PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ
বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ
PrepBank · পাতা ১০৭ / ৩৫৪ · ১০,৬০১–১০,৭০০ / ৩৫,৭১৩
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'কোণঠাসা করা' বাগ্ধারার অর্থ - বেকায়দায় ফেলা।
অন্যদিকে,
ঘুঘু চরানো - সর্বনাশ করা।
আঁতে ঘা - দুর্বল জায়গায় খোঁচা।
ভিটায় ঘুঘু চরানো - সর্বস্বান্ত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াত মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উ-ধ্বনি বা ঊ-ধ্বনির পরে অন্য স্বরধ্বনি থাকলে উ অথবা ঊ-ধ্বনির জায়গায় ব-ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- মনু + অন্তর = মন্বন্তর,
- সু + আগত = স্বাগত,
- পশু + আচার = পশ্বাচার,
- অনু + ঈক্ষা = অন্বীক্ষা,
- তনু + ঈ = তন্বী,
- গুরু + ঈ = গুবী।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:
- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক
- আবেগ
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেমনঃ রকিব অংকে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দূর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।
একইভাবে,
'শিক্ষায় আমাদের আগ্রহ বাড়ছে' - এখানে 'শিক্ষায়' অধিকরণ কারক।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণি )।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: কীর্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন।
শুদ্ধ বাক্য: কৃত্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন।
অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।
অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদো ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- 'হরিণ' শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান = শুচিস্মিতা।
--------------------------------------------------
’শুচিস্মিত’ একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটির উচ্চারণ- শুচিসমিতো।
অর্থ:
- নির্মল হাসিযুক্ত।
- ’শুচিস্মিত’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ, শুচিস্মিতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
এছাড়া,
- দুবার জন্ম হয় যার - দ্বিজ।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- 'যার কোন কিছু থেকেই ভয় নেই' - অকুতোভয়৷
- 'যা সাধারণের মধ্যে দেখা যায়না এমন' - অনন্যসাধারণ।
- 'কি করতে হবে যে স্থির করতে পারে না' - কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
- 'যার উপস্থিত বুদ্ধি আছে' - প্রত্যুৎপন্নমতি।
- 'যা কখনো নষ্ট হয় না এমন' - অবিনশ্বর।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- অনুতাপ = অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'চশমখোর' বাগ্ধারার অর্থ- নির্লজ্জ।
• 'কানকাটা' বাগ্ধারার অর্থ- নির্লজ্জ।
অন্যদিকে,
• 'টুলো পণ্ডিত' অর্থ - যার শিক্ষা সেকেলে।
• 'ঠুঁটো জগন্নাথ' অর্থ - শক্তিমান কিন্তু কাজে অক্ষম।
• 'চক্ষুদান করা' অর্থ - চুরি করা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম। কাজটি কি তুমি করেছিলে?
- অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল। আমি সমিতিতে সেদিন পাঁচ টাকা নগদ দিয়েছিলাম।
- অতীতে সংঘটিত ক্রিয়ার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়। যেমন-বৃষ্টি শেষ হওয়ার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেমন: বিশাল কুণ্ডের লেলিহান অগ্নি শিখাগুলি হাঁ হাঁ করে জ্বলে উঠলো।
অতএব, বলা যায়,
যার জিহ্বা লকলক করে- এককথায় প্রকাশ হলো - লেলিহান।
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় বিভক্ত হয় অন্তত চারটি ভাগে। যথা-
১. ধ্বনিতত্ত্ব
২. রূপতত্ত্ব
৩. বাক্যতত্ত্ব
৪. অর্থতত্ত্ব
-------------------------
অন্যদিকে,
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন) অনুসারে, ব্যাকরণ প্রধানত চারটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকে। যথা -
১. ধ্বনিতত্ত্ব
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব
৩. বাক্যতত্ত্ব
৪. অর্থতত্ত্ব
এছাড়া ছন্দ ও অলঙ্কার এবং অভিধানতত্ত্ব ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় হিসেবে স্বীকৃত।
-------------------------
তাছাড়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে - ব্যাকরণে সার্বিক আলোচ্য বিষয় ছয়টি।
১. ধ্বনিতত্ত্ব
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব
৩. বাক্যতত্ত্ব
৪. ছন্দ ও অলঙ্কার তত্ত্ব
৫. বাগর্থ বিজ্ঞান বা অর্থতত্ত্ব
৬. অভিধানতত্ত্ব
=====================
ড. সৌমিত্র শেখর এর বইয়ে সরাসরি "সার্বিক আলোচ্য বিষয়" কথাটি উল্লেখ আছে। প্রশ্নটিও একইভাবে করা হয়েছে।
তাছাড়া বোর্ড বইয়ে সার্বিক আলোচ্য বিষয় বা মূল আলোচ্য বিষয় কোনটিই উল্লেখ নেই। বোর্ড বইয়ে বলা হয়েছে - "অন্তত চারটি ভাগে" আলোচিত হয়।
** সবদিক বিবেচনায়, ব্যাকরণে সার্বিক আলোচ্য বিষয় ছয়টি হবে।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'অমরাবতী' শব্দের অর্থ হলো দেবতাদের বাসস্থান, অর্থাৎ স্বর্গ বা সুরলোক।
অর্থ্যাৎ,
- 'অমরাবতী' এর বিপরীত অর্থ হবে 'নরক'।
অন্যদিকে,
কলাবতী: নাচ গান প্রভৃতি চৌষট্টি কলায় নিপুণা, শিল্পকর্মে নিপুণা।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরত।
- 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত।
- 'দরদি' এর বিপরীত শব্দ-নির্দয়।
- 'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ-বিনীত।
- 'ঔদ্ধত্য' এর বিপরীত শব্দ-বিনয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- এটি মূলত সংস্কৃত শব্দ 'বৈষ্ণব' থেকে এসেছে।
• অর্ধ-তৎসম শব্দ:
- বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে।
- তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ-তৎসম মানে আধা সংস্কৃত।
যেমন:
জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, বোষ্টম শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ; যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত, বৈষ্ণব থেকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
১. সরল বা সাধারণ বাক্য
২. জটিল বা মিশ্র বাক্য
৩. যৌগিক বা সংযুক্ত বাক্য
যৌগিক বা সংযুক্ত বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বাক্য বা জটিল বাক্যে যদি কোনো অব্যয় পদ সংযুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে তবে তাকে যৌগিক বাক্য বলে বা সংযুক্ত বাক্য বলে। যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো [এবং, ও, কিন্তু, সুতরাং অথবা, নইলে, কিংবা, বরং, তথাপি] প্রভৃতি অব্যয়যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- যখন তোমাকে ভেবেছি তখন আসনি কিন্তু যখন এলে তখন সব শেষ।
- বেশ রাত হলো এবং আমরা বাড়ি ফিরলাম।
- তুমি অন্যায় করেছ সুতরাং তোমাকে শাস্তি পেতেই হবে।
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, জলধি, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি, বারীন্দ্র, অর্ণব, পারাবার।
অন্যদিকে,
• 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
তটিনী, গাঙ, প্রবাহিনী, নির্ঝরিণী, স্রোতস্বিনী, স্রোতস্বতী, শৈবলিনী, সরিৎ, প্রবাহিণী, তরঙ্গিণী, মন্দাকিনী, কল্লোলিনী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ‘বিবাহ’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- বিয়ে, পরিণয়, পাণিগ্রহণ, উদ্বাহ, নিকা, শাদি।
অন্যদিকে,
বিজলি শব্দের অর্থ- বিদ্যুৎ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি নয় - পরিষ্কৃত = পরি + কৃত।
- এটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
• বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে,
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন -
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (স্ + ক) ⇒ নমঃ + কার = নমস্কার; পুরঃ + কার = পুরস্কার।
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = = (স্ + খ) ⇒ পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ নিঃ + কর = নিষ্কর; বহিঃ + কৃত = বহিষ্কৃত।
- উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ দুঃ + কর = দুষ্কর; দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি।
এরূপ - মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• কিছু বাংলা পরিভাষা:
- Bale- গাঁট
- Ballistic missile- ক্ষেপণাস্ত্র
- Ballot-গোপন ভোট
- Banishment- নির্বাসন
- Bank rate- ব্যাংক হার
- Bankrupt- দেউলিয়া
- Addendum- পরিশিষ্ট, সংযোজন
- Adjournment- মুলতবি
- Ad-hoc - তদর্থক
- Adjustment- সমন্বয়ন
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- খনিজ ধাতুবিশেষ;
- মেঘ (আকাশে ভাসে শরতের শুভ্র অভ্ররাশি)।
- আকাশ।
------------
• 'আকাশ' এর সমার্থক শব্দ:
অম্বর, ব্যোম, গগন, অন্তরিক্ষ, আসমান, দ্যুলোক, অভ্র, নীলিমা, শূন্য, নভঃ, অনন্ত, সুরপথ, অম্বরতল, খলোক, খগোল, নক্ষত্রলোক, নভোলোক, নভস্থল।
উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
আশি বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- 'গুপ্ত' শব্দটি 'বিশেষণ' হওয়ায় শব্দটির বিপরীত শব্দ 'প্রকাশিত (বিশেষণ)' হয়েছে, 'প্রকাশ (বিশেষ্য)' হয় নি।
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
→ গোপন - প্রকাশ।
→ চড়াই - উতরাই।
→ দয়ালু - নির্দয় / নিষ্ঠুর।
→ দীন - ধনী।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• গুজরাটি শব্দ - হরতাল।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- প্রতিবাদ বা শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আহুত ধর্মঘট। দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে শ্রমিক সংগঠনের আহুত ধর্মঘট।
অন্যদিকে,
ফারসি শব্দ - কাগজ, দারোয়ান এবং চেহারা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
এছাড়া,
Edited এর পরিভাষা- সম্পাদিত।
'Edition' এর পরিভাষা- 'সংস্করণ'।
‘Edit’ - এর পরিভাষা - সম্পাদনা।
উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন:
- নাতি + বৌ = নাতবৌ,
- উৎ + চারণ = উচ্চারণ,
- চার + টি = চাট্টি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বাংলা উপসর্গগুলোকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ নামে অভিহিত করা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ একুশটি।
- এগুলি হলো :
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊনা, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ : যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি।
- এগুলো হলো : প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
উৎস : বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম) : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ- কৃপণতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- কৃপণ+তা
অর্থ: ব্যয়কুন্ঠতা, অনুদারতা, কঞ্জুসি।
অশুদ্ধ কয়েকটি শব্দের শদ্ধরূপ দেয়া হলো:
অশুদ্ধ - আলস্যতা
• শুদ্ধ -অলসতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - অলস+তা
অর্থ: কুঁড়েমি, জড়তা, শ্রমবিমুখতা।
অশুদ্ধ - দারিদ্র্যতা
• শুদ্ধ - দরিদ্রতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - দরিদ্র+তা
অর্থ: দারিদ্রর্য।
অশুদ্ধ - উৎকর্ষতা
• শুদ্ধ - উৎকৃষ্টতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - উৎ+কৃষ্+তা
অর্থ: উওম, শ্রেষ্ঠ, উন্নত ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - মনঃকষ্ট।
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- মনের দুঃখ, মনোবেদনা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অর্ক, তপন, আদিত্য, আফতাব, দিবাকর, ভাস্কর, ভানু, মার্তণ্ড, বালার্ক, রবি, সবিতা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
---------------
• 'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ:
চন্দ্র, চন্দ্রমা; নিশাকর; নিশাকান্ত; শশধর; হিমাংশু; সুধাংশু; সুধাকর; ইন্দু; বিধু; শশী; সোম; মৃগাঙ্ক।
• ‘আলো’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
ময়ূখ, কর, প্রভা, দীপ্তি, কিরণ, জ্যোতি, অংশু, রশ্মি, আলো, আলোক, বিভা প্রভৃতি।
• 'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
• সাধারণ অনুসর্গ:
সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
থেকে: ঢঅকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
• বিসর্গ সন্ধিতে কখনো কখনো বিসর্গ 'ও' হয়ে যায়:
তিরঃ + ধান = তিরােধান,
তপঃ + বন = তপোবন।
তিরােধান = তিরঃ + ধান।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
• 'Quarterly' অর্থ - ত্রৈমাসিক।
• 'Perimeter' অর্থ - পরিসীমা, পরিমাপক।
• 'Periodic time' অর্থ - পরিক্রমকাল।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
চালক। এখানে গঠন এভাবে হয়েছে-'চল্' ধাতু 'অক' প্রত্যয়। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'যে চালায়'। আর 'চালক' কথাটির ব্যবহারিক অর্থও তাই।
এরূপ-
• পক্ষী = পক্ষ+ ইন। অর্থ- যার পক্ষ বা ডানা আছে।
• মিতালি = মিতা আলি। অর্থ- বন্ধুর ভাব।
এ ধরনের আরও উদাহরণ: কর্তা, নর্তক, দয়ালু, ধনী, ছেলেমি, লাজুক ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ। শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।
- মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ- সে খেলতে বলল।
-----------------------
• ভাব প্রকাশের ধরন, বাক্যে কাজের উপস্থিতি ও গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ক্রিয়াকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।
- ভাবপ্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া প্রধানত দুই প্রকার—
১. সমাপিকা ক্রিয়া—
- সমাপিকা ক্রিয়া হলো সেই ক্রিয়াপদ, যার মাধ্যমে বাক্যের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় এবং বাক্যটি শেষ বা পূর্ণতা লাভ করে।
- উদাহরণ:
- আমরা সিনেমা দেখলাম (এখানে দেখলাম সমাপিকা ক্রিয়া)।
২. অসমাপিকা ক্রিয়া—
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বরং কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
- যেমন :
- আমি ভাত খেয়ে...,
- সে নিয়মিত পড়াশোনা করতে করতে...,
- সকালে সূর্য উঠলে...।
---------------------------------
• অসমাপিকা ক্রিয়ার প্রকারভেদ:
- অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ভাগে বিভক্ত—
- ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া;
- ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া;
- শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া।
• ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া:
- • ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া হলো এমন ক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে হতে পারে এমন কোনো কাজ বা সম্ভাবনার কথা বোঝায়, কিন্তু নিজে একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না।
- এই ধরনের ক্রিয়া অন্য একটি সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তবেই বাক্যের পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণ-
- সে খেলতে বলল—এখানে খেলতে হলো ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বলল সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ পূর্ণ করছে।
-----------------------------
অন্যদিকে,
• ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়াগুলো বাক্যের ভাব অসম্পূর্ণ রাখে এবং যখন সেই ক্রিয়াগুলো অতীতকাল নির্দেশ করে, তখন সেগুলোকে ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া বলা হয়।
- ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া হলো এমন অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বাক্যে অতীতকাল নির্দেশ করে;
- কিন্তু নিজে একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না।
- এগুলো পরবর্তী সমাপিকা ক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে বাক্যের পূর্ণ অর্থ তৈরি করে।
- যেমন:
- খেয়ে সে বাড়ি গেল—এখানে খেয়ে অতীতের কাজ বোঝাচ্ছে, কিন্তু বাক্য শেষ করেছে গেল সমাপিকা ক্রিয়া।
- আবার দেখে আমি মুগ্ধ হলাম—এখানে দেখে অতীতকে নির্দেশ করছে, কিন্তু বাক্যের অর্থ মুগ্ধ হলাম ক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণ হয়।
- পড়ে সে ঘুমিয়ে পড়ল বা কাজটি করতে আমার দেরি হয়ে গেল—এগুলোতে পড়ে ও করতে ক্রিয়াগুলো অতীতের কাজ বোঝাচ্ছে, কিন্তু বাক্যের সম্পূর্ণ অর্থ প্রদানের জন্য সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।
• শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া:
- শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া হলো এমন অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বাক্যে কোনো শর্ত বা আবশ্যকতা নির্দেশ করে, কিন্তু একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না।
- এই ধরনের ক্রিয়াগুলো অন্য কোনো সমাপিকা ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে বাক্যের পূর্ণ অর্থ তৈরি করে।
- যেমন:
- পরিশ্রম করলে ফল ভালো হবে—এখানে করলে শর্ত বোঝাচ্ছে, এবং মনোযোগ দিলে তুমি পাস করবে—এখানে দিলে শর্তসূচক।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম- দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।
• বৈশিষ্ট্য অনুযায়ি যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
- সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে - বললাম, তবু এলো না ।
- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উল্লেখ্য,
'খন্দ' শব্দের অর্থ - নালা, গর্ত, নিম্নভূমি।
'টিলা' শব্দের অর্থ - মাটির উঁচু ঢিবি।
অন্যদিকে,
টান - ঢিলা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো:
- ঞ্ + জ = ঞ্জ,
- ঞ্ + চ = ঞ্চ,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ঞ্ + ছ = ঞ্ছ,
- ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমন: তামিল, কোল প্রভৃতি) ভাষার কিছু কিছু শব্দ বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এসব শব্দকে 'দেশি শব্দ' বলে।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে।
• দেশি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
- কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপ, ডাব, ডাগর, ডিঙা, ঢেঁকি, কুঁড়ি, খুকি, পোকা, কানা, কামড় ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
এইরকম:
• প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• সন্দেশ –
- শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
• 'স্কুল> ইস্কুল' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তন।
• অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ- ফাল্গুন > ফাগুন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেমন, ব্যাংক, অ্যাসিড, অ্যাকাউন্ট, ক্যাসেট, অ্যান্ড, ক্যাসেট, ভ্যাট, ম্যানাজার ইত্যাদি।
এসিড
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• আরবি : আজান, আল্লাহ্, আদম, কোরান, ফকির, খাতা, খারাপ, নগদ, তবলা, আসামি, আসবাব, ইজ্জত, দৌলত, গজল, শহিদ, শুরু, কাবাব, খারিজ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: রবীন্দ্রনাথ ভয়ঙ্কর কবি ছিলেন।
শুদ্ধ বাক্য: রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবি ছিলেন।
অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি:
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
১. বিসর্গ + স্বর এবং
২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।
• অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।
যেমন -
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আশীঃ বাদ = আশীর্বাদ,
- দুঃ + যোগ = দুর্যোগ ইত্যাদি।
এরূপ - নিরাকরণ, জ্যোতির্ময়, প্রাদুর্ভাব, নির্জন, বহির্গত, দুর্লোভ, দুরন্ত ইত্যাদি।
• ব্যতিক্রম:
ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের সঙ্গে 'র' এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববর্তী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়।
যেমন -
- নিঃ + রব = নীরব,
- নিঃ + রস = নীরস ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'প্রাতে' শব্দের চলিত রূপ - সকালে।
• 'জুড়িয়া' শব্দের চলিত রূপ - জুড়ে।
অন্যদিকে,
- 'দেখে' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - দেখিয়া।
- 'তারে' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - তাহারে।
- 'প্রাণ' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - পরাণ।
- 'গেল' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - গিয়াছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
• স্বরসন্ধির উদাহরণ হলো:
- নরা + অধম = নরাধম;
- নব + ঊঢ়া = নবোঢ়া;
- নর + ইন্দ্র = নরেন্দ্র।
-------------------
• বিসর্গ সন্ধি:
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
১. বিসর্গ + স্বর এবং
২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।
• পূর্বপদের শেষে যদি অ/আা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
• ইঃ + অ = ই + র্:
- নিঃ + অন্ন = নিরন্ন,
- বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।
• ইঃ + আ = ই + রা:
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- নিঃ + আশা = নিরাশা।
• উঃ + অ = উ + র:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা,
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।
• উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা,
- দুঃ + আশা = দুরাশা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে যদি কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে অন্য কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি হয় তখন তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলো।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
-------------------
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল ইত্যাদি।
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক;
- পক্ব > পক্ক;
- পদ্ম > পদ্দ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• সবচেয়ে বেশি আলো প্রতিফলনের ক্ষেত্রে রঙের প্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। আলোকরশ্মি একটি পৃষ্ঠে পড়লে তার কিছু অংশ শোষিত হয় এবং বাকিটা প্রতিফলিত হয়। কালো পৃষ্ঠ প্রায় সমস্ত আলো শোষণ করে, তাই এটি খুব কম আলো প্রতিফলিত করে। লাল বা নীল রঙের পৃষ্ঠ নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশি প্রতিফলিত করে, কিন্তু সব রঙের আলো নয়। অন্যদিকে, সাদা পৃষ্ঠ সব রঙের আলো প্রায় সমানভাবে প্রতিফলিত করে। ফলে, সর্বাধিক আলো প্রতিফলনের জন্য সাদা পৃষ্ঠ সবচেয়ে উপযুক্ত। সুতরাং, আলো প্রতিফলনের দিক থেকে সাদা রঙের পৃষ্ঠই সবচেয়ে কার্যকর।
- উত্তর: গ) সাদা।
প্রতিফলন:
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে।
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে, আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি।
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না।
- পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তা হলো-
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতি এবং
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণ।
- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়।
- আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়।
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয় এবং কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে।
- কাচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম, এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়।
- রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়।
- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন-
১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং
২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
ভ্রমরের শব্দ = গুঞ্জন
পায়ে হাঁটা = পদব্রজ
পায়ে হেঁটে যে গমন করে না যে = পন্নগ
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
স্বরে আর ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে আর ব্যঞ্জনে এবং ব্যঞ্জনে আর স্বরে মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি সমীভবন (Assimilation) - এর নিয়মেই হয়ে থাকে। আর তাও মূলত কথ্যরীতিতে সীমাবদ্ধ।
যেমন -
ছোট + দা = ছোড়দা।
বদ্ + জাত = বজ্জাদ।
পাঁচ + শ = পাঁশ্শ।
উৎসঃ নবম দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই।
উত্তর
ব্যাখ্যা
→ সাধারণ অনুসর্গ ও
→ ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
• সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্য: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২২)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অনুবর্ণ
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপকে অনুবর্ণ বলে।
• অনুবর্ণ ৩ টি
যথা :
- ফলা
- রেফ
- বর্ণ সংক্ষেপ।
• স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে।
- স্বরবর্ণে কার আছে ১০ টি।
- 'অ' স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। তাই 'অ' একটি নিলীন বর্ণ।
• ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে - ফলা বলে।
- ব্যঞ্জনবর্ণে ফলা আছে মোট ৬ টি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• Unprecedented (adjective):
English Meaning: Never done or known before.
বাংলা পরিভাষা: নজির বিহীন; অভূতপূর্ব; অদৃষ্টপূর্ব।
অন্যদিকে,
• Unsuccessful (ব্যর্থ, অকৃতকার্য)।
• Fatal (প্রাণনাশক; মারাত্মক);
• Ad-hoc — অনানুষ্ঠানিক।
উৎস: Accessible Dictionary by Bangla Academy.
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'দুশ্চরিত্র'-এর সন্ধি বিচ্ছেদ- 'দুঃ + চরিত্র'।
• 'দুশ্চরিত্র'-এর সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম:
আগে বিসর্গ ও পরে চ্ বা ছ্ থাকলে বিসর্গ স্থানে শ্ হয়। শ্ পরের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দুঃ + চরিত্র = দুশ্চরিত্র,
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- নিঃ + চল = নিশ্চল,
- নিঃ + চিহ্ন = নিশ্চিহ্ন,
- নিঃ + চুপ = নিশ্চুপ,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা,
- দুঃ + চেষ্টা = দুশ্চেষ্টা,
- নভঃ + চর = নভশ্চর,
- মনঃ + চক্ষু = মনশ্চক্ষু,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অঘোষধ্বনি ঘোষধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে ঘোষীভবন বলে।
যেমন :
কাক > কাগ,
শাক > শাগ,
শালা > হালা।
উল্লেখ্য,
এটি পরাগত সমীভবন বা স্বরসঙ্গতির উদাহরণ নয়। কারণ, সমীভবনে এক ধ্বনিতে রূপ লাভ করে। এগুলো বরং এক ধরনের ব্যঞ্জন বিকৃতি। যে কারণে অনেক গ্রন্থে আলাদা করে এগুলো দেওয়া নেই।
উৎস : ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষা-শিক্ষা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
সবজান্তা - সব বিষয়ে জানে এমন; সর্বজ্ঞ
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অর্থ্যাৎ অকিঞ্চিৎকর।
এখানে, সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর - অকিঞ্চিৎকর সংগ্রহ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• স বর্ণের [স] উচ্চারণ হয়েছে- সালাম [সালাম্] শব্দে।
• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।
• শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
• শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্], শ্রদ্ধা [স্রোদ্ধা], শৃগাল [স্রিগাল]।
• ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
• স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন্], সামান্য [শামান্নো] ।
• স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আস্তে], সালাম [সালাম্]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন -
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যে নারী স্বয়ং পতি বরণ করে তাকে এককথায় বলে - স্বয়ংবরা।
অন্যদিকে
যে নারী প্রিয় বাক্য বলে - প্রিয়ংবদা,
যে নারীর দেহ সৌষ্ঠব সম্পন্না - অঙ্গনা এবং
যে নারী(বা গাভী) দুগ্ধবতী - পয়স্বিনী।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ব্যাকরণ বই।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
- অক্ষির অগোচরে = পরোক্ষ।
- অক্ষির সমীপে = সমক্ষ।
- চক্ষুর সম্মুখে সংঘটিত = চাক্ষুষ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাক্যে ব্যবহৃত একই ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কর্মকে সমধাতুজ ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
- আর মায়াকান্না কেঁদো না গো বাপু।
- বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
- এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে? ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'Apparatus' এর বাংলা পরিভাষা - যন্ত্রপাতি।
অন্যদিকে,
Annulment - নাকচকরণ।
Covenant - চুক্তি।
Crisis - সঙ্কট।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- 'এক' শব্দের সঙ্গে ‘টা’ বা ‘টি’ যুক্ত হলে সাধারণত অনির্দিষ্টতা বোঝায়।
• পদাশ্রিত নির্দেশক:
- পদাশ্রিত নির্দেশক হলো এমন কিছু শব্দাংশ যা বিশেষ্য বা বিশেষণ পদের পরে বসে পদটিকে নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্টভাবে বোঝায়।
- বাংলা ব্যাকরণে এক শব্দের সঙ্গে ‘টা’ বা ‘টি’ যুক্ত হলে এটি সাধারণত অনির্দিষ্টতা নির্দেশ করে;
- অর্থাৎ নির্দিষ্ট নয় এমন কিছুকে বোঝায়।
- উদাহরণস্বরূপ, একটি দোকান, একটি বই, একটি ছেলে—এখানে যেকোনো একটি দোকান, বই বা ছেলে বোঝানো হয়েছে, তবে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
অন্যদিকে,
- যখন ‘টা/টি’ অন্য সংখ্যা বা বিশেষ্য/সর্বনাম পদের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা নির্দিষ্টতা প্রকাশ করে।
- যেমন: বইটা = নির্দিষ্ট বই; দিনটি = নির্দিষ্ট দিন।
- উদাহরণ: “আমি বইটা পড়েছি” অর্থ হলো নির্দিষ্ট সেই বইটি পড়েছি।
------------------------------------
উল্লেখ্য,
- বোঝার নিয়ম—‘এক’ + টা/টি: এটি কোনো একটিকে বোঝায়, কিন্তু সেই ‘একটি’ যে কোনো একটি হতে পারে, তা নির্দিষ্ট করা হয় না। উদাহরণ: “একটি কলম দাও” মানে যেকোনো একটি কলম।
‘টা/টি’ পদটি সংখ্যা বা শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অনির্দিষ্ট বা নির্দিষ্ট বস্তু বোঝায়।
- তবে ‘এক’ থাকলে অনির্দিষ্টতা বুঝায়।
- আর অন্য সংখ্যা বা নির্দিষ্ট শব্দের সঙ্গে থাকলে নির্দিষ্টতা বুঝায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাগযন্ত্র: ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্যন্ত্রের অন্তর্ভূক্ত।
বাগ্যন্ত্রের অংশ সমূহ:
১. ফুসফুস
২. শ্বাসনালী
৩. স্বরযন্ত্র
৪. জিভ
৫. আলজিভ
৬. তালু
৭. মূর্ধা
৮. দন্তমূল ও দন্ত (দাঁত)
৯. ওষ্ঠ
১০. নাসিকা ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন:
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।
- দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
অন্যদিকে,
বিবৃতিমূলক বাক্য - তারা তোমাদের ভোলেনি।
প্রশ্নবোধক বাক্য - সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
আবেগসূচক বাক্য - কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
"কোথাও পথ না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।" - একটি সরল বাক্য।
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- গণ্ডির বাইরে গেলেই বিষম বিপদ।
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
এই বাক্যের জটিল রূপ:
যেহেতু কোথায় কোনো পথ পাই নি তাই তোমার কাছে এসেছি।
এই বাক্যের যৌগিক রূপ:
কোথায় কোনো পথ পাই নি, তাই তোমার কাছে এসেছি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
- যার অর্থ: গঙ্গা নদীর অন্য নাম, গঙ্গার শাখা নদী বিশেষ।
অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান: বিভীষিকা (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: আতঙ্ক, ভীতিকর ঘটনা।
• শুদ্ধ বানান: কৃষিজীবী (বিশেষণ):
অর্থ: চাষি; কৃষক; কৃষিকর্ম দ্বারা জীবিকা নির্বাহকারী।
• শুদ্ধ বানান: সমীচীন (বিশেষণ),
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
- এর অর্থ হচ্ছে: সংগত, উপযুক্ত, উত্তম।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'যা দমন করা কষ্টকর' এর এক কথায় প্রকাশ - দুর্দমনীয়।
অন্যদিকে,
- যা দমন করা যায় না - অদম্য।
- যা পার হওয়া কষ্টসাধ্য - দুস্তর।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• যৌগিক স্বরধ্বনি:
- পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনিরুপে উচ্চারিত হয়। এরূপে একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলে।
- বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ২৫টি। বাংলা ভাষার দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বনির প্রতীক ২টি, যথা: ঔ, ঐ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য অর্থে - ‘ঊর্ধ্ব গমন,উন্নতি, সমৃদ্ধি,পারলৌকিক সদ্গতি ।
বিশেষণ - বর্ধণশীল ( ঊর্ধ্বগতি মূল্য )
উৎস: বাংলা একাডেমি,আধুনিক বাংলা অভিধান ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- উচ্চারণ হচ্ছে [পোঙ্কিল্]।
- এটি একটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষণ হচ্ছে পঙ্কময়।
- সমার্থক শব্দ হচ্ছে: কর্মাক্ত, কাদাপূর্ণ।
- এর প্রকৃতি প্রত্যয় হচ্ছে পঙ্ক + ইল = ইলচ্।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- উপনগর।
• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- 'Civil Court' - দেওয়ানি আদালত।
- 'Civil Defence' - বেসামরিক প্রতিরক্ষা।
- 'Civil Aviation' - বেসামরিক বিমানচলাচল।
- 'Manifesto' - ইশতেহার।
- 'Manuscript' - পাণ্ডুলিপি।
- ‘Edition’ - সংস্করণ।
- ‘Memorandum’ - স্মারকলিপি।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- ফারসি শব্দ।
- অর্থ:
- পত্নী
- স্ত্রী
- ইউরোপীয় মহিলা
- তাসের রানি
'বিবি' (বিশেষণ)
- সাজসজ্জা ও আয়েশ করতে পছন্দ করে এমন।
- বিলাসিনী।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা একাডেমি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
তাছাড়া,
উল্লেখিত অপশনগুলোর মধ্যে এয়ো, দাই, সধবা-নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
• কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষ বাচক শব্দ নেই।
যেমন :
- সতীন
- সৎমা
- এয়ো
- দাই এবং
- সধবা।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
য়েমন :
- শন শন করে বাতাস বইছে।
- টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
- লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
- অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।
অন্যদিকে,
• কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
• স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।
• নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।
• অনুসর্গের প্রয়োগ:
→ সহ: সহগামিতা অর্থে - তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।
→ সহিত: সমসূত্রে অর্থে - শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।
→ সনে: বিরুদ্ধগামিতা অর্থে - 'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।'
→ সঙ্গে: তুলনায় - মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
----------------
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি।
এগুলাে হলাে- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
• বিভিন্ন অর্থে - 'প্র' উপসর্গের ব্যবহার:
- সম্যক অর্থে - প্রভাব, প্রচলন;
- উৎকর্ষ অর্থে - প্রজ্ঞা, প্রভাত, প্রদর্শন;
- আধিক্য অর্থে - প্রখর, প্রতাপ, প্রবল, প্রকোপ;
- খ্যাতি অর্থে - প্রভাব, প্রখ্যাত, প্রশংসা, প্রকীর্তি;
- গতি অর্থে - প্রস্থান, প্রকাশ, প্রচলন, প্রদান।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- শুদ্ধ বানান - উপচার।
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: পূজার সামগ্রী; উপকরণ; ধর্মানুষ্ঠান।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বাক্যের বর্গ যখন বাচ্যার্থ বা আক্ষরিক অর্থ ছাপিয়ে বিশেষ কোনো অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে বাগ্ধারা বলে।
- বাগ্ধারার প্রয়োগে ভাষা প্রাণবন্ত হয় এবং বাক্য অধিক ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করতে পারে।
- বাগ্ধারা যেহেতু আক্ষরিক অর্থ ধারণ করে না, সেহেতু বাগ্ধারা ঠিক কী অর্থ প্রকাশ করে ভাষা-ব্যবহারকারীকে সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হয়।
- বাগ্ধারা এক অর্থে অতীত কালের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনার স্মারক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
‘পলায়ণ’- বানানটি অশুদ্ধ।
• দক্ষিণায়ন, রামায়ণ, পরায়ণ, ণ হলেও ণত্ব বিধি অনুযায়ী পলায়ন বানানে ‘ন’ হবে ।
উৎস : প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
উত্তর
ব্যাখ্যা
কোন নিয়ম অনুসারে সন্ধি না হয়ে স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির যখন পরিবর্তন ঘটে তখন সেই রূপ সন্ধিকে নিপাতন-সিদ্ধ সন্ধি বলে।
কুল + অটা = কুলটা
শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন
স্ব + ঈর = স্বৈর।
সীমন্ + অন্ত = সীমন্ত
স্ব + ঈরিণী = স্বৈরিণী
বিম্ব + ওষ্ঠ = বিম্বোষ্ঠ
অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী
মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ। শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।
- মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।
অন্যদিকে,
'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।
'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময় কিছু কিছু শব্দস্থিত ধ্বনির স্থানপরিবর্তন ঘটে। আগের ধ্বনি পরে যায় ও পরের ধ্বনি আগে আসে-এরকম অবস্থানগত বিপর্যয় দেখা যায়। যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ। ['শাচ' ধ্বনি দুটি (শা + চ) স্থান বদলে হয়েছে 'চাশ' (চা+শ)।]
• উচ্চারণের সময় শব্দস্থিত ধ্বনি স্থান পরিবর্তন করলে, তাকে ধ্বনিবিপর্যয় বা বর্ণবিপর্যয় বলে।
যেমন:
- করেণু > কণেরু,
- বাক্স > বাস্ক,
- তলোয়ার > তরোয়াল,
- মগজ > মজগ,
- রিকশা > রিশকা,
- লাফ > ফাল,
- ডেস্ক > ডেক্স ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেমন -
- ফাল্গুন >ফাগুন।
- ফলাহার > ফলার।
- আলাহিদা > আলাদা।
• অপিনিহিতি:
-পরের ই-কার আগ উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিত বলে।
- আজি> আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- চারি> চাইর,
- মারি> মাইর,
• অসমীকরণ :
-একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্যে মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত করা হয় তখন তাকে অসমীকরণ বলে।
যেমন -
- ধপ + ধপ = ধপাধপ,
- টপ + টপ = টপাটপ,
• অভিশ্রুতি :
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে ।
যেমন-
শুনিয়া > শুনে,
বলিয়া > বলে,
হাটুয়া > হাউটা,
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)
উত্তর
ব্যাখ্যা
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
• পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
---------------------------
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
• পরােক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো :
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য।
আপনার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্ ও স্ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ(ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্ ও স্ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি, ব্যঞ্জন সন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্ এবং স্-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
• কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি = বনস্পতি (বন্ + পতি), বৃহস্পতি (বৃহৎ + পতি)।
- সাধারণ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি = ক্ষুন্নিবৃত্তি (ক্ষুধ্ + নিবৃত্তি)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তরায়।
অ + ঊ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
নব + ঊঢ়া = নবোঢ়া;
সর্ব+ ঊর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব ইত্যাদি।
আ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
যথা + উচিত = যথোচিত;
কথা + উপকথন = কথোপকথন;
যথা + উপযুক্ত = যথোপযুক্ত ইত্যাদি।
আ + ঊ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি;
মহা + ঊর্মি = মহোর্মি;
মহা + ঊর্ধ্ব = মহোর্ধ্ব ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
'মার চেয়ে মাসির দরদ' প্রবাদটির অর্থ = কপট মমতা।
'ফেল কড়ি মাখ তেল' প্রবাদটির অর্থ = অর্থের বিনিময়ে ইচ্ছা।
'বেল পাকলে কাকের কী' প্রবাদটির অর্থ = আয়ত্ত বহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত।
- এটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- লম্বা ঢিলেঢালা গাত্রাবরণ বা জামাবিশেষ।
আরো কিছু আরবি শব্দ:
- ইবাদত,
- ইনসান,
- এতিম,
- এলাকা,
- এলাহি,
- কয়েদ,
- কসাই,
- খারাবি,
- খারাপ,
- খারিজ,
- তকদির,
- ফসল,
- মজলুম,
- মুসাফির ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।