বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Muslim Law

মোট প্রশ্ন৪৮৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Muslim Law

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৪৮৬

১০১.
Arbitration Council এর গঠন প্রণালি কোন আইনে আছে?
  1. দেওয়ানী কার্যবিধি আইন, ১৯০৮
  2. The Family Court Ordinance, 1985
  3. The Muslim Family Laws Ordinance, 1961
  4. সালিশ আইন, ২০০১
সঠিক উত্তর:
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961
ব্যাখ্যা
সালিশি পরিষদের গঠন প্রণালী The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ২ ধারায় বর্ণিত আছে।

Arbitration Council (সালিশি পরিষদ) গঠন: 
সালিশি পরিষদ গঠিত হবে= ৩ জন নিয়ে।
চেয়ারম্যান= ১ জন।
প্রত্যেক পক্ষের ১ জন করে প্রতিনিধি = ২ জন।

⇒ কোনো পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে ব্যর্থ হলে সে পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।

⇒ চেয়ারম্যান বলতে বোঝাবে:
১. ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান,
২. পৌরসভার মেয়র,
৩. সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।

⇒ চেয়ারম্যান একজন অমুসলিম হলে বা অসুস্থ বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, উক্ত পরিষদের একজন মুসলমান সদস্যকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করবেন।

Arbitration Council  ৩ ক্ষেত্রে এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারবে:
১. বহু বিবাহ (Polygamy);
২. তালাক (Talaq);
৩. ভরণপোষণ (Maintenance)।
১০২.
'সাইপ্রেস' (Cy-pres) শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কী?
  1. vested interest 
  2. easement right
  3. as close as possible
  4. as soon as possible 
সঠিক উত্তর:
as close as possible
উত্তর
সঠিক উত্তর:
as close as possible
ব্যাখ্যা

⇒ Cy-pres শব্দটি এসেছে পুরোনো ফরাসি বাক্য “cy pres comme possible” থেকে।
এর অর্থ হলো “যতদূর সম্ভব কাছাকাছি”।
আইনগতভাবে এটি এমন একটি নীতি, যেখানে ওয়াক্ফ/দাতব্য উদ্দেশ্য ব্যর্থ হলে, সেই সম্পত্তি নিকটতম সমজাতীয় দাতব্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, যাতে দাতার সদিচ্ছা যতদূর সম্ভব বাস্তবায়িত হয়।
অর্থাৎ Cy-pres = As close as possible = যতদূর সম্ভব নিকটতম উদ্দেশ্যে ব্যবহার।

⇒ The term ‘cy pres’ comes from the old French phrase ‘cy pres comme possible’, which means “as near as possible.”
- Cy pres is French for "as close" and is short for cy pres comme possible, or "as close as possible."
The term cy pres doctrine refers to a legal concept that gives courts the power to interpret the terms of a will, gift, estate, or charitable trust. 
- In the legal sphere, the phrase refers to ensuring that a donor’s or testator’s desires are followed out as nearly as possible, whether in a will or as part of a charitable trust or estate. 

⇒ "সাইপ্রেস" অর্থ- যতদূর সম্ভব। সাইপ্রেস নীতিটি ন্যায়পরায়নতার নীতি। যার ব্যবহারিক অর্থ হচ্ছে যতদূর সম্ভব কাছাকাছি। যেখানে ওয়াফ্ফনামায় একটি সুস্পষ্ট দাতব্য মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে তা ব্যর্থ হবেনা।

 ⇒ ওয়াক্ত সৃষ্টির উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে। অন্যথায় এটা অবৈধ বলে গণ্য হবে। ওয়াফ্ফনামায় দান করার সদিচ্ছা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হলে, যে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ওয়াক্ত করা হয়েছে তা যদি কোন কারণে ব্যর্থ হয় তবে, ওয়াফ্ফের সম্পত্তি দরিদ্রের উপকারের জন্য অথবা যে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে তার নিকটতম অপর কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে হবে। ওয়াফ্ফের এই নীতি কে "সাইপ্রেস (Cy-press) মতবাদ বলা হয়।

১০৩.
হানাফী আইন অনুযায়ী কত শ্রেণির ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পরেন?
  1. ২ শ্রেণির
  2. ৩ শ্রেণির
  3. ৪ শ্রেণির
  4. ৫ শ্রেণির
সঠিক উত্তর:
৩ শ্রেণির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ শ্রেণির
ব্যাখ্যা
অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:

হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।

১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]

- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।

- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
১০৪.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১২(২) অনুযায়ী, রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার করার জন্য আদালত কোন পরিস্থিতিতে বাধ্য?
  1. কেবল অভিযোগকারীর অনুরোধে
  2. উভয়পক্ষের অনুরোধে
  3. কেবল ভুক্তভোগীর অনুরোধে
  4. জেলা জজ আদালতের নির্দেশে
সঠিক উত্তর:
উভয়পক্ষের অনুরোধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয়পক্ষের অনুরোধে
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারার বিধান: রুদ্ধদ্বার কক্ষে  বিচার:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।

(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।

১০৫.
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রীর কোন কারণে আদালতে তালাক চাওয়ার অধিকার রয়েছে?
  1. চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে
  2. দুই বছর স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে
  3. স্বামী যদি সাত বছর বা তার বেশি সময় কারাদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
১০৬.
'এই গাছে এই বছর যে ফল ধরবে তা তোমাকে দান করলাম।'-মুসলিম আইনানুযায়ী এরূপ দানের ফলাফল কী?
  1. বাতিল
  2. বাতিলযোগ্য
  3. বৈধ
  4. ফল ধরা সাপেক্ষে বৈধ
সঠিক উত্তর:
বাতিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতিল
ব্যাখ্যা
- মুসলিম আইন অনুযায়ী সম্পত্তি দান করা হলে তাকে দান বা হেবা বলে।
মুসলিম আইনে দানের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে:
- দানের বিষয়বস্তুর ওপর থেকে দানদাতা সম্পূর্ণ রূপে মালিকানাস্বত্ব ও কর্তৃত্ব ত্যাগ করতে হয়। 
- দানের বিষয়ে দানগ্রহীতাকে দখল বুঝিয়ে দেওয়া আবশ্যক। স্থাবর সম্পত্তির দখল দানগ্রহীতাকে সম্পূর্ণরূপে বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত দান সম্পূর্ণ হয় না। তবে দানদাতা ও দান গ্রহীতা যদি দানকৃত সম্পত্তিতে একত্রে বসবাস করে তাহলে দানের বিষয়বস্তু/দানকৃত সম্পত্তির দখল দান গ্রহীতার বরাবরে হস্তান্তরের প্রয়োজন নেই। 
- ভবিষ্যতে দান সম্পূর্ণ করা হবে বা অনিশ্চিত কিছু ঘটলে দান কার্যকর হবে এমন কোনো দান বৈধ নয়; দানের বিষয়বস্তু স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট হতে হবে।

উল্লিখিত উদাহরণটিতে, গাছে যে ফল ধরবে তা অনিশ্চিত। এটি আগামী দিনের ঘটনার উপর নির্ভরশীল। তাই এ ধরনের দান মুসলিম আইনে বাতিল বলে গণ্য হয়। গাছের বর্তমান ফলগুলো নির্দিষ্ট করে দান করা হলে তা বৈধ হতো।

অতএব, মুসলিম আইনানুযায়ী, "এই গাছে এই বছর যে ফল ধরবে তা তোমাকে দান করলাম" এরূপ দান বাতিল।
১০৭.
সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে মোহরানা কীভাবে আদায়যোগ্য হবে?
  1. আদালতের মাধ্যমে
  2. স্বেচ্ছায় পরিশোধ করতে হবে
  3. জরিমানার মতো আদায়যোগ্য
  4. ভূমি রাজস্বের বকেয়ার মতো আদায়যোগ্য
সঠিক উত্তর:
ভূমি রাজস্বের বকেয়ার মতো আদায়যোগ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমি রাজস্বের বকেয়ার মতো আদায়যোগ্য
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ (৫) অনুযায়ী, যে পুরুষ সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়াই আরেকটি বিবাহ করবেন, তাকে তার বিদ্যমান স্ত্রীর বা স্ত্রীরদের সমস্ত মোহরানা (দেউর) পরিশোধ করতে হবে। যদি তা পরিশোধ না করা হয়, তবে সেটি ভূমি রাজস্বের বকেয়া হিসেবে আদায়যোগ্য হবে।

অর্থাৎ, দেউর পরিশোধ না করলে, রাষ্ট্র এটি ভূমি রাজস্বের মতো আদায় করবে।
১০৮.
মুসলিম উত্তরাধিকারের নিয়মানুযায়ী মৃত ব্যক্তির একজন কন্যা এবং একাধিক পুত্রের কন্যা থাকলে, পুত্রের কন্যাগণ সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/৩ অংশ
  2. ২/৩ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. বঞ্চিত হবে
সঠিক উত্তর:
১/৬ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৬ অংশ
ব্যাখ্যা
• পুত্রের কন্যার সম্পত্তি লাভের ক্ষেত্রে চারটি অবস্থা লক্ষ্য করা যায়:

ক) মৃত ব্যক্তির পুত্র বা একাধিক কন্যা থাকলে, পুত্রের কন্যা সম্পূর্ণরূপে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

খ) মৃত ব্যক্তির পুত্র-কন্যা না থাকলে, পুত্রের কন্যা একা হলে ১/২ অংশ এবং একাধিক হলে ২/৩ অংশ সম্পত্তি পায়।

গ) মৃত ব্যক্তির যদি একমাত্র কন্যা থাকে, তবে পুত্রের কন্যা একা বা একাধিক যাই থাকুক একা বা সবাই শুধুমাত্র ১/৬ অংশ পাবে। একাধিক হলে এই ১/৬ অংশ সবাই সমানভাবে পাবে।

ঘ) মৃত ব্যক্তির পুত্রের পুত্র থাকলে, পুত্রের কন্যা অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে তার বা তার সাথে ২:১ সম্পত্তি লাভ করবে।
১০৯.
স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্ত্রী যখন তালাক দেয়, তখন সেটাকে বলা হয়-
  1. ইলা
  2. জিহার
  3. তালাক-ই-তাওহিদ
  4. তালাক-ই-তাওফিজ
সঠিক উত্তর:
তালাক-ই-তাওফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালাক-ই-তাওফিজ
ব্যাখ্যা
'Talak e Tafwid' বা 'তালাক-ই-তাওফিজ':

সাধারণত বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষমতা কোন স্ত্রী-এর নেই। কোন স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারে, যদি স্বামী তাকে এমন ক্ষমতা অর্পন করে। স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্ত্রী যখন স্বামীকে তালাক দেয়, তখন সেটাকে Talak e Tafwid 'তালাক-ই-তাওফিজ' বলে। আমাদের দেশে নিকাহনামায় বা বিবাহের চুক্তিপত্রের ১৮ নং অনুচ্ছেদে এই সংক্রান্ত বিধান আছে। অর্থাৎ নিকহানামার ১৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী- স্ত্রী, স্বামীর নিকট হতে তালাক প্রদানের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে স্বামীকে তালাক দিতে পারে যা Talak e Tafwid নামে পরিচিত।

উদাহরণ:
বিবাহের কাবিননামায় শর্ত দেওয়া হলো যে- কাবিননামায় উল্লেখিত তাৎক্ষণিক দেনমোহর [Prompt Dower] স্বামী দিতে ব্যর্থ হলে, স্ত্রী বিবাহ বাতিল করতে পারবে। কিন্তু স্ত্রী উক্ত দেনমোহর চাইলেও স্বামী তা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এইক্ষেত্রে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।
১১০.
তালাক-ই-তাফফিজের বিধান নিকাহনামার কত নম্বর কলামে উল্লেখ থাকে?
  1. ৮ নম্বর
  2. ১২ নম্বর
  3. ১৮ নম্বর
  4. ২৮ নম্বর
সঠিক উত্তর:
১৮ নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ নম্বর
ব্যাখ্যা

• 'Talak e Tafwid' বা 'তালাক-ই-তাওফিজ':
সাধারণত বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষমতা কোন স্ত্রী-এর নেই। কোন স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারে, যদি স্বামী তাকে এমন ক্ষমতা অর্পন করে। স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্ত্রী যখন স্বামীকে তালাক দেয়, তখন সেটাকে Talak e Tafwid 'তালাক-ই-তাওফিজ' বলে।

ইসলামিক বিবাহ নিবন্ধনের সময়, নিকাহনামার ১৮ নম্বর কলামে তালাকের ক্ষমতা অর্পণের বিষয়টি উল্লেখ করার সুযোগ থাকে। যদি স্বামী এই কলামে স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করেন, তবে স্ত্রী নির্দিষ্ট শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে নিজেই তালাক নিতে পারেন। অতএব, তালাক-ই-তাফফিজের ক্ষমতা কার্যকর করার জন্য এই ধারাটিতে শর্তগুলি স্পষ্টভাবে লেখা থাকা জরুরি। 

১১১.
‘উমরিয়াতিন’-এর আওতায় মা কত ভাগ পাবেন যখন বাবার সাথে স্ত্রী বা স্বামী থাকেন?
  1. ১/৩ ভাগ
  2. ১/২ ভাগ
  3. ১/৪ ভাগ
  4. পিতার অংশের দ্বিগুণ
সঠিক উত্তর:
১/৩ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩ ভাগ
ব্যাখ্যা
উত্তর: ক) ১/৩ ভাগ
⇒ ‘উমরিয়াতিন’ নীতির আওতায়, যদি মা, বাবা এবং স্বামী বা স্ত্রী একত্রে থাকেন, তাহলে মা সম্পত্তির ১/৩ ভাগ পাওয়ার পরিবর্তে পিতার অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অংশ পাবেন।
- অর্থাৎ, মা প্রথমে ১/৩ ভাগ পাওয়ার অধিকারী হলেও, পিতার অংশ দেওয়ার পর বাকি অংশ তাঁর দিকে চলে আসে।
- এটি হজরত উমর (রা.)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, যাতে মা পিতার অংশের দ্বিগুণ না পান এবং উমরিয়াতিন নীতির আওতায় সম্পত্তি বণ্টন সঠিকভাবে হয়।

Doctrine of Umariyatan (উমরিয়াতান নীতি):
উমরিয়াতান বা উমরিয়াতিন হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নীতি, যা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মায়ের অংশকে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান। এটি মূলত দুইটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়, যেগুলোকে আল-ঘররাওয়ানি বা "দুই প্রতারক" বলা হয়।

উমরিয়াতান নীতির উদ্দেশ্য:
১. মায়ের অংশকে ১/৩ থেকে কমিয়ে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্য করা।
২. পিতা যেন মায়ের অংশের দ্বিগুণ পান, তা নিশ্চিত করা।
৩. মায়ের অংশের অসঙ্গতি দূর করা, যাতে তিনি পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।

মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার শর্ত:
মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন যদি নিম্নলিখিত দুটি শর্ত পূরণ হয়:
১. মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যেমন: নাতি-নাতনি) না থাকে।
২. মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই বা বোন না থাকে (এক ভাই বা এক বোন থাকলে মাতা ১/৩ পাবেন)।

উমরিয়াতান নীতির প্রয়োগ:
উমরিয়াতান নীতি বিশেষভাবে প্রয়োগ হয় যখন নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।
২. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।

- এই পরিস্থিতিতে মাতা সরাসরি ১/৩ অংশ না পেয়ে, পিতার অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।
- এই নিয়ম প্রয়োগ না করলে মাতা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেতে পারেন, যা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের মূল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।
১১২.
অগ্রক্রয় (Pre-emption) শব্দটির আরবি প্রতিশব্দ কী?
  1. হুদুদ
  2. শুফা
  3. মোহর
  4. নাফাকা
সঠিক উত্তর:
শুফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুফা
ব্যাখ্যা
• Pre-emption বা অগ্রক্রয় হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa) নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী, ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে-
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik]- সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার।
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]- সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]- সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক।

• অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ
এই তিন প্রকারের অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাবে। বিভিন্ন শ্রেণির অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে প্রথম স্তরের অধিকারী দ্বিতীয় স্তর কে এবং দ্বিতীয় স্তরের অধিকারী তৃতীয় স্তরকে রহিত করবে। একই স্তরের একাধিক ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে চাইলে তারা সবাই অগ্রক্রয়ের অধিকারকৃত ভূমির সমান ভাগ পাবে।
১১৩.
মুসলিম আইনে যদি বৈধ বিবাহ হয় এবং দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় কিন্তু দাম্পত্য সম্পর্ক পালন না হয়, স্ত্রী কী পরিমাণ দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী?
  1. নির্ধারিত পুরো দেনমোহর
  2. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক
  3. উপযুক্ত দেনমোহর
  4. কোন দেনমোহর পাবে না
সঠিক উত্তর:
নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক
ব্যাখ্যা

দেনমোহর হলো একটি বৈধ বিবাহে স্বামী তার স্ত্রীকে মর্যাদার প্রতীক হিসাবে যা প্রদান করে তাকেই দেনমোহর বলে। উপমহাদেশের বিখ্যাত আইনবিদ D.F MOLLAH বলেন, “Mahr or dower is a sum of money of the other property which the wife is entitled to receive from the husband in consideration of the marriage.” অর্থাৎ মোহর হলো এমন কোন সম্পদ বা অর্থ যা স্ত্রী তার স্বামীর নিকট হতে বিবাহের প্রতিদান হিসাবে পাওয়ার অধিকার রাখে।

এটি স্ত্রীর অধিকার এবং সম্মানের স্বীকৃতি। সাধারণত বৈধ বিয়ের পর দেনমোহর দিতেই হবে। স্বামী যদি দেনমোহর প্রদান না করে মারাও যান তবুও স্ত্রী স্বামীর সম্পদ থেকে দেনমোহর আদায় করতে পারেন বা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তার অধিকারে রাখতে পারেন। তবে কিছু ব্যতিক্রম আছে যখন কিনা স্ত্রী কোন দেনমোহর পান না বা অর্ধেক দেনমোহর প্রাপ্য হোন।

­যখন স্ত্রী অর্ধেক দেনমোহর পাবেঃ
যদি বৈধ বিবাহ হয় এবং দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় কিন্তু যদি স্ত্রীয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক কিংবা দাম্পত্য নির্জনতা না পালন হয় সেক্ষেত্রে অর্ধেক দেনমোহর দিতে হবে। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন-

“আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে, মোহর সাব্যস্ত করা হয়েছে তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হবে।” (আল কুরআন ২:২৩৭)

এছাড়া Taibi vs Nathai Sharif (1940)2MLJ345=191IC728 এই মামলায়ও আদালত এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন- If the marriage was not consummated and the amount of dower was specified in the contract she is entitled to half of the amount the amount.

স্ত্রী কখন কোন দেনমোহর নাও পেতে পারেনঃ
যদি বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সহবাস অথবা দাম্পত্য নির্জনতা পালিত হওয়ার পূর্বে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং যদি দেনমোহর নির্ধারিত না থাকে তাহলে কোন দেনমোহর পাওয়া থেকে স্ত্রী বঞ্চিত হতে পারেন।

১১৪.
মুসলিম মৃত ব্যক্তির যদি আপন ভাই থাকে, তবে আপন বোন কীভাবে সম্পত্তি পাবে?
  1. ১:১ হারে
  2. অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ২:১ অনুপাতে
  3. অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ৩:১ অনুপাতে
  4. কোনো অংশ পাবে না
সঠিক উত্তর:
অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ২:১ অনুপাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ২:১ অনুপাতে
ব্যাখ্যা

মুসলিম মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার আপন বোন বা পূর্ণ বোনের অধিকার (Full Sister):
বোন বা সহোদর বোন থাকলে তারা পাঁচটি অবস্থায় অংশ প্রাপ্ত হয়ে থাকে। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পূর্ণ বোন বা
যেমন -
ক) মৃত ব্যক্তির যদি একজন আপন বোন থাকে তাহলে সে ঐ ব্যক্তির সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে।
খ) যদি দুইবা ততোধিক সহোদর বোন থাকে তাহলে তারা ঐ সম্পত্তির ২/৩ অংশ পাবে।
গ) আপন ভাইয়ের উপস্থিতিতে আপন বোন অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ২:১ হারে সম্পত্তি পেতে পারে
ঘ) আপন বোন মৃত ব্যক্তির সন্তান, পুত্রের সন্তান যত নীচের হোক, বা পুত্রের উপস্থিতিতে ও সে অংশীদার হতে বাদ পড়ে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি পেতে পারে। কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবরিক আইনের বিধান মোতাবেক আপন বোন কোন অংশ পাবেনা। পুত্রের কন্যাই সব অংশ পাবে।
ঙ) মৃত ব্যক্তির পিতা বা দাদা বর্তমান থাকলে সহোদর বোন বঞ্চিত হবে।

১১৫.
স্বামী কত বছর ধরে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে, স্ত্রী মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর অধীনে তালাকের জন্য আবেদন করতে পারে?
  1. তিন বছর
  2. এক বছর
  3. দুই বছর
  4. চার বছর
সঠিক উত্তর:
দুই বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই বছর
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর অধীনে স্ত্রী যে যে কারণের ভিত্তিতে আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাকের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কারণগুলো হলো—
১. স্বামী চার বছরের বেশি সময় নিরুদ্দেশ থাকলে;
২. দুই বছর ধরে স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
৩. ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করলে;
৪. সাত বছর বা তার বেশি সময় স্বামী কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে;
৫. কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর ধরে স্বামী তার দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
৬. বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা করার সময় পর্যন্ত স্বামীর পুরুষত্বহীনতা বজায় থাকলে;
৭. স্বামী দুই বছর ধরে পাগল থাকলে অথবা মারাত্মক যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
৮. নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হয়ে থাকলে অথবা সাবালকত্ব লাভের পর, অর্থাৎ ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর স্ত্রী বিয়ে অস্বীকার করলে (কিন্তু এ ক্ষেত্রে স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে থাকলে এ রকম মামলা করা যাবে না)-
৯. স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করলে, যেমন- স্ত্রীকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন করলে, স্বামীর কোনো অবৈধ সম্পর্ক থাকলে, নৈতিকতাবর্জিত জীবনযাপনের জন্য স্ত্রীকে বাধ্য করলে, স্ত্রীর অমতে তার সম্পত্তি হস্তান্তর করলে কিংবা স্ত্রীকে তার সম্পত্তির ওপর বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা দিলে, স্ত্রীকে তার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেওয়া, পবিত্র কোরআনের নির্দেশে একাধিক স্ত্রীদের সঙ্গে সমান ব্যবহার না করলে।
১১৬.
বৈধ ইজমার শর্ত নয় কোনটি?
  1. ইজমা কোনো সময় কোরআন ও হাদিসের বিপরীত হবে না;
  2. কোনো এক বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপিত হলে এটি পুনরায় আলোচিত বা রদ হবে না;
  3. একটি ইজমা পরবর্তী কোনো সুবিবেচিত ইজমা দ্বারা বাতিল হতে পারে;
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
 ইজমার শর্তসমূহ: বৈধ ইজমার শর্তসমূহ নিম্নরূপ- 

(১) ইজমা কোনো সময় কোরআন ও হাদিসের বিপরীত হবে না;
(২) কোনো এক বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপিত হলে এটি পুনরায় আলোচিত বা রদ হবে না;
(৩) একটি ইজমা পরবর্তী কোনো সুবিবেচিত ইজমা দ্বারা বাতিল হতে পারে এবং
(৪) কোনো যুগের মুসলিম আইন-বিজ্ঞানীগণ বিশেষ প্রশ্নে দুই রকমের ইজমা প্রতিষ্ঠিত করলে, এর পর তৃতীয় মত গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লিখিত প্রশ্নে সবগুলো অপশন বৈধ ইজমার শর্ত। তাই সঠিক উত্তর 'ঘ'(কোনটি নয়)। 
১১৭.
দেনমোহরের জন্য মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. তিন বৎসর
  2. ছয় বৎসর
  3. এক বৎসর
  4. কোনো তামাদি মেয়াদ নেই
সঠিক উত্তর:
তিন বৎসর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন বৎসর
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১০৩ এবং ১০৪ অনুযায়ী মুসলিম আইনের অধীন দেনমোহর আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর।

অর্থাৎ বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য [deferred dower] একজন মুসলিম মহিলা মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির ৩ বৎসর যা তামাদি আইনের ১০৪ অনুছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
১১৮.
'ক' একজম মুসলিম এক সম্পত্তি প্রথমে 'খ' বরাবর উইল করে এবং কিছুদিন পর 'গ' এর নিকট বিক্রি করে দেয়। এক্ষেত্রে -
  1. উইলটি কার্যকর হবে
  2. উইলটি প্রত্যাহার হবে
  3. বিক্রয় অবৈধ হবে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উইলটি প্রত্যাহার হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলটি প্রত্যাহার হবে
ব্যাখ্যা
⇒ কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-
ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।
খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।
গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।

মুসলিম আইনে,
একজন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় যে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন, সেটি তার সম্পূর্ণ অধিকার। তবে, যদি তিনি ওই সম্পত্তির কিছু অংশ উইল করেন, তবে ওই উইলটি মৃত্যুর পর কার্যকর হবে। কিন্তু, যদি ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ওই সম্পত্তি বিক্রি করেন, তাহলে উইলটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে, কারণ বিক্রি একটি কার্যকর আইনগত কাজ, যা সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন করে।
১১৯.
The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 অনুযায়ী স্বামী কত বৎসর উম্মাদ থাকলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
১২০.
'Mahr-I-Muazzama' অর্থ কী?
  1. উপযুক্ত দেনমোহর
  2. নির্ধারিত দেনমোহর
  3. তাৎক্ষনিক দেনমোহর
  4. বিলম্বিত দেনমোহর
সঠিক উত্তর:
নির্ধারিত দেনমোহর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ধারিত দেনমোহর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) নির্ধারিত দেনমোহর।

⇒ দেনমোহরের পরিমাণের ভিত্তিতে (On basis of Amount) মুসলিম আইনে প্রধানত দুই প্রকার দেনমোহরের কথা বলা হয়েছে-

নির্ধারিত দেনমোহর (Specified dower/Mahr-I-Muazzama): 

স্বামী স্ত্রীকে কত পরিমাণ দেনমোহর দিবে তা যদি নির্ধারিত থাকে, তাহলে উক্ত দেনমোহর হলো নির্ধারিত দেনমোহর।

উপযুক্ত দেনমোহর (Unspecified/proper dower/Mahr-I-Misl): 
যদি দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারিত না থাকে, তাহলে যে পরিমাণ দেনমোহর দেওয়া হয়, তাহলো যথার্থ বা উপযুক্ত দেনমোহর। তবে এই পরিমাণটি যুক্তিযুক্ত হবে।

⇒ আবার দেনমোহর প্রদানের সময়ের ভিত্তিতে (On basis of time) নির্ধারিত দেনমোহর (Specified dower) দুই ভাগে ভাগ করা হয়-

তলবী বা চাহিদামাত্র বা তাৎক্ষনিক দেনমোহর (Prompt Dower/Mahr-I-Muajjal):
যে কোন সময় স্ত্রী চাওয়া মাত্রই যে দেনমোহর স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য, তাকে আশু বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর [Prompt Dower) বলে। অর্থাৎ স্ত্রী যে কোন সময় তাৎক্ষণিক (Prompt Dower) দাবী করতে পারে। যদি স্ত্রী চাই তবে বিবাহের পরপরই তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধযোগ্য। ১৯৬৬ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ১০ ধারা অনুসারে 'নিকাহনামায় বা বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহর ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখিত না থাকলে দেনমোহরের সমগ্র অর্থ চাহিবামাত্র প্রদেয় বলে নিতে হবে।'

স্থগিত বা বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower/Mahr -I-Muwajjal):
বিবাহ বিচ্ছেদের সময় বা কোন নির্দিষ্ট ঘটনা সাপেক্ষে বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower) পরিশোধযোগ্য। Maina Bibi v Chowdhury Wakil Ahmed 52 I.A (1924) p.521 মামলার রায়ে বলা হয়, স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী দেনমোহরের টাকা পরিশোধের জন্য কোন সম্পত্তির দখল বজায় রাখতে পারে এবং এই দখল চালিয়ে যেতে পারে যতদিন পর্যন্ত না দেনমোহরের টাকা পরিশোধিত হয়।

১২১.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে 'বৃদ্ধি নীতি' নামে কোন মতবাদ পরিচিত?
  1. রদের মতবাদ
  2. আনসাব মতবাদ
  3. প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
  4. আউলের মতবাদ
সঠিক উত্তর:
আউলের মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আউলের মতবাদ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (শরীয়া) অনুসারে 'বৃদ্ধি নীতি' বা Doctrine of Aul (আউলের মতবাদ) বলতে বোঝায় যখন কোরানিক অংশীদারদের নির্ধারিত অংশ যোগ করলে সম্পত্তির মোট পরিমাণ (১) অতিক্রম করে (যেমন ১৩/১২), তখন অংশীদারদের অংশসমূহকে তাদের অনুপাতে কমিয়ে (যেমন ১২/১৩ করে) যোগফলকে ১-এর সমান করা হয়। এতে কোনো অংশীদারকে বাদ দেওয়া হয় না, শুধু অংশের পরিমাণ সমন্বয় করা হয়।

⇒ আউল শব্দের অর্থ বৃদ্ধি বা increase অংশীদারদের নিজেদের অংশ বন্টনের পরে, যদি মোট পরিমাণ এক না হয়ে এটা অতিক্রম করে তবে সেক্ষেত্রে বৃদ্বির বা আউলের মতবাদ প্রয়োগ হয়।
- অংশগুলো একত্রে যোগ করলে যোগ করলে যোগফলের ভগ্নাংশের 'লব' (numerator ) দ্বারা অংশের মোট সংখ্যা বোঝাবে এবং 'হর' (denomenator) দ্বারা উত্তরাধিকার যোগ্য সম্পত্তির) মোট ভাগ বা টুকরার পরিমাণ বোঝাবে।
- যদি বন্টিত অংশের পরিমাণ ১৩/১২ হয়, তখন ১৩ দ্বারা অংশের সংখ্যা বোঝাবে এবং ১২ দ্বারা সম্পত্তির বিভক্তি বা খন্ডের সংখ্যা বোঝাবে। এক্ষেত্রে সম্পত্তির টুকরা বা খন্ডের চাইতে এতে প্রাপ্য অংশের পরিমাণ বেশী হয়েছে।
- অন্য কথায় অংশীদারদের অংশের পরিমানের চাইতে সম্পত্তি কম। অংশীদারদের স্ব স্ব অংশের কোনরকম পরিবর্তন না করে একে এককরার যে নীতি প্রয়োগ করা হয় তাই আউল নীতি (doctrine of Aul) নামে পরিচিত।
- এই নীতি অনুযায়ী অংশীদারদের অংশসমূহ তাদের অনুপাতে কমিয়ে এদের যোগফল এক করা হয়।

১২২.
'Analogical deduction' মুসলিম আইনের কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. অভিভাবকত্ব
  2. অছিয়ত
  3. উৎস
  4. উত্তরাধিকার
সঠিক উত্তর:
উৎস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎস
ব্যাখ্যা
'Analogical deduction' বা ‘কিয়াস’ মুসলিম আইনের উৎসগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

মুসলিম আইনের চারটি প্রধান উৎস হলো:
১. কুরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা (সর্বসম্মত মতামত);
৪. কিয়াস অর্থাৎ 'Analogical deduction'।
যখন কোনো বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকে, তখন ইসলামের বিশিষ্ট আইনজ্ঞগণ কিয়াস বা অনুমিতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তারা কুরআন ও হাদিসের আলোকে নতুন পরিস্থিতি এবং ঘটনাবলীর বিচার করেন।

অতএব, 'Analogical deduction' বা কিয়াস মুসলিম আইনের উৎসসমূহের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি মূল উৎসগুলির পাশাপাশি ব্যবহৃত হয় এবং মুসলিম আইনকে আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করেছে।
১২৩.
মুসলিম আইনে নাফাকা (Nafaqa) দ্বারা কী বোঝায়?
  1. দান করা সম্পত্তি
  2. ভরণপোষণ
  3. সম্পত্তির দায়
  4. অভিভাবকত্ব
সঠিক উত্তর:
ভরণপোষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভরণপোষণ
ব্যাখ্যা

নাফাকা (Nafaqa) মুসলিম আইন অনুসারে:
নাফাকা (Nafaqa) শব্দটি আরবি "نفقہ" থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো জীবিকা বা ভরণপোষণ, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি প্রদান। মুসলিম আইন অনুসারে, নাফাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য যা পরিবারিক জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য স্বামী, বাবা বা অভিভাবককে প্রদান করতে হয়। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা নাফাকায় অন্তর্ভুক্ত।

মুসলিম আইনে নাফাকার বিবরণ:
মুসলিম শরিয়াহ অনুসারে, স্বামীর প্রধান দায়িত্ব হলো তার স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান। এটি স্বামীর আইনি ও ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। স্বামী তার স্ত্রীর খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে দায়িত্বশীল। নাফাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সাধারণত স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে।

স্ত্রীর অধিকার:
যদি কোনো স্ত্রীর কাছে স্বামীর অর্থনৈতিক সহায়তা বা নাফাকা প্রদান না করা হয়, তবে সে আদালতে নাফাকা চেয়ে মামলা করতে পারে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, স্ত্রীর জন্য নাফাকা একটি মৌলিক অধিকার এবং এটি নিশ্চিত করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তালাকের পর, ইদ্দতকালে স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান করাটা স্বামীর কর্তব্য

১২৪.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে সালিশি পরিষদের গঠন পদ্ধতি কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৩
  3. ধারা ৫
  4. ধারা ৭
সঠিক উত্তর:
ধারা ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২
ব্যাখ্যা
⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ২-এ "Arbitration Council" বা সালিশি পরিষদের সংজ্ঞা ও গঠন পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে সালিশি পরিষদ তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে —
- একজন চেয়ারম্যান (যিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র হবেন)।
- প্রত্যেক পক্ষের ১ জন করে প্রতিনিধি, অর্থাৎ দুই পক্ষের সম্মতিতে ২ জন প্রতিনিধি থাকবেন।

তাছাড়া, ধারা ২-এ আরও বলা হয়েছে—
- যদি কোনো পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।
- যদি চেয়ারম্যান অমুসলিম হন বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে সালিশি পরিষদের একজন মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।
১২৫.
The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937 এর ২ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক না?
  1. দানের ক্ষেত্রে
  2. উইলের ক্ষেত্রে
  3. ট্রাস্টের ক্ষেত্রে
  4. উপরিউক্ত সকল ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক
সঠিক উত্তর:
উইলের ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
২। মুসলমানদের প্রতি ব্যক্তিগত আইনের প্রয়োগ:
বিপরীত প্রথা এবং রীতি থাকা সত্ত্বেও, (কৃষিভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ব্যতীত) চুক্তি বা উপহার অথবা ব্যক্তিগত আইনের বিধানাবলীর অধীন অর্জিত বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তিসহ নারীর বিশেষ সম্পত্তি, বিবাহ-বন্ধন, তালাক, ইলা, জিহার, লিয়ান, খুলা ও মুবারাসহ বিবাহ-বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, দেনমোহর (dower), অভিভাবকত্ব, উপহার, ট্রাস্ট এবং ট্রাস্ট-সম্পত্তি, এবং (দাতব্যালয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং দাতব্য ও ধর্মীয় সম্পত্তি ব্যতীত) ওয়াকফ্ সংক্রান্ত সকল প্রশ্নে, যে সকল মামলায় পক্ষগণ মুসলমান সেই সকল মামলার, সিদ্ধান্ত-বিধি হইবে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত)।

⇒ Section 2. Application of Personal Law to Muslims:

Notwithstanding any custom or usage to the contrary, in all questions (save questions relating to agricultural land) regarding intestate succession, special property of females, including personal property inherited or obtained under contract or gift or any other provision of Personal Law, marriage, dissolution of marriage, including talaq, ila, zihar, lian, khula and mubaraat, maintenance, dower, guardianship, gifts, trusts and trust properties, and waqfs (other than charities and charitable institutions and charitable and religious endowments) the rule of decision in cases where the parties are Muslims shall be the Muslim Personal Law (Shariat).
১২৬.
শরীয়া আইন অনুযায়ী মোট কোরানিক অংশীদার কত জন?
  1. ৫ জন
  2. ৭ জন
  3. ১২ জন
  4. ১৪ জন
সঠিক উত্তর:
১২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ জন
ব্যাখ্যা
⇒ শরীয়া আইন অনুযায়ী মোট ১২ জন কোরানিক অংশীদার রয়েছে।
- কোরানিক অংশীদার হলেন তারা যারা কোরআনে নির্ধারিত উত্তরাধিকারী, অর্থাৎ যারা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে (শরীয়া আইনে) কোনো মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পাওয়ার অধিকারী।
- কোরআনে ১২ জন নির্দিষ্ট অংশীদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু পুরুষ এবং কিছু মহিলা রয়েছেন।
কোরানিক অংশীদার সর্বমোট ১২ জন। এর মধ্যে ৮ জন মহিলা ও ৪ জন পুরুষ। যথা-
১. স্বামী (Husband)
২. স্ত্রী (Wife)
৩. বাবা (Father)
৪. মা (Mother)
৫. কন্যা (Daughter)
৬. পুত্রের কন্যা (Son's Daughter)
৭. দাদা (True Grandfather)
৮. দাদি (True Grandmother)
৯. আপন বোন (Full Sister)
১০. বৈমাত্রেয় বোন (Consanguine Sister)
১১. বৈপিত্রেয় বোন (Uterine Sister)
১২. বৈপিত্রেয় ভাই (Uterine Brother)
১২৭.
Cy-pres means-
  1. as soon as possible.
  2. as close as possible.
  3. vested interest.
  4. easement right.
সঠিক উত্তর:
as close as possible.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
as close as possible.
ব্যাখ্যা
⇒ The term ‘cy pres’ comes from the old French phrase ‘cy pres comme possible’, which means “as near as possible.”
- Cy pres is French for "as close" and is short for cy pres comme possible, or "as close as possible."
The term cy pres doctrine refers to a legal concept that gives courts the power to interpret the terms of a will, gift, estate, or charitable trust. 
- In the legal sphere, the phrase refers to ensuring that a donor’s or testator’s desires are followed out as nearly as possible, whether in a will or as part of a charitable trust or estate. 

⇒ "সাইপ্রেস" অর্থ- যতদূর সম্ভব। সাইপ্রেস নীতিটি ন্যায়পরায়নতার নীতি। যার ব্যবহারিক অর্থ হচ্ছে যতদূর সম্ভব কাছাকাছি। যেখানে ওয়াফ্ফনামায় একটি সুস্পষ্ট দাতব্য মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে তা ব্যর্থ হবেনা।

 ⇒ ওয়াক্ত সৃষ্টির উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে। অন্যথায় এটা অবৈধ বলে গণ্য হবে। ওয়াফ্ফনামায় দান করার সদিচ্ছা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হলে, যে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ওয়াক্ত করা হয়েছে তা যদি কোন কারণে ব্যর্থ হয় তবে, ওয়াফ্ফের সম্পত্তি দরিদ্রের উপকারের জন্য অথবা যে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে তার নিকটতম অপর কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে হবে। ওয়াফ্ফের এই নীতি কে "সাইপ্রেস (Cy-press) মতবাদ বলা হয়।
১২৮.
ওয়াকফ আলাল আওলাদ-এর ক্ষেত্রে সম্পত্তি কীভাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে দাতব্য কাজে ব্যবহৃত হবে
  2. সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে সরকারের হাতে থাকবে
  3. সম্পত্তি প্রথমে পরিবারের কল্যাণে ব্যবহার হবে
  4. কোনটিই সঠিক নয়
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি প্রথমে পরিবারের কল্যাণে ব্যবহার হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি প্রথমে পরিবারের কল্যাণে ব্যবহার হবে
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ আলাল আওলাদ:
ওয়াকফ আলাল আওলাদ ইচ্ছে ইসলাম ধর্ম কর্তৃক স্বীকৃত বিশেষ ধরনের ওয়াকফ। এ ধরনের ওয়াকফের ক্ষেত্রে ওয়াফকারী সম্পত্তিটি তার বংশধরদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করতে পারে। তবে বংশধরদের উপকার শেষান্তে সম্পত্তিটি অবশ্যই ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে ব্যয় বা ব্যবহার হবে। এটি ওয়াকফ আলাল আওলাদ বলে। অর্থাৎ ওয়াকিফের নিজের জন্য বা তার পরিবার বর্গের জন্য কোন ওয়াকফ করা হলে তাকে ওয়াকফ-আলাল- আউলাদ বলে।

Abul Fata Mahomed Ishak Vs Russomoy Dhur Chowdry (1894) নামক বিখ্যাত মামলায় পারিবারিক ওয়াকফ বা ওয়াকফ আল-আউলাদকে অবৈধ ঘোষনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে The Mussalman Wakf validating Act, 1913 পাশের মাধ্যমে ওয়াকফ-আলাল আউলাদকে বৈধতা দেওয়া হয়। তবে শর্ত হলো এরকম ওয়াকফের চূড়ান্ত উপকার গরীব অথবা দাতব্য/ ধর্মীয় উদ্দেশ্যে হতে হবে।

সুতরাং বলা যায়, ওয়াকফকারী তার বংশধরদের কল্যাণে ওয়াফের উদ্দেশ্যের স্থগিত অবস্থার কারণে ওয়াকফটি অবৈধ হবে না। তবে সেরকম সংরক্ষণ বংশের পর বংশ চলতে থাকতে পারে না। সেরকম সংরক্ষণ অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হবে।
১২৯.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর বা ভরণপোষণের মোকদ্দমায় কোন আদালতের বিশেষ এখতিয়ার থাকবে?
  1. যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে সালিশী কাউন্সিল গঠিত হয়েছে
  2. যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে স্বামী বসবাস করেন
  3. যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে স্ত্রী বসবাস করেন
  4. যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে
সঠিক উত্তর:
যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে স্ত্রী বসবাস করেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে স্ত্রী বসবাস করেন
ব্যাখ্যা

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৬- মোকদ্দমা দায়ের:
(১) এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমা সেই পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করিতে হইবে যাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে-
(ক) মোকদ্দমার কারণ সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে উদ্ভূত হইয়াছে; অথবা
(খ) পক্ষগণ একত্রে বসবাস করেন বা সর্বশেষ বসবাস করিয়াছিলেন:

তবে শর্ত থাকে যে, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর বা ভরণপোষণের মোকদ্দমায় সেই আদালতেরও এখতিয়ার থাকিবে, যাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে স্ত্রী সাধারণত বসবাস করেন।

১৩০.
'ওয়াকফ আলাল আওলাদ' বলতে কী বোঝায়?
  1. জনগণের কল্যাণে করা ওয়াকফ
  2. বংশধরদের ভরণপোষণ বা উপকারার্থে করা ওয়াকফ
  3. সমাজের কল্যাণে করা ওয়াকফ
  4. ক এবং গ
সঠিক উত্তর:
বংশধরদের ভরণপোষণ বা উপকারার্থে করা ওয়াকফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বংশধরদের ভরণপোষণ বা উপকারার্থে করা ওয়াকফ
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ আলাল আওলাদ:

ওয়াকফ আলাল আওলাদ ইচ্ছে ইসলাম ধর্ম কর্তৃক স্বীকৃত বিশেষ ধরনের ওয়াকফ। এ ধরনের ওয়াকফের ক্ষেত্রে ওয়াফকারী সম্পত্তিটি তার বংশধরদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করতে পারে। তবে বংশধরদের উপকার শেষান্তে সম্পত্তিটি অবশ্যই ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে ব্যয় বা ব্যবহার হবে। এটি ওয়াকফ আলাল আওলাদ বলে। অর্থাৎ ওয়াকিফের নিজের জন্য বা তার পরিবার বর্গের জন্য কোন ওয়াকফ করা হলে তাকে ওয়াকফ-আলাল- আউলাদ বলে।

Abul Fata Mahomed Ishak Vs Russomoy Dhur Chowdry (1894) নামক বিখ্যাত মামলায় পারিবারিক ওয়াকফ বা ওয়াকফ আল-আউলাদকে অবৈধ ঘোষনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে The Mussalman Wakf validating Act, 1913 পাশের মাধ্যমে ওয়াকফ-আলাল আউলাদকে বৈধতা দেওয়া হয়। তবে শর্ত হলো এরকম ওয়াকফের চূড়ান্ত উপকার গরীব অথবা দাতব্য/ ধর্মীয় উদ্দেশ্যে হতে হবে।

সুতরাং বলা যায়, ওয়াকফকারী তার বংশধরদের কল্যাণে ওয়াফের উদ্দেশ্যের স্থগিত অবস্থার কারণে ওয়াকফটি অবৈধ হবে না। তবে সেরকম সংরক্ষণ বংশের পর বংশ চলতে থাকতে পারে না। সেরকম সংরক্ষণ অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হবে।
১৩১.
যদি কোন সন্তান থাকে তাহলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ২/৫ অংশ
  2. ১/৮ অংশ
  3. ১/১২ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/৮ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৮ অংশ
ব্যাখ্যা
⇒ স্ত্রী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।

i) ১/৪ অংশ।

ii)  ১/৮ অংশ।

ক) যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে।

খ) যদি মৃত ব্যাক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে।
১৩২.
The 'right to pre-emption' is-
  1. right to inherit directly
  2. right to substitution
  3. right to repurchase
  4. All of the above
সঠিক উত্তর:
right to substitution
উত্তর
সঠিক উত্তর:
right to substitution
ব্যাখ্যা
• Pre-emption হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa)। নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ:- A এবং B একটি জমির যৌথ মালিক। ৪ তার অংশটি অপর অপরিচিত ব্যক্তি C কে বিক্রয় করে দেয়। এই ক্ষেত্রে B কর্তৃক বিক্রিত সম্পত্তিটি ক্রয়ের প্রথম অধিকার A এর। এ ক্ষেত্রে এ সম্পত্তিটি তার নিকট বিক্রি করার জন্য B কে বাধ্য করতে পারে। সম্পত্তিটি অপরিচিত ব্যক্তি C এর পূর্বে A এর ক্রয় করার অধিকার অগ্রক্রয়ের অধিকার নামে পরিচিত।

• অগ্রক্রয়ের অধিকার শুধু স্থাবর সম্পত্তির সাথে সম্পর্কীত। অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয় অধিকার প্রযোজ্য নয়। অগ্রক্রয়ের অধিকার মূলত প্রতিস্থাপনের অধিকার। এটি সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয়ের অধিকার নয়।।

মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী, ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে-
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik]- সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার।
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]- সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]- সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক।
১৩৩.
মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর অধীন কোনো ব্যক্তি সুবিধা পেতে চাইলে তাকে কোন বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে?
  1. সে মুসলিম
  2. সে চুক্তি করতে সক্ষম
  3. সে বাংলাদেশে বসবাসকারী
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ৩ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের সুবিধা পেতে চায়, তবে তাকে নিম্নলিখিত তিনটি বিষয় প্রমাণ করতে হবে:
১) সে মুসলিম – ব্যক্তি অবশ্যই মুসলিম হতে হবে।
২) সে চুক্তি করতে সক্ষম – ব্যক্তি ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ১১ নং ধারার অধীনে চুক্তি করতে সক্ষম হতে হবে।
৩) সে বাংলাদেশে বসবাসকারী – ব্যক্তি অবশ্যই বাংলাদেশে বসবাসকারী হতে হবে।
এই তিনটি শর্ত পূরণ করলে, ব্যক্তি ঘোষণাপত্র দাখিল করে এই আইনের সুবিধা লাভ করতে পারবেন।

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ৩. ধারার বিধান: ঘোষণাপত্র দাখিলের ক্ষমতা:
(১) যে কোনো ব্যক্তি, যদি সে—
(ক) মুসলিম হয়,
(খ) ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ১১ নং ধারার অর্থে চুক্তি করতে সক্ষম হয়, এবং
(গ) বাংলাদেশে বসবাস করে,
তবে সে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত ফরমে ঘোষণাপত্র দাখিল করিয়া জানাইতে পারিবে যে সে এই ধারার সুবিধা গ্রহণ করিতে চায়।
এই ঘোষণার পর, ঘোষণাকারী ব্যক্তি এবং তাহার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও তাহাদের বংশধরদের ক্ষেত্রে ২ নং ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে, এবং সেখানে উল্লিখিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি দত্তক গ্রহণ, উইল এবং উত্তরাধিকারী নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(২) যদি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কোনো ঘোষণাপত্র গ্রহণ করিতে অসম্মতি জানায়, তবে ঘোষণাকারী ব্যক্তি সরকারের নিযুক্ত নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বরাবর আপিল করিতে পারিবে। যদি সেই কর্মকর্তা আপিলকারীর যোগ্যতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হন, তবে তিনি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষকে ঘোষণাপত্র গ্রহণের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
---------
The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937- Section-3. Power to make a declaration:
(1) Any person who satisfies the prescribed authority- 
(a) that he is a Muslim, and 
(b) that he is competent to contract within the meaning of section 11 of the Contract Act, 1872, and 
(c) that he is a resident of Bangladesh, 
may by declaration in the prescribed form and filed before the prescribed authority declare that he desires to obtain the benefit of the provisions of this section, and thereafter the provisions of section 2 shall apply to the declarant and all his minor children and their descendants as if in addition to the matters enumerated therein adoption, wills and legacies were also specified.

(2) Where the prescribed authority refuses to accept a declaration under sub-section (1), the person desiring to make the same may appeal to such officer as the Government may, by general or special order, appoint in this behalf, and such officer may, if he is satisfied that the appellant is entitled to make the declaration, order the prescribed authority to accept the same.
১৩৪.
মুসলিম আইনানুযায়ী 'Affinity' এর কারণে কাকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ?
  1. ভগ্নি
  2. কন্যা
  3. পুত্রের স্ত্রী
  4. ভগ্নির দুধ মাতা
সঠিক উত্তর:
পুত্রের স্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুত্রের স্ত্রী
ব্যাখ্যা
-মুসলিম আইনানুযায়ী 'Affinity' বা আত্মীয়তার কারণে যাদের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ, তা হলো- পুত্রের স্ত্রী।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির পুত্রের স্ত্রীর সাথে তার বিবাহ করা মানবিক এবং নৈতিকভাবে নিষিদ্ধ। কারণ, এক্ষেত্রে পুত্রের স্ত্রী পুত্রবধূর মর্যাদা লাভ করে। আর পুত্রবধূকে পত্নীরূপে গ্রহণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ।

অন্যদিকে
ক) ভগ্নি, খ) কন্যা এবং ঘ) ভগ্নির দুধ মাতা - এদের সাথে বিবাহ করা ইসলামে স্পষ্টভাবেই নিষিদ্ধ। এরা আসলে "মুহারাম" বা নিকটাত্মীয়, যাদের সাথে বিবাহ করা হারাম।

তাই মুসলিম আইনানুযায়ী 'Affinity' বা আত্মীয়তার কারণে একমাত্র পুত্রের স্ত্রীর সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ।
১৩৫.
মরজ-উল-মউত (Marz-ul-Maut) শব্দের অর্থ কী?
  1. মৃত্যুর পর সম্পত্তি হস্তান্তর
  2. মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া হুকুম
  3. মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা
  4. শরীয়াহর আইন অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা
ব্যাখ্যা

⇒ "মরজ-উল-মউত" (Marz-ul-Maut) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ "মৃত্যুর অসুস্থতা" (death illness)। এটি এমন একটি শারীরিক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে ব্যক্তির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম এবং মৃত্যু নিকটবর্তী। এই অবস্থায় কোনো ব্যক্তি যে হিবা (গিফট) বা উইল করে, তা মৃত্যুশয্যা লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শরিয়া আইনের নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে বিতরণ করা হয়। এই সংজ্ঞাটি Fatima Bibee v. Ahmad Baksh (1904) মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে মরজ-উল-মউত হলো এমন রোগ যা ব্যক্তির মনে মৃত্যুর আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
⇒ Fatima Bibee v. Ahmad Baksh, (1904):
-The Calcutta High Court held in this case that Marz-ul-Maut is death illness, or the patient is suffering from such disease which induces in the person suffering and a belief that death would be caused thereby.

⇒ অর্থাৎ মরজ-উল-মউত শব্দের অর্থ হলো মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা।

১৩৬.
নিচের কোন ক্ষেত্রে দান উইলের মত কার্যকর হয়?
  1. স্বামী কর্তৃক স্ত্রী বরাবর দান
  2. অজাত ব্যক্তি বরাবর দান
  3. মাতৃগর্ভে থাকা শিশু বরাবর দান
  4. মরজ-উল-মউত কালে দান
সঠিক উত্তর:
মরজ-উল-মউত কালে দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরজ-উল-মউত কালে দান
ব্যাখ্যা

“মরজ-উল-মউত” অর্থাৎ মৃত্যুশয্যা বা মৃত্যুভয় উপস্থিত থাকা অবস্থায় করা দান - ইসলামী আইনে উইল হিসেবে গণ্য হয়।

মরজ-উল-মউত বা মৃত্যুশয্যায় দান:
মরজ শব্দের অর্থ- রোগ, মউত শব্দের অর্থ- মৃত্যু। মরজ-উল-মউত'র অর্থ মৃত্যুরোগ (Death Sickness) বা যে রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে। যদি কেউ মৃত্যুর আশঙ্কাজনক রোগে বা অবস্থায় দান করে, তবে সেই দান মৃত্যুর পর কার্যকর হয় এবং উইলের বিধান অনুযায়ী কার্যকর হয়। অর্থাৎ, সেই দান কেবলমাত্র মোট সম্পত্তির তৃতীয়াংশ (১/৩) পর্যন্ত বৈধ হয়। 

মূল নিয়মাবলী:
১. মৃত্যুশয্যায় দানকৃত সম্পত্তি দাতার মোট সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি হতে পারে না।
২. উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কাউকে এই দান করা যাবে না, যদি না বাকি উত্তরাধিকারীরা সম্মতি দেয়।

১৩৭.
এক জেলার পারিবারিক আপিল আদালত থেকে অন্য জেলার পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল স্থানান্তরের ক্ষমতা- কার আছে?
  1. জেলা জজ আদালতের
  2. হাইকোর্ট বিভাগের
  3. পারিবারিক আপিল আদালতের
  4. ক এবং খ উভয়ের
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগের
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) হাইকোর্ট বিভাগের।

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২০: মোকদ্দমা এবং আপিল স্থানান্তর ও স্থগিতকরণ:
(১) হাইকোর্ট বিভাগ, কোনো পক্ষের আবেদনক্রমে বা স্বীয় উদ্যোগে, লিখিত আদেশ দ্বারা, দায়েরকৃত যেকোনো-

(ক) মোকদ্দমা একই জেলার এক পারিবারিক আদালত হইতে অন্য পারিবারিক আদালতে অথবা এক জেলার পারিবারিক আদালত হইতে অন্য জেলার পারিবারিক আদালতে,

(খ) আপিল এক জেলার পারিবারিক আপিল আদালত হইতে অন্য জেলার পারিবারিক আপিল আদালতে, স্থানান্তর করিতে পারিবে।

(২) পারিবারিক আপিল আদালত, কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বা স্বীয় উদ্যোগে, লিখিত আদেশ দ্বারা এই আইনের অধীন যেকোনো মোকদ্দমা তাহার নিজ এখতিয়ারাধীন স্থানীয় সীমানার মধ্যে এক পারিবারিক আদালত হইতে অন্য পারিবারিক আদালতে স্থানান্তর করিতে পারিবে।

(৩) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার অধীন যে আদালতে কোনো মোকদ্দমা বা আপিল স্থানান্তরিত হইবে সেই আদালত উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিবে, যেন উহার নিকট উক্ত মোকদ্দমা বা আপিল দায়ের করা হইয়াছে :

তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমা স্থানান্তরের কারণে, পরবর্তী বিচারককে নূতন করিয়া কার্যধারা আরম্ভ করিবার প্রয়োজন হইবে না, যদি না উক্ত বিচারক লিখিতভাবে কারণ উল্লেখপূর্বক ভিন্নরূপ কোনো নির্দেশ প্রদান করেন।

(৪) পারিবারিক আপিল আদালত, লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার এখতিয়ারাধীন স্থানীয় সীমানার মধ্যে কোনো পারিবারিক আদালতের নিকট বিচারাধীন মোকদ্দমা স্থগিত করিতে পারিবে।

(৫) হাইকোর্ট বিভাগ, লিখিত আদেশ দ্বারা, কোনো পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে বিচারাধীন যেকোনো মোকদ্দমা বা আপিল স্থগিত করিতে পারিবে।

১৩৮.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর কত ধারায় বিচারের স্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১১ক
  4. ধারা ১৯
সঠিক উত্তর:
ধারা ১১ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১১ক
ব্যাখ্যা
ধারা ১১ক- বিচারের স্থান
সাময়িকভাবে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত কোন অপরাধ ঐ আদালত কর্তৃকই বিচার্য হইবে যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে-
ক) অপরাধটি সংঘটিত হইয়াছিল,
খ) অভিযোগকারী বা আসামী বাস করে বা সর্বশেষ বাস করিয়াছিল।

Section 11A- Place of trial
Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, an offence under this Ordinance shall be tried by a Court within the local limits of whose jurisdiction- 
(a) the offence was committed; or 
(b) the complainant or the accused resides or last resided.
১৩৯.
“এগনেটিক ওয়ারিশ” বলতে কী বোঝায়?
  1. যাদের কেবল স্ত্রী থেকে উত্তরাধিকার আসে
  2. যারা নির্দিষ্ট অংশের অধিকারী
  3. যারা পুরুষ আত্মীয়ের মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হয়
  4. যারা অংশীদারদের পরে কিছু পান না
সঠিক উত্তর:
যারা পুরুষ আত্মীয়ের মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যারা পুরুষ আত্মীয়ের মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হয়
ব্যাখ্যা

অবশিষ্টাংশ ভোগীগণ (Residuaries):
মৃত ব্যক্তির যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এবং যারা অংশীদারদের নির্দিষ্ট অংশ নেবার পর কোন সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকলে তা অথবা কোন অংশীদার না থাকলে সমস্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এমন সমস্ত নিকটবর্তী আত্মীয়রা তালিকায় উল্লেখিত ক্রমানুসারে লাভ করে থাকে। মৃত ব্যক্তির এ সকল নিকটত্নীয়দেরকে অবশিষ্টাংশভোগী বলা হয়। এই অবশিষ্টংশ ভোগীদের কোন নির্দিষ্ট অংশ নাই। অংশীদারদের দেওয়ার পরেই কেবল অবশিষ্ট সম্পত্তি তারা পাবেন, কিন্তু এই অবশিষ্টাংশের পরিমাণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। যদি কোন অংশীদার না থাকেন, তবে সমস্ত সম্পত্তিই আসাবা বা অংশীদারগণ পাবেন। এ সকল আসাবা বা অবশিষ্টাংশ ভোগীগণকে এগনেটিক ওয়ারিশ ও বলা হয়। কারণ এরা পুরুষ আত্মীয়ের মাধ্যমেই ওয়ারিশ হয়ে থাকে।

অবশিষ্টাংশ ভোগীগণের প্রধানতঃ নীচের তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়-
১) নিজ অধিকারসূত্রে অবশিষ্টাংশভোগ: অবশিষ্টংশভোগীদের তালিকাভুক্ত সব পুরুষই এই শ্রেণীর অন্তর্গত। তারা কখনো
অংশীদাররূপে সম্পত্তি পায় না; শুধুমাত্র অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবেই সম্পত্তি পেয়ে থাকে। পুত্র, পুত্রের পুত্র যত নীচেই হোক, আপন ভাই এবং বৈমাত্রেয় ভাই (যেখানে দুই মাতা কিন্তু এক পিতা) এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।

২) অন্যের অধিকারসূত্রে অবশিষ্টাংশভোগী:
 তারা সবাই নারী, সংখ্যায় চারজন। তাদের প্রত্যেকেই পুরুষ আত্মীয়ের সাথে পুরুষের অর্ধেক হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে থাকে। যেমন: কন্যা, পুত্রের সাথে, পুত্রের কন্যা যত নীচেই হোক এর সাথে, আপন বোন আপন ভাই এর সাথে এবং বৈমাত্রেয় বোন বৈমাত্রেয় ভাই এর সাথে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি লাভকরে। যেমন: কন্যা, পুত্রের সাথে, পুত্রের কন্যা যত নীচের হোক পুত্রের পুত্র যত নীচের হোক এর সাথে, আপন বোন আপন ভাইয়ের সাথে এবং বৈমাত্রেয় বোন বৈমাত্রেয় ভাইয়ের সাথে অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে। উল্লেখিত পুরুষ আত্মীয় না থাকলে তারা সবাই অংশীদার হিসেবে সম্পত্তি পেয়ে থাকে।

৩) অন্যান্যদের সাথে এবং অন্যান্য পরিস্থিতিতে অবশিষ্টাংশভোগী:
আপন বোন এবং বৈমাত্রেয়বোন, কন্যা বা পুত্রের কন্যা যত নীচেরই হোক এর সাথে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি পায়। তাছাড় অন্যান্য পরিস্থিতিতে যেমন মৃত ব্যক্তির সন্তান, পুত্রের সন্তান যত নীচেরই হোক না থাকলে পিতা বা পিতার পিতা যত উপরের হোক অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে। আবার মৃত ব্যক্তির কন্যা, পুত্রের কন্যা যত নীচের হোক থাকলে পিতা, পিতার পিতা যত উপরের হোক অংশীদার এবং অবশিষ্টাংশভোগী উভয় যোগ্যতায় সম্পত্তি পেয়ে থাকে।

১৪০.
পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বাধিক অর্থদণ্ড কত হতে পারে?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3.  ২০০০ টাকা
  4.  ৫০০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
২০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৩(২) অনুসারে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যায়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ২৩ ধারার বিধান:- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,
তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।

১৪১.
মুসলিম আইনে 'ক' তার ৪ জন স্ত্রী থাকা অবস্থায়, ৫ম স্ত্রী গ্রহণ করলো তাহলে বিবাহটি-
  1. অনিয়মিত বিবাহ
  2. বৈধ বিবাহ
  3. বাতিল বিবাহ
  4. হারাম বিবাহ
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত বিবাহ
ব্যাখ্যা
⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage): 
যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ। 
- একজন মুলমানের একই সময়ে চারজন স্ত্রী থাকতে পারে, কিন্তু তার বেশি নয়। চারজন স্ত্রী থাকাকালে ঐ ব্যক্তি পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ করলে পঞ্চম বিবাহটি বাতিল হবে না, তবে এ বিয়েটি ফাসিদ বা অবৈধ বিবাহ হবে। এটি বাতিল বিবাহ নয়, কারণ, স্বামী অন্য স্ত্রীদের যেকোনো একজনকে তালাক দিয়ে পঞ্চম বিবাহকে বৈধ করতে পারে।
১৪২.
কুরআনে নির্ধারিত দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ কত?
  1. ১০ দিরহাম
  2. ৩ দিরহাম
  3. ৮ দিরহাম
  4. নির্ধারণ করা হয়নি
সঠিক উত্তর:
নির্ধারণ করা হয়নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ধারণ করা হয়নি
ব্যাখ্যা
• বিবাহ বন্ধনের বিনিময়ে স্ত্রী স্বামীর নিকট শরিয়ত সম্মতভাবে যে অর্থ-সম্পদ লাভের অধিকারী হয় সে অর্থ সম্পদকে দেনমোহর বলে। দেনমোহরের পরিমাণ বিবাহের পূর্বে বা বিবাহের সময় কিংবা বিবাহের পর নির্দিষ্ট করা যায়। বিবাহের পর দেনমোহরের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়।

⇒ দেনমোহর প্রথমত দুই প্রকার, যথা- নির্ধারিত দেনমোহর এবং যথার্থ দেনমোহর।
⇒  Fixed dower বা নির্ধারিত দেনমোহরের ক্ষেত্রে দেনমোহর নির্ধারিত থাকে। অন্য দিকে proper dower বা যথার্থ দেনমোহরের ক্ষেত্রে দেনমোহর নির্ধারিত থাকে না।
কুরআনে দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। দেনমোহরের পরিমাণ কত হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মাযহাবে মতানৈক্য রয়েছে।
⇒ হানাফি আইন অনুসারে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমান ১০ দিরহাম বা সাত মিসকাল পরিমাণ রৌপ্য।
⇒ মালিকি মতবাদ অনুসারে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ ৩ দিরহাম।
⇒ শাফেয়ি এবং শিয়া আইনে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণের উল্লেখ নেই। তবে কোনো মাযহাবে। দেনমোহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ নিয়ে কিছু বলা নেই।
১৪৩.
ইসলামী শরীয়তে আউল নীতি কোন উৎসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. কুরআন
  2. হাদীস
  3. ইজমা
  4. কিয়াস
সঠিক উত্তর:
ইজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইজমা
ব্যাখ্যা

⇒ ইসলামী শরীয়তে আউল নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইজমা (ইসলামী আলেমদের ঐকমত্য) এর মাধ্যমে। যদিও কুরআন ও হাদীসে এ নীতির সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে ইসলামী ফিকহশাস্ত্রে গাণিতিক সমাধান হিসেবে এটি চার খলিফার যুগ থেকে ইজমার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য হয়ে আসছে।

আউল নীতি:
‘আউল’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘বৃদ্ধি হওয়া’। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী, যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর তাদের অংশাবলীর যোগফল যদি মূল সম্পদ হতে বেড়ে যায় বা ১ এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে যে নিয়মে তা সমাধান করা হয়, সেটাই আউল। কুরআনে অংশীদারদের যে তালিকা রয়েছে, তাদের বিভিন্ন বিন্যাস ও সমাবেশে কখনো কখনো তা ১ এর চেয়ে বেশি হওয়া গাণিতিকভাবে এবং অনুপাতভিত্তিক বন্টনে একটি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, এ বিন্যাস খুব সহজলভ্য নয়। তাই হাদীসে এর কোনো উদাহরণ নেই, তবে চার খলিফার আমলে এটি আলোচিত হয় এবং পরবর্তীতে শরীয়তের তৃতীয় উৎস ইজমার মাধ্যমে ইসলামী আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- অর্থাৎ, আউল নীতি ইসলামী আইনশাস্ত্রে ইজমার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইজমা হলো ইসলামী ঐকমত্য বা আলেমদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত, যা শর্ত পূর্ণ হলে শরীয়তের তৃতীয় উৎস হিসেবে কাজ করে।

১৪৪.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ধারা ৪ অনুযায়ী কারা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুসারে সম্পত্তি পাবে?
  1. পূর্বে মৃত পুত্রের সন্তানরা
  2. পূর্বে মৃত কন্যার সন্তানরা
  3. পূর্বে মৃত পিতা বা মাতা
  4. 'ক' অথবা 'খ' 
সঠিক উত্তর:
'ক' অথবা 'খ' 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'ক' অথবা 'খ' 
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের নীতি (Doctrine of Representation) প্রযোজ্য হবে।
- প্রযোজ্য ব্যক্তি: ক) পূর্বে মৃত পুত্রের সন্তানরা এবং খ) পূর্বে মৃত কন্যার সন্তানরা উভয়েই তাদের মৃত পিতা/মাতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে সম্পত্তি পাবে।
- যদি কোনো ব্যক্তির (যেমন: দাদা/নানা) পুত্র বা কন্যা তার (দাদা/নানার) মৃত্যুর আগেই মারা যায়, তবে ওই মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা (নাতি-নাতনিরা) তাদের মৃত পিতা/মাতার প্রাপ্য অংশ পাবে। এটি "প্রতি স্টাইর্পস" (per stirpes) নীতির ভিত্তিতে কাজ করে, অর্থাৎ শাখা অনুসারে বণ্টন।

উদাহরণ:
- মৃত পুত্রের সন্তানদের ক্ষেত্রে: দাদা 'ক'-এর পুত্র 'খ' মারা গেছেন। 'খ'-এর সন্তান 'গ' ও 'ঘ' দাদা 'ক'-এর মৃত্যুর পর 'খ'-এর প্রাপ্য অংশ পাবে।
- মৃত কন্যার সন্তানদের ক্ষেত্রে: নানা 'ক'-এর কন্যা 'খ' মারা গেছেন। 'খ'-এর সন্তান 'গ' ও 'ঘ' নানা 'ক'-এর মৃত্যুর পর 'খ'-এর প্রাপ্য অংশ পাবে।

- এই নীতি শুধুমাত্র সরল রেখার উত্তরাধিকারী (পুত্র/কন্যার সন্তান)দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভাই-বোন, চাচাতো ভাই-বোন ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- সম্পত্তি বণ্টনে পুত্রের সন্তান : কন্যার সন্তান = ২ : ১ অনুপাত প্রযোজ্য।
- মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (ধারা ৪) উত্তরাধিকার খোলার সময় যদি কোনো পুত্র বা কন্যা পূর্বে মারা যায়, তবে ওই পুত্র বা কন্যার সন্তানরা (যদি থাকে) প্রতি স্টাইর্পস (শাখা অনুসারে) সেই অংশ পাবে, যা তাদের পিতা/মাতা পেতেন যদি বেঁচে থাকতেন।
- যেহেতু ধারা ৪ মৃত পুত্র ও মৃত কন্যা উভয়ের সন্তানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, সঠিক উত্তর ঘ) 'ক' অথবা 'খ'।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 Section 4- Succession: In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.

১৪৫.
হেবা কখন কার্যকর হয়?
  1. দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
  2. হেবা নিবন্ধনের সাথে সাথে
  3. হেবাকারীর মৃত্যুর পর
  4. ৩ মাসের মধ্যে
সঠিক উত্তর:
দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
ব্যাখ্যা
⇒ দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় হিবা নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

⇒ একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব)
খ. Acceptance (গ্রহণ)
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)

⇒ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত দখল অর্পণ প্রয়োজনীয় না। দানের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে। একটা হলো Donor বা দাতা অর্থাৎ যে দান করে, অপরপক্ষ হলো উড়হবব বা গ্রহীতা অর্থাৎ যার বরাবর দান করা হয়।

⇒ সমস্ত সম্পত্তি দান করা যায় এবং দান হস্তান্তর করার সাথে সাথেই কার্যকর হয়,
আর উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হয়।
১৪৬.
মুসলিম আইনে 'ইজমা' কী বোঝায়?
  1. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী
  2. চিন্তার মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্ত
  3. মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্য
  4. কোরআনের নির্দেশের ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্য
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

কোরআন-
ইসলামী শরিয়তের ভিত্তি চারটি প্রধান উৎসের উপর স্থাপিত, যার মধ্যে সর্বপ্রথম এবং সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ উৎস হলো কোরআনুল কারিম। এটি মুসলিমদের জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা এবং ইসলামী আইনের মূল ভিত্তি।

আইনের দ্বিতীয় উৎস হাদিস:
হাদিস অর্থ কথা বা বাণী। ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় মানদণ্ড সুন্নাহ বা হাদিস। শরিয়তের পরিভাষায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখ নিঃসৃত বাণী, রাসুল হিসাবে তাঁর সম্পাদিত কাজ এবং সাহাবায়ে কেরামের শরিয়ত সম্পর্কিত এমন সব কথা ও কাজ রাসুলুল্লাহ (সা.) যার প্রতিবাদ করেননি বা নীরব থেকে এর প্রতি মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, তাই হাদিস।

ইজমা:
ইসলামের আইনে তৃতীয় উৎস ইজমা। কোনো বিশেষ যুগে কোনো বিশেষ প্রশ্নে মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্যকে আইনের পরিভাষায় ইজমা বলে। এর দুটি তাৎপর্য রয়েছে। 
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মৃত্যুর পর মুসলিম রাষ্ট্রের বিস্তৃতির ফলে নবোদ্ভূত অনেক সমস্যা দেখা যায়, যা কোরআন-হাদিস নিয়ে সমাধা হয় না। ফলে মুসলিম সমাজ কোরআন হাদিসের শিক্ষার ভিত্তিতে স্বাধীন চিন্তায় ইজমার প্রয়োজন অনুভব করে। ইজমা তিনটি উপায়ে নির্ধারিত হয়—কথা, কাজ ও নীরবতায়।

কিয়াস: 
কিয়াস ইসলামি আইনের চতুর্থ উৎস। চিন্তার মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হলো কিয়াস। যে প্রশ্নে কোরআন-হাদিস নিশ্চুপ এবং ইজমাতেও সমাধান নেই, সেই প্রশ্নের সমাধানকল্পে সব সুন্নি মাজহাব যে উৎসের আশ্রয় গ্রহণ করেন, তাকে কিয়াস বলা হয়।

১৪৭.
মুসলিম বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য কমপক্ষে কতজন সাক্ষী থাকতে হবে?
  1. ১ জন মুসলিম পুরুষ
  2. ২ জন মুসলিম পুরুষ
  3. ১ জন মুসলিম পুরুষ এবং ২ জন মুসলিম মহিলা
  4. খ বা গ
সঠিক উত্তর:
খ বা গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ বা গ
ব্যাখ্যা
• 'বিবাহ` শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো মিলানো, একত্র করা। ইসলামী আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট একজন নর ও নারীর একত্রিত হওয়ার চুক্তিকেই বিবাহ বলে।

ডি এফ মোল্লা তাঁর ‘মুসলিম আইনের মূলনীতি’ বইয়ে বিবাহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন
“বিবাহ বা নিকাহ এমন একটি চুক্তি যার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হলো বৈধভাবে সন্তান লাভ ও প্রতিপালন।

বিচারপতি মাহমুদ তাঁর ‘আঃ কাদির ও সালিসী মোকদ্দমার রায়ে বলেছেন,
“মুসলিম বিবাহ কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, একটি বিশুদ্ধ দেওয়ানী চুক্তি যার উদ্দেশ্য পারিবারিক জীবন যাপন ও বৈধ সন্তান দান।"

মুসলিম বিবাহের অবশ্য পূরণীয় শর্তাবলী-
বিবাহ করতে ইচ্ছুক পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এক পক্ষকে প্রস্তাব দিতে হবে এবং অপর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করতে হবে। এটিই বিবাহ বন্ধন সংগঠিত হওয়ার মূল শর্ত। বিবাহের জন্য পাত্র এবং পাত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতির প্রয়োজন। বল প্রয়োগে সম্মতি আদায়ে বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে।

মুসলিম আইনে বিবাহের চুক্তি বৈধ হওয়ার জন্য সাক্ষী থাকা আবশ্যক। কমপক্ষে ২ জন মুসলিম পুরুষ, অথবা ১ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা সাক্ষী থাকতে হবে। এটি শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধতার জন্য বাধ্যতামূলক। সাক্ষীদের প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যোগ্য হতে হবে।তারা বিবাহ চুক্তি (নিকাহ) সম্পাদনের সময় উপস্থিত থাকতে হবে এবং উভয় পক্ষের সম্মতি শুনতে হবে হানাফি মাযহাব অনুসারে, সাক্ষী ছাড়া বিবাহ বৈধ নয়। শিয়া মতানুসারে সাক্ষীর উপস্থিতি সব ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়, তবে এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।
১৪৮.
According to Section 3 of the Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-
  1. Only marriages performed by an imam are subject to registration
  2. Registration of marriage is optional but recommended
  3. Every Muslim marriage must be registered in accordance with the law
  4. Muslim marriages only need to be registered if the parties desire it
সঠিক উত্তর:
Every Muslim marriage must be registered in accordance with the law
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Every Muslim marriage must be registered in accordance with the law
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।

• বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:
⇒ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন এখন বাধ্যতামূলক।
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।

ধারা ৩- বিবাহ রেজিষ্ট্রীকরণ:
অন্য যে কোন আইন, প্রথা বা রীতিতেযে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও মুসলিম আইনঅনুযায়ী অনুষ্ঠিত প্রত্যেক বিবাহ এই আইনের বিধানাবলী অনুযায়ী রেজিষ্ট্রীকরতে হবে।

Section 3- Registration of marriages
Notwithstanding anything contained in any law, custom or usage, every marriage solemnized under Muslim law shall be registered in accordance with the provisions of this Act.
১৪৯.
সাক্ষী ছাড়া বিবাহ করলে মুসলিম আইনে তা ___________ হিসেবে গণ্য হবে।
  1. অবৈধ বিবাহ
  2. নিয়মিত বিবাহ
  3. অনিয়মিত বিবাহ
  4. বাতিল বিবাহ
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত বিবাহ
ব্যাখ্যা
⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):
যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ।

যেমন: সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ, স্ত্রীর বোন বিবাহ করা ইত্যাদি।
১৫০.
মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ধারা ২ অনুযায়ী, ওয়াকফের কোন অংশ শরিয়ত আইনের আওতায় পড়বে না?
  1. ট্রাস্ট ওয়াকফ
  2. ব্যক্তিগত ওয়াকফ
  3. পারিবারিক ওয়াকফ
  4. দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান
সঠিক উত্তর:
দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ধারা ২-এ ওয়াকফ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। ধারার ভাষ্য অনুযায়ী: "ওয়াকফ (দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান ব্যতীত)"
অর্থাৎ, এই আইনের অধীনে শরিয়ত আইন ওয়াকফের সাধারণ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও দাতব্য প্রতিষ্ঠান (charities), দাতব্য দান (charitable endowments) এবং ধর্মীয় দান (religious endowments) সম্পর্কিত বিষয়গুলো এই আইনের আওতায় আসবে না। এই ধরনের দাতব্য ও ধর্মীয় ওয়াকফ সংশ্লিষ্ট অন্য আইন বা স্থানীয় প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ ধারার বিধান মুসলিমদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আইন প্রযোজ্য হওয়া:
কোনো প্রচলিত রীতিনীতি বা প্রথার বিপরীতে, নিম্নলিখিত বিষয়ে (কৃষিজমি সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত) মুসলিমদের মধ্যে সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) হইবে—
- উত্তরাধিকার (ইন্তেকালের পর সম্পত্তির বণ্টন),
- নারীদের বিশেষ সম্পত্তি (যেমন ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যা উত্তরাধিকার, চুক্তি, হাদিয়া বা ব্যক্তিগত আইনের অন্য কোনো বিধানের মাধ্যমে অর্জিত),
- বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ (যেমন তালাক, ইলা, জিহার, লিয়ান, খুলা ও মুবারাত),
- ভরণপোষণ, মোহরানা, অভিভাবকত্ব,
- হাদিয়া (উপহার), ট্রাস্ট ও ট্রাস্ট সম্পত্তি,
- ওয়াকফ (তবে দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান ব্যতীত)।
------------
⇒ The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937- Section-2: Application of Personal Law to Muslims
- Notwithstanding any custom or usage to the contrary, in all questions (save questions relating to agricultural land) regarding intestate succession, special property of females, including personal property inherited or obtained under contract or gift or any other provision of Personal Law, marriage, dissolution of marriage, including talaq, ila, zihar, lian, khula and mubaraat, maintenance, dower, guardianship, gifts, trusts and trust properties, and waqfs (other than charities and charitable institutions and charitable and religious endowments) the rule of decision in cases where the parties are Muslims shall be the Muslim Personal Law (Shariat).

১৫১.
অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রয়ের কথা শোনা মাত্রই যে দাবী প্রকাশ করা হয় তা হলো-
  1. তলব-ই-খুশমাত
  2. তলব-ই-তমলিক
  3. তলব-ই-ইসাদ
  4. তলব-ই-মুয়াসিবাত
সঠিক উত্তর:
তলব-ই-মুয়াসিবাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তলব-ই-মুয়াসিবাত
ব্যাখ্যা
⇒  First demand: Immediate demand (Talab-i-mowasibat):
⇒ Talab-i-mowasibat শব্দের অর্থ The demand of jumping বা লাফ প্রদান করে দাবি।
-অর্থাৎ বিক্রয়ের কথা শুনার সাথে সাথে তার ক্রয়ের ইচ্ছা বিক্রেতাকে জানাতে হবে।
-এরূপ দাবি করার সময় কোনো সাক্ষীর দরকার নেই।
১৫২.
মুসলিম আইনে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কখনো বঞ্চিত হয় না-
  1. স্ত্রী
  2. কন্যা
  3. পিতা
  4. উল্লিখিত সবাই
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবাই
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইনে সম্পদ বণ্টন একমাত্র মৃত্যুর পরেই কোন ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারীগণের অধিকার সৃষ্টি হয়, মৃত্যুর পূর্বে নয়। একজন সুন্নি মুসলমানের বৈধ ওয়ারিশগন মূলতঃ দুই প্রকার। যথা:
১) প্রধান শ্রেণি (Principal Hairs);
২) অপ্রধান শ্রেণি (Secondary Hairs)।

⇒ প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিম্নে বর্ণিত ব্যক্তিরা কখনো উত্তরাধিকার বঞ্চিত হয় না:
১/ স্বামী;
২/ স্ত্রী;
৩/ পিতা;
৪/ মাতা;
৫/ পুত্র ও
৬/ কন্যা।
১৫৩.
Talak-e-Tafwid বা তালাক-ই-তাওফিজ বলতে কী বোঝায়?
  1. স্বামীর স্বেচ্ছায় তালাক
  2. স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেওয়া তালাকের ক্ষমতা
  3. আদালতের মাধ্যমে তালাক
  4. স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মতিমূলক তালাক
সঠিক উত্তর:
স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেওয়া তালাকের ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেওয়া তালাকের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

• 'Talak e Tafwid' বা 'তালাক-ই-তাওফিজ':
সাধারণত বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষমতা কোন স্ত্রী-এর নেই। কোন স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারে, যদি স্বামী তাকে এমন ক্ষমতা অর্পন করে। স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্ত্রী যখন স্বামীকে তালাক দেয়, তখন সেটাকে Talak e Tafwid 'তালাক-ই-তাওফিজ' বলে।

ইসলামিক বিবাহ নিবন্ধনের সময়, নিকাহনামার ১৮ নম্বর কলামে তালাকের ক্ষমতা অর্পণের বিষয়টি উল্লেখ করার সুযোগ থাকে। যদি স্বামী এই কলামে স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করেন, তবে স্ত্রী নির্দিষ্ট শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে নিজেই তালাক নিতে পারেন। অতএব, তালাক-ই-তাফফিজের ক্ষমতা কার্যকর করার জন্য এই ধারাটিতে শর্তগুলি স্পষ্টভাবে লেখা থাকা জরুরি। 

১৫৪.
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৪ ধারায় উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধান সংযোজনের ক্ষেত্রে নিম্নের কোন নীতি অনুসরণ করা হয়েছে?
  1. Per se
  2. Per capita
  3. Per stripes
  4. Per diem
সঠিক উত্তর:
Per stripes
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Per stripes
ব্যাখ্যা
⇒ Per stripes:
The doctrine of per stirpes refers to the system of distributing an inheritance when a beneficiary who is entitled to receive it has died before receiving their share. 
Under per stirpes:
- If a beneficiary dies before the inheritance is distributed, their children will "step into their shoes". The beneficiary's children will inherit the share their parent would have received, dividing it equally between them.
So in short, if a named beneficiary in a will or trust has already died when distribution occurs, the per stirpes system allows their lineal descendants to inherit in their place, keeping the inheritance distribution aligned to the family tree structure.

⇒ Section 4. Succession

 In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.

⇒অর্থাৎ যার সম্পত্তি বণ্টন হবে তার মৃত্যুর পূর্বে তার কোন পুত্র বা কন্যা মারা গেলে এবং উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি বণ্টনের সময় উক্ত মৃত পুত্র বা কন্যার কোন সন্তানাদি জীবিত থাকলে তারা সেই হারে সম্পত্তি পাবে, যা তাদের পিতা বা মাতা জীবিত থাকলে পেতো। এটাকে প্রতিনিধিত্বের মতবাদ বা Doctrine of Representation বলা হয়।
- Per stripes নীতি এবং প্রতিনিধিত্বের মতবাদের মূল বক্তব্য একই। 

-তাইলে আমরা বলতে পারি যে The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৪ ধারায় উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধান সংযোজনের ক্ষেত্রে Per stripes নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। 
১৫৫.
মুসলিম উইলকারী যদি ১/৩ অংশের বেশি সম্পত্তি হস্তান্তর করতে চান, তবে কী প্রয়োজন?
  1. আদালতের অনুমতি
  2. সরকারের অনুমতি
  3. উত্তরাধিকারীদের সম্মতি
  4. অনুমতির প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
উত্তরাধিকারীদের সম্মতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তরাধিকারীদের সম্মতি
ব্যাখ্যা

উইল বা অছিয়ত একটি আইনি দলিল, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি কিভাবে বণ্টন করা হবে তা নির্ধারণ করে দেন। উইল লিখনকারীকে উইলকারক বা “testator” বলা হয় এবং উইলে যার নাম উল্লেখ করা হয়, তাকে বলা হয় উত্তরাধিকারী বা “beneficiary”। উইলে সম্পত্তি ছাড়াও আর্থিক সঞ্চয়, অলঙ্কার, জমি, বাড়ি এবং অন্যান্য বস্তু উল্লেখ করা যায়। উইলের মাধ্যমে সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা যায় যা মৃত্যুর পর আইনি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।

উইল তৈরি করার জন্য উইলকারককে অবশ্যই মানসিকভাবে সুস্থ এবং আইনি প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী) হতে হবে। মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি বা অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ উইল তৈরি করতে পারবে না। উইলকারককে তার সম্পদের মালিকানা এবং তার ইচ্ছার প্রতি সম্পূর্ণ সচেতন থাকতে হবে।

কোনো মুসলিম ব্যক্তি তার দাফন-কাফন ব্যয় ও দেনা পরিশোধের পর, উদ্বৃত্ত সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের অধিক উইল করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয় তবে উইলকারির উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশী কার্যকর হবে না। 

১৫৬.
পারিবারিক আদালতের ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের জন্য দায়িক (judgement debtor)-কে ____ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া যায়।
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• পারিবারিক আদালতের ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের জন্য দায়িক (judgement debtor)-কে ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া যায়।

• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। এটি ২০২৩ সনের ২৬ নং আইন।

ধারা ১৭- ডিক্রি বলবৎকরণ


(১) পারিবারিক আদালত নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে ডিক্রি প্রদান করিবে এবং উহার বিবরণ নির্ধারিত ডিক্রি রেজিস্টার বহিতে লিপিবদ্ধ করিবে।

(২) যদি ডিক্রির দাবি পূরণকল্পে আদালতের সম্মুখে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয় বা কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়, তাহা হইলে উপরিউক্ত রেজিস্ট্রারে অনুরূপ পরিশোধ বা হস্তান্তরের বিষয় লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সম্পর্কিত হয় এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধিত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপ নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হইবার ১ (এক) বৎসরের মধ্যে ডিক্রিদার কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিক্রিটি বাস্তবায়ন করা হইবে, যথা:

(ক) দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন কোনো দেওয়ানি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অর্থের ডিক্রির ন্যায়; অথবা

(খ) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত জরিমানা প্রদানের আদেশের ন্যায় এবং উক্তরূপে বাস্তবায়নের পর ডিক্রির আদায়কৃত অর্থ ডিক্রিদারকে প্রদান করিতে হইবে।

(৪) উপধারা (৩) এর দফা (ক) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে, পারিবারিক আদালত দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।

(৫) উপধারা (৩) এর দফা (খ) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পারিবারিক আদালতের বিচারক একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে গণ্য হইবেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সকল ক্ষমতা তাহার থাকিবে এবং তিনি ডিক্রিকৃত বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য উক্ত কার্যবিধিতে এ জরিমানা আদায়ের জন্য বর্ণিত পদ্ধতিতে ওয়ারেন্ট জারি করিতে পারিবেন এবং ওয়ারেন্ট জারির পর অপরিশোধিত সম্পূর্ণ ডিক্রিকৃত অর্থ বা উহার কোনো অংশের জন্য রায় দেনাদারকে অনধিক ৩ (তিন) মাস অথবা পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত, যাহা পূর্বে ঘটে, কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৬) যেক্ষেত্রে কোনো ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি দেওয়ানি আদালতের অর্থ সংক্রান্ত ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোনো ডিক্রির ন্যায় বাস্তবায়ন করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে আদালত একটি দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন উক্ত আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।

(৭) ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালত স্বয়ং ডিক্রি বাস্তবায়ন করিবে অথবা ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো পারিবারিক আদালতে উহা বদলি করিতে পারিবে এবং উক্ত ডিক্রি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে আদালতে বদলি করা হইয়াছে সেই আদালতের ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালতের সকল ক্ষমতা থাকিবে, যেন উক্ত আদালতই ডিক্রি প্রদান করিয়াছে।

(৮) আদালত, উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, তৎকর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ কিস্তির সংখ্যা নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।

১৫৭.
The Family Courts Ordinance, 1985 এর কত ধারায় Pre trial proceeding সংক্রান্ত বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ১০
  2. ১৬
  3. ১৭
সঠিক উত্তর:
১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০
ব্যাখ্যা
The Family Courts Ordinance, 1985 এর ১০ ধারায় বিচার-পূর্ব কার্যধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান ছিল।

বর্তমানে Family Courts Ordinance, 1985 রহিতপূর্বক সময়োপযোগী করিয়া, উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ধারায় বিচার-পূর্ব বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে।

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ধারার বিধান- বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।
(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।
(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।
১৫৮.
Section 3 of the Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 makes registration of Muslim marriages:
  1. Optional
  2. Mandatory
  3. Dependent on family agreement
  4. Subject to religious leaders’ consent
সঠিক উত্তর:
Mandatory
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mandatory
ব্যাখ্যা
The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ধারা ৩: বিবাহ নিবন্ধন:
“Notwithstanding anything contained in any law, custom or usage, every marriage solemnized under Muslim law shall be registered in accordance with the provisions of this Act.”

বাংলা অনুবাদ:
“যেকোনো আইন, প্রথা বা রীতিনীতিতে ভিন্ন কিছু থাকলেও, মুসলিম আইনের অধীনে সংঘটিত প্রতিটি বিবাহ এই আইনের বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত করতে হবে।”

⇒ ধারা ৩ অনুযায়ী,
মুসলিম আইনের অধীনে সংঘটিত প্রতিটি বিবাহ অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে। এই নিবন্ধন ঐচ্ছিক নয়, বরং আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।
১৫৯.
স্বামী কত বছর যাবৎ নিখোঁজ থাকলে একজন বিবাহিতা স্ত্রীলোক বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১২ বছর
সঠিক উত্তর:
৪ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-

(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
১৬০.
একজন মুসলিম মহিলা তার এক পুত্র এবং পিতাকে রেখে মারা গেছেন। এক্ষেত্রে, তার সম্পত্তিতে পিতা কত অংশ পাবে?
  1. ১/৬ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/২ অংশ
  4. ২/৩ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/৬ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৬ অংশ
ব্যাখ্যা
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে, পিতার অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে–
- যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র- রেখে মারা যান তবে পিতার অংশ হবে ১/৬ অংশ।
- যদি মৃত ব্যক্তির কন্যা, পুত্রের কন্যা রেখে মারা যায় এবং কোন পুত্র বা পুত্রের পুত্র- না থাকে তবে পিতার অংশ হবে ১/৬+অবশিষ্টাংশ।
- যদি কোন সন্তান-সন্ততি না থাকে তবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে পিতা অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে অংশ পাবে।

এক্ষেত্রে, পুত্রের উপস্থিতিতে পিতা (১/৬) অংশ পাবেন এবং পুত্র বাকি সম্পত্তি পাবেন।
১৬১.
A Family Court may, if it so deems fit, hold the whole or any part of the proceedings under the Ordinance in camera, বিধানটি The Family Courts Ordinance, 1985 এর কত ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
  4. ১৩
সঠিক উত্তর:
১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১
ব্যাখ্যা
A Family Court may, if it so deems fit, hold the whole or any part of the proceedings under the Ordinance in camera, বিধানটি The Family Courts Ordinance, 1985 এর ১১ ধারায় বর্ণিত ছিল।

• বর্তমানে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ প্রনীত হয়। এটি ২০২৩ সনের ২৬ নং আইন।

এই আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী-

(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।

(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।
১৬২.
একজন নাবালক তার সম্পত্তির কত অংশ উইল দ্বারা বণ্টন করতে সক্ষম?
  1. সম্পূর্ণ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. কোনো অংশই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনো অংশই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো অংশই নয়
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনে উইল (Will):
উইল (testament) বা অছিয়ত হলো ভবিষ্যৎ দান। কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা সম্পত্তির মুনাফা কিভাবে বিলি-বন্টন করা হবে তা তার মৃত্যুর পূর্বেই লিখিত বা মৌখিকভাবে নির্ধারণ করে যাওয়ার আইন সম্মত ঘোষণাই হলো উইল বা অছিয়ত। মুসলিম আইন অনুযায়ী, একজন মুসলিম ব্যক্তি সুস্থ মন (sound mind) এবং প্রাপ্ত বয়সী (major) হলে শুধুমাত্র তিনি তার সম্পত্তি উইল করার অধিকারী হন। তবে, অপ্রাপ্তবয়স্ক (minor) ব্যক্তির ক্ষেত্রে উইল করার অধিকার নেই।

অপ্রাপ্তবয়স্ক (Minor) উইল করতে সক্ষম নয়:
মুসলিম আইন অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উইল করতে পারেন না। ইসলামী আইন অনুযায়ী, যদি কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকে, তবে তার উইল করা অবৈধ এবং সে সম্পত্তির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে না।

উল্লেখ্য,
একজন মুসলিম স্বাস্থ্যবান মন এবং পূর্ণবয়স্ক (major) হলে তিনি তার সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ (১/৩) অংশ উইল করতে পারেন। এর বেশি অংশ উইল করা হলে, তা উত্তরাধিকারীদের সম্মতি ছাড়া কার্যকর হবে না
১৬৩.
উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে "per stirpes" নীতি প্রয়োগের বিধান মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর কোন ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ২ ধারায়
  2. ৪ ধারায়
  3. ৬ ধারায়
  4. ৮ ধারায়
সঠিক উত্তর:
৪ ধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ "Per stirpes" নীতি বা উত্তরাধিকারী হিসেবে একটি পরিবারের শাখার প্রতি অংশ দেওয়া, যেখানে প্রত্যেক শাখা সমানভাবে উত্তরাধিকার লাভ করে, এটি মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৪ ধারা-তে উল্লেখ করা হয়েছে।

- এটি মূলত এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হিসাবে তার সন্তান বা সন্তানের সন্তানদের মধ্যে ভাগ বণ্টন করা হয়। এই নীতির মাধ্যমে, একটি শাখার সদস্যরা তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি অংশীদার হতে পারে, যদি তাদের বাবা বা মা মারা গিয়ে থাকেন।
অর্থাৎ এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি তার পিতামাতার জীবিত অবস্থায় মারা যায়, তবে তার সন্তানরা তার স্থানে উত্তরাধিকারী হবে।

- এছাড়াও, ৪ ধারায় মুসলিমদের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলি আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে এটি বলা হয়েছে যে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো উত্তরাধিকারী রেখে যায়, তবে তার সম্পত্তি কিভাবে ভাগ করা হবে, তা নির্ধারণ করা হয়।
১৬৪.
পারিবারিক আদালত বিবাদীর উপস্থিতির জন্য অনধিক কত দিন সময় দিয়ে সমন প্রদান করবেন?
  1. ৩০
  2. ৪৫
  3. ৬০
সঠিক উত্তর:
৩০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৭ ধারার বিধান সমন ও নোটিশ জারিকরণ:
 (১) পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিল করিবার পর আদালত নিম্নরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করিবে, যথা:-
(ক) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য সাধারণভাবে অনধিক ৩০(ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্যকরণ;
(খ) বিবাদীর প্রতি নির্ধারিত তারিখে হাজির হইবার এবং জবাব প্রদানের জন্য সমন জারি;
(গ) বিবাদীর নিকট প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সংবলিত রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মোকদ্দমার নোটিশ প্রেরণ; এবং
(ঘ) উপরিউক্ত দফা (খ) ও (গ) এর অধীন সমন জারি ও নোটিশ প্রেরণের পাশাপাশি আদালত, বাদী কর্তৃক খরচ বহন করিবার শর্তে, আরজিতে উল্লিখিত বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাদী কর্তৃক সরবরাহকৃত বিবাদীর ইমেইল ঠিকানায় সমন জারি করিবেন, তবে ইমেইল ঠিকানার সঠিকতা সম্পর্কে আদালত সন্তুষ্ট হইলে উক্তরূপে জারীকৃত সমন বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) উপধারা (১) এর অধীন জারীকৃত প্রত্যেকটি সমন এবং প্রেরিত নোটিশের সহিত আরজির নকল এবং ধারা ৬ এর উপধারা (৫) ও (৬) এ উল্লিখিত দলিলসমূহের তালিকার অনুলিপি সংযুক্ত করিতে হইবে।

(৩) উপধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন জারীকৃত সমন দেওয়ানি কার্যবিধির ৫ নং আদেশের বিধি ৯(১), ৯(২), ৯(৪), ৯(৫), ৯এ, ১০, ১১, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯এ, ২০, ২১, ২৩, ২৪, ২৫(১), ২৬, ২৭, ২৮ এবং ২৯ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে জারি করিতে হইবে এবং উক্তরূপে জারীকৃত সমন বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(৪) উপধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন প্রেরিত নোটিশ বিবাদীর উপর তখনই যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে যখন বিবাদী কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রাপ্তিস্বীকারপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হয় অথবা আদালত নোটিশ বহনকারী ডাকটি ডাক কর্মচারীর এই মর্মে লিখিত মন্তব্যসহ ফেরত পান যে, নোটিশ বহনকারী ডাক বিবাদীকে প্রদানে যাচনা করিবার পর তিনি উহা গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিয়াছেন:

তবে শর্ত থাকে যে, নোটিশ যথাযথভাবে ঠিকানাযুক্ত অগ্রিম প্রদত্ত প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে যথাযথভাবে প্রেরিত হইয়া থাকিলে নোটিশ ডাকে দেওয়ার তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিন অতিবাহিত হইবার পর যদি প্রাপ্তিস্বীকারপত্রটি হারাইয়া যায় বা ভুল ঠিকানায় চলিয়া যায় বা অন্য কোনো কারণে উক্ত সময়ের মধ্যে আদালত কর্তৃক প্রাপ্ত না হয় তাহা হইলে বিবাদীর উপর উহা যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(৫) উপধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন জারীকৃত সমন প্রেরণ সংক্রান্ত খরচ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন সমন জারির খরচের ন্যায় হইবে এবং উপধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন প্রেরিত নোটিশের ডাক খরচ আরজি দাখিলের সময় বাদী কর্তৃক প্রদেয় হইবে।
১৬৫.
'ক' একখণ্ড জমি 'খ'-কে উইল করলো। পরবর্তীতে 'ক' উক্ত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করলো। উইলটি.....
  1. প্রত্যাহারযোগ্য
  2. প্রত্যাহৃত
  3. বৈধ
  4. অনিয়মিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যাহৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যাহৃত
ব্যাখ্যা
উইল রদ করণ:
উইল বা অছিয়ত নামা রদ করা যায়।উইলকারী তার জীবদ্দশায় উইল রদ বা বাতিল করতে পারে।বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে উইলকারী তার উইল পত্ররদ করতে পারে।পদ্ধতিগুলো নিম্নরূপ-
১. উইলকারী তার কৃত উইল লিখিত বা মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে রদ বা প্রত্যাহার করতে পারে
২.যদি উইলকারী উইলকৃত সম্পত্তিতে এমন কোনো কাজ করে, যার ফলে উক্ত সম্পত্তির পরিবর্তন সাধিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট উইলটি রদ হবে।
৩.উইল কৃত সম্পত্তিতে যদি উইল কারীর স্বত্বের অবসান ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট উইলটি স্বাভাবিক ভাবেই রদ হয়ে যাবে।
৪.উইল-গ্রহীতার উদ্দেশ্যে যে সম্পত্তি উইল করা হয়, তা যদি উইলকারী উইল করার পর অন্যের কাছে দান বা বিক্রি করে দেয় তা হলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উইলটি রদ বা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
৫. উইলকারী আদালতের মাধ্যমেও তার কৃত উইলরদ বা প্রত্যাহার করতে পারবে।

- উল্লিখিত প্রশ্নে 'ক' একখণ্ড জমি 'খ'-কে উইল করলো। পরবর্তীতে 'ক' উক্ত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করলো। এই ক্ষেত্রে "ক" উইলটা পরোক্ষভাবে প্রত্যাহৃত হয়েছে গণ্য হবে। 
- পরোক্ষভাবে প্রত্যহারের মূলনীতিটা হলো- উইল পরোক্ষভাবে প্রত্যহার হয়েছে গণ্য হবে কেবল তখনই যখন উইলের বিষয়বস্তুতে নতুন কিছু সংযুক্তি ঘটে কোনো কাজের মাধ্যমে বা উক্ত সম্পত্তিতে উইলকারীর মালিকানা স্বত্ব বিলুপ্ত হয়।
১৬৬.
‘ইজতিহাদ’ (Ijtihad) শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
  1. সহজে ফতোয়া দেওয়া 
  2. পূর্ণ চেষ্টা ও শ্রম করা
  3. কিতাব অনুসরণ করা
  4. নিজের মত প্রকাশ করা
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ চেষ্টা ও শ্রম করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ চেষ্টা ও শ্রম করা
ব্যাখ্যা

⇒ ‘ইজতিহাদ’ শব্দটি আরবি মূল ‘জাহাদা’ (جَهَدَ) থেকে এসেছে। এই মূলের আভিধানিক অর্থ হলো “সর্বোচ্চ শক্তি, সাধ্য ও চেষ্টা প্রয়োগ করা”।
- লিসানুল আরব, তাজুল উরূস, আল-কামূসুল মুহীতের মতো প্রধান আরবি অভিধানগুলোতে ‘জুহদ’ ও ‘ইজতিহাদ’ বলতে বোঝানো হয়েছে “পূর্ণ শক্তি দিয়ে কোনো কাজে লেগে থাকা”। শরিয়তের পরিভাষায় এই ‘পূর্ণ শ্রম’ যখন কুরআন-সুন্নাহ থেকে শরয়ী হুকুম বের করার জন্য প্রয়োগ করা হয়, তখন তাকে বলা হয় ইজতিহাদ। 
- সুতরাং আভিধানিক অর্থই হলো “পূর্ণ চেষ্টা ও শ্রম করা” – এটি কোনোভাবেই “সহজে ফতোয়া দেওয়া” বা “নিজের মত প্রকাশ করা” নয়। বরং এর বিপরীত: এটি অত্যন্ত কঠিন, শ্রমসাধ্য ও দায়িত্বপূর্ণ কাজ।
- আল্লামা আব্দুল আলীম সিদ্দিকী (রহ.) তাঁর “Ijtihad and Mujtahid” বইয়েও স্পষ্ট লিখেছেন: “The word 'Ijtihad' has been derived from the root JHD, and literally means ‘striving with full exertion.’”

অন্য অপশনগুলো:
ক) সহজে ফতোয়া দেওয়া → সম্পূর্ণ উল্টো। ইজতিহাদ সবচেয়ে কঠিন কাজ।
গ) কিতাব অনুসরণ করা → এটা তাকলীদের অর্থ।
ঘ) নিজের মত প্রকাশ করা → এটা ব্যক্তিগত রায়, কিন্তু ইজতিহাদ কুরআন-সুন্নাহর কঠোর নিয়মে আবদ্ধ।
সুতরাং একমাত্র সঠিক উত্তর: খ) পূর্ণ চেষ্টা ও শ্রম করা।

[The word 'Ijtihad' has been derived from the root JHD, and literally means "striving with full exertion." In Islamic legal terminology, it denotes an attempt to choose, in the light of the Qur'an and the Sunnah, between two or more differing legal interpretations and to deduce, from the Qur'an and the Sunnah, any new rulings in order to address new legal situations. One who performs "Ijtihad" is called "Mujtahid"]

তথ্যসূত্র: IJTIHAD AND MUJTAHID by Allama Abdul Aleem Siddiqui. [লিংক]

১৬৭.
মুসলিম আইনের ২য় প্রধান উৎস কোনটি?
  1. হাদিস
  2. ইজমা
  3. কোরআন
  4. কিয়াস
সঠিক উত্তর:
হাদিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাদিস
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

কোরআন-
ইসলামী শরিয়তের ভিত্তি চারটি প্রধান উৎসের উপর স্থাপিত, যার মধ্যে সর্বপ্রথম এবং সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ উৎস হলো কোরআনুল কারিম। এটি মুসলিমদের জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা এবং ইসলামী আইনের মূল ভিত্তি। কোরআনের প্রতিটি বাণী চূড়ান্ত, অকাট্য এবং প্রশ্নাতীত। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

আইনের দ্বিতীয় উৎস হাদিস:
হাদিস অর্থ কথা বা বাণী। ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় মানদণ্ড সুন্নাহ বা হাদিস। কারণ কোরআন  হলো মূল, আর সুন্নাহ বা হাদিসের ব্যাখ্যা। পবিত্র কোরআনে সব বিষয়ের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা রয়েছে, আর সুন্নাহ বা হাদিসে রয়েছে ওইসব বিষয়ের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। শরিয়তের পরিভাষায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখ নিঃসৃত বাণী, রাসুল হিসাবে তাঁর সম্পাদিত কাজ এবং সাহাবায়ে কেরামের শরিয়ত সম্পর্কিত এমন সব কথা ও কাজÑ রাসুলুল্লাহ (সা.) যার প্রতিবাদ করেননি বা নীরব থেকে এর প্রতি মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, তাই হাদিস। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ‌ তায়ালা শরিয়তের সব আদেশ-নিষেধ, বিধিবিধান বর্ণনা করেছেন। এতে শরিয়তের আহকাম, মূলনীতি ও নির্দেশাবলী অতি সংক্ষেপে বিবৃত হয়েছে।

আর এ সংক্ষিপ্ত নির্দেশগুলোকে কার্যকরী করার জন্য হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিতেন। যেমন, পবিত্র কোরআনে সালাত কায়েম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কয় ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে, প্রতি ওয়াক্তে কত রাকাত পড়তে হবে এবং কীভাবে পড়তে হবে এর বিস্তারিত বর্ণনা কোরআনে নেই। তেমনিভাবে রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদির নিয়মকানুনের বিস্তারিত বর্ণনা কোরআনে নেই। আল্লাহ‌র হুকুম অনুসারে রাসুলুল্লাহ (সা.) এগুলোর যেসব নিয়মকানুন বর্ণনা করেছেন তাই হাদিস হিসেবে গণ্য।

ইজমা:
ইসলামের আইনে তৃতীয় উৎস ইজমা। কোনো বিশেষ যুগে কোনো বিশেষ প্রশ্নে মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্যকে আইনের পরিভাষায় ইজমা বলে। এর দুটি তাৎপর্য রয়েছে। 
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মৃত্যুর পর মুসলিম রাষ্ট্রের বিস্তৃতির ফলে নবোদ্ভূত অনেক সমস্যা দেখা যায়, যা কোরআন-হাদিস নিয়ে সমাধা হয় না। ফলে মুসলিম সমাজ কোরআন হাদিসের শিক্ষার ভিত্তিতে স্বাধীন চিন্তায় ইজমার প্রয়োজন অনুভব করে। ইজমা তিনটি উপায়ে নির্ধারিত হয়—কথা, কাজ ও নীরবতায়।

কিয়াস: 
কিয়াস ইসলামি আইনের চতুর্থ উৎস। চিন্তার মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হলো কিয়াস। যে প্রশ্নে কোরআন-হাদিস নিশ্চুপ এবং ইজমাতেও সমাধান নেই, সেই প্রশ্নের সমাধানকল্পে সব সুন্নি মাজহাব যে উৎসের আশ্রয় গ্রহণ করেন, তাকে কিয়াস বলা হয়।
১৬৮.
সালিসি কাউন্সিল দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিলে প্রথম স্ত্রীর প্রতিকার-
  1. পারিবারিক আদালতে আপীল করা
  2. পারিবারিক আদালতে রিভিশন করা
  3. সহকারী জজের নিকট আপীল করা
  4. সহকারী জজের নিকট রিভিশন করা
সঠিক উত্তর:
সহকারী জজের নিকট রিভিশন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহকারী জজের নিকট রিভিশন করা
ব্যাখ্যা
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারার বিধান: বহুবিবাহ:
১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।

২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।

৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
 খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দণ্ড।
-----------
⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 Section 6. Polygamy:
(1) No man, during the subsistence of an existing marriage, shall, except with the previous permission in writing of the Arbitration Council, contract another marriage, nor shall any such marriage contracted without such permission be registered under the Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (LII of 1974). 

(2) An application for permission under sub-section (1) shall be submitted to the Chairman in the prescribed manner, together with the prescribed fee, and shall state the reasons for the proposed marriage, and whether the consent of the existing wife or wives has been obtained thereto.

(3) On receipt of the application under sub-section (2), the Chairman shall ask the applicant and his existing wife or wives each to nominate a representative, and the Arbitration Council so constituted may, if satisfied that the proposed marriage is necessary and just, grant, subject to such conditions, if any, as may be deemed fit, the permission applied for. 

(4) In deciding the application the Arbitration Council shall record its reasons for the decision, and any party may, in the prescribed manner, within the prescribed period, and on payment of the prescribed fee, prefer an application for revision  to the Assistant Judge concerned and his decision shall be final and shall not be called in question in any Court. 

(5) Any man who contracts another marriage without the permission of the Arbitration Council shall- 
(a) pay immediately the entire amount of the dower, whether prompt or deferred, due to the existing wife or wives, which amount, if not so paid, shall be recoverable as arrears of land revenue; and 
(b) on conviction upon complaint be punishable with simple imprisonment which may extend to one year, or with fine which may extend to ten thousand taka, or with both.
১৬৯.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ- ১৯৬১ এর ৯ ধারায় প্রদত্ত সার্টিফিকেট পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারবেন কে?
  1. শুধুমাত্র স্বামী
  2. শুধুমাত্র স্ত্রী
  3. সালিশী কাউন্সিল
  4. স্বামী অথবা স্ত্রী
সঠিক উত্তর:
স্বামী অথবা স্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বামী অথবা স্ত্রী
ব্যাখ্যা

• মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ- ১৯৬১ এর ধারা ৯- ভরণপোষণ:
১) যেক্ষেত্রে কোন স্বামী তাহার স্ত্রীকে পর্যাপ্তভাবে ভরণপোষণ দিতে অসমর্থ হয় অথবা একাধিক স্ত্রী থাকিলে  তাহাদিগকে সমভাবে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সকলে অথবা স্ত্রীগণের যে কোন জন অপর কোন আইনসঙ্গত প্রতিকার প্রার্থনা ব্যতীতও চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করিতে পারে। চেয়ারম্যান একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করিবেন ও উক্ত কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করিতে পারিবেন।

২) একজন স্বামী অথবা স্ত্রী নির্ধারিত পন্থায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ফিস প্রদানপূর্বক উক্ত সার্টিফিকেট পুর্নবিবেচনার নিমিত্ত সহকারী জজের নিকট আবেদন পেশ করিতে পারেন। তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাইবে না।

৩) ১নং অথবা ২নং উপধারা অনুযায়ী দেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করিলে বকেয়া ভূমিরাজস্বরুপ আদায়যোগ্য হইবে।

১৭০.
মুসলিম আইনে 'মুশাহ' অর্থ-
  1. দান
  2. অগ্রক্রয়
  3. অবিভক্ত অংশ
  4. বিক্রয়
সঠিক উত্তর:
অবিভক্ত অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিভক্ত অংশ
ব্যাখ্যা
মুশাহর ( Musha) অর্থ হলো কোনো সম্পত্তিতে অবিভাজ্য বা অবিভক্ত অংশ।

কোন একটা সম্পত্তির কোন অংশ যদি হেবা করা হয় সেটা যদি বিভক্ত করার যোগ্য হয়, তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত না সেটা বিভক্ত করা হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত দান বৈধ হবে না। তবে ইসলামে অবিভাজ্য প্রকৃতির সম্পত্তি দান করা সম্পূর্ণ বৈধ। The gift of indivisible thing is absolutely valid in Muslim law. মুসলিম ল তে মুশাহ্ অবিভাজ্য প্রকৃতির সম্পত্তিকে নির্দেশ করে।
১৭১.
সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করায় একজন মুসলিম 'ক' কোন শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন?
  1. শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ
  2. অনধিক ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. অনধিক ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
অনধিক ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনধিক ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:
১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।

২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।

৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রী গণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
১৭২.
"আল-হেদায়া" (Al-Hedayah) গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ইমাম মালিক
  2. ইমাম আবু হানিফা
  3. ইবনে রুশদ
  4. বুরহান আল-দীন
সঠিক উত্তর:
বুরহান আল-দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুরহান আল-দীন
ব্যাখ্যা
আল-হেদায়া: হলো বুরহান আল-দীন কর্তৃক লিখিত দ্বাদশ শতাব্দীর আইনি ম্যানুয়াল, যা হানাফি আইনশাস্ত্রের (ফিকহ) অন্যতম প্রভাবশালী গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ফিকাহ্ শাস্ত্রের জগতে, বিশেষতঃ হানাফি ফিকাহ্র পরিমণ্ডলে আল-হিদায়া একটি মৌলিক ও বুনিয়াদি গ্রন্থ।
এক কথায় এ মহাগ্রন্থকে হানাফী ফিকাহ্ শাস্ত্রের বিশ্বকোষ বলা যায়। বস্তুতঃ সুদীর্ঘ অষ্টম শতাব্দী পর্যন্ত অব্যাহতভাবে এ মহাগ্রন্থ ইসলামী ফিকাহ্ শাস্ত্রের হানাফী মাজহাবের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। এমন কি পাক-ভারত উপমহাদেশের ঔপনিবেশিক শাসনকালেও বিচার বিভাগে আল-হিদায়াকে সিদ্ধান্তমূলক গ্রন্থের মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।
পৃথিবীর বহু প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আল-হিদায়ার ইংরেজি অনুবাদ অতি গুরুত্বের সাথে পড়ানো হয়ে থাকে। এ গ্রন্থ প্রকাশিত হবার পর থেকে আজ পর্যন্ত ফিকাহ্ শাস্ত্রের বিদ্যাঙ্গনে আল-হিদায়া আবশ্য-পাঠ্য গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
এ মহাগ্রন্থকে কেন্দ্র করে ফিকাহ্ শাস্ত্রের উপর এ পর্যন্ত যত গবেষণা কর্ম সম্পন্ন হয়েছে এবং যত ব্যাখ্যা, ভাষ্য, টীকা ও পর্যালোচনা গ্রন্থ রচিত হয়েছে তা অন্য কোন ফিকাহ্ গ্রন্থের ক্ষেত্রে হয় নি। 
 এই সুবিশাল গ্রন্থ বর্তমানে যদিও বিলুপ্ত কিন্তু তাঁর সম-সাময়িক যুগশ্রেষ্ঠ ফকীহগণ অতি উচ্ছ্বাসিত ভাষায় এর আশি খণ্ডের এই সুবিশাল গ্রন্থের মহাসমুদ্রের নির্যাস নিয়ে সঙ্কখিপ্ত কলেবরে চার খণ্ডের এ গ্রন্থখানি সঙ্কলিত করেছেন যা সর্বমোট ২১২৬ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত।
১৭৩.
মুসলিম আইনে কোন প্রকার শারীরিক সম্পর্ক ছাড়া তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে স্ত্রী-
  1. যদি দেনমোহর অনির্ধারিত থাকে তাহলে উপযুক্ত দেনমোহর
  2. সমস্ত নির্ধারিত দেনমোহর পাবে
  3. কোন দেনমোহর পাবে না
  4. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পাবে
সঠিক উত্তর:
নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পাবে
ব্যাখ্যা
- বিবাহ যদি শারীরিক সম্পর্কের কারণে আইনসিদ্ধ না হয় এবং পক্ষদ্বয়ের কার্য দ্বারা বিচ্ছেদ ঘটে:
- নিয়মিত বা বৈধ বিবাহের ক্ষেত্রে:
ক. যখন স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হয় - নির্দিষ্ট দেনমোহরের অর্ধেক (১/২) অংশ পাবে।
খ. যখন স্ত্রী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হয় - কোন দেনমোহর পাবে না।
১৭৪.
আউল নীতি ইসলামী আইনে কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. কুরআনের মাধ্যমে
  2. হাদীসের মাধ্যমে
  3. ইজমার মাধ্যমে
  4. কিয়াসের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
ইজমার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইজমার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
আউল নীতি:
‘আউল’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘বৃদ্ধি হওয়া’। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী, যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর তাদের অংশাবলীর যোগফল যদি মূল সম্পদ হতে বেড়ে যায় বা ১ এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে যে নিয়মে তা সমাধান করা হয়, সেটাই আউল। কুরআনে অংশীদারদের যে তালিকা রয়েছে, তাদের বিভিন্ন বিন্যাস ও সমাবেশে কখনো কখনো তা ১ এর চেয়ে বেশি হওয়া গাণিতিকভাবে এবং অনুপাতভিত্তিক বন্টনে একটি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, এ বিন্যাস খুব সহজলভ্য নয়। তাই হাদীসে এর কোনো উদাহরণ নেই, তবে চার খলিফার আমলে এটি আলোচিত হয় এবং পরবর্তীতে শরীয়তের তৃতীয় উৎস ইজমার মাধ্যমে ইসলামী আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
অর্থাৎ, 
- আউল নীতি ইসলামী আইনশাস্ত্রে ইজমার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইজমা হলো ইসলামী ঐকমত্য বা আলেমদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত, যা শর্ত পূর্ণ হলে শরীয়তের তৃতীয় উৎস হিসেবে কাজ করে।
- যদিও কুরআন এবং হাদীসে আউল নীতির সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে ইসলামী ঐকমত্য বা ইজমা দ্বারা চার খলিফার আমলে এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে এটি ইসলামী সম্পত্তি বণ্টন আইন হিসেবে স্বীকৃত হয়। ইজমা দ্বারা এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণ হলো, এটি তখনকার সময়ের আলেমদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত ছিল, যা শরীয়তের প্রাকৃতিক বা গাণিতিক জটিলতা কাটানোর জন্য গৃহীত হয়েছিল।
১৭৫.
মুসলিম আইনে বিবাহ কী ধরনের চুক্তি?
  1. ধর্মীয় চুক্তি
  2. সামাজিক চুক্তি
  3. দেওয়ানি চুক্তি
  4. ফৌজদারি চুক্তি
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানি চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানি চুক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনে বিবাহকে একটি দেওয়ানি চুক্তি (Civil Contract) হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও এতে ধর্মীয় ও সামাজিক দিকও জড়িত।
নিচে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
১. দেওয়ানি চুক্তির বৈশিষ্ট্য:
- দুই পক্ষের সম্মতি: যেমন—প্রস্তাব (ইজাব) ও গ্রহণ (কবুল)।
- শর্ত পূরণ: বয়স, সাক্ষী, দেনমোহর ইত্যাদি।
- আইনগত ফলাফল: স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ও দায়িত্ব সৃষ্টি (যেমন—ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার)।
২. ধর্মীয় ও সামাজিক দিক:
- যদিও এটি ইসলামী রীতিনীতি মেনে সম্পাদিত হয়, তবুও এর আইনগত কাঠামো দেওয়ানি চুক্তির মতো।
- কোরআন ও হাদিসে বিবাহের শর্তাবলি উল্লেখ থাকলেও এটি রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত (যেমন: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১)।

অর্থাৎ মুসলিম আইনে বিয়ে একটি দেওয়ানি চুক্তি, যেখানে দু’টি পক্ষ সম্মতি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণ করে।
১৭৬.
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করার সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত ?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
সঠিক উত্তর:
৩ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ মাস
ব্যাখ্যা
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩:
- সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ পোষণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
- ৪ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক সন্তান তার পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে; এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ধারা ৩ এ বর্ণিত ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধ্য থাকবে এবং এই ভরণ পোষণ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ হিসাবে গণ্য হবে।

- পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, এর ৫ ধারা অনুযায়ী পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করার দণ্ড:
- কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং
- উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে; বা
- উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
১৭৭.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী নিচের কোন ক্ষেত্রে বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা উত্তরাধিকার পাবে না?
  1. মৃত ব্যক্তির পুত্র থাকলে
  2. মৃত ব্যক্তির পিতা থাকলে
  3. মৃত ব্যক্তির পিতামহ থাকলে
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা (একই মায়ের কিন্তু ভিন্ন পিতার সন্তান) তখনই উত্তরাধিকার পান যখন মৃত ব্যক্তি ‘কালালা’ হন, অর্থাৎ তার কোনো পিতা, পিতামহ, পুত্র বা পৌত্র না থাকে। যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পিতা বা পিতামহ থাকে, তবে বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা উত্তরাধিকার পাবেন না। 
- সুতরাং, উপরের সবগুলো ক্ষেত্রে তারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।

অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা তখনই উত্তরাধিকার পায় যখন মৃত ব্যক্তি কালালা হয় (অর্থাৎ কোনো পিতা, মাতা, পুত্র বা পৌত্র না থাকে)। পিতা, পুত্র বা পিতামহ থাকলে তারা পাবে না।

১৭৮.
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুযায়ী, স্বামী একাধারে কয় বছর স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে স্ত্রী বিবাহ-বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবে?
  1. ৪ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৭ বছর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-

(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
১৭৯.
ওয়াকফ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লিকে বেআইনিভাবে অপসারণ করা হলে, প্রতিকার কী?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন
  2. জেলা জজের নিকট আপিল
  3. হাইকোর্ট বিভাগে আপিল
  4. জেলা জজের নিকট রিভিশন
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লি বেআইনিভাবে অপসারণের ক্ষেত্রে প্রতিকার হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করার বিধান রয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তি (নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ১৯৬২ অনুযায়ী।

ওয়াকফ সম্পত্তি (নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ১৯৬২:
এই আইনের অধীন ওয়াকফ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লির দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নির্ধারণ করা হয় এবং বেআইনিভাবে অপসারণের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়।

রিভিশন আবেদন:
মুতাওয়াল্লি বেআইনিভাবে অপসারণ হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন করতে পারেন। এই আইন অনুযায়ী, সাধারণত ১ মাসের মধ্যে রিভিশন আবেদন করা যায়।
১৮০.
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 অনুসারে সালিশী পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. জেলা জজের নিকট রিভিশন
  2. সহকারী জজের নিকট রিভিশন
  3. সহকারী জজের নিকট আপিল
  4. জেলা জজের নিকট আপিল
সঠিক উত্তর:
সহকারী জজের নিকট রিভিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহকারী জজের নিকট রিভিশন
ব্যাখ্যা
• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:
১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।
২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।
৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।
৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রী গণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

অর্থাৎ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 অনুসারে সালিশী পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিকার হচ্ছে সহকারী জজের নিকট রিভিশন।
১৮১.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য আরজিতে কী কী তথ্য উল্লেখ করতে হবে?
  1. বাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান
  2. বিবাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান
  3. মোকদ্দমার কারণ সংক্রান্ত তথ্য
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৬(৪) অনুসারে, মোকদ্দমা দায়েরের জন্য আরজিতে নিম্নলিখিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে:
- বাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান (ক)
- বিবাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান (খ)
- মোকদ্দমার কারণ সংক্রান্ত তথ্য (গ)
- আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত তথ্য
- বাদীর প্রার্থীত প্রতিকার
- মোকদ্দমার কারণ যেস্থানে ও তারিখে উদ্ভূত হয়েছে তার বিবরণ
- বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ হলে তৎসংশ্লিষ্ট বিবরণী
এই সমস্ত তথ্য আরজিতে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, যাতে আদালত মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও পক্ষগণের পরিচয় স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে এবং যথাযথভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারে। তাই উপরের সবগুলো তথ্য (ক, খ, গ) আরজিতে উল্লেখ করতে হবে।
১৮২.
কোন মুসলিম পুরুষ যদি খ্রিস্টান নারীকে বিয়ে করেন, তবে উক্ত বিবাহের আইনগত অবস্থান এবং বিবাহজাত সন্তানটির বৈধতা সম্পর্কে নিম্নের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. বিবাহ এবং সন্তান উভয় বৈধ
  2. বিবাহ অবৈধ কিন্তু সন্তান বৈধ
  3. বিবাহ বৈধ কিন্তু সন্তান অবৈধ
  4. বিবাহ অনিয়মিত কিন্তু সন্তান বৈধ
সঠিক উত্তর:
বিবাহ এবং সন্তান উভয় বৈধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবাহ এবং সন্তান উভয় বৈধ
ব্যাখ্যা
ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী,
মুসলিম পুরুষ খ্রিস্টান বা ইহুদি নারীর সাথে বিয়ে করতে পারেন এবং এটি বৈধ বিবাহ বলে গণ্য হয়, কারণ ইসলামে "আহলে কিতাব" (খ্রিস্টান এবং ইহুদি) নারীদের সাথে বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো মুসলিম পুরুষ খ্রিস্টান বা ইহুদি নারীকে বিয়ে করেন এবং তাদের মধ্যে কোনো সন্তান জন্ম নেন, তাহলে সেই সন্তান বৈধ হবে। কারণ, ইসলামে বৈধ বিয়ের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তান স্বীকৃত, এবং এর বৈধতা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হয় না, যতটুকু না সে সন্তান কোনো অন্যায় বা অবৈধ উপায়ে জন্মেছে।

সুতরাং, মুসলিম পুরুষ এবং খ্রিস্টান বা ইহুদি নারীর মধ্যে বিয়ে বৈধ এবং সেই বিবাহ থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানও বৈধ হবে।
১৮৩.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নিচের কোনটি দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zabil Arham) এর উদাহরণ?
  1. মা
  2. স্ত্রী
  3. চাচা
  4. কন্যা
সঠিক উত্তর:
চাচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাচা
ব্যাখ্যা
⇒  মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
১) অংশীদার (Zawil Furud) – যাদের নির্দিষ্ট অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে।
২) অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) – যারা অংশীদারদের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
৩) দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) – যারা অংশীদার বা আসাবা নয়, কিন্তু মৃতের আত্মীয়।

⇒ দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) তাদের বলা হয়, যারা অংশীদার (Zawil Furud) বা আসাবা নয়, তবে মৃতের আত্মীয়।
- চাচা সাধারণত আসাবা হলেও, যদি আসাবা না থাকে, তবে তিনি Zawil Arham হিসেবে উত্তরাধিকার পান।

⇒ প্রত্যেক অপশন বিশ্লেষণ করে পাই:
(ক) মা – মা হলেন নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। তিনি সাধারণত মৃত সন্তান রেখে গেলে ১/৬ এবং সন্তান না থাকলে ১/৩ অংশ পান। সুতরাং, তিনি দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ নন।
(খ) স্ত্রী – স্ত্রীও নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। স্বামী মারা গেলে তিনি সন্তান থাকলে ১/৮ এবং সন্তান না থাকলে ১/৪ অংশ পান। ফলে, তিনি দূরবর্তী আত্মীয়বর্গের অন্তর্ভুক্ত নন।
(গ) চাচা – চাচা সাধারণত আসাবা হন। তবে, যদি কোনো আসাবা উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে চাচা দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ফলে, এই অপশনটি সঠিক।
(ঘ) কন্যা – কন্যা নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud)। একমাত্র কন্যা থাকলে সে ১/২ পায়, একাধিক কন্যা থাকলে তারা ২/৩ ভাগ করে নেয়। তাই কন্যাও দূরবর্তী আত্মীয়বর্গের অন্তর্ভুক্ত নয়।
১৮৪.
মুসলিম আইনের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. হাদিস
  2. ইজমা
  3. ইসতিসলাহ
  4. কিয়াস
সঠিক উত্তর:
ইসতিসলাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসতিসলাহ
ব্যাখ্যা
’মুসলিম আইনের প্রধান উৎস চারটি- কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস। আরও কিছু বিষয়কেও ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো-

ইজতিহাদ:
ইজতেহাদ অর্থ গবেষণা করা। ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো নির্দেশ সম্পর্কে সুষ্ঠু জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে সর্বাঙ্গীণ চেষ্টা ও সমাধানের নাম ইজতেহাদ। সাধারণ লোকের চিন্তাধারায় ইজতেহাদ হয় না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কিয়াস প্রয়োগ করে ইজতেহাদ করতে হয়।

ইসতিহসান:
পরবর্তী শতাব্দীতে কোনো বিধান কিয়াসের চাহিদা থেকে পৃথক হলে তাকে ইসতিহসান বলা হতো। ইসতিহসান অর্থ বিচার-বিবেচনায় যা মঙ্গলজনক। কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান কঠিন মনে হলে জনসাধারণের সাহায্যের জন্য ইসতিহসান করা হয়।

ইসতিসলাহ:
ইসতিহসানের থেকে সহজ ইসতিসলাহ। ইসতিসলাহ অর্থ জনকল্যাণ। এটা জনসাধারণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের সহজ মাধ্যম।

ইসতিদলাল:
ইসলামী আইনে যুক্তিনির্ণীত সিদ্ধান্তকে ‘ইসতিদলাল’ বলে। অন্য কথায় কোনো একটি বিষয় হতে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য একটি অনুরূপ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ইসতিদলাল বলে। ইসতিদলালের মাধ্যমে এক নীতি থেকে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য নীতির প্রবর্তন করা হয়।
১৮৫.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন এর অধীন স্বামীর নিখোঁজ জনিত কারণে আদালত বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদান করলে, তা কতদিন পর্যন্ত কার্যকর হবে না?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ মাস
  4. ১ বছর
সঠিক উত্তর:
৬ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ মাস
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
 
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;
 
⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
 
⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
 
⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
 
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

উল্লেখ্য যে, নিরুদ্দেশ জনিত কারণে ডিক্রি প্রদান করা হলে, প্রদত্ত ডিক্রি দানের তারিখ হইতে ৬ মাস কাল কার্যকর হইবে না এবং যদি স্বামী উল্লেখিত সময়ে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা কোন ক্ষমতা প্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া আদালতকে সন্তুষজনক জবাব দেন যে, তিনি দাম্পত্য কর্তব্য পালনে প্রস্তুত আছেন, তবে উক্ত ডিক্রি নাকচ করিয়া দিবেন।
১৮৬.
একজন হানাফি মুসলিম পিতা-মাতাকে রেখে মারা যান। তার তাজ্য সম্পত্তিতে পিতা ও মাতার অংশ যথাক্রমে-
  1. পিতা ১/৪, মাতা ৩/৪ অংশ
  2. পিতা ১/৩, মাতা ২/৩ অংশ
  3. পিতা ২/৩, মাতা ১/৩ অংশ
  4. পিতা ২/৪, মাতা ১/৪ অংশ
সঠিক উত্তর:
পিতা ২/৩, মাতা ১/৩ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতা ২/৩, মাতা ১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
• মুসলিম উত্তরাধিকার আইন-
 
ধরি,
মোট সম্পত্তি = ১ অংশ;
 
মাতার অংশ = ১/৩ [যেহেতু সন্তান, সন্তানের সন্তান (যত নিম্ন হোক), একাধিক ভাই-বোন অনুপস্থিত];
পিতা = অবশিষ্টাংশভোগী [যেহেতু সন্তান, সন্তানের সন্তান (যত নিম্ন হোক) এরূপ কেউ নেই]।
 
অবশিষ্টাংশ = (১ - ১/৩) = ২/৩ অংশ।
 
∴ পিতার অংশ = ২/৩ অংশ।
মাতার অংশ = ১/৩ অংশ।
১৮৭.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ কবে কার্যকর হয়?
  1. ১ জানুয়ারি, ২০২৩
  2. ২৬ মার্চ, ২০২৩
  3. ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  4. ১১ নভেম্বর, ২০২৩
সঠিক উত্তর:
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে কার্যকর হয়।
- এই আইনটি Family Courts Ordinance, 1985 কে রহিত করে সময়োপযোগী করে পুনঃপ্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই আইনের মাধ্যমে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
- আইনটি কার্যকর হওয়ার তারিখটি আইনের প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৮৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কোন ধারায় কোর্ট ফি সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ২০
  2. ধারা ২৫
  3. ধারা ৩০
  4. ধারা ৩৫
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৫
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ এ কোর্ট ফি সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ফি ২০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুসারে, এই আইনের অধীনে কোনো মোকদ্দমা দায়ের করার জন্য ২০০ টাকা কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি পরিশোধের মাধ্যমে মোকদ্দমা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর-২৫ ধারার বিধান: কোর্ট ফি:
পারিবারিক আদালতে এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার আরজি দাখিল করিতে প্রদেয় কোর্ট ফি হইবে ২০০ (দুইশত) টাকা।

১৮৯.
পারিবারিক আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ড দেয়া যায়?
  1. ২০০ টাকা
  2. ৩০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
২০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০ টাকা
ব্যাখ্যা

• পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩এর ধারা ২৩- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,
তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।

১৯০.
মরজ-উল-মউত এর সময় উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তির বরাবর প্রদত্ত দান উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি ব্যতীত-
  1. সম্পূর্ণ বাতিল
  2. এক তৃতীয়াংশ কার্যকর
  3. সম্পূর্ণ কার্যকর
  4. এক চতুর্থাংশ কার্যকর
সঠিক উত্তর:
এক তৃতীয়াংশ কার্যকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক তৃতীয়াংশ কার্যকর
ব্যাখ্যা
মরজ-উল-মউত বা মৃত্যুশয্যায় দান:
- মরজ শব্দের অর্থ- রোগ, মউত শব্দের অর্থ- মৃত্যু। মরজ-উল-মউত'র অর্থ মৃত্যুরোগ (Death Sickness) বা যে রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে।
- অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যু আশঙ্কায় থেকে তথা মৃত্যু শয্যায় থেকে দান করাকে মরজ-উল-মউত বলে। এরূপ দানের পর দাতার মৃত্যু হলে তা উইলের ন্যায় কার্যকর হবে অর্থাৎ তখন উইলের সীমাবদ্ধতা, বিধান ইত্যাদি প্রযোজ্য হবে। 
অর্থাৎ যখন কোনো ব্যক্তি এমন অসুস্থতায়/রোগে ভোগে, যার ফলে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়, এমতাবস্থায় কোনো দান (Gift/Hiba) করলে, দানটিকে মৃত্যুশয্যায় দান (Marz-ul-Maut) বলে।

- এমন দান উইল (Wasiyyat) বলে গণ্য হবে এবং উইলের বিধান প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, এমন দানের ক্ষেত্রে উইলের ২টি শর্ত পূরণ করতে হয়-
১. সম্পত্তির ১/৩ এর বেশি দান (Gift/Hiba) করা যাবে না।
২. উত্তরাধিকারী বরাবর দান করা যাবে না।

⇒ কোনো ব্যক্তি মরজ-উল-মউতের সময় উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তি বরাবর তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ সম্পত্তি দান (Gift/Hiba) করতে পারেন।
১৯১.
Doctrine of Pulpit (Al-Mimbariya) কোন খলিফার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত?
  1. হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)
  2. হযরত ওমর (রা.)
  3. হযরত উসমান (রা.)
  4. হযরত আলী (রা.)
সঠিক উত্তর:
হযরত আলী (রা.)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হযরত আলী (রা.)
ব্যাখ্যা
আল-মিম্বারিয়াহ বা মিম্বর মামলা: Doctrine of Pulpit (Al-Mimbariya):
- এ নীতি মসজিদের 'মিম্বার' থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে Doctrine of Pulpit বা Al-Mimbariya নামে খ্যাত/প্রসিদ্ধ।

এ গুরুত্বপূর্ণ নীতি/নিয়মটি একাধিক নামে পরিচিত;
i) Doctrine of Awl.
ii) Doctrine of increase.
iii) Al-Mimbariya Case.

- ইসলামের চতুর্থ খলীফা হজরত আলী (রা.)-এর বিচারিক সিদ্ধান্তের ফল হচ্ছে 'আউল' নীতি।
- প্রসিদ্ধ ইসলামি আইনবিদ আব্দুর রহমান দই-এর মতে, এ নীতির প্রবক্তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
১৯২.
পারিবারিক আদালত রায় ঘোষণা করার পর পক্ষগণকে কত দিনের মধ্যে নোটিশ প্রদান করতে হবে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৫ দিন
সঠিক উত্তর:
৭ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪(২) অনুযায়ী, আদালত রায় ঘোষণার পর অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবীদেরকে নোটিশ প্রদান করতে হবে।
– পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩, ধারা ১৪(২) রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪ বিচারের সমাপ্তি:
(১) পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর, উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে, আদালত রায় ঘোষণা করিবে এবং উক্ত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।

১৯৩.
দাতার ইচ্ছাধীন সময়কালে পুনঃপ্রবর্তনযোগ্য কোনো কিছু গ্রহণ ও তার আয় ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতিকে _____ বলে।
  1. আরিয়ত
  2. সাদাকা
  3. শর্তযুক্ত হেবা
  4. শর্তযুক্ত ওয়াকফ
সঠিক উত্তর:
আরিয়ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরিয়ত
ব্যাখ্যা
- আরিয়ত (Areeat): এর অর্থ সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর বুঝায় না বরং আরিয়ত হলো এমন ধরনের দান যেক্ষেত্রে দাতার ইচ্ছাধীন সময়কাল পর্যন্ত সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। আরিয়ত চাইলে রদ করা যায়।
অর্থাৎ আরিয়ত (Areeat) শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত হচ্ছে দান।

- দাতার ইচ্ছাধীন সময়কালে পুনঃপ্রবর্তনযোগ্য কোনো কিছু গ্রহণ ও তার আয় ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতিকে আরিয়ত (Areeat) বলে।
১৯৪.
'মুশাহ' হলো কোনো সম্পত্তির ________ অংশ।
  1. বিভক্ত
  2. অবিভাজ্য
  3. অর্ধেক
  4. গুরত্বপূর্ণ
সঠিক উত্তর:
অবিভাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিভাজ্য
ব্যাখ্যা
'মুশাহ' বা 'Musha' হলো কোনো সম্পত্তির অবিভাজ্য বা অবিভক্ত অংশ। হানাফি আইন অনুসারে অবিভক্ত যৌথ সম্পত্তি যা বিভক্ত করা যায় এমন সম্পত্তি দান করলে দানটি বৈধ হবে না। কিন্তু পরবর্তীতে এটি বিভক্ত করা হলে দানটি বৈধ হয়ে যাবে।

কিন্তু চারটি বিশেষ ক্ষেত্র আছে যেসব ক্ষেত্রে দানের বিষয়বস্তু বিভক্ত করা না হলেও দানটি বৈধ হবে।

⇒ যদি সম্পত্তিটি অবিভাজ্য হয় অথবা যদি সম্পত্তিটি এমন হয় যে, অবিভক্ত অবস্থায় সম্পত্তিটি ব্যবহারের জন্য বেশি উপযোগী;
⇒ যদি দুই বা ততোধিক অংশীদারদের যেকোনো একজন তার অংশটি অপর কোনো অংশীদারকে দান করে;
⇒ কোনো অবিভক্ত ভূমির ভাড়ার কোনো নির্দিষ্ট অংশ আলাদাভাবে গ্রহণ এবং উত্তোলন করার অধিকার থাকলে সেটিকে অবিভক্ত জমি ধরা হবে না এবং এটি দান করলে দানটি অবৈধ হবে না;
⇒ দানকারী যদি কোনো হোল্ডিংয়ে দান গ্রহীতাকে যৌথ মালকানার স্বীকৃতি দেয় এবং সেরকম দখলের 'স্বীকৃতি দিলে সেটি বৈধ দান হবে।
১৯৫.
"The Muslim Family Laws Ordinance, 1961" অনুসারে, যদি "P" এর পুত্র "A" উত্তরাধিকার খোলার বা আরম্ভের আগে মারা যান, তাহলে "A"-এর সন্তান "X" এবং "Y" কী পাবে?
  1. "A" এর অংশের সমান
  2. "A" এর অংশের অর্ধেক
  3. "A" এর অংশের দ্বিগুণ
  4. কিছুই পাবে না
সঠিক উত্তর:
"A" এর অংশের সমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
"A" এর অংশের সমান
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) "A" এর অংশের সমান।

→ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি তার উত্তরাধিকারী হওয়ার আগেই মারা যান, তাহলে তার সন্তানরা তার অংশের উত্তরাধিকারী হবে।
এটি প্রতিস্থাপনমূলক উত্তরাধিকার (Doctrine of Representation) নামে পরিচিত, যার ফলে সন্তানরা তাদের পিতার উত্তরাধিকারী হওয়ার পূর্ণ অধিকার পায়।

ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ:
- "P" হলেন মূল ব্যক্তি, যার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হবে।
- "A" হলেন "P" এর পুত্র, অর্থাৎ তিনি সাধারণত "P" এর উত্তরাধিকারী হতেন।
- কিন্তু "A" উত্তরাধিকার খোলার (P-এর মৃত্যুর) আগে মারা গেছেন।
- ধারা ৪ অনুযায়ী, "A"-এর সন্তানরা ("X" ও "Y") মিলে "A"-এর অংশ পাবে।
- অর্থাৎ, "X" ও "Y" সমান ভাগে তাদের পিতার (A) অংশ পাবে।

সঠিক উত্তর: ক) "A" এর অংশের সমান।
- কারণ, "X" এবং "Y" একসাথে "A" এর অংশের সমান পাবে, যা প্রতি শাখা অনুসারে (Per Stirpes) বণ্টনের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
১৯৬.
'নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সরকারী চাকরি নয়' বিধানটি মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর কোন বিধিতে বলা আছে?
  1. ১৭
  2. ১৮
  3. ১৯
  4. ২০
সঠিক উত্তর:
১৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯
ব্যাখ্যা
⇒ Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (Act No. LII of 1974) এর Section 14 এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ২০০৯ সালে 'মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ নামে' বিধিমালা প্রণয়ন করেন।

- মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর ১৯ বিধিতে 'নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সরকারী চাকরি নহে।' এই শিরোনামে বলা হয়েছে যে 'নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সরকারী চাকরি হিসাবে গণ্য হইবে না।

অর্থাৎ 'নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সরকারী চাকরি নয়' বিধানটি মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর ১৯ বিধিতে বলা আছে।
১৯৭.
কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামী কত বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে একজন বিবাহিতা স্ত্রীলোক বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৭ বছর
সঠিক উত্তর:
৩ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া; 
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
১৯৮.
যদি স্বামী শপথ করেন যে তিনি চার মাস বা তারও বেশি সময় তার স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করবেন না, তবে এটি ইসলামী শরিয়তের অধীনে এক ধরনের তালাক (divorce) হিসেবে গণ্য হয়, যাকে বলা হয়-
  1. জিহার
  2. ইলা
  3. মুবারাত
  4. তাওফিজ
সঠিক উত্তর:
ইলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলা
ব্যাখ্যা

ইলা (Ila):
যখন স্বামী শপথ করে বলেন যে তিনি চার মাস বা তার বেশি সময় স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করবেন না, তখন তাকে ইলা বলা হয়।
যদি স্বামী চার মাসের মধ্যে তার শপথ ভঙ্গ না করেন, অর্থাৎ স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন না করেন, তাহলে বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন (divorce effective) হয়ে যায়।

অন্যান্য বিকল্পের অর্থ:
জিহার (Zihar):
স্বামী যদি তার স্ত্রীকে নিজের মা, বোন ইত্যাদির সঙ্গে তুলনা করেন (যেমন বলেন— “তুমি আমার মায়ের মতো”), তবে একে জিহার বলা হয়।

তাওফিজ (Tafweez):
যখন স্বামী তালাক দেওয়ার অধিকার স্ত্রীকে অর্পণ করেন, তখন তাকে তাফউইজ বলা হয়।

মুবারাআত (Mubaraat):
যখন স্বামী ও স্ত্রী পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদে রাজি হয়, তখন সেটি মুবারাআত নামে পরিচিত।

১৯৯.
পিতা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. Asaba
  2. Zawil Arham
  3. Zawil Furud
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
Zawil Furud
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Zawil Furud
ব্যাখ্যা

⇒ পিতা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) হিসেবে বিবেচিত হন এবং কোরআনে তার অংশ নির্ধারিত রয়েছে।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা মূলত তিন শ্রেণিতে বিভক্ত -
- নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) → যাদের অংশ কোরআন-হাদিসে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
- অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) → যারা নির্দিষ্ট অংশের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
- দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) → যারা নির্দিষ্ট অংশীদার বা আসাবা না হয়ে দূর সম্পর্কের আত্মীয় হিসেবে উত্তরাধিকার পায়।

⇒ পিতা (Father) হলেন একজন প্রাথমিক উত্তরাধিকারী, এবং তার জন্য কোরআনে নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ১/৬) বর্ণিত আছে, এজন্য তিনি Zawil Furud শ্রেণিতে পড়েন। তবে পিতা অনেক ক্ষেত্রে Asaba হিসেবেও সম্পত্তি পান (যেমন সন্তান না থাকলে অবশিষ্টাংশ পাওয়া), কিন্তু তার মূল পরিচয় Zawil Furud হিসেবে।
অতএব, পিতা মূলত নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যদিও কিছু পরিস্থিতিতে তিনি আসাবা হিসেবেও লাভবান হন।

২০০.
'Marriage among Muhammadans is not a sacrament, but purely a civil contract'- was said in which of the following leading cases?
  1. Abdul Kadir v. Salima
  2. Abdus Salam v. Mst. Razia Begum
  3. Anwar Hossain v. Momtaz Begum
  4. Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum
সঠিক উত্তর:
Abdul Kadir v. Salima
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Abdul Kadir v. Salima
ব্যাখ্যা
Abdul Kadir v. Salima:
এই মামলাটি একটি মুসলিম দম্পতির মধ্যে ঘটে, যেখানে স্বামী তার স্ত্রীর কাছ থেকে বৈবাহিক অধিকার ফিরে পেতে আদালতে আবেদন করেন। তিন মাস একসাথে থাকার পর স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে চলে যান এবং স্বামীকে ফিরে আসতে দিতে অস্বীকার করেন। স্বামী অনেকবার স্ত্রীর বাবার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো ফল মেলেনি। তাই তিনি আদালতে Restitution of Conjugal Rights (বৈবাহিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা) মামলা দায়ের করেন।

স্ত্রী আদালতে ডিভোর্সের মামলা এবং মোহর প্রদান না করার অভিযোগ করেন। আদালত প্রথম দুটি অভিযোগ খারিজ করে দিলেও মোহর নিয়ে গুরুত্ব দেয়। এরপর স্বামী আদালতে মোহরের টাকা পরিশোধ করেন এবং আদালত শর্ত সাপেক্ষে রায় দেয়, যার মধ্যে বলা হয় মোহর পরিশোধের পরই বৈবাহিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

উভয় পক্ষই এই রায় নিয়ে আপিল করলেও, আপিল কোর্ট বলে যে, স্বামী Restitution of Conjugal Rights মামলা দাওয়ার পরিশোধ না করেই দাখিল করেছেন, তাই তিনি আইনগত সেবা পাওয়ার অধিকারী নন। পরে এই বিষয়টি আল্লাহাবাদ হাই কোর্ট এ পাঠানো হয়।

এলাহাবাদ হাই পর্যবেক্ষণ করে যে, মুসলিম বিবাহ একটি আইনি চুক্তি, যা কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়। কোর্ট মুনশী বজলুর রহীম বনাম শামসুন-নিসা বেগম (১৮৬৭) মামলার রায়ের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে স্ত্রীর মোহর পরিশোধ না হলে, তিনি স্বামীর সাথে বসবাস করতে বা যৌন সম্পর্ক করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। তবে, যদি একত্রে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হয় এবং সেসময় পরিপূর্ণ সম্মতি থাকে, তাহলে শর্তসাপেক্ষে Restitution of Conjugal Rights মামলার রায় কার্যকর হতে পারে, যেটি মোহরের দ্রুত পরিশোধের ওপর নির্ভরশীল।