বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৪৪ / ৩৫৪ · ১৪,৩০১১৪,৪০০ / ৩৫,৭১৩

১৪,৩০১.
'ইনী' প্রত্যয় যোগে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ কোনটি?
  1. জেলেনি
  2. মালিনী
  3. ভাগনী
  4. কামারনী
সঠিক উত্তর:
মালিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালিনী
ব্যাখ্যা
• 'ইনী' প্রত্যয় যোগে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ - মালিনী।

• পুংলিঙ্গ শব্দের শেষে-ইনী প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ:
গোয়ালা-গোয়ালিনী, বাঘ-বাঘিনী, কাঙাল-কাঙালিনী, ভাগা-অভাগিনী, বিহঙ্গ-বিহঙ্গিনী, চাতক-চাতকিনী, মালী-মালিনী, পাগল-পাগলিনী, সন্ন্যাস-সন্ন্যাসিনী, শ্বেতাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গিনী, সাপ-সাপিনী, গোপ-গোপিনী, রজক-রজকিনী, মাতঙ্গ-মাতঙ্গিনী।
• 'নী' প্রত্যয় যোগে রূপান্তরিত বা গঠিত নারীবাচক শব্দ: জেলে-জেলেনি।
• 'ঈ' প্রত্যয় যোগে গঠিত বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ হলো: ভাগনে-ভাগনী, কামার-কামারনী।

উৎস:
১. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
২. মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,৩০২.
কোনটি দ্বিত্ব ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. জন্ম > জম্ম
  2. কাঁদনা > কান্না
  3. সকাল > সক্কাল
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
সকাল > সক্কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকাল > সক্কাল
ব্যাখ্যা

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা বলে।

যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সমীভবন:
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।

যেমন:
- জন্ম > জম্ম,
- কাঁদনা > কান্না

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,৩০৩.
'মানান' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি -প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মান্ + অন
  2. √মান্ + আন
  3. √মান্ + নান
  4. √মান্ + ওন
সঠিক উত্তর:
√মান্ + আন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√মান্ + আন
ব্যাখ্যা
• ‘আন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √মান্ + আন = মানান/মানানো।
- √চাল্ + আন = চালান/চালানো।

এরূপ,
• ‘অনা’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √দুল্ + অনা = দুলনা > দোলনা।
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

• ‘আ-কারান্ত ধাতুর সঙ্গে ‘অন্’ স্থলে ‘ওন’ হয়। কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √খা্ + অন = খাওন;
- √ছা্ + অন = ছাওন;
- √দে্ + অন = দেওন।

• ‘অন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।
- √নাচ্ + অন = নাচন।

• ‘অক’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √ঝল্ + অক = ঝলক;
- √মুড়্ + অক = মোড়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৩০৪.
'সিত' কোন শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. অন্ধকার
  2. সাদা
  3. স্বর
  4. সাপ
সঠিক উত্তর:
সাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাদা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'সিত' শব্দের অর্থ: শুভ্র, সাদা, শুক্ল।

• 'সিত' এর সমার্থক শব্দ:
সাদা, শুভ্র, শুক্ল, সফেদ, ধবল, শুচি, বিশদ।

অন্যদিকে,
- 'অন্ধকার' এর প্রতিশব্দ: আঁধার, আঁধারি, তিমির, তমিস্র, তম, শর্বর, নভাক প্রভৃতি।
- 'সাপ' এর প্রতিশব্দ: সর্প, ফণী, নাগ, ভুজগ, আশীবিষ, বিষধর, পন্নগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,৩০৫.
কোনটি ফারসি শব্দ?
  1. বন্দুক
  2. বারুদ
  3. উজবুক
  4. সওগাত
সঠিক উত্তর:
বারুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বারুদ
ব্যাখ্যা
• 'বারুদ' শব্দটি 'ফারসি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- বিস্ফোরকরূপে ব্যবহৃত পটাশিয়াম নাইট্রেট কাঠকয়লার গুঁড়ো গন্ধক প্রভৃতির মিশ্রণজাত চূর্ণবিশেষ।

অন্যদিকে,
তুর্কি শব্দ - সওগাত, উজবুক।
আরবি শব্দ - বন্দুক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,৩০৬.
নিচের কোন শব্দে 'এ' ধ্বনির উচ্চারণ বিবৃত?
  1. দেহ
  2. তেলাপোকা
  3. রেণু
  4. মেঘ
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
ব্যাখ্যা

‘এ' ধ্বনির উচ্চারণ দুই রকম।
যথা,
সংবৃত ও বিবৃত।

- 'এ' যদি 'এ' এর মতো উচ্চারণ হয় সেটাকে স্বাভাবিক বা সংবৃত উচ্চারণ বলে।
যেমন : দেশ, একটি, এলো, দেহ, রেণু, মেঘ ইত্যাদি।

• এ ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ ইংরেজি ক্যাট ও ব্যাট এর মতো।
যেমন,
তেলাপোকা, একা (এ্যাকা)।

• এ- ধ্বনির এই বিবৃত উচ্চারণ কেবল শব্দের আদিতেই পাওয়া যায়, শব্দের মধ্যে ও অন্তে পাওয়া যায় না।

• 'তেলাপোকা' শব্দে 'তে' অংশে বিবৃত 'এ' উচ্চারিত হয়।
কারণ,বিবৃত 'এ':
- মুখ বেশি খোলা হয়
উদাহরণ: তেলাপোকা (ত্যালাপোকা), কেন, বেলা, মেলা।

------------------------- 
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা,
- সংবৃত,
- অর্ধ- সংবৃত,
- অর্ধ- বিবৃত,
- বিবৃত

উল্লেখ্য, 
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে;
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)৷

১৪,৩০৭.
কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ?
  1. আবেগ 
  2. যোগ্যতা
  3. নির্দেশক 
  4. বলক 
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
• সার্থক বাক্যের গুণ - যোগ্যতা।

-----------------------
• একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে ৩টি গুণ থাকা থাকা জরুরি।

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• যোগ্যতা:
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৪,৩০৮.
‘ঘ’ কোন ধরনের ধ্বনির উদাহরণ?
  1. ঘােষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. অঘোষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. ঘােষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. অঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘােষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘােষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
ব্যাখ্যা
• ‘ঘ’ ঘােষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

• ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।


• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১৪,৩০৯.
নিচের কোনটি ভুল বানান?
  1. বিমর্শ
  2. বিমা
  3. বাহুল্য
  4. বঁধূয়া
সঠিক উত্তর:
বঁধূয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঁধূয়া
ব্যাখ্যা

• বঁধূয়া বানানটি অশুদ্ধ।
• শুদ্ধ বানান: বঁধুয়া।

'বিমর্শ' বানানটি শুদ্ধ।

• বিমর্শ অর্থ:
১. বিতর্ক।
২. বিশেষ বিবেচনা বা বিচার।
৩. তথ্য নিরূপণ।
৪. সংস্কৃত নাটকের পাঁচটি অঙ্গের প্রথমটি।

• বাহুল্য, বিমা বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,৩১০.
কোন বাক্যে বুদ্ধি অর্থে 'মাথা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করো না
  2. খ) এ ব্যাপারে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই
  3. গ) ছেলেটির মাথা ভালো
  4. ঘ) বেশি আদরে ছেলেটির মাথা খেয়েছে
সঠিক উত্তর:
গ) ছেলেটির মাথা ভালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছেলেটির মাথা ভালো
ব্যাখ্যা
ছেলেটির মাথা ভালো- বাক্যে বুদ্ধি অর্থে 'মাথা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

তাছাড়া,
অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করো না- মস্তক বা শির অর্থে 'মাথা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
এ ব্যাপারে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই - আগ্রহ বা দুশ্চিন্তা অর্থে 'মাথা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
বেশি আদরে ছেলেটির মাথা খেয়েছে- স্বভাব নষ্ট করা অর্থে 'মাথা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩১১.
কোনটি 'পরাগত সমীভবন' ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. পক্ব > পক্ক
  2. সত্য > সচ্চ
  3. তৎ + জন্য > তজ্জন্য
  4. লগ্ন > লগ্গ
সঠিক উত্তর:
তৎ + জন্য > তজ্জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + জন্য > তজ্জন্য
ব্যাখ্যা
সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম;
- কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক;
- পক্ব > পক্ক;
- পদ্ম > পদ্দ;
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য;
- তৎ + হিত > তদ্ধিত;
- উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যান্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ;
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৩১২.
’উপকারীর অনিষ্টকারী’ এর এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. অকৃতঘ্ন
  2. কৃতজ্ঞ
  3. কৃতঘ্ন
  4. অকৃতজ্ঞ
সঠিক উত্তর:
কৃতঘ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃতঘ্ন
ব্যাখ্যা
• ’উপকারীর অনিষ্টকারী বা অপকার করে যে’ এক কথায় প্রকাশ = কৃতঘ্ন।
------------------------
অন্যদিকে,
- ’উপকারীর উপকার যে স্বীকার করে’ এক কথায় প্রকাশ = কৃতজ্ঞ।
- ‘উপকারীর উপকার যে স্বীকার করে না’ এক কথায় প্রকাশ = অকৃতজ্ঞ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৪,৩১৩.
কোন বাগ্‌ধারা জোড়টি সমার্থক?
  1. ক) গাছপাথর-ডামাডোল
  2. খ) তীর্থের কাক-ভূশণ্ডির কাক
  3. গ) কেতাদুরস্ত-লেফাফা দুরস্ত
  4. ঘ) ধোপদুরস্ত-ধোপে টেকা
সঠিক উত্তর:
গ) কেতাদুরস্ত-লেফাফা দুরস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কেতাদুরস্ত-লেফাফা দুরস্ত
ব্যাখ্যা
কেতাদুরস্ত-লেফাফা দুরস্ত বাগ্‌ধারা জোড়টি সমার্থক।  
কেতাদুরস্ত = পরিপাটি
লেফাফা দুরস্ত = পরিপাটি 

অন্যদিকে, 
গাছপাথর = হিসাব নিকাশ
ডামাডোল = গোলযোগ 
তীর্থের কাক = সাগ্রহে প্রতিক্ষাকারী 
ভূশণ্ডির কাক  = দীর্ঘকালের অভিজ্ঞ ব্যক্তি
ধোপদুরস্ত =  বাবুয়ানি 
ধোপে টেকা = সুফল দেয়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩১৪.
নৈপুণ্য বােঝাতে ইয়া> এ- প্রত্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) জেলে
  2. খ) মুটে
  3. গ) মেটে
  4. ঘ) খুনে
সঠিক উত্তর:
ঘ) খুনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খুনে
ব্যাখ্যা
ইয়া> এ-প্রত্যয়:
(ক) তৎকালীনতা বােঝাতে:
সেকাল + এ=সেকেলে,
একাল+এ=একেলে,
ভাদর +ইয়া = ভাদরিয়া > ভাদুরে (কইমাছ)।

(খ) উপকরণ বােঝাতে ;
পাথর পাথরিয়া> পাথুরে,
মাটি -মেটে, বালি- বেলে।

(গ) উপজীবিকা অর্থে:
জাল-জালিয়া>জেলে,
মােট-মুটে।

(ঘ) নৈপুণ্য বােঝাতে:
খুন-খুনিয়া > খুনে,
দেমাক-দেমাকে,
না (নৌকা) - নাইয়া> নেয়ে।

(ঙ) অব্যয়জাত বিশেষণ গঠনে:
টনটন - টনটনে (জ্ঞান),
কনকন - কনকনে (শীত),
গনগন - গনগনে (আগুন),
চকচক - চকচকে (জুতা)।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
 
১৪,৩১৫.
আবেদন, ভীতি, হতাশা, আনন্দ প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. ত্রিবিন্দু
  2. সেমিকোলন
  3. সম্বোধন চিহ্ন
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
সম্বোধন চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বোধন চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন (!):
- হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে হলে এবং সম্বোধন পদের পরে (!) চিহ্নটি বসে। যেমন: আহা! কি চমৎকার দৃশ্য। জননী! আজ্ঞা দেহ মোরে যাই রনস্থলে।
- আবেদন, ভীতি, হতাশা, আনন্দ প্রকাশের ক্ষেত্রে (!) চিহ্নটি বসে। যেমন: দয়া করে আমার কথা শুনুন!
- সবিস্ময় প্রশ্নের জায়গায় প্রশ্ন চিহ্নের পরিবর্তে বিস্ময়সূচক চিহ্ন বসে। যেমন: তোমার হৃদয় কি পাষাণে গড়া! একটি বারও পলাশের কথা ভাবলে না!
- সংক্ষিপ্ত উত্তরের শেষে কখনো কখনো পূর্ণচ্ছেদ না বসে বিস্ময়সূচক চিহ্ন বসে। যেমন: আমাকে একটু আদর করবে!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,৩১৬.
ষ-ত্ব বিধানের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
  2. খ) ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
  3. গ) সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদে ‘ষ’ যুক্ত হয়।
  4. ঘ) তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়।
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদে ‘ষ’ যুক্ত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদে ‘ষ’ যুক্ত হয়।
ব্যাখ্যা
⇒ ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৩১৭.
কোনটি ভুল বানান?
  1. অদ্যাতন
  2. অদ্যাপি
  3. আদ্যি
  4. আভ্যন্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যাতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যাতন
ব্যাখ্যা
• ভুল বানান - অদ্যাতন
- শুদ্ধ বানান - অদ্যতন।
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: আজকের; সাম্প্রতিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,৩১৮.
'বাক্যের ব্যঞ্জনা' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,৩১৯.
‘বিশ্বজোড়া’ শব্দে কয়টি অক্ষর রয়েছে?
  1. ২টি 
  2. ৪টি 
  3. ৫টি 
  4. ৬টি 
সঠিক উত্তর:
৪টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি 
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় অক্ষর বা শব্দাংশ হলো এমন ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ যা একবারে উচ্চারিত হয়।
- ‘বিশ্বজোড়া’ শব্দে ১টি বদ্ধাক্ষর (‘বিশ্’) এবং ৩টি মুক্তাক্ষর (‘ওয়’, ‘জো’, ‘ড়া’) রয়েছে।
- মোট অক্ষরসংখ্যা ৪টি। অক্ষর বিশ্লেষণ: বিশ্ + ওয় + জো + ড়া = 

--------------
• অক্ষর:
এর ইংরেজি নাম- syllable. অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।

আবার,
সাধারণ অর্থে অক্ষর বলতে বর্ণ বা হরফ (Letter)-কে বোঝালেও প্রকৃত-প্রস্তাবে অক্ষর ও বর্ণ পরস্পরের প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ নয়। অক্ষর হচ্ছে বাগ্যন্ত্রের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ। আর বর্ণ বা হরফ হচ্ছে ধ্বনির চক্ষুগ্রাহ্য লিখিতরূপ বা ধ্বনি-নির্দেশক চিহ্ন বা প্রতীক।
ইংরেজিতে আমরা যাকে 'Syllable' বলে অভিহিত করি, তা-ই অক্ষর। উদাহরণস্বরূপ বলা চলে, ইংরেজি 'Incident' শব্দে 'In-ci-dent'-এ তিনটি সিলেবল আছে। এ তিনটি সিলেবল-ই হলো অক্ষর। কিন্তু, আলাদাভাবে 'I-n-c-i-d-e-n-t'-এগুলো অক্ষর নয়; এগুলো বর্ণ বা হরফ। তদ্রুপ, বাংলা 'বন্ধন' শব্দেও বন্ ধন্-এ দুটো অক্ষর, কিন্তু ব-ন-ধ---এগুলো অক্ষর নয়; এগুলো বর্ণ বা হরফ মাত্র।  অক্ষরকে বিভিন্নভাবে

অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা;
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)।
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা কবিতার ছন্দ ও অক্ষর বিশ্লেষণ এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,৩২০.
যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।- বাক্যটির যৌগিকরূপ কোনটি?
  1. পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
  2. পরিশ্রম কর এবং ফল পাবে।
  3. যেহেতু পরিশ্রম করছো, ফল পাবে।
  4. পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর: 
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে। 
সূত্র খ:  জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল:যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ। 
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩২১.
_________ বাতাসের তোড়ে ছাতা উড়ে গেল।
  1. ঘূর্ণায়মান
  2. ঘূর্ণায়মাণ
  3. ঘূর্নায়মান
  4. ঘুর্ণায়মান
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণায়মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণায়মান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে- ঘূর্ণায়মান। যার অর্থ ঘুরছে এমন।

• সুতরাং সঠিক বাক্যটি - 
ঘূর্ণায়মান বাতাসের তোড়ে ছাতা উড়ে গেল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,৩২২.
‘হাজির’ শব্দের বিপরীত কোনটি?
  1. গমন
  2. বেহাজির
  3. প্রস্থান
  4. গরহাজির
সঠিক উত্তর:
গরহাজির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরহাজির
ব্যাখ্যা
• 'হাজির' এর বিপরীত শব্দ- 'গরহাজির'।

আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
- 'সন্ধি' এর বিপরীত শব্দ- বিবাদ, বিগ্রহ, 
- 'হরদম' এর বিপরীত শব্দ- 'কদাচিৎ', 
- 'সরস' এর বিপরীত শব্দ- 'নীরস', 
- 'মুক্ত' এর বিপরীত শব্দ- 'আবদ্ধ',
- 'মুখ্য' এর বিপরীত শব্দ- 'গৌণ'।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩২৩.
পদ বিবেচনায় শব্দ কত প্রকার?
  1. চার প্রকার
  2. পাঁচ প্রকার
  3. ছয় প্রকার
  4. আট প্রকার
সঠিক উত্তর:
আট প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আট প্রকার
ব্যাখ্যা

• পদ বিবেচনায় শব্দ - ৮ প্রকার।
• পদ: 
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪সংস্করণ)।

১৪,৩২৪.
‘যে রক্ষক সে ভক্ষক।’- কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা

⇒ জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

=============

⇒ সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন ৷

➤ সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে ৷ 
যেমন:
- আমরা তিন ভাইবোন।

➤ বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। 
যেমন:
- তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।

⇒  যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,৩২৫.
'ঙ'-এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. উয়ঁ
  2. উঁয়ো
  3. উঁঅ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• ঙ [উয়োঁ, উঁয়]:
- পঞ্চম ব্যঞ্জনবর্ণ এবং ক-বর্গের পঞ্চম বর্ণ।
- ‘উয়ঁ’, ‘উঁয়ো’ বা ‘উমা’; উঁঅ রূপে উচ্চারিত হয়। 
- এর উচ্চারণ স্থান নাসিকা।
- এটি ঘোষ পশ্চাত্তালুজাত নাসিক্য ব্যঞ্জন ধ্বনি। 
- এর উচ্চারণ হুবহু ‍অনুস্বারের (s) মতো।

উৎস: অভিগম্য অভিধান; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,৩২৬.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব শব্দ?
  1. বুঝে-সুঝে
  2. জ্বর জ্বর
  3. শোঁ শোঁ
  4. দুম দুম
সঠিক উত্তর:
বুঝে-সুঝে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুঝে-সুঝে
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - শোঁ শোঁ, দুম দুম।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - জ্বর জ্বর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১৪,৩২৭.
''যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে” কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) যৌগিক
  2. খ) সরল
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) খন্ড
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে।
এদের মধ্যে একটি প্রধান থাকে, এবং অন্যগুলো সেই বাক্যের উপর নির্ভর করে।
যেমন-
লোকটি যদিও ধনী, তবুও সে কৃপণ।
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।
সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,৩২৮.
“সেতার” এর সে কোন অর্থ দ্যোতনা করে?
  1. ক) তার
  2. খ) অনেক
  3. গ) প্রত্যেক
  4. ঘ) সকল
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অনেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনেক
ব্যাখ্যা
- সেতার উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে ব্যবহূত বাদ্যযন্ত্রগুলির মধ্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। আমির খসরু এর উদ্ভাবক।
- সেতার ত্রিতন্ত্রী বীণার উন্নত সংস্করণ। পারস্য ভাষায় ‘সে’ মানে ‘তিন’; তিনটি তারের সমন্বয়ে তৈরি বলে আমির খসরু এর নামকরণ করেন সেতার। প্রাচীনকালে সেতার তিনটি তার সহযোগে বাজানো হতো, কিন্তু যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর রূপ পাল্টাতে থাকে।
- বর্তমান সেতারে তিনটির পরিবর্তে আঠারোটি পর্যন্ত তার ব্যবহার করা হয়।
তাই এটি 'অনেক' অর্থের দ্যাতনা করছে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১৪,৩২৯.
'আছো তুমি প্রভু জগৎ মাঝারে'---এখানে 'মাঝারে' অনুসর্গটির অর্থবোধকতা কী?
  1. ব্যাপ্তি
  2. বাইরে
  3. নিকট
  4. মধ্যে 
সঠিক উত্তর:
ব্যাপ্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাপ্তি
ব্যাখ্যা

“আছ তুমি প্রভু জগৎ মাঝারে” বাক্যে ‘মাঝারে’ শব্দটি ব্যাপ্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• 'মাঝারে' অনুসর্গটির অর্থবোধকতা:
- এই বাক্যে ‘মাঝারে’ অনুসর্গটি শুধু স্থান নির্দেশ করছে না, বরং বিস্তৃতভাবে জগৎ জুড়ে ব্যাপ্তি বোঝাচ্ছে।
- এটি কেবল ‘জগৎ’ শব্দের মধ্যে বা ভিতরে থাকার অর্থ বোঝায় না, বরং প্রভুর উপস্থিতি এবং ক্ষমতা দ্বারা জগৎকে সর্বত্র পরিবেষ্টিত বা আবৃত করা বোঝায়।
- অর্থাৎ, প্রভু জগৎ জুড়ে বিরাজমান আছেন।
- সাধারণ অর্থে ‘মাঝারে’ মানে ‘মধ্যে’ বা ‘ভিতরে’ বুঝায়।
- যেমন – ‘ঘরে মাঝারে’ মানে ‘ঘরের ভিতরে’।
- কিন্তু এখানে ‘জগৎ মাঝারে’ বলতে বোঝায় জগৎ নামক বিশাল পরিসরের সর্বত্র, অর্থাৎ বিস্তৃত বা ব্যাপক অবস্থান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১৪,৩৩০.
'ময়ূরের ডাক' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. কাকলি
  2. কূজন
  3. কেকা
  4. হ্রেষা
সঠিক উত্তর:
কেকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেকা
ব্যাখ্যা

• 'ময়ূরের ডাক' এর এক কথায় প্রকাশ-  কেকা।

অন্যদিকে, 
- 'পাখির ডাক' এক কথায় প্রকাশ- কূজন।
-' বিহঙ্গের ধ্বনি' এক কথায় বলে- কাকলি। 
- 'ঘোড়ার ডাক' এর এক কথায় প্রকাশ- হ্রেষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৩৩১.
সঠিক বিপরীত শব্দজোড় নয় কোনটি?
  1. ক) তাণ্ডব - লাস্য
  2. খ) মৃদু - সৌম্য
  3. গ) হৃদ্য - ঘৃণ্য
  4. ঘ) উদঘাটন - রোধ
সঠিক উত্তর:
খ) মৃদু - সৌম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৃদু - সৌম্য
ব্যাখ্যা
মৃদু শব্দের সঠিক বিপরীত শব্দ উগ্র। সৌম্য শব্দেরও বিপরীত শব্দ উগ্র। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
১৪,৩৩২.
'অহর্নিশ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অহ + নিশ
  2. অহঃ + নিশ
  3. অহোঃ + নিশ
  4. অঃ+ নিশ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'অহর্নিশ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - অহঃ + নিশা।

----------------------
• বিসর্গ সন্ধি:
সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + নিশা = অহর্নিশ,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৩৩৩.
ণত্ব বিধান অনুসারে ভুল বানান কোনটি?
  1. ক) খণ্ড
  2. খ) পাষাণ
  3. গ) ক্রন্দণ
  4. ঘ) প্রণাম
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রন্দণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রন্দণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- 
১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি। 

• যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযােজ্য নয়:
ক. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন হয়। যেমন-ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
খ. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনাে (ণ) হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।।
গ. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়ােজন হয় না।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
১৪,৩৩৪.
ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ 'দুই' এর প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. দি
  2. দ্বি
  3. দু
  4. দো
সঠিক উত্তর:
দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দি
ব্যাখ্যা
• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ 'দুই' এর প্রতিশব্দ নয় - দি

সংখ্যাবাচক শব্দ:
- যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে।
- দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।
- সংখ্যাশব্দ দুই রকমের: ক্রমবাচক ও পূরণবাচক।
• ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন।
• পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়।

ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
যেমন – ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২ (বারো), ১৩ (তেরো), ১৪ (চৌদ্দ), ১৫ (পনেরো), ১৬ (ষোলো), ১৭ (সতেরো), ১৮ (আঠারো), ১৯ (উনিশ), ২০ (বিশ) ইত্যাদি।
- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।
- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
→ 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ ‘দ্বি’, 'দু', এবং 'দো'।
→ 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং ‘তে’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,৩৩৫.
'শান্তশিষ্ট' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধার‍য় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধার‍য় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধার‍য় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়।
- এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে।
- অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে।
- বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা= কাঁচাপাকা।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,৩৩৬.
কোন দুটি যৌগিক শব্দ?
  1. ক) হস্তী, বাঁশি
  2. খ) ঢাকা, গোলাপ
  3. গ) গায়ক, বাবুয়ানা
  4. ঘ) রাজপুত, সহযাত্রা
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) গায়ক, বাবুয়ানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গায়ক, বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। এখানে গায়ক অর্থ গান করে যে এবং বাবুয়ানা অর্থ বাবুর ভাব। হস্তী- হস্তী অর্থ হস্ত আছে যার, কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বুঝায়। বাঁশি- বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোন বস্তু নয়। এটি ব্যবহৃত হয় সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র হিসেবে। রাজপুত- রাজার পুত্র অর্থ পরিত্যাগ করে বুঝায় জাতি বিশেষ। মহাযাত্রা- মহাসমারোহে যাত্রা অর্থ পরিত্যাগ করে মৃত্যু অর্থে ব্যবহৃত হয়।
১৪,৩৩৭.
শব্দ মধ্যস্থিত দুটো ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প বিস্তার সমতা লাভ করাকে কী বলা হয়?
  1. অপিনিহিতি
  2. অসমীকরণ
  3. বিষমীভবন
  4. সমীভবন
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন-
জন্ম > জম্ম;
কাদনা > কান্না ইত্যাদি।
-----------------------
অন্যদিকে, 
অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

• অসমীকরণ:
- একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল
লাল > নাল
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৪,৩৩৮.
"পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।" - বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
  2. তোমাকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে, এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত
  3. তোমার তোমার পড়া উচিত এবং তুমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
  4. তোমার তোমার পড়া উচিত, তাহলেই তুমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
সঠিক উত্তর:
এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর: 
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়। 

যেমন:
সরল বাক্য: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।
যৌগিক বাক্য: এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।

সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,৩৩৯.
'Perjury' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ভেদ্য
  2. মিথ্যা সাক্ষ্য
  3. ব্যক্তি আইন
  4. মুক্তি-আদেশ
সঠিক উত্তর:
মিথ্যা সাক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথ্যা সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
• 'Perjury' এর বাংলা পরিভাষা - মিথ্যা সাক্ষ্য।

অন্য অপশনের বাংলা পরিভাষা:
Permeable - ভেদ্য,
• Personal Law- ব্যক্তি আইন,
• Release order - মুক্তি-আদেশ।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৪,৩৪০.
‘আন, ভর, সা’ কোন শ্রেণির উপসর্গ?
  1. সংস্কৃত উপসর্গ
  2. বিদেশী উপসর্গ
  3. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• আন, ভর, সা ইত্যাদি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

---------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩৪১.
নিচের কোন বাক্যে পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ঘুম ঘুম চোখে সে চেয়ে থাকলো।
  2. অল্পসল্প বুদ্ধি তার।
  3. ঝমঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।
  4. ফোড়া টনটন করে।
সঠিক উত্তর:
ঘুম ঘুম চোখে সে চেয়ে থাকলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘুম ঘুম চোখে সে চেয়ে থাকলো।
ব্যাখ্যা
• ‘ঘুম ঘুম চোখে সে চেয়ে থাকলো।’ বাক্যে ব্যবহৃত ‘ঘুম ঘুম’ শব্দটি পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
- অল্পসল্প অনুকার শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।
- ঝমঝম ও টনটন ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,৩৪২.
একাধিক সংখ্যা বোঝাতে যেসব লগ্নক বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে যুক্ত হয়, তার নাম-
  1. যোজক
  2. বচন
  3. আবেগ
  4. পদাণু
সঠিক উত্তর:
বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বচন
ব্যাখ্যা
বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা। বচনের  মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়। 
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন। সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে। 

একবচন শব্দের উদাহরণ:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?
এখানে প্রথম বাক্যের ‘শিক্ষক’ শব্দের সঙ্গে কোনো লগ্নক যুক্ত হয়নি। দ্বিতীয় বাক্যে ‘বই’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত ‘টা’ একটি নির্দেশক। এর সঙ্গেও কোনো বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয়নি। 

বহুবচন  শব্দের উদাহরণ:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।
এখানে প্রথম বাক্যের একবচন ‘মাঝি’ শব্দের সঙ্গে ‘-রা’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘মাঝিরা’ হয়েছে। একইভাবে দ্বিতীয় বাক্যে ‘-গুলো’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘কলমগুলো’ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,৩৪৩.
'অযাচিত' অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. চোখের পর্দা
  2. চশমখোর 
  3. গায়ে পড়া
  4. গোঁফ খেজুরে
সঠিক উত্তর:
গায়ে পড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ে পড়া
ব্যাখ্যা

• 'গায়ে পড়া' বাগ্‌ধারার অর্থ - অযাচিত

অন্যদিকে,
গোঁফ খেজুরে - অত্যন্ত অলস।
চশমখোর - নির্লজ্জ।
চোখের পর্দা - লজ্জা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,৩৪৪.
বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা কত?
  1. ৪৫
  2. ৫০
  3. ৩৯
  4. ২৭
সঠিক উত্তর:
৫০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০
ব্যাখ্যা

- বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে।
- এই লিপির নাম বাংলা লিপি।
- বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি – স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
- সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা লিখতে এক সময়ে অন্য লিপির পাশাপাশি বাংলা লিপিও ব্যবহৃত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১৪,৩৪৫.
কোনটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ?
  1. ক) উৎ + শাস = উচ্ছ্বাস
  2. খ) উৎ + ডীন = উড্ডীণ
  3. গ) বৃহৎ + ঢক্কা = বৃহড্‌ঢক্কা
  4. ঘ) লভ্‌ + ধ = লব্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) বৃহৎ + ঢক্কা = বৃহড্‌ঢক্কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বৃহৎ + ঢক্কা = বৃহড্‌ঢক্কা
ব্যাখ্যা
সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো বৃহৎ + ঢক্কা = বৃহড্‌ঢক্কা৷
উচ্ছাস, উড্ডীণ, লব্ধ শব্দগুলোর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস, উৎ + ডীন = উড্ডীন, লভ্ + ত = লব্ধ৷

উৎসঃ‌ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
১৪,৩৪৬.
'মনোগত ইচ্ছা' এর এককথায় প্রকাশ -
  1. জুগুপ্সা
  2. ঈপ্সিত
  3. লিপ্সা
  4. অধঃকায়
সঠিক উত্তর:
ঈপ্সিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈপ্সিত
ব্যাখ্যা
• 'মনোগত ইচ্ছা' এর এককথায় প্রকাশ - ঈপ্সিত

অন্যদিকে,
- 'গোপন করার ইচ্ছা' এর এককথায় প্রকাশ - জুগুপ্সা।
- 'লাভ করা ইচ্ছা' এর এককথায় প্রকাশ - লিপ্সা।
- 'কটিদেশ থেকে পদতল পর্যন্ত অংশ' এর এককথায় প্রকাশ - অধঃকায়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩৪৭.
কোনটি পরাগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. বিলাতি > বিলিতি
  2. তুলা > তুলো
  3. শিকা > শিকে
  4. ফুলা > ফোলা
সঠিক উত্তর:
ফুলা > ফোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুলা > ফোলা
ব্যাখ্যা
পরাগত স্বরসঙ্গতি:
- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।

যেমন:
- বুঝা > বোঝা,
- দেশি > দিশি,
- ফুলা > ফোলা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রগত স্বরসঙ্গতি - শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।
মধ্যগত স্বরসঙ্গতি - বিলাতি > বিলিতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩৪৮.
কোনটি প্রগত সমীভবনের উদাহরণ?
  1. চিকিচ্ছা
  2. তজ্জন্য
  3. পদ্দ
  4. উচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
পদ্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্দ
ব্যাখ্যা
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্যোন্য সমীভবন -  চিকিৎসা > চিকিচ্ছা, উৎশ্বাস > উচ্ছ্বাস।
পরাগত সমীভবন - তৎ + জন্য > তজ্জন্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩৪৯.
মহাবিশ্বের মূল কথা হলো (..........) বহুর মধ্যে এক। বাক্যের বন্ধনী স্থানে কোন ছেদ চিহ্ন বসবে?
  1. হাইফেন (-)
  2. কোলন (:)
  3. কমা (,)
  4. সেমিকোলন (;)
সঠিক উত্তর:
কোলন (:)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন (:)
ব্যাখ্যা
কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৩৫০.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. যথা + উচিত = যথোচিত
  2. যথাঃ + ইষ্ট = যথেষ্ট
  3. শীত + ঋত = শীতার্ত
  4. মহা + ঋষি = মহর্ষি
সঠিক উত্তর:
যথাঃ + ইষ্ট = যথেষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাঃ + ইষ্ট = যথেষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'যথাঃ + ইষ্ট = যথেষ্ট' - সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়। এর শুদ্ধরূপ - যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয় মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, 
যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট, 
পরম + ঈশ = পরমেশ,
মহা + ঈশ = মহেশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মহা + ঋষি = মহর্ষি,
শীত + ঋত = শীতার্ত,
যথা + উচিত = যথোচিত।
উপরের সন্ধিবিচ্ছেদ গুলো শুদ্ধ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,৩৫১.
'ঋত্বিক' শব্দটির প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. ক) বৃষভ
  2. খ) এলানো
  3. গ) ঋজু
  4. ঘ) হোমক
সঠিক উত্তর:
ঘ) হোমক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হোমক
ব্যাখ্যা
'ঋত্বিক' অর্থ যজ্ঞের পুরোহিত, যাজক।
প্রতিশব্দঃ 'হোমক'।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৪,৩৫২.
"ছ, জ, ঝ" উচ্চারণস্থান অনুসারে কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  2. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  3. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  4. তালব্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
তালব্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ়- মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• প, ফ, ব, ভ, ম- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• ন, র, ল, স- দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১৪,৩৫৩.
অনুসর্গের অপর নাম- 
  1. ধাতু
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. কর্মপ্রবচনীয় শব্দ
সঠিক উত্তর:
কর্মপ্রবচনীয় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মপ্রবচনীয় শব্দ
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের অপর নাম কর্মপ্রবচনীয় শব্দ।

• অনুসর্গ ও কর্মপ্রবচনীয়:
- অনুসর্গ হলো একটি অব্যয়।
- এটি বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে বাক্যে সম্পর্ক এবং অর্থ স্পষ্ট করতে সাহায্য করে।
- এটি নিজস্ব অর্থ পরিবর্তন করে না এবং বাক্যে স্বাধীনভাবে ব্যবহার হয় না।
- অনুসর্গ বিভক্তির মতো কাজ করে।
- এটি পদের কারক সম্পর্ক নির্ধারণে সাহায্য করে।
- তবে বিভক্তির মতো শব্দের শেষে যুক্ত না হয়ে, অনুসর্গ পদের পরে আলাদাভাবে বসে সেই সম্পর্ক তৈরি করে।
- এই কারণে অনুসর্গকে কর্মপ্রবচনীয় শব্দ বলা হয়।
- কারণ এটি কাজ সম্পাদন করে (কর্ম) এবং বাক্যে পদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।
• উদাহরণ:
- “তিনি বইয়ের দ্বারা পড়ছেন” → ‘দ্বারা’ শব্দটি বইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে করণ কারক বোঝাচ্ছে।
- “আমি বাড়ি থেকে এলাম” → ‘থেকে’ শব্দটি বাড়ির সঙ্গে যুক্ত হয়ে অপাদান কারক বোঝাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১৪,৩৫৪.
'তুহিন' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. তুষার
  2. জাগরণ
  3. হিম
  4. উষ্ণতা
সঠিক উত্তর:
উষ্ণতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষ্ণতা
ব্যাখ্যা
• 'তুহিন' এর বিপরীতার্থক শব্দ - উষ্ণতা

উল্লেখ্য,
- 'তুহিন' শব্দের অর্থ - বরফ, তুষার, হিম
- 'উষ্ণতা' শব্দের অর্থ - তাপ, তাপমাত্রা।

অন্যদিকে,
তন্দ্রা - জাগরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,৩৫৫.
গণনা ও পরিমাপ সংক্রান্ত ধারনা দেয় কোন শব্দ?
  1. ক) সংখ্যাশব্দ
  2. খ) বচন
  3. গ) লগ্নক
  4. ঘ) বলক
সঠিক উত্তর:
ক) সংখ্যাশব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংখ্যাশব্দ
ব্যাখ্যা
সংখ্যাশব্দ
সংখ্যা হচ্ছে গণনা ও পরিমাপ সংক্রান্ত ধারনা।  
- সংখ্যার সাহায্যে গণনাগত ও পরিমাণগত ধারণা পাওয়া যায়। 
- সংখ্যা যেহেতু বিশেষ্যরই সংখ্যা নির্দেশ করে, তাই তা অন্বয়ের চরিত্রে বিশেষণ হিসেবে গণ্য।  

সংখ্যাবাচক বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ- 
- পূর্ণসংখ্যাবাচক ও 
- ক্রমবাচক।
আরও রয়েছে - তারিখবাচক সংখ্যাশব্দ
                     - গুণিতক সংখ্যাশব্দ

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি।
১৪,৩৫৬.
বাংলা ভাষায় প্রথম অভিধান সংকলণ করেন কে?
  1. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
  2. রাজশেখর বসু
  3. হরিচরণ দে
  4. অশোক মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
ব্যাখ্যা

রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ: 
- প্রথম বাংলা অভিধানকার রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ খ্যাতনামা স্মার্ত্ত ও ব্রাহ্মসমাজের প্রথম আচার্য হিসেবে সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন। - ১৭৮৬ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ও ১৮৪৫ সালের ২ মার্চ তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 
- বাংলা অভিধানের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮১৭ সালে রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের হাত ধরে।
- তিনি 'বঙ্গভাষাভিধান' নামে বাংলা ভাষায় প্রথম অভিধান সংকলন করেন। 'বঙ্গভাষাভিধান': বাঙালি রচিত বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান।
- প্রায় দুশো বছর আগে প্রকাশিত রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের সেই অভিধানকে ঘিরে বাঙালির গর্বের শেষ নেই। সেই সময়কার দাপুটে প্রকাশক স্কুল বুক সোসাইটি এই বইয়ের মুদ্রণ ও প্রকাশনার যাবতীয় দায়ভার গ্রহণ করে একটি ঐতিহাসিক কর্তব্য সম্পন্ন করেছিল। 

উৎস: সংবাদপত্রে সেকালের কথা প্রথম খণ্ড এবং ‘বঙ্গভাষাভিধান’ রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ।

১৪,৩৫৭.
মহাপ্রাণ, মূর্ধন্য ধ্বনি কোনটি?
  1. জ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• 'ঠ' - মহাপ্রাণ ধ্বনি।

• মহাপ্রাণ ধ্বনি: 
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হয়ে যায়, বাতাসের চাপ বেশি থাকে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
- বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি হচ্ছে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- যথা- (খ, ঘ), (ছ, ঝ), (ঠ, ঢ), (থ, ধ), (ফ, ভ) এবং 'হ' ইত্যাদি। 

• অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

বাংলা বর্ণমালায় (ক - ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।

এরমধ্যে,
ক - বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) - এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি,
চ - বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) - ৫টি তালব্য ধ্বনি,
ট - বর্গীয়( ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) - এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি,
ত - বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ) - পাঁচটি দন্ত ধ্বনি এবং
প - বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) - এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,৩৫৮.
'তৎপর' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তধ্‌ + পর 
  2. তদ্‌ + পর
  3. তৎ্‌ + পর
  4. তত্‌ + পর
সঠিক উত্তর:
তদ্‌ + পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্‌ + পর
ব্যাখ্যা
• 'তৎপর' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - তদ্‌ + পর

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে,
দ্ ও ধ্‌ এর পরে ক, চ, ট, ত, প, খ, ছ, ঠ, থ, ফ থাকলে দ্ ও ধ্‌ স্থলে অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হয়।
যেমন -
- দ্‌ > ত্  ⇒ তদ্‌ + কাল = তৎকাল  ; তদ্‌ + পর = তৎপর
- ধ্‌ > ত্  ⇒  ক্ষুধ্‌ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

এরূপ - হৃৎকম্প, তত্ত্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৩৫৯.
'ষোড়শ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) ষ + দশ
  2. খ) ষড়্‌ + দশ
  3. গ) ষট্ + দশ
  4. ঘ) ষোড় + দশ
সঠিক উত্তর:
গ) ষট্ + দশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষট্ + দশ
ব্যাখ্যা
'ষোড়শ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = ষট্ + দশ
এটি নিপাতনে সন্ধি বিচ্ছেদের উদাহরণ। 

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদঃ
• বন + পতি = বনস্পতি,
• আ + চর্য = আশ্চর্য,
• গো + পদ = গোস্পদ,
• পর + পর = পরস্পর,
• ষট্ + দশ = ষোড়শ,
• এক + দশ = একাদশ,
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৩৬০.
'এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করেছে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  4. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীতকাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- তিনি রাড়ি গেলেন, রাফি এসেছিল ইত্যাদি।

• নিত্যবৃত্ত অতীতকাল:
অতীতকালে কোনো ক্রিয়া সব সময় বা নিয়মিতভাবে ঘটতো এমন বোঝালে কিংবা অভ্যাসগত কোনো কাজ বোঝালে তাকে 'নিত্যবৃত্ত অতীতকাল' বলে। যেমন:
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ:
• ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
• কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
• সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।
• ক্রিয়া সংঘটনের অপূর্ণতাজনিত কারণ বোঝাতে: গাড়িটা কিনতাম, কিন্তু দাম বেশি বলে কেনা হল না।
• অপূর্ণতাজনিত খেদ প্রকাশে: যদি তোমার মতো গান গাইতে পারতাম।
• নিশ্চয়তার ভাব প্রকাশে ভবিষ্যৎকালের দ্যোতনায়: এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।

• ঘটমান অতীতকাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তখনো কাজটি সমাপ্ত হয়নি- ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- মা তখন শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন।
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- মা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

• পুরাঘটিত অতীতকাল:
যে ক্রিয়া অতীতে বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।

পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ:
• অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ মারাঠা সৈন্য মারা গিয়েছিল।
• অতীতে সংঘটিত ঘটনার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়: বৃষ্টি শেষ হবার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৪,৩৬১.
স্বরসঙ্গতির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. জিলাপি > জিলিপি
  2. মুলা > মুলো
  3. আজি > আইজ
  4. দেশি > দিশি
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
ব্যাখ্যা

স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।

যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- জিলাপি > জিলিপি
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অপিনিহিতির উদাহরণ - আজি > আইজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,৩৬২.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. শূণ্য
  2. গণ্য
  3. মান্য
  4. পুণ্য
সঠিক উত্তর:
শূণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূণ্য
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান শূন্য,
- এটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: √শ্বন্‌ + য।
  অর্থ: 
- পরিমাণ বা আয়তনের অভাব।

অপশনে প্রদত্ত, গণ্য, মান্য ও পুণ্য শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,৩৬৩.
উপজীবিকা অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় কোনটি?
  1. ব্যাপারি
  2. জেলে
  3. চাষি
  4. ডাক্তারি
সঠিক উত্তর:
জেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলে
ব্যাখ্যা
ইয়া> এ-প্রত্যয়:
(ক) তৎকালীনতা বোঝাতে: সেকাল + এ = সেকেলে, একাল + এ = একেলে, ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া> ভাদুরে (কইমাছ)।
(খ) উপকরণ বোঝাতে: পাথর-পাথরিয়া> পাথুরে, মাটি-মেটে, বালি-বেলে।
(গ) উপজীবিকা অর্থে: জাল-জালিয়া>জেলে, মোট-মুটে।
(ঘ) নৈপুণ্য বোঝাতে: খুন-খুনিয়া>খুনে, দেমাক-দেমাকে, না (নৌকা) – নাইয়া> নেয়ে।
(ঙ) অব্যয়জাত বিশেষণ গঠনে: টনটন- টনটনে (জ্ঞান), কনকন-কনকনে (শীত), গনগন- গনগনে (আগুন), চকচক- চকচকে (জুতা)।

অন্যদিকে,
ই/ঈ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে: ডাক্তার-ডাক্তারি, মােক্তার-মােক্তারি, পােদ্দার-পােদ্দারি, ব্যাপার- ব্যাপারি, চাষ-চাষি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
১৪,৩৬৪.
কোন শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না?
  1. সধবা
  2. সভানেত্রী
  3. সেবিকা
  4. সুন্দরী
সঠিক উত্তর:
সধবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবা
ব্যাখ্যা
• লিঙ্গান্তর হয় না - সধবা
- এটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন - সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই, ইত্যাদি।

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:  
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে, এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন - কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘সভানেত্রী’ এর পুরুষবাচক শব্দ - সভাপতি।
• ‘সেবিকা’ এর পুরুষবাচক শব্দ - সেবক।
• ‘সুন্দরী’ এর পুরুষবাচক শব্দ - সুন্দর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৩৬৫.
'খেজুর রসে গুড় হয়।' এখানে 'রসে' কোন কারক?
  1. করণ কারক 
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক 
  4. কর্তা কারক 
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।

এরূপ-
 জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
[ বাক্যকে কি থেকে গুড় হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'রসে'। সুতরাং 'রসে' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৩৬৬.
কণ্ঠ্যধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
যেসব ধ্বনির উচ্চারণ স্থান তালু, তাদের তালব্যধ্বনি বলে৷ যেমন- ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য়, শ।
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান কন্ঠনালির উপরিভাগ বা জিহবামূল, তাদের কণ্ঠ্যধ্বনি বলে৷
যেমন- অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ।
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷
১৪,৩৬৭.
তাঁর মধ্যে প্রচণ্ড ____ কাজ করে।
  1. হীনন্মন্যতা
  2. হীনম্মন্যতা
  3. হীনমন্যতা
  4. হীন্যমনতা
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
হীনম্মন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হীনম্মন্যতা
ব্যাখ্যা
• তাঁর মধ্যে প্রচণ্ড হীনম্মন্যতা কাজ করে।

• 'হীনম্মন্যতা'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- নিজের সম্বদ্ধে হীন ধারণা পোষণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,৩৬৮.
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দযুগল কোনটি?
  1. ক) অর্পণ - গ্রহণ
  2. খ) উপগত - অনুগত
  3. গ) মতি - সুর্মতি
  4. ঘ) বিজেতা - বিজয়
সঠিক উত্তর:
ক) অর্পণ - গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অর্পণ - গ্রহণ
ব্যাখ্যা
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দযুগল: অর্পণ - গ্রহণ/প্রত্যর্পণ।

গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দযুগল:
রাগ - বিরাগ।
উপগত - অপগত।
প্রসন্ন - বিষণ্ণ, অপ্রসন্ন
প্রফুল্ল - ম্লান, বিষণ্ণ 
প্রাচ্য - প্রাতীচ্য 
বিরক্ত - অনুরক্ত 
বিজেতা - বিজিত 
মধুর - কটু
মতি - দুর্মতি
বিনীত - উদ্ধত

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩৬৯.
বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডারে তৎসম শব্দের ব্যবহার শতকরা-
  1. ক) ৮%
  2. খ) ২৫%
  3. গ) ৬০%
  4. ঘ) ২%
সঠিক উত্তর:
খ) ২৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৫%
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডারে তৎসম শব্দের ব্যবহার শতকরা- ২৫%।

বাংলা ভাষার শব্দের অনুপাত নির্ণয় করতে  গিয়ে ড. মুহাম্মদ এনামুল হক মন্তব্য করেছেন, 
"বর্তমান বাংলা ভাষায় শব্দ ব্যবহারে লেখকভেদে তারতম্য ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জসীমউদ্‌দীন প্রমুখ শ্রেষ্ঠ লেখকের ভাষা বিশ্লেষণ করলে যে শাব্দিক অনুপাত পাওয়া যায় :

তদ্ভব - ৬০%
তৎসম - ২৫%
অর্ধ - তৎসম -৫%
দেশি - ২% 
বিদেশি  - ৮%

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৪,৩৭০.
কোনো ভাষায় ব্যবহৃত লিখিত বর্ণসমষ্টিকে কী বলা হয়?
  1. স্বরবর্ণ
  2. ব্যঞ্জনবর্ণ
  3. বর্ণমালা
  4. মৌলিক স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
বর্ণমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণমালা
ব্যাখ্যা
• বর্ণমালা: যে-কোনো ভাষায় ব্যবহৃত লিখিত বর্ণসমষ্টিকে সেই ভাষার বর্ণমালা বলা হয় (alphabets) ।

বাংলা বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালায় মোট পঞ্চাশ (৫০) টি বর্ণ রয়েছে।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ এগার (১১)টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ঊনচল্লিশ (৩৯) টি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,৩৭১.
'রেস্তোরাঁ' কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ফারসি
  2. ফরাসি
  3. তৎসম
  4. স্প্যানিশ
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
ব্যাখ্যা

• রেস্তোরাঁ (বিশেষ্য)
- ফরাসি শব্দ।
অর্থ:
- হোটেল বিশেষ;
- চায়ের দোকান।

ফরাসি ভাষার কয়েকটি শব্দ:
- কুপন
- ডিপো
- রেস্তোরাঁ
- আঁতেল
- কার্তুজ ইত্যাদি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

১৪,৩৭২.
বাগ্‌ধ্বনি কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাচ
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি:
মানুষ বাগ্‌যন্ত্রের সাহায্যে যা উচ্চারণ করে তা-ই ধ্বনি (Sound)। বাগ্‌যন্ত্রের সাহায্যে নানা রকমের ধ্বনি সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু এসব ভাষার ধ্বনি নয়। ভাষার ধ্বনি বাগ্‌যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত হয় এবং তা অর্থপূর্ণ (meaningful)। বাগ্‌ধ্বনি দু-প্রকার।
যথা-
১. স্বরধ্বনি (vowel) ও
২. ব্যঞ্জনধ্বনি (consonant)।

• স্বরধ্বনি:
যেসব বাগ্‌ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস আগত বাতাস মুখের মধ্যে কোথাও কোনো ধরনের বাধা পায় না সেগুলিই স্বরধ্বনি (Vowel)। যেমন- অ, আ, ই, ও, উ ইত্যাদি। কিছু স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস নির্গত বাতাস কোনো রকম বাধা ছাড়াই একই সঙ্গে নাক ও মুখ দিয়ে বের হয়। যেমন- অঁ, আঁ, উঁ, এঁ ইত্যাদি। এগুলিকে বলা হয় আনুনাসিক স্বরধ্বনি। স্বরধ্বনি সাধারণত ঘোষ (voiced) হয়। বাংলা ভাষায় সব স্বরধ্বনিই ঘোষ।

• ব্যঞ্জনধ্বনি:
যেসব বাগ্‌ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস আগত বাতাস মুখের মধ্যে কখনো সম্পূর্ণ কখনো আংশিক বাধা পেয়ে উচ্চারিত হয় তাকে বলা হয় ব্যঞ্জনধ্বনি। যেমন- ক্, খ্‌, র্, ল্, শ্, স্ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,৩৭৩.
প্রত্যয় জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ঘূর্ণায়মান
  2. করিতকর্মা
  3. আবশ্যকীয়
  4. গণনীয়
সঠিক উত্তর:
আবশ্যকীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবশ্যকীয়
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
একত্রিত - একত্র;
অধীনস্থ - অধীন;
করিতকর্মী - করিতকর্মা;
গণ্যনীয় - গণনীয়;
জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
পুজ্য - পূজ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,৩৭৪.
'নিশীত রাতে বাজছে বাঁশি।' - বাক্যে 'নিশীত' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

 'নিশীত রাতে বাজছে বাঁশি' বাক্যে 'নিশীত' শব্দটি 'বিশেষণ' পদ।

বিশেষণ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।

যেমন
- সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

তেমনি,
- নিশীত রাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

১৪,৩৭৫.
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দজোড় কোনটি?
  1. ক) স্নিগ্ধ - কোমল
  2. খ) সংহত - বিভক্ত
  3. গ) স্ববাস - আবাস
  4. ঘ) সচেষ্ট - বিশিষ্ট
সঠিক উত্তর:
খ) সংহত - বিভক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংহত - বিভক্ত
ব্যাখ্যা
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দজোড়- 
সংহত - বিভক্ত/অসংহত

স্নিগ্ধ - রুক্ষ  
স্ববাস - প্রবাস 
সচেষ্ট - নিশ্চেষ্ট

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩৭৬.
'সোনার বাংলা' কোন সমাস?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত 'সোনার বাংলা' হলো অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

অলুক তৎপুরুষ সমাস
: যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অনুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : গায়ে পড়া - গায়েপড়া।
এরূপ-ঘিয়ে ভাজা, কলে ছাঁটা, কলের গান, গরুর গাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,৩৭৭.
আচার ও বোতাম শব্দ দুটি কোন ভাষা হতে বাংলায় গৃহীত হয়েছে?
  1. ফরাসী ভাষা
  2. পর্তুগিজ ভাষা
  3. ওলন্দাজ
  4. ফার্সি ভাষা
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ ভাষা
ব্যাখ্যা
• আচার,
- পর্তুগিজ শব্দ। 
অর্থ: 
তৈল মসলা যোগে আম-লেবু-কুল-জলপাই প্রভৃতি ফলে প্রস্তুত মুখরোচক চাটনি।

• বোতাম (বিশেষ্য), 
- পর্তুগিজ শব্দ। 
অর্থ: 
জামা প্রভৃতির খোলা অংশ আটকাবার এক প্রকার গুটিকা। 

সূত্র: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৪,৩৭৮.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. নাই
  2. দিয়ে
  3. সেই
  4. তাহাকে
সঠিক উত্তর:
দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিয়ে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর- খ) দিয়ে।

ব্যাখ্যা:
চলিত রীতি হলো আধুনিক বাংলা ভাষার স্বাভাবিক কথ্য রূপ যা সাধারণত লেখায় ব্যবহৃত হয়।

"দিয়ে" - চলিত রীতির শব্দ:
- এটি আধুনিক বাংলায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হয়
- সাধু রীতিতে এর রূপ "দিয়া"।

অন্যান্য অপশনগুলো:
ক) নাই - এটি সাধু রীতির শব্দ।
চলিত রীতিতে: "নেই"।

গ) সেই - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "সে"।

ঘ) তাহাকে - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "তাকে"।

অর্থ্যাৎ,
সাধু রীতি: তাহাকে, সেই, দিয়া
চলিত রীতি: তাকে, সে, দিয়ে।

সুতরাং "দিয়ে" শব্দটি চলিত রীতির প্রমিত শব্দ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৩৭৯.
‘যারা দেশের ডাকে সারা দিতে পারে তারাই তো সত্যিকারের বীরপুরুষ’। এখানে ‘তারাই’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
- বিশেষ্যের পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম সাধারণত ইতোপূর্বে ব্যবহৃত বিশেষ্যের প্রতিনিধি স্থানীয় শব্দ।
- যেমন: হস্তী প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ প্রাণী। তার শরীরটি যেন বিরাট এক মাংসের স্তুপ।(এখানে তার হচ্ছে সর্বনাম পদ)।
- বিশেষ্য পদ অনুক্ত থাকলেও ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হতে পারে।
- যেমন: যারা দেশের ডাকে সারা দিতে পারে, তারা তো সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। (এখানে তারা হচ্ছে সর্বনাম পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪,৩৮০.
”বাগ্মী” শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. স্বল্পভাষী
  2. সুবক্তা
  3. মিতভাষী
  4. সংযমী
সঠিক উত্তর:
সুবক্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবক্তা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'বাগ্মী' শব্দের অর্থ: বানিপুণ, বাকপটু, সুবক্তা।

অন্যদিকে,
• 'সংযতবাক'- শব্দটির অর্থ: স্বল্পভাষী, মিতভাষী।
• 'স্পষ্টভাষী' শব্দের অর্থ: স্পষ্টবক্তা।
• ‘সংযতাত্মা’ শব্দের অর্থ-  সংযমী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,৩৮১.
শব্দ-মধ্যে কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হলে তাকে কী বলে?
  1. অন্তর্হতি
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি: 
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। 
যেমন - কবাট > কপাট, ধোবা> ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্তর্হতি: 
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে  তাকে বলে অন্তর্হতি। 
যেমন - ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

ধ্বনি বিপর্যয়: 
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন - ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা > বাংলা রিস্কা ইত্যাদি।
অনুরূপ, পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন - বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৩৮২.
'চৌকস লোক' বাক্যে 'চৌকস' শব্দটি কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. অবস্থাবাচক
  3. রূপবাচক
  4. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
ব্যাখ্যা

• নাম  বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৪,৩৮৩.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) তুষারশুভ্র
  2. খ) চন্দ্রমুখ
  3. গ) সিংহপুরুষ
  4. ঘ) সাহিত্যসভা
সঠিক উত্তর:
ক) তুষারশুভ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুষারশুভ্র
ব্যাখ্যা
'তুষারশুভ্র'- উপমান কর্মধারয় সমাস।
তাছাড়া, চন্দ্রমুখ, সিংহপুরুষ, উপমিত কর্মধারয় সমাস। 
'সাহিত্যসভা'- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। 

 
উপমান কর্মধারয় সমাস: সাধারণ ধর্মবাচক পদের সঙ্গে উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
অর্থাৎ, উপমান ও উপমেয় কর্মধারয়ের মধ্যে যেটিতে সাধারণ ধর্মবাচক পদ থাকবে, সেটিই উপমান কর্মধারয়।
যেমন, তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র। 

উপমিত কর্মধারয় সমাস: সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে সাধারণ ধর্ম উল্লেখ করা থাকে না। 
যেমন, ‘পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ’।
এখানে ‘পুরুষ’কে ‘সিংহ’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে ‘পুরুষ’ উপমেয় আর ‘সিংহ’ উপমান। সাধারণ ধর্মের উল্লেখ নেই। 

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:  যে কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদগুলো লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন, সাহিত্যসভা= সাহিত্য বিষয়ক সভা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৪,৩৮৪.
নিচের কোন উপসর্গটি বাংলা ও তৎসম উভয়ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না?
  1. ক) আ
  2. খ) বি
  3. গ) অপ
  4. ঘ) সু
সঠিক উত্তর:
গ) অপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপ
ব্যাখ্যা
- 'অপ' - সংস্কৃত উপসর্গ। অপমান শব্দে বিপরীত অর্থে অপ’র ব্যবহার হয়েছে।
-উপসর্গের ক্ষেত্রে বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে পাওয়া যায় এমন উপসর্গের সংখ্যা ৪ টি।

• সেগুলো হলো-
- আ
- সু
- বি
- নি

সেক্ষেত্রে-
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা। যেমন- আকাঠা, সুনজর, বিনামা, নিলাজ বাংলা শব্দ সুতরাং এই শব্দসমূহের আ, সু, বি, নি হলো বাংলা উপসর্গ।
- আর সে শব্দটি তৎসম হলে সে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
যেমন-আকণ্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ তৎসম শব্দ। এখানের আ, সু, বি, নি তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
১৪,৩৮৫.
'উপসর্গ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• 'উপসর্গ'-  রূঢ়ি শব্দ। 

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- উপ + সর্গ = উপসর্গ; ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- পূর্বের অধ্যায়। কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- রোগের লক্ষণ। 
- সন্দেশ, হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩৮৬.
'স্বল্প' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) সৌ + অল্প
  2. খ) সব + অল্প
  3. গ) সু + অল্প
  4. ঘ) সো + অল্প
সঠিক উত্তর:
গ) সু + অল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সু + অল্প
ব্যাখ্যা
'স্বল্প' শব্দটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
স্বল্প' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - সু + অল্প।
সূত্র: উ/ঊ + অন্য স্বর = ব্‌ + স্বর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,৩৮৭.
‘মৃন্ময়’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. মন + মুয়
  2. মন + ময়
  3. মৃৎ + ময়
  4. মন + মৃয়
সঠিক উত্তর:
মৃৎ + ময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃৎ + ময়
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- আগে 'ৎবা দ্' এবং পরে 'ন্ / ম্' থাকলে 'ৎ' বা 'দ্' স্থানে ন্ হয় এবং পরের 'ন'- এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়।
- কিন্তু ৎ / দ্ - এর পর 'ল্' থাকলে ৎ / দ্ এর সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং 'ল্' পরের 'ল' এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।

যেমন:
- জগৎ + নাথ = জগন্নাথ, 
- তদ্ + নিষ্ঠ = তন্নিষ্ঠ, 
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ, 
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়, 
- তদ্ + মধ্য = তন্মধ্যে, 
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩৮৮.
'পাপে বিরত হও।' এখানে 'পাপে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  2. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও। 
[ বাক্যকে কোথা হতে বা কিসের বিরত হও? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পাপে' ৷ সুতরাং 'পাপে' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৩৮৯.
"অঙ্গচ্ছেদ" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অঙ্গ + চ্ছেদ
  2. অং + গচ্ছেদ
  3. অঙ্গ + অচ্ছেদ
  4. অঙ্গ + ছেদ
সঠিক উত্তর:
অঙ্গ + ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অঙ্গ + ছেদ
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
→ স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
- মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি,
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ,
- অঙ্গ + ছেদ = অঙ্গচ্ছেদ ইত্যাদি।

→ এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,৩৯০.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) প্রতিদিন
  2. খ) অকাল
  3. গ) খোশমেজাজ
  4. ঘ) সেতার
সঠিক উত্তর:
ক) প্রতিদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রতিদিন
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। সামীপ্য, বীপ্সা, পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়। বীপ্সা (পৌনঃপুনিকতা) বোঝাতে দিন দিন = প্রতিদিন, ন কাল = অকাল (নঞ তৎপুরুষ সমাস), খোশমেজাজ যার = খোশমেজাজ (বহুব্রীহি) এবং সে (তিন) তারের সমাহার (দ্বিগু সমাস)।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৯১.
'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. বিধু
  2. নিধি
  3. শশী
  4. সুধাকর
সঠিক উত্তর:
নিধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিধি
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ নয় ‘নিধি’।
- 'নিধি' হচ্ছে 'ধন' এর সমার্থক শব্দ।

• 'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ:
চন্দ্র, শশী, শশাঙ্ক, সুধাকর, ইন্দু, সোম, শশধর, বিধু, নিশাকর, সুধাংশু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক।

অন্যদিকে,
• 'ধন' এর সমার্থক শব্দ:
বিত্ত, অর্থ, সম্পদ, বিভব, বৈভব, বিভূতি, নিধি, ঐশ্বর্য, বিত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৯২.
নিচের কোনগুলি সাধারণ-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) আকাশ, বই
  2. খ) নদী, ছাগল
  3. গ) আনন্দ, দীনতা
  4. ঘ) মিছিল, পরিবার
সঠিক উত্তর:
খ) নদী, ছাগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নদী, ছাগল
ব্যাখ্যা
‘নদী, ছাগল’ সাধারণ-বিশেষ্যের উদাহরণ ।

সাধারণ-বিশেষ্য:

জাতি বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

- আকাশ, বই বস্তু-বিশেষ্য এর উদাহরণ ।
- আনন্দ, দীনতা গুণ-বিশেষ্যের উদাহরণ ।
- মিছিল, পরিবার সমষ্টি - বিশেষ্যের উদাহরণ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (নমব-দশম শ্রেণি)
১৪,৩৯৩.
নিচের কোনটি জটিল বাক্য?
  1. গঙ্গা হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়েছে তারপর সাগরে পড়েছে।
  2. পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে, কিন্তু অবাস্তব কিছু নেই।
  3. সত্য কথা স্বীকার কর, নতুবা শাস্তি পাবে।
  4. বাঙালির যে আত্মজাগরণ, তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
  5. কোথাও পথ পেলাম না, তাই তোমার কাছে এসেছি।
সঠিক উত্তর:
বাঙালির যে আত্মজাগরণ, তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালির যে আত্মজাগরণ, তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- যিনি পরের উপকার করেন (আশ্রিত বাক্য), তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে (খণ্ডবাক্য)।
- বাঙালির যে আত্মজাগরণ (আশ্রিত বাক্য), তা অভিনন্দনের দাবি রাখে (খণ্ডবাক্য)।

অন্যদিকে, 
যৌগিক বাক্যের উদাহরণ-
• গঙ্গা হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়েছে তারপর সাগরে পড়েছে।
• পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে, কিন্তু অবাস্তব কিছু নেই।
• সত্য কথা স্বীকার কর, নতুবা শাস্তি পাবে।
• কোথাও পথ পেলাম না, তাই তোমার কাছে এসেছি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৯৪.
'সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তৃকারক
  5. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ অধিকরণ কারক:
- যদি কোন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিরকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়। (ভাবাধিকরণে ৭মী)।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা-
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। এ বাড়িতে কেউ নেই।
- কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
অধিকরণ তিন প্রকার:
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) 

১৪,৩৯৫.
'নন্দিত' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. বিষণ্ণ
  2. বিষাদ
  3. বিগ্রহ
  4. নিন্দিত
সঠিক উত্তর:
নিন্দিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিন্দিত
ব্যাখ্যা
• 'নন্দিত' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ - নিন্দিত

অন্যদিকে, 
- 'প্রসন্ন' এর বিপরীত শব্দ - বিষণ্ণ।
- 'হর্ষ/হরিষ' এর বিপরীত শব্দ - বিষাদ।
- 'সন্ধি' এর বিপরীত শব্দ - বিগ্রহ/বিবাদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩৯৬.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত নয়?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বিগু
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়। কিন্তু তৎপুরুষ, কর্মধারয় ও দ্বিগু সমাসে পরপদের অর্ধ প্রধান হয় বলে এগুলো অব্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত প্রক্রিয়া।
অন্যদিকে বহুব্রীহি সমাসে কোনো পদের অর্থ প্রধান হয় না বলে এটি অব্যয়ীভাবের বিপরীত নয়।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন)
১৪,৩৯৭.
তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' শব্দটি কোন প্রকারের অব্যয়?
  1. ক) অনুসর্গ অব্যয়
  2. খ) সংকোচক অব্যয়
  3. গ) বিয়োজক অব্যয়
  4. ঘ) সংযোজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংযোজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংযোজক অব্যয়
ব্যাখ্যা
তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে। তাছাড়া অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৪,৩৯৮.
'মনোনয়ন' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মনোঃ + নয়ন
  2. মনঃ + নয়োন
  3. মনো + নয়ন
  4. মনঃ + নয়ন
সঠিক উত্তর:
মনঃ + নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃ + নয়ন
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধিের নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/ঘ, জাঝা, ড/ঢ, দ/ধান, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য/র্ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।

সন্ধিজাত শব্দগঠন:
- অধঃ + গতি = অধোগতি।
- মনঃ + গত = মনোগত।
- বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ = বয়োজ্যেষ্ঠ।
- সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত।
- ত্রয়ঃ + দশ = ত্রয়োদশ।
- শিরঃ + দেশ = শিরোদেশ।
- তিরঃ + ধান = তিরোধান।
- শিরঃ + ধার্য = শিরোধার্য।
- মনঃ + নয়ন = মনোনয়ন।
- মনঃ + নীত = মনোনীত।
- অধঃ + বদন = অধোবদন।
- সরঃ + বর= সরোবর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,৩৯৯.
সমার্থক শব্দ নির্ণয় করুন: 'চাঁদ'
  1. সবিতা
  2. বিধু
  3. তপন
  4. মার্তণ্ড
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধু
ব্যাখ্যা

'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- চন্দ্র, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, বিধু, সোম, নিশাকর, সুধাংশু, সুধাকর, ইন্দু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক।

অন্যদিকে,
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,৪০০.
'প্রেষণ' কোন ধরনের সন্ধি-সাধিত শব্দ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর,
- অন্য + অন্য = অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।