বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা

মোট প্রশ্ন৪৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৪৫৪

২০১.
নৈতিকতা সম্পর্কিত কোন উক্তিটি সঠিক নয়?
  1. নৈতিকতা হলো ভুল ও সঠিক এর মধ্যে তুলনাকরণ
  2. নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান মায়া ও মমতা
  3. নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ
  4. এটি নৈতিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে
সঠিক উত্তর:
নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান মায়া ও মমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান মায়া ও মমতা
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ 'Ethics' যা গ্রিক শব্দ 'ইথস' (Ethos) হতে এসেছে, যার অর্থ হলো 'চরিত্র' বা রীতিনীতি (Character or Custom)।
- প্রতিটি মানুষই নৈতিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট।
- নৈতিকতা হলো আচরণগত মান এবং নৈতিক বিচার যা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে।
- ওয়েবস্টার ডিকশনারিতে বলা হয়েছে, "নৈতিকতা হলো এমন এক শৃঙ্খলা, বা নৈতিক কর্তব্য ও জবাবদিহিতার সাথে কী ভালো ও কী মন্দ তার মাত্রা নির্ধারণ করে।"
- Godiwalla & Faramarz এর মতে, " নৈতিকতা হলো ভুল ও খারাপ থেকে সঠিক ও ভালোর পার্থক্য নির্ণয় করার প্রক্রিয়া এবং এটার ভালো ও সঠিক কাজটি করার জন্য নৈতিকভাবে প্রয়োগ করা যায়।"
- Kreitner Eliason foundations of Management- এর মতে ভুল বনাম সঠিক এর সংশ্লিষ্টতার সাথে নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে পর্যালোচনা করাই হলো নৈতিকতা।

⇒ নৈতিকতা এমন কিছু মৌলিক রীতিনীতি বা মাপকাঠি নির্ধারণ করে দেয়, যেন প্রতিটি কাজ গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়।
- নৈতিকতার কতিপয় বৈশিষ্ট্য:
(i) নৈতিকতা হলো ভুল ও সঠিক এর মধ্যে তুলনাকরণ;
ii) এটি নৈতিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে;
(iii) এটি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে; এবং
(iv) এটি ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে।

⇒ নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়:
• লক্ষ্য: নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
• নিয়ন্ত্রক: নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
• শুরু: নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
• রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
উপাদান: নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০২.
কোন সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন?
  1. অর্থনৈতিক
  2. ব্যক্তিগত
  3. নৈতিক
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৩.
জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- এ বিষয়ে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৮
  2. অনুচ্ছেদ ২১
  3. অনুচ্ছেদ ২৫
  4. অনুচ্ছেদ ২৯
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৮
ব্যাখ্যা

⇒ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- এ বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ উল্লেখ রয়েছে।

- সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে রয়েছে নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদে রয়েছে মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে রয়েছে ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।

⇒ অনুচ্ছেদ- ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা:
- (১) জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

⇒ অনুচ্ছেদ ১৮ ক: পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবে।

- সুতরাং সঠিক উত্তর অনুচ্ছেদ-১৮।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

২০৪.
আইন ও নৈতিক বিধির প্রধান বিষয়বস্তু কী?
  1. রাষ্ট্র
  2. প্রশাসন
  3. মানুষ
  4. সমাজব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিক বিধির সম্পর্ক ও পার্থক্য: 
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- আইন ও নৈতিক বিধি উভয়ের বিষয়বস্তু মানুষ এবং উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণসাধন।
- জনগণের সম্মতি ছাড়া আইন কার্যকর করা দুরূহ। নৈতিকতা বিরুদ্ধ আইন অনেক ক্ষেত্রে জনসম্মতি হারায় বরং জনরোষ সৃষ্টি করতে পারে। আবার নৈতিক বিধি মানুষের আইনগত অধিকার লঙ্ঘনের কারণ হলে রাষ্ট্র সে ক্ষেত্রে আইনের সাহায্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতা থাকা সত্ত্বেও দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।
- আইন মানবসমাজের দর্পণস্বরূপ।
- মানুষের দেহ, সম্পত্তি, সুনাম ও মর্যাদা সুরক্ষার উদ্দেশ্যে আইন প্রণীত হয়ে থাকে, যা মেনে চলা রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, অনুমোদন এবং আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আইনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, যার উপস্থিতি ছাড়া কোনো বিধিনিষেধ আইনে পরিণত হয় না।
- নৈতিক বিধি হলো ধর্ম বা সমাজ আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, যা মানুষের বিবেকবোধ, নীতিবোধ, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিক বিধি মানুষের চিন্তা ও মনোভাব নিয়ে যে অন্তর্জগৎ, সেটির নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেয়।

⇒ আইনের বিধানগুলো সাধারণত লিখিত ও সুনির্দিষ্ট হয়ে থাকে, অন্যদিকে নৈতিক বিধি আইনের মতো লিখিত ও বিধিবদ্ধরূপে থাকে না। ফলে নৈতিক বিধির প্রয়োগ আইনের মতো স্পষ্ট ও কাঠামোবদ্ধ নয়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠান আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে। আইন ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র বা সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ ও শাস্তি বিধানের মাধ্যমে আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে পারে, কিন্তু নৈতিক বিধি কার্যকর করার বিষয়টি মানুষের নিজস্ব বিবেচনা ও বিবেকবোধের ওপর নির্ভরশীল। সর্বজনীনতা আইনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ সব মানুষ আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং রাষ্ট্রের সবার ওপর আইন সমভাবে প্রযোজ্য, অন্যদিকে নৈতিক বিধি অঞ্চল ও ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। আইন বিরুদ্ধ হলেও কোনো বিষয় নৈতিকতা বিরুদ্ধ না-ও হতে পারে, তেমনি নৈতিকতা বিরুদ্ধ হলেও অনেক বিষয় আবার বেআইনি নয়। আইনের অন্যতম একটি সুবিধা হচ্ছে এটি ব্যক্তিগত ইচ্ছাপ্রসূত স্বেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাত প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে আইনের অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতা হচ্ছে এটির অনমনীয়তা, আনুষ্ঠানিকতা, জটিলতা ও রক্ষণশীলতা।

উৎস: প্রথম আলো।

২০৫.
নীতিবিদ্যার আলোচনার বিষয় মানুষের -
  1. আচরণ
  2. সংস্কৃতি
  3. ধর্ম
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণ
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার আলোচনার বিষয়বস্তু:
- সামাজের মানুষের আচরণই মূলত নীতিবিদ্যার আলোচনার বিষয়বস্তু।
- তবে সব আচরণ এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
- বাস্তবে আইনী বাধ্যবাধকতার সাথে অন্য ধরনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে যেখানে আমাদের আচরণের অনৈচ্ছিকতা প্রকাশ পায়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নাৎসীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছিল তার মাঝে, অন্যকে 'অনৈচ্ছিক' আচরণে বাধ্য করার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।
- যেমন বলা হয়, নাৎসীরা ইহুদীদেরকে নিধনের জন্য অপরাপর জাতির বন্দীদেরকে হুকুম করতো।
- যদি তারা তা না করে তবে তাদেরকেই নিধন করা হবে।
- বাধ্য হয়ে ঐ সব বন্দীরা নাৎসীদের হুকুম অনুযায়ীই কাজ করতো।
- তাদের এই কাজ নৈতিকতা তথা নীতিবিদ্যার আওতায় পড়ে না।

তথ্যসূত্র - দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৬.
CEDAW সনদ কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) শিশু অধিকার
  2. খ) আমলাতান্ত্রিক শিষ্টাচার
  3. গ) নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
  4. ঘ) দুর্নীতি প্রতিরোধ
সঠিক উত্তর:
গ) নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
ব্যাখ্যা
CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দলিল।
- এটি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহীত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।

(তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট)
২০৭.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল কত ধরনের চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উল্লেখ করেছেন?
  1. ক) তিন ধরণ
  2. খ) চার ধরণ
  3. গ) পাঁচ ধরণ
  4. ঘ) আট ধরণ
সঠিক উত্তর:
খ) চার ধরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চার ধরণ
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত। এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২০৮.
নিচের কোনটি বাহ্যিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) সাহসিকতা
  2. খ) সত্যকে সত্য বলা
  3. গ) রাজনৈতিক সহনশীলতা
  4. ঘ) শ্রমের মর্যাদা
সঠিক উত্তর:
ক) সাহসিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাহসিকতা
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২০৯.
'অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা' এটি নাগরিকের কী ধরনের কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত?
  1. সামাজিক
  2. আইনগত
  3. নৈতিক
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।

• নৈতিক কর্তব্যের উদাহরণ - 
- বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা,
- ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া,
- দরিদ্রকে সাহায্য করা,
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা,
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২১০.
নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক কোনটি?
  1. মূল্যবোধ
  2. বিবেক
  3. সততা
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।

নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):

- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।

ব্যক্তির নৈতিক কর্তব্য:
- বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা,
- ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া,
- দরিদ্রকে সাহায্য করা,
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা,
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

⇒ নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়:
• লক্ষ্য: নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
• নিয়ন্ত্রক: নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
• শুরু: নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
• রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
• উপাদান: নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২১১.
কোনটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান
  2. রোগীর সেবা
  3. নিয়মিত কর প্রদান
  4. শোকার্তকে সান্ত্বনা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
ব্যাখ্যা

 বাংলাদেশের নাগরিকতা:
- বাংলাদেশের নাগরিকতা প্রধানত জন্মসূত্রে নির্ণয় করা হয়।
- বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

নাগরিকের কর্তব্য:
- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।
- নাগরিক কর্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত।
- যথা: (ক) নৈতিক কর্তব্য (খ) আইনগত কর্তব্য।

• নৈতিক কর্তব্য:
- ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান,
- রোগীর সেবা,
- শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান,
- দুর্যোগ, মহামারী, বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• আইনগত কর্তব্য:
- নির্বাচনে ভোটদান করা,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

২১২.
‘যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না’-উক্তিটিতে কী প্রকাশ পাচ্ছে?
  1. আইন স্বাধীনতার রক্ষক
  2. আইন স্বাধীনতার প্রতিবন্ধক
  3. আইন স্বাধীনতার ভক্ষক
  4. আইন স্বাধীনতার প্রচারক
সঠিক উত্তর:
আইন স্বাধীনতার রক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন স্বাধীনতার রক্ষক
ব্যাখ্যা
‘যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না’-উক্তিটিতে প্রকাশ পাচ্ছে আইন স্বাধীনতার রক্ষক।

আইন:
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ।
- আইন স্বাধীনতা ভোগের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং স্বাধীনতাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে তোলে।
- রাষ্ট্র আইনের সাহায্যে মানুষের অবাধ স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।
- রাষ্ট্রদার্শনিক লকের (Locke) মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২১৩.
নৈতিক অধিকার কোথায় থেকে জাগ্রত হয়?
  1. রাষ্ট্রের আইন থেকে  
  2. বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে 
  3. ধর্ম থেকে
  4. সংস্কৃতি থেকে
সঠিক উত্তর:
বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে 
ব্যাখ্যা

• নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার  জাগ্রত হয় বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে।

- যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার।
- এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তাছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না।
- নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।

• অধিকারের শ্রেণিবিভাগ: 

- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
- নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।

• আইনগত অধিকার:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
 যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৪.
Code of ethics বলতে কী বুঝায়?
  1. মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন
  2. দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
  3. সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের আলোচনা ও মূল্যায়ন
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন
ব্যাখ্যা
নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics):
- নৈতিক আচরণবিধি বলতে বুঝায় মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন যা সংগঠনের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে।

• নৈতিকতার নিয়ম প্রতিষ্ঠা (Establishment of Codes of Ethics):
- প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা-কর্মীদের জন্য নৈতিকতার কিছু নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করেও নৈতিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
- এটি হলো এমন কতগুলো আচরণের সমষ্টি যা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সকলে অনুসরণ করতে বাধ্য থাকে।
- এ প্রসঙ্গে Bartol and Martin বলেন, “নৈতিকতার নিয়ম হলো এক ধরনের দলিল যা প্রতিষ্ঠানের সদস্যদেরকে দিক-নির্দেশনার জন্য তৈরি করা হয় যখন তারা নৈতিকতা সম্পর্কে কোনো বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে (A code of ethics is document prepared for the purpose of guiding organizaion members when they encounter an ethical dilemma.")।
- প্রতিষ্ঠানে এধরনের নীতিমালা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারি তা মেনে চলতে বাধ্য হবে।
- ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানে একটি সুন্দর কার্যপরিবেশ বিরাজ করবে।
- এ সকল নিয়মনীতি এক দেশ থেকে অন্য দেশে রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে ভিন্নতর হয়ে থাকে।

⇒ নৈতিকতা নিরীক্ষা (Ethical Audit):
- প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত নৈতিক নিয়মনীতি (ethical code) বিভিন্ন কার্যক্ষেত্রে যথারীতি মানা হচ্ছে কি না তা পরীক্ষানিরীক্ষা করাই হলো নৈতিকতা নিরীক্ষা।
- Bartol and Martin এর মতে, “নৈতিকতা নিরীক্ষা হলো একটি পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা যা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যে নৈতিকতা নীতি পরিমাপ করে, সেই সকল নীতি বুঝতে সাহায্য করে এবং এ সকল নীতি পালনে কোনো ত্রুটি থাকলে তা চিহ্নিতকরণপূর্বক সংশোধনের ব্যবস্থা করে (Ethical audits is a systematic efforts to asses conformance to organizational ethical policies and understanding of those policies, and identify serious breaches requring remedial action)।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৫.
নীতিবিদ ম্যুর-এর মতে, শুভর ______ ও অশুভর প্রতি _______ হচ্ছে নৈতিকতা।
  1. রাগ, অনুরাগ
  2. অনুরাগ, বিরাগ
  3. বিরাগ, অনুরাগ
  4. অনুরাগ, রাগ
সঠিক উত্তর:
অনুরাগ, বিরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুরাগ, বিরাগ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

⇒ সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২১৬.
নীতিবাক্যের ভিত্তি নিচের কোনটি?
  1. ক) রাষ্ট্র
  2. খ) গোত্র
  3. গ) পারিবার
  4. ঘ) সমাজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাজ
ব্যাখ্যা
• সমাজ মানুষের আচার-আচরণ সম্পর্কে তার অনুমোদন কিংবা অননুমোদনকে সাধারণত ভাল-মন্দ, উচিত-অনুচিত, সঠিক-বেঠিক, সৎ-অসৎ, মূল্যবান-মূল্যহীন প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করে প্রকাশ করে থাকে।
- এসব শব্দাবলী এবং তাদের সংযোগে গঠিত বাক্য বা অবধারণের মাধ্যমে মানুষের যে চিন্তা- চেতনার প্রকাশ ঘটে তাকে এককথায় বলা হয় তার মূল্যবোধ; আর মানুষের এ মূল্যবোধেরই আরেক নাম হচ্ছে নৈতিকতা ।

• নৈতিকতা বিষয়ক সামাজিক চিন্তা-চেতনা যেসব অবধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তাদেরকে আমরা এককথায় নৈতিক অবধারণ বা নীতিবাক্য বলতে পারি ।
- এই সব নীতি-বাক্যগুলো ‘চুরি করা অন্যায়', “মিথ্যা বলা ভাল নয়' ইত্যাদি আকারে প্রতিনিয়ত আমরা ব্যবহার করি।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৭.
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রধানত কীসের মাধ্যমে প্রকাশ পায়?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে 
  2. ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যমে 
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে
  4. দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে 
সঠিক উত্তর:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রধানত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

কর্তব্যের শ্রেণিবিভাগ: 

- অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যেসব দায়িত্ব পালন করে, তাকে কর্তব্য বলে।
- নাগরিকের কর্তব্যকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা-ক। নৈতিক কর্তব্য ও খ। আইনগত কর্তব্য।
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, সংবিধান, রাষ্ট্রীয় মূলনীতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন ইত্যাদির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পায়।

 অন্যভাবে বলা যায়,
- রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, সংহতি ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য প্রয়োজনবোধে নিজের জীবন উৎসর্গ করার অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৮.
পরানীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. ক) মানুষের সামাজিক আচরণ
  2. খ) আচরণের ভালমন্দ নির্ণয় করা
  3. গ) নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি
  4. ঘ) অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার রক্ষক-সাধুপুরুষ ( Patron saint) রূপে খ্যাত সক্রেটিস থেকে শুরু করে হাল-আমলের দার্শনিকদের নৈতিক ভাবনাগুলোপর্যালোচনা করলে এর মধ্যে মোটামুটি চারটি ধারার সন্ধান পাওয়া যায়।
এগুলো হচ্ছে বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, মানমূলক নীতিবিদ্যা, বিশ্লেষণী বা পরানীতিবিদ্যা ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা। 
 
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্তআলোচনা।
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা।
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা।
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২১৯.
অ্যারিস্টটল তাঁর নিকোমেকীয়ান এথিক্স-এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে কোন নীতির উপর জোর দেন?
  1. চরমপন্থা অবলম্বন
  2. জীবনে মধ্যপথ অবলম্বন
  3. আত্মার বিভাজন অবলম্বন
  4. জ্ঞান অর্জন অবলম্বন
সঠিক উত্তর:
জীবনে মধ্যপথ অবলম্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনে মধ্যপথ অবলম্বন
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা: 
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্‌গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।
• অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স্' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।

উৎস: এসএসএইচএল, নীতিবিদ্যা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২০.
নিচের কোনটি নৈতিকতার উৎস?
  1. বিবেক
  2. চিন্তা
  3. ন্যায়পরায়ণতা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা (Morality):
- Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিক অনুশাসনের প্রভাবে মানুষ আইন মানে, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করে না এবং রাষ্ট্রের অনুশাসনকে শ্রদ্ধা করে।
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২১.
সক্রেটিস কী ধরনের গুণকে জ্ঞান বলেছেন?
  1. মানবিক
  2. সৎ
  3. ধর্মীয়
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
সৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ
ব্যাখ্যা
•  নৈতিকতা:

-  নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Morality. 
- ইংরেজি Morality. শব্দটি এসেছে ল্যাটিন Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
-‍ গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন- সৎ গুণই জ্ঞান এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে অজ্ঞতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২২২.
অধ্যাপক ই. এম. হোয়াইটের মতে কোন গুণগুলো থাকলে একজন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা
  2. শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সম্পদ
  3. দেশপ্রেম, সততা ও দক্ষতা
  4. বুদ্ধি, বিবেক, আত্মসংযম
সঠিক উত্তর:
সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

সুনাগরিক:
- সু শব্দের অর্থ হলো ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হলো আদর্শ নাগরিক।
- অধ্যাপক ই. এম. হোয়াইটের মতে 'সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা- এ তিনটি গুণ যদি কোনো নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক'।


⇒ সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
- একটি সুন্দর রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজন সে দেশের জনগোষ্ঠীকে সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। 

⇒ বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে নাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে।
- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ; যথা- ১) বুদ্ধি, ২) আত্মসংযম ও ৩) বিবেক থাকে।

উল্লেখ্য,
- দার্শনিক ম্যাক্স শেলার বলেন, মূল্যবোধ হলো 'বস্তুর অভ্যন্তরে থাকা গুণাবলি, যা আমাদের অনুভূতির মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায় এবং এটি মানুষকে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণে প্রভাবিত করে।'

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৩.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় কোনটিকে?
  1. অর্থনৈতিক বৈষম্য
  2. স্বচ্ছতার অভাব
  3. অসৎ নেতৃত্ব
  4. নৈতিকতার অভাব
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

দুর্নীতি এবং নৈতিকতা:

- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, সুেযাগ-সুবিধা, পদবি, ক্ষমতা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত.
- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- কারণ এটি ব্যক্তির আচরণ এবং সমাজের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে।
- যখন ব্যক্তিরা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না বা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়,
- তখন তারা দুর্নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৪.
নৈতিকতা হল সমাজের –
  1. ক) মানদণ্ড
  2. খ) দায়িত্ব ও কর্তব্য
  3. গ) ভিত
  4. ঘ) ক+খ
সঠিক উত্তর:
গ) ভিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভিত
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা হচ্ছে সমাজের ভিত। যার উপর সমাজ মজবুতভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। মানুষের ভালো মন্দ, উচিত অনুচিত, ন্যায় অন্যায়বোধ হচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধের মাপকাঠি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।
২২৫.
Morality শব্দটির উৎস কোন ভাষা থেকে?
  1. গ্রিক
  2. ল্যাটিন
  3. ফরাসি
  4. স্প্যানিশ
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা (Morality):
- 'Morality' শব্দটির মূল উৎস ল্যাটিন শব্দ 'moralitas' থেকে এসেছে যা মূলত 'mos' বা 'moralis' (আচরণ, প্রথা বা রীতি) থেকে উদ্ভূত। 
- ল্যাটিন 'Moralitas' শব্দটির অর্থ হলো- আচরণ, চরিত্র বা সঠিক কর্মপদ্ধতি।

⇒ নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৬.
প্লেটোর মতে ‘সদ্গুণ’ হলো -
  1. প্রজ্ঞা
  2. মিতাচার
  3. ন্যায়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।
প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য,
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৭.
'অন্যায়কে অন্যায় বলা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. সামাজিক
  2. নৈতিক
  3. ধর্মীয়
  4. রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

→ সত্যকে সত্য বলা,
→ মিথ্যাকে মিথ্যা বলা,
→ অন্যায়কে অন্যায় বলা,
→ অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা,
→ দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
→ বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা,
→ অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২২৮.
'পরানীতিবিদ্যা'______এর ইংরেজি প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. Etymology
  2. Ethics
  3. Meta-ethics
  4. Meta-physics
সঠিক উত্তর:
Meta-ethics
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Meta-ethics
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নীতিবিদ্যার রক্ষক-সাধুপুরুষ ( Patron saint) রূপে খ্যাত সক্রেটিস থেকে শুরু করে হাল-আমলের দার্শনিকদের নৈতিক ভাবনাগুলো পর্যালোচনা করলে এর মধ্যে মোটামুটি চারটি ধারার সন্ধান পাওয়া যায়।
এগুলো হচ্ছে বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, মানমূলক নীতিবিদ্যা, বিশ্লেষণী বা পরানীতিবিদ্যা ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা।

- 'পরানীতিবিদ্যা' এর ইংরেজি প্রতিশব্দ - Meta-ethics.
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা।
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা।
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৯.
 নৈতিকতা কোন ধরনের বিষয়? 
  1. মানসিক 
  2. অর্থনৈতিক
  3. শারীরিক 
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
মানসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসিক 
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তরর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতার উদ্ভব মানুষের বিবেকবোধ থেকে।
- নৈতিকতা একটি মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতার উপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব আরোপিত নয়। অর্থাৎ নৈতিকতা লঙ্ঘনকারীকে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় আইন শাস্তি প্রদান করতে পারে না।
বিবেকের দংশনই নৈতিকতার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।
- মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ সাধনই নৈতিকতার লক্ষ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৩০.
'The Elements of Ethics' বইটি কার?
  1. ক) জি ই মুর
  2. খ) জেএস মিল
  3. গ) থমাস হবস
  4. ঘ) বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
ঘ) বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
'The Elements of Ethics' বইটি বার্ট্রান্ড রাসেল লেখেন। এটি নীতি বিষয়ক তার কতগুলো রচনার বা প্রবন্ধের সমাহার। এটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়। (সূত্রঃ ইন্টারনেট এনসাইক্লোপিডিয়া অব ফিলোসফি)
২৩১.
নীতিবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের কোন ধরনের আচরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ঐচ্ছিক আচরণ
  2. অনৈচ্ছিক আচরণ
  3. শারীরবৃত্তীয় আচরণ
  4. প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক আচরণ
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে মূলত মানুষের ঐচ্ছিক, সচেতন এবং উদ্দেশ্যমূলক আচরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এটি মানুষের এমন আচরণ নিয়ে কাজ করে, যার দায়ভার ব্যক্তি নিজে গ্রহণ করে।

নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

• নীতিবিদ্যার কাজ নৈতিকতা নিয়ে, আর নৈতিকতা মূলত একটি সামাজিক ব্যাপার। 
- নৈতিকতা বিষয়ক সামাজিক চিন্তা-চেতনা যেসব অবধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তাদেরকে আমরা এককথায় নৈতিক অবধারণ বা নীতিবাক্য বলতে পারি।
- এই সব নীতি-বাক্যগুলো 'চুরি করা অন্যায়', 'মিথ্যা বলা ভাল নয়' ইত্যাদি আকারে প্রতিনিয়ত আমরা ব্যবহার করি।

উল্লেখ্য,
- উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা”।
- পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, "নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।”
- ডি.ডি. রাফায়েলের মতে, "আদর্শ বা মূল্য সম্পর্কে, যথোচিত-অযথোচিত এবং শুভ-অশুভের ধারণা সম্পর্কে অথবা কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয় সে সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান হচ্ছে নীতিদর্শন"।
- জে.এস. ম্যাকেনজি নীতিবিদ্যাকে এমন একটি বিদ্যা হিসেবে গণ্য করেছেন যা মানুষের আচরণের যথোচিত্য বা ভালত্ব নিয়ে আলোচনা করে। তাঁর ভাষায় “এ হচ্ছে আচরণের সাধারণ মতবাদ এবং মানুষকে তাদের যথোচিত্য ও অ-যথোচিত্য এবং তাদের শুভ বা অশুভের প্রবণতার নিরিখে বিবেচনা করে"।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩২.
ধর্মচর্চা কোন ধরনের স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
  2. আইনগত স্বাধীনতা
  3. সামাজিক স্বাধীনতা
  4. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

⇒ স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ: রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, আইনগত স্বাধীনতা, প্রাকৃতিক স্বাধীনতা, জাতীয় স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা পৌর স্বাধীনতা:
- এই স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত।
- যে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটাতে পারে তাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলে।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগে অন্যের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।
- এ স্বাধীনতা ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ব্যক্তির বাহ্যিক কিছু আচরণের ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণবিহীনতা।
- যেমন ইচ্ছামতো রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডে চলাফেরার অধিকার, নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার প্রভৃতি।

• আইনগত স্বাধীনতা:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে আইনগত স্বাধীনতা বলা হয়।
- স্বাধীনতা নির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।

• সামাজিক স্বাধীনতা:
- মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।
- সামাজিক স্বাধীনতা মানুষকে সুন্দর জীবনের পথ দেখায়।
- তার মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটায়।

• রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ন্যায়সঙ্গতভাবে একজন নাগরিক সব ধরনের স্বাধীনতা ভোগের অধিকার রাখে।
- নেতৃত্বের বিকাশের জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকা উচিত।
- একনায়কতান্ত্রিক, সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৩৩.
প্লেটোর মতে সদ্গুণ বা মৌলিক সততা কয়টি?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা

সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।
- প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি।
- এগুলো হলো: জ্ঞান, সাহসিকতা, আত্মসংযম ও ন্যায়পরায়ণতা।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-১ : স্নাতক শ্রেণি: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৪.
নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics) বলতে বুঝায় -
  1. মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন যা সংগঠনের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে
  2. বাস্তবতার নিরিখে নির্দিষ্ট আচরণের মানদণ্ড নির্ধারণ সংক্রান্ত আচরণবিধি
  3. দৈনন্দিন কার্যকলাপ ত্বরান্বিত করণে প্রণীত নৈতিক নিয়ম, মানদণ্ড বা আচরণবিধি
  4. উপরের তিনটিই সঠিক
সঠিক উত্তর:
উপরের তিনটিই সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের তিনটিই সঠিক
ব্যাখ্যা
According to Oxford Reference, Code of ethics means-
The ethical standards that are adopted by an organization and expected to be followed by its employees. Well known voluntary codes of ethics exist in many multinational companies and are used frequently in the public and not-for-profit sectors.

নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics) বলতে বুঝায় কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নৈতিকতার মানদণ্ডে নির্ধারিত পেশাগত দৈনন্দিন দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিচিতি ও প্রযোজ্য নিয়মনীতি।
------------

নীতিবিদ্যা:
নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ ethics এসেছে গ্রিক শব্দ ethica ও ল্যাটিন শব্দ ethice থেকে। এ শব্দ দু’টি এসেছে গ্রিক শব্দ ethikos থেকে। অর্থাৎ ethics এর আদি উৎস হলো ethos যার অর্থ হলো ‘চরিত্র’, ‘আচার-ব্যবহার’, ‘রীতি-নীতি’ বা ‘অভ্যাস’। কাজেই শাব্দিক অর্থে নীতিবিদ্যা বলতে বুঝায় ‘মানুষের আচরণ সম্পর্কীয় বিজ্ঞান’।নীতিবিদ্যা মানুষের আচরণের ভালত্ব-মন্দত্ব ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। অতএব, যে বিদ্যা মানুষের আচার-ব্যবহার রীতি-নীতি, অভ্যাস ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করে তাকে নীতিবিদ্যা বলে।

নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় বা ভালো-মন্দ সম্পর্কিত আলোচনা। সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ বা ইচ্ছাকৃত ক্রিয়ার মূল্যবিচার করাই হলো এর মূল আলোচ্য বিষয়। নীতিবিজ্ঞান হলো সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কীয় একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা মানুষের আচরণ যথোচিত কি অনুচিত, ভাল কি মন্দ তা বিচার করে। অধ্যাপক ম্যাকেঞ্জি নীতিবিদ্যাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন আচরণের সঠিকতা বা ভালত্ব সম্পর্কিত অধ্যয়ন শাখা বলে।

উইলিয়াম লিলি তাঁর An Introduction to Ethics বইয়ে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, ‘‘নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।’’ মূলত: নীতিবিদ্যা হলো এমন একটি জ্ঞানশাখা যেখানে সমাজে বসবাসকারী মানুষের ঐচ্ছিক আচরণের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত, যথার্থতা-অযথার্থতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়, আচরণের মানদন্ড ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয় এবং তার প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তাহলে নীতিবিদ্যা সম্পর্কে বলা যায়:
- নীতিবিদ্যা সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিদ্যা।
- নীতিবিদ্যা ঐচ্ছিক আচরণের ভালো-মন্দ সম্পর্কিত বিদ্যা।
- নীতিবিদ্যা আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যা যেমন তাত্ত্বিক, তেমনি ব্যবহারিক।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
২৩৫.
মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে কোনটির বিকাশ ঘটে?
  1. সহনশীলতার
  2. স্বাধীতার
  3. নীতিবোধের
  4. আইনের শাসনের
সঠিক উত্তর:
নীতিবোধের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতিবোধের
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।

এছাড়াও, 
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২৩৬.
'আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান' উক্তিটি কার?
  1. গেটেল
  2. ফুঁকো
  3. এরিস্টটল
  4. রাসেল
সঠিক উত্তর:
গেটেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গেটেল
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিকতার সুসম্পর্ক:
- আইন ও নৈতিকতা উভয়েরই উদ্দেশ্য হল সৎ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাজ ও দেশ গঠন।
- আইনের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে সৎ, যুক্তিসংগত, নিয়মের মাঝে রাখা।
- অন্যদিকে, নৈতিকতারও একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
- নীতিবান ব্যক্তি তার কর্মে ও কথায় সবসময় সৎ, সদাচারী, সৌজন্যমূলক ও সৎচিন্তাশীল হয়ে থাকে।
- এসব গুণ সমাজজীবনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য অপরিহার্য।
- বাংলাদেশে কেউ প্রতারণা করলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২০ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।
- এ ধরনের বিবেচনা থেকে অধ্যাপক আর জি গেটেল বলেন, 'আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৭.
আইন ও নৈতিকতার মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
  1. আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি নেই, নৈতিকতা ভঙ্গ করলে শাস্তি হয়
  2. আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি দিতে হয়, নৈতিকতা ভঙ্গ করলে শাস্তি নেই
  3.  উভয়ই শাস্তি দেয়
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি দিতে হয়, নৈতিকতা ভঙ্গ করলে শাস্তি নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি দিতে হয়, নৈতিকতা ভঙ্গ করলে শাস্তি নেই
ব্যাখ্যা

- আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি দিতে হয়, নৈতিকতা ভঙ্গ করলে শাস্তি নেই। 

- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো।
- এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু নৈতিকতা ভঙ্গের কোনো শাস্তি নেই।

উল্লেখ্য,
নৈতিকতা (Morality):
- Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৮.
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়-
  1. ক) আইনের যথার্থ প্রয়োগ
  2. খ) শক্তিশালি আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
  3. গ) নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র
  4. ঘ) গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
ক) আইনের যথার্থ প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আইনের যথার্থ প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় - আইনের যথার্থ প্রয়োগ। [সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
২৩৯.
নীতিবিদ্যার আলোচনায় মানুষের কোন ধরনের আচরণ বিবেচনায় নেওয়া হয়?
  1. অনিচ্ছাকৃত ক্রিয়া
  2. দৈহিক ক্রিয়া 
  3. অনৈতিক ক্রিয়া
  4. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- "ঐচ্ছিক ক্রিয়া" নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মূলত মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বা ইচ্ছাপ্রসূত কর্মকে বোঝানো হয়।
- এটি এমন এক ধরনের কর্ম যা মানুষ নিজ সিদ্ধান্ত ও চিন্তার ভিত্তিতে করে থাকে। নীতিবিদ্যার প্রধান কাজ হলো মানুষের এই ঐচ্ছিক আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা। 

- নীতিবিদ্যা শুধু ঐচ্ছিক ক্রিয়াকেই মূল্যায়নের যোগ্য বলে মনে করে। কারণ, ইচ্ছার অনুপস্থিতিতে কোনো কার্য নৈতিক বিচারে স্থান পায় না। তাই ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, এর ধাপসমূহ, ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায়—এসবই নীতিবিদ্যার আওতাভুক্ত বিষয়।  

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪০.
জাতীয় উন্নয়ন বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) ব্যাক্তিগত
  3. গ) অর্থনৈতিক
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
জাতীয় উন্নয়ন বলতে সামাজিক, রাজনৈতি, অর্থনৈতিক, ও সাংস্কৃতিক অবস্থার সার্বিক উন্নতিকে বুঝায়। মূল্যবোধের শিক্ষা জাতীয় উন্নয়নকে তরান্বিত করে৷
২৪১.
নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে 'উপযোগবাদ' কীসের উপর ভিত্তি করে গঠিত?
  1. ব্যক্তিগত আচরণ
  2. সর্বোচ্চ সুখের পরিমাণ
  3. কর্তব্যের নীতি
  4. ধর্মীয় বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
সর্বোচ্চ সুখের পরিমাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বোচ্চ সুখের পরিমাণ
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে। 
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২৪২.
ইমানুয়েল কান্ট নৈতিক জীবন যাপনে কয় ধরনের আদেশের কথা উল্লেখ করেন?
  1. তিন
  2. দুই
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
• নৈতিক নীতি শর্তহীন আদেশ:
-  নৈতিকতার আকার সর্ম্পকে কান্টের বক্তব্য বেশ স্পষ্টভাবেই বুঝা যায়।
- এটা একটা অত্যন্ত নৈর্ব্যক্তিক নীতি যাকে তিনি শর্তহীন আদেশ নাম দিয়েছেন।
- এটা আদেশ এই জন্য যে, নৈতিক জীবন যাপন করতে হলে একে মানতেই হবে।
- কিন্তু এ শর্তহীন কেন?
• এর উত্তরে কান্ট তিন ধরনের আদেশের কথা উল্লেখ করেন যা হচ্ছে: 
-  শর্তযুক্ত আদেশ
- বিবৃতিমূলক আদেশ ও
-  শর্তহীন আদেশ।

• কান্টের মতে শর্তযুক্ত আদেশ হচ্ছে তাই যা কোন একটা বিশেষ দলের লোকের ক্ষেত্রে খাটে যাঁরা কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে কোন বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে চলেন। স্থাপত্যের নীতিসমূহ এই ধরনের। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এসএসএইচএল Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৩.
আধুনিক নাগরিকতার ধারণায় নাগরিকতার কয়টি প্রধান বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা

⇒ নাগরিকতা:
- সাধারণভাবে নগরের অধিবাসীকে নাগরিক বলে ।
- নাগরিকতা বলতে, যে ব্যক্তি রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, রাষ্ট্রের প্রতি
- আনুগত্য প্রদর্শন করে, রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে চলে সেই রাষ্ট্রের নাগরিক ।

⇒ আধুনিক নাগরিকতার ধারণায় নাগরিকের সংজ্ঞা থেকে নাগরিকতার চারটি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
• রাষ্ট্রের সদস্য হতে হয়,
• রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতে হয়,
• রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করতে হয়,
• সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে হয়।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৪.
জনমত বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) অধিকাংশের মতামত
  2. খ) মতমোড়লদের মতামত
  3. গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
  4. ঘ) গণমাধ্যমের বক্তব্য
সঠিক উত্তর:
গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
ব্যাখ্যা
- সাধারণ অর্থে জনমত বলতে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অধিকাংশের মতামতকে বুঝলেও জনমত হলো যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামত।
- জনমতকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের উপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২৪৫.
কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী?
  1. মন্টেস্কু
  2. হাবার্ট স্পেনসার
  3. জন লক
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
হাবার্ট স্পেনসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাবার্ট স্পেনসার
ব্যাখ্যা
হাবার্ট স্পেনসার-এর মতে, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী।

আইন ও স্বাধীনতা:

- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে আইন ও স্বাধীনতার মধ্যকার সম্পর্ক নির্ধারণ করা একটি জটিল সমস্যা।
- স্বাধীনতা বলতে সব ধরনের নিয়ন্ত্রণের অবসান বোঝায় না: অর্থাৎ স্বাধীনতা মানে ফ্রি লাইসেন্স নয়।
- প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা হচ্ছে নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা।
- স্বাধীনতা কেবলমাত্র আইনানুগ রাষ্ট্রব্যবস্থাতেই অস্তিত্বশীল।
- বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ।

⇒ আইন ও স্বাধীনতার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দু'টো বিপরীতধর্মী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে:
i) কোন কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী
- এ দুটোর মধ্যে তেমন কোন সামঞ্জস্য নেই। আইনের আধিক্যের ফলে স্বাধীনতা খর্ব হয়।
- আইনের আধিক্য যত বেশি হয স্বাধীনতাও সে পরিমাণে হ্রাস পায়। প্রতিটি আইন কোন না কোনভাবে জনগণের স্বাধীনতা খর্ব করে।
- উইলিয়াম গডউইন, ক্রপট্‌কীন, হাবার্ট স্পেনসার প্রমুখ চিন্তাবিদ এ মতবাদ সমর্থন করেন। 

ii) অপরদিকে কোন কোন দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আইন ও স্বাধীনতার মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিরাজমান বলে বর্ণনা করেন।
- তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এরিস্টটল (Aristotle), মন্টেস্কু (Montesquieu) এবং জন লক (John Locke)।
- তাঁরা সকলেই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এবং জনগণের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনের প্রয়োজন সর্বাগ্রে।
- আইনের মাধ্যমেই কেবল ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণ সাধন করা সম্ভব।
- আইন স্বাধীনতা খর্বতো করেই না বরং তা সংরক্ষিত এবং প্রসারিত করে।

উল্লেখ্য,
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেষোক্ত মতামতটি অধিক পরিমাণে গ্রহণযোগ্য। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র মাত্রই আইনের মাধ্যমে ব্যক্তি স্বাধীনতা সংরক্ষণ করতে প্রয়াসী হয়। জনগণের ক্রিয়াকলাপের উপর প্রয়োজনমত বিধিনিষেধ আরোপ করে আইন স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে কাজ করে। কাজেই বলা হয়ে থাকে যে, 'আইন স্বাধীনতার শর্ত' 'Law is the condition of liberty.' আবার আইন শুধুমাত্র স্বাধীনতার শর্তই নয়, 'আইন স্বাধীনতার রক্ষকও বটে।'

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৬.
আইন মানুষের কোন ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. অভ্যন্তরীণ
  2. বাহ্যিক
  3. সামাজিক
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
বাহ্যিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহ্যিক
ব্যাখ্যা

আইন:
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন হলো মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ আইনের উৎস:
- আইনের উৎস: প্রথা, ধর্ম, আইনসভা, সংবিধান, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৪৭.
স্বাধীনতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. আইন
  2. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
  3. বিচারবিভাগ
  4. জনগণের সজাগ সচেতন
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ।
- আইন স্বাধীনতা ভোগের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং স্বাধীনতাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে তোলে।
- রাষ্ট্র আইনের সাহায্যে মানুষের অবাধ স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।
- রাষ্ট্রদার্শনিক লকের (Locke) মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৪৮.
'বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী' কারা?
  1. ক) উপজাতি
  2. খ) ভিক্ষুক
  3. গ) ভূমিহীন
  4. ঘ) প্রতিবন্ধী
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রতিবন্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রতিবন্ধী
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২৪৯.
প্লেটো কয়টি প্রধান সদগুণের কথা উল্লেখ করেছেন?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
সদগুণ: 
- অ্যারিস্টটল মধ্যপন্থাকে সদগুণ উদ্ভবের কারণ বলেছিলেন।
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদগুণের অভ্যুদয় ঘটে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

উৎস: দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫০.
সক্রেটিস সততাকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
  1. ক) সাহস
  2. খ) জ্ঞান
  3. গ) প্রবৃত্তি
  4. ঘ) নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ঞান
ব্যাখ্যা
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের মতে সততা হলো জ্ঞান। তার মতে জ্ঞান মানেই সততা আর অজ্ঞানতাই অসদাচার।
- সক্রেটিসের মতে কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অন্যায় কাজ করতে পারে না। তাই জ্ঞানই সততার মূলকথা।

(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২৫১.
দৃঢ় ও গঠনমূলক চরিত্র গঠনের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. আত্মবিশ্বাস
  2. সাহসিকতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ, যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে এবং এতে মানসিক তৃপ্তি অনুভব করে।
- সত্যকে সত্য বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ দেওয়া নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।
- নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি সমাজে শ্রদ্ধেয় এবং বিশ্বস্ত হিসেবে বিবেচিত হন।
- চরিত্র গঠনের জন্য আত্মবিশ্বাস, সাহসিকতা বা সৃজনশীলতা সহায়ক হলেও নৈতিক মূল্যবোধই হল সেই মূল ভিত্তি, যার উপর একটি দৃঢ়, সৎ ও গঠনমূলক চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।

২৫২.
ব্যক্তির বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত হয়-
  1. ক) মৌলিক অধিকার
  2. খ) রাজনৈতিক অধিকার
  3. গ) সামাজিক অধিকার
  4. ঘ) নৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। এরূপ অধিকারের মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, নৈতিক অধিকার ইত্যাদি। এদের মধ্যে নৈতিক অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। এটি ব্যক্তির বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত। সূত্র- পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৩.
Morality শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ কী?
  1. অনুকরণ করা
  2. ঐচ্ছিক কর্মকাণ্ড
  3. সঠিক আচরণ
  4. মধ্যাবস্থা
সঠিক উত্তর:
সঠিক আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঠিক আচরণ
ব্যাখ্যা
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের হৃদয় বা মন থেকে উৎসারিত।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২৫৪.
জোনাথন হেইট এর মতে নিচের কোনটি হতে নৈতিকতা উদ্ভব হয়নি?
  1. ক) ধর্ম
  2. খ) মানব আচরণ
  3. গ) মনুষ্যত্ব
  4. ঘ) ঐতিহ্য
সঠিক উত্তর:
গ) মনুষ্যত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মনুষ্যত্ব
ব্যাখ্যা
জোনাথন হেইট এর মতে ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ – তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৫৫.
আইন ও নৈতিক বিধির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য -
  1. শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. মানুষের কল্যাণসাধন
  3. ক্ষমতার প্রয়োগ
  4. সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
মানুষের কল্যাণসাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের কল্যাণসাধন
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিক বিধির সম্পর্ক ও পার্থক্য: 
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- আইন ও নৈতিক বিধি উভয়ের বিষয়বস্তু মানুষ এবং উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণসাধন।

⇒ 
জনগণের সম্মতি ছাড়া আইন কার্যকর করা দুরূহ। 
- আবার নৈতিক বিধি মানুষের আইনগত অধিকার লঙ্ঘনের কারণ হলে রাষ্ট্র সে ক্ষেত্রে আইনের সাহায্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
- আইন মানবসমাজের দর্পণস্বরূপ।
- মানুষের দেহ, সম্পত্তি, সুনাম ও মর্যাদা সুরক্ষার উদ্দেশ্যে আইন প্রণীত হয়ে থাকে, যা মেনে চলা রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, অনুমোদন এবং আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আইনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, যার উপস্থিতি ছাড়া কোনো বিধিনিষেধ আইনে পরিণত হয় না।
- নৈতিক বিধি হলো ধর্ম বা সমাজ আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, যা মানুষের বিবেকবোধ, নীতিবোধ, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিক বিধি মানুষের চিন্তা ও মনোভাব নিয়ে যে অন্তর্জগৎ, সেটির নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেয়।

⇒ সব মানুষ আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং রাষ্ট্রের সবার ওপর আইন সমভাবে প্রযোজ্য, অন্যদিকে নৈতিক বিধি অঞ্চল ও ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
- আইন বিরুদ্ধ হলেও কোনো বিষয় নৈতিকতা বিরুদ্ধ না-ও হতে পারে, তেমনি নৈতিকতা বিরুদ্ধ হলেও অনেক বিষয় আবার বেআইনি নয়।
- আইনের অন্যতম একটি সুবিধা হচ্ছে এটি ব্যক্তিগত ইচ্ছাপ্রসূত স্বেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাত প্রতিরোধ করে।
- অন্যদিকে আইনের অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতা হচ্ছে এটির অনমনীয়তা, আনুষ্ঠানিকতা, জটিলতা ও রক্ষণশীলতা।

উৎস: প্রথম আলো।

২৫৬.
নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের -
  1.  নৈতিক বিধি
  2. নৈতিক আদর্শ
  3. নৈতিক শক্তি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নৈতিক আদর্শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক আদর্শ
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।9

২৫৭.
অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইনের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. সুস্পষ্ট
  2. গতিশীল
  3. সর্বজনীন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

আইন:
⇒ অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইন হচ্ছে, 'সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন'।
⇒ জন অস্টিন বলেন, 'আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ'।
আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি।
⇒ আইন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগণের মতামত থেকে আইনের কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন:
• ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক।
• সুস্পষ্ট।
• গতিশীল।
• দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।
• সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত।
• সর্বজনীন।
• বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি।
• বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৮.
নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. রাষ্ট্র
  2. বিদ্যালয়
  3. সমাজ
  4. পরিবার
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৫৯.
‘সুবর্ণ মধ্যক‘ হলো-
  1. ক) একটি জ্যামিতিক ধারণা
  2. খ) একটি সংশয়বাদী ধারণা
  3. গ) দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
  4. ঘ) কোন কিছুর প্রাচুর্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
ব্যাখ্যা
সুবর্ণ মধ্যক বা গোল্ডেন মিন হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থা। এটি একটি দার্শনিক মতবাদ যা গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল ব্যাখ্যা করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
২৬০.
নৈতিক অধিকার কোথায় থেকে আসে? 
  1. মানুষের বিবেক
  2. সামাজিক নৈতিকতা
  3. ন্যায়বোধ 
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

অধিকারের শ্রেণিবিভাগ: 
- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।

• নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে।
- যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার।
- এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তাছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না।
- নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।


• আইনগত অধিকার:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
 যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬১.
উদ্দেশ্য নৈতিকতার আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. উদ্দেশ্য
  2. ফলাফল
  3. প্রক্রিয়া
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ফলাফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলাফল
ব্যাখ্যা

◉ প্রশ্নের অপশন অনুসারে - সঠিক উত্তর: খ) ফলাফল।

উদ্দেশ্য/পরিণামবাদী (Teleological/Consequentialist) নৈতিকতা
উদ্দেশ্যমুখী নৈতিক মতবাদ হল একটি নৈতিক দর্শন যা বলে যে একটি কাজের নৈতিকতা তার ফলাফলের উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ, যদি একটি কাজের ফলাফল ইতিবাচক হয়, তবে সেটি নৈতিকভাবে সঠিক এবং যদি ফলাফল নেতিবাচক হয়, তবে সেটি নৈতিকভাবে ভুল।

- উদ্দেশ্যবাদের অপর নাম পরিণামবাদ [Consequentialism]। এই মতবাদ অনুযায়ী, একটি কাজের উদ্দেশ্য নয়, বরং তার ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ।
- Teleological শব্দটি Greek টার্ম "telos," শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো "End" বা পরিণাম; এবং logos যার অর্থ Science বা বিজ্ঞান।
- সুতরাং, এটি এমন একটি নৈতিক তত্ত্ব, যেখানে কর্তব্য বা নৈতিক বাধ্যবাধকতা নির্ধারিত হয় সেই লক্ষ্য বা পরিণতির ফলাফল ভালো বা মন্দ হওয়ার উপর।

সূত্র:
- ব্রিটানিকা: [Link]

২৬২.
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) স্বচ্ছতা
  3. গ) ভবিষ্যৎবাণী
  4. ঘ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।

অন্যদিকে,
- অবাধ তথ্য প্রবাহ হলো বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন মূল্যায়নের অন্যতম উপাদান।

(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
২৬৩.
মানব জীবনে নৈতিক শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি কোথায় গড়ে ওঠে?
  1. মক্তব
  2. পরিবার
  3. সমাজ
  4. সরকার
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

– মানব জীবনে নৈতিক শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি 'পরিবারে' গড়ে ওঠে।

• নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- সুতরাং ব্যাক্তি তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৬৪.
নৈতিকতা মানুষের কোন ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ধর্মীয় 
  2. মানসিক 
  3. সামাজিক
  4. রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
মানসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসিক 
ব্যাখ্যা

- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

নৈতিকতা:

- Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- জোনাথান হেইট এর মতে,"ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।"
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন,"শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"
- Cambridge Dictionary-তে বলা হয়েছে,
"নৈতিকতা হলো ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ যা প্রত্যক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোন বিষয় থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।" 
- আইন নৈতিকতার উৎস নয়।- আইন হচ্ছে বাহ্যিক আচার আচারন নিয়ন্ত্রন করে।  
- নৈতিকতা মানসিক ব্যাপার।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৬৫.
কোন ধরনের অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায় না?
  1. মৌলিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. মানবাধিকার
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
- নৈতিক অধিকার ও
- আইনগত অধিকার।
- নৈতিক অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। ফলে এই অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায় না।
- তবে নৈতিক অধিকার ব্যক্তির বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত হওয়ায় এই অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিবেকের নিকট দায়বদ্ধতা থেকে যায়।
অন্যদিকে,
- মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রভৃতি হলো আইনগত অধিকার। এসব অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৬৬.
নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ নিচের কোনটি থেকে ঘটে?
  1. ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি থেকে
  2. শিক্ষাগত ডিগ্রি অর্জন থেকে
  3. উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে
  4. সামাজিক মর্যাদা থেকে
সঠিক উত্তর:
উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন 'Moralitas' থেকে, যার অর্থ 'সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

উল্লেখ্য,
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি। নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২৬৭.
কোন অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে?
  1. ক) মানবাধিকার
  2. খ) রাজনৈতিক অধিকার
  3. গ) নৈতিক অধিকার
  4. ঘ) সামাজিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। এরূপ অধিকারের মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, নৈতিক অধিকার ইত্যাদি। এদের মধ্যে নৈতিক অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। এটি ব্যক্তির বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৬৮.
নৈতিক বিকাশের তিনটি স্তর হলো -
  1. প্রথা-বিবেক-আত্মচেতনা
  2. প্রথা-প্রবৃত্তি-সংযম
  3. প্রবৃত্তি-প্রথা-বিবেক
  4. সংযম-আত্মসচেতনতা-বিবেক
সঠিক উত্তর:
প্রবৃত্তি-প্রথা-বিবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবৃত্তি-প্রথা-বিবেক
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার বিকাশে তিনটি স্তর নির্দেশ করা হয়।
- স্তরগুলো হলো: (১) প্রবৃত্তি বা প্রবণতার স্তর (২) প্রথার স্তর ও (৩) বিবেকের স্তর।
- আইনী নৈতিকতার প্রাচীনতম রূপ হল - হিব্রু।
- লক্ষ্যের দিক থেকে নৈতিক আলোচনা দু‘প্রকার: পরিণতিমূলক ও পরিণতিমুক্ত।

তথ্যসূত্র: দর্শন, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৯.
যে দার্শনিক নৈতিকতাকে সদিচ্ছার সাথে যুক্ত করেছেন-
  1. কার্ল মার্ক্স
  2. দেকার্ত
  3. জে. এস. মিল
  4. ইমানুয়েল কান্ট
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
২৭০.
বিবেকের দংশনের সাথে নিচের কোনটির সম্পর্ক রয়েছে?
  1. সুখানুভূতি
  2. নৈতিকতা
  3. মূল্যবোধ
  4. আত্মগ্লানি
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

- বিবেকের দংশনের সাথে নৈতিকতার সম্পর্ক রয়েছে। 

নৈতিকতা: 

- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Morality'।
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন 'Moralitas' থেকে, যার অর্থ 'সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

এছাড়াও, 
- শুধুমাত্র আইন বা রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানই নাগরিক জীবন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়। আর, এম, ম্যাকাইভার এ জন্যই
বলেছেন যে 'Law does not and can not cover all grounds of morality'.
- নৈতিকতা বা ন্যায়নীতিবোধের ধারণা বা এর প্রতি যে দেশের জনগণের শ্রদ্ধাবোধ বেশি, যাঁরা জীবনের চলারপথে নীতিবোধ দ্বারা পরিচালিত হন, তাঁরা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিতে লিপ্ত হন না। আইন অপেক্ষা বিবেক দ্বারা তাঁরা পরিচালিত হন।
- নীতিবান মানুষ ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির মানদণ্ডে নিজেরাই চলার চেষ্টা করে।
- নৈতিকতার পিছনে সার্বভৌম রাষ্ট্র কর্তৃত্বের সমর্থন বা কর্তৃত্ব থাকে না। কেননা নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত। রাষ্ট্র নৈতিকবিধি প্রয়োগ করে না। নৈতিকতা বিরোধী ব্যক্তিকে রাষ্ট্র কোনো প্রকার দৈহিক শাস্তি প্রদান করে না। বিবেকের দংশনই নৈতিকতার বড় রক্ষাকবচ।

উল্লেখ্য, 
নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত এবং সামাজিক ব্যাপার। নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধনই নৈতিকতার লক্ষ্য। যে রাষ্ট্রের মানুষের নৈতিক মান সুউচ্চ, সেদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সহজ। 'কেননা সেদেশের নাগরিকগণ নিজেরাই অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকেন, ঘুষ দুর্নীতিকে ঘৃণা করেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২৭১.
নৈতিক মূল্যবোধের উৎস কোনটি?
  1. আইন
  2. সামাজিক প্রথা
  3. নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ
  4. ধর্মীয় গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ
ব্যাখ্যা
• নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
→ নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
→ সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭২.
বিকেন্দ্রীকরণের ফলে-
  1. ক) প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়
  2. খ) আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা হ্রাস পায়
  3. গ) প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
  4. ঘ) সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয়
সঠিক উত্তর:
গ) প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
প্রশাসন ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণ হলো ক্ষমতা কেন্দ্রে বা এক জায়গায় কুক্ষিগত না করে স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া। এর ফলে প্রশাসন ব্যবস্থায় গতিশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং দৌরাত্ম্য হ্রাস পায়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
২৭৩.
আইন মানুষের কী নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. অন্তর্গত চিন্তা
  2. নৈতিক বিশ্বাস
  3. বাহ্যিক আচরণ
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
বাহ্যিক আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহ্যিক আচরণ
ব্যাখ্যা

আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

• আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি:
১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত,
২. সর্বজনীন,
৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি,
৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক,
৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক,
৬. সুস্পষ্টতা,
৭. আইন গতিশীল,
৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।

উল্লেখ্য,
- আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য। সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৪.
ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে কোনটি কাজ করে?
  1. সামাজিক রীতি
  2. ধর্মীয় বিধান
  3. আইন
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা

আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

• আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি:
১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত,
২. সর্বজনীন,
৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি,
৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক,
৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক,
৬. সুস্পষ্টতা,
৭. আইন গতিশীল,
৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।

উল্লেখ্য,
- আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য। সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৫.
মধ্যযুগে নীতিবিদ্যা কি দ্বারা প্রভাবিত ছিল?
  1. ক) সোফিস্ট
  2. খ) ধর্ম
  3. গ) সংশয়বাদী
  4. ঘ) স্বজ্ঞাবাদী
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্ম
ব্যাখ্যা
অন্যান্য বিষয়ের মতো মধ্যযুগের নীতিবিদ্যাও ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত ছিলো। ভালো-মন্দ কিংবা ন্যায়-অন্যায় নির্ধারণে তখন ধর্মীয় বিধি-বিধান এবং ধর্মগুরুদের বক্তব্যই মুখ্য ভূমিকা পালন করতো। সেন্ট অগাস্টিন, ইবনে খালদুন, থমাস একুইনাস প্রমুখ দার্শনিক মধ্যযুগের ধর্মপ্রভাবিত নীতিবিদ্যার প্রতিনিধিত্ব করেন।(সূত্রঃ নীতিবিদ্যা : মুহাম্মদ আবদুল বারী)
২৭৬.
‘যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন' নিচের কোন সাম্যের মূল কথা?
  1. আইনগত সাম্য
  2. ধর্মীয় সাম্য
  3. অর্থনৈতিক সাম্য
  4. রাজনৈতিক সাম্য
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা

⇒ ‘যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন' অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা।

অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয় ।
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হল যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৭.
আত্মসংযম ব্যক্তির কোন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে?
  1. নৈতিক ভাবাবেগে
  2. বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলনে
  3. নৈতিক অবদানে
  4. নৈতিক প্রগতিতে
সঠিক উত্তর:
নৈতিক প্রগতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক প্রগতিতে
ব্যাখ্যা
আত্মসংযম:
- আত্মসংযম ব্যক্তির নৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কোন ব্যক্তি যদি আত্মসংযমের মাধ্যমে ষড়রিপুকে দমন করতে না পারে, তাহলে তার নৈতিক প্রগতি ব্যাহত হয়। তাই নৈতিক প্রগতির জন্যে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সংযমী হতে হবে।

তথ্যসূত্র: এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৮.
প্লেটোর উল্লেখিত প্রধান চারটি সদগুণ হল-
  1. প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
  2. প্রজ্ঞা, সাহস, সততা, ন্যায়
  3.  সততা, সাহস, প্রজ্ঞা, ধৈর্য
  4. সহনশীলতা, ন্যায়, সততা, প্রজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
ব্যাখ্যা

- প্লেটোর উল্লেখিত প্রধান চারটি সদগুণ হল: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।

সদগুন: 
• প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

অপরদিকে,
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৯.
নৈতিকতা বা নীতিবোধ কোথা থেকে উৎসারিত?
  1. পরিবার থেকে
  2. বিদ্যালয় থেকে
  3. মানুষের হৃদয়-মন থেকে
  4. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে
সঠিক উত্তর:
মানুষের হৃদয়-মন থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের হৃদয়-মন থেকে
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন 'Moralitas' থেকে, যার অর্থ 'সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।

উল্লেখ্য,
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়। এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২৮০.
জোনাথান হেইট -এর মতে কয়টি উৎস থেকে নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

​⇒ জোনাথান হেইট -এর মতে, “ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ এই তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৮১.
পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনের উৎস কোনটি?
  1. ক) প্রথা
  2. খ) ধর্মগ্রন্থ
  3. গ) বিচারকের রায়
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতির আদেশ
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনের উৎস ধর্মগ্রন্থ। [সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
২৮২.
নৈতিকতার ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ কী?
  1. Ethics
  2. Equity
  3. Morality
  4. Moral
সঠিক উত্তর:
Morality
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Morality
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ Morality। ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন "সৎ গুণই জ্ঞান" (Virtue is knowledge) তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে জ্ঞান এবং অন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা'।

নৈতিকতার প্রামান্য সংজ্ঞা:
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, "ধর্ম, ঐতিহ্য, ও মানব আচরণ তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।"
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন, "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৩.
নীতিবিদ ম্যুর নৈতিকতাকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন?
  1. ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় দমন
  2. জ্ঞানের চর্চাই নৈতিকতার মূল ভিত্তি
  3. শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগ
  4. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই নৈতিকতার সারমর্ম
সঠিক উত্তর:
শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগ
ব্যাখ্যা

◉ নীতিবিদ জি. ই. ম্যুর নৈতিকতাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এইভাবে: “শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা”। তাঁর মতে, নৈতিকতা মানে হলো ভালো ও মন্দের প্রতি মানুষের অন্তর্নিহিত অনুভূতির প্রকাশ।

নৈতিকতা:

- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

নৈতিকতার সংজ্ঞা:
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'
- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২৮৪.
CEDAW সনদ গৃহিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৪৯ সালে
  2. খ) ১৯৭২ সালে
  3. গ) ১৯৭৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৩ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা
- CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দলিল।
- এটি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহিত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।
- এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট)
২৮৫.
'Critique of Pure Reason' বইটির লেখক কে?
  1. জন লক
  2. রেনে ডেকার্ত
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. বারুখ স্পিনোজা
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

⇒ 'Critique of Pure Reason' বইটির লেখক ইমানুয়েল কান্ট।

নৈতিকতা:
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ ধারণাটির প্রবর্তক জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট এর নীতিবিদ্যার মূলকথা ৩টি। যথা-
• সৎ ইচ্ছা,
• কর্তব্যের জন্য কর্তব্য,
• শর্তহীন আদেশ।

- তাঁকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়৷

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বইসমূহ:
• Critique of Pure Reason.
• Critique of Practical Reason.
• Critique of Judgement.
• Groundwork for Metaphysics of Morals.

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৬.
নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি পেয়ে থাকে- 
  1. বিদ্যালয় থেকে
  2. রাষ্ট্রের কাছ থেকে
  3. পরিবার কাছ থেকে
  4. ব্যক্তি নিজের থেকে
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি নিজের থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি নিজের থেকে
ব্যাখ্যা

নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সমাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ, যাকে নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশ ভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র বলা যেতে পারে।
- নৈতিকতার সাথে তাই মূল্যবোধের সম্বন্ধ অত্যন্ত নিবিড়।
- সমাজে কারও ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেয়া, কটুক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।
- নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে।
- এর ফলে সে ন্যায়, অন্যায়, ভালো, মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থক্য করে তার নিজের ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৮৭.
নিচের কোন দুটির লক্ষ্য ও আলোচ্য বিষয় একই?
  1. নৈতিকতা ও সমাজবিজ্ঞান
  2. আইন ও সমাজ
  3. নৈতিকতা ও রাজনীতি
  4. আইন ও নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
আইন ও নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন ও নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিকতা:
- আইন ও নৈতিকতার লক্ষ্য এক ও অভিন্ন।
- উভয়ের আলোচ্য বিষয় মানুষের আচরণ।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নৈতিকতা মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধন করাই উভয়ের লক্ষ্য। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৮৮.
কেউ অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুললে তার বিরুদ্ধে মামালা করে-
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) সরকারি কর্মকমিশন
  3. গ) দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. ঘ) পুলিশ প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্নীতি দমন কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২৮৯.
নিচের কোনটি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সংক্রান্ত হটলাইন?
  1. ক) ১০৬
  2. খ) ১০৯
  3. গ) ৩৩৩
  4. ঘ) ৯৯৯
সঠিক উত্তর:
খ) ১০৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০৯
ব্যাখ্যা
- নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ হটলাইন : ১০৯
- জাতীয় জরুরি সেবা হটলাইন : ৯৯৯
- দুদক হটলাইন : ১০৬
- সরকারি তথ্য ও সেবা হটলাইন : ৩৩৩।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
২৯০.
ইমানুয়েল কান্ট কোন দেশের নীতিবিজ্ঞানী?
  1. জার্মানি
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ফ্রান্স
  4. যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান দার্শনিক ও নীতিবিজ্ঞানী।
- তার নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বইঃ
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯১.
বিশ্বাস হলো-
  1. ক) প্রায়োগিক অভিজ্ঞতা
  2. খ) জীবন দর্শন
  3. গ) নৈতিক আচরণ
  4. ঘ) বহির্ঘাত ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) জীবন দর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবন দর্শন
ব্যাখ্যা
- বিশ্বাস হলো জগত ও জীবন সম্পর্কে মানুষের ধারণা। একে জীবন দর্শন হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
- বিশ্বাস হলো মানুষের সাথে অতি প্রাকৃত শক্তির, প্রকৃতির ও মানুষের সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতার ফসল।
(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২৯২.
'Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ম্যাকিয়াভেলি
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. টমাস হবস
  4. জ্যাক রুঁশো
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- নোবেল পুরস্কার পায় - ১৯৫০ সালে।
▪ 'Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থটির রচয়িতা ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।
=============================
তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- Power: A New Social Analysis
- The Problem of Philosophy
- Religion and Science
- The Analysis of Mind
- Marriage and Morals
- Political Ideals
- Logic and knowledge.

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২৯৩.
নীতিবিদ্যার মূল ধারা কতটি?
  1. পাঁচটি
  2. সাতটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা

⇒ নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

নীতিবিদ্যার মূল ধারা চারটি
যথা:
ক) পরানীতিবিদ্যা
খ) ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা
গ) বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা এবং
ঘ) মানমূলক নীতিবিদ্যা।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৪.
নৈতিকতা কোন ধরনের বিষয়?
  1. রাজনৈতিক
  2. বাহ্যিক
  3. সামাজিক
  4. ধর্মীয়
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষের সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা একটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার। এটি একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২৯৫.
প্লেটোর উল্লেখিত প্রধান চারটি সদগুণ হল-
  1. প্রজ্ঞা, সাহস, সততা, ন্যায়
  2. প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
  3. সততা, সাহস, প্রজ্ঞা, ধৈর্য
  4. মিতাচার, ন্যায়, সততা, প্রজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
ব্যাখ্যা

সদগুন: 
• প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।


উল্লেখ্য, 
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।


উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৬.
স্বাধীনতার প্রথম ও প্রাচীন রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. সংবিধান 
  2. আইন 
  3. মানবাধিকার
  4. মৌলিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
আইন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন 
ব্যাখ্যা

আইন:
- ইংরেজি Law শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ আইন। 
- আইন হল রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত জনসাধারণের সামগ্রিক কল্যাণের জন্যে অত্যাবশ্যক কতকগুলো বিধি-বিধানের সমষ্টি যা' রাষ্ট্রের সকলের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- স্বাধীনতার প্রথম ও প্রাচীন রক্ষাকবচ হলো আইন।
- আইনের মাধ্যমেই মূলত ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষিত হয়ে থাকে। কোন নাগরিকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ বা বিপন্ন হলে আইন তা রক্ষা করতে অগ্রসর হয়। স্বাধীনতার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি আইন দ্বারা আরোপিত শান্তির প্রকৃতি ও অনুপাতের উপর বিশেষভাবে নির্ভর করে। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনকে স্বাধীনতার পূর্বশর্ত বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রের অনুশাসনকে আইন বলে। যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- এরিস্টটলের (Aristotle) মতে, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হল আইন।"
- জন অস্টিনের (Austin) মতে, "আইন হল নিম্নতনের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের আদেশ।"
- অধ্যাপক হেনরী মেইনের (Henry Maine) মতে, পরিবর্তনশীল, ক্রমোন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফলকে আইন বলা হয়।"
- অধ্যাপক হল্যান্ডের (Holland) মতে, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতকগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।"
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন (Wilson)-এর মতে, "আইন হল মানুষের স্থায়ী আচার-আচরণ ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা' রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"
 
⇒ আইনের বৈশিষ্ট্য:
- আইন হচ্ছে মানুষের আচার-আচরণ সম্পর্কিত বিধান,
- আইন শুধু মানুষের বাহ্যিক আচরণকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে,
- সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ হিসেবে সরকার আইন জারি করে থাকে,
- আইন জারির প্রাথমিক উদ্যোগ সরকার স্বয়ং কিংবা সাধারণ জনগণও নিতে পারে,
- আইন অবশ্য পালনীয়। আইন ভংগ বা অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অন্যদিকে,
• সংবিধান: প্রায় সকল দেশের সংবিধান সে দেশের জনগণের স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত সংবিধান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। 
• মৌলিক অধিকার: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মৌলিক অধিকারগুলো স্বীকৃতি লাভ করে। সাধারণত সংবিধানে এসব মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ থাকে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৭.
নিচের কোনটি নৈতিক প্রগতির শর্ত নয়?
  1. বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলন
  2. সাম্প্রদায়িক পরিবেশ
  3. মহৎ ব্যক্তির জীবনী পাঠ
  4. আত্মসংযম
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িক পরিবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িক পরিবেশ
ব্যাখ্যা
ব্যক্তির নৈতিক প্রগতির শর্ত:
→ ব্যক্তির নৈতিক প্রগতি বিকশিত হয়ে থাকে আত্মসংযম, অপরের প্রতি সহানুভুতি, ন্যায় নীতি ইত্যাদির প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে।
→ ব্যক্তির নৈতিক প্রগতির জন্যে কতকগুলো গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ:
- বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলন,
- সদগুণের অনুশীলন,
- মহৎ ব্যক্তির জীবনী পাঠ,
- সৎ সংসর্গ,
- আত্মসংযম,
- অনুতাপ,
- সামাজিক পরিবেশ।

তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৮.
'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক -
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. হার্বার্ট স্পেন্সার
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়। 
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.
২৯৯.
নিচের কোনটি অর্থনৈতিক অধিকার? 
  1. পরিবার গঠনের অধিকার
  2. জীবন রক্ষার অধিকার
  3. অবকাশ লাভের অধিকার
  4. সম্পত্তি লাভের অধিকার 
সঠিক উত্তর:
অবকাশ লাভের অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবকাশ লাভের অধিকার
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক অধিকার: 
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। 
- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার,
- ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার,
- অবকাশ লাভের অধিকার,
- শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

সামাজিক অধিকার:

- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০০.
'মুক্তমন' গ্রন্থটির কে রচনা করেছেন? 
  1. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  2. জি. সি. দেব
  3. আরজ আলী মাতুব্বর
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুব্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুব্বর
ব্যাখ্যা

• আরজ আলী মাতুব্বর:
- বাংলাদেশে 'নব-নৈতিকতা'র প্রবর্তক হলেন আরজ আলী মাতুব্বর।
- আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ।
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

⇒ আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের সমাজে জেকে বসা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিক আদর্শকে কুঠারাঘাত করে, তার স্থলে বস্তুবাদী দর্শন ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কার করে সত্য, ন্যায় ও বিজ্ঞানের যথাযথ নীতি পদ্ধতিভিত্তিক নব নৈতিক আদর্শের সমাজের কথা চিন্তা করেছেন।
- তার দার্শনিক চিন্তা-চেতনা ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ধর্মের নামে প্রচলিত ধর্মান্ধতা ও ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে।
- জোহাদ বরকতুল্লাহ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে বাংলাভাষায় প্রথম যথার্থ দার্শনিক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- বাংলাদেশের আরেকজন দার্শনিক জি.সি দেব বস্তুবাদ ও অধ্যাত্মবাদের মিশিলে গঠিত সমন্বয়ী দর্শনের প্রচার করেছিলেন।

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টির রহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

⇒ তাঁর বেশ কিছু অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি সম্প্রতি আরজ আলী মাতুববর রচনাবলি নামে প্রকাশিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।