বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৩৩ / ৩৫৪ · ৩,২০১৩,৩০০ / ৩৫,৭১৩

৩,২০১.
বীণার ধ্বনি কি?
  1. ক) কূজন
  2. খ) নাদ
  3. গ) নিক্বণ
  4. ঘ) রিমঝিম
সঠিক উত্তর:
গ) নিক্বণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিক্বণ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
নিক্বণ (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: 
- নূপুর বীণা প্রভৃতির ঝংকার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২০২.
'পুনরপি' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুন + অপি
  2. পুনঃ + অপি
  3. পুনর + অপি
  4. পু + নরপি
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + অপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + অপি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কারের পরস্থিত র্-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্যধ্বনি কিংবা অন্তস্থ য, অন্তস্থ ব, র, ল, হ থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।

যেমন:
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
- পুনঃ + আয় = পুনরায়,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
- পুনঃ + অপি = পুনরপি,
- অহঃ + অহ = অহরহ।
এরূপ - পুনর্জন্ম, পুনর্বার, প্রাতরুত্থান, অন্তর্ভুক্ত, পুনরপি, অন্তবর্তী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,২০৩.
‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।’- বাক্যে ‘গাছে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

• বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
-  আধার (স্থান: আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ-
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

• ‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।’- বাক্যকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় ‘গাছে’। সুতরাং গাছে অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২০৪.
নীচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) সন্ধির মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়
  2. খ) সন্ধি শব্দের অর্থ মিলন
  3. গ) বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি হয়
  4. ঘ) বিসর্গ সন্ধি খাঁটি বাংলায় হয় না
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি হয়
ব্যাখ্যা

'সন্ধি' শব্দের অর্থ মিলন।

• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।

• সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয়:
- বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না।
- খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ।

৩,২০৫.
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।- এ বাক্যে ‘ভালোভাবে’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরণবাচক
  2. খ) কালবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) নেতিবাচক
সঠিক উত্তর:
ক) ধরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধরণবাচক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

অন্যদিকে,
কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,২০৬.
‘নয়নকমল’-এর যথার্থ ব্যাসবাক্য হলো-
  1. ক) নয়নের ন্যায় কমল
  2. খ) নয়ন কমলের ন্যায়
  3. গ) নয়নে কমল
  4. ঘ) নয়ন ও কমল
সঠিক উত্তর:
খ) নয়ন কমলের ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নয়ন কমলের ন্যায়
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাসে প্রত্যক্ষ বা উপমেয়ের সাথে পরোক্ষ বা উপমানের তুলনা হয়।
উপমিত সমাসে সাধারণ ধর্ম বা গুণের উল্লেখ থাকে না, সাধারণ ধর্ম বা গুণ উহ্য থাকে।
যেমন : ‘পুরুষসিংহ’ সমস্তপদের পূর্বপদ পুরুষ ও পরপদ সিংহের তুলনা করা হলেও পুরুষ ও সিংহের সাধারণ ধর্ম বা গুণের উল্লেখ নেই, এখানে সাধারণ ধর্ম ‘শক্তিশালী’ বা ‘বলশালী’ যা-ই হোক না কেন তা উহ্য আছে।
সুতরাং বলা যায় যে, সাধারণ গুণের উল্লেখ না থেকে উপমেয়ের সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
৩,২০৭.
ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. গুল্ম
  2. জন্ম
  3. যুগ্ম
  4. স্মরণ
সঠিক উত্তর:
স্মরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মরণ
ব্যাখ্যা
• ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন: শ্মশান [শঁশান্], স্মরণ [শঁরোন্]।

• শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন: আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

• কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন: যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩,২০৮.
‘Hand-book’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. জ্ঞাপন-পত্র
  2. তথ্যপুস্তিকা
  3. প্রচারপত্র
  4. সূচিপত্র
সঠিক উত্তর:
তথ্যপুস্তিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তথ্যপুস্তিকা
ব্যাখ্যা
• ‘Hand-book’ শব্দের অর্থ - তথ্যপুস্তিকা।

অন্যদিকে,
• ‘Hand-out’ শব্দের অর্থ - জ্ঞাপন-পত্র।
• ‘Hand-bill’ শব্দের অর্থ - প্রচারপত্র।
• ‘Index’ শব্দের অর্থ - নির্ঘণ্ট, সূচিপত্র।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২০৯.
বর্গের কোন বর্ণসমূহের ধ্বনি অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ১ম ও ২য় বর্ণ
  2. ১ম ও ৩য় বর্ণ
  3. ২য় ও ৩য় বর্ণ
  4. ২য় ও ৪র্থ বর্ণ
সঠিক উত্তর:
১ম ও ৩য় বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ম ও ৩য় বর্ণ
ব্যাখ্যা
• বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
• দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণ ধ্বনি।
• পঞ্চম বর্ণ নাসিক্য ধ্বনি।

এছাড়া,
• প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘােষ ধ্বনি।
• তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ ঘােষ ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২১০.
'অ' উচ্চারণের সময়ে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন হয়?
  1. অর্ধ-সংবৃত
  2. সংবৃত 
  3. অর্ধ-বিবৃত
  4. বিবৃত
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-বিবৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-বিবৃত
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই), [উ);
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ ]।

উল্লেখ্য,
• সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৩,২১১.
'পুত্র' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. দুলাল
  2. শশাঙ্ক
  3. অর্ণব
  4. বর্হী
সঠিক উত্তর:
দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুলাল
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'পুত্র' শব্দের সমার্থক শব্দ- দুলাল।

অন্যদিকে,
- শশাঙ্ক অর্থ: চাঁদ
- অর্ণব অর্থ: সমুদ্র।
- বর্হী অর্থ: ময়ূর।

• পুত্র শব্দের সমার্থক শব্দ:
- ছেলে, আত্মজ, নন্দন, দুলাল, খোকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২১২.
'A Grammar of the Bengal Language' গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৭৭৭
  2. খ) ১৭৭৮
  3. গ) ১৮৭৮
  4. ঘ) ১৭৮০
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭৭৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭৭৮
ব্যাখ্যা
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড কর্তৃক 'A Grammar of the Bengal Language' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়।

•ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
- হ্যালহেডের জন্ম ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে । 
- বাংলা ভাষার প্রথম মুদ্রিত ব্যাকরণ  ভোকাবুলারিও পর্তুগিজ ভাষায় রচিত (লিসবন, ১৭৪৩),
- কিন্তু হ্যালহেডের ব্যাকরণ ইংরেজিতে রচিত এবং এতে বাংলায় প্রচুর উদাহরণ, উদ্ধৃতি ইত্যাদি দেওয়া হয়েছে।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা  ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও  বাংলা লিপি ব্যবহার করেন। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া 
৩,২১৩.
কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. চিকচিক
  2. ঘ্যানঘ্যান
  3. আগড়ম-বাগড়ম
  4. সুরে সুরে
সঠিক উত্তর:
আগড়ম-বাগড়ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগড়ম-বাগড়ম
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।

যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন-
আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

অন্যদিকে, 
• চিকচিক, ঘ্যানঘ্যান ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।
• 'সুরে সুরে' পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,২১৪.
নিচের কোনটি ণ-ত্ব বিধান অনুসারে গঠিত শুদ্ধ শব্দ?
  1. ভ্রমণ
  2. বেণু
  3. নির্গমণ
  4. শ্রীমাণ
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণ
ব্যাখ্যা
• 'ভ্রমণ' ণ-ত্ব বিধান অনুসারে গঠিত শুদ্ধ শব্দ।

• সূত্র:

- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় ব,হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

অন্যদিকে,
- 'নির্গমণ' ও 'শ্রীমাণ'  এর সঠিক বানান হবে 'নির্গমন' ও 'শ্রীমান' কারন সমাসবদ্ধ শব্দে ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
- 'বেণু' তে স্বভাবতই 'ণ' বসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,২১৫.
ব্যাঞ্জনবর্ণকে কয়টি বর্গে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ৬টি
  2. ৫টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ২৯টি ব্যাঞ্জনবর্ণকে পাঁচটি বর্গের মাঝে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলো হলো, ক- বর্গ, চ-বর্গ, ট-বর্গ, ত-বর্গ, প-বর্গ।
আর প্রতিটি বর্গের মাঝে ৫ টি করে বর্ণ রয়েছে।

যেমন:
• ক-বর্গ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ। 
• চ-বর্গ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ। 
• ট-বর্গ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ। 
• ত-বর্গ: ত, থ, দ, ধ, ন। 
• প-বর্গ: প, ফ, ব, ভ, ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩,২১৬.
বিভক্তি কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।

বিভক্তি দুই প্রকার:
১. ক্রিয়া-বিভক্তি ও
২. কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,২১৭.
'পুনরুক্ত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুন + রুক্ত
  2. পুন + উক্ত
  3. পুনঃ + উক্ত
  4. পুনর্ + উক্ত
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উক্ত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে অ, আ, উ-ধ্বনি থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি মিলে র হয়।
যেমন:
→ পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার, 
→ প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ, 
→ পুনঃ + আবৃত্তি = পুনরাবৃত্তি, 
পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,২১৮.
"দাখিলা" শব্দটি দিয়ে কী বোঝায়?
  1. যে অন্যের জমি দখল
  2. উপস্থাপিত
  3. খাজনা প্রাপ্তির রশিদ
  4. দখলদার বাহিনী
সঠিক উত্তর:
খাজনা প্রাপ্তির রশিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাজনা প্রাপ্তির রশিদ
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'দাখিলা' শব্দের অর্থ - খাজনা প্রাপ্তির রশিদ।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ:
অকিঞ্চন- নিঃস,
অনিল- বাতাস,
অনূক- মূত্রস্থলী,
অনূপ- জলাশয়,
অনর্ঘ- অতি দামি,
'কটি' - কোমর।
'করী' - হাতি।
ইনাম- পুরস্কার। 

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিগম্য অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২১৯.
এক বা একাধিক খণ্ড বাক্যের দেখা পাওয়া যায় কোথায়?
  1. ক) সরল বাক্যে
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) মিশ্র বা জটিল বাক্য
  4. ঘ) সবগুলোতে
সঠিক উত্তর:
গ) মিশ্র বা জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিশ্র বা জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে বিচার করলে বাক্য তিন প্রকার। যথা: 
- সরল বাক্য
- মিশ্র বা জটিল বাক্য
- যৌগিক বাক্য।

মিশ্র বা জটিল বাক্য: কোন কোন বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ড বাক্য থাকতে পারে।
- এ অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ।
- এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন- যে সত্যবাদি, তাকে সবাই ভালােবাসে। বাক্যটিতে যে 'সত্যবাদি’ অপ্রধান খণ্ডবাক্য আর তাকে সবাই ভালােবাসে অংশটি প্রধান খণ্ড বাক্য।

খণ্ডবাক্য: একাধিক বাক্য মিলে একটি জটিল বাক্য তৈরি হলে বাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি বাক্য যদি স্বাধীন বাক্য না হয়ে অন্য কোনাে বাক্যের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তাকে খণ্ড বাক্য বলে।
যেমন- যদি তুমি আস তাহলে আমি যাব। এখানে 'তুমি আস' এবং 'আমি যাব’ বাক্যাংশ দুটি খণ্ড বাক্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২২০.
'আ' উচ্চারণের সময়ে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন?
  1. অর্ধ-সংবৃত
  2. বিবৃত
  3. অর্ধ-বিবৃত
  4. সংবৃত
সঠিক উত্তর:
বিবৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবৃত
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

উল্লেখ্য,
সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩,২২১.
‘মুখ রাখা’ বাক্যাংশের অর্থ কী?
  1. ক) অনুগ্রহ লাভ করা
  2. খ) নিজের মুখ উপরে তোলা
  3. গ) মুখের স্বাদ নষ্ট হওয়া
  4. ঘ) সম্মান রক্ষা করা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্মান রক্ষা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্মান রক্ষা করা
ব্যাখ্যা

‘মুখ তোলা’ অর্থ অনুগ্রহ লাভ করা, প্রসন্ন হওয়া।
উদাহরণ - খোদা মুখ তুলে চাইলে অবশ্যই ব্যবসায় লাভ হবে।
মুখ রাখা - সম্মান রক্ষা করা
মুখ ধরা - মুখের স্বাদ নষ্ট হওয়া 
মুখ বদলানো - স্বাদ বদলানো
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি

৩,২২২.
একই শব্দের ঈষৎ পরিবর্তন করে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের রীতিকে কী বলে?
  1. ক) পদাত্মক রীতি
  2. খ) যুগ্মরীতি
  3. গ) ধ্বন্যাত্মক রীতি
  4. ঘ) শব্দাত্মক দ্বিরুক্তি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) যুগ্মরীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যুগ্মরীতি
ব্যাখ্যা
উদাহরণঃ- চুপচাপ, মিটমাট, মারামারি, রীতিনীতি।
৩,২২৩.
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে _____তৈরী হয়।
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সহজ বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন-
রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২২৪.
‘Letter of credit’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. দায়বন্ধনপত্র
  2. ঋণপত্র
  3. অনুজ্ঞাপত্র
  4. স্বত্বত্যাগপত্র
সঠিক উত্তর:
ঋণপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণপত্র
ব্যাখ্যা
• ‘Letter of credit’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - আকলপত্র, বরাতী চিঠি, ঋণপত্র।

অন্যদিকে,
• ‘Letter of license’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - অনুজ্ঞাপত্র।
• ‘Letter of renunciation’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - স্বত্বত্যাগপত্র।
• ‘Letter of hypothecation’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - দায়বন্ধনপত্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।
৩,২২৫.
'এ পথে চলা যায় না' কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ট্য:
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না। 
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

তেমনিভাবে,
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয় গঠিত হয়।
যেমন-
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২২৬.
‘উৎপাদন’ শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ক) খাঁটি বাংলা
  2. খ) আরবি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত উপসর্গ ‘উৎ’ যোগে গঠিত শব্দ - উৎপাদন।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [উৎ+√পাদি+অন]
অর্থ: নির্মাণ, সৃষ্টি, জনন, জন্মদান, নির্মিত বস্তু।

===========

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ।
৩,২২৭.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) পদ্ম
  2. খ) বাক্য
  3. গ) কলম
  4. ঘ) সবকটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত:
ক. মৌলিক শব্দ ও
খ. সাধিত শব্দ।
ক. মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: আম, বই, কলম, বাক্য, পদ্ম, ব্রাহ্মণ, নিঃস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷
৩,২২৮.
শুধু অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ নয় কোনটি?
  1. দাম
  2. কুল
  3. মালা
  4. আবলি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুল
ব্যাখ্যা
• শুধু অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ নয়- কুল। 

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:

আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি। যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ- 
• কুল: কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
• সকল: পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
• সব: ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
• সমূহ: বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২২৯.
সমঅর্থবহ শব্দগুচ্ছ কোনটি?
  1. ক) বিভাবরী, রজনী
  2. খ) যামিনী, দ্বিজ
  3. গ) তনু, নিশা
  4. ঘ) কলেবর, পক্ষধর
সঠিক উত্তর:
ক) বিভাবরী, রজনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিভাবরী, রজনী
ব্যাখ্যা

রাত্রি - নিশা, রজনী, যামিনী, নিশীথিনী, শর্বরী, বিভাবরী, ক্ষণদা।
পাখি - পক্ষী, বিহগ, পতগ, বিহঙ্গ, খগ, দ্বিজ, খেচর, পক্ষধর, চিড়িয়া, পাখপাখালি।
শরীর - দেহ, কায়া, কলেবর, তনু, বপু৷

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৩,২৩০.
"হাচ্ছানি" শব্দর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. হা + ছানি
  2. হাতঃ + ছানি
  3. হাত + ছানি
  4. হাঃ + ছানি
সঠিক উত্তর:
হাত + ছানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাত + ছানি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- চ-বর্গীয় ধ্বনির আগে যদি ত-বর্গীয় ধ্বনি আসে তাহলে, ত-বর্গীয় ধ্বনি লোপ হয় এবং চ-বর্গীয় ধ্বনির দ্বিত্ব হয়। অর্থাৎ ত-বর্গীয় ধ্বনি ও চ-বর্গীয় ধ্বনি পাশাপাশি এলে প্রথমটি লুপ্ত হয়ে পরবর্তী ধ্বনিটি দ্বিত্ব হয়।

যেমন:
- নাত + জামাই = নাজ্জামাই,
- বদ্ + জাত = বজ্জাত,
- হাত + ছানি = হাচ্ছানি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,২৩১.
উৎ + শ্বাস- এটি কোন সন্ধি?
  1. ক) নিপাতনে সিদ্ধ
  2. খ) স্বরসন্ধি
  3. গ) ব্যঞ্জন সন্ধি
  4. ঘ) জটিল সন্ধি
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যঞ্জন সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যঞ্জন সন্ধি
ব্যাখ্যা
• উচ্ছ্বাস = উৎ + শ্বাস 
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
- ত্ (ৎ) ও দ্‌ এর পর শ্‌ থাকলে ত্‌ ও দ্‌ এর স্থানে চ্‌ এবং শ্‌ এর স্থানে ছ উচ্চারিত হয়। 
- ত্‌ + শ = চ্‌ + ছ = চ্ছ [ উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস ]

অনুরূপভাবে,  উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৩২.
'আসমুদ্র' শব্দের শুদ্ধ ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. সমুদ্রের সমীপে
  2. সমুদ্র পর্যন্ত
  3. সমুদ্রের সদৃশ
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
• সমুদ্র পর্যন্ত = আসমুদ্র। 

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিস্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন:
- তাপের অনুরূপ = অনুতাপ;
- মাত্রাকে অতিক্রান্ত = অতিমাত্র;
- ক্ষণে ক্ষণে = অনুক্ষণ;
- মূল পর্যন্ত = আমূল;
- ঈষৎ রক্ত = আরক্ত;
- ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২৩৩.
বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন যতিচিহ্ন বসাতে হয়?
  1. ড্যাস
  2. কমা
  3. কোলন
  4. বিন্দু
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• ‘কমা’ যতিচিহ্ন:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।

• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে।
যেমন:
- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?
- রব, এদিকে এসো।

• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী।
- মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।

• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে ‘কমা’ বসে।
যেমন:
- ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।

• নামের শেষে ডিগ্রি থাকলে কমা বসে।
যেমন:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, এমএ. পিএইচডি।

• অন্যথাসূচক শব্দ যদি বাক্যে ব্যবহৃত হয় তাহলে ওই শব্দের পূর্ববর্তী শব্দের শেষে কমা বসবে।
যেমন: 
- কাল অফিসে যেও, নইলে তোমার চাকরি থাকবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,২৩৪.
নিচের কোন শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে আগত নয়?
  1. বাবা
  2. বারুদ
  3. বালতি
  4. বাবুর্চি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বালতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালতি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে- বারুদ ফারসি শব্দ।
- তবে, অভিগম্য অভিধান অনুসারে, বারুদ তুর্কি শব্দ।

• তুর্কি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, বিবি।

অন্যদিকে,
• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তোয়ালে।

• সুতরাং, তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ নয় - বালতি।
[অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘গ’ গ্রহণ করা হয়েছে।]

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং অভিগম্য অভিধান।

৩,২৩৫.
“যিনি ন্যায়শাস্ত্র জানেন” এর এককথায় প্রকাশিত রূপ হলাে-
  1. ন্যায়বাগীশ
  2. নৈয়ায়িক
  3. ন্যায়পাল
  4. ন্যায়ঋদ্ধ
সঠিক উত্তর:
নৈয়ায়িক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈয়ায়িক
ব্যাখ্যা
• 'ন্যায় শাস্ত্র জানেন যিনি' এর এক কথায় প্রকাশ - নৈয়ায়িক।

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ-
• 'ঋতুতে ঋতুতে যজ্ঞ করেন যিনি' - ঋত্বিক।
• 'যুদ্ধে স্থির থাকেন যিনি' - যুধিষ্ঠির।
• 'মায়া জানে না যে' - অমায়িক।
• বিবাদ করে যে - বিবাদমান।
• বচনে কুশল - বাগ্মী।
• বিদ্যা আছে যার - বিদ্বান।
• বেদ সম্বন্ধীয় - বৈদিক।
• বেশি কথা বলে যে - বাচাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩,২৩৬.
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি? 
  1. গায়েপড়া
  2. হাতেখড়ি
  3. গোঁফখেজুরে
  4. কানাকানি
সঠিক উত্তর:
কানাকানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাকানি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস: 
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। 
যেমন- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি। 

ক. পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে। 
যেমন– এক গোঁ যার = - একগুঁয়ে, লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে ইত্যাদি। 

খ. পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়। 
যেমন– গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে। 

গ. যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে। 
যেমন– চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি, হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি ইত্যাদি। 

ঘ. পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। 
যেমন- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি ইত্যাদি। 

ঙ. যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। 
যেমন- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া, কানে খাটো যে = কানেখাটো ইত্যাদি। 

চ. যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে। 
যেমন- চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ, সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,২৩৭.
‘সরোজ' - শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) নীপ
  2. খ) রাজীব
  3. গ) সিতকর
  4. ঘ) গুবাক
সঠিক উত্তর:
খ) রাজীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজীব
ব্যাখ্যা

সরোজ অর্থ - পঙ্কজ, রাজীব, উৎপল, কমল, কুমুদ, শতদল, অরবিন্দ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, অন্যান্য শব্দগুলোর অর্থ -
নীপ - কদম,
গুবাক - সুপারিগাছ,
সিতকর - সূর্য।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা-হায়াৎ মামুদ।

৩,২৩৮.
‘ইশতেহার’ কোন ভাষা হতে আগত শব্দ?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) উর্দু
সঠিক উত্তর:
গ) আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আরবি
ব্যাখ্যা
বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দঃ আদালত, আলেম, ইশতেহার, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কিচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহাকুমা, মুন্সেফ, মোক্তার, বায়, ইসলাম, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, তওবা, তসবি ইত্যাদি।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই। এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
খেয়াল করে দেখুনঃ
কানুন আরবি শব্দ।
তবে, কানুনগো (জমি জরিপকারী বা জমির হিসাবরক্ষক সরকারি কর্মচারী।) শব্দটি {( আরবি) কানূন + (ফারসি) গো} সহযোগে গঠিত
সুত্রঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৩,২৩৯.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ক) হতবম্ভ
  2. খ) ব্যবচ্ছেদ
  3. গ) অশ্বথ্য
  4. ঘ) জীবাশ্ব
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যবচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যবচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি - ব্যবচ্ছেদ
অন্যান্য বানান গুলোর সঠিকরূপ - হতভম্ব ; অশ্বত্থ ; জীবাশ্ম।
সূত্রঃ বাংলা একাডেমি প্রণীত অভিগম্য অভিধান।

৩,২৪০.
কোনটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস নয়?
  1. খেয়াঘাট
  2. খাঁচাছাড়া
  3. চাবাগান
  4. রাজপুত্র
সঠিক উত্তর:
খাঁচাছাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁচাছাড়া
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

অন্যদিকে,
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,২৪১.
’নৈসর্গিক' এর বিপরীত শব্দ কি?
  1. প্রাকৃতিক
  2. কৃত্রিম
  3. রাত্রিকালীন
  4. দিবাকালীন
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম
ব্যাখ্যা
• 'নৈসর্গিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - কৃত্রিম/অনৈসর্গিক।

অন্যদিকে, 
- 'ঐহিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - পারত্রিক।
- 'তামসিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - রাজসিক। 
- ‘আকুঞ্চন' শব্দের বিপরীত শব্দ - প্রসারণ।
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত।
- 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৪২.
‘জানুয়ারি’ বানানে হ্রস্ব ই-কার হবার কারণ কোন শব্দের কারণে?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) অতৎসম
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) তদ্ভব
সঠিক উত্তর:
খ) অতৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অতৎসম
ব্যাখ্যা
বিদেশি শব্দে হ্র ই-কার বসবে এবং দেশ, ভাষা ও জাতির নামের ক্ষেত্রেও হ্রষ ই-কার হবে।
যেমন :
বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে : দাবি, দামি, খুশি, বেশি, ফরিয়াদি, আসামি, আমদানি, রপ্তানি, উজির, নাজির, কারিগরি, দরকারি তরকারি, সরকারি, জরুরি, ফাঁসি, নাৎসি, সবজি, বেকারি।
দেশ: আফগানিস্তান, আমেরিকা, ইতালি, গ্রিস, চিন, জার্মানি ইত্যাদি।
ভাষা: আরবি, ইংরেজি, গ্রিক, নেপালি, বর্মি, হিন্দি, হিব্রু, চিনা, স্প্যানিশ ইত্যাদি
জাতি : আফগানি, আর্মেনি, ইরানি, বিহারি, নেপালি, বর্মি, সিদ্ধি ইত্যাদি। 

‘জানুয়ারি’ ল্যাটিন শব্দ 
‘জানুয়ারি’ বানানে হ্রস্ব ই-কার হবে।  

উৎস:  বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ
৩,২৪৩.
'আভাস-আভাষ' শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে? 
  1. ইঙ্গিত-আলাপ
  2. সংকেত-বাসস্থান
  3. ভূমিকা-ইঙ্গিত
  4. পূর্বাভাস-বাসস্থান
সঠিক উত্তর:
ইঙ্গিত-আলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইঙ্গিত-আলাপ
ব্যাখ্যা

• 'আবাস' অর্থ - বাসস্থান। 
• 'আভাস' অর্থ - ইঙ্গিত। 
• 'আভাষ' অর্থ - আলাপ, ভূমিকা। 

এরূপ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দজোড় হলো-
আশা - ভরসা। 
আসা - আগমন। 

আপন - নিজ। 
আপণ - দোকান। 

আহুতি - হোম। 
আহূতি - আহ্বান। 

আষাঢ় - মাসের নাম। 
আসার - বর্ষণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।  

৩,২৪৪.
'জানুয়ারি' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে:
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,২৪৫.
নিচের কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ?
  1. নরপশু
  2. প্রাণবধ
  3. প্রভাত
  4. দ্বীপ
সঠিক উত্তর:
প্রভাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভাত
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি'
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত

অন্যদিকে,
- প্রাণের বধ = প্রাণবধ, ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
- 'নরপশু' এবং 'দ্বীপ' নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৪৬.
"বেশ, তাই হবে।" দাগাঙ্কিত অংশটি কোন পদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) আবেগ
  2. খ) যোজক
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবেগ
ব্যাখ্যা
আবেগ:
মনের নানা ভাব বা আবেগকে প্রকাশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলােকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলাের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

"বেশ, তাই হবে।" - এটি সিদ্ধান্তবাচক আবেগ-শব্দ। 

সিদ্ধান্তবাচক আবেগ-শব্দ:
এই জাতীয় আবেগ শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয়। 
যেমন:
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ হচ্ছে না। 
- না, আমি তোমার কোনো কথাই শুনব না।
- উঁহু, ও কাজ আমাকে দিয়ে হবে না। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি। 

 
৩,২৪৭.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) নবযৌবন
  2. খ) আমরা
  3. গ) প্রিয়ংবদা
  4. ঘ) মেঘলুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ক) নবযৌবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নবযৌবন
ব্যাখ্যা
নবযৌবন কর্মধারয় সমাস, আমরা একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস, প্রিয়ংবদা উপপদ তৎপুরুষ সমাস এবং মেঘলুপ্ত তৎপুরুষ সমাস। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা‌।
৩,২৪৮.
‘ওরে, তুই কোথায় চললি?’- বাক্যে ‘ওরে’ কোন পদ?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ
  2. আবেগ
  3. যোজক
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবেগ
ব্যাখ্যা
• আবেগ-শব্দ: মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,২৪৯.
'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দৃশ্ + আনীয়
  2. √দৃশ্ + নীয়
  3. √দর্শ + নীয়
  4. √দৃশ্ + অনীয়
সঠিক উত্তর:
√দৃশ্ + অনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√দৃশ্ + অনীয়
ব্যাখ্যা

'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্ + অনীয়।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন।
- 'পাকড়াও' শব্দটি সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: '√ পাকড় + আও'।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,২৫০.
কোনটি পরিচ্ছদ?
  1. ক) দুকুল
  2. খ) দু-কূল
  3. গ) পিপুল
  4. ঘ) শিমুল
সঠিক উত্তর:
ক) দুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুকুল
ব্যাখ্যা

পরিচ্ছদ - পোশাক; বসন; জামাকাপড়।
দুকুল - রেশমের তৈরি বস্ত্র; রেশমি কাপড়।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৩,২৫১.
নিচের কোনটি 'অহ' শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. ক) রাজীব
  2. খ) কল্লোল
  3. গ) হরি
  4. ঘ) অহ্ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) অহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অহ্ন
ব্যাখ্যা

দিন - অহ্ন, দিবস, দিবা, অহ, অষ্টপ্রহর, আটপ্রহর।
পদ্ম - অরবিন্দ, কমল, পঙ্কজ, উৎপল, শতদল, রাজীব, পুণ্ডরীক৷
ঢেউ - ঊর্মি, বীচি, তরঙ্গ, কল্লোল, হিল্লোল, মহোর্মি, মহাতরঙ্গ, জোয়ার।
সিংহ - পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ, মৃগপতি, হরি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

৩,২৫২.
'জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।'- এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তাবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের বাক্যটিতে 'জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে' কর্মবাচ্যের উদাহরণ।

• যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৫৩.
মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি নয় কোনটি?
  1. ঝ্
  2. ল্
  3. ঞ্
  4. ড়্
সঠিক উত্তর:
ঞ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্
ব্যাখ্যা
• ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে। এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প্], [ফ্], [ব্], [ভ্], [ত্], [খ্], [দ], [ধ্], [ট্], [ঠ্], [ড্], [ঢ্], [চ্], [ছ্], [জ], [ঝ্], [ক্], [খ্], [গ্], [ঘ], [ম্], [ন্], [ঙ্], [স্], [শ], [হ্], [ল্], [র্], [ড়্ ], [ঢ্‌ ]। 

অন্যদিকে,
প্রমিত বাংলায় ঞ-এর স্বাধীন কোনো উচ্চারণ নেই। তা এখন দন্ত্য-ন এরই একটি বিস্বন বা সহধ্বনি হিসাবে গণ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
৩,২৫৪.
'মনােযােগ দিয়ে লেখাপড়া করবে।' - বাক্যে কোন কালের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) নিত্যবৃত্ত ভবিষ্যত
  2. খ) বর্তমান অনুজ্ঞা
  3. গ) সাধারণ ভবিষ্যত
  4. ঘ) ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
'মনােযােগ দিয়ে লেখাপড়া করবে।' - এই বাক্যটি ভবিষ্যত অনুজ্ঞা কালের উদাহরণ। 

ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা : ভবিষ্যতে কোনাে কাজ করার আদেশ, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা প্রভৃতি বােঝালে ভবিষ্যৎ কালের, ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা বলে।
যেমন:
আদেশ- এই লেখাটি তুমিই লিখবে।
অনুরােধ- আমার জন্য একটি বই আনবেন।
উপদেশ- মনােযােগ দিয়ে লেখাপড়া করবে।
প্রার্থনা- ‘রেখাে মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে।'

ভবিষ্যৎ কাল যে ক্রিয়ার কাজটি এখনাে ঘটেনি অর্থাৎ অনাগতকালে সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।
ভবিষ্যৎ কাল চার প্রকার - 
- সাধারণ ভবিষ্যত
- পুরাঘটিত ভবিষ্যত
- ঘটমান ভবিষ্যত
- ভবিষ্যত অনুজ্ঞা

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৫৫.
'বিবক্ষা' শব্দের অর্থ কী?
  1. ভোজন করার ইচ্ছা
  2. বাস করার ইচ্ছা
  3. বমন করার ইচ্ছা
  4. বলবার ইচ্ছা
সঠিক উত্তর:
বলবার ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলবার ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

• 'বলবার ইচ্ছা' এক কথায় বলে - বিবক্ষা।

অন্যদিকে, 
• ভোজন করার ইচ্ছা- বুভুক্ষা। 
• বমন করার ইচ্ছা- বিবমিষা। 
• বাস করার ইচ্ছা- বিবৎসা। 

এরূপ কিছু বাক্য সংকোচন/এক কথায় প্রকাশ হলো:
• প্রবেশ করার ইচ্ছা-  বিবিক্ষা। 
• পাওয়ার ইচ্ছা - ঈপ্সা। 
• জয় করার ইচ্ছা - জিগীষা। 
• লাভ করার ইচ্ছা - লিপ্সা। 
• দেখবার ইচ্ছা - দিদৃক্ষা। 
• মুক্তি লাভে/পেতে - মুমুক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,২৫৬.
স্বভাবত 'ণ' ব্যবহৃত হয়েছে যে শব্দে -
  1. ক) বিপণি
  2. খ) রুক্মিণী
  3. গ) ব্রাহ্মণী
  4. ঘ) হরিণী
সঠিক উত্তর:
ক) বিপণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিপণি
ব্যাখ্যা

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
যেমন- নিপুণ, মাণিক্য, বাণিজ্য, লবণ, মণ, কল্যাণ, গুণ, বিপণি, পাণি ইত্যাদি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

৩,২৫৭.
'মারহাবা' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. অব্যয় 
  4. ক্রিয়াবিশেষণ 
সঠিক উত্তর:
অব্যয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয় 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মারহাবা' শব্দটি অব্যয় পদ।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,২৫৮.
কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. ঘনশ্যাম
  2. ছাত্রসমাজ
  3. কালচক্র
  4. নীলপদ্ম
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসমাজ
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র, রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
- ঘনের (মেঘের) ন্যায় শ্যাম = ঘনশ্যাম; উপমান কর্মধারয় সমাস। 
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,২৫৯.
'বিরানব্বই' কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

অন্যদিকে:
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩,২৬০.
'রসিদ' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. উর্দু 
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

• রসিদ (বিশেষ্য পদ),
- ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- পণ্য পরিবহনের জন্য ভাড়া আদায়ের দলিল।


• ফারসি ভাষার কিছু শব্দ:
সেতার, গুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ, নামায, রোজা, আইন, সালিশ, নালিশ, বাদশাহ, সুপারিশ, সর্দি, শিরোনাম, হাঙ্গামা, ফরমান, ফরিয়াদ, বান্দা, আমদানি, সবজি, রসিদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,২৬১.
‘চুল’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কেশ
  2. চিকুর
  3. কুন্তল
  4. ললিত
সঠিক উত্তর:
ললিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ললিত
ব্যাখ্যা
⇒ যেসব শব্দের অর্থ অভিন্ন বা প্রায় সমান, সেসব শব্দকে প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ বলে।

 • “চুল” এর সমর্থক শব্দ:
কেশ,
অলক, চিকুর, কুন্তল, কবরী।

অন্যদিকে,
• ‘সুন্দর’ শব্দের সমার্থক শব্দ হলো:
মনোরম, মনোহর, রম্য, কমনয়ি, ললিত, রমণীয়, অপরূপা, কমনীয়, অনুপম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,২৬২.
কোনটি বিপ্রকর্ষনের উদাহরণ?
  1. ক) পেরেক
  2. খ) জানালা
  3. গ) বসতি
  4. ঘ) বিলিতি
সঠিক উত্তর:
ক) পেরেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পেরেক
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, ক্রু » ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক » শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২৬৩.
‘বিত্ত’ শব্দের অর্থ-
  1. উঁচু বংশ
  2. কবিতা পাঠ
  3. ঐশ্বর্য
  4. আংটা
সঠিক উত্তর:
ঐশ্বর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐশ্বর্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘বিত্ত’ শব্দের অর্থ- ঐশ্বর্য।

• ‘বিত্ত’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- ধন, বিভব, অর্থ, সম্পদ, বৈভব, বিভূতি, নিধি, ঐশ্বর্য।

• আরো কিছু শব্দার্থ: 
- ‘অঙ্গনা’ শব্দের অর্থ - অঙ্গসৌষ্ঠববিশিষ্ট নারী, সুন্দর নারী।
- ‘বনিতা’ শব্দের অর্থ - স্ত্রী, পত্নী, নারী, প্রেয়সী।
- ‘ললনা’ শব্দের অর্থ - নারী, কান্তা, পত্নী।
- 'আফতাব' শব্দের অর্থ - সূর্য।
- 'বিবর' শব্দের অর্থ - গহ্বর। 
- চূড়া' শব্দের অর্থ - শীর্ষদেশ, শিখর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৬৪.
"অক্কা পাওয়া" দ্বারা কোন বাগ্‌ধারাটিকে বোঝায়?
  1. ঠোঁট কাটা
  2. গোল্লায় যাওয়া
  3. গায়ে পড়া
  4. পটল তোলা
সঠিক উত্তর:
পটল তোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটল তোলা
ব্যাখ্যা
"অক্কা পাওয়া" দ্বারা পটল তোলা বাগ্‌ধারাটিকে বোঝায়।
- অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া): খারাপ লোকটা আরো আগেই অক্কা পেতে পারত।
- পটল তোলা (মারা যাওয়া): আজ বাদে কাল পটল তুলবে, অথচ তার মিথ্যাচার গেল না।

• অন্যান্য অপশন:
- ঠোঁট কাটা (বেহায়া): আজকাল ঠোঁটকাটা লোকের অভাব নেই।
- গোল্লায় যাওয়া (নষ্ট হওয়া): সৎ সঙ্গে মিশলে গোল্লায় যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
- গায়ে পড়া (অযাচিত): গায়ে পড়ে কোনো কাজ করতে যেও না বাপু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
৩,২৬৫.
'বেতার' শব্দের 'বে' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) আরবী
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) ফার্সি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফার্সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফার্সি
ব্যাখ্যা
'বেতার' শব্দের 'বে' ফার্সি উপসর্গ।
এখানে 'বে' উপসর্গটি না অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

আরও কিছু ফারসি উপসর্গ নিম্নরূপ-
- ফি: প্রত্যেক অর্থে = ফি-বছর, ফি-সপ্তাহ, ফি-রোজ, ফি-সব।
- না: না অর্থে = নারাজ, নাচার।
- ব: সাথে অর্থে = বনাম, বকলম, বমাল। 
- কম: অল্প অর্থে = কমবখ্‌ত, কমআক্কেল, কমজোর।
- বে: না অর্থে = বেকার, বেয়াদব, বেকসুর, বেহায়া।
- বর: মন্দ অর্থে = বরখাস্ত, বরখেলাপ, বরদাস্ত, বরবাদ।
- নিম: অর্ধেক অর্থে = নিমরাজি, নিমমোল্লা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৬৬.
গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. বিন্দু
  2. সেমিকোলন
  3. কোলন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
- বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
- কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭: ২০।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
- গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৬৭.
'তদ্রুপ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) তদ + রূপ
  2. খ) তৎ + রূপ
  3. গ) ত + দ্রুপ
  4. ঘ) তদ + রুপ
সঠিক উত্তর:
খ) তৎ + রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তৎ + রূপ
ব্যাখ্যা
‘তদ্রুপ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - তৎ+রূপ = তদ্রুপ৷
• ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।

এরুপ কিছু সন্ধি বিচ্ছেদ:

- উৎ+ ঘাটন = উদ্‌ঘাটন
- উৎ+ যোগ = উদ্যোগ
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন
- তৎ +মধ্যে = তন্মধ্যে

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
৩,২৬৮.
জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকৃতি কোনটি?
  1. গুনগুন
  2. কুট কুট
  3. গর গর
  4. ঘচঘচ
সঠিক উত্তর:
গর গর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গর গর
ব্যাখ্যা
জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকৃতি:
ঘেউ ঘেউ: কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার করছে।
মিউ মিউ: বিড়ালটি মিউ মিউ করে ডেকে কোলে এসে বসল।
কুহু কুহু: বসন্তে কোকিল ডেকে ওঠে কুহু কুহু রবে।
কা কা: কাকগুলো একসাথে কা কা করে ডেকে উঠল।
গর গর: তখন বাঘটি রাগে গর গর করতে লাগল

অন্যদিকে,
বস্তুর ধ্বনির অনুকৃতি:
ঘচঘচ: কৃষকেরা ঘচঘচ করে ধান কেটে চলেছে।

অনুভূতির কাল্পনিক অনুকৃতি: 
কুট কুট: মশা কুট কুট করে কামড়াচ্ছে।

মানুষের ধ্বনির অনুকৃতি:
গুনগুন: মেয়েটি গুনগুন করে গান গাইছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,২৬৯.
‘ছেলেটি এমন আকায় একেছে’ - বাক্যে যে ধরনের কর্মপদ ব্যবহৃত হয়েছে -
  1. ক) মুখ্যকর্ম
  2. খ) ধাত্বর্থক কর্ম
  3. গ) গৌণ কর্ম
  4. ঘ) প্রযোজক কর্ম
সঠিক উত্তর:
খ) ধাত্বর্থক কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধাত্বর্থক কর্ম
ব্যাখ্যা

বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ/ধাত্বর্থক কর্ম বলে।
যেমন-
আর কত খেলা খেলবে।
বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
আর মায়াকান্না কেঁদো না। ইত্যাদি।
তেমনিভাবে, ছেলেটি এমন আকায় একেছে - সমধাতুজ/ধাত্বর্থককর্ম পদ। 
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণঃ নবম-দশম শ্রেণী।

৩,২৭০.
ভুল বানান কোনটি?
  1. নতিপত্র
  2. মুহূর্ত
  3. সর্বস্বান্ত
  4. ত্রিনয়ন
সঠিক উত্তর:
নতিপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতিপত্র
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ’নতিপত্র’ শব্দটি অশুদ্ধ।
- এটির শুদ্ধ বানান- নথিপত্র।

অর্থ:
- কোনো বিষয়ে একসঙ্গে গেঁথে রাখা কাগজপত্র; দলিল দস্তাবেজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,২৭১.
'কদর্য' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. সংস্কৃত
  4. আরবি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
বাংলা ‘কদ’ উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - কদর্য

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২৭২.
‘কয়েদ’ শব্দটি কোন বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ফারসি
  2. ফরাসি
  3. তুর্কি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• 'কয়েদ'
- 'কয়েদ' শব্দটি আরবি ভাষা হতে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- আটক,
- আবদ্ধ,
- কারারুদ্ধ।

আরো কিছু আরবি শব্দ:
- কসাই,
- খারাবি,
- খারাপ,
- খারিজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২৭৩.
'গড্ডলিকা প্রবাহ' বাগ্‌ধারার 'গড্ডল' শব্দের অর্থ কী?
  1. নদী
  2. স্রোত
  3. ভেড়া
  4. মশা
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
ব্যাখ্যা

• গড্ডল (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি অর্বাচীন সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- ভেড়া,
- মেষ
- গাড়ল।

উল্লেখ্য, 
• 'গড্ডলিকা প্রবাহ'  বাগ্‌ধারার অর্থ- অন্ধ অনুকরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩,২৭৪.
জাতিবাচক বিশেষ্যর দৃষ্টান্ত -
  1. পর্বত
  2. খাতা
  3. দল
  4. বাটি
সঠিক উত্তর:
পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্বত
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,২৭৫.
নিচের কোন বর্ণের পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ বসে?
  1. ক) র
  2. খ) ত
  3. গ) দ
  4. ঘ) থ
সঠিক উত্তর:
ক) র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) র
ব্যাখ্যা
• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক, কফণি, বণিক, চিক্কণ, তূণ, ভণিতা, আপণ, বিপণি, লবণ্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ত-বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ) বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২৭৬.
'তারা মাঠে খেলছিল' বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারণ অতীত
  2. খ) ঘটমান অতীত
  3. গ) পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘ) নিত্য অতীত
সঠিক উত্তর:
খ) ঘটমান অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
'তারা মাঠে খেলছিল' ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ।

ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে। 
যেমন: আমরা তখন বই পড়ছিলাম। 

সাধারণ অতীত কাল: 
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বােঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন: তারা সেখানে বেড়াতে গেল। 
 
পুরাঘটিত অতীত: 
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন: বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম। 

নিত্য অতীত কাল:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতাে এমন বােঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন - খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম
তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,২৭৭.
'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ - 
  1. অভ্র
  2. অচল
  3. মহী
  4. নীলাম্বু
সঠিক উত্তর:
অভ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভ্র
ব্যাখ্যা

'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জলদ, জলধর, নীরদ, বারিদ, ঘন, জীমূত, অভ্র, অম্বুবাহ।

অন্যদিকে,
'পাহাড়' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- পর্বত, ভূধর, অচল, অদ্রি ইত্যাদি।
 
'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জগৎ, ভুবন, সংসার, বিশ্ব, ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুমতী, বসুন্ধরা, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভূ, ভূমণ্ডল, মর্ত্য, বসুধা, অবনী, মহী, মেদিনী, ক্ষিতি।

'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, জলধি, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,২৭৮.
বাংলা বর্ণমালায় 'ফলা' নয় কোনটি?
  1. জ-ফলা 
  2. ল-ফলা
  3. ন-ফলা
  4. ম-ফলা
সঠিক উত্তর:
জ-ফলা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ-ফলা 
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ণমালায় 'ফলা' নয়- জ-ফলা। 

অনুবর্ণ:
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ, ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলা ৬টি।
যেমন: ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র-ফলা, ল-ফলা।

রেফ: 'র'-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ।
যেমন- ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উল্লেখ্য,
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কারবর্ণ বলে। স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩,২৭৯.
'জজ সাহেব' কোন সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যাক্তি বা বস্তুকে বোঝালে কর্মধারয় সমাস হয়। জজ সাহেব = যিনি জজ তিনিই সাহেব।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণী।
৩,২৮০.
'পোঁ ধরা' বাগধারাটির অর্থ কি?
  1. ক) চাটুকার বৃত্তি
  2. খ) অন্যের দোষ ধরা
  3. গ) বারবার অনুরোধ করা
  4. ঘ) অপরের অনুকরন করা
সঠিক উত্তর:
ক) চাটুকার বৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চাটুকার বৃত্তি
ব্যাখ্যা
পোঁ ধরা (ক্রিয়া) - কোনো ব্যাপারকে অন্ধভাবে সমর্থন করা; মোসাহেবি করা (ব্যঙ্গার্থ); চাটুবৃত্তি; তোষামোদ; চামচে হওয়া।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
৩,২৮১.
কোন বাক্যে 'না' অব্যয়টি 'বিকল্প' অর্থে প্রয়োগ হয়েছে?
  1. আমি যাব না।
  2. না চাইতে দানের কোনো মর্যাদা নেই।
  3. তুমি বাড়ি যাবে না আমি যাব?
  4. একটা গান গাও না ভাই।
সঠিক উত্তর:
তুমি বাড়ি যাবে না আমি যাব?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি বাড়ি যাবে না আমি যাব?
ব্যাখ্যা


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)।
৩,২৮২.
তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ আছে কোন শব্দে?
  1. ক) চাচা
  2. খ) ঘাস
  3. গ) কল
  4. ঘ) দল
সঠিক উত্তর:
ক) চাচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চাচা
ব্যাখ্যা
• তালব্য ব্যঞ্জন ধ্বনি: 
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, জাল, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, জ, শ তালব্য ব্যাঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কম্পিত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: কর,ভার, হার প্রভৃতি শব্দের  কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনি

• নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যে সব ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধাপায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জন

• তাড়িত ব্যঞ্জন: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূ্র্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: 'বাড়ি, মূঢ়' প্রভৃতি শব্দের 'ড়, ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেনি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,২৮৩.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. লাজুক
  2. ইতরামি
  3. বড়াই
  4. মুনশিয়ানা
সঠিক উত্তর:
মুনশিয়ানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনশিয়ানা
ব্যাখ্যা

• আনা > আনি (হিন্দি) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ:
- মুনশি + আনা - মুনশিয়ানা,
- বিবি + আনা - বিবিয়ানা,
- হিন্দু + আনি -হিন্দুয়ানি।

অন্যদিকে, 
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- উক-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে-  লাজ + উক - লাজুক
- আরু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: বোমা + আরু - বোমারু।
- আলো-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: জমক + আলো -জমকালো। 
- আমি-প্রত্যয়: ইতর + আমি = ইতরামি
- ই-প্রত্যয়: জমিদার + ই = জমিদারি।
- আই-প্রত্যয়: বড় + আই = বড়াই

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,২৮৪.
‘শবনম’ শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. পবিত্র
  2. শিশির
  3. ললিত
  4. তুষার
সঠিক উত্তর:
শিশির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশির
ব্যাখ্যা
• শবনম (বিশেষ্য পদ),
- ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- শিশির;
- কুজ্‌ঝটিকা (ভোরের শবনাম তৃণদলে-ফররুখ আহমদ)। 
- সূক্ষ্ম মসলিন কাপড়।

অন্যদিকে,
• ‘রাতের শিশির’ এক কথায় বলে - শবনম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৮৫.
কোনটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ?
  1. অকৃতদার
  2. কুলটা
  3. অসূর্যম্পশ্যা
  4. মরদ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অকৃতদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকৃতদার
ব্যাখ্যা

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ - কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা। 
মরদ - জেনানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,২৮৬.
কোনটি ফারসি শব্দ?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. ফসল
  3. কাচারি
  4. দারোয়ান
সঠিক উত্তর:
দারোয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দারোয়ান
ব্যাখ্যা
• 'দারোয়ান' শব্দটি ফারসি ভাষা হতে আগত।

অন্যদিকে,
- হিন্দি শব্দ - কাচারি
- আরবি শব্দ - ফসল
- সংস্কৃত শব্দ - রাষ্ট্রপতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২৮৭.
বাগধারার অর্থ নির্ণয় করুন: ‘ইতর বিশেষ’ -
  1. আবোল তাবোল
  2. অর্থহীন কথা
  3. খারাপ ব্যক্তি
  4. ভেদাভেদ
সঠিক উত্তর:
ভেদাভেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেদাভেদ
ব্যাখ্যা
- 'ইতর বিশেষ' বাগধারাটির অর্থ - পার্থক্য/ভেদাভেদ।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- 'খয়ের খাঁ' বাগধারাটির অর্থ - তোষামোদকারী।
- ঢেঁকি অবতার বাগধারাটির অর্থ - নিষ্কর্মা ও নির্বোধ লোক।
- 'গৌরচন্দ্রিকা' বাগধারাটির অর্থ -  ভূমিকা।
- 'গোঁফ খেজুরে' বাগধরার অর্থ - অত্যন্ত অলস।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,২৮৮.
'গৌণ' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. মৃদু
  2. লঘু
  3. দূর
  4. মূখ্য
সঠিক উত্তর:
মূখ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূখ্য
ব্যাখ্যা

গৌণ শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ হলো মূখ্য।
তেমনিভাবে মৃদু'র বিপরীত অর্থ প্রবল।
লঘু'র বিপরীত অর্থ গুরু।
দূর এর বিপরীত অর্থ নিকট।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

৩,২৮৯.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অত্যাদিক
  2. অত্বাধিক
  3. অত্যধিক
  4. অত্তাতিক
সঠিক উত্তর:
অত্যধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যধিক
ব্যাখ্যা
 শুদ্ধ বানান - অত্যধিক।
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: অত্যন্ত বেশি; প্রয়োজনের অতিরিক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২৯০.
'চয়ন' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) কঠিন
  2. খ) সুন্দর
  3. গ) সংকলন
  4. ঘ) স্বপ্ন
সঠিক উত্তর:
গ) সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংকলন
ব্যাখ্যা
'চয়ন' শব্দের অর্থ:
- সংকলন; সংগ্রহ
- আহরণ, নির্বাচন 

[উৎস: বাংলা একাডেমি , আধুনিক বাংলা অভিধান]
৩,২৯১.
'Statutory' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. স্মারকলিপি
  2. সংবিধিবদ্ধ
  3. নমুনা
  4. অনুমোদন
সঠিক উত্তর:
সংবিধিবদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধিবদ্ধ
ব্যাখ্যা
• 'Statutory' এর বাংলা পরিভাষা - 'সংবিধিবদ্ধ'।

অন্যদিকে,
• 'Approbation' এর বাংলা পরিভাষা - অনুমোদন।
• ‘Memorandum’ এর বাংলা পরিভাষা - 'স্মারকলিপি'।
• 'Specimen' এর বাংলা পরিভাষা - নমুনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩,২৯২.
‘প্রগতি’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন:
• প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
• প্র ( প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

প্রাদি সমাসে-
- ‘প্র’ থাকলে ‘প্রকৃষ্ট’ হবে। যেমন: প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত।
- ‘পরি’ থাকলে ‘চতুর্দিকে’ হবে। যেমন: পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ।
- ‘অনু’ থাকলে ‘পশ্চাত’ হবে। যেমন: অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৯৩.
সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমাদের পরীক্ষা চলছে।
  2. আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
  3. আসবেন বলে এলেন না কেন?
  4. ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
সঠিক উত্তর:
আসবেন বলে এলেন না কেন?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসবেন বলে এলেন না কেন?
ব্যাখ্যা
সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- আমরা রংপুরে যাব
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের বিশেষ প্রয়োগ:
- সাধারণ ভবিষ্যতের ক্রিয়ারূপ দিয়ে অতীতের ঘটনা বর্ণনায় বা জিজ্ঞাসায়: আসবেন বলে এলেন না কেন?

অন্যদিকে,
ঘটমান বর্তমান কাল - আমাদের পরীক্ষা চলছে।।
• ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল - আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল - ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৯৪.
'বিদ্যাহীন' - শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. যষ্ঠী
  3. পঞ্চমী
  4. চতুর্থী
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- মন  দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা ৷

• ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যথা:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,২৯৫.
কোনটি আরবি শব্দ?
  1. তাগিদ
  2. কাবুলি
  3. খানসামা
  4. খোরাক
সঠিক উত্তর:
তাগিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাগিদ
ব্যাখ্যা
• আরবি শব্দ - তাগিদ
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- জরুরি প্রয়োজন।

অন্যদিকে,
ফারসি শব্দ - খোরাক, খানসামা, কাবুলি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২৯৬.
'পড়াশোনায় মন দাও' - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. অপদানে শূন্য
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অধিকরণ কারক বলে।
যেমন:
- ছেলেরা মাঠে খেলে।
- ছাত্রীরা পাঠাগারে পড়ে।
বাক্যে যে পদে ক্রিয়ার আধারকে বোঝায় তাকে বলে অধিকরণ কারক।

ক্রিয়াপদ ধরে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে-এসব প্রশ্ন করলে তার উত্তরে অধিকরণ কারক পাওয়া যায়।
যেমন:
- পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে। কোথায় পড়ে? ক্লাসে অর্থাৎ ক্লাসের মধ্যে। তাই ক্লাসে অধিকরণ কারক।
- তারা সকালে পড়ে। - কখন 'পড়ে? সকালে। 'সকালে' অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ-
• প্রথম বা শূন্য বিভক্তি:
- শফিক চাটগাঁ থাকে।
- তুমি এখন বাড়ি যেতে পার।

• তৃতীয়া বিভক্তি:
- পথ দিয়ে চল।
- বড় রাস্তা দিয়ে যেও।

•পঞ্চমী বিভক্তি:
- ছাদ থেকে পানি পড়ে।
- বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- আহারে রুচি নেই।
বাড়িতে কেউ নেই।

• প্রশ্নে প্রদত্ত 'পড়াশোনায় মন দাও'- বাক্যেকে কোন বিষয়ে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘পড়াশোনায়’। সুতরাং পড়াশোনায় শব্দে  অধিকরণ কারকে ‘য়’ যোগে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৯৭.
'গরমিল' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. নঞ্‌ কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• 'গরমিল' অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

• অব্যয়ীভাব সমাস:

-পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

• অভাব (নিঃ= নির) অর্থে:
- আমিষের অভাব = নিরামিষ,
- ভাবনার অভাব= নির্ভাবনা,
- জলের অভাব = নির্জল,
- উৎসাহের অভাব =নিরুৎসাহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,২৯৮.
বাংলা ভাষায় বর্গীয় বর্ণ কয়টি ?
  1. ক) ২৫টি
  2. খ) ৩৯টি
  3. গ) ২৬টি
  4. ঘ) ৪৯টি
সঠিক উত্তর:
ক) ২৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৫টি
ব্যাখ্যা

ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি বর্ণকে স্পর্শ বা বর্গীয় বর্ণ বলে।
যথাঃ
ক বর্গীয় বর্ণঃ ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
চ বর্গীয় বর্ণঃ চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
ট বর্গীয় বর্ণঃ ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
ত বর্গীয় বর্ণঃ ত, থ, দ, ধ, ন।
প বর্গীয় বর্ণঃ প, ফ, ব, ভ, ম।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৯৯.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. ঘাট
  2. ঘাঁটন
  3. ঘাঁটি
  4. ঘায়েল
সঠিক উত্তর:
ঘাঁটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘাঁটি
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ - ঘাঁটি

দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি, ঘাঁটি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত শব্দ - ঘাট।
• বাংলা শব্দ - ঘাঁটন।
• হিন্দি শব্দ - ঘায়েল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩০০.
তিনি আসতে পারলেন না কারণ তিনি অসুস্থ।- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• তিনি আসতে পারলেন না কারণ তিনি অসুস্থ।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।

‘বাক্যে তিনি আসতে পারলেন না’ একটি স্বাধীন বাক্য এবং ‘তিনি অসুস্থ’ আর একটি স্বাধীন বাক্য। এই দুটি স্বাধীন বাক্যকে ‘কারণ’ শব্দটি যোজক হিসেবে যুক্ত করেছে।

⇒ যৌগিক বাক্য:

দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।