উত্তর
ব্যাখ্যা
কতিপয় বিপরীতার্থক শব্দ-
ঝটিতি - বিলম্ব
ডগমগ - মনমরা
দুষ্কৃতি - সুকৃতি
দারক - দুহিতা
তাপ - শৈত্য
ঝুনা - কাঁচা/কচি
দস্যূ - ঋষি
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১১৭ / ৩৫৪ · ১১,৬০১–১১,৭০০ / ৩৫,৭১৩
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ঃ
অ(অঙ্) + স্ত্রী প্রত্যয় যোগ -
শ্রৎ + √ধা + অ + আ = শ্রদ্ধা
√ব্যথ্ + অ + আ = ব্যথা
√কৃপ্ + অ + আ = কৃপা
সম্ + √জ্ঞা + অ + আ = সংজ্ঞা
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একাডেমী অভিধান থেকেঃ
শ্রদ্ধা (বিশেষ্য):
১. বিশেষ সম্মান; ভক্তি।
২. আস্থা; বিশ্বাস; নির্ভরতা।
৩. নিষ্ঠা; সশ্রদ্ধ ভক্তি।
৪. স্পৃহা; রুচি; আগ্রহ (খেতে শ্রদ্ধা না হওয়া)।
(তৎসম বা সংস্কৃত) শ্রৎ+√ধা+অ(অচ্)+আ(টাপ্)
• 'সমভিব্যাহারে' (ক্রিয়াবিশেষণ পদ),
শব্দটির অর্থ:
- সঙ্গে,
- সংঘবদ্ধ হয়ে।
উল্লেখ্য,
• ‘একযোগে’ শব্দের অর্থ;
- একত্রে,
- একসঙ্গে,
- সম্মিলিতভাবে,
- যুগপৎ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সংস্কৃত স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের ই-ধ্বনি বা ঈ-ধ্বনি এবং দ্বিতীয় পদের প্রথমে অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে, ই/ঈ-র জায়গায় য-ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- বি + অবস্থা = ব্যবস্থা,
- অধি + অক্ষ = অধ্যক্ষ
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত ইত্যাদি।
-----------------------
• সংস্কৃত বাঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে বর্গের |প্রথম ব্যঞ্জন (-ক/চ/ট/ত্[ৎ]/প ) থাকলে, এবং পরপদের স্বরধ্বনি হলে প্রথমটি ব্যঞ্জনধ্বনিটি ওই বর্গের তৃতীয়
ধ্বনিতে অর্থাৎ ক স্থানে গ্, চ্ স্থানে জ্, ট্ স্থানে ড্ [ড়্] , ত্ স্থানে দ্, প্ স্থানে ব্ হয়। রপদের স্বরধ্বনি বর্গের তৃতীয় ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর,
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- প্রাক্ + উক্ত = প্রাগুক্ত,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত,
- অচ্ + অন্ত = অজন্ত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
’এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’- বাক্যটি ঘটমান ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ।
• ভবিষ্যৎ কাল
- ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।
⇒ ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার:
- সাধারণ ভবিষ্যৎ,
- ঘটমান ভবিষ্যৎ
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।
• সাধারণ ভবিষ্যৎ:
- ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
• ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।
অন্যদিকে,
• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ। সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
- এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'সন্ধি' এর বিপরীত শব্দ - বিবাদ, বিগ্রহ।
অন্যদিকে,
- 'হৃদ্যতা' এর বিপরীত শব্দ- 'কপটতা',
আরো কিছু বিপরীত শব্দ:
- 'হাজির' এর বিপরীত শব্দ- 'গরহাজির',
- 'সরস' এর বিপরীত শব্দ- 'নীরস',
- 'মুক্ত' এর বিপরীত শব্দ- 'আবদ্ধ',
- 'মুখ্য' এর বিপরীত শব্দ- 'গৌণ'।
উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
• অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: [ই], [উ], [এ] এবং [ও]। স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন-
- 'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।
- একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫)।
• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'হাতের তৃতীয় আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - মধ্যমা।
অন্যদিকে,
• 'হাতের পঞ্চম আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - কনিষ্ঠা।
• 'হাতের দ্বিতীয় আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - তর্জনী।
• 'হাতের চতুর্থ আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - অনামিকা।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ হলো:
• হাতের কব্জি থেকে আঙুলের ডগা পর্যন্ত - পাণি।
• হাতের কনুই থেকে কজি পর্যন্ত অংশ - প্রকোষ্ঠ।
• হাতের তালু - করতল।
• হাতের প্রথম আঙুল - অঙ্গুষ্ঠ।
• হাতের কব্জি - মণিবন্ধ।
• হাতের কব্জি থেকে আঙুলের ডগা পর্যন্ত - পাণি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
ক. চতুর্থী বা কে বিভক্তি : ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্ব ত্যাগ করে না দিলে কর্ম কারক হবে। যেমন: ধোপাকে কাপড় দাও।)
খ. সপ্তমী বা এ বিভক্তি : সৎ পাত্রে কন্যা দান কর। মৃতজনে দেহ প্রাণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:
• বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
• নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।
• বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।
• বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ:
চন্দ্র, শশী, শশাঙ্ক, সুধাকর, ইন্দু, সোম, শশধর, বিধু, নিশাকর, সুধাংশু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
'পক্ষ ' শব্দটিতে 'অ' বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো হয়।
• স্বরবর্ণ অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
- অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর: ব্যঞ্জনসন্ধি।
- ম্ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।
যেমন:
- ম্ + চ্ = ঞ + চ → সম্ + চয় = সঞ্চয়।
- ম্ + ক = ঙ + ক্ → শম্ + কা = শঙ্কা।
- ম্ + ত্ = ন + ত → সম্ + তাপ = সন্তাপ।
- এরূপ – কিম্ভুত, সন্দর্শন, কিন্নর, সম্মান, সন্ধান, সন্ন্যাস ইত্যাদি।
• বিশেষ দ্রষ্টব্য: আধুনিক বাংলায় ম্-এর পর কণ্ঠ্য-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ স্থানে প্রায়ই ঙ না হয়ে অনুস্বার হয়।
- যেমন- সম্ + গত= সংগত, অহম্ + কার = অহংকার, সম্+খ্যা = সংখ্যা।
- এরূপ - সংকীর্ণ, সংগীত, সংগঠন, সংঘাত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• “চিরসুখ" - শব্দটি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত।
------------------
• তৎপুরুষ সমাস:
- তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদের বিভক্তি হারিয়ে যায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
- এটি দ্বিতীয় থেকে সপ্তম বিভক্তি পর্যন্ত যেকোনো বিভক্তি লোপের মাধ্যমে গঠিত হতে পারে।
- বিভক্তি অনুযায়ী তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদের নামকরণ করা হয়।
- তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকারের-
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ,
- তৃতীয়া তৎপুরুষ,
- চতুর্থী তৎপুরুষ,
- পঞ্চমী তৎপুরুষ,
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ,
- সপ্তমী তৎপুরুষ,
- নঞ তৎপুরুষ (না-বাচক),
- উপপদ তৎপুরুষ,
- অলুক তৎপুরুষ (বিভক্তি লোপ পায় না)।
----------------------------
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হলো সেই সমাস যেখানে পূর্বপদের দ্বিতীয় বিভক্তি (যেমন—কে, রে) বিলীন হয়ে যায়;
- এবং পরপদের অর্থই মূলভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণ:
- 'চিরকাল ধরে সুখ' → 'চিরসুখ'; (ব্যাপ্তি অর্থে কালবাচক পদের সঙ্গে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়)।
- ‘বিপদকে আপন্ন’ → ‘বিপদাপন্ন’; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
- 'আত্মকে রক্ষা' → 'আত্মরক্ষা'; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের আরও কিছু উদাহরণ:
- সাহায্যপ্রাপ্ত = সাহায্যকে প্রাপ্ত,
- দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ী - দীর্ঘস্থায়ী,
- শরনিক্ষেপ = শরকে নিক্ষেপ,
- ছেলে-ভুলানো = ছেলেকে ভুলানো,
- সাহায্যপ্রাপ্ত = সাহায্যকে প্রাপ্ত,
- গা-ঢাকা = গা-কে ঢাকা,
- তিমিরবিদায়ী = তিমিরকে বিদায়ী,
- দেশভঙ্গ = দেশকে ভঙ্গ,
- বইপড়া = বইকে পড়া,
- দেশত্যাগ = দেশকে ত্যাগ
- দুঃখপ্রাপ্ত = দুঃখকে প্রাপ্ত,
- আমকুড়ানো = আমকে কুড়ানো,
- রথচালান = রথকে চালান,
- দেশবিভাগ = দেশকে বিভাগ,
- বিস্ময়াপন্ন = বিস্ময়কে আপন্ন,
- পুত্রলাভ = পুত্রকে লাভ,
- দুঃখাতীত = দুঃখকে অতীত,
- শরণাগত = শরণকে আগত,
- পরলোকগত = পরলোকে গত,
- চরণাশ্রিত = চরণকে আশ্রিত,
- স্বর্গপ্রাপ্ত = স্বর্গকে প্রাপ্ত।
টেকনিক:
- পূর্বপদে 'চির' থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
- পরপদে 'স্থায়ী' থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
- পরপদে 'প্রাপ্ত', 'পন্ন', 'গত', 'আশ্রিত', 'অতীত' থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
------------------------------
অন্যদিকে,
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ:
- নদী মাতা যার = নদীমাতৃক,
- বান্ধবসহ বর্তমান = সবান্ধব,
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নীল বসন যার = নীলবসনা।
• নিত্য সমাস:
- যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না বা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে- ‘অন্য’ বা ‘কেবল' শব্দটি বসে।
- যেমন- অন্য দেশ = দেশান্তর।
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র।
- আবার, নিত্য সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষে অনেক সময় ‘তুল্য’ শব্দটি থাকে।
- যেমন- দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ।
- নিত্য সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- কালসাপ, আমরা, গ্রামান্তর, বিরানব্বই, উপায়ান্তর, দিগন্তর, ধর্মান্তর, লোকান্তর, দেখামাত্র, নামমাত্র ইত্যাদি।
• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- নীল চোখ একটি সাধারন কর্মধারয় সমাস।
- এখানে নীল একটি বিশেষণ এবং চোখ একটি বিশেষ্য।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই), [উ);
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ ]।
উল্লেখ্য,
• সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
• √শম্+ক্তি = শান্তি
বিশেষ নিয়মে সাধিত কৃৎ প্রত্যয় :
- ক্তি-প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়।
যথা-
- √মন্+ক্তি = মতি,
- √রম্+ক্তি = রতি।
কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।
যেমন
- √শ্রম্+ক্তি=শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম > ন হয়),
- √শম্+ক্তি = শান্তি।
নিপাতনে সিদ্ধ:
- √গৈ + ক্তি = গীতি,
- √সিধ + ক্তি = সিদ্ধি,
- √বুধ + ক্তি = বুদ্ধি,
- √শিক্ + ক্তি = শক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
শ্রদ্ধাস্পদেষু (বিশেষণ) - শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে লিখিত পত্রের আরম্ভে পাঠ।
নিক্বণ (বিশেষ্য) - নিনাদ; ঝঙ্কার; ধ্বনি; মিষ্টি আওয়াজ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
- ব্যাসবাক্যে 'রাজা' শব্দ পরে থাকলে সমস্তপদে তা আগে আসে।
যেমন
- পথের রাজা = রাজপথ,
- হাঁসের রাজা = রাজহাঁস।
উল্লেখ্য,
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
• পরাশ্রয়ী বর্ণ:
যেসব বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এবং বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়, সে বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।
• বাংলা বর্ণমালায় তিনটি পরাশ্রয়ী বর্ণ রয়েছে।
যথা- ং, ঃ, ঁ।
- এই বর্ণ গুলোর স্বাধীন ও স্বতন্ত্র বর্ণের মতো কার বা ফলা গ্রহন করতে পারে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন( ;), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- আঁখি রাতে রুটি খায় আর মোহন খায় ভাত।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
- ’পোঁ-ধরা’ বাগ্ধারাটির অর্থ- মোসাহেবী করা।
অন্যদিকে,
- ’মাথা খাওয়া’ বাগ্ধারাটির অর্থ- নষ্ট করা।
- ’সর্বস্বান্ত হওয়া’ বাগ্ধারাটির অর্থ- পথে বসা।
- ’ফোড়ন কাটা’ বাগ্ধারাটির অর্থ- কথার মাঝে বিদ্রুপ করা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
'উক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √বচ্ + ক্তি।
• 'ক্তি'-প্রত্যয় ('ক' ইৎ 'তি' থাকে):
• বিশেষ নিয়ম:
- 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়।
যেমন-
- √বচ্+ক্তি = উক্তি,
- √মুচ্+ক্তি = মুক্তি,
- √ভজ্+ক্তি = ভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
‘উর্মি’ শব্দের সমার্থক শব্দ - লহরী, ঢেউ, বীচি, তরঙ্গ, কল্লোল ইত্যাদি।
প্রভা শব্দের সমার্থক শব্দ - আভা, দীপ্তি, কিরণ, আলোক ইত্যাদি।
তরঙ্গিনী শব্দের সমার্থক শব্দ - নদী, স্রোতস্বিনী, তটিনী, প্রবাহিনী, শৈবালিনী ইত্যাদি।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।
এরূপ- অষ্টধাতু, চতুর্ভুজ, চতুরঙ্গ, ত্রিমোহিনী, তেরনদী, পঞ্চভূত, সাতসমুদ্র ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।