দুলি দুহি পীঢ়া ধরণ ন জাই !
রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই'॥- কুক্কুরীপা রচিত চর্যার ২নং পদ এটি। পদে ব্যবহৃত 'দুলি' শব্দের অর্থ- কচ্ছপী/মাদি কাছিম।
আধুনিক গদ্যে রূপান্তর:
দুলি [= মাদি কচ্ছপ] দোহন করে পিটাতে [= দুগ্ধ-পাত্রে] [দুধ] ধরানো গেল না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়।
অন্যান্য শব্দের অর্থগুলো নিম্নরূপ-
দুহি- দোয়া হলো। দোহন করে। দুহিতঃ > দুহিঅ > দুহি।
পীঢ়া- দুধ দোয়ার পাত্র ।
ধরণ- ধরা। ধর + ন = ধরণ।
জাই- যায়। যাই > জাই।
রুখের- বৃক্ষের। গাছের। বৃক্ষ > রুথ > রুখ + এর = রুখের।
তেন্তলি- তেঁতুল।
কুম্ভীরে- কুম্ভীর + এ।
---------------------------
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি (২, ২০, ৪৮) গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮] সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।
- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।
- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।
- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।
- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুকুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুকুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।
উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।