বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা / ৩৫৪ · ৫০১৬০০ / ৩৫,৭১৩

৫০১.
তোমার তরে এনেছি মালা গীথিয়া। - এখানে “তরে” শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. মধ্যে
  2. নিমিত্ত
  3. মত
  4. নিকট
সঠিক উত্তর:
নিমিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমিত্ত
ব্যাখ্যা

• 'তোমার তরে এনেছি মালা গীথিয়া।' এখানে 'তরে' অনুসর্গটি 'নিমিত্ত' অর্থ প্রকাশ করছে।

উল্লেখ্য,
'নিমিত্ত' অর্থে 'হেতু' ও 'জন্যে' অনুসর্গও ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- 'কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।'
- 'এ ধন-সম্পদ তোমার জন্যে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫০২.
‘শিরঃ + ছেদ’ এর সঠিক রূপ কোনটি?
  1. শিরছেদ
  2. শিরশ্ছেদ
  3. শিরষ্ছেদ
  4. শিরস্ছেদ
সঠিক উত্তর:
শিরশ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরশ্ছেদ
ব্যাখ্যা

বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়।
- শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌;
- ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ,
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়,
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫০৩.
'অসারের তর্জনগর্জন' প্রবাদের অর্থ কী?
  1. অল্প বয়সেই স্বভাব নষ্ট হওয়া
  2. হঠাৎ বড়োলোক হওয়া
  3. অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি
  4. দুই পক্ষ ছাড়া ঝগড়া হয় না
সঠিক উত্তর:
অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি
'অসারের তর্জনগর্জন' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ হচ্ছে - অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি। 

অন্যদিকে, 
- কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরা (অল্প বয়সেই স্বভাব নষ্ট হওয়া),
- আঙুল ফুলে কলা গাছ (হঠাৎ বড়োলোক হওয়া),
- এক হাতে তালি বাজে না (দুই পক্ষ ছাড়া ঝগড়া হয় না)। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৫০৪.
'অপমৃত্যু' শব্দে 'অপ' তৎসম উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্থানান্তর অর্থে
  2. নিকৃষ্ট অর্থে
  3. বিপরীত অর্থে
  4. বিকৃত অর্থে
সঠিক উত্তর:
বিকৃত অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকৃত অর্থে
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে 'অপ' তৎসম উপসর্গের প্রয়োগ:
• বিপরীত অর্থে- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ। 
• নিকৃষ্ট অর্থে- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ। 
• স্থানান্তর অর্থে- অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন। 
বিকৃত- অপমৃত্যু। 

--------------------
• তৎসম/সংস্কৃত উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।

তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫০৫.
'কষ্টের মধ্য দিয়েই ফল লাভ' অর্থে ব্যবহৃত প্রবাদ প্রবচন কোনটি?
  1. ক) আগুন পোহাতে ধোঁয়ার কষ্ট
  2. খ) কত ধানে কত চাল
  3. গ) গরু মেরে জুতো দান
  4. ঘ) ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে
সঠিক উত্তর:
ক) আগুন পোহাতে ধোঁয়ার কষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আগুন পোহাতে ধোঁয়ার কষ্ট
ব্যাখ্যা
- 'আগুন পোহাতে ধোঁয়ার কষ্ট' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ হচ্ছে- কষ্টের মধ্য দিয়েই ফল লাভ

• অপশনের অন্যান্য প্রবাদ প্রবচন ও এর অর্থ:
গরু মেরে জুতো দান - গুরুতর ক্ষতি করে কিঞ্চিৎ সাহায্য দান।
কত ধানে কত চাল - অভিজ্ঞতা দিয়ে জানা।
ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে - আকস্মিকভাবে বড় বিষয় সম্পন্নের চেষ্টা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৫০৬.
নিচের কোনটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. দা-কুমড়া
  2. হাতে-কলমে
  3. আয়-ব্যয়
  4. হাট-বাজার
সঠিক উত্তর:
হাতে-কলমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতে-কলমে
ব্যাখ্যা
• ’হাতে-কলমে’ একটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাস

• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:

- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন
দুধে-ভাতে,
জলে-স্থলে,
দেশে-বিদেশে,
হাতে-কলমে।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্রুত্ব সমাস বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৫০৭.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গরম করা
  2. উদয় হওয়া
  3. এগিয়ে চলা
  4. ঠনঠন করা
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ - এগিয়ে চলা।
-------------------------------
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- উঠে পড়া,
- পেয়ে বসা, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা, বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২২ সালের সংস্করণ।

৫০৮.
কোন বাক্যে সমধাতুজ কর্ম রয়েছে?
  1. ক) আর মায়াকান্না কেঁদো না
  2. খ) আমি চোখে দেখি না
  3. গ) মা শিশুকে চাঁদ দেখায়
  4. ঘ) তিনি বলতে লাগলেন
সঠিক উত্তর:
ক) আর মায়াকান্না কেঁদো না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আর মায়াকান্না কেঁদো না
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বলে।
যেমন- আর কত খেলা খেলবে, বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি, আর মায়াকান্না কেঁদো না, ইত্যাদি।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণী।
৫০৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অচিন্ত্যনীয়
  2. কথপোকথন
  3. অভ্যুত্থান
  4. গ্রীক
সঠিক উত্তর:
অভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- অভ্যুত্থান। 
- যার অর্থ: উত্থান, উদয়, ওঠা, উন্নতি, সমৃদ্ধি, বিদ্রোহ।

অন্যদিকে,
• অচিন্ত্যনীয় বানানটি ভুল।
- এর সঠিক বানান: অচিন্তনীয়।
এর অর্থ:
- অভাবনীয়; ধারণার অতীত।

• কথপোকথন বানানটি ভুল।
- এর সঠিক বানান: কথোপকথন।
এর অর্থ:
- বাক্যালাপ; কথাবার্তা।

• গ্রীক বানানটি ভুল।
- এর সঠিক বানান গ্রিক।
অর্থ:
- বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ও সাহিত্যের ধারক ভাষা।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
৫১০.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কৃপণ
  2. কল্যাণ
  3. বর্ণনা
  4. ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
কল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্যাণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: পুন্য, লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১১.
'দ্বিধা' - এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. প্রত্যয়
  2. নির্দ্বিধা
  3. সাহসী
  4. নির্ভয়
সঠিক উত্তর:
নির্দ্বিধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দ্বিধা
ব্যাখ্যা
• 'দ্বিধা' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - নির্দ্বিধা

অন্যদিকে,
- 'ভয়' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - নির্ভয়।
- 'ভীরু' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - সাহসী।
- 'সংশয়' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - প্রত্যয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫১২.
'দাপ্তরিক’ কোন শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) আইন
  2. খ) এজেন্ট
  3. গ) দাখিল
  4. ঘ) মুচলেকা
সঠিক উত্তর:
খ) এজেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এজেন্ট
ব্যাখ্যা
'এজেন্ট' ইংরেজি ভাষার শব্দ।  
এজেন্ট' এর  অর্থ
১. ব্যবসায়ী সংস্থার প্রতিনিধি , প্রতিনিধি
২. আমমোক্তার 
৩. প্রধান কর্মচারী, গোমস্তা 

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি]
৫১৩.
'পুজ্য' কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. বিভক্তিজনিত
  3. প্রত্যয়জনিত
  4. উপসর্গজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
• 'পুজ্য' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের কারণে অশুদ্ধ।

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধশুদ্ধ
• আবশ্যকীয় - আবশ্যক।
• একত্রিত - একত্র।
• পুজ্য - পূজ্য।
• বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫১৪.
'শিরে সংক্রান্তি' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. উভয় সংকট
  2. সামনেই বিপদ
  3. নতুন আগমন
  4. মৃত্যু আসন্ন
সঠিক উত্তর:
সামনেই বিপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামনেই বিপদ
ব্যাখ্যা
• ‘শিরে সংক্রান্তি’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - আসন্ন বিপদ, সামনেই বিপদ।

অন্যদিকে,
• 'শাঁখের করাত' অর্থ - উভয় সংকট। 
• 'ভুঁইফোঁড়' অর্থ - নতুন আগমন। 
• 'শিয়রে শমন' অর্থ - মৃত্যু আসন্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৫.
‘নারিকেল’ কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. তৎসম
  2. অর্থ - তৎসম
  3. দেশি
  4. বিদেশি
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
• নারিকেল, নারকেল (বিশেষ্য)
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 


অর্থ: 
- শক্ত আবরণের মধ্যে সুস্বাদু জল ও শাঁসযুক্ত ফল।

সূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ও অভিগম্য অভিধান।
৫১৬.
‘উপাদান’ ও 'উপাধান' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে -
  1. আচ্ছাদন ও অলংকার
  2. অলংকার ও আচ্ছাদন
  3. উপকরণ ও বালিশ
  4. বালিশ ও উপকরণ
সঠিক উত্তর:
উপকরণ ও বালিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকরণ ও বালিশ
ব্যাখ্যা
• ‘উপাদান’ ও 'উপাধান' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে - উপকরণ ও বালিশ

শব্দজোড়:
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। 
- বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
→ আবরণ - আচ্ছাদন।
→ আভরণ - অলংকার।
উপাদান - উপকরণ
উপাধান - বালিশ
→ ধুম - প্রাচুর্য।
→ ধূম - ধোঁয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫১৭.
'আজ বিকেলে বৃষ্টি আসতে পারে।'- এখানে 'আসতে পারে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. মিশ্র
  2. প্রযোজক
  3. যৌগিক
  4. সমধাতুজ
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
যৌগিক ক্রিয়ার গঠন বিধি অসমাপিকা ক্রিয়ার পরে যা, পড়, দেখ, লাগ্‌, ফেল্, আস্, উঠ, দে, লহ্, থাক্, প্রভৃতি ধাতু থেকে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়ে উভয়ে মিলিতভাবে যৌগিক ক্রিয়া তৈরি করে, এসব যৌগিক ক্রিয়া বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

যেমন-
 যা-ধাতু:
-  সমাপ্তি অর্থে: বৃষ্টি থেমে গেল।
-  অবিরাম অর্থে: গায়ক গেয়ে যাচ্ছেন।
- ক্রমশ অর্থে: চা জুড়িয়ে যাচ্ছে।
- সম্ভাবনা অর্থে: এখন যাওয়া যেতে পারে।

পড়্‌-ধাতু:
- সমাপ্তি অর্থে: এখন শুয়ে পড়।
- ব্যাপ্তি অর্থে: কথাটা ছড়িয়ে পড়েছে।
- আকস্মিকতা অর্থে: এখনই তুফান এসে পড়বে।
- ক্রমশ অর্থে: কেমন যেন মনমরা হয়ে পড়েছি।
যেমন:
- ঘটনাটা শুনে রাখ।
- তিনি বলতে লাগলেন।
- সাইরেন বেজে উঠল।

আস্-ধাতু: 
- সম্ভাবনা অর্থে: আজ বিকেলে বৃষ্টি আসতে পারে।
- অভ্যস্ততা অর্থে: আমরা এ কাজই করে আসছি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫১৮.
'বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. টঙ্কার
  2. ঝংকার
  3. শিঞ্জন
  4. নিক্বণ
সঠিক উত্তর:
ঝংকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝংকার
ব্যাখ্যা
• 'বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ - ঝংকার।

তাছাড়া,
- 'ধনুকের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ - টঙ্কার।
- 'অলঙ্কারের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ - শিঞ্জন।
- 'নূপুরের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ - নিক্বণ।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ হলো:
• গম্ভীর ধ্বনি - মন্দ্র।
• হরিণের চামড়া - অজিন।
• ময়ূরের ডাক - কেকা।
• ঘোড়ার ডাক - হ্রেষা।
• পাখির ডাক - কূজন।
• হাতির গর্জন - বৃংহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৯.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. বৃন্দ
  2. গণ
  3. গুলি
  4. মণ্ডলী
সঠিক উত্তর:
গুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুলি
ব্যাখ্যা
• গুলা, গুলি, গুলো প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অতগুলো কুমড়া দিয়ে কী হবে?
- আমগুলো টক।
- টাকাগুলো দিয়ে দাও।
- ময়ূরগুলো পুচ্ছ নাড়িয়ে নাচছে।

অন্যদিকে, 
• রা-কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের সঙ্গে 'রা' বিভক্তির ব্যবহার পাওয়া যায়।
যেমন- ছাত্ররা খেলা দেখতে গেছে। তারা সকলেই লেখাপড়া করে। শিক্ষকেরা জ্ঞান দান করেন।

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ। 
গণ: দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ: সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী: শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ: পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫২০.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ভস্মীভুত
  2. ভষ্মীভূত
  3. ভস্মীভূত
  4. ভস্মিভূত
সঠিক উত্তর:
ভস্মীভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভস্মীভূত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'ভস্মীভূত'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
প্রকৃতি প্রত্যয়: ভস্মন্‌ + চ্বি + ভূত।
অর্থ:
- আগুনে পুড়ে ভস্মে পরিণত বা সম্পূর্ণ বিনাশপ্রাপ্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫২১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. উর্মি
  2. উর্মী
  3. ঊর্মি
  4. ঊর্মী
সঠিক উত্তর:
ঊর্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊর্মি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - ঊর্মি।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- যার অর্থ: তরঙ্গ, ঢেউ।

• ‘ঊর্মি’ শব্দের আরো কিছু সমর্থক শব্দ:
তরঙ্গ, বীচি, কল্লোল, ঊর্মি, হিল্লোল, লহরী, জোয়ার, মহাতরঙ্গ, মহোর্মি, বীচিমালা, লহর, তরঙ্গহিল্লোল, দোলা, তরঙ্গভঙ্গ, ঊর্মিলহরী, তরঙ্গমালা, তরঙ্গলহরী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৫২২.
ঘটমান বর্তমানকালের উদাহরণ কোনটি?
  1. সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়।
  2. এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
  3. চিন্তা করো না, কালই আসছি।
  4. আমি রােজ সকালে বেড়াতে যাই।
সঠিক উত্তর:
চিন্তা করো না, কালই আসছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিন্তা করো না, কালই আসছি।
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বা নিত্যবৃত্ত বর্তমানকাল:
সাধারণভাবে এবং সচরাচর যখন কোনো ক্রিয়ার ব্যাপার ঘটে, তার কালকে সাধারণত নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায় (স্বাভাবিকতা)।
- আমি রােজ সকালে বেড়াতে যাই (অভ্যস্ততা)।

ঐতিহাসিক বর্তমান কাল: অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

• ঘটমান বর্তমানকাল:
যে কাজ শেষ হয় নি, এখনো চলছে, সে কাজ বোঝাবার জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সুমি বই পড়ছে।
- মেয়েরা গান গাইছে।

ঘটমান বর্তমান কালের প্রয়োগ:
• বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিতে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বক্তা বললেন, 'শত্রুর অত্যাচারে দেশ আজ বিপন্ন, ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে, দিকে দিকে আগুন জ্বলছে।'

• ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে ঘটমান বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- চিন্তা করো না, কালই আসছি।

• পুরাঘটিত বর্তমানকাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

• অনুজ্ঞা বর্তমান:
যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫২৩.
কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ?
  1. প্রগতি
  2. প্রবচন
  3. প্রভাত
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।

যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি'
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫২৪.
'বাবা বাড়ি নেই' - বাক্যটিতে বাড়ি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. অপাদানে শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
- 'বাবা বাড়ি নেই'- এখানে 'বাড়ি' অধিকরণে শূন্য বিভক্তি।

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
ক. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : আমি ঢাকা যাব। বাবা বাড়ি নেই।
খ. তৃতীয়া বিভক্তি : খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
গ. পঞ্চমী বিভক্তি : বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
ঘ. সপ্তমী বা তে বিভক্তি : এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯)।
৫২৫.
'জরুরি > জরুলি' - শব্দটিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন ধরনের নিয়ম প্রযোজ্য?
  1. স্বরলোপ
  2. বিষমীভবন
  3. অতিশ্রুতি
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- জরুরি > জরুলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে, কুটুম্ব ˃ কুটুম, জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

অভিশ্রতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রতি।
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে, দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে, গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২৬.
‘নির্দোষ’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. নঞ্ বহুব্রীহি
  4. অলুক তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
নঞ্ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ্ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
⇒ বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ দুটির কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে এ দুয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে ‘বহুব্রীহি’ সমাস বলে।
যেমন:
- দশ হাত যার = দশহাতি; এখানে দশহাতি বলতে দশ হাত বিশিষ্ট কাউকে বোঝায় না। বরং ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত একজন দেবীকে বোঝায়।

⇒ নঞ্ বহুব্রীহি:
না-বোধক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- নেই হিসাব যার = বেহিসাবি;
- নয় সামাল যে = বেসামাল;
- নেই দোষ যার = নির্দোষ;
- নেই হিংসা যার = অহিংস;
- নেই যার হায়া = বেহায়া;
- নেই যার আক্কেল = বেআক্কেল।

উৎস ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫২৭.
'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।' বাক্যটির শুদ্ধ জটিল রূপ কোনটি?
  1. ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
  2. যদিও ইহারা যেরূপ রূপবতী, তেমন রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
  3. যেহেতু ইহারা যেরূপ, সেহেতু এরূপ রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই। 
  4. খ ও গ 
সঠিক উত্তর:
ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
ব্যাখ্যা

• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

----------------------
সরল বাক্যকে জটিল বাক্যতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কতিপয় যোজক ও সর্বনাম:
• সাপেক্ষ যোজক: বটে-কিন্তু, যেই-সেই, বরঞ্চ-তথাপি, হয়-নয়, এত-যে, যেমন-তেমন, একে-তায়, যদি-তবু। তাহলে, এরূপ-যে-সে, যত-তত, যাই-তাই ইত্যাদিকে সাপেক্ষ যোজক বলে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এক প্রকার সংযোগমূলক সর্বনামই সাপেক্ষ সর্বনাম। যেমন: যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যার-তার, যতক্ষণ-ততক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫২৮.
'কাঠখোট্টা' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. তোষামোদকারী
  2. তুমুল কাণ্ড
  3. হিমশিম খাওয়া
  4. নীরস
সঠিক উত্তর:
নীরস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীরস
ব্যাখ্যা
• 'কাঠখোট্টা' বাগ্‌ধারার অর্থ - নীরস ও অনমনীয়।

অন্যদিকে,
- 'খাবি খাওয়া' বাগ্‌ধারার অর্থ - হিমশিম খাওয়া।
- 'খণ্ডপ্রলয়' বাগ্‌ধারার অর্থ - তুমুল কাণ্ড।
- 'খয়ের খাঁ' বাগ্‌ধারার অর্থ - তোষামোদকারী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫২৯.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ‘ঝ’ হচ্ছে-
  1. মূর্ধা স্পৃষ্ট
  2. তালু স্পৃষ্ট
  3. দন্ত স্পৃষ্ট
  4. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
তালু স্পৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালু স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা
⇒ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা :
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৫৩০.
কোনটি ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস?
  1. গোঁফখেজুরে
  2. একচোখা
  3. ঘরমুখো
  4. হতশ্রী
সঠিক উত্তর:
গোঁফখেজুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোঁফখেজুরে
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ), ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও)।
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৫৩১.
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কর্মে কোন বিভক্তি হয়?
  1. দ্বিতীয়া
  2. শূন্য
  3. তৃতীয়া
  4. পঞ্চমী
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- কর্তায় তৃতীয়া, কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

- জ্ঞাতব্য: কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

উদাহরণ:
• কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য: খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

• কর্তৃবাচ্য: মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য: মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

[লক্ষণীয়: কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩২.
ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা।- কী ধরণের বাক্য?
  1. ক) মৌলিক বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যথাবাক্য:
আশ্রিত বাক্য - প্রধান বাক্য
• যে পরিশ্রম করে - সে-ই সুখ লাভ করে।
ধনধান্যে পুষ্পে ভরা - আমাদের এই বসুন্ধরা।
• যেখানে বাঘের ভয় - সেখানে সন্ধ্যা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৩.
'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অপরান্‌হ
  2. অপোরান্‌হো
  3. অপোরান্নো
  4. অপোরানো
সঠিক উত্তর:
অপোরান্‌হো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপোরান্‌হো
ব্যাখ্যা

• 'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ- 'অপোরান্‌হো'। 

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৫৩৪.
'কুজ্ঝটিকা' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. কুঃ + ঝটিকা
  2. কুৎ + ঝটিকা
  3. কুৎ + জটিকা
  4. কুজ + ঝটিকা
সঠিক উত্তর:
কুৎ + ঝটিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুৎ + ঝটিকা
ব্যাখ্যা
• 'কুজ্ঝটিকা' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- কুৎ + ঝটিকা।

• উৎস:
- ত্ ও দ্-এরপর জ্‌ ও ঝ্‌ থাকলে ত্ ও দ্‌ - এর স্থানে জ্‌ হয়।
যেমন -
- ত্ + জ = জ্জ; সৎ + জন = সজ্জন।
- দ্‌ + জ = জ্জ; বিপদ + জাল = বিপজ্জাল।
- ত্‌ + ঝ = জ্ঝ; কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা।

এরূপ - উজ্জ্বল, তজ্জন্য, যাবজ্জীবন, জগজ্জীবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৩৫.
'উপনয়ন' শব্দে 'উপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ অর্থে
  2. সদৃশ অর্থে
  3. সম্যক অর্থে
  4. সামীপ্য অর্থে
সঠিক উত্তর:
বিশেষ অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ অর্থে
ব্যাখ্যা
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার-
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ। 
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন। 
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।  
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৬.
মেধা + বিন্‌ = মেধাবী; কোন প্রত্যয়?
  1. কৃৎ প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• মেধা + বিন্‌ = মেধাবী - তদ্ধিত প্রত্যয়
- এটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয়, প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার। যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৭.
‘অ’ ধ্বনির উচ্চারণ ‘অ’ ছাড়া আর কীরূপ হয়?
  1. ই   
  2. ও    
সঠিক উত্তর:
ও    
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও    
ব্যাখ্যা

• স্বরবর্ণ  অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ:
যেমন,  
অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।

• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ:
যেমন, 
অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৩৮.
"ভাবুক" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভৌ + উক
  2. ভৌঃ + উক
  3. ভাব + ঊক
  4. ভাব + উক
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভৌ + উক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভৌ + উক
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• ও/ঔ-এর পর ভিন্ন ধ্বনির সন্ধি।

যেমন:
- পো + অন = পবন, 
- লো + অন = লবণ, 
- পো + ইত্র = পবিত্র, 
- ভৌ + উক = ভাবুক,
- গো + এষণা = গবেষণা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫৩৯.
'উদ্যত' ও 'উদ্ধত' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে -
  1. অবিনীত ও প্রবৃত্ত
  2. প্রবৃত্ত ও অবিনীত
  3. ক্ষিপ্ত ও বিনীত
  4. বিনীত ও ক্ষিপ্ত
সঠিক উত্তর:
প্রবৃত্ত ও অবিনীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবৃত্ত ও অবিনীত
ব্যাখ্যা
শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• অবিরাম - অনবরত।
• অভিরাম - সুন্দর।
• অবদান - কীর্তি।
• অবধান - মনোযোগ।
• উদ্যত - প্রবৃত্ত
• উদ্ধত - অবিনীত

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৪০.
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. জ্বর জ্বর
  2. কবি কবি
  3. হাতে হাতে
  4. ভালো ভালো
সঠিক উত্তর:
হাতে হাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতে হাতে
ব্যাখ্যা

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ- হাতে হাতে। 

অন্যদিকে, 
জ্বর জ্বর, কবি কবি ও ভালো ভালো বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ। 

-----------------
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:

পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৪১.
ধ্বনি সৃষ্টিকারী বায়ুপ্রবাহের উৎস কী?
  1. ক) নাসারন্ধ্র
  2. খ) স্বরযন্ত্র
  3. গ) শ্বাসনালী
  4. ঘ) ফুসফুস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুসফুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুসফুস
ব্যাখ্যা
বাগযন্ত্র: ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভূক্ত।
বাগ্‌যন্ত্রের অংশ সমূহ:
১. ফুসফুস 
২. শ্বাসনালী
৩. স্বরযন্ত্র
৪. জিভ
৫. আলজিভ
৬. তালু
৭. মূর্ধা
৮. দন্তমূল ও দন্ত (দাঁত)
৯. ওষ্ঠ
১০. নাসিকা ইত্যাদি।

ফুসফুস 
ধ্বনি সৃষ্টিকারী বায়ুপ্রবাহের উৎস ফুসফুস। 
- ফুসফুস শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে। 
- মূলত শ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে ধ্বনি উৎপন্ন হয়।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২২ সংস্করণ)।
৫৪২.
”বিষয়টা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে”- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. ঘটমান অতীত
  4. নিত্য অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে। 
যেমন
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- বিষয় টা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

• পুরাঘটিত বর্তমান:
- এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

• ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

• নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরেঝিনুক কুড়াত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

৫৪৩.
‘ধর্মের ষাড়’  বাগধারাটির অর্থ-
  1. অপদার্থ
  2. যথেচ্ছাচারী
  3. তোষামোদকারী
  4. অকর্মণ্য
সঠিক উত্তর:
যথেচ্ছাচারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথেচ্ছাচারী
ব্যাখ্যা
• ‘ধর্মের ষাড়’ বাগধারাটির অর্থ - যথেচ্ছাচারী

অন্যদিকে,
- ‘ঊনপাঁজরে’ বাগধারাটির অর্থ = অপদার্থ।
- ‘ধামাধরা’ বাগধারাটির অর্থ = তোষামোদকারী।
- ‘গোবর গণেশ’ বাগধারাটির অর্থ = অকর্মণ্য।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- ‘ঊনপঞ্চাশ বায়ু’ বাগধারাটির অর্থ = পাগলামি।
- ‘উলুখাগড়া’ বাগধারাটির অর্থ = গুরুত্বহীন লোক।
- ‘গৌরচন্দ্রিকা’ বাগধারাটির অর্থ = ভূমিকা।
- ‘গোঁয়ার গোবিন্দ’ বাগধারাটির অর্থ = কাণ্ডজ্ঞানহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৪.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) তাহার অপরিসীম আনন্দ হইল।
  2. খ) অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা
  3. গ) মুমুর্ষূ রোগীকে শুশ্রূষা কর।
  4. ঘ) বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
সঠিক উত্তর:
গ) মুমুর্ষূ রোগীকে শুশ্রূষা কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুমুর্ষূ রোগীকে শুশ্রূষা কর।
ব্যাখ্যা
'মুমুর্ষূ রোগীকে শুশ্রসা কর।'-  বাক্যটি সঠিক নয়।
এখানে বানানজনিত ভুল রয়েছে। 
- 'মুমুর্ষূ' এবং 'শুশ্রসা' বানান ভুল। 
 
এর শুদ্ধ বাক্য: 'মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা কর।'  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৫.
নিচের কোন শব্দে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. ষাণ্মাসিক
  2. কষাকষি
  3. পোষাক
  4. সুষুপ্ত
সঠিক উত্তর:
পোষাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোষাক
ব্যাখ্যা
• ‘পোষাক’ শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।
• শুদ্ধ বানান:পোশাক,
- এটি ফারসি শব্দ।

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন: 
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

অন্যদিকে,
কষাকষি, ষাণ্মাসিক ও সুষুপ্ত শব্দগুলোতে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ।
-----------------------
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪৬.
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অদ্রি
  2. দিনেশ
  3. সবিতা
  4. তপন
সঠিক উত্তর:
অদ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্রি
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, ভাস্কর, দিনেশ, কিরণমালী, দিনমণি, বিভাকর, পূষণ, অংশুমান, অরুন।
 
• 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ: অদ্রি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৪৭.
’Treasurer’- শব্দের বাংলা পরিভাষা কী?
  1. স্বচ্ছতা
  2. প্রশিক্ষণ
  3. পৃষ্ঠপোষক
  4. কোষাধ্যক্ষ
সঠিক উত্তর:
কোষাধ্যক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষাধ্যক্ষ
ব্যাখ্যা

’Treasurer’- শব্দের বাংলা পরিভাষা- কোষাধ্যক্ষ।

অন্যদিকে,
- Transparency- স্বচ্ছতা।
- Training- প্রশিক্ষণ।
- Sponsor- পৃষ্ঠপোষক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা। 

৫৪৮.
কোনটিতে সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আজকে নগদ কালকে ধার।
  2. কলমের খোঁচা দিও না।
  3. রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
  4. গৃহহীনে গৃহ দাও।
সঠিক উত্তর:
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
→ ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
→ আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

অন্যদিকে,
আজকে নগদ কালকে ধার - অধিকরণে ২য়া।
কলমের খোঁচা দিও না - করণে ৬ষ্ঠী।
গৃহহীনে গৃহ দাও - সম্প্রদানে সপ্তমী বিভক্তি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৯.
বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া একাধিক শব্দের গুচ্ছকে কী বলে?
  1. যোজক
  2. বর্গ
  3. শব্দ
  4. বর্ণ
সঠিক উত্তর:
বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্গ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দের গুচ্ছকে বলে - বর্গ।

বাক্য: 
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবােধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন - “সজল ও লতা বই পড়ে।” – এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরােপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

• বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলাে বাক্যের একক।
- রূপতত্ত্ব অংশে শব্দশ্রেণি নামে বাক্যের এই পদ বিভাজনকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- 'সজল ও লতা বই পড়ে'- বাক্যের 'সজল', 'লতা' ও 'বই' হলাে বিশেষ্য, ‘ও' হলাে যােজক এবং ‘পড়ে' হলাে ক্রিয়া। 
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দের গুচ্ছ অনেক সময়ে পদের মতাে কাজ করে। তখন সেই একাধিক শব্দের গুচ্ছকে বর্গ বলা হয়।
- উপরের বাক্যে 'সজল ও লতা' একটি বর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৫০.
'তাস খেলে পড়া নষ্ট করো না।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
  2. করণকারকে শূন্য বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি
  4. কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
করণকারকে শূন্য বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণকারকে শূন্য বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'তাস খেলে পড়া নষ্ট করো না।' - নিম্নরেখ শব্দটি করণকারকে শূন্য বিভক্তি। 

করণ কারক:
- করণ শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক, উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই বলে করণ কারক।
ক্রিয়াকে কীসের দ্বারা বা কী উপায়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
যেমন: 
- 'তাস খেলে পড়া নষ্ট করো না।' - এই বাক্যে পড়া নষ্ট করার উপকরণ হলো ''তাস''। 
- এর সাথে কোন বিভক্তি যুক্ত হয়নি অর্থাৎ এটি করণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫১.
'হরদম' এর বিপরীত শব্দ-
  1. কপটতা
  2. শুষ্ক
  3. কদাচিৎ
  4. সুলভ
সঠিক উত্তর:
কদাচিৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কদাচিৎ
ব্যাখ্যা
• 'হরদম' এর বিপরীত শব্দ- 'কদাচিৎ'।

অন্যদিকে,
- 'সিক্ত' এর বিপরীত শব্দ- 'শুষ্ক'।
- 'হৃদ্যতা' এর বিপরীত শব্দ- 'কপটতা'
- 'সুলভ'  এর বিপরীত শব্দ- 'দুর্লভ'।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৫২.
'জেলা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফরাসি
  2. আরবি
  3. তৎসম
  4. বংলা
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• 'জেলা'
- শব্দটি আরবি ভাষা হতে আগত।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী, কারাধ্যক্ষ।

কিছু আরবি শব্দ:
- আদাব,
- খবর,
- খাজনা,
- খালাস,
- জলসা,
- দালাল,
- আদালত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৫৩.
কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. তার কপালে ভাত নাই।
  2. বই গুলো সাজিয়ে রাখো।
  3. আমায় একা রেখে যেওনা।
  4. অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থ সমূহ সরিয়ে রাখো।
সঠিক উত্তর:
তার কপালে ভাত নাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার কপালে ভাত নাই।
ব্যাখ্যা

⇒ টি, টা, খানা, খানি, গুলি, গুলো, রা, এরা, গণ, বৃন্দ, সমূহ:
• টি, -টা, -খানা, -খানি, -গুলি, -গুলো, -রা, - এরা, গণ, -বৃন্দ, -সমূহ এইগুলো কখনোই আলাদা বসবে না।
আবার একবচন শব্দের সঙ্গে -টি, টা, খানা, খানি, -কিংবা, -গুলি, -গুলো, -রা, -এরা, -গণ, সমূহ যোগ করে যখন বহুবচন করা হবে তখনও শব্দগুলো আলাদা বসবে না।
• আমরা ভুল করে লিখি- বই গুলো, চিঠি গুলো, গ্রন্থ সমূহ ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সবই জোড়া লাগবে; তাই লিখতে হবে বইগুলো, চিঠিগুলো, গ্রন্থসমূহ। কিন্তু সমূহ আনন্দ, সমূহ বিপদ, সমূহ ক্ষতি, সমূহ সর্বনাশ এসব ক্ষেত্রে আলাদা হবে।


⇒ না, নেই, নয়:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

অতএব নিয়ম অনুসারে,
• শুদ্ধ বাক্য: তার কপালে ভাত নাই।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
- বইগুলো সাজিয়ে রাখো।
- আমায় একা রেখে যেও না।
- অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৫৪.
'এক্‌ + দশ = একাদশ' কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জনসন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  4. বিসর্গসন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
- 'একাদশ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = এক্‌ + দশ।
- এটি নিপাতনে সন্ধি বিচ্ছেদের উদাহরণ। 
 
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
• বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
• আ + চর্য = আশ্চর্য,
• গো + পদ = গোষ্পদ,
• পর্‌ + পর = পরস্পর,
• ষট্ + দশ = ষোড়শ,
• এক্‌ + দশ = একাদশ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৫.
'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. কুঞ্জ
  2. পণী
  3. শতদল
  4. মহীরুহ
  5. পাদপ
সঠিক উত্তর:
কুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুঞ্জ
ব্যাখ্যা

'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।
 
অন্যদিকে,
'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।
 
'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গাছ, পাদপ, দ্রুম, তরু, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫৫৬.
'মাতা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় নিচের কোনটি?
  1. ক) মাতৃ + আ
  2. খ) মাতা + তৃ
  3. গ) মা + তৃচ্‌
  4. ঘ) মাতা + তৃচ
সঠিক উত্তর:
গ) মা + তৃচ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মা + তৃচ্‌
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত 'মাতা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় হবে 'মা + তৃচ্‌'
- এটি তৃচ্‌-প্রত্যয় যোগে গঠিত কৃত-প্রত্যয়ের উদাহরণ।
•  তৃচ্‌-প্রত্যয়: প্রথমা একবচনে 'তৃ' থাকলে 'তৃ' থলে 'তা' হয়।
যেমন-
দা+তৃচ=দাতা
মা=তৃচ=মাতা
ষুধ+তৃচ = যোদ্ধা

কৃৎ প্রত্যয়:
উৎস অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কৃৎ প্রত্যয়সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
এগুলো হলো : বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। 

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
৫৫৭.
'সেমিকোলন' চিহ্নের বাংলা পরিভাষা কী?
  1. পূর্ণচ্ছে
  2. কোলন
  3. অর্ধচ্ছেদ
  4. পাদচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
অর্ধচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 'সেমিকোলন' চিহ্নের বাংলা পরিভাষা কী?

সমাধান:
'সেমিকোলন'- এর বাংলা অর্থ অর্ধচ্ছেদ।

সেমিকোলন:
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাযে অথবা একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ( ; ) ব্যবহৃত হয়। যেমন - সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।

সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা'র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৫৮.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. নির
  2. আন
  3. অপি
  4. কার
সঠিক উত্তর:
আন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আন
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৯.
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে-
  1. অসমীকরণ 
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. বিষমীভবন 
  4. অপিনিহিতি 
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে - উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৬০.
প্রগত সমীভবনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. চক্র > চক্ক
  2. লগ্ন > লগ্গ
  3. পক্ব   > পক্ক
  4. সত্য > সচ্চ
সঠিক উত্তর:
সত্য > সচ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য > সচ্চ
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব   > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ  ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত > তদ্ধিত,
- উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যোন্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন।
যেমন:
- সত্য > সচ্চ,
- বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫৬১.
কোনটি সঠিক বানান?
  1. পুঙ্খনূপুঙ্খ
  2. পুঙ্খনাপুঙ্খ
  3. পুঙ্খানুপূঙ্খ
  4. পুঙ্খানুপুঙ্খ
সঠিক উত্তর:
পুঙ্খানুপুঙ্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুঙ্খানুপুঙ্খ
ব্যাখ্যা
• সঠিক বানান - পুঙ্খানুপুঙ্খ
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- তন্নতন্ন, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৬২.
নিচের কোনটি বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় নয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. শব্দতত্ত্ব
  4. বর্ণতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বর্ণতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়:

• ধ্বনিতত্ত্ব,
• রূপতত্ত্ব,
• বাক্যতত্ত্ব,
• অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
শব্দ ও পদনির্মানের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৬৩.
'একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।' - বাক্যটি কর্তাবাচ্যে কী হবে?
  1. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
  2. একটু বেড়িয়ে আসা যাক বাইরে।
  3. বাইরে একটু বেড়ানো যায়।
  4. একটু বেড়ানো হউক।
সঠিক উত্তর:
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তর:
ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন -
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৬৪.
'কৌতূহল' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. কুতুহল + অ
  2. কুতূহল + অ
  3. কোতুহল + অ
  4. কোতূহল + অ
সঠিক উত্তর:
কুতূহল + অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুতূহল + অ
ব্যাখ্যা
কৌতূহল:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = কুতূহল + অ
- অর্থ: অজ্ঞাত বিষয়ে জানার আগ্রহ।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৬৫.
কোন ভাষায় সাহিত্যের আভিজাত্য প্রকাশ পায় এবং ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়?
  1. আঞ্চলিক ভাষায়
  2. সাধু ভাষায়
  3. চলতি ভাষায়
  4. কথ্য ভাষায়
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষায়
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতিতে 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার বেশি হয়।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় ।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির ব্যকরণ বই এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৬৬.
ভেঙে আলাদা করা যায় না কোন শব্দকে?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. সাধিত শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. যৌগিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• ভেঙে আলাদা করা যায় না - মৌলিক শব্দ

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬৭.
উচ্চারণের স্থান অনুসারে ওষ্ঠ্য ধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনির শ্রেণিবিভাগ:
ফুসফুস থেকে আগত বাতাস বাক্সত্যঙ্গের যে স্থানে বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনিটি উচ্চারিত হয় সে-স্থানই ওই ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান। 

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিসমূহকে কয়েক শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
• ওষ্ঠ্য ধ্বনি:
যে ধ্বনির উচ্চারণে দুটি ঠোঁট পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলা হয়। 
যেমন- প, ফ, ব, ভ, ম হলো ওষ্ঠ্য ধ্বনি। যেমন- তাপ, লাফ, ডাব, সভা, নাম।

• দন্ত-ধ্বনি:
জিভের ডগা ওপরের পাটি দাঁতের পেছনের অংশকে স্পর্শ করে বায়ুপথে বাধার সৃষ্টি করলে দন্ত ধ্বনি উচ্চারিত হয়। , থ, দ, ধ দন্ত্য ধ্বনি। যেমন: তালা, থালা, দল, ধান।

• দন্তমূলীয় ধ্বনি:
জিভের ডগা ওপরের পাটি দাঁতের মূলকে স্পর্শ করে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করলে দন্তমূলীয় ধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়। ন, র,  দন্তমূলীয় ধ্বনি। যেমন: মান, বার, প্রাল। দন্ত্য-ন ধ্বনি উচ্চারণে কোনোক্রমেই দাঁতের স্পর্শ নেই। 'কান' শব্দ উচ্চারণ করলেই তা বুঝতে পারি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৬৮.
যে অর্থপূর্ণ ক্ষুদ্রতম ধ্বনিসমষ্টি ভাষায় অন্য ধ্বনিসমষ্টির সঙ্গে যুক্ত না হয়েও স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে তাকে কী বলে?
  1. মুক্ত রূপিম
  2. অন্যন্য সাধারণ রূপিম
  3. বদ্ধ রূপিম
  4. জটিল রূপিম
সঠিক উত্তর:
মুক্ত রূপিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্ত রূপিম
ব্যাখ্যা
• মুক্ত রূপিম:
- যে অর্থপূর্ণ ক্ষুদ্রতম ধ্বনিসমষ্টি ভাষায় অন্য ধ্বনিসমষ্টির সঙ্গে যুক্ত না হয়েও স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন,
- আম, জাম, কলম ইত্যাদি। 

• বদ্ধ রূপিম: 
- যে অর্থপূর্ণ ক্ষুদ্রতম ধ্বনিসমষ্টি সর্বদা অন্য ধ্বনিসমষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়, কখনও স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না, তাকে বদ্ধ রূপিম বলে। 
- যেমন,
ছেলেটি শব্দের 'টি' হলো বদ্ধ রূপিম।

• অন্যন্য সাধারণ রূপিম: 
- যে রূপিম পৌনঃপুনিকভাবে ব্যবহৃত না হয়ে শুধুমাত্র একটি সমন্বয়ে সীমাবদ্ধ, তাকেই অন্যন্য সাধারণ রূপিম বলে।
যেমন,
ইংরেজিতে 'Cranberry' শব্দের 'Cran' রূপিমটি ইংরেজি ভাষায় আর কোথাও ব্যবহৃত না হয়ে শুধুমাত্র 'Cranberry' শব্দেই ব্যবহৃত হয়।

• জটিল শব্দ: 
- যে শব্দ এক বা একাধিক মুক্ত রূপিমের সঙ্গে এক বা একাধিক বদ্ধ রূপিমের সংযোগে অথবা শুধুই একাধিউক বদ্ধ রূপিমের সংযোগে গঠিত হয়, তাকে জটিল শব্দ বলে।
যেমন,
ছেলে + মি = ছেলেমি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫৬৯.
'ণত্ব ও ষত্ব বিধান' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনি: মানুষের বাক-প্রত্যঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালী, মুখবিবর, জিহ্বা, আল-জিহ্বা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোঁট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে 'ধ্বনি' বলা হয়। বাক-প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনির সূক্ষ্মতম মৌলিক অংশ বা একককে ধ্বনিমূল বলা হয়।

বর্ণ: বাক-প্রত্যঙ্গজাত প্রত্যেকটি ধ্বনি এককের জন্য প্রত্যেক ভাষারই লেখার সময় এক একটি প্রতীক বা চিহ্ন (Symbol) ব্যবহৃত হয়। বাংলায় এ প্রতীক বা চিহ্নকে বলা হয় বর্ণ (Letter)। যেমন-বাংলায় 'বক' কথাটির প্রথম ধ্বনিটির প্রতীকরূপে ব্যবহার করা হয়েছে 'ব', ইংরেজিতে সে ধ্বনির জন্য ব্যবহৃত হয় B বা b (বি), আবার আরবি, ফারসি ও উর্দুতে একই ধ্বনির জন্য ব্যবহৃত হয় (বে)।

বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়গুলো হলো:
- ধ্বনির উচ্চারণপ্রণালী,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিন্যাস,
- ধ্বনিসংযোগ বা সন্ধি,
- ধ্বনির পরিবর্তন ও লোপ,
- ণত্ব ও ষত্ব বিধান ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭০.
"আলুসিদ্ধ" কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে যে’ যােজক থাকে, যেমন –
 
খাস যে জমি = খাসজমি;
চিত যে সঁতার = চিতসাঁতার;
ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা;
সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ;
কনক যে চাঁপা = কনকচাপা;
টাক যে মাথা = টাকমাথা;
যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর;
যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৭১.
‘ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি।’- এখানে ‘ঝাঁকে ঝাঁকে’ কোন ধরনের দ্বিরুত্ব শব্দের উদাহরণ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. বিভক্তিহীন দ্বিত্ব
  4. অনুকার দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৭২.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ নয়?
  1. ক) পিপিলীকা
  2. খ) কৌতুহল
  3. গ) পুষ্পাঞ্জলী
  4. ঘ) ফুলদানী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুলদানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুলদানী
ব্যাখ্যা
• ফুলদানী বানানটি অশুদ্ধ নয়। 

• অন্য অপশনগুলোর শুদ্ধরূপ: 
- পিপীলিকা,
- কৌতূহল,
- পুষ্পাঞ্জলি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমী।
৫৭৩.
কোন শব্দটি উপসর্গ দিয়ে গঠিত?
  1. ক) আষাঢ়
  2. খ) আনন
  3. গ) আঘাটা
  4. ঘ) আগার
সঠিক উত্তর:
গ) আঘাটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আঘাটা
ব্যাখ্যা

• খাঁটি বাংলা ‘আ’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- আঘাটা।
- এখানে ঘাটা (ঘাট; নৌকাদি ভিড়বার জায়গা) বাংলা শব্দের পূর্বে 'আ' উপসর্গযোগে আঘাটা (অব্যবহার্য ঘাট; ব্যবহারের অযোগ্য ঘাট) শব্দটি গঠিত হয়েছে।
আনন → উপসর্গযুক্ত হিসেবে ধরা হয় না (তৎসম/ভিন্ন গঠন)

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৭৪.
'করণীয়' - শব্দটিতে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ঈয়
  2. অনীয়
  3. অনট্‌
  4. অয়ন
সঠিক উত্তর:
অনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনীয়
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
√নে + অক = নায়ক;
√গে + অক = গায়ক;
√কৃ + অনীয় = করণীয়; (এখানে, 'অনীয়' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে)
√রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৭৫.
কিসের পরিবর্তে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় না?
  1. বিশেষ্যের পরিবর্তে
  2. বিশেষণের পরিবর্তে
  3. বিশেষ্যপদবন্ধের পরিবর্তে
  4. বাক্যের পরিবর্তে
সঠিক উত্তর:
বিশেষণের পরিবর্তে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণের পরিবর্তে
ব্যাখ্যা
সর্বনাম: 
- বাক্যে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। 
- বিশেষ্যের মতই কারক ও বচন ভেদে তাঁর রূপের পরিবর্তন হয়।
- বিশেষ্য, বিশেষ্যপদবন্ধ, কিংবা বিশেষ্যস্থানীয় বাক্যাংশের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- 
বিশেষ্যের পরিবর্তে:  ডাক্তার অসুস্থ, তিনি রোগী দেখতে আসবেন না। 

বিশেষ্যপদবন্ধের পরিবর্তে: আমাদের স্কুলের বিতার্কিকরা ঢাকা গেছে। 
                                         তারা টিভি বিতর্কে অংশ নেবে। 

বাক্যের পরিবর্তে:  তুমি কী টের পেয়েছিলে?
                          লোকটা পালিয়ে যাবে, এ আমি আগেই টের পেয়েছিলাম


উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৫৭৬.
'কেক' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? 
  1. ইংরেজি 
  2. তুর্কি 
  3. পর্তুগিজ 
  4. ফরাসি 
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি 
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'কেক' ইংরেজি ভাষা থেকে আগত শব্দ।



উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৫৭৭.
‘Concession’ শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) রেয়াত
  2. খ) বিবাচক
  3. গ) আদালতগ্রাহ্য
  4. ঘ) প্রচারণ, সংবহন
সঠিক উত্তর:
ক) রেয়াত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রেয়াত
ব্যাখ্যা

Concession শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ হলো রেয়াত, সুবিধা ।
Censor = বিবাচক ।
Cognizable = আদালতগ্রাহ্য ।
Circulation = প্রচারণ, সংবহন ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।

৫৭৮.
কোনটি ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. যথাসময়ে
  2. সামনে
  3. টিপ টিপ
  4. না
সঠিক উত্তর:
টিপ টিপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিপ টিপ
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।

যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

অন্যদিকে,
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - যথাসময়ে সে হাজির হয়।
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৭৯.
'বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ ও বাগ্‌ধারা' — এগুলো ব্যাকরণের কোন শাখায় আলোচিত হয়?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. ধ্বনিতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।

৫৮০.
নিচের কোন বাক্য সমধাতুজ কর্ম আছে?
  1. ক) খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
  2. খ) তুলি ফুলে তোলে।
  3. গ) করিম ভাত খায়।
  4. ঘ) রহিম সিনেমা দেখে।
সঠিক উত্তর:
ক) খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া ও কর্ম যদি একই ধাতু থেকে উৎপন্ন হয় তবে তাকে সমধাতুজ কর্ম বলে।
যেমন :
খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
দারুণ এক খেলা খেলেছ।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা—শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৫৮১.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) ওইখানে যেয়ো না সখী, দিলে চোট লাগে।
  2. খ) আর কোনও অন্যায় আবদার মানব না।
  3. গ) এ হল রুমে জায়গা হলে ভালো হতো।
  4. ঘ) তোমার হলো শুরু আমার হলো সাড়া।
সঠিক উত্তর:
খ) আর কোনও অন্যায় আবদার মানব না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আর কোনও অন্যায় আবদার মানব না।
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো : আর কোনও অন্যায় আবদার মানবো না।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৫৮২.
ভাষার মৌলিক উপাদান কোনটি?
  1. ক) বর্ণ
  2. খ) ধ্বনি
  3. গ) শব্দ
  4. ঘ) বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনি
ব্যাখ্যা

- ভাষার মৌলিক বা ক্ষুদ্রতম একক হলো - ধ্বনি, শব্দ
- কিন্তু সবথেকে ক্ষুদ্র - ধ্বনি। তাই এক্ষেত্রে সঠিক উত্তর হবে - ধ্বনি।

পক্ষান্তরে ভাষার উপকরণ হলো - বাক্য বা মৌলিক শব্দ।
অপশনে বাক্য ও মৌলিক শব্দ থাকলে বাক্য উত্তর হবে, আর বাক্য না থাকলে মৌলিক শব্দ উত্তর করতে হবে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৮৩.
"সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।" - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৮৪.
বাংলা ভাষায় সংখ্যার মৌলিক একক হিসেবে কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়?
  1. শূন্য
  2. দশ
  3. এক
  4. একশো
সঠিক উত্তর:
এক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক
ব্যাখ্যা
• অঙ্কবাচক শব্দ:
যে শব্দ দ্বারা অঙ্কবাচক শব্দ নির্দেশ করা হয় তাকে বলা হয় অঙ্কবাচক শব্দ। আমাদের ভাষায় সংখ্যার একক হলো  — 'এক'।

সুতরাং কোনো শব্দকে ভাঙতে হলে এক সংখ্যাকে একক হিসেবে গণ্য করা হয়। যেমন- তিন টাকা বলতে এক টাকার তিনটি একক বা এককের সমষ্টি বোঝায়। অতএব 'তিন' সংখ্যাকে আমরা ভাঙতে পারি এভাবে এক+এক+এক। এভাবে এক থেকে একশ পর্যন্ত গণনা করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮৫.
'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।' কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল
  2. যৌগিক 
  3. সরল 
  4. মিশ্র 
সঠিক উত্তর:
সরল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল 
ব্যাখ্যা

• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৮৬.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধ্বনির সংখ্যা কতটি?
  1. ১১টি
  2. ৭টি
  3. ৩০টি
  4. ৩৭টি
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
ব্যাখ্যা
• ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।

• এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা, 
স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প্], [ফ্], [ব্], [ভ্], [ত্], [থ্], [খ্], [দ্], [ধ্], [ট্], [ঠ্], [ড্], [ঢ্], [চ্], [ছ্], [জ্], [ঝ্], [ক্], [খ্], [গ্], [ঘ্], [ঙ্], [ম্], [ন্], [স্], [শ], [হ্], [ল্], [র্], [ড়্], [ঢ়্] । এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৫৮৭.
কথা অসমাপ্ত রেখে দেওয়া হচ্ছে বোঝাতে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ত্রিবিন্দু চিহ্ন
  2. হাইফেন চিহ্ন
  3. বিস্ময় চিহ্ন
  4. উদ্ধার চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
ত্রিবিন্দু চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিবিন্দু চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• কথা অসমাপ্ত রেখে দেওয়া হচ্ছে - বোঝাতে ব্যবহৃত হয় - ত্রিবিন্দু।

ত্রিবিন্দু ব্যবহার করা হয় মোটামুটি দুটি ক্ষেত্রে :
• বর্জনচিহ্ন হিসেবে এর ব্যবহার। কোনো কথা বাদ দেওয়া হয়েছে - বোঝাবার জন্যে ত্রিবিন্দু ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
লেস্কোফ্ একজন যথার্থ লেখক ... ভাষার ওপরে প্রচণ্ড দখল। [এখানে বর্জিত অংশের চিহ্ন এই ত্রিবিন্দু]

• কথা অসমাপ্ত রেখে দেওয়া হচ্ছে - বোঝাতে ত্রিবিন্দু ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- পাগল কি আমিই, নাকি অন্যরা যারা … [এখানে বক্তব্য অসমাপ্ত রেখে দেওয়া হয়েছে। অসম্পূর্ণতার চিহ্ন হিসেবে এখানে ত্রিবিন্দু বসেছে।]

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫৮৮.
আমরা বান্দরবানে ঘুরতে যাচ্ছি।- এ বাক্যে 'বান্দরবানে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে শূন্য
  2. খ) কর্মে দ্বিতীয়া
  3. গ) অধিকরণে সপ্তমী
  4. ঘ) সম্প্রদানে পঞ্চমী
সঠিক উত্তর:
গ) অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘য়ে’, ‘তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে।
- আমরা বান্দরবানে ঘুরতে যাচ্ছি।

এ বাক্যে 'বান্দরবানে' শব্দে  'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়ে অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৮৯.
নিচের কোন বানানগুচ্ছের সবগুলো বানানই অশুদ্ধ?
  1. অপরাহ্ণ, মধ্যাহ্ন, পূর্বাহ্ণ
  2. নিক্কণ, সূচগ্র, অনুর্ধ
  3. রানি, বিকিরণ, দুরতিক্রম্য
  4. কৌতূহল, বিভীষিকা, পুষ্পাঞ্জলি
সঠিক উত্তর:
নিক্কণ, সূচগ্র, অনুর্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিক্কণ, সূচগ্র, অনুর্ধ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানানগুচ্ছ: নিক্কণ, সূচগ্র, অনুর্ধ।
বানাগুলোর শুদ্ধরূপ: নিক্বণ, সূচ্যগ্র, অনূর্ধ্ব।

অন্যদিকে,
• সুতরাং অন্যান্য অপশনের বানানগুচ্ছের সবগুলো বানানই শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫৯০.
'মন্দ কথা বলতে নেই।' বাক্যটিতে মন্দ কোন ধরনের পদ?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা

- যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
- বাক্যটিতে কথা বিশেষ্য পদ।
- মন্দ কথার দোষ প্রকাশ করেছে।
- তাই বাক্যে মন্দ বিশেষণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯১.
'সৌন্দর্যে কার না রুচি আছে।'- এখানে 'সৌন্দর্যে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
"বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছিল।" - বাক্যে ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'স্কুলে'।

 এরূপ-
- সৌন্দর্যে কার না রুচি আছে। 
[বাক্যকে 'কোনো বিষয়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সৌন্দর্যে'। তাই বাক্যে 'সৌন্দর্য' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯২.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক) উদ্ভুত
  2. খ) অনূঢ়
  3. গ) অনূর্ধ্ব
  4. ঘ) দুরবিন
সঠিক উত্তর:
ক) উদ্ভুত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উদ্ভুত
ব্যাখ্যা

সঠিক বানান:
- অনূঢ়
- উদ্ভূত
- অনূর্ধ্ব
- দুরবিন

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

৫৯৩.
কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বাগীশ্বরী
  2. অনটন
  3. পৃথগন্ন
  4. বিপদুম্বার
সঠিক উত্তর:
বিপদুম্বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদুম্বার
ব্যাখ্যা
বিপদুম্বারশব্দটি সঠিক নয়।

অন্যদিকে -
- বাগীশ্বরী,
- পৃথগন্ন,
- অনটন।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৯৪.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. স্বয়ংবর
  2. যদ্যাপি
  3. আত্মসাৎ
  4. গার্হস্থ্য
সঠিক উত্তর:
যদ্যাপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদ্যাপি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

'যদ্যাপি' বানানটি সঠিক নয়।
- সঠিক বানান: যদ্যপি। 
- অর্থ: যদিও।
- উৎস: সংস্কৃত।

অন্যদিকে,
- স্বয়ংবর, আত্মসাৎ,গার্হস্থ্য - শব্দের বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৯৫.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. অজ্ঞান
  2. নাজানা
  3. কদর্থ
  4. অবুঝ
সঠিক উত্তর:
কদর্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কদর্থ
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
কর্মধারয় সমাসে পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’ স্থানে ‘কৎ’ হয়।
যেমন:
- কু যে অর্থ = কদর্থ,
- কু যে আচার = কদাচার।

অন্যদিকে, 
• নঞ্‌ বহুব্রীহি:
বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি বলে । নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়। যেমন: ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান, বে (নাই) হেড যার = বেহেড, না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার। নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল, না (নয়) জানা যা = নাজানা, অজানা ইত্যাদি। এরকম- নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, অকেজো, বে- পরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৯৬.
‘রাত্রির শেষভাগ' এর এক কথায় কী বলে?
  1. পররাত্র
  2. ত্রিযামা
  3. তামসী
  4. অমাবস্যা
সঠিক উত্তর:
পররাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পররাত্র
ব্যাখ্যা

• ‘রাত্রির শেষভাগ' এর এক কথায় প্রকাশ - পররাত্র।  

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ হলো:
- ‘রাত্রির প্রথম ভাগ’ -পূর্বরাত্র।
- ‘রাত্রির মধ্যভাগ’ - মহানিশা। 
- ‘রাত্রির তিনভাগ একত্রে' - ত্রিযামা। 
- ‘রাত্রিকালীন যুদ্ধ’ - সৌপ্তিক।
- ‘ঘোর অন্ধকার রাত্রি’ - তমিস্রা।
- ‘অন্ধকার রাত্রি’ - তামসী।
- ‘কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি’ - অমাবস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৯৭.
'পিত্রানুমতি' শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পিত্র + অনুমতি
  2. পিতা + অনুমতি
  3. পিতৃ + অনুমতি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পিতৃ + অনুমতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতৃ + অনুমতি
ব্যাখ্যা

• সূত্র:
- প্রথম পদের শেষে ঋ-ধ্বনি এবং দ্বিতীয় পদের প্রথম ঋ ছাড়া অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে আগের ঋ-ধ্বনি র হয় এবং বানানে তা র-ফলা হয়ে আগের বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- পরের স্বরধ্বনি সাধারণত উচ্চারণে অপরিবর্তিত থাকে এবং র-ফলার সঙ্গে জুড়ে যায়।

উদাহরণ:
- পিতৃ + অনুমতি = পিত্রনুমতি,
- পিতৃ + অর্থে = পিত্রর্থে।
- পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়,
- মাতৃ + আদেশ = মাত্রাদেশ।
- পিতৃ + ইচ্ছা = পিত্রিচ্ছা,
- মাতৃ + ইচ্ছা = মাত্রিচ্ছা।
- মাতৃ + উপদেশ = মাত্রুপদেশ,
- পিতৃ + উপদেশ = পিত্রুপদেশ,
- ভাতৃ + উপদেশ = ভাত্রুপদেশ ইত্যাদি।
- ভাতৃ + এষণা = ভ্রাত্রেষণা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৫৯৮.
‘Memorandum’ শব্দের বাংলা পরিভাষা -
  1. সারগ্রন্থ
  2. পাণ্ডুলিপি
  3. স্মারকলিপি
  4. পরিশিষ্ট
সঠিক উত্তর:
স্মারকলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মারকলিপি
ব্যাখ্যা
• ‘Memorandum’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - স্মারকলিপি।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
• ‘Manual’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - সারগ্রন্থ।
• ‘Manuscript’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - পাণ্ডুলিপি।
• ‘Appendix' শব্দের বাংলা পরিভাষা - পরিশিষ্ট।
• ‘Manifesto’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - ইশতাহার।
• ‘Gazette’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - ঘোষণাপত্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৯৯.
'পাখি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. বিদেশি
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব
ব্যাখ্যা
পাখি - তদ্ভব শব্দ।

বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
১. তৎসম,
২. তদ্ভব,
৩. দেশি ও
৪. বিদেশি।
- এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
যথা: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬০০.
'এজলাস' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তুর্কি
  4. পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা

• এজলাস আরবি ভাষার শব্দ থেকে আগত।

এছাড়াও,
আদালত, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, মুন্সেফ, মোক্তার, খারিজ, রায় ইত্যাদি আরবি ভাষা থেকে আগত বাংলা শব্দ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।