বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১১৮ / ৩৫৪ · ১১,৭০১১১,৮০০ / ৩৫,৭১৩

১১,৭০১.
'নায়ক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নে + ণক
  2. √না + ণক
  3. √নি + ণক
  4. √নী + ণক
সঠিক উত্তর:
√নী + ণক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√নী + ণক
ব্যাখ্যা
• 'নায়ক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়- √নী + ণক ।

• ণক-প্রত্যয় ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে):
- √পিঠ+ণক=√পঠ+অক = পাঠক।
- মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়েছে।
- যেমন-√নী + ণক (নৈ+অক-প্রথম স্বরের বৃদ্ধি) নায়ক, √গৈ + ণক-গায়ক, √লিখ্ + ণক= লেখক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১,৭০২.
'যেমন কর্ম তেমন ফল' - এখানে 'যেমন' ও 'তেমন' কোন ধরনের সর্বনাম পদ?
  1. পারস্পরিক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. সকলবাচক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
‘যেমন কর্ম তেমন ফল।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যেমন-তেমন’ শব্দটি সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।

• সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
--------------- 
অন্যদিকে,
পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযােগিতা বা নির্ভরতা বােঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন -
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

সকলবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন – সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১ )।
১১,৭০৩.
অধিকরণ কারকে সাধারণত কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
  2. এ, য়, তে
  3. হতে, থেকে, চেয়ে
  4. কে, রে
সঠিক উত্তর:
এ, য়, তে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ, য়, তে
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

• ঐকদেশিক আধারাধিকরণ:
- বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন -
→ পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
→ বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
→ আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন -
→ ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।
→ দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৭০৪.
উৎস অনুযায়ী 'আমানত' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) দেশি
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর:
খ) আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরবি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
উৎস অনুযায়ী 'আমানত'- 'আরবি' ভাষার শব্দ।

• 'আমানত' শব্দটির অর্থ- গচ্ছিত বস্তু। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১১,৭০৫.
‘মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।’- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) খন্ড বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) মিশ্র বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
দুই বা তার বেশি সরল বা জটিল বাক্য সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি দীর্ঘ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, কিংবা, বরং, তথাপি ইত্যাদি অব্যয়যোগে সংযুক্ত থাকে। ‘মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে’- এটি যৌগিক বাক্য। এর সরল রূপঃ মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]
১১,৭০৬.
নিচের কোন শব্দে অপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. কৃপণতা
  2. উৎকর্ষতা
  3. অলসতা 
  4. দরিদ্রতা
সঠিক উত্তর:
উৎকর্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎকর্ষতা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ - উৎকর্ষতা,
• শুদ্ধ - উৎকৃষ্ট শব্দে তা-প্রত্যয়যোগে উৎকৃষ্টতা।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়- [উৎ+কৃষ্+তা]
অর্থ: উওম, শ্রেষ্ঠ, উন্নত ।

⇒ নিয়ম: ‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

- সূত্র অনুসারে,  কৃপণতা, অলসতা ও দরিদ্রতা শব্দে তা-প্রত্যয়ের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৭০৭.
'যা বাক্যে প্রকাশযোগ্য নয়' এক কথায় কী বলে?
  1. অকথ্য
  2. দুরুচ্চার্য
  3. অনির্বচনীয়
  4. অনুচ্চার্য
সঠিক উত্তর:
অনির্বচনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্বচনীয়
ব্যাখ্যা

• 'যা বাক্যে প্রকাশযোগ্য নয়' এক কথায় বলে-  অনির্বচনীয়/অবর্ণনীয়। 

অন্যদিকে, 
---------------
• 'ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য' এক কথায় বলে - অকথ্য/অবাচ্য।
• 'যা উচ্চারণ করা কঠিন' এক কথায় বলে - দুরুচ্চার্য।
• 'যা উচ্চারণ করা যায় না' এক কথায় বলে - অনুচ্চার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,৭০৮.
ট ও ঠ এর সঙ্গে সংযুক্ত আকারে বসে-
  1. ক) তালব্য-শ
  2. খ) দন্ত্য-স
  3. গ) মূর্ধন্য-ষ
  4. ঘ) যে কোনো একটি স-ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
গ) মূর্ধন্য-ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মূর্ধন্য-ষ
ব্যাখ্যা
ট ও ঠ এর সঙ্গে সংযুক্ত আকারে বসে- মূর্ধন্য-ষ।

ষত্ব বিধান:

- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ এর প্রয়োগ রয়েছে। যে-সব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’ এর ব্যবহার হয় তাকে ষত্ব বিধান বলে।

অর্থাৎ, তৎসম শব্দের বানানে ষ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ষ-ত্ব বিধান।
যেমন: কৃষক, বিষ, বর্ষণ আষাঢ়, আভাষ ইত্যাদি।

• ষত্ব - বিধানের নিয়ম অনুযায়ী,
ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ’ যুক্ত হয়, যথা- অনিষ্ট, চেষ্টা, নষ্ট, বৈশিষ্ট্য, অনুষ্ঠান, কনিষ্ঠ, প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭০৯.
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’- বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
• ‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’- বাক্যটিতে আসত্তি গুণের অভাব রয়েছে। 
---------------------------
একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
যথা:
• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন:
- ছেলেরা খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।

উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ন অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হল-আসত্তি।
- ‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।

উপরের বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। বাক্যটি এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। এখন বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

• যোগ্যতা:
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
- ‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উপরের বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি-
‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর।
১১,৭১০.
‘নয় দুয়ারে দুয়ারে না ঘুরে এবার সংসারী হও’ বাক্যটিতে কী ধরনের অশুদ্ধি আছে?
  1. ক) কাল জনিত
  2. খ) সমাস জনিত
  3. গ) সন্ধি জনিত
  4. ঘ) বাগধারা জনিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাগধারা জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাগধারা জনিত
ব্যাখ্যা
‘নয় দুয়ারে দুয়ারে না ঘুরে এবার সংসারী হও’ বাক্যটিতে বাগধারা জনিত অশুদ্ধি আছে।
শুদ্ধ বাক্য হবে - নয়-দুয়ারি হয়ে না ঘুরে এবার সংসারী হও।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১,৭১১.
নিচের কোনটি প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. দম্পতি
  2. মিঠাই
  3. সিংহাসন
  4. প্রতিদিন
সঠিক উত্তর:
মিঠাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিঠাই
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
- শব্দ বা ধাতুর পরে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়।

যেমন:
মিঠা + আই = মিঠাই, 
কুসুম + ইত = কুসুমিত, 
চল্ + অন্ত = চলন্ত, 
কৃ + তব্য = কর্তব্য।

অন্যদিকে,
সমাসের সাহায্যে শব্দ গঠন:
পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুই বা ততোধিক পদের একপদে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়।

যেমন:
জায়া ও পতি = দম্পতি; দ্বন্দ্ব সমাস প্রক্রিয়ায় গঠিত।
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
কুলের সমীপে = উপকূল; অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১১,৭১২.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাস?
  1. গায়েপড়া
  2. জলচর
  3. পঙ্কজ
  4. ঘরপোড়া
সঠিক উত্তর:
গায়েপড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়েপড়া
ব্যাখ্যা

• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- গায়ে পড়া = গায়েপড়া।
এরূপ-ঘিয়ে ভাজা, কলে ছাঁটা, কলের গান, গরুর গাড়ি ইত্যাদি ৷

দ্রষ্টব্য: গায়ে-হলুদ, হাতেখড়ি প্রভৃতি সমস্তপদে পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় না অর্থাৎ হলুদ বা খড়ি বোঝায় না, অনুষ্ঠান বিশেষকে বোঝায়। সুতরাং এগুলো অলুক তৎপুরুষ নয়, অলুক বহুব্রীহি সমাস।

অন্যদিকে, 
------------------
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস: 
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।

এরূপ- গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্ৰজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানি, ছা-পোষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১,৭১৩.
‘নিনাদ’ শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. ক) বিনত
  2. খ) গর্জন
  3. গ) নিম্ন
  4. ঘ) নিন্দনীয়
সঠিক উত্তর:
খ) গর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গর্জন
ব্যাখ্যা
• নিনাদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত প্রত্যয় = [নি+√নদ্+অ]
অর্থ: শব্দ, উচ্চ-ধ্বনি, গর্জন

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
১১,৭১৪.
'শিক্ষক' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. শিকখ্‌ক
  2. শিক্‌ষক্‌
  3. শিক্‌ক্ষক্‌
  4. শিক্‌খক্‌
সঠিক উত্তর:
শিক্‌খক্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্‌খক্‌
ব্যাখ্যা
• শিক্ষক,
- উচ্চারণ: শিক্‌খক্‌। 
- বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: শিক্ষ + ণিচ্ + অক।
অর্থ:
- শিক্ষাদাতা; অধ্যাপক; উপদেষ্টা; গুরু।

• 'শিক্ষক' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ- শিক্ষিকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১১,৭১৫.
'Charter' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. স্মারক
  2. বিধি
  3. সনদ
  4. পৃষ্টাঙ্কন
সঠিক উত্তর:
সনদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনদ
ব্যাখ্যা
• 'Charter' এর বাংলা পরিভাষা: সনদ, ফরমান। 

অন্যদিকে, 
'Memo' এর বাংলা পরিভাষা: স্মারক,
'Ordinance' এর বাংলা পরিভাষা: 'বিধি', 
'Endorsement' এর বাংলা পরিভাষা:- পৃষ্টাঙ্কন, 

আরো কিছু পরিভাষা:
Custody- হেফাজত,
Comet- ধূমকেতু,
Evacuee- উদ্‌বাস্তু,
Granary- শস্যাগার,
Ombudsman- ন্যায়পাল,
Radical- মৌলিক। 

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা- বাংলা পরিভাষা।
১১,৭১৬.
সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি হয়েছে কোনটিতে?
  1. ক) দেনা - পাওনা
  2. খ) ধনী - গরীব
  3. গ) ভয় - ডর
  4. ঘ) লেন - দেন
সঠিক উত্তর:
গ) ভয় - ডর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভয় - ডর
ব্যাখ্যা
'ভয় - ডর'- সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি।

সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি:
চালচলন
রীতিনীতি
বনজঙ্গল
ধনদৌলত

বিপরীতার্থক দ্বিরুক্ত শব্দ:
ভাল - মন্দ
আমীর - ফকির
ধনী - গরীব
লেন - দেন
দেনা - পাওনা

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াত মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯।
১১,৭১৭.
‘অনুকম্পা’ শব্দের ইংরেজি কোনটি?
  1. Clemency
  2. Enthrall
  3. Erudition
  4. Fathom
সঠিক উত্তর:
Clemency
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Clemency
ব্যাখ্যা
• ‘অনুকম্পা’ শব্দের ইংরেজি -  Clemency.

• ‘অনুকম্পা’ শব্দের অর্থ- সমবেদনা, সহানুভূতি, অনুগ্রহ।
• ‘Clemency’ শব্দের অর্থ - ক্ষমাশীলতা; নম্রতা; কোমলতা; মৃদুতা।

অন্যদিকে,
• ‘Enthral’ শব্দের অর্থ - বিমুগ্ধ করা।
• ‘Eruditio‘ শব্দের অর্থ - বিদ্যা।
• ‘Fathom’ শব্দের অর্থ - পানির গভীরতার পরিমাপক।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৭১৮.
কৃৎ প্রত্যয় কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
ব্যাখ্যা

কৃৎ প্রত্যয় দুই প্রকার
যথা:
ক. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় ও
খ. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
- সংস্কৃত নিয়মানুযায়ী ঐ ভাষার ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √ কৃ + তব্য = কর্তব্য;
- √ দৃশ্ + অন = দর্শন ইত্যাদি।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন :
- √ নাচ্ + অন = নাচন;
- √ ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি, সপ্তম শ্রেণি।

১১,৭১৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) চক্ষুষ্মান
  2. খ) নির্নিমেষ
  3. গ) গভর্ণর
  4. ঘ) বিপণী
সঠিক উত্তর:
গ) গভর্ণর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গভর্ণর
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা হবে না।
যেমন- অঘ্রান, ঝরনা, গভর্নর, হর্ন। 

এখানে 'গভর্ণর' বিদেশি শব্দ। তাই এর শুদ্ধ বানান হবে- 'গভর্নর'। 

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৭২০.
‘মাধুর্য’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. মধুর + ইষ্ণু
  2. মধুর + ষ্ণ্য
  3. মধুর + ষ্ণ
  4. মধুর + ষ্ণি
সঠিক উত্তর:
মধুর + ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুর + ষ্ণ
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৭২১.
সন্ধি সাধিত শব্দ 'পাবক' কোন ধরনের সন্ধির দৃষ্টান্ত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা
• ‘পাবক’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে - পৌ + অক = পাবক।
• পৌ + অক = পাবক এটি স্বরসন্ধি সাধিত শব্দ।

• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌ ও আব্‌ হয়।
যেমন:
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
১১,৭২২.
‘উ’ কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. পড়ুয়া
  2. ঝাড়ু
  3. ঢালু
  4. কলু
সঠিক উত্তর:
ঝাড়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝাড়ু
ব্যাখ্যা
‘উ’ কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- √ডাক্ + উ = ডাকু;
- √ঝাড় + উ =ঝাড়ু;
- √উড় + উ = উড়ু।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত ‘উ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত শব্দগুলো হলো:
- ঢাল + উ = ঢালু;
- কল + উ = কলু।

• ‘উয়া’ কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- পড় + উয়া = পড়ুয়া;
- উড় + উয়া = উড়ুয়া;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৭২৩.
"মিথ্যা কথা বলো না।" - কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. অনুজ্ঞা বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা বর্তমান
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা:
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে। যেমন:

বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
• তোমরা কাজ করো।
• রোহান লিখুক।
• মিথ্যা কথা বলো না।
• অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
• আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
• আদেশ করুন জাহাপনা।

ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
• সব সময় সত্যি বলবে।
• বড় হও, বুঝতে পারবে।
• অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১১,৭২৪.
ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে কী বলা হয়?
  1. প্রাতিপদিক
  2. নামপদ
  3. নাম-প্রকৃতি
  4. ক্রিয়া প্রকৃতি
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে 'ক্রিয়া প্রকৃতি' বলা হয়।

অন্যদিকে,
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।
- একে নামপদ বা নাম-প্রকৃতিও বলা হয়৷
- প্রাতিপদিক হলো তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি এবং ধাতু হলো কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- শব্দ গঠনের উদ্দেশ্যে নাম প্রকৃতি বা ক্রিয়া প্রকৃতির পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয় বলে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৭২৫.
'মনোরম' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মনঃ + রম
  2. মন + রম
  3. মনো + রম
  4. মনো + অম্
সঠিক উত্তর:
মনঃ + রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃ + রম
ব্যাখ্যা
• ‘মনোরম' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- মনঃ + রম। 
- ‘মনোরম’ হলো বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
 ------------------ 
• সন্ধির নিয়ম: 
অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে,
অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।
যেমন:
ততঃ + অধিক= ততোধিক। 
তিরঃ + ধান = তিরোধান,
মনঃ + রম = মনোরম,
মনঃ + যোগ = মনোযোগ,
মনঃ + তাপ = মনস্তাপ
তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৭২৬.
কোন শব্দটি জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. পরিবার
  2. জনতা
  3. বৈশাখ
  4. ফুল
সঠিক উত্তর:
ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুল
ব্যাখ্যা
• জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ - ফুল। 

বিশেষ্য:

- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।
- বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন - মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নাম-বিশেষ্য - বৈশাখ।
• সমষ্টি-বিশেষ্য - পরিবার, জনতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,৭২৭.
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ব্যাকরণের নাম কী?
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
  3. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  4. আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ
সঠিক উত্তর:
ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ব্যাকরণের ইতিবৃত্ত:
• পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ও 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থের ব্যাকরণ অংশই বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ, কিন্তু প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নয়।
- এটি ১৭৩৪ খ্রিষ্টাব্দে রচিত, ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- এই গ্রন্থটি ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানত ইংরেজি, অংশত বাংলায় রচিত এবং ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

• এরপর উইলিয়াম কেরি ১৮০১ সালে, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ১৮১৬ সালে, কিথ সাহেব ১৮২০ সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রয়াস পান। কিন্তু এই সবগুলোই ইংরেজি ভাষায় লেখা।

• ১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।
- এরপর তিনি ১৮৩৩ সালে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। সে-বিচারে এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭২৮.
‘আগুন’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অনিল
  2. সৌদামিনী
  3. বহ্নি
  4. পবন
সঠিক উত্তর:
বহ্নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহ্নি
ব্যাখ্যা
• 'আগুন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অনল, বহ্নি, হুতাশন, পাবক, বৈশ্বানর, দহন, সর্বভুক, অগ্নি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো:
- বিজলি, তড়িৎ, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, চপলা, চঞ্চলা, চিকুর, দামিনী, শম্পা, অচিরপ্রভা।

• 'বাতাস’ শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো:
- বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, প্রভঞ্জন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭২৯.
'চক্ষুরোগ' কোন ধরনের সন্ধি সাধিত শব্দ?
  1. ব্যঞ্জন সন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. স্বরসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে বিসর্গযুক্ত ই/উ-ধ্বনি থাকলে এবং পরপদের প্রথমে র থাকলে সন্ধিতে বিসর্গ লোপ পায় এবং ই বা উ-ধ্বনি দীর্ঘতা পেয়ে দীর্ঘ-ঈ বা দীর্ঘ-উ-তে রূপান্তরিত হয়।
যেমন:
- নিঃ + রব = নীরব,
- নিঃ + রস = নীরস,
- নিঃ + রোগ = নীরোগ,
- নিঃ + রন্দ্র = নীরন্দ্র, 
- চক্ষুঃ + রোগ = চক্ষুরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৭৩০.
"জিলাপি" শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. তৎসম
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. খাটি বাংলা
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা

• "জিলাপি" শব্দটি "হিন্দি" ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- চিনির রসে ভেজানো ময়দার তৈরি প্যাঁচানো নকশাবিশিষ্ট কুণ্ডলাকার মিঠাইবিশেষ।

আরো কিছু হিন্দি শব্দ:
- দুলকি,
- জিলাপি
- দিলরুবা,
- দাবা,
- দাপট,
- দহলা,
- দশেরা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,৭৩১.
‘তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছো’-বাক্যটিতে রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার ক্ষেত্রে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. ক) উপমার ভুল
  2. খ) দুর্বোধ্যতা
  3. গ) বাহুল্য
  4. ঘ) গুরুচণ্ডালী দোষ
সঠিক উত্তর:
খ) দুর্বোধ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুর্বোধ্যতা
ব্যাখ্যা
বাক্যে ব্যবহৃত ‘প্রপঞ্চ’ শব্দটি প্রচলিত বাংলা শব্দ নয়। এজন্য এ শব্দটি বাক্যে ব্যবহার করার কারনে বাক্যের অর্থে দুর্বোধ্যতা তৈরি হয়েছে। যা বাক্যের যোগ্যতার অভাবের পর্যায়ভূক্ত।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৭৩২.
‘আমি রোজ আসতাম।’ - বাক্যটি কোন কালের দৃষ্টান্ত?
  1. পুরাঘটিত অতীত কাল
  2. ঘটমান অতীত কাল
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  4. সাধারণ অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
⇒ অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:

১. সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন: 
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।

২. ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।

৩. পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।

[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

৪.নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।
- আমি রোজ আসতাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,৭৩৩.
নিচের কোনটি অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. মাথায়-ছাতা
  2. তেলে ভাজা
  3. পায়ে ধরা
  4. ঘরে-বাইরে
সঠিক উত্তর:
মাথায়-ছাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথায়-ছাতা
ব্যাখ্যা
মাথায়-ছাতা = মাথায় ছাতা যার - অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

অলুক বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
- অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যথা:
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা (লোকটি)।
এরূপ: হাতে-ছড়ি, কানে-কলম, হাতে-বেড়ি, মাথায়-ছাতা, মুখে-ভাত, কানে-খাটো ইত্যাদি।

 অন্যদিকে,
- 'পায়ে ধরা' ও 'তেলে ভাজা' অলুক তৎপুরুষ সমাস।
- ঘরে-বাইরে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১,৭৩৪.
"মহোৎসব > মোচ্ছব" - এটি কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অপিনিহিতি
  2. সমীভবন
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
ব্যাখ্যা

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সত্য > সচ্চ,
- বিদ্যা > বিজ্জা,
- মহোৎসব > মোচ্ছব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১১,৭৩৫.
কোনগুলো দেশী শব্দ?
  1. ক) চা, চিনি
  2. খ) চাল, চুলা
  3. গ) লুঙ্গি, ফুঙ্গি
  4. ঘ) টেবিল, চেয়ার
  5. ঙ) চন্দ্র, পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
খ) চাল, চুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চাল, চুলা
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণির ২০১৯ সংস্করণ অনুযায়ী,
'চুলা' - দেশি শব্দ।
আবার,
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী,
চুলা (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- উনুন, আখা
- শব-দাহের চুল্লি, চিতা।

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী,
চাউল (বিশেষ্য)
- দেশি শব্দ।
অর্থ:
- চাল,
- তণ্ডুল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৭৩৬.
Upcountry-এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. উত্থান
  2. মধ্যদেশ
  3. উত্তর
  4. অন্যদেশ
সঠিক উত্তর:
মধ্যদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যদেশ
ব্যাখ্যা
'Upcountry'-এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ =মধ্যদেশ।

অন্যদিকে,
'Upheaval'-এর পারিভাষিক শব্দ =উত্থান।
'Upland'-এর পারিভাষিক শব্দ = উত্তর।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
১১,৭৩৭.
কোন্দল শব্দের অর্থ কী?
  1. কোদাল
  2. ফুল
  3. গাছ
  4. বিবাদ
সঠিক উত্তর:
বিবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবাদ
ব্যাখ্যা
• 'কোন্দল'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ঝগড়া,
- বিবাদ। 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৭৩৮.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।
  2. তুমিই টাকাটি আত্মস্ম্যাৎ করেছ।
  3. মহারাজা সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
  4. আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
সঠিক উত্তর:
ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ: ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।

অন্যদিকে, 
• অশুদ্ধ: তুমিই টাকাটি আত্মস্ম্যাৎ করেছ।
• শুদ্ধ: তুমিই টাকাটি আত্মসাৎ করেছ।

• অশুদ্ধ: মহারাজা সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
• শুদ্ধ: মহারাজ সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।

• অশুদ্ধ: আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
• শুদ্ধ: আমার আর বাঁচিবার সাধ নাই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৭৩৯.
‘এ’ বর্ণের উচ্চারণ কয় প্রকার হতে পারে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

মৌলিক স্বরধ্বনি ৭ টি।
এ একটি মৌলিক স্বরধ্বনি।
‘এ’ বর্ণের দুটি উচ্চারণ রয়েছে।
যথা :
সংবৃত : এ যদি এ উচ্চারতি হয় তখন সেটি সংবৃত উচ্চারণ।
যেমন : একটি, দেশ, এলো
বিবৃত : এ যদি অ্যা উচ্চারিত হয় তখন সেটি বিবৃত উচ্চারণ।
যেমন : একটা (অ্যাক্টা), বেলা (ব্যালা)
উৎস : নবম দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন)

১১,৭৪০.
'বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব,
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মাণের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মাণ ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যাকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ)।
১১,৭৪১.
নিম্নের কোনটি ‘বৈয়াকরণ’ শব্দের সঠিক উচ্চারণ?
  1. ক) বইয়াকরোন্‌
  2. খ) বোইয়াকরোন্‌
  3. গ) বোইয়াকরন্‌
  4. ঘ) বইয়াকরন্‌
সঠিক উত্তর:
খ) বোইয়াকরোন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বোইয়াকরোন্‌
ব্যাখ্যা

বৈয়াকরণ [বোইয়াকরোন্‌] (বিশেষণ) {(তৎসম বা সংস্কৃত) ব্যাকরণ+অ(অণ্‌)}
১ ব্যাকরণে পণ্ডিত; ব্যাকরণ-বিশারদ; ব্যাকরণবিদ।
২ ব্যাকরণ সম্পর্কীয়।
ব্যাকরণ (বিশেষ্য)।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।

১১,৭৪২.
'হাতির পাঁচ পা দেখা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. অবাক হওয়া
  2. গর্বে আনন্দিত হওয়া
  3. অহংকার বোধ করা
  4. দৃষ্টিভ্রম হওয়া
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অহংকার বোধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহংকার বোধ করা
ব্যাখ্যা
• 'হাতির পাঁচ পা দেখা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ  অহংকার বোধ করা।

- হাতির পা চারটি।
- কিন্তু কেউ যদি হাতির অতিরিক্ত আরেকটি পা দেখে নিজেকে অন্যের চেয়ে জ্ঞানী ভাবে তবে সেটি অহংকার করার শামিল।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাবিদ ব্যাকরণ, মেহেদী ধ্রুব।
১১,৭৪৩.
'দুশ্চরিত্র' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুঃ + চরিত্র
  2. দুশ + চরিত্র
  3. দুর + চরিত্র
  4. দু + চরিত্র
সঠিক উত্তর:
দুঃ + চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + চরিত্র
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• বিসর্গের পরে চ/ছ থাকলে বিসর্গের স্থলে শ; ট/ঠ থাকলে য এবং ত/থ থাকলে স হয়।

যেমন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়, 
- দুঃ + চরিত্র = দুশ্চরিত্র, 
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার, 
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়, 
- দুঃ + তর = দুস্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১১,৭৪৪.
'কার কাছে যাবে?'- এখানে 'কার' কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. যোজক
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ]।
১১,৭৪৫.
কোন শব্দগুচ্ছ সাধুভাষার উদাহরণ?
  1. পড়িল, পেরিয়ে
  2. তুলা, সহিত
  3. বুনো, তুলো
  4. জুতো, করে
সঠিক উত্তর:
তুলা, সহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুলা, সহিত
ব্যাখ্যা
'তুলা, সহিত' - শব্দগুচ্ছ সাধুভাষার উদাহরণ।
- 'তুলা' এবং 'সহিত' এর চলিতরূপ হচ্ছে - তুলো এবং সঙ্গে/সাথে।

সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর। এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী।
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।

চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ-
সাধু ------------ চলিত ,
জুতা ------------ জুতো,
তুলা------------- তুলো,
শুষ্ক/শুকনা ----- শুকনো,
বন্য ------------ বুনো,
দেন নি -------- দেননি,
পার হইয়া ----- পেরিয়ে,
পড়িল ---------- পড়ল/পড়লো,
করিয়া ----------- করে,
পূর্বেই ---------- আগেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
১১,৭৪৬.
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. সংসার
  2. গবাক্ষ
  3. লবণ
  4. শয়ন
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গবাক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবাক্ষ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ - সম্‌ + সার = সংসার
স্বরসন্ধির উদাহরণ - লো + অন = লবণ, শে + অন = শয়ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৭৪৭.
কোন শব্দটি ফারসি?
  1. তক্দির
  2. পেরেশান
  3. মুসাফির
  4. মজলুম
সঠিক উত্তর:
পেরেশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরেশান
ব্যাখ্যা
'পেরেশান’ একটি ফারসি শব্দ; যার অর্থ- উদ্বিগ্ন বা চিন্তিত।
 
অন্যদিকে,
• ‘মুসাফির' আরবি শব্দ; যার অর্থ- যে সফর করে,পর্যটক, পথিক, বিদেশে ভ্রমণকারী ব্যক্তি।
• ‘তকদির’ আরবি শব্দ; যার অর্থ- ভাগ্য। 
• মজলুম আরবি শব্দ; যার অর্থ- অত্যাচারিত।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১১,৭৪৮.
'Barter' এর বাংলা পরিভাষা -
  1. বাঁধ
  2. বিনিময়
  3. বাহক
  4. নিরোধক
সঠিক উত্তর:
বিনিময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনিময়
ব্যাখ্যা

'Barter' এর বাংলা পরিভাষা - বিনিময়

অন্যদিকে,
'Barrage' - বাঁধ।
'Bearer' - বাহক।
'Barricade' - নিরোধক।

উৎস: ভাষাশিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৭৪৯.
"জনশ্রুতি" শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. প্রাদি
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে 'ক' যুক্ত হয়।

যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৭৫০.
‘ঠাকুর‘ কোন ভাষার শব্দ ?
  1. তুর্কি
  2. হিন্দি
  3. সংস্কৃত
  4. উর্দু
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা


- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ‘ঠাকুর’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ। 
- (তৎসম বা সংস্কৃত) ঠক্কুর>ঠাকুর}
- কিন্তু বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর বইয়ে
- ‘ঠাকুর’ শব্দটি তুর্কি ভাষার শব্দ দেয়া, যা ভুল। 

[উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান]

১১,৭৫১.
'খয়ের খাঁ' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. সামান্য ব্যক্তি
  2. ভাবনাচিন্তাহীন
  3. তোষামোদকারী
  4. অকেজো লোক
সঠিক উত্তর:
তোষামোদকারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোষামোদকারী
ব্যাখ্যা
• 'খয়ের খাঁ' বাগ্‌ধারা অর্থ - তোষামোদকারী। 
বাক্য গঠন: তুমি তো বড় সাহেবের খয়ের খাঁ, তোমার প্রমোশন তো হবেই।

অন্যদিকে, 
• 'খোদার খাসি' অর্থ - ভাবনাচিন্তাহীন। 
• 'চুনোপুঁটি' অর্থ - সামান্য ব্যক্তি। 
• 'অকালকুম্মাণ্ড' অর্থ - অপদার্থ/অকেজো লোক। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৭৫২.
টা, -টি নির্দেশক যুক্ত হয় কোন পদের সঙ্গে?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
- যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন: -টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু। 
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা, -টি নির্দেশক বসে।
- এর দুটি রূপান্তর: -টো ও -টে।
- যেমন - বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা;
- দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১১,৭৫৩.
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. মূলসহ
  2. আয়ত্তাধীন
  3. অদ্যাপি
  4. বুদ্ধিমান
সঠিক উত্তর:
আয়ত্তাধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়ত্তাধীন
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৭৫৪.
যে ছন্দেরমূল পর্ব বা পূর্ণ পর্বের মাত্রা সংখ্যা চার, তাকে কী বলা হয়?
  1. অমিত্রাক্ষর
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

• স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
১১,৭৫৫.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. ক) জাপান একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।
  2. খ) সুশিক্ষিত লোক মাত্রই সশিক্ষিত।
  3. গ) তিনি সানন্দে সম্মতি দিলেন।
  4. ঘ) কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।
সঠিক উত্তর:
গ) তিনি সানন্দে সম্মতি দিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিনি সানন্দে সম্মতি দিলেন।
ব্যাখ্যা

- 'জাপান একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।' বাক্যটি শুদ্ধরূপ জাপান একটি সমৃদ্ধ দেশ।
- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই সশিক্ষিত।' বাক্যটি শুদ্ধরূপ সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- 'কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।' বাক্যটি শুদ্ধরূপ কাব্যটির উৎকর্ষ/উৎকৃষ্টতা প্রশংসনীয়।

১১,৭৫৬.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিষমতা
  2. মিত্রতা
  3. লঘুতা
  4. বহুলতা
  5. মৌনতা
সঠিক উত্তর:
মৌনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌনতা
ব্যাখ্যা
• ‘মৌনতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: মৌন। 
------------- 
• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• মৈত্রতা- মৈত্র/মিত্রতা।
• বৈশিষ্টতা- বৈশিষ্ট্য/বিশিষ্টিতা। 
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৭৫৭.
'সংশয়' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি ?
  1. সম্ + ছয়
  2. সম্ + শয় 
  3. সম্ + চয় 
  4. সম্ঃ + শয় 
সঠিক উত্তর:
সম্ + শয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + শয় 
ব্যাখ্যা

 ''সংশয়' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- সম্ + শয়।
- এটি  ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মে গঠিত।

ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
- সম্ + যম = সংযম,
- সম্ + বাদ = সংবাদ,
- সম্+ রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্ + লাপ = সংলাপ
- সম্ + সার সংসার,
- সম্ + হার = সংহার।
এরূপ – সংকাল, সংগীত সংগঠন, সংঘাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১,৭৫৮.
'গ্রহণ' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. প্রদান
  2. বর্জন
  3. অগ্রাহ্য
  4. আদান
সঠিক উত্তর:
বর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্জন
ব্যাখ্যা
• 'গ্রহণ' এর বিপরীত শব্দ - বর্জন।

অন্যদিকে,
• অগ্রাহ্য - গ্রাহ্য।
• প্রদান - আদান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৫৯.
‘আরশির মুখে পড়শিকে দেখা’ প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) নিষ্ফল পরিশ্রম
  2. খ) অকারণে ঝামেলায় পড়া
  3. গ) বয়স্ক ব্যক্তির ছেলেমানুষি
  4. ঘ) নিজের মতো করে অন্যকে দেখা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিজের মতো করে অন্যকে দেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিজের মতো করে অন্যকে দেখা
ব্যাখ্যা

‘আরশির মুখে পড়শিকে দেখা’ প্রবাদটি নিজের মতো করে অন্যকে দেখা অর্থে ব্যবহৃত হয়।
প্রবাদ প্রবচন একটি নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই প্র্যাকটিসের মাধ্যমে এগুলোকে ব্যবহার করে রপ্ত করে নিতে হবে।
তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মাহমুদ

১১,৭৬০.
‘গুরুচণ্ডালী দোষ' কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. রূপতত্ত্বের সঙ্গে
  2. বানানের সঙ্গে
  3. ভাষারীতির সঙ্গে 
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
ভাষারীতির সঙ্গে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষারীতির সঙ্গে 
ব্যাখ্যা

গুরুচণ্ডালী দোষ:
গুরুচণ্ডালী দোষ হলো একই বাক্যে বা রচনায় বিভিন্ন ভাষারীতির মিশ্রণ ঘটলে যে দোষ হয়।

অর্থ্যাৎ,
'গুরুচণ্ডালী দোষ' সম্পর্কিত— ভাষারীতির সঙ্গে।

যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭৬১.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. নিবিষ্টচিত্ত
  2. নিবেদিত
  3. নিন্মমধ্যবিত্ত
  4. নিমন্ত্রয়িতা
সঠিক উত্তর:
নিন্মমধ্যবিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিন্মমধ্যবিত্ত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: নিন্মমধ্যবিত্ত।
• শুদ্ধ বানান : নিম্নমধ্যবিত্ত।

• নিম্নমধ্যবিত্ত (বিশেষণ),
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত- প্রত্যয় = [নিম্নমধ্য + √বিদ্ + ত],
অর্থ: মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মধ্যবর্তী অবস্থাসম্পন্ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৭৬২.
কোনটি সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ?
  1. তরুছায়া
  2. উপরোক্ত
  3. দুরবস্থা
  4. দুরদৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
ব্যাখ্যা

 • সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ - উপরোক্ত।
- 'উপরোক্ত' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - উপর্যুক্ত।

অন্যদিকে,
- তরুছায়া,
- দুরবস্থা,
- দুরদৃষ্ট।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৭৬৩.
‘ভূধরব্রজ’ কোন বচন?
  1. একবচন
  2. দ্বিবচন
  3. বহুবচন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বহুবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুবচন
ব্যাখ্যা
• ‘ভূধরব্রজ’ — বহুবচনবাচক শব্দ। 
- সমষ্টিবাচক শব্দ যোগে বহুবচনবাচক শব্দ- ভূধরব্রজ, গিরিব্রজ।
---------------- 
• 'বচন': 

- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
যথা, 
• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- শিক্ষক ছাত্রকে পড়াচ্ছেন।

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন:
- মানুষ মরণশীল।
- লোকে বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১১,৭৬৪.
কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. যথা + অর্থ = যথার্থ
  2. বদ্ + জাত = বজ্জাত
  3. অপ্ + অগ্নি = অবগ্নি
  4. অচ্ + অন্ত = অজন্ত
সঠিক উত্তর:
যথা + অর্থ = যথার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথা + অর্থ = যথার্থ
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- নর + অধম = নরাধম,
- হিম + আলয় = হিমালয়,
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ হলো:
- বদ্ + জাত = বজ্জাত।
- অচ্ + অন্ত = অজন্ত।
- অপ্ + অগ্নি = অবগ্নি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ - ২০১৯)।
১১,৭৬৫.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ব্যকরণ
  2. বৈয়াকরণ 
  3. ব্যাকরণবিদ 
  4. ব্যাকরণসম্পর্কিত 
সঠিক উত্তর:
ব্যকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যকরণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ব্যাকরণ (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: কোনো ভাষার শব্দের ব্যুৎপত্তিবিষয়ক শাস্ত্র।

অন্যদিকে,
• বৈয়াকরণ (বিশেষণ), 
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = (ব্যাকরণ + অ); 
অর্থ:
- ব্যাকরণবিদ:
- ব্যাকরণসম্পর্কিত ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৭৬৬.
'সপ্তাহ' কোন প্রকার সংখ্যাবাচক শব্দ ?
  1. ক) অঙ্কবাচক
  2. খ) ক্রম বা পূরণ বাচক
  3. গ) পরিমাণ বা গণনাবাচক
  4. ঘ) তারিখবাচক
সঠিক উত্তর:
গ) পরিমাণ বা গণনাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিমাণ বা গণনাবাচক
ব্যাখ্যা
পরিমাণ বা গণনা বাচক সংখ্যাঃ
একাধিকবার একই একক গণনা করলে যে সমষ্টি পাওয়া যায়, তা-ই পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা।
যেমনঃ সপ্তাহ বলতে আমরা সাত দিনের সমষ্টি বুঝিয়ে থাকি। সপ্ত (সাত) অহ (দিনক্ষণ) = সপ্তাহ। এখানে দিন একটি একক। এরূপ-সাতটি দিন বা সাতটি একক মিলে হয়েছে সপ্তাহ। (রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)
১১,৭৬৭.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. বহতা
  2. ছত্র
  3. দাতব্য
  4. দীর্ঘতম
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘতম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘতম
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- শিশু + অ = শৈশব,
- দীর্ঘ + তম = দীর্ঘতম,
- বাঘ + আ = বাঘা,
- আশি + তম = আশিতম।

অন্যদিকে,
কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
√ বহ্‌ + তা = বহতা,
√ ছদ্‌ + ত্র = ছত্র,
√ দা + তব্য = দাতব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১,৭৬৮.
তদ্ধিতান্ত বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
  1. জাতীয় সম্পদ
  2. হৃত সম্পত্তি
  3. শনশনে হাওয়া
  4. কাঁদকাঁদ চেহারা
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সম্পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সম্পদ
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিতান্ত বিশেষণের উদাহরণ - জাতীয় সম্পদ

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
ক. ক্রিয়াজাত: হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত: আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক।
গ. সর্বনাম জাত: কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি।
ঘ. সমাসসিদ্ধ: বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর।
ঙ. বীপ্সামূলক: হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত: কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।
ছ. কৃদন্ত: কৃতী সন্তান, জানাশোনা লোক, পায়ে-চলা পথ, হৃত সম্পত্তি, অতীত কাল।
জ. তদ্ধিতান্ত: জাতীয় সম্পদ, নৈতিক বল, মেঠো পথ।
ঝ. উপসর্গযুক্ত: নিখুঁত কাজ, অপহৃত সম্পদ, নির্জলা মিথ্যে।
ঞ. বিদেশি: নাস্তানাবুদ অবস্থা, লাওয়ারিশ মাল, লাখেরাজ সম্পত্তি, দরপত্তনি তালুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৭৬৯.
'ত্বরিত গমন করতে পারে যে' এক কথায় কী বলে?
  1. তুগর
  2. তুরক
  3. তুরগ
  4. তুরন্ত
সঠিক উত্তর:
তুরগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুরগ
ব্যাখ্যা
• 'ত্বরিত গমন করতে পারে যে' এক কথায় প্রকাশ - তুরগ।

অন্যদিকে,
• ‘তুরন্ত’ শব্দের অর্থ - শীঘ্র, সত্বর, বিলম্ব না করা।
• ‘তুরক’ শব্দের অর্থ - তুরস্কের আধিবাসী; তুর্কি জাতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৭৭০.
'রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।' এখানে 'রাজায়-রাজায়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)।

ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার
কর্তা বলে।
যেমন:
- বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
- রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১১,৭৭১.
'দশানন’ কোন জাতীয় সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমনঃ
দশ আনন যার = দশানন,
চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

১১,৭৭২.
নিচের কোন বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত ত্রুটি রয়েছে?
  1. গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
  2. ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
  3. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
  4. দশচক্রে ভগবান ভূত।
সঠিক উত্তর:
গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
ব্যাখ্যা
• বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত ত্রুটি:
- সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।

যেমন:
অশুদ্ধ: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
শুদ্ধ: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: দশচক্রে ভগবান ভূত।
শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
শুদ্ধ বাক্য: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৭৭৩.
‘কদাচার’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ, যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচাকলা।
- কু যে আচার = কদাচার।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- ঋষি যে কবি = ঋষিকবি  ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৭৪.
'অকেজো' কোন সমাসের অন্তর্গত?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) সপ্তমী তৎপুরুষ
  3. গ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
গ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে 'অকেজো' হলো নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত।

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস

না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা- ন আচার = অনাচার, ন কাতর= অকাতর।
খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়। যেমন- ন কাল = অকাল বা আকাল।

তদ্রূপ- নামঞ্জুর, অকেজো, অজানা, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক ইত্যাদি। 
• না-বাচক অর্থ ছাড়াও বিশেষ বিশেষ অর্থে নঞ তৎপুরুষ সমাস হতে পারে।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
১১,৭৭৫.
"ত্রিশঙ্কু দশা” বলতে বুঝায়-
  1. বিপর্যন্ত হওয়া
  2. অবাক হওয়া
  3. দোটানা অবস্থা হওয়া
  4. হতবুদ্ধি হওয়া
সঠিক উত্তর:
দোটানা অবস্থা হওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোটানা অবস্থা হওয়া
ব্যাখ্যা

• ‘ত্রিশঙ্কু অবস্থা’ বাগ্‌ধারার অর্থ - মধ্যাবস্থা/উভয়সংকট/ দোটানা অবস্থা হওয়া।
বাক্য: দুই অফিস কর্তার দুই বিপরীত আদেশের ফলে আমার ত্রিশঙ্কু অবস্থা।

এরকম সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত বাগধারাগুলো হলো:
• ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ বাগধারার অর্থ - উভয়সংকট।
• ‘শাঁখের করাত’ বাগধারার অর্থ - উভয়সংকট।
• ‘দুই নৌকায় পা’ বাগধারার অর্থ - উভয়সংকট। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৭৭৬.
'কুসুম' এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √ কুস্‌ + অম
  2. খ) √ কুস্‌ + উম
  3. গ) √ কুস্‌ + ঊম
  4. ঘ) √ কুস্‌ + ম
সঠিক উত্তর:
খ) √ কুস্‌ + উম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) √ কুস্‌ + উম
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
কুসুম (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
প্রকৃতি - প্রত্যয়: √ কুস্‌ + উম।
অর্থ:
- ফুল,
- পুষ্প,
- প্রসূন,
- ডিমের ভেতরের হলুদ অংশ।
- চোখের রোগ বিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৭৭৭.
'সাজোয়ান' - শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত
  2. ফারসি
  3. বাংলা 
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
বাংলা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা 
ব্যাখ্যা

• 'সাজোয়ান' শব্দের 'সা' - বাংলা উপসর্গ
- 'সাজোয়ান' শব্দের 'সা' উৎকৃষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১১,৭৭৮.
কোনটি তুর্কি শব্দ?
  1. বাস
  2. মোগল
  3. কাতান
  4. কামরা
সঠিক উত্তর:
মোগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোগল
ব্যাখ্যা

• তুর্কি শব্দ - মোগল
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মঙ্গোলিয়া থেকে বাবরের নেতৃত্বে ভারতে আগত সাম্রাজ্য স্থাপন-কারী জাতিবিশেষ।
- মঙ্গোলিয়ার অধিবাসী।

অন্যদিকে,
ইংরেজি শব্দ - বাস।
দেশি শব্দ - কাতান।
পর্তুগিজ শব্দ - কামরা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

১১,৭৭৯.
‘অগ্নি’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. বহ্নি
  2. দীপ্তি
  3. জ্বলন
  4. জগন্নু
সঠিক উত্তর:
দীপ্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীপ্তি
ব্যাখ্যা
• ‘কিরণ’ শব্দের সমর্থক শব্দ: রশ্মি, কর, প্রভা, দীপ্তি, অংশু।

অন্যদিকে,
• ‘অগ্নি’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, শিখাবৎ, শিখিন, বায়ুসখা, হুতভুক, বিশ্বপা, হিমারাতি, বায়ুসখা, অনিলসখ, জগন্নু, সর্বভুক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৭৮০.
ধান বানতে যারা শিবের গীত গায়, তারা স্থির লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। - বাক্যে সর্বনাম পদ কোনটি?
  1. ক) ধান
  2. খ) শিব
  3. গ) যারা
  4. ঘ) স্থির
সঠিক উত্তর:
গ) যারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যারা
ব্যাখ্যা

- বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- ধান বানতে যারা শিবের গীত গায়, তারা স্থির লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। - বাক্যে সর্বনাম পদ হলোঃ 'যারা', 'তারা'।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণীর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।

১১,৭৮১.
পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন হয় কী অনুসারে?
  1. কর্তা
  2. উদ্দেশ্য
  3. কর্ম
  4. বিধেয়
সঠিক উত্তর:
কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কর্তা।

• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, “আমি এখনই বের হচ্ছি।”
পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

১১,৭৮২.
'হরণ' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. হ্রাস 
  2. ক্ষরণ 
  3. পূরণ
  4. অর্জন
সঠিক উত্তর:
পূরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূরণ
ব্যাখ্যা

• 'হরণ' এর বিপরীতার্থক শব্দ- পূরণ। 

অন্যদিকে, 
• হ্রাস - বৃদ্ধি। 
• অর্জন - বর্জন।

আরো কিছু বিপরীতার্থক শব্দ:
- 'আকাশ' শব্দের বিপরীতর্থক শব্দ - পাতাল।
- 'উদ্ধত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - বিনীত।
- 'উঠতি' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - পড়তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৭৮৩.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) ভোজন
  2. খ) জনতা
  3. গ) হিমালয়
  4. ঘ) যৌবন
সঠিক উত্তর:
খ) জনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জনতা
ব্যাখ্যা

• যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমনঃ
- সভা,
- জনতা,
- সমিতি,
- পঞ্চায়েত,
- মাহফিল,
- ঝাঁক,
- বহর,
- দল।
• যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমনঃ
- গমন,
- দর্শন,
- ভোজন,
- শয়ন,
- দেখা,
- শোনা।
• যৌবন গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
• হিমালয় সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৭৮৪.
সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য- 
  1. নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
  2. গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
  3. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
  4. উপরের সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে। এবং অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১১,৭৮৫.
বহুব্রীহি সমাস নয় কোনটি?
  1. দিগম্বর
  2. তরঙ্গিণী
  3. গায়ে-হলুদ
  4. প্রবচন
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্রাদি প্র-আদি, অর্থাৎ প্র ইত্যাদি। প্র একটি উপসর্গ। প্র, প্রতি, অনু ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে যদি কৃদন্ত পদ্ম বা নামপদের সমাস হয়, তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।

এরূপ
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- প্র (প্রকৃষ্টরূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত ইত্যাদি।

-------------------------
• অলুক বহুব্রীহি সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
- গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে-হলুদ।

এরকম: কথায় পটু, মাথায় ছাতা, চশমা-নাকে, মুখে-মধু, হাতেখড়ি, পায়ে-বেড়ি ইত্যাদি।

• ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
পর পর অন্বিত দুটি বিশেষ্য পদে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়; অর্থাৎ বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য-বিশেষ্য হলে এবং এর যেকোনো একটি পদ ব্যাসবাক্যে অধিকরণ সম্পর্ক বোঝালে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
তরঙ্গ আছে যার = তরঙ্গিণী;
তর্ক শাস্ত্রে জ্ঞান আছে যাঁর = তার্কিক;
দিক অম্বর যার = দিগম্বর। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৭৮৬.
‘হরিলুট’ বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বিশৃঙ্খল
  2. প্রতারণা
  3. অপচয়
  4. সর্বনাশ
সঠিক উত্তর:
অপচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপচয়
ব্যাখ্যা
• ‘হরিলুট’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপচয়।
বাক্য: পরের টাকা পেলে হরিলুট দেওয়া যায়।

অন্যদিকে,
• ‘হ য ব র ল’ অর্থ - বিশৃঙ্খল।
• ‘মামদোবাজি’ অর্থ - প্রতারণা।
• ‘ভরাডুবি’ অর্থ - সর্বনাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৮৭.
তারিখ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ কোনটি?
  1. অর্ধ
  2. একাদশী 
  3. চৌঠা
  4. প্রথমা
সঠিক উত্তর:
চৌঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌঠা
ব্যাখ্যা

• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলোকে ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
যেমন: এক, দুই, তিন ইত্যাদি।

• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
যেমন: 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান' প্রথম', 'পহেলা', 'প্রথমা' ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ ধরনের হয়। যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক: যেমন- প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী, একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী) ত্রয়োদশী (১৩শী) ইত্যাদি।
তারিখ পূরণবাচক: যেমন- পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই। 
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক: যেমন- অর্ধ, আধ, সাড়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১১,৭৮৮.
সন্ধির ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) সন্নিহিত দুটি শব্দের মিলন
  2. খ) ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন
  3. গ) স্বাভাবিক লেখনের সহজ প্রবণতা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন
ব্যাখ্যা
সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৭৮৯.
'কষ্ট' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. ক্লেশ
  2. প্রগাঢ়
  3. নিবিড়
  4. অনুকম্পা
সঠিক উত্তর:
ক্লেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লেশ
ব্যাখ্যা
'কষ্ট' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- যন্ত্রণা, দুঃখ, ক্লেশ, আয়াস, পরিশ্রম, মেহনত।

'গভীর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অগাধ, অতল, গহন, প্রগাঢ়, নিবিড়

'দয়া' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অনুকম্পা, দয়া, করুণা, কৃপা, মায়া, অনুগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,৭৯০.
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. মূলসহ
  2. বিবিধপ্রকার
  3. বুদ্ধিমান
  4. অদ্যাপি
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৭৯১.
মেট্রোরেল অতি দ্রুত চলে। এ বাক্যে ‘অতি’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণের বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
এ বাক্যে দ্রুত ক্রিয়া বিশেষণ আর দ্রুতকে অতি শব্দ বিশেষিত করেছে বলে অতি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ।
১১,৭৯২.
কোন শব্দে বৃহদার্থে ‘আ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) কেষ্টা
  2. খ) ডিঙা
  3. গ) বাঘা
  4. ঘ) জটা
সঠিক উত্তর:
খ) ডিঙা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডিঙা
ব্যাখ্যা
ডিঙি + আ = ডিঙা শব্দে ‘আ’ প্রত্যয়টি বৃহদার্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১১,৭৯৩.
টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি -
  1. সংখ্যাবাচক বিশেষণ
  2. পদাশ্রিত নির্দেশক
  3. নির্দেশক সর্বনাম
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
পদাশ্রিত নির্দেশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাশ্রিত নির্দেশক
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশক:
কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে। বাংলায় নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The'-এর স্থানীয়। বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশকেরও বিভিন্নতা প্রযুক্ত হয়।

(ক) একবচনে টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়। যেমন- টাকাটা, বাড়িটা, কাপড়খানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।
(খ) বহুবচনে গুলি, গুলা, গুলো, গুলিন প্রভৃতি নিদের্শক প্রত্যয় সংযুক্ত হয়। যেমন মানুষগুলি, লোকগুলো, আমগুলো, পটলগুলিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
১১,৭৯৪.
‘বক্ষ্যমাণ’ শব্দের সঠিক অর্থ কোনটি?
  1. যা বলার যোগ্য নয়
  2. যা বলা হয় নি
  3. যা বলা হচ্ছে
  4. যা উচ্চারণ করা যায় না
সঠিক উত্তর:
যা বলা হচ্ছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যা বলা হচ্ছে
ব্যাখ্যা
• ‘যা বলা হচ্ছে/হবে’ এক কথায় বলে - বক্ষ্যমাণ।

অন্যদিকে,
• ‘যা বলার যোগ্য নয়’ এক কথায় বলে - অকথ্য।
• ‘যা বলা হয় নি’ এক কথায় বলে - অনুক্ত।
• ‘যা উচ্চারণ করা যায় না’ এক কথায় বলে - অনুচ্চার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭৯৫.
কোন শব্দে ধাতুর সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ঠগী
  2. পানসে
  3. সেলামী
  4. দর্শন
সঠিক উত্তর:
দর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দর্শন
ব্যাখ্যা
• ধাতু:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। সেসব ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

এখানে,
• দর্শন = দৃশ্‌ +অন;  শব্দে 'দৃশ্‌' সংস্কৃত ধাতুর সাথে 'অন' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ঠগী, পানসে ও সেলামী শব্দগুলো নাম প্রকৃতির সাথে প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১,৭৯৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. স্বায়ত্তশাসন
  2. অভ্যন্তর
  3. ঘূর্নিপাক
  4. ঐন্দ্রজালিক
সঠিক উত্তর:
ঘূর্নিপাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্নিপাক
ব্যাখ্যা
• 'ঘূর্নিপাক'-  বানানটি অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধ বানান- 'ঘূর্ণিপাক'। 

• 'ঘূর্ণিপাক' শব্দের অর্থ- বায়ু বা জলের প্রচণ্ড আবর্ত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৭৯৭.
মর্ধন্য ণ এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) পরণিন্দা
  2. খ) ক্রন্দণ
  3. গ) দুর্ণিবার
  4. ঘ) আপণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আপণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আপণ
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ কণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ ইত্যাদি। 

• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমনঃ
- ত্রিনয়ন,
- সর্বনাম,
- দুর্নীতি,
- দুর্নাম,  
- দুর্নিবার,
- পরনিন্দা,
- অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৭৯৮.
‘বুনো’ শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বুনো (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দ বন থেকে বুনো শব্দটি এসছে।
অর্থ:
- বনে জাত (বুণো ওল),
- বনবাসী,
- বন্য,
- অমার্জিত (বুনো আচরণ)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৭৯৯.
'সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছি।' - বাক্যে ‘সারাটি’ শব্দের সঙ্গে ‘টি’ যুক্ত হয়ে কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ভিন্নার্থকতা
  2. ব্যর্থকতা
  3. সার্থকতা
  4. নিরর্থকতা
সঠিক উত্তর:
নিরর্থকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরর্থকতা
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশকের ব্যবহার:
(ক) ‘এক’ শব্দের সঙ্গে টা, টি, যুক্ত হলে অনির্দিষ্টতা বোঝায়। 
যেমন
- একটি দেশ, সে যেমনই হোক দেখতে। কিন্তু অন্য সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে টা, টি যুক্ত হলে নির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন: তিনটি টাকা, দশটি বছর।

(খ) নিরর্থকভাবেও নির্দেশক টা, টি-র ব্যবহার লক্ষণীয়।
 যেমন:
- সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছি।
- ন্যাকামিটা এখন রাখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৮০০.
'জন্য' শব্দটি কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। যেমন- এবং, জন্য, আর, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী