বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সমাস

মোট প্রশ্ন২,৫০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সমাস

PrepBank · পাতা ১৭ / ২৫ · ১,৬০১১,৭০০ / ২,৫০১

১,৬০১.
‘বিড়ালাক্ষী’ কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) দ্বিগু
সঠিক উত্তর:
গ) বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন : 
সমস্তপদ   --  ব্যাসবাক্য
বিড়ালচোখী  --  বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর  
বিড়ালাক্ষী  --  বিড়ালের অক্ষির ন্যায় অক্ষি যে নারীর
সোনামুখী  --  সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার    
শূর্পণখা  --  শূর্পের (কুলা) ন্যায় নখ যে নারীর
কাঞ্চনপ্রভা  --  কাঞ্চনের (সোনার) ন্যায় প্রভা যার    
কমলাক্ষ  --  কমলের ন্যায় অক্ষি যার

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
১,৬০২.
'দাকুমড়া' কোন অর্থে দ্বন্দ্ব?
  1. ক) মিলনার্থক
  2. খ) সমার্থক
  3. গ) বিরোধার্থক
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) বিরোধার্থক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিরোধার্থক
ব্যাখ্যা
- 'দাকুমড়া' বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্বের উদাহরণ।

• পূর্বপদ ও পরপদের বিপরীত শব্দ মিলিত হয়ে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
হিতাহিত = হিত ও অহিত,
অহিনকুল = অহি ও নকুল,
মরাবাঁচা = মরা ও বাঁচা,
ছোটবড় = ছোট ও বড়,
ভালো-মন্দ = ভালো ও মন্দ,
দাকুমড়া = দা ও কুমড়া,
সুখদুঃখ = সুখ ও দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,৬০৩.
কোনটি নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. অকৃতজ্ঞ
  2. অনধিক
  3. অগোচর
  4. অনাচার
সঠিক উত্তর:
অনাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাচার
ব্যাখ্যা

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা-
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর,
- অনাচার = নেই আচার
এরূপ – অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস: - অকৃতজ্ঞ = নেই কৃতজ্ঞতা যার, অগোচর = নয় গোচর যা, অনধিক = নয় অধিক যা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬০৪.
"চাবাগান" শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. বহুব্রীহি
  4. প্রাদি
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

১,৬০৫.
'পরিভ্রমণ' কোন সমাস?  
  1. প্রাদি সমাস 
  2. নিত্য সমাস
  3. অব্যয়ীভাব
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস 
ব্যাখ্যা

• 'পরিভ্রমণ' = পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ'- প্রাদি সমাস এর উদাহরণ। 

• প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ, 
- প্র ( প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৬০৬.
‘কালান্তর' শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. অন্যকাল
  2. ক্ষুদ্রকাল
  3. কালের অন্তর
  4. কাল ও অন্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যকাল
ব্যাখ্যা
 নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন: অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, তুমি আমি ও সে = আমরা, দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
- তেমনিভাবে, অন্য কাল = কালান্তর।
- সমস্তপদের শেষে ‘অন্তর’ থাকলে ব্যাসবাক্যে ‘অন্য’ হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ।
- সমস্তপদের শেষে ‘মাত্র/খানা’ থাকলে ‘কেবল’ হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।
 
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯)।
১,৬০৭.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অন্যায়
  2. খ) আমরণ
  3. গ) অহিনকুল
  4. ঘ) অনাসক্ত
সঠিক উত্তর:
গ) অহিনকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অহিনকুল
ব্যাখ্যা

যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।
মিলনার্থক শব্দযোগে: মা - বাপ
বিরোধার্থক শব্দযোগেঃ দা - কুমড়া, অহি - নকুল
প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগেঃ ধুতি - চাদর ।
সুত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

১,৬০৮.
'মৌমাছি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মৌ-সঞ্চয়কারী মাছি = মৌমাছি,
- আত্মলিখিত জীবনী = আত্মজীবনী।

অন্যদিকে:
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
- শব্দের শেষে ‘মাত্র’ ‘অন্তর’ যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়।
যেমন:
- গৃহান্তর,
- গ্রামান্তর।

প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।
যথা:
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ),
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও) ইত্যাদি।

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালাে বরণ যার = কালােবরণ,
- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপালে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬০৯.
উপকণ্ঠ- শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) কণ্ঠের সমীপে
  2. খ) কণ্ঠের সদৃশ
  3. গ) উপ যে কণ্ঠ
  4. ঘ) কণ্ঠ পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
ক) কণ্ঠের সমীপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কণ্ঠের সমীপে
ব্যাখ্যা
উপকণ্ঠ- শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য = কণ্ঠের সমীপে। 
এটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ। 

অব্যয়ীভাব সমাস
যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস।
- অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয় উল্লেখ হয় না, কেবল অব্যয়ের অর্থযােগে ব্যাসবাক্যটি গঠিত হয়।
যেমন- জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত (কাছে), মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।
বিভিন্ন অর্থে  অব্যয়ীভাব সমাস ব্যবহৃত হয় - 

সামীপ্য (উপ) :
কূলের সমীপে = উপকূল,
নগরীর সমীপে = উপনগরী,
শহরের সমীপে = উপশহর,
কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
অক্ষির সমীপে =সমক্ষ,
ক্ষুদ্র মহাদেশ =উপমহাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১০.
অর্থের প্রাধান্যের ভিত্তিতে বাংলা সমাস কত প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়। বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম সমাস।

অর্থের প্রাধান্যের ভিত্তিতে বাংলা সমাস মূলত চার প্রকার।
যথা:
- দ্বন্দ্ব,
- কর্মধারয়,
- তৎপুরুষ ও
- বহুব্রীহি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৬১১.
সমস্যমান পদগুলোর প্রথম পদকে বলা হয়-
  1. উত্তরপদ
  2. পরপদ
  3. পূর্বপদ
  4. সমস্যমান পদ
সঠিক উত্তর:
পূর্বপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বপদ
ব্যাখ্যা

সমাসের কয়েকটি পরিভাষা:
• সমস্যমান পদ:
যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

• সমস্ত পদ:
সমস্যমান পদগুলো মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে। একে আবার সমাসবদ্ধ পদও বলা হয়। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন সিংহাসন। এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

• ব্যাসবাক্য:
সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে। 'ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ। একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। উপরের বাক্যে 'সিংহ চিহ্নিত আসন' হলো সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

• পূর্বপদ ও পরপদ:
মাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ। সিংহাসন শব্দের সিংহ হলো পূর্বপদ, আর আসন হলো পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬১২.
'নীলকর' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. বহুব্রীহি
  3. নিত্য
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- ছায়া দ্বারা শীতল - ছায়াশীতল;
- ছাত্রদের জন্য আবাস - ছাত্রাবাস;
- মধু দিয়ে মাখা - মধুমাখা ইত্যাদি।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।
যেমন:
- নীল চাষ/ উৎপাদন করে যে - নীলকর;
- জাদু করে যে - জাদুকর;
- ধামা ধরে যে - ধামাধরা;
- শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য;
- পকেট মারে যে - পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে - দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬১৩.
"সুস্থসবল" শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. বহুব্রীহি
  4. নিত্য
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধার সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে। সমাসবদ্ধ শব্দে বিশেষ্য ও বিশেষণের অবস্থানগত পার্থক্য নির্দেশ করে সাধারণ কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ নিচে দেয়া হলো:

বিশেষণ + বিশেষ্য:
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা; কাঁচা যে কলা কাঁচকলা; দুঃ যে শাসন দুঃশাসন; দুঃ যে অবস্থা দুরবস্থা। এ-রকম: ঝরাপাতা, মহানগর, গুণিজন, মহানবি, কুশাসন, ক্ষুধিত-পাষাণ, সুকীর্তি, সৎকর্ম, খাস-কামরা, সুখ্যাতি ইত্যাদি।

বিশেষণ + বিশেষণ:
- যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর, যিনি সুস্থ তিনিই সবল = সুস্থসবল
এরকম: অম্লমধুর, কঠিনকোমল, কাঁচাপাকা, কাঁচামিঠা, গরমভাজা, গণ্যমান্য, গুরুমশাই, গাঢ়নীল, দীনহীন, দীনদরিদ্র, দীনদুঃখী, বাঁধাধরা, ভীষণসুন্দর, মিঠেকড়া, মোটাতাজা, সহজসরল, সাদাকালো, স্নিগ্ধসজল, হৃষ্টপুষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬১৪.
নিচের কোনটি দ্বিগু সমাসের উদাহরণ?
  1. সাতসমুদ্র
  2. আপাদমস্তক
  3. আসমুদ্রহিমাচল
  4. কাঁচামিঠা
সঠিক উত্তর:
সাতসমুদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতসমুদ্র
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- সাত সমুদ্রের সমাহার =  সাতসমুদ্র।
- তিন কালের সমাহার =  ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার =  চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার =  তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল,
পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক।

• কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১,৬১৫.
'গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. কর্মধারায় সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারায় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারায় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে 'কর্মধারয়' সমাস বলে। 

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
• জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি।
• গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র। 
• শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী = শিক্ষামন্ত্রী। 
• যা গোলাপ তাই ফুল = গোলাপফুল। 
• উর্ণা নির্মিত জাল = ঊর্ণাজাল। 
• খেয়া পারাপারের ঘাট = খেয়াঘাট। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬১৬.
উপপদ তৎপুরুষ সমাস কোনটি?  
  1. দুগ্ধফেননিভ
  2. উৎকণ্ঠিত
  3. প্রভাকর
  4. যথারীতি
সঠিক উত্তর:
প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভাকর
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- উপপদ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে পূর্বপদে কোনো বিশেষ্য (নাম বা বস্তু) থাকে এবং পরপদে কৃদন্ত পদ থাকে।
- কৃদন্ত পদ হলো ধাতুর সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে তৈরি শব্দ, যা কোনো কাজ বা কর্মকাণ্ড বোঝায়;
- যেমন: ধরা, চাটা, মারা।
- যখন এই কৃদন্ত পদের আগে কোনো বিশেষ্য পদ যুক্ত হয়, তখন সেটিকে উপপদ বলা হয়।
- উপপদ ও কৃদন্ত পদের মিলনে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেটিই উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাস সাধারণত কোনো ব্যক্তি, প্রাণী বা উদ্ভিদের কাজ বা কর্মকাণ্ড প্রকাশ করে।

- উপপদ তৎপুরুষ সমাসের কিছু উদাহরণ:
- ছেলেধরা → ছেলে ধরে যে, 
- জলচর → জলে চরে যে, 
- জলদ → জয় দেয় যে/যা, 
- জাদুকর → জাদু করে যে, 
- প্রভাকর → প্রভা করে যে, 
- পকেটমার → পকেট মারে যে, 
- মাছিমারা → মাছি মারে যে,
- প্রিয়ংবদা → প্রিয় কথা বলে যে। 
-------------------- 
অন্যদিকে,
• দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ, নিত্য সমাসের উদাহরণ।
• উৎ (উন্নত) কণ্ঠিত = উৎকণ্ঠিত, প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
• রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি, অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১,৬১৭.
‘ছেলেভুলানাে’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে।

• সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা।

• কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৬১৮.
"কাজলকালো" এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. কাজলের কালো
  2. কাজল ও কালো
  3. কাজলের ন্যায় কালো
  4. কাজল রুপ কালো
সঠিক উত্তর:
কাজলের ন্যায় কালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজলের ন্যায় কালো
ব্যাখ্যা
'কাজলকালো'- উপমান কর্মধারয় সমাস।
এর সঠিক ব্যাসবাক্য: কাজলের ন্যায় কালো।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন-
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬১৯.
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কানে-খাটো  
  2. খ) নরপশু
  3. গ) ঘরমুখো
  4. ঘ) তেপায়া
সঠিক উত্তর:
গ) ঘরমুখো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঘরমুখো
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে।

সমস্তপদ  --  ব্যাসবাক্য
একচোখা  --  এক দিকে চোখ যার
একরোখা  --  এক দিকে রোখ যার
ঘরমুখো  --  ঘরের দিকে মুখ যার
নি-খরচে  --  নি (নেই) খরচ যার

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
১,৬২০.
জায়া ও পতি সমাস করলে কী হয়?
  1. ক) স্বামী-স্ত্রী
  2. খ) দম্পতি
  3. গ) পতি-পত্নী
  4. ঘ) জায়া-পতি
সঠিক উত্তর:
খ) দম্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দম্পতি
ব্যাখ্যা
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রধান্য থাকে এবং সংযোজক অব্যয় লোপ পায় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, পিতা ও পুত্র = পিতাপুত্র।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
১,৬২১.
কর্মধারয় সমাস‌কে কোন কোন ব্যাকরণবিদ কোন সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) অব্যয়ীভাব সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাসকে অনেক ব্যাকরণবিদ কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবার কেউ কেউ কর্মধারয়কেও তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেছেন।
এদিক থেকে সমাস মূলত চারটি। যথা- দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি ও অব্যয়ীভাব সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬২২.
'চৌচালা' শব্দের ব্যাসবাক্য কী হবে?
  1. চার চাল যার
  2. চার চালের সমাহার
  3. চার চাল যে ঘরের
  4. চার চালা বিশিষ্ট ঘর
সঠিক উত্তর:
চার চাল যে ঘরের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার চাল যে ঘরের
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- দশ আনন যার = দশানন।
- সমান বর্ণ যার = সমবর্ণ।
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি।

সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য, সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- দশ ভুজ (হাত) যার = দশভুজা।
- দুটি নল যার = দোনলা।
- চার চাল যে ঘরের = চৌচালা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬২৩.
'দ্বীপ' এর ব্যাসবাক্য -
  1. ক) চার দিকে জল যার
  2. খ) দুদিকে আবদ্ধ জল যার
  3. গ) দুদিকে অপ যার
  4. ঘ) দ্বীপের মত
সঠিক উত্তর:
গ) দুদিকে অপ যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুদিকে অপ যার
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস :
যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
নরাকারের পশু যে = নরপশু,
জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
ণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২৪.
একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস কোনটি?
  1. মাসি ও পিসি = মাসি-পিসি
  2. সাহেব, গোলাম এবং বিবি  = সাহেব-গোলাম-বিবি
  3. তুমি ও সে = তোমরা
  4. মা ও বাপ = মা-বাপ
সঠিক উত্তর:
তুমি ও সে = তোমরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি ও সে = তোমরা
ব্যাখ্যা
• একশেষ দ্বন্দ্ব:
যে সমাসে অন্যান্য পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রধান পদটির সঙ্গে শেষপদটির সামঞ্জস্য রচিত হলে তাকে বলা হয় একশেষ দ্বন্দ্ব। অন্যভাবে, যে দ্বন্দ্ব সমাসে প্রধান পদটি অবশিষ্ট থেকে অন্য পদের লোপ হয় এবং শেষ পদ অনুসারে শব্দের রূপ নির্ধারিত হয় তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- তুমি ও সে = তোমরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদের পরস্পর মিলন ঘটে এবং এদের অর্থের দিক থেকেও মিল থাকে সে দ্বন্দ্ব সমাসকে বলা হয় মিলনার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন:
- ভাই ও বোন = ভাই-বোন,
- মা ও বাপ = মা-বাপ,
- মাসি ও পিসি = মাসি-পিসি,
- চা ও বিস্কুট = চা-বিস্কুট। 

• বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততোধিক পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বলা হয় বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- তেল, নুন ও লাকড়ি = তেল-নুন-লাকড়ি।
- সাহেব, গোলাম এবং বিবি  = সাহেব-গোলাম-বিবি।
- স্বর্গ, মর্ত এবং পাতাল = স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২৫.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. সিংহাসন
  2. সাহিত্যসভা
  3. স্মৃতিসৌধ
  4. মোহনিদ্রা
সঠিক উত্তর:
মোহনিদ্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহনিদ্রা
ব্যাখ্যা
• মোহনিদ্রা = মোহ রূপ নিদ্রা; রূপক কর্মধারয় সমাস।

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা-
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬২৬.
'গোড়ায়গলদ' কোন ধরনের সমাস?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. সপ্তমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
• গোড়ায় গলদ = গোড়ায়গলদ, 
• ঘানি তেল = ঘানিরতেল,
• ঘি দিয়ে ভাজা = ঘিয়েভাজা,
• হাতে কাটা = হাতেকাটা,
• কল দ্বারা ছাঁটা = কলেছাঁটা
• তেলে ভাজা = তেলেভাজা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২৭.
'শিরোধার্য' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  2. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য, উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
- এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে। 
যেমন -
- পকেট মারে যে = পকেটমার, 
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা, 
- শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য,
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী,
- জাদু করে যে = জাদুকর ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬২৮.
'হাতঘড়ি' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. হাতের ঘড়ি
  2. হাতে পরা হয় যে ঘড়ি
  3. হাতে দেওয়া ঘড়ি
  4. হাত ও ঘড়ি
সঠিক উত্তর:
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস: 
যেসকল কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লােপ পায়। এগুলাে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন –
- ঘি মাখানাে ভাত = ঘিভাত, 
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি, 
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই, 
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৬২৯.
বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নীলবসনা
  2. খ) মাছিমারা
  3. গ) পঞ্চভূত
  4. ঘ) প্রতিকূল
সঠিক উত্তর:
ক) নীলবসনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীলবসনা
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বুঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
যেমনঃ নীল বসন যার = নীলবসনা,
আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা,
চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,৬৩০.
"দোয়াতকলম" শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ- উভয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। 

যেমন:
- ভাই ও বোন = ভাইবোন,  
- তাল ও তমাল = তালতমাল, 
- দোয়াত ও কলম = দোয়াতকলম, 
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৬৩১.
'দেবদত্ত' কোন সমাস?
  1. ক) চতুর্থী তৎপুরুষ
  2. খ) প্রাদী তৎপুরুষ
  3. গ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ক) চতুর্থী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান/নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ হলোঃ দেবদত্ত - দেবকে দত্ত; গুরুভক্তি - গুরুকে ভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,৬৩২.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অন্যায়
  2. খ) অনাসক্ত
  3. গ) আমরণ
  4. ঘ) অহি নকুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) অহি নকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অহি নকুল
ব্যাখ্যা
অহি নকুল- দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস: অহি - নকুল।
 
দ্বন্দ্ব সমাস
যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।

আরো কিছু দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ: 
- মিলনার্থক শব্দযোগে: মা - বাপ
- বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা - কুমড়া, অহি - নকুল
- প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: ধুতি - চাদর ।
- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস- হাট ও বাজার= হাটবাজার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম - দশম শ্রেণী ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
১,৬৩৩.
'ভ্রমরকৃষ্ণ' কোন সমাসের সাহায্যে গঠিত শব্দ?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. সাধারণ কর্মধারায়
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

পূর্বপদ বিশেষ্য ও পরপদ বিশেষণ হলে এবং সাধারণ ধর্মের কথা উল্লেখ থাকলে সেক্ষেত্রে উপমান কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন-
- ভ্রমরকৃষ্ণ = ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ

এছাড়াও, তুষারশুভ্র, অরুণরাঙা, শশব্যস্ত, কাজলকালো, দুগ্ধধবল ইত্যাদি এই ধরনের সমাস নিষ্পন্ন শব্দ।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)

১,৬৩৪.
নিচের কোনটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. অর্ধচন্দ্রাকার
  2. সতীর্থ
  3. ধর্মবুদ্ধি
  4. মতিচ্ছন্ন
সঠিক উত্তর:
অর্ধচন্দ্রাকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধচন্দ্রাকার
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
 
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
অর্ধচন্দ্রের আকার - অর্ধচন্দ্রকার। 
- চায়ের বাগান - চাবাগান।
- রাজার পুত্র - রাজপুত্র।
- খেয়ার ঘাট - খেয়াঘাট।
- ছাত্রের সমাজ - ছাত্রসমাজ।
- দেশের সেবা - দেশসেবা।
- দিল্লীর ঈশ্বর - দিল্লীশ্বর।
- ছবির ঘর - ছবিঘর।
- বিড়ালের ছানা - বিড়ালছানা।
- মৃগীর শিশু - মৃগশিশু।

অন্যদিকে,
 ধর্মবুদ্ধি, সতীর্থ ও ছন্নমতি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
- ধর্মে বুদ্ধি যার - ধর্মবুদ্ধি।
- সমান তীর্থ যাদের - সতীর্থ।
- ছন্ন মতি যার - ছন্নমতি। 
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৩৫.
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস কোনটি?
  1. ক) বিয়েপাগলা
  2. খ) দেশসেবা
  3. গ) দৃষ্টিহীন
  4. ঘ) ছাত্রীনিবাস
সঠিক উত্তর:
গ) দৃষ্টিহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত,
লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা,
রক্ত দ্বারা সিক্ত = রক্তসিক্ত,
স্নেহ দ্বারা অন্ধ = হােন্ধ,
ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা,
অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার,
জরা দ্বারা জীর্ণ = জরাজীর্ণ,
স্বনাম দ্বারা ধন্য = স্বনামধন্য,
ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,
দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন,
বিনয় দ্বারা অবনত = বিনয়াবনত,
বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা,
মন দ্বারা গড়া = মনগড়া,
শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত,
গুণ দ্বারা মুগ্ধ = গুণমুগ্ধ,
তৈল দ্বারা আক্ত = তৈলাক্ত,
শােক দ্বারা আকুল = শােকাকুল,
মধুতে মাখা = মধুমাখা প্রভৃতি। 

অন্যদিকে,
দেশের সেবা = দেশসেবা - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা - চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ছাত্রীর জন্য নিবাস = ছাত্রীনিবাস - চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৬.
'কনকচাঁপা' কোন প্রকার সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল,
যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে 'যে' যােজক থাকে,
যেমন –
খাস যে জমি = খাসজমি
চিত যে সঁতার = চিতসাঁতার
ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা
সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ
কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা
টাক যে মাথা = টাকমাথা
যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর
যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৬৩৭.
'যথাসাধ্য' কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. দ্বিগু 
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন -
অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে -
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।
এরূপ - যথাবিধি, যথাযোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৬৩৮.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস নয়?
  1. মিশকালো
  2. শশব্যস্ত
  3. দিলদরিয়া
  4. কুসুমকোমল
সঠিক উত্তর:
দিলদরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিলদরিয়া
ব্যাখ্যা


উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে। 
যেমনঃ
- কুসুমের ন্যায় কোমল= কুসুমকোমল
- রক্তের ন্যায় লাল= রক্তলাল
- শশের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- মিশির মতো কালো= মিশকালো

অপরদিকে,
রূপক কর্মধারয় সমাসঃ উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করে উপমান ও উপেময় পদের যে সমাস হয় তাকে রূপল কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমনঃ
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
-মন রূপ মাঝি= মনমাঝি
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি
- দিল রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া
- শোক রূপ অনল= শোকানল

[উৎস:ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
 
১,৬৩৯.
'বিস্ময়াপন্ন' সমস্ত পদটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. বিস্ময় দ্বারা আপন্ন
  2. বিস্ময়ে আপন্ন
  3. বিস্ময়কে আপন্ন
  4. বিস্ময়ে যে আপন্ন
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়কে আপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়কে আপন্ন
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত;
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন;
- বিস্ময়কে আপন্ন = বিস্ময়াপন্ন,
- পরলোকে গত = পরলোকগত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬৪০.
'নির্ভুল' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• 'নির্ভুল' - নি (নাই) ভুল যার - নঞ্‌ বহুব্রীহি।

• নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্জ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার - অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার - বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার - নাচার।
- নি (নাই) ভুল যার - নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা - নাজানা, অজানা ইত্যাদি।
এরকম-নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, অকেজো, বে-পরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৬৪১.
কোনটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. বকাবকি
  2. সুবুদ্ধি
  3. বীণাপাণি
  4. ঘরমুখো
সঠিক উত্তর:
বীণাপাণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীণাপাণি
ব্যাখ্যা
⇒ ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য-বিশেষ্য সংগঠিত হলে এবং এর যেকোনো একটি পদ ব্যাসবাক্যে অধিকরণ সম্পর্ক প্রকাশ করলে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়। সংক্ষেপে বলা যায়, পূর্বপদ বিশেষণ না হয়ে অন্যপদ হলে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বীণা পাণিতে যার= বীণাপাণি।
[এখানে বীণা (বাদ্যযন্ত্র) বা পাণি (হাত) উভয়ই বিশেষ্যপদ।]


অন্যদিকে,
⇒ সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সুন্দর হৃদয় যার = সুহৃদ;
- সু বুদ্ধি যার = সুবুদ্ধি;
- সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী ইত্যাদি।

[এখানে সুন্দর ও ‘সু’ পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য। উভয়ে মিলে এই সমাস গঠিত হয়েছে বলেই একে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়।]

⇒ ব্যতিহার বহুব্রীহি:
একই জাতীয় বিশেষ্যপদ পরপর বসে একই কাজের একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া বোঝালে তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি;
[হাত শব্দের পুনঃ ব্যবহার করে একটি কর্মপ্রক্রিয়াকে উপস্থাপন করা হয়েছে।]

তেমনই- কোলাকুলি, চোখাচোখি, ফাটাফাটি, টানাটানি, বকাবকি, হাসাহাসি, লাঠালাঠি, গালাগালি, চুলাচুলি, কানাকানি ইত্যাদি।

⇒ প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পরে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে সমাস তৈরি হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- এক দিকে চোখ যার = একচোখ + আ = একচোখা,
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখ + ও = ঘরমুখো,
- দুই দিকে যার মন = দো + মন + আ = দোমনা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৬৪২.
বিপরীতার্থক শব্দযোগে সাধিত দ্বন্দ্ব সমাস কোনটি?
  1. হাট-বাজার
  2. চা-বিস্কুট
  3. আয়-ব্যয়
  4. হাত-পা
সঠিক উত্তর:
আয়-ব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়-ব্যয়
ব্যাখ্যা
বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
• জমা – খরচ,
• আয় – ব্যয়,
• ছোট – বড়,
• লাভ – লোকসান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• হাট-বাজার - সমার্থক শব্দযোগে গঠিত,
• চা-বিস্কুট - মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত,
• হাত-পা - অঙ্গবাচক শব্দযোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
১,৬৪৩.
বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চিনিপাতা
  2. খ) তেলেভাজা
  3. গ) অকালমৃত্যু
  4. ঘ) বিয়েপাগলা
সঠিক উত্তর:
গ) অকালমৃত্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অকালমৃত্যু
ব্যাখ্যা
সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 

বিভক্তিলোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসঃ 
- দুঃখকে প্রাপ্ত= দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানো= ছেলে-ভুলানো 
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত 
- পথের রাজা = রাজপথ 
- গোলায় ভরা =গোলাভরা 
 -গাছে পাকা = গাছপাকা
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ,সংস্করণ ২০২৩]
১,৬৪৪.
'ফিবছর' শব্দের শুদ্ধ ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. প্রতি বছর
  2. বছরের পর বছর
  3. বছর বছর
  4. আগের বছর
সঠিক উত্তর:
বছর বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বছর বছর
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস।

অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয় উল্লেখ হয় না, কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি গঠিত হয়।
যেমন:
• জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত।
• মরণ পর্যন্ত = আমরণ।
• রোজ রোজ = হররোজ।
• বছর বছর = ফিবছর।
• ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৪৫.
'আলোছায়া' পদটি কোন সমাসের অন্তর্গত?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) অব্যয়ীভাব সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ গঠিত হয় এবং উভয় পদের অর্থ প্রধানরুপে প্রতীয়মান হয় তাকে দ্বন্দ সমাস বলে৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
১,৬৪৬.
"শশব্যস্ত" শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রিহী
  4. দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন: 
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬৪৭.
‘এণাক্ষি’ কোন সমাসের উদাহরণ
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

এণাক্ষি = এণর (মৃগের) অক্ষির ন্যায় অক্ষি।
এণাক্ষি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসবদ্ধ শব্দ।
যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদটির যে রূপ তাতে ব্যাসবাক্যের মধ্যে ব্যাখ্যামূলক পদগুলি থাকে না তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমনঃ
রান্নাঘর = রান্না করার ঘর।
পলান্ন = পল মিশ্রিত যে অন্ন।
মৌমাছি = মৌ - সঞ্চয়কারী মাছি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (ড. সৌমিত্র শেখর)

১,৬৪৮.
কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কাটাচোখা
  2. খ) ঋষিকবি
  3. গ) কানাকানি
  4. ঘ) ঔষধি
সঠিক উত্তর:
খ) ঋষিকবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঋষিকবি
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ, যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা= কাঁচাপাকা,
- ঋষি যে কবি = ঋষিকবি  ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৪৯.
সহচর শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ধূতি-চাদর
  2. খ) ঘর-বার
  3. গ) আকার-ইঙ্গিত
  4. ঘ) বুক-পিঠ
সঠিক উত্তর:
ক) ধূতি-চাদর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধূতি-চাদর
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।
মিলনার্থক শব্দযোগে: মা - বাপ
বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা - কুমড়া,
প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: ধুতি - চাদর ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬৫০.
'পদ্মআঁখি' - শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কী হবে?
  1. আঁখিতে পদ্ম যার
  2. পদ্ম রূপ আঁখি
  3. আঁখি পদ্মের ন্যায়
  4. আঁখির মতো পদ্ম
সঠিক উত্তর:
আঁখি পদ্মের ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঁখি পদ্মের ন্যায়
ব্যাখ্যা

উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬৫১.
কোনটি উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ?
  1. ক) প্রতিবাদ
  2. খ) বিলাত ফেরত
  3. গ) উপগ্রহ
  4. ঘ) ছেলেধরা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছেলেধরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছেলেধরা
ব্যাখ্যা
• 'ছেলেধরা' উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস: কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
- যাদু করে যে = যাদুকর,
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
- পকেট মারে যে = পকেটমার,
- স্থলে চলে যে = স্থলচর,
- চিত্র আঁকে যে = চিত্রকর,
- মানুষ খায় যে = মানুষখেকো ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫২.
'বজ্জাত' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: 
পূর্বপদের পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি। লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে। হতে, থেকে, চেয়ে- এসব পঞ্চমী বিভক্তির চিহ্ন।
যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত ইত্যাদি।

এরকম:
কণ্ঠনিঃসৃত, দুখজাত, বোঁটাখসা, স্বর্গচ্যুত, ঋণমুক্ত, কারামুক্ত, কৃষিজাত, খাঁচাছাড়া, গদিচ্যুত, দলস্থাত, বৃত্তচ্যুত, লক্ষ্যচ্যুত, চাকভাঙা, জেলফেরত, দলছুট, পথভ্রষ্ট, বন্ধনমুক্ত, বিক্রয়লখ, বিদেশাগত, মেঘমুক্ত, শাপমুক্ত, রোগমুক্ত, স্কুলপালানো, স্নেহবঞ্চিত, হাতছাড়া ইত্যাদি।

সাধারণত চ্যুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহে, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। কোনো কোনো সময় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে 'এর', 'চেয়ে' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬৫৩.
কোনটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. আলুসিদ্ধ
  2. শান্তশিষ্ট
  3. হাতঘরি
  4. চতুর্ভুজ
সঠিক উত্তর:
চতুর্ভুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্ভুজ
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস:
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ;
- সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

অন্যদিকে,
• হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘরি; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
• সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ; কর্মধারয় সমাস।
• যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট; কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,৬৫৪.
'অজমূর্খ' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. দ্বন্দ্ব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন: 
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
- অজের ন্যায় মূর্খ = অজমূর্খ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
 যেমন: 
- ভাইবোন,
- তালমাতাল ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৫৫.
'তাল ও তমাল' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রতিটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে এবং ব্যাসবাক্যে একটি সংযোজক অব্যয় (কখনো বিয়োজক) দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- তাল ও তমাল = তাল-তমাল,
- দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম,
- জায়া ও পতি = দম্পতি।

অন্যান্য অপশন:
• দ্বিগু সমাস:
- সমাহার বা সমষ্টি বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয় ৷
যেমন:
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা।

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ,
দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০১৯ সংস্করণ।

১,৬৫৬.
প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় - 
  1. উপমিত
  2. উপমান
  3. উপমেয়
  4. রূপক
সঠিক উত্তর:
উপমেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমেয়
ব্যাখ্যা
• উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
• প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়।
• আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
• উপমান এবং উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৬৫৭.
’তুমি-আমি’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. অলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• ’তুমি-আমি’ দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
--------------------------------
• দ্বন্দ্ব সমাস:

- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন
- 'সোনা-রুপা' সমস্তপদের ব্যাসবাক্য 'সোনা ও রুপা'।
- নিচের বাক্যে সমস্তপদটির প্রয়োগ থেকে এর পূর্বপদ ও পরপদের অর্থের প্রাধান্য বোঝা যাবে:

• দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে সমজাতীয়, বিপরীত ও অনুরূপ শব্দের সংযোগ ঘটে।
যেমন
- মা ও বাবা = মা-বাবা,
- স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক,
- জমা ও খরচ জমাখরচ,
- হাত ও পা = হাত-পা,
- উনিশ ও বিশ = উনিশ-বিশ,
- তুমি ও আমি = তুমি-আমি,
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে,
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,৬৫৮.
ড. সুনীতিকুমারের মতে, প্রাদি সমাস কোন সমাসের রূপান্তর?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি', 
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত,
- পরি যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
• ড. সুনীতিকুমারের মতে, প্রাদি সমাস তৎপুরুষ সমাসের রূপান্তর।

• ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, প্রাদি সমাস অব্যয়ীভাব সমাসের অন্য নাম।

• ড. হায়াৎ মামুদের মতে, তৎপুরুষ, নিত্য সমাস ও অব্যয়ীভাব - এর সঙ্গে প্রাদি সমাসের সম্পর্ক দেখা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৫৯.
নিচের কোনটি নিত্য সমাস?
  1. ক) ভালমন্দ
  2. খ) ভালমন্দ
  3. গ) পঞ্চনদ
  4. ঘ) দেশান্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশান্তর
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য (সর্বদা) সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
- এ সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে বা প্রথম শব্দটি ‘অন্য’ বা ‘কেবল’ শব্দটি বসে।
যেমন:
অন্য দেশ - দেশান্তর,
অন্য গ্রাম - গ্রামান্তর,
কেবল দর্শন - দর্শনমাত্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৬০.
"সাত-সতের" কোন সমাস সাধিত?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  3. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

⇒ সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় দ্বারা সংখ্যা বোঝায় তাকে বলা হয় সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন,
- সাত-পাঁচ, ছয়-নয়, নয়-ছয়, ঊনিশ-বিশ, সাত-সতের, লক্ষ-কোটি, দশ-বারো ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৬১.
ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বুঝাতে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. ক) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস:
ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বুঝাতে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
- এ সমাসে পূর্বপদে আ এবং পরপদে ই যুক্ত হয়।
যেমন-
হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
কানে কানে যে কথা = কানাকানি 
চুলে চুলে যে লড়াই = চুলাচুলি
গালে গালে যে লড়াই = গালাগালি
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি
ঘুষিতে ঘুষিতে যে লড়াই = ঘুষাঘুষি
কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি ইত্যাদি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬২.
'কাঁচকলা' - শব্দটি কোন সমাসের সমস্তপদ?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস 
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬৬৩.
'স্বর্গ-নরক' কোন অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. বিপরীতার্থে
  2. বিরোধার্থে
  3. মিলনার্থে
  4. সমার্থে
সঠিক উত্তর:
বিরোধার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধার্থে
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ এবং প্রত্যেক পদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
জায়া ও পতি = জায়াপতি > জম্পতি > দম্পতি।

বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্ব ও পরপদের মধ্যে আপাত বিরোধ আছে বলে মনে হয়, তাকে বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
আকাশ-পাতাল, দা-কুমড়ো, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৬৪.
কোনটি নিত্য সমাসের সমস্তপদ?
  1. ক) সেতার
  2. খ) প্রত্যহ
  3. গ) গ্রামান্তর
  4. ঘ) সহোদর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রামান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রামান্তর
ব্যাখ্যা
'গ্রামান্তর'- নিত্য সমাসের সমস্তপদ।

নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। 
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬৬৫.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) মামাবাড়ি
  2. খ) গ্রামছাড়া
  3. গ) গাছপাকা
  4. ঘ) তেলেভাজা
সঠিক উত্তর:
ঘ) তেলেভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

ক. বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি
- ধানের খেত = ধানখেত
- পথের রাজা = রাজপথ
- গোলায় ভরা = গোলাভরা
- গাছে পাকা = গাছপাকা
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু।

খ. সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা
- রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া। 

গ. কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।  
যেমন-
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৬৬৬.
“ঘরজামাই” কোন ধরনের সমাস?
  1. রূপক কর্মধারয়
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
“ঘরজামাই” হচ্ছে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন-
ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত,
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি,
ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই,
বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা। 

• কর্মধারয় সমাস
• যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

• যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে। যেমন-
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে। যেমন-
- তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা,
- চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
১,৬৬৭.
নিত্য সমাস সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. অনুতাপ
  2. উদ্বেল
  3. কালসাপ
  4. পরাৎপর
সঠিক উত্তর:
কালসাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালসাপ
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন -
অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
(বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

অন্যদিকে,
প্রাদি সমাস সাধিত শব্দ - অনুতাপ, উদ্বেল।
অলুক সমাস সাধিত শব্দ - পরাৎপর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৬৮.
দুটি বিশেষণ পদ দ্বারা গঠিত সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. মৌলভিসাহেব
  2. সুস্থসবল
  3. দুঃশাসন
  4. দাদাভাই
  5. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
সুস্থসবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুস্থসবল
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রাধান্য পায় তাকে 'কর্মধারয়' সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে।
যেমন:
- ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী,
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে। সমাসবদ্ধ শব্দে বিশেষ্য ও বিশেষণের অবস্থানগত পার্থক্য নির্দেশ করে কিছু
উদাহরণ:
• (বিশেষণ+ বিশেষ্য):
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

• (বিশেষণ+ বিশেষণ):
- যিনি সুস্থ তিনিই সবল = সুস্থসবল,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা (কাঁচামিঠে)।

• (বিশেষ্য + বিশেষ্য):
- যিনিই দাদা তিনিই ভাই = দাদাভাই,
- যিনিই মৌলভি তিনিই সাহেব = মৌলভিসাহেব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৬৯.
'গায়ে - হলুদ' কোন সমাস?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) অলুক বহুব্রীহি
  3. গ) অলুক দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) অলুক বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
'গায়ে - হলুদ' হলো অলুক বহুব্রীহি সমাস৷
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়৷
যথা - মাথায়পাগড়ি, হাতে - খড়ি, গায়ে - পড়া, মাথায় - ছাতা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি
১,৬৭০.
দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি হয়-
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৬৭১.
নিচের কোনটি নিপাতনে বহুব্রীহি সমাস?
  1. মাথায়পাগড়ি
  2. পন্ডিতমূর্খ
  3. অজ্ঞান
  4. কানাকানি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পন্ডিতমূর্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পন্ডিতমূর্খ
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ।
- অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ।
- নরাকারের পশু যে = নরপশু।
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত।
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মাথায়পাগড়ি যার= মাথায়পাগড়ি। এটি অলুক বহুব্রীহি।
• নেই জ্ঞান যার - অজ্ঞান। এটি ন্ঞ বহুব্রীহি সমাস। 
• কানে কানে যে কথা= কানাকানি। ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭২.
'কাজলকালো' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. গ) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) উপমান কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপমান কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
'কাজলকালো'- উপমান কর্মধারয় সমাস।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন-
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয় তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয় এগুলকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ 
                              
• রুপক কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমান পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় । তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন - বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন- ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৬৭৩.
সমাস গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) নির্জল
  2. খ) নিশ্বাস
  3. গ) নির্ভুল
  4. ঘ) নিশঙ্ক
সঠিক উত্তর:
খ) নিশ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিশ্বাস
ব্যাখ্যা
নিশ্বাস শব্দটি বিসর্গ সন্ধিগঠিত। এর সন্ধি বিচ্ছেদ হলো- নিঃ + শ্বাস = নিঃশ্বাস। অন্যদিকে নির্জল = জলের অভাব হলো অব্যয়ীভাব সমাস। নির্ভুল = নি (নাই) ভুল যার এবং নিশঙ্ক = নাই শঙ্কা যার হলো নঞবহুব্রীহি সমাস। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৬৭৪.
'চাবাগান' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'সংখ্যালঘু' = সংখ্যায় লঘু - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:

- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট,
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ,
- দেশের সেবা = দেশসেবা,
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর,
- পাটের ক্ষেত = পাটক্ষেত,
- ছবির ঘর = ছবিঘর,
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৬৭৫.
উপসর্গযোগে সব শব্দই-
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস 
  3. তৎপুরুষ সমাস 
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
'অব্যয়ীভাব' অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে অব্যয় বা উপসর্গ এবং পরণদে বিশেষ্য থাকে। যেমন: কুলের সমীপে উপকূল, দিন দিন প্রতিদিন ইত্যাদি।
অথবা, পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয় বা উপসর্গের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। যেহেতু 'উপসর্গ'ও এক ধরনের অব্যয় তাই উপসর্গযোগে সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

যেমন:
- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় 'আ') = আজানুলম্বিত (বাহু),
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
---------------
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে 'কর্মধারয়' সমাস বলে প্রঅথবা, যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সঙ্গে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম;
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাস:
'ব্রীহি' মানে ধান। 'বহুব্রীহি' মানে 'বহু ধানা নয়- 'বহু ধান আছে যার এমন অবস্থাসম্পন্ন কোনো মানুষ'। যে সমাসে সমস্যমান পদ দুটির কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে এ দুয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অর্থ প্রধানহারে প্রতীয়মান হয় তাকে 'বহুব্রীহি' সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন।

• তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। আরো বিস্তৃতভাবে বললে বলা যায়, পূর্বপদে কর্ম প্রভৃতি কারকের বিভক্তিস্থানীয় অনুসর্গযুক্ত পদের সঙ্গে অথবা সম্মন্যপদের সঙ্গে সমাস হয়ে যদি পরপদের অর্থ-প্রাধান্য থাকে তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ধানের ক্ষেত = ধানখেত,
- ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬৭৬.
সমাসে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি পদের নাম কী?
  1. সমস্ত পদ
  2. পরপদ
  3. সমস্যমান পদ
  4. বিশ্লেষণপদ
সঠিক উত্তর:
সমস্যমান পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমস্যমান পদ
ব্যাখ্যা
• সমস্যমান পদ:
- যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।

এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০২২ সংস্করণ)।
১,৬৭৭.
'ছায়াশীতল' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যেমন:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- ছায়া দ্বারা শীতল = ছায়াশীতল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬৭৮.
অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) তেপায়া
  2. খ) গায়ে-পড়া
  3. গ) গায়ে হলুদ
  4. ঘ) একচোখা
সঠিক উত্তর:
খ) গায়ে-পড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গায়ে-পড়া
ব্যাখ্যা
অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনাে পরিবর্তন হয় না, তাকে বলা হয় অলুক বহুব্রীহি সমাস।
- এ সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায় পাগড়ি,
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
- হাতে ছড়ি যার = হাতে-ছড়ি,
- কানে কলম যার = কানে-কলম,
- গায়ে পড়ে যে = গায়ে-পড়া,
- হাতে বেড়ি যার = হাতে-বেড়ি,
- মুখে ভাত যার = মুখে-ভাত,
- কানে খাটো যে = কানে-খাটো ইত্যাদি। 

তিন পায়া যার = তেপায়া - সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
এক দিকে চোখ বা দৃষ্টি যার = একচোখা - প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে হলুদ - মধ্যপদলােপী বহুব্রীহি সমাস

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৯.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. আইনকানুন
  2. কাঁচা-মিঠা
  3. ওজোন-স্তর
  4. পোস্ট-অফিস
সঠিক উত্তর:
আইনকানুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনকানুন
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- সোনা ও রুপা = সোনা-রুপা;
- লজ্জা ও শরম - লজ্জাশরম;
- দম্ (জায়া) ও পতি = দম্পতি;
- দা ও কুমড়া = দাকুমড়া;
- আইন ও কানুন = আইনকানুন। 

অন্যদিকে:
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা; কর্মধারয় সমাস।
- ওজোনের স্তর = ওজোন-স্তর; ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 
- পোস্টের নিমিত্ত অফিস = পোস্ট-অফিস; চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৮০.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাস নয়?
  1. ক) পণ্ডিতমূর্খ
  2. খ) অনাচার
  3. গ) মৃগশিশু
  4. ঘ) গাছপাকা
সঠিক উত্তর:
ক) পণ্ডিতমূর্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পণ্ডিতমূর্খ
ব্যাখ্যা
পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমুর্খ হলো নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস। গাছে পাকা = গাছপাকা হলো সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। ন আচার = অনাচার হলো নঞ্ তৎপুরুষ সমাস। মৃগীর শিশু = মৃগশিশু ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পেয়ে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমনঃ বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৬৮১.
'কায়মনোবাক্য' কোন প্রকার দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. বহুপদী দ্বন্দ্ব
  4. সমার্থক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
বহুপদী দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুপদী দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ এবং প্রত্যেক পদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
জায়া ও পতি = জায়াপতি > জম্পতি > দম্পতি।

বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস:
তিন বা তার বেশি পদের সমন্বয়ে সমাস সংঘটিত হলে তাকে বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
কায়মনোবাক্য = কায় ও মন ও বাক্য।
সাহেববিবিগোলাম = সাহেব ও বিবি ও গোলাম।
ইটসুরকিচুনকাঠ = ইট ও সুরকি ও চুন ও কাঠ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৮২.
'হাতে-বেড়ি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. অলুক তৎপুরুষ
  3. নিত্য সমাস
  4. অলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়। যথা-
মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
গলায় গামছা যার = গলায়গামছা।
এরূপ-
হাতে-ছড়ি,
কানে-কলম,
হাতে-বেড়ি,
গায়ে-পড়া,
মাথায়-ছাতা,
মুখে-ভাত,
কানে-খাটো ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৮৩.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ভাইবোন
  2. খ) সিংহাসন
  3. গ) কানাকানি
  4. ঘ) গাছপাকা
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইবোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইবোন
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ- উভয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। এই সমাসে ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ স্থাপনে ও, এবং, আর- এই তিনটি অব্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- তাল ও তমাল = তালতমাল।
দোয়াত ও কলম = দোয়াতকলম।
মাতা ও পিতা = মাতাপিতা।
ভাই ও বোন = ভাইবোন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৮৪.
'ফুলকুমারী' শব্দটি কোন সমাস?
  1. ক) উপমান
  2. খ) দ্বন্দ্ব
  3. গ) উপমিত
  4. ঘ) রূপক
সঠিক উত্তর:
গ) উপমিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপমিত
ব্যাখ্যা
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- কুমারী ফুলের ন্যায়। এটি উপমিত কর্মধারয় সমাস।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৮৫.
যে সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তির লোপ হয় না তাকে বলে-
  1. ক) নিত্য সমাস
  2. খ) প্রাদি সমাস
  3. গ) দ্বন্দ্ব সমাস
  4. ঘ) অলুক সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলুক সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলুক সমাস
ব্যাখ্যা
• অলুক অর্থ হলো বিভক্তি লোপ পাবে না অর্থাৎ ব্যাসবাক্যে এবং সমস্ত পদে বিভক্তি বজায় থাকবে।

• যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন: দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে।

• যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন- গায়ে পড়া = গায়েপড়া, ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়েভাজা, কলে ছাঁটা = কলেছাঁটা, কলের গান = কলেগান, গরুর গাড়ি = গরুগাড়ি ইত্যাদি।

• যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যথা- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি, গলায় গামছা যার = গলায়গামছা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
১,৬৮৬.
কোন শব্দটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. বাগবিতণ্ডা
  2. মহাত্মা
  3. কুশীলব
  4. গাছপাকা
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

অন্যদিকে,
- তৎপুরুষ সমাস 'বাক্ দ্বারা বিতণ্ডা = বাগবিতণ্ডা।
- দ্বন্দ্ব সমাস - কুশ ও লব = কুশীলব।
- সপ্তমী তৎপুরুষ - সমাস গাছে পাকা = গাছপাকা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬৮৭.
'মৃগলোচনা' শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. লোচন মৃগের ন্যায়
  2. লোচন মৃগীর ন্যায়
  3. মৃগের ন্যায় লোচন যার
  4. মৃগীর ন্যায় লোচন যার
সঠিক উত্তর:
মৃগের ন্যায় লোচন যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃগের ন্যায় লোচন যার
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী,
- মৃগের ন্যায় লোচন যার = মৃগলোচনা

এরকম - ক্ষুরধার, গজানন, মীনাক্ষী, স্বর্ণাভ, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা, হুতুমচোখি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৮৮.
বিরােধার্থক দ্বন্দ্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) আয়-ব্যয়
  2. খ) জমা-খরচ
  3. গ) লাভ-লােকসান
  4. ঘ) ধনী-গরিব
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধনী-গরিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধনী-গরিব
ব্যাখ্যা
যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে বলা হয় দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন: ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।  

বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব: অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরােধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন- ভালােমন্দ, সাদাকালাে, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেব-দানব, ধনী-গরিব ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, ভালােমন্দ, দিনরাত, টকমিষ্টি, দেশেবিদেশে, ছেলেবুড়াে, আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, লাভ-লােকসান ইত্যাদি = বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৯.
"নবরত্ন" শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. দ্বিগু
  3. প্রাদি
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।  দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন,
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ,
- পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৯০.
"গণতন্ত্র" শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬৯১.
কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি এর উদাহরণ?
  1. অজানা
  2. দোতলা
  3. আশীবিষ
  4. কানাকানি
সঠিক উত্তর:
কানাকানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাকানি
ব্যাখ্যা
• ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ - কানাকানি।

• ব্যতিহার বহুব্রীহি:
- ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
- এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং উত্তরপদে 'ই' যুক্ত হয়।
যথা:
• হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
• কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

এমনি ভাবে - চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, লাঠালাঠি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস: 
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয়যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস।
যেমন -
- ঊন পাঁজর যার= ঊনপাঁজরে। 
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা (চোখ + আ)।
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ + ও)।
- দুই তলবিশিষ্ট বাড়ি = দোতলা।
এরকম,
- নি-খরচে, দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা ইত্যাদি।

• নঞ্ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে 'নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গর, ন, নি, বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। নঞ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়।
যেমন:
- নয় হাজির = গরহাজির;
- নয় হিসাব = বেহিসাবি;
- নয় কাতর = অকাতর;
- ন অশন = অনশন;
- নয় বুঝ = অবুঝ;
- নাই জানা = অজানা।
- নয় সরকারি = বেসরকারি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬৯২.
'খড়মপা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. রূপক কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
খড়ম রূপ পা = খড়মপা;
• জীবন রূপ বারি = জীবনবারি;
• জীবন রূপ নদী = জীবননদী;
• দিল্ রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া;
• দেহ রূপ লতা = দেহলতা;
• পরান রূপ পাখি = পরানপাখি;
• প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি;
• প্রাণ রূপ তোমরা = প্রাণভোমরা; 
• বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু; 
• ভব রূপ নদী = ভবনদী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৯৩.
‘বিস্ময়াপন্ন’ পদটির সঠিক ব্যাসবাক্য- 
  1. বিস্ময়ে যে আপন্ন
  2. বিস্ময় দ্বারা আপন্ন
  3. বিস্ময়কে আপন্ন
  4. বিস্ময়ে আপন্ন
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়কে আপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়কে আপন্ন
ব্যাখ্যা

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন,

অনুরূপভাবে,
- বিস্ময়কে আপন্ন = বিস্ময়াপন্ন,
- পরলোকে গত = পরলোকগত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৬৯৪.
'পঞ্চনদ' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় 
  2. দ্বন্দ্ব
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বিগু
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু
ব্যাখ্যা

 • দ্বিগু সমাস:
- সমাহার বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন,
- পঞ্চনদ, পঞ্চভূত, পঞ্চবটী, ত্রিভুজ, তেপান্তর ইত্যাদি।

অর্থ্যাৎ,
• পঞ্চ নদের সমাহার = পঞ্চনদ; দ্বিগু সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১,৬৯৫.
‘একোন’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ক) তৃতীয়া তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৃতীয়া তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
একোন = এক দ্বারা ঊন, এটা তৃতীয়া তৎপুরুষ সমসের উদাহরণ।
ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম- দশম শ্রেণির বোর্ড বই।
১,৬৯৬.
নিচের কোন শব্দটি বহুব্রীহি সমাস সাধিত?
  1. ক) দ্বিচক্র
  2. খ) চৌরাস্তা
  3. গ) ধোয়ামোছা
  4. ঘ) বুদ্ধিজীবী
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিচক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিচক্র
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি : 
পূর্বপদে সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে । 
যেমন দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজী;
চার পায়া যার = চারপেয়ে ।
চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ, 
সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।
 
সংজ্ঞা অনুসারে,
দুইটি চক্র (চাকা) আছে যার = দ্বিচক্র (যান বোঝাচ্ছে); এটি সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি। 
 
অপরদিকে, 
চৌরাস্তা - দ্বিগু সমাস, 
ধোয়ামোছা - কর্মধারয় সমাস, 
বুদ্ধিজীবী - উপপদ তৎপুরুষ সমাস
 
উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬৯৭.
নিচের কোনটির ব্যাসবাক্যে ‘যে’ যোজক থাকে ?
  1. ক) চৌরাস্তা
  2. খ) কনকচাঁপা
  3. গ) জমাখারচ
  4. ঘ) কাজলকালো
সঠিক উত্তর:
খ) কনকচাঁপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কনকচাঁপা
ব্যাখ্যা

- যে সমাসের পর পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
- কিছু কিছু কর্মধারয় সমাসে যে যোজক থাকে।
- কনক যে চাপা = কনকচাঁপা
- খাস যে জমি = খাসজমি 
- চিত যে সাঁতার = চিতসাঁতার
- টাক যে মাথা = টাকমাথা
- যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর
- যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট 
- অপরদিকে
- চৌরাস্তা = চার রাস্তার মিলন
- কাজলকালো = কাজলের মত কালো
- জমাখরচ = জমা ও খরচ

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

১,৬৯৮.
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে কী সমাস বলে?
  1. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
  2. দ্বিগু সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

উল্লেখ্য,
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
- পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়। এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়।
যথা:
- দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি,
- চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা।

অলুক বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন -
গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৯৯.
'বিদ্যাধন' — শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. রূপক কর্মধারয়
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. উপমিত কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

রূপক কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি,
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৭০০.
দম্পতি কোন সমাস?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) দ্বন্দ্ব
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রধান্য থাকে এবং সংযোজক অব্যয় লোপ পায় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, পিতা ও পুত্র = পিতাপুত্র, আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী৷