বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা

মোট প্রশ্ন৪৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৪৫৪

১০১.
নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি নীতিবিদ্যার যে অংশে আলোচনা করা হয় -
  1. ক) পরানীতিবিদ্যা
  2. খ) বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা
  3. গ) মানমূলক নীতিবিদ্যা
  4. ঘ) ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
ক) পরানীতিবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরানীতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা

পরানীতিবিদ্যা মূলত যেসব প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে তা হচ্ছে : যথোচিত (Right), শুভ (Good), এসব শব্দের অর্থ কি? নৈতিক অবধারণগুলোর বৈধতা কিভাবে নিরূপিত হবে? এগুলোর কি আদৌ কোন বৈধতা আছে? ইত্যাদি।
এই নীতিবিদ্যা বহুলাংশে বিংশ শতাব্দীর অবদান। সাধারণভাবে ব্রিটিশ দার্শনিক জি. ই. ম্যূরকে এর প্রবর্তক বলা হয়।
বিগত শতাব্দীর গোড়ার দিকে ১৯০৩ সালে ‘প্রিনসিপিয়া এথিকা’ শীর্ষক পুস্তকে তিনি এই ধরনের আলোচনার সূত্রপাত করেন।
এরপর তাঁর আলোচনার সূত্র ধরে তাঁর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক দার্শনিকের আগমন ঘটে। তাদের মধ্যে আবেগবাদ-খ্যাত দার্শনিক এ. জে. এয়ার ও জে. এল. স্টিভেনশন, ব্যবস্থাবাদ-খ্যাত দার্শনিক আর. এম. হেয়ার এবং সমকালীন বর্ণনাবাদী বলে পরিচিত জি. জে. ওয়ারনক, ফিলিপ্পা ফুট, জে. আর. সার্লে ও অন্যান্যরা রয়েছেন।
সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০২.
কোনটি আইনের উৎস নয়?
  1. ধর্ম
  2. জনমত
  3. চিরাচরিত প্রথা
  4. আমলাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
আমলাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

আইনের উৎস নয়- আমলাতন্ত্র।
অন্যদিকে জনমত, চিরাচরিত প্রথা ও ধর্ম আইনের উৎস।

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।

• জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা: সার্বভৌমের আদেশ।

• অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা: প্ৰথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা।

• ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:  প্ৰথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা, জনমত।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১০৩.
"ন্যায় সংরক্ষণের তাগিদে রাষ্ট্র যেসব নীতি স্বীকার করে এবং প্রয়োগ করে তাই আইন।” - উক্তিটি কার প্রদত্ত?
  1. ক) অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. খ) অধ্যাপক স্যালমন্ড
  3. গ) জন অস্টিন
  4. ঘ) অধ্যাপক গেটেল
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক স্যালমন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক স্যালমন্ড
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason)।
- টমাস হবস (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।" (A Law is a general rule of external action enforced by the sovereign political authority.)
- জন অস্টিন (John Austin) বলেন, “আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ।" (Law is the command of the political superior i. e. sovereign to the political inferior.) 
- অধ্যাপক স্যালমন্ড (Prof. Salmond)-এর মতে, "ন্যায় সংরক্ষণের তাগিদে রাষ্ট্র যেসব নীতি স্বীকার করে এবং প্রয়োগ করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক গেটেল (Prof. Gettel) বলেন, “রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।" (Only those rules which the state creates or which as recognises, enforces become law.)

- আইনের একটি সর্বজনগ্রাহ্য ও চমৎকার সংজ্ঞা প্রদান করেছেন আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson)।
তাঁর মতে, “আইন হলো মানুষের স্থায়ী আচার-ব্যবহার ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন আছে।” (Law is that portion of the established thought and habit which has gained distinct and formal recognition in the shape of uniform rules backed by the authority and power of the government.)
 
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০৪.
একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. নৈতিকতা
  3. দক্ষতা
  4. সরলতা
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ নৈতিকতা।

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

⇒ উল্লেখ্য,
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidr) মনে করেন, ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০৫.
'যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'-আইন সম্পর্কে এই উক্তিটি করেছে কে?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক হেনরী মেইন
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
জন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লক
ব্যাখ্যা

'যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'-আইন সম্পর্কে এই উক্তিটি করেছে রাষ্ট্রদার্শনিক জন লক।

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।

উল্লেখ্য,
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতকগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।"
- জন অস্টিনের মতে, "আইন হল নিম্নতনের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের আদেশ।"
- অধ্যাপক হেনরী মেইনের মতে, পরিবর্তনশীল, ক্রমোন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফলকে আইন বলা হয়।"

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১০৬.
Morality শব্দটির উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. ফরাসি
  2. ল্যাটিন
  3. জার্মান
  4. গ্রিক
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে। এটি একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের মন থেকে উৎসারিত।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
১০৭.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে শুদ্ধচার হচ্ছে -
  1. শুদ্ধভাবে কার্য সম্পাদনের কৌশল
  2. সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
  3. সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
  4. দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড
সঠিক উত্তর:
সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়।
- এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়।
- ব্যক্তিপর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল দলিলটিতেও শুদ্ধাচারের এই অর্থকেই গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
স্লোগান : সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়। 
গ্রহণ : ২০১২ সাল।
গ্রহণকারী : মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ (প্রধানমন্ত্রী)। 

রূপকল্প (Vision) :
সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা। 

অভিলক্ষ (Mission) :
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। 

শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ:
(ক) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও
(খ) অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১০৮.
Shadow Pandemic কীসের সাথে জড়িত?
  1. জলবায়ু পরিবর্তন
  2. অর্থনৈতিক মন্দা
  3. রাজনৈতিক অস্থিরতা
  4. নারীর প্রতি সহিংসতা
সঠিক উত্তর:
নারীর প্রতি সহিংসতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারীর প্রতি সহিংসতা
ব্যাখ্যা

- Shadow Pandemic নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে জড়িত।  

Shadow Pandemic: 
- Shadow Pandemic মূলত COVID-19 মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে নারীদের প্রতি সহিংসতার আশঙ্কাজনক বৃদ্ধিকে বোঝায়।
- মহামারির কারণে নারীরা অনেকটাই ঘরবন্দি হয়ে পড়লে, তাদের নির্যাতনের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর দ্বারা যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। 
- UN Women এই সংকটকে "Shadow Pandemic" নামে অভিহিত করেন। 

সূত্র: UN ওয়েবসাইট।

১০৯.
“Laws does not and can not cover all grounds of morality.” - উক্তিটি কার?
  1. ক) জন লক
  2. খ) থমাস হবস
  3. গ) আর.এম ম্যাকাইভার
  4. ঘ) প্লেটো
সঠিক উত্তর:
গ) আর.এম ম্যাকাইভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আর.এম ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
শুধুমাত্র আইন বা রাষ্ট্রীয় বিধানই নাগরিক জীবন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই আর.এম ম্যাকাইভার বলেছেন - “Laws does not and can not cover all grounds of morality.”। সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।
১১০.
নীতি এবং ঔচিত্যবোধ হলো -
  1. ক) নৈতিক মূল্যবোধের প্রধান উৎস
  2. খ) মানবিকতার প্রধান উৎস
  3. গ) কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রধান উৎস
  4. ঘ) সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রধান উৎস
সঠিক উত্তর:
ক) নৈতিক মূল্যবোধের প্রধান উৎস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নৈতিক মূল্যবোধের প্রধান উৎস
ব্যাখ্যা
▪ নীতি এবং ঔচিত্যবোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের প্রধান উৎস
▪ নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সে সব মনোভাব ও আচরণ যা মানুষ সব সময় ভালো, কল্যাণকর এবং অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তি অনুভব করে।
▪ নৈতিক মূল্যবোধের অন্যান্য উৎসের মধ্যে পরিবার, ধর্ম ও ধর্মীয় গ্রন্থ অন্যতম।
▪ অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।   

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১১১.
সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিচের কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) নিরপেক্ষতা
  3. গ) নৈতিকতা
  4. ঘ) যথার্থতা
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রণয়নে জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক। তবে এক্ষেত্রে নৈতিকতা বা সৃজনশীলতা আবশ্যিক নয়, ঐচ্ছিক বিষয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১১২.
প্লেটোর দৃষ্টিতে ‘সদগুণ’ কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

• সদগুন: 
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য, 
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৩.
’সৃষ্টির রহস্য’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. মুহাম্মদ রেজা 
  2. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  3. আব্দুল মতিন
  4. আরজ আলী মাতুব্বর
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুব্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুব্বর
ব্যাখ্যা

আরজ আলী মাতুব্বর:
- বাংলাদেশে 'নব-নৈতিকতা'র প্রবর্তক হলেন আরজ আলী মাতুব্বর।
- আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ।
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

⇒ আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের সমাজে জেকে বসা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিক আদর্শকে কুঠারাঘাত করে, তার স্থলে বস্তুবাদী দর্শন ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কার করে সত্য, ন্যায় ও বিজ্ঞানের যথাযথ নীতি পদ্ধতিভিত্তিক নব নৈতিক আদর্শের সমাজের কথা চিন্তা করেছেন।
- তার দার্শনিক চিন্তা-চেতনা ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ধর্মের নামে প্রচলিত ধর্মান্ধতা ও ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে।
- জোহাদ বরকতুল্লাহ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে বাংলাভাষায় প্রথম যথার্থ দার্শনিক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- তিনি তার দর্শনে আত্মপ্রতিষ্ঠার নামে একটি দার্শনিক ধারার কথা বলেন।
- বাংলাদেশের আরেকজন দার্শনিক জি.সি দেব বস্তুবাদ ও অধ্যাত্মবাদের মিশিলে গঠিত সমন্বয়ী দর্শনের প্রচার করেছিলেন।

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টির রহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

⇒ তাঁর বেশ কিছু অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি সম্প্রতি আরজ আলী মাতুববর রচনাবলি নামে প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১৪.
কোন ধরনের কর্তব্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে?
  1. নৈতিক কর্তব্য
  2. রাজনৈতিক কর্তব্য
  3. আইনগত কর্তব্য
  4. সামাজিক কর্তব্য
সঠিক উত্তর:
নৈতিক কর্তব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক কর্তব্য
ব্যাখ্যা
• নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।
যেমন-
→ বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা,
→ ভিক্ষুকে ভিক্ষা দেয়া,
→ দরিদ্রকে সাহায্য করা,
→ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা,
→ দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১১৫.
নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের -
  1. স্বভাবজাত প্রবৃত্তি
  2. স্থায়ী প্রবণতা
  3. স্বভাবজাত প্রবণতা
  4. স্থায়ী প্রবৃত্তি
সঠিক উত্তর:
স্থায়ী প্রবণতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থায়ী প্রবণতা
ব্যাখ্যা
সততা (Honesty):
- নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের স্থায়ী প্রবণতা।
- সততা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা নয়, অর্জিত প্রবণতা।
- কর্তব্য করার অভ্যাসের ফলেই সততা জন্মে।
- সততার স্বরূপ সম্পর্কে এরিষ্টটল বলেন, সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত এবং যার ভিত্তি বাস্তব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ-যে আদর্শটি বিচারবুদ্ধি স্থির করে দিয়েছে।
- কোন মানুষ জন্মগতভাবে সৎ হতে পারে না, মানুষ ভাল কাজ করতে যখন সৎ অভ্যাস গঠন করে, তখন তাকে সৎলোক বলা হয়।
- মানুষ যখন তার প্রবৃত্তি, কামনা ও বাসনাকে বিচার-বুদ্ধির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে জীবনযাপন করে তখন সে চরিত্রবান বলে বিবেচিত হয়।
- তাই ম্যাকেনজী বলেন, সততা বলতে বুঝায় চরিত্রের সৎ অভ্যাস এবং তা কর্তব্য থেকে পৃথক।
- কর্তব্য বলতে বুঝায় এক বিশেষ ধরনের কাজ যা আমাদের করা উচিত।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৬.
নৈতিকতার বিধান আনুসারে 'Instinct' এর অর্থ কী?
  1. ঝোঁক
  2. আগ্রহ
  3. প্রবৃত্তি
  4. প্রেষণা
সঠিক উত্তর:
প্রবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবৃত্তি
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার বিকাশের স্তর:
- নৃতাত্ত্বিক তথা সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমগ্র নৈতিকতার বিকাশে তিনটি স্তর নির্দেশ করা হয়:
-(১) প্রবৃত্তি বা প্রবণতার স্তর
-(২) প্রথার স্তর ও
-(৩) বিবেকের স্তর।
-প্রবৃত্তি কথাটি ইংরেজি 'Instinct' এর বাংলা প্রতিশব্দ।
- অর্থাৎ 'Instinct' এর অর্থ প্রবৃত্তি।
-আজকাল মনোবিজ্ঞানীরা এ কথাটি ব্যবহার করতে চান না। তাই বিকল্প হিসেবে প্রবণতা কথাটি ব্যবহার করে।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
কে নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন?
  1. নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি
  2. হ্যারল্ড জে. লাস্কি
  3. হার্বার্ট স্পেনসার
  4. শেলী
সঠিক উত্তর:
নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
-  নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো। এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার 'দ্য প্রিন্স' গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১১৮.
চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন কোন ধরনের আইন?
  1. আন্তর্জাতিক আইন
  2. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন
  3. প্রশাসনিক আইন
  4. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
আইন কত প্রকার তা নির্দিষ্ট নয়। এ সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়েছেন।
অধ্যাপক হল্যান্ড আইনকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করেছেন-
১. ব্যক্তিগত আইন ২. সরকারি আইন ।
মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে আইন দুই প্রকার। ১. জাতীয় আইন ২. আন্তর্জাতিক আইন।
জাতীয় আইনকে তিনি আবার দুইভাগে ভাগ করেছেন- ক. সাংবিধানিক আইন খ. সাধারণ আইন।

আইন সাধারণত তিন প্রকার-
১. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন (Public Law)
২. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন (Private Law)
৩. আন্তর্জাতিক আইন (International Law)

১. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন: রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হলো রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন। রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন আবার নিম্নরূপ-
ক. ফৌজদারি আইন: রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কাজ পরিচালনার জন্য এ ধরনের আইন প্রণয়ন করা হয়। সমাজে শান্তি বজায় রাখা এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং দণ্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।
খ. প্রশাসনিক আইন: প্রশাসনিক আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করা হয় ও সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তি বর্গের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

২. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন: এ আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণীত না হলেও সামাজিকভাবে স্বীকৃত। ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। যেমন- চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন।
৩. আন্তর্জাতিক আইন: এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়, তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৯.
'আত্মসুখবাদ' এর প্রতিষ্ঠাতা কে? 
  1. এরিস্টটল
  2. সক্রেটিস
  3. এরিস্টিপাস
  4. সাইরেনিক
সঠিক উত্তর:
এরিস্টিপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টিপাস
ব্যাখ্যা
আত্মসুখবাদ:
- সুখবাদ একটি প্রাচীন মতবাদ; প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো ও এরিস্টটল সবাইকে এক অর্থে সুখবাদী বলা যায়।
- কিন্তু প্রকৃত অর্থে গ্রিকদের মধ্যে সুখবাদী বলতে যাদেরকে আমরা বুঝি তাঁরা হলেন সাইরেনিক সম্প্রদায়ের লোক; আর তাঁরা ছিলেন আত্ম-সুখবাদী।
- এ মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এরিস্টিপাস, যিনি ছিলেন সক্রেটিসের শিষ্য।
- বলা হয়ে থাকে যে, সক্রেটিসের নৈতিক ভাবনার একটি দিককে নিজের মত বিকশিত করে তিনি তার সুখবাদ প্রবর্তন করেছিলেন।
- অপর আরেকদিক বিকশিত করে দুঃখবাদের প্রবর্তন করেছিলেন সিনিক এন্টিসথেনিস।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২০.
"সৎ ইচ্ছা" - কে নীতিবিদ্যার মূল হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. এরিস্টটল
  2. সক্রেটিস
  3. নিকোলা ম্যাকিয়াভ্যালি
  4. ইমানুয়েল কান্ট
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
যথা-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।

'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: ব্রিটানিকা
১২১.
আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) সাংস্কৃতিক অধিকার
  2. খ) সামাজিক অধিকার
  3. গ) রাজনৈতিক অধিকার
  4. ঘ) নৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
খ) সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- সামাজিক অধিকার হলো সেসব অধিকার যেগুলো আমরা সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে ভোগ করে থাকি।
সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- সম্পত্তি লাভের অধিকার
- চলাফেরা ও মত প্রকাশের অধিকার প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১২২.
নৈতিক মূল্যবোধক অবধারণের উপজীব্য বিষয় হলো -
  1. ব্যক্তি
  2. ব্যক্তির অভিপ্রায় 
  3. ব্যক্তির প্রেষণা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা অবধারণ:
- , নৈতিকতা কতগুলো নৈতিক অবধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
- একে অনেকে মূল্যবোধক অবধারণ, আদর্শমূলক অবধারণও বলে থাকেন।
- নৈতিক অবধারণে আমরা নৈতিক আচরণ বা আচরণকারীর ওপর কোন নৈতিক গুণ, বাধ্যবাধকতা, দায়িত্ব ইত্যাদি অথবা ইত্যাদির অভাব আরোপ করি।
- নৈতিক অবধারণের আর একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, এ কিছু নীতি, আদর্শ বা সদ্গুণের সঙ্গে যুক্ত।

নৈতিক অবধারণের প্রকার:
- নৈতিক অবধারণ বিভিন্ন প্রকার হতে পারে।
- নৈতিক নীতিগুলো সাধারণ নৈতিক অবধারণ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- গুরুত্বপূর্ণ যে দু'ধরনের নৈতিক অবধারণ রয়েছে তাদেরকে বলা যেতে পারে: (১) বাধ্যতামূলক নৈতিক অবধারণ ও (২) মূল্যবোধক নৈতিক অবধারণ।

⇒ বাধ্যতামূলক অবধারণ বলতে বুঝায়, ঐসব অবধারণ যাতে কোন বিশেষ কাজকে আমরা নৈতিকভাবে যথোচিত, অযথোচিত, বাধ্যতামূলক, কর্তব্য ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করি; অথবা তা করা উচিত কি অনুচিত তা বলি।
নৈতিক মূল্যবোধক অবধারণে আমরা কোন কাজ সম্পর্কে কথা বলি না, বরং কোন ব্যক্তি অথবা তার প্রেষণা, অভিপ্রায়, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে কথা বলি এবং আমরা যা বলি তাতে যে শব্দগুলি ব্যবহার করি তা হচ্ছে নৈতিকভাবে ভাল-মন্দ, সৎ বা অসৎ গুণ সম্পন্ন, দায়িত্বপূর্ণ, নিন্দাহ, সাধুসুলভ, ঘৃণ্য ইত্যাদি।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
একজন ব্যক্তি নীতি ও ঔচিত্যবোধের চূড়ান্ত অনুমোদন কোথা থেকে পেয়ে থাকে?
  1. রাষ্ট্র
  2. পরিবার
  3. বিবেক
  4. বুদ্ধিমত্তা
সঠিক উত্তর:
বিবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবেক
ব্যাখ্যা
নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- মানুষের আচরণকে সঠিক ও ন্যায়নিষ্ঠ পথে পরিচালিত করার জন্য গৃহীত আদর্শ বা নিয়ম হচ্ছে নীতি।
- ঔচিত্যবোধ হচ্ছে কোন কাজটি উচিত আর কোনটি অনুচিত, সেই বোধ বা সচেতনতা।
- বিবেক হলো মানুষের অন্তর্নিহিত এক ধরনের নৈতিক বোধ, যা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নীতি-অনীতি বিচার করতে সাহায্য করে।
- ব্যক্তি নীতি ও ঔচিত্যবোধ (কোনটা উচিত আর কোনটা অনুচিত) সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় তার বিবেকের নির্দেশনা অনুযায়ী।
- ব্যক্তি সমাজে বড় হয়, শেখে এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করে, কিন্তু সে নীতি ও ঔচিত্যবোধের চূড়ান্ত অনুমোদন তার নিজের বিবেক থেকে পায়।
- পরিবার, রাষ্ট্র ও বুদ্ধিমত্তা নৈতিক গঠনে ভূমিকা রাখলেও চূড়ান্ত নৈতিক অনুমোদন বা বোধ আসে ব্যক্তির বিবেক থেকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
নীতিবিদ্যা হচ্ছে, 'নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা' উক্তিটি কার?
  1. পি. ডব্লিউ. টেইলার
  2. উইলিয়াম কে. ফ্রাংকেনার
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. উইলিয়াম কে. টেইলার
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কে. ফ্রাংকেনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কে. ফ্রাংকেনার
ব্যাখ্যা

♦ নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা:
- উইলিয়াম কে. ফ্রাংকেনার বলেছেন নীতিবিদ্যা হচ্ছে, 'নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক
চিন্তা'।

♦ উল্লেখ্য:
- উইলিয়াম লিলি এর মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, 'সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে'।
- নীতিবিদ্যাকে নীতি-দর্শনও বলা হয়।
- পি. ডব্লিউ. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, 'নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান'।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা,বিএ /বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৫.
অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানো কী নির্দেশ করে?
  1. নৈতিক শিক্ষা
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: 
- সমাজে বসবাসের জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- একে অপরের সাথে আন্ত:সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হল এই মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধহীন ব্যক্তি সমাজের জন্য বিপদস্বরূপ।
- অন্যদিকে গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিতকরা।
- একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল,
- যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১২৬.
নৈতিকতার উৎস নিচের কোনটি?
  1. বুদ্ধি
  2. চিন্তা
  3. বিবেক
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিক অনুশাসনের প্রভাবে মানুষ আইন মানে, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করে না এবং রাষ্ট্রের অনুশাসনকে শ্রদ্ধা করে।
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৭.
নিচের কোন মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হল সুখ?
  1. উপযোগবাদ
  2. পূর্ণতাবাদ
  3. পরার্থবাদ
  4. আত্মস্বার্থবাদ
সঠিক উত্তর:
উপযোগবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা
উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে।
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।
- উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হল সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
১২৮.
বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা কোন ধরনের নীতিবিদ্যার উদাহরণ?
  1. বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা
  2. ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা
  3. পরানীতিবিদ্যা
  4. মানমূলক নীতিবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার মূল ধারা:
- নীতিবিদ্যার চারটি ও ধারা বা ধরনের কথা চিন্তা করা যায়।
- এগুলো হচ্ছে বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, মানমূলক নীতিবিদ্যা, বিশ্লেষণী বা পরানীতিবিদ্যা ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা।

১। বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা:
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত।
- এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা।
- বিবর্তনবাদ নিম্ন শ্রেণীর প্রাণী থেকে উচ্চ শ্রেণীর প্রাণীর বিকাশের কথা বলে।
- এই নীতি বিভেদ শেষপর্যন্ত ভালমন্দের বিভেদে পরিণত হয়।
- আচরণের ক্ষেত্রে এই এ ভাল মন্দ ধারণা এ সম্প্রসারিত হলে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটে।

২। মানমূলক নীতিবিদ্যা:
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।

৩। বিশ্লেষণী নীতিবিদ্যা বা পরানীতিবিদ্যা:
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা।

৪। ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা:
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন ভাগে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার বিষয়টি সন্নিবেশিত করা হয়েছে?
  1. ২য়
  2. ১ম
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
২য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২য়
ব্যাখ্যা
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২য় ভাগে (৮-২৫ অনুচ্ছেদে) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে।
- ২য় ভাগের ১৮ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার ‍মূলনীতি হিসেবে 'জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতাকে' সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

• অনুচ্ছেদ ১৮ :
(১) জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(২) গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৩০.
নৈতিক মূল্যবোধের উৎস কোনটি? 
  1. সমাজ
  2. শাসনব্যবস্থা
  3. নীতিবোধ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
নীতিবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতিবোধ
ব্যাখ্যা
- নীতিবোধ নৈতিক মূল্যবোধের উৎস। 

নৈতিক মূল্যবোধ:

- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৩১.
''An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ইমানুয়েল কান্ট
  2. খ) মার্টিন হেইডগার
  3. গ) মিখাইল বাখতিন
  4. ঘ) জেরেমি বেন্থাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেরেমি বেন্থাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
উপযোগবাদ তত্ত্বের জনক বা প্রতিষ্ঠাতা ইংরেজ দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম। তিনি ছিলেন একজন আইনতত্ত্ববিদ ও সমাজ সংস্কারক।
তিনি যুক্তরাজ্যের অধিবাসী ছিলেন।
তার লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ- 'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'. এই গ্রন্থে তিনি উপযোগবাদ তত্ত্বটি প্রথম ব্যাখ্যা করেন। এই মতবাদ অনুযায়ী, 'যা কিছু আনন্দদায়ক তাই ভালো।'
১৩২.
নীতিবিদ্যা মানুষের কোন ক্রিয়া আলোচনা করে?
  1. প্রারম্ভিক ক্রিয়া
  2. আবশ্যিক ক্রিয়া
  3. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
  4. অনৈচ্ছিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৩.
প্লেটো এবং এরিস্টটল তাদের আদর্শ রাষ্ট্রের পরিকল্পনায় কীসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন?
  1. মূল্যবোধ
  2. রাজনৈতিক আদর্শ
  3. নৈতিক আদর্শ
  4. সামাজিক সুরক্ষা
সঠিক উত্তর:
নৈতিক আদর্শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক আদর্শ
ব্যাখ্যা
- অতীতে নীতিবিজ্ঞান ছিল পৌরনীতিরই অংশবিশেষ।
- নৈতিকতার কষ্টিপাথরে রাজনৈতিক কার্যকলাপ ও আচারআচরণকে তখন বিচার করা হতো।
- প্লেটো এবং এরিস্টটল তাদের আদর্শ রাষ্ট্রের পরিকল্পনায় নৈতিক আদর্শের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন
- ইতালির প্রখ্যাত রাষ্ট্র দার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি সর্বপ্রথম আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৩৪.
একজন যোগ্য শাসকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলি কোনটি?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
খ) নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
- একজন যোগ্য প্রশাসকের বা শাসকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ হলো নৈতিকতা।
- দায়িত্বশীলতা, যোগ্যতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি নৈতিকতা থেকে উদ্ভূত অন্যতম মৌলিক গুণাবলি।
১৩৫.
'যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. জন লক
  2. এরিস্টটল
  3. জন অস্টিন
  4. ওপেনহাইম
সঠিক উত্তর:
জন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লক
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

⇒ বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আইনের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটলের মতে, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হল আইন।" 
- জন অস্টিনের মতে, "আইন হল নিম্নতনের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের আদেশ।"
- অধ্যাপক হেনরী মেইনের মতে, পরিবর্তনশীল, ক্রমোন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফলকে আইন বলা হয়।" -
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতকগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।"

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৩৬.
“Practical Ethics” - বইয়ের লেখক কে?
  1. ক) Robert Greene
  2. খ) Herbert Spencer
  3. গ) Peter Singer
  4. ঘ) Russ Shafer-Landau
সঠিক উত্তর:
গ) Peter Singer
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Peter Singer
ব্যাখ্যা
Practical Ethics - is an introduction to applied ethics by bioethical philosopher Peter Singer.
- The book has been translated into a number of languages.
- Peter Singer এর পুরো নাম - Peter Albert David Singer এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।
- তিনি জৈব-নৈতিকতা নিয়ে কাজ করার জন্য বিখ্যাত এবং আধুনিক Animal Rights আন্দোলনের প্রবর্তক।

তার লেখা আরো কয়েকটি বই -
- The Life You Can Save,
- The Most Good You Can Do,
- Animal Liberation,
- Ethics in the Real World ইত্যাদি।

Source: ব্রিটানিকা।
১৩৭.
ন্যায়বোধ ও বিবেককে জাগ্রত করতে কোন ধরনের শিক্ষা প্রয়োজন?
  1. ক) পারিবারিক শিক্ষা
  2. খ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  3. গ) নৈতিক শিক্ষা
  4. ঘ) পারিপার্শ্বিক শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিক শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
• নৈতিক শিক্ষা মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত রেখে পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত করে।
নৈতিক শিক্ষা ন্যায়বোধ ও বিবেককে জাগ্রত করে যা মানুষকে মন্দ পরিহার করে ভালো দিকে ধাবিত করে।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৮.
কোন ধরনের অধিকারের ক্ষেত্রে সমাজভেদে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়?
  1. অর্থনৈতিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. নৈতিক অধিকার
  4. সামাজিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
এরূপ অধিকারের মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, নৈতিক অধিকার ইত্যাদি।
এদের মধ্যে নৈতিক অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। এটি ব্যক্তির বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৩৯.
পেশাগত নৈতিকতার উপাদান কোনটি?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. সাম্প্রদায়িকতা
  3. গা বাঁচিয়ে চলা
  4. দায়বদ্ধতা
সঠিক উত্তর:
দায়বদ্ধতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়বদ্ধতা
ব্যাখ্যা

• পেশাগত নৈতিকতার উপাদানগুলোর মধ্যে:
- সততা, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, পেশাগত চেতনা, এবং দায়িত্বশীলতা অন্যতম,
- যা পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং জনসাধারণের আস্থা ও সেবার মান উন্নত করে। 
• পেশাগত নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসমূহ:
- সততা ও স্বচ্ছতা (Integrity and Transparency): পেশাদার কাজে সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা পেশাগত নৈতিকতার একটি মৌলিক দিক। 
- দায়বদ্ধতা (Accountability): নিজের কাজের জন্য জবাবদিহি করা এবং পেশাগত কর্মের ফলাফল বা প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা। 
- পেশাগত চেতনা (Professional Consciousness): নিজের পেশার প্রতি গভীর সচেতনতা এবং এর মান ও মর্যাদা বজায় রাখার অঙ্গীকার। 
- দায়িত্বশীলতা (Responsibility): পেশাগত দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করা এবং পেশার প্রচলিত নিয়মকানুন মেনে চলা। 
- দক্ষতা ও জ্ঞান (Expertise and Skill): পেশাগত ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান এবং দক্ষতা প্রয়োগ করা, যা জনসাধারণের জন্য উপকারে আসে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪০.
বাংলাদেশে ন্যায়পাল আইন প্রণীত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৭ সালে
  3. গ) ১৯৮০ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৫ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
- ন্যায়পাল হলো রাষ্ট্র নিযুক্ত কর্মকর্তা যিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করতে পারেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের বিধান রয়েছে।
- সেই বিধান অনুসারে ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে ন্যায়পাল আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু এ যাবৎ কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১৪১.
'আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।' – এই সংজ্ঞাটি কে দিয়েছেন?
  1. থমাস হবস
  2. অ্যারিস্টটল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জন অস্টিন
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা

আইন:
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো - আইনের শাসন।
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- যুক্তিসিদ্ধ আচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন উক্তিটি করেন - অ্যারিস্টটল।
- আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্ত উক্তিটি করেন - অ্যারিস্টটল
- ''Law is the passionless reason'' উক্তিটি করেন - অ্যারিস্টটল। 

অন্য দিকে,
- আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ উক্তিটি করেন - জন অস্টিন।
- আইনের সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন - উড্রো উইলসন।
- রাষ্ট সৃষ্টির পূর্বেই আইনের জন্ম হয়েছে এই অভিমত ব্যক্ত করেন - হেনরি মেইন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৪২.
নৈতিকতা মানুষের কী ধরনের আচরণ?
  1. ক) আবশ্যিক আচরণ
  2. খ) সামষ্টিক আচরণ
  3. গ) স্বপ্রণোদিত আচরণ
  4. ঘ) প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ
সঠিক উত্তর:
গ) স্বপ্রণোদিত আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বপ্রণোদিত আচরণ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা হলো একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের মন থেকে উৎসারিত। নৈতিকতা হলো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বা স্বপ্রণোদিত আচরণ।
মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে নৈতিক আচরণ করে থাকে। নৈতিক মূল্যবোধ বা কর্তব্য আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক মূল্যবোধের উৎপত্তি।
শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Morality. এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
নৈতিকতা মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১৪৩.
শিশু তার নৈতিক শিক্ষার হাতেখড়ি পায় কার কাছ থেকে?
  1. শিক্ষকের কাছ থেকে
  2. বন্ধুর কাছ থেকে
  3. পরিবারের কাছ থেকে
  4. ইন্টারনেটের কাছ থেকে
সঠিক উত্তর:
পরিবারের কাছ থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবারের কাছ থেকে
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে
- সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে। শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- সুতরাং ব্যাক্তি তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৪৪.
মূল্যবোধ সম্পর্কে নিচের কোন বিবৃতিটি সত্য?
  1. মূল্যবোধ মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা।
  2. মূল্যবোধ সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান।
  3. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
  4. মূল্যবোধ মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মুল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৫.
নৈতিকতা মূলত _____ ব্যাপার।
  1. ব্যক্তিগত
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৪৬.
“The Problems of Philosophy” - বইটি কার লেখা?
  1. ক) জ্যাঁ পল রুশো
  2. খ) বার্টান্ড রাসেল
  3. গ) কার্ল মার্ক্স
  4. ঘ) নিকোলা ম্যাকিয়াভ্যালী
সঠিক উত্তর:
খ) বার্টান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বার্টান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ দার্শনিক বার্টান্ড রাসেলের লেখা The Problems of Philosophy - বইটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়। তার লেখা অন্যান্য বই -
A History of Western Philosophy,
The Principles of Mathematics,
Unpopular Essays,
The Conquest of Happiness ইত্যাদি।
১৪৭.
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) কী?
  1. একটি প্রাচীন দার্শনিক ধারার নাম
  2. ত্রিভুজের দুটি বাহন বূ-কেন্দ্রিক সম্পর্ক
  3. দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
  4. সমস্ত সম্ভাব্য কর্মের গড়
সঠিক উত্তর:
দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব। এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো গোল্ডেন মিন।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১৪৮.
কোন ধরণের মানব আচরণ নৈতিকতার নিয়ন্ত্রণে থাকে?
  1. সামাজিক আচরণ
  2. রাজনৈতিক আচরণ
  3. মানসিক আচরণ
  4. ইতিবাচক আচরণ
সঠিক উত্তর:
মানসিক আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসিক আচরণ
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

নৈতিকতা:

- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- এটি একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।
- নীতিবান মানুষ ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির মানদণ্ডে নিজেরাই চলার চেষ্টা করে।

এছাড়াও,
- নৈতিকতার পিছনে সার্বভৌম রাষ্ট্র কর্তৃত্বের সমর্থন বা কর্তৃত্ব থাকে না।
- কেননা নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- রাষ্ট্র নৈতিকবিধি প্রয়োগ করে না।
- নৈতিকতা বিরোধী ব্যক্তিকে রাষ্ট্র কোনো প্রকার দৈহিক শাস্তি প্রদান করে না।
- বিবেকের দংশনই নৈতিকতার বড় রক্ষাকবচ।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত এবং সামাজিক ব্যাপার।

উল্লেখ্য,
- আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধনই নৈতিকতার লক্ষ্য।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- যে রাষ্ট্রের মানুষের নৈতিক মান সুউচ্চ, সেদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সহজ।
- 'কেননা সে দেশের নাগরিকগণ নিজেরাই অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকেন, ঘুষ দুর্নীতিকে ঘৃণা করেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১৪৯.
আইন সম্পর্কে নিম্নের কোনটি সঠিক নয়?
  1. আইনের চোখে সবাই সমান
  2. আইন অভ্যন্তরীণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
  3. ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষক
  4. আইন সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত বিধি
সঠিক উত্তর:
আইন অভ্যন্তরীণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন অভ্যন্তরীণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
ব্যাখ্যা
আইনের বৈশিষ্ট্য:
- আইনের সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ করলে আইনের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো পাওয়া যায়:
১। সার্বজনীনতা- আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য। সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।
২। আচরণ নিয়ন্ত্রক- আইন বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ কোন অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীকে আইনের আওতাভুক্ত হতে হয়। আইন মোতাবেক বিচার করা হয় এবং শাস্তি দেওয়া হয়।
৩। অনুমোদিত ও স্বীকৃত- আইন সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত বিধি। কেবলমাত্র সমাজ ও রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত হলেই আইনের পেছনে শক্তিশালী মঞ্জুরী রচিত হয় এবং স্বভাবজাতভাবে বা কোন কোন সময়ে ভয়ে আইন আনুগত্য লাভ করে।
৪। অবশ্য পালনীয়- আইন অবশ্যই পালনীয়। সকলকেই আইন মেনে চলতে হয়। আইন আছে বলেই মানুষ অধিকার ভোগ করে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আইন কর্তৃপক্ষকে বা বিচারককে যে নিরপেক্ষতা দান করে তাই ন্যায় বিচারের ভিত্তি।

এছাড়াও,
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫০.
কোন ধরনের অধিকার ভঙ্গের ক্ষেত্রে কোন শাস্তি দেওয়া হয় না?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. অর্থনৈতিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. নৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
নৈতিক অধিকার:
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
- অধিকার দুই প্রকার।
যথা:
- নৈতিক অধিকার
- আইনি অধিকার।
- নৈতিক অধিকার ভঙ্গকারীকে কোন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় না। মানুষের বিবেক বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের উৎপত্তি।

অন্যদিকে,
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রভৃতি আইনি অধিকার ভঙ্গকারীকে বিচারের মুখোমুখি বা শাস্তি পেতে হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণি।
১৫১.
নৈতিক অবধারণের ভিত্তি মূলত কী?
  1. ব্যক্তি
  2. রাষ্ট্র
  3. সমাজ
  4. আইন
সঠিক উত্তর:
সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা অবধারণ:
- নৈতিকতা কতগুলো নৈতিক অবধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
- একে অনেকে মূল্যবোধক অবধারণ, আদর্শমূলক অবধারণও বলে থাকেন।
- নৈতিক অবধারণে আমরা নৈতিক আচরণ বা আচরণকারীর ওপর কোন নৈতিক গুণ, বাধ্যবাধকতা, দায়িত্ব ইত্যাদি অথবা ইত্যাদির অভাব আরোপ করি।
- নৈতিক অবধারণের আর একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, এ কিছু নীতি, আদর্শ বা সদ্গুণের সঙ্গে যুক্ত।

⇒ নৈতিক অবধারণের ভিত্তি সামাজিক হলেও এর ব্যক্তিবাদী দিকটি কিন্তু গুরুত্বহীন নয়।
- আচরণের ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ততা তথা স্বাধীনতাকে অন্যতম শর্ত হিসেবে নেয়ায় নৈতিকতা ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্তণ তথা আত্ম-নির্দেশনাকে তার এক মৌলিক নীতি হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য।
- নৈতিক অবধারণ বিভিন্ন প্রকার হতে পারে।
- নৈতিক নীতিগুলো সাধারণ নৈতিক অবধারণ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- গুরুত্বপূর্ণ যে দু'ধরনের নৈতিক অবধারণ রয়েছে তাদেরকে বলা যেতে পারে: (১) বাধ্যতামূলক নৈতিক অবধারণ ও (২) মূল্যবোধক নৈতিক অবধারণ।

⇒ বাধ্যতামূলক অবধারণ বলতে বুঝায়, ঐসব অবধারণ যাতে কোন বিশেষ কাজকে আমরা নৈতিকভাবে যথোচিত, অযথোচিত, বাধ্যতামূলক, কর্তব্য ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করি; অথবা তা করা উচিত কি অনুচিত তা বলি।
⇒ নৈতিক মূল্যবোধক অবধারণে আমরা কোন কাজ সম্পর্কে কথা বলি না, বরং কোন ব্যক্তি অথবা তার প্রেষণা, অভিপ্রায়, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে কথা বলি এবং আমরা যা বলি তাতে যে শব্দগুলি ব্যবহার করি তা হচ্ছে নৈতিকভাবে ভাল-মন্দ, সৎ বা অসৎ গুণ সম্পন্ন, দায়িত্বপূর্ণ, নিন্দাহ, সাধুসুলভ, ঘৃণ্য ইত্যাদি।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫২.
'শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন'- উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো
  2. বেনথাম
  3. সক্রেটিস
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
ব্যাখ্যা
- কারণ প্লেটো মনে করতেন 'শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন না হয় তাহলে আইন অকার্যকর।'
- শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন।
- প্রজ্ঞা ও মুক্তিই হবে তাদের মূল চালিকাশক্তি।
- এমতাবস্থায় দার্শনিক রাজারা অবিবেচনায় শাসন কার্য পরিচালনা করবেন।
- তাদের পেছনে কোন প্রকার আইনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৩.
কোন অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই?
  1. অর্থনৈতিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. নৈতিক
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা
নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত। ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই। যেমন-ভিখারীর ভিক্ষা পাবার অধিকার। ভিক্ষারীকে ভিক্ষা না দিলেও সে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
- তবে নৈতিক অধিকার সমাজ স্বীকৃত। নৈতিক অধিকার সমাজের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে নাগরিকের সুকুমার মনোবৃত্তির বিকাশ ঘটে।
- এই নৈতিক অধিকার সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৪.
একজন প্রশাসকের শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
  1. ক) সরলতা
  2. খ) কপটতা
  3. গ) দক্ষতা
  4. ঘ) নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
একজন যোগ্য প্রশাসকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ হলো নৈতিকতা। দায়িত্বশীলতা. সরলতা, দক্ষতা প্রভৃতি নৈতিকতা থেকে উদ্ভূত অন্যতম মৌলিক গুণাবলি।
১৫৫.
নৈতিকতা সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) নৈতিকতা সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট
  2. খ) নৈতিকতা সামাজিক বিবেক দ্বারা পরিচালিত
  3. গ) নৈতিকতা অঞ্চলভেদে এবং ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হতে পারে
  4. ঘ) নৈতিকতার সাথে মানুষের বুদ্ধি, বিবেক ও ন্যায়পরায়ণতা যুক্ত
সঠিক উত্তর:
ক) নৈতিকতা সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নৈতিকতা সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট
ব্যাখ্যা
নৈতিক আইন মানুষের অন্তর্জীবনের সাথে সম্পর্কিত। নৈতিকতার সাথে মানুষের বুদ্ধি, বিবেক ও ন্যায়পরায়ণতা যুক্ত থাকে। আইন সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট, কিন্তু নৈতিকতা অনির্দিষ্ট ও অস্পষ্ট। আইন সর্বক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য কিন্তু নৈতিকতা অঞ্চলভেদে এবং ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হতে পারে। নৈতিকতা সামাজিক বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়।
সূত্র- এসএসসি পৌরনীতি (উন্মুক্ত)।
১৫৬.
নৈতিকতা কী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়?
  1. অর্থনীতি
  2. সমাজব্যবস্থা
  3. বিবেক ও মূল্যবোধ
  4. আইন
সঠিক উত্তর:
বিবেক ও মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবেক ও মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৫৭.
‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ নীতিটির প্রবর্তক কোন দার্শনিক? 
  1. জাঁ জ্যাক রুশো
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. জন লক
  4. এরিস্টটল 
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

• নৈতিকতা:
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বইঃ
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৫৮.
আইন মূলত কোনটি নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. চিন্তা
  2. মনোভাব
  3. ধর্মীয় বিশ্বাস
  4. মানুষের বাহ্যিক আচরণ
সঠিক উত্তর:
মানুষের বাহ্যিক আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের বাহ্যিক আচরণ
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিক বিধির সম্পর্ক ও পার্থক্য: 
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- আইন ও নৈতিক বিধি উভয়ের বিষয়বস্তু মানুষ এবং উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণসাধন। জনগণের সম্মতি ছাড়া আইন কার্যকর করা দুরূহ। নৈতিকতা বিরুদ্ধ আইন অনেক ক্ষেত্রে জনসম্মতি হারায় বরং জনরোষ সৃষ্টি করতে পারে। আবার নৈতিক বিধি মানুষের আইনগত অধিকার লঙ্ঘনের কারণ হলে রাষ্ট্র সে ক্ষেত্রে আইনের সাহায্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতা থাকা সত্ত্বেও দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।
- আইন মানবসমাজের দর্পণস্বরূপ।
- মানুষের দেহ, সম্পত্তি, সুনাম ও মর্যাদা সুরক্ষার উদ্দেশ্যে আইন প্রণীত হয়ে থাকে, যা মেনে চলা রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, অনুমোদন এবং আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আইনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, যার উপস্থিতি ছাড়া কোনো বিধিনিষেধ আইনে পরিণত হয় না।
- নৈতিক বিধি হলো ধর্ম বা সমাজ আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, যা মানুষের বিবেকবোধ, নীতিবোধ, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিক বিধি মানুষের চিন্তা ও মনোভাব নিয়ে যে অন্তর্জগৎ, সেটির নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেয়।

উৎস: প্রথম আলো।

১৫৯.
অমর্ত্য সেনের 'দ্যা আইডিয়া অব জাস্টিস' গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ গ্রন্থ-
  1. ক) বিচারের ধারণা
  2. খ) সুশাসনের ধারণা
  3. গ) নীতি ও ন্যায্যতা
  4. ঘ) নৈতিকতা এবং সুশাসন
সঠিক উত্তর:
গ) নীতি ও ন্যায্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীতি ও ন্যায্যতা
ব্যাখ্যা
‘বাঙালি পাঠকরা বইটি পড়বেন, পরীক্ষানিরীক্ষা করবেন, এই আশা নিয়ে বইটি প্রকাশ করতে পেরে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান বলে মনে করছি। সে আশা ধোপে টিকবে কি না, তা নিয়েও আমার আগ্রহের ও উৎকণ্ঠার অভাব নেই।’ সদ্য প্রকাশিত নীতি ও ন্যায্যতা-র (আনন্দ) সম্পর্কে লিখেছেন অধ্যাপক অমর্ত্য সেন। এটি তাঁর দি আইডিয়া অব জাস্টিস গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ।

সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকার আর্কাইভ।
১৬০.
নীতিবিদ্যা কী ধরনের মানব আচরণ নিয়ে আলোচনা করে?
  1. আবেগজনিত আচরণ 
  2. শারীরিক আচরণ 
  3. ঐচ্ছিক আচরণ 
  4. সামাজিক আচরণ
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক আচরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক আচরণ 
ব্যাখ্যা

• নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ, যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।
- Morality শব্দটির অর্থ হল নৈতিকতা বা চরিত্রবৈশিষ্ট্য। এটি মানুষের আচরণগত মূল্যবোধ এবং সত্য-মিথ্যার বিচার করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- Philosophy শব্দটির অর্থ হল দর্শন বা জ্ঞানতত্ত্ব। এটি জীবন এবং বিশ্ব সম্পর্কে গভীর চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
- Prnciples শব্দটির অর্থ হল নীতি বা মূলনীতি। এটি সেই সব মৌলিক ধারণা বা নিয়মকে বোঝায় যা কোনো বিষয় বা প্রক্রিয়াকে পরিচালনা করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা।

১৬১.
ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি
  2. অর্থনৈতিক উন্নতি
  3. ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রাধান্য
  4. ধর্মীয় নিয়মের প্রতি আনুগত্য
সঠিক উত্তর:
পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

⇒ ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৬২.
শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে __________।
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. আত্মসংযম
  4. সহানুভূতিশীলতা
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ Morality.
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

নৈতিকতার সংজ্ঞা:
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'

- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে,
'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,

- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো-
'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১৬৩.
“সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন”— এ সংজ্ঞাটি কার?
  1. স্যার হেনরি মেইন
  2. জন অস্টিন
  3. এ্যারিস্টটল
  4. উইলসন
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
ব্যাখ্যা

“সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন”— এ সংজ্ঞাটি জন অস্টিনের। 

আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
- স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
- আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"
- অ্যারিস্টটল বলেছেন, ‘সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।’

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

১৬৪.
"স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" উক্তিটি করেন কে?
  1. সক্রেটিস
  2. এরিস্টটল
  3. আর্নেস্ট বার্কার
  4. লর্ড অ্যাকটন
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না।
- কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।
- স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী।
যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই” (Liberty and law do not quarrel).

এছাড়াও,
- “আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ” - উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- “আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- “আইন হলো আবেগ বিবর্জিত যুক্তি”- উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান” - বলেছেন অধ্যাপক ডাইসি।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৫.
লর্ড ব্রাইসের মতে আইন মান্য করার কারণ নয় কোনটি?
  1. শাস্তির ভয়
  2. সহানুভূতি
  3. নির্লিপ্ততা
  4. যুক্তিহীনতা
সঠিক উত্তর:
যুক্তিহীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তিহীনতা
ব্যাখ্যা
- লর্ড ব্রাইসের মতে যুক্তিহীনতা আইন মান্য করার কারণ নয়। 

আইন মান্য করার কারণ:

- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৬.
কোনটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য নয়?
  1. ক) অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
  2. খ) দরিদ্রকে সাহায্য করা
  3. গ) সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
  4. ঘ) বাবা মাকে শ্রদ্ধা করা
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• নাগরিকের নৈতিক কর্তব্যঃ
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ,
- দুর্যোগ মোকাবেলায় এগিয়ে আসা,
- দরিদ্রকে সাহায্য করা,
- বাবা মাকে শ্রদ্ধা করা ইত্যাদি।

• নাগরিকের আইনগত কর্তব্যঃ
- নিয়মিত কর দেয়া,
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা,
- সততার সাথে ভোটদান ও গ্রহণ করা ইত্যাদি।

• নাগরিকের সামাজিক কর্তব্যঃ
- সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
- সন্তানকে শিক্ষাদান
- সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা
- সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনা ইত্যাদি।

• নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্যঃ
- রাষ্ট্রপতি আনুগত্য প্রদর্শন
- আইন মেনে চলা
- সততার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ
- স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা ইত্যাদি।
১৬৭.
বার্ট্রান্ড রাসেল কোন দেশের অধিবাসী?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) অস্ট্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
- বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮৭২-১৯৭০) যুক্তরাজ্যের একজন বিখ্যাত দার্শনিক, যুক্তিবিদ ও সমাজ সংস্কারক।
- তিনি ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তার রচনার মধ্যে Principia Mathematica, Power : A New Social Analysis ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
১৬৮.
শাসন ব্যবস্থায় মূল্যবোধ প্রাতিষ্ঠানিক করার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল কোনটি?
  1. ঘন ঘন আইনের সংস্কার
  2. নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি
  3. নৈতিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্নয়
  4. আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
নৈতিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্নয়
ব্যাখ্যা

● শাসন ব্যবস্থায় মূল্যবোধ প্রাতিষ্ঠানিক করার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল - নৈতিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্নয়।

শাসন ব্যবস্থায় মূল্যবোধ প্রাতিষ্ঠানিক করার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি এবং আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদন্ড।
- শিষ্টাচার, সততা, আইনের শাসন, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সরকার ও রাষ্ট্রের কল্যাণমুখিতা, নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।

⇒ শাসন ব্যবস্থায় মূল্যবোধকে প্রাতিষ্ঠানিক করার অর্থ হলো সেগুলোকে শুধু বাহ্যিক নিয়ম বা শাস্তির ভয়ে নয়, বরং অভ্যন্তরীণভাবে গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী করে তোলা।
- এর জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নৈতিক শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্বয়।

⇒ মানুষের কল্যাণে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করার নামই নৈতিক শিক্ষা। সেই সঙ্গে অপরাধ না করা এবং পাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার নামই নৈতিকতা। আত্মসংযম ও অন্যের মঙ্গল ভাবনাই নৈতিক শিক্ষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- অন্যদিকে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হলো একটি সুশৃঙ্খল, কাঠামোগত এবং পর্যায়ক্রমিক জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া যা নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- নৈতিক শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমেই শাসন ব্যবস্থায় মূল্যবোধ প্রাতিষ্ঠানিক করা যায়।

এছাড়াও,
- শাসন ব্যবস্থায় মূল্যবোধ প্রাতিষ্ঠানিক করার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়ন। এটি সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে। 

উৎস: i) Transparency International Bangladesh ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
iii) যুগান্তর পত্রিকা।

১৬৯.
নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস কোনটি? 
  1. পারিবারিক শিক্ষা
  2. সমাজের সংস্কৃতি
  3. ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
  4. রাষ্ট্রীয় আইন
সঠিক উত্তর:
পারিবারিক শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারিবারিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পারিবারিক শিক্ষা।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উল্লেখ্য,
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৭০.
কোনটি মানুষকে ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যকার পার্থক্য বুঝাতে সহায়তা করে?
  1. ক) নৈতিক প্রগতি
  2. খ) নৈতিক চেতনা
  3. গ) নৈতিক আদর্শ
  4. ঘ) নৈতিক ভাবাবেগ
সঠিক উত্তর:
খ) নৈতিক চেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা
- নৈতিক চেতনা একটি মানসিক ক্রিয়া। 
- মানুষ যখন তার ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীর ন্যায়-অন্যায় বোধ উচিত অনুচিত বোধ সম্পর্কে সচেতন হয় তখন ধরে নিতে হবে মানুষ নৈতিক চেতনার পরিসরে তার ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীকে বিবেচনা করছে। 
- নৈতিক চেতনা মানুষকে ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যকার পার্থক্য বুঝাতে সহায়তা করে যা মূলত চিন্তাপ্রসূত, সামাজিক, সক্রিয় এবং অনেকাংশে বাধ্যবাধকতামূলক, ভাবাবেগমূলক ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।
 
উৎস: বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৭১.
প্রাকৃতিক আইনের উদ্ভব হয় কোথা থেকে?
  1. ক) ম্যাগনা কার্টা থেকে
  2. খ) গ্রিক, খ্রিস্টাটন ও মধ্যযগীয় ধর্মতত্ত্ব থেকে
  3. গ) কনফুসিয়ানিজম থেকে
  4. ঘ) থমাস হবসন, হুগো ও জন লক-এর লেখনী থেকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) থমাস হবসন, হুগো ও জন লক-এর লেখনী থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) থমাস হবসন, হুগো ও জন লক-এর লেখনী থেকে
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক আইনের উদ্ভব হয় থমাস হবসন, হুগো ও জন লক-এর লেখনী থেকে। 

- ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আধুনিক গণতন্ত্রের জনক জন লক ‘টু ট্রিটিজেস অন সিভিল গভর্নমেন্ট’ গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি মতবাদ বিশ্লেষণ করেছেন।
- হবসের মতো লকও প্রকৃতির রাজ্যের বর্ণনা দিয়েছেন।

- তবে জন লকের মতে, প্রকৃতির রাজ্যে প্রাকৃতিক আইন ছিল। মানুষ প্রাকৃতিক আইন মেনে চলত, তার মতে প্রকৃতির রাজ্য ছিল শান্তিময় ও সম্পদে পরিপূর্ণ।
- কিন্তু কালক্রমে প্রকৃতির রাজ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। মানুষেরা নিজের ইচ্ছামত প্রকৃতির আইন ব্যাখ্যা করতে থাকে।
- কেননা আইনের ব্যাখ্যা কিংবা প্রয়োগের জন্য কোন সাধারণ কর্তৃপক্ষ ছিল না। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রকৃতির রাজ্যের অধিবাসীরা দুটি চুক্তি করে।

- প্রথম চুক্তি সম্পাদিত হয় আদিবাসীদের মধ্যে। তারা একটি সাধারণ কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা ও অধিকার পরিত্যাগে সম্মত হয়।
- দ্বিতীয় চুক্তি করা হয় সমাজ পরিচালনার নিমিত্তে। সমাজ বা সম্প্রদায় শর্তসাপেক্ষে সরকারকে কিছু ক্ষমতা দান করে।

- চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকার জনগণের জীবন, সম্পদ ও স্বাধীনতা রক্ষা করবে। এসব শর্ত পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে জনগণের অধিকার আছে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার। এভাবে লক সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

উক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, হবসন, ভিক্টর হুগো, জন লক প্রমুখ মনিষীগণই তাদের লেখনীর মাধ্যমে প্রাকৃতিক আইনের উদ্ভব ঘটান।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর পৌরনীতি বই (উন্মুক্ত)। 
১৭২.
যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে দায়ী কোনটি?
  1. ক) ছাত্র রাজনীতি
  2. খ) দেশীয় সংস্কৃতি
  3. গ) মাদকাসক্তি
  4. ঘ) ইন্টারনেট
সঠিক উত্তর:
গ) মাদকাসক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাদকাসক্তি
ব্যাখ্যা
- যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী হলো মাদকাসক্তি
- মাদকাসক্ততার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। মাদকাসক্তরা অর্থের জন্যে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
- হতাশা, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি, মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব প্রভৃতি কারণে যুব সমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
১৭৩.
কে সর্বপ্রথম আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেন?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
- নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে সর্বপ্রথম আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেন।

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:

- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ১৪৫৯ সালের ৩ মে ইতালির ফ্লোরেন্সে এক অ্যাটর্নির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।

সূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭৪.
কোনটি সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে বিপর্যয় নিয়ে আসে?
  1. ক) অপসংস্কৃতি
  2. খ) মাদকাসক্ততা
  3. গ) ছাত্র রাজনীতি
  4. ঘ) অশিক্ষা
সঠিক উত্তর:
খ) মাদকাসক্ততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাদকাসক্ততা
ব্যাখ্যা

- মাদকাসক্ততার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। মাদকাসক্তরা অর্থের জন্যে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
হতাশা, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি, মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব প্রভৃতি কারণে যুব সমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।
- যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী হলো মাদকাসক্তি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)

১৭৫.
দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায় কোনটি?
  1. জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা
  2. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা
  3. আইনের শাসন নিশ্চিত করা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও দুর্নীতি:
- বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার পথে প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি।
- দুর্নীতি প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে।
- উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কিন্তু দুর্নীতির কারণে সুশাসনের মূল উপাদান-জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।

⇒ দুর্নীতি যেভাবে উন্নয়ন ও সুশাসন ব্যাহত করে-
- অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি।
- সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি।
- সুশাসনের অবক্ষয়।
- অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব।
- গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ক্ষতি।

⇒ দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়-
- জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা।
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শক্তিশালী করা।
- আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
- প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৭৬.
রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি হলো-
  1. ক) আইন প্রণয়ন
  2. খ) নিরাপত্তা রক্ষা
  3. গ) রাজস্ব আদায়
  4. ঘ) জনকল্যাণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনকল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনকল্যাণ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করণের জন্যে রাষ্ট্র যেসব কাজ করে থাকে তা হলো রাষ্ট্রের আবশ্যক কাজ। যেমনঃ আইন প্রণয়ন, নিরাপত্তা বিধান, অর্থসংক্রান্ত ইত্যাদি। অন্যদিকে নাগরিকদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যাবলি সমূহ হলো ঐচ্ছিক কাজ। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৭৭.
কোন ধরনের অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়?
  1. মৌলিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. অর্থনৈতিক অধিকার
  4. সামাজিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
- নৈতিক অধিকার ও
- আইনগত অধিকার।
- নৈতিক অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। ফলে এই অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায় না।
- তবে নৈতিক অধিকার ব্যক্তির বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত হওয়ায় এই অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিবেকের নিকট দায়বদ্ধতা থেকে যায়।
অন্যদিকে,
- মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রভৃতি হলো আইনগত অধিকার। এসব অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৭৮.
“ন্যায়নীতির দিক থেকে যা অন্যায় তা রাজনৈতিক দিক থেকে ন্যায় হতে পারে না।”− উক্তিটি কে করেছেন?
  1. জোনাথান হেইট
  2. সি জে ফক্স
  3. জি. ম্যুর
  4. আইভর ব্রাউন
সঠিক উত্তর:
সি জে ফক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সি জে ফক্স
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা সম্পর্কিত বিভিন্ন তত্ত্ব:
→ “নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক
মতবাদ অর্থহীন।”− উক্তিটি করেছেন - আইভর ব্রাউন।
→ “ন্যায়নীতির দিক থেকে যা অন্যায় তা রাজনৈতিক দিক থেকে ন্যায় হতে পারে না।” উক্তিটি করেছেন - সি জে ফক্স।
→ “শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা”- উক্তিটি করতেছেন  - জি. ম্যুর।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৭৯.
নৈতিকতা সম্পর্কিত কোন উক্তিটি সঠিক নয়?
  1. নৈতিকতা সার্বজনীন এবং ধর্ম নিরপেক্ষ
  2. বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নৈতিকতা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়
  3. নৈতিকতা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে না
  4. নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে না
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার বিশেষত্ব :
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- এটি একটি মানসিক বিষয়।
- বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নৈতিকতা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক এবং ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা সার্বজনীন এবং ধর্ম নিরপেক্ষ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৮০.
নৈতিকতার আলোকে দুর্নীতি হচ্ছে-
  1. ক) ভেজাল
  2. খ) ঘুষ গ্রহণ
  3. গ) নকল
  4. ঘ) নৈতিক অবক্ষয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিক অবক্ষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিক অবক্ষয়
ব্যাখ্যা

- দুর্নীতি হচ্ছে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধন বা লাভের নিমিত্তে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার।
- সাধারণত দুর্নীতি বলতে সরকারি আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ঘুষের লেনদেন, স্বজনপ্রীতি, প্রতারণা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আমলাদের ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদি বোঝায়।
- নৈতিকতার আলোকে দুর্নীতি হচ্ছে মূল্যবোধ ও‌ নৈতিকতার অবক্ষয়।

১৮১.
“আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান” কে বলেছেন?
  1. এরিস্টটল
  2. রুশো
  3. আর জি গেটেল
  4. ইনাম্যুয়েল কান্ট
সঠিক উত্তর:
আর জি গেটেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর জি গেটেল
ব্যাখ্যা
• আইন ও নৈতিকতার সুসম্পর্ক:
- আইন ও নৈতিকতা উভয়েরই উদ্দেশ্য হল সৎ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাজ ও দেশ গঠন।
- আইনের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে সৎ, যুক্তিসংগত, নিয়মের মাঝে রাখা।
- অন্যদিকে, নৈতিকতারও একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। নীতিবান ব্যক্তি তার কর্মে ও কথায় সবসময় সৎ, সদাচারী, সৌজন্যমূলক ও সৎচিন্তাশীল হয়ে থাকে। এসব গুণ সমাজজীবনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য অপরিহার্য।
- সাধারণত সমাজে যেসব বিষয়গুলো আইন বিরোধী, সেগুলো সাধারণত নীতিবিরোধীও হয়। যেমন, প্রতারণা বিষয়টি নীতিবিরোধী আবার তা আইন বিরোধীও।
- বাংলাদেশে কেউ প্রতারণা করলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২০ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।
- এ ধরনের বিবেচনা থেকে অধ্যাপক আর জি গেটেল বলেন, “আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮২.
ইমানুয়েল কান্ট -এর নীতিবিদ্যার মূল কথা নয় কোনটি?
  1. জনস্বার্থ
  2. সৎ ইচ্ছা
  3. কর্তব্যের জন্য কর্তব্য
  4. শর্তহীন আদেশ
সঠিক উত্তর:
জনস্বার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনস্বার্থ
ব্যাখ্যা

- ইমানুয়েল কান্ট -এর নীতিবিদ্যার মূলকথা নয়  "জনস্বার্থ"।

ইমানুয়েল কান্ট:

- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
-তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।যথা:-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।
-'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

• নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
-Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৩.
Morality শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে কোন ল্যাটিন শব্দ থেকে?
  1. Moralitas
  2. Ethikos
  3. Morale
  4. Valere
সঠিক উত্তর:
Moralitas
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Moralitas
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ।
- এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতার সঙ্গে সমাজের সম্পৃক্ততার ফলে সৃষ্ট অন্য একটি পরিস্থিতি হচ্ছে নৈতিক আপেক্ষিকবাদ।
- এর অর্থ হচ্ছে নৈতিক আচরণ স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় পরিবর্তিত হতে পারে।
- অর্থাৎ নৈতিকতা বিষয়টি আপেক্ষিক।

উল্লেখ্য,
- সমাজে সমাজে সাংস্কৃতিক ভিন্নতার ফলে তাদের নৈতিক চিন্তা-চেতনাও ভিন্ন হতে বাধ্য।
- এমতাবস্থায় নৈতিকতাকে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার হিসেবে গণ্য করতে আমরা বাধ্য হই, যদিও মানব জীবনে নৈতিকতার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করলে এই ধরনের অভিধা নৈতিকতার পক্ষে মোটেই মর্যাদাপূর্ণ মনে হয় না।
- এর উত্তরে এই বলা যায় যে, বিভিন্ন সমাজে নৈতিক নীতিতে পার্থক্য থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় এই নীতিগুলো কোন না কোন সর্বজনীন নীতির অংশ হিসেবেই কাজ করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৪.
নিচের কোনটি দ্বারা নৈতিক অধিকার জাগ্রত হয়?
  1. রাষ্ট্রের সংবিধান
  2. নীতি
  3. রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত
  4. আইন
সঠিক উত্তর:
নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি
ব্যাখ্যা

♦ অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
- অধিকার প্রধানত ২ প্রকার। যথা-
• নৈতিক অধিকার ও
• আইনগত অধিকার।

♦ নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত।
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার।

♦ আইনগত অধিকার:
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।
- সমাজ ও রাষ্ট্রভেদে এ অধিকারের তারতম্য ঘটে না।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৫.
তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয় কবে?
  1. ক) ২০০৬ সালে
  2. খ) ২০০৯ সালে
  3. গ) ২০১১ সালে
  4. ঘ) ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
তথ্য অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত সকল সরকারি, আধা সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে আবেদনের মাধ্যমে নাগরিকগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত তথ্য পেতে পারেন। তাদের এই অধিকার লঙ্ঘিত হলে তারা তথ্য কমিশনের নিকট প্রতিকার চাইতে পারেন।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৮৬.
'যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন' কোন সাম্যের মূল কথা?
  1. রাজনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. আইনগত
  4. অর্থনৈতিক
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা

⇒ 'যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন' অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা।

অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।
- লাস্কির মতে, "ধন বৈষম্যের সাথে অর্থনৈতিক সাম্য অসঙ্গতিপূর্ণ হবে না, যদি এই বৈষম্য দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত সামাজিক বা রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।"

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৭.
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে কতটি আর্টিকেল রয়েছে?
  1. ক) ১৫টি
  2. খ) ২৪টি
  3. গ) ৩০টি
  4. ঘ) ৪৫টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩০টি
ব্যাখ্যা
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ফ্রান্সের প্যারিসে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
এই ঘোষণাপত্রে মোট ৩০টি ধারা বা আর্টিকেল রয়েছে।

(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
১৮৮.
সামাজিকীকরণের সূত্রপাত ঘটে-
  1. ক) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
  2. খ) সমাজে
  3. গ) পরিবারে
  4. ঘ) গণমাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
গ) পরিবারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিবারে
ব্যাখ্যা
সামাজিকীকরণ হলো শিশুর সামাজিক হয়ে উঠার প্রক্রিয়া। এটি একটি শিখন প্রক্রিয়া যা মৃত্যু পর্যন্ত চলমান থাকে। শিশুর সামাজিকীকরণের সূত্রপাত ঘটে পরিবারে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়, সমাজ, সঙ্গী-সাথী, গণমাধ্যমে শিশুর সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১৮৯.
মূল্যবোধ শিক্ষার সাথে সুশাসনের সম্পর্ক কোনটিকে প্রভাবিত করে?
  1. ক) রাজনৈতিক উন্নয়ন
  2. খ) নৈতিক উন্নয়ন
  3. গ) রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন
  4. ঘ) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
গ) রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১৯০.
নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Ethics
  2. Principles
  3. Morality
  4. Philosophy
সঠিক উত্তর:
Ethics
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ethics
ব্যাখ্যা
• নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ, যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।

উল্লেখ্য:
→ Morality শব্দটির অর্থ হল নৈতিকতা বা চরিত্রবৈশিষ্ট্য। এটি মানুষের আচরণগত মূল্যবোধ এবং সত্য-মিথ্যার বিচার করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
→ Philosophy শব্দটির অর্থ হল দর্শন বা জ্ঞানতত্ত্ব। এটি জীবন এবং বিশ্ব সম্পর্কে গভীর চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
→ Principles শব্দটির অর্থ হল নীতি বা মূলনীতি। এটি সেই সব মৌলিক ধারণা বা নিয়মকে বোঝায় যা কোনো বিষয় বা প্রক্রিয়াকে পরিচালনা করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা।
১৯১.
সুশাসন নিশ্চিতকরণে কোনটি জরুরি?
  1. ক) গণতান্ত্রিক পরিবেশ
  2. খ) সহাবস্থান
  3. গ) স্বৈরতন্ত্র
  4. ঘ) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
ক) গণতান্ত্রিক পরিবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গণতান্ত্রিক পরিবেশ
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই। [সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
১৯২.
যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী কোনটি?
  1. ক) বিদেশী সংস্কৃতি
  2. খ) মাদকাসক্ততা
  3. গ) নগরায়ন
  4. ঘ) ছাত্র রাজনীতি
সঠিক উত্তর:
খ) মাদকাসক্ততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাদকাসক্ততা
ব্যাখ্যা
- যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী হলো মাদকাসক্তি।
- মাদকাসক্ততার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। মাদকাসক্তরা অর্থের জন্যে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
- হতাশা, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি, মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব প্রভৃতি কারণে যুব সমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।
- বেকারত্ব, দারিদ্র্য, অপসংস্কৃতি, অসুস্থ ছাত্ররাজনীতি প্রভৃতিও যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে দায়ী।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
১৯৩.
'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. হার্বার্ট স্পেন্সার
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জেরেমি বেন্থাম
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত | বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.

১৯৪.
নৈতিকতা কোন ধরনের বিষয়?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) আত্নিক
  3. গ) পারিবারিক
  4. ঘ) ব্যক্তিগত
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যক্তিগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার ধারণা
নৈতিকতা ব্যক্তিগত একটি বিষয়
▪ পৃথিবীতে ভালো-মন্দ যাচাই করার কোন শ্বাশত মানদন্ড না থাকার ফলে একজনের দৃষ্টিতে যে বিষয়টি ভালো অন্য জনের দৃষ্টিতে তা খারাপ হতে পারে। তবে ভালো-মন্দের একটি গড়পড়তা মানদন্ড সব সমাজে প্রায় একই রকম।
▪ সততা, সদাচারী, সৌজন্যমূলক আচরণকারী, প্রতিশ্রম্নতি রক্ষাকারি ব্যক্তিকে সব সমাজই নৈতিক গুনসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে। এ রকম ব্যক্তি কোন বিষয়টি সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য ভালো বা মন্দ তা নির্ণয় করতে পারে। এই ভালো ও মন্দের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারাটাই হল ব্যক্তির নৈতিকতা।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৫.
সুশাসন নিম্নের কোন ধারণা নির্মাণ করে না?
  1. ক) রাজনৈতিক সুশাসন
  2. খ) নৈতিক সুশাসন
  3. গ) সামাজিক সুশাসন
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক সুশাসন
সঠিক উত্তর:
খ) নৈতিক সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নৈতিক সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে : 
- রাজনৈতিক সুশাসন, 
- সামাজিক সুশাসন, 
- অর্থনৈতিক সুশাসন এবং 
- সাংস্কৃতিক সুশাসন।
 
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৯৬.
ইমানুয়েল কান্ট-এর মতে নিম্নের কোনটি নীতিবিদ্যার মূলকথা?
  1. সৎ ইচ্ছা
  2. শর্তহীন আদেশ
  3. কর্তব্যের জন্য কর্তব্য
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

১৯৭.
আইন ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. উভয়ই প্রাতিষ্ঠানিক
  2. উভয়ই ব্যক্তিগত
  3. আইন রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত, নৈতিকতা ব্যক্তিগত
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আইন রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত, নৈতিকতা ব্যক্তিগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত, নৈতিকতা ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা
আইন ও নৈতিকতার পার্থক্য:

ক) কার্যক্ষেত্রগত পার্থক্য:
আইন ও নৈতিকতার কার্যক্ষেত্রে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আইন কেবল মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং ঘটনা ঘটে যাবার পর ব্যবস্থা নিতে পারে। অন্যদিকে, নৈতিকতা মানুষের অন্তর্জীবন ও বহি:জীবন উভয়কে প্রভাবিত করে।

খ) অনুমোদনগত পার্থক্য:
আইন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে। অন্যদিকে, নৈতিকতা বিষয়টি ব্যক্তিগত। এর জন্য কারও অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

গ) অবস্থান ও কালভেদে পার্থক্য:
একই বিষয়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম আইন হতে পারে। যেমন, মদ্যপান বাংলাদেশে আইনত দন্ডনীয়। এখানে মদ্যপানকে নৈতিকতা পরিপন্থী হিসাবেও বিচেনা করা হয়। পক্ষান্তরে, পশ্চিমা বিশ্বে মদ্যপান সাধারণ সামাজিকতার অংশ এবং এই অভ্যাসের সাথে নৈতিকতা লঙ্ঘনের প্রশ্ন যে সমাজে অবান্তর।

ঘ) প্রকৃতিগত পার্থক্য:
নীতিশাস্ত্র সকল কাজকে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত, শালীন-অশালীন ইত্যাদি মানদন্ডে বিভক্ত করে থাকে। কিন্তু আইন পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রণীত ও প্রযোজ্য হয়।

ঙ) সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টতার মানদন্ড:
আইন সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। বেশিরভাগ আইনই লিপিবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে, নৈতিকতার নির্দিষ্ট কোন মানদন্ড নেই।

চ) নৈতিকতা ব্যক্তিকেন্দ্রিক:
নৈতিকতা ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিন্তু আইন ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়। সকল ব্যক্তির জন্য একই আইন সমভাবে প্রযোজ্য। অর্থাৎ আইন সর্বজনীন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৮.
"আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান।” মন্তব্যটি করেছেন কে?
  1. গেটেল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. হ্যান্স কেলসেন
  4. হ্যারবার্ট স্পেনসার
সঠিক উত্তর:
গেটেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গেটেল
ব্যাখ্যা

নৈতিকতার ধারণা: 
- নৈতিকতা ব্যক্তিগত একটি বিষয়।
- পৃথিবীতে ভালো-মন্দ যাচাই করার কোন শ্বাশত মানদন্ড না থাকার ফলে একজনের দৃষ্টিতে যে বিষয়টি ভালো অন্য জনের দৃষ্টিতে তা খারাপ হতে পারে।
- তবে ভালো-মন্দের একটি গড়পড়তা মানদন্ড সব সমাজে প্রায় একই রকম।
- সততা, সৌজন্যমূলক আচরণকারী, সদাচারী, প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারি ব্যক্তিকে সব সমাজই নৈতিক গুনসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে।
- এ রকম ব্যক্তি কোন বিষয়টি সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য ভালো বা মন্দ তা নির্ণয় করতে পারে।
- এই ভালো ও মন্দের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারাটাই হল ব্যক্তির নৈতিকতা।

আইন ও নৈতিকতার সুসম্পর্ক: 
- উদ্দেশ্যগত: আইন ও নৈতিকতা উভয়েরই উদ্দেশ্য হল সৎ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাজ ও দেশ গঠন।
- আইনের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে সৎ, যুক্তিসংগত, নিয়মের মাঝে রাখা।

উল্লেখ্য, 
- সাধারণত সমাজে যেসব বিষয়গুলো আইন বিরোধী, সেগুলো সাধারণত নীতিবিরোধীও হয়। যেমন, প্রতারণা বিষয়টি নীতিবিরোধী আবার তা আইন বিরোধীও। বাংলাদেশে কেউ প্রতারণা করলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২০ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।
- এ ধরনের বিবেচনা থেকে অধ্যাপক আর জি গেটেল বলেন, “আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান।”

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৯.
‘আইনের অনুশাসন’ কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
  1. স্যার আই জেনিংস
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. লাস্কি
  4. অধ্যাপক গেটেল
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা
আইনের অনুশাসন (Rule of Law):
- আধুনিক যুগের লক্ষ্য হল একটি রাষ্ট্রের অন্তর্গত সকল নাগরিকের ওপর একই ভাবে আইন প্রয়োগ করা।
- অধ্যাপক ডাইসির মতে- "আইনের চোখে সকল নাগরিকই সমান।"
- আইনের অনুশাসন বলতে মধ্যযুগীয় ধারণায় বলা হয়- "আইনের ক্ষমতা সর্বোচ্চ।"
- এর দ্বারা সরকার, আইন প্রণেতা ও সাধারণ নাগরিক সকলেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- অধ্যাপক ডাইসি (A. V. Dicey) ছিলেন আইনের অনুশাসনের অন্যতম প্রবক্তা।
- অধ্যাপক ডাইসি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত তাঁর সাংবিধানিক আইনের ভূমিকা (An Introduction to the Law of the Constitution) শীর্ষক গ্রন্থে বলেছেন আইনের অনুশাসন তিনটি নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত ।

⇒ আইনের অনুশাসন বিষয়ে ডাইসির তত্ত্ব:
১। বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারের বিলুপ্তি:
- এতে সরকার ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বিশেষ অধিকারের ক্ষমতা লোপ করে প্রতিটি মানুষের ন্যায় বিচার পাবার কথা বলা হয়েছে। এই অনুশাসন অনুসারে যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ব্যক্তি আইনের চোখে দোষী প্রমাণিত না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না। আইনের অনুশাসনের অর্থ হল আইন দ্বারা সমানভাবে সংরক্ষিত হওয়া।
২। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকারের তত্ত্ব:
- এই তত্বে বলা হয়েছে আইনের ওপরে কেউ নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেক ব্যক্তির গতিবিধি, পদমর্যাদা এবং সামাজিক প্রতিপত্তি, রাষ্ট্রের সাধারণ আইন ও সাধারণ আদালতের বিচারাধীন। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও সাধারণ নাগরিকের মতই আইন মান্য করবে এবং আইন লঙ্ঘন করলে তাদেরও শাস্তি হবে। এইভাবেই জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে সাম্য ও স্বাধীনতার অধিকার।
৩। কোন দেশের সংবিধান মূলত তার নিজস্ব আইনি কার্যাবলী নির্ধারণ করে:
- কোন দেশের সংবিধান বিদেশি কোন আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। জনসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং কর্তব্য নির্ণয় করাই হল সংবিধানের মূল উদ্দেশ্য এবং তা করা হয়ে থাকে দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারালয়ের পরিকাঠামোর মধ্যে থেকেই। সংবিধান সম্বন্ধে মানুষের ধারণা মূলত আইনের অনুশাসন সম্বন্ধে জ্ঞান থেকেই উপলব্ধি হয়। গ্রীক দার্শনিক অ্যরিস্টটলের মতে শাসন ও শাসিত সকলেরই সমভাবে আইনের অধীন হওয়া কাম্য-সেটাই আদর্শ আইনের শাসন।

উৎস: Elective Commerce Honours, নেতাজী সুভাষ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০০.
নৈতিক চেতনা কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সামাজিক
  2. সাংস্কৃতিক
  3. মানসিক
  4. অর্থনৈতিক
সঠিক উত্তর:
মানসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
→ নৈতিক চেতনা একটি মানসিক ক্রিয়া।
→ মানুষ যখন তার ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীর ন্যায়-অন্যায় বোধ, উচিত অনুচিত বোধ সম্পর্কে সচেতন হয় তখন ধরে নিতে হবে মানুষ নৈতিক চেতনার পরিসরে তার
ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীকে বিবেচনা করছে।
→ নৈতিক চেতনা মানুষকে ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যকার পার্থক্য বুঝাতে সহায়তা করে যা মূলত চিন্তাপ্রসূত, সামাজিক, সক্রিয় এবং অনেকাংশে বাধ্যবাধকতামূলক,
ভাবাবেগমূলক ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। 

তথ্যসূত্র: বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।