বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৬৯ / ৩৫৪ · ৬,৮০১৬,৯০০ / ৩৫,৭১৩

৬,৮০১.
'নষ্ট হওয়া স্বভাব নয় যার' এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. অস্থায়ী
  2. নশ্বর
  3. অনিকেত
  4. অবিনশ্বর
সঠিক উত্তর:
অবিনশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিনশ্বর
ব্যাখ্যা
• 'নষ্ট হওয়া স্বভাব নয় যার' এক কথায় প্রকাশ- অবিনশ্বর। 

আবার, 
• 'যা কখনো নষ্ট হয় না' এক কথায় প্রকাশ- অবিনশ্বর। 

অন্যদিকে, 
- 'যা চিরস্থায়ী নয়' - নশ্বর। 
- 'যা স্থায়ী নয়' - অস্থায়ী। 
- 'যার বাসস্থান নেই' -অনিকেত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৬,৮০২.
কোনটি বাংলা ব্যাকরণের আলােচ্য বিষয় নয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. ভাষাতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ভাষাতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষাতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• বাংলা ব্যাকরণের আলােচ্য বিষয় নয় - ভাষাতত্ত্ব।

ব্যাকরণের আলােচ্য বিষয় ৪ টি ভাগে বিভক্ত:

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে।
- বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতুত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচন করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৮০৩.
কোন শব্দটি ‘পর্বত’ শব্দের বহুবচন রূপ প্রকাশ করে?
  1. নিচয়
  2. মালা
  3. রাজি
  4. রাশি
সঠিক উত্তর:
মালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালা
ব্যাখ্যা
মালা শব্দটি ‘পর্বত’ শব্দের বহুবচন রূপ প্রকাশ করে।
• মালা শব্দ যোগে ব্যবহৃত শব্দ: 
- মেঘমালা,
- গ্রন্থমালা,
- পর্বতমালা

অন্যান্য অপশন:
• নিচয় শব্দ যোগে ব্যবহৃত শব্দ: 
- পুষ্পনিচয়,
- বুধনিচয়।

• রাজি শব্দ যোগে ব্যবহৃত শব্দ: 
- পুষ্পরাজি,
- বৃক্ষরাজি,
- গ্রন্থরাজি।

রাশি শব্দ যোগে ব্যবহৃত শব্দ: 
- পুষ্পরাশি,
- পত্ররাশি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮০৪.
'ঝুল্' কোন ধরনের ধাতু?
  1. বিদেশি ধাতু
  2. সংযোগমূলক ধাতু
  3. সাধিত ধাতু
  4. সংস্কৃত ধাতু
সঠিক উত্তর:
বিদেশি ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি ধাতু
ব্যাখ্যা
মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন:
- আঁট (শক্ত করে বাঁধা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- খাট্ (মেহনত করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- চেঁচ্ (চিৎকার করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ঝুল্ (দোলা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- টান্ (আকর্ষণ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ডর্ (ভীত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,৮০৫.
‘পয়োধি’ শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. বারি
  2. সমুদ্র
  3. বারিদ
  4. লহরী
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র
ব্যাখ্যা
‘সমুদ্র’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, জলধি, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, পয়োধি, বারীন্দ্র, অর্ণব, পারাবার।

অন্যদিকে,
‘অম্বু’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- জল, সলিল, নীর, পয়ঃ, বারি, অপ, উদক, জীবন, পানি।

‘অম্বুবাহ’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- জলদ, জলধর, নীরদ, বারিদ, ঘন, জীমূত, অভ্র, মেঘ।

‘ঊর্মি’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- তরঙ্গ, কল্লোল, ঢেউ, বীচি, হিল্লোল, লহরী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৮০৬.
'বাবাকে বড্ড ভয় পাই।' - এখানে 'বাবা' কোন কারক? 
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) অপাদান কারক
- 'বাবাকে বড্ড ভয় পাই - বাক্যে 'বাবা' হলেন ভয়ের কারণ, তাই এটি অপাদান কারক।  
- ভয় পাওয়ার বিষয়টি 'বাবা'-র কাছ থেকে আসছে, তাই 'বাবাকে' শব্দটি অপাদান কারকে 'কে' বা দ্বিতীয়া বিভক্তিযুক্ত হয়েছে।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- উদাহরণ: বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- উদাহরণ: মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- উদাহরণ: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বা দিয়ে বিভক্তি
- উদাহরণ: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। 

ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি:
- উদাহরণ: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- উদাহরণ: বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- উদাহরণ: লোকমুখে শুনেছি। তিলে তৈল হয়।

য় বিভক্তি:
- উদাহরণ: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৬,৮০৭.
'ঢাকঢাক গুড়গুড়' প্রবাদ-প্রবচনটির সঠিক অর্থ কোনটি?
  1. নিষ্ফল পরিশ্রম
  2. স্বার্থসচেতন
  3. ভাগ্যের খেলা
  4. লুকোচুরি
সঠিক উত্তর:
লুকোচুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুকোচুরি
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকঢাক গুড়গুড়' প্রবাদ-প্রবচনটির সঠিক অর্থ- লুকোচুরি।

অন্যদিকে,
• লাভের অঙ্ক শূন্য - নিষ্ফল পরিশ্রম।
• জাতে মাতাল তালে ঠিক - স্বার্থসচেতন।
• অদৃষ্টের পরিহাস - ভাগ্যের খেলা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮০৮.
মূর্ত বিশেষ্য কোনটি?
  1. সাহস
  2. সৌন্দর্য
  3. আনন্দ
  4. গোলাপ
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
ব্যাখ্যা

ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা অনুসারে সাধারণ বিশেষ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. মূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্যকে স্পর্শ করা যায়, ঘ্রাণ নেওয়া যায় এবং পরিমাপ করা যায় তাকে মূর্ত বিশেষ্য বলে। যেমন- হাত, পা, পানি, গোলাপ ইত্যাদি।

২. বিমূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা অবস্তুগত অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুণগত বৈশিষ্ট্য বোঝায় তাকে বিমূর্ত বা ভাববিশেষ্য বলে। যেমন- আনন্দ, দুঃখ, ইচ্ছা, রাগ, সন্দেহ, সাহস, সৌন্দর্য ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৮০৯.
‘অপয়া’ শব্দটি কোন্ সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
নঞ বহুব্রীহি সমাস:
- না- বোধক অব্যয় পদের সাথে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন:
- নেই পয় (ভাগ্য) যার= অপয়া,
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- না (নাই) চারা (উপায়) = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = নাজানা,
- অ (নাই) আদি যার = অনাদি ইত্যাদি। 

উৎস:
১) প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎমামুদ ও ড. মোহাম্মাদ আমীন।
২) মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮১০.
কোন বাক্যটিতে সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
  2. তােমার দেখা পেলাম না।
  3. আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
  4. তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।
সঠিক উত্তর:
তােমার দেখা পেলাম না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তােমার দেখা পেলাম না।
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
• ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
• আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
• তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।

অন্যদিকে, 
তােমার দেখা পেলাম না = কর্ম কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮১১.
'আঁখিজল' কোন দুটি শব্দের মিশ্রনে গঠি?
  1. ক) বাংলা+হিন্দি
  2. খ) সংস্কৃত+বাংলা
  3. গ) বাংলা+সংস্কৃত
  4. ঘ) হিন্দি+বাংলা
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা+সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা+সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
'আঁখিজল' = বাংলা+সংস্কৃত  যোগে গঠিত শব্দ। 

আঁখিজল (বিশেষ্য) 
- বাংলা আঁখি+সংস্কৃত জল এর মিশ্রনে গঠিত শব্দ। 
অর্থ:  চোখের জল, অশ্রু। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,৮১২.
সন্ধি সম্বন্ধে ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
'সন্ধি' ব্যাকরণের 'ধ্বনিতত্ত্ব' অংশে আলোচিত হয়।  

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য সন্ধি বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি। 

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় পদ প্রকরণ যেমন: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ এ অংশে আলোচিত হয়। 

অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,৮১৩.
'জলে-স্থলে' কোন সমাস?
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  2. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  3. একশেষ দ্বন্দ্ব
  4. অলুক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দুধে-ভাতে,
- জলে-স্থলে,
- দেশে-বিদেশে,
- হাতে-কলমে। 

• তিন বা বহু পদে দ্বন্দ্ব সমাস হলে তাকে বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- সাহেব-বিবি-গোলাম,
- হাত- পা-নাক-মুখ-চোখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮১৪.
যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃতের অনুরূপ সেগুলোকে কী বলে?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. বিদেশি
  4. দেশি
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
যথা- 
- তৎসম, 
- তদ্ভব, 
- দেশি, 
- বিদেশি।

• তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। 
যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বক্ষৃ ।

• সংস্কৃত ব্যাকরণ অনসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি। 

• তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত, হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি। 

• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছুশব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি ।

• বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে।
এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম - দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
৬,৮১৫.
'বসে আছে যে' এক কথায় কী বলে?
  1. উপবাসক
  2. উপবিষ্ট
  3. উপবিধি
  4. উপবীতী
সঠিক উত্তর:
উপবিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপবিষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'বসে আছে যে' এক কথায় বলে- আসীন, উপবিষ্ট।

• উপবিষ্ট (বিশেষণ পদ)। 
অর্থ- আসন গ্রহণ করেছে এমন, আসীন।

অন্যদিকে, 
• 'উপবাসক' অর্থ- না খেয়ে আছে এমন, অনাহারী, উপবাসকারী।
• 'উপবিধি' অর্থ- প্রধান বা মূল আইনের অন্তর্গত আইন। 
• 'উপবীতী' অর্থ- উপবীত বা পইতা ধারণ করেছে এমন, যজ্ঞসূত্রধারী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াত মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮১৬.
'নিন্দা' অর্থে তদ্ধিতান্ত শব্দ কোনটি?
  1. চোরা
  2. জেঠামি
  3. কানাই
  4. ইতরামি
সঠিক উত্তর:
জেঠামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেঠামি
ব্যাখ্যা

• নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।

প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 

অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা। 
বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
আদর অর্থে: কানু → কানাই।
জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই। 
ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।
পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।
উপকরণ অর্থে: মাটি → মেটে। 
নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।
সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ → গেঁয়ো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,৮১৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অত্যাধিক
  2. অতিথি
  3. অচিন্ত্যনীয়
  4. অদ্ভূত
সঠিক উত্তর:
অতিথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিথি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অতিথি (বিশেষ্য পদ)। 
- সংস্কৃত শব্দ, 
অর্থ:
- গৃহে আগত ব্যক্তি,
- মেহমান;
- আগন্তুক।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• অচিন্ত্যনীয় - অচিন্তনীয়। 
• অত্যাধিক - অত্যধিক। 
• অদ্ভূত - অদ্ভুত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮১৮.
শব্দার্থ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ সমষ্টিকে ভাগ করা হয়েছে -
  1. ক) ২ ভাগে
  2. খ) ৩ ভাগে
  3. গ) ৪ ভাগে
  4. ঘ) ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
• শব্দার্থ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ সমষ্টিকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. যৌগিক শব্দ: যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাকে বলা হয় যৌগিক শব্দ। যেমন: 
কৃ + তব্য = কর্তব্য, অর্থ- যা করা উচিত।
বাবু + আনা = বাবুয়ানা, অর্থ- যিনি বাবুর ভাব নিয়ে চলেন। 

২. রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ: যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ। উদাহরণ:
'সন্দেশ' শব্দের মূল অর্থ 'সংবাদ' পরিবর্তিত হয়ে 'মিষ্টান্ন' অর্থ ব্যবহার হয়। 
'চিকন' শব্দের মূল অর্থ 'চকচকে' পরিবর্তিত হয়ে 'সরু' অর্থ ব্যবহার হয়। 

৩. যোগরূঢ় শব্দ: সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ। যেমন:
জলদ— মূল অর্থ যে জল দেয়, ব্যবহারিক অর্থ হলো মেঘ,
পঙ্কজ— শব্দের অর্থ যা পঙ্কে জন্মে, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্ম।

তথ্যসূত্র: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮১৯.
'লেখক' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. √লেখ্‌ + অক
  2. √লিখ্‌ + য়ক
  3. √লিখ + নক
  4. √লিখ + অক
সঠিক উত্তর:
√লিখ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√লিখ + অক
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'লেখক' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়:  √লিখ + অক। 

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
• 'দর্শনীয়': √দৃশ্‌ + অনীয়।
• 'গণক': √গণ্ + অক।
• 'প্রাচ্য': প্রাচ্‌ + য।
• 'পাঠক': পঠ্‌ + অক ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮২০.
তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি -

তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• কম্পিত ব্যঞ্জন - র।
• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন - ল।
• উষ্ম ব্যঞ্জন - হ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৮২১.
‘পরস্পর’ কোন সন্ধিসাধিত শব্দ? 
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  4. বিসর্গ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
 
যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৮২২.
'লগন চাঁদা' বাগ্‌ধারার অর্থ-
  1. একমাত্র সম্পদ
  2. ভাগ্যবান
  3. রূপবান পুরুষ
  4. নতুন আগমন
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভাগ্যবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগ্যবান
ব্যাখ্যা
• 'লগন চাঁদা' বাগ্‌ধারার অর্থ - ভাগ্যবান। 

অন্যদিকে, 
• 'সবেধন নীলমণি' অর্থ - একমাত্র সম্পদ। 
• 'ময়ূর ছাড়া কার্তিক' অর্থ - রূপবান পুরুষ। 
• 'ভূঁইফোড়' অর্থ - নতুন আগমন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৬,৮২৩.
নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. শোঁ শোঁ
  2. জ্বর জ্বর
  3. ঝাল-টাল
  4. টুং টুং
  5. খুটুর খুটুর
সঠিক উত্তর:
ঝাল-টাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝাল-টাল
ব্যাখ্যা

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো, ঝাল-টাল ইত্যাদি। 

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, শোঁ শোঁ। 

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

৬,৮২৪.
নিচের কোনটি সাধু রীতির ক্রিয়াপদ?
  1. করলেন
  2. হইল
  3. পেরিয়ে
  4. পড়লো
সঠিক উত্তর:
হইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হইল
ব্যাখ্যা

• সাধু ও চলিত ভাষায় ক্রিয়া পদের কতিপয় রূপ:

যেমন:
সাধু     -   চলিত:
হইল - হল/হলো,
→ আসিয়া- এসে,
→ করিলেন- করলেন,
→ দেন নাই- দেননি,
→ পার হইয়া- পেরিয়ে,
→ পড়িল- পড়ল/পড়লো। 
→ করিয়া- করে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,৮২৫.
'ঘুঘু চরানো' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. সর্বনাশ করা
  2. পলায়ন করা
  3. জব্দ করা
  4. বিবেচনা করা
সঠিক উত্তর:
সর্বনাশ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাশ করা
ব্যাখ্যা
• 'ঘুঘু চরানো' বাগ্‌ধারার অর্থ - সর্বনাশ করা। 

অন্যদিকে, 
• 'খতিয়ে দেখা' অর্থ - বিবেচনা করা। 
• 'গা ঢাকা দেয়া' অর্থ - পলায়ন করা। 
• 'ঘোল খাওয়ানো' অর্থ - জব্দ করা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮২৬.
কোনটি তদ্ভব শব্দ?
  1. অলাবু
  2. ভিটা
  3. নদী
  4. ফল
সঠিক উত্তর:
ভিটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'ভিটা' শব্দটি সংস্কৃত ভিত্তি শব্দ থেকে এসেছে।

তদ্ভব শব্দ:
• তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ।

- এই ‘তদ্ভব’ পরিভাষার ‘তৎ' = তার, এবং ভাব (‘ভব') = উৎপন্ন অর্থ বুঝায়। এখানেও ‘তার’ বলতে ‘সংস্কৃত’কে নির্দেশ করছে।
- অর্থাৎ যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে,
তাদেরকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। -

উদাহরণ:
• তৎসম > প্রাকৃত > তদ্ভব
• চন্দ্ৰ > চান্দ > চাঁদ;
• হস্ত > হখ > হাত;
• অদ্য > অজ্জ > আজ;
• বৎস > বচ্ছ > বাছা ইত্যাদি।

এই তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলে।

অন্যদিকে,
- অলাবু, নদী, ফল সংস্কৃত ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।

৬,৮২৭.
'যজ্ঞ' - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. য + জ্ঞ
  2. যৎ + ণ
  3. যজ্ + ন
  4. জঙ্‌ + অ
সঠিক উত্তর:
যজ্ + ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যজ্ + ন
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- চ্ ও জ-এর পরে নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়।

যেমন-
- যাচ্ + না = যাচ্ঞা,
- রাজ্ + নী = রাজ্ঞী,
- যজ্ + ন = যজ্ঞ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,৮২৮.
‘কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।’ - বাক্যে ‘হেতু’ অনুসর্গ কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. মাঝে
  2. সঙ্গে
  3. নিমিত্ত
  4. কারণ
সঠিক উত্তর:
নিমিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমিত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।’ বাক্যে ‘হেতু’ অনুসর্গ 'নিমিত্ত' অর্থ প্রকাশ করেছে।

অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে:
- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮২৯.
‘জলদ’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পানি
  2. মেঘ
  3. সমুদ্র
  4. ঢেউ
সঠিক উত্তর:
মেঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘ
ব্যাখ্যা
• ‘জলদ’ শব্দের সমার্থক শব্দ - মেঘ

• ‘জলদ’ শব্দের আরো কিছু প্রতিশব্দ:
- জলধর, নীরদ, বারিদ, ঘন, জীমূত, অভ্র, অম্বুবাহ।

অন্যদিকে,
• ‘পানি’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- জল, সলিল, নীর, পয়ঃ, বারি, অপ, উদক, জীবন, অম্বু।
 
• ‘সমুদ্র’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, জলধি, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি, বারীন্দ্র, অর্ণব, পারাবার।

• ‘ঢেউ’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- তরঙ্গ, কল্লোল, ঊর্মি, বীচি, হিল্লোল, লহরী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৮৩০.
কোন দুটি যৌগিক শব্দ?
  1. প্রবীণ, মধুর
  2. চিকামারা, বাবুয়ানা
  3. গায়ক, পঙ্কজ
  4. কর্তব্য, গবেষণা
সঠিক উত্তর:
চিকামারা, বাবুয়ানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিকামারা, বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ - চিকামারা, বাবুয়ানা

• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা -
ক. যৌগিক শব্দ,
খ. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
গ. যোগরূঢ় শব্দ।

যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন -
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
• রূঢ়ি শব্দ - গবেষণা, প্রবীণ।
• যোগরূঢ় শব্দ - পঙ্কজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮৩১.
'সুষুপ্ত' শব্দে 'ষ' হয়েছে যে নিয়মে -
  1. স্বভাবত 'ষ' বসে
  2. 'স' এর পরে বসেছে বলে
  3. 'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে
  4. 'প্ত' মূলরূপ থেকে উৎসারিত হওয়ায় 
সঠিক উত্তর:
'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে
ব্যাখ্যা
• 'সুষুপ্ত' শব্দে 'ষ' হয়েছে - 'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮৩২.
‘চিত্রকর’ শব্দের সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) চিত্র+√কৃ +অ
  2. খ) চিত্র + √কর
  3. গ) চিত + √কৃ+ অ
  4. ঘ) চিত্র + √কর্
সঠিক উত্তর:
ক) চিত্র+√কৃ +অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চিত্র+√কৃ +অ
ব্যাখ্যা
• চিত্রকর।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [চিত্র+√কৃ +অ]
অর্থ: পটুয়া চিত্রশিল্পী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৩৩.
'প্রসন্ন' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক্ষুণ্ণ
  2. উত্থান
  3. উদ্বিগ্ন
  4. আসন্ন
সঠিক উত্তর:
ক্ষুণ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুণ্ণ
ব্যাখ্যা
• 'প্রসন্ন' এর বিপরীত শব্দ- ক্ষুণ্ণ। 

অন্যদিকে, সঠিক বিপরীতার্থক হলো:
• উত্থান - পতন।
• উদ্বিগ্ন - নিরুদ্বিগ্ন।  
• 'আসন্ন' অর্থ - নিকটবর্তী; অন্তিম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং অভিগম্য অভিধান।
৬,৮৩৪.
গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্ট শব্দ কোনটি?
  1. ক) ঘোড়ার গাড়ি
  2. খ) অশ্বশকট
  3. গ) শবদাহ
  4. ঘ) মড়াদাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মড়াদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মড়াদাহ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচন্ডালী দোষ। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। যেমন- গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, অশ্বশকট, শবদাহ, মড়াপোড়া প্রভৃতি হলো তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্ট হয়। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৬,৮৩৫.
বাংলা বর্ণমালার পরাশ্রয়ী বর্ণ না কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
বাংলা বর্ণমালার পরাশ্রয়ী বর্ণের সংখ্যা ৩টি, যথা: ং,ঃ,ঁ। এই তিনটি বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসাবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এ বর্ণের দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সাথে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়। তাই এ বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬,৮৩৬.
বিপরীত শব্দ তৈরি করার জন্য শব্দের পূর্বে কোনটি ব্যবহার করা যায়?
  1. প্রত্যয়
  2. বিভক্তি
  3. উপসর্গ
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা
বিপরীত শব্দ:
- যেসব শব্দ পরস্পর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোকে বিপরীত শব্দ বলে। বিপরীত শব্দ একে অন্যের পরিপূরক।
- যেমন, বিবাহিত-অবিবাহিত; পুরুষ-নারী; জীবিত-মৃত; পিতা-মাতা ইত্যাদি।
- শব্দের পূর্বে অ, অন, অনা, অপ, অব, অবি, দূর, না, নি, নির প্রভৃতি উপসর্গ যুক্ত করে বিপরীত শব্দ তৈরি করা যায়।
- যেমন: চেনা থেকে অচেনা; আদর থেকে অনাদর; নশ্বর থেকে অবিনশ্বর।
- তবে এমন বহু শব্দ রয়েছে যেগুলোর বিপরীত শব্দ গঠনগতভাবে আলাদা।
- যেমন ধনী-গরিব, আদি-অন্ত, নিন্দা-প্রশংসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৮৩৭.
’যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব’ বাক্যটির যৌগিক রূপ কী?
  1. সে আর আমি কাল যাব
  2. সে কাল আসবে এবং আমি যাব
  3. সে গেলে আমি যাব
  4. সে কাল আসলেই আমি যাব
সঠিক উত্তর:
সে কাল আসবে এবং আমি যাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে কাল আসবে এবং আমি যাব
ব্যাখ্যা
•  জটিল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- জটিল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিবর্তন করতে হলে খণ্ডবাক্যগুলোকে এক একটি স্বাধীন বাক্যে পরিবর্তন করে তাদের মধ্যে সংযোজক অব্যয়ের ব্যবহার করতে হয়।
যেমন-
 
জটিল বাক্য: যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
যৌগিক বাক্য : সে কাল আসবে এবং আমি যাব।

আরো উদাহরণ:
- জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
- যৌগিক বাক্য: বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে।

- জটিল বাক্য: যদিও তাঁর টাকা আছে, তথাপি তিনি দান করেন না।
- যৌগিক বাক্য:তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ২০২৮ সালের সংস্করণ।
৬,৮৩৮.
ভাষার মূল উপাদান কোনটি?
  1. ধ্বনি
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. অর্থ
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
ব্যাখ্যা
ভাষার মূল উপাদান- 'ধ্বনি'।

• ভাষা হলো বাক্যের সমষ্টি বাক্য গঠিত হয় শব্দ দিয়ে। আবার শব্দ তৈরি হয় ধ্বনি দিয়ে। 
এদিক থেকে ভাষার ক্ষুদ্রতম বা মূল উপাদান হলো ধ্বনি।  

তাছাড়া, 
- বাক্যের মৌলিক উপাদান/ক্ষুদ্রতম - শব্দ।
- ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ - বাক্য।
- ভাষার মূল উপদান/ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি এবং
- বর্ণ হচ্ছে শব্দের গঠনগত একক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী (২০২২ সংস্করণ)। 
৬,৮৩৯.
কিসের ভেদে ক্রিয়ার রূপের কোনো পার্থক্য হয় না?
  1. অর্থভেদে
  2. বচনভেদে
  3. বর্ণনাভেদে
  4. কালভেদে
সঠিক উত্তর:
বচনভেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বচনভেদে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াপদ:
ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন:
- আমি যাই।
- তুমি যাও।
- আপনি যান।
- সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)

খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না।
যেমন:
- আমি (বা আমরা) যাই।
- তুমি (বা তোমরা) যাও।
- সে (বা তারা) যায়।

গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৬,৮৪০.
‘গুড়ে বালি’ বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. নষ্ট হওয়া
  2. আশায় নৈরাশ্য
  3. শুরুতেই ভুল
  4. সমাপ্তি
সঠিক উত্তর:
আশায় নৈরাশ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশায় নৈরাশ্য
ব্যাখ্যা
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা হলো:
• ‘চুলোয় যাওয়া’ অর্থ - নষ্ট হওয়া।
• ‘গুড়ে বালি’ অর্থ - আশায় নৈরাশ্য।
• ‘গোড়ায় গলদ’ অর্থ - শুরুতেই ভুল।
• ‘কৈ মাছের জান’ অর্থ - যা সহজে মরে না।
• ‘পুঁটি মাছের প্রাণ’ অর্থ - ছোটো মন।
• ‘তিলকে তাল করা’ অর্থ - ছোটকে বড় করা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৪১.
দ্রুত শিল্পায়ন দরকার নতুবা দেশের উন্নতি হবে না- বাক্যে ‘নতুবা’ কোন পদ?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) আবেগ
সঠিক উত্তর:
গ) যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যোজক
ব্যাখ্যা
যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- দ্রুত শিল্পায়ন দরকার নতুবা দেশের উন্নতি হবে না।
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।

• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, নতুবা, যেহেতু, অতএব, যদি, যত, তত ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৪২.
'যা হৃদয়ে গমন করে' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. হৃদয়ঙ্গম
  2. হৃতসর্বস্ব
  3. হৃদয়বিদারক
  4. বিদীর্ণহৃদয়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হৃদয়ঙ্গম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃদয়ঙ্গম
ব্যাখ্যা
• 'যা হৃদয়ে গমন করে' এর এক কথায় প্রকাশ - হৃদয়ঙ্গম

অন্যদিকে,
যার সর্বষ চুরি গেছে - হৃতসর্বস্ব।
যা হৃদয় বিদীর্ণ করে - হৃদয়বিদারক।
যার হৃদয় বিদীর্ণ হয়েছে - বিদীর্ণহৃদয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৪৩.
ঈনী, নী প্রত্যয়ের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) মায়াবিনী
  2. খ) কুহকিনী
  3. গ) যোগিনী
  4. ঘ) কুমারিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুমারিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুমারিনী
ব্যাখ্যা
নী প্রত্যয় যোগে সঠিক শব্দ হলো - কুমারনী, জেলেনী, ধোপানী। ঈনী, নী যোগে গঠিত শুদ্ধ শব্দ- মায়াবিনী, কুহকিনী, যোগিনী, মেধাবিনী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৬,৮৪৪.
ভাবের সুসংগত প্রসারণের নাম-
  1. মর্মার্থ
  2. ভাবার্থ
  3. ভাব-সম্প্রসারণ
  4. সারভাব
সঠিক উত্তর:
ভাব-সম্প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাব-সম্প্রসারণ
ব্যাখ্যা
ভাবের সুসংগত প্রসারণের নাম - ভাব-সম্প্রসারণ

• ভাব-সম্প্রসারণ: 
- ভাব-সম্প্রসারণে ভাবের সম্প্রসারণ ঘটে।
- ভাবের সার্থক ও সুসংগত প্রসারণই ভাব-সম্প্রসারণ
- কোনো কবিতা বা গদ্যরচনার অংশকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করাকে ভাব-সম্প্রসারণ বলে। 

• ভাব-সম্প্রসারণ করার সময়ে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন:
- ভাব-সম্প্রসারণকে প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত করা যায়: প্রথম অংশে ভাবের অর্থ, দ্বিতীয় অংশে ভাবের ব্যাখ্যা এবং তৃতীয় অংশে ভাবের তাৎপর্য।
- ভাব-সম্প্রসারণের এই অংশগুলোকে আলাদা তিনটি অনুচ্ছেদে উপস্থাপন করা যায়।
- ভাবের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যুক্তি দেখাতে হয়, উদাহরণ দিতে হয়, তুলনা করতে হয়।
- ভাব-সম্প্রসারণের বাক্যগুলো যাতে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।
- প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে ।
- ভাব-সম্প্রসারণে আলাদা কোনো শিরোনামের দরকার হয় না।
- মূল ভাবটি রূপক বা প্রতীকের আড়ালে থাকলে তাকে স্পষ্ট করতে হয়।
- ভাব-সম্প্রসারণ করার সময়ে প্রদত্ত অংশের রচয়িতার নাম উল্লেখ করতে হয় না।
- কমবেশি ২০০ শব্দ অথবা অনধিক ২০টি বাক্যের মধ্যে ভাব-সম্প্রসারণ সীমিত থাকা উচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৮৪৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অদ্যপি
  2. অদ্যাপি
  3. অদ্যপী
  4. অদ্যাপী
সঠিক উত্তর:
অদ্যাপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যাপি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'অদ্যাপি'
- অব্যয় পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- এখনও; আজও; একাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৪৬.
সাধু ভাষার রীতি সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. শুধুমাত্র মুখে বলা যায়
  2. কৃত্রিম ও অপরিবর্তনীয়
  3. পরিবর্তনশীল ও গতিশীল
  4. সহজবোধ্য ও দ্রুতপাঠ্য
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম ও অপরিবর্তনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম ও অপরিবর্তনীয়
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬,৮৪৭.
“হস্তী” এর সমার্থক নয় কোনটি?
  1. ক) নাগ
  2. খ) মাতঙ্গ
  3. গ) তুরগ
  4. ঘ) দ্বিপ
সঠিক উত্তর:
গ) তুরগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তুরগ
ব্যাখ্যা
হস্তী - হাতি, গজ, নাগ, মাতঙ্গ, দ্বিপ, দ্বিরদ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৬,৮৪৮.
'শিরে সংক্রান্তি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- 
  1. অপদার্থ
  2. দীর্ঘসূত্রিতা
  3. আসন্ন বিপদ
  4. দুর্লভ বস্তু
সঠিক উত্তর:
আসন্ন বিপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসন্ন বিপদ
ব্যাখ্যা

• 'শিরে সংক্রান্তি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- আসন্ন বিপদ বা সামনেই বিপদ।
উদাহরণ: আমার এখন শিরে সংক্রান্তি, কিভাবে সব সামলাব তাই ভাবছি।

অন্যদিকে,
'অকাল কুষ্মাণ্ড' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপদার্থ।
'আঠারো মাসে বছর' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দীর্ঘসূত্রিতা।
'আকাশের চাঁদ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দুর্লভ বস্তু।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৮৪৯.
বাংলা ভাষায় পদ কত প্রকার?
  1. ক) ৩ প্রকার
  2. খ) ৪ প্রকার
  3. গ) ৫ প্রকার
  4. ঘ) ৬ প্রকার
সঠিক উত্তর:
গ) ৫ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় পদ প্রধানত ২ প্রকার। যথা সব্যয় ও অব্যয় পদ। এর মধ্যে সব্যয় পদ ৪ প্রকার। যার কারণে সামগ্রিকভাবে বাংলা ভাষায় পদ ৫ প্রকার। এগুলো হলোঃ বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৮৫০.
'এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ অতীত 
  2. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. ঘটমান বর্তমান 
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত বর্তমান:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৮৫১.
'ক্রেতা' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ক্রী + তৃচ
  2. √ক্র + তৃচ
  3. √ক্রী + তা
  4. √কৃ + তৃচ্‌
সঠিক উত্তর:
√ক্রী + তৃচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ক্রী + তৃচ
ব্যাখ্যা
• তৃচ - প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে):
- প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
- √দা + তৃচ্ = √দা + তা = দাতা
- √মা + তৃচ্ = মাতা,
- √ক্রী + তৃচ = ক্রেতা।
- বিশেষ নিয়মে: √যুধ্‌ + তৃচ = √যুধ্‌ + তা = যোদ্ধা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৮৫২.
“Look before you leap”-বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ কোনটি?
  1. ক) কাটা দিয়ে কাটা তোলা
  2. খ) নিজের চরকায় তেল দাও
  3. গ) দেখে পথ চলো, বুঝে কথা বলো
  4. ঘ) নিজের কাজ নিজে করো
সঠিক উত্তর:
গ) দেখে পথ চলো, বুঝে কথা বলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেখে পথ চলো, বুঝে কথা বলো
ব্যাখ্যা
Look before you leap (প্রবাদ) - সম্ভাব্য ঘটনাবলি বিবেচনা না করে তড়িঘড়ি কিছু করো না (তুলনীয় - ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না)।
অর্থাৎ, Look before you leap প্রবাদটির অর্থ (অপশন হতে) - দেখে পথ চলো, বুঝে কথা বলো। 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান
৬,৮৫৩.
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. পাইলট
  2. পাউরুটি
  3. পাউডার
  4. পাইকার
সঠিক উত্তর:
পাউরুটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাউরুটি
ব্যাখ্যা
• পাউরুটি (বিশেষ্য পদ),
- পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- তন্দুরে সেঁকা ময়দার তৈরি ফাঁপা বুটিবিশেষ।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্তুগিজ শব্দ:
- আনারস,
- আলপিন,
- আলমারি,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- পাউরুটি,
- বালতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-----------
• পাইলট (বিশেষ্য পদ),
- ফরাসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- বিমানচালক; যে ব্যক্তি জাহাজ চলাচলের পথ নির্দেশ করে; পথপ্রদর্শক I

• পাউডার (বিশেষ্য পদ),
- ফরাসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- মিহি গুঁড়ো; প্রসাধনীরূপে ব্যবহৃত ম্যাগনেশিয়াম সিলিকেট-জাতীয় পদার্থের মিহি চূর্ণের সঙ্গে হালকা সুগন্ধি। 

• পাইকার (বিশেষ্য পদ),
- ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- একসঙ্গে অনেক পণ্যদ্রব্য কেনাবেচা যার পেশা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৫৪.
'পণী' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. দ্রুম
  2. পতত্রী
  3. বনানী
  4. বর্হী
সঠিক উত্তর:
দ্রুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রুম
ব্যাখ্যা
• 'পণী' শব্দের সমার্থক শব্দ - গাছ, পাদপ, তরু, বিটপী, দ্রুম, মহীরুহ, শাখী, শৃঙ্গী, শিখরী, পণী। 

• অন্যদিকে: 
- পতত্রী অর্থ পক্ষী।
- বনানী অর্থ বিশাল বন; মহাবন; সুবিস্তৃত অরণ্য। 
- বর্হী অর্থ ময়ূরপুচ্ছধারী; ময়ূর। 

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমার্থক শব্দ:
- 'অর্ক' শব্দের সমার্থক শব্দ- সূর্য, তপন, আদিত্য, দিবাকর, ভাস্কর, ভানু, মার্তণ্ড, রবি, সবিতা ইত্যাদি।
- 'তিমির' শব্দের সমার্থক শব্দ- অন্ধকার, আঁধার, তমসা ইত্যাদি।
- 'অম্বর' শব্দের সমার্থক শব্দ- আকাশ, গগন, নভঃ, ব্যোম ইত্যাদি।
- কুঞ্জর সমার্থক শব্দ- হস্তী- হাতি, গজ, নাগ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, বারণ, দন্তী, দ্বিপ, দ্বিরদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ এবং ২০১৮ সংস্করণ) ও অভিগম্য অভিধান।
৬,৮৫৫.
"তিনি অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলেন।" - এখানে ‘অন্ধকার থেকে’ কোন কারক?
  1. কর্মকারক 
  2. করণকারক 
  3. অপাদান কারক 
  4. অধিকরণ কারক 
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক 
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন -
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।

- তিনি অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলেন। এখানে 'অন্ধকার থেকে' বিচ্যুতির স্থান বা অবস্থা নির্দেশ করছে, তাই এটি অপাদান কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৮৫৬.
'ওলন্দাজ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. পর্তুগিজ
  2. ইংরেজ
  3. ফারসি
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
ব্যাখ্যা
ওলন্দাজ (বিশেষ্য/বিশেষণ) 
- এটি ফরাসি ভাষার শব্দ। 
অর্থ - হল্যান্ডের অধিবাসী
       - Dutch 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,৮৫৭.
"উপকণ্ঠ" শব্দটি কোন উপসর্যোগে গঠিত?
  1. তৎসম
  2. খাঁটি বাংলা
  3. ফারসি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
• তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮৫৮.
"আত্মহত্যা" শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. আত্‌তোহোত্‌তা
  2. আত্‌তোঁহোত্‌তা
  3. আত্‌তহোত্‌তা
  4. আত্‌তঁহোত্‌তা
সঠিক উত্তর:
আত্‌তোঁহোত্‌তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্‌তোঁহোত্‌তা
ব্যাখ্যা

• "আত্মহত্যা" শব্দের সঠিক উচ্চারণ - আত্‌তোঁহোত্‌তা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশ, আত্মহনন।
- নিজের অনিষ্টসাধন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৮৫৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. বাগীশ্বর
  2. বাগীশর
  3. বাগিশ্বর
  4. বাগেশ্বরি
সঠিক উত্তর:
বাগীশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগীশ্বর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'বাগীশ্বর'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: বাক্‌ + ঈশ্বর।
অর্থ:
- কথা বলা বা বক্তৃতায় পারদর্শী ব্যক্তি,
- বাক্‌পতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৬০.
'জুডো' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. চীনা
  2. কোরিয়ান
  3. জাপানি
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
জাপানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপানি
ব্যাখ্যা
'জুডো':
- শব্দটি জাপানি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- একধরনের জাপানি মল্লযুদ্ধ যাতে প্যাঁচ ও কৌশল প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে পরাভূত করা হয়।

• আরো কিছু জাপানি শব্দ:
- সুনামি, ক্যারাটে, হাসনাহেনা, জুতো, রিক্সা, প্যাগোডা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৬১.
অনুসর্গ প্রধানত কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত। অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
১. নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ,
২. ক্রিয়া অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮৬২.
'জিঘাংসা' বলতে কী বোঝায়?
  1. শ্রবণ করার ইচ্ছা
  2. হনন করার ইচ্ছা
  3. জয়ের ইচ্ছা
  4. বেঁচে থাকার ইচ্ছা
সঠিক উত্তর:
হনন করার ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হনন করার ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

• 'হনন (হত্যা) করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিঘাংসা

অন্যদিকে,
বেঁচে থাকার ইচ্ছা - জিজীবিষা।
জয়ের ইচ্ছা - জিগীষা।
শ্রবণ (শোনার) করার ইচ্ছা - শ্রবণেচ্ছা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,৮৬৩.
ইন্দিবর মানে কী?
  1. ক) নীল বর্ণের পদ্ম
  2. খ) লাল বর্ণের পদ্ম
  3. গ) শ্বেত বর্ণের পদ্ম
  4. ঘ) পদ্মের ডাঁটা
সঠিক উত্তর:
ক) নীল বর্ণের পদ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীল বর্ণের পদ্ম
ব্যাখ্যা
ইন্দিবর, ইন্দীবর (বিশেষ্য:
নীলপদ্ম; নীলোৎপল
(ইন্দীবরের ন্যায় নয়ন-প্রথম চৌধুরী)।

অন্যদিকে,
পুণ্ডরীক (বিশেষ্য) = শ্বেতকমল; সাদা পদ্ম।
কোকনাদ (বিশেষ্য) = রক্ত বা উজ্জ্বল পদ্ম
মৃণাল (বিশেষ্য) = পদ্মের নাল বা ডাঁটা।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৬,৮৬৪.
স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. বিলাতি > বিলিতি
  2. আজি > আইজ
  3. ধাইমা > দাইমা
  4. কবাট > কপাট
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- শিকা > শিকে,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
------------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,৮৬৫.
'কাজলকালো' - এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) কাজলের ন্যায় কালো
  2. খ) কাজল ও কালো
  3. গ) কাজল রুপ কালো
  4. ঘ) কালো ও কাজল
সঠিক উত্তর:
ক) কাজলের ন্যায় কালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাজলের ন্যায় কালো
ব্যাখ্যা

সাধারণ ধর্মবাচক পদের সঙ্গে উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
অর্থাৎ, উপমান ও উপমেয় কর্মধারয়ের মধ্যে যেটিতে সাধারণ ধর্মবাচক পদ থাকবে, সেটিই উপমান কর্মধারয়।
যেমন, কাজলের ন্যায় কালো = কাজলকালো।
এখানে 'কাজল' এর সাথে কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে তুলনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ এটি উপমান।
আর সাধারণ ধর্ম 'কালো'। উপমেয় এখানে নেই।
সুতরাং এটি উপমান কর্মধারয় সমাস।

৬,৮৬৬.
’যা সহজে মরে না’-এ বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ কী?
  1. দুর্মর
  2. দুর্দম
  3. দুর্বিষহ
  4. দুর্জয়
সঠিক উত্তর:
দুর্মর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্মর
ব্যাখ্যা
’যা সহজে মরে না’-এ বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ= দুর্মর।

অন্যদিকে,
- ’যা সহজে  দমন করা যায় না’-এ বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ= দুর্দম।
- ’যা সহ্য করা যায় না’-এ বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ= দুর্বিষহ।
- ‘যাকে সহজে জয় করা যায় না’-এ বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ=দুর্জয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৬৭.
‘মৃন্ময়’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. ক) মৃত + ময়
  2. খ) মৃদ্‌ + ময়
  3. গ) মৃৎ + ময়
  4. ঘ) মৃন্‌ + ময়
সঠিক উত্তর:
গ) মৃৎ + ময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৃৎ + ময়
ব্যাখ্যা
ত্ [ৎ] কিংবা দ্ –এর পরে ম্ থাকলে সন্ধিতে ত্ বা দ্ এর জায়গায় ন্ হয়৷
মৃন্ময়-এর সন্ধি বিচ্ছেদ হলো মৃৎ + ময়৷ এটি একটি তৎসম ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৬,৮৬৮.
'সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন' এখানে পূর্বপদ কোনটি?
  1. ক) সিংহ
  2. খ) আসন
  3. গ) সিংহ চিহ্নিত আসন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিংহ
ব্যাখ্যা
সমাসের কয়েকটি পরিভাষা।
ক. সমস্যমান পদ: যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

খ. সমস্ত পদ : সমস্যমান পদগুলাে মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
একে আবার সমাসবদ্ধপদও বলা হয়।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

গ. ব্যাসবাক্য : সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে। ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। উপরের বাক্যে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন হলাে সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ : সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
'সিংহাসন' শব্দের 'সিংহ' হলাে পূর্বপদ, আর 'আসন' হলাে পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৬৯.
"উড়ানি" শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ উড়া + আনি 
  2. √ উড়্‌ + আনি 
  3. √ উড়ু + আনি 
  4. √ উড়্‌ + নি 
সঠিক উত্তর:
√ উড়্‌ + আনি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ উড়্‌ + আনি 
ব্যাখ্যা
• "উড়ানি" শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - "√ উড়্‌ + আনি"।
------------------------- 
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি-প্রত্যয়:
→ পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
→ সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
→ পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
→ সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮৭০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ বানান নয়?
  1. ক) ভূরিস
  2. খ) ঊর্ধ্বগামী
  3. গ) সূচ্যগ্র
  4. ঘ) অনূর্ধ্ব
সঠিক উত্তর:
ক) ভূরিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভূরিস
ব্যাখ্যা
- ভূরিস বানানটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান ভূরিশ।

এর অর্থ 
১. প্রচুর পরিমাণে 
২. অনেকবার বারবার 

 উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
৬,৮৭১.
"আ + অ = আ" সন্ধির এই নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. হতাশ
  2. আশাতীত
  3. মহাশয়
  4. নবান্ন
সঠিক উত্তর:
আশাতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশাতীত
ব্যাখ্যা
• নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
• আ + অ = আ;
- যথা + অর্থ = যথার্থ।
- মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ।
- আশা + অতীত = আশাতীত।
- যথা + অযথ = যথাযথ।

• আ + আ = আ;
- বিদ্যা + আলায় = বিদ্যালয়।
- মহা + আশয় = মহাশয়।
- কারা + আগার = কারাগার।

--------------------
অন্যদিকে,
• অ + আ = আ;
- হিম + আলয় = হিমালয়।
- সিংহ + আসন = সিংহাসন।
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ।
- হত + আশ = হতাশ।

• অ + অ = আ;
- নর + অধম = নরাধম।
- নব + অন্ন = নবান্ন
- স্ব + অধীন = স্বাধীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৭২.
সমবায় সমিতিতে চাঁদা দাও। কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃ
  2. খ) করণ
  3. গ) সম্প্রদান
  4. ঘ) কর্ম
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ম
ব্যাখ্যা
সমবায় সমিতিতে চাঁদা দিলে সুদসহ ফেরত পাওয়া যায়। সুতরাং এটি কর্মকারক হবে। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৬,৮৭৩.
‘উপকরণ’ অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. মেটে
  2. বাঘা
  3. বেতো
  4. চোরা
সঠিক উত্তর:
মেটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেটে
ব্যাখ্যা
‘উপকরণ’ অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ: মাটি → মেটে

অন্যদিকে,
বাঘ → বাঘা = সদৃশ অর্থে।
বাত → বেতো = রোগগ্রস্ত অর্থে।
চোর → চোরা = অবজ্ঞা অর্থে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৮৭৪.
কোনটি সঠিক যুক্তবর্ণ?
  1. ত্‌ + থ = ত্থ
  2. হ্‌ + ন = হ্ণ
  3. ক্‌ + ম = ক্ষ
  4. ষ্‌ + ন = ষ্ণ
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + থ = ত্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + থ = ত্থ
ব্যাখ্যা

• সঠিক যুক্তবর্ণ - ত্‌ + থ = ত্থ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- হ্‌ + ণ = হ্ণ,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- ক্‌ + ষ = ক্ষ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- হ্‌ + ম = হ্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,৮৭৫.
ধ্বনির লিখিত রূপ বা সাংকেতিক চিহ্নকে কি বলা হয়?
  1. ক) বর্ণ
  2. খ) শব্দ
  3. গ) বাক্য
  4. ঘ) অক্ষর
সঠিক উত্তর:
ক) বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বর্ণ
ব্যাখ্যা
• বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবােধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হলাে 'ধ্বনি'।
- এটা ভাষার মৌলিক অংশ। ধ্বনিকে শব্দের ক্ষুদ্রতম এককও বলা হয়।
- ধ্বনির লিখিত রূপ হলাে বর্ণ।
- ধ্বনি চেনার স্মারক বা চিহ্ন বা প্রতীকই বর্ণ।
- শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ হলাে অক্ষর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৬,৮৭৬.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।
  2. যারা সৎ তারা সুখী।
  3. হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
  4. আমার যে সাইকেলটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।
সঠিক উত্তর:
হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
• দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে,
- যারা সৎ তারা সুখী।- এটি একটি সরল বাক্য।
- সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।- এটি একটি সরল বাক্য।
- আমার যে সাইকেলটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।- এটি একটি জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৭৭.
‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ওরা’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ওরা’ ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদের দৃষ্টান্ত।

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮৭৮.
“মধুর মিষ্টত্বের গুণ“- বাক্যে মধু কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
• মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা। (এখানে মধু গুণবাচক বিশেষ্য)
• তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য।
• তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা।
• তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮৭৯.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) দুরবিন
  2. খ) স্বাস্থ্য
  3. গ) প্রয়োজনীয়তা
  4. ঘ) দুরবস্থা
সঠিক উত্তর:
গ) প্রয়োজনীয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রয়োজনীয়তা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
শব্দটির শুদ্ধরূপ হবে : প্রয়োজন
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৬,৮৮০.
উকিল শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) আরবি
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
খ) আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরবি
ব্যাখ্যা
বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দগুলােকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- ১. ধর্মসংক্রান্ত শব্দ : আল্লাহ্, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, গােসল, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি।
২. প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ: আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মােক্তার, রায় ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৬,৮৮১.
Q 7 - 9: সঠিক বানান নির্ণয় করুন:
  1. অনুষঙ্গিক
  2. অনুসঙ্গিক
  3. আনুষঙ্গিক
  4. আনুসঙ্গিক
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আনুষঙ্গিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনুষঙ্গিক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'আনুষঙ্গিক'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - অনুষঙ্গ + ইক।
এর অর্থ:
- সংশ্লিষ্ট;
- প্রাসঙ্গিক।
- গৌণ;
- অপ্রধান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৮২.
"কমা" চিহ্নের বিরতিকাল কত?
  1. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  2. এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
  3. এক সেকেন্ড
  4. থামার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
কমা (,)
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- "কমা" চিহ্নের বিরতিকাল - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।

যেমন:
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৬,৮৮৩.
বিবস্বান এর প্রতিশব্দ -
  1. ক) ভাস্কর
  2. খ) তরু
  3. গ) দ্রুম
  4. ঘ) মহীরুহ
সঠিক উত্তর:
ক) ভাস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাস্কর
ব্যাখ্যা

বিবস্বান (বিশেষ্য) : সূর্য; রবি; ভাস্কর।
বৃক্ষ (বিশেষ্য) : গাছ; শাখী; বিটপী; দ্রুম; পাদপ; তরু; মহীরুহ।


উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
৬,৮৮৪.
'হাতি' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. করী
  2. দ্রুমারি
  3. গজ
  4. দীপ
সঠিক উত্তর:
দীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীপ
ব্যাখ্যা
⇒ 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ: গজ, দ্বিপ, দ্বিরদ, ঐরাবত, হস্তী, করী, দন্তী, দন্তাবল, দ্রুমারি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দীপ (বিশেষ্য),
অর্থ: প্রদীপ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৮৫.
সম অর্থবহ শব্দগুচ্ছ কোনটি?
  1. ক) অম্বু, প্লাব
  2. খ) নীর, বারি
  3. গ) সলিল, জলদ
  4. ঘ) জীবন, চঞ্চলা
সঠিক উত্তর:
খ) নীর, বারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নীর, বারি
ব্যাখ্যা
পানি - জল, বারি, সলিল, অপ্, নীর, অম্ভ, তোয়, পুষ্কর, তামর, জীবন, অম্বু;
বন্যা - প্লাব, প্লাবন;
মেঘ - জলদ, জলধর, বারিদ;
বিদ্যুৎ - বিজলি, চঞ্চলা, সৌদামিনী।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৬,৮৮৬.
অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. রাখিয়া > রেখে
  2. আজি > আইজ
  3. হাটুয়া > হেটো
  4. মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
এরূপ-
- রাখিয়া > রেখে,
- করিয়া > করে,
- শুনিয়া > শুইনা > শুনে,
- বলিয়া > বইলা > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগ উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিত বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,৮৮৭.
নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) উর্ধ
  2. খ) অত্যান্ত
  3. গ) উচিৎ
  4. ঘ) নুপূর
  5. ঙ) কোনােটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঙ) কোনােটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) কোনােটিই নয়
ব্যাখ্যা
'উর্ধ'  এর শুদ্ধরূপ-ঊর্ধ্ব 
'অত্যান্ত' এর শুদ্ধরূপ-অত্যন্ত 
'উচিৎ'  এর শুদ্ধরূপ-উচিত 
'নুপূর' এর শুদ্ধরূপ-নূপুর 

[উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড.হায়াৎ মাহমুদ ]
৬,৮৮৮.
'মন্ত্রিপরিষদ' শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. হিন্দি
  2. তুর্কি
  3. তৎসম
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
•'মন্ত্রিপরিষদ'
- শব্দটি সংস্কৃত/তৎসম ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- মন্ত্রীসভা।

অন্যদিকে,
তুর্কি শব্দ:
- কলগি,
- চাকু,
- বাবা,
- বাবুর্চি,
- মুচলেকা ইত্যাদি।

হিন্দি শব্দ:
- কাচারি,
- দুলকি,
- দিলরুবা,
- দাবা,
- দাঙ্গা,
- দহলা,
- দশেরা
- রোকড়,
- লড়াকু,
- লেনদেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৮৯.
'যত্ন করলে রত্ন মিলে'- এ বাক্যে 'করলে' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সমাপিকা
  2. দ্বিকর্মক
  3. অসমাপিকা
  4. অকর্মক
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
• 'যত্ন করলে রত্ন মিলে'- এ বাক্যে 'করলে' অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ
----------------------- 
অসমাপিকা ক্রিয়া: 

- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- যত্ন করলে রত্ন মিলে।
এখানে 'করলে' বললে ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয় না। তাই এটি অসমাপিকা ক্রিয়া।

অর্থাৎ,
বাক্যটি সম্পূর্ণ হতে হলে 'করলে' ক্রিয়ার পর আরও কিছু যোগ করতে হয়। 'যত্ন করলে' বললে বাক্যটি অসম্পূর্ণ থাকে এবং পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায় না। তাই এখানে 'করলে' একটি অসমাপিকা ক্রিয়া।
------------------------- 
অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা: 
• ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
• ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহি যায়।
• শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি-নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৯০.
‘প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে’ বাক্যটি একটি _____ বাক্য।
  1. ক) অস্তিবাচক
  2. খ) নেতিবাচক
  3. গ) সমবাচক
  4. ঘ) ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
ক) অস্তিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অস্তিবাচক
ব্যাখ্যা
- ‘প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে’ বাক্যটি একটি অস্তিবাচক বাক্য।
- বাক্যটির নেতিবাচক রূপ  ‘প্রিয়াংবদা অযথার্থ কহে নাই’।
- এখানে এ দুটো বাক্যের মূলভাবের কোন পরিবর্তন ঘটেনি।
৬,৮৯১.
‘পবন’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প + অন
  2. পো + বন
  3. পো + অন
  4. পৌ + বন
সঠিক উত্তর:
পো + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পো + অন
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম: 
এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
যেমন-
- নে + অন = নয়ন,
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- লো + অন = লবণ,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮৯২.
সমার্থক যুগ্ম শব্দ -
  1. হাসি-খুশি
  2. আকাশ-পাতাল
  3. কালি-কলম
  4. দিন-দিন
সঠিক উত্তর:
হাসি-খুশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসি-খুশি
ব্যাখ্যা
সমার্থক শব্দ: 
- হাসি-খুশি হচ্ছে সমার্থক যুগ্ম শব্দ। 

অন্যদিকে, 
- 'আকাশ-পাতাল' হলো বিপরীতার্থক শব্দ। 
- কালি-কলম সমাসবদ্ধ শব্দ।
- 'দিন-দিন' হলো একটি দ্বিরুক্ত শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২২) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৯৩.
নিচের কোনটি সরল বাক্য?
  1. আমরা তিন ভাই এবং দুই বোন।
  2. সে এখানে এল এবং বসে পড়ল।
  3. পরিশ্রমীরা জীবনে সাফল্য লাভ করে।
  4. লোকটি নিরক্ষর কিন্তু অভদ্র নয়।
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রমীরা জীবনে সাফল্য লাভ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রমীরা জীবনে সাফল্য লাভ করে।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।

এরূপ- 
- পরিশ্রমীরা জীবনে সাফল্য লাভ করে।
[ এটিও একটি সরল বাক্য। বাক্যে (একটি কর্তা + একটি বিধেয়) রয়েছে।] 

অন্যদিকে,
• আমরা তিন ভাই এবং দুই বোন।- একটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 
• সে এখানে এল এবং বসে পড়ল।- একটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 
• লোকটি নিরক্ষর কিন্তু অভদ্র নয়।- একটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৮৯৪.
কোনটি জটিল বাক্য?
  1. মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
  2. পড়াশুনা না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
  3. যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
  4. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
ব্যাখ্যা

জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। যেমন:
- (আশ্রিত বাক্য) যিনি পরের উপকার করেন, (প্রধান খণ্ডবাক্য) তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- উল্লেখ্য যে, জটিল বাক্যে সাপেক্ষ সর্বনাম ও নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় যোগে প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে অপ্রধান খণ্ডবাক্যকে যুক্ত করা হয়।• • সাপেক্ষ সর্বনামগুলো হলো: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি। নত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন-তখন; যেমন-তেমন, বরং- তবু, যেইনা-অমনি, যেহেতু-সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি। এরূপ-
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র পূজিত হন।
- যে সত্য কথা বলে তাকে সকলেই ভালোবাসে।
- যেমন কর্ম করবে, তেমন ফল পাবে।
- যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
- যেহেতু তুমি মিথ্যা কথা বলেছ, সেহেতু তোমার পাপ হবে।
- যাদের ধন আছে, তারা প্রায়ই কৃপণ হয়।
- আমার যে কলমটি হারিয়েছিল, সেটি ফিরে পেয়েছি
- যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।

অন্যদিকে,
- মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
- পড়াশুনা না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। এগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৮৯৫.
'উলুখাগড়া' শব্দটির অর্থ কী? 
  1. নিরীহ প্রজা
  2. দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা
  3. ক্ষণস্থায়ী সমস্যা
  4. গ্রাম্য
সঠিক উত্তর:
নিরীহ প্রজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরীহ প্রজা
ব্যাখ্যা

• 'উলুখাগড়া' শব্দটির অর্থ -  অনগ্রসর ব্যক্তি; নিরীহ প্রজা।

কিছু গুরুত্বপুর্ণ বাগ্‌ধারা:
- 'নাক সিটকানো' বাগ্‌ধারার অর্থ - অবজ্ঞা করা।
- 'ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির' বাগ্‌ধারার অর্থ - সত্যবাদিতার ভান করা।
- 'দিনকে রাত করা' বাগ্‌ধারার অর্থ - অসাধ্য সাধন / দুষ্কর্ম করা।
- 'পগার পার' বাগ্‌ধারার অর্থ - ভেগে যাওয়া।
- 'দিবাস্বপ্ন' বাগ্‌ধারার অর্থ - অলীক কল্পনা।
- 'পুকুর চুরি' বাগ্‌ধারার অর্থ - বড় ধরনের চুরি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৮৯৬.
"নাঠ্যকার নাঠকের স্ক্রিপ্ট লিখতে গিয়ে ক্রমাগত ষ্ক্রিনে চোখ রাখলেন।" - বাক্যটিতে কয়টি বানানে ভুল রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি:
"নাঠ্যকার নাঠকের স্ক্রিপ্ট লিখতে গিয়ে ক্রমাগত ষ্ক্রিনে চোখ রাখলেন।"

এখানে ভুল বানানগুলো চিহ্নিত করি:
নাঠ্যকার → ভুল বানান; সঠিক: নাট্যকার।
নাঠকের → ভুল বানান; সঠিক: নাটকের।
স্ক্রিপ্ট → সঠিক বানান।
স্ক্রিনে → ষ্ক্রিনে → ভুল বানান। সঠিক বানান: স্ক্রিনে।

মোট ভুল বানান: ৩টি।

সঠিক বাক্য হবে:
"নাট্যকার নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখতে গিয়ে ক্রমাগত স্ক্রিনে চোখ রাখলেন।"

শুদ্ধ বাক্যটি হবে- 
"নাট্যকার নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখতে গিয়ে ক্রমাগত স্ক্রিনে চোখ রাখলেন।"

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৯৭.
'নাড়ী' অর্থ শিরা; 'নারি' শব্দটির অর্থ -
  1. পানি
  2. স্ত্রীলোক
  3. না পারি
  4. মানবী
সঠিক উত্তর:
না পারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
না পারি
ব্যাখ্যা
• 'নারি':
- শব্দটি ক্রিয়া।
- এটি বাংলা শব্দ।
অর্থ:
- না পারি (যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা)।

উল্লেখ্য,
'নারী' শব্দের অর্থ - 'মানবী'/স্ত্রীলোক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৯৮.
অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. প্রতিক্ষণে
  2. প্রগতি
  3. অন্তরীপ
  4. অনন্ত
সঠিক উত্তর:
প্রতিক্ষণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিক্ষণে
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস - প্রতিক্ষণে।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন:
• বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।

অন্যদিকে,
- নঞ্‌ বহুব্রীহি - অনন্ত।
- নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি - অন্তরীপ।
- প্রাদি সমাস - প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,৮৯৯.
'বচন' কীসের ধারনা দেয়?
  1. ক) লিঙ্গের
  2. খ) পদের
  3. গ) বর্গের
  4. ঘ) সংখ্যার
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংখ্যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংখ্যার
ব্যাখ্যা
বচন হলাে সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দ্বিবিধ: একবচন ও বহুবচন। সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৯০০.
'ক্ষুদ্র প্রস্তরখণ্ড' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. নালি
  2. ফুটকি
  3. ফুসকুড়ি
  4. নুড়ি
সঠিক উত্তর:
নুড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুড়ি
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষুদ্র প্রস্তরখণ্ড' এর এক কথায় প্রকাশ - 'নুড়ি'।

অন্যদিকে,
• 'ক্ষুদ্র বিন্দু' এর এক কথায় প্রকাশ- 'ফুটকি'। 
• 'ক্ষুদ্র ফোঁড়া' এর এক কথায় প্রকাশ- 'ফুসকুড়ি'। 
• 'ক্ষুদ্র নালা' এর এক কথায় প্রকাশ- 'নালি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।