উত্তর
ব্যাখ্যা
• বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই হলো সংস্কৃত ভাষা। কিন্তু এ ভাষা তথাকথিত বিদগ্ধ ও অভিজাত শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল। এই সংস্কৃত ভাষা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নরূপে অগ্রসর হতে লাগল। এসব পরিবর্তিত ভাষাকে বলা হয় আদিম প্রাকৃত ভাষা বা মধ্যভারতীয় আর্য ভাষা।
• 'প্রাকৃত' বা 'প্রাকৃত ভাষা' কথাটির তাৎপর্য হলো প্রকৃতির অর্থাৎ জনগণের কথ্য ও বোধ্য ভাষা। পরবর্তীকালে এই 'প্রাকৃত' ভাষাই ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রভাবে, কথ্য ভাষার উচ্চারণের বিভিন্নতা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করল। এই 'প্রাকৃত ভাষা'ই আঞ্চলিক বিভিন্নতা নিয়ে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত হলো। যেমন- 'মাগধি প্রাকৃত', 'মহারাষ্ট্রি প্রাকৃত', 'শৌরসেনি প্রাকৃত', 'পৈশাচি প্রাকৃত' ইত্যাদি।
• মাগধি প্রাকৃতের অপভ্রংশ (বা অবহট্ঠ অর্থাৎ যা খুব বিকৃত হয়ে গেছে) থেকেই কালক্রমে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে উৎপত্তি লাভ করে বাংলা ভাষা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।