বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

মোট প্রশ্ন১,০৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৪০১৫০০ / ১,০৩৯

৪০১.
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা চিহ্নিত করুন :
  1. ক) পালি
  2. খ) প্রাকৃত
  3. গ) বৈদিক
  4. ঘ) ভোজপুরী
সঠিক উত্তর:
গ) বৈদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বৈদিক
ব্যাখ্যা

ভারতীয় আর্য ভাষার বিকাশের তিনটি স্তর পাওয়া যায়।
(ক) প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা।
(খ) মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা ও
(গ) আধুনিক ভারতীয় আর্য ভাষা।

- প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সময়কাল ১৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকে ১০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ পর্যন্ত বলে পণ্ডিতেরা নির্ধারণ করেছেন।

- আনুমানিক ১৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে আর্যভাষাভাষী একটি জনগােষ্ঠী ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। তাদের ভাষার সাথে স্থানীয় ভাষার শব্দও মেশে। প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষাতেই আমরা বৈদিক সাহিত্য পাচ্ছি। অন্য কথায়, বৈদিক সাহিত্যই প্রাচীন
ভারতীয় আর্যভাষার একমাত্র নিদর্শন।

- বেদে ব্যবহৃত হয়েছে বলে এর প্রচলিত নাম বৈদিক ভাষা৷

উৎসঃ হিন্দু ধর্ম বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০২.
চর্যাপদে কয়টি পূর্ণ কবিতা আছে?
  1. ক) সাড়ে ছেচল্লিশটি
  2. খ) ছেচল্লিশটি
  3. গ) সাতচল্লিশটি
  4. ঘ) পঞ্চাশটি
সঠিক উত্তর:
খ) ছেচল্লিশটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছেচল্লিশটি
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদ কতকগুলো পদ বা কবিতা বা গানের সংকলন।
- এতে ৪৬টি পূর্ণ কবিতা এবং একটি ছেঁড়া খণ্ডিত কবিতা রয়েছে।
- তাই এতে কবিতা রয়েছে সাড়ে ছেচল্লিশটি।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৪০৩.
পদসংখ্যার বিচারে চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. ডোম্বীপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি কাহ্নপা।

• কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি।
- তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪০৪.
চর্যাপদের কোন কবির লেখনীতে বাংলাদেশের পদ্মা নদীর কথা উল্লেখ আছে?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কঙ্কণপা
  4. চাটিলপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি - ভুসুকপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- ড. শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তার রচিত ৪৯ নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬ নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪০৫.
‘আন চাহন্তে আন বিনধা।’- চর্যাপদের প্রবাদ বাক্যটি কার রচনা?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাঙ্কণপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. সরহপা
সঠিক উত্তর:
কাঙ্কণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঙ্কণপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি। এগুলো হলো:

- অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী(ভুসুকুপা, ৬নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা,৩৩নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪নং পদ)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০৬.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. দারিকপা
  2. আর্যদেবপা
  3. শাস্তিপা
  4. কঙ্কণপা
সঠিক উত্তর:
শাস্তিপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাস্তিপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- শাস্তিপা।

উল্লেখ্য,
- শান্তিপা ছিলেন চর্যাপদের কবি। 

-------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪০৭.
কীর্তিচন্দ্র কর্তৃক চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদের নাম কী?
  1. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  2. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  3. চর্যাচর্যগীতিকোষ
  4. চর্যাগীতি
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।

-------------
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ। ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি। উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি।

- প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।
- চর্যাপদের তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪০৮.
চর্যাপদের কবি নন-
  1. ক) রমনীপাদ
  2. খ) কাহ্নপাদ
  3. গ) লুইপাদ
  4. ঘ) শান্তিপাদ
সঠিক উত্তর:
ক) রমনীপাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রমনীপাদ
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম পদ সংকলন তথা সাহিত্য নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে চর্যার একটি খণ্ডিত পুঁথি উদ্ধার করেন।  -চর্যাপদের প্রধান কবিগণ হলেন লুইপাদ, কাহ্নপাদ, ভুসুকুপাদ, শবরপাদ, শান্তিপাদ প্রমুখ।
- লুইপা বৌদ্ধধর্মের একজন মহাসিদ্ধ, কবি ও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের রচয়িতা। চর্যাপদের প্রথম এবং ঊনত্রিশতম পদ লুইপার রচনা।
৪০৯.
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে সংকলিত বাংলা পুথি কোনটি?
  1. সরোজ-বজ্রের দোহাকোষ
  2. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  3. কৃষ্ণাচায্যের দোহাকোষ
  4. ডাকার্ণব
সঠিক উত্তর:
চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো:
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজ-বজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচায্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব।

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত।
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে।
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪১০.
কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়?
  1. তুর্কি
  2. মোগল
  3. সেন
  4. পাল
সঠিক উত্তর:
পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- এতে তেইশজন/চব্বিশ পদকর্তার ৫০টি মতান্তরে ৫১টি পদ আছে। পাল আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪১১.
সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  4. ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪১২.
চর্যার ২৩নং পদটি কার রচনা?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কুক্কুরীপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/ ৪১নং/ ৪৩নং/ ৪৯নং।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- ভুসুকুপা রচিত চর্যাপদের ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়।
- এর ৬টি পঙক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙক্তি পাওয়া যায়নি।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

অন্যদিকে,
• শবরপা রচিত পদ- ২৮ ও ৫০।
• কুক্কুরীপা রচিত পদ- ২, ২০ ও ৪৮নং (৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি)।
• কাহ্নপা রচিত পদগুলো হলো - ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৩.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কোন উপাধি দ্বারা ভূষিত ছিলেন?
  1. পণ্ডিত
  2. বিদ্যাভূষণ
  3. মহামহোপাধ্যায়
  4. সহজিয়া বৌদ্ধধর্মের জনক
সঠিক উত্তর:
মহামহোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহামহোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি ছিল- 'মহামহোপাধ্যায়'। 
-----------------------------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত পণ্ডিত, সংরক্ষণবিদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- তিনি ৬ ডিসেম্বর ১৮৫৩ সালে খুলনার কুমিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কারের জন্য সর্বাধিক পরিচিত।
- সাহিত্যচর্চায় অবদানের জন্য তাঁকে মহামহোপাধ্যায় উপাধি প্রদান করা হয়।
- এছাড়াও তিনি বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যের বহু লুপ্তপ্রায় পুঁথি উদ্ধার, পাঠোদ্ধার ও সম্পাদনার মাধ্যমে ভাষা ও সাহিত্যে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।

• তাঁর প্রধান অবদান:
• ১৯০৭ সালে নেপাল থেকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন লিখিত নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। 
- ১৯১৬ সালে এটি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোঁহা' নামে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বেণের মেয়ে,
- কাঞ্চনমালা।

• তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- রামচরিতম, 
- ভারত মহিলা,
- তৈল।

• তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থ:
- বৌদ্ধধর্ম,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ,
- আমাদের ইতিহাস।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৪১৪.
চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা?
  1. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. অক্ষরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ'- এর ছন্দ সম্পর্কিত শব্দ:
- চর্যাপদ প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
- চর্যাপদের ছন্দে সংস্কৃত পজঝটিকা ছন্দের প্রভাব রয়েছে। পজঝটিকা ছন্দের প্রতিটি চরণে ষোল মাত্রার, চরণে চার পর্ব, চার মাত্রা।
- আবার শৌরসেনী প্রাকৃত প্রভাবিত মাত্রাপ্রধান পদাকুলক ছন্দের সঙ্গেও চর্যার ছন্দের মিল রয়েছে।
- পদাকুল ছন্দের চরণও ষোল মাত্রার, প্রতিটি চরণে চার পর্ব, আর প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
- চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত রীতিতে হলেও মাত্রাবৃত্তের  বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয় নি।
- তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৫.
টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।- এটি চর্যার কততম পদ?
  1. ১নং
  2. ৩৩নং
  3. ২৪নং
  4. ৩৫নং
সঠিক উত্তর:
৩৩নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩নং
ব্যাখ্যা
• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। 
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন। 
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

ঢেণ্ডণপা রচিত ৩৩নং পদটি-
‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।’

- অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৬.
’লুই ভণই গুরু পুছিঅ জান।’- এখানে ’ভণই’ শব্দের অর্থ কী?
  1. বলে
  2. ভাবে 
  3. চায়
  4. দেখে
সঠিক উত্তর:
বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলে
ব্যাখ্যা

• 'লুই ভণই গুরু পূছিঅ জাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা চর্যার কবি লুইপা। 
- পঙ্‌ক্তি আধুনিক গদ্যে রূপান্তর- লুই বলেন, গুরুকে জিজ্ঞাসা করে জানো।

 পঙ্‌ক্তিটিতে ব্যবহৃত শব্দগুলোর অর্থ হলো-  
'ভণই' অর্থ- বলে। প্রকাশ করে। ভণতি  > ভণই।
• 'পূছিঅ' অর্থ- জিজ্ঞাসা করে। পুচ্ছতিঃ > পুচ্ছিঅ  > পূছিঅ।
• 'জাণ' অর্থ- জানো। জানথ > জানহ > জাণঅ > জাণ।




-------------------
•  লুইপা:
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। তিনি চর্যার ১ ও ২৯নং পদের রচয়িতা।

- অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন। যোগতন্ত্রশাস্ত্রেও লুইপার উল্লেখ রয়েছে।
তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপার অন্য নাম মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। মৎস্যের সঙ্গে নামের মিল থাকায় কোনো কোনো পণ্ডিত ১৮ চর্যাগীতি পাঠ লুইকে শবরপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন।

- এ লুইপা আদি সিদ্ধাচার্য (সকল সিদ্ধাচার্যের গুরু) বলে অনেকের ধারণা। লুইপাকে সংস্কৃত টীকাকার মুনি দত্ত আদি সিদ্ধাচার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, তারানাথের মতে, লুইপা চতুর্থ সিদ্ধাচার্য, আর সরহ হলেন আদি সিদ্ধাচার্য। তাঁর মতে, লুইপা ছিলেন উড্ডীয়ান-রাজ উদয়নের কর্মচারী। তিনি শবর পা-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

- চর্যাগীতির লুইপা আর তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপা অভিন্ন নয় বলেই মনে করা হয়। কেননা বলা হয়েছে, লুইপা ছিলেন গৌড় অঞ্চলের অধিবাসী। আর তন্ত্রশাস্ত্রের মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথের বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। তিনি ছিলেন গোরক্ষনাথের গুরু। তাই ধারণা করা হয়, লুইপা ও মীননাথ অভিন্ন ব্যক্তি নয়।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ধারণা লুইপা ছিলেন বাঙালি। রাহুল সাংস্কৃত্যায়নের মতে, লুইপা রাজা ধর্মপালের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লুইপা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- তিব্বতি অনুবাদের মাধ্যমে লুইয়ের বৌদ্ধ দর্শন বিষয়ক তিনটি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়। এগুলো হলো: 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্ত্বস্বভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টিনাম'।

চর্যার ১নং পদ-
কাআ তরুবার পঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পইঠো কাল।।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক।

৪১৭.
'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ২২ জন
  2. ২৩ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২৫ জন
সঠিক উত্তর:
২৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে। ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৪১৮.
‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’-প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১৬ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯২৬ সালে
  4. ১৯৩৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।

• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণচার্য পাদের দোহাকোষ, 
- ডাকার্ণব। 

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।
------------------ 
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় নাম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, বহুভাষাবিদ, দার্শনিক, পণ্ডিত, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও ঐতিহাসিক।
- তার উপাধি ছিলো - মহামহোপাধ্যায়। ১৮৯৮ সালে তাকে এই উপাধি প্রদান করা হয়।
- তিনি ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে বাংলা সাহিত্যের আদিগ্রন্থ চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে তার সম্পাদনায় 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪১৯.
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী। হাড়ীতে ভাত নাহি নিতি আবেশী।।" চর্যাপদের এ পদটি কে রচনা করেন?
  1. লুইপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. শবরপা
  4. ঢেণ্ডণপা পা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা পা
ব্যাখ্যা
- 'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী' হাড়ীতে ভাত নাহি নিতি আবেশী।" - চর্যাপদের এ পদটির রচয়িতা ’ঢেণ্ডণপা’।
- চর্যাপদের এ চরণ দুটিতে কি বোঝানো হয়েছে: টিলার উপর আমার ঘর,আমার কোন প্রতিবেশী নেই। আমার হাঁড়িতে ভাত নেই,অথচ নিত্য অতিথি আসে।
-------------------------------------------------
• ঢেণ্ডণপা পা:
- তিনি নবম শতকের কবি।
- তিনি পেশায় একজন  তাঁতি।
- তিনি চর্যায় ৩৩ নং পদটি রচনা করেন।
- তাঁর রচিত পদটি : 'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী' হাড়ীতে ভাত নাহি নিতি আবেশী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২০.
কুক্কুরীপা কোন অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন বলে ধারণা করা হয়?
  1. নেপাল
  2. তিব্বত
  3. বঙ্গদেশ
  4. কামরূপ
সঠিক উত্তর:
তিব্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বত
ব্যাখ্যা

কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কুক্কুরীপা রচিত পঙক্তি হলো:

“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।”

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪২১.
ডোম্বীপা'র গুরু ছিলেন -
  1. গোরক্ষনাথ
  2. নাগার্জুন
  3. বিরুপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
বিরুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরুপা
ব্যাখ্যা
ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা। তার গুরু ছিলেন - বিরুপা
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন।
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪২২.
চর্যাপদে কোন ধর্মীয় ভাবধারা ফুটে উঠেছে?
  1. বৈষ্ণব
  2. শৈব
  3. বৌদ্ধ
  4. শাক্ত
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদে বৌদ্ধ ধর্মীয় ভাবধারা ফুটে উঠেছে।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৩.
আধুনিক ছন্দের বিচারে চর্যাপদ কোন ছন্দের অধীনে বিবেচ্য?
  1. পায়ার 
  2. মাত্রাবৃত্ত 
  3. ত্রিপদী 
  4. স্বরবৃত্ত 
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত 
ব্যাখ্যা

'চর্যাপদ' এর ছন্দ সম্পর্কিত তথ্য:
- চর্যাপদ প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
- চর্যাপদের ছন্দে সংস্কৃত পজঝটিকা ছন্দের প্রভাব রয়েছে। পজঝটিকা ছন্দের প্রতিটি চরণ ষোল মাত্রার, চরণে চার পর্ব, চার মাত্রা।
- আবার শৌরসেনী প্রাকৃত প্রভাবিত মাত্ৰাপ্রধান পাদাকুলক ছন্দের সঙ্গেও চর্যার ছন্দের মিল রয়েছে।
- পাদাকুলক ছন্দের চরণও ষোল মাত্রার, প্রতিটি চরণে চার পর্ব, প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
- চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত রীতিতে গঠিত হলেও মাত্রাবৃত্তের বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয় নি। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা।

৪২৪.
চর্যাপদের কোন পদগুলো পাওয়া যায় নি?
  1. ২৪, ২৫ ও ৪৬ নং
  2. ৪৮, ২৩ ও ২৫ নং
  3. ২৩, ২৫ ও ৪৬ নং
  4. ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং
সঠিক উত্তর:
২৪, ২৫ ও ৪৮ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪, ২৫ ও ৪৮ নং
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ: 
 বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ৫১ টি পদের মধ্যে সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
- চর্যাপদের প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- ২৩ নং পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- পদটির রচয়িতা ছিলেন ভুসুকুপা। 
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৫.
চর্যাপদের কোন কবি 'কৃষ্ণবজ্রপাদ' নামে লিখতেন?
  1. শবরপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নপা
  4. বিরুপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা- 'কৃষ্ণবজ্রপাদ' নামে লিখতেন।
---------------- 
• কাহ্নপা:

- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন কাহ্নপা।
- কাহ্নপা সর্বমোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- এই সংখ্যাধিক্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কবি এবং সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলো হল : ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
- তাঁর রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলোতে- নিপুণ কবিত্ব শক্তি এবং তৎকালীন সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৬.
চর্যাপদের যুগে নারীরা কেমন ছিলেন-
  1. কুসংস্কারাচ্ছন্ন
  2. খুবই ভীতু ও ধার্মিক
  3. স্বাধীন চেতা
  4. মানবিক ও ধার্মিক
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন চেতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন চেতা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে যুগে নারীদের স্থান ও ভূমিকা:
- চর্যাপদের যুগে নারীরা খুবই স্বাধীন ছিল। তারা স্বেচ্ছায় পেশা ও সঙ্গী নির্বাচনের অধিকার রাখত।
- কুক্কুরীপা একটি পদে (২নং) লিখেছেন, গৃহবধূটি বেশ ছল জানে। সে দিনের বেলায় কাকের ডাক শুনেই ভয় পায়, কিন্তু রাতে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যায়।
- কাহ্নপা একটি পদে (১০নং) জানিয়েছেন, এক ডোমিনী নগরে তাঁত ও চেঙারি বিক্রি করে।
- কাহ্নপার অন্য একটি পদে (১৮নং) ডোমনীর 'ছিনালী' করার কথা আছে।
- ডোম্বীপাদের ১৪নং পদে নারীদের নৌকা চালনা, নৌকার জলসিঞ্চন, লোক পারাপার ইত্যাদির মতো কর্মে যুক্ত থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাছাড়া নারীরা গুরুর স্থানও অধিকার করেছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৭.
'Sanskrit Buddhist Literature in Nepal' - গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
  2. অতীন্দ্র মজুমদার
  3. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
রাজেন্দ্রলাল মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজেন্দ্রলাল মিত্র
ব্যাখ্যা

• 'Sanskrit Buddhist Literature in Nepal' - গ্রন্থটি রচনা করেছেন-  রাজেন্দ্রলাল মিত্র।

চর্যাপদ:

 - বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের প্রায় সমসাময়িক কালে বাংলাদেশে যে সব সংস্কৃত-প্রাকৃত-অপভ্রংশ সাহিত্য।
- সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের প্রত্যক্ষ উপকরণ নয়।
- বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলো সম্পর্কে ১৯০৭ সালের আগে কোন তথ্যই জানা ছিল না।
- ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন।
- সেখানে তিনি বিভিন্ন গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত বিবরণী প্রকাশ করে যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছিলেন তাতে উদ্দীপ্ত হয়ে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতগুলো পদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪২৮.
চর্যাপদের রচনার দিকে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কে?
  1. ধর্মপা
  2. ভুসুকুপা
  3. দারিকপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪২৯.
শবরপা কার শিষ্য ছিলেন?
  1. সরহপার
  2. নাগার্জুনের
  3. ভুসুকুপার
  4. লুইপার
সঠিক উত্তর:
নাগার্জুনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগার্জুনের
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:

"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩০.
চর্যাপদের কোন কবি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন?
  1. সরহপা 
  2. ডোম্বীপা
  3. চাটিল্লপা 
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা

ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা।
- তার গুরু ছিলেন বিরুপা।
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৩১.
'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে চর্যাপদের পুথি প্রকাশ করেন কে?
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. সুকুমার সেন 
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, 
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণচার্য পাদের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব।

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে।
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় নাম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, বহুভাষাবিদ, দার্শনিক, পণ্ডিত, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও ঐতিহাসিক।
- তার উপাধি ছিলো মহামহোপাধ্যায়। ১৮৯৮ সালে তাকে এই উপাধি প্রদান করা হয়।
- তিনি ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে বাংলা সাহিত্যের আদিগ্রন্থ চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে তার সম্পাদনায় 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৩২.
বাংলা সাহিত্যের আদি গ্রন্থ 'চর্যাপদ'- এর রচনা কাল-
  1. ক) সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
  2. খ) অষ্টম থেকে চর্তুদশ শতাব্দী
  3. গ) নবম থেকে চর্তুদশ শতাব্দী
  4. ঘ) দশম থেকে চর্তুদশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
ক) সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা
ধারণা করা হয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল।

​চর্যাপদের রচনা কাল:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে এবং।
- ড. সুকুমার সেনের মতেও, ৯৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে চর্যাপদ রচিত। সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় অধিকাংশ পণ্ডিতই সুনীতিকুমারের মতকে সমর্থন করেন।

​উৎস: বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (১ম খণ্ড), গোপাল হালদার; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪৩৩.
চর্যার কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি কে?
  1. ক) লুইপা
  2. খ) কাহ্নপা
  3. গ) সরহপা
  4. ঘ) শবরপা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা এর জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। 
- সেই সূত্রে শবরপা চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি 'বাংলা দেশে'র লোক।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম টিকাকার লুইপা এর গুরু ছিলেন।
- শবরপা নিজে নাগার্জুনের শিষ্য ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ নং পদ তাঁর রচনা।

অন্যদিকে,
- চর্যাপদের আদি চর্যাকার/বাংলা সাহিত্যের প্রথম কবি/চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতা - লুইপা।
- তিনি চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেছেন।

- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা 
- কাহ্নপা  ১৩ টি পদ রচনা করেন। 

- সরহপা ৪ টি পদ (২২, ৩২, ৩৮ ও ৩৯ নং পদ) রচনা করেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩৪.
চর্যাপদের ভাষাকে 'আলো আঁধারি ভাষা' বলেছেন-
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ড. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

• সন্ধ্যাভাষা:
- চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।' এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৩৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মতে চর্যাপদের পদ কয়টি?
  1. ৫১টি
  2. ৫০টি
  3. ৪৬টি
  4. ৪৭টি
সঠিক উত্তর:
৫০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০টি
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি। তবে সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫১টি।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৩৬.
চর্যাশ্চর্য বিনিশ্চয়ে লুইপার কয়টি পদ পাওয়া যায়?
  1. তিনটি
  2. দুইটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
লুইপা: 
- প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন লুইপা।
- লুইপা পদ দুইটি রচনা করেন।

লুইপার পদসংখ্যা:
লুইপাদের ২টি চর্যাগীতি (১নং ও ২৯নং) চর্যাশ্চর্য বিনিশ্চয়ে পাওয়া যায়। গীতি দুটির পদ সংখ্যা, ছন্দ ও রাগিনী একই। দুটি পদেই দু'বার করে ভণিতা আছে। আলোচ্য পদটি ভালভাবে পাঠ করলেই দেখা যাবে ধ্রুব (দ্বিতীয়) পদে এবং শেষ পদে। লুইপাদ আদি পদকর্তা বলে সুচিহ্নিত। কবি দশম শতাব্দীতেই পদটি রচনা করেছেন বলে গবেষকদের ধারণা।

• কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।- বীণাপার গুরু ছিলেন - ভাদেপা।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।- পদটির রচয়িতা 'লুইপা'। এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩৭.
'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' প্রকাশ করে-
  1. ক) মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি
  2. খ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  3. গ) বাংলা একাডেমি
  4. ঘ) এশিয়াটিক সোসাইটি
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।

১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬)' নামে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৪৩৮.
'পঞ্চাকার' নামক পুঁথির লিপির সঙ্গে সাদৃশ্য বিবেচনা করে চর্যাপদের লিপিকাল কত শতকের মনে করা হয়?
  1. নবম শতক
  2. দশম শতক
  3. একাদশ শতক
  4. দ্বাদশ শতক
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ শতক
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের পুঁথি:
- চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে একান্নটি গান ছিল।
- তার মধ্যে একটি (১১ সংখ্যক) পদ টীকাকার কর্তৃক ব্যাখ্যা হয় নি।
- আবার পুঁথির কয়েকটি পাতা নষ্ট হওয়ায় তিনটি সম্পূর্ণ (২৪, ২৫ ও ৪৮ সংখ্যক) পদ এবং একটি (২৩ সংখ্যক) পদের শেষাংশ পাওয়া যায়নি।
- তাই পুঁথিতে সর্বসমেত্ব সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিটির লিপিকাল বার বা চৌদ্দ থেকে ষোল শতকের মধ্যে বলে অনুমান করা হয়।
- তবে ১১৯৯ সালে লিপিকৃত 'পঞ্চাকার' নামের পুঁথির লিপির সঙ্গে চর্যাপদের লিপির সাদৃশ্য বিবেচনা করে কেউ কেউ এর লিপিকাল বার শতকের বলে মনে করেন।
- চর্যার পুঁথিটি বাংলা অক্ষরে লিপিকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম।

৪৩৯.
“টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়িত ভাত নাহি নিতি আবেশী”
উপরোক্ত পদের পদকর্তা কে?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. কুক্কুরীপা
  4. ঢেন্ডণপা
সঠিক উত্তর:
ঢেন্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেন্ডণপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩ মতান্ত্বরে ২৪ জন। 

- ঢেন্ডণপা নবম শতকের কবি।
- তার পদ সংখ্যা একটি (৩৩ নং)।
- তিনি তার পদে বাঙ্গালী জীবনের দারিদ্রের ছবি চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

ঢেন্ডণপা তাঁর পদে তিনি লিখেছেন,
“টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়িত ভাত নাহি নিতি আবেশী”
অর্থাৎ, লোকশূণ্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাড়িতে ভাত নাই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া

৪৪০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চর্যাপদের রচনাকাল কোনটি?
  1. ৯৫০ - ১২০০ খ্রীষ্টাব্দ
  2. ৬৫০ - ৯৫০ খ্রীষ্টাব্দ
  3. ৬৫০ - ১২৫০ খ্রীষ্টাব্দ
  4. ৬৫০ - ১২০০ খ্রীষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৬৫০ - ১২০০ খ্রীষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫০ - ১২০০ খ্রীষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের রচনা কাল:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, ৯০০ - ১৩৫০ সালের মধ্যে চর্যাপদ রচিত।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪১.
বীণাপা'র গুরু কে ছিলেন?
  1. ভুসুকুপা
  2. ভাদেপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
ব্যাখ্যা
বীণাপা:
- বীণাপা'র জন্ম খ্রিষ্ট্রীয় নবম শতকে, গৌড়ে।
- তাঁর গুরু ছিলেন - ভাদেপা।
- তিনি সংস্কৃতগ্রন্থ বজ্রডাকিনী নিষ্পন্নক্রম রচনা করেন।
- তিনি চর্যাপদের ১৭ং পদ রচনা করেন। তাঁর পদের বিশেষত্ব হচ্ছে, এখানে সূর্য-চন্দ্রকে চমৎকার উপমায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৪৪২.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে চর্যাপদের ভাষা কেমন?
  1. সর্বজনবোধ্য ভাষা
  2. আলো আঁধারি ভাষা
  3. পূর্ণরূপে অন্ধকার
  4. সরল ও বোধগম্য
সঠিক উত্তর:
আলো আঁধারি ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো আঁধারি ভাষা
ব্যাখ্যা

সন্ধ্যাভাষা:
- চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।' - এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।
- তবে তত্ত্বজ্ঞানীদের কাছে এ ভাষা অবোধ্য নয় বলে এই অর্থ সমর্থনযোগ্য নয়। 
- মুনিদত্ত তাঁর টীকায় সন্ধাভাষ, সন্ধাভাষা, সন্ধ্যাবচন, সন্ধ্যাসংকেত, সন্ধ্যা ও ব্যাজ প্রভৃতি শব্দ চর্যার রূপকাশ্রিত দুর্বোধ্য অংশের বা প্রতীকী শব্দের ভাষ্য ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বারবার প্রয়োগ করেছেন।
- কারও মতে 'সন্ধ্যাদেশ' নামে বিশেষ অঞ্চলের ভাষার সঙ্গে চর্যাপদের ভাষার মিল আছে বলে এ নাম হয়েছে।
- তিব্বতি ভাষায় সন্ধ্যাভাষার অর্থ প্রহেলিকাচ্ছলে উক্ত দুরূহ তত্ত্বের ব্যাখ্যা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম।

৪৪৩.
“হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী”- চর্যাপদের এই প্রবাদ বাক্যটির রচয়িতা কে?  
  1. ভুসুকুপা 
  2. সরহপা 
  3. ঢেণ্ডণ পা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণ পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণ পা
ব্যাখ্যা

• “হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী”:
- “হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী” চর্যাপদের ৩৩ নং পদ।
- এই পদের রচয়িতা ঢেণ্ডণ পা। 
- এটি রাগ পটমঞ্জরীতে রচিত।
- পদের অর্থ হলো: হাঁড়িতে ভাত নেই অথচ প্রতিদিন অতিথি বা প্রেমিক আসে।
- পদটি চরম দারিদ্র্য ও অভাবের সংসারে নিত্য নতুন দায়-দায়িত্ব বা মানুষের আগমনে বিপাকে পড়ার রূপক চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
- অর্থাৎ, অভাব থাকা সত্ত্বেও অপ্রত্যাশিত চাপ ও দায়িত্বের আগমন অব্যাহত থাকে।

- ঢেণ্ডণ পা-এর আরেকটি বিখ্যাত পদ হলো- “দুহিল দুধু কী বেন্টে সামায়”।
-------------------------------------
প্রবাদ বাক্য:
- চর্যাপদ বৌদ্ধ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম, যা নৈতিক শিক্ষা এবং জীবনমুখী বার্তা সমৃদ্ধ।
- এতে মোট ৬টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে, যা সহজবোধ্য ভাষায় জ্ঞানগর্ভ উপদেশ প্রদান করে।
- এই প্রবাদগুলো হলো:
• আপণা মাংসে হরিণা বৈরী – নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে (রচয়িতা- ভুসুকুপা)। 
• দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় – একবার যা হয়েছে, তা ফেরানো যায় না।  
• হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন – যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই (রচয়িতা- সরহপা)।
• হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী – অভাব থাকা সত্ত্বেও নিত্য নতুন দায়-দায়িত্ব ও মানুষের আগমন অব্যাহত থাকে
• বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ – আমার দোষ নয়, অপরের; নিজেকে নির্দোষ ধরা (রচয়িতা- সরহপা)। 
• আন চাহন্তে আন বিনধা – অন্য কিছু চাইতে গিয়ে অন্য কিছু অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া বা ঘটে যাওয়া (রচয়িতা- কাহ্নপা)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪৪৪.
প্রাচীন যুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. মানবতা
  2. ধর্মকেন্দ্রিকতা
  3. সমষ্টিজীবন
  4. যুক্তিশীলতা
সঠিক উত্তর:
সমষ্টিজীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমষ্টিজীবন
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:
১) প্রাচীন যুগ,
২) মধ্যযুগ,
৩) আধুনিক যুগ।

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ। 
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪৫.
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।। - পদটি চর্যাপদের কততম পদ?
  1. ৩য় পদ
  2. ৪র্থ পদ
  3. ২য় পদ
  4. ১ম পদ
সঠিক উত্তর:
১ম পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ম পদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত প্রথম পদটি লুইপার রচনা।

পদ - ১
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।

লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'। 
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৬.
চর্যার কোন কবির পদে নারীদের গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. কাহ্নপা
  2. ডোম্বীপা
  3. ভাদেপা
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা
• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা।
- ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- ডোম্বীপাদের ১৪নং পদে নারীদের নৌকা চালনা, নৌকার জলসিঞ্চন, লোক পারাপার ইত্যাদির মতো কর্মে যুক্ত থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাছাড়া নারীরা গুরুর স্থানও অধিকার করেছিল।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

অন্যদিকে,
• কাহ্নপা একটি পদে (১০নং) জানিয়েছেন, এক ডোমিনী নগরে তাঁত ও চেঙারি বিক্রি করে। কাহ্নপার অন্য একটি পদে (১৮নং) ডোমনীর 'ছিনালী' করার কথা আছে।

• ভাদেপা চর্যার ৩৫নং পদ রচনা করেন। এই পদের মূলকথা হচ্ছে- ধর্মীয় তত্ত্বকথার বর্ণনা।

• কুক্কুরীপা একটি পদে (২নং) লিখেছেন, গৃহবধূটি বেশ ছল জানে। সে দিনের বেলায় কাকের ডাক শুনেই ভয় পায়, কিন্তু রাতে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৭.
চর্যাপদের পঞ্চাশতম পদের রচয়িতা কে?
  1. শবরপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. সরহপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা

শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪৮.
৪৮নং বিলুপ্ত পদটি কার রচনা?
  1. সরহপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতী  অনুবাদ করেছিলেন চর্যাগীতিকোষবৃত্তি নামে।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৪৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি?
  1. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  2. দোহাকোষ
  3. গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস
  4. ময়নামতির গান
সঠিক উত্তর:
দোহাকোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোহাকোষ
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'চর্যাপদ'কে দোহাকোষ নামে প্রকাশ করেন। চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

অন্যদিকে,
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ হচ্ছে অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- শুকুর মহম্মদের 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ও ভবানী দাসের 'ময়নামতির গান' নাথ সাহিত্য তথা মধ্যযুগের সাহিত্য নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৫০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা কত ছিলো?
  1. ২৩
  2. ২৪
  3. ২৫
  4. ২৮
সঠিক উত্তর:
২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে -

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
সে বিচারে এককথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।

এরা হলেন -
- লুইপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, ধর্মপা, ঢেণ্ডণপা, বিরুপা, বীণাপা, ভাদেপা, ভুসুকুপা, মহীধরপা, শবরপা, শান্তিপা, সরহপা, ডোম্বীপা, কম্বলাম্বরপা, গুণ্ডরীপা, চাটিল্লপা, আর্যদেবপা, দারিকপা, তাড়কপা, কঙ্কণপা, জয়নন্দীপা, তন্ত্রীপা, লাড়ীডোম্বীপা।

- লাড়ীডোম্বীপার কোনো পদ পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৫১.
চর্যাপদে কোন ধর্মের কথা বলা হয়েছে?
  1. ইসলাম ধর্ম
  2. বৌদ্ধ ধর্ম
  3. হিন্দু ধর্ম
  4. খ্রিষ্টান ধর্ম
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্ম
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- আধুনিক ছন্দের বিচারে চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদ রচনা হয়েছে ৬৫০ খিষ্ট্রব্দ এবং সুনীতকুমার চট্টপাধ্যায়ের মতে ৯৫০-১২০০ খিষ্ট্রাব্দের মধ্যে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের সংখ্যা ৫০ টি এবং সুনীতকুমার চট্টপাধ্যায়ের মতে ৫১ টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৪৫২.
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।"- চর্যার পদটি কোন কবির রচনা?
  1. শবরপা 
  2. ভুসুকুপা
  3. ঢেণ্ডুণপা 
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।"- এটি কুক্কুরীপা রচিত চর্যাপদের ২নং পদ।

• এর বাংলা অর্থ- দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই সে কামরূপ যায়।

------------------
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুক্কুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুক্কুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।

৪৫৩.
কীর্তিচন্দ্র কী নামে মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেন?
  1. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  2. আশ্চর্যচর্যাচয়
  3. চর্যাগীতিকোষ
  4. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'।
- নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।
- এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন।
- সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।
- মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।
- এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। 
- আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৫৪.
চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদক কে?
  1. কীর্তিচন্দ্র
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. মুনিদত্ত
  4. অতীশ দীপঙ্কর
সঠিক উত্তর:
কীর্তিচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কীর্তিচন্দ্র
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন — কীর্তিচন্দ্র। 
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত চর্যাপদে মুনিদত্ত নামক এক পন্ডিতের সংস্কৃত টীকা ছিল।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৫.
চর্যাপদে খণ্ডিত আকারে পাওয়া পদটির রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. তন্ত্রীপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

চর্যাপদে ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে
- এর ৬টি পঙক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪ পঙক্তি পাওয়া যায় নি।
- এর রচয়িতা ভুসুকুপা
• কাহ্নপা রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।
• তন্ত্রীপা রচিত ২৫নং পদটি পাওয়া যায় নি।
• কুক্কুরীপা রচিত ৪৮নং পদটি পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৬.
চর্যাপদের রচয়িতা কারা?
  1. আর্য সমাজের সদস্যগণ
  2. বৈষ্ণব কবিগণ
  3. বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
  4. শৈব সাধকগণ
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। তথা বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৭.
Sanskrit Buddhist Literature in Nepal’ গ্রন্থে কোন দেশের রাজ দরবারে বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন থাকার সম্ভাবনার কথা প্রথম জানা যায়?
  1. ভারত
  2. নেপাল
  3. তিব্বত
  4. ভুটান
সঠিক উত্তর:
নেপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেপাল
ব্যাখ্যা
১৮৮২ সালে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র তাঁর ‘Sanskrit Buddhist Literature in Nepal’ গ্রন্থে নেপালে বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন।
এই গ্রন্থের মাধ্যমে নেপালের রাজ দরবারে বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন থাকার সম্ভাবনার কথা প্রথম জানা যায়।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম কবিতা সংকলন -
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. সেক শুভোদয়া
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৪৫৯.
চর্যাপদ কত বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩০৭
  2. ১৩১৭
  3. ১৩১৬
  4. ১৩২৩
সঠিক উত্তর:
১৩২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩২৩
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ ১৩২৩ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।

- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যাপদ 
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত। 
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৪৬০.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রধান যুগ বিভাগ কয়টি ?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রধান যুগবিভাগ — তিনটি।
যথা-
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রি.),
২. মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০ খ্রি.) ও
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১-বর্তমান)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬১.
"মারি সাসু ননন্দ ঘরে সালী।
মাঅ মারি কাহ্ন ভইঅ কবালী।।" - এই পদের রচয়িতা কে?
  1. কঙ্কণপা
  2. দারিকপা
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
"মারি সাসু ননন্দ ঘরে সালী।
মাঅ মারি কাহ্ন ভইঅ কবালী।।" - এটি কাহ্নপা রচিত চর্যাপদের ১১নং পদ।

→ এই পদের আক্ষরিক অর্থ - "ঘরে শাশুড়ি ননদ শালীকে মেরে ও মাকে মেরে কাহ্ন কাপালি হল।"

কাহ্নপা:

- তিনি চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচয়িতা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩ টি পদ রচনা করেন। তার রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলো হল - ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৬২.
বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কত শতাব্দীতে?
  1. বিংশ শতাব্দী
  2. ঊনবিংশ শতাব্দী
  3. অষ্টাদশ শতাব্দী
  4. সপ্তদশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
বিংশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিংশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

⇒ সালের ভিত্তিতে শতাব্দী হলো:
• ১৯০১-২০০০ সাল পর্যন্ত সময় হচ্ছে বিংশ শতাব্দী।
• ১৮০১-১৯০০ সাল পর্যন্ত সময়কে ঊনবিংশ শতাব্দী বলে।
• ১৭০১-১৮০০ সাল পর্যন্ত সময়কে অষ্টাদশ শতাব্দী বলে।
• ১৬০১-১৭০০ সাল পর্যন্ত সময়কে সপ্তদশ শতাব্দী বলে।

• অতএব,  ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কতৃক চর্যাপদ আবিষ্কার/উদ্ধারের সময় কাল হচ্ছে বিংশ শতাব্দী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৬৩.
চর্যাপদের সবচেয়ে প্রাচীন কবি শবরপা কার শিষ্য ছিলেন?
  1. ক) লুইপা
  2. খ) কাহ্নপা
  3. গ) নাগার্জুন
  4. ঘ) আর্যদেব
সঠিক উত্তর:
গ) নাগার্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাগার্জুন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা - তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল - ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- ড. শহীদুল্লাহর মতে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অধিবাসী ছিলেন।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

• শবরপা রচিত দুইটি উল্লেখযোগ্য পঙক্তি - 
- 'উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী'

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪৬৪.
ভুসুকুপা-র প্রকৃত নাম কী?
  1. লুইদেব
  2. শান্তিদেব
  3. মীননাথ
  4. কাহ্নদেব
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শান্তিদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শান্তিদেব
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৬৫.
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী /
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।"- চর্যার কত নং পদ?
  1. ২নং
  2. ৪৯নং
  3. ১নং
  4. ৩৩নং
সঠিক উত্তর:
৩৩নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩নং
ব্যাখ্যা
• "টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী /
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।"- চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা ঢেণ্ঢণপা।

• আধুনিক গদ্যে রূপান্তর:
টালেতে [জনপদে] আমার ঘর, [অথচ] পড়শি নেই। হাড়িতে ভাত নেই, [অথচ] নিত্য অতিথি।

--------------
• ঢেণ্ঢণপা: 
- চর্যাগীতির তেত্রিশ সংখ্যক গানের রচয়িতা ঢেণ্টণপা। বর্ণরত্নাকরের নাথ সিদ্ধাদের নামের যে তালিকা রয়েছে তাতে ঢেণ্ঢণপার উল্লেখ রয়েছে। তবে এ ঢেণ্ঢণপা আর চর্যাপদকার একই ব্যক্তি কি না তা নিঃসন্দেহে বলা যায় না।

- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন। চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তাঁর রচনা। তাঁর রচিত পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

- ঢেণ্ঢণপা দেবপাল ও বিগ্রহ পালের রাজত্বকালে (৮১০-৮৮০ খ্রিষ্টাব্দ) বর্তমান ছিলেন বলে পণ্ডিতদের অভিমত। কিছু কিছু গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ঢেণ্ঢণপা অবন্তীনগরে বাস করেছেন।

- 'ঢেণ্ঢণ' শব্দের তিব্বতি রূপ ধেতন। তিব্বতী ঐতিহ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন কাহ্নের বংশধর।

- ঢেণ্ঢণপা রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ 'চতুর্যোগভাবনা'। সংস্কৃত টীকাকাররা গ্রন্থটির পাঠোদ্ধার করতে না পেরে একে বলেছেন 'সান্ধ্যভাষা'।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৬.
'অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' - লাইনটি কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. লোক সাহিত্য
  2. ব্রজবুলি
  3. বৈষ্ণব পদাবলী
  4. চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
- 'চর্যাপদ' বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
-  'ভুসুকুপা' দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- 'ভুসুকুপা' রচিত উল্লেখযোগ্য পংক্তি  'অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী।'

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]
৪৬৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা-
  1. ৪৬ টি
  2. সাড়ে ৪৬ টি
  3. ৪৯ টি
  4. ৫০ টি
সঠিক উত্তর:
সাড়ে ৪৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়ে ৪৬ টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - কাহ্নপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (১৩টি)।
- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - ভুসুকুপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৮টি)।
- চর্যাপদের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - সরহপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৪টি)।
- চর্যাপদের চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - কুক্কুরীপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৩টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৮.
কীর্তিচন্দ্র চর্যাপদ কোন ভাষায় অনুবাদ করেন?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. পালি
  4. তিব্বতি
সঠিক উত্তর:
তিব্বতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বতি
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪৬৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের প্রধান নিদর্শন কোনটি?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. চর্যাপদ
  3. রামায়ণ
  4. পদাবলি
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের প্রধান নিদর্শন হচ্ছে চর্যাপদ।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭০.
চর্যাপদের কবি ঢেণ্ডণপা পেশায় ছিলেন একজন-
  1. নৌকা চালক 
  2. তাঁতি
  3. কামার 
  4. মন্ত্রী 
সঠিক উত্তর:
তাঁতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁতি
ব্যাখ্যা

• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।’- চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা চর্যাকার ঢেণ্ডণপা।

- অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪৭১.
কাহ্নপা রচিত কত নং পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ৪০নং
  2. ২৪নং
  3. ১৮নং
  4. ১৩নং
সঠিক উত্তর:
২৪নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪নং
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি

উল্লেখ্য,
- চর্যাপদের মোট ৫১ টি পদ রয়েছে; এই পদগুলোর মধ্যে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদগুলো পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ২৩ নং পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- পদটির রচয়িতা ছিলেন ভুসুকুপা। ২৩ নং পদের ৬টি পদ বা লাইন পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৭২.
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন 'চর্যাপদ' আবিস্কৃত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯০৬
  2. খ) ১৯০৯
  3. গ) ১৯০৭
  4. ঘ) ১৯০৮
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯০৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯০৭
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত। 
- চর্যাপদ গ্রন্থে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
৪৭৩.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' - পদটির রচয়িতা কে?
  1. ঢেণ্ডণপা
  2. বীণাপা
  3. ভাদেপা
  4. শান্তিপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা
ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

চর্যার ৩৩নং পদটি হলো:

'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' - অর্থাৎ, লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭৪.
চর্যাপদের কোন কবি অতীশ দীপঙ্করের গুরু ছিলেন?
  1. কাহ্নপা
  2. শান্তিপা
  3. শবরপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
শান্তিপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শান্তিপা
ব্যাখ্যা
• শান্তিপা:
- রাজা মহীপালের (৯৮৮-১০৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) রাজত্বকালে শান্তিপা জীবিত ছিলেন বলে ধারণা করা যায়।
- মগধবাসী শান্তিপা ছিলেন অতীশ দীপঙ্করের গুরু।
- প্রথম জীবনে ব্রাহ্মণ ছিলেন পরে বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত হন।
- তিনি একাধারে কুলগুরু ও রাজগুরু ছিলেন। নালন্দায় অধ্যাপনা করেছেন বলেও ধারণা করা হয়।
- তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'সুখদুঃখদ্বয়', 'পরিত্যাগ দৃষ্টি'।

উল্লেখ্য,
অতীশ দীপঙ্কর দশম থেকে একাদশ শতকের মধ্যে বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত এবং ধর্মপ্রচারক ছিলেন।
---------------------------- 
• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ - ড. মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৭৫.
চর্যাপদের মহিলা কবি হিসেবে কাকে অনুমান করা হয়?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের মহিলা কবি:  
- চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- চর্যাপদ পাল শাসনামলে রচিত হয়েছে।
- চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- চর্যাপদে ৬ টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া যায়।
- চর্যাপদের বয়স আনুমানিক ১০০০ বছর।
- চর্যাপদের রচনাকাল সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী।তা না থাকলে দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী।
- সুনীতিকুমার ১৯২৬ সালে ‘Origin and Development of the Bengali Language'(ODBL) গ্রন্থ রচনা করে চর্যাপদকে বাংলা সাহিত্যের বলে প্রমাণ করেন।

- ধারনা করা হয় চর্যাপদের একমাত্র মহিলা কবি ছিলেন কুক্কুরীপা। 
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি হিসেবে ধরা হয়।
- ধারণা করা হয়, তিনি চর্যাপদের ৩টি পদ লিখেছেন—২, ২০ এবং ৪৮ নং, যদিও ৪৮ নং পদ আজ পাওয়া যায়নি।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, কুক্কুরীপা ৮ম শতকের প্রথমার্ধে বর্তমান বাংলাদেশের অঞ্চলের লোক ছিলেন।
- এবং বৌদ্ধ তন্ত্র সাধনার মাধ্যমে মহামায়ার সাধনা শুরু করেছিলেন।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, কুক্কুরীপার ভাষার সঙ্গে নারীদের ভাষার মিল দেখা যায়।
- ধারনা করা হয়, কুক্কুরীপা ছিলেন ইন্দ্রভূতির অন্যতম গুরু। 

- রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে,
• কুক্কুরীপা দেবপালের রাজত্বকালে ছিলেন।
• তার জন্মস্থান কপিলবস্তু এবং জন্ম হয়েছিল ব্রাহ্মণ বংশে।
• তিনি একজন সিদ্ধা ছিলেন।

- তারানাথের মতে, একটি কুকুরী সর্বদা সঙ্গে রাখতেন তাই এই সিদ্ধা কুক্কুরীপা নামে পরিচিত।
- কুক্কুরীপার লেখা চর্যাপদের ভাষা সহজ, গ্রাম্য এবং লোকসঙ্গীতের মতো।
- তার পরিচিত পংক্তি হলো—“দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই রাতি ভইলে কামরু জাই।" 

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।  

৪৭৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. জগদানন্দপা
  2. আর্যদেবপা
  3. শান্তিপা
  4. চাটিল্লপা
সঠিক উত্তর:
জগদানন্দপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগদানন্দপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি নন- জগদানন্দপা। 
- জগদানন্দ ছিলেন বৈষ্ণব সাহিত্যের পণ্ডিত। 

--------------------
• চর্যাপদ:

- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের - একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে * (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদ কবিগণ হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা,  মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৭৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কে আবিষ্কার করেন?
  1. রাজেন্দ্রলাল বসু
  2. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. বসন্তরঞ্জনরায় বিদ্বদ্বল্লভ
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৪৭৮.
ভুসুকুপা কয়টি পদ রচনা করেন?
  1. সাতটি
  2. আটটি
  3. নয়টি
  4. দশটি
সঠিক উত্তর:
আটটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটটি
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৭৯.
চর্যাপদের কবি ছিলেন কে?
  1. হরিরাম
  2. ময়ূরভট্ট
  3. জয়দেব
  4. মহীধর
সঠিক উত্তর:
মহীধর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহীধর
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম উল্লেখ আছে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদের কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

অন্যদিকে, 
•'হরিরাম' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি। 
• 'ময়ূরভট্ট' ধর্মমঙ্গল কাব্যের কবি। 
• 'জয়দেব' বৈষ্ণব পদাবলির কবি। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪৮০.
প্রথম কোথায় থেকে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়?
  1. নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে
  2. কলকাতা শ্রীরামপুর মিশন থেকে
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে
  4. ঢাকা বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
 
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। 
- মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৪৮১.
'জয়নন্দী' কোন সাহিত্যকর্মের সাথে জড়িত?
  1. চর্যাপদ
  2. জীবনী সাহিত্য
  3. সেক শুভোদয়া
  4. বৈঞ্চব পদাবলী
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
- তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে।
- নামের শেষে গৌরবসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়েছে।
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা। 

• চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন:
- লুই, কুক্কুরী, বিরুআ, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, সবর, আর্জদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৪৮২.
প্রথম বাঙালি কবি বিবেচনা করা হয় কাকে?
  1. ক) মীননাথ
  2. খ) ভুসুকুপা
  3. গ) শবরপা
  4. ঘ) লুইপা
সঠিক উত্তর:
ক) মীননাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মীননাথ
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটিতে ''চর্যাপদের প্রথম বাঙালি কবি'' কে সেটা জানতে চাওয়া হয়নি। বরং ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রথম বাঙালি কবি কে সেটা জানতে চাওয়া হয়েছে।
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন,
১) শবর পা চর্যাপদের আদি কবি।
২) মৎস্যেন্দ্রনাথ তথা মীননাথ প্রথম বাঙালি কবি। মীননাথের চর্যাপদে কোন পদ নেই। ২১ নং চর্যার টীকাতে কেবল ৪টি পঙক্তির উল্লেখ রয়েছে।

এটা নিয়ে অবশ্য বিভেদ আছে। যেমনভাবে - বিভেদ আছে প্রাচীন ও মধ্য যুগের আরও অনেক তথ্য নিয়ে। তবে, প্রশ্নে স্পেসিফিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
তাই, উত্তর পুরোপুরি ঠিক আছে।

সুত্র: [বাংলা সাহিত্যের কথা - ১ম খন্ড ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, বাংলা সাহত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল হক]
৪৮৩.
চর্যাপদের নিচের কোন পদটি সম্পূর্ণভাবে পাওয়া গেছে?
  1. ২৪ নং
  2. ২৫ নং
  3. ৪৮ নং
  4. ৪৬ নং
সঠিক উত্তর:
৪৬ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬ নং
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা - ৫১টি ও প্রাপ্ত পদ সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত পাওয়া গেছে।
- এই পদের ৬ টি পঙক্তি পাওয়া গেছে, বাকি ৪ টি পঙক্তি পদ পাওয়া যায়নি।
- এর রচয়িতা - ভুসুকুপা।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৮৪.
ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যাপদের কোন ভাষার অনুবাদ প্রকাশিত হয়?
  1. সংস্কৃত ভাষার 
  2. তিব্বতি ভাষার
  3. সান্ধ্য ভাষার 
  4. বাংলা ভাষার 
সঠিক উত্তর:
তিব্বতি ভাষার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বতি ভাষার
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।

- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন।

- মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৮৫.
বিরুপার গুরু ছিলেন -
  1. কুক্কুরীপা
  2. শান্তিপা
  3. লুইপা
  4. জালন্ধরীপা
সঠিক উত্তর:
জালন্ধরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জালন্ধরীপা
ব্যাখ্যা
বিরুপা:
- বিরুপা'র অবস্থান ছিলো, অষ্টম শতকের ত্রিপুরায়।
- বিরুপার গুরু ছিলেন - জালন্ধরীপা। তার রচর্যাপদে পদের সংখ্যা একটি। তিনি ৩নং পদ রচনা করেন।
- এই পদে বর্ণিত হয়েছে, শুঁড়িবাড়ির উপযুক্ত চিত্র। বলা হয়েছে, এক শুঁড়িনী দুই ঘরে ঢুকে বাকল দিয়ে মদের পাত্র বাধেঁ।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৪৮৬.
বৌদ্ধদের কোন সম্প্রদায়ের সাধকগণ চর্যাপদ রচনা করেন?
  1. মহাযানী
  2. সহজযানী
  3. হীনযানী
  4. বজ্রযানী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সহজযানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহজযানী
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন ⎯ চর্যাপদ। এটি মূলত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদের বিষয়বস্তু ছিল বৌদ্ধ ধর্মমতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।

সহজিয়া বলতে বোঝায়-
• সহজিয়া একটি বিশেষ ধর্মসম্প্রদায়, যারা সহজপথে সাধনা করে। ‘সহজ’ শব্দের অর্থ যা সঙ্গে সঙ্গেই জন্মায়। জীব বা জড়ের বাহ্য রূপের সঙ্গে সঙ্গে তার ভেতরেও একটি শাশ্বত স্বরূপ জন্মলাভ করে। এই শাশ্বত স্বরূপই ‘সহজ’। এর উপলব্ধির মধ্য দিয়েই যাবতীয় প্রাণী ও বস্ত্তর উপলব্ধি হয়। আর এই উপলব্ধির প্রণালীই হলো সহজপথ।

• সহজিয়ারা দুই ভাগে বিভক্ত বৌদ্ধ সহজিয়া ও বৈষ্ণব সহজিয়া। বৌদ্ধ সহজিয়াদের উদ্ভব বজ্রযানী বৌদ্ধদের থেকে এবং তাদেরই অনুকরণে বৈষ্ণবদের একটি অংশ বৈষ্ণব সহজিয়া নামে পরিচিত হয়।

• বৌদ্ধ সহজিয়া মতবাদ সহজযান নামে পরিচিত। বজ্রযানী বৌদ্ধদের মধ্যে মন্ত্র-তন্ত্র, পূজার্চনা, ব্রত-নিয়ম, শাস্ত্রপাঠ ইত্যাদির প্রাবল্য দেখা দিলে তাদেরই একটি অংশ উপলব্ধি করে যে, এসব শাস্ত্রাচার পালন নিরর্থক; প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই বোধি বা বুদ্ধ আছেন এবং কেবল সহজ-সাধনায় তাঁকে উপলব্ধি করতে পারলেই মোক্ষলাভ করা যায়। এভাবেই পাল রাজাদের আমলে বাংলায় বৌদ্ধ সহজিয়া মতের উদ্ভব হয়।

• বৃহত্তর অর্থে বৌদ্ধধর্মের যে মহাযান ধর্মমত, তাই পরে বজ্রযান, কালচক্রযান, মন্ত্রযান, সহজযান ইত্যাদি উপবিভাগে বিভক্ত হয়।
• চর্যাপদের রচয়িতাগণ বৌদ্ধধর্মের সহজযান মতের অনুসারী ছিলেন।

• সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে ‘বৌদ্ধ সহজিয়াগণ’ বা সহজযান বৌদ্ধরা ছিলেন চর্যাপদের কবি। সুতরাং অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘সহজযানী’ গ্রহণ করা হলো।

চর্যাপদ সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য:

- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- চর্যাপদের ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। এবং চর্যাপদের ২৪, ২৫, ৪৮নং পদগুলো পাওয়া যায়নি। 
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, বীণাপা, আর্যদেব, ঢেণ্ডুণপা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (১ম খণ্ড), গোপাল হালদার; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪৮৭.
চর্যাপদের পদকর্তাদের নামের সঙ্গে যুক্ত ‘পা’ এর অর্থ কী?
  1. পদ
  2. সাধক
  3. কবি
  4. বাউল
সঠিক উত্তর:
কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের পদকর্তারা ‘পদ’ (কবিতা) রচনা করতেন বলে তাদেরকে সম্মান করে ‘পাদ’ (কবি) বলা হত।
- ‘পাদ’ শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ‘পা’, যার অর্থ কবি।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৮৮.
কীর্তিচন্দ্র কোন ভাষায় চর্যাপদ অনুবাদ করেন?
  1. সংস্কৃত ভাষায়
  2. তিব্বতী ভাষায়
  3. হিন্দি ভাষায়
  4. বাংলা ভাষায় 
সঠিক উত্তর:
তিব্বতী ভাষায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বতী ভাষায়
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তা প্রকাশ করে চর্যার জট উন্মোচন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৮৯.
সরহপা'র শিষ্য কে ছিলেন?
  1. রাজা দেবপাল
  2. রাজা বিজয়পাল
  3. রাজা রত্নপাল
  4. রাজা ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
রাজা রত্নপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রত্নপাল
ব্যাখ্যা
সরহপা:
- সরহপা ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য। তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন। তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ-কামরূপী।
- তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা। তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৯০.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কী নামে চর্যাপদের পুথিখানি প্রকাশ করেছিলেন?
  1. চর্যাগীতিকা
  2. চর্যাচর্য্যবিনিশ্চয়
  3. হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
  4. চর্যাপদাবলি
সঠিক উত্তর:
হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে। এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। 'চর্যাপদ' মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৯১.
চর্যাপদের কোন কবিকে আদি সিদ্ধাচার্য বিবেচনা করা হয়? 
  1. কুক্কুরীপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা

• লুইপা:
- সাধারণত লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও রাহুল সংকৃত্যায়ন তাঁকে প্রথম বলে স্বীকার করেন না।
-  বাঙালি বলে অনুমিত। উড়িষ্যায় তাঁর জন্মস্থান বলে কারও কারও ধারণা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন, তারানাথের মতে লুই বাংলাদেশের গঙ্গার ধারে বাস করতেন।
- তিনি প্রথম জীবনে উদ্যানের (সোয়াতের) রাজার কায়স্থ বা লেখক ছিলেন। তখন তাঁর নাম ছিল সামন্ত শুভ।
- তিনি উড়িষ্যার রাজা ও মন্ত্রীর গুরু ছিলেন। লুইপার জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ সাল।
- সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর একটি গ্রন্থের নাম 'অভিসময়বিভঙ্গ।'
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন। পদ দুইটি হলো ১নং ও ২৯নং পদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৯২.
চর্যাপদের পদগুলো কোন ছন্দে রচিত?
  1. মহাকাব্যিক ছন্দ
  2. পদাবলী ছন্দ
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. ত্রিনয়নী ছন্দ
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৯৩.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত যে গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে-
  1. বাংলা সাহিত্যের কথা
  2. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  3. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
  4. Buddhist Mystic Songs
সঠিক উত্তর:
Buddhist Mystic Songs
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Buddhist Mystic Songs
ব্যাখ্যা

'Buddhist Mystic Songs'
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত গ্রন্থ 'Buddhist Mystic Songs'
- এই গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদ:

- বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন হলো চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায় সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে।
- চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি।
- তবে সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫১টি।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৯৪.
চর্যাপদের বিষয়বস্তু ছিলো-
  1. হিন্দু ধর্মের তত্ত্ব প্রকাশ
  2. খ্রিষ্ট ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ
  3. জৈনধর্মের তত্ত্ব প্রকাশ
  4. বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
• চর্যাপদ হচ্ছে গানের সংকলন।
• চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
• চর্যাপদ রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। সহজিয়াগণ হচ্ছে বৌদ্ধ সহজযান পন্থি।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে। সুকুমার সেনের হিসাবে ৫১টি পদ এবং মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন ৫০টি পদ। চর্যাপদ ছিন্নবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মতান্তরের সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯৫.
ড. সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের রচনাকাল -
  1. ৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯০০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৯০০ - ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের রচনা কাল সম্পর্কে গবেষকদের অভিমত -
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে ।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, ৯৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে চর্যাপদ রচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৯৬.
কোন পদকর্তার চর্যাপদে কোনো পদ খুঁজে পাওয়া যায়নি?
  1. জয়নন্দী
  2. লাড়ীডোম্বীপা
  3. তাড়কপা
  4. মহীধরপা
সঠিক উত্তর:
লাড়ীডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাড়ীডোম্বীপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের কবি: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গানের মাঝে ও শেষে তাঁরা ভণিতা দিয়েছেন। তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে। নামের শেষে গৌরবসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়েছে।

চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন: 
- লুই, কুক্কুরী, বিরুপা, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, সবর, আজদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী।

- লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য,
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা।
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা। 
- তাড়কপা ৩৭ নম্বর পদ রচয়িতা। 
- মহীধরপা ১৬ নম্বর পদের রচয়িতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৯৭.
"দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসেঁ।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসেঁ॥" - চর্যাপদের চরণটির রচয়িতা কে?
  1. সরহপা
  2. কাহ্নপা
  3. বীণাপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসেঁ।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসেঁ॥ - এই চরণটির রচয়িতা কাহ্নপা

কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি। কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

কাহ্নপা রচিত চর্যাগীতির একটি নিদর্শন:

এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ॥
কাহ বিলসঅ আসব মাতা।
সহজ নলিনীবণ পইসি নিবিতা॥
জিম জিম করিণা করিণিরে রিসঅ।
তিম তিম তথতা মঅগল বরিসঅ ৷ ছড়গই সঅল সহাবে সুধ।
ভাবাভাব বলাগ ন দুধ।
দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসেঁ।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসেঁ॥

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৯৮.
এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।। - পদটি রচনা করেন কে?
  1. লুইপা
  2. ভাদেপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
ব্যাখ্যা

এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে। 
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।।
(অর্থাৎ এতকাল আমি স্বমোহে ছিলাম, এখন সদগুরু বুঝলাম । ) - পদটি রচয়িতা - ভাদেপা
- এটি চর্যাপদের ৩৫ নম্বর পদ।

ভাদেপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো।
- তিনি শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৩৫ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৯৯.
কোন গ্রন্থে নেপালের রাজ দরবারে বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন থাকার সম্ভাবনার কথা প্রথম জানা যায়?
  1. ক) Buddist Mystic Song
  2. খ) The Sanskrit Buddhist Literature of Nepal
  3. গ) Buddha Gaya, the Hermitage of Sakya Muni
  4. ঘ) The Origin and Development of the Bengali Language
সঠিক উত্তর:
খ) The Sanskrit Buddhist Literature of Nepal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) The Sanskrit Buddhist Literature of Nepal
ব্যাখ্যা
১৮৮২ সালে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র তাঁর ‘Sanskrit Buddhist Literature in Nepal’ গ্রন্থে নেপালে বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। এই গ্রন্থের মাধ্যমে নেপালের রাজ দরবারে বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন থাকার সম্ভাবনার কথা প্রথম জানা যায়। সূত্রঃ Livemcq লেকচার পিডিএফ।
৫০০.
কোন চর্যাকার বাংলাদেশের লোক ছিলেন?
  1. ক) ভুসুকুপা
  2. খ) ধর্মপা
  3. গ) ভাদেপা
  4. ঘ) কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
ক) ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচিয়তা ভুসুকুপা। 
- তিনি আটটি পদ রচনা করেন।
- তিনি ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯ নং পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা তাঁর ছদ্মনাম, প্রকৃত নাম শান্তিদেব। তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

'আজি ভুসুকু বাঙালি ভইলি।
নিএ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'
-- ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

উল্লেখ্য,
 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শবরপা বাঙ্গালি কবি ছিলেন ও তার জন্ম এই অঞ্চলে হয়েছিলো।
- প্রশ্নের অপশনে ভুসুকপা না থাকলে শবরপা সঠিক উত্তর হবে।