বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩৯৪এই পাতা৯৪প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / · ৩০১৩৯৪ / ৩৯৪

৩০১.
সূর্য কী?
  1. একটি নক্ষত্র
  2. একটি গ্রহ
  3. একটি উপগ্রহ
  4. একটি ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
একটি নক্ষত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি নক্ষত্র
ব্যাখ্যা

সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০২.
মহাবিশ্বের বয়স প্রায়-
  1. ১২ বিলিয়ন বছর
  2. ১৪ বিলিয়ন বছর
  3. ১৭ বিলিয়ন বছর
  4. ১১ বিলিয়ন বছর
সঠিক উত্তর:
১৪ বিলিয়ন বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা

- মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৭ বিলিয়ন প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। 
- আমাদের সৌরজগৎ ৪.৬ বিলিয়ন বছর, পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে, এবং মানুষ মাত্র কয়েক লক্ষ বছর ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।
- অন্য কথায়, মহাবিশ্ব আমাদের প্রজাতির চেয়ে প্রায় ৫৬,০০০ গুণ বেশি সময় ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট [লিংক]।

৩০৩.
জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলার সূর্যের চারপাশে গ্রহগুলোর গতি সম্পর্কিত কতটি মৌলিক সূত্র উপস্থাপন করেন?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
• কেপলারের সূত্র:
- ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলারের গ্রহ সম্পর্কিত সূত্র সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলোর গতি ব্যাখ্যা করে।
- ১৬১৮ সালে কেপলার বলেন, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে কেপলার এর গ্রহ সম্পর্কীয় গতিসূত্র বলা হয়। যথা

• প্রথম সূত্র (উপবৃত্ত সূত্র):
- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র (ক্ষেত্রফল সূত্র):
- প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র (আবর্তনকালের সূত্র):
- সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং LIVE MCQ লেকচার।
৩০৪.
Which of the following planets has no moon?
  1. Saturn
  2. Mars
  3. Earth
  4. Mercury
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Mercury
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mercury
ব্যাখ্যা
- বুধ (Mercury) ও শুক্র (Venus) গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই। 

বুধ গ্রহ: 
- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি। 
- সূর্যের নিকটতম ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ হলো বুধ। 
- সূর্য থেকে বুধ গ্রহের গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার। 
- বুধ গ্রহের ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার। 
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন। 
- বুধ গ্রহে মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস বা পানি কোনো কিছু নেই। 

অন্যদিকে, 
- পৃথিবীর উপগ্রহ ১টি (চাঁদ)। 
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ রয়েছে শনি গ্রহের। 
- শনি গ্রহের উপগ্রহের্ সংখ্যা ৮৩টি। 
- বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৮০টি। 

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৫.
সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তনশীল গ্রহের সংখ্যা কত?
  1. ক) ৬
  2. খ) ৭
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ৯
সঠিক উত্তর:
গ) ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮
ব্যাখ্যা

- সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তনশীল গ্রহের সংখ্যা আটটি।
যথা: বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

৩০৬.
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশবিশেষকে বাংলায় কী বলা হয়? 
  1. ছায়াপথ
  2. ধূমকেতু
  3. উল্কাপিন্ড
  4. নক্ষত্রমালা
সঠিক উত্তর:
ছায়াপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছায়াপথ
ব্যাখ্যা
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ও সৌরজগত: 
- সুদূর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বল্পালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয়। 
- সৌরজগত মিল্কিওয়ে (Milkyway) গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ, যা বাংলায় ছায়াপথ নামে অভিহিত। 
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত। 

ধূমকেতু (Comet): 
- ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক। 
- ধূমকেতুর দুইটি অংশ রয়েছে। 
যেমন- মস্তক (Head) বা কেন্দ্র ও পুচ্ছ (Tail)। 
- কোনো কোনো ধূমকেতুর মস্তক বা কেন্দ্র গ্রহ অপেক্ষা বড় হয়ে থাকে। 
- ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ। 
- অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে। 
- হ্যালির ধূমকেতু (Hally's Comet) প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টিগোচরীভূত হয়। 

উল্কা ও উল্কাপিন্ড (Meteors & Meteoroids): 
- উল্কা মহাশূন্যে বিচরণরত ক্ষুদ্রাকৃতি বিশিষ্ট কঠিন বস্তু। 
- ক্ষুদ্রায়তনের এই উল্কাপিন্ড একত্রে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে বাতাসের সাথে সংঘর্ষে প্রজ্জ্বলিত হয়ে তুষারপাতের মতো ঝরে পড়তে থাকে, একে উল্কাবৃষ্টি বলে। 
- উল্কা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠে পতিত হলে, তাকে উল্কাপিন্ড বলে। 
- ১৯০৮ সালে সাইবেরিয়ায় পতিত উল্কাপিন্ডর আঘাতে বনভূমির ব্যাপক এলাকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৭.
শনি গ্রহ প্রধানত কোন উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
  2. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  3. লোহা ও সিলিকন
  4. তামা ও দস্তা
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

• শনি:
- শনি গ্রহ সূর্য থেকে ষষ্ঠ গ্রহ এবং আমাদের সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- শনি গ্রহটি বেশিরভাগ হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম দিয়ে তৈরি। ।
-এই গ্রহের নামকরণ করা হয়েছে কৃষি ও সম্পদের রোমান দেবতার নামে, যিনি বৃহস্পতিরও পিতা ছিলেন।
- নিরক্ষীয় ব্যাস প্রায় ৭৪,৮৯৭ মাইল (১২০,৫০০ কিলোমিটার) হওয়ায়, শনি গ্রহ পৃথিবীর চেয়ে ৯ গুণ প্রশস্ত। 
-  শনির একদিন মাত্র ১০.৭ ঘন্টা সময় নেয় (শনির একবার ঘুরতে বা ঘুরতে যে সময় লাগে),
- শনি সূর্যের চারপাশে একটি সম্পূর্ণ কক্ষপথ ঘুরে আসতে (শনির সময়ে এক বছর) প্রায় ২৯.৪ পৃথিবী বছরে (১০,৭৫৬ পৃথিবী দিন) পূর্ণ করে।
- ৮ জুন, ২০২৩ পর্যন্ত, শনির কক্ষপথে ১৪৬টি উপগ্রহ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) কর্তৃক তাদের আবিষ্কার

তথ্যসূত্র: NASA. 

৩০৮.
ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে একবারপূর্ণ পরিক্রমণ করতে যে সময় লাগে তাকে কী বলে?
  1. সৌর বছর
  2. গ্যালাক্টিক ইয়ার
  3. আলোক বর্ষ
  4. অ্যাস্ট্রোনমিক সাইকেল
সঠিক উত্তর:
গ্যালাক্টিক ইয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালাক্টিক ইয়ার
ব্যাখ্যা
• গ্যালাকটিক ইয়ার (Galactic Year) বা কসমিক ইয়ার (Cosmic Year):
- একটি ছায়াপথ (যেমন, আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি) তার কেন্দ্রকে ঘিরে একবার পূর্ণ পরিক্রমণ করতে যে সময় নেয়, তাকে গ্যালাকটিক ইয়ার (Galactic Year) বা কসমিক ইয়ার (Cosmic Year) বলা হয়।
- সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আর সূর্য মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
- আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চারপাশে ঘূর্ণন করছে।
- গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চারপাশে একবার ঘূর্ণন সম্পূর্ণ করতে প্রায় ২২৫ থেকে ২৫০ মিলিয়ন বছর (২২.৫ থেকে ২৫ কোটি বছর) লাগে!

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩০৯.
'কেপলার-৪৫২বি' কী?
  1. একটি মহাকাশযান
  2. পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ
  3. সূর্যের মতো একটি নক্ষত্র
  4. NASA-এর অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ
ব্যাখ্যা
- 'কেপলার-৪৫২ বি' পৃথিবীর মত একটি গ্রহ। 
- নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে এই গ্রহটিতে খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। 
- এটির নাম দিয়েছেন ‘কেপলার ৪৫২ বি’। 
- ২০০৯ সাল থেকে জীবনধারণের উপযোগী পৃথিবী সদৃশ গ্রহ শনাক্ত করতে কাজ করছে কেপলার। 
- এক বিবৃতিতে নাসার গবেষকরা দাবি করেন, কেপলার ৪৫২ বি আমাদের সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, কিন্তু ওই নক্ষত্রটি ১৫০ কোটি বছরের পুরনো যা সূর্যের চেয়ে চার শতাংশ বড় ও ১০ শতাংশ উজ্জ্বল। 

উৎস: NASA Website.
৩১০.
বর্তমান বৈজ্ঞানিক হিসেবে মহাবিশ্বের আনুমানিক বয়স কত?
  1. ৫.৭৫ বিলিয়ন বছর
  2. ১০.৫০ বিলিয়ন বছর
  3. ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর
  4. ২০.৫০ বিলিয়ন বছর
সঠিক উত্তর:
১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা

• বিগ ব্যাং প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) আগে সংঘটিত হয়েছিল।

• মহাবিশ্বের উৎপত্তি:

- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে যেসব তত্ত্ব প্রচলিত আছে, তার মধ্যে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য হলো বিগ ব্যাং তত্ত্ব—বাংলায় যাকে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বলা হয়।

 
• বিগ ব্যাং তত্ত্বের মূল ধারণা:

- এই তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্ব একসময় ছিল অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত এবং অসীম ঘনত্বের (Infinitely Dense) অবস্থায়।
পরবর্তীতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুত প্রসারিত হতে শুরু করে।

- এই দ্রুত প্রসারণের ফলেই—

- মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়,
- এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়।
 
• সময়কাল ও বয়স:

- আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী,

- বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) আগে।
- এটিকেই বর্তমানে মহাবিশ্বের আনুমানিক বয়স হিসেবে ধরা হয়।
 
• বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা:

- বিগ ব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব।
- জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত প্রায় সব তথ্য এই তত্ত্বকে সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম।

- বর্তমান সময়ে অধিকাংশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী—

- এই তত্ত্বের পক্ষে ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন,
- এবং মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যায় এটিকেই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মডেল হিসেবে মান্যতা দিয়েছেন।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

৩১১.
হিগস্-বোসন কণা কত সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৪ সালে
  4. ২০১৬ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
• হিগস বোসন (Higgs Boson):
- হিগস বোসন কণা আবিষ্কৃত হয় ৪ জুলাই ২০১২ সালে। 
- সুইজারল্যান্ডের ইউরোপীয় কণা পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগার CERN-এ অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কণা ত্বরক 'লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার' (LHC)-এর গবেষকদের দ্বারা।
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত।

• হিগস বোসন কণার বৈশিষ্ট্য:
- হিগস বোসন এর স্পিন ০, তবে এর ভর আছে।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও  Space.com website।
৩১২.
নীহারিকা কী? 
  1. সূর্যের কাছাকাছি এক ধূমকেতু
  2. মহাকাশে গ্রহ ও উপগ্রহের সমষ্টি
  3. মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ 
  4. পৃথিবীর নিকটে আলো উৎপন্ন করা জ্যোতিষ্ক
সঠিক উত্তর:
মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ 
ব্যাখ্যা

- নীহারিকা (nebula) হলো ধূলিকণা, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস এবং প্লাজমা দ্বারা গঠিত এক ধরনের বিশাল আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ। দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে এদেরকে মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ বা মেঘের মতো দেখায়। 

নীহারিকা (Nebula): 
- নীহারিকা হলো মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ। 
- এদের আকার বিচিত্র। কিছু নীহারিকার দেহ গ্যাসীয় পদার্থে পূর্ণ, তাই এদেরকে গ্যাসীয় নীহারিকা বলে। 
- এক একটি নীহারিকার মধ্যবর্তী দূরত্ব ব্যাপক। 
- এক একটি নীহারিকার মাঝে কোটি কোটি নক্ষত্র থাকতে পারে। 
- এরা যেহেতু পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোক বর্ষ দূরে রয়েছে, তাই এদের মাঝে যেসব নক্ষত্র রয়েছে তাদের পৃথকভাবে শনাক্ত করা যায় না। 

ছায়াপথ (Milky Way): 
- কোনো একটি গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশকে ছায়াপথ বা আকাশ গঙ্গা বলে। 
- অন্ধকার আকাশে এদের উজ্জ্বল দীপ্তি দীর্ঘপথের মতো দেখায়। একটি ছায়াপথ লক্ষ কোটি নক্ষত্রের সমষ্টি। 
- শীতকালে রাত্রিবেলা পরিষ্কার আকাশে লক্ষ্য করলে উত্তর-দক্ষিণে বেশ বড় পরিসরযুক্ত তেজোদ্দীপ্ত স্বচ্ছ দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যায়, তারকা খচিত এই আলোর পথই হলো ছায়াপথ। 
- বিজ্ঞানীরা একে বিরাট চক্রাকার মণ্ডল বলে অনুমান করেন। 
- সৌরজগৎ এরকম একটি ছায়াপথের অন্তর্গত। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১৩.
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ও মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ কোন বৈজ্ঞানিক শাখার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক্রিপ্টোলজি 
  2. কসমোলজি
  3. জ্যোতির্বিজ্ঞান
  4. অ্যাস্ট্রোফিজিক্স
সঠিক উত্তর:
কসমোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কসমোলজি
ব্যাখ্যা

- কসমোলজি মহাবিশ্বের উৎপত্তি, বিকাশ, ইতিহাস, ভবিষ্যৎ এবং বৃহৎ আকারের গঠন ও বিবর্তন নিয়ে অধ্যয়ন করে। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ (expansion) এবং মহাজাগতিক পটভূমি বিকিরণের মতো বিষয়গুলো কসমোলজির মূল আলোচ্য বিষয়।

মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য: 

- মহাবিশ্ব কেন সৃষ্টি হলো, কিভাবে সৃষ্টি হলো, কেনইবা এটি টিকে আছে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে এটি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে এর বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা হয়েছে। 
- রাতের আকাশে অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র দেখতে পাওয়া যায়, এমন অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি গ্যালাক্সি। 
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টেলিস্কোপের ব্যবহার থেকে জানা যায়, সূর্য ছায়াপথ গ্যালাক্সির (Milky way) অন্যান্য নক্ষত্রের মতোই একটি সাধারণ নক্ষত্র, তখন মনে করা হতো, সূর্য হচ্ছে গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু বিংশ শতাব্দীতে এসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, সূর্যের অবস্থান গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক অনেক দূরে। এরূপ কোটি কোটি গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত হয়েছে এই মহাবিশ্ব। 
- ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় 1011 । মহাবিশ্বে এরকম প্রায় 1011 সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে আর প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে গ্যালাক্সির প্রায় সমসংখ্যক নক্ষত্র। 

- পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় অতি অতি ক্ষুদ্র। পৃথিবী থেকে মহাকাশে নক্ষত্রদের দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও এদের পরস্পরের মধ্যে রয়েছে অনেক আলোক বর্ষের ব্যবধান। 
- সভ্যতার সেই শুরু হতেই বিজ্ঞানীগণ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করে আসছেন। এসব ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিজ্ঞানের একটি শাখা সৃষ্টি হয়েছে, যা কসমোলজি (Cosmology) বা 'মহাজাগতিক বিজ্ঞান' নামে পরিচিত। 
- বিংশ শতাব্দীতে দুই জন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের দ্বারা দুটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রায় সকল পদার্থ বিজ্ঞানীদের মাঝে গৃহীত হয়েছে।
- পরীক্ষা দুটি হলো- ১। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং ২। মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ। 

অন্যদিকে, 
- ক্রিপ্টোলজি (Cryptology): এটি গোপন তথ্য বা বার্তা সংরক্ষণ এবং নিরাপদ প্রেরণের বিজ্ঞান।
- জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy): এটি মহাকাশের বস্তু (গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ) এবং তাদের ঘটনা নিয়ে অধ্যয়ন করে, তবে কসমোলজি মহাবিশ্বের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কাজ করে। 
- অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (Astrophysics): এটি মহাজাগতিক বস্তু ও ঘটনার ভৌত প্রক্রিয়াগুলো ব্যাখ্যা করে, যা কসমোলজির একটি অংশ হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৪.
সূর্য কী?
  1. গ্রহ
  2. নক্ষত্র
  3. উপগ্রহ
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১৫.
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে উপরের স্তর কোনটি?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. এক্সোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
এক্সোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডল:
- যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে বায়ুমণ্ডল বল হয়। 

• বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
যথা-
- ট্রপোমণ্ডল,
- স্ট্রাটোমণ্ডল,
- মেসোমণ্ডল,
- তাপমণ্ডল ও
- এক্সোমণ্ডল।

এর মধ্যে ট্রপোমণ্ডল হলো বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর এবং এক্সোমণ্ডল হলো সবচেয়ে উপরের স্তর। 

• এক্সোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Exosphere:
-  এক্সোমণ্ডল, তাপমন্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি ক্রমান্বয়ে আন্ত:গ্রহ স্থান (Interplanetary Space) এ প্রবেশ করে। 
-  এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
-  এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩১৬.
বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক হিসেবে কাকে অভিহিত করা হয়? 
  1. জর্জ গ্যামো 
  2. স্টিফেন হকিং 
  3. এডউইন হাবল 
  4. জর্জ লেমাইটার 
সঠিক উত্তর:
জর্জ লেমাইটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ লেমাইটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হতে পারা যায়, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে
- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদূর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 

- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুর করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে অর্থাৎ সর্বত্র ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ, বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- বিগ ব্যাগ-এর পর 10-43 s পর্যন্ত কী ঘটেছিল তা কেউ জানতে পারেনি, কিছুটা ধারণা পেয়েছে মাত্র। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে। একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। এতে সব মৌলিক বলগুলো একত্রে একীভূত বল হিসেবে ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৭.
মহাবিশ্বের বর্তমান বয়স কত?
  1. প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর
  2. প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর
  3. প্রায় ৮ বিলিয়ন বছর
  4. প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্ব:
- মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৭ বিলিয়ন প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। 
- আমাদের সৌরজগৎ ৪.৬ বিলিয়ন বছর, পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে, এবং মানুষ মাত্র কয়েক লক্ষ বছর ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।
- অন্য কথায়, মহাবিশ্ব আমাদের প্রজাতির চেয়ে প্রায় ৫৬,০০০ গুণ বেশি সময় ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট

৩১৮.
ফোটন কণার ধর্ম কী?
  1. তড়িৎ নিরপেক্ষ
  2. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  3. ধনাত্মক চার্জযুক্ত 
  4. তড়িৎ চার্জযুক্ত
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ নিরপেক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ নিরপেক্ষ
ব্যাখ্যা

- ফোটন হলো আলোর মৌলিক কণা এবং এটি তড়িৎ নিরপেক্ষ, অর্থাৎ এর কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। এই কারণে এটি তড়িৎ ক্ষেত্র বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত বা বিচ্যুত হয় না। 

ফোটন কণা: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। ৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf (যেখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক)। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়, ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৯.
কোনটি নিউট্রন তারার বৈশিষ্ট্য?
  1. অতি উচ্চ ঘনত্ব
  2. নিম্ন তাপমাত্রা
  3. নিম্ন চৌম্বকক্ষেত্র
  4. গ্যাসীয় অবস্থা
সঠিক উত্তর:
অতি উচ্চ ঘনত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতি উচ্চ ঘনত্ব
ব্যাখ্যা
• নিউট্রন তারা:
- নিউট্রন তারা (Neutron Star) হলো একটি অত্যন্ত ঘন, মৃত তারা যা একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর সৃষ্টি হয়।

• নক্ষত্রটি যখন সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হয়, তখন এর কোর বা মূলবস্তুর চাপ এত বেশি হয় যে, প্রোটন ও ইলেকট্রন একত্রিত হয়ে নিউট্রন গঠন করে। একে তাই বলা হয় নিউট্রন স্টার বা নিউট্রন নক্ষত্র।
• একটি ঘূর্ণায়মান নক্ষত্র যখন চুপসে গিয়ে নিউট্রন নক্ষত্রে পরিণত হয়, তখন কৌণিক ভরবেগ সংরক্ষণ করার জন্যে নক্ষত্রের কৌণিক বেগ অনেক বৃদ্ধি পায়। 

• মূল বৈশিষ্ট্য:
⇒  ঘনত্ব:
- একটি নিউট্রন তারার ঘনত্ব অনেক বেশি হয়ে থাকে। 
⇒ আয়তন:
- সাধারণত আয়তন খুব কম, অথচ এর ভর প্রায় সূর্যের সমান।
⇒ চৌম্বক ক্ষেত্র:
- এদের শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র থাকে।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; ড. শাহজাহান তপন।
৩২০.
ধূমকেতু কী? 
  1. একটি চন্দ্র 
  2. একটি জ্যোতিষ্ক 
  3. একটি গ্রহ 
  4. একটি উপগ্রহ 
সঠিক উত্তর:
একটি জ্যোতিষ্ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি জ্যোতিষ্ক 
ব্যাখ্যা

ধূমকেতু (Comet): 
- ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক। 
- ধূমকেতুর দুইটি অংশ রয়েছে। 
যেমন: মস্তক (Head) বা কেন্দ্র ও পুচ্ছ (Tail)। 
- কোনো কোনো ধূমকেতুর মস্তক বা কেন্দ্র গ্রহ অপেক্ষা বড় হয়ে থাকে। 
- ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ। 
- অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে। 
- হ্যালির ধূমকেতু (Hally's Comet) প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টিগোচরীভূত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২১.
হিগস বোসন কণার অস্তিত্ব কত সালে ধরা পড়ে?
  1. ২০০০
  2. ২০১৩
  3. ২০১৫
  4. ২০২০
সঠিক উত্তর:
২০১৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৩
ব্যাখ্যা
• হিগস বোসন কণা:
- হিগস বোসন (Higgs boson) একটি মৌলিক কণা যা কণা পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

• ১৯৬৪ সালে পিটার হিগস এবং তাঁর পাঁচ সহযোগী মিলে সর্বপ্রথম এ কণা সম্পর্কিত তত্ত্ব প্রদান করেন।
- এটি কণা পদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেলে (Standard Model) উল্লেখিত ১৭টি মৌলিক কণার একটি।
- সুইজারল্যান্ডের সার্ন (European Organization for Nuclear Research, CERN) এর লার্জ হ্যাডরন কোলাইডার (Large Hadron Collider) বা LHC যন্ত্রে ২০১৩ সালে এ কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে। 
- বছরই পিটার হিগস (Peter Higgs) ও ফ্রানকোসিস এঙ্গলার্ট (Francosis Englert) এ কাজের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওন লেডারম্যান (Leon Lederman) ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা বা God particle নামে অভিহিত করেন।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৩২২.
শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে -
  1. নক্ষত্রমণ্ডলী
  2. শুক্র গ্রহ
  3. বুধ গ্রহ
  4. নীহারিকা
সঠিক উত্তর:
শুক্র গ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুক্র গ্রহ
ব্যাখ্যা
শুক্র (Venus):
- শুক্র গ্রহকে ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়।
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়, শুক্র গ্রহ।
- কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি।
- শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।
- এখানে বৃষ্টি হয় তবে এসিড বৃষ্টি।
- শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার।
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সুতরাং শুক্রে ২২৫ দিনে এক বছর।
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।
- সকল গ্রহ এদের নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে পাক খেলেও শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়। (বোর্ড বই)

উল্লেখ্য নাসার তথ্য মতে,
- শুক্রের মতো, ইউরেনাসও পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘূর্ণন করে।
- তবে ইউরেনাসের বিশেষত্ব হলো এটি পার্শ্বাভিমুখে ঘূর্ণন করে, যা একে অনন্য করে তুলেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩২৩.
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) -এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিচের কোনটি গ্রহের মর্যাদা হারায়?
  1. শনি
  2. ইউরেনাস
  3. নেপচুন
  4. প্লুটো
সঠিক উত্তর:
প্লুটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লুটো
ব্যাখ্যা

প্লুটো:
- প্লুটো একসময় নবম গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত ছিল।
- ২০০৬ সালে IAU এর সংজ্ঞা অনুযায়ী প্লুটো গ্রহের মর্যাদা হারায়।
- এখন এটি একটি বামন গ্রহ (dwarf planet) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ।

উল্লেখ্য,
- একটি বস্তুকে গ্রহ হিসেবে চিহ্নিত করতে বিজ্ঞানীরা সাধারণত কিছু শর্ত আরোপ করেন।
১. এটি যথেষ্ট বড় হতে হবে (সাধারণত ১,০০০ কিমি বা তার বেশি)। 
২. নিজের মাধ্যাকর্ষণের কারণে এটি গোলাকার (আনুমানিক ৭০০ কিমি ব্যাস) আকৃতি ধারণ করতে সক্ষম হতে হবে।
৩. এর ভর এমন হতে হবে যাতে কেন্দ্রস্থলে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু না হয়।

• আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) অনুসারে, আমাদের সৌরজগতের ৮টি গ্রহ। যথা-
- বুধ,
- শুক্র,
- পৃথিবী,
- মঙ্গল,
- বৃহস্পতি,
- শনি,
- ইউরেনাস, এবং
- নেপচুন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩২৪.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে? 
  1. জর্জ গ্যামো
  2. এডুইন হাবল
  3. স্টিফেন হকিং 
  4. জি. ল্যামেটার 
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। 
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৩২৫.
বিজ্ঞানীরা কোন কণাটিকে “গডস পার্টিকল” নামে অভিহিত করেন?
  1. হিগস বোসন কণা
  2. গেজ বোসন কণা
  3. গ্রাভিটন কণা
  4. লেপটন কণা
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন কণা
ব্যাখ্যা

• বিজ্ঞানীরা “গডস পার্টিকল” বা ঈশ্বর কণা হিসেবে হিগস বোসন কণাকে অভিহিত করেন। এটি একটি মৌলিক কণা, যা হিগস ক্ষেত্রের সাথে যুক্ত এবং অন্যান্য কণাগুলোর ভর উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। হিগস বোসন না থাকলে, মৌলিক কণাগুলি ভরহীন থাকত এবং মহাবিশ্বে পারমাণবিক কাঠামো তৈরি হতো না। ২০১২ সালে সিএমএস ও এটিএলএস এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে (LHC) এই কণার অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরীক্ষা ও সমর্থিত হলো। তাই হিগস বোসনকে “গডস পার্টিকল” বলা হয়।

- সঠিক উত্তর: ক) হিগস বোসন কণা।

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। 
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা। 
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। 
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়। 
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে। 
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৬.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌ কে? 
  1. স্টিফেন হকিং
  2. জি. লেমেটার
  3. জন হুইলার
  4. আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
স্টিফেন হকিং: 
- স্টিফেন হকিং একজন পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞ। 
- স্টিফেন হকিং মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌। 
- তাঁর রচিত বইসমূহ- 
• A Brief History of Time, 
• The Universe in a Nutshell এবং 
• The Grand Design ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জি. লেমেটার। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৭.
স্কাইল্যাব কি?
  1. ক) একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান
  2. খ) একটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র
  3. গ) একটি মহাকাশ স্টেশন
  4. ঘ) একটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
গ) একটি মহাকাশ স্টেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একটি মহাকাশ স্টেশন
ব্যাখ্যা
স্কাইল্যাব (Skylab) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উৎক্ষেপিত প্রথম মহাকাশ স্টেশন যা ১৪ মে ১৯৭৩ সালে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হয়।
সূত্র: ব্রিটানিকা
৩২৮.
কোন গ্রহের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে অধিক?
  1. শুক্র
  2. পৃথিবী
  3. মঙ্গল
  4. বুধ
সঠিক উত্তর:
শুক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুক্র
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহের তাপমাত্রা: 
- প্রতিটি গ্রহের গড় তাপমাত্রা একটি গ্রহ সূর্য থেকে যত দূরে থাকে গ্রহের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ততই শীতল হতে থাকে। 
- শুক্র ব্যতিক্রম, কারণ সূর্যের সান্নিধ্য এবং এর ঘন বায়ুমণ্ডল এটিকে আমাদের সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ করে তোলে। 
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র। 
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাই অক্সাইডের তৈরি। 
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ। 
- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। 
- আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলির গড় তাপমাত্রা হলো- 
• বুধ: ১৬৭° সেলসিয়াস, 
শুক্র: ৪৬৪° সেলসিয়াস, 
• পৃথিবী: ১৫° সেলসিয়াস, 
• মঙ্গল: -৬৫° সেলসিয়াস, 
• বৃহস্পতি: -১১০° সেলসিয়াস, 
• শনি: -১৪০° সেলসিয়াস, 
• ইউরেনাস: -১৯৫° সেলসিয়াস এবং 
• নেপচুন: -২০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং NASA ওয়েবসাইট।
৩২৯.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে-
  1. ৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ড
  2. ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  3. ৭ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  4. ৯ মিনিট ৩২ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

• সূর্য থেকে পৃথিবী:
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি।

৩৩০.
কোন জ্যোতির্বিজ্ঞানী হ্যালির ধূমকেতু আবিষ্কার করেন?
  1. আইজ্যাক নিউটন 
  2. এডমন্ড হ্যালি
  3. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  4. কার্ল সাগান
সঠিক উত্তর:
এডমন্ড হ্যালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এডমন্ড হ্যালি
ব্যাখ্যা

• ধূমকেতু (Comet):
- মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে।
- এদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে।
- এসব জ্যোতিষ্ককে ধূমকেতু বলে।
- ধূমকেতু আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিষ্ক।
- সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বসবাস হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উদয় হয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।
- সূর্যের চারদিকে অনেক দূর দিয়ে এরা পরিক্রমণ করে। সূর্যের নিকটবর্তী হলে এদের দেখা যায়।
- এরা সূর্যের যত কাছাকাছি আসতে থাকে তত এদের লেজ লম্বা হতে থাকে।
- অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে বলে এরা অনেক বছর পর পর আবির্ভূত হয়।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত।
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছরে একবার দেখা যায়।
- হ্যালির ধূমকেতু ২৪০ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৩৩১.
কসমিক রে প্রধানত কোন উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. ইলেক্ট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. ফোটন
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
ব্যাখ্যা

◉ মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic Rays) মূলত মহাকাশ থেকে আসা উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন কণার ধারা। এদের মধ্যে প্রায় ৮৯% প্রোটন থাকে। 

​মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- মহাজাগতিক রশ্মি হচ্ছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্রোত। বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

৩৩২.
আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের নাম কী?
  1. লুব্ধক
  2. ধ্রুবতারা
  3. শুক্র গ্রহ
  4. সপ্তর্ষি
সঠিক উত্তর:
লুব্ধক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুব্ধক
ব্যাখ্যা

লুব্ধক:
- আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র লুব্ধক ।
- লুব্ধক পৃথিবীর আকাশের উজ্জ্বলতম তারা।
- লুব্ধক এত উজ্জ্বল দুটি কারণে- এর স্বকীয় উজ্জ্বলতা এবং এর অবস্থান পৃথিবীর খুবই নিকটে।
- এটি একটি জোড়া বা যুগ্মতারা।
- লুব্ধক বলতে মূলত 'সিরিয়াস' (Sirius) তারাটিকে বোঝায়।

তথ্যসূত্র - Britannic.com

৩৩৩.
মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে যে গ্যাসীয় পদার্থসমূহের বলয় রয়েছে তা কী নামে পরিচিত?
  1. উল্কা
  2. গ্রহাণুপুঞ্জ
  3. নক্ষত্র
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
গ্রহাণুপুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রহাণুপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroids):
- মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে গ্রহাণুপুঞ্জ রয়েছে।
- সৌরজগতে মঙ্গল ও বৃহস্পতি এই দুইটি গ্রহের মধ্যবর্তী অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহ একত্রে পূঞ্জীভূত হয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
- এগুলোকে একত্রে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।
- গ্রহাণুপুঞ্জসমূহ একটি বলয়ের মতো ঘিরে থাকে, যা গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৪.
“সূর্যই হচ্ছে সৌরজগতের কেন্দ্র এবং পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহগুলো এর চারিদিকে ঘূর্ণায়মান” - এই মতবাদের প্রবক্তা কে?
  1. ক) কোপার্নিকাস
  2. খ) গ্যালিলিও
  3. গ) রজার বেকন
  4. ঘ) নিউটন
সঠিক উত্তর:
ক) কোপার্নিকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক অ্যারিস্টটল মনে করতেন পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘােরে।
বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী টলেমী জোরালােভাবে বলেন যে পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে।
কোপারনিকাস নামে একজন জ্যোর্তিবিদ সম্পূর্ণ নতুন মতবাদ ব্যাক্ত করেন। তিনি পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের পরিবর্তে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন। তার মডেলের মূল কথা ছিল পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘােরে।
পরবর্তীতে বিজ্ঞানী কেপলার ও গ্যলিলিও, কোপারনিকাসের মতবাদের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেন।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি

৩৩৫.
নিচের কোনটি সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র?
  1. Proxima Centauri
  2. Vega
  3. Sirius
  4. Mars
সঠিক উত্তর:
Proxima Centauri
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Proxima Centauri
ব্যাখ্যা

• সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম নক্ষত্র হলো Proxima Centauri (প্রক্সিমা সেন্টারাই)।

• প্রক্সিমা সেন্টারাই:
- ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে স্কটিশ জ্যোতির্বিদ ও দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের ইউনিয়ন অবজারভেটরির পরিচালক রবার্ট আইনেস এই নক্ষত্রটি পর্যবেক্ষণ করেন।
- তিনি নক্ষত্রটি "প্রক্সিমা সেন্টারাই" নামকরণের প্রস্তাব দেন (মূলত প্রক্সিমা সেন্টারাস)।
- পৃথিবী থেকে এটির দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোকবর্ষ।
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো রয়েছে তাদের নক্ষত্র বলা হয়। সূর্য এরূপ একটি নক্ষত্র।
- অর্থাৎ সূর্য ব্যতীত পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই।

• নক্ষত্র:
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে।
- সূর্য এরূপ একটি নক্ষত্র।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে।
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না ।
- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে।
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।

অন্যান্য অপশন:
- Vega বা অভিজিৎ নক্ষত্রটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- Sirius বা লুব্ধক আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হলেও এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৮.৬ আলোকবর্ষ দূরে যা প্রক্সিমা সেন্টারাইয়ের দ্বিগুণ।
- Mars বা মঙ্গল কোনো নক্ষত্র নয় বরং এটি সৌরজগতের একটি গ্রহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩৬.
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ কর্তৃক শনাক্তকৃত সর্বাধিক পুরোনো সুপারনোভা কোনটি? 
  1. জিআরপি ৯৯৯
  2. জিআরপি ১৮০ 
  3. জিআরপি ২৫০৩১৪এ
  4. জিআরপি ১০০১
সঠিক উত্তর:
জিআরপি ২৫০৩১৪এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিআরপি ২৫০৩১৪এ
ব্যাখ্যা

সুপারনোভা: 
- সুপারনোভা হলো শক্তিশালী ও আলোকিত নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণ, যা সাধারণত বিশাল নক্ষত্রের জীবনের শেষে ঘটতে দেখা যায়। বিশাল এ বিস্ফোরণের মাধ্যমে মূলত নক্ষত্র ধ্বংস হওয়ার পর তারা বা কৃষ্ণবিবরে পরিণত হয়। 
- মহাবিশ্বের শুরুর দিকে বিশাল এক নক্ষত্র বিস্ফোরিত হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণের আলো শত শত কোটি বছর মহাকাশে পাড়ি দিয়ে অবশেষে নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে সুপারনোভা জিআরপি ২৫০৩১৪এ। 
- নাসার তথ্যমতে, এই সুপারনোভার সময় মহাবিশ্বের বয়স ছিল ৭৩০ মিলিয়ন বা ৭৩ কোটি বছর, জিআরপি ২৫০৩১৪এ এখন পর্যন্ত সরাসরি শনাক্ত করা সবচেয়ে পুরোনো সুপারনোভা। 
- এর মাধ্যমে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ তার নিজের আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর আগে ওয়েব টেলিস্কোপ ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ১৮০ কোটি বছর পুরোনো একটি সুপারনোভা শনাক্ত করেছিল। 

- নেদারল্যান্ডসের র‍্যাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু লেভান বলেন, ‘একমাত্র ওয়েব টেলিস্কোপের পক্ষেই এটি সরাসরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই আলো আসলে একটি সুপারনোভা বা বিশালাকার নক্ষত্রের মৃত্যু থেকে এসেছে। এই পর্যবেক্ষণ এটিও প্রমাণ করে, মহাবিশ্বের বয়স যখন বর্তমানের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ ছিল, সেই সময়েরও একক কোনো নক্ষত্রকে আমরা এখন খুঁজে পেতে পারি।’ 
- ২০২৪ সালে ফ্রান্স ও চীনের উৎক্ষেপণ করা এসভিওএম টেলিস্কোপ মহাকাশে একটি শক্তিশালী গামা–রে বার্স্ট বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ঝলক দেখতে পায়। সাধারণত বিশালাকার নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় এমন দীর্ঘস্থায়ী ঝলক দেখা যায়। 
- নাসার সুইফট অবজারভেটরি দ্রুত এর অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের নর্ডিক অপটিক্যাল টেলিস্কোপে শনাক্ত করা হয় ইনফ্রারেড আভা। পরে চিলিতে অবস্থিত ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ নিশ্চিত করে যে নক্ষত্র বিস্ফোরণের এ ঘটনা বিগ ব্যাংয়ের মাত্র ৭৩ কোটি বছর পর হয়েছে। 

উৎস: আর্থ ডটকম এবং প্রথম আলো পত্রিকা (২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫) [লিঙ্ক]।

৩৩৭.
হ্যালির ধূমকেতু শেষবার কবে দেখা গিয়েছিল?
  1. ১৯৮৮ সালে
  2. ১৯৮০ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা
• ধূমকেতু (Comet):
- মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে যাদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে, এসব জ্যোতিকে ধূমকেছূ বলে।
- ধূমকেতু আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিক।
- সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বসবাস হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উপয় হরে পাবার অদৃশ্য হয়ে যায়।
- সূর্যের চারদিকে অনেক দূর দিয়ে এরা পরিক্রমণ করে।
- সূর্যের নিকটবর্তী হলে এদের দেখা যায়।

- এরা সূর্যের যত কাছাকাছি আসতে থাকে তত এর লেজ লম্বা হতে থাকে।
- এরা অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে বলে অনেক বছর পর পর এরা আবির্ভূত হয়।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত।
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছরে একবার দেখা যায়।
- মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী হ্যালির ধূমকেতু ২৪০ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩৮.
যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে চাঁদ অবস্থান করে তখন কোনটি ঘটে? 
  1. পূর্ণিমা
  2. অমাবস্যা
  3. চন্দ্রগ্রহণ
  4. সূর্যগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
সূর্যগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যগ্রহণ
ব্যাখ্যা
সূর্যগ্রহণ: 
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া। 

পূর্ণিমা: 
- পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে। 

অমাবস্যা: 
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
৩৩৯.
মহাকাশে তারকার বিস্ফোরণকে কী বলে?
  1. ব্ল্যাকহোল
  2. শ্বেতবামন
  3. সুপারনোভা
  4. আলফা সেন্টুরি
সঠিক উত্তর:
সুপারনোভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপারনোভা
ব্যাখ্যা
সুপারনোভা:
- সুপারনোভা শব্দটির বাংলা করলে দাড়ায় ‘অতিনবতারা’।
- সুপারনোভা হল এক ধরনের নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণ প্রক্রিয়া, যার কারণে একটি নক্ষত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যায় এবং অবশেষরূপে থাকে শীতল নীহারিকা এবং কৃষ্ণবিবর।
- কোটি কোটি বছর ধরে জ্বলতে থাকা তারকার যখন জ্বালানি সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যায়, তখন নক্ষত্রটি তার পরিণতিতে পৌঁছে যাওয়ার আগে স্ফিত এবং উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং বিস্ফোরিত হয়। - - দূর হতে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তারকাটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
- উজ্জ্বল হয়ে ওঠা এই ঘটনাটাই সুপারনোভা হিসেবে পরিচিত।
- এই ধরনের বিস্ফোরণে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় এবং সে সময়ে সংশ্লিষ্ট নক্ষত্রটি সাময়িকভাবে কখনো কখনো পুরো ছায়াপথের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
- আর এই সুপারনোভা ঘটনার মাধ্যমেই একটি নক্ষত্রের মৃত্যু ঘটে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪০.
ভূপৃষ্ঠের সৌরদীপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের সংযোগস্থলকে বলে-
  1. ঊষা
  2. গোধূলি
  3. গুরুবৃত্ত
  4. ছায়াবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
ছায়াবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছায়াবৃত্ত
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের সৌরদীপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের সংযোগস্থলকে ছায়াবৃত্ত বলে। 
- আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে অংশ অন্ধকার থেকে ছায়াবৃত্ত পার হয়ে সবেমাত্র আলোকিত অংশ পৌঁছায় সেখানে প্রভাত হয়। 
- প্রভাতের কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সেখানে ঊষা এবং সন্ধ্যার কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সে সময়কে গোধূলি বলে। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৩৪১.
নক্ষত্রের গঠন মূলত কীরূপ?
  1. শীতল প্রস্তরখণ্ডের ন্যায়
  2. তাপবিহীন
  3. জলন্ত গ্যাসপিণ্ডের ন্যায়
  4. শীতল গ্যাস পিণ্ডর ন্যায়
সঠিক উত্তর:
জলন্ত গ্যাসপিণ্ডের ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলন্ত গ্যাসপিণ্ডের ন্যায়
ব্যাখ্যা
• নক্ষত্র-
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।

• মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে আমরা মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখতে পাই।
- এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়।

• নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে।
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না।

• পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে।
- কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে।
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩৪২.
মহাকাশ থেকে প্রবেশ করলে উল্কাগুলো বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে পুড়ে যায়?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
মেসোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
উল্কা ও উল্কাপিন্ড (Meteors & Meteoroids):
- উল্কা মহাশূন্যে বিচরণরত ক্ষুদ্রাকৃতি বিশিষ্ট কঠিন বস্তু।
- ক্ষুদ্রায়তনের এই উল্কাপিন্ড একত্রে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে বাতাসের সাথে সংঘর্ষে প্রজ্জ্বলিত হয়ে তুষারপাতের মতো ঝরে পড়তে থাকে।
একে উল্কাবৃষ্টি বলে।
- উল্কা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠে পতিত হলে, তাকে উল্কাপিন্ড বলে।
- মহাকাশ থেকে প্রবেশ করলে উল্কা গুলো বায়ুমন্ডলের মেসোমন্ডল স্তরে পুড়ে যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪৩.
মঙ্গল গ্রহের আকার পৃথিবীর আকারের প্রায়-
  1. চারগুণ
  2. দ্বিগুণ
  3. অর্ধেক
  4. এক তৃতীয়াংশ
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক
ব্যাখ্যা

• মঙ্গল (Mars):
- মঙ্গল গ্রহ সৌরজগতের সবচেয়ে অন্বেষণযোগ্য বস্তুগুলির মধ্যে একটি।
- প্রাচীন রোমানরা তাদের যুদ্ধের দেবতার নামানুসারে মঙ্গল গ্রহের নামকরণ করেছিল
- এটিকে প্রায়শই "লাল গ্রহ" বলা হয় কারণ মঙ্গল গ্রহের মাটিতে থাকা লোহার খনিজগুলি জারিত হয় বা মরিচা পড়ে, যার ফলে পৃষ্ঠটি লাল দেখায়।
- মঙ্গল গ্রহ সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করার সময়, প্রতি ২৪.৬ ঘন্টা অন্তর একটি আবর্তন সম্পন্ন করে
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং আকার পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: NASA.

৩৪৪.
সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র কোনটি?
  1. আলফা সেন্টারাই B
  2. আলফা সেন্টারাই A
  3. প্রক্সিমা সেন্টারাই B
  4. প্রক্সিমা সেন্টারাই
সঠিক উত্তর:
প্রক্সিমা সেন্টারাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রক্সিমা সেন্টারাই
ব্যাখ্যা

প্রক্সিমা সেন্টারাই:
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র
- প্রক্সিমা সেন্টারাই সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে আলফা সেন্টারাই সিস্টেমে অবস্থিত।
- এটি একটি লাল বামন, যা নক্ষত্রের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।
- এটি সূর্যের চেয়ে সাত গুণ ছোট।
- এর তাপমাত্রা প্রায় ৩,১০০ কেলভিন, যা সূর্যের তাপমাত্রার অর্ধেকের একটু বেশি।
- আকারে এটি বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে মাত্র ৫০% বড়।
- লাল বামন নক্ষত্র তাদের হাইড্রোজেন জ্বালানি খুব কার্যকরভাবে ব্যবহার করে, ফলে এদের আয়ুষ্কাল অত্যন্ত দীর্ঘ।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রক্সিমা সেন্টারাই চার ট্রিলিয়নেরও বেশি বছর একই অবস্থায় থাকবে (তুলনামূলকভাবে, মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর)।
- আলফা সেন্টারাই সিস্টেমটি সেন্টরাস নক্ষত্রপুঞ্জে দেখা যায়।
- তবে প্রক্সিমা সেন্টারাই সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না।
- ১৯১৫ সালে এটি স্কটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী রবার্ট ইনেস আবিষ্কার করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৩৪৫.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি? 
  1. বোসন কণা
  2. কৃষ্ণবিবর
  3. কোয়াসার
  4. নিউট্রন স্টার
সঠিক উত্তর:
কোয়াসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়াসার
ব্যাখ্যা

কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। 
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বণ্ঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি।

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৬.
বিগ ব্যাংগ তত্ত্বের জনক কে? 
  1. জর্জ লেমাইটার 
  2. জর্জ গ্যামো 
  3. এডউইন হাবল 
  4. স্টিফেন হকিং 
সঠিক উত্তর:
জর্জ লেমাইটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ লেমাইটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হওয়া যাবে, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে। 
- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদুর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 

- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ আমাদের পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়, অর্থাৎ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে, একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। 
- বিগ ব্যাংগ এর ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন বছরের মধ্যে মহাকর্ষের প্রভাবে হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের পরমাণু সমূহ মহাবিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আলাদাভাবে একত্রিত হতে শুর করে এবং নিজস্ব মহাকর্ষের প্রভাবে জমাট বাঁধতে থাকে এবং সংকোচিত হয়। 
- ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে নিউক্লিয় বিক্রিয়া শুর হয় এবং কালক্রমে নক্ষত্র ও গ্যালাক্সিগুলোর সৃষ্টি হয়। 
- স্টিফেন হকিং তত্ত্বটির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৭.
মঙ্গল গ্রহের কয়টি উপগ্রহ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৬২টি
  4. ৮৮টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars): 
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৪৮.
আলোকবর্ষ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ওজন
  2. সময়
  3. দূরত্ব
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব
ব্যাখ্যা
আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদুর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

তথ্যসূত্র - NASA ওয়েবসাইট।
৩৪৯.
চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম কী?
  1. গ্যানিমেড
  2. ফোবোস
  3. ক্লেভিউস
  4. ডিমোস
সঠিক উত্তর:
ক্লেভিউস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লেভিউস
ব্যাখ্যা
চাঁদ:
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আবর্তন করে।
- এর ব্যাস ৩.৪৭৫ কিলোমিটার।
- ১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
- চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই। চাঁদে বহু সমতলভূমি, পাহাড় পর্বত ও বৃহদাকার গর্তের উপরিভাগ দেখা যায়।
- চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম ক্লেভিউস।
- চাঁদের আকাশ দিনে-রাতে একই রকম কালো।
- চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। সূর্যের আলোতে চাদ আলোকিত হয়।
- চাঁদের যে পৃষ্ঠে সূর্যালোক পড়ে সে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১০০" সেলসিয়াস এর ওপরে এবং অন্ধকার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫০ সেলসিয়াসের নীচে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫০.
হিগস বোসনের স্পিন কত?
  1. ০ 
  2. ১/২ 
  3. ২ 
  4. ১ 
সঠিক উত্তর:
০ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০ 
ব্যাখ্যা

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাকে ঈশ্বর কণা (God's Particle) বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫১.
সূর্যপৃষ্ঠের উত্তাপ কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ৫৬০০° সেলসিয়াস
  2. ৬০০০° সেলসিয়াস
  3. ৬৬০০° সেলসিয়াস
  4. ৭৪০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৬০০০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এর পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস।
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড।
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে।
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫২.
বুধকে প্রথম ছবি পাঠানোর মহাশূন্যযান কোনটি?
  1. মেরিনার-১০
  2. ভয়েজার-১
  3. মেরিনার-১
  4. ভয়েজার-২
সঠিক উত্তর:
মেরিনার-১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরিনার-১০
ব্যাখ্যা

- নাসার (NASA) পাঠানো মেরিনার-১০ (Mariner-10) মহাকাশযানটিই প্রথম বুধ গ্রহের কাছ থেকে ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল। ১৯৭৪ সালের ২৯শে মার্চ এটি বুধের প্রথম ঘনিষ্ঠ ছবি তোলে। 

বুধ (Mercury): 

- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ। 
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার এবং এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
সুতরাং, বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না।
- এখানে নেই মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি, সুতরাং প্রাণির অস্তিত্ব নেই।
- ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূন্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো।
- ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা এবং এবড়ো-থেবড়ো। এখানে অসংখ্য পাহাড় ও সমতলভূমি আছে।
- বুধের কোনো উপগ্রহ নেই। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি এবং নাসা ওয়েবসাইট।

৩৫৩.
ব্ল্যাক হোলের অভ্যন্তরীণ ভৌত অবস্থা কেমন?
  1. আয়তন ও ঘনত্ব উভয়ই অসীম
  2. আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
  3. আয়তন প্রায় অসীমের কাছাকাছি, ঘনত্ব প্রায় শূন্য
  4. আয়তন অনেক বড়, ঘনত্ব খুবই কম
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
ব্যাখ্যা

• ব্ল্যাক হোলের অভ্যন্তরকে সিঙ্গুলারিটি বলা হয়, যেখানে পদার্থ একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র আয়তনে সংকুচিত হয়ে যায় এবং ঘনত্ব অসীমের দিকে ধাবিত হয়। এখানে প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম কাজ করা বন্ধ করে দেয়, কারণ মহাকর্ষ এতই শক্তিশালী যে আলোও পালাতে পারে না।
- তাই বৈজ্ঞানিকভাবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর হলো- খ) আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম।

কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন। 
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। এই সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না, নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)। 
- বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৪.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে? 
  1. গ্যালিলিও
  2. এডুইন হাবল 
  3. স্টিফেন হকিং
  4. জি. ল্যামেটার 
সঠিক উত্তর:
জি. ল্যামেটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. ল্যামেটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’.

উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৩৫৫.
পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ প্রায় কত? 
  1. ৬,০০০ কি.মি. 
  2. ৭,৯০০ কি.মি. 
  3. ৬,৪০০ কি.মি. 
  4. ১২,৭১৪ কি.মি.
সঠিক উত্তর:
৬,৪০০ কি.মি. 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬,৪০০ কি.মি. 
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর ব্যাস (Diameter) ও ব্যাসার্ধ (Radius): 
- পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুকে ছেদ করে একটি রেখা যদি পৃথিবীর যে কোনো দুইটি প্রান্তকে স্পর্শ করে, তবে ঐ রেখাকে পৃথিবীর ব্যাস বলা হয়। 
- ইরাটোসথেনিসের গণনা অনুযায়ী- মেরুদেশীয় এলাকায় পৃথিবীর ব্যাস ১২,৭১৪ কি.মি. বা ৭,৯০০ মাইল এবং নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস ১২,৭৫৭ কি.মি. বা ৭,৯২৭ মাইল। 
- অপরদিকে, ব্যাসার্ধ (Radius) হলো, এমন একটি রেখা বা লাইন যেটি পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দু থেকে যে কোনো একটি প্রান্ত স্পর্শ করে। 
- পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ হলো প্রায় ৬,৪০০ কি.মি.। 


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৬.
ব্ল্যাক হোলে আলো কেন প্রবেশ বা বের হতে পারে না?
  1. অতি উচ্চ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে
  2. মহাকাশে আলো চলাচলের উপযুক্ত মাধ্যম না থাকার কারণে
  3. ভিতরের চাপ খুব কম হওয়ায় 
  4. তাপমাত্রা বেশি থাকায়
সঠিক উত্তর:
অতি উচ্চ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতি উচ্চ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে
ব্যাখ্যা
◉ ব্ল্যাক হোল হলো মহাকাশের এমন এক অঞ্চল যেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এত বেশি যে আলো পর্যন্ত এর আকর্ষণ থেকে বের হতে পারে না।
- ব্ল্যাক হোলের চারপাশে একটি ইভেন্ট হরাইজন (Event Horizon) থাকে, যার ভেতর প্রবেশ করলে কিছুই আর বাইরে আসতে পারে না। মাধ্যমের অভাব, তাপমাত্রা বা চাপের পরিবর্তন এর মূল কারণ নয়—এখানে একমাত্র প্রধান কারণ অত্যধিক মাধ্যাকর্ষণ।

কৃষ্ণবিবর (Black Hole): 
- ব্ল্যাক হোল হলো মহাবিশ্বের এমন একটি মহাজাগতিক বস্তু যার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এত প্রবল যে সেখান থেকে কিছুই, এমনকি আলোও, পালাতে পারে না।
- একটি বিশাল ভরবিশিষ্ট নক্ষত্র জীবন শেষে কেন্দ্রের পারমাণবিক জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।
- এর কেন্দ্র (core) মাধ্যাকর্ষণজনিত ধসে ভেতরের দিকে সংকুচিত হয়।
- বাইরের স্তরগুলো মহাকাশে ছিটকে যায় এবং কেন্দ্র সংকুচিত হয়ে শূন্য আয়তন ও অসীম ঘনত্বের বিন্দুতে (singularity) পরিণত হয়।
- ব্ল্যাক হোলের গঠন ও বৈশিষ্ট্য আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩৫৭.
নিচের কোনটি দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে গঠিত হয়েছে?
  1. বোসন
  2. লেপ্টন
  3. প্রোটন
  4. নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
ব্যাখ্যা
ফার্মিওন (Fermion): 
- মহাবিশ্বের সকল পদার্থ এই কণিকা দ্বারা গঠিত। 
- এদের স্পিন 1/2 । 
- এরা পাউলির (Pauli) বর্জন নীতি মেনে চলে অর্থাৎ কখনই একটি পরমাণুতে দুটি ভিন্ন কণার সকল বৈশিষ্ট্য এক হতে পারে না। 
- অদ্ভুত পক্ষে স্পিনের দিক থেকে হলেও বিপরীত হবে। 
- এদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিকণা আছে। 
- ফার্মিওন কণা আবার দু'রকমের (১) কোয়ার্ক ও (২) লেপ্টন। 

কোয়ার্ক (Quark): 
- কোয়ার্ক পদার্থ গঠনের অন্যতম মৌলিক কণিকা। 
- সকল বস্তু প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত, আর এই প্রোটন ও নিউট্রন গঠিত হলো কোয়ার্ক দিয়ে। 
- দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে প্রোটন এবং দুটি ডাউন এবং একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে নিউট্রন গঠিত। 
- কোয়ার্ক মূলত ৬ টি। 
যথা- আপ (u) ও ডাউন (d), চার্ম (c) ও স্ট্রেঞ্জ (s) এবং টপ (t) ও বটম (b)। 
- এদের প্রত্যেকের আবার তিনটি করে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণ (Colour) রয়েছে। এই বর্ণ বাস্তবের রং নির্দেশ করে না বরং কণাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন কোয়ান্টাম অবস্থা নির্দেশ করে। 
- কোয়ার্কগুলোর চার্জের পরিমাণ ভগ্নাংশ; যেমন: 2/3, -1/3 । তবে তারা সব সময় এমনভাবে থাকে যেন নীট চার্জ পূর্ণসংখ্যা হয়। 
- কোয়ার্ক সব সময় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে। 
- কোয়ার্কের এক একটি দলকে বলে হ্যাড্রন (Hadron)। 
- তিনটি কোয়ার্ক নিয়ে যে হ্যাড্রন গঠিত হয় তাদেরকে বলা হয় বেরিয়ন (Baryon)। 
যেমন- প্রোটন, নিউট্রন বেরিয়ন কণা। 
- একটি কোয়ার্ক ও তার এন্টিকোয়ার্ক নিয়ে যে হ্যাড্রন হয় তাদের বলা হয় মেসন (Meson)। 
যেমন- π মেসন, k মেসন ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৮.
পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্গত তার নাম কী?
  1. ছায়াগঙ্গা
  2. ম্যাজিলানিক ক্লাউডস
  3. মিল্কিওয়ে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে
ব্যাখ্যা

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ও সৌরজগত:
- গ্যালাক্সির অংশ বিশেষ ছায়াপথ নামে পরিচিত।
- সুদুর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বপ্নালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয় ।
- আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ে (Milkyway) গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ, যা বাংলায় ছায়াপথ নামে অভিহিত।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৯.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?
  1. ৮ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড
  2. ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  3. ৮ মিনিট ৩০ সেকেন্ড
  4. ৮ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। 
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে, খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬০.
আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম কী?
  1. অ্যান্ড্রোমিডা
  2. মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
  3. আলফা সেন্টোরি
  4. সৌরজগৎ
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
ব্যাখ্যা

• আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
সঠিক উত্তর: খ) মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
 
মহাবিশ্ব (Universe): 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- মহাবিশ্ব যে কত বড় তা কেউ জানে না এবং কেউ জানে না মহাবিশ্বের আকার বা আকৃতি কেমন। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। 
- গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি যেভাবে হয়েছে: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩৬১.
কৃষ্ণবিবর সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. এখানে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ প্রবল
  2. আবিষ্কার করেন জন হুইলার
  3. এর ভর তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি
  4. এটি সম্পূর্ণ কার্বন দিয়ে তৈরি
সঠিক উত্তর:
এটি সম্পূর্ণ কার্বন দিয়ে তৈরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি সম্পূর্ণ কার্বন দিয়ে তৈরি
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণবিবর (Black hole):
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে।
- নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)।
- কৃষ্ণবিবিরের ঘনত্ব থাকে অত্যন্ত বেশি।এবং পৃষ্ঠে g এর মান অত্যন্ত বেশি থাকে।
-  g-এর মান এত বেশি হয় যে, এমনটি ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না।
- ১৯৬৯ সালে  মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৩৬২.
নিম্নের কোনটি শনি গ্রহের উপগ্রহ?
  1. টাইটান
  2. টাইটানিয়া
  3. মিরান্ডা
  4. ওবেরন
সঠিক উত্তর:
টাইটান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইটান
ব্যাখ্যা
শনি গ্রহ:
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- শনি গ্রহ উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর ভূ-ত্বক বরফে ঢাকা।
- সূর্যের চারদিকে শনির একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৪ বছর।
- গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড়।
- এর উপগ্রহ রয়েছে ১৪৬টি।

উল্লেখ্য,
- টাইটান শনি গ্রহের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ।
- ১৬৫৫ সালে ডাচ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস এটি আবিস্কার করেন।
- টাইটান একমাত্র উপগ্রহ, যেটা অনেকটা পৃথিবীর মতো।
- টাইটানের বায়ুমণ্ডল অনেক ঘন। বায়ুমণ্ডলের ৯৭% হলো নাইট্রোজেন।
- অর্থাৎ পৃথিবীর পর টাইটানের বায়ুমণ্ডলই কেবল এত বেশি নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত।

অন্যদিকে,
⇒ ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের প্রধান পাঁচটি উপগ্রহ: মিরান্ডা, এরিয়েল, আমব্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) NASA ওয়েবসাইট।
৩৬৩.
মহাকাশযাত্রার প্রথম প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি? 
  1. ভস্টক-১
  2. স্পুটনিক-১
  3. এক্সপ্লোরার-১
  4. ইনটেলসেট-১
সঠিক উত্তর:
স্পুটনিক-১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পুটনিক-১
ব্যাখ্যা

কৃত্রিম উপগ্রহ ও এর ইতিহাস: 
- মানুষের পাঠানো যেসব বস্তু বা মহাকাশযান পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে তাদের বলা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ। 
- রকেটের সাহায্যে এদের উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলের প্রভাবে চাঁদের মতো এরা এদের নিজস্ব কক্ষপথে ঘুরে। 
- কৃত্রিম উপগ্রহ চাঁদের তুলনায় অনেক ছোট এবং চাঁদের তুলনায় অনেক নিচু দিয়ে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে। 
- নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরার জন্য এদের প্রয়োজনীয় দ্রুতি থাকতে হয়। পৃথিবী থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের উচ্চতা যত বেশি হবে তার দ্রুতি হবে তত কম। ফলে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে এরা বেশি সময় নেবে। 
- পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় এর নিজ অক্ষের চারদিকে একবার ঘুরে। সুতরাং, কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ যদি ২৪ ঘণ্টায় পৃথিবীর চারদিকে একবার ঘুরে আসে, তাহলে একে পৃথিবী থেকে স্থির বলে মনে হবে। 

- মহাকাশযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। তারা স্পুটনিক-১ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে, স্পুটনিক শব্দের অর্থ হলো ভ্রমণসঙ্গী বা সহযাত্রী। একই বছর ২রা নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামক আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ তারা মহাকাশে পাঠান। 
- প্রথম মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহের নাম এক্সপ্লোরার-১, এই উপগ্রহ ১৯৫৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি মহাকাশে পাঠানো হয়। 
- ভস্টক-১ নামক সোভিয়েত কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষ নিয়ে প্রথম পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। যে মানুষটি প্রথম মহাকাশে গিয়েছিলেন, তিনি হলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন। তিনি ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল ভস্টক-১ কৃত্রিম উপগ্রহে চড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন। 
- ভস্টক-৬ নামক কৃত্রিম উপগ্রহে (মহাকাশযান) চড়ে প্রথম সোভিয়েত নারী মহাকাশচারি ভেলেনটিনা তেরেসকোভা মহাকাশে ঘুরে আসেন ১৯৬৩ সালে। 
- ইনটেলসেট-১ কৃত্রিম উপগ্রহকে পাঠানো হয় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য যোগাযোগ উপগ্রহ হিসেবে। 
- রিমোটসেনসিং বা দূর অনুধাবনের জন্য পাঠানো প্রথম উপগ্রহ হলো ল্যান্ডসেট-১, একে পাঠানো হয় ১৯৭২ সালে। 
- আন্তর্জাতিক যোগসূত্র স্থাপনের জন্য অ্যাপোলো-সয়োজ টেস্ট প্রজেক্ট নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে প্রথম পাঠানো হয় ১৯৭৫ সালে। 
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এ পর্যন্ত হাজার হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। কয়েক হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং হাজার হাজার অব্যবহৃত কৃত্রিম উপগ্রহ বা তাদের অংশবিশেষ মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৩৬৪.
নিচের তত্ত্বগুলো বিবেচনা করুন
i. আলো গ্রাভিটি (Gravity) দ্বারা প্রভাবিত হয়।
ii. মহাবিশ্ব (Universe) ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
উপরের কোনটি আইনস্টানের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের ভবিষ্যতবাণী?
  1. শুধু i
  2. i ও ii উভয়
  3. শুধু ii
  4. i ও ii কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
i ও ii উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i ও ii উভয়
ব্যাখ্যা
- উভয়ই আইনস্টানের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে, 
ক) আলো অভিকর্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়। অভিকর্ষ আলোর পথকে বক্র করে দেয়। 
খ) মহাবিশ্ব (Universe) ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং গতি ত্বরাবর্তিত হচ্ছে। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণকে আইনস্টাইন কসমোলজিক্যাল ঘনত্ব বা কসমোলজিক্যাল স্থিতিশীল দ্বারা ব্যাখ্যা করেছিলেন। 
 
আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- আপেক্ষিক তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব। এই তত্ত্বের প্রবর্তক আলবার্ট আইনস্টাইন।
- আপেক্ষিক তত্ত্বের মতে স্থান, কাল ও জড় বা ভর পরম কিছু নয়, আপেক্ষিক।
- বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এই তত্ত্বের সূচনা করেন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (special theory of relativity) প্রবর্তনের মাধ্যমে।
- ভরের আপেক্ষিকতা ও ভরকে শক্তিতে রূপান্তর, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়।
 
আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
- দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।
 
অতএব, আলো মাধ্যাকর্ষণ প্রভাব এবং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ উভয়ই আইনস্টানের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)।
৩৬৫.
ভোর রাতে পূর্ব আকাশে 'শুকতারা' নামে পরিচিত?
  1. শনি
  2. মঙ্গল
  3. নেপচুন
  4. শুক্র
সঠিক উত্তর:
শুক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুক্র
ব্যাখ্যা
শুক্র (Venus):
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৬.
কোয়াসারের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কোনটি মনে করা হয়? 
  1. সুপারনোভা বিস্ফোরণ 
  2. ব্ল্যাক হোল দ্বারা নক্ষত্রের গ্রাস 
  3. কোয়াসারের নিউক্লিয়ার ফিউশন 
  4. সৌরজগতের গ্রহসমূহের প্রতিফলন 
সঠিক উত্তর:
ব্ল্যাক হোল দ্বারা নক্ষত্রের গ্রাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্ল্যাক হোল দ্বারা নক্ষত্রের গ্রাস 
ব্যাখ্যা

কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়াসার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়াসারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি, অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি এই সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন, কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
অর্থাৎ, কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু।
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো- 
• কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, 
• কোয়াসারের রং নীলাভ, 
• কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস এবং 
• কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৭.
শান্ত সাগর কোথায় অবস্থিত?
  1. শনি গ্রহে
  2. বুধ গ্রহে
  3. চাঁদে
  4. পৃথিবীতে
সঠিক উত্তর:
চাঁদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদে
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ:

• সূর্য বিশ্বজগতের কোটি কোটি নক্ষত্রের মধ্যে একটি উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।
• সূর্য ও এর চতুর্দিকে ঘূর্ণনরত জ্যোতিষ্কমন্ডলীকে একত্রে সৌরজগৎ (Solar System) বলে।
• সূর্য পৃথিবী অপেক্ষা ১৩ লক্ষ গুন বড় এবং চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুন বড়।
• সৌরজগতে মোট ৮টি গ্রহ। যথা: বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন।

অপরদিকে, 
• চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
• শান্ত সাগর চাঁদে অবস্থিত।
• Sea of Tranquility এর অপর নাম Mare Tranquillitatis.
• চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণকারী প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১
• অ্যাপোলো-১১ মহাকাশযান ২০ জুলাই, ১৯৬৯ সালে সর্বপ্রথম চাঁদে অবতরণ করে।
• মঙ্গলগ্রহে প্রেরিত নভযান নাসার প্রথম রোভার স্কাউট ‘পাথপাইন্ডার’ ১৯৯৭ সালে অবতরণ করে।
 

ছবির উৎস: কালের কণ্ঠ

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা এবং নাসা ওয়েবসাইট। 
৩৬৮.
________ মূলত কৃষ্ণগহবরের আবিষ্কারক।
  1. স্টিফেন হকিং
  2. জন হুইলার
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. আলবার্ট আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
জন হুইলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন হুইলার
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণগহব্বর (Black Hole):
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম। ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
- একটি মিল্কীওয়েতে ১০০ মিলিয়নের বেশি ব্ল্যাকহোল থাকতে পারে।

- মহাকাশে কৃষ্ণগহব্বর থাকার কথা প্রথম ধারণা করেন - আলবার্ট আইনস্টাইন। ১৯১৬ সালে তিনি তাঁর general theory of relativity তে এই ধারণা তুলে ধরেন।
- আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ১৯৬৭ সালে "black hole" শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনিই মূলত কৃষ্ণগহবরের আবিষ্কারক।
- ২০১৯ সালে প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয় Event Horizon Telescope (EHT).

উৎস: নাসা ও ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৩৬৯.
'পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে' ধারণাটি প্রথম প্রমাণ করেন কে? 
  1. নিকোলাস কোপার্নিকাস
  2. বিজ্ঞানী গ্যালিলিও
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. জোহান কেপলার
সঠিক উত্তর:
বিজ্ঞানী গ্যালিলিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজ্ঞানী গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

- বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক অ্যারিস্টটল মনে করতেন পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘােরে। 
- বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী টলেমী জোরালােভাবে বলেন যে পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে। 
- কোপার্নিকাস নামে একজন জ্যোর্তিবিদ সম্পূর্ণ নতুন মতবাদ ব্যাক্ত করেন, তিনি পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের পরিবর্তে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন। 
- তার সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের মূল কথা ছিল 'পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘােরে'। 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। 
- নিকোলাস কোপার্নিকাসই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী গ্যলিলিও প্রথম কোপার্নিকাসের মতবাদের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭০.
কোয়াসার কী? 
  1. একটি গ্রহীয় নীহারিকা 
  2. একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের অবশেষ 
  3. মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু 
  4. সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ 
সঠিক উত্তর:
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু 
ব্যাখ্যা

কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৭১.
পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব কত?
  1. ৩,২০,০০০ কিমি
  2. ৪,২০,০০০ কিমি
  3. ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার
  4. ১,৫০,০০০ কিমি
সঠিক উত্তর:
৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
• চাঁদ:
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আবর্তন করে।
- চাঁদের ব্যাস ৩.৪৭৫ কিলোমিটার। ১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
- চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই। চাঁদে বহু সমতলভূমি, পাহাড় পর্বত ও বৃহদাকার গর্তের উপরিভাগ দেখা যায়।
- চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম আইটকেন।
- চাঁদের আকাশ দিনে-রাতে একই রকম কালো।
- চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। সূর্যের আলোতে চাদ আলোকিত হয়।
- চাঁদের যে পৃষ্ঠে সূর্যালোক পড়ে সে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১০০" সেলসিয়াস এর ওপরে এবং অন্ধকার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫০ সেলসিয়াসের নীচে।

উৎস:
১. Baylor University Media Release. 
২. বাংলা ট্রিবিউন। [Link]
৩৭২.
পৃথিবীর পরিধি কত?
  1. ৪৫ ডিগ্রি
  2. ৯০ ডিগ্রি
  3. ১৮০ ডিগ্রি
  4. ৩৬০ ডিগ্রি
সঠিক উত্তর:
৩৬০ ডিগ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৬০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
পৃথিবী:
- পৃথিবীর পরিধি ৩৬০ ডিগ্রি।
- পৃথিবীকে বলা হয় আদর্শ গ্রহ।
- একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দুরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।
- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৩.
মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ কয়টি?
  1. ক) ১ টি
  2. খ) ২ টি
  3. গ) ৩ টি
  4. ঘ) ৫ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ টি
ব্যাখ্যা

মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি ।
এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ১৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
মঙ্গলে ফোবস ও ডিমােস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।
উৎসঃ ভূগােল, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭৪.
নিচের কোন নামে নীহারিকা (Nebula) পরিচিত?
  1. Pillars of Solar System
  2. Pillars of Destruction
  3. Pillars of Creation
  4. Pillars of Black Hole
সঠিক উত্তর:
Pillars of Creation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pillars of Creation
ব্যাখ্যা
নীহারিকা (Nebula):
- সৃষ্টি জগতের সকল উপাদানকে একত্রে মহাবিশ্ব বলা হয়।
- মহাবিশ্বের মহাকাশে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, নীহারিকা, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ও উল্কা ইত্যাদিকে জ্যোতিষ্ক বলে।
- নীহারিকা বা নেবুলা (Nebula) হলো ধুলা, হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও আয়নিত গ্যাসের আন্তর্মহাকাশীয় মেঘ।
- এগুলো আসলে হালকা গ্যাসের অতিকায় পিণ্ড।
- একটি নীহারিকার মাঝে কোটি কোটি নক্ষত্র থাকতে পারে।
- নীহারিকার মেঘস্তম্ভকে নক্ষত্র সৃষ্টির আধার হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- তাই নাসার বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন "Pillars of Creation"। 
- আবার তারার সুপারনোভা বিস্ফোরণে নীহারিকা তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৫.
পৃথিবীর কোথায় আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি?
  1. মেরুরেখা
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. নিরক্ষরেখা
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে দিনে একবার নির্দিষ্ট গতিতে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে। পৃথিবীর এই আবর্তন গতিই দৈনিক গতি বা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত। নিজ অক্ষের চারদিকে আবর্তন করতে পৃথিবীর সময় লাগে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ এক দিন। এটিকে সৌর দিন বলে।

⇒ পৃথিবীর আহ্নিক গতি একেক জায়গায় একেক রকম হয়।
- পৃথিবীপৃষ্ঠ পুরোপুরি গোল না হওয়ায় এর পৃষ্ঠ সর্বত্র সমান নয়।
- সে কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠের সব স্থানের আবর্তন বেগও সমান নয়।
- নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি।
- এ জন্য নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আবর্তনের বেগও সবচেয়ে বেশি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৬.
পৃথিবী থেকে নিকটতম নক্ষত্র Proxima Centauri এর দূরত্ব কত আলোকবর্ষ ?
  1. ৪.২
  2. ২.৪
  3. ৫.৬
  4. ৩.১
  5. ১.৯
সঠিক উত্তর:
৪.২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪.২
ব্যাখ্যা
প্রক্সিমা সেন্টোরাই:
- সূর্যের নিকটতম বা পৃথিবী থেকে নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই।

⇒ ১৯১৫ সালে স্কটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী রবার্ট আইনেস নক্ষত্রটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- তিনি নক্ষত্রটি 'প্রক্সিমা সেন্টোরাই' নামকরণের প্রস্তাব দেন (মূলত প্রক্সিমা সেন্টারাস)।
- পৃথিবী থেকে এটির দূরত্ব ৪.২ কোটি আলোকবর্ষ।

উল্লেখ্য,
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো রয়েছে তাদের নক্ষত্র বলা হয়।
- সূর্য এরূপ একটি নক্ষত্র।
- অর্থাৎ সূর্য ব্যতীত পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) Britannica.
৩৭৭.
সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় -
  1. প্রায় ১৮০ মিলিয়ন বছর
  2. প্রায় ২২০ মিলিয়ন বছর
  3. প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর
  4. প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
গ্যালাক্সি:
- সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে আটটি গ্রহ তাদের নিজস্ব কক্ষপথে অবিরত আবর্তন করে।
- পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালক্সি সবকিছু নিয়েই গঠিত হয় মহাবিশ্ব।
- গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের অংশ।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।

⇒ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি একটি স্পাইরাল বা সর্পিল গ্যালাক্সি।
- আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- অর্থাৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৫ হাজার বছর। 
- গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি অত্যন্ত উজ্জ্বল।
- এর বেশির ভাগ অংশই ঢাকা পড়ে আছে হাইড্রোজেন গ্যাসে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) NASA (.gov).
৩৭৮.
কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশে যে অঞ্চলটি আলোকে আটকায়, তাকে কী বলা হয়?
  1. Spacetime
  2. Gravitational Wave
  3. Event Horizon
  4. Singularity
সঠিক উত্তর:
Event Horizon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Event Horizon
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশে যে অঞ্চলটি আলোসহ সবকিছুকে আটকায়, তাকে Event Horizon বলা হয়। এটি এমন একটি সীমানা, যার বাইরে কিছুই, এমনকি আলোও, কৃষ্ণ গহ্বরের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি থেকে পালাতে পারে না। Event Horizon হলো সেই বিন্দু, যেখানে স্থান ও সময়ের গতি এতটাই বিকৃত হয়ে যায় যে, কোনো বস্তুর জন্য ফিরে আসা অসম্ভব হয়। এটি কৃষ্ণ গহ্বরকে দৃশ্যমানভাবে বিচ্ছিন্ন করে তোলে এবং আমাদের পক্ষে তার অভ্যন্তরের কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয় না।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: গ) Event Horizon.

• কৃষ্ণ গহ্বর:

- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
- কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশে যে অঞ্চলটি আলোকে আটকায়, তাকে বলা হয় ইভেন্ট হরিজন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩৭৯.
সূর্যগ্রহণ কোন সময় ঘটে?
  1. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর উল্টো পাশে অবস্থান করলে
  2. চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় হলে
  3. চাঁদ পূর্ণিমার অবস্থায় থাকলে 
  4. চাঁদ নতুন চাঁদের অবস্থায় থাকলে কিন্তু পৃথিবী আলোর উৎসে না থাকলে
সঠিক উত্তর:
চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় হলে
ব্যাখ্যা

- সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী যখন একই সরলরেখায় আসে এবং চাঁদ মাঝখানে থাকে, তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর কিছু অংশে পড়ে এবং সেই অংশ থেকে সূর্যকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে দেখা যায় না 

অমাবস্যা: 

- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে তখন চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

পূর্ণিমা: 
- যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে তখনই পূর্ণিমা হয়। 

চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া। 

সূর্যগ্রহণ: 
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ সরলরেখায় অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে।

উৎস: বিবিসি বাংলা, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ [লিঙ্ক]।

৩৮০.
আলোর গতিতে কোন বস্তু পৃথিবী থেকে চাঁদে যেতে কত সময় লাগবে?
  1. প্রায় ২.৩ মিনিট
  2. প্রায় ১.৩ সেকেন্ড
  3. প্রায় ২৩ সেকেন্ড
  4. প্রায় ২.৩ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১.৩ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১.৩ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব  ৩,৮৪,৪০০ কিমি কিলোমিটার।
- আলোর গতি - ৩০০০০০ Kms-1.
- সুতরাং আলোর গতিতে কোন বস্তু পৃথিবী থেকে চাঁদে যেতে সময় লাগবে:
- আমরা জানি, সময় = দূরত্ব ÷ বেগ
∴ ৩,৮৪,৪০০ ÷ ৩০০০০০ = ১.২৮ সেকেন্ড।
- আলোর গতিতে কোন বস্তু পৃথিবী থেকে চাঁদে যেতে ১.২৮ সেকেন্ড বা প্রায় ১.৩ সেকেন্ড সময় লাগবে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি ও নাসা ওয়েবসাইট।
৩৮১.
নিকোলাস কোপার্নিকাস ছিলেন মূলত একজন -
  1. গণিতবিদ
  2. দার্শনিক
  3. রসায়নবিদ
  4. জ্যোর্তিবিজ্ঞানী
সঠিক উত্তর:
জ্যোর্তিবিজ্ঞানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যোর্তিবিজ্ঞানী
ব্যাখ্যা
নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
- তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৪৭৩ সালে পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে।
- তিনি ২৪ মে, ১৫৪৩ সালে ইতালির রোমে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- পরবর্তীতে জোহান কেপলার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৩৮২.
টলেমি ছিলেন-
  1. চিকিৎসক
  2. দার্শনিক
  3. ঐতিহাসিক
  4. জ্যোতির্বিদ
সঠিক উত্তর:
জ্যোতির্বিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যোতির্বিদ
ব্যাখ্যা
টলেমি:
- ক্লডিয়াস টলেমি ছিলেন একজন গ্রিকো-মিশরীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং গণিতবিদ।
- তিনি রোমান শাসিত মিশরের ইজিপ্টাস প্রদেশে বসবাস করতেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ার কাছাকাছি একটি মানমন্দিরে কাজ করতেন।

তাঁর অবদান:
১. টলেমি মহাবিশ্বের একটি মডেল তৈরি করেন, যেখানে পৃথিবীকে কেন্দ্রস্থলে রেখে ধারাবাহিকভাবে চাঁদ, বুধ, শুক্র, সূর্য, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিকে অবস্থান করানো হয়েছে।
২. তিনি চতুর্ভুজ সম্পর্কিত একটি উপপাদ্য প্রণয়ন করেন, যা জ্যামিতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. এই উপপাদ্যটি ত্রিকোণমিতিক ছক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বিটানিকা।
৩৮৩.
কসমিক রে মূলত কী দ্বারা গঠিত?
  1. আলো বহনকারী ফোটন
  2. উচ্চ শক্তিসম্পন্ন চার্জযুক্ত কণা
  3. শব্দ তরঙ্গ
  4. চৌম্বকীয় তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
উচ্চ শক্তিসম্পন্ন চার্জযুক্ত কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ শক্তিসম্পন্ন চার্জযুক্ত কণা
ব্যাখ্যা
◉  কসমিক রে হল মহাকাশ থেকে আগত উচ্চ গতির কণা।
- এগুলোর বেশিরভাগই প্রোটন (হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস), কিছু আলফা কণা (হিলিয়াম নিউক্লিয়াস) এবং সামান্য ইলেকট্রন ও ভারী নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত। এগুলো আলোর কণা নয়, কারণ আলো ফোটন দিয়ে গঠিত এবং বৈদ্যুতিক চার্জ বহন করে না।

মহাজাগতিক রশ্মি: 
- মহাজাগতিক রশ্মি হল উচ্চ-গতির কণা, যা পারমাণবিক নিউক্লিয়াস বা ইলেকট্রন হতে পারে।
- এগুলো মহাকাশে ভ্রমণ করে এবং প্রধানত গ্যালাকটিক মহাজাগতিক রশ্মি (GCRs) নামে পরিচিত।
- বেশিরভাগ GCR আসে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে। কিছু আসে সূর্য থেকে (সৌর মহাজাগতিক রশ্মি)। সর্বোচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণাগুলি সম্ভবত মিল্কিওয়ের বাইরের উৎস থেকে আসে।
- প্রাথমিক মহাজাগতিক রশ্মি সরাসরি পৃথিবীর পৃষ্ঠে দেখা যায় না। প্রাথমিক কণা পর্যবেক্ষণ করতে উচ্চ-উচ্চতার বেলুন বা মহাকাশযান ব্যবহার করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩৮৪.
নিচের কোনটিকে গ্রহরাজ বলা হয়?
  1. সূর্য
  2. পৃথিবী
  3. বৃহস্পতি
  4. শনি
সঠিক উত্তর:
বৃহস্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি (Jupiter):
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ।
- একে গ্রহরাজ বলে।
- এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার।
- আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৭৯টি। এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৮৫.
২১ মার্চ উত্তর গােলার্ধে কোন ঋতু চলে?
  1. গ্রীষ্মকাল
  2. শরৎকাল
  3. শীতকাল
  4. বসন্তকাল
সঠিক উত্তর:
বসন্তকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকাল
ব্যাখ্যা
মহাবিষুব:
- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য ঠিক পূর্বদিকে ওঠে এবং ঠিক পশ্চিমদিকে অস্ত যায়।
- বছরে মাত্র এই দুটি দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১ শে মার্চ দিনটিকে উত্তর গোলার্ধে মহাবিষুব বলে।
- ২৩ শে সেপ্টেম্বর দিনটিকে বলে জলবিষুব।

⇒ ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল:
- পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত এমন স্থানে ফিরে আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয়।
- দিনের বেলায় সূর্যকিরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ুস্তর গরম হয় এবং রাত্রিবেলায় বিকিরিত হয়ে ঠান্ডা হয়।
- এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল।
- ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয় এবং ঐ দিনটিকে বাসন্ত বিষুব বা মহাবিষুব বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮৬.
সৌরজগতের গ্রহ সংখ্যা কতটি?
  1. সাতটি
  2. আটটি
  3. নয়টি
  4. এগারোটি
সঠিক উত্তর:
আটটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটটি
ব্যাখ্যা
• গ্রহ (Planet):
- মহাকাশে কতকগুলো জ্যোতিষ্ক সূর্যকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পথে পরিক্রমণ করে।
- এদের নিজেদের কোনো আলো বা তাপ নেই।
- মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এরা সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
- এরা সূর্য থেকে আলো ও তাপ পায়।
- এই তাপেই উত্তপ্ত হয়।
- এরা তারার মতো মিটমিট করে জ্বলে না।
- এসব জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলে।
- আমাদের সৌরজগতের আটটি গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি এবং নাসা।
৩৮৭.
আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার জনক হিসেবে পরিচিত কোন বিজ্ঞানী?
  1. আর্কিমিডিস
  2. নিউটন
  3. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  4. স্টিফেন হকিং
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও গ্যালিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও গ্যালিলি
ব্যাখ্যা
আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যা: 

• গ্যালিলিও গ্যালিলিকে 'আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার জনক' হিসেবে অভিহিত করা হয়।

• গ্যালিলিও গ্যালিলি একটি প্রতিসরণকারী টেলিস্কোপ আবিষ্ককার করেন।
• আইনস্টাইন গ্যালিলিও গ্যালিলিকে আধুনিক বিজ্ঞানের জনক হিসেবে অভিহিত করেন।
• জন্ম: ১৫ই ফেব্রুয়ারী, ১৫৬৪ সালে ইতালির পিসাতে। 
• তার পিতা ছিলেন ভিনসেঞ্জো গ্যালিলি, একজন দক্ষ ফ্লোরেনটাইন গণিতবিদ এবং সঙ্গীতজ্ঞ।
• গ্যালিলিও ১৫৮১ থেকে ১৫৮৫ সাল পর্যন্ত পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন বিভাগে অধ্যয়ন করেছিলেন কিন্তু কোনো ডিগ্রি ছাড়াই ফ্লোরেন্সে গণিতের শিক্ষকে ফিরে আসেন।
• তিনি ১৫৮৯ সালে পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান তারপর জ্যামিতি, বলবিদ্যা এবং জ্যোতির্বিদ্যা শেখানোর জন্য ১৫৯২ সালে পাড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান।

উৎস: New Mexico Museum of Space History Website.
৩৮৮.
পৃথিবীর ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে কী বলা হয়?
  1. বিষুবরেখা
  2. মহাবৃত্ত
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
সঠিক উত্তর:
কর্কটক্রান্তি রেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি ট্রপিক অব ক্যান্সার নামেও পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে (চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) অতিক্রম করেছে।

মকরক্রান্তি রেখা:
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৯.
সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতি গ্রহের সময় লাগে -
  1. ৮ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৮ বছর
সঠিক উত্তর:
১২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ বছর
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি (Jupiter) গ্রহ:
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি।
- একে গ্রহরাজ বলা হয়।
- পৃথিবীর তুলনায় বৃহস্পতি প্রায় ১০০০ গুণ বড়।
- সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ৭৭ কোটি কিলোমিটার।
- এটি নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে মাত্র সময় নেয় ১০ ঘন্টা।
- বৃহস্পতির সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে প্রায় ১২ বছর।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৯৫টি।

⇒ বৃহস্পতির বায়ুমন্ডলে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, মিথেন এবং হিলিয়াম রয়েছে।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯০.
৬৬.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখাকে কী বলা হয়?
  1. সুমেরু বৃত্ত
  2. কুমেরু বৃত্ত
  3. নিরক্ষীয় সমান্তরাল রেখা
  4. কোনটিই নাই
সঠিক উত্তর:
সুমেরু বৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরু বৃত্ত
ব্যাখ্যা
সুমেরু বৃত্ত:
- নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরু এবং ৯০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু।
- এছাড়া ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রামে কর্কটক্রান্তি এবং ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে বলা হয় মকরক্রান্তি।

⇒ ৬৬.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত ও ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু বৃত্ত।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯১.
বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের উপস্থিতির ক্ষেত্রে নিচের কোন তথ্যটি ভুল?
  1. আরগন : ০.৫০ শতাংশ
  2. অক্সিজেন : ২০.৭১ শতাংশ
  3. জলীয়বাষ্প: ০.৪১ শতাংশ
  4. ধূলিকণা ও কণিকা: ০.০১ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
আরগন : ০.৫০ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরগন : ০.৫০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডলে আরগনের পরিমাণ ০.৮০ শতাংশ।

• বায়ুমন্ডল:

- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমন্ডল।
- বায়ুমন্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়।

• বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহ:
- নাইট্রোজেন : ৭৮.০২ শতাংশ
- অক্সিজেন : ২০.৭১ শতাংশ
- আরগন : ০.৮০ শতাংশ
- জলীয়বাষ্প: ০.৪১ শতাংশ
- কার্বন ডাই-অক্সাইড: ০.০৩ শতাংশ
- অন্যান্য গ্যাস: ০.০২ শতাংশ
- ধূলিকণা ও কণিকা: ০.০১ শতাংশ

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩৯২.
​ধূমকেতু কী? 
  1. একটি উপগ্রহ 
  2. এক ধরনের নক্ষত্র 
  3. এক ধরনের জ্যোতিষ্ক
  4. এক ধরনের গ্রহ
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের জ্যোতিষ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের জ্যোতিষ্ক
ব্যাখ্যা

ধূমকেতু (Comet): 
- ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক। 
- ধূমকেতুর দুইটি অংশ রয়েছে। 
যেমন: মস্তক (Head) বা কেন্দ্র ও পুচ্ছ (Tail)। 
- কোনো কোনো ধূমকেতুর মস্তক বা কেন্দ্র গ্রহ অপেক্ষা বড় হয়ে থাকে। 
- ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ। 
- অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে। 
- হ্যালির ধূমকেতু (Hally's Comet) প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টিগোচরীভূত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৩.
নক্ষত্রের ভর কত সৌর ভরের কম হলে নক্ষত্রটি শ্বেত বামনে হবে?
  1. ১.৪
  2. ১.৮
  3. ২.৪
  4. ২.৮
সঠিক উত্তর:
১.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.৪
ব্যাখ্যা
শ্বেত বামন:
- শ্বেত বামন (White dwarf) এক ধরনের ছোট তারা।
- কোন ক্ষুদ্রাকার তারকার জ্বালানি ফুরিয়ে অনুজ্জ্বল সাদা রঙের তারকায় পরিণত হলে তাকে শ্বেত বামন (White dwarf) বলা হয়।
- যদি কোনো নক্ষত্রের মোট ভর সূর্যের ১.৪ গুণের সমান বা তার চেয়ে কম হয়, তাহলে ওই নক্ষত্র শ্বেত বামন (white dwarf) তারায় পরিণতি হয়। 

উল্লেখ্য,
- মহাবিশ্বের অধিকাংশ তারারই শেষ দশা হচ্ছে শ্বেত বামন।
- কারণ অধিকাংশ তারার ভর সূর্যের সমান বা তার কাছাকাছি হয়।
- আর এই ভরের তারাদের মৃত্যু ঘটে শ্বেত বামন সৃষ্টির মাধ্যমে।

উৎস: Britannica.
৩৯৪.
Which planet is often referred to as the "Red Planet"?
  1. Saturn
  2. Mercury
  3. Jupiter
  4. Venus
  5. Mars
সঠিক উত্তর:
Mars
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mars
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ এবং গ্রহসমূহ: 
- মহাকাশের অসংখ্য জ্যোতিষ্ক নিয়ে যে জগতের সৃষ্টি হয়েছে তাকে বিশ্বজগৎ বা বিশ্বভ্রহ্মান্ড বলে। 
- সূর্য বিশ্বজগতের কোটি কোটি নক্ষত্রের মধ্যে একটি উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। 
- সূর্য ও এর চতুর্দিকে ঘূর্ণনরত জ্যোতিষ্কমন্ডলীকে একত্রে সৌরজগৎ (Solar System) বলে। 
- মহাকাশে সূর্যকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট গতিতে, নির্দিষ্ট দূরত্বে, একই সমতলে একইদিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘূনর্ণরত সকল গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধুমকেতু ও উল্কাপিন্ডের সমন্বয়ে সৌরজগত গঠিত হয়েছে। 

মঙ্গল গ্রহ: 
- মঙ্গলগ্রহ  হলো সূর্য থেকে চতুর্থ দূরবর্তী গ্রহ। 
- বুধের পরেই সৌরজগতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম গ্রহ। 
- মঙ্গল গ্রহটিকে ‘লালগ্রহ’ নামে অভিহিত করা হয়। 
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব ২২.৮ কিলোমিটার। 
- এটি একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৬৮৭ দিন সময় লাগে। 
- মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা দুইটি। 
যথা- ফোবোস ও ডিমোস। 

অন্যদিকে, 
- ইউরেনাসকে সবুজগ্রহ, 
- বুধকে ক্ষুদ্রগ্রহ, 
- বৃহস্পতিকে গ্রহরাজ বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।