উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
- 'নির্মল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মলিন।
- 'পণ্ডিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মূর্খ।
- 'ভণ্ড' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সাধু।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৩৪ / ৩৫৪ · ৩,৩০১–৩,৪০০ / ৩৫,৭১৩
পদ্ম - অরবিন্দ, কমল, পঙ্কজ, উৎপল, শতদল, রাজীব, পুণ্ডরীক।
মেঘ - জলদ, জলধর, বারিদ, অভ্র, নীরদ, পয়োদ, পয়োধর, কাদম্বিনী, নীরধর৷
চাঁদ - চন্দ্র, সুধাকর, সোম, বিধু, শশধর, শশী।
সাগর - জলধি, বরুণ, পাথার, অর্ণব, সমুদ্র, দরিয়া, পারাবার, পয়োধি, সিন্ধু।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
• কমা ( , ):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- "কমা" চিহ্নের বিরতিকাল ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- কমা- এর অপর নাম হচ্ছে পাদচ্ছেদ।
কমা (,) এর ব্যবহার:
১) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
২) পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
৩) সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
৪) জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
৫) কোনো বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ তুমি বললে, ‘আমি কালকে আবার আসবো।’
৬) মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
৭) ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা- ১০০০।
৮) ডিগ্রি পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম,এ, পি-এইচ,ডি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• সূচী বানান ভুল।
• সঠিক বানান - সূচি।
• শূচি বানান ভুল।
• সঠিক বানান - শুচি।
অন্যদিকে,
- বানি - অলংকারাদি তৈরির পারিশ্রমিক বা মজুরি।
- বাণী - ১. শব্দ; ভাষা; উক্তি; ভাষণ। ২. সরস্বতীদেবী (বাণীবন্দনা)। ৩. উপদেশমূলক উক্তি।
- শপ্ত - অভিশাপ দেওয়া হয়েছে এমন, শাপগ্রস্ত।
- সপ্ত - ৭,সংখ্যা। বিণ, ৭সংখ্যক (সপ্তর্ষি)।
- শূর - বীর, শৌর্যবান; সাহসী।
- সূর- ১. সূর্য। ২. যোদ্ধা।
- শুচি - ১.পবিত্র; নির্মল, শুদ্ধ, পরিচ্ছন্ন। ২. নির্দোষ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: ভিক্ষুককে দান কর।
জটিল বাক্য: যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা:
- চিকচিক, পেট, ডাব, টোপর, ঠেক, ডিঙা, ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য ,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
• বিশেষ্য পদ - লাজ।
শব্দের অর্থ:
- লজ্জা সরম।
অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ - অজ্ঞাত, জীবন্ত, অবজ্ঞেয়।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• তাম্বূলিক’ শব্দের সমার্থক নয় –‘তামসিক’;
• কারণ ‘তামসিক’ অর্থ : ঘন অন্ধকারপূর্ণ বা অন্ধকারাচ্ছন্ন।
অন্যদিকে,
• তাম্বূলিক’ বলতে বোঝায় পান-ব্যবসায়ী।
• ‘বারুই’ হলো সেই সমস্ত লোক, যারা পান চাষ ও বিক্রি উভয় কাজই করে।
• ‘পর্ণকার’ শব্দও পান বিক্রেতা বা পান ব্যবসায়ী অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• অতএব, ‘তাম্বূলিক’ শব্দের সমার্থক →পান ব্যবসায়ী, বারুই ও পর্ণকার।
উৎস:
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
সন্ধির নিয়ম:
- আগে ৎ বা দ্ এবং ন্ / ম্ থাকলে ৎ বা দ্ স্থানে 'ন্' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।
যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ্ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র,
- উৎ + লাস = উল্লাস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'হাড়হদ্দ' বাগ্ধারাটির অর্থ- সবকিছু।
অন্যদিকে,
• গুড়ে বালি - আশায় নৈরাশ্য।
• সপ্তকান্ড রামায়ণ - বৃহৎ বিষয়।
• ঢাকঢাক গুড় গুড় - লুকোচুরি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে - হ্ + ঋ = হৃ।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ঞ্চ = ঞ্ + চ,
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ন = হ্ন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
• দ্বিগু সমাস:
যে-সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বােঝায় তাকে ‘দ্বিগু সমাস' বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য হয়।
যেমন :
সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ, নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• কর্মধারয় সমাস:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ, যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
'অনা' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ:
'অভাব' অর্থে - অনাবৃষ্টি, অনাদর।
'ছাড়া' অর্থে - অনাছিষ্টি, অনাচার।
'অশুভ' অর্থে - অনামুখো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়:
- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য
• সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন:
- আমার মা চাকরি করেন।
• অক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদশের নাগরিক।
• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন:
- ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
কোন নিয়মে ব্যাখ্যা করা যায় না, অথচ বহুব্রীহি সমাস বলে গণ্য।
যেমনঃ বাহায়া = হায়া নাই যার।
বেকার = বে কার যার।
বেপোরোয়া = নাই পরোয়া যার।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• 'বিপরীত শব্দ' ব্যাকরণের অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয়।
• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়:
- ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে অন্তত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১। ধ্বনিতত্ত্ব।
২। রূপতত্ত্ব।
৩। বাক্যতত্ত্ব ও
৪। অর্থতত্ত্ব।
• অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
• 'ধৃষ্ট' - এর বিপরীতার্থক শব্দ - নম্র / বিনয়ী।
অন্য অপশনের বিপরীতার্থক শব্দ:
• 'সফল' - পণ্ড।
• ‘শ্লথ’ - ত্বরিত।
• ‘আশু’ - বিলম্ব।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'ছুঁচোর কেত্তন' বাগ্ধারার অর্থ - অবিরাম কলহ।
অন্যদিকে,
ছাগল টাঙানো - লম্বা জায়গা নেওয়া।
জবরজং - এলোমেলো।
ছিনিমিনি খেলা - নষ্ট করা।
উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
কানাকড়ি = কানা যে কড়ি । এটি একটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মধারয় সমাসঃ
নবান্ন = নব যে অন্ন।
আগ্নেয়গিরি = আগ্নেয় যে গিরি।
ক্রীতদাস = ক্রীত যে দাস।
প্রাণচঞ্চল = চঞ্চল যে প্রাণ।
হেডমাস্টার = হেড যে মাস্টার।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উষ্ম ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) - এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
• 'অগ্র-পশ্চাৎ ক্রম অনুযায়ী' এক কথায় বলে - আনুপূর্বিক।
অন্যদিকে,
• অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে কাজ করে যে - অবিবেচক।
• অনুসরণ করে যে - অনুসারী।
• অনুপাত অনুসারে বিচারিত - আনুপাতিক।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'লাফ প্রদান করিল' এটি গুরুচণ্ডালী দোষে অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ রূপ - লম্ফ প্রদান করিল / লাফ দিল।
গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
যেমন:
- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোড়া প্রভৃতি হলো তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা ও শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কলাপী , কেকী , শিখী , শিখণ্ডী , বর্হী , বর্হিণ।
অন্যদিকে,
'সিংহ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কেশরী, পশুরাজ, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ।
'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা বানানে ঙ/ং এর ব্যবহার:
- সন্ধিতে ( তৎসম শব্দে) প্রথম শব্দের শেষে ম্ থাকলে ক-বর্গের পূর্বে ম স্থানে ং (অনুস্বার) হবে। যেমন: অহংকার (অহম্+কার), কিংকর, কিংবদন্তি, ঝংকার, ভয়ংকর ইত্যাদি।
- উপর্যুক্ত নিয়মে সন্ধিজাত না হলে ক-বর্গের পূর্বে ম স্থানে ঙ (উয়ো) হবে। যেমন: আকাঙ্খা, অঙ্কুর, অঙ্গ, ইঙ্গিত, কঙ্কাল, পঙ্কজ ইত্যাদি।
- প্রত্যয় ও বিভক্তিহীন শব্দের শেষে ং (অনুস্বার) হয়। যেমন: আড়ং, ইদানীং, এবং, ঠ্যাং, পালং ইত্যাদি।
- অনুস্বারযুক্ত শব্দে বিভক্তি বা প্রত্যয় বা স্বরবর্ণ যুক্ত হলে ং এর স্থলে ঙ হয়। যেমন: আড়ঙে, টঙে, ঢঙে, ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত অষ্টম শ্রেণি।
• ধ্বন্যাত্মক শব্দের দ্বিত্ব:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ ধরনের দ্বিত্বে ধ্বনিটির পুনরাবৃত্তি বা প্রলম্বন ঘটে। কখনো-বা বহুত্বের অর্থ যোগ করে। বক্তার প্রকাশ-প্রবণতা অনুসারে এক বা বহুবার পুনরাবৃত্ত হতে পারে।
যেমন-
- সাঁ করে তিরটা ছুটে গেল। সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে গেল। সাঁ সাঁ সাঁ সাঁ করে তির ছুটে যাচ্ছে।
ধ্বন্যাত্মক একক শব্দের দ্বিত্বের উদাহরণ:
ইস্-ইস্, উহ্-উহ্, কুট কুট, কোঁৎ কোঁৎ, কুটুস-কুটুস, খুটখুট, খুটুর খুটুর, ঘেউ ঘেউ, ছি-ছি, ছ্যা-ছ্যা, ছ্যাঁক-ছ্যাঁক, ঠুকঠুক, ঠকর ঠকর, ডুগডুগ, দুমদুম, দুপদুপ, ধূপধুপ, ধুপুর-ধুপুর, ফোঁস্-ফোঁস্, ভোঁস্-ভোঁস্, শোঁ-শোঁ, শাঁ-শাঁ, সাঁই-সাঁই, হুশ-হুশ, হুম্-হুম্, হিস্-হিস্।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে 'নির্দোষী' শব্দে।
শুদ্ধ প্রয়োগ: নির্দোষ।
কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।
কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ = শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
'ঞ্চ' যুক্তাক্ষরে ২টি বর্ণ রয়েছে।
যথা:
- ঞ্চ = ঞ্ + চ'।
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ = দ্ + ধ',
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- ষ্ণ = ষ + ণ,
- ঞ্চ = ঞ্ + চ,
- ঞ্জ = ঞ্ + জ,
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
• স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে।
• বাংলায় কার বর্ণের সংখ্যা- ১০টি।
যেমন: আ - কার, ই - কার, ঈ - কার, উ - কার, ঊ - কার, ঋ - কার, এ - কার, ঐ - কার, ও - কার, ঔ - কার।
- এরমধ্যে 'অ' স্বরবর্ণের কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ নেই । তাই 'অ' একটি নিলীন বর্ণ।
উল্লেখ্য,
- ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলে।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মোট ফলা আছে মোট ৬টি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।
এরূপ-
- আজকে নগদ কালকে ধার।
[বাক্যকে কখন দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আজকে'। বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে এবং এতে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। সুতরাং 'আজকে' অধিকরণ কারকে ২য়া বিভক্তি।]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।