বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Muslim Law

মোট প্রশ্ন৪৮৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Muslim Law

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৪৮৬

.
মালিকি মতবাদের মূল উৎস কী?
  1. কিয়াস
  2. কুরআন ও হাদিস
  3. স্থানীয় প্রথা ও রীতিনীতি
  4. কেবল ইজমা
সঠিক উত্তর:
কুরআন ও হাদিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরআন ও হাদিস
ব্যাখ্যা

মুসলিম আইনের চার প্রধান মতবাদ (Schools of Islamic Law):
মুসলিম আইনকে চারটি প্রধান সুন্নি মতবাদে বিভক্ত করা হয়েছে। এই মতবাদগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, এবং প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট ইমামের অনুসৃত পদ্ধতি ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।

হানাফি মতবাদ (Hanafi School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবু হানিফা (৭০২–৭৭২ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসের পাশাপাশি ইজতিহাদ (ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ) এবং রায় ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়।
- হানাফি মতবাদ মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার ও সহনশীল।
- স্থানীয় প্রথা ও রীতিনীতি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

মালিকি মতবাদ (Maliki School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৭১১–৭৯৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- মদিনার মানুষের প্রথা এবং প্রাথমিক মুসলিম সমাজের রীতিনীতিকে আইনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- কুরআন ও হাদিস প্রধান উৎস, তবে মদিনার ঐতিহ্য এবং ইজমাও বিবেচ্য।

শাফেয়ি মতবাদ (Shafi'i School)
- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ি (৭৬৭–৮২০ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসকে প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- ইজমা (মুসলিম সমাজের ঐক্যমত) এবং কিয়াস (যুক্তিগত বিশ্লেষণ) ব্যবহারের উপর জোর দেয়।

হাম্বলি মতবাদ (Hanbali School)
- ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (৭৮০–৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- এটি সবচেয়ে রক্ষণশীল সুন্নি মতবাদ।
- কুরআন ও হাদিস ছাড়া অন্য কোনো উৎসকে খুব কম গ্রহণ করে।

.
'Beneficiary' কাকে বলা হয়?
  1. যে ব্যক্তি উইল তৈরি করেন
  2. যে ব্যক্তি উইল কার্যকর করেন
  3. যে ব্যক্তি উইলের মাধ্যমে সুবিধা লাভ করে
  4. যে ব্যক্তি উইলের মাধ্যমে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি উইলের মাধ্যমে সুবিধা লাভ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি উইলের মাধ্যমে সুবিধা লাভ করে
ব্যাখ্যা

উইল (testament) বা অছিয়ত হলো ভবিষ্যৎ দান। কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা সম্পত্তির মুনাফা কিভাবে বিলি-বন্টন করা হবে তা তার মৃত্যুর পূর্বেই লিখিত বা মৌখিকভাবে নির্ধারণ করে যাওয়ার আইন সম্মত ঘোষণাই হলো উইল বা অছিয়ত।

Testator-
যে ব্যক্তি উইল তৈরি করে, অর্থাৎ যিনি মৃত্যুর পর নিজের সম্পত্তি কাকে কী দেবেন, তা নির্ধারণ করেন।

Beneficiary-
যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উইলের মাধ্যমে সম্পত্তি বা উপকার লাভ করে। উইলের মাধ্যমে যার নামে সম্পত্তি বা অন্য কোনো সুবিধা (উপহার, টাকা, জমি ইত্যাদি) নির্দিষ্ট করা হয়, তিনি উইলের সুবিধাভোগী বা Beneficiary। Beneficiary উইলদাতার (Testator) মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হলে সম্পত্তি গ্রহণের অধিকার লাভ করেন। একজন উইলে একাধিক Beneficiary থাকতে পারেন।

Heir-
উইল না থাকলে যে ব্যক্তি শরিয়ত বা উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি লাভ করে।

Executor-
যিনি Testator-এর মৃত্যুর পর উইলের শর্ত অনুযায়ী সম্পত্তি বিতরণ করেন।

.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য আদালত কতদিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
সঠিক উত্তর:
১ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ বছর
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৭(৩) অনুসারে, ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য আদালতে আবেদন করতে হবে ডিক্রি প্রদানের তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে। এই সময়সীমা ডিক্রিদার (যিনি ডিক্রি পেয়েছেন) কর্তৃক ডিক্রিটি বাস্তবায়নের জন্য আবেদন করার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
এই সময়সীমা মেনে চলা জরুরি, কারণ সময়সীমা অতিক্রম করলে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য আবেদন করা যাবে না।
- এই বিধানটি ডিক্রিদারকে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়, পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল রাখে।
------------
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১৭ ধারার বিধান: ডিক্রি বলবৎকরণ:
(১) পারিবারিক আদালত নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে ডিক্রি প্রদান করিবে এবং উহার বিবরণ নির্ধারিত ডিক্রি রেজিস্টার বহিতে লিপিবদ্ধ করিবে।
(২) যদি ডিক্রির দাবি পূরণকল্পে আদালতের সম্মুখে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয় বা কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়, তাহা হইলে উপরিউক্ত রেজিস্ট্রারে অনুরূপ পরিশোধ বা হস্তান্তরের বিষয় লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সম্পর্কিত হয় এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধিত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপ নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হইবার ১ (এক) বৎসরের মধ্যে ডিক্রিদার কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিক্রিটি বাস্তবায়ন করা হইবে, যথা:
(ক) দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন কোনো দেওয়ানি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অর্থের ডিক্রির ন্যায়; অথবা
(খ) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত জরিমানা প্রদানের আদেশের ন্যায় এবং উক্তরূপে বাস্তবায়নের পর ডিক্রির আদায়কৃত অর্থ ডিক্রিদারকে প্রদান করিতে হইবে।
(৪) উপধারা (৩) এর দফা (ক) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে, পারিবারিক আদালত দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।
(৫) উপধারা (৩) এর দফা (খ) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পারিবারিক আদালতের বিচারক একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে গণ্য হইবেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সকল ক্ষমতা তাহার থাকিবে এবং তিনি ডিক্রিকৃত বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য উক্ত কার্যবিধিতে এ জরিমানা আদায়ের জন্য বর্ণিত পদ্ধতিতে ওয়ারেন্ট জারি করিতে পারিবেন এবং ওয়ারেন্ট জারির পর অপরিশোধিত সম্পূর্ণ ডিক্রিকৃত অর্থ বা উহার কোনো অংশের জন্য রায় দেনাদারকে অনধিক ৩ (তিন) মাস অথবা পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত, যাহা পূর্বে ঘটে, কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) যেক্ষেত্রে কোনো ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি দেওয়ানি আদালতের অর্থ সংক্রান্ত ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোনো ডিক্রির ন্যায় বাস্তবায়ন করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে আদালত একটি দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন উক্ত আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।
(৭) ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালত স্বয়ং ডিক্রি বাস্তবায়ন করিবে অথবা ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো পারিবারিক আদালতে উহা বদলি করিতে পারিবে এবং উক্ত ডিক্রি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে আদালতে বদলি করা হইয়াছে সেই আদালতের ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালতের সকল ক্ষমতা থাকিবে, যেন উক্ত আদালতই ডিক্রি প্রদান করিয়াছে।
(৮) আদালত, উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, তৎকর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ কিস্তির সংখ্যা নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।
.
মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য ন্যূনতম কতজন সাক্ষীর উপস্থিতি আবশ্যক?
  1. ২ জন মুসলিম পুরুষ ও ১ জন মহিলা
  2. ২ জন পুরুষ অথবা ১ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা
  3. ২ জন মুসলিম পুরুষ অথবা ১ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা
  4. ৩ জন মুসলিম পুরুষ অথবা ২ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা
সঠিক উত্তর:
২ জন মুসলিম পুরুষ অথবা ১ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন মুসলিম পুরুষ অথবা ১ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা
ব্যাখ্যা
'বিবাহ` শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো মিলানো, একত্র করা। ইসলামী আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট একজন নর ও নারীর একত্রিত হওয়ার চুক্তিকেই বিবাহ বলে।

ডি এফ মোল্লা তাঁর ‘মুসলিম আইনের মূলনীতি’ বইয়ে বিবাহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন
“বিবাহ বা নিকাহ এমন একটি চুক্তি যার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হলো বৈধভাবে সন্তান লাভ ও প্রতিপালন।

বিচারপতি মাহমুদ তাঁর ‘আঃ কাদির ও সালিসী মোকদ্দমার রায়ে বলেছেন,
“মুসলিম বিবাহ কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, একটি বিশুদ্ধ দেওয়ানী চুক্তি যার উদ্দেশ্য পারিবারিক জীবন যাপন ও বৈধ সন্তান দান।"

মুসলিম বিবাহের অবশ্য পূরণীয় শর্তাবলী-
বিবাহ করতে ইচ্ছুক পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এক পক্ষকে প্রস্তাব দিতে হবে এবং অপর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করতে হবে। এটিই বিবাহ বন্ধন সংগঠিত হওয়ার মূল শর্ত। বিবাহের জন্য পাত্র এবং পাত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতির প্রয়োজন। বল প্রয়োগে সম্মতি আদায়ে বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে।

মুসলিম আইনে বিবাহের চুক্তি বৈধ হওয়ার জন্য সাক্ষী থাকা আবশ্যক। কমপক্ষে ২ জন মুসলিম পুরুষ, অথবা ১ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা সাক্ষী থাকতে হবে। এটি শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধতার জন্য বাধ্যতামূলক। সাক্ষীদের প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যোগ্য হতে হবে।তারা বিবাহ চুক্তি (নিকাহ) সম্পাদনের সময় উপস্থিত থাকতে হবে এবং উভয় পক্ষের সম্মতি শুনতে হবে হানাফি মাযহাব অনুসারে, সাক্ষী ছাড়া বিবাহ বৈধ নয়। শিয়া মতানুসারে সাক্ষীর উপস্থিতি সব ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়, তবে এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।
.
There are two different sects among the Muslims. They are-
  1. Hanafi and Shafi.
  2. Sunni and Shia.
  3. Maliki and Hanabali.
  4. None of Them
সঠিক উত্তর:
Sunni and Shia.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sunni and Shia.
ব্যাখ্যা
⇒ Schools of Islamic law:
⇒ There are two different sects among the Muslims. They are Sunni and Shia. Most of the Muslims around the world are Sunni.
⇒ Among Sunni, there are four most famous Imams, which eventually have created four different schools of thought. They are: Hanafi, Shafi, Maliki and Hanabali.
⇒ The main difference between Sunni and Shia Muslims is based on whether or not they believe that Prophet Muhammad explicitly designated a successor.
⇒ Sunni Muslims believe that the Prophet did not explicitly declare a successor. Shia Muslims believe that the Prophet publicly designated his cousin and son-in-law, Hazrat Ali (peace be upon him), as the first in a line of hereditary Imams from the Prophet’s family to lead the community after him.
.
“ইসতিহসান” অর্থ কী?
  1. জনকল্যাণ
  2. অনুমোদন
  3. গবেষণা
  4. প্রত্যাখ্যান
সঠিক উত্তর:
অনুমোদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুমোদন
ব্যাখ্যা

ইসতিহসান:
'ইসতিহসান' অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন। কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।

.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের নিকট তালাকের নোটিশ প্রদানের তারিখ হতে কত দিন অতিবাহিত হলে তালাক কার্যকর হবে?
  1. ৩০
  2. ৬০
  3. ৯০
  4. ৪৫
সঠিক উত্তর:
৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০
ব্যাখ্যা
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):

১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারন করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।

২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

৩) অন্য কোনভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।

৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।
.
ইসলামিক আইনে এক বস্তু হতে অন্য বস্তু অনুমান করা হলো-
  1. ইসতিহসান
  2. ইসতিসলাহ
  3. ইসতিদলাল
  4. তকলিদ
সঠিক উত্তর:
ইসতিদলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসতিদলাল
ব্যাখ্যা
ইসতিদলাল: 'ইসতিদলাল' শব্দের অর্থ হলো, এক বস্তু হতে অন্য বস্তু অনুমান করা। এটি স্বাভাবিক অনুমানের আইন। হানাফী মাযহাবের পণ্ডিতগণ তফসিরের ক্ষেত্রে এ শব্দের ব্যবহার করে থাকেন। শাফিয়ী এবং মালিকীগণ এ শব্দটিকে একটি বিশেষ অর্থে ব্যবহার করেছেন। তাদের মতে ইসতিদলাল বলতে যা বুঝায় তা তফসির বা কিয়াসের আওতায় আসে না, একে যুক্তির মাধ্যমে নির্ণীত সিদ্ধান্ত বলা যায়।

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ
.
‘মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯’-এর বিধি ২১ক অনুসারে, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের পদ্ধতি কী?
  1. মৌখিকভাবে
  2. শুধুমাত্র ম্যানুয়াল
  3. শুধুমাত্র অনলাইন
  4. ম্যানুয়াল ও অনলাইন উভয়
সঠিক উত্তর:
ম্যানুয়াল ও অনলাইন উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যানুয়াল ও অনলাইন উভয়
ব্যাখ্যা
‘মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯’ বিধি ২১ক- বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন পদ্ধতি:
বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ম্যানুয়ালির পাশাপাশি অনলাইন পদ্ধতিতেও সম্পাদন করা যাবে।
১০.
নাফাকা (Nafaqa) শব্দের অর্থ কী?
  1. ভরণপোষণ
  2. ধর্মীয় শিক্ষা
  3. অগ্রক্রয়
  4. আইনি অভিভাবকত্ব
সঠিক উত্তর:
ভরণপোষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভরণপোষণ
ব্যাখ্যা
নাফাকা (Nafaqa) মুসলিম আইন অনুসারে:
নাফাকা (Nafaqa) শব্দটি আরবি "نفقہ" থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো জীবিকা বা ভরণপোষণ, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি প্রদান। মুসলিম আইন অনুসারে, নাফাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য যা পরিবারিক জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য স্বামী, বাবা বা অভিভাবককে প্রদান করতে হয়। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা নাফাকায় অন্তর্ভুক্ত।

মুসলিম আইনে নাফাকার বিবরণ:
মুসলিম শরিয়াহ অনুসারে, স্বামীর প্রধান দায়িত্ব হলো তার স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান। এটি স্বামীর আইনি ও ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। স্বামী তার স্ত্রীর খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে দায়িত্বশীল। নাফাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সাধারণত স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। স্বামী যদি ধনী হয়, তবে স্ত্রীর জন্য তার ভরণপোষণও বেশি হতে পারে। যদি স্বামী দরিদ্র হয়, তবে স্ত্রীর নাফাকা তার আর্থিক সামর্থ্য অনুসারে নির্ধারিত হবে। সাধারণভাবে, নাফাকা এমনভাবে নির্ধারিত হবে যেন স্ত্রীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকে, এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূর্ণ হয়।
১১.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে, বিদ্যমান বিবাহ বহাল থাকাকালীন একজন পুরুষ আরেকটি বিবাহ করতে চাইলে কী করতে হবে?
  1. সরাসরি বিয়ে করতে পারবে
  2. সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে
  3. স্থানীয় মসজিদের ইমামের অনুমতি নিতে হবে
  4. পারিবারিক আদালতের অনুমতি নিতে হবে
সঠিক উত্তর:
সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে, বিদ্যমান বিবাহ বহাল থাকাকালীন একজন পুরুষ যদি আরেকটি বিবাহ করতে চান, তবে তাকে সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
অর্থাৎ, উত্তর হবে খ) সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে।

- ধারা ৬ (১) অনুযায়ী, একজন পুরুষ যদি বিদ্যমান বিবাহের চলাকালীন আরেকটি বিবাহ করতে চান, তবে তাকে আরবিট্রেশন কাউন্সিল বা সালিশি পরিষদের পূর্বানুমতি লিপিবদ্ধভাবে নিতে হবে। যদি অনুমতি ছাড়া বিবাহ করা হয়, তবে তা নিবন্ধিত হবে না এবং পুরুষকে শাস্তি ভোগ করতে হতে পারে।

তবে, স্থানীয় মসজিদের ইমামের অনুমতি বা পারিবারিক আদালতের অনুমতি এই বিষয়ে প্রযোজ্য নয়।
১২.
একজন হানাফি মুসলিম স্ত্রী, মা ও পিতাকে রেখে মারা যায়। পিতার অংশ কত?
  1. ১/৬
  2. ১/৪
  3. ১/৮
  4. ১/২
সঠিক উত্তর:
১/২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/২
ব্যাখ্যা
• উমারিয়াতান নীতি প্রয়োগ করে,

স্ত্রী= ১/৪ অংশ,
মাতা= অবশিষ্ট ৩/৪ অংশের ১/৩ অংশ, = ১/৪ অংশ,
পিতা= অবশিষ্টাংশভোগী= ১/২ অংশ পাবে।
১৩.
An individual who is qualified to exercise ijtihad in the evaluation of Islamic law is called-
  1. Imam
  2. Muslim
  3. Mujtahid
  4. Mujahideen
সঠিক উত্তর:
Mujtahid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mujtahid
ব্যাখ্যা
⇒ An individual who is qualified to exercise ijtihad in the evaluation of Islamic law is called mujtahid (Arabic: مُجْتَهِد, "diligent"). an authoritative interpreter of the religious law of Islame specially : a living religious teacher that is recognized by the Shiʽa as competent to exercise private judgment in formulating authoritative answers to legal questions.

⇒ There are some specific criteria that must be satisfied for a person to be eligible to make an ijtihad. The person who can make an ijtihad is known as 'Mujtahid' who must have, inter alia, an in depth knowledge and understanding of Islam.

⇒ Ijtihad is one of the dependent sources of Islamic law. If a matter not resolved expressly in a Quran, Sunnah and by way of Ijma the jurist must not leave the matter unresolved rather he should strive hard to find out the solution under the light of Quran and Sunnah.

⇒ In Islamic law the use of individual reasoning in general is called Ijtihad or Ijtihad al-ra'y, and Mujtahid is the qualified lawyer who uses it. "Exertion" is the literal meaning of Ijtihad. In general usage, this Arabic word denotes the utmost effort, physical or mental, expended in a particular activity. In its Islamic and technical legal connotation, it denotes the thorough exertion of the jurist's mental faculty in finding a solution for a case of law. Ijtihad therefore is 'the logical deduction on a legal or theological question by a Mujtahid or learned and enlightened doctor, as distinguished from Ijma, which is the collective opinion of a council of divines.'
১৪.
দেনমোহর প্রদান বা পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে কাবিননামাতে উল্লেখ না থাকলে-
  1. স্বামীর মৃত্যুর পর পরিশোধ করতে হবে
  2. স্ত্রী চাহিবামাত্র তা পরিশোধ করতে হবে
  3. বিচ্ছেদের সময় তা পরিশোধ করতে হবে
  4. ক বা গ
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী চাহিবামাত্র তা পরিশোধ করতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী চাহিবামাত্র তা পরিশোধ করতে হবে
ব্যাখ্যা
• দেনমোহর [Dower]

বিবাহ বন্ধনের বিনিময়ে স্ত্রী স্বামীর নিকট শরিয়ত সম্মতভাবে যে অর্থ-সম্পদ লাভের অধিকারী হয় সে অর্থ সম্পদকে দেনমোহর বলে। দেনমোহরের পরিমাণ বিবাহের পূর্বে বা বিবাহের সময় কিংবা বিবাহের পর নির্দিষ্ট করা যায়। বিবাহের পর দেনমোহরের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়।

দেনমোহর প্রথমত দুই প্রকার, যথা-

নির্ধারিত দেনমোহর (fixed/specified dower):

বিবাহের সময় বা বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মধ্যে অথবা তাদের পক্ষে যে দেনমোহর হণ করা হয় তাকে মোহরে মুসাম্মা বা fixed/specified dower বলে।

যথার্থ দেনমোহর (Proper dower):
বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ করা না হলে শরিয়ত অনুযায়ী তা নিরূপিত বলে। গণ্য হবে এবং স্বামীর উপর মোহরে মিসল বা Proper dower বা উপযুক্ত মোহর ওয়াজিব হবে।

পরিশোধের সময়ের উপর ভিত্তি করে Fixed dower বা নির্ধারিত দেনমোহরকে আবার দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

ক. তাৎক্ষণিক দেনমোহর (Prompt dower):
যে দেনমোহর স্ত্রী কর্তৃক দাবি করা মাত্রই স্বামী তা দিতে বাধ্য থাকে তা Prompt dower বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর বলে। তাৎক্ষণিক দেনমোহরের ক্ষেত্রে স্ত্রী যেকোনো সময় দেনমোহর দাবি করতে পারে, সেক্ষেত্রে স্ত্রীর দাবি অনুসারে স্বামী দেনমোহর পরিশোধ করতে বাধ্য।

খ. বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred dower):
যে দেনমোহর বিবাহবিচ্ছেদের সময় বা কোনো নির্দিষ্ট তারিখে বা ঘটনা সাপেক্ষে পরিশোযোগ্য তাকে বিলম্বিত দেনমোহর বা Deferred dower বলে।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ১০ ধারাতে বলা হয়েছে, “where no details the mode of payment of dower are specified in the nikahnama, or the marriage contract, the entire amount of the dower shall be prescribed to be payable on demand”

অর্থ্যাৎ দেনমোহর প্রদান বা পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে কাবিননামা বা বৈবাহিক চুক্তিতে উল্লেখ না থাকলেও, স্ত্রী চাহিবামাত্র তা পরিশোধ করতে হবে। এমনকি দেনমোহর ধার্য করা না থাকলেও।
১৫.
হানাফী মুসলিম A এর ২ পুত্র B ও C ছিল। ২ পুত্র রেখে B, ১৯৫৫ সালে মারা যায়। A, ১৯৬২ সালে মারা যায়। A এর সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন হবে?
  1. C পুরো সম্পত্তি পাবে
  2. B-এর সন্তানরা কোনো অংশ পাবে না
  3. B-এর অংশ তার দুই পুত্র সমানভাবে এবং C বাকি অংশ পাবে
  4. ক এবং খ
সঠিক উত্তর:
B-এর অংশ তার দুই পুত্র সমানভাবে এবং C বাকি অংশ পাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
B-এর অংশ তার দুই পুত্র সমানভাবে এবং C বাকি অংশ পাবে
ব্যাখ্যা

• মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (MFLO, 1961) এর ধারা ৪ অনুসারে:
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে যাহার সম্পত্তি বণ্টিত হবে তার মৃত্যুর পূর্বে যদি তার পুত্র বা কন্যার মৃত্যু ঘটে এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সময় ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তান যদি কেউ থাকে, তবে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা জীবিত থাকলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পেত, তার সমান অংশ ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা অংশ অনুপাতে [per-stripes] পাবে। এ নিয়মকেই 'Doctrine of Representation' বলা হয়।

এখানে, ধারা ৪ অনুযায়ী 'B মারা গেলে তার সন্তানরা B এর অধিকার প্রাপ্ত হবেন। C বাকি অংশ পাবে।

যেহেতু, MFLO, 1961 আইনটি ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, সেহেতু, 'A', ১৯৬২ সালে মৃত্যুবরণ করার পরই উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয়েছে। 'B'-এর ১৯৫৫ সালে মৃত্যুবরণ করা এখানে বিবেচ্য নয়।

১৬.
যদি কোন সন্তান না থাকে তাহলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৮ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/৪ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
- স্ত্রী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।

i) ১/৪ অংশ।

ii)  ১/৮ অংশ।

ক) যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে।

খ) যদি মৃত ব্যাক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে।
১৭.
কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায়, সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত পুনরায় কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে অনধিক কত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে?
  1. ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে
  2. ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে
  3. ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে
  4. ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে
সঠিক উত্তর:
১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে
ব্যাখ্যা
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:

১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।

২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।

৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-

ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রী গণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

Section 6- Polygamy:
(1) No man, during the subsistence of an existing marriage, shall, except with the previous permission in writing of the Arbitration Council, contract another marriage, nor shall any such marriage contracted without such permission be registered under the Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (LII of 1974). 

(2) An application for permission under sub-section (1) shall be submitted to the Chairman in the prescribed manner, together with the prescribed fee, and shall state the reasons for the proposed marriage, and whether the consent of the existing wife or wives has been obtained thereto.

(3) On receipt of the application under sub-section (2), the Chairman shall ask the applicant and his existing wife or wives each to nominate a representative, and the Arbitration Council so constituted may, if satisfied that the proposed marriage is necessary and just, grant, subject to such conditions, if any, as may be deemed fit, the permission applied for. 

(4) In deciding the application the Arbitration Council shall record its reasons for the decision, and any party may, in the prescribed manner, within the prescribed period, and on payment of the prescribed fee, prefer an application for revision to the Assistant Judge concerned and his decision shall be final and shall not be called in question in any Court. 

(5) Any man who contracts another marriage without the permission of the Arbitration Council shall- 
(a) pay immediately the entire amount of the dower, whether prompt or deferred, due to the existing wife or wives, which amount, if not so paid, shall be recoverable as arrears of land revenue; and 
(b) on conviction upon complaint be punishable with simple imprisonment which may extend to one year, or with fine which may extend to ten thousand taka, or with both.
১৮.
কোন শর্তে দাদা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/৬ অংশের উত্তরাধিকারী হবে?
  1. যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র না থাকে।
  2. যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র থাকে।
  3. যদি মৃত ব্যক্তির পিতা না থাকে।
  4. খ এবং গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
⇒ দাদা দুটি শর্তে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/৬ অংশের উত্তরাধিকারী হবে। 

• যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র থাকে;

• যদি মৃত ব্যক্তির পিতা না থাকে।

উল্লেখ্য
যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র না থাকে। তাহলে দাদা অবশিষ্টভোগী হিসেবে ১/৬ অংশের বেশি সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।
১৯.
হানাফী মুসলিম 'M' এর পুত্র 'N' ১৯৬০ সালে মারা যায়। ১৯৬৫ সালে 'M', ১ পুত্র এবং মৃত পুত্রের ১ পুত্র রেখে মারা যান। ‘M’ এর সম্পত্তিতে ‘N’-এর পুত্র কত অংশ পাবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. কোনো সম্পত্তি পাবে না
সঠিক উত্তর:
১/২ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/২ অংশ
ব্যাখ্যা

MFLO, 1961 এর 4 ধারা অনুসারে:
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে যাহার সম্পত্তি বণ্টিত হবে তার মৃত্যুর পূর্বে যদি তার পুত্র বা কন্যার মৃত্যু ঘটে এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সময় ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তান যদি কেউ থাকে, তবে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা জীবিত থাকলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পেত, তার সমান অংশ ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা অংশ অনুপাতে [per-stripes] পাবে। এ নিয়মকেই 'Doctrine of Representation' বলা হয়।

এখানে, Section 4 অনুযায়ী 'N' বেঁচে থাকলে যে অংশ পেত, 'N' এর পুত্র তা পাবে। সুতরাং, মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ 'M' এর জীবিত পুত্র এবং বাকি ১/২ অংশ 'N' - এর পুত্র পাবে।

উল্লেখ্য:
যেহেতু MFLO, 1961 আইনটি ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, সেহেতু, 'M' ১৯৬৫ সালে মৃত্যুবরণ করার পরই উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয়েছে। 'N'-এর ১৯৬০ সালে মৃত্যুবরণ করা এখানে বিবেচ্য নয়।

২০.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ‘আউল’ নীতির প্রয়োগের প্রধান কারণ কী?
  1. সম্পত্তি সম্পূর্ণ বণ্টন করা
  2. অংশীদারদের সংখ্যা কমানোর জন্য
  3. ঋণ পরিশোধের জন্য সম্পত্তি ব্যবহার
  4. শরীয়তের গাণিতিক জটিলতা সমাধান করা
সঠিক উত্তর:
শরীয়তের গাণিতিক জটিলতা সমাধান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরীয়তের গাণিতিক জটিলতা সমাধান করা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ‘আউল’ নীতি প্রয়োগ করা হয় শরীয়তের গাণিতিক জটিলতা সমাধানের জন্য, যখন অংশীদারদের অংশাবলীর যোগফল মূল সম্পদের চেয়ে বেশি হয়।
- মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে 'আউল' নীতির প্রধান প্রয়োগের কারণ হলো শরীয়তের গাণিতিক জটিলতা সমাধান করা। যখন কুরআনে বর্ণিত নির্ধারিত অংশীদারদের (যাবিল ফুরুজ) প্রাপ্য অংশের যোগফল সম্পত্তির মোট অংশ (১ বা ১০০%) ছাড়িয়ে যায়, তখন আউল নীতি প্রয়োগ করে এই অসামঞ্জস্য দূর করা হয়। 
অর্থাৎ এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে ঘটতে পারে কারণ অংশীদারদের বিভিন্ন বিন্যাসে এবং সমাবেশে গাণিতিকভাবে অংশের যোগফল ১ এর চেয়ে বেশি হয়।
- আউল নীতি প্রবর্তিত হয় এই গাণিতিক জটিলতা সমাধানের জন্য, যাতে অংশীদারদের নির্ধারিত অংশ সম্পর্কিত অনুপাত অনুসারে সমন্বয় করা যায় এবং সম্পত্তি বণ্টন সঠিকভাবে সম্ভব হয়।

উদাহরণস্বরূপ, 
- যদি স্বামী (১/২), ২ কন্যা (২/৩), এবং মা (১/৬) থাকে, তাহলে মোট অংশ = ১/২ + ২/৩ + ১/৬ = ৮/৬ (১.৩৩)। আউল প্রয়োগে প্রত্যেকের অংশকে ৮/৬ দ্বারা ভাগ করে সমাধান করা হয়।

উল্লেখ্য যে,
- আউল নীতি ইজমা (ইসলামী ঐকমত্য) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।
- এটি কুরআন বা হাদীসে সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে ইসলামী ফিকহে গৃহীত হয়েছে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর ঘ।

২১.
পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের সমন ইচ্ছাপূর্বক অমান্য করলে শাস্তি কত?
  1. অনধিক ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড
  2. অনধিক ২০০ টাকা অর্থদণ্ড
  3. অনধিক ১০০ টাকা অর্থদণ্ড
  4. অনধিক ৫০ টাকা অর্থদণ্ড
সঠিক উত্তর:
অনধিক ১০০ টাকা অর্থদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনধিক ১০০ টাকা অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২২(২) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের সমন অমান্য করেন, তাহলে তাকে অনধিক ১০০ (একশত) টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩, ধারা ২২ সমন জারির ক্ষমতা:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত যেকোনো ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হইতে এবং সাক্ষ্য প্রদানের জন্য অথবা কোনো দলিল দাখিল করিবার বা করানোর জন্য সমন জারি করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে-
(ক) দেওয়ারি কার্যবিধির ধারা ১৩৩ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন যে ব্যক্তিকে স্ব-শরীরে আদালতে হাজির হইতে অব্যাহতি দেওয়া হইয়াছে তাহাকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হইতে বাধ্য করা যাইবে না;
(খ) যদি আদালতের নিকট যুক্তিসংগতভাবে প্রতীয়মান হয় যে, অযৌক্তিক বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা ব্যতীত কোনো সাক্ষীর উপস্থিতি কার্যকর করা সম্ভব হইবে না, তাহা হইলে আদালত উক্ত সাক্ষীকে সমন দিতে বা উক্ত সাক্ষীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জারীকৃত সমন বলবৎ করিতে অস্বীকার করিতে পারিবে।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত সমন ইচ্ছাপূর্বক অমান্য করিলে, উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে, তাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান সাপেক্ষে, অনধিক ১০০ (একশত) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।

২২.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর কোন ধারায় দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতির বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৭
  4. ধারা ৮
সঠিক উত্তর:
ধারা ৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৬
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬-এ বর্তমান বিবাহ বহাল থাকাকালীন দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি প্রাপ্তির বিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, বর্তমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহের জন্য আর্বিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হয়; অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে শাস্তি ও দেনমোহর অবিলম্বে পরিশোধের বিধান রয়েছে।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ অনুযায়ী:
- কোনো পুরুষ যদি বর্তমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করতে চান, তাহলে আর্বিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমতি নিতে বাধ্য।
- আবেদন ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে হবে (ধারা ৬(২))।
- চেয়ারম্যান স্বামী ও বর্তমান স্ত্রী(দের) প্রতিনিধি নিয়ে আর্বিট্রেশন কাউন্সিল গঠন করবেন (ধারা ৬(৩))।
- কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহের প্রয়োজনীয়তা ও ন্যায্যতা যাচাই করে অনুমতি দিতে পারে।
- অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে শাস্তি: ১ বছরের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ৬(৫))।
- দেনমোহর পরিশোধ বাধ্যতামূলক: অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সম্পূর্ণ দেনমোহর (Prompt ও Deferred) অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

২৩.
The Family Courts Ordinance, 1985 অনুযায়ী লিখিত বর্ণনা দাখিলের কত দিনের মধ্যে Pre-Trial এর জন্য ধার্য করতে হবে?
  1. ১৫
  2. ৩০
  3. ৬০
সঠিক উত্তর:
৩০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০
ব্যাখ্যা
→ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ধারার বিধান বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবেে
(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।
(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।

→ যেহেতু The Family Courts Ordinance, 1985 রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ করা হয়েছে তাই এই আইনের রেফারেন্স।
২৪.
মুসালিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে কোরানিক অংশীদারদের মধ্যে পুরুষ অংশীদার কত জন?
  1. ৮ জন
  2. ৬ জন
  3. ৪ জন
  4. ২ জন
সঠিক উত্তর:
৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ জন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসালিম উত্তরাধিকার আইন (শরীয়া) অনুসারে কোরানিক অংশীদার মোট ১২ জন, যার মধ্যে পুরুষ অংশীদার ৪ জন: স্বামী (Husband), বাবা (Father), দাদা (True Grandfather) এবং বৈপিত্রেয় ভাই (Uterine Brother)। এই অংশীদাররা কুরআনের সুরা নিসায় উল্লিখিত নির্দিষ্ট অংশ পান।

⇒ শরীয়া আইন অনুযায়ী মোট ১২ জন কোরানিক অংশীদার রয়েছে।
যথা- অংশীদার বলতে কোরানিক অংশীদারদেরকে বুঝানো হয়।
কোরানিক অংশীদার সর্বমোট ১২ জন। এর মধ্যে ৮ জন মহিলা ও ৪ জন পুরুষ। যথা-
১. স্বামী (Husband)
২. স্ত্রী (Wife)
৩. বাবা (Father)
৪. মা (Mother)
৫. কন্যা (Daughter)
৬. পুত্রের কন্যা (Son's Daughter)
৭. দাদা (True Grandfather)
৮. দাদী (True Grandmother)
৯. আপন বোন (Full Sister)
১০. বৈমাত্রেয় বোন (Consanguine Sister)
১১. বৈপিত্রেয় বোন (Uterine Sister)
১২. বৈপিত্রেয় ভাই (Uterine Brother)

২৫.
নির্ধারিত দেনমোহরের ক্ষেত্রে যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক না ঘটে এবং তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, তাহলে স্ত্রী __________ দেনমোহর পাবে।
  1. সম্পূর্ণ দেনমোহর
  2. উপযুক্ত দেনমোহর
  3. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক
  4. নির্ধারিত দেনমোহরের এক চতুর্থাংশ
সঠিক উত্তর:
নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইন অনুসারে,
যদি বৈধ বিবাহ হয় এবং দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় কিন্তু যদি স্ত্রীয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক পালন না হয় সেক্ষেত্রে অর্ধেক দেনমোহর দিতে হবে। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন- “আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে, মোহর সাব্যস্ত করা হয়েছে তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হবে।” (আল কুরআন ২:২৩৭)

এছাড়া, Taibi vs Nathai Sharif (1940)2MLJ345=191IC728 এই মামলায়ও আদালত এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন- If the marriage was not consummated and the amount of dower was specified in the contract she is entitled to half of the amount the amount.

যদি বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সহবাস অথবা দাম্পত্য নির্জনতা পালিত হওয়ার পূর্বে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং যদি দেনমোহর নির্ধারিত না থাকে তাহলে কোন দেনমোহর পাওয়া থেকে স্ত্রী বঞ্চিত হতে পারেন। এছাড়া যদি বিয়েটি অনিয়মিত (irregular marriage) ধরণের হয় এবং স্বামী স্ত্রীর মাধ্যে সহবাস না হলে, কোন পক্ষের মৃত্যু বা ডিভোর্স যেভাবেই বিয়েটির সমাপ্তি ঘটুক না কেন এবং দেনমোহর নির্ধারিত হোক বা না হোক স্ত্রী কোন দেনমোহর লাভ করবে না।

এখানে উল্ল্যখ্য যে,
বিয়ে অনেক কারণেই অনিয়মিত হতে পারে। যেমনঃ সাক্ষীর উপস্থিতি না থাকা, পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ, ইদ্দত কালে বিয়ে ইত্যাদি। অনিয়মিত বিয়েতে হওয়া দূষণগুলি মুক্ত করে বৈধ বিয়েতে রুপান্তর করা যায়।এছাড়া কিছু আরো কিছু কারণে বিয়ে অনিয়মিত হতে পারে।
২৬.
নিম্নোক্ত কোন আইনে স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধের প্রতিকার দেয়া হয়েছে?
  1. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
  2. The Muslim Family Laws Ordinance, 1961
  3. The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939
  4. উল্লিখিত সকল আইনে
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকল আইনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকল আইনে
ব্যাখ্যা
ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধের প্রতিকার:

⇒ স্বামী তার স্ত্রীকে যথাােপযুক্ত কারণ ছাড়া ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করলে স্ত্রী তার ভরণপোষণ উদ্ধারের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারায় পারিবারিক আদালতসমূহকে ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলার বিচার করার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৯ ধারা অনুসারে একজন স্ত্রী তার ভরণপোষণের যথার্থ পরিমাণ নির্ধারণের জন্য চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করতে পারে।

⇒ The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 এর ২ ধারায় বলা হয়েছে- কোনো স্বামী ২ বছর যাবৎ স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রির জন্য আবেদন করতে পারবে।
২৭.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, আর্বিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করলে শাস্তি কী?
  1. ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা জরিমানা
  2. ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা জরিমানা
  3. ১ বছরের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা
  4. ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা
সঠিক উত্তর:
১ বছরের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ বছরের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬(৫) অনুযায়ী, যদি কেউ বর্তমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় আর্বিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করে, তাহলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।
শাস্তি হলো: ১ বছরের পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা, বা উভয় দণ্ড।
এই বিধান মূলত দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে পরিবারিক ও সামাজিক সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত।
অর্থাৎ অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করলে ১ বছর পর্যন্ত জেল বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড প্রযোজ্য।

২৮.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে স্ত্রীর অংশ কত হবে যদি স্বামীর সন্তান না থাকে?
  1. ১/২
  2. ১/৩
  3. ১/৪
  4. ১/৮
সঠিক উত্তর:
১/৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৪
ব্যাখ্যা
স্ত্রী (Wife):
- স্ত্রীও স্বামীর মতো কুরআনের প্রাথমিক উত্তরাধিকারী। স্ত্রীর ক্ষেত্রে দুটি অবস্থা রয়েছে, এবং স্ত্রীর অংশ কখনোই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয় না।
- ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে, স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তি থেকে কিছুই পেতেন না। তবে ইসলামী আইন অনুযায়ী, স্ত্রীর উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়েছে।

স্ত্রীর দুটি অবস্থা:
(ক) ১/৪ (১/৪ অংশ):
- অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্র সন্তান না রেখে মারা যান, তবে স্ত্রীর অংশ হবে ১/৪।
- শর্ত: মৃত ব্যক্তি যদি কোনো সন্তান বা পুত্র সন্তান না রেখে মারা যান, তবে স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবেন।

(খ) ১/৮ (১/৮ অংশ):
- অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্র সন্তান রেখে যান, তবে স্ত্রীর অংশ হবে ১/৮।
- শর্ত: মৃত ব্যক্তি যদি সন্তান বা পুত্র সন্তান রেখে মারা যান (যত নিচের স্তরের সন্তানই হোক), তবে স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবেন।

একাধিক স্ত্রী থাকলে বণ্টনের নিয়ম:
- যদি একাধিক স্ত্রী থাকে, তবে তারা সমানভাবে ভাগ পাবেন।
- সংখ্যার ভিত্তিতে ভাগ বাড়বে না। অর্থাৎ, একাধিক স্ত্রীর মধ্যে তাদের অংশ সমান হবে, কোনো স্ত্রীর ভাগ বাড়বে না।

অর্থাৎ স্ত্রী কখনোই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হন না। যদি মৃত ব্যক্তি সন্তান না রেখে মারা যান, স্ত্রীর অংশ হবে ১/৪, এবং যদি সন্তান বা পুত্র সন্তান থাকে, স্ত্রীর অংশ হবে ১/৮। একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে, তারা সমানভাবে ভাগ পাবেন।
২৯.
কোন মুসলিম পুরুষ সালিসি পরিষদের অনুমতি ব্যতীত পুনরায় বিবাহ করলে, অনধিক কত বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে?
  1. ৩ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১  উত্তরাধিকার, বিবাহ রেজিস্ট্রি, বহুবিবাহ, তালাক, দেনমোহর ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন। এ অধ্যাদেশে পারিবারিক বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সালিসী কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং প্রতিযোগী পক্ষগণের মধ্য থেকে একজন করে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিনিধি সমন্বয়ে এই কাউন্সিল গঠিত হবে। পৌর এলাকায় পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং মিউনিসিপাল কর্পোরেশন এলাকায় কর্পোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক সালিসী কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

৬ ধারায় বলা হয়-
 কোন ব্যক্তির একটি বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সালিস পরিষদের পূর্বানুমতি ছাড়া পুনরায় বিবাহ করতে পারবে না এবং এরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ সম্পন্ন হলে তা রেজিস্ট্রি করা যাবে না। বিবাহ করতে হলে সালিস পরিষদের অনুমতির জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করতে হবে এবং আবেদনপত্রে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণ, প্রয়োজনীয়তা এবং এ বিবাহে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সম্মতি আছে কিনা তা উল্লেখ করতে হবে।

কোন পুরুষ সালিস পরিষদের অনুমতি ব্যতীত যদি আরও একটি বিবাহ করে, তাহলে তাকে-
(ক) অবিলম্বে তার বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সমস্ত দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে হবে। পরিশোধ করা না হলে তা বকেয়া রাজস্বের ন্যায় আদায় করা যাবে;
(খ) অভিযোগক্রমে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে এক বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে
৩০.
মুসলিম শরীয়াহ অনুযায়ী, কোরআনিক অংশীদারদের মধ্যে কতজন পুরুষ ও কতজন মহিলা?
  1. ৬ পুরুষ, ৬ মহিলা
  2. ৪ পুরুষ, ৮ মহিলা
  3. ৫ পুরুষ, ৭ মহিলা
  4. ৩ পুরুষ, ৯ মহিলা
সঠিক উত্তর:
৪ পুরুষ, ৮ মহিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ পুরুষ, ৮ মহিলা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম শরীয়া আইন অনুযায়ী মোট ১২ জন কোরানিক অংশীদার রয়েছে।
যথা- অংশীদার বলতে কোরানিক অংশীদারদেরকে বুঝানো হয়।
- কোরআনিক অংশীদারদের মোট ১২ জনের মধ্যে পুরুষ ৪ জন এবং মহিলা ৮ জন রয়েছেন।
- পুরুষ (৪ জন):
১. স্বামী (Husband)
২. বাবা (Father)
৩. দাদা (True Grandfather)
৪. বৈপিত্রেয় ভাই (Uterine Brother)

- মহিলা (৮ জন):
১. স্ত্রী (Wife)
২. মা (Mother)
৩. কন্যা (Daughter)
৪. পুত্রের কন্যা (Son's Daughter)
৫. দাদী (True Grandmother)
৬. আপন বোন (Full Sister)
৭. বৈমাত্রেয় বোন (Consanguine Sister)
৮. বৈপিত্রেয় বোন (Uterine Sister)

সুতরাং, সঠিক উত্তর: খ) ৪ পুরুষ, ৮ মহিলা।

৩১.
পারিবারিক আদালত বিবাদীর প্রার্থনামতে লিখিত বর্ণনা দাখিলের জন্য সর্বোচ্চ সময় দিতে পারে-
  1. অন্যূন ২১ দিন
  2. ২১ কর্মদিবস
  3. অনধিক ২১ দিন
  4. অন্যূন ২১ কর্মদিবস
সঠিক উত্তর:
অনধিক ২১ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনধিক ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ লিখিত জবাব:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখে, বাদী ও বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবে এবং বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সময় প্রার্থনা করিলে আদালত তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১(একুশ) দিনের মধ্যে অপর একটি তারিখ ধার্য করিতে পারিবে।
(২) লিখিত জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার তফসিল থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে সাক্ষী আহ্বান করিতে পারিবে, যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
(৩) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্ত দলিল একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় এইরূপ দলিল অন্তর্ভুক্ত করিবেন এবং যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন উহা রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
(৫) উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপধারা (৫) এ বর্ণিত তপশিল, দলিল এবং দলিলসমূহের তালিকাসহ লিখিত জবাবের অনুলিপি বাদী, ক্ষেত্রমত, আদালতে উপস্থিত তাহার প্রতিনিধি বা আইনজীবীকে প্রদান করিতে হইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করিবার সময় বিবাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত, মোকদ্দমার শুনানিতে উক্ত দলিল তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না।
(৮) আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত উপধারা (৭) এর অধীন কোনো দলিল অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করিবে না।

৩২.
ইসলামী পরিভাষায় ‘ফারায়েয’ কী বোঝায়?
  1. মৃত ব্যক্তির ওসিয়ত
  2. মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ
  3. মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ
  4. মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের বিধান
সঠিক উত্তর:
মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের বিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের বিধান
ব্যাখ্যা
⇒ 'ফারায়েয' (فرائض) শব্দটি আরবি 'ফরীযাহ' (فريضة) এর বহুবচন, যার অর্থ হলো ফরযকৃত বা নির্ধারিত বিষয়।
- ইসলামী শরীয়তে ‘ফারায়েয’ বলতে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বণ্টনের বিধানকে বোঝায়।
একজন ব্যক্তি মারা গেলে তার সম্পত্তি কয়েকটি পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা করা হয়:
১. প্রথমে তার দাফন-কাফনের খরচ মেটানো হয়।
২. এরপর তার ঋণ (যদি থাকে) পরিশোধ করা হয়।
৩. তারপর যদি সে কোনো বৈধ ওসিয়ত করে থাকে (এক-তৃতীয়াংশ সীমার মধ্যে), তা বাস্তবায়ন করা হয়।
৪. সবশেষে বাকি সম্পত্তি শরীয়তের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়, যাকে ‘ফারায়েয’ বলা হয়। 

অর্থাৎ , 'ফারায়েয' ওসিয়ত, ঋণ পরিশোধ বা জানাজার নামাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়; বরং এটি উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের শরীয়ত নির্ধারিত বিধানকে বোঝায়।
৩৩.
মুসলিম আইনানুসারে একই শ্রেণিভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকলে-
  1. কেউ পাবেন না
  2. মূল মালিকের সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাবে
  3. প্রয়োজন বিবেচনায় বণ্টন করা হবে
  4. প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবেন
সঠিক উত্তর:
প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবেন
ব্যাখ্যা
অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:
- Sharif Sharik, Sharif Khalit Ges Sharif Jar এই তিন প্রকারের অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগ্যগিতা হলে ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাবে। 
- বিভিন্ন শ্রেণির অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে প্রথম স্তরের অধিকারী দ্বিতীয় স্তরকে এবং দ্বিতীয় স্তরের অধিকারী তৃতীয় স্তরকে রহিত করবে।
- একই স্তরের একাধিক ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে চাইলে তারা সবাই অগ্রক্রয়ের অধিকারকৃত ভূমির সমান ভাগ পাবে। 
- যদি এমন হয় যে, অগ্রক্রয়ের অধিকার দাবিকারীরা একই স্তরের হলেও তাদের কেউ একজন অন্যকোনো যুক্তিতে অধিকতর যোগ্য দাবিদার হলে সে ব্যক্তি অগ্রাধিকার পাবে।
- বিক্রি সম্পন্ন হবার পরই অগ্রক্রয়ের অধিকারের প্রশ্ন আসে। তাই অপরিচিত কোনো ব্যক্তি বরাবর বিক্রি সম্পন্ন হবার পূর্বে এই তিন শ্রেণির কোনো ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের কোনো অধিকার দাবি করতে পারে না।
- অগ্রক্রয়ের অধিকারের মামলা তখনই করা যাবে যখন কোনো অগ্রক্রয়ের অধিকারধারী ব্যক্তি ব্যতিরেকে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির নিকট সম্পত্তিটি বিক্রি করা হয়।

- একই শ্রেণীভুক্তি অগ্রক্রয়াধিকারীদের মধ্যে অগ্রক্রয়:
- মুসলিম আইনানুসারে একই শ্রেণিভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকলে, প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবে।
- কারণ অগ্রক্রয়াধিকারীদের একই শ্রেণীর মধ্যে নৈকট্যের ক্রমকে মুসলিম আইন স্বীকৃতি প্রদান করেনা।
- যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন পথাধিকারের অংশ গ্রহণের যুক্তিতে অগ্রক্রয়ের দাবি করে তখন তাদের সকলেই সমান অধিকার লাভ করবে,
- যদিও তাদের মধ্যে কোন একজন পার্শ্ববর্তী বা সংলগ্ন প্রতিবেশী।
৩৪.
______________ পদমর্যাদার বিচারকের সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হবে।
  1. জেলা জজ
  2. সহকারী জজ
  3. সিনিয়র সহকারী জজ
  4. খ বা গ
সঠিক উত্তর:
খ বা গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ বা গ
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩- ধারা ৪: পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো জেলায় একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হইলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত আদালতসমূহের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ করিবে।

(২) সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১ (এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হইবে।

(৩) উপধারা (১) এর অধীন পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত সহকারী জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।
৩৫.
কখন থেকে উইল কার্যকর হয়?
  1. উইল নিবন্ধন করার পর
  2. উইলকারী মৃত্যুর পর
  3. উইলগ্রহণকারী গ্রহণ করার পর
  4. উইল সম্পাদনের পর
সঠিক উত্তর:
উইলকারী মৃত্যুর পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলকারী মৃত্যুর পর
ব্যাখ্যা
• উইল (testament) বা অছিয়ত হলো ভবিষ্যৎ দান। কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা সম্পত্তির মুনাফা কিভাবে বিলি-বন্টন করা হবে তা তার মৃত্যুর পূর্বেই লিখিত বা মৌখিকভাবে নির্ধারণ করে যাওয়ার আইন সম্মত ঘোষণাই হলো উইল বা অছিয়ত।

উইলের উপাদান:
 
(১) একই সম্পত্তি নিয়ে একাধিক উইল করা হলে সর্বশেষ উইলটি সর্বপ্রথম কার্যকরী হবে এবং সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে পরবর্তী উইলগুলো কার্যকরী হবে।
 
(২) অজাত ব্যক্তি উইলের তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে জন্মগ্রহণ করলে তার বরাবরে করা উইল বৈধ হবে।
 
(৩) উইল মৌখিক ও লিখিত দু’ভাবেই করা যায়। এমনকি অসামর্থ্যের কারণে ইঙ্গিতেও করা যায়। তবে মৌখিক উইলের ক্ষেত্রে ২ জন পুরুষ বা ১ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা সাক্ষীর উপস্থিতিতে হতে হবে।
 
(৪) নাবালক উত্তরাধিকারী সাবলকত্ব লাভের পর উইলে সম্মতি দিতে পারবেন।
 
(৫) উইল দাতা মৃত্যুর পূর্বে যে কোন সময় উইল বাতিল করতে পারেন। সম্পত্তি একবার উইল করার পর পুনরায় তা অন্য কারো অনুকূলে উইল করলে পূর্বের উইলটি স্বয়ংক্রীয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। উইল বাতিলের জন্য মামলার প্রয়োজন হয় না।
 
(৬) ১৮৭০ সনের হিন্দু আইন অনুসারে একজন হিন্দু তার সকল সম্পত্তি উইল করতে পারেন, তবে যাদের ভরণপোষনের জন্য তিনি আইনত বাধ্য তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রেখে বাকী সম্পত্তি উইল করতে হবে।
 
(৭) উইলকারীর কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে তিনি তার সমস্ত সম্পত্তি যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে উইল করে দিতে পারেন।

(৮) উইল গ্রহণকারীকে দাতার মৃত্যুর সময় জীবিত থাকতে হবে।
 
(৯) উইলকারী মৃত্যুর মুহূর্ত হতে উইল কার্যকর হবে।
৩৬.
নিম্নলিখিত কোন বিষয়টি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর আওতায় পড়ে না?
  1. বিবাহ
  2. ভরণপোষণ
  3. কৃষি জমি
  4. উত্তরাধিকার
সঠিক উত্তর:
কৃষি জমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি জমি
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, এই আইনটি মুসলিমদের জন্য বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, হাদিয়া, মোহরানা, অভিভাবকত্ব এবং এ ধরনের অন্যান্য বিষয় এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে, এই আইনের আওতায় কৃষি জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলি আছে না। অর্থাৎ, কৃষি জমি সম্পর্কিত আইন বা বিতর্কগুলি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুসারে নিষ্পত্তি হবে না; এগুলো অন্য আইনসমূহের অধীনে চলে।
তবে, কৃষি জমি সম্পর্কিত প্রশ্ন এই আইনের আওতাভুক্ত নয়, এটি অন্য বৈধ বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ ধারার বিধান মুসলিমদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আইন প্রযোজ্য হওয়া:
কোনো প্রচলিত রীতিনীতি বা প্রথার বিপরীতে, নিম্নলিখিত বিষয়ে (কৃষিজমি সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত) মুসলিমদের মধ্যে সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) হইবে—
- উত্তরাধিকার (ইন্তেকালের পর সম্পত্তির বণ্টন),
- নারীদের বিশেষ সম্পত্তি (যেমন ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যা উত্তরাধিকার, চুক্তি, হাদিয়া বা ব্যক্তিগত আইনের অন্য কোনো বিধানের মাধ্যমে অর্জিত),
- বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ (যেমন তালাক, ইলা, জিহার, লিয়ান, খুলা ও মুবারাত),
- ভরণপোষণ, মোহরানা, অভিভাবকত্ব,
- হাদিয়া (উপহার), ট্রাস্ট ও ট্রাস্ট সম্পত্তি,
- ওয়াকফ (তবে দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান ব্যতীত)।
------------
⇒ The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937- Section-2: Application of Personal Law to Muslims
- Notwithstanding any custom or usage to the contrary, in all questions (save questions relating to agricultural land) regarding intestate succession, special property of females, including personal property inherited or obtained under contract or gift or any other provision of Personal Law, marriage, dissolution of marriage, including talaq, ila, zihar, lian, khula and mubaraat, maintenance, dower, guardianship, gifts, trusts and trust properties, and waqfs (other than charities and charitable institutions and charitable and religious endowments) the rule of decision in cases where the parties are Muslims shall be the Muslim Personal Law (Shariat).
৩৭.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, যদি একজন বিবাহিত মহিলার মৃত্যু হয় এবং তার কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে, তবে তার স্বামীর কত অংশ উত্তরাধিকার সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার থাকে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৮ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১/৬ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/২ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/২ অংশ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ১/২ অংশ।
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) অনুসারে, একজন বিবাহিত মহিলার মৃত্যু হলে তার স্বামীর প্রাপ্ত সম্পত্তির অংশ নির্ভর করে মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান বা পুত্রের সন্তান (নাতি) আছে কিনা তার উপর:
→ যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (নাতি) না থাকে, তাহলে স্বামী অর্ধেক (১/২) অংশ পাবেন।
→ যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে, তাহলে স্বামী এক-চতুর্থাংশ (১/৪) অংশ পাবেন।
প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে যে মৃতার (মৃত ব্যক্তির) কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান নেই, তাই স্বামী ১/২ অংশ পাবেন।

উদাহরণ:
যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সম্পত্তি ১,০০,০০০ টাকা হয় এবং তার কোনো সন্তান বা নাতি না থাকে, তাহলে স্বামী পাবেন ৫০,০০০ টাকা (অর্ধেক)।
যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান থাকে, তাহলে স্বামী পাবেন ২৫,০০০ টাকা (এক-চতুর্থাংশ)।

৩৮.
কত বছরের অধিক সময় স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে মুসলিম স্ত্রী আদালতে তালাক চাইতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৫ বছর
সঠিক উত্তর:
৪ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
৩৯.
মুসলিম উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতিতে কন্যা মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে?
  1. যদি একাধিক কন্যা থাকে ও পুত্র না থাকে
  2. যদি একজন পুত্র থাকে ও একাধিক কন্যা থাকে
  3. যদি পুত্র না থাকে ও সে একমাত্র কন্যা হয়
  4. যদি পিতা ও পুত্র উভয়ই অনুপস্থিত থাকে
সঠিক উত্তর:
যদি পুত্র না থাকে ও সে একমাত্র কন্যা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি পুত্র না থাকে ও সে একমাত্র কন্যা হয়
ব্যাখ্যা
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে, কন্যার অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে–
- ১/২ অংশ,
- ২/৩ অংশ এবং
- অবশিষ্টাংশভোগী।

যখন ১/২ অংশ পাবে: দুটি শর্ত পূরণ করলে এই অংশ পাবে। তা হলো-
১। কোন পুত্র থাকবে না;
২। একমাত্র কন্যা হিসেবে অংশীদার হলে।

যখন ২/৩ অংশ পাবে: দুটি শর্তে এই অংশ পাবে-
১। কোন পুত্র থাকবে না;
২। দুই বা তার অধিক কন্যা থাকলে।

যখন অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে পাবে:
কন্যার সাথে যদি পুত্র ও থাকে তবে কন্যা আর অংশীদার হিসেবে অংশ পায় না। তখন সে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে পুত্রের সাথে ২:১ অনুপাতে অংশ পাবে। যাকে আমরা Tasib Rule বলে জানি।
৪০.
পারিবারিক আদালত বিবাদীর প্রার্থনামতে লিখিত বর্ণনা দাখিলের জন্য সর্বোচ্চ কতদিন সময় দিতে পারে? 
  1. ২১ কর্মদিবস
  2. অন্যূন ২১ দিন
  3. অন্যূন ২১ কর্মদিবস
  4. অনধিক ২১ দিন
সঠিক উত্তর:
অনধিক ২১ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনধিক ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ লিখিত জবাব:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখে, বাদী ও বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবে এবং বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সময় প্রার্থনা করিলে আদালত তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১(একুশ) দিনের মধ্যে অপর একটি তারিখ ধার্য করিতে পারিবে।
(২) লিখিত জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার তফসিল থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে সাক্ষী আহ্বান করিতে পারিবে, যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
(৩) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্ত দলিল একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় এইরূপ দলিল অন্তর্ভুক্ত করিবেন এবং যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন উহা রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
(৫) উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপধারা (৫) এ বর্ণিত তপশিল, দলিল এবং দলিলসমূহের তালিকাসহ লিখিত জবাবের অনুলিপি বাদী, ক্ষেত্রমত, আদালতে উপস্থিত তাহার প্রতিনিধি বা আইনজীবীকে প্রদান করিতে হইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করিবার সময় বিবাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত, মোকদ্দমার শুনানিতে উক্ত দলিল তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না।
(৮) আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত উপধারা (৭) এর অধীন কোনো দলিল অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করিবে না।

৪১.
The Family Courts Ordinance, 1985 এর কোন ধারায় আপস মীমাংসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৮ ও ৯
  2. ৮ ও ১০
  3. ১০ ও ১৩
  4. ২০ ও ২১
সঠিক উত্তর:
১০ ও ১৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ ও ১৩
ব্যাখ্যা
- The Family Courts Ordinance, 1985 এর ১০ ও ১৩ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরণের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে-
১. আপোষ (Compromise) বা
২. মীমাংসা (Reconciliation)

- এই আইনে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ২টি পর্যায় উল্লেখ করা হয়েছে-
১. বিচার-পূর্ব কার্যধারায়
২. বিচার-পরবর্তী কার্যধারায়

- ১০ ধারায় বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে এবং ১৩ ধারায় বিচার-পরবর্তী পর্যায়ে আপোষ-মীমাংসার বিধান উল্লেখ আছে।
- ১০(৩) ধারা অনুযায়ী, বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে আদালত পক্ষগণের মধ্যেকার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করবে এবং যদি সম্ভব হয়, পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার চেষ্টা করবে।
- ১৩(১) ধারায় দেয়া আছে, সকল পক্ষের সাক্ষ্য সমাপ্তির পর পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার আরও একটি চেষ্টা করবে।
---------
বর্তমান Family Courts Ordinance, 1985 রহিতপূর্বক সময়োপযোগী করিয়া উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩এর ১১ ও ১৪ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরণের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। 

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ধারার বিধান বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।
(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।
(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১৪ ধারার বিধান বিচারের সমাপ্তি:
(১) পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর, উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে, আদালত রায় ঘোষণা করিবে এবং উক্ত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।
৪২.
হানাফি মতবাদ অনুসারে নিম্নের কোন উত্তরাধিকারী একই সাথে কোরআনিক অংশীদার ও অবশিষ্টভোগী হিসাবে উত্তরাধিকার পেতে পারেন?
  1. পুত্র
  2. স্বামী
  3. স্ত্রী
  4. পিতা
সঠিক উত্তর:
পিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতা
ব্যাখ্যা
⇒ হানাফি মতবাদ অনুসারে কোরআনিক শেয়ারার হিসেবে একজন পিতা সন্তান-সন্ততি থাকলে পায় ১/৬ অংশ করে।
⇒ সন্তান না থাকলে- অবশিষ্টভোগী হিসেবে বাকি সম্পত্তি পায়। কেউ তাকে অংশচ্যুত করতে পারে না।

⇒ হানাফি মতবাদ অনুসারে পিতা একই সাথে কোরআনিক অংশীদার ও অবশিষ্টভোগী হিসাবে উত্তরাধিকার পেতে পারেন।
৪৩.
Who is 'guardian at litem'?
  1. A biological parent of a minor
  2. A step-parent of the child
  3. A legal advisor for the family
  4. A court-appointed person to represent a minor in legal proceedings
সঠিক উত্তর:
A court-appointed person to represent a minor in legal proceedings
উত্তর
সঠিক উত্তর:
A court-appointed person to represent a minor in legal proceedings
ব্যাখ্যা
Guardian ad litem হল এমন একজন ব্যক্তি, যাকে আদালত নিয়োগ দেয় একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নাবালক (minor) বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। মুসলিম আইনে, এটি সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যখন কোনো নাবালক তার অধিকার বা সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো আইনি সমস্যা সম্মুখীন হয় এবং নিজের পক্ষে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করতে অক্ষম থাকে।

Guardian ad litem-এর ভূমিকা:

আদালত কর্তৃক নিয়োগ:
Guardian ad litem শুধুমাত্র আদালতের অনুমোদন এবং নির্দেশের মাধ্যমে কাজ করেন। এটি নিশ্চিত করে যে নাবালকের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে।

নাবালকের স্বার্থের সুরক্ষা:
Guardian ad litem-এর প্রধান কাজ হল নাবালকের সর্বোত্তম স্বার্থের জন্য কাজ করা। তারা আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করেন, যা নাবালকের ভবিষ্যৎ এবং সম্পত্তি সংরক্ষণ করে।

সম্পত্তির সুরক্ষা:
মুসলিম আইনে, একটি নাবালকের সম্পত্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। যদি কেউ নাবালকের সম্পত্তি দখল করতে বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়, Guardian ad litem সেই সম্পত্তি রক্ষায় আদালতে মামলা করতে পারেন।

পারিবারিক বিরোধ:
পারিবারিক আইন অনুযায়ী, শিশুদের অভিভাবকত্ব, দেখভাল বা হেফাজত নিয়ে যদি কোনো বিরোধ হয়, তখন Guardian ad litem দায়িত্ব নেন।

নাবালকের সম্পত্তি:
মুসলিম আইন অনুযায়ী, নাবালকের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য যদি তার পিতা বা নিকটতম অভিভাবক উপস্থিত না থাকে, তাহলে আদালত একটি Guardian ad litem নিয়োগ করতে পারে।
৪৪.
একজন হানাফি মুসলিম নারী তার স্বামী, দুই কন্যা, পিতা এবং মাতাকে রেখে মারা গেল। তার মাতার অংশ কত হবে?
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/৬ অংশ
  3. ১/৬ + অবশিষ্টাংশ
  4. কোনো অংশ পাবে না
সঠিক উত্তর:
১/৬ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৬ অংশ
ব্যাখ্যা

• ইসলামে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মায়ের অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে-
- ১/৬,
- ১/৩ এবং
- অবশিষ্টাংশের ১/৩ (1/3 of residue)।

যখন ১/৬ অংশ পায়:
- যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান-সন্ততি থাকে, কন্যা, পুত্রের পুত্র-এভাবে নিচের দিকে কেউ না থাকলে;
- যদি মৃত ব্যক্তির দুইয়ের অধিক ভাই বা বোন থাকে। ভাই বা বোন আপন, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় হতে পারে।

যখন ১/৩ অংশ পায়:
-  যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকে;
- যদি মৃত ব্যক্তির একের অধিক ভাই বা বোন না থাকে

যখন অবশিষ্টাংশের ১/৩ অংশ পাবে: এই ব্যতিক্রম অংশ শুধু দুটি ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যেগুলো হলো–
- যদি উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বামী, বাবা ও মা কে রেখে কোন মহিলা মারা যান এবং
- যদি উত্তরাধিকারী হিসেবে স্ত্রী, বাবা ও মা কে রেখে কোনো পুরুষ মারা যান।
- এই নীতি Umriyatin Rule হিসেবে পরিচিত।

⇒ হানাফি আইন অনুযায়ী, স্ত্রী মারা গেলে সন্তান থাকলে স্বামী ১/৪ ভাগ পাবেন।
- দুটি কন্যা  মিলিয়ে ২/৩ ভাগ পাবে।
- মায়ের অংশ ১/৬ ভাগ।
- শরিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, পিতা জীবিত থাকলে তার অংশ নির্ধারণের জন্য অনেক বিষয় থাকতে পারে, তবে সাধারণভাবে, দুটি কন্যা এবং স্বামী থাকলে পিতা ১/৬ অংশ পাবে এবং আসাবা হিসেবে অবশিষ্টাংশও পাবেন। সুতরাং, পিতা পাবে ১/৬ + অবশিষ্টাংশ।

৪৫.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, নিচের কোনটি বিবাহ বিচ্ছেদের ভিত্তি নয়?
  1. স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর
  2. বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন
  3. স্বামীর ২ বছর ধরে ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থতা
  4. স্বামীর ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২ অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য উক্ত ধারায় লিখিত ভিত্তিগুলোর যেকোনো একটির উপর আবেদন করতে পারেন। তবে, স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর এই আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের সরাসরি ভিত্তি নয়। 

স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর:
এই আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলার ইসলাম ত্যাগ বা অন্য ধর্মে ধর্মান্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার বিবাহ বিচ্ছেদ করে না।
তবে, ধর্মান্তরের পর তিনি এই আইনের ধারা ২ এর অন্যান্য ভিত্তিতে (যেমন নিষ্ঠুরতা, ভরণপোষণে ব্যর্থতা ইত্যাদি) বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তাই, ধর্মান্তর সরাসরি বিবাহ বিচ্ছেদের ভিত্তি নয়।

অন্য অপশন গুলার মধ্যে: 
 খ) বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন:
এই আইনের ধারা ২(৫) অনুযায়ী, যদি স্বামী বিবাহের সময় পুরুষত্বহীন থাকে এবং বিয়ের পরেও পুরুষত্বহীন অব্যাহত থাকে, তাহলে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বৈধ ভিত্তি।
গ) স্বামীর ২ বছর ধরে ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থতা:
এই আইনের ধারা ২(২) অনুযায়ী, যদি স্বামী ২ বছর ধরে স্ত্রীর ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থ হয়, তাহলে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বৈধ ভিত্তি।
ঘ) স্বামীর ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ড :
এই আইনের ধারা ২(৩) অনুযায়ী, যদি স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বৈধ ভিত্তি।

সঠিক উত্তর:
ক) স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর - কারণ, ধর্মান্তর সরাসরি বিবাহ বিচ্ছেদের ভিত্তি নয়, তবে এটি অন্যান্য ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ দেয়।
৪৬.
ইসতিহসান প্রধানত কোন মাজহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. হানাফী
  2. মালিকী
  3. শাফেয়ী
  4. হাম্বলী
সঠিক উত্তর:
হানাফী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হানাফী
ব্যাখ্যা

⇒ ইসতিহসান (Juristic Preference) ইসলামী আইনের (ফিকহ) একটি অপ্রধান উৎস, যা প্রধানত হানাফী মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি কিয়াসের (analogical reasoning) কঠোর প্রয়োগের পরিবর্তে শক্তিশালী দলিল (নস, যেমন কোরআন বা হাদিস), ইজমা, প্রয়োজন (দরূরা/হাজা), রেওয়াজ (‘উর্‌ফ), মাসলাহা (জনস্বার্থ), বা গোপন/শক্তিশালী কিয়াসের ভিত্তিতে ব্যতিক্রমী রায় প্রদানের একটি পদ্ধতি।

মূল কারণগুলো হলো হানাফী মাযহাবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তাঁর শিষ্যগণ (ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ) ইসতিহসানকে ইজতিহাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- তারা কিয়াস (অ্যানালজি) এর কঠোরতা থেকে সরে ন্যায়সংগত ও বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করেন।

অন্যান্য মাযহাবের অবস্থান:
মালিকী: মাসলাহা (জনস্বার্থ) কে প্রাধান্য দেয়, ইসতিহসানের সাথে আংশিক মিল আছে।
শাফেয়ী: ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ইসতিহসানকে "من استحسن فقد شرع" (যে ইসতিহসান করে, সে শরীয়াহ তৈরি করে) বলে সমালোচনা করেন। তবে তিনি নস (কোরআন/হাদিস), ইজমা বা প্রয়োজনে কিয়াস থেকে সরে আসাকে স্বীকার করেন।
হাম্বলী: ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) এর মতো আলিমরা সীমিত অর্থে ইসতিহসানের অনুরূপ নীতিমালা মেনেছেন।

হানাফীদের ব্যবহারিক উদাহরণ:
সালাম চুক্তি (অগ্রিম পণ্য কেনা): সাধারণ কিয়াসে নিষিদ্ধ, কিন্তু হাদিসের ভিত্তিতে ইসতিহসানে বৈধ।

উল্লেখ্য, ইসতিহসান "দুর্বল কিয়াস ত্যাগ করে শক্তিশালী দলিলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া" (আল-কারখির সংজ্ঞা)।
- এটি ইসলামী আইনের নমনীয়তা ও সামাজিক প্রয়োজনের প্রতিফলন।

৪৭.
লিখিত জবাব দাখিলের পর পারিবারিক আদালত বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে তারিখ নির্ধারণ করবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১১: বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।

(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।

(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।

(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।
৪৮.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ২ অনুসারে সালিশি পরিষদ কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
সঠিক উত্তর:
৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ জন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ২ অনুযায়ী সালিশি পরিষদ ৩ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
১. চেয়ারম্যান: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র।
২. পক্ষগণের প্রতিনিধি: বিবাদী ও বাদী পক্ষের মনোনীত ১ জন করে মোট ২ জন প্রতিনিধি।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ২-এ "Arbitration Council" বা সালিশি পরিষদের সংজ্ঞা ও গঠন পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে সালিশি পরিষদ তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে:-
- একজন চেয়ারম্যান (যিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র হবেন)।
- প্রত্যেক পক্ষের ১ জন করে প্রতিনিধি, অর্থাৎ দুই পক্ষের সম্মতিতে ২ জন প্রতিনিধি থাকবেন।

তাছাড়া, ধারা ২-এ আরও বলা হয়েছে:
- যদি কোনো পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।
- যদি চেয়ারম্যান অমুসলিম হন বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে সালিশি পরিষদের একজন মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।

৪৯.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, স্বামী কত বছর পাগল বা অপ্রকৃতিস্থ থাকলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়ে আদালতে আবেদন করতে পারেন?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(৬) অনুসারে, যদি স্বামী অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল হয়ে যায় অথবা কুষ্ঠরোগ বা মারাত্মক যৌন রোগে আক্রান্ত হয় এবং এই অবস্থা ২ বছর ধরে চলতে থাকে, তাহলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

৫০.
একজন উইলদাতা তার সম্পত্তির কত শতাংশ অংশ উইলমূলে আগন্তুক ব্যক্তিকে দান করতে পারেন?
  1. ১/২
  2. ১/৩
  3. ২/৩
  4. ১/৪
সঠিক উত্তর:
১/৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩
ব্যাখ্যা
উইল বা অছিয়ত:
মুসলিম আইনে উইলকে অছিয়ত বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক এ সম্পকে মুসলমানদের অনুমতি দিয়েছেন তা করার জন্য। মৃত্যুকালে  কিংবা মুত্যুর আগে পরের জন্য নিজ মালিকানার কিছু অংশ নিঃস্বার্থভাবে কাউকে দান করার নাম ওসিয়ত বা উইল।

মুসলিম আইন অনুযায়ী উইল বা অছিয়ত এর সংজ্ঞা বিশ্লষণ করলে যে বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করা যায়, সেগুলো নীচে উল্লেখ করা হলো:
১) মুসলিম আইন আনুযায়ী প্রত্যেক সাবালক ও সুস্থমনা ব্যক্তিই উইল বা অছিয়ত করতে পারে।
২) মুসলিম উইলকে বৈধ করবার জন্য বিশেষ কোন আনুষ্ঠিকতার প্রয়োজন নেই। এটি লিখিত দলিল দ্বারা বা মৌখিক হতে পারে। এ সম্পকে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো উইলকারীর ইচ্ছা সুস্পস্টভাবে প্রকাশিত এবং সঠিকভাবে নির্ভরযোগ্য  হতে হবে।
৩) উইলকারী তার যে কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি উইল করতে পারে। কিন্তু উইল যেহেতু উইলকারীর মৃত্যুর পর বলবত হয়, সেহেতু উইলকারী মৃত্যুর সময় অবশ্যই উইলে বর্ণিত সম্পত্তির অস্বিত্ব হবে।

ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা:
১) মুসলিম আইনের বিধান মোতাবেক একজন উইলদাতা যে কোনো আগন্তুক ব্যক্তিকে তার সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশী উইলমূলে দান করতে পারে না। উইলকারী ১/৩ অংশের বেশী উইল করলেও ১/৩ অংশ কাযকর হবে এবং বাকী অংশ আইনে অগ্রাহ্য হবে। যে অবশিষ্ট ২/৩ অংশ থাকবে তা স্বাভাবিক ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে।

২) মুসলিম আইনের বিধান মতে উইলদাতার মৃত্যুর পর যারা ওয়ারিশ বলে গন্য হবে, তাদের বরাবরে কোনো সম্পত্তি উইল করতে পারবেন না। কোনো সম্পত্তি ওয়ারিশের বরাবরে উইল করলে তা বৈধ হবে না, তবে উইলদাতার মৃত্যুর পর তার অন্যান্য ওয়ারিশেরা অনুমোদন বা সম্মতি দিলে উইলটি কাযকর বা বৈধ হবে।

৩) আবার উইলদাতার ওইরূপ কোনো উইলে সব ওয়ারিশ যদি অনুমোদন বা সম্মতি না দেয়, তাহলে যারা অনুমোদন বা সম্মতি না দেয় তারা ব্যতীত যারা অনুমোদন করবে বা মেনে নিবে, কেবলমাত্র তাদের অংশই সংশ্লিষ্ট উইলগ্রহীতা প্রাপ্ত হবে। উত্তরাধিকারীদের সম্মতি অবশ্যই উইলকারীর মৃত্যুর পরে প্রদান করতে হবে এবং উইলকারীর জীবদ্দশায় প্রদত্ত সম্মতি অবৈধ হবে। উইল দলিল রেজিস্ট্রি করলেই তা বৈধ বলে ধরে নেয়া যায় না। উইলে সম্মতি দানের ক্ষেত্রে নীরবতা সম্মতি বলে ধরে নেয়া যাবে না। উইল করা হয়নি এবং উইল করার সময় বিদ্যমান ছিল না, তাতে সম্মতির প্রয়োজন নেই।

যদি কিছু উত্তরাধিকারী নাবালক থাকে, তবে তারা সাবালক হওয়ার পর উইলে সম্মতি বা অসন্মতি দিতে পারে। তাদের নাবালকত্বের সময় অভিভাবকগণ কর্তৃক প্রদত্ত সম্মতির কোনো বৈধতা নেই এবং এ অবস্থায় তারা সাবালক হওয়ার পর উইলের বৈধতা সম্পর্কে বিবাদ করতে পারে। অতএব, কোনো মা যদি নাবালক সন্তানের পক্ষে সম্মতি দেয়, তবে যতদূর সন্তান সংশ্লিষ্ট, ততদূর পর্যন্ত উইলটি অকাযকর হবে। একমাত্র উইলকারীর মৃত্যুর পরেই সম্মতি কাযকর হবে; সুতরাং উইলের উদ্দেশ্যে উইলকারীর মৃত্যুর সময় যারা উত্তরাধিকারী থাকেন, তারাই উত্তরাধিকারী বলে গন্য হবেন, এবং উইল করার সময় যারা ছিলেন তারা নয়।
৫১.
কোন অবস্থায় স্বামী বা স্ত্রী রাদের নীতির মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে?
  1. একমাত্র অংশীদার না হলে
  2. একমাত্র অংশীদার হলে
  3. যদি সন্তান থাকে
  4. কোনো অবস্থাতেই তারা রদে সম্পত্তি পাবে না
সঠিক উত্তর:
একমাত্র অংশীদার হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একমাত্র অংশীদার হলে
ব্যাখ্যা
রাদ বা প্রত্যর্পণ নীতি
মুসলিম সুন্নি আইনের বিধানমতে, অংশীদারগণের নির্ধারিত অংশ বা দাবি পূরণ করার পর ক্ষেত্র বিশেষে যদি সম্পত্তির কোনো অংশ অবশির থাকে তবে উক্ত অবশিষ্ট সম্পত্তি ঐ সব অংশীদারদের মধ্যে আনুপাতিক হারে পুনঃবণ্টন করা হবে, অর্থাৎ সমস্ত সম্পতি অংশীদারদের প্রাপ্য আংশ হারে বণ্টন করার পর বন্টিত অংশের সমষ্টি সব অপেক্ষা হর বেশি হলে অবশিষ্ট অংশ অংশীদারদের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করে দেয়া হয় যার ফলে অংশীদারদের পূর্ব প্রাপ্ত অংশ বৃদ্ধি পায়, এই নীতিকে রাদ বা প্রত্যর্পণ নীতি বলে।

• রাদের নীতি
⇒ সম্পদের অবশিষ্ট অংশ অংশীদারগণের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক অংশীদারের অংশ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ স্বামী এবং স্ত্রী রদের মাধ্যমে কোনো সম্পদ পাবে না। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রী যদি একমাত্র অংশীদার হয়, তাহলে সে রাদের মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে।
৫২.
অনাগত (ভবিষ্যতের) ব্যক্তিকে দেওয়া দান ইসলামি আইনে-
  1. বৈধ
  2. বাতিল
  3. বাতিলযোগ্য
  4. প্রতিদান সাপেক্ষে অনুমোদিত
সঠিক উত্তর:
বাতিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতিল
ব্যাখ্যা

• মুসলিম আইনে হেবা একটি বিশেষ চুক্তি, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায়, কোনো প্রকার বিনিময় বা প্রতিদান ছাড়া, নিজের সম্পত্তি অন্য ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে। এটি মূলত একটি দান বা উপহার, যা স্থাবর (যেমন জমি, বাড়ি) এবং অস্থাবর (যেমন টাকা, গহনা) – উভয় প্রকার সম্পত্তির ক্ষেত্রেই করা যায়।

একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব);
খ. Acceptance (গ্রহণ);
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)।

দান বৈধ হওয়ার শর্তাবলি:
- দাতাকে সম্পূর্ণ অধিকার ও সক্ষমতার মালিক হতে হবে।
- গ্রহীতাকে অবশ্যই তখন জীবিত এবং বিদ্যমান (in existence) হতে হবে।
- সম্পত্তি অবশ্যই বিদ্যমান, চিহ্নিত এবং হস্তান্তরযোগ্য হতে হবে।
- দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে একটি স্পষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে এবং গ্রহীতা তা গ্রহণ করতে হবে।
- সম্পত্তির দখল প্রকৃতভাবে গ্রহীতার কাছে স্থানান্তর করতে হবে।

ইসলামী আইনের শর্ত অনুযায়ী,
গ্রহীতাকে অবশ্যই তখন জীবিত থাকতে হবে। অনাগত ব্যক্তি এখনও অস্তিত্ব লাভ করেনি, তাই তাকে কিছু প্রদান করা সম্ভব নয়। যেহেতু অনাগত ব্যক্তি এখনও অস্তিত্ব লাভ করেনি, তাই তার পক্ষে দখল গ্রহণ বা তা ব্যবহার করা সম্ভব নয়। অনাগত ব্যক্তিকে আইনগতভাবে কোনো অধিকার দেওয়া সম্ভব নয়। একারণে ইসলামী আইনে অনাগত ব্যক্তিকে দেওয়া উপহার বাতিল (void) হিসেবে গণ্য হয়। এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এর কোনো আইনি বৈধতা নেই।

৫৩.
পারিবারিক আদালতে খারিজ হওয়া মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আবেদন কত দিনের মধ্যে করতে হবে?
  1. ২১ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ৬০ দিন
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০(৫) অনুসারে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে: "বাদী, খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, আদেশ প্রদানকারী আদালতে উক্ত আদেশ রহিত করিবার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন"
- অর্থাৎ, পারিবারিক আদালতে খারিজ হওয়া মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আবেদন খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০ পক্ষগণের অনুপস্থিতির ফলাফল:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য ধার্যকৃত তারিখে মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাকা হইলে উক্ত সময়ে কোনো পক্ষই উপস্থিত না থাকিলে, আদালত মোকদ্দমা খারিজ করিয়া দিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা শুনানির জন্য ডাকা হইলে বাদী উপস্থিত হন, তবে বিবাদী অনুপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে-
(ক) যদি প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীর প্রতি সমন বা নোটিশ যথাযথভাবে জারি করা হইয়াছে, তাহা হইলে আদালত মোকদ্দমাটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে;
(খ) যদি সমন বা নোটিশ বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি করা হইয়াছে মর্মে প্রমাণিত না হয়, তাহা হইলে আদালত বিবাদীর উপর নূতনভাবে সমন ও নোটিশ জারি কারিবার আদেশ প্রদান করিবে;
(গ) যদি প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীর প্রতি সমন বা নোটিশ জারি করা হইয়াছে, তবে তাহার উপস্থিতির জন্য ধার্যকৃত তারিখে তাহাকে উপস্থিত হইয়া জবাব প্রদানের যথেষ্ট সময় দেওয়া হয় নাই, তাহা হইলে আদালত পরবর্তী অনধিক ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে নির্ধারিত কোনো তারিখ পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি স্থগিত রাখিবে এবং বিবাদীকে উক্ত তারিখ সম্পর্কে নোটিশ প্রদান করিবে।
(৩) যেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমার শুনানি মুলতবি করিয়া একতরফা শুনানির জন্য ধার্য করে এবং বিবাদী শুনানিকালে বা তৎপূর্বে আদালতে হাজির হইয়া পূর্বে হাজির না হইবার উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে, সেইক্ষেত্রে আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, শর্তসাপেক্ষে বিবাদীকে জবাব দাখিলের সুযোগ প্রদান করিয়া এইরূপে শুনানি করিবে যেন তিনি তাহার হাজির হইবার জন্য ধার্যকৃত দিনেই উপস্থিত হইয়াছেন।
(৪) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা শুনানির জন্য ডাকা হইলে বিবাদী উপস্থিত হন, তবে বাদী অনুপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমা খারিজ করিবে, তবে বিবাদী যদি দাবির সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ স্বীকার করে, তাহা হইলে বিবাদীর উক্তরূপ স্বীকৃতির উপর আদালত বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করিবে এবং যেক্ষেত্রে দাবির অংশবিশেষ স্বীকার করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি ততটুকু খারিজ করিবে যতটুকু দাবির অবশিষ্টাংশের সহিত সম্পর্কিত।
(৫) যেক্ষেত্রে কোনো মোকদ্দমা উপধারা (১) এর অধীন খারিজ করা হয় অথবা উপধারা (৪) এর অধীন সম্পূর্ণ বা আংশিক খারিজ করা হয়, সেইক্ষেত্রে বাদী, খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, আদেশ প্রদানকারী আদালতে উক্ত আদেশ রহিত করিবার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন এবং যদি তিনি আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে সক্ষম হন যে, মোকদ্দমাটি শুনানির সময় তাহার অনুপস্থিতির জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল, তাহা হইলে আদালত খারিজ আদেশ রহিত করিয়া একটি আদেশ প্রদান করিবে এবং মোকদ্দমাটি চালাইয়া যাইবার জন্য একটি তারিখ ধার্য করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার খরচ বা অন্য কোনো বিষয়ে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ শর্তে উপধারা (৪) এর অধীন মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রহিত করিতে পারিবে :
আরও শর্ত থাকে যে, বিবাদীর উপর আবেদনের নোটিশ জারি না করা পর্যন্ত উপধারা (৪) এর অধীন মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রহিত করা যাইবে না।
(৬) বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফাভাবে ডিক্রি প্রদান করা হইলে, তিনি ডিক্রি প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে উহা বাতিলের আদেশ দানের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন এবং তিনি যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করিতে সক্ষম হন যে, মোকদ্দমার শুনানির সময় তাহার আদালতে অনুপস্থিত থাকিবার যথেষ্ট কারণ ছিল, তাহা হইলে আদালত খরচ বা অন্য কোনো বিষয়ে যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে, সেইরূপ শর্তে তাহার বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রি বাতিল করিবার আদেশ প্রদান করিবে এবং মোকদ্দমাটি পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ ধার্য করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, যদি ডিক্রিটি এমন হয় যে, তাহা কেবল উক্ত বিবাদীর বিরুদ্ধেই বাতিল করা যায় না, তাহা হইলে সকল বা অন্য যেকোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রি বাতিল করা যাইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, বাদীর উপর আবেদনের নোটিশ জারি না করিয়া এই উপধারার অধীন কোনো আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
(৭) Limitation Act, 1908 (Act No. IX of 1908) এর section 5 এর বিধানাবলি উপধারা (৬) এর অধীন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

৫৪.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, নিচের কোন বিষয়টি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়?
  1. দেনমোহর
  2. বিবাহ বিচ্ছেদ
  3. দাম্পত্য সম্পত্তি বন্টন
  4. শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান
সঠিক উত্তর:
দাম্পত্য সম্পত্তি বন্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাম্পত্য সম্পত্তি বন্টন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বিবাহ বিচ্ছেদ (খ)
- দেনমোহর (ক)
- শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান (ঘ)
- দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার
- ভরণপোষণ
যেখানে দাম্পত্য সম্পত্তি বন্টন এই আইনের অধীনে উল্লেখিত নয়, তাই এটি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫ পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

৫৫.
পারিবারিক আদালত কর্তৃক আরজি খারিজের কারণ নয় কোনটি?
  1. সমন জারির খরচা না দেওয়া
  2. তফসিলসহ আরজির অবিকল নকল দাখিল না করা
  3. কোর্ট ফি পরিশোধ না করা
  4. প্রতিকারের মূল্যায়ন উল্লেখ না করা
সঠিক উত্তর:
প্রতিকারের মূল্যায়ন উল্লেখ না করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিকারের মূল্যায়ন উল্লেখ না করা
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালতে আইন, ২০২৩ এর ৬ ধারার উপ ধারা (৮) এ আরজি খারিজের কারণসমূহ উল্লেখ আছে।
উক্ত ধারা মতে,নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে আরজি খারিজ হইবে, যথা:-
(ক) উপধারা (৭) এর অধীন আবশ্যকতা অনুসারে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ আরজির অবিকল নকলসমূহ উহার সহিত সংযুক্ত না থাকে;
(খ) ধারা ৭ এর উপধারা (৫) অনুযায়ী সমন জারির খরচ এবং নোটিশের জন্য ডাক খরচ পরিশোধিত না হয়;
(গ) আরজি উপস্থাপনের সময় ধারা ২৫ অনুযায়ী প্রদেয় ফি পরিশোধ করা না হয়।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, উল্লিখিত অপশন গুলোর মধ্যে ‘প্রতিকারের মূল্যায়ন উল্লেখ না করা’ পারিবারিক আদালত কর্তৃক আরজি খারিজের কারণ নয়।
৫৬.
মুসলিম উইলকারী জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি বিক্রি করলে কী ঘটে?
  1. উইল অপরিবর্তিত থাকে
  2. বিক্রয় বাতিল হয়
  3. উইল বাতিল হয়
  4. আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে উইল কার্যকর হয়
সঠিক উত্তর:
উইল বাতিল হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইল বাতিল হয়
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে,
একজন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় যে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন, সেটি তার সম্পূর্ণ অধিকার। তবে, যদি তিনি ওই সম্পত্তির কিছু অংশ উইল করেন, তবে ওই উইলটি মৃত্যুর পর কার্যকর হবে। কিন্তু, যদি ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ওই সম্পত্তি বিক্রি করেন, তাহলে উইলটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে, কারণ বিক্রি একটি কার্যকর আইনগত কাজ, যা সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন করে।

কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-
ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।
খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।
গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।

৫৭.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৭ অনুযায়ী, তালাকের ঘোষণার পর তা কার্যকর হতে কত দিন সময় লাগে?
  1. ১২০ দিন
  2. ৯০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৩০ দিন
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৭(৩) এ বলা হয়েছে: “তালাক, যদি এর আগে প্রত্যাহার না করা হয় (স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে), তবে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ প্রদানের তারিখ থেকে নব্বই (৯০) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
অর্থাৎ স্বামী তালাক উচ্চারণ করার পর যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং স্ত্রীর কাছেও একটি কপি পাঠাতে হবে।
- চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একটি সালিশি পরিষদ (Arbitration Council) গঠন করবেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানো।
- তালাকের নোটিশ দেওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার আগে তালাক কার্যকর হয় না। এই সময়টিকে এক ধরনের “Cooling-off Period” বা সমঝোতার সুযোগ বলা যায়।
- যদি স্ত্রী নোটিশ দেওয়ার সময় গর্ভবতী থাকেন, তবে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরেও গর্ভকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):
১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারণ করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।
২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩) অন্য কোনোভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।

৫৮.
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ রহিত করে নিম্নের কোন আইন প্রণীত হয়েছে?
  1. পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৩
  2. পারিবারিক আইন, ২০২৩
  3. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
  4. মুসলিম পারিবারিক আইন, ২০২৩
সঠিক উত্তর:
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। এটি ২০২৩ সনের ২৬ নং আইন।

যা কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে-

⇒ নতুন আইন অনুযায়ী- সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১(এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হবে। ১৯৮৫ সালের আইনে শুধু সহকারী জজ এর কথা উল্লেখ ছিলো।

⇒ ১৯৮৫ সালের আইন অনুযায়ী আরজি ও জবাব সংশোধনের সুযোগ ছিলো না। নতুন আইনের ৯ ধারায় এই সুযোগ রাখা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিধান অর্থাৎ ১৩ ধারা অনেকটা স্পষ্ট করা হয়েছে। এফিডেভিটের মাধ্যমে জবানবন্দী গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

⇒ দেনমোহরের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার বা তার কম টাকার ডিক্রী হলে আপীল করা যাবে না। পূর্বে তা ৫০০০ টাকা ছিল।

⇒ নতুন আইনে সকল প্রকার পারিবারিক মামলার কোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা, পূর্বে যা ৫০ টাকা ছিল।
৫৯.
স্বামী কত বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে একজন বিবাহিতা স্ত্রীলোক বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৩ বছর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
 
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;
 
⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
 
⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
 
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
৬০.
সেলিম একজন সুন্নী মুসলমান সে পিতা, এক পুত্র ও এক কন্যাকে ওয়ারিশ রেখে মৃত্যুবরণ করেছে, এক্ষেত্রে পিতা কত অংশ পাবে?
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/৪ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. কোন অংশ পাবে না
সঠিক উত্তর:
১/৬ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৬ অংশ
ব্যাখ্যা

পিতার অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে–

- ১/৬ অংশ: যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র রেখে মারা যান তবে পিতার অংশ হবে ১/৬ অংশ।

- ১/৬+অবশিষ্টাংশ (Residuary): যদি মৃত ব্যক্তির কন্যা, পুত্রের কন্যা রেখে মারা যায় এবং কোন পুত্র বা পুত্রের পুত্র—- না থাকে তবে পিতার অংশ হবে ১/৬+অবশিষ্টাংশ।

- অবশিষ্টাংশভোগী (Residuary) : যদি কোন সন্তান-সন্ততি না থাকে তবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে পিতা অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে অংশ পাবে।

ধাপ ১: অংশীদার ও অবশিষ্টাংশভোগী চিহ্নিত করা-
অংশীদার: পিতা → স্বাভাবিকভাবে ১/৬ (যদি সন্তান থাকে)
অবশিষ্টাংশভোগী: পুত্র ও কন্যা → বাকি সম্পত্তি ভাগ করবে।
 
ধাপ ২: অংশীদার হিসাব-
পিতার অংশ: ১/৬ = ৩/১৮
অবশিষ্টাংশ (মোট − পিতার অংশ) = ১ − ১/৬ = ৫/৬ = ১৫/১৮
 
ধাপ ৩: অবশিষ্টাংশ ভাগ করা-
শারিয়াহ অনুযায়ী পুত্র = ২ অংশ, কন্যা = ১ অংশ
মোট অংশ = ৩ (পুত্র + কন্যা)
পুত্র = ১৫/১৮ × (২/৩) = ১০/১৮
কন্যা = ১৫/১৮ × (১/৩) = ৫/১৮।

৬১.
বাংলাদেশি মুসলিম নারী নাফিসা তার স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ আদায়ের মামলা করতে চান। এ মামলা করার জন্য তিনি কোন আদালতে যাবেন?
  1. দেওয়ানি আদালতে
  2. ফৌজদারি আদালতে
  3. পারিবারিক আদালতে
  4. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে
সঠিক উত্তর:
পারিবারিক আদালতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারিবারিক আদালতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) পারিবারিক আদালত।

কারণ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩–এর ৫ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—ভরণপোষণসহ বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, শিশু অভিভাবকত্ব ইত্যাদি বিষয়ে মামলা পারিবারিক আদালতই গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

৬২.
মুসলিম আইনে দানের অপরিহার্য উপাদানগুলো কোনগুলো?
  1. Offer, Witness, Registration
  2. Acceptance, Deed, Witness
  3. Delivery, Witness, Deed
  4. Offer, Acceptance, Delivery of possession
সঠিক উত্তর:
Offer, Acceptance, Delivery of possession
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Offer, Acceptance, Delivery of possession
ব্যাখ্যা

⇒ দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় হিবা নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

⇒ একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব);
খ. Acceptance (গ্রহণ);
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)।

⇒ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত দখল অর্পণ প্রয়োজনীয় না। দানের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে। একটা হলো Donor বা দাতা অর্থাৎ যে দান করে, অপরপক্ষ হলো উড়হবব বা গ্রহীতা অর্থাৎ যার বরাবর দান করা হয়।

⇒ সমস্ত সম্পত্তি দান করা যায় এবং দান হস্তান্তর করার সাথে সাথেই কার্যকর হয়, আর উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হয়।

৬৩.
ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের উমরিয়াতান (Umariyatan) নীতিকে আরবিতে কী বলা হয়?
  1. আল-হারামাইন
  2. আল-ঘররাওয়ানি
  3. আল-মুবারাকাতিন
  4. আল-মুশকিলাতিন
সঠিক উত্তর:
আল-ঘররাওয়ানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল-ঘররাওয়ানি
ব্যাখ্যা

⇒ উমরিয়াতান নীতিকে আরবি ভাষায় "আল-ঘররাওয়ানি" (الغرّاوين) বলা হয়, যার অর্থ "দুই প্রতারক" বা "দুই ধোঁকাবাজ পরিস্থিতি"। এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ এই নীতি দুটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য, যেখানে সাধারণ উত্তরাধিকার বণ্টনের নিয়ম প্রয়োগ করলে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেয়ে যান, যা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

Doctrine of Umariyatan (উমরিয়াতান নীতি):
উমরিয়াতান বা উমরিয়াতিন হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নীতি, যা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মায়ের অংশকে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান। এটি মূলত দুইটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়, যেগুলোকে আল-ঘররাওয়ানি বা "দুই প্রতারক" বলা হয়।

উমরিয়াতান নীতির উদ্দেশ্য:
১. মায়ের অংশকে ১/৩ থেকে কমিয়ে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্য করা।
২. পিতা যেন মায়ের অংশের দ্বিগুণ পান, তা নিশ্চিত করা।
৩. মায়ের অংশের অসঙ্গতি দূর করা, যাতে তিনি পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।

মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার শর্ত:
মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন যদি নিম্নলিখিত দুটি শর্ত পূরণ হয়:
১. মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যেমন: নাতি-নাতনি) না থাকে।
২. মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই বা বোন না থাকে (এক ভাই বা এক বোন থাকলে মাতা ১/৩ পাবেন)।

উমরিয়াতান নীতির প্রয়োগ:
উমরিয়াতান নীতি বিশেষভাবে প্রয়োগ হয় যখন নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।
২. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।

- এই পরিস্থিতিতে মাতা সরাসরি ১/৩ অংশ না পেয়ে, পিতার অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।
- এই নিয়ম প্রয়োগ না করলে মাতা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেতে পারেন, যা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের মূল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

৬৪.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী কখনো উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না-
  1. কন্যা
  2. ভাই
  3. বোন
  4. চাচা
সঠিক উত্তর:
কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কন্যা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে (বিশেষত সুন্নি হানাফি মতবাদ অনুসারে), উত্তরাধিকার বণ্টন মৃত্যুর পর সম্পত্তির উপর উত্তরাধিকারীদের অধিকার সৃষ্টি করে। উত্তরাধিকারীদের দুটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়: প্রধান শ্রেণি (Principal Heirs) এবং অপ্রধান শ্রেণি (Secondary Heirs)। প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিম্নলিখিত ছয়টি ব্যক্তি কখনোই উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না:
১) স্বামী
২) স্ত্রী
৩) পিতা
৪) মাতা
৫) পুত্র
৬) কন্যা
কন্যা এই প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারী এবং কোরআনের নির্দেশ অনুসারে (সূরা নিসা, আয়াত ১১) সর্বদা তার নির্ধারিত অংশ পায়। উদাহরণস্বরূপ, একমাত্র কন্যা থাকলে তিনি সম্পত্তির ১/২ অংশ পান, এবং একাধিক কন্যা থাকলে তারা মিলে ২/৩ অংশ ভাগ করে নেন।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
খ) ভাই: ভাই অপ্রধান শ্রেণির (Secondary Heirs) উত্তরাধিকারী। তিনি তখনই সম্পত্তি পান যখন প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারী (যেমন পিতা, পুত্র, কন্যা) না থাকেন বা সম্পত্তির অংশ বাকি থাকে। সুতরাং, ভাই উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
গ) বোন: বোনও অপ্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারী। তিনি ভাইয়ের মতোই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সম্পত্তি পান, কিন্তু প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের উপস্থিতিতে বঞ্চিত হতে পারেন।
ঘ) চাচা: চাচা দূরবর্তী উত্তরাধিকারী (Distant Kindred) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তিনি কেবল তখনই সম্পত্তি পান যখন প্রধান এবং অপ্রধান শ্রেণির কোনো উত্তরাধিকারী না থাকেন, যা খুবই বিরল। সুতরাং, চাচা সহজেই বঞ্চিত হতে পারেন।

অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, কন্যা প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারী হিসেবে কখনোই উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) কন্যা।

৬৫.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে, তাহলে পিতা কত অংশ পাবেন?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৪ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ১/৮ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/৬ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৬ অংশ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, পিতা-এর উত্তরাধিকার অংশ নির্ভর করে মৃত ব্যক্তির (মুরিথের) অবশিষ্ট উত্তরাধিকারীদের উপর।
- যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান (পুত্র বা কন্যা) থাকে, তবে পিতা ১/৬ (ছয় ভাগের এক ভাগ) অংশ পাবেন।
- এক্ষেত্রে পিতা একজন "কুরআনিক শরিক" (Quranic heir) হিসেবে ১/৬ অংশ পান, কারণ সন্তান থাকার কারণে তিনি অবশিষ্টাংশের অধিকারী (আসাবা) হন না।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পিতা (বাবা) একজন নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। 
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে পিতা (Father) হলেন একজন প্রাথমিক উত্তরাধিকারী, যার অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে এবং তাকে কখনই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা যায় না।
পিতা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সম্পত্তির অংশ পেতে পারেন।

⇒ পিতার তিনটি অবস্থা:
(ক) ১/৬ অংশ:
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে, তাহলে পিতা ১/৬ অংশ পাবেন।

(খ) ১/৬ + অবশিষ্টাংশ:
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকে, তবে পিতা প্রথমে ১/৬ অংশ পাবেন এবং বাকি অবশিষ্ট সম্পত্তি তিনি আসাবা (Asaba) হিসেবে পাবেন।
কারণ: পিতা আংশিক অংশীদার হলেও, বাকি সম্পত্তি আসাবা হিসেবে পাওয়ার অধিকারী হন। অর্থাৎ, তিনি সম্পত্তির বাকী অংশ ভোগ করবেন।

(গ) অবশিষ্টাংশ:
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান ও অন্য কোনো আসাবা না থাকে, তবে পিতা সম্পূর্ণ সম্পত্তি পাবেন।
কারণ: কোনো অংশীদার বা আসাবা না থাকলে, পিতা আসাবা হিসেবে পুরো সম্পত্তি পেয়ে যাবেন।

৬৬.
'Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum 47 DLR (1995) 34' মামলাটি কোন বিষয় সম্পর্কিত?
  1. দত্তক গ্রহণ
  2. দেনমোহর
  3. তালাক-পরবর্তী ভরণ-পোষণ
  4. দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
তালাক-পরবর্তী ভরণ-পোষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালাক-পরবর্তী ভরণ-পোষণ
ব্যাখ্যা
'Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum 47 DLR (1995) 34':
মুহাম্মদ হেফজুর রহমান বনাম শামসুন নাহার বেগম মামলাটি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় যা ১৫ বিডিএল(৩৪) রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অধীনে রয়েছে। এই মামলার মূল বিষয় ছিল তালাকপ্রাপ্ত মহিলার Post-divorce Maintenance এর অধিকার সম্পর্কিত।

মামলার পটভূমি:
শামসুন নাহার বেগম তার স্বামী মুহাম্মদ হেফজুর রহমানের বিরুদ্ধে Maintenance-এর দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তালাক দেওয়ার পরও তাকে Maintenance প্রদান করা হচ্ছে না।

আইনি প্রশ্ন:
মামলার মূল আইনি প্রশ্ন ছিল, তালাকের পর একজন মহিলার Maintenance দেওয়ার অধিকার কতদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিশেষভাবে, ইদ্দতকাল (তালাকের পর নির্দিষ্ট সময়কাল) ছাড়াও কি Maintenance প্রদান করা হবে?

আদালতের সিদ্ধান্ত:
হাই কোর্ট ডিভিশন রায় দিয়েছে যে, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর Maintenance ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও চলমান থাকবে, যতক্ষণ না তিনি পুনরায় বিয়ে করেন এবং তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।
আদালত বলেছে, “একজন পুরুষ তার স্ত্রীর তালাক দেওয়ার পর তাকে ইদ্দতকাল পেরিয়ে একটি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণে Maintenance প্রদান করতে বাধ্য। এই Maintenance প্রদান অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করে তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।”
৬৭.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর কোন ধারায় তালাকের বিধান বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৭
  4. ধারা ৮
সঠিক উত্তর:
ধারা ৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৭
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৭-এ তালাকের বিধান বর্ণিত হয়েছে। এই ধারায় তালাক উচ্চারণের পর লিখিত নোটিশ প্রদান, সালিশী কাউন্সিল গঠন, ৯০ দিনের অপেক্ষা মেয়াদ, গর্ভবতী স্ত্রীর ক্ষেত্রে গর্ভকালের বিবেচনা এবং পুনর্বিবাহের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):
১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারন করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।
২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩) অন্য কোনভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961, Section-7. Talaq:
(1) Any man who wishes to divorce his wife shall, as soon as may be after the pronouncement of talaq in any form whatsoever, give the Chairman notice in writing of his having done so, and shall supply a copy thereof to the wife.
(2) Whoever contravenes the provisions of sub-section (1) shall be punishable with simple imprisonment for term which may extend to one year or with fine which may extend to ten thousand taka or with both.
(3) Save as provided in sub-section (5), a talaq unless revoked earlier, expressly or otherwise, shall not be effective until the expiration of ninety days from the day on which notice under sub-section (1) is delivered to the Chairman. 
(4) Within thirty days of the receipt of notice under sub-section (1), the Chairman shall constitute an Arbitration Council for the purpose of bringing about a reconciliation between the parties, and the Arbitration Council shall take all steps necessary to bring about such reconciliation.
(5) If the wife be pregnant at the time talaq is pronounced, talaq shall not be effective until the period mentioned in sub-section (3) or the pregnancy, whichever be later, ends.
(6) Nothing shall debar a wife whose marriage has been terminated by talaq effective under this section from re-marrying the same husband, without an intervening marriage with a third-person, unless such termination is for the third time so effective.

৬৮.
ভাড়ার মাধ্যমে ভোগদখলীয় বাড়ি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দান করার পরও স্বামী ভাড়া উত্তোলন করতে থাকলে মুসলিম আইনে দানটি _____ গণ্য হবে।
  1. বাতিল
  2. অসম্পূর্ণ
  3. অকার্যকর
  4. বৈধ
সঠিক উত্তর:
বৈধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈধ
ব্যাখ্যা
- যে ক্ষেত্রে কোন স্থাবর সম্পত্তি দান করার সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয়ে সেই সম্পত্তিতে বসবাস করে, সে ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে দখল গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। 
- সে ক্ষেত্রে দাতার দানকৃত সম্পত্তির যাবতীয় স্বত্বাধিকার ত্যাগ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করলেই দান সম্পূর্ণ হবে। 
- স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে স্থাবর সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে উপরিউক্ত বিধানটি প্রযোজ্য হবে। 
- সম্পত্তিটি তাদের যৌথ বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হোক বা ভাড়া দেওয়া হোক, দানের পরে স্বামী উক্ত সম্পত্তিতে বসবাস করুক বা ভাড়ার টাকা আদায় করুন, দানটি বৈধ।
- কারণ ধরে নেওয়া হবে যে, স্বামী স্ত্রীর পক্ষেই ভাড়া আদায় করছে।

- ভাড়ার মাধ্যমে ভোগদখলীয় বাড়ি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দান করার পরও স্বামী ভাড়া উত্তোলন করতে থাকলে মুসলিম আইনে দানটি  বৈধ গণ্য হবে।
৬৯.
হেবার তৃতীয় শর্ত কী?
  1. গ্রহণ
  2. ইজাব
  3. দলিল নিবন্ধন
  4. দখল প্রদান
সঠিক উত্তর:
দখল প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দখল প্রদান
ব্যাখ্যা

• দান বা হেবা:
মুসলিম আইনে হেবা একটি বিশেষ চুক্তি, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায়, কোনো প্রকার বিনিময় বা প্রতিদান ছাড়া, নিজের সম্পত্তি অন্য ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে। এটি মূলত একটি দান বা উপহার, যা স্থাবর (যেমন জমি, বাড়ি) এবং অস্থাবর (যেমন টাকা, গহনা) – উভয় প্রকার সম্পত্তির ক্ষেত্রেই করা যায়।

ইসলামী শরীয়তের আলোকে হেবা একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি। এখানে তিনটি শর্ত অপরিহার্যভাবে পূরণ করতে হয়:
- দানকারীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা (Ijab);
- গ্রহীতার পক্ষ থেকে গ্রহণ (Qabul);
- হস্তান্তরকৃত সম্পত্তির দখল (Delivery of possession)।

হেবার বৈশিষ্ট্য:
- এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং কোনো প্রকার জবরদস্তি বা প্রতারণা ছাড়া হতে হবে।কোনো প্রকার প্রতিদান বা বিনিময় ছাড়া সম্পত্তি দান করা হয়।
- দাতা (যিনি হেবা দেন) অবশ্যই হেবা দেওয়ার বৈধ মালিক হতে হবে।দাতা অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এবং হেবা দেওয়ার মতো বৈধ মালিক হতে হবে।
- গ্রহীতা (যিনি হেবা পান) অবশ্যই হেবা গ্রহণ করবেন—গ্রহণ না করলে হেবা কার্যকর হবে না।গ্রহীতা জীবিত ব্যক্তি হতে হবে। নবজাতক বা অক্ষম ব্যক্তির পক্ষেও বৈধ অভিভাবক হেবা গ্রহণ করতে পারেন।
- হেবা কোনো শর্তসাপেক্ষ হলে, সেই শর্ত ইসলামে বৈধ হতে হবে।
- হেবা কার্যকর হওয়ার পর সাধারণত তা ফেরত নেওয়া যায় না। একবার বৈধভাবে হেবা সম্পন্ন হলে সাধারণত তা দাতা ফেরত নিতে পারেন না।

কে হেবা দিতে পারে (দাতা /Donor):
প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে – নাবালক (অপ্রাপ্তবয়স্ক) ব্যক্তি বৈধভাবে হেবা দিতে পারে না।
সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হতে হবে – মানসিকভাবে অক্ষম বা পাগল ব্যক্তি হেবা দিতে পারবে না।
সম্পত্তির বৈধ মালিক হতে হবে – দাতা তার নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পত্তিই কেবল হেবা দিতে পারবেন।
স্বেচ্ছায় হতে হবে – জবরদস্তি, চাপ, প্রতারণা বা হুমকি দিয়ে দেওয়া হেবা বৈধ নয়।

৭০.
মুসলিম আইনে নিম্নলিখিত কোন বিবাহটি অনিয়মিত বিবাহ?
  1. ইদ্দত পালনকারী মহিলাকে বিবাহ
  2. সাক্ষী ছাড়া বিবাহ
  3. একই সাথে দুই বোনেকে বিবাহ করা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):

যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ।

যেমন: সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ, স্ত্রীর বোন বিবাহ করা ইত্যাদি।
৭১.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এ “পারিবারিক আদালত” কোন ধারার অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৪
  3. ধারা ৮
  4. ধারা ৫
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২(১)(ঘ) অনুসারে, “পারিবারিক আদালত” ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২(১)(ঘ) এবং ধারা ৪ অনুসারে, “পারিবারিক আদালত” ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়। ধারা ৪(১) এ উল্লেখ আছে যে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৪ পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো জেলায় একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হইলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত আদালতসমূহের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ করিবে।
(২) সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১ (এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হইবে।
(৩) উপধারা (১) এর অধীন পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত সহকারী জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।

৭২.
মুসলিম আইন অনুসারে একই শ্রেণিভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকলে-
  1. কেউ পাবেন না
  2. মূল মালিকের সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাবে
  3. প্রয়োজন বিবেচনায় বণ্টন করা হবে
  4. প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবেন
সঠিক উত্তর:
প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবেন
ব্যাখ্যা
- একই শ্রেণীভুক্তি অগ্রক্রয়াধিকারীদের মধ্যে অগ্রক্রয়:

- মুসলিম আইনানুসারে একই শ্রেণিভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকলে, প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবে।
- কারণ অগ্রক্রয়াধিকারীদের একই শ্রেণীর মধ্যে নৈকট্যের ক্রমকে মুসলিম আইন স্বীকৃতি প্রদান করেনা।
- যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন পথাধিকারের fright to way! অংশ গ্রহণের যুক্তিতে অগ্রক্রয়ের দাবি করে তখন তাদের সকলেই সমান অধিকার লাভ করবে,
- যদিও তাদের মধ্যে কোন একজন পার্শ্ববর্তী বা সংলগ্ন প্রতিবেশী।
৭৩.
Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum (1995) মামলার মূল বিষয় কী ছিল?
  1. বিবাহ রেজিস্ট্রেশন
  2. তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ভরণপোষণের অধিকার
  3. সন্তানদের হেফাজতের অধিকার
  4. বিবাহিতা স্ত্রীর দেনমোহরের অধিকার
সঠিক উত্তর:
তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ভরণপোষণের অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ভরণপোষণের অধিকার
ব্যাখ্যা

'Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum 47 DLR (1995) 34':
মুহাম্মদ হেফজুর রহমান বনাম শামসুন নাহার বেগম মামলাটি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় যা ১৫ বিডিএল(৩৪) রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অধীনে রয়েছে। এই মামলার মূল বিষয় ছিল তালাকপ্রাপ্ত মহিলার Post-divorce Maintenance এর অধিকার সম্পর্কিত।

মামলার পটভূমি:
শামসুন নাহার বেগম তার স্বামী মুহাম্মদ হেফজুর রহমানের বিরুদ্ধে Maintenance-এর দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তালাক দেওয়ার পরও তাকে Maintenance প্রদান করা হচ্ছে না।

আইনি প্রশ্ন:
মামলার মূল আইনি প্রশ্ন ছিল, তালাকের পর একজন মহিলার Maintenance দেওয়ার অধিকার কতদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিশেষভাবে, ইদ্দতকাল (তালাকের পর নির্দিষ্ট সময়কাল) ছাড়াও কি Maintenance প্রদান করা হবে?

আদালতের সিদ্ধান্ত:
হাই কোর্ট ডিভিশন রায় দিয়েছে যে, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর Maintenance ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও চলমান থাকবে, যতক্ষণ না তিনি পুনরায় বিয়ে করেন এবং তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।
আদালত বলেছে, “একজন পুরুষ তার স্ত্রীর তালাক দেওয়ার পর তাকে ইদ্দতকাল পেরিয়ে একটি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণে Maintenance প্রদান করতে বাধ্য। এই Maintenance প্রদান অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করে তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।”

৭৪.
'চ' ও 'ছ' মুসলিম নরনারী পরস্পরের সম্মতিতে কোন সাক্ষী ব্যতীত বিয়ে করলে তাদের বিয়ের আইনগত ফলাফল হবে-
  1. অবৈধ
  2. বাতিলযোগ্য
  3. নিয়মিত
  4. অনিয়মিত
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত
ব্যাখ্যা
সাক্ষী ব্যতীত বিবাহ একটি অনিয়মিত বিবাহ।

⇒ মুসলিম আইনে বিবাহ তিন প্রকার:
১) বৈধ (Valid or Sahih);
২) বাতিল (Void or Batil);
৩) অনিয়মিত (Irregular or fasid).

বৈধ (Valid or Sahih):
মুসলিম আইনের সকল নিয়ম মেনে যে বিবাহ সেটা বৈধ বিবাহ। একজন মুসলিম পুরুষ শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারী ছাড়াও একজন কিতাবীয়া যেমন জিউস বা খ্রিষ্টান নারীর সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে। কোন মুসলিম নারী শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্যকোন পুরুষের সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারেনা। একটি বৈধ বিবাহ কোন মুসলিম নারীকে দেনমোহরের অধিকার, ভরণপোষণের অধিকার প্রদান করে এবং একই সাথে স্বামীর প্রতি বিশ্বাসী থাকার, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে এবং ইদ্দত পালনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এটা উত্তরাধিকারের পারস্পরিক অধিকার সৃষ্টি করে।

বাতিল (Void or Batil):
যে বিবাহটি বৈধ না সেটা বাতিল বা অনিয়মিত হতে পারে। বাতিল হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং রক্তের সম্পর্কে, বৈবাহিক সম্পর্কে বা প্রতিপালনের সম্পর্কের কারণে স্থায়ী এবং চূড়ান্তভাবে অবৈধ। এমন বিবাহ আইনের চোখে কোন বিবাহ না এবং এমন বিবাহের কোন আইনগত ফলাফল নেই। এই বিবাহ পক্ষগণের মধ্যে কোন পারস্পরিক আইনগত অধিকার বা দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি করে না এবং এমন বিবাহের ফলে জন্মগ্রহণ করেছে এমন সন্তান অবৈধ। যেমন Blood relationship, Consanguinity or affinity এর কারণে নিষিদ্ধ বিবাহ হলো বাতিল বিবাহ। বাতিল বিবাহের ক্ষেত্রে কারণগুলো স্থায়ী প্রকৃতির এবং এমন কারণ অপসারিত করে বিবাহ বৈধ করার কোন সুযোগ নেই।

অনিয়মিত বিবাহ (Irregular or fasid):
অনিয়মিত বিবাহ অর্থ হলো যে বিবাহের কিছু আইনগত ত্রুটি থাকে এবং যেখানে সংশোধনের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া যায়। অনিয়মিত বিবাহ হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং অবৈধ না কিন্তু অন্যকোন কারণে অবৈধ এবং যেখানে নিষিদ্ধ কারণগুলো অস্থায়ী বা যেক্ষেত্রে অবৈধতা কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেমন সাক্ষীর অনুপস্থিতি। যে কারণে বিবাহটি অবৈধ বা অনিয়মিত উক্ত কারণ অপসারণ করার মাধ্যমে বিবাহটি বৈধ করা যায়।
৭৫.
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন কখন প্রণয়ন করা হয়?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০১৫ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৪৯ নং আইন) ২৭ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে জাতীয় সংসদে প্রণয়ন করা হয়। এটি সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে।
⇒ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩:
- সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ পোষণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
- ৪ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক সন্তান তার পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে; এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ধারা ৩ এ বর্ণিত ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধ্য থাকবে এবং এই ভরণ পোষণ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ হিসাবে গণ্য হবে।

- পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, এর ৫ ধারা অনুযায়ী পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করার দণ্ড:
- কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং
- উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে; বা
- উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৭৬.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী সালিসি পরিষদের চেয়ারম্যান কে হতে পারেন?
  1. পৌরসভার চেয়ারম্যান
  2. সিটি কর্পোরেশনের মেয়র
  3. ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
  4. উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ২ অনুযায়ী, সালিসি পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারেন-
- ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,
- পৌরসভার চেয়ারম্যান, অথবা
- সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।
অর্থাৎ, উপরের তিনটির মধ্যে যেকোন একজন সালিসি পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারেন।
- তাই সঠিক উত্তর হলো “উপরের সবাই”।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ২-এ "Arbitration Council" বা সালিশি পরিষদের সংজ্ঞা ও গঠন পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে সালিশি পরিষদ তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে:-
- একজন চেয়ারম্যান (যিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র হবেন)।
- প্রত্যেক পক্ষের ১ জন করে প্রতিনিধি, অর্থাৎ দুই পক্ষের সম্মতিতে ২ জন প্রতিনিধি থাকবেন।

তাছাড়া, ধারা ২-এ আরও বলা হয়েছে:
- যদি কোনো পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।
- যদি চেয়ারম্যান অমুসলিম হন বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে সালিশি পরিষদের একজন মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।

৭৭.
একজন হানাফি মুসলিম ব্যক্তি আব্দুল করিম মারা গেছেন। তার কোনো সন্তান নেই কিন্তু তার স্ত্রী এবং বাবা আছেন। এক্ষেত্রে সম্পত্তির বণ্টন কীভাবে হবে?
  1. স্ত্রী ১/২ অংশ এবং বাবা ১/২ অংশ
  2. স্ত্রী ১/৩ অংশ এবং বাবা ২/৩ অংশ
  3. স্ত্রী ১/৪ অংশ এবং বাবা ৩/৪ অংশ
  4. স্ত্রী ৩/৪ অংশ এবং বাবা ১/৪ অংশ
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী ১/৪ অংশ এবং বাবা ৩/৪ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী ১/৪ অংশ এবং বাবা ৩/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
ইসলামে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে দুটি শ্রেণি রয়েছে। যার মধ্যে প্রথম শ্রেণি হচ্ছে- শেয়ারার বা অংশীদার। এ শ্রেণিতে রয়েছে ১২ জন ওয়ারিশ, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে যাদের অংশ নির্ধারিত। এ শ্রেণির ওয়ারিশরা হচ্ছেন- স্বামী, স্ত্রী, বাবা, মা, দাদা, দাদী, বোন, কন্যা, ছেলের কন্যা, বৈমাত্রেয় বোন, বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোন। 
অপরদিকে, দ্বিতীয় শ্রেণিতে আছেন রেসিডুয়ারি, আসাবা বা অবশিষ্টভোগী। অবশিষ্টভোগী হয়ে থাকে, প্রথমত, মৃত ব্যক্তির নিজের সন্তান তথা ছেলে ও কন্যা। দ্বিতীয়ত, পূর্ববর্তী বংশধর যথা বাবা, দাদা। তৃতীয়ত, বাবার বংশধর। মুসলিম আইন অনুযায়ী,

স্ত্রী:
বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রী রেখে মারা গেলে তার স্ত্রী নির্ধারিত হারে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে তবে স্ত্রী পাবেন (১/৮) এক অষ্টমাংশ। আর সন্তান না থাকলে স্ত্রী পাবেন (১/৪) এক চতুর্থাংশ। একাধিক স্ত্রী থাকলেও এ অংশ বাড়বে না বরং স্ত্রীরা সবাই মিলে তাদের অংশ সমভাবে ভাগ করে নেবেন।

বাবা:
মৃত ব্যক্তির বাবা সর্বদাই ওয়ারিশ হবেন। তবে অবস্থাভেদে এর পরিমাণে তারতম্য হবে। যদি মৃত ব্যক্তির ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে নিচের দিকে কেউ থাকে তবে বাবা পাবে ১/৬ এক ষষ্ঠাংশ। যদি মৃত ব্যক্তির শুধু কন্যা বা ছেলের কন্যা এভাবে নিচের দিকে কেউ থাকে তবে বাবা ১/৬ এক ষষ্ঠাংশ পাবেন, তবে সেক্ষেত্রে অন্য ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে বাবা সেই অংশও অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোনো ছেলে-কন্যা বা ছেলের সন্তান কিছুই না থাকে তবে বাকি ওয়ারিশদের মধ্যে বিতরণ শেষে যা থাকবে তা সম্পূর্ণ পাবেন বাবা।

এক্ষেত্রে,
আব্দুল করিমের স্ত্রী পাবেন ১/৪ অংশ, কারণ কোনো সন্তান নেই। তার বাবা বাকি ৩/৪ অংশ পাবেন, যেহেতু অন্য ওয়ারিশদের মধ্যে কোনো সন্তান বা সন্তানদের বংশধর নেই।
৭৮.
মুসলিম আইনে নিম্নলিখিত কোন শব্দটি দেনমোহর বা Dower কে নির্দেশ করে?
  1. Hiba
  2. Mohr
  3. Farz
  4. Riza
সঠিক উত্তর:
Mohr
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mohr
ব্যাখ্যা
- মুসলিম আইনে দেনমোহর হলো অর্থ বা অন্য কোন সম্পত্তি যেটা বিবাহের প্রতিদান হিসাবে স্বামী স্ত্রীকে পরিশোধ করবে বা অর্পণ করবে বলে প্রতিজ্ঞা করে। বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ থাকুক বা না থাকুক দেনমোহর অবশ্যই দিতে হবে।

- মোহরকে দেনমোহর বা মোহরানাও বলা যায়। বিভিন্ন আইনবিদ দেনমোহরের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- প্রখ্যাত আইনবিদ D.F. Mulla বলেন, "Mohr or dower is a sum of money or other property which the wife is entitled to receive from the husband in consideration of the marriage. "অর্থাৎ মোহর বা মোহরানা হলো কিছু টাকা বা অন্য কিছু সম্পত্তি যা বিবাহের প্রতিদানস্বরূপ স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে পাওয়ার অধিকারী।
- Tyabji বলেন, "Mohr or dower is a sum that becomes payable by the husband to the wife on marriage being contracted."

অর্থাৎ মুসলিম আইনে 'Mohr' শব্দটি দেনমোহর বা Dower কে নির্দেশ করে।
৭৯.
সালিসী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত স্ত্রী থাকাকালীন পুনঃবিবাহ করলে তার সর্বোচ্চ কারাদণ্ড -
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
সঠিক উত্তর:
১ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ ধারা ৬ এর বিধান বহুবিবাহ:
১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবত থাকিতে সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইতে পারিবে না বা ঐরূপ অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত কোন বিবাহ ১৯৭৪ সনের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেকরণ) আইন এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হইবে না।
২) ১নং উপধারা অনুযায়ী অনুমতির ও দরখাস্ত নির্ধারিত ফিস-সহ চেয়ারম্যানের নিকট নিদিষ্ট দফতরে দাখিল করিতে হইবে ও উহাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের সম্মতি লওয়া হইয়াছে কিনা উহার উল্লেখ থাকিবে।
৩) ২নং উপধারা অনুযায়ী দরখাস্ত গ্রহণ করিবার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের প্রত্যককে একজন করিয়া প্রতিনিধি মনোনীত করিতে বলিবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিসী কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলিয়া মনে করিলে যুক্তিযুক্ত বলিয়া মনে হইতে পারে এমন সকল শর্ত থাকিলে তৎসাপেক্ষে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করিতে পারেন।
৪) দরখাস্তের বিষয় নিস্পত্তি করিবার নিমিত্ত সালিশী কাউন্সিল নিস্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করিবেন। নিদ্দিষ্ট সময় মধ্যে যে কোন পক্ষ নিদ্দিষ্ট ফিস প্রদানক্রমে নিদ্দিষ্ট দফতরে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের নিকট পূর্ণবিবেচনার নিমিত্ত দরখাস্ত দাখিল করিতে পারে; তাঁহার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হইবে ও কোন আদালতে এই সম্নন্ধে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
৫) কোন ব্যক্তি যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত অন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগনের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষনাৎ পরিশোধ করিতে হইবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হইলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হইবে; এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এক বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় প্রকার দন্ডীয় হইবে।
৮০.
মুসলিম আইনে যদি স্ত্রী স্বামীকে খুলা তালাক দেয়, তাহলে স্ত্রী-
  1. সমস্ত নির্ধারিত দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হবে।
  2. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পাওয়ার অধিকারী হবে।
  3. অন্য কোনোরূপ চুক্তি না থাকলে দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হয় না।
  4. যদি দেনমোহর অনির্ধারিত থাকে তাহলে উপযুক্ত দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হবে।
সঠিক উত্তর:
অন্য কোনোরূপ চুক্তি না থাকলে দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য কোনোরূপ চুক্তি না থাকলে দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হয় না।
ব্যাখ্যা
- খুলা তালাকের ফলাফল (Effect of Khula) :
- অন্য কোনোরূপ চুক্তি না থাকলে খুলা তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রী মোহরানা পাওয়ার অধিকারী হয় না।
- তবে ইদ্দত পালনকালে স্ত্রী তার গর্ভস্থ সন্তান স্বামীর নিকট হতে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হবে।

- খুলা শব্দের ব্যাখ্যা (Explanation of the khula): খুলা শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো পোশাক খুলে ফেলা বা ত্যাগ করা অর্থাৎ স্ত্রীর ওপর হতে কর্তৃত্ব প্রত্যাহার করা। খুলা হলো এক প্রকার তালাক। এ শ্রেণীর তালাক পক্ষদের সম্মতিক্রমে কার্যকরী হয়। খুলা তালাক প্রদানের বিনিময়ে স্বামী-স্ত্রীর ওপর যাবতীয় অধিকার ও কর্তৃত্ব ত্যাগ করে।
- অর্থাৎ যখন কোনো স্ত্রী তাকে নিযুক্ত করে দেওয়ার জন্য তার স্বামীকে কোনো প্রতিদান দেয় বা দিতে সম্মত হয় এবং স্বামী সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে তখন এ পদ্ধতির মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তাকে খুলা বলা হয়।

- খুলা প্রক্রিয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদ করতে হলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখা দরকার-
(ক) স্ত্রীর পক্ষ হতে প্রস্তাব উত্থাপিত হতে হবে।
(খ) স্বামী কর্তৃক প্রস্তাব গ্রহণের স্বীকৃতি জানাতে হবে অর্থাৎ স্বামী ঐ প্রস্তাব গ্রহণ করবে।

- এ প্রসঙ্গে খুরশীদ বিবি বনাম মোঃ আমিন ১৯৬৭ সালের মামলার রায়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ মামলায় মহামান্য আদালত বলেন যে, স্ত্রী যদি আদালতকে এ মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে, তাকে (স্ত্রীকে) তার স্বামীকে তালাক প্রদান করতে না দিলে তাকে জবরদস্তির সাথে বা জোরপূর্বক ঘৃণিত মিলনে বাধ্য করা হবে, তা হলে স্ত্রী তার বৈধ অধিকার প্রয়োগপূর্বক খুলা (Khula) তালাকের অধিকারিণী হবে অর্থাৎ খুলা তালাক দিতে পারবেন।
৮১.
Muslim sunni A has two children, B (son) and C (daughter). B dies before A, leaving two sons D and E. C survives A. At the time of succession, how will A’s property be divided?
  1. D gets everything; C gets nothing
  2. B’s portion is forfeited; C gets everything
  3. D and E share B’s portion equally; C gets her share
  4. All property is divided equally among D, E, and C
সঠিক উত্তর:
D and E share B’s portion equally; C gets her share
উত্তর
সঠিক উত্তর:
D and E share B’s portion equally; C gets her share
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন:
A-এর দুই সন্তান আছে, B (ছেলে) এবং C (মেয়ে)। B A-এর আগে মারা যায় এবং B-এর দুই পুত্র সন্তান D ও E বেঁচে থাকে। C A-এর মৃত্যুর সময় বেঁচে থাকে। 

- এক্ষেত্রে, B-এর অংশ D ও E-এর মধ্যে সমান ভাগ হবে এবং C তার নিজস্ব অংশ পাবে।

মুসলিম পরিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৪ অনুযায়ী,
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার পূর্বে মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র বা কন্যার মৃত্যু হলে, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার সময় ঐ পুত্র বা কন্যার সন্তানাদি যদি জীবিত থাকে, তাহলে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা বণ্টনের সময় জীবিত থাকলে সে যে অংশ পেতো, তার সন্তানাদি সমষ্টিগতভাবে অনুরূপ অংশ পাবে। যা 'Doctrine of Representation' নীতি নামে পরিচিত।

Section 4: Succession:
In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.

৮২.
মুসলিম উত্তরাধিকারের নিয়ম অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান এবং একাধিক ভাই/বোন না থাকলে, মাতা সম্পত্তির ___________ পাবে।
  1. ১/৬ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/২ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
• শরীয়া আইন অনুযায়ী মাতা একজন কোরানিক অংশীদার। মৃত ব্যক্তির মাতা ৩ (তিন) ভাবে সম্পদ পাবেন, যথা-

১। যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নেরই হউক, থাকলে অথবা যদি পূর্ণ, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন থাকে তবে মাতা ছয় ভাগের এক ভাগ ( ১/৬) পাবেন।

২। যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকে এবং যদি একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকে তবে মাতা তিন ভাগের এক ভাগ ( ১/৩) পাবেন।

৩। যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকে অথবা কমপক্ষে দুইজন ভাইবোন না থাকে এবং যদি মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তার তিন ভাগের এক ভাগ ( ১/৩) মাতা পাবেন।
৮৩.
মুসলিম আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রথম অধিকারী কারা হবেন?
  1. শাফি-ই-খালিত
  2. শাফি-ই-জার
  3. শাফি-ই-শরিক
  4. শাফি-ই-খালিক
সঠিক উত্তর:
শাফি-ই-শরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাফি-ই-শরিক
ব্যাখ্যা
• Pre-emption বা অগ্রক্রয় হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa) নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী, ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে-

১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik]- সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার।
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]- সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]- সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক।

অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ

এই তিন প্রকারের অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাবে। বিভিন্ন শ্রেণির অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে প্রথম স্তরের অধিকারী দ্বিতীয় স্তর কে এবং দ্বিতীয় স্তরের অধিকারী তৃতীয় স্তরকে রহিত করবে। একই স্তরের একাধিক ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে চাইলে তারা সবাই অগ্রক্রয়ের অধিকারকৃত ভূমির সমান ভাগ পাবে।
৮৪.
মুসলিম আইনে বিবাহের পর কে দেনমোহরের পরিমাণ বাড়াতে পারে?
  1. স্ত্রী
  2. স্বামী
  3. স্ত্রীর আইনগত অভিভাবক
  4. স্বামীর আইনগত অভিভাবক
সঠিক উত্তর:
স্বামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বামী
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে দেনমোহরের পরিমাণের সর্বোচ্চ কোনো সীমা নেই। সাধারণ দুপক্ষের ইচ্ছার উপর তা নির্ভর করে। সর্বোচ্চ সীমা না থাকলেও হানাফী ও মালিকী আইনে দেনমোহরের পরিমাণের সর্বনিম্ন সীমা দেয়া আছে।

-হানাফী আইন মতে সর্বনিম্ন দেনমোহরের পরিমাণ ১০ দিরহাম।
-মালিকী আইন মতে সর্বনিম্ন দেনমোহরের পরিমাণ ৩ দিরহাম।

-মুসলিম আইনে স্বামী ইচ্ছা করলে দেনমোহরের পরিমাণ বাড়াতে পারেন।
-মুসলিম আইনে স্ত্রী ইচ্ছা করলে দেনমোহরের পরিমাণ কমাতে পারেন।

৮৫.
কোনো জেলায় পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত কোন আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. সহকারী জজ আদালত
  3. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত
  4. খ বা গ
সঠিক উত্তর:
খ বা গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ বা গ
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। এটি ২০২৩ সনের ২৬ নং আইন।

ধারা ৪- পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা

(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো জেলায় একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হইলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত আদালতসমূহের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ করিবে।

(২) সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১ (এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হইবে।

(৩) উপধারা (১) এর অধীন পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত সহকারী জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।
৮৬.
দেনমোহরের ক্ষেত্রে অনধিক কত টাকার ডিক্রির জন্য পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল দায়ের করা যাবে না?
  1. ১০ হাজার টাকা
  2. ২৫ হাজার টাকা
  3. ৫০ হাজার টাকা
  4. ১ লাখ টাকা
সঠিক উত্তর:
৫০ হাজার টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০ হাজার টাকা
ব্যাখ্যা

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৯: আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি:
(১) পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল দায়ের করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, পারিবারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোনো ডিক্রির বিরুদ্ধে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাইবে না, যথা:-

(ক) Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 (Act No. VIII of 1939) এর section 2 এর clause (viii) এর sub-clause (d) তে বর্ণিত কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো বিবাহ বিচ্ছেদ; এবং

(খ) দেনমোহরের ক্ষেত্রে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকার ডিক্রি ।

(২) কোনো আপিল সংশ্লিষ্ট রায়, ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে উহার নকল সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়া অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, পারিবারিক আপিল আদালত উপযুক্ত কারণে উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

(৩) যেকোনো আপিল-
(ক) লিখিত আকারে হইবে;
(খ) আপিলকারী যে কারণে রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরোধিতা করিতেছেন তাহার কারণ উল্লেখ করিতে হইবে;
(গ) পক্ষগণের নাম, বর্ণনা ও ঠিকানা উল্লেখ করিতে হইবে; এবং
(ঘ) আপিলকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।

(৪) আদালতের যে রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইয়াছে উহার একটি প্রত্যয়িত অনুলিপি আপিলের সহিত সংযুক্ত করিতে হইবে।

(৫) পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ, যথাশীঘ্র সম্ভব, পারিবারিক আদালতকে অবহিত করিতে হইবে এবং উক্ত আদালত তদনুসারে রায়, ডিক্রি বা আদেশ পরিবর্তন বা সংশোধন করিবে এবং ডিক্রি রেজিস্টারের যথাযথ কলামে সেই মর্মে প্রয়োজনীয় অন্তর্ভুক্তির কার্য সম্পাদন করিবে।

(৬) ধারা ১৮ অধীন জেলা জজ আদালত পারিবারিক আপিল আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন কোনো আপিল অতিরিক্ত জেলা জজ বা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ আদালত হইতে স্থানান্তরকৃত কোনো আপিল প্রত্যাহার করিতে পারিবে।

৮৭.
নাবালকের ব্যক্তিগত অভিভাবককে কী বলা হয়?
  1. কাসিম
  2. ওয়ালি
  3. মুফতী
  4. মুতাওয়াল্লি
সঠিক উত্তর:
ওয়ালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ালি
ব্যাখ্যা
নাবালকের ব্যক্তিগত অভিভাবক (Guardian of a Minor)
ইসলামী শরিয়তে, নাবালক (অর্থাৎ, যে শিশু বা কিশোর আইনগতভাবে পূর্ণবয়সে পৌঁছায়নি) তার নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয় এবং তার ব্যক্তিগত এবং সম্পত্তি সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দেখভাল করতে অভিভাবক প্রয়োজন। এই অভিভাবককে "ওয়ালি" বলা হয়।

ওয়ালি (Guardian) - এর ভূমিকা:
ওয়ালি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নাবালকের বা অনাবালকের শারীরিক, মানসিক ও আইনি স্বার্থ রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল। ওয়ালি সেই ব্যক্তি, যিনি নাবালক বা মেয়ে বা ছেলের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার পক্ষ থেকে আইনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সাধারণত, ওয়ালি হিসেবে প্রথমে বাবা বা পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিয়োগ পায়, যদি না তারা জীবিত না থাকেন। এরপর তার পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে একজন পুরুষ বা মহিলাকে নিয়োগ করা হয়, যার মাধ্যমে নাবালক বা নাবালিকার স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

ওয়ালি হওয়ার শর্ত:
বয়স ও পরিপক্কতা: ওয়ালি হতে হলে অভিভাবকের অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ব হতে হবে।
বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিকতা: অভিভাবককে সৎ, যোগ্য এবং আইনের প্রতি আনুগত্যশীল হতে হবে।
পরিবারের অভিভাবক: প্রাথমিকভাবে, নাবালকের বাবা বা তার পরিবারের পুরুষ সদস্য ওয়ালি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, যদি বাবা না থাকেন, তাহলে মায়ের পক্ষ থেকেও অভিভাবক মনোনীত হতে পারেন।

অন্যদিকে,
- কাসিম শব্দের অর্থ হল "ভাগকারী" বা "বিভাগকারী"। ইসলামী আইন বা শরিয়তে এটি সাধারণত "বিতরণকারী" বা "বংশের ভাগ" বুঝানোর জন্য ব্যবহার হয়
- মুতাওয়াল্লি হলো একজন ব্যক্তি, যিনি ইসলামী দান বা ওয়াকফ (Waqf) সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন।
- মুফতী হলো একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, যিনি ইসলামী আইন বা শরিয়তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন এবং মুসলিমদের জিজ্ঞাসা বা প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। 
৮৮.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, নিচের কোন ব্যক্তি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?
  1. বৈধ সন্তান
  2. জারজ সন্তান
  3. নাবালক সন্তান
  4. তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান
সঠিক উত্তর:
জারজ সন্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারজ সন্তান
ব্যাখ্যা

⇒ যারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।) 
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, জারজ সন্তান (অর্থাৎ, যিনি অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছেন) উত্তরাধিকার লাভের অধিকারী হবেন না। মুসলিম আইন অনুসারে, জারজ সন্তান তার বাবা-মায়ের সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না, কারণ তাকে অবৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য করা হয়।
এদিকে, বৈধ সন্তান (যে সন্তান বৈধ বিবাহের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছে) অবশ্যই উত্তরাধিকারী হবে। নাবালক সন্তান (অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান) ও উত্তরাধিকার লাভের অধিকারী হয়, তবে তার জন্য সম্পত্তির তত্ত্বাবধান তার অভিভাবক করবে। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তানও উত্তরাধিকার পাবে, কারণ সে বৈধ সম্পর্কের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে এবং তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান হিসাবে তার অধিকার থাকে।
সুতরাং, জারজ সন্তান উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

৮৯.
মুসলিম ব্যক্তি রফিক প্রথমে নিজের সম্পত্তি তার চাচাতো ভাইর নামে উইল করেছেন। তবে জীবিত অবস্থায় তিনি সেই সম্পত্তি পরে বিক্রি করে দেন। এখন কী হবে?
  1. বিক্রি বাতিল হয়ে যাবে
  2. উইলটি প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে
  3. আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে উইল কার্যকর হবে
  4. বিক্রিত অংশের মালিকানা চাচাতো ভাই পাবেন
সঠিক উত্তর:
উইলটি প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলটি প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে,
একজন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় যে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন, সেটি তার সম্পূর্ণ অধিকার। তবে, যদি তিনি ওই সম্পত্তির কিছু অংশ উইল করেন, তবে ওই উইলটি মৃত্যুর পর কার্যকর হবে। কিন্তু, যদি ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ওই সম্পত্তি বিক্রি করেন, তাহলে উইলটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে, কারণ বিক্রি একটি কার্যকর আইনগত কাজ, যা সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন করে।

কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-
ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।
খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।
গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।

৯০.
স্ত্রী কখন তালাক-ই-তাওফিজ প্রয়োগ করতে পারে?
  1. যখন স্বামী অত্যাচারী হবে
  2. যখন স্বামী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া পুনরায় বিয়ে করে
  3. যখন স্বামী কাবিননামায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার দেয়
  4. ক+খ
সঠিক উত্তর:
যখন স্বামী কাবিননামায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার দেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন স্বামী কাবিননামায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার দেয়
ব্যাখ্যা
• 'Talak e Tafwid' বা 'তালাক-ই-তাওফিজ':
সাধারণত বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষমতা কোন স্ত্রী-এর নেই। কোন স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারে, যদি স্বামী তাকে এমন ক্ষমতা অর্পন করে। স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্ত্রী যখন স্বামীকে তালাক দেয়, তখন সেটাকে Talak e Tafwid 'তালাক-ই-তাওফিজ' বলে। আমাদের দেশে নিকাহনামায় বা বিবাহের চুক্তিপত্রের ১৮ নং অনুচ্ছেদে এই সংক্রান্ত বিধান আছে। অর্থাৎ নিকহানামার ১৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী- স্ত্রী, স্বামীর নিকট হতে তালাক প্রদানের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে স্বামীকে তালাক দিতে পারে যা Talak e Tafwid নামে পরিচিত।

উদাহরণ:
বিবাহের কাবিননামায় শর্ত দেওয়া হলো যে- কাবিননামায় উল্লেখিত তাৎক্ষণিক দেনমোহর [Prompt Dower] স্বামী দিতে ব্যর্থ হলে, স্ত্রী বিবাহ বাতিল করতে পারবে। কিন্তু স্ত্রী উক্ত দেনমোহর চাইলেও স্বামী তা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এইক্ষেত্রে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।
৯১.
শুফার অধিকার সম্পর্কিত প্রথম দাবীকে কী বলা হয়?
  1. তলব-ই-ইশাদ
  2. তলব-ই-তমলিক
  3. তলব-ই-মৌসিবত
  4. তলব-ই-তকরির
সঠিক উত্তর:
তলব-ই-মৌসিবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তলব-ই-মৌসিবত
ব্যাখ্যা

শুফা:
কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি শরীক বা প্রতিবেশী হওয়ার কারনে উক্ত সম্পত্তি সর্বাগ্রে ক্রয়ের অধিকারী হয় কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে দূরবর্তী কারো নিকট বিক্রয় করলে উক্ত শরীক বা প্রতিবেশী অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করতে পারেন। মুসলিম আইনে উক্তরূপ ক্রয় অধিকারকে শুফার অধিকার বলে।

নিম্নরূপ ৩ শ্রেনীর ব্যক্তি শুফার অধিকার দাবি করিতে পারে-
১। শাফী ই শরিক বা বিক্রিত ভূমির একজন সহ-শরীক।
২। শাফী ই খালিত বা বিক্রিত ভূমির মাধ্যমে পথ ব্যবহার বা পানি নিষ্কাশনের অধিকারী ব্যক্তি।
৩। শাফী ই জার বা বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক।

উপরোক্ত ৩ শ্রেনীর মধ্যে প্রথম শ্রেনী সর্ব প্রথম শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন এবং প্রথম শ্রেনী দাবী না করিলে দ্বিতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করতে পারিবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর মধ্যে কেউ দাবি না করলে তৃতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারবেন। তবে একি শ্রেনী ভুক্ত একাধিক ব্যক্তি দাবি করিলে প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করিতে পারবেন।

• অগ্রক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করা। যদি এই সকল আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে এবং উপযুক্ত সময়ে পালন করা না হয়, তবে কোন ব্যক্তিই অগ্রক্রয়ের অধিকারী নয়। এই সকল আনুষ্ঠানিকতাগুলো হচ্ছে-

(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত):
শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্হিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্হিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ):
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে। এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক):
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।

৯২.
নিম্নলিখিত উদাহরণের মধ্যে কোনটি ওয়াকফ ফি লিল্লাহ?
  1. বংশধরদের উপকারার্থে জমি দান
  2. ব্যক্তিগত ব্যবসায় জমি দান
  3. দাতব্য হাসপাতালের জন্য জমি দান
  4. সন্তানদের ভরণপোষণে সম্পত্তি দান
সঠিক উত্তর:
দাতব্য হাসপাতালের জন্য জমি দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাতব্য হাসপাতালের জন্য জমি দান
ব্যাখ্যা

উত্তর হলো: গ) দাতব্য হাসপাতালের জন্য জমি দান। ওয়াকফ ফি লিল্লাহ বলতে বোঝায় এমন ওয়াকফ যা ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে সম্পত্তি উৎসর্গ করা হয়েছে।

ওয়াকফ:
ওয়াকফ আরবি শব্দ, এর অর্থ ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে মুক্ত কোনো সম্পত্তির হেফাজত করা। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে ‘ভারতের মুসলমান ওয়াকফ বৈধকরণ আইন’-এ প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী, ওয়াকফ অর্থ কোনো মুসলমান কর্তৃক তাঁর সম্পত্তির কোনো অংশ এমন কাজের জন্য স্থায়ীভাবে দান করা; যা মুসলিম আইনে ‘ধর্মীয়, পবিত্র বা সেবামূলক’ হিসেবে স্বীকৃত।

ওয়াকফের বৈশিষ্ট্য হলো:
১. এটি একটি স্থায়ী ব্যবস্থা, অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য করা যায় না;
২. এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয় এবং কোনো অবস্থায়ই এটিকে স্থগিত বা মুলতবি করা যায় না;
৩. এটি একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য আইনি চুক্তি এবং
৪. ওয়াকফ সম্পত্তি কখনো বাজেয়াপ্ত করা যায় না।

প্রকারভেদ:
ওয়াকফ তিন প্রকার: ওয়াকফ ফি লিল্লাহ, ওয়াকফ আলাল আওলাদ (অর্থাৎ ব্যক্তিগত ওয়াকফ) ও মিশ্র ওয়াকফ। কেবল ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে সৃষ্ট ওয়াকফকে বলা হয় ওয়াকফ ফি লিল্লাহ। উৎসর্গকারীর নিজের কিংবা পরিবার বা বংশধরদের ভরণপোষণ বা উপকারার্থে ওয়াকফ করা হলে তাকে বলা হয় ওয়াকফ আলাল আওলাদ। আর মিশ্র ওয়াকফে ধর্মীয় ও দাতব্য প্রকৃতির সর্বজনীন উদ্দেশ্য এবং উৎসর্গকারীর পরিবার বা বংশধরদের উপকার দুটি বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

৯৩.
নিম্নের কোন ওয়াকফ মুসলিম আইনে বৈধ?
  1. ব্যক্তিগত ব্যবসার প্রসারে জমি দান
  2. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য স্থায়ী জমি দান
  3. তিন বছরের জন্য মসজিদের জন্য জমি উৎসর্গ
  4. খ এবং গ উভয়
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য স্থায়ী জমি দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য স্থায়ী জমি দান
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য স্থায়ী জমি দান।

⇒ ওয়াকফ মুসলিম আইনে স্থায়ী এবং বৈধ উদ্দেশ্যের জন্য করা হয়। ব্যক্তিগত ব্যবসার জন্য ওয়াকফ বৈধ নয়। তিন বছরের জন্য অস্থায়ী ওয়াকফ ই অবৈধ। তাই কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য স্থায়ী ওয়াকফ বৈধ।


• Waqf শব্দটি আরবি শব্দ। এর অর্থ নিরোধ বা আটক করা। ওয়াকফ হলো কোনো সম্পত্তি ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা। সাধারণত ওয়াকফ বলতে ইসলাম ধর্মাবলম্বী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইসলাম ধর্ম অনুসারে ধর্মীয়, সাধু বা দাতব্য বলে স্বীকৃত কোনো উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে সম্পত্তি উৎসর্গ করা বুঝায়। কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তি সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নামে উৎসর্গ করতে পায়ে, যে সম্পত্তির চূড়ান্ত সুবিধা পরিব ব্যক্তিগণ পাবে অথবা সম্পত্তিটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার হবে।

• ওয়াক্কের অপরিহার্য উপাদান হলো-
ক. উৎসর্গ (Dedication);
খ. উদ্দেশ্য (Purpose)।

ক. উৎসর্গ (Dedication):
সম্পত্তির মালিককে আল্লাহরনামে সম্পত্তিটি স্থায়ীভাবে এবং শর্তহীনভাবে উৎসর্গ করতে হবে। সুতরাং অস্থায়ীভাবে কোনো সম্পত্তি ওয়াকফ করা যায় না। 

খ. উদ্দেশ্য (Purpose):
ওয়াকফ করার উদেশ্য অবশ্যই ধর্মীয় বা দাতব্য হতে হবে। যেমন। কোনো মসজিদের জন্য অথবা গরীব, দুঃস্থ মানুষের ভরণপোষণের জন্য ওয়াকফ করা যায়।
ওয়াকফ অবশ্যই বৈধ উদ্দেশ্যে করতে হবে। যদি কেউ বেআইনি উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করে তাহলে ওয়াক্‌ফটি অবৈধ হবে। যদি এমন হয় ওয়াকফকারীর কিছু উদ্দেশ্য বৈধ এবং কিছু উদ্দেশ্য অবৈধ সেক্ষেত্রে উদ্দেশ্যের যতটুকু বৈধ ওয়াকফ, ততটুকু বৈধ হবে বাকী অংশ অবৈধ হবে।

৯৪.
হানাফী আইন অনুযায়ী কত শ্রেণির ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পরেন?
  1. ২ শ্রেণির
  2. ৩ শ্রেণির
  3. ৪ শ্রেণির
  4. ৫ শ্রেণির
সঠিক উত্তর:
৩ শ্রেণির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ শ্রেণির
ব্যাখ্যা
অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:
হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।
 
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
 
- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
 
- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।
 
- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
৯৫.
The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর কত ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক?
  1. ২ ধারা
  2. ৩ ধারা
  3. ৪ ধারা
  4. ৫ ধারা
সঠিক উত্তর:
৩ ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ধারা
ব্যাখ্যা

• মুসলিম আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।

• বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:
⇒ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
⇒ বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি হলো- অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড। (ধারা-৫)
⇒ এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আমলযোগ্য। (ধারা-৫ক)

৯৬.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারার বিধান কী?
  1. রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার
  2. বিচার-পূর্ব কার্যক্রম
  3. সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ
  4. আপোষ ডিক্রি
সঠিক উত্তর:
রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারার বিধান: রুদ্ধদ্বার কক্ষে  বিচার:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।
৯৭.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে 'যাওয়িল ফুরূদ' বলতে কাদের বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র পুত্রসন্তান
  2. মৃতের দূরবর্তী আত্মীয়
  3. যারা অবশিষ্ট সম্পত্তি পান
  4. যাদের অংশ কোরআনে নির্দিষ্ট
সঠিক উত্তর:
যাদের অংশ কোরআনে নির্দিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাদের অংশ কোরআনে নির্দিষ্ট
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: যাদের অংশ কোরআনে নির্দিষ্ট।
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে যাওয়িল ফুরূদ (যেমন: মা, স্ত্রী, কন্যা) এর অংশ ইসলামি আইনে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত (যেমন: মা ১/৬, স্ত্রী ১/৮ ইত্যাদি)।

- মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ‘যাওয়িল ফুরূদ’ (Zawil Furud) বলতে বোঝায় সেই সব উত্তরাধিকারী যাদের মৃতের সম্পত্তিতে অংশ কোরআনে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 
উদাহরণস্বরূপ: মা, বাবা, স্ত্রী, কন্যা ইত্যাদি।
তাদের অংশ সরাসরি কোরআন অনুযায়ী নির্ধারিত থাকে এবং তারা সবসময় নির্দিষ্ট ভাগ পায়।

বাকি উত্তরাধিকারীরা যেমন:
- আসাবা (Asaba) – অবশিষ্টাংশ ভোগী, যারা যাদের অংশ নির্দিষ্ট নয়, তারা শুধুমাত্র অংশীদারদের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি পান।
- দূরবর্তী আত্মীয় (Zawil Arham) – যারা নির্দিষ্ট অংশ বা আসাবা নয়, তবে মৃতের আত্মীয়।
তাহলে ‘যাওয়িল ফুরূদ’ বলতে সেই উত্তরাধিকারীদের বোঝায় যাদের অংশ কোরআনে নির্ধারিত।

৯৮.
চারজন স্ত্রী থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তি যদি পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ করে বিবাহটি-
  1. বাতিল
  2. অবৈধ
  3. অনিয়মিত
  4. বৈধ
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত
ব্যাখ্যা

⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):
-যে বিবাহ মূলত বেআইনি নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ।

- অন্যভাবে বলা যায় যে, অনিয়মিত বিবাহ অর্থ হলো যে বিবাহের কিছু আইনগত ত্রুটি থাকে এবং যেখানে সংশোধনের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া যায়। অনিয়মিত বিবাহ হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং অবৈধ না কিন্তু অন্যকোনো কারণে অবৈধ এবং যেখানে নিষিদ্ধ কারণগুলো অস্থায়ী বা যেক্ষেত্রে অবৈধতা কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেমন সাক্ষীর অনুপস্থিতি। যে কারণে বিবাহটি অবৈধ বা অনিয়মিত উক্ত কারণ অপসারণ করার মাধ্যমে বিবাহটি বৈধ করা যায়।

⇒ একজন মুসলিম একই সময়ে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী রাখতে পারে। চারজন স্ত্রী থাকা অবস্থায় ঐ ব্যক্তি যদি পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ করে বিবাহটি বাতিল বা অবৈধ নয়। তা অনিয়মিত বিবাহ মাত্র।
-ইদ্দতের সময়কাল পূর্ণ হবার পূর্বে বিবাহ হলে তা অবৈধ হবে না বরং অনিয়মিত হবে।
- এছাড়াও সাক্ষী ছাড়া বিবাহ এবং স্ত্রীর বোন বিবাহ করা অনিয়মিত হবে।

৯৯.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীন পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত বিষয় কোনটি?
  1. দেনমোহর
  2. ভরণপোষণ
  3. বিবাহ নিবন্ধন
  4. শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব
সঠিক উত্তর:
বিবাহ নিবন্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবাহ নিবন্ধন
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-

(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

• বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:

⇒ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
⇒ বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি হলো- অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড।
⇒ এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আমলযোগ্য।
১০০.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কে বিধি প্রণয়ন করতে পারে?
  1. আদালত
  2. সরকার
  3. সালিশি পরিষদ
  4. স্থানীয় প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ১১ অনুযায়ী, সরকার এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য বিধি (নিয়ম) প্রণয়ন করতে পারে। এই বিধি প্রণয়ন করার পর, তা সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হবে এবং আইন হিসেবে কার্যকর হবে। আদালত, সালিশি পরিষদ, বা স্থানীয় প্রশাসন এই বিধি প্রণয়ন করার ক্ষমতা রাখে না।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ১১ এর বিধান নিয়ম তৈরি করার ক্ষমতা:
(১) সরকার এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য নিয়ম তৈরি করতে পারে।
(২) এই সেকশনের অধীনে নিয়ম তৈরি করার সময়, সরকার তা নির্ধারণ করতে পারে যে, কোনো নিয়মের লঙ্ঘন করলে সাধারণ কারাদণ্ড, যা এক মাস পর্যন্ত হতে পারে, অথবা জরিমানা, যা পাঁচশো টাকা পর্যন্ত হতে পারে, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
(৩) এই সেকশনের অধীনে তৈরি করা নিয়মগুলো সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হবে এবং সেগুলো তখন থেকে এই অধ্যাদেশে আইন হিসেবে কার্যকর হবে।
-------------
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 Section- 11. Power to make rules
(1) The Government may make rules to carry into effect the purposes of this Ordinance.
(2) In making rules under this section, the Government may provide that a breach of any of the rules shall be punishable with simple imprisonment which may extend to one month, or with fine which may extend to five hundred taka, or with both. 
(3) Rules made under this section shall be published in the official Gazette, and shall thereupon have effect as if enacted in this Ordinance.