বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৫২ / ৩৫৪ · ১৫,১০১১৫,২০০ / ৩৫,৭১৩

১৫,১০১.
বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি কোনটি?
  1. ক) ব্রাহ্মী লিপি
  2. খ) বাংলা লিপি
  3. গ) খরষ্ঠী লিপি
  4. ঘ) বোড়ো লিপি
সঠিক উত্তর:
খ) বাংলা লিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাংলা লিপি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার নিজেস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি
• বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি- স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

⇒ প্রায় আড়াই বছর আগে উপমহদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়। ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির পরিবর্তিত রূপ। অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুর প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে রেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হত।


উৎষ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১৫,১০২.
'কথাসর্বস্ব' শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৫,১০৩.
শব্দের মৌলিক একক কী?
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) বর্ণ
  3. গ) ধাতু
  4. ঘ) অক্ষর
সঠিক উত্তর:
খ) বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বর্ণ
ব্যাখ্যা
ধ্বনি আর বর্ণ এক নয়। ধ্বনি আমরা মুখে উচ্চারণ করি এবং কানে শুনি, কিন্তু চোখে দেখি না৷ আর বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ৷
শব্দের ক্ষুদ্রতম একক হলো ধ্বনি এবং মৌলিক একক হলো বর্ণ৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
১৫,১০৪.
"উৎপীড়ন" শব্দে উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অপকর্ষ
  2. প্রস্তুতি
  3. ঊর্ধ্বমুখিতা
  4. আতিশয্য
সঠিক উত্তর:
আতিশয্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আতিশয্য
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে  'উৎ' উপসর্গটির ব্যবহার: 
ঊর্ধ্বমুখিতা অর্থে = উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
আতিশয্য অর্থে = উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন
প্রস্তুতি অর্থে = উৎপাদন, উচ্চারণ।
অপকর্ষ অর্থে = উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

তৎসম উপসর্গ: 
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,১০৫.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. মধুর
  2. মহাযাত্রা
  3. গায়ক
  4. জ্যাঠামি
সঠিক উত্তর:
জ্যাঠামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যাঠামি
ব্যাখ্যা
• 'জ্যাঠামি'- রূঢ়ি শব্দ।

• রূঢ়ি শব্দ: 
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।
 
যৌগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।
 
উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,১০৬.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. কণ্টক + ইত = কণ্টকিত
  2. ফেন + ইন্‌ = ফনিল
  3. থাল + আলা = থালা
  4. বিবি + য়ানা = বিবিয়ানা
সঠিক উত্তর:
কণ্টক + ইত = কণ্টকিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্টক + ইত = কণ্টকিত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত। 

---------------
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,১০৭.
'রাজায় রাজায় লড়াই' - এ বাক্যে রাজায় রাজায় কী জাতীয় কর্তা?
  1. মুখ্য
  2. প্রযোজ্য
  3. প্রযোজক
  4. ব্যতিহার
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার
ব্যাখ্যা

ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন: 
- রাজায়-রাজায় লড়াই।
- বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

অন্যদিকে, 
প্রযোজ্য কর্তা: 
- যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন: 
- মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন’ প্রযোজক ক্রিয়া।
 
প্রযোজক কর্তা: 
- মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন - শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
 
মুখ্য কর্তা:
- যে বা যারা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বোঝায়।
যেমন:
- শৈলি রান্না করছে।
- কৃষকেরা ফসল কাটছে।
এখানে 'শৈলি' ও 'কৃষকেরা' হচ্ছে মুখ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,১০৮.
'সীমন্ত' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সীম + অত
  2. সীমন + অত
  3. সীমন + অন্ত
  4. সী + অমন্ত
সঠিক উত্তর:
সীমন + অত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমন + অত
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- কুল + অটা = কুলটা,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,১০৯.
কোনটি কণ্ঠ্যতালব্য ধ্বনির  উদাহরণ?
  1. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
কণ্ঠ্যতালব্য ধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান কণ্ঠ এবং তালু উভয়ই, তাদের কণ্ঠ্যতালব্যধ্বনি বলে। এ, কণ্ঠ্যতালব্য ধ্বনি।

অন্যদিকে,
কণ্ঠৌষ্ঠ্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান কণ্ঠ ও ওষ্ঠ, তাদের কণ্ঠৌষ্ঠ্যধ্বনি বলে। , কণ্ঠৌষ্ঠ্যধ্বনি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৫,১১০.
নিখুঁত শব্দটির 'নি' উপসর্গটি কোন প্রকার?
  1. ক) অর্ধতৎসম
  2. খ) বিদেশী
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) খাঁটি বাংলা
সঠিক উত্তর:
ঘ) খাঁটি বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা

নিখুঁত, নিখোঁজ, নিলাজ, নিভাঁজ, নিরেট শব্দের "নি" উপসর্গটি খাটি বাংলা উপসর্গ।
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

১৫,১১১.
"সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য 
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন( ;), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন-
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।
- বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১৫,১১২.
‘ধানখেত’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ধানের খেত = ধানখেত, ‍
- ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

------------------------------
অন্যদিকে,
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা;
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,১১৩.
'আমি আছি, ভয় কেন মা করো'-কোন ধরণের উক্তি?
  1. পরোক্ষ
  2. প্রশ্নবোধক
  3. প্রত্যক্ষ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রত্যক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যক্ষ
ব্যাখ্যা

উক্তি: বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

পরোক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
যেমন: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

প্রদত্ত 'আমি আছি, ভয় কেন মা করো? উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত হয়েছে। সুতরাং এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১৫,১১৪.
Like priest , Like pupil এর বাংলা প্রবচন কোনটি?
  1. ক) যেমন কর্ম, তেমন ফল
  2. খ) যেমন গাওয়া, তেমন পাওয়া
  3. গ) যেমন গুরু, তেমন চেলা
  4. ঘ) যেমন কুকুর, তেমন মুগুর
সঠিক উত্তর:
গ) যেমন গুরু, তেমন চেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যেমন গুরু, তেমন চেলা
ব্যাখ্যা
কোন ব্যখ্যা যোগ করা হয়নি
১৫,১১৫.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
  2. খ) ইহার আবশ্যকতা নাই।
  3. গ) রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
ব্যাখ্যা
“বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ” - বাক্যটি অশুদ্ধ । 

• বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল করা হয় । 

যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয় ।
যেমন -
অশুদ্ধ - বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ
শুদ্ধ - বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ ।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,১১৬.
কোনটি বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় নয়?
  1. √পড়্‌ + অ = পড়
  2. √কাঁদ্ + অন = কাঁদন
  3. √কৃ + তব্য = কর্তব্য
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
√কৃ + তব্য = কর্তব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√কৃ + তব্য = কর্তব্য
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অ:
- √কাঁদ্ + অ = কাঁদ,
- √ধর্ + অ = ধর,
- √চল্ + অ = চল,
- √পড়্‌ + অ = পড়

অন> ওন:
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √ কাঁদ্ + অন = কাঁদন
 
অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অ(অচ্)
√পট্ + অ = পাঠ,
√জি + অ = জয়,
√কৃ + তব্য = কর্তব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৫,১১৭.
‘শ্রবণ' শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. শ্রবণ+অ
  2. √শ্রী + অন
  3. √শ্ৰু + অন
  4. √শ্রব + অন
সঠিক উত্তর:
√শ্ৰু + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√শ্ৰু + অন
ব্যাখ্যা
শ্রবণ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √শ্রু+অন
অর্থ: 
- শোনার কাজ, শুনন;
- শ্রবণেন্দ্রিয়, কান। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
১৫,১১৮.
“তারা যদিও কথা কয় না, কিন্তু বলাই সমস্ত কথাই যেন জানে।”- বাক্যটির যৌগিকরূপ কোনটি?
  1. তারা কথা না বললেও, কিন্তু বলাই সমস্ত কথাই যেন জানে।
  2. যদিও তারা কথা কয় না, তবে বলাই সমস্ত কথাই যেন জানে।
  3. তারা কথা না কইলেও, বরং বলাই সমস্ত কথাই যেন জানে।
  4. তারা কথা কয় না, কিন্তু বলাই সমস্তই যেন জানে।
সঠিক উত্তর:
তারা কথা কয় না, কিন্তু বলাই সমস্তই যেন জানে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারা কথা কয় না, কিন্তু বলাই সমস্তই যেন জানে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
• জটিল বাক্য: তারা যদিও কথা কয় না, কিন্তু বলাই সমস্ত কথাই যেন জানে।
• যৌগিক বাক্য: তারা কথা কয় না, কিন্তু বলাই সমস্তই যেন জানে।

• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল: যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,১১৯.
‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই'- কে বলেছেন?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) রামকৃষ্ণ পরমহংস
  4. ঘ) বিবেকানন্দ
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চন্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।',
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১৫,১২০.
সংস্কৃত প্রয়োগ অনুসারে বাংলা বর্ণমালায় ‘ঋ’ কোন বর্ণের মধ্যে রক্ষিত?
  1. শিশ বর্ণ 
  2. স্বরবর্ণ
  3. উষ্মবর্ণ
  4. ব্যঞ্জন বর্ণ
সঠিক উত্তর:
স্বরবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবর্ণ
ব্যাখ্যা

• মৌলিক স্বর:
যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক স্বর বলে।

বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।
যেমন,
- ই, এ, অ্যা, অ, আ, ও, উ।

- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণ ছয়টি। যথা: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ।
- অর্ধমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণ একটি। যথা: ঋ। (এটি স্বরবর্ণে আছে)
- মাত্রাহীন বর্ণ চারটি। যথা: এ, ঐ, ও, ঔ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,১২১.
নিম্নের কোনটি অর্ধস্বরধ্বনি?
  1. ক) [উ্]
  2. খ) [এঁ]
  3. গ) [অ্যা]
  4. ঘ) [ওঁ]
সঠিক উত্তর:
ক) [উ্]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) [উ্]
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি: বাংলা ভাষায় যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না তাদেরকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চার টি যথা: [ই্], [উ্], [এ্], এবং [ও্]।

অনুনাসিক স্বরধ্বনি: মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়। স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

- মৌলিক স্বরধ্বনি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]
- অনুনাসিক ষ্বরধ্বনি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১৫,১২২.
“সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।” — বাক্যটি যৌগিক হওয়ার কারণ—
  1. এতে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া আছে
  2. এতে অধীন বাক্য রয়েছে
  3. স্বাধীন খণ্ডবাক্য যোজক দিয়ে যুক্ত হয়েছে
  4. এতে সাপেক্ষ যোজক ব্যবহৃত হয়েছে
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন খণ্ডবাক্য যোজক দিয়ে যুক্ত হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন খণ্ডবাক্য যোজক দিয়ে যুক্ত হয়েছে
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

সুতরাং,
সে অনুসারে, “সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।” — বাক্যটি যৌগিক হওয়ার কারণ— স্বাধীন খণ্ডবাক্য যোজক দিয়ে যুক্ত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৫,১২৩.
'গুদাম' কোন ভাষার শব্দ?
  1. পর্তুগিজ
  2. তুর্কি 
  3. ফরাসি
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

• 'গুদাম' - পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।

• কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
- আনারস,
- কামরা,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- জানালা,
- তোয়ালে,
- পাউরুটি,
- পাদ্রি,
- পেঁপে,
- পেয়ারা, 
- বালতি,
- বোতল, 
- বোতাম ইত্যাদি।
 
 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫,১২৪.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. ক) হিতোপদেশ
  2. খ) প্রৌঢ়
  3. গ) কুজ্ঝটিকা
  4. ঘ) মার্তণ্ড
সঠিক উত্তর:
গ) কুজ্ঝটিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুজ্ঝটিকা
ব্যাখ্যা

কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা (ব্যঞ্জন সন্ধি)।

হিত + উপদেশ = হিতোপদেশ (অ + উ; স্বরসন্ধি)।

প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় এবং মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড (নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি)।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৫,১২৫.
‘অবকাশ’ এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) মনোহর 
  2. খ) নিরলস 
  3. গ) সময়
  4. ঘ) অসময়
সঠিক উত্তর:
গ) সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সময়
ব্যাখ্যা
অবকাশ এর সমার্থক শব্দ - সময়, অবসর, ছুটি, ফুরসত, সুযোগ, বিরাম।

অন্যদিকে,
• ‘অপূর্ব‘ এর সমার্থক শব্দ - মনোহর, মনোরম, সুন্দর, অভিনব, অপরূপ ইত্যাদি ।
• ‘অকাল’  এর সমার্থক শব্দ - অসময়, অবেলা, অদিন, দুর্দিন, কুদিন, অযাত্রা, কালবেলা ইত্যাদি ।
• 'অক্লান্ত' এর সমার্থক শব্দ - নিরলস, অদম্য, অনবসন্ন, পরিশ্রমী, অশ্রান্ত, উদ্যমী ।

উৎস:  প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৫,১২৬.
‘সারাদিন খুঁজলাম অথচ বইটা পেলাম না।’ - বাক্যে ‘অথচ’ কোন পদ?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) আবেগ
সঠিক উত্তর:
গ) যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- সারাদিন খুঁজলাম অথচ বইটা পেলাম না।
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।

- যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, অথচ, এবং, নইলে, যেহেতু, অতএব, যদি, যত, তত ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,১২৭.
‘শৈশব’ এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? 
  1. শিশু + ষ্ণ্য
  2. শিশু + জ্ঞ্য
  3. শিশু + ষ্ণ
  4. শৈ + শষ
সঠিক উত্তর:
শিশু + ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশু + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• ‘শৈশব’ এর প্রকৃতি–প্রত্যয়:
- প্রকৃতি: শিশু (নাম প্রকৃতি / ধাতু);
- প্রত্যয়: ষ্ণ– সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
- 'শিশু' শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ‘ষ্ণ' যুক্ত হয়ে ‘শৈশব’ শব্দ গঠিত হয়েছে।
- শৈশব = শিশু + ষ্ণ। 

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: 
- সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়গুলোর মধ্যে ষ্ণ প্রত্যয়টি উল্লেখযোগ্য।
- ‘ষ্ণ’ যোগে গঠিত কিছু শব্দ:
• দানব = দনু + ষ্ণ,
• লাঘব = লঘু + ষ্ণ,
• রাঘব = রঘু + ষ্ণ,
• পার্থ = পৃথ + ষ্ণ,
• গৌরব = গুরু + ষ্ণ,
• সৌজন্য = সুজন + ষ্ণ,
• মানব = মনু + ষ্ণ, 
• যাদব = যদু + ষ্ণ, 
• শৈব = শিব + ষ্ণ, 
• জিন + ষ্ণ = জৈন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৫,১২৮.
নিচের কোনটি অলুক বহুব্রীহি সমাস নয়?
  1. ক) অন্তরীপ
  2. খ) মাথায়পাগড়ি
  3. গ) গলায়গামছা
  4. ঘ) হাতে-ছড়ি
সঠিক উত্তর:
ক) অন্তরীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অন্তরীপ
ব্যাখ্যা

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়৷
যথা - মাথায়পাগড়ি, গলায়গামছা, হাতে - ছড়ি, গায়ে - পড়া, মাথায় - ছাতা ইত্যাদি।
অন্তরীপ, দ্বীপ, নরপশু, জীবন্মৃত, পন্ডিতমূর্খ ইত্যাদি নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি

১৫,১২৯.
ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. ড্যাশ
  3. হাইফেন
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন-চিহ্ন (;):
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন। একাধিক বাক্যের মধ্যে অর্থের নিকট-সম্মন্ধ থাকলে বাক্যগুলোকে একটু বেশি থামার চিহ্ন দিয়ে ভাগ করতে হয়। এর জন্যে সেমিকোলন বসে। সেমিকোলনের বিরামের অনুপাত কমার (,) দ্বিগুণ।

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়-
১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে।

২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-'বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ-স্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে।'

৩. দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-আগে পাঠ্যবই পড়; পরে গল্প-উপন্যাস।

8. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- এবারের নবনিচিত কার্যনির্বাহী পরিষদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন: আকবরউদ্দিন আহমদ, সভাপতি; আফসার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক; চিত্ত বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক; এন্ড্রু গোমেজ, সংস্কৃতি সম্পাদক; ইত্যাদি।

৫. সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন-সে ফেল করেছে; সেজন্যে সে মুখ দেখায় না। মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই পাশ করবে।

৬. যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমন- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।

৭. ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার পেয়েছে; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,১৩০.
চলন্ত শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √চল্ + অ
  2. খ) √চল্ + ন্ত
  3. গ) √চল্ + অনা
  4. ঘ) √চল্ + অন্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) √চল্ + অন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) √চল্ + অন্ত
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে ‘অন্ত’/অন্তি/উন্তি থাকলে ধাতু + অন্ত/অন্তি/উন্তি হবে। সাধিত শব্দটি বা কৃদন্ত পদটি বিশেষণ হবে।

প্রদত্ত শব্দ - প্রকৃতি ও প্রত্যয়
ফুটন্ত = √ফুট্ + অন্ত
ঝুলন্ত = √ঝুল্ + অন্ত
চলন্ত = √চল্ + অন্ত
বাড়ন্ত = √বাড়্ + অন্ত

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৫,১৩১.
Adaptation-এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. অভিযোজিত
  2. অত্যাসক্ত
  3. প্রতিযোজিত
  4. প্রতিযোজন
সঠিক উত্তর:
প্রতিযোজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিযোজন
ব্যাখ্যা
Adaptation-এর বাংলা পরিভাষা- প্রতিযোজন, অভিযোজন।

অন্যদিকে,
Adapted-এর বাংলা পরিভাষা-  অভিযোজিত, প্রতিযোজিত।
Addicted-এর বাংলা পরিভাষা- অত্যাসক্ত।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৫,১৩২.
নিচের কোনটি উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনির উচ্চারণ:
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - , ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, , অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৫,১৩৩.
‘ইচ্ছা’ বিশেষ্যের বিশেষণ কোনটি নির্দেশ করে?
  1. ঐচ্ছিক
  2. ইচ্ছুক
  3. ইচ্ছাময়
  4. সদিচ্ছা
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা
• ইচ্ছা (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- অভিলাষ; স্পৃহা; বাসনা।
- রুচি; প্রবৃত্তি (খাওয়ার ইচ্ছা নাই)।
- অভিপ্রায় (খোদার ইচ্ছায় সব হয়)।

অন্যদিকে,
• ইচ্ছুক (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- অভিলাষী;
- বাসনাযুক্ত
- রাজি;
- সম্মত।

• ঐচ্ছিক ( বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,
- ইচ্ছানুযায়ী,
- ইচ্ছাধীন।

- ঐচ্ছিক এবং ইচ্ছুক দুটিই বিশেষণ পদ।
- কিন্তু এখানে ইচ্ছা- কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ করছে না, বরং একটি বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করছে। তাই এর বিশেষণ হিসেবেও এমন শব্দ চয়ন করা উচিত যেটা কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ না করে একটি বিমূর্ত ধারণাকে প্রকাশ করবে।

• ইচ্ছুক - সাধারণত ব্যক্তিকেই নির্দেশ করে।
• ঐচ্ছিক - বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করে।

সুতরাং, ‘ইচ্ছা’ শব্দের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বিশেষণর পদ হচ্ছে- ঐচ্ছিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,১৩৪.
‘চড়াও’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চর + আও
  2. √চড়া + অও
  3. √চড়া + আও
  4. √চড় + আও
সঠিক উত্তর:
√চড় + আও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√চড় + আও
ব্যাখ্যা
⇒ আও-প্রত্যয়:
ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ‘আও’ প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
- √পাকড় + আও = পাকড়াও।
- √চড় + আও = চড়াও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,১৩৫.
'নাচন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নচ + অন
  2. √নাচ + ওন
  3. √নাচ্‌ + আন 
  4. √নাচ্‌ + অন
সঠিক উত্তর:
√নাচ্‌ + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√নাচ্‌ + অন
ব্যাখ্যা

'নাচন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়- √নাচ্‌ + অন। 
----------------------------- 
• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- বাংলা ভাষায় অনেক নিজস্ব (দেশজ) ধাতু রয়েছে, যেগুলো সংস্কৃত বা তৎসম নয়।
- এই দেশজ ধাতুগুলোর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে, সেগুলোকেই বলা হয় বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।
- কৃৎপ্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় কৃদন্ত শব্দ।
- অর্থাৎ ধাতু + কৃৎপ্রত্যয় = কৃদন্ত শব্দ।

- বাংলা কৃৎপ্রত্যয়ের মধ্যে ‘অন’ প্রত্যয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই প্রত্যয়টি মূলত ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে ব্যবহৃত হয়।
- অর্থাৎ কোনো কাজ বা ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করতে ‘অন’ প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়।

উদাহরণসরূপ—
- √বাঁচ্ + অন → বাঁচন,
- √নাচ্ + অন → নাচন,
- √কাঁদ্ + অন → কাঁদন,
- √বাঁধ্ + অন → বাঁধন,
- √চল্ + অন → চলন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৫,১৩৬.
নিচের কোন শব্দে এ ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ হয়েছে?
  1. মেলা
  2. দেশ
  3. দেহ
  4. মেঘ
সঠিক উত্তর:
মেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলা
ব্যাখ্যা

‘এ' ধ্বনির উচ্চারণ দুই রকম।
যথা,
সংবৃত ও বিবৃত।

• 'এ' যদি 'এ' এর মতো উচ্চারণ হয় সেটাকে স্বাভাবিক বা সংবৃত উচ্চারণ বলে।
যেমন : দেশ, একটি, এলো, দেহ, রেণু, মেঘ ইত্যাদি।

• 'এ' ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ ইংরেজি ক্যাট ও ব্যাট এর মতো।
• 'এ'- ধ্বনির এই বিবৃত উচ্চারণ কেবল শব্দের আদিতেই পাওয়া যায়, শব্দের মধ্যে ও অন্তে পাওয়া যায় না।
• 'তেলাপোকা' শব্দে 'তে' অংশে বিবৃত 'এ' উচ্চারিত হয়।
কারণ,বিবৃত 'এ':
- মুখ বেশি খোলা হয়
উদাহরণ: তেলাপোকা (ত্যালাপোকা), কেন, বেলা, মেলা(ম্যালা)

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা,
- সংবৃত,
- অর্ধ- সংবৃত,
- অর্ধ- বিবৃত,
- বিবৃত
উল্লেখ্য, 
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে;
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)৷

১৫,১৩৭.
‘ব্রহ্মপুত্র’ শব্দটির যুক্তবর্ণের সঠিকরূপ কোনটি?
  1. ম + হ
  2. ক + ষ
  3. হ + ম
  4. ক + ষ + ম
সঠিক উত্তর:
হ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ + ম
ব্যাখ্যা
• ‘ব্রহ্মপুত্র’ শব্দটির যুক্তবর্ণের সঠিকরূপ - হ + ম = হ্ম

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
জ্ঞ = (জ্‌ + ঞ),
ঞ্চ = (ঞ + চ),
ঞ্জ = (ঞ + জ),
ষ্ণ = (ষ্ + ণ)
হু = (হ্ + উ),
হৃ = (হ + ঋ),
হ্ন = (হ্ + ন),
হ্ম = (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৫,১৩৮.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) দেশান্তর
  2. খ) গায়ে হলুদ
  3. গ) নাক
  4. ঘ) অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
গ) নাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাক
ব্যাখ্যা
মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।
১৫,১৩৯.
'পূর্বাহ্ণ' শব্দের সঠিক বিপরীতার্থক কোনটি?
  1. ক) মধ্যাহ্ন
  2. খ) সায়াহ্ন
  3. গ) অপরাহ্ণ
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাহ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাহ্ণ
ব্যাখ্যা
- 'পূর্বাহ্ণ' শব্দের সঠিক বিপরীতার্থক হচ্ছে 'অপরাহ্ণ'।

অন্য অপশনগুলো:
• পূর্বাহ্ণ:
- এর অর্থ হচ্ছে দিবসের প্রথম অর্ধ, পূর্ববর্তী সময়।

• অপরাহ্ণ:
- এর অর্থ মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, বিকেল।

• পরাহ্ণ:
- এর অর্থ হচ্ছে অপরাহ্ণ, বৈকাল।

• সায়াহ্ন:
- এর অর্থ হচ্ছে সন্ধ্যা, সাঁঝ।

উৎসঃ আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৫,১৪০.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে কী বলা হয়?
  1. কারক 
  2. পদ
  3. অক্ষর 
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা

পদ:
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার।
 
যথা - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

কারক:
- ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

অক্ষর:
এর ইংরেজি নাম - syllable.অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।

প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৫,১৪১.
নিচ থেকে হ্রস্বস্বরটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) অ
  2. খ) ও
  3. গ) আ
  4. ঘ) এ
সঠিক উত্তর:
ক) অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ের তারতম্য অনুসারে স্বরধ্বনিগুলােকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। যেমন: ক.হ্রস্বস্বর ও খ. দীর্ঘস্বর।
হ্রস্বস্বরঃ যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে। যেমন: অ, ই, উ, ঋ এই (৪টি হ্রস্বস্বর)
দীর্ঘস্বরঃ যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে, তাদেরকে দীর্ঘস্বর বলে। যেমন: আ,ঈ,ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ এই ৭টি দীর্ঘস্বর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৫,১৪২.
‘প্রত্যাবর্তন' শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ -
  1. প্রতি+বর্তন
  2. প্রতিঃ+বর্তন
  3. প্রতি+আবর্তন
  4. প্রতিঃ+আবর্তন
সঠিক উত্তর:
প্রতি+আবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি+আবর্তন
ব্যাখ্যা
প্রত্যাবর্তন শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ = প্রতি + আবর্তন
 
সুত্র: ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে ‘য বা য () ফলা হয়।
য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
ই + এ = য্‌ + এ  প্রতি + এক = প্রত্যেক।
ই + উ = য + উ  অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
ই + অ= য + অ  অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
ই + আ = য + আ  ইতি + আদি = ইত্যাদি।
ঈ + অ = য + আ  নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।
ঈ + আ = হ্ + আ  মসী + আধার = মস্যাধার ।
 
এরূপ- অভ্যুত্থান, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার, যদ্যপি, আদ্যন্ত, প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,১৪৩.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ক) উপাহার
  2. খ) উপাখ্যান
  3. গ) উল্কাপিন্ড
  4. ঘ) উপার্জন
সঠিক উত্তর:
গ) উল্কাপিন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উল্কাপিন্ড
ব্যাখ্যা
• উল্কাপিন্ড বানানটি অশুদ্ধ।

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
এর শুদ্ধরূপ - উল্কাপিণ্ড।

• উল্কাপিণ্ড (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: উল্কারূপে ভূপৃষ্ঠে পতিত প্রস্তরখণ্ড।

অন্য অপশনগুলো, 
• 'উপাহার'- সংস্কৃত শব্দ- যার অর্থ: অল্প আহার, স্বল্পাহার, জলযোগ। 
• 'উপাখ্যান'- কল্প কাহিনি ,রূপকথা। 
• 'উপার্জন'- কাজের বিনিময়ে টাকা পাওয়া,  আয়।  

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,১৪৪.
ভাষার মূল উপাদান কোনটি?
  1. শব্দ
  2. শব্দাংশ
  3. ধ্বনি
  4. বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• ভাষার মূল উপাদান - 'ধ্বনি'।
- ভাষা হলো বাক্যের সমষ্টি।
- বাক্য গঠিত হয় শব্দ দিয়ে।
- আবার শব্দ তৈরি হয় ধ্বনি দিয়ে।

এদিক থেকে ভাষার ক্ষুদ্রতম বা মূল উপাদান হলো ধ্বনি।

উল্লেখ্য,
- বাক্যের মৌলিক উপাদান/ক্ষুদ্রতম - শব্দ।
- ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ - বাক্য।
- ভাষার মূল উপদান/ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি এবং
- শব্দের ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি।
- শব্দের গঠনগত একক হচ্ছে বর্ণ।
- ভাষার ইট হলো শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ: নবম-দশম শ্রেণী (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,১৪৫.
'আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই।'-কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. আশ্রিত
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।

এরূপ-
“আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই।”- এটি একটি সরল বাক্য। 

কারণ, এই বাক্যে একটি মাত্র 'উদ্দেশ্য' (আমার সোনার বাংলা) এবং একটি মাত্র 'বিধেয়' (বৈষম্যের ঠাঁই নাই) থাকায় এটি সরল বাক্যের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,১৪৬.
'সাহিত্যসভা' - শব্দটি কোন কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান 
  2. রূপক
  3. মধ্যপদলােপী 
  4. উপমিত 
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলােপী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলােপী 
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
- জ্যোৎস্না শোভিত যে রাত = জ্যোৎস্নারাত,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,১৪৭.
'অছি'- শব্দটির সঠিক সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সাপ
  2. অভিভাবক
  3. অছিয়ত
  4. স্বপ্ন
সঠিক উত্তর:
অভিভাবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিভাবক
ব্যাখ্যা
• 'অছি'- শব্দটির সঠিক সমার্থক শব্দ: 'অভিভাবক'। 
------------ 
• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমার্থক শব্দ: 
- 'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ - কলাপী , কেকী , শিখী , শিখণ্ডী , বর্হী , বর্হিণ।
- 'মৌমাছি' শব্দের সমার্থক শব্দ -মধুপ , আর্ঘা , পুষ্পলিহ। 
- 'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ -অহি, উরগ, পন্নগ, কুণ্ডলী। 
- 'হাতি' শব্দের সমার্থক শব্দ -গজ , দ্বিপ , নাগ , পিল। 
- 'হরিণ' শব্দের সমার্থক শব্দ -মৃগ , কুরঙ্গ , সারঙ্গ, সুনয়ন। 

তথ্যসূত্র: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,১৪৮.
যিনি সৎ পথে চলেন, তিনি সুখী হন—কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) ইচ্ছাসূচক
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য: যে বাক্যের মধ্যে একটি প্রধান বাক্য থাকে এবং একাধিক বাক্যকে প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল দেখা যায়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে৷
যেমন-
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে৷
যিনি সৎ পথে চলেন, তিনি সুখী হন।
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷

১৫,১৪৯.
কোন শব্দটি উপসর্গ দিয়ে গঠিত হয়েছে?
  1. আয়না
  2. আঘাটা
  3. সদ্যোজাত
  4. প্রথম
সঠিক উত্তর:
আঘাটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঘাটা
ব্যাখ্যা

• খাঁটি বাংলা ‘আ’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- আঘাটা।
- এখানে ঘাটা (ঘাট; নৌকাদি ভিড়বার জায়গা) বাংলা শব্দের পূর্বে 'আ' উপসর্গযোগে আঘাটা (অব্যবহার্য ঘাট; ব্যবহারের অযোগ্য ঘাট) শব্দটি গঠিত হয়েছে।

• অপশনের অন্য শব্দগুলো - উপসর্গযোগে গঠিত হয় নি।

---------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,১৫০.
"পরোপকার" শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পর + অপকার
  2. পরো + উপকার
  3. পর + উপকার
  4. পরঃ + অপকার
সঠিক উত্তর:
পর + উপকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর + উপকার
ব্যাখ্যা

সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -"পর + উপকার "।
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

স্বরসন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়। যেমন-
- অ + উ = ও → সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়।
- আ + উ = ও → যথা + উচিত = যথোচিত।
- অ + উ = ও  → গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব।
- আ + উ = ও → গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।
- এরূপ – নীলোৎপল, চলোর্মি, মহোৎসব, নবোঢ়া, ফলোদয়, যথোপযুক্ত, হিতোপদেশ, পরোপকার, প্রশ্নোত্তর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৫,১৫১.
’শান্তি’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √শম্ + ক্তি
  2. √শান + ক্তি
  3. √শাম্ + ক্তি
  4. √শম্ + ন্তি
সঠিক উত্তর:
√শম্ + ক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√শম্ + ক্তি
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত প্রকৃতি-প্রত্যয় :

• কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।

যেমন
√শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম > ন হয়),
√শম্ + ক্তি = শান্তি। (সন্ধিসূত্রে ম > ন হয়),

• নিপাতনে সিদ্ধ:
√গৈ + ক্তি = গীতি,
√সিধ + ক্তি = সিদ্ধি,
√বুধ + ক্তি = বুদ্ধি,
√শিক্ + ক্তি = শক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১৫,১৫২.
‘মহানবী’ কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
 যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।
- মহান যে নবী = মহানবী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,১৫৩.
‘বিদেশ’ কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ
  2. খ) নঞ্ বহুব্রীহি
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ
  4. ঘ) নঞ্ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নঞ্ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নঞ্ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
‘নঞ্’ শব্দের অর্থ ‘না’। পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (অ, অনা, বে, বি, না, নি, গর) বসে যে তৎপুরুষ হয় তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : 
- অবিশ্বাস = নয় বিশ্বাস
- অনাদর = ন আদর
- অক্ষত = নয় ক্ষত
- অপর্যাপ্ত = নয় পর্যাপ্ত
- নাতিদীর্ঘ = নয় অতি দীর্ঘ
- অনুচিত = ন উচিত

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৫,১৫৪.
‘ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা।’—এখানে ‘বাছা বাছা’ শব্দদ্বিত্বটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. সতর্কতা 
  2. কালের বিস্তার
  3. ভাবের প্রগাঢ়তা
  4. আধিক্য
সঠিক উত্তর:
ভাবের প্রগাঢ়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবের প্রগাঢ়তা
ব্যাখ্যা

• বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)
- খাঁচার ফাঁকে ফাঁকে, পরশে মুখে মুখে, নীরবে চোখে চোখে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,১৫৫.
‘তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।’—এখানে ‘হায় হায়’  শব্দদ্বিত্বতে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. অনুভূতি
  2. আধিক্য 
  3. সামান্যতা
  4. ভাবের গভীরতা
সঠিক উত্তর:
ভাবের গভীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা

• পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ (অব্যয়ের দ্বিরুক্তি):
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে : তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি কী করেছ?
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,১৫৬.
একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. দাঁড়ি
  2. সেমিকোলন
  3. ড্যাশ
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• 'সেমিকোলন’:
স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কার্যে অথবা একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ( ; ) ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।

• সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।
- ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্য সেমিকোলন বসে। যেমন: মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,১৫৭.
'সেরেস্তা' অর্থ- 
  1. জটিল 
  2. আস্থা 
  3. কার্যালয় 
  4. শক্তিশালী
সঠিক উত্তর:
কার্যালয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্যালয় 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সেরেস্তা' অর্থ- কার্যালয়।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫,১৫৮.
ধ্বনি বিকৃতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) লেবু > নেবু
  2. খ) গাহিল > গাইল
  3. গ) বন্যা > বান
  4. ঘ) মারল > মাল্ল
সঠিক উত্তর:
ক) লেবু > নেবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লেবু > নেবু
ব্যাখ্যা
শব্দের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন এলে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন : 
কবাট > কপাট,
ধাইমা > দাইমা,
শাক > শাগ,
লেবু > নেবু,
ধোবা > ধোপা

উৎস : ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষা-শিক্ষা।
১৫,১৫৯.
নিচের কোনটি বহুবচন?
  1. তিনি
  2. তুমি
  3. তাঁরা
  4. শিক্ষক
সঠিক উত্তর:
তাঁরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁরা
ব্যাখ্যা
• তাঁরা - বহুবচনের উদাহরণ।

• বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
- একবচন ও
- বহুবচন।

একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

• '-রা', '-এরা', '-গুলো', '-গুলি', '-দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়।
যেমন
- রা – ছাত্ররা, ধনীরা।
- এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
- গুলো – ফুলগুলো, গরুগুলো।
- গুলি – বইগুলি, ঘরগুলি।
- দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

- কিছু একবচন শব্দ বহুবচন হওয়ার সময়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটায়।
যেমন -
একবচন – আমি, বহুবচন – আমরা
একবচন – তুমি, বহুবচন – তোমরা
একবচন- সে, বহুবচন - তারা
একবচন - তিনি, বহুবচন – তাঁরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৫,১৬০.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।
  2. খ) হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেরকড়ি।
  3. গ) কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
  4. ঘ) লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।
সঠিক উত্তর:
খ) হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেরকড়ি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেরকড়ি।
ব্যাখ্যা
- 'হাতেখড়ি' পদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে।

• পদলোপী বহুব্রীহি: 
- যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি,
হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

এছাড়াও,
• সমানাধিকার বহুব্রীহি:
পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
এক গোঁ যার = একগুঁয়ে,
লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমন:
গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।

• ব্যতিহার বহুব্রীহি:
- পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
যেমন:
কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫,১৬১.
'উত্তর দিক সম্পর্কিত' এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
  1. উদ্গীর্ণ
  2. উদীচ্য
  3. উত্তাপিত 
  4. ঊর্ধ্বগতি 
সঠিক উত্তর:
উদীচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদীচ্য
ব্যাখ্যা
- উত্তর দিক সম্পর্কিত - উদীচ্য
-উদগিরণ করা হয়েছে এমন - উদ্গীর্ণ
- উত্তপ করা হয়েছে - উত্তাপিত 
- ঊর্ধ্ব দিকে গতি যার -  ঊর্ধ্বগতি   


[উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ]
১৫,১৬২.
ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস-
  1. নাসিকা
  2. মুখ
  3. ফুসফুস
  4. কণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি। কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে তার যে অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায়, তা-ই ধ্বনি। মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সহায়তায় উচ্চারিত ধ্বনি থেকেই ভাষার সৃষ্টি। বস্তুত ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে চারটি মৌলিক উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো হলো-ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ।

- মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য 'কথা' বলে। মানুষের 'কথা' হলো অর্থযুক্ত কিছু ধ্বনি। ব্যাকরণ শাস্ত্রে মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত শব্দ বা আওয়াজকেই ধ্বনি বলা হয়। বস্তুত অর্থবোধক ধ্বনিসমূহই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাধ্বনি। ধ্বনিই ভাষার মূল ভিত্তি।

- ধ্বনি নির্গত হয় মুখ দিয়ে। ধ্বনি উৎপাদনে মুখ, নাসিকা, কণ্ঠ প্রভৃতি বাক্-প্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হলেও ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস হলো ফুসফুস। ফুসফুসের সাহায্যে আমরা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করি। ফুসফুস থেকে বাতাস বেরিয়ে আসার সময় বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আসে। ফুসফুস থেকে বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মুখের বিভিন্ন জায়গায় ঘষা খায়। এই ঘর্ষণের ফলে মুখে নানা ধরনের ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

- অর্থাৎ ফুসফুস নির্গত বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে মুখগহ্বরে প্রবেশের পর বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আঘাত লাগার দরুন ধ্বনি গঠিত বা তৈরি হয়। ধ্বনি গঠনে বিভিন্ন বাক্- প্রত্যঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১৫,১৬৩.
বাংলা ভাষায় কী ভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে?
  1. কারক ভেদে
  2. বচনভেদে
  3. বিভক্তি ভেদে
  4. সন্ধি ভেদে
সঠিক উত্তর:
বচনভেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বচনভেদে
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়। 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: বাংলা ভাষার ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশকের মধ্যে টি, টা, টো, টুকু, টুকুন, টু, টুক, খান, খানা, খানি, খানেক, খানিক, গাছ, গাছি, গাছা, গোটা, গুলি, গুলো, গুলান ইত্যাদি বহুল প্রচলিত। 

• বাংলা ভাষায় বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন -

ক. একবচন প্রকাশে: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি। 
যেমন - কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা ইত্যাদি।

খ. বহুবচন প্রকাশে: গুলি, গুলা, গুলো, গুলোন ইত্যাদি। 
যেমন - আমগুলি, ফলগুলো, গরুগুলো, কুকুরগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি। 

গ. কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা প্রকাশে: টে, টুকু, টুকুন ইত্যাদি। 
যেমন - তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েস টুকুন, এতটুকুন মেয়ে প্রভৃতি। 

ঘ. অনির্দেশক প্রত্যয়: টি, টা, এক, জন, খান ইত্যাদি দ্বারা নির্দিষ্ট কাউকে বোঝায় না। তাই এসব প্রত্যয় অনির্দেশক প্রত্যয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। 
যেমন - একটা গল্প বলি, চারটি ভাত দাও, জন চারেক লোক হলেই চলবে, এক যে ছিল রাণী, গোটা কয়েক সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,১৬৪.
'ধীরে ধীরে বায়ু বয়' - বাক্যটিতে কোন বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বাক্যের বিশেষণ
  2. বিশেষণের বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়ের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

অন্যদিকে,
বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-
নাম-বিশেষনের বিশেষণ:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন -
- ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন ।

বাক্যের বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে।
যেমন-
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,১৬৫.
‘শরদিন্দু’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শর + দিন্দু
  2. শরৎ + ইন্দু
  3. শরঃ + দিন্দু
  4. শর + ইন্দু
সঠিক উত্তর:
শরৎ + ইন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎ + ইন্দু
ব্যাখ্যা
• ‘শরদিন্দু’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - শরৎ + ইন্দু = শরদিন্দু।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

⇒ ব্যঞ্জন ও স্বরধ্বনি যোগে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধির কিছু উদাহরণ হলো:
• প্রাক্ + উক্ত = প্রাগুক্ত।
• ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
• অচ্ + অন্ত = অজন্ত।
• ষট্ + অঙ্গ = ষড়ঙ্গ।
• ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু।
• ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য।
• ষট্ + আনন = ষড়ন।
• সৎ+ অর্থক = সদর্থক।
• সৎ + ইচ্ছা = সদিচ্ছা।
• মৃৎ + অঙ্গ = মৃদঙ্গ।
• অপ্ + অগ্নি = অবগ্নি।
• অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন।
• অপ্ + অন্ত = সুবন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,১৬৬.
‘‌মৌ’ শব্দের মধ্যে কোন দুটি স্বরধ্বনি আছে?
  1. ও + ই্
  2. আ + ও্
  3. ও + উ্
  4. ও + অ্
সঠিক উত্তর:
ও + উ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও + উ্
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [লাউ] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ: 
[আই্]: তাই, নাই।
[এই্]: সেই, নেই।
[আও্]: যাও, দাও।
[আএ্]: খায়, যায়।
[উই্]: দুই, রুই।
[অএ্]: নয়, হয়।
[ওউ্]: মৌ, বউ।
[ওই্]: কৈ, দই।
[এউ্]: কেউ, ঘেউ।

বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ। ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্]। একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পৃ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,১৬৭.
গণনাবাচক সংখ্যা কোনটি?
  1. ক) আট
  2. খ) ষষ্ঠ
  3. গ) তেরই
  4. ঘ) দ্বিতীয়
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) আট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আট
ব্যাখ্যা

পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যাঃ কোন কিছুর সংখ্যা বা পরিমাণ অঙ্কে না লিখে ভাষায় লিখলে তাকে পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা বলে। যেমন- এক, দই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ, এগারো, বার, বিশ, কুড়ি, সপ্তাহ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫,১৬৮.
'অভিধা' কী?
  1. জ্ঞাণকোষ
  2. অভিধান
  3. সরল অর্থ
  4. জটিল অর্থ
সঠিক উত্তর:
সরল অর্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল অর্থ
ব্যাখ্যা
অভিধা : যা সরল ভাবে বলা হয় তাই সরল অর্থ বা 'অভিধা'।
- একটি শব্দের একাধিক অর্থ থেকে সঠিক ব্যবহৃত একটি শব্দকে 'অভিধা' বা প্রসিদ্ধ শব্দ বা সরল অর্থ বলে। 
- যেমন- 'করী' শব্দের অর্থ 'যার হাত আছে বুঝালেও' 'হাতি' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। 
- এ ক্ষেত্রে প্রথমটি হল  অভিধা, একে বাচ্যার্থও বলে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,১৬৯.
অশুদ্ধ বাক্য -
  1. পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির।
  2. শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
  3. এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।
  4. চোখে সরষেফুল দেখছি।
সঠিক উত্তর:
পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির।
শুদ্ধ: পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ: চোখে সরষেফুল দেখছি।
শুদ্ধ: এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।
শুদ্ধ: শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,১৭০.
'প্রজ্ঞাপন' শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. Notification
  2. Announcement
  3. Commandment
  4. Declaration
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
Notification
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Notification
ব্যাখ্যা
• Notification এর বাংলা পারিভাষিক অর্থ - প্রজ্ঞাপন।

অন্যদিকে,
• ‘Announcement’ এর বাংলা পারিভাষিক অর্থ - ঘোষণা।
• ‘Commandment’ এর বাংলা পারিভাষিক অর্থ - ঐশ্বিক আদেশ।
• ‘Declaration’ এর বাংলা পারিভাষিক অর্থ - ঘোষণা; বিঘোষণ; প্রখ্যাপন।

এরূপ-
• Notice - বিজ্ঞপ্তি।
• Notify - প্রজ্ঞাপিত করা।
• Navigator - নাবিক।
• Negotiation - আলাপ আলোচনা, কথাবার্তা। 
• N.B (Nota Bene)- লক্ষ্মনীয়। 
• Nominal - নামমাত্র।
• Non- alignment - জোট নিরপেক্ষতা।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৫,১৭১.
‘দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা মানুষের চিরন্তন কল্পনার রাজ্যে চাঁদের দেশে পৌঁছেছেন এবং মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত হচ্ছেন।’ এই বাক্যের বিশেষ্য পদটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) দুঃসাহসী
  2. খ) চিরন্তন
  3. গ) প্রস্তুত
  4. ঘ) অভিযাত্রী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিযাত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিযাত্রী
ব্যাখ্যা
‘দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা মানুষের চিরন্তন কল্পনার রাজ্যে চাঁদের দেশে পৌঁছেছেন এবং মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত হচ্ছেন।’ এই বাক্যে বিশেষ্য পদ - অভিযাত্রী, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ। বিশেষণ পদ - দুঃসাহসী, চিরন্তন, প্রস্তুত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৫,১৭২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কুলাটা
  2. গবক্ষ
  3. শুদ্ধোদন
  4. প্রোঢ়
সঠিক উত্তর:
শুদ্ধোদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুদ্ধোদন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধোদন/শুদ্ধোদন বানানটি সঠিক। 
অর্থ- শুধরানো/শুঘ্রানো/ [বা.] ক্রিবি, 'শোধরানো'-র সাধু রূপ।

• অন্যদিকে, 
- শুদ্ধবানান- কুলটা (কুলাটা নয়),
- শুদ্ধবানান- গবাক্ষ (গবক্ষ নয়),
- শুদ্ধবানান- প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়),

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,১৭৩.
'পত্নী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও পুনর্বিবাহ' এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. সপত্নীক
  2. অধিবেদন
  3. পরিবেদন
  4. পরিব্রাজন
সঠিক উত্তর:
অধিবেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিবেদন
ব্যাখ্যা
• 'পত্নী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও পুনর্বিবাহ' এর এক কথায় প্রকাশ: অধিবেদন। 
---------------------
অন্য অপশনের বাক্য সংকোচন,
পত্নীর সাথে বর্তমান = সপত্নীক।
বড় ভাই থাকতে ছোট ভাইয়ের বিয়ে = পরিবেদন। 
ধর্মপুরুষ বা সন্ন্যাসীর পর্যটন = পরিব্রাজন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,১৭৪.
যাকে তুলনা করা হয়, তাকে কী বলে?
  1. উপমা
  2. উপমেয়
  3. উপমিত
  4. উপমান
সঠিক উত্তর:
উপমেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমেয়
ব্যাখ্যা
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস
হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন – কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
             শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত

যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ
           আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি

কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলােকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
            মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৫,১৭৫.
কোন বাক্যটির শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে?
  1. এ রূপ জীবন কল্পনা করিতেও আমাদের আতঙ্কিত হয়েছিল।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
  4. জ্যোৎস্না রাত বড়ই মাধুর্যময়।
সঠিক উত্তর:
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।- শুদ্ধ বাক্য। 

• অন্যদিকে: 
- অশুদ্ধ: এ রূপ জীবন কল্পনা করিতেও আমাদের আতঙ্কিত হয়েছিল।
- শুদ্ধ বাক্য: এরূপ জীবন কল্পনা করিতেও আমাদের আতঙ্ক হয়েছিল।

- অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য। 
- শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফলন অনিবার্য।

- অশুদ্ধ: জ্যোৎস্না রাত বড়ই মাধুর্যময়। 
- শুদ্ধ: জ্যোৎস্না রাত বড়ই মধুর। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,১৭৬.
'Respirometer' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. শ্বাসহার
  2. শ্বাসযন্ত্র
  3. শ্বাসমাপক
  4. শ্বাসবীক্ষক
সঠিক উত্তর:
শ্বাসমাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বাসমাপক
ব্যাখ্যা
• 'Respirometer' এর বাংলা পরিভাষা — 'শ্বাসমাপক'।

অন্যদিকে,
Respiratory quotient- শ্বাসহার, 
Respiratory organ- শ্বাসযন্ত্র, 
Respiroscope- শ্বাসবীক্ষক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৫,১৭৭.
'Hydrogen' এর পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) অম্লজান
  2. খ) উদযান
  3. গ) সমীকরণ
  4. ঘ) সাময়িকী
সঠিক উত্তর:
খ) উদযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উদযান
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের ভাবানুবাদমূলক প্রতিশব্দকে পারিভাষিক শব্দ বলে।
• 'Hydrogen' এর পারিভাষিক শব্দ 'উদযান'

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পারিভাষিক শব্দ:
• অম্লজান—oxygen;
• উদযান-hydrogen;
• নথি-file;
• প্রশিক্ষণ-training;
• ব্যবস্থাপক- manager;
• বেতার-radio;
• মহাব্যবস্থাপক - general manager;
• সচিব - secretary;
• স্নাতক- graduate;
• স্নাতকোত্তর - post graduate;
• সাময়িকী - periodical;
• সমীকরণ- equation ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,১৭৮.
নিরাকার এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) নি + আকার
  2. খ) নির + আকার
  3. গ) নিরা + আকার
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

নিরাকার এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ নিঃ + আকার।
এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। বিসর্গ সন্ধি তে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন হয়।
নিরাকার = নিঃ + আকার। এখানে বিসর্গ ‘র্‌’ তে পরিনত হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

১৫,১৭৯.
'সূর্য' শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. অংশুমালী
  2. বিধু
  3. সুধাংশু
  4. হিমাংশু
সঠিক উত্তর:
অংশুমালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশুমালী
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য’ শব্দের প্রতিশব্দ - অংশুমালী

‘সূর্য’ শব্দের আরো কিছু প্রতিশব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অরুণ।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো 'চন্দ্র' শব্দের প্রতিশব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,১৮০.
'কুহক' শব্দের সমার্থক কোনটি?
  1. ক) কোরক
  2. খ) কৃষ্ণবর্ণ
  3. গ) কৌলিন্য
  4. ঘ) ছল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছল
ব্যাখ্যা
'কুহক' শব্দের সমার্থক শব্দ = মায়া, ইন্দ্রজাল, ভেলকি, প্রতারণা, ছল ধোঁকা। 
'কৃষ্ণবর্ণ' শব্দটি 'কালো' এর সমার্থক। 
'কোরক' শব্দটি 'কলি' এর সমার্থক। 
'কৌলিন্য' শব্দটি 'কুল/বংশ' এর সমার্থক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,১৮১.
নিচের কোনটি সংখ্যাবর্ণ?
  1. ক) ছয়
  2. খ) ৪
  3. গ) আড়াই
  4. ঘ) ৪ঠা
সঠিক উত্তর:
খ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪
ব্যাখ্যা
সংখ্যাশব্দ:
- যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে।
- এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয় প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলো এখানে কথায় লেখা হয়েছে।
- আবার বিশেষ কিছু বর্ণ বা সংকেত দিয়ে এগুলো প্রকাশ করা যায়, যথা: ১, ২, ৩, , ৫, ৬ প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলো এখানে অঙ্কে বা সংখ্যাবর্ণে লেখা হয়েছে।
- দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
১৫,১৮২.
ভাষার মূল রূপ কোনটি?
  1. লেখ্য ভাষারীতি
  2. কথ্য ভাষারীতি
  3. সাধু ভাষারীতি
  4. কাব্য ভাষারীতি
সঠিক উত্তর:
কথ্য ভাষারীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথ্য ভাষারীতি
ব্যাখ্যা
• কথ্য ভাষারীতি:
কথ্য ভাষারীতি ভাষার মূল রূপ। কথ্য ভাষা রীতির উপরে ভিত্তি করে লেখ্য ভাষা রীতির রূপ তৈরি হয়। স্থান ও কালভেদে ভাষার যে পরিবর্তন ঘটে তা মূলত কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তন। তাই কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ভাষা ও উপভাষার জন্ম হয়।

অন্যদিকে, 
• দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।

• সাহিত্যিক ভাষার বাক্যরূপ এবং অর্থ প্রায়ই সাধারণ ভাষা রীতি থেকে আলাদা হয়। কবিতার ভাষায় এ পার্থক্যের পরিমাণ খুবই বেশি। বাংলা কাব্য রীতি আবার দুই ভাগে বিভক্ত: পদ্য কাব্য রীতি ও গদ্য কাব্য রীতি। পদ্য কাব্য রীতি বাংলা ভাষার সবচেয়ে পুরনো রীতি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৫,১৮৩.
'ভাব' অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) পাগলামি
  2. খ) জমিদারি
  3. গ) সরকারি
  4. ঘ) জেঠামি
সঠিক উত্তর:
ক) পাগলামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাগলামি
ব্যাখ্যা

ভাব অর্থে 'আমি/আমো' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দঃ
ইতর + আমি = ইতরামি
পাগল + আমি = পাগলামি
চোর + আমি = চোরামি
বাঁদর + আমি = বাঁদরামি
ফাজিল + আমো = ফাজলামো

- জাত, আগত বা সমন্ধ অর্থে 'ই/ঈ' প্রত্যুয়যুক্ত শব্দ = সরকার - সরকারি।
- নিন্দা জ্ঞাপক অর্থে 'আমি' প্রত্যয়ান্ত শব্দ = জেঠামি, ছেলেমি
- মালিক অর্থে 'ই/ঈ' প্রত্যয়ান্ত শব্দ = জমিদারি, দোকানি।

উৎসঃ নবম দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

১৫,১৮৪.
ক্রিয়ার কাল কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার।
যথা, 
- বর্তমান কাল,
- অতীত কাল,
- ভবিষ্যৎ কাল।

• বর্তমান কাল:
- বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।
- বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বৰ্তমান৷

• অতীত কাল:
- অতীতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হত তাকে অতীত কাল বলে।
- অতীত কাল চার প্রকার: সাধারণ অতীত, ঘটমান অতীত, পুরাঘটিত অতীত এবং নিত্য বৰ্তমান ৷

• ভবিষ্যৎ কাল: 
- ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।
- ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার: সাধারণ ভবিষ্যৎ, ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১৫,১৮৫.
‘সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত'- বাক্যটিতে কোন দোষ আছে?
  1. ক) গুরুচন্ডালী দোষ
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) দুর্বোধ্যতা দোষ
  4. ঘ) বিদেশী শব্দ দোষ
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
"সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে। 

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের "সকল আলেম আজ উপস্থিত" অথবা "আলেমগণ আজ উপস্থিত"।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,১৮৬.
নিচের কোনটি তুর্কি প্রত্যয় দ্বারা গঠিত শব্দ?
  1. ক) বাবুর্চি
  2. খ) পানসে
  3. গ) দারোয়ান
  4. ঘ) হিন্দুয়ানি
সঠিক উত্তর:
ক) বাবুর্চি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাবুর্চি
ব্যাখ্যা
তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় যে তদ্ধিত প্রত্যয় এসেছে থাকে তুর্কি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। 
নিচে তুর্কি তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো দেওয়া হলো :
চী > চি (ব্যবসায়ী বা বাহক অর্থে)    শব্দ    প্রকৃতি ও প্রত্যয়
মশালচি = মশাল + চি
খাজাঞ্চি = খাজানা + চি
বাবুর্চি = বাবু + চি

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৫,১৮৭.
‘আলুনি’ শব্দটিতে ব্যবহৃত উপসর্গের নাম কী?
  1. তৎসম
  2. খাঁটি বাংলা
  3. বিদেশি
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা

• “আলুনি” শব্দে ব্যবহৃত উপসর্গটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

• 'আ' উপসর্গের ব্যবহার:
- আখাম্বা, সদৃশ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- আলুনি, অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- আগাছা, নিকৃষ্ট/বাজে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- আরক্ত, ঈষৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,১৮৮.
'অশ্রুতপূর্ব' কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. অলুক তৎপুরুষ
  3. অলুক ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. সপ্তমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• 'অশ্রুতপূর্ব' সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন -
→ বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে ) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
- সত্যে আগ্রহ (নিষ্ঠা) = সত্যাগ্রহ।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
যেমন -
- পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব,
- পূর্বে অশ্ৰুত = অশ্রুতপূর্ব,
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,১৮৯.
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে বলে-
  1. ক) কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. খ) তাবল্য ব্যঞ্জন
  3. গ) মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. ঘ) দন্ত্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
খ) তাবল্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাবল্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
⇒ তাবল্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তাবল্য ব্যঞ্জন বলে। যেমন: চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তাবল্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,১৯০.
'উদন্যা' বলতে কী বোঝায়?
  1. দেখবার ইচ্ছা
  2. হরণ করার ইচ্ছা
  3. জল পানের ইচ্ছা
  4. নিজের খেয়ালখুশি
সঠিক উত্তর:
জল পানের ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জল পানের ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

• 'জল পানের ইচ্ছা' এক কথায় প্রকাশ - উদন্যা

অন্যদিকে,
নিজের খেয়ালখুশি - যদৃচ্ছা।
হরণ করার ইচ্ছা - জিহীর্ষা।
দেখবার ইচ্ছা - দিদৃক্ষা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫,১৯১.
'পামর' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) নরাধম
  2. খ) মূর্খ
  3. গ) নির্দয়
  4. ঘ) পূণ্যবান
সঠিক উত্তর:
ঘ) পূণ্যবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পূণ্যবান
ব্যাখ্যা

- পামর শব্দের বিপরীত শব্দ হলো পূণ্যবান।
- পামর এর সমার্থক শব্দ : পাপিষ্ঠ,নরাধম, মূর্খ,হীন, নীচ।
- মহাত্মা শব্দের বিপরীত শব্দ দুরাত্মা।
- দয়ালু এর বিপরীত শব্দ নির্দয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান। 

১৫,১৯২.
"আমি ছবিটি দেখেছিলাম।" - কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।

- যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- আমি তাকে সভায় উপস্থিত দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?
 - আমি ছবিটি দেখেছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,১৯৩.
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. দ্বীপ
  2. ত্রিকাল
  3. মুখেভাত
  4. আশীবিষ
সঠিক উত্তর:
দ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বীপ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূৰ্থ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = 'আশীবিষ' ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
-  তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল, দ্বিগু সমাসের উদাহরণ।
- মুখে ভাত দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = মুখেভাত, অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ।
১৫,১৯৪.
'ক্ষুৎপিপাসা' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক্ষুৎ + পিপাসা
  2. ক্ষুদ্ + পিপাসা
  3. ক্ষুধ্ + পিপাসা
  4. ক্ষুত্ + পিপাসা
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধ্ + পিপাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধ্ + পিপাসা
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুৎপিপাসা' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে — ক্ষুধ্‌ +পিপাসা।

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে,
দ্ ও ধ্‌ এর পরে ক, চ, ট, ত, প, খ, ছ, ঠ, থ, ফ থাকলে দ্ ও ধ্‌ স্থলে অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হয়।
যেমন -
- দ্‌ > ত্  ⇒  তদ্‌ + কাল = তৎকাল।
- ধ্‌ > ত্  ⇒  ক্ষুধ্‌ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

এরূপ, 
- ক্ষুধ্‌ + কাতর = ক্ষুৎকাতর,
- হৃদ্‌ + স্পন্দন = হৃৎস্পন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,১৯৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রতিদ্বন্দ্বীতা
  2. প্রতিদন্দ্বিতা
  3. প্রতিদ্বন্দীতা
  4. প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সঠিক উত্তর:
প্রতিদ্বন্দ্বিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'প্রতিদ্বন্দ্বিতা'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
এর অর্থ:
- পরস্পরের দ্বন্দ্ব বা বিরোধ,
- প্রতিপক্ষের সঙ্গে শক্তি পরিক্ষা,
- প্রতিযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,১৯৬.
এককথায় প্রকাশ করুন: ‘যা অবশ্যই ঘটবে’ -
  1. সম্ভাবনাময়
  2. দুর্নিবার
  3. অবশ্যম্ভাবী
  4. সম্ভাব্য
সঠিক উত্তর:
অবশ্যম্ভাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবশ্যম্ভাবী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অবশ্যই ঘটবে এমন - অবশ্যম্ভাবী।

অন্যদিকে,
• ঘটা সম্ভব এমন - সম্ভাব্য।
• ভবিষ্যতে ঘটতে পারে এমন লক্ষণযুক্ত - সম্ভাবনাময়।
• নিবারণ করা কষ্টসাধ্য এমন - দুর্নিবার।
১৫,১৯৭.
‘করী ও কড়ি’ শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. রথের আরোহী ও টাকা
  2. হাতি ও পাথর
  3. টাকা ও পাথর
  4. হাতি ও অর্থ
সঠিক উত্তর:
হাতি ও অর্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতি ও অর্থ
ব্যাখ্যা
• ‘করী’ শব্দের অর্থ - হাতি।
• ‘কড়ি’ শব্দের অর্থ - অর্থ।

-------------------
• শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদর পার্থক্য করা যায় না।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শব্দজোড় হলো:
- ‘রতি’ শব্দের অর্থ - পরিমাণ।
- ‘রথী’ শব্দের অর্থ - রথের আরোহী।

- ‘শরণ’ শব্দের অর্থ - আশ্রয়।
- ‘স্বরণ’ শব্দের অর্থ - স্মৃতি।

- ‘অবগত’ শব্দের অর্থ - জানা।
- ‘অপগত’ শব্দের অর্থ - দূরীভূত।

- ‘ধুম’ শব্দের অর্থ - প্রাচুর্য।
- ‘ধূম’ শব্দের অর্থ - ধোঁয়া।

• ‘দারা’ শব্দের অর্থ - স্ত্রী।
• ‘দ্বারা’ শব্দের অর্থ - দিয়ে।

• ‘গোড়া’ শব্দের অর্থ - মূল অংশ।
• ‘গোঁড়া’ শব্দের অর্থ - রক্ষণশীল।

• ‘জাল’ শব্দের অর্থ - ফাঁদ।
• ‘জ্বাল’ শব্দের অর্থ -অগ্নিশিখা।

• ‘শুচি’ শব্দের অর্থ - পবিত্র, নির্মল, শুদ্ধ, পরিচ্ছন্ন।
• ‘সূচি’ শব্দের অর্থ - তালিকা, নির্ঘন্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,১৯৮.
একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক কোনটি?
  1. গোটা
  2. টে
  3. গুলি
  4. গাছা
সঠিক উত্তর:
গাছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছা
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়।

পদার্শিত নির্দেশকের বচনভেদে প্রয়োগ:
• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি।
উদাহরণ: কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি।
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি।

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।
উদাহরণ: তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েসটুকু, এতটুকুন মেয়ে দুটো ভাত, প্রভৃতি।

• পদাশ্রিত নির্দেশক 'গোটা' শব্দটি বচনবাচক ও সংখ্যাবাচক শব্দের আগে বসে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন-
- গোটা দেশটাই গোল্লায় গেছে।
- গোটা দুই আম দাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,১৯৯.
বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. ধৈর্য
  2. উদারতা 
  3. সরলতা
  4. আলসে
সঠিক উত্তর:
আলসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলসে
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:
বাংলা ব্যাকরণে বিশেষণ হলো এমন শব্দ যা বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, পরিমাণ, পরিমাপ, অবস্থা, বা পরিচয় বোঝায় এবং তাকে বিশেষিত করে। বিশেষণ সাধারণত বিশেষ্যের পূর্বে বা পরে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:

আলসে (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- অলস, কুঁড়ে। 
বাক্য: আলসে নয় সে, ওঠে রোজ সকালে।(কবি নজরুল)

অন্যদিকে, 
-----------------
• গুণবাচক-বিশেষ্য: 
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, উদারতা, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫,২০০.
'অথৈ' শব্দে 'অ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিন্দিত
  2. গভীর 
  3. অভাব
  4. ক্রমাগত
সঠিক উত্তর:
অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভাব
ব্যাখ্যা

'অ' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত কিছু শব্দ: 
• 'নিন্দিত' অর্থে- অকেজো, অচেনা, অপয়া। 
'অভাব' অর্থে- অচিন, অজানা, অথৈ। 
• 'ক্রমাগত' অর্থে- অঝোর, অঝোরে। 

-----------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।