উত্তর
ব্যাখ্যা
সাধিত শব্দ তিন প্রকার।
সমাস সাধিত শব্দ - কুলাকুলি
প্রত্যয় সাধিত শব্দ - মোগলাই
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - প্রহার, উপহার।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৩ / ২০ · ১,২০১–১,৩০০ / ১,৯২৬
• বিদেশাগত ধাতু:
প্রধানত হিন্দি এবং ক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়।
- যেমন:
ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে 'মাগ্' ধাতু হিন্দি 'মাঙ্' থেকে আগত।
- এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু।
যেমন 'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?'এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।
এখানে কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো:
আঁট, খাট্, চেঁচু, জম্, ঝুল্, টান, টুট্, ডর্, ফির, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্।
অন্যদিকে,
আঁকা, বাঁধ, কাঁদ বাংলা ধাতু।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় (ইয়া> এ-প্রত্যয়):
- তৎকালীনতা বোঝাতে: সেকাল + এ = সেকেলে, একাল + এ = একেলে, ভাদর +ইয়া = ভাদরিয়া> ভাদুরে (কইমাছ)।
- উপকরণ বোঝাতে: পাথর পাথরিয়া> পাথুরে, মাটি + এ = মেটে, বালি + এ = বেলে।
- উপজীবিকা অর্থে: জাল-জালিয়া>জেলে, মোট + এ = মুটে।
- নৈপুণ্য বোঝাতে: খুন-খুনিয়া> খুনে, দেমাক + এ = দেমাকে, না (নৌকা) – নাইয়া> নেয়ে।
- অব্যয়জাত বিশেষণ গঠনে: টনটন + এ = টনটনে (জ্ঞান), কনকন + এ = কনকনে (শীত), গনগন + এ = গনগনে (আগুন), চকচক + এ = চকচকে (জুতা)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।
অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - থাল + আ = থালা; চোর + আই = চোরাই; ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
- ‘মেছো’ শব্দটি উয়া> ও প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত প্রত্যয়।
- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় হবে 'মাছ + উয়া > ও'
উয়া> ও-প্রত্যয়:
• রোগগ্রস্ত অর্থে : জ্বর + উয়া = জ্বরুয়া> জ্বরো। বাত+উয়া=বাতুয়া> বেতো (ঘোড়া)।
• যুক্ত অর্থে : টাক – টেকো। -
• সেই উপকরণে নির্মিত অর্থে : খড়খড়ো (খড়োঘর)।
• জাত অর্থে : ধান - ধেনো।
• সংশ্লিষ্ট অর্থে : মাঠ - মেঠো, গাঁ-গাঁইয়া> গেঁয়ো ।
• উপজীবিকা অর্থে : মাছ - মাছুয়া> মেছো।
• বিশেষণ গঠনে দাঁত - দেঁতো (হাসি), ছাঁদ-ছেঁদো (কথা), তেল-তেলো> তেলা (মাথা), কুঁজ- কুঁজো (লোক)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮সংস্করণ)।
ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
- সতী + ঈশ = সতীশ,
- রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র,
- অতি + ইত = অতীত,
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
- সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
প্রাতিপদিক:
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
প্রত্যয়:
যে বর্ণ বা বর্ণগুচ্ছ ধাতু বা প্রাতিপদিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শব্দগঠন করে তাকে প্রত্যয় বলে।
অথবা, ক্রিয়ামূল/ধাতু বা শব্দের পরে পরে যে শব্দখন্ড যুক্ত হয়ে শব্দগঠন করে তাকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
√চল্ + আ = চলা। (ক্রিয়ামূলের সাথে যুক্ত হয়ে)
ঢাকা + আই = ঢাকাই (নাম শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে)
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ।
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
- তৃচ্-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন:
-√দা +তৃচ্ =√দা + তৃ =√দা + তা = দাতা;
- মা + তৃচ্ = মাতা,
- ক্রী+ তৃচ্ = ক্রেতা।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যে- সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
√গৈ+ণক = গায়ক, √কৃ+অনীয় = করণীয়, √রক্ষ+অনীয় = রক্ষণীয়।
অন্যদিকে,
- 'কেষ্টা',
- 'নিমাই' ইত্যাদি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• মৌলিক ধাতু:
যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
(ক) বাংলা, (খ) সংস্কৃত এবং (গ) বিদেশি ধাতু।
• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন- কাট্, কাঁদ, জান্, নাচ্ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।
• বিদেশাগত ধাতু:
প্রধানত হিন্দি এবং ক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়।
যেমন:
ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে 'মাগ্' ধাতু হিন্দি 'মাঙ্' থেকে আগত।
- এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু।
যেমন- 'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?'এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• মৌলিক ধাতু:
- যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়্, কর্ ইত্যাদি।
মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।
• বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত মূল ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন:
অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্, দৃশ্ ইত্যাদি।
• বিদেশি ধাতু:
- তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন:
আঁট, খাট্, চেঁচ্, ঝুল্ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• ধাতু:
- কোনো ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে বা ভেঙে ফেললে এমন একটি মূল বা শিকড় পাওয়া যায়, যাকে আর ভাঙা সম্ভব হয় না এবং সেই মূলের মাধ্যমেই ক্রিয়াপদের অন্তর্নিহিত ভাব বা অর্থ প্রকাশিত হয়।
- ক্রিয়াপদের এই শিকড় বা মূল অংশকেই ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়।
- ধাতু বা ক্রিয়ামূলের আগে মূল চিহ্ন [ √ ] ব্যবহার করা হয়।
- এই ধাতুর ওপর বিভিন্ন প্রত্যয় ও বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী ধাতু মূলত তিন প্রকার:
১) মৌলিক ধাতু
২) সাধিত ধাতু
৩) যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু
• মৌলিক ধাতু:
- যে ধাতুগুলোকে আর ভেঙে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোকেই মৌলিক ধাতু বলা হয়।
- এ ধরনের ধাতু নিজেরাই সম্পূর্ণ, তাই এগুলোকে সিদ্ধ ধাতু বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু নামেও পরিচিত।
- যেমন: দেখ্ চল্, পড়্, কর্ ইত্যাদি।
• সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু বা কখনো কোনো নাম শব্দের সঙ্গে ‘আ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু তৈরি হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলা হয়।
- যেমন:
- শুন + আ = শোনা;
- লিখ্ + আ = লেখা;
- পড়্ + আ = পড়া।
- এই সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষ নির্দেশক বিভক্তি যোগ হলে পূর্ণ ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
- যেমন- "শিক্ষক ছাত্রদের পড়া শোনাচ্ছেন"।
• যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, দে, পা, খা, ছাড় প্রভৃতি মৌলিক ধাতু যুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু তৈরি হয়, তাকে যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু বলা হয়।
- যেমন-
- যোগ কর: (যোগ + কর্);
- পূজা কর: (পূজা + কর);
- রাজি হ: (রাজি + হ)।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
• আণবিক এর প্রকৃতি–প্রত্যয়:
- প্রকৃতি: অণু (নাম প্রকৃতি / ধাতু);
- প্রত্যয়: ষ্ণিক্ (ইক) – সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
- অণু শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ইক যুক্ত হয়ে ‘আণবিক’ শব্দ গঠিত হয়েছে।
- সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- যেমন:
- অণু + ইক (ষ্ণিক) = আণবিক।
- পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।
• বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত মূল ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন:
অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্, দৃশ্ ইত্যাদি।
• বিদেশি ধাতু:
- তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন:
আঁট, খাট্, চেঁচ্, ঝুল্ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• প্রকৃতি দুই প্রকার।
যথা:
(ক) ক্রিয়া-প্রকৃতি বা ধাতু,
(খ) নাম-প্রকৃতি বা সংজ্ঞা-প্রকৃতি।
ক্রিয়া-প্রকৃতি:
- প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দের বিশ্লেষণে মৌলিক ভাব-দ্যোতক যে অংশ পাওয়া যায়, তা যদি অবস্থান, গতি বা অন্য কোনো প্রকারের ক্রিয়া বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-প্রকৃতি বলে।
যেমন:
- √চল্, √পড়, √রাখ, √দৃশ্, √কৃ প্রভৃতি ক্রিয়া-প্রকৃতি।
নাম-প্রকৃতি:
- প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দের বিশ্লেষণে মৌলিক ভাব-দ্যোতক যে অংশ পাওয়া যায়, তা যদি কোনো দ্রব্য, জাতি, গুণ বা কোনো পদার্থকে বোঝায়, তাকে নাম-প্রকৃতি বলে।
যেমন:
- মা, চাঁদ, গাছ, প্রভৃতি নাম-প্রকৃতি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
• 'আল' বাংলা কৃৎ- প্রত্যয়: √মাত্ + আল = মাতাল, √মিশ্ + আল = মিশাল।
অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
- পাগল + আমি = পাগলামি।
- শাঁখ + আরি = শাঁখারি।
- ঘটক + আলি = ঘটকালি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
কয়েকটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় হলো:
• ইল্-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল,
- ঊর্মি + ইল্ = ঊর্মিল,
- ফেন + ইল্ = ফেনিল।
• ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত,
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত।
• ইমন্-প্রত্যয়: বিশেষ্য গঠনে-
- নীল + ইমন = নীলিমা।
- মহৎ + ইমন = মহিমা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• ইন্ (ণিন্<ণিনি):
- √স্থা + ইন্ = স্থায়িন্ > স্বায়ী,
- √বদ + ইন = বাদিন > বাদী,
এরূপ- পায়ী (স্তন্যপায়ী), গামী (অনুগামী), সন্ন্যাসী (সম্-নি + √অস্ + ইন) ইত্যাদি।
- ইন্ (ঘিণুন্): প্র-√বস্ + ইন্ = প্রবাসিন্ > প্রবাসী,
- √যুজ্ + ইন্ = যোগিন্> যোগী, এরূপ- অনুরাগী, বিবেকী ইত্যাদি।
- ঈন (শানচ্): √আস্ + ঈন = আসীন।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
তৃচ্-প্রত্যয় (‘চ’ লোপ পেয়ে ‘তৃ’ অবশিষ্ট থাকে): প্রথমা একবচনে ‘তৃ’ স্থলে ‘তা’ হয়।
যেমন:
- √দা + তৃচ্ = √দা + তা = দাতা;
- √ক্রী + তৃচ্ = ক্রেতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা।
অন্যদিকে,
- ‘বাড়িওয়ালা’ বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় হলো 'নীলিমা' ও 'মহিমা'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাংলা তদ্ধিত প্রতয় - এর ব্যবহারঃ
- সম্পর্কিত অর্থে উয়া/ওয়া>ও প্রত্যয় -- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া; জল + উয়া = জলুয়া>জলো (দুধ)।
- অর্থহীনভাবে 'উড়' প্রত্যয় -- লেজ - লেজুড়।
- বিশেষণ গঠনে 'আটিয়া/টে' - প্রত্যয় -- তামা - তামাটিয়া > তামাটে; ঝগড়া - ঝগড়াটে।
- বিশেষণ গঠনে 'উক' - প্রত্যয় -- লাজ - লাজুক; মিশ - মিশুক; মিথ্যা - মিথ্যুক।
উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।
- 'ষ্ণিক' প্রত্যয়যোগে কয়েকটি শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়ঃ
• সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক,
• সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক,
• বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক,
• বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক,
• হেমন্ত + ষ্ণিক = হৈমন্তিক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
• বাংলা ”আই-তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
• আলি/আলো/আলি/আলী>এল-প্রত্যয়: (বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে): দাঁত- দাঁতাল, লাঠি-লাঠিয়াল> লেঠেল,
অন্যদিকে,
• কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
√শুন্ + আনি=শুনানি।
√মাত্ + আল = মাতাল,
√মিশ্ + আল =মিশাল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।
বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ, জান্, নাচ্ ইত্যাদি।
সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন
- কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্, স্থা, কথ্, গঠ্, পঠ্ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের শেষে ইমা থাকলে ইমন্ হবে এবং ভাবার্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- মহৎ + ইমন্ = মহিমা,
- নীল + ইমন্ = নীলিমা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির (২০১৯-সংস্করণ)।
• বতুপ্ (বৎ) এবং মতুপ্ (মৎ)-প্রত্যয় [প্রথমার এক বচনে যথাক্রমে 'বান্ এবং 'মান' হয়।
যেমন:
- দয়া + বতুপ্ = দয়াবান,
- বুদ্ধি + মতুপ্ = বুদ্ধিমান,
- গুণ + বতুপ্ = গুণবান,
- শ্রী + মতুপ্ = শ্রীমান।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• কতগুলো বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো-
আনা (গরিবানা), আনি (বাবুয়ানি), ওয়ান (গাড়োয়ান), খানা (ছাপাখানা), গর (কারিগর), দার (চৌকিদার), বাজ (চালবাজ), সই (মানানসই) ইত্যাদি।
• খানা:
মুদি + খানা = মুদিখানা,
ছাপা খানা = ছাপাখানা।
অন্যদিকে,
-------------
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন-
• কানু + আই = কানাই, ধুনা + আচি = ধুনাচি, বেত + আন্ = বেতান > বেতানো।
• আলি/আলো/আলি/আলী>এল-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: দাঁত + এল = দাঁতাল, লাঠি + এল = লাঠিয়াল> লেঠেল, তেজ-তেজাল, ধার-ধারাল, শাঁস-শাঁসাল, জমক + আলো = জমকালো, দুধ-দুধাল দুধেল, হিম-হিমেল, চতুর + আলি = চতুরালি, ঘটক ঘটকালি, সিঁদ-সিঁদেল, গাঁজা-গেঁজেল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।