বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা / ২৪ · ৬০১৭০০ / ২,৩৩১

৬০১.
বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে কোন তারিখে গৃহীত হয়?
  1. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  2. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  3. ১ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  4. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৪ নভেম্বর, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ নভেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন: ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়: ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেনঃ ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৬০২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে "মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক" সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. নবম ভাগে
  2. অষ্টম ভাগে
  3. সপ্তম ভাগে
  4. ষষ্ঠ ভাগে
সঠিক উত্তর:
অষ্টম ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম ভাগে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান: 
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ ও নবম-ক ভাগ জরুরী বিধানাবলী,
- দশম ভাগে সংবিধান সশোধন এবং একাদশ ভাগ বিবিধ।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
৬০৩.
According to the constitution of Bangladesh what is the minimum age to become the president?
  1. ক) 25
  2. খ) 30
  3. গ) 35
  4. ঘ) 40
সঠিক উত্তর:
গ) 35
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 35
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ-৪৮: রাষ্ট্রপতি
(১) বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।

(২) রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁহাকে প্রদত্ত ও তাঁহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন।

(৩) এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন: 
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না। 

(৪) কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি- 
(ক) পঁয়ত্রিশ বৎসরের কম বয়স্ক হন; অথবা 
(খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হন; অথবা 
(গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হইতে অপসারিত হইয়া থাকেন। 
 
(৫) প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখিবেন এবং রাষ্ট্রপতি অনুরোধ করিলে যে−কোন বিষয় মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পেশ করিবেন।

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৬০৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে নাগরিকের পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৩৮
  2. ৪০
  3. ৪১
  4. ৪২
সঠিক উত্তর:
৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৪০ নং অনুচ্ছেদে পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। 
• ৪০। আইনের দ্বারা আরোপিত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে কোন পেশা বা বৃত্তি-গ্রহণের কিংবা কারবার বা ব্যবসায়-পরিচালনার জন্য আইনের দ্বারা কোন যোগ্যতা নির্ধারিত হইয়া থাকিলে অনুরূপ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি-গ্রহণের এবং যে কোন আইনসঙ্গত কারবার বা ব্যবসায়-পরিচালনার অধিকার থাকিবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬০৫.
গণভোটের বিধান বাতিল করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ক) অষ্টম সংশোধনী
  2. খ) সপ্তম সংশোধনী
  3. গ) পঞ্চদশ সংশোধনী
  4. ঘ) ষোড়শ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
গ) পঞ্চদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী
• উত্থাপন: ২৫ জুন ২০১১
• উত্থাপনকারী: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ উত্থাপন করেন
• গৃহীত: ৩০ জুন ২০১১ 
• রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৩ জুলাই ২০১১ সালে।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু
⇨ এই সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে ৮,৯,১০,১২ অনুচ্ছেদ পুণর্বহাল করায় বাহাত্তরের মূল সংবিধানের  চেতনাকে ধারণ করা সম্ভব হয়েছে অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
⇨ এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতিও দেওয়া হয়।
⇨ এই সংশোধনীর মাধ্যমে পূর্বের ৪টি তফসিলের সাথে আরো নতুন ৩ টি তফসিল যুক্ত করা হয়েছে।
⇨ প্রস্তাবনায় ‘‘বিস্‌মিল্লাহির-রহ্‌মানির রহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু, আল্লাহের নামে)’’ এর সাথে ‘পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে’ সংযুক্ত করা হয়।
⇨ ‘‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের’’ শব্দগুলির পরিবর্তে [জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] প্রতিস্থাপিত।
⇨ ৪ক অনুচ্ছেদ (জাতির পিতার প্রতিকৃতি) প্রতিস্থাপিত হয়।  
⇨ এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
⇨ ৬৫(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। 
⇨ সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়। 
⇨ এই সংশোধনীর দ্বারা সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের বিধানটি বাতিল করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।  
৬০৬.
১৪৬নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন নামে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে?
  1. বাংলাদেশ সরকার
  2. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
  3. বাংলাদেশ
  4. মামলা করা সম্ভব নয়
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।

১৪৬নং অনুচ্ছেদ: বাংলাদেশের নামে মামলা: 
"বাংলাদেশ"-এই নামে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে।

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬০৭.
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বিলটি পাশ হয় কবে?
  1. ১৯৯৪ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান [ত্রয়োদশ সংশোধন] আইন, ১৯৯৬।
- সংসদে বিলটি পাশ হয় ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে।
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সর্ম্পকিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসি নিউজ, ১০ মে ২০১১।
৬০৮.
'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ' কোন অনুচ্ছেদের আলোচ্য বিষয়?
  1. অনুচ্ছেদ ৬
  2. অনুচ্ছেদ ৭
  3. অনুচ্ছেদ ৭ক
  4. অনুচ্ছেদ ৭খ
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৭
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ০৭: সংবিধানের প্রাধান্য
(১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে ৷
(২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে ।

অনুচ্ছেদ ০৬ : নাগরিকত্ব
অনুচ্ছেদ ০৭ক:সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ
অনুচ্ছেদ ০৭খ :সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৬০৯.
চতুর্থ সংশোধনীর আলোচ্য বিষয় কী ছিল?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা প্রর্বতন
  2. খ) সংসদীয় শাসন পদ্ধতি
  3. গ) তত্ত্বাবধায়ক সরকার
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা প্রর্বতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা প্রর্বতন
ব্যাখ্যা

চতুর্থ সংশোধনী-
- উত্থাপন: ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি
- উত্থাপনকারী: আইনমন্ত্রী শ্রী মনোরঞ্জন ধর উত্থাপন করেন
- গৃহীত ও রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ:: ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি
আলোচ্য বিষয়-
- সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন
- জাতীয় সংসদের কতক ক্ষমতা খর্ব করা হয়; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকটা খর্ব হয়; সুপ্রিম কোর্ট
নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষা ও প্রয়োগের এখতিয়ার থেকে বঞ্চিত হয়
- ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী গৃহিত হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়

- ত্রয়োদশ সংশোধনীর দ্বারা একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয়
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান

৬১০.
বাংলাদেশের সংবিধানে কত ধরনের মালিকানা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. সাত
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 
- বাংলাদেশের সংবিধানে তিন ধরনের মালিকানা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে: রাষ্ট্রীয়, সমবায়ী এবং ব্যক্তিগত মালিকানা।

- অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও উৎপাদন ও সম্পদের সুষম বণ্টনের লক্ষ্যে এই মালিকানার নীতিগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- রাষ্ট্রীয় মালিকানার মাধ্যমে জনগণের পক্ষে সরকার প্রধান অর্থনৈতিক খাতগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে। 
- সমবায়ী মালিকানায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্যরা মিলিতভাবে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় অংশ নেন।
- ব্যক্তিগত মালিকানা সীমিত পরিসরে স্বীকৃত, তবে তা আইন দ্বারা নির্ধারিত।  

বাংলাদেশের সংবিধান: 
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ ও নবম-ক ভাগ জরুরী বিধানাবলী,
- দশম ভাগে সংবিধান সশোধন এবং একাদশ ভাগ বিবিধ।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৬১১.
সংবিধানের কত তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়?
  1. দ্বাদশ সংশোধনী
  2. দশম সংশোধনী
  3. একাদশ সংশোধনী
  4. ত্রয়োদশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• দ্বাদশ সংশোধনী: 
- শিরোনাম: সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১
- পাস হয়: ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট।
- বিষয়বস্তু: সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা।
- ২ জুলাই, ১৯৯১ সালে সংশোধনীটি উত্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
- এর ফলে সংবিধানের ৪৮, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৭০, ৭২. ১০৯, ১১৯, ১২৪, ১৪১ক এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
- একাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৭ বছর পর বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- রাষ্ট্রপতি হন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান।
- প্রধানমন্ত্রী হন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী।
- মন্ত্রিপরিষদ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ।
- উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটের বিধান।
- সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, বাংলাপিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকা।

৬১২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ভোটার হওয়ার যোগ্যতা ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৫২ নং
  2. ৭২(১) নং
  3. ১০৮ নং
  4. ১২২ নং
সঠিক উত্তর:
১২২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২২ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১২২ নং অনুচ্ছেদে ভোটার হওয়ার যোগ্যতা ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা:
⇒ সংবিধানের ১২২ নং অনুচ্ছেদ:
- ১২২ (১) প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

- ১২২ (২) কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হবার অধিকারী হবেন, যদি -
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁর বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁহার সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা বহাল না থেকে থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হয়ে থাকেন।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১০৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে 'কোর্ট অব রেকর্ড' রূপে সুপ্রীম কোর্ট: সুপ্রীম কোর্ট একটি 'কোর্ট অব্ রেকর্ড' হবেন এবং এর অবমাননার জন্য তদন্তের আদেশদান বা দণ্ডাদেশদানের ক্ষমতাসহ আইন-সাপেক্ষে অনুরূপ আদালতের সকল ক্ষমতার অধিকারী থাকিবেন।
- সংবিধানের ৭২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন সম্পর্কে বলা আছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬১৩.
জাতীয় সংসদে সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী পাস হয় কত সালে?
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১৬ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০১৮ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৮ সালে
ব্যাখ্যা
১৭তম সংশোধনী:
- বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে৷
- ২০১৮ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী পাস হয়।
- এর বিষয়বস্তু ছিলো নারীদের জন্যে সংরক্ষিত ৫০টি আসন আরও ২৫ বছরের জন্যে সংরক্ষণ করা।

অন্যদিকে,
- ২০১৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়।
- প্রথম সংশোধনীর (১৯৭৩ সালে) মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিধান সংবিধানে যুক্ত করা হয়।
- পঞ্চদশ সংশোধনীর (২০১১ সালে) মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য হিসেবে বিধান গৃহীত হয়।

তথ্যসূত্র - আইন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৬১৪.
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট কয়টি তফসিল আছে?
  1. ৪টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিলসমূহ:
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৬১৫.
বাংলাদেশের হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীকে আংশিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করেছে- 
  1. ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪
  2. ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ 
  3. ৩ জুলাই, ২০২৫
  4. ৩০ জুন, ২০২৪ 
সঠিক উত্তর:
১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪
ব্যাখ্যা

পঞ্চদশ সংশোধনী:  
- বাংলাদেশের হাইকোর্ট ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে পঞ্চদশ সংশোধনীকে আংশিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করেছে।
- পঞ্চদশ সংশোধনী ৩০ জুন, ২০১১ তারিখে জাতীয় সংসদে পাস হয়।
- এবং ৩ জুলাই, ২০১১ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়।
- সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৪টি পরিবর্তন, সংযোজন ও পরিমার্জন আনা হয়।
- তবে বদিউল আলম মজুমদার- সুজন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক- সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
- হাইকোর্টের রায়ে ২০২৪ সালে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও দেবাশীষ রায় চৌধুরী ৫৪টির মধ্যে ৬টি বিধান বাতিল করেন।
- বাতিলকৃত ধারার মধ্যে ছিল- ৭(ক), ৭(খ), ৪৪(২) এবং ১৪২।
- এর ফলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়।
- বর্তমানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য,
- পূর্বে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ ধারা বাতিল করা হয়েছিল।
- তবে হাইকোর্ট পুনর্বহালের রায়ে গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা পুনঃসংযোজন করে।
- হাইকোর্টের রায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করার পথ সুগম করেছে।
- এছাড়া, সংবিধানের মৌলিক বিষয়গুলোর পরিবর্তন বা বাতিল করার সুযোগও নিশ্চিত করেছে।
- পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের ফলে আইন বিভাগের উপর শাসন বিভাগের কর্তৃত্ব কিছু পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। 

উৎস: 
১. প্রথম আলো;
২. BBC News;
৩. দৈনিক ইত্তেফাক। 

৬১৬.
স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন কে?
  1. ক) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. খ) আ স ম রব
  3. গ) শাহজাহান সিরাজ
  4. ঘ) নুরে আলম সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
গ) শাহজাহান সিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শাহজাহান সিরাজ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ ঢাকায় পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এই ইশতেহার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়। একই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক উপাধি দেওয়া হয়। অধ্যাপক ইউসুফ আলী ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। (সূত্রঃ বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬১৭.
বাংলাদেশের সংবিধান কীভাবে রচিত হয়?
  1. আন্দোলনের মাধ্যমে
  2. রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে
  3. গণপরিষদের মাধ্যমে
  4. সাধারণ আইন পরিষদের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
গণপরিষদের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণপরিষদের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় - গণপরিষদের মাধ্যমে।
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।

সূত্র: বাংলাদের সংবিধান।
৬১৮.
কত বছরের সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচনের অযোগ্য?
  1. ক) ৩ বছর
  2. খ) ২ বছর
  3. গ) ৪ বছর
  4. ঘ) ৫ বছর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ বছর
ব্যাখ্যা
⇨ সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৫ বছর বয়স্ক বাংলাদেশী যেকোন নাগরিক সংসদ সদস্য হবার যোগ্যতা রাখে।
⇨ তবে অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, বিদেশী নাগরিকত্ব অর্জন, কোন অপরাধে সর্বনিম্ন ২ বছর পর্যন্ত সাজা পেলে কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হবেন না।
⇨ তবে সাজা শেষ হওয়ার পর ৫ বছর অতিক্রান্ত হলে আবার সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য বিবেচিত হওয়ার যোগ্য হইবেন।
⇨ কোন সংসদ সদস্য নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ দাখিল করলে অথবা একাধারে ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর
সদস্যপদ বাতিল হবে।
⇨ তাছাড়া তিনি যে দল থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে সে দলের বিপক্ষে ভোট দান করলেও তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৬১৯.
বাংলাদেশে সার্বভৌম আইন প্রণয়নকারী সংস্থা হিসেবে কোনটি বিবেচিত?
  1. ক) রাষ্ট্রপতির দপ্তর
  2. খ) প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর
  3. গ) সুপ্রিম কোর্ট
  4. ঘ) জাতীয় সংসদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাতীয় সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ

বাংলাদেশের আইনসভার নাম 'জাতীয় সংসদ'। বাংলাদেশ সংবিধানে এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রবর্তন করা হয়। সংবিধানের ৬৫(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে,


“ 'জাতীয় সংসদ' নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকবে এবং এ সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইন-প্রণয়ন ক্ষমতা সংসদের ওপর ন্যস্ত হবে।”


জাতীয় সংসদই সার্বভৌম আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন, পরিবর্তন ও সংশোধন করে থাকে। জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের আলোকেই একটি দেশের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয়। কিন্তু ইহার ক্ষমতা শুধু আইন প্রণয়নের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান।
৬২০.
পঞ্চম সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় কবে?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা
পঞ্চম সংশোধনী:

- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় পঞ্চম সংশোধনী আইন।
- এই আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয় ।
- ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত যে সকল সামরিক বিধি, সংবিধান সংশোধন সহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করা হয় সেগুলো সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী হিসেবে কাজ করা হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তিত হয়।
- এই  সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সন্নিবেশিত হয় ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৬২১.
বিদেশী নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের সংবিধানে কতটি মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ৬
  2. খ) ৭
  3. গ) ১৭
  4. ঘ) ১৮
সঠিক উত্তর:
ক) ৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ অনুচ্ছেদ পর্যিন্ত মৌলিক অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে।

- সংবিধানে মোট ১৮ টি মৌলিক অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে। এদেশের নাগরিকদের জন্য সবকটি (১৮টি) মৌলিক অধিকার প্রযোজ্য এবং বিদেশীদের জন্য প্রযোজ্য ৬ টি মৌলিক অধিকার। 

- যে ৬ টি মৌলিক অধিকার উভয়ই ভোগ করতে পারে। সেগুলো হলোঃ

- জীবন ও ব্যাক্তি স্বাধীনতার অধিকার (৩২ নং অনুচ্ছেদ)

- ম্যাজিস্ট্রেট এর আদেশ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা যাবে না।

- জবরদস্তি শ্রমের কাজ থাকবে নিষিদ্ধ (৩৪ নং অনুচ্ছেদ)

- অপরাধ সংগঠন কালে আইনের লংঘন ও বিচার, নিজের কাজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য, প্রকাশ্য বিচার লাভ করার অধিকার।

- ধর্মীয় স্বাধীনতা।

উৎসঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পৌরনীতি ২য় পত্র
৬২২.
In which amendment of the constitution of Bangladesh the English spelling of Dhaka was changed from Dacca to Dhaka?
  1. 6th Amendment
  2. 7th Amendment
  3. 8th Amendment
  4. 9th Amendment
  5. 10th Amendment
সঠিক উত্তর:
8th Amendment
উত্তর
সঠিক উত্তর:
8th Amendment
ব্যাখ্যা
সংবিধান সংশোধন:
- সময়ের চাহিদা ও প্রয়োজনে জনগণের কল্যাণার্থে সংবিধানের সংশোধন, পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশ সংবিধানের দশম ভাগে ১৪২ নং অনুচ্ছেদে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতির কথা উল্লেখ রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধান এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে। 
 
উল্লেখ্য,
- অষ্টম সংশোধনীর শিরোনাম ছিল সংবিধান [অষ্টম সংশোধন] আইন, ১৯৮৮]   
- বিলটি সংসদে পাশ হয় ৭ জুন, ১৯৮৮। 
- অষ্টম সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা। 
- এছাড়া ঢাকার ইংরেজি বানান Dacca থেকে Dhaka এবং Bengali এর নাম Bangla করা হয়।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৭ (১)
  3. গ) ৬ (২)
  4. ঘ) ৬ (১)
সঠিক উত্তর:
গ) ৬ (২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬ (২)
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের মোট এগারটি ভাগ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম ভাগ প্রজাতন্ত্র -(১-৭খ)।
- অনুচ্ছেদ ৬(১) অনুযায়ী -  বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। 
- অনুচ্ছেদ ৬(২)  অনুযায়ী - বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।
- অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী - সংবিধানের প্রাধান্য।
 - অনুচ্ছেদ ৮-  রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।

উৎস : বাংলাদেশের সংবিধান ।
৬২৪.
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি কোন পরিষদের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) NIPORT
  2. খ) NAEM
  3. গ) NEC
  4. ঘ) NICAR
সঠিক উত্তর:
গ) NEC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) NEC
ব্যাখ্যা

এনইসি (NEC) হচ্ছে - National Economic Council বা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ।
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এনইসি কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদনের জন্য সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ- এনইসি।
জাতীয় অর্থনীতির নীতি নির্ধারণের সর্বোচ্চ ফোরাম- একনেক।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি হলো- নিকার।
উৎসঃ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৬২৫.
’প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’- এ ঘোষণাটি বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লিখিত হয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ- ৭(২)
  2. অনুচ্ছেদ-৭(১)
  3. অনুচ্ছেদ-৫(১)
  4. অনুচ্ছেদ-৫(২)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-৭(১)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-৭(১)
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- অনুচ্ছেদ ০৭: সংবিধানের প্রাধান্য।
- ৭(১) নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।
- ৭(২) নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।

অন্যদিকে,
- ৫(১) প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷ 
- ৫(২) রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে৷

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬২৬.
৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে সংবিধানের কোন তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. চতুর্থ তফসিল
  2. ষষ্ঠ তফসিল
  3. সপ্তম তফসিল
  4. পঞ্চম তফসিল
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম তফসিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম তফসিল
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশ সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল সংযোজন করা হয়েছে।

৭টি তফসিল:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান - আরিফ খান।
৬২৭.
বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধানের মূল লেখক কে ছিলেন?
  1. আব্দুর রউফ
  2. ড. কামাল হোসেন
  3. জয়নাল আবেদিন
  4. আবু সাঈদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আব্দুর রউফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুর রউফ
ব্যাখ্যা
হস্তলিখিত সংবিধান:
- হস্তলিখিত সংবিধানের মূল লেখক আব্দুর রউফ।
- হস্তলিখিত সংবিধানের অঙ্গসজ্জা কার্যক্রমের মূল তত্বাবধায়ক ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন।
- হস্তলিখিত সংবিধানে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ - ১০৯ পৃষ্ঠা।
- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ হতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবু সাঈদ চৌধুরী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৬২৮.
বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. মণি সিংহ
  3. আব্দুল হামিদ
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর বঙ্গবন্ধুর:
- বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- এটি একটি লিখিত দলিল।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ই এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। 
- ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সংবিধানে গণপরিষদ সদস্যদের স্বাক্ষর দান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৪ তারিখ স্পিকারের আমন্ত্রণে সংবিধানে সর্ব প্রথম স্বাক্ষর দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- প্রথমে সংবিধানের বাংলা এবং পরে ইংরেজি পাঠে।
- তারপর স্বাক্ষর করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দিন আহমদ।

অন্যদিকে,
- গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি। 
- ১৫ তারিখ অনুষ্ঠানের শেষ সময় পর্যন্ত ৪ জন মাননীয় সদস্য- শ্রীমানবেন্দ্র নারায়ন লারমা, শ্রী সুরঞ্জিৎ সেন গুপ্ত, মোহাম্মদ আজিজার রহমান এবং মোহাম্মদ ইব্রাহীম সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি। 

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
        ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৬২৯.
শিক্ষার জন্য সংবিধানিক অঙ্গীকার বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ধারায় বর্ণিত করেছে?
  1. ক) ১৩
  2. খ) ১৭
  3. গ) ২১
  4. ঘ) ২৯
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭
ব্যাখ্যা
- শিক্ষার জন্য সাংবিধানিক অঙ্গিকার বাংলাদেশের সংবিধান ( ১৭ )অনুচ্ছেদ ধারায় বর্ণিত করেছে।
- একটি অভিন্ন, গণ মুখী এবং সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এবং সমস্ত শিশুর জন্য বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো যা আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে।
- সমাজের চাহিদার সাথে শিক্ষা সম্পর্কিত এবং সেই চাহিদা পূরণের জন্য যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত ও অনুপ্রাণিত নাগরিক তৈরি করা
- আইন দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করা।

 (উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান)
৬৩০.
সংবিধানের-১৮(ক) অনুচ্ছেদে কী সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য
  2.  সম্পত্তির অধিকার।
  3. অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
  4. গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি-বিপ্লব
সঠিক উত্তর:
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান:
- অনুচ্ছেদ - ১৮ নং: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- ১৮(১): জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলে গণ্য করা হবে।
-  বিশেষত আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
 - ১৮(২):  গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
- ১৮(ক): রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবে।

⇒ অপরদিকে,
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
- ১৭ নং অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা কথা বলা হয়েছে।
- ১৬নং গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি-বিপ্লব কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৬৩১.
বাংলাদেশ সংবিধানে কয়টি মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে?
  1. ২২টি
  2. ১৮টি
  3. ১৫টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
১৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮টি
ব্যাখ্যা

সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নয় ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
= বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে  ১৮টি অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, সেগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে মৌলিক অধিকার।
- সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য। এই অধিকারগুলো ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র প্রতিকার প্রদানে বাধা থাকে।
- সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অধিকারগুলোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো আইন বাতিল বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য,
- মৌলিক অধিকারগুলো হলো: 
- আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য, সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা, বিদেশী খেতাব প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ, আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার, জীবন ও বাক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ, গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ, বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ, চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা, পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ, দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা।

উৎস:  বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৩২.
কতজন সদস্য নিয়ে গনপরিষদ গঠিত হয়েছিল?
  1. ১৬৯ জন
  2. ৪০০ জন
  3. ৩০০ জন
  4. ৪০৩ জন
সঠিক উত্তর:
৪০৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০৩ জন
ব্যাখ্যা
গণপরিষদ আদেশ:
- ৪০৩ জন সদস্য নিয়ে গনপরিষদ গঠিত হয়েছিল?
- ১৯৭২ সালে ২৩ মার্চ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন।
- এই আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর হয়।
- এই আদেশ অনুসারে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর ও ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে নির্বাচিত প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদ সদস্যগণ গণপরিষদের সদস্য বলে পরিগণিত হয়।
- মৃত্যু এবং অন্য কোন কারণে বা আইনে অযোগ্য বলে ঘোষিত হওয়ার ফলে সর্বমোট (১৬৯+৩০০) ৪৬৯ জন সদস্যের স্থলে ৪০৩ জন সদস্য নিয়ে গণপরিষদ গঠিত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য একটি স্থায়ী সংবিধান প্রণয়নের গুরুদায়িত্ব গণপরিষদের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
- পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে পারবে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৩.
'স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' কোন তফসিলে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) চতুর্থ তফসিল
  2. খ) সপ্তম তফসিল
  3. গ) ষষ্ঠ তফসিল
  4. ঘ) পঞ্চম তফসিল
সঠিক উত্তর:
খ) সপ্তম তফসিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সপ্তম তফসিল
ব্যাখ্যা
⇨ বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল রয়েছে। এগুলো হলো - 
⇨ প্রথম তফসিল
• অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
⇨ দ্বিতীয় তফসিল
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।

⇨ তৃতীয় তফসিল (শপথ ও ঘোষণা)
• ১৪৮ অনুচ্ছেদের দাবি অনুযায়ী এই  তৃতীয় তফসিলটি প্রণয়ন করা হয়রছে। রাষ্ট্রে সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন ব্যক্তি যেসব শপথ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেন সেগুলোই  এই তৃতীয় তফসিলে উল্লেখিত হয়েছ ।

⇨ চতুর্থ তফসিল
• ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
⇨ পঞ্চম তফসিল
• ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
⇨ ষষ্ঠ তফসিল
• স্বাধীনতার ঘোষণা।
সপ্তম তফসিল
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৩৪.
সংবিধানের ৩৬নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. সংগঠনের স্বাধীনতা
  2. সমাবেশের স্বাধীনতা
  3. চলাফেরার স্বাধীনতা
  4. বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ
সঠিক উত্তর:
চলাফেরার স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলাফেরার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৩৩ - গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ।
- অনুচ্ছেদ ৩৪ - জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৬ - চলাফেরার স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৭ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৯ - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৫ - শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৩৫.
রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ৫০ অনুচ্ছেদ
  2. ৫১ অনুচ্ছেদ
  3. ৫২ অনুচ্ছেদ
  4. ৫৩ অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৫১ অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো আইনি দায়বদ্ধতার সম্মুখীন হবেন না।
•  সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি:
১) ফৌজদারি মামলা করা যাবে না:
- রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের বা চালু রাখা যাবে না।
- কোনো আদালত রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারবে না।
২) রাষ্ট্রপতি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে দায়মুক্ত থাকবেন:
- রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় কোনো কাজ করলে বা না করলে, সে জন্য তাঁকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না।
- তবে এই দায়মুক্তির বিধান সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি মামলা দায়েরের অধিকার বাতিল করে না।

• রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৪৮ - রাষ্ট্রপতি।
- অনুচ্ছেদ ৪৯ - ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- ৫২নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৩৬.
সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
যে যাকে  শপথ বাক্য পাঠ করান
১। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক : প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, প্রধান বিচারপতি।
২। স্পিকার কর্তৃক : রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্য।
৩। প্রধান বিচারপতি কর্তৃক : সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
৪। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক : সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
৫। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী কর্তৃক : সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যগণ ।
৬। বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক : পৌর মেয়র এবং কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান।
৭। জেলা প্রশাসক কর্তৃক : ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ।
৮। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কর্তৃক : ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যগণ।  

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও স্থানীয় সরকারের ওয়েবসাইট।
৬৩৭.
রাষ্ট্রপতি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশে জরুরী অবস্থার ঘোষণা করতে পারেন?
  1. ক) ১৪১
  2. খ) ১৪১ (ক)
  3. গ) ১৪১ (খ)
  4. ঘ) ১৪১ (গ)
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪১ (ক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪১ (ক)
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৪১ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দেশে জরুরী অবস্থার ঘোষণা করতে পারেন। 

১৪১। (১) প্রত্যেক কমিশন প্রতি বৎসর মার্চ মাসের প্রথম দিবসে বা তাহার পূর্বে পূর্ববর্তী একত্রিশে ডিসেম্বরে সমাপ্ত এক বৎসরে স্বীয় কার্যাবলী সম্বন্ধে রিপোর্ট প্রস্তুত করিবেন এবং তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবেন। 
 
(২) রিপোর্টের সহিত একটি স্মারকলিপি থাকিবে, যাহাতে 
 
(ক) কোন ক্ষেত্রে কমিশনের কোন পরামর্শ গৃহীত না হইয়া থাকিলে সেই ক্ষেত্র এবং পরামর্শ গৃহীত না হইবার কারণ; এবং 
 
(খ) যে সকল ক্ষেত্রে কমিশনের সহিত পরামর্শ করা উচিত ছিল অথচ পরামর্শ করা হয় নাই, সেই সকল ক্ষেত্র এবং পরামর্শ না করিবার কারণ; 
 
সম্বন্ধে কমিশন যতদূর অবগত, ততদূর লিপিবদ্ধ করিবেন। 
 
(৩) যে বৎসর রিপোর্ট পেশ করা হইয়াছে, সেই বৎসর একত্রিশে মার্চের পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে রাষ্ট্রপতি উক্ত রিপোর্ট ও স্মারকলিপি সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করিবেন।
--------------------------------------------------------
১৪১ক। (১) রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমন জরুরী-অবস্থা বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হইলে তিনি2[অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য] জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবে 3[: 
 
সূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান। 
৬৩৮.
ফ্লোর ক্রসিং সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত করা হয়েছে?
  1. ৬8নং অনুচ্ছেদে
  2. ৬৯নং অনুচ্ছেদে
  3. ৭০নং অনুচ্ছেদে
  4. ৭১নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
৭০নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭০নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

- ফ্লোর ক্রসিং সংবিধানের ৭০নং অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত করা হয়েছে?

• সংবিধান:
- ৭০ তম অনুচ্ছেদে ফ্লোর ক্রসিং সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি সংসদ সদস্যদের নিজের দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বোঝায়।
- এর মাধ্যমে একজন সংসদ সদস্য যদি নিজ দলের পক্ষে না দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের পক্ষে ভোট দেন, এটাকে ফ্লোর ক্রসিং হিসেবে গণ্য করা হয়।

অন্যদিকে: 
- ৬৮নং অনুচ্ছেদে:  সংসদ-সদস্যদের [পারিশ্রমিক] প্রভৃতি, 
- ৬৯নং অনুচ্ছেদে: শপথগ্রহণের পূর্বে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করিলে সদস্যের অর্থদণ্ড, 
- ৭১নং অনুচ্ছেদে: দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা। 

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান। 

৬৩৯.
এ পর্যন্ত বাংলাদেশে কতটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ৭টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১২টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা
এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
• প্রথম জাতীয় সংসদ

- বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। 
- সে সময় ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হলেও ১৫টি আসন সংরক্ষিত ছিল নারীদের জন্য।
- মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ প্রথম নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে জয়লাভ করেছিল। 
- স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচিত হয়েছিলেন ঢাকা-৬ আসন থেকে।
- তেজগাঁওয়ে অবস্থিত তখনকার জাতীয় সংসদ ভবনে ওই সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল ৭ এপ্রিল।

• দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন 
- প্রথম সংসদ নির্বাচনের প্রায় ৮ বছর পর দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি।
- সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে ওই নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ৩০টি৷ 
- সেই নির্বাচনে মাস ছয়েক আগে প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি ২০৭টি এবং আওয়ামী লীগ ৫৪টি আসনে জয় পেয়েছিল৷
- দ্বিতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ওই বছরের ২ এপ্রিল৷

• তৃতীয় সংসদ নির্বাচন
- বিএনপির বর্জনের মধ্যে তৃতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৮৬ সালের ৭ মে৷ সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দল জাতীয় পার্টি ১৫৩টি, আওয়ামী লীগ ৭৬টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১০টি আসনে জয় পায়।

• চতুর্থ সংসদ নির্বাচন
- তৃতীয় সংসদের দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয় এরশাদের শাসনামলে৷
- আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রায় সব দলের বর্জনের মধ্যে ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসনে জয় পেয়েছিল।
- সংরক্ষিত নারী আসন সংক্রান্ত আইনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই সংসদে মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩০০টি৷

• পঞ্চম সংসদ নির্বাচন
- পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থায় নতুন ধারায় প্রবেশ করে বাংলাদেশ।
- গণআন্দোলনে এরশাদের বিদায়ের পর তখনকার প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই নির্বাচন হয়।
- পঞ্চম সংসদে বিএনপি ১৪০টি, আওয়ামী লীগ ৮৮টি আর জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসনে জয়লাভ করে৷
 - এছাড়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ৩০ জন নারী সাংসদ নির্বাচিত হন৷
- তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি সংবিধানের অংশ না থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে পরের সংসদে সেটির বিল পাস করা হয়েছিল৷

• ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন 
- আওয়ামী লীগসহ অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দলের বর্জনের মধ্যে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি৷
- সে সময় ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২৭৮টিতে জয়লাভ করে৷ মাত্র চার কার্যদিবস সংসদ বসার পর তা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। 
- তার আগে সেই সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস হয়।

• সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
- এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। 
- সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি, বিএনপি ১১৬টি এবং জাতীয় পার্টি ৩২টি আসনে জয়লাভ করে৷
- পরে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ৷

• অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
- ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি ও চার দলীয় জোট সরকার। 
- ৩০০ আসনের ১৯৩টিতে বিএনপি আর ৬২টিতে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়৷

• নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে সবশেষ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। 
- সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ২৬৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে।
- দুই বছর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর আসা ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৩টি আসন পায়।
- নবম সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।

• দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
- এরপর বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের বর্জনের মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। 
- ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

• একাদশ সংসদ নির্বাচন
- ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোট হয়। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ ৩৯ দল অংশ নেয়। ৮০% ভোট পড়ে।
 - আওয়ামী লীগ ২৫৯টি আসন পেয়ে আবারও সরকার গঠন করে।  জাতীয় পার্টি পায় ২০টি আসন। ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাসদ ২টি, বিকল্প ধারা ২টি, তরীকত ফেডারেশন ১টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১টি আসন পায়।

• দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
- ২০২৪ সালের ০৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। 
- ১১ জানুয়ারি ২০২৪ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবারসহ পঞ্চমবারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। 

উৎস- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, জাতীয় দৈনিক পত্রিকা।
৬৪০.
‘গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়ণের ব্যবস্থা’ বিষয়টিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ১৫
  2. অনুচ্ছেদ ১৬
  3. অনুচ্ছেদ ১৭
  4. অনুচ্ছেদ ১৮
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৬
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ সংবিধানের ১৬ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু: গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য দূর করার জন্য গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়ন, কৃষি বিপ্লব, এবং কুটির শিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশসহ গ্রামাঞ্চলে আমূল রূপান্তরসাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।" 

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।
- সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৪১.
কোন সাংবিধানিক পদটি কার্যকর নয় -
  1. ক) ন্যায়পাল
  2. খ) স্পিকার
  3. গ) এটর্নি জেনারেল
  4. ঘ) সবগুলোই কার্যকর
সঠিক উত্তর:
ক) ন্যায়পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ন্যায়পাল
ব্যাখ্যা
সংবিধানে যে সব পদ সম্পর্কে বলা হয়েছে সেগুলোকে সাংবিধানিক পদ বলা হয়। সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল সম্পর্কে বলা হয়েছে। ১৯৮০ সালে ন্যায়পাল নিয়োগ ও তার দায়িত্ব নির্ধারণ করে আইন প্রণয়ন করা হলেও এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সংবিধানের ৬৪ নং অনুচ্ছেদে এটর্নি জেনারেল, ৭৪ নং অনুচ্ছেদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে।
উৎসঃ সহজ ভাষায় বাংলাদেশ সংবিধান : আরিখ খান।
৬৪২.
বাংলাদেশের সংবিধানে কত ধরণের মালিকানার কথা বলা আছে?
  1. ৪ ধরণের
  2. ৫ ধরণের
  3. ২ ধরণের 
  4. ৩ ধরণের
সঠিক উত্তর:
৩ ধরণের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ধরণের
ব্যাখ্যা

মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশের সংবিধানে তিন ধরণের মালিকানার কথা বলা আছে।
- সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই মালিকানাগুলো হলো:
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা
২. সমবায় মালিকানা
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা

সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৪৩.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে 'চলাফেরার স্বাধীনতা'র কথা বলা হয়েছে?
  1. ৩৬ নং অনুচ্ছেদে
  2. ৩৮ নং অনুচ্ছেদে
  3. ৩৯ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৩৭ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
৩৬ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৬ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে চলাফেরার স্বাধীনতা।

• সংবিধানের অনুচ্ছেদ - ৩৬: চলাফেরার স্বাধীনতা: 
জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ- সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।

• অন্যদিকে: 
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সমাবেশে স্বাধীনতা।
- ৩৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সংগঠনের স্বাধীনতা।
- ৩৯ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা।

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৪৪.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ক) ২১ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ১৯ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ২৮ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯ নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের জন্যে সুযোগের সমতা সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
• ১৯(৩) নং দফায় জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে,
• ২১ নং অনুচ্ছেদ : নাগরিক ও সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য।
• ২৭ নং অনুচ্ছেদ : আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
• ২৮ নং অনুচ্ছেদ : ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান।
৬৪৫.
সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বিষয়বস্তু কী?
  1. নারী আসন বৃদ্ধি
  2. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার প্রবর্তন
  3. পররাষ্ট্র নীতি সম্প্রসারণ
  4. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের প্রথম সংশোধনী:
-  ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহিত হয়।
- এটি উত্থাপন করেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী শ্রী মনোরঞ্জন ধর।

- এর বিষয়বস্তু ছিলো যুদ্ধাপরাধীসহ গণবিরোধীদের বিচারের বিধান সন্নিবেশন করা।
- এতে সংবিধানের ৪৭ নং অনুচ্ছেদে সংশোধন আনা হয় যেখানে ৪৭-ক নামে নতুন একটি অনুচ্ছেদ নতুন দফা যুক্ত করা হয়।

• সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের সংশোধন।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান (অতঃপর "সংবিধান” বলিয়া অভিহিত)-এর ৪৭ অনুচ্ছেদে (২) দফার পর নিম্নরূপ নূতন দফা যুক্ত হইবে:

- “(৩) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দন্ডদান করিবার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হইয়াছে বলিয় গণ্য হইবে না।"।

• ৪৭(ক) অনুচ্ছেদ সংযোজন।
- সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ৪৭৩। সংবিধানে নূতন অনুচ্ছেদের পর নিম্নরূপ নূতন ৪৭ক অনুচ্ছেদ সংযোজিত হইবে:
"৪৭(ক)। সংবিধানের কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা।-(১) যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোন আইন প্রযোজ্য হয়, সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ, ৩৫ অনুচ্ছেদের (১) ও (৩) দফা এবং ৪৪ অনুচ্ছেদের অধীন নিশ্চয়কৃত অধিকারসমূহ প্রযোজ্য হইবে না।
(২) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোন আইন প্রযোজ্য হয়, এই সংবিধানের অধীন কোন প্রতিকারের জন্য সুপ্রীম কোর্টে আবেদন করিবার কোন অধিকার সেই ব্যক্তির থাকিবে না।"।


উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান ।

৬৪৬.
সংবিধানের ২য় সংশোধনী কবে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় সংশোধনী:

- দ্বিতীয় সংশোধনীটি উত্থাপিত হয় ১৯৭৩ সালের ১৮ সেপ্টম্বর।
- সংশোধনীটি গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।
- সংশোধনীটি অনুমোদিত হয় ২২ সেপ্টম্বর ১৯৭৩ সালে।
- 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান সংবিধানের ২য় সংশোধনীতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
- সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধন আইন দ্বারা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমণে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে 'জরুরি অবস্থা' ঘোষণার বিধান চালু করা হয়।
- এছাড়াও, নিবর্তনমূলক আটক ও জরুরী অবস্থার সময় মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ সংযোজন করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হতে কোন খেতাব গ্রহণ করতে পারবে না?
  1. ২১ নং অনুচ্ছেদ
  2. ২২ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৪ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩০ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৩০ নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৩০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:
- রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হতে কোন উপাধি, খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করবেন না।

অন্যদিকে,
- ২১নং অনুচ্ছেদ : নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য।
- ২২নং অনুচ্ছেদ : নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ।
- ২৪নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৪৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদটি নাগরিকদের বাক্-স্বাধীনতা সম্পর্কিত?
  1. ক) অনুচ্ছেদ - ৩৬
  2. খ) অনুচ্ছেদ - ৩৯
  3. গ) অনুচ্ছেদ - ৩৭
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ - ৩৮
সঠিক উত্তর:
খ) অনুচ্ছেদ - ৩৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুচ্ছেদ - ৩৯
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের,
- ৩৯ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
- ৩৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- চলাফেরার স্বাধীনতা।
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সমাবেশে স্বাধীনতা।
- ৩৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সংগঠনের স্বাধীনতা।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান
৬৪৯.
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ সংবিধানের কোন তফসিলে উল্লেখ রয়েছে?
  1. চতুর্থ
  2. পঞ্চম
  3. ষষ্ঠ
  4. সপ্তম
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৩টি তফসিল যুক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭ টি তফসিল রয়েছে।
- প্রথম তফসিল – অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল – রাষ্টপতি নির্বাচন।
- তৃতীয় তফসিল – শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল – ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবালী।
- পঞ্চম তফসিল – ১৯৭১সালের ৭মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল -১৯৭১সালের ২৫মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল- ১০এপ্রিল ১৯৭১ এর মুজিবনগর সরকারের জারিকৃ্ত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস:-  বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৫০.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ৯৪ নং
  2. ৯৫ নং
  3. ১২২ নং
  4. ১২৩ নং
সঠিক উত্তর:
৯৪ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৪ নং
ব্যাখ্যা

সুপ্রিম কোর্ট:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

অন্যদিকে -
- সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন।

উৎস: i) সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৫১.
সংবিধান অনুযায়ী কোনটির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুসরণে বাধ্য নয়?
  1. জরুরি অবস্থা জারি
  2. সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া
  3. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করে থাকেন।
- জরুরি অবস্থা জারি, সংসদ অধিবেশন আহবান, স্থগিত বা ভঙ্গ করা, প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত মন্ত্রীসভার অন্যান্য সদস্যের নিয়োগ সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ গ্রহণ করে থাকেন।
- সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুসরণে বাধ্য নয়।

(সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান ও বাংলাপিডিয়া)

৬৫২.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়-
  1. ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭২ সালের ৮ নভেম্বর 
  3. ১৯৭২ সালের ৪ অক্টোবর
  4. ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর
ব্যাখ্যা

• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান প্রবর্তিত হয় — ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।

- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালরে ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৫৩.
গণ পরিষদ বিলুপ্ত করা হয় কবে?
  1. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  2. ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  3. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  4. ২১ ডিসেম্বর, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
গণপরিষদ এবং অস্থায়ী সংবিধান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তারিখ:
- অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করা হয় ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয় - ২৩ মার্চ, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে -১০ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে। ঐদিন গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশন বসে - ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান কমিটি গঠন করা হয় ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- শাসনতন্ত্র  কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছিলো - ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- কমিটির শেষ বৈঠক এবং খসড়া সংবিধান অনুমোদন - ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন - ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানে খসড়া সংবিধান গৃহীত - ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধানে স্বাক্ষর - ১৪, ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান কার্যকর, গণপরিষদ বিলুপ্ত - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৫৪.
সংবিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিকগণ কী নামে পরিচিত হবেন?
  1. বাংলাদেশী
  2. বাংলাদেশী নাগরিক
  3. বাঙ্গালী
  4. নাগরিক
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নাগরিকতা:
- বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকত্ব আইনের ৬নং ধারা, ১৯৫১ সালে আইন এবং ১৯৮৫ সালের অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকতা অর্জন ও বিলোপ নির্ধারিত হয়।

⇒ সংবিধানের ১ম ভাগের প্রজাতন্ত্র ৬ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকত্ব
- ৬ (১) নং বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে।
- ৬ (২) নং বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিত হবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৫৫.
'মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ' বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪১
  2. অনুচ্ছেদ ৪২
  3. অনুচ্ছেদ ৪৩
  4. অনুচ্ছেদ ৪৪
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৪৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৪৪
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৭ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৯ - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৫ - শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৫৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ ন্যায়পাল সম্পর্কিত?
  1. অনুচ্ছেদ ৬৭
  2. অনুচ্ছেদ ৭৭
  3. অনুচ্ছেদ ৮৭
  4. অনুচ্ছেদ ৯৭
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৭৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৭৭
ব্যাখ্যা
ন্যায়পাল:
৭৭। (১) সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করিতে পারিবেন।

ন্যায়পাল পদের মূল উদ্দেশ্য:
- সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের সমতা, সততা ও স্বচ্ছতা বিধান এবং
- সুনির্দিষ্টভাবে প্রশাসনের যে কোনো ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের গতিবিধির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ।

• Ombudsman শব্দের বাংলা ন্যায়পাল করা হয়েছে।
• ন্যায়পাল এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের ক্ষমতার রাশ টেনে ধরা সম্ভব হয় অর্থাৎ তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৫৭.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশন গঠিত হয়?
  1. ১৩৭ অনুচ্ছেদ 
  2. ১৩৮ অনুচ্ছেদ 
  3. ১১১ অনুচ্ছেদ
  4. ১৩৯ অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
১৩৭ অনুচ্ছেদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৭ অনুচ্ছেদ 
ব্যাখ্যা

 • বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রধানত বিভিন্ন সরকারি চাকুরি ও পদে নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- সংস্থাটি সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও আপিলের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়োগ প্রদান করেন।
- সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।

• বাংলাদেশের সংবিধানের পাঁচটি অনুচ্ছেদ সংবলিত একটি অধ্যায়ে কমিশনের গঠনপ্রণালী ও কার্যাবলি নির্দেশিত হয়েছে:
- ১৩৭ নং: সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা।
- ১৩৮ নং: সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ।
- ১৩৯ নং: সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ।
- ১৪০ নং: সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব।
- ১৪১ নং: সরকারি কর্ম কমিশন বার্ষিক রিপোর্ট কিভাবে জমা দিবে তার কথা উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে,
১১১ অনুচ্ছেদ হলো:  সুপ্রীম কোর্টের রায়ের বাধ্যতামূলক কার্যকরতা।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।

৬৫৮.
সংবিধানের প্রস্তাবনা অনুসারে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে বলা হয়েছে -
  1. ক) স্বাধীনতা যুদ্ধ
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম
  4. ঘ) স্বাধীনতার সংগ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতেই বলা হয়েছে -
''আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষনা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;''।
- উল্লেখ্য, সামরিক শাসনকালে (১৯৭৫ - ১৯৯১) সংবিধানের এই অংশটুকু পরিবর্তন করা হয়েছিলো।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ''জাতীয় স্বাধীনতার ঐতিহাসিক যুদ্ধ'' এর পরিবর্তে বাহাত্তরের সংবিধানের সাথে মিল রেখে ''জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম'' প্রতিস্থাপিত হয়।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৫৯.
বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার আগে কতটি অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান ছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
 - ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান।
- ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন।
- এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান।
- তাই বলা যায় যে, বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার আগে দুইটি অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান ছিল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৬০.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত চুক্তির অনুমোদন করা হয়?
  1. দ্বিতীয়
  2. তৃতীয়
  3. চতুর্থ
  4. পঞ্চম
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনী:
- সংবিধানের এ সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৪ সালের ২৩ নভেম্বর।
- এ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন করা হয়।
- ভারতের কিছু অংশ বাংলাদেশে আসবে এবং বাংলাদেশের কিছু অংশ ভারতে আসবে- এ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্যই তৃতীয় সংশোধনী আনা হয়।

এছাড়াও,
⇒ দ্বিতীয় সংশোধনী: এই সংশোধনীর দ্বারা দেশে 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান করা হয়। ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এটি পাস হয়। এই সংশোধনীতে সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বিনা বিচারে যে কাউকে আটকের বিধান করা হয়। মূলত এ সংশোধনীর মাধ্যমে শাসন বিভাগ তথা নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এ সশোধনীর মূল কথা হলো "যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ অথবা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ দ্বারা বাংলাদেশ বা এর যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন হবার আশঙ্কা দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন। এ ধরনের ঘোষণার বৈধতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। জরুরি অবস্থা ঘোষণা পরবর্তী কোন ঘোষণার দ্বারা প্রত্যাহার করা হবে অথবা জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হবে কিংবা ১২০ দিন অতিবাহিত হবার পূর্বে সংসদের প্রস্তাব দ্বারা অনুমোদিত না হলে তা কার্যকর হবে না। জরুরি অবস্থা চলাকালীন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার স্থগিত থাকবে। এ সংবিধানে আরো উল্লেখ করা হয়, এ জরুরি অবিস্থায় গ্রেফতার ও আটকাদেশ সম্পর্কিত বিধানের অবসান ঘটবে।

⇒ চতুর্থ সংশোধনী: ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এ সংশোধনীর মাধ্যমেই বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হয়। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু করা; একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা; রাষ্ট্রপতি ও সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রপতি অপসারণ পদ্ধতি জটিল করা; সংসদকে একটি ক্ষমতাহীন বিভাগে পরিণত করা; মৌলিক অধিকার বলবৎ করার অধিকার বাতিল করা; বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করা ও উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করা হয়।
- ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাতিল হয়ে যায়।

⇒ পঞ্চম সংশোধনী: জাতীয় সংসদে এ সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। পঞ্চম সংশোধনী সংবিধানে কোনো বিধান সংশোধন করেনি। এ সংশোধনী ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্টে সামরিক শাসন জারির পর থেকে ৯ এপ্রিল ১৯৭৯ পর্যন্ত সামরিক শাসনামলের সব আদেশ, ঘোষণা ও দণ্ডাদেশ বৈধ বলে অনুমোদন করে। এ সংশোধনীটি উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
৬৬১.
মন্ত্রীদের দ্বারা উত্থাপিত বিলকে কোন ধরনের বিল বলা হয়?
  1. ক) বেসরকারি বিল
  2. খ) আর্থিক বিল
  3. গ) জাতীয় বিল
  4. ঘ) সরকারি বিল
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরকারি বিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরকারি বিল
ব্যাখ্যা

• আইনের প্রাথমিক প্রস্তাবকে সংসদীয় ভাষায় বিল বলা হয়।
• আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়।
• জাতীয় সংসদে উত্থাপিত আইনের খসড়াকে বিল বলে।
• বিল দুই প্রকার। যথা- সরকারি বিল ও বেসরকারি বিল।

সরকারি বিল
• সরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ৭ দিন সময়।
• যে বিল মন্ত্রীদের দ্বারা উত্থাপিত হয় তাকে সরকারি বিল বলে

বেসরকারি বিল

• যে বিল সাধারণ সংসদ সদস্যদের দ্বারা উত্থাপিত হয় তাকে বেসরকারি বিল বলে।
• বেসরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ১৫ দিনের নোটিশ প্রয়োজন হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং সংসদ সচিবালয়।

৬৬২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জরুরী-অবস্থা ঘোষণার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪১(ক)
  2. অনুচ্ছেদ ১৪১(খ)
  3. অনুচ্ছেদ ১৪২(ক)
  4. অনুচ্ছেদ ১৪২(খ)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৪১(ক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৪১(ক)
ব্যাখ্যা

- অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪২ -  সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- অনুচ্ছেদ ১৫১ - রহিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৫২ - ব্যাখ্যা।
- অনুচ্ছেদ ১৫৩ - প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৬৩.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. স্পিকার
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. উপরাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর:
স্পিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পিকার
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৫৪ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে-
“রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।”
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
৬৬৪.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির মোট সদস্য ছিল -
  1. ৩১ জন
  2. ৩২ জন
  3. ৩৩ জন
  4. ৩৪ জন
সঠিক উত্তর:
৩৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৪ জন
ব্যাখ্যা
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:
- ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- আওয়ামী লীগ ছাড়া একমাত্র সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৬৬৫.
বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা কে ঘোষণা করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. মন্ত্রিসভা
  4. জাতীয় সংসদ
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
জরুরি অবস্থা (Emergency):
- বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা (Emergency) ঘোষণা সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যা সাধারণত দেশের নিরাপত্তা বা স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪১(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
- বাংলাদেশের নিরাপত্তা, যুদ্ধ বা বাহ্যিক আক্রমণ, বা অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা (যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত) সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
- তবে এরূপ ঘোষণার পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।
- জরুরি অবস্থার সময়কালে রাষ্ট্রপতি কিছু সাংবিধানিক অধিকার স্থগিত করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৬৬.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে দ্বিতীয় তফসিল বিলুপ্ত করা হয়?
  1. ক) ষষ্ঠ সংশোধনী
  2. খ) সপ্তম সংশোধনী
  3. গ) চতুর্থ সংশোধনী
  4. ঘ) পঞ্চম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
গ) চতুর্থ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চতুর্থ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• তফসিল ও সংশোধনী:
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭ টি তফসিল রয়েছে।
- এর মধ্যে দ্বিতীয় তফসিলের বিষয়বস্তু হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যা ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী আইনের ৩০ নং ধারা বলে বিলুপ্ত করা হয়।
- ১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানে চারটি তফসিল ছিলো।
- ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ৫ম, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম তফসিল সংবিধানে যুক্ত করা হয়।

উৎস:বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৬৭.
বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগের বিষয়বস্তু- 
  1. বিচার বিভাগ
  2. মৌলিক অধিকার
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. কর্ম কমিশন
সঠিক উত্তর:
নির্বাহী বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাহী বিভাগ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

৬৬৮.
বাংলাদেশ মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক পদে নিয়োগ দেন কে?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) ন্যায়পাল
  3. গ) অর্থমন্ত্রী
  4. ঘ) প্রধানমন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
ক) রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অষ্টম ভাগের অনুচ্ছেদ ১২৭(১) অনুযায়ী বলা আছে, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক  পদের  নিয়োগদান দানের কথা।
- বাংলাদেশের একজন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক  থাকবেন এবং তাঁকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করবেন। 
- অনুচ্ছেদ ১২৭(২) অনুযায়ী বলা আছে, এই সংবিধান ও সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা নির্ধারণ করিবেন.

উৎস:- বাংলাদেশ সংবিধান।
৬৬৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের বিধান চালু করা হয়?
  1. ৪র্থ সংশোধনী
  2. ৭ম সংশোধনী
  3. ৬ষ্ঠ সংশোধনী
  4. ৯ম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
৯ম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

◉ ১৯৮৯ সালে গৃহীত ৯ম সংশোধনীর মাধ্যমে  উপরাষ্ট্রপতি পদে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের বিধান চালু করা হয়।

নবম সংশোধনী আইন:
- সংবিধান আইন, ১৯৮৯ (নবম সংশোধনী) পাস হয় ১৯৮৯ সালের জুলাই মাসে।
- এই সংশোধনী দ্বারা রাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের বিধান করা হয়; রাষ্ট্রপতির পদে একই ব্যক্তির দায়িত্ব পালন পর পর দুই মেয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয় (প্রতি মেয়াদকাল ৫ বছর)।
- এই সংশোধনীতে আরও বলা হয় যে, শূন্যতা সৃষ্টি হলে একজন উপ-রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা যেতে পারে, তবে সেই নিয়োগের পক্ষে জাতীয় সংসদের অনুমোদন আবশ্যক হবে।

এছাড়াও, 
প্রথম সংশোধনী: সংবিধানের প্রথম সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে।
দ্বিতীয় সংশোধনী: ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সংশোধনী আনা হয়।
তৃতীয় সংশোধনী: মূলত ভারত ও বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণী একটি চুক্তি বাস্তবায়ন করার জন্য ১৯৭৪ সালের ২৩ নভেম্বর এ সংশোধনী আনা হয়।
চতুর্থ সংশোধনী: ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এ সংশোধনীর মাধ্যমেই বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হয়।
পঞ্চম সংশোধনী: জাতীয় সংসদে এ সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল।
ষষ্ঠ সংশোধনী: ১৯৮১ সালের ১০ জুলাই এ সংশোধনী আনা হয়। 
সপ্তম সংশোধনী: ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সপ্তম সংশোধনী আনা হয়।
অষ্টম সংশোধনী: ১৯৮৮ সালের ৯ জুন সংবিধানে অষ্টম সংশোধনী আনা হয়। 
নবম সংশোধনী: নবম সংশোধনী আনা হয় ১৯৮৯ সালের ১১ জুলাই। 
দশম সংশোধনী: ১৯৯০ সালের ১২ জুন দশম সংশোধনী বিল পাস হয়। 
একাদশ সংশোধনী: গণঅভ্যুত্থানে এইচ এম এরশাদের পতনের পর বিচারপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে ১৯৯১ সালে এ সংশোধনী পাস হয়। 
দ্বাদশ সংশোধনী: ১৯৯১ সালের এ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৭ বছর পর দেশে পুনরায় সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
ত্রয়োদশ সংশোধনী: ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়।
চতুর্দশ সংশোধনী: ২০০৪ সালের ১৬ মে এ সংশোধনী আনা হয়। 
পঞ্চদশ সংশোধনী: ২০১১ সালের ৩০ জুন এ সংশোধনী আনা হয়। 
ষোড়শ সংশোধনী: উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা আইন প্রণেতাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন পাস হয় ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর।
সপ্তদশ সংশোধনী: ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি আনা হয় সপ্তদশ সংশোধনী। 

উৎস:
১। বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
২। বাংলাপিডিয়া। 

৬৭০.
কোন সংশোধনীর ফলে ১৯৭৫ সালের 'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' সাংবিধানিক বৈধতা পায়?
  1. নবম সংশোধনী
  2. সপ্তম সংশোধনী
  3. ষষ্ঠ সংশোধনী
  4. পঞ্চম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• পঞ্চম সংশোধনী:
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় - পঞ্চম সংশোধনী আইন।
- এই আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত যে সকল সামরিক বিধি, সংবিধান সংশোধন সহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করা হয় সেগুলো সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী হিসেবে কাজ করা হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তিত হয় এবং সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সন্নিবেশিত হয় ।
- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথম বারের মতো বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতি থেকে সরে আসে।
- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংশোধন করায় এই সংশোধনীকে 'First distortion of Constitution' বলা হয়।
- এই সংশোধনীর ফলে ১৯৭৫ সালের 'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' সাংবিধানিক বৈধতা পায়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধানের ইতিহাস - আরিফ খান।
৬৭১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জনগণের সেবা করাকে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্তব্য হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. ২০নং 
  2. ১৯(১)নং 
  3. ২১নং 
  4. ২২নং 
সঠিক উত্তর:
২১নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১নং 
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ: ২১ - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য: 
(১) সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য৷  
(২) সকল সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য। 

অন্যদিকে,
- ১৯(১) নং অনুচ্ছেদ : সকল নাগরিকের জন্যে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন।
- ২২ নং অনুচ্ছেদ : নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- ২০ নং অনুচ্ছেদ : অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৬৭২.
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি
  2. জরুরি অবস্থার ঘোষণা
  3. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
  4. আন্তর্জাতিক চুক্তি
সঠিক উত্তর:
সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদের মূল বিষয়বস্তু হলো সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি।
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। 

⇒ ১৪২ নং অনুচ্ছেদ:
- এই সংবিধানে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও—
(ক) সংসদের আইন দিয়ে এই সংবিধানের যেকোনো অংশ যোগ করা, বদলানো, নতুন করে লেখা বা বাদ দেওয়ার মাধ্যমে সংশোধিত হতে পারবে:
তবে শর্ত আছে যে,
(অ) এমন সংশোধনির জন্য আনা কোনো বিলের পুরো শিরোনামে এই সংবিধানের কোনো অংশ সংশোধন করা হবে বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে সেই বিলটি আলোচনার জন্য গ্রহণ করা যাবে না;
(আ) সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস না হলে এমন কোনো বিল রাষ্ট্রপতির কাছে সম্মতির জন্য পাঠানো যাবে না;
(খ) উপরোক্ত উপায়ে কোনো বিল পাস হয়ে সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হলে, পাঠানোর সাত দিনের মধ্যে তিনি সেই বিলে সম্মতি দিতে হবে, এবং তিনি তা করতে না পারলে সেই সময়ের শেষে তিনি সম্মতি দিয়েছেন বলে গণ্য হবে।]

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৭৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১০
  2. অনুচ্ছেদ ১১
  3. অনুচ্ছেদ ১২
  4. অনুচ্ছেদ ১৩
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১২
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১০ - সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১১ - গণতন্ত্র ও মানবাধিকার।
- অনুচ্ছেদ ১২ - ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ১৩ - মালিকানার নীতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪ - কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৫ - মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।
- অনুচ্ছেদ ১৬ - গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- অনুচ্ছেদ ১৭ - অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- অনুচ্ছেদ ১৮ - জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- অনুচ্ছেদ ১৮(ক) - পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ১৯ - সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ২০ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৭৪.
কোনটি সাংবিধানিক পদ?
  1. ক) গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
  2. খ) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন 
  3. গ) চেয়ারম্যান, ঢাকা শিক্ষাবোর্ড 
  4. ঘ) মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাংবিধানিক পদসমূহঃ
- রাষ্ট্রপতি,
- প্রধানমন্ত্রী, 
- স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, 
- মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, 
- সংসদ সদস্য, 
- নির্বাচন কমিশনার,
- সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য, 
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি।

• অপরদিকে,
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, 
- দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান,
• বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ইত্যাদি সাংবিধানিক পদ নয়।
৬৭৫.
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকমিশনের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে সংবিধানের -
  1. ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৪০ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৪১ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
১৪০ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪০ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

নবম – অধ্যায়ঃ বাংলাদেশের কর্মবিভাগ

প্রথম পরিচ্ছেদ – কর্মবিভাগ

অনুচ্ছেদ নং -- বর্ণনা
অনুচ্ছেদ – ১৩৩ -- নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী
অনুচ্ছেদ – ১৩৪  -- কর্মের মেয়াদ
অনুচ্ছেদ – ১৩৫ -- অসামরিক সরকারী কর্মচারীদের বরখাস্ত প্রভৃতি
অনুচ্ছেদ - ১৩৬ -- কর্মবিভাগ-পুনর্গঠন

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ - সরকারী কর্ম কমিশন

অনুচ্ছেদ নং -- বর্ণনা
অনুচ্ছেদ – ১৩৭ -- কমিশন-প্রতিষ্ঠা
অনুচ্ছেদ – ১৩৮ -- সদস্য-নিয়োগ
অনুচ্ছেদ – ১৩৯ -- পদের মেয়াদ
অনুচ্ছেদ – ১৪০ -- কমিশনের দায়িত্ব
অনুচ্ছেদ - ১৪১ -- বার্ষিক রিপোর্ট

উৎসঃ Live MCQ স্পেশাল PDF (সিভিল সার্ভিস এবং মুজিব বর্ষ)
৬৭৬.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার চতুর্থ ভাগের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা
  2. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
  3. শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
  4. মূলনীতি গ্রহণ
সঠিক উত্তর:
সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
• ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৭৭.
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকদের 'বাংলাদেশী' হিসেবে পরিচয়ের স্বীকৃতি কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদে- ৬(১)
  2. অনুচ্ছেদে- ৭(১)
  3. অনুচ্ছেদে- ৬(২)
  4. অনুচ্ছেদে- ৭(২)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদে- ৬(২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদে- ৬(২)
ব্যাখ্যা

• নাগরিকত্ব:
- ৬(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। 
- ৬(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হবেন।

অন্যদিকে,
- ৭(১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে৷ 
 - ৭(২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে৷

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬৭৮.
বর্তমানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার কয়টি?
  1. ২৩টি
  2. ২৪টি
  3. ২৬টি
  4. ২৭টি
সঠিক উত্তর:
২৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬টি
ব্যাখ্যা
সিভিল সার্ভিস ক্যাডার:
- বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে তার প্রতিরূপ সংস্থাসমূহের - মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত মানব সম্পদ পরিকল্পনায় উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি জনপ্রশাসন ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভূমিকা পালন করছে।
- কর্ম কমিশন দেশব্যাপি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার - মাধ্যমে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করে।
- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার ২৬টি।
- বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে বিসিএস ইকোনমিক ক্যাডার একীভূত করার ব্যবস্থা নেওয়ায় এ দুটি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আগ্রহেই সিভিল সার্ভিসে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
- ফলে ১৯৮০ সালে অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে সৃষ্ট ইকোনমিক ক্যাডার এখন বিলুপ্ত।
- Services (Reorganization and Conditions) Act, 1975,এর ধারা ৪-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার এ পুনর্গঠন কাজ সুসম্পন্ন করেছে। 

তথ্যসূত্র - কর্ম কমিশনের ওয়েবসাইট।
৬৭৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তির উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫১
  2. অনুচ্ছেদ ৫২
  3. অনুচ্ছেদ ৫৩
  4. অনুচ্ছেদ ৫৪
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৫১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৫১
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৪৬ - দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৪৭ - কতিপয় আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ৪৭(ক) - সংবিধানের কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ৪৮ - রাষ্ট্রপতি।
- অনুচ্ছেদ ৪৯ - ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৮০.
বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠের বিধান রয়েছে কতটি পদের জন্য?
  1. ৭টি 
  2. ৮টি 
  3. ৯টি 
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৯টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি 
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে। 

বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিল: [১৪৮ অনুচ্ছেদ]
- শপথ ও ঘোষণা।

⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
১। রাষ্ট্রপতি [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
২। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। ডেপুটি স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৫। সংসদ সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
৬। প্রধান বিচারপতি বা বিচারক [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৭। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।
৮। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।
৯। সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। (Link) 

৬৮১.
বাংলাদেশের সংবিধানে অনুচ্ছেদ কতটি?
  1. ১৫১ ‍টি
  2. ১৫৩ ‍টি
  3. ১৪৭ ‍টি
  4. ১৫২ ‍টি
সঠিক উত্তর:
১৫৩ ‍টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৩ ‍টি
ব্যাখ্যা

• সংবিধান হল মৌলিক বিধানাবলির সমন্বয় একটি গঠনতন্ত্র যার উপর ভিত্তি করে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের পূর্ণ নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান।
- সংবিধান গণাপরিষদে গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- বাংলাদেশ সংবিধান কার্যকর হয়- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানের একটি প্রস্তাবনা আছে- বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
- সংবিধানের মূলনীতি- ৪টি।
- সংবিধানের তফসিল- ৭ টি।
- সংবিধানের ভাগ- ১১ টি।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ১৫৩ ‍টি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফুল ইসলাম।

৬৮২.
বাংলাদেশের সংবিধান কয়টি ভাষায় লিখিত?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- অর্থাৎ বাংলাদেশের বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকী হতে এটি কার্যকর হয়।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধান দুইটি ভাষায় লিখিত।
- এগুলো হলো বাংলা ও ইংরেজি।
- তবে ইংরেজি ও বাংলার মধ্যে অর্থগত বিরোধ দৃশ্যমান হলে বাংলা রূপ অনুসরণীয় হবে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৮৩.
অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করা হয় কখন?
  1. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
  2. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে
  3. ০২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে
  4. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
সংবিধান:

- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ই জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন।
- ২৩শে মার্চ বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
- তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান রচনা কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটি ১৭ই এপ্রিল তাদের প্রথম বৈঠকে বসে এবং ১২ই অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে।
- ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- তবে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৬৮৪.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয়?
  1. নবম সংশোধনী
  2. দশম সংশোধনী
  3. একাদশ সংশোধনী
  4. দ্বাদশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ সংশোধনী:
- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পাল্টিয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয় দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
- ১৯৯১ সালের ৬ই অগাষ্ট সংসদে সংশোধনীটি পাস হয়।

⇒ দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু:
• রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন।
• প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বা সরকার প্রধান হন।
• প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৬৮৫.
Which Article of Bangladesh Constitution mentions 'Annual Financial Statement'?
  1. ক) 87
  2. খ) 103
  3. গ) 99
  4. ঘ) 91
সঠিক উত্তর:
ক) 87
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 87
ব্যাখ্যা
- সংবিধান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ  আইন।  
- গ্ণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের এগারোটি ভাগ ও চারটি সিডিউলে বিন্যস্ত মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- ভাগগুলো হচ্ছে: প্রজাতন্ত্র, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, মৌলিক অধিকার, নির্বাহী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা, আইনসভা, আইন প্রণয়ন ও আর্থিক পদ্ধতি, অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা, বিচার বিভাগ, নির্বাচন, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশের কর্মবিভাগ, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, জরুরি বিধানাবলি, সংবিধান সংশোধন।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮৭অনুযায়ী বার্ষিক আর্থিক বিবৃতির কথা বলা হয়েছে। 
অন্যদিকে, 
অনুচ্ছেদ ১০৩ - আপিল বিভাগের এখতিয়ার।
অনুচ্ছেদ ৯৯ - বিচারকগ্ণের ক্ষমতা।
অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত ক্ষমতার মঞ্জুরি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৮৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
  2. স্বাধীনতার ঘোষণা
  3. শপথ ও ঘোষণা
  4. ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ
সঠিক উত্তর:
শপথ ও ঘোষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শপথ ও ঘোষণা
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
- তৃতীয় তফসিল:  শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ
- ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা (বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত)।
- সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (মুজিবনগর সরকার জারিকৃত)।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৮৭.
'বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট' এর প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) অনুচ্ছেদ ৯৬
  2. খ) অনুচ্ছেদ  ৯৫
  3. গ) অনুচ্ছেদ ৯৪
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ  ৯৩
সঠিক উত্তর:
গ) অনুচ্ছেদ ৯৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুচ্ছেদ ৯৪
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৯৪ : সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা
(১) "বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট" নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকবে এবং আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে তা গঠিত হবে। 
(২) প্রধান বিচারপতি যিনি "বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি" নামে অভিহিত হবেন এবং প্রত্যেক বিভাগে রাষ্ট্রপতি যেরূপ সংখ্যক বিচারক নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য বিচারক নিয়ে সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।
(৩) প্রধান বিচারপতি ও আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ কেবল উক্ত বিভাগে এবং অন্যান্য বিচারক হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করবেন।
(৪) প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারক বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন।

অন্যদিকে, 
• অনুচ্ছেদ  ৯৩ :  অধ্যাদেশপ্রণয়ন-ক্ষমতা।
• অনুচ্ছেদ  ৯৫ :  বিচারক-নিয়োগ।
• অনুচ্ছেদ ৯৬ : বিচারকের পদের মেয়াদ।  

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান। 
৬৮৮.
’বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট’ গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ- ৯৪
  2. অনুচ্ছেদ- ৬৬
  3. অনুচ্ছেদ- ৪৮
  4. অনুচ্ছেদ- ৬৪
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ৯৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ৯৪
ব্যাখ্যা

’বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট’:  
- অনুচ্ছেদ ৯৪(১) "বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট" নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকবে এবং আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ লইয়া তাহা গঠিত হবে।
- ৯৪(২) প্রধান বিচারপতি (যিনি "বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি" নামে অভিহিত হবেন) এবং প্রত্যেক বিভাগে আসনগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি যেরূপ সংখ্যক বিচারক নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য বিচারক লইয়া সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।- - ৯৪ (৩) প্রধান বিচারপতি ও আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ কেবল উক্ত বিভাগে এবং অন্যান্য বিচারক কেবল হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬৮৯.
সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক কে?
  1. হাইকোর্ট
  2. সুপ্রিমকোর্ট
  3. গণপরিষদ
  4. আইন মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
সুপ্রিমকোর্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপ্রিমকোর্ট
ব্যাখ্যা
সুপ্রিমকোর্ট সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক:
- নাগরিকের মৌলিক অধিকারের উপর সংসদ যে সমস্ত বাঁধা নিষেধ আরোপ করতে পারে সেগুলো যুক্তিসঙ্গত কিনা তা বিচার করবার ক্ষমতা সুপ্রীমকোর্টের উপর ন্যাস্ত।
- সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কিংবা তার নির্দেশক্রমে অন্য কোন বিচারক সুপ্রীম কোর্টের কর্মচারীদেরকে নিযুক্ত করবেন।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ অধ্যায়ে সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে আইনি বিধান রয়েছে। 

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯০.
'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন কে?
  1. ড. কামাল হোসেন
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
  4. এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- ১১ এপ্রিল ১৯৭২ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন।
- এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- শুধু 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে।
- ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
- তবে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- সবশেষে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৬৯১.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হতে কোন পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেনা?
  1. ২৪নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩০নং অনুচ্ছেদ
  3. ৩২নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩৪নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৩০নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ সংবিধানের ৩০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:
- রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হতে কোন উপাধি, খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করবেন না।

অন্যদিকে,
- ২৪নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন।
- ৩২নং অনুচ্ছেদ : জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
- ৩৪নং অনুচ্ছেদ : জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৯২.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হয়?
  1. একাদশ সংশোধনী
  2. দ্বাদশ সংশোধনী
  3. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. চতুর্দশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• দ্বাদশ সংশোধনী:
- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পাল্টিয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয় দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
- ১৯৯১ সালের ৬ই অগাষ্ট সংসদে সংশোধনীটি পাস হয়।

» দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু:
১. রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন।
২. প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বা সরকার প্রধান হন।
৩. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।

৬৯৩.
সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয় সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ - ৬৪
  2. খ) অনুচ্ছেদ - ৬৫
  3. গ) অনুচ্ছেদ - ৬৮
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ - ৫৫
সঠিক উত্তর:
খ) অনুচ্ছেদ - ৬৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুচ্ছেদ - ৬৫
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ৬৫ঃ সংসদ প্রতিষ্ঠা -- (১) ''জাতীয় সংসদ'' নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হইতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করিবে না।
৬৯৪.
Who is the President of the National Assembly of Bangladesh?
  1. ক) A Senior SP
  2. খ) Prime Minister
  3. গ) Speaker
  4. ঘ) Chief Whip
  5. ঙ) None
সঠিক উত্তর:
গ) Speaker
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Speaker
ব্যাখ্যা
সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সভাপতি (প্রেসিডেন্ট) স্পিকার।
আর অধিবেশন আহ্বান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের নেতা।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৯৫.
সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  4. স্পীকার
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
• সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী রাষ্ট্রপতি। 

- ৪৮। (১) বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।
         (২) রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁহাকে প্রদত্ত ও তাঁহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন।

        (৩) এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন:
 তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।
 
 সূত্র : বাংলাদেশ সংবিধান।
৬৯৬.
’প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কিত তথ্য’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ-১০২
  2. অনুচ্ছেদ-১০৮
  3. অনুচ্ছেদ-১১৯
  4. অনুচ্ছেদ-১১৭
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-১১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-১১৭
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ-১১৭: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ।
- অনুচ্ছেদ-১১৭(১) ইতঃপূর্বে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমুহ সম্পর্কে বা ক্ষেত্রসমুহ হইতে উদ্ভূত বিষয়াদির উপর এখতিয়ার প্রয়োগের জন্য সংসদ আইনের দ্বারা এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত করিতে পারিবেনঃ
- (ক) নবম ভাগে বর্ণিত বিষয়াদি এবং অর্থদণ্ড বা অন্য দণ্ডসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মের শর্তাবলী;
- (খ) যে কোন রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোগ বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের চালনা ও ব্যবস্থাপনা এবং অনুরূপ উদ্যোগ বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষে কর্মসহ কোন আইনের দ্বারা বা অধীন সরকারের উপর ন্যস্ত বা সরকারের দ্বারা পরিচালিত কোন সম্পত্তির অর্জন, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও বিলি-ব্যবস্থা;
- (গ) যে আইনের উপর এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের 1[(৩)] দফা প্রযোজ্য হয়, সেইরূপ কোন আইন।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ-১০২। কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা;
- অনুচ্ছেদ-১০৮। "কোর্ট অব রেকর্ড" রূপে সুপ্রীম কোর্ট;
- অনুচ্ছেদ-১১৯। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬৯৭.
বাংলাদেশের সংবিধান কবে কার্যকর হয়?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
সংবিধান প্রণয়ন: 
- ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ The Constituent Assembly of Bangladesh Order, 1972 জারি করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের ১ম বৈঠক আহ্বান করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এই কমিটি বিভিন্ন সময়ে বৈঠক করে।
- ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করা হয়।
- সুদীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

উৎস: তথ্য অধিদফতর, জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৬৯৮.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ২৯ (২)
  2. ২৮ (২)
  3. ৩৯ (১)
  4. ৩৯ (২)
সঠিক উত্তর:
২৮ (২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৮ (২)
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায় হচ্ছে - মৌলিক অধিকার বিষয়ক।
- এই অধ্যায়ের অন্তর্গত ২৮ (২) অনুচ্ছেদটি নারী-পুরুষের সমতা বিষয়ক।

অনুচ্ছেদ - ২৮: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য - 
(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।
(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।
(৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

অন্যদিকে,
অনুচ্ছেদ - ২৯ (২): 
কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।

অনুচ্ছেদ - ৩৯ (১): 
চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।

অনুচ্ছেদ - ৩৯ (২): 
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৯৯.
জনগণের মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিলের বিষয়ে বলা হয়েছে বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ২৬নং অনুচ্ছেদ
  2. ২৭নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৮নং অনুচ্ছেদ
  4. ২৯নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
২৬নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।

সংবিধানের ২৬ নং অনুচ্ছেদ: মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- সংবিধানের তৃতীয় ভাগ মৌলিক অধিকরের শুরুতেই ২৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন করা যাবে না।
- আর যদি করা হয়, তবে তা স্বতঃসিদ্ধভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী পূর্বেকার সকল আইন সাংবিধানিকভাবে অবৈধ।

অন্যদিকে: 
২৭নং অনুচ্ছেদ - আইনের দৃষ্টিতে সমতা। 
২৮নং অনুচ্ছেদ -  ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
২৯নং অনুচ্ছেদ - সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান। 

৭০০.
সংবিধানের কোন সংশোধনীটি হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল ঘোষিত হয়নি?
  1. ক) ষোড়শ সংশোধনী
  2. খ) সপ্তম সংশোধনী
  3. গ) দ্বাদশ সংশোধনী
  4. ঘ) ত্রয়োদশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বাদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বাদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭টি সংশোধনী আনা হয়
• এর মধ্যে চারটি সংশোধনী হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল ঘোষিত হয়েছে। এগুলো হলো:-
১। পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯) : বাতিল (আগস্ট ২০০৫)
২। সপ্তম সংশোধনী (১৯৮৬) : বাতিল (আগস্ট ২০১০)
৩। ত্রয়োদশ সংশোধনী (১৯৯৬) : বাতিল (২০১১)
৪। ষোড়শ সংশোধনী (২০১৪) : বাতিল (২০১৭)।

অন্যদিকে,  
সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী
• শিরোনাম - সংবিধান [দ্বাদশ সংশোধন] আইন, ১৯৯১।
• উত্থাপনকারী - তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
• সংসদে পাশের তারিখ - ৬ আগস্ট, ১৯৯১।

বিষয়বস্তু সমূহ:
• রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন।
• উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী পদগুলো বাতিল ঘোষণা।

উল্লেখ্য যে,  দ্বাদশ সংশোধনীকে চতুর্থ সংশোধনীর বিপরীত সংশোধনী বলা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।