বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৮২ / ৩৫৪ · ৮,১০১৮,২০০ / ৩৫,৭১৩

৮,১০১.
'ব্ধ'- যুক্তবর্ণটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) ধ্‌+ব
  2. খ) ব্‌+দ
  3. গ) দ্‌+ধ
  4. ঘ) ব্‌+ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্‌+ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্‌+ধ
ব্যাখ্যা
কয়েকটি যুক্তবর্ণঃ ব্‌+ধ = ব্ধ (ক্ষুব্ধ), ক্+ষ= ক্ষ (ক্ষুধা), ষ্+ণ= ষ্ণ (উষ্ণ) এবং ঞ্+জ= ঞ্জ (গঞ্জ)। সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণি
৮,১০২.
তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি হলো -
  1. নাম প্রকৃতি
  2. প্রাতিপদিক
  3. ক্রিয়ামূল
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়। একে নামপদ বা নাম-প্রকৃতিও বলা হয়৷
অন্যদিকে ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলা হয়। একে ক্রিয়া-প্রকৃতিও বলা হয়৷
প্রাতিপদিক হলো তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। এবং ধাতু হলো কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৮,১০৩.
ভুল বানান কোনটি?
  1. অত্যাধিক
  2. অনসূয়
  3. শব্দবেধী
  4. শুশ্রূষা
সঠিক উত্তর:
অত্যাধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যাধিক
ব্যাখ্যা
• ভুল বানান - অত্যাধিক
- শুদ্ধ বানান - অত্যধিক।
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: অত্যন্ত বেশি; প্রয়োজনের অতিরিক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,১০৪.
'ভার্যা' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) নারী
  2. খ) কন্যা
  3. গ) বন্ধু
  4. ঘ) বধূ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বধূ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বধূ
ব্যাখ্যা
'ভার্যা' শব্দের অর্থ 'বধূ'। 

বধূ শব্দের সমার্থক শব্দ = স্ত্রী, পত্নী, সহধর্মিণী, অর্ধঙ্গিণী, দার, কলত্র, অঙ্গনা, বনিতা, ভার্যা, জায়া, গৃহিণী, গিন্নি ইত্যাদি। 
⇒ নারী শব্দের সমার্থক শব্দ = স্ত্রীজাতি, বনিতা, ভামিনী, কান্তা, সীমন্তিনী, পতবী, বামা, রামা, অঙ্গনা, ললনা, মহিলা, কামিনী, রমণী। 
⇒ বন্ধু শব্দের সমার্থক শব্দ = সখা, মিত্র, সুহৃদ, বান্ধব। 
⇒ কন্যা  শব্দের সমার্থক শব্দ = নন্দিনী, আত্মজা, দুহিতা, মেয়ে, সুতা, তনয়া, দুলালী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১০৫.
‘Affidavit’ শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) শপথপত্র
  2. খ) নিবন্ধন
  3. গ) ছাড়পত্র
  4. ঘ) সংস্করণ
সঠিক উত্তর:
ক) শপথপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শপথপত্র
ব্যাখ্যা
• ‘Affidavit’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - শপথপত্র।

অন্যদিকে,
‘Passport’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - ছাড়পত্র।
‘Registration’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - নিবন্ধন।
‘Edition’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - সংস্করণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৮,১০৬.
নিম্নের কোনটি জটিল বাক্য?
  1. ক) তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
  2. খ) সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
  3. গ) যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে।
  4. ঘ) আমার দেখাবে আমার সত্য।
সঠিক উত্তর:
গ) যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে।
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ পাওয়া যায় জটিল বাক্যে। 
গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
মূল অর্থ ঠিক রেখে জটিল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ও সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে
খণ্ডবাক্য দুটির মাঝে কমা দিতে হবে।

সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য - আমার দেখাবে আমার সত্য। 
জটিল বাক্য - যা আমার পথ তাই আমাকে পথ দেখাবে।

সরল বাক্য - সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে।  
জটিল বাক্য - যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে। 

সরল বাক্য - দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য - যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,১০৭.
'অপরাহ্ণ' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অপরান্‌হ
  2. অপোরান্নো
  3. অপোরান্‌হো
  4. অপোরান্নও
সঠিক উত্তর:
অপোরান্‌হো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপোরান্‌হো
ব্যাখ্যা

• 'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ- 'অপোরান্‌হো'। 

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সম্মান' এর সঠিক উচ্চারণ — 'শম্‌মান্‌'।
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৮,১০৮.
স্বভাবতই ‘মূর্ধন্য-ষ’ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. চক্ষুষ্মান
  2. সুষমা
  3. উৎকৃষ্ট
  4. দ্বেষ
সঠিক উত্তর:
দ্বেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বেষ
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,১০৯.
‘ক্রোধ' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √কুধ্ +ঘঞ
  2. খ) √ক্রুদ্ +ঘঞ
  3. গ) √ক্রুধ্‌ + ঘঞ্‌
  4. ঘ) √কুদ্ + ঘঞ
সঠিক উত্তর:
গ) √ক্রুধ্‌ + ঘঞ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) √ক্রুধ্‌ + ঘঞ্‌
ব্যাখ্যা
ঘঞ প্রত্যয় সাধিত শব্দঃ
√বস + ঘঞ = বাস,
√যুজ্ + ঘঞ = যোগ,
√খুদ্ + ঘঞ = খেদ,
√ভিদ্ + ঘঞ = ভেদ ইত্যাদি।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
৮,১১০.
'Margin' শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) উপান্ত
  2. খ) রেখা
  3. গ) বন্ধক
  4. ঘ) পৃষ্ঠাঙ্কন
সঠিক উত্তর:
ক) উপান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপান্ত
ব্যাখ্যা
• `Margin' শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে - উপান্ত।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ  পারিভাষিক শব্দ:
Pledge - বন্ধক।
Plaint - পেআতাশ্রপ্য।
Harbour - আর্জি।
Endorsement - পৃষ্ঠঙ্কন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১১১.
'অন্তর্গত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অন্ত + গত
  2. অন্তরঃ + গত
  3. অন্তর + গত
  4. অন্তঃ + গত
সঠিক উত্তর:
অন্তঃ + গত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তঃ + গত
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ- কারের পরস্থিত র্‌-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।

যেমন:
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- অহঃ + অহ= অহরহ,
- পুনঃ + উক্ত= পুনরুক্ত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,১১২.
'জোছনা' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. তৎসম
  3. দেশি
  4. অর্ধ-তৎসম
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-তৎসম
ব্যাখ্যা
• ‘জোছনা’ অর্ধ-তৎসম শব্দ।
- এটি 'জ্যোৎস্না' সংস্কৃত শব্দ থেকে সৃষ্টি।
অর্থ: চাঁদের আলো; কৌমুদী।

• তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ-তৎসম মানে আধাসংস্কৃত। তৎসম শব্দ থেকে বিকৃত উচ্চারণের ফলে অর্ধ-তৎসম শব্দ উৎপন্ন হয়ে থাকে।
- আরো কিছু অর্ধ-তৎসম শব্দ দেওয়া হলো: ‘গিন্নি’ ও ‘কেষ্ট’।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,১১৩.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ?
  1. কুটুস- কুটুস
  2. গুটিশুটি
  3. ঝিকিমিকি
  4. মোটাসোটা
সঠিক উত্তর:
কুটুস- কুটুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুটুস- কুটুস
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,১১৪.
'ডাগর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - 
  1. উৎকৃষ্ট
  2. ম্লান
  3. মূল্যবান
  4. পদস্থ
সঠিক উত্তর:
ম্লান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্লান
ব্যাখ্যা

• 'ডাগর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - ম্লান

উল্লেখ্য,
'ডাগর' শব্দের অর্থ - বড়ো, উৎকৃষ্ট, মূল্যবান, বয়স্ক।
'স্নান' শব্দের অর্থ - ক্ষীণ, নিষ্প্রভ (স্নান আলো)।

অন্যদিকে,
পদস্থ - নিম্নস্থ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,১১৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিজন্ত
  2. আহ্ণিক
  3. শিরপীড়া
  4. চতুষ্কোণ
সঠিক উত্তর:
চতুষ্কোণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুষ্কোণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
চতুষ্কোণ - শুদ্ধ বানান।

• 'চতুষ্কোণ' শব্দের অর্থ:
- চারটি কোণযুক্ত,
- চৈকো।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
• নিজন্ত - ণিজন্ত,
• আহ্ণিক - আহ্নিক,
• শিরপীড়া - শিরঃপীড়া।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
৮,১১৬.
'To get rid of one who has served the purpose.' এর বাংলা অনুবাদ কী হবে?
  1. কারণ বিনা কার্য হয় না।
  2. পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূল বা প্রসূতি।
  3. গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।
  4. কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
সঠিক উত্তর:
কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
ব্যাখ্যা

• 'To get rid of one who has served the purpose.' এর বাংলা অনুবাদ - কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি

অন্যদিকে,
Practice makes a man perfect - গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।
Diligence is the mother of good luck - পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূল বা প্রসূতি।
No smoke without fire - কারণ বিনা কার্য হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,১১৭.
'To kick the bucket'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দবন্ধ-
  1. ক) পটল তোলা
  2. খ) লক্ষভেদী
  3. গ) একগুয়েঁমি
  4. ঘ) হা-ভাতে
সঠিক উত্তর:
ক) পটল তোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পটল তোলা
ব্যাখ্যা
পটল তোলা - die; kick the bucket; croak .
৮,১১৮.
'নিস্তব্ধ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) নিস + স্তব্দ
  2. খ) নি + স্তব্দ
  3. গ) নী + স্তব্দ
  4. ঘ) নি: + স্তব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নি: + স্তব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নি: + স্তব্দ
ব্যাখ্যা
যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি স্ত, স্থ কিংবা স্প পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্গ অবিকৃত থাকে অথবা লোপ পায়।
যেমন -
নিঃ + স্পন্দ = নিঃস্পন্দ কিংবা নিস্পন্দ
দুঃ+ স্থ = দুঃস্থ কিংবা দুস্থ
নিঃ+ স্তব্ধ = নিঃস্তব্ধ কিংবা নিস্তব্ধ ইত্যাদি ।

কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ :
- অহঃ + অহ = অহরহ
- অহঃ + নিশ = অহর্নিশ,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি ।

উৎস : বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১১৯.
ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মে সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. সতীন্দ্র
  2. বহূর্ধ্ব
  3. নদ্যম্বু
  4. উচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
উচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনি যোগে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম-

⇒ ত্ ও দ্-এর পর চ্ ও ছ্ থাকলে ত্ ও দ্ স্থানে চ হয়।
যেমন:
- ত্ + ছ = চ্ছ; উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
- ত্ + চ = চ্চ; সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
- দ্ + চ = চ্চ; বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
- দ্ + ছ = চ্ছ; বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া।

অন্যদিকে,
স্বরসন্ধি যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- ঈ + ই = ঈ; সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।
- উ + ঊ = ঊ; বহু + উর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব।
- ঈ + অ = য্ + অ; নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,১২০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) সৌন্দর্য
  2. খ) ঐক্যমত
  3. গ) স্বাতন্ত্র
  4. ঘ) প্রাতঃরাশ
সঠিক উত্তর:
ক) সৌন্দর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৌন্দর্য
ব্যাখ্যা
ঐকমত্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
প্রকৃতি প্রত্যয় = একমত+য
অর্থ: একমত, মতের অভিন্নতা, মতের মিল বা ঐক্য। 

স্বাতন্ত্র্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
প্রকৃতি প্রত্যয় = স্বাতন্ত্র + য
অর্থ: 
- অন্যের সঙ্গে প্রভেদ
- স্বাধীনতা 

প্রাতরাশ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রাতঃ+অশ্‌+অ 
অর্থ: সকালবেলার প্রথম আহার। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮,১২১.
'কৃষক হলেও তার আছে রাশি রাশি ধন।' -এই বাক্যে 'রাশি রাশি' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. সামান্য
  2. আধিক্য
  3. গভীরতা
  4. তীব্রতা
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
ব্যাখ্যা

• 'কৃষক হলেও তার আছে রাশি রাশি ধান'- এই বাক্যে 'রাশি রাশি' আধিক্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে

-----------------
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন- আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার-
• আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
• সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
• ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮,১২২.
'মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।' - বাক্যে ‘মাঝরাত্রে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার। 
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল। (অধিকরণে সপ্তমী)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১২৩.
কোনটি যোজকের উদাহরণ?
  1. যেরূপ-সেরূপ
  2. দেখে-শুনে
  3. ভেবে-চিন্তে
  4. এধার-ওধার
সঠিক উত্তর:
যেরূপ-সেরূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেরূপ-সেরূপ
ব্যাখ্যা

• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।  

• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, কিংবা, অতএব, যদি, যত-তত, যেমন-তেমন, যেরূপ-সেরূপ, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
দেখে-শুনে, ভেবে-চিন্তে এবং এধার-ওধার ক্রিয়াবিশেষণের দৃষ্টান্ত।


উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,১২৪.
সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) রূপতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণের আলােচ্য বিষয় বিভক্ত হয় অন্তত চারটি ভাগে, যথা – ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব।

ধ্বনিতত্ত্ব: ধ্বনিতত্ত্বের আলােচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলােচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলােচ্য বাদ্যযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব: রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলােচনা করা হয়।
- এই আলােচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া।

বাক্যতত্ত্ব: বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলােচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলােচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলােচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যােগ্যতা, বাক্যের উপাদান লােপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলােচিত হয়ে থাকে।

অর্থতত্ত্ব: ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলােচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলােচনা থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,১২৫.
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। - বাক্যটির ঘটনা অতীতের কিন্তু ক্রিয়া কোন কালের?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. সাধারণ ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। - বাক্যটির ঘটনা অতীতের কিন্তু ক্রিয়া সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের।

ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ: 
 অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। 

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল ভবিষ্যৎ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,১২৬.
কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. কাড়াকাড়ি
  2. প্রণাম
  3. বিদ্যাহীন
  4. উপগ্রহ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাহীন
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা:
- মন  দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা ৷

- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
- যথা:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

অন্যদিকে,
কাড়াকাড়ি - কাড়িতে কাড়িতে যে লড়াই; ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
- গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ - অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,১২৭.
নিচের কোনটি স্ত্রী-প্রত্যয়?
  1. আইত
  2. ইকা
  3. উক
  4. ওয়ালা
সঠিক উত্তর:
ইকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইকা
ব্যাখ্যা

• স্ত্রী-প্রত্যয় বা লিঙ্গ-প্রত্যয়:
বাংলা ভাষায় স্ত্রীবাচক শব্দ বোঝানোর জন্যে পুরুষবাচক শব্দের শেষে এক ধরনের প্রতায় যুক্ত করে তার স্ত্রীলিঙ্গ-রূপ গাঁয় হয়। এগুলোকে বলে স্ত্রী-প্রত্যয়। যেমন মাতামহ মাতামহী। এখানে 'ই' মন্ত্রী-প্রত্যয়। এই প্রত্যয় যদিও শ্রেণির শব্দ-প্রত্যয়ের শ্রেণিতে পড়লেও এদের তদ্ধিত প্রত্যয় না বলে মন্ত্রী-প্রত্যয় বলাই উত্তম। যেমন।
যেমন:
• আ: অনাথ > অনাথা, নবীন > নবীনা ইত্যাদি। 
• আনি : ঠাকুর > ঠাকুরানি, মেথর > মেথরানি, নাপিত > নাপিতানি, চাকর > চাকরানি ইত্যাদি। 
• ই/ঈ: কুমার কুমারী, বেঙ্গমা> বেঙ্গমি ইত্যাদি।
• নি: কামার > কামারনি, জেলে> > জেলেনি, কুমার > কুমারনি, ধোপা  > ধোপানি, মজুর  > মজুরনি ইত্যাদি।
• ইনি: কাঙাল > কাঙালিনি, গোয়ালা > গোয়ালিনি, বাঘ > বাঘিনি ইত্যাদি। 
• অক > ইকা: অধ্যাপক > অধ্যাপিকা, পরিচালক > পরিচালিকা, পাঠক > পাঠিকা ইত্যাদি।
• বান্ >বর্তী: গুণবান্ > গুণবতী, ধনবান্ > ধনবতী, ভাগ্যবান্ > ভাগ্যবতী ইত্যাদি।
• মান্ > মতী: বুদ্ধিমান্ > বুদ্ধিমতী, শক্তিমান > শক্তিমতী, শ্রীমান্ > শ্রীমতী ইত্যাদি।
• উন: ঠাকুর > ঠাকরুন। 
• আইন: ঠাকুর > ঠাকুরাইন।

অন্যদিকে, 
• আইত/-আত:যার আছে বা যে করে অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
 - ডাকু + আইত = ডাকাইত ডাকাত,
- বাজ + আইত =  বাজাইত (বায়েন অর্থে) ইত্যাদি।

• উক: স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নির্দেশক বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
কর্তৃবাচ্যে:
- কম্ + উক = কামুক (কম্ কাম্ (বৃদ্ধি),
- ভূ + উক =  ভাবুক, 
- জাগৃ + উক = জাগরূক।

• আলা/-ওয়ালা:
পেশা বা বৃত্তি বা কাজ অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে। অধিকারী বা মালিক অর্থে বিশেষ্য বা বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- গো + আলা = গোয়ালা,
- ফেরি + ওয়ালা = ফেরিওয়ালা,
বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা বাড়িআলা।
এরূপ-গাড়িওয়ালা, চশমাওয়ালা ইত্যাদি।

ওয়ালা প্রত্যয়ের স্ত্রীবাচক রূপ আলি/উলি/ওয়ালি হয়। যেমন: বাড়িওয়ালি। বাড়িউলি, শাড়িওয়ালি, চশমাওয়ালি ইত্যাদি।

৮,১২৮.
'বিদ্যালয়' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোন সূত্রানুসারে হয়?
  1. ক) অ + অ = আ
  2. খ) অ + আ = আ
  3. গ) আ + অ = আ
  4. ঘ) আ + আ = আ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আ + আ = আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আ + আ = আ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।  
যেমন:
আ + আ = আ  বিদ্যা+আলায় = বিদ্যালয়।
অ + আ = আ  হিম+আলয় = হিমালয়।
আ + অ = আ  যথা+অর্থ = যথার্থ।
অ + অ = আ  নর+অধম = নরাধম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১২৯.
চলিত ভাষায় নিচের কোনটির রূপ সংক্ষিপ্ত হয়?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
ক) অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়। এবং অনুসর্গ অব্য়য় হলেও বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া থেকেসৃষ্টি হওয়ায় চলিত ভাষায় অনুসর্গের রূপ সংক্ষিপ্ত হয়।

চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল
- চলিত ভাসার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৮,১৩০.
'কাজি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. তৎসম
  2. খাটি বাংলা
  3. ফারসি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'কাজি' শব্দটি 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
-  মুসলিম বিবাহের নিবন্ধক।

ফারসি ভাষার কিছু শব্দ হলো:
- ফরমান, কাজিয়া, কাজি, গ্রেফতার, দারোগা, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, লুঙ্গি, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ, গ্রেপ্তারিইত্যাদি

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,১৩১.
'সংশয়' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সম্‌ + শয়
  2. সং + শয়
  3. সম্‌ + অশয়
  4. সন্‌ + শয়
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + শয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + শয়
ব্যাখ্যা

• 'সংশয়' এর সঠিক শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ - সম্‌ + শয়।

সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন:
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + সার = সংসার,
- সম্‌ + বাদ = সংবাদ,
- সম্‌ + যম = সংযম,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,১৩২.
‘জ্বলজ্বল’ ও ‘থকথকে’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. অনুকার
  2. পুনরাবৃত্ত
  3. ধ্বন্যাত্মক
  4. বিভক্তিহীন
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক
ব্যাখ্যা
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের। যথা:
১. অনুকার দ্বিত্ব,
২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,১৩৩.
'ছুরি' শব্দের 'ছ' কোন ধরনের স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন?
  1. ওষ্ঠ
  2. মূর্ধা
  3. তালু
  4. দন্ত
সঠিক উত্তর:
তালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালু
ব্যাখ্যা

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
যথা:
ফল, থলে, ঠাণ্ডা, ছুরি, খেলা শব্দের ফ, থ, ঠ, ছ, খ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৮,১৩৪.
‘যা বলা হয়নি এমন’ এর বাক্য সংকোচন কী?
  1. অনুক্ত
  2. অনাহুত
  3. অনাহত
  4. অধীত
সঠিক উত্তর:
অনুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুক্ত
ব্যাখ্যা

• ’যা বলা হয় নি এমন’ বাক্য সংকোচন - অনুক্ত।

অন্যদিকে,
• ‘যা আহুত (ডাকা) হয় নি’ এর এক কথায় প্রকাশ - অনাহুত।
• ‘যা আঘাত পায় নি’ এর এক কথায় প্রকাশ - অনাহত।
• ‘যা অধ্যয়ন করা হয়েছে এমন’ এক কথায় প্রকাশ - অধীত।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ: 
• ‘যা প্রকাশ করা হয় নি’ - অব্যক্ত। 
• ‘যা পূর্বে ছিল এখন নেই এমন’ - ভূতপূর্ব।
• ‘যার উপস্থিত বুদ্ধি আছে’ - প্রত্যুৎপন্নমতি ৷
• ‘যার কোন কিছু থেকেই ভয় নেই’ - অকুতোভয় ৷
• ‘কথায় প্রকাশ করার অযোগ্য’ - অবক্তব্য।
• ’যা পূর্বে শোনা যায় নি এমন’ - অশ্রুতপূর্ব।
• ‘যা কখনো নষ্ট হয় না এমন’ - অবিনশ্বর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,১৩৫.
’ব্যঞ্জনসন্ধি’ কয়টি নিয়মে সাধিত হয়?
  1. দুইটি
  2. পাঁচটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

• সাধারণত ব্যঞ্জনসন্ধি তিন নিয়মে হয়:
১. স্বর + ব্যঞ্জন;
২. ব্যঞ্জন + স্বর;
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন:
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব।
যেমন:
- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত;
- সৎ + উপায় = সদুপায়।

[স্বরধ্বনিগুলাে ঘােষবৎ হয়। এখানে ঘােষবৎ স্বরধ্বনির (ক, চ, ট, ত, প) প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘােষ ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ঘােষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।]

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন:
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;
• বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক;
• বাক্ + দান = বাগ্দান;
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৮,১৩৬.
'সাচ্চা' এর বিপরীতার্থক শব্দ কী?
  1. দুর্বহ
  2. ভুয়া
  3. নিন্দা
  4. হালকা
সঠিক উত্তর:
ভুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুয়া
ব্যাখ্যা
• 'সাচ্চা' এর বিপরীতার্থক শব্দ - ভুয়া

অন্যদিকে,
- 'সুবহ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - দুর্বহ।
- 'সুরভী' এর বিপরীতার্থক শব্দ - নিন্দা।
- 'হালকা' এর বিপরীতার্থক শব্দ - ভারি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,১৩৭.
কোনটি পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নয়?
  1. আনারস
  2. পেয়ারা
  3. পাউরুটি
  4. তালাশ
সঠিক উত্তর:
তালাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালাশ
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তুর্কি শব্দ হলো- বাবা, উজবুক, কাঁচি, কাবু, কুর্নিশ, কুলি (মজুর), কোর্মা, খাতুন, চকমক, চাকু, তালাশ, তােপ, বন্দুক, বাবুর্চি, বারুদ, বাহাদুর, বেগম, বোঁচকা, মুচলেকা, লাশ, সওগাত ইত্যাদি।
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত পর্তুগিজ শব্দ হলো- বোতাম, আলপিন, পাউরুটি, ইংরেজ, সাবান, পাদ্রি, আলকাতরা, বারান্দা, পেয়ারা, বোতাম, আলমারি, গির্জা, চাবি, আনারস, ইস্পাত, আচার, পিস্তল, গুদাম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,১৩৮.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে প্রাকৃত ভাষার কোন রূপ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে?
  1. ক) মাগধী প্রাকৃত
  2. খ) মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত
  3. গ) গৌড়ি প্রাকৃত
  4. ঘ) অর্ধমাগধী প্রাকৃত
সঠিক উত্তর:
ক) মাগধী প্রাকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাগধী প্রাকৃত
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-বংশের অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আদি আর্য ভাষা। 
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।

-  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে। 

- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহর মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
তাই অধিক গ্রহণযোগ্য হিসাবে গৌড়ি প্রাকৃত বা গৌড়ি অপভ্রংশ অধিক সঠিক উত্তর হবে।
 

উৎস:- বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
৮,১৩৯.
'সে যে উপস্থিত তা সবাই দেখেছে' কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি।
নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন তখন, যেমন- তেমন, বরং তবু, যেইনা, অমনি, যেহেতু সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।
- সে যে উপস্থিত, তা সবাই দেখেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,১৪০.
'উজ্জ্বল' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উদ্‌ + জ্বল
  2. উৎ + জ্বল
  3. উত + জ্জ্বল
  4. উৎ + জ্জ্বল
সঠিক উত্তর:
উৎ + জ্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + জ্বল
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জনসন্ধি:
আগে ৎ বা দ্ এবং পরে চ্ বা ছ্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে চ হয়। এবং ৎ বা দ্‌ -এর পরে জ্‌ বা ঝ্‌ থাকলে ত্ দ্‌ স্থানে জ্‌  হয়।

যেমন:
- সৎ + চরিত্র = সচ্চরিত্র,
- চলৎ + চিত্র= চলচ্চিত্র,
- বিপদ্‌ + চিন্তা = বিপচ্চিন্তা,
- তদ্‌ + চিত্র = তচ্চিত্র,
- উৎ + ছিন্ন = উচ্ছিন্ন,
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ,
- তদ্‌ + ছবি = তচ্ছবি,
- তদ্‌ + ছিদ্র = তচ্ছিদ্র,
- উৎ + জ্বল = উজ্জ্বল,
- যাবৎ + জীবন = যাবজ্জীবন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,১৪১.
‘আনন্দ’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. শ্লেষ
  2. অংশু
  3. পরিতোষ
  4. রসিকতা
সঠিক উত্তর:
পরিতোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিতোষ
ব্যাখ্যা
‘আনন্দ’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- খুশি, আমোদ, মজা, হর্ষ, আহ্লাদ, স্ফূর্তি, সন্তোষ, পরিতোষ, প্রমোদ, উল্লাস, উচ্ছ্বাস।

অন্যদিকে,
‘ঠাট্টা’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- বিদ্রুপ, শ্লেষ, মশকরা, উপহাস, রসিকতা

‘দীপ্তি’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- রশ্মি, শিখা, আলোকচ্ছটা, কর, প্রভা, কিরণ, জ্যোতি, অংশু

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,১৪২.
'দিবারাত্র' অর্থে ব্যবহৃত শব্দ কোনটি?
  1. অহর্নিশ
  2. শবিনা
  3. প্রাতঃকাল
  4. সায়ংকাল
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশ
ব্যাখ্যা
অহর্নিশ , অহর্নিশি  ( অপপ্রয়োগ ) (ক্রিয়া বিশেষণ)
১ দিবারাত্র; নিশিদিন।
২ সতত; সর্বদা (অবগুণ্ঠন ঘুচাইয়া অহর্নিশি স্বজন স্নেহে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) অহন্+নিশা; দ্বন্দ্বসমাস}
উৎস : বাংলা একাডেমি অভিধান।
৮,১৪৩.
যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে কোন বিরামচিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. হাইফেন 
  3. কোলন
  4. ড্যাশ 
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

• বিরাম চিহ্ন:
লেখার সময়ও বাক্যের মধ্যে বিরতি বুঝিয়ে তা দেখানোর জন্য কিছু সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, যেগুলোকেই বিরতি চিহ্ন, যতি চিহ্ন, ছেদ চিহ্ন, বিরাম চিহ্ন বা ভাষা চিহ্ন বলে।

সেমিকোলন ব্যবহৃত হয় যেসব ক্ষেত্রে-
১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে।

২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-'বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ-সস্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে।'

৩. দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-আগে পাঠ্যবই পড়; পরে গল্প-উপন্যাস।

8. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- এবারের নবনিতেচিত কার্যনির্বাহী পরিষদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন : আকবরউদ্দিন আহমদ, সভাপতি; আফসার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক; চিত্ত বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক; এন্ড্রু গোমেজ, সংস্কৃতি সম্পাদক; ইত্যাদি।

৫. সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন-সে ফেল করেছে; সেজন্যে সে মুখ দেখায় না। মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই পাশ করবে।

৬. যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।

৭. ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার পেয়েছে; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

​উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,১৪৪.
‘পাথরে পাঁচ কিল’ বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বিবাদের বিষয়
  2. নিষ্ফল কাজ
  3. অনড় সংকল্প
  4. অদৃষ্ট সুপ্রসন্ন
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অদৃষ্ট সুপ্রসন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদৃষ্ট সুপ্রসন্ন
ব্যাখ্যা
• ‘পাথরে পাঁচ কিল’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অদৃষ্ট সুপ্রসন্ন।

অন্যদিকে,
• 'নারকের ঢেঁকি' অর্থ - বিবাদের বিষয়।
• ‘ভস্মে ঘি ঢালা’ অর্থ - নিষ্ফল কাজ।
• ‘ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা’ অর্থ - অনড় সংকল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৪৫.
'সন্দেশ' - কোন শ্রেণীর শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়ি
  3. মৌলিক
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,১৪৬.
তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কদবেল
  2. অপচয়
  3. অনাচার
  4. কমজোর
সঠিক উত্তর:
অপচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপচয়
ব্যাখ্যা
• বিপরীত অর্থে ‘অপ’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অপচয়।

অন্যদিকে,
• নিন্দিত অর্থে ‘কদ্’ খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - কদবেল।
• ছাড়া অর্থে ‘অনা’ খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অনাচার।
• স্বল্প অর্থে ‘কম্’ ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- কমজোর।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,১৪৭.
তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. দোলনা
  2. চাষি
  3. জানানি
  4. বহতা
সঠিক উত্তর:
চাষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাষি
ব্যাখ্যা

• তদ্ধিতান্ত শব্দ: 
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

• তদ্ধিতান্ত শব্দের গঠন:
- চাষি = চাষ + ই।
- ছাত্রী = ছাত্র + ঈ।
- নারী = নর + ঈ।

অন্যদিকে, 
- বহ্ + তা = বহতা (কৃৎ প্রত্যয়)।
- জান্‌ + আনি = জানানি , দুল্ + অনা = দোলনা - কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৮,১৪৮.
নিচের কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. সম্পাদকীয়
  2. গাছ
  3. গোলাপ
  4. পাখি
সঠিক উত্তর:
সম্পাদকীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পাদকীয়
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - সম্পাদকীয়।

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি [২০২২ সংস্করণ]।
৮,১৪৯.
বিকারজাত শব্দযোগে দ্বিরুক্তির উদাহরণ হলো -
  1. ক) হাড়িপাতিল
  2. খ) নিভূনিভু
  3. গ) বকাঝকা
  4. ঘ) মাঠেঘাটে
সঠিক উত্তর:
গ) বকাঝকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বকাঝকা
ব্যাখ্যা

শব্দের দ্বিরুক্তি:

ক) একই শব্দ দুবার ব্যবহৃত হয় এবং শব্দ দুটি অবিকৃত থাকে। এরকম- নিভু নিভু, ভাসা ভাসা 
খ) একই শব্দের সঙ্গে সমার্থক আর একটি শব্দ যােগ করে ব্যবহৃত হয়। এরকম- ধন-দৌলত, হাঁড়িপাতিল, খেলা-ধুলা, ঢাকঢোল, রাস্তাঘাট, লালন-পালন, বলা-কওয়া, খোঁজ-খবর ইত্যাদি।
গ) দ্বিরুক্ত শব্দ জোড়ার দ্বিতীয় শব্দটির আংশিক পরিবর্তন অর্থাৎ বিকার (পরিবর্তনে জাত) জাত। এরকম- মিটমাট, ফিটফাট, বকা-ঝকা, ডাকা-ডাকি, বই-টই, তােড়-জোড়, গল্প-সল্প, রকম-সকম ইত্যাদি।


উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,১৫০.
'আহ্বান'-এর প্রকৃত উচ্চারণ কোনটি?
  1. আহবান
  2. আহ্ বান
  3. আওভান
  4. আব্হান
সঠিক উত্তর:
আওভান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওভান
ব্যাখ্যা
• 'আহ্বান' এর প্রকৃত উচ্চারণ - আও্ভা‌ন
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- নিমন্ত্রণ, আমন্ত্রণ,
- সম্বোধন, ডাক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,১৫১.
বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ ____যুক্ত।
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) বিভক্তি
  3. গ) পদ
  4. ঘ) অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
খ) বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিভক্তি
ব্যাখ্যা
শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে। বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত। যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ। পদগুলো প্রধানত দুই প্রকারঃ সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৮,১৫২.
নিচের কোনটি ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞার উদাহরণ?
  1. আদেশ করুন জাহাপনা।
  2. তোমরা কাজ করো।
  3. চেষ্টা করো, সবই বুঝতে পারবে।
  4. মিথ্যা কথা বলো না।
সঠিক উত্তর:
চেষ্টা করো, সবই বুঝতে পারবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চেষ্টা করো, সবই বুঝতে পারবে।
ব্যাখ্যা

• ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা:
ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার জন্য আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝালে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা হয়।
যেমন:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
সম্ভাবনায়: চেষ্টা করো, সবই বুঝতে পারবে
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

অন্যদিকে, 
বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- তোমরা কাজ করো।
- রোহান লিখুক।
- মিথ্যা কথা বলো না।
- অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
- আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
- আদেশ করুন জাহাপনা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৮,১৫৩.
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্য কয় প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায় : 

- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য

সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন -
আমার মা চাকরি করেন ।

অক্রিয় বাক্য :
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে ।
যেমন -
তিনি বাংলাদশের নাগরিক

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায় ।
যেমন -
‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি (নবম - দশম শ্রেণি)
৮,১৫৪.
'ধীরে যে গমন করে' এক কথায় বলে-
  1. ধীমান্‌
  2. মন্দগামী
  3. ধারাবাহিক
  4. ধীগামী
সঠিক উত্তর:
মন্দগামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্দগামী
ব্যাখ্যা

• 'ধীরে যে গমন করে' এক কথায় বলে- ধীরগামী, মন্দগামী। 

উল্লেখ্য, 'ধীগামী' বানানটি অশুদ্ধ। 

এরূপ কিছু এক কথায় প্রকাশ হলো-
• ধার করতে ইচ্ছুক- ঋণপ্রার্থী। 
• ধ্যান করেন যিনি - ধ্যানী। 
• ধী আছে যার- ধীমান্‌।
• ধোঁয়ার ন্যায় বর্ণযুক্ত- ধোঁয়াটে। 
• ধুলায় পরিণত- ধূলিসাৎ।  
• ধ্যানে যিনি মগ্ন- ধ্যান। 
• ধারা ধরে যা চলে - ধারাবাহিক।
• ধুলার মতো যার রং- পাংশুল। 
• ধী-শক্তির অধিকারী-  ধীমান্‌।
• ধনের দেবতা— কুবের।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,১৫৫.
‘দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য' – বাক্যটিকে জটিল বাক্যে পরিণত করলে হবে -
  1. ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  2. খ) যে দুর্জন সেই পরিত্যাজ্য।
  3. গ) দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য।
  4. ঘ) দুর্জন লোককে সকলে পরিত্যাগ করে।
সঠিক উত্তর:
ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের জটিল রূপ হচ্ছে যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৮,১৫৬.
'এই বাড়ি হতাে যদি রাজার বাড়ি।'- কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
  2. খ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  3. গ) পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  4. ঘ) পুরাঘটিত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
খ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতে প্রায়ই ঘটতাে এরূপ অর্থে ক্রিয়ার যে, কাল হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে ইতাম, ইত, ইতেন, ইতে যুক্ত হয়।
যেমন- প্রতিদিন সকালে সে গান গাইত।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
১. কামনা প্রকাশে: আজ যদি মারিয়া আসতাে, কেমন মজা হতাে।
২. সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি আসতে, তবে ভালােই হতাে।
৩. অসম্ভব কল্পনায়: এই বাড়ি হতাে যদি রাজার বাড়ি

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৫৭.
'Percept' শব্দের পরিভাষা কোনটি?
  1. উৎকর্ষ 
  2. প্রত্যক্ষজ
  3. প্রত্যক্ষ রূপ 
  4. প্রত্যক্ষ 
সঠিক উত্তর:
প্রত্যক্ষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যক্ষ 
ব্যাখ্যা
'Percept' শব্দের পরিভাষা  - প্রত্যক্ষ 
'Perception' শব্দের পরিভাষা - প্রত্যক্ষ রূপ 
'Perceptual' শব্দের পরিভাষা-প্রত্যক্ষজ 
'Perfection' শব্দের পরিভাষা- উৎকর্ষ 

[উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা]
৮,১৫৮.
‘সত্যি সেলুকাস, কী বিচিত্র এ দেশ!' - কোন বাক্য?
  1. ক) নির্দেশাত্মক বাক
  2. খ) বিস্ময়বোধক বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) জটিল বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) বিস্ময়বোধক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিস্ময়বোধক বাক্য
ব্যাখ্যা
• যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন:
- তাজ্জব ব্যাপার!
- কী সাংঘাতিক ব্যাপার!
- সত্যি সেলুকাস, কী বিচিত্র এ দেশ!

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৫৯.
কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) গৃহস্থ
  2. খ) ছা-পোষা
  3. গ) উপকূল
  4. ঘ) প্রগতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রগতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রগতি
ব্যাখ্যা
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয় তাকে প্রাদি সমাস বলে। পরি(চর্তুদিক) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ। প্রবচন, অনুতাপ, প্রভাত, প্রগতি ( প্রাদি সমাস)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই
৮,১৬০.
'কারক' কোথায় আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. রূপতত্ত্বে
  3. অর্থতত্ত্বে
  4. বাক্যতত্ত্বে
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

 • ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. ধ্বনিতত্ত্ব,
২. রূপতত্ত্ব,
৩. বাক্যতত্ত্ব ও
৪. অর্থতত্ত্ব।

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- 'বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন' বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮,১৬১.
বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ পঞ্চাশটি।
- এর মধ্যে পূর্ণমাত্রা বর্ণ ৩২ টি, অর্ধমাত্রার ৮টি এবং মাত্রাহীন ১০টি।
- সুতরাং মাত্রাযুক্ত বর্ণ ৩২ + ৮ = ৪০ টি।
- মাত্রাহীন ১০ টি বর্ণের মধ্যে ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি এবং স্বরবর্ণ ৪টি।
- ১১টি স্বরবর্ণ থেকে ৪টি মাত্রাহীন স্বরবর্ণ বাদ দিলে ৭টি মাত্রাযুক্ত স্বরবর্ণ থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৮ সংস্করণ)।

৮,১৬২.
‘শ্মশ্রু’ শব্দের অর্থ কী?
  1. পত্নীর মা
  2. শান্তি
  3. দাড়িগোঁফ
  4. হাতি
  5. শ্বশুরের পুত্র
সঠিক উত্তর:
দাড়িগোঁফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাড়িগোঁফ
ব্যাখ্যা
• ‘শ্মশ্রু’ শব্দের অর্থ - দাড়িগোঁফ, (বাংলায়) দাঁড়ি।

অন্যদিকে,
- ‘ শ্বশ্রূ’ শব্দের অর্থ - শাশুড়ি, পতি বা পত্নীর মা।
- 'শ্বশুর্য' শব্দের অর্থ - শ্বশুরের পুত্র।
- 'শম' শব্দের অর্থ - শান্তি।
- কুঞ্জর' শব্দের অর্থ - হাতি, করী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,১৬৩.
‘Lyric' শব্দের প্রতিশব্দ-
  1. ক) সংগীত
  2. খ) সুর
  3. গ) গান
  4. ঘ) গীত কবিতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গীত কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গীত কবিতা
ব্যাখ্যা
• 'Lyric’ শব্দের প্রতিশব্দ - গীতিকবিতা।

অন্যদিকে,
Tune এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ -  সুর।
Song এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - গান।
Music এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - সংগীত।

[উৎস: বাংলা একাডেমি ,Oxford dictionary. ]
৮,১৬৪.
কোনটি অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. তাই
  2. অধিকন্তু
  3. আলবত 
  4. কিংবা
সঠিক উত্তর:
আলবত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবত 
ব্যাখ্যা

অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

অন্যদিকে,
সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - কিংবা, অধিকন্তু, এবং, তাই

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

৮,১৬৫.
'Book binder' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. গ্রন্থাগারিক
  2. হিসাব রক্ষক
  3. দপ্তরি
  4. গ্রন্থস্বত্ব
সঠিক উত্তর:
দপ্তরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দপ্তরি
ব্যাখ্যা
• 'Book binder' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - দপ্তরি। 

অন্যদিকে, 
'Book Keeper' অর্থ - হিসাব রক্ষক। 
'Librarian' অর্থ - গ্রন্থাগারিক। 
'Copyright' অর্থ - গ্রন্থস্বত্ব। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,১৬৬.
'ডামাডোল' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. প্রচারণা
  2. বিপর্যস্ত অবস্থা
  3. গোলযোগ
  4. অদৃশ্য হওয়া
সঠিক উত্তর:
গোলযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলযোগ
ব্যাখ্যা
• 'ডামাডোল' বাগ্‌ধারার অর্থ - গোলযোগ

অন্যদিকে,
ঢাকঢোল পেটানো - প্রচারণা।
ডুব মারা - অদৃশ্য হওয়া।
ঝড়ো কাক - বিপর্যস্ত অবস্থা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,১৬৭.
‘হায়রে আমড়া কেবল আঁটি আর চামড়া’ - প্রবাদটির অর্থ কী?
  1. অন্তঃসারশূন্য অবস্থা
  2. অন্তসারশূন্য অবস্থা
  3. শূন্য সারশূন্য অবস্থা
  4. অন্ত সারশূন্য অবস্থা
সঠিক উত্তর:
অন্তঃসারশূন্য অবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তঃসারশূন্য অবস্থা
ব্যাখ্যা
• ‘হায়রে আমড়া কেবল আঁটি আর চামড়া’ প্রবাদটির অর্থ - অন্তঃসারশূন্য অবস্থা

আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রবাদ- প্রবচন:
- 'ধর্মের কল বাতাসে নাড়ে’ প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = গোপন অন্যায়ের আকস্মিক প্রকাশ।
- 'লঘু পাপে গুরু দণ্ড' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = অপরাধের তুলনায় অধিক সাজা।
- 'গরিবের ঘোড়া রোগ' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = অক্ষমের অতিরিক্ত প্রত্যাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৬৮.
'জাত' অর্থে কোনটিতে 'আই' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) বড়াই
  2. খ) কানাই
  3. গ) পাবনাই
  4. ঘ) মিঠাই
সঠিক উত্তর:
গ) পাবনাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাবনাই
ব্যাখ্যা
আই প্রত্যয়:
ক) ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে:
বড় + আই = বড়াই
চড়া + আই = চড়াই

খ) আদরার্থে:
কানু + আই = কানাই,
নিম + আই = নিমাই

গ) সমগুণবাচক বিশেষ্য গঠনে:
মিঠা + আই = মিঠাই

ঘ) জাত অর্থে:
ঢাকা + আই = ঢাকাই ( জামদানি)  
পাবনা + আই = পাবনাই (শাড়ি)

ঙ) বিশেষণ গঠনে:
চোর + আই = চোরাই (মাল)
মোগল + আই = মোগলাই (পরোটা)

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ]
 
৮,১৬৯.
নিচের কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. ভাজি
  2. বিবাহিত
  3. দৈনিক
  4. পাগলামি
সঠিক উত্তর:
ভাজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাজি
ব্যাখ্যা

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলে।
যেমন:
- দুল্+অনা= দোলনা,
- কৃ+তব্য= কর্তব্য,

'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।
- ভাজ + ই= ভাজি,
এখানে 'ই' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'ভাজি' হলো কৃদন্ত শব্দ।

অন্যদিকে,
- 'পাগলামি = পাগল+ আমি' তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ।
- 'দিন + ইক = দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।
- বিবাহ (বিশেষ্য) + ইত (তদ্ধিত প্রত্যয়) = বিবাহিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১ ও ২০১৯)।

৮,১৭০.
সমাসের প্রয়ােজনীয়তা কোথায় বিদ্যমান নয়?
  1. ক) ভাষার ছন্দ গঠনে
  2. খ) ভাষার গুণ সংযােজন
  3. গ) ভাষার অলঙ্করণ
  4. ঘ) পরিভাষা রচনায়
সঠিক উত্তর:
ক) ভাষার ছন্দ গঠনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাষার ছন্দ গঠনে
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে রূপতত্ত্ব অংশে সমাস আলােচিত হয়েছে।
- শব্দগঠনের তিনটি প্রক্রিয়া সংযােজন, বিয়ােজন ও অর্থপরিবর্তন।
- এ তিনটির মধ্যে সমাস হলাে সংযােজন প্রক্রিয়ার অন্তর্গত।
- সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাস শব্দের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য হলাে একত্রে অবস্থান বা সংক্ষেপণ।
- সুতরাং ভাষায় সমাসের প্রধান কাজ হলাে শব্দ ও বাক্য সংক্ষিপ্তকরণ।
- সমাস ভাষাকে শ্রুতিমধুর করে।
- ভাষার অলঙ্করণ, গুণ সংযােজন ও পরিভাষা রচনার ক্ষেত্রে সমাসের প্রয়ােজনীয়তা বিদ্যমান।
- তাই বলা যায়, বাংলাভাষাকে সংক্ষিপ্ত, শ্রুতিমধুর ও সাবলীল করার জন্য সমাসের ভূমিকা অপরিসীম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৭১.
'তিরোধান' শব্দটির বিপরীত অর্থবোধক শব্দ কোনটি?
  1. ক) তিরস্কার
  2. খ) নির্দয়
  3. গ) আবির্ভাব
  4. ঘ) বার্ধক্য
সঠিক উত্তর:
গ) আবির্ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবির্ভাব
ব্যাখ্যা
- তিরোধান: আবির্ভাব 

অন্যান্য বিপরীতার্থক শব্দ: 
-নির্দয়: দয়ালু 
- বার্ধক্য: তারুণ্য 
- তিরস্কার: পুরস্কার 

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৮,১৭২.
"হাউটা" শব্দে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. অন্তর্হতি
  2. অভিশ্রুতি
  3. অপিনিহিতি
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,১৭৩.
করণ কারকে সপ্তমা বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে কোন বাক্যে?
  1. ক) ছাত্ররা বল খেলে।
  2. খ) মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।
  3. গ) চেষ্টায় সব হয়।
  4. ঘ) লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
সঠিক উত্তর:
গ) চেষ্টায় সব হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চেষ্টায় সব হয়।
ব্যাখ্যা

বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক৷

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

ক. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : ছাত্ররা বল খেলে।

খ. তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি : লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
দিয়া বিভক্তি : মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

গ. সপ্তমী বা এ বিভক্তি : ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
তে বিভক্তি : লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
য় বিভক্তি : চেষ্টায় সব হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৮,১৭৪.
‘কাঁচামিঠা’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. কাঁচা ও মিঠা
  2. যা কাঁচা, তাই মিঠা
  3. কাঁচা যে মিঠা
  4. কাঁচার মতো মিঠা
সঠিক উত্তর:
যা কাঁচা, তাই মিঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যা কাঁচা, তাই মিঠা
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- রক্ত যে কমল = রক্তকমল।
- কাঁচা অথচ মিঠা/ যা কাঁচা, তাই মিঠা = কাঁচামিঠা। 
- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,১৭৫.
দ্বৈপায়ন শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. দ্বীপ + আয়ন
  2. দ্বীপ + অয়ন
  3. দ্বিপ + অনট
  4. দ্বীপ + অনট
সঠিক উত্তর:
দ্বীপ + আয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বীপ + আয়ন
ব্যাখ্যা

'আয়ন' সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ক) বংশধর অর্থে: বাৎস্য + আয়ন = বাৎস্যায়ন, বদর + আয়ন = বাদরায়ণ। 
খ) এই স্থানে জাত অর্থে: দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন।

-  দ্বৈপায়ন শব্দটি মূলত প্রত্যয় সাধিত শব্দ যার প্রকৃতি প্রত্যয়-  দ্বীপ + আয়ন।

এটি সন্ধি সাধিত শব্দ নয়। ৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় এ প্রশ্নটি আসার পর থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এসে থাকে। এটি পরীক্ষায় আসলে দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন উত্তর করবেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৮,১৭৬.
‘চোখের বালি’ এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) অসুখ
  2. খ) চোখের কাজল
  3. গ) শত্রু
  4. ঘ) বন্ধু
সঠিক উত্তর:
গ) শত্রু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শত্রু
ব্যাখ্যা
চোখের বালি বাগ্‌ধারাটির অর্থ - শত্রু 
উদাহরন - আমি তো তার চোখের বালি, আমি তার কাছে যাব না।

চোখের পর্দা - চক্ষুলজ্জা 
চক্ষের পুতলি - আদরের ধন 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,১৭৭.
ইতর প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে কী যুক্ত হয়?
  1. রাশি
  2. দাম
  3. মালা
  4. গুলো
সঠিক উত্তর:
গুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুলো
ব্যাখ্যা
(ক) অপ্রাণী বা ইতর প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে 'রা' যুক্ত হয় না; গুলি, গুলো যুক্ত হয়।
যেমন: পাথরগুলো, গরুগুলি।

(খ) অপ্রাণিবাচক শব্দের উত্তর 'কে' বা 'রে' বিভক্তি হয় না, শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা: কলম দাও।

(গ) স্বরাস্ত শব্দের উত্তর 'এ' বিভক্তির রূপ হয় – 'য়' বা 'য়ে'। 'এ' স্থানে 'তে' বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন – মা+এ = মায়ে, ঘোড়া + এ = ঘোড়ায়, পানি + তে = পানিতে।

(ঘ) অ-কারান্ত ও ব্যঞ্জনান্ত শব্দের উত্তর প্রায়ই 'রা' স্থানে 'এরা' হয় এবং ষষ্ঠী বিভক্তির 'র' স্থলে 'এর' যুক্ত হয়।
যেমন – লোক + রা = লোকেরা। বিদ্বান (ব্যঞ্জনান্ত) রা= বিদ্বানেরা। মানুষ এর = মানুষের।

অন্যদিকে,
কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো-
আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।
যেমন: গ্রন্থাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,১৭৮.
নিচের কোনটি মধ্য স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বপ্ন > স্বপন
  2. বেঞ্চ > বেঞ্চি
  3. সত্য > সইত্য
  4. স্কুল > ইস্কুল
সঠিক উত্তর:
স্বপ্ন > স্বপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বপ্ন > স্বপন
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে, 
- 'স্কুল > ইস্কুল' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'বেঞ্চ > বেঞ্চি' হচ্ছে অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ।
- 'সত্য > সইত্য' অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,১৭৯.
'উর্বর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পতিত
  2. অনূর্বর
  3. ঊষর
  4. অনাবাদি
সঠিক উত্তর:
ঊষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊষর
ব্যাখ্যা
• 'উর্বর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ- ঊষর।

• 'উর্বর' শব্দের অর্থ: প্রচুর উৎপাদন শক্তি সম্পন্ন (উর্বর জমি)।
• 'ঊষর' শব্দের অর্থ: অনুর্বর, মরুময়।

অন্যদিক, 
'পতিত' অর্থ-  চ্যুত, ভ্রষ্ট, স্থলিত, নিম্নগত, অনাবাদি (পতিত জমি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৮০.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি অশুদ্ধ?
  1. পৎ + হতি = পদ্ধতি
  2. বিপদ+ জাল = বিপজ্জাল
  3. উৎ + হার = উদ্ধার
  4. উৎ + ডীন = উড্ডীন
সঠিক উত্তর:
পৎ + হতি = পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৎ + হতি = পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
• পৎ + হতি = পদ্ধতি সন্ধিবিচ্ছেদটি অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদটি হবে পদ্‌ + হতি = পদ্ধতি।

• ত্ ও দ্‌ এর পর হ থাকলে ত্ ও দ্‌ এর স্থলে দ এবং হ এর স্থলে ধ্‌ হয়।
যেমন-
- ত্‌+হ = দ্‌+ধ= দ্ধ; উৎ + হার = উদ্ধার।
- ত্‌+হ = স্+ধ = দ্ধ;  পদ্‌ + হতি = পদ্ধতি।
এরূপ – উদ্ধৃত, উদ্ধত, তদ্ধিত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বিপদ+ জাল = বিপজ্জাল সঠিক কারণ- ত্ ও দ্‌-এরপর জ্ ও ঝ থাকলে ত্ ও দ্‌-এর স্থানে জ্ হয়।
- উৎ + ডীন = উড্ডীন সঠিক কারণ- ত্ ও দ্‌-এর পর ড্ থাকলে ত্ ও দ্‌ এর স্থানে ড্ হয়।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,১৮১.
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে, বর্ণানানুক্রমে নিচের কোন শব্দটি সবার আগে হবে?
  1. মন্তর
  2. মন্দ্র
  3. মন্বন্তর
  4. মণ্ড
সঠিক উত্তর:
মণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণ্ড
ব্যাখ্যা
বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ, 
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড,  ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ। 
---------------
• সে অনুসারে সঠিক শব্দক্রম হবে,
মণ্ড → মন্তর → মন্দ্র → মন্বন্তর । 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,১৮২.
ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন কোনটি?
  1. বর্ণ
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. কার
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন - বর্ণ। 
• ভাষার ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি। 
• ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি। 
• ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য। 
• ভাষার প্রাণ - অর্থবোধক বাক্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৮৩.
‘রক্ত’ শব্দের সঠিক প্রত্যয় কোনটি?
  1. রনজ + ত
  2. রক + ত
  3. রন্‌জ + ত
  4. রক + ক্ত
সঠিক উত্তর:
রন্‌জ + ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রন্‌জ + ত
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = √রন্‌জ্‌ + ত
- অর্থ: মানুষ বা মেরুদণ্ডী প্রাণীর ধমনি ও শিরায় প্রবাহিত লাল রঙের তরল পদার্থবিশেষ যা হৃদ্‌যন্ত্র থেকে দেহের টিসুতে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং টিসু থেকে নিষ্কাশিত কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে নিয়ে আসে; শোণিত; রুধির।

• 'রক্ত' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় '√রন্‌জ্‌ + ত' হলেও কাছাকাছি উত্তর হিসেবে 'রন্‌জ + ত' গ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,১৮৪.
'৩৪তম অনুষ্ঠান।' - এখানে '৩৪তম' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক্রমবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. গুণবাচক
  4. পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বােঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে তৃতীয় ও ৩৪তম পূরণবাচক বিশেষণ

অন্যদিকে,
গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বােঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- আধা কেজি চাল, অনেক লােক – এখানে আধা কেজি’ ও ‘অনেক পরিমাণবাচক বিশেষণ।

ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বােঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এক টাকা, আট দিন – এখানে ‘এক’ ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,১৮৫.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি?
  1. ক) ভেউ ভেউ
  2. খ) মুখে মুখে
  3. গ) ভয়ে ভয়ে
  4. ঘ) আকাশে বাতাসে
সঠিক উত্তর:
ক) ভেউ ভেউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভেউ ভেউ
ব্যাখ্যা
কোন কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
এখানে ‘ভেউ ভেউ; শব্দটি দ্বারা মানুষের ধ্বনির অনুকার (মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি) বুঝাতে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির ব্যবহার হয়েছে।
[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
৮,১৮৬.
কুহেলী
  1. কুয়াশা
  2. রাত্রি
  3. ঢেউ
  4. চাদর
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কুয়াশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুয়াশা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান: কুহেলি।
- কুহেলী বানানটি প্রচলিত অশুদ্ধ।
- কুহেলি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- কুয়াশা,
- নীহার,
- কুজ্ঝটিকা,
- নভোরজ ইত্যাদি।
৮,১৮৭.
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ কোনটি?
  1. অজ
  2. অনু
  3. আড়
  4. কদ
সঠিক উত্তর:
অনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনু
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।

যথা:
-  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা উপসর্গ ২১টি।

যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,১৮৮.
ঐতিহ্য এর প্রতিশব্দ হল:
  1. বিভূতি
  2. বিরাগ
  3. নিপাত
  4. বিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
বিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্রুতি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ঐতিহ্য' এর প্রতিশব্দ: 

- পরস্পরাগত কথা; পুরুষানুক্রমিক ধারা;
- ঐতিহাসিক কথা।
- কিংবদন্তী; বিশ্রুতি; লোক প্রসিদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,১৮৯.
'প্রফুল্ল' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) উৎফুল্ল
  2. খ) প্রসন্ন
  3. গ) ম্লান
  4. ঘ) নির্লিপ্ত
সঠিক উত্তর:
গ) ম্লান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ম্লান
ব্যাখ্যা
বিপরীতার্থক শব্দ - 
→ প্রফুল্ল - ম্লান/বিষন্ন
→ প্রসন্ন - বিষন্ন/অপ্রসন্ন 
→ প্রশংসা - নিন্দা/ কুৎসা 
→ পূজক/পূজারি - পূজিত 
→ বিশেষ - সামান্য/নির্বিশেষ
→ বরণ - বিসর্জন/বিদায়
→ নির্মল -পঙ্কিল/সমল
→ ন্যূন - অধিক/অন্যূন 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৮,১৯০.
কোনটি 'অপিনিহিতি'-র সঠিক উদাহরণ?
  1. আজি > আইজ
  2. মুলা > মুলো
  3. দেশি > দিশি
  4. শুনিয়া > শুনে
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসঙ্গতির উদাহরণ - দেশি > দিশি, মুলা > মুলো।
অভিশ্রুতির উদাহরণ - শুনিয়া > শুনে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,১৯১.
'কপাল' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. তনয়া
  2. ললাট
  3. তনুজা
  4. আত্মজা
সঠিক উত্তর:
ললাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ললাট
ব্যাখ্যা
• 'কপাল' শব্দের সমার্থক শব্দ:
ললাট, ভাল, অদৃষ্ট, ভাগ্য, নিয়তি, বরাত, নসিব, অলিক।

অন্যদিকে, 
'কন্যা / মেয়ে' এর সমার্থক শব্দ:
আত্মজা, সুতা, মেয়ে, কন্যা, নন্দিনী, তনয়া, দুহিতা, আত্মসম্ভবা, পুত্রিকা, দারিকা, তনুজা, মাইয়া, দুলালি, পুত্রী, ঝি, বেটি, ঝিউড়ি, ঝিয়ারি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৮,১৯২.
'সন্ত্রাস' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সম্‌ + রাস
  2. সন্ + ত্রাস
  3. সৎ + ত্রাস
  4. সম্ + ত্রাস
সঠিক উত্তর:
সম্ + ত্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + ত্রাস
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যেকোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।
যেমন:
- কিম্ + চিৎ = কিঞ্চিৎ, 
- সম্ + ত্রাস = সন্ত্রাস,
- কিম্ + তু = কিন্তু, 
- সম্ + ধি = সন্ধি, 
- সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ, 
- সম্ + ন্যাস = সন্ন্যাস, 
- সম্ + প্রীতি = সম্প্রীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৮,১৯৩.
'তোমার দেখা পেলাম না।' - কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. করণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• 'তোমার দেখা পেলাম না।' - কর্মকারক

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: তাকে বল।
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না

(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,১৯৪.
'দোষী' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দুষ্ + ই = দোষী
  2. √দোষ্ + ইন = দোষী
  3. √দুষ্ + ইন = দোষী
  4. √দোষ্ + ই = দোষী
সঠিক উত্তর:
√দুষ্ + ইন = দোষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√দুষ্ + ইন = দোষী
ব্যাখ্যা
• ইন্’ কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়) :
যেমন:
- √শ্রম্ + ইন = শ্রমী;
- √দুষ্ + ইন = দোষী;
- মন্ত্র্ + ইন = মন্ত্রী;
- যুজ্ + ইন = যোগী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,১৯৫.
কোনটি অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ?
  1. ঞ্‌ + গ = ঙ্গ
  2. ঙ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ত্‌ + থ = ত্থ
  4. ভ্‌ + র = ভ্র
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + গ = ঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + গ = ঙ্গ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ  - ঞ্‌ + গ = ঙ্গ
- এর শুদ্ধরূপ - ঙ্‌ + গ = ঙ্গ।

অন্যদিকে,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক।
উপরিউক্ত যুক্তবর্ণগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,১৯৬.
"কেঁচে গন্ডুস" বাগধারাটির সঠিক অর্থ কোনটি?
  1. বিলম্বে আরম্ভ
  2. কাটাকাটি করা
  3. গন্ডগোল পাকানো
  4. পুনরায় আরম্ভ
সঠিক উত্তর:
পুনরায় আরম্ভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরায় আরম্ভ
ব্যাখ্যা

• 'কেঁচে গন্ডুস' বাগধারার অর্থ 'পুনরায় আরম্ভ'

কিছু গুরত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- একাদশে বৃহস্পতি: সোভাগ্যের বিষয়।
- ইঁদুর কপালে’ অর্থ: মন্দভাগ্য।
- কেউকাটা: তুচ্ছ বা নগণ্য ব্যক্তি।
- গাছপাথর: হিসাব নিকাশ।
- অদৃষ্টের পরিহাস: হতভাগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,১৯৭.
অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. চারি > চাইর
  2. বাক্য > বাইক্য
  3. আজি > আজ
  4. সাধু > সাউধ
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ
ব্যাখ্যা

• অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়- আজি > আজ। 

----------------------
• অপিনিহিতি:

পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই -কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য

অন্যদিকে,
স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ:
দ্রুত উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের শুরুতে বা মাঝে বা শেষে স্বরধ্বনি লোপ ঘটলে তাকে স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ বলে।
স্বরলোপ তিন প্রকার।
যথা :
ক. আদি স্বরলোপ: অলাবু > লাবু > লাউ।
খ. মধ্যস্বর লোপ: অগুরু > অগ্রু; সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ: আজি > আজ; চারি > চার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,১৯৮.
"যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেবো।"- বাক্যটি কোন যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. সাধারণ যোজক
  2. বিকল্প যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে,
• সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন -
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৮,১৯৯.
'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।' - বাক্যটির নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল না।
  2. আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া উঠিল।
  3. আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া ছাড়িল না।
  4. আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।
সঠিক উত্তর:
আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
- 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,২০০.
অভাব অর্থে 'বি' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. বিজ্ঞান
  2. বিশৃঙ্খল
  3. বিধৃত
  4. বিক্ষেপ
সঠিক উত্তর:
বিশৃঙ্খল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশৃঙ্খল
ব্যাখ্যা
বি উপসর্গ:
বিশেষ রূপে:
- বিধৃত
- বিশুদ্ধ
- বিজ্ঞান
- বিবস্ত্র
- বিশুষ্ক

অভাব:
- বিনিদ্র
- বিবর্ণ
- বিশৃঙ্খল
- বিফল

গতি:
 - বিচরণ
 - বিক্ষেপ

অপ্রকৃতস্থ: বিকার

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]