্রসর, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২৫১.
৭ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা-
  1. ১৯২টি
  2. ১০৯টি
  3. ১৯০টি
  4. ১৯১টি
সঠিক উত্তর:
১৯১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১টি
ব্যাখ্যা

◉ ৭ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত  United Nations Convention Against Corruption স্বাক্ষরকারী দেশ ১৯১টি।

• জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কনভেনশনে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় সকল দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে মাত্র ২টি দেশ যোগ দেয়নি।

মেরিডা কনভেনশন:

- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- UNCAC-এর লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, ইউকাটান, মেক্সিকো।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯১টি দেশ। 
- বাংলাদেশের স্বাক্ষর: ২০০৭ সালে, এবং পরবর্তীতে অনুমোদনও দিয়েছে।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

৩,২৫২.
UNHRC সুশাসনের কোন উপাদানটি উল্লেখ করেনি?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) ন্যায্যতা
  3. গ) সংবেদনশীলতা
  4. ঘ) দায়বদ্ধতা
সঠিক উত্তর:
খ) ন্যায্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ন্যায্যতা
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন (UNHRC) সুশাসনের উপাদানের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
এগুলো হলোঃ
- স্বচ্ছতা
- দায়বদ্ধতা
- জবাবদিহিতা
- অংশগ্রহণ এবং
- সংবেদনশীলতা।

(তথ্যসূত্রঃ UNHRC ওয়েবসাইট)
৩,২৫৩.
‘গোল্ডেন মিন’ হলো-
  1. একটি দার্শনিক ধারণা
  2. গাণিতিক পরিভাষা
  3. ত্রিভূজের মধ্যমা
  4. একটি তারকা
সঠিক উত্তর:
একটি দার্শনিক ধারণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি দার্শনিক ধারণা
ব্যাখ্যা
‘গোল্ডেন মিন’ (Golden Mean) বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ যা গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল ব্যাখ্যা করেন।
‘গোল্ডেন মিন’ বলতে দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে নির্দেশ করে।
(সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৩,২৫৪.
'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি'র প্রবক্তা কে?
  1. জন লক
  2. চার্লস মন্টেস্কু
  3. আনেস্ট বার্কার
  4. লাস্কি
সঠিক উত্তর:
চার্লস মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা।
- প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত।
- এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
- কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না।
- প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
- চার্লস মন্টেস্কু ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা।
- তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৫৫.
'Prolegomena to ethics' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. টি. এইচ. গ্রীন
  3. ডেভিড হিউম
  4. থমাস হবস
সঠিক উত্তর:
টি. এইচ. গ্রীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টি. এইচ. গ্রীন
ব্যাখ্যা
টমাস হিল গ্রীন বা টি. এইচ. গ্রীন:

-টমাস হিল গ্রীন বা টি. এইচ. গ্রীন (ইংরেজি: Thomas Hill Green; ৭ এপ্রিল ১৮৩৬ ১৫ মার্চ ১৮৮২ খ্রি.) ছিলেন ঊনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, রাজনৈতিক আমূল বিপ্লবী ও মদ্যপানবর্জন সংস্কারক এবং ব্রিটিশ ভাববাদী আন্দোলনের সদস্য।
- টি. এইচ. গ্রীন ও তাঁর সমকালের এবং একই চিন্তার অধিকারী দার্শনিক ব্রাডলে এবং বোসাঙ্কোয়েটকে সাধারণত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নব্য ভাববাদী বলে আখ্যায়িত করা হয়।
- উনিশ শতকের শেষের দিকে টি. এইচ. গ্রীনের নীতিবিদ্যায় এর প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যায়।
- টমাস হিল গ্রীন ফ্রিডরিখ হেগেলের অধিবিদ্যামূলক ইতিহাসবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- টমাস হিল গ্রীনের রচনাবলীর মধ্যে নীতিশাস্ত্রের উপর 'প্রলেগোমেনা টু এথিক্স' এবং রাজনীতির উপর 'প্রিন্সিপলস অব পলিটিক্যাল অবলিগেশন' বিশেষভাবে পরিচিত।
- টি. এইচ. গ্রীন তাঁর Prolegomena to Ethics গ্রন্থে তাঁর পূর্ণতাবাদী তত্ত্ব ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, 
-'Political Ideals' এবং Human Society in Ethics and Politics- গ্রন্থের লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল।
- A Treatise of Human Nature; এবং Human Understanding; গ্রন্থের লেখক ডেভিড হিউম।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় &  ব্রিটানিকা। [লিঙ্ক]
৩,২৫৬.
ই-গভর্নেন্সের ফলে -
  1. সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়
  2. সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়
  3. সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স-এর সুবিধা: 
স্বচ্ছতা আনয়ন:
- ই-গভর্নেলে স্বচ্ছতার বিষয়টিকে বড় করে দেখা হয়।
- সরকারের প্রশাসনিক সংগঠনগুলোতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা প্রয়োজন।
- সরকার কী কী কাজ করছে, কেন করছে, কী কী মূলনীতির ওপর সরকার সিদ্ধান্ত বা নীতি প্রণয়ন করছে তা ই-গভনেন্স জনগণকে জানতে সাহায্য করে।
- এভাবে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। 

দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থা:
- ই-গভর্নেন্স-এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় জনগণের নিকট সেবা পৌছানো।
- এর মাধ্যমে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। 

সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা:
- ই-গভর্নেন্স এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্বচ্ছতা।
- সরকারের সব কার্যক্রম বা সকল পদক্ষেপ জনগণ জানতে ও বুঝতে পারে।
- এরূপ স্বচ্ছতাই জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি করে।
- এভাবে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২৫৭.
কোন ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়?
  1. রাজনৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. প্রশাসনিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
- কারণ সুশাসন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি করে, যা ব্যবসা ও শিল্পের প্রসারে সহায়তা করে।

যেভাবে সুশাসন অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক:
- সুশাসন থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকে, যা বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
- বিনিয়োগকারীরা যখন দেখেন যে প্রশাসন স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত, তখন তারা বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হন।
- দক্ষ প্রশাসন ও কার্যকর নীতির কারণে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২৫৮.
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফলপ্রসূতার জন্য অগ্রাধিকার পাবে _____।
  1. আইনসমূহ
  2. টাকা
  3. গুণগত শিক্ষা 
  4. অবকাঠামোগত সুবিধাসমূহ
সঠিক উত্তর:
গুণগত শিক্ষা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণগত শিক্ষা 
ব্যাখ্যা

● গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফলপ্রসূতার জন্য অগ্রাধিকার পাবে গুণগত শিক্ষা।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা:
- গণতন্ত্রের অর্থ হল জনগণের শাসন। 
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে। 
- গণতন্ত্র হল জনগণের সম্মতির শাসন, আর এটি একটি নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা। সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শাসনকার্য পরিচালনার কতগুলো নিয়ম বা পদ্ধতি থাকে। একইসঙ্গে পদ্ধতি থাকে শাসকদের দায়বদ্ধ করার। বস্তুত গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হলে নিয়মতান্ত্রিকতা অপরিহার্য।

⇒ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সফলতা ও ফলপ্রসূতা মূলত নির্ভর করে শিক্ষিত, সচেতন, দায়িত্বশীল ও সমালোচনামূলক চিন্তাশীল নাগরিকের উপর।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর হতে হলে নাগরিকদের সচেতনতা, সমালোচনামূলক চিন্তা ও দায়িত্ববোধ জরুরি।
- শুধু প্রতিষ্ঠান বা আইন থাকলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না, মানুষ যদি অধিকার, কর্তব্য ও নৈতিকতা সম্পর্কে সচেতন না হয় তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অর্থহীন হয়ে পড়ে।
- এই ভিত্তি গড়ে ওঠে গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, গুণগত শিক্ষা:
- গুণগত শিক্ষা বা মানসম্মত শিক্ষা বর্তমানে শিক্ষা বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
- ইউনেস্কো গুণগত শিক্ষাকে টেকসই উন্নয়নে শিক্ষার পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য করেছে। 
- গুণগত শিক্ষার বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে: বৈষম্যহীন সমন্বিত শিক্ষা; আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাক্রম; মানসম্মত ও পেশার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ শিক্ষক সমাজ; সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন; অভ্যন্তরীণ দক্ষতা; বাহ্যিক দক্ষতা।
- তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফলপ্রসূতার জন্য অগ্রাধিকার পাবে গুণগত শিক্ষা।

অন্যদিকে,
- আইন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শিক্ষিত নাগরিক ছাড়া আইন কার্যকর হয় না।
- অর্থনৈতিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও টাকা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বা নৈতিকতা তৈরি করতে পারে না; বরং কখনো কখনো গণতন্ত্রকে বিকৃতও করে।
- অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দরকার, কিন্তু গণতন্ত্রের ফলপ্রসূতার মূল চালিকাশক্তি নয়।

উৎস: i) সুশাসনের জন্য নাগরিক ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশে শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৫৯.
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কিসের অন্তরায়?
  1. সামাজিক অবক্ষয়
  2. সুশাসন
  3. উন্নয়ন
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
গণমাধ্যম:
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ধরা হয়।
- নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় ধরা হয়।
- গণমাধ্যম জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসন সুসংহত করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২৬০.
সুশাসন দ্বারা শাসনের -
  1. বিপরীত দিক বুঝায়
  2. পরিমান বুঝায়
  3. গুণগত দিক বুঝায়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গুণগত দিক বুঝায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণগত দিক বুঝায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুশাসন দ্বারা শাসনের গুণগত দিক বুঝায়।

সুশাসন:
- সুশাসন হল রাষ্ট্র, সমাজ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
- সুশাসন সকলের স্বার্থই রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকে।
- সুশাসনের নির্দিষ্ট কিছু উপাদান রয়েছে।
- সুশাসন চিহ্নিতকরণে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের উপর জোর দেয়া হয়।
- সুতরাং সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৬১.
জনপ্রশাসনের উৎকর্ষতা বলতে কী বোঝায়?
  1. আইন প্রণয়নের স্বাধীনতা
  2. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ
  3. কেবল আমলাতান্ত্রিক নিয়ম অনুসরণ
  4. প্রশাসনে দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহার ও কার্যকর কৌশল
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনে দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহার ও কার্যকর কৌশল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনে দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহার ও কার্যকর কৌশল
ব্যাখ্যা

জনপ্রশাসনের উৎকর্ষতা ও বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন আনয়নের জন্য জনপ্রশাসনের উৎকর্ষ সাধন করতে হবে।
- এই উৎকর্ষ সাধন করার জন্য জনপ্রশাসনকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও গতানুগতিক ধারা থেকে বের হতে হবে।
- জনপ্রশাসনের উৎকর্ষতা সাধন বলতে বোঝায় জনপ্রশাসনে দক্ষতা আনয়ন, প্রযুক্তি ব্যবহারকরণ ও কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা।
- সুশাসনের আরেকটি উপাদান হচ্ছে বিকেন্দ্রীকরণ।
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমেই সকল বিভাগ সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
- এটি প্রশাসনের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা কমিয়ে দেয় এবং প্রশাসনকে জনগণের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দেয়।
- তাই একটি রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতিটি বিভাগে বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য।

⇒ পরিশেষে বলা যায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সকলের কাম্য, কিন্তু এটি প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা একান্ত জরুরি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৬২.
উৎপত্তি অর্থে governance শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. kubernan, গ্রীক
  2. kubernan, ল্যাটিন
  3. gestione, গ্রীক
  4. gestione, ল্যাটিন
সঠিক উত্তর:
kubernan, গ্রীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
kubernan, গ্রীক
ব্যাখ্যা
Governance:
- Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এর অর্থ শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।
- মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।
- উল্লেখ্য, উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল। ল্যাটিন ভাষায় গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে।

⇒সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

উৎস: i) ICSI.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২৬৩.
‘যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন‘ কোন সাম্যের মূল কথা?
  1. রাজনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. আইনগত
  4. অর্থনৈতিক
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৬৪.
নিচের কোনটি সামাজিক সাম্য?
  1. ক) চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার
  2. খ) ভোটাধিকার
  3. গ) সম্পত্তির অধিকার
  4. ঘ) পছন্দমত পেশা নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
গ) সম্পত্তির অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্পত্তির অধিকার
ব্যাখ্যা
সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যথাঃ

ক. সামাজিক সাম্য
সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে। বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

খ. রাজনৈতিক সাম্য
প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য। সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে। রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে ।

গ. অর্থনৈতিক সাম্য
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়। পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক। অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে ।

ঘ. আইনগত সাম্য
ইতোপূর্বে আলোচিত সাম্যের কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত। যেমন, চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার। বাংলাদেশের মত দেশে আইনগত সাম্য সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। সংবিধান ছাড়াও দেশের বিদ্যমান অন্যান্য আইন দ্বারাও সাম্য স্বীকৃত হতে পারে। আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,২৬৫.
জাতিসংঘের মতে সুশাসনের উদ্দেশ্য কী?
  1. আঞ্চলিক সম্প্রসারণ
  2. প্রযুক্তিগত অগ্রগতি
  3. অর্থনৈতিক সমতা
  4. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

⇒ কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩,২৬৬.
কোন সংস্থাটি ‘সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়াকে গভর্ন্যান্স’ হিসেবে অভিহিত করেছে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
  3. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
  4. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
সঠিক উত্তর:
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে ‘গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন’।
সংস্থাটির মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি। এগুলো হলো:
জবাবদিহিতা
স্বচ্ছতা
অংশগ্রহণ
ভবিষ্যৎবাণী।
(সূত্র: এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ওয়েবসাইট)
৩,২৬৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিচের কোনটি প্রতিবন্ধক?
  1. ক) পেশাদারিত্ব
  2. খ) দারিদ্র
  3. গ) উন্নত কৌশল
  4. ঘ) সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
খ) দারিদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দারিদ্র
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা হল ব্যক্তিপূজা, স্বজনপ্রীতি, দারিদ্র।
সুশাসনের একটি উপাদান হলাে পেশাদারিত্ব। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পেশাদারী দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মােঃ মােজাম্মেল হক।
৩,২৬৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে ‘শোষণমুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিতকরণ’-এর কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১০
  2. অনুচ্ছেদ ১১
  3. অনুচ্ছেদ ১২
  4. অনুচ্ছেদ ১৩
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১০
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১০ অনুচ্ছেদে ‘মানুষের ওপর মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিতকরণ’-এর কথা বর্ণিত রয়েছে।

ধারার মূল বক্তব্য:
মানুষকে মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত করে ন্যায়নিষ্ঠ ও সমতা ভিত্তিক সমাজ গঠন নিশ্চিত করার জন্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এই ধারার লক্ষ্য হলো:
- প্রতিটি মানুষ যাতে অন্য কোনো মানুষের শোষণের শিকার না হয়
- সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা।
- ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমানো।
- সমাজে ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করা।
- সবাইকে তার অধিকার ও সুযোগের সমান ভাগ নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৩,২৬৯.
নীতিবিদ্যার কোন ধারা অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত?
  1. বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা
  2. পরানীতিবিদ্যা
  3. ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা
  4. মানমূলক নীতিবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার মূল ধারা:
- নীতিবিদ্যার চারটি ও ধারা বা ধরনের কথা চিন্তা করা যায়।
- এগুলো হচ্ছে বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, মানমূলক নীতিবিদ্যা, বিশ্লেষণী বা পরানীতিবিদ্যা ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা।

১. বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা:
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা। বিবর্তনবাদ নিম্ন শ্রেণীর প্রাণী থেকে উচ্চ শ্রেণীর প্রাণীর বিকাশের কথা বলে। এই নীতি বিভেদ শেষপর্যন্ত ভালমন্দের বিভেদে পরিণত হয়। আচরণের ক্ষেত্রে এই এ ভাল মন্দ ধারণা এ সম্প্রসারিত হলে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটে।

২. মানমূলক নীতিবিদ্যা:
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।

৩. বিশ্লেষণী নীতিবিদ্যা বা পরানীতিবিদ্যা:
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা। নীতিবিদ্যার যে শাখায় নৈতিক মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলির অর্থ নিরূপণ করাহয়, তাকে পরানীতিবিদ্যাবলে। পরানীতিবিদ্যাকে দ্বিতীয় স্তরের অনুসন্ধান বলে অভিহিত করা হয়।

৪.ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা:
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা। নীতিবিদ্যার যে শাখায় নীতিতাত্ত্বিকেরা আমাদের জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলির আলোচনা করেন, তাকে ব্যাবহারিক নীতিবিদ্যা বলে। পরিবেশ রক্ষা, প্রাণীহত্যা, আত্মহত্যা, কৃপাহত্যা প্রভৃতি বিষয়গুলি ব্যাবহারিক নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭০.
‘স্বাধীনতা বলতে যদি আত্মবিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা বুঝায় তা হলে তা নিশ্চিত ভাবেই আইনের দ্বারা সৃষ্টি হয়’ - উক্তিটি কার?
  1. ক) ম্যাকাইভার
  2. খ) হল্যান্ড
  3. গ) লক
  4. ঘ) রিচি
সঠিক উত্তর:
ঘ) রিচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রিচি
ব্যাখ্যা
[সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
৩,২৭১.
গণতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস-
  1. ক) প্রধানমন্ত্রী
  2. খ) রাষ্ট্রপতি
  3. গ) আমলাগণ
  4. ঘ) জনগণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনগণ
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।
- গণতন্ত্র দুই প্রকার। যথাঃ একটি প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র এবং অপরটি পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- প্রাচীন আমলে গ্রিসে এবং বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে।

৩,২৭২.
নিচের কোনটি সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে বিপর্যয় নিয়ে আসে?
  1. ভিনদেশী সংস্কৃতি
  2. মাদকাসক্তি
  3. রাজনীতি
  4. বিশ্বায়ন
সঠিক উত্তর:
মাদকাসক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাদকাসক্তি
ব্যাখ্যা
- মাদকাসক্ততার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। মাদকাসক্তরা অর্থের জন্যে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
- হতাশা, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি, মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব প্রভৃতি কারণে যুব সমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।
- যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী হলো মাদকাসক্তি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৩,২৭৩.
রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিপূর্ণ বিকাশের জন্যে নিচের কোনটি অত্যাবশ্যক?
  1. ক) সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা
  2. খ) সামাজিকক স্বাধীনতা
  3. গ) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. ঘ) আইনগত স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
গ) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক, সামাজিক, আইনগত, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পরিপূর্ণ বিকাশের জন্যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আবশ্যক।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মানে হলো যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,২৭৪.
কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
  2. বৈধতা
  3. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  4. জনবান্ধব প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
নীতি ও ঔচিত্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি ও ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
নীতি ও ঔচিত্যবোধ সুশাসনের উপাদান নয়।

সুশাসনের উপাদান:

- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো মূল্যবোধ।

সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- স্বচ্ছতা,
- বৈধতা,
- দায়িত্বশীলতা,
- জবাবদিহিতা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা,
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা,
- সুশীল সমাজ
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,
- লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি,
- প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,২৭৫.
আমলাতন্ত্রকে কী বলা হয়?
  1. Current Government
  2. Desk Government
  3. Permanent Government
  4. Table Government
সঠিক উত্তর:
Desk Government
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Desk Government
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন। আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।

আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy যা ফরাসি শব্দ Bureau (Desk বা টেবিল) এবং গ্রিকশব্দ Kratein (শাসন) থেকে উদ্ভূত। তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.

জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভার কে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়। আমলাতন্ত্রে কাজের দীর্ঘসূত্রিতার জন্যে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দেখা দেয়।

(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,২৭৬.
অ্যারিস্টটল তার কোন গ্রন্থে সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন?
  1. ক) কর্পাস অ্যারিস্টটেলিকাম
  2. খ) মেটাএথিক্‌স্
  3. গ) নিকোমেকীয়ান এথিক্‌স্
  4. ঘ) ইউডেমিয়ান এথিক্‌স্
সঠিক উত্তর:
গ) নিকোমেকীয়ান এথিক্‌স্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিকোমেকীয়ান এথিক্‌স্
ব্যাখ্যা
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্‌গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে : প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়। 
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন। 
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্‌গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে। 
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক ‘নিকোমেকীয়ান এথিক্‌স্' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্‌গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে। আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,২৭৭.
উপযোগবাদ তত্ত্বটির প্রস্তাবক হলেন -
  1. ক) জেরিমি বেনথাম
  2. খ) জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. গ) ইমানুয়েল কান্ট
  4. ঘ) ডেভিড হিউম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডেভিড হিউম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডেভিড হিউম
ব্যাখ্যা
উপযোগবাদ (Utilitarianism)
▪ উপযোগবাদ তত্ত্বটির প্রস্তাবক হলেন ডেভিড হিউম (David Hume)।
▪ কিন্তু এটি সংজ্ঞার আকারে প্রকাশ করেন জেরিমি বেনথাম ও জন স্টুয়ার্ট মিল।
▪ বেনথাম যুক্তি দেন যে, “উপযোগনীতি” মূলত একটি নৈতিক নীতি।
 ▪ এ নীতির মূলকথা হলো - যখন অনেকগুলো বিকল্প কার্য বা সামাজিক পলিসি থাকে, তখন এমনটি বেছে নিতে হবে যা সর্বদা সর্বাধিক সাধারণের উপকারে আসে।
▪ বেনথামের একজন শিষ্য ছিলেন যার নাম জেমস্ মিল যার পুত্র জন স্টুয়ার্ট মিল পরিবর্তিত “উপযোগনীতি” তত্ত্বের অগ্রদূত হয়ে আবির্ভূত হন। তাঁর উপযোগবাদ তত্ত্বটি এরূপ: “কী করতে হবে তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদের প্রশ্ন করা উচিত যে কী ধরনের আচরণ ক্ষতিগ্রস্ত সকল লোকদের সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিতে পারে। এদিক থেকে বিবেচনা করলে নৈতিকতা হলো -  কোনটি সবচেয়ে ভালো পরিচালনা ও কার্যক্রম, যা সবচেয়ে বেশিসংখ্যক জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।”

তথ্যসূত্র: এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭৮.
অধিকার ভোগের জন্যে প্রয়োজন-
  1. নিয়মিত কর প্রদান
  2. নৈতিক শিক্ষা
  3. কর্তব্য পালন
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য পালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য পালন
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
- নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যে অধিকার অপরিহার্য।
- অধিকার ব্যতীত মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলদ্ধি করতে পারে না। অধিকারের মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন।

- তবে অধিকার ভোগের জন্যে নাগরিকদেরকে রাষ্ট্রের প্রতি কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয় যা কর্তব্য নামে পরিচিত। কর্তব্য পালন ব্যতীত অধিকার ভোগ প্রত্যাশিত নয়। অধিকার ভোগের জন্যে কর্তব্য পালন অত্যাবশ্যক। অধিকার কর্তব্যের মধ্যেই নিহিত।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,২৭৯.
অধ্যাপক ড. মহব্বত খানের মতে সুশাসন কোন কোন সম্পদের কার্যকরী ব্যবস্থা?
  1. ক) সামাজিক এবং রাজনৈতিক
  2. খ) সামাজিক এবং অর্থনৈতিক
  3. গ) সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়
  4. ঘ) ব্যক্তি মালিকানা এবং রাষ্ট্রীয়
সঠিক উত্তর:
খ) সামাজিক এবং অর্থনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সামাজিক এবং অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক ড. মহব্বত খানের মতে-‘সুশাসন হলো,একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের কার্যকরী ব্যবস্থা। তবে ব্যবস্থাটি হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায্য সমতাপূর্ণ’।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২৮০.
E-Governance- এর মূল কাজ কী?
  1. ক) নাগরিক সেবা বৃদ্ধি
  2. খ) শিক্ষার উন্নয়ন
  3. গ) স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন
  4. ঘ) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
ক) নাগরিক সেবা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাগরিক সেবা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• ই-গভর্নেন্স:
- শাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Governance.
- সুশাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ - Good Governance.
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরুপ - ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স।
- E-Governance এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে - সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- E-Governance এর মূল উপাদান - কম্পিউটার।
- E-Governance এর মূল বাহন - ইন্টারনেট।
- E-Governance বাস্তবায়নে প্রধান মাধ্যম - তথ্য প্রযুক্তি।
- E-Governance-এর স্তম্ভ - ৪ টি।
- E-Governance-মূল কাজ - নাগরিক সেবা বৃদ্ধি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩,২৮১.
জন উইলিয়ামসন কত সালে 'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' শব্দটি তৈরি করেন?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
ওয়াশিংটন কনসেনসাস (Washington Consensus): 
- ১৯৮০-এর দশকে ল্যাটিন আমেরিকাসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক নীতির কাঠামো ঢেলে সাজাতে এই ধারনার সূচনা হয়।
ওয়াশিংটন কনসেনসাস একগুচ্ছ অর্থনৈতিক নীতির সুপারিশ, যা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষত: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF), বিশ্ব ব্যাংক (World Bank) ও মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় (U.S. Treasury Department) এর মধ্যকার সম্মতির প্রতিফলন ছিল।
- মূল আদর্শ: মুক্ত বাজার অর্থনীতি, বেসরকারিকরণ, সরকারের হস্তক্ষেপ হ্রাস, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে উন্মুক্ততা। 
- জন উইলিয়ামসন ১৯৮৯ সালে 'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' শব্দটি তৈরি করেন। 
- তিনি মূলত এটি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে ল্যাটিন আমেরিকার জন্য কিছু যৌক্তিক সংস্কার দরকার।
- কিন্তু পরে এটি একঘেয়ে নিওলিবারেল দৃষ্টিভঙ্গির সমার্থক হিসেবে সমালোচিত হয়।

উৎস: Britannica.
৩,২৮২.
নিচের কোন বিষয়টি নিয়ে সুশাসন আলোচনা করে?
  1. অর্থব্যবস্থা
  2. ধর্মীয় অনুশাসন
  3. বাস্তুবাদিতা
  4. ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স:
- পৌরনীতি ও সুশাসন বর্তমান সময়ে সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স নিয়ে আলোচনা করে
- সরকার কিভাবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে পারে সে বিষয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৮৩.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করা হয় কত সালে?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৫ সালে
  4. ২০১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

♦ জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়।
- ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা ।
- অভিলক্ষ্য: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ৷

♦ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
• নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, 
•  জাতীয় সংসদ,
• বিচার বিভাগ, 
• নির্বাচন কমিশন, 
• অ্যাটর্নি জেনারেল, 
• সরকারি কর্ম কমিশন, 
• মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, 
• ন্যায়পাল, 
• দুর্নীতি দমন কমিশন, 
• স্থানীয় সরকার।

♦ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
• রাজনৈতিক দল,
• বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, 
• এনজিও ও সুশীলসমাজ, 
• পরিবার, 
• শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,
• গণমাধ্যম।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৩,২৮৪.
The Poverty of Philosophy গ্রন্থটি কার লেখা? 
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. উইলিয়াম হেগেল
  4. কার্ল মার্কস
সঠিক উত্তর:
কার্ল মার্কস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা

• বার্ট্রান্ড রাসেলের গ্রন্থ:-
- The Elements of Ethics,
- Political Ideals
- Human Society in Ethics and Politics

• কার্ল মার্কসের গ্রন্থে:-
- The Communist Manifesto
- Das Kapital
- The Poverty of Philosophy

• ইমানুয়েল কান্টের গ্রন্থে:-
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- The Metaphysics of Morals

উৎস: ব্রিটানিকা

৩,২৮৫.
কোনটি মূল্যবোধের সারসত্তাকে প্রতিফলিত করে?
  1. কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আরোপিত নিয়ম
  2. নৈতিক নির্দেশ ছাড়া প্রথা ও ঐতিহ্য 
  3. নৈতিক আচরন নির্দেশক বিশ্বাস ও নীতি
  4. সামাজিক শৃংখলার আইনি বাধ্যবাধকতা
সঠিক উত্তর:
নৈতিক আচরন নির্দেশক বিশ্বাস ও নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক আচরন নির্দেশক বিশ্বাস ও নীতি
ব্যাখ্যা

● মূল্যবোধের সারসত্তাকে প্রতিফলিত করে - নৈতিক আচরন নির্দেশক বিশ্বাস ও নীতি।

মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ হলো মানুষের অন্তর্নিহিত বিশ্বাস, আদর্শ ও নৈতিক নীতিমালা, যা তার আচরণ, সিদ্ধান্ত ও জীবনদৃষ্টিকে পরিচালিত করে।
- এটি কোনো বাহ্যিক নিয়ম, আইন বা প্রথা দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া যায় না; বরং সামাজিকীকরণ, সংস্কৃতি চর্চা ও মানবিক গুণাবলির মাধ্যমে অর্জিত হয়।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।

⇒ মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, আইনের শাসন, নাগরিক সচেতনতা, কর্তব্যবোধ, সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা, সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উল্লেখ্য,
- মূল্যবোধের সারসত্তা হলো তার অভ্যন্তরীণ, অকৃত্রিম ও চিরন্তন দিক যা মানুষের আচরণকে নৈতিকভাবে পরিচালিত করে।
- এটি বাহ্যিক চাপ বা বাধ্যবাধকতা নয় বরং অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস ও নীতি যা নৈতিক আচরণকে নির্দেশ করে।
- এই বিশ্বাস ও নীতি থেকেই সততা, ন্যায়, দায়িত্ববোধ, সমতা ইত্যাদি মূল্যবোধ উদ্ভূত হয় এবং প্রতিফলিত হয়।

অন্যদিকে,
- কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আরোপিত নিয়ম: এটি আইন বা বিধি, যা বাহ্যিকভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়, মূল্যবোধের অভ্যন্তরীণ সার নয়।
- নৈতিক নির্দেশ ছাড়া প্রথা ও ঐতিহ্য: প্রথা ও ঐতিহ্য সাংস্কৃতিক হতে পারে, কিন্তু নৈতিক নির্দেশ ছাড়া এতে মূল্যবোধের সারসত্তা থাকে না।
- সামাজিক শৃঙ্খলার আইনি বাধ্যবাধকতা: এটি সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখে, কিন্তু মূল্যবোধের অন্তর্নিহিত সারসত্তা নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,২৮৬.
আইনের সর্বাপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস কোনটি?
  1. প্রথা
  2. ন্যায়বিচার
  3. ধর্ম
  4. বিচারকের রায়
সঠিক উত্তর:
প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথা
ব্যাখ্যা

আইন ও প্রথা:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে, সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
- প্রথা বা রীতিনীতি, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা হচ্ছে আইনের উৎসসমূহ।

উল্লেখ্য:
- আইনের একটি সুপ্রাচীন উৎস প্রথা।
- প্রাচীনকাল থেকে যেসব আচার-ব্যবহার, রীতি-নীতি ও অভ্যাস সমাজে অধিকাংশ জনগণ কর্তৃক সমর্থিত, স্বীকৃত ও পালিত হয়ে আসছে, তাকে প্রথা বলে।
- প্রাচীনকালে কোনো আইনের অস্তিত্ব ছিল না। রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে প্রথার মাধ্যমে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ হতো।
- রাষ্ট্র সৃষ্টির পর যেসব প্রথা রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে সেগুলো আইনে পরিণত হয়।
- যুক্তরাজ্যের অনেক আইন প্রথার উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,২৮৭.
চলাফেরার অধিকার কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. নৈতিক অধিকার
  4. সাংস্কৃতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- চলাফেরার অধিকার, ধর্ম চর্চার অধিকার, সম্পত্তি লাভের অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো সামাজিক অধিকার।
- এসব অধিকার আমরা সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে ভোগ করে থাকি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
৩,২৮৮.
সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা কোন দুটি উপাদানের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের
  2. শুধুমাত্র মূল্যবোধের
  3. শুধুমাত্র সুশাসনের
  4. মূল্যবোধ ও সুশাসনের
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ ও সুশাসনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ ও সুশাসনের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ এবং সুশাসনের সম্পর্ক:
• সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ:
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনের ও বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় উপাদান।

• আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা:
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি তার সামাজিক মর্যাদা খুঁজে পাবে এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন সুশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও আবশ্যকীয় উপাদান। আইনের শাসন না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না।

• সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা:
- মূল্যবোধ সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।

• নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা:
- মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত ও বিকশিত করে।

• কর্তব্যবোধ জাগ্রত করে:
- কর্তব্যবোধ মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান। কর্তব্যবোধ না থাকলে সুশাসন ও প্রতিষ্ঠিত হয় না। এজন্যই নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধকে নাগরিকের অন্যতম গুণ বলা হয়।

• সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা:
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতাকে মূল্যবোধের যেমন উপাদান মনে করা হয় তেমনি তা সুশাসনের ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান বা বৈশিষ্ট্য মনে করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,২৮৯.
ইমানুয়েল কান্টের নৈতিক তত্ত্ব কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে?
  1. ফলাফলের উপর
  2. সুখের উপর
  3. কর্তব্য ও কাজের স্বভাবের উপর
  4. সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের উপর 
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য ও কাজের স্বভাবের উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য ও কাজের স্বভাবের উপর
ব্যাখ্যা

কর্তব্যমুখী নৈতিকতা:
- জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ডিওন্টোলজিকাল নীতিশাস্ত্র (Deontological Ethics) এবং কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবক্তা।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান দার্শনিক, যিনি নৈতিকতা ও কর্তব্যবাদের উপর গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- তাঁর নীতি কর্তব্যবাদ (Deontological Ethics) মূলত নৈতিকতা নির্ধারণ করে কাজের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর ভিত্তি করে, ফলাফলের উপর নয়।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
• নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: Britannica.

৩,২৯০.
‘যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন‘ কোন সাম্যের মূল কথা?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. রাজনৈতিক সাম্য
  3. অর্থনৈতিক সাম্য
  4. আইনগত সাম্য
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা
সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে।
- যথা :
(ক) সামাজিক সাম্য,
(খ) রাজনৈতিক সাম্য,
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য,
(ঘ) আইনগত সাম্য।

⇒ সামাজিক সাম্য:
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

⇒ রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

⇒ অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়।
- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।

⇒ আইনগত সাম্য:
- ইতোপূর্বে আলোচিত সাম্যের কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত।
- যেমন, চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার।
- বাংলাদেশের মত দেশে আইনগত সাম্য সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।
- সংবিধান ছাড়াও দেশের বিদ্যমান অন্যান্য আইন দ্বারাও সাম্য স্বীকৃত হতে পারে।
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২৯১.
সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো -
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  3. ন্যায়বিচার
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলাবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলাবোধ
ব্যাখ্যা
• শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজজীবনের অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- বিশ্বে যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ব্যক্তির নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয় এবং সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়। তাই পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, কলকারখানা, সর্বত্র শৃঙ্খলার প্রয়োজন। শৃঙ্খলা মানুষের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৩,২৯২.
লর্ড ব্রাইস এর মতে আইন মান্য করার কারণ হল -
  1. ক) দায়বদ্ধতা
  2. খ) অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
  3. গ) শাস্তির ভয়
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেনঃ
(ক) যৌক্তিকতার উপলব্ধি
(খ) অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
(গ) নির্লিপ্ততা
(ঘ) সহানুভূতি
(ঙ) শাস্তির ভয়
৩,২৯৩.
গণতন্ত্রের প্রাণ বলা যায় কোনটিকে?
  1. সহমর্মিতা
  2. পরমতসহিষ্ণুতা
  3. সৌহার্দ্য
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পরমতসহিষ্ণুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমতসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা:
- সহনশীলতা বা পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের প্রাণ।
- অপরের বা অন্য দলের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
- অন্য ব্যক্তি ও দলকে মত প্রকাশের সুযোগ প্রদান করতে হবে।
- সহনশীল মনোভাব না থাকলে গণতন্ত্র সফল হতে পারেনা।
- যে সমাজের জনগণ যত বেশি সহনশীল সে সমাজে তত বেশি গণতান্ত্রিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,২৯৪.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার প্রাতিষ্ঠানিক স্তম্ভ নয়?
  1. সুশাসন
  2. গণতন্ত্রায়ণ
  3. বিকেন্দ্রীকরণ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০২১-২০৪১ খ্রি. মেয়াদে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশন দেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
এই পরিকল্পনা চারটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল।
এগুলো হলো:
- সুশাসন
- গণতন্ত্রায়ণ
- বিকেন্দ্রীকরণ এবং
- সক্ষমতা বৃদ্ধি।

(তথ্যসূত্র: দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা : ২০২১-২০৪১
৩,২৯৫.
’সত্যের সন্ধান’ গ্রন্থটি কার লেখা? 
  1. জিসি দেব
  2. আরজ আলী মাতুববর 
  3. জহির রায়হান 
  4. বদরুদ্দিন উমর
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুববর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুববর 
ব্যাখ্যা

আরজ আলী মাতুববর:
- আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক ছিলেন আরজ আলী মাতুববর।
- তিনি লড়াই করেছেন ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এবং সহজ-সরল ভাষায় প্রকাশ করেছেন জগৎ ও জীবন সম্পর্কে তাঁর অভিমত।
- ধর্মের সমালোচক হলেও তিনি যথার্থ ধর্মের বিরোধী ছিলেন না। তাঁর লড়াই ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ধর্মের নামে প্রচলিত ধর্মান্ধতা ও ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টিরহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জিসি দেবের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট নয়টি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস (১৯৫২),
- আইডিয়ালিজম: এ নিউ ডিফেন্স অ্যান্ড এ নিউ এ্যাপলিকেশন (১৯৫৮),
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- এ্যাসপিরেশন অব দি কমন ম্যান (১৯৬৩),

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা নিউজ ২৪।

৩,২৯৬.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ শিক্ষার নির্ধারক নয়?
  1. ক) ঐতিহ্য
  2. খ) ইতিহাস
  3. গ) সামাজিক রীতি-নীতি
  4. ঘ) আইনসভা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইনসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইনসভা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষার নির্ধারক সমূহ হলোঃ সামাজিক রীতিনীতি, আইন, ঐতিহ্য, ইতিহাস, প্রথা, বিশ্বাস। ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,২৯৭.
নিম্নের কোনটিকে 'উপযুক্ততা মূল্যবোধ' বলা হয়?
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) সক্ষমতা
  3. গ) সুখ
  4. ঘ) সাম্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) সক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সক্ষমতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ (Values) :মানুষের মধ্যে কিছু স্থায়ী প্রত্যাশা থাকে যা ভাল বলে প্রতীয়মান হয়, তা-ই মূল্যবোধ। এগুলো মানুষের নৈতিক মান গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। মূল্যবোধকে “অন্তর্নিহিত বিশ্বাস” বলে আখ্যায়িত করা যায় যা মানুষের মনোভাব ও কার্যকে প্রভাবিত করে। 
নিচে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো:
১। শেষপ্রান্ত মূল্যবোধ (Terminal Values) : শেষপ্রান্ত মূল্যবোধ বলতে এমন কতগুলো প্রত্যাশাকে বুঝায় যা মানুষ সারাজীবনে অর্জন করতে চায়। অর্থাৎ জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও মানুষ সে-ই সকল প্রত্যাশা পূরণ করতে চায়। যা জীবনের শুরুতেই প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
২। ব্যক্তিক মূল্যবোধ (Personal Values) : প্রতিটি মানুষের কিছু একান্ত প্রত্যাশা থাকে যা নিজের জীবনের জন্য অর্জন করতে চায়, তা-ই ব্যক্তিক মূল্যবোধ। যেমন- আরাম-আয়েশপূর্ণ জীবন, স্বাধীনতা, সুখ প্রভৃতি।
৩। যান্ত্রিক মূল্যবোধ (Instrumental Values) : এটি এমন মূল্যবোধ যা ব্যবহার করে মানুষ তার জীবনের শেষ প্রান্তের মূল্যবোধকে অর্জন করতে চায়। যেমন- আচরণের ধরন, কাজের ধরন প্রভৃতি ।
৪। নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values) : নৈতিক মূল্যবোধ হলো মানুষের আন্তঃব্যক্তিক গুণাবলি, যা তাদের আচরণকে প্রভাবিত করে। যেমন- সততা, উৎফুল্লতা, সাহসিকতা, অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা প্রভৃতি। এ সকল নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ কোনো খারাপ কাজে ব্যথিত হয় ।
৫। উপযুক্ততা মূল্যবোধ (Competence Values) : এটি এমন কতগুলো উপাদানের সমাহারকে বুঝায় যা মানুষকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলে। যেমন- উচ্চাভিলাষী, সক্ষমতা, মেধা, দায়-দায়িত্ব প্রভৃতি। এ সকল গুণ যাদের মধ্যে বিদ্যমান তারা খারাপ কাজে লজ্জিত হয়।
৬। সামাজিক মূল্যবোধ (Social Values) : মানুষ সামাজিক জীব। তাই তারা সমাজে বসবাস করে। তাই সমাজকে বসবাসযোগ্য রাখতে হবে। এ জন্য কতিপয় মূল্যবোধ জাগিয়ে রাখতে হবে। যেমন- সাম্যতা, জাতীয় নিরাপত্তা, বিশ্ব শান্তি প্রভৃতি।
 
উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, এমবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,২৯৮.
দেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা কোন প্রাতিষ্ঠানিক স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল?
  1. সুশাসন
  2. গণতন্ত্রায়ণ
  3. বিকেন্দ্রীকরণ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০২১-২০৪১ খ্রি. মেয়াদে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশন দেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
এই পরিকল্পনা চারটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল।
এগুলো হলো:
- সুশাসন
- গণতন্ত্রায়ণ
- বিকেন্দ্রীকরণ এবং
- সক্ষমতা বৃদ্ধি।
(তথ্যসূত্র: দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা : ২০২১-২০৪১)
৩,২৯৯.
নৈতিকতা কী ধরনের বিষয়?
  1. শারীরিক বিষয়
  2. অর্থনৈতিক বিষয়
  3. মানসিক বিষয়
  4. রাজনৈতিক বিষয়
সঠিক উত্তর:
মানসিক বিষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসিক বিষয়
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তরর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি। 
- ​নৈতিকতার উদ্ভব মানুষের বিবেকবোধ থেকে। 
- ​এটি একটি মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতার উপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব আরোপিত নয়। অর্থাৎ নৈতিকতা লঙ্ঘনকারীকে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় আইন শাস্তি প্রদান করতে পারে না।
- বিবেকের দংশনই নৈতিকতার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।
- মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ সাধনই নৈতিকতার লক্ষ্য।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৩০০.
UNDP-এর মতে সুশাসন কী নির্দেশ করে?
  1. কেবল রাজনৈতিক কর্তৃত্ব
  2. সামরিক শাসন
  3. দলীয় শাসন
  4. অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চা
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চা
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- এটি একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চাকে নির্দেশ করে, যেখানে অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচারের মতো উপাদান গুরুত্ব পায়।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি:
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং UNDP ওয়েবসাইট।