বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা / ২৪ · ৫০১৬০০ / ২,৩৩১

৫০১.
সদস্যদের আসন শূন্য হওয়ার শর্তাবলী বর্ণিত আছে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে?
  1. ৬৭(১)
  2. ৭০
  3. ৭৩
  4. ৭৬
সঠিক উত্তর:
৬৭(১)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭(১)
ব্যাখ্যা
• সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া:
৬৭। (১) কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি

(ক) তাঁহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন;
(খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
(গ) সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়;
(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হইয়া যান; অথবা
(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
(২) কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকিলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হইতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হইবে।

অন্যদিকে,
- ৭০। রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।
- ৭৩। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- ৭৬। সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৫০২.
গণপরিষদ আদেশ কোন তারিখ থেকে কার্যকর ধরা হয়?
  1. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  2. ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ
  3. ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ
  4. ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান রচনার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন।
- এ আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ধরে নেয়া হয়।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- আইনের দৃষ্টিতে অযোগ্য বলে বিবেচিত এমন ব্যক্তিকে গণপরিষদের সদস্য হতে পারতেন না।
- গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৪০৩ জন।
- বহিস্কৃত ও পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য পোষণকারী সদস্যরা গণপরিষদের সদস্য পদ লাভে অযোগ্য ছিলেন।
- সংবিধান প্রণয়নই ছিল গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য।
- এই আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়।
- আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টি বঙ্গবন্ধুকে গণপরিষদের দলীয় নেতা নির্বাচন করে।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান রচনা ও গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
- গণপরিষদের প্রথম স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার যথাক্রমে শাহ আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ উল্লাহ।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন আবু সাদাত মো. সায়েম।

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৩.
কোন তারিখে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে?
  1. ২৩ মার্চ, ১৯৭২
  2. ১০ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. ১২ মে, ১৯৭২
  4. ১৪ এপ্রিল, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
গণপরিষদ:
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে- ১০  এপ্রিল ১৯৭২
গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর ১৯৭২।
সংবিধান গৃহীত হয় -৪ নভেম্বর ১৯৭২।
কার্যকর হয় -১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন- ড. কামাল হোসেন।   
গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ আব্দুল হামিদ।
গণ পরিষদের  ডেপুটি স্পিকার  ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগী।
সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন-৩৪ জন
একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  সংবিধান  অধিবেশন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৪.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য কে ছিলেন?
  1. রাজিয়া সুলতানা
  2. রাজিয়া মরিয়ম
  3. রাজিয়া বানু
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
রাজিয়া বানু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজিয়া বানু
ব্যাখ্যা

সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:
- ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- বিরোধী দলীয় একমাত্র সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। -
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৫০৫.
Article 2 of the Constitution of Bangladesh discusses which of the following issues?
  1. National anthem, flag and emblem
  2. The capital
  3. The territory of the Republic
  4. The state language
  5. The state religion
সঠিক উত্তর:
The territory of the Republic
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The territory of the Republic
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদ -
১ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্র,
২ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা,
২ক নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রধর্ম,
৩ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রভাষা,
৪ নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীক,
৪ক নং অনুচ্ছেদ: জাতির পিতার প্রতিকৃতি,
৫ নং অনুচ্ছেদ: রাজধানী,
৬ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকত্ব,
৭ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের প্রাধান্য,
৭ক নং অনুচ্ছেদ: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ, 
৭খ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫০৬.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, কার সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবেনা?
  1. রাষ্ট্রপতির
  2. সুপ্রিমকোর্টের
  3. প্রধানমন্ত্রীর
  4. সংসদের
সঠিক উত্তর:
সংসদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদের
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- ১১ এপ্রিল ১৯৭২ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন।
- এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- শুধু 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে  আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

• অনুচ্ছেদ - ৬৩ : যুদ্ধ - 

১. সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না কিংবা প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫০৭.
’সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-২৭
  2. অনুচ্ছেদ-২৯
  3. অনুচ্ছেদ-৩২
  4. অনুচ্ছেদ-৩৪
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-২৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-২৯
ব্যাখ্যা

সংবিধান: অনুচ্ছেদ-২৯: ’সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা’।
- অনুচ্ছেদ ২৯ (১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।
- অনুচ্ছেদ ২৯(২) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না।

 এছাড়াও,
- সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে, "সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী"।
- সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদ বর্ণিত আছে, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ।
- সংবিধানের ৩৪ নং অনুচ্ছেদ বর্ণিত আছে, জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ"।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫০৮.
বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে?
  1. অনুচ্ছেদ- ১৪৫
  2. অনুচ্ছেদ- ১৪৬
  3. অনুচ্ছেদ- ১৪৮
  4. অনুচ্ছেদ- ১৪৯
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ১৪৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ১৪৬
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
অনুচ্ছেদ-১৪৬: বাংলাদেশের নামে মামলা
১৪৬। "বাংলাদেশ"-এই নামে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইতে পারিবে।

এছাড়াও-
• বাংলাদেশের সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদ:
অনুচ্ছেদ-১৪২: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
অনুচ্ছেদ-১৪৩: প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
অনুচ্ছেদ-১৪৫: চুক্তি ও দলিল।
অনুচ্ছেদ-১৪৫ক: আন্তর্জাতিক চুক্তি।
অনুচ্ছেদ-১৪৮: পদের শপথ।
অনুচ্ছেদ-১৪৯: প্রচলিত আইনের হেফাজত।
অনুচ্ছেদ-১৫০: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫০৯.
সংবিধানের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা কত?
  1. ৬ জন
  2. ৫ জন
  3. ৮ জন
  4. ৯ জন
সঠিক উত্তর:
৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ জন
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। 

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলা হয়ে থাকে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে।
- একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতিরূপে কাজ করবেন।
- সংবিধানের বিধানবলী সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কোন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ তাঁর কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯ এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি ও সংসদে নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইন কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা (এর মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ যেমনঃ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ অর্ন্তভুক্ত) এবং আনুষাঙ্গিক কার্যাদির সুষ্ঠু সম্পাদন।
- দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবেন এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন হবেন।
- নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।ি
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রদান করেন।

⇒ বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দীন।
- জনাব এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
- অন্য চার নির্বাচন কমিশনার হলেন অতিরিক্ত সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, জেলা ও দায়রা জজ (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুর রহমানেল মাসুদ, যুগ্ম সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) বেগম তহমিদা আহমদ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
৫১০.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৫টি
  3. ৪টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- ভারত এবং আয়ারল্যাণ্ডের ন্যায় বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কতগুলো মৌলিক নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এ নীতিগুলো রাষ্ট্র শাসনের মূলসূত্র।
- মূল সংবিধানের 'দ্বিতীয় ভাগে' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি শিরোনামে ৮ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মূলনীতিগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

-⇒সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি হলো:
• জাতীয়তাবাদ,
• সমাজতন্ত্র,
• গণতন্ত্র ও
• ধর্মনিরপেক্ষতা।

উৎস: পৌরনীতি, বাংলাদেশের সংবিধান, এস এস সি প্রোগ্রাম।
৫১১.
বাংলাদেশের সংবিধানের অভিভাবক কে?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. শাসন বিভাগ
  3. সুপ্রিম কোর্ট
  4. আইন মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
সুপ্রিম কোর্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপ্রিম কোর্ট
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান বাংলাদেশের মৌলিক ও সর্বোচ্চ আইন। 
- বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট তা নির্ধারণ করার অধিকারী, নির্বাহী বিভাগ নয়। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট হলো সংবিধানের ব্যাখাকারক বা অভিভাবক।
- ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সংবিধান প্রয়োজন হয়।
- সংবিধান তৈরির জন্য ১৯৭২ সালে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়।
- এ খসড়া কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে  ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল। 

 উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫১২.
বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু কী ছিল? 
  1. জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণ করা 
  2. তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা
  3. ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি পুনঃপ্রবর্তন করা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

পঞ্চদশ সংশোধনী:
- সময়: জুলাই, ২০১১ সাল।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।
- ১৯৭২ সালের সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি যথা: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পাশাপাশি সকল ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে মূলনীতে পরিবর্রতন করা হয়: 
- ধর্ম নিরপেক্ষতার পরিবর্তে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস।
- 'সমাজতন্ত্র' মানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায় বিচার।

এছাড়াও 
- ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে রায় ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে চৌদ্দ বছর আগে আদালতের রায়ে বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আবারো ফিরে এলো।

উৎস: ¡)বাংলাদেশ রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএল , ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
        ¡) বিবিসি বাংলা।

৫১৩.
সংবিধানের ৩৬নং অনুচ্ছেদে কোন বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. সমাবেশের স্বাধীনতা
  2. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
  3. সংগঠনের স্বাধীনতা
  4. চলাফেরার স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
চলাফেরার স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলাফেরার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• ৩৬নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে:
-  ৩৮নং অনুচ্ছেদ : সংগঠনের স্বাধীনতা। 
- ৩৭নং অনুচ্ছেদ : সমাবেশের স্বাধীনতা।
- ৪০নং অনুচ্ছেদ : পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫১৪.
'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান' লেখাটি সংবিধানের কোন প্রচ্ছদের উপর লেখা ছিল?
  1. তালপাতা
  2. গোলপাতা
  3. শীতলপাটি
  4. মসলিন
সঠিক উত্তর:
শীতলপাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীতলপাটি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধান:
- হস্তলিখিত সংবিধানের মূল লেখক  এ.কে.এম আব্দুর রউফ।
- হস্তলিখিত সংবিধানে মোট ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- হাতে লেখা সংবিধানের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ১০৯।
-  সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- সংবিধানের প্রচ্ছদে সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
                                                 


সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান - আরিফ খান।
৫১৫.
‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আলোচিত হয়েছে?
  1. ১১ নং
  2. ১৭ নং
  3. ১৮ নং
  4. ২১ নং
সঠিক উত্তর:
১১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ নং
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

⇒ সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার
- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে৷
- সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। যেখানে মৌলিক মানবাধিকার, স্বাধীনতার নিশ্চয়তা এবং মানবসত্তার মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে। রাষ্ট্রীয় সকল কাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত হবে।
- সমাজজীবন হতে সর্বপ্রকার বৈষম্য দূরীভূত করে নাগরিকদের মৌলিক মানবিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।

অন্যদিকে,
- ১৭ নং অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি, বাংলাদেশের সংবিধান, এস এস সি প্রোগ্রাম।

৫১৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের আলোচ্য বিষয় কী?
  1. ক) শপথ ও ঘোষণা
  2. খ) ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবালী
  3. গ) অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
  4. ঘ) রাষ্টপতি নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবালী
ব্যাখ্যা
- ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৩টি তফসিল যুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭ টি তফসিল রয়েছে :-
» প্রথম তফসিল - অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
» দ্বিতীয় তফসিল - রাষ্টপতি নির্বাচন।
» তৃতীয় তফসিল - শপথ ও ঘোষণা।
» চতুর্থ তফসিল – ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবালী
» পঞ্চম তফসিল - ১৯৭১সালের ৭মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
» ষষ্ঠ তফসিল - ১৯৭১সালের ২৫মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।
» সপ্তম তফসিল- ১০এপ্রিল ১৯৭১ এর মুজিবনগর সরকারের জারিকৃ্ত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫৩তম অনুচ্ছেদে ৭টি তফসিল উল্লেখ করা হয়।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৫১৭.
’সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-৩৩
  2. অনুচ্ছেদ-২৭
  3. অনুচ্ছেদ-২৯
  4. অনুচ্ছেদ-২৬
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-২৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-২৯
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ২৯ নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে।
- কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হবেন না;
- কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না।

• সংবিধানের কয়েকটি  অনুচ্ছেদ:
- ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
- ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
- ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
- ৩০নং:  বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
- ৩১নং: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- ৩২নং: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- ৩৩নং: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ;
- ৩৪নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ;
- ৩৫নং: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ;
- ৩৬নং: চলাফেরার স্বাধীনতা;
- ৩৭নং:সমাবেশের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫১৮.
গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করে পঞ্চদশ সংশোধনীর কোন ধারা প্রণয়ন করা হয়েছিল?
  1. ৩৭ ধারা
  2. ৪৭ ধারা
  3. ৫৭ ধারা
  4. ৬৭ ধারা
সঠিক উত্তর:
৪৭ ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৭ ধারা
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে থাকা গণভোটের বিধান বিলুপ্তি করে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা করা হয়েছিলো।
- এটিকে সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে বাতিল করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
- এর আগে ১৯৯১ সালে হওয়া সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে যেভাবে গণভোটের বিধান সংযুক্ত হয়েছিলো সেভাবেই আবার পুনর্বহাল হলো।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
৫১৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৩নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ।
  2. আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
  3. জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ।
  4. আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।
সঠিক উত্তর:
গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ।
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৩ নং অনুচ্ছেদে  গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ৩২ নং অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।   
- ২৭ নং অনুচ্ছেদ : আইনের দৃষ্টিতে সমতা। 
- ৩১ নং অনুচ্ছেদ : আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারের সম্পর্কে বলা হয়েছে।  

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
৫২০.
’স্থানীয় শাসন’ সংবিধানের চতুর্থ ভাগের কোন পরিচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ১ম পরিচ্ছেদ
  2. ২য় পরিচ্ছেদ
  3. ৩য় পরিচ্ছেদ
  4. ৪র্থ পরিচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৩য় পরিচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য় পরিচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান: 
- সংবিধানের চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ ৫টি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
- ১ম পরিচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি।
- ২য় পরিচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা,
- ৩য় পরিচ্ছেদ: স্থানীয় শাসন,
- ৪র্থ পরিচ্ছেদ: প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ,
- ৫ম পরিচ্ছেদ: অ্যাটর্নি-জেনারেল।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৫২১.
বাংলাদেশ সংবিধানের তফসিল কয়টি?
  1. ৮টি
  2. ৭টি
  3. ৬টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধানের তফসিল - ৭টি ।

• বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিলসমূহ:
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস:  বাংলাদেশের সংবিধান।

৫২২.
সংবিধান অনুসারে কার দণ্ড মওকুফের এখতিয়ার রয়েছে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রদান বিচারপতি
  4. স্পিকার
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৯ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কোন কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত দণ্ডের মার্জনা প্রদান করতে পারেন।
এতে বলা হয়,
- “কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে−কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে−কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।”
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
৫২৩.
বাংলাদেশে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কতটি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান - ৪টি।

• সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান:

- সংবিধান হলো গ্ণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। 
 - সাংবিধানিক উপায়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, পদের মেয়াদ, পদমর্যাদা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
- সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান- ৪টি।
- নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, মহা হিসাব নীরিক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।

- সাংবিধানিক পদ মোট ১১টি। কিন্তু শপথযুক্ত সাংবিধানিক পদ ৯টি। 
১. রাষ্ট্রপতি,
২. প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী,  
৩. স্পীকার,
৪. ডেপুটি স্পিকার, 
৫. নির্বাচন কমিশনার,  
৬. প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতি, 
৭. মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, 
৮. সংসদ সদস্যগণ,
৯. সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যগণ,  
১০. অ্যাটর্নি জেনারেল, 
১১. ন্যায়পাল। 
- তবে নিয়োগ ও শপথ নেই ন্যায়পালের। তাই সাংবিধানিক পদে নিযুক্ত ১০টি। শপথবিহীন সাংবিধানিক পদ দুটি- ন্যায়পাল ও অ্যাটর্নি জেনারেল।

উৎস:
পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধান, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

জাতীয় তথ্য বাতায়নের লিঙ্ক: [Link]
৫২৪.
"ধর্মীয় স্বাধীনতা" বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. অনুচ্ছেদ - ৩৬ 
  2. অনুচ্ছেদ - ৩৭ 
  3. অনুচ্ছেদ - ৪১
  4. অনুচ্ছেদ - ৩৯ 
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ - ৪১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ - ৪১
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ৪১: ধর্মীয় স্বাধীনতা
(১) আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে। 
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে ।
(খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রয়েছে।
(২) কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হলে তাঁকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করতে হবে না। 
- জরুরি অবস্থার সময়ও এই বিধানটি রহিত করা যায় না। 

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ ৩৬- চলাফেরার স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৯- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৭- সমাবেশের স্বাধীনতা।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৫২৫.
বাংলাদেশের সাংবিধানিক গণভোট কোনটি ?
  1. প্রথম গণভোট
  2. দ্বিতীয় গণভোট
  3. তৃতীয় গণভোট
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় গণভোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় গণভোট
ব্যাখ্যা

- ১৯৯১ সালে সাংবিধানিক গণভোট তথা দেশের '৩য় গণভোট' অনুষ্ঠিত হয়।

• বাংলাদেশে গণভোট:
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে।
- দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে।
- সর্বশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

• তৃতীয় গণভোট: 
- গণ আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ।
- এর ৩ মাসের মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। 
- ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতির (পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি) সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট মধ্যরাতে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে বিল পাস হয়।

তথ্যসূত্র: গণভোট আইন ১৯৯১ এবং  প্রথম আলো পত্রিকা (Link)

৫২৬.
According to the constitution of Bangladesh, what is the the minimum age of become the the speaker of the parliament?
  1. 25 years
  2. 28 years
  3. 32 years
  4. 35 years
সঠিক উত্তর:
25 years
উত্তর
সঠিক উত্তর:
25 years
ব্যাখ্যা
স্পিকার:
- সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সভাপতি হলেন স্পিকার।
- স্পিকার হলেন জাতীয় সংসদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- স্পিকার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর।

উল্লেখ্য,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম ভাগের ৬৬ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে এবং তাঁর বয়স পঁচিশ বছর পূর্ণ হলে বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার এবং সংসদ-সদস্য থাকার যোগ্য হবেন। 
- যেহেতু বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সভাপতি স্পিকার, তাই স্পিকার হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫২৭.
কোনটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়?
  1. বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন
  2. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  3. বাংলাদেশ ব্যাংক
  4. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ ব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ ব্যাংক
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয় বাংলাদেশ ব্যাংক।   

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান:
- বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন,
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন,
- বিচার বিভাগ,
- আইন বিভাগ,
- নির্বাহী বিভাগ ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়:
- দুর্নীতি দমন কমিশন,
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন,
- বাংলাদেশ ব্যাংক,  
- শিক্ষা বোর্ড ইত্যাদি বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫২৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধনের বিধান রয়েছে?
  1. ১৪৪নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৪৩নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৪১নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৪২নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
১৪২নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪২নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• অনুচ্ছেদ ১৪২: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা:
- বাংলাদেশের সংবিধানের দশম ভাগের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- ১৪২নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও -
- সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হতে পারবে:
তবে শর্ত থাকে যে,
- অনুরুপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হক]ব বলে স্পষ্টরুপে উল্লেখ না থাকলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাবে না;
- সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরুপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হবে না;
- উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তা উপস্থাপিত হলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করবেন, এবং তিনি তা করতে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করেছেন বলে গণ্য হবে।

অন্যদিকে:
- ১৪১নং অনুচ্ছেদে জরুরী বিধানাবলী,
- ১৪৩নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি এবং
- ১৪৪নং অনুচ্ছেদে সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব সম্পর্কে উল্লেখ আছে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫২৯.
সংবিধানের ২৪নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন
  2. উপজাতি
  3. জাতীয় সংস্কৃতি
  4. জাতীয়তাবাদ
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ২৪নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু-  জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।

• সংবিধানের ৯নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- জাতীয়তাবাদ।
• সংবিধানের ২৩নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- জাতীয় সংস্কৃতি।
• সংবিধানের ২৩(ক)নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৩০.
'নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ' কোন অনুচ্ছেদের বিষয়?
  1. অনুচ্ছেদ - ২১
  2. অনুচ্ছেদ - ২২
  3. অনুচ্ছেদ - ২৩
  4. অনুচ্ছেদ - ২৪
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ - ২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ - ২২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান:
 - অনুচ্ছেদ ২২: ‘নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ’  - রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে ।

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২৪: জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ২৩: জাতীয় সংস্কৃতি।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৩১.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছিল সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. চতুর্দশ সংশোধনী 
  2. পঞ্চদশ সংশোধনী
  3. সপ্তদশ সংশোধনী 
  4. ষোড়শ সংশোধনী 
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী:
-  সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ২৫ জুন সংসদে পাস হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়।

 • এ সংশোধনীতে আরো যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, 
- সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীতকরণ।
- সংবিধানের পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদ ৭-এর স্থলে ৭(১) এবং ৭(খ) যুক্ত করা হয়, যার উদ্দেশ্য অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলের সমাপ্তি ঘটানো।

উল্লেখ্য,
- নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগ। 
-  এর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়।

উৎস: সংবিধান এবং বিবিসি।

৫৩২.
সংসদীয় ব্যবস্থা সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে পুন:প্রবর্তিত হয়?
  1. একাদশ সংশোধনী
  2. নবম সংশোধনী
  3. দ্বাদশ সংশোধনী
  4. পঞ্চদশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• দ্বাদশ সংশোধনী:
- এই সংশোধনী আইন পাস হয় ১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৯৯১।
- এর দ্বারা সংবিধানের ৪৮, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৭০, ৭২. ১০৯, ১১৯, ১২৪, ১৪১ক এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে;
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন।
- প্রধানমন্ত্রী হন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী।
- প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়।
- উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ করা হয়।
- জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৫৩৩.
’সমাবেশের স্বাধীনতা’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ৩৭ নং
  2. ৩৬ নং
  3. ৩৫ নং
  4. ৩৩ নং
সঠিক উত্তর:
৩৭ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭ নং
ব্যাখ্যা
→ ৩৭নং অনুচ্ছেদে সমাবেশের স্বাধীনতা কথা বলা হয়েছে।

• সমাবেশের স্বাধীনতা:
-
৩৭ নং অনুচ্ছেদে,  জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

• কয়েকটি অনুচ্ছেদ:

- ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
- ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
- ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
- ৩০নং:  বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
- ৩১নং: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- ৩২নং: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- ৩৩নং: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ;
- ৩৪নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ;
- ৩৫নং: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ;
- ৩৬নং: চলাফেরার স্বাধীনতা;
- ৩৭নং:সমাবেশের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
৫৩৪.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে রাজধানীর নাম Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়?
  1. ৭ম সংশোধনী
  2. ৮ম সংশোধনী
  3. ৯ম সংশোধনী
  4. ১০ম সংশোধনী
  5. ১১তম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
৮ম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

৮ম সংশোধনী:
- ১৯৮৮ সালে এই সংশোধনী পাশ হয়।
- ১৯৮৯ আপীল বিভাগ হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন সংক্রান্ত ধারাটি অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা অবৈধ বলে রায় প্রদান করে।
- অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
এই সংশোধনী আইনবলে-
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়। 
২. ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়।
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়।
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৫৩৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ৪২
  2. ৩৯
  3. ৪০
  4. ৪১
সঠিক উত্তর:
৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৪০ নং অনুচ্ছেদে পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। 
• আইনের দ্বারা আরোপিত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে কোন পেশা বা বৃত্তি-গ্রহণের কিংবা কারবার বা ব্যবসায়-পরিচালনার জন্য আইনের দ্বারা কোন যোগ্যতা নির্ধারিত হইয়া থাকিলে অনুরূপ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি-গ্রহণের এবং যে কোন আইনসঙ্গত কারবার বা ব্যবসায়-পরিচালনার অধিকার থাকিবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ৩৯- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৩৬.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার বিষয়বস্তু রয়েছে কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর।
- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে সংবিধান কার্যকর হয়।
- মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।

- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার বিষয়বস্তুর ৫টি ভাগ রয়েছে
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
• ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৩৭.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ১৮ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১১ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৭ নং অনুচ্ছেদে
  4. ২৭ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
১১ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সংবিধানের​ ১৮ নং অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার কথা বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

​উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৩৮.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. সংবিধান
  4. আপিল বিভাগ
সঠিক উত্তর:
সংবিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধান
ব্যাখ্যা
• সাংবিধানিক প্রাধান্য:
- সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।
- এবং জনগণের পক্ষে ঐসব ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল সংবিধানের অধীনে ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানে বাংলাদেশের জন্য একটি সর্বোচ্চ আদালত গঠনের ব্যবস্থা করা হয়।
- সুপ্রীম কোর্ট হবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- এই আদালত সংবিধানের প্রাধান্য নিশ্চিত করবে এবং তার স্বাধীনতা সংরক্ষণ করবে।

এছাড়াও,
- সংসদীয় পদ্ধতির সরকার মূল সংবিধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী করে।
 - এবং মন্ত্রিপরিষদকে দেশের প্রকৃত শাসক করা হয়।
- মন্ত্রিপরিষদ সকল কাজের জন্য সংসদের নিকট জবাবদিহি করবে।

 উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের ২১(২) ধারায় বলা হয়েছে ''সকল সময়ে ____ চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।'' শূন্যস্থান পূরণ করুন।
  1. ক) জনগণের সেবা করিবার
  2. খ) রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করিবার
  3. গ) সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করিবার
  4. ঘ) সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করিবার
সঠিক উত্তর:
ক) জনগণের সেবা করিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জনগণের সেবা করিবার
ব্যাখ্যা

২১৷ (১) সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য৷
(২) সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য৷

৫৪০.
বাংলাদেশের সংবিধানের অঙ্গসজ্জা কার্যক্রমের মূল তত্ত্বাবধায়ক কে ছিলেন?
  1. জয়নুল আবেদীন
  2. এ.কে.এম আবদুর রউফ
  3. হাসেম খান
  4. আবু বারাক আলভী
সঠিক উত্তর:
জয়নুল আবেদীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নুল আবেদীন
ব্যাখ্যা

• সংবিধান:
- বাংলাদেশের  সংবিধানের অঙ্গসজ্জা কার্যক্রমের মূল তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নাল আবেদীন।
- সংবিধানের অঙ্গসজ্জা করেন - হাশেম খান।
- লিপিকার ছিলেন - এ. কে. এম আবদুর রউফ।
- চামড়ার কাজ করেন - সৈয়দ শাহ্ আবু শফি।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৪১.
বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া কত পৃষ্ঠা?
  1. ৯১ পৃষ্ঠা
  2. ৯৩ পৃষ্ঠা
  3. ১০৭ পৃষ্ঠা
  4. ১০৯ পৃষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
৯৩ পৃষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৩ পৃষ্ঠা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ইতিহাস:
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' গঠন করা হয়েছিলো - ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- ১৯৭২ সালরে ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ - ১০৯ পৃষ্ঠা।
-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৫৪২.
সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- 
  1. জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার
  2. সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার
  3. সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান
  4. সকল নাগরিকের চাকুরী লাভের সুযোগ
সঠিক উত্তর:
সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ: ২৮। ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ: ২৮। (১): কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। 
- অনুচ্ছেদ: ২৮ (২): রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ২৯। (১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে।
- অনুচ্ছেদ ২৭। সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
- অনুচ্ছেদ ৩২। আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৪৩.
’বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হবে’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদে-৬(২)
  2. অনুচ্ছেদে-৫(২)
  3. অনুচ্ছেদে- ৫(১) 
  4. অনুচ্ছেদে-৬(১)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদে-৬(২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদে-৬(২)
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ-৬:  নাগরিকত্ব: 
- ৬(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। 
- ৬(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ: ৫(১) প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷ 
- অনুচ্ছেদ ৫(২) রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে৷

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৪৪.
সংবিধানে জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের উল্লেখ রয়েছে কোন অংশে?
  1. ভূমিকা
  2. প্রস্তাবনা
  3. তফসিল
  4. তৃতীয় অধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্রস্তাবনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্তাবনা
ব্যাখ্যা
- সংবিধানে জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের উল্লেখ রয়েছে প্রস্তাবনা অংশে। 

প্রস্তাবনার অংশবিশেষ: 
 "আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া [জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি"

উল্লেখ্য,
- তৃতীয় অধ্যায়ে মৌলিক অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৪৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি কে ছিলেন?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) আব্দুস সামাদ আজাদ
  3. গ) ড. কামাল হোসেন
  4. ঘ) ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার
সঠিক উত্তর:
গ) ড. কামাল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ড. কামাল হোসেন
ব্যাখ্যা
- সংবিধান রচনার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন।
- এই আদেশ অনুসারে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যরা গণপরিষদের সদস্য হবেন।
- সংবিধান প্রণয়নই ছিল গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য।
- আদেশটি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়।
- এই আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়।
- আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টি বঙ্গবন্ধুকে গণপরিষদের দলীয় নেতা নির্বাচন করে।
- ৪৩০ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট ‘একটা খসড়া সংবিধান প্রণয়ন
কমিটি’ গঠিত হয়।
- এ কমিটিতে সংসদে নারী আসন থেকে বেগম রাজিয়া বানু ছিলেন একমাত্র মহিলা সদস্য।
- কমিটি মোট ৭৪টি বৈঠক মিলিত হয়।
- কমিটি ১৯৭২ সালের ১০ জুন অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধানের প্রাথমিক খসড়া অনুমোদন করে।
- খসড়া সংবিধান নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা শেষে ১১ অক্টোবর কমিটির শেষ সভায় সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
- ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।

উৎস:- বাংলাদেশে ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ, সংবিধান রচনার লক্ষ্যে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর, খসড়া সংবিধান বিল গণপরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর, সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি চারটি- 
• জাতীয়তাবাদ,
• গণতন্ত্র,
• ধর্মনিরপেক্ষতা ও
• সমাজতন্ত্র।

- সংবিধানের বৈশিষ্ঠ্য:
• বাংলাদেশের সংবিধানে ১১ টি অধ্যায় আছে।
• ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
• ৭ টি তফসিল রয়েছে।
• ১৩ টি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
• ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সংবিধানে এখন পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

৫৪৭.
'গণভোট' সর্বপ্রথম সংবিধানের কত নং সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়?
  1. পঞ্চম সংশোধনী
  2. অষ্টম সংশোধনী
  3. দ্বাদশ সংশোধনী
  4. ত্রয়োদশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল গণভোট।
- এটি ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীতে যুক্ত হয়।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট পদ্ধতি বাতিল করে সংবিধানের যে পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছিলো সেটিকে আংশিক বাতিল করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

• দ্বাদশ সংশোধনী:
- সংসদে উত্থাপন: ২ জুলাই, ১৯৯১
- উত্থাপনকারী: আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজ
- সংসদে গৃহীত: ৬ আগস্ট, ১৯৯১
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১  

সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধন আইনের সংশোধন মাধ্যমে ১৭ বছর পর বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে;
যেখানে-
১. রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন; 
২. প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বা সরকার প্রধান হন; 
৩. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়;
৪. উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ করা হয়, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৪৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) উপ-রাষ্ট্রপতি থেকে রাষ্টপতি পদে নির্বাচনের বিধান
  2. খ) সংসদীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতির প্রচলন
  3. গ) রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতি দান
  4. ঘ) জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৩০ টি আসন সংরক্ষণ
সঠিক উত্তর:
গ) রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতি দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতি দান
ব্যাখ্যা
• অষ্টম সংশোধনী:
- অষ্টম সংশোধনী গৃহীত হয় - ৮ জুন, ১৯৮৮ সালে।
- অষ্টম সংশোধনী সংবিধানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়।
- সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদ ‍যুক্ত করা হয়।
- এ সংশোধনী অনুযায়ী ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়।
- বাংলাদেশের মূল সংবিধানের ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিবর্তন আনা হয়।
- ১০০ নং অনুচ্ছেদে সংশোধন এনে ঢাকার বাহিরে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, যশোর, রংপুর ও সিলেটে হাইকোর্ট বিভাগের একটি করে বেঞ্চ স্থাপন করা হয়।
- ১৯৮৯ আপীল বিভাগ হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন সংক্রান্ত ধারাটি অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা অবৈধ বলে রায় প্রদান করে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান
৫৪৯.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করান -
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. রাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
স্পিকার:
- সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সভাপতি স্পিকার।
- স্পিকার হলেন জাতীয় সংসদের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- স্পিকার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর।
- স্পিকার সংসদ অধিবেশনের কাজকর্ম পরিচালনা করেন।
- তিনি সভার নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা করেন।
- কোনো সদস্য নিয়মবহির্ভূত আচরণ করলে তাকে সভাধ্যক্ষবরখাস্ত করতে পারেন।
- তিনি অনাস্থা প্রস্তাব, মুলতুবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব ও নিয়মানুযায়ী দৃষ্টি-আকর্ষণী বিজ্ঞপ্তি সহ বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপনের অনুমতি দেন।
- অধিবেশনে কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে তাও স্পিকার স্থির করেন।
- তিনি জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে, রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান: প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার।
- অর্থাৎ, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি।

উৎস: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ওয়েবসাইট।
৫৫০.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়?
  1. পঞ্চদশ সংশোধনী
  2. একাদশ সংশোধনী
  3. সপ্তদশ সংশোধনী
  4. ত্রয়োদশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• পঞ্চদশ সংশোধনী:
- পঞ্চদশ সংশোধনী আইন  সংবিধান আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন।
- এই সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্টীয় মুলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতিও দেয়া হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্টীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়। 

উৎস:- লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৫৫১.
কোনটি সাংবিধানিক পদ?
  1. ক) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন
  2. খ) গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
  3. গ) চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন
  4. ঘ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সাংবিধানিক পদসমূহঃ
- রাষ্ট্রপতি,
- প্রধানমন্ত্রী,
- স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার,
- মন্ত্রিসভার সদস্যগণ,
- সংসদ সদস্য,
- নির্বাচন কমিশনার,
- সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য,
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি।
• অপরদিকে,
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান,
- দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান,
• বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ইত্যাদি সাংবিধানিক পদ নয়।

৫৫২.
’নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ’- বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২২নং
  2. ২৩নং
  3. ২৯নং
  4. ২৭নং
সঠিক উত্তর:
২২নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২নং
ব্যাখ্যা

• ’নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ’ -বিষয়টি সংবিধানের ২২নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে,
’উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি’ -বিষয়টি সংবিধানের ২২নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে।
’সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা’ -বিষয়টি সংবিধানের ২৯নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে।
’আইনের দৃষ্টিতে সমতা’ -বিষয়টি সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৫৩.
'ত্রয়ী শাসন' ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কারা?
  1. সিজার, ব্রুটাস, ক্যাসিয়াস
  2. অক্টেভিয়াস, মার্ক এন্টনি, লেপিডাস
  3. কনস্টানটাইন, জাস্টিনিয়ান, অগাস্টাস
  4. সিজার, অক্টেভিয়াস, কনস্টানটাইন
সঠিক উত্তর:
অক্টেভিয়াস, মার্ক এন্টনি, লেপিডাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্টেভিয়াস, মার্ক এন্টনি, লেপিডাস
ব্যাখ্যা

রোমান সম্রাজ্য:
- জুলিয়াস সিজার ছিলেন প্রাচীন রোমের সবচেয়ে খ্যাতিমান সম্রাট। তাঁর মৃত্যুর পর রোমে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ৪৪-৪২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত এ যুদ্ধের ব্যাপ্তি ছিল।

- যুদ্ধে জয়ী হয়ে একযোগে ক্ষমতায় আসেন তিন নেতা – অক্টেভিয়াস ‍সিজার, মার্ক অ্যান্টনি এবং লেপিডাস। প্রাচীন রোমে তিনজনের মিলিত এ শাসন ‘ত্রয়ী শাসন’ নামে খ্যাত। ‘ত্রয়ী শাসন’ বেশি দিন টেকেনি।

- ৩১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমান সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে অক্টোভিয়াস সিজার ‘অগাস্টস (প্রথম সম্রাট) সিজার’ উপাধি গ্রহণ করেন। অগাস্টাস সিজারের রাজত্বকালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যীশুখ্রিস্টের জন্ম। রোমের শেষ সম্রাট ছিলেন রোমিউলাস অগাস্টুলাস।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি(উন্মুক্ত)

৫৫৪.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে টেকনোক্রেট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায় সর্বোচ্চ -
  1. ৭%
  2. ৯%
  3. ১০%
  4. ১৩%
সঠিক উত্তর:
১০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০%
ব্যাখ্যা
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী:
- প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন
- সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হতে ৯০ শতাংশ মন্ত্রী নিযুক্ত হবেন।
- নির্বাচিত সদস্য সংসদ সদস্যদের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায় এক-দশমাংশ।
- অর্থাৎ ১০ শতাংশ সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৫৫.
সংবিধানের মৌলিক সংশোধনী (চতুর্থ সংশোধনী) সাধিত হয়-
  1. ক) ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে
  2. খ) ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে
  3. গ) ১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসে
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে
ব্যাখ্যা

১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে সংবিধানের মৌলিক সংশোধন সাধিত হয়।
- সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) আইন ১৯৭৫ দ্বারা সংসদীয় পদ্ধতি পরিত্যক্ত হয় এবং এক-দলীয় রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল সময়কালে মাঝেমধ্যে বেসামরিক সরকারের আগমনসহ কয়েক দফা সামরিক আইন বহাল থাকে।
- এ সময় বেসামরিক বা সামরিক কোনো সরকারই সংবিধান রদ করে নি, আবার সম্পূর্ণরূপে অনুসরণও করেনি।
- প্রতিটি শাসনামলেই অংশত ডিক্রি এবং অংশত সংবিধান দ্বারা শাসনকার্য পরিচালিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৫৬.
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. গ) ড. কামাল হোসেন
  4. ঘ) আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ২৩শে মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। 
- এর ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল ১৯৭২ বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। 
- এতে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ। 
- প্রথম অধিবেশনে ১০ ও ১১ এপ্রিল মোট দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 
- ১২ অক্টোবর ১৯৭২ গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশন বসে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান
৫৫৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৮০নং 
  2. ৮১নং
  3. ৮৭নং
  4. ৯৩নং 
সঠিক উত্তর:
৮১নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮১নং
ব্যাখ্যা

৮১। অর্থবিল: 
(১) এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “অর্থবিল” বলতে সেই সব বিলকে বোঝায়, যেগুলোর মধ্যে কর আরোপ, রদবদল বা মওকুফ, সরকারি ঋণ গ্রহণ বা গ্যারান্টি দেওয়া, সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় বা বরাদ্দ, তহবিলের হিসাব-নিকাশ ও সরকারের আর্থিক দায়দায়িত্বের বিষয় থাকে। এ ছাড়া এসব বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় থাকলেও সেটি অর্থবিল হিসেবে গণ্য হবে।

(২) কোনো জরিমানা, ফি, উসুল বা স্থানীয় সরকারের কর সংক্রান্ত বিষয় থাকলেই কোনো বিলকে অর্থবিল বলা যাবে না—এই কারণে সেটা অর্থবিল হবে না।

(৩) অর্থবিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সময় স্পীকারকে অবশ্যই একটি সনদ দিতে হবে যে, এটি একটি অর্থবিল। এই সনদ চূড়ান্ত হবে, এবং এ বিষয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না।

অন্যদিকে:
- অনুচ্ছেদ ৮০: আইন প্রণয়ন পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৮৭: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৯৩: অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৫৫৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩
  2. অনুচ্ছেদ ৪
  3. অনুচ্ছেদ ৫
  4. অনুচ্ছেদ ৬
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৪
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য:
- শিল্পী কামরুল হাসান বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার।
- ১৯৭২ সালে কামরুল হাসান সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকার নকশা করেন।
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অনুপাত- ১০ : ৬।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া। 
৫৫৯.
রাষ্ট্রপতি পদে কোনও ব্যক্তির পর পর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন সীমাবদ্ধ রাখা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ক) সপ্তম সংশোধনী
  2. খ) অষ্টম সংশোধনী
  3. গ) নবম সংশোধনী
  4. ঘ) দশম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
গ) নবম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নবম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
নবম সংশোধনী:
সংসদে উত্থাপন: ৬ জুলাই, ১৯৮৯
উত্থাপনকারী: আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ
সংসদে গৃহীত: ১০ জুলাই, ১৯৮৯
রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ১১ জুলাই, ১৯৮৯

সংবিধানের নবম সংশোধনী আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কিছু বিধান সংযোজন করা হয়। এ সংশোধনীর আগে রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি যতবার ইচ্ছা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচন করতে পারতেন। এ সংশোধনীর পর অবস্থার পরিবর্তন হয়।
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের সঙ্গে একই সময়ে উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, রাষ্ট্রপতি পদে কোনও ব্যক্তির পর পর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন সীমাবদ্ধ রাখা হয়।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
৫৬০.
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডাকেন-
  1. ক) স্পিকার
  2. খ) রাষ্ট্রপতি
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) চীফ হুইপ
সঠিক উত্তর:
খ) রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন।
৫৬১.
সংবিধান রচনা কমিটিতে কয়জন নারী সদস্য ছিলেন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৭ জন
সঠিক উত্তর:
১ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ জন
ব্যাখ্যা
খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি:
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট ‘একটা খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' (Draft Constitution Committee) গঠিত হয়।
- এ কমিটিতে সংসদে নারী আসন থেকে একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু ছিলেন।
- কমিটি মোট ৭৪টি বৈঠক মিলিত হয়।
- কমিটি ১৯৭২ সালের ১০ জুন অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধানের প্রাথমিক খসড়া অনুমোদন করে।
- খসড়া সংবিধান নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা শেষে ১১ অক্টোবর কমিটির শেষ সভায় সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
- ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।

⇒ রাজিয়া বানু:
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র নারী সদস্য রাজিয়া বানু।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি জাতীয় পরিষদে নারী আসনের সদস্য নির্বাচিত হন।
- রাজিয়া বানু ছিলেন প্রথম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের (আসন-৪) সংসদ সদস্য।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
৫৬২.
সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি ও সদস্যদের নিয়োগের ক্ষমতা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. অনুচ্ছেদ ১৩৭
  2. অনুচ্ছেদ ১৪০
  3. অনুচ্ছেদ ১৩৮
  4. অনুচ্ছেদ ১৪১
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৩৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৩৮
ব্যাখ্যা
- ১৩৮নং অনুচ্ছেদ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি ও সদস্যদের নিয়োগের ক্ষমতা সংক্রান্ত। 

কর্ম কমিশন:

- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭-১৪১নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩৭নং ধারায় বলা হয়েছে, 'আইনের দ্বারা বাংলাদেশের জন্য এক বা একাধিক সরকারী কর্মকমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করা যাইবে এবং একজন সভাপতিকে ও আইনের দ্বারা যেইরূপ নির্ধারিত হইবে, সেইরূপ অন্যান্য সদস্যকে লইয়া প্রত্যেক কমিশন গঠিত হইবে।'
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য-নিয়োগ দেয়া হয়।
(১) প্রত্যেক সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক কমিশনের যতদূর সম্ভব অর্ধেক (তবে অর্ধেকের কম নহে) সংখ্যক সদস্য এমন ব্যক্তিগণ হইবেন, যাঁহারা কুড়ি বৎসর বা ততোধিককাল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে কোন সময়ে কার্যরত কোন সরকারের কর্মে কোন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

(২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন-সাপেক্ষে কোন সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে।

অন্যদিকে: 
অনুচ্ছেদ - ১৩৭: কর্ম কমিশন কমিশন-প্রতিষ্ঠা, 
অনুচ্ছেদ - ১৪০: কমিশনের দায়িত্ব, 
অনুচ্ছেদ - ১৪১: বার্ষিক রিপোর্ট। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৬৩.
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক কতজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত?
  1. ক) ২ জন
  2. খ) ৩ জন
  3. গ) ৪ জন
  4. ঘ) ৫ জন
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ জন
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ ও ১১৯ নম্বর ধারায় নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে
- সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে কোনো আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন
- ১১৮(৩) ধারায় বলা হয়েছে, 'এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে কোনো নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বৎসর কাল হইবে'
- ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীতে এটি সংযোজিত হয়। এর পূর্বে নির্বাচন কমিশনারের সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিলো না
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৬৪.
বছরে কমপক্ষে কতবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন হওয়া বাধ্যতামূলক?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধানের ৭২ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদের অধিবেশন সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখিত অনুচ্ছেদ মতে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া ব্যাতীত বছরে কমপক্ষে দুবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন বাধ্যতামূলক।

৭২ নং অনুচ্ছেদ টি নিম্নরূপ 
সংসদের অধিবেশন
(১) সরকারী বিজ্ঞপ্তি-দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করিবেন এবং সংসদ আহ্বানকালে রাষ্ট্রপতি প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করিবেন:
[তবে শর্ত থাকে[১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ক) উপ-দফায় উল্লিখিত নব্বই দিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে]যে, সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ষাট দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকিবে না:

তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন তাঁহার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক লিখিতভাবে প্রদত্ত পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন।]

(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার বিধানাবলী সত্ত্বেও সংসদ-সদস্যদের যে কোন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হইবে।

(৩) রাষ্ট্রপতি পূর্বে ভাঙ্গিয়া না দিয়া থাকিলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর অতিবাহিত হইলে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবে: তবে শর্ত থাকে যে, প্রজাতন্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত থাকিবার কালে সংসদের আইন-দ্বারা অনুরূপ মেয়াদ এককালে অনধিক এক বৎসর বর্ধিত করা যাইতে পারিবে, তবে যুদ্ধ সমাপ্ত হইলে বর্ধিত মেয়াদ কোনক্রমে ছয় মাসের অধিক হইবে না।

(৪) সংসদ ভঙ্গ হইবার পর এবং সংসদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, প্রজাতন্ত্র যে যুদ্ধে লিপ্ত রহিয়াছেন, সেই যুদ্ধাবস্থার বিদ্যমানতার জন্য সংসদ পুনরাহ্বান করা প্রয়োজন, তাহা হইলে যে সংসদ ভাঙ্গিয়া দেওয়া হইয়াছিল, রাষ্ট্রপতি তাহা আহবান করিবেন।

(৫) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার বিধানাবলী-সাপেক্ষে কার্যপ্রণালী-বিধি-দ্বারা বা অন্যভাবে সংসদ যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সংসদের বৈঠকসমূহ সেইরূপ সময়ে ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান.

৫৬৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের সপ্তম অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় কী?
  1. নির্বাচন
  2. বিচার বিভাগ
  3. আইনসভা
  4. নির্বাহী বিভাগ
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন। 
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৬৬.
গণপরিষদে খসড়া সংবিধান পেশ করেন -
  1. ক) শাহ আবদুল হামিদ
  2. খ) আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) ড. কামাল হোসেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ড. কামাল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ড. কামাল হোসেন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আবির্ভূত হয় একটি স্বাধীন দেশ রূপে।
-  স্বাধীনতার পর পরই বাঙালি জাতি সংবিধান প্রণয়নে মনোনিবেশ করে। 
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুযায়ি পাকিস্তানী কারাগার থেকে ঢাকা প্রত্যাবর্তন করেন। 
- পরের দিনই সংবিধান রচনার নির্দেশ দেন। 
- এ আদেশ বাংলাদেশে সংবিধান রচনার প্রথম পদক্ষেপ। 
- ২৩ মার্চ সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে একটি ৪৩০ সদস্যবিশিষ্ট গণপরিষদ গঠন করা হয়। 
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকায় গণপরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। 
- ড. কামাল হোসেন ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদে খসড়া বিধান পেশ করেন।
- গণপরিষদের ৩৪ জন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটি গঠিত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষরদানের লক্ষ্যে গণপরিষদের সদস্যগণ পুনরায় একত্রিত হন। 
- অবশেষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকরী হয়।

অন্যদিকে -
- গণ-পরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আবদুল হামিদ এবং প্রথম ডেপুটি স্পিকার ছিলেন মােহাম্মদ উল্লাহ। 
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য বেগম রাজিয়া বানু।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরােধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। 
- বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৭.
 বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১নং অনুচ্ছেদ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. বাক-স্বাধীনতা
  2. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  3. চলাফেরার স্বাধীনতা
  4. সমাবেশের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
→  বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১নং অনুচ্ছেদ ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

অনুচ্ছেদ ৪১: ধর্মীয় স্বাধীনতা

(১) আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে।
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে ।
(খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রয়েছে।
(২) কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হলে তাঁকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করতে হবে না।
- জরুরি অবস্থার সময়ও এই বিধানটি রহিত করা যায় না।

অন্যদিকে:
- অনুচ্ছেদ ৩৯- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৭- সমাবেশের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৬- চলাফেরার স্বাধীনতা।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৬৮.
সংবিধানের কোন তফসিল অনুসারে, প্রধান বিচারপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে শপথ পাঠ করান?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
৩য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি।
- যথা:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত),
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা,
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী,
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ,
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা,
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
• রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার।
• প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।
• স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্যবৃন্দ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৫৬৯.
সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী গৃহীত হয় -
  1. ক) ১৯৭৫ সালে
  2. খ) ১৯৭৭ সালে
  3. গ) ১৯৭৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৮১ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা
• পঞ্চম সংশোধনী:
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় - পঞ্চম সংশোধনী আইন।
- এই আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয় ।
- ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত যে সকল সামরিক বিধি, সংবিধান সংশোধন সহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করা হয় সেগুলো সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী হিসেবে কাজ করা হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তিত হয় এবং সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সন্নিবেশিত হয় ।
- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথম বারের মতো বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতি থেকে সরে আসে।
- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংশোধন করায় এই সংশোধনীকে 'First distortion of Constitution' বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধানের ইতিহাস।
৫৭০.
অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়ে কোন বিভাগে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. নির্বাহী
  2. বিচার
  3. আইন
  4. কর্ম বিভাগ
সঠিক উত্তর:
নির্বাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাহী
ব্যাখ্যা
নির্বাহী বিভাগ:
অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
অনুচ্ছেদ ৬১ - সর্বাধিনায়কতা। 
অনুচ্ছেদ ৬২ - প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি। 
অনুচ্ছেদ ৬৩ - যুদ্ধ। 
অনুচ্ছেদ ৬৪ - অ্যাটর্নি জেনারেল। 

উৎস:  বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৭১.
হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ -
  1. ১০১ পৃষ্ঠা
  2. ১০৩ পৃষ্ঠা
  3. ১০৯ পৃষ্ঠা
  4. ১১১ পৃষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
১০৯ পৃষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০৯ পৃষ্ঠা
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' গঠন করা হয়েছিল: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়: ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ ১০৯ পৃষ্ঠা।
- মোট অনুচ্ছেদ: ১৫৩ টি।
- ভাগ বা অধ্যায়: ১১টি
- তফসিল: ৭টি।
- প্রস্তাবনা: ১টি।
- মূলনীতি: ৪টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৫৭২.
বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় -
  1. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
  2. মৌলিক অধিকার
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. আইনসভা
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৭৩.
”জনস্বাস্থ ও নৈতিকতা” সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ২৫ নং
  2. ৩৭নং
  3. ১৮নং
  4. ৩৯নং
সঠিক উত্তর:
১৮নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮নং
ব্যাখ্যা
 “জনস্বাস্থ ও নৈতিকতা”  সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।

- ২৫ নং অনুচ্ছেদ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ।
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদ সমাবেশেরে স্বাধীনতা  বিষয়ক ।
- ৩৯ নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা  বিষয়ক ।

উল্লেখ্য:

সংবিধান হল মৌলিক বিধানাবলির  সমন্বয়  একটি গঠনতন্ত্র যার উপর ভিত্তি করে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের পূর্ণ নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান।
- সংবিধান গণাপরিষদে গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- বাংলাদেশ সংবিধান কার্যকর হয়- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানের একটি প্রস্তাবনা আছে- বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
- সংবিধানের মূলনীতি- ৪টি।
- সংবিধানের তফসিল- ৭ টি।
- সংবিধানের ভাগ- ১১ টি।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ১৫৩ ‍টি।

উৎস
: বাংলাদেশ সংবিধান।
৫৭৪.
সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন-ক্ষমতা কার উপর ন্যস্ত? 
  1. সুপ্রীম কোর্ট
  2. বিচার বিভাগ
  3. রাষ্ট্রপতি 
  4. জাতীয় সংসদ
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
♣ ৬৫ নং অনুচ্ছেদ: সংসদ-প্রতিষ্ঠা; 
 

- (১) "জাতীয় সংসদ" নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে:
- তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন-দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হইতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করিবে না।

- (২) একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ হইতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত তিন শত সদস্য লইয়া এবং এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার কার্যকরতাকালে উক্ত দফায় বর্ণিত সদস্যদিগকে লইয়া সংসদ গঠিত হইবে; সদস্যগণ সংসদ-সদস্য বলিয়া অভিহিত হইবেন।

- (৩) সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন, ২০১৮ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া পঁচিশ বৎসরকাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাংগিয়া না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন কেবল মহিলা-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং তাঁহারা আইনানুযায়ী পূর্বোক্ত সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন:
- তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার কোন কিছুই এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন কোন আসনে কোন মহিলার নির্বাচন নিবৃত্ত করিবে না।
• (৩ক) সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত তিন শত সদস্য এবং (৩) দফায় বর্ণিত পঞ্চাশ মহিলা-সদস্য লইয়া সংসদ গঠিত হইবে।

- (৪) রাজধানীতে সংসদের আসন থাকিবে।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৭৫.
স্বাধীনতার ঘােষণাপত্র সংবিধানের কততম সংশােধনীতে সংযোজিত হয়?
  1. ক) একাদশ
  2. খ) ত্রয়ােদশ
  3. গ) চতুর্দশ
  4. ঘ) পঞ্চদশ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) পঞ্চদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা গৃহীত হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান
৫৭৬.
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট আসন ছিল কত সদস্য বিশিষ্ট?
  1. ৩০০
  2. ৩১৫
  3. ৩২৫
  4. ৩৫০
সঠিক উত্তর:
৩১৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১৫
ব্যাখ্যা

১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের বৈশিষ্ট্যঃ
- ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একটি মূল দলিল।
- এ সংবিধানটি উৎকৃষ্ট এবং বিভিন্ন দিক দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
- মূল সংবিধান একটি সুলিখিত দলিল।
- এতে ১টি প্রস্তাবনা, ৪টি তফসিল, ১১টি ভাগ এবং ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানে দেশের জন্য একটি এক-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার বিধান করা হয়।
- এতে ৩০০ জন নির্বাচিত আসন রাখা হয়।
- এবং ১৫ জন সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- মোট ৩১৫ জন সদস্য নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হবে।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে সংরক্ষিত মহিলা আসন বৃদ্ধি করে ৩০ জন।
- এবং চতুর্দশ সংশোধনীতে বৃদ্ধি করে তা ৪৫ জন এবং বর্তমানে ৫০ জন করা হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৭.
প্রথম সংসদের সূচনায় প্রতি বছর রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেন কোন অনুচ্ছেদের আলোকে?
  1. ৭৩
  2. ৭৫
  3. ৪৫
  4. ৫২
সঠিক উত্তর:
৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৩
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান: 
- সংবিধানের ৭৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, 

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী:
(১) রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান এবং বাণী প্রেরণ করতে পারবেন।
(২) সংসদ-সদস্যদের প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় এবং প্রত্যেক বৎসর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান করবেন।
(৩) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণ শ্রবণ বা প্রেরিত বাণী প্রাপ্তির পর সংসদ উক্ত ভাষণ বা বাণী সম্পর্কে আলোচনা করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৭৮.
‘সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ’ সম্পর্কে বলা হয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ক) ৭ (ক)
  2. খ) ৭ (খ)
  3. গ) ১৪২ (ক)
  4. ঘ) ১৫২
সঠিক উত্তর:
ক) ৭ (ক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৭ (ক)
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ৭ (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায় এই সংবিধান বা এটির কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করলে বা করার ষড়যন্ত্র করলে তার এই কাজ রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হবে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান।
৫৭৯.
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু নয় কোনটি?
  1. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল
  2. সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫-এর স্থলে ৫০
  3. 'বাঙালি' শব্দটির পরিবর্তে 'বাংলাদেশী'
  4. রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ গ্রহণ
সঠিক উত্তর:
'বাঙালি' শব্দটির পরিবর্তে 'বাংলাদেশী'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'বাঙালি' শব্দটির পরিবর্তে 'বাংলাদেশী'
ব্যাখ্যা

পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৩ জুলাই।
• সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
• এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
• এই সংশোধনীর দ্বারা 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল' করা হয়।
•  জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
• সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে ‘গণভোটের’ বিধান বাদ দিয়েছিল।
- এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়। আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান সংযোজন করা হয়।

অন্যদিকে, 
-  'বাঙালি' শব্দটির পরিবর্তে 'বাংলাদেশী' এটি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে গৃহীত হয়। 

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

৫৮০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেন?
  1. ৫৮ (২)
  2. ৬২ (১)
  3. ৬৪ (১)
  4. ৪৮ (১)
সঠিক উত্তর:
৬৪ (১)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪ (১)
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবিধানিক পদ নয়।
- এটি একটি সংবিধিবদ্ধ পদ। 
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৮১.
’নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ প্রবর্তন করা হয় সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে? 
  1. দ্বাদশ সংশোধনী 
  2. চতুর্দশ সংশোধনী
  3. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. পঞ্চদশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদে খ, গ এবং ঘ ধারা সংযোজনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- এই সংশোধনী মোতাবেক, একজন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অনধিক ১০ জন উপদেষ্টার দ্বারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলা হয়।
- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ এ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়।

উল্লেখ্য
- দ্বাদশ সংশোধনী: রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন হয়। এবং উপরাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়।
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- চতুর্দশ সংশোধনী: মহিলাদের জন্য জাতীয় সংসদে ৪৫টি আসন সংরক্ষণ করা হয়।

উৎস:বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

৫৮২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সর্বাধিনায়কতার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫৮
  2. অনুচ্ছেদ ৫৯
  3. অনুচ্ছেদ ৬০
  4. অনুচ্ছেদ ৬১
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৬১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৬১
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৪৯ - ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৬১ - সর্বাধিনায়কতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৮৩.
“শাসনতন্ত্র হল এমন কতগুলো আইন বা প্রথার সমষ্টি যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জীবন পরিচালিত হয়”- সংবিধানের এই সংজ্ঞাটি কে দিয়েছেন?
  1. ক) এ্যারিস্টটল
  2. খ) কে সি হোয়ার
  3. গ) লর্ড ব্রাইস
  4. ঘ) কাল মার্কস
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড ব্রাইস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড ব্রাইস
ব্যাখ্যা
- মানবকল্যাণের নিমিত্ত প্রতিষ্ঠিত সর্বোত্তম ব্যবস্থা হল রাষ্ট্র।
- সাধারণত সরকার বলতে শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগকে বোঝায়।
- সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক এ্যারিস্টটল বলেন, সংবিধান হল এমন এক জীবন পদ্ধতি, যা রাষ্ট্র স্বয়ং বেছে নিয়েছে।
- সংবিধানকে রাষ্ট্রের চালিকা শক্তি বলা হয়।
- লর্ড ব্রাইস বলেন, “শাসনতন্ত্র হল এমন কতগুলো আইন বা প্রথার সমষ্টি যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জীবন পরিচালিত হয়
- কে. সি. হোয়ার বলেন, “কোন দেশের শাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী সমস্ত লিখিত ও অলিখিত নিয়ম-কানুনকে বোঝাবার জন্য সংবিধান শব্দটি ব্যবহৃত হয়।”
- সংবিধান অনুযায়ী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। তাই সংবিধানকে এড়িয়ে কোন কাজ করার ক্ষমতা সরকারের থাকে না।
- তাই সংবিধানকে রাষ্ট্রের চালিকা শক্তি বলা হয়। 

উৎস:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৪.
সংবিধানের কোন অংশগুলো সংশোধনের অযোগ্য?
  1. প্রস্তাবনা
  2. জাতীয় সংগীত
  3. নাগরিকত্ব
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের সংশোধন অযোগ্য: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
এতে বলা হয়:
- সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা,
- প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ: (অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব, অনুচ্ছেদ ০৪ : জাতীয় সঙ্গীত)
- দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
৫৮৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু কী ছিল?
  1. ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়
  2. বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়া হয়
  3. সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি
  4. পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু
সঠিক উত্তর:
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন:
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- ১৯৭২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭ বার বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধিত হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্যে প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয়।
- সর্বশেষ ২০১৮ সালে সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী গৃহিত হয়।
- সপ্তদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল সংবিধানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৫৮৬.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের মোট অধ্যায় কতটি?
  1. ৭টি
  2. ১৩টি
  3. ১১টি
  4. ৫৩টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের পূর্ণ নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান।
- সংবিধানের একটি প্রস্তাবনা আছে- বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
- সংবিধানের মূলনীতি- ৪টি।
- সংবিধানের তফসিল- ৭ টি।
- সংবিধানের ভাগ/অধ্যায়- ১১টি।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ১৫৩টি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৮৭.
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্যে ন্যূনতম বয়স কত?
  1. ক) ১৮ বছর
  2. খ) ২৫ বছর
  3. গ) ৩০ বছর
  4. ঘ) ৩৫ বছর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৫ বছর
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৬৬(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর।
অন্যদিকে, ৪৮(৪) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর।
(সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
৫৮৮.
বাক্-স্বাধীনতা সম্পর্কে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ক) ৩৬
  2. খ) ৩৭
  3. গ) ৩৯ (১)
  4. ঘ) ৩৯ (২)
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩৯ (২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩৯ (২)
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯(২) নং অনুচ্ছেদে বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
৩৯(১) নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। ৩৬ নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতা এবং ৩৭ নং অনুচ্ছেদে সমাবেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
৫৮৯.
হস্তলিখিত সংবিধানে গণপরিষদের সদস্যরা সাক্ষর করেন কত তারিখে?
  1. ১২ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  2. ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  3. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল আইন বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকরী হয়।

⇒ বাংলাদেশের প্রথম হস্তলিখিত সংবিধানের মূল পাতা ছিল ৯৩ পৃষ্ঠার।
- স্বাক্ষরসহ সংবিধান ছিল ১০৯ পাতার।
- হস্তলিখিত সংবিধানটির মূল লেখক ছিলেন শিল্পী আব্দুর রউফ।
- সংবিধানটির অঙ্গসজ্জা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন।
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'।
- গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।

উল্লেখ্য,
- গণপরিষদের সদস্য চিল মোট ৪০৩ জন।
- গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সংবিধানে গণপরিষদ সদস্যদের স্বাক্ষর দান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৪ তারিখ স্পিকারের আমন্ত্রণে সংবিধানে সর্ব প্রথম স্বাক্ষর দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- প্রথমে সংবিধানের বাংলা এবং পরে ইংরেজি পাঠে।
- তারপর স্বাক্ষর করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দিন আহমদ।
- ১৫ তারিখ অনুষ্ঠানের শেষ সময় পর্যন্ত ৪ জন মাননীয় সদস্য- শ্রীমানবেন্দ্র নারায়ন লারমা, শ্রী সুরঞ্জিৎ সেন গুপ্ত, মোহাম্মদ আজিজার রহমান এবং মোহাম্মদ ইব্রাহীম সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৫৯০.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়া বিদেশি উপাধি গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়?
  1. অষ্টম সংশোধনী
  2. নবম সংশোধনী
  3. সপ্তম সংশোধনী
  4. দশম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
অষ্টম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
অষ্টম সংশোধনী:
- অষ্টম সংশোধনী আইন ১৯৮৮ সালের ৭ জুন এই সংশোধনী আইন পাস হয়।
- এর দ্বারা সংবিধানের ২, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।

এই সংশোধনী আইনবলে -
(১) ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়;
(২) ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়;
(৩) সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে ইবহমধষর শব্দটি পরিবর্তন করে ইধহমষধ করা হয় এবং উধপপধ পরিবর্তন করে উযধশধ করা হয়;
(৪) সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পরবর্তী সময়ে সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদের সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, কারণ তার দ্বারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে।

অন্যদিকে:
- সপ্তম সংশোধনী আইন ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর এই আইন পাস হয়। এই আইন দ্বারা সংবিধানের ৮৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়; এর দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের সংশোধন করা হয়।

- দশম সংশোধনী আইন ১৯৯০ সালের ১২ জুন দশম সংশোধনী আইন কার্যকর হয়। এর দ্বারা, অন্যান্যের মধ্যে, সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে পরবর্তী ১০ বছরের জন্য জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৩০টি আসন সংরক্ষণের বিধান করা হয়, যেসব আসনে নারীরা নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে।

- নবম সংশোধনী আইন সংবিধান আইন, ১৯৮৯ (নবম সংশোধনী) পাস হয় ১৯৮৯ সালের জুলাই মাসে। এই সংশোধনী দ্বারা রাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের বিধান করা হয়; রাষ্ট্রপতির পদে একই ব্যক্তির দায়িত্ব পালন পর পর দুই মেয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয় (প্রতি মেয়াদকাল ৫ বছর)।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫৯১.
বাংলাদেশে সংবিধানের পঞ্চম ভাগ কী সম্পর্কিত?
  1. বিচার বিভাগ
  2. নির্বাহী বিভাগ
  3. আইনসভা
  4. নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
আইনসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনসভা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগ: মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ ও নবম-ক ভাগ জরুরী বিধানাবলী,
- দশম ভাগ: সংবিধান সশোধন এবং একাদশ ভাগ বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৫৯২.
আইন প্রণয়নের ক্ষমতা-
  1. আইন মন্ত্রণালয়ের
  2. রাষ্ট্রপতির
  3. স্পিকারের
  4. জাতীয় সংসদের
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদের
ব্যাখ্যা
• আইন প্রণয়নের ক্ষমতা রয়েছে — জাতীয় সংসদের।

• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ৬৫(১) ধারায় বলা হয়েছে:
"জাতীয় সংসদ" নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে।

• তবে শর্ত থাকে যে,
সংসদের আইন দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হইতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করিবে না।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৫৯৩.
সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৬৬
  2. অনুচ্ছেদ ৬৭ 
  3. অনুচ্ছেদ ৬৮ 
  4. অনুচ্ছেদ ৬৯
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৬৬
ব্যাখ্যা

সংবিধান: 
- সংবিধানের ৬৬ নং অনুচ্ছেদ সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণ করে।
- সংবিধানের ৬৬ নং অনুচ্ছেদ বলে, সংসদে নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে.
- এবং বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হতে হবে।
- কিন্তু কোনো ব্যক্তি নির্বাচিত হতে পারবে না, যদি তিনি:
• কোনো আদালত দ্বারা অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা প্রাপ্ত হন,
• দেউলিয়া থাকেন এবং দায় মুক্তি পাননি,
• অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বা অন্য দেশের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেছেন,
• গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন এবং কারাদণ্ডের পাঁচ বছর পূর্ণ না হয়,
• ১৯৭২ সালের যোগসাজশী মামলায় দণ্ডিত হন, অথবা
• কোনো আইন অনুযায়ী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
সংবিধানের ৬৭ নং অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানের ৬৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে যদি:
- শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করার ৯০ দিনের মধ্যে তা করতে না পারেন,
- অনুমতি ছাড়া ৯০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকেন,
- সংসদ ভাঙে,
- ৬৬ নং অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে অযোগ্য হন, বা
- ৭০ নং অনুচ্ছেদের শর্ত পূরণ হয়।
- সদস্য চাইলে স্পীকারের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগ করতে পারবেন, এবং স্পীকার পত্র প্রাপ্ত হলে তার আসন শূন্য ধরা হবে।

সংবিধানের ৬৮ নং অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানের ৬৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ-সদস্যদের পারিশ্রমিক, ভাতা ও বিশেষ অধিকার নির্ধারণ করা হবে সংসদের আইন বা রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী।

সংবিধানের ৬৯ নং অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানের ৬৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেউ শপথ গ্রহণের আগে বা অযোগ্য অবস্থায় আসন গ্রহণ বা ভোট দিলে, প্রতি দিনের জন্য এক হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

উৎস: Laws Of Bangladesh. 

৫৯৪.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার হওয়ার ন্যূনতম বয়স -
  1. ২৫ বছর
  2. ২৮ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৩৩ বছর
সঠিক উত্তর:
২৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ বছর
ব্যাখ্যা
স্পিকার:
- সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সভাপতি স্পিকার।
- স্পিকার হলেন জাতীয় সংসদের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- স্পিকার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর।

উল্লেখ্য,
⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান পঞ্চম ভাগের ৬৬ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে এবং তাঁর বয়স পঁচিশ বছর পূর্ণ হলে বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার এবং সংসদ-সদস্য থাকার যোগ্য হবেন।
- যেহেতু বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সভাপতি স্পিকার, তাই স্পিকার হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৯৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ‘চলাফেরার স্বাধীনতা‘ বিষয়টি উল্লেখ আছে?
  1. ৩৪নং অনুচ্ছেদে
  2. ৩৭ নং অনুচ্ছেদে
  3. ৩৫ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৩৬ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
৩৬ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৬ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- ৩৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- চলাফেরার স্বাধীনতা।

এছাড়াও, 
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সমাবেশে স্বাধীনতা।
- ৩৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সংগঠনের স্বাধীনতা।
- ৩৯ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৯৬.
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে কার নিকট দায়ী থাকিবে?
  1. সুপ্রিমকোর্ট
  2. সংসদ
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. আপিল বিভাগ
সঠিক উত্তর:
সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদ
ব্যাখ্যা

• মন্ত্রিসভা সম্পর্কিত বিষয়বলি সংবিধানের ৫৫নং অনুচ্ছেদে উল্লিখিত।

⇒ ৫৫(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে।
⇒ ৫৫(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।
⇒ ৫৫(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন।
⇒ ৫৫(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে।
⇒ ৫৫(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
⇒ ৫৫(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৯৭.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বয়স কমপক্ষে কত বছর হতে হবে?
  1. ২৫ বছর
  2. ৩০ বছর
  3. ৩৫ বছর
  4. ৪০ বছর
সঠিক উত্তর:
৩৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৫ বছর
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের -
- ৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।

- ৪৮ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁকে প্রদত্ত ও তাঁর উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করবেন।

- ৪৮ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করবেন।

- ৪৮ (৪) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইবার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি-
(ক) পঁয়ত্রিশ বছরের কম বয়স্ক হন; অথবা
(খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য না হন; অথবা
(গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত হয়ে থাকেন।

- ৪৮ (৫) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন এবং রাষ্ট্রপতি অনুরোধ করলে যেকোন বিষয় মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পেশ করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৯৮.
খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ৩৪ জন
  2. ৩০ জন
  3. ২৯ জন
  4. ৩২ জন
সঠিক উত্তর:
৩৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৪ জন
ব্যাখ্যা

• গণপরিষদ:
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে- ১০  এপ্রিল ১৯৭২।
- গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর ১৯৭২।
- সংবিধান গৃহীত হয় -৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- কার্যকর হয় -১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
- গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন- ড. কামাল হোসেন।   
- গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ আব্দুল হামিদ।
- গণ পরিষদের  ডেপুটি স্পিকার  ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগী।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন-৩৪ জন
- একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  সংবিধান  অধিবেশন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৯.
আইন প্রণয়ন এর ক্ষমতা -
  1. আইন মন্ত্রণালয়ের
  2. রাষ্ট্রপতির
  3. স্পীকারের
  4. জাতীয় সংসদের
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদের
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- পঞ্চম ভাগ,
- আইনসভা,
- ২য় পরিচ্ছেদ,
- আইন প্রনয়ন ও অর্থসংক্রান্ত পদ্ধতি,
- আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি,
৮০।
(১) আইনপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হইবে।
(২) সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হইলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিতে হইবে।
(৩) রাষ্ট্রপতির নিকট কোন বিল পেশ করিবার পর পনর দিনের মধ্যে তিনি তাহাতে সম্মতিদান করিবেন কিংবা অর্থবিল ব্যতীত অন্য কোন বিলের ক্ষেত্রে বিলটি বা তাহার কোন বিশেষ বিধান পুনর্বিবেচনার কিংবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্দেশিত কোন সংশোধনী বিবেচনার অনুরোধ জ্ঞাপন করিয়া একটি বার্তাসহ তিনি বিলটি সংসদে ফেরত দিতে পারিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(৪) রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি অনুরূপভাবে সংসদে ফেরত পাঠান, তাহা হইলে সংসদ রাষ্টপতির বার্তাসহ তাহা পুনর্বিবেচনা করিবেন; এবং সংশোধনীসহ বা সংশোধনী ব্যতিরেকে সংসদ পুনরায় বিলটি গ্রহণ করিলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে এবং অনুরূপ উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫) সংসদ কর্তৃক গৃহীত বিলটিতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করিলে বা তিনি সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইলে তাহা আইনে পরিণত হইবে এবং সংসদের আইন বলিয়া অভিহিত হইবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬০০.
সামগ্রিকভাবে সরকারের কয়টি বিভাগ রয়েছে?
  1. ক) একটি
  2. খ) দুইটি
  3. গ) তিনটি
  4. ঘ) চারটি
সঠিক উত্তর:
গ) তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিনটি
ব্যাখ্যা

সরকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রের যন্ত্রস্বরূপ। সরকার বলতে আমরা বুঝি - আইন পরিষদ, রাজনৈতিক দল, মন্ত্রিপরিষদ, শাসনকর্তা, আদালত ও পুলিশ।
সামগ্রিকভাবে সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে, যথা:
১. নির্বাহী বা শাসন বিভাগ,
২. আইন বিভাগ ও
৩. বিচার বিভাগ।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি