বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৪৫ / ৩৫৪ · ৪,৪০১৪,৫০০ / ৩৫,৭১৩

৪,৪০১.
তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনাদর
  2. অনুকরণ
  3. আড়মোড়া
  4. অজানা
সঠিক উত্তর:
অনুকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকরণ
ব্যাখ্যা
• পশ্চাৎ অর্থে তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অনুকরণ।

অন্যদিকে,
খাাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ-
অভাব অর্থে ‘অনা’ উপসর্গযোগে - অনাদার।
আধা বা প্রায় অর্থে ‘আড়’ উপসর্গযোগে - আড়মোড়া।
অভাব অর্থে ‘অ’ উপসর্গযোগে - অজানা।

-------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪০২.
'সাহিত্যিক' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো-
  1. ক) সাহিত্য + ষ্ণ্যক
  2. খ) সাহিত্য + ষ্ণ্যিক
  3. গ) সাহিত্য + ষ্ণীক
  4. ঘ) সাহিত্য + ষ্ণিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাহিত্য + ষ্ণিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাহিত্য + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা

• ষ্ণিক (ইক) প্রত্যয়যােগে সম্বন্ধ অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠিত হয়।
• যেমন-
- সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক,
- বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক,
- বর্ষ + ষ্ণিক = বার্ষিক,
- বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক,
- সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৪০৩.
'Radiance' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. বিকীর্ণ তাপ
  2. দীপ্তি
  3. মূলকেন্দ্র
  4. ব্যাসার্ধ
সঠিক উত্তর:
দীপ্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীপ্তি
ব্যাখ্যা
• 'Radiance' এর বাংলা পরিভাষা — 'দীপ্তি, প্রভা'। 

অন্যদিকে,
Radiant heat- বিকীর্ণ তাপ,
Radical Centre- মূলকেন্দ্র, 
Radius- ব্যাসার্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
৪,৪০৪.
'গীতিকা' কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক্ষুদ্রার্থে
  2. বৃহদার্থে
  3. সমার্থে
  4. বিপরীতার্থে
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রার্থে
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রার্থে স্ত্রীবাচক শব্দ - গীতিকা

স্ত্রীলিঙ্গান্তর করলে ক্ষুদ্রার্থ প্রকাশ পায়, এমন কয়েকটি শব্দ:
→ একাঙ্ক - একাঙ্কিকা,
→ নাটক - নাটিকা,
→ মালা - মালিকা,
→ গীত - গীতিকা,
→ পুস্তক - পুস্তিকা,
→ ঘট - ঘটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪০৫.
কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কাঁচকলা
  2. খ) দাকুমড়া
  3. গ) আদায়-কাঁচকলায়
  4. ঘ) গাছপাকা
সঠিক উত্তর:
ক) কাঁচকলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাঁচকলা
ব্যাখ্যা
• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
(বিশেষণ+ বিশেষ্য)
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

অন্যদিকে,
- আদায় ও কাঁচকলায় = আদায়-কাঁচকলায় (অলুক দ্বন্দ্ব সমাস)।
- দা ও কুমড়া = দাকুমড়া ( বিপরীতার্থক বা বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস)।
- গাছে পাকা = গাছপাকা ( সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪০৬.
"সতীন্দ্র" শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সতী + ইন্দ্র
  2. সতি + ঈন্দ্র
  3. সতি + ইন্দ্র
  4. সতী + ঈন্দ্র
সঠিক উত্তর:
সতী + ইন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতী + ইন্দ্র
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
- সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র,
- অতি + ইত = অতীত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৪০৭.
ক্রিয়া কালের বিশিষ্ট প্রয়াগ কোনটি?
  1. ক) ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
  2. খ) এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
  3. গ) দু - একদিনের মধ্যে সে আসবে।
  4. ঘ) আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।
ব্যাখ্যা
• “আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি” - ক্রিয়া কালের বিশিষ্ট প্রয়াগ

• অনেক সময় ক্রিয়াবিভক্তি যেই কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলো ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ।
নিচের বাক্য দুটির দিকে তাকানো যাক : 
- আমি গতবছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম 
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি 
প্রথম বাক্যে ক্রিয়ার কাল অতীত এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে ক্রিয়ার কাল বর্তমান কালের এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। দ্বিতীয় বাক্যটি ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগের নমুনা।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম-দশম শ্রেণি )।
৪,৪০৮.
‘অমুক’ কোন সর্বনাম?
  1. অন্যবাচক
  2. ব্যক্তিবাচক
  3. আত্মবাচক
  4. নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
অন্যবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যবাচক
ব্যাখ্যা

⇒ ‘অমুক’ অন্যবাচক সর্বনামের উদাহরণ।

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৪০৯.
'হত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. জীবিত
  2. অশুভ
  3. সংযত 
  4. ব্যাহত
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জীবিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবিত
ব্যাখ্যা

• 'হত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - জীবিত।

উল্লেখ্য,
'হত' শব্দের অর্থ - মৃত, নিহত, ব্যাহত, বাধাপ্রাপ্ত, লুপ্ত, অশুভ; মন্দ)।

অন্যদিকে,
সংযত - অসংযত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৪১০.
কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. অগ্নি
  2. তথাপি
  3. নইলে
  4. দন্ত
সঠিক উত্তর:
নইলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নইলে
ব্যাখ্যা
অব্যয়পদে সাধু-চলিত রূপের পার্থক্য:
কদাচ - কখনো,
তথাপি - তবুও,
নতুবা - নইলে।

কিছু বিশেষ্যপদে সাধু-চলিত রূপের পার্থক্য:
অগ্নি - আগুন,
কর্ণ - কান,
চন্দ্র - চাঁদ,
দন্ত - দাঁত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪১১.
‘ঋজু’ শব্দের বিপরীত -
  1. ক) সোজা
  2. খ) বাঁকা
  3. গ) কঠিন
  4. ঘ) তরল
সঠিক উত্তর:
খ) বাঁকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাঁকা
ব্যাখ্যা
 'ঋজু’ শব্দের বিপরীত শব্দ - বক্র/বাঁকা

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ: 
'ঐহিক' শব্দের বিপরীত শব্দ- পারত্রিক 
'ইহ' শব্দের বিপরীত শব্দ - পরত্র 
'ঔদার্য' শব্দের বিপরীত শব্দ  - কার্পণ্য 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৪১২.
নিচের কোন বিপরীত শব্দজোড় অশুদ্ধ?
  1. ক) মৌন - মুখর
  2. খ) বাদ - প্রতিবাদ
  3. গ) আবশ্যিক - আংশিক
  4. ঘ) হংস - মিথুন
সঠিক উত্তর:
গ) আবশ্যিক - আংশিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবশ্যিক - আংশিক
ব্যাখ্যা
আবশ্যিক - আংশিক বিপরীত শব্দজোড় অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধরূপ: আবশ্যিক - ঐচ্ছিক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪১৩.
‘গ্রামান্তর’ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. গ্রাম ও অন্তর
  2. অন্য গ্রাম
  3. গ্রামের অন্তর
  4. গ্রাম থেকে অন্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য গ্রাম
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৪,৪১৪.
শুদ্ধ বানান -
  1. চিক্কন
  2. অসূয়া
  3. চুষ্য
  4. তাম্রকূঠ
সঠিক উত্তর:
অসূয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসূয়া
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - অসূয়া।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত শব্দ।

অন্যদিকে,
• শব্দগুলোর শুদ্ধবানান -  চিক্কণ, চূষ্য, তাম্রকূট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪১৫.
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে কী বলে?
  1. বিদেশি শব্দ
  2. দেশি শব্দ
  3. তদ্ভব শব্দ
  4. আঞ্চলিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ:
- বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ:
- কুড়ি,
- পেট,
- চুলা,
- কুলা,
- ডাব,
- টোপর,
- ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৪,৪১৬.
বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. পরা
  2. অঘা
  3. অপ
  4. খাস
সঠিক উত্তর:
অঘা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অঘা
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: - অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: - প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন: আম, খাস, লা, গর, বাজে, বদ, বে, বর, ব, হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪১৭.
যতিচিহ্নের প্রচলন করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্নের প্রচলন:
- বাংলা ভাষায় যতিচিহ্নের প্রচলন করেন - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- বাংলা ভাষায় যতি চিহ্ন প্রচলন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক ও বলা হয়।
- বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থেই তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্য বা কবিতা কোথাও যতিচিহ্ন ব্যবহার হতো না।
- শুধু পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়িজ্ঞাপক চিহ্নটি ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪১৮.
নিমরাজি শব্দটি নিম কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) না
  2. খ) কম
  3. গ) অর্ধ
  4. ঘ) বিরক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) অর্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অর্ধ
ব্যাখ্যা
এটি ফারসি উপসর্গ। এটি অর্ধ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'নিম' অর্ধেক অর্থে - নিমরাজি, নিমমোলাস্ন

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৪,৪১৯.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. শ্মশ্বাণ
  2. শ্মশান
  3. শ্বশান
  4. শশ্মান
সঠিক উত্তর:
শ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্মশান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: শ্মশান (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- যেখানে মৃতদেহ দাহ করা হয়,
- শবদানের স্থান,
- বধ্যভূমি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪২০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. দেদিপ্যমান
  2. দেদিপ্যমাণ
  3. দেদীপ্যমাণ
  4. দেদীপ্যমান
সঠিক উত্তর:
দেদীপ্যমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেদীপ্যমান
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'দেদীপ্যমান' বানাটি শুদ্ধ।


• দেদীপ্যমান (বিশেষণ) :
অর্থ - অত্যন্ত উজ্জ্বল বা দীপ্তিময় দেখাচ্ছে এমন; অতিশয় দীপ্তিশীল; জাজ্বল্যমান 

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৪,৪২১.
নিচের কোনটিতে বৃহদার্থে স্ত্রীবাচক শব্দ বোঝায়?
  1. হিম - হিমানী
  2. নাটক - নাটিকা
  3. অরণ্য - অরণ্যানী
  4. অধ্যাপক - অধ্যাপিকা
সঠিক উত্তর:
অরণ্য - অরণ্যানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য - অরণ্যানী
ব্যাখ্যা

'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দে অর্থের পরিবর্তন ঘটে। যেমন -
- অরণ্য -- অরণ্যানী (বৃহদার্থে)
- হিম -- হিমানী (জমানো অর্থে)
অন্যদিকে,
- নাটক -- নাটিকা (ক্ষুদ্র অর্থে)
উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)

৪,৪২২.
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. চতুর্থ
  2. বহতা
  3. মিশুক
  4. হামলা
সঠিক উত্তর:
চতুর্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থ
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চতুর্থ (চতুর্‌ + থ)।

অন্যদিকে,
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বহতা (√বহ্‌ + তা)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - মিশুক (√মিশ্‌ + উক)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - হামলা (হাম্‌ + লা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৪২৩.
'বিকালে ছেলেরা ক্রিকেট খেলে।' - এখানে অলগ্নক পদ কোনটি?
  1. বিকালে
  2. ছেলেরা
  3. ক্রিকেট
  4. খেলে
সঠিক উত্তর:
ক্রিকেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিকেট
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ক্রিকেট।
-------------------
• লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের।
যথা:
- বিভক্তি, 
- নির্দেশক, 
- বচন, 
- বলক।

• গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের।
যথা -
- অলগ্নক পদ,
- সলগ্নক পদ। 
 -------------------  
• সলগ্নক পদ:
- বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'বিকালে ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'। 
- এ বাক্যে 'বিকালে', 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সংলগ্নক পদ।
 
• অলগ্নক পদ:
যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'বিকালে ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'।
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,৪২৪.
ধ্বনি উচ্চারণের প্রত্যঙ্গগুলিকে একত্রে বলে:
  1. স্বরযন্ত্র
  2. ষড়যন্ত্র
  3. বাগ্ যন্ত্র
  4. বাকযন্ত্র
সঠিক উত্তর:
বাগ্ যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগ্ যন্ত্র
ব্যাখ্যা

• বাগ্‌যন্ত্র: 
- ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলােকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে। 
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগযন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। 

বাগ্‌যন্ত্র এর অংশ সমূহ:
- ফুসফুস, 
- শ্বাসনালী, 
- স্বরযন্ত্র, 
- জিভ, 
- আলজিভ, 
- তালু, 
 -মূর্ধা, 
- দন্তমূল ও দন্ত (দাঁত), 
- ওষ্ঠ, 
- নাসিকা ইত্যাদি।

- উল্লেখিত প্রতিটি বাক প্রত্যঙ্গকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (২০২২ সংস্করণ)।

৪,৪২৫.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ষ্ণ
  2. ম্ফ
  3. ষ্ট
  4. ল্প
সঠিক উত্তর:
ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্ণ
ব্যাখ্যা
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ষ্ট ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (+), ব্ধ (ব্‌+ধ), ভ্র (ভূ+র), ষ্ণ (ম্ + ণ), ক্স (ক্‌ + স), ঙ্গ (ঙ্‌ + গ), ক্ষ্ম (ক্‌ + ষ্‌ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৪,৪২৬.
"এক ঘণ্টা পর বাস এলো।" - এ বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যখন এক ঘণ্টা পার হলো তখন বাস এলো।
  2. এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।
  3. বাস এলো এবং এক ঘণ্টা পার হলো।
  4. বাস আসতে আসতে এক ঘণ্টা পার হলো।
সঠিক উত্তর:
এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
- সরল বাক্য: এক ঘণ্টা পর বাস এলো।।
- যৌগিক বাক্য: এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।।

- সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
- যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪২৭.
নিচের কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) মেয়েটি হাসে
  2. খ) ছেলেরা খেলা করছে
  3. গ) সে যায়
  4. ঘ) রাজু পড়ে
সঠিক উত্তর:
খ) ছেলেরা খেলা করছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছেলেরা খেলা করছে
ব্যাখ্যা
সে রোজ সেখানে যায়- বাক্যটি অর্কমক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

সকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া।
- ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ।
- কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।

অকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া।
- যেমনঃ সে রোজ সেখানে যায়। কী ‘যায়’ বা ‘কাকে যায়’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘যায়’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪২৮.
বাংলা কোন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. অস্ট্রো-এশীয়
  2. আদি আর্য
  3. আফ্রিকীয়
  4. দ্রাবিড়ীয়
সঠিক উত্তর:
আদি আর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদি আর্য
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ।
- শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে। মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী' বা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪২৯.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন-
  1. অত্যাধিক
  2. স্বাক্ষরতা
  3. অনসূয়া
  4. প্রজ্জ্বল
সঠিক উত্তর:
অনসূয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনসূয়া
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'অনসূয়া' বানানটি শুদ্ধ। 
• অর্থ: ঈর্ষাশূন্য, বিদ্বেষহীন।

 অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: অত্যাধিক। 
- শুদ্ধ: অত্যধিক। 

- অশুদ্ধ: স্বাক্ষরতা।
- শুদ্ধ: স্বাক্ষর, সাক্ষরতা। 

- অশুদ্ধ: প্রজ্জ্বল।  
- শুদ্ধ: প্রোজ্জ্বল। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪৩০.
‘ঋ, র, ষ’ এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়- এই সূত্র অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. নারায়ণ
  2. অরণ্য
  3. পরায়ণ
  4. রবীন্দ্রায়ণ
সঠিক উত্তর:
অরণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ন’ (দন্ত্য-ন) স্থানে ‘ণ’ (মূর্ধন্য-ণ) ব্যবহৃত হয়, তাকে ণ-ত্ববিধান বলে।
অর্থাৎ, তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
যেমন- ঋণ, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ ইত্যাদি।
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন -এর ব্যবহার আছে, তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

• ণ-ত্ব-বিধানের নিয়ম:
১. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, ঘৃণা, অরণ্য, বর্ণ, চূর্ণ, পাষাণ, কৃষাণ ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে সংযুক্ত আকারে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়। যেমন-কণ্টক, ঘণ্টান, অকুণ্ঠ, কাণ্ড, খণ্ড ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তারপরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ + ণ্), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ন্)। এরূপ- তর্পণ, বর্ষণ, সমর্পণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. পরি, প্র, নির-এ তিনটি উপসর্গের পর ণ-ত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি লিখতে মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন- পরিণত, পরিবহণ, প্রমাণ, প্রবণ, পরিণয়, প্রণত। ব্যতিক্রম: পরিনির্বাণ, নির্নিমেষ, প্রনষ্ট, পরিবহন বানানও শুদ্ধ।

৫. উত্তর, পর, পার, রবীন্দ্র, চন্দ্র, নার শব্দের পরে ‘অয়ন’/‘আয়ন’ প্রত্যয় হলে দন্ত্য ন পাল্টে মূর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- উত্তর + অয়ন = উত্তরায়ণ, পর + অয়ন = পরায়ণ, রবীন্দ্র + অয়ন = রবীন্দ্রায়ণ, চন্দ্র + অয়ন = চন্দ্রায়ণ, নর + অয়ন = নারায়ণ ইত্যাদি।

• ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না, এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন' হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।

• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৩১.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ভূবন
  2. বিবাদমান
  3. ত্রিনয়ন
  4. স্বত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ত্রিনয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিনয়ন
ব্যাখ্যা
• ত্রিনয়ন → সঠিক বানান, অর্থ: যার তিনটি চোখ আছে।

অন্যদিকে, 
• ভূবন → ভুল, শুদ্ধ বানান: ভুবন।
• বিবাদমান → ভুল, শুদ্ধ বানান: বিবদমান ।
• স্বত্ত্ব → ভুল, শুদ্ধ বানান: স্বত্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৩২.
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ কোনটি?
  1. ৪ঠা
  2. ৫ম
  3. ৩রা
  4. ৫ই
সঠিক উত্তর:
৫ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ম
ব্যাখ্যা
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে ৫ম।

• সাধারণ পূরণবাচক

যেসব সংখ্যাশব্দ দ্বারা কোনো বস্তুর ক্রমবাচক পর্যায় বা অবস্থান বোঝানো হয়, তাদের সাধারণ পূরণবাচক বলে।
উদাহরণ:
প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ, ত্রয়োদশ, চতুর্দশ, পঁচদশ ইত্যাদি।

• সংক্ষিপ্ত রূপে লেখা যায়:
- প্রথম → ১ম
- দ্বিতীয় → ২য়
- তৃতীয় → ৩য়
- চতুর্থ → ৪র্থ

৪ঠা, ৩রা, ৫ই হচ্ছে তারিখ পূরণবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
৪,৪৩৩.
“উচাটন”-এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সংকীর্ণ
  2. ব্যাকুল
  3. কোনোটিই নয়
  4. প্রশান্ত
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত
ব্যাখ্যা

• উচাটন (বিশেষণ):
অর্থ: ব্যাকুল; অস্বস্তিপূর্ণ; উৎকণ্ঠিত।

• উচাটন (বিশেষ্য):
অর্থ: ব্যাকুলতা; উৎকণ্ঠা।

অর্থ্যাৎ,
• 'উচাটন' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ - প্রশান্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪৩৪.
কোনটি নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়?
  1. যদিও
  2. অধিকন্তু
  3. যথা-তথা
  4. নয়তো
সঠিক উত্তর:
যথা-তথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথা-তথা
ব্যাখ্যা

নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।

যেমন:
- যথা-তথা,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন,
- যেরূপ- সেরূপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 

বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪,৪৩৫.
কোনটি 'খোঁচা' এর আদিগণ?
  1. ঘুরা
  2. ধোয়া
  3. ফিরা
  4. লাফা
সঠিক উত্তর:
ধোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধোয়া
ব্যাখ্যা
• 'খোঁচা' এর আদিগণ - ধোয়া

ধাতুর গণ:
- 'গণ' শব্দের অর্থ শ্রেণি।
- কিন্তু ধাতুর 'গণ' বলতে ধাতুগুলোর বানানের ধরন বোঝায়।
- 'ধাতুর গণ' ঠিক করতে দুটি বিষয় লক্ষ রাখতে হয়।
যেমন -
(ক) ধাতুটি কয়টি অক্ষরে গঠিত?
(খ) ধাতুর প্রথম বর্ণে সংযুক্ত স্বরবর্ণটি কী?
- বাংলা ভাষার সমস্ত ধাতুকে বিশটি গণে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন - 
→ ঘুরা - আদিগণ,
→ ধোয়া - আদিগণ,
→ ফিরা - আদিগণ,
→ লাফা - আদিগণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪৩৬.
"চলোর্মি" এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. চল + উর্মি
  2. চলো + উর্মি
  3. চল + ঊর্মি
  4. চলা + ঊর্মি
সঠিক উত্তর:
চল + ঊর্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চল + ঊর্মি
ব্যাখ্যা
• 'চলোর্মি' - এর সথিক সন্ধি বিচ্ছেদ - চল + ঊর্মি = চলোর্মি।
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনে স্বরসন্ধি গঠিত হয়। যেমন - নর + অধম = নরাধম।

- স্বরসন্ধি গঠনের নিয়ম অনুসারে,
• অ কিংবা আ ধ্বনির পর উ কিংবা ঊ থাকলে উভয় মিলে ও হয়। ও কার পুর্ব বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন -
- সূর্য + উদয় =সূর্যোদয়;
- চল + ঊর্মি = চলোর্মি;
- মহা+ ঊরমি = মহোর্মি।

উৎস: ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৩৭.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুনঃ + র্মিলন = পুনর্মিলন
  2. নীঃ + রব = নীরব
  3. আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
  4. নীঃ + রোগ = নীরোগ
সঠিক উত্তর:
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ। 

----------------
• বিসর্গসন্ধি:

বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:

• বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি। 
• বিসর্গ 'ও' হয়ে যায়: মনঃ + যোগ = মনোযোগ, তিরঃ + ধান = তিরোধান, তপঃ + বন = তপোবন। 
• বিসর্গ 'র' হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ। 
• বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার। 
• কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রোগ = নীরোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৪,৪৩৮.
কোন শব্দটিতে "বিশেষ রূপ" বোঝাতে 'পরি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পরিশেষ
  2. পরিপূর্ণ
  3. পরিমাণ
  4. পরিমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
পরিপূর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপূর্ণ
ব্যাখ্যা

”পরি” উপসর্গটি যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়:
• ”বিশেষ” অর্থে: পরিপক্ব, পরিপূর্ণ, পরিবর্তন।
• ”শেষ” অর্থে: পরিশেষ
• ”সম্যক” অর্থে: পরিশ্রান্ত, পরীক্ষা, পরিমাণ
• ”চতুর্দিক” অর্থে: পরিভ্রমণ, পরিমণ্ডল

উল্লেখ্য,
- ”পরি” একটি তৎসম উপসর্গ।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি, যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৪,৪৩৯.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।
  2. সকল প্রাণীই এই গ্রহের বাসিন্দা।
  3. বিদ্যাণকে সকলে শ্রদ্ধা করে।
  4. মাদকাসক্তি ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাণকে সকলে শ্রদ্ধা করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাণকে সকলে শ্রদ্ধা করে।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: বিদ্যাণকে সকলে শ্রদ্ধা করে।
শুদ্ধ বাক্য: বিদ্বানকে সকলে শ্রদ্ধা করে।

অন্যদিকে:
- মাদকাসক্তি ভালো নয়।
- সকল প্রাণীই এই গ্রহের বাসিন্দা।
- সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৪০.
'কথাসর্বস্ব' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. ব্যতিহার বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৪,৪৪১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. সংস্রিত
  2. উজ্জল
  3. দূর্গ
  4. ধস
সঠিক উত্তর:
ধস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধস
ব্যাখ্যা

ধস
শব্দের অর্থঃ মাটির বড় চাপ খসে পড়ার শব্দ।
অপরদিকে,
অন্যান্য শব্দগুলির সঠিক বানানঃ
উজ্জ্বল
দুর্গ
সংশ্রিত
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

৪,৪৪২.
'হরিণের চামড়া' এর এক কথায় প্রকাশ-
  1. কেকা
  2. টঙ্কার
  3. অজিন
  4. শিঞ্জন
সঠিক উত্তর:
অজিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজিন
ব্যাখ্যা

• 'হরিণের চামড়া' এর এক কথায় প্রকাশ-- অজিন।

 অন্যদিকে, 
- ময়ূরের ডাক এর এক কথায় প্রকাশ-- কেকা।
- 'ধনুকের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- 'টঙ্কার'।
- 'অলঙ্কারের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- শিঞ্জন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৪৪৩.
'তার মাথায় লাঠির আঘাত কোরো না।' - বাক্যে 'লাঠির' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারক, তৃতীয়া বিভক্তি
  2. অধিকরণ কারক, পঞ্চমী বিভক্তি
  3. কর্ম কারক, সপ্তমী বিভক্তি
  4. করণ কারক, ষষ্ঠী বিভক্তি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
করণ কারক, ষষ্ঠী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক, ষষ্ঠী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ছেলেরা বল খেলে।
তৃতীয়া বিভক্তি: আমরা কান দ্বারা শুনি।
পঞ্চমী বিভক্তি: এ সন্তান হতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: তার মাথায় লাঠির আঘাত কোরো না।
সপ্তমী বিভক্তি: আকাশ মেঘে ঢাকা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪,৪৪৪.
বাক্যের মধ্যে পরবর্তী শব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বােঝাতে কোন বিভক্তি হয়?
  1. ক) -তে
  2. খ) -র
  3. গ) -এ
  4. ঘ) -কে
সঠিক উত্তর:
খ) -র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) -র
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে পরবর্তী শব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বােঝাতে পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে র, -এর এবং -য়ের বিভক্তি যুক্ত হয়।
সাধারণত আ-কারান্ত, ই/ঈ-কারান্ত ও উ/ঊ-কারান্ত শব্দের শেষে -র বিভক্তি বসে।
যেমন - রাজার, প্রজার, হাতির, বুদ্ধিজীবীর, তনুর, বধুর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৪৪৫.
কোন প্রবচন বাক্য ব্যবহারিক দিক হতে সঠিক?
  1. যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
  2. অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
  3. নাচতে না জানলে উঠোন ভাঙ্গা
  4. যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
সঠিক উত্তর:
অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
ব্যাখ্যা
• বাক্য ব্যবহারিক দিক হতে সঠিক প্রবচন হচ্ছে: অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট।
- প্রবচনাটির অর্থ: অতিরিক্ত লোকের খবরদারিতে কাজ পণ্ড।

অশুদ্ধ প্রবচন গুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’ প্রবচনের অর্থ - সামর্থ্যের বেশি সম্পাদিত হয় না।
• ‘নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা’ প্রবচনের অর্থ - নিজের ত্রুটি অন্যের উপর চাপানো।
• ‘যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধে হয়’ প্রবচনের অর্থ - যেখানে অসুবিধে সেখানেই বিপদ ঘটে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৪৬.
'মণিমঞ্জুষা' শব্দটির প্রমিত উচ্চারণ হলো
  1. মনিমোঞজুশা
  2. মণিমোনজুসা
  3. মোণিমোনুজুষা
  4. মোনিমোন্‌জুশা
সঠিক উত্তর:
মোনিমোন্‌জুশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোনিমোন্‌জুশা
ব্যাখ্যা
• 'মণিমঞ্জুষা': 
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- উচ্চারণ: মোনিমোন্‌জুশা। 
- প্রকৃতি প্রত্যয়: মণি+মঞ্জুষা। 
  অর্থ:
- মণিমাণিক্যের আঁধার,
- রত্নের ঝাপি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৪৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কর্নেল
  2. স্টেশন
  3. লক্ষ্মীবান
  4. আদ্যক্ষর
সঠিক উত্তর:
আদ্যক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদ্যক্ষর
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'আদ্যক্ষর' বানানটি অশুদ্ধ ।
- শুদ্ধ বানান: আদ্যাক্ষর

• 'আদ্যাক্ষর' শব্দের অর্থ:
- প্রথম অক্ষর।

অন্যদিকে,
- কর্নেল ,স্টেশন ইংরেজি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
- 'লক্ষ্মীবান' সংস্কৃত শব্দ। যার অর্থ সৌভাগ্যবান।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ।
৪,৪৪৮.
'তন্মধ্যে' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তন + মধ্য
  2. তত + মধ্য
  3. তদ্ + মধ্য
  4. তট + মধ্য
সঠিক উত্তর:
তদ্ + মধ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ + মধ্য
ব্যাখ্যা
আগে 'ৎবা দ্' এবং পরে 'ন্ / ম্' থাকলে 'ৎ' বা 'দ্' স্থানে ন্ হয় এবং পরের 'ন'- এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়।
কিন্তু ৎ / দ্ - এর পর 'ল্' থাকলে ৎ / দ্ এর সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং 'ল্' পরের 'ল' এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।


ৎ + ন্ = ন্ন               উৎ + নতি = উন্নতি , জগৎ + নাথ = জগন্নাথ
দ্ + ন্ = ন্ন               তদ্ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত ,তদ্ + নিষ্ঠ = তন্নিষ্ঠ
ধ্ + ন্ = ন্ন               ক্ষুধ্ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি।
ৎ + ম্ = ন্ম              মৃৎ + ময় = মৃন্ময় , সৎ + মার্গ = সন্মার্গ
দ্ + ম্ = ন্ম              তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র, তদ্ + মধ্য = তন্মধ্যে
ৎ্ + ল্ = ল্ল               উৎ + লাস = উল্লাস, উৎ + লিখিত = উল্লিখিত
দ্ + ল্ = ল্ল               তদ্ + লিখিত = তল্লিখিত

 [উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।]
৪,৪৪৯.
'শরতে শিউলি ফোটে।' কোন ধরনের বাচ্য?
  1. কর্মবাচ্য 
  2. কর্তাবাচ্য
  3. ভাববাচ্য 
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্তাবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।

যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,৪৫০.
’অনুক্ষণ’ শব্দে ’অনু’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পশ্চাৎ
  2. সাদৃশ্য
  3. সঙ্গে
  4. পৌনঃপুন
সঠিক উত্তর:
পৌনঃপুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌনঃপুন
ব্যাখ্যা

- ’অনুক্ষণ’ শব্দে ’অনু’ উপসর্গটি ’পৌনঃপুন’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• ’অনু’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়”

- ’পশ্চাৎ’ অর্থে: অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- ’সাদৃশ্য’ অর্থে: অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
- ’পৌনঃপুন’ অর্থে: অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- ’সঙ্গে’ অর্থে - অনুকূল, অনুকম্পা।

উল্লেখ্য,
- ’অনু’ একটি তৎসম উপসর্গ
- তৎসম উপসর্গ বিশটি:
যথা-
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৪৫১.
নিচের কোনটি সঠিক সন্ধিরূপ?
  1. ক) যাচ্ + না = যাচ্‌ঞা
  2. খ) রাজ্ + নী = রাজ্ঞী
  3. গ) যজ্ + ন = যজ্ঞ
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
চ্ + জ্ - এর পরে নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়।
যেমন - চ্ + ন = চ্ + ঞ এবং জ্ + ন = জ্ + ঞ।
কাজেই উপর্যুক্ত সবগুলো সন্ধিরূপই শুদ্ধ।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী
৪,৪৫২.
‘ছার’ শব্দের অর্থ কী?
  1. অধম
  2. উত্তম
  3. ত্যাগ
  4. মুক্তি
সঠিক উত্তর:
অধম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধম
ব্যাখ্যা
• ‘ছার’ শব্দের অর্থ - অধম

শব্দজোড়:
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। 
- বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
→ চির - দীর্ঘ।
→ চীর - ছিন্নবস্ত্র।
→ চুর - নেশাগ্রস্ত।
→ চূর - চূর্ণ।
ছার - অধম
→ ছাড় - ত্যাগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৪৫৩.
’উৎকণ্ঠা’ শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. উপকণ্ঠ
  2. আকণ্ঠ
  3. শান্তি
  4. বিষণ্ন
সঠিক উত্তর:
শান্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শান্তি
ব্যাখ্যা

- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, অনুসারে,
- ’উৎকণ্ঠা’ শব্দের অর্থ- উদ্বেগ, ব্যাকুলতা, ব্যগ্রতা; আশঙ্কা।
’- শান্তি’ শব্দের অর্থ- প্রশান্তি, উৎকণ্ঠাশূন্যতা, চিত্তের স্থিরতা।

অন্যদিকে,
- ’আকণ্ঠ’ শব্দের অর্থ- গলা পর্যন্ত। 
- ’উপকণ্ঠ’ শব্দের অর্থ- কণ্ঠ পর্যন্ত। 
------------------------------
- 'বিষণ্ন এর বিপরীত শব্দ- 'খুশি'।
- 'সৌম্য' এর বিপরীত শব্দ-'উগ্র'।
- 'ভীরু' এর বিপরীত শব্দ- 'নির্ভীক'।
-'মহাজান' এর বিপরীত শব্দ- 'খাতক'।
- 'ভাটি' এর বিপরীত শব্দ- 'উজান'।
- 'বিষ' এর বিপরীত শব্দ- 'অমৃত'।
- 'সিক্ত' এর বিপরীত শব্দ- 'শুষ্ক'।
- 'উদ্যম' শব্দের বিপরীত শব্দ- অনুদ্যম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪৫৪.
প্রত্যয়জাত শব্দ 'দখিনা' কী অর্থে ব্যবহৃত ?
  1. ক) সংশ্লিষ্ট অর্থে
  2. খ) আগত অর্থে
  3. গ) উপকরণ অর্থে
  4. ঘ) যুক্ত অর্থে
সঠিক উত্তর:
খ) আগত অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আগত অর্থে
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়জাত শব্দ' দখিনা আগত অর্থে অর্থে ব্যবহৃত।

অন্যান্য অপশনগুলার মধ্যে - 
সংশ্লিষ্ট অর্থে - গেঁয়ো।
উপকরণ অর্থে -  মেটে।
যুক্ত অর্থে - টেকো।

- প্রত্যয় এর নিজস্ব কোন অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পর অনেক সময় শব্দের অর্থ এবং শ্রেণী পরিচয় বদলে যায়।

যেমনঃ
নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা।
বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
আদর অর্থে: কানু → কানাই।
জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই।
ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৪৫৫.
'দু-একটা উইকেট পড়লে কী হবে, কেউ-না-কেউ নিশ্চয় দাঁড়িয়ে যাবে।’ - এই বাক্যে কেউ-না-কেউ’ কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সামীপ্যবাচক
  2. ব্যতিহারিক
  3. অন্যাদিবাচক
  4. অনির্দেশক
সঠিক উত্তর:
অনির্দেশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্দেশক
ব্যাখ্যা
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিচু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয, তাকেঅনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি দ্বারা অনির্দিষ্টতা নির্দেশ করা হয়।
যেমন:
- কেউ-না-কেউ নিশ্চয় দাঁড়িয়ে যাবে।

অন্যদিকে,
নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
 যেমন:
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি;
- দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
- আত্মবাচক নির্দেশক: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।
যেমন:
- সে নিজে অঙ্কটিা করছে।

পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪৫৬.
পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৬টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ ৯ টি।
যথা- ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ, র, ড়, ঢ়‌।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৪৫৭.
বাক্যতত্ত্বে কী নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনি বিন্যাস
  2. শব্দের অর্থ
  3. বাক্য গঠন ও নির্মাণ
  4. শব্দের গঠন প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বাক্য গঠন ও নির্মাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য গঠন ও নির্মাণ
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।
- বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

অন্যদিকে,
রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

অর্থতত্ত্ব: 
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,৪৫৮.
'চতুষ্পদ' কোন ধরনের সন্ধি সাধিত শব্দ?
  1. ব্যঞ্জন সন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি 
  3. স্বরসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি 
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স) হয় এবং অবা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।

যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার।
- বহিঃ + কৃত = বহিষ্কৃত। 
- চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ। 
- পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- নিঃ + কর = নিষ্কর।
- দুঃ + কর = দুষ্কর।

এরূপ- পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,৪৫৯.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. কালীদাস বিখ্যাত কবি।
  2. হস্তীটি অপরিসীম স্থুল।
  3. ইতঃপূর্বে তার সঙ্গে দেখা হয় নি।
  4. শশীভূষণ কি আসে নাই?
সঠিক উত্তর:
ইতঃপূর্বে তার সঙ্গে দেখা হয় নি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতঃপূর্বে তার সঙ্গে দেখা হয় নি।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: ইতঃপূর্বে তার সঙ্গে দেখা হয় নি

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: কালীদাস বিখ্যাত কবি।
শুদ্ধ বাক্য: কালিদাস বিখ্যাত কবি।

অশুদ্ধ বাক্য: হস্তীটি অপরিসীম স্থুল।
শুদ্ধ বাক্য: হস্তীটি অত্যন্ত স্থূল।

অশুদ্ধ বাক্য: শশীভূষণ কি আসে নাই?
শুদ্ধ বাক্য: শশিভূষণ কি আসে নাই?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৬০.
'ধীর' শব্দটির বিশেষ্যরূপ কী?
  1. ধীরতা
  2. ধৈর্য
  3. ধীরস্থির
  4. ধীরি
সঠিক উত্তর:
ধীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরতা
ব্যাখ্যা

• 'ধীর' শব্দের বিশেষ্য পদ - ধীরতা।

• ধীর (বিশেষণ পদ):
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- স্থিরচিত্ত
- মন্থর,
- সামান্য,
- বিনীত,
- পণ্ডিত।

অন্যদিকে,
• ধীরতা (বিশেষ্য পদ):
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ধৈর্য; ধৃতি (সকল ধীরতা শিক্ষা রসেতে পণ্ডিত-দৌকা)।
- স্থিরচিত্ততা।
- গাম্ভীর্য।
- পাণ্ডিত্য।
- বুদ্ধিমত্তা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪৬১.
অভাব অর্থে ব্যবহৃত উপসর্গ কোনটি?
  1. ক) হাঘরে
  2. খ) বিফল
  3. গ) কদাকার
  4. ঘ) কুকাজ
সঠিক উত্তর:
ক) হাঘরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাঘরে
ব্যাখ্যা
•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- অভাব অর্থে ব্যবহৃত খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘হা’ যোগে গঠিত শব্দ - হাভাত, হাঘরে, হাপিত্যেশ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৬২.
কর্তা অন্যকে দিয়ে করালে বোঝালে কোন ক্রিয়া হয়?
  1. ক) সরল ক্রিয়া
  2. খ) প্রযোজক ক্রিয়া
  3. গ) নাম ক্ৰিয়া
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
⇒ প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

• প্রযোজক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
• প্রযোজ্য কর্তা: যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।

যেমন:
- মা (প্রযোজক কর্তা) শিশুকে (প্রযোজ্য কর্তা) চাঁদ দেখাচ্ছে(প্রযোজক ক্রিয়া)।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
- মা শিশুটিকে হাসান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪৬৩.
‘অগ্নি' শব্দের সমার্থক নয় কোনটি?
  1. ক) হুতাশন
  2. খ) কৃশানু
  3. গ) বায়ুসখা
  4. ঘ) দ্যুতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্যুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্যুতি
ব্যাখ্যা

• অগ্নি শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ: অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, শিখাবৎ, শিখিন, বায়ুসখা, হুতভুক, শুচি, পিঙল, বিশ্বপা, হিমারাতি, বায়ুসখা অনিলসখ, জগন্নু, কৃশানু সর্বভুক ইত্যাদি।

• 'প্রভা' শব্দের সমার্থক শব্দ = আলোক, আভা, জ্যোতি, ময়ূখ, দ্যুতি, কিরণ, বিভা, অংশু ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরন ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৬৪.
সেমিকোলন চিহ্ন কোনটি?
  1. (;)
  2. (:)
  3. (;-)
  4. (:-)
সঠিক উত্তর:
(;)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
(;)
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে। অন্ত্যযতি চারটি, এগুলো হলো:
অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (1),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (-),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
৪,৪৬৫.
SIGNIFICANT শব্দটির বর্ণ ব্যবহার করে নিচের কোন শব্দটি গঠন করা যাবে না?
  1. GIANT
  2. INSIGNIA
  3. INFANT
  4. NASCENT
সঠিক উত্তর:
NASCENT
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NASCENT
ব্যাখ্যা
NASCENT শব্দটি গঠন করা যাবে না। 
NASCENT এর E বর্ণটি SIGNIFICANT শব্দটিতে নেই।
৪,৪৬৬.
কোন বাক্যটিতে ভুল নেই-
  1. তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলেন
  2. তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন
  3. তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ দিলেন
  4. তিনি তোমার বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দিলেন
সঠিক উত্তর:
তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য - তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন। সাক্ষ, স্বাক্ষ্য বানান দুটিই ভুল।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৪৬৭.
"পাচক" কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা
অর্থের দিক থেকে বিচার করলে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দসমূহকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা -
১. যৌগিক,
২. রূঢ়ি এবং
৩. যোগরূঢ়।

• যৌগিক শব্দ:
যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, সেই শব্দগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন- পাঠক শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় - √ পঠ্ + অক = পাঠক (পাঠ করে যে)। 
এমনিভাবে,
√ পড়ু + উয়া = পড়ুয়া (যে পড়ে); √ গৈ + অক = গায়ক (গান করে যে); √ পচ্ + অক = পাচক (রান্না করে যে)।

[প্রত্যেকটি উদাহরণে দেখা যাচ্ছে শব্দগুলোর অর্থ প্রকৃতি ও প্রত্যয় অনুযায়ীই হয়েছে। অর্থাৎ শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তাই এগুলো যৌগিক শব্দ।]
এমনি- বাবুয়ানা, মধুর, নিন্দুক, মিতালি, মালগাড়ি, লেখক, দাতা, সবই যৌগিক শব্দের উদাহরণ।


---------------------
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দের অর্থ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হলেও মূল অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ করে যে শব্দের অর্থ বোঝা যায় না তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন- হস্তী শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: হস্ত + ইন (যার হাত আছে) কিন্তু শব্দটি হাতি নামক একটি বিশেষ প্রাণীকে বোঝাচ্ছে।

এমনিভাবে,
কুশ + অল - (কুশ আহরণকরে যে) কুশল কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ নিপুণ বা ভালো।
বাঁশ + ই - বাঁশি (বাঁশ দিয়ে তৈরি সব বস্তুকে না বুঝিয়ে একটি বিশেষ বাদ্যযন্ত্রকে বোঝাচ্ছে)।
পাঞ্জাবি - বিশেষ ধরণের জামা; অথচ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ পাঞ্জাবের লোক।
সন্দেশ - সংবাদ না বুঝিয়ে বিশেষ ধরনের

• যোগরূঢ় শব্দ:
যে সব শব্দের মুখ্য বা ব্যবহারিক অর্থ এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন নয়, কিন্তু অর্থটি সংকুচিত অর্থে ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের শব্দগুলো সমাসবদ্ধ হয়।
অন্যভাবে বলা যায়, যে সমাসবদ্ধ পদসমূহ সমস্যমান পদগুলোর অর্থ প্রকাশ না করে ভিন্ন অর্থকে প্রকাশ করে সে শব্দসমূহকে যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন- সরোজ = সরোবরে জন্মে যা, সরোজ শব্দের অর্থ তাহলে সরোবরে জন্মানো সব জিনিসকে বোঝানো উচিত ছিল। কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ পদ্ম।

ঠিক তেমনি,
জলদ - জল দেয় যে (কিন্তু কেবল মেঘ অর্থে ব্যবহৃত হয়)।
সুহৃদ - সুন্দর হৃদয় যার (ব্যবহারিক অর্থ বন্ধু)।
রাজপুত - রাজার পুত্র (রাজপুত্র না বুঝিয়ে বিশেষ জাতিকে বুঝিয়েছে)।
মহাযাত্রা - মহা সমারোহে যে যাত্রা (কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ মৃত্যু)।

ঠিক এমনি- পঙ্কজ, জলধি, অসুখ, পরিবার ইত্যাদি যোগরূঢ় শব্দের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৬৮.
কোন শব্দটি সঠিক?
  1. ক) দ্বন্দ
  2. খ) দ্বন্দ্ব
  3. গ) গৃহিনী
  4. ঘ) দ্ব্যর্থ্য
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব (বিশেষ্য) - বিরোধ (দ্বন্দ্ব-কলহে উভয় পক্ষের ক্ষতি)।
গৃহিণী (বিশেষ্য) - গৃহকর্ত্রী।
দ্ব্যর্থ (বিশেষণ) - দুই রকমের অর্থ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

৪,৪৬৯.
"হাসপাতাল" শব্দের "হ" কোন প্রকার ব্যঞ্জন?
  1. কণ্ঠনালীয়
  2. কম্পিত
  3. মূর্ধন্য
  4. তালব্য
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠনালীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠনালীয়
ব্যাখ্যা

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কম্পিত ব্যঞ্জন:
- বযে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,৪৭০.
'জাহ্নবী' শব্দটি কোন শব্দের সমার্থক?
  1. ক) যমুনা
  2. খ) গঙ্গা
  3. গ) পদ্ম
  4. ঘ) জ্যোৎস্না
সঠিক উত্তর:
খ) গঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গঙ্গা
ব্যাখ্যা
জাহ্নবী (বিশেষ্য) = 'গঙ্গা'র অপর নাম। 

'গঙ্গা'র অপর সমার্থক শব্দ = সুরধনী, ভাগীরথী, জহ্নুকন্যা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৭১.
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. শুধু লেখায় ব্যবহার হয়।
  2. ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে।
  3. বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
  4. এ রীতি পরিবর্তনশীল।
সঠিক উত্তর:
এ রীতি পরিবর্তনশীল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ রীতি পরিবর্তনশীল।
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
ক. সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
খ. এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
গ. সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
ঘ. সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
ঙ. সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

প্রমিত ভাষারীতি:
- বিভিন্ন ভাষারীতি কালক্রমে পরিমার্জিত হয়ে সবার গ্রহণযোগ্য একটি রূপ লাভ করে।
- এই ভাষারীতি সাধারণত শিক্ষিত লোকের কথাবার্তা ও নিত্য ব্যবহারে আরও আকর্ষণীয় হয়।
- ভাষাও যে শ্রমসাধ্য, প্রযত্নলব্ধ এবং শেখার কোনো বিষয়- প্রমিত ভাষারীতি তার প্রমাণ।
- এক কথায়, ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য ও সমকালের সর্বোচ্চ মার্জিত রূপকেই প্রমিত ভাষারীতি বলে।
যেমন: 'একজনের দুটো ছেলে ছিল।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৪৭২.
একটি সার্থক বাক্য গঠনে কী কী শর্ত থাকতে হয়?
  1. আসত্তি ও যোগ্যতা
  2. আকাঙ্ক্ষা ও আসত্তি, বাকবিধি ও যোগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা ও আসত্তি
  4. আসত্তি, যোগ্যতা ও আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
আসত্তি, যোগ্যতা ও আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি, যোগ্যতা ও আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে ৩টি গুণ থাকা থাকা জরুরি।

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

যোগ্যতা:
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৭৩.
তৎপুরুষ সমাসে কোন পদ প্রধান হয়?
  1. পূর্বপদ
  2. পরপদ
  3. উভয়পদ
  4. অন্যপদ
সঠিক উত্তর:
পরপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরপদ
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস: 
- পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

তৎপুরুষ সমাসের বৈশিষ্ঠ্য:
- তৎপুরুষ সমাস অভ্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত;
- তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান;
- পূর্বপদের বিভক্তি লোপে তৎপুরুষ সমাস হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৪,৪৭৪.
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যৌগিক স্বরবর্ণ -
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বর মোট ২৫টি।

তবে,
যৌগিক স্বরবর্ণ মাত্র ২টি-
যেমন - ঐ, ঔ।
অন্য যৌগিক স্বরধ্বনিগুলোর নিজস্ব প্রতীক বা বর্ণ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪৭৫.
'আন্বীক্ষিকী' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) দর্শনশাস্ত্র
  2. খ) গণিতশাস্ত্র
  3. গ) নৃত্যকলা
  4. ঘ) ন্যায়শাস্ত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) ন্যায়শাস্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ন্যায়শাস্ত্র
ব্যাখ্যা
আন্বীক্ষিকী (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃ্তি প্রত্যয় = আন্বীক্ষা+ইক+ঈ
অর্থ: ন্যায়শাস্ত্র, তর্কবিদ্যা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৪৭৬.
'চিরায়ত' এর বিপরীত শব্দ কী?
  1. সাময়িক
  2. শাশ্বত
  3. কায়িক
  4. অমায়িক
সঠিক উত্তর:
সাময়িক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাময়িক
ব্যাখ্যা
• 'চিরায়ত' এর বিপরীত শব্দ - সাময়িক

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
→ শবল - একবর্ণা।
→ শর্বরী - দিবস।
→ চড়াই - উতরাই।
→ চিন্ময় - অচেতন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৪৭৭.
বাংলা বর্ণমালায় তাড়নজাত ধ্বনি কোনটি?
  1. ল 
  2. ড়
সঠিক উত্তর:
ড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড়
ব্যাখ্যা

• তাড়নজাত ব্যঞ্জনধ্বনি:
তাড়িত ব্যঞ্জন যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতাে করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন, 
বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• 'র' — কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• 'শ' —  শিশ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• 'ল' — পার্শ্বিক ধ্বনি৷

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণি,  (২০২১ সংস্করণ)।

৪,৪৭৮.
ঈষৎ অর্থ প্রকাশ করছে কোন উপসর্গযুক্ত শব্দটি?
  1. অভিজ্ঞ
  2. আরক্ত
  3. আখাম্বা
  4. তুল্য
সঠিক উত্তর:
আরক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরক্ত
ব্যাখ্যা
আরক্ত দ্বারা ঈষৎ অর্থ প্রকাশ করছে।
আরক্ত অর্থ হচ্ছে রক্তিম আভাযুক্ত।

• আ-
- অর্থদ্যোতকতা: ঈষৎ
- উদাহরণ: আ+রক্ত = আরক্ত

অন্যান্য অপশন:
• অভি-
- অর্থদ্যোতকতা: সম্যক
- উদাহরণ: অভি+জ্ঞ = অভিজ্ঞ

• আ-
- অর্থদ্যোতকতা: সদৃশ
- উদাহরণ: আ+ খাম্বা = আখাম্বা

• প্রতি-
- অর্থদ্যোতকতা: তুল্য
- উদাহরণ: প্রতি+ধ্বনি = প্রতিধ্বনি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
৪,৪৭৯.
নিচের কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. কলম
  2. নাক
  3. সংসদ
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদ
ব্যাখ্যা
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করলে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।

যেমন:
- গরমিল, ('গরমিল' সমাসের ব্যাসবাক্য - "মিলের অভাব"। এটি একটি অব্যয়ীভাব সমাস।)
- পরিচালক,
- সম্পাদকীয়,
- সংসদ,
- নীলাকাশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- নাক, লাল, কলম মৌলিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৪৮০.
'ক্ষীয়মান' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. বৃহৎ
  2. ক্ষুদ্রতম
  3. বর্ধমান
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষীয়মান' এর বিপরীত শব্দ- বর্ধমান। 

তাছাড়া,
- 'ক্ষুদ্রতম' এর বিপরীত শব্দ- বৃহত্তম। 
- 'ক্ষুদ্র' এর বিপরীত শব্দ- বৃহৎ। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুন ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৪,৪৮১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) গৃহিনীপনা
  2. খ) গৃহিনিপনা
  3. গ) গৃহীণীপনা
  4. ঘ) গৃহিণীপনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গৃহিণীপনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গৃহিণীপনা
ব্যাখ্যা

গৃহিণী [গ্রিহিনি] (বিশেষ্য)
১ গৃহকর্ত্রী।
২ পত্নী; স্ত্রী।
(পুংলিঙ্গ) গৃহী।

গৃহিণীপনা (বিশেষ্য)
১ গৃহিণীর দায়িত্ব পালনে দক্ষতা।
২ গৃহিণীর আচরণ।
৩ (ব্যঙ্গার্থ) অল্পবয়স্কা বালিকার পাকামি অথবা গৃহিণীসুলভ ব্যবহার; অল্পবয়সীর প্রবীণার ন্যায় আচরণ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

৪,৪৮২.
'বাহুলতা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  2. উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ; 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ, 
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে;
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত;
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়।
- এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৪৮৩.
‘পঙ্কে জন্মে যা’ ব্যাসবাক্যটি কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  3. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- জলে চরে যা = জলচর।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ।
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা।
- পকেট মারে যে = পকেটমার ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪৮৪.
'পৃথিবী' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অখিল
  2. ক্ষিতি
  3. ধরা
  4. ভূধর
সঠিক উত্তর:
ভূধর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূধর
ব্যাখ্যা
• ভূধর 'পৃথিবী' এর সমার্থক শব্দ নয়।
- ভূধর অর্থ পাহাড়।

• 'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অখিল, ভুবন, বিশ্ব, ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুমতী, বসুন্ধরা, মর্ত্য, বসুধা, মহী, অবনী, মেদিনী, ক্ষিতি, জগৎ,পৃথ্বী, ব্রহ্মাণ্ড, ভূ, ভূলোক ইত্যাদি।

'পাহাড়' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- মহীধর, পর্বত, অচল, শৈল, ভূধর, অদ্রি, শিখরী, শৃঙ্গী, শৃঙ্গধর, মহীধর, ভূভূৎ, নগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৮৫.
কোনটি ধাতু বা ক্রিয়ামূল?
  1. ছি
  2. খা
  3. বে
  4. লাম
সঠিক উত্তর:
খা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খা
ব্যাখ্যা
ধাতু:
- ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলে।
- ক্রিয়া পদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়:

১. ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- কর্, যা, খা, পা, বল্, দেখ, খেল্, দে ইত্যাদি।

২. ক্রিয়াবিভক্তি:
- আ, ই, ছি, ছে, বে, তে, লে, লাম ইত্যাদি।

ধাতু তিন প্রকার।
যথা:
১. মৌলিক ধাতু,
২. সাধিত ধাতু ও
৩. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৪৮৬.
কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দীর্ঘতম
  2. খ) অশ্বতর
  3. গ) বহতা
  4. ঘ) শত্রুতা
সঠিক উত্তর:
গ) বহতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহতা
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়ঃ দীর্ঘতম, অশ্বতর, শত্রুতা
কৃৎ প্রত্যয়ঃ বহতা, কাটতি
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৪,৪৮৭.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. শুশ্রুষা
  2. শুশ্রূষা
  3. সুশ্রুষা
  4. সুশ্রূষা
সঠিক উত্তর:
শুশ্রূষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুশ্রূষা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - শুশ্রূষা (বিশেষ্য)।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [শুশ্রূষা+√কৃ+ইন্+ঈ]
অর্থ: পরিচর্যা, সেবা।

আরো কয়েকটি শুদ্ধ বানান:
• মুহুর্মুহু,
• মনীষী,
• শুশ্রূষা,
• ত্রিভুজ,
• পাষাণ,
• মরীচিকা,
• মুমূর্ষু।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৪৮৮.
কোনটি পাঞ্জাবি ভাষার শব্দ?
  1. ক) রিক্সা
  2. খ) চা
  3. গ) হারিকিরি
  4. ঘ) চাহিদা
সঠিক উত্তর:
ঘ) চাহিদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চাহিদা
ব্যাখ্যা
রিক্সা, হারিকিরি - জাপনি শব্দ।
চাহিদা, শিখ- পাঞ্জাবি শব্দ।
চা, চিনি – চীনা শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
৪,৪৮৯.
‘পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. অরুণ
  2. তপন
  3. সোম
  4. মহী
সঠিক উত্তর:
মহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহী
ব্যাখ্যা
‘পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- ভুবন, বিশ্ব, ধরণী, ধরিত্রী, বসুমতী,বসুন্ধরা, মর্ত্য, বসুধা, মহী, অবনী, মেদিনী, ক্ষিতি।

অন্যদিকে,
‘চাঁদ’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- চন্দ্র, শশী, শশাঙ্ক, বিধু, সোম, নিশাকর, সুধাংশু, সুধাকর, ইন্দু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক, শশী।

‘সবিতা’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সূর্য, রবি, দিবাকর, দিনমণি, বিভাবসু, ভানু, তপন, আদিত্য, ভাস্কর, মার্তণ্ড, প্রভাকর, অরুণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৪৯০.
'ঝুনা' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. অঝুনা
  2. কাঁচা
  3. মিটমিটে
  4. ফ্যাকাশে
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কাঁচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁচা
ব্যাখ্যা

•'ঝুনা' এর বিপরীত শব্দ - কাঁচা/কচি।

কিছু গুরুত্বপুর্ণ বিপরীত শব্দ:
- জ্বলন্ত - নিভন্ত।
- ঝগড়া- ভাব।
- ঝুনা - কাঁচা/কচি।
- ঝটিতি - বিলম্ব।
- ঝলমলে - মিটমিটে/ম্যাড়ে।
- ঝাপসা - পরিষ্কার।
- ঝঞ্ঝাট - নির্ঝঞ্ঝাট।
- ঝাল - মিষ্টি।
- ঝানু - আনাড়ি।
- ঝি - বেটা, চাকর।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৪,৪৯১.
‘লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য: 
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন :
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:

- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
• সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
• যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

• সরল বাক্য: এখন পরবালের কর্ম না করিলে কবে করিব?
• যৌগিক বাক্য: এখন পরকালের কর্ম করিব, নাতো কবে করিব?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৯২.
‘ডিকশনারি’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ইতালিয়ান
  2. ইংরেজি
  3. ফরাসি
  4. লাতিন
সঠিক উত্তর:
লাতিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাতিন
ব্যাখ্যা
• ‘ডিকশনারি’ শব্দটি লাতিন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।

কিছু লাতিন শব্দ:
- ইউনিয়ন,
- ইউনিফর্ম,
- ইউনিভার্সিটি,
- ইলেকট্রন,
- ডিকটেশন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ইংরেজি শব্দ: ইউরো, কেটলি, সিল্ক, সিম ইত্যাদি।
• ফরাসি শব্দ: কার্নিশ, টারবাইন, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।
• ইতালিয়ান শব্দ: ওলকপি, ডিসকাউন্ট, ম্যাজেন্টা, সনেট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪৯৩.
'শহিদ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) উর্দু
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি
ব্যাখ্যা
শহিদ (বিশেষ্য) 
- আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ: 
- ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গকারী ব্যক্তি। 
- দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী যোদ্ধা। 
- সত্য প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে নিহত। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৪৯৪.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. পাখি
  2. দেশি
  3. মাটির
  4. বউটি
সঠিক উত্তর:
পাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখি
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি ।

অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,৪৯৫.
'আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।' - কোন ধরনের বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন -
• ঝরনা ছবি আঁকে।
আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব
- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন -
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
• শরতে শিউলি ফোটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৪৯৬.
কোনটি ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ?
  1. সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
  2. শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
  3. কাজটি কি তুমি করেছিলে?
  4. কাল সন্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
সঠিক উত্তর:
কাল সন্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাল সন্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
ব্যাখ্যা
• ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

অন্যদিকে, 
• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

• সাধারণ অতীত কাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৪৯৭.
কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ নয়?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যােগ্যতা
  4. আখাঙ্খা 
সঠিক উত্তর:
আখাঙ্খা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখাঙ্খা 
ব্যাখ্যা

সার্থক বাক্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য:
একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।
এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা;
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা।

আকাক্ষা: ‘আকাক্ষা' শব্দের আভিধানিক অর্থ- ইচ্ছা, বাসনা। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা। 

আসত্তি : আসত্তি শব্দের অর্থ নৈকট্য। মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।

যােগ্যতা : বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
-----------
আখাঙ্খা - বাংলা একাডেমির বানান অভিধান অনুসারে ভুল। তাই এটিই সঠিক উত্তর।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৯৮.
কোনটি শুদ্ধ যুক্তবর্ণ?
  1. হ্ + ণ = হৃ
  2. হ্ + ঊ = হু
  3. ণ্ + ড = ণ্ড
  4. ন্ + দ = ন্ধ
সঠিক উত্তর:
ণ্ + ড = ণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণ্ + ড = ণ্ড
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ - ণ্ + ড = ণ্ড

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,৪৯৯.
'ক্ষুৎপিপাসা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ 
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বন্দ্ব 
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব 
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।

যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি; 
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা;
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে;
- ধীরে ও সুত্থে = ধীরেসুতে;
- জলে ও সলে = জলেইলে;
- হাতে ও কলমে = হাতেকলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৫০০.
কোন প্রকৃতি-প্রত্যয়টি সঠিক?
  1. √গৈ + ণক = গায়ক
  2. √গী + ণক = গায়ক
  3. √গান + ণক = গায়ক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
√গৈ + ণক = গায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√গৈ + ণক = গায়ক
ব্যাখ্যা
• 'গায়ক' এর সঠিক প্রকৃতি -প্রত্যয়-  √গৈ + ণক ।

সূত্র: 
• 'ণক'-প্রত্যয় ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে) :
- পঠ্‌ + ণক=√পঠ + অক = পাঠক। মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়েছে।
যেমন-
- √গৈ +ণক = গায়ক,
- √লিখ্ + ণক= লেখক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।