বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা / ৩৫৪ · ৬০১৭০০ / ৩৫,৭১৩

৬০১.
'মেদিনী' শব্দটির সমার্থক শব্দ -
  1. ক) মায়াবতী
  2. খ) কন্যা
  3. গ) অবনী
  4. ঘ) পরাধি
সঠিক উত্তর:
গ) অবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অবনী
ব্যাখ্যা
অবনী শব্দটির সমার্থক শব্দ হলো ক্ষিতি, অখিল, ভুবন, পৃথিবী, ধরা, ধরণী, ভূ, মেদিনী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৬০২.
“ঐ চাকরীর আশা ছেড়েছি”- কোন অর্থ প্রকাশ পায়?
  1. ক) মুক্ত করা
  2. খ) ত্যাগ করা
  3. গ) বিরাগ
  4. ঘ) হতাশা
সঠিক উত্তর:
ঘ) হতাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হতাশা
ব্যাখ্যা
“ঐ চাকরীর আশা ছেড়েছি”- এই বাক্যটি একজন তখনই বলে যখন সে চাকরির আশা ছেড়ে দেয়। অর্থাৎ, হতাশা প্রকাশ পেয়েছে এই বাক্যে।
৬০৩.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
  2. যুক্তি খণ্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি।
  3. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  4. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: যুক্তি খণ্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি।
শুদ্ধ বাক্য: যুক্তি খণ্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬০৪.
'বাঞ্ছা' শব্দের অর্থ কী?
  1. বিষাদ
  2. ইচ্ছা
  3. উপহাস
  4. কর্জ
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• বাঞ্ছা:
- ইচ্ছা,
- আকাঙ্ক্ষা, 
- অভিলাষ, 
- সাধ।

অন্যদিকে,
- বিষাদ - দুঃখ; বিষণতা।
- উপহাস - বিদ্রুপ, ঠাট্টা, পরিহাস, কৌতুক।
- কর্জ - ঋণ, ধার, হাওলাত।

উৎস: বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬০৫.
“দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।”- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি? 
  1. দুর্জন লোককে পরিত্যাগ করা উচিত।
  2. দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাগ করতে হবে। 
  3. যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।
  4. দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য।
সঠিক উত্তর:
যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
- সরল বাক্য সেই বাক্য, যার মধ্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
- যেমন- সে ভাত খেয়ে কলেজে গেল।
- অনেক সময় সরল বাক্যে ক্রিয়া উপস্থিত না থেকেও অর্থ প্রকাশ সম্ভব।
- যেমন- আমরা চার বন্ধু।
- এছাড়া, একাধিক ক্রিয়া থাকলেও বাক্যটি সরল থাকতে পারে।
- যেমন- সে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে হাঁটতে পার্কে গেল।
- মূলত, সরল বাক্যে একটি প্রধান ক্রিয়া বা সমাপিকা ক্রিয়া থাকলেই এটি সরল বাক্য হিসেবে গণ্য হয়।

জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীনে এক বা একাধিক অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলা হয়।
- এসব খণ্ডবাক্য সাধারণত সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজকের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে।
- যেমন— যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক ব্যবহার করে প্রধান ও আশ্রিত খণ্ডবাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- “দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য"- সরল বাক্যটির জটিল রূপ- যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।

- ব্যাখ্যা:
- সরল বাক্য “দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য”-কে জটিল বাক্যে রূপান্তর করার সময় মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত রাখতে হয়।

- সূত্র অনুযায়ী:
• সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার:
- সরল বাক্যের “দুর্জন লোক” অংশটি যে দিয়ে শুরু করে আশ্রিত খণ্ডবাক্যে রূপান্তর করা হয়েছে → “যে লোক দুর্জন”।

• খণ্ডবাক্য নির্ধারণ:
- আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে লোক দুর্জন;
- প্রধান খণ্ডবাক্য: সে পরিত্যাজ্য। 

• কমা ব্যবহার:
- আশ্রিত খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসিয়ে প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

- ফলত, “যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।” বাক্যটি একটি জটিল বাক্য, যেখানে একটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য এবং একটি প্রধান খণ্ডবাক্য আছে, এবং অর্থ মূল বাক্যের মতই রক্ষা করা হয়েছে।
------------------- 
অন্যদিকে,
• দুর্জন লোককে পরিত্যাগ করা উচিত-
- এটি একটি সরল বাক্য, কোনো আশ্রিত খণ্ডবাক্য নেই।

• দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য-
- এটি ও একটি সরল বাক্য, শুধু মূল ভাব প্রকাশ করেছে, আশ্রিত খণ্ডবাক্য নেই।

• দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাগ করতে হবে-
- এটি একটি সরল বাক্য, যার মধ্যে কোনো আশ্রিত বা প্রধান খণ্ডবাক্য নেই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৬০৬.
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে বক্তব্য জোরালো করে তাকে কী বলে?
  1. বিভক্তি
  2. প্রত্যয়
  3. বলক
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
বলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলক
ব্যাখ্যা
• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। ‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। 
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। ‘সাংবাদিক’ শব্দের ‘ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পুর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি’ অংশ একটি উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬০৭.
কোনটি সঠিক সমার্থক শব্দযুগল?
  1. ক) তনয় - তনুজা
  2. খ) কুহক - আলেয়া
  3. গ) মকর - মৃগ
  4. ঘ) ধেনু - তুরগ
সঠিক উত্তর:
খ) কুহক - আলেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুহক - আলেয়া
ব্যাখ্যা
সঠিক সমার্থক শব্দযুগল:
- কুহক = আলেয়া
- তনয় = পুত্র 
- কন্যা = তনুজা
- মকর = কুমির
- মৃগ = হরিণ
- ধেনু = গরু 
- ঘোড়া = তুরগ 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৬০৮.
'মন্ত্রিপরিষদ' শব্দের উৎস কী?
  1. তৎসম
  2. বাংলা
  3. আরবি
  4. পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
• 'মন্ত্রিপরিষদ'
- শব্দটি সংস্কৃত/তৎসম ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: মন্ত্রি + পরিষদ।
এর অর্থ:
- মন্ত্রীসভা।

কিছু তৎসম শব্দ:
- চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, মনুষ্য, হস্ত, পদ, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, বৃক্ষ, স্বামী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬০৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. অভ্যন্তরীণ
  2. পসারিণী
  3. অগ্রহায়ণ
  4. রূপায়ন
সঠিক উত্তর:
রূপায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপায়ন
ব্যাখ্যা

- রূপায়ন শব্দের বানান ভুল। এর সঠিক বানান হবে রূপায়ণ।
- ঋ, র, ষ এর পরে স্বরধ্বনি, হ, য়, ব, ং, ক-বর্গীয় এবং প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে পরবর্তী দন্ত ন মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন- অভ্যন্তরীণ, পসারিণী, অগ্রহায়ণ, রূপায়ণ, প্রণয়ন, কৃপণ, গৃহিণী, নিরীক্ষণ, ক্ষণজীবী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬১০.
কোনটি অভ্যন্তর যতি?
  1. বিস্ময়চিহ্ন
  2. দাঁড়ি
  3. প্রশ্নচিহ্ন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?), 
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!), 
৪. দুই দাঁড়ি (।।)। 

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,), 
৬. সেমিকোলন (;), 
৭. হাইফেন (-), 
৮. ড্যাশ (_), 
৯. কোলন (:), 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-), 
১১. বিন্দু (.)। 

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('), 
১৩. ত্রিবিন্দু (...), 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."), 
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})), 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)। 
৬১১.
জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. বাহিনী
  2. পরিবার
  3. জনতা
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য, সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমষ্টি-বিশেষ্য: 
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৬১২.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ?
  1. হাতেপায়ে
  2. তেলেভাজা
  3. কানেখাটো
  4. পথেপ্রবাসে
সঠিক উত্তর:
তেলেভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
তেলেভাজা অলুক তৎপুরুষ সমাস।

• অলুক তৎপুরুষ সমাস
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে তৎপুরুষ সমাস হলে তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। 'অলুক' শব্দের অর্থ অ-লোপ, অর্থাৎ লোপ না হওয়া।
যেমন-
- সোনার তরী = সোনার তরী,
- চিনির বলদ = চিনির বলদ,
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
- খেলার মাঠ = খেলার মাঠ ইত্যাদি অলুক তৎপুরুষ সমাস।

অন্যদিকে, 
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সুস্ত না হয়ে সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে তাকে অনুক হন্দু বলে।
- যেমন:
কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে,
দুধে ও ভাতে = দুধেতাতে ইত্যাদি।

এরূপ- আদায়-কাঁচকলায়, আগেপিছে, কাগজে-কলমে, ধীরেসুস্থে, ক্ষেতেখামারে, দলেদলে, দুঃখেসুখে, হাতেপায়ে, হাতেনাতে, যাকেতাকে, ঝোপেঝাড়ে, মনেপ্রাণে, জলেডাঙায়, পথেপ্রবাসে, ইত্যাদি অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

• অলুক বহুব্রীহি সমাস
- যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। যেমন-
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬১৩.
নিচের কোন বানানে স্বভাবতই মূর্ধণ্য (ণ) হয়?
  1. ক) হরিণ
  2. খ) কারণ
  3. গ) অর্পণ
  4. ঘ) বাণিজ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাণিজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়। যেমনঃ বাণিজ্য, লবণ, মণ, বাণ, পণ্য, গুণ, পণ, কল্যাণ ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬১৪.
নিচের কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ?
  1. অনুধাবন
  2. আরক্তিম
  3. দর্শনমাত্র
  4. আপাদমস্তক
সঠিক উত্তর:
দর্শনমাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দর্শনমাত্র
ব্যাখ্যা
• নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন :
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

 অন্যদিকে, 
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ - প্রাদি সমাস।
- ঈষৎ রক্তিম = আরক্তিম - অব্যয়ীভাব সমাস।
- পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক - অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬১৫.
'স্বামী' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. স্ব + আমি
  2. স্ব + আমিন্‌
  3. স্ব + আমী
  4. স্ব + আমীন্‌
সঠিক উত্তর:
স্ব + আমিন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ব + আমিন্‌
ব্যাখ্যা
• 'স্বামী' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: স্ব + আমিন্‌
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬১৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কোষ্ঠকাঠিন্য
  2. উর্ধ্ব
  3. জাজ্বল্যমান
  4. পিপীলিকা
সঠিক উত্তর:
উর্ধ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্ধ্ব
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অশুদ্ধ বানান- উর্ধ্ব।
• শুদ্ধ বানান- ঊর্ধ্ব।

• 'ঊর্ধ্ব':
- এর সঠিক উচ্চারণ- উরধো।
- অর্থ:
১ ওপরের দিক, উপরিভাগ।
২ উচ্চতা (ঊর্ধ্বে তিন হাত)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬১৭.
'নৈসর্গিক' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পারত্রিক
  2. প্রাকৃতিক
  3. কৃত্রিম
  4. ঐহলৌকিক
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম
ব্যাখ্যা

• 'নৈসর্গিক' অর্থ- প্রাকৃতিক, নিসর্গজাত।

• 'নৈসর্গিক' এর বিপরীতার্থক শব্দ - কৃত্রিম।

অন্যদিকে, 
• 'ঐহিক' এর বিপরীতার্থক শব্দ - পারত্রিক। 
• 'ঐহলৌকিক' অর্থ- ইহলোকবিষয়ক, ইহলোকের।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬১৮.
‘পঞ্চায়েত’ শব্দটি কোন পদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) বস্তুবাচক বিশেষ্য
  2. খ) ভাববাচক বিশেষ্য
  3. গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) গুণবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে পদে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি বা প্রাণির সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৯.
'হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে' বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি?
  1. দ্বিতীয়া বিভক্তি
  2. পঞ্চমী বিভক্তি
  3. তৃতীয়া বিভক্তি
  4. চতুর্থী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
• প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
• দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
• তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
• চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬২০.
‘কফিন’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফরাসি
  2. ইংরেজি
  3. ইতালিয়ান
  4. লাতিন
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
ব্যাখ্যা
• ইংরেজি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
এফিডেভিট, এপ্রিল, এমডি, এয়ারপোর্ট, কনফারেন্স, কফিন, কমিটি, ক্যাবিন, ডজন, ডলফিন, তার্পিন, অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, সিল্ক।

অন্যদিকে,
• ফরাসি ভাষার শব্দ:
এস্টেট, কার্নিশ, কার্টিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি

• ইতালিয়ান ভাষার শব্দ:
ওলকপি, ডিসকাউন্ট, ম্যাজেন্টা, সনেট ইত্যাদি।

• লাতিন ভাষার শব্দ:
ইউনিয়ন, ইউনিফর্ম, ইউনিভার্সিটি, ইলেকট্রন, ডিকটেশন, ডিকশনারি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬২১.
'জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো।' - বাক্যে 'কর্ম' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো।' - বাক্যে 'জন্ম' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

• কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।
- জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো।

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কী / কাদের/ কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।
- 'জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো।' - এখানে 'কী হোক ভালো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'কর্ম'। তাই 'কর্ম' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২২.
গুণবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে কোন বাক্যে?
  1. কবেকার কথা।
  2. নিপুণ কারিগর।
  3. প্রথমা কন্যা।
  4. সবুজ মাঠ।
সঠিক উত্তর:
নিপুণ কারিগর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপুণ কারিগর।
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – ছেলেটি চালাক/ চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।
এভাবেই, 'নিপুণ কারিগর' এ কারিগর এর গুণ 'নিপুণ' এর মাধ্যমে গুণবাচক বিশেষণ প্রকাশ পেয়েছে।

অন্যদিকে,
- সর্বনামজাত বিশেষণ - কবেকার কথা বলছ? 
- ক্রমবাচক বিশেষণ - প্রথমা কন্যা।
- রূপবাচক বিশেষণ - সবুজ মাঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৬২৩.
'মিলন' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. গ্রহণ
  2. সন্ধি
  3. বিযুক্ত
  4. বিরহ
সঠিক উত্তর:
বিরহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরহ
ব্যাখ্যা
'মিলন' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিরহ।

উল্লেখ্য,
'মিলন' শব্দের অর্থ - সংযোগ, বিচ্ছেদের অবসান।
'বিরহ' শব্দের অর্থ - প্রিয়জনের সঙ্গে বিচ্ছেদ।

অন্যদিকে,
- 'যুক্ত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিযুক্ত।
- 'সন্ধি' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিচ্ছেদ।
- 'গ্রহণ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বর্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৬২৪.
'খাবারদাবার' কোন শব্দ দ্বিত্ব?
  1. ধ্বন্যাত্মক শব্দ
  2. অনুকার শব্দ
  3. শব্দদ্বৈত
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অনুকার শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার শব্দ
ব্যাখ্যা
অনুকার শব্দ:
- শব্দের অনুকরণে বা বিকারে যেসব শব্দের সৃষ্টি হয়, তাকে অনুকার শব্দ বলে। অনুকার শব্দ ধ্বন্যাত্মক শব্দেরই রকমফের মাত্র।

যেমন:
আবোলতাবোল: নোমান সকাল থেকে আবোলতাবোল বকে চলেছে।
কাপড়চোপড়: মা বাইরে যাবার জন্য কাপড়চোপড় পরে তৈরি হয়ে বসে আছেন।
খাবারদাবার: এইমাত্র খাবারদাবার শেষ হয়েছে।
গোছগাছ: জিনিসপত্র গোছগাছ করে নাও, এক্ষুনি বেরুব।
চোটপাট: আমাকে চোটপাট করে কোনো লাভ হবে না।
জড়সড়: ভয়ে ছেলেটা জড়সড় হয়ে আছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬২৫.
A cat has nine lives প্রবাদটির সঠিক বঙ্গানুনাদ-
  1. ক) বিড়ালের কঠিন প্রাণ
  2. খ) বিড়ালের নয়টি জীবন
  3. গ) কৈ মাছের প্রাণ
  4. ঘ) শক্ত লোকের পাল্লা
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) কৈ মাছের প্রাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৈ মাছের প্রাণ
ব্যাখ্যা
A cat has nine lives অর্থ হলো কৈ মাছের প্রাণ। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিঙ্গাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৬২৬.
'অনুসন্ধিৎসা' শব্দের উচ্চারণ কোনটি?
  1. ওনুশন্‌ধিত্শা‌
  2. ওনুশোন্‌ধিত্শা‌
  3. ওনুশোন্‌ধিত্সা
  4. ওনুসোন্‌ধিতশা
সঠিক উত্তর:
ওনুশোন্‌ধিত্শা‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওনুশোন্‌ধিত্শা‌
ব্যাখ্যা
• বানান: অনুসন্ধিৎসা।
- সঠিক উচ্চারণ: ওনুশোন্‌ধিত্শা‌
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: অনু + সম্‌ + √ধা + সন্‌ + আ।
- অর্থ: অনুসন্ধান করার ইচ্ছা।

 অভিসম্বন্ধ: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬২৭.
'মৌমাছি' এর প্রতিশব্দ - 
  1. মধুপ
  2. অলি
  3. শিলীমুখ
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা
• 'মৌমাছি' এর প্রতিশব্দ:
- মধুকর, অলি, মধুপ, শিলীমুখ প্রভৃতি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬২৮.
'ক্ষমার যোগ্য' এর এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. ক্ষমার্থ 
  2. ক্ষমার্য
  3. ক্ষমার্হ 
  4. ক্ষমাপ্রদ 
সঠিক উত্তর:
ক্ষমার্হ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষমার্হ 
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষমার যোগ্য' এর এক কথায় প্রকাশ 'ক্ষমার্হ'।  

• আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- ক্ষমা করার ইচ্ছা এক কথায় প্রকাশ - তিতিক্ষা।
- ক্ষমা করতে ইচ্ছুক এক কথায় প্রকাশ - তিতিক্ষু।
- গোপন করার ইচ্ছা এক কথায় প্রকাশ - জুগুপ্সা।
- 'বলার যোগ্য নয় যা' এর এক কথায় প্রকাশ-  অকথ্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬২৯.
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের অংশ নয় কোনটি?
  1. ফলা
  2. বর্ণসংক্ষেপ
  3. দ্বিস্বর
  4. রেফ
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বর
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপকে অনুবর্ণ বলে। অনুবর্ণের অংশ নয়- দ্বিস্বর।
- দ্বিস্বর হচ্ছে যৌগিক স্বরধ্বনি চিহ্ন। বাংলা বর্ণমালায় ‘ঐ’ ও ‘ঔ’ যৌগিক স্বরধ্বনি।

-----------------------
• অনুবর্ণ:

ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা:
ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। যেমন - ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র- ফলা, ল-ফলা।

রেফ:
র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ:
যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়, এগুলোকে বর্ণসংক্ষেপ বলে। যেমন ভ, দ, ন, ম, ষ, স ইত্যাদি। এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৩০.
'আগুন' শব্দের সমার্থক শব্দ - 
  1. পবন
  2. বৈশ্বানর
  3. দিবাকর
  4. অনিল
সঠিক উত্তর:
বৈশ্বানর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈশ্বানর
ব্যাখ্যা

'আগুন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অনল, বহ্নি, হুতাশন, পাবক, বৈশ্বানর, দহন, সর্বভুক, শিখা, হোমাগ্নি, কৃশানু।

অন্যদিকে,
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।

'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সবিতা, আদিত্য, দিনমণি, রবি, অরুণ, দিবাকর, বিভাবসু, মিহির, মার্তণ্ড, ভানু, বিভাকর, অর্ক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬৩১.
"চ, ছ, জ, ঝ" কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. তালু স্পৃষ্ট
  2. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  3. মূর্ধা স্পষ্ট
  4. কণ্ঠ স্পৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
তালু স্পৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালু স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬৩২.
অন্তর্হতি'র উদাহরণ কোনটি?
  1. মাছুয়া > মেছাে
  2. আলাহিদা > আলাদা
  3. বড়দাদা > বড়দা
  4. বউদিদি> বউদি
সঠিক উত্তর:
আলাহিদা > আলাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাহিদা > আলাদা
ব্যাখ্যা
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলা,
- আলাহিদা > আলাদা

অন্যদিকে,
- অভিশ্রুতির উদাহরণ - মাছুয়া > মেছাে।
- ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ - বউদিদি> বউদি,  বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩৩.
'তুচ্ছ' - অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আঠারো আনা
  2. আকাট মূর্খ
  3. আদাড়ের হাঁড়ি
  4. আক্কেল গুড়ুম
সঠিক উত্তর:
আদাড়ের হাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদাড়ের হাঁড়ি
ব্যাখ্যা

• 'আদাড়ের হাঁড়ি' বাগ্‌ধারার অর্থ - তুচ্ছ / অনাদৃত ব্যক্তি।

অন্যদিকে,
আঠারো আনা - বাড়াবাড়ি / সম্ভাবনা।
আক্কেল গুড়ুম - হতবুদ্ধি / স্তম্ভিত।
আকাট মূর্খ - নিরেট বোকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৩৪.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. শুধুমাত্র সেই পারবে এ কাজটি করতে।
  2. অন্যায়ের প্রতিফল দুনিবার্য।
  3. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
  4. দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য- পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর সুদ্ধরূপ হলো-
• অশুদ্ধ : শুধুমাত্র সেই পারবে এ কাজটি করতে।
• শুদ্ধ: শুধু সেই পারবে এ কাজটি করতে।

• অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুনিবার্য।
• শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।

• অশুদ্ধ: দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
• শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৩৫.
'অঘাচণ্ডী' শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বোকা
  2. নিন্দিত
  3. মদ
  4. অশুভ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোকা
ব্যাখ্যা

• 'অঘাচণ্ডী' শব্দে "অঘা" উপসর্গটি 'বোকা' অর্থে ব্যবহৃত হয়। 'অঘা' একটি বাংলা উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা-
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৬৩৬.
কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ জনিত ভুল নাই?
  1. ক) অশ্রুজল
  2. খ) ভাষাভাষী
  3. গ) ফলশ্রুতি
  4. ঘ) জন্মবার্ষিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) জন্মবার্ষিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জন্মবার্ষিক
ব্যাখ্যা

- ভাষা ব্যবহারকারী অর্থে ভাষীই যথার্থ ও যথেষ্ট। ভাষাভাষী প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- ফলশ্রুতি শব্দটির আভিধানিক অর্থ পুণ্যকর্ম করলে যে ফল হয় তার বিবরণ বা তা শুনা। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজে যে অর্থে ফলশ্রুতি লেখা হচ্ছে তা ভুল। তার বদলে ফল, ফলাফল, পরিণতি ব্যবহার শুদ্ধ।
- অশ্রুজল চোখের জল অর্থে ব্যবহার অশুদ্ধ। অশ্রু অর্থই চোখের জল।
- জন্মবার্ষিক শব্দই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে স্ত্রী প্রত্যয় যোগ বহুল প্রচলিত হলেও অশুদ্ধ।

৬৩৭.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস নয়?
  1. ক) কমলমুখ
  2. খ) বিষাদ-সিন্ধু
  3. গ) তুষারশুভ্র
  4. ঘ) মনমাঝি
সঠিক উত্তর:
গ) তুষারশুভ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তুষারশুভ্র
ব্যাখ্যা
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। কমল রূপ মুখ = কমলমুখ, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ এগুলো রূপক কর্মধারয় সমাস। তুষারশুভ্র রুপক কর্মধারয় সমাস নয়। এটি উপমান কর্মধারয় সমাস যার ব্যাসবাক্যঃ তুষারের ন্যায় শুভ্র।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬৩৮.
প্রমিত বানানের নিয়ম অনুসারে, রেফ-এর পরে তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে—
  1. সর্বদা
  2. কখনোই না
  3. বিশেষ ক্ষেত্রে
  4. ঐচ্ছিকভাবে
সঠিক উত্তর:
কখনোই না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কখনোই না
ব্যাখ্যা

• বানানের নিয়ম:
রেফ এর পর তৎসম, অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- কার্য্যালয় হবে না, সঠিক বানান হবে কার্যালয়।
- নির্দ্দিষ্ট হবে না, সঠিক বানান নির্দিষ্ট।
- ধর্ম্মসভা বানানটি ভুল, সঠিক বানান হবে ধর্মসভা।
- তেমনি ভাবে পর্ব্বত হবে না , সঠিক বানান হবে পর্বত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬৩৯.
'অমর্ত্য' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) পার্থিব
  2. খ) পাতাল
  3. গ) আকাশ
  4. ঘ) স্বর্গীয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্গীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্গীয়
ব্যাখ্যা
অমর্ত্য (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: 
- পার্থিব নয় এমন, স্বর্গীয়। 
- অমর, অবিনাশী। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬৪০.
বেগম রোকেয়া ছিলেন এক ________ নারী, যিনি নারীশিক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন।
  1. মহিয়সী
  2. মহিয়ষী
  3. মহীয়সী
  4. মহিয়শী
সঠিক উত্তর:
মহীয়সী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহীয়সী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - মহীয়সী।
- মহীয়ান শব্দের নারীবাচক শব্দ হচ্ছে মহীয়সী।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
 যার অর্থ:
- অতি মহান,
- মহত্তর।

সুতরাং, 
বাক্যটি হবে- বেগম রোকেয়া ছিলেন এক মহীয়সী নারী, যিনি নারীশিক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৪১.
'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. অলসতা
  2. একতা
  3. কৃপণতা
  4. দৈন্যতা
সঠিক উত্তর:
দৈন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈন্যতা
ব্যাখ্যা

• 'দৈন্যতা' শব্দে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: দৈন্য, দীনতা।

বানানের নিয়ম:
'তা' 'ত্ব' এবং 'য' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' 'ত্ব' বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ 'দীন' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। - ফলে 'দৈন্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

অন্যদিকে, 
- অলসতা, 
- একতা, 
- কৃপণতা। 
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৪২.
”শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে” এখানে পাঠে শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে সপ্তমী
  2. অপাদানে পঞ্চমী
  3. কর্মে পঞ্চমী
  4. অধিকরণে পঞ্চমী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
- তিলে তৈল আছে। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।)
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন। (অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি)
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি)

এরূপ-
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।)
[বাক্যেকে কোনো বিষয় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পাঠে'। সুতরাং 'পাঠে' অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৪৩.
'শিরোদেশ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শির + দেশ
  2. শিরঃ + দেশ
  3. শিরোঃ + দেশ
  4. শিরো + দেশ
সঠিক উত্তর:
শিরঃ + দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরঃ + দেশ
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধিের নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/ঘ, জাঝা, ড/ঢ, দ/ধান, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য/র্ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।

সন্ধিজাত শব্দগঠন:
- অধঃ + গতি = অধোগতি, 
- মনঃ + গত = মনোগত,
- বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ = বয়োজ্যেষ্ঠ,  
- সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত, 
- ত্রয়ঃ + দশ = ত্রয়োদশ, 
- শিরঃ + দেশ = শিরোদেশ, 
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,  
- শিরঃ + ধার্য = শিরোধার্য, 
- মনঃ + নয়ন = মনোনয়ন, 
- মনঃ + নীত = মনোনীত, 
- অধঃ + বদন = অধোবদন, 
- সরঃ + বর = সরোবর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৪৪.
'A beggar can never be bankrupt' এর সঠিক অনুবাদ কোনটি?
  1. মাথা নেই, আবার মাথা ব্যথা।
  2. নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা।
  3. নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা।
  4. ন্যাংটার নেই বাটপারের ভয়।
সঠিক উত্তর:
মাথা নেই, আবার মাথা ব্যথা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথা নেই, আবার মাথা ব্যথা।
ব্যাখ্যা
• 'A beggar can never be bankrupt' এর সঠিক অনুবাদ - মাথা নেই, আবার মাথা ব্যথা

অন্যদিকে,
- ন্যাংটার নেই বাটপারের ভয় = A beggar may sing before a pickpocket.
- নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা = A bad workman quarrels with his tools.
- নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা = Cut off one's nose to spite one's face.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৫.
উপসর্গযোগে গঠিত কোন শব্দটি 'সদৃশ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপকূল
  2. উপবন
  3. উপকণ্ঠ
  4. উপসাগর
সঠিক উত্তর:
উপবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপবন
ব্যাখ্যা

'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৪৬.
কোন বাংলা পদের সাথে সন্ধি হয় না? 
  1. অব্যয়
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সন্ধি: 
- 'সন্ধি' শব্দের অর্থ মিলন। 
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি। 
যেমন- আশা + অতীত = আশাতীত। 

সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য: 
- সন্ধির মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়। 
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়। 
- উচ্চারণ সহজতর হয়। 

সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয়: 
- বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না। 
- খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না। 
- খাটি বাংলা শব্দের সাথে তৎসম শব্দের সন্ধি করা যায় না, এতে গুরুচণ্ডালী দোষ হয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
৬৪৭.
”অনুকার দ্বিত্বের” উদাহরণ কোনটি?
  1. জ্বলজ্বল
  2. ঝমঝম
  3. ঝাঁকে ঝাঁকে
  4. আড়াআড়ি
সঠিক উত্তর:
আড়াআড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আড়াআড়ি
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায়দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন: এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল।

অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে,
- যেমন
- আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি।

অন্যদিকে,
• ধ্বন্যাত্মকদ্বিত্ব এর উদাহরণ=  জ্বলজ্বল, ঝমঝম,।
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব এর উদাহরণ= ,ঝাঁকে ঝাঁকে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৬৪৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. শিরচ্ছেদ
  2. দারিদ্র্যতা 
  3. পাতিলেবু
  4. সমিচীন 
সঠিক উত্তর:
পাতিলেবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতিলেবু
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- পাতিলেবু। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ। 
- এটি একটি বাংলা শব্দ। 
অর্থ:
- সবুজ হলুদাভ

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপগুলো হলো-  
• শিরশ্ছেদ (বিশেষ্য):
অর্থ: দেহ থেকে মাথা ছিন্নকরণ।

• দরিদ্রতা (বিশেষ্য):
অর্থ: অসচ্ছলতা, নির্ধনতা ইত্যাদি।
'দারিদ্র্য' শব্দটি বিশেষ্য পদ তাই এর সাথে 'তা' প্রত্যয় যোগ করা সঠিক নয়। কারণ পূর্বেই দারিদ্র্য (দারিদ্র্য = দরিদ্র + য) শব্দটির সাথে একটি প্রত্যয় যোগ করা হয়েছে।

• সমীচীন (বিশেষণ):
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ: সংগত, উপযুক্ত, উত্তম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬৪৯.
নিচের কোনটি নিত্য নরবাচক শব্দ?
  1. ছেলে
  2. নেতা
  3. কৃতদার
  4. বাবা
সঠিক উত্তর:
কৃতদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃতদার
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- নেতা - নেত্রী;
- ছেলে - মেয়ে;
- বাবা - মা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৫০.
কোন শব্দে "এ" বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ ঘটেছে?
  1. কেন
  2. যেন
  3. খেলা
  4. কেটলি
সঠিক উত্তর:
কেটলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেটলি
ব্যাখ্যা
এ-এর দু রকম উচ্চারণ হয়:

স্বাভাবিক (এ-এর মতো):
- একটি (এক্‌টি ), কেক (কেক্‌), কেটলি (কেট্লি), মেয়ে (মেয়ে), বেগুন (বেগুন্‌), মেষ (মেশ্)।

সংবৃত বা পরিবর্তিত (অ্যা-এর মতো):
এক (অ্যাক্), খেলা (খ্যালা), বেলা (ব্যালা), কেন (ক্যানো), যেন (য্যানো)।

বর্ণের উচ্চারণ:
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মূল ধ্বনিকে প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ৫০টি মূল বর্ণ। এর মধ্যে অধিকাংশ বর্ণের উচ্চারণ মূল ধ্বনির অনুরূপ।
- কয়েকটি বর্ণের একাধিক উচ্চারণ রয়েছে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক বর্ণের উচ্চারণ অভিন্ন।
- ধ্বনিগুলাে দিয়ে শব্দ তৈরি হওয়ার সময়ে পাশের ধ্বনির প্রভাবে বর্ণের উচ্চারণ অনেক সময়ে বদলে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬৫১.
বিষমীভবন কোনটি?
  1. দুটি স্বরধ্বনি একই রকম হওয়া
  2. স্বরধ্বনির প্রভাবে পরিবর্তন
  3. দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হওয়া
  4. দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল, 
লাল > নাল, 
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলো:
• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
যেমন- 
জন্ম > জম্ম,
কাঁদনা > কান্না,
স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন,
– দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৫২.
'বাঁধন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √বন্ধ + অন
  2. √বাঁধ + অনা​
  3. √বাঁধ + অন
  4. √বাঁধ + ইক
সঠিক উত্তর:
√বাঁধ + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√বাঁধ + অন
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ:

(অন):
ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন:-
- √নাচ্ + অন = নাচন
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন
- √বাঁধ + অন = বাঁধন
- √চল্ + অন = চলন

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৫৩.
কোন শব্দজোড় বিপরীতার্থক নয়?
  1. বহির্ভূত-অন্তর্ভূত
  2. নশ্বর- শ্বাশত
  3. হৃষ্ট-পুষ্ট
  4. প্রকৃষ্ট-নিকৃষ্ট
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হৃষ্ট-পুষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃষ্ট-পুষ্ট
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• হৃষ্ট - পুষ্ট বিপরীতার্থক শব্দজোড় নয়।
• 'হৃষ্ট' অর্থ:
১। প্রফুল্ল, পুলকিত।
২। রোমাঞ্চিত।

• 'পুষ্ট' অর্থ:
১।প্রোষিত, প্রতিপালিত (পরপুষ্ট)।
২। বর্ধিত।
৩। নধর, স্থূল।

অন্যদিকে,
- বহির্ভূত-অন্তর্ভূত, নশ্বর- শ্বাশত, প্রকৃষ্ট-নিকৃষ্ট বিপরীতার্থক শব্দজোড়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৫৪.
নিচের কোনটি শিস ধ্বনি?
  1. ক) ল
  2. খ) স
  3. গ) ই্
  4. ঘ) ঞ
সঠিক উত্তর:
খ) স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স, হ এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
শিশ দেয়ার সঙ্গে সাদৃশ্য আছে বলে এগুলােকে শিশধ্বনিও বলা হয়।

নাসিক্য ধ্বনি- ঙ, ঞ, ণ, ন, ম, ং, ঁ এর মধ্যে অনুনাসিক বর্ণ - ঁ ।
অর্ধস্বর বর্ণ - ৪টি। যথা- ই্, উ্, এ্, ও্ ।
পার্শ্বিক বর্ণ - ১টি। যথা- ল।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ। 
৬৫৫.
'অনুক্ষণ' কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস। অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয় উল্লেখ হয় না, কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি গঠিত হয়।
যেমন-
- জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত (কাছে),
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।

বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ নিচে দেয়া হলো-
• সামীপ্য (উপ):
কূলের সমীপে = উপকূল, নগরীর সমীপে = উপনগরী, শহরের সমীপে = উপশহর, কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, অক্ষির সমীপে = সমক্ষ, ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ ইত্যাদি।

• বীপ্সা (অনু, প্রতি):
রোজ রোজ = হররোজ, ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ, বছর বছর = ফিবছর, দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণ ক্ষণ = প্রতিক্ষণ, হপ্তা হপ্তা = ফিহপ্তা ইত্যাদি।

• অভাব (নিঃ, নির):
ভিক্ষার অভাব =  দুর্ভিক্ষ, মিলের অভাব = গরমিল, ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা, জয়ের অভাব = পরাজয়, জলের অভাব = নির্জল, আমিষের অভাব = নিরামিষ, উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৬.
নিচের কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. শুষ্ক
  2. শুকনো
  3. শুকনা
  4. উপরের সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
শুকনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকনো
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার শব্দ- শুকনো। 

সাধু - চলিত ভাষার শব্দ:

মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো;
তাঁহারা/উহারা - তাঁরা/ওঁরা;
তাহাকে/উহাকে - তাকে/ওকে;
তাহার/তাঁহার - তার/তাঁর;
করিবার - করবার/করার;
পাইয়াছিলেন - পেয়েছিলেন;
হইলেন - হলেন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৫৭.
‘আবশ্যকীয় ব্যয়ে কার্পণ্যতা অনুচিত’ বাক্যে কী ধরনের অশুদ্ধি আছে?
  1. ক) বিভক্তি জনিত
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) দ্বিরুক্তি
  4. ঘ) পদক্রমের বিন্যাস
সঠিক উত্তর:
ক) বিভক্তি জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিভক্তি জনিত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য - ‘আবশ্যকীয় ব্যয়ে কার্পণ্যতা অনুচিত’ বাক্যে কার্পণ্য শব্দের সাথে তা বিভক্তির ব্যবহার অশুদ্ধ। শুদ্ধ বাক্যটি হবে - আবশ্যকীয় ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৬৫৮.
'আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি' এটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. রূপক কর্মধারয় সমাস
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৫৯.
বাংলা বর্ণমালা কয়টি?
  1. ৫০টি
  2. ৩৯টি
  3. ১১টি
  4. ১টি
সঠিক উত্তর:
১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১টি
ব্যাখ্যা
• ১১টি স্বরবর্ণ ও ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণের সমন্বয়ে বাংলা বর্ণমালা ১টি।

• ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬০.
সাধু ভাষারীতি কোন ক্ষেত্রে ব্যবহারের অনুপযোগী?
  1. ছোটগল্প লেখায়
  2. কাব্য রচনায়
  3. নাটকের সংলাপে
  4. প্রবন্ধ লেখায়
সঠিক উত্তর:
নাটকের সংলাপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটকের সংলাপে
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ, নাটকের সংলাপে অনুপযোগী।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬৬১.
'অ' বর্ণের উচ্চারণ কয় রকমের হতে পারে?
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।

'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ:
- অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।

'অ' বর্ণের [ও] উচ্চারণ:
- অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৬২.
'অভ্র' শব্দের অর্থ কী?
  1. আকাশ
  2. সকাল
  3. শিশির
  4. সমুদ্র
সঠিক উত্তর:
আকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাশ
ব্যাখ্যা
• অভ্র( বিশেষ্য পদ),
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- খনিজ ধাতুবিশেষ;  
- মেঘ (আকাশে ভাসে শরতের শুভ্র অভ্ররাশি);
-  আকাশ। 

'আকাশ' শব্দের সমার্থক শব্দ:

অম্বর, ব্যোম, খ, গগন, অন্তরিক্ষ, শূন্যলোক, আসমান, দ্যুলোক, অভ্র, নীলিমা, শূন্য, না, অনন্ত, সুরপথ, অম্বরতল, খলোক, খগোল, নক্ষত্রলোক, নভোলোক, নভোমন্ডল, নভস্তল, নভস্থল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়ৎ মামুদ এবং অভিগম্য অভিধান।
৬৬৩.
'রাজা' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. জমিদার
  2. নরেন্দ্র
  3. মহেন্দ্ৰ
  4. সফেদ
সঠিক উত্তর:
নরেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নরেন্দ্র
ব্যাখ্যা
'রাজা' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- নৃপতি,
- নৃপ,
- সম্রাট,
- বাদশাহ্,
- নৃপেন্দ্র,
- নরপতি,
- ভূপতি,
- ভূপাল,
- নরেন্দ্র ইত্যাদি।

• 'সফেদ' শব্দটি 'সাদা' শব্দের সমার্থক শব্দ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০২০ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬৪.
'চৌদ্দ' - এর পূরণবাচক শব্দ কোনটি?
  1. চৌদ্দ
  2. ১৪
  3. চতুর্দশ
  4. চৌদ্দই
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ
ব্যাখ্যা
• 'চৌদ্দ' - ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
- সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ হচ্ছে - চতুর্দশ। 

অন্যদিকে,
• তারিখ পূরণবাচক - চৌদ্দই।

সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৬৫.
কোন শব্দটি আরবি ভাষা হতে আগত?
  1. চেহারা
  2. কলম
  3. কাজি
  4. খোয়াব
সঠিক উত্তর:
কলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলম
ব্যাখ্যা
• ‘কলম’ শব্দটি আরবি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

অন্যদিকে,
- কাজি, খোয়াব, চেহারা - শব্দগুলো ফারসি ভাষা হতে আগত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৬৬.
কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য?
  1. আর তো পথ নেই।
  2. দুর্জনকে দূরে রেখো।
  3. এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
  4. মরতে তো একদিন হবেই।
সঠিক উত্তর:
দুর্জনকে দূরে রেখো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্জনকে দূরে রেখো।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য- দুর্জনকে দূরে রেখো।

• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা-বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন:
• আদেশ: কাছে এসো।
• উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
• অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
• নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।
• প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।

অন্যদিকে, 
• আর তো পথ নেই।
• এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
• মরতে তো একদিন হবেই।

প্রদত্ত বাক্যগুলো নির্দেশাত্মক বাক্যের উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৬৭.
জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. সমাজ
  2. পানি
  3. মিছিল
  4. নদী
সঠিক উত্তর:
নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী
ব্যাখ্যা

• জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত- নদী।

• বিশেষ্য:

- যে শব্দ দ্বারা ব্যক্তি, প্রাণী, বস্তু, স্থান, ধারণা বা গুণের নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য বলা হয়;
- যেমন: নদী, বই, বাংলাদেশ, সততা ইত্যাদি।
- বিশেষ্য পদের মাধ্যমে কোনো নামকে চিহ্নিত করা হয়- যেমন কলম, বই, আকাশ, সাগর, ফুল, ফল।
- এই নাম আবার ব্যবহার, অর্থ ও ধারণার ওপর ভিত্তি করে কয়েক ভাগে বিভক্ত।

• বিশেষ্যের ছয়টি প্রধান শ্রেণি:
১. নামবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু, স্থান বা কোনো প্রসিদ্ধ গ্রন্থের নাম বোঝানো হয় তাকে নামবাচক বিশেষ্য বলে।
- এটিকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যও বলা হয়।
- উদাহরণ:
∗ ব্যক্তি: কামাল, রবীন্দ্রনাথ, রহিম;
∗ স্থান: ঢাকা, মক্কা, নেপাল, বাংলাদেশ, ইত্যাদি।

২. জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে শব্দ কোনো একজাতীয় প্রাণী, বস্তু বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
-  উদাহরণ: মানুষ, ঘোড়া, গরু, নদী, পর্বত, ইংরেজ।

৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য উপাদান বা দ্রব্যের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
- এ ধরনের বস্তুর পরিমাণ বোঝানো যায়, গণনা করা যায় না।
- উদাহরণ: পানি, দুধ, চিনি, লবণ, মধু, চাল।

৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে শব্দ একদল ব্যক্তি, প্রাণী বা বস্তুকে সমষ্টিগতভাবে বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
- উদাহরণ: জনতা, সমাজ, সভা, সমিতি, দল, ঝাঁক, কাফেলা, সমাজ, মিছিল।

৫. ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য কোনো কাজ বা ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করে তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
- উদাহরণ: দর্শন (দেখা), ভোজন (খাওয়া), শয়ন (শোয়া), শ্রবণ (শোনা)।

৬. গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য কোনো বস্তুর গুণ, দোষ, বৈশিষ্ট্য বা মানসিক অবস্থা বোঝায় তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে।
- উদাহরণ: সৌন্দর্য, সততা, বীর্য, সুখ, দুঃখ, তরলতার তারল্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬৬৮.
নিচের কোনগুলি সাধারণ-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. সাগর, পর্বত
  2. আকাশ, বই
  3. মিছিল, পরিবার
  4. আনন্দ,দীনতা
সঠিক উত্তর:
সাগর, পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগর, পর্বত
ব্যাখ্যা
• ‘সাগর, পর্বত’ সাধারণ-বিশেষ্যের উদাহরণ।

জাতি বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• আকাশ, বই বস্তু-বিশেষ্য এর উদাহরণ।
• আনন্দ, দীনতা গুণ-বিশেষ্যের উদাহরণ।
• মিছিল, পরিবার সমষ্টি - বিশেষ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২২)।
৬৬৯.
‘কূটযন্ত্র’ শব্দের অর্থ -
  1. সুচিন্তা
  2. ফাঁদ
  3. সুবুদ্ধি
  4. নিষ্কর্মতা
সঠিক উত্তর:
ফাঁদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাঁদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘কূটযন্ত্র’ শব্দের অর্থ - ফাঁদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৬৭০.
‘দেখতে দেখতে স্টেশনটি ফাকা হয়ে গেলো’ বাক্যে ‘দেখতে দেখতে’ কি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) স্বল্পকাল স্থায়ী
  3. গ) পৌনঃপুনিকতা
  4. ঘ) একটানা
সঠিক উত্তর:
খ) স্বল্পকাল স্থায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বল্পকাল স্থায়ী
ব্যাখ্যা
বাক্যটিতে দ্বিরুক্ত পদটি দ্বারা স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে?
উৎসঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এইচএসসি, বাংলা দ্বিতীয় পত্র
৬৭১.
‘নিরাকার’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. নি + আকার
  2. নির + আকার
  3. নিঃ + আকার
  4. নির্‌ + কার
সঠিক উত্তর:
নিঃ + আকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ + আকার
ব্যাখ্যা
'নিরাকার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - নিঃ + আকার।

• ‘নিরাকার’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম:  
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন-
দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
নিঃ + আকার = নিরাকার,
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৭২.
ন্যূনতম এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) নুনতমো
  2. খ) নুনোতমো
  3. গ) নুন্যতমো
  4. ঘ) নুনোতম
সঠিক উত্তর:
খ) নুনোতমো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নুনোতমো
ব্যাখ্যা
ন্যূনতম (নুনোতমো) 
- [স. ন্যূন+তমট্‌]
- এটি বিশেষণ পদ,
- শব্দটির অর্থ - সর্বনিম্ন

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৭৩.
’মেঘ’-এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অম্বুদ
  2. অম্বু
  3. অম্বুধি
  4. অম্বুজ
সঠিক উত্তর:
অম্বুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অম্বুদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

’অম্বুদ’ শব্দের অর্থ:
- বারিদ,
- মেঘ।
- জল দান করে এমন।

অন্যদিকে,
’অম্বু’ শব্দের অর্থ: জল, পানি
’অম্বুধি’ শব্দের অর্থ: সমুদ্র, সাগর, জলধি, উদধি; দরিয়া
’অম্বুজ’ শব্দের অর্থ: পদ্ম, শঙ্খ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৭৪.
‘সামান্য একটু দুধ দাও’—এই বাক্যে ‘সামান্য’ কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. বিশেষণীয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণীয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন,
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- অতিশয় মন্দ কথা।
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

৬৭৫.
সন্ধিজনিত অপ্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) মনোকষ্ট
  2. খ) তপোবন
  3. গ) মনােযােগ
  4. ঘ) তিরােধান
সঠিক উত্তর:
ক) মনোকষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মনোকষ্ট
ব্যাখ্যা
'মনোকষ্ট' শব্দে সন্ধিজনিত অপ্রয়োগ ঘটেছে। 
সন্ধিযোগে সঠিক শব্দটি হবে = মনঃকষ্ট

বিসর্গসন্ধি
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
বিসর্গ ও হয়ে যায়; মনঃ + যােগ = মনােযােগ, তিরঃ + ধান = তিরােধান, তপঃ + বন = তপোবন
বিসর্গ র’ হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার
কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রােগ = নীরােগ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৭৬.
তৎসম উপসর্গ কোনটি?
  1. অনা
  2. কদ
  3. অনু
  4. গর
সঠিক উত্তর:
অনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনু
ব্যাখ্যা

'অনু' তৎসম উপসর্গ। অনু' তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত কিছু শব্দ-
• পশ্চাৎ অর্থে- অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
• সাদৃশ্য অর্থে- অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার। 
• পৌনঃপুন অর্থে- অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন। 
• সঙ্গে অর্থে- অনুকূল, অনুকম্পা। 

------------------
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ: বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৭৭.
‘এযুগের মেয়েরা শুধু কর্মমুখীই নয়, বিদ্বানও বটে' এই বাক্যে কোন ধরনের ভুল আছে ?
  1. ক) কালগত
  2. খ) বচনগত
  3. গ) বিশেষণগত
  4. ঘ) লিঙ্গগত
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিঙ্গগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিঙ্গগত
ব্যাখ্যা
‘এ যুগের মেয়েরা শুধু কর্মমুখীই নয়, বিদ্বানও বটে' - এ বাক্যে লিঙ্গগত ত্রুটি রয়েছে। 

• বিদ্বান এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো - বিদুষী/বিদুশি
• বাক্যটির শুদ্ধ রূপ - ‘এ যুগের মেয়েরা শুধু কর্মমুখীই নয়, বিদুষীও বটে’।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৭৮.
'অশ্রুতপূর্ব' শব্দটির অর্থ কি?
  1. ক) যে শুনেই মনে রাখতে পারে।
  2. খ) হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ।
  3. গ) যে কিছুই মনে রাখতে পারে না।
  4. ঘ) যা পূর্বে শোনা যায় নি।
সঠিক উত্তর:
ঘ) যা পূর্বে শোনা যায় নি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যা পূর্বে শোনা যায় নি।
ব্যাখ্যা

অশ্রুতপূর্ব = যা পূর্বে শোনা যায় নি।
শ্রুতিধর = যে শুনেই মনে রাখতে পারে।
শ্বাপদসংকুল = যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

৬৭৯.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ঢাকী
  2. সুন্দরী
  3. সপত্নী
  4. বিদুষী
সঠিক উত্তর:
সপত্নী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপত্নী
ব্যাখ্যা
• 'সপত্নী'- নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। 

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি। 

নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'ঢাকী' নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ। 
- 'সুন্দর' এর স্ত্রীবাচক শব্দ 'সুন্দরী'।
- বিদ্বান এর স্ত্রীবাচক শব্দ - ‘বিদুষী’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮০.
তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত কোন নিয়মে সাধিত হয়?
  1. ফার্সি
  2. হিন্দি
  3. বাংলা
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা

 তারিখবাচক শব্দ:
- বাংলা মাসের তারিখ বোঝাতে যে সংখ্যাবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে তারিখবাচক শব্দ বলে।
- যেমন-পয়লা বৈশাখ, বাইশে শ্রাবণ ইত্যাদি।
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি শব্দ বাংলার নিজস্ব ভঙ্গিতে গঠিত।
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
- পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার। যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬৮১.
বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী নিচের কোন শব্দটির বানান ভুল?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. রুপালি
  3. কবিতাবলি
  4. সোনালী  
সঠিক উত্তর:
সোনালী  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনালী  
ব্যাখ্যা

বাংলার একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী 'সোনালী' শব্দটির বানান ভুল। 
-------------------
• ‘আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দের বানান:

• আলি প্রত্যয়: 
- কোনো মূল শব্দের সঙ্গে ‘আলি’ যুক্ত হলে তা ই-কারে লেখা হয়।
- যেমন—
- স্বর্ণ+আলি = স্বর্ণালি,
- সোনা+আলি = সোনালি,
- রূপা+আলি = রূপালি,
- বর্ণ+আলি = বর্ণালি।
----------------------------- 
অন্যদিকে, 
- 'বলি', ‘আবলি’ ও ‘অঞ্জলি’- প্রত্যয়যুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে ও সর্বদা ই-কার বসে।

• বলি, আবলি প্রত্যয়: 
- মূল শব্দের সঙ্গে 'বলি', ‘আবলি’ যুক্ত হলে তা ই-কারে লেখা হয়।
- যেমন—
- কবিতা + বলি = কবিতাবলি, 
- রচনা + বলি = রচনাবলি, 
- শব্দ + আবলি = শব্দাবলি, 
- তথ্য + আবলি = তথ্যাবলি, 
- কার্য + আবলি = কার্যাবলি।

• অঞ্জলি প্রত্যয়:
- মূল শব্দের সঙ্গে ‘অঞ্জলি’ যুক্ত হলে তা ই-কারে লেখা হয়।
- যেমন—
- গীতা + অঞ্জলি = গীতাঞ্জলি, 
- পুষ্প + অঞ্জলি = পুষ্পাঞ্জলি, 
- শ্রদ্ধা + অঞ্জলি = শ্রদ্ধাঞ্জলি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৬৮২.
'স্মৃতিসৌধ' কোন ধরনের সমাস?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  4. উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা-
- জ্যোৎস্না শোভিত যে রাত = জ্যোৎস্নারাত;
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া;
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা;
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ।
৬৮৩.
নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. সুহৃদ
  2. গবাক্ষ
  3. তৈল
  4. প্রবীণ
সঠিক উত্তর:
সুহৃদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুহৃদ
ব্যাখ্যা
• সুহৃদ = সুন্দর হৃদয় যার।
- 'সুহৃদ' এর বিশিষ্ট অর্থ- বন্ধু, মিত্র, সখা।

• যোগরূঢ় শব্দ:

- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন: পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য।

অন্যদিকে,
- প্রবীণ, তৈল ও গবাক্ষ রূঢ়ি শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬৮৪.
"স্বয়ংবরা" শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. স্বয়ং + বরা
  2. স্বম্‌ + বরা
  3. স্বৎ + বরা
  4. স্বয়ম্‌ + বরা
সঠিক উত্তর:
স্বয়ম্‌ + বরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বয়ম্‌ + বরা
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।

যেমন:
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮৫.
'আত্মাকে অধিকার করে' এর এক কথায় প্রকাশ-
  1. আধ্যান
  2. অধ্যাত্ম
  3. আধ্যাত্মিক
  4. আরাধ্য
সঠিক উত্তর:
অধ্যাত্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাত্ম
ব্যাখ্যা
• 'আত্মাকে অধিকার করে' এর এক কথায় প্রকাশ - অধ্যাত্ম।

অন্যদিকে,
• 'আধ্যান' অর্থ - স্মরণ, ধ্যান, চিন্তন। 
• আত্মা থেকে জাত - আধ্যাত্মিক। 
• 'আরাধনার যোগ্য যিনি' - আরাধ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৮৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. জগৎব্যাপী
  2. জগদ্‌ব্যাপী
  3. জগতব্যাপী
  4. জগত্‌ব্যাপী
সঠিক উত্তর:
জগদ্‌ব্যাপী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগদ্‌ব্যাপী
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: জগদ্‌ব্যাপী। 
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
-  পৃথিবীর সর্বত্র পরিব্যাপ্ত,
- বিশ্বময়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬৮৭.
ণ-ত্ব বিধানের ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. ক) তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর ব্যবহার হয়।
  2. খ) ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়
  3. গ) ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে না।
  4. ঘ) সবগুলো সত্য
সঠিক উত্তর:
গ) ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে না।
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৬৮৮.
‘তার মঙ্গল হোক।’ - কোন জাতীয় বাক্য?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• ‘তার মঙ্গল হোক।’ - অনুজ্ঞাবাচক বাক্য

 • বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
→ সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৮৯.
নিম্নের কোনটি অভিশ্রুতি এর উদাহরণ?
  1. ক) পাকা > পাক্কা
  2. খ) ধাইমা > দাইমা
  3. গ) মাছুয়া > মেছাে
  4. ঘ) বড় দাদা > বড়দা
সঠিক উত্তর:
গ) মাছুয়া > মেছাে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাছুয়া > মেছাে
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি (Umlaut) : বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
- যেমন— করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
- এরূপ – শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছাে ইত্যাদি।

 ব্যঞ্জন বিকৃতি : শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
- যেমন- কবাট > কপাট, ধােবা > ধােপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন (Long Consonant) বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা : কখনাে কখনাে জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা।
- যেমন – পাকা > পাক্কা, সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনচ্যুতি : পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
- যেমন- বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৯০.
'গিয়েছিলাম' কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. নিত্য অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা
• 'গিয়েছিলাম'- পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ।
-----------------------
• নিত্য অতীত কাল:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতাে এমন বােঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন-
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

• ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায় তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

• পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
গত বছর আমি কলকাতা গিয়েছিলাম।

• সাধারণ অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বােঝায় তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন:
তারা সেখানে বেড়াতে গেল।

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত
হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৬৯১.
অর্ধচ্ছেদ থাকলে কতটুকু থামতে হয়?
  1. 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে
  2. থামার প্রয়োজন হয় না
  3. 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়
  4. এক সেকেন্ড থামতে হয়।
সঠিক উত্তর:
'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে:
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়

অন্যদিকে,
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৬৯২.
'রাতকানা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• রাতকানা = রাতে কানা ৭মী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস :

পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
'রাতে কানা= রাতকানা'
বনে ভোজন= বনভোজন,
অকালে পক্ব= অকালপক্ব।
 এরূপ বাকপটু, গোলাভরা, তালকানা, অকালমৃত্যু, বিশ্ববিখ্যাত, ভোজনপটু, দানবীর, বাক্সবন্দি, বস্তাপচা, রাতকানা, মনমরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬৯৩.
‘আ’ প্রত্যয়ান্ত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গায়িকা
  2. সেবিকা
  3. বালিকা
  4. মলিনা
সঠিক উত্তর:
মলিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মলিনা
ব্যাখ্যা

• আ- প্রত্যয়যোগ সাধারণ অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ হচ্ছে - [মলিন - মলিনা]।

অন্যদিকে,
‘ইকা’ প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ হচ্ছে:
- গায়ক-গায়িকা,
- সেবক-সেবিকা,
- নায়ক-নায়িকা,
- বালক-বালিকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

 

৬৯৪.
‘নীরস’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সারস
  2. স্বীয়রব
  3. স্বরস
  4. সরস
সঠিক উত্তর:
সরস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরস
ব্যাখ্যা
• ‘নীরস’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - সরস।

অন্যদিকে,
• স্বরস ও স্বীয়রস বানানদ্বয় অশুদ্ধ।
• সারস শব্দের অর্থ: বকজাতীয় একপ্রকার পক্ষী।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ: 
• 'তিক্ত' - মধুর।
• 'অবিরল' - বিরল।
• 'কুটিল' - সরল।
• 'জীবিত' - মৃত।
• 'হর্ষ' - বিষাদ।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ) এবং ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৯৫.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানানে লেখা?
  1. রং
  2. আতংক
  3. পালং
  4. বাঙালি
সঠিক উত্তর:
আতংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আতংক
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: আতংক।

• শুদ্ধ বানান: আতঙ্ক (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ভয়,
- শঙ্কা,
- ত্রাস।
--------------------------
• বানানের নিয়ম:
- শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।

- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন :
বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।

- ব্যতিক্রম: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

অন্যদিকে,
বাংলা লেখার নিয়ম কানুন, ড. হায়াৎ মামুদ ও প্রমীত বানানের নিয়ম অনুসারে,
• কিছু শব্দে কখনোই ং প্রযুক্ত হবে না, কেবল ঙ ব্যবহৃত হবে।
- যেমন: অঙ্ক, আতঙ্ক, আকাঙ্ক্ষা, অঙ্কন, অঙ্গন, ইঙ্গিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৯৬.
‘সমুদ্র’ শব্দের বিপরীত শব্দ হলো -
  1. স্রোতস্বিনী
  2. ঊর্মি
  3. অর্ণব
  4. তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
স্রোতস্বিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্রোতস্বিনী
ব্যাখ্যা
• 'স্রোতঃস্বিনী' শব্দের অর্থ = নদী, প্রবাহিণী।
• 'ঊর্মি'  শব্দের অর্থ = তরঙ্গ, ঢেউ।
• 'অর্ণব' শব্দের অর্থ = সাগর, জলধি, বারিধি, সমুদ্র।
• 'তরঙ্গ' শব্দের অর্থ = লহরি, বীচি, ঢেউ, ঊর্মি।

• অর্থ অনুসারে, সমুদ্রের সমার্থক শব্দ - অর্ণব।

• বাংলা ভাষায় 'সমুদ্র' শব্দের সরাসরি কোনো বিপরীত শব্দ নেই কারণ 'সমুদ্র' একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে বোঝায়।
- তবে সাধারণত 'সমুদ্র' একটি বৃহত্তর জলরাশি বোঝায়, এর বিপরীতে অনেক সময় ছোট জলাশয় বা সূক্ষ্ম জলরাশির কথা বোঝাতে 'স্রোতঃস্বিনী' বা নদী বুঝানো হয়। তাই, ‘সমুদ্র’ শব্দের বিপরীত শব্দ হিসেবে 'স্রোতঃস্বিনী' নিয়ে উত্তর করা হলো।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৯৭.
'গোকুলের ষাঁড়' বাগধারার অর্থ কী?
  1. স্বেচ্ছাচারী
  2. দুর্বল
  3. দুর্লভ বস্তু
  4. অপদার্থ
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছাচারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছাচারী
ব্যাখ্যা
• 'গোকুলের ষাঁড়' বাগধারার অর্থ হচ্ছে - স্বেচ্ছাচারী।

অন্যদিকে,
- 'ডুমুরের ফুল' বাগধারার অর্থ হচ্ছে - দুর্লভ বস্তু।
- 'অকাল কুষ্মাণ্ড ও আমড়া কাঠের ঢেঁকি' বাগধারার অর্থ হচ্ছে - অপদার্থ।
- 'উনপাঁজুরে' বাগধারার অর্থ হচ্ছে - দুর্বল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৯৮.
'চাণক্য' শব্দের 'ণ' বসেছে কোন নিয়মে?
  1. স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
  2. ম এবং ক এ মাঝে 'ণ' বসে
  3. 'ক' এর পূর্বে 'ণ' বসে
  4. ম-এর পরে 'ণ' বসে
সঠিক উত্তর:
স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
ব্যাখ্যা
• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।
৬৯৯.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. ক) কুলটা
  2. খ) রাজ্ঞী
  3. গ) অসূর্যম্পশ্যা
  4. ঘ) অর্ধাঙ্গিনী
সঠিক উত্তর:
খ) রাজ্ঞী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজ্ঞী
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দের পুরুষবাচক হয় না। এদের নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলা হয়।
যেমন- সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই, কুলটা, বিধবা, সপত্নি, অসূর্যম্পশ্যা, অর্ধাঙ্গিনী, অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ- ঢাকী, কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার ইত্যাদি।
রাজ্ঞী- এর পুরুষবাচক শব্দ রাজা।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৭০০.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ সমার্থক নয়?
  1. ক) অহি, উরগ, পন্নগ, কুণ্ডলী
  2. খ) মৃগ, কুরঙ্গ, সারঙ্গ, সুনয়ন
  3. গ) গজ, দ্বিপ, মাতঙ্গ, দন্তী
  4. ঘ) পুষ্পলিহ, পন্নগ, কুরঙ্গ, মাতঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পুষ্পলিহ, পন্নগ, কুরঙ্গ, মাতঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পুষ্পলিহ, পন্নগ, কুরঙ্গ, মাতঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'মৌমাছি' শব্দের সমার্থক শব্দ- মধুকর, মধুমক্ষিকা, মধুপ, মধুলেহ, পুষ্পলিহ ইত্যাদি
•  'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ –অহি, উরগ, পন্নগ, কুণ্ডলী, ফণী, ভুজগ, আশীবিষ ইত্যাদি।
•  'হাতি' শব্দের সমার্থক শব্দ –গজ, দ্বিপ, মাতঙ্গ, দন্তী, রদী, মাকলা ইত্যাদি।
•  'হরিণ' শব্দের সমার্থক শব্দ -মৃগ, কুরঙ্গ, সারঙ্গ, সুনয়ন, কুড়ঙ্গম ।

তথ্যসূত্র:- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।