উত্তর
ব্যাখ্যা
আবার,
• 'যা কখনো নষ্ট হয় না' এক কথায় প্রকাশ- অবিনশ্বর।
অন্যদিকে,
- 'যা চিরস্থায়ী নয়' - নশ্বর।
- 'যা স্থায়ী নয়' - অস্থায়ী।
- 'যার বাসস্থান নেই' -অনিকেত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৬৯ / ৩৫৪ · ৬,৮০১–৬,৯০০ / ৩৫,৭১৩
সঠিক উত্তর: খ) অপাদান কারক
- 'বাবাকে বড্ড ভয় পাই - বাক্যে 'বাবা' হলেন ভয়ের কারণ, তাই এটি অপাদান কারক।
- ভয় পাওয়ার বিষয়টি 'বাবা'-র কাছ থেকে আসছে, তাই 'বাবাকে' শব্দটি অপাদান কারকে 'কে' বা দ্বিতীয়া বিভক্তিযুক্ত হয়েছে।
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- উদাহরণ: বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- উদাহরণ: মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- উদাহরণ: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বা দিয়ে বিভক্তি
- উদাহরণ: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি:
- উদাহরণ: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।
সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- উদাহরণ: বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- উদাহরণ: লোকমুখে শুনেছি। তিলে তৈল হয়।
য় বিভক্তি:
- উদাহরণ: টাকায় টাকা হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা অনুসারে সাধারণ বিশেষ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. মূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্যকে স্পর্শ করা যায়, ঘ্রাণ নেওয়া যায় এবং পরিমাপ করা যায় তাকে মূর্ত বিশেষ্য বলে। যেমন- হাত, পা, পানি, গোলাপ ইত্যাদি।
২. বিমূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা অবস্তুগত অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুণগত বৈশিষ্ট্য বোঝায় তাকে বিমূর্ত বা ভাববিশেষ্য বলে। যেমন- আনন্দ, দুঃখ, ইচ্ছা, রাগ, সন্দেহ, সাহস, সৌন্দর্য ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়-
অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা।
বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
সদৃশ অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
আদর অর্থে: কানু → কানাই।
জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই।
ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।
পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।
উপকরণ অর্থে: মাটি → মেটে।
নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
যুক্ত অর্থে: টাক → টেকো।
সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ → গেঁয়ো।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো, ঝাল-টাল ইত্যাদি।
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, শোঁ শোঁ।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
• সাধু ও চলিত ভাষায় ক্রিয়া পদের কতিপয় রূপ:
যেমন:
সাধু - চলিত:
→ হইল - হল/হলো,
→ আসিয়া- এসে,
→ করিলেন- করলেন,
→ দেন নাই- দেননি,
→ পার হইয়া- পেরিয়ে,
→ পড়িল- পড়ল/পড়লো।
→ করিয়া- করে
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'ভিটা' শব্দটি সংস্কৃত ভিত্তি শব্দ থেকে এসেছে।
তদ্ভব শব্দ:
• তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এই ‘তদ্ভব’ পরিভাষার ‘তৎ' = তার, এবং ভাব (‘ভব') = উৎপন্ন অর্থ বুঝায়। এখানেও ‘তার’ বলতে ‘সংস্কৃত’কে নির্দেশ করছে।
- অর্থাৎ যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে,
তাদেরকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। -
উদাহরণ:
• তৎসম > প্রাকৃত > তদ্ভব
• চন্দ্ৰ > চান্দ > চাঁদ;
• হস্ত > হখ > হাত;
• অদ্য > অজ্জ > আজ;
• বৎস > বচ্ছ > বাছা ইত্যাদি।
এই তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলে।
অন্যদিকে,
- অলাবু, নদী, ফল সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
সন্ধির নিয়ম:
- চ্ ও জ-এর পরে নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়।
যেমন-
- যাচ্ + না = যাচ্ঞা,
- রাজ্ + নী = রাজ্ঞী,
- যজ্ + ন = যজ্ঞ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
ক্রিয়াপদ:
ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন:
- আমি যাই।
- তুমি যাও।
- আপনি যান।
- সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)
খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না।
যেমন:
- আমি (বা আমরা) যাই।
- তুমি (বা তোমরা) যাও।
- সে (বা তারা) যায়।
গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
• 'শিরে সংক্রান্তি' বাগ্ধারাটির অর্থ- আসন্ন বিপদ বা সামনেই বিপদ।
উদাহরণ: আমার এখন শিরে সংক্রান্তি, কিভাবে সব সামলাব তাই ভাবছি।
অন্যদিকে,
'অকাল কুষ্মাণ্ড' বাগ্ধারাটির অর্থ - অপদার্থ।
'আঠারো মাসে বছর' বাগ্ধারাটির অর্থ - দীর্ঘসূত্রিতা।
'আকাশের চাঁদ' বাগ্ধারাটির অর্থ - দুর্লভ বস্তু।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
• পুরাঘটিত বর্তমান:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- তিনি অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলেন। এখানে 'অন্ধকার থেকে' বিচ্যুতির স্থান বা অবস্থা নির্দেশ করছে, তাই এটি অপাদান কারক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• "আত্মহত্যা" শব্দের সঠিক উচ্চারণ - আত্তোঁহোত্তা।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশ, আত্মহনন।
- নিজের অনিষ্টসাধন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'হনন (হত্যা) করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিঘাংসা।
অন্যদিকে,
বেঁচে থাকার ইচ্ছা - জিজীবিষা।
জয়ের ইচ্ছা - জিগীষা।
শ্রবণ (শোনার) করার ইচ্ছা - শ্রবণেচ্ছা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
সাধারণ ধর্মবাচক পদের সঙ্গে উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
অর্থাৎ, উপমান ও উপমেয় কর্মধারয়ের মধ্যে যেটিতে সাধারণ ধর্মবাচক পদ থাকবে, সেটিই উপমান কর্মধারয়।
যেমন, কাজলের ন্যায় কালো = কাজলকালো।
এখানে 'কাজল' এর সাথে কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে তুলনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ এটি উপমান।
আর সাধারণ ধর্ম 'কালো'। উপমেয় এখানে নেই।
সুতরাং এটি উপমান কর্মধারয় সমাস।
• সঠিক যুক্তবর্ণ - ত্ + থ = ত্থ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- হ্ + ণ = হ্ণ,
- ষ্ + ণ = ষ্ণ,
- ক্ + ষ = ক্ষ।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্ + র = ভ্র,
- ত্ + থ = ত্থ,
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্ + ক = ঙ্ক,
- হ্ + ম = হ্ম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
বিবস্বান (বিশেষ্য) : সূর্য; রবি; ভাস্কর।
বৃক্ষ (বিশেষ্য) : গাছ; শাখী; বিটপী; দ্রুম; পাদপ; তরু; মহীরুহ।
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
এরূপ-
- রাখিয়া > রেখে,
- করিয়া > করে,
- শুনিয়া > শুইনা > শুনে,
- বলিয়া > বইলা > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
----------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগ উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিত বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
এরূপ-
- পরিশ্রমীরা জীবনে সাফল্য লাভ করে।
[ এটিও একটি সরল বাক্য। বাক্যে (একটি কর্তা + একটি বিধেয়) রয়েছে।]
অন্যদিকে,
• আমরা তিন ভাই এবং দুই বোন।- একটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
• সে এখানে এল এবং বসে পড়ল।- একটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
• লোকটি নিরক্ষর কিন্তু অভদ্র নয়।- একটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। যেমন:
- (আশ্রিত বাক্য) যিনি পরের উপকার করেন, (প্রধান খণ্ডবাক্য) তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- উল্লেখ্য যে, জটিল বাক্যে সাপেক্ষ সর্বনাম ও নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় যোগে প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে অপ্রধান খণ্ডবাক্যকে যুক্ত করা হয়।• • সাপেক্ষ সর্বনামগুলো হলো: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি। নত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন-তখন; যেমন-তেমন, বরং- তবু, যেইনা-অমনি, যেহেতু-সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি। এরূপ-
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র পূজিত হন।
- যে সত্য কথা বলে তাকে সকলেই ভালোবাসে।
- যেমন কর্ম করবে, তেমন ফল পাবে।
- যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
- যেহেতু তুমি মিথ্যা কথা বলেছ, সেহেতু তোমার পাপ হবে।
- যাদের ধন আছে, তারা প্রায়ই কৃপণ হয়।
- আমার যে কলমটি হারিয়েছিল, সেটি ফিরে পেয়েছি
- যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।
অন্যদিকে,
- মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
- পড়াশুনা না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। এগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'উলুখাগড়া' শব্দটির অর্থ - অনগ্রসর ব্যক্তি; নিরীহ প্রজা।
কিছু গুরুত্বপুর্ণ বাগ্ধারা:
- 'নাক সিটকানো' বাগ্ধারার অর্থ - অবজ্ঞা করা।
- 'ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির' বাগ্ধারার অর্থ - সত্যবাদিতার ভান করা।
- 'দিনকে রাত করা' বাগ্ধারার অর্থ - অসাধ্য সাধন / দুষ্কর্ম করা।
- 'পগার পার' বাগ্ধারার অর্থ - ভেগে যাওয়া।
- 'দিবাস্বপ্ন' বাগ্ধারার অর্থ - অলীক কল্পনা।
- 'পুকুর চুরি' বাগ্ধারার অর্থ - বড় ধরনের চুরি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অব্যয়ীভাব সমাস - প্রতিক্ষণে।
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন:
• বিপ্প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।
অন্যদিকে,
- নঞ্ বহুব্রীহি - অনন্ত।
- নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি - অন্তরীপ।
- প্রাদি সমাস - প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• 'ক্ষুদ্র প্রস্তরখণ্ড' এর এক কথায় প্রকাশ - 'নুড়ি'।
অন্যদিকে,
• 'ক্ষুদ্র বিন্দু' এর এক কথায় প্রকাশ- 'ফুটকি'।
• 'ক্ষুদ্র ফোঁড়া' এর এক কথায় প্রকাশ- 'ফুসকুড়ি'।
• 'ক্ষুদ্র নালা' এর এক কথায় প্রকাশ- 'নালি'।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।