বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩৯৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৩৯৪

২০১.
সূর্য কী?
  1. ধূমকেতু
  2. নক্ষত্র 
  3. গ্রহ
  4. উপগ্রহ
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র 
ব্যাখ্যা

সূর্য: 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- এটি একটি জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড। 
- এটি হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২০২.
কোন গ্রহের চারটি বৃহত্তম চাঁদকে গ্যালিলিয়ান উপগ্রহ বলা হয়?
  1. ইউরেনাস
  2. মঙ্গল
  3. বৃহস্পতি
  4. শনি
সঠিক উত্তর:
বৃহস্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা

বৃহস্পতির চাঁদ বা উপগ্রহ:
- বৃহস্পতির ৯৫টি চাঁদ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংঘ (IAU) দ্বারা স্বীকৃত।
- এই চাঁদগুলো ১৬১০ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রথম দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে আবিষ্কার করেন।
- চারটি বৃহত্তম চাঁদকে (গ্যালিলিয়ান স্যাটেলাইটস) গ্যালিলিয়ান উপগ্রহ বলা হয়।

• বৃহত্তম চারটি চাঁদ-
- আইও (Io): সৌরজগতের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিময় বস্তু।
- ইউরোপা (Europa): এর বরফ আচ্ছাদনের নিচে তরল জলের একটি মহাসাগর থাকতে পারে, যেখানে জীবনের জন্য উপাদান রয়েছে।
- গ্যানিমিড (Ganymede): সৌরজগতের বৃহত্তম চাঁদ, যা বুধ গ্রহের চেয়েও বড়।
- ক্যালিস্টো (Callisto): এতে কয়েকটি ছোট গর্ত রয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে এর পৃষ্ঠে খুব সামান্য কার্যকলাপ বিদ্যমান।

উৎস: NASA Science ওয়েবসাইট।

২০৩.
পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি কীসের মতো?
  1. আয়তাকার
  2. নিখুঁত গোলক
  3. উপবৃত্তাকার
  4. অভিগত গোলক
সঠিক উত্তর:
অভিগত গোলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিগত গোলক
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আকার ও আকৃতি (Size and Shape of the Earth):
- ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল, মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথমবারের মতো মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেন।
- তিনি বুঝতে পারেন যে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, বরং কিছুটা চাপা এবং স্ফীত। তার তোলা ছবিতেও পৃথিবীকে গোলাকার দেখা যায়।
- তবে বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি একদম নিখুঁত গোল নয়। বরং এটি কিছুটা চাপা ও স্ফীত হওয়ায় এর প্রকৃত আকৃতি হয় অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)।

•  পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যাস:
- নিরক্ষীয় ব্যাস (পূর্ব-পশ্চিমে) = ১২,৭৫৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় ব্যাস (উত্তর-দক্ষিণে) = ১২,৭১৪ কি.মি.
- পার্থক্য = ৪৩ কি.মি.।
- গড় ব্যাস = ১২,৭৩৪.৫ কিমি → প্রায় ১২,৮০০ কিমি (গণনার সুবিধার জন্য)।
- পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধি:
- গড় ব্যাসার্ধ = ৬,৪০০ কি.মি.।
- নিরক্ষীয় পরিধি = ৪০,০৭৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় পরিধি = ৪০,০০৯ কি.মি.।
- গড় পরিধি ≈ ৪০,০০০ কি.মি.।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
২০৪.
মহাকাশযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল কত সালে?
  1. ১৯৬১ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫১ সালে
  4. ১৯৬৫ সালে
  5. ১৯৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালে
ব্যাখ্যা
- মহাকাশযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর।
- এই যাত্রার সূচনা করে তৎকালীন সোভিয়েট ইউনিয়ন।
- তারা স্পুটনিক-১ নামক - কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে।
- স্পুটনিক শব্দের অর্থ হলো ভ্রমণসঙ্গী বা সহযাত্রী।
- একই বছর ২রা নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামক আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ তারা মহাকাশে পাঠান।

উল্লেখ্য,
- প্রথম মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহের নাম এক্সপ্লোরার-১।
- এই উপগ্রহ ১৯৫৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি মহাকাশে পাঠানো হয়।
- ভস্টক-১ নামক সোভিয়েট কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষ নিয়ে প্রথম পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
- প্রথম মহাকাশে গিয়েছিলেন সোভিয়েট ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন।
- তিনি ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল ভস্টক-১ কৃত্রিম উপগ্রহে চড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২০৫.
জ্যোতিষ্ক কত প্রকার?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৭
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭
ব্যাখ্যা

মহাশূন্যে অবস্থিত বস্তুসমূহকে জ্যোতিষ্ক বলা হয়ে থাকে।
জ্যোতিষ্ক ৭ প্রকার।
যথা-নক্ষত্র, নীহারিকা, গ্রহ, উপগ্রহ, ছায়াপথ, ধূমকেতু এবং উল্কা।
উৎস: ভূগােল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৬.
মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ও প্রধান তত্ত্ব কোনটি?
  1. ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব
  2. বিগব্যাং তত্ত্ব
  3. আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. নিউটনের গতি সূত্রীয় তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বিগব্যাং তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিগব্যাং তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ও প্রধান তত্ত্ব হলো বিগব্যাং তত্ত্ব (খ)। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব একটি অত্যন্ত ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দু থেকে বিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রসারিত হতে শুরু করে। সেই বিস্ফোরণের ফলেই স্থান, সময়, পদার্থ ও শক্তির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে গ্যালাক্সি, নক্ষত্র, গ্রহ ও অন্যান্য জাগতিক বস্তুর গঠন ঘটে। ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব জীবজগতের বিকাশ ব্যাখ্যা করে, আপেক্ষিক তত্ত্ব মহাকর্ষ ও স্থান-সময়ের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে এবং নিউটনের গতি সূত্র বস্তুগত গতি বোঝায়, কিন্তু মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে না।

মহাবিশ্ব: 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২০৭.
সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ কোনটি?
  1. Mercury
  2. Venus
  3. Mars
  4. Uranus
সঠিক উত্তর:
Mercury
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mercury
ব্যাখ্যা

• বুধ (Mercury): 
- বুধ গ্রহ সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ এবং সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার; এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না।
- বুধ হল সবচেয়ে দ্রুততম গ্রহ, প্রতি ৮৮দিনে (পৃথিবীর) সূর্যের চারপাশে ঘুরে আসে।
- এটি প্রতি ৮৮ দিনে সূর্যের চারপাশে দ্রুত গতিতে ঘুরে আসে, মহাকাশে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৯ মাইল (৪৭ কিলোমিটার) গতিতে ভ্রমণ করে, যা অন্য যেকোনো গ্রহের চেয়ে দ্রুত।
- সুতরাং বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমন্ডল ধরে রাখতে পারে না।
-  এখানে নেই মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি। সুতরাং প্রাণির অস্তিত্ব নেই।
- ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূন্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো।
- ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা এবং এবড়ো-থেবড়ো। এখানে আছে অসংখ্য পাহাড় ও সমতলভূমি।
- বুধের কোনো উপগ্রহ নেই।

উৎস: NASA.

২০৮.
নিউক্লিয়ার ফিশান ও ফিউশনের ফলে উৎপন্ন শক্তি কীভাবে নিরূপণ করা যায়? 
  1. নিউটনের প্রথম গতি সূত্রে দিয়ে
  2. ওহমের V = IR সূত্র দিয়ে
  3. নিউটনের গতিসূত্র F = ma সমীকরণ দিয়ে
  4. আইনস্টাইনের E = mc2 সমীকরণ দিয়ে
সঠিক উত্তর:
আইনস্টাইনের E = mc2 সমীকরণ দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনস্টাইনের E = mc2 সমীকরণ দিয়ে
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সম্পর্ক (Mass-Energy Relation): 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো ভর-শক্তি সম্পর্ক। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় কোনো বস্তুর ভর ধ্রুব রাশি এবং শক্তি সর্বদাই নিত্য। চিরায়ত বলবিদ্যায় আরো ধরা হয় যে, ভর এবং শক্তি দুটি ভিন্ন সত্তা। 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে চিরায়ত বলবিদ্যায় পুরাতন ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে। এই তত্ত্বানুসারে ভর এবং শক্তি দুটি অভিন্ন সত্তা। 
- ভরকে সম্পূর্ণরূপে ধংস করা যায় এবং তা থেকে শক্তির উৎপন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ভর সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তর হয় এবং একই ভাবে শক্তিও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভরে রূপান্তর হয়। 

সুতরাং, E = mc2, এটিই আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ। এই সমীকরণ প্রমাণ করে ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশান ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৯.
'Cosmic Ray'-কে বাংলায় বলা হয়-
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. তেজস্ক্রিয় রশ্মি
  3. ক্যাথড রশ্মি
  4. মহাজাগতিক রশ্মি
সঠিক উত্তর:
মহাজাগতিক রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাজাগতিক রশ্মি
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
 - 'Cosmic Ray'-কে বাংলায় বলা হয় মহাজগতিক রশ্মি। 
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
২১০.
NASA-এর সদরদপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. নিউইয়র্ক
  2. লস এঞ্জেলেস
  3. ওয়াশিংটন ডি.সি
  4. শিকাগো
সঠিক উত্তর:
ওয়াশিংটন ডি.সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াশিংটন ডি.সি
ব্যাখ্যা

NASA:
- NASA এর পূর্ণরূপ: National Aeronautics and Space Administration.
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত: ২৯ জুলাই, ১৯৫৮।
- বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু: ১ অক্টোবর, ১৯৫৮।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- মূল কাজ: মহাকাশ গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন, মহাকাশ অনুসন্ধান।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।

২১১.
বস্তুর ভর সৃষ্টি করে কোন কণা?
  1. লেপটন
  2. প্রোটন
  3. হিগস-বোসন
  4. ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
হিগস-বোসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিগস-বোসন
ব্যাখ্যা
হিগের কণা:

- ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এমন একটি কণার ধারনা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে।
- এই কণাটিকে হিগের কণা বলা হয়।
- হিগস কণা একটি বোসন কণা।
- হিগস বোসন কণাটি ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওর লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন। 
- ৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই বোসন কণাটি আবিষ্কৃত হয়।
- হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য ২০১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান 'পিটার ডব্লিউ হিগস ও ফ্রাঁসোয়া ইংলার্ট'।
- হিগের কণা সৃষ্টিতে অবদান রাখেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর 'কণা পরিসংখ্যান তত্ত্ব'।
- বিজ্ঞানী হিগের সাথে সতেন্দ্রনাথকে জড়িয়ে হিগের কণার নাম দেন- হিগস বোসন কণা।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
২১২.
সূর্যে কোন গ্যাসের পরিমান বেশি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. হিলিয়াম
  3. আর্গন
  4. জেনন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
সূর্যে হাইড্রোজেনের পরিমান বেশি থাকে।

সূর্য (Sun):

- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- এটি একটি জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড।
- এটি হাইড্রোজেন(৯১.২%) ও হিলিয়াম(৮.৭%) গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই।
- সূর্যের মোট গ্রহ ৮ টি।
- সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ (mercury)
- নিজের অক্ষে একবার আবর্তন করতে সূর্যের সময় লাগে ২৫ দিন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, Britannic.
২১৩.
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (NASA) সদরদপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. কেপ কেনেডি
  2. ফ্লোরিডা
  3. নিউ ইয়র্ক
  4. ওয়াশিংটন ডি.সি
সঠিক উত্তর:
ওয়াশিংটন ডি.সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াশিংটন ডি.সি
ব্যাখ্যা

NASA:
- NASA মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
- NASA-এর পূর্ণরূপ হলো: National Aeronautics and Space Administration.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৯ জুলাই, ১৯৫৮।
- বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু: ১ অক্টোবর, ১৯৫৮।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা হিসেবে মহাকাশ গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি উন্নয়ন, এবং মহাকাশ অনুসন্ধানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।

২১৪.
জ্যোতির্বিজ্ঞান এর ইংরেজি কী?
  1. Astronomy
  2. Astronautics
  3. Astrology
  4. Astronaut
সঠিক উত্তর:
Astronomy
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Astronomy
ব্যাখ্যা
জ্যোতির্বিজ্ঞান:
- জ্যোতির্বিজ্ঞান এর ইংরেজি Astronomy.
- জ্যোতির্বিজ্ঞান একটি বৈজ্ঞানিক শাখা যা পৃথিবীর বাইরের বস্তু ও ঘটনার অধ্যয়ন করে।
- দূরবীন আবিষ্কার এবং গতিসূত্র ও মহাকর্ষ সূত্র উদ্ভাবনের (১৭শ শতকে) আগে প্রাচীন সময়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান মূলত সূর্য, চন্দ্র ও গ্রহগুলোর অবস্থান পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হতো—মূলত ক্যালেন্ডার তৈরি, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং নৌচালনার কাজে।
- কালের সাথে সাথে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে।
- এখন এর আওতায় পড়ে:
সৌরজগৎ (সূর্য, গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু, গ্রহাণু ইত্যাদি)
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির তারাসমূহ
এবং আরও দূরবর্তী অন্যান্য গ্যালাক্সি
- বিজ্ঞানভিত্তিক মহাকাশযানের মাধ্যমে পৃথিবীকেও গ্রহ হিসেবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের আওতায় আনা হয়েছে। তবে এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ মূলত ভূবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
- সার্বিকভাবে, জ্যোতির্বিজ্ঞান আমাদের মহাবিশ্বকে জানার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
 
 উল্লেখ্য,
- Astrology বা জ্যোতিষশাস্ত্র হলো এমন একটি শাস্ত্র, যা নভোমণ্ডলে বিভিন্ন জ্যোতিষ্ক অর্থাৎ গ্রহ-নক্ষত্র ইত্যাদির অবস্থান বিবেচনা করে মানুষের ভাগ্যগণনা তথা ভাগ্য নিরূপণ করে।
 - Astronautics মহাকাশ ভ্রমণ এবং অনুসন্ধানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।
- একজন মহাকাশচারী (Astronaut) হলেন একজন ব্যক্তি যাকে মানব মহাকাশযান কর্মসূচি দ্বারা প্রশিক্ষিত, সজ্জিত এবং নিয়োজিত করা হয় একটি মহাকাশযানের কমান্ডার বা ক্রু সদস্য হিসেবে কাজ করার জন্য।
 
উৎস: Britannica.
২১৫.
গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় কত ঘণ্টা আগে? 
  1. ৩ ঘণ্টা
  2. ৪ ঘণ্টা
  3. ৫ ঘণ্টা
  4. ৬ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
৬ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
গ্রীনিচ মান সময়: 
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় ৬ ঘণ্টা আগে। 
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। 
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রীনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রীনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। 
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে। 
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৬.
সর্বপ্রথম কে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ব্যাখ্যা প্রদান করেন?
  1. ক) কোপার্নিকাস
  2. খ) গ্যালিলিও
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) নিউটন
সঠিক উত্তর:
ক) কোপার্নিকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা

- নিকোলাস কোপারনিকাস ১৫৪৩ সালে প্রথম আধুনিক সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের মতবাদ প্রদান করেন।
- তিনি পৃথিবী নয় বরং সূর্যকে সৌরজগতের কেন্দ্র হিসাবে উল্লেখ করেন।
- তিনি আঠারো শতকের আগে এমন একটি মডেল প্রনয়ন করেন যখন চারিদিকে টলেমী এবং এরিস্টটলের মতবাদ চলছিল।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

২১৭.
যে রেখা নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে কী বলে? 
  1. অক্ষাংশ
  2. নিরক্ষরেখা
  3. সমাক্ষরেখা
  4. দ্রাঘিমাংশ
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
অক্ষরেখা (Latitude): 
- পৃথিবীর গোলাকৃতি কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ (Axis) বা মেরুরেখা বলে। 
- এই অক্ষের উত্তর-প্রান্ত বিন্দুকে উত্তর মেরু বা সুমেরু এবং দক্ষিণ-প্রান্ত বিন্দুকে দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু বলে। 
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে, একে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে। 
- নিরক্ষরেখার উত্তর-দক্ষিণে পৃথিবীকে সমান দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ দিকের অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ বলে। 
- এই নিরক্ষরেখাকে ০° ধরে উত্তর দিকে ও দক্ষিণ দিকে দুই মেরু পর্যন্ত ৯০° বা এক সমকোণ ধরা হয়। 
- পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির জন্য নিরক্ষরেখা বৃত্তাকার, তাই এ রেখাকে নিরক্ষবৃত্তও বলে। 
- নিরক্ষরেখার সমান্তরাল যে রেখাগুলো রয়েছে সেগুলো হলো অক্ষরেখা, এই অক্ষরেখাগুলো আসলে কল্পনা করা হয়েছে যাদের সমাক্ষরেখা বলে। 
- নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে (Angular Distance) ঐ স্থানের অক্ষাংশ বলে। 
- একই গোলার্ধের একই অক্ষাংশ মানসমূহের সংযোগ রেখাকে অক্ষরেখা বলে। 

অক্ষাংশ নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি: 
১। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ৯০° – (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি ± বিষুবলম্ব)। এখানে, সূর্য যেদিন যে অক্ষাংশের উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় সেটাই সেদিনের সূর্যের বিষুবলম্ব। 

২। ধ্রুবতারার সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণয়: 
- ধ্রুবতারার উন্নতি জেনে কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। এর সাহায্যে শুধু উত্তর গোলার্ধের কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। নিরক্ষরেখায় ধ্রুবতারার উন্নতি ০° এবং উত্তর মেরুতে ঠিক মাথার উপর ধ্রুবতারার উন্নতি ৯০° হয়। সুতরাং উত্তর গোলার্ধে কোনো স্থানের অক্ষাংশ ধ্রুবতারার উন্নতির সমান। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৮.
গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ব্যবহার করে মহাবিশ্বের বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নকে কী বলে?
  1. Astrology
  2. Astronomy
  3. Cosmology
  4. Astrophysics
সঠিক উত্তর:
Astronomy
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Astronomy
ব্যাখ্যা
Astronomy vs Astrology:

Astronomy/ জ্যোতিবিদ্যা/ জ্যোতির্বিজ্ঞান - গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ব্যবহার করে মহাবিশ্বের বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন।

Astrology/ জ্যোতিষশাস্ত্র - এর মাধ্যমে বিভিন্ন জ্যোতিস্ক অর্থাৎ গ্রহ-নক্ষত্র ইত্যাদির অবস্থান বিবেচনা করে মানুষের ভাগ্যগণনা তথা ভাগ্য নিরূপণ করা হয়। যারা এই কাজ করে তাদের বলা হয় জ্যোতিষি।

Cosmology: মহাবিশ্বের জন্ম, বিবর্তন ও শেষ পরিণতি নিয়ে বিজ্ঞানের যে শাখায় গবেষণা করা হয়, তাকেই বলে কসমোলজি বা বিশ্বসৃষ্টিতত্ত্ব।

Astrophysics: জ্যোতির্বিজ্ঞানের যে শাখায় নভোমন্ডলে অবস্থিত বস্তুসমূহ; যথা: সূর্য, নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ, উল্কা, নীহারিকা ইত্যাদির ভৌত এবং রাসায়নিক গুণাবলি তথা ঔজ্জ্বল্য, আকার, ভর, ঘনত্ব, তাপমাত্রা, রাসায়নিক গঠন, তাদের উৎপত্তি, বিবর্তন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান (Astrophysics)

উৎস: Britannica.
২১৯.
বিগ ব্যাং এর কতবছর পরে সৌরজগৎ সৃষ্টি হয়েছিলো?
  1. ৪ বিলিয়ন
  2. ৪.৬ বিলিয়ন
  3. ৫ বিলিয়ন
  4. ৯ বিলিয়ন
সঠিক উত্তর:
৯ বিলিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ বিলিয়ন
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাং-এর প্রায় ৯ বিলিয়ন (৯০০ কোটি) বছর পরে সৌরজগৎ সৃষ্টি হয়।

• বিগ ব্যাং (Big Bang) ঘটেছে আনুমানিক ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে। 
- অর্থাৎ আমাদের এই মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। 
- আমাদের সৌরজগৎ (Solar System) গঠিত হয়েছে আজ থেকে আনুমানিক ৪.৫ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর আগে ।
- বিগ ব্যাং এর সময় থেকে এটির (সৌরজগৎ সৃষ্টির) সময়কাল প্রায় ৮.৫ থেকে ৯ বিলিয়ন বছর পর। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
২২০.
সৌরজগতের কোন গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা সর্বাধিক?
  1. বৃহস্পতি
  2. শনি
  3. নেপচুন
  4. মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
শনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শনি
ব্যাখ্যা

• শনি (Saturn):
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- এটি গ্যাসের তৈরি বিশাল এক গোলক।
- এর ব্যাস ১,২০,০০০ কিলোমিটার।
- শনির ভূত্বক বরফে ঢাকা।
- এর বায়ুমন্ডলে আছে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মিশ্রণ, মিথেন ও অ্যামোনিয়া গ্যাস।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে শনির সময় লাগে পৃথিবীর প্রায় ২৯.৫ বছরের সমান।
- শনি উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর ৮২টি উপগ্রহ আছে (সর্বাধিক)। 
- নাসা'র তথ্য অনুযায়ী ১৪৬টি উপগ্রহ আছে। 

অন্যদিকে,
- বৃহস্পতির ৭৯টি উপগ্রহ আছে।
- মঙ্গল এর ২টি উপগ্রহ আছে।
- নেপচুন এর ১৪টি উপগ্রহ আছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২২১.
Which date marks the occurrence of equal day and night across the globe?
  1. February 14
  2. December 25
  3. October 31
  4. July 4
  5. September 23
সঠিক উত্তর:
September 23
উত্তর
সঠিক উত্তর:
September 23
ব্যাখ্যা
- উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত: ২২ ডিসেম্বর। 
- দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত: ২২ ডিসেম্বর। 

 আবার, 
- উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত: ২১ জুন। 
- দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত : ২১ জুন। 
- পৃথিবীর দিনরাত্রি সর্বত্র সমান: ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২২২.
অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল ইউনিট বলতে কী বোঝায়?
  1. পৃথিবী ও সূর্যের গড় দূরত্ব
  2. আলো এক বছরে অতিক্রান্ত দূরত্ব
  3. সৌরজগতের ব্যাস
  4. মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ব্যাস
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী ও সূর্যের গড় দূরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী ও সূর্যের গড় দূরত্ব
ব্যাখ্যা
অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল ইউনিট: 
- অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল ইউনিট সংক্ষেপে AU বা au, হলো একটি দৈর্ঘ্যের একক, যা মূলত পৃথিবী ও সূর্যের গড় দূরত্ব বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
- ১ AU = ১৪৯,৫৯৭,৮৭০.৭ কিমি (1.495×108 km বা প্রায় ৯২,৯৫৫,৮০৭.৩ মাইল)।
- সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহ বা বস্তুর দূরত্ব তুলনা করতে এটি খুবই সুবিধাজনক।
- যেমন: বৃহস্পতি (Jupiter) সূর্য থেকে প্রায় ৫.২ AU দূরে, প্লুটো প্রায় ৪০ AU দূরে।
- ১ AU মানে, পৃথিবী যতটা দূরে সূর্য থেকে, ঠিক ততটাই।

উৎস: Britannica.
২২৩.
কৃষ্ণ গহবরের যে সীমা থেকে কোনো কিছু বেড়িয়ে আসতে পারে না তাকে কী বলে?
  1. মহাকর্ষীয় প্রকোপ বলয়
  2. ঘটনাদিগন্ত
  3. হাবল অঞ্চল
  4. ব্লাক ফোর্স
সঠিক উত্তর:
ঘটনাদিগন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটনাদিগন্ত
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণ গহবর:
- কৃষ্ণ গহবর সাধারণত একটি তারার মৃত্যুর পর গঠিত হয়।
- যখন একটি বড় তারার জীবাশ্মের প্রক্রিয়া ঘটে, তখন এটি তার কেন্দ্রীয় অংশে অতিরিক্ত শক্তি সঙ্কুচিত হয়ে কৃষ্ণ গহবরের সৃষ্টি করে।
- কৃষ্ণ গহবর মহাকর্ষীয়ভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু, যা এত বেশি মহাকর্ষীয় শক্তি সৃষ্টি করে যে, এর থেকে আলো পর্যন্ত বেড়িয়ে আসতে পারে না।

ইভেন্ট হরিজন:
- কৃষ্ণ গহবরের সেই সীমা যেখানে থেকে কিছু ফিরে আসতে পারে না।
- এটি মূলত গহ্বরের "নিষিদ্ধ এলাকা" বা ঘটনাদিগন্ত
- ঘটনাদিগন্তের ব্যাসার্ধ (Event Horizon Radius) হল সেই সীমারেখা যেখানে থেকে কিছু বস্তুর পক্ষে কৃষ্ণ গহবর থেকে ফিরে আসা সম্ভব নয়।
- কৃষ্ণ গহ্বরের ঘটনাদিগন্তের ব্যাসার্ধ সাধারণত শোয়ার্জশিল্ড রেডিয়াস (Schwarzschild Radius) দিয়ে নির্ণয় করা হয়, যা নিম্নলিখিত সূত্র দিয়ে হিসাব করা হয়:

Rs = 2GM/c2

এখানে,
Rs​ = শোয়ার্জশিল্ড রেডিয়াস
G = মহাকর্ষীয় ধ্রুবক
M = কৃষ্ণ গহ্বরের ভর
c = আলোর বেগ

গ্রাভিটেশনাল লেন্সিং:
- কৃষ্ণ গহবর তার চারপাশের আলোকে বেঁকিয়ে দিতে পারে, যা দূরের জ্যোতিষ্কের ছবি বিকৃত করে।

কৃষ্ণ গহবরের গঠন এবং আচরণের উপর গবেষণা করতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টেলিস্কোপ ব্যবহার করেন। যেমন:

- গ্রাউন্ড-বেসড টেলিস্কোপ
- স্পেস টেলিস্কোপ (যেমন, ইভেন্ট হরিজন টেলিস্কোপ)

উৎস: ব্রিটানিকা, নাসা, পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র(শাহাজাহান তপন স্যার)।

২২৪.
পৃথিবী সূর্যের কততম নিকটতম গ্রহ? 
  1. প্রথম
  2. দ্বিতীয়
  3. তৃতীয়
  4. চতুর্থ
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
ব্যাখ্যা
পৃথিবী (Earth): 
- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার। 
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড, তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর ধরা হয়। 
- চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী। 
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৫.
পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস কত কিলোমিটার?
  1. ১২,৭১৫ কি.মি.
  2. ১২,৭৫৭ কি.মি.
  3. ৬,৪০০ কি.মি.
  4. ১২,৮০০ কি.মি.
সঠিক উত্তর:
১২,৭৫৭ কি.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২,৭৫৭ কি.মি.
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আকার ও আকৃতি (Size and Shape of the Earth):
- ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল, মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথমবারের মতো মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেন।
- তিনি বুঝতে পারেন যে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, বরং কিছুটা চাপা এবং স্ফীত। তার তোলা ছবিতেও পৃথিবীকে গোলাকার দেখা যায়।
- তবে বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি একদম নিখুঁত গোল নয়। বরং এটি কিছুটা চাপা ও স্ফীত হওয়ায় এর প্রকৃত আকৃতি হয় অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)।

•  পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যাস:
- নিরক্ষীয় ব্যাস (পূর্ব-পশ্চিমে) = ১২,৭৫৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় ব্যাস (উত্তর-দক্ষিণে) = ১২,৭১৪ কি.মি.
- পার্থক্য = ৪৩ কি.মি.।
- গড় ব্যাস = ১২,৭৩৪.৫ কিমি → প্রায় ১২,৮০০ কিমি (গণনার সুবিধার জন্য)।
- পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধি:
- গড় ব্যাসার্ধ = ৬,৪০০ কি.মি.।
- নিরক্ষীয় পরিধি = ৪০,০৭৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় পরিধি = ৪০,০০৯ কি.মি.।
- গড় পরিধি ≈ ৪০,০০০ কি.মি.।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
২২৬.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় কত লাগে? 
  1. ৬ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড 
  2. ১০ মিনিট ৩০ সেকেন্ড 
  3. ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড 
  4. ১২ মিনিট ৫ সেকেন্ড 
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড 
ব্যাখ্যা

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে, খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৭.
বৃহস্পতিকে কী বলা হয়?
  1. নক্ষত্র
  2. গ্রহরাজ
  3. সূর্য 
  4. উপগ্রহ
সঠিক উত্তর:
গ্রহরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রহরাজ
ব্যাখ্যা

- বৃহস্পতি হলো সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। এর বিশাল আয়তন ও ভরের কারণে একে 'গ্রহরাজ' বা 'গ্রহদের রাজা' বলা হয় 

বৃহস্পতি (Jupiter): 

- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ, তাই একে গ্রহরাজ বলে। 
- বৃহস্পতির ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়। 
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে। তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়। 
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)। 
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন। 
- বৃহস্পতির গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৮.
'Big Bang' তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে?
  1. আইজ্যাক নিউটন
  2. স্টিফেন হকিং
  3. রিচার্ড ফেইম্যান
  4. নীলস বোর
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা

• 'Big Bang' তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।

- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল, হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটি বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। জি ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।

• স্টিফেন হকিং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time।
- তাই বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design.

উৎস: ব্রিটানিকা

২২৯.
উপগ্রহ কী? 
  1. সূর্যের অংশবিশেষ 
  2. গ্রহাণুপুঞ্জের বড় অংশ 
  3. গ্রহের চারদিকে আবর্তিত ক্ষুদ্র গোলাকার বস্তু 
  4. দূরবর্তী নক্ষত্রের প্রভাবাধীন বস্তু 
সঠিক উত্তর:
গ্রহের চারদিকে আবর্তিত ক্ষুদ্র গোলাকার বস্তু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রহের চারদিকে আবর্তিত ক্ষুদ্র গোলাকার বস্তু 
ব্যাখ্যা

সৌরজগত: 
- মহাকাশে মাঝারী এক নক্ষত্র হলো সূর্য। 
- সূর্যের মহাকর্ষ শক্তি (Gravitational Force) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে একে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আকারের গ্রহ-উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ ও উল্কাসমূহ একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে ও নির্দিষ্ট গতিতে অনবরত ঘুর্ণনরত অবস্থায় বিরাজ করছে। 
 - সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুর্ণনরত অবস্থায় সকল গ্রহ-উপগ্রহ, গ্রহানুপুঞ্জ ও উল্কাপিন্ডের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে সৌরজগৎ।
- সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত সূর্যের প্রবল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বিভিন্ন আকারের গ্রহ (Planet) একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে, ডিম্বাকৃতির একটি পথে ক্রমাগত আবর্তিত হচ্ছে, এই পথটি কক্ষপথ নামে পরিচিত। 
- আবার গ্রহসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকারের কিছু গোলাকার বস্তু, যা উপগ্রহ (Satellite) পরিচিত। 
যেমন: পৃথিবী নামক গ্রহটিকে ঘিরে আবর্তিত হয় চাঁদ নামক উপগ্রহ। 
- বুধ সূর্যের নিকটতম গ্রহ। 
- মঙ্গল ও বৃহস্পতি নামক গ্রহ দুইটির কক্ষপথের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে এক কিলোমিটার বা তার চেয়ে ক্ষুদ্রায়তনের হাজার হাজার গ্রহাণু (Asteroids), লক্ষ লক্ষ ধূমকেতু (Comet), উল্কা ও উল্কাপিন্ড (Meteoroids), সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও বিভিন্ন ধরনের গ্যাসীয় পদার্থসমূহের এক বলয়, যা গ্রহানুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩০.
সূর্য প্রধানত কোন দুটি গ্যাস দিয়ে গঠিত? 
  1. হিলিয়াম ও কার্বন 
  2. হিলিয়াম ও অক্সিজেন 
  3. হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
  4. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- সূর্য প্রধানত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩১.
ইউরি গ্যাগারিন কোন মহাকাশযানে করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন?
  1. ভস্টক- ৪
  2. ভস্টক- ৩
  3. ভস্টক- ১
  4. ভস্টক- ২
সঠিক উত্তর:
ভস্টক- ১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভস্টক- ১
ব্যাখ্যা
ইউরি গ্যাগারিন:
- মহাকাশে প্রথম ভ্রমণকারী ইউরি গ্যাগারিন।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশ অভিযাত্রী ইউরি গ্যাগারিন। 
- মহাকাশে তিনিই হলেন প্রথম মানব অভিযাত্রী।
- ১৯৬১ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি মহাকাশে পৃথিবীর কক্ষপথ পরিভ্রমণ করেন। 
- ভস্টক–১ নভোযানে তিনি মহাকাশে যান।
- গ্যাগারিন মহাকাশে ছিলেন ১০৮ মিনিট।
- মাত্র দেড় ঘণ্টার মতো সময়ে তিনি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন।

উৎস: Britannica.
২৩২.
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) এর অবস্থান -
  1. পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ
  2. পৃথিবীর মধ্য কক্ষপথ
  3. পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথ
  4. ভূ-স্থির কক্ষপথ
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS):
- আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) হলো পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থিত একটি গবেষণাগার, যা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA), জাপান ও অন্যান্য দেশের যৌথ প্রকল্প।
- ISS নির্মাণে নাসা (NASA), রাশিয়ার রসকসমস (Roscosmos), ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA), জাপান (JAXA) ও কানাডা (CSA) অবদান রেখেছে।
- এটি বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে।

ইতিহাস ও উন্নয়ন:
- ১৯৮০-এর দশকে এটি প্রথম "ফ্রিডম" নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে পরিকল্পিত হয়েছিল।
- ১৯৯০-এর দশকে, ব্যয় হ্রাস ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য প্রকল্পটি পুনরায় ডিজাইন করা হয় এবং ISS নামকরণ করা হয়।
- ১৯৯৩ সালে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পৃথক মহাকাশ স্টেশন প্রকল্পগুলো একত্রিত করে ISS গঠনে একমত হয়।

উৎস: Britannica.
২৩৩.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে? 
  1. এডুইন হাবল
  2. স্টিফেন হকিং 
  3. জর্জ গ্যামো
  4. জি. ল্যামেটার 
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। 
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

২৩৪.
কৃষ্ণগহ্বর ও ঘটনা দিগন্তের মধ্যে সম্পর্ক কোনটি?
  1. কৃষ্ণগহ্বরের কেন্দ্র হলো ঘটনা দিগন্ত
  2. প্রত্যেক কৃষ্ণবিবরের দুইটি ঘটনা দিগন্ত থাকে
  3. কৃষ্ণবিবরের বাইরের সীমানাই ঘটনা দিগন্ত
  4. দুইটি পরস্পর সম্পর্কহীন
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণবিবরের বাইরের সীমানাই ঘটনা দিগন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণবিবরের বাইরের সীমানাই ঘটনা দিগন্ত
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণগহ্বর:
- কৃষ্ণগহ্বর বা কৃষ্ণ বিবর মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি বিষয়ক একটি বহুল প্রচলিত ধারণা।
-  এই ধারণা অনুযায়ী কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা অতি ঘন সন্নিবিষ্ট।
- অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকেও (যেমন: আলো) নয়। 

• প্রত্যেক কৃষ্ণ বিবরের একটি ঘটনা দিগন্ত (Event horizon) থাকে। ঘটনা দিগন্ত হলো কৃষ্ণ বিবরের চারপাশের যে অঞ্চল থেকে কোনো প্রকার বিকিরণ বা সংকেত বেরিয়ে আসতে পারে না তার সীমানা। অর্থাৎ
- কৃষ্ণ বিবরকে ঘিরে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের গোলকের পৃষ্ঠকে বা সীমানাকে বলা হয় ঘটনা দিগন্ত।
- সুতরাং কৃষ্ণ বিবরের কেন্দ্র থেকে ঘটনা দিগন্ত পর্যন্ত দূরত্বকে সোয়ার্জস্কাইল্ড ব্যাসার্ধ বলা হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৫.
সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন -
  1. পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝে আসে
  2. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে আসে
  3. সূর্য পৃথিবীর ছায়ায় পড়ে
  4. সূর্য ও চাঁদ বিপরীত দিকে থাকে
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে আসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে আসে
ব্যাখ্যা

সূর্যগ্রহণ:
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন  সূর্যগ্রহণ হয়।
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে।
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে।
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

অন্যদিকে,
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান।
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।

উৎস: i) বিবিসি বাংলা।
ii) প্রথম আলো

২৩৬.
'ব্লাক হোল' বা কৃষ্ণবিবর সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. আবিষ্কারক জন হুইলার
  2. ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি।
  3. মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র অনেক শক্তিশালী
  4. ভর প্রায় শূন্য।
সঠিক উত্তর:
ভর প্রায় শূন্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর প্রায় শূন্য।
ব্যাখ্যা
• 'ব্লাক হোল' বা কৃষ্ণবিবর:
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অবস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে।
- সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না।
- তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না। নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole) I
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৭.
সৌরজগতের গ্রহগুলোর গতি সংক্রান্ত সূত্র কে প্রদান করেন? 
  1. নিউটন
  2. কেপলার
  3. গ্যালিলিও
  4. কোপারনিকাস
সঠিক উত্তর:
কেপলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেপলার
ব্যাখ্যা
কেপলারের সূত্র: 
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন। 
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন। 
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে। 
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে। 
- জন কেপলার সৌরজগতের গ্রহগুলোর গতি সংক্রান্ত তিনটি সূত্র উপস্থাপন করেন, তার নাম অনুসারে এসূত্রগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
যেমন- 
• প্রথম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। 
• দ্বিতীয় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। 
 তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৮.
কত দিনে চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে একবার ঘুরে আসে?
  1. ২১ দিনে
  2. ২৪ দিনে
  3. ২৭ দিনে
  4. ২৯ দিনে
সঠিক উত্তর:
২৯ দিনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৯ দিনে
ব্যাখ্যা
চাঁদ (Moon):
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আর্বতন করে।
- চাঁদের ব্যাস ৩,৪৭৫ কিলোমিটার।
- ১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
- চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই। চাঁদে বহু সমতলভূমি, পাহাড় পর্বত ও বৃহদাকার গর্তের উপরিভাগ দেখা যায়। চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম ক্লেভিউস।
- চাঁদের আকাশ দিনে-রাতে একই রকম কালো। চাঁদের নিজস্ব আলো নেই।
- সূর্যের আলোতে চাঁদ আলোকিত হয়।
- চাঁদের যে পৃষ্ঠে সূর্যালোক পড়ে সে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১০০° সেলসিয়াস এর ওপরে এবং অন্ধকার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫০° সেলসিয়াসের নীচে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৯.
গ্রহের কোনটি থাকে না?
  1. নিজস্ব ভর
  2. গতিবেগ
  3. নিজস্ব আলো
  4. নিজস্ব উপগ্রহ
সঠিক উত্তর:
নিজস্ব আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজস্ব আলো
ব্যাখ্যা
- গ্রহের নিজস্ব আলো থাকে না। 

গ্রহ (Planet):

- গ্রহ (Planet) গ্রিক শব্দ "প্লানেটেস" (অর্থ: "ভ্রমণকারী") থেকে উদ্ভূত — এমন একটি প্রাকৃতিক বড় আকারের বস্তু, যা সূর্য বা অন্য কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান থাকে এবং যার ভেতর পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ থেকে শক্তি উৎপন্ন হয় না।
- আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) অনুসারে, আমাদের সৌরজগতের ৮টি গ্রহ হলো (সূর্য থেকে দূরত্ব অনুযায়ী): বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, এবং নেপচুন।
- প্লুটো একসময় নবম গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত ছিল, কিন্তু ২০০৬ সালে IAU এর সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি গ্রহের মর্যাদা হারায় এবং এখন এটি একটি বামন গ্রহ (dwarf planet) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়।
- ২০শ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত কেবল আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোই পরিচিত ছিল।
- পরে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে, অন্য নক্ষত্রগুলোকেও কেন্দ্র করে গ্রহ ঘুরছে।

একটি বস্তুকে গ্রহ হিসেবে চিহ্নিত করতে বিজ্ঞানীরা সাধারণত কিছু শর্ত আরোপ করেন:
- এটি যথেষ্ট বড় হতে হবে (সাধারণত ১,০০০ কিমি বা তার বেশি),
- নিজের মাধ্যাকর্ষণের কারণে এটি গোলাকার (আনুমানিক ৭০০ কিমি ব্যাস) আকৃতি ধারণ করতে সক্ষম হতে হবে,
- এর ভর এমন হতে হবে যাতে কেন্দ্রস্থলে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু না হয়।

উৎস: Britannica. 
২৪০.
মঙ্গল গ্রহের নতুন নাম কি?
  1. নিউ আর্থ
  2. নিউ ওয়ার্ল্ড
  3. নিউ টাউন
  4. নিউ ভিশন
সঠিক উত্তর:
নিউ ওয়ার্ল্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউ ওয়ার্ল্ড
ব্যাখ্যা
• মঙ্গল গ্রহের নতুন নাম- নিউ ওয়ার্ল্ড।

মঙ্গল গ্রহ:
- ১৪৯২ সালে অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা মহাদেশে প্রথম পা রাখার পর থেকে আমেরিকাকে নতুন পৃথিবী বা নিউ ওয়ার্ল্ড নামে ডাকা শুরু হয়।
- তারপর কয়েক শতাব্দী ধরে আমেরিকাকে নতুন পৃথিবী নামেই ডাকা হতো।
- এইবার মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক মঙ্গল গ্রহকে নিউ ওয়ার্ল্ড হিসেবে নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছে।
- বিষ্যতে মানুষকে রক্ষার জন্য মঙ্গল গ্রহে স্বয়ংসম্পূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি মানববসতি স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে গ্রহটির নতুন নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন ইলন মাস্ক।
- মঙ্গল গ্রহের গেল ক্রেটার নামের খাদে অবস্থান করছে কিউরিওসিটি রোভার।
- মঙ্গল গ্রহে টেকসই মানববসতি তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন ইলন মাস্ক।
- মানবপ্রজাতির দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার জন্য মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ইলন মাস্ক।
- আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইলন মাস্কের।
- বসতি গড়ার জন্য ১০ লাখ মানুষকে মঙ্গল গ্রহে নিয়ে যেতে চান তিনি, এ জন্য নিজের মালিকানাধীন মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স রকেটের সক্ষমতাও তুলে ধরেছেন।

উৎস: টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং প্রথম আলো পত্রিকা (২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪)।
২৪১.
'বিগ-ব্যাং' সংঘটিত হয়েছিল -
  1. পৃথিবীতে
  2. সৌরজগতে
  3. ছায়াপথে
  4. সর্বত্র
সঠিক উত্তর:
সর্বত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বত্র
ব্যাখ্যা
বিগ-ব্যাং:
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রাড় তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুর করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাং তত্ত্ব।
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ আমাদের পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা।
- সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ‘শুরু' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ‍ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না।
- বিগ-ব্যাং সংঘটিত হয়েছিল সর্বত্র। 

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪২.
মহাজাগতিক রশ্মি কে আবিষ্কার করেন?
  1. ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস
  2. টলেমি
  3. ইয়োহান কেপলার
  4. গ্যালিলিও
সঠিক উত্তর:
ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic Rays):
- মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক হলেন ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।

- উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন আহিত কণাগুলো যখন মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন তাদের সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয়, ছায়াপথের বাইরের নক্ষত্র বিস্ফোরণের ফলেই বেশিরভাগ মহাজাগতিক রশ্মি উৎপন্ন হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বেলুনের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিমাপযোগ্য যন্ত্র ব্যবহার করে হেস ও তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেন যে মহাজাগতিক রশ্মি বায়ুমণ্ডলকে আয়নিত করতে পারে এবং এর উৎস মহাজাগতিক বিকিরণ। 
 
উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
২৪৩.
নিচের কোনটির নিজস্ব আলো রয়েছে?
  1. গ্রহ
  2. নক্ষত্র
  3. উপগ্রহ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ ও ভূ-মন্ডল:
⇒ মহাবিশ্বের মহাকাশে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, নীহারিকা, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ও উল্কা ইত্যাদিকে জ্যোতিষ্ক বলে।

নক্ষত্র:
- যে সকল জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে, তাদেরকে নক্ষত্র বলে।
যেমন- সূর্য।

গ্রহ:
- আলোকবিহীন জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলে। যেমন-পৃথিবী, সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়।

উপগ্রহ:
- গ্রহসমূহের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান নিজস্ব আলোকবিহীন জ্যোতিষ্ককে উপগ্রহ বলে। যেমন- চাঁদ, পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৪.
সূর্যপৃষ্ঠের উত্তাপ কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ৫০০০° সেলসিয়াস
  2. ৬০০০° সেলসিয়াস
  3. ৭০০০° সেলসিয়াস
  4. ৮০০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৬০০০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এর পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস।
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড।
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে।
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই।

তথ্যসূত্র - ভুগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৫.
সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি ‘অলিম্পাস মন্স’ কোন গ্রহে অবস্থিত?
  1. শনি
  2. বুধ
  3. মঙ্গল
  4. বৃহস্পতি
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল
ব্যাখ্যা

‘অলিম্পাস মন্স’ আগ্নেয়গিরি:
- সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি অলিম্পাস মন্স এর অবস্থান মঙ্গল গ্রহে।
- ১৯৭১ সালে নাসার মেরিনার ৯ মহাকাশযান এটি আবিষ্কার করে।
- অলিম্পাস মন্স প্রায় ২৭ কিলোমিটার উঁচু ও এর ভিত্তি ৬০০ কিলোমিটারের বেশি চওড়া।
- ধারণা করা হয়, মঙ্গল গ্রহের প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক যুগে, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে অলিম্পাস মন্স গঠিত হয়।
- আগ্নেয়গিরিটি বর্তমানে সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [link]

২৪৬.
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) মূলতঃ তড়িৎ-চুম্বকীয় বর্ণালীর কোন্ অংশে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে?
  1. অবলোহিত অঞ্চল
  2. দৃশ্যমান এবং নিকট-অবলোহিত অঞ্চল
  3. অতিবেগুনী এবং দৃশ্যমান অঞ্চল
  4. এক্স-রে এবং গামা-রে অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
অবলোহিত অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবলোহিত অঞ্চল
ব্যাখ্যা

- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটি (JWST) প্রাথমিকভাবে ইনফ্রারেড বা অবলোহিত আলো সনাক্ত করে যাতে প্রথম ছায়াপথ এবং প্রোটোস্টারের মতো উৎসগুলো পর্যবেক্ষণ করা যায় যা এই তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বিকিরণ করে। যেহেতু ইনফ্রারেড উপগ্রহ পর্যবেক্ষণকে তাপীয় বিকিরণ থেকে রক্ষা করতে হবে , তাই প্রায় ১৫০ বর্গমিটার (১,৬০০ বর্গফুট) আয়তনের একটি সূর্যের ঢাল টেলিস্কোপটিকে রক্ষা করে। যেহেতু JWST কে তার স্থাপন করা অবস্থায় ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত কোনও রকেট নেই , তাই সূর্যের ঢাল এবং আয়না উভয়ই ভাঁজ করা হয়েছিল এবং মহাকাশে উন্মোচিত হয়েছিল

উল্লেখ্য, খ) অপশন আংশিক সত্য, কিন্তু অসম্পূর্ণ—কারণ JWST কেবল দৃশ্যমান+নিকট-অবলোহিত নয়,মিড-অবলোহিতসহ মোটামুটি 0.6–28.8 µm রেঞ্জে কাজ করার জন্য ডিজাইন। NASA স্পষ্টভাবে বলে Webb “optimized for infrared wavelengths”- অর্থাৎ মূল ফোকাস Infrared।
আর Webb-এর একটি প্রধান যন্ত্র MIRI পুরো mid-infrared (~5–28 µm) কভার করে, যা খ) অপশনে বাদ পড়ে যায়। 

Image Source: NASA Website.

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ: 
- জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (ইংরেজি: James Webb Space Telescope বা JWST) মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা, কানাডীয় মহাকাশ সংস্থা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র যা ২৫শে ডিসেম্বর, ২০২১ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়। এটিকে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ-এর উত্তরসূরী হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে।
- বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেস টেলিস্কোপ জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।
- জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের আয়না ৬.৫ মিটার ব্যাসের (২১.৩ ফুট), যা হাবলের আয়নার তুলনায় প্রায় সাত গুণ বড়। আয়না বড় হওয়ার ফলে এটি অনেক বেশি আলো সংগ্রহ করতে সক্ষম, যা দূরবর্তী গ্যালাক্সি ও মহাবিশ্বের প্রাচীনতম ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে।
- টেলিস্কোপটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সরাসরি ঘোরে না, বরং সূর্যকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ কক্ষপথে চলে—লিসাজু (Lissajous) প্যাটার্নে দ্বিতীয় ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্টে (L2)। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার (৯.৩ লক্ষ মাইল) দূরে, পৃথিবীর রাতের দিকের অংশে অবস্থিত।
- ওয়েবের মূল লক্ষ্য হলো ছায়াপথের জন্ম ও বিবর্তন এবং নক্ষত্র ও গ্রহসমূহের সৃষ্টি সংক্রান্ত গবেষণা।
- সবচেয়ে পুরনো ব্ল্যাকহোলের সন্ধান পেয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ।
- সূর্যের চেয়ে ষোলো লক্ষগুণ ভারী এই ব্ল্যাকহোলের বয়স প্রায় মহাবিশ্বের বয়সের কাছাকাছি, যেখানে মহাবিশ্বের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর।
- এই ব্ল্যাকহোলটি নক্ষত্র-অর্থাৎ তারাদের জন্মের বিষয়ে আরো নিখুঁত তথ্য দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
- এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের দুটি ইনফ্রারেড ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন। মিড-ইনফ্রারেড যন্ত্র (MIRI) এবং নিয়ার ইনফ্রারেড ক্যামেরা। 

উৎস: ব্রিটানিকা [লিঙ্ক] ওয়েবসাইট, নাসা ও স্পেস ডট কম ওয়েবসাইট।

২৪৭.
পৃথিবী নিজ অক্ষে কত সময়ে আবর্তন করে? 
  1. ২৩ ঘণ্টা ৬০ মিনিট ৩০ সেকেন্ড
  2. ২৩ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড
  3. ২৩ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ড 
  4. ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

পৃথিবী (Earth): 
- সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হলো 'পৃথিবী'। 
- এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

চন্দ্র (Moon): 
- চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- প্রায় ৩৭.৯ মিলিয়ন বর্গ কি.মি. আয়তন বিশিষ্ট চন্দ্র মোট ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট বা এক চন্দ্র মাসে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। 
- চন্দ্রের নিজস্ব কোনো আলো নাই, সূর্যের আলোকে এটি আলোকিত হয়। 
- এই আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীকে রাতের বেলা আলো দেয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৮.
সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ কোনটি?
  1. মার্কারি
  2. ভেনাস
  3. স্যাটার্ন
  4. নেপচুন
সঠিক উত্তর:
মার্কারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কারি
ব্যাখ্যা
• সৌরজগতে মোট ৮টি গ্রহ রয়েছে।
- এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট গ্রহ বুধ (Mercury)।
- এটি সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ।
- বুধের কোন উপগ্রহ নেই।
- সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি।

• গ্রহগুলো  হলো:
- বুধ (Mercury)
- শুক্র (Venus)
- পৃথিবী (Earth)
- মঙ্গল (Mars)
- বৃহস্পতি (Jupiter)
- শনি (Saturn)
- ইউরেনাস (Uranus)
- নেপচুন (Neptune) I

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়: নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৯.
পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রতি ঘন্টায় প্রায় কত বেগে ঘুরতে থাকে?
  1. ৫৭,০০০ মাইল
  2. ৬১,০০০ মাইল
  3. ৬৩,০০০ মাইল
  4. ৬৭,০০০ মাইল
সঠিক উত্তর:
৬৭,০০০ মাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭,০০০ মাইল
ব্যাখ্যা
পৃথিবী:
- পৃথিবীর সুর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার ।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।
- পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রায় ৬৭,০০০ মাইল (১,০৭,০০০ কিলোমিটার) বেগে প্রতি ঘন্টায় ঘুরতে থাকে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।

উৎস: i) NASA (.gov).
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫০.
পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্ল্যাকহোল ইউনিকর্ন কত আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত?
  1. ১৫০০
  2. ১৬০০
  3. ১৭০০
  4. ১৮০০
সঠিক উত্তর:
১৫০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫০০
ব্যাখ্যা
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পৃথিবীর নিকটতম যে ব্ল্যাকহোল খুঁজে পেয়েছেন, তার নাম ইউনিকর্ণ।
এটি পৃথিবী থেকে মাত্র 1,500 আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
এটি সূর্যের চেয়ে তিনগুণ বেশি বিশাল।

উৎস: www.space.com
২৫১.
পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ কোনটি?
  1. চন্দ্র 
  2. সূর্য 
  3. ডিমোস 
  4. মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চন্দ্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্র 
ব্যাখ্যা

পৃথিবী: 
- 'পৃথিবী' সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি গ্রহ। 
- এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যাস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

চন্দ্র: 
- চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- প্রায় ৩৭.৯ মিলিয়ন বর্গ কি. মি. আয়তন বিশিষ্ট চন্দ্র মোট ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট বা এক চন্দ্র মাসে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। 
- চন্দ্রের নিজস্ব কোনো আলো নাই, সূর্যের আলোকে এটি আলোকিত হয়। 
- এই আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীকে রাতের বেলা আলো দিয়ে থাকে। 

অন্যদিকে, 
- মঙ্গল আলাদা একটি গ্রহ। 
- ডিমোস মঙ্গল গ্রহের একটি উপগ্রহ। 
- সূর্য একটি তারা এবং সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত, এটি কোনো গ্রহের উপগ্রহ নয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫২.
নিচের কোনটি মহাকাশের মধ্যে পড়ে না? 
  1. নক্ষত্র
  2. গ্যালাক্সি
  3. ধূমকেতু
  4. পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল
ব্যাখ্যা
মহাকাশ (Space): 
- আকাশের দিকে তাকালে দূর দূরান্তের অনেক বস্তু দেখা যায়। 
- দিনের আকাশের সূর্য আর রাতের আকাশের গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি চোখে পড়ে। 
- যদি দুরবীক্ষণ দিয়ে আকাশের দিকে দেখা হয়, তখন আরও অনেক কিছু দেখা যায়। যেমন- বৃহস্পতি গ্রহ তার উপগ্রহসহ জ্বলজ্বল করতে থাকে। 
- গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ইত্যাদির মাঝখানে যে খালি জায়গা, তাকে মহাকাশ বা মহাশূন্য বলে। 
- মহাকাশের দিকে তাকালে যেসব বস্তুকে দেখতে পাওয়া যায় তা হলো পদার্থ। 

মহাকাশ বা মহাশূন্যের শুরু যেখান থেকে: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সাথেই মহাকাশে ঘুরছে, এজন্য বায়ুমণ্ডলকে মহাকাশের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না; একে পৃথিবীর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অধিকাংশ বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর বেশ কাছাকাছি। 
- পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব যত বাড়তে থাকে, বায়ুমণ্ডল তত হালকা হতে থাকে এবং ১৬০ কিলোমিটারের পর বায়ুমণ্ডল থাকে না বললেই চলে। 
- অধিকাংশ বিজ্ঞানী মনে করেন যে, পৃথিবী থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু। 
- এক সময় মানুষ ভাবত যে, যত দূর পর্যন্ত সবচেয়ে দূরের বস্তুটি তারা দেখতে পায়, সে পর্যন্তই মহাকাশ বিস্তৃত এবং মহাকাশ বক্রাকৃতির। 
- পরবর্তীতে দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর মানুষ তার দৃষ্টিসীমার বাইরের অনেক গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু ও গ্যালাক্সি দেখতে পাই। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৫৩.
পৃথিবী পৃষ্ঠের দীর্ঘতম কাল্পনিক রেখা কোনটি?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. মেরুরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত।
- নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি।
- নিরক্ষরেখা পৃথিবী পৃষ্ঠের দীর্ঘতম কাল্পনিক রেখা।
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৪.
বিগ ব্যাংগ তত্ত্বের সাথে কোন বিজ্ঞানীর নাম জড়িত? 
  1. জর্জ গ্যামো
  2. নিউটন
  3. মেন্ডেল
  4. গ্যালিলিও
সঠিক উত্তর:
জর্জ গ্যামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ গ্যামো
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হবে, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে। 

- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদুর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 
- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। 
- সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুর বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে, একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। এতে সব মৌলিক বলগুলো একত্রে একীভূত বল হিসেবে ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৫.
সূর্যকিরণ নিরক্ষরেখায় সারাবছর কেমনভাবে পড়ে?
  1. কৌণিকভাবে 
  2. তির্যকভাবে 
  3. লম্বভাবে 
  4. কিছু সময় লম্ব ও কিছু সময় তির্যকভাবে 
সঠিক উত্তর:
লম্বভাবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লম্বভাবে 
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা: 
- সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়। 
- নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। 
- নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। 
- এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

২৫৬.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে-
  1. ৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ড
  2. ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  3. ৭ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  4. ৯ মিনিট ৩২ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট 20 সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

২৫৭.
নিচের কোনটির ভর অধিক?
  1. লাল বামন
  2. সূর্য
  3. পালসার
  4. কৃষ্ণগহ্বর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণগহ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণগহ্বর
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণগহ্বর (Black hole):
যদিও তত্ত্ব অনুযায়ী সব ভরের ব্ল্যাক হোল থাকা সম্ভব, বাস্তবে আমরা চারটি প্রাথমিক ধরণের ব্ল্যাক হোল দেখতে পাই।

১. মিনি ব্ল্যাক হোল (Mini Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৩ গুণের কম।
- অবস্থান: বিরল বা অনুপস্থিত।
- হকিং বিকিরণের কারণে দ্রুত বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- কোনো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় এদের উৎপত্তি দেখা যায়নি।

২. স্টেলার-মাস ব্ল্যাক হোল (Stellar-Mass Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৩ থেকে ৫০ গুণ।
- গঠন: একক নক্ষত্রের মহাকর্ষীয় পতন বা দুটি নিউট্রন তারার সংঘর্ষ।
- এটি নক্ষত্রের মৃত্যুর একটি স্বাভাবিক ফল।

৩. ইন্টারমিডিয়েট ব্ল্যাক হোল (Intermediate Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৫০ থেকে ৫০,০০০ গুণ।
- এই ভর পরিসরে ব্ল্যাক হোলের জন্য কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া নেই।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় সম্ভাব্য অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

৪. সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল (Supermassive Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৫০,০০০ থেকে বিলিয়ন গুণ।
- সাধারণ, প্রতিটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রে বিদ্যমান।
- এটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রের মূল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।

- স্টেলার-মাস ব্ল্যাক হোল এবং সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল সবচেয়ে সাধারণ।

পালসার: 
- পালসার এর ভর সূর্যের ১.১৮ থেকে ১.৯৭ গুণের মধ্যে, তবে বেশিরভাগ পালসারের ভর সূর্যের ১.৩৫ গুণ বেশি ।

লালবামন: 
- সূর্যের প্রায় ০.০৮ থেকে ০.৬ গুণ পর্যন্ত ভর রয়েছে। 

উৎস: Science Questions with Surprising Answers
Britannica.
২৫৮.
ইভেন্ট হরাইজন নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. শ্বেত বামন
  2. লাল বামন
  3. কৃষ্ণগহ্বর
  4. ধুমকেতু
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণগহ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণগহ্বর
ব্যাখ্যা
ইভেন্ট হরাইজন (Event Horizon): 
- ইভেন্ট হরাইজন (Event Horizon) — এটি একটি সীমারেখা যা একটি ব্ল্যাক হোলের (কৃষ্ণগহ্বর) সীমানা নির্দেশ করে।
- এই সীমারেখায় পৌঁছালে পালানোর জন্য যেকোনো বস্তুর গতি আলোর গতির সমান হতে হয়।
- সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ (General Relativity) অনুসারে, আলোর চেয়ে দ্রুত কিছুই চলতে পারে না, তাই ইভেন্ট হরাইজনের ভেতর যে-ই ঢোকে না কেন, তা আর বাইরে বের হতে পারে না—এমনকি আলো-ও নয়।
- তাই এই সীমার ভেতরের কিছুই বাহির থেকে দেখা যায় না বা পর্যবেক্ষণ করা যায় না।
- যদি কোনো বস্তু বা বিকিরণ (radiation) ইভেন্ট হরাইজনের ভেতর উৎপন্ন হয়, তবে তা চিরতরে ব্ল্যাক হোলের মধ্যে আটকে যায়।
- একটি অঘূর্ণনশীল (non-rotating) ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজন একটি গোলাকৃতি সীমানা—এটিকে শোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ (Schwarzschild radius) বলা হয়।
- ঘূর্ণনশীল (rotating) ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রে, এই সীমা কিছুটা বিকৃত বা অসমান হতে পারে।
- ইভেন্ট হরাইজন কোনো কঠিন বা দৃশ্যমান পৃষ্ঠ নয়।
- এটি কেবল একটি গাণিতিকভাবে নির্ধারিত সীমা, যার ভিতরে সবকিছু আটকে যায় এবং কিছুই আর ফিরে আসতে পারে না।

উৎস: Britannica.
২৫৯.
পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থান করছে তার নাম কী?
  1. মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
  2. সৌরজগৎ
  3. আলফা সেন্টোরি
  4. অ্যান্ড্রোমিডা
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্ব (Universe): 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- মহাবিশ্ব যে কত বড় তা কেউ জানে না এবং কেউ জানে না মহাবিশ্বের আকার বা আকৃতি কেমন। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। 
- গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি যেভাবে হয়েছে: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৬০.
বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে কোন গ্যাস সবচেয়ে পরিমাণে পাওয়া যায়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হিলিয়াম
  4. আর্গন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
• বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাস হলো হাইড্রোজেন।
- হাইড্রোজেন গ্যাস মহাবিশ্বের মৌলিক গঠনের প্রায় 75% (ভর) তৈরি করে।
- এটি আমাদের সূর্য সহ নক্ষত্রগুলিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং এটি পারমাণবিক ফিউশন প্রতিক্রিয়াগুলির জন্য প্রাথমিক জ্বালানী উৎস।
- হাইড্রোজেন আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশেও প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত থাকে এবং এটি আণবিক মেঘের একটি মূল উপাদান যেখানে নতুন তারকা গঠি হয়।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে নাইট্রোজেন গ্যাস।
- মহাবিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান হচ্ছে হিলিয়াম।
- হাইড্রোজেন ও হিলিমায় যৌথভাবে মহাবিশ্বের ৯৯.৯% উপাদান গঠন করেছে।
- এই সারিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অক্সিজেন।

উৎস: The University of Texas; LiveScience and Nature Journal.
২৬১.
বুধ গ্রহে প্রাণির অস্তিত্ব নেই কারণ- 
  1. পর্যাপ্ত বায়ুমণ্ডল ও পানি থাকার ফলে 
  2. সূর্য থেকে দূরত্ব অনেক বেশি
  3. তাপমাত্রা অত্যন্ত কম
  4. মাধ্যাকর্ষণ কম, তাই বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না
সঠিক উত্তর:
মাধ্যাকর্ষণ কম, তাই বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধ্যাকর্ষণ কম, তাই বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না
ব্যাখ্যা

বুধ (Mercury): 
- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ। 
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার এবং এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
সুতরাং, বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না। এখানে নেই মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি, সুতরাং প্রাণির অস্তিত্ব নেই
- ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূন্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো।
- ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা এবং এবড়ো-থেবড়ো। এখানে অসংখ্য পাহাড় ও সমতলভূমি আছে।
- বুধের কোনো উপগ্রহ নেই। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬২.
বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ ঘটেছিল প্রায় কত বছর আগে?
  1. ৩৭৫.০ কোটি বছর
  2. ১.৩৭৫ ট্রিলিয়ন বছর
  3. ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর
  4. ১৩.৭৫ মিলিয়ন বছর
সঠিক উত্তর:
১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্ব: 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৬৩.
হ্যালির ধূমকেতু কত বছর পরপর দেখা যায়?
  1. ৭০ বছর
  2. ৭৬ বছর
  3. ৮০ বছর
  4. ৮৬ বছর
সঠিক উত্তর:
৭৬ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৬ বছর
ব্যাখ্যা
হ্যালির ধূমকেতু:
- পরবর্তী হ্যালির ধূমকেতু দেখা যাবে ২০৬২ সালে।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত।
- হ্যালির ধূমকেতু ৭৬ বছর পরপর দেখা যায়।
- ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধুমকেতু সর্বশেষ দেখা গেছে। হ্যালির ধূমকেতু আবার দেখা যাবে ১৯৮৬+৭৬ = ২০৬২ সালে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৪.
কাকে 'ফাদার অব মর্ডান অ্যাস্ট্রোফিজিক্স' বলা হয়?
  1. Angelo Secchi
  2. Carl Sagan
  3. Edwin Hubble
  4. Satyen Sen
সঠিক উত্তর:
Angelo Secchi
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Angelo Secchi
ব্যাখ্যা
• অ্যাঞ্জেলো সেচ্চি(Angelo Secchi):
- তিনি ছিলেন একজন ইতালীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
- যিনি প্রথম তারাদের বর্ণালীবৈশিষ্ট্যের (spectral classification) ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ করার কাজ করেন।
- এটি ছিল আধুনিক জ্যোতির্পদার্থবিদ্যার (Astrophysics) ভিত্তিপ্রস্তর।
- এজন্য তাকে "Father of Modern Astrophysics" বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও স্প্রিনজার আর্টিকেল।
২৬৫.
মধ্যম উচ্চতার মেঘ কোনটি?
  1. সিরাস
  2. নিম্বাস
  3. অল্টোকিউম্যুলাস
  4. স্ট্রেটাস
সঠিক উত্তর:
অল্টোকিউম্যুলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্টোকিউম্যুলাস
ব্যাখ্যা

• উঁচু উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

• মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

• নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

সূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। 

২৬৬.
সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব কত?
  1. ১.৫ কোটি কিলোমিটার
  2. ১৫ কোটি কিলোমিটার
  3. ২.৩ কোটি কিলোমিটার
  4. ২৩ কোটি কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
১৫ কোটি কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ কোটি কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

• পৃথিবী (Earth):
- পৃথিবী আমাদের বাসভূমি।
- এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমন্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি।

২৬৭.
দূর অনুধাবন পদ্ধতি চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৬০ সালে
  2. ১৯৬৪ সালে
  3. ১৯৭০ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা

দূর অনুধাবনের ধারণা: 
- দূর অনুধাবন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Remote Sensing, যার অর্থ হলো দূর থেকে কোনো কিছু দেখার চেষ্টা করা।
- এটি এক ধরনের বিজ্ঞান যা ভূ-পৃষ্ঠে কোনো দৃশ্যমান বস্তু বা প্রপঞ্চ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। 
- দূর অনুধাবন এমন একটি যান্ত্রিক কৌশল (Device) যার মাধ্যমে কোনো লক্ষ্য বস্তু বা প্রপঞ্চের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। 
অর্থাৎ, দূর অনুধাবন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো একটি বস্তু বা প্রপঞ্চকে স্পর্শ না করে দূর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। 
- ১৯৪৬-১৯৫০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে দূর অনুধাবনের কাজ শুরু হয়। এ সময় V-2 রকেটে (Rocket) মহাশূন্যে যাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ছোট ক্যামেরার সাহায্যে রকেট, ব্যালিস্টিক মিসাইল, উপগ্রহ ও মানব বহনকারী মহাশূন্যযান থেকে প্রচুর আলোকচিত্র গ্রহণ করা হয়। 
- সে সময়কার আলোকচিত্র নিম্নমানের হলেও দূর অনুধাবন পদ্ধতির সম্ভাবনার সূচনা তৈরি করেছিল। 
- ১৯৬০ সালে দূর অনুধাবন পদ্ধতি চালু হয়। সত্তরের দশকে তা উন্নতি লাভ করে এবং পরবর্তীতে তা আরও বিকশিত হতে থাকে। 
- দূর অনুধাবনের কতকগুলো উপাদান রয়েছে। নিম্নে এগুলো উল্লেখ করা হলো- 
১. শক্তির উৎস, 
২. রেডিয়েশন এবং বায়ুমণ্ডল, 
৩. লক্ষ্যবস্তুর সাথে মিথষ্ক্রিয়া, 
৪. সেন্সর দ্বারা শক্তির রেকর্ড, 
৫. ট্রান্সমিশন, রিসিপসন এবং প্রসেসিং, 
৬. ইন্টার প্রিটেশন এবং বিশ্লেষণ এবং 
৭. এপ্লিকেশন। 

দূর অনুধাবনের সুবিধা-অসুবিধা: 
- দূর অনুধাবনের সুবিধা-অসুবিধাগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো- 
সুবিধা: 
১. দূর অনুধাবনের ব্যবহারিক দিক খুব বিস্তৃত। 
২. এর সাহায্যে সংগৃহীত তথ্যাবলী দ্বারা সহজেই মানচিত্র অঙ্কন করা যায়। 
৩. এটি প্রযুক্তিভিত্তিক পদ্ধতি হওয়ায় নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। 
৪. এটি একটি একক ইমেজ (Image) যা থেকে অনেকগুলো তথ্য সংগ্রহ করা যায়। 
৫. দূরবর্তী বস্তু বা প্রপঞ্চ থেকে সহজেই তথ্য পাওয়া যায়। 
৬. দূর অনুধাবন চিত্র স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংগঠিত হয় বলে তা দিন-রাত্রি সবসময় সংগ্রহ করা যায়। 
৭. দূর অনুধাবন কৌশলের মাধ্যমে পৃথিবী পৃষ্ঠের পদার্থ যত সূক্ষ্ম হোক না কেন তা স্বতন্ত্রভাবে দেখা যায়। 

অসুবিধা: 
১. দূর অনুধাবনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ খুব ব্যয়বহুল। 
২. তথ্য বিশ্লেষণের জন্য এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। 
৩. যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পারস্পরিক ক্রিয়ার সঠিক ফলাফল নাও দিতে পারে। 
৪. শুধুমাত্র ভূ-পৃষ্ঠের তথ্যাদি পাওয়া যায়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৮.
মঙ্গলের উপগ্রহ কোনটি?
  1. ইউরোপা
  2. ক্যালিস্টো
  3. হাইপেরিয়ন
  4. ফোবোস
সঠিক উত্তর:
ফোবোস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোবোস
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):
- সূর্য থেকে মঙ্গলের গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার।
- সূর্যের চতুদিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে মঙ্গলের সময় লাগে প্রায় ৬৮৭ দিন।
- ডিমোস এবং ফোবোস নামক মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ রয়েছে।
- বৃত্তাকার কক্ষপথে ডিমোস প্রতি ৩০ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড এবং ফোবস ৭ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে মঙ্গলকে একবার আবর্তন করে।
- মঙ্গলে রয়েছে সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি নিকস অলিম্পিকা।
- মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, আর্গন প্রভৃতি গ্যাস রয়েছে। মঙ্গলের আকাশ নীল, মাটি লাল ও শুষ্ক । মঙ্গলের তাপমাত্রা ২০" সেলসিয়াস এর অধিক হয় না। তাপমাত্রা রাতে হিমাছের বহু নিচে নেমে যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৯.
‘টিওআই ১৮৪৬ বি (TOI-1846 b)’ কী? [জুলাই, ২০২৫]
  1. যুদ্ধ জাহাজ
  2. ব্যালিস্টিক মিসাইল
  3. আবিষ্কৃত নতুন গ্রহ
  4. আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
আবিষ্কৃত নতুন গ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবিষ্কৃত নতুন গ্রহ
ব্যাখ্যা
টিওআই ১৮৪৬ বি:
- ‘টিওআই ১৮৪৬ বি’ নামে পৃথিবীর মতো বড় আকারে গ্রহ (সুপার আর্থ) আবিষ্কার করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।
- পৃথিবী থেকে ১৫৪ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত গ্রহটি থেকে রহস্যময় আলোর সংকেতও শনাক্ত করেছেন তাঁরা।
- বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নাসার টেস স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গ্রহটি শনাক্ত করা হয়েছে।
- আকার ও গ্রহের বৈশিষ্ট্যের কারণে গ্রহটিকে পৃথিবী ও নেপচুনের মতো বৃহত্তর গ্যাসসমৃদ্ধ গ্রহের মধ্যবর্তী স্থানে রাখা হয়েছে।
- বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ‘টিওআই ১৮৪৬ বি’ গ্রহের হোস্ট নক্ষত্র একটি লাল বামনকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
- বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন তথ্য জানা যাবে।
- ফলে গ্রহটিতে থাকা জলীয় বাষ্প, মিথেন, কার্বন ডাই–অক্সাইড বা অন্যান্য গ্যাসের লক্ষণ বা পরিমাণ শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [Link]
২৭০.
নাসার চাঁদে প্রেরণকৃত প্রথম বাণিজ্যিক নভোযানের নাম কী? [জানুয়ারি,২০২৫]
  1. ব্লু ঘোস্ট
  2. চন্দ্রযান-৩
  3. স্পেসশিপ ২
  4. অ্যাপোলো ১১
সঠিক উত্তর:
ব্লু ঘোস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্লু ঘোস্ট
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
-----------------
নাসার বাণিজ্যিক নভোযান: 
- নাসার চাঁদে প্রেরণকৃত প্রথম বাণিজ্যিক নভোযানের নাম "ল্যান্ডার ব্লু ঘোস্ট"।
- এটি ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেস দ্বারা তৈরি এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উৎক্ষেপণ করা হয়।
- এটি নাসার CLPS প্রকল্পের অংশ হিসেবে চাঁদের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে।
- উৎক্ষেপণ স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটে হবে এবং কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শুরু হবে।
- মিশনটি ৪৫ দিন পর চাঁদে অবতরণ করবে এবং ১০টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা করবে।
- গবেষণাগুলি চাঁদের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে।
- মিশনটি চন্দ্র ভূপৃষ্ঠে ড্রিলিং, স্যাম্পল কালেকশন এবং চন্দ্র ধুলা নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করবে।

তথ্যসূত্র: নাসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২৭১.
পৃথিবী কোন দিক থেকে কোন দিকে আবর্তন করে?
  1. পশ্চিম থেকে পূর্ব
  2. পূর্ব থেকে পশ্চিম
  3. উত্তর থেকে দক্ষিণ
  4. দক্ষিণ থেকে উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম থেকে পূর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম থেকে পূর্ব
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আবর্তন:
- পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে দিনে একবার নির্দিষ্ট গতিতে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে। 
​- পৃথিবীর এই আবর্তন গতিই দৈনিক গতি বা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত। 
​- নিজ অক্ষের চারদিকে আবর্তন করতে পৃথিবীর সময় লাগে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ এক দিন। এটিকে সৌর দিন বলে।

⇒ পৃথিবীর আহ্নিক গতি একেক জায়গায় একেক রকম হয়।
- পৃথিবীপৃষ্ঠ পুরোপুরি গোল না হওয়ায় এর পৃষ্ঠ সর্বত্র সমান নয়।
- সে কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠের সব স্থানের আবর্তন বেগও সমান নয়।
- নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি।
- এ জন্য নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আবর্তনের বেগও সবচেয়ে বেশি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭২.
‘এনডব্লিউএ ১৫৯১৫ (NWA 15915)’ কী?
  1. অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান
  2. বিরল উল্কাপিণ্ড
  3. সামরিক গোয়েন্দা ড্রোন
  4. দুর্লভ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী
সঠিক উত্তর:
বিরল উল্কাপিণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরল উল্কাপিণ্ড
ব্যাখ্যা
‘এনডব্লিউএ ১৫৯১৫':
- বিরল উল্কাপিণ্ডটির পুরো নাম নর্থওয়েস্ট আফ্রিকা ১৫৯১৫।
- উল্কাপিণ্ডটি পাথুরে অ্যাকনড্রাইট দিয়ে তৈরি, যা অন্য কোনো উল্কাপিণ্ড বা গ্রহের মধ্যে দেখা যায়নি।
- ২০২৩ সালে আলজেরিয়ায় আবিষ্কৃত উল্কাপিণ্ডটির বিভিন্ন উপাদান বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২.৮৪ কিলোগ্রাম ওজনের এই শিলা সম্ভবত অন্য কোনো গ্রহের অংশ ছিল। 
- বিজ্ঞানীদের ধারণা, এনডব্লিউএ ১৫৯১৫ নামের উল্কাপিণ্ডটি সম্ভবত বুধ গ্রহের মতো অন্য কোনো গ্রহ থেকে এসেছে।
- এই বিরল উল্কাপিণ্ডটি সৌরজগতের প্রাথমিক সময়কার বিশৃঙ্খল অবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]
২৭৩.
শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডল প্রধানত কোন গ্যাস দ্বারা গঠিত? 
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড 
  3. অক্সিজেন 
  4. হিলিয়াম 
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড 
ব্যাখ্যা

শুক্র (Venus): 
- বুধের মতো শুক্র গ্রহকেও ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়। 
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়। কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই একে ভুল করে তারা বলা হয়। 
- শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা, তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না। 
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইডের তৈরি
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ। 
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার। 
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না, এখানে বৃষ্টি হয় তবে এসিড বৃষ্টি। 
- শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার। 
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন। সুতরাং শুক্রে ২২৫ দিনে এক বছর। 
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই। 
- সকল গ্রহ এদের নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে পাক খেলেও একমাত্র শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭৪.
ধ্রুবতারা সাধারণত দেখা যায়-
  1. পূর্ব গোলার্ধ
  2. পশ্চিম গোলার্ধ
  3. উত্তর গোলার্ধ
  4. দক্ষিণ গোলার্ধ
সঠিক উত্তর:
উত্তর গোলার্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর গোলার্ধ
ব্যাখ্যা
• ধ্রুবতারা (Polaris):
- Ursa Minor (Little Bear) নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত।
- এটি উত্তর গোলার্ধে দেখা যায়।
- এটি পৃথিবীর উত্তর মেরুর ঠিক উপরে অবস্থান করার কারণে স্থির মনে হয় এবং এটি উত্তর দিক নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়।
- ধ্রুবতারা প্রাচীনকাল থেকে নাবিক এবং অভিযাত্রীদের দিক নির্ধারণে সাহায্য করে আসছে।
- এর দিকে তাকিয়ে থাকা মানে আপনার ডানে পূর্ব, বাঁয়ে পশ্চিম আর পেছনে দক্ষিণ।
- এটি সারা বছর উত্তর গোলার্ধে দেখা যায় এবং বিশেষভাবে গ্রীষ্মকালে এটি সবচেয়ে ভালোভাবে দৃশ্যমান হয়​।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২৭৫.
সূর্য থেকে দূরত্বের ক্রমানুসারে তৃতীয় গ্রহ কোনটি?
  1. বুধ
  2. শুক্র
  3. পৃথিবী
  4. মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী
ব্যাখ্যা

• বুধ–শুক্র–পৃথিবী এই ক্রমে গ্রহগুলো অবস্থিত।

• প্রাকৃতিক গ্রহ ও উপগ্রহ:

- আমরা যে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথে বাস করি, তার নাম আকাশগঙ্গা (Milky Way)।
- এই ছায়াপথে আমাদের সূর্য ও তার পরিবার অবস্থিত, যাকে সৌরজগৎ বলা হয়।

• সৌরজগৎ:

- সৌরজগতের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে সূর্য।
- সূর্যের চারদিকে আবর্তনশীল মোট ৮টি গ্রহ রয়েছে।
- গ্রহগুলো সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে।

- সূর্য থেকে দূরত্বের ক্রমানুসারে গ্রহগুলো হলো—

- বুধ,
- শুক্র,
- পৃথিবী,
- মঙ্গল,
- বৃহস্পতি,
- শনি,
- ইউরেনাস,
- নেপচুন।
 
• গ্রহ (Planet):

- যেসব বৃহৎ বস্তু সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে, সেগুলোকে গ্রহ বলা হয়।
- গ্রহগুলো নিজস্ব আলো উৎপন্ন করতে পারে না; তারা সূর্যের আলো প্রতিফলন করে।

 
• উপগ্রহ (Satellite):

- যে বস্তু কোনো গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে, তাকে সেই গ্রহের উপগ্রহ বলা হয়।

উদাহরণ—

- চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ।
- সুতরাং, পৃথিবী সূর্যের একটি গ্রহ এবং চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ।
 
• গ্রহ ও উপগ্রহের গতি:

- গ্রহ সূর্যের চারদিকে এবং উপগ্রহ গ্রহের চারদিকে ঘোরে।
- এই গতির ফলেই দিন-রাত, মাস ও বছর নির্ধারিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

২৭৬.
মহাবিশ্বের উৎপত্তি সংক্রান্ত প্রধান তত্ত্বটি কী?
  1. বিগব্যাং তত্ত্ব
  2. ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব
  3. আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. নিউটনের গতি সূত্রীয় তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বিগব্যাং তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিগব্যাং তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের উৎপত্তি বোঝানোর প্রধান তত্ত্ব হলো বিগব্যাং তত্ত্ব। এই তত্ত্ব অনুসারে, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব অত্যন্ত ঘন ও উত্তপ্ত অবস্থায় সংকুচিত ছিল। এক মুহূর্তে এটি একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে সম্প্রসারিত হতে শুরু করে, যা থেকে সময়, স্থান ও পদার্থের সৃষ্টি হয়। বিগব্যাং তত্ত্বের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ, কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন এবং গ্যালাক্সি গঠনের প্রমাণগুলি ব্যাখ্যা করা যায়। তাই মহাবিশ্বের উৎপত্তি বোঝার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব।

- সঠিক উত্তর: ক) বিগব্যাং তত্ত্ব।

মহাবিশ্ব: 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২৭৭.
পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র হিসেবে কোনটি পরিচিত?
  1. সূর্য
  2. সিরিয়াস
  3. প্রক্সিমা সেন্টরা
  4. আলফা সেন্টরা
সঠিক উত্তর:
সূর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য
ব্যাখ্যা

◉ পৃথিবীর একেবারে নিকটতম নক্ষত্র হলো সূর্য। এর গড় দূরত্ব পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার (1 Astronomical Unit, AU)।

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। 
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। 
- খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। 
- এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। 

- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে, কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। 
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। 
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭৮.
সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কত (প্রায়)? 
  1. ১০০০° সেলসিয়াস
  2. ৬০০০° সেলসিয়াস
  3. ৩৬০০০° সেলসিয়াস
  4. ৬০০০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৬০০০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭৯.
সৌরজগতের প্রাচীনতম গ্রহ কোনটি?
  1. শনি
  2. বুধ
  3. বৃহস্পতি 
  4. মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
বৃহস্পতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃহস্পতি 
ব্যাখ্যা

• বৃহস্পতি :
- রোমান পুরাণে দেবতাদের রাজা বৃহস্পতির নামে গ্রহের রাজার নামকরণ করা হয়েছিল।
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় এবং প্রাচীনতম গ্রহ।
- এটি সবচেয়ে প্রাচীন গ্রহ, যা ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে সূর্যের সৃষ্টির সময় অবশিষ্ট ধুলো এবং গ্যাস থেকে তৈরি হয়েছিল।
- বৃহস্পতির গঠন সূর্যের মতোই - বেশিরভাগ হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম। 
- এটি তার অক্ষের উপর একবার ঘুরতে প্রায় ৯.৯ ঘন্টা সময় নেয়।
- ৪৮৪ মিলিয়ন মাইল (৭৭৮ মিলিয়ন কিলোমিটার) গড় দূরত্ব থেকে, বৃহস্পতি গ্রহ সূর্য থেকে ৫.২ জ্যোতির্বিদ্যাগত একক দূরে।
- বৃহস্পতির ৯৫টি উপগ্রহ রয়েছে যা আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত। 
- বৃহস্পতি সূর্যের চারপাশে একটি সম্পূর্ণ কক্ষপথ (জোভিয়ান সময়ের এক বছর) প্রায় ১২ পৃথিবী বছরে (৪,৩৩৩ পৃথিবী দিন) পূর্ণ করে।

উৎস: NASA.

২৮০.
জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ কোন ধরনের রেডিয়েশন ব্যবহার করে?
  1. Ultra-violet
  2. Infrared
  3. Visible
  4. X-ray
সঠিক উত্তর:
Infrared
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Infrared
ব্যাখ্যা
• জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ Infrared রেডিয়েশন ব্যবহার করে। 
 
জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ: 
- বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচাইতে শক্তিশালী টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের একটি হচ্ছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। 
- নাসার দূরবীক্ষণ যন্ত্র জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি বা জুপিটারের কিছু বিস্ময়কর ছবি তুলেছে। 
- এসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বৃহস্পতি গ্রহের অরোরা বা বর্ণচ্ছটা, দানবীয় ঝড়, বৃহস্পতির চাঁদ এবং গ্রহটিকে ঘিরে থাকা বলয়। 
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ একটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ অভিযান প্রকল্প।
- মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার নেতৃত্বে এটির অন্যান্য অংশীদার হচ্ছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি। 
- এটা ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে উৎক্ষেপণ করা হয়।
- এটি এখন পৃথিবী থেকে ১৬ লাখ (ষোল লাখ) কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে। 
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রঙিন ছবি প্রকাশ করা হয় ২০২২ সালের ১২ই জুলাই। 
- বলা হয় এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তারিত "অবলোহিত (ইনফ্রারেড)" চিত্র এটি যাতে এমন সব ছায়াপথ দেখা যাচ্ছে, যেখান থেকে পৃথিবী পর্যন্ত আলো পৌঁছাতে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর সময় লাগে। 
- তখন থেকেই মহাবিশ্বের নিত্যনতুন দৃশ্য দেখে আসছে হাবল টেলিস্কোপের এই উত্তরসূরী। 
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে তোলা এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ক্যারিনা নেবুলা নিহারীকার নক্ষত্রপুঞ্জ এবং কিছু তারকা। 
- ক্যারিনা নেবুলা মহাকাশের বৃহত্তম এবং উজ্জ্বলতম নিহারীকাগুলোর একটি। 
- এটির অবস্থান পৃথিবী থেকে কম বেশি ৭ হাজার ৬শ আলোকবর্ষ দূরে। 

উৎস: NASA [লিঙ্ক], BBC NEWS বাংলা, ২৪ আগস্ট, ২০২২ [লিঙ্ক] এবং ব্রিটানিকা। 
২৮১.
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে পৃথিবীর অবস্থান কোথায়?
  1. সেগিতারিয়াস বাহু
  2. ওরিয়ন-সিগনাস বাহু
  3. পারসেউস বাহু
  4. কারিনা বাহু
সঠিক উত্তর:
ওরিয়ন-সিগনাস বাহু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরিয়ন-সিগনাস বাহু
ব্যাখ্যা

• পৃথিবী (Earth):
- পৃথিবী আমাদের বাসভূমি।
- এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
- পৃথিবী মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি এর ওরিয়ন-সিগনাস বাহুতে অবস্থিত, যা মিল্কিওয়ের চারটি সর্পিল বাহুর মধ্যে একটি , যা গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দূরে অবস্থিত।
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমন্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।

উৎস: NASA, ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

২৮২.
স্টারশিপ রকেটের জন্য কোন মহাকাশ কোম্পানি প্রথমবারের মত "capture on return" মাইলফলক অর্জন করেছে?
  1. NASA
  2. Blue Origin
  3. Virgin Galactic
  4. SpaceX
সঠিক উত্তর:
SpaceX
উত্তর
সঠিক উত্তর:
SpaceX
ব্যাখ্যা
১. SpaceX:
- এটি ইলন মাস্ক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানি।
- সম্প্রতি (অক্টোবর, ২০২৪) স্টারশিপ রকেটের একটি অংশ সফলভাবে তার লঞ্চ প্যাডে ফেরার সময় ধরা পড়েছে, যা একটি নতুন মাইলফলক।

২. NASA:
- যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মহাকাশ সংস্থা, কিন্তু তাদের স্টারশিপ রকেটের সাথে সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- তারা বিভিন্ন মহাকাশ মিশনে কাজ করে, কিন্তু এই বিশেষ মাইলফলকে নেই।

৩. Blue Origin:
- জেফ বেজোস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি মহাকাশ কোম্পানি, যা রকেট উৎক্ষেপণ এবং মহাকাশ পর্যটন নিয়ে কাজ করে।
- তারা এই মাইলফলক অর্জন করেনি, বরং তাদের নিজস্ব প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।

৪. Virgin Galactic:
- রিচার্ড ব্র্যানসনের প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানি, যা মহাকাশ পর্যটন নিয়ে কাজ করছে।
- তাদের লক্ষ্য মহাকাশে পর্যটন সেবা প্রদান করা, কিন্তু তারা স্টারশিপ রকেটের সাথে সম্পর্কিত নয়।

সারসংক্ষেপ:
- SpaceX একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে যেখানে তাদের স্টারশিপ রকেটের একটি অংশ সফলভাবে লঞ্চ প্যাডে ফেরার সময় ধরা পড়ে। অন্যান্য কোম্পানিগুলি এই অর্জনে ভূমিকা রাখেনি।

সূত্র: BBC [লিংক]
২৮৩.
‘পার্কার সোলার প্রোব’ কী?
  1. নৌযান
  2. মহাকাশযান
  3. নতুন আবিষ্কৃত গ্রহ
  4. নতুন আবিষ্কৃত উপগ্রহ
সঠিক উত্তর:
মহাকাশযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকাশযান
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
--------------------
→ ‘পার্কার সোলার প্রোব’ এক প্রকার মহাকাশযান।


পার্কার সোলার প্রোব:
- মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার তৈরি ‘পার্কার সোলার প্রোব’ নামের এই মহাকাশযান সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
- ২০১৮ সালে সৌরজগতের কেন্দ্রভাগ লক্ষ্য করে মহাকাশযানটি ওড়ানো হয়।
- এটি ঘণ্টায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মাইল গতিতে চলতে পারে।
- ইতিমধ্যে এটি ২১ বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় এর আরও নিকটবর্তী হয়েছে।
- ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪, নাসার মহাকাশযান ‘পার্কার সোলার প্রোব’ সফলভাবে সূর্যের কাছে পৌঁছেছে, যা পূর্বে কোনো মহাকাশযান করতে পারেনি।
- প্রোবটি সূর্যের প্রায় ৩৮ লাখ মাইল কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
- এটি গত ২৪ ডিসেম্বর সূর্যের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং ৯৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করেছে।
- মহাকাশযানটি সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর একটি আলোক সংকেত পাঠিয়েছে, যা তার নিরাপত্তা ও কার্যক্রমের সাফল্যের সংকেত।
- ১ জানুয়ারি ২০২৫-এ এটি সূর্যের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পাঠাবে।
- এর মাধ্যমে সূর্যের চারপাশের অতি উত্তপ্ত অঞ্চল এবং সৌরবায়ুর উৎস সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা যাবে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক]
২৮৪.
ইউরেনাস সম্পর্কিত কোন তথ্যটি ভুল?
  1. সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ
  2. একে সবুজ গ্রহ বলা হয়
  3. সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ
  4. এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস আছে
সঠিক উত্তর:
সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ
ব্যাখ্যা
• ইউরেনাস:
- ইউরেনাস একটি অত্যন্ত ঠান্ডা এবং শীতল গ্রহ।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।

• বুধ হলো সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২৮৫.
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কিত হাবলের সূত্র কী ব্যাখ্যা করে? 
  1. মহাবিশ্ব সংকুচিত হচ্ছে
  2. মহাবিশ্ব স্থির এবং অপরিবর্তনীয়
  3. গ্যালাক্সিগুলো পরস্পরের দিকে ধাবিত হচ্ছে
  4. গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে
সঠিক উত্তর:
গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ: 
- ১৯২০ সালে বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল (Edwin Hubble) তার 2.5 m টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করলেন যে, গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। 
- দূরবর্তী গ্যালাক্সি এর নক্ষত্র থেকে আসা আলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, নক্ষত্রের বর্ণালীর ফ্রনহকার কালো রেখাগুলো ধীরে ধীরে লাল বর্ণের দিকে সরে যাচ্ছে। 
- ডপলার ক্রিয়ার মাধ্যমে এ থেকে সিদ্ধান্ত আসা যায় যে, দূরবর্তী গ্যালাক্সি বা গ্যালাক্সিগুচ্ছ আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। 
- ১৯২৯ সালে হাবল তাঁর দীর্ঘ নয় বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। 
- তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত। 
- হাবলের সূত্রনুসারে- 'গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্রতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি পরষ্পর হতে দূরে সরে যাওয়ার বেগও ততো বেশি'। 

- হাবল প্যারামিটার এর গ্রহণযোগ্য মান ব্যবহার করে মহাবিশ্বের বয়স 14×109 y বা ১৪০০ কোটি বছর নির্ণয় করতে পারে। 
- আবার pc বা পারসেক (parsec) হচ্ছে মহাবৈশ্বিক দূরত্ব পরিমাপের একক। 
- সূর্য বা পৃথিবীর মধ্যকার গড় দূরত্বকে এক অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল ইউনিট (AU) বলে। 
• 1 AU = 1.495×108 km. 
- 1 AU দৈর্ঘ্যের কোনো চাপ (arc) যে দূরত্বে ঠিক এক সেকেন্ডে কোণ উৎপন্ন করে সেই দূরত্বকে 1 pc বা এক পারসেক বলে। 
• 1 pc = 3.261 y = 3.0857×1013 km বা Mpc (mega parsec) = 106 pc = 3.0857×1019 km. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৬.
আকাশে উজ্জ্বলতম তারা কোনটি?
  1. প্রক্সিমা সেন্টারাই
  2. লুব্ধক
  3. পলিক্স
  4. ডিমোস
সঠিক উত্তর:
লুব্ধক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুব্ধক
ব্যাখ্যা

• লুব্ধক (Sirius):
- লুব্ধক (Sirius) হল রাত্রিকালীন আকাশে দৃশ্যমান সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা।
- এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৮.৬ আলোকবর্ষ দূরে।
- লুব্ধক আসলে একটি যুগল তারকা (binary star system), যেখানে Sirius A ও Sirius B নামে দুটি তারা রয়েছে।

অন্যদিকে,
- প্রক্সিমা সেন্টারাই পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র।
- (প্রক্সিমা সেন্টরাই (Proxima Centauri) হল পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র, যদি আমরা সূর্যকে গণনার বাইরে রাখি।)

- ডিমোস মঙ্গল গ্রহের একটি উপগ্রহ।
- পলিক্স এটি Gemini তারামণ্ডলের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৮৭.
'কৃষ্ণ গহ্বর' আবিষ্কার করেন-
  1. লেমেটার
  2. আইনস্টাইন
  3. জন হুইলার
  4. স্টিফেন হকিং
সঠিক উত্তর:
জন হুইলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন হুইলার
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- বৃহদাকার নক্ষত্রের মৃত্যুতে একটি ব্ল্যাক হোল তৈরি হতে পারে। 
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
- ব্ল্যাক হোল থেকে এমনকি আলোও বের হতে পারেনা।
- ব্ল্যাক হোলের কেন্দ্রে সিঙ্গুলারিটি প্রচণ্ড তাপ সৃষ্টি করে, যা থেকে অতি উজ্জ্বল বিকিরণ ছড়ায়।
- ব্ল্যাক হোলের গঠনের বিশদ বিবরণ আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব থেকে গণনা করা হয়।


ছবির উৎস: ব্রিটানিকা 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বিবিসি বাংলা। 
২৮৮.
মহাবিশ্বের অর্ধেক কণা কোন বাঙালি বিজ্ঞানীর নামে?
  1. Subrahmanyan Chandrasekhar
  2. Jagadish Chandra Bose
  3. Homi Bhabha
  4. Satyendra Nath Bose
সঠিক উত্তর:
Satyendra Nath Bose
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Satyendra Nath Bose
ব্যাখ্যা
• মহাবিশ্বে মৌলিক কণাগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়: ফার্মিয়ন এবং বোসন।
- "বোসন" নামটি এসেছে সত্যেন্দ্র নাথ বোসের নাম থেকে।
- বোসন কণাগুলো ফোর্স ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে এবং এগুলোর ধর্ম বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান দিয়ে বর্ণিত।
- তাই সত্যেন্দ্র নাথ বোস মহাবিশ্বের অর্ধেক কণার নামের ভিত্তি।

অপশন আলোচনা:
ক) Subrahmanyan Chandrasekhar
- এই বিজ্ঞানী বিখ্যাত তাঁর চন্দ্রশেখর সীমা (Chandrasekhar Limit) সংক্রান্ত গবেষণার জন্য, যা তারার পতন এবং কৃষ্ণগহ্বরের গঠন নিয়ে কাজ করে।
- তবে তাঁর নামের সাথে মহাবিশ্বের অর্ধেক কণার কোনো সংযোগ নেই।

খ) Jagadish Chandra Bose
- জগদীশ চন্দ্র বসু বিখ্যাত তাঁর উদ্ভিদ বিজ্ঞানের গবেষণা এবং রেডিও প্রযুক্তির অগ্রদূত হিসেবে।
- কিন্তু তাঁর নাম মহাবিশ্বের কণার কোনো শ্রেণির সঙ্গে যুক্ত নয়।

গ) Homi Bhabha
- হোমি ভাবা ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির জনক হিসেবে পরিচিত।
- তবে মহাবিশ্বের কণার নাম তাঁর নামে নয়।

ঘ) Satyendra Nath Bose
- সত্যেন্দ্র নাথ বোস কোয়ান্টাম মেকানিক্সে তাঁর অবদানের জন্য বিখ্যাত।
- তাঁর নাম থেকেই "বোসন" কণার নামকরণ করা হয়েছে।
- বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান এবং বোসন কণাগুলো মহাবিশ্বের অর্ধেক কণার শ্রেণি হিসেবে পরিচিত।
২৮৯.
ছায়াপথ (Milky Way) কী? 
  1. একটি গ্রহ
  2. একটি নীহারিকা
  3. একটি গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশ
  4. একটি ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
একটি গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশ
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু (Comet): 
- মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে। এদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে। এসব জ্যোতিষ্ককে ধূমকেতু বলে। 
- ধূমকেতু আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিষ্ক। 
- সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বসবাস হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উদয় হয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। সূর্যের চারদিকে অনেক দূর দিয়ে এরা পরিক্রমণ করে। সূর্যের নিকটবর্তী হলে এদের দেখা যায়। এরা সূর্যের যত কাছাকাছি আসতে থাকে তত এদের লেজ লম্বা হতে থাকে। 
- অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে বলে এরা অনেক বছর পর পর আবির্ভূত হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত। 
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছরে একবার দেখা যায়। হ্যালির ধূমকেতু ২৪০ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে। 

ছায়াপথ (Milky Way): 
- কোনো একটি গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশকে ছায়াপথ বা আকাশ গঙ্গা বলে। 
- অন্ধকার আকাশে এদের উজ্জ্বল দীপ্তি দীর্ঘপথের মতো দেখায়। একটি ছায়াপথ লক্ষ কোটি নক্ষত্রের সমষ্টি। 
- শীতকালে রাত্রিবেলা পরিষ্কার আকাশে লক্ষ করলে উত্তর-দক্ষিণে বেশ বড় পরিসরযুক্ত তেজোদ্দীপ্ত স্বচ্ছ দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যায়। তারকা খচিত এই আলোর পথই হলো ছায়াপথ। 
- বিজ্ঞানীরা একে বিরাট চক্রাকার মণ্ডল বলে অনুমান করেন। সৌরজগৎ এরকম একটি ছায়াপথের অন্তর্গত। 

নীহারিকা (Nebula): 
- নীহারিকা হলো মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ। এদের আকার বিচিত্র। কিছু নীহারিকার দেহ গ্যাসীয় পদার্থে পূর্ণ। এদেরকে গ্যাসীয় নীহারিকা বলে। এক একটি নীহারিকার মধ্যবর্তী দূরত্ব ব্যাপক। 
- এক একটি নীহারিকার মাঝে কোটি কোটি নক্ষত্র থাকতে পারে। এরা যেহেতু পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোক বর্ষ দূরে রয়েছে, তাই এদের মাঝে যেসব নক্ষত্র রয়েছে তাদের পৃথকভাবে শনাক্ত করা যায় না। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯০.
মঙ্গল গ্রহের আকার পৃথিবীর প্রায়-
  1. এক তৃতীয়াংশ
  2.  অর্ধেক
  3. দ্বিগুণ
  4. সমান
সঠিক উত্তর:
 অর্ধেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 অর্ধেক
ব্যাখ্যা

• মঙ্গল (Mars):
- মঙ্গল গ্রহ সৌরজগতের সবচেয়ে অন্বেষণযোগ্য বস্তুগুলির মধ্যে একটি।
- প্রাচীন রোমানরা তাদের যুদ্ধের দেবতার নামানুসারে মঙ্গল গ্রহের নামকরণ করেছিল
- এটিকে প্রায়শই "লাল গ্রহ" বলা হয় কারণ মঙ্গল গ্রহের মাটিতে থাকা লোহার খনিজগুলি জারিত হয় বা মরিচা পড়ে, যার ফলে পৃষ্ঠটি লাল দেখায়।
- মঙ্গল গ্রহ সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করার সময়, প্রতি ২৪.৬ ঘন্টা অন্তর একটি আবর্তন সম্পন্ন করে
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং আকার পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: NASA.

২৯১.
উপগ্রহের সংখ্যার দিক থেকে কোন গ্রহ শীর্ষে?
  1. মঙ্গলের
  2. বৃহস্পতির
  3. নেপচুনের
  4. বুধের
  5. শনির
সঠিক উত্তর:
শনির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শনির
ব্যাখ্যা

• উপগ্রহের সংখ্যার দিক থেকে শনির শীর্ষে অবস্থান। আমাদের সৌরজগতে প্রতিটি গ্রহের নিজস্ব উপগ্রহ বা চাঁদ রয়েছে। তবে উপগ্রহের সংখ্যা অনুযায়ী পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। মঙ্গল এবং পৃথিবীর মতো গ্রহের কয়েকটি মাত্র উপগ্রহ আছে, যেমন মঙ্গলের দুইটি ছোট চাঁদ। বৃহস্পতির বহু উপগ্রহ রয়েছে, তবে শনির উপগ্রহের সংখ্যা বৃহস্পতির চেয়ে বেশি। শনির বৃহৎ এবং সুপরিচিত রিং সিস্টেমের পাশাপাশি অনেক ছোট ও বড় চাঁদ রয়েছে। নেপচুনেরও কয়েকটি উপগ্রহ আছে, কিন্তু শনির উপগ্রহের তুলনায় তা কম। সুতরাং, উপগ্রহের সংখ্যার দিক থেকে শনিই শীর্ষে।

গ্রহ: 
- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি।
- মঙ্গলের উপগ্রহ দুইটি (ফোবস ও ডিমোস)।
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ শনির।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপগ্রহ বৃহস্পতির।
- ইউরেনাসকে সবুজগ্রহ বলা হয়। 
- বুধকে ক্ষুদ্রগ্রহ বলা হয়। 
- মঙ্গলকে লালগ্রহ বলা হয়। 
- বৃহস্পতিকে গ্রহরাজ বলা হয়। 
- পৃথিবীর উপগ্রহ ১টি (চাঁদ)। 
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ রয়েছে শনি গ্রহের। 
- শনি গ্রহের উপগ্রহের্ সংখ্যা  ৮৩টি। 
- বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৮০টি।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

২৯২.
আমব্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন কোন গ্রহের উপগ্রহ?
  1. মঙ্গল
  2. ইউরেনাস
  3. শনি
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ইউরেনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরেনাস
ব্যাখ্যা
ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- ইউরেনাসে একদিন সময় লাগে প্রায় ১৭ ঘন্টা।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ ২৮টি।
- এর মধ্যে প্রধান পাঁচটি চাঁদ: মিরান্ডা, এরিয়েল, আমব্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন

অন্যদিকে -
- মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ দুইটি: ডিমোস ও ফোবোস।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) NASA ওয়েবসাইট।
২৯৩.
মহাকাশ গবেষণায় খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য কোন উৎস ব্যবহার করা হয়?
  1. Fern
  2. Yeast
  3. Mucor
  4. Chlorella
সঠিক উত্তর:
Chlorella
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Chlorella
ব্যাখ্যা
• মহাকাশ গবেষণায় খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য প্রধানত Chlorella ব্যবহার করা হয়। Chlorella একটি নলাকার এককোষী শৈবাল, যা সূর্যালোকের সাহায্যে ফটোসিন্থেসিস করে খাদ্য এবং অক্সিজেন উৎপাদন করে। মহাকাশযানে দীর্ঘ সময় থাকার সময় মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসে সৃষ্ট কার্বন ডাইঅক্সাইড শৈবাল গ্রহণ করে অক্সিজেনে রূপান্তরিত করে, যা পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখে। এছাড়া, Chlorella প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি খাদ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে Fern, Yeast ও Mucor মহাকাশে খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য কম ব্যবহার হয়। তাই মহাকাশ গবেষণায় Chlorella একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব উৎস হিসেবে বিবেচিত।

• শৈবাল:

- শৈবালের সত্যিকার মূল, কান্ড ও পাতা নেই, তবে ক্লোরোফিল আছে।
- শৈবাল সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী অপুষ্পক উদ্ভিদ এবং আলো ছাড়া জন্মাতে পারে না।
- শৈবালের কোষ-প্রাচীর প্রধানত সেলুলোজ নির্মিত।
- শৈবাল এককোষী এবং বহুকোষী হতে পারে।
- মহাকাশ গবেষণায় খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের উৎস হিসেবে ক্লোরেলা উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয়।
- ক্লোরেলা এক প্রকার সবুজ এককোষী শৈবাল যা প্রোটিন খাদ্যের আদর্শ উৎস।
- ক্লোরেলা হল ক্লোরোফাইটা বিভাগের এককোষী সবুজ শৈবালের প্রায় তেরো প্রজাতির একটি প্রজাতি।
- অন্যদিকে, ঈস্ট এবং মিউকর হলো ছত্রাক।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
২৯৪.
সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় -
  1. ১০ কোটি কিলোমিটার
  2. ১৩ কোটি কিলোমিটার
  3. ১৫ কোটি কিলোমিটার
  4. ১৭ কোটি কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
১৫ কোটি কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ কোটি কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

পৃথিবী:
- পৃথিবীকে বলা হয় আদর্শ গ্রহ।
- কারণ একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।
- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৫.
আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম -
  1. ক) নেবুলা
  2. খ) আকাশ গঙ্গা
  3. গ) পেলিকান নিহারীকা
  4. ঘ) কোয়াসার
সঠিক উত্তর:
খ) আকাশ গঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আকাশ গঙ্গা
ব্যাখ্যা
আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম Milky Way বা আকাশ গঙ্গা। এই ছায়াপথে প্রায়
1011 সংখ্যক নক্ষত্র রয়েছে৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২৯৬.
মানুষ নিয়ে চাঁদে অবতরণকারী প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
  1. অ্যাপোলো-১০
  2. অ্যাপোলো- ১১
  3. স্পুটনিক - ১
  4. স্পুটনিক - ২
সঠিক উত্তর:
অ্যাপোলো- ১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাপোলো- ১১
ব্যাখ্যা
অ্যাপোলো-১১:
- ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা চাঁদের উদ্দেশ্যে অ্যাপোলো-১১ মিশন প্রেরণ করে। এই মিশনে নভোচারী ছিলো তিনজন। এটিই চাঁদে অবতরণকারী প্রথম মহাকাশযান। নভোচারী ৩ জন হলেন:
- নীল আর্মস্ট্রং
- বাজ অলড্রিন এবং
- মাইকেল কলিন্স।
- ২০ জুলাই নীল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করেন।
- চাঁদের যে স্থানে অবতরণ করে তার নাম - শান্ত সমুদ্র।
- মাইকেল কলিন্স কমান্ড মডিউল কলম্বিয়ায় অবস্থান করছিলেন।
- ২৪ জুলাই এরা পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

উল্লেখ্য,
- মহাশূণ্যে পাঠানো প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ হলো স্পুটনিক - ১
- জীবন্ত প্রাণী বহনকারী প্রথম উপগ্রহ স্পুটনিক - ২। লাইকা নামে কুকুর বহন করেছিল।

উৎস: প্রথম আলো, Britannica.
২৯৭.
বিষুবীয় অঞ্চলে বস্তুর ওজন
  1. সবচেয়ে কম
  2. সবচেয়ে বেশি
  3. শূন্য
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সবচেয়ে কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবচেয়ে কম
ব্যাখ্যা
• বিষুবীয় অঞ্চলে বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম ও মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি। 
• বিষুবীয় অঞ্চল থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দূরত্ব বেশি হওয়ায় বস্তুর ওজন কম হয়ে থাকে। 
• পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন শূন্য। 

সূত্র - নিম্ন মাধ্যমিক বিজ্ঞান/মাধ্যমিক পদার্থ বিজ্ঞান, বোর্ড বই।
২৯৮.
সমুদ্রতীরে বা বিশাল মাঠে দাঁড়ালে আকাশ ও ভূমি যে বৃত্তাকার রেখায় মিলিত হয় বলে মনে হয়, তার নাম কী?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. দ্রাঘিমারেখা
  3. সমোচ্চ রেখা
  4. দিগন্তরেখা
সঠিক উত্তর:
দিগন্তরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিগন্তরেখা
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আকৃতি:
- দিগন্ত রেখার সাহায্যে বিশাল খোলা মাঠে বা সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে চারিদিকে তাকালে মনে হয় আকাশ ও ভূ-পৃষ্ঠ একটি বৃত্তাকার রেখায় মিশে গেছে।
- এ বৃত্ত রেখার নাম দিগন্তরেখা। পর্বতের উপরে বা প্লেনে যত উপরে উঠা যায়, ততই দিগন্ত রেখার পরিধি বৃদ্ধি পেলেও এর আকার বৃত্তাকার থাকে।
- পৃথিবী গোলাকৃতির না হলে এরূপ হতো না।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৯.
যখন চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করে তখন নিচের কোনটি সংঘটিত হয়?
  1. সূর্যগ্রহণ
  2. চন্দ্ৰগ্ৰহণ
  3. অমাবস্যা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চন্দ্ৰগ্ৰহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্ৰগ্ৰহণ
ব্যাখ্যা
চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে পৃথিবীর অবস্থান থাকে তখন চন্দ্রগ্রহণ হয়। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া। 

সূর্যগ্রহণ: 
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

অমাবস্যা: 
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি বাংলা [লিঙ্ক]।
৩০০.
মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকে আলোর তীব্রতা অনুসারে কোন কোন বর্নে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) লাল, সবুজ,বেগুনি
  2. খ) লাল, হলুদ, সবুজ
  3. গ) লাল, নীল, বেগুনি
  4. ঘ) লাল, হলুদ, নীল
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাল, হলুদ, নীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাল, হলুদ, নীল
ব্যাখ্যা
নক্ষত্রগুলোর প্রত্যেকে এক একটি জলন্ত গ্যাসপিণ্ড বলে এদের সবারই আলো ও উত্তাপ রয়েছে।
মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকে তাদের আলোর তীব্রতা অনুসারে লাল, হলুদ, নীল এই তিন বর্নে ভাগ করা হয়েছে। অতি বৃহৎ নক্ষত্রের রং লাল, মাঝারি নক্ষত্রের রং হলুদ এবং ছোট নক্ষত্রের রং নীল হয়ে থাকে।
উৎসঃ ৮ম শ্রেণি, বিজ্ঞান।