বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৪৩ / ৩৫৪ · ১৪,২০১১৪,৩০০ / ৩৫,৭১৩

১৪,২০১.
মাগধি প্রাকৃতের অপভ্রংশ থেকে কালক্রমে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে উৎপত্তি লাভ করে-
  1. বৈদিক ভাষা
  2. সংস্কৃত ভাষা
  3. বাংলা ভাষা
  4. আর্য ভাষা
সঠিক উত্তর:
বাংলা ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ভাষা
ব্যাখ্যা
• ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
• বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই হলো সংস্কৃত ভাষা। কিন্তু এ ভাষা তথাকথিত বিদগ্ধ ও অভিজাত শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল। এই সংস্কৃত ভাষা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নরূপে অগ্রসর হতে লাগল। এসব পরিবর্তিত ভাষাকে বলা হয় আদিম প্রাকৃত ভাষা বা মধ্যভারতীয় আর্য ভাষা।

• 'প্রাকৃত' বা 'প্রাকৃত ভাষা' কথাটির তাৎপর্য হলো প্রকৃতির অর্থাৎ জনগণের কথ্য ও বোধ্য ভাষা। পরবর্তীকালে এই 'প্রাকৃত' ভাষাই ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রভাবে, কথ্য ভাষার উচ্চারণের বিভিন্নতা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করল। এই 'প্রাকৃত ভাষা'ই আঞ্চলিক বিভিন্নতা নিয়ে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত হলো। যেমন- 'মাগধি প্রাকৃত', 'মহারাষ্ট্রি প্রাকৃত', 'শৌরসেনি প্রাকৃত', 'পৈশাচি প্রাকৃত' ইত্যাদি।

মাগধি প্রাকৃতের অপভ্রংশ (বা অবহট্‌ঠ অর্থাৎ যা খুব বিকৃত হয়ে গেছে) থেকেই কালক্রমে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে উৎপত্তি লাভ করে বাংলা ভাষা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,২০২.
'উপরি' অর্থে 'অধি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অধিপতি
  2. অধিবাসী
  3. অধিষ্ঠান
  4. অধিগত
সঠিক উত্তর:
অধিষ্ঠান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিষ্ঠান
ব্যাখ্যা

'অধি' সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত কিছু শব্দ:
• 'আধিপত্য' অর্থে- অধিকার, অধিপতি, অধিবাসী। 
'উপরি' অর্থে-  অধিরোহণ, অধিষ্ঠান। 
• 'ব্যাপ্তি' অর্থে- অধিকার, অধিবাস, অধিগত। 

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৪,২০৩.
নিচের কোন শব্দে 'অ' বর্ণের উচ্চারন [ও] এর মতো হবে?
  1. অদ্য
  2. কথা
  3. অনাথ
  4. অনেক
সঠিক উত্তর:
অদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্য
ব্যাখ্যা
• 'অদ্য' শব্দটিতে অ বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো হয়।

• স্বরবর্ণ  অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,২০৪.
অর্থগত দিক থেকে 'বৎস' কী শব্দ?
  1. যৌগিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন- গবেষণা, হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস ইত্যাদি।
- প্রবীণ = প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) -কিন্তু শব্দটি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- কৃ + তব্য = কর্তব্য, অর্থ- যা করা উচিত।

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন-
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,২০৫.
বাংলা বাক্যে উদ্দেশ্য কোথায় বসে?
  1. বাক্যের মাঝে
  2. বাক্যের শেষে
  3. বাক্যের শুরুতে
  4. যে কোনো জায়গায়
সঠিক উত্তর:
বাক্যের শুরুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যের শুরুতে
ব্যাখ্যা
• বাংলা বাক্যে, উদ্দেশ্য বাক্যের শুরুতে বসে বাক্য গঠন করে।

-------------------
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

• উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।]

• বিধেয়: কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,২০৬.
মূর্ধন্য 'ষ' এর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. সংষ্ফুট  
  2. সংষ্করণ
  3. অনুষঙ্গ
  4. সংষ্কার
সঠিক উত্তর:
অনুষঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুষঙ্গ
ব্যাখ্যা

অনুষঙ্গ শব্দে ‘ষ’ ধ্বনির শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

অন্যদিকে, 
• 'সংষ্কার' এর শুদ্ধরূপ- সংস্কার।
• 'সংষ্ফুট' এর শুদ্ধরূপ- সংস্ফুট।
• 'সংষ্করণ' এর শুদ্ধরূপ- সংস্করণ।

-----------------------
• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
- 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
- অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

- ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন-অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম ইত্যাদি।
- তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

- কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ষড়যন্ত্র, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৪,২০৭.
'অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা' কে এক কথায় কি বলে?
  1. ক) কিংকর্তব্যবিমূঢ়
  2. খ) সব্যসাচী
  3. গ) প্রত্যুদ্‌গমন
  4. ঘ) অকুতোভয়
সঠিক উত্তর:
গ) প্রত্যুদ্‌গমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রত্যুদ্‌গমন
ব্যাখ্যা
- 'অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা' কে এক কথায় প্রত্যুদ্‌গমন বলে।

নিচে আরো কয়েকটি এককথায় প্রকাশ দেওয়া হলো:
- অকালে যাকে জাগরণ করা হয় = অকালবোধন।
- যার কোন কিছু থেকেই ভয় নেই = অ কুতোভয়৷
- যা সাধারণের মধ্যে দেখা যায়না এমন = অনন্যসাধারণ।
- কি করতে হবে যে স্থির করতে পারে না = কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
- দু’হাতে সমান কাজ করতে পারে যে/ দু হাত সমান চলে যার = সব্যসাচী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৪,২০৮.
'সবীজ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অজীবিত
  2. নীরব
  3. নীরস
  4. নির্বীজ
সঠিক উত্তর:
নির্বীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বীজ
ব্যাখ্যা

• 'সবীজ' এর বিপরীতার্থক শব্দ- নির্বীজ। 

অন্যদিকে, 
• সরব - নীরব। 
• সরস - নীরস। 
• অবিরল -বিরল।
• কুটিল - সরল।
• জীবিত - মৃত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,২০৯.
ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অপরাহ্ন
  2. অপরান্ন
  3. অপরাহ্ণ
  4. অপরাণ্ন
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী শুদ্ধ বানান- 'অপরাহ্ণ'।  

• ণ-ত্ব বিধান:
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- অপর, পরা, পূর্ব, প্র- এই কয়টি পূর্ব পদের পর অহ্ন শব্দ বসলে ণত্ব বিধি অনুসারে দন্ত্য ন- এর জায়গায় মূর্ধন্য ণ হয়।  
- যেমন,
অপরাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি। 

• ‘অপরাহ্ণ’ শব্দে যুক্তবর্ণের বিশ্লিষ্ট রূপ হল: হ্ + ণ = হ্ণ। 

• অপরাহ্ণ শব্দের অর্থ:
- মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, বিকেল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৪,২১০.
'Key-note' শব্দের পারিভাষিক অর্থ-
  1. গুরুত্বপূর্ণ
  2. টীকা-টিপ্পনি
  3. মূলভাব
  4. চাবিকাঠি
সঠিক উত্তর:
মূলভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূলভাব
ব্যাখ্যা
'Key-note' শব্দের পারিভাষিক অর্থ মূলভাব।
১৪,২১১.
'নীর' ও 'নীড়' শব্দযুগলের অর্থ কোনটি?
  1. পানি ও পাখির বাসা
  2. পাখির বাসা ও পানি
  3. নীলাভ বর্ণ ও আবাস
  4. আকাশ ও আবাস
সঠিক উত্তর:
পানি ও পাখির বাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি ও পাখির বাসা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

 'নীর'
- সংস্কৃত শব্দ
অর্থ: পানি, জল, রস। 

• নীড় (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [নি+√ঈড়্‌+অ]
অর্থ: পাখির বাসা, কুলায় 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,২১২.
'অন্তরিক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়-
  1. অম্বর
  2. গগন
  3. আকাশ
  4. নগ
সঠিক উত্তর:
নগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নগ
ব্যাখ্যা

'অন্তরিক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দঃ
- আকাশ,
- আসমান,
- অম্বর,
- গগন,
- নভোঃ,
- নভোমণ্ডল,
- ব্যোম ইত্যাদি।‌
• অন্যদিকে, নগ শব্দের অর্থ পর্বত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,২১৩.
ব্যঞ্জন বিকৃতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. সত্য > সত্যি
  2. শাক > শাগ
  3. ধোবা > ধোপা
  4. ধাইমা > দাইমা
সঠিক উত্তর:
সত্য > সত্যি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য > সত্যি
ব্যাখ্যা
• 'ব্যঞ্জন বিকৃতি' ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়- সত্য > সত্যি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• অন্ত্যস্বরাগম: কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন
- দিশ্ > দিশা;
- পোখত্ > পোক্ত;
- বেঞ্চ > বেঞ্চি;
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,২১৪.
"শরতের পর আসে বসন্ত।" - এখানে 'পর' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. স্বল্প বিরতি অর্থে
  2. দীর্ঘ বিরতি অর্থে
  3. পর্যন্ত অর্থে 
  4. বিরুদ্ধগামিতা অর্থে 
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘ বিরতি অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘ বিরতি অর্থে
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের প্রয়োগ:

যেমন:
অবধি: পর্যন্ত অর্থে – সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করব।
পরে: স্বল্প বিরতি অর্থে – এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না।
পর: দীর্ঘ বিরতি অর্থে - শরতের পরে আসে বসন্ত।
মতে: ন্যায় অর্থে – বেকুবের মতো কাজ করো না।
তরে: মত অর্থে – এ জন্মের তরে বিদায় নিলাম।
পক্ষে: সক্ষমতা অর্থে – রাজার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,২১৫.
বাংলা ভাষায় প্রত্যয় কত প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার।
যথা:
১. কৃৎ প্রত্যয় এবং
২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
- যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য
- বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা : বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যোগ হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- যেমন: চোর+আ = চোরা, কেষ্ট+আ = কেষ্টা, ডিঙি+আ = ডিঙা, বাঘ্+আ = বাঘা, হাত্+আ = হাতা

বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
যথা:
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,২১৬.
'অবিরাম' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) বিরামহীন
  2. খ) বালিশ
  3. গ) চলন
  4. ঘ) সুন্দর
সঠিক উত্তর:
ক) বিরামহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিরামহীন
ব্যাখ্যা

অবিরাম - সর্বদা; নিরন্তর; থামে না এমন; বিরতিহীন; বিরাম বা বিশ্রামহীন

সোর্সঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

১৪,২১৭.
'দুবলারচর বঙ্গোপসাগরের একটি চর।' - বাক্যে 'বঙ্গোপসাগর' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. গুণ-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• 'দুবলারচর বঙ্গোপসাগরের একটি চর।' - বাক্যে 'বঙ্গোপসাগর' নাম-বিশেষ্যের উদাহরণ। 

নাম-বিশেষ্য:

- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা, বঙ্গোপসাগর
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে:
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪,২১৮.
ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি -
  1. ক, ন
  2. থ, দ
  3. ব, ঙ
  4. স, হ
সঠিক উত্তর:
ব, ঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব, ঙ
ব্যাখ্যা
ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: , ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, , হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, , , ট, ঠ, চ, ছ, শ, , খ।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,২১৯.
নিচের কোনটি সঠিক নয় কোনটি?
  1. ক) নৈ + অক = নায়ক
  2. খ) পো + অন = পবন
  3. গ) শে + অন = শয়ন
  4. ঘ) পা + অক = পাবক
সঠিক উত্তর:
ঘ) পা + অক = পাবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পা + অক = পাবক
ব্যাখ্যা
পাবক এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে পৌ + অক।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪,২২০.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. মুমুক্ষু
  2. মোহানী
  3. রোহমর্ষক
  4. রুক্মিনী
সঠিক উত্তর:
মুমুক্ষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুমুক্ষু
ব্যাখ্যা

মুমুক্ষু বানানটি সঠিক।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: মোহানী।
শুদ্ধ: মোহিনী।

অশুদ্ধ:রোহমর্ষক।
শুদ্ধ: রোমহর্ষক।

অশুদ্ধ: রুক্মিনী।
শুদ্ধ: রুক্মিণী।

উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,২২১.
চলিত ভাষার আদর্শরূপে গৃহীত ভাষাকে বলা হয় -
  1. উপভাষা
  2. প্রমিত ভাষা
  3. আঞ্চলিক ভাষা
  4. সাধু ভাষা
সঠিক উত্তর:
প্রমিত ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিত ভাষা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার রীতি:
- লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
- প্রায় এক হাজার পূর্বে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে এটি রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়।
- বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একুশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
- এই প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,২২২.
নিচের কোনটি উভয়লিঙ্গ শব্দ?
  1. ক) চেয়ার
  2. খ) পিতা
  3. গ) সন্তান
  4. ঘ) রানি
সঠিক উত্তর:
গ) সন্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সন্তান
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গ চার প্রকার। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে
ক) পুংলিঙ্গ 
খ) স্ত্রীলিঙ্গ
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ 

উভয়লিঙ্গ:
যেসব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ উভয়ই বোঝায় তাদেরকে উভয়লিঙ্গ বলে, 
উভয়লিঙ্গের উদাহরণ- সন্তান, শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, কবি ইত্যাদি। 

'সন্তান' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়।
তাই 'সন্তান' শব্দটি উভয় লিঙ্গ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,২২৩.
'ক্লীব লিঙ্গ' নিচের কোনটি?
  1. ক) আকাশ
  2. খ) সন্তান
  3. গ) মন্ত্রী
  4. ঘ) ধােপা
সঠিক উত্তর:
ক) আকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আকাশ
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে
ক) পুংলিঙ্গ 
খ) স্ত্রীলিঙ্গ 
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ 

নরবাচক বা নারীবাচক কোনােটাকেই বােঝায় না এমন অজীব বিশেষ্য শব্দকে ক্লীবলিঙ্গ বলে, 
যথা: ঘর, গাড়ি, টেবিল ইত্যাদি।
এখানে 'আকাশ' ক্লীব লিঙ্গ। 

সন্তান, মন্ত্রী = উভয়লিঙ্গ। 
'ধােপা' এর স্ত্রীলিঙ্গ - 'ধােপানি' 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,২২৪.
'চোখের প্রান্তভাগ' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. অক্ষিপক্ষ্ম
  2. কামাক্ষী
  3. অপাঙ্গ
  4. পুণ্ডরীকাক্ষ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অপাঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'চোখের প্রান্তভাগ' এর এক কথায় প্রকাশ - অপাঙ্গ

অন্যদিকে,
চোখের পাতার লোম - অক্ষিপক্ষ্ম।
চোখ সুন্দর বলে - কামাক্ষী।
পদ্মের মতো সুন্দর চোখবিশিষ্ট - পুণ্ডরীকাক্ষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,২২৫.
ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনামলে রাজভাষা ছিল-
  1. ক) বাংলা
  2. খ) সংস্কৃত
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার উদ্ভবের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এর শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে বিভিন্ন পর্যায় ও সূত্রের প্রভাবে।
সেগুলি হলো:
(ক) প্রাচীন বাংলার ভাষারূপের সঙ্গে কিছু সংস্কৃত প্রভাব প্রথম থেকেই যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। কারণ খ্রিস্টীয় অব্দের প্রথম থেকেই সংস্কৃত ভাষা ছিল প্রায় সমগ্র ভারতের সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চার বাহন।  [ পালি ও অর্ধমাগধি ছিল যথাক্রমে বৌদ্ধ ও জৈনদের নিজ নিজ ধর্মীয় আলোচনা ও সংস্কৃতির বাহন।] প্রাচীন বাংলার যুগে বাংলাভাষী অনেকেই কাব্যচর্চা করতেন সংস্কৃতে। ভারতের ইন্দো-আর্য ভাষা যখন প্রাচীন ও মধ্যস্তর উত্তীর্ণ হয়ে আধুনিক স্তরে পৌঁছায়, তখন বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর প্রভাব সত্ত্বেও [পাল রাজত্বে গৌড় সম্রাজ্যের পত্তন সত্ত্বেও] সুপ্রসিদ্ধ বাঙালি কবিগণ (জয়দেব, উমাপতিধর, গোবর্ধন আচার্য প্রমুখ) সংস্কৃতেই কাব্য রচনা করেছেন। ফলে প্রাচীন যুগ থেকে  তৎসম ও অন্যান্য প্রভাব বাংলায় এসে গেছে;
(খ) ১৩শ শতকে বঙ্গদেশে মুসলিম শাসনের পর থেকে আরবি-ফারসি ও তুর্কি ভাষার প্রভাব বাংলায় পড়তে শুরু করে;
(গ) ১৪শ/১৫শ শতকে মুসলিম শাসনামলে ফারসি রাজভাষা হওয়ায় এবং এর বিশেষ মর্যাদার কারণে, সেই সঙ্গে এই ভাষা-সম্পৃক্ত সংস্কৃতির প্রভাবে বাংলায় স্থান পায় প্রচুর বিভাষী শব্দ;
(ঘ) আবার একই সঙ্গে মুসলমান শাসকগণ ‘জবান-এ-বাংলা’র সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করার ফলে তৎকালীন পন্ডিতদের কথিত ‘গৌড় ভাষার’ শ্রীবৃদ্ধি ঘটে, অর্থাৎ বাংলায় তৎসম শব্দের ব্যবহার বেড়ে যায়;
(ঙ) ১৬শ শতকে পর্তুগিজদের আনীত শব্দাবলি বাংলায় অন্তর্ভুক্ত হতে শুরু করে [আনারস, আতা, তামাক ইত্যাদি];  (সংক্ষেপিত) 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,২২৬.
'Dynamics' এর বাংলা পরিভাষা -
  1. শক্তিমাপক
  2. বিদ্যুৎস্রষ্টা
  3. গতিশীলতা
  4. গতিবিদ্যা
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
গতিবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা
• 'Dynamics' এর বাংলা পরিভাষা - গতিবিদ্যা

অন্যদিকে,
- 'Dynamism' এর বাংলা পরিভাষা - গতিশীলতা।
- 'Dynamo' এর বাংলা পরিভাষা - বিদ্যুৎস্রষ্টা
- 'Dynamometer' এর বাংলা পরিভাষা - শক্তিমাপক।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
১৪,২২৭.
বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কোন সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
সমাস মূলত চার প্রকার ।
- এগুলো হচ্ছে: দ্বন্দ্ব, কর্মধারায়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি ।

পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সমাসের বৈশিষ্ট:
- সমাস দ্বারা দুই বা ততোধিক পদের সমন্বয়ে নতোরন পদের সৃষ্টি হয়।
- বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করার জন্য সমাসের সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১৪,২২৮.
কোন শব্দে তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনি আছে?
  1. হাতি
  2. ধান
  3. ঝড়
  4. তাল
সঠিক উত্তর:
ঝড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝড়
ব্যাখ্যা
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।

যেমন:
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, , শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,২২৯.
'নিক্বণ' এর সম্প্রসারিত বাক্য-
  1. ধনুকের ধ্বনি
  2. বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি
  3. নূপুরের ধ্বনি
  4. নাচের ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
নূপুরের ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূপুরের ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• 'নূপুরের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- নিক্বণ। 

অন্যদিকে, 
• 'বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি' - ঝংকার। 
• 'ধনুকের ধ্বনি' - টঙ্কার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৩০.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. বুনো
  2. লাজ
  3. লজ্জাকর
  4. লাজুক
সঠিক উত্তর:
লাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাজ
ব্যাখ্যা
• 'লাজ' শব্দটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- লজ্জা সরম।

অন্যদিকে,
- 'লাজুক' বিশেষণ পদ।
- 'লজ্জাকর' বিশেষণ পদ।
- 'বুনো' বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,২৩১.
"নিষ্ঠুর" - শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. বিসর্গ
  2. স্বর
  3. ব্যঞ্জন
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ
ব্যাখ্যা

বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ,
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়,
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর,
- ইতঃ + তত = ইতস্তত,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,২৩২.
কোন বাক্যে সকর্মক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মাখন রায় গান গাচ্ছে।
  2. আমি টিফিনে খেয়েছি।
  3. মাখন রায় গানে মজেছে।
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
মাখন রায় গান গাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাখন রায় গান গাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া পদের কর্ম থাকে তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। বাক্যের ক্রিয়াকে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই কর্মপদ। কর্মযুক্ত ক্রিয়াই সকর্মক ক্রিয়া।

যেমন:
- মা ভাত রান্না করছেন।
- এ বাক্যে ক্রিয়াপদ হচ্ছে 'রান্না করছেন'। প্রশ্ন: কী রান্না করছেন? উত্তর: ভাত।
- অতএব 'রান্না করছেন' ক্রিয়া পদটির কর্ম হচ্ছে 'ভাত'। 'রান্না করছেন' সকর্মক ক্রিয়া।

এরূপ:
- আমি টিফিন খেয়েছি।
- মাখন রায় গান গাচ্ছে।

অন্যদিকে,
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
সৌরভ পড়ে।
- সৌরভ কী পড়ে? – এ প্রশ্নের উত্তর নেই। অর্থাৎ এ বাক্যে 'পড়ে' ক্রিয়াপদের কোনো কর্ম নেই। তাই 'পড়ে' অকর্মক ক্রিয়া।

অনুরূপ,
মাখন রায় গানে মজেছে।
আমি টিফিনে খেয়েছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪,২৩৩.
“মণ্ডলী” যুক্ত করে সঠিক বহুবচন হয়েছে নিচের কোনটিতে?
  1. ক) সম্পাদকমণ্ডলী
  2. খ) ভক্তমণ্ডলী
  3. গ) কবিমণ্ডলী
  4. ঘ) মন্ত্রীমণ্ডলী
  5. ঙ) পন্ডিতমণ্ডলী
সঠিক উত্তর:
ক) সম্পাদকমণ্ডলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্পাদকমণ্ডলী
ব্যাখ্যা

উন্নত প্রাণীবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় গণ (জনগণ, দেবগণ), বর্গ (পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ), মণ্ডলী (শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী) এবং বৃন্দ (সুধীবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ)।
পাল (গরুরপাল) এবং যূথ (হস্তীযূথ) কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

১৪,২৩৪.
‘Phoneme’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ভাষাবিজ্ঞান
  2. ধ্বনিবিজ্ঞান
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. ধ্বনিমূল
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিমূল
ব্যাখ্যা
• ‘Phoneme’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - ধ্বনিমূল।

অন্যদিকে,
• ‘Linguistics’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - ভাষাবিজ্ঞান।
• 'Phonetics' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - ধ্বনিবিজ্ঞান।
• ‘Phonology' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - ধ্বনিতত্ত্ব।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,২৩৫.
'যথাসাধ্য' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কী?
  1. সাধ্য পর্যন্ত
  2. সাধ্যকে অতিক্রম না করে
  3. যথাযথ সাধ্যের সদৃশ
  4. সাধ্যকে অতিক্রান্ত
সঠিক উত্তর:
সাধ্যকে অতিক্রম না করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধ্যকে অতিক্রম না করে
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় 'আ') = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌প্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
 নিচের উদাহরণগুলোতে অব্যয়ীভাব সমাসের অব্যয় পদটি বন্ধনীর মধ্যে দেখানো হলো-

১. সামীপ্য (উপ): 
কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল।

২. বিপ্সা (অনু, প্রতি):
দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে, ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।

৩. অভাব (নিঃ = নির): 
আমিষের অভাব = নিরামিষ, ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা, জলের অভাব = নির্জল, উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ।

৪. পর্যন্ত (আ):
সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল, পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক।

৫. সাদৃশ্য (উপ):
শহরের সদৃশ = উপশহর, গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ, বনের সদৃশ = উপবন।

৬. অনতিক্রম্যতা (যথা):
রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি, সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য। এরূপ-যথাবিধি, যথাযোগ্য ইত্যাদি।

৭. অতিক্রান্ত (উৎ):
বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল, শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

৮. বিরোধ (প্রতি):
বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল।

৯. পশ্চাৎ (অনু):
পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 
১৪,২৩৬.
’উপ্ত’ শব্দের সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √উপ+ক্ত
  2. √বিপ্+ক্
  3. √বিপ্+ক্ত
  4. √বপ্+ক্ত
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
√বপ্+ক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√বপ্+ক্ত
ব্যাখ্যা
• ’উপ্ত’ শব্দের সঠিক প্রকৃত প্রত্যয় = √বিপ্+ক্ত।

• কোন শব্দে ’ক্ত’ প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
যেমন-
√গম্ + ক্ত = গত,
√গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
√চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
√ছিদ্‌+ক্ত = ছিন্ন,
√জন্+ক্ত = জাত,
√দা + ক্ত = দত্ত,
√দহ্ + ক্ত = দগ্ধ,
√বচ্ + ক্ত = উক্ত,
√বপ্+ক্ত = উপ্ত,
√মুহ্ + ক্ত = মুগ্ধ,
√যুধ + ক্ত = যুদ্ধ,
√সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট,
√হন্ + ক্ত = হত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৪,২৩৭.
বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় হচ্ছে-
  1. বোড়ো ও ওড়িয়া
  2. মণিপুরি ও অহমিয়া
  3. অহমিয়া ও ওড়িয়া
  4. অহমিয়া ও বোড়ো
সঠিক উত্তর:
অহমিয়া ও ওড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহমিয়া ও ওড়িয়া
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়। 
- ইংরজ, জার্মান, ফারসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফরাসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষাও ইন্দো ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত। 
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। 
- ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। 

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,২৩৮.
‘আ মরি বাংলা ভাষা'- এ চরণে ‘আ' দ্বারা কী প্রকাশ পেয়েছে? 
  1. ক) আশাবাদ 
  2. খ) আবেগ
  3. গ) আনুগত্য 
  4. ঘ) আনন্দ 
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনন্দ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনন্দ 
ব্যাখ্যা
'আ' (অব্যয়) বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়:
(১) আনন্দ প্রকাশে - আ মরি বাংলা ভাষা!-অতুলপ্রসাদ সেন);
(২) সুখবোধে - আ কি আরাম!;
(৩) বিদ্রূপে - আ মরণ আর কী!;
(৪) প্রশংসায় - আ মরি! আ মরি! কী শোভা!;
(৫) স্বস্তিতে - আ! বাঁচা গেল।;
(৬) স্মরণে - আ, তাই বটে! ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি অনলাইন ডিকশনারি।
১৪,২৩৯.
উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি নয়- ম।
- ‘ম’ হচ্ছে নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ)- এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
১৪,২৪০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি সাক্ষী দিব না।
  2. উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়। 
  3. দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়। 
  4. তুমি নির্দোষ নও।
সঠিক উত্তর:
তুমি নির্দোষ নও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি নির্দোষ নও।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: তুমি নির্দোষী নও। 
বাক্যটি শুদ্ধরূপ - তুমি নির্দোষ নও। 

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ: উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়। 
বাক্যটি শুদ্ধরূপ - উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়। 

অশুদ্ধ: 'আমি সাক্ষী দিব না।'
বাক্যটি শুদ্ধরূপ - 'আমি সাক্ষ্য দিব না।' 

অশুদ্ধ: দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
বাক্যটি শুদ্ধরূপ - দীনতা/দৈন্য প্রশংসনীয় নয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৪১.
'রাজপুত' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
 সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে।

যেমন,
-পঙ্কজ ( যা পঙ্কে বা কাদায় জন্মে); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- পদ্ম। 
- মহাযাত্রা ( মহাসমারোহে যাত্রা); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- 'মৃত্যু' 
- আবার, রাজপুত ( রাজার পুত); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ জাতি বিশেষ।
- জলধি (জল ধারণ কর এমন); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ 'সমুদ্র' ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,২৪২.
'ধ্বনির বিন্যাস' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
সন্ধি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,২৪৩.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. পিপীলীকা
  2. ভদ্রোচিত
  3. ভ্রাতুষ্পুত্র
  4. অভিভূত
সঠিক উত্তর:
পিপীলীকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিপীলীকা
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - পিপীলীকা। 
- শুদ্ধ বানান - পিপীলিকা। 
- এটি একটি বিশেষ্য পদ। 
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

অর্থ:
- পিঁপড়া,
- পিঁপড়ে।

অন্যদিকে,
- ভদ্রোচিত, ভ্রাতুষ্পুত্র এবং অভিভূত - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,২৪৪.
'যে শুনেই মনে রাখতে পারে' এক কথায় কী বলে?
  1. অশ্রুতপূর্ব
  2. শ্রুতিগোচর
  3. অশ্রুত
  4. শ্রুতধর
সঠিক উত্তর:
শ্রুতধর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রুতধর
ব্যাখ্যা
• 'যে শুনেই মনে রাখতে পারে' এক কথায় বলে - শ্রুতধর।

অন্যদিকে, 
• যা পূর্বে শোনা যায়নি - অশ্রুতপূর্ব।
• শোনা যায় এমন - শ্রুতিগোচর।
• শোনা যায়নি বা শোনা হয়নি এমন - অশ্রুত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,২৪৫.
'মহার্ঘ' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. খুচরা
  2. পুজা
  3. সুলভ
  4. নিহার্ঘ
সঠিক উত্তর:
সুলভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলভ
ব্যাখ্যা

• 'মহার্ঘ' শব্দের বিপরীত শব্দ 'সুলভ'।

• 'মহার্ঘ' শব্দের অর্থ: 

১) অত্যন্ত মূল্যবান, মহামূল্য। ২) দুর্মূল্য।

• 'সুলভ' শব্দের অর্থ: 
১) সহজলভ্য। ২) সস্তা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,২৪৬.
ণ' এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ঋণ
  2. ঝরণা 
  3. দূষণ
  4. পরায়ণ
সঠিক উত্তর:
ঝরণা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝরণা 
ব্যাখ্যা

• 'ণ' এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে- ঝরণা শব্দে। 
- শুদ্ধ বানান- ঝরনা। এটি বাংলা ভাষার শব্দ। 
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।   

----------------------
• ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. সাধারণভাবে তৎসম শব্দে ঋ, র, ষ-এর পর 'ণ' হয়। যেমন: বর্ণ, পূর্ণ, উষ্ণ, ঋণ, তৃণ, ঘৃণা, রণ, স্মরণ, বর্ণ, বর্ণনা, করণ, ভীষণ, দূষণ, ব্যাকরণ, সাধারণ, মরণ, সরণ ইত্যাদি।

২. প্র, পরি, পরা, নির- এই চার উপসর্গের পরে 'ণ' হয়। যেমন: প্রণয়, পরিণতি, পরহে, নির্ণয় ইত্যাদি।

৩. ট-বর্গের ট, ঠ, ড, ঢ- এই চার বর্ণের সঙ্গে যুক্তবর্ণ হিসেবে 'ণ' হয়। যেমন: কণ্টক, ঘণ্টা, দণ্ড, ভণ্ড, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

৪. উত্তর, পর, পার, চান্দ্র, নার, রাম এই ছয় শব্দের পরে 'আয়ন' যোগ হলে 'গ' হয়।
যেমন: উত্তর + আয়ন = উত্তরায়ণ, পর + আয়ন = পরায়ণ, রাম + আয়ন = রামায়ণ ইত্যাদি।

৫. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: লবণ, পণ্য, বাণিজ্য ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

১৪,২৪৭.
'ধরণ' শব্দের অর্থ -
  1. অধম
  2. প্রকার
  3. ধরা
  4. ত্যাগ
সঠিক উত্তর:
ধরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধরা
ব্যাখ্যা
• 'ধরণ' শব্দের অর্থ - ধরা

অন্যদিকে,
'ধরন' শব্দের অর্থ - প্রকার।
'ছাড়' শব্দের অর্থ - ত্যাগ।
'ছার' শব্দের অর্থ - অধম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,২৪৮.
‘হিমানী’ শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. চাঁদ
  2. কিরণ
  3. শীতল
  4. তুষার
সঠিক উত্তর:
তুষার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুষার
ব্যাখ্যা
• হিমানী (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- তুষার
- তুষারপুঞ্জ,
- বরফ।

এরূপ-
• হিমাংশু শব্দের অর্থ- চাঁদ।
• ঠান্ডা শব্দের বিশেষণ- শীতল, স্নিগ্ধ, শান্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,২৪৯.
"ঋণ দেয় যে" - এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. ঋণিতা
  2. ঋণিক
  3. উত্তমর্ণ
  4. অধমর্ণ
সঠিক উত্তর:
উত্তমর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তমর্ণ
ব্যাখ্যা
• 'ঋণ দেয় যে' এর এক কথায় প্রকাশ - উত্তমর্ণ।

আরো কিছু বাক্য সংকোচন:
- 'ঋষির ন্যায়' - ঋষিকল্প।
- 'ঋণ নেয় যে' - অধমর্ণ।
- 'ঋষির তুল্য' - ঋষিতুল্য।
- ঋণী যে - ঋণিক।

উৎস: ভাশা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,২৫০.
‘বগুড়ার চিনিপাতা দই সুস্বাদু’। বাক্যটির ‘চিনিপাতা’ কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. অপাদান
  3. করণ
  4. কর্ম
সঠিক উত্তর:
করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।

তেমনিভাবে,
- বগুড়ার চিনিপাতা দই সুস্বাদু।
যেহেতু, এখানে চিনিপাতা মানে [চিনিপাতা দই (বিশেষ্য) চিনিসহযোগে প্রস্তুত দধি।] চিনি দ্বারা পাতা দই-কে বুঝাচ্ছে, তাই এটিও করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,২৫১.
‘তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।’- এখানে ‘অতএব’ কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনুসর্গ
  2. সর্বনাম
  3. যোজক
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
- যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।
- তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, কিংবা, অতএব, যদি, যত-তত, যেমন-তেমন, যেরূপ-সেরূপ, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,২৫২.
'আয়ত্ত' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি? 
  1. বেআয়ত্ত
  2. আয়ত্তহীন 
  3. অনায়ত্ত
  4. আয়ত্তাধীন 
সঠিক উত্তর:
অনায়ত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনায়ত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• আয়ত্ত শব্দের শব্দের অর্থ- 
১)অধিকার; কবল। ২) সামর্থ্য। 
১) অধীন, বশবর্তী। ২) অধিকৃত, হস্তগত। ৩) শিক্ষালব্ধ।

অনায়ত্ত শব্দের অর্থ:
আয়ত্তের বহির্ভূত; বশীভূত নয় এমন; অবাধ্য।

অর্থাৎ, 'আয়ত্ত' শব্দের বিপরীত শব্দ অনায়ত্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৪,২৫৩.
'ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।' - বাক্যে 'কর্তব্য' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত ধাতু
  2. বাংলা ধাতু
  3. বিদেশাগত ধাতু
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত ধাতু
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত ধাতু:
- তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন:
→ অক্ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
→ দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
→ কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
→ হস্ + য = হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

অন্যদিকে,
বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বাংলা ধাতু বা খাঁটি বাংলা ধাতু বলে।
যেমন:
→ আঁক্ + আ = আঁকা: কী সব আঁকাআঁকি করছ?
→ দেখ্ + আ = দেখা: জাদুঘর আমার কয়েকবার দেখা।
→ কর্ + অ = কর : তুমি কী কর?
→ হাস্ + ই = হাসি : তোমার হাসিটি খুব সুন্দর।

বিদেশাগত ধাতু:
- বিদেশি ভাষা থেকে আগত যেসব ধাতু বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বিদেশাগত ধাতু বা বিদেশি ধাতু বলে।
যেমন :
→ খাট্ + বে = খাটবে : যত বেশি খাটবে ততই সুফল পাবে।
→ বিগডু + আনো: তোমার বিগড়ানো ছেলেকে ভালো করার সাধ্য আমার নেই।
→ টান্ + আ: আমাকে নিয়ে টানাটানি করো না, আমি যাব না।
→ জম্ + আট = জমাট: অন্ধকার বেশ জমাট বেঁধেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪,২৫৪.
নিম্নের কোন সন্ধিতে বিসর্গ 'র’ হয়ে যায়?
  1. ক) নীরস
  2. খ) পুরস্কার
  3. গ) তিরােধান
  4. ঘ) পুনর্মিলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) পুনর্মিলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পুনর্মিলন
ব্যাখ্যা
বিসর্গসন্ধি
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:

বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ+পতন = অধঃপতন, বয়ঃসন্ধি = বয়ঃসন্ধি।
বিসর্গ ও হয়ে যায়; মনঃ+যােগ = মনােযােগ, তিরঃ+ধান = তিরােধান, তপঃ+বন = তপোবন।
বিসর্গ র’ হয়ে যায়: নিঃ+আকার = নিরাকার, পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ।
বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ+চয় = নিশ্চয়, দুঃ+কর = দুষ্কর, পুরঃ+কার = পুরস্কার।
কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ+রব = নীরব, নিঃ+রস = নীরস, নিঃ+রােগ = নীরােগ।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,২৫৫.
'শয়ন' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোন সূত্র মেনে চলে?
  1. ক) অ/আ + অন্য স্বর
  2. খ) এ + অন্য স্বর
  3. গ) ঐ+ অন্য স্বর
  4. ঘ) ও + অন্য স্বর
সঠিক উত্তর:
খ) এ + অন্য স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এ + অন্য স্বর
ব্যাখ্যা
সন্ধি তিন প্রকার:
স্বরসন্ধি
ব্যঞ্জনসন্ধি
বিসর্গসন্ধি

স্বরসন্ধি স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে। 
সূত্র ১: অ/আ+অ/আ = আ। যেমন – উত্তর+অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা+অতীত = আশাতীত
সূত্র-২: ই/ঈইঈ = ঈ। যেমন – অতি+ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়, পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা
সূত্র-৩: উ/উ+উ/ঊ = উ। যেমন – মরু+উদ্যান = মরূদ্যান
সূত্র-৪: অ/আ+ই/ঈ = এ। যেমন – শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা
সূত্র-৫: অ/আ+উ/ঊ = ও। যেমন – সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়
সূত্র-৬: অ/আ+ঋ = অর্। যেমন – মহা+ঋষি = মহর্ষি।
সূত্র-৭: অ/আ+ঋত = আর্। যেমন – শীত+ঋত = শীতার্ত
সূত্র-৮: অ/আ+এ/ঐ = ঐ। যেমন – জন+এক = জনৈক
সূত্র-৯: অ/আ+ও/ঔ = ঔ। যেমন – বন+ওষধি = বনৌষধি
সূত্র-১০: ই/ঈ+অন্য স্বর = য্‌ + স্বর। যেমন – প্রতি+এক = প্রত্যেক
সূত্র-১১: উ/উ+অন্য স্বর = ব্‌+স্বর। যেমন – সু+অল্প = স্বল্প
সূত্র-১২: ঋ+অন্য স্বর = র্‌ + স্বর। পিতৃ+আলয় = পিত্রালয়।
সূত্র-১৩: এ+ অন্য স্বর = অয়্‌+স্বর। যেমন – শে+অন = শয়ন
সূত্র-১৪: ঐ+ অন্য স্বর = আয়্‌+স্বর। যেমন – নৈ+অক = নায়ক
সূত্র-১৫: ও+ অন্য স্বর = অব্‌+স্বর। যেমন – গাে+আদি = গবাদি
সূত্র-১৬: ঔ+ অন্য স্বর = আব্‌+স্বর। যেমন – নৌ+ইক = নাবিক

কিছু স্বরসন্ধি সূত্র অনুসরণ করে না, সেগুলােকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন – কুল+অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)। গাে+অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবক্ষ হওয়ার কথা) ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,২৫৬.
ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয় কোন পুরুষবাচক শব্দের?
  1. যোগী
  2. সাধু
  3. রজক
  4. অজ
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়।
যেমন:
কুলি - কামিন,
খানসামা - আয়া,
চাকর - ঝি,
শুক - শারি,
গোলাম - বাঁদী,
সাধু - সাধবী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• যোগী - যোগীনী। 
• রজক - রজকী। 
• অজ - অজা ইত্যাদি।
[শব্দগুলোতে শুধু প্রত্যয় পরিবর্তীত হয়ে নর থেকে নারীবাচক শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
১৪,২৫৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. শূণ্য 
  2. চূর্ণ
  3. ​রুপক
  4. গূণ্য
সঠিক উত্তর:
চূর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চূর্ণ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- ​চূর্ণ। 
​- শব্দটি বিশেষণ পদ।
​- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
​- কণায় পরিণত পদার্থ, গুঁড়ো, 
- চুন,
​- সুগন্ধি গুঁড়ো,
- আবির। 

• বিশেষণ পদ- গুঁড়ো করা হয়েছে এমন, চূর্ণীকৃত, সম্পূর্ণ ভগ্ন, গুঁড়োয় পরিণত।

​---------------
​অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• ​শূন্য। 
​- শব্দটি বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- পরিমাণ বা আয়তনের অভাব।

• ​রূপক। 
​- এটি বিশেষ্য পদ।
​অর্থ: 
​- যে অর্থালংকারে উপমান ও উপমেয়কে অভেদ কল্পনা করা হয়। 
​- যেসব কাব্য বা নাটকে কোনো তত্ত্বকে রূপ দেওয়া হয়।

​• গুণ্য।
 - শব্দটি ​বিশেষণ পদ।   
​অর্থ:
​গুণ করতে হবে এমন।

​উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,২৫৮.
'সমাস' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?  
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) রূপতত্ত্ব

রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
শব্দ, শব্দের গঠন, বচন, লিঙ্গ, কারক, পুরুষ, উপসর্গ, প্রত্যয়, বিভক্তি, সমাস, পদের পরিচয়, ক্রিয়া প্রকরণ ইত্যাদি।

সমাস:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। 
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৪,২৫৯.
'চাবি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফরাসি
  2. গুজরাটি
  3. চিনা
  4. পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• 'চাবি' 'পর্তুগিজ' ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- তাল্য বন্ধ করা ও খোলার শলাকা,
- যন্ত্রাদি চালু বা বন্ধ করার কাঠিবিশেষ (গাড়ির চাবি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,২৬০.
প্রত্যক্ষ উক্তি থেকে পরোক্ষ উক্তি তৈরি করার সময় কোন পরিবর্তনগুলো ঘটতে পারে?
  1. উক্তি চিহ্নের সংখ্যা পরিবর্তন
  2. ক্রিয়ার কাল ও স্থান পরিবর্তন
  3. বক্তব্যকারীর নাম পরিবর্তন
  4. ক্রিয়ার রূপ অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়ার কাল ও স্থান পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়ার কাল ও স্থান পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন -
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে — কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
→ পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৪,২৬১.
আমরা আগামী মাসে ভারত যাচ্ছি। - বাক্যটিতে কোন কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সাধারণ ভবিষ্যত
  2. খ) ঘটমান বর্তমান
  3. গ) অনুজ্ঞা ভবিষ্যত
  4. ঘ) সাধারণ অতীত
সঠিক উত্তর:
খ) ঘটমান বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা
• আমরা আগামী মাসে ভারত যাচ্ছি। - বাক্যটিতে ঘটমান বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ:
অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ।

• ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ- ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল ঘটমান বর্তমান।
- আগামী মাসে আমরা ভারত যাচ্ছি।

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ- ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।
- তােমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। 

সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ -  ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,২৬২.
অনুবর্ণের অন্তর্গত নয় কোনটি?
  1. (ৃ)
  2. (্ব)
  3. (্য)
  4. ( ্র)
সঠিক উত্তর:
(ৃ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
(ৃ)
ব্যাখ্যা

অনুবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম - অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে: ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা:
- ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলােকে ফলা বলে।
 যেমন:
ন-ফলা (্ন), ব-ফলা (্ব), ম-ফলা (্ম), য-ফলা (্য), র-ফলা (্র), ল-ফলা (্ল)

রেফ:
- র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ:
- যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়।
- এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

• কারবর্ণ
স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোর নাম কারবর্ণ: া (আ-কার), ি (ই-কার), ী (ঈ-কার), ু (উ-কার), ূ (ঊ-কার), ৃ (ঋ-কার), ে (এ-কার), ৈ (ঐ-কার), ো (ও-কার), ৌ (ঔ-কার)। কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়। কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)

১৪,২৬৩.
'অঘাচন্ডী' শব্দটিতে 'অঘা' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নিকৃষ্ট
  2. খ) নিন্দিত
  3. গ) বোকা
  4. ঘ) বিশিষ্ট
সঠিক উত্তর:
গ) বোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বোকা
ব্যাখ্যা
'অঘাচন্ডী' শব্দটিতে 'অঘা' উপসর্গটি 'বোকা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'অঘা' বাংলা উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: 
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,২৬৪.
‘সাহচর্য’ শব্দের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. ক) সহ + চর + র্য
  2. খ) সহচর + ৎ
  3. গ) সহচর + য
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) সহচর + য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সহচর + য
ব্যাখ্যা
সাহচর্য (বিশেষ্য):
১. সংস্রব (সাধু সাহচর্য)।
২. সহায়তা (কাজে সাহচর্য দান)।
৩. সঙ্গ (সাহচর্য দান)।
৪. সঙ্গ (সাহচর্য কামনা)।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) সহচর+য (ষ্যঞ্‌)}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৪,২৬৫.
ষ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পোষ্ট
  2. ধূলিষাৎ
  3. অভিষেক
  4. ভূমিষাৎ
সঠিক উত্তর:
অভিষেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিষেক
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে 'অভিষেক' শব্দে।

ষ ব্যবহারের নিয়ম:
- অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়।
যেমন - ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

- ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,২৬৬.
নিন্দিত অর্থে কোন উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কদ্‌
  2. খ) রাম
  3. গ) ভর
  4. ঘ) নির
সঠিক উত্তর:
ক) কদ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কদ্‌
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কদ্‌ নিন্দিত অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন - কদবেল, কদর্য, কদাকার।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
১৪,২৬৭.
নিচের কোনটি ভাববাচ্য?
  1. ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
  2. আমাকে এখন যেতে হবে।
  3. রোগী পথ্য সেবন করে।
  4. চোরটা ধরা পড়েছে।
সঠিক উত্তর:
আমাকে এখন যেতে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাকে এখন যেতে হবে।
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
 যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
 যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,২৬৮.
নিচ থেকে শুদ্ধ বানানটি চিহ্নিত করো-
  1. ক) প্রত্যুৎপন্যমতি
  2. খ) প্রত্যুৎপন্নমতি
  3. গ) প্রত্যুতপন্নমতি
  4. ঘ) প্রত্যুৎপন্মমতি
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্যুৎপন্নমতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্যুৎপন্নমতি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে ‘প্রত্যুৎপন্নমতি’ শুদ্ধ বানান।
প্রত্যুৎপন্নমতি অর্থ উপস্থিত বুদ্ধি।
১৪,২৬৯.
‘শবপোড়া’ শব্দটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. দুর্বোধ্যতা
  2. উপমার প্রয়োগে ভুল
  3. আকঙ্খার প্রয়োগে ভুল
  4. গুরুচন্ডালী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গুরুচন্ডালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচন্ডালী
ব্যাখ্যা
• ‘শবপোড়া’ শব্দটি গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্টু। 
- সঠিক শব্দ হবে শবদাহ। 

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,২৭০.
‘সূর্য’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অচল
  2. দিবাকর
  3. অকূল
  4. অভ্র
সঠিক উত্তর:
দিবাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিবাকর
ব্যাখ্যা
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।

অন্যদিকে:
- ‘অচল’ শব্দের সমার্থক শব্দ - পর্বত।
- ‘অকূল’ শব্দের সমার্থক শব্দ - সমুদ্র।
- ‘অভ্র’ শব্দের সমার্থক শব্দ - মেঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,২৭১.
'ভবিষ্যতে হবে এমন' এর বাক্য সংকোচন-
  1. অভাবিতপূর্ব
  2. অভাবিত
  3. ভাবী
  4. ভাবিত
সঠিক উত্তর:
ভাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবী
ব্যাখ্যা
• 'যে বা যা হবে / ভবিষ্যতে হবে এমন' এর বাক্য সংকোচন - ভাবী। 

অন্যদিকে, 
• 'পূর্বে ভাবা হয়নি এমন' এর বাক্য সংকোচন - অভাবিতপূর্ব। 
• 'যা ভাবা হয়নি' এর বাক্য সংকোচন - অভাবিত। 
• 'ভাবা হয়েছে এমন' এর বাক্য সংকোচন - ভাবিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,২৭২.
খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ-
  1. সপাট
  2. সম্পূর্ণ
  3. সমাদর
  4. সমৃদ্ধ
সঠিক উত্তর:
সপাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপাট
ব্যাখ্যা
• ‘স’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- সঠিক, সরব, সরোজ, সপাট।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত উপসর্গ ‘সম্’ যোগে গঠিত শব্দ- সম্পূর্ণ, সমাদর ও সমৃদ্ধ।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৪,২৭৩.
'দুশ্চরিত্র' এর সন্ধি বিচ্ছেদ
  1. ক) দুশ+চরিত্র
  2. খ) দু+চরিত্র
  3. গ) দুঃ+চরিত্র
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) দুঃ+চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুঃ+চরিত্র
ব্যাখ্যা
• আগে বিসর্গ ও পরে চ্ বা ছ্ থাকলে বিসর্গ স্থানে শ্ হয়। শ্ পরের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দুঃ + চরিত্র = দুশ্চরিত্র,
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- নিঃ + চল = নিশ্চল,
- নিঃ + চিহ্ন = নিশ্চিহ্ন,
- নিঃ + চুপ = নিশ্চুপ,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা
- দুঃ + চেষ্টা = দুশ্চেষ্টা,
- নভঃ + চর = নভশ্চর,
- মনঃ + চক্ষু = মনশ্চক্ষু,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,২৭৪.
কোন শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত?
  1. আসমান
  2. আয়েশ
  3. কাগজ
  4. খোয়াব
সঠিক উত্তর:
আয়েশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়েশ
ব্যাখ্যা

• "আয়েশ" আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ:
- গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,২৭৫.
অপ্রমিত বানান রয়েছে যে গুচ্ছে -
  1. ক) ধ্বংস, ধ্বস, উচ্ছ্বাস
  2. খ) উদ্দেশ, উচ্ছল, দিঙনির্ণয়
  3. গ) বন্দি, ইতঃপূর্বে , বাষ্পীভূত
  4. ঘ) একত্র, স্তূপীকৃত, নিরবচ্ছিন্ন
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্দেশ, উচ্ছল, দিঙনির্ণয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্দেশ, উচ্ছল, দিঙনির্ণয়
ব্যাখ্যা
অপশন (খ) তে উদ্দেশ ও উচ্ছল বানান সঠিক থাকলেও ‘দিঙনির্ণয়’ বানানটি ভুল। এর শুদ্ধ বানান বা প্রমিত রূপ হলো- দিঙ্‌নির্ণয়।

সোর্সঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৪,২৭৬.
অধিত্যকা এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পার্বত্য
  2. সমতল
  3. ধিত্যকা
  4. উপত্যকা
সঠিক উত্তর:
উপত্যকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপত্যকা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'অধিত্যকা' শব্দের অর্থ- পর্বতের সমতল উপরিভাগ বা সানুদেশ।
•  'উপত্যকা' শব্দের অর্থ- দুই পর্বতের মধ্যবর্তী সমতল বা নিম্নভূমি।

সুতরাং,
• 'অধিত্যকা' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ- উপত্যকা।

অন্যদিকে,
‘সমতল’ শব্দের অর্থ- উুঁচুনিচু নয় এমন, পৃষ্ঠদেশ সমান এমন।

• ‘সমতল’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ- অসমতল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৭৭.
"বিদ্যাহীন" শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. চতুর্থী
  3. দ্বিতীয়া
  4. ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন ইত্যাদি।

উতস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,২৭৮.
ভাষা পরিবারের বিবর্তনের নিম্ন কোন স্তর অতিক্রম করে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?
  1. সংস্কৃত
  2. প্রাকৃত
  3. বৈদিক
  4. পালি
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃত
ব্যাখ্যা
• ভাষা পরিবারের বিবর্তনের নিম্নস্তর- প্রাকৃত অতিক্রম করে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

---------------------
• বাংলা ভাষা: 

- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
 
• ভাষা পরিবার: 
পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান,ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো  বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া ভাষা।
 
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।
- এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।
সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় - ইন্দো-ইরানীয় - ভারতীয় আর্য - প্রাকৃত - বাংলা।
 
• আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
• বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন- ‘চর্যাপদ’।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,২৭৯.
'উপচয়' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. আরজি
  2. অন্বেষ
  3. উন্নতি
  4. রিক্ততা
সঠিক উত্তর:
উন্নতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্নতি
ব্যাখ্যা
'উপচয়' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- উন্নতি 
- শ্রীবৃদ্ধি 
- আধিক্য 
- সমূহ 
- নিচয় 
- সংগ্রহ 
- পুষ্টি

উৎস :  ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।, বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৪,২৮০.
মানুষের বেলায় কোন নির্দেশক ব্যবহার হয়?
  1. খানি
  2. জন
  3. খানা
  4. টুকু
সঠিক উত্তর:
জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক: 
- যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন-
টা, টি, খানা, -খানি, -জন, -টুকু।

নিচে কয়েকটি নির্দেশকের প্রয়োগ দেখানো হলো।
• -টা, -টি
বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে-টা, -টি নির্দেশক বসে।
এর দুটি রূপান্তর:-টো ও-টে।
যেমন-
বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

• -খানা, -খানি
বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, খানি নির্দেশক বসে।
যেমন
-ব্যাপারখানা, ভাবখানা, একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি।
যেসব ক্ষেত্রে-টা বাটি বসে, সেসব ক্ষেত্রেখানা বা-খানি বসতে পারে।
যেমন, বাড়িটা বা বাড়িটি না বলে বাড়িখানা বা বাড়িখানিও বলা যায়।

• -জন
শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন-বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
১৪,২৮১.
'আকাশ পাতাল' বাগধারাটির অর্থ কি?
  1. ক) বিশৃঙ্খলা
  2. খ) শত্রুতা
  3. গ) প্রচুর ব্যবধান
  4. ঘ) অবাস্তব
সঠিক উত্তর:
গ) প্রচুর ব্যবধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রচুর ব্যবধান
ব্যাখ্যা
'আকাশ পাতাল' বাগধারাটির অর্থ প্রচুর ব্যবধান। যেমনঃ ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে আকাশ পাতাল প্রভেদ।
অহিনকুল, আদায় কাঁচকলায়, দা-কুমড়া - ভীষণ শত্রুতা।
আকাশ কুসুম - অবাস্তব কল্পনা।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ ( নবম-দশম শ্রেণি)
১৪,২৮২.
অর্থগতভাবে 'অসুখ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
- 'অসুখ' ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'সুখের অভাব'। ব্যবহারিক অর্থ-'রোগ'। তাই 'অসুখ' একটি যোগরূঢ় শব্দ। 
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

- শাখার ন্যায় মৃগ শাখামৃগ সমাসবদ্ধ শব্দটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বিচরণ করে এবং লম্বা লেজ ও লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী বৃক্ষচর প্রাণীকে বোঝায়। তবে ব্যবহারীক অর্থে শাখামৃগ শব্দটি শুধু 'বানর'কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই 'শাখামৃগ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

এরূপ-
আরো কিছু শব্দ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

---------------
• যৌগিক শব্দ:
যৌগিক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই অর্থাৎ একই রকম।
যেমন:
- বাংলা 'মিতালি' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ 'মিতার ভাব, বন্ধুত্ব' (মিতা শব্দের পরে 'ভাব' অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় 'আলি' যোগে 'মিতালি' শব্দটি গঠিত হয়েছে) এবং শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ 'মিতালি' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই। ফলে 'মিতালি' বাংলাতে যৌগিক শব্দ।

এরূপ শব্দ হলো: গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা ইত্যাদি।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।
যেমন: গবেষণা, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, জেঠামি, বাঁশি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,২৮৩.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. বিমনা
  2. দশানন
  3. দম্পতি
  4. চতুষ্পদ
সঠিক উত্তর:
দম্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দম্পতি
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

অন্যদিকে,
বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: 
- বিচলিত মন যার = বিমনা,
- দশ আনন যার = দশানন, 
- চার পা বিশিষ্ট প্রাণী =চতুষ্পদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,২৮৪.
‘ভারসাম্যতা' শব্দটি অশুদ্ধ কেন?
  1. ক) প্রত্যয় জনিত কারণে
  2. খ) উপসর্গ জনিত কারণে
  3. গ) সন্ধি জনিত কারণে
  4. ঘ) কারক জনিত কারণে
সঠিক উত্তর:
ক) প্রত্যয় জনিত কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রত্যয় জনিত কারণে
ব্যাখ্যা
'ভারসাম্য' একটি বিশেষ্য পদ।
- যার অর্থ - দুই দিকের ভাবের সমতামূলক সামঞ্জস্য বোঝায়।
সুতারাং, ভারসাম্যতা - এখানে প্রত্যয় জনিত অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধ রূপ হবে - ভারসাম্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,২৮৫.
'এ সুতায় কাপড় হয় না।' এই বাক্যে 'সুতায়' কোন কারকে?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা

• 'এ সুতায় কাপড় হয় না।' এই বাক্যে 'সুতায়' করণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি: ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া) ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)। 

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

• সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি: ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে। শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- তে বিভক্তি: 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' নজরুল। লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়। এ সুতায় কাপড় হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৪,২৮৬.
‘বিজ্ঞাপন’ শব্দে ব্যবহৃত যুক্তবর্ণ কোন বর্ণদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক) জ্‌ + ঞ
  2. খ) গ্‌ + গ
  3. গ) ঞ + জ
  4. ঘ) গ + ঙ
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌ + ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌ + ঞ
ব্যাখ্যা

জ্ঞ = জ্‌ + ঞ, যেমন: জ্ঞান, বিজ্ঞান, বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪,২৮৭.
'দাতা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? 
  1. √ দৃ + তৃচ
  2. √ দাতৃ+ আ
  3. √ দা + তা
  4. √দান + তৃচ
সঠিক উত্তর:
√ দা + তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ দা + তা
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয়: উৎস অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কৃৎ প্রত্যয়সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
এগুলো হলো:
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও
- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। 

• সংস্কৃৃৃত তৃচ্‌-প্রত্যয়: তৃচ্‌-প্রত্যয়ে চ্ লোপ পেয়ে প্রথমা একবচনে 'তৃ' থাকলে 'তৃ' এর স্থলে 'তা'  হয়।
যেমন-
√ দা + তৃচ = √ দা + তা = দাতা।
√মা+তৃচ = √মা+তা = মাতা।

তবে প্রকৃত-প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির অভিধান অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়ায়। অধিক গ্রহণযোগ্য সঠিক উত্তর অপশন ‘গ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৪,২৮৮.
হিতোপদেশ শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) হিত+ঊপদেশ
  2. খ) হিতো+ঊপদেশ
  3. গ) হিতা+অপদেশ
  4. ঘ) হিত+উপদেশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিত+উপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিত+উপদেশ
ব্যাখ্যা
অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়। সুতরাং হিতোপদেশ শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো হিত+উপদেশ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৪,২৮৯.
"সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।" - বাক্যে 'সোমবার' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. অপাদান
  3. করণ 
  4. কর্ম
সঠিক উত্তর:
অপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

উদাহরণসমূহ:
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। 
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। 
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

• "সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।" - বাক্যে 'সোমবার থেকে' অপাদান কারক। কারণ, 'থেকে' অনুসর্গটি দিয়ে ক্রিয়ার আরম্ভ বা শুরু বোঝানো হয়েছে, যা অপাদান কারকের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 

অপাদান কারক: যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ বা রক্ষিত হয়, তা অপাদান কারক।
উদাহরণ: এই বাক্যে 'সোমবার' থেকে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে, অর্থাৎ পরীক্ষার আরম্ভের সময় বা উৎস নির্দেশ করছে।
বিভক্তি: এখানে 'থেকে' অনুসর্গটি অপাদান কারকে 'পঞ্চমী বিভক্তি' নির্দেশ করছে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,২৯০.
'লড়াকু' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. হিন্দি
  3. খাঁটি বাংলা
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা
'লড়াকু' 'হিন্দি' ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- যুদ্ধে উৎসুক,
- লড়াইপ্রিয়,
- সহজে আপস করতে চায় না এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,২৯১.
বাংলা ভাষার কোন রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে?
  1. সাধু রীতি
  2. লেখ্য রীতি
  3. কথা রীতি
  4. চলিত রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,২৯২.
‘যাচ্‌ঞা’ এর ধাতু অংশ হলো-
  1. ক) √যাচ্
  2. খ) √যাঞ
  3. গ) √যা
  4. ঘ) √যাচা
সঠিক উত্তর:
ক) √যাচ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) √যাচ্
ব্যাখ্যা

যাচনা, যাচ্‌ঞা [জাচোন্‌, জাচ্‌না, জাচ্‌না] (বিশেষ্য)
- প্রার্থনা; ভিক্ষা; যাচ্ঞা

{(তৎসম বা সংস্কৃত) √যাচ্‌ + অন(ল্যুট্‌)}


উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
১৪,২৯৩.
'উন্মীলন' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. বিকাশ
  2. সংকীর্ণ
  3. সংকোচন
  4. তলানো
সঠিক উত্তর:
সংকোচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচন
ব্যাখ্যা

'উন্মীলন' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সংকোচন

উল্লেখ্য,
'উন্মীলন' শব্দের অর্থ - বিকাশ, উন্মেষ, উদ্ঘাটন, উন্মোচন।
'নিমীলন' শব্দের অর্থ - চোখের পাতা মুদিতকরণ, সংকোচন, মৃত্যু।

অন্যদিকে,
উতরানো - তলানো।
উদার - সংকীর্ণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,২৯৪.
'বিয়েপাগলা' কোন সমাস?
  1. ৪র্থী তৎপুরুষ সমাস
  2. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
৪র্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪র্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে।

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা ইত্যাদি।
- এরূপ-ছাত্রাবাস, ডাকমাশুল, চোষকাগজ, শিশুমঙ্গল, মুসাফিরখানা, হজ্বযাত্রা, মালগুদাম, রান্নাঘর, মাপকাঠি, বালিকা-বিদ্যালয়, পাগলাগারদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৪,২৯৫.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস নয়?
  1. কমলমুখ
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. মন মাঝি
  4. বাহুলতা
সঠিক উত্তর:
বাহুলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুলতা
ব্যাখ্যা

• বাহুলতা রূপক কর্মধারয় সমাস নয়।
• এটি উপমিত কর্মধারয় সমাস যার ব্যাসবাক্য বাহু লতার ন্যায়।
• যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
• রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণঃ
- কমল রূপ মুখ = কমলমুখ,
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি,
- জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৪,২৯৬.
'মন্বন্তর' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. মন + অন্তর
  2. মনঃ + অন্তর
  3. মনু + অন্তর
  4. মনন + অন্তর
সঠিক উত্তর:
মনু + অন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনু + অন্তর
ব্যাখ্যা
• 'মন্বন্তর' এর সন্ধি বিচ্ছেদ: 'মনু + অন্তর'। 

সন্ধির নিয়ম: 
উ-কার বা ঊ-কারের পর ঊ-কার। ঊ-কার ছাড়া অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয়। ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে যুক্ত হয়।
উদাহরণ- 
উ + অ = ব্‌ + অ,
• মনু + অন্তর = মন্বন্তর।

এই নিয়মের আরো কিছু সন্ধি বিচ্ছেদ: 
• অনু + অয় = অন্বয়।
• পশু + আচার= পশ্বাচার।
• অনু + অয়= অন্বয়।
• তনু + ঈ= তন্বী। 
• অনু + এষন= অন্বেষণ। 
• সু + আগত= স্বাগত ইত্যাদি। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,২৯৭.
' চাবাগান' শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১৪,২৯৮.
'সাধারণ' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ-
  1. ক) শাধারন
  2. খ) শাদারোন
  3. গ) শাধারোন্‌
  4. ঘ) শাদারণ
সঠিক উত্তর:
গ) শাধারোন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শাধারোন্‌
ব্যাখ্যা
'সাধারণ' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ- 'শাধারোন্‌'

শ, ষ, স এর উচ্চারণ:  
শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নাে] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৪,২৯৯.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1.  ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে
  2.  ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে
  3.  ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে
  4.  ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
 ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ, গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি। মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩০০.
"আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।" - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাব
  2. কর্ম
  3. কর্তা
  4. কর্মকর্তৃ
সঠিক উত্তর:
কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা
ব্যাখ্যা

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।

যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।