বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সমাস

মোট প্রশ্ন২,৫০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সমাস

PrepBank · পাতা ১৬ / ২৫ · ১,৫০১১,৬০০ / ২,৫০১

১,৫০১.
কোনটি নিত্য সমাসের সমস্তপদ?
  1. ক) নরপশু
  2. খ) গ্রামান্তর
  3. গ) মনমাঝি
  4. ঘ) উপনদী
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রামান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রামান্তর
ব্যাখ্যা

নিত্যসমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

নিপাতনে সিদ্ধ (কোনাে নিয়মের অধীনে নয়) বহুব্রীহি:
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,

রূপক কর্মধারয় সমাস
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি

অব্যয়ীভাব সমাস:
সামীপ্য (উপ) :কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।
- ক্ষুদ্র অর্থে (উপ) : উপগ্রহ, উপনদী, উপজেলা ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী

১,৫০২.
নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. অবুঝ
  2. অনন্ত
  3. বেহেড
  4. বেতাল
সঠিক উত্তর:
বেতাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতাল
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন -
বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা -
ন আচার = অনাচার,
ন কাতর = অকাতর।
এরূপ - অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

• খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়।
যেমন -
ন কাল = অকাল বা আকাল।
তদ্রূপ - আধোয়া, নামঞ্জুর, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অবুঝ, অনন্ত, বেহেড - নঞ্‌ বহুবীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫০৩.
বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দম্পতি
  2. খ) মধুমাখা
  3. গ) সিংহাসন
  4. ঘ) পােড়াকপাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) পােড়াকপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পােড়াকপাল
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে বংহ (বুদ্ধি) +উ = বহু; বৃহ +ই = ব্রীহি।
- এর অর্থ বহু ধান আছে যার এমন লােককে বােঝানাে হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে এটি সমাসরূপে পরিচিত।
- বহুব্রীহি সমাসের সংজ্ঞায় বলা হয়, যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, তাই বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপাল
- এখানে কপাল আক্ষরিক অর্থে আগুনে পুড়ে গেছে এমন কাউকে না বুঝিয়ে মন্দভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

 অন্যদিকে, 
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা - তৎপুরুষ সমাস
- জায়া ও পতি = দম্পতি - দ্বন্দ্ব সমাস 
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন - কর্মধারয় সমাস।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৪.
‘চিনিপাতা’ কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে।

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন-
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫০৫.
“অর্ধমৃত” সমাস এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) মৃত প্রায় যে
  2. খ) অর্ধ সময় ব্যাপিয়া মৃত
  3. গ) অর্ধ রূপে মৃত
  4. ঘ) অর্ধ মৃত যে
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) অর্ধ রূপে মৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অর্ধ রূপে মৃত
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয়া তৎপুরুষ বা কর্ম তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণঃ
কলাবেচা = কলাকে বেচা
চিরশত্রু = চির দিন ধরে শত্রু 
চিরসুখী = চিরকাল ব্যাপীয়া সুখী
অর্ধমৃত = অর্ধ রূপে মৃত

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,৫০৬.
'মৌমাছি' কোন প্রকার কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
  2. খ) উপমান কর্মধারয়
  3. গ) উপমিত কর্মধারয়
  4. ঘ) রূপক কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
ক) মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস: যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২০ সংস্করণ)।
১,৫০৭.
‘শশাঙ্ক’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. শশের অঙ্ক
  2. অঙ্কের শশ
  3. শশে অঙ্ক যার
  4. শশ অঙ্ক যার
সঠিক উত্তর:
শশ অঙ্ক যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশ অঙ্ক যার
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- শশ অঙ্ক যার = শশাঙ্ক।
- সমান বর্ণ যার = সবর্ণ।
- সমান গোত্র যার = সগোত্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৫০৮.
'নয়নপদ্ম' শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. পদ্মের মত নয়ন
  2. নয়ন ও পদ্ম
  3. পদ্ম যে নয়ন
  4. নয়ন পদ্মের ন্যায়
সঠিক উত্তর:
নয়ন পদ্মের ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়ন পদ্মের ন্যায়
ব্যাখ্যা

উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৫০৯.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) কাজলকালো
  2. খ) মনমাঝি
  3. গ) বিজয়-পতাকা
  4. ঘ) চন্দ্রমুখ
সঠিক উত্তর:
গ) বিজয়-পতাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিজয়-পতাকা
ব্যাখ্যা
• বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা হলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত। যেমন-
- ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত।
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা।
উপমিত কর্মধারয়:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন -
- কাজের মতো কালো = কাজলকালো।
রূপক কর্মধারয়:
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- 
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।
উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমা পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন -
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫১০.
নিচের কোন শব্দটি নিত্য সমাসের মাধ্যমে গঠিত?
  1. উপকূল
  2. অনুধাবন
  3. আমরণ
  4. আমরা
সঠিক উত্তর:
আমরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা
ব্যাখ্যা

যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে।
তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন-
অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
কাল তুল্য সাপ = কালসাপ,
তুমি, আমি ও সে = আমরা,
দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

- উপকূল, অনুধাবন, আমরণ অব্যয়ীভাব সমাস৷

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫১১.
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি কোনটি?
  1. ক) একগুঁয়ে
  2. খ) তেপায়া
  3. গ) একরোখা
  4. ঘ) পণ্ডিতমূর্খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পণ্ডিতমূর্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পণ্ডিতমূর্খ
ব্যাখ্যা
কোনো নিয়ম অনুসরণ না করে যে বহুব্রীসি সমাস হয় তাকে নিপাতনেসিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন :
- পণ্ডিতমূর্খ = পণ্ডিত হয়েও মূর্খ,
- নরপশু = নরাকারের পশু,
- অন্তরীপ = অন্তর্গত অপ যার,
- দ্বীপ = দুই দিকে অপ যার

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,৫১২.
‘ত্রিকাল’ কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. প্রাদি সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন -
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫১৩.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. বিশ্রী
  2. ক্ষুৎপিপাসা
  3. বলামাত্র
  4. দেশান্তর
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশ্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্রী
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

অন্যদিকে,
• ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা; দ্বন্দ্ব সমাস।
• কেবল বলা = বলামাত্র; নিত্য সমাস।
• অন্য দেশ = দেশান্তর; নিত্য সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৫১৪.
'উকিল' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  2. নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।
 
যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক, 
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক, 
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- ওকালতি করেন যিনি = উকিল ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫১৫.
‘নীলপদ্ম’ কোন সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) অব্যয়ীভাব সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা; ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

• যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: ধানের ক্ষেত = ধানখেত, ‍ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।   

• ‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন: কূলের সমীপে = উপকূল, দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫১৬.
‘বেহিসাবি’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. নেই হিসাব যার
  2. যার হিসাব নেই
  3. নয় হিসাবে যা
  4. হিসাব যার নেই
সঠিক উত্তর:
নেই হিসাব যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেই হিসাব যার
ব্যাখ্যা
⇒ বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ দুটির কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে এ দুয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে ‘বহুব্রীহি’ সমাস বলে।
যেমন:
- দশ হাত যার = দশহাতি; এখানে দশহাতি বলতে দশ হাত বিশিষ্ট কাউকে বোঝায় না। বরং ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত একজন দেবীকে বোঝায়।

⇒ নঞ্ বহুব্রীহি:
না-বোধক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- নেই হিসাব যার = বেহিসাবি;
- নয় সামাল যে = বেসামাল;
- নেই দোষ যার = নির্দোষ;
- নেই হিংসা যার = অহিংস;
- নেই যার হায়া = বেহায়া;
- নেই যার আক্কেল = বেআক্কেল।

উৎস ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৫১৭.
যে সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং সমস্ত পদের দ্বারা সমাহার বোঝায় তাকে বলে?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন -
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫১৮.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. কাজলকালো
  2. সিংহপুরুষ
  3. অরুণরাঙা
  4. মনমাঝি
সঠিক উত্তর:
মনমাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনমাঝি
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়। এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা 'ই' যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।
যেমন-
ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল,
বিষাদ রূপ সিন্ধু =  বিষাদসিন্ধু,
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

• উপমান কর্মধারয়:
উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা
তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র,
অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।
কাজলের ন্যায় কালো = কাজলকালো।

• উপমিত কর্মধারয়:
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে। যেমন
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১,৫১৯.
‘উপকূল’ কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
  পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল;
- বেলাকে অতিক্রম = উদ্বেল;
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রম = উচ্ছৃঙ্খল;
- নুনের অভাব = আলুনি;
- ইষৎ উষ্ণ = ঈষদুষ্ণ;
- বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ
- দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫২০.
দুটি বিশেষণযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. চা-বিস্কুট
  2. অহি-নকুল
  3. যাওয়া-আসা
  4. বাকি-বকেয়া
সঠিক উত্তর:
বাকি-বকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাকি-বকেয়া
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

দুটি বিশেষণযোগে দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
- ভালো-মন্দ,
- কম-বেশি,
- আসল-নকল,
- বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'যাওয়া-আসা' দুটি ক্রিয়াযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।
• 'অহি-নকুল' বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।
• 'চা-বিস্কুট' মিলনার্থক' শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫২১.
'নীলকমল' — কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ-প্রাধান্য থাকবে এবং পূর্বপদটি পরপদের বিশেষণের মত কাজ করবে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন:
নীল যে কমল = নীলকমল, এখানে পূর্বপদ 'নীল' — পরপদ কমলের বিশেষণ এবং 'নীলকমল' শব্দে কমলের‌ই অর্থ প্রাধান্য। তাই, এটি কর্মধারয় সমাস।

 অন্যদিকে, 
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভাইবোন,
- তালতমাল ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১,৫২২.
নিত্য সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. প্রবচন
  2. দর্শনমাত্র
  3. আমরা
  4. গৃহান্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
ব্যাখ্যা

নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়। যেমন :
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

 অন্যদিকে, 
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন -প্রাদি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৫২৩.
'চিকিৎসাশাস্ত্র' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস: 
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন-
- সিংহ চিহ্নিত আসন= সিংহাসন,
 - চিকিৎসা বিষয়ক যে শাস্ত্র = চিকিৎসাশাস্ত্র

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ব্যাকরণ ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,৫২৪.
‘সেতার’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. সাত তারের সমাহার
  2. সাত তার যার
  3. সে তারের সমাহার
  4. তিন তার বিশিষ্ট যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
সে তারের সমাহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে তারের সমাহার
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।  দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।
 
অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার - ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার - তেমাথা;
- সে (তিন) তারের সমাহার - সেতার;
- পঞ্চ ঋষির সমাহার - পঞ্চর্ষি;
- শত অব্দের সমাহার - শতাব্দী।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫২৫.
‘রাজনীতি’ সমস্তপদের ব্যাসবাক্য কী?
  1. ক) রাজার নীতি
  2. খ) রাজ ও নীতি
  3. গ) নীতির রাজা
  4. ঘ) নীতি ও রাজা
সঠিক উত্তর:
গ) নীতির রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীতির রাজা
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা’ শব্দটি শ্রেষ্ঠ অর্থে ব্যবহৃত হলে পূর্বপদে ‘রাজ’ হবে এবং ব্যাসবাক্যের শেষে ‘রাজা’ হবে। 
যেমন -
- রাজপথ = পথের রাজা
- রাজহাঁস = হাঁসের রাজা
- রাজসর্প = সর্পের রাজা
- রাজনীতি = নীতির রাজা
- রাজধর্ম = ধর্মের রাজা
- রাজমিস্ত্রি = মিস্ত্রির রাজা

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,৫২৬.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. অনুগমন
  2. অনুমান
  3. অজ্ঞান
  4. অকৃতজ্ঞ
  5. .
সঠিক উত্তর:
অনুগমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুগমন
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।
- উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। 

বিভিন্ন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- বীপ্সা (অনু, প্রতি) : দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ, অনুক্ষণ ইত্যাদি।
- পশ্চাৎ (অনু) : পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন ইত্যাদি।
- বিরােধ (প্রতি) : বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল ইত্যাদি।
- প্রতিনিধি অর্থে (প্রতি): প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব।
- প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে (প্রতি) : প্রত্যুত্তর, প্রতিপক্ষ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৫২৭.
মৌমাছি কোন সমাস ?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

মৌ সঞ্চয়কারী মাছি = মৌমাছি। এটি একটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস

যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
এবং ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাই মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।
এমনিভাবে, সিংহাসন, সাহিত্যসভা, গোবর গণেশ, সংবাদপত্র ইত্যাদি।

উৎসঃ উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

 

১,৫২৮.
'ধোয়ামোছা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• 'ধোয়ামোছা'= আগে ধোয়া তারপর মোছা কর্মধারয় সমাস।

• কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন: আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা

• কর্মধারয় সমাস:

- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

এছাড়াও কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়:
• দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
• দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
• বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়। যেমন মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান, মহান যে নবি = মহানবি।
• পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়। যেমন - কু যে অর্থ = কদর্থ, কু যে আচার = কদাচার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৫২৯.
নিচের কোনটি নঞ্ বহুব্রীহি সমাস?
  1. ক) হেড মাস্টার
  2. খ) ত্রিফলা
  3. গ) হাতেখড়ি
  4. ঘ) অনমনীয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনমনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনমনীয়
ব্যাখ্যা
না-বোধক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন : নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, অকোজো, বেতার, বেপরোয়া, অভদ্র, নির্লোভ, নির্দোষ, নিঃসন্তান, বেহায়া, অহিংস, অপুত্রক, আনাড়ি, বেয়াদব ইত্যাদি। 

সমস্তপদ    ব্যাসবাক্য 
অজ্ঞান  --  নেই জ্ঞান যার    
নির্ভুল  --  নেই ভুল যার
নির্দোষ  --  নেই দোষ যার   
অভদ্র  --  নেই ভদ্রতা যার
নির্ঝঞ্ঝাট   --  নেই ঝঞ্ঝাট যার   
অবুঝ  --  নেই বুঝ যার

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
১,৫৩০.
‘আজানুলম্বিত’ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. জানুর উপরে লম্বিত
  2. জানুর নিচে লম্বিত
  3. জানুর সমান লম্বিত
  4. জানু পর্যন্ত লম্বিত
সঠিক উত্তর:
জানু পর্যন্ত লম্বিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানু পর্যন্ত লম্বিত
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত,
মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৩১.
নিচের কোনটি 'বিপরীতার্থক শব্দযোগে' গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. হাত-পা
  2. নাক-কান
  3. আয়-ব্যয়
  4. সাত-পাঁচ
সঠিক উত্তর:
আয়-ব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়-ব্যয়
ব্যাখ্যা

দুটি বিশেষণযোগে:
- ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।
 
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্রুত্ব সমাস বলে। 

বিপরীতার্থক শব্দযোগে: 
- আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

অঙ্গবাচক শব্দযোগে:
- হাত-পা, নাক-কান, বুক-পিঠ, মাথা-মুণ্ডু, নাক-মুখ ইত্যাদি।

সংখ্যাবাচক শব্দযোগে:
- সাত-পাঁচ, নয়-ছয়, সাত-সতের, উনিশ-বিশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

১,৫৩২.
‘অপয়া' শব্দটি কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• নঞ বহুব্রীহি সমাস:
না- বোধক অব্যয় পদের সাথে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- নেই পয় (ভাগ্য) যার= অপয়া, 
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- না (নাই) চারা (উপায়) = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = নাজানা,
- অ (নাই) আদি যার = অনাদি ইত্যাদি। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎমামুদ ও ড. মোহাম্মাদ আমীন; মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫৩৩.
কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. কাজ-কর্ম
  2. খাসমহল
  3. মুখোমুখি
  4. উপকূল
সঠিক উত্তর:
মুখোমুখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখোমুখি
ব্যাখ্যা
• ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস - মুখোমুখি

ব্যতিহার বহুব্রীহি:
- ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
- এ সমাসে পূর্বপদে ‘আ’ এবং উত্তরপদে ‘ই’ যুক্ত হয়।
যথা:
→ হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
→ কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
এমনি ভাবে - চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, লাঠালাঠি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• দ্বন্দ্ব সমাস - কাজ-কর্ম।
• কর্মধারয় সমাস - খাসমহল।
• অব্যয়ীভাব সমাস - উপকূল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৩৪.
'হজ্জযাত্রা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ৩য়া তৎপুরুষ
  2. খ) ৪র্থী তৎপুরুষ
  3. গ) ৫মী তৎপুরুষ
  4. ঘ) ৭মী তৎপরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) ৪র্থী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪র্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
হজের জন্য যাত্রা = হজ্জযাত্রা, ৪র্থী তৎপুরুষ এর উদাহরণ।

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থ বিভক্তি (কে, রে, জন্য, তরে, নিমিত্ত) লােপের মাধ্যমে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের জন্য বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- হজের জন্য যাত্রা = হজ্বযাত্রা,
- পাগলের নিমিত্তে গারদ = পাগলাগারদ,
- মরণের নিমিত্তে কাঠি = মরণকাঠি,
- শিশুর জন্য সাহিত্য = শিশুসাহিত্য,
- শয়নের নিমিত্তে কক্ষ = শয়নকক্ষ প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৫.
'পঞ্চবটী' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- পাঁচ সেরের সমাহার = পঁসুরি,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৩৬.
'দম্পতি' —সমাসটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) দম ও পতি
  2. খ) স্ত্রী ও পতি
  3. গ) জায়া ও পতি
  4. ঘ) স্বামী ও স্ত্রী
সঠিক উত্তর:
গ) জায়া ও পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জায়া ও পতি
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা, জায়া ও পতি = দম্পতি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী
১,৫৩৭.
’অরুণরাঙা’ কোন সমাস নিষ্পন্ন সমস্তপদ ?
  1. ক) উপমিত কর্মধারয়
  2. খ) রূপক কর্মধারয়
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ
  4. ঘ) উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
’অরুণরাঙা’ উপমান কর্মধারয় সমাস নিষ্পন্ন সমস্তপদ।

উপমান কর্মধারয় :
  সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস তা উপমান কর্মধারয় সমাস হয়।

যেমন-অরুণরাঙা= অরুণের ন্যায় রাঙা।  
ভ্রমরকৃষ্ণ = ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ 

এছাড়াও, তুষারশুভ্র, অরুণরাঙা, শশব্যস্ত, কাজলকালো, দুগ্ধধবল ইত্যাদি এই ধরনের সমাস নিষ্পন্ন শব্দ।


উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)
১,৫৩৮.
'সোনার-তরী' কোন সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'সোনার-তরী' অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - কলের গান, ঘিয়ে ভাজা, সোনার-তরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৩৯.
সমাস কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?  
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. অভিধানতত্ত্ব 
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

সমাস রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 
---------------------------
• সমাস: 
- সমাস হলো কোনো শব্দের সংক্ষেপণ বা একাধিক পদকে একপদিকরণ করা।
- অর্থের দিক থেকে মিল আছে এমন দুই বা ততোধিক শব্দ বা পদ মিলিত হয়ে একটি শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলা হয়।
- শব্দ গঠনের অন্যতম উপায় হলো সমাস।
- বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে সমাস সৃষ্টি করা হয়।

- যে সব পদ নিয়ে সমাস গঠিত হয়, তাদের মধ্যে অর্থের মিল এবং পদগুলোর পরস্পরের মধ্যে সঠিক সম্পর্ক থাকতে হবে, যাতে পদগুলোর দ্বারা একটি বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ পায়।
- অর্থযুক্ত পদ থেকেই সমাস গঠিত হয়।
- উদাহরণ:
- ঘি মাখানো ভাত—
- এখানে বাক্যে অর্থের দিক থেকে সামঞ্জস্য রয়েছে এবং বিশেষ অর্থও প্রকাশ পাচ্ছে।
- সেই অর্থ অক্ষুণ্ণ রেখে এই পদগুলোকে মিলিয়ে একটি শব্দে পরিণত করা যায়।
- অর্থাৎ, ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত লেখা যায়। 
- এতে অর্থের কোনও পরিবর্তন হয়না। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১,৫৪০.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহারণ নয়?
  1. ক) বিড়ালচোখী
  2. খ) মেনিমুখো
  3. গ) হাতেখড়ি
  4. ঘ) বেতার
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেতার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেতার
ব্যাখ্যা

সমাসে ব্যাখ্যামূলক যে কোন পদ যদি সমস্তপদে লোপ পায় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন- বিড়ালচোখী, হাতেখড়ি, গায়ে হলুদ, মেনিমুখো ইত্যাদি। 'বেতার' নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১,৫৪১.
'জলচর' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস 
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৫৪২.
‘শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল’ কোন সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) তত্‍পুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
উচ্ছৃঙ্খল = শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত। এটি অবয়ীভাব সমাস।
উল্লেখ্য, অব্যয় শব্দ পুর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে অব্যয়ের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
১,৫৪৩.
'দোয়াত কলম' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- তাল ও তমাল = তাল-তমাল,
- দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
- এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৫৪৪.
অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. আমরণ
  2. নিরামিষ
  3. উপজেলা
  4. একরোখা
সঠিক উত্তর:
একরোখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একরোখা
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস নয়- একরোখা
- একদিকে রোখ যার = একরোখা;  বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

------------------------
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৪৫.
"যুগান্তর" শব্দটি কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।

যেমন:
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- কাল তুল্য সাপ = কালসাপ,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৪৬.
‘মহাকীর্তি’-শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) মহান যে কীর্তি
  2. খ) মহা যে কীর্তি
  3. গ) মহতী যে কীর্তি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) মহতী যে কীর্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহতী যে কীর্তি
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষবাচক হয়। যেমন- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫৪৭.
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. যাদুকর
  2. ছেলেধরা
  3. গাছপাকা
  4. আমরা
সঠিক উত্তর:
গাছপাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছপাকা
ব্যাখ্যা

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
• গাছে পাকা = গাছপাকা,
• অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
• দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
• ভোজনে পটু = ভোজন পটু,
• পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
• দানে বীর = দানবীর,
• মনে মরা = মনমরা ইত্যাদি।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
• পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
• যাদু করে যে = যাদুকর,
• ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
• ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
• পকেট মারে যে = পকেটমার ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৪৮.
নিচের কোনটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) জলে-স্থলে
  2. খ) অহি-নকুল
  3. গ) চা-বিস্কুট
  4. ঘ) আয়-ব্যয়
সঠিক উত্তর:
ক) জলে-স্থলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জলে-স্থলে
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে বলা হয় দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন- ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক ইত্যাদি। 
- দ্বন্দ্ব মানে জোড়া।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
প্রকারভেদ:
- দ্বন্দ্ব সমাসকে নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
১. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদের পরস্পর মিলন ঘটে এবং এদের অর্থের দিক থেকেও মিল থাকে সে দ্বন্দ্ব সমাসকে বলা হয় মিলনার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন- ভাই-বোন, মা-বাপ, মাসি-পিসি, চা-বিস্কুট, লতা-পাতা, মাছ-ভাত, পিতা-পুত্র ইত্যাদি। 
২. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব: অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরোধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব ।
যেমন- ভালো-মন্দ, সাদা-কালো, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেব-দানব, ধনী-গরিব ইত্যাদি।
৩. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- ভালোমন্দ, দিনরাত, টকমিষ্টি, দেশেবিদেশে, ছেলেবুড়ো, আয়-ব্যয়, জমা-খরচ,  লাভ-লোকসান ইত্যাদি। 
৪. অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসের সাহায্যে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে নির্দেশ করা হয় তাকে বলা হয় অঙ্গবাচক দ্বন্দ্বসমাস।
যেমন- নাক-মুখ, মাথা-মুণ্ডু, বুক-পিঠ, নাক-কান, হাত-পা ইত্যাদি।
৫. বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততোধিক পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বলা হয় বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন- কায়, মনো এবং বাক্যে= কায়মনোবাক্যে, সাহেব, গোলাম এবং বিবি = সাহেব-গোলাম-বিবি, আমি, তুমি এবং সে = আমরা, স্বর্গ, মর্ত এবং পাতাল = স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ইত্যাদি।
৬. সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় দ্বারা সংখ্যা বোঝায় তাকে বলা হয় সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব।
যেমন- সাত-পাঁচ, ছয়-নয়, নয়-ছয়, ঊনিশ-বিশ. সাত-সতের, লক্ষ-কোটি, দশ-বারো ইত্যাদি। 
৭. সমার্থক দ্বন্দ্ব: একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন- ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।
৮. একশেষ দ্বন্দ্ব: যে সমাসে অন্যান্য পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রধান পদটির সঙ্গে শেষপদটির সামঞ্জস্য রচিত হলে তাকে বলা হয় একশেষ দ্বন্দ্ব।
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, তুমি ও সে = তোমরা ইত্যাদি। 
৯. অলুক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তির লোপ হয় না তাকে বলা হয় অলুক দ্বন্দ্ব।
যেমন- দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, মায়ে-ঝিয়ে, ঘরে-বাইরে, আগে-পরে, ধনেজনে, বনে-জঙ্গলে, বুকেপিঠে, হাতেকলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪৯.
নিচের কোনটি বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস নয়?
  1. ক) আয়-ব্যয়
  2. খ) দা-কুমড়া
  3. গ) অহি-নকুল
  4. ঘ) স্বর্গ-নরক
সঠিক উত্তর:
ক) আয়-ব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আয়-ব্যয়
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হতে পারে। যেমন- মিলনার্থক, বিরোধার্থক, বিপরীতার্থক, অঙ্গবাচক, সংখ্যাবাচক ইত্যাদি।
বিরোধার্থক শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাসের কয়েকটি উদাহরণ হল-দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত কয়েকটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ : আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫৫০.
'ধোয়ামোছা' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• 'ধোয়ামোছা'= আগে ধোয়া তারপর মোছা কর্মধারয় সমাস।

• কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন: আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।

• কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

এছাড়াও কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়:
• দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
• দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
• বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়। যেমন মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান, মহান যে নবি = মহানবি।
• পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়। যেমন - কু যে অর্থ = কদর্থ, কু যে আচার = কদাচার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৫৫১.
দ্বিগু সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চৌচালা
  2. খ) চারহাতি
  3. গ) তেপায়া
  4. ঘ) চতুর্ভুজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) চতুর্ভুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চতুর্ভুজ
ব্যাখ্যা
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়। যেমনঃ চতুর্ভুজ, পঞ্চভূত, ত্রিপদী ইত্যাদি। চারহাতি, তেপায়া, চৌচালা সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
১,৫৫২.
‘বালিকা-বিদ্যালয়’ কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  3. গ) ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
  4. ঘ) চতুর্থী তৎপুরুষ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) চতুর্থী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমনঃ গুরুকে ভক্তি- গুরুভক্তি, বালিকাদের নিমিত্ত বিদ্যালয়- বালিকা-বিদ্যালয়।
১,৫৫৩.
‘তেপান্তর’ (তিন প্রান্তরের সমাহার) কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) দ্বিগু
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিগু
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস: 
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন : 
- তেমাথা = তিন মাথার সমাহার,
- ত্রিফলা = তিন ফলের সমাহার,
- তেপান্তর = তিন প্রান্তরের সমাহার,
- ত্রিপদী = তিন পদের সমাহার,
- ত্রিকাল = তিন কালের সমাহার
- ত্রিলোক = তিন লোকের সমাহার ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,৫৫৪.
তৎপুরুষ সমাস নয়-
  1. ক) হাতেখড়ি
  2. খ) ঘিয়েভাজা
  3. গ) গায়েপড়া
  4. ঘ) রাজহাঁস
সঠিক উত্তর:
ক) হাতেখড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাতেখড়ি
ব্যাখ্যা
হাতেখড়ি অলুক বহুব্রীহি সমাস। গায়েপড়া, ঘিয়েভাজা অলুক তৎপুরুষ সমাস। রাজহাঁস = হাঁসের রাজা ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পেয়ে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমনঃ বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন। বনের পতি = বনস্পতি ইত্যাদি। তৎপুরুষ সমাস ছয় প্রকার। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫৫৫.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. রাজপথ
  2. ত্রিলোক
  3. আয়কর
  4. জনমানব
সঠিক উত্তর:
জনমানব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমানব
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা,
- জন ও মানব = জনমানব,
- টীকা ও ভাষ্য = টীকাভাষ্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পথের রাজা = রাজপথ; তৎপুরুষ সমাস। 
- ত্রি লোকের সমাহার = ত্রিলোক; দ্বিগু সমাস।
- আয়ের উপর কর = আয়কর; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৫৬.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. মনমাঝি
  2. হাতেখড়ি
  3. অনুক্ষণ
  4. ক্ষুৎপিপাসা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্ষুৎপিপাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুৎপিপাসা
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা'; দ্বন্দ্ব সমাস।

অন্যদিকে,
• মন রূপ মাঝি = মনমাঝি - হলো রূপক কর্মধারয় সমাস।
• হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি - হলো মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
• 'ক্ষণ ক্ষণ' = অনুক্ষণ; অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৫৭.
স্বর্গ-নরক কোন অর্থে দ্বন্দ্ব?
  1. সহচর শব্দযোগে
  2. দুটি বিশেষণযোগে
  3. সমার্থক অর্থে
  4. বিরোধ অর্থে
সঠিক উত্তর:
বিরোধ অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধ অর্থে
ব্যাখ্যা
•  বিরোধ অর্থে শব্দযোগে ’দা-কুমড়া’ দ্বন্দ্ব সমাস।
 
উল্লেখ্য,
• দ্বন্দ্ব সমাস:

- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্রুত্ব সমাস বলে।

এছাড়াও ,

• দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।
•  মিলনার্থক শব্দযোগে:
- মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরি, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

• বিপরীতার্থক শব্দযোগে :
- আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

• অঙ্গবাচক শব্দযোগে:
- হাত-পা, নাক-কান, বুক-পিঠ, মাথা-মুণ্ডু, নাক-মুখ ইত্যাদি।

• সংখ্যাবাচক শব্দযোগে :
- সাত-পাঁচ, নয়-ছয়, সাত-সতের, উনিশ-বিশ ইত্যাদি।

• সমার্থক শব্দযোগে :
- হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভি, খাতা-পত্র ইত্যাদি।

• প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে :
- কাপড়-চোপড়, পোকা-মাকড়, দয়া-মায়া, ধূতি-চাদর ইত্যাদি।

• দুটি সর্বনামযোগে:
- যা-তা, যে-সে, যথা-তথা, তুমি-আমি, এখানে-সেখানে ইত্যাদি।

• দুটি ক্রিয়াযোগে:
- দেখা-শোনা, যাওয়া-আসা, চলা-ফেরা, দেওয়া-থোওয়া ইত্যাদি।

• দুটি বিশেষণযোগে:
- ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১,৫৫৮.
'কোলেপিঠে' কোন সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. একশেষ দ্বন্দ্ব
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে।
- এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে ,
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে ,
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে,
- বনে ও বাদাড়ে = বনেবাদাড়ে
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৫৯.
‘শ্বেতবস্ত্র’ শব্দটি কোন্ সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: 
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।
- শ্বেত যে বস্ত্র = শ্বেতবস্ত্র।

উৎস: 
১)  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৬০.
‘শোকানল’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) নিত্য সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

শোক রূপ অনল = শোকানল।
এটি রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমনঃ
কাজলের ন্যায় কালো = কাজলকালো,
কমল রূপ মুখ = কমলমুখ,
বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু,
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি,
জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৫৬১.
"মন দিয়ে গড়া = মনগড়া" কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. দ্বিতীয়া
  2. তৃতীয়া
  3. চতুর্থ
  4. ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা:
- মন  দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৫৬২.
'জীবনবীমা' কোন ধরনের সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• 'জীবননাশের আশঙ্কায় যে বীমা = জীবনবীমা।
• 'জীবনবীমা' মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ। 
• কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৬৩.
নিচের কোনগুলো তৎসম অব্যয়জাত শব্দ?
  1. আর, যদি, সদা
  2. সহসা, হঠাৎ, আবার
  3. আপাতত, বস্তুত, পুনশ্চ
  4. খুব, দৈবাৎ, বস্তুত
সঠিক উত্তর:
আপাতত, বস্তুত, পুনশ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপাতত, বস্তুত, পুনশ্চ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে।
যথা- ১. বাংলা ২. তৎসম ৩. বিদেশি।
বাংলা অব্যয় শব্দ : আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয় শব্দ : যদি, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, পুনশ্চ, আপাতত, দৈবাৎ, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশি অব্যয় শব্দ : আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৬৪.
দ্বন্দ্ব সমাসে কোন পদের অর্থ প্রাধান্য পায়?
  1. পরপদের অর্থ
  2. পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের
  3. পূর্বপদ ও পরপদ কোনোটির নয়
  4. পূর্বপদ অর্থ
সঠিক উত্তর:
পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- সোনা ও রুপা = সোনা-রুপা।
- দা ও কুমড়া = দা-কুমড়া। 
- অহি ও নকুল = অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
- আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়। 
- জমা ও খরচ = জমা-খরচ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
১,৫৬৫.
নিচের কোনটি নিপাতনেসিদ্ধ অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) প্রত্যক্ষ
  2. খ) অধিভূত
  3. গ) অধ্যাত্ম
  4. ঘ) অনতিক্রম
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনতিক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনতিক্রম
ব্যাখ্যা
কোনো নিয়ম-কানুন না মেনেই যে অব্যয়ীভাব সমাস হয় তাকে নিপাতনেসিদ্ধ অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন : 
- অধ্যাত্ম = আত্মাকে অধি (অধিকার অর্থে),
- অধিদৈব = দৈবকে অধিকার করে,
- সমক্ষ = অক্ষির সমীপে,
- প্রত্যক্ষ = অক্ষির অভিমুখে,
- অধিভূত = ভূতকে অধিকার করে,
- প্রদক্ষিণ = দক্ষিণকে প্রগত,
- পরোক্ষ = অক্ষির অগোচরে,
- দুর্গত = দুঃ-কে (দুঃখকে) গত।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,৫৬৬.
'অন্তরীপ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. নঞ বহুব্রীহি
  2. নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. অলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• 'অন্তরীপ' এর সমস্তপদ = অন্তর্গত অপ (জল) যার নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত।

• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
- অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্ত,
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূৰ্থ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নঞ বহুব্রীহি সমাস:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবােধক) অব্যয়যােগে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- বে (নাই) ঈমান যার = বেঈমান,
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- না (নাই) চারা (উপায়) = নাচার।

মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
- যেমন:
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

• অলুক বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন –
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬৭.
'বিচিত্রকর্মা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দ বলে 'নাভ হয়।
যেমন:
- কমলের ন্যায় অক্ষি যার- কমলাক্ষ, 
- পদ্ম নাভিতে যার পদ্মনাভ। এরূপ— ঊর্ণনাভ।

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'জায়া' শব্দ স্থানে 'জানি' হয় এবং পূর্বপদের কিছু পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি ('যুবতী' স্থলে 'যুব' ও 'জায়া' স্থলে 'জানি' হয়েছে)।

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদের ‘চূড়া' শব্দ সমস্তপদে ‘চূড়' ও 'কর্ম' শব্দ সমস্তপদে 'কর্মা' হয়।
যেমন:
- চন্দ্ৰ চূড়ায় যার - চন্দ্রচূড়।
- বিচিত্র কর্ম যার - বিচিত্রকর্মা।

• বহুব্রীহি সমাসে ‘সমান” শব্দের স্থানে 'স' এবং 'সহ' হয়।
- যেমন:
- সমান কর্মী যে - সহকর্মী,
- সমান বর্ণ যার - সবর্ণ,
- সমান উদর যার = সহোদর ইত্যাদি।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা - হায়াৎ মামুদ। 
১,৫৬৮.
কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) ভালো মন্দ
  2. খ) মধুমাখা
  3. গ) যথাসাধ্য
  4. ঘ) সত্যনিষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
খ) মধুমাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধুমাখা
ব্যাখ্যা
• মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 
অন্যদিকে, 
ভালোমন্দ- ‘ভালো ও মন্দ’  = দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
সাধ্যকে অতিক্রম না করে - যথাসাধ্য। অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

• তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৬৯.
'বসতবাড়ি' কোন সমাস?
  1. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  3. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• ‘বসতবাড়ি' (বসতের নিমিত্ত বাড়ি) হলো- চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
বিয়েপাগলা - বিয়ের জন্য পাগলা।
গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি।
বসতের নিমিত্ত বাড়ি - বসতবাড়ি।
মুক্তির নিমিত্তে বা জন্য যুদ্ধ - মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৭০.
আশীবিষ কোন সমাস ?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
গ) বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

আশিতে বিষ যার = আশীবিষ; বহুব্রীহি সমাস।
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন: বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার= বহুব্রীহি। এখানের 'বহু' কিংবা 'ধান' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।
- বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ [নবম দশম শ্রেণি]

১,৫৭১.
'কানে খাটো যে = কানেখাটো' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. নিত্য
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন – বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন –
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
১,৫৭২.
সাধারন দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নাচ-গান-বাজনা
  2. খ) পথেপ্রবাসে
  3. গ) লতাপাতা
  4. ঘ) মাতাপিতা
সঠিক উত্তর:
গ) লতাপাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লতাপাতা
ব্যাখ্যা
লতাপাতা সাধারন দ্বন্দ্ব সমাসের উদারহরণ। 

- দ্বন্দ্ব সমাস: এখানে দ্বন্দ্ব মানে হল জোড়া।
- যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং সমস্যমান পদগুলোর প্রতিটিতেই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকেই দ্বন্দ্ব সমাস বলে। 
যেমন:- অহি ও নকুল = অহিনকুল, মা ও বাবা = মা-বাবা, আলো ও ছায়া = আলোছায়া।
- দ্বন্দ্ব' শব্দের অর্থ দুটি। একটি সংঘাত, অন্যটি মিলন।
- জোড়া শব্দই দ্বন্দ্ব সমাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেমন: ভালোমন্দ, ভাইবোন ইত্যাদি।
- পূর্বপদ ও পরপদ একই বিভক্তিযুক্ত হয়। যেমন: দেখাশুনা (আ বিভক্তি যুক্ত)। 
- দুটি জোড়া সর্বনাম দিয়েও দ্বন্দ্ব সমাস হয়। যেমন: তুমি-আমি ইত্যাদি।
- সংখ্যাবাচক শব্দ থাকলেও দ্বন্দ্ব সমাস হয়। যেমন: সাত-পাঁচ। 
- দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে। যথা-
১. সাধারণ দ্বন্দ্ব 
২. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
৩. সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব 
৪. সমার্থক দ্বন্দ্ব 
৫. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব 
৬. একশেষ দ্বন্দ্ব 
৭. অলুক দ্বন্দ্ব 
৮. বহুপদী দ্বন্দ্ব 

 সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
১,৫৭৩.
নিত্য সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. গ্রামান্তর
  2. দর্শনমাত্র
  3. প্রবচন
  4. বিরানব্বই
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
ব্যাখ্যা
• প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন; প্রাদি সমাসের উদাহরণ।

--------------------
নিত্য সমাস :

যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয় তাকে নিত্য সমাস বলে। অর্থাৎ যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- অন্য দেশ = দেশান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- কেবল বলা = বলামাত্র। 

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৫৭৪.
'ঘিভাত' এর ব্যাস বাক্য নিচের কোনটি?
  1. ক) ঘি দিয়ে মাখিয়েছে যে ভাত।
  2. খ) ঘি দ্বারা মাখা ভাত।
  3. গ) ঘি মাখানো ভাত।
  4. ঘ) ঘি ভাত মাখানোর ন্যায়।
সঠিক উত্তর:
গ) ঘি মাখানো ভাত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঘি মাখানো ভাত।
ব্যাখ্যা
- 'ঘিভাত' এর সঠিক ব্যাস বাক্য হচ্ছে ঘি মাখানো ভাত
- 'ঘিভাত' মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন –
ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত,
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি
ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই,
বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১,৫৭৫.
কোনটি মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. রীতি-নীতি
  2. অহি-নকুল
  3. মাসি-পিসি
  4. আয় – ব্যয়
সঠিক উত্তর:
মাসি-পিসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসি-পিসি
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।

মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
- মা-বাপ,
- মাসি-পিসি,
- জ্বিন-পরি,
- চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
- অহি-নকুল,
- দা-কুমড়া,
- স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।

• সমার্থক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ-পরপদ একই অর্থ বা প্রায় একই অর্থ প্রকাশ করে তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: কাজ-কর্ম, রীতি-নীতি, সমাজ-সংস্কার, ঘর-বাড়ি, নদ-নদী, হাট-বাজার, বই-পুস্তক, চোর-ডাকাত, কুলি-মজুর, খাল- বিল, টাকা-কড়ি, ধন-দৌলত, জন-মানব, বন-জঙ্গল, বন্ধু-বান্ধব, ভাগ-বাটোয়ারা, চালাক-চতুর, লোক-জন, আপদ-বিপদ ইত্যাদি।

বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
• জমা – খরচ,
আয় – ব্যয়,
• ছোট – বড়,
• লাভ – লোকসান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণী ( ২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৭৬.
রূপক কর্মধারয় এর উদাহরণ কোনটি?
  1. চন্দ্রমুখ
  2. অরুণরাঙা
  3. ক্রোধানল
  4. বর্ণচোরা
সঠিক উত্তর:
ক্রোধানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোধানল
ব্যাখ্যা
রূপক কর্মধারয় সমাস:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে তাকে বলা হয় রূপক কর্মধারয় সমাস।

- এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ অথবা ‘ই’ যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।

- যেমন:
- মন রূপ মাঝি= মনমাঝি,
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল,
- মন রূপ বাউল = মনবাউল,
- দিল রূপ দরিয়া= দিলদরিয়া,
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭৭.
‘বহুব্রীহি’ শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) বহুগম
  2. খ) বহুধান
  3. গ) বহুবলে
  4. ঘ) বহুধন
সঠিক উত্তর:
খ) বহুধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহুধান
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাসঃ

- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা-
- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।
- এখানে ‘বহু’ কিংবা ‘ব্রীহি' কোনােটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লােককে বােঝাচ্ছে।

সোর্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৭৮.
'দম্পতি' — সমাসের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) জায়া ও পতি
  2. খ) দম ও পতি
  3. গ) স্ত্রী ও পতি
  4. ঘ) স্বামী ও স্ত্রী
সঠিক উত্তর:
ক) জায়া ও পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জায়া ও পতি
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- মাতা ও পিত = মাতাপিতা। 
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে। 

উৎস; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী।
১,৫৭৯.
'দুধে-ভাতে' - কোন সমাস?
  1. একশেষ দ্বন্দ্ব 
  2. বহুপদী দ্বন্দ্ব 
  3. অলুক দ্বন্দ
  4. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব 
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ
ব্যাখ্যা

অলুক দ্বন্দ:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনাে সমস্যমান পদের বিভক্তি লােপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে,
- জলে ও স্থলে = জলে-স্থলে,
- দেশে ও বিদেশে = দেশে-বিদেশে,
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৮০.
বহুব্রীহি সমাসবদ্ধ পদ কোনটি?
  1. খেয়াঘাট
  2. খোশমেজাজ
  3. সিংহাসন
  4. অরুণরাঙা
সঠিক উত্তর:
খোশমেজাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোশমেজাজ
ব্যাখ্যা
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদে বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- হৃতসর্বস্ব = হৃত হয়েছে সর্বস্ব যার,
- খোশমেজাজ = খোশ মেজাজ যার,
- হতশ্রী = হত হয়েছে শ্রী যার,
- নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার,
- পক্বকেশ = পক্ব কেশ যার।

অন্যদিকে,
- খেয়াঘাট = ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
- সিংহাসন = মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
- অরুণরাঙা = উপমান কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৮১.
পূর্বপদের ‘চির’ থাকলে কোন তৎপুরুষ সমাস হয়?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. গ) চতুর্থী তৎপুরুষ
  4. ঘ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে ‘চির’ থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
যেমন : 
- চিরসুখী = চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী
- চিরস্থায়ী = চিরকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী
- চিরস্মরণীয় = চিরকাল ব্যাপিয়া স্মরণীয়
- চিরশত্রু = চিরকাল ব্যাপিয়া শত্রু ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,৫৮২.
"বোঁটা খসেছে যার" এই ব্যাসবাক্যটি কোন বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত?
  1. প্রত্যয়ান্ত
  2. মধ্যপদলোপী
  3. ব্যাধিকরণ
  4. সমানাধিকরণ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ
ব্যাখ্যা
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
- বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা:
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব।

• পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন:
দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা,
বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৮৩.
'মহারাজ' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস 
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস 
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।
যথা:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।

২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।

৩. কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃতন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন- আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।

৪. পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।

৫. বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়। যেমন- মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান, মহান যে নবি = মহানবি।

৬. পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়। যেমন- কু যে অর্থ = কদর্থ, কু যে আচার = কদাচার।

৭. পরপদে 'রাজা' শব্দ থাকলে কর্মধারয় সমাসে 'রাজ' হয়। যেমন- মহান যে রাজা = মহারাজ।

৮. বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষণ পরে আসে, বিশেষ্য আগে যায়। যেমন- সিদ্ধ যে আলু আলুসিদ্ধ, অধম যে নর নরাধম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৫৮৪.
‘জয়পতাকা' শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  3. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  4. রূপক কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

‘জয়পতাকা'- শব্দটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত। 
---------------------------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়।
- অর্থাৎ, সাধারণ বাক্যে যে মধ্যপদটি থাকে—যেমন: 'নিয়ন্ত্রিত' 'চিহ্নিত', 'বিষয়ক', 'রক্ষার্থে', 'আশ্রিত', 'মিশ্রিত', 'শোভিত' ইত্যাদি—সেই মধ্যপদটি সমাস গঠনের সময় উধাও হয়ে যায়।

• 'জয়পতাকা':
- সমস্তপদ: 'জয়পতাকা';
- ব্যাসবাক্য: জয়সূচক পতাকা / বিজয়ের পতাকা (এখানে 'সূচক' বা 'এর' পদটি লুপ্ত);
- প্রকার: মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। 

• কিছু মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ- 
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা → ‘সাহিত্যসভা,
- শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী = শিক্ষামন্ত্রী, 
- জ্যোৎস্না শোভিত রাত = জ্যোৎস্নারাত, 
 - স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- পল মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন, 
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।
----------------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
• উপমান কর্মধারয় সমাস-
- উপমান কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ ধর্মবাচক পদকে উপমাবাচক পদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
- এই সমাসে উপমাবাচক পদটি সেই পদকে প্রকাশ করে যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
- উদাহরণ: তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র। 

• উপমিত কর্মধারয় সমাস-
- উপমিত কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ গুণ স্পষ্টভাবে বলা হয় না।
- কিন্তু উপমেয় পদকে উপমানের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং উপমেয় পদটি আগে আসে।
- উদাহরণ: চন্দ্রমুখ = মুখ চন্দ্রের ন্যায়।

• রূপক কর্মধারয় সমাস-
- রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদটি আগে এবং উপমান পদটি পরে বসে।
- এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যোগ করে মূল ব্যাসবাক্য তৈরি হয়।
- উদাহরণ: বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু, মনমাঝি = মন রূপ মাঝি। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ),
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।।

১,৫৮৫.
সমাস সাধিত পদ কোনটি?
  1. মানব
  2. চাষী
  3. দম্পতি
  4. ঢাকাই
সঠিক উত্তর:
দম্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দম্পতি
ব্যাখ্যা
• 'দম্পতি'- সমাস সাধিত পদ। 
- জায়া ও পতি = দম্পতি, এটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।

দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন,
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

তাছাড়া,
চাষি, বোনাই, মানব- প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
যেমন- 
• চাষ + ই = চাষি; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• ঢাকা + আই = ঢাকাই; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• মনু + ষ্ণ = মানব; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৮৬.
সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) সমস্ত পদ
  2. খ) সমস্যমান পদ
  3. গ) বিগ্রহবাক্য
  4. ঘ) পূর্বপদ
সঠিক উত্তর:
গ) বিগ্রহবাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিগ্রহবাক্য
ব্যাখ্যা
সমাসের কয়েকটি পরিভাষা

⇒ সমস্যমান পদ: যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
- এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

⇒ সমস্ত পদ: সমস্যমান পদগুলাে মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
- একে আবার সমাসবদ্ধ পদও বলা হয়।
- যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
- এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

⇒ ব্যাসবাক্য: সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে
- ব্যাস’ শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
- একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়।
- উপরের বাক্যে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন হলাে সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

⇒ পূর্বপদ ও পরপদ: সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
- সিংহাসন শব্দের সিংহ হলাে পূর্বপদ, আর আসন হলাে পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৭.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. নরসিংহ
  2. হাতেখড়ি
  3. চালকুমড়া
  4. লাঠিখেলা
সঠিক উত্তর:
চালকুমড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালকুমড়া
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা, - তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি, মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
- নর সিংহের ন্যায় = নরসিংহ, উপমিত কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৮৮.
'বর্ণচোরা' কোন সমাসের উদাহরণ? 
  1. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে। যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্ > ধর (ধরা অর্থে)।

উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ ধাতু প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়। 
যেমন: 
- 'বর্ণচোরা' এখানে 'চোরা' কৃদন্ত পদ যার মূল ধাতু '√চুর'। 
- তাহলে, বর্ণচোরা = বর্ণ (উপপদ) + √চুর (ধাতু) + আ (প্রত্যয় কৃদন্ত শব্দ) 

- বাস্তু হারিয়েছে যে = বাস্তুহারা; (√বাস্তু + হার্ + আ); 
- খেচর= খ + √চর্ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা  ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৫৮৯.
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস কোনটি?
  1. হতশ্রী
  2. হৃতসর্বস্ব
  3. জবরদস্তি
  4. রাজপুত্র
সঠিক উত্তর:
রাজপুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজপুত্র
ব্যাখ্যা

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস: 
পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা: 
- চায়ের বাগান = চাবাগান, 
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র, 
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- স্ব-এর অধীন = স্বাধীন।

অন্যদিকে, 
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন: হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী, খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ।
এরকম: হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, পীতাম্বর, নীলকণ্ঠ, জবরদস্তি, সুশীল, সুশ্রী, বদবখ্ত, কমবখ্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৫৯০.
সমাস কত প্রকার?
  1. ৪ প্রকার
  2. ৮ প্রকার
  3. ৬ প্রকার
  4. ১০ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
• সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়।
- বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম সমাস। 
- সমাস মূলত চার প্রকার।
যথা:
- দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা।

কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- পথের রাজা = রাজপথ।

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৫৯১.
'কালােবরণ' — কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস 
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস 
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালাে বরণ যার = কালােবরণ;
- সমান উদর যার = সহোদর,
- বদ রাগ যার = বদরাগী,
- সুন্দর বর্ণ যার = সুবর্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৯২.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) বেহুস
  2. খ) মুখে ভাত
  3. গ) খেচর
  4. ঘ) গায়ে হলুদ
সঠিক উত্তর:
খ) মুখে ভাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুখে ভাত
ব্যাখ্যা
মুখে ভাত যার = মুখে-ভাত; অলুক তৎপুরুষ সমাস

অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনাে পরিবর্তন হয় না, তাকে বলা হয় অলুক বহুব্রীহি সমাস।
- এ সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায় পাগড়ি,
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
- হাতে ছড়ি যার = হাতে-ছড়ি,
- কানে কলম যার = কানে-কলম,
- গায়ে পড়ে যে = গায়ে-পড়া,
- হাতে বেড়ি যার = হাতে-বেড়ি,
- মুখে ভাত যার = মুখে-ভাত,
- কানে খাটো যে = কানে-খাটো ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে হলুদ - মধ্যপদলােপী বহুব্রীহি সমাস
নাই হুশ যার= বেঁহুশ - নঞ্ বহুব্রীহি 
খেচর = উপপদ তৎপুরুষ সমাস

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৩.
'বকধার্মিক' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. রুপক কর্মধারয়
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয়:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এইগুলোকে উপমান উপমান কর্মধারয় বলে।

যেমন:
- কাজলের মত কালো = কাজলকালো,
- শশের মত ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- বকের ন্যায় ধার্মিক = বকধার্মিক ইত্যাদি।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৪.
সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. ক) উপবন
  2. খ) উপনদী
  3. গ) উপশহর
  4. ঘ) উপকণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপকণ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হলো, কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি। অন্যদিকে, বনের সদৃশ = উপবন, শহরের সদৃশ = উপশহর হলো সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস। ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হলো উপনদী এবং উপগ্রহ। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫৯৫.
সমাস সাধিত পদ নয় কোনটি?
  1. দম্পতি
  2. বোনাই
  3. তেমাথা
  4. দিবানিদ্রা
সঠিক উত্তর:
বোনাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোনাই
ব্যাখ্যা
⇒ সমাস সাধিত পদ নয় - বোনাই।
• বোন + আই = বোনাই; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

অন্যদিকে,
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রতিটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে এবং ব্যাসবাক্যে একটি সংযোজক অব্যয় (কখনো বিয়োজক) দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- তাল ও তমাল = তাল-তমাল,
- দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম,
- জায়া ও পতি = দম্পতি।

• দ্বিগু সমাস:স
- সমাহার বা সমষ্টি বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয় ৷
যেমন:
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা।

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ,
দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৯৬.
রূপক কর্মধারায় সমাস নয় কোনটি?
  1. সংসার সমুদ্র
  2. বিদ্যাধন
  3. উপলখণ্ড
  4. কালচক্র
সঠিক উত্তর:
উপলখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপলখণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ উপলের খণ্ড = উপলখণ্ড (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)।

• রূপক কর্মধারয়:

যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,৫৯৭.
তৎপুরুষ সমাস সাধিত পদ কোনটি?
  1. সাহিত্যসভা
  2. গরুরগাড়ি
  3. মাতাপিতা
  4. মুখচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
গরুরগাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরুরগাড়ি
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
 কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।

অন্যদিকে:
- 'সাহিত্যসভা' - মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
- 'মাতাপিতা' - মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- 'মুখচন্দ্র' - উপমিত কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।

১,৫৯৮.
'অনুতাপ' সমস্ত পদটির সঠিক ব্যাসবাক্য কি?
  1. ক্ষুদ্রতাপ
  2. তাপের অনু
  3. অনুরূপ তাপ
  4. অনুতে যে তাপ
সঠিক উত্তর:
অনুতে যে তাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুতে যে তাপ
ব্যাখ্যা
• 'অনুতাপ' সমস্ত পদটির সঠিক ব্যাসবাক্য: অনুতে যে তাপ। 
'অনুতাপ' - প্রাদি সমাস।

• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস। 
যথা: 
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ, 
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ, 
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত, 
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৯৯.
কোন ক্ষেত্রে সমাসের প্রয়োজনীয়তা নেই?
  1. ক) শব্দের অর্থ পরিবর্তনে
  2. খ) পরিভাষা রচনার
  3. গ) গুণ সংযােজন
  4. ঘ) ভাষার অলঙ্করণ
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দের অর্থ পরিবর্তনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দের অর্থ পরিবর্তনে
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে রূপতত্ত্ব অংশে সমাস আলােচিত হয়েছে।
- শব্দগঠনের তিনটি প্রক্রিয়া সংযােজন, বিয়ােজন ও অর্থপরিবর্তন।
- এ তিনটির মধ্যে সমাস হলাে সংযােজন প্রক্রিয়ার অন্তর্গত।
- সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাস শব্দের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য হলাে একত্রে অবস্থান বা সংক্ষেপণ।
- সুতরাং ভাষায় সমাসের প্রধান কাজ হলাে শব্দ ও বাক্য সংক্ষিপ্তকরণ।
- সমাস ভাষাকে শ্রুতিমধুর করে।
- ভাষার অলঙ্করণ, গুণ সংযােজন ও পরিভাষা রচনার ক্ষেত্রে সমাসের প্রয়ােজনীয়তা বিদ্যমান।
- তাই বলা যায়, বাংলাভাষাকে সংক্ষিপ্ত, শ্রুতিমধুর ও সাবলীল করার জন্য সমাসের ভূমিকা অপরিসীম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০০.
কোনটি অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ নয়? 
  1. গায়ে হলুদ 
  2. হাতেখড়ি
  3. বিড়ালচোখী
  4. গলায় গামছা 
সঠিক উত্তর:
বিড়ালচোখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিড়ালচোখী
ব্যাখ্যা

অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ নয়- বিড়ালচোখী।
-----------------
• অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি বজায় থাকলে এবং কোনো পদের পরিবর্তন না হলে অলুক বহুব্রীহি সমাস হয়।
- যেমন: 
মাথায় পাগড়ি যার = মাথায় পাগড়ি। 
গলায় গামছা যার = গলায় গামছা। 
মুখে ভাত দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = মুখেভাত। 
হাতেখড়ি দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি। 
গায়েহলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়েহলুদ। 
------------------------
বিড়ালচোখী- মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস-
- যে বহুব্রীহি সমাস ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত কোনো পদকে লোপ করে বা গ্রহণ না করেই তৈরি হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলা হয়। 
- যেমন: 
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী।
- কাঞ্চন বা সোনার মত প্রভা যার = কাঞ্চনপ্রভ।
- দশ বছর বয়স যার = দশবছুরে।  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।।