বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১০৮ / ৩৫৪ · ১০,৭০১১০,৮০০ / ৩৫,৭১৩

১০,৭০১.
'এই' এর পরোক্ষ রূপ কোনটি?
  1. তাহা
  2. উহা
  3. এটা
  4. সেই
সঠিক উত্তর:
সেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেই
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ - পরোক্ষ:
• এই - সেই। 
• ইহা - তাহা/উহা। 
• এমন - অমন, তেমন। 
• ওখানে - ওইখানে। 
• আগামীকাল - পরদিন। 
• গতকল্য - পূর্বদিন। 
• এটা - ওটা / সেটা
• এ - সে। 
• এখানে - সেখানে। 
• আজ - সেদিন। 
• গতকাল- আগের দিন। 
• এখন - তখন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭০২.
'যুগান্তর' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. নিত্য সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস 
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা

• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১০,৭০৩.
‘ব্যাকরণ’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত রূপ কোনটি?
  1. বি + আ + কৃ + √অন
  2. বি + আ + √কৃ + অন
  3. বি + আ + √কর + ন
  4. ব্য + আ + √কৃ + অন
সঠিক উত্তর:
বি + আ + √কৃ + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বি + আ + √কৃ + অন
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ:
- ব্যাকরণ (= বি + আ + √কৃ + অন) শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থ বিশেষভাবে বিশ্লেষণ।

সংজ্ঞা:
- যে শাস্ত্রে কোনো ভাষার বিভিন্ন উপাদানের প্রকৃতি ও স্বরূপের বিচার-বিশ্লেষণ করা হয় এবং বিভিন্ন উপাদানের সম্পর্ক নির্ণয় ও প্রয়োগবিধি বিশদভাবে আলোচিত হয়, তাকে ব্যাকরণ বলে।

ব্যাকরণ পাঠের প্রয়োজনীয়তা:
- ব্যাকরণ পাঠ করে ভাষার বিভিন্ন উপাদানের গঠন প্রকৃতি ও সেসবের সুষ্ঠু ব্যবহারবিধি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায় এবং লেখায় ও কথায় ভাষা প্রয়োগের সময় শুদ্ধাশুদ্ধি নির্ধারণ সহজ হয় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৭০৪.
Bungler - শব্দের পারিভাষিক অর্থ কোনটি?
  1. ক) ভিক্ষুক
  2. খ) ছারপোকা
  3. গ) বিকলাঙ্গ
  4. ঘ) আনাড়ী
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনাড়ী
ব্যাখ্যা

Bungler - শব্দের পারিভাষিক অর্থ আনাড়ী ।
-Begger অর্থ ভিক্ষুক।
- Bedbug অর্থ ছারপোকা।
- Handicapped অর্থ বিকলাঙ্গ।

উৎস : বাংলা একাডেমী প্রশাসনিক পরিভাষা

১০,৭০৫.
নিচের কোনটি সামীপ্যবাচক সর্বনাম পদ?
  1. ঐসব
  2. ইহারা
  3. সমুদয়
  4. নিজে নিজে
সঠিক উত্তর:
ইহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইহারা
ব্যাখ্যা
সর্বনাম পদ: 
বিশেষ্যর পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে। 
যেমন,
- রাহাত ভালো ছেলে, সে নিয়মিত স্কুলে যায়। 
- উপরোক্ত উদাহরণের দ্বিতীয় বাক্যটিতে ‘সে' শব্দটি রাহাতের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই ‘সে’ হলো সর্বনাম পদ। 

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন - 
• ব্যক্তি বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা ইত্যাদি। 
• আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি ইত্যাদি। 
• সামীপ্যবাচক: এ, এই, ইহারা, ইনি ইত্যাদি। 
• দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব, সব ইত্যাদি। 
• সাকল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ ইত্যাদি। 
• প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে ইত্যাদি। 
• অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি। 
• ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, পরস্পর ইত্যাদি। 
• সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি। 
• অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০,৭০৬.
"এইসব প্রকাণ্ড গাছের ভিতরকার মানুষকেও যেন দেখতে পায়।" এই বাক্যে 'মানুষকেও' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
  2. কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ২য়া বিভক্তি
  4. কর্তৃকারকে  ২য়া বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তি
ব্যাখ্যা

"এইসব প্রকাণ্ড গাছের ভিতরকার মানুষকেও যেন দেখতে পায়।" এই বাক্যে 'মানুষকেও' কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তি।
এখানে,
- মানুষকেও' পদটিতে 'মানুষকে' হল পদের মূল অংশ, যার সাথে 'ও' অনুসর্গটি যুক্ত হয়েছে।
- এখানে 'মানুষকে' শব্দটি বাক্যের কর্মপদ, কারণ যাকে দেখা হচ্ছে সেই কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে 'মানুষকে' উদ্দেশ্য করে। তাই এটি কর্ম কারক।
-  'ও' একটি সংযোজক অনুসর্গ যা পদের সাথে যুক্ত হয়েছে।

• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।
- সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে - কর্ম কারকে ৭মী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৭০৭.
নিচের কোনটি নাসিক্য ধ্বনি নয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• নাসিক্য ধ্বনি:
, ঞ, ণ, ন, ম-এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুস-তাড়িত বাতাস বের হয় বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকী বর্ণগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ।

অন্যদিকে,
• শ, ষ, স, হ- এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১০,৭০৮.
প্রাতিপদিকের সঙ্গে কোন শব্দের সম্পর্ক বিদ্যমান ?
  1. ক) ক্রিয়াবাচক শব্দ
  2. খ) বিশেষণবাচক শব্দ
  3. গ) সর্বনামবাচক শব্দ
  4. ঘ) নামবাচক শব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নামবাচক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নামবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা
প্রাতিপদিক :
- ‘লাজ’, ‘বড়’, ‘ঘর’- এ শব্দগুলাের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭০৯.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ আমাদের একান্ত কাম্য।
  2. ইহার আবশ্যক নেই।
  3. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  4. বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ আমাদের একান্ত কাম্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ আমাদের একান্ত কাম্য।
ব্যাখ্যা

 • শুদ্ধ বাক্য: সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ আমাদের একান্ত কাম্য।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নেই।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান

১০,৭১০.
'সূক্ষ্ম' শব্দের যুক্তবর্ণে কোন কোন বর্ণ যুক্ত রয়েছে?
  1. ক) হ্‌ + ম
  2. খ) ক্‌ + ষ্‌ + ন-ফলা
  3. গ) ক্‌ + ষ্‌ + ণ-ফলা
  4. ঘ) ক্‌ + ষ্‌ + ম-ফলা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্‌ + ষ্‌ + ম-ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্‌ + ষ্‌ + ম-ফলা
ব্যাখ্যা
সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনি ও যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ
- দুটি বা তার চেয়ে বেশি ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে কোনাে স্বরধ্বনি না থাকলে সে ব্যঞ্জনধ্বনি দুটি বা ধ্বনি কয়টি একত্রে উচ্চারিত হয়, তাকে বলা হয় সংযুক্ত ব্যঞ্জন।
- এরূপ যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির দ্যোতনার জন্য দুটি বা অধিক ব্যঞ্জনবর্ণ একত্রিত হয়ে সংযুক্ত বর্ণ (Ligature) গঠিত হয়।
- সাধারণত এরূপ গঠিত সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের মূল বা আকৃতি পরিবর্তিত হয়। 

'সূক্ষ্ম' শব্দের যুক্তবর্ণে ক্‌ + ষ্‌ + ম-ফলা  যুক্ত রয়েছে।
ক্ষ্ম = ক্‌ + ষ্‌ + ম-ফলা

অন্যদিকে, 
হ্ম = হ্‌ + ম; ব্রাহ্মণ।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭১১.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. গবেষনা
  2. গবেষণা
  3. গবেশনা
  4. গবেস্বণা
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'গবেষণা'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- সন্ধি বিচ্ছেদ: গো+এষণা।
 অর্থ:
-  তত্ত্বাদির বিশেষ অনুসন্ধান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।  
১০,৭১২.
বাইশ = ২২ সংখ্যা হয় ; ‘বাইস’ অর্থ কি?
  1. ক) অস্ত্র
  2. খ) দেয়াল
  3. গ) ধারালো যন্ত্র
  4. ঘ) কঠোর
সঠিক উত্তর:
গ) ধারালো যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধারালো যন্ত্র
ব্যাখ্যা
বাইস’ অর্থ কি - ধারালো যন্ত্র।

অন্যান্য শব্দের অর্থ :
বর্শা = অস্ত্রবিশেষ
প্রাকার = দেয়াল
পরুষ = কঠোর
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭১৩.
‘যে রোগ নির্ণয়ে হাতড়ে মরে’ - এক কথায় কী হবে?
  1. অনভিজ্ঞ
  2. অরিন্দম
  3. হাতুড়ে
  4. ওষধি
সঠিক উত্তর:
হাতুড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতুড়ে
ব্যাখ্যা
• 'যে রোগ নির্ণয় করতে হাতড়ে মরে' এর এককথায় হবে - হাতুড়ে

অন্যদিকে, 
- ‘অভিজ্ঞতার অভাব আছে যার’ এর এককথায় প্রকাশ - অনভিজ্ঞ।
- ‘অরিকে (শত্রুকে) দমন করে যে' এর এককথায় প্রকাশ - অরিন্দম।
- 'ফল পাকলে যে গাছ মরে যায়’ এর এককথায় প্রকাশ - ওষধি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭১৪.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) মস্তক
  2. খ) লতা
  3. গ) নারী
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে অপশনের সবগুলো তৎসম শব্দ।

• তৎসম শব্দ:
- সংস্কৃত শব্দ যদি অপরিবর্তিতরূপে হুবহু বাংলায় ব্যবহৃত হয় তাহলে সেই শব্দকে তৎসম শব্দ বলে।
- 'তৎসম' অর্থ তার (তৎ) সমান (সম)। এখানে 'তার' অর্থ সংস্কৃতের।

• নিচে তৎসম শব্দের উদাহরণ হলো:
- চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, হস্ত, পদ, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, নারী, নর, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।


উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭১৫.
বাংলা লিপিতে কতটি হ্রস্বস্বর আছে?    
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

বাংলা লিপি: 
- বাংলা লিপিতে মোট মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- এই বর্ণগুলো সাধারণত বাম থেকে ডানে লেখা হয়। 

- বাংলা লিপি মূলত ব্রাহ্মী লিপি থেকে উদ্ভূত।
- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- এবং তা পশ্চিমী ভারতীয় শাখার মাধ্যমে দশম শতকের দিকে কুটিল লিপি নামে পরিচিতি পায়।
- বাংলা লিপি হলো সেই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- এছাড়া অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি ইত্যাদি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
- অতীতকালে সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষাও এই লিপিতে লিখিত হতো।

- স্বরের উচ্চারণ কাল অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনিকে হ্রস্ব ও দীর্ঘ স্বর হিসেবে ভাগ করা হয়।
- বাংলা লিপিতে ২টি দীর্ঘস্বর আছে: ঈ ও ঊ।
- বাংলা বর্ণমালায় (লিপিতে) মৌলিক হ্রস্বস্বর বা হ্রস্ব স্বরবর্ণের সংখ্যা ৪টি।
- এগুলো হলো— অ, ই, উ, এবং ঋ

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।

১০,৭১৬.
সদৃশ অর্থে 'উপ' উপসর্গটি যুক্ত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. উপসাগর
  2. উপবন
  3. উপনেতা
  4. উপকূল
সঠিক উত্তর:
উপবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপবন
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ। 
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।  
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।

উল্লেখ্য,
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,৭১৭.
‘নিলামকারী’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) তুর্কি
  3. গ) পোর্তুগিজ
  4. ঘ) ফরাসি
সঠিক উত্তর:
গ) পোর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পোর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• নিলামকারী
- পোর্তুগিজ শব্দ
- প্রকৃত প্রত্যয় = [ নিলাম+স. কারী]
অর্থ: নিলাম করে এমন; যে নিলাম করে; নিলামে ক্রয় বা বিক্রয়ের জন্য দর হাঁকা: নিলামে বিক্রয় করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৭১৮.
‘সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অর্ভ্যথনা’ -কে এক কথায় বলে -
  1. ক) আবাহন
  2. খ) স্বাগতম
  3. গ) প্রত্যুদ্গমন
  4. ঘ) সম্ভাষণ
সঠিক উত্তর:
গ) প্রত্যুদ্গমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রত্যুদ্গমন
ব্যাখ্যা
• ’সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা’ এক কথায় বলে - প্রত্যুদগমন।

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ হলো:
- 'লাভ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- লিপ্সা,
- 'প্রবেশ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বিবিক্ষা,
- 'বলার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবক্ষা,
- 'বমন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবমিষা
- 'বাস করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবৎসা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা,ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭১৯.
নিম্নের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) পানি
  2. খ) পান্তা
  3. গ) পাউরুটি
  4. ঘ) পাল্‌কি
সঠিক উত্তর:
ক) পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পানি
ব্যাখ্যা
পানি (পানি) 
- সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ। 
- বিশেষ্য শব্দ 
অর্থ - জল, বারি 

অন্যদিকে, পান্তা = দেশি শব্দ 
                পাউরুটি = পর্তুগিজ শব্দ 
                পাল্‌কি = হিন্দি শব্দ 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১০,৭২০.
'চির কাল ব্যাপিয়া স্থায়ী' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস 
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন ।

• ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন : চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী। এরকম : গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবােনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানাে (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

ব্যাসবাক্য - সমস্তপদ:
- চির কাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী। 
- চির কাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = চিরস্থায়ী।  
- চির কাল ব্যাপিয়া স্মরণীয় = চিরস্মরণীয়। 
- চির কাল ব্যাপিয়া শত্রু = চিরশত্রু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০,৭২১.
‘জ্ঞানবৃক্ষ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  2. সপ্তমী তৎপুরুষ
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. অলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- শোক রূপ অনল = শোকানল;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭২২.
পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হওয়ার উৎসব-
  1. রজতজয়ন্তী
  2. সুবর্ণজয়ন্তী
  3. হীরকজয়ন্তী
  4. সার্ধশতবর্ষ
সঠিক উত্তর:
সুবর্ণজয়ন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবর্ণজয়ন্তী
ব্যাখ্যা

- ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত উৎসব'- সুবর্ণজয়ন্তী,

অন্যদিকে,
• 'ষাট বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত উৎসব' এর এক কথায় - হীরকজয়ন্তী।
- ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত উৎসব'- রজতজয়ন্তী,
- ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত উৎসব'- প্লাটিনামজয়ন্তী।
আবার,
১০০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : শতবর্ষ (Centenary jubilee),
১৫০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : সার্ধশত (Sesquicentennial),
২০০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : দ্বিশতবর্ষ (Bicentenary/ bicentennial)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিউজ, জাতীয় শিক্ষক বাতায়ন।

১০,৭২৩.
কাজটি চলছে এখনও শেষ হয়নি, - এমন বোঝাতে কোন বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা
বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।

বর্তমান কাল চার প্রকার,
- সাধারণ বর্তমান,
- ঘটমান বর্তমান,
- পুরাঘটিত বর্তমান এবং
- অনুজ্ঞা বর্তমান।

ঘটমান বর্তমান: যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন,
- আমি স্কুলে যাচ্ছি
- আমাদের পরীক্ষা চলছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১০,৭২৪.
বাংলা ভাষায় কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে জিহ্বা নিম্ন অবস্থানে থাকে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ‘আ' স্বরধ্বনিটি উচ্চারণকালে জিহ্বা নিম্ন অবস্থানে থাকে। 
 
• স্বরধ্বনির উচ্চারণ বিধি:
- উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।
 
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। 
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।
 
আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।
 
বিশেষ তথ্য:
- ই এবং ঈ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা এগিয়ে আসে এবং উচ্চে অগ্রতালুর কঠিনাংশের কাছাকাছি পৌছে।
- ই, ঈ এ (অ) ধ্বনির উচ্চারণে জিহবা এগিয়ে সম্মুখভাগে দাঁতের দিকে আসে বলে এগুলোকে বলা হয় সম্মুখ ধ্বনি।
 
- উ এবং ঊ-ধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বা পিছিয়ে আসে এবং পশ্চাৎ তালুর কোমল অংশের কাছাকাছি ওঠে।
- উ, ঊ ও অ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহবা পিছিয়ে আসে বলে এগুলোকে পশ্চাৎ স্বরধ্বনি বলা হয়।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭২৫.
নিচের কোনটির বিরতিকাল ১ বলার দ্বিগুণ সময়?
  1. কোলন
  2. সেমিকোলন
  3. কমা
  4. ড্যাস
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
• কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
• সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
• প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
• বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
• কোলন - এক সেকেন্ড।
• ড্যাস - এক সেকেন্ড।
• কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
• হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
• ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
• একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
• যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
• ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
•  ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭২৬.
পৌ + অক = ?
  1. ক) পবক
  2. খ) পৌবক
  3. গ) পাবক
  4. ঘ) পাবন
সঠিক উত্তর:
গ) পাবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাবক
ব্যাখ্যা
• 'পৌ + অক' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো- পাবক 
» এ, ঐ, ও, ঔ- কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অব্‌ এবং আব্‌ হয়।

যেমন- 
• নে + অন= নয়ন
• শে + অন= শয়ন
• পৌ + অক= পাবক
• ভৌ + অক= ভাবুক

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৭২৭.
কোন বানানটি সঠিক?
  1. স্বায়ত্তশাসন
  2. স্বায়ত্ত্বশাসন
  3. সায়ত্ত্বশাসন
  4. সায়ত্তশাসন
সঠিক উত্তর:
স্বায়ত্তশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বায়ত্তশাসন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান, 'স্বায়ত্তশাসন'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: স্বায়ত্ত + শাসন।
অর্থ: স্বশাসিত রাষ্ট্র।

উৎস: প্রমিত বাংলা বানান রীতি ও আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১০,৭২৮.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. দোনলা
  2. একোন
  3. দ্বীপ
  4. চৌচালা
সঠিক উত্তর:
একোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একোন
ব্যাখ্যা

• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা:
- এক দ্বারা উন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়। এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়। যথা-  দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি; চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা; তিন পায়া যার = তেপায়া; দুই নল যার = দোনলা; দুই দিকে অপ্‌ যার = দ্বীপ। 

 এরকম: দশহাতি, একগুঁয়ে, দ্বিচক্র, একতারা, দশানন, দ্বিমাত্রিক, দ্বীপ, একরোখা, দুমুখো, পঞ্চানন, চতুর্ভুজ, পাঁচহাতি, চতুষ্কোণ, দোতলা, চতুষ্পদী, সেতার, দোপেয়ে, চারপেয়ে, চৌপায়া, তেতলা, ত্রিলোচন, ত্রিশূল, সাতনরি, শতমূলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০,৭২৯.
'পড়া শেষে খেলতে যাবো' এই বাক্যে কোন লক্ষণ প্রকাশিত হয়েছে?
  1. ক) স্পৃহা
  2. খ) আসক্তি
  3. গ) অভ্যাস
  4. ঘ) অভিপ্রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিপ্রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিপ্রায়
ব্যাখ্যা

অভিপ্রায় বলতে মূলত ইচ্ছা  বা আকাঙ্ক্ষা কে বোঝায়। 'পড়া শেষে খেলতে যাবো' - বাক্যটি দ্বারা অভিপ্রায় লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। 
যদি এমন বলা হতো, 'আমরা প্রতিদিন পড়া শেষে খেলতে যাই' - তাহলে অভ্যাস প্রকাশ পেত।
আবার যদি এমন বলা হতো, 'আমাদের পড়া শেষে খেলতেই হয়' - তখন আসক্তি প্রকাশ পেত।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

১০,৭৩০.
'পরিশ্রমীরা উন্নতি করে' - বাক্যে 'পরিশ্রমীরা' কোন পদ?
  1. গুণবাচক বিশেষ্য
  2. রূপবাচক বিশেষণ
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. গুণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- সততা একটি মহৎ গুণ। বিশেষণ করিম সৎ তাই সে মহৎ।
- তাহলে উভয়ের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়?
- উভয়ের দুটি উদাহরণ লক্ষ করা যাক- প্রথম বাক্যে সততা হলো সৎ ব্যক্তির গুণ অর্থাৎ যাদের মধ্যে সৎ গুণ রয়েছে তারাই 'সততা'র অন্তর্ভুক্ত।
- তাহলে সততা' একটি বিশেষ গুণের নামকেই প্রকাশ করছে, সুতরাং 'সততা' শব্দটি গুণবাচক বিশেষ্য হবে।
- অপর পক্ষে দ্বিতীয় বাক্যটিতে 'করিম' সম্পর্কে গুণ প্রকাশ করা সম্পর্কে যদি গুণ প্রকাশ করা হয় তবে তা হবে বিশেষণ।

একইভাবে,
• সাহসী হওয়া ভাল - 'সাহসী' বিশেষণ।
• তার সাহস আছে - 'সাহস' গুণবাচক বিশেষ্য।
• পরিশ্রমীরা উন্নতি করে - 'পরিশ্রমীরা' গুণবাচক বিশেষ্য।
• সে পরিশ্রমী - 'পরিশ্রমী' বিশেষণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭৩১.
'গহন' শব্দের অর্থ কী?
  1. পদ্ম
  2. বৃক্ষ
  3. বন
  4. নদী
সঠিক উত্তর:
বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন
ব্যাখ্যা

• 'বন' শব্দের অর্থ - অরণ্য, জঙ্গল, কানন, কুঞ্জ, গহন, বিপিন।

অন্যদিকে,
'পদ্ম' শব্দের অর্থ - কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়।
'বৃক্ষ' শব্দের অর্থ - গাছ, পাদপ, দ্রুম, বনানী, তরু, শাখী, পণী।
'নদী' শব্দের অর্থ - স্রোতস্বিনী, তটিনী, তরঙ্গিণী, প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৭৩২.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. মার
  2. মরমর
  3. মিঠাই
  4. খাওন
সঠিক উত্তর:
মিঠাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিঠাই
ব্যাখ্যা

• বাংলা ”আই-তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ :
- ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে: বড়+আই = বড়াই, চড়া +আই = চড়াই।
- আদরার্থে: কানু+আই-কানাই, নিম+আই = নিমাই।
- স্ত্রী বা পুরুষবাচক শব্দের বিপরীত বোঝাতে বোন+আই = বোনাই, ননদ-নন্দাই, জেঠা-জেঠাই (মা)।
- সমগুণবাচক বিশেষ্য গঠনে মিঠা+আই = মিঠাই।
- জাত অর্থে: ঢাকা+আই = ঢাকাই (জামদানি),।

অন্যদিকে,
• কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
√মার+অ = মার।
√মর্+অ = মরমর।
√খা+অন = খাওন,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,৭৩৩.
'মহিরুহ' শব্দের অর্থ কী?
  1. পৃথিবী
  2. সমুদ্র
  3. মেঘ
  4. বৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'মহিরুহ' শব্দের অর্থ- বৃক্ষ।

'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
গাছ, পাদপ, দ্রুম, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহিরুহ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৭৩৪.
অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. সত্য > সত্যি
  2. আজি > আইজ
  3. ধাইমা > দাইমা
  4. আলাহিদা > আলাদা
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি পরিবর্তন:
উচ্চারণের সময় সহজীকরণের প্রবণতায় শব্দের মূল ধ্বনির যেসব পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয় ধ্বনি পরিবর্তন।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি । অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে ।
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৩৫.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
  2. শুধু টাকার জোরে সব কিছু হয় না।
  3. আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
  4. দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
সঠিক উত্তর:
দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
• শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।

শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো-
• আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
• শুধু টাকার জোরে সব কিছু হয় না।
• এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭৩৬.
কোনটি সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ নয়?
  1. নদী + অম্বু = নদ্যম্বু
  2. প্রতি + উষ = প্রত্যূষ
  3. অতি + উক্তি = অত্যুক্তি
  4. অতি + অন্ত = অত্যন্ত
সঠিক উত্তর:
প্রতি + উষ = প্রত্যূষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + উষ = প্রত্যূষ
ব্যাখ্যা
• সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ নয় - প্রতি + উষ = প্রত্যূষ
- এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।

সন্ধির নিয়ম:

- ই/ঈ-এর পর ভিন্ন ধ্বনির সন্ধি।

যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত
- ইতি + আদি = ইত্যাদি, 
- অতি + উক্তি = অত্যুক্তি
- প্রতি + এক = প্রত্যেক,
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু,
- মসী + আধার = মস্যাধার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১০,৭৩৭.
'দুঃশাসন' শব্দের শুদ্ধ ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. দুঃ শাসন সে
  2. দুঃ শাসন যার
  3. দুঃ যে শাসন
  4. যা দুঃ শাসন
সঠিক উত্তর:
দুঃ যে শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ যে শাসন
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
(বিশেষণ+ বিশেষ্য)
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭৩৮.
'খয়ের খাঁ' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. নিতান্ত অলস
  2. চাটুকার
  3. বেহায়া
  4. দুর্বল
সঠিক উত্তর:
চাটুকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাটুকার
ব্যাখ্যা

• 'খয়ের খাঁ' বাগ্‌ধারার অর্থ - চাটুকার।

​অন্যদিকে, 
​• 'গোঁফ খেজুরে' অর্থ - নিতান্ত অলস।
• 'ঠোঁটকাটা' অর্থ - বেহায়া।
​• 'উনপাঁজুরে' অর্থ - দুর্বল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০,৭৩৯.
'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।'- বাক্যে 'সাধনায়' কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. করণকারক
  3. অপদান কারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
করণকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণকারক
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- 'অহংকার পতনের মূল।'(সহায়ক- অহংকার)। 
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)। 
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।'
[ এখানে ক্রিয়া সম্পাদনের উপায় সাধনা। সুতরাং সাধনায় করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।]

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়। তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে।
- করণ কারকে 'দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ)- তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে 'দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ)- তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি- রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ- বিভক্তি গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে- বিভক্তি তার কথা যেন মধুতে মাখা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১০,৭৪০.
‘নবতিতম’ কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1.  তারিখ পূরণবাচক
  2. ভগ্নাংশ পুরণবাচক
  3. সাধারণ পূরণবাচক
  4. ক্রমবাচক
সঠিক উত্তর:
সাধারণ পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
- যেমন: 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান প্রথম, প্রথমা, পহেলা ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের। যথা:

• সাধারণ পূরণবাচক শব্দ:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি।
- এগুলো আবার সংক্ষিপ্তরূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।

• ১১-১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত দুই রকম।
যেমন: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম।
এভাবে- ষোড়শ (১৬শ) ও ষোলোতম, সপ্তদশ (১৭শ) সতেরোতম-অষ্টাদশ পর্যন্ত।

• ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত  পূরণবাচকে শুধু  ‘তম’ প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম, বিংশতম, অশীতিতম, নবতিতম ইত্যাদি।

• বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন- প্রথমা, দ্বিতীয়া, অষ্টমী, নবমী, দশমী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী, ষোড়শী ইত্যাদি।

------------------------
• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই) ইত্যাদি। 

- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

-------------------------
• ভগ্নাংশ পুরণবাচক শব্দ:
কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। 
যেমন: আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১০,৭৪১.
অভাব অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. প্রতিকূল
  2. যথাসাধ্য
  3. নিরামিষ
  4. উচ্ছৃঙ্খল
সঠিক উত্তর:
নিরামিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরামিষ
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:

• অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে:
- বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

• অভাব (নিঃ = নির) অর্থে:
- আমিষের অভাব = নিরামিষ,
- ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা,
- জলের অভাব- = নির্জল, 
- উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ।

• অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য

• সাদৃশ্য অর্থে:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

• পশ্চাৎ অর্থে:
- পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন।

• বিরোধ (প্রতি) অর্থে:
- বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ,
- বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।

১০,৭৪২.
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, দে, পা, খা, হ, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে কোন নতুন ধাতু গঠিত হয়?
  1. সংযোগমূলক ধাতু
  2. নাম ধাতু
  3. প্রযোজক ধাতু
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সংযোগমূলক ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোগমূলক ধাতু
ব্যাখ্যা
• সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, দে, পা, খা, হ, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তা-ই সংযোগমূলক ধাতু।
যেমন:
- যোগ (বিশেষ্য পদ) + কর্ (ধাতু) = ‘যোগ কর’ (সংযোগমূলক ধাতু)।

এরূপ-
• ভয় কর্‌, লজ্জা কর্‌, জলদি কর্‌।
• বড় হ, ছোট হ, ভালো হ।
• উত্তর দে, টাকা দে।
• সাঁতার কাট্‌, জিভ কাট্‌ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৭৪৩.
'শান্তশিষ্ট' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন-
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি,
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৭৪৪.
"অ + ও = ঔ" - এই নিয়মে গঠিত সন্ধি কোনটি? 
  1. বন + ওষধি = বনৌষধি
  2. পরম + ঔষধ = পরমৌষধ
  3. কণ্ঠ + ওষধি = কণ্ঠৌষধি
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়।
ঔ-কার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়।

অ + ও = ঔ:
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- কণ্ঠ + ওষধি = কণ্ঠৌষধি

অ + ঔ= ঔ:
- পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
- চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ, এসএইচসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৪৫.
'গায়ক' শব্দের প্রকৃতি কোনটি?
  1. গৈ + ণক
  2. গৈ
  3. গৈ + অক
  4. ণক
সঠিক উত্তর:
গৈ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৈ
ব্যাখ্যা

• 'গায়ক' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো √গৈ + অক/ণক। এখানে মূল প্রকৃতি হলো 'গৈ' (ধাতু) এবং এর সাথে 'অক' (ণিচ/কৃৎ) প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গায়ক শব্দটি গঠিত হয়েছে।

-----------------
• সংস্কৃত 'ণক' প্রত্যয়যোগে - গায়ক শব্দটি গঠিত। 
- ‘গায়ক’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- 'গৈ + ণক/অক'। 
- এটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।

এখানে,
'গৈ' হলো- প্রকৃতি এবং 'ণক'/ অক' - প্রত্যয়।

এরূপভাবে, 
- √ পঠ্‌ + ণক = পাঠক। 
- √ নী + ণক > নৈ + অক = নায়ক। 
- √ গৈ + ণক = গায়ক। 

উল্লেখ্য,
নতুন ব্যাকরণ অনুসারে, গায়ক শব্দের প্রকৃতি- প্রত্যয় আছে- '√ গৈ + অক'। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,৭৪৬.
'চাতুর্য' এর বিশেষণ কোনটি?
  1. চতুরালি
  2. চতুরতা
  3. চাতুরতা
  4. চতুর
সঠিক উত্তর:
চতুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর
ব্যাখ্যা
• 'চাতুর্য' শব্দের বিশেষণ = 'চতুর'।

চাতুর্য (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ;
অর্থ: চতুরতা। 

চতুর (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ;
অর্থ:
- ধূর্ত, বুদ্ধিমান, নিপুন।
- ঠগ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১০,৭৪৭.
'নিন্দা' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ -
  1. ইতরামি
  2. কুঁজো
  3. চোরা
  4. জেঠামি
সঠিক উত্তর:
জেঠামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেঠামি
ব্যাখ্যা
• 'নিন্দা' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ - জেঠা - জেঠামি

অন্যদিকে,
• 'ভাব' অর্থে = ইতর - ইতরামি।
• বিশেষণ গঠনে = কুঁজ - কুঁজো।
• 'অবজ্ঞা' অর্থে = চোর - চোরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১০,৭৪৮.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. তদ্ভব শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়।
  2. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
  3. সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদে ‘ষ’ যুক্ত হয় না।
  4. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়।
ব্যাখ্যা
⇒ ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন: ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন: ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন: অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন: অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৭৪৯.
"তিনি বিলেতে ইঞ্জিনিয়ারিং শিখতে গেলেন।"- এখানে 'বিলেতে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

• বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- তিলে তৈল আছে। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।)
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন। (অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।)
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি)
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে। (অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।)

এরূপ-
• তিনি বিলেতে ইঞ্জিনিয়ারিং শিখতে গেলেন।
[বাক্যেকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় 'বিলেতে'। সুতরাং 'বিলেতে' অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৫০.
ব্যাকরণের মূল ভিত্তি কী?
  1. ভাব
  2. ভাষা
  3. ধ্বনি
  4. বাক্য
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণের মূল ভিত্তি হলো ভাষা। ব্যাকরণ হচ্ছে ভাষার নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলার বিজ্ঞান।

কারণসমূহ:
- ব্যাকরণ ভাষার গঠন, প্রকৃতি ও ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করে।
- ভাষাকে শুদ্ধভাবে লিখতে, পড়তে ও বলতে ব্যাকরণের সাহায্য নেওয়া হয়।
- ব্যাকরণ ভাষার বিভিন্ন উপাদান (ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি) নিয়ে আলোচনা করে।
- ভাষা ছাড়া ব্যাকরণের কোনো অস্তিত্ব নেই।

ব্যাকরণের সংজ্ঞা:
যে শাস্ত্রে কোনো ভাষার বিভিন্ন উপাদানের গঠনপ্রকৃতি ও ব্যবহারবিধি সুনির্দিষ্ট নিয়মের দ্বারা আলোচিত হয়, তাকে ব্যাকরণ বলে।

অন্য অপশনগুলো (ভাব, ধ্বনি, বাক্য) ব্যাকরণের বিভিন্ন অংশ বা উপাদান হলেও মূল ভিত্তি নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১০,৭৫১.
'ঋজু' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. নিষ্প্রভ
  2. সৌম্য
  3. ঔদ্ধত্য
  4. বক্র
সঠিক উত্তর:
বক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্র
ব্যাখ্যা
• 'ঋজু’ শব্দের বিপরীত শব্দ - বক্র।

উল্লেখ্য,
- 'বক্র' শব্দের অর্থ - 'বাঁকা'।

অন্য অপশনগুলোর অর্থ:
• নিষ্প্রভ: ম্লান, দীপ্তিহীন।
• সৌম্য: মৃদু, শান্ত।
• ঔদ্ধত্য: অহংকারপূর্ণ আচরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৭৫২.
শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রত্ + ঊষ = প্রত্যুষ
  2. উৎ+ চ্ছাস = উচ্ছ্বাস
  3. দুরঃ + যােগ = দুর্যোগ
  4. আদি + অন্ত = আদ্যন্ত
সঠিক উত্তর:
আদি + অন্ত = আদ্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদি + অন্ত = আদ্যন্ত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ: আদি + অন্ত = আদ্যন্ত।

-------------
সন্ধি:
পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।

• নিয়ম: ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় য হয়।
যেমন: 
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

• নিয়ম: ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ- এর স্থলে চ এবং শ- এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। যেমন:
- উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস।

• নিয়ম: অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন-
দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
নিঃ + আকার = নিরাকার।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
১০,৭৫৩.
নিচের কোনটি ব্যাতিক্রম?
  1. ক) পরভৃত, পিক
  2. খ) শশধর, হিমাংশু
  3. গ) মার্তন্ড, দ্যুলোক
  4. ঘ) তনয়, সুত
সঠিক উত্তর:
গ) মার্তন্ড, দ্যুলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মার্তন্ড, দ্যুলোক
ব্যাখ্যা
পরভৃত, পিক হলো কোকিলের সমার্থক শব্দ। শশধর, হিমাংশু হলো চাঁদের সমার্থক শব্দ। মার্তন্ড হলো সূর্যের সমার্থক শব্দ এবং দ্যুলোক হলো স্বর্গের সমার্থক শব্দ। তনয়,সুত হলো ছেলের সমার্থক শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৭৫৪.
ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পেয়ে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস কোনটি?
  1. ক) অনুগমন
  2. খ) গজানন
  3. গ) প্রতিমুখ
  4. ঘ) আরক্তিম
সঠিক উত্তর:
খ) গজানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গজানন
ব্যাখ্যা
⇒ মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী। এখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদটি লুপ্ত হয়ে বহুব্রীহি সমাস সৃষ্টি হয়েছে।

কিছু উদাহরণ হলো:
- একদিকে চোখ যার = একচোখা,
- গজের মতো আনন = গজানন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অনুগমন, প্রতিমুখ ও আরক্তিম অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭৫৫.
ব্যাপ্তি অর্থে অনুকার শব্দের প্রয়োগ কোনটি?
  1. ক) রাশি রাশি
  2. খ) শীত শীত
  3. গ) ঘরে ঘরে
  4. ঘ) বছর বছর
সঠিক উত্তর:
গ) ঘরে ঘরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঘরে ঘরে
ব্যাখ্যা
ব্যাপ্তি অর্থে অনুকার শব্দের প্রয়োগ - ঘরে ঘরে।

• বিভিন্ন অর্থে শব্দদ্বিত্ব বা অনুকার শব্দের প্রয়োগ : 

আধিক্য অর্থে: পাকা পাকা ,রাশি রাশি, লাল লাল
সামান্য বা ঈষৎ অর্থে : কবি কবি, হাসি হাসি, শীত শীত 

পরপর অর্থে : বারবার, দিন দিন , বছর বছর
ব্যাপ্তি অর্থে : ঘরে ঘরে ,দিকে দিকে , পথে পথে।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০,৭৫৬.
স্থায়ী সত্য বা চিরসত্য প্রকাশে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দুই আর তিন পাঁচ হয়।
  2. খ) কাশীরাম দাস ভণে শুনে পুণ্যবান।
  3. গ) ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
  4. ঘ) কে জানে আজ ফেরি পার হতে পারব কিনা।
সঠিক উত্তর:
ক) দুই আর তিন পাঁচ হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই আর তিন পাঁচ হয়।
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
স্বাভাবিক বা অভ্যাস বােঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
সকালে সূর্য ওঠে।-স্বাভাবিকতা, আমি রােজ সকালে চা খাই।- অভ্যাস।
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ:
১. ঐতিহাসিক বর্তমান কাল: অতীতের কোনাে ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় যদি নিত্য বর্তমান কালের প্রয়ােগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে। যেমন: ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
২. স্থায়ী সত্য বা চিরসত্য প্রকাশে: দুই আর তিন পাঁচ হয়।
৩, অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে আজ ফেরি পার হতে পারব কিনা।
৪. কাব্যের ভণিতায়: “মহাভারতের কথা অমৃত সমান। | কাশীরাম দাস ভণে শুনে পুণ্যবান।'
৫. যদি, যখন, যেন প্রভৃতি শব্দের প্রয়ােগে: অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল জ্ঞাপনের জন্য সাধারণ বর্তমান কালের ব্যবহার হয়।
যেমন- বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৫৭.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. মুখস্ত
  2. ইতোমধ্যে
  3. দুরবস্থা
  4. ঊর্ধ্ব
সঠিক উত্তর:
মুখস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখস্ত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - মুখস্ত। 

• শুদ্ধ বানান- মুখস্থ (বিশেষণ পদ),
- একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- স্মৃতিতে ধারণ করা হয়েছে এমন,
- স্মৃতিগত। 

• ইতোমধ্যে, দুরবস্থা ও ঊর্ধ্ব বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১০,৭৫৮.
'সংশয়' শব্দের বিপরীত শব্দ -
  1. নিশ্চয়
  2. দ্বিধা
  3. পূরণ
  4. অপচয়
সঠিক উত্তর:
নিশ্চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিশ্চয়
ব্যাখ্যা
• 'সংশয়' শব্দের বিপরীত শব্দ - নিশ্চয়

উল্লেখ্য,
'সংশয়' শব্দের অর্থ - সন্দেহ, দ্বিধা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তাবোধ।
'নিশ্চয়' শব্দের অর্থ - সন্দেহাতীত জ্ঞান, স্থির ধারণা, সিদ্ধান্ত, মীমাংসা।

অন্যদিকে,
সঞ্চয় - অপচয়।
হরণ - পূরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৭৫৯.
মানুষ ভাবে এক হয় আর এক- বাক্যে ‘মানুষ’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তৃকারকে শূন্য
  2. খ) কর্মে ৭মী
  3. গ) অপাদানে ১মা
  4. ঘ) অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃকারকে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃকারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
মানুষ ভাবে এক হয় আর এক- বাক্যটি কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।

• বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে 'কে/ কারা' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ-
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি
- পাছে লোকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
- ঘোড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৬০.
'নেই আঁকড়া' কি অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ক) একগুয়ে
  2. খ) কুটিল
  3. গ) সামান্য
  4. ঘ) দলপতি
সঠিক উত্তর:
ক) একগুয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) একগুয়ে
ব্যাখ্যা
নেই আঁকড়া বাগধারাটির অর্থ 'একগুঁয়ে'।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা রয়েছেঃ
তালকানা - বাতাল অবস্থা
ফপর দালালি - অতিরিক্ত চালবাজ
ননীর পুতুতল - শ্রমবিমুখ
একাদশে বৃহস্পতি - সৌভাগ্যের বিষয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।
১০,৭৬১.
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ হলো-
  1. ক) সংযোজক অব্যয়
  2. খ) বিয়োজক অব্যয়
  3. গ) সংকোচক অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) সংকোচক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংকোচক অব্যয়
ব্যাখ্যা

- সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
- সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথাঃ সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক।

- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৭৬২.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. তুমি নির্দোষী নও।
  2. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  3. একটা গোপন কথা বলি।
  4. মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসিনী।
সঠিক উত্তর:
মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসিনী।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসিনী।
ব্যাখ্যা




শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসিনী।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষী নও।
শুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষ নও।

অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা। 

অশুদ্ধ বাক্য: একটা গোপন কথা বলি।
শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০,৭৬৩.
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।- এ বাক্যে ‘ভালোভোবে’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরণবাচক
  2. খ) কালবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) নেতিবাচক
সঠিক উত্তর:
ক) ধরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধরণবাচক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,৭৬৪.
বাংলার প্রাচীনতম শিলালিপি ‘ব্রাহ্মী লিপি‘ কোথায় পাওয়া গেছে?
  1. উয়ারী বটেশ্বর
  2. পাহাড়পুর
  3. মহাস্থানগড়
  4. বীরভূম
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
বাংলা লিপির সৃষ্টি:
- এই উপমহাদেশে আর্য ভাষার প্রাচীনতম যে বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায় তা খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের, অশোকের অনুশাসনের সময়ের।
- বগুড়ার মহাস্থানগড়ে যে লিপি পাওয়া গেছে উভয় প্রাপ্ত লিপির সাদৃশ্য আছে। এই লিপিকে ব্রাহ্মী লিপি বলে।
- ব্রাহ্মী লিপি কুষাণ ও গুপ্ত রাজাদের আমলে পরিবর্তিত হয়ে তিনটি রূপ ধারণ করে। যথা:
১. সারদা (কাশ্মির ও পাঞ্জাবে প্রচলিত রূপ),
২. নাগর (রাজস্থান ও মালব; গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে প্রচলিত রূপ) ও
৩. কুটিল (ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রচলিত রূপ)।
- বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপির এই কুটিল রূপ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৬৫.
কোন দুটি দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. র, ল
  2. থ, দ
  3. স, ত
  4. ড, ঢ
সঠিক উত্তর:
র, ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
র, ল
ব্যাখ্যা
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।

যেমন:
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্ত্য ব্যঞ্জন - ত, থ, দ, ধ।
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন - ড, ঢ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১০,৭৬৬.
'তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।'- কোন ধরনের অতীত কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. পুরাঘটিত অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:

• সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন:
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

• ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

• পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

• নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১০,৭৬৭.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. এটা লজ্জাকর ব্যাপার।
  2. নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
  3. সূর্য উদিত হয়েছে।
  4. দশচক্রে ভগবান ভূত।
সঠিক উত্তর:
নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
• শুদ্ধ : নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।

• বিশ্লেষণ: "নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।" — এখানে "নতুন নতুন" শব্দ দুটি একসঙ্গে বসে অতিরিক্ত পুনরুক্তি বা বহুলতার অপপ্রয়োগ তৈরি করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭৬৮.
সমাসের প্রতীতি বা জ্ঞান বা উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) পরপদ
  2. খ) উত্তরপদ
  3. গ) পূর্বপদ
  4. ঘ) অন্যপদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অন্যপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অন্যপদ
ব্যাখ্যা

সমাসের প্রতীতি বা জ্ঞান বা উপাদান ৫ টি। 
যথা : 
১. সমস্তপদ/সমাসবদ্ধপদ/সমাসনিষ্পন্ন পদ 
২. ব্যাসবাক্য/বিগ্রহ বাক্য/সমাস বাক্য 
৩. পূর্বপদ 
৪. পরপদ/উত্তরপদ 
৫. সমস্যমান পদ।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১০,৭৬৯.
'আশীবিষ' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১০,৭৭০.
'শান্তশিষ্ট' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন-
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি,
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৭৭১.
'রাখিয়া > রাইখ্যা' এটি কিসের উদাহরণ?
  1. ক) স্বরসঙ্গতি
  2. খ) অপিনিহিতি
  3. গ) অপশ্রুতি
  4. ঘ) অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
খ) অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি:
শব্দের মধ্যস্থিত বা অন্তস্থিত ই-কার বা উ-কার ধ্বনি থাকলে এটিকে আগে থেকেই উচ্চারণ করার নীতিকে অপিনিহিতি বলে। যেমন-

• ই-কারের অপিনিহিতি: যেমন- রাখিয়া > রাইখ্যা, জালিয়া > জাইল্যা, রাতি > রাইত, কালি > কাইল, আজি > আইজ, সত্য >সইত্য, চারি > চাইর ইত্যাদি। এখানে খ-এর পরে অবস্থিত ই-কার খ-এর আগেই উচ্চারিত হয়েছে। অনুরূপ অন্যান্য।

• উ-কারের অপিনিহিতি: সাধারণত উ-কার ই-কারে পরিবর্তিত হয়। যেমন- সাধু > লাউধ, মাছুয়া > মাউছ্যা, গাছুয়া > গাউছ্যা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০,৭৭২.
‘জন্মান্ধ’ কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. দ্বিগু
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হইতে, থেকে, চেয়ে) লোপ পেয়ে যে সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন-
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত
তেমনিভাবে,
- জন্ম থেকে অন্ধ = জন্মান্ধ

উৎস : মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)

১০,৭৭৩.
'বসুমতী' শব্দটির সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. হস্তী
  2. চাঁদ
  3. মেদিনী
  4. পর্বত
সঠিক উত্তর:
মেদিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেদিনী
ব্যাখ্যা
• 'বসুমতী' শব্দের অর্থ- পৃথিবী।
- এর  সমার্থক শব্দ : মেদিনী। 

• 'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জগৎ, ভুবন, সংসার, বিশ্ব, ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুমতী, বসুন্ধরা, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভূ, ভূমণ্ডল, মর্ত্য, বসুধা, অবনী, মহী, মেদিনী, ক্ষিতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৭৭৪.
'ব্যাঙ্গমা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ব্যাঙ্গম
  2. বেঙামি
  3. বেঙ্গমানী
  4. ব্যাঙ্গমি
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙ্গমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙ্গমি
ব্যাখ্যা
• 'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ হলো - 
- ভাগনে-ভাগনী,
- ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমি ইত্যাদি।

• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।

• ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী - মায়াবিনী,
- কুহক - কুহকিনী,
- যোগী - যোগিনী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৭৭৫.
সঠিক বিপরীত শব্দজোড় নয়-
  1. ক) ধর্ম – অধর্ম
  2. খ) কুটিল – সরল
  3. গ) নিরবয়ব – সাবয়ব
  4. ঘ) ঐচ্ছিক – অনাবশ্যিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঐচ্ছিক – অনাবশ্যিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঐচ্ছিক – অনাবশ্যিক
ব্যাখ্যা
ঐচ্ছিক/অনাবশ্যিক - আবশ্যিক
- কুটিল - সরল
- ধর্ম - অধর্ম
- নিরবয়ব – সাবয়ব।
(সূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : ড. হায়াৎ মামুদ)
১০,৭৭৬.
'ক্ষুন্নিবৃত্তি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি
  2. ক্ষুদ্‌ + নিবৃত্তি
  3. ক্ষুন্‌ + নিবৃত্তি
  4. ক্ষুৎ + নিবৃত্তি
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ বা দ্‌ এবং ন্ ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ/ দ্‌-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্‌ সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।
যেমন:
উৎ + নীত = উন্নীত,
ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র,
উৎ + লাস = উল্লাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০,৭৭৭.
বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত গ্রন্থের রচয়িতা কে
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ,
- ভাষা ও সাহিত্য
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- বাংলা সাহিত্যের কথা
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৭৮.
কোন শব্দটির বানান শুদ্ধ?
  1. ক) ত্রিভূজ
  2. খ) পুর্ণ
  3. গ) ভূবন
  4. ঘ) শূন্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শূন্য
ব্যাখ্যা
'শূন্য' শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √শ্বন+য
অর্থ:
- অবিদ্যমানতাসূচক চিহ্ন
- পরিমাণ বা আয়তনের অভাব
- অভাব
- অবিদ্য-মানতা

অন্যান্য অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ:
ত্রিভূজ - ত্রিভুজ
পুর্ণ - পূর্ণ
ভূবন - ভুবন

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১০,৭৭৯.
'পাঞ্জাবি' অর্থ অনুসারে কোন ধরনের শব্দ?
  1. মিশ্র শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দের অর্থ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হলেও মূল অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।

ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ করে যে শব্দের অর্থ বোঝা যায় না তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন- হস্তী শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: হস্ত + ইন (যার হাত আছে) কিন্তু শব্দটি হাতি নামক একটি বিশেষ প্রাণীকে বোঝাচ্ছে। 

এমনিভাবে, 
• কুশ + অল- (কুশ আহরণকরে যে) কুশল কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ নিপুণ বা ভালো। 
• বাঁশ + ই- বাঁশি (বাঁশ দিয়ে তৈরি সব বস্তুকে না বুঝিয়ে একটি বিশেষ বাদ্যযন্ত্রকে বোঝাচ্ছে)।
• পাঞ্জাবি- বিশেষ ধরণের জামা; অথচ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ পাঞ্জাবের লোক। 
• সন্দেশ - সংবাদ না বুঝিয়ে বিশেষ ধরনের। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৮০.
"জলচর" - শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. অলুক দ্বন্দ্ব 
  3. কর্মধারয়
  4. প্রাদি
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পক্ষে জন্মে যা = পঙ্কজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১০,৭৮১.
'মৃদু' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. হ্রস্ব
  2. প্রবল
  3. প্রতীচ্য
  4. প্রফুল্ল
সঠিক উত্তর:
প্রবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবল
ব্যাখ্যা
• 'মৃদু' এর বিপরীত শব্দ: 'প্রবল'। 

অন্যদিকে,
• 'হ্রস্ব' এর বিপরীত শব্দ: 'দীর্ঘ'।
• 'প্রাচ্য' এর বিপরীত শব্দ: 'প্রতীচ্য'। 
• 'প্রফুল্ল' এর বিপরীত শব্দ: 'বিমর্ষ'। 

কয়েকটি বিপরীতার্থক শব্দ হলো:
 'গ্রাহ্য' শব্দের বিপরীত শব্দ - অগ্রাহ্য।
'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত।
'অনুমেয়' এর বিপরীত শব্দ - অননুমেয়। 
'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত। 
'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত। 
'দরদি' এর বিপরীত শব্দ - নির্দয়। 
'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ - বিনীত।
'ঔদ্ধত্য' এর বিপরীত শব্দ - বিনয়। 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
১০,৭৮২.
‘অপরাহ্ন’ শব্দটি অশুদ্ধ- 
  1. বাহুল্যজনিত কারণে 
  2. ণত্ব বিধি লঙ্ঘনের কারণে 
  3. প্রত্যয়জনিত কারণে 
  4. সন্ধিজনিত কারণে 
সঠিক উত্তর:
ণত্ব বিধি লঙ্ঘনের কারণে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণত্ব বিধি লঙ্ঘনের কারণে 
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধি লঙ্ঘন করেছে বিধায় ‘অপরাহ্ন’ শব্দটি অশুদ্ধ।
----------------------
• ণ-ত্ব বিধান:
- ণ-ত্ব বিধান বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য ‘ণ’-এর সঠিক প্রয়োগের নিয়মাবলি নির্দেশ করে।
- ণ-ত্ব বিধান বাংলা ব্যাকরণের সেই নিয়ম যা নির্দেশ করে যে কখন তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দে দন্ত্য ‘ন’ পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে।
- মূলত এটি তৎসম শব্দের জন্য প্রযোজ্য, কারণ দেশি বা তদ্ভব শব্দে ‘ণ’ ব্যবহার হয় না।
- নিয়ম অনুযায়ী, যদি ঋ, র, ষ বর্ণের পরে দন্ত্য ‘ন’ থাকে, তবে তা ‘ণ’ হয়, যেমন: ঋণ, বর্ণ, ঘৃণা।
- এছাড়া, ঋ, র, ষ এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, ব, হ বা অনুস্বার থাকে, তবুও ‘ণ’ হয়, যেমন: কৃপণ, নির্বাণ, গ্রহণ।

- প্র, পরা, পূর্ব, অপর- এইগুলার পর অহ্ন শব্দ থাকলে দন্ত্য 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন: প্রাহ্ণ, পরাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ, অপরাহ্ণ ইত্যাদি।

- ‘অপরাহ্ন'’ শব্দে — প্র, পরা, পূর্ব, অপর- এইগুলার পর অহ্ন শব্দ থাকলে দন্ত্য 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয় — নিয়ম অনুযায়ী ‘অপরাহ্ণ' হবে।
- ‘ন' ব্যবহার করায় ‘অপরাহ্ন’ শব্দটি ভুল। 
- এর শুদ্ধ রূপ হলো- অপরাহ্ণ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১০,৭৮৩.
"ছেলেটি দ্রুত দৌঁড়ায়।"- এ বাক্যে 'ছেলেটি' শব্দের 'টি' এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. বলক
  2. যোজক 
  3. প্রকৃতি
  4. পদাশ্রিত নির্দেশক 
সঠিক উত্তর:
পদাশ্রিত নির্দেশক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাশ্রিত নির্দেশক 
ব্যাখ্যা

• "ছেলেটি দ্রুত দৌঁড়ায়।" এ বাক্যে 'ছেলেটি' শব্দের 'টি' হলো- পদাশ্রিত নির্দেশক। 

• যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বােঝায়, সেগুলােকে নির্দেশক (পদাশ্রিত নির্দেশক) বলে।
যেমন - -টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু। 

-টা, -টি:
বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে টা, -টি নির্দেশক বসে।
এর দুটি রূপান্তর: -টো ও টে।
যেমন:
বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২১ সংস্করণ।

১০,৭৮৪.
'Nemesis' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. প্রতিফল
  2. অপকর্ম
  3. রাজবিদ্রোহ
  4. বিচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
প্রতিফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিফল
ব্যাখ্যা

• 'Nemesis' এর বাংলা পরিভাষা - প্রতিফল

অন্যদিকে,
Malpractice - অপকর্ম।
Mutiny - রাজবিদ্রোহ।
Omission - বিচ্যুতি/ভুল/ বাদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং অভিগম্য অভিধান।

১০,৭৮৫.
'অজ' কোন লিঙ্গের উদাহরণ?
  1. স্ত্রীলিঙ্গ
  2. ক্লীবলিঙ্গ
  3. উভয়লিঙ্গ
  4. পুংলিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পুংলিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুংলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'অজ' পুংলিঙ্গের উদাহরণ। 

• 'অজ' শব্দের অর্থ: ছাগল বা মেষ। 
- 'অজ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - অজা। 

----------------
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে-
ক) পুংলিঙ্গ,
খ) স্ত্রীলিঙ্গ,
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ।

• পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ, সুন্দর ইত্যাদি।

• স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

• ক্লীবলিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

• উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিশু, সন্তান, মানুষ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৭৮৬.
'উদক' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পর্বত
  2. পানি
  3. মেঘ
  4. হাতি
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
• 'পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জল, নীর, উদক, সলিল, পানি, অপ, প্রানদ, তোয়, জীবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০,৭৮৭.
'বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) রূপতত্ত্ব
  2. খ) ভাষাতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) ধ্বনিতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
- 'স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য' ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- ধ্বনিতত্ত্ব।
- রূপতত্ত্ব।
- বাক্যতত্ত্ব।
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
সন্ধি প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া ।

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে ।

• অর্থতত্ত্ব
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১০,৭৮৮.
সন্ধির ক্ষেত্রে কোনটি ভুল?
  1. ক) ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে
  2. খ) নতুন শব্দ গঠনে
  3. গ) শব্দের আকার ছোটো করতে
  4. ঘ) উচ্চারণ সহজ প্রবণতা
সঠিক উত্তর:
খ) নতুন শব্দ গঠনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নতুন শব্দ গঠনে
ব্যাখ্যা
সন্ধির প্রয়োজন বহুবিধ। যেমন:
১। ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সন্ধি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
২। শব্দের আকার ছোটো করতেও সন্ধির প্রয়োজন পড়ে।
৩। সন্ধির ফলে ভাষা সুন্দর ও সাবলীল হয়।
৪। উচ্চারণ সহজ করার জন্যে সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
৫। উচ্চারণের সৌকর্য ও শ্রুতিমাধুর্য বৃদ্ধি, ভাষার প্রাঞ্জলতা সৃষ্টি ও ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করতে সন্ধির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

 বাংলা শব্দের গঠন বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনভাবে বাংলা শব্দ গঠিত হতে পারে।
এগুলাে হলাে :
- উপসর্গ যােগে,
- প্রত্যয় যােগে এবং
- যৌগিকীকরণ তথা সমাসের মাধ্যমে।

• মনে রাখা প্রয়ােজন যে, সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনের প্রচলিত ধারণা যথাযথ নয়।
- সন্ধি মূলত একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা শব্দস্তরে প্রযুক্ত হয়।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ; উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং হায়াৎ মামুদের ভাষা—শিক্ষা।
১০,৭৮৯.
'বিন্দু বিসর্গ' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. সামান্য অংশ
  2. খুঁটিনাটি
  3. ক্ষণস্থায়ী
  4. একমাত্র সম্পদ
সঠিক উত্তর:
সামান্য অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য অংশ
ব্যাখ্যা
• 'বিন্দু বিসর্গ' অর্থ - সামান্য অংশ।
- বাক্য: এই ব্যাপারে আমি বিন্দু বিসর্গ জানি না।

অন্যদিকে, 
'যারো সতেরো' অর্থ - খুঁটিনাটি। 
'বালির বাঁধ' অর্থ - ক্ষণস্থায়ী। 
'সবেধন নীলমণি' অর্থ - একমাত্র সম্পদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৯০.
অন্ত্যস্বর লোপ পেয়েছে নিচের কোন উদাহরণে?
  1. অলাবু > লাবু > লাউ
  2. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
  3. উদ্ধার > উধার > ধার
  4. সুবর্ণ > স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

• আদি স্বরলোপ:
প্রথম স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি স্বরলোপ বলে।
যেমন:
- অলাবু > লাবু > লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।

• মধ্যস্বর লোপ:
শব্দের মধ্যে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- অগুরু > অগ্রু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ।

• অন্ত্যস্বর লোপ:
শব্দের শেষে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার,
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

১০,৭৯১.
'মুক্তা > মুকুতা' কোন ধরনের পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত?
  1. অসমীকরণ
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. স্বরসার্ম
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি। 
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ> মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০,৭৯২.
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. আদিত্য
  2. তপন
  3. বালার্ক
  4. অচিরপ্রভা
সঠিক উত্তর:
অচিরপ্রভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচিরপ্রভা
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়- অচিরপ্রভা।

'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অর্ক, তপন, আদিত্য, আফতাব, দিবাকর, ভাস্কর, ভানু, মার্তণ্ড, বালার্ক, রবি, সবিতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো:
বিজলি, তড়িৎ, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, চপলা, চঞ্চলা, চিকুর, দামিনী, শম্পা, অচিরপ্রভা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০,৭৯৩.
'Animal husbandry' শব্দের বাংলা পরিভাষা-
  1. ক) গোরুপালন
  2. খ) পশুপালন
  3. গ) ছাগলপালন
  4. ঘ) মুরগিপালন
সঠিক উত্তর:
খ) পশুপালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পশুপালন
ব্যাখ্যা
'Animal husbandry' শব্দের বাংলা পরিভাষা- পশুপালন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৯৪.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. মহাযাত্রা
  2. বাঁশি
  3. রাজপুত
  4. বাবুয়ানা
সঠিক উত্তর:
বাবুয়ানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু আনা অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা মারা অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
• রূঢ়ি শব্দ: হস্তী, বাঁশি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০,৭৯৫.
'আদা-জল খেয়ে লাগা' বাগধারাটির অর্থ কী?
  1. স্বল্প প্রস্তুতি নেয়া
  2. প্রাণপণ চেষ্টা করা
  3. প্রস্তুতি ছাড়া যুদ্ধে নামা
  4. বৃথা চেষ্টা করা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রাণপণ চেষ্টা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাণপণ চেষ্টা করা
ব্যাখ্যা

• আদা-জল খেয়ে লাগা (প্রাণপণ চেষ্টা করা): এতদিন কাজটা ফেলে রেখেছিলে, এবার আদা-জল খেয়ে লেগে দেখো শেষ করতে পারো কিনা।

• গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- আঠারো মাসে বছর (দীর্ঘসূত্রিতা): সাত দিনের মধ্যে ও করবে এই কাজ! ওর তো আঠারো মাসে বছর।
- আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ): তার মতো আমড়া কাঠের ঢেঁকি লাখে একটা মেলে।
- আষাঢ়ে গল্প (আজগুবি গল্প): বর্ষাকালে আষাঢ়ে গল্প না হলে কি আসর জমে?
- ইঁচড়ে পাকা (অকালপক্ব): ইঁচড়ে পাকা ছেলেমেয়েদের দিয়ে এমন কাজ করানো কঠিন।
- ইতর বিশেষ (পার্থক্য): দুজনের কাজের মাঝে অনেক ইতর বিশেষ আছে।
- উড়নচণ্ডী (বেহিসেবি): যেমন উড়নচণ্ডী মেয়ে তেমন উড়নচণ্ডী জামাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৫ সংস্করণ)

১০,৭৯৬.
স এবং শ-এর সঙ্গে 'ত', 'থ', 'ন', 'ঋ', 'র', 'ল' যুক্ত অবস্থায় থাকলে স এবং শ এর উচ্চারণ হবে-
  1. স- এর মত
  2. শ- এর মত
  3. ষ- এর মত
  4. সস- এর মত
সঠিক উত্তর:
স- এর মত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স- এর মত
ব্যাখ্যা

শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- এ তিনটি 'শ' বাংলা ভাষার উচ্চারণে কেবল বিশেষ বিশেষণে বিশেষিত।
- যথা-তালব্য শ, মূর্ধন্য 'ষ' এবং দন্ত্য 'স'।
- আসলে এ তিনটি 'শ'-ই 'শ' (ইংরেজির sh')-এর মতো উচ্চারিত।
- প্রাচীনকালে এগুলোর পৃথক উচ্চারণ ছিল কিন্তু আধুনিক বাংলা ভাষায় প্রতিটি 'শ'-ই "বাংলার শিস জাতীয় মূলধ্বনি (phoneme)।”
- কেবল ত, থ, ন, র, ল-এর পূর্ববর্তী ধ্বনি হিসেবে 'শ'-এর দন্ত্য স (স) ধ্বনির উচ্চারণ শোনা যায়।
 - এটাকে 'শ'-এর দন্ত্য সহধ্বনি বা পূরক ধ্বনি (allophone) বলা যায়
 - যথা: ত: সমস্ত (শোমোস্‌তো/শমোস্‌তো), ব্যস্ত (ব্যাস্‌তো), গ্রস্ত (গ্রোস্তো), মস্তক (মস্‌তোক্-তক্), বস্তি (বোস্‌তি), আস্তে (আস্‌তে), রাস্তা (রাস্‌তা) ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১০,৭৯৭.
'কথাচ্ছলে' কোন নিয়মে ব্যঞ্জন সন্ধি?
  1. ক) স্বর+ব্যঞ্জন
  2. খ) স্বর+স্বর
  3. গ) ব্যঞ্জন+ব্যঞ্জন
  4. ঘ) ব্যঞ্জন+স্বর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বর+ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বর+ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• স্বর+ব্যঞ্জন:
- স্বর+ছ = চ্ছ।
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
-এখানে পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী ছ এর জায়গায় চ্ছ হচ্ছে।
অনুরূপভাবে, 
- পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১০,৭৯৮.
'অমৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিষাদ
  2. তিক্ত
  3. মৃত
  4. গরল
সঠিক উত্তর:
গরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরল
ব্যাখ্যা

• 'অমৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - গরল।

উল্লেখ্য,
'অমৃত' শব্দের অর্থ- যা পান করলে অমর হওয়া যায়, সুধা। এবং শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ। অন্যদিকে, 'তিক্ত' শব্দের অর্থ- তেতো, কটু স্বাদ। এবং এটি একটি বিশেষণ পদ, সুতরাং তিক্ত 'অমৃত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ নয়। 

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ:
তিক্ত - মধুর,
হর্ষ - বিষাদ,
অবিরল - বিরল,
কুটিল - সরল,
জীবিত - মৃত। 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০,৭৯৯.
‘আমমােক্তার’ শব্দে ব্যবহৃত 'আম্‌' কোন বিদেশি উপসর্গ? 
  1. ক) ফারসি
  2. খ) ইংরেজি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর:
গ) আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আরবি
ব্যাখ্যা
আরবি উপসর্গ:
আম্ (সাধারণ অর্থে) - আমদরবার, আমমোক্তার
খাস (বিশেষ অর্থে)- খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা খাসদরবার
লা (না অর্থে) - লাজওয়াব, লাখেরাজ লাওয়ারিশ, লাপাত্তা
গর্ (অভাব অর্থে) - গরমিল, গরহাজির, গররাজি

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
১০,৮০০.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
  2. ক্ষমা একটি মহানগুণ।
  3. ছেলেটি স্বয়ংবরা।
  4. ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
সঠিক উত্তর:
ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্যটি হচ্ছে- 'ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।'

 অন্যান্য অপশন:
অশুদ্ধ বাক্য: ছেলেটি স্বয়ংবরা।
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি স্বয়ংবরা।

অশুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।

অশুদ্ধ বাক্য: ক্ষমা একটি মহানগুণ।
শুদ্ধ বাক্য: ক্ষমা একটি মহৎ গুণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।