বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ও তফসিল

মোট প্রশ্ন৯৩৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ও তফসিল

PrepBank · পাতা / ১০ · ৫০১৬০০ / ৯৩৬

৫০১.
কোন সাংবিধানিক পদে শপথ গ্রহণ প্রয়োজন হয় না?
  1. সরকারী কর্ম-কমিশনের চেয়ারম্যান
  2. ডেপুটি স্পিকার
  3. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  4. অ্যাটর্নি জেনারেল
সঠিক উত্তর:
অ্যাটর্নি জেনারেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেলের পদটি সাংবিধানিক পদ হলেও এপদের শপথ গ্রহণ করতে হয় না। অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং নিয়োগ লাভের পর তিনি রাষ্ট্রপতি বরাবরে যোগদানপত্র দাখিল সাপেক্ষে পদে আসীন হন।

সাংবিধানিক পদ:

- সংবিধান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
- সাংবিধানিক উপায়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, পদের মেয়াদ, পদমর্যাদা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

⇒ সাংবিধানিক পদগুলো হলো:
• রাষ্ট্রপতি,
• প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীগণ,
• স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার,
• প্রধান বিচারপতি,
• সংসদ সদস্য,
• প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার,
• মহা-হিসাব রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
• সরকারী কর্ম-কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য,
• অ্যাটর্নি জেনারেল (একমাত্র সাংবিধানিক পদের ব্যক্তি যাকে শপথ পড়তে হয় না। রাষ্ট্রপতির অঙ্গীকার তার শপথ)।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। [link]
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৫০২.
’গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখিত?
  1. ১৮নং
  2. ১৬নং
  3. ১৩নং
  4. ৯নং
সঠিক উত্তর:
১৬নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ১৬নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।

অন্যদিকে,
’মালিকানার নীতি’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৩নং অনুচ্ছেদ।
’পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৮নং অনুচ্ছেদ।
’জাতীয়তাবাদ’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ৯নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫০৩.
'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ২(ক)
  2. ৪(ক)
  3. ৫(১)
সঠিক উত্তর:
২(ক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২(ক)
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রধর্ম:
- অনুচ্ছেদ ২ক এ রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে বলা আছে।
- [২ক। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন]

অন্যদিকে,
- ৩নং অনুচ্ছেদঃ রাষ্ট্রভাষা।
- ৪নং অনুচ্ছেদঃ জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- ৪ক। জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
- ৫৷ (১) প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷ 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫০৪.
সংবিধানের তৃতীয় তফসিলের বিষয়বস্তু- 
  1. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
  2. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
  3. শপথ ও ঘোষণা
  4. স্বাধীনতার ঘোষণা
সঠিক উত্তর:
শপথ ও ঘোষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শপথ ও ঘোষণা
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিলসমূহ:
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস:  বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ।

৫০৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি সম্পর্কে বলা আছে?
  1. ৫১ নং
  2. ৫২ নং
  3. ৫৩ নং
  4. ৫৪ নং
সঠিক উত্তর:
৫১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১ নং
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি হলেন রাষ্ট্রপতি।
- তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সকল সন্মানের উৎস।
- সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকার রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আইন অনুসারে সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫১ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি সম্পর্কে বলা আছে।
- অনুচ্ছেদ ৫১ (১) অনুযায়ী এই সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদের হানি না ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালন কতে গিয়ে কিংবা অনুরূপ বিবেচনায় কোন কার্য করে থাকলে তাঁকে কোন আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না, তবে এই দফা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যধারা গ্রহণে কোন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুন্ন করবে না।
- অনুচ্ছেদ ৫১ (২) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রকার ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা যাবে না এবং তাঁর গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালত হতে পরোয়ানা জারী করা যাবে না।

অন্যদিকে,
- ৫২ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতির অভিশংসন। 
- ৫৩ নং অনুচ্ছেদ: অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ। 
- ৫৪ নং অনুচ্ছেদ: অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫০৬.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ প্রদান করেন?
  1. ৭২ নং
  2. ৭৩ নং
  3. ৭৪ নং
  4. ৭৫ নং
সঠিক উত্তর:
৭৩ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৩ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান: 
- সংবিধানের ৭৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, 

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী:
(১) রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান এবং বাণী প্রেরণ করতে পারবেন।
(২) সংসদ-সদস্যদের প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় এবং প্রত্যেক বৎসর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান করবেন।
(৩) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণ শ্রবণ বা প্রেরিত বাণী প্রাপ্তির পর সংসদ উক্ত ভাষণ বা বাণী সম্পর্কে আলোচনা করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫০৭.
’জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২১(২)
  2. ১৯(৩)
  3. ২২
  4. ২৪
সঠিক উত্তর:
১৯(৩)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯(৩)
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান: 
- সুযোগের সমতা ১৯(১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন৷
- (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন৷
 - ১৯(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫০৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা' নিয়ে বলা হয়েছে?
  1. ১৭ নং
  2. ১১ নং
  3. ১৬ নং
  4. ২২ নং
সঠিক উত্তর:
১৭ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
⇒ সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে।
- ১৭ (ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য;
- ১৭ (খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য;
- ১৭(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে,
- ১১ নং অনুচ্ছেদ: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার,
- ১৬ নং অনুচ্ছেদ: গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- ২২ নং অনুচ্ছেদ: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৫০৯.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে? 
  1. ১৫১ নং
  2. ১৫২ নং
  3. ১৫৩ নং
  4. ১৪৫ নং
সঠিক উত্তর:
১৫২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫২ নং
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে,

১৫২। (১) বিষয় বা প্রসঙ্গের প্রয়োজনে অন্যরূপ না হইলে এই সংবিধানে,

• "রাজনৈতিক দল" বলিতে এমন একটি অধিসঙ্ঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি অন্তর্ভুক্ত, যে অধিসঙ্ঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি সংসদের অভ্যন্তরে বা বাহিরে স্বাতন্ত্র্যসূচক কোন নামে কার্য করেন এবং কোন রাজনৈতিক মত প্রচারের বা কোন রাজনৈতিক তৎপরতা পরিচালনার উদ্দেশ্যে অন্যান্য অধিসঙ্ঘ হইতে পৃথক কোন অধিসঙ্ঘ হিসাবে নিজদিগকে প্রকাশ করেন;

• সংবিধানের বিভিন্ন টার্মের ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞা দেওয়া আছে ১৫২ নং অনুচ্ছদে।

তথ্যসূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

৫১০.
সংবিধান কোন অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধন করার বিধান রয়েছে?
  1. ১৪৭ নং
  2. ১৪২ নং
  3. ১৪৫ নং
  4. ১৪১ নং
সঠিক উত্তর:
১৪২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪২ নং
ব্যাখ্যা
১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধন করার বিধান রয়েছে।

• সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা: 
-  ১৪২ নং:  সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হতে পারে।
- সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হবে না।
- উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করবে।
- এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য,
১৪১ ক: জরুরী-অবস্থা ঘোষণা;
১৪১ খ: জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ;
১৪১গ: জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ;
১৪৫: চুক্তি ও দলিল;
১৪৫ক: আন্তর্জাতিক চুক্তি;
১৪৭: কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি;
১৪৮: পদের শপথ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
৫১১.
নিচের কোনটি বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতি?
  1. বাক স্বাধীনতা
  2. ধর্মীয় নিরপেক্ষতা
  3. আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় নিরপেক্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় নিরপেক্ষতা
ব্যাখ্যা
→ ধর্মীয় নিরপেক্ষতা

বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতি:
১).জাতীয়তাবাদ:
- মূল সংবিধানের ৯নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে। বাঙালি জাতির সেই ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।

২) সমাজতন্ত্র:
- মূল সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,
- "মানুষের উপর মানুষের শোষণের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ানুগ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শোষণহীন সমাজ কায়েম করা হবে।"
- সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করার লক্ষ্য ছিল মূলত মেহনতি মানুষকে সকল প্রকার শোষণ হতে মুক্তি দেয়া। 

৩) গণতন্ত্র:

- সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- যেখানে মৌলিক মানবাধিকার, স্বাধীনতার নিশ্চয়তা এবং মানবসত্তার মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে।

২) ধর্ম নিরপেক্ষতা:
- সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
- "রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোন ধর্মের ব্যবহার,
- কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির বৈষম্য বা তার উপর উৎপীড়ন করা হবে না।"

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫১২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২২(ক)
  2. অনুচ্ছেদ ২৩(ক)
  3. অনুচ্ছেদ ২৪(ক)
  4. অনুচ্ছেদ ২৫(ক)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ২৩(ক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ২৩(ক)
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ২০ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।
- অনুচ্ছেদ ২১ - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২২ - নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- অনুচ্ছেদ ২৩ - জাতীয় সংস্কৃতির কথা বলা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ২৩(ক) - উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির উল্লেখ রয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ২৪ - জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ২৫ - আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২৬ মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- অনুচ্ছেদ ২৮ ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- অনুচ্ছেদ ২৯ - সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ৩০- বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৫১৩.
'বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন'-সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত? 
  1. ১০৬ নং 
  2. ১১২ নং 
  3. ১১৬ক নং 
  4. ১২২ নং
সঠিক উত্তর:
১১৬ক নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৬ক নং 
ব্যাখ্যা

বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন:
- সংবিধানের ১১৬ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন। 
- অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ নং অনুচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার: যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এমন কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয় বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দেয়, যা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করতে পারবেন।
- ১১২ নং অনুচ্ছেদ" বলতে সাধারণত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদটিকে বোঝায়, যা সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা সংক্রান্ত। 
- সংবিধানের ১২২ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে, ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫১৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে গ্রেপ্তার ও আটক বিষয়ে নাগরিকের রক্ষাকবচ উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৩৫ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৪ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৩৩ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩২ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৩৩ নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৩৩গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ
-  (১) গ্রেপ্তারকৃত কোন ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেপ্তারের কারণ জ্ঞাপন না করিয়া প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তাঁহার মনোনীত আইনজীবীর সহিত পরামর্শের ও তাঁহার দ্বারা আত্মপক্ষ-সমর্থনের অধিকার হইতে বঞ্চিত করা যাইবে না।
- (২) গ্রেপ্তারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে গ্রেপ্তারের চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে (গ্রেপ্তারের স্থান হইতে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ব্যতিরেকে) হাজির করা হইবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত তাঁহাকে তদতিরিক্তকাল প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না।
- (৩) এই অনুচ্ছেদের (১) ও (২) দফার কোন কিছুই সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না,
- (ক) যিনি বর্তমান সময়ের জন্য বিদেশী শত্রু; অথবা
- (খ) যাঁহাকে নিবর্তনমূলক আটকের বিধান-সংবলিত কোন আইনের অধীন গ্রেপ্তার করা হইয়াছে বা আটক করা হইয়াছে।

অন্যদিকে,
- ৩২ অনুচ্ছেদ হলো  জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ। 
- ৩৪ অনুচ্ছেদ হলো জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।
- ৩৫ অনুচ্ছেদ হলো বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫১৫.
সংবিধান অনুসারে কোনটিকে অর্থবিল হিসেবে গণ্য করা হয় না?
  1. সরকার কর্তৃক ঋণ গ্রহণ
  2. সংযুক্ত তহবিল সংক্রান্ত ব্যয়
  3. স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর
  4. সরকারের হিসাব ও নিরীক্ষা
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর
ব্যাখ্যা

 অর্থবিল:
- অর্থবিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল।
- কোনো বিল অর্থবিল কিনা এ প্রশ্নে স্পিকারের দেওয়া সার্টিফিকেট চূড়ান্ত মত বলে গৃহীত হয়।
- অর্থবিল বা অর্থব্যয় সংক্রান্ত বিলের উদ্যোক্তা সরকার।

⇒ প্রতি বছর পরবর্তী বছরের জন্য সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে অর্থবিল সংসদে উত্থাপন করা হয়।
- সংসদে উত্থাপনের পর যথানিয়মে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিলটি পাস করতে হয়।
- অর্থবিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য উপস্থাপিত হলে পনের দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি প্রদান করেন।
- রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদানে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের শেষে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

⇒  অনুচ্ছেদ ৮১(১)-এ অর্থবিলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—
• কর সংক্রান্ত পরিবর্তন,
• সরকার কর্তৃক ঋণ গ্রহণ বা দায়-দায়িত্ব,
• সংযুক্ত তহবিল সংক্রান্ত ব্যয়, 
• সরকারের হিসাব ও নিরীক্ষা। 

কিন্তু ৮১(২)-এ বলা হয়েছে—
- শুধু স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর, জরিমানা, লাইসেন্স ফি বা ফি ধার্যকরণ–এর মতো বিষয় কোনো বিলকে অর্থবিল হিসেবে গণ্য করবে না।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৫১৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ” বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১
  2. অনুচ্ছেদ ৫
  3. অনুচ্ছেদ ৭
  4. অনুচ্ছেদ ৯
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৭
ব্যাখ্যা
- সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- সংবিধানে জনগণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বলা হয় রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।
- সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে “রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ” বলা হয়েছে। 

অনুচ্ছেদ ৭৷ সংবিধানের প্রাধান্য:
৭৷ (১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে৷ 
 ৭৷ (২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসমঞ্জস হয়, তাহলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে৷

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সংবিধান। 
৫১৭.
সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে কত প্রকার রিটের (Writ) উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৭ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৫ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের রিট (Writ):
⇒ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে প্রতিকার পাওয়ার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট দাখিল করা যায়।
⇒ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ কারও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তা পুনর্বহাল করতে পারে। এই ক্ষমতাকে রিট এখতিয়ার বলা হয়, যা হাইকোর্টের একটি বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা।
⇒ রিট হলো আদালত বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের দেওয়া একটি আদেশ বা নির্দেশ।

⇒ সংবিধানে রিটগুলোর নাম উল্লেখ নেই, তবে ১০২(২) অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করে পাঁচ ধরনের রিটের কথা জানা যায়:

১. Writ of Prohibition: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ)-এ উল্লেখ আছে।
২. Writ of Mandamus: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ)-তে উল্লেখিত।
৩. Writ of Certiorari: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(আ)-তে উল্লেখিত।
৪. Writ of Habeas Corpus: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ)-তে উল্লেখিত।
৫. Writ of Quo Warranto: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(আ)-তে উল্লেখিত।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৫১৮.
সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. সুযোগের সমতা
  2. মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা
  3. জাতীয় সংস্কৃতি
  4. জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।

অন্যদিকে,
’জাতীয় সংস্কৃতি’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ২৩ নং অনুচ্ছেদ।
’সুযোগের সমতা’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৯ নং অনুচ্ছেদ।
’মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা’ ১৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫১৯.
প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা কার কর্তৃত্বে প্রযুক্ত হয়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. মন্ত্রী
  4. সচিব
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
সংবিধানের চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ।
- ২য় পরিচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

⇒ অনুচ্ছেদ-৫৫: মন্ত্রিসভা:
(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে।
(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।
(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন।
(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে।
(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫২০.
বাংলাদেশ সংবিধানের কততম অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯৩
  2. অনুচ্ছেদ ৯৪
  3. অনুচ্ছেদ ৯৫
  4. অনুচ্ছেদ ৯৬
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৯৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৯৩
ব্যাখ্যা

অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা:
- অধ্যাদেশ জারি করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশ সংবিধানের  পঞ্চম ভাগের ৩য় পরিচ্ছেদের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। 

⇒ ৯৩ নং অনুচ্ছেদ: অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা
- সংসদ ভাঙা বা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি জরুরি পরিস্থিতিতে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।

অন্যদিকে,
- ৯৪ নং অনুচ্ছেদে সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- ৯৬ নং অনুচ্ছেদে বিচারকদের পদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫২১.
সংবিধানের ৪০নং অনুচ্ছেদে কোন বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে?
  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  2. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
  3. বাক-স্বাধীনতা
  4. সংগঠনের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৬ - চলাফেরার স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৭ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৯ - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৫ - শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৫২২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'সংসদ অধিবেশন' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৭১
  2. অনুচ্ছেদ ৭২
  3. অনুচ্ছেদ ৭৩
  4. অনুচ্ছেদ ৭৪
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৭২
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮ - সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৫২৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮১ অনুযায়ী 'অর্থ বিল' (Money Bill)-এর সংজ্ঞায় কোন ধরনের বিল অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ
  2. সরকার কর্তৃক ঋণ গ্রহণ বা গ্যারান্টি প্রদান
  3. সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যয় সংক্রান্ত বিল
  4. স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর আরোপ বা ফি ধার্যকরণ
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর আরোপ বা ফি ধার্যকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর আরোপ বা ফি ধার্যকরণ
ব্যাখ্যা

◉ অনুচ্ছেদ ৮১(১)-এ অর্থবিলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—
• কর সংক্রান্ত পরিবর্তন,
• সরকার কর্তৃক ঋণ গ্রহণ বা দায়-দায়িত্ব,
• সংযুক্ত তহবিল সংক্রান্ত ব্যয়, 
• সরকারের হিসাব ও নিরীক্ষা। 

কিন্তু ৮১(২)-এ বলা হয়েছে—
শুধু স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর, জরিমানা, লাইসেন্স ফি বা ফি ধার্যকরণ–এর মতো বিষয় কোনো বিলকে অর্থবিল হিসেবে গণ্য করবে না।

অর্থবিল:
- অর্থবিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল।
- কোনো বিল অর্থবিল কিনা এ প্রশ্নে স্পিকারের দেওয়া সার্টিফিকেট চূড়ান্ত মত বলে গৃহীত হয়।
- অর্থবিল বা অর্থব্যয় সংক্রান্ত বিলের উদ্যোক্তা সরকার।

⇒ প্রতি বছর পরবর্তী বছরের জন্য সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে অর্থবিল সংসদে উত্থাপন করা হয়।
- সংসদে উত্থাপনের পর যথানিয়মে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিলটি পাস করতে হয়।
- অর্থবিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য উপস্থাপিত হলে পনের দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি প্রদান করেন।
- রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদানে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের শেষে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস:
i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৫২৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ প্রভৃতিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-৭ক
  2. অনুচ্ছেদ-৭খ
  3. অনুচ্ছেদ-৭
  4. অনুচ্ছেদ-১৫
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-৭ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-৭ক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সর্বমোট ১৭বার সংশোধন হয়েছে। 

- বাংলাদেশের সংবিধানের-৭ক অনুচ্ছেদের বিধান: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ:
(১) কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায় -
(ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে ; কিংবা
(খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে-তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত-
(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে; কিংবা
(খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে-তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।
(৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

উল্লেখ্য,
-২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭ক অনুচ্ছেদটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।

এছাড়াও,
অনুচ্ছেদ-৭ এর বিধান → সংবিধানের প্রাধান্য।
অনুচ্ছেদ-৭খ এর বিধান → সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য। 
অনুচ্ছেদ-১৫ এর বিধান→ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫২৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু নিচের কোনটি?
  1. বিচার বিভাগ
  2. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. আইনসভা
সঠিক উত্তর:
আইনসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনসভা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৫২৬.
বাংলাদেশের সংবিধানে কোন ধরণের মালিকানার উল্লেখ নেই?
  1. রাষ্ট্রীয় মালিকানা
  2. যৌথ মালিকানা
  3. সমবায়ী মালিকানা
  4. ব্যক্তিগত মালিকানা
সঠিক উত্তর:
যৌথ মালিকানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌথ মালিকানা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানে যৌথ মালিকানার উল্লেখ নেই।

মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের একটা উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এখানে তিন ধরনের মালিকানা নীতি স্বীকার করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এগুলো হচ্ছে-
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা,
২. সমবায় মালিকানা এবং,
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা।

⇒ সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৩:
- মালিকানার নীতি- “উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
(খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
(গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা৷”

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫২৭.
”মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ” সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ৪৫নং
  2. ৪১নং
  3. ৪৬নং
  4. ৪৪নং
সঠিক উত্তর:
৪৪নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৪নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৪৪নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু-  মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।

অন্যদিকে,
• সংবিধানের ৪১নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু-  ধর্মীয় স্বাধীনতা।
• সংবিধানের ৪২নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- সম্পত্তির অধিকার।
• সংবিধানের ৪৫নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।
• সংবিধানের ৪৬নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫২৮.
'জরুরী-অবস্থা ঘোষণা' এর উল্লেখ রয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪১(ক)
  2. অনুচ্ছেদ ১৪১(খ)
  3. অনুচ্ছেদ ১৪১(গ)
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৪১(ক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৪১(ক)
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১৩০ - অস্থায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক।
- অনুচ্ছেদ ১৩১ - প্রজাতন্ত্রের হিসাব-রক্ষার আকার ও পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ১৩২ - সংসদে মহা হিসাব-নিরীক্ষকের রিপোর্ট উপস্থাপন।
- অনুচ্ছেদ ১৩৩ - নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী।
- অনুচ্ছেদ ১৩৪ - কর্মের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৩৫ - অসামরিক সরকারী কর্মচারীদের বরখাস্ত প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৩৬ - কর্মবিভাগ-পুনর্গঠন।
- অনুচ্ছেদ ১৩৭ - কমিশন-প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১৩৮ - সদস্য-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ১৩৯ - পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৪০ - কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪১ - বার্ষিক রিপোর্ট।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪২ -  সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৫২৯.
সুপ্রীম কোর্টের বিচারকের যোগ্যতা সম্পর্কে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ৬৫(১)
  2. ৯৫(২)
  3. ৯৪(১)
  4. ৭৯(১)
সঠিক উত্তর:
৯৫(২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫(২)
ব্যাখ্যা
• বিচারক-নিয়োগ:
৯৫। (১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে
নিয়োগদান করিবেন।
(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হইলে, এবং
(ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকিয়া থাকিলে; অথবা
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করিয়া থাকিলে; অথবা
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকিয়া থাকিলে;
তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।
(৩) এই অনুচ্ছেদে "সুপ্রীম কোর্ট” বলিতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোন সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত
হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়াছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হইবে।]

অন্যদিকে,
- ৭৯। (১) সংসদের নিজস্ব সচিবালয় থাকিবে।
- ৬৫। (১) "জাতীয় সংসদ" নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন-দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হইতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করিবে না।
- ৯৪। (১) "বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট" নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকিবে এবং আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ লইয়া তাহা গঠিত হইবে।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৩০.
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সম্পর্কে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ৯৩ নং
  2. ৯৪ নং
  3. ৯৫ নং
  4. ৯৬ নং
সঠিক উত্তর:
৯৫ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।

সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, 
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন।

(২) কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, এবং (ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকলে; অথবা
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাঢ়লে; অথবা
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে;তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।

(৩) এই অনুচ্ছেদে ‘‘সুপ্রীম কোর্ট’’ বলতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোনো সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করেছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হবে।

অন্যদিকে,
- ৯৩ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষমতা,
- ৯৪ নং অনুচ্ছেদে সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা এবং
- ৯৬ নং অনুচ্ছেদে বিচারকদের পদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৩১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা আছে, “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান”?
  1. অনুচ্ছেদ ২৭
  2. অনুচ্ছেদ ২৮
  3. অনুচ্ছেদ ২৯
  4. অনুচ্ছেদ ৩২
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ২৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ২৭
ব্যাখ্যা
আইনের দৃষ্টিতে সমতা:
- সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী। [অনুচ্ছেদ-২৭]

নানান কারণে বৈষম্য:
ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবে। কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না। [অনুচ্ছেদ-২৮(১), ২৮(২), ২৮(৩)]

সরকারি নিয়োগলাভের সুযোগের সমতা:
প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের অযোগ্য হবে না। কিংবা সে ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না। [অনুচ্ছেদ- ২৯(১), ২৯ (২)]

জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ:
- আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না। [অনুচ্ছেদ-৩২]।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৩২.
একই অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দণ্ডিত না করার বিধান রয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে? 
  1. অনুচ্ছেদ ৩৬
  2. অনুচ্ছেদ ৩৫
  3. অনুচ্ছেদ ৩৮
  4. অনুচ্ছেদ ৩২
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৩৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৩৫
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৩৫: মৌলিক অধিকার বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ 
(১) অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেওয়া যাইতে পারিত, তাঁহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাইবে না।

(২) এক অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দণ্ডিত করা যাইবে না।

(৩) ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হইবেন।

(৪) কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাইবে না।

(৫) কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না।

(৬) প্রচলিত আইনে নির্দিষ্ট কোন দণ্ড বা বিচারপদ্ধতি সম্পর্কিত কোন বিধানের প্রয়োগকে এই অনুচ্ছেদের (৩) বা (৫) দফার কোন কিছুই প্রভাবিত করিবে না।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৩৩.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ ২১
  2. অনুচ্ছেদ ২২
  3. অনুচ্ছেদ ২৩
  4. অনুচ্ছেদ ২৪
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ২২
ব্যাখ্যা

• বিচার বিভাগ:
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়: ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।

⇒ বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।

⇒ সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- সুপ্রিম কোর্ট প্রধান বিচারপতি ও প্রত্যেক বিভাগের বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়: ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগসমূহ থেকে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।

৫৩৪.
‘অর্থ বিল’ সম্পর্কিত বিধানাবলী সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ৬৬ অনুচ্ছেদে
  2. ৭৩ অনুচ্ছেদে
  3. ৭৭ অনুচ্ছেদে
  4. ৮১ অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
৮১ অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮১ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
অর্থবিল:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- সরকার যদি দেশের উন্নয়নের জন্য কোন ঋণ গ্রহণ করেন এবং এই সম্পর্কিত কোন বিল সংসদে উত্থাপন করেন তাহলে সেই বিলকে অর্থবিল বলে। 

⇒ ৮১ (১) এই ভাগে "অর্থবিল" বলতে শুধুমাত্র নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল বা যে কোন একটি সম্পর্কিত বিধানাবলী-সংবলিত বিল বুঝবে:
- (ক) কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ;
- (খ) সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ বা কোন গ্যারান্টি দান, কিংবা সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইন সংশোধন;
- (গ) সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অনুরূপ তহবিলে অর্থপ্রদান বা অনুরূপ তহবিল হতে অর্থ দান বা নির্দিষ্টকরণ;
- (ঘ) সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় আরোপ কিংবা অনুরূপ কোন দায় রদবদল বা বিলোপ;
- (ঙ) সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব বাবদ অর্থপ্রাপ্তি, কিংবা অনুরূপ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বা দান, কিংবা সরকারের হিসাব-নিরীক্ষা;
- (চ) উপরি-উক্ত উপ-দফাসমূহে নির্ধারিত যে কোন বিষয়ের অধীন কোন আনুষঙ্গিক বিষয়।

⇒ ৮১ (২) কোন জরিমানা বা অন্য অর্থদণ্ড আরোপ বা রদবদল, কিংবা লাইসেন্স-ফি বা কোন কার্যের জন্য ফি বা উসুল আরোপ বা প্রদান কিংবা স্থানীয় উদ্দেশ্যসাধনকল্পে কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণের বিধান করা হয়েছে, কেবল এই কারণে কোন বিল অর্থবিল বলে গণ্য হবে না।

⇒ ৮১ (৩) রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য তাঁর নিকট পেশ করিবার সময়ে প্রত্যেক অর্থবিলে স্পীকারের স্বাক্ষরে এই মর্মে একটি সার্টিফিকেটে থাকিবে যে, তা একটি অর্থবিল, এবং অনুরূপ সার্টিফিকেট সকল বিষয়ে চূড়ান্ত হবে এবং সেই সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

উল্লেখ্য,
- প্রতি বছর পরবর্তী বছরের জন্য সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে অর্থবিল সংসদে উত্থাপন করা হয়। সংসদে উত্থাপনের পর যথানিয়মে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিলটি পাস করতে হয়। অর্থবিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য উপস্থাপিত হলে পনের দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদানে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের শেষে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

অন্যদিকে:
- অনুচ্ছেদ ৬৬: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ৭৩: সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৭: ন্যায়পাল।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৫৩৫.
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি কত বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন?
  1. ৬২ বছর
  2. ৬৩ বছর
  3. ৬৫ বছর
  4. ৬৭ বছর
সঠিক উত্তর:
৬৭ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭ বছর
ব্যাখ্যা
প্রধান বিচারপতি:
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।

⇒ সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৯৬ ধারা পুন:স্থাপন করে বিচারপতিদের বয়স করা হয় ৬৭ বছর।
- অর্থাৎ, প্রধান বিচারপতি ৬৭ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য,
- দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ (২৫তম)।

উৎস: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
৫৩৬.
কার সম্মতি ব্যতীত বাংলাদেশ কোন যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পারে না?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. জাতীয় সংসদ
  4. প্রধান বিচারপতি
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৩: যুদ্ধ:
- সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না কিংবা প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে না।
- এই অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধে জড়িত হওয়ার বিষয়ে সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সরকার কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করতে চাইলে, বা প্রজাতন্ত্রকে কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাইলে, প্রথমে সংসদের অনুমতি বা সম্মতি নিতে হবে।
- এই অনুচ্ছেদটি যুদ্ধ ঘোষণার বিষয়ে সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার ওপর সংসদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৩৭.
”অর্থবিল” সম্পর্কিত বিধান সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ৮০নং
  2. ৮২নং
  3. ৮১নং
  4. ৮৪নং
সঠিক উত্তর:
৮১নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮১নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৮১নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- অর্থবিল।

উল্লেখ্য,
• সংবিধানের ৮২নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- আর্থিক ব্যবস্থাবলীর সুপারিশ।
• সংবিধানের ৮০নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে-  আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।
• সংবিধানের ৮৪নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৩৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষ সমান অধিকার পেয়েছে?
  1. ২৭ নং
  2. ২৮ নং
  3. ২৯ নং
  4. ৩০ নং
সঠিক উত্তর:
২৮ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৮ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষ সমান অধিকার পেয়েছে।

⇒ সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
- ২৮(১) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ন, নারী পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।
- ২৮(২) নং: রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।
- ২৮(৩) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না।
- ২৮(৪)  নং: নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৩৯.
সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তির কথা বলা আছে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে?
  1. ৭৮ নং অনুচ্ছেদে
  2. ৩৭ নং অনুচ্ছেদে
  3. ৩৮ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৩৯ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
৭৮ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৮ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
৭৮ (১) সংসদের কার্যধারার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(২) সংসদের যে সদস্য বা কর্মচারীর উপর সংসদের কার্যপ্রণালীনিয়ন্ত্রণ, কার্যপরিচালনা বা শৃঙ্খলারক্ষার ক্ষমতা ন্যস্ত থাকিবে, তিনি এই সকল ক্ষমতাপ্রয়োগ সম্পর্কিত কোন ব্যাপারে কোন আদালতের এখতিয়ারের অধীন হইবেন না।
(৩) সংসদে বা সংসদের কোন কমিটিতে কিছু বলা বা ভোটদানের জন্য কোন সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে কোন আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
(৪) সংসদ কর্তৃক বা সংসদের কর্তৃত্বে কোন রিপোর্ট, কাগজপত্র, ভোট বা কার্যধারা প্রকাশের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
(৫) এই অনুচ্ছেদ-সাপেক্ষে সংসদের আইন-দ্বারা সংসদের, সংসদের কমিটিসমূহের এবং সংসদ-সদস্যদের বিশেষ-অধিকার নির্ধারণ করা যাইতে পারিবে।

এছাড়াও -
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সমাবেশে স্বাধীনতা।
- ৩৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সংগঠনের স্বাধীনতা।
- ৩৯ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান
৫৪০.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিধান কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ১০৩নং অনুচ্ছেদ
  2. ১১৭নং অনুচ্ছেদ
  3. ১০৮নং অনুচ্ছেদ
  4. ১১০নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
১১৭নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৭নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে পারে সংসদ। 

অনুচ্ছেদ ১১৭: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ

১. ইতঃপূর্বে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমুহ সম্পর্কে বা ক্ষেত্রসমুহ থেকে উদ্ভূত বিষয়াদির উপর এখতিয়ার প্রয়োগের জন্য সংসদ আইনের দ্বারা এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন-
(ক) নবম ভাগে বর্ণিত বিষয়াদি এবং অর্থদণ্ড বা অন্য দণ্ডসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মের শর্তাবলী;
(খ) যে কোন রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোগ বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের চালনা ও ব্যবস্থাপনা এবং অনুরূপ উদ্যোগ বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষে কর্মসহ কোন আইনের দ্বারা বা অধীন সরকারের উপর ন্যস্ত বা সরকারের দ্বারা পরিচালিত কোন সম্পত্তির অর্জন, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও বিলি-ব্যবস্থা;

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১০৩নং অনুচ্ছেদটি মূলত আপিল বিভাগের এখতিয়ার সংজ্ঞায়িত করে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৮নং অনুচ্ছেদ সুপ্রিম কোর্টকে "কোর্ট অফ রেকর্ড" হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে। 
- ১১০নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালত হইতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর।

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৪১.
'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী' সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২৬
  2. অনুচ্ছেদ ২৭
  3. অনুচ্ছেদ ২৮
  4. অনুচ্ছেদ ২৯
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ২৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ২৭
ব্যাখ্যা

সংবিধানে মৌলিক অধিকার: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী'।

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ: 
- অনুচ্ছেদ ২১ - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২২ - নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- অনুচ্ছেদ ২৪ - জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ২৫ - আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২৬ - মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- অনুচ্ছেদ ২৭ - আইনের দৃষ্টিতে সমতা। 
- অনুচ্ছেদ ২৮ - ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- অনুচ্ছেদ ২৯ - সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ৩০ - বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ।
- অনুচ্ছেদে ৪৭ - কতিপয় আইনের হেফাজত বিষয়ে আইন বর্ণিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৪২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন? 
  1. অনুচ্ছেদ- ৭২(১)
  2. অনুচ্ছেদ-৬৪(১)
  3. অনুচ্ছেদ-৭৪(১)
  4. অনুচ্ছেদ-৭৩(১)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ৭২(১)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ৭২(১)
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭২ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি।
- তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন।
- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন।
- রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়।
- সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন।
- তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- সংবিধানে বর্ণিত কয়েকটি পরিস্থিতিতে যেমন- রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এর ক্ষেত্রে স্পিকার সংসদ আহ্বান করতে পারেন।

এছাড়াও, 
 - ৭২(২) অনুচ্ছেদের (১) দফার বিধানাবলী সত্ত্বেও সংসদ-সদস্যদের যে কোন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহবান করা হইবে।
- ৬৪(১) সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগদান করবেন।
- ৭৩(১) রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান এবং বাণী প্রেরণ করিতে পারিবেন।
- ৭৪(১) কোন সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে সংসদ একজন স্পীকার ও একজন ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত করিবেন, 

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৪৩.
সংবিধানের ১৫০নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা
  2. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
  3. জরুরী-অবস্থা ঘোষণা
  4. আন্তর্জাতিক চুক্তি
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ১৫০নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী। 
• সংবিধানের ১৪২নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা। 
• সংবিধানের ১৪১(ক)নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- জরুরী-অবস্থা ঘোষণা। 
• সংবিধানের ১৪৫(ক)নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- আন্তর্জাতিক চুক্তি। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৪৪.
সংবিধানের নবম ভাগে নিচের কোনটির কথা বলা হয়েছে?
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক
  3. সরকারী কর্ম কমিশন
  4. সংবিধান সংশোধন
সঠিক উত্তর:
সরকারী কর্ম কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারী কর্ম কমিশন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: সরকারী কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
৫৪৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- 
  1. ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা 
  2. আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন 
  3. গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূলনীতি 
  4. সুযোগের সমতা
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূলনীতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূলনীতি 
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ১১:
- ১১ নং অনুচ্ছেদে- গনতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূলনীতি প্রণীত হয়েছে। 
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১ -এ উল্লেখ আছে যে, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হবে।
- এখানে সবাইকে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা দেওয়া হবে।
- মানুষের মর্যাদা ও মূল্যকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
- এছাড়া দেশের সব প্রশাসনিক কাজে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণ অংশগ্রহণ করতে পারবে।

অন্যদিকে,
• ১২ নং অনুচ্ছেদে- ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।
• ২৫ নং অনুচ্ছেদে- আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়নের কথা উল্লেখ আছে। 
• ১৯ নং অনুচ্ছেদে- সুযোগের সমতার কথা বর্ণিত হয়েছে। 

উৎস: Laws Of Bangladesh. 

৫৪৬.
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকমিশন সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের অধীনে গঠিত হয়?
  1. ১৩৬ নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৩৮ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১১৮ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
১৩৭ নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৭ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত।

উল্লেখ্য যে,
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রধানত বিভিন্ন সরকারি চাকুরি ও পদে নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- সংস্থাটি সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও আপিলের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়োগ প্রদান করেন।
- সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।

• বাংলাদেশের সংবিধানের পাঁচটি অনুচ্ছেদ সংবলিত একটি অধ্যায়ে কমিশনের গঠনপ্রণালী ও কার্যাবলি নির্দেশিত হয়েছে:
- ১৩৬ নং: কর্মবিভাগ-পুনর্গঠন।
- ১৩৭ নং: সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা।
- ১৩৮ নং: সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ।
- ১৩৯ নং: সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ।
- ১৪০ নং: সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব।
- ১৪১ নং: সরকারি কর্ম কমিশন বার্ষিক রিপোর্ট কিভাবে জমা দিবে তার কথা উল্লেখ রয়েছে।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।

৫৪৭.
বাংলাদেশের সংবিধানে কয়টি তফসিল সংযোজন করা হয়েছে? 
  1. ৫টি 
  2. ৬টি 
  3. ৭টি 
  4. ৯টি 
সঠিক উত্তর:
৭টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি 
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশ সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল সংযোজন করা হয়েছে।

৭টি তফসিল:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 
৫৪৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'যুদ্ধ' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৬৩
  2. অনুচ্ছেদ ৬৪
  3. অনুচ্ছেদ ৬৫
  4. অনুচ্ছেদ ৬৬
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৬৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৬৩
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৬১ - সর্বাধিনায়কতা।
- অনুচ্ছেদ ৬২ - প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৬৩ - যুদ্ধ।
- অনুচ্ছেদ ৬৪ - অ্যাটর্নি-জেনারেল।
- অনুচ্ছেদ ৬৫ - সংসদ-প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৬৬ - সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ৬৭ - সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া।
- অনুচ্ছেদ ৬৮ - সংসদ-সদস্যদের [পারিশ্রমিক] প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৬৯ - শপথগ্রহণের পূর্বে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করিলে সদস্যের অর্থদণ্ড।
- অনুচ্ছেদ ৭০ - রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৪৯.
রাষ্ট্রপতি কোন ধারার বিধানমতে কারো সাথে কোনো পরামর্শ ছাড়াই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন?
  1. ৪৮ (১) নং
  2. ৪৮ (২) নং
  3. ৪৮ (৩) নং
  4. ৪৮ (৪) নং
সঠিক উত্তর:
৪৮ (৩) নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৮ (৩) নং
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি ৪৮ (৩) নং ধারার বিধানমতে কারো সাথে কোনো পরামর্শ ছাড়াই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের -
- ৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।

- ৪৮ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁকে প্রদত্ত ও তাঁর উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করবেন।

- ৪৮ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করবেন।

- ৪৮ (৪) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইবার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি-
(ক) পঁয়ত্রিশ বছরের কম বয়স্ক হন; অথবা
(খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য না হন; অথবা
(গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত হয়ে থাকেন।

- ৪৮ (৫) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন এবং রাষ্ট্রপতি অনুরোধ করলে যেকোন বিষয় মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পেশ করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৫০.
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলোকে গৃহীত হয়?   
  1. অনুচ্ছেদ ১৪
  2. অনুচ্ছেদ ১৫
  3. অনুচ্ছেদ ১৬
  4. অনুচ্ছেদ ১৯ 
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৫
ব্যাখ্যা

• সংবিধানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি: 
- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি  সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (ঘ)  এর আলোকে গৃহীত ও বাস্তবায়ন হয়। 
- এই অনুচ্ছেদটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য মৌলিক প্রয়োজনীয়তা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) নিশ্চিত করবে। 
- অনুচ্ছেদটি সামাজিক নিরাপত্তাকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি (যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ইত্যাদি) চালু ও সম্প্রসারণের ভিত্তি প্রদান করেছে।
- 'জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল' এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সকল কার্যক্রম এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

• অনুচ্ছেদ ১৫: রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:

(ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;
(খ) কর্মের অধিকার, অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার;
(গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং
(ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার৷


অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ ১৪ : কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি। 
- অনুচ্ছেদ ১৬ : গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব। 
- অনুচ্ছেদ ১৯ : সুযোগের সমতা। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। 

৫৫১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জরুরী-অবস্থা ঘোষণার কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪১(ক)
  2. অনুচ্ছেদ ১৪১(খ)
  3. অনুচ্ছেদ ১৪১(গ)
  4. অনুচ্ছেদ ১৪১(ঘ)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৪১(ক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৪১(ক)
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১৪১ - বার্ষিক রিপোর্ট।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪২ -  সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৫২.
বাংলাদেশ সংবিধানের ____ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভোটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর।
  1. ১২২(২)
  2. ২২
  3. ১০৮
  4. ১৩৮(১)
সঠিক উত্তর:
১২২(২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২২(২)
ব্যাখ্যা
ভোটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স:
- বাংলাদেশ সংবিধানের সপ্তম ভাগ 'নির্বাচন' অংশে প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের কথা বলা আছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২(২) অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন ভোটারের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর হতে হবে।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২২(১) ও (২) অনুযায়ী ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা:
- প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
- কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হওয়ার অধিকারী হবেন, যদি
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁর বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁর সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা বহাল না থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হয়ে থাকেন।

উৎস:- বাংলাদেশ সংবিধান।
৫৫৩.
'ফ্লোর ক্রসিং' সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত করা হয়েছে?
  1. ৬৯নং অনুচ্ছেদে
  2. ৬8নং অনুচ্ছেদে
  3. ৭১নং অনুচ্ছেদে
  4. ৭০নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
৭০নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭০নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- ৭০তম অনুচ্ছেদে ফ্লোর ক্রসিং সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি সংসদ সদস্যদের নিজের দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বোঝায়।
- এর মাধ্যমে একজন সংসদ সদস্য যদি নিজ দলের পক্ষে না দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের পক্ষে ভোট দেন, এটাকে ফ্লোর ক্রসিং হিসেবে গণ্য করা হয়।

অন্যদিকে, 
- ৬৮নং অনুচ্ছেদে: সংসদ-সদস্যদের [পারিশ্রমিক] প্রভৃতি,
- ৬৯নং অনুচ্ছেদে: শপথগ্রহণের পূর্বে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করিলে সদস্যের অর্থদণ্ড,
- ৭১নং অনুচ্ছেদে: দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। 

৫৫৪.
বাংলাদেশ সংবিধান কতটি ভাষায় রচিত?  
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ১টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধান:
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধান ২টি ভাষায় রচিত (বাংলা ও ইংরেজি)।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানে মোট ১৫৩ অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- সংবিধান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
- বাংলাদেশ সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়।
- এতে ১১ টি ভাগ বা অধ্যায় রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রস্তাবনা দিয়ে শুরু এবং সাতটি তফসিল দিয়ে শেষ হয়েছে।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৫৫.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতির প্রয়োগক্ষেত্র নয়?
  1. দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে মৌলিক সূত্র বলে গণ্য হবে
  2. আইন প্রণয়নকালে প্রয়োগ হবে
  3. বিচার বিভাগীয় রায়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য
  4. রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হবে সব নীতি
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগীয় রায়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগীয় রায়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি 'বিচার বিভাগীয় রায়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য' এর প্রয়োগক্ষেত্র নয়।  

রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতির প্রয়োগক্ষেত্র:
- সংবিধানের ৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে তা বলা হয়েছে।
ক. দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে মৌলিক সূত্র বলে গণ্য হবে;
খ. আইন প্রণয়নকালে প্রয়োগ হবে;
গ. সংবিধান ও অন্যান্য আইনের ক্ষেত্রে এই নীতিগুলো দিশারী, নির্দেশক তথা মানদন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে; এবং
ঘ. রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হবে সব নীতি।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৬.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হতে নিজ গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার থাকবে?
  1. ৪০ নং
  2. ৪১ নং
  3. ৪২ নং
  4. ৪৩ নং
সঠিক উত্তর:
৪৩ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৩ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩য় ভাগে 'মৌলিক অধিকার' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ 'গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ' অনুযায়ী যোগাযোগ থেকে শুরু করে চিঠিপত্র আদান-প্রদান এবং ব্যক্তিগত সবকিছুর গোপনীয়তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

⇒ ৪৩ নং অনুছেদ:
- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের -
(ক) প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হতে নিজ গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার থাকবে; এবং
(খ) চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনতারক্ষার অধিকার থাকবে।

অন্যদিকে,
- ৪০ নং অনুচ্ছেদ: পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- ৪১ নং অনুচ্ছেদ: ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- ৪২ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তির অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৫৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বাধ্যতামূলক শিক্ষার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৬
  2. অনুচ্ছেদ ১৭
  3. অনুচ্ছেদ ১৮
  4. অনুচ্ছেদ ১৯
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৭
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১০ - সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১১ - গণতন্ত্র ও মানবাধিকার।
- অনুচ্ছেদ ১২ - ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ১৩ - মালিকানার নীতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪ - কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৫ - মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।
- অনুচ্ছেদ ১৬ - গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- অনুচ্ছেদ ১৭ - অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- অনুচ্ছেদ ১৮ - জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- অনুচ্ছেদ ১৮(ক) - পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ১৯ - সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ২০ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৫৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ’বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশী নামে’ উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদে- ৭ক
  2. অনুচ্ছেদে- ৫
  3. অনুচ্ছেদে- ৬
  4. অনুচ্ছেদ- ১
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদে- ৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদে- ৬
ব্যাখ্যা
• অনুচ্ছেদে- ৬:
- বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। 
- বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।

• সংবিধানের অনুচ্ছেদ : 

- অনুচ্ছেদ- ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ- ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ- ২(ক): রাষ্ট্রধর্ম।
- অনুচ্ছেদ- ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷
- অনুচ্ছেদে- ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদে- ৪(ক): জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
- অনুচ্ছেদে- ৫: রাজধানী।
- অনুচ্ছেদে- ৬: নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদে- ৭: সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদে- ৭ক: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ।
- অনুচ্ছেদে- ৭খ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৫৫৯.
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল আইন কত সালে পাস হয়? 
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০১১ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
ব্যাখ্যা

পঞ্চদশ সংশোধনী আইন: 
- সময়: জুলাই, ২০১১ সালে।
• বিষয়বস্তু:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।
- ১৯৭২ মূল সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি যথা: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পাশাপাশি সকল ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।
- জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ সংশোধনীর সংশোধনীর কিছু আইন সুপ্রিম কোট অবৈধ ঘোষণা করেছে। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

৫৬০.
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে কতটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ১৫টি
  2. ১৮টি
  3. ১৯টি
  4. ২১টি
সঠিক উত্তর:
১৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮টি
ব্যাখ্যা

• মৌলিক অধিকার: 
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে যে ১৮টি অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, সেগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে মৌলিক অধিকার।

- সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য। এই অধিকারগুলো ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র প্রতিকার প্রদানে বাধ্য থাকে।
- সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অধিকারগুলোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো আইন বাতিল বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য,
- মৌলিক অধিকারগুলো হলো: আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য, সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা, বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ, আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ, গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ, বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ, চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা, পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ, দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৬১.
‘শপথ ও ঘোষণা’ সংবিধানের কোন তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. দ্বিতীয়
  2. তৃতীয়
  3. চতুর্থ
  4. পঞ্চম
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
ব্যাখ্যা

• 'শপথ ও ঘোষণা' সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে।

• বাংলাদেশ সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানে সাতটি তফসিল রয়েছে।
- প্রথম তফসিল - অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল - রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিল - শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিল - ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল - স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল - স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

৫৬২.
’জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ’-এটি সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ২২
  2. ৩৪(১)
  3. ৫৫
  4. ৯১(২)
সঠিক উত্তর:
৩৪(১)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৪(১)
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
→ সংবিধানের ৩৪(১) অনুচ্ছেদে সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
→ ৩৪ (১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হলে তা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
→ (২) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই সেই সকল বাধ্যতামূলক শ্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যেখানে
→ (ক) ফৌজদারী অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তি আইনতঃ দণ্ডভোগ করিতেছেন; অথবা
→ (খ) জনগণের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে আইনের দ্বারা তাহা আবশ্যক হইতেছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৬৩.
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ২২
  2. ২৫
  3. ৬৩
  4. ৭৭
সঠিক উত্তর:
২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫
ব্যাখ্যা

পররাষ্ট্রনীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা বর্ণিত হয়েছে।
এগুলি হলো:
- জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে- 
- ১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।
- ২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। 
অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না।
- সংবিধানের ২২নং অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ২২নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল সম্পর্কে বলা আছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।

৫৬৪.
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম কী?
  1. Parliament
  2. National Parliament 
  3. Legislature
  4. The House of the Nation
সঠিক উত্তর:
The House of the Nation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The House of the Nation
ব্যাখ্যা

⇒ সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম 'The House of the Nation'.
→ সংবিধানের পঞ্চম ভাগে আইনসভার উল্লেখ রয়েছে।
→ সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

♦ জাতীয় সংসদ:
→ জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
→ দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
→ প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
→ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
→ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
→ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
→ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
→ জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
→ অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
→ সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
→ ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৬৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন?
  1. ৯৫
  2. ৯৬
  3. ৯৭
  4. ৯৮
সঠিক উত্তর:
৯৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক:
- সংবিধানের ষষ্ঠভাগে বিচারবিভাগ ও ষষ্ঠভাগের প্রথম পরিচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন।

(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, এবং
ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থেকে থাকলে; অথবা
খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাকলে; অথবা
গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থেকে থাকলে;
তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না।

(৩) এই অনুচ্ছেদে ‘সুপ্রীম কোর্ট’ বলতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোন সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়াছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হইবে।

এছাড়াও,
- অনুচ্ছেদ ⎯ ৯৬: বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ⎯ ৯৭: অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ⎯ ৯৮: সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৬৬.
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট কতটি তফসিল আছে?
  1. ৮টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের মোট ৭ টি তফসিল রয়েছে।

• সংবিধানের তফসিলসমূহ:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিলঃ ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

• বাংলাদেশ সংবিধান:

- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

৫৬৭.
সংবিধানের প্রস্তাবনার ৩য় ভাগে কোন অঙ্গীকার করা হয়েছে?
  1. মূলনীতি গ্রহণ
  2. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা
  3. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
  4. শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
• ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৬৮.
বাংলাদেশের সংবিধানে 'আন্তর্জাতিক চুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে -
  1. ১৪৫ক নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
১৪৫ক নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪৫ক নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫ক নং অনুচ্ছেদে 'আন্তর্জাতিক চুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
⇒ ১৪৫ক। নং অনুচ্ছেদ:
- বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরুপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।

অন্যদিকে,
- ১৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ: তৃতীয় তফসিলে উল্লিখিত যে কোন পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তি কার্যভারগ্রহণের পূর্বে উক্ত তফসিল-অনুযায়ী শপথগ্রহণ বা ঘোষণা (এই অনুচ্ছেদে "শপথ" বলে অভিহিত) করবেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করবেন।
- ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে 'সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে 'বাংলাদেশের নামে মামলা' সম্পর্কে বলা হয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৬৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ সম্পর্কিত?
  1. ৪২ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৪৩ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৪৪ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৪৫ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৪৪ নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৪ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ সম্পর্কিত।
- এটি নাগরিকদের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৭(ক)) প্রদত্ত অধিকারগুলো বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে (অনুচ্ছেদ ১০২(১) অনুযায়ী) আবেদন করার অধিকার নিশ্চিত করে।
- এছাড়াও, এই অধিকার প্রয়োগের জন্য অন্য কোনো আদালতকে ক্ষমতা দিতে সংসদ আইন প্রণয়ন করতে পারে। 
- এই অনুচ্ছেদটি মৌলিক অধিকার প্রয়োগের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়ার অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়।

উল্লেখ্য,
• ৪৪ (১) নং অনুচ্ছেদ: এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হলো।
• ৪৪ (২) নং অনুচ্ছেদ: এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারিবেন।

এছাড়াও,
• কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা:
- অনুচ্ছেদ ১০২ নং: কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা-এর অধীনে বলা হয়েছে যে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি এই অনুচ্ছেদের অধীন সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্টে মামলা রজু বা রিট করতে পারবেন।
- সুতরাং, ৪৪ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে মামলা করার অধিকার প্রদান করা হয়েছে এবং তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকারসমূহ লঙ্ঘিত হলে ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা দায়ের করা যাবে।

অন্যদিকে,
- ৪২ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তির অধিকার।
- ৪৩ নং অনুচ্ছেদ: গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
- ৪৫ নং অনুচ্ছেদ: শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৭০.
’মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদে- ১১৮
  2. অনুচ্ছেদে- ১২৭
  3. অনুচ্ছেদে- ৯৪
  4. অনুচ্ছেদে- ৬৪
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদে- ১২৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদে- ১২৭
ব্যাখ্যা

• মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা: 
- অনুচ্ছেদ- ১২৭: (১) বাংলাদেশের একজন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (অতঃপর "মহা হিসাব-নিরীক্ষক" নামে অভিহিত) থাকবেন এবং তাঁহাকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করবেন। 
 - (২) এই সংবিধান ও সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ- ১১৮: নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ- ৯৪: সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৭১.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১নং অনুচ্ছেদে কী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. অর্থবিল
  2. আইন প্রণয়ন পদ্ধতি
  3. অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা
  4. বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি
সঠিক উত্তর:
অর্থবিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থবিল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

৮১। অর্থবিল:

(১) এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “অর্থবিল” বলতে সেই সব বিলকে বোঝায়, যেগুলোর মধ্যে কর আরোপ, রদবদল বা মওকুফ, সরকারি ঋণ গ্রহণ বা গ্যারান্টি দেওয়া, সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় বা বরাদ্দ, তহবিলের হিসাব-নিকাশ ও সরকারের আর্থিক দায়দায়িত্বের বিষয় থাকে। এ ছাড়া এসব বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় থাকলেও সেটি অর্থবিল হিসেবে গণ্য হবে।

(২) কোনো জরিমানা, ফি, উসুল বা স্থানীয় সরকারের কর সংক্রান্ত বিষয় থাকলেই কোনো বিলকে অর্থবিল বলা যাবে না—এই কারণে সেটা অর্থবিল হবে না।

(৩) অর্থবিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সময় স্পীকারকে অবশ্যই একটি সনদ দিতে হবে যে, এটি একটি অর্থবিল। এই সনদ চূড়ান্ত হবে, এবং এ বিষয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না।

অন্যদিকে:
- অনুচ্ছেদ ৮০: আইন প্রণয়ন পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৯৩: অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৮৭: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৭২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংসদের অধিবেশনের উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৭২
  2. অনুচ্ছেদ ৭৪
  3. অনুচ্ছেদ ৭৭
  4. অনুচ্ছেদ ৭৯
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৭২
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮ - সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৭৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন
  1. ৪৮ নং
  2. ৬৬ নং
  3. ৭২(১) নং
  4. ৭৬(১) নং
সঠিক উত্তর:
৭২(১) নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭২(১) নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।

⇒ তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন।
- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন।
- রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়।
- সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন।
- তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্পিকার যথাক্রমে জাতীয় সংসদের নেতা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- আর চিপ হুইপ সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বিধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৫৭৪.
'পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন' এর কথা বলা হয়েছে -
  1. ১৬ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৮ (১) নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৮ক নং অনুচ্ছেদে
  4. ২১ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
১৮ক নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ক নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১৮(ক) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
• দ্বিতীয় ভাগ
• রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
- রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব- বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১৮ক নং অনুচ্ছেদে 'পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন' এর কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে -
- ১৮ (১) নং অনুচ্ছেদ: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- ১৬ নং অনুচ্ছেদ: গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- ২১ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৭৫.
সংবিধানের কোন অংশে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি রয়েছে?
  1. দ্বিতীয় অধ্যায়
  2. তৃতীয় অধ্যায়
  3. চতুর্থ অধ্যায়
  4. ষষ্ঠ অধ্যায়
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় অধ্যায়
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: 
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম অনুচ্ছেদ থেকে ২৫তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই চারটি বিষয়কে রাষ্ট্রের স্তম্ভ বা মৌলিক আদর্শ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
- এ  চারটি নীতিসহ ২য় ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে গণ্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান। 
৫৭৬.
সংবিধানের মৌলিক অধিকার শুরু হয় কোন অনুচ্ছেদ থেকে?
  1. ২৬ অনুচ্ছেদে
  2. ২৭ অনুচ্ছেদে
  3. ২৮ অনুচ্ছেদে
  4. ২৯ অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
২৭ অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার: 
- মৌলিক অধিকার বলতে বোঝায়, রাষ্ট্র প্রদত্ত সেসব সুযোগ-সুবিধা যা নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- সংবিধানের সংশোধন কিংবা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করা যায় না।
- সংবিধানে মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ থাকার কারণে এগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত।
- উত্তম সংবিধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে মৌলিক অধিকার সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করা।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত বিধানসমূহ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে অন্তর্ভুক্ত। এই ভাগের সূচনা অনুচ্ছেদ ২৬ দিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে যে, মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী কোনো আইন বৈধ নয় এবং তা বাতিল বলে গণ্য হবে। যদিও অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৭ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে। সংবিধানের মৌলিক অধিকার শুরু হয় ২৭ নং অনুচ্ছেদ থেকে। 

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৭.
সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
  2. মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল
  3. সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা
  4. বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ
সঠিক উত্তর:
আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ২৫ - আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২৬ - মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- অনুচ্ছেদ ২৮ - ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- অনুচ্ছেদ ২৯ - সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ৩০ - বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৩১ - আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৩২ - জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৩ - গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ।
- অনুচ্ছেদ ৩৪ - জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৭৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯২
  2. অনুচ্ছেদ ৯৩
  3. অনুচ্ছেদ ৯৪
  4. অনুচ্ছেদ ৯৫
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৯৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৯৪
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৭৯.
বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকের 'চলাফেরার স্বাধীনতার' অধিকার কোন অনুচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ৩৮ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৬ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৩৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩৪ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৩৬ নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৬ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৩৬: চলাফেরার স্বাধীনতা
জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ- সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।

অন্যদিকে,
- ৩৪ অনুচ্ছেদ: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।
-  ৩৭ অনুচ্ছেদ: সমাবেশের স্বাধীনতা।
- ৩৮ অনুচ্ছেদ: সংগঠনের স্বাধীনতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৮০.
সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ১৪২
  2. ১২৪
  3. ১১৮
  4. ১০৮
সঠিক উত্তর:
১৪২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪২
ব্যাখ্যা

১৪২ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা-
- সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সংবিধানের কোনো বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের মাধ্যমে সংশোধন করতে পারে।
- তবে এর জন্য কিছু শর্ত রয়েছে-
• প্রথমত, সংশোধনীর বিলের সম্পূর্ণ শিরোনামে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে কোন বিধান সংশোধন করা হবে।
• দ্বিতীয়ত, সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দ্বারা বিল গৃহীত হতে হবে;
- অন্যথায় এটি রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করা যাবে না। 
• তৃতীয়ত, রাষ্ট্রপতি বিলটি পাসের জন্য সাত দিনের মধ্যে সম্মতি দিতে হবে;
- আর যদি তিনি দেওয়ার ক্ষমতা না রাখেন, তবে সেই সময়সীমা শেষে বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।

অন্যদিকে,
• ১২৪ অনুচ্ছেদ — নির্বাচন সম্পর্কিত বিধানপ্রণয়ন:
- সংসদের ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ আইনের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পর্কিত বিষয়গুলি নির্ধারণ করতে পারে।
• এর মধ্যে রয়েছে- 
- নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ,
- ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা,
- নির্বাচন পরিচালনা এবং
- সংসদের সঠিক গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিধান প্রণয়ন করা।

• ১০৮ অনুচ্ছেদ — সুপ্রিম কোর্টের কোর্ট অব রেকর্ড স্বরূপ ক্ষমতা:
- সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ মতে, সুপ্রিম কোর্ট একটি কোর্ট অফ রেকর্ড; তার আদেশ এবং রায় চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং
- কোন বাক্তি  আদালত এর সিদ্ধান্তের অবমাননা করলে সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত ও শাস্তিসহ তার সমস্ত সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে ওই বাক্তির বিরুদ্ধে।

• ১১৮ অনুচ্ছেদ — নির্বাচন কমিশন:
- ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, যার প্রধান হবেন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং
- সদস্য হিসেবে সর্বোচ্চ চারজন নির্বাচন কমিশনার থাকবেন।

উৎস: Laws Of Bangladesh. 

৫৮১.
সংবিধান অনুসারে, মন্ত্রী ও প্রতি-মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী 
  3. স্পিকার
  4. ডেপুটি স্পিকার
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিল: [১৪৮ অনুচ্ছেদ]
- শপথ ও ঘোষণা।
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে।

⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
১। রাষ্ট্রপতি [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
২। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। ডেপুটি স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৫। সংসদ সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
৬। প্রধান বিচারপতি বা বিচারক [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৭। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।
৮। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।
৯। সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৮২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ”অর্থ বিল” সম্পর্কিত বিধানাবলী উল্লেখ আছে?
  1. ৮০ নং
  2. ৮১ নং
  3. ৮২ নং
  4. ৮৪ নং
সঠিক উত্তর:
৮১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮১ নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৮১ অনুচ্ছেদ ”অর্থ বিল” সম্পর্কিত।

৮১(১) এই ভাগে "অর্থবিল" বলিতে কেবল নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল বা যে কোন একটি সম্পর্কিত বিধানাবলী-সংবলিত বিল বুঝাইবে: 
 
(ক) কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ; 
 (খ) সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ বা কোন গ্যারান্টিদান, কিংবা সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইন সংশোধন; 
 (গ) সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অনুরূপ তহবিলে অর্থপ্রদান বা অনুরূপ তহবিল হইতে অর্থ দান বা নির্দিষ্টকরণ; 
 (ঘ) সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় আরোপ কিংবা অনুরূপ কোন দায় রদবদল বা বিলোপ; 
 (ঙ) সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব বাবদ অর্থপ্রাপ্তি, কিংবা অনুরূপ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বা দান, কিংবা সরকারের হিসাব-নিরীক্ষা; 
 (চ) উপরি-উক্ত উপ-দফাসমূহে নির্ধারিত যে কোন বিষয়ের অধীন কোন আনুষঙ্গিক বিষয়। 
৮১(২) কোন জরিমানা বা অন্য অর্থদণ্ড আরোপ বা রদবদল, কিংবা লাইসেন্স-ফি বা কোন কার্যের জন্য ফি বা উসুল আরোপ বা প্রদান কিংবা স্থানীয় উদ্দেশ্যসাধনকল্পে কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণের বিধান করা হইয়াছে, কেবল এই কারণে কোন বিল অর্থবিল বলিয়া গণ্য হইবে না। 
 ৮১(৩) রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য তাঁহার নিকট পেশ করিবার সময়ে প্রত্যেক অর্থবিলে স্পীকারের স্বাক্ষরে এই মর্মে একটি সার্টিফিকেটে থাকিবে যে, তাহা একটি অর্থবিল, এবং অনুরূপ সার্টিফিকেট সকল বিষয়ে চূড়ান্ত হইবে এবং সেই সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

অন্যদিকে,
• সংবিধানের ৮০ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে- আইন প্রনয়ন পদ্ধতি।
• সংবিধানের ৮২ আর্টিকেলে ”আর্থিক ব্যবস্থাবলীর সুপারিশ” সম্পর্কিত।
• সংবিধানের ৮৪ আর্টিকেলে ”সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব” সম্পর্কিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৮৩.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম?
  1. বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্র
  2. বাংলাদেশ
  3. বাংলাদেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র
  4. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
• প্রজাতন্ত্র:
-  বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র,
- “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” নামে পরিচিত হবে৷ 
- এটি সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
-  রাষ্ট্রধর্ম:  প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম।
- তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবে।

উল্লেখ্য,
- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত হবে:
- ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা-ঘোষণার অব্যবহিত পূর্বে যে সকল এলাকা নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান গঠিত ছিল।
-  এবং সংবিধান (তৃতীয় সংশোধন) আইন, ১৯৭৪-এ অন্তর্ভুক্ত এলাকা হিসেবে উল্লিখিত এলাকা।

 উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৫৮৪.
রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা বিপরীত দলে ভোট দেওয়ার কারণে আসন শূন্য হওয়ার বিধান কোন সংবিধান অনুচ্ছেদে আছে?
  1. ৬৬ নং
  2. ৭০ নং
  3. ৭৪ নং
  4. ৭৭ নং
সঠিক উত্তর:
৭০ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭০ নং
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে সেই দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান বা সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করা বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলাকে বলা হয় ফ্লোর ক্রসিং৷

• ৭০ নং অনুচ্ছেদ:
- রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া -
- সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি -
(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
- তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবেন না।

অন্যদিকে,
- ৬৬ নং অনুচ্ছেদ: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা,
- ৭৪ নং অনুচ্ছেদ: স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার,
- ৭৭ নং অনুচ্ছেদ: ন্যায়পাল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৮৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জরুরী-অবস্থা ঘোষণার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪১
  2. অনুচ্ছেদ ১৪১ (ক)
  3. অনুচ্ছেদ ১৪১ (খ)
  4. অনুচ্ছেদ ১৪৪ (গ)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৪১ (ক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৪১ (ক)
ব্যাখ্যা

- অনুচ্ছেদ ১৪০ - কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪১ - বার্ষিক রিপোর্ট।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪২ -  সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৮৬.
সংবিধানের চতুর্থ অধ্যায়ে কী আলোচনা করা হয়েছে?
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. আইনসভা
  3. নির্বাচন
  4. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
সঠিক উত্তর:
নির্বাহী বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাহী বিভাগ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
- প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার;
- চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
- পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
- ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
- সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
- অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- নবম অধ্যায়  - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ;
- দশম অধ্যায়  - সংবিধানের সংশোধন।
- একাদশ অধ্যায়  - বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৮৭.
'The Proclamation of Independence' -সংবিধানের কোন তফসিলে সন্নিবেশিত হয়েছে?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম
  3. ৬ষ্ঠ
  4. ৭ম
সঠিক উত্তর:
৭ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ম
ব্যাখ্যা
• পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে আরও ৩টি তফসিল সংযোজন করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (The Proclamation of Independence) সংবিধানের ৭ম তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে।

• বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।

- প্রথম তফসিল : অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
- দ্বিতীয় তফসিল : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত)
- তৃতীয় তফসিল : শপথ ও ঘোষণা
- চতুর্থ তফসিল : ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী
- পঞ্চম তফসিল : বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ
- ষষ্ঠ তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা
- সপ্তম তফসিল : মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
৫৮৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে?
  1. ২৮ (১) নং
  2. ২৮ (২) নং
  3. ২৮ (৩) নং
  4. ২৮ (৪) নং
সঠিক উত্তর:
২৮ (২) নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৮ (২) নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
• ২৮(১) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ন, নারী পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।

• ২৮(২) নং: রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।


• ২৮(৩) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না।

• ২৮(৪) নং: নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৮৯.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে  ’প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের কথা সন্নিবেশিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ: ১১৫
  2. অনুচ্ছেদ: ১১৭
  3. অনুচ্ছেদ: ১২০
  4. অনুচ্ছেদ: ১২১
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ: ১১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ: ১১৭
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭ নং অনুচ্ছেদে ’প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের কথা সন্নিবেশিত হয়েছে।

বিচারবিভাগ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বিচারবিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ষষ্ঠ ভাগে মোট ৩টি পরিচ্ছদ রয়েছে।
- যথা:
-১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট [অনুচ্ছেদ: ৯৪ - ১১৩];
- ২য় পরিচ্ছেদ: অধস্তন আদালত [অনুচ্ছেদ: ১১৪ থেকে ১১৬];
- ৩য় পরিচ্ছেদ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [অনুচ্ছেদ: ১১৭]।
অন্যদিকে,
- ১১০ নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালত হইতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর।
- ১১৫ নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালতে নিয়োগ।
- ১২০ নং অনুচ্ছেদ: নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৯০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সবার জন্য শিক্ষার নির্দেশনা রয়েছে?
  1. ১১ নং
  2. ১৭ নং
  3. ২৭ নং
  4. ৩৭ নং
সঠিক উত্তর:
১৭ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ নং
ব্যাখ্যা
অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা:
- ১৭ নং অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে।

অন্যদিকে -
- ১১ নং অনুচ্ছেদে 'গণতন্ত্র ও মানবাধিকার' বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।
- ২৭নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।'
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৯১.
'ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি' সম্পর্কে সংবিধানের কোন তফসিলে বলা আছে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
৪র্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪র্থ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি। যথা:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত),
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা,
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী,
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ,
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা,
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৫৯২.
’প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে স্বীকৃত দেওয়া হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-১২২
  2. অনুচ্ছেদ-১২১
  3. অনুচ্ছেদ-১২৩
  4. অনুচ্ছেদ-১২৪
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-১২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-১২২
ব্যাখ্যা

সপ্তম ভাগ: নির্বাচন: 
- অনুচ্ছেদ-১২২:ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।
- ১২২(১) প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
- (২) কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি
- (ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
- (খ) তাঁহার বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়;
- (গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁহার সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা বহাল না থাকিয়া থাকে;
- ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
- (ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হইয়া থাকেন।

অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ- ১২১: প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ- ১২৩: নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- অনুচ্ছেদ- ১২৪: নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৯৩.
'২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা' বাংলাদেশের সংবিধানের কোন তফসিলে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে?
  1. ৪র্থ তফসিল
  2. ৫ম তফসিল
  3. ৬ষ্ঠ তফসিল
  4. ৭ম তফসিল
সঠিক উত্তর:
৬ষ্ঠ তফসিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ষ্ঠ তফসিল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি।
- যথা:

• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৫৯৪.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন?
  1. ৫৫ 
  2. ৭৭ 
  3. ৮৮ 
  4. ৯৯
সঠিক উত্তর:
৭৭ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৭ 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন।

⇒ অনুচ্ছেদ - ৭৭ : ন্যায়পাল: 
১. সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন।
২. সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়, সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরকম দায়িত্ব প্রদান করবেন, ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
৩. ন্যায়পাল তার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করবেন এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হবে।
 
অন্যদিকে -
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫ নং অনুচ্ছেদে 'মন্ত্রিসভা'-এর উল্লেখ আছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৮ নং অনুচ্ছেদে 'সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়'-এর উল্লেখ আছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৯ নং অনুচ্ছেদে 'অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা'-এর উল্লেখ আছে।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৯৫.
’জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ’ বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ-৩৫
  2. অনুচ্ছেদ-৩১
  3. অনুচ্ছেদ-৩৩
  4. অনুচ্ছেদ-৩২
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-৩২
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ-৩২: ’জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ’ ।
- আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।

অপরদিকে,
- অনুচ্ছেদ- ৩১। আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- অনুচ্ছেদ- ৩২। জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- অনুচ্ছেদ- ৩৩। গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ;
- অনুচ্ছেদ- ৩৪। জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ;
- অনুচ্ছেদ- ৩৫। বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৯৬.
’বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট’ গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ- ৯৪
  2. অনুচ্ছেদ- ৬৫
  3. অনুচ্ছেদ- ৪৮
  4. অনুচ্ছেদ- ৭৬
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ৯৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ৯৪
ব্যাখ্যা

• ’বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট’:  
- অনুচ্ছেদ ৯৪(১) "বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট" নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকবে এবং আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ লইয়া তাহা গঠিত হবে।
- ৯৪(২) প্রধান বিচারপতি (যিনি "বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি" নামে অভিহিত হবেন) এবং প্রত্যেক বিভাগে আসনগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি যেরূপ সংখ্যক বিচারক নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য বিচারক লইয়া সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।- - ৯৪ (৩) প্রধান বিচারপতি ও আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ কেবল উক্ত বিভাগে এবং অন্যান্য বিচারক কেবল হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৯৭.
’ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বর্ণিত রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ-৪৮
  2. অনুচ্ছেদ-৫১
  3. অনুচ্ছেদ-৫০
  4. অনুচ্ছেদ-৪৯
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-৪৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-৪৯
ব্যাখ্যা

-  অনুচ্ছেদ-৪৯:  ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার ।
- কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে−কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে−কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।

অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ- ৪৮ বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।
- অনুচ্ছেদ- ৫০:  একাদিক্রমে হউক বা না হউক-দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোন ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকিবেন না। 
- স্পীকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
-অনুচ্ছেদ -৫১:  রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাঁহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রকার ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাইবে না এবং তাঁহার গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালত হইতে পরোয়ানা জারী করা যাইবে না।

উৎস: বাংলাদশে সংবিধান।

৫৯৮.
সংবিধানের সপ্তম ভাগের বিষয়বস্তু কী?
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. নির্বাচন
  3. আইনসভা
  4. বিচার বিভাগ
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের সপ্তম ভাগের বিষয়বস্তু নির্বাচন।

• বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:
- সংবিধানের ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- সংবিধানের ৭টি তফসিল রয়েছে।
- সংবিধান ১৭ বার সংশোধনী হয়েছে।
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৯৯.
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ৪নং
  2. ৩নং
  3. ৫নং
  4. ১নং
সঠিক উত্তর:
৩নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের অনুচ্ছেদ: 
- অনুচ্ছেদ- ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ- ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ- ২(ক): রাষ্ট্রধর্ম।
• অনুচ্ছেদ- ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷
- অনুচ্ছেদে- ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদে- ৪(ক): জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
- অনুচ্ছেদে- ৫(১) প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷ 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬০০.
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮(১) অনুযায়ী, রাষ্ট্র কী কারণে বৈষম্য প্রদর্শন করতে পারবে না?
  1. অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে
  2. শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে
  3. পেশাগত পরিচয়ের কারণে
  4. ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদাভেদের কারণে
সঠিক উত্তর:
ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদাভেদের কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদাভেদের কারণে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ২৮- ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য:
(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না। 

(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন। 

(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না। 

(৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।