বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ৩২ / ৩৯ · ৩,১০১৩,২০০ / ৩,৮২৯

৩,১০১.
পূর্ণতাবাদের প্রবক্তা হলেন -
  1. ক) ম্যূর, হেয়ার, স্টিভেনসন
  2. খ) রাসেল, হিউম, লক
  3. গ) গ্রীন, ব্রাডলী, হেগেল
  4. ঘ) উপরের সকলে
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রীন, ব্রাডলী, হেগেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রীন, ব্রাডলী, হেগেল
ব্যাখ্যা
- গ্রীন, ব্রাডলী ও হেগেল - এই তিনজন হলে পূর্ণতাবাদের প্রবক্তা। 
- যাঁরা পূর্ণতাবাদের পূর্ণতা সাধন করেন তাঁরা কিন্তু প্রায় সকলেই ছিলেন ভাববাদী। এ ব্যাপারে জার্মান দার্শনিক হেগেল এবং তাঁর দুই ব্রিটিশ অনুসারী এফ. এইচ. ব্র্যাডলী ও টি. এইচ. গ্রীন ছিলেন অগ্রগণ্য। 
- এঁদের কারণেই পূর্ণতাবাদ বর্তমানে নৈতিকতার মানমূলক ভাববাদী মতবাদ হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- এফ. এইচ. ব্রাডলী তাঁর বিখ্যাত পুস্তক (Ethical Studies)-এ তার পূর্ণতাবাদী নীতিদর্শন প্রচার করেছেন। হেগেলীয় ভাবাদর্শের অনুসারী হিসেবে তিনি তাঁর দার্শনিক অবস্থানটি বেছে নেন হেগেলের দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির পরিণতি হিসেবে। 
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,১০২.
'খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. সাংস্কৃতিক অধিকার
  3. আইনগত অধিকার
  4. রাজনৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
সামাজিক অধিকার
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে।  
- সামাজিক অধিকার সমূহ নিম্নরূপ:
i. জীবনের অধিকার,
ii. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার,
iii. চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
iv. সভা-সমিতির অধিকার, 
v. খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার ইত্যাদি । 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।
৩,১০৩.
"আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।" উক্তিটি করেছেন-
  1. ম্যাক্স ওয়েবার
  2. জি পাওয়েল
  3. এস ই ফাইনার
  4. জন ফিফনার
সঠিক উত্তর:
এস ই ফাইনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস ই ফাইনার
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র (Bureaucracy):
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'। ইংরেজি 'Bureaucrary' শব্দটি এসেছে ফরাসি থেকে।
- ফরাসিতে শব্দটি এসেছে ফরাসি 'Bureau' এবং গ্রিক 'Kratos' শব্দের সমন্বয়ে। 'Bureau' শব্দের অর্থ ডেস্ক বা অফিস এবং 'Kratos' শব্দের অর্থ শাসন বা রাজনৈতিক ক্ষমতা।
-সুতরাং আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'। আক্ষরিক অর্থে আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন। বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।
- ম্যাক্স ওয়েবার ছাড়াও অনেক পন্ডিত আমলাতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
- জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"
-অর্থাৎ আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১০৪.
“সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”-উক্তিটি কার?
  1. এফ ই মেরিল
  2. এইচ এম জনসন
  3. জন লক
  4. পল সাঁত্রে
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
 - বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন:
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

- ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।

- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য। সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১০৫.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকার?
  1. ক) দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার
  2. খ) জীবনের অধিকার
  3. গ) অবকাশ লাভের অধিকার
  4. ঘ) নির্বাচনে ভোটাধিকার
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনের অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনের অধিকার
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা যা নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- অধিকারের বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
এর মধ্যে সামাজিক অধিকারসমূহ হলো:
- জীবনের অধিকার
- মত প্রকাশের অধিকার
- সভা-সমিতির অধিকার প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার হলো নৈতিক অধিকার।
- নির্বাচনে ভোটাধিকার হলো রাজনৈতিক অধিকার।
- অবকাশ লাভের অধিকার হলো অর্থনৈতিক অধিকার।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,১০৬.
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন বা পুরনো মতবাদ কোনটি?
  1. শক্তি প্রয়োগ মতবাদ
  2. বিবর্তনমূলক মতবাদ
  3. ঐশ্বরিক মতবাদ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঐশ্বরিক মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐশ্বরিক মতবাদ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের উৎপত্তি:
- রাষ্ট্র একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
- সমাজ জীবনের এক পর্যায়ে মানুষ শান্তি- শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্র গঠন করে।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদ চালু আছে, তার মধ্যে ঐশ্বরিক মতবাদ, বল প্রয়োগ মতবাদ, পিতৃতান্ত্রিক মতবাদ, সামাজিক চুক্তি মতবাদ, ঐতিহাসিক মতবাদ প্রভৃতি প্রধান। 

⇒ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত কয়েকটি মতবাদ ও প্রবক্তা:
১. ঐশ্বরিক মতবাদ:
- প্রবক্তা: সেন্ট অগাস্টিন।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন বা পুরনো মতবাদ হলো ঐশ্বরিক মতবাদ।
- এ মতবাদের মূল কথা হলো- বিধাতাই রাষ্ট্রের সৃষ্টিকর্তা।
- রাজা বা শাসক, সৃষ্টি কর্তার প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
- শাসক রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়।
- শাসকের মনোনয়ন কিংবা বিনাশ জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়।
- তবে শাসক ঈশ্বরের কাছে দায়বদ্ধ।

২. বল প্রয়োগ মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: ডেভিড হিউম, জেংকস, জেলীনক।
- বল প্রয়োগ মতবাদের মূল কথা হলো, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে।
- অধিক শক্তিশালী গোত্র যুদ্ধের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত দুর্বল গোত্রকে পরাজিত করে।
- পরবর্তীতে পরাজিত গোত্রের ওপর আইন কানুন চাপিয়ে আনুগত্য আদায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করা হয়।
- এই মতবাদ অনুযায়ী শক্তিই হলো রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।

৩. সামাজিক চুক্তি মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: থমাস হবস, জন লক, জ্যাঁ জ্যাক রুশো।
- সামাজিক চুক্তি মতবাদ একটি কাল্পনিক মতবাদ।
- এ মতবাদের মূলকথা হলো- প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ পরম শান্তিতে বসবাস করত।
- তারা প্রাকৃতিক আইন মেনে চলত।
- কিন্তু কালক্রমে সমাজে সম্মত্তির ধারণা বিস্তার লাভ করায় প্রাকৃতিক আইন নিয়ে মতভেদের কারণে সমাজ জীবনে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধাবস্থা দেখা দেয়।
- এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মানুষ সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও শাসক কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি করে। 

৪. ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ;
- আধুনিক, যক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি কোন আকস্মিক ঘটনা নয়।
- ঐতিহাসিক বিবর্তনের পথে নানা উপাদানের প্রভাবে রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটেছে।
- বিবর্তনবাদকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, যুক্তিযুক্ত ও সর্বজন গ্রাহ্য বলে বর্ণনা করেছেন।
- সুতরাং রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদই বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক মতবাদ।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১০৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কোন কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
  1. সন্তানদের শিক্ষাদান
  2. জাতীয় সম্পদ রক্ষা
  3. নিয়মিত কর প্রদান
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করনীয়: 
- সন্তানদের শিক্ষাদান,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করনীয়: 
- জনগনের সম্মতি নেওয়া।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল  হক। 

৩,১০৮.
ব্যক্তি সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে-
  1. কর্তব্যবোধ 
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. পাঠ্যবই
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

- ব্যক্তি সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে মূল্যবোধ শিক্ষা থেকে।
- সহনশীলতা অন্যতম প্রধান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- সহনশীলতা মানে হলো অন্যের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
- অন্যকে মতপ্রকাশ করতে দেওয়া।
- মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষের মধ্যে সহনশীলতার বিকাশ ঘটায়।

উৎস:পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।

৩,১০৯.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো -
  1. পরিবার
  2. বিদ্যালয়
  3. রাষ্ট্র
  4. সমাজ  
সঠিক উত্তর:
সমাজ  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ  
ব্যাখ্যা

• সভ্যতা:
- ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে -আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।
- স্কটের মতে -“সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।”
- বটোমোরের মতে -“সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়”।
- উপরিউক্ত সংজ্ঞা থেকে বলা যায় - সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের প্রতিচ্ছবি বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১১০.
'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' শিরোনামে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে কোন সংস্থা? 
  1. ইউএনডিপি
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইডিবি
  4. আফ্রিকান ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
ইউএনডিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা

ইউএনডিপি ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' শিরোনামের নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, "একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন"।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৩,১১১.
সুশাসনের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা দরকার?
  1. রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  2. ধনিতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  3. গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  4. ধর্মীয় ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো মূল্যবোধ।

• সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র,- গণতন্ত্র সুশাসনের প্রাণ। সুশাসনের জন্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নাই।
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- স্বচ্ছতা,
- বৈধতা,
- দায়িত্বশীলতা,
- জবাবদিহিতা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা,
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা,
- সুশীল সমাজ
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,১১২.
'The Ethics of Ambiguity' বইটির রচয়িতা কে?
  1. সিমোন ডি বোভোয়ার
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. বাট্রান্ড রাসেল
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
সঠিক উত্তর:
সিমোন ডি বোভোয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিমোন ডি বোভোয়ার
ব্যাখ্যা

সিমোন ডি বোভোয়ার:
- 'The Ethics of Ambiguity' (অস্পষ্টতার নীতিশাস্ত্র) বইটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত ফরাসি অস্তিত্ববাদী দার্শনিক, নারীবাদী এবং লেখিকা সিমোন দ্য বোভোয়ার।
- মূল ফরাসি নাম: Pour une morale de l'ambiguïté.
- প্রকাশকাল: ১৯৫৭ সালে।

উল্লেখ্য,
- সিমোন দ্য বোভোয়ার ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত ফরাসি অস্তিত্ববাদী দার্শনিক, লেখক, নারীবাদী তাত্ত্বিক এবং বুদ্ধিজীবী।
- তিনি অস্তিত্ববাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন এবং মানুষের স্বাধীনতা, নৈতিকতা ও অস্তিত্বের দ্ব্যর্থতা নিয়ে কাজ করেছেন।

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৩,১১৩.
নৈতিকতার সঙ্গে কোনটির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়?
  1. ক) সভ্যতা
  2. খ) ধর্ম
  3. গ) বিশ্বাস
  4. ঘ) সমাজ
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্ম
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতার সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। 
- পৃথিবীতে প্রচলিত সব ক'টি ধর্মই নৈতিকতার ওপর সবিশেষ জোর দিয়ে থাকে। 
- বাইবেলে যে দশটি আদেশ পাওয়া যায় তার প্রায় সবকটিই নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত। 
- ইসলামে ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআনের বহু জায়গায় বিশ্বাস স্থাপনের সাথে সাথে ভাল কাজ করার কথা অত্যন্ত জোর দিয়ে বলা হয়েছে। 
- হিন্দু ধর্মগ্রন্থ গীতায় যে কর্মবাদের কথা বলা হয়েছে তা একটি বিশেষ ধরনের নৈতিক জীবনের মাহাত্ম ঘোষণা করে। 
- বুদ্ধধর্ম তো প্রকৃত অর্থেই একটি নীতি দর্শনেরই নাম। 
- ধর্ম প্রণেতাদের দিকে দৃষ্টিপাত করলেও বলা যায়, তাদের কর্মকান্ডের বড় অংশই ছিল তাঁদের স্ব-স্ব সমাজে এমন সব নতুন ধারণার প্রবর্তন যা মানুষের নৈতিক জীবনকে কোন না কোনভাবে প্রভাবিত করেছে।
 
উৎস: এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,১১৪.
কার মাধ্যমে শূন্যবাদ ধারণাটি জনপ্রিয়তা লাভ করে?
  1. ক) জেরেমি বেন্থাম
  2. খ) ফ্রেডেরিখ নীটশে
  3. গ) জ্যা জ্যাক রুশো
  4. ঘ) জন স্টুয়ার্ট মিল
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রেডেরিখ নীটশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রেডেরিখ নীটশে
ব্যাখ্যা
Nihilism অর্থ হলো শূন্যবাদ। এটি ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কিছুই না।
এটি একপ্রকার সংশয়বাদী দার্শনিক ধারণা। পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৩,১১৫.
জাতিসংঘ (United Nations) সুশাসনের কোন উপাদানটি উল্লেখ করেনি?
  1. ক) Participatory (অংশগ্রহণ)
  2. খ) Sensitivity (সংবেদনশীলতা)
  3. গ) Accountability (জবাবদিহিতা)
  4. ঘ) Responsive (দায়বদ্ধতা)
সঠিক উত্তর:
খ) Sensitivity (সংবেদনশীলতা)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Sensitivity (সংবেদনশীলতা)
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদান উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:- 
১।  Participatory - অংশগ্রহণ
২। Consensus oriented - মতামতের উপর নির্ভরশীলতা
৩। Accountability - জবাবদিহিতা
৪। Transparency - স্বচ্ছতা
৫। Responsive - দায়বদ্ধতা
৬। Effective and Efficient - কার্যকরি ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা
৭। Equitable and Inclusive  - ন্যায্যতা এবং
৮। Follows the rule of law - আইনের শাসন।
 
তথ্যসূত্র: জাতিসংঘের  ওয়েবসাইট।
৩,১১৬.
সামাজিক মনোবিজ্ঞানী মিল্টন রকিচ (Milton Rokeach) এর মতে, টার্মিনাল মূল্যবোধ বলতে কী বোঝায়?
  1. সামাজিক প্রথা
  2. অর্থনৈতিক সাফল্য
  3. ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান
  4. জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আদর্শ
সঠিক উত্তর:
জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আদর্শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আদর্শ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধরন:
- মূল্যবোধ হলো এমন নীতি ও মানদণ্ড, যা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি কিছু বিশেষ চিন্তা ও অভ্যেসের সমষ্টি, যা সময়ের সঙ্গে স্থায়ী হয়ে ওঠে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজের নিয়ম, প্রথা ও আদর্শ তৈরি করতে সাহায্য করে।

- সামাজিক মনোবিজ্ঞানী মিল্টন রকিচ (Milton Rokeach) এর মতে, মানুষের মধ্যে প্রধানত দুই ধরনের মূল্যবোধ বিদ্যমান।
- একটি হচ্ছে টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values) এবং অপরটি ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values) ।

→ টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values):
- এটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গঠিত মূল্যবোধ।
- অর্থাৎ, ব্যক্তি তার জীবনে যে চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আদর্শ অনুসরণ করতে চায়, সেটিই তার টার্মিনাল মূল্যবোধ।

→ ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values):
- এটি টার্মিনাল মূল্যবোধ অর্জনের জন্য গৃহীত আচরণগত মূল্যবোধ।
- অর্থাৎ, মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে নীতিগত ও আচরণগত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, সেটিই ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ।

অর্থাৎ,  টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values) হল এমন মূল্যবোধ যা মানুষের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আদর্শের প্রতি নির্দেশিত। এটি সেইসব উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য, যা একজন ব্যক্তি তার জীবনে অর্জন করতে চায়। উদাহরণস্বরূপ, সুখ, শান্তি, সফলতা বা মানসিক শান্তি—এই ধরনের মূল্যবোধগুলি টার্মিনাল মূল্যবোধ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এগুলি ব্যক্তি জীবনে দীর্ঘমেয়াদী এবং চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে দেখা হয়।
অন্যদিকে, ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values) হল সেই আচরণ বা নীতিগুলি, যা টার্মিনাল মূল্যবোধ অর্জনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১১৭.
'আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক' বলা হয় -
  1. গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড
  2. এস ই ফাইনার
  3. রবার্ট প্রেসথাস
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

⇒ জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,১১৮.
“আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি”— এ সংজ্ঞাটি কার?
  1. জন অস্টিন
  2. উড্রো উইলসন
  3. স্যার হেনরি মেইন
  4. অ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা

গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"  অ্যারিস্টটল বলেছেন, ‘সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।’

আইন:
- ফারসি ভাষা থেকে আসা ‘আইন’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Law, যার আভিধানিক অর্থ হলো স্থির ও অপরিবর্তনীয়।
- আইনের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই।
- বিভিন্ন দার্শনিক ও আইনবিদ নানা দৃষ্টিকোণ থেকে আইনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন, কিন্তু আইনের সংজ্ঞা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল। আইন বলতে সাধারণভাবে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়মকানুনকে বোঝায়, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

⇒ আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
- আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৩,১১৯.
নিজের ধর্মচর্চা কোন ধরনের স্বাধীনতার অন্তর্ভূক্ত?
  1. সামাজিক স্বাধীনতা
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  3. পৌর স্বাধীনতা
  4. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
পৌর স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌর স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
যে সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করে ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটাতে পারে, তাকে ব্যক্তিগত বা পৌর স্বাধীনতা বলে।
যেমন - ইচ্ছামত রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডে চলাফেরার অধিকার, নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার, বাক্‌-স্বাধীনতা ইত্যাদি।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
৩,১২০.
'সুবর্ণ মধ্যক' হলো -
  1. গাণিতিক মধ্যমান
  2. দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
  3. সম্ভাব্য সব ধরনের কাজের মধ্যমান
  4. একটি দার্শনিক সম্প্রদায়ের নাম
সঠিক উত্তর:
দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
ব্যাখ্যা
'সুবর্ণ মধ্যক' হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা।

গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব।

উৎস: Britannica.
৩,১২১.
'The Conquest of Happiness' গ্রন্থটি কার রচিত?
  1. ইমানুয়েল কান্ট 
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল 
  3. টমাস হবস 
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

Conquest of Happiness:
- 'The Conquest of Happiness' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ ও সমাজকর্মী বার্ট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell)।
- এটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- বিষয়বস্তু: বার্ট্রান্ড রাসেল এই বইতে আধুনিক মানুষের অসুখের কারণ বিশ্লেষণ করেছেন এবং একটি সুখী জীবনের জন্য যুক্তিভিত্তিক পথ দেখিয়েছেন, যেমন নিজের বাইরের আগ্রহ তৈরি করা এবং নিষ্ক্রিয় আনন্দের বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকা। 

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮ মে ১৮৭২-২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০) ব্রিটিশ দার্শনিক, প্রভূত গ্রন্থ ও প্রবন্ধের রচয়িতা, শান্তিবাদী ‘অ্যাকটিভিস্ট’, গণবক্তা, গণবুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও নোবেল পুরস্কারে ভূষিত সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্ব পরিচিত। 
- তিনি ছিলেন বিশ্লেষণী দর্শনের একজন প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর দর্শন, গণিত, যুক্তি, সেট তত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞানতত্ত্ব ও অধিবিদ্যায় মৌলিক অবদান রেখেছে।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। 
- তিনি যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘বিশ্ব সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

⇒ বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics” (1910),
- Roads to Freedom (1918),
- Human Society in Ethics and Politics,
- Mortal and others,
- Principles of Social Reconstruction (1916),
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- The Analysis of mind,
- The Prospects of Industrial Civilization (1923),
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.'The Conquest of Happiness' গ্রন্থটি

৩,১২২.
'Political Ideals' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. ম্যাকিয়াভেলি
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্রিটিশ দার্শনিক, গণিতবিদ, এবং সমাজ চিন্তাবিদ।
- তাঁর সমাজসচেতন লেখনী এবং কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৫০ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান।

→ তার গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- The Problem of Philosophy,
- The Conquest of Happiness, - Religion and Science,
- The Principles of Mathematics,
- The Analysis of Mind,
- Marriage and Morals,
- Philosophical Essays,
- Political Ideals,
- Principles of Social Reconstruction,
- The Analysis of Matter and
- Logic and knowledge.

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

৩,১২৩.
মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে -
  1. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. দুর্নীতি রোধ করা
  3. সাংস্কৃতিক অবরোধ রক্ষণ করা
  4. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

• সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
         ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১২৪.
নিম্নের কোনটি প্লেটোর বিবৃত চারটি সদগুণের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জ্ঞান
  2. পরোপকারিতা
  3. সাহসিকতা
  4. আত্মসংযম
সঠিক উত্তর:
পরোপকারিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরোপকারিতা
ব্যাখ্যা
• 'পরোপকারিতা' প্লেটোর বিবৃত চারটি সদগুণের অন্তর্ভুক্ত নয়।

• Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে 'Excellence' বা 'উৎকর্ষতা'।
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলা হয়, সেটাকে বাংলায় বলে 'সদগুণ।'
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদগুণ বলা হয়।

• প্লেটো:
→ প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল।
→ সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
→ প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি। এগুলো হচ্ছে :
১- জ্ঞান,
২- সাহসিকতা,
৩- আত্মসংযম ও
৪- ন্যায়পরায়ণতা।

তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : স্নাতক শ্রেণী: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১২৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে কী দেখা দেয়?
  1. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়
  2. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  3. বেকারত্ব হ্রাস পায়
  4. সমাজে শৃঙ্খলা বাড়ে
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন: 
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে রাষ্ট্রে যে সব দেখা যায়: 
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়। 
- বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় না।
- বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
- সমাজে শৃঙখলা আসেনা। 

উল্লেখ্য, 
- সুশাসন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সাথে জড়িত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
৩,১২৬.
কোনটি সামাজিক অধিকার?
  1. কর্মের অধিকার
  2. সরকারি চাকরি লাভের অধিকার
  3. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
  4. দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
ব্যাখ্যা
সামাজিক অধিকারসমূহ:
- জীবনের অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার, সভা-সমিতির অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, চুক্তি সম্পাদনের অধিকার, আইনের চোখে সমানাধিকার, সম্পত্তির অধিকার, ধর্মের অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার, খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৩,১২৭.
'Man multiplies like mice in a bran.' উক্তিটি কার?
  1. ক) উইলিয়াম
  2. খ) ফ্রাঙ্কেল
  3. গ) কনটিলন
  4. ঘ) প্লেটো
সঠিক উত্তর:
গ) কনটিলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কনটিলন
ব্যাখ্যা
কনটিলনের বিখ্যাত উক্তি, 'Man multiplies like mice in a bran.'

অন্যদিকে,
- উইলিয়াম বলেছেন, 'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।'
- ফ্রাঙ্কেলের উক্তি, 'মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।'
- প্লেটো বলেছেন, 'শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হয় তাহলে আইন নিরর্থক।'
৩,১২৮.
‘Civil Society’ এর অর্থ কী?
  1. যুব সমাজ
  2. বুদ্ধিজীবী
  3. সুশীল সমাজ
  4. সামরিক সমাজ
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
 সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ ( Civil Society)  কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,১২৯.
‘Man is born free and everywhere he is in chains.’ উক্তিটি কার?
  1. ক) আব্রাহাম লিংকন
  2. খ) বারাক ওবামা
  3. গ) ষোড়শ লুই
  4. ঘ) জাঁ জ্যাক রুশো
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাঁ জ্যাক রুশো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাঁ জ্যাক রুশো
ব্যাখ্যা
- জাঁ জ্যাক রুশো (Rousseau) বলেছেন: মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে' (Man is born free but everywhere he is in chains।

অন্যদিকে -
- আব্রাহাম লিংকন বলেছেন 'সবাইকে বিশ্বাস করা বিপদজনক, কিন্তু কাউকেই বিশ্বাস না করা আরো বেশী বিপদজনক'।
- বারাক ওবামা বলেছেন 'পরিবর্তন আসবে না যদি আমরা অন্য কোন লোক বা অন্য কোন সময়ের অপেক্ষায় থাকি। আমরাই সেই লোক যাদের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। আমরাই সেই পরিবর্তন যা আমরা অনুসন্ধান করছি'।
- 'আমি যা ইচ্ছা করি তা-ই আইন' এই উক্তিটি ফরাসি সম্রাট ষোড়শ লুই- এর।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৩০.
‘সুশাসন হলো একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের কার্যকরী ব্যবস্থা। তবে ব্যবস্থাটি হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায্য সমতাপূর্ণ’ - সুশাসন সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) ভি.কে. চোপড়া
  2. খ) ল্যান্ডেল মিল
  3. গ) কফি আনান
  4. ঘ) অধ্যাপক ড. মহব্বত খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধ্যাপক ড. মহব্বত খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধ্যাপক ড. মহব্বত খান
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক ড. মহব্বত খান এর মতে-‘সুশাসন হলো,একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের কার্যকরী ব্যবস্থা। তবে ব্যবস্থাটি হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায্য সমতাপূর্ণ’।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান বলেছেন, ‘সুশাসন মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে প্রবর্তন করে।'

ভি.কে. চোপড়া (V.k. Chopra) বলেন, “সুশাসন হলো শাসনের একটি পদ্ধতি যা সমাজের মৌলিক মূল্যবোধগুলো দ্ব্যর্থহীনভাবে চিহ্নিত করতে সমর্থ, সেখানে মূল্যবোধগুলো হচ্ছে মানবাধিকারসহ অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়ক এবং একটি দায়বদ্ধ ও সৎ প্রশাসনের মাধ্যমে এই মূল্যবোধগুলো অন্বেষণ করা”।

ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।  
৩,১৩১.
মূল্যবোধ (Values) বলতে কী বোঝায়?
  1. মানুষের বাহ্যিক রূপ
  2. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  3. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
  4. সমাজ জীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,১৩২.
সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্র নয় কোনটি?
  1. খোলাবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ
  2. বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার
  3. গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
  4. উপরেরে কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খোলাবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোলাবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ
ব্যাখ্যা
খোলাবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্র নয়।

সুশাসন:

- সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারের নীতি ও কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নারী-পুরুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে।
- এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে।
- আর্থ-রাজনৈতিক অগ্রগতিকে প্রাধান্য দেয়।
- বাংলাদেশে পুঁজিবাদের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটেনি।
- দাঙ্গা-হাঙ্গামা, হরতাল-অবরোধ রাজনীতির নিত্য সঙ্গী।
- আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতির হার অত্যন্ত উচ্চ।
- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নয়ন হলেও বাংলাদেশে সুশাসনের মাত্রা সন্তোষজনক নয়।
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

⇒ সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল-
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সাংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং,
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৩৩.
আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?
  1. জনগণের কল্যাণ সাধন
  2. রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি
  3. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
  4. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
জনগণের কল্যাণ সাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের কল্যাণ সাধন
ব্যাখ্যা

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৩৪.
সুশাসনের ফলে কোন ধরণের অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়?
  1. অস্থিতিশীল
  2. বিনিয়োগবান্ধব
  3. প্রতিযোগিতাহীন
  4. কর্মসংস্থানহীন
সঠিক উত্তর:
বিনিয়োগবান্ধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনিয়োগবান্ধব
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- সুশাসন বলতে বোঝায়- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, কার্যকর প্রশাসন, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশের সমন্বিত রূপ।
- একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো যখন জনকল্যাণে দক্ষভাবে পরিচালিত হয়, তখন তাকে সুশাসনের উদাহরণ বলা হয়।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
- একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ অপরিহার্য।
- সুশাসনের ফলে দুর্নীতির পরিমাণ কমে, ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ পরিবেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।
- সুশাসনের মাধ্যমে সরকার নীতি পরিবর্তনে স্থিরতা বজায় রাখে।
- সুশাসন অর্থবছরের বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দক্ষ ব্যয় নিশ্চিত করে, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৩,১৩৫.
বাংলাদেশে কোন ইস্যুগুলো সুশাসনের প্রতিষ্ঠায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে?
  1. খাদ্যে ভেজাল
  2. নারী নির্যাতন
  3. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
  4. উপরোক্ত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ `Good Governance'।
- সুশাসনের কতকগুলি উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানগুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হলে একটি রাষ্ট্র সুশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- একটি সুশাসিত রাষ্ট্রই পারে নাগরিকদের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে।

⇒ সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে।
- যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৩৬.
সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন-এর মতে সামাজিক মূল্যবোধ কী?
  1. বিশ্বাসের এক প্রকৃতি
  2. একটি মানদন্ড
  3. ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ
  4. সমাজের প্রচলিত আইন
সঠিক উত্তর:
একটি মানদন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি মানদন্ড
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

এছাড়াও বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীর মতে, 
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৩৭.
‘গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র’ কী?
  1. সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
  2. অধিকার, সাম্য ও স্বাধীনতা
  3. অধিকার, কর্তব্য ও সাম্য
  4. কর্তব্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
সঠিক উত্তর:
সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৩৮.
তথ্য পাওয়া মানুষের কোন ধরনের অধিকার?
  1. মৌলিক
  2. রাজনৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
মৌলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।
- যেমন: পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ মৌলিক অধিকার:
- মৌলিক অধিকার বলতে বুঝায় নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যক্তির জন্য সে সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি, যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে প্রাপ্ত এবং অলঙ্ঘনীয়।
- নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্রের সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকলে তা সাংবিধানিক আইনের মর্যাদা লাভ করে।
- এর ফলে সরকার এ সমস্ত অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
- নাগরিকগণ তাদের অধিকার ভোগ করতে কোনো প্রকার সরকারি বাধার সম্মুখীন হয় না।

⇒ মৌলিক অধিকারের উৎস রাষ্ট্রের সংবিধান।
- মৌলিক অধিকারের রক্ষক রাষ্ট্র ও সংবিধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো বর্ণিত হয়েছে।

⇒ তথ্য পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,১৩৯.
কোনটি সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. বিরোধীদল
  3. সুশীল সমাজ
  4. এনজিও সংস্থা
সঠিক উত্তর:
আমলাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব (Lack of Accountability of the Bureaucrats):
- সাধারণত আমলারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন।
- তারা নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণি বলে মনে করেন।
- তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না ওঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহত হয়ে ওঠে।
- এজন্যই রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন, 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ' (An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy')।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,১৪০.
কোন স্বাধীনতা ছাড়া অন্য স্বাধীনতাগুলি মূল্যহীন?
  1. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
  2. সামাজিক স্বাধীনতা
  3. জাতীয় স্বাধীনতা
  4. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।

⇒ স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ: রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, আইনগত স্বাধীনতা, প্রাকৃতিক স্বাধীনতা, জাতীয় স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• জাতীয় স্বাধীনতা:
- বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব বলে।
- বর্তমানে অধিকাংশ রাষ্ট্রই জাতি রাষ্ট্র। অর্থাৎ তারা স্বাধীন জাতি হিসেবে রাষ্ট্র গঠন করেছে।
- একটি জাতির নিজস্ব পরিচয় প্রতিষ্ঠার সক্ষমতাই হল জাতীয় স্বাধীনতা। 
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব স্বাধীনতার মূলভিত্তি।
 - জাতি হিসেবে স্বাধীন থাকা যেমন গর্বের তেমনি তা অর্জন করাও কষ্টসাধ্য। অনেক ক্ষেত্রে তা স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে লক্ষ্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়। যেমন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জন করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৪১.
অধিকার ও কর্তব্য _____ থেকে এসেছে
  1. ক) সমাজবোধ
  2. খ) পরিবার
  3. গ) রাষ্ট্র
  4. ঘ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
ক) সমাজবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমাজবোধ
ব্যাখ্যা
- অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি যেসব দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয় তা কর্তব্য হিসেবে অভিহিত।
- অধিকার ও কর্তব্য সমাজবোধ থেকে এসেছে ।
- একজনের অধিকার বলতে অন্যজনের কর্তব্যকে বুঝায়।    

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,১৪২.
নিচের কোনটি বিশ্বব্যাংক বর্ণিত সুশাসন মূল্যায়নের নির্দেশক নয়?
  1. ক) সরকারি খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
  2. খ) সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রাধান্য
  3. গ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
  4. ঘ) উন্নয়নের বৈধ কাঠামো
সঠিক উত্তর:
খ) সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রাধান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রাধান্য
ব্যাখ্যা
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ''Governance : The World Bank Experience'' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করে।
এগুলো হলোঃ সরকারি খাত বা প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা, উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো এবং স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।
(সূত্রঃ বিশ্বব্যাংক)
৩,১৪৩.
নিম্নের কোনটিকে সুশাসনের পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়? 
  1. জবাবদিহিতা
  2. দায়বদ্ধতা
  3. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  4. উপরোক্ত সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

সুশাসনের পূর্বশর্ত:
যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।

সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হচ্ছে:- 
- আইনের শাসন, 
- স্বচ্ছতা, 
- জবাবদিহিতা
- গ্রহণযোগ্যতা,
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা, 
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
- দায়বদ্ধতা
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, 
- অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,  
- বাকস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
- বৈধতা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৩,১৪৪.
'মায়ের প্রতি সম্মান' মূল্যবোধের কোন বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ?
  1. আপেক্ষিকতা
  2. নির্দিষ্টতা
  3. সামাজিক মানদণ্ড
  4. বিভিন্নতা
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্টতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্টতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- নির্দিষ্টতা: যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।

- সামাজিক মানদন্ড: বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়। যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম, আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।
- পরিবর্তনশীলতা: মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন, একজন বাঙালি দীর্ঘ দিন পশ্চিমা কোন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে তার আচারণ-আচরণে চিন্তায় নানান পরিবর্তন ঘটতে পারে।
- নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
- বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।
- আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।
- সম্পর্কের সেতু: অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্নিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। যেমন কোন বাংলাদেশি নাগরিক লন্ডনে আরেকজন অপরিচিত বাংলাদেশী নাগরিককের সাথে দেখা হলে সহজেই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৪৫.
প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা লাভ
  2. সামরিক বাহিনী দ্বারা শাসন
  3. জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন
ব্যাখ্যা
প্রজাতন্ত্র (Republic):
- যে শাসনব্যবস্থা বা সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ নির্বাচিত হন, তাকে "প্রজাতন্ত্র" বলে।
- প্রজাতন্ত্র হল এমন একটি সরকার ব্যবস্থা যেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে জনগণ বা জনগণের একাংশ।
- প্রজাতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে। রোমান সাম্রাজ্য ছিল প্রথম প্রজাতন্ত্র।
- গনতান্ত্রিক সরকারেরই একটা রূপ প্রজাতান্ত্রিক সরকার।
- প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি সাধারণত সার্বভৌম রাষ্ট্র হয়ে থাকে।
- প্রজাতন্ত্রের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান হবেন নির্বাচিত ও তাদের নিকট দায়বদ্ধ।

গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের মূল পার্থক্য-
- গণতন্ত্রে ক্ষমতা থাকে সরাসরি জনগণের হাতে। অন্যদিকে, প্রজাতন্ত্রে ক্ষমতা থাকে পৃথক নাগরিকদের হাতে।
- একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হতেও পারেন আবার না-ও পারেন। কিন্তু একটি প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রপ্রধানকে নির্বাচিত হতে হবে।
- গণতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে। প্রজাতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা।
- গণতন্ত্রে জনগণের ইচ্ছা বা জনমত অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হয়, যেখানে প্রজাতন্ত্রে তা সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। অর্থাৎ, গণতন্ত্রে জনমত চাইলে কোনো বিষয়ে তাদের অধিকার পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু প্রজাতন্ত্রে সংবিধানের দেয়া অধিকারকে জনমত ছাড়িয়ে যেতে পারে না।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৩,১৪৬.
জনমত গঠনের মাধ্যম কোনটি?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. আইন বিভাগ
  3. শাসন বিভাগ
  4. বিচার বিভাগ
সঠিক উত্তর:
আইন বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন বিভাগ
ব্যাখ্যা
• আইনসভা:
→ আইনসভা বর্তমানে জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
→ আইনসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনা এবং প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে নিজ দলের পক্ষে এবং অপর দলগুলোর বিপক্ষে বক্তব্য ও যুক্তি প্রদান করে থাকেন।
→  এসব বিতর্কের বিবরণ রেডিও, টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়।
→ জনগণ এসব বক্তব্য-বিবৃতির মূল্যায়ন করে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ মতামত গঠন করে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৪৭.
ধর্মীয় মূল্যবোধের উদাহরণ নিচের কোনটি?
  1. ক) নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া
  2. খ) রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ না ভাবা
  3. গ) আর্থিক লেনদেন ও ক্রয়-বিক্রয় করা
  4. ঘ) অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়
সঠিক উত্তর:
খ) রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ না ভাবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ না ভাবা
ব্যাখ্যা
• ধর্মীয় মূল্যবোধ (Religious Values):
» সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন,
» অপরের ধর্মমতকে সহ্য করা,
» অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম ও ধর্ম প্রচারে বাধা না দেয়া,
» রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ না ভাবা এবং
» সেভাবে বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করাই হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসসর মোঃ মোজ্জামেল হক।
৩,১৪৮.
কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র অনুসারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোন উপাদান অপরিহার্য?
  1. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  2. দুর্নীতিমুক্ত শাসন
  3. আইনের শাসন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:
১। আইনের শাসন (Law and Order),
২। দায়িত্বশীল প্রশাসন (People Learning Administration), 
৩। সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা (Justice and Rationally as the basis of decision) এবং,
৪। দুর্নীতিমুক্ত শাসন (Corruption Free Government)। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৩,১৪৯.
'Nicomachean Ethics' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. এরিস্টটল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
Nicomachean Ethics:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক এরিস্টটলের নীতিশাস্ত্রের উপর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ -Nicomachean Ethics.
- এই গ্রন্থে নৈতিকতার মধ্যমপন্থা এবং মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেন।
- এরিস্টটল তার এই গ্রন্থে সুখ (eudaimonia) কে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এরিস্টটল রচিত অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ-
- Eudemian Ethics- নৈতিকতা সম্পর্কিত আরও একটি বই, যা নিকোমেকিয়ান এথিকসের সাথে সম্পর্কিত।
- Politics - গ্রন্থে আদর্শ সমাজব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন।
- Metaphysica বা Metaphysics- গ্রন্থে বাস্তবতার মূল স্বভাব এবং সত্তার প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৩,১৫০.
নিচের কোনটি আরজ আলী মাতুব্বর লেখা গ্রন্থ?
  1. আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস
  2. সৃষ্টিরহস্য
  3. আমার জীবনদর্শন
  4. এ্যাসপিরেশন অব দি কমন ম্যান
সঠিক উত্তর:
সৃষ্টিরহস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃষ্টিরহস্য
ব্যাখ্যা

আরজ আলী মাতুববর:
- আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক ছিলেন আরজ আলী মাতুববর।
- তিনি লড়াই করেছেন ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এবং সহজ-সরল ভাষায় প্রকাশ করেছেন জগৎ ও জীবন সম্পর্কে তাঁর অভিমত।
- ধর্মের সমালোচক হলেও তিনি যথার্থ ধর্মের বিরোধী ছিলেন না। তাঁর লড়াই ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ধর্মের নামে প্রচলিত ধর্মান্ধতা ও ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টিরহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জিসি দেবের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট নয়টি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস (১৯৫২),
- আইডিয়ালিজম: এ নিউ ডিফেন্স অ্যান্ড এ নিউ এ্যাপলিকেশন (১৯৫৮),
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- এ্যাসপিরেশন অব দি কমন ম্যান (১৯৬৩),

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা নিউজ ২৪।

৩,১৫১.
মূল্যবোধ পরীক্ষা করে -
  1. ভালো ও মন্দ
  2. ন্যায় ও অন্যায়
  3. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ ভালো ও মন্দ, ন্যায় ও অন্যায়, নৈতিকতা ও অনৈতিকতা সবগুলোই পরীক্ষা করে।

​মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value.
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,১৫২.
'সুশাসনে রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়' - কোন সংস্থার অভিমত?
  1. ক) UNDP
  2. খ) বিশ্বব্যাংক
  3. গ) IDB
  4. ঘ) জাতিসংঘ
সঠিক উত্তর:
খ) বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নে রূপান্তরিত করে।
- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।
অন্যদিকে,
- ইউএনডিপির মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

উৎস: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৩,১৫৩.
কোনটি সুশাসনের মূল বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. জবাবদিহিতা
  3. অসংবেদনশীলতা
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
অসংবেদনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসংবেদনশীলতা
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে 'অসংবেদনশীলতা' সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়।

সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
- সুশাসনের মৌলিক ও প্রাথমিক চরিত্র হচ্ছে - সুশাসনের আওতায় সকল কাজ হবে অপব্যবহার ও দুর্নীতিমুক্ত এবং ন্যায়পরায়ণ ভিত্তিক ও আইনের শাসনের প্রতি শর্তহীনভাবে অনুগত।
- সুশাসনের এই চরিত্র বা বৈশিষ্ট্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করলে তা কয়েকটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

- নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হল:
→ অংশগ্রহণ,
→ আইনের শাসন,
→ স্বচ্ছতা,
→ জবাবদিহিতা,
→ সংবেদনশীলতা,
→ ঐকমত্য।

এসব ছাড়াও সুশাসনের জন্য ন্যায়পরায়নতা, কার্যকারিতা ও দক্ষতার শর্তপূরণ একান্ত আবশ্যক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৫৪.
বিশ্বব্যাংকের মতে অনুন্নত দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে দায়ী কোনটি?
  1. ক) প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা
  2. খ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব
  3. গ) সুশাসনের অভাব
  4. ঘ) মূল্যবোধ শিক্ষার অনুপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসনের অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসনের অভাব
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংকের মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে দায়ী হলো সুশাসনের অভাব।
অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোর অনুন্নয়নের কারণ অনুন্ধানের প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংক সুশাসন ধারণাটি উদ্ভাবন করে। সংস্থাটি ১৯৮৯ সালে তাদের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,১৫৫.
’’জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন’’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ- ১৯(১)
  2. অনুচ্ছেদ- ২০(২)
  3. অনুচ্ছেদ- ২০(১)
  4. অনুচ্ছেদ- ১৯(৩)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ১৯(৩)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ১৯(৩)
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ- ১৯(৩): জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।
• অনুচ্ছেদ- ১৯(১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন৷
• অনুচ্ছেদ- ১৯(২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷

এছাড়াও, 
- অনুচ্ছেদ-২০(১) কর্ম হইতেছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের পক্ষে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং “প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী”-এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকে স্বীয় কর্মের জন্য পারিশ্রমিক লাভ করিবেন৷ 
 - অনুচ্ছেদ-(২) রাষ্ট্র এমন অবস্থাসৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবেন না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিমূলক ও কায়িক-সকল প্রকার শ্র্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হইবে৷

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৩,১৫৬.
সুশাসনের অভাবে কোনো দেশের উপর কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়?
  1. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত
  2. সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি
  3. দুর্নীতি বৃদ্ধি
  4. উপরোক্ত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন: ক) দুর্নীতি বৃদ্ধি খ)  সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি  গ) অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত।

ক) দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, কারণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।
খ) সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়, এবং যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
গ) অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, কারণ অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

সূত্র: ব্রিটানিকা এবং পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৫৭.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো- 
  1. সমাজ
  2. সুশাসন
  3. নৈতিকতা
  4. রাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ
ব্যাখ্যা

- সমাজ সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি।

• সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধার প্রথা সংস্কৃতির উন্নত
- ম্যাকাইভার এবং পেজের মরে আমরা যাতা যনো সংস্কৃতি এবং আমরা য ব্যবহার করি তা ধনো সভ্যতা)
-স্কটের মতে সহাতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
- বটোমোর মতে সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্টদেমূহের সমন্বয়।
- জেরি এবং জেরি বলেন, সভ্যতা হচ্ছে সাস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন।
- নীতি-নৈতিকতার সমচিত এগ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এব। বৃষএর সমাজ
- সব মিনিয়ে নরা ধায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধর। প্রথ্য সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমগ্রিলে যোগায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির প্রধিকতা অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রণয়িত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সলতার সম্পর্কে হারনা পাপ্রয়া যায়।

উৎস:  সমাজবিজ্ঞান , এইচ এসসি প্রোগ্রাম, বালাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৫৮.
'আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি' উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. জন অস্টিন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

⇒ 'Law is the passionless reason' উক্তিটি করেন এরিস্টটল।

আইন:
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো আইনের শাসন।
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- যুক্তিসিদ্ধ আচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- আইনের সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন উড্রো উইলসন।
- আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্ত উক্তিটি করেন- এরিস্টটল।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,১৫৯.
জাতি রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে কখন?
  1. বিংশ শতকে
  2. প্রাচীন যুগে
  3. ষোড়শ শতকে
  4. মধ্যযুগে
সঠিক উত্তর:
ষোড়শ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষোড়শ শতকে
ব্যাখ্যা
জাতি রাষ্ট্র হলো জাতীয়তার ভিত্তিতে সৃষ্ট রাষ্ট্র। সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্বশাসনের লক্ষ্যে জাতি রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। জাতি রাষ্ট্র হচ্ছে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ফসল।

পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকে ইউরোপীয় জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা উন্মেষ ঘটে যার ফলশ্রুতিতে ইউরোপে জাতি রাষ্ট্র গঠিত হয়।

নিকোলা ম্যাকিয়াভেলিকে জাতি রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,১৬০.
"সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে" - কে বলেছেন?
  1. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  2. স্টুয়ার্ট সি. ডড
  3. এফ. ই. মেরিল
  4. এইচ. ডি. ষ্টেইন
সঠিক উত্তর:
স্টুয়ার্ট সি. ডড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টুয়ার্ট সি. ডড
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ: 
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মূল্যবোধের বিশেষ করে সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- স্টুয়ার্ট সি. ডড (Stuart c. Dodd) বলেন, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,১৬১.
প্লেটোর ৪টি প্রধান সদগুণের মধ্যে নিম্নের কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ন্যায় (Justice)
  2. সাহস (Courage)
  3. শিক্ষা (Education)
  4. মিতব্যয়িতা (Temperance)
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা (Education)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা (Education)
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) শিক্ষা (Education)

প্লেটোর সদগুণ:
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলি হল: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার বা আত্মনিয়ন্ত্রণ, এবং ন্যায়।
- এর মধ্যে, ন্যায়কে তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে গণ্য করেছেন।
- তবে, ব্যক্তি বা রাষ্ট্রে অন্য তিনটি সদগুণ—প্রজ্ঞা, সাহস এবং মিতাচারের—অস্তিত্ব থাকলেই ন্যায় সদগুণের পূর্ণতা লাভ করে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স'-এ সদগুণের উদ্ভবের মূল কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্লেটোর ৪টি প্রধান সদগুণ হল:
১) ন্যায় (Justice)
২) সাহস (Courage)
৩) মিতব্যয়িতা (Temperance)
৪) প্রজ্ঞা (Wisdom)
কিন্তু শিক্ষা (Education) এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬২.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে -
  1. ক) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. খ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
  3. গ) সামাজিক উন্নয়ন
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
খ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ছাড়া সুশাসন অর্জন করা সম্ভব হবে না। তাই এদেরকে সুশাসনের পূর্বশর্ত বিবেচনা করা হয়।

খ অপশনে ক ও গ দুটোই আছে।
তাই, খ ধরলেই সঠিক উত্তর হয়ে যায়। (অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন)

কিন্তু, ঘ) ধরলে উত্তর হয় এরকম - অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন। (বাহুল্য)

৩,১৬৩.
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. আটটি
  4. নয়টি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
-, স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।

(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
৩,১৬৪.
সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে কোন সংস্থা?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
  4. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল-
• দায়িত্বশীলতা,
• স্বচ্ছতা,
• আইনী কাঠামো ও
• অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৬৫.
সুশাসনের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি শর্ত হচ্ছে -
  1. ক) শক্তিশালী আমলাতন্ত্র
  2. খ) শক্তিশালী স্থানীয় সরকার
  3. গ) নিয়ন্ত্রিত বিচার বিভাগ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) শক্তিশালী স্থানীয় সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শক্তিশালী স্থানীয় সরকার
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি শর্ত হচ্ছে - শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।

• বাংলাদেশ ও সুশাসন:
- বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি।
- শাসনকার্যে জনসম্পৃক্ততা যত বৃদ্ধি পাবে, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও একইভাবে বৃদ্ধি পাবে। কারণ জনগনের মতামতের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহন ও বাস্তবায়ন হলে তা সুশাসনেরই নামান্তর।
- বাংলাদেশে সুশাসনের জন্য দরকার লিঙ্গভিত্তিক সমতা প্রতিষ্ঠা।
- বাংলাদেশে বর্তমানে এক্ষেত্রে নানা ধরণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬৬.
দার্শনিক প্লেটো রচিত বিখ্যাত পুস্তকের নাম -
  1. The Prince
  2. Animal Liberation
  3. The Republic
  4. Political Ideals
সঠিক উত্তর:
The Republic
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Republic
ব্যাখ্যা
প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
- তার লেখা বিখ্যাত বই - The Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।

⇒ তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium,
- Apologia Socrates,
- Allegory of the Cave,
- The Laws (348 BCE),
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- The Prince-এর লেখক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি।
- Animal Liberation-এর লেখক পিটার সিঙ্গার।
- Political Ideals-এর লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল।

উৎস: i) উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
৩,১৬৭.
অ্যালমন্ড ও ভার্বা এর বই কোনটি?
  1. Grammar of Politics
  2. The prince
  3. Democracy for the Few
  4. The Civic Culture
সঠিক উত্তর:
The Civic Culture
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Civic Culture
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক সংস্কৃতি:
 → রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে বুঝায় এমন কতগুলো বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি, আবেগ এবং অনুশীলন যা একজন ব্যক্তির বা একটি জনসমষ্টির রাজনৈতিক আচরণকে গড়ে তোলে।
 → রাজনৈতিক সংস্কৃতি একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার রাজনৈতিক আদর্শ এবং কর্মপদ্ধতিকেও অন্তর্ভূক্ত করে।
 → রাজনৈতিক সংস্কৃতির আধুনিক ধারণাটি গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড (G. A. Almond) এবং সিডনি ভার্বা (Sydney Verba) প্রথম গঠনমূলকভাবে Civic Culture নামক গ্রন্থে বিশ্লেষণ করেছেন।
→ অ্যালমন্ড এর মতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি হল রাজনৈতিক ব্যবস্থার সদস্যদের রাজনীতি সম্পর্কে মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির বিন্যাস।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬৮.
কোন ধরনের শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে-
  1. কর্মমুখী শিক্ষা
  2. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  3. মূল্যবোধ শিক্ষা
  4. ধর্মীয় শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে মূল্যবোধ শিক্ষা, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, সহনশীলতা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস:  নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।
৩,১৬৯.
"অধিকার হল সামাজিক জীবনের সেসকল শর্ত, যা' ছাড়া কোন ব্যক্তির পক্ষে নিজের সর্বোচ্চ বিকাশ সম্ভব নয়।" – উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক বার্কার
  2. অধ্যাপক অ্যালমন্ড
  3. অধ্যাপক লাস্কি
  4. রাষ্ট্রদার্শনিক টি এইচ গ্রীন
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক লাস্কি
ব্যাখ্যা
অধিকারে সংজ্ঞা:
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ অধিকারের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- রাষ্ট্রদার্শনিক টি এইচ গ্রীনের (TH Green) মতে, "অধিকার হচ্ছে সেসকল বাহ্যিক অবস্থা যা' মানসিক পরিপুষ্টি সাধন করে।"
- অধ্যাপক এইচ জে লাস্কির (HJ Laski) মতে, "অধিকার হল সামাজিক জীবনের সেসকল শর্ত, যা' ছাড়া কোন ব্যক্তির পক্ষে নিজের সর্বোচ্চ বিকাশ সম্ভব নয়।"
- অধ্যাপক বার্কার (Prof. Barker) বলেছেন, "অধিকার হল মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী সেসকল সুযোগ-সুবিধা যেগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত হয়।"

উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে আমরা বলতে পারি যে,
- জনগণের ব্যক্তিত্ব ও জীবনকে পূর্ণভাবে বিকশিত করার জন্য সমাজ তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দান করে এবং এ সকল সুযোগ-সুবিধার সমষ্টিই হল অধিকার।
- এ সকল সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত হয় এবং এগুলোর লক্ষ্য সার্বজনীন কল্যাণ সাধন।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একজন নাগরিক তিন ধরনের অধিকার ভোগ করে থাকে। যথা- সামাজিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭০.
রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত অধিকারকে কী বলে?
  1. নৈতিক অধিকার
  2. আইনগত অধিকার
  3. ব্যক্তিগত অধিকার 
  4. সাধারণ অধিকার
সঠিক উত্তর:
আইনগত অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনগত অধিকার
ব্যাখ্যা
• আইনগত অধিকার:
→ যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
→ আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
ক. সামাজিক
খ. রাজনৈতিক ও
গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৭১.
মানুষের নৈতিক অধিকারের শর্ত কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার:
- মানুষের নৈতিক অধিকারের দু’টি শর্ত আছে। যথা :-
- ক. সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তির বিনা বাধায় তার অধিকার ভোগ করার ক্ষমতা রয়েছে এবং
- খ. প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে তার অধিকার নিজের ও সমাজের অপরাপর ব্যক্তির কল্যাণে সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত।
- উল্লেখিত শর্ত দুটি ব্যতিত কোন অধিকারকে সমাজ স্বীকার করে নেয় না।
- সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত, - গৃহীত ও অনুমোদিত নৈতিক দাবীই হলো মানুষের নৈতিক অধিকার। 

তথ্যসূত্র: বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭২.
স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ____________ ভিন্ন হয়ে থাকে।
  1. সুশাসন
  2. সততা
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. সহমর্মিতা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য:
১. সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সমাজের সদস্যদের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি।
২. ইহা মানুষের সামাজিক ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করে।
৩. মানুষের আচরণ বিচারের মানদন্ড হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ মূল্যবোধের মাপকাঠিতে মানুষের কাজের ভাল-মন্দ বিচার করা হয়।
৪. সামাজিক মূল্যবোধ মূলতঃ বিমূর্ত, অলিখিত এবং সংখ্যা গরিষ্টের সমর্থিত আচরণ বিধি।
৫. স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সামাজিক মূল্যবোধ ভিন্ন হয়ে থাকে। সামাজিক পরিবর্তনের সাথে এর মধ্যেও পরিবর্তন আসে।
৬. সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিটি সমাজেই থাকে।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,১৭৩.
নিম্নের কোন সংস্থা সুশাসনের আটটি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক
  4. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন। 

⇒ কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

অন্যদিকে,
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৩,১৭৪.
নিচের কোনটি সংস্কৃতির উপাদান নয়?
  1. ক) প্রতীক
  2. খ) শিক্ষা
  3. গ) ভাষা
  4. ঘ) মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
খ) শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শিক্ষা
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি হলো একটি সম্প্রদায় বা গোত্রের সাধারণ বিশ্বাস, আচরণ, প্রথা তথা পুরো জীবন প্রণালি।
সংস্কৃতির সাধারণ উপাদান সমূহ হলো:
- প্রতীক
- ভাষা
- মূল্যবোধ
- প্রথা বা সাধারণ আদর্শ প্রভৃতি।

শিক্ষা সংস্কৃতির উপাদান নয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
৩,১৭৫.
কোন সংস্থা বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. WTO
  2. WBG
  3. UNCTAD
  4. IMF
সঠিক উত্তর:
UNCTAD
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNCTAD
ব্যাখ্যা
বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন (World Investment Report): 
- প্রকাশক: UNCTAD (United Nations Conference on Trade and Development)

বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু:
- বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) সম্পর্কিত বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও দেশভিত্তিক প্রবণতা বিশ্লেষণ।
- FDI কীভাবে উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে তা নিয়ে গবেষণা।
- গ্লোবাল ভ্যালু চেইন (GVC) ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর জোর, বিশেষ করে তাদের উন্নয়নগত প্রভাব বিশ্লেষণ।

UNCTAD-এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন:
Commodities and Development Report: পণ্য বাজার ও উন্নয়ন সম্পর্কিত বিশ্লেষণ।
Digital Economy Report: ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অর্থনীতির বৈশ্বিক প্রভাব।
Economic Development in Africa Report: আফ্রিকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা।
Handbook of Statistics: বৈশ্বিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান।
Least Developed Countries Report: স্বল্পোন্নত দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে বিশ্লেষণ।
Review of Maritime Transport: বৈশ্বিক নৌপরিবহন ও বাণিজ্যের তথ্য ও বিশ্লেষণ।
Technology and Innovation Report: নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কীভাবে উন্নয়ন প্রভাবিত করে তা নিয়ে গবেষণা।
Trade and Development Report: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, নীতিমালা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিশ্লেষণ।

উৎস: UNCTAD ওয়েবসাইট। 
৩,১৭৬.
ন্যায্য মজুরি পাবার অধিকার কী ধরনের অধিকার?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) নৈতিক
  3. গ) অর্থনৈতিক
  4. ঘ) রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
গ) অর্থনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
ন্যায্য মজুরি পাবার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।

• অর্থনৈতিক অধিকার:

- অর্থনৈতিক অধিকার বলতে সেই সকল সুযোগ-সুবিধা বোঝায় যা নাগরিকের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে জীবন ধারণের নিশ্চয়তা দেয়। অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া নাগরিক জীবন চিন্তা করা যায় না। যেমন-কর্মের অধিকার, ন্যায্য মুজুরি পাবার অধিকার, পেশা পছন্দের অধিকার। অর্থনৈতিক অধিকার অন্যান্য অধিকারের পূর্বশর্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭৭.
'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ' সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ক) ২ নং
  2. খ) ৬ নং
  3. গ) ৭ নং
  4. ঘ) ৪ নং
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ নং
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
- ৭(১) দফায় বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।
- ৬(২) নং দফায় বলা হয়েছে বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।
- ২ নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা,
- ২ক অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রধর্ম,
- ৪ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩,১৭৮.
জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে কতটি মূলনীতি উল্লেখ করেছে?
  1. ৭টি
  2. ৪টি
  3. ৯টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘের মতে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- এ লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি মূলনীতি উল্লেখ করেছে।
এগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ
- স্বচ্ছতা
- জবাবদিহিতা
- দায়িত্বশীলতা
- ন্যায্যতা
- কার্যকারিতা
- আইনের শাসন এবং
- ঐক্যমত্যের শাসন।

উৎস: UN chronicle.
৩,১৭৯.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান?
  1. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. শ্রমের মর্যাদা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
– যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
– সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
– স্টুয়ার্ট সি. ডড বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হল সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে”।

মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যে উপাদানগুলো মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান বলে স্বীকার করা হয় সেগুলো হলো:
১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
২. সামাজিক ন্যায়বিচার
৩. শৃঙ্খলাবোধ
৪. সহনশীলতা
৫. সহমর্মিতা
৬. শ্রমের মর্যাদা
৭. আইনের শাসন
৮. নাগরিক সচেতনতা
৯. কর্তব্যবোধ
১০. সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা
১১. সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,১৮০.
নিচের কোনটি জনমত গঠনের মাধ্যম?
  1. ক) সভাসমিতি
  2. খ) আইনসভা
  3. গ) গণমাধ্যম
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- সাধারণ অর্থে জনমত বলতে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অধিকাংশের মতামতকে বুঝলেও জনমত হলো যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামত।
- জনমত গঠনের মাধ্যম সমূহের মধ্যে রয়েছে: গণমাধ্যম, সভাসমিতি, আইনসভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
- জনমতকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়। সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের উপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।
- জনমত গঠনের ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে জনমত গড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,১৮১.
জাতিসংঘ (UN) সুশাসনের কোন উপাদানটি উল্লেখ করেনি?
  1. মতামতের উপর নির্ভরশীলতা
  2. ন্যাযতা
  3. কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা
  4. কৌশলগত লক্ষ্য
সঠিক উত্তর:
কৌশলগত লক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৌশলগত লক্ষ্য
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- উপাদানগুলো হলো:
→ অংশগ্রহণ;
→ মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
→ জবাবদিহিতা;
→ স্বচ্ছতা;
→ দায়বদ্ধতা;
→ কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
→ ন্যাযতা; এবং
→ আইনের শাসন।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ (UN) সুশাসনের কৌশলগত লক্ষ্য উপাদানটি উল্লেখ করেনি।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩,১৮২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কোনটি?
  1. সততার সাথে কর প্রদান করা
  2. অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন
  3. ব্যাপক জনঅংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি
  4. অন্যের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা ও গুরুত্ব দেয়া
সঠিক উত্তর:
ব্যাপক জনঅংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাপক জনঅংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
→ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
→ মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
→ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
→ দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
→ জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
→ দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
→ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
→ আইনসভাকে গতিশীল ও কার্যকর করা।
→ স্পষ্ট সহজবোধ্য ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন।
ব্যাপক জনঅংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি
→ শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
→ দারিদ্র্য দূরীকরণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,১৮৩.
নিম্নের কোনটি বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের চারটি স্তম্ভ-এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ন্যায়পরায়নতা
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
ন্যায়পরায়নতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায়পরায়নতা
ব্যাখ্যা

- বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের চারটি স্তম্ভ মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়- ন্যায়পরায়নতা।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:

- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

উল্লেখ্য, 
• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,১৮৪.
নিচের কোনটি পরকেন্দ্রিক সততা?
  1. ক) সাহসিকতা
  2. খ) বদান্যতা
  3. গ) অধ্যবসায়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) বদান্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বদান্যতা
ব্যাখ্যা
সততা ও সদগুণাবলী অসংখ্য। অনেকেই সততাকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। যথা:
- (ক) আত্মকেন্দ্রিক সততা 
- (খ) পরকেন্দ্রিক সততা এবং 
- (গ) আদর্শকেন্দ্রিক সততা।

(ক) আত্মকেন্দ্রিক সততা : এ ধরনের সততা মূখ্যত ব্যক্তির নিজের কল্যাণ সাধনের উপযোগী। তাই বলে সততা যে শুধু ব্যক্তির কল্যাণে সীমিত থাকবে এমন নয়। কেননা যেহেতু ব্যক্তি সমাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেহেতু ব্যক্তির কল্যাণ সমাজ কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত। আত্মকেন্দ্রিক সততার কতকগুলো উপভাগ দেয়া হবে :
(১) সাহসিকতা : মানুষের দুঃখভীতিকে জয় করার শক্তিকে সাহসিকতা বলা হয়। ভবিষ্যতের বৃহত্তর এবং মহৎ উদ্দেশ্য লাভের জন্যে বর্তমানের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার শক্তি হল সাহসিকতা। মনোবল, ধৈর্য, অধ্যবসায়, দৈহিক সাহস ইত্যাদি এ শ্রেণীর সততার অন্তর্গত।
(২) মিতাচার : ব্যক্তিগত কল্যাণ ও সামাজিক কল্যাণ লাভের ইচ্ছা ও বিচারবুদ্ধির মধ্যে সমন্বয় সাধন করাকে মিতাচার বলা হয়। মানুষ কল্যাণ লাভের জন্যে সংযত ও বিচারবুদ্ধিসম্মত জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।
(৩) পরিশ্রম ও অধ্যবসায় : সাময়িক আরাম-আয়েশ তুচ্ছ করে উচ্চতর কল্যাণ লাভের জন্যে দেহ ও মনের উৎকর্ষ সাধন করা ব্যক্তির অবশ্য করণীয় ; পরিশ্রম ও অধ্যবসায় ছাড়া জীবনের সীমাহীন সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়। সুতরাং মানুষকে মানুষ হিসাবে বাঁচতে হলে পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের অনুশীলন আবশ্যক।
(৪) মিতব্যয়িতা : মিতব্যয়িতা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের উৎকর্ষ বিধানের জন্যে অপরিহার্য। বাক্য, কার্য ও চিন্তায় মিতব্যয়ী হওয়া মানুষের উচিত। আর্থিক মিতব্যয়িতাই শুধু পালনীয় নয়। মানুষের ব্যবহারিক জীবনের বিভিন্ন দিকে মিতব্যয়িতার অভ্যাস বাঞ্ছনীয়। মিতব্যয়িতা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণই আনয়ন করে না, সমাজের কল্যাণও সাধন করে।

(খ) পরকেন্দ্রিক সততা : পরকেন্দ্রিক সদগুণাবলী অপরের কল্যাণ সাধনের জন্যে নিয়োজিত হয়। 
যেমন:
 (১) ন্যায়পরায়ণতা : প্রত্যেক মানুষের পরিশ্রমের যোগ্য পুরস্কার দেওয়া, কিংবা তার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের পথে অন্তরায় সৃষ্টি না করা ন্যায়পরায়ণতার অন্তর্ভুক্ত। ব্যাপক অর্থে ন্যায়পরায়ণতা বলতে সেই সকল গুণকে বুঝায়, যেগুলো সমাজের অন্যান্য ব্যক্তির সাথে আমাদের সম্পর্ক মধুময় করে । 
(২) বদান্যতা : অপরের কল্যাণ সাধনের ইচ্ছাকে বদান্যতা বলা হয়। বদান্যতা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়, যেমন- স্নেহ, বন্ধুত্ব, দেশপ্রেম ইত্যাদি।

(গ) আদর্শকেন্দ্রিক সততাঃ নৈর্ব্যক্তিক আদর্শের জন্যে আকাক্ষা আদর্শের সততা। সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের আদর্শ অনুসারে জীবনকে গড়ে তোলার বাসনা ও সে অনুসারে কাজ করার অভ্যাসকে আদর্শকেন্দ্রিক সততা বলে। আদর্শকেন্দ্রিক সততা তিন ধরনের হতে পারে। যথা:
- (১) বুদ্ধি সম্বন্ধীয় সততা 
- (২) সৌন্দৰ্যসম্বন্ধীয় সততা এবং 
- (৩) নৈতিক সততা ।
 
উৎস: সিভিক এডুকেশন- ১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৮৫.
নবপ্রতিষ্ঠানবাদ ধারণাটি কিসের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
  2. সুশাসন
  3. সাম্যবাদ
  4. উপযোগবাদ
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
নবপ্রতিষ্ঠাবাদ হলো একটি তত্ত্ব যা রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সাথে সম্পর্কিত। এতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নিয়মনীতি কিভাবে এর সদস্য বা ব্যক্তির আচরণ ও ক্রিয়াকে প্রভাবিত করে তা ব্যাখ্যা করা হয়।
এটি ১৯৮০ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্ডিতদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে৷ এই তত্ত্ব সুশাসনের তাত্ত্বিক দিককে নির্দেশ করে।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৩,১৮৬.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতির জন্য দায়ী প্রধান কারণ কী?
  1. নৈতিকতার অভাব
  2. অর্থনৈতিক অভাব
  3. আইনের প্রয়োগের অভাব
  4. অসৎ নেতৃত্ব
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
ব্যাখ্যা

⇒ রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতির জন্য দায়ী প্রধান কারণ হল 'নৈতিকতার অভাব'।

দুর্নীতি ও নৈতিকতা:
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- কারণ এটি ব্যক্তির আচরণ এবং সমাজের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে।
- যখন ব্যক্তিরা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না বা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়, তখন তারা দুর্নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে।

উল্লেখ্য:
- যদিও অন্যান্য কারণগুলোও দুর্নীতির জন্য দায়ী হতে পারে, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- যদি মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ এবং সততার অভাব থাকে, তবে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- অসৎ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক অভাব ও আইনের প্রয়োগের অভাব দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করে, কিন্তু নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাবই প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৮৭.
নিচের কোনটির অভাবে ব্যক্তি সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না? 
  1. সহমর্মিতা 
  2. সৌজন্যবোধ
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সহমর্মিতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহমর্মিতা 
ব্যাখ্যা

- সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।

মূল্যবোধের উপাদান: 

- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল-

•  নীতিবোধ:
- নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
- কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত।
- যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল। কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না।
- তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

• শৃঙ্খলা:
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

• সহমর্মিতা:
- মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত।
- সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।

• সৌজন্যবোধ:
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৮৮.
'যেখানে আইন থাকেনা, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'- উক্তিটিতে কী প্রকাশ পাচ্ছে?
  1. আইন স্বাধীনতার প্রচারক
  2. আইন স্বাধীনতার সম্পূরক
  3. আইন স্বাধীনতার রক্ষক
  4. আইন স্বাধীনতার প্রতিবন্ধক
সঠিক উত্তর:
আইন স্বাধীনতার রক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন স্বাধীনতার রক্ষক
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো - আইনের শাসন।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- 'যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন'- উক্তিটি করেন - এরিস্টটল।
- 'যেখানে আইন থাকেনা, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না' উক্তিটিতে প্রকাশ পাচ্ছে - আইন স্বাধীনতার রক্ষক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,১৮৯.
বিখ্যাত “Political Man” গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গ্যাব্রিয়েল আলমন্ড
  2. স্যামুয়েল পি. হানটিংটন
  3. সেমুর মার্টিন লিপসেট
  4. হ্যারল্ড লাস্কি
সঠিক উত্তর:
সেমুর মার্টিন লিপসেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমুর মার্টিন লিপসেট
ব্যাখ্যা

• সেমুর মার্টিন লিপসেট: 
-  "পলিটিক্যাল ম্যান" গ্রন্থের লেখক সেমুর মার্টিন লিপসেট। 
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে এবং পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে সংশোধিত হয়।
- এটি আমেরিকান সোসিওলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ম্যাকআইভার পুরস্কার অর্জন করে।

• লেখকের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বই: 
- Political Man.
- Revolution and Counterrevolution: Change and Persistence in Social Structures. 
- American Exceptionalism: A Double-Edged Sword. 
- Political Man: The Social Bases of Politics.
- The First New Nation: The United States in Historical and Comparative Perspective.

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট। 

৩,১৯০.
জাতিসংঘের অভিমত অনুসারে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো -
  1. নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা
  2. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  3. মৌলিক অধিকার রক্ষা
  4. দারিদ্র্য বিমোচন
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

⇒ জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন। কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩,১৯১.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয়-
  1. ক) সুশাসনের মাধ্যমে
  2. খ) ধর্মের মাধ্যমে
  3. গ) গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে 
  4. ঘ) শিক্ষার মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিক্ষার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিক্ষার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের আচার-আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদন্ড।
- মূল্যবোধ জাতীয় জীবনের দর্পণ স্বরুপ।
- মূল্যবোধ দৃঢ় হয় শিক্ষার মাধ্যমে।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,১৯২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার সহায়ক হিসেবে নৈতিক মূল্যবোধ কী ধরনের আচরণের বিকাশ ঘটায়?
  1. নেতিবাচক আচরণ
  2. নিরপেক্ষ আচরণ
  3. সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণ
  4. পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ
সঠিক উত্তর:
সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণ
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:

- সুশাসন মানে সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য প্রশাসন যা নীতি, ন্যায়বিচার, এবং জনকল্যাণের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- মূল্যবোধ হলো সমাজের নীতি ও আদর্শ যা মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধের মধ্যে সম্পর্ক ইতিবাচক এবং একে অপরের পরিপূরক।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ নেতিপরস্পরকে শক্তিশালী করে।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণের বিকাশ ঘটায়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
- সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই নৈতিকতা, সততা, এবং ন্যায়ের মূল্যবোধ মেনে চলে।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
৩,১৯৩.
কোন আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ধর্ম
  2. জাতি
  3. সাম্য
  4. বর্ণ
সঠিক উত্তর:
সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্য
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্ৰ:
- ৩টি আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। যথা:
• সাম্য,
• মৈত্রী ও
• স্বাধীনতা।
- গণতন্ত্রে সকলেই সমান; সমঅধিকারের নীতিটি শুধু তত্ত্বগতভাবে নয়, বাস্তবেও গৃহীত হতে দেখা যায় ৷
- জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী-গরীব, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই আইনের চোখে সমান।
- গণতন্ত্রে সবাই আইন দ্বারা সমভাবে সংরক্ষিত হবার সুযোগ পায়।
- গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার ভোগ করতে পারে।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৯৪.
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য কী?
  1. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ
  2. কর আদায় বৃদ্ধি
  3. জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন
  4. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন
ব্যাখ্যা
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি কল্যাণ রাষ্ট্র মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারকে সমুন্নত রেখে সর্বাধিক কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সুসম্পন্ন করে থাকে।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য,
- আধুনিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ।
- এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়।
- বর্তমান, রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো 'সুশাসন' প্রতিষ্ঠা।
- 'সুশাসন' একদিনে প্রতিষ্ঠা হতে পারে না।
- সুশাসনের ধারণাও একদিনে গড়ে উঠেনি।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,১৯৫.
সুশাসনের ধারণা প্রথম উপস্থাপন করে কে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউএনডিপি
  4. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসন: 
- তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন ও শাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন সব ক্ষেত্রেই সুশাসন জরুরি।
- তৃতীয় বিশ্বে সুশাসনের সমস্যাকে সব সমস্যার মূল কারণ হিসাবে সনাক্ত করেছে দাতারা।
- তাদের মতে, এসব রাষ্ট্রে সম্পদের স্বল্পতা রয়েছে।
- তবে এর থেকেও বড় সমস্যা হল সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি।
- একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে (Multi-dimentional) সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।
- 'সবুজ বিপ্লব' আর 'কাঠামো সমন্বয় কর্মসূচি'র ব্যর্থতার পর বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়নের শর্ত হিসাবে এ ধারণার অবতারণা করে।

• মোটা দাগে সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল-
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৯৬.
আক্ষরিক অর্থে 'আমলাতন্ত্র' বলতে কোনটি বোঝায়?
  1. প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন
  2. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির শাসন
  3. স্থানীয় জনপ্রতিনিধির শাসন
  4. রাজনীতিবিদদের শাসন 
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আক্ষরিক অর্থে 'আমলাতন্ত্র' বলতে আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন বোঝায়।
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারীদের সংগঠন।
- আমলারা সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর সংযুক্ত এবং রাজনীতিনিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- আমলাতন্ত্রের আধুনিক আলোচনার অগ্রনায়ক প্রখ্যাত জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েবার।
- তিনি সর্বপ্রথম আমলাতন্ত্রকে একটি আইনগত ও যুক্তিসঙ্গত মডেল (Legal and rational model) হিসেবে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্সওয়েবার ছিলেন আদর্শ আমলাতন্ত্রের (Ideal Bureaucracy) উদ্ভাবক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,১৯৭.
ইমানুয়েল কান্ট এর মতে নীতি বিদ্যার মূলকথা কয়টি?
  1. চারটি
  2. দুইটি
  3. পাঁচটি
  4. তিনটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
• ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।

• তাঁর মতে নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
উল্লেখ্য,
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৯৮.
‘শিক্ষা হচ্ছে দেহ, মন ও আত্মার পরিপূর্ণ ও সুষম বিকাশ।’-কার উক্তি?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. সক্রেটিস
  3. প্লেটো
  4. রুশো
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা
শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন শিক্ষাবিদের মতামত:
- শিক্ষা শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক ও জটিল।

⇒ মহাত্মা গান্ধী বলেন,
- শিক্ষা হলো শিশু ও মানুষের দেহ, মন ও আত্মার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ গুণগুলোর সুসামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশ।

⇒ সক্রেটিসের মতে,
- "শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার।"

⇒ দার্শনিক প্লেটোর (Plato) মতে,
- শিক্ষা হচ্ছে সেই শক্তি, যার দ্বারা সঠিক সময়ে আনন্দ ও বেদনা অনুভূতিবোধ জন্মায়।
- এটি শিক্ষার্থীর দেহে-মনে সকল সুন্দর ও অন্তর্নিহিত শক্তিকে বিকশিত করে তোলে।

⇒ রুশো মন্তব্য করেন,
- "আমরা অভাবের মধ্যে অসহায় অবস্থায় জন্মগ্রহণ করি।
- শিক্ষা দ্বারা আমাদের অভাব পূরণ হয়।
- প্রকৃতি, বস্তু ও মানুষের নিকট হতে আমরা শিক্ষা লাভ করি।"

উৎস: মাধ্যমিক শিক্ষা, ব্যাচেলর অব এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৯৯.
তথ্য অধিকার আইন কোনটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ব্যক্তিগত সম্পত্তির সুরক্ষা
  2. জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায়
  3. বাণিজ্যিক লেনদেনে 
  4. পরিবহন ব্যবস্থায়
সঠিক উত্তর:
জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায়
ব্যাখ্যা

তথ্য অধিকার আইন: 
- জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন একটি যুগান্তকারী আইন।
- তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য জাতীয় সংসদে ৩০ মার্চ ২০০৯ তারিখে এ সংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদন করে।
- এরপর ৫ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে তথ্য অধিকার আইন রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভকরে।
- জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্য অধিকার আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- 'তথ্য অধিকার' অর্থ কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে তথ্য প্রাপ্তির অধিকার।
- আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকবে।
- কোনো নাগরিকের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবে।
- তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ যাবতীয় তথ্যের তালিকা এবং সূচি প্রস্তুত করে যাথাযথভাবে সংরক্ষণ করে রাখবে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২০০.
রাজনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. বেকারত্ব থেকে মুক্তি
  2. নির্বাচিত হওয়া
  3. মতামত প্রকাশ
  4. ভোট দেওয়া
সঠিক উত্তর:
বেকারত্ব থেকে মুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেকারত্ব থেকে মুক্তি
ব্যাখ্যা

• সাম্যের বিভিন্ন রূপ:
- মানুষের বিভিন্নমুখী বিকাশ সাধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন। নাগরিক জীবনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য সাম্যকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- 
• সামাজিক সাম্য: 
- ​জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সমাজের সকল সদস্যের সমানভাবে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকে সামাজিক সাম্য বলে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না।

​• রাজনৈতিক সাম্য: 
​- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে। নাগরিকরা রাজনৈতিক সাম্যের কারণে মতামত প্রকাশ, নির্বাচিত হওয়া এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করে।

• অর্থনৈতিক সাম্য: 
- যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত

​• আইনগত সাম্য: 
- ​জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আইনের দৃষ্টিতে সমান মনে করা এবং বিনা অপরাধে গ্রেফতার ও বিনা বিচারে আটক না করার ব্যবস্থাকে আইনগত সাম্য বলে।

​​​উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।