বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৫৩ / ৩৫৪ · ১৫,২০১১৫,৩০০ / ৩৫,৭১৩

১৫,২০১.
'সৌপ্তিক' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) দিনের সায় (অবসান) ভাগ
  2. খ) রাত্রির তিনভাগ একত্রে
  3. গ) রাত্রিকালীন যুদ্ধ
  4. ঘ) যুদ্ধের বিজয় অর্জন করা দল
সঠিক উত্তর:
গ) রাত্রিকালীন যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাত্রিকালীন যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
সৌপ্তিক (বিশেষ্য) 
অর্থ :
- নৈশ যুদ্ধ (রাত্রিকালীন যুদ্ধ )।
- মহাভারতের একটি যুদ্ধবিশেষ।

রাত্রিকালীন যুদ্ধ - সৌপ্তিক
দিনের সায় (অবসান) ভাগ - সায়াহ্ন 
রাত্রির তিনভাগ একত্রে - ত্রিযামা

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২০২.
অগ্নি-র একটি প্রতিশব্দ হলো-
  1. ক) জাতবেদ্য
  2. খ) অগ্নিষ্ঠ
  3. গ) পাবক
  4. ঘ) বিভা
সঠিক উত্তর:
গ) পাবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাবক
ব্যাখ্যা

অগ্নি- অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, কৃশানু, শিখাবত, শিখিন, বায়ুসখা, হুতভুক, শুচি, পিঙল, বিশ্বপা, হিমারাতি, বায়ুসখ, অনিলসখ, জগন্নু ইত্যাদি।

আলো - আলোক, বিভা, কিরণ, দীপ্তি, প্রভা, জ্যোতি, ময়ূখ, রওশন, নুর, আভা৷

সোর্সঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।

১৫,২০৩.
'গরল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - 
  1. বিষাক্ত
  2.  অমঙ্গলকর
  3. মধুর 
  4. অমৃত
  5. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
অমৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমৃত
ব্যাখ্যা

“গরল” এর মানে হলো-  বিষাক্ত বা অমঙ্গলকর জিনিস। 
- এর বিপরীত শব্দ- অমৃত'।
- “অমৃত” মানে হলো পবিত্র, অমল, বা চিরঞ্জীবনদায়ক।
---------------------
অন্যদিকে, 
- অম্ল - মধুর। 
----------------- 
- কিছু বিপরীতার্থক শব্দযুগল:
অর্পণ - গ্রহণ, 
অর্বাচীন - প্রাচীন,
অলীক - সত্য,
অসীম - সসীম,
অস্তগামী - উদীয়মান,
অহিংস - সহিংস,
আকর্ষণ - বিকর্ষণ,
আকস্মিক - চিরন্তন,
আবশ্যিক - ঐচ্ছিক,
আকুঞ্চন - প্রসারণ,
আগমন - প্রস্থান/নির্গমন,
দুর্বোধ্য - জটিল,
ঈদৃশ - তাদৃশ,
ঈমান - বেইমান,
ঈর্ষা - প্রীতি,
ঈশান - নৈঋত,
ঈষৎ - অধিক,
উক্ত - অনুক্ত,
উগ্র - সৌম্য/নম্র,
উচাটন - প্রশান্ত। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,২০৪.
"এই দুনিয়ায় আসছে আবার নও-জমানার ইনকিলাব।" - এখানে, 'ইনকিলাব' শব্দের অর্থ কী?
  1. সুবিচার
  2. আন্দোলন
  3. বিপ্লবী
  4. পক্ষপাতহীন
সঠিক উত্তর:
আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আন্দোলন
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'ইনকিলাব' শব্দের অর্থ বিদ্রোহ; বিপ্লব; আন্দোলন।

- 'ইনকিলাব' বিশেষ্য।
- 'ইনকিলাব' আরবি শব্দ।
- 'ইনকিলাব' এর ইংরেজি Revolution, Uprising.

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।

১৫,২০৫.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. জলধি
  2. তৈল
  3. বউ
  4. হস্তী
সঠিক উত্তর:
বউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বউ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ:
যে শব্দকে আর ভাঙ্গা বা বিশ্লেষণ করা যায়না তাকে মৌলিক শব্দ বলে যেমন:
- লাল, গোলাপ, বউ, হাত, পা মৌলিক শব্দ।

অন্যদিকে,
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন -
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু ‘পঙ্কজ’ শব্দটি একমাত্র ‘পদ্মফুল’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- রাজপুত: ‘রাজার পুত্র’ অর্থ পরিত্যাগ করে  যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে ‘জাতিবিশেষ’।
- মহাযাত্রা: ‘মহাসমারোহে যাত্রা’ অর্থ পরিত্যাগ করে  যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’।
- জলধি: ‘জল ধারণ করে এমন’ অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র ‘সমুদ্র’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

• রূঢ়ি শব্দ:
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বুঝাচ্ছে, তাই এটি রুঢ়ি শব্দ।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,২০৬.
“জ্যান্ত” শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় কী?
  1. ক) জ্যান + ত
  2. খ) জান্‌ + তচ
  3. গ) জ + এ্যান্ত
  4. ঘ) জী + অন্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) জী + অন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জী + অন্ত
ব্যাখ্যা
‘জ্যান্ত’ শব্দটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ। এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো- জী + অন্ত।

সোর্সঃ ভাষা-শিক্ষা,হায়াৎ মামুদ।
১৫,২০৭.
‘নাতিশীতোষ্ণ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. নঞ তৎপুরুষ
  3. উপপদ তৎপুরুষ
  4. অলুক তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
নঞ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ নঞ তৎপুরুষ সমাস:
না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- নয় অতি শীত বা উষ্ণ = নাতিশীতোষ্ণ;
- নয় এক = অনেক; 
- নয় অতি দীর্ঘ = নাতিদীর্ঘ;
- নেই বৃষ্টি = অনাবৃষ্টি;
- নয় সুখ = অসুখ;
- নয় উচিত = অনুচিত;
- নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস;
- নাই হায়া = বেহায়া প্রভৃতি।

এরূপ- অলৌকিক, অসাধ্য ইত্যদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,২০৮.
কোনটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ঘরামি
  2. ডাক্তারখানা
  3. ধড়িবাজ 
  4. লৌকিক 
সঠিক উত্তর:
ঘরামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরামি
ব্যাখ্যা

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় ব্যতীত বাকি প্রত্যয়গুলোকে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: 
- বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের শেষে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: 
- ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- মনু + ষ্ণ = মানব;
- লোক + ষ্ণিক = লৌকিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১৫,২০৯.
'শীকর' শব্দের অর্থ কী?
  1. বাতাসে ভাসমান জলকনা
  2. শীর্ষ
  3. রাজস্ব
  4. মূল
সঠিক উত্তর:
বাতাসে ভাসমান জলকনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাসে ভাসমান জলকনা
ব্যাখ্যা
'শীকর' শব্দের অর্থ:
- বাতাসে ভাসমান জলকনা, জলবিন্দু।

অন্যদিকে,
- 'শিকড়' শব্দের অর্থ - মূল।
- 'রাজস্ব' শব্দের অর্থ - সরকারের প্রদেয় কর বা খাজনা।
- 'শীর্ষ' শব্দের অর্থ - চূড়া, মাথা, অগ্রভাগ, সর্বোচ্চ স্থান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,২১০.
বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নগুলোর মধ্যে ‘উদ্ধারচিহ্ন’ এর কাজ কী?
  1. বিস্ময় প্রকাশ
  2. শব্দসংক্ষেপ
  3. উদাহরণ উপস্থাপন করা
  4. উদ্ধৃত করা
সঠিক উত্তর:
উদ্ধৃত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ধৃত করা
ব্যাখ্যা
উদ্ধারচিহ্ন ('-'), ("-"):
- কোনো কিছু উদ্ধৃত করার কাজে উদ্ধারচিহ্নের ব্যবহার হয়।
- উদ্ধারচিহ্ন দুই রকম: একক ও দ্বৈত।
যেমন:
- 'সিরাজউদ্দৌলা' একটি ঐতিহাসিক নাটক।
- আমাদের কণ্ঠ শুনে প্রিয়ন্তি ঘর থেকে বেরিয়ে এল, "ও আপনারা এসে গেছেন! বাসা চিনতে কোনো কষ্ট হয়নি তো?"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 
১৫,২১১.
'স্মরণ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) জাগরণ
  2. খ) বিস্মরণ
  3. গ) নির্লিপ্ত
  4. ঘ) উদিত
সঠিক উত্তর:
খ) বিস্মরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিস্মরণ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘স্মরণ’  শব্দের অর্থ- স্মৃতি, ধ্যান, চিন্তা, কল্পনা।

• ‘স্মরণ’ এর বিপরীত শব্দ- 'বিস্মরণ'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৫,২১২.
'যা সহজে করা যায় না' এক কথায় কী বলে?
  1. দুর্লঙ্ঘ্য
  2. দুষ্কর
  3. দুষ্কার্য
  4. দুষ্ক্রিয়
সঠিক উত্তর:
দুষ্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুষ্কর
ব্যাখ্যা
• 'যা সহজে করা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ- দুষ্কর।

অন্যদিকে, 
• 'র্লঙ্ঘ্য' অর্থ - যা সহজে লঙ্ঘন করা যায় না, সাধন করা কষ্টসাধ্য।
• 'দুষ্কার্য' অর্থ - খারাপ কাজ, দুষ্কর্ম।
• 'দুষ্ক্রিয়' অর্থ - কুকর্মে আসক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,২১৩.
'কাগজ' কোন ভাষার শব্দ?
  1. তৎসম
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. হিন্দি
  5. পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'কাগজ'- 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত শব্দ।

• 'কাগজ' শব্দের অর্থ:
- লেখা আঁকা বা ছাপার কাজে ব্যবহৃত বাঁশ তুলা প্রভৃতির মণ্ড থেকে তৈরি পাতলা পত্রবিশেষ।

• 'ফারসি' ভাষার কিছু শব্দ: 
- রপ্তানি, 
- খোদা, 
- নামাজ, 
- রোজা, 
- চশমা, 
- তোশক, 
- দোকান, 
- কারখানা, 
- আমদানি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫,২১৪.
'কণ্টকিত' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. ক) ঈয় প্রত্যয়
  2. খ) ইত প্রত্যয়
  3. গ) ই প্রত্যয়
  4. ঘ) ত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) ইত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

'ইত' প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দঃ
কুসুম+ইত = কুসুমিত
তরঙ্গ+ইত = তরঙ্গিত
কণ্টক+ইত = কণ্টকিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫,২১৫.
'কূল' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. পুলিন
  2. গোত্র
  3. বেলাভূমি
  4. বালুকাবেলা
সঠিক উত্তর:
গোত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোত্র
ব্যাখ্যা
'কূল' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তীর,
- তট,
- বেলাভূমি,
- সৈকত,
- ধার,
- বালুকাবেলা,
- কিনারা,
- পুলিন,
- পাড়।

'কুল' শব্দের সমার্থক শব্দ:   
- বংশ,
- গোত্র,
- গোষ্ঠী,
- জাত,
- বৰ্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
১৫,২১৬.
'ভাষাতত্ত্ব ও বাংলা ভাষার ইতিহাস' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) হেমন্তকুমার সরকার
  2. খ) সুকুমার সেন
  3. গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) হাবিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ক) হেমন্তকুমার সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হেমন্তকুমার সরকার
ব্যাখ্যা
• 'ভাষাতত্ত্ব ও বাংলা ভাষার ইতিহাস' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'হেমন্তকুমার সরকার'। 

ভাষাতত্ত্ব ও বাংলা ভাষার ইতিহাস ও হেমন্তকুমার সরকার: 
- বাংলা ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে বাংলায় প্রথম টেক্সট বই রচনার কৃতিত্ব হেমন্তকুমার সরকারের।
- তাঁর গ্রন্থের নাম ভাষাতত্ত্ব ও বাংলা ভাষার ইতিহাস (১৯২৩)।
- তবে টেক্সট বইগুলির মধ্যে সুকুমার সেন রচিত ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৩৯) সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য।
- বাংলা ভাষার ইতিহাস বিষয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ টেক্সট বই হচ্ছে পরেশচন্দ্র মজুমদারের বাঙলা ভাষা পরিক্রমা (১৩৬৩)।
- ঐতিহাসিক ব্যাকরণের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত।
- সাংগঠনিক ভাষাবিজ্ঞানের ধারা ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে ওঠায় ঐতিহাসিক ব্যাকরণ চর্চার ধারা বর্তমানে ক্ষীণ এবং প্রায় অবসিত হয়ে উঠেছে।
 
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব: 

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২১৭.
বাংলা ভাষায় কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
  1. ক 
  2. য় 
  3. হ 
  4. প 
সঠিক উত্তর:
হ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ 
ব্যাখ্যা

- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি - হ।

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
যেমন, 
- 'হাতি' শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৫,২১৮.
বাক্যে পাদচ্ছেদ যতিচিহ্ন থাকলে, বিরতির সময়কাল কত?
  1. থামার প্রয়োজন নেই
  2. এক সেকেন্ড
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. এক বলতে যে সময় লাগে
সঠিক উত্তর:
এক বলতে যে সময় লাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক বলতে যে সময় লাগে
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

♦ বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,২১৯.
কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
  2. আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
  3. তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
  4. আমার যাওয়া হল না।
সঠিক উত্তর:
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।

যেমন:
পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
চিঠিটা পড়া হয়েছে ।
তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে

অন্যদিকে,
কর্তাবাচ্য - তারা বাড়িটি তৈরি করেছে। আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
ভাববাচ্য - আমার যাওয়া হল না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,২২০.
একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা -
  1. উপমা, অলংকার
  2. উদ্দেশ্য, বিধেয়  
  3. সাধু, চলিত
  4. বাচ্যার্থ, লক্ষার্থ
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য, বিধেয়  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য, বিধেয়  
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে।
যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

• উদ্দেশ্য:
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়:
কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,২২১.
কোন শব্দটিতে স্বভাবতই 'ণ' বসেছে?
  1. ক) ভীষণ
  2. খ) ব্যাকরণ
  3. গ) অণু
  4. ঘ) বর্ণ
সঠিক উত্তর:
গ) অণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অণু
ব্যাখ্যা
- 'অণু' শব্দটিতে স্বভাবতই 'ণ' বসেছে।

• ণ-ত্ব বিধান:

- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,২২২.
'কাগজে কলমে' বাগধারাটির অর্থ কী?
  1. ক) সফলতা লাভ
  2. খ) লিখিত আদেশ
  3. গ) দৃঢ় সংকল্প
  4. ঘ) অকাজের কথা
সঠিক উত্তর:
খ) লিখিত আদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লিখিত আদেশ
ব্যাখ্যা
- 'কাগজে কলমে' বাগধারাটির অর্থ হচ্ছে লিখিত আদেশ।
বাক্য গঠন: কাগজে কলমে সব প্রমাণ রয়েছে।

অপরদিকে,
কিস্তিমাত করা (সফলতা লাভ)- সবচেয়ে সেরা পুরস্কার পেয়ে সে কিস্তিমাত করেছে।
কোমড় বাঁধা (দৃঢ় সংকল্প)- কোমড় বেধে কাজে নেমে পড়ো, সফলতা আসবেই।
খেজুরে আলাপ (অকাজের কথা)- কাজের সময়ে খেজুরে আলাপ করতে ভালো লাগে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৫,২২৩.
'মন না মতি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. সীমিত বুদ্ধি
  2. লোভ-লালসা
  3. অস্থির মানব মন
  4. অগ্রাধিকার
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অস্থির মানব মন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থির মানব মন
ব্যাখ্যা
• 'মন না মতি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ অস্থির মানব মন।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- 'উলুখাগড়া' - গুরুত্বহীন লোক।
- 'কায়েতের ঘরের ঢেঁকি'- অপদার্থ লোক।
- 'গোঁয়ার গোবিন্দ' - কাণ্ডজ্ঞানহীন।
- 'আটাশে ছেলে' - দুর্বল ছেলে।
- 'ডাকাবুকো'- নির্ভীক।
- শরতের শিশির, পদ্মপাতার জল = ক্ষণস্থায়ী। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,২২৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রজ্জ্যোল
  2. প্রোজ্জ্বল
  3. প্রোজ্জল
  4. প্রজ্যোল
সঠিক উত্তর:
প্রোজ্জ্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোজ্জ্বল
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'প্রোজ্জ্বল'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়: প্র+উজ্জ্বল।
অর্থ:
- বিশেষ ভাবে উজ্জ্বল

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,২২৫.
সঠিক বিপরীতার্থ শব্দ যুগল কোনটি?
  1. ক) রোষ - রুষ্ট
  2. খ) রজত - স্বর্ণ
  3. গ) রদ - বেরদ
  4. ঘ) লেশ - মাত্র
সঠিক উত্তর:
খ) রজত - স্বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রজত - স্বর্ণ
ব্যাখ্যা
সঠিক বিপরীতার্থ শব্দ যুগল সমূহ -
- রজত - স্বর্ণ  
- রোষ - প্রসাদ 
- রদ - চালু 
- লেশ - যথেষ্ট 
- শীর্ণ - স্থূল 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,২২৬.
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় -
  1. অনিল
  2. তোয়
  3. পবন
  4. প্রভঞ্জন
সঠিক উত্তর:
তোয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোয়
ব্যাখ্যা

'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন

অন্যদিকে,
'পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অম্বু, জল, নীর, সলিল, অপ, উদক, তোয়, জীবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,২২৭.
'সুস্বাস্থ্য' শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে
  2. প্রত্যয়জনিত কারণে
  3. সমাস-ঘটিত কারণে
  4. সন্ধি বিষয়ক কারণে
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে
ব্যাখ্যা

• 'সুস্বাস্থ্য' শব্দটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অশুদ্ধ।
• শুদ্ধ শব্দ: স্বাস্থ্য।

• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:

শুদ্ধ:অদ্যাপি/অদ্যও
অশুদ্ধ:অদ্যাপিও

শুদ্ধ:অশ্রু
অশুদ্ধ:অশ্রুজল

শুদ্ধ:আয়ত্ত/অধীন
অশুদ্ধ: আয়ত্তাধীন

শুদ্ধ: আরক্ত/রক্তিম
অশুদ্ধ:আরক্তিম

শুদ্ধ:কেবল/মাত্র
অশুদ্ধ:কেবলমাত্র

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৫,২২৮.
'শন্ শন' কী ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. শব্দের দ্বিরুক্তি
  2. অনুকার দ্বিরুক্তি
  3. পদের দ্বিরুক্তি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিরুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
যা দুইবার বলা হয়েছে এমন শব্দকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। ‘দ্বি+উক্ত' = দ্বিরুক্ত।

দ্বিরুক্ত শব্দ তিন প্রকার।
যথা:
- শব্দের দ্বিরুক্তি (রোজ রোজ, কেউ কেউ)।
- পদের দ্বিরুক্তি ( হেসে হেসে, চোরে চোরে)।
- অনুকার দ্বিরুক্তি (শন শন, খিল খিল)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২২৯.
'বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।' - বাক্যে 'বিকাল পাঁচটায়' কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

অন্যদিকে,
সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
 যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,২৩০.
নিচের কোন দুটি সমার্থক শব্দ?
  1. কৃশানু : পাবক
  2. বারিদ : সুধাকর
  3. অম্বু : অহন
  4. বীচি : ওদন
সঠিক উত্তর:
কৃশানু : পাবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃশানু : পাবক
ব্যাখ্যা
• অগ্নি/আগুন' এর সামর্থক শব্দ:
- অনল, বহ্নি, হুতাশন, কৃশানু, পাবক, দহন, সর্বভুক, পিঙ্গল, হিমারতি, বায়ুসখা, শুচি ইত্যাদি।

অর্থ্যাৎ, 
কৃশানু ও পাবক শব্দের অর্থ - আগুন ।
----------------- 
অপশন খ) - 
বারিদ অর্থ - মেঘ ; সুধাকর অর্থ - চাঁদ।

অপশন গ) - 
অম্বু অর্থ - জল; অহনা অর্থ - ঊষা ,

অপশন ঘ) -   
'বীচি' অর্থ - ঢেউ, 'ওদন' অর্থ - অন্ন বা ভাত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- হায়াৎ মামুদ।
১৫,২৩১.
‘ম্যালেরিয়া’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) মেক্সিকান
  2. খ) ইতালিয়ান
  3. গ) জার্মান
  4. ঘ) পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
খ) ইতালিয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইতালিয়ান
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'ম্যালেরিয়া' ইতালিয়ান শব্দ।
• 'ম্যালেরিয়া' অর্থ:
মানবদেহে অ্যানোফিলিস মশাবাহিত জীবাণু সংক্রমণের ফলে পালা করে আসে এমন জ্বর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১৫,২৩২.
ধাতুর সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে যে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাকে কী বলে?
  1. কৃদন্ত শব্দ
  2. তদ্ধিতান্ত শব্দ
  3. প্রাতিপদিক শব্দ
  4. শব্দ প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
কৃদন্ত শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃদন্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়:
শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
- বাঘ + আ = বাঘা,
- দিন + ইক = দৈনিক,
- দুল্ + অনা = দোলনা,
- কৃ + তব্য = কর্তব্য।
• প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।

কৃৎ-প্রত্যয়: 
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১৫,২৩৩.
'ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন' নিয়ম সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. বিচ্ছেদ
  2. সদর্থক
  3. অবিন্ধন
  4. বিমুগ্ধ
সঠিক উত্তর:
বিমুগ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমুগ্ধ
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে:
আগে ধ্, ভ্ কিংবা হ্ থাকলে এবং পরে ত থাকলে সন্ধিতে (ধ্ + ত) স্থলে দ্ধ, (ভ্ + ত) স্থলে ব্ধ এবং (হ্ + ত) স্থলে গ্ধ হয়।
যেমন:
- বুধ্ + ত = বুদ্ধ,
- লভ্ + ত = লব্ধ,
- বিমুহ্ + ত = বিমুগ্ধ,
- দুহ্ + ত = দুগ্ধ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন:
- তরু + ছায়া = তরুচ্ছায়া। 
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব।
যেমন:
- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত;
- সৎ + অর্থক = সদর্থক;
- অপ্‌ + ইন্ধন = অবিন্ধন;
- সৎ + উপায় = সদুপায়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,২৩৪.
কোন যতিচিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড' নয়?
  1. ড্যাস
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. কোলন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
যেসকল যতিচিহ্নের বিরতিকালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময়চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস

থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,২৩৫.
দেশি শব্দ ‘চুলা’ কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
  1. তামিল ভাষা
  2. কোল ভাষা
  3. মুন্ডারী ভাষা
  4. ফরাসি ভাষা
সঠিক উত্তর:
মুন্ডারী ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুন্ডারী ভাষা
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষাভাষীদের ভূখণ্ডে অনেক আদিকাল থেকে যারা বাস করতো, সেইসব আদিবাসীদের ভাষার যে সব শব্দ বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সে সব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ। এই আদিবাসীদের মধ্যে আছে- কোল, মুণ্ডা, ভীম, ইত্যাদি। যেমন,
কুড়ি (বিশ)- কোলভাষা,
পেট (উদর)- তামিল ভাষা,
চুলা (উনুন)- মুণ্ডারী ভাষা

এছাড়াও কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

১৫,২৩৬.
'সংস্করণ' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. শংশ্‌করোণ
  2. শংকরোন্
  3. শংশ্‌করোন্
  4. শংকরোন
সঠিক উত্তর:
শংশ্‌করোন্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শংশ্‌করোন্
ব্যাখ্যা

• সংস্করণ (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শুদ্ধ উচ্চারণ- [শংশ্‌করোন্]।
অর্থ:
- সংশোধন, পরিমার্জন।
- গ্রন্থের একদফায় মুদ্রিত ও প্রকাশিত প্রস্থ। 
- বিশেষ উদ্দেশ্যে মুদ্রণ ও প্রকাশন (সুলভ সংস্করণ)।

ইংরেজি পারিভাষিক- Edition.

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১৫,২৩৭.
বহুব্রীহি সমাস কয় প্রকার?
  1. ক) আট প্রকার
  2. খ) ছয় প্রকার
  3. গ) দশ প্রকার
  4. ঘ) তিন প্রকার
সঠিক উত্তর:
ক) আট প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আট প্রকার
ব্যাখ্যা
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
বহুব্রীহি সমাস ৮ প্রকার।
যথা -
১. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি,
২. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি,
৩. ব্যতিহার বহুব্রীহি,
৪. নঞ বহুব্রীহি,
৫. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি,
৬. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি,
৭. অলুক বহুব্রীহি,
৮. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি।

যেহেতু মাধ্যমিক ব্যাকরণ ২০২১ সংস্করণে বহুব্রীহি সমাস কত প্রকার তা সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা হয় নি এবং ২০১৯ সংস্করণে নির্দিষ্টভাবে বলা আছে কত প্রকার।
তাই ২০১৯ সংস্করণকে প্রাধান্য দিয়ে ৮ প্রকারকে সঠিক উত্তর ধরা হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ ২০১৯ সংস্করণ।
১৫,২৩৮.
'যা পূর্বে ছিল এখন নেই'- এক কথায় কি হবে?
  1. অপূর্ব
  2. ভূতপূর্ব
  3. অভূতপূর্ব
  4. অদৃষ্টপূর্ব
সঠিক উত্তর:
ভূতপূর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূতপূর্ব
ব্যাখ্যা

• 'যা পূর্বে ছিল এখন নেই' এর এক কথায় প্রকাশ - ভূতপূর্ব

অন্যদিকে,
- 'যা পূর্বে দেখা যায় নি এমন' এক কথায় প্রকাশ - অদৃষ্টপূর্ব।
- 'পূর্বে ঘটেনি এমন' এক কথায় প্রকাশ - অভূতপূর্ব।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু এককথায় প্রকাশ:
'যা পূর্বে শোনা যায় নি' এক কথায় প্রকাশ - অশ্রুতপূর্ব।
'যা অধ্যয়ন করা হয়েছে' এক কথায় প্রকাশ - অধীত।
'যা বলা হয় নি' এক কথায় প্রকাশ - অনুক্ত।
'যা বলার যোগ্য নয়' এক কথায় প্রকাশ অকথ্য।
'যা কখনো নষ্ট হয় না' এক কথায় প্রকাশ - অবিনশ্বর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫,২৩৯.
নিচের কোন শব্দটি- ‘ভূত' শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বর্তমান 
  2. অতীত 
  3. সমসাময়িক
  4. ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

• 'ভূত' শব্দের অর্থ - অতীত।
সুতরাং, এর বিপরীত শব্দ - ভবিষ্যৎ।

আরও কিছু বিপরীত শব্দের উদাহরণ-
- রুষ্ট - তুষ্ট;
- উদ্ধত - বিনীত;
- লিপ্ত - নির্লিপ্ত;
- লগ্ন - চ্যুত;
- মরমি - নিষ্ঠুর;
- লেশ - যথেষ্ঠ;
- হৃদ্যতা - কপটতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২০ সংস্করণ)।

১৫,২৪০.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জনসন্ধির মাধ্যমে গঠিত শব্দ?
  1. হিতোপদেশ
  2. কুজ্ঝটিকা
  3. তন্বী
  4. নিরাকার
সঠিক উত্তর:
কুজ্ঝটিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুজ্ঝটিকা
ব্যাখ্যা

- কুজ্ঝটিকা = কুৎ + ঝটিকা (ব্যঞ্জনসন্ধি)



- হিতোপদেশ = হিত + উপদেশ (স্বরসন্ধি)
- তন্বী = তনু + ঈ (স্বরসন্ধি)
- নিরাকার = নিঃ + আকার (বিসর্গ সন্ধি)

উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)

১৫,২৪১.
'জাগরূক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়- 
  1. √জাগৃ + ওক
  2. √জাগরু + অক
  3. √জাগৃ + ঊক
  4. √জাগরণ + উক
  5. √জাগরু + উক
সঠিক উত্তর:
√জাগৃ + ঊক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√জাগৃ + ঊক
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়-উক (ঊক):
- স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নির্দেশক বিশেষণ শব্দ গঠন করে।

যেমন:
- √কম্ + উক = কামুক;
- √ভূ + উক = ভাবুক (ভূ > ভৌ + উক = ভাবুক, বৃদ্ধি উ > ঔ)
- √জাগৃ + ঊক = জাগরূক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,২৪২.
'আয়-ব্যয়' কোন সমাস?
  1. ক) বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. ঘ) বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রধান্য থাকে এবং তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয় (বিপরীতার্থক শব্দযোগে), মা ও বাপ = মা-বাপ (মিলনার্থক শব্দযোগে), দা-কুমড়া (বিরোধার্থক শব্দযোগে) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী৷

১৫,২৪৩.
মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল ছন্দের কোন স্থানে থাকে? 
  1. শেষে
  2. শুরুতে
  3. মাঝখানে
  4. সব স্থানে
সঠিক উত্তর:
শুরুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুরুতে
ব্যাখ্যা

মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল সাধারণত ছন্দের শুরুতে থাকে।

• মুক্তাক্ষর:
- অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। 
- একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল হলো ছন্দের সেই অংশ যা বাক্যের মূল ছন্দের বাইরে থাকে।
- এটি সাধারণত বাক্যের শুরুতে অবস্থান করে।
- মুক্তদল ছন্দের মূল অংশের (বদ্ধাক্ষরের) আগে আসে।
- মুক্তাক্ষরের মাত্রা সাধারণত এক মাত্রা।
- মুক্তাক্ষর হলো ছন্দের সূচনাকারী একমাত্রা। 
- এটি ছন্দের বাকি অংশের সঙ্গে মিলিয়ে বাক্যের গতি ও ছন্দ নির্ধারণে সহায়তা করে।
- যখন মূল বদ্ধাক্ষর (ছন্দের প্রধান অংশ) শুরু হয়, তখন মুক্তাক্ষরের উপস্থিতি বাকি ছন্দের জন্য প্রারম্ভিক তাল ও সমন্বয় তৈরি করে।
- ফলে পুরো বাক্যের ছন্দ এবং গতি সুষম ও স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়।
- মুক্তাক্ষর অংশের ব্যবহার- ছন্দকে স্বতন্ত্র ও প্রাথমিক রূপ প্রদান করে, যাতে মূল ছন্দের প্রবাহ সুন্দরভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণস্বরূপ, “কবির কণ্ঠে হে বন্ধু বাজে সুর”–এখানে "হে বন্ধু" অংশটি শুরুতে মুক্তদল হিসেবে বসে, যা বাক্যের বাকি ছন্দকে সুন্দরভাবে সূচনা দেয়।

উৎস:
বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,২৪৪.
'ঊষর' শব্দের বিপরীত শব্দ কী?
  1. ঠান্ডা
  2. গরম
  3. উর্বর
  4. শুষ্ক
সঠিক উত্তর:
উর্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্বর
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'ঊষর' শব্দের অর্থ:
- (বিশেষ্য) - লোনা বা ক্ষারময় অনুর্বর ভূমি।
- (বিশেষণ) - অনুর্বর, মরুময়, নোনা।

• 'ঊষর' এর বিপরীত শব্দ হলো:
- উর্বর - সর্বপ্রকার শস্যের উৎপাদক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,২৪৫.
বাক্যের অর্থ সঙ্গতি রক্ষার জন্য পরোক্ষ উক্তিতে কিসের  পরিবর্তন করতে হয়?
  1. ক) ক্রিয়াপদের
  2. খ) বিশেষণের
  3. গ) সর্বনামের 
  4. ঘ) অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়াপদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রিয়াপদের
ব্যাখ্যা
বাক্যের অর্থ সঙ্গতি রক্ষার জন্য পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়াপদের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন - 
প্রত্যক্ষ উক্তি : হিরণ বলল, “আমি এক্ষুণি আসছি।” 
পরোক্ষ উক্তি : হিরণ বলল যে, সে তক্ষুণি যাচ্ছে। 

উৎস : বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১৫,২৪৬.
বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ কোনটি?
  1. অতিশয়
  2. অজানা
  3. নিরব
  4. অবজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
অজানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজানা
ব্যাখ্যা
• 'অজানা' বাংলা 'অ' উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'অ' উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ: অকেজো, অচেনা,অচিন, অজানা, অথৈ।

অন্যদিকে,
- 'অতিশয়' - সংস্কৃত 'অতি' উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'নিরব' - সংস্কৃত 'নির' উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'অবজ্ঞা' - সংস্কৃত 'অব' উপসর্গযোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৫,২৪৭.
‘চলন্ত ট্রেন’- বাক্যে ‘চলন্ত’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষ্য
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘চলন্ত ট্রেন’- বাক্যে ‘চলন্ত’ বিশেষণ পদের উদাহরণ।

------------------------
• বিশেষণ পদ:

যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ
কোন কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে, সেই অনুযায়ী বিশেষণকে আলাদা করা যায়। বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, সেই বিবেচনায়ও বিশেষণকে ভাগ করা সম্ভব। এছাড়া বাক্যের মধ্যে বিশেষণটির অবস্থান কোথায় তা দিয়েও বিশেষণকে চিহ্নিত করা যায়। এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যথা:

• বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি- এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

• প্রশ্নবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: কেমন গান? কতক্ষণ সময়? এখানে 'কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

• নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে। যেমন: 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

• বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন: ‘লোকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘোলা’- বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘোলা’ বিধেয় বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩-সংস্করণ)।
১৫,২৪৮.
নিচের কোন বাক্যে সংকোচক অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী
  2. খ) তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন
  3. গ) এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার
  4. ঘ) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে
সঠিক উত্তর:
খ) তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন
ব্যাখ্যা
- 'তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন' বাক্যটিতে সংকোচক অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে।

সংযোজক অব্যয়
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 

বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী

সংকোচক অব্যয় - কিন্তু, বরং, অথচ।
সুতরাং, 'তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন ' এ বাক্যে ‘অথচ’ হলো সংকোচক অব্যয়।

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়: যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।
১৫,২৪৯.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন-
  1. দেদীপ্যমাণ
  2. দেদীপ্যমান
  3. দেদিপ্যমাণ
  4. দেদিপ্যমান
সঠিক উত্তর:
দেদীপ্যমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেদীপ্যমান
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে, 
• 'দেদীপ্যমান' বানানটি সঠিক।

• দেদীপ্যমান (বিশেষণ) শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত উজ্জ্বল বা দীপ্তিময় দেখাচ্ছে এমন;
- অতিশয় দীপ্তিশীল;
- জাজ্বল্যমান, 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বানান অভিধান।
১৫,২৫০.
'বাজী' শব্দের অর্থ কী?
  1. প্রতিযোগিতা
  2. পাখি
  3. অশ্ব
  4. খগ
সঠিক উত্তর:
অশ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশ্ব
ব্যাখ্যা
• 'বাজী' শব্দের অর্থ - ঘোড়া, অশ্ব, তির, বাণ।
 
অন্যদিকে,
- 'প্রতিযোগিতা' শব্দের অর্থ - বিরোধিতা, বিপক্ষতা।
- 'পাখি' শব্দের অর্থ - বিহগ, বিহঙ্গ, খগ
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,২৫১.
'ছিন্ন' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ছিদ্ + ক্ত
  2. √ছিন্ + ন
  3. √ছিদ্ + ন
  4. √ছিদ্ + ন্ন
সঠিক উত্তর:
√ছিদ্ + ক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ছিদ্ + ক্ত
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয়:
- ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
- এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।

১৫,২৫২.
'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. মৃগেন্দ্র
  2. অহি
  3. নগজ
  4. বারণ
সঠিক উত্তর:
অহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহি
ব্যাখ্যা
• 'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ।

অন্যান্য শব্দগুলোর প্রতিশব্দ বা সমর্থক শব্দ হলো:
• ‘সিংহ' এর সমার্থক শব্দ: পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, পারীন্দ্র, মৃগরাজ।
• 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ: গজ, দ্বিপ, দ্বিরদ, বারণ, ঐরাবত হস্তী, করী, দন্তী, দন্তাবল, নগজ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,২৫৩.
কর্তৃবাচ্য বাক্যে কর্তার বিভক্তি সাধারণত কী হয়?
  1. পঞ্চমী বিভক্তি
  2. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি
  3. সপ্তমী বিভক্তি
  4. চতুর্থী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।

যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।

যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,২৫৪.
‘ইট–পাথরের দালান’ এখানে ‘ইট–পাথরের’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মে সপ্তমী
  2. খ) কর্তৃকারকে ষষ্ঠী
  3. গ) করণে ষষ্ঠী
  4. ঘ) করণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
গ) করণে ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) করণে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র/সহায়ক উপকরণকে করণ কারক বলা হয়।
এখানে ‘ইট–পাথর’ দিয়ে দালান তৈরি হয় বলে তা করণ কারক।
এর সাথে ‘এর’ বিভক্তি থাকায় এটি করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫,২৫৫.
সৎ পাত্রে কন্যা দান করিও।’ এখানে সৎ পাত্রে কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. কর্তৃকারক
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
- উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাকেই কর্মকারক বলে।
যেমন:
- ‘সৎপাত্রে কন্যা দান করিও।’ - বাক্যেটিকে কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সৎপাত্রে’। অতএব ‘সৎপাত্রে’ কর্ম কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে কন্যাকে স্বত্বত্যাগ করে দান করা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,২৫৬.
'কিস্তিমাত করা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. কুপরামর্শ দেওয়া
  2. সফলতা লাভ
  3. চাটুকার
  4. অন্ধ অনুকরণ
সঠিক উত্তর:
সফলতা লাভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সফলতা লাভ
ব্যাখ্যা
• 'কিস্তিমাত করা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ — 'সফলতা লাভ'।
বাক্য গঠন: সবচেয়ে বড়ো পুরস্কারটা পেয়ে সে একেবারে কিস্তিমাত করেছে। 

অন্য অপশনে, 
• কান ভাঙানো - কুপরামর্শ দেওয়া । 
• খয়ের খাঁ - চাটুকার।
• গড্ডলিকা প্রবাহ - অন্ধ অনুকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,২৫৭.
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনকে কী বলে?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।
এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা,
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা।

⇒ আকাক্ষা: বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা। 

⇒ আসত্তি: মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।

⇒ যােগ্যতা: বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,২৫৮.
বাংলা আদি অধিবাসীগণ কোন ভাষাভাষী ছিলেন?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. হিন্দি
  4. অস্ট্রিক
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
ব্যাখ্যা

জাতিতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর প্রতিটির কোনো না কোনো শাখার আগমন ঘটেছে বাংলায়। নরগোষ্ঠীগুলি হলো নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়।
- মনে করা হয় যে, বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি।

[সূত্র: বাংলাপিডিয়া]

১৫,২৫৯.
কোনটিতে 'স' বর্ণের [শ] উচ্চারণ হয়েছে?
  1. শৃগাল
  2. সালাম
  3. আস্তে
  4. সামান্য
সঠিক উত্তর:
সামান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য
ব্যাখ্যা

শ, ষ, স এর উচ্চারণ: 
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ] উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

১৫,২৬০.
সাধু রীতি বাংলা ভাষার লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে ছিলো কত সময় ব্যাপী?
  1. ক) পঞ্চাশ দশক
  2. খ) একশ দশক
  3. গ) এক শতাব্দী
  4. ঘ) দুই শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুই শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুই শতাব্দী
ব্যাখ্যা
সাধু রীতি
দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই রীতি বাংলা লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে চালু থাকে।

সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর, যেমন ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, - করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া করিলে, করিবার।
(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন – তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৫,২৬১.
'দুস্তর' শব্দের অর্থ কী?
  1. যা সহজে পার হওয়া যায় না
  2. যা সহজে পাওয়া যায় না
  3. যা কোথাও উঁচু কোথাও নিচু
  4. যা পার হওয়া যায় না
সঠিক উত্তর:
যা সহজে পার হওয়া যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যা সহজে পার হওয়া যায় না
ব্যাখ্যা

• 'যা সহজে পার হওয়া যায় না - দুস্তর।

• কিছু গুরুত্বপুর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
- যা কষ্টে নিবারণ করা যায় - দুর্নিবার।
- যা দমন করা কষ্টকর - দুর্দমনীয়।
- যা সহজে পাওয়া যায় না - দুষ্প্রাপ্য।
- যা সহ্য করা যায় না - দুর্বিষহ।
- যা সহজে দমন কর যায় না - দুর্দম।
- যাহাতে সহজে গমন করা যায় না - দুর্গম।
- যা মুছে ফেলা যায় না - দুর্মোচ্য।
- যা কষ্টে জয় করা যায় - দুর্জয়।
- যা সহজে মরে না - দুর্মর।
- যা কষ্টে অর্জন করা যায় - কষ্টার্জিত।
- যা কষ্টে লাভ করা যায় - দুর্লভ।
- যা সহজে অতিক্রম করা যায় না - দুরতিক্রম্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,২৬২.
'অনু' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ফারসি উপসর্গ
  2. বাংলা উপসর্গ
  3. তৎসম উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
তৎসম উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ মোট ২০টি।
যথা-
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অনু' উপসর্গের ব্যবহার:
• পশ্চাৎ অর্থে- অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
• সাদৃশ্য অর্থে- অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
• পৌনঃপুন অর্থে- অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
• সঙ্গে অর্থে- অনুকূল, অনুকম্পা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৫,২৬৩.
'অগ্নি' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. শর্বর
  2. অংশু
  3. ভাস্কর
  4. কৃশানু
সঠিক উত্তর:
কৃশানু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃশানু
ব্যাখ্যা

• ‘অগ্নি’ এর প্রতিশব্দ:
- অনল,
- পাবক,
- আগুন,
- বিশ্বপা,
- সর্বভুক,
- পাবক,
- কৃশানু,
- জগন্নু প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• অন্ধকার এর প্রতিশব্দ: আঁধার, আঁধারি, তিমির, তমিস্র, তম, শর্বর, নভাক প্রভৃতি।
• আলো এর সমার্থক শব্দ - প্রভা, জ্যোতি, আভা, ভাতি, অংশু,জেল্লা, জৌলুস।
• ‘সূর্য’ শব্দের প্রতিশব্দ: রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,২৬৪.
‘প, ভ’ কোন ধরনের স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন?
  1. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  2. দন্ত স্পৃষ্ট
  3. কণ্ঠ স্পৃষ্ট
  4. মূর্ধা স্পৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি। 

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি,  নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৫,২৬৫.
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান নয় কোনটি?
  1. মূর্ধা
  2. তালু
  3. কণ্ঠনালীয়
  4. ওষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠনালীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠনালীয়
ব্যাখ্যা
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান নয় - কণ্ঠনালীয়। 

⇒ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি। 

- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা :
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,২৬৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. গর্ভস্ত
  2. বিন্যস্ত
  3. দ্বারস্ত
  4. মনস্ত
সঠিক উত্তর:
বিন্যস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিন্যস্ত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- বিন্যস্ত। 

-------------------------
• স্ত আর স্থ-য়ে গন্ডগোল:

স্ত /স্থ সংক্রান্ত বানান ভুল এড়াবার একটা উপায় আছে। যেসব শব্দে স্থ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলেও অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে। কিন্তু স্ত দিয়ে যেসব শব্দ পাচ্ছি সেখানে স্ত বাদ দিলে অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে না।

উদাহরণগুলো লক্ষ করি:
• স্ত: অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, গ্রস্ত (যেমন: বিপদগ্রস্ত) ত্রস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত, বিধ্বস্ত, বিন্যস্ত, বিপর্যস্ত, বিশ্বস্ত, ব্যতিব্যস্ত, সন্ত্রস্ত সমস্ত, স্বস্তি।

• স্থ: অন্তঃস্থ, অবস্থা, অভ্যন্তরস্থ, কণ্ঠস্থ, গর্ভস্থ, গৃহস্থ, তটস্থ, দুস্থ, দ্বারস্থ, ভূগর্ভস্থ, মধ্যস্থতা, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, সুস্থ।

উল্লেখ্য, 'অধীনস্থ' ব্যাকরণসম্মত নয় বটে, কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র প্রচলিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৫,২৬৭.
কোন বাক্যে অনন্বয়ী অব্যয় এর প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) তাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
  2. খ) তুমি ভালো ছাত্র তাই তোমাকে সবাই ভালোবাসে।
  3. গ) বৃষ্টি পড়ে ঝমঝম
  4. ঘ) উঃ বড্ড লেগেছে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) উঃ বড্ড লেগেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উঃ বড্ড লেগেছে।
ব্যাখ্যা
‘উঃ বড্ড লেগেছে’ বাক্যটিতে যন্ত্রণা প্রকাশে অনন্বয়ী অব্যয় এর প্রয়োগ ঘটেছে। যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। [সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই]
১৫,২৬৮.
নৃপতি
  1. রাজা
  2. স্বামী
  3. নাপিত
  4. মাতবর
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা
ব্যাখ্যা
• নৃপতি (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ভূপতি,
- নরপতি,
- নরেশ,
- রাজা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,২৬৯.
সত্য বই মিথ্যে বলবো না। এখানে 'বই'-
  1. প্রত্যয়
  2. অনুসর্গ
  3. উপসর্গ
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- বিনা, তরে,দ্বারা, দিয়ে, বই, পানে, নামে, মত, কাছে, ধরে, নিয়োগ ইত্যাদি।

- সত্য বই মিথ্যে বলবো না।
- মন দিয়ে লেখাপড়া করো।
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,২৭০.
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন-  
  1. দাঁড়ি
  2. প্রশ্নচিহ্ন
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিরামচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট ও ঠিকভাবে প্রকাশ করতে বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- মুখের কথা লিখিত রূপে উপস্থাপন করার সময় কম-বেশি থামা বা বিরতি বোঝাতে এবং বক্তব্যকে পরিষ্কার করতে এগুলো ব্যবহৃত হয়।
- বিরামচিহ্নকে কখনও যতিচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
- বাক্যের মধ্যে অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বিরামচিহ্ন দুই ভাগে ভাগ করা যায়—
১. প্রান্তিক বিরামচিহ্ন;
২. বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।

• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
- এ ধরনের চিহ্ন সাধারণত বাক্যের শেষে বসে।
- যেমন—দাঁড়ি (।), প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?), বিস্ময়বোধক চিহ্ন (!)।

• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- এই চিহ্নগুলো বাক্যের মাঝে বা বাক্যের অন্যান্য স্থানে বসে।
- যেমন—কমা (,), কোলন (:), সেমিকোলন (;), ড্যাশ (—), হাইফেন (-) ইত্যাদি।
- এই চিহ্নগুলো বাক্যের গঠন ও অর্থের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৫,২৭১.
নিচের কোন বাক্যে বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা করো।
  2. কাউকে তিরস্কার করবে না।
  3. পুরষ্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।
  4. সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
সঠিক উত্তর:
পুরষ্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরষ্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: পুরষ্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: পুরস্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।

• নিয়ম:
⇒ বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।
⇒ তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৭২.
কোনটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ নয়?
  1. ঝলক
  2. মোড়ক
  3. ডুবন্ত
  4. শ্রবণ
সঠিক উত্তর:
শ্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রবণ
ব্যাখ্যা

• কিছু বাংলা কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ হচ্ছেঃ
- কাঁদন,
- দোলন,
- ভাসানো,
- ডুবন্ত,
- উড়ন্ত,
- মোড়ক,
- ঝলক,
- শুনানি,
- ডুবুরী,
- ঘাটতি,
- কান্না,
- রান্না ইত্যাদি।
• অপরদিকে, শ্রবণ হচ্ছে সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
যেমন- √শ্রু + অনট্ = শ্রবণ।

১৫,২৭৩.
নিচের কোনটি তাড়নজাত ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

•  তাড়নজাত ধ্বনি - ড়।

• জিভের ডগার উল্টো পিঠ দিয়ে দাঁতের গোড়ায় দ্রুত আঘাত করে যে ধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়, তাদের তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি বা তাড়নজাত ধ্বনি বলা হয়। ড়, ঢ়- দুটি তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি বা তাড়নজাত ধ্বনি।
- 'র' কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনি।
- 'স' উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি।
- 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৫,২৭৪.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) √নি + অন = নয়ন
  2. খ) √স্থ + অন = স্থান
  3. গ) √শু + অন = শ্রবণ
  4. ঘ) √কৃ + অন = করণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) √কৃ + অন = করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) √কৃ + অন = করণ
ব্যাখ্যা

'করণ' হলো সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ৷ এর প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো √কৃ + অন = করণ
অন–প্রত্যয় যোগে আরো কিছু সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ হলো-
- √নী + অন = নয়ন
- √স্থা + অন = স্থান
- √শ্রু + অন = শ্রবণ
- √দৃশ্ + অন = দর্শন
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১৫,২৭৫.
‘কারখানা’ শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. ফারসি
  2. সংস্কৃত
  3. খাঁটি বাংলা
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কারখানা’ শব্দটি ফারসি উপসর্গ ‘কার’ যোগে গঠিত

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,২৭৬.
কোনটি জটিল বাক্যের উদাহরণ?
  1. উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
  2. যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
  3. বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
  4. দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
সঠিক উত্তর:
যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
ব্যাখ্যা

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। 

যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য - বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ। উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
সরল বাক্য - দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,২৭৭.
কোন ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়?
  1. মিশ্র রীতি
  2. সাধু রীতি
  3. চলিত রীতি
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
• চলিত ভাষা সর্বজনগ্রাহ্য মার্জিত ও গতিশীল ভাষা। তাই এটি মানুষের কথাবার্তা ও লেখার ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল।
• এ ভাষারীতি ব্যাকরণের প্রাচীন নিয়মকানুন দিয়ে সর্বদা ব্যাখ্যা করা যায় না।
• চলিত ভাষারীতিতে অপেক্ষাকৃত সহজ-সরল শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এটি বেশ সাবলীল, চটুল ও জীবন্ত।
• বলার ও লেখার ভাষা বলেই এ ভাষা বক্তৃতা,ভাষণ, নাটকের সংলাপ ও সামাজিক আলাপ-আলোচনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
• চলিত ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি বোর্ড বই (২০২৫ সালের সংস্কার)।
১৫,২৭৮.
'ত্বরান্বিত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ত্বরা + অন্বিত 
  2. ত্বরণ + ইত
  3. ত্বরা + আন্বিত
  4. ত্বরা + ন্বিত
  5. ত্বর + আন্বিত
সঠিক উত্তর:
ত্বরা + অন্বিত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বরা + অন্বিত 
ব্যাখ্যা

'ত্বরান্বিত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ ত্বরা + অন্বিত।

সূত্র:

প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির যোগে আ-ধ্বনি হয়।
- বানানে তা আ-কার রূপে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
- নব + অন্ন = নবান্ন,
- স্ব+ অধীন = স্বাধীন,
- সর্বস্ব + অন্ত = সর্বস্বান্ত,
- সূর্য + অস্ত = সূর্যাস্ত,
- সিংহ + আসন = সিংহাসন,
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ,
- হত + আশ = হতাশ, 
- মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ,
- আশা + অতীত = আশাতীত,
- যথা + অযথ = যথাযথ,
- ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত।
- মহা + আশয় = মহাশয়,
- কারা + আগার = কারাগার,
- ব্যথা + আতুর = ব্যথাতুর।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৫,২৭৯.
বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. বর্ণালী
  2. খেয়ালি
  3. মিতালি
  4. সোনালি
সঠিক উত্তর:
বর্ণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণালী
ব্যাখ্যা
• বানানের নিয়ম অনুসারে অশুদ্ধ বানান: বর্ণালী।
• এর শুদ্ধরূপ: বর্ণালি।

• বানানের নিয়ম:
আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন- সোনালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, রুপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

[ তবে ‘সোনালী ব্যাংক’ এর (সোনালী) বানানটি ব্যাংক কর্তৃক এভাবেই নিবন্ধিত। তাই সোনালী ব্যাংক লিখতে সোনালী শব্দটিই ব্যবহৃত হবে। যদিও বানানের নিয়ম অনুসারে (সোনালী) শব্দের শুদ্ধ বানান সোনালি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,২৮০.
'তৃতীয় প্রজন্ম' শব্দজোড়ের 'তৃতীয়' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. ক) পূরণবাচক
  2. খ) গুণবাচক
  3. গ) পরিমাণবাচক
  4. ঘ) ক্রমবাচক
সঠিক উত্তর:
ক) পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষণ ও বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ: যে শব্দ দিয়ে বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বােঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন – সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

পূরণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বােঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে তৃতীয় ও ৩৪তম পূরণবাচক বিশেষণ।

গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বােঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- আধা কেজি চাল, অনেক লােক – এখানে আধা কেজি’ ও ‘অনেক পরিমাণবাচক বিশেষণ।

ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বােঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এক টাকা, আট দিন – এখানে ‘এক’ ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৫,২৮১.
কোনটি পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।
  2. আমাদের কাজের পরিকল্পনা চলছে।
  3. এতক্ষণ আমি বই পড়েছি।
  4. তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
সঠিক উত্তর:
এতক্ষণ আমি বই পড়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতক্ষণ আমি বই পড়েছি।
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ হচ্ছে 'এতক্ষণ আমি বই পড়েছি।'

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।

অন্যদিকে, 
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে =সাধারণ বর্তমান।
- আমাদের কাজের পরিকল্পনা চলছে। = ঘটমান বর্তমান।
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো = অনুজ্ঞা বর্তমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৫,২৮২.
'অগস্ত্য যাত্রা' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. মারা যাওয়া
  2. চিরদিনের জন্য প্রস্থান
  3. অবতীর্ণ হওয়া
  4. ভীষণ বিপদে পড়া
সঠিক উত্তর:
চিরদিনের জন্য প্রস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরদিনের জন্য প্রস্থান
ব্যাখ্যা
• 'অগস্ত্য যাত্রা' অর্থ - চিরদিনের জন্য প্রস্থান। 
বাক্য: ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে সে গ্রাম থেকে অগস্ত্য যাত্রা করেছে।

অন্যদিকে, 
• 'অক্কা পাওয়া' অর্থ - মারা যাওয়া। 
বাক্য: কম বয়সেই লোকটি অক্কা পেল।

• 'অথৈ জলে পড়া' অর্থ - ভীষণ বিপদে পড়া। 
বাক্য: গভীর নদীতে জমিজমা হারিয়ে লোকটি এখন অথৈ জলে পড়েছে।

• 'আসরে নামা' অর্থ - অবতীর্ণ হওয়া।
বাক্য: আজাহার সাহেব এবার সুযোগ বুঝে রাজনীতির আসরে নেমে পড়েছেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,২৮৩.
"দিবানিদ্রা" শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যেমন:
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা
এরূপ বাকপটু, গোলাভরা, তালকানা, অকালমৃত্যু, বিশ্ববিখ্যাত, ভোজনপটু, দানবীর, বাক্সবন্দি, বস্তাপচা, রাতকানা, মনমরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,২৮৪.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) ঊর্ধ্ব
  2. খ) ঊহ্য
  3. গ) ঊষর
  4. ঘ) ঊর্মি
সঠিক উত্তর:
খ) ঊহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঊহ্য
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান = ঊহ্য 

শুদ্ধ বানান = উহ্য
উহ্য (উজ্‌ঝোমান্‌):
- বিশেষণ
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয়  √বহ্‌+মান
অর্থ:
- নীত হয়েছে এমন; নীয়মান।
- আকর্ষিত হচ্ছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,২৮৫.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. গােলাপ
  2. ঘােড়া
  3. ডুবুরি
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
ডুবুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডুবুরি
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা যোয় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,২৮৬.
"পােড়াকপাল" কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে বংহ (বুদ্ধি) +উ = বহু; বৃহ +ই = ব্রীহি।
- এর অর্থ বহু ধান আছে যার এমন লােককে বােঝানাে হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে এটি সমাসরূপে পরিচিত।
- বহুব্রীহি সমাসের সংজ্ঞায় বলা হয়, যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, তাই বহুব্রীহি সমাস।
যেমন- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপাল।
এখানে কপাল আক্ষরিক অর্থে আগুনে পুড়ে গেছে এমন কাউকে না বুঝিয়ে মন্দভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫,২৮৭.
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
  2. খ) গোয়ালে গরু আছে
  3. গ) সৎপাত্রে কন্যা দান কর
  4. ঘ) পরাজয়ে ডরে না বীর
সঠিক উত্তর:
খ) গোয়ালে গরু আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোয়ালে গরু আছে
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।
----------------------------------------
• 'গোয়ালে গরু আছে' - বাক্যে অধিকরণ কারকে 'সপ্তমী' বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
এই বাক্যে 'গোয়ালে' শব্দ দ্বারা স্থানকে বুঝায় এবং এতে সপ্তমী বিভক্তি (এ) আছে।
তাই এটিই অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।  
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,২৮৮.
নিম্নের কোনটি ভিন্নার্থক?
  1. ক) মহীধর
  2. খ) ধরাধর
  3. গ) ক্ষিতিধর
  4. ঘ) পয়োধর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পয়োধর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পয়োধর
ব্যাখ্যা
'পয়োধর' = 'মেঘ' এর সমার্থক। 
'মহীধর' 'ধরাধর' 'ক্ষিতিধর' = 'পর্বত' এর সমার্থক 
 
• 'পর্বত' শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ:  গিরি, শৈল, পাহাড়, অর্দ্রি, ভূধর, নগ, অচল, ,মোদিনীধর, অবনীধর, বসুধাধর ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,২৮৯.
‘বাবুয়ানা’ কোন প্রকৃতির শব্দ?
  1. রূঢ় শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা
অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:

• যৌগিক শব্দ:
যৌগিক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অর্থাৎ একই রকম।
যেমন:
- বাংলা ‘মিতালি’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘মিতার ভাব, বন্ধুত্ব’ (মিতা শব্দের পরে ‘ভাব’ অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আলি’ যোগে ‘মিতালি’ শব্দটি গঠিত হয়েছে ) এবং শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ ‘মিতালি’ শব্দটির  ব্যুৎপত্তিগত অর্থ  ও ব্যবহারিক অর্থ একই। ফলে ‘মিতালি’ বাংলাতে যৌগিক শব্দ।

এরূপ শব্দ হলো: গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা ইত্যাদি।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।
যেমন: গবেষণা, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, জেঠামি, বাঁশি ইত্যাদি ।

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,২৯০.
'দুর্মতি' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. সৎপ্রবৃত্তি
  2. শিষ্ট
  3. কুবুদ্ধি
  4. বিপথ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সৎপ্রবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎপ্রবৃত্তি
ব্যাখ্যা
• 'দুর্মতি' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সৎপ্রবৃত্তি

উল্লেখ্য,
'দুর্মতি' শব্দের অর্থ - অসৎ মনোভাব; মন্দবুদ্ধি, কুবুদ্ধি
'সুমতি' শব্দের অর্থ - উত্তম বা সবুদ্ধি, সদিচ্ছা, সৎপ্রবৃত্তি, দয়া।

অন্যদিকে,
পথ - বিপথ।
দুষ্ট - শিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,২৯১.
বাংলা লিপির উদ্ভব ব্রাহ্মী লিপির কোন শাখা থেকে?
  1. ব্রাহ্মী লিপি
  2. পূর্বী লিপি
  3. পশ্চিমা লিপি
  4. মধ্যভারতীয় লিপি
সঠিক উত্তর:
পূর্বী লিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বী লিপি
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপির উদ্ভব ঘটেছে উত্তর ভারতীয় ব্রাহ্মী (Northern Class of Brahmi) থেকে। উত্তরভারতীয় ব্রাহ্মী কালক্রমে বিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট দু’টি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে - একটি পশ্চিমীধারা, অপরটি পূর্বীধারা। এ পূর্বীধারা থেকেই বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে। 
⇒ ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে।
যথা:
- সারদা,
- নাগর ও
- কুটিল।

• ব্রাহ্মী লিপির কুটিল রূপ থেকে বাংলা এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৯২.
নিচের কোনটি প্রমিত বানান?
  1. বৈচিত্র
  2. স্বয়ম্বর
  3. কর্ণেল
  4. বৈদগ্ধ্য
সঠিক উত্তর:
বৈদগ্ধ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদগ্ধ্য
ব্যাখ্যা

•  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = বৈদগ্ধ্য।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ: 
- রসিকতা, রসবোধ, দক্ষতা।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ = কর্ণেল;
• শুদ্ধ = কর্নেল;

• অশুদ্ধ = স্বয়ম্বর;
• শুদ্ধ = স্বয়ংবর;

• অশুদ্ধ = বৈচিত্র;
• শুদ্ধ = বৈচিত্র্য;

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫,২৯৩.
'কৃশ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. সুন্দর
  2. স্থূল
  3. চঞ্চল 
  4. বিলম্ব
সঠিক উত্তর:
স্থূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থূল
ব্যাখ্যা

• 'কৃশ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - স্থূল।

অন্যদিকে,
- 'সুন্দর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অসুন্দর।
- 'চঞ্চল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - স্থির।
- ‘ত্বরা’ শব্দের বিপরীতার্থ শব্দ - বিলম্ব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,২৯৪.
"বাবা ঘুমাচ্ছেন।" - এখানে, 'ঘুমাচ্ছেন' শব্দটিতে কোন শ্রেণির ধাতু রয়েছে?
  1. প্রযোজক ধাতু
  2. নাম ধাতু
  3. প্রযোজ্য ধাতু
  4. অজ্ঞাতমূল ধাতু
সঠিক উত্তর:
নাম ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম ধাতু
ব্যাখ্যা

নাম ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকার অব্যয়ের পরে আ-প্রত্যয়যোগে গঠিত ধাতুকে নাম ধাতু বলে।
যেমন:
→ ঘুম্ + আ = ঘুমা: বাবা ঘুমাচ্ছেন। (এখানে, ঘুম্ - নাম ধাতু)
→ ধমক্ + আ = ধমকা: আমাকে যতই ধমকাও, আমি এ কাজ করব না।
→ হাত্ + আ = হাতা: অন্যের পকেট হাতানো আমার স্বভাব নয়।

প্রযোজক ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর পরে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) আ-প্রত্যয়যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু বলে। যেমন:
→ পড়ু + আ = পড়া: শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন।
→ কর্ + আ = করা: সে নিজে করে না, অন্যকে দিয়ে করায়।
→ খেল্ + আ = খেলা: 'হা ডু ডু' আমাদের জাতীয় খেলা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,২৯৫.
Question (21-35): Choose the correct answer
২১) সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি কোনটি?
  1. ক) ধনী-গরিব
  2. খ) টাকা-পয়সা
  3. গ) লেন-দেন
  4. ঘ) দেনা-পাওনা
সঠিক উত্তর:
খ) টাকা-পয়সা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টাকা-পয়সা
ব্যাখ্যা

সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্ত শব্দ টাকা-পয়সা।
অন্যদিকে, ধনী-গরিব, লেন-দেন, দেনা-পাওনা বিপরিতার্থক দ্বিরুক্ত শব্দ।

উৎসঃ‌ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫,২৯৬.
'সঞ্চয়' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অনর্থ
  2. অবনত
  3. ব্যয়
  4. নির্ধন
সঠিক উত্তর:
ব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'সঞ্চয়' এক বিপরীতার্থক শব্দ- ব্যয়। 

অন্যদিকে, 
• অর্থ - অনর্থ। 
• উন্নত - অবনত, অনুন্নত। 
• ধনী - নির্ধন, দরিদ্র। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৫,২৯৭.
‘বসুন্ধরা' শব্দটির প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. ক) পর্বত
  2. খ) মাতা
  3. গ) সমুদ্র
  4. ঘ) পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
ঘ) পৃথিবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পৃথিবী
ব্যাখ্যা
'বসুন্ধরা' শব্দের সঠিক প্রতিশব্দ - পৃথিবী।

পৃথিবী এর সমার্থক শব্দ: ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুন্ধরা, বসুধা, অবনি, ক্ষিতি, মহী, অখিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৯৮.
স্পৃষ্ট ব্যাঞ্জনধ্বনি কোনটি?
  1. ক) ঞ
  2. খ) ণ
  3. গ) য
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

যেসব ব্যাঞ্জনধ্বনির উচ্চারণে জিভ মুখের ভেতরে কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দন্ত, ওষ্ঠ প্রভৃতি কোনো না কোনো স্থানে স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়, তাদেরকে স্পর্শব্যঞ্জন বা স্পৃষ্ট ব্যাঞ্জন ধ্বনি বলে৷
ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি বর্ণকে স্পর্শব্যঞ্জন বা স্পৃষ্ট ব্যাঞ্জন ধ্বনি বলে৷
যথা- ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, , ট, ঠ, ড, ঢ, , ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম।
য, র, ল, ব হলো অন্তঃস্থ ধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১৫,২৯৯.
‘জীবন’ শব্দের বিশেষণ রূপ কি?
  1. ক) জীবনী
  2. খ) জীবাণু
  3. গ) জীবিকা
  4. ঘ) যৌবন
সঠিক উত্তর:
ক) জীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জীবনী
ব্যাখ্যা
জীবন বিশেষ্যের বিশেষণ ‘জীবনী’ । জীবাণু, জীবিকা- বিশেষ্য। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৩০০.
শিশু প্রথম যে ভাষা শিখে তাকে কি বলে?
  1. আঞ্চলিক ভাষা
  2. উপরের সবগুলো
  3. মাতৃভাষা
  4. প্রথম ভাষা
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

মাতৃভাষা:
 - মানুষ জন্মের পর সাধারণত প্রথমে তার মায়ের কাছে প্রতিপালিত হয়, তারই কথা শেখে। তাই জন্মলগ্ন থেকে স্বাভাবিকভাবে মানুষ নিজের মায়ের কাছে যে-ভাষাটি শিক্ষা পায়, তাকেই তার 'মাতৃভাষা' বলে। এটি একটি ধারণার প্রকাশমাত্র। তাই যে শিশুর মা তার জন্ম-মুহূর্তেই মৃত্যুবরণ করে, সেই শিশু যখন বড় হয়, সে পিতা বা অন্য কোনো অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে বড় হলেও তার মুখের সাধারণ ভাষাকে 'মাতৃভাষা'ই বলে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ জন্মের পর মায়ের কোলে এবং মায়ের বাংলা বোলে বড় হয়। বাঙালি মায়ের এই বুলি বাংলা। তাই বাঙালি জাতির মাতৃভাষা বাংলা।

অপশন বিশ্লেষণ: 
• মানুষ জন্মের পর সাধারণত প্রথমে তার মায়ের কাছে প্রতিপালিত হয়, তারই কথা শেখে। তাই জন্মলগ্ন থেকে স্বাভাবিকভাবে মানুষ নিজের মায়ের কাছে যে-ভাষাটি শিক্ষা পায়, তাকেই তার 'মাতৃভাষা' বলে। শিশু জন্মের পর পরিবেশ থেকে যে প্রথম ভাষা রপ্ত করে, তাকে মাতৃভাষা (Mother tongue) বা প্রথম ভাষা (First language) বলা হয়।

• "আঞ্চলিক ভাষা" বলতে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার ভাষা বোঝায়, যা শিশুর প্রথম ভাষা হতে পারে আবার নাও হতে পারে।

• যেহেতু মাতৃভাষা এবং প্রথম ভাষা প্রায় সমার্থক, এবং প্রশ্নে একটি সঠিক উত্তর চাইলে সাধারণত "মাতৃভাষা" বা "প্রথম ভাষা" গ্রহণযোগ্য।

• তবে এখানে অপশন খ) উপরের সবগুলো সঠিক দেওয়া আছে। তাই, উত্তর হিসেবে- অপশন খ) নেওয়া হলো। কিন্তু লক্ষ্য করুন, "প্রথম ভাষা"ও সঠিক, তবে বাংলা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে "মাতৃভাষা"ই প্রমিত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; ষষ্ট শ্রেণি।